(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الإمام مالك وموقفه من الرافضة القسم: الفرق والردود
الكتاب: الإمام مالك وموقفه من الرافضة
المؤلف: أبو عبد البر محمد كاوا
عدد الصفحات: 32
[البحث غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 شوّال 1435
ইমাম মালিক এবং রাফেযীদের প্রতি তাঁর অবস্থান বিভাগ: ফিরকাহ ও খণ্ডন
গ্রন্থ: ইমাম মালিক এবং রাফেযীদের প্রতি তাঁর অবস্থান
লেখক: আবু আবদিল বার মুহাম্মদ কাওয়া
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২
[গবেষণাপত্রটি অপ্রকাশিত]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ শাওয়াল ১৪৩৫ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
مقدمةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُم مُّسْلِمُونَ. (آل عمران: 102
(يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ نْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (. النساء:1
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا ` يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا). الأحزاب: 70 - 71
اللهم إنا نعوذ بك من الزلل والعجب بما نظن أننا نحسنه، هذا بحث متواضع قمت به أقدمه لجميع إخواني عسى أن يستفيدوا منه. فما كان من توفيق فمن الله وحده، وما كان من خطإ فمني ومن الشيطان.
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ব্যতীত মৃত্যুবরণ করো না। (আলে ইমরান: ১০২)
(হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করে থাকো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (আন-নিসা: ১)
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে)। আল-আহজাব: ৭০-৭১
হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট পদস্খলন এবং যা আমরা উত্তম মনে করি তা নিয়ে আত্মগরিমা (উজিব) থেকে আশ্রয় চাই। এটি আমার কৃত একটি বিনম্র গবেষণা যা আমি আমার সকল দ্বীনি ভাইদের উদ্দেশ্যে পেশ করছি, যাতে তারা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন। এতে যা কিছু সঠিক ও সফল হয়েছে তা কেবল একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
وهذا الكتيب يعرض مجموعة من أقوال إمام دار الهجرة رضي الله عنه في هذه الطائفة الخبيثة التي ابتلي بها المسلمون وهم الروافض أعداء الدين الزنادقة، الذين يستترون وراء زندقتهم بحب آل البيت، وهم منهم براء، فقد حذر منهم الامام علي رضي الله عنه أكثر من مرة:
1 - قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يظهر في أمتي في آخر الزمان قوم يسمون الرافضة يرفضون الإسلام" هكذا رواه عبد الله ابن أحمد في مسند أبيه. الصارم المسلول لشيخ الإسلام ابن تيميه رحمه الله: ص582
2 - قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: "يجيء قوم قبل قيام الساعة يسمون الرافضة براء من الإسلام" الصارم المسلول: ص582
3 - عن علي قال: قال النبي عليه الصلاة والسلام: "يا علي أنت وشيعتك في الجنة وإن قوما لهم نبز يقال لهم الرافضة إن أدركتهم فاقتلهم فإنهم مشركون" قال علي: "ينتحلون حبنا أهل البيت وليسوا كذلك وآية ذلك أنه يشتمون أبا بكر وعمر رضي الله عنهما". الصارم المسلول: ص582
4 - قال علي: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ألا أدلك على عمل إذا عملته كنت من أهل الجنة؟ وإنك من أهل الجنة إنه سيكون بعدنا قوم لهم نبز يقال لهم الرافضة فإن أدركتموهم فاقتلوهم فإنهم مشركون" الصارم المسلول: ص582 - 583
এই পুস্তিকাটি দারুল হিজরতের ইমাম (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর উক্তি সমূহের একটি সংকলন উপস্থাপন করছে, যা সেই নিকৃষ্ট দল সম্পর্কে যারা মুসলমানদের জন্য এক পরীক্ষার কারণ হয়েছে। তারা হলো রাফেজি, দ্বীনের শত্রু এবং জিন্দিক; যারা আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার আড়ালে তাদের নাস্তিকতা গোপন করে, অথচ আহলে বাইত তাদের থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ইমাম আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাদের সম্পর্কে একাধিকবার সতর্ক করেছেন:
১ - আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "শেষ যামানায় আমার উম্মতের মধ্যে এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যাদের রাফেজি বলা হবে; তারা ইসলামকে বর্জন করবে।" এভাবেই আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ তাঁর পিতার মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) রচিত আস-সারিমুল মাসলুল: পৃষ্ঠা ৫৮২।
২ - আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: "কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে যাদের রাফেজি বলা হবে, তারা ইসলাম থেকে বিমুক্ত।" আস-সারিমুল মাসলুল: পৃষ্ঠা ৫৮২।
৩ - আলী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "হে আলী, তুমি এবং তোমার অনুসারীরা জান্নাতি। অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটবে যাদের একটি মন্দ উপাধি থাকবে, তাদের রাফেজি বলা হবে। তুমি যদি তাদের পাও তবে তাদের হত্যা করো, কেননা তারা মুশরিক।" আলী (রা.) বলেন: "তারা আমাদের অর্থাৎ আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার মিথ্যা দাবি করবে, অথচ তারা আসলে তেমন নয়। আর এর চিহ্ন হলো তারা আবু বকর এবং ওমর (রা.)-কে গালিগালাজ করে।" আস-সারিমুল মাসলুল: পৃষ্ঠা ৫৮২।
৪ - আলী (রা.) বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "আমি কি তোমাকে এমন এক আমলের কথা বলে দেব না যা করলে তুমি জান্নাতি হবে? আর তুমি তো জান্নাতিই। নিশ্চয়ই আমাদের পরে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যাদের একটি মন্দ উপাধি থাকবে, তাদের রাফেজি বলা হবে। তোমরা যদি তাদের পাও তবে তাদের হত্যা করো, কারণ তারা মুশরিক।" আস-সারিমুল মাসলুল: পৃষ্ঠা ৫৮২ - ৫৮৩।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وبما أن الإمام مالك كان قريبا من مرحلة بداية الروافض وهو تلميذ الإمام جعفر الصادق، فهو كان أعلم بهم وبزندقتهم ولا يشك أحد في تكفيره لهذه الطائفة المنحرفة. بل أهل السنة والجماعة هم أتباع أهل البيت رضي الله عنهم.
وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا.
যেহেতু ইমাম মালিক রাফেজিদের উত্থানপর্বের নিকটবর্তী ছিলেন এবং তিনি ইমাম জাফর আস-সাদিকের ছাত্র ছিলেন, সেহেতু তিনি তাদের এবং তাদের যিন্দিকতা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। এই বিচ্যুত সম্প্রদায়কে তাঁর পক্ষ হতে কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়ে কেউ কোনো সন্দেহ পোষণ করে না। বরং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত-ই হলো আহলে বাইতের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রকৃত অনুসারী।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও অফুরন্ত বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
1 - قَالَ هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ: سَمِعْت مَالِكًا يَقُولُ:" مَنْ سَبَّ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ أُدِّبَ، وَمَنْ سَبَّ عَائِشَةَ قُتِلَ؛ لِأَنَّ اللَّهَ يَقُولُ: {يَعِظُكُمْ اللَّهُ أَنْ تَعُودُوا لِمِثْلِهِ أَبَدًا إنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} فَمَنْ سَبَّ عَائِشَةَ فَقَدْ خَالَفَ الْقُرْآنَ، وَمَنْ خَالَفَ الْقُرْآنَ قُتِلَ" (1).
--------------------------------------------
১ - হিশাম ইবনে আম্মার বর্ণনা করেন: আমি ইমাম মালিককে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আবু বকর ও উমরকে গালি দেবে, তাকে শাসন (তাজীর) করা হবে; আর যে ব্যক্তি আয়েশাকে গালি দেবে, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন, তোমরা যদি মুমিন হও, তবে কখনো পুনরায় এরূপ আচরণ করো না}। সুতরাং যে ব্যক্তি আয়েশাকে গালি দিল, সে কুরআনের বিরোধিতা করল; আর যে ব্যক্তি কুরআনের বিরোধিতা করল, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
2 - قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ:"لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يُقِيمَ بِأَرْضٍ يُسَبُّ فِيهَا السَّلَفُ " (1).
--------------------------------------------
২ - ইবনুল কাসিম বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: "কারো জন্য এমন কোনো ভূখণ্ডে বসবাস করা বৈধ নয় যেখানে সালাফদের (পূর্বসূরিদের) গালি দেওয়া হয়" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
3 - قَالَ مَعْنُ بْنُ عِيسَى: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ يَقُولُ: " لَيْسَ لِمَنْ سَبَّ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْفَيْءِ حَقٌّ، قَدْ قَسَّمَ اللَّهُ عز وجل الْفَيْءَ، فَقَالَ: {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ} [الحشر: 8] الآيَةَ، وَقَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ} [الحشر: 9] الآيَةَ. وَقَالَ عز وجل: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ} [الحشر: 10]، فَإِنَّمَا الْفَيْءُ لِهَؤُلاءِ الثَّلاثَةِ الأَصْنَافِ ". فمن سب أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فليس هو من هؤلاء الثلاثة ولا حق له في الفيء " (1).
--------------------------------------------
৩ - মান ইবনে ঈসা বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবায়ে কিরামকে যে গালি দেয়, এই 'ফাই' (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ)-এ তার কোনো অধিকার নেই। মহান আল্লাহ 'ফাই' বণ্টন করেছেন, তিনি বলেছেন: {সেই অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও ধন-সম্পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে} [সূরা আল-হাশর: ৮] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {এবং যারা তাদের পূর্বে এই নগরীতে (মদীনায়) বসবাস করেছিল এবং ঈমান এনেছিল} [সূরা আল-হাশর: ৯] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {এবং যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই সকল ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানে আমাদের অগ্রগামী হয়েছেন} [সূরা আল-হাশর: ১০]। নিশ্চয়ই এই 'ফাই' কেবল এই তিন শ্রেণির মানুষের জন্য।" অতএব যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবায়ে কিরামকে গালি দেয়, সে এই তিন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এই 'ফাই' এর সম্পদে তার কোনো অধিকার নেই (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
4 - قال مصعب الزبيري وابن نافع: دخل هارون الرشيد المسجد فركع ثم أتى قبر النبى صلى الله عليه وسلم فسلم عليه ثم أتى مجلس مالك فقال: السلام عليك ورحمة الله وبركاته، ثم قال لمالك: هل لمن سب أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في الفيء حق؟ قال:" لا، ولا كرامة ولا مسرة". قال من أين قلت ذلك؟ قال:" قال الله عز وجل (ليغيظ بهم الكفار)،فمن عابهم فهو كافر ولا حق لكافر في الفىء" (1).
--------------------------------------------
৪ - মুসআব আল-যুবাইরী এবং ইবনে নাফি' বর্ণনা করেন: হারুন আল-রশীদ মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের পাশে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম প্রদান করলেন। এরপর তিনি ইমাম মালিকের মজলিসে এসে বললেন: আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। তারপর তিনি মালিককে জিজ্ঞেস করলেন: যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের গালি দেয়, ‘ফাই’ (রাষ্ট্রীয় সম্পদ)-এর ওপর কি তার কোনো অধিকার আছে? তিনি বললেন: "না, তাদের জন্য কোনো সম্মান নেই এবং কোনো ভাগও নেই।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি এটি কিসের ভিত্তিতে বলছেন? তিনি (মালিক) বললেন: "মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: (যাতে তিনি তাদের মাধ্যমে কাফিরদের হৃদয়ে ক্রোধের উদ্রেক করতে পারেন)। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের দোষারোপ বা নিন্দা করে সে কাফির, আর ফাই-এর সম্পদে কাফিরের কোনো অধিকার নেই।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
5 - قال أشهب بن عبد العزيز: سُئِلَ مَالِكٌ عَنِ الرَّافِضَةِ فَقَالَ:" لا تكلمهم ولا ترو عنهم فإنهم يكذبون" (1).
--------------------------------------------
৫ - আশহাব ইবনে আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেন: ইমাম মালিককে রাফেযীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "তোমরা তাদের সাথে কথা বলো না এবং তাদের থেকে কোনো বর্ণনা গ্রহণ করো না; কারণ তারা মিথ্যাচার করে।" (১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
6 - قال عبد الله العنبري: قال مالك بن أنس:" من تنقص أحدا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أو كان في قلبه عليهم غل فليس له حق في فيء المسلمين ثم تلا قول الله عز وجل: ما أفاء الله على رسوله حتى أتى على قوله: والذين جاءوا من بعدهم يقولون ربنا اغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان. الحشر: 7 - 10 الآية فمن تنقصهم أو كان في قلبه عليهم غل فليس له في الفيء حق" (1).
--------------------------------------------
৬ - আবদুল্লাহ আল-আনবারী বলেন: মালিক ইবনে আনাস বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে কাউকে খাটো করে দেখবে অথবা তাদের প্রতি নিজের অন্তরে বিদ্বেষ পোষণ করবে, মুসলিমদের ‘ফাই’ (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ)-এ তার কোনো অধিকার নেই। অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলেন: 'আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যা কিছু ফাই হিসেবে দান করেছেন...' থেকে শুরু করে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: 'আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছেন।' (সূরা আল-হাশর: ৭-১০)। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের অবমূল্যায়ন করবে বা তাদের প্রতি অন্তরে বিদ্বেষ রাখবে, ফাই-এর সম্পদে তার কোনো প্রাপ্য নেই।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
7 - قال أبو عروة الزبيري: كنا عند مالك فذكروا رجلا ينتقص أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقرأ مالك هذه الآية: محمد رسول الله والذين معه. حتى بلغ: يعجب الزراع ليغيض بهم الكفار. الفتح: 29 فقال مالك:" من أصبح من الناس في قلبه غيظ على أحد من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد أصابته الآية" (1).
--------------------------------------------
৭ - আবু উরওয়াহ আল-যুবাইরি বর্ণনা করেন: আমরা ইমাম মালিকের নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় লোকজন এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের অবমাননা করে। তখন মালিক এই আয়াতটি পাঠ করলেন: "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে..." যতক্ষণ না তিনি এই অংশে পৌঁছালেন: "...যা কৃষকদের জন্য আনন্দদায়ক, যাতে তিনি তাদের মাধ্যমে কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করতে পারেন।" (সূরা আল-ফাতহ: ২৯)। এরপর মালিক বললেন: "মানুষের মধ্যে যার অন্তরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো একজন সাহাবীর প্রতিও বিদ্বেষ বা ক্রোধ নিয়ে দিন শুরু হবে, সে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে (অর্থাৎ আয়াতে বর্ণিত কাফিরদের প্রতি ক্রোধের হুকুম তার ওপর বর্তাবে)।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
8 - قال أحمد بن حنبل: قال مالك:"الذي يشتم أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ليس لهم سهم أو قال نصيب في الإسلام" (1).
--------------------------------------------
৮ - আহমাদ ইবন হানবাল বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: "যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে গালি দেয়, ইসলামে তাদের কোনো অংশ নেই—অথবা তিনি বলেছেন—কোনো অধিকার নেই" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
9 - عن عقبة بن مسلم الحضرمي قال: قال مالك بن أنس:" دخلت على أبي جعفر الخليفة فقال من أفضل الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فهجم علي أمر لم أعلم رأيه قال قلت أبو بكر وعمر قال أصبت وذلك رأي أمير المؤمنين" (1).
--------------------------------------------
৯ - উকবাহ ইবনে মুসলিম আল-হাদরামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন: "আমি খলিফা আবু জাফরের নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে? তিনি (মালিক) বলেন, তখন আমার সামনে এমন এক বিষয় উপস্থিত হলো যার সম্পর্কে তাঁর (খলিফার) অভিমত আমার জানা ছিল না। তিনি বলেন, আমি বললাম, আবু বকর ও উমর। তিনি বললেন, আপনি সঠিক বলেছেন এবং এটাই আমীরুল মুমিনীনের অভিমত।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
10 - عن مطرف بن عبد الله عن مالك بن أنس قال:" قال أمير المؤمنين هارون لي يا مالك صف لي مكان أبي بكر وعمر من النبي صلى الله عليه وسلم فقلت له: يا أمير المؤمنين قربهما منه في خبائه كقرب قبريهما من قبره" قال شفيتني يا مالك شفيتني يا مالك" (1).
--------------------------------------------
১০ - মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি মালেক ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমীরুল মুমিনীন হারুন আমাকে বললেন: হে মালেক, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আবু বকর ও উমরের অবস্থান আমার কাছে বর্ণনা করুন। আমি তাঁকে বললাম: হে আমীরুল মুমিনীন, তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর সান্নিধ্যে তাঁদের নৈকট্য ছিল ঠিক তেমন, যেমন বর্তমানে তাঁর কবরের সাথে তাঁদের কবরদ্বয়ের নৈকট্য। তিনি বললেন: হে মালেক, আপনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন; হে মালেক, আপনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
11 - قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَثْمَةَ: سَمِعْتُ مالك بن أنس يقول:" كَانَ صَالِحُ السَّلَفِ يُعَلِّمُونَ أَوْلادَهُمْ حُبَّ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما كَمَا يُعَلِّمُونَ السُّورَةَ أَوِ السُّنَّةَ " (1).
--------------------------------------------
১১ - মুহাম্মাদ বিন খালিদ বিন আসমাহ্ বলেছেন: আমি মালিক বিন আনাসকে বলতে শুনেছি: "সালাফগণের পুণ্যবান ব্যক্তিবর্গ তাঁদের সন্তানদের আবু বকর ও উমরের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রতি ভালোবাসা শিক্ষা দিতেন, যেমনটি তাঁরা কুরআনের সূরা কিংবা সুন্নাহ শিক্ষা দিতেন" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
12 - قال الشافعي: كان مالك بن أنس يقول:" لست أرى لأحد يسب أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في الفيء سهماً" (1).
--------------------------------------------
১২ - ইমাম শাফিঈ বলেন: মালিক ইবনে আনাস বলতেন, "যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে গালি দেয়, 'ফাই' (বিনা যুদ্ধে লব্ধ রাষ্ট্রীয় সম্পদ) এর সম্পদে তার জন্য আমি কোনো অংশ দেখি না।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
13 - قال أشهب بن عبد العزيز: كنا عند مالك إذ وقف عليه رجل من العلويين وكانوا يقبلون على مجلسه فناداه يا أبا عبد الله فأشرف له مالك ولم يكن إذا ناداه أحد يجيبه أكثر من أن يشرف برأسه. فقال له الطالبي: إني أريد أن أجعلك حجة فيما بيني وبين الله إذا قدمت عليه فسألني قلت: مالك قال لي. فقال له: قل: قال من خير الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال:" أبو بكر قال العلوي: ثم من؟ قال مالك ثم عمر، قال العلوي ثم من؟ قال: الخليفة المقتول ظلماً عثمان. قال العلوي: والله لا أجالسك أبداً. قال له مالك: فالخيارلك" (1).
--------------------------------------------
১৩ - আশহাব ইবনে আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেছেন: আমরা ইমাম মালিকের নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমন সময় আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে দাঁড়ালেন—তাঁরা সচরাচর তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতেন। তিনি ডেকে বললেন, "হে আবু আব্দুল্লাহ!" তখন মালিক তাঁর দিকে মাথা তুলে তাকালেন। নিয়ম ছিল কেউ তাঁকে ডাকলে তিনি কেবল মাথা তুলে তাকানো ছাড়া আর বিশেষ কোনো সাড়া দিতেন না। সেই ত্বলিবী ব্যক্তি তাঁকে বললেন: "আমি আপনাকে আমার এবং আল্লাহর মধ্যে হুজ্জাত বা প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত করতে চাই; যেন যখন আমি তাঁর দরবারে উপস্থিত হব এবং তিনি আমাকে প্রশ্ন করবেন, তখন আমি বলতে পারি: 'মালিক আমাকে এটি বলেছেন'।" ইমাম মালিক বললেন: "বলুন (কী জানতে চান)।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে?" তিনি বললেন: "আবু বকর।" আলাভী ব্যক্তিটি বললেন: "তারপর কে?" মালিক বললেন: "তারপর উমর।" আলাভী পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: "তারপর কে?" তিনি বললেন: "অন্যায়ভাবে শহীদ হওয়া খলিফা উসমান।" তখন আলাভী ব্যক্তিটি বললেন: "আল্লাহর কসম! আমি আপনার মজলিসে আর কখনোই বসব না।" ইমাম মালিক তাঁকে বললেন: "পছন্দ আপনারই (অর্থাৎ আপনার যা ইচ্ছা করতে পারেন)।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
14 - سَأل الرَّشيد مالِكًا فِي رَجُل شَتَم النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم وَذَكَر لَه أَنّ فُقَهَاء الْعِرَاق افْتَوْه بِجَلْدِه فَغَضب مَالِك وَقَال: يَا أَمِير الْمُؤْمِنين مَا بَقَاء الْأُمَّة بَعْد شَتْم نَبِيّهَا؟ من شَتَم الْأَنْبِيَاء قُتِل وَمِن شَتَم أَصْحَاب النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم جُلِد." (1).
--------------------------------------------
১৪ - হারুনুর রশীদ ইমাম মালিককে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গালি দিয়েছিল। তিনি তাঁকে অবহিত করলেন যে, ইরাকের ফকীহগণ তাকে চাবুক মারার ফতোয়া দিয়েছেন। এতে ইমাম মালিক রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: "হে আমীরুল মু'মিনীন! নিজ নবীর অবমাননার পর এই উম্মতের আর কী অস্তিত্ব থাকে? যে ব্যক্তি নবীগণকে গালি দেয় তাকে হত্যা করা হবে, আর যে ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণকে গালি দেয় তাকে চাবুক মারা হবে।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
15 - قال أبو مصعب عن مالك:" فيمن سب من انتسب إلى بيت النبي صلى الله عليه وسلم يضرب ضربا وجيعا ويشهر ويحبس طويلا حتى تظهر توبته لأنه استخفاف بحق الرسول صلى الله عليه وسلم" (1).
--------------------------------------------
১৫ - আবু মুসআব (রহ.) ইমাম মালিক (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশের (আহলে বাইত) সাথে সম্পর্কযুক্ত কাউকে গালি দেয়, তাকে যন্ত্রণাদায়ক প্রহার করতে হবে, জনসমক্ষে লজ্জিত করতে হবে এবং দীর্ঘকাল কারাবন্দী রাখতে হবে যতক্ষণ না তার তাওবা প্রকাশ পায়; কারণ এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদাকে খাটো করার শামিল" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
16 - قال وكيع: سمعت مالك بن أنس يقول: "واعجباً يسأل جعفر وأبو جعفر عن أبي بكر وعمر رضي الله تعالى عنهما". (1)
--------------------------------------------
১৬ - ওয়াকি' বর্ণনা করেছেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি, "কতই না বিস্ময়কর যে, জা'ফর এবং আবু জা'ফরকে আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে!" (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
17 - قال عبد الله بن نافع: سمعت مالك بن أنس يقول:" لو أن العبد ارتكب الكبائر بعد أن لا يشرك بالله شيئا ثم نجا من هذه الأهواء والبدع والتناول لأصحاب رسول الله أرجو أن يكون في أعلا درجة الفردوس مع النبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقا وذلك أن كل كبيرة فيما بين العبد وبين الله عز وجل فهو منه على رجاء وكل هوى ليس منه على رجاء إنما يهوي بصاحبه في نار جهنم من مات على السنة فليبشر من مات على السنة فليبشر من مات على السنة فليبشر" (1).
--------------------------------------------
১৭ - আবদুল্লাহ ইবনে নাফি বর্ণনা করেছেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি: "যদি কোনো বান্দা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করা অবস্থায় কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়, অতঃপর সে যদি এই প্রবৃত্তি, বিদআত এবং রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের সমালোচনা থেকে বেঁচে থাকে, তবে আমি আশা করি সে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্তরে নবীগণ, সিদ্দিকীন, শহীদগণ ও নেককার বান্দাদের সাথে থাকবে; আর তারা কতই না চমৎকার সঙ্গী! এর কারণ হলো, বান্দা ও মহান আল্লাহর মাঝে সংঘটিত প্রতিটি কবিরা গুনাহের ক্ষেত্রে (ক্ষমার) আশা থাকে, কিন্তু প্রবৃত্তির অনুসরণের ক্ষেত্রে তেমন আশা নেই; বরং তা কেবল তার অনুসারীকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করে। যে সুন্নাহর ওপর মৃত্যুবরণ করল সে সুসংবাদ গ্রহণ করুক, যে সুন্নাহর ওপর মৃত্যুবরণ করল সে সুসংবাদ গ্রহণ করুক, যে সুন্নাহর ওপর মৃত্যুবরণ করল সে সুসংবাদ গ্রহণ করুক।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
18 - قال مالك رضي الله عنه:" إنما هؤلاء قوم أرادوا القدح في النبي صلى الله عليه وسلم فلم يمكنهم ذلك فقدحوا في أصحابه حتى يقال: رجل سوء كان له أصحاب سوء ولو كان رجلا صالحا كان أصحابه صالحين" (1).
--------------------------------------------
১৮ - ইমাম মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "নিশ্চয়ই তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিন্দা ও কুৎসা রটনা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা করতে তারা সক্ষম হয়নি। অতঃপর তারা তাঁর সাহাবীগণের নিন্দা করতে শুরু করল যেন বলা যায়: 'তিনি একজন মন্দ লোক ছিলেন যার সঙ্গীসাথীরাও ছিল মন্দ। তিনি যদি নেককার মানুষ হতেন, তবে তাঁর সঙ্গীসাথীরাও নেককার হতো'।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
19 - قال مالك بن أنس:" من لزم السنة، وسلم منه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم مات، كان مع النبيين والصديقين والشهداء والصالحين، وإن كان له تقصير في العمل." (1).
--------------------------------------------
১৯ - মালিক ইবনে আনাস বলেন: "যে ব্যক্তি সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরল এবং যার থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ নিরাপদ থাকলেন, অতঃপর সে মৃত্যুবরণ করল, সে নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ এবং নেককার বান্দাদের সঙ্গী হবে; যদিও তার আমলের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি থেকে থাকে।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
20 - قال مالك بن أنس رحمه الله:" من شتم النبي صلى الله عليه وسلم قتل، ومن شتم أصحابه أُدِّب." (1).
--------------------------------------------
২০ - মালিক ইবনে আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গালি দেবে তাকে হত্যা করা হবে, আর যে ব্যক্তি তাঁর সাহাবীদের গালি দেবে তাকে দণ্ড প্রদান করা হবে।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
21 - قال الواقدي: قال مالك بن أنس:" ولا تجوز شهادة القدري الذي يدعو أو الخارجي والرافضي." (1).
--------------------------------------------
২১ - আল-ওয়াকিদি বলেন: মালিক ইবন আনাস বলেছেন: "যে ক্বাদারি (নিজের মতবাদের দিকে) আহ্বান জানায়, অথবা খারিজি এবং রাফিযিদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
22 - قال مالك بن أنس:" أهل الأهواء كلهم كفار وأسوأهم الروافض." (1).
--------------------------------------------
২২ - মালিক ইবনে আনাস বলেন: "প্রবৃত্তি পূজারীদের সকলেই কাফির এবং তাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো রাফেজিরা।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
23 - سئل مالك عن أشر الطوائف، فقال: الروافض. " (1)
--------------------------------------------
২৩ - ইমাম মালিককে নিকৃষ্টতম দল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি উত্তরে বললেন: "রাফেজিরা।" (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
24 - قَال مالك رحمه الله: من شَتَم أَحَدًا من أَصْحَاب النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أَبَا بَكْر أَو عُمَر أَو عُثْمَان أَو مُعَاوِيَة أَو عَمْرَو بن الْعَاص فَإِن قَال كَانُوا عَلَى ضَلال وَكُفْر قُتِل وَإِن شَتَمَهُم بِغَيْر هَذَا من مُشَاتَمَة النَّاس نُكِّل نَكَالًا شَدِيدًا." (1).
--------------------------------------------
২৪ - ইমাম মালিক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "যে ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সাহাবীকে—যেমন আবু বকর, উমর, উসমান, মুয়াবিয়া কিংবা আমর ইবনুল আসকে—গালি দেয়; সে যদি বলে যে তাঁরা পথভ্রষ্টতা ও কুফরীর ওপর ছিলেন, তবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। আর যদি সে তাঁদেরকে সাধারণ মানুষের ন্যায় গালিগালাজ করে, তবে তাকে অত্যন্ত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
25 - قال مالك:" مَنْ غَاظَهُ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ فَهُوَ كَافِرٌ قَال اللَّه تَعَالَى (لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ) ". (1)
--------------------------------------------
২৫ - ইমাম মালিক (রহ.) বলেন: "মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ যাঁর মনে ক্রোধের সঞ্চার করে, সে ব্যক্তি কাফির। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, '(যাতে) তাদের দ্বারা তিনি কাফিরদের ক্রোধান্বিত করতে পারেন'।" (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মালিক ওয়া মাওকিফুহু মিনার রাফিদ্বাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
26 - قال عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، قَالَ «مَنِ انْتَقَصَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَيْسَ لَهُ مِنَ الْفَيْءِ شَيْءٌ». ". (1)
--------------------------------------------
২৬ - আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মধ্য থেকে কাউকে তুচ্ছজ্ঞান বা অবমাননা করবে, 'ফাই' (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ) থেকে তার কোনো অংশ প্রাপ্য নয়।" (১)
--------------------------------------------