(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: -)
منهج الأشاعرة في العقيدة - تعقيب على مقالات الصابوني القسم: الفرق والردود
الكتاب: منهج الأشاعرة في العقيدة تعقيب على مقالات الصابوني
المؤلف: سفر بن عبد الرحمن الحوالي
الناشر: الدار السلفية
الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 89
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 ذو الحجة 1435
আকিদার ক্ষেত্রে আশায়েরা মানহাজ - আস-সাবুনীর প্রবন্ধসমূহের ওপর একটি পর্যালোচনা বিভাগ: ফিরকা এবং খণ্ডনসমূহ
বই: আকিদার ক্ষেত্রে আশায়েরা মানহাজ: আস-সাবুনীর প্রবন্ধসমূহের ওপর একটি পর্যালোচনা
লেখক: সাফার বিন আব্দুর রহমান আল-হাওয়ালি
প্রকাশক: আদ-দার আস-সালাফিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ জিলহজ ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ১)
مَنْهَج الأشاعرة فِي العقيدة
تعقيب على مقالات الصَّابُونِي
للشَّيْخ سفر بن عبد الرَّحْمَن الْوَالِي
محَاضِر بكلية الدعْوَة وأصول الدّين
আকিদাহর ক্ষেত্রে আশায়েরা মানহাজ
আস-সাবুনীর প্রবন্ধসমূহের ওপর একটি পর্যালোচনা
শায়খ সাফর বিন আবদুর রহমান আল-ওয়ালী
দাওয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদের প্রভাষক
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ৫)
تعقيب على مقالات عَليّ الصَّابُونِيالْحَمد لله وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على من لَا نَبِي بعده. وَبعد:
فقد اطَّلَعت على مَا نشرته مجلة (الْمُجْتَمع) فِي الْأَعْدَاد من رقم 627 - 632، والمقابلة السَّابِقَة لَهَا وَكَذَلِكَ المقالتان المتضادتان فِي الْعدَد 646 مِمَّا كتبه الشَّيْخَانِ الفوزان والصابوني عَن مَذْهَب الأشاعرة.
وَإِذا كَانَ من حق أَي قَارِئ مُسلم أَن يهتم بالموضوع وَأَن يُدْلِي بِرَأْيهِ إِن كَانَ لَدَيْهِ جَدِيد، فَكيف بِمن هُوَ متخصص فِي هَذَا الْمَوْضُوع مثلي؟.
فالأشاعرة جُزْء من مَوْضُوع رسالتي للدكتوراه "ظَاهِرَة الإرجاء فِي الْفِكر الإسلامي" إِذْ هِيَ أكبر فرق المرجئة الغلاة. وَلنْ أستعجل نتائج بحثي وَلَكِن حسبي أَن أدّعي
আলী আস-সাবুনীর প্রবন্ধসমূহের ওপর পর্যালোচনাযাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যার পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:
আল-মুজতামা ম্যাগাজিনের ৬২৭ থেকে ৬৩২ সংখ্যায় প্রকাশিত বিষয়াবলি, এর পূর্ববর্তী সাক্ষাৎকার এবং তদ্রূপ ৬৪৬ নম্বর সংখ্যায় আশআরি মাযহাব সম্পর্কে শায়খ ফাওযান ও শায়খ সাবুনীর লিখিত পরস্পরবিরোধী প্রবন্ধ দুটি আমি পাঠ করেছি।
যদি কোনো মুসলিম পাঠকের জন্য এই বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা এবং তার কাছে নতুন কিছু থাকলে সে বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করা অধিকার হয়ে থাকে, তবে আমার মতো এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা কতটুকু প্রযোজ্য হতে পারে?
কেননা আশআরিগণ আমার পিএইচডি থিসিস "ইসলামি চিন্তাধারায় ইরজা-র প্রপঞ্চ" এর বিষয়ের একটি অংশ; কারণ তারা চরমপন্থী মুরজিয়া দলগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ। আমি আমার গবেষণার ফলাফল প্রদানে তাড়াহুড়ো করব না, তবে আমার জন্য এটি দাবি করাই যথেষ্ট যে
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ৬)
دَعْوَى وأطرحها للمناقشة وَأَقْبل بِكُل سرُور من يُدْلِي بوجهة نظره فِيهَا.
فَمن وَاقع إسلامي وتخصصي رَأَيْت أَن أَقُول كلمة عَسى الله أَن ينفع بهَا، - وَيعلم الله أنني لَو لم أشعر أَن قَوْلهَا وَاجِب ضَرُورِيّ لما سطرتها - وَلَكِن الْمَوْضُوع أكبر من أَن يسكت عَلَيْهِ أَو يجامل فِيهِ.
ولي على كلا الشَّيْخَيْنِ ملاحظات:(1) أما الصَّابُونِي فَلَا يؤسفني أَن أَقُول: إِن مَا كتبه عَن عقيدة السّلف والأشاعرة يفْتَقر إِلَى أساسيات بدائية لكل باحث فِي العقيدة، كَمَا أَن أسلوبه بعيد كثيرا عَن الْمنْهَج العلمي الموثق، وَعَن الأسلوب المتعقل الرصين.
وَقد استبشرت بِالْبَيَانِ الْأَخير خيرا وحسبته بَيَان رُجُوع وَبَرَاءَة فَإِذا هُوَ بَيَان إِصْرَار وتوكيد.
ونظراً لكَونه لَيْسَ إِلَّا جُزْءا من تيار بدعيٍّ يُرَاد لَهُ اكتساح الْأمة. ونظراً لتعرضه لقضايا بَالِغَة الخطورة تحْتَاج إِلَى بحث مستفيض لَا تسعه المقالات الصحفية فَسَوف
এটি একটি আহ্বান যা আমি পর্যালোচনার নিমিত্তে উপস্থাপন করছি এবং অত্যন্ত আনন্দের সাথে তাঁদের গ্রহণ করব যারা এই বিষয়ে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করবেন।
একজন মুসলিম এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি এমন কিছু কথা বলা সমীচীন মনে করেছি যার মাধ্যমে আল্লাহ হয়তো কল্যাণ দান করবেন। আল্লাহ সাক্ষী যে, এটি ব্যক্ত করাকে আমি অপরিহার্য ও অনস্বীকার্য কর্তব্য মনে না করলে কখনও তা লিপিবদ্ধ করতাম না। তবে বিষয়টি এতটাই গুরুতর যে, এ নিয়ে নীরবতা পালন বা সৌজন্য প্রদর্শনের কোনো অবকাশ নেই।
উভয় শায়খের ব্যাপারে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে:(১) সাবুনীর প্রসঙ্গে অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, সালাফ ও আশাইরাদের আকিদাহ সম্পর্কে তিনি যা লিপিবদ্ধ করেছেন, তাতে আকিদাহ শাস্ত্রের যেকোনো গবেষকের জন্য আবশ্যকীয় প্রাথমিক মৌলভিত্তির অভাব পরিলক্ষিত হয়। পাশাপাশি তাঁর বর্ণনাভঙ্গি প্রামাণ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং সুবিবেচনাপ্রসূত গাম্ভীর্যপূর্ণ শৈলী হতে বহু দূরে।
আমি তাঁর সর্বশেষ বিবৃতিতে ইতিবাচক কিছুর প্রত্যাশা করেছিলাম এবং ভেবেছিলাম এটি হয়তো ভ্রান্তি থেকে প্রত্যাবর্তন ও দায়মুক্তির ঘোষণা হবে; কিন্তু পরিলক্ষিত হলো যে, এটি হঠকারিতা ও পূর্ব অবস্থানে অনড় থাকারই একটি বিবৃতি মাত্র।
এবং যেহেতু তিনি একটি বিদআতী ধারারই অংশ যার লক্ষ্য হলো সমগ্র উম্মাহর ওপর আধিপত্য বিস্তার করা, এবং যেহেতু তিনি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছেন যা বিস্তারিত গবেষণার দাবি রাখে এবং সংবাদপত্রের কলামে যার সংকুলান হওয়া সম্ভব নয়, তাই...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ৭)
أرجئ الْكَلَام عَنهُ إِلَى حِين يَتَيَسَّر لي بِإِذن الله إِخْرَاج الرَّد فِي الصُّورَة الَّتِي أَرَاهَا.
وَليكن مَعْلُوما أَن هَذَا الرَّد الْمَوْعُود لَيْسَ مَقْصُودا بِهِ الصَّابُونِي وَلَا غَيره من الْأَشْخَاص، فَالْمَسْأَلَة أكبر من ذَلِك وأخطر، إِنَّهَا مَسْأَلَة مَذْهَب بدعي لَهُ وجوده الواقعي الضخم فِي الْفِكر الإسلامي حَيْثُ تمتلئ بِهِ كثير من كتب التَّفْسِير وشروح الحَدِيث وَكتب اللُّغَة والبلاغة وَالْأُصُول فضلا عَن كتب العقائد والفكر، كَمَا أَن لَهُ جامعاته الْكُبْرَى ومعاهده المنتشرة فِي أَكثر بِلَاد الْإِسْلَام من الفلبين إِلَى السنغال.
وَقد ظَهرت فِي الآونة الْأَخِيرَة محاولات ضخمة متواصلة لترميمه وتحديثه تشرف عَلَيْهَا هيئات رسمية كبرى ويغذوها المستشرقون بِمَا ينبشونه من تراثه وَيخرجُونَ من مخطوطاته.
وَلِهَذَا وَجب على كل قَادر أَن يبين لأمته الْحق وَينْصَح لَهَا مهما لَقِي، فإنّ مِمَّا كَانَ يُبَايع عَلَيْهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَصْحَابه النصح لكل مُسلم وَأَن يَقُولُوا الْحق لَا تأخذهم فِيهِ لومة لائم.
এ সম্পর্কে আলোচনা ততক্ষণ পর্যন্ত স্থগিত রাখা হলো, যতক্ষণ না আল্লাহর ইচ্ছায় আমার পক্ষ থেকে আমার পছন্দনীয় রূপে এই প্রত্যুত্তরটি প্রকাশ করা সহজতর হয়।
এটি অবগত হওয়া আবশ্যক যে, এই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ খণ্ডন কেবল সাবুনি কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে নয়; বরং বিষয়টি এর চেয়েও অনেক বড় এবং গুরুতর। এটি মূলত একটি বিদআতী মতবাদের বিষয়, ইসলামি চিন্তাধারায় যার বিশাল বাস্তব অস্তিত্ব বিদ্যমান। তাফসীর, হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ভাষা ও অলঙ্কার শাস্ত্র এবং উসূল বা মূলনীতি সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ ছাড়াও আকীদা ও চিন্তাধারার বহু কিতাব এ মতবাদে পূর্ণ হয়ে আছে। এমনকি ফিলিপাইন থেকে সেনেগাল পর্যন্ত অধিকাংশ মুসলিম দেশে এর বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ বিস্তৃত রয়েছে।
সাম্প্রতিককালে এই মতবাদকে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করার জন্য অব্যাহতভাবে ব্যাপক প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে, যেগুলোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে বৃহৎ সরকারি সংস্থাসমূহ। আর প্রাচ্যবিদরা এর ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডুলিপিগুলো অনুসন্ধান ও প্রকাশের মাধ্যমে এতে রসদ যুগিয়ে যাচ্ছে।
এই কারণেই সত্য প্রকাশে সক্ষম এমন প্রত্যেকের ওপর অপরিহার্য কর্তব্য হলো নিজ উম্মাহর সামনে সত্য সুস্পষ্ট করা এবং পরিস্থিতি যাই হোক না কেন জাতির হিতাকাঙ্ক্ষা করা। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের নিকট থেকে যেসব বিষয়ে বাইয়াত বা শপথ গ্রহণ করতেন, তার অন্যতম ছিল প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করা এবং সত্য কথা বলা, যেখানে তারা কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করবেন না।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ৮)
أما فَضِيلَة الشَّيْخ الفوزان فقد أحسن إِلَى (الْمُجْتَمع) وقرَّائها بِتِلْكَ الْمقَالة الْقيمَة، فقد عرض فِيهَا - على قصرهَا - حقائق أصولية مركزة فِي أسلوب علمي رصين.
وَله الْعذر كل الْعذر؛ إِذا لم يسْتَوْف الرَّد على الصَّابُونِي وَبَيَان التناقضات الَّتِي هِيَ سمة من سمات الْمنْهَج الْأَشْعَرِيّ نَفسه؛ لِأَن الْمَوْضُوع أكبر من أَن تحيط بِهِ مقَالَة صحفية.
وَلِهَذَا رَأَيْت من واجبي أَن أضيف إِلَى مَا كتبه فضيلته مستدركاً مَا لا يجوز تَأْجِيله إِلَى ظُهُور الرَّد المتكامل:-
أَولا: فَاتَ فضيلته أَن يرد على الصَّابُونِي فِيمَا عزاهُ إِلَى شيخ الْإِسْلَام - مكرراً إِيَّاه - من قَوْله: "الأشعرية أنصار أصُول الدّين، وَالْعُلَمَاء أنصار فروع الدّين ".
وَلَعَلَّ الشَّيْخ وثق فِي نقل الصَّابُونِي، مَعَ أَن الصَّابُونِي - على مَا أرجح - أول من يعلم بطلَان نِسْبَة هَذَا الْكَلَام لشيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية، ولغة الْعبارَة نَفسهَا لَيست من أسلوب شيخ الْإِسْلَام، والغريب حَقًا أَنه أعَاد هَذَا الْعزو فِي بَيَانه الْأَخير بِالْعدَدِ 646 مؤكداً إصراره على التمويه والتدليس.
মুহতারাম শায়খ আল-ফাওজান (আল-মুজতামা') পত্রিকা এবং এর পাঠকদের প্রতি উক্ত মূল্যবান প্রবন্ধটির মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন। তিনি এতে—সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও—একটি সুদৃঢ় তাত্ত্বিক শৈলীতে ঘনীভূত মৌলিক সত্যগুলো তুলে ধরেছেন।
আর তাঁর পক্ষে পূর্ণ ওজোর রয়েছে; যদি তিনি সাবুনীর প্রতি পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রদান এবং আশ'আরী মানহাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য যে স্ববিরোধিতা—তা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম না হয়ে থাকেন; কারণ বিষয়টি একটি সংবাদপত্রের প্রবন্ধের মাধ্যমে পুরোপুরি বেষ্টন করার চেয়েও ব্যাপক।
এই কারণে আমি তাঁর লেখনীর সাথে এমন কিছু সংযোজন করাকে নিজের কর্তব্য মনে করেছি, যা একটি পূর্ণাঙ্গ খণ্ডন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করা সমীচীন হবে না:-
প্রথমত: মুহতারাম শায়খ সাবুনীর সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে ছেড়ে দিয়েছেন যা তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর দিকে—বারবার—সম্পর্কিত করেছেন যে: "আশ'আরীগণ হলেন দীনের মূলনীতির সাহায্যকারী, আর উলামায়ে কিরাম হলেন দীনের শাখাগত বিষয়সমূহের সাহায্যকারী।"
সম্ভবত শায়খ সাবুনীর উদ্ধৃতির ওপর আস্থা রেখেছিলেন, অথচ সাবুনী—আমার প্রবল ধারণা অনুযায়ী—তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রতি এই বক্তব্যের সম্বন্ধের অসারতা সম্পর্কে অবগত। অধিকন্তু, খোদ বাক্যের ভাষাটিই শায়খুল ইসলামের শৈলীর সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি ৬৪৬ নম্বর সংখ্যায় তাঁর সর্বশেষ বিবৃতিতে পুনরায় এই প্রসঙ্গের পুনরাবৃত্তি করেছেন, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও সত্য গোপনের ওপর তাঁর অনড় অবস্থানেরই প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ৯)
وَأَنا أطلب من كل قَارِئ أَن يُرَاجع النَّص فِي ج4 ص 16 من مَجْمُوع الْفَتَاوَى ليجد بِنَفسِهِ قبل تِلْكَ الْعبارَة نَفسهَا كلمة (قَالَ) فَالْكَلَام محكي مَنْقُول وقائله هُوَ الْمَذْكُور فِي أول الْكَلَام - آخر سطر من ص 15 - حَيْثُ يَقُول شيخ الْإِسْلَام:
"وَكَذَلِكَ رَأَيْت فِي فَتَاوَى الْفَقِيه أبي مُحَمَّد فَتْوَى طَوِيلَة
… قَالَ فِيهَا: " إِلَى أَن يَقُول:
"قَالَ: وَأما لعن الْعلمَاء الْأَئِمَّة الأشعرية فَمن لعنهم عزّر وعادت اللَّعْنَة عَلَيْهِ
… وَالْعُلَمَاء أنصار فروع الدّين والأشعرية أنصار أصُول الدّين.
"قَالَ: وَأما دُخُولهمْ النَّار
… " الخ
وفى آخر هَذِه الْفَتْوَى نَفسهَا يَقُول شيخ الْإِسْلَام (ص 158 - (159)، وَانْظُر أَيْضا 156). "وَأَيْضًا فَيُقَال هَؤُلَاءِ الْجَهْمِية الكلامية كصاحب هَذَا الْكَلَام أبي مُحَمَّد وَأَمْثَاله كَيفَ تدعون طَريقَة السّلف وَغَايَة مَا عِنْد السّلف أَن يَكُونُوا متابعين لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم؟).
আমি প্রত্যেক পাঠকের কাছে অনুরোধ করছি যে, তিনি যেন ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’-এর ৪খণ্ড ১৬ পৃষ্ঠার পাঠ্যটি পর্যালোচনা করেন, যাতে তিনি নিজেই সেই বাক্যটির ঠিক আগে ‘তিনি বলেছেন’ শব্দটি দেখতে পান। সুতরাং কথাটি উদ্ধৃত ও বর্ণিত, আর এর প্রকৃত বক্তা হলেন তিনিই যাঁর উল্লেখ আলোচনার শুরুতে—১৫ পৃষ্ঠার শেষ লাইনে—রয়েছে, যেখানে শাইখুল ইসলাম বলছেন:
"অনুরূপভাবে আমি ফকিহ আবু মুহাম্মাদের ফাতাওয়াগুলোর মধ্যে একটি দীর্ঘ ফাতাওয়া দেখেছি
… তিনি তাতে বলেছেন:" যতক্ষণ না তিনি বলছেন:
"তিনি বলেছেন: আর আশআরী ইমাম ও আলেমদের অভিশাপ দেওয়ার বিষয়টি হলো—যে ব্যক্তি তাঁদের লানত করবে তাকে শাস্তিমূলক দণ্ড প্রদান করা হবে এবং সেই লানত তার নিজের ওপরই ফিরে আসবে
… আর আলেম সমাজ হলেন দ্বীনের শাখা-প্রশাখাসমূহের সাহায্যকারী এবং আশআরীগণ হলেন দ্বীনের মূলনীতিসমূহের সাহায্যকারী।
"তিনি বলেছেন: আর তাদের জাহান্নামে প্রবেশের বিষয়টি
… " ইত্যাদি
এবং এই একই ফাতাওয়ার শেষে শাইখুল ইসলাম বলছেন (পৃষ্ঠা ১৫৮ - ১৫৯, এবং আরও দেখুন ১৫৬): "অধিকন্তু, বলা হবে—এই কালামপন্থী জাহমিয়ারা, যেমন এই বক্তব্যের প্রণেতা আবু মুহাম্মাদ এবং তাঁর সদৃশ ব্যক্তিবর্গ, তোমরা কীভাবে সালাফদের পদ্ধতির দাবি করো, যেখানে সালাফদের চূড়ান্ত আদর্শই ছিল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী হওয়া?।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ১০)
إِلَى أَن يَقُول "وَأَبُو مُحَمَّد وَأَمْثَاله قد سلكوا مَسْلَك الْمَلَاحِدَة الَّذين يَقُولُونَ إِن الرَّسُول لم يبيّن الْحق فِي بَاب التَّوْحِيد" (1). الخ.
وَبِهَذَا يَتَّضِح قطعا:أ- أَن الْعبارَة الْمَذْكُورَة لَيست من قَول شيخ الْإِسْلَام بل قَائِلهَا أشعري يمدح مذْهبه (2).
ب- أَن شيخ الْإِسْلَام نسب هَذَا الْقَائِل ومذهبه إِلَى الْجَهْمِية الْكلابِيَّة وَاتِّبَاع طَريقَة الْمَلَاحِدَة وَأنكر عَلَيْهِم ادِّعَاء طَريقَة السّلف وَهَذَا ينفى مَا حاول الصَّابُونِي تدليسه فِي مقالاته السِّت تَمامًا.
وبالمناسبة أذكر بعض مَا يحضرني من الْكتب الَّتِي ألفها شيخ الْإِسْلَام فِي الرَّد على الأشاعرة نصا غير الَّتِي رد
--------------------------------------------
ইতোমধ্যে তিনি বলেন: "আর আবু মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা সেইসব ধর্মদ্রোহীদের পথ অবলম্বন করেছেন যারা বলে যে, রাসূল (সা.) তাওহীদের বিষয়ে সত্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেননি" (১)। ইত্যাদি।
وএর মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট হয় যে:ক- উল্লেখিত উক্তিটি শাইখুল ইসলামের নয়, বরং এর বক্তা একজন আশআরি ব্যক্তি যিনি নিজের মতাদর্শের প্রশংসা করছিলেন (২)।
খ- শাইখুল ইসলাম এই বক্তা ও তার মতাদর্শকে জাহমিয়া কুল্লাবিয়া এবং নাস্তিকদের অনুসৃত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাদের সলফদের পথ অবলম্বনের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি সাবুনি তার ছয়টি নিবন্ধে যে জালিয়াতির চেষ্টা করেছেন, তাকে পুরোপুরি নাকচ করে।
প্রাসঙ্গিকভাবে, আশআরিদের খণ্ডনে শাইখুল ইসলাম কর্তৃক রচিত যেসব বইয়ের কথা আমার এই মুহূর্তে স্মরণে আসছে, আমি তার কিছু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করছি (সেসব গ্রন্থ ব্যতিরেকে যেখানে তিনি খণ্ডন করেছেন)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ১১)
عَلَيْهِم فِيهَا مَعَ غَيرهم:-
1 - دَرْء تعَارض الْعقل وَالنَّقْل وَهُوَ كُله رد عَلَيْهِم بِالْأَصَالَةِ كَمَا نَص فِي مقدمته، حَيْثُ استفتحه بِذكر قانونهم الْكُلِّي الْآتِي فِي ص (12).
2 - بَيَان تلبيس الْجَهْمِية الْمُسَمّى نقض التأسيس، رد فِيهِ على إمَامهمْ الثَّانِي "الْفَخر الرَّازِيّ"، صَاحب تأسيس التَّقْدِيس أَو أساس التَّقْدِيس.
3 - التسعينية وَهِي الَّتِي كتبهَا فِي الْأَشْهر الْأَخِيرَة من حَيَاته رحمه الله جَوَابا عَن محاكمة الأشاعرة لَهُ (1).
4 - شرح العقيدة الأصفهانية وهى شرح لعقيدة الشَّمْس الْأَصْفَهَانِي الَّتِي جرى فِيهَا على أصُول الأشاعرة.
5 - الْفَتْوَى الحموية: مَعْرُوفَة.
6 - الرسَالَة المدنية: وهى فِي الْجُزْء (6) من مَجْمُوع الْفَتَاوَى.
7 - النبوات: وَهُوَ نقض لكَلَام الباقلاني خَاصَّة والأشاعرة عَامَّة فِي النبوات.
--------------------------------------------
অন্যান্যদের সাথে তাদের খণ্ডনে লিখিত কিতাবসমূহ:-
১ - দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি (বুদ্ধি ও শ্রুতির দ্বন্দ্ব নিরসন): এটি মূলত সম্পূর্ণভাবে তাদেরই খণ্ডন, যেমনটি তিনি এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন; যেখানে তিনি ১২ নং পৃষ্ঠায় বর্ণিত তাদের 'সার্বজনীন মূলনীতি' আলোচনার মাধ্যমে কিতাবটি শুরু করেছেন।
২ - বায়ানু তালবিসিল জাহমিয়্যাহ, যা 'নাকদুস তা'সিস' নামেও পরিচিত: এতে তিনি তাদের দ্বিতীয় ইমাম 'ফখর আল-রাজি'র খণ্ডন করেছেন, যিনি 'তাসিসুত তাকদিস' বা 'আসাসুত তাকদিস'-এর লেখক।
৩ - আত-তিসঈনিয়্যাহ: এটি তিনি তাঁর জীবনের শেষ মাসগুলোতে (রহিমাহুল্লাহ) আশআরিদের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত বিচারের জবাবে লিখেছিলেন (১)।
৪ - শারহুল আকীদাতিল আসফাহানিয়্যাহ: এটি শামস আল-আসফাহানির আকীদার ব্যাখ্যা, যাতে তিনি আশআরিদের মূলনীতি অনুসরণ করেছিলেন।
৫ - আল-ফাতওয়া আল-হামাবিয়্যাহ: এটি সুপরিচিত।
৬ - আর-রিসালাহ আল-মাদানিয়্যাহ: এটি 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-এর ষষ্ঠ খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৭ - আন-নুবুওয়াত: এটি বিশেষ করে বাকিল্লানির এবং সাধারণভাবে আশআরিদের নবুওয়াত সংক্রান্ত আলোচনার খণ্ডন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ১২)
8 - الْإِيمَان: وَهُوَ نقد للأشاعرة فِي الْإِيمَان وَذكر بَقِيَّة المرجئة تبعا.
9 - الْقَاعِدَة المراكشية: وهى كالبيان لمَذْهَب الإِمَام مَالك وأئمة الْمَالِكِيَّة فِي العقيدة ضد الْمُتَأَخِّرين من مالكية المغاربة المائلين إِلَى مَذْهَب الْأَشْعَرِيّ، وهى فِي الْجُزْء الْخَامِس من مَجْمُوع الْفَتَاوَى وطبعت مُحَققَة.
15 - المناظرة فِي العقيدة الواسطية: ألفها فِي محاكمة الأشاعرة لَهُ بِسَبَب الواسطية وَهِي فِي الْجُزْء الثَّالِث من مَجْمُوع الْفَتَاوَى.
11 - الاسْتقَامَة: كتبه نقضا لكتاب الْقشيرِي الصُّوفِي الْأَشْعَرِيّ وَبَين فِيهِ أَن عقيدة أَئِمَّة السلوك المعتبرين هِيَ مَذْهَب السّلف وَأَن بداية الانحراف فِي العقيدة عِنْد المنتسبين للتصوف فِي الْجُمْلَة إِنَّمَا جَاءَت مُتَأَخِّرَة فِي أَوَائِل الْقرن الْخَامِس حِين انْتَشَر مَذْهَب الأشعرى.
ولتلميذه ابْن الْقيم- رحمه الله فِي الرَّد على الأشاعرة كتب مِنْهَا:-
1_ مُخْتَصر الصَّوَاعِق الْمُرْسلَة ناقش فِيهِ أصولهم وَمِنْهَا موقفهم من النُّصُوص.
2_ شِفَاء العليل: معظمه عَنْهُم.
3_ العقيدة النونية: معظمها عَنْهُم.
8 - আল-ইমান: এটি ইমান বা বিশ্বাসের বিষয়ে আশআরিদের একটি সমালোচনা এবং আনুষঙ্গিকভাবে অন্যান্য মুরজিয়াদের আলোচনা এতে স্থান পেয়েছে।
9 - আল-কায়িদাতুল মারাকুশিয়্যাহ: এটি আকীদার ক্ষেত্রে ইমাম মালিক এবং মালিকি ইমামগণের মাযহাবের একটি স্পষ্ট বর্ণনা, যা মাগরেব অঞ্চলের পরবর্তী যুগের সেই সমস্ত মালিকি আলিমদের বিপক্ষে লেখা হয়েছে যারা আশআরি মাযহাবের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন। এটি ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’-এর পঞ্চম খণ্ডে রয়েছে এবং এটি তাহকীকসহ মুদ্রিত হয়েছে।
15 - আল-মুনাজারা ফিল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ: এটি তিনি আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ-এর কারণে আশআরিদের সাথে তাঁর বিচারিক বিতর্কের প্রেক্ষিতে রচনা করেছেন। এটি ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’-এর তৃতীয় খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত।
11 - আল-ইস্তিকামাহ: এটি তিনি সুফি আশআরি কুশাইরির কিতাবের খণ্ডন হিসেবে লিখেছেন এবং এতে তিনি সুস্পষ্ট করেছেন যে, বরেণ্য সুফি সাধক ইমামগণের আকীদা মূলত সালাফদেরই মাযহাব। আর তাসাউউফপন্থীদের মধ্যে আকীদাগত বিচ্যুতির সূচনা সামগ্রিকভাবে পঞ্চম শতাব্দীর প্রারম্ভে আশআরি মাযহাব ছড়িয়ে পড়ার সময় থেকে বিলম্বিতভাবে শুরু হয়েছিল।
এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর আশআরিদের খণ্ডনে বেশ কিছু কিতাব রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:-
1_ মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুরসালাহ: এতে তিনি তাদের মূলনীতিসমূহ আলোচনা করেছেন এবং অহি-র পাঠসমূহের (নুসূস) প্রতি তাদের অবস্থানের পর্যালোচনা করেছেন।
2_ শিফাউল আলীল: এর অধিকাংশ বিষয়বস্তুই তাদের সম্পর্কে।
3_ আকীদাতুন নূনিয়্যাহ: এর অধিকাংশ অংশই তাদের সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
4 - إجتماع الجيوش الإِسلامية: كُله رد على مَذْهَبهم خُصُوصا فِي نفي الْعُلُوّ.
هَذَا
وَلم يصدر من شيخ الْإِسْلَام مدح مُطلق للأشاعرة أبدا وَإِنَّمَا غَايَة مدحه لَهُم (كَمَا فِي ج (12) من الْفَتَاوَى) أَن يصفهم بِأَنَّهُم أقرب من غَيرهم وَأَن مَذْهَبهم مركب من الْوَحْي والفلسفة، أَو يمدح المشتغلين مِنْهُم بِالْحَدِيثِ لَا لكَوْنهم أشاعرة وَلَكِن لاشتغالهم بِالسنةِ مَعَ سُؤال الْمَغْفِرَة لَهُم فِيمَا وافقوا فِيهِ متكلمي مَذْهَبهم. لَكِن هَذَا أقل بِكَثِير من الْمَوَاضِع الَّتِي صرح فِيهَا بتبديعهم وتضليلبهم، وَفَسَاد منهجهم فَهِيَ أَكثر من أَن تحصر. كَمَا أَنه حدد- رحمه الله مَتى يعد المنتسب إِلَى الْأَشْعَرِيّ من أهل السّنة فَقَالَ:
"أما من قَالَ مِنْهُم بِكِتَاب الْإِبَانَة الَّذِي صنفه الْأَشْعَرِيّ فِي آخر عمره وَلم يظْهر مقَالَة تنَاقض ذَلِك فَهَذَا يعد من أهل السنَة، لَكِن مُجَرّد الانتساب إِلَى الْأَشْعَرِيّ بِدعَة لاسيما لِأَنَّهُ بذلك يُوهم حسنا لكل من انتسب هَذِه النِّسْبَة وينفتح بذلك أَبْوَاب شَرّ" (1)
… أَي أَن من كَانَ على عقيدة السّلف مِنْهُم لَا يَنْبَغِي لَهُ الانتساب للأشعري لِأَنَّهُ بِدعَة ومذمة.
--------------------------------------------
৪ - ইজতিমাউল জুইউশ আল-ইসলামিয়া: এটি সম্পূর্ণ তাদের মাযহাবের খণ্ডন, বিশেষ করে আল্লাহর সমুন্নত অবস্থান (উলুউ) অস্বীকার করার বিষয়ে।
এই হলো বাস্তবতা
শাইখুল ইসলাম থেকে আশআরিদের প্রতি কখনোই কোনো সাধারণ বা নিঃশর্ত প্রশংসা প্রকাশিত হয়নি। বরং তাদের প্রতি তাঁর প্রশংসার সর্বোচ্চ সীমা হলো (যেমনটি ফাতাওয়ার ১২তম খণ্ডে রয়েছে) তাদেরকে অন্যদের তুলনায় সত্যের নিকটবর্তী হিসেবে বর্ণনা করা এবং তাদের মাযহাবকে ওহি ও দর্শনের সংমিশ্রণ হিসেবে অভিহিত করা। অথবা তাদের মধ্যে যারা হাদিসচর্চায় নিয়োজিত ছিলেন তাদের প্রশংসা করা—তাঁদের আশআরি হওয়ার কারণে নয়, বরং সুন্নাহর চর্চায় নিয়োজিত থাকার কারণে। সেই সাথে তাদের মাযহাবের কালামশাস্ত্রবিদদের সাথে যেসব বিষয়ে তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন, সেগুলোর জন্য তাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা। তবে এই প্রশংসাটুকু সেই সব স্থানের তুলনায় অনেক কম যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে তাদের বিদআতি ও বিভ্রান্ত বলে অভিহিত করেছেন এবং তাদের পদ্ধতির অসারতা তুলে ধরেছেন, যা সংখ্যায় অগণিত। অনুরূপভাবে তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—নির্ধারণ করেছেন যে, কখন আশআরি মতবাদের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হবে। তিনি বলেন:
"তাদের মধ্যে যারা ইমাম আশআরি তাঁর জীবনের শেষ বয়সে যে 'আল-ইবানা' কিতাবটি রচনা করেছেন তার প্রবক্তা হবে এবং এর পরিপন্থী কোনো মত প্রকাশ করবে না, তাকে আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হবে। তবে কেবল আশআরি হিসেবে আত্মপরিচয় দেওয়া একটি বিদআত। বিশেষ করে এ কারণে যে, এর মাধ্যমে এই পরিচয়ের প্রত্যেকের সম্পর্কে একটি ইতিবাচকতার ভ্রম সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে মন্দের দ্বার উন্মোচিত হয়।" (১)
… অর্থাৎ তাদের মধ্যে যারা সালাফদের আকিদার ওপর রয়েছেন, তাদের জন্য আশআরি হিসেবে আত্মপরিচয় দেওয়া সমীচীন নয়; কারণ এটি একটি বিদআত ও নিন্দনীয় বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ثَانِيًا: أحسن الشَّيْخ فِي مُطَالبَة الصَّابُونِي بِأَيّ دَلِيل صَحِيح على مَسْأَلَة تَكْفِير الأشاعرة، ويضاف إِلَى كَلَام فضيلته:
إِن الْحَاصِل فعلا هُوَ الْعَكْس فالأشاعرة هم الَّذين كفّروا وَلَا يزالون يكفّرون أَتبَاع السّلف بل كفّروا كل من قَالَ: "إِن الله تَعَالَى مَوْصُوف بالعلو"- كَمَا سَيَأْتِي هُنَا - وحسبك تكفيرهم واضطهادهم لشيخ الْإِسْلَام وَهُوَ مَا لم يَفْعَله أهل السّنة بعالم أشعري قطّ. وَقد سطر- رحمه الله بعض جَوْرهمْ عَلَيْهِ فِي أول التسعينية وَصرح بِهِ كل من كتب عَن سيرته. وَلَوْلَا الإطالة لأوردت بعض مَا تصرح بِهِ كتب عقيدتهم من اتهامه بالزندقة وَالْكفْر والضلال. وَمن الْأَمْثِلَة المعاصرة كتب الكوثري ومقالاته وَكتاب "بَرَاءَة الْأَشْعَرِيين" وَكتاب "ابْن تَيْمِية لَيْسَ سلفياً" وَبَعض مَا فِي كتاب "أَرْكَان الْإِيمَان" (1)
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: আশআরিদের কাফির সাব্যস্ত করার মাসআলায় সাবুনির কাছে যেকোনো সহিহ দলিলের দাবি জানিয়ে শাইখ যথার্থ কাজ করেছেন। তাঁর মর্যাদাপূর্ণ কথার সাথে আরও যোগ করা যায় যে:
প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি এর উল্টো। আশআরিরাই সালাফদের অনুসারীদের কাফির সাব্যস্ত করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে। এমনকি তারা সেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে কাফির বলেছে যারা বলে: "আল্লাহ তাআলা সুউচ্চ গুণের অধিকারী"—যেমনটি সামনে আসবে। আপনার জন্য শাইখুল ইসলামের প্রতি তাদের তাকফির (কাফির ঘোষণা) ও নিপীড়নই যথেষ্ট, যা আহলুস সুন্নাহ কোনো আশআরি আলেমের সাথে কখনোই করেনি। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) 'আত-তিসয়িনিয়্যাহ' গ্রন্থের শুরুতে তাঁর ওপর তাদের করা কিছু জুলুমের কথা লিপিবদ্ধ করেছেন এবং যারা তাঁর জীবনী লিখেছেন তারাও এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। দীর্ঘ হওয়ার ভয় না থাকলে আমি তাদের আকিদার কিতাবসমূহে তাঁকে জিন্দিক, কাফির ও পথভ্রষ্ট বলে অভিযুক্ত করার কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করতাম। সমকালীন উদাহরণগুলোর মধ্যে কাউসারির কিতাবসমূহ ও প্রবন্ধসমূহ, 'বারাআতুল আশআরিয়্যিন' কিতাব, 'ইবনে তাইমিয়্যাহ লাইসা সালাফিয়্যান' কিতাব এবং 'আরকানুল ইমান' কিতাবের কিছু অংশ উল্লেখযোগ্য। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فيا عجبا لهَؤُلَاء الْقَوْم يكفّرونه ثمَّ يدّعون أَنهم وإياه على مَذْهَب وَاحِد ويشملهم جَمِيعًا اسْم "السّنة وَالْجَمَاعَة"!! ، وَإِذا كَانَت كتب الأشاعرة تتبرأ من "الحشوية والمجسمة والنابتة" وَغير ذَلِك مِمَّا يلقبون بِهِ أهل السّنة وَالْجَمَاعَة فَكيف يكونُونَ وهم سَوَاء!!.
ثَالِثا: كَانَ بودي أَن يفصّل الشَّيْخ معنى مصطلح أهل السّنة وَدخُول الأشاعرة فِيهِ أَو عَدمه، وَهِي الَّتِي يدندن حولهَا الصَّابُونِي، وَأَنا أوجزه جدا فَأَقُول:
إِن مصطلح أهل السّنة وَالْجَمَاعَة يُطلق وَيُرَاد بِهِ مَعْنيانِ:
أ_ الْمَعْنى الْأَعَمّ: وَهُوَ مَا يُقَابل الشِّيعَة فَيُقَال: "المنتسبون لِلْإِسْلَامِ قِسْمَانِ: أهل السّنة والشيعة"، مِثْلَمَا عنون شيخ الْإِسْلَام كِتَابه فِي الرَّد على الرافضي "منهاج السّنة"، وَفِيه بيّن هذَيْن الْمَعْنيين (1) وَصرح أَن مَا ذهبت إِلَيْهِ الطوائف المبتدعة من أهل السّنة بِالْمَعْنَى الْأَخَص.
--------------------------------------------
এই লোকদের দেখে কতই না বিস্ময় জাগে যে, তারা তাকে কাফের ঘোষণা করে, আবার দাবি করে যে তারা এবং তিনি একই মাযহাবের অনুসারী এবং "আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত" নামটি তাদের উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে!! আর আশআরীদের কিতাবসমূহ যদি "হাশাবিয়া, মুজাসসিমা ও নাবিতা" এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য লকব (উপাধি) থেকে নিজেদের মুক্ত ঘোষণা করে, তবে তারা এবং তিনি কীভাবে এক ও অভিন্ন হতে পারেন!!
তৃতীয়ত: আমার একান্ত আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, শায়খ "আহলুস সুন্নাহ" পরিভাষার অর্থ এবং এর মধ্যে আশআরীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করবেন, যা নিয়ে সাবুনি আলোচনা করেছেন। আমি এটি অত্যন্ত সংক্ষেপে তুলে ধরছি:
নিশ্চয়ই "আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত" পরিভাষাটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
ক_ সাধারণ অর্থ: যা শিয়াদের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়ে থাকে: "ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত গোষ্ঠীসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত: আহলুস সুন্নাহ ও শিয়া", যেমনটি শায়খুল ইসলাম রাফেজিদের খণ্ডনে রচিত তার গ্রন্থের নাম দিয়েছেন "মিনহাজুস সুন্নাহ"। সেখানে তিনি এই দুটি অর্থ স্পষ্ট করেছেন (১) এবং উল্লেখ করেছেন যে, বিদআতি দলগুলো যা অনুসরণ করেছে তা বিশেষ অর্থের আহলুস সুন্নাহ-এর বহির্ভূত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَهَذَا الْمَعْنى يدْخل فِيهِ كل من سوى الشِّيعَة كالأشاعرة، لاسيما والأشاعرة فِيمَا يتَعَلَّق بموضوع الصَّحَابَة وَالْخُلَفَاء متفقون مَعَ أهل السّنة وهى نقطة الِاتِّفَاق المنهجية الوحيدة كَمَا سَيَأْتِي.
ب_ الْمَعْنى الْأَخَص: وَهُوَ مَا يُقَابل المبتدعة وَأهل الْأَهْوَاء وَهُوَ الْأَكْثَر اسْتِعْمَالا وَعَلِيهِ كتب الْجرْح وَالتَّعْدِيل فَإِذا قَالُوا عَن الرجل أَنه صَاحب سنة أَو كَانَ سنياً أومن أهل السّنة وَنَحْوهَا فَالْمُرَاد أَنه لَيْسَ من إِحْدَى الطوائف البدعية كالخوارج والمعتزلة والشيعة وَلَيْسَ صَاحب كَلَام وَهوى.
وَهَذَا الْمَعْنى لَا يدْخل فِيهِ الأشاعرة أبدا بل هم خارجون عَنهُ، وَقد نَص الإِمَام أَحْمد وَابْن الْمَدِينِيّ على أَن من خَاضَ فِي شَيْء من علم الْكَلَام لَا يعْتَبر من أهل السّنة وَإِن أصَاب بِكَلَامِهِ السّنة حَتَّى يدع الجدلي وَيسلم للنصوص، فَلم يشترطوا مُوَافقَة السّنة فَحسب بل التلقي والاستمداد مِنْهَا (1) فَمن تلقى من السّنة فَهُوَ من أَهلهَا وَإِن أَخطَأ، وَمن تلقى من غَيرهَا فقد أَخطَأ وَإِن وافقها فِي النتيجة.
--------------------------------------------
এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত হলো শিয়া ব্যতীত অন্য সকলে, যেমন আশআরিগণ; বিশেষত সাহাবী ও খলিফাদের প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে আশআরিগণ আহলুস সুন্নাহর সাথে একমত, আর এটিই হলো পদ্ধতিগত ঐক্যের একমাত্র বিন্দু, যা সামনে আলোচিত হবে।
খ- আরও বিশেষ অর্থ: এটি হলো বিদআতি ও প্রবৃত্তি পূজারীদের বিপরীত অর্থ, যা অধিক ব্যবহৃত হয়। এই অর্থের ওপর ভিত্তি করেই ‘জারহ ও তা’দিল’ (সনদ সমালোচনা ও মূল্যায়ন) শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে। সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে তারা বলেন যে, তিনি ‘সুন্নাহর অনুসারী’ বা তিনি ‘সুন্নি’ ছিলেন অথবা ‘আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত’ কিংবা এ জাতীয় কিছু, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—তিনি খারেজি, মুতাজিলা ও শিয়াদের মতো কোনো বিদআতি দলভুক্ত নন এবং তিনি ইলমুল কালাম ও প্রবৃত্তির অনুসারী নন।
এই বিশেষ অর্থের মধ্যে আশআরিগণ কখনোই অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তারা এর বহির্ভূত। ইমাম আহমাদ ও ইবনুল মাদিনী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি ইলমুল কালামের কোনো বিষয়ে লিপ্ত হয়, তাকে আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হবে না—যদিও তার কথা সুন্নাহর অনুকূলে হয়—যতক্ষণ না সে বিতর্ক ত্যাগ করে এবং সরাসরি দলিলের (নস) সামনে আত্মসমর্পণ করে। তাঁরা কেবল সুন্নাহর সাথে মিল থাকাকেই শর্ত করেননি, বরং সুন্নাহ থেকেই জ্ঞান গ্রহণ ও তা থেকে ব্যুৎপত্তি অর্জনের শর্তারোপ করেছেন (১)। সুতরাং যে ব্যক্তি সুন্নাহ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করে, সে সুন্নাহর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত—যদিও সে ভুল করে থাকে। আর যে ব্যক্তি সুন্নাহ ছাড়া অন্য উৎস থেকে জ্ঞান গ্রহণ করে, সে ভুল করেছে—যদিও ফলাফলে সে সুন্নাহর অনুকূলে পৌঁছায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والأشاعرة- كَمَا سترى - تلقوا وَاسْتَمَدُّوا من غير السّنة وَلم يوافقوها فِي النتائج فَكيف يكون من أَهلهَا.
وسنأتي بحكمهم عِنْد أَئِمَّة الْمذَاهب الْأَرْبَعَة من الْفُقَهَاء فَمَا بالك بأئمة الْجرْح وَالتَّعْدِيل من أَصْحَاب الحَدِيث:-
ا- عِنْد الْمَالِكِيَّة:
روى حَافظ الْمغرب وَعلمهَا الْفَذ ابْن عبد الْبر بِسَنَدِهِ عَن فَقِيه الْمَالِكِيَّة بالمشرق ابْن
خويز منداذ أَنه قَالَ فِي كتاب الشَّهَادَات شرحاً لقَوْل مَالك: "لَا تجوز شَهَادَة أهل الْبدع والأهواء"، وَقَالَ:
"أهل الْأَهْوَاء عِنْد مَالك وَسَائِر أَصْحَابنَا هم أهل الْكَلَام، فَكل مُتَكَلم فَهُوَ من أهل الْأَهْوَاء والبدع أشعرياً كَانَ أَو غير أشعري، وَلَا تقبل لَهُ شَهَادَة فِي الْإِسْلَام أبدا ويهجر ويؤدب على بدعته فَإِن تَمَادى عَلَيْهَا استتيب مِنْهَا" (1).
وروى ابْن عبد الْبر نَفسه فِي "الانتقاء" عَن الْأَئِمَّة الثَّلَاثَة "مَالك وأبى حنيفَة وَالشَّافِعِيّ" نهيهم عَن الْكَلَام وزجر
--------------------------------------------
আশআরিগণ—যেমনটি আপনি দেখবেন—সুন্নাহ ব্যতিত অন্য উৎস থেকে গ্রহণ ও আহরণ করেছেন এবং তারা ফলাফলের দিক থেকে সুন্নাহর সাথে একমত হতে পারেননি। সুতরাং তারা কীভাবে সুন্নাহর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?
অচিরেই আমরা চার মাযহাবের ফকিহ ইমামগণের নিকট তাদের ব্যাপারে হুকুম বর্ণনা করব; তাহলে হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত জারাহ ও তাদিল (যাচাই-বাছাই) শাস্ত্রের ইমামদের ব্যাপারে কী ধারণা পোষণ করা যায়?
১- মালিকি মাযহাব মতে:
মাগরিবের হাফেজ এবং অনন্য আলেম ইবন আব্দুল বারর স্বীয় সনদে প্রাচ্যের মালিকি ফকিহ ইবন
খুওয়াইয মানদাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি 'কিতাবুশ শাহাদাত'-এ ইমাম মালিকের উক্তি: "বিদআতপন্থি ও প্রবৃত্তি পূজারিদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়"-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন:
"ইমাম মালিক এবং আমাদের অপরাপর সঙ্গীদের নিকট প্রবৃত্তি পূজারি বলতে ইলমুল কালামের অনুসারীরাই উদ্দেশ্য। অতএব, ইলমুল কালামের প্রতিটি চর্চাকারীই প্রবৃত্তি পূজারি ও বিদআতিদের অন্তর্ভুক্ত, চাই সে আশআরি হোক বা না হোক। ইসলামে কখনোই তার সাক্ষ্য কবুল করা হবে না, তাকে বর্জন করতে হবে এবং তার বিদআতের কারণে তাকে দণ্ড প্রদান করতে হবে। এরপরও যদি সে এতে অটল থাকে, তবে তাকে তওবা করতে বলা হবে।" (১)।
স্বয়ং ইবন আব্দুল বারর তার 'আল-ইনতিকা' গ্রন্থে তিন ইমাম "মালিক, আবু হানিফা এবং শাফেয়ি" থেকে ইলমুল কালামের ব্যাপারে তাদের নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর তিরস্কারের কথা বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أَصْحَابه وتبديعهم وتعزيرهم، وَمثله ابْن الْقيم فِي اجْتِمَاع الجيوش الإسلامية فَمَاذَا يكون الأشاعرة إِن لم يَكُونُوا أَصْحَاب كَلَام؟.
2 - عِنْد الشَّافِعِيَّة:
قَالَ الإِمَام أَبُو الْعَبَّاس بن سُرَيج الملقب بالشافعي الثَّانِي وَقد كَانَ معاصرا للأشعري: "لَا نقُول بِتَأْوِيل الْمُعْتَزلَة والأشعرية والجهمية والملحدة والمجسمة والمشبهة والكرامية والمكيفة بل نقبلها بِلَا تَأْوِيل، ونؤمن بهَا بِلَا تَمْثِيل" (1).
قَالَ الإِمَام أَبُو الْحسن الكرجى من عُلَمَاء الْقرن الْخَامِس الشَّافِعِيَّة مَا نَصه: "لم يزل الْأَئِمَّة الشَّافِعِيَّة يأنفون ويستنكفون أَن ينسبوا إِلَى الْأَشْعَرِيّ ويتبرَّءون مِمَّا بنى الْأَشْعَرِيّ مذْهبه عَلَيْهِ وَينْهَوْنَ أَصْحَابهم وأحبابهم عَن الحوم حواليه على مَا سَمِعت من عدَّة من الْمَشَايِخ وَالْأَئِمَّة، وَضرب مِثَالا بشيخ الشَّافِعِيَّة فِي عصره الإِمَام أَبُو حَامِد الاسفرائيني الملقب "الشَّافِعِي الثَّالِث" قَائِلا:
--------------------------------------------
তাঁর অনুসারীবৃন্দ এবং তাদের বিদআতি আখ্যা দেওয়া ও শাস্তি প্রদান করা; অনুরূপ কথা ইবনে আল-কাইয়্যিম 'ইজতিমাউল জুয়ুশ আল-ইসলামিয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এখন আশআরীরা যদি ইলমুল কালামের (তত্ত্বতাত্ত্বিক বিতর্ক) অনুসারী না হয়, তবে তারা আর কী হতে পারে?
২ - শাফেয়ী মাযহাবের ইমামগণের নিকট:
ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ, যাকে 'দ্বিতীয় শাফেয়ী' বলা হয় এবং যিনি আল-আশআরীর সমসাময়িক ছিলেন, তিনি বলেছেন: "আমরা মুতাজিলা, আশআরী, জাহমিয়্যাহ, নাস্তিক, মুজাসসিমা, মুশাব্বিহা, কাররামিয়্যাহ এবং মুকায়্যিফাহদের মতো ব্যাখ্যার (তাবিল) আশ্রয় নেই না; বরং আমরা এগুলো কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই গ্রহণ করি এবং কোনো সাদৃশ্য বা উপমা ছাড়াই এগুলোর ওপর ঈমান আনি" (১)।
পঞ্চম শতাব্দীর শাফেয়ী আলেম ইমাম আবুল হাসান আল-কারাজি বলেন: "শাফেয়ী ইমামগণ নিরন্তর আশআরীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়াকে অপছন্দ ও প্রত্যাখ্যান করতেন এবং আশআরী যে ভিত্তির ওপর তাঁর মাযহাব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তা থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করতেন। তাঁরা তাঁদের অনুসারী ও প্রিয়জনদের আশআরী মতাদর্শের সন্নিকটে যেতেও বারণ করতেন, যেমনটি আমি বহু শায়খ ও ইমামের নিকট শুনেছি। তিনি তাঁর সময়ের শাফেয়ীগণের প্রধান শায়খ ইমাম আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনী—যাকে 'তৃতীয় শাফেয়ী' বলা হয়—এর উদাহরণ দিয়ে বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
"وَمَعْلُوم شدَّة الشَّيْخ على أَصْحَاب الْكَلَام حَتَّى ميز أصُول فقه الشَّافِعِي من أُصُوله الْأَشْعَرِيّ، وعلق عَنهُ أَبُو بكر الراذقاني وَهُوَ عِنْدِي، وَبِه اقْتدى الشَّيْخ أَبُو إِسْحَاق الشِّيرَازِيّ فِي كِتَابيه اللمع والتبصرة حَتَّى لَو وَافق قَول الْأَشْعَرِيّ وَجها لِأَصْحَابِنَا ميزّه وَقَالَ: "هُوَ قَول بعض أَصْحَابنَا وَبِه قَالَت الأشعرية وَلم يعدهم من أَصْحَاب الشَّافِعِي، استنكفوا مِنْهُم وَمن مَذْهَبهم فِي أصُول الْفِقْه فضلا عَن أصُول الدّين" (1) اهـ.
وَبِنَحْوِ قَوْله بل أَشد مِنْهُ قَالَ شيخ الْإِسْلَام الْهَرَوِيّ الْأنْصَارِيّ (2).
3 - الْحَنَفِيَّة: مَعْلُوم أَن وَاضع الطحاوية وشارحها كِلَاهُمَا حنفيان، وَكَانَ الإِمَام الطَّحَاوِيّ معاصراً للأشعري
--------------------------------------------
আর ইলমুল কালামের অনুসারীদের বিরুদ্ধে শায়খের কঠোরতা সুবিদিত, এমনকি তিনি ইমাম শাফেয়ির উসুলুল ফিকহকে আশআরি উসুল থেকে পৃথক করেছেন। আবু বকর আর-রাযাকানি তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তা আমার নিকট সংরক্ষিত আছে। শায়খ আবু ইসহাক আশ-শিরাজি তাঁর 'আল-লুমা' ও 'আত-তাবসিরা' গ্রন্থদ্বয়ে তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন; এমনকি আশআরির কোনো মত যদি আমাদের সাথীদের (শাফেয়িদের) কোনো মতের সাথে মিলেও যেত, তবুও তিনি সেটিকে পৃথক করে বলতেন: "এটি আমাদের জনৈক সাথীর মত এবং আশআরিয়াগণও এটি বলেছে।" তিনি তাদেরকে শাফেয়ির অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেননি। তাঁরা তাঁদের (আশআরিদের) প্রতি এবং দ্বীনের মৌলিক বিষয়ের (উসুলুদ দ্বীন) কথা তো বাদই থাক, ফিকহের মূলনীতির (উসুলুল ফিকহ) ক্ষেত্রেও তাঁদের মাযহাবের প্রতি বিরাগ পোষণ করতেন। (১) সমাপ্ত।
তাঁর অনুরূপ বক্তব্যের ন্যায়, বরং এর চেয়েও কঠোর কথা বলেছেন শায়খুল ইসলাম আল-হারায়ি আল-আনসারি (২)।
৩ - হানাফিগণ: এটি সুবিদিত যে 'আত-তাহাবিয়্যাহ' গ্রন্থের লেখক এবং এর ব্যাখ্যাকার উভয়ই হানাফি ছিলেন; আর ইমাম আত-তাহাবি ইমাম আশআরির সমসাময়িক ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَكتب هَذِه العقيدة لبَيَان مُعْتَقد الإِمَام أبي حنيفَة وَأَصْحَابه، وَهِي مشابهة لما فِي الْفِقْه الْأَكْبَر عَنهُ، وَقد نقلوا عَن الإِمَام أَنه صرح بِكفْر من قَالَ: "إِن الله لَيْسَ على الْعَرْش" أَو توقف فِيهِ، وتلميذه أَبُو يُوسُف كفّر بِشراً المرِيسي، وَمَعْلُوم أَن الأشاعرة ينفون الْعُلُوّ وَيُنْكِرُونَ كَونه تَعَالَى على الْعَرْش، وَمَعْلُوم أَيْضا أَن أصولهم مستمدة من بشر المريسي!! (1).
4 - الْحَنَابِلَة: موقف الْحَنَابِلَة من الأشاعرة أشهر من أَن يذكر فمنذ بدّع الإِمَام أَحْمد (ابْن كلاب) وَأمر بهجره - وَهُوَ المؤسس الْحَقِيقِيّ للْمَذْهَب الْأَشْعَرِيّ- لم يزل الحناَبلة مَعَهم فِي معركة طَوِيلَة، وَحَتَّى فِي أَيَّام دولة نظام الْملك- الَّتِي استطالوا فِيهَا - وَبعدهَا كَانَ الْحَنَابِلَة يخرجُون من بَغْدَاد كل واعظ يخلِّط قصصه بِشَيْء من مَذْهَب الأشاعرة، وَلم يكن ابْن الْقشيرِي إِلَّا وَاحِدًا مِمَّن تعرض لذَلِك، وبسبب انتشار مَذْهَبهم وَإِجْمَاع عُلَمَاء الدولة سِيمَا الْحَنَابِلَة على محاربته أصدر الْخَلِيفَة الْقَادِر منشور (الِاعْتِقَاد القادري) أوضح فِيهِ العقيدة الْوَاجِب على الْأمة اعتقادها
--------------------------------------------
ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীদের আকিদা বর্ণনার উদ্দেশ্যে এই আকিদা-গ্রন্থটি রচিত হয়েছে, যা তাঁর থেকে বর্ণিত ‘আল-ফিকহুল আকবার’-এ বিদ্যমান বিষয়াবলির সদৃশ। ইমাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ওই ব্যক্তির কুফরির ব্যাপারে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে বলে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আরশের উপরে নন" অথবা এই বিষয়ে যে সংশয় প্রকাশ করে। তাঁর ছাত্র আবু ইউসুফ বিশর আল-মারিসিকে কাফির আখ্যা দিয়েছিলেন। এটি সুবিদিত যে, আশআরিরা আল্লাহর উচ্চতা (আল-উলুউ) প্রত্যাখ্যান করে এবং মহান আল্লাহ আরশের উপরে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে। এটিও সুবিদিত যে, তাদের মূলনীতিসমূহ বিশর আল-মারিসি থেকেই গৃহীত!! (১)।
৪ - হাম্বলিগণ: আশআরিদের প্রতি হাম্বলিদের অবস্থান এতটাই প্রসিদ্ধ যে তা উল্লেখ করার অবকাশ রাখে না। ইমাম আহমাদ যখন থেকে (ইবনে কুল্লাব)কে বিদআতি ঘোষণা করেছেন এবং তাকে বর্জনের আদেশ দিয়েছেন—যিনি আশআরি মাযহাবের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা—তখন থেকেই হাম্বলিগণ তাদের সাথে দীর্ঘ সংগ্রামে লিপ্ত। এমনকি নিজামুল মুলকের শাসনকালেও—যখন তারা প্রভাব বিস্তার করেছিল—এবং এর পরবর্তী সময়েও হাম্বলিগণ বাগদাদ থেকে এমন প্রত্যেক ধর্মোপদেশককে বহিষ্কার করতেন, যিনি নিজের আলোচনার সাথে আশআরি মাযহাবের কোনো কিছুর সংমিশ্রণ ঘটাতেন। ইবনুল কুশাইরি ছিলেন তাদেরই একজন যিনি এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। তাদের মাযহাবের বিস্তার এবং রাষ্ট্রের আলেমদের (বিশেষত হাম্বলিদের) পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে লড়াই করার ঐকমত্যের কারণে খলিফা আল-কাদির ‘আল-ইতিকাদ আল-কাদিরি’ (কাদিরি আকিদা) ইশতেহার জারি করেন, যেখানে তিনি উম্মাহর জন্য যে আকিদা পোষণ করা আবশ্যক তা বিশদভাবে তুলে ধরেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ২১)
سنة 433 هـ (1)
وكذلك يفعل أتباعهم في عصرنا هذا بمليء خطبهم الحماسية أو مواعظهم وقصصهم وما يسمونه
بالكتب الفكرية لثقة قرائهم- من الشباب المتحمس-العمياء بهم ولجهل أكثر هؤلاء الشباب بعقيدتهم الصحيحة التي كان عليها سلفهم الصالح من الصحابة ومن تبعهم بإحسان.
هَذَا وَلَيْسَ ذمّ الأشاعرة وتبديعهم خَاص بأئمة الْمذَاهب المعتبرين بل هُوَ مَنْقُول أَيْضا عَن أَئِمَّة السلوك الَّذين كَانُوا أقرب إِلَى السّنة وَاتِّبَاع السّلف، فقد نقل شيخ الْإِسْلَام فِي الاسْتقَامَة كثيرا من أَقْوَالهم فِي ذَلِك وَأَنَّهُمْ يعتبرون مُوَافقَة عقيدة الأشعرية منافيا لسلوك طَرِيق الْولَايَة والاستقامة حَتَّى أَن عبد الْقَادِر الجيلاني، لما سُئِلَ "هَل كَانَ لله ولي على غير اعْتِقَاد أَحْمد بن حَنْبَل؟. قَالَ: مَا كَانَ وَلَا يكون" (2).
فَهَذَا موجز مُخْتَصر جدا لحكم الأشاعرة فِي الْمذَاهب الْأَرْبَعَة، فَمَا ظَنك بِحكم رجال الْجرْح وَالتَّعْدِيل مِمَّن يعلم أَن
--------------------------------------------
৪৩৩ হিজরি সন (১)
এবং বর্তমানে তাদের অনুসারীরাও তাদের জোরালো বক্তব্য, উপদেশমালা, উপকথা এবং তথাকথিত
‘বুদ্ধিবৃত্তিক বইসমূহ’ দিয়ে অনুরূপ আচরণই করে থাকে। এর কারণ হলো—তাদের পাঠকদের, বিশেষ করে আবেগপ্রবণ যুবকদের তাদের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস এবং সাহাবায়ে কিরাম ও ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী সালাফে সালেহীনের বিশুদ্ধ আকিদা সম্পর্কে অধিকাংশ যুবকের অজ্ঞতা।
উল্লেখ্য যে, আশআরিদের নিন্দা ও তাদের বিদআতি আখ্যা দেওয়া কেবল নির্ভরযোগ্য মাজহাবসমূহের ইমামদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আধ্যাত্মিক সাধনার (সুলুক) সেই সকল ইমামদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে যারা সুন্নাহ ও সালাফের অনুসরণের অধিক নিকটবর্তী ছিলেন। শায়খুল ইসলাম (ইবনে তাইমিয়া) ‘আল-ইস্তিকামাহ’ গ্রন্থে এ বিষয়ে তাঁদের অনেক উক্তি উদ্ধৃত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা আশআরি আকিদার সাথে একমত পোষণ করাকে বেলায়েত (আল্লাহর বন্ধুত্ব) ও ইস্তিকামাতের (অবিচলতা) পথে চলার পরিপন্থী মনে করতেন। এমনকি আব্দুল কাদির জিলানিকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— “আহমদ ইবনে হাম্বলের আকিদা ব্যতিরেকে আল্লাহর কি কোনো ওলী (বন্ধু) ছিলেন?” তিনি উত্তরে বলেছিলেন: “এমনটি কখনও ছিল না এবং হবেও না” (২)।
এটি ছিল চার মাজহাবের দৃষ্টিতে আশআরিদের বিধান সম্পর্কে অতি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ। তাহলে যারা জানেন তাদের দৃষ্টিতে ‘জারহ ও তাদীল’ (বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই বিদ্যা) শাস্ত্রের ইমামগণের সিদ্ধান্ত কেমন হতে পারে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ২২)
مَذْهَب الأشاعرة هُوَ رد خبر الْآحَاد جملَة وأنّ فِي الصَّحِيحَيْنِ
أَحَادِيث مَوْضُوعَة أدخلها الزَّنَادِقَة
… وَغَيرهَا من الْعَوام، وَانْظُر إِن شِئْت تَرْجَمَة إمَامهمْ الْمُتَأَخر الْفَخر الرَّازِيّ فِي الْمِيزَان ولسان الْمِيزَان.
فَالْحكم الصَّحِيح فِي الأشاعرة أَنهم من أهل الْقبْلَة لاشك فِي ذَلِك، أما أَنهم من أهل السّنة فَلَا، وَسَيَأْتِي تَفْصِيل ذَلِك فِي الموضوعات التالية:
وَهَاهُنَا حَقِيقَة كبرى أثبتها عُلَمَاء الأشعرية الْكِبَار بِأَنْفسِهِم -كالجويني وَابْنه أبي الْمَعَالِي والرازي وَالْغَزالِيّ وَغَيرهم- وَهِي حَقِيقَة إعلان حيرتهم وتوبتهم ورجوعهم إِلَى مَذْهَب السّلف، وَكتب الأشعرية المتعصبة مثل طَبَقَات الشَّافِعِيَّة أوردت ذَلِك فِي تراجمهم أَو بعضه فِي دلَالَة ذَلِك؟.
إِذا كَانُوا من أصلهم على عقيدة أهل السّنة وَالْجَمَاعَة فَعَن أَي شئ رجعُوا؟ ولماذا رجعُوا؟ وَإِلَى أيّ عقيدة رجعُوا؟.
رَابِعا: دَعْوَى الأشاعرة أَن أَكثر أَئِمَّة الْمُسلمين على مَذْهَبهم دَعْوَى عَارِية عَن الدَّلِيل يكذبها الْوَاقِع التاريخي، وَكتب الأشاعرة نَفسهَا عِنْد تَعْرِيف مذهبي السّلف وَالْخلف
আশআরিদের মাযহাব হলো খবরে ওয়াহিদকে সামগ্রিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা এবং এই দাবি করা যে সহীহাইন-এ
এমন কিছু জাল হাদিস রয়েছে যা যিনদীক
… এবং অন্যান্য সাধারণ লোকেরা অন্তর্ভুক্ত করেছে। আপনি চাইলে তাদের পরবর্তী যুগের ইমাম ফখর আল-রাযীর জীবনী ‘আল-মিযান’ ও ‘লিসান আল-মিযান’ গ্রন্থে দেখে নিতে পারেন।
আশআরিদের ব্যাপারে সঠিক ফয়সালা হলো—এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা আহলে কিবলার অন্তর্ভুক্ত; তবে তারা আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী বিষয়গুলোতে আসবে:
এখানে একটি ধ্রুব সত্য রয়েছে যা স্বয়ং বড় বড় আশআরি আলেমগণই প্রমাণ করেছেন—যেমন আল-জুওয়াইনী ও তার পুত্র আবুল মাআলী, রাযী, গাযালী এবং অন্যান্যরা—আর তা হলো তাদের সংশয় ও বিভ্রান্তি প্রকাশ করা, তাওবা করা এবং সালাফদের মাযহাবে ফিরে আসার ঘোষণা। এমনকি ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’-এর মতো কট্টর আশআরি গ্রন্থগুলোতেও তাদের জীবনীতে এ বিষয়টি বা এর কিছু অংশ উল্লেখ করা হয়েছে। এর তাৎপর্য কী?
তারা যদি মূলত আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার ওপরই থাকতেন, তবে তারা কোন বিষয় থেকে ফিরে আসলেন? কেন ফিরে আসলেন? এবং কোন আকিদার দিকে ফিরে আসলেন?
চতুর্থত: অধিকাংশ মুসলিম ইমাম তাদের মাযহাবের অনুসারী—আশআরিদের এই দাবিটি প্রমাণহীন, যা ঐতিহাসিক বাস্তবতা দ্বারা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এমনকি খোদ আশআরিদের গ্রন্থসমূহ যখন সালাফ ও খালাফদের মাযহাবের সংজ্ঞা প্রদান করে, তখন এই দাবিটি অসার প্রমাণিত হয়।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تَقول: "إِن مَذْهَب السّلف هُوَ مَذْهَب الْقُرُون الثَّلَاثَة"، وَبَعضهَا يَقُول: "إِنَّه مَذْهَب الْقُرُون الْخَمْسَة" (1) ، فَمَاذَا بَقِي بعد هَذِه الْقُرُون؟
وَصَدقُوا فالثابت تاريخيا أَن مَذْهَب الأشاعرة لم ينتشر إِلَّا فِي الْقرن الْخَامِس إِثْر انتشار كتب الباقلاني (2).
وَلَوْلَا ضيق المجال لسردت قَائِمَة متوازنة أذكر فِيهَا كبار الأشاعرة وَمن عاصرهم من كبار أهل السّنة وَالْجَمَاعَة الَّذين يفوقون أُولَئِكَ عددا وعلماً وفضلاً، وحسبك مَا جمعه ابْن الْقيم فِي اجْتِمَاع الجيوش الإسلامية، والذهبي فِي الْعُلُوّ، وقبلهما اللالكائي.
أما عوام الْمُسلمين فَالْأَصْل فيهم أَنهم على عقيدة السّلف؛ لِأَنَّهَا الْفطْرَة الَّتِي يُولد عَلَيْهَا الْإِنْسَان وينشأ عَلَيْهَا الْمُسلم بِلَا تلقين وَلَا تَعْلِيم (من حَيْثُ الأَصْل) ، فَكل من لم يلقِّنْهُ المبتدعة بدعتَهم ويدرِّسوه كتبهمْ فَلَيْسَ من حق أيّ فرقة أَن تدَّعيه إِلَّا أهل السّنة وَالْجَمَاعَة.
--------------------------------------------
আপনি বলছেন: "সালাফদের মানহাজ বা মতাদর্শ হলো প্রথম তিন শতাব্দীর মাযহাব", এবং তাদের কেউ কেউ বলেন: "এটি হলো প্রথম পাঁচ শতাব্দীর মাযহাব" (১); তবে এই শতাব্দীগুলোর পরে আর কী অবশিষ্ট থাকে?
তারা সত্যই বলেছেন; কেননা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, আল-বাকিল্লানির কিতাবসমূহের প্রসারের ফলে পঞ্চম শতাব্দীর আগে আশআরি মাযহাব বিস্তার লাভ করেনি (২)।
স্থানের সংকীর্ণতা না থাকলে আমি একটি ভারসাম্যপূর্ণ তালিকা পেশ করতাম যেখানে বড় বড় আশআরি আলেমদের এবং তাদের সমসাময়িক আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সেই সকল শীর্ষস্থানীয় আলেমদের কথা উল্লেখ করতাম, যারা সংখ্যায়, জ্ঞানে এবং ফযিলতে তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। ইবনুল কাইয়্যিম 'ইজতিমাউল জুইউশ আল-ইসলামিয়্যাহ' গ্রন্থে, আয-যাহাবি 'আল-উলু' গ্রন্থে এবং তাদের পূর্বে আল-লালকায়ি যা সংকলন করেছেন তা-ই আপনার জন্য যথেষ্ট।
সাধারণ মুসলিমদের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তারা সালাফদের আকিদার ওপরই প্রতিষ্ঠিত; কারণ এটিই সেই ফিতরাত বা সহজাত প্রকৃতি যার ওপর মানুষ জন্মগ্রহণ করে এবং একজন মুসলিম কোনো প্রকার দীক্ষা বা শিক্ষা ছাড়াই (মূলত) এর ওপর বেড়ে ওঠে। সুতরাং, যাকে বিদআতিরা তাদের বিদআতের দীক্ষা দেয়নি এবং তাদের কিতাবাদি পড়ায়নি, তাকে নিজেদের দলের বলে দাবি করার অধিকার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ছাড়া অন্য কোনো দলের নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَمن الْأَدِلَّة على ذَلِك: الْإِنْسَان الَّذِي يدْخل فِي الْإِسْلَام حَدِيثا، فَهَل تَسْتَطِيع أيّ فرقة أَن تَقول إِنَّه معتزلي أَو أشعري؟ أمّا نَحن فبمجرَّد إِسْلَامه يصبح وَاحِدًا منا.
وَإِن شِئْت الْمِثَال على عقيدة الْعَوام فاسأل الملايين من الْمُسلمين شرقا وغربا هَل فيهم من يعْتَقد أَن الله لَا دَاخل الْعَالم وَلَا خَارجه وَلَا فَوْقه وَلَا تَحْتَهُ كَمَا تَقول الأشاعرة.
أم أَنهم كلهم مفطورون على أَنه تَعَالَى فَوق الْمَخْلُوقَات، وَهَذِه الْفطْرَة تظل ثَابِتَة فِي قُلُوبهم حَتَّى وان وجدوا من يُلقِّنهم فِي أذهانهم تِلْكَ المقولة الموروثة عَن فلاسفة اليونان (1).
وَقس على هَذَا نظرية الْكسْب وَالْكَلَام النَّفْسِيّ وَنفي التَّأْثِير وأشباهها مِمَّا سترى فِي عقائد الأشاعرة على أَن الْمَوْضُوع
--------------------------------------------
এ বিষয়ের প্রমাণসমূহের মধ্যে একটি হলো: সেই ব্যক্তি যে নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছে; কোনো দল কি এ কথা দাবি করতে পারে যে সে মুতাজিলি অথবা আশআরি? পক্ষান্তরে আমরা মনে করি, সে ইসলাম গ্রহণের সাথে সাথেই আমাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
আর যদি আপনি সাধারণ মানুষের আকিদা বা বিশ্বাসের উদাহরণ চান, তবে পূর্ব থেকে পশ্চিমের লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে জিজ্ঞাসা করুন—তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে বিশ্বাস করে আল্লাহ জগতের ভেতরেও নন, বাইরেও নন, উপরেও নন এবং নিচেও নন, যেমনটি আশআরিরা বলে থাকে?
নাকি তারা সবাই এ স্বভাবজাত সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, মহান আল্লাহ সৃষ্টির ঊর্ধ্বদেশে? আর এই ফিতরাত বা স্বভাবজাত বিশ্বাস তাদের অন্তরে অটল থাকে, এমনকি যদি তারা এমন কাউকে পায় যে তাদের মগজে গ্রীক দার্শনিকদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সেই মতবাদটি গেঁথে দিতে চায় (১)।
এর ওপর ভিত্তি করেই কাসব (অর্জন) তত্ত্ব, কালামে নাফসি (মানসিক বাক), স্বভাবজাত প্রভাব অস্বীকার করা এবং এ জাতীয় বিষয়গুলোকে তুলনা করুন, যা আপনি আশআরিদের আকিদার মধ্যে দেখতে পাবেন যে বিষয়টি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الَّذِي يجب التَّنْبِيه إِلَيْهِ هُوَ التَّفْرِيق بَين متكلمي الأشاعرة كالرازى والآمدي والشهرستاني والبغدادي والإيجي وَنَحْوهم، وَبَين من تأثر بمذهبهم عَن حسن نِيَّة واجتهاد أَو مُتَابعَة خاطئة أَو جهل بِعلم الْكَلَام أَو لاعْتِقَاده أَنه لَا تعَارض بَين مَا أَخذ مِنْهُم وَبَين النُّصُوص، وَمن هَذَا الْقسم أَكثر الأفاضل الَّذين يحْتَج بذكرهم الصَّابُونِي وَغَيره وعَلى رَأْسهمْ الْحَافِظ ابْن حجر- رحمه الله.
وَلست أَشك أَن الْمَوْضُوع يحْتَاج لبسط وإيضاح وَمَعَ هَذَا فإنني أقدِّم للقراء لمحة موجزة عَن موقف ابْن حجر من الأشاعرة:
ومن المعلوم أن إمام الأشعرية المتأخر الذي ضبط المذهب وقئَد أصوله هو الفخر الرازي (ت 606 هـ) ثم خلفه الأمدي (631 هـ) والآرموي (682 هـ) فننثرا فكره في الشام ومصر واستوفيا بعض القضايا في المذهب (وفكر هؤلاء الثلاثة هو الذي كان الموضوع الرئيسي في كتاب درء التعارضِ) وأعقبهم الأيجي صاحب المواقف (الذي كان معاصرا لشيخ الإسلام ابن تيمية) فألف
"المواقف" الذي هو تقنين وتنظيم لفكر الرازي ومدرسته، وهذا الكتاب هو عمدة المذهب قديما، وحديثا.
এখানে যে বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় তা হলো, আশআরি ইলমুল কালাম বিশারদ—যেমন রাজি, আমেদি, শাহরাস্তানি, বাগদাদি, ইজি ও তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ—এবং যারা সদিচ্ছা ও ইজতিহাদবশত কিংবা ভুল অনুসরণে অথবা ইলমুল কালাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে কিংবা তাঁদের থেকে গৃহীত মতাদর্শ ও পবিত্র ধর্মতাত্ত্বিক মূলপাঠের (নসুস) মধ্যে কোনো বিরোধ নেই—এমন বিশ্বাস থেকে তাঁদের মাযহাব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা। সাবুনি ও অন্যান্যরা যাঁদের নাম দলিল হিসেবে পেশ করেন, তাঁদের মধ্যকার অধিকাংশ বরেণ্য আলেম এই দ্বিতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত; আর তাঁদের শীর্ষে রয়েছেন হাফেজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)।
আমি এতে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না যে, বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের দাবি রাখে; তবুও পাঠকদের সমীপে আশআরিদের ব্যাপারে ইবনে হাজারের অবস্থান সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরছি:
এটি সর্বজনবিদিত যে, পরবর্তী যুগের আশআরি ইমামদের মধ্যে যিনি এই মাযহাবকে সুসংবদ্ধ করেছেন এবং এর মূলনীতিসমূহ বিধিবদ্ধ করেছেন, তিনি হলেন ফখরুদ্দিন রাজি (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি)। এরপর উত্তরসূরি হিসেবে আসেন আমেদি (৬৩১ হিজরি) ও আরমাভি (৬৮২ হিজরি); তাঁরা সিরিয়া ও মিশরে তাঁর চিন্তাধারা প্রচার করেন এবং মাযহাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে পূর্ণতা দান করেন (আর এই তিনজনের চিন্তাধারাই ছিল 'দারউত তাআরুদ' গ্রন্থের প্রধান আলোচ্য বিষয়)। তাঁদের পরবর্তী উত্তরসূরি ছিলেন 'আল-মাওয়াকিফ' গ্রন্থের রচয়িতা ইজি (যিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সমসাময়িক ছিলেন)। তিনি রচনা করেন—
"আল-মাওয়াকিফ", যা মূলত রাজি এবং তাঁর ঘরানার চিন্তাধারার একটি সুশৃঙ্খল ও বিধিবদ্ধ সংকলন। প্রাচীন ও বর্তমান উভয় কালেই এই গ্রন্থটি এই মাযহাবের প্রধান নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَقد ترْجم الْحَافِظ الذَّهَبِيّ- رحمه الله فِي الْمِيزَان وَغَيره للرازي والآمدي بِمَا هم أَهله، ثمَّ جَاءَ ابْن السُّبْكِيّ- ذَلِك الْأَشْعَرِيّ المتعصب - فتعقّبه وعنّف عَلَيْهِ ظلما. ثمَّ جَاءَ ابْن حجر- رحمه الله فألف لِسَان الْمِيزَان فترجم لَهما بطبيعة الْحَال- نَاقِلا كَلَام ابْن السُّبْكِيّ ونقده للذهبي (1) - وَلم يكن يخفى عَلَيْهِ مكانتهما وإمامتهما فِي الْمَذْهَب كَمَا ذكر طرفا من شنائع الأرموي ضمن تَرْجَمَة الرَّازِيّ.
فَإِذا كَانَ موقف ابْن حجر لِأَن موقفه هُوَ الَّذِي يحدد انتماءه لفكر هَؤُلَاءِ الْقَوْم أَو عَدمه؟ إِن الَّذِي يقْرَأ ترجمتيهما فِي اللِّسَان لَا يُمكن أَن يَقُول إِن ابْن حجر على مذهبهِما أبدا، كَيفَ وَقد أورد نقولاً كَثِيرَة موثقة عَن ضلالهما وشنائعهما الَّتِي لَا يقرها أيّ مُسلم فضلا عمّن هُوَ فِي علم الْحَافِظ وفضله؟.
على أَنه قَالَ فِي آخر تَرْجَمَة الرَّازِيّ "أوصى بِوَصِيَّة تدل على أَنه حسّن اعْتِقَاده".
وَهَذِه الْعبارَة الَّتِي قد يفهم مِنْهَا أَنَّهَا متعاطفة مَعَ الرَّازِيّ ضد مهاجميه هِيَ شَاهد لما نقُول نَحن هُنَا، فَإِن وَصِيَّة
--------------------------------------------
হাফিজ যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-মিযান' এবং অন্যান্য গ্রন্থে রাযী ও আমিদীর জীবনী আলোচনা করেছেন তাঁদের যোগ্য মর্যাদা অনুযায়ী। অতঃপর ইবনে সুবকী—সেই গোঁড়া আশআরি—এসেছেন এবং তাঁর বক্তব্যের পিছু নিয়েছেন এবং অন্যায়ভাবে তাঁর প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন। এরপর ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) এসে 'লিসানুল মিযান' রচনা করেন এবং স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের উভয়ের জীবনী উল্লেখ করেন—যেখানে তিনি ইবনে সুবকীর বক্তব্য এবং যাহাবীর প্রতি তাঁর সমালোচনা উদ্ধৃত করেছেন (১)—আর মাযহাবের ক্ষেত্রে তাঁদের মর্যাদা ও ইমামত সম্পর্কে তিনি অনবহিত ছিলেন না; যেমনটি তিনি রাযীর জীবনীর আলোচনায় আরমাভীর কিছু জঘন্য বিষয়েরও উল্লেখ করেছেন।
এমতাবস্থায় ইবনে হাজারের অবস্থান কী ছিল? কারণ তাঁর অবস্থানই নির্ধারণ করে দেবে যে তিনি এই শ্রেণির লোকদের চিন্তাধারার অনুসারী ছিলেন কি না। যে ব্যক্তি 'লিসান' গ্রন্থে এই দুইজনের জীবনী পাঠ করবে, সে কখনোই বলতে পারবে না যে ইবনে হাজার তাঁদের মতাদর্শের ওপর ছিলেন। তা কীভাবে সম্ভব, যেখানে তিনি তাঁদের বিভ্রান্তি ও জঘন্য বিষয়গুলো সম্পর্কে বহু নির্ভরযোগ্য উদ্ধৃতি পেশ করেছেন, যা কোনো সাধারণ মুসলিমও সমর্থন করতে পারে না, হাফিজের মতো অগাধ জ্ঞান ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির কথা তো বলাই বাহুল্য!
তা সত্ত্বেও তিনি রাযীর জীবনীর শেষে বলেছেন, "তিনি এমন একটি অসিয়ত করে গেছেন যা প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর আকিদা (বিশ্বাস) সংশোধন করেছিলেন।"
আর এই বাক্যটি, যা থেকে সম্ভবত রাযীর সমালোচকদের বিপরীতে তাঁর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ পায় বলে মনে হতে পারে, তা আমরা যা বলছি তারই প্রমাণ বহন করে। কারণ অসিয়তটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الرَّازِيّ الَّتِي نقلهَا ابْن السُّبْكِيّ نَفسه صَرِيحَة فِي رُجُوعه إِلَى مَذْهَب السّلف.
فَبعد هَذَا نسْأَل:
أَكَانَ ابْن حجر يعْتَقد أَو يُؤَيّد عقيدة الرَّازِيّ الَّتِي فِي كتبه أم عقيدته الَّتِي فِي وَصيته؟ الْإِجَابَة وَاضِحَة من عِبَارَته نَفسهَا.
هَذِه وَاحِدَة.
وَالْأُخْرَى: أَن الْحَافِظ فِي الْفَتْح قد نقد الأشاعرة باسمهم الصَّرِيح وَخَالفهُم فِيمَا هُوَ من خَصَائِص مَذْهَبهم فمثلاً خالفهم فِي الْإِيمَان، وَإِن كَانَ تَقْرِيره لمَذْهَب السّلف فِيهِ يحْتَاج لتحرير. ونقدهم فِي مَسْأَلَة الْمعرفَة وَأول واجَب على الْمُكَلف فِي أول كِتَابه وَآخره (1).
كَمَا أَنه نقد شيخهم فِي التَّأْوِيل (ابْن فورك) فِي تأويلاته الَّتِي نقلهَا عَنهُ فِي شرح كتاب التَّوْحِيد من الْفَتْح، وذم التَّأْوِيل والمنطق مرجحا مَنْهَج الثَّلَاثَة الْقُرُون الأولى، كَمَا أَنه يخالفهم فِي الِاحْتِجَاج بِحَدِيث الْآحَاد فِي العقيدة (2) ،
--------------------------------------------
রাজির যে বক্তব্য স্বয়ং ইবনে সুবকি উদ্ধৃত করেছেন, তা সালাফদের মাজহাবের দিকে তাঁর ফিরে আসার ব্যাপারে অত্যন্ত স্পষ্ট।
এরপর আমরা প্রশ্ন করি:
ইবনে হাজার কি রাজির কিতাবসমূহে বর্ণিত আকিদায় বিশ্বাস করতেন কিংবা তা সমর্থন করতেন, নাকি তাঁর ওসিয়ত বা অন্তিম পত্রে বর্ণিত আকিদাকে? উত্তর তাঁর নিজের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।
এটি একটি বিষয়।
আর অন্যটি হলো: হাফেজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারি'তে আশআরিদের স্পষ্ট নাম উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন এবং তাদের মাজহাবের মৌলিক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিষয়গুলোতে তাদের বিরোধিতা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ঈমানের মাসআলায় তাদের বিরোধিতা করেছেন, যদিও সেখানে সালাফদের মাজহাব বর্ণনায় তাঁর বক্তব্যের কিছুটা পরিমার্জন প্রয়োজন। তদ্রূপ তিনি তাঁর গ্রন্থের শুরুতে এবং শেষে মারিফাত এবং মুকাল্লাফের ওপর প্রথম ওয়াজিব সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের সমালোচনা করেছেন (১)।
তেমনিভাবে তিনি তাবিল বা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাদের শায়খ (ইবনে ফুরাক)-এর সেইসব ব্যাখ্যার সমালোচনা করেছেন যা তিনি ফাতহুল বারির 'কিতাবুত তাওহিদ'-এর ব্যাখ্যায় তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তিনি তাবিল এবং যুক্তিবিদ্যার নিন্দা করেছেন এবং প্রথম তিন শতাব্দীর মানহাজকে প্রাধান্য দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আকিদার ক্ষেত্রে আহাদ হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণের বিষয়েও তাদের বিরোধিতা করেছেন (২) ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَغَيرهَا من الْأُمُور الَّتِي لَا مجَال لتفصيلها هُنَا.
وَالَّذِي أرَاهُ أَن الْحَافِظ رحمه الله أقرب شَيْء إِلَى عقيدة مفوِّضة الْحَنَابِلَة كَأبي يعلى وَنَحْوه مِمَّن ذكرهم شيخ الْإِسْلَام فِي دَرْء تعَارض الْعقل وَالنَّقْل (1) ووصفهم بمحبة الْآثَار والتمسك بهَا لكِنهمْ وافقوا بَعض أصُول الْمُتَكَلِّمين وتابعوهم ظانِّين صِحَّتهَا عَن حسن نِيَّة.
وَقد كَانَ من الْحَنَابِلَة من ذهب إِلَى أبعد من هَذَا كَابْن الْجَوْزِيّ وَابْن عقيل وَابْن الزَّاغُونِيّ. وَمَعَ ذَلِك فَهَؤُلَاءِ كَانُوا أَعدَاء ألدَّاء للأشاعرة، وَلَا يجوز بِحَال أَن يعتبروا أشاعرة فَمَا بالك بأولئك.
وَالظَّاهِر أَن سَبَب هَذَا الِاشْتِبَاه فِي نِسْبَة بعض الْعلمَاء للأشاعرة أَو أهل السّنة وَالْجَمَاعَة هُوَ أَن الأشاعرة فرقة كلامية انشقت عَن أَصْلهَا (الْمُعْتَزلَة) ووافقت السّلف فِي بعض القضايا وتأثرت بمنهج الْوَحْي، فِي حِين أَن بعض من
--------------------------------------------
এবং অন্যান্য বিষয় যা এখানে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই।
আমার দৃষ্টিতে হাফিজ (রাহিমাহুল্লাহ) হাম্বলী মুফাউয়্যিদাহদের আকিদার সবচাইতে নিকটবর্তী, যেমন আবু ইয়ালা এবং তাঁর সমগোত্রীয় ব্যক্তিবর্গ, যাঁদের কথা শাইখুল ইসলাম 'দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি' (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁদেরকে আসার (নকলি দলিল)-এর প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী এবং সেগুলোর ওপর অবিচল ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন; তবে তাঁরা ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের কিছু মূলনীতির সাথে একমত হয়েছেন এবং সেগুলোকে সঠিক মনে করে সরল বিশ্বাসে তাঁদের অনুসরণ করেছেন।
হাম্বলীদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ ছিলেন যারা এর চেয়েও চরমপন্থা অবলম্বন করেছিলেন, যেমন ইবনুল জাওযী, ইবনে আকীল এবং ইবনে যাগুনী। তা সত্ত্বেও তাঁরা ছিলেন আশআরীদের কট্টর শত্রু। কোনোভাবেই তাঁদেরকে আশআরী হিসেবে গণ্য করা বৈধ নয়, তাহলে পূর্বোক্তদের ব্যাপারে তো প্রশ্নই আসে না।
প্রকাশ্যত প্রতীয়মান হয় যে, কিছু আলিমকে আশআরী অথবা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার ক্ষেত্রে এই বিভ্রান্তির কারণ হলো, আশআরীরা একটি কালামি দল যা তাদের মূল ভিত্তি (মুতাজিলা) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কতিপয় বিষয়ে সালাফদের সাথে একমত হয়েছিল এবং ওহির মানহাজ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। অন্যদিকে এমন কিছু ব্যক্তি যারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هم على مَذْهَب أهل السّنة وَالْجَمَاعَة فِي الأَصْل تأثروا بِسَبَب من الْأَسْبَاب بِأَهْل الْكَلَام فِي بعض القضايا وخالفوا فِيهَا مَذْهَب السّلف.
فَإِذا نظر النَّاظر إِلَى الْمَوَاضِع الَّتِي يتَّفق فِيهَا هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاء ظن أَن الطائفين على مَذْهَب وَاحِد. فَهَذَا التَّدَاخُل بَينهمَا هُوَ مصدر اللّبْس.
وَكَثِيرًا مَا تَجِد فِي كتب الْجرْح وَالتَّعْدِيل- وَمِنْهَا لِسَان الْمِيزَان لِلْحَافِظِ ابْن حجر- قَوْلهم عَن الرجل أَنه وَافق الْمُعْتَزلَة فِي أَشْيَاء من مصنفاته أَو وَافق الْخَوَارِج فِي بعض أَقْوَالهم وَهَكَذَا وَمَعَ هَذَا لَا يعتبرونه معتزليا أَو خارجيا، وَهَذَا الْمنْهَج إِذا طبقناه على الْحَافِظ وعَلى النَّوَوِيّ وأمثالهما لم يَصح اعتبارهم أشاعرة وَإِنَّمَا يُقَال: "وافقوا الأشاعرة فِي أَشْيَاء"، مَعَ ضَرُورَة بَيَان هَذِه الْأَشْيَاء واستدراكاتها عَلَيْهِم حَتَّى يُمكن الاستفادة من كتبهمْ بِلَا توجس نما مَوْضُوعَات العقيدة (1).
--------------------------------------------
তাঁরা মূলত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন, তবে বিশেষ কোনো কারণে কতিপয় বিষয়ে তাঁরা কালামশাস্ত্রবিদদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং সেসব ক্ষেত্রে সালাফগণের পদ্ধতির বিরোধিতা করেছিলেন।
এমতাবস্থায় কোনো পর্যবেক্ষক যখন এই উভয় পক্ষের ঐকমত্যের বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, তখন তিনি মনে করেন যে এই উভয় গোষ্ঠী একই মাযহাবের অনুসারী। মূলত তাদের মধ্যকার এই পারস্পরিক সংমিশ্রণই বিভ্রান্তির মূল উৎস।
আপনি জারহ ও তা'দীল বিষয়ক গ্রন্থসমূহে—যার অন্তর্ভুক্ত হাফিয ইবনু হাজার-এর 'লিসানুল মিজান'—প্রায়শই কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এমন মন্তব্য দেখতে পাবেন যে, তিনি তাঁর রচনাবলির কিছু অংশে মুতাজিলাদের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন অথবা তাঁর কিছু বক্তব্যে খাওয়ারিজদের সাথে একমত হয়েছেন ইত্যাদি; কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা তাঁকে মুতাজিলি বা খারিজি হিসেবে গণ্য করেন না। এই পদ্ধতিটি যদি আমরা হাফিয ইবনু হাজার, ইমাম নববী ও তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করি, তবে তাঁদেরকে আশআরি হিসেবে গণ্য করা শুদ্ধ হবে না। বরং কেবল এটুকুই বলা হবে যে: "তাঁরা কতিপয় বিষয়ে আশআরিদের সাথে একমত হয়েছিলেন।" সেই সাথে আকীদার বিষয়গুলোতে কোনো প্রকার সংশয় ব্যতিরেকে তাঁদের গ্রন্থসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার সুবিধার্থে ওই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর ওপর সংশোধনমূলক আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
خَامِسًا: قَالَ فَضِيلَة الشَّيْخ الفوزان عَن الأشاعرة: "نعم هم من أهل السّنة وَالْجَمَاعَة فِي بَقِيَّة أَبْوَاب الْإِيمَان والعقيدة وَلَيْسوا مِنْهُم فِي بَاب الصِّفَات".
وَهَذَا سبق قلم من فضيلته وَمثل هَذِه الدَّعْوَى هِيَ الَّتِي يهش لَهَا الأشاعرة المعاصرون ويروِّجونها؛ لِأَنَّهُ إِذا كَانَ الْفَارِق هُوَ الصِّفَات فَقَط قَالُوا: إِن الْخلاف فِيهَا أَصله الِاجْتِهَاد وَالْكل يتفقون على التَّنْزِيه فَكَأَنَّهُ لَا خلاف إِذن
… وَرُبمَا قَالُوا: نَحن مستعدون أَن نثبت لله يدا وعيناً وَسَائِر الصِّفَات فِي سَبِيل تَوْحِيد الصَّفّ ووحدة الْكَلِمَة!!!
وَليكن مَعْلُوما أَن ابْتِدَاء أَمر الأشاعرة أَنهم توسلوا إِلَى أهل السّنة أَن يكفوا عَن هجرهم وتبديعهم وتضليلهم وَقَالُوا: "نَحن مَعكُمْ ندافع عَن الدّين وننازل الْمُلْحِدِينَ" (1)، فاغتر بِهَذَا بعض عُلَمَاء أهل السّنة وسكتوا عَنْهُم فتمكّن الأشاعرة فِي الْأمة ثمَّ فِي النِّهَايَة استطالوا على أُولَئِكَ واستأثروا بِهَذَا الِاسْم دون أَهله، وَأَصْبحُوا هم يضللون أهل السّنة ويضطهدونهم ويلقبونهم بأشنع الألقاب. فحتى لَا
--------------------------------------------
পঞ্চম: সম্মানিত শায়খ আল-ফাওজান আশায়িরাদের সম্পর্কে বলেছেন: "হ্যাঁ, তারা ঈমান ও আকিদার অবশিষ্ট অধ্যায়গুলোতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত, তবে সিফাত (গুণাবলী) সংক্রান্ত অধ্যায়ে তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"
এটি শায়খের লেখনীর একটি বিচ্যুতি, আর এই ধরণের দাবিই সমসাময়িক আশায়িরাদের আনন্দিত করে এবং তারা এর প্রচার চালায়; কেননা যদি পার্থক্যের ক্ষেত্রটি কেবল সিফাত বা গুণাবলীই হয়, তবে তারা বলবে: এর মধ্যকার মতভেদ মূলত ইজতিহাদভিত্তিক এবং সকলেই 'তানযিহ' (আল্লাহকে ত্রুটিমুক্ত ঘোষণা করা)-এর বিষয়ে একমত, ফলে তখন আর কোনো মতভেদই অবশিষ্ট থাকে না
... সম্ভবত তারা এমনটিও বলতে পারে: আমরা সারিবদ্ধ একতা ও সংহতির স্বার্থে আল্লাহর জন্য হাত, চোখ এবং অন্যান্য গুণাবলী সাব্যস্ত করতে প্রস্তুত!!!
এটিও জানা থাকা উচিত যে, আশায়িরাদের প্রসারের সূচনাটি ছিল এমন যে, তারা আহলুস সুন্নাহর নিকট অনুনয়-বিনয় করেছিল যেন তারা তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ, বিদআতি আখ্যা দেওয়া এবং পথভ্রষ্ট বলার বিষয়টি বন্ধ করেন। তারা বলেছিল: "আমরা আপনাদের সাথেই আছি, আমরা দ্বীনের প্রতিরক্ষা করব এবং নাস্তিকদের মোকাবেলা করব" (১)। আহলুস সুন্নাহর কিছু আলিম এতে আশ্বস্ত হন এবং তাদের বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেন, ফলে উম্মাহর মধ্যে আশায়িরাদের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর শেষ পর্যন্ত তারা তাদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং প্রকৃত হকদারদের বাদ দিয়ে এই (আহলুস সুন্নাহ) নামটি নিজেদের জন্য কুক্ষিগত করে নেয়। তখন তারাই উল্টো আহলুস সুন্নাহকে পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত করতে শুরু করে, তাদের ওপর নির্যাতন চালায় এবং অত্যন্ত জঘন্য সব উপাধিতে ভূষিত করে। যাতে আর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تَتَكَرَّر هَذِه المشكلة وإحقاقا للحق رَأَيْت
الْأُصُول المنهجية فِي مَذْهَب الأشاعرة
من واجبي أَن أسْهم بتفصيل مَذْهَب الأشاعرة فِي كل أَبْوَاب العقيدة ليتضح أَنهم على مَنْهَج فكري مُسْتَقل فِي كل الْأَبْوَاب وَالْأُصُول، ويختلفون مَعَ أهل السّنة وَالْجَمَاعَة من أول مصدر التلقِّي حَتَّى آخر السمعيات ماعدا قَضِيَّة وَاحِدَة فَقَط.
وَإِلَيْك هَذِه الْأُصُول المنهجية فِي مَذْهَبهم موجزة ومُيَسَّرة مَا أمكن- عدا أَقْوَالهم فِي الصِّفَات وَعدا الفرعيات الَّتِي لَا تدخل تَحت حصر- مَعَ التَّنْبِيه، ومقدما إِلَى مَا بَينهَا من تنَاقض لَا يخفى على الْقَارئ الفطن:
الأول: مصدر التلقِّي:
أ _ مصدر التلقي عِنْد الأشاعرة هُوَ الْعقل وَقد صرح الْجُوَيْنِيّ والرازي والبغدادي وَالْغَزالِيّ والآمدي والإيجي وَابْن فورك والسنوسي وشُرَّاح الْجَوْهَرَة وَسَائِر أئمتهم بِتَقْدِيم الْعقل على النَّقْل عِنْد التَّعَارُض، وعَلى هَذَا يرى المعاصرون مِنْهُم، وَمن هَؤُلَاءِ السَّابِقين من صرح بِأَن الْأَخْذ بظواهر الْكتاب وَالسّنة أصل من أصُول الْكفْر، وَبَعْضهمْ خفّفها فَقَالَ: هُوَ أصل الضَّلَالَة!!.
এই সমস্যাটি বারবার উদ্ভূত হচ্ছে এবং সত্য প্রতিষ্ঠার খাতিরে আমি সমীচীন মনে করেছি
আশায়েরা মাযহাবের পদ্ধতিগত মূলনীতিসমূহ
আকিদার প্রতিটি অধ্যায়ে আশায়েরা মাযহাবের বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে অবদান রাখা আমার কর্তব্য বলে মনে করি, যাতে এটি প্রতিভাত হয় যে তারা সকল অধ্যায় ও মূলনীতির ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক মানহাজের অনুসারী। তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের সাথে জ্ঞানের আদি উৎস থেকে শুরু করে শ্রবণনির্ভর শেষ বিষয় (সামইয়াত) পর্যন্ত বিরোধ পোষণ করে, কেবল একটি মাত্র মাসআলা ব্যতীত।
আপনার সম্মুখে তাদের মাযহাবের এই পদ্ধতিগত মূলনীতিসমূহ যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা হলো—সিফাত (আল্লাহর গুণাবলি) সম্পর্কিত তাদের অভিমত এবং অগণিত শাখা-প্রশাখামূলক বিষয়াদি ব্যতিরেকে—সতর্কীকরণের সাথে এবং তাদের মাঝে বিদ্যমান বৈপরীত্যের দিকে অগ্রিম ইঙ্গিত প্রদান করে, যা একজন বিচক্ষণ পাঠকের নিকট অস্পষ্ট থাকবে না:
প্রথম: জ্ঞানের উৎস (মাসদারুত তালিক্কি):
ক) আশায়েরাদের নিকট জ্ঞানের প্রধান উৎস হলো আকল (বিবেক/বুদ্ধি)। জুওয়াইনি, রাজি, বাগদাদি, গাজালি, আমিদি, ইজি, ইবনে ফুরাক, সানুসি, জাওহারা-এর ব্যাখ্যাকারগণসহ তাদের অন্যান্য সকল ইমাম স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বিরোধের ক্ষেত্রে আকলকে নকলের (কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনা) ওপর প্রাধান্য দিতে হবে। তাদের বর্তমান অনুসারীরাও এই মতই পোষণ করেন। তাদের পূর্ববর্তী ইমামদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যারা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, কুরআন ও সুন্নাহর প্রকাশ্য বা বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করা কুফরির অন্যতম উৎস; আবার কেউ কেউ একে কিছুটা শিথিল করে বলেছেন: এটিই হলো পথভ্রষ্টতার মূল কারণ!!
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল আশায়িরাহ ফিল আকিদাহ - তাকীব আলা মাক্বালাতিস সাবুনী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ولضرورة الِاخْتِصَار أكتفي بمثالين مَعَ الإحالة إِلَى مَا فِي الْحَاشِيَة لمن أَرَادَ الْمَزِيد:
الأول: وضع الرَّازِيّ فِي أساس التَّقْدِيس القانوني الْكُلِّي للْمَذْهَب فِي ذَلِك فَقَالَ: "الْفَصْل الثَّانِي وَالثَّلَاثُونَ فِي أنّ الْبَرَاهِين الْعَقْلِيَّة إِذا صَارَت مُعَارضَة بالظواهر النقلية فَكيف يكون الْحَال فِيهَا؟
اعْلَم أَن الدَّلَائِل القطعية الْعَقْلِيَّة إِذا قَامَت على ثُبُوت شَيْء ثمَّ وجدنَا أَدِلَّة نقلية يشْعر ظَاهرهَا بِخِلَاف ذَلِك فهناك لَا يَخْلُو الْحَال من أحد أُمُور أَرْبَعَة:
1 - إِمَّا أَن يصدق مُقْتَضى الْعقل وَالنَّقْل فَيلْزم تَصْدِيق النقيضين وَهُوَ محَال.
2 - وَإِمَّا أَن يبطلا فَيلْزم تَكْذِيب النقيضين وَهُوَ محَال.
3 - وَإِمَّا أَن يصدق الظَّوَاهِر النقلية ويكذب الظَّوَاهِر الْعَقْلِيَّة وَذَلِكَ بَاطِل.
لِأَنَّهُ لَا يمكننا أَن نَعْرِف صِحَة الظَّوَاهِر النقلية إِلَّا إِذا عرفنَا بالدلائل الْعَقْلِيَّة إِثْبَات الصَّانِع وَصِفَاته وَكَيْفِيَّة دلَالَة المعجزة على صدق الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَظُهُور المعجزات على - مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم.
সংক্ষেপণের প্রয়োজনে আমি দুটি উদাহরণ দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছি এবং যারা আরও বিস্তারিত জানতে চান, তাদের জন্য টীকা দ্রষ্টব্য:
প্রথমত: ইমাম আল-রাজী তাঁর 'আসাসুত তাকদীস' গ্রন্থে এ বিষয়ে মাযহাবের সার্বিক মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "বত্রিশতম অধ্যায়: যখন বুদ্ধিভিত্তিক প্রমাণসমূহ বর্ণনাভিত্তিক বাহ্যিক পাঠের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তখন সে ক্ষেত্রে অবস্থান কী হবে?
জেনে রাখুন যে, অকাট্য বুদ্ধিভিত্তিক দলিলসমূহ যখন কোনো বিষয়ের সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, অতঃপর আমরা এমন কিছু বর্ণনাভিত্তিক দলিল পাই যার বাহ্যিক দিকটি এর বিপরীত মনে হয়, তখন সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি চারটি অবস্থার বাইরে হতে পারে না:
১ - হয় বুদ্ধি ও বর্ণনা উভয়ের দাবিকেই সত্য বলে মেনে নিতে হবে; ফলে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়কে সত্য বলে সাব্যস্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়বে, যা অসম্ভব।
২ - অথবা উভয়টিকেই বাতিল বলে গণ্য করতে হবে; ফলে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়কে মিথ্যা সাব্যস্ত করা আবশ্যক হবে, যা অসম্ভব।
৩ - অথবা বর্ণনাভিত্তিক বাহ্যিক পাঠকে সত্য এবং বুদ্ধিভিত্তিক বাহ্যিক প্রমাণকে মিথ্যা সাব্যস্ত করতে হবে; আর এটি অসার।
কারণ বর্ণনাভিত্তিক পাঠের বিশুদ্ধতা জানা আমাদের পক্ষে ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আমরা বুদ্ধিভিত্তিক দলিলের মাধ্যমে স্রষ্টার অস্তিত্ব ও তাঁর গুণাবলি, রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যতার ওপর মুজিজার প্রমাণের ধরন এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর মুজিজা প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারি।