(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: -)
الإرشاد إلى سبيل الرشاد القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: الإرشاد إلى سبيل الرشاد
المؤلف: الشريف محمد بن أحمد بن محمد بن أبي موسى الهاشمي (ت 428 هـ)
المحقق: د. عبد الله بن عبد المحسن التركي
الناشر: مؤسسة الرسالة ناشرون
عدد الصفحات: 552
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 ذو القعدة 1435
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ শাখা: হাম্বলি ফিকহ
কিতাব: আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
লেখক: শরীফ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি মুসা আল-হাশেমি (মৃত্যু ৪২৮ হিজরি)
গবেষক: ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি
প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ নাশিরুন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫২
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মারকাজুন নুخب আল-ইলমিয়্যাহ)
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ যুল কাদা ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب الإرشاد
إلى
سبيل الرشاد
تأليف
الشريف محمد بن أحمد بن محمد بن أبي موسى الهاشمي
المتوفى سنة 428هـ
تحقيق
الدكتور عبدالله بن عبد المحسن التركي
হেদায়েতের কিতাব
অভিমুখে
সঠিক পথ
রচনায়
আশ-শরিফ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি মুসা আল-হাশেমি
মৃত্যু ৪২৮ হিজরি
সম্পাদনায়
ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وسلم
الحمد لله الذي ابتدأنا بنعمته، وصورنا في الأرحام بحكمته، وأبرزنا إلى رفقه وما يسر لنا من رزقه وعلمنا ما لم نكن نعلم وكان فضل الله علينا عظيما ونبهنا بآثار صنعته، وأعذر إلينا على ألسنة المرسلين الخيرة من خلقة، فهدى من وفقه بفضلة وأضل من خذله بعدله، ويسر المؤمنين لليسرى، وشرح صدورهم للذكرى، فآمنوا بالله بألسنتهم ناطقين، وبقلوبهم مخلصين، وبما أتتهم به رسُله وكتُبة عاملين، وتعلموا ماعلمهم، ووقفوا عند ما حد لهم، واستغنوا بما أحل لهم عما حرم عليهم.
قال الشريف أبو علي محمد بن أحمد بن محمد بن أبي موسى الهاشمي رحمة الله تعالى:
أما بعدُ:
أعاننا الله وإياك على رعاية ودائعه وحفظ ما أودعنا من شرائعه، فإنك سألتني أن أكتب لك جملة مختصرة من واجب أمور الديانة وما تنطق به الألسنة، وتعتقدُه الأفئدة، وتملهُ الجوارح مما يتصلُ بالواجب من ذلك ومن السنن من مؤكدها ونوافلها ورغائبها، وشيئا من الآداب منها وجملة من الفقه على مذهب أبي عبدالله أحمد بن حنبل الشيباني رضي الله عنه وعنا به - وطريقته مع ما
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আপন প্রজ্ঞায় জরায়ুতে আমাদের আকৃতি দান করেছেন এবং আমাদের তাঁর করুণা ও আমাদের জন্য নির্ধারিত সহজ জীবিকার দিকে বের করে এনেছেন। তিনি আমাদের এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা আমরা জানতাম না এবং আমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান। তিনি তাঁর নিপুণ কার্যের নিদর্শনাবলির মাধ্যমে আমাদের সচেতন করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদের নিকট প্রমাণ পেশ করেছেন। অতঃপর তিনি স্বীয় অনুগ্রহে যাকে তাওফীক দিয়েছেন তাকে হিদায়াত করেছেন এবং স্বীয় ইনসাফে যাকে লাঞ্ছিত করেছেন তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন। তিনি মুমিনদের জন্য সহজ পথকে সুগম করেছেন এবং তাঁর স্মরণের জন্য তাদের অন্তরসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। ফলে তারা তাদের জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ করে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে, তাদের অন্তরে একনিষ্ঠ হয়েছে এবং তাঁর রাসূলগণ ও কিতাবসমূহ যা নিয়ে এসেছে সে অনুযায়ী আমল করেছে। তিনি তাদের যা শিখিয়েছেন তা তারা শিখেছে, তাদের জন্য যে সীমা নির্ধারণ করেছেন সেখানে তারা থেমে গিয়েছে এবং যা তাদের জন্য হারাম করেছেন তা বর্জন করে যা হালাল করেছেন তার মাধ্যমে তারা অমুখাপেক্ষী হয়েছে।
শরীফ আবু আলী মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি মুসা আল-হাশিমী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন:
অতঃপর:
আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে তাঁর আমানতসমূহ রক্ষায় এবং তাঁর শরীয়তের যেসব বিধান আমাদের নিকট গচ্ছিত রেখেছেন তা সংরক্ষণে সাহায্য করুন। নিশ্চয়ই আপনি আমার কাছে আবেদন করেছেন যেন আমি আপনার জন্য দ্বীনের আবশ্যকীয় বিষয়াবলি এবং যা জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ করতে হয়, অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করতে হয় এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে পালন করতে হয়—তন্মধ্যে ওয়াজিব বিষয়সমূহ, সুন্নতে মুয়াক্কাদা, নফল ও মুস্তাহাব কার্যাবলি, কিছু আদব-কায়দা এবং আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর উসিলায় আমাদের প্রতিও)—এর মাযহাব ও পদ্ধতি অনুযায়ী ফিকহের একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন লিখে দেই, সাথে যা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
يسهل سبيل ما أشكل من ذلك، من تفسير الراسخين في العلم وبيان المتفقهين، فأسرعتُ في ذلك، لما رجوت لنفسي ولك من ثواب تعليم دين الله عز وجل والدعاء إليه مع إعلاميك نهيه رضي الله عنه عن تقليده غيره بخبره فإنه قال مامن أحد إلا ويؤخذ من قوله ويترك ماسوى رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال: تعلموا العلم فإنه نافع لكم في دينكم وروي عنه رضي الله عنه أنه قال: لاتقلد أمرك أحداً وعليك بالأثر.
واعلم رحمك الله أن خير القلوب أوعاها للخير وقد بينت من ذلك ماتنتفع إن شاء الله تعالى بحفظة وتشرف بعلمه وتسعدُ باعتقاده والعمل به وقد فرض الله عز وجل على القلب عملا من الطاعات وسأُفصل لك ماشرطت لك ذكره باباً باباً ليقرُب من فهم متعلميه إن شاء الله تعالى وإياه نستخير ولا حول ولا قوة إلا بالله وصلى الله على سيدنا محمد النبي وآله وأصحابه وأزواجه وسلم تسليما كثيرا.
যা কিছু অস্পষ্ট ছিল, তা ইলমে পারদর্শীগণের ব্যাখ্যা ও ফকীহগণের বর্ণনার মাধ্যমে সহজসাধ্য করা হয়েছে। আমি এই কাজে দ্রুত অগ্রসর হয়েছি এই আশায় যে, মহান আল্লাহর দ্বীন শিক্ষা দেওয়া এবং তাঁর দিকে দাওয়াত দেওয়ার সাওয়াব আমি ও আপনি উভয়ই লাভ করব। সেই সাথে আপনাকে তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) এই নিষেধ সম্পর্কেও অবগত করছি যে, তিনি নিজের ক্ষেত্রেও অন্যের অন্ধ অনুকরণ করতে বারণ করেছেন। কেননা তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত এমন কেউ নেই যার কথা গ্রহণও করা যায় আবার বর্জনও করা যায়।" তিনি আরও বলেছেন: "তোমরা জ্ঞান অর্জন করো, কারণ তা তোমাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে উপকারী।" তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে আরও বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: "তোমার দ্বীনি বিষয়ে কারো অন্ধ অনুকরণ করো না, বরং আসারের (পূর্বসূরীদের বর্ণনা) অনুসরণ করো।"
জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন—নিশ্চয়ই সেই অন্তরই সর্বোত্তম যা কল্যাণকে অধিক ধারণ করতে পারে। আমি এ বিষয়গুলো বর্ণনা করেছি যা থেকে আপনি ইনশাআল্লাহ তা হিফজ করার মাধ্যমে উপকৃত হবেন, এর জ্ঞানের মাধ্যমে সম্মানিত হবেন এবং এর ওপর বিশ্বাস ও আমল করার মাধ্যমে সৌভাগ্যবান হবেন। মহান আল্লাহ অন্তরের ওপর আনুগত্যের কিছু আমল ফরজ করেছেন। আমি আপনার নিকট প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেই বিষয়গুলো অধ্যায় ভিত্তিক বিস্তারিত বর্ণনা করব, যাতে শিক্ষার্থীর জন্য তা বোঝা সহজ হয়, ইনশাআল্লাহ। আমরা তাঁর কাছেই কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই। আমাদের নেতা নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণের ওপর আল্লাহর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بابما تنطق به الألسنة وتعتقده الأفئدةمن واجب الدياناتحقيقة الإيمان عند أهل الأديان: الاعتقادُ بالقلب والنطق باللسان أن الله واحد أحد فرد صمدٌ لايغيره الأبد ليس له والد ولا ولد وأنه سميع بصير بديع قدير حكيم خبير عليٌ كبير ولي نصيرٌ قويٌ مجير ليس له شبيه ولا نظير ولا عونٌ ولا ظهير ولاشريك ولا وزير ولا ند ولا مشير. سبق الأشياء كلها فهو قديم لاكقدمها وعلم كون وجودها ونهاية عدمها لم تملكه الخواطر فتكيفه ولم تدركه الأوهام فتصفه ولم يخل من علمه مكان فيقع به التأيين ولم يعدمه زمان فينطلق عليه التأوين ولم يتقدمه دهر ولا حين ولا كان قبله كون ولا تكوين ولا حل في الأشياء تعالى الله رب العالمين لا تجري ماهيته في
পরিচ্ছেদযা জিহ্বা উচ্চারণ করে এবং অন্তর বিশ্বাস করেদ্বীনের আবশ্যক বিষয়সমূহ হতেদ্বীনদারগণের নিকট ঈমানের প্রকৃত স্বরূপ হলো: অন্তরে বিশ্বাস করা এবং জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ করা যে, আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, একক, অমুখাপেক্ষী; মহাকাল তাঁকে পরিবর্তন করে না, তাঁর কোনো পিতা নেই এবং কোনো সন্তান নেই। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, অভিনব স্রষ্টা, সর্বশক্তিমান, মহাপ্রজ্ঞাবান, সর্বজ্ঞ, সুউচ্চ, সুমহান, অভিভাবক, সাহায্যকারী, শক্তিশালী, আশ্রয়দানকারী। তাঁর কোনো সদৃশ নেই, কোনো সমকক্ষ নেই, কোনো সাহায্যকারী নেই, কোনো পৃষ্ঠপোষক নেই, কোনো অংশীদার নেই, কোনো উজির নেই, কোনো প্রতিপক্ষ নেই এবং কোনো পরামর্শদাতা নেই। তিনি সকল বস্তুর অগ্রবর্তী, সুতরাং তিনি অনাদি—তবে তাঁর অনাদিত্ব অন্য কিছুর অনাদিত্বের মতো নয়। তিনি বস্তুসমূহের অস্তিত্ব লাভ এবং তাদের অনস্তিত্বের সমাপ্তি সম্পর্কে অবগত। কোনো চিন্তা-ভাবনা তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না যে তাঁর স্বরূপ নির্ধারণ করবে এবং কোনো কল্পনা তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে না যে তাঁর বর্ণনা দেবে। কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয় যে তাঁর ক্ষেত্রে স্থানিকতা সাব্যস্ত হবে এবং কোনো সময় তাঁকে বিলুপ্ত করে না যে তাঁর ওপর কালনির্ভরতা প্রযোজ্য হবে। কোনো মহাকাল বা সময় তাঁর অগ্রবর্তী নয় এবং তাঁর পূর্বে কোনো অস্তিত্ব বা সৃষ্টি ছিল না। তিনি কোনো কিছুর মধ্যে বিলীন বা প্রবিষ্ট হন না; বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ অতি উচ্চ ও মহান। তাঁর সত্তাগত প্রকৃত স্বরূপ এতে পরিচালিত হয় না...
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مقال ولا تخطر كيفيتُهُ ببال ولا يدخل في الأمثال والأشكال صفاته كذاته ليس بجسم في صفاته جل أن يُشبّه بمبتدعاته أو يضاف إلى مصنوعاته (ليس كمثله شي وهو السميع البصير) الشورى 11) أراد مالعَالمٌ فاعلوه ولو عصمهم لما خالفوه ولو شاء أن يطيعوه جميعا لأطاعوه خلق الخلائق وأفعالهم وقدر أرزاقهم وآجالهم لاسَمِيً له في أرضه وسماواته ولا عديل له في حكمه وإرادته على العرش استوى وعلى الملك احتوى وعلمه محيط بالأشياء.
كذلك سئل أحمد بن حنبل رضي الله عنه عن قولة (ما يكون من نجوى ثلاثة إلا هو رابعهم ولا خمسة إلا هو سادسهم ولا أدنى من ذلك ولا أكثر إلا هو معهم أين ما كانوا) (المجادلة 7) فقال: علمه.
وأن القران كلام الله وصفة من صفات ذاته وأنه غير محدث ولا مخلوق كلام رب العالمين في صدور الحافظين وعلى ألسن الناطقين وفي أسماع السامعين وبأكف الكاتبين وبملاحظة الناظرين برهانه ظاهر وحكمة قاهر ومعجزة باهر.
وأن الله تعالى كلم موسى تكليما وتجلى للجبل فجعله دكا هشيما وأنه خلق النفوس فسواها وألهمها فجورها وتقواها.
والإيمان بالقدر خيرة وشره حلوه ومره كل من الله تعالى
وأن مع كل عبد رقيبا وعيدا وحفيظا وشهيدا يكتبان حسناته ويحصيان سيئاته وأن كل مؤمن وكافر وبر وفاجر يُعاينُ عملة عند حضور منيته ويعلمُ
বক্তব্য এই যে, তাঁর গুণাবলীর ধরণ অন্তরে উদিত হয় না এবং তা কোনো উপমা বা আকৃতির অন্তর্ভুক্ত নয়। তাঁর গুণাবলী তাঁর সত্তার ন্যায়; তিনি তাঁর গুণাবলীর ক্ষেত্রে দেহধারী নন। তিনি তাঁর সৃষ্টির সদৃশ হওয়া থেকে কিংবা তাঁর সৃষ্ট বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়া থেকে অতীব মহান। (তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা - আশ-শূরা: ১১)। সৃষ্টিজগত যা কিছু করে তিনি তা চেয়েছেন; যদি তিনি তাদের পাপমুক্ত রাখতেন তবে তারা তাঁর অবাধ্য হতো না। আর তিনি যদি চাইতেন তারা সবাই তাঁর আনুগত্য করুক, তবে তারা অবশ্যই তাঁর আনুগত্য করত। তিনি সৃষ্টিজগত ও তাদের কার্যাবলী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জীবনোপকরণ ও আয়ু নির্ধারণ করেছেন। তাঁর যমীনে ও আসমানসমূহে তাঁর সমনামের কেউ নেই এবং তাঁর ফয়সালা ও ইচ্ছায় তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই। তিনি আরশের উপর উঠেছেন এবং রাজত্বের ওপর কর্তৃত্বশীল; তাঁর জ্ঞান সকল কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।
অনুরূপভাবে আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)-কে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল— (তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ জন না হন, আর পাঁচ ব্যক্তিরও হয় না যাতে তিনি ষষ্ঠ জন না হন; এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সঙ্গেই থাকেন - আল-মুজাদালাহ: ৭)। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: (এর অর্থ হলো) তাঁর জ্ঞান।
আর কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তাঁর সত্তার অন্যতম একটি গুণ। তা অনাদি ও সৃষ্ট নয়। এটি বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের কালাম যা হাফেজদের অন্তরে, পাঠকারীদের জিহ্বায়, শ্রবণকারীদের শ্রবণে, লেখকদের হাতে এবং পাঠকারীদের দৃষ্টিতে সংরক্ষিত। এর প্রমাণ সুস্পষ্ট, প্রজ্ঞা অপরাজেয় এবং মোজেজা উজ্জ্বল।
আর আল্লাহ তাআলা মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন এবং পাহাড়ের ওপর তাঁর নূর প্রকাশ করেছেন, ফলে তিনি সেটিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ ও ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন। তিনি আত্মা সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে সুঠাম করেছেন এবং তাকে তার পাপাচার ও আল্লাহভীতির জ্ঞান দান করেছেন।
আর তাকদীরের ভালো-মন্দ এবং মিষ্ট ও তিক্ততার ওপর ঈমান আনা—এর সবই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে।
আর প্রত্যেক বান্দার সাথে একজন পর্যবেক্ষণকারী, সদা উপস্থিত প্রহরী ও সাক্ষী নিযুক্ত রয়েছে। তারা উভয়ে তার নেক আমলসমূহ লেখে এবং তার পাপসমূহ গণনা করে। আর প্রত্যেক মুমিন ও কাফির, নেককার ও পাপাচারী ব্যক্তি তার মৃত্যুর উপস্থিতিতে নিজের আমলসমূহ প্রত্যক্ষ করবে এবং জানতে পারবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
مصيره قبل ميتته وأن منطرا ونكيرا إلى كل أحد ينزلان - سوى النبيين - فيسألانه ويمتحنانه عما يعتقدهُ من الأديان وأن المؤمن يُحبَرُ في قبرة بالنعيم والكافر يعذبُ بالعذاب الأليم وأنه لامحيص لمخلوق من القدر المقدور ولن يتجاوز ما خط في اللوح المسطور (وأن الساعة آتية لايب فيها وأن الله يبعث من في القبور) (الحج7) وأن الله جل اسمه يعيد خلقة كما بدأهم ويحشرهم كما أنشأهم من صفائج القبور وبطون الحيتان في تخوم البحور وأوجواف السباع وحواصل الطيور.
وأن الله تعالى يتجلى في القيامة لعباده الأبرار فيرونه بالعيون والأبصار وأن يخرج أقواما من النار ويسكنهم دار القرار وأنه يقبل شفاعة محمد المختار صلى الله علية وسلم في أهل الكبائر والأوزار وأن الميزان حق يوضع لوزن أعمال العباد فمن ثقلت موازينه نجا من النار ومن خفت موازينه أدخل جهنم وبئس القرار وأن الصراط حق يجوزه الأبرار ويعجز عنه الكفار وأن حوض رسول الله صلى الله علية وسلم حق يردهُ المؤمنون ويُذادُ عنه الكفار.
وأن الإيمان غير مخلوق وهو قول باللسان وإخلاص بالجنان وعمل بالأركان يزيد بالطاعة وينقصُ بالأوزار.
وأن محمد صلى الله علية وسلم خاتم النبيين وأفضل المرسلين وأمته خير الأمم أجمعين وأفضلهم القرن الذين آمنوا به وشاهدوه وصدقوه وأفضل القرن الذين صحبوه أربع عشر مئة بايعوه بيعة الرضوان وأفضلهم أهل بدر إذا نصروه وأفضلهم
মৃত্যুর পূর্বেই তার শেষ পরিণতি প্রকাশিত হয় এবং নবীগণ ব্যতীত প্রত্যেকের নিকট মুনকার ও নাকির অবতরণ করেন; তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তার ধর্মীয় বিশ্বাসের পরীক্ষা গ্রহণ করেন। মুমিন ব্যক্তি তার কবরে নেয়ামতরাজি দ্বারা আনন্দিত হয় এবং কাফির যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির মাধ্যমে শাস্তিভোগ করে। কোনো সৃষ্টির পক্ষেই নির্ধারিত তাকদির থেকে পলায়ন করার সুযোগ নেই এবং লওহে মাহফুজে যা লিখিত আছে তা কেউ অতিক্রম করতে পারবে না (আর কিয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ কবরে শায়িতদের পুনরুত্থিত করবেন)। মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে যেভাবে শুরু করেছিলেন সেভাবেই পুনরায় ফিরিয়ে আনবেন এবং তাদের কবরের স্তরসমূহ, গভীর সমুদ্রের তলদেশের মাছের পেট, হিংস্র পশুর উদর এবং পাখির থলি থেকে পূর্বের ন্যায় হাশরের ময়দানে সমবেত করবেন।
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাঁর নেককার বান্দাদের নিকট আত্মপ্রকাশ করবেন, ফলে তারা সরাসরি চাক্ষুষ দৃষ্টিতে তাঁকে দেখতে পাবে। তিনি জাহান্নাম থেকে একদল মানুষকে বের করবেন এবং তাদের চিরস্থায়ী আবাসে বসবাসের সুযোগ দেবেন। তিনি কবিরা গুনাহগার ও পাপীদের জন্য মনোনীত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শাফায়াত কবুল করবেন। আমল পরিমাপের পাল্লা বা মিযান সত্য, যা বান্দাদের কর্মসমূহ ওজনের জন্য স্থাপন করা হবে; সুতরাং যার পাল্লা ভারী হবে সে জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে, আর যার পাল্লা হালকা হবে তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে, যা অতি নিকৃষ্ট আবাস। সিরাত (পুলসিরাত) সত্য, যা পুণ্যবানরা পার হয়ে যাবেন এবং কাফিররা তাতে অক্ষম হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাউজ সত্য, যেখানে মুমিনরা উপস্থিত হবে এবং কাফিরদের সেখান থেকে বিতাড়িত করা হবে।
ঈমান মাখলুক বা সৃষ্টি নয়; বরং তা জিহ্বা দ্বারা স্বীকারোক্তি, অন্তর দিয়ে একনিষ্ঠ বিশ্বাস এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করার নাম। এটি আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচারের কারণে হ্রাস পায়।
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বশেষ নবী ও শ্রেষ্ঠ রাসূল এবং তাঁর উম্মত সকল উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সেই প্রজন্মের মানুষ যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছে, তাঁকে দেখেছে এবং তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে। তাঁর সাহচর্য লাভকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো সেই চৌদ্দশ' ব্যক্তি যারা তাঁর কাছে বাইয়াতে রিদওয়ান প্রদান করেছিলেন। তাদের মধ্যে আবার শ্রেষ্ঠ হলো বদরের অধিবাসীগণ যারা তাঁকে সাহায্য করেছিলেন; আর তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أربعون في الدار كنفوه وأفضلهم عشرة عزروه ووقروه شهد لهم بالجنة وقبض وهو عنهم راض وأفضل هؤلاء العشرة الأبرار الخلفاء الراشدون المهدينون الأربعة الأخيار وأفضل الأربعة أبو بكر الصديق ثم عمر الفاروق ثم عثمان ذو النورين ثم علي الرضا عليه السلام.
وأفضل القرون الذين يلونهم ثم الذين يلونهم ثم الذين يتبعونهم.
وأن نتولى أصحاب رسول الله صلى الله علية وسلم بأسهم ولا نبحث عن اختلافهم في أمرهم ونمسك عن الخوض في ذكرهم إلا بأحس الذكر لهم وأن نتولى أهل القبلة ممن ولي حرب المسلمين على ماكان منهم من علي وطلحة والزبير وعائشة أم المؤمنين ومعاوية رضوان الله عليهم ولا ندخل فيما شجر بينهم اتباعا لقول رب العالمين (والذين جاء
والحمد لله رب العالمين
চল্লিশজন সেই ঘরে তাঁকে পরিবেষ্টন করে রেখেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন দশজন, যারা তাঁকে সাহায্য ও সম্মান করেছিলেন। তাঁদের জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। এই পুণ্যবান দশজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন চারজন হেদায়েতপ্রাপ্ত ও সৎপথের অনুসারী খলিফা। আর এই চারজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর সিদ্দিক, অতঃপর ওমর ফারুক, অতঃপর উসমান যুন-নুরাইন, অতঃপর আলী আর-রিদা (তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক)।
আর সর্বোত্তম যুগ হলো যারা তাঁদের নিকটবর্তী, অতঃপর যারা তাঁদের নিকটবর্তী, অতঃপর যারা তাঁদের অনুসরণকারী।
এবং আমরা যেন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর সকল সাহাবীকে ভালোবাসি এবং তাঁদের বিষয়াবলির মধ্যে যে মতপার্থক্য হয়েছিল সে সম্পর্কে অনুসন্ধান না করি। তাঁদের ব্যাপারে অনর্থক আলোচনায় লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকি এবং তাঁদের সর্বদা সর্বোত্তম আলোচনার মাধ্যমেই স্মরণ করি। আর আমরা যেন আহলে কিবলাদের মধ্য হতে তাঁদের প্রতিও আনুগত্য ও ভালোবাসা পোষণ করি যারা মুসলিমদের মধ্যকার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন—যেমন আলী, তালহা, যুবাইর, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা এবং মুয়াবিয়া (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন)—এবং তাঁদের মাঝে যে বিবাদ সংঘটিত হয়েছিল সে বিষয়ে অনর্থক তর্কে প্রবৃত্ত না হই, বিশ্বজগতের প্রতিপালকের এই বাণীর অনুসরণে: (আর যারা এসেছে
এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بابفضل العلم والتفقه في الدين وذكر العام والخاص
وما ظاهره العموم والمراد به الخصوص وما ظاهره
الخصوص والمراد به العموم وذكر الأصول
التي عليها مدار الفقه وما في معنى ذلك
قال الله عز وجل (فلولا نفر من كل فرقة
وروى سفيان بن عيينه عن عبد الملك بن عمير عن ابن عبد الله بن مسعود عن أبيع رضي الله عنه أن النبي صلى الله علية وسلم خطب بالخيف من منى فقا ل ((نضر الله عبدا سمع مقالتي فوعاها ثم أداها إلى من لم يسمعها فرب حامل فقه لافقه له ورب حامل فقه إلى من هو أفقه منه ثلاث لايغل عليهن قلب المؤمن: إخلاص العمل لله عز وجل وصيحة المسلمين ولزوم جماعتهم فإن دعوتهم تحوط من وراءهم))
وروى محمد بن إسماعيل البخاري قال: حدثنا سعيد بن عُفير قال حدثنا ابن وهب عن يونس عن أبن شهاب قال حدثني حميد بن عبد الرحمن قال سمعت معاوية خطيبا فقال: سمعت النبي صلى الله علية وسلم يقول (من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين وإنما أنا قاسم والله يعطي ولن تزال هذه الأمة قائمة على أمر الله لايضرهم من خالفهم حتى يأتي أمر الله))
পরিচ্ছেদইলমের মর্যাদা ও দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) অর্জন এবং আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ) এর বর্ণনা
এবং যার বাহ্যিক রূপ সাধারণ কিন্তু তা দ্বারা বিশেষ উদ্দেশ্য বুঝানো হয়েছে, এবং যার বাহ্যিক রূপ
বিশেষ কিন্তু তা দ্বারা সাধারণ উদ্দেশ্য বুঝানো হয়েছে এবং সেই সকল মূলনীতির (উসুল) বর্ণনা
যাকে কেন্দ্র করে ফিকহ আবর্তিত হয় এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন (অতএব তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না...
সুফিয়ান বিন উয়াইনা বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন উমাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিনার খাইফ নামক স্থানে খুতবা প্রদানকালে বলেন: "আল্লাহ সেই বান্দার চেহারা উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা হৃদয়ে গেঁথে নিল এবং এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিল যে তা শোনেনি। কেননা অনেক ফিকহের বাহক নিজে সমঝদার (ফকীহ) নয়, আবার অনেক ফিকহের বাহক এমন ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও অধিক সমঝদার। তিনটি বিষয় এমন যাতে মুমিনের অন্তর কোনো প্রকার বিদ্বেষ বা খিয়ানত পোষণ করে না: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা, মুসলিমদের কল্যাণকামিতা এবং তাদের জামাতের সাথে আবশ্যিকভাবে লেগে থাকা; কেননা তাদের দোয়া তাদের পশ্চাৎবর্তীদেরও পরিবেষ্টন করে রাখে।"
মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী বর্ণনা করেন: আমাদের নিকট সাঈদ বিন উফাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনে ওয়াহাব ইউনুস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন আমার নিকট হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি মুয়াবিয়াকে খুতবা দিতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা (ফিকহ) দান করেন। আমি তো কেবল বণ্টনকারী, আর আল্লাহই দাতা। আর এই উম্মত সর্বদা আল্লাহর হুকুমের ওপর অটল থাকবে, তাদের বিরোধিতাকারীরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فالفقه يدور على ثلاثة أصول متفق عليها:
كتاب الله عز وجل وسنة رسول الله صلى الله علية وسلم وإجماع الأمة
وأصل رابع مختلف فيه وهو القياس وهو عندنا أصل صحيح يعمل به عند عدم هذه الأصول الثلاثة لأن القياس هو رد الشي إلى نظيره من أحد هذه الأصول التي ذكرتها.
وليس من حادثة تحدث ولا من نازلة تنزل بأحد إل وفي كتاب الله تعالى حكمها إما نصا وإما دليلا قال الله عز وجل ((ما فرطنا ..) الإنعام 38) وقال الله تعالى (وأنزالنا إليك الذكر) النحل 44)
فالقرآن أصل علم الشريعة نصه ودليله والحكمة بيان رسول الله صلى الله علية وسلم فكل ما صح عنه علية الصلاة والسلام بالنقل الصحيح أنه قاله أو فعله وجب المصير إليه إلا أن يقوم الدليل أنه أراد به الندب دون الإيجاب أو يقوم الدليل أنه خاص له صلى الله علية وسلم أو لمن أمره به دون غيره فلا نُعدي به موضح الخصوص إلا بدليل قال الله عز وجل (وما آتاكم الرسول) الحشر 7) وقال (فلا وربك لايؤمنون
… بينهم) النساء 65)
وقال الله تعالى (وما ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى) النجم (3 - 4)
والأمة المجتمعة حجة على من خالفها أو شذ عنها
وخبر الواحد يوجب العمل والعمل
والأصل: كل ما تمكن بنفسه وتفرع عنه غيره
والفرع: مالم يعلم بنفسه
والعلم: معرفة الشيئ المعلوم على ماهو به
والكلام على ظاهره وعمومه حتى يقوم دليل الخصوص فيه
ফিকহ তিনটি সর্বসম্মত মূলনীতির ওপর আবর্তিত হয়:
মহান আল্লাহর কিতাব, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং উম্মাহর ইজমা (ঐকমত্য)
আর চতুর্থ একটি মূলনীতি রয়েছে যা নিয়ে মতভেদ আছে, সেটি হলো কিয়াস (অনুমান)। আমাদের নিকট এটি একটি সঠিক মূলনীতি, যা উল্লিখিত তিনটি মূলনীতির অনুপস্থিতিতে কার্যকর হয়; কারণ কিয়াস হলো কোনো বিষয়কে আমার উল্লিখিত সেই মূলনীতিগুলোর মধ্য থেকে তার সমরূপ বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে আনা।
এমন কোনো ঘটনা ঘটে না কিংবা কারো ওপর এমন কোনো বিপদ আপতিত হয় না, যার বিধান মহান আল্লাহর কিতাবে সরাসরি পাঠ্য হিসেবে অথবা দলিল হিসেবে বিদ্যমান নেই। মহান আল্লাহ বলেছেন, "আমি (এই কিতাবে) কোনো কিছুই বাদ দেইনি..." (আল-আনআম ৩৮)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, "এবং আমি আপনার প্রতি এই উপদেশ (জিকর) নাযিল করেছি" (আন-নাহল ৪৪)।
সুতরাং কুরআন হলো শরীয়াহ বিজ্ঞানের মূল—এর সরাসরি পাঠ ও দলিল উভয়ই; আর হিকমত হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনা। অতএব, সহীহ বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর থেকে যা কিছু প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি তা বলেছেন বা করেছেন, তার দিকে ফিরে যাওয়া ওয়াজিব। তবে যদি এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় যা প্রমাণ করে যে তিনি এর মাধ্যমে মুস্তাহাব উদ্দেশ্য করেছেন, ওয়াজিব নয়; অথবা এমন কোনো দলিল থাকে যা প্রমাণ করে যে এটি কেবল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য নির্দিষ্ট, কিংবা তিনি যাকে আদেশ করেছেন তার জন্য নির্দিষ্ট, তবে দলিল ছাড়া আমরা সেই বিশেষ ক্ষেত্রটি অতিক্রম করব না। মহান আল্লাহ বলেছেন, "রাসূল তোমাদের যা দেন, তা গ্রহণ করো" (আল-হাশর ৭)। তিনি আরও বলেছেন, "না, আপনার পালনকর্তার কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদের বিষয়ে
… আপনাকে বিচারক মানবে" (আন-নিসা ৬৫)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, "এবং তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়" (আন-নাজম ৩-৪)।
আর উম্মাহর ঐকমত্য (ইজমা) তার বিরুদ্ধাচরণকারী বা বিচ্ছিন্ন পথ অবলম্বনকারীর বিরুদ্ধে একটি প্রমাণ।
খবর-এ-ওয়াহিদ (একক ব্যক্তির বর্ণনা) আমল ও কর্মকে আবশ্যক করে।
মূল (আসল) হলো: যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং যা থেকে অন্য কিছু শাখা হিসেবে নির্গত হয়।
শাখা (ফারা) হলো: যা স্বতন্ত্রভাবে পরিচিত নয়।
জ্ঞান (ইলম) হলো: কোনো জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত বাস্তবতায় জানা।
বক্তব্য তার বাহ্যিক ও সাধারণ অর্থের ওপর বহাল থাকবে, যতক্ষণ না তার মধ্যে কোনো বিশেষত্বের দলিল পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
والأسماء المفردة ثلاثة:
عام لاخصوص فيه كقول: شيء قال الله عز وجل (إن الله بكل شيء عليم) الأنفال 75) (إن الله على كل شيء قدير) البقرة 20)
والثاني: عام من وجه خاص من وجه قال الله جل اسمثه (فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم) (التوبة5) و (قاتلوا الذين لايؤمنون بالله) إلى آخر الآية (التوبة 29) هذا عام في جميع المشركين إلا من استثناه منهم من أهل الكتاب وقال عز وجل: (والسارق والسارقة فاقطعوا أيديهما) (المائدة38) فهو عام فيمن سرق ربع دينار فأكثر من حرز خاص فيما دون ذلك.
والثالث: خاص لاعام فيه كقولك: زيد وعمرو قال الله عز وجل (محمد رسُولُ الله) الفتح 29) فهذا خاصُ.
وإن أقل العموم شيئان وأقل الخصوص واحد.
والمطلق: مالم يُقيد
والمقيد ماضم إليه وصف قال الله تعالى: (حرمت عليكم أمهاتكم) إلى قوله: (وأمهات نسائكم) (النساء23) فأطلق وقال في الربائب (وربائبكم اللاتي في حجوركم من نسائكم اللاتي دخلتم بهن) النساء 23 فقيد.
والعموم: مالو كُلف إمضاؤه لصح.
والمجملُ: مالو كٌلف إمضاؤه لم يصح حتى يُفسر.
وأوامر الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم على الوجوب إلا ما قام الدليل على الندب وأفعالُ النبي صلى الله عليه وسلم عل الوجوب عندنا إلا ما قام دليل الندب والإرشاد فيه.
والأوامر على ضروب:
أمرُ حتم كقول: (وأقيموا الصلاة وآتوا الزكاة) البقر 110) و (وأطيعوا الله وأطيعوا الرسول) النساء 59) و (واتقوا الله) النساء 1) يفي ذلك
এবং একক নামসমূহ (বা বিশেষ্যসমূহ) তিন প্রকার:
সাধারণ, যার মধ্যে কোনো বিশেষত্ব নেই; যেমন: 'কিছু' (বস্তু)। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন, (নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে সর্বজ্ঞ) [আল-আনফাল: ৭৫]; (নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান) [আল-বাকারা: ২০]।
দ্বিতীয়টি হলো: একদিক থেকে সাধারণ এবং অন্যদিক থেকে বিশেষ। আল্লাহ জাল্লা ইসমুহু বলেন, (সুতরাং মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো) [আত-তাওবা: ৫] এবং (তোমরা যুদ্ধ করো তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহর ওপর ঈমান আনে না) আয়াতের শেষ পর্যন্ত [আত-তাওবা: ২৯]। এটি সকল মুশরিকদের ক্ষেত্রে সাধারণ, তবে আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যাদের ব্যতিক্রম করা হয়েছে তারা ছাড়া। এবং তিনি আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: (চোর পুরুষ ও চোর নারী, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও) [আল-মায়েদা: ৩৮]। সুতরাং এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাধারণ যে নিরাপদ স্থান (হিরজ) থেকে এক চতুর্থাংশ দিনার বা তার বেশি চুরি করেছে, আর এর কমের ক্ষেত্রে তা বিশেষ।
তৃতীয়টি হলো: বিশেষ, যার মধ্যে কোনো সাধারণতা নেই; যেমন আপনার কথা: যায়িদ এবং আমর। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: (মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল) [আল-ফাতহ: ২৯]। সুতরাং এটি বিশেষ।
সাধারণের সর্বনিম্ন সীমা হলো দুটি বস্তু এবং বিশেষের সর্বনিম্ন সীমা হলো একটি।
মুতলাক (অনির্ধারিত) হলো: যা কোনো শর্তে আবদ্ধ নয়।
মুকাইয়াদ (শর্তযুক্ত) হলো: যার সাথে কোনো গুণ বা বিশেষণ যুক্ত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: (তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মায়েদের...) তাঁর এই কথা পর্যন্ত: (...এবং তোমাদের স্ত্রীদের মায়েদের) [আন-নিসা: ২৩]; এখানে তিনি বিষয়টি মুতলাক (নিঃশর্ত) রেখেছেন। আর সৎ কন্যাদের ক্ষেত্রে বলেছেন: (এবং তোমাদের কোলে লালিত তোমাদের ঐ স্ত্রীদের কন্যারা যাদের সাথে তোমরা সহবাস করেছ) [আন-নিসা: ২৩]; এখানে তিনি শর্তযুক্ত করেছেন।
সাধারণ (আম) হলো: যা পালন করার নির্দেশ প্রদান করা হলে তা পালন করা সঠিক হবে।
মুজমাল (সংক্ষিপ্ত/অস্পষ্ট) হলো: যা পালন করার নির্দেশ প্রদান করা হলে ব্যাখ্যা ছাড়া তা পালন করা সঠিক হবে না।
আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশসমূহ ওয়াজিব (আবশ্যিক) হওয়ার বিধান রাখে, যতক্ষণ না তা মুস্তাহাব হওয়ার দলিল পাওয়া যায়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কার্যাবলিও আমাদের নিকট ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ বহন করে, যতক্ষণ না তাতে মুস্তাহাব বা দিকনির্দেশনামূলক হওয়ার দলিল পাওয়া যায়।
আদেশসমূহ কয়েক প্রকারের হয়:
অপরিহার্য আদেশ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (এবং তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো) [আল-বাকারা: ১১০] এবং (তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো ও রাসূলের আনুগত্য করো) [আন-নিসা: ৫৯] এবং (তোমরা আল্লাহকে ভয় করো) [আন-নিসা: ১]। এটিই এর জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأمرٌ وعيد كقوله (اعملوا ماشئتم) فصلت 40) وقولة (قمن شاء فليؤمن ومن شاء فليكفر) الكهف 39)
وأمر تعجيز كقوله (قل كونوا حجارة أو حديدا) الإسراء 50)
وأمر جزاء كقوله (ادخلوا الجنة أنتم وأزواجكم تحبرون) الزخرف 70)
أي: هذا ثواب لكم وقوله (وقيل ادخلا النار مع الداخلين) التحريم 10)
أي: هذا عقابكم.
وأمرُ إباحة كقوله تعالى (وإذا حللتم فاصطادوا) المائدة 2) (فإذا قضيت الصلاة فانتشروا في الأرض وابتغوا من فضل الله) الجمعة 10) وقوله عز وجل (فمن اعتدى عليكم فاعتدوا عليه بمثل ما اعتدى عليكم) البقرة 194)
وأمرُ إرشاد كقوله تعالى (وأشهدوا إذا تبايعتم) البقرة 282) (وإن كنتم على سفر ولم تجدوا كاتبا فرهان مقبوضة) البقرة 283)
وفي القرآن أي أولها ندبُ وآخرها حتم وكذلك في السُنة كقوله تعالى (كلوا من ثمره إذا أثمر وآتوا حقه يوم حصاده) الأنعام 141) وقوله تعالى (فكاتبوهم إن علمتم فيهم خيرا وآتوهم من مال الله الذي آتاكم) النور 33) ومن أصحابنا من قال: إذا علم السيدُ في عبده خيرا وجب عليه أن يكاتبه إذا اختار العبدُ ذلك وسأل مولاه وقال تعالى: (لاجناح عليكم إن طلقتم النساء مالم تمسوهن أو تفرضوا لهن فريضة ومتعوهن) البقرة 236) فهذه الآيات أولها ندب وأخرها حتم.
ومن السنة ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (كنت نهيتكم عن زيارة القبور ألا فزوروها ولا تقولوا هُجرا) و: (انتبذوا في الظُروف واجتنبوا كُل مسكر)
এবং আদেশটি সতর্কবাণী বা হুমকির জন্য, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরা যা ইচ্ছা করো) [ফুসসিলাত: ৪০] এবং তাঁর বাণী: (সুতরাং যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক) [আল-কাহাফ: ২৯]।
এবং আদেশটি অক্ষমতা প্রমাণের জন্য, যেমন তাঁর বাণী: (বলুন, তোমরা পাথর অথবা লোহা হয়ে যাও) [আল-ইসরা: ৫০]।
এবং আদেশটি প্রতিদান স্বরূপ, যেমন তাঁর বাণী: (তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ করো) [আয-যুখরুফ: ৭০]।
অর্থাৎ: এটি তোমাদের জন্য পুরস্কার। এবং তাঁর বাণী: (এবং বলা হলো, তোমরা উভয়েই প্রবেশকারীদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো) [আত-তাহরীম: ১০]।
অর্থাৎ: এটি তোমাদের শাস্তি।
এবং আদেশটি বৈধতা প্রকাশের জন্য, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে, তখন শিকার করো) [আল-মায়িদাহ: ২], (অতঃপর যখন সালাত শেষ হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো) [আল-জুমুআহ: ১০] এবং মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: (সুতরাং যে তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, তোমরাও তার ওপর অনুরূপ আক্রমণ করো যেমন সে তোমাদের ওপর করেছে) [আল-বাকারাহ: ১৯৪]।
এবং আদেশটি নির্দেশনার জন্য, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর যখন তোমরা কেনা-বেচা করো, তখন সাক্ষী রাখো) [আল-বাকারাহ: ২৮২], (আর যদি তোমরা সফরে থাকো এবং কোনো লেখক না পাও, তবে হস্তগত বন্ধকি বস্তু রাখা বিধেয়) [আল-বাকারাহ: ২৮৩]।
কুরআনের এমন কিছু বিষয় রয়েছে যার শুরুটা মুস্তাহাব (সুপারিশকৃত) এবং শেষটা বাধ্যতামূলক; সুন্নাহর ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরা এর ফল খাও যখন তা ফলবান হয় এবং ফসল কাটার দিনে এর হক আদায় করো) [আল-আনআম: ১৪১] এবং মহান আল্লাহর বাণী: (তোমাদের মালিকানাধীন দাসদের মধ্যে যারা মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চায়, তাদের সাথে চুক্তি করো যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণ দেখতে পাও এবং আল্লাহ তোমাদের যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে তাদের দাও) [আন-নূর: ৩৩]। আমাদের আলেম সঙ্গীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: যদি মনিব তার দাসের মধ্যে কোনো কল্যাণ দেখতে পায়, তবে দাসের সাথে মুক্তিচুক্তি করা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যায়, যখন দাস নিজেই তা পছন্দ করে এবং তার মনিবের কাছে আবেদন করে। এবং মহান আল্লাহ বলেন: (তোমাদের কোনো পাপ নেই যদি তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ করার আগে কিংবা তাদের জন্য মোহরানা ধার্য করার আগে তালাক দাও, তবে তাদের বিধিমতো কিছু সংস্থান করে দাও) [আল-বাকারাহ: ২৩৬]। সুতরাং এই আয়াতগুলোর প্রথমাংশ মুস্তাহাব এবং শেষাংশ বাধ্যতামূলক।
সুন্নাহর মধ্যে রয়েছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন থেকে তোমরা কবর জিয়ারত করো তবে সেখানে কোনো মন্দ কথা বলো না) এবং: (তোমরা পাত্রে নাবীয তৈরি করো এবং প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করো)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والقياس قياسان: جلي وخفي.
فالجلي: مالاتجاذب فيه قال الله تعالى (فلا تقل لهما أف ولا تنهرهما) الإسراء 24) (فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره) الزلزلة 7 - 8) ونهي عن الثوب المصبوغ بالورس للمحرم لكان الممسك أشد نهيا.
والخفي ماتتجاذبة الأصول كالجناية على العبد فالعبد في شبة من الأحرار وشبة من الحيوان فأشبة الأحرار من جهة أنه أدمي وأنه مخاطب عن العبادات وأنه يجري فيما بينهم القصاص ويجب على قاتله الكفارة وأشبه الحيوان من جهة أنه مال.
والكلام عند أهل النظر أربعة خبر، واستخبارا، وأمر ونهي.
والنسخ رفع ماثبت من الحكم مثل قوله تعالى (واللاتي يأتين الفاحشة من نسائكم) النساء 15) نسختها: (والزانية والزاني فاجلدوا كل واحد منهما مائة جلدة) النور 2) ومثل قولة تعالى: (والذين يتوفون منكم ويذرون أزواج متعا إلى الحول غير إخراج) البقرة 240) نسخها قوله: (والذين يتوفون منكم ويذرون أزواجا يتربصن بأنفسهن أربعة أشهر وعشرا) البقرة 234) ومثل قوله: (الوصية للوالدين والأقربين) البقرة 180) نسخها قوله (يوصيكم الله في أولادكم) النساء 11)
السنة لاتنسخ القران عندنا ولكنها تخص وتبين وقد روي عنه رواية أخرى أن القران يُنسخُ بالمتواتر من السنة.
والمكنيُ: مثل قوله تعالى (وسئل القرية التي كنا فيها) يوسف 82) يريد: أهلا و (وكم قصمنها من قرية) الأنبياء 11) أي: أهلها ومن أصحابنا من منع
কিয়াস বা অনুমান দুই প্রকার: স্পষ্ট এবং প্রচ্ছন্ন।
স্পষ্ট কিয়াস হলো যাতে (দলিলে) কোনো বিপরীতমুখী বা পরস্পরবিরোধী বিষয় নেই। মহান আল্লাহ বলেন, “(তাদেরকে) ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না” (বনী ইসরাঈল: ২৩); “অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ পুণ্য করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলে তাও দেখতে পাবে” (যিলযাল: ৭-৮)। এছাড়া ইহরামকারীর জন্য ওয়ারস (এক প্রকার সুগন্ধি উদ্ভিদ) দ্বারা রঞ্জিত বস্ত্র পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়েছে; (এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে) সুগন্ধি মাখা আরও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
আর প্রচ্ছন্ন কিয়াস হলো যাতে মূলনীতিগুলোর মধ্যে দোটানা বা বৈপরীত্য থাকে। যেমন দাসের ওপর কৃত অপরাধ। কেননা দাস একদিকে স্বাধীন মানুষের সাথে সাদৃশ্য রাখে, আবার অন্যদিকে গবাদি পশুর সাথেও সাদৃশ্য রাখে। সে মানুষের সদৃশ এই দিক থেকে যে, সে আদম সন্তান, ইবাদতের বিষয়ে সে সম্বোধিত (আদিষ্ট), তাদের মাঝে পারস্পরিক কিসাস (প্রতিশোধ) কার্যকর হয় এবং তার হত্যাকারীর ওপর কাফফারা ওয়াজিব হয়। আর সে পশুর সদৃশ এই দিক থেকে যে, সে একটি সম্পদ।
তত্ত্বজ্ঞানী আলিমদের মতে কথা বা বাক্য চার প্রকার: সংবাদ, জিজ্ঞাসা, আদেশ এবং নিষেধ।
নসখ বা রহিতকরণ হলো ইতিপূর্বে সাব্যস্ত হওয়া কোনো বিধানকে তুলে নেওয়া। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে...” (নিসা: ১৫); এটি রহিত হয়েছে এই বাণী দ্বারা: “ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত করো” (নূর: ২)। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: “তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তারা যেন তাদের স্ত্রীদের জন্য এক বছর পর্যন্ত গৃহ থেকে বের না করে ভরণ-পোষণের ওসীয়ত করে” (বাকারা: ২৪০); এটি রহিত হয়েছে এই বাণী দ্বারা: “তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীরা নিজেদের চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় রাখবে” (বাকারা: ২৩৪)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: “পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ওসীয়ত করা...” (বাকারা: ১৮০); এটি রহিত হয়েছে এই বাণী দ্বারা: “আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের (উত্তরাধিকারের) বিষয়ে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন...” (নিসা: ১১)।
আমাদের মতে সুন্নাহ কুরআনকে রহিত করতে পারে না, তবে এটি (কুরআনের সাধারণ হুকুমকে) নির্দিষ্ট করে এবং ব্যাখ্যা প্রদান করে। অবশ্য তাঁর থেকে অপর এক বর্ণনায় এসেছে যে, মুতাওয়াতির সুন্নাহ দ্বারা কুরআন রহিত হতে পারে।
মুকান্নি বা পরোক্ষ সম্বোধন: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “সেই জনপদকে জিজ্ঞাসা করো যেখানে আমরা ছিলাম” (ইউসুফ: ৮২); এখানে উদ্দেশ্য হলো ‘অধিবাসী’। এবং “আমি কত জনপদ ধ্বংস করেছি” (আম্বিয়া: ১১); অর্থাৎ তার অধিবাসীদের। আমাদের সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ এটি অস্বীকার করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أن يكون في القرآن مكني وحمل كل لفظ وارد في القرآن على الحقيقة والأول أمكنُ لأن قولة تعالى (ولو ترى إذ وقفوا على ربهم قال أليس هذا بالحق قالوا بلى وربنا قال فذوقوا العذاب بما كنتم تكفرون) الإنعام 30) يقتضي ظاهر هذا أن يكون هذا الخطاب من الله عز وجل للكفار حقيقة ولا أعلم خلافا بين أصحابنا أن الله تعالى لايكلم الكفار ولا يحاسبهم فعلم بذلك أالمراد بالآية غير مافي ظاهرها.
والعام يراد به الخاص مثل قوله (وأوتيت من كل شيء) النمل 23) ولم تؤت ملك سليمان ولا خٍلقة الرجل وقال (تدمر كل شيء بأمر ربها) الأحقاف 25) ولم تدمر السماء فدل القياس على الخصوص.
والخاص يرادُ به العام كقوله: (يا أيها النبي اتق الله) الأحزاب 1) وهو يريد الكل وقال تعالى (وحلائل أبنائكم الذين من أصلابكم) النساء 23) وهو يريدهم وحلائل البنين من الرضاعة.
والخصوص من العام كقولة تعالى: (والسارق والسارقة فاقطعوا أيديهما) المائدة 38) ثم خص من سرق أقل من ربع دينار من حرز أو غير حرز أو أكثر من ربع دينار من غير حرز وكقوله تعالى (فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم) التوبة 5) وقال (ولا تنكحوا المشركات حتى يؤمن) البقرة 221) ثم استثنى محصنا أخل الكتاب وقال: (وماذبح على
কুরআনে রূপক বা পরোক্ষ প্রকাশভঙ্গি থাকা এবং কুরআনে আগত প্রতিটি শব্দকে তার আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করা—এই দুই মতের মধ্যে প্রথমটিই অধিক যুক্তিযুক্ত। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "আর আপনি যদি দেখতেন যখন তাদের তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তিনি বলবেন, এটি কি সত্য নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম। তিনি বলবেন, তবে তোমরা যে কুফরি করতে তার কারণে আজাব আস্বাদন করো" (আল-আনআম: ৩০)। এই আয়াতের বাহ্যিক অর্থ এটিই দাবি করে যে, এই সম্বোধনটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কাফিরদের প্রতি সরাসরি হবে। অথচ আমাদের সাথীদের (আলেমদের) মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই যে, আল্লাহ তাআলা কাফিরদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের হিসাব গ্রহণ করবেন না। সুতরাং এর দ্বারা জানা গেল যে, আয়াতে যা উদ্দেশ্য তা তার বাহ্যিক অর্থের বাইরে।
আর সাধারণ শব্দ যার দ্বারা বিশেষ অর্থ বোঝানো হয়, যেমন তাঁর বাণী: "এবং তাকে সব কিছু থেকে দেওয়া হয়েছে" (আন-নামল: ২৩)। অথচ তাকে সুলাইমানের রাজত্ব দেওয়া হয়নি এবং পুরুষের শারীরিক গঠনও দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেছেন: "তা তার রবের নির্দেশে সব কিছু ধ্বংস করে দেয়" (আল-আহকাফ: ২৫)। অথচ তা আসমানকে ধ্বংস করেনি। সুতরাং যুক্তি এখানে বিশেষায়নের ওপর প্রমাণ দেয়।
আর বিশেষ শব্দ যার দ্বারা সাধারণ অর্থ বোঝানো হয়, যেমন তাঁর বাণী: "হে নবী, আপনি আল্লাহকে ভয় করুন" (আল-আহযাব: ১)। অথচ এখানে তিনি সকলকে উদ্দেশ্য করেছেন। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "এবং তোমাদের সেই পুত্রদের স্ত্রীরা যারা তোমাদের পৃষ্ঠদেশ থেকে জাত" (আন-নিসা: ২৩)। এখানে তিনি তাদের এবং দুগ্ধপানজনিত সম্পর্কের পুত্রদের স্ত্রীদেরকেও উদ্দেশ্য করেছেন।
আর সাধারণের মধ্য থেকে কোনো বিশেষকে নির্দিষ্ট করা, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর চোর পুরুষ ও চোর নারী, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও" (আল-মায়িদাহ: ৩৮)। অতঃপর যে ব্যক্তি সুরক্ষিত বা অসুরক্ষিত স্থান থেকে এক চতুর্থাংশ দীনারের কম চুরি করেছে, অথবা অসুরক্ষিত স্থান থেকে এক চতুর্থাংশ দীনারের বেশি চুরি করেছে, তাকে এই বিধান থেকে আলাদা করা হয়েছে। আবার যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "তবে মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা করো" (আত-তাওবাহ: ৫)। তিনি আরও বলেছেন: "আর তোমরা মুশরিক নারীদের ঈমান না আনা পর্যন্ত বিয়ে করো না" (আল-বাকারাহ: ২২১)। অতঃপর তিনি আহলে কিতাবদের সতী-সাধ্বী নারীদের এই বিধান থেকে ব্যতিক্রম করেছেন এবং বলেছেন: "আর যা জবেহ করা হয়েছে..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
النصب) المائدة 3) (وما أهل به لغير الله) البقرة 173) ثم قال (وطعام الذين أوتوا الكتاب حل لكم) المائدة 5)
মূর্তিপূজার বেদী) আল-মায়িদাহ ৩) (এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে) আল-বাক্বারাহ ১৭৩) অত:পর তিনি বলেছেন (এবং যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য বৈধ) আল-মায়িদাহ ৫)
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
كتاب الطهارة
باب ما يجب منه الوضوء والغسلقال الله تعالى (يا أيها الذين أمنو إذا قمت إلى الصلاة فاغسلوا وجوهكم وايديكم إلى المرافق وامسحوا برؤوسكم) المائدة 6) وقال: (ولا جنبا إلا عابري سبيل حتى تغتسلوا) النساء 43)
فالوضوء يجب لما يخرج من السبيلين أو من أحدهما من نجس أو طاهر معتاد أو غير معتاد مثل البول والغائط والدم والريح والقيح والحصى وغير ذلك قليلا كان الخارج أو كثيرا ولما يخرج من الذكر من مذي مع غسل الذكر كله والأنثيين منه وهو ماء أبيض رقيق يخرج عند اللذة بالإنعاظ عند المداعبة والتذكار يجب منه مايجب من البول.
قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: كنت رجلا مذاء فاستحييت أن أسأل النبي صل الله علية وسلم فأمرت المقداد بن الأسود أن يسأله فقال (ذلك ماء الفحل ولكل فحل ماء فليغسل ذكره وأنثييه وليتوضأ وضوءه للصلاة)
واختلف قول أحمد ابن حنبل رضي الله عنه في المذي إذا نزل في الثوب ما الواجب في إزالته؟ فروي عنه: أنه كالدم يعفى عن يسيره ويغسل كثيره وروي عنه: أنه كالبول يجب غسل يسيره وكثيره وروي عنه رواية ثالثة: أنه يكفيه أن ينضح عليه الماء كما جاء الحديث.
পবিত্রতা অধ্যায়পরিচ্ছেদ: যা থেকে ওজু ও গোসল ওয়াজিব হয়মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল এবং কনুই পর্যন্ত হাতগুলো ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো।" (আল-মায়িদাহ: ৬)। এবং তিনি আরও বলেন: "এবং অপবিত্র অবস্থায়ও নয়, যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো; তবে যারা পথ অতিক্রমকারী (মুসাফির) তাদের কথা ভিন্ন।" (আন-নিসা: ৪৩)।
সুতরাং প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে অথবা এই দুটির কোনো একটি দিয়ে যা কিছু বের হয়, চাই তা অপবিত্র হোক বা পবিত্র হোক, স্বাভাবিক হোক বা অস্বাভাবিক হোক—যেমন প্রস্রাব, মল, রক্ত, বায়ু, পুঁজ, পাথর এবং এই জাতীয় অন্যান্য যা কিছু বের হবে, চাই তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি হোক—তা ওজুকে ওয়াজিব করে। এছাড়া লিঙ্গ থেকে মযি নির্গত হওয়ার কারণেও ওজু ওয়াজিব হয়, সাথে সাথে পুরো লিঙ্গ এবং অণ্ডকোষদ্বয় ধৌত করতে হবে। মযি হলো একটি পাতলা সাদা তরল যা কামোত্তেজনা বা লিঙ্গোত্থানকালে আলিংগন বা কামোদ্দীপক চিন্তার সময় নির্গত হয়। মযি বের হলে প্রস্রাবের ক্ষেত্রে যা ওয়াজিব হয়, তা-ই ওয়াজিব হয়।
আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আমি এমন ব্যক্তি ছিলাম যার প্রচুর মযি নির্গত হতো। আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করছিলাম। তাই আমি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে আদেশ দিলাম। এরপর তিনি (নবীজি) বললেন: 'এটি পুরুষের বীর্যরস (মযি) এবং প্রত্যেক পুরুষেরই বীর্যরস থাকে। সুতরাং সে যেন তার লিঙ্গ ও অণ্ডকোষদ্বয় ধৌত করে এবং নামাজের ওজুর মতো ওজু করে।'"
কাপড়ে মযি লাগলে তা দূর করার ওয়াজিব বিধান কী—এই বিষয়ে আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বক্তব্যে মতভেদ রয়েছে। তাঁর থেকে একটি বর্ণনা অনুযায়ী: এটি রক্তের মতো, যার সামান্য পরিমাণ ক্ষমাযোগ্য এবং অধিক পরিমাণ ধৌত করা ওয়াজিব। তাঁর থেকে আরেকটি বর্ণনা অনুযায়ী: এটি প্রস্রাবের মতো, যার অল্প বা বেশি উভয়ই ধৌত করা ওয়াজিব। তাঁর থেকে তৃতীয় আরেকটি বর্ণনা রয়েছে: যে স্থানে মযি লেগেছে সেখানে কেবল পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট হবে, যেমনটি হাদিসে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأما الودي فهو ماء أبيض خاثر يخرج بأثر البول ليس فيه غير الوضوء
وأما المني فهو الماء الأبيض الدافق عند الجماع أو بالاحتلام رائحته كرائحة الطلع وهو طاهر في إحدى الروايتين وفي الرواية الأخرى: هو كالدم يعفى عن يسيره ويغسل كثيره ويجزء في إزالته المسح إن كان رطبا والفرك إن كان يابسا. قال عبد الله بن عباس رضي الله عنهما: أمطه عنك بإذخرة فإنما هو كبصاق أو نخاط ويجب به طهر جميع الجسد وهو الغسل.
وماء المرأة ماء رقيق أصفر فيجب منه الغُسلُ أيضاء كما يجب من طهر الحيض والنفاس.
وأما دم الاستحاضة فيجب منه الوضوء ويجب عليها وعلى من به سلس البول أو كثرة المذي - فلا ينقطع - الوضوءُ لكل صلاة بعد تحصين فروجهم ويجب الوضوء بزوال العقل بنوم مستثقل إلا اليسير في حالة استواء الجلوس فلا وضوء فيه قولا واحداً إلا أن يكون مستندا إلى شيء أو في حالة القيام في أحدى الروايتين.
ويجب من الإغماء والجنون وقد روي عن أحمد ابن حنبل رضي الله عنه: إن المجنون يغتسل إذا أفاق يقال قل مايصرع إلا احتلم
ويجب الوضوء من ملامسة المرأة من غير حائل للذة ومن المباشرة بالجسد للذة ومن القبلة للذة في أحدى الروايتين فإن عرا ذلك له عن اللذة فلا وضوء فيه قولا واحدا
ويجبُ الوضوءُ من مس الذكر مباشرة للذة قولا واحدا سواء كان ببطن الكف أو بظهره سن نفسه ومن غيره ومن الكبير والصغير والذكر والأنثى والحي والميت ولغيرة لذة في أحدى الروايتين.
وفي مس الدبر أيضا روايتان: إحداهما ينقض الوضوء والأخرى: لا
আর ওদি হচ্ছে একটি সাদা ঘন তরল যা প্রস্রাবের অবশিষ্টাংশ হিসেবে নির্গত হয়, এতে ওজু ছাড়া অন্য কিছু ওয়াজিব হয় না।
আর মনি হলো সেই সাদা সজোরে নির্গত তরল যা সহবাস বা স্বপ্নদোষের সময় বের হয়, এর গন্ধ খেজুর গাছের মুকুলের গন্ধের মতো। এটি দুই বর্ণনার একটি মতে পবিত্র। আর অন্য বর্ণনায়: এটি রক্তের মতো, যার সামান্য পরিমাণ ক্ষমাযোগ্য এবং অধিক পরিমাণ ধৌত করতে হবে। এটি দূর করার ক্ষেত্রে যদি তা ভেজা হয় তবে মুছে ফেলা এবং যদি শুকনো হয় তবে ঘষে ফেলা যথেষ্ট। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "এটি তোমার থেকে ইজখির ঘাস দিয়ে সরিয়ে ফেলো, কারণ এটি কেবল থুতু বা শ্লেষ্মার মতো।" আর এর কারণে পুরো শরীর পবিত্র করা ওয়াজিব হয়, যা হলো গোসল।
আর নারীর বীর্য হলো পাতলা হলুদ বর্ণের তরল। এর কারণেও গোসল ওয়াজিব হয়, যেমনটি হায়েজ ও নেফাস থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য ওয়াজিব হয়।
আর ইস্তিহাজার রক্তের কারণে ওজু ওয়াজিব হয়। তার (ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী) জন্য এবং যার প্রস্রাব ঝরা রোগ আছে অথবা প্রচুর পরিমাণে মজি নির্গত হয়—যা বন্ধ হয় না—তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণের পর প্রত্যেক সালাতের জন্য ওজু করা ওয়াজিব। আর গভীর ঘুমের মাধ্যমে জ্ঞান লোপ পেলে ওজু ওয়াজিব হয়, তবে স্থিরভাবে বসে থাকা অবস্থায় সামান্য ঘুমের ক্ষেত্রে ওজু ভঙ্গ হবে না—এটিই একমাত্র অভিমত, যদি না সে কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে থাকে অথবা দাঁড়ানো অবস্থায় থাকে—যা দুই বর্ণনার একটিতে বর্ণিত হয়েছে।
মুর্ছা যাওয়া এবং পাগলামির কারণেও ওজু ওয়াজিব হয়। আহমদ ইবনে হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: পাগল ব্যক্তি যখন সুস্থ হয় তখন সে গোসল করবে। বলা হয়ে থাকে যে, খুব কমই কেউ উন্মাদনায় আক্রান্ত হয় যার ফলে তার স্বপ্নদোষ হয় না।
কামভাবের সাথে কোনো আবরণ ব্যতিরেকে নারীকে স্পর্শ করলে, কামভাবের সাথে শরীরের সরাসরি মিলন ঘটলে এবং কামভাবের সাথে চুমু দিলে—দুই বর্ণনার একটি মতে ওজু ওয়াজিব হবে। যদি এসবে কামভাব না থাকে, তবে ওজু ওয়াজিব হবে না—এটিই একমাত্র অভিমত।
কামভাবের সাথে সরাসরি লিঙ্গ স্পর্শ করলে ওজু ওয়াজিব হবে—এটিই একমাত্র অভিমত; চাই তা হাতের তালু দিয়ে হোক বা হাতের পিঠ দিয়ে, নিজের হোক বা অন্যের, বড়র হোক বা ছোটর, পুরুষের হোক বা নারীর, জীবিতের হোক বা মৃতের। আর কামভাব ব্যতিরেকে স্পর্শের ক্ষেত্রে ওজু হওয়ার বিষয়ে দুই বর্ণনার একটি মত রয়েছে।
মলদ্বার স্পর্শ করার ক্ষেত্রেও দুটি বর্ণনা রয়েছে: একটি মতে ওজু ভঙ্গ হয় এবং অন্য মতে হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وضوء فيه ولا وضوء من مس الأنثيين والمغابن قولا واحدا
واختلف عنه في مس المرأة فرج نفسها فقيل عنه: لا وضوء عليها وقيل عنه: هن شقائق الرجال وعليها بذلك الوضوء إذا كان اللذة وكذلك مسُها لزوجها.
وجب الوضوء من كل نجس خارج من الجسد غير السبيلين فإن كان بولا أو غائطا فمن يسيره وكثيره كما لو خرج من السبيلين وإن كان دما أو قيحا أو مدى ففي فاحشة الوضوء قولا واحدا واختلف فوله في يسيره هل ينقض الوضوء أم لا؟ على روايتين وكذلك القيء.
ويجبُ الوضوءُ من أكل لحم الجزور قولا واحدا واختلف أصحابنا في إيجابة من ألبان الإبل وشحومها على وجهين.
ويجب الغسل بما ذكرنا من خروج الماء الدافق في نوم أو يقظة من رجل أو امرأة أو انقطاع دم الحيض أو الاستحاضة أو دم النفاس أو تغييب الحشفة في الفرح أو الدبر وإن لم ينزلا أو إسلام الكافر ويجب الغسل أيضا بالإيلاج في فرج البهيمة وإن لم يُنزل.
وتغييب الحشفة في الفرج يوجب الغسل ويوجب الحد ويكمل المهر ويحصن الزوجين ويحل المطلقة ثلاثا للذي كان طلقها ويفسد الحج ويوجب البدنة مع الفساد ويفسد الصوم ويسقط العُنة ويُسقط الإيلاء ويوجب العدة ويوجب الكفارة في صوم شهر رمضان خاصة ،
...উযু নেই, আর অণ্ডকোষদ্বয় এবং কুঁচকি স্পর্শ করার কারণেও উযু হবে না—এটিই একক অভিমত।
নারীর নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করার বিষয়ে তার (ইমামের) পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়; এক মতে বলা হয়েছে: তার ওপর উযু নেই। অন্য মতে বলা হয়েছে: নারীরা পুরুষদেরই সমতুল্য, তাই যদি তৃপ্তির (উত্তেজনার) সাথে স্পর্শ করা হয় তবে তার ওপর উযু ওয়াজিব হবে; অনুরূপভাবে তার স্বামীকে স্পর্শ করার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।
দুই পথ (মূত্র ও মলদ্বার) ব্যতীত শরীরের অন্য যেকোনো স্থান থেকে নির্গত সকল নাপাকির কারণে উযু ওয়াজিব হয়। যদি তা প্রস্রাব বা পায়খানা হয়, তবে তা অল্প হোক বা বেশি, তাতে উযু ভেঙে যাবে—যেমনটা দুই পথ দিয়ে বের হলে হয়। আর যদি তা রক্ত, পুঁজ বা ক্ষরণ হয়, তবে তা অধিক হলে উযু ওয়াজিব হবে—এটি একক অভিমত। তবে তা অল্প হলে উযু ভাঙবে কি না, সে বিষয়ে তার পক্ষ থেকে দুইটি বর্ণনা রয়েছে। বমির বিধানও অনুরূপ।
উটের গোশত ভক্ষণ করলে উযু ওয়াজিব হবে—এটি একক অভিমত। তবে উটের দুধ ও চর্বি ভক্ষণের কারণে উযু ওয়াজিব হবে কি না, সে বিষয়ে আমাদের সাথীদের (ফকীহদের) মধ্যে দুই ধরনের মত রয়েছে।
আমরা যা উল্লেখ করেছি সেসব কারণে গোসল ওয়াজিব হবে: ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থায় পুরুষ বা নারীর সজোরে বীর্য নির্গত হলে, অথবা হায়েয, ইস্তিহাযা কিংবা নিফাসের রক্ত বন্ধ হলে, অথবা বীর্যপাত না হলেও লজ্জাস্থানে বা মলদ্বারে লিঙ্গমুণ্ডু প্রবেশ করালে, কিংবা কোনো কাফিরের ইসলাম গ্রহণের কারণে। এছাড়া পশুর লজ্জাস্থানে লিঙ্গ প্রবেশ করালেও গোসল ওয়াজিব হবে, যদিও বীর্যপাত না ঘটে।
লজ্জাস্থানে লিঙ্গমুণ্ডু প্রবেশ করানো গোসল ওয়াজিব করে, হদ (শরয়ি শাস্তি) কার্যকর করে, মোহর পূর্ণ করে, স্বামী-স্ত্রীকে মুহসান (বিবাহিত পবিত্র ব্যক্তি) হিসেবে সাব্যস্ত করে, তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীকে তার পূর্ববর্তী স্বামীর জন্য (পুনঃবিবাহের মাধ্যমে) হালাল করে, হজ্জ নষ্ট করে এবং হজ্জ নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে 'বাদানা' (উট কুরবানি) ওয়াজিব করে, রোজা নষ্ট করে, লিঙ্গশৈথিল্যের (উন্নাহ) অভিযোগ বাতিল করে, ঈলা (শপথ) সমাপ্ত করে, ইদ্দত পালন ওয়াজিব করে এবং বিশেষভাবে রমজান মাসের রোজার ক্ষেত্রে কাফফারা ওয়াজিব করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
باب طهارة الماء والثوب والبقةوما يجوز من اللباس في الصلاةوالمصلي يناجي ربه عز وجل فعليه أن يتأهب لذلك بالوضوء أو بالغسل إن جب عليه وليكن ذلك بماء طاهر مطلق غير ملوث بنجاسة ولا بماء قد تغير بشيء خالطه من نجس أو طاهر ولا بماء مستعمل في طهارة ترفع الحدث ولا بفضل ماء خلت امرأة بالطهارة منه أو الغسل ولا بماء معتصر من ورد أو عرق أو شجر.
فأما الماء الذي غيرته الأرض لطول مكثه فيها أو السبخة أو الحمأةُ فطاهر مطهر وكذلك الماء المشمس طاهر مطهر والحديث المروي في النهي عنه ضعيف وماء السماء والآبار والأنهار والبحار طاهر مطهر عذبة وأجاجه يرفع الأحداث ويزيل الأنجاس ويجب الوضوء به والغسل مع وجوده والقدرة على استعماله
وكل ما غير لونه شي طاهر حل فيه ولم ينقله عن التسمية ولا سلبه رقته ولم يُخرجه عن طبعة وجريانه فهو طاهر غير مطهر في وضوء أو غسل من جنابة أو إزالة نجاسة مع وجود الماء المطلق قولا واحد وعند عدم الماء المطلق في إحدى الروايتين ولا بأس بشربة والعجن والطبخ به
وكذلك الماء المستعمل وكذلك الماء الفاضل عن استعمال المرأة الخالية
পানি, কাপড় ও স্থানের পবিত্রতা এবং সালাতে যেসকল পোশাক বৈধ তার অধ্যায়সালাত আদায়কারী ব্যক্তি তার মহাপরাক্রমশালী ও মহান রবের সাথে সংলাপে রত থাকে, তাই তার উচিত অযু কিংবা গোসলের (যদি তা ওয়াজিব হয়) মাধ্যমে নিজেকে তার জন্য প্রস্তুত করা। আর তা হতে হবে পবিত্র ও সাধারণ (মুতলাক) পানি দ্বারা, যা কোনো নাপাকি দ্বারা দূষিত নয়। এমন পানিও হবে না যা নাপাক বা পাক কোনো বস্তুর সংমিশ্রণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এমন পানিও নয় যা হদস (অশুচিতা) দূর করার পবিত্রতায় ব্যবহৃত হয়েছে। এমন পানির অবশিষ্টাংশও নয় যা দ্বারা কোনো নারী নির্জনে পবিত্রতা অর্জন বা গোসল সম্পন্ন করেছে। এবং গোলাপ, ঘাম বা বৃক্ষ থেকে নিংড়ানো পানিও নয়।
পক্ষান্তরে যে পানি দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের কারণে মাটি, লোনা জমি কিংবা কাদার কারণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে, তা পবিত্র ও পবিত্রকারী। অনুরূপভাবে রোদে উত্তপ্ত পানিও পবিত্র ও পবিত্রকারী; এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার যে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে তা দুর্বল। আসমান, কূপ, নদী ও সমুদ্রের পানি—তা মিষ্টি হোক বা লোনা—পবিরত্র ও পবিত্রকারী। তা হদস (অশুচিতা) দূর করে এবং নাপাকি দূরীভূত করে। পানি বিদ্যমান থাকা এবং ব্যবহারের সক্ষমতা থাকা অবস্থায় তা দ্বারা অযু ও গোসল করা ওয়াজিব।
এমন কোনো পবিত্র বস্তু যা পানির মধ্যে মিশে তার রঙ পরিবর্তন করে দেয়, কিন্তু তাকে 'পানি' নাম থেকে বিচ্যুত করে না, তার তারল্য কেড়ে নেয় না এবং তার প্রকৃতি ও প্রবাহমানতা থেকে বের করে দেয় না, তবে সাধারণ পানির উপস্থিতিতে অযু, জানাবত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল কিংবা নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে সর্বসম্মত মতে তা পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়। আর সাধারণ পানির অনুপস্থিতিতে দুটি বর্ণনার একটি অনুযায়ী তা (ব্যবহার করা) যায়। তবে তা পান করা, আটা মাখানো এবং রান্নার কাজে ব্যবহারে কোনো দোষ নেই।
অনুরূপভাবে ব্যবহৃত পানি এবং নির্জনে থাকাবস্থায় নারীর ব্যবহারের পর অবশিষ্ট পানির বিধানও একই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
به لا يتوضأ الرجل به وتجوز إزالة النجاسات به وشربه والعجن به والطبخ به.
وما غيرته المخالطة حتى سلبته التسمية وأثبتت له تسمية أخرى كالنبيذ والخل وما في معنى ذلك أو أحرجته عن رقته وجريانه أو صار مرقه بما طبخ فيه من الأشياء الطاهرة فهو طاهر غير مطهر على كل حال قولا واحدا إلا النبيذ فإنه إذا اشتد فهو حرام نجس وما اعتصر من الورد والشجر والعروق طاهر غير مطهر لايرفع الأحداث ولا تزال به الأنجاس قولا واحدا.
وما غيرته النجاسة فليس بطاهر ولا مطهر قولا واحدا قليلا كان أو كثيرا وما نقص عن القلتين من الماء ينجس بمخالطة النجاسة له مائعة كانت أو جامدة تغير الماء بمخالطتها له أو لم يتغير.
وما بلغ قُلتين أو زاد عليهما لم ينجُس بمخالطة النجاسة له مائعة كانت أو جامدة مالم تُغير لونهُ أو طعمه أو ريحه فإن تغير صار نجسا.
والقلتان خمس قرب وهي قلال هجر وهي خمس مئة رطل وقد قيل عنه: إن القلتين أربع قرب والأول أظهر عنه إلا أن تكون النجاسة بولا أو عذرةً رطبة فإن ذلك ينجس القلتين وإن لم يتغير في إحدى الروايتين وفي الأخرى قال ذلك كسائر النجاسات، لاينجسُ القلتين فصاعدا إلا إن تغير بإحدى العلامات.
فإن كان الماء عظيما كثيرا كالغدير والقليب الذي لا يتأتي نزحه لم ينجس لشيء خالطه إلا أن يغيره.
فإن سقط في ماء يسير مالا نفس له سائلة ومات لم ينجس بذلك لأنه لاينجس في عينة فكذلك لاينجسُ الماء بملاقاته وذلك كالزنبور والذباب والخنافس وما في معنى ذلك إلا أن يكون الساقط في الماء قد لاقى نجاس نحو صراصر الكنيف وما في معناها فإن ذلك ينجس الماء القليل بملاقاته له.
وقد يَطهٌرُ النجس لقلبِ الله عز وجل لعيِنه كالخمرة فإنها في حالها نجسة وكذلك أوانيها فإذا قلب الله عز وجل عينها فصارت خلا صارت حلالا طاهرة.
এর দ্বারা কোনো ব্যক্তি ওজু করতে পারবে না, তবে এর মাধ্যমে নাপাকি দূর করা, পান করা, খামির তৈরি করা এবং রান্না করা বৈধ।
যা কোনো সংমিশ্রণের কারণে এমনভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছে যে তার নাম (পানি) অপসারিত হয়েছে এবং অন্য কোনো নাম সাব্যস্ত হয়েছে, যেমন—নবীজ (ফলের রস বা পানীয়), সিরকা এবং এ জাতীয় বস্তু; অথবা যা তার তারল্য ও প্রবাহমানতা হারিয়ে ফেলেছে, কিংবা কোনো পবিত্র বস্তু দিয়ে রান্না করার ফলে ঝোলে পরিণত হয়েছে; তা সর্বাবস্থায় এবং সর্বসম্মত মতানুসারে পবিত্র, কিন্তু পবিত্রকারী নয়। তবে নবীজ ব্যতিক্রম; কেননা তা যদি কড়া বা মাদকযুক্ত হয়ে যায়, তবে তা হারাম ও অপবিত্র। আর গোলাপ, গাছ ও শিকড় থেকে নিংড়ানো রস পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়। তা কোনো অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করে না এবং এর মাধ্যমে নাপাকিও দূর করা যায় না—এটিই একমাত্র অভিমত।
যা নাপাকির সংমিশ্রণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে, তা পবিত্রও নয় এবং পবিত্রকারীও নয়; এটিই একমাত্র অভিমত, তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি। আর যে পানির পরিমাণ দুই কুল্লার কম, তা নাপাকির সংমিশ্রণে নাপাক হয়ে যাবে, তা তরল নাপাকি হোক বা কঠিন, পানির গুণ পরিবর্তন হোক বা না হোক।
আর যা দুই কুল্লা বা তার বেশি হয়, তা নাপাকির সংমিশ্রণে নাপাক হবে না—তা তরল হোক বা কঠিন—যতক্ষণ না তা পানির রং, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তন করে। যদি তা পরিবর্তিত হয়, তবে তা নাপাক হয়ে যাবে।
দুই কুল্লা হলো পাঁচটি মশক, যা হাযার অঞ্চলের মশক। এর ওজন হলো পাঁচশত রতল। তাঁর থেকে আরও বলা হয়েছে যে: দুই কুল্লা হলো চারটি মশক, তবে প্রথম বর্ণনাই তাঁর থেকে অধিক স্পষ্ট। তবে নাপাকি যদি প্রস্রাব বা ভেজা বিষ্ঠা হয়, তবে এক বর্ণনা অনুযায়ী তা দুই কুল্লা পানিকে নাপাক করে দেবে যদিও পানির কোনো পরিবর্তন না হয়। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, তা অন্যান্য নাপাকির মতোই; অর্থাৎ কোনো একটি নিদর্শন পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত তা দুই কুল্লা বা তদূর্ধ্ব পানিকে নাপাক করবে না।
পানির পরিমাণ যদি অত্যন্ত বেশি হয়, যেমন বিশাল জলাশয় বা এমন গভীর কূপ যা সেচে শেষ করা যায় না, তবে তাতে কোনো কিছুর সংমিশ্রণ ঘটলে তা নাপাক হবে না যতক্ষণ না তা পরিবর্তিত হয়।
যদি অল্প পানিতে এমন কোনো প্রাণী পড়ে মারা যায় যার প্রবাহিত রক্ত নেই, তবে এর দ্বারা পানি নাপাক হবে না। কারণ সেই প্রাণীটি সত্ত্বাগতভাবে নাপাক নয়, ফলে এর সংস্পর্শে পানিও নাপাক হবে না। যেমন—ভীমরুল, মাছি, গুবরে পোকা এবং এই জাতীয় পতঙ্গ। তবে যদি পানিতে পতিত পতঙ্গটি আগে কোনো নাপাকি স্পর্শ করে থাকে, যেমন টয়লেটের তেলাপোকা বা এই জাতীয় কিছু, তবে তা অল্প পানির সংস্পর্শে এলে সেই পানি নাপাক হয়ে যাবে।
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ কোনো নাপাক বস্তুর সত্তাকে পরিবর্তন করে দেওয়ার কারণে তা পবিত্র হয়ে যেতে পারে; যেমন মদ। মদ তার নিজস্ব অবস্থায় নাপাক এবং এর পাত্রগুলোও নাপাক। কিন্তু যখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এর সত্তাকে পরিবর্তন করে দেন এবং তা সিরকায় পরিণত হয়, তখন তা হালাল ও পবিত্র হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وطهُرت أوانيها فإن عولجت الخمرةُ بفعل الآدميين حتى صارت خلاً لم تحل ولم تطهر وكانت على حالها في التحريم والتنجيس.
ولو صُب في ماء قد غيرته النجاسةُ قلتان من ماءين فزال التغير طهُر الماءُ كله وكذلك لو جرى فيه من ماء المطر قدرُ قلتين فزال التغير وقيل عنه: أنه قال: أُحبُ أن ينزح وإن زال الغير والأول أظهر.
فأما إن صُب على ذلك أقلُ من قُلتين من ماء فإنه لايطهر به قولا واحدا زال به التغيُرُ أو لم يزُل بلغ الماء الأول والثاني قُلتين أو أكثر أو أقل.
والماء إذا مسه جُنُب أو حائضُ ولا نجاسة بأيديهما لم يضرة ولا بأس بالوضوء به قد توضأ رسول الله صلى الله عليه وسلم من مزادة امرأة من قريش وتوضأ عمر رضي الله عنه من ماء في جرةٍ نصرانية.
وإذا ولغ في إناء فيه من الماء أقلُ من قُلتين كلب أو خنزير أو من السباع ما خلقته فوق خلقة الهر نجس الماءٌ قولا واحدا بولوغ الكلب والخنزير وبما عداهما من السباع في إحدى الروايتين وأهريق الماء وغسل الإناء سبع مرات إحداهن بالتراب وقد قيل عنه يُغسل ثماني مرات إحداهن بالتراب والأول عنه أظهر.
فإن ولغ فيه بغلٌ أو حمار أهلي فعلى روايتين: إحداهما: أن البغل والحمار الأهليين نجسان فيغسل الإناء من ولوغهما كما يُغسل من ولوغ الكلب والخنزير والرواية الأخرى: أنهما طاهران ولا ينجس الماء لشربهما منه والأول عنه أظهر.
فأما الهرة لحرام أكلها ولا بأس بُؤرها كان النبي صلى الله عليه وسلم يُصغي لها الإناء فتشرب منه ثم يتوضأ منه وقال النبي صلى الله عليه وسلم ((إنها ليست بنجسة إنها من الطوافين عليكم والطوافات))
এবং তার পাত্রগুলো পবিত্র হবে। যদি মানুষের কোনো প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে মদ সিরকায় পরিণত করা হয়, তবে তা হালাল হবে না এবং পবিত্রও হবে না। বরং তা হারাম ও নাপাক অবস্থাতেই বহাল থাকবে।
যদি নাপাকি দ্বারা রঙ, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া পানিতে অন্য দুটি উৎস থেকে দুই কুল্লা (বিশাল পরিমাণ) পানি ঢালা হয় এবং এর ফলে তার সেই পরিবর্তন দূর হয়ে যায়, তবে সমস্ত পানি পবিত্র হয়ে যাবে। একইভাবে যদি তাতে দুই কুল্লা পরিমাণ বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয় এবং পরিবর্তন দূর হয়ে যায়, তবে তা পবিত্র হবে। তাঁর (ইমামের) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: পরিবর্তন দূর হলেও আমি সেই পানি সেচে ফেলা পছন্দ করি, তবে প্রথম মতটিই অধিকতর স্পষ্ট।
পক্ষান্তরে যদি সেই পানিতে দুই কুল্লার কম পানি ঢালা হয়, তবে তা দ্বারা পানি পবিত্র হবে না—এটিই একমাত্র অভিমত; চাই তার পরিবর্তন দূর হোক বা না হোক, আর প্রথম ও দ্বিতীয় পানির সমষ্টি দুই কুল্লা হোক বা তার বেশি অথবা কম হোক।
কোনো জুনুব (অপবিত্র ব্যক্তি) বা ঋতুবর্তী নারী যদি পানি স্পর্শ করে এবং তাদের হাতে কোনো দৃশ্যমান নাপাকি লেগে না থাকে, তবে তা পানির কোনো ক্ষতি করবে না এবং তা দিয়ে ওজু করাতে কোনো দোষ নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ বংশীয় এক মহিলার চামড়ার মশক থেকে ওজু করেছিলেন এবং ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এক খ্রিস্টান মহিলার জরায় (মাটির পাত্র) রাখা পানি দিয়ে ওজু করেছিলেন।
যদি দুই কুল্লার কম পানি আছে এমন পাত্রে কুকুর বা শুকর অথবা বিড়ালের চেয়ে শারীরিক গঠনে বড় এমন কোনো হিংস্র প্রাণী মুখ দেয়, তবে কুকুর ও শুকরের মুখ দেওয়ার কারণে পানি নাপাক হয়ে যাবে—এটিই একমাত্র অভিমত। আর অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর ক্ষেত্রে দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী পানি নাপাক হবে। এমতাবস্থায় পানি ঢেলে ফেলে দিতে হবে এবং পাত্রটি সাতবার ধুতে হবে, যার মধ্যে একবার হবে মাটি দিয়ে। তাঁর থেকে এও বর্ণিত হয়েছে যে, পাত্রটি আটবার ধুতে হবে যার মধ্যে একবার মাটি দিয়ে ধুতে হবে। তবে তাঁর থেকে প্রথম মতটিই অধিকতর স্পষ্ট।
যদি তাতে খচ্চর বা গৃহপালিত গাধা মুখ দেয়, তবে এ ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে: একটি হলো, খচ্চর ও গৃহপালিত গাধা উভয়ই নাপাক, তাই তাদের মুখ দেওয়ার কারণে পাত্রটি সেভাবেই ধুতে হবে যেভাবে কুকুর ও শুকরের মুখ দেওয়ার কারণে ধোয়া হয়। দ্বিতীয় বর্ণনা হলো, তারা উভয়ই পবিত্র এবং তারা পানি পান করার কারণে পানি নাপাক হবে না। তাঁর থেকে প্রথম মতটিই অধিকতর স্পষ্ট।
আর বিড়ালের গোশত খাওয়া হারাম হলেও এর উচ্ছিষ্টে (মুখ দেওয়া পানিতে) কোনো দোষ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিড়ালের জন্য পাত্র কাত করে ধরতেন যাতে সে পানি পান করতে পারে, এরপর তিনি সেই অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওজু করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি নাপাক নয়; এটি তোমাদের আশেপাশে সচরাচর বিচরণকারী ও বিচরণকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والاقتصاد في كل الأمور حسن وقلة الماء مع إحكام الوضوء والغسل سُنة والسرف فيه اعتداء، توضأ رسول الله صلى الله عليه وسلم بمُد وهو رطل وثلث واغتسل بصاع وهو أربعة أمداد.
وطهارة الثوب والبقعه للصلاة واجبة ولا تجوز الصلاة في ثوب نجس مع العلم بحاله قولا واحدا وإن فعل أعاد فإن صلى فيه جاهلا بالنجاسة ففي وجوب الإعادة روايتان.
ويُنهى عن الصلاة في معاطن الإبل ومحجة الطريق وظهر الكعبة – البيت الحرام – والحمًًام والمزبلة والمقبرة والمجزرة وكل موضع نجس ومن صلى فيها مع العلم والقدرة على التحول عنها أعاد قولا واحدا وإن صلى مع الجهل بحالها والعجز عن التحول عنها ففي وجوب الإعادة روايتان ولا بأس بالصلاة في مراح الغنم.
فأما الصلاة في الثوب المغصوب أو على الأرض المغصوبة أو في الثوب المُشترى بالثمن الحرام فلا تجوز فإن فعل فهل يعيدُ أم لا؟ على روايتين.
وكذلك الحكم فيمن توضأ بالماء المغصوب أو من بئر احتفرت بمال غصب وفي أرض مغصوبة.
وكذلك الصلاة في الثوب الحرير والثوب النسيج بالذهب يعيدُ في إحدى الروايتين وفي الأخرى: لا إعادة عليه مع الكراهية وبوجوب الإعادة في ذلك كلة أقول.
فأما الصلاةُ في الثوب الخَزًًً والثوب الخليط الذي من الحرير والقطن غلب عليه فجائز قولا واحدا
وكذلك لابأس بالصلاة في الثوب الذي له العلم الحرير كالطراز ونحوه
সকল বিষয়ে পরিমিতিবোধ উত্তম। ওজু ও গোসল যথাযথভাবে সম্পন্ন করার সাথে পানির স্বল্পতা বজায় রাখা সুন্নাহ এবং এতে অপচয় করা সীমালঙ্ঘন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুদ—যা এক রতল ও এক-তৃতীয়াংশের সমান—পানি দিয়ে ওজু করতেন এবং এক সা—যা চার মুদ-এর সমান—পানি দিয়ে গোসল করতেন।
নামাজের জন্য পোশাক এবং স্থানের পবিত্রতা ওয়াজিব। পোশাকের অপবিত্রতা সম্পর্কে অবগত থাকা অবস্থায় তাতে নামাজ পড়া সর্বসম্মত মতানুসারে বৈধ নয়; যদি কেউ তা করে তবে সে নামাজ পুনরায় পড়বে। আর যদি নাপাকি সম্পর্কে অজ্ঞাত অবস্থায় তাতে নামাজ পড়ে, তবে নামাজ পুনরায় পড়ার আবশ্যকতা সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে।
উটের আস্তাবল, চলাচলের পথ, কাবার ছাদ—বায়তুল হারাম—গোসলখানা, আবর্জনার স্তূপ, কবরস্থান, কসাইখানা এবং প্রতিটি অপবিত্র স্থানে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। যে ব্যক্তি এগুলোর অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকা এবং সেখান থেকে সরে যাওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সেখানে নামাজ পড়ে, সে সর্বসম্মত মতানুসারে নামাজ পুনরায় পড়বে। আর যদি সে জায়গার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে অথবা সেখান থেকে সরে যেতে অক্ষম হয়, তবে পুনরায় নামাজ পড়ার আবশ্যকতা সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে। তবে ভেড়া বা ছাগলের খোঁয়াড়ে নামাজ পড়লে কোনো অসুবিধা নেই।
পক্ষান্তরে জবরদখলকৃত পোশাক, জবরদখলকৃত ভূমি অথবা হারাম মূল্যে ক্রয়কৃত পোশাকে নামাজ পড়া বৈধ নয়। যদি কেউ এমনটি করে, তবে সে কি পুনরায় নামাজ পড়বে কি না—এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে।
অনুরূপ বিধান ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যে জবরদখলকৃত পানি দিয়ে অথবা জবরদখলকৃত অর্থে খননকৃত কূপে এবং জবরদখলকৃত জমিতে ওজু করে।
একইভাবে রেশমি পোশাক এবং স্বর্ণখচিত পোশাকে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে একটি বর্ণনা অনুযায়ী সে নামাজ পুনরায় পড়বে, আর অন্য বর্ণনা অনুযায়ী পুনরায় পড়ার আবশ্যকতা নেই—যদিও তা মাকরূহ। তবে এ সকল ক্ষেত্রেই আমি নামাজ পুনরায় পড়া ওয়াজিব হওয়ার কথা বলি।
তবে 'খাজ' (রেশম ও পশমের মিশ্রিত কাপড়) এবং রেশম ও তুলার মিশ্রিত পোশাক—যেখানে তুলার ভাগ বেশি থাকে—তাতে নামাজ পড়া সর্বসম্মত মতানুসারে জায়েজ।
অনুরূপভাবে ঐ পোশাকে নামাজ পড়তে কোনো বাধা নেই যাতে রেশমি নকশা বা পাড় রয়েছে, যেমন পোশাকের বর্ডার বা এই জাতীয় কিছু।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ولا بأس بالصلاة في ماظهر من ثياب اليهود والنصارى مالم تُعلم فيها نجاسة ويُجتنب ماسفل منها نحو السراويل وما التصق من الثياب بأبدانهم قيل: يصلى فيها وقيل عنه: لايُصلى فيها حتى تُغسل والأول عنه أظهر.
ولا يُصلى في ثياب المجُوس حتى تُغسل ويُبالغ في غسلها لأنهم لا يتنزهون من البول وكذل ثياب الصبيان.
ولا بأس باستعمال أواني اليهود والنصارى مالم تُعلم نجاستُها إلا قدور النصارى فلا تستعمل حتى تُغسل لأجل استحلالهم لحم الخنزير.
واختلف قوله في الثوب يَنسُجُهُ اليهودي والنصراني فهل يُصلي فيه ملسم قبل أن يُغسل أم لا؟ على روايتين: قال في إحداهما: لابأس بالصلاة فيه وإن لم يُغسل مالم تُعلم نجاسة. وقال في الأخرى: لايُصلي فيه حتى يغسله
فأما الثوب الذي ينسجه المجوسيُ فلا يصلي فيه مسلم حتى يغسله قولا واحدا
ولا يصلي في ثوب مزعفر ولا معصفر لورود النهي عن ذلك فإن فعل أساء والصلاة ماضية ولابأس بالصلاة في الثوب المطيب كذلك ولا بأس بالنشاستج – وهو ماء العُصفر – إذا كان خفيفا.
وأقل ما يُجزي الرجُل من اللباس ثوب واجد صفيق ساتر من درع – وهو القميص – ويُزرُه فهو أفضل فإن لم يفعل جاز أو رداء طويل يستر عورته ومنكبية ويخالف بين (طرفيه)
ولا يصلي في واحد ليس منه على كتفية شيء فإن فعل أعاد الصلاة التي صلاها فيه ويجزئه في النفل.
وأقل مايجزىء المرأة الحرة من اللباس في الصلاة الدرع الصفيقُ السابعُ
ইহুদি ও নাসারাদের (খ্রিস্টান) পোশাকের উপরাংশের কাপড়ে নামাজ পড়তে কোনো অসুবিধা নেই, যতক্ষণ তাতে কোনো অপবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না যায়। তবে তাদের নিচের অংশের কাপড়সমূহ যেমন পায়জামা এবং দেহের সাথে লেগে থাকে এমন কাপড়সমূহ এড়িয়ে চলতে হবে। বলা হয়েছে: তাতে নামাজ পড়া যাবে। আবার তাঁর পক্ষ থেকে অন্য বর্ণনা মতে: ধৌত করা ছাড়া তাতে নামাজ পড়া যাবে না। তবে তাঁর প্রথম মতটিই অধিক স্পষ্ট।
আর অগ্নিপূজকদের (মাজুস) পোশাক ধৌত করা ছাড়া তাতে নামাজ পড়া যাবে না। এবং তা ধোয়ার ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ তারা পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করে না। শিশুদের পোশাকের ক্ষেত্রেও একই বিধান।
ইহুদি ও নাসারাদের পাত্রসমূহ ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধা নেই, যতক্ষণ না তাতে অপবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে নাসারাদের ডেকচি বা রান্নার পাত্রসমূহ ধৌত করা ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না, কারণ তারা শুকরের গোশত হালাল মনে করে তাতে রান্না করে।
ইহুদি বা নাসারারা যে কাপড় বুনেছে সে সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। মুসলিম কি তা ধৌত করার আগে তাতে নামাজ পড়বে নাকি পড়বে না? এ ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে: একটিতে তিনি বলেছেন: কোনো অপবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা ধৌত না করলেও তাতে নামাজ পড়তে কোনো অসুবিধা নেই। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেছেন: তা ধৌত না করা পর্যন্ত তাতে নামাজ পড়বে না।
আর অগ্নিপূজক যে কাপড় বুনেছে, তাতে মুসলিম ব্যক্তি ধৌত করা ছাড়া নামাজ পড়বে না—এটিই একমাত্র অভিমত।
জাফরান বা কুসুম ফুল দ্বারা রঞ্জিত পোশাকে নামাজ পড়বে না, কারণ এ ব্যাপারে নিষেধ বর্ণিত হয়েছে। যদি কেউ পড়ে তবে সে অনুচিত কাজ করল, তবে নামাজ হয়ে যাবে। সুগন্ধিযুক্ত পোশাকে নামাজ পড়াতে কোনো অসুবিধা নেই। তেমনিভাবে 'নাশাস্তাজ'—যা কুসুম ফুলের নির্যাস—তা যদি হালকা হয় তবে তাতে নামাজ পড়াতে কোনো অসুবিধা নেই।
পুরুষের নামাজের জন্য ন্যূনতম যথেষ্ট পোশাক হলো একটি মোটা কাপড় যা সতর আবৃতকারী হয়; যেমন কামিজ (জামা)। আর সেটির বোতাম লাগানো উত্তম, তবে না লাগালেও তা জায়েজ হবে। অথবা এমন দীর্ঘ চাদর যা তার সতর ও কাঁধসমূহ ঢেকে রাখে এবং সে তার দুই প্রান্ত বিপরীত দিকে পেঁচিয়ে রাখে।
সে এমন একটি কাপড়ে নামাজ পড়বে না যার কোনো অংশ তার কাঁধের ওপর নেই। যদি সে এমনটি করে তবে তাকে ঐ নামাজটি পুনরায় পড়তে হবে, তবে নফল নামাজের ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট হবে।
আর স্বাধীন নারীর জন্য নামাজের পোশাকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যথেষ্ট হলো এমন একটি মোটা কামিজ যা পূর্ণ শরীর আবৃতকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الساترُ ظهور قدميها وخمارُ تتقنع به ولا تكشف في الصلاة غير وجهها فإن سائر جسدها عورة سوى الوجه فإن فعلت أعادت.
فأما الأمة لها أن تصلي مكشوفة ليعلم الفرق بينها وبين الحرة وكذلك الولد قبل أن تعتق والمدبرة والمكاتبة قبل أن تؤدي.
وعورة الرجل مابين سرته وركبتيه في الصحيح من المذهب وقيل عنه: العورة: الدبر والقبل خاصة.
وينهى عن اشتمال الصماء في الصلاة على غير ثوب يسترة قلم يجز ذلك إذا فعل ذلك فإن اشتمل الصماء على ثوب وصلى كره ذلك وأجزأته صلاته
والسدل في الصلاة منهي عنه وهي لبسة اليهود فإن فعل ففي الإعادة روايتان: إحداها: لا إعادة عليه ومن صلى مربوط الوسط أجزأته صلاته ومن بدت عورته أعاد إلا أن يكون الشيء اليسير منها في حالة الركوع والسجود لصغر الثوب الذي لايجد غيره.
ومن صلى في ثوب لطيف لا يجد غيره لم يتزر به وعقده من ورائه وصلى جالسا فإن لم يعممه لتسر عورته ومنكبية أتزر به وصلى قائما ولا إعادة عليه في الصحيح عنه
ومن أتزر من فوق أجزأته فعل ذلك سالم بن عبدالله
وكُلُ النجاسات تُغسل سبعا في إحدى الروايتين كما قلنا في غسل الإناء من
পা দুটির উপরিভাগ আবৃত করা এবং ওড়না যা দিয়ে সে নিজেকে ঢেকে রাখে; সালাতে সে তার মুখমণ্ডল ব্যতীত অন্য কিছু উন্মুক্ত রাখবে না, কারণ মুখমণ্ডল ব্যতীত তার সমগ্র শরীরই আওরাত। যদি সে এমনটি করে, তবে তাকে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে।
পক্ষান্তরে দাসীর ক্ষেত্রে সে উন্মুক্ত অবস্থায় সালাত আদায় করতে পারে যাতে তার এবং স্বাধীন মহিলার মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায়। অনুরূপভাবে সেই কন্যা সন্তান যাকে এখনো মুক্ত করা হয়নি এবং মুদাব্বারা ও মুকাতাবা দাসী যতক্ষণ না সে তার চুক্তিকৃত অর্থ পরিশোধ করে।
মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী পুরুষের আওরাত হলো তার নাভি ও হাঁটুর মধ্যবর্তী অংশ। আবার ইমাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: আওরাত হলো কেবল সামনের ও পেছনের লজ্জাস্থান।
সালাতে ইশতিমালুস সাম্মা (শরীরে একটি কাপড় এমনভাবে পেঁচিয়ে রাখা যাতে হাত বের করার পথ না থাকে) করতে নিষেধ করা হয়েছে যদি তা এমন কোনো কাপড়ের ওপর না হয় যা তাকে আবৃত করে। এমতাবস্থায় এমনটি করা জায়েজ নয়। তবে যদি সে অন্য কোনো কাপড়ের ওপর ইশতিমালুস সাম্মা করে সালাত আদায় করে, তবে তা মাকরূহ হবে কিন্তু তার সালাত হয়ে যাবে।
সালাতে সাদল (কাঁধ থেকে কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া) করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটি ইয়াহুদিদের পরিধান পদ্ধতি। যদি কেউ এমনটি করে, তবে সালাত পুনরায় আদায়ের বিষয়ে দুটি রিওয়ায়াত রয়েছে: তার একটি হলো তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে না। আর যে ব্যক্তি কোমর বাঁধা অবস্থায় সালাত আদায় করবে তার সালাত হয়ে যাবে। যার আওরাত প্রকাশ হয়ে যাবে তাকে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে, তবে যদি কাপড় ছোট হওয়ার কারণে রুকু ও সিজদার অবস্থায় সামান্য কিছু প্রকাশ পায় এবং তার কাছে অন্য কোনো কাপড় না থাকে, তবে ভিন্ন কথা।
যে ব্যক্তি এমন একটি ছোট কাপড় পায় যা ছাড়া অন্য কিছু নেই এবং তা দিয়ে ইজার (লুঙ্গি) হিসেবে পরিধান করা সম্ভব নয়, তবে সে তা তার পেছন দিক থেকে বেঁধে বসে সালাত আদায় করবে। আর যদি কাপড়টি আওরাত এবং উভয় কাঁধ ঢাকার মতো পর্যাপ্ত না হয়, তবে সে তা ইজার হিসেবে পরিধান করবে এবং দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে; তার ওপর সালাত পুনরায় আদায় করা আবশ্যক নয়—এটিই তার থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ মত।
আর যে ব্যক্তি উপর থেকে ইজার পরিধান করেছে তার সালাত হয়ে যাবে; সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ এমনটি করেছিলেন।
এবং সকল প্রকার নাপাকি দুই রিওয়ায়াতের একটি অনুযায়ী সাতবার ধৌত করতে হবে, যেমনটি আমরা পাত্র ধৌত করার বর্ণনায় বলেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولوغ الكلب والخنزير والرواية الأخرى: لايجب استيفاءُ السبع إلا في الولوغ خاصة وماسوى ذلك فتجوز إزالته بأقل من ذلك.
وفي وجوب التراب فيما عدا الولوغ من النجاسات روايتان: إحداهما: يجبُ والأخرى لايجبُ.
ويجزئ الرش على بول الصبي الذي لم يأكل الطعام ويجب غسل بول الجاري وإن لم تطعم.
ويجزئ في تطهير الأرض من البولة الذنوب من الماء.
والنار والشمس والريح والجفاف لايطهر شيئا.
وأبوال البهائم المأكول لحمُها وأراوثها طاهرة وقد روي عنه أن الأبوال كلها نجسة على كل حال والأول عنه أظهر.
فأما بول ما لا يؤكل لحمة وروثه فنجس قولا واحدا وما كان من الحيوان طاهرا في حال حياته مأكولا وغير مأكول فعرقه وريقة طاهر وما كان منها نجسا في حال حياته فعرقه وريقة ولبنه نجس كبوله.
ومن أصاب ثوبه نجاسة وجهل موضعها وجهتها نم الثوب غسل جميعه لا يجزئة غير ذلك فإن عرف جهتها وجهل موضعها من الجهة غسل الجهة كلها ليحصل له الإزالة باليقين
কুকুর ও শুকরের লেহন এবং অন্য বর্ণনাটি হলো: বিশেষ করে লেহন ব্যতিরেকে সাতবার পূর্ণ করা ওয়াজিব নয় এবং এ ছাড়া অন্য নাপাকির ক্ষেত্রে এর চেয়ে কম সংখ্যায় তা দূর করা জায়েজ।
লেহন ব্যতীত অন্যান্য নাপাকির ক্ষেত্রে মাটি ব্যবহারের আবশ্যকতা সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে: একটি হলো এটি ওয়াজিব এবং অন্যটি হলো এটি ওয়াজিব নয়।
যে ছেলে শিশু খাবার খায়নি তার প্রস্রাবের ওপর পানি ছিটানোই যথেষ্ট এবং মেয়ে শিশুর প্রস্রাব ধোয়া ওয়াজিব, যদিও সে খাবার না খেয়ে থাকে।
প্রস্রাব থেকে জমি পবিত্র করার জন্য এক বালতি পানি যথেষ্ট।
আগুন, সূর্য, বাতাস এবং শুকিয়ে যাওয়া কোনো কিছুকেই পবিত্র করে না।
যেসব পশুর গোশত খাওয়া হয় সেগুলোর প্রস্রাব ও গোবর পবিত্র। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রস্রাব সর্বাবস্থায় নাপাক, তবে তাঁর থেকে প্রথম মতটিই অধিক স্পষ্ট।
পক্ষান্তরে যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় না সেগুলোর প্রস্রাব ও বিষ্ঠা সর্বসম্মতভাবে নাপাক। আর জীবিত অবস্থায় যেসব প্রাণী পবিত্র, চাই তা ভক্ষণযোগ্য হোক বা না হোক, তাদের ঘাম ও লালা পবিত্র। পক্ষান্তরে জীবিত অবস্থায় যেসব প্রাণী নাপাক, তাদের ঘাম, লালা ও দুধ তার প্রস্রাবের মতোই নাপাক।
যদি কারো পোশাকে নাপাকি লাগে এবং এর স্থান বা দিক সম্পর্কে সে অজ্ঞাত থাকে, তবে তাকে পুরো পোশাকটি ধুতে হবে, এটি ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না। কিন্তু যদি সে দিকটি জানে কিন্তু সেই দিকের সঠিক স্থানটি না জানে, তবে তাকে পুরো দিকটিই ধুতে হবে যাতে নিশ্চিতভাবে নাপাকি দূর করা সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
باب صفة الوضوءومفروضه ومسنونه وذكر الاستنجاء والاستجمارقال الله عز وجل (والرجز فاهجر) المدثر5) فالاستنجاءُ لإزالة النجوٍ فريضة غير انه لايجب إيصال الاستنجاء بالوضوء حتى لايجوز أن يتراخى عنه وهو من باب زوال النجاسة المأمور بإزالتها فرضا ولا يجوز أن يصلي بها في جسدة وتجزئ إزالتها بغير نية.
واختلف قولة: هل الإزالة من نية الوضوء حتى إن يتوضأ قبل إزالة الخبث بطل الوضوء حتى يزيله ثم يتوضأ أم لا؟ على روايتين، قال في إحداهما: من توضأ قبل أن يتسجمر، استجمر ثم أعاد الوضوء وقال في الأخرى يُعيد الاستجمار أو الإنجاء ولا يُعيد الوضوء.
وصفةُ الاستنجاء أن يبدأ بعسل يده ثم يغسل مخرج البول ثم يمسح مافي المخرج الآخر من الأذى بمدر أو غيره ثم يستنجي بالماء ويواصل صبه ويسترخي قليلا ويجيد ذلك الموضع بيده حتى يتنظف وينقي وليس عليه غسلُ مابطن من المخرجين ولا يستنجي من الريح فإن اقتصر على الماء أجزأه والأول أفضل
ومن استجمر فليوتر وأقله ثلاثة أحجار إذا أنقى بها فإذا فعل وخرج آخرها نقيا أجزأه إذا لم يعدُ الغائط المخرج {وإلا} فالماء أطهر وأطيب.
ওযুর পদ্ধতি, এর ফরয ও সুন্নাতসমূহ এবং ইস্তিনজা ও ইস্তিহমারের বিবরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদমহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন, (এবং আপনি অপবিত্রতা বর্জন করুন) [আল-মুদ্দাসসির: ৫]। সুতরাং অপবিত্রতা দূর করার জন্য ইস্তিনজা করা ফরয। তবে ইস্তিনজাকে ওযুর সাথে সরাসরি সংযুক্ত করা আবশ্যক নয়, এমনকি ওযু থেকে একে বিলম্বিত করাও জায়েয। এটি মূলত নাপাকি দূরীকরণের অন্তর্ভুক্ত, যা দূর করার আদেশ ফরয হিসেবে দেওয়া হয়েছে। শরীরের কোথাও নাপাকি নিয়ে সালাত আদায় করা জায়েয নয় এবং নিয়ত ছাড়াই এটি দূর করলে তা যথেষ্ট হবে।
তাঁর বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে: নাপাকি দূর করা কি ওযুর নিয়তের অংশ, যাতে করে অপবিত্রতা দূর করার আগে ওযু করলে তা বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে তা দূর করে পুনরায় ওযু করতে হবে, নাকি হবে না? এ ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে। একটিতে তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি ইস্তিহমার করার আগে ওযু করেছে, সে যেন ইস্তিহমার করে এবং পুনরায় ওযু করে। অন্যটিতে তিনি বলেছেন: সে যেন ইস্তিহমার বা ইস্তিনজা পুনরায় করে, তবে ওযু পুনরায় করার প্রয়োজন নেই।
ইস্তিনজার পদ্ধতি হলো, প্রথমে হাত ধৌত করার মাধ্যমে শুরু করবে, এরপর প্রস্রাবের রাস্তা ধৌত করবে, এরপর অন্য রাস্তার ময়লা মাটির ঢিলা বা অনুরূপ কিছু দিয়ে মুছে পরিষ্কার করবে। এরপর পানি দিয়ে ইস্তিনজা করবে এবং পানি ঢালা অব্যাহত রাখবে। শরীর কিছুটা শিথিল করবে এবং হাত দিয়ে সেই স্থানটি উত্তমরূপে পরিষ্কার করবে যাতে তা পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হয়ে যায়। দুই রাস্তার ভেতরের অংশ ধৌত করা তার ওপর আবশ্যক নয়। বায়ু নির্গত হওয়ার কারণে ইস্তিনজা করতে হয় না। যদি শুধু পানি ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকে তবে তা যথেষ্ট হবে, তবে পূর্বোক্ত পদ্ধতিটিই উত্তম।
আর যে ব্যক্তি ইস্তিহমার (পাথর ব্যবহার) করে, সে যেন বেজোড় সংখ্যা রক্ষা করে এবং এর সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো তিনটি পাথর যদি তা দ্বারা পরিষ্কার হয়। যদি সে তা করে এবং সর্বশেষ পাথরটি পরিষ্কার অবস্থায় বের হয়, তবে তা যথেষ্ট হবে—যদি মল নির্গমন পথ অতিক্রম না করে। অন্যথায় পানি ব্যবহার করা অধিকতর পবিত্র ও উত্তম।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لأن الماء يزيل الجسم القائم والأثر اللاصق والحجر يزيل الجسم القائم دون الأثر اللاصق فيكون نجسا غير أنها نجاس معفو عنها رفقا من الله تعالى بعبادة وتخفيفا عنهم.
ولا يجتزئ من أقتصر على الاستجمار بدون ثلاثة أحجار وإن أنقى بذلك حتى يستوفى العدد ومن لم ينق بالثلاثة زاد حتى ينقي فإن استجمر بحجر كبير له ثلاثة أحرف مسح كل حرف بها مسحة ولأنقى أجزلأه ذلك في أحدى الروايتين ولا يجزئة في الأخرى إلا ثلاثة أحجار كبار.
وكذلك إن استجمر بغير الحجر مثل الخزف والخشب والخرق ومافي معنى ذلك أجزأه في إحدى الروايتين وفي الرواية الأخرى لايجزئه إلا الحجر دون غيره ولا يستجمر بجلد ميتة دبغ أو لم يدبغ لأنه نجس ولا يستجمر بعظم ولا بنجس ولا يستجمر بيمينه
ومن أراد الوضوء من قيام نوم بالليل فلابد من غسل يده قبل إدخالها الإناء ثلاثا وهل ذلك من مسنون الطهرة أم من مفروضها؟ على روايتين فإن أدخل يده في الإناء قبل غسلها والماءُ أقل من قلتين وتوضأ منه فالأظهر عنه أنه قال: يبدد ذلك الماء ويُعيدُ الوضوء
فأما إذا قام من نوم نهار ويده طاهرة فذلك مستحب غير واجب قولا واحدا
ومن مسنون الطهرة: السواك والتسمية والمبالغة في الاستنشاق لغير الصائم وتخليل اللحية وتخليل أصابع اليدين والرجلين ومسح الأذنين بماء جديد وتقديم الميامن على المياسر.
وقيل عنه: إن المضمضة والاستنشاق من سُنن الوضوء والأظهر عنه في المذهب: أنهما من فرائضه ولايختلف قوله: إنهما فرض في الطهارة الكبرى.
কারণ পানি দৃশ্যমান বস্তু এবং লেগে থাকা দাগ উভয়ই দূর করে, আর পাথর দৃশ্যমান বস্তু দূর করলেও লেগে থাকা দাগ দূর করতে পারে না, ফলে তা নাপাকই থেকে যায়। তবে এটি এমন এক নাপাকি যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি মমতা ও সহজীকরণের উদ্দেশ্যে ক্ষমাযোগ্য।
যে ব্যক্তি তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তিজমার (শৌচক্রিয়া) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তার জন্য তা যথেষ্ট হবে না, যদিও সে তাতে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করে ফেলে, যতক্ষণ না সে সংখ্যাটি পূর্ণ করে। আর যে ব্যক্তি তিনটি পাথরে পরিচ্ছন্ন হতে না পারে, সে পরিচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত সংখ্যা বৃদ্ধি করবে। যদি কেউ এমন একটি বড় পাথর দিয়ে ইস্তিজমা করে যার তিনটি প্রান্ত রয়েছে এবং প্রতিটি প্রান্ত দিয়ে একবার করে মোছে এবং তাতে পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয়, তবে দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। আর অন্য বর্ণনা অনুযায়ী তিনটি পৃথক পাথর ব্যতীত যথেষ্ট হবে না।
অনুরূপভাবে যদি পাথর ছাড়া অন্য কিছু যেমন মাটির পাত্রের টুকরো, কাঠ, ন্যাকড়া বা এই জাতীয় কিছু দিয়ে ইস্তিজমা করে, তবে দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী তা যথেষ্ট হবে। আর অন্য বর্ণনা অনুযায়ী পাথর ছাড়া অন্য কিছুতে তা যথেষ্ট হবে না। মৃত প্রাণীর চামড়া দিয়ে ইস্তিজমা করা যাবে না, চাই তা প্রক্রিয়াজাত (দাবাগাত) করা হোক বা না হোক, কারণ তা অপবিত্র। হাড় কিংবা অন্য কোনো অপবিত্র বস্তু দিয়েও ইস্তিজমা করা যাবে না এবং ডান হাত দিয়েও ইস্তিজমা করা যাবে না।
আর যে ব্যক্তি রাতের ঘুম থেকে উঠে ওজু করার ইচ্ছা করে, পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে অবশ্যই তার হাত তিনবার ধুয়ে নিতে হবে। এটি কি পবিত্রতার সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত নাকি ফরজসমূহের অন্তর্ভুক্ত? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। যদি সে হাত ধোয়ার আগেই পাত্রে হাত ঢুকিয়ে দেয় এবং পানির পরিমাণ দুই কুল্লার কম হয় এবং তা দিয়ে ওজু করে, তবে তাঁর (ইমামের) নিকট থেকে অধিকতর স্পষ্ট মত হলো তিনি বলেছেন: সেই পানি ফেলে দিতে হবে এবং ওজু পুনরায় করতে হবে।
পক্ষান্তরে যদি দিনের ঘুম থেকে ওঠে এবং তার হাত পবিত্র থাকে, তবে তা (ধোয়া) মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়—এটিই একমাত্র অভিমত।
পবিত্রতার সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: মিসওয়াক করা, বিসমিল্লাহ বলা, রোজাদার না হলে নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব প্রদান করা, দাড়ি খিলাল করা, হাত ও পায়ের আঙুলসমূহ খিলাল করা, নতুন পানি দিয়ে দুই কান মাসেহ করা এবং বাম দিকের আগে ডান দিক থেকে শুরু করা।
তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে: কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ওজুর সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তবে মাযহাবে তাঁর থেকে অধিকতর স্পষ্ট মত হলো: এ দুটি ওজুর ফরজসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর বড় নাপাকি থেকে পবিত্র হওয়ার (গোসলের) ক্ষেত্রে এ দুটি ফরজ হওয়ার ব্যাপারে তাঁর কোনো ভিন্ন মত নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومفروض الطهرة – بعد إزالة الحدث على مابينت -: الماء الطاهر المطلق والنية للوضوء وغسل الوجه وغسل اليدين مع المرفقين والمسحُ بالرأس وهل يجب استيعابة بالمسح أم لا؟ على روايتين إحداهما: لا يُجزئه إلا مسحُ جميعه والرواية الأخرى: يجزئة المسح ببعض رأسه بغير تحديد والأول عنه أظهر وغسل الرجلين مع الكعبين – وهما الناتئان – وترتيب الأعضاء والموالاة.
قا: فإن كان أقطع لايد من الزند غسل الذراع باليد الأخرى وإن كان القطع من المرفق فإن بقي من كوع المرفق شيء غسلة لايجزئه غير ذلك وإن لم يكن بقي منه شيء مسح الماء على موضع القطع. وكذلك في التيمم. يمسحُ بالتراب على موضع القطع.
فأما صفة الوضوء الكامل: فهو أن يبدأ من قام إلى وضوء من نوم أو غيره فيجعل الإناء عن يمينه فإنه أمكن له ثم يسمي الله عز وجل ويبدأ بغسل يديه فبل إدخالهما في الإناء ثلاثا فإن كان بال أو تغوط غسل ذلك منه ثم غسل يده ثم ينوي بالطهارة رفع الحدث ثم يُدخل يده اليمنى في الإناء فيأخذُ الماء فيمضمض فإن شاء من غرفة واحدة وإن شاء من ثلاث غرفات وإن استاك بإصبعه أو بسواك فهو حسن.
ثم يستنشق بأنفه الماء ويستنثر ثلاثا ويجعل يده على أنفه كامتخاطه ويجزئه أقل من ثلاث في المضمضة والاستنشاق ويجزئه جميع ذلك في غرفة واحدة والنهاية أحسن.
ثم يأخذ الماء إن شاء بكلتا يديه وإن شاء بيده اليمنى ويجعله في يديه جميعا ثم ينقله إلى وجهه فيفرغه علية غاسلا له بيديه من أعلى جبهته وحد منابت شعر رأسه إلى أطراف ذقنه ودور وجهه كله وخديه وحد عظم لحيته إلى صُدغيه ويغسل البياض الذي بين عارضيه وأُذُنيه فإنه من وجهه ويمر يديه على ماغاب من ظاهر أجفانه وغضون جبهته وماتحت حاجبيه وكذلك ظاهر أنفه يغسل وجهه هكذا ثلاثا ويخلل لحيته وليس عليه إيصال الماء إلى ماتحت
পবিত্রতার আবশ্যিক বিষয়সমূহ (ফরজ) - আমি যা বর্ণনা করেছি তা অনুযায়ী অপবিত্রতা দূর করার পর - হলো: পবিত্র ও সাধারণ পানি, ওযুর নিয়ত করা, মুখমণ্ডল ধৌত করা, কনুইসহ দুই হাত ধৌত করা এবং মাথা মাসাহ করা। পুরো মাথা মাসাহ করা কি আবশ্যক কি না? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। একটি হলো: পুরো মাথা মাসাহ করা ছাড়া তা যথেষ্ট হবে না। অন্য বর্ণনাটি হলো: কোনো সীমা নির্ধারণ ছাড়াই মাথার কিছু অংশ মাসাহ করলে যথেষ্ট হবে; তবে প্রথম বর্ণনাটিই তাঁর পক্ষ থেকে অধিক স্পষ্ট। আর দুই গ্রন্থিসহ (টাখনু) দুই পা ধৌত করা - যা হলো (পায়ের দুই পাশে) অভিক্ষিপ্ত হাড় দুটি - এবং অঙ্গসমূহের ক্রম রক্ষা করা ও বিরতিহীনভাবে সম্পাদন করা।
তিনি বলেন: যদি কারো হাত কবজি থেকে কাটা থাকে, তবে সে অপর হাত দিয়ে বাহু ধৌত করবে। আর যদি কাটা কনুই থেকে হয় এবং কনুইয়ের হাড়ের কোনো অংশ অবশিষ্ট থাকে, তবে সে তা ধৌত করবে, এছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না। যদি কিছুই অবশিষ্ট না থাকে, তবে কাটার স্থানে পানি প্রবাহিত করবে। তায়াম্মুমের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম; কাটার স্থানে মাটি দিয়ে মাসাহ করবে।
পূর্ণাঙ্গ ওযুর পদ্ধতি হলো: যে ব্যক্তি ঘুম থেকে বা অন্য কোনো কারণে ওযুর জন্য দণ্ডায়মান হবে, সে সম্ভব হলে পানির পাত্রটি তার ডান পাশে রাখবে। অতঃপর সে মহান আল্লাহর নাম নেবে এবং পাত্রে হাত দেওয়ার আগে দুই হাত তিনবার ধৌত করবে। যদি সে প্রস্রাব বা পায়খানা করে থাকে, তবে প্রথমে তা পরিষ্কার করবে, এরপর হাত ধৌত করবে। এরপর অপবিত্রতা দূর করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করবে। এরপর সে তার ডান হাত পাত্রে প্রবেশ করিয়ে পানি নিয়ে কুলি করবে। সে চাইলে এক আঁজলা পানি দিয়ে অথবা চাইলে তিন আঁজলা পানি দিয়ে কুলি করতে পারে। আর যদি সে আঙুল দিয়ে বা মেসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজাহ করে, তবে তা উত্তম।
এরপর সে নাকের ছিদ্র দিয়ে পানি টেনে নেবে এবং তিনবার নাক ঝাড়বে। নাক ঝাড়ার সময় সে তার হাত নাকের ওপর রাখবে। কুলি ও নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনবারের কম করলেও যথেষ্ট হবে এবং এসবই এক আঁজলা পানি দিয়ে করাও যথেষ্ট হবে, তবে পূর্ণাঙ্গভাবে করাই অধিক উত্তম।
এরপর সে চাইলে উভয় হাত দিয়ে অথবা চাইলে ডান হাত দিয়ে পানি নেবে এবং তা উভয় হাতে একত্র করবে। অতঃপর তা মুখমণ্ডলে নিয়ে দুই হাত দিয়ে ধৌত করবে; কপালের ওপরের দিক ও মাথার চুলের স্বাভাবিক উৎপত্তিস্থল থেকে চিবুকের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এবং মুখমণ্ডলের পরিধি, দুই গাল ও চোয়ালের হাড়ের সীমা থেকে কানের লতি পর্যন্ত। সে তার কানের লতি ও গালের মাঝখানের সাদা অংশটি ধৌত করবে, কারণ এটিও মুখমণ্ডলের অংশ। সে তার চোখের পাতার উপরিভাগের ভাঁজ, কপালের ভাঁজ এবং ভ্রুর নিচের অংশে হাত বুলিয়ে পানি পৌঁছাবে। একইভাবে নাকের উপরিভাগও ধৌত করবে। এভাবে সে মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করবে এবং দাড়ি খিলাল করবে। দাড়ির নিচের অংশে পানি পৌঁছানো তার ওপর আবশ্যক নয়...
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
لحيته من بشرة وجهه إن كانت لحيته كثيفة ساترة للبشرة في الطهارة الصغرى وإن كانت اللحية خفيفة يرى ماتحتها من بشرة الوجه لزمة إيصال الماء إلى بشرته كثفت اللحية أم خفت.
ثم يغسل يده اليمنى باليسرى وذراعه ومرفقه يُفيض الماء عليها ويغسلها باليسرى ويخلل أصابع يديه بعضها ببعض ثم يغسل اليد اليسرى باليمنى كذلك ثم يأخذ الماء بيده فيفرغُهُ على باطن يده اليسرى ثم يرسله ثم يمسح ببلله رأسه مبتدئا بيديه من مقدم رأسه من أول منابت شعره وقد قرن أطراف أصابع يديه بعضها ببعض على رأسه ويجعلٌ إبهامية في صُدغيه ثم يذهب بيديه ماسحا إلى أطراف شعر رأسه مما يلي قفاه ثم يردهما إلى حيث بدأ ولو أدخل يديه في الإناء ثم رفعهما مبلولتين ومسح بها رأسه أجزأه.
ثم يأخذ ماء جديدا بيديه ثم يرسله ثم يمسح ببله أذنيه ظاهرهما وباطنهما ثم يغسل رجليه يصب الماء بيده اليمنى على رجله اليمنى ويغسلها بيده اليسرى قليلا قليلا حتى يعمها بالغسل يفعل ذلك ثلاثا ويخلل أصابع رجليه ويتعاهد عقبيه وعٌُرقوبيه ومالايكاد يُداخله الماءُ بسرعة من جساوة أو شقوق فيتابعه بالصب والغسل فإنه رُوي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال ((ويل للأعقاب من النار)) وعقب الشيء طرفة وآخره ثم يفعل باليسرى مثل ذلك.
وليس تجديد غسل الأعضاء في الوضوء ثلاثا ثلاثا بأمر حتم لايجزئه دونه ولكنه أفضل مايفعل ومن أوعب وأسبغ بأقل من ذلك أجزأه إذا كان يُحسن فليس كل الناس في إحسان ذلك سواء وقد جاء الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم
ওজুতে চেহারার চামড়ার অন্তর্ভুক্ত দাড়ির বিধান হলো: যদি দাড়ি এমন ঘন হয় যা নিচের চামড়াকে ঢেকে রাখে, তবে ওপর দিয়ে ধৌত করাই যথেষ্ট। আর যদি দাড়ি পাতলা হয় যার নিচ থেকে চেহারার চামড়া দেখা যায়, তবে উক্ত চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছানো আবশ্যক—দাড়ি ঘন হোক কিংবা পাতলা।
অতঃপর সে তার বাম হাত দিয়ে ডান হাত এবং সেই সঙ্গে বাহু ও কনুই ধৌত করবে। সে এর ওপর পানি প্রবাহিত করবে এবং বাম হাত দিয়ে তা মর্দন করবে। সে তার দুই হাতের আঙ্গুলগুলো একটির ভেতর অন্যটি প্রবেশ করিয়ে খিলাল করবে। এরপর একইভাবে ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধৌত করবে। তারপর সে হাতে পানি নিয়ে তা বাম হাতের তালুর ওপর ঢালবে, অতঃপর তা ছেড়ে দেবে। এরপর হাতের অবশিষ্ট আর্দ্রতা দিয়ে মাথা মাসাহ করবে। মাসাহ শুরু করবে মাথার সম্মুখভাগ থেকে—যেখান থেকে সাধারণত চুল গজানো শুরু হয়। সে তার দুই হাতের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ মাথার ওপর একে অপরের সাথে মেলাবে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দুটি দুই রগের (শঙ্খদেশ) ওপর রাখবে। এরপর উভয় হাত মাসাহ করতে করতে মাথার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত নিয়ে যাবে যা ঘাড়ের নিকটবর্তী। এরপর হাত দুটিকে পুনরায় সেখান থেকে শুরুর স্থানে ফিরিয়ে আনবে। আর সে যদি পানির পাত্রে হাত প্রবেশ করায় এবং হাত দুটি সিক্ত অবস্থায় তুলে তা দিয়ে মাথা মাসাহ করে, তবে তাও তার জন্য যথেষ্ট হবে।
এরপর সে দুই হাতে নতুন পানি নেবে, তারপর তা ফেলে দিয়ে হাতের আর্দ্রতা দিয়ে তার কানের বাইরের ও ভেতরের অংশ মাসাহ করবে। অতঃপর সে তার পা দুটি ধৌত করবে; ডান হাত দিয়ে ডান পায়ের ওপর পানি ঢালবে এবং বাম হাত দিয়ে অল্প অল্প করে ঘষবে যতক্ষণ না পুরো পা ধৌত করা সম্পন্ন হয়। সে এভাবে তিনবার করবে এবং পায়ের আঙ্গুলগুলো খিলাল করবে। সে গোড়ালি ও গোড়ালির ওপরের রগ (অ্যাকিলিস টেন্ডন) এবং চামড়ার কঠোরতা বা ফেটে যাওয়ার কারণে যেখানে সহজে পানি প্রবেশ করতে চায় না, সে জায়গাগুলোর প্রতি বিশেষ যত্ন নেবে এবং সেখানে বারবার পানি ঢালা ও ধোয়ার কাজ চালিয়ে যাবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, "আগুনের উত্তাপ থেকে গোড়ালিগুলোর জন্য ধ্বংস বা দুর্ভোগ।" কোনো বস্তুর 'আকব' বলতে তার প্রান্ত ও শেষাংশ বোঝায়। এরপর বাম পায়ের ক্ষেত্রেও সে অনুরূপ করবে।
ওজুতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তিনবার করে ধৌত করা কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নয় যে তা ব্যতীত ওজু হবে না; বরং এটি করা সর্বোত্তম আমল। আর যে ব্যক্তি এর চেয়ে কম সংখ্যকবার ধৌত করে পূর্ণাঙ্গ ও সার্থকভাবে ওজু সম্পন্ন করে, তার জন্য সেটি যথেষ্ট হবে—যদি সে সুন্দরভাবে ওজু সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। কেননা ওজু সুন্দরভাবে করার ক্ষেত্রে সব মানুষ সমান নয়। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أنه توضأ مرة مرة ثم قال عند فراغه من الوضوء ((هذا الوضوء الذي لايقبل الله الصلاة إلا به وروي ((هذا وظيفةُ الوضوء الذي لايقبل الله الصلاة إلا به)) فأخبر أن غسل مرة يجزئ ثم توضأ مرتين مرتين ثم قال ((من توضأ مرتين آتاه الله عز وجل أحره مرتين)) وروي ((آتاه الله كلفين من الأجر)) ثم توضأ ثلاثا ثلاثا وقال ((هذا وُضوئي ووضوء الأنبياء قبلي ووضوء خليل الله إبراهيم عليه السلام
فالذي وصفه هو كمال الوضوء فأما الزيادة على الثلاث في الوضوء فهو مكروه وهو اعتداء إلا إن يكون رجلا مبتلى بالوسواس.
ولا يجزئ في الوضوء إلا غسل الرجلين دون مسحهما فمن مسح على رجليه ولم يغسلهما وصلى لم تُجزه الصلاة وهو بذلك عاص وعليه إعادة الوضوء والصلاة قد رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم لمعة في رجِل رجُل لم يُصبها بالماء فقال ((ويل للأعقاب من النار)) ورأى عمر بن الخطاب رضي الله عنه لمعة بقد الدرهم في رجل رجل لم يصبها الماء فأمره بإعادة الوضوء والصلاة وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم (من توضأ فأحسن الوضوء ثم رفع رأسه إلى السماء فقال: أشهد أن لا إله إلا الله وحدة لاشريك له وأشهد أن محمد عبده ورسوله فتحت له أبواب الجنة يدخل من أيها شاء)
ويجب على كل متوضئ أن يعمل بعمل الوضوء احتسابا لله تعالى لما أمره يرجو تقبُله وثوابه وتطهيره من الذنوب وتستيقن نفسة أن ذلك تأهب وتنظف لمناجاة ربه عز وجل والوقوف بين يديه لأداء فريضته والخضوع له والركوع
তিনি একবার একবার করে ওযু করলেন, অতঃপর ওযু শেষ করে বললেন, "এটিই সেই ওযু যা ব্যতীত আল্লাহ সালাত কবুল করেন না।" বর্ণিত আছে যে, "এটি ওযুর সেই নির্ধারিত নিয়ম যা ছাড়া আল্লাহ সালাত কবুল করেন না।" সুতরাং তিনি অবগত করলেন যে, একবার ধৌত করা যথেষ্ট। এরপর তিনি দুইবার দুইবার করে ওযু করলেন এবং বললেন, "যে ব্যক্তি দুইবার করে ওযু করবে, মহান আল্লাহ তাকে দুইগুণ প্রতিদান দান করবেন।" আরও বর্ণিত হয়েছে, "আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ সওয়াব দান করবেন।" অতঃপর তিনি তিনবার তিনবার করে ওযু করলেন এবং বললেন, "এটি আমার ওযু এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের ওযু এবং আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ওযু।"
তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা হলো ওযুর পূর্ণতা; আর ওযুতে তিনবারের অধিক করা মাকরূহ এবং তা সীমালঙ্ঘন, তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে ওয়াসওয়াসায় (কুমন্ত্রণায়) আক্রান্ত।
ওযুতে দুই পা ধৌত করা ব্যতীত কেবল মাসেহ করা যথেষ্ট নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি তার দুই পা মাসেহ করল কিন্তু ধৌত করল না এবং সালাত আদায় করল, তার সালাত যথেষ্ট হবে না; এর মাধ্যমে সে পাপিষ্ঠ হবে এবং তার ওপর ওযু ও সালাত পুনরায় আদায় করা আবশ্যক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির পায়ে একটি শুষ্ক স্থান দেখলেন যেখানে পানি পৌঁছেনি, তখন তিনি বললেন, "অগ্নিতে গোড়ালিগুলোর জন্য দুর্ভোগ।" আর উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তির পায়ে দিরহাম পরিমাণ একটি শুকনো জায়গা দেখতে পেলেন যেখানে পানি পৌঁছায়নি, তখন তিনি তাকে ওযু ও সালাত পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দিলেন। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি ওযু করে এবং উত্তমরূপে ওযু সম্পাদন করে, অতঃপর আকাশের দিকে মাথা উত্তোলন করে বলে: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল', তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে, সে যা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে।"
প্রত্যেক ওযুকারীর জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহর নির্দেশের কারণে সওয়াবের আশায় ওযু করা, যেন তিনি তা কবুল করেন, প্রতিদান দান করেন এবং গুনাহ থেকে পবিত্র করেন; আর তার মন যেন এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে যে, এটি তার মহান রবের সাথে কথোপকথনের জন্য এবং তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর অর্পিত ফরয আদায় করা, তাঁর প্রতি বিনয় প্রদর্শন ও রুকু করার জন্য এক বিশেষ প্রস্তুতি ও পরিচ্ছন্নতা।