(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: -)
الكواكب الدراري في شرح صحيح البخاري   (الكرماني، شمس الدين)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: الكواكب الدراري في شرح صحيح البخاري

المؤلف: محمد بن يوسف بن علي بن سعيد، شمس الدين الكرماني (ت 786هـ)

الناشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت-لبنان

طبعة أولى: 1356هـ - 1937م

طبعة ثانية: 1401هـ - 1981م

عدد الأجزاء: 25

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 ذو القعدة 1435

সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-কাওয়াকিবুদ দারারী   (আল-কিরমানী, শামসুদ্দীন)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-কাওয়াকিবুদ দারারী

লেখক: মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন আলী বিন সাঈদ, শামসুদ্দীন আল-কিরমানী (মৃত্যু ৭৮৬ হি.)

প্রকাশক: দার ইহয়াউত তুরাসিল আরাবী, বৈরুত-লেবানন

প্রথম সংস্করণ: ১৩৫৬ হি. - ১৯৩৭ খ্রি.

দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৪০১ হি. - ১৯৮১ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ২৫

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ-এর পৃষ্ঠপোষকতায় রাবিতাতুন নুসসাখ দল

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ যিলকদ ১৪৩৫

(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١)
صَحِيحُ أَبِي عبدِ الله البُخَارِيّ

بشرح الكرماني

دار إحياء التراث العربي

بيروت
সহীহ আবি আব্দুল্লাহ আল-বুখারী

আল-কিরমানীর ব্যাখ্যাসহ

দার ইহয়ায়ে আত-তুরাস আল-আরাবি

বৈরুত
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد وآله وسلم

الحمد لله الذي أنعم علينا بجلال النعم وأعظمها هو نعمة الإسلام، وجعل ديننا أشرف الأديان وملتنا خير الملل وأمتنا أوسط الأمم ونبينا هو أفضل الأنام، بين الحلال والحرام وشرع الشرائع وسن السنن وعلم بالقلم وقد أحكم الأحكام، وأتبع الكتاب بالسنة لتفصيل مجملاته وتجزئة كلياته وشرح مشكلاته رحمة للعالمين ، وشفع القرآن بالحديث لتوضيح نصوصه وتبيين فصوصه وتخصيص عمومه رأفة وعناية بالمؤمنين، وصلى الله على سيدنا محمد المصطفى من مشكاة ميامين وجوده تتوقد جميع أنوار الكمالات والسعادات ومنها الاقتباس' ومن شجرته المباركة ظهرت أصول خيرات الدنيا والآخرة وتبين فروعها الكافيات الشافيات وقد قال تعالى (لتبين للناس) ، كلما ذكر الذاكرون والذاكرات وكلما غفل عنه الغافلون والغافلات، ورضي الله عن الصحابة والتابعين وتابعي التابعين الذين نشروا العلوم في الآفاق ، وطهروها من دنس الشرك والنفاق ، وقد قطعوا عن الدنيا العلائق وزينوا مشارق الأرض ومغاربها بمحاسن الأفعال ومكارم الأخلاق، فأولئك أفاضل الخلائق ما اتصل أسانيد الرواة من الأخلاف إلى الأسلاف ، وارتفع الدرجات بشرائف العلوم الأصناف الأشراف أمّا بعد: فإن علم الحديث بعد القرآن هو أفضل العلوم وأعلاها، وأجلّ المعارف وأسناها، من حيث إنه به يعلم مراد الله تعالى من كلامه، ومنه تظهر المقاصد من أحكامه لأن أحكام القرآن جلها بل كلها كليات، والمعلوم منه ليس إلا أمورا إجماليات، كقوله: تعالى (أقيموا الصلاة وآتوا الزكاة) وإنّ السنة هي المعرفة بجزئياتها كمقادير أوقات الصلاة وكيفياتها وفرائضها ونوافلها وآدابها وأوضاعها وصفاتها، وهي الموضحة لمعضلاتها كأقدار نصب الزكاة وأنواع ما يجب فيها وأوقات الأداء ومن وجب عليه وما وجب منها وهلمّ جرا، وكذلك أعلى العلماء قدرا، وأنورهم بدرا، وأفخرهم خطرا، وأنبلهم شأنا ، وأعظمهم عند الله منزلة ومنزلا، وأكرمهم مكانة ومكانا، حملة السنة النبوية وناقلوا أخبارها، وحفظة حديثها وعاقلوا أسرارها ، ومحققوا ألفاظها وأرباب رواياتها، ومدققوا معانيها وأصحاب درايتها، وهم الطائفة المنصورة المشيدة لمباني الحق والمسالك، ولن يزالوا ظاهرين عليه حتى يأتي أمر الله وهو على ذلك، وكان
দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের ওপর মহান নিয়ামতরাজি দান করেছেন, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো ইসলামের নিয়ামত; এবং আমাদের দীনকে শ্রেষ্ঠ দীন, আমাদের ধর্মাদর্শকে সর্বোত্তম ধর্মাদর্শ, আমাদের উম্মতকে মধ্যপন্থী উম্মত এবং আমাদের নবীকে সৃষ্টির সেরা সত্তা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি হালাল ও হারামকে সুস্পষ্ট করেছেন, শরিয়তের বিধানাবলি প্রবর্তন করেছেন, সুন্নাহসমূহ নির্ধারণ করেছেন, কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন এবং আহকামসমূহকে সুসংহত করেছেন। তিনি বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ কিতাবের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা, এর সামগ্রিক বিধানের ব্যবচ্ছেদ এবং জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যার জন্য কিতাবের অনুগামী করেছেন সুন্নাহকে। মুমিনদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহস্বরূপ তিনি কুরআনের মূল পাঠ্যের ব্যাখ্যা, এর সারমর্মের বর্ণনা এবং এর সাধারণ বিধানগুলোকে সুনির্দিষ্ট করার জন্য কুরআনের সাথে হাদিসকে যুক্ত করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল-মুস্তফার ওপর, যাঁর অস্তিত্বের বরকতময় প্রদীপ থেকে পূর্ণতা ও সৌভাগ্যের সকল আলো প্রজ্জ্বলিত হয় এবং সেখান থেকেই তা আহরিত হয়; এবং যাঁর বরকতময় বৃক্ষ থেকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের মূলসমূহ প্রকাশিত হয়েছে এবং এর পর্যাপ্ত ও নিরাময়দানকারী শাখাগুলো স্পষ্ট হয়েছে। আর মহান আল্লাহ তো বলেছেন, "যাতে আপনি মানুষের জন্য বর্ণনা করেন"। যতক্ষণ স্মরণকারীরা তাঁকে স্মরণ করবে এবং গাফেলরা তাঁর থেকে বিমুখ থাকবে, ততক্ষণ এই ধারা অব্যাহত থাকুক। আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন এবং তাবে-তাবেয়ীনদের ওপর, যাঁরা দিক-দিগন্তে জ্ঞান প্রচার করেছেন এবং একে শিরক ও নিফাকের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করেছেন। তাঁরা দুনিয়ার সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এবং পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে সুন্দর কর্ম ও মহৎ চরিত্রের মাধ্যমে সুশোভিত করেছেন। তাঁরাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ, যতক্ষণ পর্যন্ত উত্তরসূরি বর্ণনাকারীদের সনদ পূর্বসূরিদের সাথে সংযুক্ত থাকবে এবং মর্যাদাপূর্ণ বিবিধ জ্ঞানের মাধ্যমে মর্যাদা উন্নত হবে। অতঃপর: কুরআনের পর ইলমে হাদিস হলো শ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ জ্ঞান এবং সর্বাধিক মহান ও উজ্জ্বল জ্ঞান। কারণ এর মাধ্যমেই আল্লাহর কালাম থেকে তাঁর উদ্দেশ্য জানা যায় এবং এর মাধ্যমেই তাঁর বিধানাবলির লক্ষ্যসমূহ প্রকাশিত হয়। কেননা কুরআনের অধিকাংশ বিধান, বরং সবটুকুই হলো সামগ্রিক নীতিমালা, আর তা থেকে যা জানা যায় তা কেবল সংক্ষিপ্ত বিষয়সমূহ। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো"। আর সুন্নাহ হলো সেই সালাতের বিস্তারিত রূপের জ্ঞান—যেমন ওয়াক্তের পরিমাণ, পদ্ধতি, ফরজ, নফল, আদব, শারীরিক ভঙ্গি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ। আর সুন্নাহই জটিল বিষয়গুলোকে স্পষ্টকারী—যেমন জাকাতের নিসাবের পরিমাণ, কোন কোন বস্তুতে তা ওয়াজিব হয়, তা আদায়ের সময়কাল, কার ওপর ওয়াজিব হয় এবং কতটুকু ওয়াজিব হয় ইত্যাদি। একইভাবে মর্যাদায় সুউচ্চ, পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বলতম, সর্বাধিক গৌরবান্বিত, মহিমান্বিত শান-শওকতের অধিকারী এবং আল্লাহর নিকট সর্বোচ্চ সম্মান ও অবস্থানের অধিকারী এবং সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ হলেন নববী সুন্নাহর ধারক, এর বর্ণনাসমূহের বাহক, হাদিসের হিফাজতকারী, এর রহস্যসমূহের সমঝদার, এর শব্দাবলির গবেষক ও রেওয়ায়তসমূহের অধিকারী এবং এর অর্থের সূক্ষ্ম বিশ্লেষক ও দেরায়াত বিশেষজ্ঞগণ। তাঁরাই সেই সাহায্যপ্রাপ্ত দল যারা হকের সুদৃঢ় ভিত্তি ও পথসমূহ নির্মাণ করেছেন। তাঁরা সর্বদা এর ওপর বিজয়ী থাকবেন যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে, আর তাঁরা এই অবস্থাতেই থাকবেন।
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٣)
كتاب (الجامع الصحيح) للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل (البخاري) جزاه الله عن الإسلام والمسلمين خيرا، أجل الكتب الصحيحة نقلا ورواية، وفهما ودراية، وأكثرها تعديلا وتصحيحا وضبطا وتنقيحا، واستنباطا واحتياطا، وفي الجملة هو اصح الكتب المؤلفة فيه على الإطلاق والمقبل عليه بالقبول من أئمة الآفاق، وقد فاق أمثاله في جميع الفنون والأقسام، وخصّ بالمزايا من بين دواوين الإسلام تشهد له بالبراعة والتقدم الصناديد العظام، والأفاضل الكرام، وفوائد هذا الكتاب العظيم الشأن الرفيع المقدار، الذي يستشفى ببركاته ويستسقى بختماته أكثر من أن تحصى وأغزر من أن تستقصى وكيف لا وهو شامل لأكثر أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله وأحواله متناولا لأكثر أخباره وآثاره وأعماله وفيه مشاهده وغزواته، وأخلاقه، ومعجزاته ، وكرمه آدابه، ومناقب أصحابه، إلى غير ذلك مما لا يخفى من غموض الاستنباطات التي ترجم عليها في الأبواب والإشارة إلى المذاهب المستخرجة من الأحاديث للأصحاب وإني لم أر له شرحا مشتملا على كشف بعض ما يتعلق من الكتاب فضلا عن كلها، أو مستقلا بما يتعلق بالبحث عن عويصاته فضلا عن جلّها، مع ارتحالي إلى بلاد كثيرة هي مظان وجدانه، ولم أظفر بعد التفتيش والتنقيب إلا على فقدانه ، والشروح التي شرحها الشارحون لا تشفي عليلا، ولا تسقي غليلا، وهاهو ذا كتاب الإمام أبي الحسن علي بن خلف المالكي المغربي المشهور بابن بطال إنما هو غالبا في فقه الإمام مالك رضي الله عنه من غير تعرض لما هو الكتاب مصنوع له، وكتاب الشيخ العلامة أبي سليمان أحمد بن محمد بن إبراهيم الخطابي شكر الله مساعيه فيه نكت متفرقات، ولطائف على سبيل الطفرات ،وأما الذي ألفه الإمام العالم المشهور بمغلطاي التركي المصري فهو بكتب تتميم الأطراف أشبه، وبصحف تصحيح التعليقات أمثل، فكأنه من إخلائه عن مقاصد الكتاب على ضمان، ومن شرح ألفاظه وتوضيح معانيه على أمان، ولا أقول ذلك والله أعلم به غضا من مراتبهم الجليلة العلية. أو وضعا من رفيعات أقدارهم الشريفة السنية، حاشا من ذلك، وكيف وإني مقتبس من لوامع أنوارهم الشارقات، ملتمس من جوامع آثارهم البارقات، فهم القدوة وبهم الأسوة ، رضي الله عنهم وعن جميع أسلافنا أئمة جابوا في تحصيلها الفلوات، ونسوا في خدمتها اللذات والشهوات، ومارسوا الدفاتر، وسامروا المحابر، فأجالوا في نظم قلائدها أفكارهم وأنفقوا على اقتناص شواردها أعمارهم ، ووقفوا لتقييد أوابدها ليلهم ونهارهم فأخذوا وبلغوا ، وأصّلوا وفصّلوا، ومهّدوا وأسّسوا، وجمعوا وفننوا، ووضعوا وأتقنوا، وألّفوا وصنّفوا ورتّبوا ودوّنوا، وفرّعوا وبوّبوا، وصحّحوا ونقحوا، صانوها عن

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল (বুখারী)-এর সংকলিত (আল-জামি আস-সহীহ) কিতাবটি—ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—বর্ণনা ও রেওয়ায়েত এবং বুঝ ও প্রজ্ঞার দিক থেকে সহীহ কিতাবসমূহের মধ্যে মহানতম। এটি সংশোধন, যাচাই, নির্ভুলতা, পরিমার্জন, মাসআলা উদ্ভাবন ও সতর্কতার দিক থেকে সর্বাধিক অগ্রগণ্য। সারকথা হলো, এই বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে এটি নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব এবং বিশ্বজুড়ে ইমামগণের নিকট এটি পরম গ্রহণযোগ্যতায় ধন্য। এটি সমস্ত শাস্ত্র ও বিভাগে এর সমজাতীয় কিতাবগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ইসলামের গ্রন্থরাজির মধ্যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত হয়েছে। মহান বীরগণ ও সম্মানিত বিদগ্ধজনরা এর দক্ষতা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য প্রদান করেন। এই সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও মহান কিতাবের উপকারিতা—যার বরকতের মাধ্যমে আরোগ্য কামনা করা হয় এবং যার খতমের মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করা হয়—তা গণনা করে শেষ করার চেয়েও বেশি এবং অনুসন্ধান করে শেষ করার চেয়েও গভীর। আর তা হবেই না কেন? কারণ এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ বাণী, কর্ম ও অবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি তাঁর অধিকাংশ সংবাদ, নিদর্শন ও কার্যাবলিকে ধারণ করে আছে। এতে তাঁর উপস্থিতিতে ঘটা ঘটনাবলি, যুদ্ধসমূহ, চরিত্র, মুজিজা, বদান্যতা ও আদব-কায়দা এবং তাঁর সাহাবীগণের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও এতে রয়েছে সূক্ষ্ম সব মাসআলা উদ্ভাবন, যা অধ্যায়সমূহের শিরোনামে ফুটে উঠেছে এবং হাদীসসমূহ থেকে ইমামদের বের করা বিভিন্ন মাযহাবের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। আমি এই কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির আংশিক উন্মোচনে সক্ষম এমন কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ দেখিনি, পূর্ণাঙ্গ তো দূরের কথা; অথবা এর জটিল বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণায় স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো কাজ দেখিনি, এর অধিকাংশ বিষয়ের কথা তো বলাই বাহুল্য। যদিও আমি অনেক দেশ ভ্রমণ করেছি যেখানে এ জাতীয় কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু ব্যাপক অনুসন্ধান ও খোঁজাখুঁজির পরও আমি তা পেতে ব্যর্থ হয়েছি। ব্যাখ্যাকারীরা যে সমস্ত ব্যাখ্যা লিখেছেন, তা তৃষ্ণার্তের পিপাসা মেটায় না এবং অসুস্থের আরোগ্য ঘটায় না। এই যে ইমাম আবুল হাসান আলী বিন খালাফ আল-মালিকি আল-মাগরিবি, যিনি ইবনে বাত্তাল নামে পরিচিত, তাঁর কিতাবটি মূলত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইমাম মালিক (রা.)-এর ফিকহ কেন্দ্রিক, কিতাবটি যে উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা ছাড়াই। আর শেখ আল্লামা আবু সুলাইমান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-খাত্তাবি (আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন)-এর কিতাবটিতে রয়েছে বিক্ষিপ্ত কিছু সূক্ষ্ম পয়েন্ট ও অনিয়মিত কিছু নিগূঢ় তত্ত্ব। আর বিখ্যাত আলেম মুগলতায় আল-তুর্কি আল-মিসরি যা রচনা করেছেন, তা প্রান্তিক টীকা সম্পন্ন করার কিতাবসমূহের সাথেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ এবং তালীকাত সংশোধনের পাতার মতো। মনে হয় যেন তিনি কিতাবের মূল উদ্দেশ্যগুলো এড়িয়ে যাওয়ার জিম্মাদারি নিয়েছেন এবং এর শব্দমালার ব্যাখ্যা ও অর্থের স্পষ্টিকরণ থেকে নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন। আমি এ কথা—আল্লাহই ভালো জানেন—তাদের সুউচ্চ ও মহান মর্যাদাকে খাটো করার জন্য বলছি না, অথবা তাদের সম্মানিত ও উন্নত অবস্থানকে তুচ্ছ করার জন্য নয়। তা থেকে আল্লাহ রক্ষা করুন। আর তা হবেই বা কেন, যেখানে আমি তাদের উজ্জ্বল আলোকছটা থেকেই জ্ঞান আহরণকারী এবং তাদের প্রদীপ্ত কর্মসমষ্টি থেকে অনুসন্ধানকারী। তারাই আদর্শ এবং তাদের অনুসরণেই পাথেয়। আল্লাহ তাদের প্রতি এবং আমাদের সকল পূর্বসূরিদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন; সেই ইমামগণ যারা জ্ঞান অর্জনের জন্য মরুভূমি পাড়ি দিয়েছেন এবং এর সেবায় ভোগ-বিলাস ও কামনা-বাসনা ভুলে গিয়েছিলেন। তাঁরা পাণ্ডুলিপি নিয়ে মগ্ন থাকতেন এবং দোয়াতের সাথে রাত অতিবাহিত করতেন। তাঁরা জ্ঞানমালার মুক্তাহার গাঁথার জন্য নিজেদের চিন্তাশক্তিকে ব্যয় করেছেন এবং এর দুর্লভ জ্ঞান শিকার করতে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। এর বিরল মাসআলাগুলোকে লিপিবদ্ধ করতে তাঁরা দিন-রাত উৎসর্গ করেছেন। তাঁরা জ্ঞান গ্রহণ করেছেন ও পৌঁছে দিয়েছেন, মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন ও বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, পথ সুগম করেছেন ও ভিত্তি স্থাপন করেছেন, সংগ্রহ করেছেন ও বৈচিত্র্য এনেছেন, উপস্থাপনা করেছেন ও নিখুঁত করেছেন, সংকলন ও বিন্যাস করেছেন, শাখা-প্রশাখা বের করেছেন ও অধ্যায় বিন্যাস করেছেন, এবং বিশুদ্ধ ও পরিমার্জিত করেছেন। তাঁরা একে রক্ষা করেছেন...

(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٤)
التحريف والفساد وحفظوها عن التصحيف والنقص والازدياد، وكلّما عرض لهم ولها شيء من الفترة، ردّ الله لها الكرّة، وأكمل لهم المعونة والنصرة حتى وصلت إلينا صافية المشارع ضافية المدارع ، ورياض صحائفها تصبح ممرعة وحياض لطائفها تضحى مترعة، فعظّم الله تعالى أقدارهم الفاخرة، ورفع أخطارهم الشريفة في الآخرة، وأعلى درجاتهم في أعلى علّيين مع الذين انعم عليهم من النبيين والصدّيقين والشهداءِ والصالحين وإنما قصدت بذلك إظهار احتياج هذا الكتاب_ الذي هو ثاني كتاب الله تعالى_ إلى شرحٍ مكمّل للفوائد شامل للعوائد عام المنافع تامّ المصالح ، جامع لشرح الألفاظ اللغوية الغريبة، ووجه الأعاريب النحوية البعيدة وبيان الخواص التركيبية واصطلاحات المحدثين ومباحث الأصوليين، والفوائد الحديثية والمسائل الفقهية، وضبط الروايات الصحيحة، وتصحيح أسماء الرجال وألقاب الرواة وأنسابهم وصفاتهم، ومواليدهم ووفياتهم، وبلادهم ومروياتهم، والتلفيق بين الأحاديث المتنافية الظواهر، والتوفيق بينها وبين التراجم المستورة عن أكثر الضمائر، ولتوضيح ما صعب من سلوك مناهجها، وتبيين ما لم يظهر من مقدماتها ونتائجها ، وتليين ما لم يذلل من صفاتها، ولم يخضع للفهم رقابها وبعض عويصاتها، مما جعل جنابها عن أن يكون شريعة لكل وارد، أو يطلع عليه إلاّ واحد بعد واحد، فاستخرت الله تعالى واستعنت به في تأليف شرح موصوف بالصفات وزيادة، معروف بإفادة ذلك ونعم الإفادة مع اعترافي بالقصور وقلّة البضاعة، والفتور وقصر الباع في هذه الصناعة، فتصديت لذلك وشرحت مفردات اللغة الغير الواضحة، وذكرت توجيه الإعرابات النحوية الغير اللائحة، وتعرّضت لبيان خواصّ التراكيب، بحسب علم المعاني وإظهار أنواع التصرفات البيانية، من المجاز والاستعارة، والكناية والإشارة، إلى ما يستفاد منها من القواعد الكلامية، من أصول الفقه، من العام والخاص والمجمل والمبيّن وأنواع الأقيسة الخلافية والخطابية ، والمسائل الفقهية والمباحث الفروعية ومن الآداب والدقائق ونحوها، ولما يتعلق بعلوم الحديث واصطلاحات المحدثين من المتابعة والاتصال، والرفع والإرسال والتعليلات وغيرها، وتصحيح الروايات واختلاف النسخ وترجيحها والتعرض لأسماء الرجال وتعجيم ألفاظها وتوضيح ملتبسها، وتكشيف مشتبهها وتبيين مختلفها ،وتحقيق مؤتلفها وأنسابهم وألقابهم وبلادهم ووفياتهم إلى آخر تراجمهم، ولفقت بين الأحاديث التي بحسب ظواهرها متنافية، والأخبار التي بادئ الرأي مقتضياتها متباينة، وبينت مناسبة الأحاديث التي في كل باب لما ترجم عليه، ومطابقتها بما عقد له وأشير إليه، وهو قسم عجز عنه الفحول البوازل (1) في الأعصار، والعلماء الأفاضل من الأنصار فتركوها واعتذروا عنها

--------------------------------------------

(1) البازل الرجل الكامل في تجربته
বিকৃতি ও বিপর্যয় থেকে এবং তারা একে অক্ষরের ভুল, হ্রাস ও বৃদ্ধি থেকে রক্ষা করেছেন। আর যখনই তাদের বা এর ক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য দেখা দিয়েছে, আল্লাহ তার পুনরায় উত্থান ঘটিয়েছেন এবং তাদের জন্য সাহায্য ও বিজয় পূর্ণ করেছেন, যতক্ষণ না তা স্বচ্ছ প্রস্রবণ ও প্রশস্ত বর্মের ন্যায় আমাদের নিকট পৌঁছেছে। এর পৃষ্ঠাসমূহ শস্যশ্যামল উদ্যানে পরিণত হয়েছে এবং এর সূক্ষ্ম তত্ত্বের জলাধারগুলো পানিতে ভরপুর হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের গৌরবময় মর্যাদাকে মহান করেছেন এবং পরকালে তাদের সুউচ্চ সম্মানকে উন্নত করেছেন। আর তাদের মর্যাদাকে ইল্লিয়্যিনের সর্বোচ্চ স্তরে ঐসব ব্যক্তিদের সাথে উন্নীত করেছেন যাদের প্রতি তিনি নেয়ামত দান করেছেন—নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত। এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য কেবল এই কিতাবের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করা—যা আল্লাহর কিতাবের পর দ্বিতীয় কিতাব—এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রতি যা যাবতীয় ফায়দাকে পূর্ণকারী, কল্যাণকে শামিলকারী, উপকারে ব্যাপক ও সামগ্রিক স্বার্থের অনুকূল হবে। যা বিরল ভাষাগত শব্দের ব্যাখ্যা, জটিল নাহবি (ব্যাকরণগত) তারকিবের বিশ্লেষণ, বাক্যরীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ, মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা এবং উসুলবিদগণের গবেষণার সংকলন হবে। সেইসাথে এতে থাকবে হাদিসশাস্ত্রীয় উপকারিতা ও ফিকহি মাসআলাসমূহ, সহিহ রেওয়ায়েতসমূহের নিখুঁত বিন্যাস, বর্ণনাকারীদের নাম, তাদের উপাধি, বংশপরিচয়, গুণাবলি, জন্ম-মৃত্যু, দেশ ও বর্ণিত হাদিসসমূহের সঠিক বর্ণনা। আরও থাকবে আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং হাদিস ও অধিকাংশের নিকট অস্পষ্ট থাকা তারাজিম তথা অধ্যায়ের শিরোনামগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান। এছাড়া এর দুর্গম পথগুলোর জটিলতা নিরসন করা এবং এর ভূমিকা ও ফলাফলগুলোর অস্পষ্টতা স্পষ্ট করা। এর এমন কঠিন বিষয়গুলোকে সহজ করা যা এখনো আয়ত্তে আসেনি এবং যার দুর্ভেদ্য রহস্যগুলো অনুধাবনের বশ্যতা স্বীকার করেনি। এসব কারণেই এই গ্রন্থটি প্রত্যেকের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পরিবর্তে কেবল যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য একে একে উন্মোচিত হওয়ার স্তরে উপনীত হয়েছে। অতঃপর আমি আল্লাহ তাআলার নিকট ইস্তিখারা করেছি এবং উক্ত গুণাবলিসম্পন্ন এবং এর চেয়েও বেশি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ সংকলনে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেছি, যা হবে অত্যন্ত ফলপ্রসূ। যদিও আমি নিজের অক্ষমতা, স্বল্প পুঁজি এবং এই শাস্ত্রের ক্ষেত্রে আমার সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতার কথা স্বীকার করছি। অতঃপর আমি এই কাজে ব্রতী হলাম এবং অস্পষ্ট ভাষাগত শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করলাম, জটিল ব্যাকরণগত দিকগুলো বিশ্লেষণ করলাম এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের আলোকে বাক্যরীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং রূপক, উৎপ্রেক্ষা ও ইঙ্গিতসহ বয়ান শাস্ত্রের বিবিধ ব্যবহার তুলে ধরলাম। সেইসাথে উসুলে ফিকহ তথা উম্মাহর মূলনীতি থেকে আহরিত ইলমে কালামের নীতিমালা, যেমন—আম, খাস, মুজমাল, মুবায়্যান এবং তর্কমূলক ও অলঙ্কারিক কিয়াসসমূহ বর্ণনা করেছি। আরও বর্ণনা করেছি ফিকহি মাসআলা, আনুষঙ্গিক গবেষণা, শিষ্টাচার ও সূক্ষ্ম তত্ত্বসমূহ। হাদিস বিজ্ঞান ও মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা যেমন—মুতাবায়াত, ইত্তেসাল (সংযুক্ততা), রফ্ (উন্নত করা), ইরসাল (বিচ্ছিন্নতা), তা'লীল (ত্রুটি অন্বেষণ) ইত্যাদি এবং রেওয়ায়েতসমূহের বিশুদ্ধতা যাচাই, পাণ্ডুলিপির ভিন্নতা ও অগ্রাধিকার প্রদান, বর্ণনাকারীদের নাম ও কঠিন শব্দের উচ্চারণ স্পষ্টীকরণ, সন্দেহযুক্ত বিষয়ের নিরসন, মতপার্থক্য নিরসন এবং নামের মিল ও বংশপরিচয়, উপাধি, দেশ ও মৃত্যুসনসহ তাদের জীবনচরিত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি। আর আমি ঐসব হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছি যেগুলো বাহ্যত বৈপরীত্যপূর্ণ মনে হয় এবং ঐসব সংবাদ (আসার) এর মধ্যেও সামঞ্জস্য এনেছি যার প্রাথমিক দাবি আপাতদৃষ্টিতে ভিন্ন মনে হয়। প্রতিটি অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসের সাথে সেই অধ্যায়ের শিরোনামের কী সম্পর্ক এবং যার জন্য এটি সাব্যস্ত করা হয়েছে তার সাথে এর মিল কোথায় তা আমি স্পষ্ট করেছি। এটি এমন এক ময়দান যেখানে বিগত সময়ের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতগণ এবং আনসারদের অন্তর্ভুক্ত বড় বড় আলিমগণও অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন এবং ওজর পেশ করে তা এড়িয়ে গিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) বাজিল: এমন ব্যক্তি যিনি স্বীয় অভিজ্ঞতায় পূর্ণতা অর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٥)
بأعذار، ومن جملتها ما قال القاضي الحافظ أبو الوليد سليمان الباجي (بالموحدة والجيم) المغربي في كتاب (التعديل والتجريح) لرجال البخاري، قال: أخبرنا أبو داود عبيد بن محمد بن أحمد الهروي، حدثنا أبو إسحاق المستملى إبراهيم بن أحمد، قال: انتسخت كتاب البخاري من أصل كان عند محمد بن يوسف الفربري، فرأيته لم يتم بعد، وقد بقيت منه مواضع مبيضة كثيرة، منها تراجم لم يثبت بعدها شيئا، ومنها أحاديث لم يترجم عليها، فأضفنا بعض ذلك إلى بعض، قال: ومما يدل على صحة هذا القول أن رواية أبي إسحاق ورواية أبي محمد ورواية أبي الهيثم، ورواية أب زيد وقد نسخوا من أصل واحد فيها التقديم والتقديم والتأخير وإنما ذلك بحسب ما قدر كل واحد منهم فيما كان في طرة أو رقعة مضافة في موضع ما فأضافه إليه ويبين ذلك أنك تجد ترجمتين وأكثر من ذلك متصلة ليس بينها أحاديث ، قال: وإنما أوردت هذا لما عني به أهل بلدتنا في طلب معنى يجمع بين الترجمة والحديث الذي يليها، وتكلفهم في ذلك من تعسف التأويل ما لا يسوغ والبخاري رحمه الله وإن كان من أعلم الناس بصحيح الحديث وسقيمه فليس ذلك من علم المعاني وتحقيق الألفاظ بسبيل، كيف وفيها روى أبو إسحاق العلة في ذلك وبينها أن الحديث الذي يلي الترجمة ليس بموضوع لها وإنما هو موضوع ليأتي قبل ذلك بترجمته ' ويأتي للترجمة التي قبله من الحديث بما يليق بها، وسعيت فيه في توضيح العبارات وكشف القناع عن المشكلات ، ولم أبال عن الإعادة في الإفادة عند الحاجة إلى البيان ولا في تعجيم بعض الأسماء التي هي واضحة عند أهل هذا الشأن، لأني قصدت فيه النفع للمبتدئين والمنتهين ، والفائدة للمتقدمين والمتأخرين' وقد جرى في هذه الأيام في بعض أمهات بلاد الإسلام أمر ، وهو أن سلطانها مرض وأراد التبرك بقراءة البخاري لاستشفاء علّته واستسقاء غلته، فأشار إلى أهلها بقراءته وأمرهم بتلاوته، فاشتبه عليهم أكثر الأسماء مثل ابن بكير هل هو مصغّر أو مكبر حتى كادوا يتركون قراءته لذلك فصار هذا أيضا مضافا إلى ما كنت قصدته من الزيادة على التوضيح في قسم الأسماء، لاسيما وقد صار هذا الفن مهجورا في أكثر الأمصار، وليس للعقل فيه دخل ولا للقياس فيه اعتبار، فجاء بحمد الله كتابا حافلا بكل ما يحتاج إليه المحتفل به فهو شيخ للطالب، أستاذ للمتعلم، مرشد للمشتغل به فيا لها نعمة عظيمة أخلصت لك نقاوتها ، وطعمة جسيمة حببت لك حلاوتها، وغنيمة باردة اخترت صنعها ، ولقمة هنيئة أعددت لك نقيها وهكذا تنمي الجدود وتسفر عن مطالعها السعود فعش بجد صاعد ، فرب ساع لقاعد فإنك استغنيت به عن ألف كتاب أو أزيد ، ولو كان لكتابي هذا نفس ناطقة ولسان مطلقة، لقال بمقال صريح وكلام فصيح لله درّ مؤلف هذا التأليف الرائق الرئيس، ولا شلّت يد مصنف هذا التصنيف الفائق النفيس وهذا الكتاب لابد أن يقع لأحد رجلين: إما عالم منصف فيشهد لي بالخير ويعذرني

বিভিন্ন ওজরের মাধ্যমে, আর সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো যা কাযী হাফিয আবু আল-ওয়ালিদ সুলাইমান আল-বাজী (বা এবং জীম সহ) আল-মাগরিবী তাঁর বুখারীর বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থ 'আত-তাদীল ওয়াত-তাজরীহ'-এ বলেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ উবাইদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-হারাভী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক আল-মুস্তামলী ইব্রাহিম ইবনে আহমাদ, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরীর নিকট থাকা মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বুখারীর কিতাবটি অনুলিপি করেছিলাম। আমি দেখলাম যে এটি তখনো পূর্ণতা পায়নি; এতে অনেক খালি জায়গা রয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে এমন কিছু শিরোনাম ছিল যেগুলোর পরে কোনো হাদীস লিপিবদ্ধ করা হয়নি, আবার এমন কিছু হাদীস ছিল যেগুলোর কোনো শিরোনাম দেওয়া হয়নি। ফলে আমরা এগুলোর কিছু অংশকে অন্য অংশের সাথে যুক্ত করেছি।

তিনি বলেন: এই বক্তব্যের সত্যতার একটি প্রমাণ হলো এই যে, আবু ইসহাকের বর্ণনা, আবু মুহাম্মাদের বর্ণনা, আবু আল-হাইসামের বর্ণনা এবং আবু জাইদের বর্ণনা—যদিও তাঁরা সকলেই একই মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছেন—তাতে অগ্রপশ্চাৎ করার পার্থক্য রয়েছে। এটি মূলত নির্ভর করেছে তাঁদের প্রত্যেকের অনুমানের ওপর, যা কোনো টীকা হিসেবে কিনারায় ছিল বা কোনো স্থানে যুক্ত করা চিরকুটে ছিল, যা তিনি সেখানে সংযোজন করেছেন। এর স্পষ্ট প্রমাণ হলো আপনি এমন দুটি বা তারও বেশি শিরোনাম পাবেন যেগুলো পরপর যুক্ত, কিন্তু সেগুলোর মাঝে কোনো হাদীস নেই।

তিনি বলেন: আমি এই বিষয়টি কেবল এ জন্যই উল্লেখ করেছি যে, আমাদের অঞ্চলের লোকেরা শিরোনাম এবং তার পরবর্তী হাদীসের মাঝে যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করে থাকেন। আর এ কাজে তাঁরা এমন কষ্টসাধ্য ও অযৌক্তিক ব্যাখ্যার আশ্রয় নেন যা সংগত নয়। ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) যদিও সহীহ এবং দুর্বল হাদীস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন, তবুও এটি অর্থবিজ্ঞান ও শব্দের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের বিষয় নয়। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে আবু ইসহাক এর কারণ বর্ণনা করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শিরোনামের পরবর্তী হাদীসটি ঐ শিরোনামের জন্য রাখা হয়নি, বরং তা রাখা হয়েছিল যেন এর আগে সেটির শিরোনাম নিয়ে আসা যায় এবং তার পূর্ববর্তী শিরোনামের জন্য উপযোগী হাদীস নিয়ে আসা যায়।

আমি এই গ্রন্থে বর্ণনাগুলো স্পষ্ট করতে এবং জটিল বিষয়গুলো উন্মোচন করতে সচেষ্ট হয়েছি। বর্ণনার প্রয়োজনে কোনো বিষয় পুনরাবৃত্তি করতে বা এই শাস্ত্রের অভিজ্ঞদের কাছে স্পষ্ট এমন কিছু নাম বিশ্লেষণ করতে আমি দ্বিধাবোধ করিনি। কারণ আমার উদ্দেশ্য হলো এর মাধ্যমে প্রাথমিক ও উচ্চতর—উভয় স্তরের শিক্ষার্থীর উপকার করা এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ফায়দা সাধন করা।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামের কোনো এক প্রধান শহরে একটি ঘটনা ঘটেছে; তা হলো সেখানকার সুলতান অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁর রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় বুখারী পাঠের মাধ্যমে বরকত হাসিল করতে চাইলেন। তিনি অধিবাসীদের এটি পাঠ করার পরামর্শ দিলেন এবং তাঁদের তিলাওয়াতের নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তাঁদের কাছে অধিকাংশ নামই অস্পষ্ট মনে হতে লাগল, যেমন 'ইবনে বুকাইর' নামটি কি তাসগীর (ক্ষুদ্রার্থক) না কি মুকাব্বার (বৃহদার্থক)? পরিস্থিতি এমন হলো যে, এ কারণে তাঁরা প্রায় পাঠ করা ছেড়েই দিচ্ছিলেন। ফলে আমার পূর্বের উদ্দেশ্যের সাথে এটিও যুক্ত হলো যে, নামের অংশে স্পষ্টিকরণ আরও বৃদ্ধি করতে হবে।

বিশেষ করে যখন এই শাস্ত্রটি অধিকাংশ জনপদে পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে, যেখানে বিবেকের কোনো প্রবেশাধিকার নেই এবং কিয়াসের (অনুমান) কোনো ভিত্তি নেই। আল্লাহর প্রশংসায় এটি এমন এক পূর্ণাঙ্গ কিতাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা গবেষকদের সকল প্রয়োজন মেটাবে। এটি ছাত্রের জন্য শায়খ, শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক এবং এই কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য পথপ্রদর্শক। এটি কতই না মহান এক নিয়ামত যার বিশুদ্ধ নির্যাস তোমার জন্য নিবেদিত, এক বিশাল খাদ্য সম্ভার যার মিষ্টতা তোমার জন্য প্রিয় করা হয়েছে, এক অনায়াসলব্ধ গণিমত যা আমি তোমার জন্য তৈরি করেছি, এবং এক সুস্বাদু লোকমা যার বিশুদ্ধ অংশ আমি তোমার জন্য প্রস্তুত করেছি। এভাবেই সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায় এবং শুভ নক্ষত্র উদিত হয়। অতএব উন্নতির সাথে জীবন অতিবাহিত করো, কারণ অনেক সময় প্রচেষ্টাকারী ব্যক্তি ঘরে বসে থাকা ব্যক্তির প্রয়োজন মিটিয়ে দেয়। নিশ্চয়ই তুমি এর মাধ্যমে এক হাজার বা তারও বেশি কিতাব থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যাবে।

যদি আমার এই কিতাবের কথা বলার প্রাণ থাকত এবং সাবলীল জিহ্বা থাকত, তবে সে স্পষ্ট উক্তিতে এবং প্রাঞ্জল ভাষায় বলত: 'আল্লাহ এই চমৎকার ও প্রধান রচনার লেখককে উত্তম প্রতিদান দিন, আর এই অনন্য ও মূল্যবান রচনার সংকলকের হাত যেন পঙ্গু না হয়'। আর এই কিতাবটি অবশ্যই দুই ধরণের মানুষের হাতে পড়বে: হয় এমন একজন ইনসাফকারী আলিম যিনি আমার কল্যাণের সাক্ষ্য দেবেন এবং আমাকে মাফ করবেন।

(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٦)
فيما كان من العثار، الذي هو لازم الإكثار وإما جاهل متعسّف ، فلا اعتبار لوعوعته، ولا اعتداد بوسوسته، ومثله لا يعبأ به لا لمخالفته ،ولا لموافقته وإنما هو الاعتبار بذي النظر الذي يعطي كلّ ذي حقّ حقّه.

إذا رضيت عني كرام عشيرتي … فلا زال غضبانا عليّ لئامها

هذا ولا أّدعي العصمة والبشر محل النقصان إلا من عصم الله والخطأ والنسيان من لوازم الإنسان لكن المقصود طلب الإنصاف والتجنب عن الحسد والعناد والإعتساف ' وفّقنا الله تعالى للسداد وثبتنا على السداد والرشاد ، وتوصلت به إلى غرض دنيوي ، من مال أو جاه أو تقرب إلى سلطان أو خليفة ، كما هو عادة أبناء زماننا من أصحاب الهمم القاصرة والعقول الضعيفة، بل جعلته لله ولوجهه خالصا، سائلا أن ينفعني به، حين يكون الظل في الآخرة قالصا وأن يهب عليه قبول القبول فإنه أكرم مسئول وأعز مأمول وشرفت ديباجته باسم حبيبه سيد الأولين والآخرين ، محمد عليه أفضل الصلوات وأكملها وأشرف التسليمات وأجلّها وجعلته وسيلة إلى حضرته الشريفة المطهرة المعظمة ووسيطة إلى عتبته الجليلة المقدّسة المكرّمة صلى الله عليه وعلى آله أزكى صلاة وأعلاها وكنت زمان مجاورتي بمكة المشرفة مكملا لهذا الشرح فيها إذا عانقت الملتزم المبارك كنت أجعل الكعبة المعظمة -زادها الله تعالى عظمة وجلالا- شفيعا في أن يتقبلّه الله تعالى منّي أحسن التقبلات ويصير عنده صلى الله عليه وسلم من أشرف الوسائط وأحسن الوسيلات ، ولكل مثن على من أثنى عليه وكلّ متوسل على من يتوسل إليه مثوبة من جزاء أو عارفة من عطاء فأنا أرجو شفاعته في أن يعفو عن الزلات، ودعوته في أن يرحمني ويرفع الدرجات جائزة وادخارا وعطيّة واستظهارا، اللهم لا تخيب رجانا، واستجب دعانا ولا زلت متفكرا في تسميته، إذ كنت في بعض الليالي في المطاف، بعد فراغي من الطواف، فألهمني ملهم بأنه هو ((الكواكب الدراري في شرح صحيح البخاري)) فسميته به واسأل الله تعالى أن لا يؤاخذنا بما نسينا أو أخطأنا فيه، وان يعفو عنا ويغفر لنا ويرحمنا إنه هو الجواد الكريم، الرءوف الرحيم.
অধিক রচনার ক্ষেত্রে যে পদস্খলন অনিবার্য, কিংবা কোনো হঠকারী অজ্ঞের চিৎকার—তার কোনো গুরুত্ব নেই, এবং তার কুমন্ত্রণাও বিবেচ্য নয়। তার মতো ব্যক্তির বিরোধিতা বা সম্মতি কোনোটিরই পরোয়া করা হয় না। বরং বিচার-বিবেচনা তো সেই অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য, যিনি প্রত্যেক হকদারের প্রাপ্য অধিকার প্রদান করেন।

যদি আমার বংশের মহানুভব ব্যক্তিরা আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন … তবে তার নীচ ব্যক্তিরা আমার ওপর সর্বদা রাগান্বিতই থাকুক।

আমি নিষ্পাপ হওয়ার দাবি করি না, আর আল্লাহ যাকে রক্ষা করেছেন তিনি ছাড়া সকল মানুষই ত্রুটিবিচ্যুতির আধার। ভুল ও বিস্মৃতি মানুষের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে উদ্দেশ্য হলো ইনসাফ তলব করা এবং হিংসা, হঠকারিতা ও অন্যায় আচরণ থেকে দূরে থাকা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন এবং সত্য ও হেদায়েতের ওপর অবিচল রাখুন। আমি এর মাধ্যমে পার্থিব কোনো উদ্দেশ্য—যেমন ধন-সম্পদ, প্রতিপত্তি কিংবা কোনো সুলতান বা খলিফার নৈকট্য লাভের ইচ্ছা পোষণ করিনি, যেমনটা আমাদের বর্তমান যুগের স্বল্প হিম্মত ও দুর্বল বুদ্ধিসম্পন্ন লোকদের অভ্যাস। বরং আমি একে একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেছি, তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর মাধ্যমে আমাকে সেই সময়ে উপকৃত করেন, যখন পরকালে ছায়া সংকুচিত হয়ে যাবে। এবং তিনি যেন একে কবুলিয়ত দান করেন, কেননা তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ যাচনীয় এবং পরম আকাঙ্ক্ষিত। আমি এর ভূমিকা তাঁর হাবিব, পূর্বাপর সকলের সরদার মুহাম্মদ—তাঁর ওপর সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ সালাত এবং শ্রেষ্ঠ ও মহান সালাম বর্ষিত হোক—এর নাম মোবারক দিয়ে ধন্য করেছি। আমি একে তাঁর পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও মহান দরবারে একটি অসিলা এবং তাঁর মহিমান্বিত, পবিত্র ও সম্মানিত আঙিনায় একটি মাধ্যম বানিয়েছি—তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর পবিত্রতম ও সুউচ্চ সালাত বর্ষিত হোক। মক্কা মোকাররমায় অবস্থানের সময় আমি সেখানে এই শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) সমাপ্ত করছিলাম। যখন আমি বরকতময় মুলতাজিম জড়িয়ে ধরতাম, তখন মহান কাবাকে—আল্লাহ তার মর্যাদা ও গাম্ভীর্য আরও বৃদ্ধি করুন—সুপারিশকারী বানাতাম যেন আল্লাহ তাআলা আমার পক্ষ থেকে এটি সর্বোত্তমভাবে কবুল করেন এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট শ্রেষ্ঠ মাধ্যম ও সুন্দরতম উসিলায় পরিণত হয়। প্রত্যেক প্রশংসাকারী এবং উসিলা গ্রহণকারী তার প্রশংসিত ব্যক্তি বা উসিলার পক্ষ থেকে প্রতিদান বা উপহারের অধিকারী হয়। তাই আমি তাঁর শাফায়াতের আশা করি যেন তিনি আমার ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন এবং তাঁর দোয়ার আশা রাখি যেন তিনি আমার ওপর রহম করেন এবং আমার মর্যাদা উচ্চ করেন—পুরস্কার, সঞ্চয়, দান ও সাহায্য হিসেবে। হে আল্লাহ! আমাদের আশা ভঙ্গ করবেন না এবং আমাদের দোয়া কবুল করুন। আমি এর নামকরণের ব্যাপারে ক্রমাগত চিন্তাভাবনা করছিলাম, এমতাবস্থায় এক রাতে তাওয়াফ শেষ করার পর মাতাফ-এ থাকাকালীন জনৈক অদৃশ্যের ইশারা প্রদানকারী আমাকে ইলহাম করলেন যে এর নাম হবে "আল-কাওয়াকিব আদ-দারারি ফি শারহি সহিহ আল-বুখারি"। অতঃপর আমি এর এই নামকরণ করলাম। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, যেন আমরা যা ভুলে গিয়েছি বা ভুল করেছি তার জন্য তিনি আমাদের পাকড়াও না করেন। তিনি যেন আমাদের ক্ষমা করেন, মার্জনা করেন এবং আমাদের ওপর দয়া করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় দানশীল, দয়ালু ও পরম করুণাময়।
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مقدمة

اعلم أن صحيح البخاري لا حاجة له في بيان حاله، إلى تعديل رجاله. لأنه ينقسم إلى قسمين: رجال بينه وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم، واتفق الأمة المكرمة المعظمة الأقدار، على أنهم عدول ثقات أخيار أبرار، فما ذكرنا إلا أنسابهم ووفياتهم، ونحو ذلك مما تميل الخواطر إليها وذلك لتكثير الفوائد، وتغزير العوائد، والاستئناس بها، لا للتعديل والتجريح أو التصنيف والتصحيح، وصححنا أسماءهم احترازا الاختلاط والتحريف، واتقاء عن الاختباط والتصحيف، وذلك أنما هو من كتب متعددة مشهورة عند أبناء الزمان، وصحف متكثرة مذكورة بين أصحاب هذا الشأن وأكثرها من كتاب الشيخ أبي نصر احمد بن محمد بن الحسن المكلاباذي، ومن تقييد المهمل للحافظ أبي علي حسين الغساني ((بالمعجمة وشدة المهملة والنون)) الجياني ((بالجيم وتشديد التحتانية وبالنون)) المغربي، ومن كتاب الإكمال، للأمير أبي نصر ابن ماكولا، ومن جامع الأصول للإمام أبي السعادات ابن الأثير، جزاهم الله خيرا، ورجال بيننا وبين البخاري، ولا حاجة لنا إلى معرفتهم بذواتهم، فضلا عن جرحهم وعدالتهم. لأن صحيحه بالنسبة إلينا متواتر. ولا الى الإسناد إليهم، لكن لما كان الإسناد خصيصة هذه الأمة المباركة ومن جملة شرفها. فلا بد من اعتباره اقتداء بالسلف. وحفظ للشرف. فأقول: فأما إسنادي إليه فهو من شيوخ متوافرة، وعلماء متكاثرة، من أهل الحرمين الشريفين، مكة والمدينة، ضاعف الله شر فهما، والقدس، والخليل فهما، والقدس، والخليل ومصر، والشام، والعراق، وغيرها. ورحلت لأجله خاصة إلى هذه البلاد برها وبحرها. لكن السماع التام الشافي، والاستماع الكامل الكافي، إنما هو من شيوخ ثلاثة:

الأول: الشيخ الإمام العامة محدّث الجامع الأزهر من القاهرة المعزّية بالديار المصرية ناصر الدين محمد بن أي القاسم بن إسماعيل بن محمد بن المظفر أبو عبد الله الفارقي ، كان شيخا فقيها صوفيا عالما بما يقرأ ضابطا مصنفا كان يأكل من أجرة الكتابة، وكان قد داوم سنين على قراءة شيء من صحيح البخاري صبيحة كل يوم بالجامع الأزهر مات في حدود ستين سنة وسبعمائة فإنه حدثني بأكثره قراءة منه، وأخبرني بالباقي قراءة عليه قال: أخبرني مشايخ جمّة منهم أبو عبد الله محمد بن أبي الحرم ((بالمهملة والراء المفتوحتين)) مكيّ منسوب إلى مكة المشرّفة ابن أبي الذكر ((بكسر المعجمة)) عبد الغني القرشي الغزّي الدمشقي كان شيخا مباركا صحيح السماع مكثرا وكان رقاما بدار الطراز من القاهرة ، مات سنة تسع وتسعين وستمائة سماعاً. قال:
ভূমিকা

জেনে রাখুন যে, সহীহ বুখারীর অবস্থা বর্ণনার ক্ষেত্রে এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ এটি দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথমত, ইমাম বুখারী এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যবর্তী বর্ণনাকারীগণ। মর্যাদাবান ও সম্মানিত উম্মত এ বিষয়ে একমত যে, তারা সকলেই ন্যায়পরায়ণ, নির্ভরযোগ্য, শ্রেষ্ঠ ও পুণ্যবান। সুতরাং আমরা কেবল তাদের বংশপরিচয়, মৃত্যু সাল এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছি যার প্রতি মন আকৃষ্ট হয়। এটি করা হয়েছে উপকারিতা বৃদ্ধি করার জন্য, লব্ধ জ্ঞানের প্রাচুর্যের জন্য এবং তাদের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য; তাদের নির্ভরযোগ্যতা বা অযোগ্যতা বর্ণনা কিংবা শ্রেণিবিন্যাস ও বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য নয়। আর আমরা তাদের নামসমূহকে বিশুদ্ধ করেছি যাতে সংমিশ্রণ ও বিকৃতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং বিশৃঙ্খলা ও ভুল পাঠ থেকে বাঁচা যায়। আর এটি মূলত বর্তমান যুগের মানুষের নিকট সুপরিচিত বহুবিধ কিতাব এবং এ বিষয়ের পণ্ডিতদের মাঝে আলোচিত অসংখ্য পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত। এর অধিকাংশ নেওয়া হয়েছে শায়খ আবু নাসর আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-কালাবাদীর কিতাব থেকে এবং হাফেজ আবু আলী হুসাইন আল-গাসসানী (গাইন ও সীন বর্ণে তাশদীদ ও নূন যোগে) আল-জায়ানী (জীম ও ইয়া বর্ণে তাশদীদ ও নূন যোগে) আল-মাগরিবীর ‘তাকয়ীদুল মুহমাল’ থেকে। আর আমীর আবু নাসর ইবনে মাকুলারের ‘আল-ইকমাল’ এবং ইমাম আবুস সা’আদাত ইবনুল আসীরের ‘জামেউল উসূল’ থেকে; আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। দ্বিতীয়ত, আমাদের এবং বুখারীর মধ্যবর্তী বর্ণনাকারীগণ। তাদের সত্তাগত পরিচয় জানার আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই, তাদের সমালোচনা বা নির্ভরযোগ্যতা যাচাই তো দূরের কথা। কারণ আমাদের নিকট সহীহ বুখারী (এর বর্ণনাপরম্পরা) মুতাওয়াতির। এমনকি তাদের পর্যন্ত সনদেরও প্রয়োজন নেই, কিন্তু যেহেতু সনদ এই বরকতময় উম্মতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং তাদের সম্মানের অংশ, তাই সালাফদের অনুসরণ এবং এই সম্মান রক্ষার খাতিরে এটি বিবেচনা করা আবশ্যক। তাই আমি বলছি: ইমাম বুখারী পর্যন্ত আমার সনদ পৌঁছেছে অসংখ্য শায়খ এবং অগণিত উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে, যারা হারামাইন শরীফাইন (মক্কা ও মদীনা) — আল্লাহ এ দুইয়ের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন — এবং কুদস, খলীল, মিসর, শাম, ইরাক ও অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। আমি বিশেষভাবে এই সনদের উদ্দেশ্যে এই সকল অঞ্চলের স্থলপথ ও জলপথে সফর করেছি। তবে পরিপূর্ণ ও তৃপ্তিদায়ক শ্রবণ এবং পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত পাঠ গ্রহণ কেবল তিনজন শায়খের মাধ্যমেই হয়েছে:

প্রথমজন হলেন: শায়খ ইমাম, পণ্ডিত, মিসর ভূখণ্ডের আল-কাহিরা আল-মুইয্যিয়্যাহ-র জামে আযহারের মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবুল কাসিম বিন ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফফর আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারিকী। তিনি একজন শায়খ, ফকীহ, সূফী এবং যা পাঠ করতেন সে বিষয়ে বিজ্ঞ, দক্ষ ও গ্রন্থকার ছিলেন। তিনি কিতাব লিখার পারিশ্রমিক দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি দীর্ঘ বছর যাবত প্রতিদিন সকালে জামে আযহারে সহীহ বুখারীর অংশবিশেষ পাঠ করার ওপর অবিচল ছিলেন। তিনি আনুমানিক সাতশত ষাট হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আমাকে এর অধিকাংশ তাঁর নিজের পাঠ করার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং অবশিষ্ট অংশ আমি তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে তিনি আমাকে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: আমাকে একদল শায়খ সংবাদ দিয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবুল হারাম (হা এবং রা বর্ণে যবর যোগে) মাক্কী — মক্কা মুশাররাফার অধিবাসী — বিন আবিয যিকর (যাল বর্ণে যের যোগে) আব্দুল গনী আল-কুরাশী আল-গাজ্জী আদ-দিমাশকী। তিনি একজন বরকতময় শায়খ এবং তাঁর শ্রবণ ছিল বিশুদ্ধ ও তিনি অধিক বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি কায়রোর দারুত তিরায-এ নকশাকার ছিলেন। তিনি ছয়শত নিরানব্বই হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি শ্রবণ করে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٨)
أخبرني الشيخ أبو عبد الله الحسين بن المبارك بن محمد الربعي ((بفتح الراء الموحّدة والمهملة)) الزبيدي (بفتح الزاي وكسر الموحّدة) البغدادي الفقيه، كان دينا خيرا حنبليا حدث بالعراق والشام، وألحق الأحفاد بالأجداد. ولد سنة ست وأربعين وخمسمائة، ومات سنة إحدى وثلاثين وستمائة سماعا قال: اخبرني أبو الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب السنجري (بكسر المهملة) الهروي الصوفي قراءة عليه وكان أبوه قد حمله على رقبته من هراة إلى فوشنج لسماع الحديث، وصار شيخا صالحا، ألحق الصغار بالكبار، وكان حاضر الذهن، مستقيم الرأي وصحب شيخ الإسلام أبا عبد الله الأنصاري، ولد سنة ثمان وخمسين وأربعمائة، ومات سنة ثلاث وخمسين وخمسمائة ببغداد ودفن بالشوينيزية قال: أخبرنا أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد بن المظفر بن محمد بن داود الداودي الفوشنجي (بضم الفاء وسكون الواو وفتح المعجمة وتسكين النون وبالجيم) منسوب إلى بلد بقرب هراة خراسان قراءة عليه ونحن نسمع كان أحد أعيان الشافعية والأئمة أثنوا عليه في علمه وورعه ورسوخ قدمه في التقوى، يحكي أنه ترك أكل اللحم وقت نهي التركمان (1) مكتفيا بالسمك فحكى له أن بعض الأمراء أكل على حافة الموضع الذي يصاد منه السمك له ونفض ما فضلمن سفرته فيه فما أكل السمك منه بعد ذلك مات سنة سبع وستين وأربعمائة قال: أخبرنا الشيخ أبو محمد عبد الله بن أحمد بن حموية (بفتح المهملة وشدة الميم المضمومة وإسكان الواو بالتحتانية (السرخي) بفتح المهملة وسكون المعجمة وقد يقال بسكون الراء وفتح المعجمة) سماعا عليه، كان ثقة صاحب أصول حسان ولد ثلاث وتسعين ومائتين ومات سنة إحدى وثمانين وثلثمائة قال: أخبرنا الشيخ أبو عبد الله محمد بن يوسف بن مطر بن صالح الفربري) بفتح الفاء وكسرها وفتح الراء الأولى وإسكان الموحدة) منسوبا إلى قرية من قرى بخارى قراءة عليه كان ثقة ورعا، سمع الصحيح من البخاري مرتين: مرّة بفربر ، ومرّة ببخارى وقيل ثلاث مرات وهو حامل لواء البخاري رواية، ونعم المحمول ولد سنة إحدى وثلاثين ومائتين ومات سنة عشرين وثلاثمائة.

الثاني: الشيخ الإمام الحافظ محدث الحرم الشريف النبوي صلى الله على ساكنه أبو الحسن على ابن يوسف بن الحسن الزرندي (بفتح الزاي والراء وإسكان النون وبالمهملة) الأنصاري كان عالم المدينة في أوانه المضروب إليه أكباد المطيّ في زمانه'وكفاه فضلا انه كان من أصحاب الإسماع عند الروضة الشريفة، وأرباب الإفادة عند العتبة الكريمة المنيفة ' صلوات الله وسلامه على صاحبها، مات سنة اثنتين وسبعين وستمائة. قال: أخبرنا الشيخ المعظّم جمال الدين أبو محمد عبد الرحيم بن عبد الله

--------------------------------------------

(1) هكذا بالأصول التي بأيدينا ولعلّها نهب التركمان

আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনুল মুবারক ইবনে মুহাম্মাদ আর-রাবায়ি (প্রথম বর্ণ রা-তে ফাতহা এবং পরবর্তী বর্ণে ফাতহা যোগে) আজ-জুবাইদি (ঝা-তে ফাতহা এবং বা-তে কাসরা যোগে) আল-বাগদাদী আল-ফকিহ। তিনি ছিলেন দ্বীনদার, নেককার এবং হাম্বলী। তিনি ইরাক ও শামে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং নাতিদের দাদাদের সাথে (সনদে) সংযুক্ত করেছেন। তিনি ৫৪৬ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে ৬৩১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুআইব আস-সানজারি (সিন-এ কাসরা যোগে) আল-হারাবি আস-সুফি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তাঁর পিতা তাঁকে হাদীস শোনার জন্য হেরাত থেকে ফুশাঞ্জ পর্যন্ত নিজের কাঁধে বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি একজন নেককার শায়খ ছিলেন এবং তিনি ছোটদের বড়দের (সনদে) সাথে সংযুক্ত করেছেন। তিনি প্রখর মেধাবী ও সঠিক মতাদর্শী ছিলেন। তিনি শায়খুল ইসলাম আবু আব্দুল্লাহ আল-আনসারীর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। তিনি ৪৫৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৫৩ হিজরীতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে শুয়াইনিজিয়াতে দাফন করা হয়। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল মুজাফফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ আদ-দাউদি আল-ফুশাঞ্জি (ফা-তে যম্মাহ, ওয়াও-তে সুকুন, শীন-এ ফাতহা, নুন-এ সুকুন ও জীম যোগে), এটি খোরাসানের হেরাতের নিকটবর্তী একটি শহরের নিসবত। আমরা যখন শুনছিলাম তখন তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছিল। তিনি শাফিঈ মাযহাবের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং ইমামগণ তাঁর ইলম, পরহেজগারী ও তাকওয়ার দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি তুর্কমেনদের নিষেধাজ্ঞার (১) সময় গোশত খাওয়া ছেড়ে দিয়ে মাছ খেয়েই সন্তুষ্ট থাকতেন। পরবর্তীতে তাঁর কাছে বর্ণনা করা হলো যে, জনৈক আমীর যে স্থান থেকে তাঁর জন্য মাছ ধরা হয় সেখানে বসে খাবার খেয়েছেন এবং তাঁর দস্তরখানের অবশিষ্টাংশ সেখানে ঝেড়েছেন; এরপর তিনি আর সেই মাছও খাননি। তিনি ৪৬৭ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হামুইয়াহ (প্রথম বর্ণে ফাতহা, মীম-এ তাশদীদ ও যম্মাহ, ওয়াও-এ সুকুন ও ইয়া যোগে) আস-সারখাসি (প্রথম বর্ণে ফাতহা ও পরবর্তী বর্ণে সুকুন অথবা রা-তে সুকুন ও শীন-এ ফাতহা যোগেও বলা হয়), তাঁর নিকট সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত এবং উত্তম পাণ্ডুলিপির অধিকারী। তিনি ২৯৩ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৮১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার ইবনে সালিহ আল-ফিরারি (ফা-তে ফাতহা বা কাসরা, প্রথম রা-তে ফাতহা এবং বা-তে সুকুন যোগে), যা বুখারার একটি গ্রামের নিসবত। তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এই সংবাদ প্রাপ্তি। তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত ও পরহেজগার। তিনি ইমাম বুখারীর নিকট থেকে দুইবার ‘সহীহ’ শুনেছেন: একবার ফিরার-এ এবং একবার বুখারায়। বলা হয়ে থাকে তিনি তিনবার শুনেছেন। তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে ইমাম বুখারীর ঝাণ্ডাবাহী ছিলেন, আর কতই না উত্তম সেই ঝাণ্ডাবাহী! তিনি ২৩১ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

দ্বিতীয়: শায়খ, ইমাম, হাফিজ, মসজিদে নববীর মুহাদ্দিস (যাঁর ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর অধিবাসীর ওপর)—আবু হাসান আলী ইবনে ইউসুফ ইবনুল হাসান আজ-যারান্দি (ঝা ও রা-তে ফাতহা, নুন-এ সুকুন ও দাল যোগে) আল-আনসারী। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের মদীনার আলিম, যাঁর নিকট পৌঁছানোর জন্য উটের পিঠে চড়ে দূর-দূরান্ত থেকে সফর করা হতো। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি রওজা শরীফের পাশে হাদীস শ্রবণকারীদের অন্যতম এবং মহান ও উচ্চ মর্যাদাশীল আস্তানা থেকে ফয়েজ দানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তাঁর অধিপতির ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। তিনি ৬৭২ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান শায়খ জামালুদ্দিন আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহিম ইবনে আব্দুল্লাহ...

--------------------------------------------

(১) আমাদের হাতে থাকা মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে এভাবেই আছে, তবে সম্ভবত এটি ‘তুর্কমেনদের লুণ্ঠন’ হবে।
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٩)
ابن يوسف الأنصاري، عرف بابن شاهد الجيش ((بالجيم والتحتانية والمعجمة)) كان ثبت العلم وكان رئيسا لديوان الإنشاء بحلب الشام مات بعد ستين وسبعمائة سماعا. قال أخبرنا الشيخ أبو الطاهر إسماعيل بن عبد القوي بن أبي العز بن أبي عزون ((وهو بفتح المهملة وضم الزاي المشددة وبالواو والنون)) الأنصاري الشافعي المصري والشيخ نظام الدين أبو عمرو عثمان بن عبد الرحمن بن رشيق ((بفتح الراء وكسر المعجمة)) الربعيّ ((بالراء والموحدة المفتوحتين وبالمهملة)) المالكي قراءة عليهما وأنا أسمع خلا شيئا يسيرا وهو من باب المسافر إذا جدّ به السير إلى كتاب الصيام ومن باب ما يجوز من الشروط في المكاتب إلى باب الشروط في الجهاد ومن باب غزوة المرأة في البحر إلى باب دعء النبي صلى الله عليه وسلم الناس فإنه بالإجازة قالا أخبرنا أبو القاسم هبة الله بن علي بن مسعود الأنصاري البويصري ((بضم الموحدة وسكون الواو وكسر المهملة وإسكان التحتانية وبالراء)) قراءة عليه قال: أخبرنا أبو عبد الله محمد بن بركات ويقال ابن هلال السعدي النحوي اللغوي سماعا قال: أخبرتنا أم الكرام كريمة بنت أحمد بن محمد بن حاتم المروزية سماعا، قالت: اخبرنا الإمام أبو الهيثم ((بفتح الهاء وإسكان التحتانية بالمثلثة)) محمد بن مكي ((بفتح الميم وشدة الكاف والتحتانية)) ابن محمد بن زراع ((بضم الزاي وخفة الراء بالمهملة)) الأديب الكشميهني ((بضم الكاف وتسكين المعجمة وبفتح الهاء وكسرها وقد تمال الألف وقيل الياء على الأصل)) وهي قرية بمرو، سماعا عليه، قال: أخبرنا الفربري سماعا عليه.

الثالث: الشيخ الكبير الثقة بقية السلف' قدوة الخلف جمال الدين محمد بن الشيخ شهاب الدين أحمد بن عبد الله بن عبد المعطي الأنصاري المكّي، محدّث الحرم الشريف الإلهي كثير الطاعات والعبادات ، غزير المناسك والطوافات أخبرنا أنه حج خمسا وسبعين حجّة سمعنا عليه صحيح البخاري بمكّة المشرّفة بالمسجد الحرام بباب الرحمة تجاه الكعبة المعظمة زادها الله عظمة حذاء الركن اليماني إلا من كتاب الشهادات إلى سورة الفتح فإنه كان بداره المباركة التي بقرب الباب المشهور بباب إبراهيم من الحرم الشريف في ثلاثة أشهر آخرها شهر رمضان سنة خمس وسبعين وسبعمائة' قال أخبرنا الشيخ الرواية شيخ علماء الشرق والغرب إمام مقام إبراهيم الخليل صلوات الله تعالى وسلامه عليه رضى الدين أبو إسحاق إبراهيم بن محمد الطبري مات سنة اثنين وعشرين وسبعمائة سماعا بسماعه على الشيخ الجليل المسند، ركن الدين عبد الرحمن بن أبي حرمى ((بالمهملة والراء المفتوحتين)) ابن بنين (بلفظ جمع الابن)) الكاتب المكيّ ما خلا من باب قول الله تعالى وإلى مدين أخاهم شعيبا إلى باب مبعث النبيّ صلى الله عليه وسلم فإنه بالإجازة قال: أخبرنا الشيخ أبو الحسن علي
ইবনে ইউসুফ আল-আনসারী, তিনি ইবনে শাহিদ আল-জাইশ (জীম, ইয়া এবং শীন বর্ণ যোগে) নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ইলমে সুদৃঢ় ছিলেন এবং সিরিয়ার হালাবের দিওয়ানুল ইনশার প্রধান ছিলেন। তিনি সাতশত ষাট হিজরীর পর শ্রবণ সূত্রে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু তাহের ইসমাঈল বিন আব্দুল কাবি বিন আবিল ইযয বিন আবি আয্যুন (আয্যুন শব্দটি আইন বর্ণে ফাতহা, তাশদীদযুক্ত যা বর্ণে যম্মাহ এবং ওয়াও ও নূন যোগে) আল-আনসারী আশ-শাফিঈ আল-মিসরী এবং শাইখ নিযামুদ্দীন আবু আমর উসমান বিন আব্দুর রহমান বিন রাশিদ (রা বর্ণে ফাতহা এবং শীন বর্ণে কাসরা যোগে) আর-রাবাঈ (রা এবং বা বর্ণে ফাতহা এবং আইন বর্ণ যোগে) আল-মালিকী, তাদের উভয়ের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি শ্রবণ করছিলাম সামান্য কিছু অংশ ব্যতীত; আর তা হলো 'মুসাফিরের দ্রুত পথ চলার অধ্যায়' থেকে 'রোযার কিতাব' পর্যন্ত, এবং 'মুকাতাব দাসের শর্তাবলীতে যা বৈধ সেই অধ্যায়' থেকে 'জিহাদের শর্তাবলীর অধ্যায়' পর্যন্ত, এবং 'সমুদ্রে নারীর যুদ্ধের অধ্যায়' থেকে 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের লোকদেরকে ডাকার অধ্যায়' পর্যন্ত—এই অংশগুলো ইজাযত বা অনুমতির মাধ্যমে প্রাপ্ত। তারা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আলী বিন মাসউদ আন-আনসারী আল-বুওয়াইসরী (বা বর্ণে যম্মাহ, ওয়াও বর্ণে সুকুন, সাদ বর্ণে কাসরা, ইয়া বর্ণে সুকুন এবং রা বর্ণ যোগে) তার নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন বারাকাত, যাকে ইবনে হিলাল আস-সাদী আন-নাহবী আল-লুগাবীও বলা হয়, শ্রবণ সূত্রে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মুল কিরাম কারীমা বিনতে আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাতিম আল-মারওয়াযিয়্যাহ শ্রবণ সূত্রে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবুল হাইসাম (হা বর্ণে ফাতহা, ইয়া বর্ণে সুকুন এবং সা বর্ণ যোগে) মুহাম্মদ বিন মাক্কী (মীম বর্ণে ফাতহা এবং তাশদীদযুক্ত কাফ ও ইয়া বর্ণ যোগে) বিন মুহাম্মদ বিন যুররা’ (যা বর্ণে যম্মাহ, হালকা রা এবং আইন বর্ণ যোগে) আল-আদীব আল-কুশমিহানী (কাফ বর্ণে যম্মাহ, শীন বর্ণে সুকুন এবং হা বর্ণে ফাতহা ও কাসরা যোগে; কখনও আলিফকে ইমালা করা হয়, আবার বলা হয় মূলগতভাবে এটি ইয়া)। এটি মার্ভের একটি গ্রাম। তার নিকট শ্রবণ সূত্রে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফিরাবরী তার নিকট শ্রবণ সূত্রে।

তৃতীয়: মহান শাইখ, নির্ভরযোগ্য, পূর্বসূরীদের অবশিষ্টাংশ, উত্তরসূরীদের আদর্শ জামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন শাইখ শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মু’তী আল-আনসারী আল-মাক্কী। তিনি আল্লাহর সম্মানিত হারামের মুহাদ্দিস ছিলেন, প্রচুর আনুগত্য ও ইবাদতকারী, হজ্জের আহকাম ও তাওয়াফে নিমগ্ন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি পঁচাত্তরবার হজ্জ করেছেন। আমরা তার নিকট মক্কা মুকাররামার মসজিদুল হারামের বাবুুর রাহমাহ বা রহমত দরজায়, সম্মানিত কাবার সামনে (আল্লাহ তার সম্মান বৃদ্ধি করুন), রুকনে ইয়ামানীর সোজাসুজি সহীহ আল-বুখারী শুনেছি; তবে 'সাক্ষ্য অধ্যায়' থেকে 'সূরা আল-ফাতহ' পর্যন্ত অংশটুকু তার সেই বরকতময় ঘরে শুনেছিলাম যা হারাম শরীফের প্রসিদ্ধ বাবু ইবরাহীম বা ইবরাহীম দরজার নিকটে অবস্থিত। এটি সম্পন্ন হয়েছিল সাতশত পঁচাত্তর হিজরীর রমজান মাসে সমাপ্ত হওয়া তিন মাসের মধ্যে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বর্ণনাকারী শাইখ, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের আলেমদের শাইখ, মাকামে ইবরাহীম খলীল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ইমাম রাযিউদ্দীন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আত-তাবারী। তিনি সাতশত বাইশ হিজরীতে শ্রবণ সূত্রে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি শ্রবণ করেছিলেন মহান শাইখ, উচ্চতর সনদধারী রুকনুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবি হারামী (হা এবং রা বর্ণে ফাতহা যোগে) ইবনে বানীন (পুত্র শব্দের বহুবচন শব্দে) আল-কাতিব আল-মাক্কীর নিকট থেকে; শুধুমাত্র আল্লাহর বাণী 'আমি মাদইয়ানবাসীর নিকট তাদের ভাই শুআইবকে প্রেরণ করেছি' অধ্যায় থেকে 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তি' অধ্যায় পর্যন্ত অংশটুকু ইজাযত বা অনুমতির মাধ্যমে প্রাপ্ত। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল হাসান আলী...
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٠)
ابن حميد ((بضم الحاء)) ابن عمار ((بتشديد الميم)) الأطرابلسي ((بفتح الهمزة وإسكان المهملة وبالراء وضم الموحدة وباللام وبالمهملة)) المكي سماعا، قال أخبرنا أبو مكتوم ((بالفوقانبة)) عيسى بسماعه عن والده الحافظ أبي ذرّ ((بفتح المعجمة وشدّة الراء)) عبد بن محمد بن أحمد الهروي، ولد سنة خمس أو ست وخمسين وثلاثمائة، ومات سنة أربع وثلاثين وأربعمائة بسماعه عن الأئمة الثلاثة أب الهيثم الكشميهني وأبي محمد السرخسي المتقدّم ذكرهما وأبي إسحاق بن إبراهيم بن محمد بن أحمد المستملي ببلخ وكان من الثقاة ' مات سنة ست وسبعين وثلاثمائة هذا وللشيخ رضى الدين إمام المقام طريقة غير طريقة الفربري' وهي من النفائس' وبها يكمل لنا من البخاري في كل مرتبة راوبان' وهو مهتم به معتنى عليه عند أهل هذا الشأن قال: أخبرنا الشيخ ركن الدين عبد الرحمن الكاتب عن الحافظ أب طاهر أحمد بن محمد بن سلفه ((بكسر المهملة وفتح اللام وبالفاء)) وهو أعجمي ومعناه بالعربي: ثلث شفاه لأن شفته كانت مشقوقة وأصله كان بالموحدة فأبدلت بالفاء الأصفهاني ولد سنة ثنين وسبعين وأربعائمة ومات سنة ست وسبعين وخمسمائة فجأة بالإسكندرية قال أخبرني أبو الخطاب ((بالمعجمة وشدّة المهملة)) نصر ((بسكون المهملة)) ابن أحمد بن البطر ((بفتح الموحدة وكسر المهملة)) القارئ من القراءة سماعا ولد في سنة ثمان وتسعين وثلثمائة ومات سنة أربع وتسعين وأربعمائة قال: أخبرنا أبو محمد عبد الله بن عبيد الله بن يحي بن زكريا المؤدب ويعرف بابن البيع ((بفتح الموحدة وكسر التحتانية الشديدة)) ولد سنة إحدى وعشرين وثلاثمائة ، ومات سنة ثمان وأربعمائة قال: أخبرنا القاضي الفقيه أبو عبد الله الحسين بن إسماعيل الضبي ((بالمعجمة)) المحاملي كان احد أجداده يتبع المحمل الذي يركب عليه وهو آخر من روى عن البخاري ببغداد، وقال بعضهم: سماعه منه إنما هو لبعض صحيحه ، ولد سنة خمس وثلاثين ومائتين ومات سنة ثلاثين وثلثمائة.

ইবনে হুমাইদ (হা-বর্ণে পেশ সহকারে) ইবনে আম্মার (মিম-বর্ণে তাশদীদ সহকারে) আল-আত্রাবুলুসি (হামযাতে ফাতহাহ, নুকতাহীন ত্ব-বর্ণে সুকুন, অতঃপর রা, এক নুকতা বিশিষ্ট বা-বর্ণে পেশ, লাম এবং নুকতাহীন সিন সহকারে) আল-মাক্কি সরাসরি শ্রবণ সূত্রে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মাকতুম (উপরে দুই নুকতা বিশিষ্ট তা সহকারে) ঈসা, তার পিতা হাফেজ আবু যার (নুকতাযুক্ত যাল-বর্ণে ফাতহাহ ও রা-বর্ণে তাশদীদ সহকারে) আবদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-হারাউয়ির নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণ সূত্রে। তিনি তিনশত ছাপ্পান্ন অথবা সাতান্ন হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং চারশত চৌত্রিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিন ইমাম - আবুল হাইসাম আল-কুশমিহানি, আবু মুহাম্মদ আস-সারাকসি (যাদের কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে) এবং বলখের আবু ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-মুস্তামলির নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণ সূত্রে, আর তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তিনশত ছিয়াত্তর হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। উল্লেখ্য যে, শায়খ রাযীউদ্দিন ইমামুল মাকামের নিকট আল-ফারাবরির তরীকা ছাড়া অন্য একটি তরীকা বা সনদ রয়েছে; আর এটি অত্যন্ত মূল্যবান বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে বুখারীর প্রতিটি স্তরে আমাদের নিকট দুইজন করে বর্ণনাকারী পূর্ণ হয়। এটি এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিকট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও যত্ন সহকারে সংরক্ষিত। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ রুকনুদ্দিন আবদুর রহমান আল-কাতিব হাফেজ আবু তাহের আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সিলাফাহ (নুকতাহীন সিন-বর্ণে কাসরাহ, লাম-বর্ণে ফাতহাহ এবং ফা সহকারে) থেকে। এটি একটি অনারব শব্দ এবং আরবিতে এর অর্থ হলো: তিন ঠোঁট; কারণ তার ঠোঁট চেরা ছিল। শব্দটির মূলে 'বা' (এক নুকতা বিশিষ্ট) ছিল যা পরবর্তীতে 'ফা' দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি আসফাহানের অধিবাসী ছিলেন। তিনি চারশত বাহাত্তর হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং পাঁচশত ছিয়াত্তর হিজরীতে আলেকজান্দ্রিয়ায় আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-খাত্তাব (নুকতাযুক্ত খা এবং তাশদীদযুক্ত নুকতাহীন ত্ব সহকারে) নাসর (নুকতাহীন সদ-বর্ণে সুকুন সহকারে) ইবনে আহমাদ ইবনে আল-বাতার (এক নুকতা বিশিষ্ট বা-বর্ণে ফাতহাহ ও নুকতাহীন ত্ব-বর্ণে কাসরাহ সহকারে) আল-ক্বারি; কিরাআহ ও সরাসরি শ্রবণ সূত্রে। তিনি তিনশত আটানব্বই হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং চারশত চুরানব্বই হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আল-মুয়াদ্দিব; যিনি ইবনুল বাইয়ি' (এক নুকতা বিশিষ্ট বা-বর্ণে ফাতহাহ ও ইয়া-বর্ণে তাশদীদ ও কাসরাহ সহকারে) নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি তিনশত একুশ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং চারশত আট হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযী ফকীহ আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আদ-দব্বি (নুকতাযুক্ত দদ-বর্ণে) আল-মুহামিলি। তার পূর্বপুরুষদের একজন 'মাহমাল' (উটের পিঠের হাওদা) অনুসরণ করতেন যার উপর আরোহণ করা হতো। তিনি বাগদাদে ইমাম বুখারী থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন। কেউ কেউ বলেছেন যে, তার শ্রবণ ইমাম বুখারীর সহীহ-এর কেবল কিছু অংশের জন্য ছিল। তিনি দুইশত পঁয়ত্রিশ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনশত ত্রিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌ترجمة البخاري

رضي الله تعالى عنه

وأما البخاري فهو أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبة ((بفتح الموحدة وإسكان الراء وكسر المهملة وتسكين الزاي بالموحدة)) الجعفي ((بضم الجيم وسكون المهملة وبالفاء)) بخاري، أسلم المغيرة وكان مجوسيا على يد اليماني الجعفي والي بخارى ، وأبوه إسماعيل كان من خيار الناس ،وأمه كانت مجابة الدعوة وكان البخاري رحمه الله قد ذهب بصره وهو صغير ' فرأت أمه في المنام إبراهيم الخليل عليه السلام وقال: يا هذه قد ردّ الله على ابنك بصره لكثرة دعائك أو بكائك فأصبح بصيرا، ولد ببخارى سنة أربع وتسعين ومائة' وألهم حفظ الحديث في صغره وهو ابن عشر سنين أو أقلّ ثم حجّ به أبوه فرجع أبوه وهو أقام بمكة المكرمة في طلب العلم، وذلك سنة ثمان عشرة من عمره ورحل رحلات واسعة في طلب الحديث إلى أمصار الإسلام، وكتب عن شيوخ متوافرات وأئمة متكاثرات قال رحمه الله تعالى: كتبت عن ألف وثمانين رجلا ليس فيهم إلاّ صاحب حديث كلّهم كانوا يقولون: الإيمان قول وعمل يزيد وينقص. حتى صار إمام أئمة الحديث والمقتدى به في هذا الشأن، وأجمع المحققون على أن كتابه أصح كتاب بعد القرآن. وروى عنه خلائق كثيرون نحو من مائة ألف أو يزيدون، أو ينقصون' وعظمه العلماء غاية التعظيم وكرمه الفضلاء نهاية الإجلال والتكريم، حتى أنّ مسلما صاحب الصحيح كلما دخل عليه يسلم ويقول: دعني أقبل رجليك يا طبيب الحديث في علله. ويا أستاذ الأستاذين، ويا سيد المحدّثين، وقال أبو عيسى الترمذي: لم أر مثله وجعله الله زين هذه الأمة. وقال أبو نعيم: إنه فقيه هذه الأمة، وقال محمد بن بشار ((بإعجام الشين)) وكان علماء مكة يقولون هو إمامنا وفقيهنا وفقيه خراسان' وقال ابن المديني: ما هو رأى مثل نفسه. وقال ابن خزيمة ((مصغّر الخزمة ' بالمعجمة والزاي)) ما تحت أديم السماء أعلم بالحديث منه وأحفظ وقال بعضهم هو آية من آيات الله يمشي على وجه الأرض، ونحو ذلك وكان رحمه الله في سعة من الدنيا. وقد ورث من أبيه مالا، وكان يتصدّق به وربما كان يأتي عليه نهار لا يأكل فيه وإنما كان يأكل أحيانا لوزتين أو ثلاثا، وكان يختم في كل ثلاث ليال وكان حفظه الله في غاية الكمال وقال: خرجت هذا الصحيح من زهاء ستمائة ألف حديث وقال: ما وضعت في كتابي هذا حديثا إلا اغتسلت قبل ذلك وصلّيت ركعتين وقيل كان ذلك بمكة المشرفة، شرّفها الله تعالى والغسل بماء زمزم والصلاة خلف المقام وقيل كان بالمدينة صلى الله على صاحبها، وترجم أبوابه في الروضة المباركة.
বুখারীর জীবনী

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন

আর ইমাম বুখারী হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুগিরা বিন বারদিজবাহ (বা-বর্ণে ফাতাহ, রা-বর্ণে সুকুন, দাল-বর্ণে কাসরা এবং যা-বর্ণে সুকুন ও শেষে বা-বর্ণ যুক্ত) আল-জু'ফী (জীম-বর্ণে যম্মাহ, আইন-বর্ণে সুকুন এবং ফা-বর্ণ যুক্ত), বুখারী। আল-মুগিরা অগ্নিপূজক ছিলেন, পরে তিনি বুখারার ওয়ালী ইয়ামানী আল-জু'ফীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ইসমাইল ছিলেন সর্বোত্তম মানুষদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর মাতা ছিলেন মুজাবাতুদ দাওয়াহ (যাঁর দোয়া কবুল হয়)। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) শৈশবে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। অতঃপর তাঁর মা স্বপ্নে ইব্রাহিম খলীল (আলাইহিস সালাম)-কে দেখলেন এবং তিনি বললেন: "হে নারী, তোমার অধিক দোয়া অথবা তোমার কান্নাকাটির কারণে আল্লাহ তোমার ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন"; অতঃপর তিনি দৃষ্টিমান হয়ে গেলেন। তিনি ১৯৪ হিজরী সনে বুখারাতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তাঁর অন্তরে হাদিস মুখস্থ করার ইলহাম হয়েছিল যখন তাঁর বয়স দশ বছর বা তারও কম ছিল। অতঃপর তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে হজ করেন, এরপর তাঁর পিতা ফিরে আসলেও তিনি ইলম অন্বেষণের জন্য মক্কাতুল মুকাররমায় অবস্থান করেন; সেটি ছিল তাঁর বয়সের আঠারোতম বছর। তিনি হাদিস অন্বেষণের জন্য ইসলামের বিভিন্ন শহরগুলোতে ব্যাপক সফর করেন এবং অসংখ্য শায়খ ও অনেক ইমামগণের নিকট থেকে হাদিস লিখে নেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন: "আমি এক হাজার আশিজন ব্যক্তি থেকে হাদিস লিখেছি, যাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন হাদিস বিশারদ এবং তাঁরা সবাই বলতেন: ঈমান হলো কথা ও কাজের নাম, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।" এমনকি তিনি হাদিসের ইমামদের ইমাম এবং এই বিষয়ে অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। আর গবেষকগণ এই ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, কুরআনের পর তাঁর কিতাবই সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব। তাঁর নিকট থেকে এক লক্ষ বা তার চেয়ে কম-বেশি অসংখ্য মানুষ হাদিস বর্ণনা করেছেন। আলেমগণ তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করেছেন এবং গুণীজনরা তাঁকে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মান দান করেছেন। এমনকি সহীহ মুসলিমের রচয়িতা ইমাম মুসলিম যখনই তাঁর কাছে আসতেন, তাঁকে সালাম দিতেন এবং বলতেন: "হে হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ের চিকিৎসক! আমাকে আপনার পা দুটিতে চুমু খেতে দিন। হে ওস্তাদদের ওস্তাদ এবং মুহাদ্দিসগণের সর্দার।" আবু ঈসা আত-তিরমিজি বলেন: "আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি এবং আল্লাহ তাঁকে এই উম্মতের অলংকার বানিয়েছেন।" আবু নুআইম বলেন: "নিশ্চয়ই তিনি এই উম্মতের ফকিহ।" মুহাম্মদ বিন বাশশার (শীন বর্ণটি নুকতাহযুক্ত) এবং মক্কার আলেমগণ বলতেন: "তিনি আমাদের ইমাম, আমাদের ফকিহ এবং খোরাসানের ফকিহ।" ইবনুল মাদীনী বলেন: "তিনি নিজের মতো আর কাউকে দেখেননি।" ইবনে খুজাইমা (খুজমাহ শব্দের তাসগির, খ-বর্ণে নুকতাহ ও যা-বর্ণ সহ) বলেন: "আকাশের নিচে তাঁর চেয়ে বড় হাদিস বিশারদ এবং অধিক হাফেজ আর কেউ নেই।" তাঁদের কেউ কেউ বলেন: "তিনি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে এক নিদর্শন যিনি ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করছেন", এবং এই জাতীয় আরও অনেক কথা। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) পার্থিব সচ্ছলতার মধ্যে ছিলেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন এবং তা দান করে দিতেন। কখনও কখনও তাঁর ওপর এমন দিন অতিবাহিত হতো যে তিনি কিছুই খেতেন না, আবার কখনও কখনও কেবল দু-তিনটি কাঠবাদাম খেতেন। তিনি প্রতি তিন রাতে একবার কুরআন খতম করতেন এবং তাঁর স্মরণশক্তি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিপূর্ণ। তিনি বলেন: "আমি প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে এই সহীহ কিতাবটি বের করেছি।" তিনি আরও বলেন: "আমি আমার এই কিতাবে কোনো হাদিসই অন্তর্ভুক্ত করিনি যতক্ষণ না তার আগে গোসল করে দুই রাকাত সালাত আদায় করেছি।" বলা হয়ে থাকে যে, এটি মক্কা মুশাররাফাতে (আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন) হয়েছে এবং যমযমের পানি দিয়ে গোসল ও মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে সালাত আদায় করা হয়েছে। আবার বলা হয় যে, এটি মদিনায় (আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক এই শহরের অধিপতির ওপর) হয়েছে এবং তিনি রওজায়ে মুবারকায় বসে এর অধ্যায়গুলোর শিরোনাম লিখেছিলেন।
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٢)
وصلى لكل ترجمة ركعتين وقيل صنف الجامع في ست عشرة سنة والله أعلم بذلك، ودخل بغداد مرات وانقاد أهلها له في الحديث بلا منازعة ولهم معه حكاية مشهورة في امتحانهم له بقلب الأسانيد والمتون فصحح كلها في الساعة وحين وقعت الفتنة واشتدت المحنة في مسالة خلق القرآن رجع من بغداد إلى بخارى فتلقاه أهلها في تجمل عظيم ومقدم كريم وبقي مدّة يحدّثهم في مسجده فأرسل إليه أمير البلد خالد بن محمد الهذلي يتلطف معه ويسأله أن يأتيه بالصحيح ويحدّثهم به في قصره فامتنع البخاري من ذلك وقال: لا أذل العلم ولا أحمله إلى أبواب الناس' فحصلت وحشة بينهما فأمره الأمير بالخروج من البلد ويقال إنّ البخاري دعا عليه فلم يأت شهر حتى ورد أمر دار الخلافة بأن ينادى على خالد في البلد فنودي عليه على أتان وحبس إلى أن مات ،ولما خرج من بخارى كتب إليه أهل سمرقند يخطبونه إلى بلدهم فسار إليهم فلما كان بقرية خرتنك ((بفتح المعجمة وإسكان الراء وفتح الفوقانية وسكون النون)) وهي على فرسخين من سمرقند بلغه أنه وقع بينهم بسببه فتنة فقوم يريدون دخوله وقوم يكرهونه' فأقام بها حتى ينجلي الأمر فضجر ليلة ودعا- وقد فرغ من صلاة الليل-اللهم لقد ضاقت عليّ الأرض بما رحبت فاقبضني إليك فمات في ذلك الشهر سنة ست وخمسين ومائتين وعمره اثنان وستون سنة ، فإن قلت كيف استجاز الدعاء بالموت وقد خرّج هو في صحيحه ((لا يتمنين أحدكم الموت لضر نزل به)) قلت: نصوا بأن المراد بالضرّ هو الدّنيوي وأمّا إذا نزل به ضرّ ديني فإنّه يجوز تمنيه خوفا من تطرّق الخلل في الدّين ولماّ دفن رحمة الله عليه فاح من تراب قبره رائحة الغالية أطيب من المسك وظهر سوار بيض في السماء مستطيلة حذاء القبر' وكانوا يرفعون التراب منه للبركة حتى ظهرت الحفرة للناس ولم يكن يقدر على حفظ القبر بالحراّس فنصب على القبر خشبات مشبكات فكانوا يأخذون ما حواليه من التراب والحصيات ودام ريح الطيب أياّما كثيرة حتى تواتر عند جميع أهل تلك البلاد وأمثال هذه الكرامات الإلهية لا يستعظم بالنسبة إلى أمثال هؤلاء العباد، رفع الله تعالى ذكره الشريف وقد فعل وجعل له لسان صدق في الآخرين وقد جعل.

واعلم أن الحديث موضوعه: هو ذات رسول الله صلى الله عليه وسلم من حيث أنه رسول الله وحده: هو علم يعرف به أقوال رسول الله صلى الله عليه وسلم وأفعاله وأحواله. وغايته: الفوز بسعادة الدارين. وان عدد كتب الجامع مائة وشيء وعدد الأبواب ثلاثة آلاف وأربعمائة وخمسون بابا مع اختلاف قليل في نسخ الأصول وعدد الأحاديث المسندة فيه سبعة آلاف ومائتان وخمسة وسبعون حديثا، والمكررات منه قريب النصف فأحاديثه بدون التكرار تقارب أربعة آلاف وعدد مشايخه الذين خرج عنهم فيه مائتان وتسعة وثمانون وعدد من تفرّد بالرواية عنهم دون
তিনি প্রতিটি শিরোনামের জন্য দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। বলা হয় যে, তিনি ‘জামে’ গ্রন্থটি ষোল বছর ধরে সংকলন করেছেন; আর আল্লাহ এ বিষয়ে অধিক অবগত। তিনি কয়েকবার বাগদাদে প্রবেশ করেছেন এবং হাদিস শাস্ত্রে সেখানকার অধিবাসীগণ কোনো প্রকার বিবাদ ছাড়াই তাঁর নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিল। হাদিসের সনদ ও মূলপাঠ উল্টেপাল্টে দিয়ে তাঁর পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে তাঁর একটি সুপ্রসিদ্ধ কাহিনী রয়েছে; তিনি তৎক্ষণাৎ সেগুলোর সব কটি সংশোধন করে দিয়েছিলেন। যখন ফিতনা দেখা দিল এবং কুরআন সৃষ্টির মাসআলা নিয়ে পরীক্ষা কঠিন রূপ ধারণ করল, তখন তিনি বাগদাদ থেকে বুখারায় ফিরে যান। সেখানকার অধিবাসীগণ অত্যন্ত জাঁকজমক ও মর্যাদার সাথে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। তিনি বেশ কিছুকাল তাঁর মসজিদে তাঁদের নিকট হাদিস বর্ণনা করতে থাকেন। অতঃপর সেই অঞ্চলের আমির খালিদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হুযালী অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাঁর নিকট বার্তা পাঠালেন এবং অনুরোধ করলেন যেন তিনি ‘সহীহ’ কিতাবটি নিয়ে তাঁর নিকট আসেন এবং তাঁর প্রাসাদে তাঁদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী তাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে বললেন: “আমি ইলমকে লাঞ্ছিত করব না এবং একে মানুষের দ্বারে দ্বারে বয়ে নিয়ে যাব না।” ফলে তাঁদের উভয়ের মাঝে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় এবং আমির তাঁকে শহর ত্যাগের নির্দেশ দেন। কথিত আছে যে, ইমাম বুখারী আমিরের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন; ফলে এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই খিলাফত থেকে এই মর্মে নির্দেশ এল যে, শহরের মাঝে খালিদের লাঞ্ছনার ঘোষণা দেওয়া হোক। সে অনুযায়ী তাকে একটি গাধার পিঠে চড়িয়ে ঘোরানো হলো এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাকে কারারুদ্ধ রাখা হলো। বুখারা থেকে বের হওয়ার পর সমরকন্দের অধিবাসীগণ তাঁদের শহরে আসার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে পত্র লিখলেন। তিনি তাঁদের অভিমুখে যাত্রা করলেন। যখন তিনি ‘খারতাঙ্ক’ গ্রামে (খা বর্ণে জবর, রা বর্ণে সাকিন, তা বর্ণে জবর এবং নূন বর্ণে সাকিনসহ) পৌঁছালেন—যা সমরকন্দ থেকে দুই ফারসাখ দূরত্বে অবস্থিত—তখন তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, তাঁকে কেন্দ্র করে তাঁদের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। একদল তাঁর প্রবেশের পক্ষে এবং অন্যদল তা অপছন্দ করছিল। তাই বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করলেন। এক রাতে তিনি অত্যন্ত বিচলিত বোধ করলেন এবং রাতের নামাজ শেষ করে দোয়া করলেন— “হে আল্লাহ! এই প্রশস্ত পৃথিবী আমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেছে, সুতরাং আপনি আমাকে আপনার নিকট তুলে নিন।” অতঃপর সেই মাসের ২৫৬ হিজরি সনে বাষট্টি বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। যদি আপনি প্রশ্ন করেন, তিনি কীভাবে মৃত্যুর প্রার্থনা করা বৈধ মনে করলেন অথচ তিনি নিজেই তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, ‘তোমাদের কেউ যেন তার ওপর আপতিত কোনো বিপদের কারণে মৃত্যু কামনা না করে’? আমি বলব: আলেমগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এখানে ‘বিপদ’ বলতে পার্থিব বিপদ বোঝানো হয়েছে। কিন্তু যখন দ্বীনি ক্ষেত্রে কোনো বিপদ বা বিপর্যয় দেখা দেয়, তখন দ্বীনের মধ্যে বিচ্যুতি ঘটার আশঙ্কায় মৃত্যু কামনা করা জায়েয। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যখন তাঁকে দাফন করা হলো, তখন তাঁর কবরের মাটি থেকে ‘গালিয়া’ নামক সুগন্ধির ঘ্রাণ বিচ্ছুরিত হতে লাগল যা মেশকের চেয়েও সুমিষ্ট। আকাশের দিকে কবরের সমান্তরালে শুভ্র দীর্ঘ স্তম্ভের ন্যায় জ্যোতি দৃশ্যমান হলো। মানুষ বরকতের জন্য তাঁর কবরের মাটি তুলে নিতে লাগল, এমনকি সেখানে গর্তের সৃষ্টি হলো। প্রহরী দিয়ে কবর পাহারা দেওয়া যখন সম্ভব হচ্ছিল না, তখন কবরের ওপর কাঠের বেড়া স্থাপন করা হলো। বহু দিন পর্যন্ত সেই সুগন্ধি বিদ্যমান ছিল যা সেই অঞ্চলের সকল মানুষের নিকট ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এই ধরনের খোদায়ি কারামত এই স্তরের বান্দাদের জন্য কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র স্মরণকে সুউচ্চ করুন—এবং তিনি তা করেছেন—এবং পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে তাঁর জন্য সত্যের সুখ্যাতি দান করুন—এবং তিনি তা দান করেছেন।

জেনে রাখুন যে, হাদিস শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তা, একমাত্র তাঁর রাসূল হওয়ার দিক বিবেচনা করে। হাদিস হলো এমন এক জ্ঞান যার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, কর্ম ও অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। এর চরম লক্ষ্য হলো: উভয় জগতের সৌভাগ্য লাভ করা। ‘জামে’ (সহীহ বুখারী) গ্রন্থের কিতাব সংখ্যা হলো একশ এর কিছু বেশি এবং অধ্যায় সংখ্যা তিন হাজার চারশত পঞ্চাশটি—মূল কিতাবের পাণ্ডুলিপি ভেদে এতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। এতে সনদসহ বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি। এর মধ্যে পুনরাবৃত্তি হওয়া হাদিস প্রায় অর্ধেক। সুতরাং পুনরাবৃত্তি ছাড়া হাদিস সংখ্যা চার হাজারের কাছাকাছি। এতে তাঁর উস্তাদ বা মাশায়েখগণের সংখ্যা, যাঁদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন, দুইশত উননব্বই জন। আর যাঁদের থেকে তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছেন তাঁদের সংখ্যা...
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

قَالَ الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو عَبْدِ اللهِ

مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْبُخَارِيُّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، آمِينَ:

 

‌‌بابٌ كَيْفَ كَانَ بَدْءُ الوَحْيِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَوْلُ اللهِ جَلَّ ذِكْرُهُ: (إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ)

ــ

مسلم مائة وأربعة وثلاثون ، وتفرد أيضا بمشايخ لم تقع الرواية عنهم كبقية أصحاب الكتب الخمسة إلا بالواسطة ووقع له اثنان وعشرون حديثا عاليا رفيعا، ثلاثي الإسناد ' أعلى الله درجته ودرجتنا يوم التناد على رؤوس الأشهاد ورزقنا شفاعة من توسلنا إليه بكلامه ' خير خلائقه وأفضل أنامه، وجمعنا عند حضرته الشريفة صلى الله عليه وسلم في دار الكرامة، وسلام على المرسلين والحمد لله رب العالمين.

قال أبو عبد الله البخاري-رضي الله عنه:-

بسم الله الرحمن الرحيم

 

باب كيف كان بدء الوحي. قوله: (باب) يجوز فيه وفي نظائره أوجه ثلاثة احدها رفعه مع التنوين والثاني رفعه بلا تنوين على الإضافة وعلى التقديرين هو خبر مبتدأ محذوف أي هذا باب والثالث باب على سبيل التعداد للأبواب بصورة الوقف فلا إعراب له. فأقول: ((وقول الله)) هو مجرور عطفا على محل الجملة التي هي كيف كان بدء الوحي أو هو مرفوع عطفا على لفظ البدء وأجاز القاضي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

শাইখ, ইমাম, হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ

মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুগিরা আল-বুখারি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন), আমিন, বলেন:

 

‌‌পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহি শুরুর সূচনা কীভাবে হয়েছিল এবং মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি ওহি পাঠিয়েছি যেমন ওহি পাঠিয়েছিলাম নূহ এবং তাঁর পরবর্তী নবীগণের প্রতি)

—

মুসলিম একশ চৌত্রিশ; তিনি এমন কিছু শাইখের বর্ণনার ক্ষেত্রেও একক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছেন যাদের থেকে বাকি পাঁচ কিতাবের সংকলকগণ মধ্যস্থতাকারী ব্যতীত সরাসরি বর্ণনা করেননি। তাঁর নিকট বাইশটি উচ্চ পর্যায়ের সুউচ্চ 'সুলাসি' (তিনজন রাবি বিশিষ্ট) সনদযুক্ত হাদিস রয়েছে; আল্লাহ বিচার দিবসে সাক্ষীদের সামনে তাঁর ও আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং যাঁর বাণীর মাধ্যমে আমরা তাঁর নিকট উসিলা তালাশ করি, তাঁর সুপারিশ আমাদের নসিব করুন, যিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং মানবজাতির মধ্যে সর্বোত্তম। আর আল্লাহ আমাদের তাঁর সম্মানিত সান্নিধ্যে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জান্নাতে একত্রিত করুন। রাসুলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেন:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

পরিচ্ছেদ: ওহি শুরুর সূচনা কীভাবে হয়েছিল। তাঁর কথা: (পরিচ্ছেদ); এতে এবং এর সদৃশ শব্দাবলীতে তিনটি ব্যাকরণিক দিক জায়েজ রয়েছে। প্রথমটি হলো তানউইনসহ পেশ (রফ) প্রদান করা। দ্বিতীয়টি হলো সম্বন্ধ হওয়ার কারণে তানউইন ছাড়া পেশ প্রদান করা। উভয় অবস্থাতেই এটি একটি উহ্য উদ্দেশ্যর (মুবতাদা) বিধেয় (খবর) হবে, অর্থাৎ "এটি একটি পরিচ্ছেদ"। তৃতীয়টি হলো পরিচ্ছেদসমূহ গণনার নিয়মে বিরতি (ওকফ) দিয়ে পড়া, এমতাবস্থায় এর কোনো ব্যাকরণিক কারকচিহ্ন (ইরাব) থাকবে না। আমি বলছি: "আল্লাহর বাণী" অংশটি মাজরুর (জের বিশিষ্ট), কারণ এটি "ওহি শুরুর সূচনা কীভাবে হয়েছিল" বাক্যটির স্থানের ওপর অন্বিত হয়েছে। অথবা এটি "সূচনা" শব্দের ওপর অন্বিত হওয়ার কারণে মারফু (পেশ বিশিষ্ট); যা কাজী জায়েজ বলেছেন।
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٤)
الرفع على الابتداء وذكر البخاري الآية الكريمة لأن عادته أن يستدل للترجمة بما وقع له من قرآن أو سنة مسندة وغيرها وأراد أن الوحي سنة الله تعالى في أنبيائه. وقال الإمام أبو الحسن علي بن بطال المالكي المغربي: معنى هذه الآية أن الله تعالى أوحى إلى محمد صلى الله عليه وسلم كما أوحى إلى سائر الأنبياء وحي رسالة لا وحي إلهام لأن الوحي ينقسم إلى وجوه. وأقول إنما ذكر نوحا ولم يذكر آدم لأنه أول مشروع عند بعض العلماء أو لأنه أول نبي عوقب قومه فخصصه به تهديدا لقوم رسول الله صلى الله عليه وسلم ((بدء الوحي)) البدء على وزن محتمل أن يكون مهموزا فهو بمعنى الابتداء أو أن يكون ناقصا فهو بمعنى الظهور والوحي أصله الأعلام في خفاء وقيل الأعلام بسرعة وكل ما دلت به من كلام أو كتابة أو رسالة أو إشارة فهو وحي ومن الرؤيا والإلهام وأوحى ووحي لغتان والأولى أفصح وبها ورد القرآن وقد يطلق ويراد به اسم المفعول منه أي من الموحي وأما بحسب اصطلاح المتشرعة فهو كلام الله المنزل على نبي من أنبيائه. وقال الإمام أبو عبد الله التيمي: الأصفهاني الوحي أصله التفهيم وكلما فهم به شيء من الإشارة والإلهام والكتب فهو وحي قيل في قوله: تعالى ((فأوحى إليهم إليهم أن سبحوا بكرة وعشيا)) أي كتب وفي قوله: ((وأوحى ربك إلى النحل)) وأما الوحي بمعنى الإشارة فكما قال الشاعر:

يرمون بالخطب الطوال وتارة … وحى الملاحظ خيفة الرقباء

وقال وأعلم أنه لما كان كتابه معقودا على أخبار الرسول صلى الله عليه وسلم طلب تصديره بأول شأن الرسالة والوحي ولم يرد أن يقدم عليه الخطبة. فإن قيل ترجمة لبيان بدء الوحي والحديث لبيان كون الأعمال محتاجة إلى النية قلنا. قال: العلماء: البخاري رحمه الله أورد هذا الخبر بدلا من الخطبة وأنزله منزلها فكأنه قال بدأت بهذا الكتاب وصدرته بكيفية بدء الوحي وقصدت به التقرب إلى الله تعالى فإن العمال بالنيات. قال وأعلم أنه لو قال كيف كان الوحي وبدؤه لكان أحسن لأنه تعرض لبيان كيفية الوحي لا بيان كيفية بدء الوحي. وكان ينبغي أن لا يقدم عليه بعقب الترجمة غيره ليكون أقرب إلى الحسن وكذا حديث ابن عباس رضي الله عنهما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس لا على بدء الوحي ولا تعرض له غير أنه لم يقصد بهذه الترجمة تحسين العبارة وإنما مقصوده فهم القارئ والسامع إذا قرأ الحديث علم مقصوده من الترجمة فلم يشتغل بها تعويلا على فهم القارئ. أقول ليس قوله: لكان أحسن مسلما لأنا لا نسلم أنه ليس بيانا لكيفية بدء الوحي إذ يعلم بما في الباب أن الوحي كان ابتداؤه على حال المنام ثم في حال الخلوة بغار حراء على الكيفية المذكورة من الغط ونحوه ثم ما فر هو عنه لازم عليه على هذا
রাফ' বা পেশ হওয়া মুবতাদা হওয়ার কারণে। ইমাম বুখারী এই সম্মানিত আয়াতটি উল্লেখ করেছেন কারণ তাঁর অভ্যাস হলো অধ্যায়ের শিরোনামের স্বপক্ষে কুরআন বা মুসনাদ হাদীস ইত্যাদি থেকে দলিল পেশ করা। তিনি এর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন যে, ওহী হলো তাঁর নবীদের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর একটি চিরন্তন বিধান। ইমাম আবুল হাসান আলী বিন বাত্তাল আল-মালিকি আল-মাগরিবী বলেছেন: এই আয়াতের অর্থ হলো, মহান আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহী পাঠিয়েছেন যেমনটি তিনি অন্যান্য সকল নবীদের প্রতি ওহী পাঠিয়েছিলেন; এটি ছিল রিসালাতের ওহী, ইলহাম বা অনুপ্রেরণামূলক ওহী নয়। কেননা ওহী বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত। আমি বলছি, তিনি নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং আদম (আলাইহিস সালাম)-এর কথা উল্লেখ করেননি, কারণ কোনো কোনো আলিমের মতে তিনিই প্রথম শরীয়তপ্রাপ্ত নবী, অথবা তিনি প্রথম নবী যার জাতিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কওমকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ((ওহীর সূচনা)) 'বাদ' (সূচনা) শব্দটি এমন ওজনে হওয়ার সম্ভাবনা রাখে যা হামজাহ যুক্ত হতে পারে, সেক্ষেত্রে এর অর্থ হবে আরম্ভ বা শুরু। অথবা এটি 'নাকিস' (অসম্পূর্ণ বর্ণ বিশিষ্ট) হতে পারে, সেক্ষেত্রে এর অর্থ হবে প্রকাশ পাওয়া। ওহী শব্দের মূল অর্থ হলো গোপনে অবগত করা। কারো মতে এর অর্থ দ্রুত অবগত করা। কথা, লেখা, পত্র বা ইশারার মাধ্যমে যা কিছু বুঝানো হয়, তা-ই ওহী। স্বপ্ন এবং ইলহামও এর অন্তর্ভুক্ত। 'আওহা' এবং 'ওয়াহা' দুটি ভাষাগত রূপ, তবে প্রথমটি অধিক বিশুদ্ধ এবং কুরআনে এটিই ব্যবহৃত হয়েছে। কখনও এটি 'মাফউল' বা কর্মবাচ্যের অর্থেও ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ যা ওহী করা হয়েছে। আর শরীয়তবিদদের পরিভাষায় ওহী হলো মহান আল্লাহর সেই বাণী যা তাঁর কোনো নবীর ওপর অবতীর্ণ হয়। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আত-তাইমী আল-আসফাহানী বলেছেন: ওহীর মূল অর্থ হলো বুঝানো। ইশারা, ইলহাম এবং কিতাবের মাধ্যমে যা কিছু বোঝানো হয় তা-ই ওহী। মহান আল্লাহর বাণী "অতঃপর তিনি তাদের প্রতি ওহী (ইঙ্গিত) করলেন যে, তোমরা সকাল-সন্ধ্যা তাসবীহ পাঠ করো" - এখানে ওহীর অর্থ হলো 'লিখে দিলেন'। আবার মহান আল্লাহর বাণী "আপনার প্রতিপালক মৌমাছিকে ওহী (অনুপ্রেরণা) দিলেন"। আর ইশারা অর্থে ওহীর ব্যবহার যেমনটি কবি বলেছেন:

তারা দীর্ঘ বক্তৃতার মাধ্যমে উদ্দেশ্য নিক্ষেপ করে, আবার কখনো … পাহারাদারদের ভয়ে চোখের ইশারায় বার্তা প্রদান (ওহী) করে।

তিনি বলেছেন, জেনে রাখুন যে, যখন তাঁর কিতাবটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীসসমূহের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত, তখন তিনি চেয়েছেন একে রিসালাত ও ওহীর প্রারম্ভিক অবস্থা দিয়ে শুরু করতে। তিনি এর আগে কোনো প্রথাগত খুতবা বা ভূমিকা প্রদান করতে চাননি। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, অধ্যায়ের শিরোনাম হলো ওহীর সূচনার বর্ণনায়, অথচ হাদীসটি হলো আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার বর্ণনায়, তবে উত্তরে আমরা বলি—আলিমগণ বলেছেন: ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) এই বর্ণনাটিকে খুতবার পরিবর্তে নিয়ে এসেছেন এবং একে খুতবার স্থলাভিষিক্ত করেছেন। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন, আমি এই কিতাবটি শুরু করছি এবং এর অবতারণা করছি ওহীর সূচনার প্রকৃতি দিয়ে, আর এর মাধ্যমে আমি আল্লাহর নৈকট্য লাভের ইচ্ছা পোষণ করছি, কারণ সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেছেন, জেনে রাখুন, তিনি যদি বলতেন 'ওহীর প্রকৃতি ও এর সূচনা', তবে তা অধিক সুন্দর হতো। কারণ তিনি ওহীর প্রকৃতি বর্ণনার অবতারণা করেছেন, ওহী শুরুর প্রকৃতি নয়। আর উচিত ছিল শিরোনামের পরপরই অন্য কিছু উপস্থাপন না করা যাতে এটি সৌন্দর্যের অধিক নিকটবর্তী হতো। একইভাবে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের মধ্যে সবচাইতে দানশীল ছিলেন'—এটি ওহীর সূচনার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এবং এর অবতারণাও করা হয়নি। তবে তাঁর উদ্দেশ্য এই শিরোনামের মাধ্যমে কেবল বাক্য সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা ছিল না, বরং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পাঠক ও শ্রোতার অনুধাবন। পাঠক যখন হাদীসটি পড়বে, তখন সে শিরোনাম থেকে এর উদ্দেশ্য বুঝতে পারবে। তাই তিনি পাঠকের বোধশক্তির ওপর নির্ভর করে এ নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত হননি। আমি বলছি, তাঁর 'অধিক সুন্দর হতো' কথাটি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে এটি ওহীর সূচনার প্রকৃতির বর্ণনা নয়। কেননা এই অধ্যায়ের মাধ্যমেই জানা যায় যে, ওহীর সূচনা হয়েছিল স্বপ্নের মাধ্যমে, অতঃপর হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থানের সময় উল্লেখিত পদ্ধতিতে (জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরা) ওহী শুরু হয়েছিল। সুতরাং তিনি যা থেকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন, তা এই আলোচনার মাধ্যমেই অবধারিত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٥)
1 - حَدَّثنا الْحُمَيْدِيُّ عَبْدُ اللهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، قَالَ: حَدَّثنا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ

ــ

التقريب أيضا إذ البدء عطف على الوحي كما قرره فيصح أن يقال ذلك إيرادا عليه أيضا وليس قوله: كان ينبغي أيضا مسلما إذ هو بمنزلة الخطبة وقصد التقرب كما قال هو بنفسه والسلف كانوا يستحبون افتتاح كلامهم بحديث النية بيانا لإخلاصهم فيه وليس قوله: وكذا حديث ابن العباس مسلما إذ فيه بيان حال الرسول صلى الله عليه وسلم ابتداء نزول الوحي أو عند ظهور الوحي والمراد من حال ابتداء الوحي حاله مع كل ما يتعلق بشأنه أي تعلق كان كما في التعلق الذي للحديث الهرقلي وهو أن القصة وقعت في أحوال البعثة ومبادئها أو المراد من الباب بجملته بيان كيفية بدء الوحي لا كل حديث منه فلو علم من مجموع ما في الباب كيفية بدء الوحي من كل حديث شيء مما يتعلق به لصحت الترجمة قوله: (الحميدي) أُشرف الكتاب أولا بنسب رسول الله صلى الله عليه وسلم وما يناسب ثم أشرح الباقي بترتيب الكتاب وهو صلى الله عليه وسلم محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي ابن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن اليأس (1) بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان. إلى هنا إجماع الأمة وما بعد مختلف فيه والنضر هو أبو قريش في قول الجمهور وقيل فهر وقيل غيره. وأمه صلى الله عليه وسلم آمنة بنت وهب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب المذكور ومناف بفتح الميم وقصي بصيغة التصغير وكلاب بكسر الكاف وباللام الخفيفة ومرة بضم الميم وتشديد الراء ولؤي بالتصغير وغالب بالغين المنقطة وفهر بكسر الفاء وبالراء وبالنضر بالنون المفتوحة وسكون الضاد المعجمة وخزيمة مصغر الخزمة بالمعجمة والزاي ومدركة بصيغة اسم الفاعل ومضر بضم الميم وفتح الضاد المنقوطة ونزار بكسر النون وبالزاي والراء ومعد بفتح الميم. وأما مولده صلى الله عليه وسلم فالصحيح من الأخبار أنه عام الفيل وقيل بعده بثلاثين أو أربعين سنة وأنه في يوم الاثنين من ربيع الأول لثنتي عشرة خلت منه وقيل ثمان أو لليلتين أو لعشر. وبعث رسولا إلى الناس كافة بمكة ابن أربعين سنة ثم أقام بعد النبوة بها ثلاث عشر سنة على الأصح ثم هاجر إلى المدينة فأقام عشرا بالاتفاق فالصحيح غي عمره ثلاث وستون سنة وقدم المدينة يوم الاثنين ضحى لثنتي عشرة خلت من ربيع الأول وابتدأ التاريخ الإسلامي من هجرته صلى الله عليه وسلم. قال الحاكم أبو أحمد ولد صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين وخرج من مكة مهاجرا يوم الاثنين وقدم المدينة يوم الاثنين وتوفي يوم الاثنين صلى الله

--------------------------------------------

(1) اليأس بالهمز: وهو أوّل من أصابه اليأس ((أي السلّ))
১ - আল-হুমায়দী আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন।

--

তাকরীবের বিষয়টিও অনুরূপ, কারণ 'সূচনা' শব্দটি 'ওহী' শব্দের ওপর সংযুক্ত হয়েছে যেমনটি তিনি নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং এটি তাঁর বিরুদ্ধে একটি আপত্তি হিসেবে পেশ করাও সঠিক হতে পারে। তাঁর এ কথাটিও গ্রহণযোগ্য নয় যে, "তেমনটিই হওয়া উচিত ছিল", কেননা এটি খুতবা বা ভূমিকা স্বরূপ এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের ইচ্ছা করা হয়েছে, যেমনটি তিনি নিজেই বলেছেন। আর সালাফে সালেহীন তাঁদের আলোচনা নিয়ত সম্পর্কিত হাদীস দিয়ে শুরু করা মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় মনে করতেন যাতে এর মাধ্যমে তাঁদের ইখলাস বা নিষ্ঠা প্রকাশ পায়। এবং তাঁর এ কথাটিও গ্রহণযোগ্য নয় যে, "ইবনে আব্বাসের হাদীসটিও তেমনি," কারণ এতে ওহী নাযিল হওয়ার শুরুতে অথবা ওহী প্রকাশের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থার বর্ণনা রয়েছে। আর ওহী শুরুর অবস্থার অর্থ হলো তাঁর এমন অবস্থা যা তাঁর সকল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, চাই তা যে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতাই হোক না কেন, যেমনটি হিরাক্লিয়াস সংক্রান্ত হাদীসের সংশ্লিষ্টতা। আর তা হলো এই যে, সেই ঘটনাটি নবুওয়াত প্রাপ্তির অবস্থা ও এর প্রাথমিক পর্যায়ের সময়ে ঘটেছিল। অথবা এই পরিচ্ছেদের সামগ্রিক উদ্দেশ্য হলো ওহী শুরুর পদ্ধতি বর্ণনা করা, এর প্রতিটি হাদীস আলাদাভাবে নয়। সুতরাং যদি এই পরিচ্ছেদে থাকা হাদীসগুলোর সমষ্টি থেকে ওহী শুরুর পদ্ধতি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি হাদীস থেকে কিছু জানা যায়, তবে শিরোনামটি সঠিক হবে। তাঁর উক্তি: (আল-হুমায়দী) আমি প্রথমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশপরিচয় এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়াবলী দিয়ে গ্রন্থটিকে সম্মানিত করছি, এরপর গ্রন্থের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী অবশিষ্ট অংশের ব্যাখ্যা প্রদান করব। তিনি হলেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদ মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কা'ব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহ ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস (১) ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান। এ পর্যন্ত উম্মতের ঐক্যমত্য রয়েছে এবং এর পরবর্তী বংশধারা নিয়ে মতপার্থক্য আছে। জমহুর বা সংখ্যাধিক্য আলিমদের মতে 'আন-নাদর' হলেন কুরাইশদের আদি পিতা, কেউ কেউ বলেছেন তিনি 'ফিহর', আবার কেউ অন্য কারো কথা বলেছেন। আর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইবনে আবদ মানাফ ইবনে জুহরাহ ইবনে কিলাব (যাঁর নাম পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে)। আর 'মানাফ' হলো মীম-এর যবর যোগে। 'কুসাই' শব্দটি ক্ষুদ্রতাবাচক রূপে। 'কিলাব' হলো কাফ-এর যের এবং লঘু লাম যোগে। 'মুররাহ' হলো মীম-এর পেশ এবং রা-এর তাশদীদ যোগে। 'লুয়াই' ক্ষুদ্রতাবাচক রূপে। 'গালিব' হলো নুকতাযুক্ত গাইন যোগে। 'ফিহর' হলো ফা-এর যের এবং রা যোগে। 'আন-নাদর' হলো নূন-এর যবর এবং নুকতাযুক্ত সাকিন দোয়াদ যোগে। 'খুজাইমাহ' হলো 'খাজমা' শব্দের ক্ষুদ্রতাবাচক যা নুকতাযুক্ত খা এবং যা (যায়ুন) যোগে গঠিত। 'মুদরিকা' শব্দটি কর্তৃকারক (ইসমুল ফাঈল) হিসেবে। 'মুদার' হলো মীম-এর পেশ এবং নুকতাযুক্ত দোয়াদ-এর যবর যোগে। 'নিযার' হলো নূন-এর যের, যা এবং রা যোগে। 'মা'আদ' হলো মীম-এর যবর যোগে। আর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম সম্পর্কে সহীহ বর্ণনা এই যে, তিনি হস্তীবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন। কেউ বলেছেন এর ত্রিশ বা চল্লিশ বছর পর। আর তাঁর জন্ম ছিল রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবার দিনে। কেউ বলেছেন আট তারিখ, কেউ বলেছেন দুই রাত অতিবাহিত হওয়ার পর, আবার কেউ দশ তারিখের কথা বলেছেন। তিনি চল্লিশ বছর বয়সে মক্কায় সমগ্র মানবজাতির প্রতি রাসূল হিসেবে প্রেরিত হন। এরপর নবুওয়াতের পর সবচেয়ে সঠিক মত অনুযায়ী তিনি সেখানে তেরো বছর অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি মদীনায় হিজরত করেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে সেখানে দশ বছর অবস্থান করেন। সুতরাং তাঁর বয়সের ক্ষেত্রে সঠিক মত হলো তেষট্টি বছর। তিনি রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবার চাশতের সময় মদীনায় পৌঁছেন। আর তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত থেকেই ইসলামী ইতিহাসের গণনা শুরু হয়েছে। হাকীম আবু আহমদ বলেন, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার জন্মগ্রহণ করেন, সোমবার মক্কা থেকে হিজরত করে বের হন, সোমবার মদীনায় পৌঁছেন এবং সোমবার ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন...

--------------------------------------------

(১) আল-ইলিয়াস হলো হামযাহ যোগে: তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি 'আল-ইয়াস' অর্থাৎ যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٦)
الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ، رضي الله عنه، عَلَى المِنْبَرِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ

ــ

عليه وسلم. وأما الرواة فالحميدي بصيغة التصغير وياء النسبة هو أبو بكر الحميدي عبد الله بن الزبير ابن عيسى بن عبيد الله بن الزبير بن عبيد الله بن حميد القرشي الأسدي منسوب إلى جده الأعلى وهو رئيس أصحاب سفيان بن عيينة توفي بمكة سنة تسعة عشر ومائتان 0واما ((سفيان)) فهو بضم السين على المشهور وحكي فتحها وكسرها أيضا وهو أبو محمد بن عيينة بن أبي عمران الهلالي الكوفي سكن مكة ومات بها قال قرأت القرآن وأنا ابن أربع سنين وكتبت الحديث وأنا ابن سبع سنين وروي عن ابن أخيه الحسن بن عمران بن أبي عيينة قال: قال لي سفيان بمزدلفة قد وافيت هذا الموضع سبعين مرة أقول في كل مرة اللهم لا تجعله آخر العهد من هذا المكان وقد استحييت من الله من كثرة ما أسأله فتوفي في السنة الداخلة يوم السبت غرة رجب سنة ثمان وتسعين ومائة وروى سفيان الثوري عن يحيى القطان عن ابن عيينة وهذا من الطرف لأنه من رواية الأكابر عن الأصاغر أما ((يحيى)) فهو أبو سعيد بن سعيد بن قيس بن عمرو بن سهل بن ثعلبة الأنصاري تابعي اتفق العلماء على جلالته وحفظه وعدالته قال احمد بن حنبل رضي الله عنه يحيى بن سعيد اثبت الناس توفي سنة أربع أو ثلاث أو ست وأربعين ومائة بالعراق وقيل بالهاشمية مكان والأنصاري نسبة إلى الأنصار الذي هو كالعلم للقبيلتين الأوس والخزرج ولهذا أجاز النسبة إلى لفظ الجمع وسموا أنصارا لأنهم نصروا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال تعالى ((والذين آووا ونصروا وواحد)) الأنصار نصير كشريف وأشراف وأما ((محمد)) فهو أبو عبد الله بن إبراهيم بن الحارث بن محمد بن خالد بن صخر ابن عامر بن كعب بن سعيد بن تيم بن مرة المدني القرشي التيمي تابعي توفي سنة عشرين أو إحدى وعشرين ومائة وأما ((علقمة)) فهو بفتح العين المهملة ((والوقاص)) بتشديد القاف ((والليثي)) بالياء المثناة من تحت والثاء المثلثة توفي بالمدينة في خلافة عبد الملك وأما ((عمر رضي الله عنه) فهو أمير المؤمنين أبو حفص عمر بن الخطاب بن نفيل بن عبد العزى بن رياح بالمثناة التحتانية ابن عبد الله بن قرط بضم القاف وبالطاء المهملة ابن رزاح براء مفتوحة ثم زاي والحاء المهملة بن عدي ابن كعب القرشي العدوي اسلم رضي الله عنه بمكة قديما وشهد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بدرا ولمشاهد كلها وهو أول من سمي بأمير المؤمنين من الخلفاء ولى الخلافة عشرة سنين وخمسة
আল-আনসারি বলেন: আমাকে মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আত-তাইমি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আলকামা বিন ওয়াক্কাস আল-লাইসিকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি।

—

আর বর্ণনাকারীদের পরিচয় হলো: আল-হুমাইদি (তাসগির বা ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দরূপে এবং ইয়ায়ে নিসবতসহ) হলেন আবু বকর আল-হুমাইদি আবদুল্লাহ বিন আজ-জুবাইর ইবনে ঈসা বিন উবাইদুল্লাহ বিন আজ-জুবাইর বিন উবাইদুল্লাহ বিন হুমাইদ আল-কুরাশি আল-আসাদি। তিনি তার উর্ধ্বতন দাদার দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তিনি সুফিয়ান বিন উয়াইনার অনুসারীদের প্রধান ছিলেন। তিনি ২১৯ হিজরি সনে মক্কায় ইন্তেকাল করেন। আর 'সুফিয়ান' নামের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী 'সিন' বর্ণে পেশ দিয়ে পড়তে হয়; তবে জবর এবং জের দিয়েও পড়ার কথা বর্ণিত আছে। তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ বিন উয়াইনা বিন আবি ইমরান আল-হিলালি আল-কুফি। তিনি মক্কায় বসবাস করতেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলেন, আমি চার বছর বয়সে কুরআন পাঠ করেছি এবং সাত বছর বয়সে হাদিস লিখেছি। তার ভ্রাতুষ্পুত্র হাসান বিন ইমরান বিন আবি উয়াইনা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাকে মুজদালিফায় বলেছিলেন, আমি এই স্থানে সত্তর বার এসেছি এবং প্রতিবারই বলেছি, হে আল্লাহ! এই স্থানটিকে আমার শেষ আসা করবেন না। তবে আমি আল্লাহর কাছে বারবার তা চাইতে লজ্জা বোধ করছি। অতঃপর তিনি পরবর্তী বছরের পহেলা রজব শনিবার ১৯৮ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। আর সুফিয়ান সাওরি ইয়াহইয়া আল-কাত্তান থেকে, তিনি ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন; আর এটি একটি বিরল ঘটনা, কারণ এটি বড়দের থেকে ছোটদের বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত। আর 'ইয়াহইয়া' হলেন আবু সাঈদ বিন সাঈদ বিন কায়স বিন আমর বিন সাহল বিন সালাবা আল-আনসারি। তিনি একজন তাবেয়ি, যার মহানুভবতা, মুখস্থ শক্তি এবং ন্যায়পরায়ণতার ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তিনি ১৪৩, ১৪৪ অথবা ১৪৬ হিজরি সনে ইরাকে ইন্তেকাল করেন, কারো মতে হাশেমিয়া নামক স্থানে। আর 'আনসারি' শব্দটি আনসারদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা আউস এবং খাজরাজ নামক দুই গোত্রের জন্য পরিচায়ক নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একারণেই বহুবচন শব্দের দিকে সম্বন্ধ করা বৈধ হয়েছে। তাদের 'আনসার' বা সাহায্যকারী নাম দেয়া হয়েছে কারণ তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাহায্য করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যারা আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য করেছে"। আর 'আনসার' এর একবচন হলো 'নাসির', যেমন 'আশরাফ' এর একবচন 'শরিফ'। আর 'মুহাম্মদ' হলেন আবু আবদুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন আল-হারিস বিন মুহাম্মদ বিন খালিদ বিন সাখর বিন আমির বিন কাব বিন সাঈদ বিন তাইম বিন মুররাহ আল-মাদানি আল-কুরাশি আত-তাইমি। তিনি একজন তাবেয়ি, যিনি ১২০ বা ১২১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। আর 'আলকামা' নামের 'আইন' বর্ণটি জবরযুক্ত, 'ওয়াক্কাস' এর 'কাফ' বর্ণটি তাশদিদযুক্ত এবং 'আল-লাইসি' শব্দটি নিচে দুই নুক্তাবিশিষ্ট 'ইয়া' এবং তিন নুক্তাবিশিষ্ট 'সা' দিয়ে গঠিত। তিনি আব্দুল মালিকের খিলাফতকালে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। আর 'উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু' হলেন আমিরুল মুমিনিন আবু হাফস উমর বিন আল-খাত্তাব বিন নুফাইল বিন আব্দুল উযযা বিন রিয়াহ (নিচে দুই নুক্তাবিশিষ্ট ইয়াসহ) বিন আবদুল্লাহ বিন কুরত (ক্বাফ বর্ণে পেশ এবং ত-হ বর্ণসহ) বিন রিজাহ (জবরযুক্ত র-সহ, এরপর যা এবং হ-সহ) বিন আদি বিন কাব আল-কুরাশি আল-আদাউয়ি। তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলামের প্রাথমিক যুগে মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বদর এবং সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি খলিফাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যাকে 'আমিরুল মুমিনিন' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি দশ বছর পাঁচ মাস খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন।
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٧)
صَلى الله عَلَيهِ وسَلمَ يَقُولُ: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ

ــ

أشهر أو ستة أشهر طعنه أبو لؤلؤة المجوسي يوم الأربعاء لأربع بقين من ذي الحجة أو لثلاث سنة ثلاث وعشرين وتوفي في مستهل المحرم لسنة أربع وعشرين وهو ابن ثلاث وستين سنة مثل سن النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر رضي الله عنه على الصحيح ودفن مع رسول الله صلى الله وعليه وسلم وأبي بكر رضي الله عنه في حجرة عائشة رضي الله عنها صلى عليه صهيب ومناقبه أكثر من أن تحصى وقد ذكر البخاري طرفا منها كما سيجيء بشرحه أن شاء الله تعالى0واعلم أن البخاري رضي الله عنه على ما في بعض النسخ ذكر الثلاثة الأول من السند بلفظ التحديث والثلاثة الأخر بلفظ السماع والرابع بلفظ الأخبار وعلى ما سيذكره هو عن الحميدي في كتاب العلم لا تفاوت بينها قال ثمة قال الحميدي كان عند أبي عيينة حدثنا واخبرنا وأنبأنا بين المفرد والجمع كما قال في الأخبار بلفظ اخبرني مفردا وفي التحديث بلفظ حدثنا جمعا وقيل بغير ذلك أيضا 0ثم اعلم أن في هذا الإسناد لطيفة وهوان فيه ثلاثة من التابعين المدنيين يروي يعضهم عن بعض وهم يحيى ومحمد وعلقمة وقد يقع ما هو ألطف منه وهو ما عن أربعة من التابعين قوله: ((على المنبر)) بكسر الميم وهو مشتق من النبر وهو الارتفاع وهو بلفظ الآلة لأنه آلة الارتفاع واللام فيه للعهد يعني به منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي بالمدينة على ساكنها أفضل الصلاة والسلام قوله: ((إنما الأعمال بالنيات)) هذا التركيب مفيد للحصر اتفاقا من المحققين أي لا عمل إلا بالنية فقيل لأن الأعمال جمع محكي باللام مفيد للاستغراق وهو مستلزم للقصر إذ معناه كل عمل بالنية فلا عمل إلا بالنية وإلا فلا يصدق كل عمل بالنية وأما إنما فلا تفيد إلا التأكيد وعليه بعض الأصوليين ، وقيل إنما للحصر فقيل إنما إفادته له بالمنطوق وقيل بالمفهوم ووجهه بأن إنّ للإثبات وما للنفي فيجب الجمع بينهما وليس كلاهما متوجهين إلى المذكور ولا إلى غير المذكور بل الإثبات متوجه إلى المذكور والنفي إلى غير المذكور إذ لا قائل بالعكس اتفاقا واعترض عليه بأنه لا يجوز إجماع ما المنفية بان المثبتة لاستلزام اجتماع المتصدرين على صدر واحد ولما يلزم من إثبات النفي لأن النفي هو مدخول الكلمة المحققة فلفظ ما هي ما المؤكدة لا النافية فتفيد الحصر لأنه يفيد التأكيد على التأكيد ومعنى الحصر ذلك وأقول المراد بذلك التوجيه أن إنما كلمة موضوعة للحصر وذلك سر الوضع فيه لأن الكلمتين والحالة هذه باقيتان على أصلهما مرادتان بوضعهما فلا يريد الاعتراض وأما توجيهه بكونه تأكيدا على تأكيد
আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেন: আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পায় যা সে নিয়ত করে। সুতরাং যে

—

মাস বা ছয় মাস পর, তেইশ হিজরি সনের যিলহজ মাসের বাকি থাকা চার দিন বা তিন দিন পূর্বে বুধবার দিনে আবু লুলু আল-মাজুসি তাঁকে ছুরিকাঘাত করে এবং চব্বিশ হিজরির মহররম মাসের শুরুতে তিনি ইন্তেকাল করেন। সহীহ মতানুসারে মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর, যা নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এবং আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর বয়সের সমান। তাঁকে আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর হুজরায় রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এবং আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর সাথে দাফন করা হয়। সুহাইব (রা.) তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান। তাঁর মর্যাদা ও গুণাবলি গণনার ঊর্ধ্বে। ইমাম বুখারী এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন, যা ইনশাআল্লাহ সামনে তাঁর ব্যাখ্যাসহ আসবে। জেনে রাখুন যে, কোনো কোনো পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী ইমাম বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সনদের প্রথম তিনজনকে 'তাহদিস' (হাদিস বর্ণনা) শব্দে, শেষের তিনজনকে 'সামাউ' (শ্রবণ) শব্দে এবং চতুর্থজনকে 'আখবার' (সংবাদ প্রদান) শব্দে উল্লেখ করেছেন। তবে 'কিতাবুল ইলম'-এ হুমায়দী থেকে তিনি যা উল্লেখ করবেন, তা অনুযায়ী এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সেখানে হুমায়দী বলেছেন যে, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনার নিকট একবচন ও বহুবচনের মধ্যে 'হাদ্দাসানা', 'আখবারানা' এবং 'আনবানা' শব্দগুলোর ব্যবহার একই ছিল। যেমন তিনি সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে একবচনে 'আখবারানি' এবং তাহদিসের ক্ষেত্রে বহুবচনে 'হাদ্দাসানা' বলতেন। এ বিষয়ে অন্য মতও বর্ণিত আছে। অতঃপর জেনে রাখুন যে, এই সনদে একটি চমৎকার বিষয় রয়েছে, তা হলো এতে তিনজন মদিনাবাসী তাবেয়ী রয়েছেন যারা একে অপরের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা হলেন ইয়াহইয়া, মুহাম্মদ এবং আলকামা। এর চেয়েও সূক্ষ্ম বিষয় পাওয়া যায়, যেখানে চারজন তাবেয়ী থেকে বর্ণনা এসেছে। তাঁর বাণী: ((মিম্বারের ওপর)) মিম বর্ণে কাসরা (জের) সহকারে। এটি 'নাবর' শব্দ থেকে নির্গত, যার অর্থ উঁচু হওয়া। এটি একটি যন্ত্রবাচক শব্দ, কারণ এটি উঁচুতে ওঠার মাধ্যম। এখানে 'লাম' (আলিফ-লাম) নির্দিষ্টকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যার দ্বারা মদিনায় অবস্থিত রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর মিম্বারকে বোঝানো হয়েছে; যাঁর বাসিন্দার ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। তাঁর বাণী: ((আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)) গবেষকগণের ঐকমত্য অনুযায়ী এই বাক্য গঠনটি 'হাসর' বা সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে। অর্থাৎ নিয়ত ছাড়া কোনো আমল (কবুল) হয় না। বলা হয়েছে যে, 'আ'মাল' শব্দটি 'লাম' যুক্ত হয়ে ব্যাপক অর্থ প্রদান করে, যা সীমাবদ্ধতা দাবি করে। কারণ এর অর্থ হলো প্রতিটি আমল নিয়তের সাথে হতে হবে, ফলে নিয়ত ছাড়া কোনো আমল আমল হিসেবে গণ্য হবে না; অন্যথায় 'প্রতিটি আমল নিয়তের সাথে' কথাটি সত্য হবে না। আর 'ইন্নামা' শব্দটি কেবল তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য আসে—এটি কোনো কোনো মূলনীতিবিশারদদের মত। আবার বলা হয়েছে যে, 'ইন্নামা' সীমাবদ্ধতার জন্য আসে। কেউ বলেছেন এটি স্পষ্ট উচ্চারণের (মানতুক) মাধ্যমে অর্থ প্রদান করে, আবার কেউ বলেছেন এটি অনুক্ত অর্থের (মাফহুম) মাধ্যমে তা বোঝায়। এর যুক্তি হলো 'ইন্না' ইতিবাচকতা প্রমাণের জন্য এবং 'মা' নেতিবাচকতার জন্য, ফলে এই দুটির সমন্বয় আবশ্যক। তবে উভয়টি উল্লিখিত বিষয়ের দিকে বা অনুক্ত বিষয়ের দিকে ধাবিত নয়। বরং ইতিবাচকতা উল্লিখিত বিষয়ের দিকে এবং নেতিবাচকতা অনুক্ত বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়, কারণ এর উল্টোটা কেউ বলেননি। এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, নেতিবাচক 'মা' এবং ইতিবাচক 'ইন্না'-কে একত্রে করা জায়েয নয়, কারণ এতে দুটি প্রারম্ভিক শব্দের একই স্থানে সমাবেশ ঘটে এবং এর ফলে নেতিবাচকতাকে সাব্যস্ত করার আবশ্যকতা দেখা দেয়। কারণ নেতিবাচকতা এখানে সুনিশ্চিত শব্দের অন্তর্ভুক্ত। মূলত 'মা' শব্দটি এখানে গুরুত্ব প্রদানের জন্য (মুয়াক্কিদাহ), নেতিবাচকতার (নাফিয়া) জন্য নয়। ফলে এটি সীমাবদ্ধতা বোঝায় কারণ এটি গুরুত্বের ওপর গুরুত্ব প্রদান করে, আর সীমাবদ্ধতার অর্থও এটাই। আমি বলি যে, এই ব্যাখ্যার উদ্দেশ্য হলো 'ইন্নামা' শব্দটি সীমাবদ্ধতার জন্যই তৈরি করা হয়েছে এবং এটাই এর মূল রহস্য। কারণ এমতাবস্থায় শব্দ দুটি তাদের মৌলিক অর্থের ওপর বহাল থাকে, ফলে এই আপত্তি আর খাটে না। আর একে 'গুরুত্বের ওপর গুরুত্ব' হিসেবে ব্যাখ্যা করার বিষয়টিও একই।
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٨)
كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ ، يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ.

ــ

فهو من باب إيهام العكس إذ لما رأى الحصر فيه تأكيد على تأكيد ظن أن كل ما فيه تأكيد على تأكيد حصر وليس كذلك وإلا لكان والله إن زيدا لقائم للحصر وهو باطل. قوله: ((بالنيات)) هو جمع النية وهو القصد إلى الفعل. قال الشيخ أبو سليمان الخطابي: معنى النية قصدك الشيء بقلبك وتحري الطلب منك له وقيل هي عزيمة القلب التيمي: النية ههنا وجهة القلب. القاضي البيضاوي: النية عبارة عن انبعاث القلب نحو ما يراه موافقا لغرض من جلب نفع أو دفع ضر حالا، أو مآلا. والشرع خصصها بالإرادة المتوجهة نحو الفعل ابتغاء لوجه الله تعالى وامتثالا لحكمه والنية في الحديث محمولة على المعنى اللغوي ليحسن تطبيقه لما بعده تقسيمه إلى من كانت هجرته إلى كذا وكذا فغنه تفصيل لما أجمله واستنباط للمقصود عما أصله وقال والحديث متروك الظاهر لأن الذوات غير منتفية والمراد به نفي أحكامها كالصحة والفضيلة والحمل على نفي الصحة أولى لأنه أشبه بنفي الشيء نفسه ولأنّ اللفظ يدل بالتصريح على نفي الذات وبالتبع على نفي جميع الصفات فلما منع الدليل دلالته على نفي الذات بقي دلالته على نفي جميع الصفات. قال النووي: النية القصد وهو عزيمة القلب أقول ليس هو عزيمة القلب لما قال المتكلمون القصد إلى الفعل هو ما نجده من أنفسنا حال الإيجاد العزم قد يتقدم عليه ويقبل الشدة والضعف بخلاف القصد ففرقوا بينهما من جهتين فلا يصح تفسيره به وكلام الخطابي أيضا يشعر بالمغايرة بينهما. فإن قلت النيات جمع قلة كالأعمال وهي للعشرة فما دونها لكن المعنى أن كل عمل إنما هو بنية سواء كان قليلا أو كثيرا. قلت الفرق بالقلة والكثرة إنما هو في النكرات لا في المعارف. قوله: ((لكل امرئ ما نوى)) الامرؤ الرجل وفيه لغتان امرئ نحو زبرج ومرء نحو فلس ولا جمع له من لفظه وهو من الغرائب لأن عين فعله تابع للام في الحركات لثلاث دائما وكذا في مؤنثه أيضا لغتان امرأة ومرآة وفي هذا الحديث استعمل اللغة الأولى منهما من كلا النوعين إذ قال ((لكل امرئ وإلى امرأة)) قوله: ((هجرته)) الهجرة الترك وههنا أراد ترك الوطن ومفارقة الأهل وسمى الذين تركوا مكة وتحولوا إلى المدينة من الصحابة بالمهاجرين لذلك قوله: ((إلى دنيا)) لفظة دنيا مقصورة غير منونة لأنها فعل من الدنو وموصوفها محذوف أي الحياة الدنيا قال الشيخ ابن مالك في كتاب الشواهد في استعمال دنيا منكرا إشكال لأنها افعل التفضيل فكان حقها أن تستعمل باللاء كالكبرى والحسنى إلا أنها خلعت عنها الوصفية رأسا وأجريت مجرى ما لم يكن وصفا ونحوه قول الشاعر:
তার হিজরত হবে সে যা অর্জনের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে তার জন্য, অথবা কোনো নারীর জন্য যাকে সে বিবাহ করতে চায়, তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।

—

এটি বিপরীত অর্থ প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত, কারণ যখন তিনি সীমাবদ্ধতার (হাসর) মধ্যে তাকিদ-এর ওপর তাকিদ (দৃঢ়তার ওপর দৃঢ়তা) দেখলেন, তখন তিনি ধারণা করলেন যে যাতে তাকিদ-এর ওপর তাকিদ থাকে তা-ই সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; অন্যথা 'আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই জায়েদ দণ্ডায়মান' বাক্যটিও সীমাবদ্ধতা প্রকাশের জন্য হতো, যা ভুল। তার উক্তি: 'নিয়তসমূহের সাথে' এটি নিয়ত শব্দের বহুবচন, আর তা হলো কোনো কাজের ইচ্ছা করা। শায়খ আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি বলেছেন: নিয়তের অর্থ হলো তোমার অন্তরে কোনো কিছুর ইচ্ছা করা এবং তার প্রতি তোমার অন্বেষণকে সুনির্দিষ্ট করা। আর কেউ কেউ বলেছেন, এটি হলো অন্তরের সংকল্প। আত-তাইমি বলেছেন: এখানে নিয়ত হলো অন্তরের অভিমুখিতা। কাজী বায়যাভি বলেন: নিয়ত হলো কোনো উপকার লাভ করা বা ক্ষতি দূর করার উদ্দেশ্যে—তা তাৎক্ষণিক হোক বা সুদূরপ্রসারী—নিজের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো বিষয়ের দিকে অন্তরের ধাবিত হওয়া। আর শরিয়ত একে কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে কোনো কাজের দিকে ধাবিত ইচ্ছার সাথে সুনির্দিষ্ট করেছে। আর হাদিসে নিয়তকে আভিধানিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে যাতে পরবর্তী অংশের সাথে এর প্রয়োগ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যা হলো হিজরতকে অমুক অমুক বিষয়ের দিকে ভাগ করা। কারণ এটি সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা এবং মূল নীতি থেকে উদ্দিষ্ট বিষয়ের নির্যাস। তিনি বলেন, হাদিসটি তার বাহ্যিক অর্থের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কারণ সত্তা কখনো বিলুপ্ত হয় না, বরং এর মাধ্যমে এর হুকুম বা বিধানের বিলুপ্তি উদ্দেশ্য, যেমন সঠিকতা বা মর্যাদা। আর সঠিকতা বা বৈধতা অস্বীকারের ওপর প্রয়োগ করাই অধিকতর উত্তম, কারণ এটি কোনো বস্তুর অস্তিত্ব অস্বীকার করার সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। তদুপরি, শব্দটি সরাসরি সত্তার নেতিবাচকতা প্রকাশ করে এবং আনুষঙ্গিকভাবে সমস্ত গুণের নেতিবাচকতাও প্রকাশ করে। সুতরাং যখন কোনো প্রমাণ সত্তার নেতিবাচকতাকে বাধা দেয়, তখন তা সমস্ত গুণের নেতিবাচকতার ওপরই বহাল থাকে। ইমাম নববী বলেছেন: নিয়ত হলো ইচ্ছা, আর তা হলো অন্তরের সংকল্প। আমি বলি, এটি অন্তরের সংকল্প নয়, যেমনটি কালামশাস্ত্রবিদগণ বলেছেন যে, কোনো কাজের ইচ্ছা হলো তা যা আমরা কর্ম সম্পাদনের সময় নিজের মধ্যে অনুভব করি। পক্ষান্তরে সংকল্প কাজের আগে হতে পারে এবং তা হ্রাস-বৃদ্ধি গ্রহণ করে, কিন্তু ইচ্ছা বা কাসদ এমন নয়। সুতরাং তারা এই দুটি বিষয়ের মধ্যে দুই দিক থেকে পার্থক্য করেছেন। তাই একে সংকল্প দ্বারা ব্যাখ্যা করা সঠিক নয়; এমনকি খাত্তাবির বক্তব্য থেকেও এই দুটির মধ্যকার ভিন্নতা অনুভূত হয়। যদি তুমি বলো যে, 'নিয়তসমূহ' শব্দটি 'আমলসমূহ'-এর ন্যায় স্বল্পতা জ্ঞাপক বহুবচন, যা দশ বা তার কম সংখ্যার জন্য ব্যবহৃত হয়, অথচ অর্থ হলো প্রতিটি আমলই নিয়তের ওপর নির্ভরশীল—তা অল্প হোক বা অধিক। উত্তরে আমি বলব, স্বল্পতা ও আধিক্যের মধ্যে পার্থক্য কেবল অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের ক্ষেত্রে হয়, নির্দিষ্ট বিশেষ্যের ক্ষেত্রে নয়। তার উক্তি: 'প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তা-ই রয়েছে যার সে নিয়ত করেছে'। 'ইমরু' অর্থ হলো পুরুষ। এতে দুটি শব্দরূপ রয়েছে: একটি 'ইমরু' এবং অন্যটি 'মারউন'। এর নিজ শব্দমূল থেকে কোনো বহুবচন নেই। এটি একটি বিরল বিষয়, কারণ এর 'আইন' বর্ণটি হরকতের ক্ষেত্রে সর্বদা 'লাম' বর্ণের অনুগামী হয়। একইভাবে এর স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রেও দুটি রূপ রয়েছে: 'ইমরাআহ' এবং 'মিরআহ'। এই হাদিসে উভয় প্রকারের ক্ষেত্রে প্রথম রূপটি ব্যবহৃত হয়েছে, যেহেতু তিনি বলেছেন 'প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য' এবং 'নারীর দিকে'। তার উক্তি: 'তার হিজরত'। হিজরত অর্থ পরিত্যাগ করা। এখানে স্বদেশ ত্যাগ এবং পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বোঝানো হয়েছে। এই কারণেই যেসব সাহাবী মক্কা ত্যাগ করে মদীনায় স্থানান্তরিত হয়েছিলেন তাঁদের 'মুহাজির' নামে অভিহিত করা হয়। তার উক্তি: 'দুনিয়ার দিকে'। 'দুনিয়া' শব্দটি মাকসুর এবং তানউইনবিহীন, কারণ এটি 'দুনু' (নিকটবর্তী হওয়া) শব্দ থেকে আগত একটি ক্রিয়াপদ এবং এর বিশেষ্যটি উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ 'দুনিয়ার জীবন'। শায়খ ইবনে মালিক তার 'শাওয়াহিদ' গ্রন্থে বলেছেন: দুনিয়া শব্দটিকে অনির্দিষ্ট হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে, কারণ এটি আধিক্যবোধক বিশেষণ। তাই এর নিয়ম ছিল 'আল' যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হওয়া, যেমন 'আল-কুবরা' ও 'আল-হুসনা' ব্যবহৃত হয়। তবে এটি থেকে বিশেষণ পদ হওয়ার বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ দূর করে দেওয়া হয়েছে এবং একে এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে যা বিশেষণ নয়। কবির উক্তিও এর অনুরূপ:
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٩)
وإن دعوت إلى جلى ومكرمة … يوما سراة كرام الناس فادعينا

فإن الجلى مؤنث الأجل فخلعت عنها الوصفية وجعلت اسما للحادثة العظيمة. أقول والدليل على جعلها اسما قلب الواو ياء لأنه لا يجوز القلب إلا في الفعلى الاسمية. التيمي: الدنيا مؤنث الأدنى لا ينصرف مثل حبلى لاجتماع أمرين فيها احدهما الوصفية والثاني لزوم التأنيث. أقول ليس ذلك لاجتماع أمرين فيها إذ لا وصفية ههنا بل لامتناع صرفه للزوم التأنيث للألف المقصورة وهو قائم مقام العلتين فهو سهو منه. قوله: ((إلى دنيا)) هو إما متعلق بالهجرة إن كان لفظ كانت تامة أو خبر لكانت إن كانت ناقصة. فإن قلت لفظ كانت إن كان باقيا في المضي فلم يعلم أن الحكم بعد صدور الكلام من الرسول أيضا لذلك أم لا وان نقل العكس فيها بسبب تضمين من لحرف الشرط إلى معنى الاستقبال ففي الجملة الحكم إما للماضي وإما للمستقبل، قلت جاز أن يراد به أصل الكون أي الوجود مطلقا من غير تقييد بزمان من الأزمنة الثلاثة أو يقاس أحد الزمانين على الآخر أو يعلم من الإجماع أن حكم المكلفين على السواء لا لعارض. قوله: ((إلى ما هاجر إليه) إما أن يكون متعلقا بالهجرة والخبر محذوف أي هجرته إلى ما هاجر إليه غير صحيحة أو غير مقبولة وإما أن يكون خبر فهجرته والجملة خبر المبتدأ الذي هو من كانت وادخل الفاء في الخبر لتضمن المبتدأ معنى الشرط. فإن قلت المبتدأ والخبر بحسب المفهوم متحدان فما الفائدة في الإخبار. قلت لا اتحاد إذ الخبر محذوف وهو فلا ثواب له عند الله والمذكور مستلزم له دال عليه أو فهي هجرة قبيحة خسيسة لأنه الخبر وكذا الشرط والجزاء إذا اتحدا صورة يعلم منه التعظيم نحو أنا أنا وشعري شعري ومن كانت هجرته إلى الله وإلى رسوله أو التحقير نحو فهجرته إلى ما هاجر إليه ثم لا يخفى أن إنما الأعمال بالنيات لقصر المسند إليه على المسند وإنما لكل امرئ ما نوى قصر المسند على المسند إليه إذ المراد إنما لعمل كل امرئ ما نوى إذ القصر بإنما لا يكون إلا في الجزء الآخر وإذا قلنا تقديم الخبر على المبتدأ يفيد القصر ففي إنما لكل امرئ ما نوى نوعان من الحصر. واعلم انه تقرر في الأصول أن الجمع إذا ذكر في مقابلة الجمع يفيد التوزيع فمعناه كل عمل إنما هو بنية. فإن قلت النية عمل لأنه من أعمال القلب فإن احتاج كل عمل إلى نية فالنية أيضا تحتاج إلى نية وهلم جرا. قلت المراد بالعمل عمل الجوارح نحو الصلاة والزكاة فإذ ذاك خارج عنه بقرينة العقل دفعا للتسلل. فإن قلت المتروك أيضا عمل لأن الأصح أن الترك كف النفس فيحتاج إلى النية. قلت نعم إذا كان المقصود منه امتثال أمر الشارع وتحصيل الثواب أما في إسقاط العقاب فلا فالتارك للزنا يحتاج فيه لتحصيل الثواب إلى النية وما اشتهر أن المتروك لا يحتاج إليها يريدون به في الإسقاط وههنا بعدما ذكرنا من اللغة والإعراب والبيان والأصول والفقه يستفاد منه مسالة أخرى أصولية وهي أنه لا يجوز تكليف الغافل فإن الفعل
আর যদি আপনি একদিন মহান কোনো বিষয় বা সম্মানজনক কাজের জন্য অভিজাত মানুষদের নেতৃস্থানীয়দের আহ্বান করেন, তবে আমাদের আহ্বান করবেন।

কারণ 'জুলা' (الجلى) শব্দটি 'আলাজল' (الأجل) এর স্ত্রীলিঙ্গ, যা এর বিশেষণীয় গুণ বর্জন করে মহান কোনো ঘটনার নাম (বিশেষ্য) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আমি বলি, এর বিশেষ্য হওয়ার প্রমাণ হলো ‘ওয়াও’ বর্ণটিকে ‘ইয়া’ দ্বারা পরিবর্তন করা; কারণ বিশেষ্য পদ ব্যতীত এ ধরনের পরিবর্তন বৈধ নয়। আত-তাইমি বলেন: 'দুনিয়া' শব্দটি 'আদনা' এর স্ত্রীলিঙ্গ, যা 'হুবলা' শব্দের মতো অপরিবর্তনীয় (গায়রে মুনসারিফ), কারণ এতে দুটি বিষয় একত্রিত হয়েছে: একটি হলো এর বিশেষণ হওয়া এবং দ্বিতীয়টি হলো এর স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া আবশ্যক হওয়া। আমি বলি, বিষয়টি এতে দুটি কারণ একত্রিত হওয়ার কারণে নয়, কারণ এখানে কোনো বিশেষণীয় গুণ নেই; বরং ‘আলিফে মাকসুরা’ থাকার কারণে স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া আবশ্যক হওয়ায় এটি অপরিবর্তনীয় হয়েছে, যা দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং এটি তার (আত-তাইমির) একটি ভুল। তাঁর বাণী: "দুনিয়ার দিকে" (ইলা দুনইয়া) অংশটি হয় 'হিজরত' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট—যদি 'কানা' (ছিল) শব্দটি পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়া (তাম্মাহ) হয়, অথবা এটি 'কানা' এর খবর (বিধেয়)—যদি সেটি অপূর্ণাঙ্গ ক্রিয়া (নাকিসাহ) হয়। আপনি যদি বলেন, 'কানা' শব্দটি যদি অতীত কালের জন্যই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর এই কথা বলার পরের সময়ের বিধানও একই কি না তা জানা গেল না। আর যদি এর বিপরীতটি গ্রহণ করা হয়—যেখানে শর্তবাচক অব্যয়ের কারণে একে ভবিষ্যৎ কালের অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে—তবে বিধানটি হয় অতীতের জন্য হবে নতুবা ভবিষ্যতের জন্য হবে। উত্তরে আমি বলব, এর দ্বারা অস্তিত্বের মূল ভিত্তি অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট কাল ছাড়াই সাধারণ অস্তিত্ব উদ্দেশ্য হওয়া সম্ভব, অথবা এক কালকে অন্য কালের ওপর কিয়াস করা হবে, অথবা ইজমা (ঐক্যমত) থেকে এটি জানা যাবে যে, কোনো আকস্মিক কারণ ছাড়া সকল মুকাল্লাফ (বিধানবদ্ধ ব্যক্তি)-এর বিধান সমান। তাঁর বাণী: "যার দিকে সে হিজরত করেছে" (ইলা মা হাজারা ইলাইহি) অংশটি হয় 'হিজরত' এর সাথে সংশ্লিষ্ট হবে এবং এর বিধেয় (খবর) হবে উহ্য, অর্থাৎ: যার দিকে সে হিজরত করেছে তার সেই হিজরত সঠিক নয় বা গ্রহণযোগ্য নয়। অথবা এটি নিজেই বিধেয় হবে এবং বাক্যটি সেই মুক্তাদা (উদ্দেশ্য)-এর বিধেয় হবে যা 'মান কানা' (যে ব্যক্তি ছিল) দ্বারা শুরু হয়েছে; আর বিধেয়তে 'ফা' বর্ণটি যুক্ত হয়েছে কারণ উদ্দেশ্যটি শর্তের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করেছে। আপনি যদি বলেন, অর্থগত দিক থেকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় তো একই, তাহলে বিধেয় উল্লেখ করার ফায়দা কী? আমি বলব, এখানে কোনো ঐক্য নেই, কারণ বিধেয়টি উহ্য এবং তা হলো: আল্লাহর নিকট তার কোনো সওয়াব নেই। আর যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সেই উহ্য বিষয়টিকে আবশ্যক করে এবং তার ওপর দালালত (প্রমাণ) করে। অথবা এর অর্থ হলো: এটি একটি তুচ্ছ ও হীন হিজরত। কারণ বিধেয় এবং একইভাবে শর্ত ও প্রতিদান যখন বাহ্যিকভাবে একই হয়, তখন তা দ্বারা হয় মহত্ত্ব প্রকাশ পায়—যেমন: "আমি আমিই এবং আমার কবিতা আমার কবিতাই"—অথবা তুচ্ছতা প্রকাশ পায়, যেমন: "তবে তার হিজরত সেই দিকেই যার জন্য সে হিজরত করেছে" (এখানে আল্লাহর দিকে হিজরতকারীর বিপরীতে তুচ্ছতা বুঝানো হয়েছে)। অতঃপর এটি অস্পষ্ট নয় যে, "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" বাক্যটিতে উদ্দেশ্যকে বিধেয়তে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে (কাসরুল মুসনাদ ইলাইহি আলাল মুসনাদ)। আর "প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে" বাক্যটিতে বিধেয়কে উদ্দেশ্যের ওপর সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। কারণ এর উদ্দেশ্য হলো, প্রত্যেক ব্যক্তির আমলের ফল তাই যা সে নিয়ত করেছে। কেননা 'ইন্নামা' (নিশ্চয়ই) দ্বারা সীমাবদ্ধকরণ কেবল শেষ অংশের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। আর আমরা যখন বলি যে, উদ্দেশ্যের আগে বিধেয় আসা সীমাবদ্ধকরণের (কাসর) অর্থ প্রদান করে, তখন "ইন্নামা লিকুল্লি ইমরায়িন মা নাওয়া" বাক্যে দুই ধরনের সীমাবদ্ধকরণ বা হসর বিদ্যমান। জেনে রাখুন, উসুলুল ফিকহ-এর একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো—যখন বহুবচনের বিপরীতে বহুবচন উল্লেখ করা হয়, তখন তা বণ্টন (তাওজি) এর অর্থ প্রদান করে; সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায়: প্রতিটি আমল কেবল একটি নিয়তের মাধ্যমেই হয়। আপনি যদি বলেন, নিয়তও তো একটি আমল, কারণ এটি অন্তরের আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত; এখন প্রতিটি আমলের জন্য যদি নিয়তের প্রয়োজন হয়, তবে নিয়তের জন্যও নিয়ত প্রয়োজন হবে এবং এভাবে তা চলতেই থাকবে (তাসালসুল)। উত্তরে আমি বলব, এখানে আমল বলতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল উদ্দেশ্য, যেমন সালাত ও জাকাত; সুতরাং বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের ভিত্তিতে তাসালসুল বা অসীম ধারা রোধ করার জন্য নিয়ত এই হুকুমের বাইরে থাকবে। আপনি যদি বলেন, বর্জন করাও তো একটি আমল, কারণ বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী বর্জন মানে হলো নফসকে বিরত রাখা, তাই এতেও নিয়তের প্রয়োজন। আমি বলব, হ্যাঁ, যদি এর দ্বারা শরিয়তের নির্দেশ পালন এবং সওয়াব হাসিল করা উদ্দেশ্য হয়, তবে নিয়ত লাগবে; কিন্তু কেবল শাস্তি এড়ানোর ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং জিনা (ব্যভিচার) বর্জনকারীর সওয়াব পাওয়ার জন্য নিয়ত প্রয়োজন। আর "বর্জনকৃত বিষয়ে নিয়তের প্রয়োজন নেই" বলে যে কথাটি প্রসিদ্ধ, তা দ্বারা তারা শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উদ্দেশ্যকে বুঝিয়েছেন। এখানে আমাদের আলোচিত আভিধানিক অর্থ, ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ, অলঙ্কারশাস্ত্র, উসুল ও ফিকহের আলোচনার পর আরও একটি উসুলি মাসআলা নির্গত হয়, আর তা হলো: গাফিল বা অসতর্ক ব্যক্তিকে কোনো দায়িত্ব প্রদান (তাকলিফ) করা বৈধ নয়; কারণ কর্ম—
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
امتثالا يعتمد العلم ولا يكفي مجرد الفعل فإن قلت فما قولك في إيجاب معرفة الله تعالى للغافل عنه قلت لا مدخل له في المبحث لان المراد تكليف الغافل عن تصور التكليف لا عن التصديق بالتكليف ولهذا كان الكفار مكلفين لأنهم تصوروا التكليف لما قيل لهم إنهم مكلفون وإنما كانوا غافلين عن التصديق الخطابي. صدر أبو عبد الله البخاري كتابه بحديث النية وهو حديث كان المتقدمون من شيوخنا يستحبون تقديمه أمام كل شيء ينشأ ويبتدأ من أمور الدين لعموم الحاجة إليها في جميع أنواعها ووقع في روايتنا وجميع نسخ أصحابنا مخروما قد ذهب شطره وهو قوله: ((فمن كانت هجرته إلى الله وإلى ورسوله فهجرته إلى الله وإلى رسوله)) ولست ادري كيف وقع هذا الإغفال ومن جهة من عرض من روايته وقد ذكره البخاري في هذا الكتاب في غير موضع من غير طريق الحميدي فجاء به مستوفى مذكورا بشطريه ولا شك في أنه لم يقع من جهة الحميدي فقد رواه لنا الأثبات من طريقه تاما غير ناقص قال وقوله: ((إنما الأعمال بالنية)) لم يرد به أعيان الأعمال لأنها حاصلة حسا وعيانا بغير نية وإنما معناه أن صحة أحكام الأعمال في حق الدين إنما يقع بالنية وان النية هي الفاصلة بين ما يصح وما لا يصح وكلمة إنما عاملة بركنيها إيجابا ونفيا فهي تثبت الشيء وتنفي ما عداه فدلالتها أن العبادة إذا صحبتها النية صحت وإذا لم تصحبها لم تصح. أقول علم من تقريره أن الباء للمصاحبة وإنها متعلقة بيقع صحيحا أي بيصح قال ومقتضى حق العموم فيها يوجب أن لا يصح عمل من الأعمال الدينية أقوالها وأفعالها فرضها ونفلها قليلها وكثيرها إلا نية ودخل فيها التوحيد الذي هو رأس أعمال الدين فلا يصح إلا بقصد الإخلاص فيه أقول ليس قوله: ودخل فيها التوحيد مسلما لأن التوحيد من الاعتقادات لا من العمليات اللهم إلا أن يراد بالتوحيد قول كلمة الشهادة وبالعمل ما يتناول عمل اللسان وقال قوله: ((لكل امرئ ما نوى)) تفصيل لبيان ما تقدم وفيه معنى خاص لا يستفاد من إنما لا أعمال بالنيات وهو إيجاب تعيين النية للعمل الذي يباشره فلو نوى أن يصلي ركعتين يكونان عن فرضه أن فاته وإلا فهي تطوع لم تجزه عن فرضه لأنه لم يمحض النية له وإنما داول في النية بين الفرض وبدله فلم تجد النية قرارا وأما مواضع النية فمنها ما يجب مقارنتها للعمل كنية الصلاة ومنها ما يجوز تقديمها عليه كالصيام وقد يقع في بعض الأحوال على إبهام ثم يقع التعيين فيما بعد كمن عليه كفارتان من قتل وظهار فأعتق رقبة ونوى بعده لأحدهما وعلى كل حال فلا ينفك عمل من العبادات عن نيتها وإنما جاز التقديم والتأخير لأسباب ليس هذا موضع ذكرها وقد يستدل من هذا الحديث في مواضع من المعاملات وما يتصل بهما كمن أكره على الكفر فتكلم به وهو ينوي خلافه فإنه لا يكفر وككنايات الطلاق فإنه لو لم ينو الطلاق لم يقع وزعم قوم أن الاستدلال به في غير العبادات غير صحيح لأن الحديث إنما جاء في اختلاف مصارف وجود العبادات لكن عوام الفقهاء ينظرون إلى اتساع اللفظ واحتمال الاسم

এমন এক আনুগত্য যা ইলমের ওপর নির্ভরশীল এবং শুধুমাত্র আমলই যথেষ্ট নয়। যদি আপনি প্রশ্ন করেন, তবে যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ সম্পর্কে গাফেল তার ওপর আল্লাহকে জানার আবশ্যকতা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? আমি বলব, এই আলোচনার এখানে কোনো অবকাশ নেই, কারণ এর উদ্দেশ্য হলো শরয়ি দায়িত্ব বা তাকলিফ সম্পর্কে অনুধাবনে গাফেল হওয়া, তাকলিফকে সত্য বলে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে গাফেল হওয়া নয়। আর এ কারণেই কাফেররা শরয়ি বিধানের আওতাধীন, কেননা যখন তাদের বলা হয়েছিল যে তারা আদিষ্ট, তখন তারা তাকলিফের বিষয়টি অনুধাবন করেছিল; তারা তো কেবল মৌখিক নির্দেশনার সত্যায়ন থেকে গাফেল ছিল।

আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি তাঁর কিতাবটি নিয়ত সম্পর্কিত হাদিস দিয়ে শুরু করেছেন। এটি এমন এক হাদিস যা আমাদের পূর্বসূরি শায়খগণ দ্বীনি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা কিছু রচনা বা শুরু করা হতো, তার শুরুতে নিয়ে আসা পছন্দ করতেন। কারণ দ্বীনের সকল প্রকার বিষয়ের ক্ষেত্রেই এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। আমাদের বর্ণিত রেওয়ায়েত এবং আমাদের সাথীদের সকল পাণ্ডুলিপিতে এটি অসম্পূর্ণভাবে এসেছে এবং এর অর্ধাংশ বিলুপ্ত হয়েছে, যা হলো: "অতঃপর যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্যই গণ্য হবে।" আমি জানি না কীভাবে এই অসতর্কতা ঘটল এবং কার পক্ষ থেকে এটি বর্ণনায় প্রকাশ পেল। অথচ বুখারি এই কিতাবে হুমায়দির সূত্র ছাড়াও অন্য একাধিক স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে উভয় অংশসহ বর্ণিত হয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই যে এটি হুমায়দির পক্ষ থেকে ঘটেনি, কারণ বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীগণ তাঁর সূত্রে এটি পূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিহীনভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, তাঁর বাণী "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" দ্বারা মূল আমল উদ্দেশ্য নয়, কারণ আমল তো নিয়ত ছাড়াও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও চাক্ষুষভাবে সম্পন্ন হয়। বরং এর অর্থ হলো, দ্বীনের ক্ষেত্রে আমলের বিধানসমূহের সঠিকতা কেবল নিয়তের মাধ্যমেই অর্জিত হয় এবং নিয়তই হলো সঠিক ও সঠিক নয় এমন আমলের মধ্যকার পার্থক্যকারী। "নিশ্চয়ই" (ইন্নামা) শব্দটি এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় অর্থেই ক্রিয়াশীল; অর্থাৎ এটি একটি বিষয়কে সাব্যস্ত করে এবং অন্য সবকিছুকে নাকচ করে দেয়। সুতরাং এর নির্দেশিত অর্থ হলো, ইবাদতের সাথে যদি নিয়ত থাকে তবে তা সহিহ হবে, আর যদি নিয়ত না থাকে তবে তা সহিহ হবে না।

আমি বলছি, তাঁর বিশ্লেষণ থেকে জানা গেল যে, এখানে 'বা' অক্ষরটি সাহচর্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং তা 'সঠিক হওয়া'র সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ আমল সহিহ হওয়া নিয়তের সাথে যুক্ত। তিনি বলেন, এই হাদিসের ব্যাপকতার দাবি হলো—দ্বীনি আমলসমূহের মধ্যে কোনো আমলই, চাই তা কথা হোক বা কাজ, ফরজ হোক বা নফল, অল্প হোক বা বেশি, নিয়ত ব্যতীত সহিহ হবে না। এর মধ্যে তাওহিদও অন্তর্ভুক্ত, যা দ্বীনি আমলসমূহের মূল। সুতরাং তাওহিদও তাতে ইখলাসের সংকল্প ব্যতীত সহিহ হবে না। আমি বলছি, তাঁর এই বক্তব্য—'এর মধ্যে তাওহিদও অন্তর্ভুক্ত'—এটি সর্বসম্মত নয়; কারণ তাওহিদ হলো আকিদাগত বিষয়, আমলি বিষয় নয়। তবে যদি তাওহিদ দ্বারা শাহাদাত বাণী উচ্চারণ করা উদ্দেশ্য হয় এবং আমল দ্বারা জিহ্বার কাজ উদ্দেশ্য হয়, তবে ভিন্ন কথা।

তিনি বলেন, তাঁর বাণী: "প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে"—এটি পূর্বের কথারই বিস্তারিত বর্ণনা। এর মধ্যে এমন একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে যা "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" অংশ থেকে অর্জিত হয় না; আর তা হলো কোনো আমল করার সময় সেই আমলের সুনির্দিষ্ট নিয়ত করা ওয়াজিব। যেমন, কেউ যদি দুই রাকাত সালাত আদায়ের নিয়ত করে এই উদ্দেশ্যে যে, যদি তার কোনো ফরজ কাজ কাজা হয়ে থাকে তবে তা আদায় হবে, নতুবা তা নফল হিসেবে গণ্য হবে, তবে তার ফরজ আদায় হবে না। কারণ সে এর জন্য নির্দিষ্টভাবে নিয়ত করেনি, বরং সে ফরজ এবং তার বিকল্পের মধ্যে নিয়তকে দোদুল্যমান রেখেছে, ফলে নিয়তটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। নিয়ত করার সময়ের ক্ষেত্রে কোনো কোনোটি আমলের সাথে যুক্ত হওয়া ওয়াজিব, যেমন সালাতের নিয়ত। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমলের আগে নিয়ত করা জায়েজ, যেমন রোজা। আবার কখনও কখনও কোনো বিষয় অস্পষ্ট রেখেও আমল হতে পারে এবং পরবর্তীতে তা নির্দিষ্ট করা যায়, যেমন কোনো ব্যক্তির ওপর হত্যা এবং জেহারের কারণে দুটি কাফফারা ওয়াজিব হলো, অতঃপর সে একটি গোলাম আজাদ করল এবং পরে সেটিকে যেকোনো একটির জন্য নির্দিষ্ট করল। যাই হোক, কোনো ইবাদতই নিয়ত থেকে মুক্ত নয়। আর আগে বা পরে নিয়ত করার বৈধতা এমন কিছু কারণে দেওয়া হয়েছে যা এখানে আলোচনার বিষয় নয়।

লেনদেন এবং তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রসমূহেও এই হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যেমন যাকে কুফরি করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং সে মুখে তা উচ্চারণ করেছে অথচ তার অন্তরে এর বিপরীত নিয়ত রয়েছে, তবে সে কাফের হবে না। তদ্রূপ তালাকের রূপক শব্দাবলির ক্ষেত্রেও, যদি সে তালাকের নিয়ত না করে তবে তালাক পতিত হবে না। একদল ধারণা করেন যে, ইবাদত ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা সঠিক নয়, কারণ হাদিসটি তো এসেছে ইবাদতের ক্ষেত্রসমূহের ভিন্নতা বর্ণনার জন্য। কিন্তু সাধারণ ফকিহগণ শব্দের ব্যাপকতা এবং সংজ্ঞার সম্ভাব্যতা বিবেচনা করেন।

(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢١)
لما يصلح صرفه إليه من المعاني ولا يراعون الأسباب التي يخرج عليها الكلام ولا يقصرونه عليها. وأقول حاصله أن العبرة لعموم اللفظ لا بخصوص السبب. قال وقوله: ((فمن كانت هجرته)) إلى آخره معناه أن قصد بالهجرة القربة إلى الله فهجرته مقبولة إلى الله ورسوله ومن كانت هجرته لدنيا فهي حظه ولا حظ له في الآخرة وقالوا إنما جاء هذا الحديث في رجل كان يخطب امرأة بمكة فهاجرت إلى المدينة فتبعها الرجل رغبة في نكاحها فسمي مهاجر أن قيس. التيمي: إن قيل قد روى البخاري هذا الحديث في مواضع من كتابه فلم قدم هذا الطريق وصدر به كتابه قلنا لروايته إياه عن الإمام الكبير المقدم الحميدي عن سفيان ومعناه أن العمل إنما يكمل عملا ويرجى فيه القبول إذا وجهت قلبك وقصدت به التقرب إلى الله. وأقول وحاصله أن التقرير إنما الأعمال تكمل بالنيات أو تقبل بالنيات والباء للاستعانة قال والنية أبلغ من العمل ولهذا تقبل النية بغير عمل فإذا نوى حسنة فإنه يجزى عليها ولو عمل حسنة بغير نية لا يجزى عليها. فإن قيل فقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال ((من همّ بحسنة ولم يعملها كتبت له واحدة ومن عملها كتبت له عشرا)) وروي أيضا أنه قال ((نية المؤمن خير من عمله)) فالنية في الحديث الأول دون العمل وفي الثاني فوق العمل وخيرٌ منه. قلنا أما الحديث الأول فلأن الهام بالحسنة إذا لم يعملها خلاف العمل لأنّ الهام لم يعمل والعامل لم يعمل حتى هم ثم عمل وأما الثاني فلأن تخليد الله تعالى العبد في الجنة ليس لعمله وإنما هو لنيته لأنه لو كان لعمله لكان خلوده فيها بقدر مدّة عمله أو أضعافه إلا أنه جازاه بنيته لأنه كان ناويا أن يطيع الله تعالى أبدا لو بقي أبدا فلما اخترمته منيته دون نيته جزاه الله عليها وكذلك الكافر لأنه لو كان مجازى بعمله لم يستحق التخليد في النار إلا بقدر مدة كفره غير أنه نوى أن يقيم على كفره أبدا لو بقي فجازاه الله على نيته. وأقول يحتمل أن يقال إن المراد منه أن النية خير من العمل بلا نية إذ لو كان المراد خير من عمل مع نية يلزم أن يكون الشيء خيرا من نفسه مع غيره أو أن النية خير من جملة الخيرات والواقعة بعمله أو أن النية فعل القلب وفعل الأشرف أشرف أو أن المقصود من الطاعات تنوير القلوب وتنوير القلب بها أكثر لأنها صفته أو نية المؤمن خير من عمل الكافر لما قيل ورد ذلك حين نوى مسلم بناء قنطرة فسبق كافر إليه. فغن قيل قلت هذا في الحسنة فما حكمه في السيئة. قلت المشهور أنه لا يعاقب عليها بمجرد النية واستدلوا عليها بقوله: تعالى ((لها ما كسبت وعليها ما اكتسبت)) فإن اللام للخير فجاء فيها بالكسب الذي لا يحتاج إلى تصرف بخلاف عليها فإنها لما كانت للشر جاء فيها بالاكتساب الذي لا بد فيه من التصرف والمعالجة ولكن الحق أن السيئة يعاقب عليها أيضا بمجرد النية لكن على النية لا على الفعل حتى لم همّ أحد على

যখন অর্থের দিক থেকে এটি পরিবর্তনের উপযোগী হয়, তখন তারা কথার প্রেক্ষাপটের প্রতি লক্ষ্য করেন না এবং একে তার মধ্যে সীমাবদ্ধও করেন না। আমি বলব, এর সারমর্ম হলো—বিবেচ্য বিষয় হলো শব্দের ব্যাপকতা, বিশেষ কোনো কারণ নয়। তিনি বলেন, তাঁর বাণী: "সুতরাং যার হিজরত..." শেষ পর্যন্ত—এর অর্থ হলো, হিজরতের মাধ্যমে যদি আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত করা হয়, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে কবুলযোগ্য। আর যার হিজরত দুনিয়ার উদ্দেশ্যে, তা-ই তার প্রাপ্য এবং পরকালে তার কোনো অংশ নেই। তারা বলেন, এই হাদীসটি মূলত এক ব্যক্তি সম্পর্কে এসেছে যে মক্কায় এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, অতঃপর সেই নারী মদিনায় হিজরত করেন। সেই ব্যক্তি তাকে বিয়ের উদ্দেশ্যে তার অনুগমন করেন, ফলে তাকে 'উম্মে কায়েসের হিজরতকারী' বলা হতো। আত-তাইমি বলেন: যদি প্রশ্ন করা হয় যে, ইমাম বুখারী তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি কেন এই সূত্রটিকে অগ্রাধিকার দিলেন এবং এর মাধ্যমে কিতাব শুরু করলেন? আমরা বলব, কারণ তিনি এটি বড় ও অগ্রগণ্য ইমাম হুমাইদী থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন। এর অর্থ হলো, আমল তখনই পূর্ণাঙ্গ আমল হিসেবে গণ্য হয় এবং এর কবুলিয়তের আশা করা যায়, যখন আপনি আপনার অন্তরকে সেদিকে নিবদ্ধ করবেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের ইচ্ছা করবেন। আমি বলব, এর সারসংক্ষেপ হলো—নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের মাধ্যমে পূর্ণতা পায় অথবা নিয়তের মাধ্যমে কবুল হয়, আর এখানে 'বা' অক্ষরটি সাহায্যের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়ত আমলের চেয়েও বেশি প্রভাববিস্তারী। এ কারণেই আমল ছাড়াও নিয়ত কবুল হয়; যখন কেউ কোনো নেক কাজের নিয়ত করে, তাকে তার প্রতিদান দেওয়া হয়। কিন্তু যদি কেউ নিয়ত ছাড়া কোনো নেক কাজ করে, তবে তাকে এর প্রতিদান দেওয়া হয় না। যদি বলা হয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা করল না, তার জন্য একটি সওয়াব লেখা হয়; আর যে ব্যক্তি তা করল, তার জন্য দশটি সওয়াব লেখা হয়।" আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম।" সুতরাং প্রথম হাদীসে নিয়ত আমলের চেয়ে কম পর্যায়ের, আর দ্বিতীয়টিতে তা আমলের ঊর্ধ্বে এবং তার চেয়েও উত্তম। আমরা বলব, প্রথম হাদীসের ক্ষেত্রে কারণ হলো—নেক কাজের সংকল্পকারী যখন তা আমল করে না, তখন তা আমলের বিপরীত। কেননা সংকল্পকারী কাজ করেনি, আর আমলকারী সংকল্প না করা পর্যন্ত আমল করতে পারে না, সে প্রথমে সংকল্প করে তারপর আমল করে। আর দ্বিতীয়টির কারণ হলো—আল্লাহ তাআলা বান্দাকে জান্নাতে চিরস্থায়ী করা তার আমলের কারণে নয়, বরং তার নিয়তের কারণে। কেননা যদি তা আমলের কারণে হতো, তবে জান্নাতে তার চিরস্থায়ী হওয়া হতো তার আমলের সময়কাল বা তার কয়েকগুণ পর্যন্ত। কিন্তু তিনি তাকে তার নিয়তের কারণে প্রতিদান দিয়েছেন, কারণ তার নিয়ত ছিল যে সে যদি চিরকাল বেঁচে থাকে তবে চিরকাল আল্লাহর আনুগত্য করবে। ফলে যখন তার নিয়ত পূরণ হওয়ার আগেই মৃত্যু তাকে পাকড়াও করল, তখন আল্লাহ তাকে তার নিয়তের ওপর প্রতিদান দিলেন। কাফেরের বিষয়টিও তদ্রূপ; কারণ সে যদি তার আমলের ভিত্তিতে প্রতিদান পেত, তবে সে তার কুফরির সময়কাল ব্যতীত জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার যোগ্য হতো না। কিন্তু সে নিয়ত করেছিল যে যদি সে চিরকাল বেঁচে থাকে তবে চিরকাল কুফরির ওপরই অটল থাকবে, তাই আল্লাহ তাকে তার নিয়তের ওপর প্রতিদান দিয়েছেন। আমি বলব, এমনটি বলাও সম্ভব যে, এর উদ্দেশ্য হলো—নিয়ত হলো নিয়তবিহীন আমলের চেয়ে উত্তম। কারণ যদি এর উদ্দেশ্য হতো নিয়তযুক্ত আমলের চেয়ে উত্তম হওয়া, তবে কোনো বস্তু তার নিজের এবং অন্য একটি বস্তুর সমষ্টির চেয়ে উত্তম হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ত। অথবা এর অর্থ হলো—নিয়ত হলো তার আমলের মাধ্যমে অর্জিত সমস্ত কল্যাণের চেয়ে উত্তম। অথবা নিয়ত হলো অন্তরের কাজ, আর অধিক সম্মানজনক অঙ্গের কাজ অধিক সম্মানজনক হয়ে থাকে। অথবা ইবাদতসমূহের উদ্দেশ্য হলো অন্তরকে আলোকিত করা, আর নিয়তের মাধ্যমে অন্তরের আলো অধিক বৃদ্ধি পায় কারণ এটি অন্তরের গুণ। অথবা মুমিনের নিয়ত কাফেরের আমলের চেয়ে উত্তম; যেমনটি বলা হয়েছে যে, এটি তখন বর্ণিত হয়েছিল যখন এক মুসলিম একটি সেতু নির্মাণের নিয়ত করেছিলেন কিন্তু এক কাফের তার আগেই তা নির্মাণ করে ফেলেছিল। যদি বলা হয়, আপনি এটি নেক কাজের ক্ষেত্রে বললেন, তবে গুনাহর ক্ষেত্রে এর বিধান কী? আমি বলব, প্রসিদ্ধ মত হলো—কেবল নিয়তের কারণে গুনাহর জন্য শাস্তি দেওয়া হয় না। তারা এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: "সে যা অর্জন করেছে তা তারই জন্য, আর সে যা কামাই করেছে তা তারই ওপর বর্তনীয়।" এখানে 'লাম' কল্যাণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এখানে 'কাসব' (অর্জন) শব্দ এসেছে যাতে বাড়তি প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে 'আলাইহা' যেহেতু অকল্যাণ অর্থে, তাই এখানে 'ইকতিসাব' (কামাই) শব্দ এসেছে যাতে প্রচেষ্টা ও সাধনার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সত্য হলো—কেবল নিয়তের কারণেও গুনাহর জন্য শাস্তি দেওয়া হয়, তবে তা নিয়তের ওপর, কাজের ওপর নয়; এমনকি যদি কেউ কোনো কিছুর সংকল্প করে...

(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
ترك صلاة بعد عشرين سنة يأثم في الحال لانّ العزم من أحكام الإيمان ويعاقب على العزم لا على ترك الصلاة والفرق بين الحسنة والسيئة أنّ بنية الحسنة يثاب الناوي على الحسنة وبنية السيئة لا يعاقب عليها بل على نيتها. فإن قلت من جاء بنية الحسنة فقد جاء بالحسنة ومن جاء بالحسنة ومن جاء بالحسنة فله عشر أمثالها فيلزم أنّ من جاء بنية الحسنة فله عشر أمثالها فلا يبقى فرق بين الحسنة ونفس الحسنة. قلنا لا نسلم أن من جاء بنية الحسنة فقد جاء بالحسنة بل يثاب على نية الحسنة فظهر الفرق. النووي: وقع الحديث هنا ثم في الإيمان مختصر وهو طويل مشهور ذكره البخاري في سبعة مواضع من كتابه فذكر ههنا ثم في الإيمان وفي النكاح والعتق والهجرة وترك الحيل والنذور وروى في الصحيح إنما الأعمال بالنيات وإنما الأعمال بالنية والأعمال بالنيّة والعمل بالنية قال واعلم أن مدار هذا الحديث على يحي ابن سعيد الأنصاري. قال الحفاظ لا تصح روايته عن النبيّ صلى الله عليه وسلم إلا من جهة عمر ولا من جهة عمر رضي الله عنه إلا من جهة علقمة ولا عن علقمة إلا من محمد بن إبراهيم ولا عن محمد بن إبراهيم إلا من يحي بن سعيد وعن يحي انتشر فرواه عنه أكثر من مائتي إنسان أكثرهم أئمة فهو حديث مشهور بالنسبة إلى آخره غريب بالنسبة إلى أوله وليس متواترا لعقد شرط التواتر في أوله ولكنه مجمع على صحته وعظم موقعه وجلالته وكثرة فوائده وهو أول الأحاديث التي عليها مدار الإسلام. قال الإمامان الشافعي وأحمد رضي الله عنهما: يدخل فيه ثلث العلم. قال الإمام الحافظ أبو بكر البيهقي: لان كسب العبد بقلبه ولسانه وجوارحه والنية أحد الأقسام الثلاثة وهي أرجحها لأنها تكون عبادة بانفرادها بخلاف القسمين الآخرين ولذلك كانت نية المؤمن خيرا من عمله لان القول والعمل يدخلهما الفساد بالرياء بخلاف النية. قال النووي في شرح مسلم تقدير الحديث أنّ الأعمال تحسب إذا كانت بنية ولا تحسب إذا كانت بلا نية. أقول وهذا وجه ثالث لتعلق لفظ بالنيات قال وفيه دليل على أن الطهارة وسائر العبادات لا تصح إلا بنية وأما إزالة النجاسة فالمشهور عندنا أنها لا تفتقر إليها لأنها من باب المتروك والمتروك لا يحتاج إلى نية وشذّ بعض أصحابها فأوجبها وهو باطل. أقول ليس بباطل بل هو الحق أما أولا فلان الترك أيضا فعل وهو كف النفس وثانيا بأن التروك إن أريد بها تحصيل الثواب وامتثال أمر الشارع لا بد فيها من قصد الترك امتثالا لأمر الشارع فتارك الزنا مثلا إن قصد تركه لامتثال الأمر يحسب ويثاب وإلا فلا. نعم في إسقاط العقاب لا حاجة إلى النية قال وقوله: ((لكل امرئ ما نوى)) فائدته بيانا أن تعيين المنوي شرط فلا يكفيه أن ينوي الصلاة الفائتة بل يشترط كونها ظهرا ولولاه تصح النية بلا تعيين أو أوهم ذلك وذكره المرآة مع الدنيا يحتمل وجهين أحدهما أنه جاء أن سبب هذا الحديث أن رجلا هاجر ليتزوج امرأة يقال لها أم قيس فقيل

বিশ বছর পর সালাত ত্যাগ করার সংকল্প করলে সে তৎক্ষণাৎ গুনাহগার হবে, কারণ সংকল্প ঈমানের আহকামের অন্তর্ভুক্ত। আর শাস্তির বিধান সংকল্পের ওপর, সালাত ত্যাগের ওপর নয়। পুণ্য ও পাপের মধ্যে পার্থক্য হলো, পুণ্যের নিয়ত করলে নিয়তকারীকে সেই পুণ্যের সওয়াব দেওয়া হয়, কিন্তু পাপের নিয়ত করলে পাপের জন্য শাস্তি দেওয়া হয় না, বরং সেই নিয়ত বা সংকল্পের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়। আপনি যদি বলেন যে, যে ব্যক্তি পুণ্যের নিয়ত নিয়ে এসেছে সে যেন পুণ্য নিয়েই এসেছে, আর যে পুণ্য নিয়ে আসে তার জন্য দশ গুণ সওয়াব রয়েছে; তবে এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় যে, যে ব্যক্তি পুণ্যের নিয়ত করবে সে দশ গুণ সওয়াব পাবে, ফলে নিয়ত এবং মূল পুণ্যের কাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য অবশিষ্ট থাকে না। আমরা বলি, আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে, যে ব্যক্তি পুণ্যের নিয়ত নিয়ে এসেছে সে পুণ্যই নিয়ে এসেছে; বরং তাকে পুণ্যের নিয়তের জন্য সওয়াব প্রদান করা হয়, ফলে পার্থক্যটি স্পষ্ট হলো। নববী বলেন: হাদিসটি এখানে এবং ঈমান অধ্যায়ে সংক্ষেপে এসেছে, যা একটি দীর্ঘ ও প্রসিদ্ধ হাদিস। বুখারি এটি তাঁর কিতাবের সাতটি স্থানে উল্লেখ করেছেন; তিনি এখানে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর ঈমান, বিবাহ, দাসমুক্তি, হিজরত, কৌশল বর্জন এবং মানত অধ্যায়ে। সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে—'নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল', 'নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের দ্বারা', 'আমলসমূহ নিয়তের সাথে' এবং 'আমল নিয়তের সাথে'। তিনি বলেন, জেনে রাখুন যে এই হাদিসের মূল ভিত্তি ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ আল-আনসারির ওপর। হাদিস বিশারদগণ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উমর (রা.)-এর সূত্র ছাড়া এটি সহিহ নয়, উমর (রা.) থেকে আলকামাহ-এর সূত্র ছাড়া, আলকামাহ থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম-এর সূত্র ছাড়া এবং মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ-এর সূত্র ছাড়া এটি বর্ণিত হয়নি। ইয়াহইয়া থেকে এটি ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর থেকে দুইশরও বেশি মানুষ এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের অধিকাংশ ছিলেন ইমাম। সুতরাং শেষ অংশের বিচারে এটি একটি 'মাশহুর' হাদিস এবং প্রথম অংশের বিচারে 'গারিব' হাদিস। প্রথমাংশে মুতাওয়াতির হওয়ার শর্ত পূরণ না হওয়ায় এটি মুতাওয়াতির নয়, তবে এর বিশুদ্ধতা, গুরুত্ব, মহিমা ও বহুবিধ উপকারের ওপর ঐক্যমত (ইজমা) প্রতিষ্ঠিত। এটি সেই হাদিসগুলোর মধ্যে প্রথম যার ওপর ইসলামের আবর্তন। ইমাম শাফেঈ এবং ইমাম আহমদ (রা.) বলেন: এতে জ্ঞানের এক-তৃতীয়াংশ নিহিত রয়েছে। ইমাম হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকি বলেন: কারণ বান্দার উপার্জন তার অন্তর, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে হয়ে থাকে, আর নিয়ত হলো এই তিন প্রকারের একটি এবং তা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা নিয়ত পৃথকভাবে স্বতন্ত্র ইবাদত হতে পারে, যা অন্য দুই প্রকারের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। এই কারণেই মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম; কারণ কথা ও কাজে রিয়া বা লোকপ্রদর্শনের মাধ্যমে বিপর্যয় বা ত্রুটি প্রবেশ করতে পারে, যা নিয়তের ক্ষেত্রে হয় না। নববী শারহে মুসলিমে বলেন, হাদিসের মর্মার্থ হলো—আমলসমূহ তখনই গণ্য হবে যখন তা নিয়তের সাথে হবে এবং নিয়ত ছাড়া হলে তা গণ্য হবে না। আমি বলছি, এটি 'নিয়তের সাথে' শব্দটির সংশ্লিষ্টতার একটি তৃতীয় দিক। তিনি বলেন, এতে এই দলিল রয়েছে যে, পবিত্রতা এবং অন্যান্য সকল ইবাদত নিয়ত ছাড়া শুদ্ধ হয় না। তবে নাপাকি বা অপবিত্রতা দূর করার ক্ষেত্রে আমাদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো এটি নিয়তের মুখাপেক্ষী নয়, কারণ তা বর্জনীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং বর্জনীয় বিষয়ে নিয়তের প্রয়োজন হয় না। আমাদের সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ বিচ্ছিন্ন মত পোষণ করে একে ওয়াজিব বলেছেন, যা বাতিল। আমি বলছি, এটি বাতিল নয় বরং এটিই সত্য। প্রথমত, বর্জন করাও একটি কাজ যা মূলত নফসের নিবৃত্তি। দ্বিতীয়ত, বর্জনের মাধ্যমে যদি সওয়াব অর্জন এবং শরিয়ত দাতার নির্দেশ পালন উদ্দেশ্য হয়, তবে শরিয়ত দাতার নির্দেশ পালনার্থে বর্জনের সংকল্প করা আবশ্যক। যেমন ব্যভিচার বর্জনকারী যদি নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে তা বর্জন করার ইচ্ছা পোষণ করে তবে তা গণ্য হবে এবং সে সওয়াব পাবে, অন্যথায় নয়। হ্যাঁ, শাস্তি রহিত হওয়ার ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন: 'প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তা-ই যা সে নিয়ত করেছে'—এর উপকারিতা হলো এটি স্পষ্ট করা যে, যা নিয়ত করা হচ্ছে তা সুনির্দিষ্ট করা শর্ত। সুতরাং শুধু কাজা সালাতের নিয়ত করাই যথেষ্ট নয়, বরং তা জোহরের সালাত হওয়া শর্ত। এটি না হলে সুনির্দিষ্ট করা ছাড়াই নিয়ত শুদ্ধ হতো অথবা এটি সেই ধারণাই দেয়। দুনিয়ার সাথে নারীর উল্লেখ করার ক্ষেত্রে দুটি দিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তার একটি হলো, বর্ণিত আছে যে এই হাদিসের প্রেক্ষাপট ছিল—এক ব্যক্তি উম্মে কায়েস নামক এক নারীকে বিবাহ করার জন্য হিজরত করেছিলেন, অতঃপর বলা হয়েছে...

(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
له مهاجر أم قيس والثاني أنه للتنبيه على زيادة التحذير من ذلك وهو من باب ذكر الخاص بعد العام تنبيها على مرتبته وأقول ليدل أن النساء أعظمها ضررا وأكثرها تبعة، قال الطيبي كل الأعمال والنيات جمع محلى باللام الاستغراقية فأما أن يحملا على عرف اللغة فيكون الاستغراق حقيقيا أو على عرف الشرع وحينئذ إما أن يراد بالأعمال الواجبات والمندوبات والمباحات وبالنيات الإخلاص والرياء وان يراد بالأعمال الواجبات ومالا يصح إلا بالنية كالصلاة ولا سبيل إلى اللغوي لأنه ما بعث إلا لبيان الشرع فكيف يتحدّى بما لا جدوى له فيه فحينئذ يحمل إنما الأعمال بالنيات على ما اتفقت عليه أصحابنا أي ما الأعمال محسوبة بشيء من الأشياء كالشروع فيها والتلبس بها إلا النيات وماخلا عنها لم يعتدّ بها فإن قيل لم خصصت متعلقي الخبر والظاهر العموم كمستقر أو حاصل فالجواب أنه حينئذ يكون بيانا للغة لا إثباتا لحكم الشرع وقد سبق بطلانه ويحمل وإنما لكل امرئ ما نوى على ما تثمره النيات من القبول والرد والثواب والعقاب ففهم من الأول أن الأعمال لا تكون محسوبة ومسقطة للقضاء إلا إذا كانت مقرونة بالنيات ومن الثاني أن النيات إنما تكون مقبولة إذا كانت مقرونة بالإخلاص فالأول قصر المسند إليه في المسند والثاني عكسه ويقرب منها الصلاة في الأرض المغصوبة فإنها محسوبة ومسقطة للقضاء لكن إيقاعها فيها حرام يستحق العقاب وتحريره أنّ ((وإنما لكل امرئ ما نوى)) دلّ على أنّ الأعمال تحسب بحسب النيّة إن كانت خالصة لله فهي لله وإن كانت للدنيا فهي لها وإن كانت لنظر الخلق فكذلك وعلى هذا المعنى ينبغي أن يحمل ما بعد الفاء التفصيلية لأنه لن يكون المفصل خلاف المجمل وكذا عكسه فإن المعنى بالهجرة هي الهجرة المعروفة في عهد النبيّ صلى الله عليه وسلم بقوله: لا هجرة بعد الفتح ومعلوم أن هذه الهجرة لا تقتضي إلا الإخلاص لأنّ الهجرة إلى الدنيا لا تقتضي النية التي في الطهارة مثلا وأقول حاصله مبني على ثبوت المغايرة بين النية بمعنى الإخلاص والنية بمعنى القصد وهو غير مسلم ولئن سلمنا ذلك لا نسلم أن الهجرة لا تقتضي النية التي في الطهارة مثلا إذ لا بد للمهاجر أن يقصد الهجرة حتى يثاب ويكون ممتثلا لأمر الشارع كما لا نسلم وإلى رسوله في الشرط والجزاء تعظيم لمعنى تلك الهجرة وتفخيم لشأنها أي هي الهجرة الكاملة وما سواها ليست بهجرة ولهذا السر غير العبارة في متعلق الجزاء الثاني بلفظة ما حطاّ لمنزلتها، وأقول وإنما أورد البخاري هذا الحديث قبل الشروع في أبواب الكتاب وقد وافق ما ثبت في علم الكلام أن أول ما يجب على المكلف هو القصد إلى النظر في معرفة الله تعالى إعلاما بأن هذا المصنف منوي فيه الإخلاص لله تعالى مجنب عن الأغراض الدنيئة والرياء ولما صحح فيه النيّة وصفى فيه الطوية جعل الله تعالى كتابه علما من أعلام

উম্মে কায়সের মুহাজিরের ঘটনা এবং দ্বিতীয়ত, এটি সেই বিষয়ে অধিক সতর্ক করার জন্য। আর এটি আধিক্য বুঝানোর উদ্দেশ্যে সাধারণ বিষয়ের পর বিশেষ বিষয়ের উল্লেখ করার অন্তর্ভুক্ত যাতে এর গুরুত্ব প্রকাশ পায়। আমি বলছি, এর উদ্দেশ্য হলো এটি বুঝানো যে নারীদের ফিতনা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর এবং পরিণতির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ। আল্লামা তিবী বলেন, 'আল-আমাল' (কাজসমূহ) এবং 'আন-নিয়্যাত' (নিয়তসমূহ) উভয়ই আলিফ-লাম যোগে এমন বহুবচন যা ব্যাপকতা বুঝায়। সুতরাং হয় এগুলোকে আভিধানিক প্রথার ওপর প্রয়োগ করতে হবে, যাতে এর ব্যাপকতা প্রকৃত অর্থে হয়; অথবা শরীয়তের পরিভাষার ওপর প্রয়োগ করতে হবে। এমতাবস্থায় 'কাজ' বলতে উদ্দেশ্য হবে ওয়াজিব, মুস্তাহাব ও মুবাহ কার্যাবলি এবং 'নিয়ত' বলতে উদ্দেশ্য হবে ইখলাস (নিষ্ঠা) ও রিয়া (লোকদেখানো)। অথবা 'কাজ' বলতে উদ্দেশ্য হবে সেই সকল ওয়াজিব আমল যা নিয়ত ছাড়া শুদ্ধ হয় না, যেমন সালাত। তবে আভিধানিক অর্থ গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবলমাত্র শরীয়ত বর্ণনার জন্যই প্রেরিত হয়েছেন। সুতরাং যাতে শরীয়তের কোনো ফায়দা নেই তা দিয়ে তিনি কীভাবে সম্বোধন করবেন? এমতাবস্থায় "নিশ্চয়ই সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" এই বাক্যটিকে আমাদের ফকীহদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এভাবে অর্থ করা হবে যে, কোনো কাজই শুরু করা বা তাতে লিপ্ত হওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তাতে নিয়ত থাকে; আর যা নিয়তহীন তা গ্রহণযোগ্য নয়। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, খবরের সংশ্লিষ্ট বিষয়কে কেন নির্দিষ্ট করা হলো অথচ বাহ্যত এটি ব্যাপক হওয়া উচিত ছিল যেমন 'স্থির হওয়া' বা 'অর্জিত হওয়া'? এর উত্তর হলো, সেক্ষেত্রে এটি কেবল আভিধানিক বিশ্লেষণ হতো, শরীয়তের বিধান সাব্যস্ত হতো না; আর আভিধানিক অর্থ গ্রহণের অসারতা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। আর "নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই পাবে" বাক্যটিকে নিয়তের পরিণাম অর্থাৎ কবুল হওয়া, প্রত্যাখ্যান হওয়া, সওয়াব এবং আজাবের ওপর প্রয়োগ করা হবে। সুতরাং প্রথম বাক্য থেকে বোঝা গেল যে, আমলগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত শরীয়তের দৃষ্টিতে গণ্য হবে না এবং কাজার বাধ্যবাধকতা দূর হবে না যতক্ষণ না তার সাথে নিয়ত যুক্ত থাকে। আর দ্বিতীয় বাক্য থেকে বোঝা গেল যে, নিয়ত তখনই কবুল হবে যখন তা ইখলাসের সাথে যুক্ত থাকবে। সুতরাং প্রথমটি বিধেয়কে উদ্দেশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা, আর দ্বিতীয়টি তার বিপরীত। এর কাছাকাছি একটি উদাহরণ হলো জবরদখল করা জমিতে সালাত আদায় করা; এটি আদায় হয়ে যাবে এবং পুনরায় পড়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না, তবে সেখানে সালাত আদায় করা হারাম হওয়ায় ব্যক্তি শাস্তির যোগ্য হবে। এর বিশ্লেষণ হলো, "নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই পাবে" এটি একথাই প্রমাণ করে যে কাজসমূহ নিয়ত অনুযায়ী গণ্য হবে। যদি তা আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হয় তবে তা আল্লাহর জন্যই হবে, আর যদি তা দুনিয়ার উদ্দেশ্যে হয় তবে তা দুনিয়ার জন্যই হবে, আর যদি লোক দেখানোর জন্য হয় তবে তাও তেমনি হবে। আর এই অর্থের ওপরই 'অতঃপর' (ফা) বর্ণ পরবর্তী বিস্তারিত অংশটিকে প্রয়োগ করা উচিত, কারণ বিস্তারিত বিবরণ কখনো সংক্ষিপ্ত বিবরণের বিপরীত হয় না এবং এর উল্টোটাও হয় না। এখানে হিজরত বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের সেই প্রসিদ্ধ হিজরতকে বুঝানো হয়েছে যার ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন: "মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই"। এটি সুবিদিত যে, এই হিজরত কেবল ইখলাসেরই দাবি রাখে। কারণ দুনিয়ার উদ্দেশ্যে হিজরত করা এমন নিয়তের মুখাপেক্ষী নয় যা উদাহরণস্বরূপ পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। আমি বলছি, এর সারকথা ইখলাস অর্থবাচক নিয়ত এবং সংকল্প অর্থবাচক নিয়তের মধ্যে পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, যা স্বীকৃত নয়। যদি আমরা তা মেনেও নিই, তবুও আমরা এটি মানি না যে হিজরত এমন নিয়তের মুখাপেক্ষী নয় যা পবিত্রতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন হয়। কেননা হিজরতকারীকে অবশ্যই হিজরতের সংকল্প করতে হবে যেন সে সওয়াব পায় এবং সে যেন শরীয়তের নির্দেশ পালনকারী হিসেবে গণ্য হয়। যেমন আমরা এটিও মানি না যে, 'এবং তাঁর রাসূলের দিকে' কথাটি শর্ত এবং প্রতিদানের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা সেই হিজরতের মাহাত্ম্য এবং এর গুরুত্ব বুঝানোর জন্য এসেছে; অর্থাৎ এটিই পূর্ণাঙ্গ হিজরত এবং এ ছাড়া অন্য কিছু হিজরত নয়। আর এই নিগূঢ় রহস্যের কারণেই দ্বিতীয় প্রতিদানের ক্ষেত্রে শব্দ পরিবর্তন করে 'যা' (মা) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তার মর্যাদাকে নিম্নমুখী করার জন্য। আমি বলছি, ইমাম বুখারী রহ. কিতাবের মূল অধ্যায়গুলো শুরু করার আগেই যে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তা ইলমে কালামে সাব্যস্ত হওয়া এই বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, একজন মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনযোগ্য ব্যক্তির ওপর সর্বপ্রথম ওয়াজিব হলো আল্লাহ তাআলার পরিচয় লাভের জন্য গবেষণার সংকল্প করা। এর মাধ্যমে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই গ্রন্থটি সংকলনের ক্ষেত্রে কেবল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিই উদ্দেশ্য ছিল এবং এটি হীন উদ্দেশ্য ও রিয়া (লোকদেখানো) থেকে মুক্ত। যেহেতু তিনি এতে নিজের নিয়তকে পরিশুদ্ধ করেছেন এবং মনের অবস্থাকে নির্মল রেখেছেন, তাই আল্লাহ তাআলা তাঁর এই কিতাবকে হিদায়াতের অন্যতম নিশান হিসেবে কবুল করে নিয়েছেন।

(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
2 - حَدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخبَرَنا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ

ــ

الإسلام رفع الله درجته في دار السلام ونحن اقتفينا أثره وتلونا تلوه نرجو من فضل الله تعالى وكرمه أن يتقبل منا ويجعله سببا للنجاة ورفعة الدرجات يوم الدين في أعلى عليين فإنه جواد كريم رءوف رحيم قال البخاري رضي الله عنه ((حدثنا عبد الله بن يوسف)) أقول هو أبو عبد الله التنيسي بالتاء المثناة الفوقانية قم النون المكسورة الشديدة ثم الياء المثناة التحتانية والسين المهملة أصلاه من دمشق قال البخاري في تاريخه لقيته بمصر وقيل مات سنة سبع أو ثمان عشرة ومائتين وفي يوسف ستة أوجه: ضم السين وفتحها وكسرها مع الهمز وتركها قوله:: (مالك) هو إمام دار الهجرة أبو عبد الله مالك ابن أنس بن مالك بن انس بن أبي عامر الأصبحي المدني مناقبه أكثر من أن تعدّ وفضائله أظهر من أن تحد روى الترمذي بإسناده عن رسول الله صلى الله عليه وسلم يوشك أن يضرب الناس آباط المطي في طلب العلم فلا يجدون عالما أعلم من عالم المدينة وحمل سفيان بن عيينة وغيره هذا الحديث على مالك وقالوا هو العالم المذكور وهو جدير به كما قالوا ، وقال البخاري أصح الأسانيد مالك عن نافع عن ابن عمر، وقال وهيب مابين المشرق والمغرب رجل آمن على حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم من مالك وأعلم أنه أحد الأئمة الستة أصحاب المذاهب المتبوعة في الأمصار وهم: هو وأبو حنيفة والشافعي واحمد وسفيان الثوري وداود الأصبهاني الظاهري وقد جمعهم الإمام أبو الفضل يحي الحصكفي الخطيب الشافعي فقال:

وإن شئت أركان الشريعة فاستمع … لتعرفهم واحفظ إذا كنت سامعا

محمد والنعمان مالك أحمد … وسفيان واذكر بعد داود … تابعا

ولد في خلافة سليمان بن عبد الملك وحمل ثلاث سنين يعني بقي في البطن هذه المدة ومات سنة تسع وسبعين ومائة بالمدينة ودفن بالبقيع رضي الله عنه ، قوله: ((عن هشام)) هو ابن عروة بن الزبير بن العوام بن خويلد بن أسد بن عبد العزّى بن قصي القرشي الأسدي أبو المنذر وهو بكسر الهاء والشين المخففة وهو تابعي ولد سنة إحدى وستين وتوفي ببغداد زمن المنصور سنة ست وأربعين ومائة وأبوه هو عروة بضمّ العين المهملة التابعي الجليل المجمع على جلالته وإمامته وكثرة علمه وبراعته وهو أحد فقهاء المدينة السبعة وهم سعيد بن المسيب وعبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود ' والقاسم بن محمد بن أبي بكر الصدّيق وسليمان بن يسار وخارجة بالخاء المعجمة والراء ثم الجيم ابن زيد بن ثابت وفي السابع أقوال هل هو أبو سلمة بن سالم أم أبو بكر بن عبد الرحمن بن الحارث ابن هشام وقد جمعهم الشاعر على هذا القول الأخير فقال:
২ - আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে।

—

ইসলাম; আল্লাহ দারুস সালামে (জান্নাতে) তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। আমরা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি; আমরা মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণার নিকট আশা করি যে, তিনি আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করবেন এবং একে কিয়ামতের দিন ইল্লিয়্যিনের সর্বোচ্চ স্তরে নাজাত ও মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ বানাবেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা, মহানুভব, স্নেহশীল ও দয়ালু। ইমাম বুখারী (রা.) বলেছেন: ((আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন))। আমি বলছি, তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ আত-তিন্নিসী। 'তিন্নিসী' শব্দটি উপরে দুই নুকতাযুক্ত 'তা', এরপর কাসরাযুক্ত ও তাশদীদযুক্ত 'নুন', এরপর নিচে দুই নুকতাযুক্ত 'ইয়া' এবং নুকতাহীন 'সীন' দিয়ে গঠিত। তাঁর মূল নিবাস ছিল দামেস্কে। ইমাম বুখারী তাঁর 'তারীখ' গ্রন্থে বলেছেন: আমি মিশরে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ২১৭ অথবা ২১৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। 'ইউসুফ' (يوسف) শব্দটিতে ছয়টি ভাষাগত রূপ রয়েছে: 'সীন' বর্ণে পেশ, জবর অথবা যের সহযোগে, এবং 'হামজা' সহকারে অথবা হামজা ছাড়া। তাঁর উক্তি: (মালিক); তিনি হলেন দারুল হিজরতের ইমাম আবু আবদুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আনাস ইবনে আবু আমির আল-আসবাহী আল-মাদানী। তাঁর গুণাবলি গণনা করার চেয়েও অধিক এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সীমাবদ্ধ করার চেয়েও সুস্পষ্ট। ইমাম তিরমিযী তাঁর সনদে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন মানুষ ইলম অন্বেষণে উটের বগলে আঘাত করবে (দ্রুত সফর করবে), তখন তারা মদীনার আলিমের চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে পাবে না।" সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা এবং অন্যান্যেরা এই হাদীসটিকে মালিকের ওপর প্রয়োগ করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন যে, তিনিই সেই উল্লিখিত আলিম। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি এর যোগ্যও বটে। ইমাম বুখারী বলেছেন: সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ হলো মালিক, নাফে' থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে। উহাইব বলেছেন: পূর্ব থেকে পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসের ব্যাপারে মালিকের চেয়ে অধিক বিশ্বস্ত আর কেউ নেই। জেনে রাখুন যে, তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে অনুসৃত মাযহাবসমূহের ছয়জন ইমামের একজন। তাঁরা হলেন: তিনি (মালিক), আবু হানীফা, শাফেয়ী, আহমাদ, সুফিয়ান সাওরী এবং দাউদ আল-আসবাহানী আজ-জাহেরী। ইমাম আবুল ফজল ইয়াহইয়া আল-হাসকাফী আল-খতীব আশ-শাফেয়ী তাঁদের নাম একত্রে উল্লেখ করে বলেছেন:

আর যদি তুমি শরীয়তের স্তম্ভদের জানতে চাও তবে শ্রবণ করো … যাতে তুমি তাঁদের চিনতে পারো, আর যদি তুমি শ্রোতা হও তবে তা মুখস্থ করো

মুহাম্মদ (শাফেয়ী) ও নুমান (আবু হানীফা), মালিক ও আহমাদ … এবং সুফিয়ান, আর এরপর দাউদকে অনুসারী হিসেবে … স্মরণ করো

তিনি সুলায়মান ইবনে আবদুল মালিকের খিলাফতকালে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিন বছর গর্ভে ছিলেন—অর্থাৎ এই দীর্ঘ সময় তিনি মায়ের উদরে অবস্থান করেন। তিনি ১৭৯ হিজরীতে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন এবং বাকী’তে সমাহিত হন (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)। তাঁর উক্তি: ((হিশাম থেকে)); তিনি হলেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ ইবনে যুবাইর ইবনে আওয়াম ইবনে খুয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আবদুল উযযা ইবনে কুসাই আল-কুরাশী আল-আসাদী, আবু মুনজির। তাঁর নাম 'হা' বর্ণে কাসরা এবং 'শীন' বর্ণে তাশদীদহীন জবর দিয়ে উচ্চারিত হয়। তিনি একজন তাবিঈ, যিনি ৬১ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং মানসূরের শাসনামলে ১৪৬ হিজরীতে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পিতা হলেন উরওয়াহ—যিনি নুকতাহীন 'আইন' বর্ণে পেশ দিয়ে উচ্চারিত হয়—তিনি একজন মহান তাবিঈ, যাঁর মহত্ত্ব, ইমামত, অগাধ জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তিনি মদীনার সাত ফকীহ্-র অন্যতম। তাঁরা হলেন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ, কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আস-সিদ্দীক, সুলায়মান ইবনে ইয়াসার এবং খারিজাহ—যিনি নুকতাযুক্ত 'খা', 'রা' এবং এরপর 'জীম' দিয়ে গঠিত—ইবনে যায়েদ ইবনে সাবিত। সপ্তম ব্যক্তির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; তিনি কি আবু সালামাহ ইবনে সালিম নাকি আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে হিশাম? একজন কবি এই শেষোক্ত মতানুসারে তাঁদের সকলকে একত্রিত করে বলেছেন:
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤْمِنِينَ، رضي الله عنها، أَنَّ الحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ، رضي الله عنه، سَأَلَ

ــ

فخذهم عبيد الله عروة قاسم … سعيد أبو بكر سليمان خارجه

وأم عروة أسماء بنت أبي بكر أخت عائشة رضي الله عنهم وقال سفيان بن عيينة أعلم الناس بحديث عائشة ثلاثة القاسم بن محمد وعروة وعمرة ولد سنة عشرين وتوفي سنة سبع أو أربع وتسعين قوله: ((عن عائشة)) هي الصدّيقة بنت أب بكر عبد الله بن عثمان بن عامر بن عمرو بن كعب بن سعد بن تميم بن مرّة القرشية التيمية كنيتها أم عبد الله كناها رسول الله قلى الله عليه وسلم بابن أختها أسماء عبد الله بن الزبير وقيل بسقط لها تزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم بمكّة قبل الهجرة وهي بنت ست سنين وبنى بها بالمدينة بعد منصرفه من بدر في شوال سنة اثنتين وقيل بعد سبعة أشهر من الهجرة وهي بنت تسع سنين والأحاديث الصحيحة في فضلها كثيرة وهي أحد الستة الذين هم أكثر الصحابة رواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم روى لها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ألف ومائتا حديث وعشرة أحاديث ذكر البخاري منها في كتابه مائتين وثمانية وعشرين حديثا ومما أجتمع لها من الفضائل أنها زوج رسول الله صلى الله عليه وسلم وبنت خليفته رضي الله عنه وتوفي رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيتها ورأسه في صدرها وجمع الله بين ريقه وريقها ودفن في بيتها وكان ينزل عليه الوحي وهو في فراشها بخلاف غيرها ونزلت براءتها من السماء وخلقت طيبة ووعدت مغفرة ورزقا كريما ولم يتزوج النبي صلى الله عليه وسلم بكرا غيرها وقال عروة كانت عائشة أعلم الناس بالقرآن وبالحديث وبالشعر وقال أبو موسى الأشعري ما أشكل على أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم شيء فسألنا عنه عائشة إلا وجدنا عندها منه علما وقال القاسم بن محمد اشتغلت عائشة بالفتوى زمن أبي بكر الصديق وعمر وعثمان فمن بعدهم رضي الله عنهم ، توفيت بالمدينة ودفنت بالبقيع سنة ثمان وخمسين وصلى عليها أبو هريرة قوله: ((أم المؤمنين)) هو مقتبس من قوله: تعالى ((وأزواجه أمهاتهم)) قال العلماء أزواج النبي صلى الله عليه وسلم أمهاتهم في وجوب احترامهن وتحريم نكاحهن لا في جواز الخلوة والنظر وتحريم نكاح بناتهن وهل يقال لإخوتهن أخوال المؤمنين ولأخواتهن خالاتهن ولبناتهن أخواتهم فيه خلاف ولا يقال لآبائهن وأمهاتهن أجداد المؤمنين وجداتهم وهل يقال إنهن أمهات المؤمنات مبني على الخلاف المعروف في أصول الفقه أن النساء لا يدخلن في خطاب الرجال وعن عائشة رضي الله عنها أنها قالت أنا أم رجالكم لا أم نسائكم وهل يقال للنبي صلى الله عليه وسلم أبو المؤمنين الأصح الجواز ومعنى قوله: ((ماكان محمد أبا أحد
মুমিনদের জননী আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত যে, হারিস ইবনে হিশাম রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করলেন

—

তাঁদের এক গোত্র হলো উবায়দুল্লাহ, উরওয়া, কাসিম ... সাঈদ, আবু বকর, সুলায়মান ও খারিজাহ।

আর উরওয়ার মা হলেন আসমা বিনতে আবু বকর, যিনি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহুমের বোন। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা বলেন, আয়িশার বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ হলেন তিনজন: আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ, উরওয়া এবং আমরাহ। তিনি (আল-কাসিম) বিশ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সাতানব্বই অথবা চুরানব্বই হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কথা: ((আয়িশা হতে)), তিনি হলেন সিদ্দিকা বিনতে আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তামিম ইবনে মুররাহ আল-কুরাশিয়্যাহ আত-তাইমিয়্যাহ। তাঁর উপনাম হলো উম্মে আবদুল্লাহ; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বোনের (আসমা) ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইরের নামে এই উপনাম রেখেছিলেন। আবার কারো মতে তাঁর একটি গর্ভপাত হয়েছিল যার কারণে এই উপনাম দেওয়া হয়। হিজরতের পূর্বে মক্কায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। বদর থেকে ফেরার পর হিজরী দ্বিতীয় সনের শাওয়াল মাসে মদীনায় তাঁর বাসর হয়; আবার কেউ বলেছেন হিজরতের সাত মাস পর। তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর। তাঁর মর্যাদার বিষয়ে অনেক সহীহ হাদিস রয়েছে। তিনি সেই ছয়জন সাহাবীর অন্তর্ভুক্ত যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক হাজার দুইশত দশটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে; ইমাম বুখারী তাঁর গ্রন্থে এর মধ্যে দুইশত আটাশটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। তাঁর অর্জিত ফজিলতসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী এবং তাঁর খলীফার কন্যা রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরেই ইন্তেকাল করেন যখন তাঁর মাথা মুমিন জননীর বুকের ওপর ছিল। আল্লাহ তাঁর ও রাসূলের লালার মিলন ঘটিয়েছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরেই সমাহিত হন। অন্য স্ত্রীদের বিপরীতে কেবল তাঁর বিছানায় থাকা অবস্থাতেই ওহী নাযিল হতো। আকাশ থেকে তাঁর পবিত্রতার ঘোষণা নাযিল হয়েছে। তিনি পবিত্রা হিসেবে সৃজিত এবং তাঁকে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিকের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তিনি ছাড়া অন্য কোনো কুমারীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করেননি। উরওয়া বলেন, আয়িশা ছিলেন কুরআন, হাদিস ও কবিতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী। আবু মুসা আল-আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের কাছে যখনই কোনো বিষয় অস্পষ্ট হতো এবং আমরা আয়িশাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম, তখনই তাঁর কাছে সেই বিষয়ে জ্ঞান পেতাম। আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ বলেন, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আবু বকর সিদ্দিক, উমর, উসমান এবং তাঁদের পরবর্তীগণের সময়ে ফতোয়া প্রদানে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি আটান্ন হিজরীতে মদীনায় ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকীতে তাঁকে দাফন করা হয়; আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর জানাযার নামায পড়ান। তাঁর কথা: ((মুমিনদের জননী)), এটি মহান আল্লাহর বাণী ((আর তাঁর পত্নীগণ তাদের জননী)) থেকে সংগৃহীত। উলামায়ে কেরাম বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নীগণ মুমিনদের জননী কেবল তাঁদের সম্মান প্রদর্শন ওয়াজিব হওয়া এবং তাঁদের বিবাহ করা হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে; তাঁদের সাথে নির্জনে অবস্থান করা (খলওয়াত), তাঁদের দিকে তাকানো অথবা তাঁদের কন্যাদের বিবাহ করা হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে নয়। তাঁদের ভাইদের কি 'মুমিনদের মামা' এবং বোনদের 'মুমিনদের খালা' আর কন্যাদের 'মুমিনদের বোন' বলা যাবে কি না—এ বিষয়ে মতভেদ আছে। তবে তাঁদের পিতা ও মাতাদের 'মুমিনদের দাদা বা নানী' বলা যাবে না। তাঁরা মুমিন নারীদেরও জননী কি না—তা উসূলে ফিকহের সেই প্রসিদ্ধ মতভেদের ওপর ভিত্তি করে যে, পুরুষদের সম্বোধনে নারীরা অন্তর্ভুক্ত কি না। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন, "আমি তোমাদের পুরুষদের জননী, তোমাদের নারীদের জননী নই।" আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কি 'মুমিনদের পিতা' বলা যাবে? বিশুদ্ধতম মত হলো এটি জায়েয। আর তাঁর বাণী ((মুহাম্মদ তোমাদের কোনো ব্যক্তির পিতা নন)) এর অর্থ...
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، كَيْفَ يَاتِيكَ الوَحْيُ؟ فَقَالَ رَسُولُ

ــ

من رجالكم)) أي لصلبه والله أعلم وأما إسناده في الأول حدثنا عبد الله والثاني أخبرنا مالك والبواقي بلفظة ((عن)) المسماة بالعنعنة واختلف في المعنعن فقال بعض العلماء هو مرسل والصحيح الذي عليه الجماهير انه متصل إذا أمكن لقاء الراوي المروي عنه ، النووي شرح مسلم: ادعى مسلم إجماع العلماء على أن المعنعن وهو الذي فيه فلان عن فلان محمول على الاتصال والسماع إذا أمكن لقاء من أضيفت العنعنة إليهم بعضهم بعضا يعني براءتهم من التدليس ونقل أي مسلم عن بعض أهل عصره أنه قال لا يحمل على الاتصال حتى يثبت أنهما التقيا في عمرهما مرة أو أكثر ولا يكفي إمكان تلاقيهما وقال وهذا قول ساقط واحتج عليه بأن المعنعن محمول على الاتصال إذا ثبت التلاقي مع احتمال الإرسال فكذا إذا أمكن التلاقي قال النووي: والذي رده هو المختار الصحيح الذي عليه أئمة هذا الفن البخاري وغيره وقد زاد جماعة عليه فاشترط القابسي أن يكون قد أدركه إدراكا بينا وأبو المظفر السمعاني طول الصحبة بينهما ودليل المذهب المختار الذي ذهب إليه البخاري وموافقوه أن المعنعن عند ثبوت التلاقي إنما حمل على الاتصال لأن الظاهر ممن ليس بمدلس أنه لا يطلق ذلك إلا على السماع ثم الاستقراء يدل عليه فإن عادتهم أنهم لا يطلقون ذلك إلا فيما يسمعونه إلا المدلس فإذا ثبت التلاقي عليه غلب على الظن الاتصال والباب مبني على غلبة الظن فاكتفينا به وليس هذا المعنى موجودا فيما إذا أمكن التلاقي ولم يثبت فإنه لا يغلب على الظن الاتصال. وأقول وهذا من جملة مرجحات صحيح البخاري على صحيح مسلم حيث لم يحمل البخاري الحديث على الاتصال حتى يثبت اجتماعهما. وقوله: آخرا قالت عائشة يحتمل أن يكون داخلا تحت هذا الإسناد سيما إذا جوزنا العطف بدون حرف العطف طاهرا كما هو مذهب بعض النحاة صرح ابن مالك بالشواهد به ويحتمل أن لا يكون داخلا تحته بل كان ثابتا بإسناد آخر والبخاري إنما ذكره ههنا على سبيل التعليق تأييدا لأمر الشدة وتأكيدا له لما هو عادته في تراجم الأبواب حيث يذكر ما وقع له من قرآن أو سنة مساعدا لها، قوله: ((والحارث بن هشام)) هو أخو أبي جهل عدو الله تعالى وقد يكتب الحارث بدون ألف تخفيفا وهشام بكسر الهاء وبالشين الخفيفة مات في طاعون عمواس سنة ثمان عشرة من الهجرة، قوله: ((كيف يأتيك الوحي)) إسناد الإتيان إلى الوحي من باب المجاز ومثله تارة يسمى بالمجاز العقلي والمجاز في الإسناد وأصله كيف يأتيك حامل الوحي للملابسة التي بين الحامل والمحمول وتارة يسمى بالاستعارة بالكناية أي شبه الوحي برجل مثلا وأضيف إلى المشبه الإتيان الذي هو من خواص
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার কাছে ওহি কীভাবে আসে? তখন আল্লাহর রাসূল বললেন...

—

তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে অর্থাৎ তাঁর ঔরসজাত সন্তান, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আর এর ইসনাদ বা সূত্রপরম্পরার ক্ষেত্রে, প্রথমটি হলো ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ’ এবং দ্বিতীয়টি হলো ‘আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন মালিক’ এবং অবশিষ্টগুলো ‘থেকে’ (আন) শব্দ যোগে বর্ণিত যা ‘আনআনা’ নামে পরিচিত। আর ‘মুআনআন’ (আনআনাযুক্ত হাদিস) সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে; কিছু আলেম বলেছেন এটি ‘মুরসাল’ (বিচ্ছিন্ন), তবে জমহুর বা সংখ্যাধিক্য আলেমের মতে সঠিক কথা হলো এটি ‘মুত্তাসিল’ (সংযুক্ত), যদি বর্ণনাকারী এবং যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ সম্ভব হয়। ইমাম নববী ‘শরহে মুসলিম’-এ উল্লেখ করেছেন: ইমাম মুসলিম আলেমদের ঐকমত্য দাবি করেছেন যে, মুআনআন হাদিস—যা ‘অমুক থেকে অমুক’ সূত্রে বর্ণিত—তা মুত্তাসিল (সংযুক্ত) এবং শ্রবণকৃত হিসেবে গণ্য হবে, যদি যাদের মধ্যে আনআনা বিদ্যমান তাদের একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়, অর্থাৎ তারা ‘তাদলিস’ (বর্ণনাকারীর তথ্য গোপন করা) থেকে মুক্ত হন। ইমাম মুসলিম তাঁর সমসাময়িক কিছু লোকের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা বলেছেন: এটি ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাসিল হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না প্রমাণিত হয় যে তারা জীবনে অন্তত একবার বা তার বেশি সাক্ষাৎ করেছেন, কেবল সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকাই যথেষ্ট নয়। তিনি (ইমাম মুসলিম) বলেছেন, এটি একটি অসার মত। তিনি এর বিপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন যে, যেহেতু সাক্ষাৎ প্রমাণিত হওয়ার পর ইরসালের (বিচ্ছিন্নতার) সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মুআনআনকে মুত্তাসিল ধরা হয়, তেমনি সাক্ষাৎ সম্ভব হলেও তা মুত্তাসিল গণ্য হবে। ইমাম নববী বলেছেন: ইমাম মুসলিম যা প্রত্যাখ্যান করেছেন সেটিই অগ্রগণ্য ও সঠিক মত, যার ওপর এই শাস্ত্রের ইমামগণ যেমন বুখারি ও অন্যান্যরা রয়েছেন। একদল আলেম এর ওপর অতিরিক্ত শর্তারোপ করেছেন; আল-কাবিসি শর্ত দিয়েছেন যে তাকে স্পষ্টভাবে সমসাময়িক হতে হবে, আর আবু মুজাফফর আস-সামআনি তাদের মধ্যে দীর্ঘ সাহচর্যের শর্ত দিয়েছেন। ইমাম বুখারি ও তাঁর অনুসারীদের অবলম্বনকৃত অগ্রগণ্য মতের দলিল হলো, সাক্ষাৎ প্রমাণিত হওয়ার ক্ষেত্রে মুআনআনকে কেবল তখনই মুত্তাসিল ধরা হয় কারণ যে বর্ণনাকারী মুদাল্লিস নন, তাঁর ক্ষেত্রে বাহ্যত এটাই প্রতীয়মান হয় যে তিনি সরাসরি শ্রবণ করা ছাড়া এমন শব্দ ব্যবহার করেন না। অতঃপর অনুসন্ধানও একথার প্রমাণ দেয়, কারণ মুদাল্লিস ছাড়া অন্যদের অভ্যাস হলো তাঁরা যা সরাসরি শুনেছেন তা ছাড়া এমন শব্দ ব্যবহার করেন না। সুতরাং যখন সাক্ষাৎ প্রমাণিত হয়, তখন সেটি মুত্তাসিল হওয়ার প্রবল ধারণা জন্মে, আর এই শাস্ত্রটি প্রবল ধারণার ওপরই প্রতিষ্ঠিত, তাই আমরা এতেই সন্তুষ্ট হয়েছি। আর এই বিষয়টি সেখানে পাওয়া যায় না যেখানে সাক্ষাৎ কেবল সম্ভব কিন্তু প্রমাণিত নয়, কারণ সেখানে মুত্তাসিল হওয়ার প্রবল ধারণা তৈরি হয় না। আমি বলছি, সহিহ মুসলিমের ওপর সহিহ বুখারির শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ হলো এটিই, যেখানে ইমাম বুখারি সাক্ষাৎ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত হাদিসকে মুত্তাসিল হিসেবে গণ্য করেননি। আর শেষোক্ত বক্তব্য ‘আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন’—এটি এই ইসনাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, বিশেষ করে যদি আমরা হরফে আতফ (সংযোজক অব্যয়) ছাড়াই আতফ করাকে ব্যাকরণগতভাবে বৈধ মনে করি, যা কিছু ব্যাকরণবিদের মত এবং ইবনে মালিক এর সপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণাদি উল্লেখ করেছেন। আবার এটি এর অন্তর্ভুক্ত না হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে, বরং তা অন্য ইসনাদ দ্বারা প্রমাণিত হতে পারে। ইমাম বুখারি এখানে এটি কেবল ‘তালীক’ (সূত্রহীন উল্লেখ) হিসেবে উল্লেখ করেছেন ওহির তীব্রতাকে সমর্থন ও জোরালো করার জন্য, যা অধ্যায়ের শিরোনাম নির্ধারণে তাঁর একটি সাধারণ রীতি; যেখানে তিনি কুরআন বা সুন্নাহ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর কথা: ‘আল-হারিস ইবনে হিশাম’—তিনি আল্লাহর শত্রু আবু জাহলের ভাই। সহজ করার জন্য হারিস শব্দটি আলিফ ছাড়াও লেখা হয়। হিশাম শব্দটির ‘হা’ বর্ণে কাসরা (জের) এবং ‘শীন’ বর্ণটি হালকা। তিনি হিজরি আঠারো সনে আমওয়াসের মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কথা: ‘আপনার কাছে ওহি কীভাবে আসে’—এখানে আসার সম্বন্ধ ওহির দিকে করা রূপক বা মাজাযের অন্তর্ভুক্ত। একে কখনও ‘মাজাযে আক্বলি’ বা ‘মাজাযে ইসনাদ’ বলা হয়। এর মূল অর্থ হলো ‘ওহি বহনকারী (ফেরেশতা) আপনার কাছে কীভাবে আসে’, কারণ বহনকারী ও বহনকৃত বিষয়ের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আবার কখনও একে ‘ইস্তিআরাহ বিল কিনায়া’ বলা হয়, অর্থাৎ ওহিকে একজন মানুষের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং তার দিকে ‘আসা’র সম্বন্ধ করা হয়েছে যা মানুষের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَحْيَانًا يَاتِينِي مِثْلَ صَلْصَلَةِ الجَرَسِ وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَيَّ، فَيُفْصَمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْهُ مَا قَالَ، وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِيَ المَلَكُ رَجُلاً فَيُكَلِّمُنِي، فَأَعِي مَا يَقُولُ. قَالَتْ عَائِشَةُ، رضي الله عنها: وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ، عَلَيْهِ الوَحْيُ فِي اليَوْمِ الشَّدِيدِ البَرْدِ

ــ

التشبيه ثم لعل المراد منه السؤال عن كيفية ابتداء الوحي أو عن كيفية ظهور الوحي لتوافق ترجمة الباب ،قوله: ((أحيانا)) جمع حين وهو الوقت يطلق على الكثير والقليل حتى على لحظة وانتصب على الظرف وعامله يأتيني مؤخرا عنه قوله: ((مثل صلصلة)) الصلصلة بفتح الصادين صوت كل شيء مصوت كصوت السلسلة وقيل هو الصوت المتدارك ومثل هو حال أي يأتيني مشابها صوته صلصلة الجرس والجرس بفتح الراء شبه ناقوس صغير أو سطل في داخله قطعة نحاس يعلق منكوسا على البعير فإذا تحرك تحركت النحاسة فأصابت السطل فتحصل صلصلة والعامة تقول جرص بالصاد وليس في كلام العرب كلمة اجتمعت فيها الصاد والجيم إلا الصمج وهو القنديل وأما الجص فمعرب قوله: ((فيفصم)) فيه ثلاث روايات فتح الياء وكسر الصاد وضم الياء وفتح الصاد من الفصم وهو القطع قال تعالى ((لا انفصام لها)) أي لا انقطاع لها، ويقال الفصم الصدع أو الشق من غير إبانة فمعناه حينئذ فيفارقني على أنه يعود والقصم بالقاف الكسر مع الإبانة وأقول هذا معنى يدعيه الاشتقاقيون من مناسبة المعنى للفظ الموضوع له إذ لما كان القاف من الحروف الرخوية والرواية الثالثة ضم الياء وكسر الصاد من أفصم المطر إذا أقلع والمراد من القطع أي قطع الوحي أي مفارقة الملك مثلا وغما قطع الشدة أي ينجلي عني ما يتغشاني من الكرب والشدة ويحتمل أن يكون مفعول ما لم يسم فاعله لفظة عني فيكون من تتمة الشدة أي هو أشده علي بحيث ينقطع من بدني شيء، قوله: ((وعيت)) أي حفظت وجمعت ((يتمثل)) مشتق من المثال أي يتصور وهو أن يكلف أن يكون مثلا لشيء وشبيها له، و (الملك) اللام فيه للعهد أي جبرئيل عليه السلام ورجلا منصوب إما بالمصدرية أي يتمثل تمثل رجل وإما بالمفعولية أن ضمن تمثل معنى اتخذ أي اتخذ الملك رجلا مثالا وغما بالحالية، فإن قلت الحال لابد أن يكون دالا على الهيئة والرجل ليس بهيئة قلت: معناه على هيئة رجل فإن قلت ليس التمثيل في حال هيئة الرجل ومن شرط الحال أن يكون حالا عند صدور الفعل قلت يكون حالا مقدرة وذلك كثير وإما بالتمييز ((فأعي)) أي أحفظ ((والجبين)) طرف
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "কখনো কখনো তা আমার নিকট ঘণ্টার ঝনঝনানির মতো আসে, আর এটি আমার ওপর সবচেয়ে কঠিন হয়। অতঃপর যখন তা বিদায় নেয়, তখন তিনি যা বলেছেন আমি তা মুখস্থ করে ফেলি। আবার কখনো ফেরেশতা আমার সামনে মানুষের রূপ ধারণ করে এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নিই।" আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: "আমি অত্যন্ত শীতের দিনেও তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতে দেখেছি..."

—

উপমা; অতঃপর সম্ভবত এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ওহী সূচনার ধরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা অথবা ওহী প্রকাশের ধরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা, যাতে এটি অধ্যায়ের শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তাঁর কথা: ((আহিয়ানান)) এটি 'হীন' (সময়) এর বহুবচন, আর তা হচ্ছে কাল বা সময়; যা অধিক বা অল্প সময়ের ক্ষেত্রে এমনকি মুহূর্তের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। এটি 'যারফ' (কালবাচক অব্যয়) হিসেবে নসব (জবর) প্রাপ্ত হয়েছে এবং এর আমেল (ক্রিয়া) হলো 'ইয়াতিনী', যা এর পরে এসেছে। তাঁর কথা: ((মিসলা সালসালাহ)) সালসালাহ (উভয় স' এ যবর যোগে) হলো শব্দ উৎপন্নকারী প্রতিটি বস্তুর শব্দ, যেমন শিকলের শব্দ। বলা হয়েছে, এটি হলো একনাগাড়ে হওয়া শব্দ। আর 'মিসলা' এখানে 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে এসেছে। অর্থাৎ ওহী আমার নিকট এমন অবস্থায় আসে যে তার শব্দ ঘণ্টার শব্দের সদৃশ হয়। আর 'জারাস' (রা এ যবর যোগে) হলো ছোট ঘণ্টার মতো বা বালতির মতো যার ভেতরে তামার টুকরা থাকে, যা উটের গলায় উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। যখন তা নড়ে ওঠে, তামার টুকরাটিও নড়ে এবং বালতিতে আঘাত করে, ফলে ঝনঝন শব্দ উৎপন্ন হয়। সাধারণ মানুষ একে স' দিয়ে 'জরাস' বলে থাকে, অথচ আরবি ভাষায় 'স' এবং 'জিম' একত্রে এসেছে এমন কোনো শব্দ নেই 'সামাজ' (যা প্রদীপ বা চেরাগ অর্থ দেয়) ব্যতীত। আর 'জাস' (চুনাপাথর) শব্দটি মূলত আরবীকৃত। তাঁর কথা: ((ফায়ুফসামু)) এতে তিনটি বর্ণনা রয়েছে: ইয়াতে যবর ও স'-এ যের, এবং ইয়াতে পেশ ও স'-এ যবর; যা 'ফাসম' ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ বিচ্ছেদ বা বিচ্ছিন্ন হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: ((তার কোনো বিচ্ছেদ নেই)) অর্থাৎ তার কোনো ছিন্ন হওয়া নেই। বলা হয়, 'ফাসম' হলো কোনো কিছু আলাদা না করে ফাটল বা চির ধরা। এমতাবস্থায় এর অর্থ হবে: তিনি আমার থেকে পৃথক হন এই ভিত্তিতে যে তিনি পুনরায় ফিরে আসবেন। আর 'কাসম' (কফ দিয়ে) এর অর্থ হলো কোনো কিছু আলাদা করে ভেঙে ফেলা। আমি বলি, এটি এমন একটি অর্থ যা শব্দতাত্ত্বিকরা শব্দের মূল অর্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দাবি করেন। কারণ যখন 'কফ' একটি শিথিল অক্ষর হয়...। তৃতীয় বর্ণনাটি হলো ইয়াতে পেশ এবং স'-এ যের; যেমন বলা হয় 'আফসামাল মাতারু' অর্থাৎ যখন বৃষ্টি থেমে যায়। এখানে 'বিচ্ছেদ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ওহীর সমাপ্তি অর্থাৎ ফেরেশতার প্রস্থান, অথবা কষ্টের অবসান; অর্থাৎ আমাকে যে অস্থিরতা ও তীব্রতা আচ্ছন্ন করেছিল তা দূর হয়ে যায়। এটাও সম্ভব যে, এর অনুক্ত কর্ম (নায়েবে ফায়েল) হলো 'আন্নী' শব্দটি, যা কষ্টের তীব্রতার আধিক্য বুঝাবে; অর্থাৎ এটি আমার ওপর এতটাই কঠিন হতো যে আমার শরীর থেকে কোনো অংশ যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। তাঁর কথা: ((ওয়াইতু)) অর্থাৎ আমি মুখস্থ করেছি ও আয়ত্ত করেছি। ((ইয়াতামাচ্ছালু)) এটি 'মিছাল' থেকে নির্গত, যার অর্থ আকৃতি ধারণ করা। আর তা হলো কোনো বস্তুর সদৃশ ও অনুরূপ হওয়া। আর ((আল-মালাক)) শব্দে 'লাম' (আলিফ-লাম) নির্দিষ্টকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ জিবরাঈল আলাইহিস সালাম। আর ((রাজুলান)) শব্দটি নসব (যবর) যুক্ত হয়েছে, হয় এটি মাসদার হিসেবে—অর্থাৎ মানুষের আকৃতি ধারণ করার মতো আকৃতি ধারণ করা—অথবা এটি মাফউল (কর্ম) হিসেবে, যদি 'তামাচ্ছালা' শব্দটিকে 'ইত্তাখাযা' (গ্রহণ করা) অর্থে ধরা হয়; অর্থাৎ ফেরেশতা একজন মানুষকে নমুনা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। অথবা এটি 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে। যদি আপনি প্রশ্ন করেন যে, 'হাল' অবশ্যই কোনো অবস্থা বা রূপ নির্দেশ করতে হয়, অথচ 'মানুষ' তো কোনো অবস্থা নয়; আমি বলব: এর অর্থ হলো মানুষের রূপে। যদি আপনি বলেন যে, মানুষের রূপ ধারণ করা তো কোনো অবস্থা নয়, আর হালের শর্ত হলো কাজ সম্পাদনের সময় বর্তমান থাকা; আমি বলব: এটি 'হাল মুকাদ্দারা' (সম্ভাব্য অবস্থা), যা অনেক বেশি ব্যবহৃত হয়। অথবা এটি 'তাময়িজ' (পার্থক্যকারী) হিসেবে এসেছে। ((ফা-আঈ)) অর্থাৎ আমি মুখস্থ করি। আর ((আল-জাবীন)) হলো কপালের পার্শ্বদেশ...
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
فَيَفْصِمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا.

3 - حَدَّثنا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثنا اللَّيْثُ

ــ

الجبهة وللإنسان جبينان يكتنفان الجبهة و ((يتفصد)) أي يسيل والتفصد السيلان والفصد قطع العرق لإسالة الدم وشبه جبينه بالعرق المفصود مبالغة في كثرة العرق كما أن باب التفعل يدل عليها وكذا ذكر التمييز وهو عرقا لأنه توضيح بعد إبهام وتفصيل بعد إجمال وكذا قولها في اليوم الشديد كما أن فيه دلالة على كثرة معاناة التعب والكرب عند نزول الوحي قوله: ((وهو أشده)) يعلم منه لأنه أفعل التفضيل أن الوحي كان إذا ورد عليه صلى الله عليه وسلم أصابته مشقة وشدة ويغشاه كرب لثقل ما يلقى عليه قال تعالى ((إنا سنلقي عليك قولا ثقيلا)) لكن النوع الأول أشد عليه من النوع الثاني وذلك لأن الفهم من كلام مثل صلصلة الجرس أشكل من الفهم من كلام الرجل المتكلم على الطريقة المعهودة عند التخاطب أو لأن سنة الله لما جرت من أنه لا بد من مناسبة بين القائل والسامع حتى يصح بينهما التحاور والتعليم والتعلم فتلك المناسبة إما باتصاف السامع بوصف القائل لغلبة الروحانية عليه وهو النوع الأول أو باتصاف القائل بوصف السامع وهم النوع الثاني والدليل عليه تمثله رجلا كما أن الدليل على الأول كونه قسيما له ثم لا شك أن الأول أشد وقد تبين وجه الحصر فيهما من هذا التقدير ويمكن أيضا أن يقال لا يخلو إما أن يرى القائل متمثلا بشرا سويا أو لا أولا يخلو من أن يكون المقول كلاما ظاهرا مفهوما بلا زيادة مشقة أم لا. فإن قلت ههنا نوع آخر من وهو الرؤيا الصالحة. قلت المقصود من السؤال كان طلب بيان ما يختص به ويخفى ولا يعرف والرؤية معروفة فلا دخل لها فيه أو كان ظهور ذلك على النبي صلى الله عليه وسلم في المنام أيضا إما بصلصلة الجرس وإمّا بتمثل الملك أو كان السؤال عن كيفية الوحي حال اليقظة أو كان عند السؤال نزول الوحي على هذين الوجهين إذ الوحي على سبيل الرؤيا إنما هو في أول البعثة لأن أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا ثمّ حبب إليه الخلاء كما روي في الحديث إلى آخره وقيل ذلك في ستة أشهر فقط وأن الوجود بعد إرسال الملك منغمر في الوحي فلم يحسب. قوله:: ((يتمثل)) فيه أن الملك جاز له أن يتشكل بشكل البشر قال المتكلمون الملائكة أجسام علوية لطيفة تتشكل بأي شكل شاءوا. فإن قلت السؤال عن كيفية إتيان الوحي والجواب على النوع الثاني عن كيفية الحامل للوحي. قلت: لا نسلم أن السؤال عن كيفية إتيان الوحي بل عن كيفية حامله ولئن سلمنا فبيان كيفية الحامل مشعر بكيفية الوحي حيث قال: فيكلمني أي تارة يكون كالصلصلة وتارة يكون كلاما صريحا ظاهر الفهم والدلالة. فإن قلت فلم قال في الأول وعيت ما قال بلفظ الماضي
অতঃপর তা (ওহী) তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত এবং তখন তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়ত।

৩ - ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।

--

ললাট; মানুষের কপালে দু’টি পার্শ্বদেশ রয়েছে যা কপালকে বেষ্টন করে থাকে। আর 'ইয়াতাফাসসাদু' অর্থ হলো প্রবাহিত হওয়া। 'তাফাসসুদ' মানে হলো প্রবাহ। 'ফাসদ' হলো রক্ত বের করার জন্য রগ কেটে দেওয়া। ঘামের আধিক্য বোঝাতে অতিরঞ্জন (মুবালাগা) হিসেবে তাঁর কপালকে ফাসদকৃত রগের সাথে তুলনা করা হয়েছে। যেমনটি 'তাফাউল' রূপান্তরটিও এই আধিক্যের অর্থ প্রদান করে। তদ্রূপ 'আরকান' (ঘাম) শব্দটিকে তমিজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এটি অস্পষ্টতার পর স্পষ্টতা এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণের পর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে। অনুরূপভাবে 'ভীষণ শীতের দিনে' তাঁর (আয়েশার) এই বক্তব্য ওহী নাযিলের সময় নিদারুণ কষ্ট ও অস্থিরতা ভোগের প্রমাণ বহন করে। তাঁর উক্তি: 'আর তা আমার কাছে অত্যন্ত কঠিন হতো'—এর মাধ্যমে জানা যায় (যেহেতু এটি আধিক্যবোধক বিশেষণ), ওহী যখন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসত তখন তাঁর ওপর কষ্ট ও কাঠিন্য আপতিত হতো এবং যা তাঁর ওপর নাযিল করা হতো তার ভারের কারণে তিনি অস্থিরতায় আচ্ছন্ন হতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'নিশ্চয়ই আমি আপনার ওপর এক ভারী বাণী অবতীর্ণ করব।' তবে প্রথম প্রকারটি দ্বিতীয় প্রকারের চেয়ে তাঁর জন্য অধিক কষ্টদায়ক ছিল। কারণ, ঘণ্টার ঝনঝনানির ন্যায় শব্দ থেকে কথা বোঝা সাধারণ কথোপকথনের রীতিতে কথা বলা মানুষের কথা বোঝার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। অথবা এজন্য যে, আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম হলো যে বক্তা এবং শ্রোতার মাঝে সামঞ্জস্য থাকা আবশ্যক যাতে তাদের মাঝে কথোপকথন এবং শিক্ষা দান ও গ্রহণ সঠিক হতে পারে। সুতরাং সেই সামঞ্জস্য হয়তো শ্রোতা (রাসূল) কর্তৃক বক্তার (ফেরেশতা) গুণ ধারণের মাধ্যমে অর্জিত হয় যা আধ্যাত্মিকতার প্রাবল্যের কারণে ঘটে—এটিই হলো প্রথম প্রকার; অথবা বক্তা কর্তৃক শ্রোতার গুণ ধারণের মাধ্যমে অর্জিত হয়—এটি হলো দ্বিতীয় প্রকার। এর প্রমাণ হলো ফেরেশতার মানুষের রূপ ধারণ করা, যেমনটি প্রথমটির প্রমাণ হলো এটি দ্বিতীয়টির বিপরীত অংশ হওয়া। অতঃপর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে প্রথমটি অধিক কঠিন। আর এই ব্যাখ্যা থেকে ওহীর দুই প্রকারের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ইহাও বলা সম্ভব যে, বিষয়টি এমন হতে পারে—হয়তো তিনি বক্তাকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে রূপ ধারণ করতে দেখতেন অথবা দেখতেন না। অথবা বিষয়টি এমন ছিল যে, নাযিলকৃত বক্তব্যটি কি অতিরিক্ত কষ্ট ছাড়াই স্পষ্ট বোধগম্য হতো কি না। আপনি যদি প্রশ্ন করেন যে এখানে তো 'রু'ইয়া সালিহা' (স্বপ্নযোগে ওহী) নামক আরও একটি প্রকার রয়েছে। আমি বলব যে, প্রশ্নের উদ্দেশ্য ছিল যা কেবল তাঁর সাথেই বিশেষায়িত এবং যা গোপন ও অজানা তা স্পষ্ট করা। আর স্বপ্ন একটি পরিচিত বিষয়, তাই একে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথবা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘুমের মধ্যেও ওহীর প্রকাশ এই দুই পদ্ধতিতেই হতো—হয় ঘণ্টার ঝনঝনানি রূপে অথবা ফেরেশতার রূপ ধারণের মাধ্যমে। অথবা প্রশ্নটি ছিল জাগ্রত অবস্থায় ওহী নাযিলের পদ্ধতি সম্পর্কে। অথবা প্রশ্ন করার সময় ওহী নাযিল কেবল এই দুই পদ্ধতিতেই বিদ্যমান ছিল। কারণ স্বপ্নযোগে ওহী কেবল নবুওয়াতের শুরুর দিকেই হতো। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওহীর সূচনা হয়েছিল স্বপ্নের মাধ্যমে, অতঃপর তাঁর কাছে নির্জনে অবস্থান প্রিয় করে দেওয়া হয়েছিল—যেমনটি হাদিসের শেষ পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে। আর বলা হয়ে থাকে যে, এটি কেবল ছয় মাস ছিল এবং ফেরেশতা পাঠানোর পর বাস্তবতা ওহীর মাঝে নিমজ্জিত হয়ে গিয়েছিল বিধায় স্বপ্নকে আর গণনায় আনা হয়নি। তাঁর উক্তি: 'তিনি রূপ ধারণ করেন'—এর মধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে ফেরেশতার জন্য মানুষের আকৃতি ধারণ করা বৈধ। কালামশাস্ত্রবিদগণ বলেন, ফেরেশতারা হলো উচ্চ জগতের সূক্ষ্ম দেহধারী যারা তাদের ইচ্ছামতো যেকোনো রূপ ধারণ করতে পারে। আপনি যদি প্রশ্ন করেন যে, প্রশ্নটি ছিল ওহী আসার পদ্ধতি সম্পর্কে অথচ দ্বিতীয় প্রকারের উত্তরটি হলো ওহী বহনকারীর অবস্থা সম্পর্কে। আমি বলব: আমি এটি স্বীকার করছি না যে প্রশ্নটি কেবল ওহী আসার পদ্ধতি সম্পর্কে ছিল, বরং তা ওহী বহনকারীর অবস্থা সম্পর্কেও ছিল। আর যদি মেনেও নিই, তবে ওহী বহনকারীর অবস্থার বর্ণনা ওহীর পদ্ধতিকেই নির্দেশ করে যেখানে তিনি বলেছেন: 'অতঃপর তিনি আমার সাথে কথা বলেন', অর্থাৎ কখনো তা ঘণ্টার শব্দের মতো হতো এবং কখনো তা সুস্পষ্ট ও সরাসরি বোধগম্য কথা হতো। আপনি যদি প্রশ্ন করেন, তবে তিনি প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে কেন 'আমি মুখস্থ করে ফেলেছি' অতীতকালীন শব্দ ব্যবহার করেছেন...
(খণ্ড: ١) আল-কাওয়াকিবুদ দারারি ফী শারহি সহীহিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وفي الثاني بلفظ المضارع قلت لأن الوعي في الأول حصل قبل الصم ولا يتصور بعده وفي الثاني الوحي حالة المكالمة ولا يتصور قبلها أو لأنه كان الوعي في الأول عند غلبة التلبس بالصفات الملكية فإذا عاد إلى حالته الجبلية كان حافظا فأخبر عن الماضي بخلاف الثاني فإنه على حالته المعهودة أو تقول لفظة قد تقرب الماضي من الحل وأعي فعل مضارع للحال فهذا لما كان صريحا يحفظه في الحال وذاك يقرب من أن يحفظه إذ يحتاج فيه إلى استثبات والله أعلم. الخطابي فيفصم عني أي ينجلي ما يتغشاني من الكرب والشدة والمعنى أن الوحي كان إذا ورد عليه صلى الله عليه وسلم تغشاه كرب وذلك لشدّة ما يلقى عليه من القول وشدة ما يأخذ به نفسه من جمعه في قلبه وحسن حفظه فيعتريه لذلك حالة كحالة المحموم وهو معنى ما يروى أنه كان يأخذه عند الوحي الرحصاء أي العرق وجملة الأمر فيما كان يناله من الكرب عند الوحي هي شدّة الامتحان له ليبلو صبره ويحسن تأديبه فيرتاض لاحتمال ما كلف من أعباء النبوة أو ذلك لما يستشعره من الخوف لوقوع تقصير فيما أمر به من حسن ضبطه أو اعتراض خلل دونه وقد أنذر صلى الله عليه وسلم بما ترتاع له النفوس ويعظم به وجل القلوب في قوله: تعالى ((ولو تقول علينا بعض الأقاويل لأخذنا منه باليمين ثم لقطعنا منه الوتين)) وأقول حاصله أن الشدة إمّا لحسن حفظه وإمّا لابتلاء صبره وإما للخوف من التقصير قال وأما قوله: ((يأتيني مثل صلصلة)) فإنه يريد أنّه صوت متدارك بسمعه ولا يستثبته عند أول ما يقرع سمعه حتى يتفهم ويستثبت فيتلقنه حينئذ ويعيه فكذلك قال هو أشدّه علي وقيل الحكمة في ذلك أن يتفرغ سمعه صلى الله عليه وسلم ولا يبقى فيه مكان لغير صوت الملك ولا في قلبه قال الشيخ شهاب الدين رحمه الله تعالى في شرح المصابيح هذا حديث يغالط فيه أبناء الضلالة وحاصل القول فيه أن نقول كان النبي صلى الله عليه وسلم معتنيا بالبلاغة مكاشفا للعلوم الغيبية وكان يوفر على الأمة حصتهم بقدر الاستعداد فإذا أريد أن ينبئهم بما لا عهد لهم به من تلك العلوم صاغ لها أمثلة من عالم الشهادة ليعرفوا مما شاهدوا ما لم يشاهدوه فلما سأله الصحابي عن كيفية الوحي وكان ذلك من المسائل العويصة ضرب لها في المشاهد مثلا بالصوت المتدارك الذي يسمع ولا يفهم منه شيء تنبيها على إثبات ما يرد على القلب في لبسة الجلال فيأخذ هيبة الخطاب حين ورودها لمجامع القلب ويلاقي من ثقل القول مالا علم له بالقول مع وجود ذلك فإذا وجد القول المنزل بينا فيلقى في الروع واقعا موقع المسموع وهذا معنى قوله: فيفصم عني وهذا الضرب من الوحي شبيه بما يوحى إلى الملائكة على ما رواه أبو هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم إذا قضى الله في السماء أمرا ضربت الملائكة بأجنحتها خضعانا لقوله: كأنها سلسلة على الحجر فإذا فزع عن قلوبهم قالوا ماذا قال ربكم قالوا الحق وهو العلي الكبير هذا وتبين لنا من الحديث أن الوحي كان يأتيه على

দ্বিতীয় ক্ষেত্রটিতে বর্তমান কালের ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে। আমি বলব, কারণ প্রথম ক্ষেত্রে বোধোদয় হওয়ার বিষয়টি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই ঘটেছিল এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তা আর কল্পনা করা যায় না। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ওহী অবতরণ হলো সরাসরি কথা বলার অবস্থা, যা তার আগে কল্পনা করা যায় না। অথবা এজন্য যে, প্রথম ক্ষেত্রে বোধোদয় ঘটেছিল যখন ফেরেশতাসুলভ গুণাবলির আধিক্য ছিল; ফলে যখন তিনি তাঁর স্বাভাবিক মানবীয় অবস্থায় ফিরে আসতেন, তখন তিনি তা মুখস্থ রাখতেন। তাই তিনি অতীত কালের শব্দে সংবাদ দিয়েছেন। দ্বিতীয়টির বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ তা তাঁর পরিচিত স্বাভাবিক অবস্থার উপরই ছিল। অথবা বলা যায়, 'ক্বাদ' (قد) শব্দটি অতীত কালকে বর্তমানের নিকটবর্তী করে এবং 'আঈ' (أعي) বর্তমান কালের ক্রিয়া। যেহেতু এটি সুস্পষ্ট, তাই তিনি তাৎক্ষণিক তা মুখস্থ করে নিতেন। আর ওটি (প্রথমটি) মুখস্থ করার কাছাকাছি হতো, কারণ তাতে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে হৃদস্থ করার প্রয়োজন হতো। আল্লাহই ভালো জানেন।

খাত্তাবী বলেন: 'তা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়' অর্থাৎ আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখা কষ্ট ও কঠোরতা দূর হয়ে যায়। এর অর্থ হলো, যখন ওহী নাজিল হতো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক প্রকার কষ্ট আচ্ছন্ন করে ফেলত। এটি হতো তাঁর উপর অবতীর্ণ বাণীর গুরুত্বের কারণে এবং তাঁর অন্তরে তা জমা করা ও ভালোভাবে মুখস্থ রাখার জন্য নিজের উপর কঠোর পরিশ্রম করার কারণে। ফলে তাঁর মধ্যে জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির মতো অবস্থা সৃষ্টি হতো। এটিই সেই বর্ণনাগুলোর মর্ম যেখানে বলা হয়েছে যে, ওহীর সময় তাঁর প্রচুর ঘাম হতো। ওহীর সময় তাঁর যে কষ্ট হতো, তার মূল কারণ ছিল তাঁর ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া এবং তাঁকে সুন্দর শিষ্টাচার শেখানো, যাতে তিনি নবুওয়াতের গুরুভার বহনে অভ্যস্ত হতে পারেন। অথবা এটি ছিল অর্পিত দায়িত্ব পালনে কোনো ত্রুটি হওয়ার বা তা সংরক্ষণে কোনো বিচ্যুতি ঘটার আশঙ্কায় তাঁর অন্তরে জাগ্রত ভয়ের কারণে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল যা শুনে আত্মা কেঁপে ওঠে এবং অন্তর ভীষণভাবে ভীত হয়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "যদি সে আমাদের নামে কোনো কথা বানিয়ে বলত, তবে আমি অবশ্যই আল্লাহর হাত দিয়ে তার ডান দিক ধরতাম এবং তাঁর ডান হাত দিয়ে তাকে পাকড়াও করতাম, তারপর আমি অবশ্যই তার ঘাড়ের রগ কেটে দিতাম।"

আমি বলব, এর সারসংক্ষেপ হলো: এই কঠোরতা হয় ভালোভাবে মুখস্থ রাখার জন্য, অথবা সবরের পরীক্ষার জন্য, অথবা ত্রুটি হওয়ার ভয়ের কারণে। তিনি বলেন: "তা আমার কাছে ঘণ্টার শব্দের মতো আসে" - এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এটি এমন একটি শব্দ যা ধারাবাহিকভাবে তাঁর কানে আসত। প্রথমবার কানে বাজার সময় তিনি তা স্থির করতে পারতেন না, যতক্ষণ না তিনি তা বুঝতে ও হৃদয়ে ধারণ করতে পারতেন। তখনই তিনি তা গ্রহণ করতেন এবং মুখস্থ করতেন। এজন্যই তিনি বলেছিলেন যে, এটিই তাঁর ওপর সবচাইতে কঠিন হয়। কেউ কেউ বলেন, এর হিকমত বা প্রজ্ঞা হলো যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রবণেন্দ্রিয় সম্পূর্ণ খালি হয়ে যায় এবং ফেরেশতার আওয়াজ ছাড়া অন্য কিছুর কোনো স্থান সেখানে না থাকে, এমনকি তাঁর অন্তরেও না।

শায়খ শিহাবুদ্দীন (রহ.) 'শারহুল মাসাবীহ' গ্রন্থে বলেন: এটি এমন একটি হাদিস যা নিয়ে পথভ্রষ্টরা বিভ্রান্তি ছড়ায়। এর মূল কথা হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রতি যত্নবান ছিলেন এবং গায়েবী বা অদৃশ্য জগতের জ্ঞান উন্মোচনকারী ছিলেন। তিনি উম্মতকে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের অংশ প্রদান করতেন। যখন তিনি তাদেরকে এমন কোনো অদৃশ্যের জ্ঞান দিতে চাইতেন যার সাথে তাদের কোনো পরিচয় নেই, তখন তিনি দৃশ্যমান জগত থেকে উদাহরণ পেশ করতেন যাতে তারা যা দেখেছে তার মাধ্যমে অদেখা বিষয়কে বুঝতে পারে। যখন সাহাবী তাঁকে ওহীর পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং এটি একটি অত্যন্ত জটিল বিষয় ছিল, তখন তিনি দৃশ্যমান জগতের ধারাবাহিক শব্দের উদাহরণ দিলেন যা শোনা যায় কিন্তু প্রথমে তার অর্থ বোঝা যায় না। এটি অন্তরে যা অবতীর্ণ হয় তা প্রমাণের প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য। যখন আল্লাহর মহিমায় তা অন্তরে প্রবেশ করে, তখন তাঁর সমগ্র সত্তা সেই সম্বোধনের গাম্ভীর্য দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং বাণীর গুরুভার অনুভব করে, যদিও বাণীর অর্থ তখনো পূর্ণভাবে উপলব্ধি হয় না। এরপর যখন অবতীর্ণ বাণীটি স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন তা অন্তরে এমনভাবে গেঁথে যায় যেন তা সরাসরি শোনা হয়েছে। এটিই তাঁর এই বাণীর অর্থ: "তা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়"। ওহীর এই প্রকারটি ফেরেশতাদের প্রতি অবতীর্ণ ওহীর সদৃশ, যেমনটি আবু হুরায়রা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "যখন আল্লাহ আসমানে কোনো ফয়সালা করেন, তখন ফেরেশতারা তাঁর বাণীর প্রতি অনুগত হয়ে তাদের ডানাগুলো নাড়াতে থাকে, যেন পাথরের ওপর শিকল পড়ার শব্দ। এরপর যখন তাদের অন্তর থেকে ভয় দূর হয়ে যায়, তখন তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করে: তোমাদের রব কী বলেছেন? তারা বলে: হক কথা বলেছেন, এবং তিনিই সমুন্নত, সুমহান।" এ থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হলো যে, ওহী তাঁর কাছে আসত...