(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
حدود حرية الفكر في الشريعة الإسلامية القسم: الفرق والردود
الكتاب: حدود حرية الفكر في الشريعة الإسلامية
المؤلف: صالح بن زابن المرزوقي البقمي
الناشر: مكتبة الرشد - الرياض، السعودية
الطبعة: الأولى، 2023 م
عدد الصفحات: 69
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 جُمادَى الآخرة 1445
ইসলামী শরিয়তে চিন্তা ও গবেষণার স্বাধীনতার সীমানা বিভাগ: বিভিন্ন দল ও মতবাদ এবং খণ্ডনসমূহ
বই: ইসলামী শরিয়তে চিন্তা ও গবেষণার স্বাধীনতার সীমানা
লেখক: সালিহ বিন যাবিন আল-মারজুকি আল-বুকামি
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫ হিজরি
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمةالحمد لله رب العالمين القائل {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا} [الإسراء: 70] والقائل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} [الحشر: 7]
والصلاة والسلام على نبينا محمد القائل ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه
(1) وبعد:
فقد اطلعت على مقال منشور في مجلة جون أفريك الفرنسية في عددها 2057 وتاريخ 13/ 6/ 2000 م للكاتب محمد طالبي
(2)، والمعنون بـ (كل ما يتضمنه القرآن يدعو إلى حرية الفكر).
وقد تعرض الكاتب لعدد من المسلمات في الشريعة الإسلامية فردّها واستهجنها؛ لأنها على حد زعمه لا تتفق مع حرية الفكر التي ينص القرآن بكل وضوح عليها، ويرى أن الأخذ بما عليه السلف جمود وعبودية.
ومما جاء في المقال المذكور: «إنه لمن المخجل أن يدافع عدد من الدول الإسلامية عن عقوبة الإعدام، ليس فقط لجرائم فظة يكون لها ما يبررها، ولكن أيضاً لجرائم الفكر والضمير» ويقول: «إن كل ما في القرآن يدعو إلى حرية الفكر، وإنه رحمة ورأفة وكل شيء في القرآن يدعو إلى العفو، وكل الشريعة التي هي من عمل الإنسان تركز على استخدام العنف».
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি ইরশাদ করেছেন: {আর আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং স্থলে ও জলে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি; আর আমি তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছি এবং আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।} [সূরা আল-ইসরা: ৭০] এবং যিনি আরো ইরশাদ করেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো; আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর।} [সূরা আল-হাশর: ৭]
আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি বলেছেন: জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে তারই অনুরূপ আরেকটি জিনিস (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে
(১)। অতঃপর:
আমি ফরাসি ম্যাগাজিন ‘জুন আফ্রিক’-এর ২০৫৭ সংখ্যায় (তারিখ: ১৩/০৬/২০০০ খ্রি.) লেখক মুহাম্মদ তালবি
(২) কর্তৃক প্রকাশিত একটি নিবন্ধ পড়ার সুযোগ পেয়েছি, যার শিরোনাম ছিল: ‘কুরআনে যা কিছু আছে তা চিন্তার স্বাধীনতার দিকেই আহ্বান করে’।
লেখক সেখানে ইসলামি শরিয়তের বেশ কিছু স্বতঃসিদ্ধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেগুলো প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা করেছেন; কারণ তার দাবি অনুযায়ী, এই বিষয়গুলো ‘চিন্তার স্বাধীনতা’র সাথে সংগতিপূর্ণ নয় যা কুরআন স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। তিনি মনে করেন যে, সালফে সালেহীন বা পূর্বসূরীদের অনুসৃত পথ অবলম্বন করা হলো স্থবিরতা ও দাসত্ব।
উক্ত নিবন্ধে যা এসেছে তার মধ্যে রয়েছে: "এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, বেশ কিছু মুসলিম দেশ মৃত্যুদণ্ডাদেশের পক্ষে সাফাই গায়; কেবল এমন জঘন্য অপরাধের জন্যই নয় যার পক্ষে কোনো যুক্তি থাকতে পারে, বরং চিন্তা ও বিবেকের (অপরাধের) জন্যও।" তিনি আরও বলেন: "কুরআনের সবকিছুই চিন্তার স্বাধীনতার দিকে আহ্বান করে, এটি রহমত ও দয়া; কুরআনের প্রতিটি বিষয় ক্ষমার দিকে আহ্বান করে। আর সমগ্র শরিয়ত—যা মানুষের তৈরি কাজ—সহিংসতা ব্যবহারের ওপর জোর দেয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ويقصد بحرية الفكر، حرية التدين بالنسبة للمسلمين، واستشهد بقوله تعالى {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} [البقرة: 256] حيث يستنكر قتل المرتد عن الإسلام، ويقول: «فالتطرف الديني ينتشر بسرعة عندما يهيء الفقر المادي والفكري الظروف الملائمة له، خاصة أن له رعاة أغنياء وكرماء في الوقت الذي لا يملك فيه الإسلام الحديث لا الوسائل ولا المال أو وسائل التعبير».
ويقول: «وقد نشرت منظمة العفو الدولية تقريراً يدين بصراحة نظام الرعب والظلم الجاثم على المملكة العربية السعودية؛ حيث تطبق الشريعة حرفياً، الأمر الذي يقود إلى تكاثر أحكام الإعدام في كل المجالات؛ جرائم اغتصاب تجارة المخدرات، والردة بالطبع».
ويقول (فالسنة التي يجب التحقق من صحتها نسبة لكثرة التفاسير، هي شيء قابل للطعن في صحته، ويظل القرآن هو وحده الذي يرجع إليه).
ويقول: لا توجد عقوبة إعدام المرتد في القرآن وهي واردة في الإنجيل. ونسبة لعدم وجود أي مرجعية لها في القرآن، وتحت تأثير الإنجيل، دون أدنى شك، فقد لجأ الفقهاء في القرون الوسطى لتبرير القتل بسبب الردة عن طريق السنة، وتبعاً لتقليد متقن فقد نسبوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم القول التالي (اقتلوا من بدل دينه)، وأصبح هذا السلاح ضرورياً لكل حاكم ومتمرد وإرهابي، ولم تطعن في صحته أي سلطة دينية رسمية في أي بلد مسلم، وذلك خوفاً من التعرض لنفس مصير سلمان رشدي).
وبناءً على ما تقدم يتضح أن الكاتب قد وقع في عدة مخالفات هي:
* إنكاره الاحتجاج بالسنة، واتهامه الفقهاء بنسبة أحاديث إلى الرسول صلى الله عليه وسلم لم يقلها.
চিন্তার স্বাধীনতা বলতে তিনি মুসলমানদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতাকে বুঝিয়েছেন। তিনি মহান আল্লাহর বাণী—"দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই" [আল-বাকারা: ২৫৬]—দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, যেখানে তিনি ইসলাম ত্যাগকারীর মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি বলেন: «ধর্মীয় উগ্রবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যখন বৈষয়িক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দারিদ্র্য এর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, বিশেষ করে যখন এর পেছনে ধনী ও উদার পৃষ্ঠপোষক থাকে, অথচ আধুনিক ইসলামের কাছে নেই কোনো মাধ্যম, অর্থ কিংবা মত প্রকাশের উপায়।»
তিনি আরও বলেন: «অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যা সৌদি আরব রাজ্যে বিদ্যমান সন্ত্রাস ও অন্যায়ের শাসনব্যবস্থাকে স্পষ্টভাবে নিন্দা করে; যেখানে শরীয়াহ অক্ষরে অক্ষরে প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে সমস্ত ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের হার বৃদ্ধি পায়; যেমন—ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা এবং অবশ্যই ধর্মত্যাগ (ইরতিদাদ)।»
তিনি বলেন: (সুন্নাহ—যার বিশুদ্ধতা যাচাই করা প্রয়োজন ব্যাখ্যার আধিক্যের কারণে—এমন একটি বিষয় যা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে; আর কেবল কুরআনই একমাত্র উৎস হিসেবে অবশিষ্ট থাকে যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায়)।
তিনি বলেন: কুরআনে ধর্মত্যাগকারীর মৃত্যুদণ্ডের কোনো শাস্তি নেই, তবে তা ইঞ্জিলে বিদ্যমান। কুরআনে এর কোনো ভিত্তি না থাকায় এবং নিঃসন্দেহে ইঞ্জিলের প্রভাবে মধ্যযুগীয় ফকিহগণ সুন্নাহর মাধ্যমে ধর্মত্যাগের কারণে হত্যার বৈধতা দিতে সচেষ্ট হয়েছেন। একটি সুসংগঠিত ঐতিহ্যের অনুকরণে তারা নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রতি নিম্নোক্ত উক্তিটি আরোপ করেছেন: (যে ব্যক্তি তার ধর্ম পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো)। ফলে এই অস্ত্রটি প্রতিটি শাসক, বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসীর জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সালমান রুশদির মতো একই পরিণতির শিকার হওয়ার ভয়ে কোনো মুসলিম দেশের কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এর নির্ভরযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করেনি।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট হয় যে, লেখক বেশ কিছু বিচ্যুতি বা লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন, যা নিম্নরূপ:
* সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করা এবং ফকিহদের বিরুদ্ধে রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রতি এমন সব হাদিস আরোপ করার অভিযোগ তোলা যা তিনি বলেননি।
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
* إنكاره قتل المرتد وتجار المخدرات.
* وصف البلدان التي تطبق الشريعة الإسلامية بالوهابية، وهو وصف يقصد به التشدد الممقوت الذي يخرج عن سماحة الإسلام ويسره؛ لما قر في ذهنه وأذهان من هم على شاكلته بسبب الدعاية المغرضة ضد الدعوة الإصلاحية التي قادها الشيخ محمد بن عبد الوهاب؛ حيث يصفونها بالتشدد والقسوة مع أنها لا تطبق إلا أحكام الشرع التي كلها عدل ورحمة.
_ ادعاؤه مخالفة المملكة العربية السعودية لحرية الفكر التي دعا إليها القرآن الكريم، واستنكاره عدم توقيعها على الإعلان العالمي لحقوق الإنسان.
ونظراً لخطورة هذه المخالفات، وسوء أثرها على الإسلام وأهله كتبت مقالاً فيه رد على الكاتب، أرسلته إلى مجلة جون أفريك الفرنسية، ثم رأيت بسط المقال المذكور فألفت هذا الكتاب مستعيناً بالله، قاصداً بيان الحق، في ضوء القرآن الكريم والسنة الشريفة، وبقية الأدلة المعتبرة، دونما أي تعصب أو تحيز. وقد سميته: (حدود حرية الفكر في الشريعة الإسلامية)، وقدمت الكلام على السنة، وقتل المرتد؛ لأنهما موضوع احتجاج وتمثيل عند الكاتب لعدم وجود حرية الفكر في بعض البلدان الإسلامية حسب زعمه، وفي نفس الوقت هما تمهيد لحرية الفكر في الشريعة الإسلامية، وقد جعلته بعد هذه المقدمة في ثلاثة مباحث وخاتمة:
* المبحث الأول: في السنة، وفيه مطلبان:
- المطلب الأول: حجية السنة.
- المطلب الثاني: مناقشة اتهام الفقهاء بنسبة أحاديث إلى الرسول لم يقلها.
* المبحث الثاني: حكم المرتد وتجار المخدرات.
* المبحث الثالث: حرية الفكر في الشريعة الإسلامية.
মুরতাদ বা ধর্মত্যাগী এবং মাদক কারবারিদের মৃত্যুদণ্ডের বিধানকে তার অস্বীকার করা।
ইসলামি শরিয়াহ বাস্তবায়নকারী দেশগুলোকে 'ওহাবি' হিসেবে অভিহিত করা; যা মূলত এমন এক ঘৃণিত চরমপন্থা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা ইসলামের উদারতা ও সহজসাধ্যতা থেকে বিচ্যুত। শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের পরিচালিত সংস্কারবাদী দাওয়াতের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের ফলে তার এবং তার সমমনাদের মনে যে বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছে, তারই ফলশ্রুতি এটি। তারা একে চরমপন্থা ও কঠোরতা হিসেবে আখ্যায়িত করে, অথচ এটি শরিয়াহর বিধানসমূহ ব্যতিরেকে অন্য কিছু বাস্তবায়ন করে না, যার প্রতিটিই ন্যায়বিচার ও দয়ায় পরিপূর্ণ।
পবিত্র কুরআন নির্দেশিত চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার বিপরীতে সৌদি আরব অবস্থান করছে বলে তার দাবি এবং 'মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র'-এ দেশটির স্বাক্ষর না করার বিষয়ে তার নিন্দা ও আপত্তি।
এই বিচ্যুতিসমূহের ভয়াবহতা এবং ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর ওপর এর বিরূপ প্রভাবের কথা বিবেচনা করে আমি সংশ্লিষ্ট লেখকের প্রতিবাদে একটি প্রবন্ধ রচনা করি এবং তা ফরাসি সাময়িকী 'জুন আফ্রিক'-এ প্রেরণ করি। অতঃপর উক্ত প্রবন্ধটিকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনায় এই কিতাবটি রচনা করি। আমার উদ্দেশ্য হলো পবিত্র কুরআন, সুন্নাতে রাসুল এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য দলিলের আলোকে কোনো প্রকার গোঁড়ামি বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই সত্যকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা। আমি এর নামকরণ করেছি: (ইসলামি শরিয়াহতে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার সীমা)। আমি সুন্নাহ এবং মুরতাদের মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি; কারণ উক্ত লেখকের দাবি অনুযায়ী কতিপয় ইসলামি দেশে চিন্তার স্বাধীনতা না থাকার স্বপক্ষে এগুলোই ছিল তার আপত্তির মূল বিষয় ও উদাহরণ। একই সাথে এই বিষয় দুটি ইসলামি শরিয়াহতে চিন্তার স্বাধীনতার স্বরূপ বোঝার জন্য একটি ভূমিকা স্বরূপ। এই গৌরচন্দ্রিকার পর আমি গ্রন্থটিকে তিনটি পরিচ্ছেদ ও একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ প্রসঙ্গে, এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর প্রামাণিকতা।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহ (সা.) যা বলেননি এমন সব হাদিস তাঁর নামে চালিয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ ফকিহগণের ওপর আনা হয়েছে, তার পর্যালোচনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুরতাদ ও মাদক কারবারিদের বিধান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামি শরিয়াহতে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা।
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
* الخاتمة: وفيها أهم نتائج البحث.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
تم الانتهاء من أصله في عام 1422 هـ/ 2001 م، وتمت مراجعته وإعداده للنشر بالعوالي في مكة المكرمة يوم الثلاثاء 22/ شعبان/ 1444 هـ الذي يوافقه 14/ مارس/ 2023 م.
* উপসংহার: এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে।
আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
এর মূল পাণ্ডুলিপি ১৪২২ হিজরি/ ২০০১ খ্রিস্টাব্দে সমাপ্ত হয়েছে এবং মঙ্গলবার ২২ শাবান ১৪৪৪ হিজরি মোতাবেক ১৪ মার্চ ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে মক্কা মুকাররমার আওয়ালি এলাকায় প্রকাশনার নিমিত্তে এর পর্যালোচনা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الأول في السنة
المطلب الأول: الاحتجاج بالسنةيظهر من كلام الكاتب - هدانا الله وإياه - أنه يقصر الاستدلال على القرآن، ولا يرى الاحتجاج بالسنة على إقامة حد الردة، ولذا فهو يعتمد في مقاله المذكور على ميزان غريب بل بالغ الغرابة في ميدان البحث العلمي.
إذ من المعروف أن العالم أو الكاتب المخلص يتجرد عن كل هوى وميل شخصي فيما يريد البحث عنه، ويتابع النصوص والمراجع الموثوق بها، فما أدت إليه بعد المقارنة والتمحيص كان هو النتيجة الحتمية التي ينبغي عليه الوصول إليها والقول بها. ولكنه حمل في ذهنه فكرة معينة فأثبتها بدون دليل، بل قبل البحث عنها وعن دليلها، بل إنه في سبيل إثباتها أنكر الأدلة الصحيحة الصريحة؛ لأنها مصادمة لهواه.
وقد زاد عمله سوءاً واضطراباً المنهج الاستشراقي الذي درج عليه والتزم به، وذلك بإخضاعه النصوص لأفكاره المسبقة، وأهوائه المتحكمة، يختار منها ما يقبله، ويرفض ما يجده مناقضاً لما يريد، ثم تحريفه لما يعتمد منها.
إن السنة هي المصدر الثاني من مصادر التشريع الإسلامي، ولا يشكك في حجيتها إلا جاهل أو منافق، وموقف أمثال هذا الكاتب قد وصفه الرسول صلى الله عليه وسلم في معرض الذم لمن يتنكرون لسنته، وبين فيه أن ما حرم رسول الله مثل ما حرم الله، فعن المقدام بن معد يكرب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «ثم يوشك الرجل متكئاً على أريكته يحدث بحديث من حديثي فيقول بيننا وبينكم كتاب الله
সুন্নাহ বিষয়ক প্রথম পরিচ্ছেদ
প্রথম অনুচ্ছেদ: সুন্নাহর প্রামাণ্যতালেখকের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে—আল্লাহ আমাদের এবং তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন—তিনি দলিল বা প্রমাণ গ্রহণকে কেবল কুরআনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। মুরতাদের দণ্ড (হদ্দ) কার্যকর করার ক্ষেত্রে তিনি সুন্নাহর প্রামাণ্যতা স্বীকার করেন না। এ কারণে তিনি তার উক্ত নিবন্ধে এক অদ্ভুত এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে চরম অস্বাভাবিক মানদণ্ডের ওপর নির্ভর করেছেন।
কেননা এটি সর্বজনবিদিত যে, একজন একনিষ্ঠ আলেম বা লেখক তার গবেষণার বিষয়ে ব্যক্তিগত প্রবৃত্তি ও ঝোঁক থেকে মুক্ত থাকেন। তিনি নির্ভরযোগ্য নصوص (নস) বা পাঠ্য এবং মূল উৎসসমূহ অনুসরণ করেন। অতঃপর তুলনা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের পর যে সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই তার জন্য অনিবার্য ফলাফল হওয়া উচিত এবং সেটাই তার ব্যক্ত করা কর্তব্য। কিন্তু তিনি তার মস্তিষ্কে একটি নির্দিষ্ট ধারণা পোষণ করেছেন এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই তা প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন; বরং সেই ধারণা এবং তার প্রমাণের সন্ধানের পূর্বেই তিনি এটি স্থির করে নিয়েছেন। এমনকি তা প্রমাণের খাতিরে তিনি বিশুদ্ধ ও দ্ব্যর্থহীন দলিলসমূহ অস্বীকার করেছেন, কারণ সেগুলো তার ব্যক্তিগত অভিরুচির বিরোধী।
তার এই কাজকে আরও নিকৃষ্ট ও অসংলগ্ন করে তুলেছে সেই প্রাচ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, যা তিনি অনুসরণ ও আঁকড়ে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় পাঠ্যসমূহকে তার পূর্বনির্ধারিত চিন্তা ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রবৃত্তির অনুগত করেছেন। তিনি নصوص বা পাঠ্যসমূহ থেকে কেবল সেগুলোই গ্রহণ করেন যা তার মনঃপূত হয় এবং যা তার অভীষ্ট লক্ষ্যের পরিপন্থী পায় তা প্রত্যাখ্যান করেন। অতঃপর তিনি যেগুলোর ওপর নির্ভর করেন, সেগুলোরও বিকৃতি সাধন করেন।
নিশ্চয়ই সুন্নাহ হলো ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। কোনো মূর্খ বা মুনাফিক ব্যতীত কেউ এর প্রামাণ্যতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে না। এ জাতীয় লেখকের অবস্থান সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সমস্ত লোকদের নিন্দাসূচক বর্ণনায় তুলে ধরেছেন যারা তাঁর সুন্নাহকে অস্বীকার করে। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা মহান আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের মতোই। মিকদাম ইবনে মাদিকারিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তি তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তার কাছে আমার কোনো হাদিস পৌঁছালে সে বলবে—আমাদের এবং তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট।"
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
عز وجل فما وجدنا فيه من حلال استحللناه وما وجدنا فيه من حرام حرمناه ألا وإن ما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل ما حرم الله»
(1).
ولمناقشة هذا الكاتب نقول له: مادام أنك لاتزال تعترف بحجية القرآن فإليك بعض النصوص القرآنية الواضحة الدالة على وجوب العمل بالسنة ونفي الإيمان عمن لا يحتكم إليها، قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59] والرد إلى الله هو الرد إلى القرآن الكريم، والرد إلى الرسول هو الرد إليه في حياته، وإلى سنته صلى الله عليه وسلم بعد وفاته. وقال تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65].
وقال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ
أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا (36)} [الأحزاب: 36].
وقال تعالى: {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [النور: 51].
فهذه الآيات الكريمات توجب التحاكم إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتنفي الإيمان عمن لم يحتكم إليه.
وهي تتناول الموضوع الأساس في حياة الأمة المسلمة، إنها تتناول بيان شرط الإيمان وحده، وتحدد الجهة التي تتلقى منها الأمة المسلمة منهج حياتها، إن الرسل
--------------------------------------------
মহান ও পরাক্রমশালী। সুতরাং তাতে আমরা যা হালাল পেয়েছি, আমরা তাকেই হালাল জ্ঞান করেছি এবং তাতে যা হারাম পেয়েছি, তাকেই হারাম গণ্য করেছি। জেনে রেখো, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা হারাম করেছেন, তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ»
(১).
এই লেখকের সাথে পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমরা তাকে বলি: যতক্ষণ আপনি কুরআনের প্রামাণিকতাকে স্বীকার করছেন, ততক্ষণ আপনার সামনে কুরআনের এমন কিছু সুস্পষ্ট বাণী উপস্থাপন করছি যা সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ওপর এবং যে ব্যক্তি সুন্নাহর বিধান মেনে নেয় না তার ঈমান নাকচ হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (নেতৃত্বদানকারী)। এরপর যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকাল দিবসের ওপর বিশ্বাসী হয়ে থাকো। এটিই উত্তম এবং পরিণামে অতি উৎকৃষ্ট।} [আন-নিসা: ৫৯]। আর আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো পবিত্র কুরআনের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া, এবং রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর জীবদ্দশায় সরাসরি তাঁর নিকট এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুন্নাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতএব তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, এরপর তুমি যা ফয়সালা করো সে ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} [আন-নিসা: ৬৫]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সেই
বিষয়ে কোনো ইখতিয়ার (নিজস্ব সিদ্ধান্তের সুযোগ) থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো সুস্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত হলো (৩৬)} [আল-আহযাব: ৩৬]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {মুমিনদের যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে এই আহ্বান জানানো হয় যে, তিনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন, তখন তাদের কথা কেবল এটাই হয় যে—আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। আর তারাই সফলকাম।} [আন-নূর: ৫১]।
এই সম্মানিত আয়াতসমূহ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বিচারপ্রার্থনা করাকে অপরিহার্য করে এবং যে ব্যক্তি তাঁর নিকট বিচারপ্রার্থনা করে না, তার ঈমানকে নাকচ করে দেয়।
আর এই আয়াতগুলো মুসলিম উম্মাহর জীবনের মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে; এগুলো ঈমানের একমাত্র শর্তটি বর্ণনা করে এবং সেই কর্তৃপক্ষকে সুনির্দিষ্ট করে দেয় যার কাছ থেকে মুসলিম উম্মাহ তাদের জীবন-পদ্ধতি গ্রহণ করবে। নিশ্চয়ই রাসূলগণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أرسلت لتطاع - بإذن الله لا لمجرد الإبلاغ والإقناع {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ} [النساء: 64].
وما دمت تعتقد أن القرآن الكريم كلام الله وأن محمداً رسول الله صلى الله عليه وسلم لزمك أن تعتقد بعدم إمكان الفصل بين كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم التي هي تفسير وتطبيق عملي للقرآن.
وإن الناس لا يؤمنون إلا إذا تحاكموا إلى كتاب الله، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ}؛ إذ لا يكفي أن يتحاكموا إليه ليكونوا مؤمنين، بل لابد من أن يتلقوا حكمه صلى الله عليه وسلم مسلّمين راضين {ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} أي ينقادوا لأمرك في القضاء، وقوله: تسليما مصدر مؤكد، أي ويسلموا لحكمك تسلمياً لا يدخلون على أنفسهم معه شكاً.
فهذا النص يتحدث عن المنافقين الذين لا ينتفعون بآيات الله المبينات ولا يهتدون، فهؤلاء لا يتأدبون بأدب المؤمنين في طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي الرضا بحكمه والطمأنينة إليه، ويوازن بينهم وبين المؤمنين الصادقين في إيمانهم، فآيات الله مبينة كاشفة تجلو نور الله، وتكشف عن ينابيع هداه وتحدد الخير والشر، والطيب والخبيث.
ومع أن في القرآن الكريم، وسنة الرسول صلى الله عليه وسلم ما يكفي ويشفي لرد زعم الكاتب وأمثاله، إلا أنه لا مانع من أن نورد له بعض أقوال المستشرقين المعتدلين، أو ممن اضطروا أن يعترفوا بالحقيقة؛ لاعتقادنا أن أقوالهم ستجد قبولاً لديه، ولدى أمثاله.
يقول المستشرق محمد أسد ليويولد قابس والذي تسمى ب (محمد) بعد أن هداه الله إلى الإسلام: (إن العمل بسنة رسول الله هو عمل على حفظ كيان
তারা প্রেরিত হয়েছেন যেন আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাদের আনুগত্য করা হয়—কেবল বার্তা পৌঁছানো বা মানুষকে বোঝানোর জন্য নয়। {আর আমরা প্রত্যেক রাসূলকে কেবল এই উদ্দেশ্যেই প্রেরণ করেছি, যেন আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর আনুগত্য করা হয়} [আন-নিসা: ৬৪]।
আর যতক্ষণ আপনি বিশ্বাস করেন যে পবিত্র কুরআন আল্লাহর কালাম এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, ততক্ষণ আপনার জন্য এটি বিশ্বাস করা অপরিহার্য যে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সম্ভব নয়; কেননা সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যা ও বাস্তব প্রয়োগ।
মানুষ ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর কাছে বিচারপ্রার্থী হয় {অতএব আপনার রবের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়}; কারণ মুমিন হওয়ার জন্য কেবল বিচারপ্রার্থী হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফয়সালাকে পূর্ণ সন্তুষ্টি ও আত্মসমর্পণের সাথে গ্রহণ করতে হবে {অতঃপর আপনি যে ফয়সালা প্রদান করবেন সে ব্যাপারে তাদের মনে কোনো প্রকার সংকীর্ণতা থাকবে না এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে} অর্থাৎ তারা আপনার বিচারিক আদেশের প্রতি অনুগত হবে। আর 'তাসলিমা' শব্দটি এখানে দৃঢ়তা বা তাকিদ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ তারা আপনার ফয়সালা এমনভাবে মেনে নেবে যেখানে মনে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকবে না।
এই পাঠটি সেই সব মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা করছে যারা আল্লাহর সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি দ্বারা উপকৃত হয় না এবং হিদায়াত পায় না। এরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য, তাঁর ফয়সালা সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ এবং তাঁর প্রতি অবিচল আস্থার ক্ষেত্রে মুমিনদের শিষ্টাচার রক্ষা করে না। এখানে তাদের সাথে সত্যবাদী মুমিনদের ইমানের তুলনা করা হয়েছে। বস্তুত আল্লাহর আয়াতসমূহ সত্যকে উন্মোচনকারী, যা আল্লাহর নূরকে উদ্ভাসিত করে, তাঁর হিদায়াতের উৎসসমূহকে প্রকাশ করে এবং কল্যাণ-অকল্যাণ ও পবিত্র-অপবিত্রের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে।
যদিও পবিত্র কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর মধ্যে উক্ত লেখক ও তার সমমনাদের দাবি খণ্ডন করার জন্য পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক দলিল বিদ্যমান রয়েছে, তবুও কিছু মধ্যপন্থী প্রাচ্যবিদ বা যারা সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করতে কোনো বাধা নেই। কারণ আমাদের বিশ্বাস, তাদের কথাগুলো উক্ত লেখক ও তার অনুসারীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
প্রাচ্যবিদ মুহাম্মদ আসাদ লিওপোল্ড ওয়েইস—যাকে আল্লাহ ইসলাম গ্রহণের তাওফিক দেওয়ার পর তিনি 'মুহাম্মদ' নাম গ্রহণ করেছিলেন—বলেন: (রাসূলুল্লাহর সুন্নাহর ওপর আমল করা মানে হলো অস্তিত্বকে রক্ষা করার প্রচেষ্টা...
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الإسلام وعلى تقدمه، وإن ترك السنة هو انحلال الإسلام .. لقد كانت السنة الهيكل الحديدي الذي قام عليه صرح الإسلام، وإنك إذا أزلت هيكل بناء ما، أفيدهشك أن يتقوض ذلك البناء كأنه بيت من ورق؟
(1).
(إن حياته صلى الله عليه وسلم العجيبة كانت تمثيلاً حياً وتفسيراً لما جاء في القرآن الكريم، ولا يمكننا أن ننصف القرآن الكريم بأكثر من أن نتبع الذي قد بلغ الوحي
(2).
وقد سئلت عائشة رضي الله عنها عن خلق رسول الله فقالت: «كان خُلقُهُ القُرآنَ
(3)».
وفي الحقيقة يجب علينا أن نعتبر أن السنة هي أهم تفسير لتعاليم القرآن الكريم، والوسيلة الأساسية لاجتناب الخلاف في تأويل تلك التعاليم وتطبيقها في الحياة العملية
(4).
ويقول محمد أسد أيضاً: (إن تفكيرنا يقودنا حتماً إلى أنه ليس ثمة حكم فيما يتعلق بالتأويل العملي لتعاليم القرآن الكريم أفضل من الذي أوحيت إليه هذه التعاليم هدى للعالمين، إن التعبير الذي يتردد على مسامعنا اليوم كثيراً: لنرجع إلى القرآن الكريم، ولكن يجب ألا نجعل من أنفسنا أتباعاً مستعبدين للسنة يكشف بكل بساطة عن جهل للإسلام، إن الذين يقولون هذا القول يشبهون رجلاً يريد أن يدخل قصراً ولكنه لا يستعمل المفتاح الأصلي الذي يستطيع به وحده أن يفتح الباب
(5).
--------------------------------------------
ইসলাম এবং এর অগ্রগতির ওপর। আর সুন্নাহ বর্জন করা হলো ইসলামের বিলুপ্তি। সুন্নাহ ছিল সেই লৌহকাঠামো যার ওপর ইসলামের সুউচ্চ সৌধ নির্মিত হয়েছিল। আপনি যদি কোনো ইমারতের কাঠামো সরিয়ে ফেলেন, তবে সেই ইমারতটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লে কি আপনি অবাক হবেন?
(১).
(নিশ্চয়ই তাঁর (সা.) বিস্ময়কর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের বাণীর এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ও ব্যাখ্যা। ওহি যাঁর নিকট পৌঁছেছে তাঁকে অনুসরণ করার চেয়ে বড় কোনো ইনসাফ আমরা কুরআনের প্রতি করতে পারি না
(২).
আয়েশা (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «কুরআনই ছিল তাঁর চরিত্র
(৩)»।
প্রকৃতপক্ষে, আমাদের এটি মনে করা কর্তব্য যে, সুন্নাহ হলো কুরআন মাজীদের শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা এবং এই শিক্ষার মর্মার্থ নির্ধারণ ও ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগের ক্ষেত্রে মতভেদ নিরসনের মূল মাধ্যম
(৪).
মুহাম্মদ আসাদ আরও বলেন: (আমাদের চিন্তাভাবনা আমাদের অনিবার্যভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করে যে, বিশ্বজগতের হেদায়েতস্বরূপ যাঁর ওপর এই শিক্ষাগুলো অবতীর্ণ হয়েছে, তাঁর চেয়ে পবিত্র কুরআনের শিক্ষার ব্যবহারিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতর কোনো ফয়সালাকারী নেই। আজ আমাদের কানে যে কথাটি প্রায়ই ভেসে আসে: "আসুন আমরা কুরআনের দিকে ফিরে যাই, তবে সুন্নাহর অন্ধ অনুসারী হওয়া আমাদের সাজে না"—এটি ইসলামের প্রতি নিছক অজ্ঞতাই প্রকাশ করে। যারা এই কথা বলে, তারা সেই ব্যক্তির ন্যায় যে কোনো প্রাসাদে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক কিন্তু সেই আসল চাবিকাঠিটি ব্যবহার করতে চায় না, যা ব্যতীত দরজা খোলা সম্ভব নয়
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وما دمنا نعتقد أن القرآن الكريم كلام الله تماماً في مبناه ومعناه، فالنتيجة المنطقية لذلك أنه لم يُقصد به قط أن يكون مستقلاً عن هداية الرسول الشخصية على ما هي مبسوطة في السنة.
وقد قال المستشرق سنوك هركرونيه: «إنه ليس من السداد في شيء إنكار حديث لا يمكن تبيين السبب الذي يقال إنه وضع لأجله ولا توجد علة تاريخية تقتضيه»
(1).
وقد اعترف المستشرق البروفيسور نيكولون بقول ابن قتيبة: «إنه ليس لأمة سنة مثل سنتنا»
(2).
والأستاذ ونسنك، أستاذ كرسي اللغة العربية بجامعة لندن، والذي قام بنشر المعجم المفهرس لألفاظ الحديث نقل له الدكتور علي عبد القادر بحثاً عن الدور الذي قام به أهل الحديث، ذكر فيه جهودهم في دراسة الحديث ونقده، ورد على من زعم من المستشرقين أن الحديث من وضع أهلي القرنين الأول والثاني وأثبت فساد هذا الزعم
(3).
ولتصوير الحقيقة على الوجه الصحيح لابد أن نذكر أن من وظيفة الرسول صلى الله عليه وسلم كما صرح بذلك القرآن - أن يبين للناس ما نزل إليهم من ربهم، قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل: 44] ولا شك في كونه قد قام بذلك على الوجه الأكمل، وواجب على المسلم أن يلتزم بما جاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وإلا فما فائدة أوامره ونواهيه، وبالتالي ما فائدة رسالته.
--------------------------------------------
যতক্ষণ আমরা বিশ্বাস করি যে পবিত্র কুরআন এর শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর কালাম, তবে এর যৌক্তিক পরিণাম হলো যে, সুন্নাহর মধ্যে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত রাসূলের ব্যক্তিগত হেদায়েত থেকে কুরআনকে বিচ্ছিন্ন বা স্বতন্ত্র রাখা কখনোই উদ্দেশ্য ছিল না।
প্রাচ্যবিদ স্নুক হুরগ্রোনিয়ে বলেছেন: "এমন কোনো হাদিস অস্বীকার করা কোনোভাবেই সঠিক হবে না, যার জাল হওয়ার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো সম্ভব নয় এবং যেটির স্বপক্ষে কোনো ঐতিহাসিক কারণও বিদ্যমান নেই"
(১)।
প্রাচ্যবিদ প্রফেসর নিকোলসন ইবনে কুতায়বার এই উক্তিটি স্বীকার করেছেন যে: "আমাদের সুন্নাহর মতো কোনো সুন্নাহ অন্য কোনো উম্মতের নেই"
(২)।
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষার অধ্যাপক এবং হাদিসের শব্দাবলির নির্ঘণ্ট 'আল-মু'জামুল মুফাহরাস লি-আলফাজিল হাদিস'-এর প্রকাশক অধ্যাপক ওয়েনসিঙ্ক-এর নিকট ড. আলী আব্দুল কাদির হাদিসবিশারদদের ভূমিকা সম্পর্কে একটি গবেষণা উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি হাদিস চর্চা ও এর পর্যালোচনায় তাঁদের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেই সব প্রাচ্যবিদদের জবাব দিয়েছেন যারা দাবি করেন যে হাদিস প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীর উদ্ভাবন; এবং তিনি এই দাবির অসারতা প্রমাণ করেছেন
(৩)।
প্রকৃত সত্যকে সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য আমাদের অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে, পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম দায়িত্ব হলো মানুষের প্রতি তাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাজিল করা হয়েছে তা তাদের নিকট ব্যাখ্যা করে দেওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) নাজিল করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।} [আন-নাহল: ৪৪]। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি এই দায়িত্বটি সর্বোত্তম পন্থায় সম্পন্ন করেছেন। আর একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা মেনে চলা, নতুবা তাঁর আদেশ ও নিষেধের এবং পরিণামে তাঁর রিসালাতের সার্থকতা কী থাকে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وفي القرآن أحكام مجملة كثيرة كأحكام الصلاة والزكاة والحج وغير ذلك مما لا نعلم ما ألزمنا الله تعالى فيه بلفظه، فالصلاة لم يأت في القرآن بيان أنواعها، وأوقاتها، وعدد ركعاتها، لكن بينها النبي صلى الله عليه وسلم في السنة، فإذا كان بيانه عليه السلام لذلك المجمل غير محفوظ، ولا مضمون سلامته مما ليس منه، فقد بطل الانتفاع بنص القرآن، فبطلت أكثر الشرائع المفترضة علينا منه، فإذن لم ندر صحيح مراد الله منها.
إن القول بعدم حجية السنة من أخطر القوارع لدك الدين من أساسه، وإلغاء ما بينه وبين غيره من مميزات وفروق، قصد طي آثار الحضارة الإسلامية، وإذابة المجتمع الإسلامي، والقضاء على هويته ومقوماته، وهذا منكر من القول، وكفر وتعطيل لأحكام الله وشريعته. وتصوير الإسلام بما يتفق وأغراضهم، ويخدم ميولهم ومصالحهم، لا بما أراده الله من إرساء قواعد العدل والأمن والسلم والمساواة وبناء الحياة الإنسانية على المنهج الرباني الذي دعت إليه الرسالة
(1).
وقد أجمع الصحابة ومن بعدهم على العمل بالسنة، وكذلك أئمة الدين وعلماء الأمة
(2).
قال شيخ الإسلام ابن تيميه: «هؤلاء يعتمدون السنة ولا يتعمدون مخالفة رسول الله صلى الله عليه وسلم في شيء من سنته دقيق ولا جليل، وإنهم متفقون اتفاقاً يقيناً على وجوب اتباعه، وعلى أن كل واحد من الناس يؤخذ من قوله ويترك إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم
(3).
--------------------------------------------
কুরআনে অনেক সংক্ষিপ্ত ও অস্পষ্ট (মুজমাল) বিধান রয়েছে, যেমন সালাত, জাকাত ও হজের বিধান এবং আরও অনেক কিছু যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীর মাধ্যমে আমাদের ওপর কী আবশ্যক করেছেন তা আমরা সবিস্তারে জানি না। যেমন—সালাতের প্রকারভেদ, ওয়াক্ত এবং রাকাত সংখ্যা কুরআনে বর্ণিত হয়নি; বরং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর মাধ্যমে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। অতএব, সেই অস্পষ্টতার বিষয়ে তাঁর (আলাইহিস সালাম) বর্ণনা যদি সংরক্ষিত না থাকে এবং তা বিকৃতি থেকে মুক্ত থাকার নিশ্চয়তা না থাকে, তবে কুরআনের বক্তব্যের কার্যকারিতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে, ফলে আমাদের ওপর অর্পিত অধিকাংশ শারয়ী বিধান অকার্যকর হয়ে পড়বে এবং আমরা এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর প্রকৃত উদ্দেশ্য কী তা আর জানতে পারব না।
সুন্নাহর প্রামাণ্যতা অস্বীকার করা হলো দ্বীনকে এর ভিত্তি থেকে ধ্বংস করার জন্য অন্যতম ভয়াবহ আঘাত। এর উদ্দেশ্য হলো ইসলামের সাথে অন্যান্য আদর্শের যে বৈশিষ্ট্য ও পার্থক্য রয়েছে তা বিলুপ্ত করা, ইসলামী সভ্যতার চিহ্নসমূহ মুছে ফেলা, মুসলিম সমাজকে বিলীন করা এবং এর পরিচয় ও মৌলিক সত্তাকে ধ্বংস করা। এটি একটি জঘন্য উক্তি, কুফর এবং আল্লাহর বিধান ও শরীয়তকে অকার্যকর করার শামিল। এর মাধ্যমে ইসলামকে তাদের হীন উদ্দেশ্য ও প্রবৃত্তির অনুকূলে চিত্রায়িত করা হয়, যা কেবল তাদের স্বার্থই রক্ষা করে; অথচ আল্লাহ ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, শান্তি ও সাম্যের যে মূলনীতি প্রতিষ্ঠা এবং মহান রবের প্রদর্শিত পন্থায় মানবজীবন গঠনের উদ্দেশ্যে এই রিসালাত প্রেরণ করেছেন, তার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই
(১)।
সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের পরবর্তী যুগের ব্যক্তিবর্গ সুন্নাহর ওপর আমল করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। একইভাবে দ্বীনের ইমামগণ এবং উম্মাহর আলেম সমাজও এ ব্যাপারে একমত
(২)।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: «তাঁরা সুন্নাহর ওপর নির্ভর করেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর ছোট কিংবা বড় কোনো বিষয়েই ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধিতা করেন না। তাঁরা সুনিশ্চিতভাবে এই বিষয়ে একমত যে, তাঁর অনুসরণ করা ওয়াজিব এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য যে কোনো ব্যক্তির বক্তব্যই গ্রহণ করা যেতে পারে অথবা বর্জন করা যেতে পারে»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أما إصدار الأحكام بناءً على ما يراه العقل البشري فهو مرفوض، إلا إذا لم يصادم نصاً من القرآن الكريم أو السنة النبوية المطهرة، أو إجماع العلماء، وبشرط أن يكون خاضعاً لقواعد الشريعة، غير متعارض مع مقاصدها.
ومن الثابت أن القوانين التي يضعها البشر لا تخلو من التأثر بالأهواء المضلة عن سبيل الله، المتحيزة إلى جانب دون جانب، أما شرع الله فقد وضعه خالق الناس الذي هو أعلم بحالهم وما يصلحهم، وضعه من لا يتأثر بالأهواء.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية:«إذا تعارض الشرع والعقل وجب تقديم الشرع؛ لأن العقل مصدق للشرع في كل ما أخبر به، والشرع لم يصدق العقل في كل ما أخبر به، ولا العلم بصدقه موقوف على كل ما يخبر به العقل»
(1).
وقال: «إن تقديم المعقول على الأدلة الشرعية ممتنع متناقض، وأما تقديم الأدلة الشرعية فهو ممكن مؤتلف، فوجب الثاني دون الأول، وذلك لأن كون الشيء معلوماً بالعقل، أو غير معلوم بالعقل ليس هو صفة لازمة لشيء من الأشياء، بل هو من الأمور النسبية الإضافية، فإن زيداً قد يعلم بعقله ما لا يعلمه بكر بعقله، وقد يعلم الإنسان في حال بعقله ما يجهله في وقت آخر»
(2).
ولهذا أمر الله سبحانه وتعالى برد الناس عند التنازع إلى الكتاب والسنة في قوله تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: 59].
--------------------------------------------
মানবীয় বুদ্ধি-বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে রায় বা বিধান প্রদান করা বর্জনীয়, যদি না তা পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ কিংবা উলামায়ে কেরামের ইজমার (ঐক্যমত) কোনো ভাষ্যের সাথে সাংঘর্ষিক হয়। এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো, তা শরীয়তের মূলনীতিসমূহের অনুগামী হতে হবে এবং শরীয়তের মাকাসিদ বা লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সাথে বিরোধপূর্ণ হওয়া চলবে না।
এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, মানুষের তৈরি আইনসমূহ আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুতকারী প্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশির প্রভাব থেকে মুক্ত নয়, যা কোনো এক পক্ষের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে থাকে। অন্যদিকে, আল্লাহর শরীয়ত প্রণয়ন করেছেন মানুষের স্রষ্টা, যিনি তাদের অবস্থা এবং কিসে তাদের কল্যাণ নিহিত তা সম্যক পরিজ্ঞাত। তিনি এমন এক সত্তা যিনি কোনো প্রকার প্রবৃত্তি দ্বারা প্রভাবিত হন না।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন:«যখন শরীয়ত ও আকল (যুক্তি) পরস্পর বিরোধী হয়, তখন শরীয়তকে অগ্রাধিকার দেওয়া ওয়াজিব; কেননা আকল শরীয়ত প্রদত্ত প্রতিটি সংবাদের সত্যতা স্বীকার করে, কিন্তু শরীয়ত আকলের দেওয়া প্রতিটি সংবাদের সত্যতা স্বীকার করেনি। আর শরীয়তের সত্যতা সম্পর্কে জ্ঞান আকলের দেওয়া প্রতিটি সংবাদের ওপর নির্ভরশীল নয়»
(১)।
তিনি আরও বলেন: «শরীয়তের দলীলসমূহের ওপর যুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া অসম্ভব ও স্ববিরোধী। পক্ষান্তরে, যুক্তির ওপর শরীয়তের দলীলসমূহকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব দ্বিতীয়টিই আবশ্যক, প্রথমটি নয়। এর কারণ হলো, কোনো বিষয় যুক্তি দ্বারা জানা যাওয়া বা না যাওয়া কোনো বস্তুর আবশ্যিক গুণ নয়, বরং এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়। কেননা জায়েদ তার বুদ্ধি দিয়ে এমন কিছু জানতে পারে যা বকর জানে না। আবার কোনো মানুষ এক সময় নিজের বুদ্ধি দিয়ে যা জানে, অন্য সময় সে বিষয়ে সে অজ্ঞ থাকতে পারে»
(২)।
এই কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিরোধের সময় মানুষকে কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও} [সূরা আন-নিসা: ৫৯]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فأمر المؤمنين عند التنازع بالرد إلى الله والرسول، وهذا يوجب تقديم السمع وهذا هو الواجب إذ لو ردوا إلى غير ذلك من عقول الرجال وآرائهم ومقاييسهم وبراهينهم لم يزدهم هذا الرد إلا اختلافاً واضطراباً، وشكاً وارتياباً
(1).
قال الخطيب البغدادي: «ولعمري إن السنن ووجوه الحق لتأتي كثيراً على خلاف الرأي ومجانبته خلافاً بعيداً، فما يرى المسلمون بداً من اتباعها والانقياد لها، ولمثل ذلك ورع أهل العلم والدين فكفهم عن الرأي، ودلهم على عوره وغوره من ذلك رجلان قطعت أذنا أحدهما جميعاً يكون له اثنا عشر ألفاً، وقتل الآخر فذهبت أذناه وعيناه ويداه ورجلاه وذهبت نفسه ليس له إلا الاثنا عشر ألفاً .. فهل وجد المسلمون بُداً من لزوم هذا»
(2).
وقال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: «لو كان الدِّينُ بالرأيِ لكان أسفلَ الخفِّ أولى بالمسحِ من أعلاه وقد رأيتُ النبيَّ صلى الله عليه وسلم يمسحُ على ظاهرِ خُفَّيْه»
(3).
«وإذا كان الأمر كذلك فإذا علم الإنسان بالعقل أن هذا رسول الله، وعلم أنه أخبر بشيء، ووجد في عقله ما ينازعه في خبره، كان عقله يوجب عليه أن يسلم موارد النزاع إلى من هو أعلم به منه، وأن لا يقدم رأيه على قوله، ويعلم أن عقله قاصر بالنسبة إليه»
(4).
ولكل ما سبق فإنه لا يجوز لعاقل أن يقول إن دلالة هذا الحديث مخالفة للعقل، فهذه الأدلة الواضحة لا تدع مجالاً ينفذ منه المشككون في حجية السنة.
--------------------------------------------
অতএব তিনি মুমিনদেরকে মতবিরোধের সময় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। আর এটি ওহীর নির্দেশনার কাছে আত্মসমর্পণকে অবধারিত করে। আর এটিই হলো ওয়াজিব (আবশ্যক)। কেননা তারা যদি এর পরিবর্তে মানুষের বুদ্ধি, মতামত, পরিমাপ ও যুক্তির দিকে প্রত্যাবর্তন করত, তবে এ প্রত্যাবর্তন তাদের মধ্যে মতভেদ ও বিশৃঙ্খলা এবং সন্দেহ ও সংশয় বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই করত না।
(১).
খতিব আল-বাগদাদি বলেন: «আমার জীবনের শপথ! সুন্নাহ এবং হকের বিভিন্ন দিক প্রায়শই মানুষের মতামতের বিপরীতে এবং তা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। তাই মুসলিমরা তা অনুসরণ ও আনুগত্য করা ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে পায় না। এই কারণেই ইলম ও দীনের অধিকারীদের পরহেজগারি তাদেরকে ব্যক্তিগত মতামত থেকে বিরত রেখেছে এবং এর ত্রুটি ও অসারতা তাদের নিকট স্পষ্ট করে দিয়েছে। এর উদাহরণ হলো সেই দুই ব্যক্তি, যাদের একজনের উভয় কান কেটে ফেলা হয়েছে, তার জন্য বারো হাজার (দিরহাম রক্তপণ) নির্ধারিত। আবার অপরজনকে হত্যা করা হয়েছে যার ফলে তার উভয় কান, উভয় চোখ, উভয় হাত ও উভয় পা এবং তার প্রাণ চলে গেছে, তার জন্যও নির্ধারিত রয়েছে মাত্র বারো হাজার... মুসলিমরা কি এটি মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় খুঁজে পেয়েছে?»
(২).
আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: «দীন যদি ব্যক্তিগত মতামতের ওপর ভিত্তি করে হতো, তবে মোজার নিচের দিক মাসেহ করা উপরের দিক অপেক্ষা অধিক যুক্তিসঙ্গত হতো। অথচ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর মোজা দুটির উপরিভাগ মাসেহ করতে দেখেছি»
(৩).
«আর বিষয়টি যখন এমনই, তখন মানুষ যখন বুদ্ধির মাধ্যমে জানতে পারে যে ইনি আল্লাহর রাসূল, এবং জানতে পারে যে তিনি কোনো বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন, আবার তার বুদ্ধিতে এমন কিছু পায় যা সেই সংবাদের সাথে বিরোধপূর্ণ মনে হয়, তখন তার বুদ্ধিই তার ওপর এটি আবশ্যক করে দেয় যে, সে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো তাঁর কাছে সোপর্দ করবে যিনি এ বিষয়ে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী। আর সে যেন তার মতামতকে তাঁর বাণীর ওপর অগ্রাধিকার না দেয় এবং সে যেন জানে যে তাঁর তুলনায় তার বুদ্ধি অপূর্ণ»
(৪).
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য এটি বলা বৈধ নয় যে, এই হাদিসের নির্দেশনা বিবেকের পরিপন্থী। কারণ এই সুস্পষ্ট দলিলগুলো সুন্নাহর প্রামাণিকতার বিষয়ে সংশয়বাদীদের অনুপ্রবেশের কোনো অবকাশই রাখে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المطلب الثاني: اتهام الفقهاء بنسبة أحاديث إلى الرسول لم يقلهاوأما اتهامه الفقهاء بنسبة أحاديث إلى الرسول صلى الله عليه وسلم وهو لم يقلها واستشهاده ب (اقتلوا كل من غير دينه)
فأقول للكاتب إن قولك هذا لا يخضع لمعايير البحث العلمي السليم، فلو أنك قلت إن هذا الحديث لا يصلح الاحتجاج به، وعللت قولك بتعليل صحيح، لكان من المناسب أن نناقشك فيه، أما وأنك تزعم أن الفقهاء نسبوا الحديث للرسول فهذا الأسلوب وسيلة للطعن في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم كلها، والتشكيك فيها، وبالتالي عدم الاعتداد بحجيتها.
ونقول للكاتب -هدانا الله وإياه-: إن الحديث المذكور حديث صحيح لا يتطرق الشك إليه بأي حال من الأحوال، فقد رواه البخاري في صحيحه، وهو أصح كتاب على وجه الأرض بعد القرآن الكريم، كما روى هذا الحديث أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجة والإمام أحمد في مسنده
(1).
أما قول الكاتب: (وأصبح هذا السلاح ضرورياً لكل حاكم ومتمرد وإرهابي، ولم تطعن في صحته أي سلطة دينية رسمية
… الخ).
فنجيب عليه بما قاله المستشرق محمد أسد:
(لقد أصبح من قبيل الزي في أيامنا هذه أن ينكر المرء -مبدئياً- صحة الحديث، ثم هو من أجل ذلك ينكر نظام السنة كله.
هل هنالك أساس علمي لهذا الاتجاه؟ أم هل هنالك مبرر علمي لرفض الحديث على أنه مصدر يستند إليه الشرع الإسلامي؟
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামে তাঁর না বলা হাদীস প্রচারের মাধ্যমে ফকীহগণের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগআর ফকীহগণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামে তাঁর না বলা হাদীস প্রচার করেছেন বলে লেখকের অভিযোগ এবং এর সমর্থনে "যে ব্যক্তি তার দীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো" হাদীসটি উপস্থাপন প্রসঙ্গে—
আমি লেখককে বলব যে, আপনার এই বক্তব্য সঠিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়। আপনি যদি বলতেন যে, এই হাদীসটি দলিল হিসেবে পেশ করার উপযোগী নয় এবং এর সপক্ষে কোনো সঠিক যুক্তি উপস্থাপন করতেন, তবে আপনার সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করা সমীচীন হতো। কিন্তু আপনি যখন দাবি করছেন যে ফকীহগণ এই হাদীসটি রাসূলের নামে চালিয়ে দিয়েছেন, তখন এই পদ্ধতিটি মূলত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সমগ্র সুন্নাহর ওপর অপবাদ আরোপ ও এতে সংশয় সৃষ্টির একটি মাধ্যমে পরিণত হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি হলো সুন্নাহর প্রামাণ্যতাকে অস্বীকার করা।
আমরা লেখককে বলব—আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন—যে, উল্লেখিত হাদীসটি একটি সহীহ (বিশুদ্ধ) হাদীস, যাতে কোনোভাবেই কোনো সন্দেহ পোষণের অবকাশ নেই। ইমাম বুখারী এটি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যা পবিত্র কুরআনের পর পৃথিবীর বুকে সর্বাধিক বিশুদ্ধতম কিতাব। অনুরূপভাবে, এই হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ এবং ইমাম আহমাদ তাঁর 'মুসনাদ'-এ বর্ণনা করেছেন
(১)।
আর লেখকের এই বক্তব্য সম্পর্কে যে: (এই অস্ত্রটি প্রত্যেক শাসক, বিদ্রোহী এবং সন্ত্রাসীর জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এর বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি... ইত্যাদি)।
এর উত্তরে আমরা প্রাচ্যবিদ মুহাম্মদ আসাদ যা বলেছেন তা উল্লেখ করছি:
(বর্তমান সময়ে এটি একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে যে, মানুষ প্রাথমিকভাবে হাদীসের বিশুদ্ধতাকে অস্বীকার করে এবং এর সূত্র ধরে সমগ্র সুন্নাহর ব্যবস্থাকেই প্রত্যাখ্যান করে।
এই প্রবণতার কি কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে? নাকি ইসলামী শরীয়তের উৎস হিসেবে হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করার পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক যৌক্তিকতা রয়েছে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
إننا نظن أن خصوم الرأي الصحيح -مذهب أهل السنة فيما يتعلق بالحديث- لا يمكن أن يأتوا بأدلة مقنعة فعلاً تثبت مرة واحدة عدم الثقة بالأحاديث المنسوبة إلى الرسول، ولكن ليس هذا موضوعنا، إنه على الرغم من جميع الجهود التي بذلت في سبيل تحدي الحديث على أنه نظام ما، فإن أولئك النقاد العصريين من الشرقيين والغربيين لم يستطيعوا أن يدعموا انتقادهم العاطفي الخالص بنتائج من البحث العلمي، وإنه من الصعب أن يفعل أحد ذلك؛ لأن الجامعين لكتب الحديث الأولى، وخصوصاً الإمامين البخاري ومسلماً، قد قاموا بكل ما في طاقة البشر عند عرض صحة كل حديث على قواعد التحديث عرضاً أشد كثيراً من ذلك الذي يلجأ إليه المؤرخون الأوروبيون عادة عند النظر في مصادر التاريخ القديم.
إننا نتخطى نطاق هذا البحث إذا نحن أسهبنا في الكلام على وجه التفصيل في الأسلوب الدقيق الذي كان المحدثون -علماء الحديث- الأولون يستعملونه للتثبت من صحة كل حديث، ويكفي -من أجل ما نحن هنا بصدده- أن نقول إنه نشأ من ذلك علم ثابت الأصول تام الفروع، غايته الوحيدة البحث في معاني أحاديث الرسول وشكلها وطريقة روايتها، ولقد استطاع هذا العلم في الناحية التاريخية أن يوجد سلسلة متماسكة لتراجم مفصلة لجميع الأشخاص الذين ذُكروا على أنهم رواة أو محدثون، إن تراجم هؤلاء الرجال والنساء قد خضعت لبحث دقيق من كل ناحية، ولم يُعد منهم في الثقات إلا أولئك الذين كانت حياتهم وطريقة روايتهم للحديث تتفق تماماً مع القواعد التي وضعها المحدثون، تلك القواعد التي تعتبر على أشد ما يمكن أن يكون من الدقة؛ فإذا اعترض أحد اليوم من أجل ذلك على صحة حديث بعينه، أو على الحديث جملة فإن عليه هو
আমরা মনে করি যে, সঠিক মতাদর্শের—অর্থাৎ হাদিস সংক্রান্ত আহলুস সুন্নাহর মাযহাবের—প্রতিপক্ষগণ এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম নয়, যা রাসুলুল্লাহর প্রতি আরোপিত হাদিসসমূহের নির্ভরযোগ্যতাহীনতাকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে। তবে এটি আমাদের বর্তমান আলোচনার বিষয় নয়। বস্তুত, হাদিসকে একটি সুসংগত ব্যবস্থা হিসেবে চ্যালেঞ্জ করার লক্ষ্যে পরিচালিত সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেই আধুনিক সমালোচকগণ তাঁদের নিছক আবেগপ্রসূত সমালোচনাকে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হননি। আর কারো পক্ষে তা করা অত্যন্ত দুরূহ; কারণ হাদিসের প্রাথমিক গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ, বিশেষ করে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম, প্রতিটি হাদিসের বিশুদ্ধতা হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি অনুযায়ী যাচাই করার ক্ষেত্রে মানুষের সাধ্যের সর্বোচ্চটি করেছেন, যা ইউরোপীয় ঐতিহাসিকগণ প্রাচীন ইতিহাসের উৎসসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সাধারণত যে পদ্ধতি অবলম্বন করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ছিল।
আদি মুহাদ্দিসগণ—হাদিস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ—প্রতিটি হাদিসের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য যে সূক্ষ্ম পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, সে সম্পর্কে সবিস্তারে আলোচনা করলে তা এই গবেষণার পরিধি অতিক্রম করবে। আমাদের বর্তমান প্রসঙ্গের জন্য এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, এর ফলে এমন এক সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখাসমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটেছে, যার একমাত্র লক্ষ্য হলো রাসুলুল্লাহর হাদিসসমূহের অর্থ, আঙ্গিক ও বর্ণনা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করা। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিজ্ঞান বর্ণনাকারী বা মুহাদ্দিস হিসেবে পরিচিত সকল ব্যক্তির জীবনবৃত্তান্তের একটি সুসংগত ও বিস্তারিত ধারাবাহিকতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এসকল নারী ও পুরুষের জীবনী প্রতিটি দিক থেকে সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের অধীন করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্য থেকে কেবল তাঁদেরকেই নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যাঁদের জীবন এবং হাদিস বর্ণনা করার পদ্ধতি মুহাদ্দিসগণের নির্ধারিত নীতিমালার সাথে পূর্ণরূপে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। সেই নীতিমালাগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত হিসেবে স্বীকৃত। অতএব, আজ যদি কেউ কোনো বিশেষ হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে অথবা সামগ্রিকভাবে হাদিসের ওপর আপত্তি তোলে, তবে তার ওপরই (প্রমাণের দায়ভার বর্তাবে)।
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وحده، أن يُثبت ذلك، وليس ثمة مبرر مطلقاً من الناحية العلمية أن يجرح أحد صحة مصدر تاريخي ما، ما لم يكن باستطاعته أن يبرهن على أن هذا المصدر منقوض، فإذا لم تقم حجة معقولة أي علمية على الشك في المصدر نفسه أو في أحد رواته المتأخرين، وإذا لم يكن ثمة من الناحية الثانية خبر آخر يناقضه، كان حتماً علينا حينئذ أن نقبل الحديث على أنه صحيح
(1).
ونجيب عليه أيضاً بأن علماء الشريعة الإسلامية لم يخضعوا، ولا يستطيعون أن يخضعوا أحكام الشريعة الإسلامية لأهواء الحكام، ولا أن يؤلفوا أحاديث من عند أنفسهم وينسبوها للرسول صلى الله عليه وسلم، ولا يطعنوا في الأحاديث من تلقاء أنفسهم ولكن عندهم علم مضبوط بموازين دقيقة هو علم الجرح والتعديل، وهو علم اختصت به الأمة الإسلامية، ولا مثيل له في أمة سبقت أو لحقت يعرف به المختصون درجة الحديث من حيث الصحة والحسن والضعف ونحو ذلك، ويحكمون عليه بناءً على هذه القواعد الدقيقة، والتي لا يتصدر للكلام فيها إلا الخاصة من علماء الحديث، ونظراً لأن هذا الحديث المستدل به حديث صحيح فإنه لا يمكن لأحد من علماء الشريعة الطعن فيه، فالأحاديث الصحيحة ليست ألعوبة في أيدي أحد من الناس فلا تتحول إلى ضعيفة بعد أن كانت صحيحة.
وأما ما ذكره عن الوهابية.فإن ما نقله الكاتب من سؤال السائل القائل (فأنا مسلم بالميلاد ولدي معرفة سطحية للإسلام وما تقوله يتناقض تماماً مع الوهابية المنتشرة بسرعة مذهلة في بلدنا عن طريق الطلاب العائدين كل عام بعد إتمام دراستهم في المملكة العربية السعودية).
--------------------------------------------
এককভাবে তা প্রমাণ করা; আর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ঐতিহাসিক উৎসের নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই, যতক্ষণ না কেউ প্রমাণ করতে সক্ষম হয় যে সেই উৎসটি খণ্ডিত বা বাতিল। সুতরাং যদি খোদ উৎসটির ব্যাপারে বা এর পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করার মতো কোনো যুক্তিগ্রাহ্য তথা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকে, এবং অন্যদিকে যদি এর বিপরীত কোনো বর্ণনা বিদ্যমান না থাকে, তবে সেই হাদিসটিকে সহিহ বা বিশুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করা আমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে
(১).
আমরা এর উত্তরে আরও বলতে চাই যে, ইসলামি শরিয়তের আলেমগণ কখনো শরিয়তের বিধানসমূহকে শাসকদের খেয়ালখুশির অনুগত করেননি এবং করতেও পারেন না। তারা নিজেদের পক্ষ থেকে কোনো হাদিস রচনা করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দিকে সম্বন্ধ করেন না, আবার নিজেদের খেয়ালখুশিমতো কোনো হাদিসের সমালোচনাও করেন না। বরং তাদের নিকট অত্যন্ত সূক্ষ্ম মানদণ্ডে নিয়ন্ত্রিত একটি সুশৃঙ্খল জ্ঞান রয়েছে, যা 'ইলমুল জারহ ওয়াত তা'দিল' (বর্ণনাকারী যাচাই-বাছাই বিদ্যা) নামে পরিচিত। এটি এমন এক বিদ্যা যা কেবল মুসলিম উম্মাহরই অনন্য বৈশিষ্ট্য; পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কোনো জাতির মধ্যেই এর কোনো নজির নেই। এর মাধ্যমে বিশেষজ্ঞগণ হাদিসের মান—সহিহ (বিশুদ্ধ), হাসান (উত্তম), জঈফ (দুর্বল) ইত্যাদি নির্ধারণ করেন এবং এই নিখুঁত নিয়মনীতির ভিত্তিতেই এর ওপর হুকুম প্রদান করেন। হাদিস শাস্ত্রের বিশেষ পণ্ডিতগণ ছাড়া অন্য কেউ এ বিষয়ে আলোচনা করার যোগ্যতা রাখেন না। যেহেতু এখানে দলিল হিসেবে উপস্থাপিত হাদিসটি সহিহ, তাই শরিয়তের কোনো আলেমের পক্ষে একে অস্বীকার করার উপায় নেই। কারণ সহিহ হাদিস কারো হাতের খেলনা নয় যে, সহিহ হওয়ার পর তা আবার জঈফ বা দুর্বল হয়ে যাবে।
ওহাবিবাদ সম্পর্কে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার প্রসঙ্গে।লেখক প্রশ্নকারীর যে প্রশ্নটি উদ্ধৃত করেছেন তা হলো— (আমি জন্মগতভাবে মুসলিম এবং ইসলাম সম্পর্কে আমারাসাফল্য জ্ঞান রয়েছে। আপনি যা বলছেন তা আমাদের দেশে আশ্চর্যজনক গতিতে ছড়িয়ে পড়া ওহাবিবাদের সম্পূর্ণ বিপরীত। সৌদি আরবে পড়ালেখা শেষ করে প্রতি বছর ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই মতাদর্শটি ছড়িয়ে পড়ছে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فقول السائل صحيح، فإن ما يقوله الكاتب يتناقض تماماً مع الإسلام، وأما وصف الدعوة الصحيحة بالوهابية فهو خطأ أراد به أعداء هذا الدين تشويه صورة الإسلام وبث الفرقة بين المسلمين، وهو وصف يقصد به التشدد الممقوت الذي يخرج عن سماحة الإسلام ويسره؛ لما قر في ذهنه وأذهان من هم على شاكلته بسبب الدعاية المغرضة ضد الدعوة الإصلاحية التي قادها الشيخ محمد بن عبد الوهاب؛ حيث يصفونها بالتشدد والقسوة، وبيان الخطأ هو أن الدعوة التي قام بها الشيخ محمد، وتسميتها «وهابية» نسبة إليه خطأ لغوي؛ لأن والده لم يقم بها، وإلا لاشترك في هذه النسبة الوالد وأولاده، ومحمد واحد منهم لتصبح نسبة مشتركة
(1).
أما دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب التي ناصرها الإمام محمد بن سعود -رحمهما الله- فهي دعوة سلفية تصحيحية على مذهب أهل السنة والجماعة، قامت على كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ونبذ ما يخالفهما، فهي لا تطبق إلا أحكام الشرع التي كلها عدل ورحمة.
--------------------------------------------
প্রশ্নকর্তার উক্তিটি সঠিক, কারণ লেখক যা বলছেন তা ইসলামের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। আর সঠিক দাওয়াতকে ‘ওয়াহ্হাবী’ হিসেবে অভিহিত করা একটি ভুল, যার মাধ্যমে এই দ্বীনের শত্রুরা ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছে। এটি এমন এক বিশেষণ যার দ্বারা সেই ঘৃণ্য কট্টরপন্থাকে বুঝানো উদ্দেশ্য যা ইসলামের উদারতা ও সহজতা থেকে বিচ্যুত; কারণ শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের পরিচালিত সংস্কারবাদী দাওয়াতের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের ফলে তাঁর এবং তাঁর সমমনাদের অন্তরে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে। তারা একে কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতা হিসেবে বর্ণনা করে। এই ভুলের ব্যাখ্যা হলো, শেখ মুহাম্মদ যে দাওয়াত পরিচালনা করেছিলেন, তাকে ‘ওয়াহ্হাবী’ নামকরণ করা একটি ভাষাগত ভুল; কারণ তাঁর পিতা এটি পরিচালনা করেননি। অন্যথায় এই নামকরণে পিতা ও তাঁর সন্তানেরা সকলেই অংশীদার হতেন এবং মুহাম্মদ তাঁদেরই একজন হওয়ায় এটি একটি যৌথ পরিচয় হয়ে দাঁড়াত
(১).
পক্ষান্তরে শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াত—যাকে ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সহযোগিতা করেছিলেন—তা ছিল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি সংশোধনমূলক সালাফি দাওয়াত। এটি আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ এবং তার পরিপন্থী বিষয়সমূহ বর্জনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এটি শরীয়তের বিধান ছাড়া অন্য কিছু প্রয়োগ করে না, যার পুরোটাই ন্যায়বিচার ও রহমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثاني قتل المرتد وتجار المخدرات
تعريف المرتد:المرتد: (هو الذي كفر بعد إسلامه؛ نطقاً، أو اعتقاداً، أو شكاً، أو فعلا
(1)وعرفه ابن قدامة فقال: (هو الراجع عن الإسلام إلى الكفر)
(2).
إن الإسلام إيمان، ونظام، وحيث إن نظامه شامل لسلوك الإنسان من المهد إلى اللحد، فإنه لا غنى له من سياج يحميه، ودرع يقيه، فإن أي نظام لا قيام له إلا بالحماية والوقاية والحفاظ عليه من كل ما يهز أركانه، ويزعزع بنيانه، ولا شيء أقوى في حماية النظام ووقايته من منع الخارجين عليه؛ لأن الخروج عليه يهدد كيانه، ويعرضه للسقوط والتداعي.
إن الخروج على الإسلام والارتداد عنه، إنما هو ثورة عليه، والثورة عليه ليس لها من جزاء، إلا ما قررته الشريعة الإسلامية في الأحاديث الصحيحة، التي سيأتي بيانها، وهو الجزاء الذي اتفقت عليه القوانين الوضعية فيمن خرج على نظام الدولة، وأوضاعها المقررة؛ فإن أي إنسان سواء كان في الدول الشيوعية أم الدول الرأسمالية، إذا خرج على نظام الدولة فإنه يوصم بالخيانة العظمى لبلاده، والخيانة العظمى جزاؤها الإعدام
(3).
فالإسلام في تقرير عقوبة الإعدام للمرتدين منطقي مع نفسه ومتلاق مع غيره من النظم، ومن أهم الأحكام التي تترتب على ثبوت الردة ما يأتي:
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুরতাদ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের হত্যামুরতাদের সংজ্ঞা:মুরতাদ: (তিনিই, যিনি ইসলাম গ্রহণের পর কুফরি করেন; মুখে উচ্চারণের মাধ্যমে, বিশ্বাসের মাধ্যমে, সন্দেহের মাধ্যমে অথবা কোনো কাজের মাধ্যমে)
(১)ইবনে কুদামা এর সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন: (তিনিই, যিনি ইসলাম থেকে কুফুরির দিকে ফিরে গেছেন)
(২)।
ইসলাম হলো ঈমান ও জীবনবিধান। যেহেতু এর বিধান দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত মানুষের আচরণের প্রতিটি ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই একে রক্ষা করার জন্য একটি প্রাচীর এবং সুরক্ষার জন্য একটি বর্ম অপরিহার্য। প্রকৃতপক্ষে, কোনো বিধানই সুরক্ষা, সতর্কতা এবং এর ভিত্তি নাড়িয়ে দেয় বা কাঠামো টলিয়ে দেয় এমন সব কিছু থেকে একে রক্ষা করা ছাড়া টিকে থাকতে পারে না। আর এই বিধানের সুরক্ষার ক্ষেত্রে যারা এর অবাধ্য হয় বা এর থেকে বেরিয়ে যায় তাদের প্রতিহত করার চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু নেই; কারণ এর বিরুদ্ধাচরণ এর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে এবং একে পতন ও ধসের দিকে নিয়ে যায়।
ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং ধর্মত্যাগ করা মূলত ইসলামের বিরুদ্ধে একটি বিদ্রোহ। আর এই বিদ্রোহের কোনো প্রতিদান নেই ওই শাস্তি ছাড়া যা ইসলামি শরিয়াহ সহিহ হাদিসসমূহের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছে, যা সামনে বর্ণিত হবে। এটি সেই শাস্তি যার ব্যাপারে মানবরচিত আইনসমূহও ঐকমত্য পোষণ করেছে সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং এর নির্ধারিত নিয়মনীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। সাম্যবাদী (কমিউনিস্ট) রাষ্ট্র হোক বা পুঁজিবাদী রাষ্ট্র, যে কেউ যদি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অবাধ্য হয়, তবে তাকে দেশের প্রতি 'দেশদ্রোহিতা'র দায়ে অভিযুক্ত করা হয় এবং দেশদ্রোহিতার শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড
(৩)।
সুতরাং মুরতাদদের জন্য মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইসলাম নিজের আদর্শে যৌক্তিক এবং অন্যান্য ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মুরতাদ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে যে গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলো কার্যকর হয় তা নিচে দেওয়া হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إذا ثبتت الردة على شخص ترتب عليها أحكام أخروية وأحكام دنيوية، وأهم الأحكام المتعلقة بالآخرة حبوط العمل والخلود في نار جهنم، قال تعالى: {وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [البقرة: 217].
وقال تعالى: {كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ وَجَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (86) أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ أَنَّ عَلَيْهِمْ لَعْنَةَ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ (87) خَالِدِينَ فِيهَا لَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنْظَرُونَ (88) إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ (89) إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَنْ تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الضَّالُّونَ} [آل عمران: 86 - 90].
أما الأحكام المتعلقة بالدنيا فكثيرة نذكر منها:
قتل المرتد.
اتفق الفقهاء على أنه إذا ارتد الرجل وكان بالغاً عاقلاً غير مكره على الردة فإنه يقتل
(1).
وهذا محل إجماع عند المسلمين. قال ابن دقيق العيد: (الردة سبب لإباحة دم المسلم بالإجماع في الرجل)
(2)وقال ابن قدامة: (وأجمع أهل العلم على وجوب قتل المرتدين. روي ذلك عن أبي بكر، وعثمان وعلي ومعاذ، وأبي موسى، وابن عباس، وخالد، وغيرهم، ولم ينكر ذلك فكان إجماعاً)
(3).
--------------------------------------------
কোনো ব্যক্তির ধর্মত্যাগ (মুরতাদ হওয়া) সাব্যস্ত হলে তার ওপর পরকালীন ও ইহকালীন বিধানাবলি বর্তায়। পরকাল সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোর মধ্যে প্রধান হলো আমলসমূহ নষ্ট হওয়া এবং জাহান্নামের আগুনে চিরস্থায়ী বসবাস। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের মধ্যে যারা নিজ ধর্ম থেকে ফিরে যাবে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সকল আমল বিফল হয়ে যাবে। এরাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।" [আল-বাকারাহ: ২১৭]
মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আল্লাহ কীভাবে সেই জাতিকে হিদায়াত দেবেন, যারা ঈমান আনার পর এবং রাসূল সত্য—এ সাক্ষ্য দেওয়ার পর এবং তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পর কুফরি অবলম্বন করে? আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না। (৮৬) এদেরই প্রতিফল এই যে, তাদের ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিশাপ। (৮৭) তাতে তারা চিরকাল থাকবে; তাদের থেকে শাস্তি লাঘব করা হবে না এবং তারা কোনো অবকাশও পাবে না। (৮৮) তবে যারা এরপর তওবা করবে এবং সংশোধন হবে, নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (৮৯) নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফরি করে, অতঃপর তাদের কুফরি আরও বৃদ্ধি পায়, তাদের তওবা কখনোই কবুল হবে না এবং এরাই হলো পথভ্রষ্ট।" [আল ইমরান: ৮৬ - ৯০]
আর ইহকালীন বিধানসমূহ অনেক, যার মধ্য হতে আমরা উল্লেখ করছি:
মুরতাদকে হত্যা করা।
ফকীহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যদি কোনো পুরুষ ধর্মত্যাগ করে এবং সে প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হয় এবং ধর্মত্যাগের জন্য তাকে বাধ্য করা না হয়, তবে তাকে হত্যা করা হবে
(১)।
এটি মুসলিমদের নিকট ঐকমত্যের (ইজমা) বিষয়। ইবনে দাকীক আল-ঈদ বলেন: (পুরুষের ক্ষেত্রে ধর্মত্যাগ হলো সর্বসম্মতিক্রমে একজন মুসলিমের রক্ত বৈধ হওয়ার কারণ)
(২)ইবনে কুদামা বলেন: (বিদ্বানগণ মুরতাদদের হত্যা করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এটি আবু বকর, উসমান, আলী, মুয়াজ, আবু মুসা, ইবনে আব্বাস, খালিদ ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং কেউ এর প্রতিবাদ করেননি, তাই এটি একটি ইজমা)
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
واستدلوا على ذلك بالحديث الصحيح الذي رواه البخاري وغيره قال صلى الله عليه وسلم «مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ»
(1) ويدل على مشروعية قتل المرتد، ورجم الزاني الثيب حتى الموت قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث المتفق عليه «لا يَحِلُّ دَمُ امرئٍ مُسلمٍ إلَّا بإحدى ثلاثٍ الثَّيِّبِ الزَّاني، والنَّفسِ بالنَّفسِ، والتَّاركِ لدينهِ المفارقِ للجَمَاعة»
(2).
ويدل عليه أيضا حديث أبي موسى الأشعري: أن النبي صلى الله عليه وسلم بعثه إلى اليمن ثم أرسل معاذ بن جبل بعد ذلك، فلما قدم قال أيها الناس: إني رسول رسول الله صلى الله عليه وسلم إليكم، فألقى له أبو موسى وسادة ليجلس عليها، فأتي برجل كان يهودياً فأسلم ثم كفر، فقال معاذ: لا أجلس حتى يقتل، قضاء الله ورسوله -ثلاث مرات- فلما قتل قعد
(3) متفق عليه.
وقال مالك والشافعي وأحمد والليث بن سعد وإسحاق بن راهويه والزهري والأوزاعي وإسحاق وابن حزم تقتل المرأة إذا ارتدت كالرجل
(4).
واستدلوا بالأدلة السابقة:
1 - قوله صلى الله عليه وسلم «مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ» فإن (من) عند أهل اللغة والأصول شاملة للذكر والأنثى.
2 - والأحكام الثلاثة المذكورة في الحديث الثاني يجب أن تكون كلها شاملة للذكر والأنثى، ولا يؤثر على ذلك ورود لفظ (امرئ) بدليل أن الزانية ترجم إذا كانت محصنة مثل الرجل وكذا القاتلة عمداً.
--------------------------------------------
তারা এর স্বপক্ষে ইমাম বুখারী ও অন্যান্যদের বর্ণিত সহীহ হাদীসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করবে, তোমরা তাকে হত্যা করো।"
(১) মুরতাদের মৃত্যুদণ্ডের বৈধতা এবং বিবাহিত ব্যভিচারীকে মৃত্যু পর্যন্ত পাথর নিক্ষেপ (রজম) করার স্বপক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদীসের এই বাণীটি প্রমাণ বহন করে: "তিনটি কারণ ব্যতীত কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত হালাল নয়: বিবাহিত ব্যভিচারী, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ এবং যে ব্যক্তি নিজের দ্বীন ত্যাগ করে জামায়াত (মুসলিম উম্মাহ) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।"
(২).
এর স্বপক্ষে আবু মুসা আল-আশআরী (রা.) বর্ণিত হাদীসটিও প্রমাণস্বরূপ: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন এবং পরবর্তীতে মুয়াজ বিন জাবাল (রা.)-কেও পাঠান। যখন তিনি (মুয়াজ) পৌঁছালেন, তখন বললেন: হে লোকসকল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে প্রেরিত দূত। আবু মুসা (রা.) তাঁর বসার জন্য একটি বালিশ এগিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তিকে আনা হলো যে পূর্বে ইহুদি ছিল, এরপর ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং পুনরায় কুফরিতে লিপ্ত হয়েছিল। তখন মুয়াজ (রা.) বললেন: "যতক্ষণ না একে হত্যা করা হবে ততক্ষণ আমি বসব না; এটিই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফয়সালা" - কথাটি তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর তাকে হত্যা করার পর তিনি বসলেন।
(৩) (হাদীসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি)।
ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ, লাইস বিন সাদ, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, যুহরী, আওযায়ী, ইসহাক এবং ইবনে হাযম (র.) বলেন যে, নারী মুরতাদ হলেও পুরুষের ন্যায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
(৪).
তারা পূর্বোক্ত দলিলগুলোর আলোকে যুক্তি পেশ করেন:
১ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করবে, তোমরা তাকে হত্যা করো।" এখানে ভাষাবিদ ও উসূলে ফিকহ বিশেষজ্ঞদের মতে 'মান' (যে ব্যক্তি) শব্দটি পুরুষ ও নারী উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
২ - দ্বিতীয় হাদীসে বর্ণিত তিনটি বিধানই পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক। হাদীসে 'ইমরু' (ব্যক্তি) শব্দটি উল্লেখ থাকায় বিধানে কোনো প্রভাব পড়বে না; এর প্রমাণ হলো, বিবাহিত ব্যভিচারিণীকেও পুরুষের মতো পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং একইভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকারী নারীকেও (কিসাসস্বরূপ) হত্যা করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
3 - في حديث معاذ عندما أرسله رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى اليمن قال «أيُّما رجُلٍ ارتدَّ عنِ الإسلامِ فادعُهُ فإن عادَ وإلَّا فاضرِب عنقَهُ وأيُّما امرأةٍ ارتدَّت عنِ الإسلامِ فادعُها فإن عادَت وإلَّا فاضرب عنقَها»
(1)، قال الحافظ ابن حجر: سنده حسن
(2).
4 - قتل أبو بكر رضي الله عنه في خلافته امرأة ارتدت، والصحابة متوافرون فلم ينكر ذلك عليه أحد
(3). قال ابن حجر أخرج الدارقطني أثر أبي بكر من وجه حسن
(4).
وذهب أبو حنيفة رحمه الله إلى أن المرأة المرتدة لا تقتل، بل تحبس ويضيق عليها حتى تتوب أو تموت، واستدل بنهي النبي صلى الله عليه وسلم عن قتل الكافرة التي لا تقاتل أو تحرض على القتال
(5).
روى أبو داود بسنده عن رباح بن ربيع قال: «كنَّا معَ رسولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم في غَزوةٍ فرأى النَّاسَ مُجتَمَعينَ علَى شيءٍ فبعثَ رجلًا، فقال: انظرْ علامَ اجتمعَ هؤلاءِ؟ فجاءَ فقالَ: علَى امرأةِ قَتيلٍ. فقالَ: ما كانت هذِهِ لتقاتِلَ قالَ: وعلَى المُقدِّمةِ خالدُ بنُ الوليدِ فبعثَ رجلًا. فقالَ: قُلْ لخالدٍ لا يقتلَنَّ امرأةً ولا عَسيفًا»
(6).
والراجح رأي الجمهور؛ وهو قتل المرتدة؛ لقوة أدلته، وسلامتها من الإيراد عليها، ولأن كل واحد من أدلة الجمهور صالح للاحتجاج به على قتل المرتدة بانفراده، فكيف بها مجتمعة؟
--------------------------------------------
৩ - মুআয (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "যে কোনো পুরুষ ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হবে, তাকে (ইসলামের দিকে) আহ্বান করো; যদি সে ফিরে আসে তবে ভালো, অন্যথায় তার গর্দান উড়িয়ে দাও। আর যে কোনো নারী ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হবে, তাকেও আহ্বান করো; যদি সে ফিরে আসে তবে ভালো, অন্যথায় তার গর্দান উড়িয়ে দাও"
(১)। হাফেয ইবনে হাজার বলেন: এর সনদ হাসান
(২)।
৪ - আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর খিলাফতকালে এক মুরতাদ নারীকে হত্যা করেছিলেন, সে সময় প্রচুর সাহাবী উপস্থিত ছিলেন কিন্তু কেউ তাঁর এই কাজের প্রতিবাদ করেননি
(৩)। ইবনে হাজার বলেন: দারা কুতনী আবু বকরের এই আছরটি উত্তম সূত্রে বর্ণনা করেছেন
(৪)।
ইমাম আবু হানীফা (রহিমাহুল্লাহ) এই মত পোষণ করেছেন যে, মুরতাদ নারীকে হত্যা করা হবে না; বরং তাকে বন্দি করে রাখা হবে এবং তার ওপর কঠোরতা আরোপ করা হবে যতক্ষণ না সে তওবা করে অথবা মৃত্যুবরণ করে। তিনি দলীল হিসেবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই নিষেধজ্ঞাকে পেশ করেছেন যেখানে তিনি এমন কাফির নারীকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন যে যুদ্ধে লিপ্ত হয় না অথবা যুদ্ধের উসকানি দেয় না
(৫)।
আবু দাউদ তাঁর নিজস্ব সূত্রে রাবাহ ইবনে রাবী' থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে একটি যুদ্ধে ছিলাম। তিনি দেখলেন মানুষ এক জায়গায় জটলা পাকিয়ে আছে। তখন তিনি এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে বললেন: 'দেখো তো তারা কেন সমবেত হয়েছে?' সে ফিরে এসে বললো: 'একজন নিহত নারীর লাশের পাশে।' তিনি বললেন: 'এ তো যুদ্ধ করার মতো ছিল না।' রাবী বলেন: অগ্রবর্তী সেনাদলে খালিদ ইবনে ওয়ালীদ ছিলেন। তিনি এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে বললেন: 'খালিদকে বলো, সে যেন কোনো নারী বা কোনো শ্রমিককে হত্যা না করে'"
(৬)।
এই বিষয়ে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে কিরামের মতটিই অধিকতর সঠিক; আর তা হলো মুরতাদ নারীকে হত্যা করা। কারণ তাদের দলীলসমূহ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সকল প্রকার আপত্তি থেকে মুক্ত। তাছাড়া জমহুরের উপস্থাপিত দলীলগুলোর প্রতিটি স্বতন্ত্রভাবেই মুরতাদ নারীর মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে প্রমাণ হিসেবে পেশ করার যোগ্য; এমতাবস্থায় সকল দলীল একত্রিত হলে তার শক্তি কতটুকু হবে (তা সহজেই অনুমেয়)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وأما ما احتج به أبو حنيفة من نهي النبي صلى الله عليه وسلم عن قتل المرأة، فيجاب عليه بأن المراد به المرأة الكافرة الأصلية؛ فإنه قال ذلك حين رأى امرأة مقتولة، وكانت كافرة أصلية، وكذلك نهي الذين بعثهم إلى ابن أبي الحقيق
(1) عن قتل النساء
(2).
ولم يكن فيهم مرتد، ويخالف الكفر الأصلي الطارئ؛ بدليل أن الرجل يقر عليه، ولا يقتل أهل الصوامع، والشيوخ، والمكافيف، ولا تجبر المرأة على تركه بضرب ولا حبس، والكفر الطارئ بخلافه
(3).
بل إن الديانات الأخرى تجرم الردة، وترتب على المرتد كثيراً من الأحكام، التي يتوافق كثير منها مع الشريعة الإسلامية في مذهب بعض طوائف تلك الديانات، وتقترب من الشريعة الإسلامية في مذهب طوائف أخرى. فقد ساوت الديانة اليهودية في قانون الأحوال الشخصية للإسرائيليين بين زنا المرأة وخروجها من اليهودية، وأنه تقع الفرقة بذلك بين الزوجين، وأن خروج المرأة من دينها مسقط لحقوق الزوجية التي تنبني على الطلاق
(4).
وطائفة الأنجيليين من النصارى يرون أنه: (إذا اعتنق أحد الزوجين ديانة أخرى جاز للطرف الآخر أن يطلب الطلاق)
(5).
كما في المادة 18/ 2 من نظام الأحوال الشخصية.
--------------------------------------------
আর ইমাম আবু হানিফা (রহ.) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে নারী হত্যার যে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, তার উত্তর হলো, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জন্মগত কাফির নারী; কেননা তিনি এটি তখন বলেছিলেন যখন তিনি একজন নিহত নারীকে দেখেছিলেন এবং সে ছিল জন্মগত কাফির। একইভাবে ইবনে আবি আল-হুকায়েক
(১)-এর নিকট প্রেরিতদের নারী হত্যার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, বিষয়টি তদ্রূপ।
আর তাদের মধ্যে কোনো মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) ছিল না। আর জন্মগত কুফর এবং পরবর্তীকালে ঘটিত কুফরের (ধর্মত্যাগ) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; যার প্রমাণ হলো, পুরুষকে তার (জন্মগত কুফরের) ওপর বহাল থাকতে দেওয়া হয় (জিজিয়া প্রদানের মাধ্যমে), এবং গির্জার অধিবাসী, বৃদ্ধ ও অন্ধদের হত্যা করা হয় না, আর জন্মগত কাফির নারীকে প্রহার বা বন্দি করার মাধ্যমে তা ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় না। কিন্তু পরবর্তীকালে ঘটিত কুফর বা ধর্মত্যাগ এর বিপরীত
(৩)।
বরং অন্যান্য ধর্মও ধর্মত্যাগকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এবং ধর্মত্যাগকারীর ওপর অনেক বিধান আরোপ করে, যার মধ্যে অনেকগুলো এই ধর্মগুলোর কিছু সম্প্রদায়ের মতে ইসলামী শরীয়তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অন্য কিছু সম্প্রদায়ের মতে ইসলামী শরীয়তের কাছাকাছি। উদাহরণস্বরূপ, ইসরায়েলিদের ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী ইহুদি ধর্মে নারীর ব্যভিচার এবং ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করাকে সমান গণ্য করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে এবং নারীর ধর্মত্যাগ তার দাম্পত্য অধিকারগুলোকে বাতিল করে দেয় যা তালাকের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়
(৪)।
খ্রিস্টানদের মধ্যে ইভাঞ্জেলিক্যাল সম্প্রদায় মনে করে যে: (যদি স্বামী-স্ত্রীর একজন অন্য ধর্ম গ্রহণ করে, তবে অপর পক্ষের জন্য তালাক চাওয়ার অধিকার থাকবে)
(৫)।
যেমনটি ব্যক্তিগত আইন বিধিমালার ১৮/২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وجاء في المادة 14 من أنظمة الأرثوذكس أن (لكل من الزوجين أن يطلب الطلاق إذا ارتد الزوج الآخر عن الديانة النصرانية)
(1).
وفي مجموعة (1055) قد نصت في المادة (49) منها على أنه يفسخ الزواج إذا خرج أحد الزوجين عن الدين المسيحي)
(2).
وكذلك فإن الدستور الفرنسي الصادر في إبريل عام 1946 م قد قيد حرية الرأي المنصوص عليها في المادة 14 منه بعدم إساءة استعمال هذا الحق، حتى لا يؤدي ذلك إلى مخالفة المبادئ التي نص عليها إعلان الحقوق الذي تضمنه ذلك الدستور، والمستند إلى المنطق الفردي التقليدي
(3).
وفي الشريعة الإسلامية اتفق الفقهاء على أنه إذا ارتد أحد الزوجين بطل عقد الزواج؛ سواء كانت الردة من الزوج أو من الزوجة
(4)، وبناءً على أن ما ذهب إليه الكاتب من إنكاره لحجية الأحاديث الشريفة، وإقامة حد الردة وهو قتل المرتد، الذي تطبقه المملكة العربية السعودية ويطبقه كل من يقيم شرع الله على أرضه مصادم للأدلة الشرعية من القرآن والسنة التي سبق بيانها، وقائله يريد أن يشرع في الدين ما لم يأذن به الله، فقوله هذا مخالف لأحكام الشريعة الإسلامية، وليس من الإسلام في شيء، وهو من اتباع الهوى، وسعي في نقض عرى الإسلام عروة عروة. قال تعالى: {فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ} [القصص: 50] وقال تعالى:
--------------------------------------------
অর্থোডক্স বিধিমালার ১৪ নং ধারায় উল্লেখ আছে যে, (স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে যে কেউ বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবে যদি অপরজন খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে)
(১)।
আর (১০৫৫) সংকলনের (৪৯) নং ধারায় বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যে, (স্বামী বা স্ত্রীর কেউ খ্রিস্টধর্ম থেকে বেরিয়ে গেলে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে)
(২)।
একইভাবে ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে জারিকৃত ফরাসি সংবিধানের ১৪ নং ধারায় বর্ণিত মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে এই অধিকারের অপব্যবহার না করার শর্তে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, যাতে তা সেই সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত অধিকার ঘোষণাপত্রে বর্ণিত নীতিমালার পরিপন্থী না হয়, যা গতানুগতিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত
(৩)।
ইসলামি শরিয়তে ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, স্বামী বা স্ত্রীর কেউ যদি মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হয়ে যায়, তবে বিবাহ চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে; চাই সেই ধর্মত্যাগ স্বামীর পক্ষ থেকে হোক বা স্ত্রীর পক্ষ থেকে
(৪)। লেখক হাদিস শরিফের প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করে এবং মুরতাদ হওয়ার দণ্ড তথা মুরতাদকে হত্যা করার বিধান—যা সৌদি আরব এবং যারা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান কায়েম করে তারা কার্যকর করে থাকে—অস্বীকার করে যে মত প্রকাশ করেছেন, তা ইতিপূর্বে বর্ণিত কুরআন ও সুন্নাহর শরয়ি দলিলসমূহের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। লেখকের এই বক্তব্য দ্বীনের মধ্যে এমন বিধান প্রবর্তন করার নামান্তর যার অনুমতি আল্লাহ দেননি। সুতরাং তার এই কথা ইসলামি শরিয়তের বিধানের পরিপন্থী এবং ইসলামের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি স্রেফ প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং ইসলামের সুদৃঢ় রজ্জুগুলোকে একে একে ছিঁড়ে ফেলার অপপ্রয়াস। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর তারা যদি তোমার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রেখো যে, তারা কেবল তাদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। আল্লাহর পক্ষ থেকে পথনির্দেশ ছাড়া যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে?} [সূরা আল-কাসাস: ৫০]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
{يَادَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} [ص: 26]
إن حكم قتل المرتد الذي تطبقه المملكة العربية السعودية وكل من يحكم بالشريعة الإسلامية هو تطبيق لحكم الله المبلغ من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وليس من فتاوى جاهزة كما يقول الكاتب.
وقول الكاتب: (إنه لمن المخجل أن يدافع عدد من الدول الإسلامية عن عقوبة الإعدام).
فإننا نقول له: إن هذا إرجاف وتهويل لا مبرر له، وإن المخجل حقاً أن من ينسب نفسه للإسلام، ويتكلم باسم الإسلام يتنكر لأحكام الإسلام، ويريد أن ينسخ بهواه ما أثبتته الأدلة الشرعية، وأجمع عليه علماء الملة عبر العصور، ويريد أن يلصق بالإسلام ما ليس منه.
وما ذكره عن منظمة العفو الدولية إن صح ما ذكره عنها فجوابنا عليه: أنه لا صحة مطلقاً لما يقال من الرعب والظلم الجاثم على المملكة العربية السعودية، وإنما فيها العدل والأمن والاطمئنان الذي يشهد به القاصي والداني، والذي هو من آثار تطبيق الشريعة الإسلامية. علماً أنه منذ أكثر من خمسة وخمسين عاماً من نشر هذا الكتاب لم يقتل بسبب الردة في المملكة العربية السعودية سوى حالة واحدة، فأين ما تقوله من تكاثر جرائم الإعدام في المملكة بهذا الخصوص؟
إن تطبيق العقوبات التي شرعها الله في كتابه أو على لسان رسوله إنما هي لغرض التقويم والإصلاح، وإنها زواجر وجوابر؛ بمعنى أنه يثاب عليها المسلم في الآخرة، وتزجره في الدنيا.
وبالنسبة للمرتدين فإن المشكلة لا تنتهي عند هذا الحد، بل تطبق عليهم أحكام الردة في المعاملات فلا يرثهم أقاربهم، ولا يرثون من أقاربهم، مما يؤدي إلى
"হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলিফা নিযুক্ত করেছি, সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ের সাথে বিচার করো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না; অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে।" [সুরা সাদ: ২৬]
মুরতাদ বা ধর্মত্যাগীর মৃত্যুদণ্ডের বিধান যা সৌদি আরব এবং ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনাকারী রাষ্ট্রসমূহ প্রয়োগ করে থাকে, তা মূলত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে প্রাপ্ত আল্লাহরই বিধানের বাস্তবায়ন; লেখক যা দাবি করেছেন তার মতো এটি কোনো মনগড়া ফতোয়া নয়।
লেখকের বক্তব্য: (এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, বেশ কিছু মুসলিম রাষ্ট্র মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির স্বপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে)।
এর উত্তরে আমরা তাকে বলতে চাই: এটি একটি ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও অপ্রাসঙ্গিক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রচেষ্টা। প্রকৃতপক্ষে লজ্জাজনক বিষয় হলো, যে ব্যক্তি নিজেকে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত করে এবং ইসলামের নামে কথা বলে, সে-ই আবার ইসলামের বিধানসমূহকে অস্বীকার করে। সে নিজ খেয়াল-খুশি মোতাবেক শরয়ী দলীল দ্বারা প্রমাণিত এবং যুগে যুগে উম্মতের আলেমদের ঐক্যমত্যপূর্ণ বিষয়সমূহকে রহিত করতে চায় এবং ইসলামের ওপর এমন কিছু আরোপ করতে চায় যা ইসলামের অংশ নয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সম্পর্কে তিনি যা উল্লেখ করেছেন, যদি তা সঠিক হয়ে থাকে, তবে আমাদের উত্তর হলো: সৌদি আরবে আতঙ্ক ও জুলুম জেঁকে বসেছে বলে যা রটানো হয়, তার কোনো সত্যতা নেই। বরং সেখানে রয়েছে ইনসাফ, নিরাপত্তা ও প্রশান্তি, যার সাক্ষ্য নিকটবর্তী ও দূরবর্তী—সবাই প্রদান করে থাকে। আর এটি মূলত ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়নেরই সুফল। উল্লেখ্য যে, এই গ্রন্থ প্রকাশের পূর্ববর্তী পঁয়পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে ধর্মত্যাগের কারণে মাত্র একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এমতাবস্থায় এই ক্ষেত্রে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের আধিক্য নিয়ে আপনার দাবির ভিত্তি কোথায়?
আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর রাসূলের জবানিতে যে দণ্ডবিধিগুলো বিধিবদ্ধ করেছেন, তা মূলত সংশোধন ও সংস্কারের উদ্দেশ্যে। এগুলো একদিকে যেমন অপরাধ প্রতিরোধক, অন্যদিকে তেমনি তা কাফফারা বা ত্রুটিমোচনকারী; অর্থাৎ এর মাধ্যমে একজন মুসলিম পরকালে প্রতিদান লাভ করে এবং দুনিয়াতে তাকে অপরাধ থেকে বিরত রাখে।
আর মুরতাদদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল এখানেই শেষ নয়, বরং বৈষয়িক লেনদেনের ক্ষেত্রেও তাদের ওপর মুরতাদ হওয়ার বিধানসমূহ প্রয়োগ করা হয়। ফলে তাদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের থেকে উত্তরাধিকার পায় না এবং তারাও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের থেকে উত্তরাধিকার লাভ করে না, যা এই দিকে ধাবিত করে যে-
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
هدم وحدة أسرته ومعاملاته، فلا ينحصر أثر الردة في الميدان الحقوقي المدني، بل لابد أن يمتد أثرها إلى الجانب الجزائي، لينال المرتد العقوبة الجنائية التي يستحقها؛ فإذا عرف العقوبة، وأنها ستطبق بحقه، لم يقدم على الاستهتار بدين الحق، ولم يتسبب في تشتيت أسرته
(1).
ولأن المرتد ترك الحق بعد معرفته، واعتدى على العقيدة التي هي أقوى أسباب الأمن، فالمرتد يقتل لتبديله الدين الحق وتركه له، ومفارقة جماعة المسلمين، ولما كان عثرة في سبيل انتشار الدين وجبت إماطته كما يماط الأذى عن الطريق، وقتله ليس عقوبة على الكفر في ذاته؛ لأن غير المسلمين من اليهود والنصارى قد كفل لهم الإسلام حرية العقيدة وحمايتها من غير إكراه ولا تضييق، فلابد أن يكون هذا القتل عقوبة على الخيانة الكبرى والمكيدة الدينية التي ادعى معها المرتد اعتناق الإسلام، ثم أعلن الخروج منه للطعن فيه والإساءة إليه
(2)، وحتى لا يكون الدين ألعوبة للملاحدة والزنادقة فيغتر بهم غيرهم من ضعاف الإيمان ولسد الطريق على العابث الذي يدخل في الدين خداعاً ثم يخرج منه للتنفير منه، كما حاول بعض اليهود هذه الخدعة زمن النبي صلى الله عليه وسلم فأنزل الله فيهم قوله تعالى: {وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمِنُوا بِالَّذِي أُنْزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [آل عمران: 72] أي لعل المسلمين إذا رأوا ذلك يرجعون عن دينهم.
--------------------------------------------
এটি তার পারিবারিক ঐক্য ও লেনদেনকে ধ্বংস করে দেয়। তাই ধর্মত্যাগের (রিদ্দাহ) প্রভাব কেবল দেওয়ানি আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এর প্রভাব শাস্তিমূলক আইনের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হওয়া আবশ্যক, যাতে ধর্মত্যাগী তার প্রাপ্য অপরাধমূলক দণ্ড লাভ করে। সে যদি এই শাস্তির কথা জানতে পারে এবং বুঝতে পারে যে তার বিরুদ্ধে এটি প্রয়োগ করা হবে, তবে সে সত্য দ্বীনকে অবজ্ঞা করার দুঃসাহস দেখাবে না এবং তার পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করার কারণ হবে না
(1).
যেহেতু ধর্মত্যাগী সত্যকে জানার পর তা বর্জন করেছে এবং এমন একটি আকিদাহ বা বিশ্বাসের ওপর আঘাত হেনেছে যা নিরাপত্তার অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি, তাই সত্য দ্বীন পরিবর্তন করা, তা ত্যাগ করা এবং মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যেহেতু সে দ্বীন প্রচারের পথে একটি প্রতিবন্ধক, তাই তাকে অপসারণ করা আবশ্যক, যেমনটি পথ থেকে ক্ষতিকর বস্তু সরিয়ে ফেলা হয়। তার এই মৃত্যুদণ্ড মূলত কুফরের কারণে নয়; কারণ ইসলাম ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মতো অমুসলিমদের বিশ্বাসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে এবং কোনো প্রকার জবরদস্তি বা সংকীর্ণতা ছাড়াই তা রক্ষা করার নিশ্চয়তা দিয়েছে। সুতরাং এই মৃত্যুদণ্ড অবশ্যই একটি মহাদ্রোহ এবং ধর্মীয় চক্রান্তের শাস্তি হিসেবে গণ্য হতে হবে, যেখানে ধর্মত্যাগী প্রথমে ইসলাম গ্রহণের দাবি করে এবং পরে ইসলামকে আক্রমণ ও হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তা ত্যাগের ঘোষণা দেয়
(2)। এটি এ কারণেও যে, দ্বীন যেন নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহীদের হাতের খেলনায় পরিণত না হয়, যাতে দুর্বল ঈমানের অধিকারী ব্যক্তিরা তাদের দ্বারা প্রলুব্ধ না হয়। এছাড়া এটি সেই প্রবঞ্চকদের পথ রুদ্ধ করার জন্য যারা প্রতারণামূলকভাবে দ্বীনে প্রবেশ করে এবং পরে অন্যদের মনে অনীহা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তা ত্যাগ করে, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে কিছু ইহুদি এই প্রতারণার চেষ্টা করেছিল। তখন মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে এই আয়াত নাযিল করেন: "আর আহলে কিতাবদের একদল বলেছিল: মুমিনদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, দিনের শুরুতে তার ওপর ঈমান আনো এবং দিনের শেষে তা অস্বীকার করো, যেন তারা (নিজেদের দ্বীন থেকে) ফিরে যায়।" [সূরা আলে ইমরান: ৭২]। অর্থাৎ, সম্ভবত মুসলমানরা যখন এটি দেখবে, তখন তারা তাদের ধর্ম থেকে বিচ্যুত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
لأن حفظ الدين هو حفظ المجتمع بكامله؛ إذ إن الشريعة بكل ما اشتملت عليه من الأحكام التكليفية إنما هي أثر من آثار العقيدة، فكلما قويت العقيدة تأكد هذا الجانب التشريعي، ورسخت جذوره عن طريق التطبيق العملي، ولهذا فإن حفظ الدين أول الضرورات في المقاصد واجبة الحماية.
ولا مانع من أن يكون حكم قتل المرتد في الإسلام متفقاً مع ما جاء في شريعة عيسى عليه السلام، كما استشهد له الكاتب بما جاء في الإنجيل وهو (فالذي يكفر باسم ربك يقتل ويرجمه جميع أفراد الجالية) (الكتاب 16/ 24) وكذلك ما جاء فيه (فلنعبد آلهة آخرين
… نرجمه ويموت) (13: 219)
حكم قتل المرتد لم يلجأ إليه الفقهاء لا في القرون الوسطى، ولا في غيرها، تحت تأثير الإنجيل كما زعم الكاتب؛ لأن الإسلام ناسخ لجميع ما قبله من الأديان، والملل، والشرائع قال تعالى {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَنْ يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ (19)} (آل عمران: 19)
ولكن هذا حكم الله بلغه رسوله صلى الله عليه وسلم، وطبقه الصحابة رضوان الله عليهم، والمسلمون في جميع العصور، تنفيذاً لأمر الله، وأمر رسوله، كما طبقوا جميع الأحكام الشرعية الأخرى.
ومن الغريب أن يكون تطابق شهادتين موجبا لتساقطهما -في نظر الكاتب- بدلاً من أن يكون موجباً لزيادة الثقة فيهما.
إن قسوة عقوبة الردة تضفي الحماية على التدين الحقيقي فتحول دون عبث العابثين بالأديان عامة؛ لأن ظاهرة الاستهتار التي برزت في ظل الحضارة الصناعية المعاصرة أصبحت تشكل خطراً على جميع الأديان لا على دين واحد.
কারণ ধর্ম রক্ষা করা মানে সমগ্র সমাজকে রক্ষা করা; কেননা শরীয়ত তার সমস্ত বিধানসহ মূলত আকিদাহ বা বিশ্বাসের একটি বহিঃপ্রকাশ। বিশ্বাস যত শক্তিশালী হয়, এই আইনি দিকটি তত বেশি সুনিশ্চিত হয় এবং বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে এর শিকড় তত গভীরে প্রোথিত হয়। এ কারণেই মাকাসিদ বা শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে ধর্ম রক্ষা করা হলো প্রথম ও প্রধান আবশ্যিক বিষয় যা রক্ষা করা ওয়াজিব।
ইসলামে মুরতাদের (স্বধর্মত্যাগী) মৃত্যুদণ্ডের বিধান ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর শরীয়তের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়াতে কোনো বাধা নেই, যেমনটি লেখক ইনজিল থেকে উদ্ধৃত করেছেন: (যে তোমার প্রভুর নামে কুফরি করবে তাকে হত্যা করা হবে এবং সম্প্রদায়ের সকল সদস্য তাকে পাথর ছুড়ে মারবে) (কিতাব ১৬/ ২৪)। তদ্রূপ এতে আরও এসেছে (এসো আমরা অন্য উপাস্যের ইবাদত করি
… আমরা তাকে পাথর ছুড়ে মারব এবং সে মারা যাবে) (১৩: ২১৯)।
মুরতাদের মৃত্যুদণ্ডের বিধানের ক্ষেত্রে ফকীহগণ মধ্যযুগে বা অন্য কোনো সময়ে ইনজিলের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে এর আশ্রয় নেননি, যেমনটি লেখক দাবি করেছেন; কারণ ইসলাম তার পূর্ববর্তী সকল ধর্ম, মতবাদ এবং শরীয়তকে রহিতকারী। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম। আর কিতাবধারীরা তাদের নিকট জ্ঞান আসার পর কেবলমাত্র পারস্পরিক বিদ্বেষবশত মতবিরোধ করেছিল। আর যে কেউ আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী (১৯)} (আলে ইমরান: ১৯)।
বরং এটি আল্লাহরই বিধান যা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পৌঁছে দিয়েছেন এবং সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ও সর্বযুগের মুসলমানগণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ পালনার্থে তা বাস্তবায়ন করেছেন, ঠিক যেমন তারা অন্যান্য শরয়ী বিধানসমূহ বাস্তবায়ন করেছেন।
এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, লেখকের দৃষ্টিতে দুটি সাক্ষ্যের মিল থাকা তাদের অসারতার কারণ হয়েছে, অথচ এটি তাদের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির কারণ হওয়া উচিত ছিল।
ধর্মত্যাগের দণ্ডের কঠোরতা প্রকৃত ধর্মপরায়ণতাকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং সাধারণভাবে ধর্ম নিয়ে খেলতামাশাকারীদের গতিরোধ করে; কারণ বর্তমান শিল্প সভ্যতার ছায়ায় যে চরম অবজ্ঞা ও বেপরোয়া ভাব ফুটে উঠেছে, তা কেবল একটি ধর্মের জন্য নয় বরং সকল ধর্মের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فأصبحنا نرى من يتظاهر بالخروج من دينه لطلاق امرأة وزواج أخرى، أو لمصلحة معينة، فيسجل دخوله في الإسلام وذلك تهرباً من الالتزامات التي يفرضها عليه ذلك الدين الذي خرج منه، وبعد أن يحقق مصالحه الشخصية يعود إلى دينه الأصلي، مستهتراً بجميع الأديان، متحايلاً للتخلص من الالتزامات بهذه الأساليب؛ فليست الحرية الدينية هي هذا العبث؛ إنما الحرية الدينية أن يدخل الدين مختاراً صادقاً مؤمناً به.
ويعتبر المرتد مهدر الدم من وجهين: أولهما: أنه كان معصوماً بالإسلام، فلما ارتد زالت عصمته فأصبح مهدراً؛ وأساس العصمة بالإسلام قوله صلى الله عليه وسلم «أُمِرْتُ أنْ أُقاتِلَ النَّاسَ حتَّى يَقولوا: لا إلهَ إلَّا اللهُ، وأنِّي رسولُ اللهِ فإذا قالوها عَصَموا منِّي دماءَهُم، وأموالَهُم إلَّا بحقِّها، وحسابُهُم على اللهِ»
(1).
ثانيهما: أن عقوبة المرتد في الإسلام القتل حداً، وفي القول الآخر أنه يقتل كفراً، وعلى القولين لا يجوز العفو عنها ولا تأخيرها
(2) إلا فترة استتابته.
--------------------------------------------
ফলে এখন আমরা এমন ব্যক্তিদের দেখতে পাচ্ছি যারা কোনো নারীকে তালাক দেওয়ার ও অন্য কাউকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে কিংবা বিশেষ কোনো স্বার্থ হাসিলের তরে নিজ ধর্ম ত্যাগের ভান করে। এরপর তারা ইসলামে প্রবেশের নাম নিবন্ধন করে, মূলত সেই ধর্মের আরোপিত বাধ্যবাধকতা থেকে পলায়ন করার জন্য যা তারা ত্যাগ করেছে। অতঃপর যখন তারা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধার করে ফেলে, তখন তারা পুনরায় তাদের আদি ধর্মে ফিরে যায়। এভাবে তারা সকল ধর্মের প্রতি উপহাস প্রদর্শন করে এবং এসব হীন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ধর্মীয় দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে চায়। মূলত ধর্মীয় স্বাধীনতা এই নিরর্থক কর্মকাণ্ডের নাম নয়; বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা হলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে, সততার সাথে এবং বিশ্বাস সহকারে কোনো ধর্মে দীক্ষিত হওয়া।
আর মুরতাদ বা ধর্মত্যাগীকে দুটি কারণে 'রক্তের নিরাপত্তা বঞ্চিত' হিসেবে গণ্য করা হয়: প্রথমত, ইসলামের কারণে সে সংরক্ষিত ও নিরাপদ ছিল; যখন সে ধর্মত্যাগ করল, তখন তার সেই নিরাপত্তা বিলুপ্ত হয়ে গেল এবং সে নিরাপত্তা বঞ্চিত ব্যক্তিতে পরিণত হলো। ইসলামের মাধ্যমে এই নিরাপত্তার ভিত্তি হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমাকে মানুষের সাথে লড়াই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও জানমাল নিরাপদ করে নিল—হকের অধিকার ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।"
(১)।
দ্বিতীয়ত: ইসলামে ধর্মত্যাগীদের শাস্তি হলো নির্ধারিত দণ্ড (হদ) হিসেবে মৃত্যুদণ্ড, আর অন্য মতানুসারে তাকে কুফরের কারণে হত্যা করা হবে। উভয় মত অনুযায়ী, এই দণ্ড ক্ষমা করা বা বিলম্বিত করা বৈধ নয়
(২) তবে তাকে তওবা বা অনুশোচনার সুযোগ প্রদানের সময়টুকু ব্যতীত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المبحث الثالث حرية الفكر في الشريعة الإسلامية
تعريف الحرية:تنبئ هذه الكلمة بسائر تصاريفها في اللسان العربي عن معان فاضلة، ترجع إلى معنى الخلوص، يقال حر يحر كظل يظل حرارا بالفتح بمعنى عتق. والاسم: الحرية، والحر: خلاف العبد، والخيار من كل شيء، والحر من الطين والرمل: الطيب، والحرة: ضد الأمة، وتطلق على الكريمة من النساء
(1).
ووردت صفة للنفس في كثير من أشعار العرب مثل قول الشاعر:
إن كنت عبداً فنفسي حرة كرما
… أو أسود اللون إني أبيض الخلق
وجاء لمعنى استقلال الإرادة، وعدم الخضوع لسلطان الهوى:
وترانا يوم الكريهة أحراراً وفي السلم للغواني عبيدا
(2)ويمكننا تعريف الحرية بأنها حق أصلي منحه الله للإنسان يصدر بموجبه جميع تصرفاته تبعاً لإرادته وفق الضوابط الشرعية.
وموضوع الحرية والحقوق مرتبط كل منهما بالآخر أشد الارتباط؛ لأن الحرية بالإفراد هي حق من حقوق الأفراد، ولأن كل حق لبعض الأفراد هو تحديد لمفهوم الحرية في مقابل حقوق المجموع
(3).
وتشمل الحرية مجالات متعددة من ممارسات الإنسان ومعتقداته في الحياة؛ مثل حرية التملك، وحرية العمل، وحرية المسكن، وحرية الفكر.
وسأقتصر في هذا الكتاب على حدود حرية الفكر في الإسلام.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামি শরিয়তে চিন্তার স্বাধীনতাস্বাধীনতার সংজ্ঞা:আরবি ভাষায় এই শব্দটির সমস্ত রূপান্তর মূলত শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশুদ্ধতার অর্থ জ্ঞাপন করে। বলা হয় 'হুররা ইয়াহুররু' (حر يحر) যেমন 'জিল্লা ইয়াজিল্লু' (ظل يظل), যার অর্থ হলো মুক্তি লাভ করা। এর বিশেষ্য রূপ হলো 'হুররিয়াহ' (حرية) বা স্বাধীনতা। আর 'হুর' (حر) হলো দাসের বিপরীত, যা যে কোনো উৎকৃষ্ট বস্তুর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। মাটি বা বালির ক্ষেত্রে 'হুর' অর্থ হলো সর্বোৎকৃষ্ট মাটি। 'হুররাহ' (حرة) হলো দাসীর বিপরীত শব্দ, যা সম্ভ্রান্ত ও মহীয়সী নারীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়
(১)।
আরবদের অনেক কবিতায় এটি আত্মার বিশেষ গুণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যেমন জনৈক কবি বলেছেন:
যদি আমি দাসও হই, তবুও আমার আত্মা আভিজাত্যের গুণে স্বাধীন... আর আমি বর্ণে কালো হলেও চরিত্রে আমি শ্বেতশুভ্র।
এটি ইচ্ছার স্বাধীনতা এবং কুপ্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্তির অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে:
যুদ্ধের দিনে তুমি আমাদের স্বাধীন বীর হিসেবে দেখতে পাবে, আর শান্তির সময়ে সুন্দরী ললনাদের তরে আমরা অনুগত দাসের ন্যায়
(২)।
আমরা স্বাধীনতাকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি যে, এটি আল্লাহ প্রদত্ত মানুষের একটি মৌলিক অধিকার, যার ভিত্তিতে সে শরিয়তের বিধিনিষেধের আলোকে নিজ ইচ্ছানুযায়ী তার সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
স্বাধীনতা এবং অধিকার—এই বিষয় দুটি একে অপরের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িত; কেননা এককভাবে স্বাধীনতা হলো ব্যক্তির একটি অন্যতম অধিকার, আর কোনো কোনো ব্যক্তির প্রতিটি অধিকার মূলত সমষ্টিগত অধিকারের বিপরীতে স্বাধীনতার ধারণাকে সুনির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ করে
(৩)।
স্বাধীনতা মানুষের জীবন ও বিশ্বাসের বহুমুখী ক্ষেত্রকে পরিব্যপ্ত করে; যেমন— মালিকানার স্বাধীনতা, কর্মের স্বাধীনতা, বাসস্থানের স্বাধীনতা এবং চিন্তার স্বাধীনতা।
আমি এই গ্রন্থে কেবল ইসলামে চিন্তার স্বাধীনতার সীমানা সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
حرية الفكر:إن النظر في القرآن الكريم يعطي يقيناً جازماً بأن الإسلام يبني الاعتقاد الصحيح على النظر في الكون، والتفكر والتأمل في أسراره؛ ليصل الإنسان بهذا التفكر إلى الإيمان بالله سبحانه وتعالى، بل والإفادة من كنوز الأرض
(1) قال تعالى: {قُلِ انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [يونس: 101] وقال تعالى: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ} [الأنعام: 50] وقال تعالى: {وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مِنْهُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} [الجاثية: 13] وتختم آيات كثيرة بعد بيان الأحكام الإسلامية من عقيدة وغيرها بأنها لقوم يعقلون، يتفكرون، يتدبرون، لأولي الألباب ونحوها.
والإسلام لا يجعل التفكير من المباحات التي يباشرها من شاء ويتركها من شاء، بل يجعله واجباً على الإنسان؛ ولذا ندد الله سبحانه وتعالى بالتقليد في أصول العقائد والشرائع؛ لتكون العقيدة عن وعي وإدراك وإذعان
(2) فقال سبحانه: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} [البقرة: 170].
وأما موضوع الحرية وحقوق الإنسان التي ينادي بها الكاتب وما ذكره من (أن كل ما في القرآن يدعو إلى حرية الفكر
… الخ).
فنقول له إن الحرية الدينية التي كفلها الإسلام لأهل الأرض لم يعرف لها نظير في جميع القارات، ولم يحدث أن انفرد دين بالسلطة، ومنح مخالفيه في الاعتقاد كل أسباب البقاء والازدهار مثل ما صنع الإسلام.
--------------------------------------------
চিন্তার স্বাধীনতা:পবিত্র কুরআনের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করলে এই সুদৃঢ় নিশ্চয়তা লাভ করা যায় যে, ইসলাম তার সঠিক বিশ্বাস বা আকিদাহকে মহাবিশ্বের পর্যবেক্ষণ এবং এর রহস্যরাজির ওপর চিন্তা ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলে; যাতে মানুষ এই চিন্তার মাধ্যমে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রতি ঈমান আনতে পারে এবং পৃথিবীর ধনভাণ্ডার থেকেও উপকৃত হতে পারে।
(১) মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তোমরা তা পর্যবেক্ষণ করো} [ইউনুস: ১০১]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {বলুন, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তবে কি তোমরা চিন্তা করো না?} [আল-আনআম: ৫০]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তিনি তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছুকে নিজের পক্ষ থেকে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে} [আল-জাছিয়াহ: ১৩]। আকিদাহ বা বিশ্বাসের বিষয়সহ ইসলামের বিধি-বিধান বর্ণনার পর অনেক আয়াত এভাবে শেষ হয়েছে যে, এগুলো সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা অনুধাবন করে, যারা চিন্তা করে, যারা গবেষণা করে, যারা জ্ঞানবান এবং এই জাতীয় অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদের জন্য।
আর ইসলাম চিন্তাকে কেবল সেই মুবাহ (ঐচ্ছিক) বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত করেনি যা কেউ ইচ্ছা করলে করবে আর ইচ্ছা করলে বর্জন করবে; বরং ইসলাম একে মানুষের ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যক করেছে। এজন্যই মহান আল্লাহ আকিদাহ ও শরিয়তের মৌলিক বিষয়গুলোতে অন্ধ অনুকরণের নিন্দা করেছেন; যেন বিশ্বাস বা আকিদাহ হয় সচেতনতা, সঠিক উপলব্ধি এবং আন্তরিক আনুগত্যের ভিত্তিতে।
(২) মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা অনুসরণ করো, তারা বলে, বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যা করতে দেখেছি তারই অনুসরণ করব। যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই বুঝত না এবং তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না?} [আল-বাকারা: ১৭০]।
আর লেখক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের যে প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন এবং তার এই বক্তব্য যে, (কুরআনের প্রতিটি বিষয়ই চিন্তার স্বাধীনতার দিকে আহ্বান করে... ইত্যাদি)।
এর উত্তরে আমরা তাকে বলব যে, ইসলাম বিশ্ববাসীর জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতার যে নিশ্চয়তা প্রদান করেছে, পৃথিবীর ইতিহাসে তার কোনো নজির পাওয়া যায় না। এমন কখনও ঘটেনি যে, কোনো ধর্ম এককভাবে ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার পর তার আদর্শের বিরুদ্ধবাদীদের বেঁচে থাকা ও সমৃদ্ধির সকল পথ এমনভাবে উন্মুক্ত করে দিয়েছে, যেমনটি ইসলাম করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুদুদ হুররিয়াতিল ফিকর ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وإذا كان الإسلام حيث يسود يمنح الآخرين حرية العقل والضمير، فإن الآخرين إذا سادوا سلبوا أتباع الإسلام حقوقهم، وأذاقوهم عذاب الهون.
وهذا القدر من الحرية والعدل الذي قرره الإسلام وأكد عليه في القرآن الكريم منذ أكثر من أربعة عشر قرناً لم تصل إليه -بعد- أي أمة من أمم الأرض التي تدعي أنها رائدة في المحافظة على حقوق الإنسان وحريته، وهو أيضاً ما لم ينتبه إليه واضعو ميثاق حقوق الإنسان، استمع إلى قول الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} [المائدة: 8] وفي آية أخرى يقول: {وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ أَنْ صَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَنْ تَعْتَدُوا وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} [المائدة: 2] ويؤخذ من هذه النصوص الصريحة حرمة التمييز أيضاً في هذه الحقوق وحرمة العدوان عليها بسبب الحقد أو العداء.
ويتضح من جميع هذه النصوص التشريعية في الإسلام وما تضمنته من ضوابط مقدار حرص الإسلام على حقوق الإنسان الأساسية فكرية أو اقتصادية أو اجتماعية أو ثقافية، ولم يتخذ الإسلام من هذه النصوص مواعظ أخلاقية وحسب، بل أوامر تشريعية، وأقام إلى جانبها جميع النصوص التشريعية اللازمة لضمان تنفيذها، وأن الإسلام منذ أكثر من أربعة عشر قرناً قد سبق المنظمات الدولية والدول الحديثة في إعلان هذه الحقوق، بل قد أقام دعوته عليها من أجل خير الإنسان، وأمر القرآن الكريم بذلك فقال: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ
ইসলাম যেখানেই বিজয়ী হয়, সেখানে অন্যদের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা প্রদান করে; অথচ অন্যরা যখন বিজয়ী হয়, তখন তারা ইসলামের অনুসারীদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে এবং তাদেরকে লাঞ্ছনাকর শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করায়।
স্বাধীনতা ও ন্যায়ের এই পর্যায়, যা ইসলাম চৌদ্দশ বছরেরও বেশি সময় আগে পবিত্র কুরআনে নির্ধারণ ও নিশ্চিত করেছে, তা আজও পৃথিবীর এমন কোনো জাতি অর্জন করতে পারেনি যারা নিজেদের মানবাধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার অগ্রদূত বলে দাবি করে। এমনকি মানবাধিকার সনদের প্রণেতারাও বিষয়টি লক্ষ্য করেননি। মহান আল্লাহর বাণী শুনুন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাক্ষ্যদানে অবিচল থাকো এবং কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী; এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।" [আল-মায়িদাহ: ৮] অন্য আয়াতে তিনি বলেন: "তোমাদেরকে মসজিদুল হারামে প্রবেশে বাধা প্রদানের কারণে কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।" [আল-মায়িদাহ: ২] এই স্পষ্ট পাঠগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে, এসকল অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা এবং ঘৃণা বা শত্রুতার বশবর্তী হয়ে সেগুলোর ওপর আগ্রাসন চালানো হারাম বা নিষিদ্ধ।
ইসলামের এই সকল বিধানিক পাঠ এবং এর অন্তর্ভুক্ত নীতিমালা থেকে মানুষের মৌলিক অধিকার—তা চিন্তা, অর্থনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক যাই হোক না কেন—রক্ষায় ইসলামের আগ্রহের গভীরতা স্পষ্ট হয়। ইসলাম এই বাণীগুলোকে কেবল নৈতিক উপদেশ হিসেবে গ্রহণ করেনি, বরং সেগুলোকে আইনি আদেশ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। পাশাপাশি এগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইসলাম চৌদ্দশ বছরেরও বেশি সময় আগে এই অধিকারসমূহ ঘোষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর চেয়ে অগ্রগামী ছিল। বরং মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যেই ইসলাম তার দাওয়াতের ভিত্তি স্থাপন করেছে। পবিত্র কুরআন এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে বলেছে: "আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবে...