(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرحا أبي العلاء والخطيب التبريزي على ديوان أبي تمام دراسة نحوية صرفية   (إيهاب سلامة)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: شرحا أبي العلاء والخطيب التبريزي على ديوان أبي تمام دراسة نحوية صرفية

المؤلف: إيهاب عبد الحميد عبد الصادق سلامة

الناشر: رسالة ماجستير - كلية دار العلوم - جامعة القاهرة

بإشراف: د محمد جمال صقر

عام النشر: 2012 م

عدد الصفحات: 493

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 ذو الحجة 1435

আবু তাম্মামের দীওয়ানের ওপর আবুল আলা এবং খতীব তিবরিযীর ব্যাখ্যাদ্বয়: একটি নাহব ও সরফ বিষয়ক গবেষণা   (ইহাব সালামাহ)

বিভাগ: নাহব ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


গ্রন্থ: আবু তাম্মামের দীওয়ানের ওপর আবুল আলা এবং খতীব তিবরিযীর ব্যাখ্যাদ্বয়: একটি নাহব ও সরফ বিষয়ক গবেষণা

লেখক: ইহাব আব্দুল হামীদ আব্দুল সাদিক সালামাহ

প্রকাশক: মাস্টার্স থিসিস - দারুল উলুম অনুষদ - কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়

তত্ত্বাবধানে: ড. মুহাম্মদ জামাল সাকর

প্রকাশকাল: ২০১২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১২ যিলহজ ১৪৩৫ হিজরী

(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
جامعة القاهرة

كلية دار العلوم

قسم النحو والصرف والعروض

 

شرحا أبي العلاء والخطيب التبريزي على ديوان أبي تمام

دراسة نحوية صرفية

 

رسالة لنيل درجة الماجستير

 

إعداد الطالب /

إيهاب عبد الحميد عبد الصادق سلامة

 

تحت إشراف الأستاذ الدكتور /

محمد جمال صقر

أستاذ النحو والصرف والعروض المساعد
কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়

দারুল উলুম অনুষদ

নাহু, সরফ ও আরুজ (ব্যাকরণ, রূপতত্ত্ব ও ছন্দপ্রকরণ) বিভাগ

 

আবু তাম্মামের দিওয়ানের ওপর আবুল আলা এবং আল-খতিব আত-তাবরিজির দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ

নাহু ও সরফ ভিত্তিক একটি গবেষণা

 

স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে উপস্থাপিত থিসিস

 

প্রস্তুতকারক (ছাত্র) /

ইহাব আব্দুল হামিদ আব্দুল সাদিক সালামা

 

তত্ত্বাবধানে: প্রফেসর ডক্টর /

মুহাম্মদ জামাল সাকর

নাহু, সরফ ও আরুজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المقدمة

الحمد لله وحده لاشريك له، حمدًا توجبه سوابغ نعمه، وصلى الله على نبينا محمد وسلم تسليما كثيرا،

ثم أما بعد:

فقد شُغِف الباحث بالنحو حبا منذ فترة طويلة، وتمنى أن يكون له إسهام في دراساته ولو بقدر بسيط، وتعَمَّق هذا الحب خلال سنوات الدراسة. وفي السنة التمهيدية أضاف أستاذنا د. محمد الطويل إلى هذا الحب حبًا آخر، هو حب البحث عن مناهج العلماء، فقد أشار في محاضراته إلى قلة الدراسات في هذا الجانب، وإلى إغفال الدارسين له؛ فعقد الباحث العزم أن يكون موضوعه جامعا بين

جانبين: جانب الدراسة النحوية، وجانب الحديث عن المنهج.

وزاد من تحمس الباحث لهذا العزم والجمع بين الدراسة النحوية والحديث عن المنهج عدة أمور:

ـ الأول: ما قرأه الباحث لشيخنا الجليل محمود محمد شاكر في كتابه

((رسالة في الطريق إلى ثقافتنا)) من لوم وتقريع شديدين للباحث الذي لم ((يجد من وقته ساعات للتأمل والأناة والصبر للبحث عن هذا المنهج الغريب غير المألوف الذي وجده أمامه مطبقا في كتاب كامل (يقصد كتابه المتنبي) وأحس به كل منهم إحساسا خفيا دعاه إلى المعارضة أو الثناء. وهذا خذلان كبير غفر الله لنا ولهم وتجاوز عن سيئاتنا وسيئاتهم)) (1). فكان هذا اللوم والتقريع لافتين انتباه الباحث لأهمية البحث عن مناهج العلماء، خاصة إذا علمنا أنه ليس من وكد العالم ((أن يبدأ أول كل شيء فيُفيض في شرح منهجه في القراءة والكتابة = وإلا يفعل، كان مقصرا تقصيرا لا يُقبل منه بل يرد عليه = ثم يكتب بعد ذلك ما يكتب ليقول للناس: هذا هو منهجي، وها أنذا قد طبقته. هذا سخف مريض غير معقول، بل عكسه هو الصحيح المعقول)) (2).

--------------------------------------------

(1) رسالة في الطريق إلى ثقافتنا: ص 17، مكتبة الأسرة 1997م

(2) السابق: 20
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, যাঁর কোনো অংশীদার নেই; এমন প্রশংসা যা তাঁর অঢেল নিয়ামতের দাবি রাখে। এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

গবেষক দীর্ঘকাল ধরে ব্যাকরণের (নাহু) প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং তাঁর ইচ্ছা ছিল যে এর গবেষণায় তাঁর সামান্য হলেও অবদান থাকবে। পড়াশোনার বছরগুলোতে এই ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে। প্রস্তুতিমূলক বর্ষে আমাদের উস্তাদ ড. মুহাম্মাদ আত-তাবীল এই ভালোবাসার সাথে আরেকটি ভালোবাসা যুক্ত করেন, আর তা হলো আলিমদের অনুসৃত কর্মপন্থা বা মানহাজ অনুসন্ধানের প্রতি ভালোবাসা। তিনি তাঁর লেকচারগুলোতে এই বিষয়ের গবেষণার স্বল্পতা এবং গবেষকদের অবহেলার কথা উল্লেখ করেন; ফলে গবেষক দৃঢ় সংকল্প করেন যে তাঁর আলোচনার বিষয়টি দুটি দিকের সমন্বয় ঘটাবে:

ব্যাকরণগত গবেষণার দিক এবং মানহাজ বা কর্মপন্থা বিষয়ক আলোচনার দিক।

ব্যাকরণগত গবেষণা এবং মানহাজ বিষয়ক আলোচনার এই সমন্বয় ও সংকল্পের প্রতি গবেষকের উৎসাহকে কয়েকটি বিষয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে:

প্রথমত: আমাদের সম্মানিত শাইখ মাহমুদ মুহাম্মাদ শাকিরের ‘রিসালাহ ফিত-তারিক ইলা সাকাফাতিনা’ (আমাদের সংস্কৃতির পথে একটি পুস্তিকা) গ্রন্থে গবেষক যা পাঠ করেছেন, তাতে সেই গবেষকের প্রতি তীব্র নিন্দা ও তিরস্কার করা হয়েছে যিনি ((চিন্তা-ভাবনা, ধীরস্থিরতা ও ধৈর্যের সাথে তাঁর সময়ের কিছুটা ব্যয় করেননি এমন এক বিচিত্র ও অপরিচিত মানহাজ অনুসন্ধানের জন্য, যা তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থে [তাঁর আল-মুতানাব্বি গ্রন্থ উদ্দেশ্য] প্রয়োগ হতে দেখেছেন এবং প্রত্যেকেই সেটি অস্ফুটভাবে অনুভব করেছেন যা তাঁদের বিরোধিতায় অথবা প্রশংসায় উদ্বুদ্ধ করেছে। এটি এক বড় ব্যর্থতা; আল্লাহ আমাদের ও তাঁদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের ও তাঁদের মন্দ কাজগুলো মার্জনা করুন)) (১)। এই তিরস্কার ও নিন্দা আলিমদের মানহাজ অনুসন্ধানের গুরুত্বের প্রতি গবেষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে; বিশেষ করে যখন আমরা জানি যে কোনো আলিমের কাজ এটা নয় যে ((তিনি সবকিছুর শুরুতে তাঁর পাঠ ও রচনার মানহাজ ব্যাখ্যা করতে বসবেন — নতুবা তিনি এমন এক অগ্রহণযোগ্য অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত হবেন যা তাঁর ওপরই প্রত্যাবর্তিত হবে — অতঃপর তিনি যা লিখার তা লিখবেন মানুষকে এ কথা বলার জন্য যে: এই হলো আমার মানহাজ এবং আমি এটি প্রয়োগ করেছি। এটি একটি রুগ্ন ও বিবেকবর্জিত নির্বুদ্ধিতা; বরং এর বিপরীতটাই সঠিক ও যুক্তিসঙ্গত)) (২)।

--------------------------------------------

(১) রিসালাহ ফিত-তারিক ইলা সাকাফাতিনা: পৃষ্ঠা ১৭, মাকতাবাতুল উসরাহ ১৯৯৭ খ্রি.

(২) প্রাগুক্ত: ২০
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ـ الثاني: ما أبانه علماؤنا من أن ((الكشف عن المناهج لدى مفكري الإسلام يعتبر بالإضافة إلى قيمته التاريخية أفضل مدخل للتراث الإسلامي في جملته؛ فهو الذي يوضح الخطوات القياسية أو الاستقرائية التي اتبعها المفكرون والعلماء المسلمون في مختلف أوجه النشاط التي مارسوها سواء كانت نظرية أم تجريبية)) (1).

ـ الثالث: أن هناك علاقة بين أقوال العلماء ومناهجهم، فـ ((في نظم كل كلام وفي ألفاظه، ولابد، أثر ظاهر أو وسم خفي من نفس قائله، وما تنطوي عليه من دفين العواطف والنوازع والأهواء من خير وشر أو صدق وكذب = ومن عقل قائله، وما يكمن فيه من جنين الفكر، من نظر دقيق، ومعان جلية أو خفية، وبراعة صادقة، ومهارة مموهة، ومقاصد مرضية أو مستكرهة)) (2).

وكانت الخطوة التالية: مَن من العلماء يمكن أن يختاره الباحث لدراسة أقواله النحوية ومنهجه؟ وكان شغف د. الطويل بأبي العلاء دافعا آخر لاختياره

للدراسة، وزاد من اقتناع الباحث بهذا الاختيار ((قلة الإشارة إلى جهده في الدرس اللغوي فيما كتب عنه هنا وهناك)) (3) على الرغم من أن حظ أبي العلاء من الدراسة عظيما؛ فأثار ما أثار من جدل ومناقشة في الشرق والغرب، وأخذ العلماء والباحثون ـ منذ القدم وحتى اليوم ـ في الكتابة فيه وعنه.

وكان من قدر الله أن اطلع الباحث على مقال بمجلة فصول بعنوان ((خصائص الشروح العربية على ديوان أبي تمام)) للأستاذ الهادي الجطلاوي، فعلم الباحث أن الديوان له شروح كثيرة جمعها التبريزي في شرح واحد منها شرح لأبي العلاء؛ فعزم الباحث على اختيار هذا الشرح ليكون منطلقا لدراسة أقوال أبي العلاء النحوية ودراسة منهجه.

--------------------------------------------

(1) د. حامد طاهر: الفلسفة الإسلامية مدخل وقضايا، ص 37، دار الثقافة العربية

(2) محمود محمد شاكر: رسالة في الطريق إلى ثقافتنا: 15

(3) د. جمال محمد طلبة: الفكر اللغوي عند أبي العلاء، ص 5
ـ দ্বিতীয়ত: আমাদের আলিমগণ যা স্পষ্ট করেছেন যে, ((ইসলামি চিন্তাবিদদের কর্মপদ্ধতি বা মানহাজ উন্মোচন করা এর ঐতিহাসিক মূল্যের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে ইসলামি ঐতিহ্যের সর্বোত্তম প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হয়। এটিই সেই যৌক্তিক বা আরোহী পদক্ষেপসমূহকে ব্যাখ্যা করে যা মুসলিম চিন্তাবিদ ও আলিমগণ তাঁদের পরিচালিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনুসরণ করেছিলেন, তা তাত্ত্বিক হোক বা পরীক্ষামূলক)) (১)।

ـ তৃতীয়ত: আলিমগণের বক্তব্য ও তাঁদের পদ্ধতির মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কেননা, ((প্রত্যেক কথার বিন্যাসে ও শব্দ চয়নে আবশ্যিকভাবেই বক্তার সত্তার একটি প্রকাশ্য প্রভাব বা গোপন চিহ্ন থাকে। এতে বক্তার মনের গভীরে প্রোথিত আবেগ, প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার প্রতিফলন ঘটে—তা ভালো হোক বা মন্দ, সত্য হোক বা মিথ্যা; একইভাবে বক্তার বুদ্ধিবৃত্তিক ছাপও এতে থাকে, যার মধ্যে সুক্ষ্ম চিন্তা, গভীর পর্যবেক্ষণ, স্পষ্ট বা অস্পষ্ট অর্থ, নিখাদ পাণ্ডিত্য, কৃত্রিম চাতুর্য এবং পছন্দনীয় বা অপছন্দনীয় উদ্দেশ্য নিহিত থাকে)) (২)।

পরবর্তী পদক্ষেপটি ছিল: গবেষক তাঁর ব্যাকরণিক বক্তব্য ও পদ্ধতি অধ্যয়নের জন্য কোন আলিমকে নির্বাচন করতে পারেন? আবু আল-আলার প্রতি ড. আত-তওয়ীলের গভীর অনুরাগ তাঁকে গবেষণার জন্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। গবেষকের এই নির্বাচনের প্রতি প্রত্যয় আরও দৃঢ় হয়েছে ((তাঁর সম্পর্কে এখানে-সেখানে যা কিছু লেখা হয়েছে, তাতে ভাষাতাত্ত্বিক পাঠে তাঁর অবদানের উল্লেখের স্বল্পতা দেখে)) (৩), যদিও গবেষণার ক্ষেত্রে আবু আল-আলা বিপুল গুরুত্ব পেয়েছেন; তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে অনেক বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এবং প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি আলিম ও গবেষকগণ তাঁকে নিয়ে এবং তাঁর বিষয়ে লেখালেখি করে চলেছেন।

এটি আল্লাহরই নির্ধারণ ছিল যে, গবেষক 'ফুসুল' সাময়িকীতে উস্তাদ আল-হাদী আল-জাতলাওয়ী রচিত "আবু তাম্মামের দিওয়ানের ওপর আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের বৈশিষ্ট্য" শীর্ষক একটি প্রবন্ধ দেখতে পান। গবেষক জানতে পারেন যে, এই দিওয়ানের অনেকগুলো ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যা তিবরিযী একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থে সংকলিত করেছেন, যার মধ্যে আবু আল-আলার একটি ব্যাখ্যাও রয়েছে। ফলে গবেষক আবু আল-আলার ব্যাকরণিক বক্তব্য ও তাঁর মানহাজ বা পদ্ধতি অধ্যয়নের প্রারম্ভিক উৎস হিসেবে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

(১) ড. হামিদ তাহের: আল-ফালসাফাতুল ইসলামিয়্যাহ মাদখালুন ওয়া কাদায়া, পৃষ্ঠা ৩৭, দারুস সাকাফাহ আল-আরাবিয়্যাহ।

(২) মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির: রিসালাতুন ফিত তরিকি ইলা সাকাফাতিনা: ১৫

(৩) ড. জামাল মুহাম্মদ তলাবা: আল-ফিকরুল লুগাউয়ি ইনদা আবি আল-আলা, পৃষ্ঠা ৫
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ولكن الباحث وجد أن أقوال أبي العلاء متداخلة مع أقوال التبريزي، ولم يكن هناك تمايز واضح تماما بين كلام كل منهما بالرغم ما قام به محقق الديوان من جهد مشكور لإبانة هذا التمايز؛ فقرر الباحث أن يضم شرح التبريزي إلى شرح أبي العلاء في هذه الدراسة.

وقد يتبادر إلى الذهن أنه قد يكون شرح التبريزي مخالفا في أقواله ومنهجه لشرح أبي العلاء وهذا أمر غير صحيح، لأن التبريزي ـ كما عرف عنه ـ كان ناقلا وملخصا لشروح السابقين، وهو ((خير من يمثل هذا الأسلوب)) (1). وقد عرف بين العلماء بأنه ((إمام المنهج الانتخابي التهذيبي التكميلي)) (2). ولكن هذا طبعا لا ينفي عنه إمامته في اللغة والنحو.

ومما يسوغ هذا الضم أيضا وطمأن الباحث إلى أن أقوال ومنهج كلا الرجلين متشابهة إلى حد كبير ما ثبت أن التبريزي تَلْمَذَ لأبي العلاء، وكان أبو العلاء بمثابة الأستاذ له.

وعلى ما سبق فقد جاءت الرسالة في بابين رئيسيين، يسبقهما تمهيد وتتبعهما خاتمة.

أما التمهيد فيشمل مقدمة عن الديوان وقيمته، وتراجم أبي تمام وأبي العلاء والتبريزي. والباب الأول: الدراسة النحوية والصرفية لشرح أبي العلاء والتبريزي، والباب الثاني: دراسة منهج أبي العلاء والتبريزي في شرحهما. والخاتمة تلخص أهم النتائج.

ويحب الباحث أن ينوه بأمرين:

--------------------------------------------

(1) د. سليمان الشطي: المعلقات وعيون العصور، ص 71، سلسلة عالم المعرفة، ع 380 سبتمبر 2011، الكويت

(2) د. أحمد جمال العمري: شروح الشعر الجاهلي الجزء الثاني: مناهج الشراح،271، دار المعارف ط1، 1981م
তবে গবেষক দেখতে পেয়েছেন যে, আবু আল-আলার বক্তব্যসমূহ আত-তাবরিজির বক্তব্যের সাথে মিশে আছে এবং দিওয়ানের মুহাক্কিক (সম্পাদক) এই পার্থক্য স্পষ্ট করার জন্য প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা চালালেও উভয়ের বক্তব্যের মধ্যে সম্পূর্ণ স্পষ্ট কোনো বিভাজন ছিল না। তাই গবেষক এই গবেষণায় তাবরিজির ব্যাখ্যাকে আবু আল-আলার ব্যাখ্যার সাথে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মনে হতে পারে যে, তাবরিজির ব্যাখ্যা তার বক্তব্য ও পদ্ধতির দিক থেকে আবু আল-আলার ব্যাখ্যার বিরোধী হতে পারে, তবে বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ তাবরিজি—যেমনটি তাঁর সম্পর্কে জানা যায়—পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাসমূহের বর্ণনাকারী ও সংক্ষেপকারী ছিলেন এবং তিনি হলেন "এই পদ্ধতির শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধিত্বকারী" (১)। আলেমদের নিকট তিনি "নির্বাচনমূলক, সংশোধনমূলক ও পরিপূরক পদ্ধতির ইমাম" (২) হিসেবে পরিচিত। তবে এটি অবশ্যই ভাষা ও ব্যাকরণ শাস্ত্রে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বা ইমামতকে অস্বীকার করে না।

এই সংযুক্তিকরণকে যা যুক্তিসঙ্গত করে তোলে এবং গবেষককে আশ্বস্ত করে যে উভয় ব্যক্তির বক্তব্য ও পদ্ধতি অনেকটা একই রকম, তা হলো এটি প্রমাণিত যে তাবরিজি আবু আল-আলার ছাত্র ছিলেন এবং আবু আল-আলা তাঁর শিক্ষকের মর্যাদায় ছিলেন।

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে, এই গবেষণা পত্রটি দুটি প্রধান অধ্যায়ে বিন্যস্ত হয়েছে, যার শুরুতে একটি ভূমিকা এবং শেষে একটি উপসংহার রয়েছে।

ভূমিকার মধ্যে রয়েছে দিওয়ান ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে একটি ভূমিকা এবং আবু তাম্মাম, আবু আল-আলা ও তাবরিজির জীবনী। প্রথম অধ্যায়: আবু আল-আলা ও তাবরিজির ব্যাখ্যার নাহব (বাক্যতত্ত্ব) ও সরফ (শব্দতত্ত্ব) বিষয়ক আলোচনা। দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁদের ব্যাখ্যার পদ্ধতির ওপর আলোচনা। আর উপসংহারে প্রধান ফলাফলগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষক দুটি বিষয়ে আলোকপাত করতে চান:

--------------------------------------------

(১) ড. সুলাইমান আশ-শাত্তি: আল-মুআল্লাকাত ওয়া উয়ুনুল উসুর, পৃষ্ঠা ৭১, আলমুল মা’রিফাহ সিরিজ, সংখ্যা ৩৮০, সেপ্টেম্বর ২০১১, কুয়েত।

(২) ড. আহমদ জামাল আল-উমারি: শুরূহুশ শি’র আল-জাহিলি, দ্বিতীয় খণ্ড: মানাহিজুশ শুরাহ, পৃষ্ঠা ২৭১, দারুল মা’রিফ, প্রথম প্রকাশ, ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الأول: إن الكلام عن المنهج، أومناهج علماء اللغة لا يستأثر به باحث في مجال لغوي معين عن باحث آخر، فالمتخصص في الدراسات النحوية ليس بأولى بالكتابة في هذا الموضوع من المتخصص في الدراسات البلاغية أوالمتخصص في اللغة، أوالعكس، بل هو ـ كما يعتقد الباحث ـ متاح للجميع بلا تثريب. كما أن الدعوى برفض الدراسات البينية، والاقتصار على الدراسات المتخصصة أمر يجده الباحث فيه نوع تعنت، وإغلاق لأبواب اجتهاد جديدة، فالأمر فيه سعة.

ولم نجد عند علمائنا الأقدمين هذا الفصل الحاد بين علوم اللسان العربي، فـ

((كتاب)) سيبويه مثلا ساهم في الدراسات الأدبية إسهاما ملحوظا، ((ويكفي دلالة على دوره في تنمية البحث الفني في لغة الأدب رجوع عبد القاهر الجرجاني إلى الأصول التي سنها سيبويه، والأمثلة التي أوردها في كثير من قضايا اللغة الأدبية، نضيف إلى ذلك مؤلفات لغوية أخرى مثل الخصائص لابن جني والصاحبي لابن فارس وفقه اللغة للثعالبي، كما نضيف ذلك الفرع من الدراسات اللغوية حول القرآن (…) وبإمكاننا الزعم بأن الأفكار التي أثيرت في تلك البيئة من بيئات البحث كانت وراء كثير من الانتقالات في تاريخ البحث في لغة الأدب)) (1).

كما نجد في كثير من كتب أصول الفقه ((بدءا من ((رسالة)) الشافعي ومرورا بأمهات كتب الأصول مثل ((المعتمد)) لأبي الحسين البصري، و ((المستصفى)) للغزالي، و ((المحصول)) للرازي وغيرها، [أنَّ] هذه المؤلفات تضم في ثناياها ـ بخاصة في مقدماتها ـ كثيرا من المباحث الدائرة حول اللغة في مختلف صور استخدامها، وحول كثير من مستويات بحثها، بخاصة ما يتصل بالصيغة والتركيب والدلالة)) (2).

--------------------------------------------

(1) د. عبد الحكيم راضي: النقد اللغوي في التراث العربي، ص 80، مقال بمجلة فصول ع تراثنا النقدي ج 2/ 1986م

(2) السابق: 80
প্রথমত: মানহাজ (পদ্ধতি) বা ভাষাবিদদের মানহাজসমূহ নিয়ে আলোচনা কোনো নির্দিষ্ট ভাষাতাত্ত্বিক ক্ষেত্রের গবেষকের জন্য অন্য গবেষকদের বাদ দিয়ে একচ্ছত্র কোনো বিষয় নয়। সুতরাং নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ এই বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে বালাগাত (অলঙ্কার শাস্ত্র) বিশেষজ্ঞ বা ভাষা বিশেষজ্ঞের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য নন, আবার এর উল্টোটাও নয়। বরং গবেষক যেমনটি মনে করেন—এটি কোনো তিরস্কার বা সংকীর্ণতা ছাড়াই সবার জন্য উন্মুক্ত। তেমনিভাবে আন্তঃশাস্ত্রীয় গবেষণাকে প্রত্যাখ্যান করা এবং কেবল বিশেষায়িত গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার দাবিকে গবেষক এক ধরণের হঠকারিতা এবং ইজতিহাদের নতুন নতুন দ্বার রুদ্ধ করে দেওয়ার নামান্তর বলে মনে করেন; অথচ এই বিষয়টি অত্যন্ত প্রশস্ত।

আমাদের প্রাচীন আলিমদের মাঝে আরবি ভাষার বিভিন্ন শাস্ত্রের মধ্যে এমন কঠোর বিভাজন আমরা খুঁজে পাই না। যেমন-

সিবওয়াইহ-এর ((কিতাব)) উদাহরণস্বরূপ সাহিত্য বিষয়ক গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে, ((এবং সাহিত্যের ভাষায় শিল্পগুণ সম্পন্ন গবেষণার উন্নয়নে এই কিতাবটির ভূমিকা বুঝাতে এটুকুই যথেষ্ট যে, আব্দুল কাহির আল-জুরজানী সিবওয়াইহ-এর প্রণীত মূলনীতি এবং সাহিত্যিক ভাষার বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর উপস্থাপিত উদাহরণসমূহের দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছেন। এর সাথে আমরা ইবনে জিন্নীর 'আল-খাসাইস', ইবনে ফারিসের 'আস-সাহিবী' এবং সায়ালিবীর 'ফিকহুল লুগাহ'-এর মতো অন্যান্য ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থগুলোকেও যুক্ত করতে পারি। সেইসাথে কুরআনের ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার ধারাটিকেও আমরা এর অন্তর্ভুক্ত করতে পারি (…) আর আমরা এটি দাবি করতেই পারি যে, সেই গবেষণার পরিবেশে উত্থাপিত ধারণাগুলোই সাহিত্যের ভাষার গবেষণার ইতিহাসে বহু পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে)) (১)।

তদ্রূপ আমরা উসূলে ফিকহের অনেক কিতাবেও দেখতে পাই, ((ইমাম শাফিঈর 'রিসালাহ' থেকে শুরু করে উসূলে ফিকহের মৌলিক গ্রন্থসমূহ যেমন আবুল হুসাইন আল-বসরীর 'আল-মু'তামাদ', ইমাম গাজালীর 'আল-মুস্তাসফা', ইমাম রাজীর 'আল-মাহসুল' এবং অন্যান্য কিতাবসমূহ; [যে] এই গ্রন্থগুলো তাদের পরতে পরতে—বিশেষ করে তাদের ভূমিকায়—ভাষার বিভিন্ন ব্যবহারিক রূপ এবং এর গবেষণার বহুস্তরীয় দিক সম্পর্কে অনেক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করেছে, বিশেষ করে শব্দরূপ (সিগা), বাক্য গঠন (তারকিব) এবং শব্দার্থতত্ত্ব (দালালাহ) সংক্রান্ত বিষয়গুলো)) (২)।

--------------------------------------------

(১) ড. আব্দুল হাকিম রাজি: আন-নাকদুল লুগাবী ফিল তুরাসিল আরাবী, পৃষ্ঠা ৮০, ফুসুল ম্যাগাজিনের প্রবন্ধ (আমাদের সমালোচনা ঐতিহ্য ২/ ১৯৮৬ ইং)।

(২) পূর্বোক্ত: ৮০।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الثاني: الكتابة في المنهج عند أبي العلاء والتبريزي استلزمت تتبع بعض الأمور البعيدة بعض الشيء عن مجال النحو والصرف، وهذا أمر فرضه الحديث عن المنهج، ولا دخل للباحث فيه.

منهج البحث:

اعتمد الباحث على المنهج الوصفي الإحصائي التحليلي.

- الدراسات السابقة:

في جانب المنهج لم يقف الباحث على دراسة تتناول هذا الأمر إلا:

1ـ دراسة للدكتور أحمد جمال العمري، بعنوان: شروح الشعر الجاهلي: الجزء الثاني، مناهج الشراح، تناول فيه في بضع صفحات منهج التبريزي عامة في شروحه.

2ـ مقال بمجلة فصول، مجلة النقد الأدبي بعنوان: ((خصائص الشروح العربية على ديوان أبي تمام))، للهادي الجطلاوي.

أما الدراسات عن أبي العلاء التي تتناول جهده في الدرس اللغوي فهي قليلة، وما وقف الباحث عليه من هذه الدراسات هو:

1ـ فصل بعنوان: من ملامح الإبداع النحوي، عند أبي العلاء، في كتاب: مشكلات نحوية، د. محمد عبد المجيد الطويل.

2ـ الفكر اللغوي عند أبي العلاء المعري في ضوء علم اللغة الحديث، د. جمال محمد طلبة.

3ـ المسائل النحوية والصرفية في شرح أبي العلاء المعري على ديوان ابن أبي حصينة، رسالة ماجستير، للباحث هاني محمد عبد الرازق القزاز.

أما التبريزي فلم أقف على أية دراسات عنه.

والله أسأل أن أكون قد وفقت فيما تناولت وقدمت

، الباحث: إيهاب عبد الحميد عبد الصادق سلامة

****
দ্বিতীয়ত: আবুল আলা এবং তিবরিজীর নিকট পদ্ধতির বিষয়ে লেখা কিছু কিছু বিষয়ের অনুসরণের প্রয়োজন হয়েছে যা নাহু (ব্যাকরণ) ও সরফ (রূপমূলতত্ত্ব) এর ক্ষেত্র থেকে কিছুটা দূরে, এবং এটি এমন একটি বিষয় যা পদ্ধতির আলোচনা অনিবার্য করে তুলেছে, এতে গবেষকের কোনো হাত নেই।

গবেষণার পদ্ধতি:

গবেষক বর্ণনামূলক, পরিসংখ্যানগত এবং বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছেন।

- পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ:

পদ্ধতির দিক থেকে গবেষক এমন কোনো অধ্যয়নের সন্ধান পাননি যা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে, তবে নিম্নোক্তগুলো ব্যতিরেকে:

১- ড. আহমদ জামাল আল-উমারীর একটি অধ্যয়ন, যার শিরোনাম: 'শুরুহুশ শি'র আল-জাহিলি: আল-জুযউস সানি, মানাহিজুশ শুররাহ' (জাহেলী কবিতার ব্যাখ্যাসমূহ: দ্বিতীয় খণ্ড, ব্যাখ্যাকারকদের পদ্ধতিসমূহ); এতে তিনি কয়েক পৃষ্ঠায় তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে তিবরিজীর সাধারণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

২- ফুসুল ম্যাগাজিন নামক সাহিত্য সমালোচনা বিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ, যার শিরোনাম: "খাসাইসুশ শুরুহ আল-আরাবিয়্যাহ আলা দিওয়ানি আবি তাম্মাম" (আবু তাম্মামের দিওয়ানের ওপর আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের বৈশিষ্ট্যসমূহ), যা হাদি আল-জাতলাওয়ী কর্তৃক রচিত।

আর আবুল আলা সম্পর্কে যে অধ্যয়নগুলো ভাষাগত পাঠে তাঁর প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে তা অত্যন্ত নগণ্য, এবং গবেষক এ জাতীয় যে অধ্যয়নগুলোর সন্ধান পেয়েছেন তা হলো:

১- 'মুশকিলাত নাহউইয়্যাহ' (ব্যাকরণিক জটিলতাসমূহ) গ্রন্থে 'মিন মালামিহিল ইবদা'আন নাহউয়ী ইনদা আবিল আলা' (আবুল আলার নিকট ব্যাকরণিক সৃজনশীলতার কিছু বৈশিষ্ট্য) শিরোনামের একটি পরিচ্ছেদ, ড. মুহাম্মদ আব্দুল মাজীদ আত-তাবীল।

২- 'আল-ফিকরুল লুগাউয়ী ইনদা আবিল আলা আল-মাআররি ফি দৌইল ইলমিল লুগাহ আল-হাদিস' (আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের আলোকে আবুল আলা আল-মাআররির ভাষাগত চিন্তা), ড. জামাল মুহাম্মদ তলাবাহ।

৩- 'আল-মাসায়িল আন-নাহউইয়্যাহ ওয়াস সরফিয়্যাহ ফি শারহি আবিল আলা আল-মাআররি আলা দিওয়ানি ইবনি আবি হাসিনাহ' (ইবনে আবি হাসিনার দিওয়ানের ওপর আবুল আলা আল-মাআররির ব্যাখ্যাগ্রন্থে ব্যাকরণিক ও রূপমূলতত্ত্বীয় বিষয়সমূহ), মাস্টার্স থিসিস, গবেষক হানি মুহাম্মদ আব্দুল রাজ্জাক আল-কাযযা।

আর তিবরিজীর ব্যাপারে আমি কোনো অধ্যয়নের সন্ধান পাইনি।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন আমি যা আলোচনা করেছি এবং উপস্থাপন করেছি তাতে তিনি আমাকে তাওফিক দান করেন।

، গবেষক: ইহাব আব্দুল হামিদ আব্দুল সাদিক সালামা

****
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌التمهيد

ويشمل أربعة مباحث:

- المبحث الأول: نبذة عن شعر أبي تمام وديوانه وشراحه.

- المبحث الثاني: ترجمة أبي تمام.

- المبحث الثالث: ترجمة أبي العلاء.

- المبحث الرابع: ترجمة التبريزي.
উপক্রমণিকা

এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

- প্রথম পরিচ্ছেদ: আবু তাম্মামের কবিতা, তাঁর দিওয়ান এবং এর ব্যাখ্যাদাতাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবু তাম্মামের জীবনী।

- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আবুল আলার জীবনী।

- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আত-তাবরিজির জীবনী।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الأول: نبذة عن شعر أبي تمام وديوانه وشراحه

أبوتمام عَلَمٌ من أعلام الشعر العربي؛ يُعَدُّ بحقٍ ((أستاذ الطبقة الثالثة من الشعراء الحضريين المولَّدين بعد بشار وأبي نواس)) (1). سُلِّمَتْ له الزعامة في عصره، ولم يزاحمه فيها أحد في عصره مزاحمة جدية، فقد انفرد بالزعامة ((حتى اعترف له خصومه بذلك)) (2). شغل النقاد والأدباء والشعراء واللغويين والبلاغيين، شغل كل الطوائف بشعره، فقد ((فاجأهم بما لم يتوقعوا؛ فبالغ في التعمق في المعاني، والغوص على الفكرة، وأكثر من صور البديع إلى درجة الإسراف، وتجنب عمود الشعر العربي الذي كان القدوة التي تقتدى بها، وخرج على قواعد اللغة العربية، ونحوها وصرفها؛ مما كان سببا في إهمال الكثير من شعره)) (3).

وأبوتمام ـ بنهجه هذا ـ كان من الطائفة التي ((لا تسلك مسلك الشعراء قبلها)) (4)، بل كان من الطائفة التي ((تميل إلى التجديد في عصره)) (5)، والتي ((بعدت كثيرا عن الصياغة التي جرى الشعراء عليها في الجاهلية والإسلام)) (6).

--------------------------------------------

(1) الشعراء وإنشاد الشعر: على الجندي، ص 42 [دار المعارف].

(2) الخصومات البلاغية والنقدية في صنعة أبي تمام: د. عبد الفتاح لاشين، ص 218، [دار المعارف]

(3) الخصومات البلاغية والنقدية في صنعة أبي تمام: د. عبد الفتاح لاشين، ص 3

(4) تاريخ النقد الأدبي عند العرب: طه أحمد إبراهيم، ص 98، [دار الكتب العلمية، بيروت ـ لبنان].

(5) تاريخ النقد الأدبي عند العرب: طه أحمد إبراهيم، ص96

(6) انقسم الشعراء في عصر أبي تمام قسمين: قسم يحتذي القدماء، ولا يجدد إلا بمقدار ما يتلاءم مع الروح العربية؛ فظلوا على المنهج القديم، والصياغة القديمة، ومن هؤلاء: مروان ابن أبي حفصة، وأشجع السلمي، وعلي بن الجهم … وقسم مال إلى التجديد، كبشار، وأبي نواس، ويعد أبوتمام وابن المعتز من الشعراء الذين بعدوا كثيرا عن الصياغة التي جرى الشعراء عليها في الجاهلية والإسلام. ينظر: تاريخ النقد الأدبي عند العرب: طه أحمد إبراهيم، ص97
প্রথম পরিচ্ছেদ: আবু তাম্মামের কবিতা, তাঁর দিওয়ান এবং এর ব্যাখ্যাদাতাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আবু তাম্মাম আরবি কবিতার অন্যতম এক দিকপাল; তাঁকে যথার্থভাবেই বাশশার ও আবু নুওয়াসের পরবর্তী নব্য (মুওয়াল্লাদ) শহরবাসী কবিদের মধ্যে তৃতীয় স্তরের উস্তাদ হিসেবে গণ্য করা হয় (১)। তাঁর যুগে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্ব সর্বজনস্বীকৃত ছিল এবং সমসাময়িক কেউ এক্ষেত্রে তাঁর সাথে গুরুতর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। বরং তিনি এককভাবে নেতৃত্বে আসীন ছিলেন, এমনকি তাঁর বিরোধীরাও তা স্বীকার করে নিয়েছে (২)। তিনি সমালোচক, সাহিত্যিক, কবি, ভাষাবিদ ও অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ—সকল শ্রেণির মানুষের মনোযোগ তাঁর কবিতার প্রতি নিবদ্ধ করেছেন। তিনি তাঁদের সামনে এমন কিছু নিয়ে হাজির হয়েছেন যা তাঁরা প্রত্যাশা করেননি; তিনি অর্থের গভীরে প্রবেশের ক্ষেত্রে চরম আতিশয্য প্রদর্শন করেছেন এবং ভাবের অতল তলে ডুব দিয়েছেন। তিনি বাদি' বা অলঙ্কারের রূপায়ণে অপচয়ের পর্যায় পর্যন্ত আতিশয্য ঘটিয়েছেন এবং আরবি কবিতার সেই সনাতন আদর্শিক রীতি (আমূদ আল-শির) পরিহার করেছেন যা ইতিপূর্বে অনুসরণ করা হতো। এমনকি তিনি আরবি ভাষার ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্বের নিয়মনীতিরও ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন, যা তাঁর কবিতার অনেক অংশ বর্জনের কারণ হয়েছে (৩)।

আবু তাম্মাম তাঁর এই কাব্যরীতির মাধ্যমে এমন এক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তাদের পূর্বসূরি কবিদের পথ অনুসরণ করত না (৪); বরং তিনি তাঁর সমসাময়িক সেই দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা নতুনত্বের দিকে ঝুঁকেছিল (৫), এবং যারা জাহেলি ও ইসলামি যুগের কবিদের প্রচলিত নির্মাণশৈলী থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছিলেন (৬)।

--------------------------------------------

(১) আশ-শুআরা ওয়া ইনশাদুশ শির: আলী আল-জুন্দি, পৃষ্ঠা ৪২ [দারুল মাআরিফ]।

(২) আল-খুসূমাতুল বালাগিয়্যাহ ওয়ান নাকদিয়্যাহ ফী সানআতি আবি তাম্মাম: ড. ফাত্তাহ লাশিন, পৃষ্ঠা ২১৮, [দারুল মাআরিফ]

(৩) আল-খুসূমাতুল বালাগিয়্যাহ ওয়ান নাকদিয়্যাহ ফী সানআতি আবি তাম্মাম: ড. ফাত্তাহ লাশিন, পৃষ্ঠা ৩

(৪) তারিখুন নাকদিল আদাবি ইনদাল আরব: ত্বহা আহমদ ইব্রাহিম, পৃষ্ঠা ৯৮, [দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত — লেবানন]।

(৫) তারিখুন নাকদিল আদাবি ইনদাল আরব: ত্বহা আহমদ ইব্রাহিম, পৃষ্ঠা ৯৬

(৬) আবু তাম্মামের যুগে কবিগণ দুই ভাগে বিভক্ত ছিলেন: একদল যারা প্রাচীনদের অনুকরণ করত এবং আরবি সত্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যতটুকু প্রয়োজন তার বাইরে নতুনত্ব আনত না; ফলে তারা প্রাচীন পদ্ধতি ও নির্মাণশৈলীর ওপর অটল ছিল। এদের মধ্যে রয়েছেন: মারওয়ান ইবনে আবি হাফসা, আশজা আস-সুলামি এবং আলী ইবনুল জাহাম... এবং অপর দল যারা আধুনিকতার দিকে ঝুঁকেছিল, যেমন বাশশার ও আবু নুওয়াস। আবু তাম্মাম ও ইবনুল মুতাযয সেই সকল কবিদের অন্তর্ভুক্ত যারা জাহেলি ও ইসলামি যুগের কবিদের প্রচলিত নির্মাণশৈলী থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছিলেন। দ্রষ্টব্য: তারিখুন নাকদিল আদাবি ইনদাল আরব: ত্বহা আহমদ ইব্রাহিম, পৃষ্ঠা ৯৭।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وكان السبب في تلك النزعة التجديدية عند أبي تمام ما وجده في الشعراء قبله من جمود وثبات؛ فقد ((حبس الشعراء أنفسهم ـ قبله ـ في تفاصيل الصور والمعاني من وصف للدمن والأثافي والوحوش، ومحوالرياح للآثار (…) فضيقوا على أنفسهم حتى لم يعد أمامهم مجال للتجديد غير التجويد الفني؛ وحتى جاء شعرهم أدل على المهارة في الصياغة منه على أصالة الطبع والعمق في الإنسانية)) (1). وفي هذا ـ بلا شك ـ ما يفسر ((نزعة أبي تمام للتجديد في الصياغة، واتخاذه من البديع مذهبا، بما يجر إليه مذهب كهذا من التكلف والإحالة والإسراف والإغراب في المعاني المألوفة)) (2).

وأبو تمام بصنعته تلك ملأ قلوب النقاد والأدباء، وشحن صدورهم بتساؤلات عديدة، ((وكان مذهبه ذلك مثارا لحركة أدبية نقدية كبيرة، وهكذا شأن الجديد في كل عصر، وفي كل علم وفن أن يثير الجدال، وأن يقسم الناس إلى معسكرين: معسكر ينصره، وآخر يخذله)) (3).

وكان الزمخشري المتوفى سنة 537هـ ((يرى الاحتجاج بأقوال المولدين، والقياس عليها، مستشهدًا في تفسيره بأبيات لأبي تمام؛ لأنه ـ في رأيه ـ ممن يوثق بقوله. وقد تبعه في هذا الرأي العلامة الرضي فقد استشهد بشعر أبي تمام في عدة مواضع من شرحه لكافية ابن الحاجب، كما جرى على هذا المذهب الشهاب الخفاجي في شرح درة الغواص؛ فقد استشهد بشعر المتنبي. وقد روى عن الزمخشري لما سئل في هذا أنه قال: ((أجعل ما يقوله أبوتمام بمنزلة ما يرويه))، وهويشير بهذا القول إلى أن العلماء لا يترددون في الأخذ بما جاء في حماسة أبي تمام من أشعار، وهي رواية هذا الشاعر وحده، أو هو المسئول عن صحتها، فلماذا لا نجعل ما ينظمه من شعر

--------------------------------------------

(1) النقد المنهجي عند العرب ومنهج البحث في الأدب واللغة: د. محمد مندور، ص79، [مكتبة الأسرة، الهيئة المصرية العامة للكتاب، 2007]

(2) النقد المنهجي عند العرب ومنهج البحث في الأدب واللغة: د. محمد مندور، ص80

(3) الخصومات البلاغية والنقدية في صنعة أبي تمام: د. عبد الفتاح لاشين، ص 41
আবু তামামের মাঝে এই সংস্কারবাদী প্রবণতার কারণ ছিল তাঁর পূর্ববর্তী কবিদের মধ্যে তিনি যে জড়তা ও স্থবিরতা লক্ষ্য করেছিলেন তা-ই; কেননা তাঁর পূর্ববর্তী কবিগণ নিজেদেরকে পরিত্যক্ত বাসস্থানের চিহ্ন, চুলার পাথর এবং বন্যপ্রাণীর বর্ণনা এবং চিহ্নের ওপর বাতাসের ঝাপটার মতো চিত্র ও অর্থের বিস্তারিত বিবরণের মধ্যে আটকে ফেলেছিলেন (...), ফলে তাঁরা নিজেদের ওপর এমন সংকীর্ণতা আরোপ করেছিলেন যে, শৈল্পিক উৎকর্ষ সাধন ছাড়া সংস্কারের আর কোনো ক্ষেত্র তাঁদের সামনে অবশিষ্ট ছিল না; এমনকি তাঁদের কবিতা মানুষের গভীরতা ও স্বভাবজাত মৌলিকত্বের চেয়ে বাক্য গঠনের দক্ষতার প্রমাণ হিসেবেই বেশি প্রতীয়মান হতো (১)। আর নিঃসন্দেহে এটিই আবু তামামের শব্দশৈলীতে সংস্কারের প্রবণতা এবং ‘বাদি’ (অলঙ্কারশাস্ত্র) কে একটি স্বতন্ত্র রীতি হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে, যা পরিচিত অর্থগুলোর ক্ষেত্রে কৃত্রিমতা, অসম্ভব কল্পনা, বাড়াবাড়ি এবং অদ্ভুত উপস্থাপনার দিকে ধাবিত করে (২)।

আবু তামাম তাঁর সেই কারুকার্যের মাধ্যমে সমালোচক ও সাহিত্যিকদের অন্তর পূর্ণ করে দিয়েছিলেন এবং তাঁদের হৃদয়ে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিলেন, “আর তাঁর সেই রীতি ছিল একটি বড় ধরনের সাহিত্যিক ও সমালোচনা আন্দোলনের সূত্রপাতকারী; আর এভাবেই প্রতি যুগে এবং প্রতিটি জ্ঞান ও শিল্পকলায় নতুনের বৈশিষ্ট্য হলো বিতর্ক সৃষ্টি করা এবং মানুষকে দুটি শিবিরে বিভক্ত করা: এক দল তাঁকে সমর্থন করে এবং অন্য দল তাঁকে প্রত্যাখ্যান করে” (৩)।

৫৩৭ হিজরিতে ইন্তেকালকারী যামাখশারী পরবর্তী যুগের কবিদের (মুওয়াল্লাদুন) বক্তব্যের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা এবং সেগুলোর ওপর কিয়াস বা অনুমান করার পক্ষপাতী ছিলেন। তিনি তাঁর তাফসীরে আবু তামামের কবিতা থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন; কারণ তাঁর মতে, তিনি (আবু তামাম) এমন একজন ব্যক্তি যাঁর কথা নির্ভরযোগ্য। আল্লামা রাযীও এই মতামতে তাঁর অনুসরণ করেছেন, তিনি ইবনুল হাজিবের ‘কাফিয়া’র ব্যাখ্যাগ্রন্থের বেশ কয়েকটি স্থানে আবু তামামের কবিতা থেকে উদ্ধৃতি পেশ করেছেন। অনুরূপভাবে শিহাব আল-খাফাজী ‘দুররাতুল গাওওয়াস’-এর ব্যাখ্যায় এই রীতি অনুসরণ করেছেন; তিনি মুতানাব্বীর কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। যামাখশারী থেকে বর্ণিত আছে যে, যখন তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: “আবু তামাম যা বলে, আমি তাকে তার বর্ণনার (রেওয়ায়েত) সমপর্যায়ে গণ্য করি।” এই কথার মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, আলেমগণ আবু তামামের ‘হামাসা’ গ্রন্থে সংকলিত কবিতাগুলো গ্রহণ করতে দ্বিধা করেন না, অথচ সেগুলো কেবল এই কবিরই বর্ণনা অথবা এর বিশুদ্ধতার দায়িত্ব তাঁরই। সুতরাং তিনি নিজে যা কাব্য আকারে রচনা করেন তাকে কেন আমরা একই মর্যাদায় রাখব না...

--------------------------------------------

(১) আরবে পদ্ধতিগত সমালোচনা এবং সাহিত্য ও ভাষায় গবেষণা পদ্ধতি: ড. মুহাম্মদ মান্দুর, পৃষ্ঠা ৭৯, [মাকতাবাতুল উসরাহ, আল-হাইআতুল মিসরিয়্যাহ আল-আম্মাহ লিল কিতাব, ২০০৭]

(২) আরবে পদ্ধতিগত সমালোচনা এবং সাহিত্য ও ভাষায় গবেষণা পদ্ধতি: ড. মুহাম্মদ মান্দুর, পৃষ্ঠা ৮০

(৩) আবু তামামের শিল্পরীতিতে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও সমালোচনামূলক বিতর্ক: ড. আবদ আল-ফাত্তাহ লাশিন, পৃষ্ঠা ৪১
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
على قدم المساواة مع ما يرويه في الحماسة، ولكن البَطْلَيَوْسِيُّ (1) يقف من هذا الرأي موقفًا معتدلا؛ فيرى أن البيت الذي سكت عنه علماء اللغة حين تناولوا شعره ولم ينكروه عليه، يلحق بما يصلح للاستشهاد به من كلام العرب)) (2).

ولقد توافر على ديوان أبي تمام عدد من الشراح، حاولوا فض مغاليق شعره، وتوضيح معانيه، وهم:

[1] أبوبكر الصُّوليّ (3)، وهومن أكثر الناس تعصبا لأبي تمام؛ ((فعد مذهبه قمة المذاهب الفنية، وسخر كل جهده للدفاع عن مذهبه))، وهوأقرب الشراح عهدًا بأبي تمام، وأول الذين وصلت إلينا شروحهم على ديوانه (4).

[2] الآمِدِيّ (5). وهومتهم بالتعصب على أبي تمام، وكتابه الموازنة يشهد بذلك.

[3] المَرْزُوقِيّ (6).

--------------------------------------------

(1) - هو: البطليوسي أبومحمد عبد الله بن محمد بن السَّيِّد، العَلَاّمَةُ، النَّحْوِيّ، اللُّغَوِيّ، صاحب التصانيف. أقرأ الآداب، وشَرَحَ ((المُوَطَّأ))، وَلَهُ كِتَاب ((الاقتضَاب فِي شرح أَدب الكُتَّاب))، وَكِتَاب ((الأَسبَاب الموجبَة لاخْتِلَاف الأَئِمَّة))، مَاتَ فِي رَجَب، سَنَةَ إِحْدَى وَعِشْرِيْنَ وَخَمْسِ مائَةٍ. [سير أعلام النبلاء: 19/ 533]

(2) د. إبراهيم أنيس: من أسرار اللغة، ص 13، [مكتبة الأنجلوالمصرية، ط7]

(3) هو: محمد بن يحيي بن عبد الله بن العباس بن محمد بن صول تكين البغدادي الشطرنجي، ولد ببغداد، ونشأ بها، يقال إن مولده سنة 255هـ، وأما وفاته فقيل: إنها سنة 335هـ، له تآليف كثيرة طبع منها كتاب: ((أدب الكاتب)) و ((الأوراق))،و ((أخبار أبي تمام)). وقد جمع دواوين عدة شعراء، كان السابق فيها إلى الترتيب على الحرف، ومن بين هذه الدواوين ديوان أبي تمام. (ينظر: ديوان أبي تمام بشرح التبريزي 1/ 18، الأغاني 10/ 43، معجم الأدباء 19/ 109).

(4) مقدمة ديوان أبي تمام: 1/ 18، والخصومات البلاغية والنقدية في صنعة أبي تمام: د. عبد الفتاح لاشين، ص 56

(5) هو: الحسن بن بشر بن يحيى الآمدي، أبوالقاسم (ت 370هـ). عالم بالأدب، راوية، من الكتاب، له شعر. أصله من آمد، ومولده ووفاته بالبصرة. من كتبه: ((المؤتلف والمختلف)) في أسماء الشعراء وكناهم وألقابهم وأنسابهم، و ((الموازنة بين البحتري وأبي تمام)) و ((معاني شعر البحتري)) .. ، وكانت وفاته سنة 370هـ، [ينظر: انباه الرواة على أنباه النحاة: 1/ 320]

(6) هو: أحمد بن محمد بن الحسن المرزوقي أبوعلي النحوي، أحد علماء اللغة في وقته في الأدب والنحو، من أهل أصبهان، أحد أئمة اللسان، كان غاية في الذكاء والفطنة، حسن التصنيف، وإقامة الحجج، وتصانيفه لا مزيد عليها في الجودة. مات في ذي الحجة سنة 421هـ، وكان قد قرأ سيبويه على أبي علي الفارسيّ وتتلمذ له، بعد أن كان رأسًا بنفسه، وله من الكتب: كتاب شرح الحماسة، وشرح المفضليات، وشرح الفصيح، وشرح أشعار هُذَيل، وكتاب الأزمنة. قال الصاحب بن عبّاد: فاز بالعلم من أصبهان ثلاثة: حائك وحلاّج وإسكاف: فالحائك هوالمرزوقي والحلاج أبومنصور بن ماشذه والإسكاف أبوعبد الله الخطيب بالرّيّ صاحب التصانيف. من تصانيفه: ((شرح الحماسة))، وهوالغاية في بابه و ((شرح الفصيح)) و ((مفردات متعددة في النحو))، ينظر: [انباه الرواه: 1/ 106، لجمال الدين أبي الحسن على ابن يوسف القفطي، الهيئة المصرية العامة للكتاب، تحقيق: محمد أبوالفضل إبراهيم] و [بغية الوعاة في طبقات اللغويين والنحاة: 1/ 365]، و [معجم الأدباء: ياقوت الحموي، 2/ 189].
আল-হামাসাতে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার সাথে সমপর্যায়ে, তবে আল-বাতলায়ওসি (১) এই মতামতের ব্যাপারে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছেন; তিনি মনে করেন যে, ভাষাবিদগণ যখন তাঁর কবিতা আলোচনা করেছেন এবং যে পঙক্তির ব্যাপারে নীরব থেকেছেন এবং সেটির নিন্দা করেননি, তা আরবদের বক্তব্যের মধ্যে দলীল হিসেবে গ্রহণের উপযুক্ত বলে গণ্য হবে (২)।

আবু তামমামের দীউয়ানের ওপর বেশ কিছু ব্যাখ্যাকারী কাজ করেছেন, যারা তাঁর কবিতার জটিলতা নিরসন এবং এর অর্থ স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তাঁরা হলেন:

[১] আবু বকর আস-সুলি (৩), তিনি আবু তামমামের প্রতি সবচেয়ে বেশি পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের অন্যতম; ((তিনি তাঁর কাব্যরীতিকে শৈল্পিক রীতির শিখর বলে গণ্য করেছেন এবং তাঁর কাব্যরীতি রক্ষার জন্য নিজের সবটুকু প্রচেষ্টা উৎসর্গ করেছেন))। তিনি ব্যাখ্যাকারীদের মধ্যে আবু তামমামের সবচেয়ে কাছের সময়ের ছিলেন এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর দীউয়ানের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আমাদের কাছে পৌঁছেছে (৪)।

[২] আল-আমিদি (৫)। তিনি আবু তামমামের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং তাঁর আল-মুওয়াজানাহ গ্রন্থটি এর প্রমাণ বহন করে।

[৩] আল-মারযুকি (৬)।

--------------------------------------------

(১) - তিনি হলেন: আল-বাতলায়ওসি আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আস-সাইয়িদ; তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ আলেম, ব্যাকরণবিদ, ভাষাতত্ত্ববিদ এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি সাহিত্য শিক্ষা দিতেন এবং 'আল-মুওয়াত্তা'-এর ব্যাখ্যা লিখেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'আল-ইকতিদাব ফি শারহি আদাবিল কাত্তাব' এবং 'আল-আসবাবুল মুজিবা লি-ইখতিলাফিল আইম্মাহ'। তিনি ৫২১ হিজরির রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন। [সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১৯/ ৫৩৩]

(২) ড. ইব্রাহিম আনিস: মিন আসরারিল লুগাহ, পৃষ্ঠা ১৩, [মাকতাবাতুল আংলো আল-মিসরীয়াহ, ৭ম সংস্করণ]

(৩) তিনি হলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুল তাকিন আল-বাগদাদি আশ-শাতরাঞ্জি। তিনি বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। বলা হয় যে তাঁর জন্ম ২৫৫ হিজরি সালে এবং তাঁর মৃত্যু ৩৩৫ হিজরি সালে। তাঁর বহু রচনা রয়েছে যার মধ্যে 'আদাবুল কাতিব', 'আল-আওরাক' এবং 'আখবারু আবি তামমাম' মুদ্রিত হয়েছে। তিনি বেশ কয়েকজন কবির কাব্যসমগ্র (দীউয়ান) সংকলন করেছেন এবং বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে তিনি অগ্রগামী ছিলেন। এই দীউয়ানগুলোর মধ্যে আবু তামমামের দীউয়ানও অন্তর্ভুক্ত। (দ্রষ্টব্য: তিবরিযির ব্যাখ্যাসহ আবু তামমামের দীউয়ান ১/ ১৮, আল-আগানি ১০/ ৪৩, মুজামুল উদাবা ১৯/ ১০৯)।

(৪) আবু তামমামের দীউয়ানের ভূমিকা: ১/ ১৮, এবং আল-খুসুমাতুল বালাগিয়্যাহ ওয়ান নাকদিয়্যাহ ফি সানআতি আবি তামমাম: ড. আবদ আল-ফাত্তাহ লাশিন, পৃষ্ঠা ৫৬

(৫) তিনি হলেন: আল-হাসান ইবনে বিশর ইবনে ইয়াহইয়া আল-আমিদি, আবুল কাসিম (মৃত্যু ৩৭০ হিজরি)। তিনি একজন সাহিত্য বিশারদ, বর্ণনাকারী, লেখক এবং কবি ছিলেন। তাঁর আদি নিবাস ছিল আমিদ, তবে জন্ম ও মৃত্যু বসরার। তাঁর লিখিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: কবিদের নাম, উপনাম, উপাধি ও বংশপরিচয় বিষয়ক গ্রন্থ 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতاليফ', 'আল-মুওয়াজানাহ বাইনাল বুহুতুরি ওয়া আবি তামমাম' এবং 'মাআনি শিয়রিল বুহুতুরি'... তাঁর মৃত্যু ৩৭০ হিজরিতে হয়। [দ্রষ্টব্য: ইনবাহুর রুওয়াত আলা আনবাহিন নুহাত: ১/ ৩২০]

(৬) তিনি হলেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আল-মারযুকি আবু আলি আন-নাহবি। তিনি তাঁর সময়ের সাহিত্য ও ব্যাকরণের অন্যতম ভাষাবিদ ছিলেন। তিনি ইসফাহানের অধিবাসী এবং ভাষাতত্ত্বের অন্যতম ইমাম ছিলেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও বুদ্ধিমান ছিলেন, চমৎকার গ্রন্থ রচনা ও দলিল উপস্থাপনে দক্ষ ছিলেন এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ গুণগত মানে ছিল অনন্য। তিনি ৪২১ হিজরির জিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আবু আলি আল-ফারিসির কাছে সিবাওয়াইহ-এর গ্রন্থ পাঠ করেছিলেন এবং তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন, যদিও তিনি নিজে একজন বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: শারহু হামাসাহ, শারহুল মুফাদ্দালিয়াত, শারহুল ফাসিহ, শারহু আশআরিল হুযাইল এবং কিতাবুল আযমিনাহ। আস-সাহিব ইবনে আব্বাদ বলেছেন: ইসফাহান থেকে তিন ব্যক্তি জ্ঞান লাভ করেছেন - একজন তাঁতি, একজন ধুনকর এবং একজন চর্মকার। তাঁতি হলেন আল-মারযুকি, ধুনকর হলেন আবু মনসুর ইবনে মাশাজাহ এবং চর্মকার হলেন রেই-এর খতিব আবু আবদুল্লাহ যিনি গ্রন্থ প্রণেতা। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: 'শারহুল হামাসাহ', যা এই ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, এবং 'শারহুল ফাসিহ' ও 'ব্যাকরণ বিষয়ক বিভিন্ন শব্দতত্ত্ব'। দেখুন: [জামালুদ্দিন আবু হাসান আলি ইবনে ইউসুফ আল-কিফতি রচিত ইনবাহুর রুওয়াত: ১/ ১০৬, আল-হাইয়াতুল মিসরিয়্যাহ আল-আম্মাহ লিল কিতাব, সম্পাদনা: মুহাম্মাদ আবুল ফজল ইব্রাহিম], [বুগিয়াতুল উয়াত ফি তাবাকাতিল লুগাবিয়্যিন ওয়ান নুহাত: ১/ ৩৬৫] এবং [ইয়াকুত আল-হামাভি রচিত মুজামুল উদাবা: ২/ ১৮৯]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
[4] الخَارَزَنْجِي (1).

[5] أبوالعلاء (2).

ثم جاء التبريزي (ت512هـ) وقد قرأ ديوان أبي تمام علي يد ((الشيخ أبي القاسم الفضل بن محمد القصباني، الذي قرأه على عبد الكريم السكري، عن الآمدي، عن السجستاني، عن أبي سعيد السكري، عن أبي تمام؛ فروايته إذن تنتهي إلى

--------------------------------------------

(1) هوأحمد بن محمد الخارزنجي البُشْتِيّ، أبوحامد: أديب خراسان في عصره. ذكره الحافظ أبوعبد الله بن البيع في تاريخ نيسابور، فقال: ((إمام أهل الأدب بخراسان في عصره بلا مدافعه، ولما حج بعد الثلاثين والثلاثمائة شهد له أبوعمر الزاهد ومشايخ العراق بالتقدمة))، توفي (348هـ = 959م) من كتبه ((تكملة كتاب العين)) و ((شرح أبيات أدب الكاتب)) نسبته إلى بشت من نواحي نيسابور، ومثلها خارزنج. ترجم له صاحب البغية فقال: … قال ابن السمعاني: إمام أهل الأدب بخراسان بلا مدافعة. [ينظر بغية الوعاة: 1/ 388، وانباه الرواه: 1/ 107، ومقدمة ديوان أبي تمام: 1/ 24]. وأهمية شرح الخارزنجي أنه يعتبر من شروح أبي تمام المتقدمة، فضلا عن أن الخارزنجي عالم فاضل، مشهود له بالعلم والدراية.

(2) سنفرد له وللتبريزي ترجمتين خاصتين في المباحث التالي.
[৪] আল-খারাযানজি (১)।

[৫] আবু আল-আলা (২)।

তারপর তিবরিযি (মৃত্যু ৫১২ হিজরি) আসলেন, যিনি আবু তাম্মামের দিওয়ান পাঠ করেছিলেন শায়খ আবুল কাসিম আল-ফাদল ইবনে মুহাম্মদ আল-কাসাবানির নিকট; তিনি এটি পাঠ করেছিলেন আব্দুল কারিম আস-সুক্কারির নিকট, তিনি আল-আমিদির নিকট থেকে, তিনি আস-সিজিস্তানির নিকট থেকে, তিনি আবু সাঈদ আস-সুক্কারির নিকট থেকে, আর তিনি আবু তাম্মামের নিকট থেকে। সুতরাং তাঁর বর্ণনাধারা গিয়ে পৌঁছায়...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-খারাযানজি আল-বুশতি, আবু হামিদ: তাঁর সময়ের খোরাসানের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক। হাফিয আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল বাইয়্যি 'তারিখে নাইসাবুর'-এ তাঁর উল্লেখ করে বলেছেন: "কোনো প্রকার দ্বিমত ছাড়াই তিনি তাঁর সময়ের খোরাসানের সাহিত্যের ইমাম ছিলেন। আর যখন তিনি ৩৩০ হিজরির পর হজ সম্পন্ন করলেন, তখন আবু উমর আজ-জাহিদ এবং ইরাকের মাশায়েখগণ তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।" তিনি মৃত্যুবরণ করেন (৩৪৮ হিজরি = ৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দ)। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'তাকমিলাতু কিতাবিল আইন' এবং 'শারহু আবইয়াতি আদাবিল কাতিব'। তাঁর নিসবত বা সম্বন্ধ নাইসাবুর অঞ্চলের বুশত এবং খারাযানজির দিকে। 'আল-বুগইয়াহ' গ্রন্থের লেখক তাঁর জীবনী আলোচনা করে বলেছেন: ... ইবনে আস-সামআনি বলেছেন: কোনো প্রকার দ্বিমত ছাড়াই খোরাসানের সাহিত্যের ইমাম। [দেখুন: বুগইয়াতুল উয়াত: ১/৩৮৮, ইনবাহুর রুওয়াত: ১/১০৭ এবং মুকাদ্দিমাতু দিওয়ানি আবি তাম্মাম: ১/২৪]। আল-খারাযানজির ব্যাখ্যাগ্রন্থের গুরুত্ব হলো যে, এটি আবু তাম্মামের প্রাচীন ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। তাছাড়া খারাযানজি ছিলেন একজন বিদগ্ধ আলিম, যাঁর ইলম ও বিচক্ষণতা সর্বজনস্বীকৃত।

(২) পরবর্তী পরিচ্ছেদসমূহে আমরা তাঁর এবং তিবরিযির জন্য দুটি স্বতন্ত্র জীবনী নিবেদন করব।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
أبي سعيد السكري عن أبي تمام، وهذه أسانيد كلها موثوق بها)) (1)، ثم قام التبريزي بجمع شروح الديوان في شرح واحد، فكان يشرح البيت، وإذا نقل شرحا من شروح العلماء السابقين كان يضع قبل الشرح رمزا خاصا لمن نقل عنه: [ع] لأبي العلاء، [ص] للصولي، [ق] للمرزوقي، [خ] للخارزنجي (2).

وقد اختار الباحث شرحي أبي العلاء والتبريزي لدراسته لسببين:

• الأول: أن شرحي أبي العلاء والتبريزي هما أغزر الشروح مادة علمية وأكثرها (3).

• الثاني: تداخل أقوال التبريزي مع أقوال أبي العلاء، فقد عرف عنه أنه كان ناقلا عن غيره (4).

--------------------------------------------

(1) ينظر مقدمة المحقق على ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 27، 28]، والفضل بن محمد بن علي القصباني البصري، (ت 444 هـ =1052 م): عالم باللغة والأدب، من أهل البصرة، ضرير، له كتاب في ((النحو)) و ((حواشي الصحاح)) و ((الآمالي)) [بغية الوعاة: 2/ 246]، وأبوحاتم السجستاني سهل بن محمد بن عثمان، الإمام العلامة، البصري، المقرئ، النحوي، اللغوي، صاحب التصانيف. [سير أعلام النبلاء، 12/ 268ـ 269]

(2) نحب أن نشير هنا أن الباحث اعتمد في بحثه على نسخة ديوان أبي تمام التي طبعتها ((دار المعارف)) والتي خرجت في أربعة مجلدات: المجلد الأول في طبعته الخامسة (بدون تاريخ)، المجلد الثاني في طبعته الخامسة (ط 2006).،المجلد الثالث في طبعته الرابعة (بدون تاريخ)، المجلد الرابع في طبعته الأولى (بدون تاريخ).

(3) بلغ عدد الأبيات التي شرحها أبوالعلاء: 830، والصولي: 521، والمرزوقي: 279، والخارزنجي: 191، [ينظر هذا الإحصاء بمجلة فصول، مجلة النقد الأدبي ((العنوان: تراثنا النقدي الجزء الأول مقال: خصائص الشروح العربية على ديوان أبي تمام))، للهادي الجطلاوي 1/ 137]

(4) قام المحقق د. محمد عبده عزام بدور كبير ومشكور في تحقيق الكتاب وتنظيمه ومقابلة مخطوطاته؛ مما يسر لي كثيرا من مسائل البحث.
আবু সাঈদ আস-সুক্কারি আবু তাম্মাম থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং এই সনদগুলোর সবই নির্ভরযোগ্য)) (১), এরপর আত-তাবরিযি দিওয়ানের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোকে একটি ব্যাখ্যায় সংকলন করেন। তিনি একেকটি পঙক্তি ব্যাখ্যা করতেন, এবং যখন তিনি পূর্ববর্তী আলেমদের ব্যাখ্যা থেকে কিছু উদ্ধৃত করতেন, তখন যার থেকে উদ্ধৃত করছেন তার জন্য ব্যাখ্যার শুরুতে একটি বিশেষ প্রতীক ব্যবহার করতেন: [ع] আবুল আলা-এর জন্য, [ص] আস-সুলি-র জন্য, [ق] আল-মারযুকি-র জন্য, [خ] আল-খারযানজি-র জন্য (২)।

গবেষক তার অধ্যয়নের জন্য আবুল আলা এবং তাবরিযির ব্যাখ্যাদ্বয়কে দুটি কারণে নির্বাচন করেছেন:

• প্রথমত: আবুল আলা এবং তাবরিযির ব্যাখ্যাদ্বয় বৈজ্ঞানিক উপকরণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং সংখ্যায় সর্বাধিক (৩)।

• দ্বিতীয়ত: আবুল আলার বক্তব্যের সাথে তাবরিযির বক্তব্যের সংমিশ্রণ বা মিল রয়েছে, কারণ তাঁর সম্পর্কে জানা যায় যে তিনি অন্যের থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করতেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: তাবরিযির ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দিওয়ানের মুহাক্কিকের ভূমিকা: [১/ ২৭, ২৮]; এবং আল-ফাদল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আল-কাসবানি আল-বাসরি, (মৃত্যু ৪৪৪ হিজরি = ১০৫২ খ্রিস্টাব্দ): ভাষা ও সাহিত্যের পণ্ডিত, বসরা নিবাসী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, তাঁর রচিত কিতাবের মধ্যে রয়েছে 'ব্যাকরণ' (আন-নাহু), 'সাহসিহাহ-এর টীকা' (হাওয়াসিশ সিহাহ) এবং 'আল-আমালি' [বুগয়াতুল উয়াত: ২/ ২৪৬]; এবং আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি সাহল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান, ইমাম, মহাজ্ঞানী, বসরা নিবাসী, ক্বারি, ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ, বহু গ্রন্থের প্রণেতা। [সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১২/ ২৬৮-২৬৯]

(২) আমরা এখানে উল্লেখ করতে চাই যে, গবেষক তাঁর গবেষণায় 'দারুল মাআরিফ' কর্তৃক মুদ্রিত আবু তাম্মামের দিওয়ানের কপির উপর নির্ভর করেছেন যা চারটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে: প্রথম খণ্ড পঞ্চম মুদ্রণ (তারিখ বিহীন), দ্বিতীয় খণ্ড পঞ্চম মুদ্রণ (২০০৬), তৃতীয় খণ্ড চতুর্থ মুদ্রণ (তারিখ বিহীন), চতুর্থ খণ্ড প্রথম মুদ্রণ (তারিখ বিহীন)।

(৩) আবুল আলা কর্তৃক ব্যাখ্যায়িত পঙক্তির সংখ্যা: ৮৩০, আস-সুলি: ৫২১, আল-মারযুকি: ২৭৯, আল-খারযানজি: ১৯১। [এই পরিসংখ্যানটি দেখুন 'ফুসুল' সাময়িকীতে, সাহিত্য সমালোচনা বিষয়ক সাময়িকী (শিরোনাম: আমাদের সমালোচনামূলক ঐতিহ্য ১ম অংশ, প্রবন্ধ: আবু তাম্মামের দিওয়ানের উপর আরবি ব্যাখ্যাসমূহের বৈশিষ্ট্য), লেখক: আল-হাদি আল-জাতলাউয়ি ১/ ১৩৭]

(৪) মুহাক্কিক ড. মুহাম্মদ আবদুহু আযযাম গ্রন্থটির সম্পাদনা, বিন্যাস এবং পাণ্ডুলিপিগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এক বিশাল ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন; যা আমার গবেষণার অনেক বিষয়কে সহজতর করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌المبحث الثاني: ترجمة أبي تمام

‌‌(1) اسمه ولقبه ومولده:

هو حبيب بن أوس بن الحارث بن قيس الطائي، من حوران، من قرية جاسم (1)، وفي الأغاني: ((من نفس طيئ صليبة، مولده ومنشؤه منبج، بقرية منها يقال لها جاسم)) (2).

ولد أبوتمام في سنة 188هـ، أو190هـ، في أيام الرشيد، ((وكان أولا حدثا يسقي الماء بمصر (3)، ثم جالس الأدباء، وأخذ عنهم، وكان يتوقد ذكاء، وسحَّت قريحته بالنظم البديع)) (4). أسلم وكان نصرانيا، مدح الخلفاء والكبراء، وكان أسمر طوالا، فصيحا، عذب العبارة مع تمتة قليلة، يوصف بطيب الأخلاق، والظرف والسماحة. وكان ابن وهب قد اعتنى بأبي تمام، وولاه بريد الموصل، فأقام بها أكثر من سنة. وأبوتمام ((يعد رأس الطبقة الثالثة من الشعراء المحدثين)) (5). ومن الألقاب التي أطلقت عليه ((الطائي الكبير)) (6)، ((المُوَلَّد)) (7).

 

‌‌(2) مكانته وشعره:

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء: الإمام شمس الدين محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي [11/ 63 ـ64]، (تحقيق شعيب الأرنؤوط، وصالح السمر ـ مؤسسة الرسالة، ط1 1982).

(2) الأغاني: لأبي الفرج الأصفهاني [16/ 383]، (تحقيق: مصطفى السقا، 1961، دار الكتب)

(3) رد الأستاذ مصطفى صادق الرافعي هذا الخبر، وقرر أن الشاعر العظيم لم ينشأ بمصر، وأنه ولد وتأدب في الشام، ثم قدم إلى مصر (210هـ) شاعرًا ناشئا يتكسب بأدبه؛ فأقام بها بين خمس سنين وست، وخرج منها في سنة 215هـ أوحواليها. (وحي القلم: [3/ 342، 343، 346]، مكتبة الأسرة 2003).

(4) سير أعلام النبلاء: [11/ 64].

(5) قصص العرب: محمد أحمد جاد المولى وآخرون [1/ 408]، (سلسة الذخائر، الهيئة العامة لقصور الثقافة رقم 176، 2009).

(6) الخصائص: لأبي الفتح عثمان بن جني [1/ 15 الهامش 2] (تحقيق محمد علي النجار، سلسة الذخائر، الهيئة العامة لقصور الثقافة، رقم 146، 2006)، والبحتري هوالطائي الصغير.

(7) الخصائص: [2/ 480]، وكفاية الطالب في نقد كلام الشاعر والكاتب: ضياء الدين بن الأثير، ص 113، (تحقيق د. النبوي عبد الواحد شعلان، ط 1، الزهراء للإعلام العربي، 1994).
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবু তামমামের জীবনী

‌‌(১) তাঁর নাম, উপাধি ও জন্ম:

তিনি হলেন হাবিব ইবন আওস ইবনুল হারিস ইবন কায়স আত-তাঈ, হাওরান অঞ্চলের জাসিম গ্রামের অধিবাসী (১)। আল-আগানি গ্রন্থে বলা হয়েছে: ((তিনি তাই গোত্রের বিশুদ্ধ বংশোদ্ভূত, তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা মানবিজে, সেখানকার জাসিম নামক এক গ্রামে)) (২)।

আবু তামমাম ১৮৮ হিজরি অথবা ১৯০ হিজরিতে হারুনুর রশিদের শাসনামলে জন্মগ্রহণ করেন। ((তিনি শুরুতে মিশরে পানি সরবরাহকারী এক যুবক ছিলেন (৩), অতঃপর তিনি সাহিত্যিকদের মজলিসে বসেন এবং তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর প্রতিভা থেকে অপূর্ব কাব্যধারা প্রবাহিত হতো)) (৪)। তিনি খ্রিস্টান ছিলেন, পরে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি খলিফা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের প্রশংসা করে কাব্য রচনা করেছেন। তিনি ছিলেন তামাটে বর্ণের এবং দীর্ঘদেহী, অত্যন্ত বাগ্মী ও সাবলীল বাচনভঙ্গির অধিকারী, তবে তাঁর উচ্চারণে সামান্য তোতলামি ছিল। তিনি সচ্চরিত্র, রসবোধ ও উদারতার গুণে গুণান্বিত ছিলেন। ইবনে ওয়াহাব আবু তামমামের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন এবং তাঁকে মোসেলের ডাক বিভাগের দায়িত্ব প্রদান করেন; সেখানে তিনি এক বছরেরও বেশি সময় অবস্থান করেন। আবু তামমাম ((আধুনিক কবিদের মধ্যে তৃতীয় স্তরের প্রধান হিসেবে গণ্য হন)) (৫)। তাঁকে যেসব উপাধি দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ((আত-তাঈ আল-কাবির বা বড় তাঈ)) (৬) এবং ((আল-মুওয়াল্লাদ)) (৭)।

 

‌‌(২) তাঁর মর্যাদা ও কাব্য:

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা: ইমাম শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন উসমান আজ-জাহাবি [১১/ ৬৩-৬৪], (শুয়াইব আল-আরনাউত ও সালেহ আস-সামার সম্পাদিত - মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১ম সংস্করণ ১৯৮২)।

(২) আল-আগানি: আবুল ফারাজ আল-ইসফাহানি [১৬/ ৩৮৩], (সম্পাদনা: মুস্তফা আস-সাক্কা, ১৯৬১, দারুল কুতুব)

(৩) উস্তাদ মুস্তফা সাদিক আল-রাফিয়ি এই সংবাদটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, এই মহান কবি মিশরে বেড়ে ওঠেননি; বরং তিনি শামে জন্মগ্রহণ করেছেন ও সেখানে শিক্ষালাভ করেছেন। অতঃপর তিনি (২১০ হিজরিতে) একজন উদীয়মান কবি হিসেবে জীবিকার সন্ধানে মিশরে আসেন এবং সেখানে পাঁচ থেকে ছয় বছর অবস্থান করেন। তিনি সেখান থেকে ২১৫ হিজরি বা তার কাছাকাছি সময়ে চলে যান। (ওয়াহিউল কালাম: [৩/ ৩৪২, ৩৪৩, ৩৪৬], মাকতাবাতুল উসরা ২০০৩)।

(৪) সিয়ারু আলামিন নুবালা: [১১/ ৬৪]।

(৫) কাসাসুল আরব: মুহাম্মদ আহমদ জাদ আল-মাওলা ও অন্যান্য [১/ ৪০৮], (সিলসিলাতুজ জাখাইর, হাইয়াতুল আম্মাহ লি কুসুরিস সাকাফাহ নং ১৭৬, ২০০৯)।

(৬) আল-খাসাইস: আবুল ফাতহ উসমান ইবন জিন্নি [১/ ১৫ টীকা ২] (মুহাম্মদ আলী আন-নাজ্জার সম্পাদিত, সিলসিলাতুজ জাখাইর, হাইয়াতুল আম্মাহ লি কুসুরিস সাকাফাহ, নং ১৪৬, ২০০৬)। আর আল-বুহতুতি হলেন 'আত-তাঈ আস-সাগির' বা ছোট তাঈ।

(৭) আল-খাসাইস: [২/ ৪৮০], এবং কিফায়াতুত তালিব ফি নাকদি কালামিশ শায়ির ওয়াল কাতিব: জিয়াউদ্দিন ইবনুল আসির, পৃ. ১১৩, (ড. আন-নাবাউয়ি আবদুল ওয়াহিদ শালান সম্পাদিত, ১ম সংস্করণ, আয-যাহরা লিল ইলামিল আরাবি, ১৯৯৪)।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
يعد أبوتمام رأس الطبقة الثالثة من الشعراء المحدثين، وإليه انتهت معاني المتقدمين والمتأخرين، فهو ((شاعر مطبوع، لطيف الفطنة، دقيق المعاني، غواص على ما يستصعب منها، ويعسر متناوله على غيره)) (1)؛ فـ ((شعره في الذروة)) (2).

وكان أبوتمام ((كثير الاختراع والتوليد عند جمهور من علماء الشعر خلافا للقاسم ابن مَهْرُويه)) (3)، ((لاقطا للمعاني الجميلة)) (4).

وقد فضَّلَ أبا تمام من الرؤساء والكبراء والشعراء من لا يشق الطاعنون عليه غباره، ولا يدركون ـ وإن جدوا ـ آثاره، وما رأى الناس بعده ـ إلى حيث انتهوا ـ نظيرا ولا شكلا (5).

واحتج بشعره بعض أئمة النحو واللغة، قال ابن جني: ((… ولا يستنكر ذكر هذا الرجل (أبي تمام) ــ وإن كان مولدًا ــ في أثناء ما نحن عليه من هذا الموضع وغموضه، ولطف متسربه؛ فإن المعاني يتناهبها المتقدمون. وقد كان أبوالعباس (6) ـ وهوكثير التعقب لجلة الناس ـ احتج بشيء من شعر حبيب بن أوس الطائي في كتابه الاشتقاق؛ لما كان غرضه فيه معناه دون لفظه، فأنشد فيه له:

لَورَأَينا التَّوكيدَ خُطَّةَ عَجزٍ … ما شَفَعنا الأَذانَ بِالتَّثويبِ [بحر الخفيف]

وإياك والحنبلية؛ فإنها خلق ذميم، ومطعم على علاته وخيم)) (7).

--------------------------------------------

(1) الأغاني: [16/ 383].

(2) سير أعلام النبلاء: [11/ 64].

(3) كفاية الطالب في نقد كلام الشاعر والكاتب: 131 ــ132.

(4) أورد صاحب الأغاني قوله: ((مر أبوتمام بمخنث يقول لآخر: جئتك أمس، فاحتجبت عني، فقال له: السماء إذا احتجبت بالغيم رجي خيرها؛ فتبينت في وجه أبي تمام أنه قد أخذ المعنى ليضمنه في شعره؛ فما لبثنا إلا أياما حتى أنشدت قوله:

ليس الحجاب بمقص عنك لي أملا … إن السماء ترجى حين تحتجب)) [16/ 693].

(5) الأغاني: [16/ 384].

(6) يريد المبرد محمد بن يزيد، الإمام في اللغة والنحووالأخبار، وكانت وفاته سنة 285هـ.

(7) الخصائص: [1/ 24].
আবু তামামকে আধুনিক কবিদের তৃতীয় স্তরের প্রধান হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাঁর মাধ্যমেই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কবিদের কাব্যিক ভাব ও অর্থের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। তিনি হলেন "একজন স্বভাবজাত কবি, সূক্ষ্ম ধীসম্পন্ন, গভীর অর্থপূর্ণ বিষয়ের রূপকার এবং এমন সব জটিল বিষয়ের ডুবুরি যা অন্যদের জন্য আয়ত্ত করা দুষ্কর" (১); ফলে "তাঁর কবিতা উচ্চশিখরে অবস্থান করে" (২)।

অধিকাংশ কাব্যবিশারদদের মতে আবু তামাম "নতুন নতুন কাব্যশৈলী ও অর্থ উদ্ভাবনে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন, যদিও কাসেম ইবনে মাহরুওয়াইহ এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন" (৩); তিনি ছিলেন "চমৎকার ভাব ও অর্থসমূহের সংগ্রাহক" (৪)।

বহু নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং কবিগণ আবু তামামকে এমন উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন যে, তাঁর সমালোচকেরা শত চেষ্টা করেও তাঁর ধূলিকণা স্পর্শ করতে পারবে না এবং তাঁর পদাঙ্কও অনুসরণ করতে পারবে না। তাঁর পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত মানুষ তাঁর সমকক্ষ বা সদৃশ কাউকে দেখেনি (৫)।

ব্যাকরণ ও ভাষাবিজ্ঞানের কতিপয় ইমাম তাঁর কবিতা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। ইবনে জিন্নি বলেছেন: "((… আমাদের বর্তমান আলোচনার এই স্থানটি অত্যন্ত জটিল এবং এর গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়া সত্ত্বেও এই ব্যক্তির (আবু তামাম) উল্লেখ করা—যদিও তিনি পরবর্তী যুগের কবি—মোটেও অনভিপ্রেত নয়; কেননা চমৎকার ভাব ও অর্থগুলো তো পূর্ববর্তীরাই নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছেন। আবুল আব্বাস (৬)—যিনি বড় বড় পণ্ডিতদের ভুল ধরার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন—তিনিও তাঁর 'আল-ইশতিকাক' গ্রন্থে হাবিব ইবনে আউস আত-তাইয়ি (আবু তামাম)-এর কিছু কবিতা থেকে দলিল পেশ করেছেন; কারণ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শব্দের চেয়ে এর অর্থের গভীরতা বিশ্লেষণ করা। অতঃপর তিনি সেখানে তাঁর এই কবিতাটি উদ্ধৃতি হিসেবে পেশ করেন:

যদি আমরা তাকীদ বা গুরুত্ব প্রদানকে অক্ষমতার লক্ষণ মনে করতাম … তবে আমরা আযানের সাথে তাসউইব (সালাতের আহ্বান) যুক্ত করতাম না [বাহরুল খাফিফ]

আর তুমি গোঁড়ামি পরিহার করো; কেননা এটি একটি নিন্দনীয় স্বভাব এবং এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ))" (৭)।

--------------------------------------------

(১) আল-আগানি: [১৬/ ৩৮৩]।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা: [১১/ ৬৪]।

(৩) কিফায়াতুত তালিব ফি নাকদি কালামিশ শাইর ওয়াল কাতিব: ১৩১-১৩২।

(৪) আল-আগানির লেখক তাঁর এই উক্তিটি উল্লেখ করেছেন: "আবু তামাম এক হিজড়ার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে অন্য একজনকে বলছিল: 'আমি গতকাল তোমার কাছে এসেছিলাম, কিন্তু তুমি আমার সাথে দেখা করোনি।' তখন আবু তামাম তাকে বললেন: 'আকাশ যখন মেঘাচ্ছন্ন হয় তখনই তার বৃষ্টির আশা করা যায়।' আমি আবু তামামের মুখ দেখে বুঝতে পারলাম যে তিনি এই ভাবটি তাঁর কবিতায় যুক্ত করার জন্য গ্রহণ করেছেন; এর কয়েক দিন পরেই আমি তাঁর এই কবিতাটি শুনতে পেলাম:

আপনার অন্তরাল আমার আশাকে আপনার থেকে বিমুখ করতে পারে না … আকাশ তো তখনই প্রত্যাশা জাগায় যখন তা মেঘে ঢেকে যায়" [১৬/ ৬৯৩]।

(৫) আল-আগানি: [১৬/ ৩৮৪]।

(৬) তিনি আল-মুবররাদ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদকে বুঝিয়েছেন, যিনি ভাষা, ব্যাকরণ ও ইতিহাসের ইমাম ছিলেন এবং ২৮৫ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু হয়।

(৭) আল-খাসাইস: [১/ ২৪]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد كان البحتري يرفع من شأن أبي تمام، ويقدمه على نفسه ويقول: ((ما أكلت الخبز إلا به، وإني تابع له)) (1).

وكان الصولي من المتيمين بأبي تمام؛ فقال فيه: ((كان واحد عصره في ديباجة لفظه، وفصاحة شعره)) (2). وقال: ((إن أبا تمام أشعر أهل زمانه)) (3). وقال: ((إن أبا تمام اخترم، وما استمتع بخاطره، ولا نزح ركي فكره، حتى انقطع رشاء عمره)) (4). وقال له ذات مرة: ((يا أبا تمام، أمراء الكلام رعية لإحسانك)) (5).

وقال عمارة بن عقيل بن بلال بن جرير الشاعر الأموي المشهور بعد استماعه لقصيدة لأبي تمام: ((كمل والله، لئن كان الشعر بجودة اللفظ، وحسن المعاني، واطراد المراد، واتساق الكلام، فإن صاحبكم هذا أشعر الناس)) (6).

وذكر كارل بروكلمان أن ((أبا الفرج الأصفهاني سماه أمير الشعراء، وأشاد أحمد زكي أبوشادي في كتابه: ((فوق العباب)) بقوة شاعريته، وأبدى أسفه لعدم بذل العناية الواجبة في الكشف عن نواحي عبقريته)) (7).

وكان ابن خلدون يشير إلى أهمية شعر أبي تمام لمن يروم تعلم اللسان العربي (8).

وثار جدل في أمره وأمر المتنبي أيهما أشعر، فـ ((الأذكياء على أن المتنبي أشعر، والشيخ أثير الدين مذهبه أن أبا تمام أشعر؛ فلوعُمِّر عمر المتنبي، وتأخر زمانه حتي يرى أقوال من تقدمه كان أشعر من المتنبي؛ لأن المتنبي تقدمه فحول

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء: [11/ 65].

(2) سير أعلام النبلاء: [11/ 68].

(3) الأغاني: [16/ 384].

(4) الأغاني: [16/ 384].

(5) الأغاني: [16/ 384].

(6) الأغاني: [16/ 385].

(7) تاريخ الآداب العربية: [2/ 73 ـ 74]، (ترجمة د. عبد الحليم النجار، دار المعارف).

(8) المقدمة: لعبد الرحمن بن خلدون [3/ 1169]، (تحقيق د. علي عبد الواحد وافي، مكتبة الأسرة 2006)
বুহতুরি আবু তাম্মামের মর্যাদাকে উচ্চে তুলে ধরতেন এবং তাঁকে নিজের চেয়ে অগ্রগণ্য মনে করতেন। তিনি বলতেন: "আমি কেবল তাঁর মাধ্যমেই রুটি খেয়েছি (অর্থাৎ তাঁর পথ অনুসরণ করেই জীবিকা পেয়েছি), আর আমি তাঁরই একজন অনুসারী" (১)।

সুলি ছিলেন আবু তাম্মামের একনিষ্ঠ ভক্তদের একজন; তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি তাঁর শব্দের অলঙ্করণ এবং কাব্যের প্রাঞ্জলতায় নিজ যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন" (২)। তিনি আরও বলেছেন: "আবু তাম্মাম ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে বড় কবি" (৩)। তিনি বলেছেন: "আবু তাম্মাম অকালে মৃত্যুবরণ করেন; তিনি না পেরেছিলেন তাঁর প্রতিভার পূর্ণ স্বাদ নিতে, আর না নিঃশেষ হয়েছিল তাঁর চিন্তার কূয়া, তার আগেই তাঁর জীবনের রশি ছিঁড়ে যায়" (৪)। তিনি একদা তাঁকে বলেছিলেন: "হে আবু তাম্মাম, বাণীর অধিপতিগণ আপনার শ্রেষ্ঠত্বের অনুগত প্রজা" (৫)।

বিখ্যাত উমাইয়া কবি উমারা ইবনে আকিল ইবনে বিলাল ইবনে জারির আবু তাম্মামের একটি কাসিদা শোনার পর বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, এটি পূর্ণাঙ্গ! যদি কাব্য শব্দের উৎকর্ষ, অর্থের সৌন্দর্য, উদ্দেশ্যের ধারাবাহিকতা এবং বাণীর সুসংগতির নাম হয়, তবে তোমাদের এই সাথী মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি" (৬)।

কার্ল ব্রোকেলম্যান উল্লেখ করেছেন যে, "আবুল ফারাজ আল-ইসফাহানি তাঁকে 'আমিরুশ শুআরা' (কবিদের আমির) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর আহমদ জাকি আবু শাদি তাঁর 'ফাউকাল আবাব' গ্রন্থে আবু তাম্মামের কবিত্ব শক্তির প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর প্রতিভার দিকগুলো উন্মোচনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব প্রদান না করায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন" (৭)।

ইবনে খালদুন আরবি ভাষা শিখতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য আবু তাম্মামের কবিতার গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করতেন (৮)।

তাঁকে এবং মুতানাব্বিকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল যে, তাঁদের মধ্যে কে বড় কবি? "বুদ্ধিমানদের মতে মুতানাব্বি বড় কবি, কিন্তু শায়খ আসিরুদ্দিনের মত হলো আবু তাম্মাম বড় কবি। কারণ, আবু তাম্মাম যদি মুতানাব্বির সমান আয়ু পেতেন এবং তাঁর সময়কাল যদি পিছিয়ে যেত যাতে তিনি পূর্বসূরিদের বক্তব্য দেখতে পারতেন, তবে তিনি মুতানাব্বির চেয়েও বড় কবি হতেন। কারণ মুতানাব্বির আগে শক্তিশালী কবিগণ...

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা: [১১/ ৬৫]।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা: [১১/ ৬৮]।

(৩) আল-আগানি: [১৬/ ৩৮৪]।

(৪) আল-আগানি: [১৬/ ৩৮৪]।

(৫) আল-আগানি: [১৬/ ৩৮৪]।

(৬) আল-আগানি: [১৬/ ৩৮৫]।

(৭) তারিখুল আদাবিল আরাবি: [২/ ৭৩-৭৪], (অনুবাদ: ড. আবদুল হালিম আন-নাজ্জার, দারুল মাআরিফ)।

(৮) আল-মুকাদ্দিমাহ: আবদুর রহমান ইবনে খালদুন [৩/ ১১৬৯], (সম্পাদনা: ড. আলী আবদুল ওয়াহিদ ওয়াফি, মাকতাবাতুল উসরা ২০০৬)
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الشعراء، مثل: أبي تمام، والبحتري، وابن الرومي، وابن المعتز، وأمثالهم؛ فأخذ محاسنهم، ورأى أنموذج جيدهم؛ فنسج على ذلك المنوال)) (1).

 

‌‌(3) مذهبه في الشعر:

يقر كثير من الأدباء والشعراء أن أبا تمام كان صاحب ((مذهب)) في الشعر (2)، وأنه قد كانت له ((فلسفة حسنة، ومذهب ليس على مذاهب الشعراء)) (3)، قال ابن خلدون: ((وأول من أحكم الطريقة حبيب بن أوس والبحتري، فقد كانا مولعين بالصنعة، ويأتون منها بالعجب)) (4)، وتتمثل بعض جوانب هذا المذهب وتلك الصنعة في ((أن أبا تمام أخذ نفسه باستعمال البديع، وأكثر منه؛ فجاء بالنادر والمستكره، وهذا معلوم من مذاهبه في أشعاره)) (5). وأكثر أبوتمام من صور البديع إلى درجة الإسراف؛ ويروى أن يعقوب الكندي لما رأى كد أبي تمام ذهنه في تحلية شعره بالمعاني والبديع قال فيه: ((هذا رجل يموت قبل حينه؛ لأنه حمل على كيانه بالفكر)) (6).

وأنكر الجرجاني في أسرار البلاغة، والمرزباني في الموشح على أبي تمام كثرة استعمال الغريب المصدود عنه من الكلمات وأسماء الأمكنة (7)، ونقل ((ابن قتيبة (في عيون الأخبار 2/ 165) أن أبا تمام هجا يوسف السراج المصري باستعمال الغريب

--------------------------------------------

(1) الوافي بالوفيات: صلاح الدين خليل بن أيبك الصفدي [11/ 298]، (تحقيق إبراهيم شبوح، ط1 بيروت 2004

(2) الأغاني: [14/ 51]، (تحقيق: أحمد زكي صفوت)، وقال الأصفهاني أيضا: ((وله مذهب في المطابق، وهو كالسابق إليه جميع الشعراء، وإن كانوا قد فتحوه قبله، وقالوا القليل منه؛ فإن له فضل الإكثار فيه، والسلوك في جميع طرقه)) [16/ 383].

(3) ديوان أبي تمام: [1/ 157]، الهامش (وهذا قول الآمدي فيه).

(4) المقدمة: [3/ 1174 ـ1175].

(5) ديوان أبي تمام: [2/ 90]، الهامش (والكلام هنا لابن المستوفي).

(6) تاريخ الآداب العربية: كارل بروكلمان، [2/ 73].

(7) تاريخ الآداب العربية: كارل بروكلمان، [2/ 73].
কবিগণ, যেমন: আবু তাম্মাম, আল-বুহতুতি, ইবনুর রুমি, ইবনুল মুতায এবং তাঁদের সমগোত্রীয়গণ; তিনি তাঁদের সৌন্দর্য গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠ নমুনা প্রত্যক্ষ করেছেন; অতঃপর সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে অগ্রসর হয়েছেন)) (১)।

 

‌‌(৩) কাব্যে তাঁর রীতি:

বহু সাহিত্যিক এবং কবি স্বীকার করেন যে, আবু তাম্মাম কাব্যে এক স্বতন্ত্র 'রীতির' অধিকারী ছিলেন (২), এবং তাঁর ছিল একটি 'সুন্দর দর্শন এবং এমন এক রীতি যা কবিদের সাধারণ রীতির অনুরূপ ছিল না' (৩)। ইবনে খালদুন বলেন: 'হাবীব বিন আউস এবং আল-বুহতুতিই সর্বপ্রথম এই পদ্ধতিকে সুসংহত করেন; তাঁরা উভয়েই শিল্পশৈলীর প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং এতে বিস্ময়কর সব বিষয় নিয়ে আসতেন' (৪)। এই রীতি এবং শিল্পশৈলীর কিছু দিক এতে পরিলক্ষিত হয় যে, 'আবু তাম্মাম অলঙ্কারশাস্ত্রের (বাদি') ব্যবহারে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন এবং এর আধিক্য ঘটিয়েছিলেন; ফলে তিনি দুর্লভ ও শ্রুতিকটু শব্দাবলি নিয়ে এসেছেন, আর এটি তাঁর কাব্যরীতির একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য' (৫)। আবু তাম্মাম অলঙ্কারশাস্ত্রের রূপক ব্যবহারে এতই বাড়াবাড়ি করেছিলেন যে তা অপচয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছিল; বর্ণিত আছে যে, ইয়াকুব আল-কিন্দি যখন তাঁর কবিতাকে অর্থ ও অলঙ্কারে সজ্জিত করতে আবু তাম্মামের মানসিক পরিশ্রম প্রত্যক্ষ করেন, তখন তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন: 'এই ব্যক্তি সময়ের আগেই মারা যাবেন; কারণ তিনি চিন্তার মাধ্যমে তাঁর অস্তিত্বের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন' (৬)।

জুরজানি 'আসরারুল বালাগাহ' গ্রন্থে এবং মারযুবানি 'আল-মুওয়াশশাহ' গ্রন্থে আবু তাম্মামের বর্জিত ও অপ্রচলিত শব্দাবলি এবং স্থানের নামের অত্যধিক ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন (৭)। ইবনে কুতাইবা (উয়ুনুল আখবার ২/১৬৫ গ্রন্থে) বর্ণনা করেছেন যে, আবু তাম্মাম অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহার করে মিসরীয় ইউসুফ আস-সাররাজকে ব্যঙ্গ করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত: সালাহউদ্দীন খলীল বিন আইবাক আস-সাফাদি [১১/২৯৮], (সম্পাদনা: ইবরাহিম শাব্বুহ, ১ম সংস্করণ বৈরুত ২০০৪)।

(২) আল-আগানি: [১৪/৫১], (সম্পাদনা: আহমাদ জাকি সাফওয়াত)। আল-আসফাহানি আরও বলেন: 'মুতাবিক (শব্দালঙ্কার) ব্যবহারে তাঁর নিজস্ব রীতি ছিল, এবং এক্ষেত্রে তিনি সকল কবির অগ্রগামী ছিলেন; যদিও তাঁরা তাঁর পূর্বে এর সূচনা করেছিলেন এবং সামান্য ব্যবহার করেছিলেন, তবে এতে আধিক্য এবং এর প্রতিটি পথ অবলম্বনে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব অনস্বীকার্য' [১৬/৩৮৩]।

(৩) দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [১/১৫৭], টীকা (এটি তাঁর সম্পর্কে আল-আমাদির উক্তি)।

(৪) আল-মুকাদ্দিমাহ: [৩/১১৭৪-১১৭৫]।

(৫) দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [২/৯০], টীকা (এখানে বক্তব্যটি ইবনুল মুস্তাউফির)।

(৬) তারিখুল আদাবিল আরাবি (আরবি সাহিত্যের ইতিহাস): কার্ল ব্রোকলম্যান, [২/৭৩]।

(৭) তারিখুল আদাবিল আরাবি (আরবি সাহিত্যের ইতিহাস): কার্ল ব্রোকলম্যান, [২/৭৩]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
في غير موضعه، حتى إن زهيرا لونبش عنه المقابر لصرخ بالعويل والنحيب، وأن كلامه أقرب إلى تفسير بُقْرَاط الطبيب منه إلى الشعر؛ (…) وأبوتمام بلغ به نبو الذوق أن وصف حبيبته بصفات لم يجتمع أمثالها في موطن لولا صفات في كتاب الباه)) (1).

ونرى أن ما اتُّهم به أبوتمام، وأخذه عليه النقاد من استعماله للبديع، واستعماله الغريب المصدود عنه من الكلمات والأسماء والأمكنة كان فيه الخير الكثير للغة؛ فقد اضطر الشارحون للديوان إلى تجنيد كل ثقافتهم، لا أقول اللغوية فقط بل الفقهية والفلسفية والتاريخية والجغرافية والصوتية والنباتية والبلاغية لشرح شعر أبي تمام؛ ففازت اللغة بشروح قيمة مفيدة وممتعة، والمتأمل في الشروح اللغوية للديوان يخرج بمادة صرفية ونحوية ودلالية قيمة.

 

‌‌(4) مؤلفاته:

حينما انتشرت نزعة التجديد في الشعر على عهد العباسيين؛ تغير ذوق الأدباء؛ فلم يعد أحد يطيق الصبر على قراءة القصائد الطوال، بل اكتفوا بتذوق القطع المختارة؛ فظهرت اختيارات كثيرة لتلبية هذه الرغبة، مرتبة على معاني الشعر، وأقدم هذه الاختيارات ما جمعه أبو تمام. واقتصر اختياره على شعراء الجاهلية وصدر الإسلام (2). وهذه الاختيارات ـ المعروفة الآن بكتاب الحماسة ـ هي

((السبب الأساسي في مجد أبي تمام وشهرته، حتى قال شارحه التبريزي: إن أبا تمام في حماسته أشعر منه في شعره)) (3). وجمع منافس أبي تمام البحتري (المتوفي 284هـ) مختارت سميت أيضا الحماسة ((ولم تنل حماسة البحتري هذه من الذيوع والنجاح ما نالته حماسة أبي تمام)) (4).

ويذكر الذهبي أن له أيضا كتاب ((فحول الشعراء)) (5).

--------------------------------------------

(1) هذا الاقتباس بتخريجه نقلا عن كارل بروكلمان: [2/ 73].

(2) تاريخ الآداب العربية: كارل بروكلمان، [2/ 77].

(3) تاريخ الآداب العربية: كارل بروكلمان، [2/ 71 ـ 72].

(4) تاريخ الآداب العربية: كارل بروكلمان، [1/ 81].

(5) سير أعلام النبلاء: [11/ 68].
অনুপযুক্ত স্থানে, এমনকি জুহাইরকে যদি কবর থেকে পুনরুত্থিত করা হতো তবে তিনি উচ্চস্বরে বিলাপ ও আর্তনাদ করতেন। তাঁর কথাবার্তা কবিতার চেয়ে বরং চিকিৎসক হিপোক্রেটসের ব্যাখ্যার কাছাকাছি; (...) আর আবু তামামের রুচির বিচ্যুতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তিনি তাঁর প্রেয়সীকে এমন সব গুণে ভূষিত করেছেন যা 'কিতাবুল বাহ' (যৌনতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থ) এর বর্ণনা ছাড়া অন্য কোথাও একত্রিত হওয়া সম্ভব নয় (১)।

আমরা মনে করি, আবু তামামের বিরুদ্ধে অলঙ্কার শাস্ত্রের (বাদি') অতিব্যবহার এবং ত্যাজ্য ও অপরিচিত শব্দ, নাম ও স্থানের ব্যবহারের যে অভিযোগ সমালোচকরা তুলেছেন, তাতে ভাষার অনেক কল্যাণ সাধিত হয়েছে। কারণ দিওয়ানের ব্যাখ্যাকারগণ আবু তামামের কবিতা ব্যাখ্যার জন্য তাঁদের সমস্ত পাণ্ডিত্য নিয়োগ করতে বাধ্য হয়েছেন; আমি কেবল ভাষাগত পাণ্ডিত্যের কথা বলছি না, বরং ফিকহশাস্ত্রীয়, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, ধ্বনিতত্ত্বীয়, উদ্ভিদবিদ্যা বিষয়ক এবং অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পাণ্ডিত্যও এতে অন্তর্ভুক্ত। ফলে ভাষা মূল্যবান, উপকারী ও উপভোগ্য ব্যাখ্যাসমূহ লাভ করেছে। আর দিওয়ানের ভাষাগত ব্যাখ্যাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে শব্দতত্ত্ব (সরফ), বাক্যতত্ত্ব (নাহু) ও অর্থতত্ত্ব (দালালাহ) বিষয়ক মূল্যবান উপাদান পাওয়া যায়।

 

‌‌(৪) তাঁর রচনাবলি:

আব্বাসীয় যুগে যখন কবিতায় আধুনিকতার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন সাহিত্যিকদের রুচি পরিবর্তিত হয়। কেউ আর দীর্ঘ কাসিদা পড়ার ধৈর্য রাখত না, বরং তারা নির্বাচিত অংশ আস্বাদন করেই সন্তুষ্ট থাকত। ফলে এই চাহিদা মেটানোর জন্য কবিতার বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত অনেক সংকলন প্রকাশিত হয়। এই সংকলনগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম হলো যা আবু তামাম সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর এই চয়ন জাহিলী যুগ এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগের কবিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল (২)। এই সংকলনটিই—যা বর্তমানে 'কিতাবুল হামাসাহ' নামে পরিচিত—হলো

((আবু তামামের মর্যাদা ও খ্যাতির মূল কারণ। এমনকি তাঁর ব্যাখ্যাকার তাবরিজি বলেছেন: আবু তামাম তাঁর হামাসাহ সংকলনে তাঁর নিজের কবিতার চেয়েও বড় কবি)) (৩)। আবু তামামের প্রতিদ্বন্দ্বী আল-বুহতুড়িও (মৃত্যু ২৮৪ হিজরি) একটি সংকলন সংগ্রহ করেছিলেন যার নামও দেওয়া হয়েছিল হামাসাহ। ((তবে আল-বুহতুড়ির এই হামাসাহ আবু তামামের হামাসাহর মতো প্রসার ও সফলতা লাভ করতে পারেনি)) (৪)।

ইমাম আয-যাহাবি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর 'ফুহুলুশ শুআরা' নামেও একটি গ্রন্থ রয়েছে (৫)।

--------------------------------------------

(১) এই উদ্ধৃতিটি এর তথ্যসূত্রসহ কার্ল ব্রোকলম্যানের বরাত দিয়ে বর্ণিত: [২/ ৭৩]।

(২) তারিখুল আদাবিল আরাবি: কার্ল ব্রোকলম্যান, [২/ ৭৭]।

(৩) তারিখুল আদাবিল আরাবি: কার্ল ব্রোকলম্যান, [২/ ৭১-৭২]।

(৪) তারিখুল আদাবিল আরাবি: কার্ল ব্রোকলম্যান, [১/ ৮১]।

(৫) সিয়ারু আলামিন নুবালা: [১১/ ৬৮]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌(5) وفاته:

تشير بعض المصادر إلى أن أبا تمام مات وهولم يتجاوز الأربعين بعد (1)، ونقل الذهبي أنه قيل: عاش نيفا وأربعين سنة (2). ومات في ((جمادى الأولى سنة إحدى وثلاثين ومائتين، وقال مخلد الموصلي: مات في المحرم سنة اثنتين وثلاثين ومائتين، وأما نفطوية وغيره: موته بسامراء في سنة ثمان وعشرين ومائتين)) (3). وأضاف بروكلمان: سنة 229هـ أو236هـ (4).

*********

--------------------------------------------

(1) تاريخ الآداب العربية: كارل بروكلمان، [2/ 73].

(2) سير أعلام النبلاء: [11/ 67].

(3) سير أعلام النبلاء: [11/ 67].

(4) تاريخ الآداب العربية: [2/ 72].
(৫) তাঁর মৃত্যু:

কিছু উৎস ইঙ্গিত দেয় যে, আবু তাম্মাম চল্লিশ বছর অতিক্রম করার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন (১), এবং আয-যাহাবী বর্ণনা করেছেন যে, বলা হয়ে থাকে: তিনি চল্লিশের কিছু বেশি বছর বেঁচে ছিলেন (২)। এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন ((দুইশত একত্রিশ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসে; মুখাল্লাদ আল-মাওসিলি বলেন: তিনি দুইশত বত্রিশ হিজরির মহররম মাসে মৃত্যুবরণ করেন; আর নাফতাওয়াইহ এবং অন্যান্যদের মতে: তাঁর মৃত্যু হয়েছে সামাররায় দুইশত আটাশ হিজরি সনে)) (৩)। ব্রোকলম্যান আরও যোগ করেছেন: ২২৯ হিজরি অথবা ২৩৬ হিজরি (৪)।

*********

--------------------------------------------

(১) তারিখুল আদাবিল আরাবি: কার্ল ব্রোকলম্যান, [২/ ৭৩]।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা: [১১/ ৬৭]।

(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা: [১১/ ৬৭]।

(৪) তারিখুল আদাবিল আরাবি: [২/ ৭২]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌المبحث الثالث: ترجمة أبي العلاء.

‌‌(1) اسمه ومولده ومنشؤه:

هو: ((الشيخ العلامة، شيخ الآداب، أبوالعلاء، أحمد بن عبد الله بن سليمان ثم التَّنُوخي (1)، المعري الأعمى، اللغوي، الشاعر، صاحب التصانيف السائرة)) (2). ولد بمعرة النعمان من أعمال حلب سنة ((ثلاث وستين وثلاثمائة)) (3).

وبيت أبي العلاء من بني سليمان بن داود بن المطهر، سليل الساطع، ((وهوبيت علم وفضل ورياسة)) (4)، وفيهم يقول ابن العديم مؤرخ حلب: ((وأكثر قضاة المعرة وفضلائها وشعرائها وأدبائها من بني سليمان)) (5).

في هذا البيت الكريم الماجد، ولد أبو العلاء، ومن تلك السلالة المعرقة في الفضل والعزة والعلم والأدب تلقى ميراثه. كان عجبا في الذكاء المفرط والحافظة، لا يكاد ينسى شيئا مما يمر بسمعه (6)، وقال الشعر في حداثته.

ولما كبر أبوالعلاء، ووصل إلى سن الطلب، أخذ العربية عن قوم من بلده، كبني الكوثر، أو من يجري مجراهم من أصحاب ابن خالويه وطبقته، وقيد اللغة عن أصحاب ابن خالويه أيضا. وطمحت نفسه إلى الاستكثار من ذلك؛ فرحل إلى

--------------------------------------------

(1) تنوخ قبيلة عربية، يتصل نسبها بيعرب بن قحطان جد العرب العاربة، ويشهد المؤرخون لتنوخ بأنها كانت من أكثر العرب مناقب وحسبا. ينظر: أبوالعلاء المعري: د. عائشة عبد الرحمن، ص 8 (سلسلة أعلام العرب، رقم 38).

(2) سير أعلام النبلاء: [18/ 23 ـ 24].

(3) 973م ينظر: سير أعلام النبلاء:18/ 24، معجم الأدباء أوإرشاد الأريب لمعرفة الأديب: ياقوت الحموي [1/ 397] (ط1، دار الكتب العلمية، 1991م)، إنباه الرواة على أنباه النحاة: جمال الدين أبي الحسن علي بن يوسف القفطي، [4/ 28 ـ 29 ـ 30] (تحقيق: محمد أبوالفضل إبراهيم، ط1، دار الفكر العربي، 1986).

(4) الوافي بالوفيات: صلاح الدين خليل بن أيبك الصفدي: [7/ 96].

(5) نقلا عن: أبوالعلاء المعري: د. عائشة عبد الرحمن: ص10

(6) إنباه الرواة على أنباه النحاة: [1/ 87]، الوافي بالوفيات: [7/ 95].
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আবু আল-আলার জীবনী.

‌‌(১) তাঁর নাম, জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

তিনি হলেন: ((আল্লামা শাইখ, সাহিত্যের শাইখ, আবু আল-আলা, আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান অতঃপর আত-তানুখী (১), আল-মাআররি আল-আমা (অন্ধ), ভাষাবিদ, কবি, বহুল প্রচলিত গ্রন্থাবলির রচয়িতা)) (২)। তিনি আলেপ্পোর প্রশাসনিক এলাকার অন্তর্গত মাআররাত আন-নুমান নামক স্থানে ((তিনশ তেষট্টি)) হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন (৩)।

আর আবু আল-আলার পরিবার হলো বনু সুলাইমান ইবনে দাউদ ইবনে আল-মুতাহহারের বংশোদ্ভূত, যিনি আস-সাতি'র বংশধর। ((এটি ছিল জ্ঞান, মর্যাদা ও নেতৃত্বের এক পরিবার)) (৪), তাঁদের সম্পর্কে আলেপ্পোর ইতিহাসবিদ ইবনুল আদিম বলেন: ((মাআররাহর অধিকাংশ বিচারক, গুণীজন, কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন বনু সুলাইমান বংশের)) (৫)।

এই সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবারে আবু আল-আলা জন্মগ্রহণ করেন এবং মর্যাদা, সম্মান, জ্ঞান ও সাহিত্যের এই সুপ্রাচীন বংশধারা থেকে তিনি তাঁর উত্তরাধিকার লাভ করেন। প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও মুখস্থশক্তির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক বিস্ময়; তাঁর কানে যা পৌঁছাত তার কিছুই তিনি প্রায় ভুলতেন না (৬)। তিনি শৈশব থেকেই কবিতা রচনা শুরু করেন।

যখন আবু আল-আলা বড় হলেন এবং জ্ঞান অর্জনের বয়সে পৌঁছালেন, তখন তিনি তাঁর শহরের কিছু লোকের নিকট থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা লাভ করেন, যেমন বনু আল-কাওসার বা তাঁদের স্থলাভিষিক্ত ইবনে খালওয়াইহ-র ছাত্র ও তাঁর সমসাময়িকদের নিকট থেকে। তিনি ইবনে খালওয়াইহ-র ছাত্রদের নিকট থেকেও ভাষা সংক্রান্ত জ্ঞান লিপিবদ্ধ করেন। এরপর তাঁর মন আরও অধিক জ্ঞান অর্জনের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করল; ফলে তিনি যাত্রা করলেন...

--------------------------------------------

(১) তানূখ একটি আরব গোত্র, যার বংশধারা আরবুলারিবার (বিশুদ্ধ আরব) আদিপিতা ইয়ারুব ইবনে কাহলানের সাথে যুক্ত। ঐতিহাসিকগণ তানূখ গোত্রের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেন যে, এটি আরবদের মধ্যে অন্যতম গুণসম্পন্ন ও উচ্চ বংশীয় গোত্র ছিল। দ্রষ্টব্য: আবু আল-আলা আল-মাআররি: ড. আইশা আবদুর রহমান, পৃষ্ঠা ৮ (আলামুল আরব সিরিজ, নম্বর ৩৮)।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা: [১৮/ ২৩-২৪]।

(৩) ৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দ। দ্রষ্টব্য: সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১৮/ ২৪, মুজামুল উদাবা বা ইরশাদুল আরিব লি-মারিফাতিল আদিব: ইয়াকুত আল-হামাউই [১/ ৩৯৭] (১ম সংস্করণ, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৯৯১ খ্রি.), ইনবাহুর রুওয়াত আলা আনবাহিন নুহাত: জামালুদ্দিন আবুল হাসান আলী ইবনে ইউসুফ আল-কিফতি, [৪/ ২৮-২৯-৩০] (তাহকিক: মুহাম্মাদ আবুল ফজল ইব্রাহিম, ১ম সংস্করণ, দারুল ফিকরিল আরাবি, ১৯৮৬ খ্রি.)।

(৪) আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত: সালাহুদ্দিন খলিল ইবনে আইবাক আস-সাফাদি: [৭/ ৯৬]।

(৫) উদ্ধৃত: আবু আল-আলা আল-মাআররি: ড. আইশা আবদুর রহমান: পৃষ্ঠা ১০।

(৬) ইনবাহুর রুওয়াত আলা আনবাহিন নুহাত: [১/ ৮৭], আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত: [৭/ ৯৫]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
طرابلس الشام، وكانت بها خزائن الكتب قد وقفها ذوواليسار من أهلها (1)، ثم رحل إلى بغداد سنة ثمان وتسعين وثلاثمائة، أقام بها سنة وسبعة أشهر، ثم رجع إلى بلده؛ فأقام ولزم منزله إلى أن مات (2).

 

‌‌(2) مكانته وفضله:

كان غزير الفضل، شائع الذكر، وافر العلم، غاية في الفهم، عالما باللغة، حاذقا بالنحو، جيد الشعر، جزل الكلام، شهرته تغني عن صفته، وفضله ينطق بسجيته (3)، قال الإمام الذهبي: ((ولو تكسب بالمديح؛ لحصَّلَ مالا ودنيا؛ فإن نظمه في الذروة، يعد مع المتنبي والبحتري)) (4).

وقال الباخرزي [في دمية القصر]: ((أبوالعلاء ضرير ما له ضريب، ومكفوف في قميص الفضل ملفوف، ومحجوب خصمه الألد محجوج، قد طال في ظل الإسلام آناؤه، ولكن ربما رشح بالإلحاد إناؤه، وعندنا خبر بصره، والله العالم ببصيرته والمطلع على سريرته)) (5).

ولما عاد إلى المعرة في سنة أربعمائة لازم منزله، وشرع في التصنيف، وأخذ عنه الناس، وسار إليه الطلبة من الآفاق (…) وكاتبه العلماء والوزراء والفضلاء، وأهل الأقدار، واختاروا عليه التصنيفات؛ ففعل، وكان نادرة زمانه (6).

كان يملي تصانيفه على الطلبة من صدره، وقال فيه تلميذه التبريزي: ((أفضل من قرأت عليه أبوالعلاء)) (7).

 

‌‌(3) ثقافته وعلمه:

--------------------------------------------

(1) إنباه الرواة على أنباه النحاة: [1/ 84].

(2) معجم الأدباء: [1/ 405].

(3) معجم الأدباء: [1/ 405].

(4) سير أعلام النبلاء: [18/ 25].

(5) نقلا عن سير أعلام النبلاء: [18/ 27].

(6) إنباه الرواة على أنباه النحاة: [1/ 86].

(7) سير أعلام النبلاء: [18/ 27ـ 33].
সিরিয়ার ত্রিপোলি, সেখানে কুতুবখানা বা গ্রন্থাগার ছিল যা সেখানকার বিত্তবানরা ওয়াকফ করেছিলেন (১), তারপর তিনি ৩৯৮ হিজরি সনে বাগদাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, সেখানে এক বছর সাত মাস অবস্থান করেন, অতঃপর নিজ শহরে ফিরে আসেন; সেখানে তিনি মৃত্যু পর্যন্ত নিজ গৃহে অবস্থান করেন (২)।

 

‌‌(২) তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব:

তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুণী, সুপরিচিত, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, প্রজ্ঞায় অনন্য, ভাষাবিদ, নাহু শাস্ত্রে পারদর্শী, চমৎকার কবি এবং বাকপটু। তাঁর প্রসিদ্ধিই তাঁর গুণের পরিচায়ক এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের কথা বলে (৩)। ইমাম যাহাবি বলেন: "তিনি যদি স্তুতিবাক্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে চাইতেন, তবে প্রচুর ধন-সম্পদ ও পার্থিব প্রতিপত্তি অর্জন করতে পারতেন; কেননা তাঁর কাব্যকলা ছিল অনন্য উচ্চতায়, যা মুতানাব্বি ও বুহতুরির সমতুল্য হিসেবে গণ্য হয়" (৪)।

বাখারজি [দুময়াতুল কাসর গ্রন্থে] বলেন: "আবু আল-আলা ছিলেন এক অনন্য দৃষ্টিহীন ব্যক্তিত্ব, ফযিলত বা শ্রেষ্ঠত্বের আবরণে আবৃত এক অন্ধ ব্যক্তি; তিনি এমন এক অন্তরালবাসী যার কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বীরাও পরাস্ত। ইসলামের ছায়াতলে তাঁর সময় দীর্ঘ হয়েছে, তবে কখনও কখনও তাঁর পাত্র থেকে নাস্তিকতার নিঃসরণ ঘটেছে। আমাদের কাছে তাঁর বাহ্যিক দৃষ্টির খবর আছে, তবে আল্লাহই তাঁর অন্তর্দৃষ্টি সম্পর্কে ভালো জানেন এবং তাঁর গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত" (৫)।

যখন তিনি ৪০০ হিজরি সনে মা'আররায় ফিরে আসেন, তিনি নিজ গৃহে অবস্থান শুরু করেন এবং গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। মানুষ তাঁর কাছ থেকে ইলম অর্জন করতে শুরু করে এবং দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে আসতে থাকে (…) আলিম, উজির, গুণীজন এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাঁর কাছে পত্র পাঠাতেন এবং তাঁর কাছে বিভিন্ন গ্রন্থ রচনার অনুরোধ জানাতেন; তিনি তা পালন করতেন। তিনি ছিলেন তাঁর যুগের এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব (৬)।

তিনি তাঁর মুখস্থ থেকে শিক্ষার্থীদের নিকট তাঁর গ্রন্থগুলো বর্ণনা করতেন। তাঁর ছাত্র তাবরিজি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "আমি যাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছি, তাঁদের মধ্যে আবু আল-আলা ছিলেন শ্রেষ্ঠতম" (৭)।

 

‌‌(৩) তাঁর সংস্কৃতি ও জ্ঞান:

--------------------------------------------

(১) ইনবাহুর রুওয়াত আলা আনবাহিন নুহাত: [১/ ৮৪]।

(২) মু'জামুল উদাবা: [১/ ৪০৫]।

(৩) মু'জামুল উদাবা: [১/ ৪০৫]।

(৪) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: [১৮/ ২৫]।

(৫) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা থেকে উদ্ধৃত: [১৮/ ২৭]।

(৬) ইনবাহুর রুওয়াত আলা আনবাহিন নুহাত: [১/ ৮৬]।

(৭) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: [১৮/ ২৭-৩৩]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌(أ) إجادته للغة:

كان أبوالعلاء عالما باللغة حافظا لها، أخذ اللغة عن أبيه، وعن قوم من بلده، كبني الكوثر، أو من يجري مجراهم من أصحاب ابن خالويه وطبقته، وكان عنده من الطلبة من يطالع له التصانيف الأدبية، لغة وشعرا وغير ذلك (1)؛ وكان نتيجة كل هذا أن كان إليه ((المنتهى في حفظ اللغات)) (2)، قال عنه ياقوت: ((كان عالما باللغة، حاذقا بالنحو)) (3)، وقال صاحب الوافي بالوفيات: ((كان اطلاعه على اللغة وشواهدها أمرا باهرا)) (4).

وأورد صاحب إنباه الرواه أن الخطيب التبريزي قرأ نسخة من كتاب

((إصلاح المنطق)) على أبي العلاء، وطالبه بسنده متصلا؛ فقال أبوالعلاء: ((إن أردت الدراية فخذ عني ولا تتعد، وإن قصدت الرواية فعليك بما عند غيري))، ويعلق صاحب الإنباه على هذا بقوله: ((وهذا القول من أبي العلاء يُشعر أنه قد وجد من نفسه قوة على تصحيح اللغة، كما وجدها ابن السكيت مصنف الإصلاح، وربما أحس من نفسه أوفر من ذلك؛ لأن ابن السكيت لم يصادف اللغة منقحة مؤلفة، قد تداولها العلماء قبله، وصنفوا فيها وأكثروا، كما وجدها أبوالعلاء في زمانه)) (5)

وقد بلغ من مكانة أبي العلاء في اللغة أنه كان يصحح بعض الأخطاء التي وقع فيها بعض الأعلام؛ يروي صاحب ((التنبيه)) على الأمالي أن أبا على القالي أنشد:

وَإِذا دَعَت قمريّةٌ شجنًا لها … [بحر الكامل]

فقال صاحب ((التنبيه)):

--------------------------------------------

(1) إنباه الرواة على أنباه النحاة: [1/ 87].

(2) سير أعلام النبلاء: [18/ 25].

(3) معجم الأدباء: [1/ 397].

(4) الوافي بالوفيات: [7/ 96].

(5) إنباه الرواة على أنباه النحاة: [1/ 104].
(ক) তার ভাষাগত দক্ষতা:

আবু আল-আলা ছিলেন ভাষার একজন পণ্ডিত ও হাফেজ (ভাষাজ্ঞানে বিশেষ দক্ষ)। তিনি তার পিতা এবং তার অঞ্চলের কিছু লোক যেমন বনী আল-কাওসার বা তাদের সমপর্যায়ের ইবনে খালুওয়াইহ-এর শিষ্য ও তার সমসাময়িকদের নিকট থেকে ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। তার নিকট এমন কিছু ছাত্র ছিল যারা তার জন্য ভাষা, কবিতা ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর রচিত সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থসমূহ পাঠ করত (১); আর এসবের চূড়ান্ত ফলাফল এই ছিল যে, তিনি ভাষা সংরক্ষণে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন (২)। ইয়াকুত তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ভাষার একজন আলেম এবং ব্যাকরণে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন" (৩)। 'আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফিয়াত'-এর লেখক বলেছেন: "ভাষা এবং এর কাব্যিক উপমা বা প্রমাণের (শাওয়াহিদ) ওপর তার দখল ছিল বিস্ময়কর" (৪)।

'ইনবাহ আল-রুয়াত'-এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, আল-খতিব আল-তবরীজি আবু আল-আলার কাছে 'ইসলাহ আল-মানতিক' গ্রন্থের একটি অনুলিপি পাঠ করেন এবং তার নিকট একটি নিরবচ্ছিন্ন সনদ (সূত্র) প্রার্থনা করেন। তখন আবু আল-আলা বলেন: "যদি তুমি তত্ত্বগত জ্ঞান বা বুৎপত্তি (দিরায়াহ) অর্জন করতে চাও তবে আমার থেকে গ্রহণ কর এবং অন্যদিকে যেও না; আর যদি তুমি কেবল বর্ণনার (রিওয়ায়াহ) উদ্দেশ্য রাখ তবে অন্যের নিকট যা আছে তা তালাশ কর।" 'ইনবাহ' গ্রন্থের লেখক এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: "আবু আল-আলার এই উক্তিটি ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি ভাষা সংশোধনের ক্ষেত্রে নিজের মাঝে এমন সক্ষমতা পেয়েছিলেন, যেমনটি 'ইসলাহ' গ্রন্থের প্রণেতা ইবনে আল-সিক্কিত নিজের মাঝে পেয়েছিলেন। সম্ভবত তিনি নিজের মাঝে তার চেয়েও বেশি সক্ষমতা অনুভব করেছিলেন; কারণ ইবনে আল-সিক্কিত তার সময় ভাষাকে এমন পরিমার্জিত ও সুবিন্যস্ত অবস্থায় পাননি যা তার পূর্ববর্তী আলেমগণ চর্চা করেছেন বা গ্রন্থাকারে লিখে গেছেন, যেভাবে আবু আল-আলা তার সময়ে তা পেয়েছিলেন" (৫)।

ভাষা সাহিত্যে আবু আল-আলার মর্যাদা এতটাই সুউচ্চ ছিল যে, তিনি বড় বড় পণ্ডিতদের কৃত কিছু ভুলও সংশোধন করতেন। 'আত-তানবিহ আলাল আমালি'-এর লেখক বর্ণনা করেন যে, আবু আলী আল-কালী আবৃত্তি করেছেন:

আর যখন ঘুঘু তার দুঃখের সাথে ডাক দেয় ... [কামিল ছন্দ]

অতঃপর 'আত-তানবিহ'-এর লেখক বলেন:

--------------------------------------------

(১) ইনবাহ আল-রুয়াত আলা আনবাহ আল-নুহাত: [১/ ৮৭]।

(২) সিয়ার আ'লাম আন-নুবালা: [১৮/ ২৫]।

(৩) মু'জাম আল-উদাবা: [১/ ৩৯৭]।

(৪) আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফিয়াত: [৭/ ৯৬]।

(৫) ইনবাহ আল-রুয়াত আলা আনবাহ আল-নুহাত: [১/ ১০৪]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
((.. وكذلك أنشده أبوتمام رحمه الله في اختياراته، وأخبرني غير واحد عن أبي العلاء رحمه الله أنه كان يرد هذه الرواية ويقول: إنها تصحيف وكان ينشده:

وإذا دعت قمرية شجِبًا لها

بكسر الجيم والباء بعدها؛ يعني: فرخها الهالك، وهوالهديل، وأخلق بهذا القول أن يكون صحيحا؛ والحق أحق أن يتبع)) (1).

ومما ورد في نقده لكبار علماء اللغة نقده للخليل نفسه، حيث قال: ((وفي كتاب ((العين)) أن: ((النعمان)) الدم، وأن الشقائق مضافة إليه، وليس بشيء)) (2).

 

‌‌(ب) ثقافته الموسوعية:

إذا حاولنا أن نتتبع ثقافة أبي العلاء بشيء من الإجمال من خلال دراسة الباحث لشرحه على الديوان نفسه فإننا يمكن أن نقول:

كان أبوالعلاء يعلم أي الأساليب النحوية والصيغ صرفية شائع في كلام العرب، وأيها غير شائع، وأي التعبيرات ورد في اللغة والشعر، وأيها لم يرد.

وبالنسبة للألفاظ كان يعلم:

• ما أصله عربي أوغير عربي.

• المبتذل منها وغير المبتذل.

• أيها أخذ منه فعل أم لا، وأيها نطق به أم لا.

• المذكر منها والمؤنث وما يغلب عليه التذكير والتأنيث.

• الفصيح من غير الفصيح.

• الألفاظ المصاحبة لألفاظ معينة دون غيرها، أو المصاحبة لسياق معين دون غيره.

ونضرب لذلك أمثلة:

--------------------------------------------

(1) التنبيه على أمالي أبي علي القالي: لأبي عبيد عبد الله بن عبد العزيز البكري، [ص87]، الجزء الثاني من الأمالي، (الذخائر، الهيئة العامة لقصور الثقافة،183).

(2) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 264ب9].
((.. আর একইভাবে আবু তামাম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর চয়নকৃত সংকলনে এটি আবৃত্তি করেছেন। একাধিক ব্যক্তি আমাকে আবুল আলা (রহিমাহুল্লাহ) থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি এই বর্ণনাটিকে প্রত্যাখ্যান করতেন এবং বলতেন: এটি একটি লেখনীর ভুল (তাসহিফ)। তিনি এভাবে আবৃত্তি করতেন:

অতঃপর যখন এক কপোতী তার বিলাপকারী শাবককে ডাকল

জিম বর্ণে কাসরা (জের) এবং এরপর বা বর্ণ সহকারে; অর্থাৎ: তার মৃত ছানা, আর তা হলো হদিল। এই কথাটিই সঠিক হওয়ার অধিক যোগ্য; আর সত্যই অনুসরণের অধিক হকদার)) (১)।

ভাষাতত্ত্বের প্রথিতযশা আলেমদের প্রতি তাঁর সমালোচনার মধ্যে খোদ খলিলের প্রতি তাঁর সমালোচনাও অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তিনি বলেছেন: ((আর "আল-আইন" কিতাবে রয়েছে যে: "আন-নুমান" অর্থ রক্ত, এবং "আশ-শাকাইক" শব্দটি এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত, অথচ এটি কোনো সঠিক কথা নয়)) (২)।

 

‌‌(খ) তাঁর বিশ্বকোষীয় পাণ্ডিত্য:

গবেষক কর্তৃক দেওয়ানের ওপর আবুল আলার নিজ ব্যাখ্যা পর্যালোচনার মাধ্যমে যদি আমরা তাঁর পাণ্ডিত্যের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা অনুসরণ করার চেষ্টা করি, তবে আমরা বলতে পারি:

আবুল আলা জানতেন আরবদের কথোপকথনে ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্বের কোন পদ্ধতি ও রূপসমূহ প্রচলিত এবং কোনটি অপ্রচলিত, এবং কোন ধরণের প্রকাশভঙ্গি ভাষা ও কবিতায় বর্ণিত হয়েছে এবং কোনটি হয়নি।

শব্দাবলির ক্ষেত্রে তিনি জানতেন:

• কোনটির মূল আরবি অথবা অনারবি।

• কোনটি অতি-ব্যবহৃত এবং কোনটি তা নয়।

• কোনটি থেকে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়েছে আর কোনটি থেকে হয়নি, এবং কোনটি উচ্চারিত হয়েছে আর কোনটি হয়নি।

• কোনটি পুংলিঙ্গ এবং কোনটি স্ত্রীলিঙ্গ, আর কোনটির ক্ষেত্রে পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার আধিক্য রয়েছে।

• কোনটি প্রাঞ্জল এবং কোনটি অপ্রাঞ্জল।

• কোন শব্দগুলো অন্য কোনো বিশেষ শব্দের অনুগামী হয়, অথবা কোন বিশেষ প্রসঙ্গের সাথে যুক্ত হয়ে আসে।

আমরা এর জন্য কিছু উদাহরণ পেশ করছি:

--------------------------------------------

(১) আবু ওবায়েদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাকরি রচিত আত-তানবিহু আলা আমালি আবি আলি আল-কালি: [পৃষ্ঠা ৮৭], আমালির দ্বিতীয় খণ্ড, (আয-যাখাইর, আল-হাইয়াতুল আম্মাহ লি কুসুরিস সাকাফাহ, ১৮৩)।

(২) দ্রষ্টব্য: তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তামাম: [২/২৬৪ পৃষ্ঠা ৯]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
[1] قوله: ((وأفصح الكلام أن يقال: أرتجَ البابَ، إذا أغلقه، وقد حكى: رَتَجَ، بغير همز؛ وإذا صح أنهم قالوا: رتَجَ؛ فمُرْتَتِجٌ منه؛ لأنهم قلما يستعملون في أفعَل مُفتَعِلا)) (1).

[2] ونحوقوله: ((قال أبوالعلاء عند شرح أبي تمام:

وَأَنَّ غَيرَكَ كانَ استَنزَلَ الكَذَجا [بحر البسيط]

؛أي استنزل أهل الكذج، وهذا على حذف المضاف وهوشائع في كلامهم كثير)) (2).

[3] ونحوقوله: ((يقال: ظن أن سيكون، وظن بأن سيكون، وحذف الباء أكثر)) (3).

[4] ونحوقوله: ((وأشبه الأمر بالطائي أن يريد بـ: (الحلائب) جمع حَلْبة من الخيل، جمعها على (فعائل)، كأن الواحدة حَلِيبة؛ إلا أن ذلك غير مشهور)) (4).

[5] ((والخُبَّاث: جمع خابث، والمستعمل: خبيث)) (5).

[6] ونحوقوله: ((.. تَسحبنَا: استطالتنا؛ كأنه من السَّحْب، والتَّسحُّب كلمة مبتذلة)) (6).

[7] ونحوقوله: ((وبعض الناس يدعي أن أول من قال: (حَمِيَ الوطيس) النبي صلى الله عليه وسلم، وما أحسب هذا إلا وهمًا؛ لأن الوطيس قد كثر في الشعر القديم)) (7).

[8] ونحوقوله: (((قرطستُ عشرا): مأخوذ من قرطس الرامي في الهدف إذا أصاب القرطاس، وهذه الكلمة كالمولدة، فأما القرطاس فقد تكلموا به قديما، ويقال إن أصله غير عربي)) (8).

--------------------------------------------

(1) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 254].

(2) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 330].

(3) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 396].

(4) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 236].

(5) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 317].

(6) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 320].

(7) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 265].

(8) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [4/ 165].
[১] তার উক্তি: ((সর্বাপেক্ষা প্রাঞ্জল ভাষা হলো এটি বলা যে: ‘আর্তাজা আল-বাবা’ (তিনি দরজাটি আটকে দিয়েছেন), যখন তিনি তা বন্ধ করেন। হামযা ব্যতীত ‘রাতাজা’ শব্দটিও বর্ণিত হয়েছে; আর যদি এটি প্রমাণিত হয় যে তারা ‘রাতাজা’ বলেছে, তবে তা থেকে ‘মুরতাতিজ’ রূপটি নিষ্পন্ন হবে; কারণ তারা ‘আফ’আলা’ ছাঁচের ক্রিয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত ‘মুফতা’ইল’ রূপটি ব্যবহার করে না)) (১)।

[২] এবং তার অনুরূপ উক্তি: ((আবু তামমামের ব্যাখ্যা প্রদানকালে আবুল আ’লা বলেছেন:

এবং নিশ্চয়ই আপনি ব্যতীত অন্য কেউ কাজাজবাসীদের অবনমিত করেছিল [বাসীত ছন্দ]

অর্থাৎ কাজাজ অঞ্চলের অধিবাসীদের অবনমিত করেছিল। এটি ‘মুদাফ’ (সম্বন্ধপদ) বিলুপ্ত করার ভিত্তিতে হয়েছে, যা তাদের ভাষায় অত্যন্ত প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত)) (২)।

[৩] এবং তার অনুরূপ উক্তি: ((বলা হয়: ‘জান্না আন সায়াকুনা’ এবং ‘জান্না বি-আন সায়াকুনা’, তবে ‘বা’ হরফটি বিলুপ্ত করাই অধিক প্রচলিত)) (৩)।

[৪] এবং তার অনুরূপ উক্তি: ((আল-তাঈর (আবু তামমাম) ক্ষেত্রে এটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, তিনি ‘হালাইব’ দ্বারা ঘোড়ার ‘হালবাহ’-এর বহুবচন বুঝিয়েছেন। তিনি একে ‘ফায়াইল’ ওজনে বহুবচন করেছেন, যেন এর একবচন হলো ‘হালিবাহ’; যদিও এটি খুব একটা প্রসিদ্ধ নয়)) (৪)।

[৫] ((এবং ‘খুব্বাস’ হলো ‘খাবিস’-এর বহুবচন, তবে বহুল ব্যবহৃত শব্দ হলো ‘খাবিস’)) (৫)।

[৬] এবং তার অনুরূপ উক্তি: ((.. তাসাহবুন: আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা; যেন এটি ‘সাহব’ থেকে উদ্ভূত, আর ‘তাসাহহুব’ শব্দটি একটি সাধারণ বা স্থূল শব্দ)) (৬)।

[৭] এবং তার অনুরূপ উক্তি: ((কিছু লোক দাবি করে যে, সর্বপ্রথম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘হামিয়াল ওয়াতীস’ (যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে) কথাটি বলেছিলেন। আমি একে নিছক বিভ্রম বলেই মনে করি; কারণ প্রাচীন কবিতায় ‘ওয়াতীস’ শব্দের ব্যবহার প্রচুর রয়েছে)) (৭)।

[৮] এবং তার অনুরূপ উক্তি: (((‘কারতাসতু আশরান’): এটি লক্ষ্যভেদী যখন লক্ষ্যবস্তু বা ‘কিরতাস’-এ আঘাত করে তখন ব্যবহৃত ‘কারতাসার-রামি’ থেকে গৃহীত। এই শব্দটি নব্য-উদ্ভূত শব্দের মতো, তবে ‘কিরতাস’ শব্দটি তারা প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহার করত এবং বলা হয় যে এর মূল উৎস আরবি নয়)) (৮)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ান আবু তামমাম: [২/ ২৫৪]।

(২) দেখুন: তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ান আবু তামমাম: [১/ ৩৩০]।

(৩) দেখুন: তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ান আবু তামমাম: [১/ ৩৯৬]।

(৪) দেখুন: তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ান আবু তামমাম: [২/ ২৩৬]।

(৫) দেখুন: তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ান আবু তামমাম: [১/ ৩১৭]।

(৬) দেখুন: তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ান আবু তামমাম: [১/ ৩২০]।

(৭) দেখুন: তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ান আবু তামমাম: [২/ ২৬৫]।

(৮) দেখুন: তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ান আবু তামমাম: [৪/ ১৬৫]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
[9] ونحوقوله: ((لا يوجد في الشعر القديم (إِمراته)؛ إلا أن القياس يطلق ذلك، وهذه اللفظة نادرة)) (1).

[10] ونحوقوله: (((الفأل): قد استعمله مذكرا، وقد ادعى بعض الناس أنه مؤنث، والتذكير أشهر)) (2).

[11] ونحوقوله: ((أكثر ما يستعمل في (الوقف) أحبسته فهومُحبَس، وقد حكى حبستُه، ولولم يقع له حبست في استعمال قديم لجاز على الاستعارة)) (3).

[12] ونحوقوله: (((دلوث): مثل دلاث، وهي الجريئة على السير، وقلما يقولون في صفة الناقة دَلُوث، وإنما يقولون دلاث)) (4).

[13] ونحوقوله: (((والسدس): جمع سَديس، ولا يستعمل ذلك في الخيل، ولكن في الإبل)) (5).

[14] ونحوقوله: قال أبوتمام:

لا يَطرُدُ الهَمَّ إِلّا الهَمُّ مِن رَجُلٍ … مُقَلقِلٍ لِبَناتِ القَفرَةِ النُّعُبِ [بحر البسيط]

((الهم الأول ما يجده الرجل في صدره مما يوجب رحيله، والهم الثاني: الهمة، وأصلهما واحد، إلا أنهم استعملوا الأول فيما يكره، واستعملوا الثاني فيما يحمد)) (6).

- كما كان أبو العلاء عالما بلهجات العرب واللغات المحيطة بهم:

ويمكن أن نعطي أمثلة، فنقول:

[1] قال أبوتمام:

--------------------------------------------

(1) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [4/ 327].

(2) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 50].

(3) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 257].

(4) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 325].

(5) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 227].

(6) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 111]. وينظر أيضا المواطن التالية: [1/ 314]، [1/ 326]، [1/ 347]، [1/ 350]، [1/ 370]، [1/ 54]، [1/ 75]، [1/ 94]، [2/ 170]، [2/ 176]، [2/ 240]، [2/ 26]، [2/ 295]، [2/ 329]، [2/ 383]، [3/ 14]، [3/ 43]، [3/ 59]، [3/ 68]، [4/ 353].
[৯] এবং তাঁর উক্তি: ((প্রাচীন কবিতায় 'ইমরাতিহি' (তার স্ত্রী) শব্দটির অস্তিত্ব নেই; তবে ভাষাতাত্ত্বিক যুক্তি বা কিয়াস এর অনুমতি দেয়, যদিও এই শব্দটি বিরল)) (১)।

[১০] এবং তাঁর উক্তি: (('আল-ফাল' (শুভ লক্ষণ): তিনি এটিকে পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যদিও কিছু লোক দাবি করেছেন যে এটি স্ত্রীলিঙ্গ, তবে পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করাই অধিক প্রসিদ্ধ)) (২)।

[১১] এবং তাঁর উক্তি: (('ওয়াকফ' বা উৎসর্গ করার ক্ষেত্রে অধিক ব্যবহৃত রূপ হলো 'আহবাসতুহু' (আমি তা আটকে রেখেছি বা উৎসর্গ করেছি), ফলে সেটি 'মুহবাস' (উৎসর্গীকৃত)। তিনি 'হাবাসতুহু' শব্দটিও বর্ণনা করেছেন। যদি প্রাচীন কোনো প্রয়োগে 'হাবাসতু' না পাওয়া যেত, তবে রূপক হিসেবে এর ব্যবহার বৈধ হতো)) (৩)।

[১২] এবং তাঁর উক্তি: (('দালুস': এটি 'দালাস' এর মতো, যার অর্থ চলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাহসী বা দ্রুতগামী। উষ্ট্রীর বর্ণনায় তারা খুব কমই 'দালুস' শব্দটি ব্যবহার করে, বরং তারা 'দালাস' বলে থাকে)) (৪)।

[১৩] এবং তাঁর উক্তি: (('আস-সুদুস': এটি 'সাদিস' এর বহুবচন, ঘোড়ার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নেই, তবে উটের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে)) (৫)।

[১৪] এবং তাঁর উক্তি: আবু তাম্মাম বলেন:

মানুষের দুশ্চিন্তা কেবল সেই দুশ্চিন্তাই (উদ্যম) দূর করতে পারে... যে ব্যক্তি মরুভূমির দ্রুতগামী উষ্ট্রীগুলোকে অস্থির করে তোলে [বাহরে বাসিত]

((প্রথম 'হাম' বা দুশ্চিন্তা হলো সেই কষ্ট যা মানুষ তার অন্তরে অনুভব করে যা তাকে যাত্রা করতে বাধ্য করে, আর দ্বিতীয় 'হাম' হলো 'হিম্মত' বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা। দুটির মূল উৎস এক হলেও তারা প্রথমটি অপ্রীতিকর ক্ষেত্রে এবং দ্বিতীয়টি প্রশংসনীয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে)) (৬)।

- অনুরূপভাবে আবু আল-আলা আরবদের উপভাষা এবং তাদের চারপাশের ভাষাসমূহ সম্পর্কেও বিজ্ঞ ছিলেন:

আমরা এর উদাহরণ দিতে পারি, যেমন:

[১] আবু তাম্মাম বলেন:

--------------------------------------------

(১) তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দিওয়ান দেখুন: [৪/ ৩২৭]।

(২) তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দিওয়ান দেখুন: [১/ ৫০]।

(৩) তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দিওয়ান দেখুন: [২/ ২৫৭]।

(৪) তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দিওয়ান দেখুন: [১/ ৩২৫]।

(৫) তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দিওয়ান দেখুন: [২/ ২২৭]।

(৬) তিবরিজির ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দিওয়ান দেখুন: [১/ ১১১]। আরও দেখুন নিম্নোক্ত স্থানসমূহ: [১/ ৩১৪], [১/ ৩২৬], [১/ ৩৪৭], [১/ ৩৫০], [১/ ৩৭০], [১/ ৫৪], [১/ ৭৫], [১/ ৯৪], [২/ ১৭০], [২/ ১৭৬], [২/ ২৪০], [২/ ২৬], [২/ ২৯৫], [২/ ৩২৯], [২/ ৩৮৩], [৩/ ১৪], [৩/ ৪৩], [৩/ ৫৯], [৩/ ৬৮], [৪/ ৩৫৩]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
عَطايا هِيَ الأَنواءُ إِلّا عَلامَةً … دَعَت تِلكَ أَنواءً وَتِلكَ مَواهِبا [بحر الطويل]

قال أبوالعلاء: ((بعض المتأدبين ينشد هذا البيت (دُعَت) على معنى: دُعِيَتْ؛ يذهب إلى أنها لغة طائية، وما يجب أن يكون الشاعر قال إلا دَعَت، بفتح الدال)) (1).

[2] ونحوقوله: ((وسكن الهاء في (مهْراق) على لغة من قال أَهْرقتُ، ومن قال: هَرَقتُ يقول: مُهَرَاق)) (2).

[3] ونحوقوله: (((وَلِعَ) ولَعًا، وهولغة في أُولِعَ والاختيار أُولِعَ)) (3).

[4] ونحوقوله: قال أبوتمام:

مِن عَهدِ إِسكَندَرٍ أَوقَبلَ ذَلِكَ قَد … شابَت نَواصي اللَيالي وَهيَ لَم تَشِبِ [بحر البسيط]

قال أبوالعلاء: ((وبعض الناس ينشد: (من عَهْد إسكندرا)؛ فيثبت في آخره ألفا، وذلك من كلام النبط (4)؛ لأنهم يزيدون الألف إذا نقلوا الاسم من كلام غيرهم؛ فيقولون: خمرا، يريدون الخمر، وعمرا يريدون عمرو)) (5).

 

- كما كان ملما بثقافة تاريخية واسعة، سواء: ما تعلق منها بالسيرة النبوية (6)، أوأيام العرب (7)، أوغيرهما (8).

--------------------------------------------

(1) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 143].

(2) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 131].

(3) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 244].

(4) قامت مملكة الأنباط في شمال الحجاز، وتنسب إلى شعب من شعوب العرب، ولقد اتخذ الأنباط اللغة الآرامية لغة للكتابة النبطية، والخط النبطي على هذا النحوخط آرامي (…) والخط النبطي قريب من الخط الكوفي القديم، الأمر الذي دعا كثيرًا من العلماء إلى القول بأن هذا الخط مشتق من النبطي. ينظر: تاريخ العرب قبل الإسلام: د. السيد عبد العزيز سالم، ص 157ـ158 [الهيئة العامة لقصور الثقافة، ذاكرة الكتابة ط2، 2000].

(5) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 49].

(6) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 201].

(7) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [2/ 277].

(8) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 10]، [2/ 263].
দানসমূহ যা বৃষ্টির নক্ষত্রের মতো কেবল একটি চিহ্ন ছাড়া … তারা ওগুলোকে বৃষ্টির নক্ষত্র আর এগুলোকে উপহার বলে অভিহিত করেছে [তবিল ছন্দ]

আবুল আলা বলেন: ((কিছু সাহিত্যিক এই কবিতাটি ‘দুয়াত’ (দাল বর্ণে পেশ দিয়ে) ‘দুয়িয়াত’ অর্থে পাঠ করেন; তারা মনে করেন এটি তাই গোত্রের ভাষা, তবে কবির জন্য ‘দাআত’ (দাল বর্ণে জবর দিয়ে) বলা ছাড়া আর কিছু উচিত নয়)) (১)।

[২] এবং তাঁর বক্তব্য: (('মুহরাক' শব্দে ‘হা’ বর্ণকে সুকুন (জজম) যুক্ত করা হয়েছে তাদের ভাষা অনুযায়ী যারা ‘আহরাকতু’ বলে থাকে, আর যারা ‘হারাকতু’ বলে তারা ‘মুহারাক’ বলে)) (২)।

[৩] এবং তাঁর বক্তব্য: ((‘ওয়ালিআ’ এর ক্রিয়ামূল ‘ওয়ালআন’, এটি ‘উলিআ’ শব্দের একটি উপভাষা আর অগ্রগণ্য হলো ‘উলিআ’ ব্যবহার করা)) (৩)।

[৪] এবং তাঁর বক্তব্য: আবু তাম্মাম বলেছেন:

সিকান্দারের যুগ থেকে বা তারও আগে থেকে … রাতগুলোর কপালের চুল পেকে সাদা হয়ে গেছে কিন্তু রাতগুলো নিজে বুড়ো হয়নি [বাসিত ছন্দ]

আবুল আলা বলেন: ((কিছু লোক ‘সিকান্দারা’ (শেষে আলিফ যোগ করে) পাঠ করে; তারা শেষে একটি আলিফ স্থির রাখে, আর এটি হলো নবতীদের (৪) ভাষা; কারণ তারা যখন অন্য ভাষা থেকে কোনো নাম গ্রহণ করে তখন শেষে আলিফ বৃদ্ধি করে; তারা ‘খামরা’ বলে যখন তারা ‘খামর’ বুঝাতে চায়, এবং ‘আম্রা’ বলে যখন তারা ‘আম্র’ বুঝাতে চায়)) (৫)।

 

- যেমন তিনি ব্যাপক ঐতিহাসিক সংস্কৃতি সম্পর্কেও অবগত ছিলেন, চাই তা সীরাতুন্নবী (সা.) (৬) সংশ্লিষ্ট হোক, বা আইয়ামুল আরব (আরবদের যুদ্ধবিগ্রহের ইতিহাস) (৭) হোক, কিংবা অন্য কিছু (৮)।

--------------------------------------------

(১) তাবরিযীর ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম দ্রষ্টব্য: [১/ ১৪৩]।

(২) তাবরিযীর ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম দ্রষ্টব্য: [১/ ১৩১]।

(৩) তাবরিযীর ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম দ্রষ্টব্য: [২/ ২৪৪]।

(৪) হেজাজের উত্তরে নবতী রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা আরবদের একটি জাতির দিকে সম্পৃক্ত করা হয়। নবতীরা আরামীয় ভাষাকে তাদের লেখনীর ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং সে হিসেবে নবতী লিপি হলো একটি আরামীয় লিপি (…) আর নবতী লিপি প্রাচীন কুফি লিপির কাছাকাছি, যার ফলে অনেক আলেম বলেছেন যে এই লিপি নবতী লিপি থেকেই উদ্ভূত। দ্রষ্টব্য: তারীখুল আরব ক্ববলাল ইসলাম: ড. সাইয়্যেদ আব্দুল আজীজ সালেম, পৃ. ১৫৭-১৫৮ [আল-হায়আতুল আম্মাহ লি-কুসুরিস সাক্বাফাহ, যাকেরাতুল কিতাবাহ ২য় সংস্করণ, ২০০০]।

(৫) তাবরিযীর ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম দ্রষ্টব্য: [১/ ৪৯]।

(৬) তাবরিযীর ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম দ্রষ্টব্য: [২/ ২০১]।

(৭) খতীব তাবরিযীর ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম দ্রষ্টব্য: [২/ ২৭৭]।

(৮) তাবরিযীর ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম দ্রষ্টব্য: [১/ ১০], [২/ ২৬৩]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
- كان على علم بثقافة فقهية وكلامية، وما يتعلق بالفرق المختلفة، وما يتعلق بالفلك وغيره (1).

- كان خبيرا بعادات العرب، وحياتهم (2)، وأمثالهم (3)، وطبيعتهم (4)، وحيواناتهم (5)، ونباتاتهم (6)، هذا بالإضافة إلى عادات غيرهم وقصصهم (7) ، كما كان عالما بالأنساب (8)، وأسماء المواضع (9)، والحصون (10)، والقبائل (11).

 

‌‌(4) رواية أبي العلاء للقراءات والحديث:

نشير هنا إلى علاقة أبي العلاء بالقراءات القرآنية والحديث لارتباط ذلك ـ من بعض الجوانب ـ بالمنهج الذي سلكه أبوالعلاء في شرحه لديوان أبي تمام، وهنا نذكر أن الإمام الذهبي قال: ((قال السلفي: وفي الجملة فكان من أهل الفضل الوافر ـ أي:

--------------------------------------------

(1) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [1/ 30]، [1/ 31]، [1/ 393]، [1/ 44]، [1/ 52]، [2/ 320]، [3/ 242]

(2) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 106]، [1/ 257]، [1/ 96]، [2/ 237]، [2/ 310]، [2/ 313]، [2/ 315]، [2/ 457].

(3) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [1/ 391]، [2/ 333].

(4) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 162]، [2/ 370].

(5) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [1/ 402]، [2/ 323]، [2/ 349]، [2/ 433]، [3/ 28]، [3/ 84].

(6) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 313] [2/ 361].

(7) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [1/ 72]، [3/ 321].

(8) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 210]، [1/ 173]، [1/ 390]، [1/ 395]، [1/ 73]، [2/ 205]، [2/ 354]، [3/ 302].

(9) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [1/ 330]، [1/ 10]، [1/ 26]، [1/ 51].

(10) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [1/ 166].

(11) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [1/ 391].
- তিনি ফিকহ ও কালামশাস্ত্রীয় সংস্কৃতি, বিভিন্ন ফেরকা সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং জ্যোতির্বিদ্যা ও অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞান রাখতেন (১)।

- তিনি আরবদের রীতিনীতি, তাদের জীবনযাপন (২), তাদের প্রবাদ-প্রবচন (৩), তাদের প্রকৃতি (৪), তাদের পশুপাখি (৫) এবং তাদের উদ্ভিদরাজি (৬) সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। এর পাশাপাশি অন্যদের রীতিনীতি ও কাহিনী (৭) সম্পর্কেও তার জ্ঞান ছিল। তদুপরি তিনি বংশবিদ্যা (৮), স্থানের নাম (৯), দুর্গ (১০) এবং গোত্রসমূহ (১১) সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন।

 

‌‌(৪) কিরাআত ও হাদীস বর্ণনায় আবুল আলা:

আমরা এখানে কুরআনের কিরাআত এবং হাদীসের সাথে আবুল আলার সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করব; কেননা এটি কিছু দিক থেকে আবুল আলা কর্তৃক আবু তাম্মামের দীওয়ান ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট। এখানে আমরা উল্লেখ করছি যে, ইমাম আয-যাহাবী বলেছেন: ((আস-সিলাফী বলেছেন: মোদ্দাকথা হলো, তিনি ছিলেন প্রচুর ফযীলত বা গুণাবলির অধিকারী—অর্থাৎ:

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: খতীব আত-তিবরিযীর ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দীওয়ান: [১/ ৩০], [১/ ৩১], [১/ ৩৯৩], [১/ ৪৪], [১/ ৫২], [২/ ৩২০], [৩/ ২৪২]

(২) দ্রষ্টব্য: আত-তিবরিযীর ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দীওয়ান: [১/ ১০৬], [১/ ২৫৭], [১/ ৯৬], [২/ ২৩৭], [২/ ৩১০], [২/ ৩১৩], [২/ ৩১৫], [২/ ৪৫৭]।

(৩) দ্রষ্টব্য: খতীব আত-তিবরিযীর ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দীওয়ান: [১/ ৩৯১], [২/ ৩৩৩]।

(٤) দ্রষ্টব্য: আত-তিবরিযীর ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দীওয়ান: [২/ ১৬২], [২/ ৩৭০]।

(৫) দ্রষ্টব্য: খতীব আত-তিবরিযীর ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দীওয়ান: [১/ ৪০২], [২/ ৩২৩], [২/ ৩৪৯], [২/ ৪৩৩], [৩/ ২৮], [৩/ ৮৪]।

(৬) দ্রষ্টব্য: আত-তিবরিযীর ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দীওয়ান: [১/ ৩১৩] [২/ ৩৬১]।

(৭) দ্রষ্টব্য: খতীব আত-তিবরিযীর ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দীওয়ান: [১/ ৭২], [৩/ ৩২১]।

(৮) দ্রষ্টব্য: আত-তিবরিযীর ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দীওয়ান: [১/ ২১০], [১/ ১৭৩], [১/ ৩৯০], [১/ ৩৯৫], [১/ ৭৩], [২/ ২০৫], [২/ ৩৫৪], [৩/ ৩০২]।

(৯) দ্রষ্টব্য: খতীব আত-তিবরিযীর ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দীওয়ান: [১/ ৩৩০], [১/ ১০], [১/ ২৬], [১/ ৫১]।

(১০) দ্রষ্টব্য: খতীব আত-তিবরিযীর ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দীওয়ান: [১/ ১৬৬]।

(১১) দ্রষ্টব্য: খতীব আত-তিবরিযীর ব্যাখ্যাসহ আবু তাম্মামের দীওয়ান: [১/ ৩৯১]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
أبو العلاء ـ، والأدب الباهر، والمعرفة بالنسب، وأيام العرب، قرأ القرآن بروايات، وسمع الحديث على ثقات)) (1) ، وقال فيه أيضا: ((سمع جزءا من يحيى بن مسعر، رواه عن أبي عروبة الحراني)) (2). ومما يشهد لذلك أن أبا العلاء أشار إلى بعض القراءات أثناء شرحه إشارات توحي بمدى علمه بها، وتمكنه منها. ومثال ذلك قوله عند قول أبي تمام:

ثانيهِ في كَبِدِ السَماءِ وَلَم يَكُن … لاثنَينِ ثانٍ إِذ هُما في الغارِ [بحر الكامل]

((… ((لاِثنَينِ ثانٍ)): ردىء عند البصريين؛ لأنه جاء بالمنصوب في لفظ المخفوض، وذلك عند الفراء لغة للعرب، وإن رويت ((ثانِيَ)) بفتح الياء من غير تنوين فهوضرورة أيضا. وإن أثبت التنوين، وألقيت عليه حركة الهمزة في ((إِذْ)) ـ وهومذهب وَرْش في القراءة ـ فلا ضرورة فيه)) (3).

وقال أيضا عند قول أبي تمام:

قَمَرٌ تَبَسَّمَ عَن جُمانٍ نابِتٍ … فَظَلِلتُ اَرمُقُهُ بِعَينِ الباهِتِ [بحر الكامل]

((… وقوله: ((باهت)) الأفصح عندهم بُهِتَ، وقد حكي ((بَهَتَ))، وقرأ بعضهم: {فبَهِتَ الذي كفر} (4))) (5).

وأشارت بعض المصادر الأخرى إلى أن الخطيب التبريزي قد قرأ على أبي العلاء كتاب ((غريب الحديث)) سنة خمس وثمانين وثلاثمائة الذي قام بتهذيبه (6). وقد استشهد أبوالعلاء ببعض الأحاديث النبوية أثناء شرحه (7).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء: [18/ 33].

(2) سير أعلام النبلاء: [18/ 25].

(3) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 207ب45].]

(4) جاء في معجم القراءات القرآنية عن هذه القراءة 1/ 198 هامش 1: ((نسبها في اللسان لأبي الحسن الأخفش)).د. أحمد مختار عمر، عبد العال سالم مكرم، ط2، مطبوعات جامعة الكويت

(5) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [4/ 177]، ويُنْظَرُ أيضا: [3/ 344]

(6) إنباه الرواه: [1/ 104].

(7) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [1/ 321]، [2/ 312]، واستشهد أبوالعلاء في بعض الأحيان بما نقل عن بعض التابعين، قال: ((وفي حديث الحسن البصري رضي الله عنه إن الله جعل الصومَ مضمارا لعباده)) (2/ 181).
আবু আল-আলা—এবং অসাধারণ সাহিত্যিক জ্ঞান, বংশলতিকার জ্ঞান এবং আরবদের ঐতিহাসিক যুদ্ধের দিনগুলোর (আইয়ামুল আরব) পারদর্শী ছিলেন। তিনি বিভিন্ন পঠনরীতিতে (কিরাত) কুরআন পাঠ করেছেন এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে হাদিস শুনেছেন)) (১)। তিনি (গ্রন্থকার) তার সম্পর্কে আরও বলেছেন: ((তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মিস'আর-এর একটি অংশ শুনেছেন, যা তিনি আবু আরুবাহ আল-হাররানি থেকে বর্ণনা করেছেন)) (২)। এর সপক্ষে একটি প্রমাণ হলো, আবু আল-আলা তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এমন কিছু কিরাতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা সেই বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান ও দক্ষতার পরিচয় দেয়। এর একটি উদাহরণ হলো আবু তাম্মামের নিম্নোক্ত চরণের ব্যাখ্যায় তাঁর মন্তব্য:

আসমানের মধ্যস্থলে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, অথচ তাঁরা যখন গুহায় ছিলেন তখন সেই দুইজনের আর কোনো দ্বিতীয় ছিল না। [বাহরে কামেল]

((... "লা-ইসনাইনি সানিন": বসরী ব্যাকরণবিদদের মতে এটি নিম্নমানের; কারণ এখানে মাজরুর (জেরযুক্ত) শব্দের স্থানে মানসুব (জবরযুক্ত) শব্দ এসেছে। তবে আল-ফাররার মতে এটি আরবদের একটি উপভাষা। আর যদি তানভীন ছাড়া ইয়া-তে ফাতহা দিয়ে "সানিয়া" বর্ণনা করা হয়, তবে সেটিও কাব্যের প্রয়োজনে (জরুরত) হবে। কিন্তু যদি তানভীন রাখা হয় এবং তার ওপর "ইজ" শব্দের হামযার হরকত প্রদান করা হয়—যা কিরাতের ক্ষেত্রে ওয়ারশ-এর মাযহাব বা পদ্ধতি—তবে এতে কাব্যের কোনো সীমাবদ্ধতা বা 'জরুরত' থাকে না)) (৩)।

তিনি আবু তাম্মামের নিম্নোক্ত চরণের ব্যাখ্যায় আরও বলেছেন:

একটি চাঁদ যা প্রস্ফুটিত মোতির ন্যায় দাঁত প্রকাশ করে হাসল... আর আমি তার দিকে এক বিস্ময়াভিভূত নজরে তাকিয়ে রইলাম। [বাহরে কামেল]

((... এবং তাঁর উক্তি: "বাহিতা" (বিস্ময়াভিভূত), তাদের মতে এর অধিকতর বিশুদ্ধ রূপ হলো "বুহিতা", আবার "বাহাতা" রূপটিও বর্ণিত হয়েছে। তাদের কেউ কেউ তিলাওয়াত করেছেন: {অতঃপর যে কুফরি করেছিল সে বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়ল} (৪))) (৫)।

অন্যান্য কিছু উৎস ইঙ্গিত দেয় যে, খতিব আত-তাবরিজি ৩৮৫ হিজরি সনে আবু আল-আলার কাছে "গারিবুল হাদিস" কিতাবটি পাঠ করেছিলেন, যা তিনি নিজেই পরিমার্জন করেছিলেন (৬)। আবু আল-আলা তাঁর ব্যাখ্যার সময় কিছু নববী হাদিস থেকেও উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন (৭)।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা: [১৮/৩৩]।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা: [১৮/২৫]।

(৩) দেখা যেতে পারে তাবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানু আবি তাম্মাম: [২/২০৭ খণ্ড, ৪৫ নম্বর শ্লোক]।

(৪) এই কিরাত সম্পর্কে মু'জামুল কিরাআত আল-কুরআনিয়্যাহ-তে এসেছে ১/১৯৮, টীকা ১: "আল-লিসান গ্রন্থে এটি আবুল হাসান আল-আখফাশের দিকে নিসবত করা হয়েছে।" ড. আহমাদ মুখতার ওমর, আবদুল আল-সালিম মাকরাম, ২য় সংস্করণ, কুয়েত ইউনিভার্সিটি পাবলিকেশন্স।

(৫) দেখা যেতে পারে খতিব আত-তাবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানু আবি তাম্মাম: [৪/১৭৭], আরও দেখা যেতে পারে: [৩/৩৪৪]।

(৬) ইনবাহুর রুওয়াত: [১/১০৪]।

(৭) দেখা যেতে পারে খতিব আত-তাবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানু আবি তাম্মাম: [১/৩২১], [২/৩১২], এবং আবু আল-আলা মাঝে মাঝে তাবিঈদের থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতিও পেশ করেছেন, তিনি বলেন: "হাসান বসরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে রয়েছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ রোযাকে তাঁর বান্দাদের জন্য একটি প্রতিযোগিতার ময়দান বানিয়েছেন" (২/১৮১)।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
ونقصد من إثبات علاقة أبي العلاء بعلم الحديث والقراءات أن نوضح أن أبا العلاء قد تأثر بمنهج المحدثين وعلماء القراءات في توثيق الرواية عند شرحه لديوان أبي تمام، وهذا ما سنوضحه في الباب التالي، إن شاء الله.

 

‌‌(5) إلمام أبي العلاء بشعر أبي تمام:

المتأمل في شرح أبي العلاء لشعر أبي تمام يلحظ لأي مدى كان أبوالعلاء متمكنا من شعره، هذا التمكن الذي ظهر في أقوال لأبي العلاء، مثل: ((وهذا أشبه بمذهب الطائي من الوجه الذي تقدم ذكره)) (1)، وقوله: ((وهذا أشبه بمذهب الطائي من الوجه الأول)) (2)،وقوله: ((وهويشبه مذهب أبي تمام في الصنعة)) (3).

وأبوالعلاء يعترف لأبي تمام بالتبحر في رواية الشعر، وهذا ما يظهر في ثنايا كلامه عنه أثناء شرحه يقول:

((… إلا أن المعروف من كلام العرب تأيَّيْتُ، ولم يجئ في أشعارهم أيَّيْت؛ ويجوز أن يكون أبوتمام سمعها في شعر قديم؛ لأنه كان مستبحرًا في الرواية)) (4).

وتتمثل جوانب تمكن أبي العلاء من شعر أبي تمام في الجوانب التالية:

(أ) وقوفه على الخصائص الأسلوبية لشعره: خصائصه في تركيب جملته، خصائصه في البنى اللفظية، خصائصه في تركيب لغته الشعرية. وفيما يلي بعض الأمثلة:

[1] قال أبوالعلاء عند شرح قول أبي تمام:

إِن يَكُن رَثَّ مِن أُناسٍ بِهِم كا … نَ يُداوى شَوقي وَيَسلُسُ ريقي [بحر الخفيف]

--------------------------------------------

(1) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [2/ 193].

(2) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [3/ 83].

(3) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [1/ 299].

(4) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح الخطيب التبريزي: [1/ 299 ـ 300].
আবু আল-আলার সাথে ইলমে হাদিস ও কিরাআতের সম্পর্কের প্রমাণের মাধ্যমে আমরা এটি স্পষ্ট করতে চাই যে, আবু আল-আলা তাঁর 'দিওয়ানে আবু তাম্মাম'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে বর্ণনা বা রেওয়ায়েত যাচাই-বাছাইয়ে মুহাদ্দিস ও কিরাআত শাস্ত্রবিদদের পদ্ধতির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ইনশাআল্লাহ, পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা এ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।

 

‌‌(৫) আবু তাম্মামের কবিতার ওপর আবু আল-আলার পাণ্ডিত্য:

আবু তাম্মামের কবিতার ওপর আবু আল-আলার ব্যাখ্যাগ্রন্থটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে লক্ষ্য করা যায় যে, আবু আল-আলা তাঁর কবিতার ওপর কতটা দক্ষতার অধিকারী ছিলেন। তাঁর এই দক্ষতা আবু আল-আলার বিভিন্ন উক্তির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, যেমন: "এটি পূর্বোল্লিখিত দিক থেকে তায়ীর (আবু তাম্মাম) পদ্ধতির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ" (১), এবং তাঁর উক্তি: "এটি প্রথম দিক থেকে তায়ীর পদ্ধতির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ" (২), এবং তাঁর উক্তি: "এটি শিল্পনৈপুণ্যের দিক থেকে আবু তাম্মামের পদ্ধতির সদৃশ" (৩)।

আবু আল-আলা কাব্য বর্ণনার ক্ষেত্রে আবু তাম্মামের অগাধ পাণ্ডিত্য ও গভীর জ্ঞান স্বীকার করেছেন। তাঁর ব্যাখ্যার বর্ণনার ভাঁজে ভাঁজে এটি ফুটে ওঠে; তিনি বলেন:

((… তবে আরবদের বাকরীতিতে ‘তাআইয়াইতু’ শব্দটিই পরিচিত, তাদের কবিতায় ‘আইয়াইতু’ শব্দটি আসেনি। সম্ভবত আবু তাম্মাম এটি কোনো প্রাচীন কবিতায় শুনেছেন; কারণ তিনি বর্ণনা বা রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ও অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন)) (৪)।

আবু তাম্মামের কবিতার ওপর আবু আল-আলার দখলের দিকগুলো নিম্নরূপ:

(ক) তাঁর কবিতার শৈলীগত বৈশিষ্ট্যসমূহ উপলব্ধি করা: তাঁর বাক্য গঠনের বৈশিষ্ট্য, শাব্দিক কাঠামোর বৈশিষ্ট্য এবং কাব্যিক ভাষার বিন্যাসের বৈশিষ্ট্য। নিচে এর কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:

[১] আবু তাম্মামের নিম্নোক্ত পঙক্তিটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবু আল-আলা বলেন:

যদি সেই লোকদের সাথে সম্পর্ক জীর্ণ হয়ে যায়, যাদের মাধ্যমে আমার আকাঙ্ক্ষার উপশম হতো এবং আমার তৃষ্ণা নিবারিত হতো [খফিফ ছন্দ]

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-খতিব আল-তাবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [২/ ১৯৩]।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-খতিব আল-তাবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [৩/ ৮৩]।

(৩) দ্রষ্টব্য: আল-খতিব আল-তাবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [১/ ২৯৯]।

(৪) দ্রষ্টব্য: আল-খতিব আল-তাবরিজির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [১/ ২৯৯-৩০০]।
(খণ্ড: ১) শারহা আবিল আলা ওয়াল খাতিবিত তাবরিজী আলা দিওয়ানি আবী তাম্মাম দিরাসাহ নাহউইয়্যাহ সরফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
((ولم يأت لـ (إنْ) في هذا البيت جواب؛ ولم تجر عادة الطائي بذلك)) (1)

[2] ونحوقوله: ((… وإن صح أن الطائي قال: (أسايله) بالهاء، فله معنى صحيح، يستحسن على مذهب الطائي)) (2).

[3] ونحوقوله: ((… ومن روى (دَواء) بالدال فقد صَحَّف؛ لأن مذهب الطائي في الصناعة طريق معروف)) (3).

[4] ونحوقوله: ((يقال: جاورتهم جوارا، والجوارـ بضم الجيم ـ اسم، والأحسن على مذهب الطائي أن تخفف همزة جؤار، وتجعل واوا)) (4).

[5] ونحوقوله: ((الأشبه بصناعة الطائي أن يكون (فتى) منونا)) (5).

[6] ونحوقوله: قال عند شرح قوله:

عالي الهَوى مِمّا تُعَذِّبُ مُهجَتي … أُروِيَّةُ الشَّعفِ الَّتي لَم تُسهِلِ [بحر الكامل]

((وبعضهم يروي (مما ترقص هامتي) … وهذه الرواية أشبه بمذهب الطائي؛ لأنه يؤثر الاستعارة)) (6).

[7] ونحوقوله: ((ومذهب الطائي أن يستعمل اللفظة على معنى الاستعارة)) (7).

[8] ونحوقوله: ((قوله (مضيء المقاتل): الوجه أن يحمل على مذهب الطائي ويجعل من المستعار)) (8).

(ب) وقوفه على ما تفرد به الطائي من استعارات وأوصاف، نحو:

--------------------------------------------

(1) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 431].

(2) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [3/ 22].

(3) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [4/ 37].

(4) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 174].

(5) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [1/ 192].

(6) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [3/ 34].

(7) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [2/ 407].

(8) يُنْظَرُ ديوان أبي تمام بشرح التبريزي: [3/ 86].
((এই চরণে ‘ইন’ (إنْ)-এর কোনো উত্তর বা জওয়াব আসেনি; আর ত্বায়ীর রীতি এমন ছিল না)) (১)

[২] এবং তাঁর উক্তি: ((... আর যদি এটি সঠিক হয় যে ত্বায়ী ‘হা’ বর্ণযোগে ‘আসায়িলাহু’ (أسايله) বলেছেন, তবে এর একটি সঠিক অর্থ রয়েছে, যা ত্বায়ীর কাব্যরীতির আলোকে উত্তম মনে করা হয়)) (২)।

[৩] এবং তাঁর উক্তি: ((... আর যে ব্যক্তি ‘দাল’ বর্ণযোগে ‘দাওায়া’ (دواء) বর্ণনা করেছে, সে শব্দ বিকৃতি করেছে; কেননা কাব্যশিল্পে ত্বায়ীর পদ্ধতি একটি সুপরিচিত পথ)) (৩)।

[৪] এবং তাঁর উক্তি: ((বলা হয়: ‘জাওয়ারতুহুম জিওয়ারান’, আর ‘জুওয়ার’—জিম বর্ণে পেশসহ—একটি বিশেষ্য। ত্বায়ীর রীতি অনুযায়ী উত্তম হলো ‘জুআর’ (جؤار) শব্দের হামযাহকে সহজ করা এবং একে ‘ওয়াও’ বর্ণে রূপান্তর করা)) (৪)।

[৫] এবং তাঁর উক্তি: ((ত্বায়ীর কাব্যরীতির সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ হলো ‘ফাতান’ (فتى) শব্দটি তানউইনযুক্ত হওয়া)) (৫)।

[৬] এবং তাঁর উক্তি: তিনি নিচের পঙ্ক্তিটি ব্যাখ্যা করার সময় বলেছেন:

উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভালোবাসা আমার প্রাণকে যা দিয়ে কষ্ট দেয়... পাহাড়ের চূড়ার সেই বুনো ছাগী যা সমতলে নামে না [কামিল ছন্দ]

((এবং কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন ‘আমার মস্তক যা দিয়ে নেচে ওঠে’ (মিম্মা তারকুসু হামাতি)... আর এই বর্ণনাটি ত্বায়ীর রীতির সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ; কারণ তিনি রূপক ব্যবহার করতে পছন্দ করেন)) (৬)।

[৭] এবং তাঁর উক্তি: ((আর ত্বায়ীর রীতি হলো শব্দকে রূপক অর্থে ব্যবহার করা)) (৭)।

[৮] এবং তাঁর উক্তি: ((তাঁর কথা ‘মরণাঘাতের স্থানসমূহ উজ্জ্বলকারী’ (মুদিউল মাকাতিল): সমীচীন হলো একে ত্বায়ীর রীতির ওপর প্রয়োগ করা এবং একে রূপক হিসেবে গণ্য করা)) (৮)।

(খ) ত্বায়ী যেসব রূপক ও বর্ণনায় অনন্য ছিলেন, সেগুলোর ওপর তাঁর পর্যবেক্ষণ, যেমন:

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: তিবরিযির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [২/ ৪৩১]।

(২) দ্রষ্টব্য: তিবরিযির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [৩/ ২২]।

(৩) দ্রষ্টব্য: তিবরিযির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [৪/ ৩৭]।

(৪) দ্রষ্টব্য: তিবরিযির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [২/ ১৭৪]।

(৫) দ্রষ্টব্য: তিবরিযির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [১/ ১৯২]।

(৬) দ্রষ্টব্য: তিবরিযির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [৩/ ৩৪]।

(৭) দ্রষ্টব্য: তিবরিযির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [২/ ৪০৭]।

(৮) দ্রষ্টব্য: তিবরিযির ব্যাখ্যাসহ দিওয়ানে আবু তাম্মাম: [৩/ ৮৬]।