(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: -)
فتح العلام في بيان مآخذ الأحكام   (عبد الرحمن بن علي الحطاب)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: فتح العلام في بيان مآخذ الأحكام

(تعليق على كتاب بلوغ المرام من آيات الأحكام)

المؤلف: عبد الرحمن بن علي الحطاب

الناشر: دار طيبة الخضراء - مكة المكرمة

الطبعة: الأولى، 1444 هـ - 2023 م

عدد الصفحات: 715

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 جُمادَى الآخرة 1445

আহকামের উৎস বর্ণনায় ফাতহুল আল্লাম   (আব্দুর রহমান বিন আলী আল-হাততাব)

বিভাগ: উসূলে ফিকহ


কিতাব: আহকামের উৎস বর্ণনায় ফাতহুল আল্লাম

(আহকামের আয়াতসমূহ হতে বুলুগুল মারাম কিতাবের ওপর টীকা)

লেখক: আব্দুর রহমান বিন আলী আল-হাততাব

প্রকাশক: দার তাইয়েবা আল-খাদরা - মক্কা আল-মুকাররামা

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪৪ হিজরী - ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১৫

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ জুমাদাল আখিরা ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:

فقد اعتنى المسلمون في جميع تخصصاتهم بالقرآن الكريم أشد عناية، كيف لا وهو المصدر الأول من مصادر التشريع، وهو دستور هذه الأمة، وقد تنوعت أوجه العناية به، ومن تلك العناية ما قام به العلماء من جميع المذاهب بجمع أحكامه الفقهية بمؤلفات خاصة، مبسوطة ومتوسطة ومختصرة، وقد شرفني المولى الكريم بتأليف (بلوغ المرام من آيات الأحكام)، وقصدت به السير في ترتيب أبوابه ترتيب الحافظ ابن حجر في كتابه بلوغ المرام من أدلة الأحكام، وقد بدى لي خدمة القرآن وأحكامه ببيان مآخذ تلك الأحكام المستنبطة من آيات الأحكام الواردة في مؤلفي بلوغ المرام، وكتبت هذه التعليقة أرجو من الله أن تلقى قبولاً، وتكون نافعة في بابها، وأسميتها: (فتح العلام في بيان مآخذ الأحكام).

ثم إن المقصود بالمآخذ هنا: هي الأصول التي أخذت منها أحكام المسائل الجزئية، وهي تشمل القواعد الأصولية، والفقهية، والمقاصدية، وجُلُّ تلك المآخذ الواردة في هذا المؤلف محصورة في القواعد الأصولية، لضرورة إظهارها، وأهمية مكانها في الاستنباط، فإن كل فقه لم يبن على الأصول فليس بفقه.

والحديث عن أهمية معرفة مآخذ الأحكام مما يطول ذكره، وحسبك من القلادة ما أحاط بالعنق، ودونك بعض ما قاله المحققون الأوائل في ذلك:
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের উপর। অতঃপর:

মুসলিমগণ তাদের সকল জ্ঞানতাত্ত্বিক শাখায় কুরআন কারীমের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। কেনই বা করবেন না, যখন এটি শরীয়তের উৎসসমূহের মধ্যে প্রথম উৎস এবং এই উম্মতের সংবিধান? কুরআনকে কেন্দ্র করে এই যত্নের দিকগুলোও বৈচিত্র্যপূর্ণ। সেই গুরুত্ব প্রদানের একটি দিক হলো— সকল মাযহাবের আলেমগণ কুরআনের ফিকহি বিধানসমূহকে স্বতন্ত্র রচনাবলীতে সংকলন করেছেন, যা কখনো বিস্তারিত, কখনো মধ্যম মানের আবার কখনো সংক্ষিপ্ত আকারে রচিত হয়েছে। মহান রব আমাকে ‘বুলুগুল মারাম মিন আয়াতিল আহকাম’ নামক গ্রন্থটি রচনার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। এর অধ্যায়গুলো বিন্যাসের ক্ষেত্রে আমি হাফেয ইবনে হাজার-এর কিতাব ‘বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম’-এর বিন্যাস অনুসরণের ইচ্ছা পোষণ করেছি। অতঃপর আমার নিকট কুরআন এবং এর বিধানসমূহের খিদমতের নিমিত্তে আমার রচিত ‘বুলুগুল মারাম’ গ্রন্থে বর্ণিত আহকাম সম্বলিত আয়াতসমূহ থেকে উদ্ভাবিত বিধানগুলোর উৎস (মআখিয) বর্ণনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তাই আমি এই টীকাটি লিখেছি এবং আল্লাহর নিকট আশা করি এটি কবুল হবে এবং এই বিষয়ে উপকারী সাব্যস্ত হবে। আমি এর নাম দিয়েছি: ‘ফাতহুল আল্লাম ফি বায়ানি মাআখিযিল আহকাম’।

এখানে ‘মআখিয’ (উৎস) বলতে উদ্দেশ্য হলো: সেই সকল মূলনীতি (উসূল), যেখান থেকে খুঁটিনাটি মাসআলাগুলোর বিধান গ্রহণ করা হয়েছে। এটি উসূলী, ফিকহি এবং মাকাসিদি মূলনীতিসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই গ্রন্থে বর্ণিত অধিকাংশ উৎসই উসূলী মূলনীতির (কাওয়াইদ উসুলিয়্যাহ) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে; কারণ এগুলো প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা এবং ইস্তিনবাত বা বিধান আহরণের ক্ষেত্রে এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা, যে ফিকহ উসূলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয়, তা প্রকৃত ফিকহ নয়।

বিধানসমূহের উৎস জানার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা অনেক দীর্ঘ। গলার হারের জন্য ততটুকুই যথেষ্ট যা ঘাড়কে পরিবেষ্টন করে রাখে। এ বিষয়ে পূর্ববর্তী মুহাক্কিক বা গবেষক আলেমগণ যা বলেছেন তার কিছু অংশ আপনার সম্মুখে উপস্থাপিত হলো:
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬)
قال ابن السبكي في طبقاته: «فإن المرء إذا لم يعرف علم الخلاف والمآخذ لا يكون فقيهاً إلى أن يلج الجمل في سم الخياط، وإنَّما يكون رجلا ناقلا مخبطا حامل فقه إلى غيره لا قدرة له على تخريج حادث بموجود»(1).

وقال في مقدمة الأشباه والنظائر: «حق على طالب التحقيق، ومن يتشوف إلى المقام الأعلى في التصور والتصديق أن يحكم قواعد الأحكام ليرجع إليها عند الغموض، وينهض بعبء الاجتهاد أتمَّ نهوض، ثُمَّ يؤكدها بالاستكثار من حفظ الفروع؛ لترسخ في الذهن مثمرة عليه بفوائد غير مقطوع فضلها ولا ممنوع»(2).

وقال الزنجاني في مقدمة كتابه تخريج الفروع على الأصول: «ثم لا يخفى عليك أن الفروع إنما تبنى على الأصول، وأن من لا يفهم كيفية الاستنباط، ولا يهتدي إلى وجه الارتباط بين أحكام الفروع وأدلتها التي هي أصول الفقه، لا يتسع له المجال، ولا يمكنه التفريع عليها بحال»(3).

وقال الإسنوي في مقدمة كتابه التمهيد: «ثمَّ إني استخرت الله تعالى في تأليف كتاب يشتمل على غالب مسائله، وعلى المقصود منه، وهو كيفية استخراج الفروع منها .... وحينئذ يعرف الناظر في ذلك مأخذ ما نص عليه أصحابنا وأصلوه، وأجملوه أو فصلوه، ويتنبه به على استخراج ما أهملوه، ويكون سلاحاً وعدة للمفتين، وعمدة للمدرسين»(4).

ويقول القرافي في الذخيرة: « … وبيَّنت مذهب مالك رحمه الله في أصول الفقه؛ ليظهر علو شرفه في اختياره في الأصول كما ظهر في الفروع، ويطَّلع على موافقته لأصله أو

--------------------------------------------

(1) طبقات الشافعية (1/ 319).

(2) الأشباه والنظائر (1/ 10).

(3) تخريج الفروع على الأصول (24).

(4) التمهيد (46).
ইবনে আস-সুবকী তাঁর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে বলেন: «কেননা কোনো ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত মতভেদ সংক্রান্ত জ্ঞান ও এর উৎসসমূহ সম্পর্কে অবগত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে ফকীহ হতে পারবে না যতক্ষণ না সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। বরং সে হবে কেবল একজন বিভ্রান্ত বর্ণনাকারী এবং অন্যের নিকট ফিকহ বহনকারী, বিদ্যমান মূলনীতির ভিত্তিতে কোনো নতুন সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতা তার থাকবে না»(১).

তিনি ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর’-এর ভূমিকায় বলেন: «সঠিক অনুসন্ধান প্রত্যাশী এবং ধারণা ও সত্যায়নের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য আবশ্যিক হলো আহকামের মূলনীতিগুলোকে সুদৃঢ় করা, যাতে অস্পষ্টতার সময় সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায় এবং ইজতিহাদের গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়। এরপর শাখা-প্রশাখা অধিক পরিমাণে মুখস্থ করার মাধ্যমে সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন; যাতে তা মস্তিষ্কে বদ্ধমূল হয়ে যায় এবং এমন ফলপ্রসূ উপকার প্রদান করে যার শ্রেষ্ঠত্ব অবিচ্ছিন্ন ও অবাধ»(২).

আয-যানজানী তাঁর ‘তাখরিজুল ফুরু আলাল উসুল’ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: «অতঃপর আপনার নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, শাখা-বিধানসমূহ কেবল মূলনীতিসমূহের উপরই প্রতিষ্ঠিত। আর যে ব্যক্তি উদ্ভাবন বা ইস্তিনবাতের পদ্ধতি বোঝে না এবং শাখা-বিধান ও সেগুলোর দলীলসমূহ—যা হলো উসুলুল ফিকহ—তাদের মধ্যকার যোগসূত্র খুঁজে পায় না, তার জন্য এ পথ প্রশস্ত নয় এবং তার পক্ষে কোনোভাবেই কোনো বিষয়ের শাখা-বিধান বের করা সম্ভব নয়»(৩).

আল-ইসনাভী তাঁর ‘আত-তামহীদ’ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: «অতঃপর আমি এমন একটি কিতাব রচনার জন্য আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি যা এর অধিকাংশ মাসআলা ও এর মূল লক্ষ্যকে অন্তর্ভুক্ত করবে, আর তা হলো—সেগুলো থেকে কীভাবে শাখা-বিধান বের করতে হয়...। তখন পাঠক আমাদের ইমামগণ যেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন এবং যেসব মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন, কিংবা যা সংক্ষেপে বা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন তার উৎস সম্পর্কে জানতে পারবেন। এবং তাঁরা যা উল্লেখ করতে ছেড়ে দিয়েছেন তা বের করার ব্যাপারে সচেতন হতে পারবেন। আর এটি মুফতিদের জন্য অস্ত্র ও সরঞ্জাম এবং শিক্ষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য অবলম্বন হবে»(৪).

আল-কারাফী ‘আয-যাখীরা’ গ্রন্থে বলেন: « ...এবং আমি উসুলুল ফিকহ-এর ক্ষেত্রে ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব বর্ণনা করেছি; যাতে শাখা-বিধানের ন্যায় উসুলের ক্ষেত্রেও তাঁর পছন্দের উচ্চ মর্যাদা প্রকাশ পায়, এবং তাঁর স্বীয় মূলনীতির সাথে তাঁর মতামতের সামঞ্জস্যতা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায় অথবা...

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ (১/ ৩১৯)।

(২) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর (১/ ১০)।

(৩) তাখরিজুল ফুরু আলাল উসুল (২৪)।

(৪) আত-তামহীদ (৪৬)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭)
مخالفته له، لمعارض أرجح منه فيطلبه حتى يطَّلع على مدركه، ويطلع المخالفين في المناظرات على أصله»(1).

وقال الغزالي في المنخول: «ولا مطمع في الإحاطة بالفرع وتقريره والاطلاع على حقيقته إلا بعد تمهيد الأصل وإتقانه، إذ مثار التخبط في الفروع ينتج عن التخبط في الأصول»(2).

وإني لأرجو أن تتحقق لطالب العلم المطَّلع على هذا المؤلف أمورٌ منها:

(1) تنمية الملكة الفقهية، والتدرب على الاستنباط والترجيح، وتفريع المسائل وبنائها على الأدلة.

(2) الكشف عن الأسس العلمية، والمناهج المختلفة في الاستنباط، التي أدت إلى اختلاف العلماء.

(3) ربط الجزئيات الكثيرة بمآخذها، مما يساعد على فهم وحفظ المسائل الفقهية.

--------------------------------------------

(1) الذخيرة (1/ 39).

(2) المنخول (59).
তাঁর বিরোধিতা করা, তার চেয়ে অধিক শক্তিশালী কোনো বিরোধপূর্ণ দলীলের কারণে, ফলে তিনি তা অনুসন্ধান করেন যতক্ষণ না তিনি তার উৎস সম্পর্কে অবগত হন এবং বিতর্কগুলোতে বিরোধীদেরকে তার মূল ভিত্তি সম্পর্কে অবহিত করেন।»(১).

আর গাজালি আল-মানখুল গ্রন্থে বলেছেন: «শাখা মাসয়ালাগুলো আয়ত্ত করা, সেগুলো সাব্যস্ত করা এবং সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই কেবল মূল ভিত্তি (উসুল) সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুনিপুণ করার পরেই; কারণ শাখাগুলোতে বিভ্রান্তির সূত্রপাত ঘটে মূলত মূলনীতি বা উসুলের বিভ্রান্তি থেকেই»(২).

আর আমি আশা করি যে, এই গ্রন্থটি অধ্যয়নকারী ইলম অন্বেষণকারীর জন্য বেশ কিছু বিষয় অর্জিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে:

(১) ফিকহি প্রজ্ঞা বৃদ্ধি পাওয়া এবং ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ) ও তারজিহ (প্রাধান্য প্রদান)-এর অনুশীলন করা এবং মাসয়ালাগুলোকে দলীলসমূহের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করা ও তা থেকে শাখা মাসয়ালা উদ্ভাবন করা।

(২) ইলমি ভিত্তি এবং ইস্তিনবাতের বিভিন্ন পদ্ধতিসমূহ উন্মোচন করা, যা আলেমদের মতভেদের কারণ হয়েছে।

(৩) অসংখ্য শাখা-প্রশাখাকে সেগুলোর মূল উৎসের সাথে সংশ্লিষ্ট করা, যা ফিকহি মাসয়ালাসমূহ বুঝতে এবং মুখস্থ রাখতে সহায়তা করে।

--------------------------------------------

(১) আয-যাখিরা (১/ ৩৯)।

(২) আল-মানখুল (৫৯)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌كتاب الطهارة

قسم العلماء كتب الأحكام إلى كتب وأبواب، أمّا الكتاب فهو كالجنس، والباب كالنوع، فكتاب الطهارة جنس، أنواعه باب المياه، باب الأنية، باب إزالة النجاسة وبيانها، باب الوضوء، باب المسح على الخفين، باب نواقض الوضوء، باب الغسل وحكم الجنب، باب التّيمم، باب الحيض، وهناك أنواع أخرى لم تذكر لعدم وقوفي على آيات أحكام تندرج تحتها.

والكتاب والطهارة في الأصل مصدران أضيفا وجعلا اسمًا لمسائل من مسائل الفقه تشتمل على مسائل خاصة. وأهم مسائل الفقه هي الصّلاة، ولما كانت الطهارة شرطا من شروطها بدأ بها، وحقها إدراجها تحت شروط الصلاة في كتاب الصّلاة، ولكن قدموها لكونها هي مفتاح الصلاة، كما أن مسائلها كثيرة.

والطهارة اسم مصدر، أي: طهّر تطهيرًا وطهارة، مثل كلّم تكليمًا وكلامًا.

وحقيقة الطهارة: استعمال المطهرين - أي الماء والتراب - أو أحدهما على الصّفة المشروعة في إزالة النجس، أو رفع الخبث. ولما كان الماء هو المأمور بالتطهر به أصالة قدمه فقال:

 

‌‌باب المياه

الباب لغة: ما يدخل ويخرج منه قال تعالى: {ادْخُلُوا عَلَيْهِمُ الْبَابَ} [المائدة: 23]، {وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا} [البقرة: 189] وهو هنا مجاز، شبّه الدخول إلى الخوض في مسائل مخصوصة بالدخول في الأماكن المحسوسة، ثم أثبتت لها الباب.
পবিত্রতার কিতাব

আলেমগণ বিধানের কিতাবসমূহকে বিভিন্ন কিতাব ও অধ্যায়ে (বাব) বিভক্ত করেছেন। 'কিতাব' হলো সাধারণ শ্রেণীর (জেন্স) মতো, আর 'বাব' হলো বিশেষ প্রকারের (নাও) মতো। সুতরাং 'পবিত্রতার কিতাব' হলো একটি সাধারণ শ্রেণী, যার প্রকারগুলো হলো পানির অধ্যায়, পাত্রের অধ্যায়, অপবিত্রতা দূরীকরণ ও তার বর্ণনা সম্পর্কিত অধ্যায়, ওযুর অধ্যায়, মোজার ওপর মাসেহ করার অধ্যায়, ওযু ভঙ্গের কারণসমূহের অধ্যায়, গোসল ও জুনুবী ব্যক্তির বিধানের অধ্যায়, তায়াম্মুমের অধ্যায় এবং ঋতুকালীন (হায়েয) অধ্যায়। এখানে আরও কিছু প্রকার ছিল যা উল্লেখ করা হয়নি, কারণ এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয় এমন কোনো বিধানের আয়াত আমার নজরে আসেনি।

'কিতাব' এবং 'পবিত্রতা' মূলত দুটি ক্রিয়ামূল (মাসদার), যেগুলোকে সম্বন্ধযুক্ত করে ফিকহের এমন কিছু বিষয়ের নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে যা বিশেষ কিছু মাসআলাকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফিকহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সালাত; আর যেহেতু পবিত্রতা সালাতের শর্তসমূহের মধ্যে একটি শর্ত, তাই এটি দ্বারা শুরু করা হয়েছে। মূলত একে সালাতের কিতাবে সালাতের শর্তাবলির অধীনে অন্তর্ভুক্ত করাই সংগত ছিল, কিন্তু তারা একে অগ্রবর্তী করেছেন কারণ এটি সালাতের চাবিকাঠি এবং এর মাসআলাসমূহও অনেক।

পবিত্রতা (তাহারাত) হলো একটি ইসম-এ-মাসদার। অর্থাৎ: 'তাহহারা' থেকে 'তাতহীরান' এবং 'তাহারাতান', যেমন: 'কাল্লামা' থেকে 'তাকলীমান' এবং 'কালামান'।

পবিত্রতার হাকিকত বা প্রকৃত রূপ হলো: অপবিত্রতা দূর করার জন্য অথবা নাপাকি দূর করার জন্য শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে দুটি পবিত্রকারী বস্তু—অর্থাৎ পানি ও মাটি—বা এর যেকোনো একটি ব্যবহার করা। যেহেতু মূলত পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাই তিনি একে আগে উল্লেখ করে বলেছেন:

 

পানির অধ্যায়

আভিধানিক অর্থে 'বাব' বা দরজা হলো: যার মাধ্যমে প্রবেশ করা ও বের হওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা তাদের মোকাবিলায় প্রবেশদ্বারে প্রবেশ করো" [সূরা আল-মায়িদাহ: ২৩], "এবং তোমরা ঘরসমূহে তাদের দরজা দিয়ে প্রবেশ করো" [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৯]। এখানে এটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়াকে দৃশ্যমান স্থানে প্রবেশের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং অতঃপর এর নাম 'বাব' বা অধ্যায় রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৯)
والمياه: جمع ماء، وأصله موه؛ ولذا ظهرت الهاء في جمعه، وهو جنس يقع على القليل والكثير؛ إلّا أنّه جمع لاختلاف أنواعه باعتبار حكم الشّرع؛ فإنّ فيه ما ينهى عنه، وفيه ما يُكره.

قوله تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} [النساء: 43] و [المائدة: 6].

استدل بالآية الكريمة على عدد من الأحكام:

• الحكم الأول: من شروط التّيمم - كما سيأتي - عدم وجود الماء، ويدخل فيه كل ما يطلق عليه ماء.

مأخذ الحكم: ورود لفظ (ماء) في الآية نكرةً في سياق نفي، وهو يعم لغة كل ماء، والماء اسم جنسٍ، فيكون عمومه في الجنس، فيدخل فيه كل ماء قليلًا كان أو كثيرًا، وسواء كان ماءً من سماءٍ أو نهرٍ، أو عين عذب أو ملح.

قال الطّحاوي: «فإنّما أباح التّيمم عند عدم كل جزء من الماء؛ لأنّه لفظ منكر يتناول كل جزء منه سواء كان مخالطًا لغيره، أو منفردًا بنفسه، ولا يمتنع أحد أن يقول في نبيذ التّمر ماء، فلما كان كذلك وجب أن لا يجوز التيمم مع وجوده بالظّاهر»(1).

• الحكم الثاني: ذهب جمهور أهل العلم إلى تقسيم الماء إلى ثلاثة أقسام: طهور، وطاهر، ونجس.

ومن العلماء من جعل القسمة ثنائية: طهور، ونجس، استدلالًا بالآية، وهذا هو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله(2) وعلى هذا التقسيم سارت الفتيا عند كثير

--------------------------------------------

(1) أحكام القرآن (2/ 484).

(2) انظر: مجموع الفتاوى (24/ 35)، (19/ 236)، الإنصاف (1/ 44).
'মিয়াহ' (পানির বহুবচন) শব্দটি 'মা' (পানি) এর বহুবচন, এর মূল হলো 'মাওয়াহ্'; একারণেই এর বহুবচনে 'হা' অক্ষরটি প্রকাশ পেয়েছে। এটি এমন একটি জাতিবাচক বিশেষ্য যা অল্প ও বেশি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়; তবে শরয়ী বিধানের বিচারে এর প্রকারভেদ থাকায় একে বহুবচন করা হয়েছে; কারণ পানির মধ্যে এমন প্রকার রয়েছে যা ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে, আবার এমন প্রকারও আছে যা মাকরুহ (অপছন্দনীয়)।

মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা পানি না পাও, তবে তায়াম্মুম করো} [আন-নিসা: ৪৩] এবং [আল-মায়িদাহ: ৬]।

এই সম্মানিত আয়াত থেকে বেশ কিছু বিধানের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে:

• প্রথম বিধান: তায়াম্মুমের অন্যতম শর্ত হলো—যেমন সামনে আলোচনা আসবে—পানির অনুপস্থিতি। আর এর মধ্যে এমন সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত হবে যাকে পানি বলা হয়।

বিধানের উৎস: আয়াতে 'মা' (পানি) শব্দটি না-বোধক বাক্যের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট হিসেবে এসেছে, যা ভাষাগতভাবে যেকোনো পানির ক্ষেত্রে ব্যাপকতা দান করে। আর 'পানি' একটি জাতিবাচক নাম, ফলে এর ব্যাপকতা স্বীয় জাতির প্রতিটি অংশের ওপর প্রযোজ্য হবে। অতএব, এর মধ্যে সামান্য বা অধিক সব পানিই অন্তর্ভুক্ত হবে, চাই তা আসমানি পানি হোক কিংবা নদীর পানি, অথবা মিষ্টি কিংবা লোনা পানির প্রস্রবণ।

ইমাম ত্বহাবী বলেন: «পানির প্রতিটি অংশের অনুপস্থিতিতেই কেবল তায়াম্মুম বৈধ করা হয়েছে; কারণ এটি একটি অনির্দিষ্ট শব্দ যা পানির প্রতিটি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, চাই তা অন্য কিছুর সাথে মিশ্রিত হোক বা একক অবস্থায় থাকুক। আর খেজুরের নবীজকে (পানির মিশ্রণ) পানি বলতে কেউ নিষেধ করে না। যখন বিষয়টি এমন, তখন বাহ্যত পানির উপস্থিতিতে তায়াম্মুম জায়েজ না হওয়া আবশ্যক»(১)।

• দ্বিতীয় বিধান: অধিকাংশ আলেম পানিকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: পবিত্রকারী, পবিত্র এবং অপবিত্র।

আবার কোনো কোনো আলেম এই আয়াতের দলিলভিত্তিতে পানিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: পবিত্রকারী এবং অপবিত্র। এটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ.-এর পছন্দনীয় মত(২) এবং অনেকের কাছে ফতোয়া এই বিভাজনের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আহকামুল কুরআন (২/ ৪৮৪)।

(২) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (২৪/ ৩৫), (১৯/ ২৩৬), আল-ইনসাফ (১/ ৪৪)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১০)
من علماء هذا البلد، كسماحة الشيخ عبد العزيز بن باز، والشيخ العثيمين -رحمهما الله-(1).

ووجه التقسيم ومأخذ الحكم من الآية: كون لفظ الماء جاء نكرة في سياق نفي فعمَّ كل ما يطلق عليه ماء، ويحمل اللفظ على إطلاقه، ولا يقيد إلا بالشرع، فما دام يسمى ماء ولم يغلب عليه أجزاء غيره كان طهورا.

يقول شيخ الإسلام: «إنّ الشّارع علق الطهارة بمسمى الماء في قوله تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً} ولم يفرق بين ماء وماء ولم يجعل الماء نوعين طاهرا وطهورا»(2).

وقال أيضاً: «فهذا التّقسيم مخالف للكتاب والسّنة، وإنما قال الله {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً}، وقد بسطنا هذا في غير هذا الموضع وبينا أن كل ما يقع عليه اسم ماء فهو طاهر طهور»(3).

فمأخذه رحمه الله وقاعدته هي: أن الاسم الذي أطلقه الشرع لا يقيَّد إلا بالشرع.

وقد نصَّ على ذلك فقال: «والواجب أن يطلق ما أطلقه صاحب الشرع صلى الله عليه وسلم ويقيد ما قيده»(4).

تنبيه: إلى أن تقسيم الماء إلى قسمين أو إلى أكثر هو بالنظر لمطلق الماء، أما الماء المطلق فلا يصدق إلا على الماء الطهور فقط.

فمطلق الشيء يراد به حقيقة الماهية فلا يقيد، أما الشيء المطلق فهو لبيان الماهية بقيد الإطلاق، وهو يفيد التجرد عن جميع القيود، وعليه فالعلاقة بينهما

--------------------------------------------

(1) انظر: مجموع فتاوى ومقالات متنوعة لابن باز (10/ 14)، الشرح الممتع (1/ 54).

(2) مجموع الفتاوى (24/ 35).

(3) مجموع الفتاوى (19/ 236).

(4) مجموع الفتاوى (24/ 13).
এই দেশের আলেমদের মধ্য থেকে, যেমন শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ এবং শাইখ উসাইমিন -আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন-(১)।

আয়াতের বিভাজন এবং হুকুম গ্রহণের ভিত্তি হলো: 'পানি' শব্দটি না-বোধক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট হিসেবে এসেছে, যা পানি অভিহিত হয় এমন সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। শব্দটিকে তার ব্যাপক অর্থেই গ্রহণ করা হবে এবং শরীয়তের দলীল ছাড়া একে সীমাবদ্ধ করা যাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত একে পানি বলা হয় এবং এর ওপর অন্য কোনো কিছুর উপাদান প্রবল না হয়, ততক্ষণ তা পবিত্র ও পবিত্রকারী হিসেবে গণ্য হবে।

শাইখুল ইসলাম বলেন: "নিশ্চয়ই শরীয়ত প্রণেতা আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা পানি না পাও} এর মধ্যে পবিত্রতাকে 'পানি' নামের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। তিনি এক পানির সাথে অন্য পানির পার্থক্য করেননি এবং পানিকে 'পবিত্র' ও 'পবিত্রকারী'—এই দুই প্রকারে বিভক্ত করেননি"(২)।

তিনি আরও বলেন: "সুতরাং এই বিভাজন কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী। আল্লাহ কেবল বলেছেন {যদি তোমরা পানি না পাও}। আমরা অন্য স্থানে এটি বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং বর্ণনা করেছি যে, যা কিছুর ওপর 'পানি' নাম প্রযুক্ত হয়, তা-ই পবিত্র ও পবিত্রকারী"(৩)।

সুতরাং তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) গ্রহণের ভিত্তি এবং মূলনীতি হলো: শরীয়ত যে নামটিকে সাধারণভাবে ব্যবহার করেছে, শরীয়তের দলীল ছাড়া তাকে সীমাবদ্ধ করা যাবে না।

তিনি এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: "ওয়াজিব হলো শরীয়ত প্রণেতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা ব্যাপক রেখেছেন তাকে ব্যাপক রাখা এবং তিনি যা সীমাবদ্ধ করেছেন তাকে সীমাবদ্ধ করা"(৪)।

সতর্কীকরণ: পানিকে দুই বা ততোধিক ভাগে ভাগ করা হয়েছে পানির সাধারণ সত্তার বিচারে। পক্ষান্তরে 'নিরঙ্কুশ পানি' কেবল পবিত্রকারী পানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়।

কোনো বিষয়ের 'সাধারণ সত্তা' বলতে তার প্রকৃত সারবত্তাকে বোঝানো হয় যা কোনো শর্তযুক্ত নয়। আর 'নিরঙ্কুশ বস্তু' বলতে ব্যাপকতার শর্তসহ সত্তাকে বোঝানো হয়, যা সকল প্রকার সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। এর ভিত্তিতে উভয়ের মাঝে সম্পর্ক...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে বাজের মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ (১০/ ১৪), আশ-শারহুল মুমতি (১/ ৫৪)।

(২) মাজমুউল ফাতাওয়া (২৪/ ৩৫)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (১৯/ ২৩৬)।

(৪) মাজমুউল ফাতাওয়া (২৪/ ১৩)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১১)
علاقة عموم وخصوص مطلق، فمطلق الشيء أعم، فمطلق الماء أعم، والماء المطلق أخص مطلقا فهو فرد من أفراد(1).

• الحكم الثالث: استدل بقوله: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} من قال بطهوريّة الماء المتغير بالدواء، شريطة أن يبقى اطلاق اسم الماء عليه(2).

مأخذ الحكم: المأخذ السابق، أو القول إن لفظة {مَاءً} نكرة في سياق النّفي، فتعمّ كل ما يطلق عليه ماء، والماء المتغير بالدواء يطلق عليه اسم الماء، فلم يسلبه الدواء المخالط اسم الماء، وعليه لا يجوز العدول عنه إلى التيمم.

قال القرطبي: «فأما غير الجنس وهو المتغير فلا يدخل فيه، كما لا يدخل فيه ماء الباقلاء ولا ماء الورد»(3).

وكلام القرطبي يشير إلى الفرق بين الماء غير المطلق، أي: الذي يطلق عليه اسم الماء ولكن بالإضافة، كماء الورد وماء الباقلاء، وبين المائعات الّتي لا يطلق عليها اسم الماء مطلقًا إلّا من حيث السيولة فقط، مثل: النّبيذ، والقهوة، والشّاي، واللّبن … ، وسواء كان ماء تغير بمخالطة طاهر، أو طبخ فيه طاهر. فالأخير لا يجوز التّطهر به على خلاف في النّبيذ.

قال ابن قدامة: «فصل: فأمّا غير النّبيذ من المائعات، غير الماء، كالخل، والمرق، واللبن، فلا خلاف بين أهل العلم، فيما نعلم، أنه لا يجوز بها وضوء ولا غسل»(4).

--------------------------------------------

(1) انظر: المنثور في القواعد للزركشي (3/ 181)، التحبير للمرداوي (2/ 605).

(2) ينظر: فقه النوزال في العبادات للمشيقح (20).

(3) الجامع لأحكام القرآن (5/ 230).

(4) المغني (1/ 10).
এটি সাধারণ ও বিশেষের নিরঙ্কুশ সম্পর্ক। বস্তুর সাধারণ পর্যায় (মুতলাক) অধিক ব্যাপক, পানির সাধারণ পর্যায় (মুতলাক) অধিক ব্যাপক, আর ‘মুতলাক পানি’ (বিশুদ্ধ পানি) নিরঙ্কুশভাবে আরও বিশেষ, কেননা এটি সেই ব্যাপকতর বিষয়েরই একটি একক(১).

• তৃতীয় বিধান: যারা ওষুধ মিশে পরিবর্তিত হওয়া পানিকে পবিত্রকারী মনে করেন, তারা আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে তায়াম্মুম করো}। তবে শর্ত হলো, সেটির ওপর যেন ‘পানি’ নামের প্রয়োগ বহাল থাকে(২).

বিধানের উৎস: পূর্বোক্ত উৎসটি অথবা এই অভিমত যে, {পানি} শব্দটি এখানে নেতিবাচক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরাহ) হিসেবে এসেছে, যা এমন সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে যাকে ‘পানি’ বলা হয়। আর ওষুধ দ্বারা পরিবর্তিত পানিকেও ‘পানি’ বলা হয়; কেননা মিশ্রিত ওষুধটি তার থেকে ‘পানি’ নামটিকে ছিনিয়ে নেয়নি। ফলে এমতাবস্থায় পানি ত্যাগ করে তায়াম্মুমের দিকে ফিরে যাওয়া জায়েজ নয়।

কুরতুবী বলেন: «পক্ষান্তরে স্বজাতীয় নয় এমন বস্তু দ্বারা যা পরিবর্তিত হয়, তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে না; যেমন শিম-সিদ্ধ পানি বা গোলাপ জল এর অন্তর্ভুক্ত নয়»(৩).

কুরতুবীর বক্তব্যটি ‘অ-মুতলাক পানি’—অর্থাৎ যাকে পানি বলা হয় ঠিকই কিন্তু কোনো কিছুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে (ইযাফাত), যেমন গোলাপ জল বা শিম-সিদ্ধ পানি—এবং এমন তরল পদার্থের মধ্যে পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করে যাকে সাধারণভাবে আদৌ পানি বলা হয় না, কেবল তরল হওয়ার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ; যেমন: নাবীজ (খেজুর ভেজানো পানি), কফি, চা, দুধ... চাই তা পবিত্র বস্তু মিশ্রণের ফলে পরিবর্তিত পানি হোক অথবা যাতে কোনো পবিত্র বস্তু রান্না করা হয়েছে। শেষেরটির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ নয়, তবে নাবীজের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

ইবনে কুদামা বলেন: «পরিচ্ছেদ: নাবীজ ছাড়া অন্যান্য তরল পদার্থ যা পানি নয়, যেমন: সিরকা, ঝোল এবং দুধ; আমাদের জানামতে আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, এগুলো দিয়ে ওযু বা গোসল জায়েজ নয়»(৪).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: যারকাশী প্রণীত আল-মানসুর ফিল কাওয়ায়েদ (৩/১৮১), মারদাবী প্রণীত আত-তাহবীর (২/৬০৫)।

(২) দেখুন: মুশাইকিহ প্রণীত ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত (২০)।

(৩) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (৫/২৩০)।

(৪) আল-মুগনি (১/১০)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১২)
تنبيه: هذا الحكم مبني على أن الماء إذا خالطه شيء طاهر فغير أحد أوصافه؛ فإنّه يبقى على طهوريته، ما لم يسلبه اسم الماء المطلق، وهذا مذهب الحنفية، ورجحه كثير من المحققين كشيخ الإسلام ابن تيمية، وهو رأي الشيخين عبد العزيز بن باز وابن عثيمين -رحمهما الله- كما سبق.

• الحكم الرابع: استدل بالآية على من قال بأن المياه المتغيرة بصدأ الأنابيب والخزانات باقية على طهوريتها، ولا يجوز التيمم مع وجود هذا الماء، ولا يؤثر تغير الصدأ فيها؛ لعدم القدرة عن الانفكاك عنه، ولا يمكن التحرز ولا صون الماء منه(1).

مأخذ الحكم: ما سبق من كون لفظ {مَاءً} في الآية نكرة في سياق النفي فتعمّ كل ماءٍ، وهذا ماء فلا يجوز التيمم مع وجوده.

ومأخذ آخر: عموم النكرة في سياق الامتنان الواردة في قوله تعالى: {وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ} [الأنفال: 11]، وقوله: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا} [الفرقان: 48].

• الحكم الخامس: استدل بالآية من قال بطهورية مياه الصرف الصحي بعد تنقيتها، وعدم جواز التيمم مع وجودها(2).

ومأخذ الحكم: ما سبق من كون لفظ {مَاءً} نكرة في سياق نفي، تعمّ كل ما يتعلق عليه ماء، ومياه الصّرف الصّحيّ بعد تنقيها يطلق عليها ماء، فيكون المتيمم

--------------------------------------------

(1) ينظر: فقه النوزال في العبادات للمشيقح (20 - 21).

(2) ينظر: قرار مجمع الفقه الإسلامي في دورته الحادية عشرة (258)، ورجحه مجلس هيئة كبار العلماء في قراره رقم (64)، وفتاوى اللجنة الدائمة (5/ 80 - 100)، وأبحاث الهيئة (6/ 216)، ومجلة البحوث الإسلامية (49/ 359 - 361)، ومجموع فتاوى ومقالات متنوعة للشيخ ابن باز (10/ 404)، والشرح الممتع (1/ 47)، وفقه النوازل للمشيقح (57)، والفقه الميسر (9/ 7)،.
সতর্কতা: এই বিধানটি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, পানির সাথে কোনো পবিত্র বস্তু মিশ্রিত হয়ে যদি তার কোনো একটি গুণ পরিবর্তন করে ফেলে, তবে তা তার পবিত্রকারী (তাহুর) গুণেই বহাল থাকে; যতক্ষণ না তা থেকে সাধারণ পানির (মাউ মুতলাক) নাম অপসারিত হয়। এটি হানাফী মাজহাবের অভিমত এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহসহ অনেক গবেষক একেই প্রাধান্য দিয়েছেন। এছাড়া এটি শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ ও ইবনে উসাইমীন (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এরও অভিমত, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

• চতুর্থ বিধান: পাইপ ও ট্যাংকের মরিচার কারণে পরিবর্তিত পানির পবিত্রতা বজায় থাকা এবং এই পানির উপস্থিতিতে তায়াম্মুম করা জায়েয না হওয়ার ব্যাপারে এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে। মরিচার কারণে হওয়া পরিবর্তন পানির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না; কারণ তা থেকে পানিকে মুক্ত রাখা সম্ভব নয় এবং মরিচা থেকে বেঁচে থাকা বা পানিকে তা থেকে রক্ষা করাও দুষ্কর(১)।

বিধানের উৎস: আয়াতে 'পানি' শব্দটি নেতিবাচক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্টবাচক (নাকেরা) হিসেবে আসার কারণে ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে—তা সর্বপ্রকার পানিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটিও পানি, তাই এর উপস্থিতিতে তায়াম্মুম করা জায়েয হবে না।

অন্য একটি উৎস: মহান আল্লাহর এই বাণীতে অনুগ্রহ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্টবাচক শব্দের ব্যাপকতা: "এবং তিনি তোমাদের ওপর আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন যাতে তা দিয়ে তোমাদের পবিত্র করতে পারেন" [আল-আনফাল: ১১], এবং তাঁর বাণী: "এবং আমি আসমান থেকে পবিত্রতা অর্জনকারী পানি বর্ষণ করেছি" [আল-ফুরকান: ৪৮]।

• পঞ্চম বিধান: যারা পরিশোধনের পর পয়ঃনিষ্কাশনের পানির পবিত্রতা এবং এর উপস্থিতিতে তায়াম্মুম করা নাজায়েয হওয়ার কথা বলেন, তাঁরা এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন(২)।

বিধানের উৎস: পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে যে, 'পানি' শব্দটি নেতিবাচক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্টবাচক হিসেবে আসায় তা পানির সংজ্ঞায় পড়ে এমন সবকিছুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পরিশোধিত পয়ঃনিষ্কাশনের পানিকেও 'পানি' বলা হয়, ফলে তায়াম্মুমকারী

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ফিকহুন নাওয়াযিল ফিল ইবাদাত, আল-মুশাইকিহ (২০-২১)।

(২) দ্রষ্টব্য: ইসলামী ফিকহ একাডেমির একাদশ অধিবেশনের সিদ্ধান্ত (২৫৮), এবং হাইয়াতু কিবারিল উলামা (উচ্চতর উলামা পরিষদ)-এর ৬৪ নম্বর সিদ্ধান্ত, ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দায়িমাহ (৫/ ৮০-১০০), আবহাসুল হাইয়াহ (৬/ ২১৬), মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ (৪৯/ ৩৫৯-৩৬১), শাইখ বিন বাজের সংকলিত বিবিধ ফাতাওয়া ও প্রবন্ধ (১০/ ৪০৪), আশ-শারহুল মুমতি (১/ ৪৭), ফিকহুন নাওয়াযিল, আল-মুশাইকিহ (৫৭), আল-ফিকহুল মুয়্যাসসার (৯/ ৭)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
واجدًا، ولا يجوز له العدول عنه إلى التيمم عند وجوده.

وناقش البعض: صحة المأخذ السابق، بأنّ مياه الصّرف الصّحي لا يطلق عليها اسم الماء إلّا بالإضافة.

يقول الدكتور عبد الله بن بكر أبوزيد: وماء الصرف الصحي بعد تنقيته ليس ماءً مطلقاً باقياً على أصل خلقته بل مقيداً بوصف التنقية المشعر بالاستقذار والاستخباث(1).

قوله تعالى: {وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ} [الأنفال: 11]

وقوله: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا} [الفرقان: 48]

استدل بالآية الكريمة على عدد من الأحكام:

• الحكم الأول: مشروعية الطهارة بالماء.

قال السيوطي عن الآية الأولى: «هذا أصل الطّهارة بالماء في الأحداث والنّجاسات»(2).

مأخذ الحكم: ورود لفظ {مَاءً} في الآيتين منكرًا، والآيتان في سياق امتنان فيعم كل ماء نزل من السماء كالمطر، والثلج، والبرد، ونحو ذلك.

واللام في قوله: {لِيُطَهِّرَكُمْ} لام التّعليل، والباء في قوله: {به} للسّببية.

فامتن المولى سبحانه وتعالى على عباده بإنزال الماء لأجل أن يتطهروا بسببه، وهذا يؤيد أنّ معنى {طَهُورًا} في الآية الثانية: الّذي يفعل به التّطهير، أو خبرٌ عن التطهير به، فهو طاهر بنفسه ومطهر لغيره بالإجماع.

--------------------------------------------

(1) فقه القضايا المعاصرة في العبادات (117) رسالة دكتوراه غير منشورة.

(2) الإكليل (2/ 782).
প্রাপ্ত হওয়ার অবস্থায়, এবং পানি পাওয়া গেলে তা ছেড়ে তায়াম্মুমের দিকে ফিরে যাওয়া তার জন্য বৈধ নয়।

কেউ কেউ পূর্বোক্ত দলিলের সঠিকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন যে, পয়ঃনিষ্কাশনের পানিকে সম্বন্ধ ছাড়া কেবল 'পানি' বলা যায় না।

ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন বকর আবু যাইদ বলেন: পয়ঃনিষ্কাশনের পানি শোধনের পর তা তার আদি সৃষ্টির ওপর অবশিষ্ট কোনো সাধারণ পানি থাকে না; বরং এটি শোধনের গুণের সাথে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, যা অপরিচ্ছন্নতা ও অপবিত্রতার অনুভূতি দেয়(১)।

মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেন যাতে এর দ্বারা তোমাদের পবিত্র করতে পারেন} [আল-আনফাল: ১১]

এবং তাঁর বাণী: {এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্রকারী পানি বর্ষণ করেছি} [আল-ফুরকান: ৪৮]

এই সম্মানিত আয়াত দুটি থেকে বেশ কিছু বিধানের দলিল গ্রহণ করা হয়েছে:

• প্রথম বিধান: পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের বৈধতা।

ইমাম সুয়ূতী প্রথম আয়াতটি সম্পর্কে বলেন: «এটি হলো হাদাছ ও নাজাসাত থেকে পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের মূল ভিত্তি»(২)।

বিধানের উৎস: উভয় আয়াতে {পানি} শব্দটি অনির্দিষ্ট হিসেবে এসেছে এবং আয়াত দুটি অনুগ্রহ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে এটি আকাশ থেকে বর্ষিত সকল পানিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন বৃষ্টি, বরফ, শিলাবৃষ্টি এবং অনুরূপ অন্যান্য।

তাঁর বাণী: {যাতে তোমাদের পবিত্র করতে পারেন}-এ 'লাম' অক্ষরটি কারণ দর্শানোর জন্য এবং {এর দ্বারা}-এ 'বা' অক্ষরটি কারণ বা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

সুতরাং মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর বান্দাদের ওপর পানি বর্ষণের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন যাতে তারা এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতে পারে। এটি দ্বিতীয় আয়াতে বর্ণিত {পবিত্রকারী} শব্দের এই অর্থকে সমর্থন করে যে: যার মাধ্যমে পবিত্রতা সম্পাদন করা হয়, অথবা এটি এর মাধ্যমে পবিত্র হওয়ার সংবাদ দেয়; সুতরাং তা নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী—এ ব্যাপারে ইজমা রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ফিকহুল কাদায়া আল-মুআসিরা ফিল ইবাদাত (১১৭) অপ্রকাশিত ডক্টরাল থিসিস।

(২) আল-ইকলীল (২/ ৭৮২)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
قال ابن عاشور: «ووصف الماء بالطّهور، يقتضي أنّه مطهر لغيره؛ إذ العدول عن صيغة فاعل إلى صيغة فعول لزيادة معنى في الوصف، فاقتضاؤه في هذه الآية أنّه مطهر لغيره اقتضاء التزامي؛ ليكون مستكملا وصف الطهارة القاصرة والمتعدية»(1).

فالآيتان: «معناهما واحد، وإن اختلفت تراكيب الصّيغ، لكن الألفاظ غير مقصودة لذاتها، بل لإظهار المعنى» قاله الطّوفي(2).

تنبيه: قوله: {مِنَ السَّمَاءِ} إشارة إلى أنقى ماء، وأطهره، إذا لم يختلط به شيء يكدره أو يقذره، والمعنى: أنّ الماء النازل من السماء هو بالغ نهاية الطهارة في جنسه من المياه.

وقد كان ماء المطر معظم شراب العرب المخاطبين حينئذ، ولذلك يقال لهم: بنو ماء السّماء، وفي البخاري في قصّة سارة: (تلك أمكم يا بني ماء السماء)(3).

قال الحافظ ابن حجر: «كأنّه خاطب بذلك العرب؛ لكثرة ملازمتهم للفلوات التي بها مواقع القطر؛ لأجل رعي دوابهم»(4).

مما يدل على أنه لا مفهوم له مخالف، أي إن ماء غير السماء مطهر أيضاً.

فائدة: اختلف العلماء هل جميع المياه مصدرها من ماء السّماء؟

فمنهم من ذهب إلى ذلك مستدلًا بقوله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً بِقَدَرٍ

--------------------------------------------

(1) التحرير والتنوير (19/ 47 - 48).

(2) شرح مختصر الروضة (1/ 124).

(3) أخرجه البخاري كتاب الأنبياء، باب قول الله تعالى: {وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا} وقوله: {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِلَّهِ} وقوله: {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهٌ حَلِيمٌ} برقم (3179)، ومسلم كتاب الفضائل، باب من فضائل إبراهيم الخليل صلى الله عليه وسلم، برقم (2371).

(4) فتح الباري (6/ 394).
ইবনে আশুর বলেছেন: «পানিকে 'ত্বহুর' (পবিত্র ও পবিত্রকারী) হিসেবে গুণান্বিত করা এটিই দাবি করে যে, এটি অন্যকেও পবিত্র করে; কেননা 'ফা-ইল' শব্দরূপ থেকে 'ফাউল' শব্দরূপে পরিবর্তন করা হয়েছে গুণটির আধিক্য বুঝানোর জন্য। সুতরাং এই আয়াতে এর অর্থ হলো এটি অন্যকে পবিত্রকারী—যা একটি অবিচ্ছেদ্য দাবি; যাতে এটি আত্ম-পবিত্রতা এবং অন্যকে পবিত্র করার—উভয় গুণের পূর্ণতা লাভ করে»(১)।

তদ্রূপ আয়াতদ্বয়: «উভয়টির অর্থ এক, যদিও শব্দগঠনের বিন্যাস ভিন্ন, তবে শব্দগুলো স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়, বরং অর্থ প্রকাশ করাই উদ্দেশ্য» এটি আল-তুফি বলেছেন(২)।

সতর্কবার্তা: তাঁর বাণী: {আকাশ থেকে} এটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও নির্মল পানির দিকে ইঙ্গিত করে, যদি তাতে এমন কিছু না মিশে যা একে ঘোলাটে বা নোংরা করে দেয়। এর অর্থ হলো: আকাশ থেকে অবতীর্ণ পানি তার স্বজাতীয় পানির মধ্যে পবিত্রতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে।

আর বৃষ্টির পানিই ছিল তৎকালীন সম্বোধিত আরবদের প্রধান পানীয়, এই কারণে তাদেরকে বলা হতো: আকাশের পানির সন্তানগণ (বনু মা-ইস সামা)। বুখারীতে সারাহ-এর কাহিনীতে এসেছে: (হে আকাশের পানির সন্তানগণ, তিনিই তোমাদের মা)(৩)।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: «মনে হচ্ছে তিনি এর মাধ্যমে আরবদের সম্বোধন করেছেন; কারণ তারা তাদের গবাদি পশু চড়ানোর জন্য সেই সব মরুভূমিতে অধিক অবস্থান করত যেখানে বৃষ্টিপাত হতো»(৪)।

যা এটিই প্রমাণ করে যে, এর কোনো বিপরীত অর্থ নেই, অর্থাৎ আকাশ ছাড়া অন্য উৎস থেকে প্রাপ্ত পানিও পবিত্রকারী।

উপকারিতা: আলেমগণ মতভেদ করেছেন যে, সমস্ত পানির উৎস কি আকাশের পানি?

তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {আর আমি আকাশ থেকে পানি অবতীর্ণ করেছি পরিমিতভাবে...

--------------------------------------------

(১) আত-তাহরির ওয়াত-তানভির (১৯/ ৪৭ - ৪৮)।

(২) শারহু মুখতাসারির রওদা (১/ ১২৪)।

(৩) ইমাম বুখারি এটি আম্বিয়া অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন} এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয় ইবরাহীম ছিলেন এক অনুগত উম্মত} এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয় ইবরাহীম ছিলেন কোমল হৃদয় ও সহিষ্ণু}, হাদীস নং (৩১৭৯); এবং মুসলিম ফাদায়েল অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: ইবরাহীম খলিল (সা.)-এর ফজিলতসমূহ, হাদীস নং (২৩৭১)।

(৪) ফাতহুল বারী (৬/ ৩৯৪)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
فَأَسْكَنَّاهُ فِي الْأَرْضِ} [المؤمنون: 18]

وقوله: {أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَلَكَهُ يَنَابِيعَ فِي الْأَرْضِ} [الزمر: 21].

ذكر السيوطي أنه قد استدل بالآيتين من قال إنّ المياه كلها من السّماء وأنّه لا ماء من الأرض(1).

وذهب آخرون إلى خلاف ما سبق. قال القرطبي: «توقف جماعة في ماء البحر، لأنه ليس بمنزل من السماء»(2).

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: «ليس في القرآن أن جميع ما ينبع يكون من ماء السماء ولا هذا أيضا معلوما بالاعتبار، فإنّ الماء قد ينبع من بطون الجبال، ويكون فيها أبخرة يخلق منها الماء، والأبخرة وغيرها من الأهوية قد تستحيل، كما إذا أخذ إناء فوضع فيه ثلج فإنه يبقى ما أحاط به ماء وهو هواء استحال ماء وليس ذلك من ماء السماء فعلم أنه ممكن أن يكون في الأرض ماء ليس من السماء فلا يجزم بأنّ جميع المياه من ماء السماء وإن كان غالبها من ماء السماء»(3).

وسواء كان ماء الأرض من السماء أو لا، قفد اتفق العلماء على طهورية كل ماء سواء نزل من السماء أو نبع من الأرض.

قال ابن رشد: «وأجمع العلماء على أنّ جميع أنواع المياه طاهرة في نفسها مطهرة لغيرها، إلّا ماء البحر، فإنّ فيه خلافًا في الصّدر الأوّل شاذا»(4).

فقد حكي عن ابن عمر كراهية الوضوء به، وأكثر صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم على

--------------------------------------------

(1) انظر: الإكليل (3/ 1151).

(2) الجامع لأحكام القرآن (13/ 53).

(3) مجموع الفتاوى (16/ 16).

(4) بداية المجتهد (1/ 29).
"অতঃপর আমি তা জমিনে সংরক্ষণ করেছি।" [আল-মুমিনুন: ১৮]

এবং তাঁর বাণী: "তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা জমিনের ঝরনাগুলোতে প্রবাহিত করেন।" [আজ-জুমার: ২১]।

সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন যে, যারা বলেন সকল পানি আকাশ থেকেই আগত এবং জমিনের নিজস্ব কোনো পানি নেই, তারা এই দুটি আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন(১)।

অন্যরা পূর্বোক্ত মতের বিপরীতে গিয়েছেন। কুরতুবী বলেন: "একদল আলেম সমুদ্রের পানির ব্যাপারে ইতস্ততবোধ করেছেন, কারণ এটি আকাশ থেকে বর্ষিত নয়"(২)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "কুরআনে এমনটি নেই যে, যা কিছু প্রবাহিত হয় তার সবটাই আকাশের পানি থেকে আসে, আর যুক্তি-বিবেচনা দিয়েও এটি নিশ্চিত নয়। কেননা পানি পাহাড়ের ভেতর থেকে নির্গত হতে পারে এবং সেখানে এমন বাষ্প থাকতে পারে যা থেকে পানি সৃষ্টি হয়। আর বাষ্প ও অন্যান্য বায়বীয় উপাদান রূপান্তরিত হতে পারে; যেমনটি ঘটে যখন একটি পাত্রে বরফ রাখা হয়, তখন তার চারপাশে পানি জমা হয় যা মূলত রূপান্তরিত বাতাস এবং তা আকাশের পানি নয়। সুতরাং জানা গেল যে, জমিনে এমন পানি থাকা সম্ভব যা আকাশ থেকে আসেনি। অতএব, সমস্ত পানি আকাশের পানি—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না, যদিও এর অধিকাংশ আকাশ থেকেই আসে"(৩)।

জমিনের পানি আকাশ থেকে আসুক বা না আসুক, আলেমগণ সকল পানির পবিত্রতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, চাই তা আকাশ থেকে বর্ষিত হোক বা জমিন থেকে নির্গত হোক।

ইবনে রুশদ বলেন: "আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সকল প্রকার পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী, কেবল সমুদ্রের পানি ব্যতীত; কেননা এর ব্যাপারে প্রাথমিক যুগে কিছুটা বিচ্ছিন্ন মতভেদ ছিল"(৪)।

ইবনে উমর থেকে এটি দ্বারা অজু করা অপছন্দনীয় হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে, তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ সাহাবী ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইকলীল (৩/ ১১৫১)।

(২) আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন (১৩/ ৫৩)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (১৬/ ১৬)।

(৪) বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/ ২৯)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
خلافه، وكذا العلماء(1).

والكراهية لا تنافي الجواز؛ لذا قال ابن عبد البر: «وقد أجمع العلماء وجماعة أئمة الفتيا من الفقهاء: أن البحر طهور، وأنّ الوضوء جائز به»(2).

• الحكم الثاني: اختلف العلماء في أقسام المياه.

فذهب الجمهور إلى تقسيمها إلى ثلاثة أقسام: طهور، وطاهر، ونجس.

ومأخذ الحكم: أن قوله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا} يدل على أنّ الطّاهر غير الطّهور، وإلّا لزم التّأكيد، والتأسيس أولى(3).

ومن العلماء من جعل الماء قسمين:

ومأخذ الحكم: القول بأن الأسماء التي أطلقها الشّارع تبقى على إطلاقها، فأطلق الماء فكل طاهر منه فهو طهور، ولم يفرق بينهما.

قال شيخ الإسلام: «إنّ الشّارع علق الطهارة بمسمى الماء في قوله تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا} ولم يفرق بين ماء وماء ولم يجعل الماء نوعين طاهرا وطهورا … »(4).

وقال أيضا: «لا فرق بين المتغير بأصل الخلقة وغيره ولا بما يشق الاحتراز

--------------------------------------------

(1) قال ابن العربي في أحكام القرآن (1/ 447): «قال ابن عمر رضي الله عنه: إنه لا يجوز الوضوء به؛ لأنه ماء النار، أو لأنه طين جهنم، وكأنهم يشيرون إلى أنه ماء عذاب، فلا يكون ماء قربة».

(2) التمهيد (16/ 221)، وانظر الاستذكار (1/ 159)، وقد حكي عن ابن عمر كراهية الوضوء به، وأكثر صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم على خلافه، قال ابن العربي في أحكام القرآن (1/ 447): «قال ابن عمر رضي الله عنه: إنه لا يجوز الوضوء به؛ لأنه ماء النار، أو لأنه طين جهنم، وكأنهم يشيرون إلى أنه ماء عذاب، فلا يكون ماء قربة».

(3) انظر: مغني المحتاج للشربيني (1/ 29).

(4) مجموع الفتاوى (21/ 35).
তাঁর বিপরীতে, এবং আলেমগণও অনুরূপ(১)।

আর অপছন্দনীয় হওয়া বৈধতার পরিপন্থী নয়; তাই ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: «ওলামায়ে কেরাম এবং ফকিহদের মধ্য থেকে ফতোয়া প্রদানকারী ইমামদের জামাত ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে: সমুদ্রের পানি পবিত্রকারী (তহুর), এবং এর দ্বারা অজু করা জায়েজ»(২)।

• দ্বিতীয় বিধান: ওলামায়ে কেরাম পানির প্রকারভেদ নিয়ে মতভেদ করেছেন।

জমহুর (অধিকাংশ আলেম) পানিকে তিন ভাগে বিভক্ত করার দিকে মত দিয়েছেন: পবিত্রকারী (তহুর), পবিত্র (তাহির) এবং অপবিত্র (নাজিস)।

বিধানের উৎস: মহান আল্লাহর এই বাণী: {এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্রকারী পানি বর্ষণ করেছি} প্রমাণ করে যে, 'তাহির' (পবিত্র) 'তহুর' (পবিত্রকারী) থেকে ভিন্ন; অন্যথায় এটি তাকিদ (পুনরুক্তি) হয়ে যেত, অথচ তাসিস (নতুন অর্থ প্রদান) করাই শ্রেয়(৩)।

আর আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ পানিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:

বিধানের উৎস: এই মতটি হলো—শরিয়ত প্রণেতা যে নামগুলো সাধারণভাবে প্রয়োগ করেছেন তা তার সাধারণ অর্থেই বহাল থাকবে। তিনি একে 'পানি' হিসেবে অভিহিত করেছেন, তাই এর প্রতিটি পবিত্র অংশই পবিত্রকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং তিনি এ দুটির মাঝে কোনো পার্থক্য করেননি।

শাইখুল ইসলাম বলেন: «শরিয়ত প্রণেতা মহান আল্লাহর এই বাণীতে পবিত্রতাকে 'পানি' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন: {অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো}। তিনি কোনো পানির মধ্যে পার্থক্য করেননি এবং পানিকে 'তাহির' ও 'তহুর'—এই দুই প্রকারে বিভক্ত করেননি...»(৪)।

তিনি আরও বলেন: «প্রকৃতিগতভাবে পরিবর্তিত পানি এবং অন্য কোনোভাবে পরিবর্তিত পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, আর যা থেকে বেঁচে থাকা কঠিন এমন কিছুর ক্ষেত্রেও কোনো পার্থক্য নেই

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আরাবি আহকামুল কুরআনে (১/ ৪৪৭) বলেন: «ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: এর দ্বারা অজু করা জায়েজ নয়; কারণ এটি আগুনের পানি, অথবা এটি জাহান্নামের কাদা। যেন তাঁরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে এটি আজাবের পানি, তাই এটি ইবাদতের পানি হবে না»।

(২) আত-তামহিদ (১৬/ ২২১), এবং দেখুন আল-ইস্তিজকার (১/ ১৫৯); ইবনে উমর থেকে এর দ্বারা অজু করা মাকরুহ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ সাহাবী তাঁর ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। ইবনুল আরাবি আহকামুল কুরআনে (১/ ৪৪৭) বলেন: «ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: এর দ্বারা অজু করা জায়েজ নয়; কারণ এটি আগুনের পানি, অথবা এটি জাহান্নামের কাদা। যেন তাঁরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে এটি আজাবের পানি, তাই এটি ইবাদতের পানি হবে না»।

(৩) দেখুন: শারবিনি কৃত মুগনি আল-মুহতাজ (১/ ২৯)।

(৪) মাজমুউল ফাতাওয়া (২১/ ৩৫)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
عنه؛ ولا بما لا يشق الاحتراز عنه، فما دام يسمى ماء ولم يغلب عليه أجزاء غيره كان طهورا … وهذا القول هو الصّواب»(1).

تنبيه: هذا المأخذ كان سببًا في اختلاف العلماء في مسائل كثيرة متعلقة بالمياه، وذلك لأن في خفاء تناول اسم الماء المطلق لبعض المياه ولا سيما بسبب مخالطة الماء لغيره خلافاً في كثير من المسائل، بمعنى هل كان اسم الماء المطلق يتناوله فيصح الطهارة به أو لا؟

قلت: ويكاد يكون هذا المأخذ هو أصل هذا الباب؛ لكثرة ما يتفرع عليه،

ومن ذلك.

(1) أن الماء لا تفسده النّجاسة الحالّة فيه قليلا كان أو كثيرا، إلا أن تظهر فيه النّجاسة وتغيّر منه طعما أو ريحا أو لونا. قال القرطبي: «وهو الصّحيح في النّظر وجيد الأثر»(2).

وأورد في مسألة مستقلة أخرى الخلاف في الفرق بين ورود النّجاسة على الماء، وورود الماء على النّجاسة، ثم قال: «والماء لا يخلو تغيّره بنجاسة أو بغير نجاسة، فإن كان بنجاسة وتغير، فقد أجمع العلماء على أنّه غير طاهر ولا مطهر، وكذلك أجمعوا أنّه إذا تغير بغير نجاسة أنّه طاهرٌ على أصله. وقال الجمهور: إنّه غير مطهر إلا أن يكون تغيره من تربة وحمأة. وما أجمعوا عليه فهو الحق الذي لا إشكال فيه، ولا التباس»(3).

(2) أنّ الماء المتغير بقراره كزرنيخ أو جير يجري عليه، أو تغير بطحلب أو ورق شجر ينبت عليه لا يمكن الاحتراز عنه، فاتفق العلماء أن ذلك لا يمنع من الوضوء

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (24/ 35).

(2) الجامع لأحكام القرآن (13/ 42).

(3) المصدر السابق.
তা থেকে; কিংবা এমন কিছু দ্বারা যা থেকে বেঁচে থাকা কঠিন নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে পানি বলা হয় এবং অন্য কোনো উপাদান তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার না করে, ততক্ষণ তা পবিত্রকারী পানি হিসেবে গণ্য হবে … আর এই মতটিই সঠিক»(১).

সতর্কবার্তা: পানির সাথে সম্পর্কিত অনেক মাসআলায় আলেমদের মতভেদের কারণ ছিল এই মূলনীতিটি। কেননা, পানির সাথে অন্য কিছু মিশে যাওয়ার কারণে নির্দিষ্ট কিছু পানির ক্ষেত্রে 'সাধারণ পানি' (মা-এ মুতলাক) নামটির প্রয়োগ অস্পষ্ট হয়ে পড়ে, যা অনেক মাসআলায় মতভেদের সৃষ্টি করেছে। অর্থাৎ, সাধারণ পানির নাম কি তার ওপর প্রযোজ্য হবে যার ফলে তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে, নাকি হবে না?

আমি বলছি: এই অধ্যায়ের মূল ভিত্তি হতে চলেছে এই মূলনীতিটি; কারণ এখান থেকে অনেক শাখা-মাসআলা নির্গত হয়,

এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

(১) পানিতে নাপাকি পতিত হলে তা পানিকে অপবিত্র করে না, চাই পানির পরিমাণ কম হোক বা বেশি, যতক্ষণ না তাতে নাপাকি প্রকাশ পায় এবং তার স্বাদ, ঘ্রাণ অথবা বর্ণ পরিবর্তন করে ফেলে। ইমাম কুরতুবী বলেন: «এটিই যুক্তির বিচারে সঠিক এবং বর্ণনার দিক থেকে উত্তম»(২).

তিনি অন্য একটি স্বতন্ত্র মাসআলায় পানির ওপর নাপাকি আসা এবং নাপাকির ওপর পানি আসার পার্থক্যের বিষয়ে মতভেদ উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: «পানির পরিবর্তন হয় নাপাকির কারণে অথবা নাপাকি ছাড়া অন্য কিছুর কারণে। যদি নাপাকির কারণে পানির পরিবর্তন ঘটে, তবে আলেমগণ একমত হয়েছেন যে তা পবিত্রও নয় এবং পবিত্রকারীও নয়। অনুরূপভাবে তারা একমত হয়েছেন যে, যদি নাপাকি ব্যতিরেকে অন্য কিছুতে পানির পরিবর্তন ঘটে, তবে তা তার মূল প্রকৃতি অনুযায়ী পবিত্র থাকবে। জমহুর আলেমগণ বলেছেন: তা পবিত্রকারী হবে না, যদি না তার পরিবর্তন মাটি বা কাদা-মাটির কারণে হয়। আর যে বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন, সেটিই হলো সত্য যাতে কোনো সংশয় বা অস্পষ্টতা নেই»(৩).

(২) যে পানি তার আধারের (উৎসের) কারণে পরিবর্তিত হয়, যেমন আর্সেনিক বা চুনাপাথরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া, কিংবা শেওলা বা গাছের পাতার কারণে পরিবর্তিত হওয়া যা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়; আলেমগণ একমত হয়েছেন যে তা দ্বারা অজু করতে কোনো বাধা নেই।

--------------------------------------------

(১) মাজমু আল-ফাতাওয়া (২৪/ ৩৫)।

(২) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (১৩/ ৪২)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
به، لعدم الاحتراز منه والانفكاك عنه، وأن هذا التَّغيُر لا يسلبه اسم الماء(1).

(3) ما نقله القرطبي عن علمائهم بأنّه يكره «سؤر النّصراني وسائر الكفار، والمدمن الخمر، وما أكل الجيف، كالكلاب وغيرها. ومن توضأ بسؤرهم فلا شيء عليه حتى يستيقن النّجاسة»(2).

ثم ذكر في مسألة أخرى الخلاف في سؤر الكلب.

(4) ما مات في الماء مما لا دم له، فلا يضرّ الماء إن لم يغيّر ريحه، فإن أنتن لم يتوضأ به. وكذلك ما كان له دم سائل من دواب الماء، كالحوت والضفدع، لم يفسد ذلك الماء موته فيه، إلا أن تتغير رائحته، فإن تغيرت رائحته وأنتن لم يجز التطهر به ولا الوضوء منه. قال القرطبي: «وليس بنجس عند مالك»، ثم قال: «وأمّا ما له نفسٌ سائلة، فمات في الماء ونزح مكانه ولم يغير لونه ولا طعمه ولا ريحه فهو طاهر مطهر، سواء كان الماء قليلًا أو كثيرًا عند المدنيين»(3)، يعني من أصحاب مالك، ثم ذكر الخلاف فيه.

• الحكم الثالث: المياه المنزلة من السماء والمودعة في الأرض طاهرة مطهرة على اختلاف ألوانها وطعومها وأرياحها حتى يخالطها غيرها.

ومأخذ الحكم: ما سبق من أن اسم الماء يتناولها فيصح التطهر بها.

تنبيه: المخالط للماء على ثلاثة أضرب:

ضربٌ يوافقه في صفتيه جميعًا - أي كونه طاهراً ومطهراً - فإذا خالطه فغيَّره لم يسلبه وصفا منهما لموافقته لهما وهو التراب.

--------------------------------------------

(1) انظر: المغني (1/ 22)، أحكام القرآن لابن الفرس (2/ 386).

(2) الجامع لأحكام القرآن (13/ 44).

(3) الجامع لأحكام القرآن (13/ 46).
এর মাধ্যমে, কারণ এটি থেকে বেঁচে থাকা বা মুক্ত থাকা সম্ভব নয়, এবং এই পরিবর্তন পানির নামকে বিলুপ্ত করে না(১).

(৩) ইমাম কুরতুবী তাদের আলেমদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা হলো, "খ্রিস্টান ও অন্যান্য কাফের, মদাসক্ত ব্যক্তি এবং মৃতদেহ ভক্ষণকারী প্রাণী যেমন কুকুর ইত্যাদির উচ্ছিষ্ট অপছন্দনীয় (মাকরূহ)। আর যে ব্যক্তি তাদের উচ্ছিষ্ট দিয়ে অজু করবে, তার কোনো সমস্যা নেই যতক্ষণ না সে নাপাকি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়"(২).

অতঃপর তিনি অন্য একটি মাসয়ালায় কুকুরের উচ্ছিষ্ট নিয়ে মতভেদের কথা উল্লেখ করেছেন।

(৪) যেসব প্রাণীর রক্ত নেই, সেগুলো যদি পানিতে মারা যায়, তবে তা পানির কোনো ক্ষতি করে না যতক্ষণ না তা পানির গন্ধ পরিবর্তন করে দেয়। যদি তা দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যায়, তবে তা দিয়ে অজু করা যাবে না। অনুরূপভাবে, জলজ প্রাণীদের মধ্যে যাদের প্রবহমান রক্ত রয়েছে, যেমন মাছ ও ব্যাঙ, সেগুলোর মৃত্যুও পানিকে নষ্ট করে না, যতক্ষণ না এর ঘ্রাণ পরিবর্তন হয়। তবে যদি এর ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয় এবং দুর্গন্ধযুক্ত হয়, তবে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা বা অজু করা জায়েজ হবে না। কুরতুবী বলেন: "ইমাম মালিকের নিকট এটি নাপাক নয়।" অতঃপর তিনি বলেন: "আর যার প্রবহমান রক্ত রয়েছে, সে যদি পানিতে মারা যায় এবং তাকে সেই স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তা পানির বর্ণ, স্বাদ বা ঘ্রাণ পরিবর্তন না করে, তবে মদিনাবাসী আলেমদের মতে তা পবিত্র ও পবিত্রতাকারী, পানি অল্প হোক বা বেশি"(৩), অর্থাৎ মালিকি মাজহাবের অনুসারীদের মতে। এরপর তিনি এ বিষয়ে মতভেদ উল্লেখ করেছেন।

• তৃতীয় বিধান: আকাশ থেকে বর্ষিত এবং জমিনে সংরক্ষিত পানি—তার বর্ণ, স্বাদ ও ঘ্রাণ ভিন্ন ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও—পবিত্র ও পবিত্রতাকারী, যতক্ষণ না তার সাথে অন্য কিছু মিশ্রিত হয়।

বিধানের উৎস: পূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে যে, 'পানি' শব্দটি এগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে, তাই এগুলো দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা সঠিক।

সতর্কীকরণ: পানির সাথে মিশ্রিত বস্তু তিন প্রকার:

এক প্রকার যা পানির উভয় গুণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ—অর্থাৎ পবিত্র হওয়া এবং পবিত্রতাকারী হওয়া—সুতরাং এটি যদি পানির সাথে মিশে তা পরিবর্তনও করে দেয়, তবুও তা পানির ওই দুটি গুণের কোনোটিই ছিনিয়ে নেয় না, কারণ তা ওই গুণের সাথে সংগতিপূর্ণ; আর তা হলো মাটি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুগনি (১/ ২২), আহকামুল কুরআন লি-ইবনিল ফারাস (২/ ৩৮৬)।

(২) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (১৩/ ৪৪)।

(৩) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (১৩/ ৪৬)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
والضرب الثاني: يوافقه في إحدى صفتيه وهي الطهارة، دون التّطهير فإذا خالطه فغيَّره سلبه ما خالفه فيه وهو التطهير، كماء الورد وسائر الطاهرات.

والضرب الثالث: يخالفه في الصّفتين جميعًا، فإذا خالطه فغيَّره سلبه الصّفتين جميعًا لمخالفته له فيهما وهو النجس.

• الحكم الرابع: الماء المستعمل طاهر، إذا كانت أعضاء المتوضئ به طاهرة، وهل يكون مطهراً لغيره؟، من العلماء من قال إنَّه مطهر لغيره.

مأخذ الحكم: أنّه ماء طاهر لا ينضاف إليه شيء، فهو ماء مطلق، أي أنه يندرج تحت اسم الماء المطلق، فيصح التطهر به.

وقيل: بل هو مطلق لا عام، فلا يصح التطهر به.

مأخذ الحكم: ذكر القرافي في فروقه مدركاً وصفه بأنّه وجه قوي حسن، ومدرك جميل، فقال: «وأن قوله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا} وقوله: {لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ} مطلق في التطهير لا عامّ فيه، بل عامّ في المكلفين، إذا تطهّرنا بالماء مرّة حصل موجب اللفظ، فبقيت المرّة الثانية منه غير منطوق بها، فتبقى على الأصل غير معتبرة، فإنّ الأصل في الأشياء عدم الاعتبار في التّطهير؛ إذ الأصل أن لا يعتبر في التطهير وغيره إلّا ما وردت الشّريعة به»(1).

وقال ابن العربي: «مسألة الماء المستعمل إنما تنبني على أصل آخر، وهو أن الآلة إذا أدّي بها فرض، هل يؤدى بها فرض آخر أم لا؟ فمنع ذلك المخالف قياسًا على الرقبة إذا أدّى بها فرض عتق، لم يصلح أن يتكرر في أداء فرض آخر، وهذا باطل من القول، فإنّ العتق إذا أتى على الرّق أتلفه فلا يبقى محل لأداء الفرض بعتق آخر. ونظيره من الماء ما تلف على الأعضاء فإنه لا يصح أن يؤدى به فرض آخر؛

--------------------------------------------

(1) الفروق (2/ 118).
দ্বিতীয় প্রকার: এটি পানির দুটি গুণের একটির সাথে মিল রাখে, আর তা হলো পবিত্রতা, কিন্তু পবিত্র করার ক্ষমতা নয়। সুতরাং যখন এটি পানির সাথে মিশ্রিত হয় এবং পানির পরিবর্তন ঘটায়, তখন এটি পানির সেই গুণটি কেড়ে নেয় যেটিতে এটি পানির বিপরীত, আর তা হলো পবিত্র করার ক্ষমতা; যেমন গোলাপ জল এবং অন্যান্য পবিত্র বস্তুসমূহ।

তৃতীয় প্রকার: এটি উভয় গুণেই পানির বিপরীত। সুতরাং যখন এটি পানির সাথে মিশ্রিত হয় এবং পানির পরিবর্তন ঘটায়, তখন উভয় গুণেই পানির বিপরীত হওয়ার কারণে এটি পানির উভয় গুণই কেড়ে নেয়; আর তা হলো অপবিত্র বস্তু (নাজিস)।

• চতুর্থ বিধান: ব্যবহৃত পানি পবিত্র, যদি ওজুকারীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পবিত্র থাকে। তবে এটি কি অন্যকে পবিত্র করতে সক্ষম? আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি অন্যকে পবিত্র করতে সক্ষম।

বিধানের উৎস: এটি এমন এক পবিত্র পানি যার সাথে অন্য কিছু যুক্ত হয়নি, ফলে এটি সাধারণ পানি। অর্থাৎ এটি সাধারণ পানির সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, তাই এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ।

কেউ কেউ বলেছেন: বরং এটি সুনির্দিষ্ট, ব্যাপক নয়; তাই এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা সঠিক নয়।

বিধানের উৎস: আল-কারাফী তাঁর 'আল-ফুরুক' গ্রন্থে একটি তাত্ত্বিক ভিত্তি উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে শক্তিশালী, উত্তম ও চমৎকার দিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: «আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং আমি আকাশ হতে পবিত্র পানি বর্ষণ করেছি} এবং তাঁর বাণী: {যাতে তিনি তা দিয়ে তোমাদের পবিত্র করেন} পবিত্রকরণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট, এতে ব্যাপকতা নেই। বরং এটি মুকাল্লাফদের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের) ক্ষেত্রে ব্যাপক। যখন আমরা একবার পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করি, তখন শব্দের দাবি পূরণ হয়ে যায়। ফলে দ্বিতীয়বার ওই পানি দিয়ে পবিত্রতার বিষয়টি আর বক্তব্যের আওতাভুক্ত থাকে না। সুতরাং তা মূল অবস্থার ওপর অপাঙ্ক্তেয় হিসেবে বহাল থাকবে। কেননা বস্তুর ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো পবিত্রকরণের ক্ষেত্রে তা ধর্তব্য না হওয়া; কারণ পবিত্রকরণ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে শরীয়ত যা নিয়ে এসেছে তা ছাড়া অন্য কিছু ধর্তব্য না হওয়াই হলো মূল নীতি»(১)।

ইবনুল আরাবী বলেছেন: «ব্যবহৃত পানির মাসআলাটি অন্য একটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, আর তা হলো: যখন কোনো উপকরণ দিয়ে একটি ফরজ আদায় করা হয়, তখন সেটি দিয়ে কি অন্য কোনো ফরজ আদায় করা যাবে কি না? বিপক্ষ দল এটিকে নিষেধ করেছেন ওই দাসের সাথে তুলনা করে যার মাধ্যমে একবার দাসত্বমোচনের ফরজ আদায় করা হয়েছে; সেটি পুনরায় অন্য কোনো ফরজ আদায়ে ব্যবহার করা সঠিক নয়। তবে এটি একটি অসার উক্তি; কেননা দাসের ক্ষেত্রে যখন দাসত্বমোচন ঘটে, তখন তা দাসত্বকেই বিলুপ্ত করে দেয়, ফলে অন্য কোনো দাসত্বমোচনের ফরজ আদায়ের ক্ষেত্র অবশিষ্ট থাকে না। পানির ক্ষেত্রে এর সদৃশ হলো যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর ব্যয় হয়ে গেছে, তা দিয়ে পুনরায় অন্য কোনো ফরজ আদায় করা সঠিক নয়;»

--------------------------------------------

(১) আল-ফুরুক (২/ ১১৮)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২০)
لتلف عينه حسًّا كما تلف الرّق في الرّقبة بالعتق حكما، وهذا نفيس فتأملوه»(1).

• الحكم الخامس: جواز التطهر بمياه الصرف الصحيّ بعد التنقية بالوسائل الحديثة.

استدل بالآية على جواز التطهر بمياه الصرف الصحيّ بعد التنقية بالوسائل الحديثة(2).

مأخذ الحكم هو: ما سبق من كون لفظة {مَاءً} نكرة في سياق نفي، تعمّ كل ما يتعلق عليه ماء، ومياه الصّرف الصّحيّ بعد تنقيها يطلق عليها ماء، فيكون المتيمم واجدًا، ولا يجوز له العدول عنه إلى التيمم عند وجوده.

وناقش البعض: صحة الاستنباط السابق، بأنّ مياه الصّرف الصّحي لا يطلق عليها اسم الماء إلّا بالإضافة.

يقول الدكتور عبد الله بن بكر أبوزيد: وماء الصرف الصحي بعد تنقيته ليس ماءً مطلقاً باقياً على أصل خلقته بل مقيداً بوصف التنقية المشعر بالاستقذار والاستخباث(3).

وقد حرم سبحانه وتعالى الخبيث بقوله: {وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ} [الأعراف: 157]، ولفظ (حرم) وما تصرف منه يفيد التحريم، وهي هنا إخبار عن الحكم شرعي، ومياه الصرف الصحي وإن حصل لها تنقية فإن علة الاستخباث والاستقذار باقية باعتبار أصلها، وكونه ماءً خارجاً ومعتصرًا من البول والغائط.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق، وانظر: أحكام القرآن لابن العربي (3/ 438).

(2) صدر به قرار المجمع الفقهي، وهيئة كبار العلماء في المملكة قرارها رقم (64). ينظر: قرارات المجمع الفقهي الإسلامي (91 - 93، 258)، فتاوى اللجنة الدائمة (5/ 80)، ومجلة البحوث الإسلامية (49/ 359 - 361)، مجموع فتاوى ومقالات متنوعة لابن باز (10/ 404).

(3) فقه القضايا المعاصرة في العبادات (117) رسالة دكتوراه غير منشورة.
যাতে তার সত্তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবে বিলীন হয়, যেভাবে দাসত্বের বন্ধন আযাদ করার মাধ্যমে বিধানগতভাবে গর্দান থেকে বিলীন হয়ে যায়। এটি একটি চমৎকার সূক্ষ্ম বিষয়, তাই এটি গভীরভাবে ভেবে দেখুন।(১).

• পঞ্চম বিধান: আধুনিক পদ্ধতিতে পরিশোধনের পর পয়ঃনিষ্কাশনের পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের বৈধতা।

আধুনিক পদ্ধতিতে পরিশোধনের পর পয়ঃনিষ্কাশনের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের বৈধতার সপক্ষে এই আয়াতটি দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে(২).

বিধানটির ভিত্তি হলো: পূর্বে যা আলোচিত হয়েছে যে, {পানি} শব্দটি না-বোধক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট হিসেবে এসেছে, যা 'পানি' নামধারী সকল কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর পয়ঃনিষ্কাশনের পানি পরিশোধনের পর তাকে 'পানি' বলা হয়। ফলে তায়াম্মুমকারী ব্যক্তি পানি লাভকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং পানির উপস্থিতিতে তার জন্য তায়াম্মুমের দিকে ফিরে যাওয়া বৈধ হবে না।

কেউ কেউ পূর্ববর্তী গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের সঠিকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন এই বলে যে, পয়ঃনিষ্কাশনের পানিকে সম্বন্ধ ছাড়া কেবল 'পানি' বলা হয় না।

ডক্টর আবদুল্লাহ বিন বকর আবু যায়েদ বলেন: পরিশোধনের পর পয়ঃনিষ্কাশনের পানি কোনো সাধারণ বিশুদ্ধ পানি নয় যা তার আদি সৃষ্টির ওপর বহাল থাকে; বরং তা পরিশোধনের গুণের সাথে সীমাবদ্ধ, যা ঘৃণা ও অপবিত্রতার অনুভূতি উদ্রেক করে(৩).

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অপবিত্র বস্তুকে হারাম করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {এবং তিনি তাদের জন্য অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করেন} [আল-আরাফ: ১৫৭]। এখানে 'হারাম' শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত রূপগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার অর্থ প্রদান করে এবং এটি এখানে শরয়ী বিধান সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করছে। আর পয়ঃনিষ্কাশনের পানি যদিও পরিশোধন করা হয়, তবুও এর মূল সত্তা এবং প্রস্রাব-পায়খানা থেকে নির্গত ও নিংড়ানো পানি হওয়ার কারণে এর অপবিত্রতা ও ঘৃণ্য হওয়ার কারণটি বিদ্যমান থাকে।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, আরও দেখুন: ইবনুল আরাবীর আহকামুল কুরআন (৩/ ৪৩৮)।

(২) এটি ফিকহ একাডেমীর সিদ্ধান্তে এবং সৌদি আরবের উর্ধ্বতন উলামা পরিষদের ৬৪ নং সিদ্ধান্তে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: ইসলামী ফিকহ একাডেমীর সিদ্ধান্তসমূহ (৯১-৯৩, ২৫৮), লাজনায়ে দায়িমার ফতোয়া (৫/ ৮০), মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ (৪৯/ ৩৫৯-৩৬১), ইবনে বাযের মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ (১০/ ৪০৪)।

(৩) ফিকহুল কাদায়া আল-মুআসিরাহ ফিল ইবাদাত (১১৭), অপ্রকাশিত পিএইচডি থিসিস।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২১)
وقد ذكر الشيخ الدكتور بكر أبو زيد عضو المجمع في علة تحريمه ما سبق وقال: ( .... فتحصل أن مياه المجاري قبل التنقية معلة بأمور:

الأول: الفضلات النجسة باللون والطعم والرائحة.

الثاني: فضلات الأمراض المعدية، وكثافة الأدواء والجراثيم (البكتيريا).

الثالث: علة الاستخباث والاستقذار لما تتحول إليه باعتبار أصلها، ولما يتولد عنها في ذات المجاري من الدواب والحشرات المستقذرة طبعاً وشرعاً.

ولذا صار النظر بعد التنقية في مدى زوال تلكم العلل، وعليه:

فإن استحالتها من النجاسة بزوال طعمها ولونها وريحها لا يعني ذلك زوال ما فيها من العلل والجراثيم الضارة. والجهات الزراعية توالي الإعلام بعدم سقي ما يؤكل نتاجه من الخضار بدون طبخ فكيف بشربها مباشرة. ومن مقاصد الإسلام المحافظة على الأجسام؛ ولذا لايورد ممرض على مصح، والمنع لاستصلاح الأبدان كالمنع لاستصلاح الأديان.

ولو زالت هذه العلل لبقيت علة الاستقذار والاستخباث باعتبار الأصل لماء يعتصر من البول والغائط فيستعمل في الشرعيات والعادات على قدم التساوي … إلخ)(1).

ونوقش: بأن العبرة في التحليل والتحريم للنصوص وليس لما تحسنه أو تقبحه النفوس.

وقال شيخ الإسلام رحمه الله: (من قال من العلماء أنه حَرَّم على جميع المسلمين ما تستخبثه العرب وأحل لهم ما تستطيبه، فجمهور العلماء على خلاف هذا

--------------------------------------------

(1) قرارات المجمع ص (91 - 93)، وفقه القضايا المعاصرة في العبادات د. عبد الله أبوزيد (111) رسالة دكتواره غير منشورة.
আর মজমার (একাডেমির) সদস্য শায়খ ডক্টর বকর আবু যায়দ একে নিষিদ্ধ করার কারণ হিসেবে ইতোপূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ( .... ফলকথা হলো, পরিশোধনের আগে পয়ঃনিষ্কাশনের পানি নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর কারণে দোষযুক্ত:

প্রথমত: বর্ণ, স্বাদ ও গন্ধযুক্ত নাপাক বর্জ্য।

দ্বিতীয়ত: সংক্রামক ব্যাধির বর্জ্য এবং রোগব্যাধি ও জীবাণুর (ব্যাকটেরিয়া) আধিক্য।

তৃতীয়ত: মূল উৎসের বিবেচনায় এর যে রূপান্তর ঘটে তার প্রতি স্বভাবগত ও শরয়ি ঘৃণা এবং নোংরামির কারণ, এবং নর্দমায় প্রাকৃতিকভাবে ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে ঘৃণিত যেসব পোকা-মাকড় ও কীটপতঙ্গ জন্ম নেয় সেগুলোর আধিক্য।

এই কারণেই পরিশোধনের পর উক্ত কারণসমূহ কতটুকু দূর হয়েছে তা দেখা জরুরি, এবং সেই ভিত্তিতে:

স্বাদ, বর্ণ ও গন্ধ দূর হওয়ার মাধ্যমে নাপাকি থেকে এর রূপান্তর ঘটার অর্থ এই নয় যে, এতে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাধি ও ক্ষতিকর জীবাণুগুলো দূর হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগগুলো ক্রমাগতভাবে এই মর্মে সতর্কবার্তা প্রদান করছে যে, যেসব শাকসবজি রান্না না করে সরাসরি খাওয়া হয় তাতে যেন এই পানি সেচ দেওয়া না হয়, তাহলে সরাসরি পান করার বিষয়টি তো আরও অনেক পরের কথা। শরীরের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ইসলামের অন্যতম উদ্দেশ্য (মাকাসিদ); এজন্যই অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আনা হয় না, আর শরীরের সুস্থতার জন্য কোনো কিছু নিষিদ্ধ করা দ্বীনের সংস্কারের জন্য নিষিদ্ধ করার মতোই।

যদি এই রোগ-ব্যাধির কারণগুলো দূর হয়েও যায়, তবুও প্রস্রাব ও পায়খানা থেকে নিংড়ানো পানি হওয়ার কারণে মূল উৎসের বিবেচনায় একে নোংরা ও ঘৃণিত মনে করার বিষয়টি অবশিষ্ট থাকে, যা ইবাদত ও অভ্যাসগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয় … ইত্যাদি)(১)।

এর ওপর আলোচনা করা হয়েছে যে: হালাল ও হারামের মানদণ্ড হলো শরয়ি দলীল, মানুষের প্রবৃত্তি যাকে ভালো বা মন্দ মনে করে তা নয়।

শায়খুল ইসলাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: (উলামায়ে কেরামের মধ্যে যারা বলেন যে, আরবরা যা ঘৃণা করে তা সমস্ত মুসলিমের জন্য হারাম করা হয়েছে এবং তারা যা পছন্দ করে তা হালাল করা হয়েছে, জমহুর (অধিকাংশ) আলেম এই মতের পরিপন্থী অবস্থান পোষণ করেন।

--------------------------------------------

(১) মজমার সিদ্ধান্তসমূহ, পৃষ্ঠা (৯১ - ৯৩), এবং ফিকহুল কাদায়াল মুয়াসিরা ফিল ইবাদাত, ড. আবদুল্লাহ আবু যায়দ (১১১), অপ্রকাশিত ডক্টরাল থিসিস।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২)
القول .... وما كان عليه الصحابة والتابعون: أن التحليل والتحريم لا يتعلق باستطابة العرب ولا باستخباثهم، بل كانوا يستطيبون أشياء حرمها الله: كالدم، والميتة، والمنخنقة، والموقوذة، والمتردية، والنطيحة، وأكيلة السبع، وما أهل به لغير الله، وكانوا بل خيارهم يكرهون أشياء لم يحرمها الله حتى لحم الضب كان النبي صلى الله عليه وسلم يكرهه، وقال: (لم يكن بأرض قومي فأجدني أعافه)(1)، وقال مع هذا: (أنه ليس بمحرم)، وأُكل على مائدته وهو ينظر وقال فيه: (لا آكله ولا أحرمه)(2).

وقال جمهور العلماء: الطيبات التى أحلها الله ما كان نافعاً لآكلهِ في دينه، والخبيث ما كان ضاراً له في دينه)(3).

 

‌‌باب الآنية

الأنية: جمع إناء، وهو معروف، وإنّما بُوِّب لها؛ لأنّ الشّارع قد نهى عن بعضها فتعلقت بها الأحكام.

قوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ} [المائدة: 3]

قوله: {حُرِّمَتْ} لفظ «التّحريم» من الألفاظ الصّريحة الدّالة على المنع والّتي لا تحتمل معنى آخر، ولا يختلف في أن المراد بها في القرآن خاصّة هو الحظر والمنع، والمحظور: ما يذم فاعله، ويمدح تاركه.

والميتة هي: ما فارقه الرّوح من غير ذكاة مما يذبح، وما ليس بمأكولٍ فذكاته كموته، كالسّباع وغيرها.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب الذبائح والصيد، باب الضب، برقم (5217)، ومسلم برقم (1945)، (1946).

(2) أخرجه البخاري في كتاب الذبائح والصيد، باب الضب، برقم (5216).

(3) مجموع الفتاوى (19/ 24).
বক্তব্য .... এবং সাহাবী ও তাবিঈগণ যা অবলম্বন করেছিলেন তা হলো: হালাল ও হারাম হওয়া আরবদের রুচিবোধ বা তাদের অপছন্দের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। বরং তারা এমন অনেক জিনিসকে উত্তম মনে করত যা আল্লাহ হারাম করেছেন: যেমন রক্ত, মৃত জানোয়ার, শ্বাসরোধে মৃত প্রাণী, আঘাত পেয়ে মৃত প্রাণী, ওপর থেকে পড়ে মৃত প্রাণী, অন্য প্রাণীর শিংয়ের গুঁতোয় মৃত প্রাণী, হিংস্র পশুর খাওয়া অবশিষ্টাংশ এবং যা আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করা হয়েছে। পক্ষান্তরে তারা, এমনকি তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণও এমন কিছু অপছন্দ করতেন যা আল্লাহ হারাম করেননি; এমনকি 'ধব' (এক ধরণের বড় সরীসৃপ)-এর গোশতও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন: (এটি আমার সম্প্রদায়ের ভূমিতে ছিল না, তাই আমি নিজেকে এটি থেকে বিরত রাখছি)(১)। এর সাথে সাথে তিনি আরও বলেছেন: (নিশ্চয়ই এটি হারাম নয়)। তাঁর দস্তরখানে এটি খাওয়া হয়েছিল এবং তিনি তা দেখছিলেন। তিনি এই বিষয়ে বলেছেন: (আমি এটি খাই না, আবার হারামও করি না)(২)।

জমহুর (অধিকাংশ) উলামায়ে কেরাম বলেছেন: 'তৈয়্যিবাত' (উত্তম বস্তুসমূহ) যা আল্লাহ হালাল করেছেন, তা হলো যা ভক্ষণকারীর জন্য তার দ্বীনের ক্ষেত্রে উপকারী; আর 'খবিস' (নিকৃষ্ট বস্তুসমূহ) তা-ই যা তার দ্বীনের জন্য ক্ষতিকর।(৩)

 

‌‌পাত্র অধ্যায়

'আনিয়া' হলো 'ইনা' (পাত্র)-এর বহুবচন, যা সুপরিচিত। এর জন্য পৃথক একটি পরিচ্ছেদ গঠন করা হয়েছে; কারণ শরীয়তপ্রণেতা এর মধ্য থেকে কিছু বিষয় নিষেধ করেছেন, ফলে এর সাথে বিধিবিধান সংশ্লিষ্ট হয়েছে।

মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য মৃত জানোয়ার হারাম করা হয়েছে} [আল-মায়িদাহ: ৩]

তাঁর বাণী: {হারাম করা হয়েছে}—'তাহরীম' (হারাম করা) শব্দটি একটি স্পষ্ট শব্দ যা নিষেধাজ্ঞা জ্ঞাপন করে এবং অন্য কোনো অর্থ প্রকাশের সম্ভাবনা রাখে না। বিশেষ করে কুরআনে এর দ্বারা উদ্দেশ্য যে 'নিষেধ' এবং 'নিষিদ্ধকরণ', এ ব্যাপারে কোনো মতপার্থক্য নেই। আর নিষিদ্ধ কাজ হলো: যার সম্পাদনকারী নিন্দিত হয় এবং বর্জনকারী প্রশংসিত হয়।

'মাইতাহ' (মৃত জানোয়ার) হলো: জবাইযোগ্য প্রাণীর মধ্য থেকে যা শরঈ জবেহ ব্যতিরেকেই প্রাণ ত্যাগ করেছে। আর যা ভক্ষণযোগ্য নয় (অখাদ্য প্রাণী), সেগুলোর জবেহ আর মৃত্যু একই সমান (অর্থাৎ জবেহ করলেও তা হালাল হয় না), যেমন হিংস্র পশু ও অন্যান্য।

--------------------------------------------

(১) বুখারী কর্তৃক যবেহ ও শিকার অধ্যায়ে বর্ণিত, অনুচ্ছেদ: ধব, হাদীস নম্বর (৫২১৭), এবং মুসলিম, হাদীস নম্বর (১৯৪৫), (১৯৪৬)।

(২) বুখারী কর্তৃক যবেহ ও শিকার অধ্যায়ে বর্ণিত, অনুচ্ছেদ: ধব, হাদীস নম্বর (৫২১৬)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (১৯/ ২৪)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
استدل العلماء بالآية الكريمة على تحريم استعمال جلد الميتة في الأواني، وبالآية على جواز ذلك.

مأخذ من حرم استعمال جلد الميتة: التحريم الوارد بصيغة العموم {الْمَيْتَةُ}، فهو مفرد محلى بأل، أو داخل على اسم جنس فيعم أجزاء الميتة من لحم أو جلد، ويعم الأكل والاستعمال.

ووجه ذلك: أن الحكم المضاف للأعيان - كإضافة التحريم هنا إلى عين الميتة - لا يصح، لأن الأعيان أنفسها لا توصف بحظر ولا إباحة؛ لأنّ الحظر منع، والإباحة إطلاق، والأعيان الموجودة لا يصح المنع والإطلاق في عينها، بل تتعلق الأحكام بأفعال، والتحريم حكم شرعي متعلق بأفعال المكلفين، فلا بد من تقدير فعل للمكلف، فقالوا إن الظاهر هو تحريم التّصرف فقالوا بعموم المضمرات هنا، فقدروا لفظ «التّصرف «أو «الاستعمال «أو «فعلكم «ليشمل جميع أفعال المكلفين من أكل أو بيع، أو شرب، أو استعمال واقتناء، وهو من عموم المعاني. ومن التصرف والاستعمال اتخاذ جلد الميتة آنية.

مأخذ من أباح استعمال جلد الميتة: هو المأخذ السابق، إلا أنهم قصروا التحريم على الأكل، والأكل فعلٌ من أفعال المكلفين، والتّقدير: حرم عليكم أكل الميتة.

وقالوا إن الكلام عن العموم مفروض إذا لم يقم على تعيين أحد المقدّرات، وهنا قد دلّ العرف على أن المراد بتحريم الميتة، تحريم أكلها، وهو الّذي يسبق إلى الفهم من تحريم الميتة، ويدل عليه القرينة اللفظية في سياق الآيات كقوله تعالى: {عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً} وقوله {إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ} وقرينة خارجية، وهي قوله صلى الله عليه وسلم: (إنّما حرم من الميتة أكلها)(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الدارقطني في سننه (1/ 58) برقم (100).
আলেমগণ সম্মানিত আয়াতের মাধ্যমে পাত্র হিসেবে মৃত প্রাণীর চামড়া ব্যবহার হারাম হওয়ার ব্যাপারে দলিল পেশ করেছেন, আবার এই আয়াতের মাধ্যমে এর বৈধতার ব্যাপারেও দলিল দিয়েছেন।

যারা মৃত প্রাণীর চামড়া ব্যবহার হারাম করেছেন তাদের উৎস হলো: {মৃত প্রাণী} শব্দে যে ব্যাপকতা প্রকাশ পেয়েছে তা। এটি 'আলিফ-লাম' যুক্ত একবচন শব্দ অথবা এটি একটি জাতিবাচক বিশেষ্য, যা মৃত প্রাণীর গোশত বা চামড়া সহ সকল অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তা আহার ও ব্যবহার উভয়কেই শামিল করে।

এর কারণ হলো: কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর সত্তার প্রতি হুকুমের সম্বন্ধ করা—যেমন এখানে মৃত প্রাণীর সত্তার প্রতি হারামের সম্বন্ধ করা হয়েছে—তা সরাসরি সঠিক নয়। কারণ কোনো বস্তুর সত্তা নিজে নিজে নিষিদ্ধ বা বৈধ হওয়ার গুণে গুণান্বিত হতে পারে না; কেননা নিষিদ্ধকরণ হলো বারণ করা এবং বৈধকরণ হলো অনুমতি দেওয়া, আর বিদ্যমান বস্তুসমূহের সত্তার ক্ষেত্রে বারণ বা অনুমতি দেওয়া প্রযোজ্য হতে পারে না। বরং বিধানসমূহ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, আর 'হারাম' একটি শরয়ি বিধান যা মুকাল্লাফ (শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি)-এর কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাই এখানে মুকাল্লাফের কোনো একটি কাজকে উহ্য বা প্রাক্কলিত ধরে নেওয়া আবশ্যক। এমতাবস্থায় তারা বলেছেন যে, এখানে বাহ্যত 'নিষ্পত্তি করা' (তসররুফ) হারাম করা হয়েছে। তারা এখানে উহ্য শব্দের ব্যাপকতা গ্রহণ করেছেন এবং 'নিষ্পত্তি করা' বা 'ব্যবহার করা' অথবা 'তোমাদের কাজ' শব্দগুলোকে উহ্য ধরেছেন, যাতে তা আহার, ক্রয়-বিক্রয়, পান করা, ব্যবহার বা সংগ্রহে রাখা ইত্যাদি মুকাল্লাফের সকল কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটি অর্থের ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত। মৃত প্রাণীর চামড়াকে পাত্র হিসেবে গ্রহণ করা এই 'নিষ্পত্তি' ও 'ব্যবহারের' একটি অংশ।

যারা মৃত প্রাণীর চামড়া ব্যবহার বৈধ করেছেন তাদের উৎস হলো: পূর্বোক্ত উৎসটিই, তবে তারা নিষেধাজ্ঞাকে কেবল আহারের মাঝে সীমাবদ্ধ করেছেন। আর আহার হলো মুকাল্লাফদের কাজের একটি। এক্ষেত্রে প্রাক্কলিত রূপটি হবে: তোমাদের জন্য মৃত প্রাণী ভক্ষণ হারাম করা হয়েছে।

তারা বলেছেন যে, ব্যাপকতার ধারণা তখনই কার্যকর হয় যখন উহ্য বিষয়গুলোর মধ্য থেকে কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করার মতো কোনো প্রমাণ না থাকে। এখানে প্রচলিত প্রথা নির্দেশ করে যে, মৃত প্রাণী হারাম করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তা ভক্ষণ করা হারাম হওয়া। মৃত প্রাণী হারাম হওয়ার কথা শুনলে এটিই প্রথমে বুদ্ধিতে আসে। আয়াতের প্রসঙ্গের শাব্দিক আলামতসমূহও এর প্রমাণ দেয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {কোনো আহারকারী যা আহার করে তাতে (আমি হারাম কিছু পাই না), যদি না তা মৃত প্রাণী হয়} এবং তাঁর বাণী: {তবে যা তোমরা যবেহ করেছ}। এছাড়া বাহ্যিক প্রমাণও রয়েছে, যা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (মৃত প্রাণীর কেবল আহার করাই হারাম করা হয়েছে)(১)।

--------------------------------------------

(১) এটি দারাকুতনি তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১/৫৮), হাদিস নম্বর ১০০।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
وعلى القول بكونها قاصرة على الأكل فإنّه يجوز استعمال الجلد في الأواني إذا دبغ على القول بأن الدبغ مطهر للجلد، كما أن الماء طهارة الأواني من غير الجلد كالنحاس وغيره.

قال الطوفي: «قوله سبحانه وتعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ} ظاهرة في تحريم جلدها دبغ أو لم يدبغ، مع احتمال أن الجلد غير مراد بالعموم احتمالًا مترددًا له، من جهة أن إضافة التّحريم إلى الميتة يقتضي تحريم الأكل، والجلد غير مأكول فيقتضي عدم تناول الجلد، ومن جهة أن عموم اللفظ قوي متناول لجميع أجزائها يقتضي تناول الجلد في نظرنا في قوله صلى الله عليه وسلم: (أيّما إهاب دبغ قد طهر)(1) فهو عموم، وظاهره يتناول إهاب الميتة، فكان هذا الظّاهر مقويًا لاحتمال عدم إرادة جلد الميتة من الآية المذكورة في التّحريم»(2).

تنبيه: من العلماء من قال بأن إضافة الحكم للعين يصيره مجملاً، والجمهور على أنّه لا إجمال في الآية؛ لأنّ المجمل ما لا يفهم المراد من ظاهره، والعرب فهمت المراد من ظاهر ما ورد في القرآن بهذا الأسلوب.

قوله تعالى: {فَكُلُوا مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ} [المائدة: 4]

استدل المالكية بالآية على عدم وجوب غسل الإناء من ولوغ الكلب.

وبيان ذلك: أن الآية تتحدث عما يباح من صيد الجوارح، قال تعالى: {يَسْأَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي كتاب اللباس، باب ما جاء في جلود الميتة إذا دبغت، برقم (1728)، والنسائي كتاب الفرع والعتيرة، باب جلود الميتة، برقم (4241)، وابن ماجه كتاب اللباس، باب لبس جلود الميتة إذا دبغت، برقم (3609) قال الشيخ الألباني: صحيح ..

(2) شرح مختصر الروضة (1/ 566).
আর যদি এই মত গ্রহণ করা হয় যে (নিষেধাজ্ঞাটি) কেবল ভক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তবে চামড়া পাকা (ট্যান) করা হলে তা পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ; এই মতানুসারে যে, চামড়া পাকা করা চামড়াকে পবিত্র করে, যেমন পানি চামড়া ব্যতীত অন্যান্য পাত্র যেমন তামা ও অন্যান্য ধাতুর পাত্রের জন্য পবিত্রকারী।

তুফী বলেন: «মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য মৃত প্রাণী হারাম করা হয়েছে} এর বাহ্যিক অর্থ হলো এর চামড়া হারাম হওয়া, চাই তা পাকা করা হোক বা না হোক। যদিও চামড়াটি সাধারণ হুকুমের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার একটি দোদুল্যমান সম্ভাবনা রয়েছে। এর কারণ হলো, মৃত প্রাণীর সাথে হারামের সম্বন্ধ যুক্ত থাকা কেবল তা ভক্ষণের নিষেধাজ্ঞাকেই দাবি করে, আর চামড়া যেহেতু ভক্ষণযোগ্য নয়, তাই এটি চামড়াকে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবি রাখে। অন্যদিক থেকে, শব্দের ব্যাপকতা অত্যন্ত শক্তিশালী যা এর সকল অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে আমাদের দৃষ্টিতে এটি চামড়াকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি রাখে; যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীতে এসেছে: (যে কোনো কাঁচা চামড়া পাকা করা হলে তা পবিত্র হয়ে যায়)(১)। এটি একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ, যার বাহ্যিক রূপ মৃত প্রাণীর কাঁচা চামড়াকেও অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং এই বাহ্যিক বিষয়টি উল্লিখিত আয়াতে মৃত প্রাণীর চামড়া হারাম করার উদ্দেশ্য না থাকার সম্ভাবনাকে জোরালো করে»(২)।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: কোনো কোনো আলেম বলেছেন যে, কোনো বস্তুর মূল সত্তার সাথে বিধানকে যুক্ত করা একে অস্পষ্ট (মুজমাল) করে তোলে। তবে জমহুর (অধিকাংশ আলেম) মনে করেন যে, এই আয়াতে কোনো অস্পষ্টতা নেই; কারণ অস্পষ্ট (মুজমাল) হলো সেটি যার বাহ্যিক রূপ থেকে উদ্দেশ্য অনুধাবন করা যায় না, অথচ আরবরা কুরআনে বর্ণিত এই শৈলী থেকে এর উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছিল।

মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তারা তোমাদের জন্য যা ধরে আনে তা থেকে আহার করো} [আল-মায়িদাহ: ৪]

মালিকীগণ এই আয়াতের মাধ্যমে কুকুরের মুখ দেওয়ার কারণে পাত্র ধোয়া ওয়াজিব না হওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করেছেন।

এর ব্যাখ্যা হলো: এই আয়াতটি শিকারি প্রাণীদের দ্বারা শিকার করা যা হালাল হয় তা নিয়ে আলোচনা করছে। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তাদের জন্য কী কী হালাল করা হয়েছে? আপনি বলুন, তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হয়েছে এবং শিকারি পশু-পাখি যাদের তোমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছ, যাদের তোমরা শিক্ষা দাও যা আল্লাহ তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন...}

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন: পোশাক অধ্যায়, মৃত প্রাণীর চামড়া পাকা করা হলে যা বর্ণিত হয়েছে অনুচ্ছেদ, হাদিস নং (১৭২৮); নাসায়ী: ফারা এবং আতীরা অধ্যায়, মৃত প্রাণীর চামড়া অনুচ্ছেদ, হাদিস নং (৪২৪১); ইবনে মাজাহ: পোশাক অধ্যায়, মৃত প্রাণীর চামড়া পাকা করে পরিধান করা অনুচ্ছেদ, হাদিস নং (৩৬০৯)। শেখ আলবানী বলেছেন: সহীহ।

(২) শারহু মুখতাসারির রওদাহ (১/ ৫৬৬)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
عَلَّمَكُمُ اللَّهُ فَكُلُوا مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ} والضّمير في قوله: {أَمْسَكْنَ} عامّ في جملة الجوارح، فيندرج فيه الكلب، فيجوز أكل موضع فمه عملًا بالظّاهر، ولم يرد أمرٌ بغسل ما مسه لعاب الكلب، وبنى عليه المالكية طهارة لعاب الكلب؛ إذ لو كان نجسًا لحرم الأكل حتى يغسل. ولهذا تكلم العلماء عن حكم غسل الإناء إذا ولغ فيه الكلب.

ومأخذ الحكم من الآية: لمّا لم يرد أمر بغسل ما مسّه لعاب الكلب فيما إذا صاد صيداً، فإنه يدل على طهارة لعابه؛ إذ لو كان نجسًا لبينّه الشّارع، وتأخير البيان عن وقت الحاجة لا يجوز.

تنبيه: للمالكية أجوبة على حديث غسل الإناء من ولوغ الكلب، منها: ما ذكره ابن العربي حيث قال: «إذا جاء خبر الواحد معارضًا لقاعدة من قواعد الشّرع، هل يجوز العمل به أم لا؟ فقال أبو حنيفة: لا يجوز العمل به، وقال الشافعي: يجوز العمل به، وتردد مالك في المسألة»، ثم قال: «ومشهور قوله والذي عليه المعول أن الحديث إن عضدته قاعدة أخرى قال به، وإن كان وحده تركه»، ثم ذكر مسألة مالك في ولوغ الكلب، قال: «لأنّ الحديث عارض أصلين عظيمين، أحدهما: قول الله تعالى: {فَكُلُوا مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ} [المائدة: 4]، قال مالك: يؤكل صيده فكيف يكره لعابه!

الثاني: أن علَّة الطّهارة هي الحياة، وهي قائمة في الكلب»(1).

قوله تعالى: {وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَكُمْ} [المائدة: 5]

استنبط العلماء من الآية: جواز استعمال آنية الكفار بالأكل والشّرب والطّبخ.

قال القرطبي: «ولا بأس بالأكل والشرب والطبخ في آنية الكفار كلهم، ما

--------------------------------------------

(1) القبس في شرح موطأ مالك (1/ 812).
{আল্লাহ তোমাদের যা শিখিয়েছেন, তা থেকে তারা তোমাদের জন্য যা ধরে রাখে, তা খাও} এবং {তারা ধরে রাখে} কথাটির মধ্যে যে সর্বনামটি রয়েছে, তা সকল শিকারী প্রাণীর ক্ষেত্রে সাধারণ। সুতরাং এর অন্তর্ভুক্ত কুকুরও। ফলে বাহ্যিক বিধান অনুযায়ী কুকুরের মুখের স্পর্শ করা অংশ খাওয়া জায়েজ। আর কুকুরের লালা যা স্পর্শ করেছে তা ধোয়ার ব্যাপারে কোনো নির্দেশ আসেনি। এর ওপর ভিত্তি করেই মালিকীগণ কুকুরের লালা পবিত্র হওয়ার সপক্ষে মত দিয়েছেন; কারণ যদি তা অপবিত্র হতো, তবে ধোয়ার আগ পর্যন্ত তা খাওয়া হারাম হতো। এ কারণেই উলামায়ে কেরাম কুকুরের পাত্র চাটার ক্ষেত্রে পাত্র ধোয়ার বিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

আয়াত থেকে বিধান গ্রহণের উৎস হলো: কুকুর যখন কোনো শিকার ধরে, তখন তার লালা যা স্পর্শ করেছে তা ধোয়ার ব্যাপারে যেহেতু কোনো নির্দেশ আসেনি, তাই এটি তার লালা পবিত্র হওয়ার প্রমাণ বহন করে। কেননা যদি তা অপবিত্র হতো, তবে শারিয়াত দাতা তা সুস্পষ্ট করতেন। আর প্রয়োজনের সময়ে বর্ণনা বিলম্বিত করা জায়েজ নয়।

সতর্কতা: কুকুরের পাত্র চাটার ফলে পাত্র ধোয়া সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাপারে মালিকীদের নিকট বেশ কিছু উত্তর রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো যা ইবনুল আরাবি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «যখন কোনো খবর-এ-ওয়াহিদ (একক বর্ণনা) শরীয়তের কোনো মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তখন কি সে অনুযায়ী আমল করা জায়েজ হবে কি না? ইমাম আবু হানিফা বলেন: সে অনুযায়ী আমল করা জায়েজ নয়। ইমাম শাফেয়ী বলেন: আমল করা জায়েজ। আর ইমাম মালিক এই বিষয়ে দ্বিধা পোষণ করেছেন।» অতঃপর তিনি বলেন: «তার প্রসিদ্ধ অভিমত এবং যার ওপর নির্ভর করা হয় তা হলো—যদি হাদিসটিকে অন্য কোনো মূলনীতি সমর্থন করে তবে তিনি তা গ্রহণ করেন, আর যদি তা একাকী হয় তবে তিনি তা বর্জন করেন।» এরপর তিনি কুকুরের পাত্র চাটার ব্যাপারে ইমাম মালিকের মাসআলা উল্লেখ করে বলেন: «কেননা এই হাদিসটি দুটি মহান মূলনীতির পরিপন্থী। প্রথমটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তারা তোমাদের জন্য যা ধরে রাখে তা থেকে খাও} [মায়েদাহ: ৪]। ইমাম মালিক বলেন: তার শিকার করা প্রাণী খাওয়া যায়, তবে তার লালা কীভাবে অপছন্দনীয় হতে পারে!»

দ্বিতীয়ত: পবিত্রতার কারণ হলো জীবন, যা কুকুরের মধ্যেও বিদ্যমান»(১)।

মহান আল্লাহর বাণী: {আর আহলে কিতাবদের খাবার তোমাদের জন্য হালাল} [মায়েদাহ: ৫]

উলামায়ে কেরাম এই আয়াত থেকে উদ্ভাবন করেছেন: খাবার গ্রহণ, পান করা এবং রান্নার কাজে কাফেরদের পাত্র ব্যবহার করা জায়েজ।

ইমাম কুরতুবি বলেন: «সকল কাফেরের পাত্রে খাওয়া, পান করা এবং রান্না করায় কোনো সমস্যা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত...»

--------------------------------------------

(১) আল-কাবাস ফি শারহি মুয়াত্তা মালিক (১/ ৮১২)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
لم تكن ذهبًا أو فضة أو جلد خنزير بعد أن تغسل وتُغلى؛ لأنهم لا يتوقون النجاسات ويأكلون الميتات، فإذا طبخوا في تلك القدور تنجست، وربما سرت النجاسات في أجزاء قُدور الفخَّار، فإذا طبخ فيها بعد ذلك توقع مخالطة تلك الأجزاء النّجسة للمطبوخ في القدر ثانية، فاقتضى الورع الكف عنها»(1).

ومأخذ الحكم: هو أن جواز أكل طعامهم يستلزم جواز استعمال آنيتهم الّتي طبخوا بها.

والحِل المقصود به في الآية الإباحة، وهو من أسماء المباح.

قوله تعالى: {وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ بُيُوتِكُمْ سَكَنًا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنْ جُلُودِ الْأَنْعَامِ بُيُوتًا تَسْتَخِفُّونَهَا يَوْمَ ظَعْنِكُمْ وَيَوْمَ إِقَامَتِكُمْ وَمِنْ أَصْوَافِهَا وَأَوْبَارِهَا وَأَشْعَارِهَا أَثَاثًا وَمَتَاعًا إِلَى حِينٍ} [النحل: 80]

والأنعام هي: الإبل، والبقر، والغنم.

فقد أذن سبحانه وتعالى في هذه الآية باستعمال جلود الأنعام، وبصوف الغنم، ووبر الإبل، وشعر المعز، وفي الآية حكمان مستنبطان منها:

• الحكم الأول: مشروعية الانتفاع بجلود الأنعام، ولم يقيِّده سبحانه وتعالى بالذكاة قبل الموت، ولا بالدّباغ بعد الموت، فأخذ منها بعض العلماء جواز الانتفاع بجلد الميتة قبل الدّباغ.

مأخذ الحكم: ورد الإذن باستعمال جلود الأنعام، وبصوف الغنم، ووبر الإبل، وشعر المعز، في سياق الامتنان، ومقام الامتنان يعم الانتفاع بها، سواء كان لميتة أو مذكاة إلا أن يمنع منه دليل.

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن (6/ 78).
সোনা বা রূপা অথবা শুকরের চামড়া ছিল না ধৌত করার ও ফুটানোর পরেও; কারণ তারা অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকে না এবং মৃত প্রাণী আহার করে। ফলে তারা যখন ওই সকল হাঁড়িতে রান্না করে তখন তা অপবিত্র হয়ে যায়। আর সম্ভবত মাটির পাত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নাপাকি প্রবেশ করে যায়। অতঃপর যখন পরবর্তীতে তাতে রান্না করা হয়, তখন পাত্রের ওই নাপাক অংশগুলো দ্বিতীয়বার পাত্রে রান্না করা খাবারের সাথে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই সতর্কতা বা পরহেজগারি এর থেকে বিরত থাকাকেই আবশ্যক করে।(১).

বিধানের উৎস: তা হলো তাদের খাবার গ্রহণ করার বৈধতা তাদের ওই সকল পাত্র ব্যবহারের বৈধতাকেও আবশ্যক করে যা দিয়ে তারা রান্না করেছে।

আর আয়াতে ‘হিল’ (বৈধতা) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অনুমতি (ইবাহাত), আর এটি অনুমোদিত (মুবাহ) বিষয়ের একটি নাম।

মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ তোমাদের ঘরগুলোকে তোমাদের জন্য প্রশান্তির আবাস করেছেন এবং তোমাদের জন্য গবাদিপশুর চামড়া দিয়ে তাঁবুর ব্যবস্থা করেছেন, যা তোমরা তোমাদের ভ্রমণের দিনে এবং অবস্থানের দিনে হালকা বোধ করো; আর তাদের পশম, লোম ও চুল থেকে তিনি এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গৃহসামগ্রী ও আসবাবপত্র দান করেছেন} [নাহল: ৮০]

আর গবাদিপশু হলো: উট, গরু এবং ছাগল-ভেড়া।

নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'আলা এই আয়াতে গবাদিপশুর চামড়া, ভেড়ার পশম, উটের লোম এবং ছাগলের চুল ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। আর এই আয়াত থেকে দুটি বিধান উৎসারিত হয়েছে:

• প্রথম বিধান: গবাদিপশুর চামড়া থেকে উপকৃত হওয়ার বৈধতা। আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'আলা একে মৃত্যুর আগে জবেহ করার মাধ্যমে বা মৃত্যুর পরে চামড়া পাকা করার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করেননি। ফলে কিছু আলেম এখান থেকে মৃত পশুর চামড়া পাকা করার আগে ব্যবহারের বৈধতা গ্রহণ করেছেন।

বিধানের উৎস: গবাদিপশুর চামড়া, ভেড়ার পশম, উটের লোম এবং ছাগলের চুল ব্যবহারের অনুমতি অনুগ্রহ প্রদানের প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়েছে। আর অনুগ্রহ প্রদানের ক্ষেত্রটি এগুলোর ব্যবহারের ব্যাপকতাকে শামিল করে, তা মৃত প্রাণীর হোক বা জবেহকৃত—যতক্ষণ না অন্য কোনো দলিল তা থেকে নিষেধ করে।

--------------------------------------------

(১) আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন (৬/৭৮)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقيَّدها عامّة أهل العلم بجلود الأنعام المذكاة، أو بما بعد الدباغ بما ورد من أحاديث كقوله صلى الله عليه وسلم (أيّما إهاب دبغ قد طهر)(1) ودفعًا للتعارض بينها وبين قوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ} وقد سبق أن البعض قدَّر محذوفاً يعم مقدرات ذلك المحذوف ك (استعمال أو انتفاع).

• الحكم الثاني: مشروعية الانتفاع بالأصواف والأوبار والأشعار على كل حال.

مأخذ الحكم: الامتنان الوارد في الآية، كما سبق.

مأخذ ثان: دليل الاستلزام، فإن مشروعية الانتفاع بالأصواف والأوبار والأشعار يستلزم طهارتها، وإنّما يغسل مخافة أن يكون علِقَ به وسخٌ، وقد ورد عنه عليه الصلاة والسلام: (لَا بَأْس بمسك الْميتَة(2) إِذا دبغ وصوفها وشعرها إِذا غسل)(3).

واستدل بعضهم بقياس العكس. قال القرطبي: «ولأنّه كان طاهرًا لو أخذ منها في حال الحياة فوجب أن يكون كذلك بعد الموت، إلا أنّ اللحم لما كان نجسا في حال الحياة كان كذلك بعد الموت، فيجب أن يكون الصوف خلافه في حال الموت كما كان خلافه في حال الحياة استدلالاً بالعكس»(4).

تنبيه: طهارة صوف مأكول اللحم ووبره وشعره حال حياته إذا جز، لا خلاف فيه بين العلماء وكذا إذا جز بعد ذكاته، والخلاف فيما إذا كان ميتة، أو كان غير مأكول اللحم.

ومأخذ الخلاف هل الصوف والوبر والشعر في حكم المتصل أو المنفصل؟ ومحل ذلك كتب الفقه.

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه.

(2) أي جلدها. ينظر: النهاية في غريب الحديث والأثر لابن الأثير (8/ 3940).

(3) أخرجه الدارقطني في سننه (1/ 18) وضعفه الألباني رحمه الله في صفة الفتوى لابن حمدان (91).

(4) الجامع لأحكام القرآن (2/ 219).
অধিকাংশ আলিম একে শরঈ পদ্ধতিতে জবেহকৃত গবাদি পশুর চামড়ার সাথে অথবা ট্যানিং করার পর ব্যবহারের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন, যা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। যেমন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (যে চামড়াই ট্যানিং করা হয়, তা পবিত্র হয়ে যায়)(১)। এটি এই হাদীস এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য মৃত জানোয়ার হারাম করা হয়েছে}-এর মধ্যে বিরোধ এড়ানোর জন্য। ইতোপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, কেউ কেউ এখানে একটি উহ্য শব্দ ধরেছেন যা সেই উহ্য শব্দের সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন (ব্যবহার বা উপযোগ গ্রহণ)।

• দ্বিতীয় বিধান: সকল অবস্থায় পশম, উটের লোম এবং সাধারণ লোম ব্যবহারের বৈধতা।

বিধানের উৎস: আয়াতে বর্ণিত অনুগ্রহের বিষয়টি, যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে।

দ্বিতীয় উৎস: অপরিহার্যতার দলীল; কারণ পশম, উটের লোম ও সাধারণ লোম ব্যবহারের বৈধতা এগুলোর পবিত্র হওয়াকে অপরিহার্য করে। এটি কেবল ময়লা লেগে থাকার আশঙ্কায় ধৌত করা হয়। তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: (মৃত পশুর চামড়া(২) ট্যানিং করলে এবং তার পশম ও লোম ধৌত করলে তা ব্যবহারে কোনো অসুবিধা নেই)(৩)।

কেউ কেউ বিপরীত অনুমানের (কিয়াস আল-আকস) মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন। আল-কুরতুবী বলেন: «আর যেহেতু জীবদ্দশায় এগুলো সংগ্রহ করলে তা পবিত্র হতো, তাই মৃত্যুর পরেও তা পবিত্র হওয়া আবশ্যক। তবে গোশত যেহেতু জীবদ্দশায় অপবিত্র ছিল, তাই মৃত্যুর পরেও তা অপবিত্রই থাকে; সুতরাং পশম মৃত্যুর অবস্থায় গোশতের বিপরীত হওয়াই বাঞ্ছনীয়, যেমনটি তা জীবিত অবস্থায় বিপরীত ছিল—বিপরীত অনুমানের ভিত্তিতে»(৪)।

সতর্কবার্তা: ভক্ষণযোগ্য পশুর পশম, উটের লোম ও সাধারণ লোম জীবিত অবস্থায় কাটা হলে তা পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই, তেমনি জবেহ করার পর কাটার ক্ষেত্রেও কোনো বিরোধ নেই। মতভেদ কেবল তখনই হয় যখন সেটি মৃত পশু হয় অথবা যা ভক্ষণযোগ্য নয় এমন পশু হয়।

মতভেদের মূল কারণ হলো—পশম, উটের লোম ও সাধারণ লোম কি দেহের সাথে সংযুক্ত অঙ্গের হুকুমে পড়বে নাকি বিচ্ছিন্ন জিনিসের হুকুমে? এর বিস্তারিত আলোচনার স্থান হলো ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ।

--------------------------------------------

(১) ইতোপূর্বে এর তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) অর্থাৎ তার চামড়া। দেখুন: ইবনুল আসীরের ‘আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস ওয়াল আসার’ (৮/৩৯৪০)।

(৩) এটি দারা কুতনী তাঁর সুনানে (১/১৮) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (রহ.) ইবনু হামদানের ‘সিফাতুল ফাতওয়া’ (৯১) গ্রন্থে একে যঈফ বলেছেন।

(৪) আল-জামি‘ লি-আহকামিল কুরআন (২/২১৯)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
تنبيه ثان: الصوف والوبر والشعر قد تستعمل كأوان وهذا قليل، وغالب الاستعمال فيها إنّما هو في اللباس والفرش، وقد يستعمل كخيوط في معالجة الكسر في الإناء أو خَرْج سواء في داخل البيوت لحفظ الأغراض أو على الدّواب لحمل الأغراض وحفظها.

 

‌‌باب إزالة النّجاسة وبيانها

النجاسة عين مستقذرة شرعاً، يجب على المسلم مجانبتها، والبعد عنها، ولها تقسيمات عدّة عند العلماء، يرجع لها في كتب الفقه.

قوله تعالى: {وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ} [الأنفال: 11] وكذا آية [الفرقان: 48].

استدل بالآية على عدد من الأحكام، منها:

• الحكم الأول: تزول النجاسة بالماء بلا خلاف.

قال ابن عبد البر: «وقد أجمعت الأمة أن الماء مطهر للنّجاسات، وأنّه ليس في ذلك كسائر المائعات الطاهرات»(1).

وقال أيضا: «وقد أجمعوا معنا على أن ورود الماء على النجاسات لا يضره، وأنّه مطهر لها»(2).

ومن العلماء من يفرق بين ورود الماء على النجاسة، وورود النجاسة على الماء(3).

--------------------------------------------

(1) التمهيد (1/ 330).

(2) المصدر السابق.

(3) قال ابن القيم في إعلام الموقعين (1/ 295): «إنّ القياس يقتضي أن الماء إذا لاقى نجاسة لا ينجس، كما أنه إذ لاقاها حال الإزالة لا ينجس، فهذا القياس أصح من ذلك القياس؛ لأنّ النجاسة تزول بالماء حِسًّا وشرعا، وذلك معلوم بالضرورة من الدّبن بالنّص والإجماع».
দ্বিতীয় সতর্কতা: পশম, উটের লোম এবং চুল পাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, তবে এটি বিরল। এগুলোর অধিকাংশ ব্যবহার পোশাক এবং বিছানাপত্রে হয়ে থাকে। কখনো এগুলো পাত্রের ফাটল মেরামতের সুতা হিসেবে বা থলি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা ঘরের ভেতরে আসবাবপত্র সংরক্ষণে অথবা গবাদি পশুর পিঠে মালামাল বহন ও সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

 

‌‌অপবিত্রতা দূরীকরণ ও তার বর্ণনা পরিচ্ছেদ

নাপাকি বা অপবিত্রতা হলো শরয়ী পরিভাষায় এমন একটি ঘৃণিত বস্তু, যা থেকে বিরত থাকা এবং দূরে থাকা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক। আলেমদের নিকট এর বেশ কিছু শ্রেণিবিভাগ রয়েছে, যা ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থাবলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেন যাতে তার মাধ্যমে তোমাদেরকে পবিত্র করতে পারেন} [আল-আনফাল: ১১] এবং অনুরুপ আয়াত হলো [আল-ফুরকান: ৪৮]।

এই আয়াত দ্বারা বেশ কিছু বিধানের ব্যাপারে দলিল পেশ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:

• প্রথম বিধান: কোনো মতবিরোধ ছাড়াই পানি দ্বারা অপবিত্রতা দূরীভূত হয়।

ইবনে আব্দুল বার বলেন: «উম্মত এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে যে, পানি নাপাকি দূরকারী, এবং অন্যান্য পবিত্র তরল পদার্থসমূহ এ ক্ষেত্রে পানির মতো নয়»(১)।

তিনি আরও বলেন: «আলেমরা আমাদের সাথে এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, নাপাকির ওপর পানি পতিত হওয়া পানির কোনো ক্ষতি করে না, বরং তা নাপাকিকে পবিত্র করে»(২)।

আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ নাপাকির ওপর পানি আসা এবং পানির মধ্যে নাপাকি পড়ার মাঝে পার্থক্য করেছেন(৩)।

--------------------------------------------

(১) আত-তামহিদ (১/ ৩৩০)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) ইবনুল কায়্যিম ‘ইলামুল মুওয়াক্কিঈন’ (১/ ২৯৫) গ্রন্থে বলেন: «কিয়াস বা যুক্তি দাবি করে যে, পানি যখন নাপাকির সংস্পর্শে আসে তখন তা অপবিত্র হবে না, ঠিক যেমন নাপাকি দূর করার সময় সংস্পর্শে আসলেও তা অপবিত্র হয় না। সুতরাং এই কিয়াসটি অন্যটির চেয়ে বেশি সঠিক; কারণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবে এবং শরয়ী দৃষ্টিতে পানি দ্বারা নাপাকি দূরীভূত হয়। আর এটি কুরআন-সুন্নাহর দলিল এবং ইজমা বা ঐকমত্য দ্বারা দ্বীনের একটি অকাট্য বিষয় হিসেবে সুবিদিত»।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
ومأخذ الحكم: ما سبق وهو أن لفظ (ماء) نكرة في سياق امتنان، فيعم كما أن (اللام) في قوله: {لِيُطَهِّرَكُمْ} للتعليل، والباء في قوله (به) سببية.

وهذا يدل على أن الماء طهور، وهذا الوصف يختص به، ولا يتعدى إلى سائر المائعات.

• الحكم الثاني: استدل بها من قال بعدم إزالة النجاسة بالبخار.

مأخذ الحكم: أن الامتنان بالماء يقتضي اختصاصه بالتّطهر، فلو جعل التطهير بغيره لفات الامتنان به(1). والبخار لا يسمى ماء على الإطلاق بل بخاراً أو رشحاً(2).

نوقش: بعدم التسليم بأن الامتنان يفوت بمشاركة غير الماء للماء في التطهر؛ لأنّ الشّارع إنّما ذكر الماء وامتنّ به على عباده - هنا - لكونه أنفع المطهرات؛ ولكونه الغالب المتيسر في ذلك الوقت، وما خرج مخرج الغالب لا مفهوم له.

كما نوقش بعدم تسمية البخار ماء.

وفي ذلك يقول الروياني: «وهذا غير صحيح عندي؛ لأن رشح الماء ماء حقيقة، وينقص منه بقدره فهو ماء مطلق فيتطهر به»(3).

أو يقال: إن البخار ماء باعتبار ما سيؤول إليه بعد جمعه فما جمع من البخار يسمى ماءً، ويسمى بخاراً حال تبخره.

--------------------------------------------

(1) ينظر: المجموع (1/ 96)، الشرح الممتع (1/ 423).

(2) نقله الرافعي عن بعض الشافعية. ينظر: أسنى المطالب شرح روض الطالب لابن زكريا الأنصاري (1/ 6).

(3) المجموع شرح المهذب للنووي (1/ 34).
বিধানের উৎস: যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, আর তা হলো 'পানি' শব্দটি অনুগ্রহ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে একটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরাহ), ফলে এটি ব্যাপকতা প্রদান করে। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তিনি তোমাদের পবিত্র করেন}-এ 'লাম' অক্ষরটি কারণ দর্শানোর জন্য এবং 'তার দ্বারা' অংশে 'বা' অক্ষরটি মাধ্যম বা কার্যকারিতা বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

এটি প্রমাণ করে যে পানি হলো পবিত্রকারী (ত্বহুর), আর এই বৈশিষ্ট্যটি কেবল পানির জন্যই নির্দিষ্ট এবং অন্য কোনো তরল পদার্থের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।

• দ্বিতীয় বিধান: যারা বাষ্পের মাধ্যমে অপবিত্রতা (নাজাসাত) দূর করা জায়েজ নয় বলে মনে করেন, তারা এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।

বিধানের উৎস: পানি দ্বারা অনুগ্রহ প্রকাশের দাবি হলো পবিত্রতা অর্জনের বিষয়টি কেবল পানির সাথেই নির্দিষ্ট হওয়া। যদি পানি ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের বিধান দেওয়া হতো, তবে পানি দ্বারা অনুগ্রহ প্রকাশের বিষয়টি অর্থহীন হয়ে পড়ত(১)। আর বাষ্পকে নিরঙ্কুশভাবে পানি বলা হয় না, বরং একে বাষ্প বা প্রস্বেদন বলা হয়(২)।

পর্যালোচনা: এই দাবিটি মেনে নেওয়া হয়নি যে, পবিত্রতা অর্জনে পানির সাথে অন্য কিছুর অংশীদারিত্ব থাকলে অনুগ্রহের বিষয়টি ব্যাহত হয়; কারণ শরয়ি বিধানদাতা এখানে পানির উল্লেখ করেছেন এবং এর মাধ্যমে বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ প্রকাশ করেছেন এই কারণে যে, এটি সবচেয়ে উপকারী পবিত্রকারী এবং তৎকালীন সময়ে এটিই ছিল অধিক প্রচলিত ও সহজলভ্য। আর যা সাধারণত প্রচলিত প্রথার ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়, তার কোনো ভিন্ন অর্থ (মাফহুম) গ্রহণ করা হয় না।

একইভাবে বাষ্পকে পানি না বলার বিষয়টিতেও আপত্তি জানানো হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে আর-রুয়ানি বলেন: «এটি আমার নিকট সঠিক নয়; কারণ পানির প্রস্বেদন প্রকৃতপক্ষে পানিই এবং তা নির্দিষ্ট পরিমাণে হ্রাস পায়, অতএব এটি বিশুদ্ধ পানি, সুতরাং এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যাবে»(৩)।

অথবা বলা যায়: বাষ্পকে পানি হিসেবে গণ্য করা হবে তা জমা করার পর যা রূপ নেয় সেই বিবেচনায়। সুতরাং বাষ্প থেকে যা জমা করা হয় তাকে পানি বলা হয়, আর বাষ্পায়িত হওয়ার অবস্থায় তাকে বাষ্প বলা হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মাজমু' (১/ ৯৬), আশ-শারহুল মুমতি' (১/ ৪২৩)।

(২) আর-রাফেয়ি এটি কতিপয় শাফেয়ি আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ইবনে জাকারিয়া আল-আনসারি রচিত আসনী আল-মাতালিব শারহু রওদিত ত্বালিব (১/ ৬)।

(৩) আন-নববী রচিত আল-মাজমু' শারহুল মুহাযযাব (১/ ৩৪)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
تنبيه: يرى الحنفية جواز إزالة النجاسة بغير الماء، وهو رواية عند الحنابلة اختارها شيخ الإسلام ابن تيميّة(1)، والشيخ ابن عثيمين(2).

وهؤلاء يرون أن إزالة النجاسة ليست مما يتعبد به قصداً، أي أنها ليست عبادة مقصودة، وإنما إزالة النجاسة هو التخلي من عين خبيثة نجسة، فبأي شيء أزال النجاسة وزالت وزال أثرها فإنه يكون ذلك الشيء مطهِّراً لها، سواء بالماء أو البنزين، أو أي مزيل يكون(3).

قوله تعالى: {فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ} [التوبة: 108]

من إزالة النجاسة الاستنجاء، والاستنجاء هو: غسل أثر النّجاسة بالماء.

وفي الآية مشروعية الاستنجاء بالماء، وقد حُكي الإجماع على ذلك، وفي الحديث المتفق عليه من حديث أنس رضي الله عنه قال: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدخل الخلاء، فأحمل أنا وغلام نحوي إداوة من ماء وعنزة، فيستنجي بالماء)(4).

وفي الآية مشروعية الجمع بين الاستجمار والاستنجاء بالماء، فيشرع للمسلم أن يستجمر ثم يتبعه بالاستنجاء، وقد حُكي الاجماع على ذلك أيضًا، مع وجود المخالف فيها(5).

--------------------------------------------

(1) ينظر: مجموع الفتاوى (21/ 476).

(2) ينظر: مجموع فتاوى ابن عثيمين (11/ 86)، الشرح الممتع (1/ 424).

(3) ينظر: الفقه الميسر (9/ 16)، ومجموع فتاوى ابن عثيمين (11/ 86)، إتحاف البرية فيما جدَّ من المسائل الفقهية (16).

(4) أخرجه مسلم كتاب الطهارة، باب الاستنجاء بالماء من التبرز، برقم (271) ..

(5) نقل الإجماع الكاساني في بدائع الصنائع (1/ 21)، وانظر للخلاف قيه موسوعة الإجماع في الفقه الإسلامي (1/ 165).
সতর্কতা: হানাফী আলেমগণ পানি ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে নাপাকি দূর করা বৈধ মনে করেন। এটি হাম্বলী মাযহাবের একটি বর্ণনা, যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ(১) এবং শায়খ ইবনে উসাইমিন(২) গ্রহণ করেছেন।

তাঁরা মনে করেন যে, নাপাকি দূর করা মূলত কোনো উদ্দেশ্যমূলক ইবাদত নয়; বরং নাপাকি দূর করা হলো একটি অপবিত্র ও নোংরা বস্তু থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া। সুতরাং যে জিনিসের মাধ্যমেই নাপাকি দূর করা হোক এবং এর ফলে নাপাকির চিহ্ন মুছে যাক, সেই বস্তুটিই তার জন্য পবিত্রকারী হিসেবে গণ্য হবে; চাই তা পানি হোক, পেট্রোল হোক কিংবা অন্য যেকোনো পরিষ্কারক হোক(৩)।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {সেখানে এমন লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে এবং আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।} [আত-তাওবাহ: ১০৮]

নাপাকি দূর করার একটি প্রকার হলো ইসতিনজা; আর ইসতিনজা হলো পানি দিয়ে নাপাকির চিহ্ন ধৌত করা।

এই আয়াতে পানি দিয়ে ইসতিনজা করার বৈধতা প্রমাণিত হয় এবং এ বিষয়ে ইজমা (ঐকমত্য) বর্ণিত হয়েছে। মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিসে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন আমি এবং আমার সমবয়সী এক কিশোর পানির পাত্র ও একটি ছোট লাঠি বহন করতাম, অতঃপর তিনি পানি দিয়ে ইসতিনজা করতেন)(৪)।

এই আয়াতে পাথর (ইসতিজমার) এবং পানি দিয়ে ইসতিনজা করাকে একত্রিত করারও বৈধতা রয়েছে। সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য নিয়ম হলো প্রথমে পাথর ব্যবহার করা এবং পরে পানির অনুসরণ করা। এ বিষয়েও ইজমা বর্ণিত হয়েছে, যদিও এতে ভিন্ন মতও বিদ্যমান রয়েছে(৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (২১/ ৪৭৬)।

(২) দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে উসাইমিন (১১/ ৮৬), আশ-শারহুল মুমতি (১/ ৪২৪)।

(৩) দেখুন: আল-ফিকহুল মুয়াসসার (৯/ ১৬), মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে উসাইমিন (১১/ ৮৬), ইতহাফুল বারিয়্যাহ ফিমা জাদ্দা মিনাল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ (১৬)।

(৪) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, পবিত্রতা অধ্যায়, মলত্যাগের পর পানি দিয়ে ইসতিনজা করা অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর (২৭১)।

(৫) কাসানি ‘বাদাইউস সানাই’ (১/ ২১) গ্রন্থে ইজমা বর্ণনা করেছেন এবং এতে মতভেদের জন্য দেখুন ‘মাওসুআতুল ইজমা ফিল ফিকহিল ইসলামি’ (১/ ১৬৫)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
ومأخذ المسألتين أن الآية سيقت مساق المدح، وأن الفعل محبوب للمولى سبحانه وتعالى، وذلك للحض على مثل فعلهم، وهو الاستنجاء بالماء بعد الاستجمار بالحجارة، ويدل عليه سبب نزول هذه الآية، حيث نزلت في أهل قباء، ولما سألهم رسول الله صلى الله عليه وسلم عن شأنهم قالوا: (إنَّا نُتبع الحجارة الماء)(1).

قال ابن القيم: «وكل فعل عظمه الله ورسوله … أو أحبه … فهو دليل على مشروعيته المشتركة بين الوجوب والندب»(2).

وقال شيخ الاسلام ابن تيمية: «وقوله تعالى: {فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ} يدل على أن الاستنجاء مستحب يحبه الله، لا أنّه واجب»(3).

قوله تعالى: {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ} [المدثر: 4]

استدل بالآية على وجوب غسل النجاسة وإزالتها من الثوب، وقد أجمع العلماء على ذلك.

قال ابن عبد البر: «وأجمع العلماء على غسل النجاسات كلها، من الثّياب والبدن، وألَّا يصلي بشيء منها في الأرض، ولا في الثياب»(4). وسيأتي في باب شروط الصّلاة.

ومأخذ الحكم ظاهر حيث ورد بذلك الأمر في قوله {فَطَهِّرْ} والأمر يقتضي الوجوب.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البزار في كشف الاستار برقم (247)، وذكره الحافظ ابن حجر في بلوغ المرام برقم (104) في باب آداب قضاء الحاجة، وضعف سنده، وانظر: إرواء الغليل للألباني (1/ 83).

(2) بدائع الفوائد (4/ 4).

(3) مجموع الفتاوى (21/ 406).

(4) الاستذكار (1/ 331).
এই মাসআলা দুটির ভিত্তি হলো, আয়াতটি প্রশংসার প্রেক্ষাপটে এসেছে এবং এই কর্মটি মহান রবের নিকট প্রিয়। এর উদ্দেশ্য হলো তাদের কর্মের অনুরূপ করার প্রতি উৎসাহিত করা, আর তা হলো পাথরের মাধ্যমে শৌচকার্য করার পর পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা। এই আয়াতের অবতরণের প্রেক্ষাপট এর স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করে। আয়াতটি কুবা-বাসীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তারা বললেন: (আমরা পাথরের ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করি)(১).

ইবনুল কায়্যিম বলেছেন: «আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যে কাজকেই মহিমান্বিত করেছেন … অথবা পছন্দ করেছেন … তা সেই কাজের শরয়ি বিধিবদ্ধতার প্রমাণ যা ওয়াজিব ও মুস্তাহাবের মাঝে সাধারণ»(২).

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: «আল্লাহ তাআলার বাণী: {সেখানে এমন লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে এবং আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন}—এটি প্রমাণ করে যে, ইসতিনজা করা মুস্তাহাব যা আল্লাহ পছন্দ করেন, এটি ওয়াজিব নয়»(৩).

আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমার পোশাক পবিত্র করো} [আল-মুদ্দাসসির: ৪]

পোশাক থেকে নাপাকি ধৌত করা এবং তা দূর করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে। ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: «ওলামায়ে কেরাম পোশাক ও শরীর থেকে সমস্ত নাপাকি ধৌত করার ব্যাপারে এবং জমিনে বা পোশাকে নাপাকি থাকা অবস্থায় সালাত আদায় না করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন»(৪)। এটি সালাতের শর্তাবলি অধ্যায়ে সামনে আসবে।

এই বিধানের উৎস সুস্পষ্ট, যেহেতু {পবিত্র করো} বাণীর মাধ্যমে এ বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, আর নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে।

--------------------------------------------

(১) আল-বাজার এটি 'কাশফুল আসতার' গ্রন্থে ২৪৭ নং হাদিসে বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ ইবনে হাজার 'বুলুগুল মারাম' গ্রন্থের ১০৪ নং হাদিসে শৌচকার্যের আদব অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। দেখুন: আলবানী রচিত 'ইরওয়াউল গালীল' (১/৮৩)।

(২) বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ (৪/৪)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (২১/৪০৬)।

(৪) আল-ইসতিযকার (১/৩৩১)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
واستدل الحنفية بالآية على عموم ما يطهر به، الماء وغير الماء، فقالوا: كل ما يقع به التطهير مندرج تحت مقتضى الأمر، وهو مطهر إذا كان طاهرًا.

وأجيب: بأن الغرض من الآية التعرض لأصل التطهير، لا التعرض لأصل التخصيص والتعميم في آلات التطهير، وهي الماء أو غيره، فلا عموم فيها في ذلك.

قوله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ} [البقرة: 222]

استدل بالآية على نجاسة دم الحيض، ونجاسته مجمع عليها.

ومأخذ الحكم: أولًا: كونه دمًا.

ثانيًا: أمرت بالاغتسال والطهارة منه بالآية، وقد ورد في حديث أسماء أنها قالت: (جاءت امرأة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: إحدانا يصيب ثوبها من دم الحيض كيف تصنع به؟ قال: تحته، ثم تقرصه بالماء ثم تنضحه ثم تصلى فيه)(1).

وأمر المستحاضة بقوله: (فاغسلي عنك الدّم وصلي)(2). هذا في دم الاستحاضة ودم الحيض أشد، ولا يؤمر بالغسل إلّا من النجس.

قوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ} [المائدة: 3]

استدل العلماء بهذه الآية في هذا الباب على الأحكام الآتية:

• الحكم الأول: اتفق العلماء على نجاسة بعض الميتات.

قال ابن رشد: «وأمّا أنواع النجاسات، فإنّ العلماء اتفقوا من أعيانها على

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم كتاب الطهارة، باب نجاسة الدم وكيفية غسله، برقم (291).

(2) أخرجه البخاري في كتاب الحيض، باب الاستحاضة، برقم (300)، وكتاب الحيض، باب إذا رأت المستحاضة الطهر، برقم (324)، ومسلم في كتاب الحيض، باب المستحاضة وغسلها وصلاتها، برقم (333).
হানাফীগণ এই আয়াতের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের উপকরণের ব্যাপকতার ওপর দলিল পেশ করেছেন, তা পানি হোক বা পানি ছাড়া অন্য কিছু। তাঁরা বলেন: যা কিছু দ্বারা পবিত্রতা অর্জিত হয় তা এই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত এবং তা যদি নিজে পবিত্র হয় তবে তা পবিত্রকারী হিসেবে গণ্য হবে।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: আয়াতের উদ্দেশ্য হলো পবিত্রতা অর্জনের মূল বিষয়টি আলোচনা করা, পবিত্রতার উপকরণের (পানি বা অন্য কিছু) ক্ষেত্রে বিশেষীকরণ বা সাধারণীকরণ করা নয়। সুতরাং এই বিষয়ে সেখানে কোনো ব্যাপকতা নেই।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন: তা হলো কষ্টদায়ক বস্তু। সুতরাং তোমরা ঋতুকালীন সময়ে স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না।} [আল-বাকারা: ২২২]

এই আয়াতের মাধ্যমে ঋতুস্রাবের রক্তের অপবিত্রতার ওপর দলিল পেশ করা হয়েছে, আর এর অপবিত্রতার বিষয়টি সর্বসম্মত।

বিধানটির উৎস: প্রথমত: এটি রক্ত হওয়া।

দ্বিতীয়ত: এই আয়াতে তা থেকে গোসল ও পবিত্রতা অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসমা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে তিনি বলেন: (এক মহিলা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: আমাদের কারো কাপড়ে ঋতুস্রাবের রক্ত লেগে গেলে সে কী করবে? তিনি বললেন: সে যেন তা ঘষে তুলে ফেলে, এরপর তা পানি দিয়ে রগড়ে নেয়, তারপর তাতে পানি ছিটিয়ে দেয় এবং এরপর তাতে সালাত আদায় করে)(১)।

আর ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীকে তিনি এই বলে নির্দেশ দিয়েছেন: (তুমি তোমার শরীর থেকে রক্ত ধুয়ে ফেলো এবং সালাত আদায় করো)(২)। এটি ইস্তিহাযার রক্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর ঋতুস্রাবের রক্ত এর চেয়েও বেশি গুরুতর; আর নাপাক বস্তু ছাড়া ধোয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় না।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত ও শূকরের গোশত।} [আল-মায়িদাহ: ৩]

আলিমগণ এই অধ্যায়ে এই আয়াতের মাধ্যমে নিম্নোক্ত বিধানগুলোর ওপর দলিল পেশ করেছেন:

• প্রথম বিধান: আলিমগণ কতিপয় মৃত প্রাণীর অপবিত্রতার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

ইবনে রুশদ বলেন: «অপবিত্রতার প্রকারভেদ সম্পর্কে আলিমগণ নির্দিষ্ট কিছু বস্তুর ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, পবিত্রতা অধ্যায়, রক্ত অপবিত্র হওয়া এবং তা ধোয়ার পদ্ধতি পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (২৯১)।

(২) বুখারী কর্তৃক বর্ণিত, ঋতুস্রাব অধ্যায়, ইস্তিহাযা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৩০০); এবং ঋতুস্রাব অধ্যায়, ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী যখন পবিত্রতা দেখে পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৩২৪); এবং মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, ঋতুস্রাব অধ্যায়, ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী, তার গোসল ও সালাত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৩৩৩)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল আল্লাম ফী বায়ানিল মাআখিযিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
أربعة: ميتة الحيوان ذي الدّم الذي ليس بمائي، وعلى لحم الخنزير بأي سبب اتفق أن تذهب حياته، وعلى الدّم نفسه من الحيوان الذي ليس بمائي انفصل من الحي أو الميت، إذا كان مسفوحا أعني: كثيرا، وعلى بول ابن آدم ورجيعه … »(1).

ويدخل في الميتة المنخنقة والموقوذة والمترديّة والنّطيحة، وما أكل السّبع، كما سبق من أن الميتة تطلق على ما فارقته الروح من غير ذكاة شرعية مما يذبح، وذكرها من باب عطف الخاص على العامّ.

ويدخل فيها حكمًا: ما أهل لغير الله به، وما ذبح على النّصب، كما سيأتي في كتاب الأطعمة.

ويبقى الاستقسام بالأزلام، وهي القداح، وقد وقع الإجماع على طهارتها كما سيأتي في الآية التي تلي هذه

ومأخذ الحكم هنا: يظهر بما بعده من آيات(2)، أمّا في هذه الآية فلا يكون إلّا على القول بأنّ كل محرم نجس، وقد علل بذلك بعض الفقهاء.

والصّواب أن كل نجس محرم، وليس كل محرم نجساً؛ إذ إنّ الذهب والحرير محرمان على الرّجال وليستا بنجسين.

• الحكم الثاني: استدل بالآية من حرّم استعمال المنظفات التي تستخدم فيها النجاسات ولم تستهلك(3). أي: المنظفات التي يكون في تركيبها شيء من

--------------------------------------------

(1) بداية المجتهد (1/ 83).

(2) كما سيأتي في قوله: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [المائدة: 90]، وقوله: {قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ} [الأنعام: 145].

(3) قال ابن رجب في القاعدة الثانية والعشرين من قواعده: «أن العين التي تنغمر في غيرها وتستهلك لا حكم لها.
চারটি: এমন রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর মৃতদেহ যা জলচর নয়, এবং শুকরের গোশতের ওপর যেভাবেই তার মৃত্যু ঘটুক না কেন, এবং সেই রক্ত যা জলচর নয় এমন প্রাণী থেকে নির্গত হয়েছে, জীবন্ত হোক বা মৃত, যদি তা প্রবাহিত হয় অর্থাৎ: প্রচুর পরিমাণে হয়, এবং মানুষের প্রস্রাব ও বিষ্ঠার ওপর … »(১).

আর মৃতদেহের অন্তর্ভুক্ত হলো শ্বাসরুদ্ধ হওয়া, আঘাতে মৃত, উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়া, অন্য পশুর গুঁতোয় মারা যাওয়া এবং হিংস্র পশুর খাওয়া অংশ, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, যবাইযোগ্য পশুর মধ্য থেকে যা শরয়ি যবাই ব্যতীত প্রাণ ত্যাগ করে তাকেই মৃতদেহ বলা হয়। আর এগুলোর উল্লেখ হলো সাধারণের পর বিশেষের সংযোগ (আতফে খাস আলাল আম) হিসেবে।

আর এর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে: যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে এবং যা মূর্তির বেদীতে বলি দেওয়া হয়েছে, যেমনটি খাদ্য অধ্যায়ে সামনে আসবে।

আর অবশিষ্ট রইল তীরের সাহায্যে ভাগ্য নির্ধারণ (ইস্তেকসাম বিল আজলাম), আর সেগুলো হলো ভাগ্য নির্ণায়ক তীর। এগুলোর পবিত্রতার ব্যাপারে ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেমনটি এর পরবর্তী আয়াতে আসবে।

আর এখানে হুকুমের ভিত্তি বা উৎস: তা পরবর্তী আয়াতসমূহ দ্বারা স্পষ্ট হয়(২)। আর এই আয়াতের ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল এই মতের ভিত্তিতেই হতে পারে যে, প্রতিটি হারাম বস্তু অপবিত্র। কোনো কোনো ফকিহ একেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আর সঠিক কথা হলো, প্রতিটি অপবিত্র বস্তু হারাম, কিন্তু প্রতিটি হারাম বস্তু অপবিত্র নয়; কারণ স্বর্ণ এবং রেশম পুরুষদের জন্য হারাম হলেও সেগুলো অপবিত্র নয়।

• দ্বিতীয় বিধান: এই আয়াতের মাধ্যমে তারা দলিল পেশ করেছেন যারা সেই সকল পরিষ্কারক সামগ্রী ব্যবহার হারাম করেছেন যাতে অপবিত্র বস্তু ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা বিলীন হয়ে যায়নি(৩)। অর্থাৎ: সেই সকল পরিষ্কারক সামগ্রী যার উপাদানে এমন কিছু রয়েছে যা...

--------------------------------------------

(১) বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/ ৮৩)।

(২) যেমনটি তাঁর এই বাণীতে আসবে: {হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমার বেদী এবং ভাগ্য নির্ণায়ক তীরসমূহ ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার} [আল-মায়িদাহ: ৯০], এবং তাঁর বাণী: {বলুন, আমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তাতে আমি আহারকারীর জন্য এমন কিছু হারাম পাই না যা সে আহার করে, তবে যদি তা মৃতদেহ হয় কিংবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের গোশত—কেননা তা অপবিত্র—অথবা যা পাপাচার বশত আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে} [আল-আনআম: ১৪৫]।

(৩) ইবনে রজব তাঁর কাওয়াইদ-এর বাইশতম নীতিতে বলেছেন: «যে বস্তু অন্য কিছুর মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে যায় এবং বিলীন হয়ে যায়, তার কোনো হুকুম নেই।»