(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: -)
الاتجار في العملات عبر وسائل الاتصال الحديثة   (صالح بن زابن المرزوقي البقمي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الاتجار في العملات عبر وسائل الاتصال الحديثة وأشهر صور المضاربة المطبقة في الأسواق العالمية

المؤلف: صالح بن زابن المرزوقي البقمي

الناشر: مكتبة الرشد - الرياض، السعودية

الطبعة: الأولى، 1445 هـ

عدد الصفحات: 95

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 جُمادَى الآخرة 1445

আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে মুদ্রা লেনদেন   (সালিহ বিন যাবিন আল-মারজুকি আল-বুকামি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই: আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে মুদ্রা লেনদেন এবং বিশ্ববাজারে প্রচলিত ফাটকা কারবারের প্রসিদ্ধ রূপসমূহ

লেখক: সালিহ বিন যাবিন আল-মারজুকি আল-বুকামি

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ, সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ জুমাদিউল আখিরা ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

الحمد الله، والصلاة والسلام على رسول الله. وبعد:

فقد جدت بعض صور الصرف، وكثرت تجارة المصارف، والمؤسسات والأفراد في العالم الإسلامي في الأثمان، مع أسواق النقد العالمية (بورصة النقود)، وتعددت وسائل الاستثمار فيها؛ بوسائل الاتصال الحديثة المتنوعة؛ كالأقمار الصناعية، والحاسبات الإلكترونية، وخطوط الميكرويف، والاتصال المباشر بقواعد وشبكات المعلومات، مثل الإنترنت، والبريد الإلكتروني، وغيرها مما هو موجود في هذا العصر، وما قد يوجد في العصور القادمة.

ولأن البيع والشراء في العملات، يحف بهما كثير من المحاذير الشرعية، سواء في الأسواق العالمية أو المحلية، ولأنه يجب على المسلم أنه يكون كسبه حلالاً، وأن عليه الابتعاد عن المكاسب المحرمة، قال تعالى: {قُلْ لَا يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيثِ فَاتَّقُوا اللَّهَ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (المائدة: 100)، وقال تعالى: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا (2) وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ} (الطلاق: 2، 3)، ولحاجة المستثمرين المسلمين لبيان الحكم الشرعي في هذا النوع من التجارة؛ استعنت بالله على بحث هذا الموضوع، وسميته (الاتجار في العملات عبر وسائل الاتصال الحديثة، وأشهر صور المضاربة المطبقة في الأسواق العالمية).

ولتلازم هذا الموضوع بموضوعات فقهية واقتصادية أخرى، تم تناولها بالبحث؛ كالقبض وأنواعه، والصرف بالوديعة المصرفية، والتوكيل في العقد أو القبض، والبيوع الحاضرة، والآجلة، والتبادلية، وبيوع الفوركس، وصورها، وحكمها، وحماية المعاملات الإلكترونية، وطرق التعاقد بالإنترنت ونحوه من الوسائل، ومدى إمكانية تصحيح الاتجار ببعض هذه الصور، مع بيان الوسائل الشرعية البديلة.
‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর:

বর্তমানে মুদ্রা বিনিময়ের কিছু নতুন রূপ প্রকাশ পেয়েছে এবং আধুনিক বিশ্বের অর্থবাজারে (কারেন্সি ফরেক্স) মুদ্রা কেনাবেচায় ব্যাংক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে এতে বিনিয়োগের বহুমুখী মাধ্যম তৈরি হয়েছে; যা আধুনিক বিভিন্ন যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত হচ্ছে, যেমন: কৃত্রিম উপগ্রহ, কম্পিউটার, মাইক্রোওয়েভ লাইন এবং তথ্যভাণ্ডার ও তথ্যপ্রযুক্তির নেটওয়ার্ক যেমন: ইন্টারনেট, ই-মেইল এবং বর্তমান যুগে বিদ্যমান ও ভবিষ্যতে উদ্ভাবিতব্য অন্যান্য মাধ্যম।

যেহেতু মুদ্রার ক্রয়-বিক্রয়ে আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় উভয় বাজারে নানাবিধ শারঈ সতর্কতা ও নিষিদ্ধ বিষয় বিদ্যমান থাকে এবং একজন মুসলিমের জন্য তার উপার্জন হালাল হওয়া এবং হারাম উপার্জন থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য; সেহেতু আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের আধিক্য তোমাকে বিস্মিত করে। অতএব হে বুদ্ধিমানগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} (আল-মায়িদাহ: ১০০)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য (বিপদ থেকে উত্তরণের) কোনো পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না} (আত-তালাক: ২, ৩)। এই ধরণের ব্যবসায় মুসলিম বিনিয়োগকারীদের জন্য শারঈ বিধান স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আমি এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং এর নামকরণ করেছি: 'আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে মুদ্রার লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত ফাটকা কারবারের প্রসিদ্ধ পদ্ধতিসমূহ'।

যেহেতু এই বিষয়টি অন্যান্য ফিকহি ও অর্থনৈতিক বিষয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই গবেষণায় সে বিষয়গুলোও আলোচনা করা হয়েছে; যেমন: দখল ও এর প্রকারভেদ, ব্যাংক আমানতের মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময়, চুক্তি বা দখলের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব প্রদান, নগদ বিক্রয়, বাকিতে বিক্রয়, বিনিময় বিক্রয়, ফরেক্স ট্রেডিং, এর বিভিন্ন পদ্ধতি ও বিধান, ইলেকট্রনিক লেনদেনের নিরাপত্তা, ইন্টারনেট ও অনুরূপ উপায়ে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পদ্ধতি এবং বিকল্প শারঈ পন্থার বর্ণনার পাশাপাশি এসকল পদ্ধতির কয়েকটির মাধ্যমে লেনদেনকে সঠিক বা বৈধ করার সম্ভাবনা।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وإذا عبرت في هذا الكتاب بالصرف، أو ببيع العملات، فهو شامل للاتجار بالأثمان(1)، سواء أكانت عملة ورقية، أم عملة ذهبية أم فضية أم غير عملة، كالسبائك وغيرها.

ويتكون الكتاب من مقدمة، وأربعة فصول، وخاتمة.

الفصل الأول: الأسس الشرعية للاتجار في العملات عبر وسائل الاتصال الحديثة، وفيه ستة مباحث.

والفصل الثاني: الاتجار في العملات بالسعر الحاضر والآجل والأسعار التبادلية، وفيه مبحثان.

والفصل الثالث: ماهية تجارة العملات عبر وسائل الاتصال الحديثة، (الفوركس)، وفيه ثلاثة مباحث.

والفصل الرابع: الاتجار في العملات بواسطة المنصات الإلكترونية، وفيه مبحثان.

والخاتمة: وفيها أهم النتائج والتوصيات.

--------------------------------------------

(1) الأثمان، تشمل جميع أنواع النقود، ذهباً، أو فضة، أو نقوداً ورقية، كما تشمل الذهب والفضة غير المسكوك، من جيد وردئ، وصحيح ومكسر، وحلي وتبر، وخالص ومغشوش. فحكمها جميعاً واحد بالإجماع كما نقله النووي. انظر: فتح الباري 4/ 380.
আমি যদি এই কিতাবে মুদ্রা বিনিময় (الصرف) বা কারেন্সি ট্রেডিং শব্দ ব্যবহার করি, তবে তা বিনিময়যোগ্য মূল্যমান (الأثمان) দ্বারা ব্যবসার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে(১); চাই তা কাগজের মুদ্রা হোক, কিংবা স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা অথবা মুদ্রা ব্যতীত অন্য কিছু, যেমন স্বর্ণপিণ্ড (السبائك) ইত্যাদি।

কিতাবটি একটি ভূমিকা, চারটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।

প্রথম অধ্যায়: আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে মুদ্রা ব্যবসার শরয়ি ভিত্তি (الأسس الشرعية); এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ (مباحث) রয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: নগদ (الحاضر), বিলম্বিত (الآجل) ও বিনিময় হারে মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়; এতে দুইটি পরিচ্ছেদ (مباحث) রয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়: আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে মুদ্রা ব্যবসার স্বরূপ (ফরেক্স); এতে তিনটি পরিচ্ছেদ (مباحث) রয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়: ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মুদ্রা ব্যবসা; এতে দুইটি পরিচ্ছেদ (مباحث) রয়েছে।

উপসংহার: এতে রয়েছে প্রধান ফলাফল ও সুপারিশমালা।

--------------------------------------------

(১) মূল্যমান (الأثمان) বলতে সকল প্রকার মুদ্রা—স্বর্ণ, রৌপ্য বা কাগজের মুদ্রাকে বোঝায়। তেমনিভাবে এর অন্তর্ভুক্ত হলো অমুদ্রিত স্বর্ণ ও রৌপ্য, চাই তা উন্নত মানের হোক বা নিম্নমানের, পূর্ণাঙ্গ (صحيح) ও খণ্ডিত (مكسر), অলংকার ও স্বর্ণরেণু (تبر) এবং খাঁটি (خالص) ও ভেজাল মিশ্রিত (مغشوش)। ইমাম নববী যেমন উল্লেখ করেছেন, এসবের বিধান সর্বসম্মত ঐকমত্য (الإجماع) অনুযায়ী অভিন্ন। দেখুন: ফাতহুল বারী ৪/৩৮০।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفصل الأول

الأسس الشرعية للاتجار بالعملات عبر وسائل الاتصال الحديثة

وفيه ستة مباحث:

المبحث الأول: آراء الفقهاء في الاتجار بالعملات.

المبحث الثاني: شروط الصرف.

المبحث الثالث: القبض الشرعي في تجارة العملات.

المبحث الرابع: الموقف الشرعي من إبرام العقد بوسائل الاتصال الحديثة.

المبحث الخامس: التوكيل في المتاجرة بالعملات.

المبحث السادس: حكم المصارفة بالوديعة المصرفية.
প্রথম অধ্যায়

আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে মুদ্রা কেনাবেচার শরয়ি ভিত্তি

এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুদ্রা কেনাবেচায় ফকিহগণের অভিমত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুদ্রা বিনিময়ের (صرف) শর্তাবলি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুদ্রা কেনাবেচায় শরয়ি দখল (قبض)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে চুক্তি সম্পাদনের শরয়ি অবস্থান।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মুদ্রা কেনাবেচায় প্রতিনিধি নিয়োগ (توكيل)।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ব্যাংক আমানতের মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময়ের (مصارفة) বিধান।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الأول

آراء الفقهاء في الاتجار بالعملات

إن تداول العملة قد يكون للمصارفة، وقد يكون للمضاربة، أي الاتجار في العملة. وبيان كل منهما فيما يلي:

المتاجر بالعملات أو المضارب فيها، هو الذي يشتري ويبيع في عملة أو عملات معينة، وهدفه هو تقليبها بالبيع والشراء، للحصول على الربح، وعندما يحصل عليها يحتفظ بها -غالباً- لحين ارتفاع سعرها. وشراؤه لا يكون إلا عند رخص العملة، وبيعه لا يكون إلا عند ارتفاعها، وقد يبيع إذا أخذت في الانخفاض الشديد خشية الخسارة. فهو لا يراعي سعر السوق في عملياته، بل يراعي تحقيق المزيد من الربح.

والمتاجر أو المضارب بالعملة لا يتخذ الصرافة مهنة له.

أما من يتخذ الصرافة مهنة له، فإنه يشتري - غالباً- أنواعاً متعددة من العملات التي ليست عنده بسعر السوق، سواء أكان سعر تلك العملة منخفضاً أم مرتفعاً، ويبيع العملات التي عنده إلى من يطلبها في أي وقت، وبسعر السوق أيضاً، ومن جهة أخرى هو وسيط تجاري يشتري العملات المختلفة ممن هي لديهم، ويبيعها إلى المحتاجين إليها.

وصرف النقود أو شراء وبيع غيرها من الأثمان لا خلاف في جوازه، إذا استوفيت شروطه.

أما الاتجار في النقود فللعلماء فيه قولان:

القول الأول: جواز التجارة في النقود، إذا توافرت في عقدها شروط صحتها؛ وهو رأي جماهير العلماء من السلف والخلف.
প্রথম পরিচ্ছেদ

মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে ফকিহগণের অভিমত

মুদ্রার প্রচলন বা বিনিময় কখনো মুদ্রা বিনিময়ের (صرف) জন্য হতে পারে, আবার কখনো বিনিয়োগের (مضاربة) জন্য হতে পারে, অর্থাৎ মুদ্রার ব্যবসা। এ দুইটির বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

মুদ্রার ব্যবসায়ী বা বিনিয়োগকারী (مضارب) হলেন তিনি, যিনি নির্দিষ্ট কোনো মুদ্রা বা মুদ্রাসমূহ কেনাবেচা করেন এবং তার লক্ষ্য হলো ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে তা আবর্তন করে মুনাফা অর্জন করা। যখন তিনি তা লাভ করেন, তখন সাধারণত দাম বৃদ্ধি পাওয়া পর্যন্ত তা ধরে রাখেন। তিনি কেবল মুদ্রার দাম কমলেই তা ক্রয় করেন এবং দাম বাড়লে তা বিক্রয় করেন। কখনো লোকসানের আশঙ্কায় দাম অনেক কমে যেতে থাকলে তিনি তা বিক্রি করে দিতে পারেন। তিনি তার লেনদেনগুলোতে বাজার দরের তোয়াক্কা করেন না, বরং অধিক মুনাফা অর্জনের দিকে লক্ষ্য রাখেন।

মুদ্রার ব্যবসায়ী বা বিনিয়োগকারী (مضارب) মুদ্রা বিনিময়কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন না।

পক্ষান্তরে, যিনি মুদ্রা বিনিময়কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন, তিনি সাধারণত বাজার দরে বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা ক্রয় করেন যা তার নিকট নেই, চাই সেই মুদ্রার দাম কম হোক বা বেশি। তিনি তার কাছে থাকা মুদ্রাসমূহ যে কোনো সময় যে কারো চাহিদামত বাজার দরেই বিক্রি করেন। অন্যদিকে, তিনি একজন বাণিজ্যিক মধ্যস্থতাকারী, যিনি বিভিন্ন মুদ্রা তাদের মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করেন এবং যাদের প্রয়োজন তাদের কাছে বিক্রি করেন।

অর্থ বিনিময় বা অন্য কোনো মুদ্রার কেনাবেচার বৈধতার (جواز) ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই, যদি তার শর্তসমূহ (شروط) পূর্ণ করা হয়।

তবে মুদ্রার ব্যবসার বিষয়ে আলেমদের দুটি মত রয়েছে:

প্রথম মত: মুদ্রার ব্যবসা বৈধ (جواز), যদি চুক্তির ক্ষেত্রে তার শুদ্ধতার (صحة) শর্তসমূহ (شروط) বিদ্যমান থাকে; আর এটিই পূর্বসূরি (سلف) এবং উত্তরসূরি (خلف) জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের অভিমত।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
أدلة هذا الرأي ما يلي:

أولاً: قوله تعالى: {وَأَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا} (البقرة: 275)، فالتجارة في النقود نوع من أنواع البيوع، والآية دالة بعمومها على جواز بيع الأثمان بعضها ببعض، سواء أكانت للمصارفة، أم للمتاجرة فيها؛ إذ لم يرد ما يخصصها.

ثانياً: من السنة، ورد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم جوازها بأحاديث صحيحة وكثيرة، نقتصر منها على ما يلي:

1 - عن عبادة بن الصامت قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الذهب بالذهب، والفضة بالفضة، والبر بالبر، والشعير بالشعير، والتمر بالتمر، والملح بالملح، مثلاً بمثل، سواء بسواء، يداً بيد، فإذا اختلفت هذه الأصناف فبيعوا كيف شئتم إذا كان يداً بيد»(1).

2 - قال أبو المنهال: «سألت البراء بن عازب وزيد بن أرقم رضي الله عنهما عن الصرف، فكل واحد منهما يقول: هذا خير مني، فكلاهما يقول: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع الذهب بالورق ديناً»(2).

3 - عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الدينار بالدينار لا فضل بينهما، والدرهم بالدرهم لا فضل بينهما»(3).

4 - عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تبيعوا الذهب بالذهب إلا مثلاً بمثل، ولا تُشِفُّوا بعضها على بعض، ولا تبيعوا الورق بالورق إلا مثلاً بمثل، ولا تُشِفُّوا بعضها على بعض، ولا تبيعوا منها غائباً بناجز»(4).

وفي لفظ: «إلا يداً بيد» وفي لفظ «إلا وزناً بوزن مثلاً بمثل سواءً بسواء».

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم بشرح النووي 4/ 98، ورواه الجماعة إلا البخاري.

(2) صحيح البخاري بشرحه 4/ 382 واللفظ له، وانظر: صحيح مسلم 4/ 100.

(3) صحيح مسلم 4/ 100.

(4) صحيح البخاري بشرحه فتح الباري 4/ 379 و 380، صحيح مسلم بشرح النووي 4/ 96.
এই মতের দলিলসমূহ নিম্নরূপ:

প্রথমত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন} (আল-বাকারাহ: ২৭৫)। মুদ্রার ব্যবসা হলো ক্রয়-বিক্রয়ের একটি প্রকার। আয়াতটি তার ব্যাপকতার মাধ্যমে এক প্রকার মুদ্রার বিনিময়ে অন্য প্রকার মুদ্রার ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে; চাই তা কেবল মুদ্রা বিনিময়ের জন্য হোক কিংবা তাতে ব্যবসার উদ্দেশ্যে হোক। যেহেতু এর বিধানকে নির্দিষ্টকারী (مخصص) কোনো প্রমাণ বর্ণিত হয়নি।

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ থেকে; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু বিশুদ্ধ (صحيح) ও প্রচুর সংখ্যক হাদিসের মাধ্যমে এর বৈধতা বর্ণিত হয়েছে। আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে নিম্নোক্ত হাদিসগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকছি:

১ - উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবণের বিনিময়ে লবণ; সমপরিমাণ ও সমান সমান হতে হবে এবং হাতে হাতে (নগদ) হতে হবে। যখন এই শ্রেণিগুলো ভিন্ন হবে, তখন তোমরা যেভাবে ইচ্ছা বিক্রয় করো, যদি তা হাতে হাতে হয়»(১)।

২ - আবুল মিনহাল (রহ.) বলেন: «আমি বারা ইবনু আযিব ও যায়েদ ইবনু আরকাম (রা.)-কে মুদ্রা বিনিময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তারা প্রত্যেকেই বলছিলেন: তিনি আমার চেয়ে উত্তম। অতঃপর তারা উভয়েই বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকিতে স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন»(২)।

৩ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «দিনারের বিনিময়ে দিনার, তাদের মধ্যে কোনো বেশ-কম নেই এবং দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম, তাদের মধ্যে কোনো বেশ-কম নেই»(৩)।

৪ - আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রয় করো না সমপরিমাণ ব্যতীত, এবং একটিকে অন্যটির ওপর বর্ধিত করো না। আর রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য বিক্রয় করো না সমপরিমাণ ব্যতীত, এবং একটিকে অন্যটির ওপর বর্ধিত করো না। আর অনুপস্থিত (বাকি) বস্তুকে উপস্থিত (নগদ) বস্তুর বিনিময়ে বিক্রয় করো না»(৪)।

অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে: «হাতে হাতে হওয়া ব্যতীত নয়» এবং অপর শব্দে আছে: «ওজনে ওজন সমপরিমাণ এবং সমান সমান হওয়া ব্যতীত নয়»।

--------------------------------------------

(১) শারহুন নববীসহ সহিহ মুসলিম ৪/৯৮, এবং বুখারি ব্যতীত জামাআতের (الجماعة) ইমামগণ এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) ব্যাখ্যাসহ সহিহ বুখারি ৪/৩৮২ এবং শব্দাবলি তাঁরই, দেখুন: সহিহ মুসলিম ৪/১০০।

(৩) সহিহ মুসলিম ৪/১০০।

(৪) ফাতহুল বারীসহ সহিহ বুখারি ৪/৩৭৯ ও ৩৮০, শারহুন নববীসহ সহিহ মুসলিম ৪/৯৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
5 - ما رواه عبد الرحمن بن أبي بكرة عن أبيه قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم، عن الفضة بالفضة، والذهب بالذهب، إلا سواءً بسواء، وأمرنا أن نشتري الفضة بالذهب كيف شئنا، ونشتري الذهب بالفضة كيف شئنا، قال: فسأله رجل فقال: يداً بيد؟ فقال: هكذا سمعت(1).

6 - عن أبي المنهال قال: باع شريك لي ورقاً بنسيئة إلى الموسم أو إلى الحج فجاء إليّ فأخبرني فقلت: هذا أمر لا يصلح قال: قد بعته في السوق فلم ينكر ذلك عليّ أحد. فأتيت البراء بن عازب فسألته فقال: قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة ونحن نبيع هذا البيع، فقال: «ما كان يداً بيد فلا بأس به، وما كان نسيئة فهو ربا» وائت زيد بن أرقم فإنه أعظم تجارة مني، فأتيته فسألته فقال مثل ذلك(2).

وجه الدلالة: جاءت هذه الأحاديث بلفظ البيع والشراء، وهي ألفاظ عامة شاملة بعمومها حالتي المصارفة والتجارة، كما أن حديث أبي المنهال قد جاء فيه لفظ التجارة صريحاً؛ إذ قال: (وائت زيد بن أرقم فإنه أعظم تجارة مني)، والحديث وارد في بيع وشراء الذهب والفضة، فدل على أنهما يتاجران فيها. فتجوز التجارة في العملات.

القول الثاني: ذكر بعض العلماء أقوالاً، ربما فهم البعض منها المنع، أو الكراهة، أذكر بعضاً منها، ثم أجيب عليها إن شاء الله.

جاء في حاشية الرهوني والمدني: «وحكمه الأصلي الجواز، قال ابن عرفة: وهو ظاهر الأقوال والروايات، قال العتبي: وكره مالك العمل به إلا لمتقٍ … ، وقيل: يكره أن يستظل بظل صيرفي»(3).

وقال ابن رشد: «وباب الصرف من أضيق أبواب الربا، فالتخلص من الربا على من كان عمله الصرف عسير، إلا لمن كان من أهل الورع، والمعرفة بما يحل فيه

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم بشرحه 4/ 101، وانظر: صحيح البخاري بشرحه 4/ 379.

(2) صحيح البخاري 3/ 31 برقم 2180 و 2181، ومسلم 3/ 1212 برقم 1589.

(3) / 91، المطبعة الأميرية، مصر، سنة 1306 هـ.
৫ - আব্দুর রহমান ইবনে আবু বাকরা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য এবং স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ (বিক্রয় করতে) নিষেধ করেছেন, সমান সমান ব্যতীত। আর তিনি আমাদের আদেশ করেছেন আমরা যেভাবে ইচ্ছা স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য এবং রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ ক্রয় করতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন: এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তা কি হাতে হাতে (يداً بيد) হতে হবে? তিনি বললেন: আমি এভাবেই শুনেছি(১).

৬ - আবু মিনহাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার এক অংশীদার নির্দিষ্ট মৌসুম বা হজ্জ পর্যন্ত সময়ের জন্য বাকিতে (نسيئة) রৌপ্য মুদ্রা বিক্রয় করল। সে আমার কাছে এসে বিষয়টি জানালে আমি বললাম: এটি সঠিক কাজ নয়। সে বলল: আমি তো বাজারে এটি বিক্রয় করেছি এবং কেউ আমার সমালোচনা করেনি। অতঃপর আমি বারা ইবনে আযিবের কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনায় আসলেন, তখন আমরা এভাবে বেচাকেনা করতাম। তিনি বললেন: «যা হাতে হাতে (يداً بيد) হয় তাতে কোনো সমস্যা নেই, আর যা বাকিতে (نسيئة) হয় তা সুদ (ربا)»। আর তুমি যাইদ ইবনে আরকামের কাছে যাও, কারণ সে আমার চেয়ে বড় ব্যবসায়ী। অতঃপর আমি তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও একই কথা বললেন(২).

প্রমাণের দিক (وجه الدلالة): এই হাদিসগুলো 'ক্রয়' ও 'বিক্রয়' শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যা এর ব্যাপকতার কারণে মুদ্রা বিনিময় (صرف) এবং ব্যবসা—উভয় অবস্থাকেই অন্তর্ভুক্ত করে। যেমনটি আবু মিনহালের বর্ণিত হাদিসে 'ব্যবসা' শব্দটি স্পষ্টভাবে এসেছে; যেখানে বলা হয়েছে: (আর তুমি যাইদ ইবনে আরকামের কাছে যাও, কারণ সে আমার চেয়ে বড় ব্যবসায়ী)। আর হাদিসটি স্বর্ণ ও রৌপ্য ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত, যা প্রমাণ করে যে তাঁরা এতে ব্যবসা করতেন। সুতরাং মুদ্রার ব্যবসায়িক লেনদেন করা বৈধ।

দ্বিতীয় মত: কিছু আলেম এমন কিছু বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যা থেকে কেউ কেউ হয়তো নিষেধাজ্ঞা বা অপছন্দনীয়তা (كراهة) বুঝতে পারেন। আমি সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করছি এবং ইনশাআল্লাহ এর উত্তর প্রদান করছি।

হাশিয়া আল-রাহুনি ও আল-মাদানীতে এসেছে: «এর মূল বিধান হলো বৈধতা। ইবনে আরাফাহ বলেন: বিভিন্ন বক্তব্য ও বর্ণনার বাহ্যিক দিক এটিই। আল-উতবি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.) পরহেযগার (متقي) ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের জন্য এ কাজ করা অপছন্দ করেছেন... এবং বলা হয়েছে: মুদ্রা বিনিময়কারীর ছায়ায় আশ্রয় নেওয়াও অপছন্দনীয় (مكروه)»(৩).

ইবনে রুশদ বলেন: «মুদ্রা বিনিময়ের (صرف) অধ্যায় সুদের অত্যন্ত জটিল ক্ষেত্রগুলোর একটি। যার পেশা মুদ্রা বিনিময়, তার জন্য সুদ থেকে বেঁচে থাকা কঠিন, তবে ঐ ব্যক্তির জন্য নয় যে আল্লাহভীরু (ورع) এবং এতে যা হালাল তা সম্পর্কে জ্ঞান রাখে।

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম ও এর ব্যাখ্যা ৪/ ১০১, এবং দেখুন: সহিহ বুখারি ও এর ব্যাখ্যা ৪/ ৩৭৯।

(২) সহিহ বুখারি ৩/ ৩১, নম্বর ২১৮০ ও ২১৮১, এবং মুসলিম ৩/ ১২১২, নম্বর ১৫৮৯।

(৩) / ৯১, আল-মাকতাবাহ আল-আমিরাহ, মিশর, ১৩০৬ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ويحرم منه، وقليل ما هم؛ ولذلك كان الحسن يقول: إذا استسقيت ماءً فسقيت من بيت صراف فلا تشربه، وكان أصبغ يكره أن يستظل بظل الصيرفي، قال ابن حبيب: لأن الغالب عليهم الربا؛ وقيل لمالك رحمه الله أتكره أن يعمل الرجل بالصرف؟ قال نعم، إلا أن يكون يتقي الله في ذلك»(1).

وقال أبو حامد الغزالي: «خلق الله تعالى الدنانير والدراهم حاكمين ومتوسطين بين سائر الأموال حتى تقدر الأموال بهما .... إذ لا غرض في أعيانهما، .... فإذن خلقهما الله لتتداولهما الأيدي، ويكونا حاكمين بين الأموال بالعدل، ولحكمة أخرى، وهي التوسل بهما إلى سائر الأشياء؛ لأنهما عزيزان في أنفسهما، ولا غرض في أعيانهما، ونسبتهما إلى سائر الأموال نسبة واحدة، فمن ملكهما فكأنه ملك كل شيء … فكذلك النقد لا غرض فيه، وهو وسيلة إلى كل غرض.

«فإذا اتجر في أعيانهما فقد اتخذهما مقصوداً، على خلاف وضع الحكمة؛ إذ طلب النقد لغير ما وضع له ظلم … فأما من معه نقد، فلو جاز له أن يبيعه بالنقد، فيتخذ التعامل على النقد غاية عمله، فيبقى النقد مقيداً عنده، وينزل منزلة المكنوز، … فلا معنى لبيع النقد بالنقد إلا اتخاذ النقد مقصوداً للادخار، وهو ظلم(2)».

«فإن قلت: لم جاز بيع أحد النقدين بالآخر؛ ولم جاز بيع الدرهم بمثله؟ فاعلم أن أحد النقدين يخالف الآخر في مقصود التوصل؛ إذ قد يتيسر التوصل بأحدهما من حيث كثرته؛ كالدراهم تتفرق في الحاجات قليلاً قليلاً، ففي المنع منه تشويش المقصود الخاص به؛ وهو تيسير التوصل به إلى غيره، أما بيع الدرهم بدرهم يماثله فجائز من حيث إن ذلك لا يرغب فيه عاقل مهما تساويا، ولا يشتغل به تاجر، فإنه عبث»(3).

--------------------------------------------

(1) المقدمات 2/ 14.

(2) إحياء علوم الدين، 4/ 142 و 143 و 144.

(3) المصدر السابق.
এবং যা তা থেকে হারাম করা হয়েছে, আর তাদের (যারা বেঁচে থাকে) সংখ্যা খুবই নগণ্য; এই কারণেই আল-হাসান বলতেন: "যদি তুমি পান করার জন্য পানি চাও এবং তোমাকে কোনো মুদ্রা বিনিময়কারীর ঘর থেকে পানি পান করানো হয়, তবে তা পান করো না।" আসবাগ মুদ্রা বিনিময়কারীর ছায়ায় আশ্রয় নেওয়াও অপন্দ করতেন। ইবনে হাবিব বলেন: "কারণ তাদের লেনদেনে সুদের প্রভাবই প্রবল।" ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি কোনো ব্যক্তির মুদ্রা বিনিময়ের পেশায় নিয়োজিত হওয়া অপছন্দ করেন? তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তবে যদি সে এ বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করে চলে (তবে ভিন্ন কথা)।"(১).

আবু হামিদ আল-গাজালি বলেন: "আল্লাহ তাআলা দিনার ও দিরহামকে অন্যান্য সমস্ত সম্পদের মধ্যে বিচারক ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন যেন এ দুটির মাধ্যমে সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা যায়... যেহেতু এগুলোর নিজস্ব সত্তার কোনো উদ্দেশ্য নেই... সুতরাং আল্লাহ এগুলো সৃষ্টি করেছেন যেন মানুষের হাতে হাতে তা আবর্তিত হয় এবং সম্পদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে ফয়সালাকারী হয়। এর পেছনে আরেকটি হিকমত রয়েছে, আর তা হলো এ দুটির মাধ্যমে অন্য সব বস্তু অর্জন করা; কারণ এগুলো নিজস্বভাবে মূল্যবান হলেও এদের নিজস্ব সত্তার কোনো উদ্দেশ্য নেই। অন্য সব সম্পদের সাথে এগুলোর সম্পর্ক অভিন্ন, তাই যে ব্যক্তি এ দুটির মালিক হলো সে যেন সব কিছুর মালিক হলো... তদ্রূপ নগদ অর্থেরও নিজস্ব কোনো উদ্দেশ্য নেই, বরং তা প্রতিটি উদ্দেশ্য অর্জনের মাধ্যম মাত্র।

"সুতরাং যখন কেউ এগুলোর নিজস্ব সত্তা নিয়ে ব্যবসা করে, তখন সে এগুলোকে মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে, যা হিকমত বা প্রজ্ঞার পরিপন্থী; কেননা নগদ অর্থকে যে উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে তা ব্যতিরেকে অন্য উদ্দেশ্যে অন্বেষণ করা জুলুম... আর যার কাছে নগদ অর্থ আছে, সে যদি তা নগদ অর্থের বিনিময়েই বিক্রি করার অনুমতি পায়, তবে সে নগদ অর্থের লেনদেনকেই তার কাজের চূড়ান্ত লক্ষ্য বানিয়ে ফেলবে। ফলে নগদ অর্থ তার কাছে আটকা পড়ে থাকবে এবং তা জমাকৃত সম্পদের স্তরে নেমে যাবে... সুতরাং নগদ অর্থকে নগদ অর্থের বিনিময়ে বিক্রয় করার কোনো অর্থ নেই, কেবল একে সঞ্চয়ের লক্ষ্য বানানো ছাড়া, আর তা হলো জুলুম(২)।"

"যদি তুমি বলো: এক প্রকারের নগদ অর্থকে অন্যটির বিনিময়ে কেনাবেচা করা কেন বৈধ হলো? এবং কেন একটি দিরহামকে অনুরূপ দিরহামের বিনিময়ে কেনাবেচা করা জায়েজ হলো? তবে জেনে রেখো যে, উদ্দেশ্য অর্জনের ক্ষেত্রে এক প্রকারের নগদ অর্থ অন্যটির চেয়ে ভিন্ন হয়; কেননা কোনো একটির প্রাচুর্যের কারণে তা দ্বারা উদ্দেশ্য অর্জন সহজতর হতে পারে; যেমন দিরহামসমূহ ছোটখাটো প্রয়োজনে অল্প অল্প করে ব্যয় করা যায়। সুতরাং তা নিষিদ্ধ করলে এর বিশেষ উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে; আর তা হলো এর মাধ্যমে অন্য কিছু অর্জন সহজ করা। পক্ষান্তরে, একটি দিরহামকে তার সমজাতীয় দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করা এই দিক থেকে বৈধ যে, যতক্ষণ তারা সমান থাকে ততক্ষণ কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এতে আগ্রহী হয় না এবং কোনো ব্যবসায়ী এতে লিপ্ত হয় না, কারণ তা নিরর্থক"(৩).

--------------------------------------------

(১) আল-মুকাদ্দিমাত ২/ ১৪।

(২) এহিয়াউ উলুমিদ্দীন, ৪/ ১৪২, ১৪৩ ও ১৪৪।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال ابن القيم: «وحاجة الناس إلى ثمن يعتبرون به المبيعات حاجة ضرورية عامة، … وذلك لا يكون إلا بثمن تقوَّم به الأشياء، ويستمر على حالة واحدة، ولا يقوَّم هو بغيره؛ إذ يصير سلعة يرتفع وينخفض، فتفسد معاملات الناس، ويقع الخلف ويشتد الضرر، كما رأيت من فساد معاملاتهم، والضرر اللاحق بهم، حين اتخذت الفلوس سلعة تعد للربح، فعم الضرر وحصل الظلم»(1).

مناقشة ما يستوجب المناقشة:

كلام الإمام مالك وأصبغ وابن رشد، لا يدل على عدم جواز عقد الصرف، أو المنع من الاتجار في العملات، وإنما يدل على أن كثيراً ممن يعملون في هذا المجال ينقصهم العلم بأحكامه، أو لا يتورعون فيه، مما يؤدي إلى انزلاقهم في الحرام.

لكن مثل هاتين الحالتين لا تعودان على الاتجار في العملات بالحرمة، أو الكراهة، وإنما تلحق الحرمة والبطلان العقد إذا لم يستوف شروط الاتجار فيها. ويجب ألا يمارس التجارة فيها إلا من عرف أحكام الصرف، واستوفى شروطه، عند تطبيق عقوده، وحينئذ فإنه لا منع ولا كراهة.

أما الغزالي فإنه لا يمنع جواز بيع أحد النقدين بالآخر؛ ولا بيع الدراهم بالدراهم، والدنانير بالدنانير، ويعلل لقوله بأن ذلك لا يرغب فيه عاقل. لكنه يرى أن الاتجار فيهما ينزل منزلة كنزهما، وهو كفر لنعمة الله التي جعلها فيهما، وأنه ظلم.

فيظهر من قوله (فيبقى النقد مقيداً عنده وينزل منزلة المكنوز) أنهما يشبهان المكنوز في عدم تحريكهما لادخارهما ادخاراً سلبياً غير منتج، فهذا خلاف الواقع في هذا العصر، إذ إن العملات أنواع متعددة، تتجاوز الآلاف، والتجارة فيها تحريك للأثمان وليست كنزاً لها. كما أن كنزها إذا وقع من بعض الأفراد، فإنه لا يؤثر في الغرض منهما؛ وهو توسطهما بين السلع؛ لأنه لا يمكن أن يدخر كل

--------------------------------------------

(1) إعلام الموقعين عن رب العالمين، 2/ 132، مطبعة السعادة، مصر، عام 1389 هـ 1169 م.
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "বিক্রয়যোগ্য পণ্যের মান নির্ধারণের জন্য মানুষের একটি বিনিময় মাধ্যমের (ثمن) প্রয়োজনীয়তা একটি অপরিহার্য ও সাধারণ প্রয়োজন, … আর এটি কেবল তখনই সম্ভব যখন এমন একটি বিনিময় মূল্য (ثمن) থাকবে যার মাধ্যমে বস্তুসমূহের মূল্যায়ন করা হয় এবং যা একটি অবস্থায় স্থির থাকে। সেটি অন্য কোনো কিছু দ্বারা মূল্যায়ন করা যাবে না; কারণ তখন সেটি পণ্যে (سلعة) পরিণত হয় যার মান বৃদ্ধি ও হ্রাস পায়। ফলে মানুষের লেনদেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পারস্পরিক প্রতিশ্রুতিতে খেলাফ ঘটে এবং ক্ষতির তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। যেমনটি আপনি লক্ষ্য করেছেন তাদের লেনদেনের বিপর্যয় এবং তাদের ওপর আপতিত ক্ষতির ক্ষেত্রে, যখন ফুলুসকে (الفلوس) মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্য (سلعة) হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল; ফলে ক্ষতি ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং জুলুম সংঘটিত হয়"(১).

আলোচনার আবশ্যকতা রাখে এমন বিষয়ের পর্যালোচনা:

ইমাম মালিক, আসবাগ এবং ইবনে রুশদের বক্তব্য মুদ্রা বিনিময় চুক্তির (الصرف) অবৈধতা কিংবা মুদ্রার ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ দেয় না। বরং এটি একথাই নির্দেশ করে যে, এই ক্ষেত্রে যারা কাজ করেন তাদের অনেকেরই এর আহকাম বা বিধিবিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে, অথবা তারা এতে পরহেজগারিতা অবলম্বন করেন না, যার ফলে তারা হারামের (الحرام) দিকে ধাবিত হন।

কিন্তু এই ধরনের পরিস্থিতি মুদ্রার ব্যবসায় হারাম (الحرمة) হওয়া বা মাকরুহ (الكراهة) হওয়ার কারণ হয় না; বরং চুক্তিটি হারাম (الحرمة) ও বাতিল (البطلان) হিসেবে গণ্য হয় যদি তাতে ব্যবসার শর্তাবলি যথাযথভাবে পূরণ করা না হয়। আর মুদ্রা বিনিময় বা সারফ (الصرف)-এর বিধিবিধান সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়া এবং চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এর শর্তাবলি পূরণ করা ব্যতীত কারো এতে ব্যবসায় লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। এমতাবস্থায় এতে কোনো বাধা বা অপছন্দনীয়তা (الكراهة) নেই।

আল-গাজ্জালীর মতে, তিনি এক জাতীয় মুদ্রার বিনিময়ে অন্য জাতীয় মুদ্রার বিক্রয়কে নিষিদ্ধ করেন না; এমনকি দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম এবং দিনারের বিনিময়ে দিনার বিক্রয়কেও নয়। তিনি তার বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দেন যে, কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এ জাতীয় কাজে আগ্রহী হয় না। তবে তিনি মনে করেন যে, এগুলোর ব্যবসা করা সেগুলোকে অলসভাবে জমিয়ে রাখা বা সঞ্চয় করার (كنز) পর্যায়ভুক্ত, যা এগুলোর মাঝে নিহিত আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা এবং একটি জুলুম।

তার বক্তব্য (ফলে মুদ্রা তার নিকট আবদ্ধ থাকে এবং তা সঞ্চিত সম্পদের স্তরে নেমে যায়) থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মুদ্রা দুটিকে সচল না করে নেতিবাচক ও অনুৎপাদনশীলভাবে জমা রাখার কারণে তা সঞ্চিত সম্পদের (المكنوز) সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায়। এটি বর্তমান যুগের বাস্তবতার পরিপন্থী; কারণ বর্তমানে মুদ্রার প্রকারভেদ অনেক, যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং এগুলোর ব্যবসা মূলত মূল্যের (الأثمان) সচলতা বজায় রাখা, সেগুলোকে সঞ্চয় (كنز) করে রাখা নয়। অধিকন্তু, কিছু ব্যক্তি যদি তা সঞ্চয়ও করে, তবে তা এগুলোর মূল উদ্দেশ্য তথা পণ্যের বিনিময় মাধ্যম হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না; কারণ এটি অসম্ভব যে সবাই সঞ্চয় করবে...

--------------------------------------------

(১) ইলামুল মুওয়াক্কিইন আন রাব্বিল আলামিন, ২/ ১৩২, মাতবাআতুস সাআদাহ, মিশর, ১৩৮৯ হিজরি, ১১৬৯ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الناس أو معظمهم، ما بأيديهم من نقود في وقت واحد، مع أن ادخارهما -ولو دفع زكاتهما- خلاف الأولى؛ لأن الأموال المعطلة إذا استغلت في التجارة، أو الزراعة، أو الصناعة ونحو ذلك، كثر الإنتاج، أو تحسن، وكثر تداول البضائع، وساهم في التخفيف من البطالة، أما إذا كان الادخار يؤدي إلى الاحتكار فإنه حينئذ يكون محرماً.

وإن كان مراده بالكنز عدم إخراج زكاتهما -مع بعده- فهذا حرام بلا ريب؛ قال ابن كثير: «وأما الكنز فقال مالك عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر هو المال الذي لا تؤدى زكاته»(1).

وأما قوله: «فإذا اتجر في أعيانهما فقد اتخذهما مقصوداً على خلاف وضع الحكمة؛ إذ طلب النقد لغير ما وضع له ظلم». وكذلك قول ابن القيم: عم الضرر وحصل الظلم، فغير مسلّم لأن هذا القول لا دليل عليه.

الترجيح:

بعد عرض الأدلة والتعليلات التي علل بها البعض، ومناقشة ما استوجب المناقشة منها، فالراجح عندي جواز الاتجار في النقود، ولو كانت لتحصيل فروق الأسعار، لقوة أدلة هذا القول، فما دام أن الله سبحانه وتعالى أجاز بيعهما وشراءهما على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، كما سبق ذكره، وليس من الأدلة ما يخصصها، فليس لأحد أن يمنعه. فالأحاديث التي وردت في جواز ذلك كثيرة، وكلها صحيحة، وقد دلت على جواز التجارة في الذهب والفضة، وهذه الدلالة شاملة لجميع الأثمان؛ للاستفادة من تغيرات الأسعار، سواء أكانت سبائك، أم تبراً، أم نقداً؛ حيث جاء بعضها بلفظ: الذهب بالذهب، والفضة بالفضة، بصيغة العموم، وبعضها بلفظ الدينار بالدينار لا فضل بينهما، والدرهم بالدرهم لا فضل بينهما، وهي شاملة

--------------------------------------------

(1) تفسير القرآن العظيم 3/ 350، لابن كثير، روى هذا الأثر الإمام مالك موقوفاً. انظر: الموطأ 1/ 218، ورواه البخاري موصولاً عن أبي هريرة. انظر: صحيح البخاري بشرحه فتح الباري 3/ 268.
মানুষ বা তাদের অধিকাংশের হাতে থাকা অর্থ একযোগে জমা করে রাখা—যদিও তার জাকাত প্রদান করা হয়—উত্তম বা বাঞ্ছনীয় কাজের পরিপন্থী; কেননা অলস পড়ে থাকা অর্থ যদি ব্যবসা, কৃষি, শিল্প বা এ জাতীয় কাজে বিনিয়োগ করা হয়, তবে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় বা উন্নত হয়, পণ্যের আদান-প্রদান বৃদ্ধি পায় এবং বেকারত্ব হ্রাসে তা অবদান রাখে। তবে সঞ্চয় যদি মজুতদারির রূপ নেয়, তবে তা তখন নিষিদ্ধ (حرام) হবে।

আর ‘কানজ’ (সঞ্চয়) বলতে যদি তার উদ্দেশ্য হয় মুদ্রার জাকাত প্রদান না করা—যদিও তা দূরবর্তী সম্ভাবনা—তবে তা নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ (حرام); ইবনে কাসির বলেছেন: «আর ‘কানজ’ সম্পর্কে মালিক আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি এমন সম্পদ যার জাকাত প্রদান করা হয় না»(1)।

আর তাঁর এই বক্তব্য: «যদি কেউ মুদ্রার মূল সত্তা নিয়ে ব্যবসা করে, তবে সে হিকমতের পরিপন্থী উদ্দেশ্যে একে গ্রহণ করল; কেননা মুদ্রাকে তার নির্ধারিত উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা জুলুম বা অন্যায় স্বরূপ।» অনুরূপভাবে ইবনে আল-কাইয়্যিমের বক্তব্য: ‘ক্ষতি ব্যাপক হয়েছে এবং জুলুম সাধিত হয়েছে’—তা অগ্রহণযোগ্য, কারণ এই বক্তব্যের সপক্ষে কোনো দলিল নেই।

প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (الراجح):

বিভিন্ন দলিল ও কিছু আলেম কর্তৃক পেশকৃত যুক্তি প্রদর্শনের পর এবং যে বিষয়গুলো পর্যালোচনার দাবি রাখে সেগুলো আলোচনার পর, আমার নিকট মুদ্রার কেনাবেচা বা ব্যবসা করা বৈধ হওয়াটাই প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الراجح), যদিও তা মূল্যের পার্থক্য থেকে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে হয়। কারণ এই মতের দলিলগুলো শক্তিশালী। যেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবানে স্বর্ণ ও রৌপ্য ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ করেছেন, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং এমন কোনো দলিল নেই যা একে খাস বা নির্দিষ্ট করে, তাই কারো পক্ষে এটি নিষেধ করার অধিকার নেই। এ বিষয়ে বৈধতা জ্ঞাপক হাদিসসমূহ অনেক এবং সেগুলো সবই বিশুদ্ধ (صحيحة)। এগুলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের ব্যবসার বৈধতার ওপর প্রমাণ পেশ করে, আর এই প্রমাণ সব ধরনের মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; যাতে মূল্যের পরিবর্তন থেকে উপকৃত হওয়া যায়, চাই তা বিস্কুট বা পাত আকারে হোক, চূর্ণ আকারে হোক কিংবা মুদ্রা আকারে হোক। কেননা এ সংক্রান্ত কিছু হাদিস স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ এবং রৌপ্যের বদলে রৌপ্য—এরূপ সাধারণ (العموم) শব্দে এসেছে। আবার কিছু হাদিস এসেছে এক দিনারের বদলে এক দিনার, যাতে কোনো কম-বেশি নেই, এবং এক দিরহামের বদলে এক দিরহাম, যাতে কোনো কম-বেশি নেই—এরূপ শব্দে, যা সব অবস্থাকেই অন্তর্ভুক্ত করে।

--------------------------------------------

(1) তাফসিরুল কুরআনিল আজিম ৩/ ৩৫০, ইবনে কাসির। ইমাম মালিক এই বর্ণনাটি স্থগিত বা সাহাবীর বক্তব্য (موقوف) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: মুয়াত্তা ১/ ২১৮, এবং বুখারি এটি আবু হুরায়রা থেকে সংযুক্ত বা নিরবচ্ছিন্ন (موصول) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: সহিহ বুখারি এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারি ৩/ ২৬৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
كذلك العملات الورقية، المتداولة في هذا العصر، وما قد يجد من نقود قائمة بنفسها في العصور القادمة. وهذا القول جاء عاماً، فهو شامل لحالتي المصارفة والمتاجرة، والقول بأنه ظلم تخصيص من غير مخصص، وهو زيادة على النص. وإن من لوازم القول بجواز الصرافة، وجود من يتخذها مقصوداً، لتتوافر لمن أرادها. وقد ازدادت هذه الحكمة وضوحاً في هذا العصر؛ إذ أصبح الذهب والفضة سلعة، ولم يعودا وسيطاً للتبادل، وحلت محلهما الأوراق النقدية، التي يتداولها الناس اليوم. وهذه هي الحكمة الربانية. وقولي هذا لا يعني تخلف علة الربا في الأثمان، وفي جنسها، بل هي باقية فيها.

لكن الحكم بالجواز في جميع الحالات، مقيد بالالتزام بشروط الصرف وما يأتي عرضه من صور وصلت فيها إلى القول بالتحريم، لا لأنها تجارة في العملات، وإنما لأنها لم تستوف شروط الاتجار في العملات.
একইভাবে বর্তমানে প্রচলিত কাগজের মুদ্রা এবং আগামী যুগে উদ্ভূত হতে পারে এমন স্বতন্ত্র মুদ্রাগুলোর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। এই অভিমতটি সাধারণ (عام) হিসেবে এসেছে, যা মুদ্রাবিনিময় ও ব্যবসায় উভয় অবস্থাকেই অন্তর্ভুক্ত করে। একে জুলুম বলা কোনো বিশেষকারী (مخصص) ছাড়াই নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করার নামান্তর, যা মূল পাঠের (نص) ওপর অতিরিক্ত সংযোজন। আর মুদ্রাবিনিময়ের বৈধতার (جواز) প্রবক্তাদের মতে এর অন্যতম অনুষঙ্গ হলো এমন ব্যক্তি থাকা যারা একে উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করবে, যাতে যারা এটি চায় তাদের জন্য তা সহজলভ্য হয়। বর্তমান যুগে এই প্রজ্ঞা আরও স্পষ্ট হয়েছে; কারণ স্বর্ণ ও রৌপ্য এখন পণ্যে পরিণত হয়েছে এবং বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে এগুলোর ব্যবহার রহিত হয়েছে। এগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে কাগজের মুদ্রা, যা বর্তমানে মানুষ লেনদেন করছে। আর এটাই হলো রব্বানী হিকমত। আমার এই বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে, মূল্য এবং সমজাতীয় বস্তুর ক্ষেত্রে সুদের কার্যকর কারণ (علة) অনুপস্থিত, বরং তা বিদ্যমান রয়েছে।

তবে সকল ক্ষেত্রে বৈধতার (جواز) বিধানটি মুদ্রাবিনিময়ের (صرف) শর্তাবলি মেনে চলার সাথে শর্তযুক্ত। পরবর্তীতে এমন কিছু সুরত বা পদ্ধতি বর্ণনা করা হবে যেখানে নিষিদ্ধকরণের (تحريم) কথা বলা হয়েছে; সেটা মুদ্রার ব্যবসার কারণে নয়, বরং মুদ্রার লেনদেনের শর্তাবলি পূরণ না হওয়ার কারণে।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المبحث الثاني

شروط الصرف

إضافة إلى شروط البيع، يشترط للصرف شروط خاصة هي:

 

‌‌الشرط الأول: التقابض:

يشترط في عقد الصرف قبض البدلين جميعاً، قبل مفارقة أحد المتصارفين للآخر؛ بإجماع الفقهاء(1).

 

‌‌الشرط الثاني: الحلول:

يشترط أن يكون البدلان حالِّيْن. فلا يجوز للعاقدين أو أحدهما اشتراط التأجيل، فإن اشترطاه لهما أو لأحدهما، فسد الصرف؛ لأن قبض البدلين مستحق قبل الافتراق، والأجل يُفَوِّت القبض المستحق بالعقد شرعاً، فيفسد العقد(2)؛ لقوله صلى الله عليه وسلم في حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه: «يداً بيد»، وقوله صلى الله عليه وسلم في حديث أبي سعيد الخدري: رضي الله عنه «ولا تبيعوا شيئاً غائباً منه بناجز إلا يداً بيد».

والحكمة في اشتراط التقابض، والحلول؛ للمنع من الوقوع في ربا النسيئة؛ فحرم التفرق قبل قبض العاقدين؛ لأنه يفضي إلى أن يحصل لمن عجل له أخذ العوض فائدة لا تحصل لنظيره؛ حيث إنه يستطيع الإفادة من الثمن الحاضر بتقليبه في التجارة، والإفادة من تقلبات الأسعار، بما يحقق له الربح، وقد لا يتحقق له شيء من ذلك، ولكن أخذه للعوض دون العاقد الآخر مظنة لحصول ما تقدم، والمظنة في الشريعة تقام مقام المئنة(3)(4).

--------------------------------------------

(1) المبسوط 14/ 10، بدائع الصنائع 5/ 215، فتح القدير 7/ 135، الهداية 7/ 135، الشرح الكبير 3/ 26، للدردير، المقدمات 2/ 414، القوانين الفقهية ص 250، بداية المجتهد 2/ 197، روضة الطالبين 3/ 379، المجموع 10/ 85، مغني المحتاج 2/ 24، الإجماع لابن المنذر ص 79، مؤسسة الكتب الثقافية، بيروت، ط 1، سنة 1414 هـ 1993 م المغني 6/ 112، كشاف القناع 3/ 266.

(2) بدائع الصنائع 5/ 219، الشرح الصغير للدردير 2/ 15، مغني المحتاج 2/ 24، المغني 2/ 112 و 113، كشاف القناع 3/ 264.

(3) حكم قيمة الزمن، بحث للدكتور حمزة بن حسين الفعر، نشر بمجلة جامعة أم القرى، العدد السابع ص 90.

(4) المظنة في الشريعة تقام مقام المئنة. هذه قاعدة أصولية، أي أن غلبة الظن تنزل منزلة اليقين.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

সার্ফ (মুদ্রা বিনিময়)-এর শর্তাবলি

ক্রয়-বিক্রয়ের সাধারণ শর্তাবলির পাশাপাশি, সার্ফের (মুদ্রা বিনিময়) জন্য কিছু বিশেষ শর্ত রয়েছে, যা হলো:

 

‌‌প্রথম শর্ত: উভয় পক্ষ কর্তৃক হস্তগত করা (التقابض):

ফকিহগণের সর্বসম্মত ঐক্যমত (إجماع) অনুযায়ী, মুদ্রা বিনিময়ের চুক্তিতে লিপ্ত উভয় পক্ষ একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই বিনিময়কৃত বস্তুদ্বয় হস্তগত করা (التقابض) শর্ত।(১)

 

‌‌দ্বিতীয় শর্ত: নগদ হওয়া (الحلول):

শর্ত হলো বিনিময়কৃত বস্তুদ্বয় নগদ (الحلول) হতে হবে। চুক্তিতে লিপ্ত উভয় পক্ষ বা তাদের কোনো একজনের জন্য বিলম্বে পরিশোধের (التأجيل) শর্তারোপ করা জায়েজ নয়। যদি তারা উভয়ে বা তাদের কেউ এই শর্তারোপ করে, তবে সেই সার্ফ বা মুদ্রা বিনিময় ফাসিদ বা বাতিল (فسد) হয়ে যাবে; কারণ চুক্তিবদ্ধ বস্তুদ্বয় বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই হস্তগত করা শরিয়তগতভাবে আবশ্যক, আর বিলম্বে পরিশোধের শর্ত চুক্তির মাধ্যমে অর্জিত এই শরয়ি হস্তগতকরণের অধিকারকে ব্যাহত করে, ফলে চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়।(২) এর দলিল হলো উবাদাহ বিন সামিত (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: «হাতে হাতে (يداً بيد)», এবং আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণিত হাদিসে তাঁর বাণী: «তোমরা কোনো অনুপস্থিত (غائب) বস্তুকে উপস্থিত (ناجز) বা নগদ বস্তুর বিনিময়ে হাতে হাতে (يداً بيد) হওয়া ব্যতীত বিক্রি করো না।»

মুদ্রা হস্তগত করা (التقابض) এবং নগদ (الحلول) হওয়ার শর্তারোপের হিকমত বা তাৎপর্য হলো ‘রিবা আন-নাসিয়া’ (ربا النسيئة) বা বিলম্বে পরিশোধজনিত সুদে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করা। তাই উভয় পক্ষ হস্তগত করার আগে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে হারাম করা হয়েছে; কারণ এটি এমন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায় যেখানে যে ব্যক্তিকে দ্রুত বিনিময় প্রদান করা হলো, সে এমন এক সুবিধা লাভ করে যা তার প্রতিপক্ষ পায় না। কেননা সে তাৎক্ষণিক প্রাপ্ত অর্থ ব্যবসায় খাটিয়ে এবং মূল্যের উঠানামা থেকে মুনাফা অর্জনের সুযোগ পায়, যা হয়তো অপর পক্ষ পায় না। যদিও এমনটি বাস্তবে না-ও ঘটতে পারে, কিন্তু অপর পক্ষের আগে তার এই বিনিময় গ্রহণ করা উল্লিখিত সুবিধাদি অর্জনের একটি প্রবল সম্ভাবনা (المظنة) তৈরি করে। আর শরিয়তের একটি মূলনীতি হলো: প্রবল সম্ভাবনাকে (المظنة) নিশ্চিত বিষয়ের (المئنة) স্থলাভিষিক্ত করা হয়।(৩)(৪)

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত ১৪/ ১০, বাদায়েউস সানায়ে ৫/ ২১৫, ফাতহুল কাদির ৭/ ১৩৫, আল-হিদায়া ৭/ ১৩৫, আদ-দারদিরের আশ-শারহুল কাবীর ৩/ ২৬, আল-মুকাদ্দিমাত ২/ ৪১৪, আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ পৃ. ২৫০, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/ ১৯৭, রওদাতুত তালিবিন ৩/ ৩৭৯, আল-মাজমু ১০/ ৮৫, মুগনী আল-মুহতাজ ২/ ২৪, ইবনুল মুনযিরের আল-ইজমা পৃ. ৭৯, মুআসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪১৪ হি. ১৯৯৩ খ্রি. আল-মুগনী ৬/ ১১২, কাশশাফুল কিনা ৩/ ২৬৬।

(২) বাদায়েউস সানায়ে ৫/ ২১৯, আদ-দারদিরের আশ-শারহুস সাগির ২/ ১৫, মুগনী আল-মুহতাজ ২/ ২৪, আল-মুগনী ২/ ১১২ ও ১১৩, কাশশাফুল কিনা ৩/ ২৬৪।

(৩) হুকমু কিমাতিয যামান, ড. হামযা বিন হুসাইন আল-ফায়র-এর গবেষণা, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় জার্নালে প্রকাশিত, ৭ম সংখ্যা, পৃ. ৯০।

(৪) শরিয়তে প্রবল সম্ভাবনাকে (المظنة) নিশ্চিত বিষয়ের (المئنة) স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এটি একটি উসুলি কায়দা বা মূলনীতি, যার অর্থ হলো—প্রবল ধারণা নিশ্চিত বিশ্বাসের স্থলাভিষিক্ত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
فلا يجوز بيع أموال الربا وما ألحق بها في علته، بعضها ببعض مؤجلاً، سواء اتحد جنسها أو اختلف، ولأنه لا يمكن جعل الأجل والإمهال عوضاً؛ لأنه ليس مالاً حتى يكون في مقابلة المال، فالإسلام بسمو تشريعاته لا يجعل للأجل بمجرده ثمناً؛ لأن الزمن ليس سلعة تباع وتشترى(1).

وشرط الحلول ليكون التقابض حالاً في مجلس العقد؛ تلافياً لأن يتم التقابض في وقت لاحق.

ويرى مجمع الفقه الدولي جواز تأخر القبض للمدد المتعارف عليها في أسواق التعامل؛ إذ قال: (يغتفر تأخير القيد المصرفي بالصورة التي يتمكن المستفيد بها من التسلم الفعلي، للمدد المتعارف عليها في أسواق التعامل، على أنه لا يجوز للمستفيد أن يتصرف في العملة خلال المدة المغتفرة إلا بعد أن يحصل أثر القيد المصرفي بإمكان التسلم الفعلي)(2)

ومع أني أحاول ألا أخالف قرارات مجمعي الرابطة والمنظمة إلا أنني لا أوافق المجمع في قراره المذكور؛ لأن هذا القول يترتب عليه إلغاء شرط الحلول؛ ولأنه يعارض قول رسول الله صلى الله عليه وسلم (يداً بيد)، وقوله: (إلا هاء وهاء)، ولما رواه مالك بسنده عن مالك بن أوس ابن الحدثان النصري أنه التمس صرفاً بمائة دينار. قال فدعاني طلحة بن عبيد الله فتراوضنا(3) حتى اصطرف مني وأخذ الذهب يقلبها في يده، ثم قال حتى يأتيني خازني من الغابة(4)، وعمر بن الخطاب يسمع، فقال عمر: والله لا تفارقه حتى تأخذ منه، قال صلى الله عليه وسلم: (الذهب بالذهب ربا إلا هاء وهاء، والشعير بالشعير ربا إلا هاء وهاء) رواه البخاري ومسلم(5)، وقوله صلى الله عليه وسلم: (إلا هاء وهاء) أي خذ وهات(6).

--------------------------------------------

(1) التفسير الكبير، للرازي 7/ 97. وانظر: الربا والمعاملات المصرفية ص 50، للدكتور عمر بن عبد العزيز المترك.

(2) قرار رقم 53 (4/ 6).

(3) فتراوضنا أي تجارينا الكلام في قدر العوض بالزيادة والنقص، كأن كلاً منهما كان يروض صاحبه.

(4) الغابة: الأجمة والغيظة وهي هاهنا: موضع مخصوص بالمدينة، كان لهم فيها أملاك.

(5) موطأ مالك بشرح الزرقاني 3/ 168، صحيح البخاري بشرحه 4/ 378، صحيح مسلم 4/ 96، جامع الأصول لابن الأثير 1/ 454.

(6) تبيين الحقائق 4/ 89.
সুদভিত্তিক সম্পদ এবং এর কার্যকর কারণের (علة) অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ একটির বদলে অন্যটি বাকিতে (مؤجلاً) বিক্রয় করা বৈধ নয়, চাই সেগুলোর শ্রেণি এক হোক বা ভিন্ন। কারণ, সময় বা বিলম্বকে বিনিময় হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়; কেননা সময় কোনো সম্পদ নয় যে অন্য সম্পদের বিপরীতে তার মূল্য নির্ধারণ করা হবে। ইসলাম তার সুমহান বিধানের মাধ্যমে কেবল সময়ের জন্য কোনো মূল্য সাব্যস্ত করে না; কারণ সময় এমন কোনো পণ্য নয় যা কেনাবেচা করা যায়(১).

নগদ হওয়ার (حلول) শর্তারোপ করা হয়েছে যাতে চুক্তির মজলিসেই উভয় পক্ষের লেনদেন বা দখল (تقابض) তাৎক্ষণিক সম্পন্ন হয়; যাতে পরবর্তীতে হস্তান্তরের বিষয়টি এড়ানো যায়।

আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি লেনদেনের বাজারে প্রচলিত সময়ের জন্য দখল বা হস্তগতকরণ (قبض) বিলম্বিত হওয়াকে বৈধ মনে করে। তারা বলেছে: (ব্যাংক এন্ট্রিতে এমনভাবে বিলম্ব হওয়া মার্জনীয় যার মাধ্যমে সুবিধাভোগী ব্যক্তিটি লেনদেনের বাজারে প্রচলিত সময়ে প্রকৃত হস্তগতকরণে (قبض) সক্ষম হয়। তবে শর্ত হলো, সুবিধাভোগী ব্যক্তি প্রকৃত দখল লাভের মাধ্যমে ব্যাংক এন্ট্রির ফলাফল পাওয়ার আগে ওই মুদ্রায় কোনো লেনদেন করতে পারবেন না)(২)

যদিও আমি রাবেতা ও ওআইসি-র একাডেমিদ্বয়ের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা না করার চেষ্টা করি, তবুও আমি একাডেমির উল্লিখিত সিদ্ধান্তের সাথে একমত নই; কারণ এই মতটি গ্রহণ করলে নগদ হওয়ার (حلول) শর্তটি বাতিল হয়ে যায়। তাছাড়া এটি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "হাতে হাতে (يداً بيد)" এবং তাঁর বাণী "নগদ নগদ (إلا هاء وهاء)"-এর পরিপন্থী। মালিক তার সনদে (سند) মালেক ইবনে আউস ইবনে আল-হাদাসান আন-নাসরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একশ দিনারের বিনিময়ে মুদ্রা বিনিময় করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, তখন তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ আমাকে ডাকলেন এবং আমরা দরদাম করলাম(৩) যতক্ষণ না তিনি আমার সাথে মুদ্রা বিনিময় সম্পন্ন করলেন এবং স্বর্ণ হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলেন। এরপর তিনি বললেন, "যতক্ষণ না জঙ্গল(৪) থেকে আমার খাজাঞ্চি ফিরে আসে।" ওমর ইবনে আল-খাত্তাব তখন শুনছিলেন, তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম! তুমি তার থেকে বিনিময় গ্রহণ করার আগে তাকে ছেড়ে যাবে না।" রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সুদ (ربا), যদি না তা নগদ নগদ (إلا هاء وهاء) হয়; এবং যবের বিনিময়ে যব সুদ (ربا), যদি না তা নগদ নগদ (إلا هاء وهاء) হয়)। এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন(৫)। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "إلا هاء وهاء" এর অর্থ হলো: নিন এবং দিন(৬)।

--------------------------------------------

(১) আর-রাজি কৃত আত-তাফসির আল-কাবির, ৭/৯৭। আরও দেখুন: ড. ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ আল-মাতরাক-এর আর-রিবা ওয়াল মুয়ামালাত আল-মাসরিফিয়্যাহ, পৃ. ৫০।

(২) সিদ্ধান্ত নং ৫৩ (৪/৬)।

(৩) "ফাতারাওয়াদনা" (আমরা দরদাম করলাম) অর্থাৎ আমরা বিনিময়ের পরিমাণ কমানো বা বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা করলাম, যেন তারা একে অপরকে রাজি করানোর চেষ্টা করছিলেন।

(৪) আল-গাবাহ: ঝোপঝাড় বা বন; এখানে এটি মদিনার একটি বিশেষ জায়গাকে বোঝানো হয়েছে যেখানে তাদের মালিকানা ছিল।

(৫) যুরকানির ব্যাখ্যাসহ মুয়াত্তা মালিক ৩/১৬৮, ব্যাখ্যাসহ সহিহ বুখারি ৪/৩৭৮, সহিহ মুসলিম ৪/৯৬, ইবনুল আসিরের জামিউল উসুল ১/৪৫৪।

(৬) তাবিইনুল হাকায়িক ৪/৮৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وتأخير القبض للمدد المتعارف عليها في أسواق التعامل ليس فيه خذ النقود، وهات ثمنها.

 

‌‌الشرط الثالث: التماثل في البدلين:

إذا كان البدلان من جنس واحد؛ وكانت هذه الأثمان مما يوزن، كأن بيعت سبائك ذهبية بذهب، أو فضية بفضة، وجب فيه التماثل في الوزن، وإن اختلفا في الجودة، وهذا باتفاق الفقهاء(1)، وإن كانت مما يعد كدولارات بدولارات، وجب فيه التماثل في العدد والمقدار.

والشرط: التساوي في العلم، لا في نفس الأمر فقط، فلو لم يعلما التساوي، وكان في نفس الأمر متحققا لم يجز، إلا إذا ظهر في المجلس(2). لما روى جابر رضي الله عنه قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع الصبرة من التمر لا يعلم كيلها بالكيل المسمى من التمر. رواه مسلم والنسائي(3)، ولأن العلم بالتساوي مع الاتفاق في الجنس شرط، لا يجوز البيع بدونه، ولا شك أن الجهل بكلا البدلين أو بأحدهما فقط مظنة للزيادة أو النقصان، وما كان مظنة للحرام وجب تجنبه، وتجنب هذه المظنة إنما يكون بكيل المكيل ووزن الموزون من كل واحد من البدلين(4).

أما إذا اختلف جنس المبيع عن جنس الثمن، مثل أن كان ذهباً بفضة، أو فضة بذهب، أو أياً منهما بنقود ورقية، فإنه لا يشترط حينئذ التماثل، فلا مانع من التفاضل، لأن ربا الفضل لا يقع في الجنسين أحدهما بالآخر، وإنما يقع في الجنس الواحد بعضه ببعض؛ وذلك لقوله صلى الله عليه وسلم: «فإذا اختلفت هذه الأصناف فبيعوا كيف شئتم إذا كان يداً بيد»(5).

--------------------------------------------

(1) رد المحتار 4/ 234، الشرح الصغير 2/ 15، القوانين الفقهية ص 251، مغني المحتاج 2/ 24، كشاف القناع 3/ 252.

(2) المغني 5/ 15، كشاف القناع 3/ 253.

(3) نيل الأوطار 5/ 196، للشوكاني، دار الجيل، بيروت، وانظر: صحيح مسلم 4/ 20، سنن النسائي 7/ 288، دار الفكر للطباعة والنشر، بيروت، سنة 1415 هـ-1995 م.

(4) نيل الأوطار 5/ 196.

(5) صحيح مسلم بشرحه 4/ 98.
লেনদেনের বাজারে প্রচলিত সময়ের জন্য দখল গ্রহণ (القبض) বিলম্বিত করার মাঝে "নগদ টাকা নাও এবং এর মূল্য পরিশোধ করো"—এমন কোনো বিষয় নেই।

 

‌‌তৃতীয় শর্ত: বিনিময়কৃত বস্তুদ্বয়ের মধ্যে সমতা (التماثل):

যদি বিনিময়কৃত বস্তুদ্বয় একই শ্রেণি (جنس) ভুক্ত হয় এবং এই মূল্যমানগুলো ওজনযোগ্য হয়—যেমন স্বর্ণের বার স্বর্ণের বিনিময়ে অথবা রুপার বার রুপার বিনিময়ে বিক্রয় করা হয়—তবে ওজনে সমতা (التماثل) রক্ষা করা ওয়াজিব (واجب), যদিও তাদের গুণমানের মধ্যে পার্থক্য থাকে। এটি ফকিহগণের ঐকমত্যের (اتفاق) ভিত্তিতে স্বীকৃত(১)। আর যদি তা গণনাযোগ্য হয়, যেমন ডলারের বিনিময়ে ডলার, তবে সংখ্যা ও পরিমাণে সমতা (التماثل) রক্ষা করা ওয়াজিব (واجب)।

আর শর্ত হলো: সমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া (العلم بالتساوي), কেবল বাস্তবে তা থাকা যথেষ্ট নয়। সুতরাং যদি তারা সমতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়, যদিও বাস্তবে তা বিদ্যমান থাকে, তবে তা বৈধ হবে না; যতক্ষণ না মজলিসে (المجلس) তা স্পষ্ট হয়(২)। কেননা জাবির (রা.) হতে বর্ণিত (روى) হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) খেজুরের স্তূপ (الصبرة), যার পরিমাপ জানা নেই, তা সুনির্দিষ্ট পরিমাপের খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। এটি মুসলিম ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন (رواه)(৩)। কারণ শ্রেণি (جنس) এক হওয়ার ক্ষেত্রে সমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া (العلم بالتساوي) একটি শর্ত, যা ব্যতীত বিক্রয় বৈধ নয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উভয় বিনিময় বা তার কোনো একটি সম্পর্কে অজ্ঞতা (الجهل) অতিরিক্ত বা কম হওয়ার সম্ভাবনা (مظنة) রাখে। আর যা হারামের সম্ভাবনা (مظنة) তৈরি করে, তা পরিহার করা ওয়াজিব (واجب)। আর এই সম্ভাবনা (مظنة) পরিহার করা কেবল তখনই সম্ভব যখন পরিমাপযোগ্য বস্তু পরিমাপের মাধ্যমে এবং ওজনযোগ্য বস্তু ওজনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়(৪)।

তবে যদি বিক্রিত দ্রব্যের শ্রেণি (جنس) মূল্যের শ্রেণি (جنس) হতে ভিন্ন হয়, যেমন স্বর্ণের বিনিময়ে রুপা, অথবা রুপার বিনিময়ে স্বর্ণ, অথবা এর যেকোনোটির বিনিময়ে কাগজের মুদ্রা হয়, তবে সেক্ষেত্রে সমতা (التماثل) শর্ত নয়। এমতাবস্থায় অতিরিক্ত বা কম-বেশি (التفاضل) হওয়াতে কোনো বাধা নেই; কারণ রিবা আল-ফজল (ربا الفضل) দুই ভিন্ন শ্রেণির একটির সাথে অন্যটির ক্ষেত্রে ঘটে না, বরং তা একই শ্রেণির একটির সাথে অন্যটির বিনিময়ের ক্ষেত্রে ঘটে। এর কারণ হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বাণী: "যখন এই শ্রেণিগুলো (الأصناف) ভিন্ন হবে, তখন তোমরা যেভাবে ইচ্ছা বিক্রয় করো, যদি তা হাতে হাতে (يدا بيد) হয়"(৫)।

--------------------------------------------

(১) রাদ্দুল মুহতার ৪/২৩৪, আশ-শারহুল সাগির ২/১৫, আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ পৃষ্ঠা ২৫১, মুগনি আল-মুহতাজ ২/২৪, কাশশাফুল কিনা ৩/২৫২।

(২) আল-মুগনি ৫/১৫, কাশশাফুল কিনা ৩/২৫৩।

(৩) নায়লুল আওতার ৫/১৯৬, শাওকানি, দারুল জিল, বৈরুত; এবং দেখুন: সহিহ মুসলিম ৪/২০, সুনান নাসায়ি ৭/২৮৮, দারুল ফিকর তিবায়াত ওয়ান নাশর, বৈরুত, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ।

(৪) নায়লুল আওতার ৫/১৯৬।

(৫) সহিহ মুসলিম বিশরাহিহি ৪/৯৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
والحكمة من اشتراط التماثل؛ للمنع من الوقوع في ربا الفضل، فلو جاز الفضل في الجنس الواحد، لوقع الناس في الربا؛ وبالتالي فإن هذا يؤدي إلى انقطاع المعروف بين الناس، والتراحم والإحسان، فلا يقرض أحد الآخر إلا بفائدة ربوية؛ ولهذا جاء الشرع باشتراط التماثل في بيع الذهب بالذهب، حتى تطيب نفس المقرض بأن يقرض أخاه ولا ينتظر زيادة مادية، وإنما ينتظر الأجر من الله.

 

‌‌الشرط الرابع: الخلو عن خيار الشرط:

اتفق الفقهاء على منع اشتراط الخيار في الصرف، وعلى كونه فاسداً، ولكنهم اختلفوا في صحة العقد إذا اشتمل عليه.

فذهب جمهور الفقهاء الحنفية والمالكية والشافعية في المذهب عندهم إلى أن الصرف لا يصح مع خيار الشرط؛ (فإن شُرط الخيار فيه لهما أو لأحدهما فسد الصرف؛ لأن القبض في هذا العقد شرط بقائه على الصحة، وخيار الشرط يمنع انعقاد العقد في حق الحكم، فيمنع صحة القبض)(1).

ولو أبطل صاحب الخيار خياره قبل الافتراق، ثم افترقا عن تقابض، ينقلب إلى الجواز عند الحنفية خلافاً لزفر(2).

وقال الحنابلة: لا يبطل الصرف باشتراط الخيار فيه، كسائر الشروط الفاسدة في البيع، فيصح العقد ويلزم بالتفرق، ويبطل الشرط ويلغو(3).

والراجح مذهب الحنابلة.

--------------------------------------------

(1) بدائع الصنائع 5/ 219، وانظر المبسوط 14/ 23، فتح القدير 7/ 138، الذخيرة 5/ 31، المقدمات 2/ 15، مواهب الجليل 4/ 308، مغني المحتاج 2/ 24، المهذب 2/ 272.

(2) المصادر السابقة.

(3) كشاف القناع 3/ 266، شرح منتهى الإرادات 2/ 201.
সমতা (التماثل) শর্ত করার হিকমত হলো ‘রিবাল ফাদল’ (ربا الفضل) বা আধিক্যের সুদে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখা। যদি একই জাতীয় বস্তুর ক্ষেত্রে আধিক্য বৈধ হতো, তবে মানুষ সুদে লিপ্ত হয়ে পড়ত; আর এর ফলে তা মানুষের মাঝে সদাচরণ, দয়া ও সহমর্মিতা বিলুপ্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত করত। এমতাবস্থায় সুদি মুনাফা ছাড়া কেউ কেউ কাউকে ঋণ দিত না। এ কারণেই শরয়ি বিধানে স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সমতা (التماثل) নিশ্চিত করার শর্তারোপ করা হয়েছে, যাতে ঋণদাতার মন এই ভেবে সন্তুষ্ট থাকে যে, সে তার ভাইকে ঋণ দিচ্ছে এবং কোনো পার্থিব অতিরিক্ত লাভের প্রত্যাশা করছে না, বরং সে কেবল আল্লাহর নিকট থেকে প্রতিদানের আশা রাখে।

 

‌‌চতুর্থ শর্ত: শর্তের ইখতিয়ার (خيار الشرط) থেকে মুক্ত থাকা:

ফকিহগণ সারফ (الصرف) বা মুদ্রা বিনিময়ে ইখতিয়ারের শর্তারোপ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে এবং তা ফাসিদ (فاسد) হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন; তবে চুক্তিতে তা অন্তর্ভুক্ত থাকলে চুক্তির বিশুদ্ধতা নিয়ে তারা মতভেদ করেছেন।

জুমহুর (جمهور) ফকিহ—তথা হানাফি, মালেকি ও শাফেয়ি মাযহাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—শর্তের ইখতিয়ারের (خيار الشرط) সাথে সারফ (الصرف) সহিহ (صحيح) হবে না; (যদি এতে উভয় পক্ষ বা কোনো এক পক্ষের জন্য ইখতিয়ারের শর্ত করা হয়, তবে সারফ (الصرف) ফাসিদ (فاسد) হয়ে যাবে; কারণ এই চুক্তির বৈধতা বজায় থাকার জন্য হস্তগত করা (القبض) একটি শর্ত। আর শর্তের ইখতিয়ার (خيار الشرط) বিধানগতভাবে চুক্তির পূর্ণতাকে বাধাগ্রস্ত করে, ফলে তা হস্তগত করার (القبض) বিশুদ্ধতাকেও বাধা দেয়)(1)।

যদি ইখতিয়ারের অধিকারী ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই তার ইখতিয়ার বাতিল করে দেয় এবং এরপর তারা পারস্পরিক হস্তগত (تقابض) করার পর বিচ্ছিন্ন হয়, তবে ইমাম যুফারের ভিন্নমতের বিপরীতে হানাফিদের নিকট তা বৈধতায় রূপান্তরিত হবে(2)।

হাম্বলিগণ বলেছেন: শর্তের ইখতিয়ারারোপের মাধ্যমে সারফ (الصرف) বাতিল হবে না, যেমনটি বিক্রয়ের অন্যান্য ফাসিদ (فاسد) শর্তাবলির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। সুতরাং চুক্তিটি সহিহ (صحيح) হবে এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার মাধ্যমে তা আবশ্যক হয়ে যাবে; তবে শর্তটি বাতিল ও অসার বলে গণ্য হবে(3)।

আর হাম্বলি মাযহাবের অভিমতটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الراجح)।

--------------------------------------------

(1) বাদায়িউস সানায়ি ৫/ ২১৯, আরও দেখুন: আল-মাবসুত ১৪/ ২৩, ফাতহুল কাদির ৭/ ১৩৮, আয-যাখিরা ৫/ ৩১, আল-মুকাদ্দিমাত ২/ ১৫, মাওয়াহিবুল জালিল ৪/ ৩০৮, মুগনী আল-মুহতাজ ২/ ২৪, আল-মুহাজ্জাব ২/ ২৭২।

(2) পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।

(3) কাশশাফুল কিনা ৩/ ২৬৬, শারহু মুনতাহাল ইরাদাত ২/ ২০১।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الثالث

القبض الشرعي في تجارة العملات

‌‌المطلب الأول:

القبض الحقيقي:

اتفق فقهاء الحنفية والمالكية والشافعية والحنابلة على أن التقابض في الصرف يكون بتناول النقود أو السبائك أو نحوها باليد، ويطلقون «يداً بيد» على تقابض البدلين في مجلس العقد(1). أي بالتعجيل والنقد(2). جاء في المصباح المنير «بعته يداً بيد» أي حاضراً بحاضر. والتقدير: في حال كونه ماداً يده بالعوض، وفي حال كوني ماداً يدي بالمعوض، فكأنه قال: بعته في حال كون اليدين ممدودتين بالعوضين(3).

وقال الحنفية: إن معنى «يداً بيد»، إنما هو التعيين دون التقابض. وقوله صلى الله عليه وسلم: «يداً بيد» أي عيناً بعين. ولكن نظراً لكون النقدين لا يتعينان بالتعيين، ولا يتحقق التعيين فيهما قبل التقابض، اعتبر التعيين دون التقابض في غير الصرف من بيع الأموال الربوية ببعضها، وذلك لحصول المقصود، وهو التمكن من التصرف بالتعيين فيها؛ بخلاف النقدين؛ فحيث إنهما لا يتعينان إلا بالقبض، اشترط في الصرف التقابض(4).

والراجح قول الجمهور لأن قوله صلى الله عليه وسلم: (يداً بيد) حقيقة في يد الإنسان، فلا يعدل عن الحقيقة إلى المجاز إلا بدليل، يؤيد ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: (إلا هاء وهاء).

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 4/ 378، شرح السنة، للبغوي 8/ 60، رد المحتار 4/ 239، مواهب الجليل 4/ 310، المجموع 10/ 92، المغني 6/ 112، اختيارات شيخ الإسلام ابن تيمية 6/ 472.

(2) المغرب، للمطرزي ص 510، مادة: اليد، شرح الأبي على صحيح مسلم 5/ 472.

(3) مادة اليد.

(4) رد المحتار 4/ 182 و 183، تبيين الحقائق للزيلعي 4/ 89.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

মুদ্রা বিনিময়ে শরয়ি দখল (قبض شرعي)

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ:

প্রকৃত দখল (قبض حقيقي):

হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি এবং হাম্বলি ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মুদ্রা বিনিময় (صرف) কার্যে দখল বা হস্তান্তরের বিষয়টি মুদ্রা, স্বর্ণপিণ্ড অথবা অনুরূপ বস্তুকে সরাসরি হাতে হাতে গ্রহণ করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তারা চুক্তির মজলিসেই উভয় বিনিময়ের পারস্পরিক দখল (تقابض) হওয়াকে ‘হাতে হাতে’ (يداً بيد) বলে অভিহিত করেন(১)। অর্থাৎ নগদ ও দ্রুততার সাথে(২)। ‘আল-মিসবাহুল মুনির’ গ্রন্থে এসেছে: ‘আমি তাকে হাতে হাতে বিক্রি করেছি’ অর্থাৎ বিদ্যমান বস্তুর বিনিময়ে বিদ্যমান বস্তু। এর ব্যাখ্যা হলো: যখন সে প্রতিদান প্রদান করতে হাত প্রসারিত করে আর আমিও বিনিময়ের জন্য হাত প্রসারিত করি। যেন সে বলছে: আমি এটি উভয় হাত প্রসারিত অবস্থায় বিনিময় ও প্রতিদানের মাধ্যমে বিক্রি করেছি(৩)।

হানাফিগণ বলেন: ‘হাতে হাতে’ (يداً بيد) কথাটির অর্থ হলো সুনির্দিষ্টকরণ (تعيين), দখল (قبض) নয়। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাণী: ‘হাতে হাতে’ (يداً بيد) এর অর্থ হলো বস্তুর বিনিময়ে বস্তু। কিন্তু যেহেতু স্বর্ণ ও রৌপ্য (نقدين) কেবল সুনির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হয় না এবং দখলের (قبض) পূর্বে সেগুলোতে সুনির্দিষ্টকরণ (تعيين) সাব্যস্ত হয় না, তাই সুদি মালের একটির সাথে অন্যটির বিনিময়ের ক্ষেত্রে (মুদ্রা বিনিময় ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে) সুনির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে দখল (قبض) ছাড়াই নির্দিষ্ট হওয়াকে গণ্য করা হয়েছে। আর তা উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য, যা সুনির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে সেগুলোতে মালিকানা ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি করে। পক্ষান্তরে স্বর্ণ ও রৌপ্যের (نقدين) বিষয়টি ভিন্ন; কারণ তা দখল (قبض) ব্যতীত নির্দিষ্ট হয় না, তাই মুদ্রা বিনিময় (صرف) কার্যে পারস্পরিক দখল (تقابض) শর্ত করা হয়েছে(৪)।

অধিকাংশ উলামার মতটিই অগ্রগণ্য (راجح); কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাণী: ‘হাতে হাতে’ (يداً بيد) মানুষের হাতের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে (حقيقة) ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং কোনো দলিল বা প্রমাণ ব্যতীত এই প্রকৃত অর্থ (حقيقة) বর্জন করে রূপক অর্থের (مجاز) দিকে যাওয়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাণী: ‘না বললে নয়’ বা ‘নগদে নগদ’ (إلا هاء وهاء) এই মতকে সমর্থন করে।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি ৪/৩৭৮, বাগাউয়ি রচিত শারহুস সুন্নাহ ৮/৬০, রাদ্দুল মুহতার ৪/২৩৯, মাওয়াহিবুল জলিল ৪/৩১০, আল-মাজমু ১০/৯২, আল-মুগনি ৬/১১২, ইখতিয়ারাত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ৬/৪৭২।

(২) মুতাররিজি রচিত আল-মুগরিব, পৃষ্ঠা ৫১০, মূল শব্দ: اليد; সহিহ মুসলিমের ওপর আল-আবি’র শরহ ৫/৪৭২।

(৩) মূল শব্দ: اليد।

(৪) রাদ্দুল মুহতার ৪/১৮২ ও ১৮৩, যাইলায়ি রচিত তাবয়িনুল হাকায়িক ৪/৮৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقوله (هاء) إنما هو قول الرجل لصاحبه إذا ناوله الشيء (هاك) أي خذ. فأسقطوا الكاف منه وعوضوه المد بدلاً من الكاف.

وقول الرسول صلى الله عليه وسلم: «الذهب بالذهب ربا إلا هاء وهاء» أي إن هذه البياعات لا تجوز إلا إذا قال كل واحد منهما لصاحبه «هاء» أي خذ وهات، والمراد به القبض(1).

فيشترط القبض الحقيقي(2)، أو الحكمي(3) في بيع الأثمان، بعضها ببعض، وما يأخذ حكمها من العملات(4)، ويتحقق القبض شرعاً في العقود المبرمة بالإنترنت بكل الوسائل المتعارف عليها في القبض الحقيقي أو الحكمي(5).

ومن صور القبض الحقيقي، أن يسلم البائع المبيع إلى المشتري، ويسلم المشتري الثمن إلى البائع في مجلس العقد، قبل افتراقهما، وإن طالت مدة المجلس.

ومن صوره تطارح الدينين، أو اقتضاء أحد النقدين من الآخر، فإن الدائن أو المدين بنوع من النقود له أن يصرفها من دائنه بنقد آخر، وفي هذه الحال يجب على المدين أن يدفع له البدل من النقد الآخر في مجلس العقد، بخلاف الدائن فإنه لا يلزمه أن يسلم النقد المبدل منه، ويكون صرفاً بعين وذمة في قول أكثر أهل العلم(6)، أو المقاصة من دين سابق، فإذا انشغلت ذمة الدائن بمثل ماله على المدين في الجنس والصفة ووقت الأداء، برئت ذمة المدين مقابلة بالمثل، فيسقط الدينان إذا تساويا في المقدار، وهذا تطارح للدينين. أما إن تفاوتا في القدر سقط من الأكثر

--------------------------------------------

(1) تبيين الحقائق 4/ 89.

(2) فتح القدير 7/ 135، رد المحتار 4/ 234، الدر المختار للحصكفي 4/ 182 و 183، تبيين الحقائق 4/ 135، الفتاوي الهندية 3/ 217. القبض في العقود المالية في الفقه الحنفي، للدكتور محمد زكي عبد البر، نشر مجلة البحوث الفقهية المعاصرة، العدد الخامس ص 74، الذخيرة 5/ 120، شرح تنقيح الفصول ص 456، المجموع 10/ 91، مغني المحتاج 2/ 72، المغني 6/ 187، شرح منتهى الإرادات 2/ 192، كشاف القناع 3/ 247، المحرر في الفقه 1/ 323، مجلة الأحكام الشرعية على مذهب الإمام أحمد م 333.

(3) سيأتي بيانه في المطلب التالي، إن شاء الله.

(4) أعني به الذهب والفضة غير المسكوكين نقوداً.

(5) ينظر المعيار الشرعي رقم (18) بشأن القبض، الفقرة 3 والفقرة 5.

(6) مواهب الجليل 4/ 310، شرح النووي على صحيح مسلم 4/ 100، المغني 4/ 3 مطبعة الإمام القاهرة، التقابض في الفقه الإسلامي ص 62 لعلاء بن عبد الرزاق الجكنو
এবং তাঁর বাণী 'হা' (هاء) হলো মূলত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার সঙ্গীকে কিছু দেওয়ার সময় ব্যবহৃত শব্দ 'হাক' (هاك)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যার অর্থ হলো 'নাও'। এখানে 'কাফ' (ك) বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে 'মদ্দ' (টান) যুক্ত করা হয়েছে।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণের লেনদেন সুদ (ربا), তবে যদি তা হাতে হাতে (هاء وهاء) না হয়।" অর্থাৎ এই ধরনের ক্রয়-বিক্রয় তখনই বৈধ হবে যখন লেনদেনকারী উভয়ে একে অপরকে 'হা' বলবে, যার অর্থ হলো 'নাও এবং দাও'। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হস্তগতকরণ (القبض)(1)।

সুতরাং মূল্যের (মুদ্রার) পারস্পরিক কেনাবেচায় এবং কারেন্সি বা মুদ্রার সমপর্যায়ের বিনিময়গুলোতে প্রকৃত হস্তগতকরণ (القبض الحقيقي)(2) অথবা পরোক্ষ হস্তগতকরণ (القبض الحكمي)(3) শর্ত। ইন্টারনেটে সম্পাদিত চুক্তিসম্মূহে শরিয়াহর দৃষ্টিতে হস্তগতকরণ তখনই সাব্যস্ত হয়, যখন প্রকৃত বা পরোক্ষ হস্তগতকরণের (القبض الحقيقي أو الحكمي) ক্ষেত্রে প্রচলিত সকল মাধ্যম অনুসৃত হয়(5)।

প্রকৃত হস্তগতকরণের (القبض الحقيقي) অন্যতম পদ্ধতি হলো, বিক্রেতা বিক্রিত পণ্য ক্রেতার নিকট সোপর্দ করবে এবং ক্রেতা চুক্তির মজলিসে (مجلس العقد) পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই বিক্রেতাকে মূল্য পরিশোধ করবে, যদিও মজলিসের স্থায়িত্ব দীর্ঘ হয়।

এর অন্য একটি রূপ হলো দুই ঋণের পারস্পরিক সমন্বয় (تطارح الدينين), অথবা এক মুদ্রার বিনিময়ে অন্য মুদ্রা দাবি করা। কোনো ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট কোনো মুদ্রায় পাওনাদার বা দেনাদার হয়, তবে সে তার পাওনাদারের সাথে অন্য মুদ্রায় তা বিনিময় (صرف) করতে পারে। এই অবস্থায় দেনাদারকে চুক্তির মজলিসেই (مجلس العقد) অন্য মুদ্রার বিনিময়টি পরিশোধ করতে হবে। তবে পাওনাদারের ক্ষেত্রে তার বিনিময়ের মুদ্রাটি তৎক্ষণাৎ সোপর্দ করা আবশ্যক নয়। অধিকাংশ আলিমের মতে এটি বস্তু এবং দায়ের (ذمة) ভিত্তিতে সম্পন্ন একটি মুদ্রা বিনিময় (صرف)(6)। অথবা এটি হতে পারে পূর্ববর্তী ঋণের মাধ্যমে সমন্বয়সাধন (المقاصة)। যখন পাওনাদারের দায় (ذمة) দেনাদারের পাওনার অনুরূপ জাতীয়, গুণাগুণসম্পন্ন এবং আদায়ের সময় সম্বলিত দায় দ্বারা আবিষ্ট হয়, তখন দেনাদারের দায় বিনিময় হিসেবে মুক্ত হয়ে যায়। ঋণের পরিমাণ সমান হলে উভয় ঋণই বিলুপ্ত হয়ে যাবে, একেই বলা হয় দুই ঋণের পারস্পরিক সমন্বয় (تطارح الدينين)। কিন্তু পরিমাণে কমবেশি হলে অধিকতর পরিমাণ থেকে সমপরিমাণ অংশ বিলুপ্ত হবে।

--------------------------------------------

(1) তিবয়ীনুল হাকায়িক ৪/৮৯।

(2) ফাতহুল কাদির ৭/১৩৫, রাদ্দুল মুহতার ৪/২৩৪, হাসকাফি রচিত আদ-দুররুল মুখতার ৪/১৮২ ও ১৮৩, তিবয়ীনুল হাকায়িক ৪/১৩৫, আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ ৩/২১৭। হানাফি ফিকহে আর্থিক চুক্তিতে হস্তগতকরণ (القبض), ডক্টর মুহাম্মদ জাকি আবদুর বার, মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ফিকহিয়্যাহ আল-মুআসিরাহ-তে প্রকাশিত, সংখ্যা ৫, পৃষ্ঠা ৭৪, আজ-জাখিরা ৫/১২০, শারহু তানকিহিল ফুসুল পৃষ্ঠা ৪৫৬, আল-মাজমু ১০/৯১, মুগনী আল-মুহতাজ ২/৭২, আল-মুগনী ৬/১৮৭, শারহু মুনতাহাল ইরাদাত ২/১৯২, কাশশাফুল কিনা ৩/২৪৭, আল-মুহাররার ফিল ফিকহ ১/৩২৩, মাজাল্লাতুল আহকাম আশ-শারইয়্যাহ আলা মাজহাবি ইমাম আহমদ, ধারা ৩৩৩।

(3) ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পরিচ্ছেদে এর বর্ণনা আসবে।

(4) এর দ্বারা আমি এমন স্বর্ণ ও রৌপ্য বুঝাচ্ছি যা মুদ্রা হিসেবে অঙ্কিত নয়।

(5) হস্তগতকরণ (القبض) সংক্রান্ত শরিয়াহ মানদণ্ড নং (১৮) এর অনুচ্ছেদ ৩ ও ৫ দ্রষ্টব্য।

(6) মাওয়াহিবুল জলীল ৪/৩১০, সহীহ মুসলিম-এর ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ৪/১০০, আল-মুগনী ৪/৩ (কায়রোর মাতবাআতুল ইমাম), ইসলামি ফিকহে পারস্পরিক দখল (التقابض), পৃষ্ঠা ৬২, রচনায়: আলা বিন আবদুর রাজ্জাক আল-জাকনু।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بقدر الأقل، وبقيت الزيادة، فتقع المقاصة في القدر المشترك، ويبقى أحدهما مديناً للآخر بما زاد(1) لحديث ابن عمر رضي الله عنهما قلت: يا رسول الله إني أبيع الإبل بالبقيع، فأبيع بالدنانير وآخذ الدراهم، وأبيع بالدراهم وآخذ الدنانير وآخذ هذه من هذه، وأعطي هذه من هذه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا بأس أن تأخذها بسعر يومها ما لم تفترقا وبينكما شيء(2). قال الحاكم: صحيح على شرط مسلم، ووافقه الذهبي(3) وقال أحمد شاكر: إسناده صحيح.

والقول بأن تطارح الدينين ونحوه قبض حكمي (4) غير مسلم، لأنه قد تم قبض النقود قبضاً فعلياً، يداً بيد، من مُتطارحي الدين، أو المتقاصين، وكون هذا القبض سابقاً للعقد، لا يؤثر في اختلاف الوصف.

ومثل أن يعقد العميل عقد صرف ناجز بينه وبين المؤسسة، في حال شراء عملة بعملة أخرى، ثم يودع المشتري في حساب البائع الثمن مباشرة، فهذا قبض حقيقي.

أما إذا كان بحوالة مصرفية تدخل في حساب البائع، قبل افتراقهما من مجلس العقد(4)، فيرى البعض أنه قبض حكمي.

ونظراً لتطور استخدام وسائل التقنية مما أدى لسرعة تنفيذ الحوالة في هذا الزمن بواسطة الجوال والمحيل في بيته أو مكتبه أو في أي مكان، ودخولها في حساب المحال إليه في أقل من دقيقة وتمكنه من التصرف فيها فإني أرى أن هذا قبض حقيقي.

--------------------------------------------

(1) مواهب الجليل 4/ 310، إعلام الموقعين 1/ 321، الموسوعة الفقهية الكويتية 3/ 0264.

(2) سنن أبي داود، تحقيق عزت عبيد الدعاس وعادل السيد 3/ 650، مسند الإمام أحمد 32/ 0264، تحقيق أحمد شاكر 9/ 85، رقم الحديث 6239.

(3) مسند الإمام أحمد، تحقيق أحمد شاكر مصدر سابق.

(4) الموسوعة الفقهية الكويتية 32/ 264.

(4) القرار السابع للمجمع الفقهي الإسلامي بالرابطة، الدورة الحادية عشرة، قرار مجمع المنظمة 53/ 4/ 6، فتاوى اللجنة الدائمة 13/ 503، المعايير الشرعية ص 5.
নূন্যতম পরিমাণ অনুযায়ী (সমন্বয় হবে) এবং অতিরিক্ত অংশটি বাকি থাকবে। ফলে সাধারণ পরিমাণে পারস্পরিক সমন্বয় (مقاصة) সংঘটিত হবে এবং অতিরিক্ত পরিমাণের জন্য একজন অন্যজনের কাছে ঋণী থাকবে(১)। এটি ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিসের কারণে, যেখানে তিনি বলেছেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি বাকী' নামক স্থানে উট বিক্রি করি। আমি দিনারের বিনিময়ে বিক্রি করি কিন্তু দিরহাম গ্রহণ করি, আবার দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করি কিন্তু দিনার গ্রহণ করি। আমি এটি থেকে ওটি গ্রহণ করি এবং ওটি থেকে এটি প্রদান করি। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: "সেদিনের বাজার দর অনুযায়ী তা গ্রহণ করতে কোনো অসুবিধা নেই, যতক্ষণ না তোমরা এমন অবস্থায় পৃথক হও যে তোমাদের মাঝে কোনো কিছু (পাওনা) বাকি রয়েছে"(২)। হাকেম বলেছেন: এটি মুসলিম-এর শর্ত (شرط) অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح) এবং জাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন(৩)। আহমাদ শাকির বলেছেন: এর সনদ (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح)।

এবং এই দাবি যে, দুই ঋণের পারস্পরিক অবলোপন এবং অনুরূপ বিষয়গুলো পরোক্ষ দখল (قبض حكمي)(৪) হিসেবে গণ্য হবে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এখানে ঋণ অবলোপনকারীদের পক্ষ থেকে সরাসরি হাতের মাধ্যমে মুদ্রার সরাসরি দখল (قبض فعلي) সম্পন্ন হয়েছে। আর এই দখল চুক্তির আগে হওয়া বর্ণনার ভিন্নতার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো গ্রাহক যখন প্রতিষ্ঠানের সাথে এক মুদ্রার বিনিময়ে অন্য মুদ্রা ক্রয়ের ক্ষেত্রে একটি তাৎক্ষণিক মুদ্রাবিনিময় (صرف) চুক্তি সম্পন্ন করেন, এরপর ক্রেতা সরাসরি বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে মূল্য জমা দেন, তবে এটি প্রকৃত দখল (قبض حقيقي) হিসেবে গণ্য হবে।

তবে যদি এটি ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে হয় যা চুক্তির মজলিস (مجلس العقد) থেকে পৃথক হওয়ার আগেই বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে জমা হয়(৪), তবে কেউ কেউ মনে করেন এটি পরোক্ষ দখল (قبض حكمي)।

বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহারের উন্নতির ফলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই সময়ে দ্রুত অর্থ স্থানান্তরের সুবিধা তৈরি হয়েছে, যেখানে হস্তান্তরকারী তার ঘরে, অফিসে বা যেকোনো স্থানে অবস্থান করতে পারেন এবং এক মিনিটেরও কম সময়ে তা প্রাপকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায় ও তিনি তা ব্যবহারের সক্ষমতা লাভ করেন; তাই আমি মনে করি এটি প্রকৃত দখল (قبض حقيقي)।

--------------------------------------------

(১) মাওয়াহিবুল জলিল ৪/৩১০, ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন ১/৩২১, আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ ৩/০২৬৪।

(২) সুনানে আবু দাউদ, তাহকিক: ইজ্জত উবাইদ আদ-দাইয়াস এবং আদিল আস-সাইয়িদ ৩/৬৫০, মুসনাদে ইমাম আহমাদ ৩২/০২৬৪, তাহকিক: আহমাদ শাকির ৯/৮৫, হাদিস নম্বর ৬২৩৯।

(৩) মুসনাদে ইমাম আহমাদ, তাহকিক: আহমাদ শাকির, পূর্বোক্ত উৎস।

(৪) আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ ৩২/২৬৪।

(৪) রাবিতার ইসলামি ফিকহ একাডেমির সপ্তম সিদ্ধান্ত, একাদশ অধিবেশন; ওআইসি ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্ত ৫৩/৪/৬, ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ ১৩/৫০৩, আল-মাআয়ির আশ-শারইয়্যাহ পৃষ্ঠা ৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المطلب الثاني:

القبض الحكمي:

المراد بالقبض الحكمي هو: ما يقوم مقام القبض الحقيقي، ويأخذ حكمه. وقد قال الفقهاء بالقبض الحكمي في أحوال كثيرة، وأقاموه مقام القبض الحقيقي. وهو ما يستند فيه إلى شيء مادي مثل:

الشيك المصدق، إذا كان له رصيد قابل للسحب، بالعملة المكتوب بها عند استيفائه، وتم حجز المؤسسة له. أو سلمت دافعه إشعاراً بقبضه.

أو القيد المصرفي في حساب المشتري، فيكون له من الأحكام ما للقبض الحقيقي. وقد صدر بهذا قرار كل من المجمع الفقهي الإسلامي بمكة،(1) ومجمع الفقه الإسلامي بجدة. وأرى اعتبار هذه الوسائل قبضاً؛ لاستنادها إلى شيء مادي، وهو ما أقصده عند قولي بجواز القبض الحكمي، في هذا الكتاب أو غيره. على أن يكون هذا القيد ممثلاً حقيقياً لدخول كامل مبلغ الثمن في حساب العميل. أما إذا كان القيد لا يقابله دخول الثمن والمثمن في حساب العاقدين، فإنه حينئذ يكون حيلة فاسدة، ولا يصح أن يكون قبضاً؛ إذ يقع كثيرًا أن تبيع المصارف كميات من الذهب، أو العملات الأخرى دون أن يكون عندها المقدار المبيع؛ وذلك لعلمها أن المشتري لا يطلب استلام ذهبه، أو عملته التي اشتراها؛ لأنه يعتمد على القيود الدفترية فقط.

وبيع المصارف عملات غير مملوكة لها، فضلاً عن أن تكون موجودة لديها حرام، والعقد باطل شرعاً؛ لأنه فاقد لشرطي الحلول والتقابض، لقول النبي صلى الله عليه وسلم لحكيم بن حزام: «لا تبع ما ليس عندك»(2). قال الترمذي: حديث حسن، وقال عنه في رواية أخرى: حسن صحيح. ولأن القيد الدفتري -والحالة هذه- لا يمثل قبضاً، وإنما هو وسيلة خداع.

--------------------------------------------

(1) القرار السابع من الدورة الحادية عشرة، سنة 1409 هـ.

(2) سنن الترمذي 5/ 242 و 243.
‌‌দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ:

পরোক্ষ দখল (القبض الحكمي):

পরোক্ষ দখল (القبض الحكمي) বলতে উদ্দেশ্য হলো: যা প্রত্যক্ষ দখল (القبض الحقيقي)-এর স্থলাভিষিক্ত হয় এবং তার বিধান গ্রহণ করে। ফকিহগণ (الفقهاء) অনেক ক্ষেত্রে পরোক্ষ দখল (القبض الحكمي)-এর কথা বলেছেন এবং একে প্রত্যক্ষ দখল (القبض الحقيقي)-এর স্থলাভিষিক্ত করেছেন। আর এটি এমন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হয় যা বস্তুগত, যেমন:

প্রত্যয়িত চেক (Certified Check), যদি তাতে উত্তোলনের উপযোগী ব্যালেন্স থাকে, যা চেকটি নগদায়নের সময় লিখিত মুদ্রায় পাওয়া সম্ভব হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি তা গ্রহীতার জন্য সংরক্ষিত করে রাখে। অথবা যদি অর্থ প্রদানকারীকে তা গ্রহণের একটি প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রদান করা হয়।

অথবা ক্রেতার অ্যাকাউন্টে ব্যাংক এন্ট্রি বা জমা হওয়া; যা প্রত্যক্ষ দখল (القبض الحقيقي)-এর মতো বিধানেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। মক্কায় অবস্থিত ইসলামিক ফিকহ একাডেমি এবং জেদ্দায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক ইসলামিক ফিকহ একাডেমি—উভয় প্রতিষ্ঠান থেকেই এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আমি এই মাধ্যমগুলোকে দখল (قبض) হিসেবে গণ্য করা সমীচীন মনে করি; কারণ এগুলো বস্তুগত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আর এই কিতাবে বা অন্য কোথাও আমি যখন পরোক্ষ দখল (القبض الحكمي) জায়েজ হওয়ার কথা বলি, তখন এটিই আমার উদ্দেশ্য থাকে। তবে শর্ত হলো, এই এন্ট্রি বা জমা হওয়া বিষয়টি যেন গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে মূল্যের পূর্ণ অর্থ প্রবেশের প্রকৃত প্রতিফলন হয়। কিন্তু যদি এই এন্ট্রির বিপরীতে চুক্তিবদ্ধ উভয় পক্ষের অ্যাকাউন্টে মূল্য ও বিক্রিত পণ্যের প্রকৃত প্রবেশ না ঘটে, তবে সেটি একটি কলুষিত কৌশল (حيلة فاسدة) হিসেবে গণ্য হবে এবং তা দখল (قبض) হিসেবে সঠিক হবে না। কারণ প্রায়শই দেখা যায় যে, ব্যাংকগুলো সোনা বা অন্যান্য মুদ্রা বিক্রি করে অথচ তাদের কাছে বিক্রিত পরিমাণ পণ্য মজুদ থাকে না। তারা এটি করে কারণ তারা জানে যে, ক্রেতা তার ক্রয়কৃত সোনা বা মুদ্রা সরাসরি হাতে নিতে চাইবে না; বরং সে কেবল খতিয়ানের এন্ট্রির ওপর নির্ভর করবে।

ব্যাংকগুলোর মালিকানাধীন নয় এমন মুদ্রা বিক্রি করা, এমনকি তা তাদের কাছে বিদ্যমান না থাকা তো আরও দূরের কথা—তা নিষিদ্ধ (حرام) এবং শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এই চুক্তিটি বাতিল (باطل); কারণ এটি তাৎক্ষণিকতা (الحلول) এবং পারস্পরিক দখল বিনিময় (التقابض) সংক্রান্ত শর্ত দুটি হারিয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাকিম বিন হিযামকে লক্ষ্য করে বলেছেন: «তোমার কাছে যা নেই তা বিক্রি করো না»। ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি উন্নত (حسن) হাদিস, এবং অন্য রেওয়ায়েতে তিনি এর সম্পর্কে বলেছেন: উন্নত বিশুদ্ধ (حسن صحيح)। আর কারণ হলো—এই অবস্থায়—খতিয়ানের এন্ট্রি দখল (قبض) হিসেবে গণ্য হয় না, বরং এটি একটি প্রতারণার কৌশল মাত্র।

--------------------------------------------

(১) ১১তম অধিবেশনের ৭ম সিদ্ধান্ত, ১৪০৯ হিজরি।

(২) সুনান তিরমিজি ৫/ ২৪২ ও ২৪৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن صوره تسلم البائع قسيمة الدفع الموقعة من حامل بطاقة الائتمان (المشتري)، في الحالة التي يمكن فيها للمؤسسة المصدرة للبطاقة أن تدفع المبلغ إلى قابل البطاقة بدون أجل.

وفي جميع ذلك، يجب على المصرف أو المؤسسة، اتخاذ الاحتياطات والإجراءات اللازمة، للتثبت من هوية المتعاملين معها عبر الشبكة، والتحقق من أهليتهم للتعاقد على الوجه الصحيح؛ حماية لأموال المتعاقدين.

ومن صور القبض الحكمي: في غير الصرف التخلية بين المشتري والمبيع، بحيث يكون سالماً له، ويتمكن من قبضه. وحكموا بالقبض، ولو لم يتم بالفعل في هذه الحالة، على تضييق وتوسيع في اعتبار التخلية قبضاً في بعض البيوع دون بعضها، أو في أكثرها.

أما في الصرف فقد نص الفقهاء على أنه لا تكفي التخلية، وأنه لا بد من القبض باليد، كما بيناه في شروط الصرف، وهو ما يراه المؤلف لحديث ابن عمر رضي الله عنهما قلت: يا رسول الله إني أبيع الإبل بالبقيع، فأبيع بالدنانير وآخذ الدراهم، وأبيع بالدراهم وآخذ الدنانير.

فهذا جائز لا لأنه مخلى بين البائع وبين الثمن الذي باع الإبل به، وإنما لأنه باعه ممن هو قابض له؛ ولأن المطلوب في الصرف المناجزة، وصرف ما في الذمة أسرع مناجزة من صرف المعينات؛ لأن صرف ما في الذمة ينقضي بنفس الإيجاب والقبول والقبض من جهة واحدة، وصرف المعينات لا ينقضي إلا بقبضها معاً، فهو معرض للعدول، فصرف ما في الذمة أولى بالجواز(1). يؤيده أنه لا يجوز بيعها على شخص آخر، ولو كانت التخلية كافية في الصرف؛ لجاز بيعه تلك الدراهم التي لم يقبضها على شخص آخر.

جاء في المنتقى للباجي: «إن حلول ما في الذمة يقوم مقام حضور ما هي مشغولة به، والقبض يتنجز فيه بإبرائها منه»(2).

--------------------------------------------

(1) شرح الأبي على صحيح مسلم 5/ 472.

(2) / 363.
এর একটি রূপ হলো বিক্রেতার ক্রেডিট কার্ডধারী (ক্রেতা) কর্তৃক স্বাক্ষরিত পেমেন্ট ভাউচার গ্রহণ করা, এমন ক্ষেত্রে যেখানে কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান বিলম্ব ছাড়াই কার্ড গ্রহণকারীকে অর্থ প্রদান করতে সক্ষম।

এই সকল ক্ষেত্রে, ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লেনদেনকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং চুক্তিবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা (الأهلية) যথাযথভাবে যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক; যাতে চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলোর অর্থ সুরক্ষিত থাকে।

বিধানগত হস্তগতকরণের (القبض الحكمي) একটি রূপ হলো: মুদ্রা বিনিময় (الصرف) ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে ক্রেতা এবং বিক্রিত পণ্যের মধ্যবর্তী প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেওয়া (التخلية), যাতে পণ্যটি তার জন্য নিরাপদ হয় এবং সে তা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। ফকীহগণ এই অবস্থায় পণ্যটি সরাসরি হস্তগত না হলেও সেটিকে হস্তগত হওয়া (القبض) বলে রায় দিয়েছেন; যদিও কোনো কোনো কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করাকে হস্তগতকরণ (القبض) হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে কড়াকড়ি বা শিথিলতা রয়েছে।

তবে মুদ্রা বিনিময়ের (الصرف) ক্ষেত্রে ফকীহগণ স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল প্রতিবন্ধকতা দূর করা (التخلية) যথেষ্ট নয়, বরং হাতে হাতে হস্তগত করা (القبض باليد) আবশ্যক, যেমনটি আমরা মুদ্রা বিনিময়ের শর্তাবলীতে ব্যাখ্যা করেছি। লেখক এটি ইবনে উমর (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে মনে করেন, যেখানে তিনি বলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি বাক্বী’তে উট বিক্রি করি; আমি দিনারের বিনিময়ে বিক্রি করে দিরহাম গ্রহণ করি এবং দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিনার গ্রহণ করি।"

এটি জায়েজ, তবে এই কারণে নয় যে বিক্রেতা ও উট বিক্রির মূল্যের মাঝে কেবল প্রতিবন্ধকতা দূর (مخلى) করা হয়েছে, বরং এই কারণে যে সে তা এমন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছে যে তা হস্তগতকারী (قابض)। আর কারণ হলো মুদ্রা বিনিময়ের (الصرف) ক্ষেত্রে নগদ লেনদেন (المناجزة) কাম্য; আর জিম্মায় থাকা ঋণের মুদ্রা বিনিময় নির্ধারিত নির্দিষ্ট মুদ্রার বিনিময়ের চেয়ে দ্রুত সম্পন্ন হয়। কেননা জিম্মায় থাকা ঋণের বিনিময় কেবল প্রস্তাব ও গ্রহণ (الإيجاب والقبول) এবং এক পক্ষ থেকে হস্তগত করার (القبض) মাধ্যমেই শেষ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে নির্দিষ্ট জিনিসের বিনিময় উভয় পক্ষ থেকে হস্তগত করা ছাড়া শেষ হয় না, ফলে এতে লেনদেন বাতিলের সুযোগ থাকে। তাই জিম্মায় থাকা ঋণের বিনিময় জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য। এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো, এই দিরহাম অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা বৈধ নয়; যদি মুদ্রা বিনিময়ের (الصرف) ক্ষেত্রে কেবল প্রতিবন্ধকতা দূর করাই যথেষ্ট হতো, তবে হস্তগত না করা সেই দিরহামগুলো অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা জায়েজ হতো।

বাজির আল-মুনতাকা গ্রন্থে এসেছে: «নিশ্চয়ই জিম্মায় থাকা ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়া সেই বস্তুর উপস্থিতির স্থলাভিষিক্ত হয় যার দ্বারা জিম্মাটি আবদ্ধ ছিল, এবং দায়মুক্তি (الإبراء) প্রদানের মাধ্যমেই সেখানে হস্তগতকরণ (القبض) সম্পন্ন হয়»।

--------------------------------------------

(১) শারহু আল-আবি আলা সহিহ মুসলিম ৫/ ৪৭২।

(২) / ৩৬৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المطلب الثالث:

قبض البعض:

إذا حصل التقابض في بعض الثمن دون بعضه، وافترقا بطل الصرف فيما لم يقبض باتفاق الفقهاء. واختلفوا فيما تم فيه التقابض على قولين:

القول الأول: صحة العقد فيما قبض وبطلانه فيما لم يقبض. وهذا رأي جمهور الفقهاء من الحنفية والشافعية، وهو المذهب عند الحنابلة، وقول عند المالكية(1)، وقالت به هيئة المعايير الشرعية(2)، وعلل الحنفية لذلك بأنه: يتقدر الفساد بقدر ما لم يقبض، ولا يشيع لأنه طارئ، ولا يكون هذا تفريقاً للصفقة(3). وقال الحنابلة: وذلك بناءً على تفريق الصفقة(4)؛ إذ إنها تصح في الصحيح، وتفسد في الفاسد منها.

القول الثاني: بطلان العقد في الكل، وهو قول عند المالكية، ووجه آخر عند الحنابلة(5).

والراجح مذهب الجمهور، وهو صحة الصرف فيما قبض، وبطلانه فيما لم يقبض، لاختصاص البطلان بالمبطل، وليس من الأدلة ما يدل على سريان البطلان إلى الصحيح.

--------------------------------------------

(1) تبيين الحقائق 4/ 138، شرح العناية على الهداية 7/ 143، بداية المجتهد 2/ 198، مواهب الجليل 4/ 306، الأم 6/ 90، للإمام الشافعي، تحقيق الدكتور أحمد بدر الدين حسون، دار قتيبة ط الأولى، سنة 1416 هـ، 1996 م، نهاية المحتاج 3/ 426، حاشية القليوبي 2/ 167، المغني 6/ 113، الإنصاف 5/ 45.

(2) المعايير الشرعية ص 57 المعيار رقم (1).

(3) تبيين الحقائق 4/ 138.

(4) المغني 6/ 113.

(5) المدونة 3/ 393، مواهب الجليل 4/ 306، المقدمات 2/ 15، بداية المجتهد 2/ 198، الكشاف 3/ 266، الإنصاف 5/ 45.
‌‌তৃতীয় অনুচ্ছেদ:

আংশিক কবজ (গ্রহণ):

যদি মূল্যের একাংশ হস্তান্তরের (তাকাবুদ) পর এবং অন্য অংশ হস্তান্তরের পূর্বে উভয় পক্ষ পৃথক হয়ে যায়, তবে ফকিহগণের ঐকমত্য অনুযায়ী যে অংশ কবজ (গ্রহণ) করা হয়নি সে অংশে মুদ্রা বিনিময় (সরফ) চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। আর যে অংশে কবজ (গ্রহণ) সম্পন্ন হয়েছে, সে ব্যাপারে তারা দুটি মতের ভিত্তিতে ভিন্নমত পোষণ করেছেন:

প্রথম মত: যে অংশে কবজ (গ্রহণ) হয়েছে সে অংশে চুক্তিটি সঠিক (صحيح) হওয়া এবং যে অংশে কবজ (গ্রহণ) হয়নি সে অংশে তা বাতিল হওয়া। এটি হানাফি ও শাফিঈ মাজহাবের অধিকাংশ (জুমহুর) ফকিহগণের অভিমত, এটিই হাম্বলি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য বক্তব্য এবং মালিকি মাজহাবের একটি মত(১)। শরয়ি মানদণ্ড কমিটিও(২) একই মত ব্যক্ত করেছে। হানাফিগণ এর কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে: চুক্তির অসারতা কবজ (গ্রহণ) না করার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে; এটি পুরো চুক্তিতে ছড়িয়ে পড়বে না কারণ এটি পরে উদ্ভূত একটি বিষয় এবং এটি চুক্তির বিভাজন (তাফরিকুস সাফকাহ) হিসেবে গণ্য হবে না(৩)। হাম্বলিগণ বলেন: এটি চুক্তির বিভাজন (তাফরিকুস সাফকাহ) নীতির ওপর ভিত্তি করে(৪); কারণ চুক্তিটি সঠিক (صحيح) অংশের ক্ষেত্রে কার্যকর হয় এবং এর ত্রুটিপূর্ণ অংশের ক্ষেত্রে বাতিল হয়ে যায়।

দ্বিতীয় মত: পুরো চুক্তিটি বাতিল হওয়া। এটি মালিকি মাজহাবের একটি বক্তব্য এবং হাম্বলি মাজহাবের অন্য একটি অভিমত(৫)।

আর জুমহুর ফকিহগণের মতটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য। তা হলো—যে অংশে কবজ (গ্রহণ) হয়েছে সে অংশে মুদ্রা বিনিময় চুক্তি সঠিক (صحيح) হওয়া এবং যে অংশে কবজ (গ্রহণ) হয়নি সে অংশে তা বাতিল হওয়া। কারণ বাতিলের বিষয়টি কেবল বাতিলকারী বিষয়ের সাথেই নির্দিষ্ট থাকে এবং সঠিক (صحيح) অংশে বাতিলের সংক্রমণ ঘটার স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই।

--------------------------------------------

(১) তাবয়ীনুল হাকায়িক ৪/ ১৩৮, শারহুল ইনায়াহ আলাল হিদায়াহ ৭/ ১৪৩, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/ ১৯৮, মাওয়াহিবুল জলিল ৪/ ৩০৬, আল-উম্ম ৬/ ৯০, ইমাম শাফিঈর রচিত, ড. আহমদ বদরুদ্দিন হাসসুন সম্পাদিত, দার কুতাইবা ১ম সংস্করণ, ১৪১৬ হিজরি, ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ, নিহায়াতুল মুহতাজ ৩/ ৪২৬, হাশিয়াতুল কলয়ুবি ২/ ১৬৭, আল-মুগনি ৬/ ১১৩, আল-ইনসাফ ৫/ ৪৫।

(২) শরয়ি মানদণ্ড পৃ. ৫৭, মানদণ্ড নং (১)।

(৩) তাবয়ীনুল হাকায়িক ৪/ ১৩৮।

(৪) আল-মুগনি ৬/ ১১৩।

(৫) আল-মুদাওয়ানাহ ৩/ ৩৯৩, মাওয়াহিবুল জলিল ৪/ ৩০৬, আল-মুকাদ্দিমাত ২/ ১৫, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/ ১৯৮, আল-কাশশাফ ৩/ ২৬৬, আল-ইনসাফ ৫/ ৪৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المبحث الرابع

الموقف الشرعي من إبرام العقد بوسائل الاتصال الحديثة

إبرام العقد عبر الإنترنت أو أي من الوسائل التي سبق ذكرها، يأخذ أحكام التعاقد بين حاضرين. وتسري عليه جميع أحكامه، كاشتراط اتحاد المجلس، وعدم صدور ما يدل على إعراض أحد العاقدين عن التعاقد، والموالاة بين الإيجاب والقبول بحسب العرف الشرعي، وما إلى ذلك من أحكام.

فإذا صدر القبول من الطرف الآخر، مستوفياً ما ذكرنا من الشروط، ينعقد العقد، لأن من المقرر فقهاً، أنه متى أعلن القابل عن رضاه بالإيجاب توافقت الإرادتان وتم العقد. وقد صدر بهذا قرار مجمع الفقه الإسلامي الدولي ونصه: «إذا تم التعاقد بين غائبين لا يجمعهما مكان واحد، ولا يرى أحدهما الآخر معاينة، ولا يسمع كلامه، وكانت وسيلة الاتصال بينهما هي الكتابة أو الرسالة أو السفارة (الرسول)، وينطبق هذا على البرق والتلكس والفاكس وشاشات الحاسب الآلي (الحاسوب)، ففي هذه الحالة ينعقد العقد عند وصول الإيجاب إلى الموجّه إليه وقبوله»(1).

ومن حق الطرف الراغب في التعاقد أن يتأمل الأمر المعروض عليه، ما داما في مجلس العقد، ولا يلزمه القبول فورًا خلافًا للشافعية.

والتعاقد يعد في هذه الحالات -من حيث الأصل- تعاقداً بين حاضرين من حيث الزمان، وغائبين من حيث المكان، ما لم يتفرقا من المجلس. أما إذا تفرقا من المجلس وقد جعل الموجب للطرف الثاني، مدة من الزمن، أكثر من فترة مجلس

--------------------------------------------

(1) قرار رقم 52/ 3/ 6.
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ

আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে চুক্তি সম্পাদনের শরয়ি অবস্থান

ইন্টারনেট বা ইতিপূর্বে উল্লেখিত যেকোনো মাধ্যমের সাহায্যে চুক্তি সম্পাদন করা মুখোমুখি উপস্থিত দুই ব্যক্তির মধ্যে চুক্তি সম্পাদনের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে। এর ওপর চুক্তির যাবতীয় বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে; যেমন—মজলিসের ঐক্য বা এক হওয়া শর্ত হওয়া, কোনো পক্ষ থেকে চুক্তি বিমুখতার প্রমাণ পাওয়া যায় এমন কোনো আচরণ প্রকাশ না পাওয়া এবং শরয়ি প্রথা অনুযায়ী প্রস্তাব ও গ্রহণের মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় থাকা ইত্যাদি বিধান।

সুতরাং যদি অন্য পক্ষ থেকে উল্লিখিত শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে গ্রহণ বা কবুলিয়ত প্রকাশ পায়, তবে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়ে যাবে। কারণ ফিকহিভাবে এটি সুনির্ধারিত যে, যখন গ্রহণকারী প্রস্তাবের প্রতি তার সন্তুষ্টি প্রকাশ করে, তখন উভয় পক্ষের ইচ্ছার সমন্বয় ঘটে এবং চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে যার পাঠ হলো: “যখন এমন দুই অনুপস্থিত ব্যক্তির মাঝে চুক্তি সম্পাদিত হয় যারা একই স্থানে উপস্থিত নন, একে অপরকে সরাসরি দেখছেন না এবং একে অপরের কথা শুনছেন না, আর তাদের মাঝে যোগাযোগের মাধ্যম হলো লিখনী, বার্তা কিংবা দূত—আর এটি টেলিগ্রাফ, টেলেক্স, ফ্যাক্স এবং কম্পিউটারের পর্দার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য—এমতাবস্থায় যখন সম্বোধিত ব্যক্তির নিকট প্রস্তাব পৌঁছাবে এবং সে তা গ্রহণ করবে, তখন চুক্তিটি সম্পাদিত হবে।”(১).

চুক্তিতে আগ্রহী পক্ষের সামনে উপস্থাপিত বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার অধিকার রয়েছে যতক্ষণ তারা চুক্তির মজলিসে অবস্থান করবেন। শাফেয়িগণের ভিন্নমত থাকলেও চুক্তির প্রস্তাব পাওয়ার সাথে সাথেই তা গ্রহণ করা তার জন্য আবশ্যক নয়।

এ সকল ক্ষেত্রে চুক্তিটি—মূলত—সময়ের বিচারে উপস্থিত দুই ব্যক্তির মধ্যকার এবং স্থানের বিচারে অনুপস্থিত দুই ব্যক্তির মধ্যকার চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে, যতক্ষণ না তারা মজলিস থেকে বিচ্ছিন্ন হন। তবে যদি তারা মজলিস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং প্রস্তাবকারী দ্বিতীয় পক্ষকে মজলিসের সময়ের চেয়ে দীর্ঘতর কোনো সময় নির্ধারণ করে দেন...

--------------------------------------------

(১) সিদ্ধান্ত নম্বর ৫২/ ৩/ ৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
العقد -في غير الصرف-، فإن التعاقد يكون حينئذ بين غائبين زماناً ومكاناً، والمعتبر في المجلس هو الاتحاد الزماني(1)، أما التعاقد بين الطرفين بواسطة الكتابة عبر الإنترنت، أو بالمراسلة عبر البريد الإلكتروني، أو عبر الموقع، فإنه يأخذ حكم التعاقد بين غائبين. ويرى بعض الفقهاء انعقاد العقد عند وصول الإيجاب إلى الموجه إليه وقبوله ولا يشترط علم الموجب بالقبول.

وأرى أن اشتراط علم الموجب بالقبول في هذه المعاملات، هو الذي يوافق مقاصد الشريعة في حفظ المال، نظراً لطبيعة التعاقد عبر هذه الوسائل في هذا العصر، وللحاجة الماسة إلى التثبت، تلافياً لاحتمال الاستغلال من بعض المتعاملين.

وقد اشترط ذلك المعيار الشرعي للمعاملات المالية بالإنترنت؛ إذ جاء فيه ينعقد العقد باستخدام الإنترنت -أياً كانت طريقة التعاقد- عند علم الموجب بقبول الطرف الآخر، ولا يكفي لانعقاد العقد مجرد صدور القبول(2).

وفي بيع العملات بوسائل الاتصال الحديثة، يبدأ مجلس العقد من دخول الراغب في التعاقد إلى الموقع، وإصدار الإيجاب للطرف الثاني، ويستمر مجلس العقد حتى قبول القابل أو خروجه من الموقع. أو انقطاع التواصل، ما دام أنه لم يخرج أي منهما من مجلسه.

أما الرسالة الإلكترونية الموجهة عبر الموقع على الشبكة، أو عبر البريد الإلكتروني، المتعلقة بالعقد المزمع إبرامه، فإنها لا تعتبر إيجاباً، إذا كانت لا تتضمن بيان جميع الحقوق والالتزامات الجوهرية، أو كان مرسلها قد اشترط لنفسه الحق في رفض العقد، ولو قبل الطرف الآخر، إذ إن من شروط الإيجاب شرعاً أن يكون باتًّا منجزًا لا يحتمل أمرًا آخر(3).

--------------------------------------------

(1) فتح القدير 3/ 190 - 192، وحاشية الدسوقي على الشرح الكبير 3/ 5، ومغني المحتاج 2/ 5، والمغني 3/ 481، وينظر أيضاً: المدخل الفقهي العام 1/ 348.

(2) بند 6/ 1.

(3) فتح القدير 3/ 190 - 192، وحاشية الدسوقي على الشرح الكبير 3/ 5، ومغني المحتاج 2/ 5، والمغني 3/ 481.
চুক্তি (العقد) -মুদ্রা বিনিময় (الصرف) ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে-, সময় ও স্থানের দিক থেকে দুই অনুপস্থিত (غائبين) পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত হয়। মজলিসের (المجلس) ক্ষেত্রে ধর্তব্য বিষয় হলো সময়গত ঐক্য (الاتحاد الزماني)(1)। আর ইন্টারনেটে লিখনীর মাধ্যমে, ইমেইলের মাধ্যমে অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি দুই অনুপস্থিত ব্যক্তির (غائبين) মধ্যে চুক্তির বিধান (حكم) গ্রহণ করে। কোনো কোনো ফকিহ (الفقهاء) মনে করেন যে, উদ্দিষ্ট ব্যক্তির নিকট প্রস্তাব (الإيجاب) পৌঁছালে এবং তিনি তা গ্রহণ (القبول) করলে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়ে যায়; এক্ষেত্রে প্রস্তাবকারীর সেই গ্রহণ (القبুল) সম্পর্কে অবগত হওয়া শর্ত নয়।

আমি মনে করি, এই ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রস্তাবকারীর কবুল সম্পর্কে অবগত হওয়ার শর্তটিই সম্পদ রক্ষার (حفظ المال) ক্ষেত্রে শরিয়তের মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যের (مقاصد الشريعة) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; বর্তমানে এই মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদনের প্রকৃতি এবং প্রতারণা এড়ানোর জন্য ও একপক্ষ কর্তৃক অন্যপক্ষকে শোষণের সম্ভাবনা রোধে অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করলে এটিই সংগত।

ইন্টারনেটে আর্থিক লেনদেনের শরয়ি মানদণ্ডে (المعيار الشرعي) এই বিষয়টি শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে; সেখানে বলা হয়েছে: ইন্টারনেটে সম্পাদিত চুক্তি -চুক্তি সম্পাদনের পদ্ধতি যাই হোক না কেন- তখন সম্পন্ন হবে যখন প্রস্তাবকারী অপর পক্ষের গ্রহণ (القبول) সম্পর্কে অবগত হবেন। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার জন্য কেবল গ্রহণ (القبول) প্রকাশ হওয়াই যথেষ্ট নয়(2)।

আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়ের (بيع العملات) ক্ষেত্রে, চুক্তির মজলিস (مجلس العقد) শুরু হয় যখন চুক্তিতে আগ্রহী ব্যক্তি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন এবং দ্বিতীয় পক্ষের জন্য প্রস্তাব (الإيجاب) পেশ করেন। এই মজলিস চলতে থাকে যতক্ষণ না গ্রহণকারী তা গ্রহণ করেন অথবা ওয়েবসাইট থেকে প্রস্থান করেন অথবা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের কেউ মজলিস থেকে প্রস্থান না করেন।

আর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বা ইমেইলের মাধ্যমে প্রেরিত ইলেকট্রনিক বার্তা, যা কোনো সম্ভাব্য চুক্তির সাথে সম্পর্কিত, তা প্রস্তাব (إيجابًا) হিসেবে গণ্য হবে না যদি তাতে মৌলিক অধিকার ও বাধ্যবাধকতাগুলোর পূর্ণ বিবরণ না থাকে, অথবা যদি প্রেরক নিজের জন্য চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার অধিকার সংরক্ষণ করেন (এমনকি অপর পক্ষ গ্রহণ করার পরেও)। কারণ, শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রস্তাবের (الإيجاب) অন্যতম শর্ত হলো এটি চূড়ান্ত ও তাৎক্ষণিক (باتًّا منجزًا) হতে হবে এবং অন্য কোনো পরিস্থিতির সম্ভাবনা রাখা চলবে না(3)।

--------------------------------------------

(1) ফাতহুল কাদির ৩/১৯০-১৯২, আশ-শারহুল কাবিরের ওপর হাশিয়াতুদ দিসুকি ৩/৫, মুগনি আল-মুহতাজ ২/৫, আল-মুগনি ৩/৪৮১; আরও দেখুন: আল-মাদখাল আল-ফিকহি আল-আম্ম ১/৩৪৮।

(2) ধারা ৬/১।

(3) ফাতহুল কাদির ৩/১৯০-১৯২, আশ-শারহুল কাবিরের ওপর হাশিয়াতুদ দিসুকি ৩/৫, মুগনি আল-মুহতাজ ২/৫, আল-মুগনি ৩/৪৮১।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ولما بيناه فيما سبق فإن التعاقد بوسائل الاتصال الحديثة -ومنها الإنترنت- بين عاقدين في مكانين متباعدين، جائز شرعاً؛ من حيث صحة صيغة العقد، وتنشأ عنه ذات الآثار المترتبة على إجراء العقد في مكان واحد.

والإيجاب المحدد المدة، الصادر بإحدى الوسائل المشار إليها، يظل ملزماً لمن أصدره أثناء تلك المدة، ما داما في المجلس. ولا يتم العقد إلا عند القبول والتقابض الحقيقي، أو الحكمي، كما بيناه.
আমরা ইতিপূর্বে যা বর্ণনা করেছি সেই অনুযায়ী, আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে—যার অন্তর্ভুক্ত হলো ইন্টারনেট—দুটি দূরবর্তী স্থানে অবস্থানরত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করা শরীয়তসম্মতভাবে বৈধ (جائز شرعاً); চুক্তির কাঠামোর (صيغة العقد) বিশুদ্ধতা (صحة) বিচারে এটি সঠিক, এবং এর ফলে একই স্থানে সম্পাদিত চুক্তির ন্যায় সমজাতীয় আইনি প্রভাব সৃষ্টি হবে।

উল্লিখিত মাধ্যমসমূহের কোনো একটির মাধ্যমে প্রেরিত নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রস্তাব (إيجاب), সেই সময়সীমা চলাকালীন প্রস্তাবকারীর জন্য বাধ্যতামূলক (ملزم) থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা মজলিসে (المجلس) অবস্থান করবেন। আর কবুল (قبول) বা গ্রহণ এবং প্রকৃত (الحقيقي) অথবা পরোক্ষ (الحكمي) দখল হস্তান্তরের (التقابض) মাধ্যমেই কেবল চুক্তিটি সম্পন্ন হবে, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌المبحث الخامس

التوكيل في المتاجرة بالعملات

الوكالة في الصرف جائزة عند جمهور العلماء؛ الحنفية، والشافعية، والحنابلة والراجح عند المالكية(1)، بل ذكر ابن المنذر الإجماع عليه، كما حكاه الحافظ ابن حجر عنه(2)؛ لما أخرجه البخاري عن أبي سعيد الخدري وأبي هريرة رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم استعمل رجلاً على خيبر، فجاءهم بتمر جنيب، فقال أكل تمر خيبر هكذا؟ فقال: إنا لنأخذ الصاع بالصاعين، والصاعين بالثلاثة، فقال لا تفعل، بع الجمع بالدراهم، ثم ابتع بالدراهم جنيباً. وقال في الميزان مثل ذلك(3).

وقوله: في الميزان مثل ذلك: أي الموزون مثل ذلك، لا يباع رطل برطلين.

قال ابن حجر: «ومناسبة الحديث للترجمة ظاهرة؛ لتفويضه صلى الله عليه وسلم أمر ما يكال ويوزن إلى غيره، فهو في معنى الوكيل عنه، ويلتحق به الصرف»(4).

واستدل له أيضاً بأن عمر وابنه رضي الله عنهما قد وكلا في الصرف. أما أثر عمر بن الخطاب فعن طريق موسى بن أنس عن أبيه: «أن عمر أعطاه آنية مموهة بالذهب، فقال له: اذهب فبعها، فباعها من يهودي بضعف وزنه، فقال له عمر: أردده، فقال اليهودي: أزيدك؟ فقال له عمر: لا إلا بوزنه»(5).

وبما أثر عن عبد الله بن عمر من طريق الحسن بن سعد قال: «كانت لي عند ابن عمر دراهم، فأصبت عنده دنانير، فأرسل معي رسولاً إلى السوق، فقال: إذا

--------------------------------------------

(1) المبسوط 14/ 60، رد المحتار 4/ 234، البدائع 5/ 216، المقدمات 2/ 18، مواهب الجليل 4/ 308، القوانين الفقهية ص 251، الشرح الصغير مع بلغة السالك 2/ 15، الأم 6/ 91، البيان والتحصيل 6/ 455، المجموع 10/ 148، حاشية القليوبي 2/ 167، مغني المحتاج 2/ 22، كشاف القناع 3/ 266.

(2) فتح الباري 4/ 481.

(3) صحيح البخاري بشرحه فتح الباري 4/ 181.

(4) فتح الباري 4/ 481.

(5) المصدر السابق 4/ 481.
‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ

মুদ্রা কেনাবেচায় প্রতিনিধিত্ব (ওয়াকালাহ)

জমহুর (অধিকাংশ) আলেমদের মতে মুদ্রাবিনিময়ে (সারফ) প্রতিনিধিত্ব বৈধ; এটি হানাফি, শাফিঈ ও হাম্বলি মাজহাব এবং মালেকি মাজহাবের অগ্রগণ্য (الراجح) মত(১)। এমনকি ইবনুল মুনজির এ বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত) উল্লেখ করেছেন, যা হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন(২); কারণ বুখারি আবু সাঈদ আল-খুদরি ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে খায়বারের আমিল (গভর্নর) নিযুক্ত করেন। এরপর তিনি তাঁদের কাছে ‘জানিবে’ (উন্নত মানের) খেজুর নিয়ে আসলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করলেন: “খায়বারের সব খেজুরই কি এরকম?” তিনি বললেন: “আমরা এক সা (উন্নত খেজুর)-এর বিনিময়ে দুই সা (সাধারণ খেজুর) এবং দুই সা-এর বিনিময়ে তিন সা গ্রহণ করি।” তখন তিনি বললেন: “এমন করো না। বরং সাধারণ মিশ্রিত খেজুর দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করো, এরপর সেই দিরহাম দিয়ে উন্নত মানের খেজুর ক্রয় করো।” আর তিনি ওজনের (মিজান) ক্ষেত্রেও অনুরূপ কথা বলেছেন(৩)।

আর তাঁর উক্তি: “ওজনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ”, এর অর্থ হলো: ওজন করা হয় এমন জিনিসের ক্ষেত্রেও বিধান একই রকম, যেখানে এক রতলের বিনিময়ে দুই রতল বিক্রি করা যাবে না।

ইবনে হাজার বলেন: “অধ্যায়ের শিরোনামের সাথে হাদিসটির প্রাসঙ্গিকতা স্পষ্ট; কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিমাপ ও ওজনযোগ্য জিনিসের দায়িত্ব অন্য একজনকে অর্পণ করেছিলেন, যা মূলত তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিনিধি (ওয়াকিল) হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে এবং মুদ্রাবিনিময়ও (সারফ) এর অন্তর্ভুক্ত হবে”(৪)।

এর স্বপক্ষে আরও দলিল দেওয়া হয় যে, ওমর এবং তাঁর পুত্র (রা.) মুদ্রাবিনিময়ে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন। ওমর ইবনুল খাত্তাবের আসার (أثر) সম্পর্কে মুসা ইবনে আনাস তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে: “ওমর তাঁকে স্বর্ণখচিত একটি পাত্র প্রদান করেন এবং বলেন: ‘এটি নিয়ে যাও এবং বিক্রি করো।’ তিনি তা একজন ইহুদির কাছে ওজনের দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি করলেন। তখন ওমর তাঁকে বললেন: ‘এটি ফিরিয়ে দাও।’ ইহুদি বলল: ‘আমি কি আপনাকে আরও বাড়িয়ে দেব?’ ওমর বললেন: ‘না, সমান ওজন ব্যতিরেকে নয়’”(৫)।

এবং আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে হাসান ইবনে সা'দ-এর সূত্রে যা বর্ণিত (أثر) হয়েছে, তিনি বলেন: “ইবনে ওমরের কাছে আমার কিছু দিরহাম পাওনা ছিল, এরপর আমি তাঁর কাছে কিছু দিনার পেলাম। তখন তিনি বাজারে আমার সাথে একজন বার্তাবাহক পাঠালেন এবং বললেন: ‘যখন...

--------------------------------------------

(১) আল-মাবসুত ১৪/৬০, রাদ আল-মুহতার ৪/২৩৪, আল-বাদাই ৫/২১৬, আল-মুকাদ্দিমাত ২/১৮, মাওয়াহিব আল-জলিল ৪/৩০৮, আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ পৃ. ২৫১, আশ-শারহুস সাগির মা'আ বুলগাতুস সালিক ২/১৫, আল-উম্ম ৬/৯১, আল-বায়ান ওয়াত তাহসিল ৬/৪৫৫, আল-মাজমু ১০/১৪৮, হাশিয়াতুল কালয়ুবি ২/১৬৭, মুগনি আল-মুহতাজ ২/২২, কাশশাফ আল-কিনা ৩/২৬৬।

(২) ফাতহুল বারি ৪/৪৮১।

(৩) ফাতহুল বারির ব্যাখ্যাসহ সহিহ বুখারি ৪/১৮১।

(৪) ফাতহুল বারি ৪/৪৮১।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস ৪/৪৮১।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
قامت على سعر فأعرضها عليه، فإن أخذها، وإلا فاشتر له حقه، ثم اقضه إياه»(1)، والأثران أخرجهما البخاري معلّقين. ووصل إسنادهما ابن حجر، وقال: إسناد كل منهما صحيح(2). ويدل كل منهما على جواز الوكالة في الصرف.

أما إذا كان وكيلاً في القبض فقط؛ فيجوز ذلك عند الحنفية والحنابلة والراجح عند المالكية، ويشترطون أن يقبض الوكيل قبل تفرق العاقد(3).

أما الشافعية فلا يجيزون الوكالة في القبض في الصرف، وهو قول عند المالكية(4).

والراجح قول جمهور الفقهاء بجواز التوكيل في تجارة العملات.

ويلزم في الوكيل توفر الشروط اللازمة للأصيل، ويجوز أن يوكل شخصاً في التعاقد، وآخر في القبض.

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 4/ 481.

(2) المصدر السابق، وانظر: تغليق التعليق على صحيح البخاري 3/ 293، لأحمد بن حجر العسقلاني، المكتب الإسلامي ودار عمار.

(3) المبسوط 14/ 60، الشرح الكبير 3/ 26، للدردير، الشرح الصغير مع حاشية الصاوي 2/ 15، القوانين الفقهية ص 250، كشاف القناع 266 و 267، شرح منتهى الإرادات 2/ 201، مجلة الأحكام الشرعية، مادة 282.

(4) الأم 6/ 91، الشرح الكبير 3/ 26.
«এটি একটি নির্দিষ্ট মূল্যে নির্ধারিত হয়েছে, তাই তার কাছে এটি পেশ করো। যদি সে তা গ্রহণ করে, তবে ভালো; অন্যথায় তার জন্য তার প্রাপ্য অংশটুকু কিনে নাও এবং তাকে তা বুঝিয়ে দাও»(1); এই দুটি বর্ণনা ইমাম বুখারি ঝুলামান (معلق) হিসেবে সংকলন করেছেন। ইবনে হাজার সেগুলোর সনদকে সংযুক্ত করেছেন এবং বলেছেন: এগুলোর প্রত্যেকটির সনদ বিশুদ্ধ (صحيح)(2)। আর এগুলোর প্রতিটিই মুদ্রা বিনিময়ে প্রতিনিধিত্বের বৈধতা নির্দেশ করে।

তবে প্রতিনিধি যদি কেবল (বিনিময়কৃত সম্পদ) হস্তগত করার জন্য হয়, তবে হানাফি ও হাম্বলি মাজহাব মতে এবং মালিকি মাজহাবের অগ্রগণ্য মতানুসারে তা বৈধ। তারা শর্তারোপ করেন যে, চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয় পৃথক হওয়ার পূর্বেই প্রতিনিধিকে তা হস্তগত করতে হবে(3)।

পক্ষান্তরে শাফেয়ি মাজহাব মতে মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে হস্তগত করার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ নয়, যা মালিকি মাজহাবের একটি অভিমত(4)।

আর মুদ্রা বা কারেন্সি ব্যবসায় প্রতিনিধি নিয়োগের বৈধতার ব্যাপারে অধিকাংশ ফকিহ বা ফিকহবিদের মতটিই অগ্রগণ্য।

মূল ব্যক্তির জন্য যেসব শর্ত থাকা প্রয়োজন, প্রতিনিধির ক্ষেত্রেও সেসব শর্ত থাকা আবশ্যক। চুক্তির জন্য একজনকে এবং হস্তগত করার জন্য অন্য একজনকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা বৈধ।

--------------------------------------------

(1) ফাতহুল বারি ৪/৪৮১।

(2) পূর্বোক্ত উৎস, আরও দেখুন: আহমদ ইবনে হাজার আসকালানি প্রণীত তাগলিকুত তালি আলা সহিহ বুখারি ৩/২৯৩, আল-মাকতাবুল ইসলামি ও দারু আম্মার।

(3) আল-মাবসুত ১৪/৬০, দিরদির প্রণীত আশ-শারহুল কবির ৩/২৬, হাশিয়ায়ে সাউয়ি সহ আশ-শারহুস সাগির ২/১৫, আল-কাওয়ানিনুল ফিকহিয়্যাহ পৃষ্ঠা ২৫০, কাশশাফুল কিনা ২৬৬ ও ২৬৭, শারহু মুনতাহাল ইরাদাত ২/২০১, মাজাল্লাতুল আহকামিশ শারইয়্যাহ, ধারা ২৮২।

(4) আল-উম্ম ৬/৯১, আশ-শারহুল কবির ৩/২৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌المبحث السادس

حكم المصارفة بالوديعة المصرفية

المصارفة بالوديعة جائزة عند المالكية والحنابلة، وقيد المالكية الجواز إذا كانت الوديعة حاضرة(1).

وبناءً عليه فإن الوديعة المصرفية تكون جائزة عندهما؛ إذ لا فرق بين الوديعة المصرفية وغير المصرفية، بل إن الوديعة المصرفية أولى بالجواز لحضورها، وضمان المودَع لها، وإمكانية تسليمها للمودع عند طلبها.

ويتخرج القول بجوازها على مذهب الحنفية والشافيعة والرواية الأخرى عند المالكية؛ لأن منعهم الصرف بالوديعة، معلل بعدم دخولها في ضمان المودَع، أو لعدم حضورها، وهذا غير متحقق في الوديعة المصرفية في العصر الحاضر، قال الباجي: «ولأن حق المودع متعلق بعين مال-[أي المال المودَع]- ولم يتعلق بذمة الشخص المودع، فلا يجوز أن يصارف به إلا عند حضوره»(2).

ويقول الإمام الشافعي: «وإذا كان للرجل عند الرجل دنانير وديعة، فصارفه فيها، ولم يقر الذي عنده الدنانير أنه استهلكها حتى يكون ضامناً، ولا أنها في يده حين صارفه فيها، فلا خير في الصرف؛ لأنه غير مضمون ولا حاضر»(3).

فتعليل المانعين بغياب الوديعة، أو عدم ضمانها، غير موجود في الودائع المصرفية في هذا العصر؛ لأنها موجودة، ومضمونة على المصرف، وهي وإن سميت وديعة، فقد كيّفها مجمع المنظمة أنها قرض(4). وقال بذلك كثير من الباحثين المعاصرين، وذلك لأن الوديعة لو تلفت لا يضمنها المودَع، والودائع

--------------------------------------------

(1) الشرح الكبير 3/ 27، للدردير، بلغة السالك 1/ 16، المغني 6/ 118 و 119، كشاف القناع 3/ 270.

(2) المنتقى 4/ 263.

(3) الأم 6/ 91.

(4) قرار المجمع 1/ 97/ 196.
‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

ব্যাংক আমানতের মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময়ের বিধান

মালিকি ও হাম্বলি মাজহাব মতে আমানতের মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময় বৈধ। তবে মালিকিগণ এই বৈধতাকে আমানতটি উপস্থিত থাকার শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন(১)।

এর ওপর ভিত্তি করে, ব্যাংক আমানতের মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময় তাঁদের নিকট বৈধ হবে; যেহেতু ব্যাংক আমানত ও সাধারণ আমানতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বরং ব্যাংক আমানত উপস্থিত থাকা, আমানত গ্রহণকারীর পক্ষ থেকে তার সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান এবং আমানতকারীর চাহিদামত তা হস্তান্তরের সুযোগ থাকার কারণে এটি বৈধ হওয়ার অধিক যোগ্য।

হানাফি ও শাফেয়ি মাজহাব এবং মালিকি মাজহাবের অপর একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী এর বৈধতার বিষয়টি প্রতিভাত হয়; কারণ আমানতের মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে তাঁদের নিষেধাজ্ঞার কারণ ছিল এটি আমানত গ্রহণকারীর দায়বদ্ধতায় না থাকা অথবা উপস্থিত না থাকা। বর্তমান যুগে ব্যাংক আমানতের ক্ষেত্রে এই কারণগুলো পরিলক্ষিত হয় না। আল-বাজি বলেন: «যেহেতু আমানতকারীর অধিকার গচ্ছিত সম্পদের মূল সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট—অর্থাৎ আমানতকৃত অর্থ—এবং আমানত গ্রহণকারী ব্যক্তির জিম্মার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, তাই সেটি উপস্থিত থাকা ব্যতীত তার মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময় করা বৈধ নয়»(২)।

ইমাম শাফেয়ি বলেন: «যদি কোনো ব্যক্তির কাছে অপর কোনো ব্যক্তির দিনার আমানত হিসেবে থাকে এবং সে তার সাথে তা বিনিময় করে, আর যার কাছে দিনারগুলো ছিল সে তা খরচ করে ফেলার কথা স্বীকার না করে—যাতে সে দায়বদ্ধ হতে পারে—কিংবা বিনিময়ের সময় তা তার হস্তগত না থাকে, তবে এই বিনিময়ে কোনো কল্যাণ নেই; কারণ এটি দায়বদ্ধও নয় এবং উপস্থিতও নয়»(৩)।

সুতরাং বর্তমান যুগে ব্যাংক আমানতের ক্ষেত্রে আমানত অনুপস্থিত থাকা বা তার নিশ্চয়তা (জামানত) না থাকা সংক্রান্ত নিষেধকারীদের যুক্তিগুলো বিদ্যমান নেই; কারণ তা উপস্থিত এবং ব্যাংকের নিকট গ্যারান্টিযুক্ত। যদিও একে আমানত বলা হয়, তবে আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি একে ঋণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে(৪)। অনেক সমসাময়িক গবেষকও এই মত পোষণ করেছেন। কারণ সাধারণ আমানত যদি বিনষ্ট হয় তবে আমানত গ্রহণকারী তার দায়ভার গ্রহণ করে না, পক্ষান্তরে ব্যাংক আমানত...

--------------------------------------------

(১) আশ-শারহুল কাবীর ৩/২৭, আদ-দারদীর; বুলগাতুস সালিক ১/১৬; আল-মুগনি ৬/১১৮ ও ১১৯; কাশশাফুল কিনা ৩/২৭০।

(২) আল-মুনতাকা ৪/২৬৩।

(৩) আল-উম্ম ৬/৯১।

(৪) ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্ত ১/৯৭/১৯৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
المصرفية في هذا العصر يضمنها المصرف؛ ولأن الوديعة لا يجوز تصرف المودَع بها، ولا خلطها بماله، والمصارف تتاجر بالودائع، وتخلطها بأموالها؛ لكل هذا فهي قرض، وقبض المصرف لها قبض ضمان، وما دام ذلك كذلك، فإنه بناءً على آراء وشروط أصحاب المذاهب الأربعة في الوديعة، تجوز المصارفة بالوديعة المصرفية عندهم؛ يقول الصاوي: «لأنه لما دخل على الضمان المرتهن أو المودع صار كأنه حاضر في مجلس الصرف»(1).

--------------------------------------------

(1) بلغة السالك 2/ 16.

বর্তমান যুগে ব্যাংকিং আমানতের দায়ভার ব্যাংকই বহন করে; কারণ গচ্ছিত আমানত (الوديعة) এর ক্ষেত্রে আমানতগ্রহীতার জন্য তাতে হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয় এবং তা নিজের সম্পদের সাথে মিশ্রিত করাও জায়েজ নয়, অথচ ব্যাংকসমূহ আমানতকৃত সম্পদ দ্বারা ব্যবসা করে এবং তা নিজেদের সম্পদের সাথে মিশ্রিত করে ফেলে; এই সকল কারণে তা ঋণ (قرض) হিসেবে গণ্য হয়। আর ব্যাংকের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হলো জিম্মাদারিমূলক দখল (قبض ضمان)। আর যতক্ষণ বিষয়টি এরূপ থাকে, তখন গচ্ছিত আমানত (الوديعة) বিষয়ে চার মাযহাবের ইমামগণের মতামত ও শর্তাবলীর ভিত্তিতে তাঁদের নিকট ব্যাংকিং আমানতের মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময় (المصارفة) করা বৈধ। আস-সাবী বলেন: "যেহেতু বন্ধকগ্রহীতা (المرتهن) বা আমানতগ্রহীতা জিম্মাদারির (الضمان) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেহেতু সে যেন বিনিময় মজলিসে (مجلس الصرف) উপস্থিত রয়েছে বলেই গণ্য হবে।"(1).

--------------------------------------------

(1) বুলগাতুস সালিক 2/ 16।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌الفصل الثاني

الاتجار في العملات بالسعر الحاضر والآجل والأسعار التبادلية وكيفية تصحيح ما يمكن تصحيحه منها

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: صور الاتجار في العملات بالسعر الحاضر والآجل والأسعار التبادلية.

المبحث الثاني: كيفية تصحيح الاتجار فيما يمكن تصحيحه من صور الاتجار في العملات.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত মূল্য এবং বিনিময় হারে মুদ্রার লেনদেন এবং এর মধ্যে যা সংশোধনযোগ্য তা সংশোধনের পদ্ধতি

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত মূল্য এবং বিনিময় হারে মুদ্রার লেনদেনের ধরণসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুদ্রার লেনদেনের ধরণসমূহের মধ্যে যা সংশোধন করা সম্ভব তা সংশোধনের পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজার ফিল উমুলাত আবরা ওয়াসাইলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌المبحث الأول

صور الاتجار في العملات بالسعر الحاضر والآجل والأسعار التبادلية

‌‌المطلب الأول:

الاتجار في العملات بما يسمى بالسعر الحاضر:

يتم التعاقد بيعاً وشراءً في العملات المطلوبة، بين المصارف التجارية في أنحاء العالم، حسب الخطوات التالية: -

1 - الاتفاق بين الطرفين، عن طريق الهاتف أو أي وسيلة أخرى، على بيع أو شراء مقدار من عملة من العملات، ثم تبادل مراسلي كل من الطرفين، وعنوانهما، وأرقام حساباتهما لديهما.

2 - يؤكد الطرفان الاتفاق الذي تم بينهما برسالة عن طريق أي وسيلة اتصال معتبرة.

3 - يطلب البائع من مراسله تحويل المقدار المشترى من حسابه إلى حساب الطرف الآخر، إما في نفس المصرف، أو في مصرف آخر، حسب رغبة الطرف الآخر. ويطلب المشتري من مراسله تحويل قيمة العملة المباعة إلى حساب الطرف الآخر، إما في نفس المصرف، أو في مصرف آخر، حسب رغبة الطرف الآخر.

إلا أنه لا يدخل الثمن في حساب البائع، ولا المثمن في حساب المشتري إلا بعد يومي عمل، أو 24 ساعة على الأقل، إن حول في حسابه بالعملة التي ضارب بها من ليرات أو ريالات مثلاً، فإن كان بالدولار فإنه يحتاج وقتاً أكثر؛ إذ إنه لا يتم إلا عن طريق البنك المركزي الأمريكي، فيحتاج إلى ثلاثة أيام عمل على الأقل.
‌প্রথম পরিচ্ছেদ

নগদ ও বিলম্বে মুদ্রা লেনদেনের স্বরূপ এবং বিনিময় হারসমূহ

‌প্রথম অনুচ্ছেদ:

তথাকথিত নগদ মূল্যে (স্পট প্রাইস) কারেন্সি ট্রেডিং:

বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত মুদ্রার ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি নিচের ধাপগুলো অনুযায়ী সম্পন্ন হয়: -

১ - টেলিফোন বা অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট মুদ্রার নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রয় বা বিক্রয়ের ব্যাপারে উভয় পক্ষের মধ্যে একমত হওয়া, তারপর উভয় পক্ষের প্রতিনিধি (করেসপন্ডেন্ট), তাদের ঠিকানা ও অ্যাকাউন্ট নম্বর বিনিময় করা।

২ - উভয় পক্ষ নির্ভরযোগ্য যেকোনো যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তার দ্বারা তাদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিটি নিশ্চিত করে।

৩ - বিক্রেতা তার প্রতিনিধির কাছে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ক্রীত পরিমাণ অর্থ অপর পক্ষের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের অনুরোধ করে, যা অপর পক্ষের ইচ্ছা অনুযায়ী একই ব্যাংকে বা অন্য কোনো ব্যাংকে হতে পারে। একইভাবে ক্রেতাও তার প্রতিনিধির নিকট বিক্রিত মুদ্রার মূল্য অপর পক্ষের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের অনুরোধ করে, যা অপর পক্ষের পছন্দানুসারে একই ব্যাংকে অথবা ভিন্ন কোনো ব্যাংকে সম্পন্ন হয়।

তবে বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে মূল্য এবং ক্রেতার অ্যাকাউন্টে বিক্রিত মুদ্রা অন্তত দুই কার্যদিবস বা ২৪ ঘণ্টার আগে জমা হয় না। যদি লেনদেনকৃত মুদ্রার (যেমন লিরা বা রিয়াল) স্থানান্তর তার অ্যাকাউন্টে হয়, তবে ডলারের ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় প্রয়োজন হয়; কারণ এটি কেবল আমেরিকান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়, ফলে এতে অন্তত তিন কার্যদিবস সময়ের প্রয়োজন হয়।