(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: -)
المعتقد وأثره على مسائل أصول الفقه القسم: أصول الفقه
الكتاب: المعتقد وأثره على مسائل أصول الفقه
المؤلف: عبد الرحمن بن علي الحطاب
الناشر: دار طيبة الخضراء - مكة المكرمة
الطبعة: الأولى، 1444 هـ - 2023 م
عدد الصفحات: 194
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 جُمادَى الآخرة 1445
আকিদা এবং উসুলুল ফিকহের মাসয়ালাসমূহের উপর এর প্রভাব বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: আকিদা এবং উসুলুল ফিকহের মাসয়ালাসমূহের উপর এর প্রভাব
লেখক: আব্দুর রহমান বিন আলী আল-হাত্তাব
প্রকাশক: দার তাইয়্যিবাহ আল-খাদরা - মক্কা মুকাররমা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪৪ হিজরি - ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৪
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على نبيه الأمين، وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد، فإنني لما وقفت على كتاب (مسائل أصول الدين المبحوثة في علم أصول الفقه) للدكتور خالد بن عبد اللطيف
(1)، رأيته كتابًا حرَّر فيه المسائل العقدية الواردة في المصنفات الأصوليِّة، إلا أنَّ فيه إسهابًا في تقرير المسائل العقدية، وردًا للشبهات، مما جعل كثيرًا من المشتغلين بأصول الفقه ربما أعرض عنه، ورأيت من المناسب تهذيبه، بالاقتصار على تقرير المذاهب، وذكر بعض الأدلة المهمة في تقرير مذهب أهل السنة والجماعة، وإضافة المسائل الأصولية التي بنيت على هذه المباحث العقدية، مما لم يذكرها.
وقد عمدت إلى الرسائل العلمية الموسومة بتخريج الأصول على الأصول
(2)، وبناء الأصول على الأصول
(3)، وكذا ما يتعلق بالأبحاث المتعلقة
--------------------------------------------
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত নবী, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীদের ওপর। অতঃপর, যখন আমি ডক্টর খালিদ বিন আব্দুল লতিফ
(১) রচিত (মাসায়েলু উসূলিদ দ্বীন আল-মাবহুসা ফি ইলমি উসূলিল ফিকহ) কিতাবটি দেখলাম, তখন এটি এমন একটি কিতাব হিসেবে পেলাম যেখানে তিনি উসূল সংক্রান্ত গ্রন্থাবলীতে বর্ণিত আকিদাগত মাসআলাসমূহকে সুনিপুণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তবে এতে আকিদাগত মাসআলাগুলো প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘ আলোচনা ও সংশয় নিরসনের আধিক্য রয়েছে, যার ফলে উসূলুল ফিকহ নিয়ে চর্চাকারীদের অনেকেই হয়তো তা থেকে বিমুখ হয়ে পড়েন। তাই আমি একে সংক্ষেপ করা সমীচীন মনে করেছি—যেখানে কেবল মতাদর্শসমূহের বিবরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা হবে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলিল উল্লেখ করা হবে এবং সেই সাথে সেই সকল উসূলি মাসআলাগুলো যোগ করা হবে যা এই আকিদাগত আলোচনার ওপর ভিত্তি করে রচিত কিন্তু তিনি উল্লেখ করেননি।
আমি এক্ষেত্রে 'তাখরিজুল উসূল আলাল উসূল' (উসূলের ওপর উসূলের প্রয়োগ)
(২) এবং 'বিনাইল উসূল আলাল উসূল' (উসূলের ওপর উসূলের ভিত্তি)
(৩) শিরোনামের গবেষণাপত্রগুলোর ওপর নির্ভর করেছি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গবেষণাসমূহও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بأسباب الخلاف
(1)، وأخذت منها المسائل الأصوليَّة المتأثرة والمبنيَّة على أصل عقدي، وأفدت من رسائل وكتب مطبوعة، اهتمت بهذا الأمر، سواء كان بالعمل على أصل عقدي معين، مع بيان أثره على المسائل الأصوليَّة
(2)، أو كانت من
--------------------------------------------
মতভেদের কারণসমূহের
(১) মাধ্যমে, এবং তা থেকে আমি আকিদাগত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ও তার দ্বারা প্রভাবিত উসুল সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ গ্রহণ করেছি। এছাড়া আমি এ বিষয়ে গুরুত্বারোপকারী বিভিন্ন মুদ্রিত গবেষণাপত্র ও গ্রন্থ থেকে উপকৃত হয়েছি; চাই তা কোনো নির্দিষ্ট আকিদাগত মূলনীতির ওপর কাজের মাধ্যমে এবং উসুল সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের ওপর তার প্রভাব বর্ণনার মাধ্যমে হোক
(২), অথবা তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
منطلق مذهب عقدي معين
(1)، أو كانت عامة من رسائل وكتب
(2)، أو بحوث محكَّمة للأغراض السابقة
(3).
--------------------------------------------
কোনো নির্দিষ্ট আকিদাগত মতাদর্শের প্রেক্ষাপট থেকে
(1), অথবা সাধারণ কোনো গবেষণাপত্র ও গ্রন্থ থেকে
(2), অথবা পূর্বোক্ত উদ্দেশ্যসমূহের জন্য প্রণীত কোনো যাচাইকৃত (محكَّمة) গবেষণা থেকে
(3)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأثبت كثيرًا من المصادر التي اعتمدوا عليها، وشيئًا من تعليقاتهم كما هي؛ لأجل الإفادة منها.
و
سبب جمع هذا المؤلف هو ما رأيته من نقص في البناء العلمي في هذا الجانب لدي ولدى كثير من المتخصصين في أصول الفقه، فهو في المقام الأول مسوَّدة لي، ثمَّ رأيت أن يستفيد منها إخواني طلبة العلم، ورجوت أن يكون المطلع على هذا الكتاب قد أكمل نقصه في هذا الجانب، وما ذكر في هذا الكتاب يدلُّ على ما لم يذكر.
وأنبه هنا إلى أمور، منها:
الأمر الأول: من المسائل العقدية ما ذكر في كتب أصول الفقه استطرادًا، أو مثالًا، أو مقدمة لمسألة أصوليَّة، وليس فيها بناء أو أثر على المسألة الأصوليَّة، وتركتها، بناء على الأصل المهذَّب (مسائل أصول الدين المبحوثة في علم أصول الفقه)، ولأجل أن يتنبَّه القارئ لها عند التأليف أو القراءة في كتب أصول الفقه، أو تكون عونًا لبيان عقيدة المؤلف لمن اضطر إلى ذلك، ولاسيما في الرسائل العلميَّة.
ومما ورد في هذا الكتاب من هذه المسائل: أول واجب على المكلف: الشهادتان، وطريق ثبوت وجوب النظر، والاسم للمسمى، وحكم إطلاق الأسماء الحسنى بلا توقيف، وعصمة الأنبياء قبل النبوة، وحقيقة المعجزة ومسائلها، ونسخ هذه الشريعة لما قبلها من الشرائع، ووضع عيسى عليه السلام الجزية بعد نزوله لا ينافي ثبوت أحكام الشريعة الخاتمة، وإمامة علي بن أبي طالب رضي الله عنه، وفهم الأدلة بحسب المعنى المراد والاستعمال، وحقيقة الإيمان. والله أعلم.
أما باقي المسائل العقدية الواردة في هذا الكتاب فهي مؤثرة في بناء المسألة
আমি অনেকগুলো উৎস সাব্যস্ত করেছি যেগুলোর ওপর তাঁরা নির্ভর করেছেন এবং তাঁদের কিছু মন্তব্য অবিকল উল্লেখ করেছি; যাতে তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়।
আর
এই গ্রন্থটি সংকলনের কারণ হলো এই বিষয়ে আমার নিজের এবং উসুলুল ফিকহের অনেক বিশেষজ্ঞের ইলমি ভিত্তির ক্ষেত্রে আমি যে ঘাটতি দেখেছি তা পূরণ করা। এটি প্রাথমিকভাবে আমার জন্য একটি খসড়া ছিল, পরে আমি মনে করলাম যে আমার তালিবে ইলম ভাইয়েরাও যেন এটি থেকে উপকৃত হতে পারেন। আমি আশা করি যে এই বইটি পাঠকারী ব্যক্তি এই বিষয়ে তার ঘাটতিগুলো পূরণ করতে পারবেন; আর এই বইটিতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সেই বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত দেয় যা এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
আমি এখানে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি সতর্ক করছি, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রথম বিষয়: আকিদাহ বিষয়ক কিছু মাসআলা উসুলুল ফিকহের গ্রন্থগুলোতে প্রাসঙ্গিক আলোচনা, উদাহরণ কিংবা কোনো উসুলি মাসআলার ভূমিকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর উসুলি মাসআলার গঠনের ওপর কোনো প্রভাব নেই। আমি সেগুলো বাদ দিয়েছি ‘পরিশোধিত মূলনীতি’ (উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে আলোচিত উসুলুদ দ্বীনের মাসআলাসমূহ)-এর ওপর ভিত্তি করে। আর এটি এই জন্য যে, পাঠক যেন উসুলুল ফিকহের গ্রন্থগুলো রচনা বা পাঠ করার সময় এ বিষয়ে সজাগ থাকতে পারেন অথবা এটি গ্রন্থকারের আকিদাহ বর্ণনায় সহায়ক হতে পারে তাদের জন্য যাদের এর প্রয়োজন হয়, বিশেষ করে গবেষণামূলক থিসিসগুলোর ক্ষেত্রে।
এই বইটিতে উল্লিখিত এই ধরনের মাসআলাগুলোর মধ্যে রয়েছে: মুকাল্লাফের ওপর প্রথম ওয়াজিব হলো শাহাদাতাইন, চিন্তা ও গবেষণার আবশ্যকতা সাব্যস্ত হওয়ার পদ্ধতি, নাম ও নামীর বিষয়, তাওকিফ (শরয়ি বর্ণনা) ব্যতীত আসমাউল হুসনা ব্যবহারের বিধান, নবুওয়াতের আগে নবীদের মাসুম হওয়া, মুজিজার স্বরূপ ও এর মাসআলাসমূহ, পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহের জন্য এই শরীয়তের রহিতকরণ (نسخ), ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণের পর জিজিয়া রহিত করা—যা শেষ শরীয়তের বিধানগুলো সাব্যস্ত হওয়ার পরিপন্থী নয়, আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইমামত, উদ্দিষ্ট অর্থ ও ব্যবহার অনুযায়ী দলিলের বুঝ এবং ইমানের প্রকৃত স্বরূপ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আর এই বইটিতে উল্লিখিত অবশিষ্ট আকিদাগত মাসআলাগুলো মাসআলার অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الأصولية، وهذه مما لا يسع الأصولي جهله في هذا الباب.
الأمر الثاني: إن في معرفة الأصل العقدي ضبطًا لمسائل الأصول المبنية عليه، وبعدًا عن الوقوع في التناقض، وقدرة على تمييز القول الصحيح من الباطل من مسائل أصول الفقه، وتجنبًا عن موافقة المبتدع في بدعته. كما أن في إبطال الأصل العقدي إبطالًا للقول الأصولي المبني عليه.
الأمر الثالث: ثمَّة قواعد عامة لابد من العلم بها، ودراستها على أهل التخصص، مفيدة في هذا الباب، ومن ذلك قول شيخ الإسلام ابن تيمية: «والأشعرية: الأغلب عليهم أنهم مرجئة في باب الأسماء والأحكام
(1)، جبرية في باب القدر، وأما في الصفات فليسوا جهمية محضة، بل فيهم نوع من التجهم.
والمعتزلة: وعيدية في باب الأسماء والأحكام، قدرية في باب القدر، جهمية محضة»
(2).
وما ذكره ابن تيميَّة خلاصة مهمة؛ لأن أصول المتكلمين، تابعة للمعتزلة والأشاعرة.
فباب الأسماء والأحكام: الأغلب على الأشاعرة الإرجاء، والمعتزلة الوعيدية (الخوارج)
(3).
وفي باب القدر، الأشاعرة جبرية، والمعتزلة قدرية.
وفي باب الصفات: الأشاعرة ليسوا جهمية محضة؛ لأنهم يثبتون بعض
--------------------------------------------
উসূল সংক্রান্ত (الأصولية), এবং এই বিষয়টি এমন যা সম্পর্কে এই অধ্যায়ে একজন উসূলবিদের (الأصولي) অজ্ঞ থাকা সমীচীন নয়।
দ্বিতীয় বিষয়: আকিদাগত মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এর ওপর ভিত্তি করে রচিত উসূলের মাসয়ালাগুলোকে যথাযথভাবে আয়ত্ত করতে, পরস্পরবিরোধী অবস্থানে পড়া থেকে বেঁচে থাকতে, এবং উসূলুল ফিকহ-এর মাসয়ালাগুলোর মধ্যে সঠিক (الصحيح) ও বাতিল (الباطل) মতের মধ্যে পার্থক্য করার সক্ষমতা লাভ করতে এবং বিদআতি (المبتدع) ব্যক্তির বিদআতের (بدعة) সাথে একমত হওয়া এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে। ঠিক তেমনিভাবে, আকিদাগত মূলনীতি বাতিল হওয়া মানেই তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা উসূল সংক্রান্ত বক্তব্যটিও বাতিল হয়ে যাওয়া।
তৃতীয় বিষয়: এখানে কিছু সাধারণ মূলনীতি রয়েছে যা জানা এবং এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিকট তা অধ্যায়ন করা আবশ্যক, যা এই অধ্যায়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এর মধ্যে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর এই উক্তিটি অন্যতম: «আর আশআরিয়াদের মধ্যে প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—তারা আসমা ও আহকাম (নাম ও বিধান) অধ্যায়ে মুরজিয়া (مرجئة)
(১), তাকদিরের অধ্যায়ে জাবারিয়া (جبرية); আর সিফাত বা গুণাবলীর ক্ষেত্রে তারা পুরোপুরি জাহমিয়া (جهمية) নয়, বরং তাদের মধ্যে কিছুটা জাহমিয়াতের প্রভাব রয়েছে।
আর মুতাযিলাগণ আসমা ও আহকাম অধ্যায়ে ওয়াইদিয়্যাহ (وعيدية), তাকদিরের অধ্যায়ে কাদারিয়া (قدرية) এবং খাঁটি জাহমিয়া (جهمية)»
(২)।
ইবনে তাইমিয়্যাহ যা উল্লেখ করেছেন তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ; কারণ কালাম শাস্ত্রবিদদের মূলনীতিসমূহ মুতাযিলা ও আশআরিয়াদের অনুগামী।
সুতরাং আসমা ও আহকাম অধ্যায়ে: আশআরিয়াদের ওপর ইরজা (الإرجاء) এবং মুতাযিলাদের ওপর ওয়াইদিয়্যাহ (وعيدية) বা খাওয়ারিজ (الخوارج) হওয়ার বৈশিষ্ট্যটিই প্রবল
(৩)।
আর তাকদিরের অধ্যায়ে আশআরিয়ারা জাবারিয়া (جبرية) এবং মুতাযিলাগণ কাদারিয়া (قدرية)।
আর সিফাত বা গুণাবলীর অধ্যায়ে: আশআরিয়ারা পুরোপুরি জাহমিয়া (جهمية) নয়; কারণ তারা কিছু গুণ সাব্যস্ত করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الصفات، بخلاف المعتزلة الذين ينفون جميع الصفات، فهم بذلك جهمية محضة. لذا كان كل معتزلي جهميًا، وليس كل جهمي معتزليًا
(1).
ومما سبق يعرف أن الفرقة الواحدة تكون بدعتها في باب دون باب، وقد يطلق عليها أكثر من لقب باعتبار البدعة التي وقعت فيها، فيقال: المرجئة القدرية، أو القدرية المعتزلة، وقد تسمى الجبرية قدرية لغلوهم في إثبات القدر
ولابد من دراسة عامة لهذه الفرق، والوقوف على وسطية أهل السنة والجماعة في هذا، وسيأتي في الكتاب بيان وتفصيل لهذه الأمور، بإذن الله.
الأمر الرابع: لأهل السنة والجماعة إطلاقان: إطلاق عام، وإطلاق خاص، أما الإطلاق العام فهو مقابل الشيعة، فيدخل فيه جميع الطوائف إلا الرافضة. وأما الإطلاق الخاص فهو مقابل المبتدعة، وأهل الأهواء، فلا يدخل فيه سوى أهل الحديث والسنة المحضة الذين يثبتون الصفات لله تعالى، ويقولون: إن القرآن غير مخلوق، وأن الله يُرى في الآخرة، وغير ذلك من الأصول المعروفة عند أهل السنة، وهم مرادي في هذا الكتاب عند إطلاقي لأهل السنة والجماعة، وسموا بأهل السنة لتمسكهم بها، وبالجماعة لأنهم اجتمعوا على الحق وأخذوا به
(2).
ولما كان الخلاف بين متكلمي الأصول في غالبه بين الأشاعرة والمعتزلة، حسن التعريف بهما هنا، على سبيل الإجمال:
فالمعتزلة: سموا بذلك لاعتزالهم أقوال المسلمين في مرتكب الكبيرة، حيث قالوا: إنه في منزلة بين المنزلتين، فلا هو مؤمن ولا هو كافر، وقيل غير ذلك،
--------------------------------------------
গুণাবলির (الصفات) ক্ষেত্রে তারা মুতাজিলাদের (المعتزلة) বিপরীত, যারা সকল গুণাবলিকে (الصفات) অস্বীকার করে; ফলে তারা খাঁটি জাহমিয়া (جهمية)। এ কারণেই প্রত্যেক মুতাজিলা (معتزلي) একজন জাহমি (جهمي), কিন্তু প্রত্যেক জাহমি (جهمي) মুতাজিলা (معتزلي) নয়
(১)।
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে জানা যায় যে, একটি নির্দিষ্ট ফেরকার উদ্ভাবন বা বিদআত (بدعة) কোনো একটি বিষয়ে হতে পারে, অন্য বিষয়ে নয়। আবার তাদের মধ্যে বিদ্যমান বিদআতের (بدعة) কারণে তাদেরকে একাধিক উপাধিতেও অভিহিত করা হতে পারে। যেমন বলা হয়: মুরজিয়া-কাদারিয়া (المرجئة القدرية), অথবা কাদারিয়া-মুতাজিলা (القدرية المعتزلة)। আবার তাকদির বা ভাগ্যের (القدر) ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত বিশ্বাসের কারণে জাবরিয়াদেরকেও (الجبرية) কাদারিয়া (قدرية) বলা হয়ে থাকে।
এই দলগুলো সম্পর্কে একটি সাধারণ অধ্যয়ন এবং এক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মধ্যপন্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা আবশ্যক। আল্লাহ চাহেন তো, এই গ্রন্থে এসব বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিবরণ সামনে আসবে।
চতুর্থ বিষয়: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত পরিভাষাটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: সাধারণ অর্থ এবং বিশেষ অর্থ। সাধারণ অর্থে এটি শিয়াদের (الشيعة) বিপরীতে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রাফেজি (الرافضة) ব্যতীত সকল দল অন্তর্ভুক্ত। আর বিশেষ অর্থে এটি বিদআতি (المبتدعة) ও প্রবৃত্তি পূজারিদের (أهل الأهواء) বিপরীতে ব্যবহৃত হয়; এমতাবস্থায় এর মধ্যে কেবল আহলুল হাদিস (أهل الحديث) ও খাঁটি সুন্নাহর অনুসারীরাই অন্তর্ভুক্ত যারা মহান আল্লাহর গুণাবলি (الصفات) সাব্যস্ত করেন এবং বিশ্বাস করেন যে কুরআন সৃষ্ট নয়, পরকালে আল্লাহকে দেখা যাবে—এবং আহলুস সুন্নাহর নিকট পরিচিত অন্যান্য মূলনীতিসমূহও (الأصول) তারা পোষণ করেন। এই গ্রন্থে আমার ব্যবহৃত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত পরিভাষা দ্বারা তারাই উদ্দেশ্য। সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার কারণে তাদেরকে আহলুস সুন্নাহ এবং হকের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ও তা গ্রহণ করার কারণে তাদেরকে আহলুল জামাআত বলা হয়
(২)।
যেহেতু মূলনীতিবিদদের (متكلمي الأصول) মধ্যে অধিকাংশ মতপার্থক্য আশআরি (الأشاعرة) ও মুতাজিলাদের (المعتزلة) মাঝে হয়ে থাকে, তাই এখানে সংক্ষেপে তাদের উভয়ের পরিচয় প্রদান করা সমীচীন হবে:
মুতাজিলা (المعتزلة): কবিরা গুনাহগার ব্যক্তি সম্পর্কে মুসলমানদের মতামত থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণে তাদেরকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে; কেননা তারা বলেছিল যে: সে দুই অবস্থানের মাঝামাঝি এক অবস্থানে (منزلة بين المنزلتين) রয়েছে; সে মুমিন (مؤمن) নয় আবার কাফিরও (كافر) নয়। এ সম্পর্কে আরও অন্যান্য কথা বলা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وزعيمهم هو واصل بن عطاء. ومذهبهم يقوم على نفي الصفات عن الله تعالى، ونفي القدر في معاصي العباد، إضافة خلقها إلى فاعليها، وأن القرآن مخلوق، وهم فرق كثيرة، منهم الجبائية والنظامية وغيرها. ولهم أصول خمسة هي: 1 - التوحيد، 2 - العدل، 3 - المنزلة بين المنزلتين، 4 - الوعد والوعيد، 5 - الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر
(1).
أما الأشاعرة فهم: منسوبون إلى أبي الحسن الأشعري، يقولون بإثبات سبع صفات فقط لله على اختلاف بينهم في إثباتها بين المتقدمين والمتأخرين، لأن العقل كما يزعمون دل على إثباتها وهي: السمع، والبصر، والعلم، والكلام، والقدرة، والإرادة، والحياة. وقالوا: إن كلام الله هو المعنى القائم بالذات ويستحيل أن يفارقه، والحروف دلالات على الكلام الأزلي، وعندهم أن الإيمان هو التصديق بالقلب. والعمل والإقرار من فروع الإيمان لا من أصله، وقد رجع أبو الحسن الأشعري عن قوله في الأسماء والصفات إلى مذهب أهل السنة والجماعة
(2).
الأمر الخامس: لا يلزم في كل مسألة ذكر المذاهب كلها؛ لأن الأثر العقدي قد لا يكون مؤثرًا في المسألة الأصوليَّة عند أصحاب المعتقد الآخر، أو أن المسألة الأصوليَّة متأثرة عندهم بأصول أخرى، والنظر كان إليها عند تأصيل الأصل؛ إذ إن بناء الأصول الفقهية يكون بالأصل العقدي أو بغيره، بل قد يكون مخرَّجًا من الفروع.
الأمر السادس: أثر العقيدة على مسائل أصول الفقه لا يُنكر، وقد ذكر شيخ الإسلام ابن تيمية أنَّ المتكلمين: «صنفوا في أصول الفقه - وهو علم مشترك بين
--------------------------------------------
এবং তাদের নেতা হলেন ওয়াসিল ইবনে আতা। তাদের মতবাদ আল্লাহ তাআলার গুণাবলি অস্বীকার (نفي الصفات), বান্দার পাপাচারের ক্ষেত্রে তাকদির অস্বীকার (نفي القدر) এবং কর্মের সৃষ্টিকে তার সম্পাদনকারীর সাথে সম্পর্কিত করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এছাড়া কুরআনকে তারা সৃষ্ট (مخلوق) বলে গণ্য করে। তারা অনেকগুলো উপদলে বিভক্ত, যার মধ্যে জুব্বায়িয়া, নাজ্জামিয়া ও অন্যান্য দল অন্তর্ভুক্ত। তাদের পাঁচটি মূলনীতি (الأصول الخمسة) রয়েছে, সেগুলো হলো: ১ - তাওহিদ (التوحيد), ২ - ন্যায়বিচার (العدل), ৩ - দুই অবস্থানের মাঝামাঝি এক অবস্থান (المنزلة بين المنزلتين), ৪ - প্রতিশ্রুতি ও ধমক (الوعد والوعيد), ৫ - সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر)
(১)।
আর আশায়েরা হলো: তারা আবুল হাসান আল-আশআরির অনুসারী। তারা আল্লাহর জন্য মাত্র সাতটি গুণ সাব্যস্তকরণ (إثبات الصفات)-এর কথা বলে, যদিও এই সাব্যস্তকরণের বিষয়ে তাদের পূর্বসূরি (المتقدمون) ও উত্তরসূরিদের (المتأخرون) মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এর কারণ হলো—তাদের দাবি অনুযায়ী—বিবেক-বুদ্ধি (العقل) এগুলো সাব্যস্ত করার প্রমাণ দেয়। গুণগুলো হলো: শ্রবণ, দর্শন, জ্ঞান, কালাম (কথা), ক্ষমতা, ইচ্ছা ও জীবন। তারা বলে: আল্লাহর কালাম হলো সত্তাগত অর্থ (المعنى القائم بالذات) যা তাঁর সত্তা থেকে পৃথক হওয়া অসম্ভব। আর অক্ষরসমূহ হলো এই চিরন্তন কালাম (الكلام الأزلي)-এর নির্দেশক মাত্র। তাদের মতে ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাস (التصديق بالقلব)। আমল ও মৌখিক স্বীকৃতি (الإقرار) হলো ঈমানের শাখা (الفروع), তার মূল (الأصل) নয়। তবে আবুল হাসান আল-আশআরি পরবর্তীতে নাম ও গুণাবলি (الأسماء والصفات) সংক্রান্ত তাঁর এই মত থেকে সরে এসে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মতাদর্শে ফিরে এসেছিলেন
(২)।
পঞ্চম বিষয়: প্রতিটি মাসয়ালায় (مسألة) সকল মতবাদ উল্লেখ করা জরুরি নয়; কারণ অন্য কোনো আকিদাহ পোষণকারীদের নিকট আকিদাগত প্রভাব (الأثر العقدي) হয়তো উসুলি মাসয়ালার (المسألة الأصوليَّة) ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী নয়। অথবা উসুলি মাসয়ালাটি তাদের নিকট অন্যান্য মূলনীতির (أصول) দ্বারা প্রভাবিত, এবং সেই মূলনীতিটি নির্ধারণের (تأصيل الأصل) সময় সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। যেহেতু ফিকহী মূলনীতিসমূহের (الأصول الفقهية) ভিত্তি আকিদাগত মূলনীতির ওপর হতে পারে অথবা অন্য কিছুর ওপরও হতে পারে, বরং কখনও কখনও তা শাখা-প্রশাখা হতে উদ্ভূত (مخرَّج من الفروع) হতে পারে।
ষষ্ঠ বিষয়: উসুলুল ফিকহের মাসয়ালাসমূহের ওপর আকিদাহর প্রভাব অনস্বীকার্য। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া উল্লেখ করেছেন যে, ইলমে কালামবিদগণ (المتكلمون): «উসুলুল ফিকহ সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন—আর এটি এমন একটি জ্ঞান যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব রাখে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفقهاء والمتكلمين - فبنوه على أصولهم الفاسدة»
(1).
وقال رحمه الله: «وكذلك أهل المذاهب الأربعة وغيرها، لاسيما وكثير منهم قد تلبس ببعض المقالات الأصوليَّة، وخلط بهذا، فالحنبلي والشافعي والمالكي يخلط بمذهب مالك والشافعي وأحمد شيئًا من أصول الأشعريَّة والسالميَّة وغير ذلك، ويضيفه إلى مذهب مالك والشافعي وأحمد، وكذلك الحنفي يخلط بمذهب أبي حنيفة شيئًا من أصول المعتزلة والكرَّاميَّة والكلابيَّة، ويضيفه إلى مذهب أبي حنيفة»
(2).
ولكن أثر هذه الأصول الفقهية - المتأثرة بالعقيدة - على الفروع الفقهية ضعيف جدًا؛ إذ إن للفقهاء مآخذ ومدارك أخرى مؤثرة في الأصل وفي الفرع، غير الأصل العقدي - كما سبق الإشارة إليه - ويكون البناء في الغالب عليها، أو أنَّ التنظير في كتب العقيدة يخالف التأصيل في كتب أصول الفقه، فتقع بعض الفِرق في التناقض، كما وقع للأشاعرة في مسائل التعليل، والكلام النفسي.
وفي هذا قال شيخ الإسلام عنهم: «والغالب عليهم عند الكلام في الفقه وغيره التعليل، وأما في الأصول: فمنهم من يصرح بالتعليل ومنهم من يأباه»
(3).
وقال الزركشي الأشعري عن مذهب التحسين والتقبيح العقليين إنه: «المنصور لقوته من حيث النظر وآيات القرآن المجيد وسلامته من التناقض، وإليه إشارات متأخري الأصوليين والكلاميين فليتفطن له»
(4)، فخالف أصل الأشاعرة
--------------------------------------------
ফকিহগণ এবং ইলমে কালামবিদগণ - ফলে তারা একে তাদের ভ্রান্ত মূলনীতির (أصول) ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছে»
(১)।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: «একইভাবে চার মাজহাবের অনুসারীগণ এবং অন্যান্যরা; বিশেষ করে তাদের মধ্যে অনেকেই উসুল বা মূলনীতি সংক্রান্ত (أصولية) কিছু মতবাদের সাথে জড়িয়ে গেছেন এবং এর সাথে মিশ্রণ ঘটিয়েছেন। ফলে হাম্বলি, শাফেয়ী ও মালিকিরা ইমাম মালিক, শাফেয়ী ও আহমদের মাজহাবের সাথে আশআরিয়া ও সালমিয়াহ এবং অন্যান্যদের কিছু মূলনীতি (أصول) মিশ্রিত করে ফেলেন এবং তা ইমাম মালিক, শাফেয়ী ও আহমদের মাজহাবের অন্তর্ভুক্ত বলে চালিয়ে দেন। একইভাবে হানাফিরা ইমাম আবু হানিফার মাজহাবের সাথে মুতাজিলা, কাররামিয়া ও কুল্লাবিয়াদের কিছু মূলনীতি (أصول) মিশ্রিত করেন এবং তা ইমাম আবু হানিফার মাজহাবের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেন»
(২)।
তবে আকিদা দ্বারা প্রভাবিত এই ফিকহি মূলনীতিগুলোর (أصول) প্রভাব মাসআলাগত বা শাখাগত বিষয়ের ওপর অত্যন্ত দুর্বল; কেননা ফকিহদের নিকট মূল এবং শাখাগত মাসআলার ক্ষেত্রে আকিদাগত মূলনীতি ছাড়াও অন্যান্য উৎস ও উপলব্ধি রয়েছে - যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে - এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাসআলাগুলোর ভিত্তি সেগুলোর ওপরই হয়ে থাকে। অথবা আকিদার কিতাবসমূহের তাত্ত্বিক আলোচনা অনেক সময় উসুলুল ফিকহের কিতাবসমূহের মূলনীতির (تأصيل) বিপরীত হয়ে থাকে, ফলে কিছু ফিরকা বা দল বৈপরীত্যের শিকার হয়; যেমনটি আশআরিদের ক্ষেত্রে ঘটেছে কারণ দর্শানো (تعليل) এবং কালামে নাফসি (অভ্যন্তরীণ বাণী) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে।
এ প্রসঙ্গে শাইখুল ইসলাম তাদের সম্পর্কে বলেন: «ফিকহ এবং অন্যান্য বিষয়ে আলোচনার সময় তাদের ওপর কারণ দর্শানোর (تعليل) প্রবণতা প্রবল থাকে। তবে মূলনীতির (أصول) ক্ষেত্রে: তাদের কেউ কেউ কারণ দর্শানোকে স্পষ্টত স্বীকার করেন, আবার কেউ কেউ তা অস্বীকার করেন»
(৩)।
আশআরি মতাবলম্বী আল-জারকাশি বুদ্ধিভিত্তিক ভালো-মন্দের (তাহসিন ও তাকবিহ আকলি) মাজহাব সম্পর্কে বলেন যে এটিই: «যুক্তি এবং আল-কুরআনের আয়াতের নিরিখে শক্তিশালী হওয়ার কারণে বিজয়ী এবং এটি বৈপরীত্য থেকে মুক্ত। পরবর্তী যুগের উসুলবিদ (أصوليين) এবং কালামবিদদের (كلاميين) ইঙ্গিতও এর দিকেই, সুতরাং বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা উচিত»
(৪); এভাবে তিনি আশআরিদের মূলনীতির (أصل) বিরোধিতা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لما يترتب عليه من التناقض.
ومما يؤكد عدم تأثر الفروع بالأصول الكلامية، أن الفقه كان قبل أن تظهر هذه الفرق الكلامية، بل كان أئمة المذاهب كالشافعي وأحمد يذمون الخوض فيما خاض فيه المتكلمون.
ثمَّ إني أسميت الكتاب ب (المعتقد وأثره على مسائل أصول الفقه)، أسأل الله الكريم بمنه وكرمه أن ينفع به.
•
خطة البحث:يقسم الكتاب خمسة فصول.
الفصل الأول: المسائل المتعلقة بالتوحيد
(1)، وتحته سبعة مباحث:
* المبحث الأول: أول واجب على المكلف: الشهادتان.
* المبحث الثاني: طريق ثبوت وجوب النظر.
* المبحث الثالث: تحقق لحوق الوعيد وحكم الخلف فيه.
* المبحث الرابع: التحسين والتقبيح العقليان.
* المبحث الخامس: رعاية الأصلح.
* المبحث السادس: تكليف ما لا يطاق.
* المبحث السابع: التصويب والتخطئة.
الفصل الثاني: المسائل المتعلقة ب بالأسماء والصفات، وتحته ستة مباحث:
* المبحث الأول: الاسم للمسمى.
* المبحث الثاني: حكم إطلاق الأسماء الحسنى بلا توقيف.
* المبحث الثالث: صفة الكلام.
--------------------------------------------
যেহেতু এর ফলে বৈপরীত্য সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।
শাখা-প্রশাখাগুলো (ফুরু) যে কালাম শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ (الأصول الكلامية) দ্বারা প্রভাবিত নয়, তার একটি জোরালো প্রমাণ হলো এই যে, এই কালামি ফিরকাগুলো আত্মপ্রকাশ করার আগেই ফিকহ শাস্ত্রের অস্তিত্ব ছিল; বরং মাজহাবের ইমামগণ, যেমন ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমদ, কালাম শাস্ত্রবিদগণ (المتكلمون) যে সকল বিষয়ে লিপ্ত হতেন সেগুলোর নিন্দা জানাতেন।
অতঃপর আমি কিতাবটির নামকরণ করেছি ‘আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুল আল-ফিকহ’ (বিশ্বাস এবং উসুল আল-ফিকহের মাসআলাসমূহের ওপর এর প্রভাব), আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর দ্বারা উপকার সাধন করেন।
•
গবেষণার রূপরেখা:কিতাবটি পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহিদ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ
(১), এর অধীনে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
* প্রথম অনুচ্ছেদ: মুকাল্লাফের (শরয়ি বিধান পালনে আদিষ্ট ব্যক্তি) ওপর প্রথম ওয়াজিব (واجب): শাহাদাতাইন (কালেমা শাহাদাত)।
* দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: চিন্তা-গবেষণা (النظر) ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ সাব্যস্তের পদ্ধতি।
* তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পরকালীন শাস্তির ঘোষণা কার্যকর হওয়া এবং এর ব্যতিক্রম হওয়ার বিধান।
* চতুর্থ অনুচ্ছেদ: বুদ্ধিভিত্তিক ভালো ও মন্দ নির্ধারণ (التحسين والتقبيح العقليان)।
* পঞ্চম অনুচ্ছেদ: বান্দার জন্য অধিকতর কল্যাণকর বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা (رعاية الأصلح)।
* ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: সাধ্যাতীত বিষয়ের ওপর দায়িত্ব অর্পণ (تكليف ما لا يطاق)।
* সপ্তম অনুচ্ছেদ: সঠিক নির্ধারণ (التصويب) ও ভুল নির্ধারণ (التخطئة)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলি) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ, এর অধীনে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
* প্রথম অনুচ্ছেদ: নাম কি সত্তারই নাম (الاسم للمسمى)।
* দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শরয়ি দলিলের ওপর নির্ভরতা (توقيف) ব্যতীত আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ প্রয়োগের বিধান।
* তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কথা বলার গুণ (صفة الكلام)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
* المبحث الرابع: صفة الإرادة.
* المبحث الخامس: الحكمة في أفعال الله وشرعه.
* المبحث السادس: بقاء الأعراض.
الفصل الثالث: المسائل المتعلقة بالقدر، وتحته: مسألة: قدرة العبد.
الفصل الرابع: المسائل المتعلقة بالنبوات، وتحته خمسة مباحث:
* المبحث الأول: العصمة، وتحته مطلبان:
* المطلب الأول: عصمة الأنبياء قبل النبوة.
* المطلب الثاني: عصمة الأنبياء بعد النبوة.
* المبحث الثاني: حقيقة المعجزة ومسائلها.
* المبحث الثالث: نسخ هذه الشريعة لما قبلها من الشرائع.
* المبحث الرابع: وضع عيسى عليه السلام الجزية بعد نزوله لا ينافي ثبوت أحكام الشريعة الخاتمة.
* المبحث الخامس: إمامة علي بن أبي طالب رضي الله عنه.
الفصل الخامس: المسائل المتعلقة بالاستدلال والتلقي، وتحته أربعة مباحث الآتية:
* المبحث الأول: عدالة الصحابة.
* المبحث الثاني: الإلهام.
* المبحث الثالث: فهم الأدلة بحسب المعنى المراد والاستعمال.
* المبحث الرابع: حقيقة الإيمان.
* চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ইচ্ছা (إرادة) গুণ।
* পঞ্চম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর কর্ম ও তাঁর শরীয়তে নিহিত প্রজ্ঞা (حكمة)।
* ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: ক্ষণস্থায়ী গুণাবলির (أعراض) স্থায়িত্ব।
তৃতীয় অধ্যায়: তাকদীর (قدر) সংক্রান্ত বিষয়াবলি, এবং এর অধীনে রয়েছে: মাসআলা: বান্দার সক্ষমতা (قدرة)।
চতুর্থ অধ্যায়: নবুওয়াত (نبوات) সংক্রান্ত বিষয়াবলি, এর অধীনে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
* প্রথম অনুচ্ছেদ: নিষ্পাপতা (عصمة), এর অধীনে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
* প্রথম পরিচ্ছেদ: নবুওয়াত লাভের পূর্বে নবীদের নিষ্পাপতা (عصمة)।
* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবুওয়াত লাভের পরে নবীদের নিষ্পাপতা (عصمة)।
* দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুজিজার (معجزة) স্বরূপ ও এর মাসআলাসমূহ।
* তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এই শরীয়ত দ্বারা পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহের রহিতকরণ (نسخ)।
* চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ঈসা (আলাইহিস সালাম) অবতরণের পর জিজিয়া (جزية) রহিত করা শেষ শরীয়তের বিধানসমূহ সাব্যস্ত হওয়ার পরিপন্থী নয়।
* পঞ্চম অনুচ্ছেদ: আলী ইবনে আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইমামত (إمامة)।
পঞ্চম অধ্যায়: দলীল গ্রহণ (استدلال) ও জ্ঞান আহরণ (تلقي) সংক্রান্ত বিষয়াবলি, এর অধীনে নিম্নোক্ত চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
* প্রথম অনুচ্ছেদ: সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)।
* দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইলহাম (إلهام)।
* তৃতীয় অনুচ্ছেদ: উদ্দিষ্ট অর্থ ও প্রয়োগ অনুযায়ী দলীলসমূহ (أدلة) অনুধাবন।
* চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ঈমানের (إيمان) প্রকৃত স্বরূপ।
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الأول المسائل المتعلقة بالتوحيد
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহিদ সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الأول أول واجب على المكلف: الشهادتانأدخل الكلام عن الواجب الأول على المكلف في علم أصول الفقه في موضعين:
الموضع الأول
(1): لما تكلموا عن موضوع أصول الفقه - وهو الدليل الشرعي - فاستطردوا في ذكر معنى الدليل، إلى أن تكلموا عن النظر وإفادته العلمَ، ومنه النظر المُعَرِّف لوجود الله تعالى، الذي عند أكثر المتكلمين الأصوليين أول واجب على المكلف.
وأما الموضع الثاني
(2): فلما تكلموا عن الاجتهاد والتقليد، فرَّعوا الكلام عن التقليد في أصول الدين، ومنه معرفة وجود الله.
ومذهب أهل السنة والجماعة هو أن أول واجب: شهادة ألا إله إلا الله، وأن محمدًا رسول الله صلى الله عليه وسلم
(3).
ومن الأدلة على ذلك: قول النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل رضي الله عنه لما بعثه إلى اليمن:
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ। মুকাল্লাফ (المكلف)-এর উপর প্রথম ওয়াজিব (واجب): শাহাদাতাইন (الشهادتان)উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রে মুকাল্লাফ (المكلف)-এর উপর প্রথম ওয়াজিব (واجب) সংক্রান্ত আলোচনাটি দুটি স্থানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
প্রথম স্থান
(১): যখন তাঁরা উসুল আল-ফিকহ-এর আলোচ্য বিষয়—অর্থাৎ শরয়ী দলীল (الدليل الشرعي)—সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তখন তাঁরা প্রসঙ্গক্রমে দলীলের অর্থ উল্লেখ করতে গিয়ে নাযার (النظر) এবং এর মাধ্যমে ইলম (العلم) বা জ্ঞান অর্জনের বিষয় পর্যন্ত আলোচনা করেছেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে পরিচয় প্রদানকারী নাযার (النظر), যা অধিকাংশ মুতাকাল্লিম উসুলবিদদের মতে মুকাল্লাফ (المكلف)-এর উপর প্রথম ওয়াজিব (واجب)।
আর দ্বিতীয় স্থান
(২): যখন তাঁরা ইজতিহাদ (الاجتهاد) ও তাকলিদ (التقليد) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তখন তাঁরা উসুল আদ-দীন-এর ক্ষেত্রে তাকলিদ (التقليد) সংক্রান্ত আলোচনাকে এর একটি শাখা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যার অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব (المذهب) হলো, প্রথম ওয়াজিব (واجب) হলো: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল
(৩)।
এর স্বপক্ষে দলীলসমূহের (الأدلة) মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুআয ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামানে পাঠিয়েছিলেন, তখন তাঁকে দেওয়া তাঁর বাণী:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(فليكن أول ما تدعوهم إليه شهادة ألا إله إلا الله وأني رسول الله)
(1).
وهو نص في أن الشهادتين أول واجب على المكلف.
وقال ابن القيم: «أجمع المسلمون على أن الكافر إذا قال: لا إله إلا الله محمد رسول الله فقد دخل في الإسلام»
(2). وهذا يدل على أن ذلك أول الواجبات.
وذهب المتكلمون إلى أن أول واجب هو: المعرفة، وقيل: النظر، وقيل: القصد، وقيل: الشك.
وقيل: إن المعرفة واجبة قصدًا، والنظر واجب لكونه وسيلة قريبة إلى المعرفة، والقصد إلى النظر واجب لأنه وسيلة أبعد إلى المعرفة
(3)، ويعدُّ هذا قولًا، والقول الآخر هو أن أول واجب هو الشك.
وقد اتفقوا على أن معرفة الله غير ضرورية، ولذلك فهم كلهم قد أوجبوا النظر، على خلاف بينهم في المراد بالوجوب والنظر، وذكروا أن مقابل النظر هو التقليد.
كما أنهم اتفقوا على أن الإيمان بالله ورسوله يعد الواجب الثاني
(4).
--------------------------------------------
(তুমি তাদের সর্বপ্রথম যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানাবে, তা যেন হয় এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল)
(1)।
এটি একটি সুস্পষ্ট পাঠ যে, শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী) মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি)-এর ওপর সর্বপ্রথম ওয়াজিব।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: «মুসলিমগণ এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, কোনো কাফির যখন বলে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ', তখন সে ইসলামে প্রবেশ করে»
(2)। এটি প্রমাণ করে যে, তা-ই হলো প্রথম ওয়াজিব।
তাত্ত্বিকগণ (মুতাকাল্লিমুন) মনে করেন যে প্রথম ওয়াজিব হলো: পরিচয় বা জ্ঞান (মারিফাহ), কেউ বলেছেন: পর্যবেক্ষণ (নাযার), কেউ বলেছেন: সংকল্প (কাসদ), আবার কেউ বলেছেন: সন্দেহ (শাক)।
বলা হয়েছে যে: জ্ঞান উদ্দেশ্যগতভাবে ওয়াজিব, এবং পর্যবেক্ষণ ওয়াজিব কারণ এটি জ্ঞানের নিকটবর্তী মাধ্যম, আর পর্যবেক্ষণের সংকল্প ওয়াজিব কারণ এটি জ্ঞানের দূরবর্তী মাধ্যম
(3); এটি একটি অভিমত হিসেবে গণ্য, আর অন্য অভিমতটি হলো—প্রথম ওয়াজিব হলো সন্দেহ।
তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আল্লাহর পরিচয় লাভ করা আবশ্যকীয় (জরুরি) নয়, তাই তারা সবাই পর্যবেক্ষণকে ওয়াজিব করেছেন; যদিও ওয়াজিব ও পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, এবং তারা উল্লেখ করেছেন যে পর্যবেক্ষণের বিপরীত হলো অন্ধ অনুসরণ (তাকলিদ)।
তদ্রূপ তারা একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন দ্বিতীয় ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হয়
(4)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الثاني طريق ثبوت وجوب النظرعندما تحدث الأصوليون عن مسألة: أول واجب على المكلف، استطردوا في مسألة طريق ثبوت وجوب النظر.
وحكى بعض علماء أصول الفقه قولين في المسألة، فنقلوا عن الجمهور أن وجوب النظر ثابت بالشرع لا بالعقل، ونقلوا عن المعتزلة عكس هذا، فقالوا: إن النظر ثابت وجوبه بالعقل لا بالشرع
(1).
وبنوا المسألة على مسألة التحسين والتقبيح، وخلاصته: أن قول المعتزلة بحسن دفع الضرر المتوقع من ترك النظر: صحيح، ولا يصح قولهم: إن ذلك دليل على الوجوب، وإنما هو دليل على حسنه، والحسن ليس محصورًا في الواجب، إذ يجوز أن يكون مستحبًا.
وأن قول الأشاعرة بأن الوجوب بالشرع لا بالعقل: صحيح، ولكن لا يصح قولهم بمنع تحسين العقل لدفع الضرر المتوقع من ترك النظر.
وكلا الطائفتين أغفلت فطرية المعرفة في حق عامة المكلفين إلا من تغيرت فطرهم.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পর্যবেক্ষণ বা চিন্তা-গবেষণার আবশ্যকতা সাব্যস্ত হওয়ার পদ্ধতিউসুলবিদগণ (الأصوليون) যখন 'শরয়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির (المكلف) ওপর প্রথম ওয়াজিব কোনটি'—এই মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন, তখন তারা প্রাসঙ্গিকভাবে 'পর্যবেক্ষণ বা চিন্তা-গবেষণার (النظر) আবশ্যকতা সাব্যস্ত হওয়ার পদ্ধতি' সংক্রান্ত মাসআলাটি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
উসুলুল ফিকহের কোনো কোনো আলেম এই মাসআলায় দুটি অভিমত উল্লেখ করেছেন। তারা জমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাগুরু ওলামায়ে কেরাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, চিন্তা-গবেষণার আবশ্যকতা শরিয়ত (الشرع) দ্বারা সাব্যস্ত, বিবেক (العقل) দ্বারা নয়। অন্যদিকে তারা মুতাজিলাদের থেকে এর বিপরীত মতটি বর্ণনা করেছেন; তারা বলেছে: চিন্তা-গবেষণার আবশ্যকতা বিবেক (العقل) দ্বারা সাব্যস্ত, শরিয়ত (الشرع) দ্বারা নয়
(১)।
তারা এই মাসআলাটিকে 'ভালো-মন্দ নির্ধারণ' (التحسين والتقبيح) সংক্রান্ত মাসআলার ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন। এর সারকথা হলো: চিন্তা-গবেষণা বর্জন করার ফলে যে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে তা দূর করা উত্তম—মুতাজিলাদের এই কথাটি সঠিক। তবে তাদের এই দাবি সঠিক নয় যে, এটি ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার দলিল; বরং এটি কেবল তা উত্তম (الحسن) হওয়ার দলিল। আর উত্তম বিষয়টি কেবল ওয়াজিবের (الواجب) মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, কারণ এটি মুস্তাহাব (مستحب) হওয়াও সম্ভব।
আর আশআরিদের এই কথাটি সঠিক যে, আবশ্যকতা শরিয়ত (الشرع) দ্বারা সাব্যস্ত হয়, বিবেক (العقل) দ্বারা নয়। তবে চিন্তা-গবেষণা বর্জনের ফলে সম্ভাব্য ক্ষতি দূর করাকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উত্তম গণ্য করার ক্ষেত্রে তাদের যে অস্বীকৃতি রয়েছে, তা সঠিক নয়।
উভয় দলই সাধারণ শরয়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের (المكلفين) ক্ষেত্রে জ্ঞানের সহজাত বা ফিতরি (فطرية) হওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করেছে, তবে তাদের কথা ভিন্ন যাদের ফিতরাত (فطر) পরিবর্তিত হয়ে গেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الثالثتحقق لحوق الوعيد وحكم الخلف فيههذه المسألة تكلم الأصوليون عنها في ضمن بحثهم عن العموم، فحكوا عن الأشعري القول بالوقف في صيغ العموم.
قال الزركشي: «ومأخذ قول الوقف من أصله أن الأشعري لما تكلم مع المعتزلة في عمومات الوعيد الواردة في الكتاب والسنة، كقوله: {وَإِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٍ} [الانفطار: 14] وقوله: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا} [الجن: 23] ونحوه، ومع المرجئة في عموم الوعد، نفى أن تكون هذه الصيغ موضوعة للعموم، وتوقف فيها، وتبعه جمهور أصحابه»
(1).
وقد نسب الوقف في عموم الأخبار للإمام أبي حنيفة، ولكن نفى الجصاص أن يكون مذهبه
(2).
ونسب الوقف كذلك للإمام الشافعي، وليس بصحيح، قال أبو الحسين بن القطان: «شذت طائفة من أصحابنا فنسبت هذا القول للشافعي، لأشياء يتعلق بها كلامه، لأنه قال في مواضع من الآي: يحتمل الخصوص، ويحتمل العموم، ولم يرد الشافعي ما ذهبوا إليه، إنما احتمل عنده أن ترد دلالة تنقله عن ظاهره من العموم إلى الخصوص، لا أنه حقه الاحتمال»
(3).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদশাস্তির ঘোষণা (الوعيد) কার্যকর হওয়া নিশ্চিতকরণ এবং তাতে ব্যতিক্রম ঘটার বিধানএই বিষয়টি নিয়ে উসুলবিদগণ (الأصوليون) ব্যাপকতা (العموم) বিষয়ক আলোচনার অধীনে কথা বলেছেন। তাঁরা ইমাম আশআরী থেকে ব্যাপকতাবোধক শব্দাবলীর (صيغ العموم) ক্ষেত্রে বিরতি বা সিদ্ধান্তহীনতা (الوقف) অবলম্বনের মতটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম যারকাশী বলেন: «ওয়াকফ বা সিদ্ধান্তহীনতার (الوقف) মতটির ভিত্তি মূলত তাঁর এই নীতি থেকে এসেছে যে, ইমাম আশআরী যখন কিতাব ও সুন্নাহয় বর্ণিত শাস্তির ব্যাপকতা (عمومات الوعيد) সংক্রান্ত ভাষ্যগুলো নিয়ে মুতাজিলাদের সাথে আলোচনা করেছিলেন—যেমন আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই পাপাচারীরা থাকবে জাহান্নামে} [সূরা আল-ইনফিতার: ১৪] এবং তাঁর বাণী: {এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে} [সূরা আল-জিন: ২৩] ও এই জাতীয় অন্যান্য আয়াত—এবং যখন তিনি পুরস্কারের ব্যাপকতা (عموم الوعد) নিয়ে মুরজিয়াদের সাথে আলোচনা করেন, তখন তিনি এই শব্দগুলো ব্যাপকতা (العموم) বুঝানোর জন্য নির্ধারিত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতা (الوقف) অবলম্বন করেন। তাঁর অনুসারীদের অধিকাংশও তাঁর অনুকরণ করেছেন»
(১)।
বর্ণনাসমূহের ব্যাপকতার (عموم الأخبار) ক্ষেত্রে বিরতি বা সিদ্ধান্তহীনতার (الوقف) এই মতটি ইমাম আবু হানিফার প্রতিও নিসবত করা হয়েছে, তবে ইমাম জাসসাস এটি তাঁর মাযহাব হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন
(২)।
অনুরূপভাবে বিরতি বা সিদ্ধান্তহীনতার (الوقف) এই মতটি ইমাম শাফেয়ীর প্রতিও নিসবত করা হয়েছে, তবে তা সঠিক নয়। আবু হুসাইন ইবনুল কাত্তান বলেন: «আমাদের একদল সাথী ইমাম শাফেয়ীর সাথে বিচ্ছিন্নভাবে (شذت) এই মতটিকে যুক্ত করেছেন তাঁর কিছু কথার প্রেক্ষিতে, যেখানে তিনি আয়াতের বিভিন্ন স্থানে বলেছেন: এটি বিশেষায়ন (الخصوص) এবং ব্যাপকতা (العموم) উভয়েরই সম্ভাবনা রাখে। মূলত ইমাম শাফেয়ী তাঁরা যা বুঝেছেন তা উদ্দেশ্য করেননি, বরং তাঁর কাছে উদ্দেশ্য ছিল যে, কোনো দলীল হয়তো আসবে যা একে তার বাহ্যিক ব্যাপকতা (العموم) থেকে সরিয়ে বিশেষায়নের (الخصوص) দিকে নিয়ে যাবে; এমন নয় যে বিষয়টি মৌলিকভাবেই দ্বিধাগ্রস্ত (الاحتمال) হওয়ার উপযুক্ত»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والذي عليه سلف الأمة وجمهور المتأخرين العمل بالعموم، وأن التوقف فيه مذهب متأخر نشأ في القرن الرابع الهجري، ولم يأخذ به إلا قليل من أهل العلم
(1).
وسر المسألة أن الوعيدية احتجوا بآيات الوعيد المتعلقة بعصاة الموحدين، فأوجبوا لهم دخول النار قطعًا إن لم يتوبوا، وقد يبالغون أكثر من هذا فيحملون النصوص الواردة في شأن الكفار على العصاة الموحدين بدعوى العموم، كقول الله تعالى: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا} [الجن: 23].
وقابل هؤلاء المرجئة، فحملوا كل ما ورد من بشارات لأهل الإيمان والتوحيد على كل من آمن ولو كان فاسقًا معه من السيئات ما يستوجب دخول النار، كقول الله تعالى: {مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِنْهَا وَهُمْ مِنْ فَزَعٍ يَوْمَئِذٍ آمِنُونَ} [النمل: 89].
والتحقيق هو الجمع بين النصوص الواردة في الوعد والوعيد، وبيان ذلك:
(1) ما ذهب إليه المعتزلة من أن آيات الوعيد في العصاة على عمومها، قلنا: هي كذلك، لكن لا يقطع بها في حق الشخص المعين، لأن لحوق الوعيد مشروط بانتفاء موانع.
(2) وأما القول بالتوقف في نصوص الوعد، بناء على احتجاج المرجئة بها على دخول أصحاب الكبائر الجنة بلا عذاب، فلا وجه له، لأنه قد ثبت بالأدلة المتواترة دخول بعض أهل الإيمان من أهل الذنوب النار وخروجهم منها، إما بالشفاعة، وإما بعد أن يكمل نقاؤهم بالعذاب، فيصيرون حممًا، فيخرجون إلى الجنة، وعندئذ فما ورد من الأدلة في دخول أهل الإيمان الجنة بلا عذاب، إنما هو في حق من كمل إيمانه، أو من شاء الله إدخاله الجنة بلا عذاب وإن كان
--------------------------------------------
উম্মতের পূর্বসূরি (সালাফ) এবং পরবর্তী অধিকাংশ আলেমের (জমহুর) অনুসৃত পথ হলো ব্যাপক অর্থবোধক শব্দের (عموم) ওপর আমল করা। আর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা বা বিরত থাকা (توقف) হলো পরবর্তীকালের একটি মতবাদ যা হিজরি চতুর্থ শতাব্দীতে উদ্ভূত হয়েছে এবং আলেমদের মধ্যে খুব সামান্য লোকই এটি গ্রহণ করেছেন
(১)।
এই মাসআলার মূল রহস্য হলো যে, ‘ওয়াইদিয়া’ (শাস্তির হুমকির প্রবক্তা) দল পাপিষ্ঠ মুমিনদের সাথে সংশ্লিষ্ট শাস্তির আয়াতগুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছে। ফলে তারা তাদের জন্য তওবা না করলে জাহান্নামে প্রবেশ করাকে অকাট্যভাবে অবধারিত করে দিয়েছে। তারা অনেক সময় এ বিষয়ে অতিশয়োক্তি করে এবং কাফেরদের ব্যাপারে অবতীর্ণ নসসমূহকে ব্যাপক অর্থের (عموم) অজুহাতে পাপিষ্ঠ মুমিনদের ওপর প্রয়োগ করে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।" [জিন: ২৩]।
এদের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে মুরজিয়া দল। তারা ঈমানদার ও তাওহীদপন্থীদের জন্য আসা সমস্ত সুসংবাদকে প্রত্যেক মুমিনের ওপর প্রয়োগ করেছে, যদিও সে পাপাচারী হয় এবং তার কাছে এমন গুনাহ থাকে যা জাহান্নামে প্রবেশকে আবশ্যক করে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "যে ব্যক্তি সৎকাজ নিয়ে আসবে, সে তার চেয়েও উত্তম প্রতিদান পাবে এবং তারা সেদিনকার বিভীষিকা থেকে নিরাপদ থাকবে।" [নামল: ৮৯]।
যাচাইকৃত বিশ্লেষণ (تحقيق) হলো প্রতিশ্রুত পুরস্কার (ওয়াদ) এবং শাস্তির হুমকি (ওয়াইদ) সংক্রান্ত নসসমূহের মধ্যে সমন্বয় করা, যার ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
(১) মুতাজিলাদের অভিমত যে, পাপিষ্ঠদের ব্যাপারে শাস্তির আয়াতগুলো তাদের ব্যাপক অর্থের (عموم) ওপর বহাল থাকে—এর উত্তরে আমরা বলি: বিষয়টি তেমনই, তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। কারণ শাস্তির হুমকি কার্যকর হওয়াটা প্রতিবন্ধকতা না থাকার ওপর শর্তযুক্ত।
(২) আর মুরজিয়াদের দলিলের ভিত্তিতে কীরাহ গুনাহগারদের শাস্তি ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশের দাবির প্রেক্ষিতে পুরস্কারের নসগুলোর ক্ষেত্রে বিরত থাকার (توقف) যে কথা বলা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। কারণ মুতাওয়াতির (متواتر) দলিলসমূহের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে, পাপাচারী কিছু মুমিন জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং সেখান থেকে বের হবে; হয় সুপারিশের মাধ্যমে অথবা শাস্তির মাধ্যমে তাদের কলুষতা দূর হওয়ার পর। তারা পুড়ে কয়লা হয়ে যাবে, অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। এমতাবস্থায় ঈমানদারদের বিনা শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশ সংক্রান্ত যেসব দলিল রয়েছে, তা মূলত সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার ঈমান পূর্ণাঙ্গ ছিল অথবা যাকে আল্লাহ শাস্তি ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করাতে চান, যদিও সে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فعل ما يستوجب دخول النار، رحمةً منه وفضلًا وعفوًا.
ومن ههنا يعلم خطأ ما خاض فيه كثير من أهل العلم، من أن خلف الوعيد لا يعد كذبًا، وإنما هو كرم. لأنه لا يوجد خلف أصلًا، وإنما نصوص الوعيد وردت مقيدة، فوجب حمل المطلق على المقيد، فلا خلف ولا كذب.
জাহান্নামে প্রবেশের আবশ্যকতা রাখে এমন কাজ সংঘটিত হওয়ার পর, তাঁর পক্ষ থেকে করুণা, অনুগ্রহ ও ক্ষমা প্রদর্শনের প্রেক্ষিতে (তা ক্ষমা করা হয়)।
আর এখান থেকেই অনেক আলেমদের সেই আলোচনার ভ্রান্তি ফুটে ওঠে, যেখানে তারা মনে করেন যে, শাস্তির হুমকির বরখেলাপ করা মিথ্যা (كذب) হিসেবে গণ্য হয় না, বরং তা নিছক মহানুভবতা। কেননা প্রকৃতপক্ষে এখানে কোনো বরখেলাপ নেই, বরং শাস্তির হুমকি সংক্রান্ত টেক্সটসমূহ শর্তযুক্ত (مقيد) অবস্থায় বর্ণিত হয়েছে। এমতাবস্থায় শর্তহীন (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (مقيد) বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক; সুতরাং সেখানে কোনো বরখেলাপ কিংবা মিথ্যা (كذب) সাব্যস্ত হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الرابعالتحسين والتقبيح العقليانذهب أهل السنة والجماعة: إلى أن الأفعال منشأ للمصلحة والمفسدة، إما لذاتها، وإما لاعتبارات، وإما لوصفها، وقد يستقل العقل بدرك بعض تلك الصفات، أي يعلم حسنها وقبحها، كحسن الإيمان بالله والعدل والصدق، وكقبح الكفر والظلم، وقد لا يستقل بذلك، ولا يعرفه مفصلًا في كل فعل بعينه إلا بخطاب الشرع، وما يعلم العقل حسنه أو قبحه لا يترتب على تركه أو فعله عقاب حتى يرد بذلك الشرع.
وعبَّر الزركشي الأشعري عن هذا المذهب بأنه: «المنصور لقوته من حيث النظر وآيات القرآن المجيد وسلامته من التناقض، وإليه إشارات متأخري الأصوليين والكلاميين فليتفطن له»
(1).
ومن الأدلة الصحيحة التي يمكن التعويل عليها في إثبات الحسن والقبح العقليين: دليل الفطرة
(2) - أو ما يعبِّر عنه بعضهم: أن ذلك معلوم بالضرورة، وما كان كذلك فلا يحتاج إلى بحثه وتقريره بالأدلة
(3).
ولو تتبعنا نصوص الشرع لوجدنا الدلالة على أن هذا مركوز في الفطرة،
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদবুদ্ধিগত ভালো ও মন্দ নির্ধারণ (التحسين والتقبيح العقليان)আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অভিমত হলো: মানুষের কার্যাবলি কল্যাণ ও অকল্যাণের উৎস; যা হয় কার্যের নিজস্ব সত্তার কারণে, অথবা কিছু বিবেচনার প্রেক্ষিতে, অথবা তার বৈশিষ্ট্যের কারণে। বুদ্ধি কখনো কখনো এই বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুধাবনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে, অর্থাৎ সে তার ভালো হওয়া (حسن) বা মন্দ হওয়া (قبح) বুঝতে পারে। যেমন আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, ন্যায়বিচার এবং সত্যবাদিতার ভালো হওয়া (حسن) এবং কুফর ও জুলুমের মন্দ হওয়া (قبح)। আবার কখনো বুদ্ধি এতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় না এবং শরিয়তের সম্বোধন ব্যতীত প্রতিটি নির্দিষ্ট কার্যের বিস্তারিত বিবরণ পৃথকভাবে জানতে পারে না। আর বুদ্ধি যেটির ভালো হওয়া (حسن) বা মন্দ হওয়া (قبح) বুঝতে পারে, তার বর্জন বা পালনের ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো শাস্তি কার্যকর হয় না যতক্ষণ না সে বিষয়ে শরিয়তের বিধান অবতীর্ণ হয়।
আশআরি মতাদলম্বী আল্লামা যাররাকাশি এই মাযহাব সম্পর্কে ব্যক্ত করেছেন যে: "পর্যবেক্ষণ ও পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের বিচারে শক্তিশালী হওয়ার কারণে এবং বৈপরীত্য থেকে মুক্ত হওয়ার দরুন এটিই সমর্থিত মত; পরবর্তী যুগের উসুলবিদ (الأصوليين) ও কালামশাস্ত্রবিদগণ (الكلاميين) এদিকেই ইঙ্গিত করেছেন, সুতরাং এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত।"
(১)।
বুদ্ধিগত ভালো ও মন্দ (الحسن والقبح العقليان) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যে সকল সঠিক (صحيحة) প্রমাণের ওপর নির্ভর করা যেতে পারে তার মধ্যে একটি হলো: ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তিগত দলিল
(২) — অথবা কেউ কেউ এটাকে এভাবে ব্যক্ত করেছেন যে: এটি স্বতঃসিদ্ধভাবে জ্ঞাত (معلوم بالضرورة), আর যা এরূপ তা দলিল-প্রমাণ দিয়ে অনুসন্ধান ও প্রমাণের প্রয়োজন রাখে না
(৩)।
আর আমরা যদি শরিয়তের নুসুস বা পাঠসমূহ (نصوص) অনুসন্ধান করি, তবে আমরা এর প্রমাণ পাব যে এটি ফিতরাত বা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিতে প্রোথিত রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ومن ذلك:
قوله الله تعالى: {وَإِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً قَالُوا وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا وَاللَّهُ أَمَرَنَا بِهَا قُلْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ} [الأعراف: 28].
فالفاحشة هنا هي طواف المشركين عراة بالبيت رجالا ونساء، فبين الله أنه لا يأمر به لقبحه، فلو كان القبيح هو المقول فيه لا تفعل - كما تقول الأشاعرة - لكان معنى الآية: إن الله لا يأمر بما ينهى عنه، وهذا يصان عنه كلام الباري لعدم فائدته، ثم بين الله أنه لا يأمر إلا بما هو حسن
(1) فقال سبحانه: {أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ (28) قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ} [الأعراف: 28 - 29].
وقوله تعالى: {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ} [الأعراف: 32]، فوصف الله بعض رزقه بأنه طيب، وأن هذا الوصف يقتضي عدم تحريمه، فدل على ثبوت وصف للفعل هو منشأ للمصلحة مانع من التحريم، وهذا هو التحسين العقلي عينه
(2).
ثمَّ إن المولى سبحانه وتعالى ضرب أمثلة عقلية كثيرة دالة على حسن التوحيد ومدح فاعله، وعلى قبح الشرك وذمه وذم فاعله، والأدلة فيه كثيرة.
كقوله تعالى: {أَأَتَّخِذُ مِنْ دُونِهِ آلِهَةً إِنْ يُرِدْنِ الرَّحْمَنُ بِضُرٍّ لَا تُغْنِ عَنِّي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَلَا يُنْقِذُونِ (23) إِنِّي إِذًا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [: يس: 23 - 24] فلم يحتج الله عليهم بمجرد الأمر، بل احتج عليهم بالعقل ومقتضى الفطرة، لأن من لا يملك دفع ضر عن نفسه فأولى أن لا يقدر على دفعه عن غيره، فكانت عبادته من كان ناقصًا
--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে:
মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা যখন কোনো অশ্লীলতা (فاحشة) করে, তখন তারা বলে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এ কাজ করতে দেখেছি এবং আল্লাহ আমাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন। বলুন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীলতার (فاحشاء) নির্দেশ দেন না} [আল-আরাফ: ২৮]।
এখানে 'ফাহিশাহ' বা অশ্লীলতা বলতে মুশরিক নারী ও পুরুষদের বিবস্ত্র অবস্থায় বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করাকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এর নির্দেশ দেন না কারণ এটি মন্দ (قبيح)। সুতরাং মন্দ (قبيح) যদি কেবল তা-ই হতো যা সম্পর্কে বলা হয়েছে 'করো না'—যেমনটি আশায়েরা (আশআরিগণ) বলে থাকেন—তবে আয়াতের অর্থ দাঁড়াত: নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই কাজের নির্দেশ দেন না যা থেকে তিনি নিষেধ করেন। আর মহান স্রষ্টার বাণী এ ধরনের নিরর্থকতা থেকে পবিত্র। এরপর আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কেবল উত্তম (حسن)
(১) বিষয়েরই নির্দেশ দেন। তাই সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {তোমরা কি আল্লাহর নামে এমন কথা বলছ যা তোমরা জান না? (২৮) বলুন, আমার প্রতিপালক ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন} [আল-আরাফ: ২৮-২৯]।
এবং আল্লাহর বাণী: {বলুন, আল্লাহর সৌন্দর্য—যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন—এবং পবিত্র (طيب) রিযিকসমূহ কে হারাম করেছে?} [আল-আরাফ: ৩২]। এখানে আল্লাহ তাঁর কিছু রিযিককে পবিত্র (طيب) বলে বর্ণনা করেছেন এবং এই বর্ণনাটি দাবি করে যে তা হারাম হবে না। এটি কার্যের মাঝে এমন একটি গুণের সাব্যস্ত হওয়াকে নির্দেশ করে যা মাসলাহাত বা কল্যাণের উৎস এবং যা হারাম হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক। আর এটিই হলো আকলি তাহসিন বা বুদ্ধিগতভাবে কোনো কিছুকে উত্তম সাব্যস্ত করা (التحسين العقلي)
(২)।
অতঃপর মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাওহীদের শ্রেষ্ঠত্ব বা উত্তম (حسن) গুণ এবং এর অনুসারীদের প্রশংসার সপক্ষে, এবং শিরকের মন্দ (قبح) দিক ও এর নিন্দা এবং শিরককারীর নিন্দার ওপর অসংখ্য বুদ্ধিভিত্তিক উদাহরণ পেশ করেছেন। আর এ বিষয়ে দলীল অনেক।
যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য উপাস্য গ্রহণ করব? পরম করুণাময় যদি আমাকে কোনো ক্ষতি পৌঁছাতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধার করতে পারবে না। (২৩) এরূপ করলে আমি অবশ্যই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে (ضلال) থাকব} [ইয়াসিন: ২৩-২৪]। এখানে আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে কেবল নির্দেশের মাধ্যমে দলীল পেশ করেননি, বরং বুদ্ধি ও ফিতরাতের চাহিদার আলোকে দলীল দিয়েছেন। কারণ, যে সত্তা নিজের ক্ষতি রোধ করার ক্ষমতা রাখে না, সে অন্যের ক্ষতি দূর করতে না পারাটাই অধিক যুক্তিসঙ্গত। ফলে এমন অসম্পূর্ণ সত্তার ইবাদত করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ضلالًا مبينًا
(1).
أما المعتزلة فقد اتفقت على ثبوت الحسن والقبح للأفعال بالعقل، وترتب الثواب والعقاب على ذلك، ثم ينقل خلاف بينهم بعد ذلك في جهة حسن الفعل أو قبحه هل هو لذاته كحسن الصدق أو قبح الكذب، أم هل هو لصفة الفعل، كقبح الصدق الضار، وحسن الكذب النافع، كالكذب لإنجاء نبي مثلًا، فالكذب هنا نافع فيكون حسنًا لهذه الصفة، ويكون الصدق قبيحًا في هذه الحالة لضرره، أم هل هو لاعتبارات، كضرب اليتيم مثلًا، فإنه باعتبار التأديب حسن، وباعتبار الظلم قبيح.
ثم هؤلاء التزموا التسوية في الأحكام شاهدًا وغائبًا، فزعموا أن ما يحسن من العبد يحسن من الله، وما يقبح منه يقبح منه، فوضعوا لله شريعة بعقولهم، فأوجبوا عليه أشياء لم يوجبها على نفسه، وحرموا عليه أشياء لم يحرمها على نفسه
(2).
ومنعت الأشاعرة تحسين العقل وتقبيحه، وجَوَّزُوا على الرب تعالى كل شيء ممكن، وزعموا أن القبيح في أفعال الله ما كان ممتنعًا كالجمع بين النقيضين ونحوه، ثم هم اتفقوا على أن ترتب الثواب والعقاب على الشرع وحده.
والمعروف عن المتقدمين منهم منع تحسين العقل وتقبيحه مطلقًا، وأن الحسن هو المأمور به شرعًا، والقبيح هو المنهي عنه شرعًا -ونحو هذه العبارات
(3) - وأنه ليس للفعل صفات تقتضي أن يكون جائزًا أو ممنوعًا، فلا فرق في الأصل بين الكفر والإيمان، ولا بين الزنا والعفاف، ولا بين الصدق والكذب، ونحو ذلك.
--------------------------------------------
স্পষ্ট পথভ্রষ্টতা
(১)।
পক্ষান্তরে মুতাজিলাগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে যে, কার্যাবলির ভালো (الحسن) ও মন্দ (القبح) হওয়া বিবেকের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় এবং এর ওপর ভিত্তি করেই সওয়াব ও আজাব নির্ধারিত হয়। অতঃপর তাদের মাঝে কাজের ভালো হওয়া বা মন্দ হওয়ার কারণ সম্পর্কে মতভেদ বর্ণিত হয়েছে—তা কি তার স্বীয় সত্তার কারণে, যেমন সত্যের ভালো হওয়া বা মিথ্যার মন্দ হওয়া; নাকি কাজের কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে, যেমন ক্ষতিকর সত্যের মন্দ হওয়া এবং উপকারী মিথ্যার ভালো হওয়া? উদাহরণস্বরূপ, কোনো নবীকে রক্ষার জন্য মিথ্যা বলা; এক্ষেত্রে মিথ্যাটি উপকারী হওয়ার কারণে এই বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তা ভালো (الحسن) হিসেবে গণ্য হবে এবং সত্যটি ক্ষতিকর হওয়ার কারণে এই অবস্থায় তা মন্দ (القبح) হিসেবে গণ্য হবে। অথবা তা কি বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের কারণে? যেমন এতিমকে প্রহার করা; শাসনের প্রেক্ষাপটে তা ভালো (الحسن), আর জুলুমের প্রেক্ষাপটে তা মন্দ (القبح)।
অতঃপর তারা দৃশ্যমান ও অদৃশ্যের বিধানের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। তারা দাবি করেছে যে, বান্দার পক্ষ থেকে যা ভালো (الحسن) গণ্য হয়, আল্লাহর পক্ষ থেকেও তা ভালো; আর বান্দার পক্ষ থেকে যা মন্দ (القبح) গণ্য হয়, আল্লাহর পক্ষ থেকেও তা মন্দ। এভাবে তারা নিজেদের বিবেকের মাধ্যমে আল্লাহর জন্য একটি শরিয়ত নির্ধারণ করেছে। ফলে তারা তাঁর ওপর এমন বিষয়াবলি আবশ্যক করে দিয়েছে যা তিনি নিজের ওপর আবশ্যক করেননি এবং এমন বিষয়াবলি তাঁর ওপর হারাম করে দিয়েছে যা তিনি নিজের ওপর হারাম করেননি
(২)।
আর আশাইরাগণ বিবেকের মাধ্যমে ভালো (الحسن) ও মন্দ (القبح) নির্ধারণ করাকে অস্বীকার করেছে। তারা মহান রবের ক্ষেত্রে প্রতিটি সম্ভবপর বিষয়কে বৈধ মনে করে। তারা দাবি করে যে, আল্লাহর কার্যাবলির ক্ষেত্রে মন্দ (القبح) কেবল সেই বিষয়গুলোই যা অসম্ভব, যেমন পরস্পরবিরোধী দুটি বিষয়কে একত্রিত করা ইত্যাদি। অতঃপর তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, সওয়াব ও আজাব নির্ধারিত হওয়া কেবল শরিয়তের ওপর নির্ভরশীল।
তাদের মধ্যে অগ্রবর্তীদের (المتقدمين) নিকট সুপরিচিত মত হলো—বিবেকের মাধ্যমে ভালো ও মন্দ নির্ধারণ করাকে ঢালাওভাবে অস্বীকার করা। তাদের মতে, ভালো (الحسن) হলো শরিয়ত কর্তৃক আদিষ্ট বিষয় এবং মন্দ (القبح) হলো শরিয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয়—বা এই জাতীয় শব্দাবলি
(৩)। আর কাজের এমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই যা তাকে বৈধ বা নিষিদ্ধ হওয়ার দাবি রাখে। সুতরাং মূলগতভাবে কুফর ও ইমান, ব্যভিচার ও চারিত্রিক পবিত্রতা এবং সত্য ও মিথ্যার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أما المتأخرون فذكروا أن للحسن والقبح إطلاقات ثلاثة:
الإطلاق الأول: على معنى ملاءمة الشيء للطبع أو منافرته.
والإطلاق الثاني: على معنى كون الشيء صفة كمال كالعلم والصدق، أو صفة نقص كالجهل والظلم.
والإطلاق الثالث: على معنى أن الفعل متعلَّق الذم عاجلا وعقابه آجلًا، أو المدح عاجلًا، والثواب آجلًا.
وذكروا أنه لا خلاف في أن الإطلاقين الأولين عقليان، وأما الثالث فهو محل النزاع
(1).
وخلاصة ما سبق أنَّ المعتزلة ذهبت في تعريف الحسن والقبح إلى أنَّ الحسن: ما لفاعله أن يفعله، والقبيح: ما ليس لفاعله أن يفعله، وهم يجعلون حسنه وقبحه ناشئ عن نفس الفعل.
وذهبت الأشعرية إلى أنَّ الحسن: ما ورد الشرع بتعظيم فاعله، والثناء عليه، والقبيح يقابله. وجعلوا منشأ الحسن والقبح هو الأمر والنهي لا غير.
وذهب أهل السنة والجماعة إلى أن منشأ الحسن والقبح مجموع الأمرين: الأوامر والنواهي، وكذا الأفعال، وتعريفهم موافق لتعريف الأشاعرة، فالحسن: ما أُمر به شرعًا، والقبيح: ما نُهي عنه شرعًا. وهذا لا يعني عدم وجود الصفات المتعلقة بالأفعال حقيقة
(2).
--------------------------------------------
পরবর্তী আলিমগণ উল্লেখ করেছেন যে, সৌন্দর্য (حسن) ও কদর্যতার (قبح) তিনটি অর্থ বা প্রয়োগ রয়েছে:
প্রথম প্রয়োগ: কোনো বিষয় স্বভাবের অনুকূলে হওয়া বা প্রতিকূলে হওয়ার অর্থে।
দ্বিতীয় প্রয়োগ: কোনো বিষয় পূর্ণতার গুণ হওয়া—যেমন জ্ঞান ও সত্যবাদিতা, অথবা ত্রুটির গুণ হওয়া—যেমন অজ্ঞতা ও জুলুম।
তৃতীয় প্রয়োগ: কোনো কাজ বর্তমানে (দুনিয়াতে) নিন্দনীয় হওয়া এবং ভবিষ্যতে (আখেরাতে) শাস্তির কারণ হওয়া, অথবা বর্তমানে প্রশংসনীয় হওয়া এবং ভবিষ্যতে সওয়াবের কারণ হওয়া।
তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রথম দুটি প্রয়োগ বুদ্ধিপ্রসূ (عقلي) হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই, তবে তৃতীয় প্রয়োগটিই হলো বিতর্কের স্থান
(১)।
পূর্বালোচনার সারসংক্ষেপ হলো, মুতাজিলাগণ সৌন্দর্য (حسن) ও কদর্যতার (قبح) সংজ্ঞায় এই মত পোষণ করেছেন যে, সুন্দর (حسن) হলো: যা সম্পাদন করার অধিকার কর্তার রয়েছে, আর কদর্য (قبيح) হলো: যা সম্পাদন করার অধিকার কর্তার নেই। তাঁরা এই সৌন্দর্য ও কদর্যতাকে কাজের মূল সত্তা থেকে উদ্ভূত মনে করেন।
আশআরীগণ এই মত পোষণ করেন যে, সুন্দর (حسن) হলো: যার কর্তাকে সম্মান ও প্রশংসা করার ব্যাপারে শরিয়ত নির্দেশ দিয়েছে, আর কদর্য (قبيح) এর বিপরীত। তাঁরা সৌন্দর্য (حسن) ও কদর্যতার (قبح) উৎস কেবল আদেশ ও নিষেধকেই নির্ধারণ করেছেন।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত মনে করে যে, সৌন্দর্য (حسن) ও কদর্যতার (قبح) উৎস হলো উভয় বিষয়ের সমষ্টি: আদেশ ও নিষেধ এবং স্বয়ং কর্মসমূহ। তাঁদের সংজ্ঞা আশআরীগণের সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; অর্থাৎ সুন্দর (حسن) হলো: যা শরিয়ত কর্তৃক আদিষ্ট, আর কদর্য (قبيح) হলো: যা শরিয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ। তবে এর অর্থ এই নয় যে, কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট গুণাবলির কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن المسائل الأصولية المبنية على مسألة الأصل
(1):
المسألة الأولى: تعريف الحكم الشرعي.عُرِّف بأنّه: «خطاب الله» عند من يمنع دخول العقل في الأحكام، وهم أهل السنة والجماعة والأشاعرة.
وعرفته المعتزلة بأنّه: إعلام الله أيانا، أو دلالته لنا على كون الفعل واجبًا ومندوبًا ومباحًا وحرامًا ونحوها، والإعلام والدلالة يتناولان الإعلام بالشرع ودلالة العقل
(2)، فالعقل يوجب حكمًا شرعيًا، فهو حاكم.
ومثل هذه المسألة: تقييد الأحكام بصفة التشريع، كتقييد تعريف الواجب، بالقول: (شرعًا)، أو (خطاب الشارع)، أو (من جهة نظر الشرع) عند من جعل الشرع هو الحاكم وليس العقل
(3).
قال الرازي: «وقولنا: شرعًا، إشارة إلى ما نذهب إليه من أنَّ هذه الأحكام لا تثبت إلَّا بالشرع»
(4).
--------------------------------------------
ومن মৌলিক মূলনীতি (الأصل)
(১) সংক্রান্ত মাসআলার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অন্যতম একটি উসূল সংক্রান্ত মাসআলা হলো:
প্রথম মাসআলা: শরয়ী বিধানের (الحكم الشرعي) সংজ্ঞা।একে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে যে, এটি হলো: «আল্লাহর সম্বোধন (خطاب الله)»। এটি তাদের অভিমত যারা শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে আকল বা বিবেকের অনুপ্রবেশ অস্বীকার করেন, আর তাঁরা হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত ও আশায়েরা।
মুতাজিলারা এর সংজ্ঞা প্রদান করে বলেছে যে, এটি হলো: আমাদের প্রতি আল্লাহর অবহিতকরণ (إعلام), অথবা কোনো কাজ ওয়াজিব (واجب), মানদুব (مندوب), মুবাহ (مباح), হারাম (حرام) ইত্যাদি হওয়ার ব্যাপারে আমাদের প্রতি তাঁর নির্দেশনা (دلالة)। আর এই অবহিতকরণ (إعلام) ও নির্দেশনা (دلالة) শরিয়ত ও আকল (বিবেক) উভয়টির মাধ্যমেই হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে
(২)। সুতরাং আকল বা বিবেকই শরয়ী বিধানকে আবশ্যক করে, তাই বিবেকই এখানে বিধানদাতা (حاكم)।
এই মাসআলার মতোই আরেকটি বিষয় হলো: শরয়ী বিধানকে তাশরী বা বিধানপ্রদানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সংশ্লিষ্ট করা। যেমন—ওয়াজিবের (واجب) সংজ্ঞাকে "শরয়ীভাবে" (شرعًا), অথবা "শারী’র (বিধানদাতার) সম্বোধন" (خطاب الشارع), অথবা "শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী" (من جهة نظر الشرع) - এই শব্দগুলোর মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা তাদের নিকট যারা শরিয়তকেই একমাত্র বিধানদাতা (حاكم) মনে করেন, আকল বা বিবেককে নয়
(৩)।
ইমাম রাযী বলেন: «আমাদের উক্তি—"শরয়ীভাবে" (شرعًا)—এর দ্বারা আমাদের সেই মাযহাবের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এই বিধানসমূহ শরিয়ত ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومثله ما ورد في التعاريف الأخرى للأحكام الشرعية: المندوب
(1)، والمحرم
(2)، والمكروه
(3)، والمباح
(4).
الثانية: تتعلق الأحكام بالأعيان والأفعال تعلقًا حقيقيًا؛ لأجل صفات في العين أو الفعل اقتضت تلك الأحكام، عند من يقول بالحسن والقبح العقلي.
وزعم «نفاة الحسن والقبح العقليين أنها ليست صفة ثبوتية للأفعال، ولا مستلزمة صفة ثبوتية للأفعال، بل هي من الصفات النسبية الإضافية، فالحسن: هو المقول فيه: "افعله" أو "لا بأس بفعله"، والقبيح: هو المقول فيه: "لا تفعله"»
(5) أي: أنه مجرد الأمر والنهي، وتعلق تلك الصفات بالأحكام نسبي لا حقيقي وهو قول الأشاعرة.
الثالثة: شكر المنعم.أوجبت المعتزلة وجوب شكر المنعم سبحانه وتعالى عقلًا؛ لأنّ العقل عندهم موجب بذاته.
وأهل السنة يقولون بحسن شكر المنعم عقلًا؛ لإثبات الصفات الذاتية؛ لكنهم لا يوجبون ذلك على الله عقلًا، ولا ثواب، ولا عقاب إلّا بالشّرع.
وأمّا نفاة الحسن والقبح العقليين -كالأشاعرة- فليس بواجب عندهم عقلًا؛
--------------------------------------------
অনুরূপভাবে শরয়ী বিধানসমূহের (আহকাম) অন্যান্য সংজ্ঞায় যা বর্ণিত হয়েছে: পছন্দনীয় (مندوب)
(১), নিষিদ্ধ (محرم)
(২), অপছন্দনীয় (مكروه)
(৩), এবং বৈধ (مباح)
(৪)।
দ্বিতীয়: হুকুমসমূহ বস্তু এবং কার্যাবলীর সাথে প্রকৃতরূপে সম্পর্কিত; কারণ বস্তু বা কার্যের মধ্যে এমন গুণাবলী বিদ্যমান যা ওই হুকুমগুলোকে অনিবার্য করে তোলে, তাদের নিকট যারা বুদ্ধিভিত্তিক ভালো ও মন্দের (الحسن والقبح العقلي) প্রবক্তা।
আর যারা বুদ্ধিভিত্তিক ভালো ও মন্দের (الحسن والقبح العقليين) অস্বীকারকারী, তারা দাবি করেন যে «এগুলো কার্যাবলীর জন্য কোনো ইতিবাচক গুণ (صفة ثبوتية) নয়, এবং কার্যাবলীর ইতিবাচক গুণ হওয়াকেও আবশ্যক করে না; বরং এগুলো আপেক্ষিক বা সম্বন্ধযুক্ত গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং, ভালো (الحسن) হলো তা যার সম্পর্কে বলা হয়: "এটি করো" অথবা "এটি করাতে কোনো দোষ নেই", এবং মন্দ (القبيح) হলো তা যার সম্পর্কে বলা হয়: "এটি করো না"»
(৫) অর্থাৎ: এটি কেবল আদেশ এবং নিষেধ মাত্র। আর হুকুমের সাথে এই গুণাবলির সম্পর্ক আপেক্ষিক, প্রকৃত নয়—আর এটিই আশায়েরা সম্প্রদায়ের অভিমত।
তৃতীয়: নিয়ামতদাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।মুতাজিলা সম্প্রদায় মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কৃতজ্ঞতা আদায় করা বুদ্ধিবিবেচনার ভিত্তিতে ওয়াজিব (وجوب) বা আবশ্যক করেছেন; কারণ তাদের নিকট আকল বা বুদ্ধি নিজেই বাধ্যবাধকতা আরোপকারী (موجب بذاته)।
আহলুস সুন্নাহ বুদ্ধিবিবেচনার ভিত্তিতে নিয়ামতদাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাকে উত্তম (حسن) মনে করেন স্বকীয় গুণাবলী প্রমাণের জন্য; তবে তারা আকল বা বুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর ওপর এটি ওয়াজিব (يوجبون) করেন না, এবং শরীয়ত ব্যতীত কোনো সওয়াব বা শাস্তির বিধান দেন না।
আর যারা বুদ্ধিভিত্তিক ভালো ও মন্দের (الحسن والقبح العقليين) অস্বীকারকারী—যেমন আশায়েরা সম্প্রদায়—তাদের নিকট এটি বুদ্ধিবিবেচনার ভিত্তিতে ওয়াজিব (واجب) নয়;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لأنّهم ينفون الصفة عن الفعل، وهذا يستلزم ألا يدرك العقل فيه حسنًا ولا قبحًا، فضلًا عن أن يحكم عليه
(1).
الرابعة: حكم الأشياء قبل ورود الشرع.لا حكم للأشياء قبل الشرع، عند من لا يرى في الأفعال ولا في الأعيان صفات في أنفسها، -وهو مأخذ الأشاعرة- ومن ثمَّ فالحكم موقوف على الشرع، وقبل الشرع لا حكم لها؛ لأن أفعال العقلاء قبل الشرع لم يرد فيها خطاب شرعي حتى يحكم بالإباحة أو الحظر، وحيث لا شرع فإن العقل لا مدخل له في تعيين الأحكام الشرعية، فلا سبيل لمعرفة حكم الشرع فيها
(2).
ولذا قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «من لم يوافق المعتزلة في التحسين والتقبيح، وقال بالإباحة أو الحظر فقد ناقض»
(3).
وأهل السنة والجماعة وإن أثبتوا للأفعال قبل الشرع الحسن أو القبح، إلا أنّه لا حكم للعقل بثواب أو عقاب، بل ذلك للشرع
(4).
وذهب المعتزلة إلى أن الأصل في الأشياء قبل ورود الشرع إما الإباحة أو الحظر، أي إن للعقل فيها حكم.
--------------------------------------------
যেহেতু তাঁরা কাজ থেকে গুণাবলিকে অস্বীকার করেন, আর এটি এই বিষয়টিকে অনিবার্য করে তোলে যে, বিবেক তাতে কোনো ভালো (حسن) বা মন্দ (قبح) উপলব্ধি করতে পারবে না, তদুপরি এর ওপর কোনো বিধান আরোপ করা তো পরের কথা।
(1).
চতুর্থ: শরিয়ত আগমনের পূর্বে বস্তুর বিধান।শরিয়ত আগমনের পূর্বে বস্তুর কোনো বিধান নেই তাদের নিকট, যারা কাজ বা সত্তার মাঝে নিজস্ব কোনো গুণাবলি বিদ্যমান আছে বলে মনে করেন না—আর এটিই আশআরিদের মূলনীতি—সেজন্য বিধান শরিয়তের ওপর স্থগিত বা নির্ভরশীল (موقوف), এবং শরিয়ত আগমনের পূর্বে এর কোনো বিধান নেই; কারণ শরিয়ত আগমনের পূর্বে বিবেচনাশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের কাজের ক্ষেত্রে কোনো শরিয়তি সম্বোধন আসেনি যাতে বৈধতা (إباحة) বা অবৈধতার (حظر) বিধান দেওয়া যায়। যেহেতু সেখানে শরিয়ত নেই, তাই শরিয়তি বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেকের কোনো প্রবেশাধিকার নেই, ফলে তাতে শরিয়তের বিধান জানারও কোনো পথ নেই
(2).
এ কারণেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: «যে ব্যক্তি ভালো সাব্যস্ত করা (تحسين) এবং মন্দ সাব্যস্ত করার (تقبيح) বিষয়ে মুতাজিলাদের সাথে একমত হয়নি, অথচ সে বৈধতা (إباحة) বা অবৈধতার (حظر) কথা বলেছে, সে মূলত স্ববিরোধী কথা বলেছে»
(3).
আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ যদিও শরিয়ত আগমনের পূর্বে কাজের ভালো (حسن) বা মন্দ (قبح) হওয়াকে সাব্যস্ত করেন, তবে পুরস্কার বা শাস্তির ক্ষেত্রে বিবেকের কোনো বিধান নেই, বরং তা শরিয়তের ওপর নির্ভরশীল
(4).
মুতাজিলাদের অভিমত হলো, শরিয়ত আগমনের পূর্বে বস্তুর মূল অবস্থা হলো হয় বৈধতা (إباحة) অথবা অবৈধতা (حظر), অর্থাৎ এতে বিবেকের বিধান রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الخامسة: تكليف الصبي.ذهبت المعتزلة إلى تكليف الصبي متى عَقِل، وأمكنه معرفة الله تعالى، وجب عليه الإيمان؛ لقولهم بإدراك حسن الأشياء وقبحها، وبوجوب بعض الأحكام بالعقل.
وأمّا أهل السنة فإنهم وإن أثبتوا الحسن والقبح، إلا أنهم ينفون أن يكون العقل حاكمًا في دين الله تعالى؛ ولهذا فلا يوجبون به شيئًا؛ لعدم تكليفه شرعًا
(1).
السادسة: تكليف المعدوم.ذهبت المعتزلة إلى عدم جواز تكليف المعدوم؛ لأن الأمر والنهي بدون المخاطب عبث، فيكون التكليف به قبيحًا.
وذهبت الأشاعرة إلى جواز تكليفه؛ نظرًا لإثبات الكلام النفسي، «وأن الله تعالى لم يزل آمرًا ناهيًا مخبرًا»
(2).
وأجاب الأشاعرة: «بأن تقبيح هذا مبني على مسألة التحسين والتقبيح، وهي منهدمة الأركان»
(3).
السابعة: تكليف المكره.منع تكليف المكره من يعتبر في أوامر الشرع موافقتها لقضايا العقول؛ لأنّ تكليفه يخالف العدل فيكون قبيحًا.
أمّا من يجعل مدار الأحكام الشرعية على محض الإرادة والمشيئة من غير
--------------------------------------------
পঞ্চম: শিশুর শরয়ি দায়বদ্ধতা (تكليف)।মুতাযিলাগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, শিশু যখন বোধশক্তি সম্পন্ন (عاقل) হয় এবং তার পক্ষে মহান আল্লাহকে চেনা সম্ভব হয়, তখন তার ওপর ঈমান আনা আবশ্যক (واجب) হয়ে যায়; কারণ তারা বস্তুর ভালো-মন্দ (حسن وقبح) বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অনুধাবন করার এবং আকল বা বুদ্ধির মাধ্যমে কিছু বিধান সাব্যস্ত হওয়ার প্রবক্তা।
পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাত যদিও ভালো-মন্দ (حسن وقبح) সাব্যস্ত করেন, তবে তারা আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে আকলকে ফয়সালাকারী হিসেবে অস্বীকার করেন; আর এই কারণেই তারা আকলের মাধ্যমে কোনো কিছু আবশ্যক (واجب) করেন না; যেহেতু শরয়ি (شرعاً) ভাবে তাদের ওপর কোনো দায়বদ্ধতা (تكليف) নেই
(1)।
ষষ্ঠ: অবিদ্যমান ব্যক্তির শরয়ি দায়বদ্ধতা (تكليف)।মুতাযিলাগণ অবিদ্যমান ব্যক্তির ওপর শরয়ি দায়বদ্ধতা (تكليف) আরোপ করা জায়েজ নয় বলে মত দিয়েছেন; কারণ সম্বোধনকৃত ব্যক্তি (مخاطب) ছাড়া আদেশ ও নিষেধ প্রদান অনর্থক, ফলে তা আরোপ করা অশোভন।
আশআরীগণ এটি জায়েজ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন; তারা 'কালামে নাফসি' (الكلام النفسي) সাব্যস্ত করার প্রতি দৃষ্টিপাত করে বলেন যে, "আল্লাহ তাআলা অনাদিকাল থেকেই আদেশ দাতা, নিষেধ দাতা ও সংবাদ দাতা"
(2)।
আশআরীগণ এর উত্তরে বলেছেন: "একে অশোভন বলা 'তাহসিন ও তাকবিহ' (التحسين والتقبيح) সংক্রান্ত মাসআলার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যার ভিত্তি মূলত ধসে পড়েছে"
(3)।
সপ্তম: বাধ্যকৃত ব্যক্তির শরয়ি দায়বদ্ধতা (تكليف)।যে সকল বিশেষজ্ঞ শরয়ি আদেশসমূহের ক্ষেত্রে আকলের অনুকূল হওয়াকে বিবেচনা করেন, তারা বাধ্যকৃত ব্যক্তির (মুকরাহ) ওপর শরয়ি দায়বদ্ধতা (تكليف) আরোপ করাকে অস্বীকার করেন; কারণ তার ওপর দায়বদ্ধতা আরোপ করা ইনসাফের পরিপন্থী, যা অশোভন।
পক্ষান্তরে যারা শরয়ি বিধানের (الأحكام الشرعية) ভিত্তি কোনো হিকমত বা কারণ ছাড়াই কেবল ইচ্ছা ও মর্জির ওপর ন্যস্ত করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تعليل لها؛ فإنّه يجوَّزه، ولا يعد قبيحًا عنده؛ لأنّه لا معنى للفعل القبيح إلا ما نهى عنه الشرع
(1).
الثامنة: الواجب المخيَّر، والحرام المخيَّر.منع المعتزلة التخيير في الواجب المخير؛ لأنّها إمّا أن تكون الواجبات متساوية في الحسن، فلا معنى لاستقلال أحدها بالوجوب. وإما أن يختص واحد منها بما يقتضي الوجوب من الحسن دونها، فيكون هو الواجب دون ما سواها
(2).
قال الطوفي في بناء المسألة: «قلنا: مبني على وجوب رعاية الأصلح، وعلى أن الحسن والقبح ذاتيان أو بصفة، وهما ممنوعان، بل ذلك شرعي، فللشرع فعل ما شاء من تخصيص وإبهام»
(3).
ومن منع وجوب رعاية الأصلح؛ فإنّه لا يجب عنده تساوي الخصال في الحسن والصلاح، ولم يجب تساويها في الوجوب
(4).
ومثله - مأخذًا - الحرام المخير
(5)؛ لأن منع المحرم المخير عند المعتزلة؛ لأنّ الأشياء المخيَّر بينها، إن لم تكن قبيحة لم يجز أن تكون محرمة؛ -لأنّ المحرم عندهم حرم؛ لقبحه- فإذا كانت كلها قبيحة لم يجز أن يكون بعضها محرمًا، وبعضها مباحًا؛ لتساويها في المفسدة، فيكون إباحة بعضها معارضًا لقاعدة رعاية الأصلح للعباد في التكليف.
--------------------------------------------
এর সপক্ষে কারণ দর্শানো (تعليل); কেননা তিনি একে বৈধ মনে করেন এবং তাঁর নিকট এটি কদর্য (قبيح) হিসেবে গণ্য নয়। কারণ শরিয়ত যা থেকে নিষেধ করেছে তা ব্যতীত কদর্য কাজের কোনো অর্থ নেই
(১)।
অষ্টম: ঐচ্ছিক ওয়াজিব (الواجب المخيَّر), এবং ঐচ্ছিক হারাম (الحرام المخيَّر)।মুতাজিলাগণ ঐচ্ছিক ওয়াজিবের ক্ষেত্রে পছন্দের অবকাশ থাকাকে অস্বীকার করেছেন। কারণ, ওয়াজিব কাজগুলো হয় সৌন্দর্যের (الحسن) দিক থেকে সমান হবে, ফলে সেগুলোর কোনো একটির স্বতন্ত্রভাবে ওয়াজিব হওয়া অর্থহীন হয়ে পড়বে; অথবা এগুলোর কোনো একটি এমন কোনো বৈশিষ্ট্যে বা সৌন্দর্যে বিশেষায়িত হবে যা ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে, ফলে সেটিই ওয়াজিব হবে অন্যগুলো নয়
(২)।
আল-তুফী মাসআলাটির ভিত্তি বর্ণনায় বলেছেন: «আমরা বলি: এটি সর্বাধিক কল্যাণকর (الأصلح) বিষয় রক্ষা করা ওয়াজিব হওয়ার ওপর এবং সৌন্দর্য (الحسن) ও কদর্যতা (القبح) স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তাগত বা কোনো গুণের কারণে হওয়ার ওপর নির্ভরশীল। এই উভয়টিই আমাদের নিকট অগ্রহণযোগ্য, বরং তা শরিয়ত নির্ধারিত। সুতরাং শরিয়ত যা ইচ্ছা তা সুনির্দিষ্টকরণ বা অস্পষ্ট রাখার অধিকার রাখে»
(৩)।
আর যারা সর্বাধিক কল্যাণকর (الأصلح) বিষয় রক্ষা করা ওয়াজিব হওয়াকে অস্বীকার করেন, তাদের নিকট কার্যাবলীর সৌন্দর্য (الحسن) ও কল্যাণের (الصلاح) দিক থেকে সমান হওয়া আবশ্যক নয়, এবং ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রেও সেগুলোর সমান হওয়া অপরিহার্য নয়
(৪)।
উৎসের দিক থেকে ঐচ্ছিক হারামও (الحرام المخير) অনুরূপ
(৫)। কেননা মুতাজিলাদের নিকট ঐচ্ছিক হারাম নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো—যেসব বিষয়ের মধ্যে পছন্দের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো যদি কদর্য (قبيحة) না হয় তবে সেগুলো হারাম হওয়া বৈধ নয়। কারণ তাদের নিকট হারাম হওয়ার কারণই হলো কদর্যতা (قبحه)। সুতরাং যদি সবগুলোই কদর্য হয়, তবে ক্ষতিকর হওয়ার (المفسدة) দিক থেকে সমান হওয়ার কারণে সেগুলোর কোনোটি হারাম আর কোনোটি বৈধ (مباحًا) হওয়া জায়েজ নয়; অন্যথায় সেগুলোর কোনোটিকে বৈধ করা মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য শরয়ি দায়িত্বারোপের (التكليف) ক্ষেত্রে সর্বাধিক কল্যাণকর (الأصلح) ব্যবস্থা গ্রহণের নীতির পরিপন্থী হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وأمّا غير المعتزلة: فلا يجعلون مدار الأحكام على تحسين العقل وتقبيحه، ولا على وجوب الصلاح، فلا يمتنع أن يجعل الله المصلحة في اجتناب الجمع بين الفعلين، حتى لو فعل المكلف أحدهما لم تحصل المفسدة المترتبة على الجمع بينهما
(1).
التاسعة: التعبد بالعمل بخبر الآحاد.اختلف القائلون بالتحسين والتقبيح في التعبد بالعمل بخبر الآحاد.
فمنعه بعضهم؛ لأن «التكاليف تعتمد تحصيل المصالح ودفع المفاسد، وذلك يقتضي أن تكون المصلحة أو المفسدة معلومة، وخبر الواحد لا يفيد إلا الظن، وهو يجوز خطؤه فيقع المكلَّف في الجهل والفساد، وهو غير جائز»
(2)، ولأن في تعليق التكاليف به مفسدة استباحة الأموال والأعراض بأمر مظنون يجوز خطؤه.
وأجاز العمل به آخرون؛ لما في العمل به من الحسن؛ وذلك لأن المتواتر عزيز، فلو لم يعمل بخبر الآحاد لتعطلت المصالح
(3).
العاشرة: منع المعصية على النبي صلى الله عليه وسلم قبل بعثته عقلًا (4)؛ لأن المعصية توجب احتقارًا لصاحبها، فتنفر الطبائع عن اتباعهم، وذلك قبيح عقلًا، وهو خلاف المصلحة، ولذا يمتنع أن يقع ما هو خلاف المصلحة
(5).
--------------------------------------------
وأমّا মুতাজিলা ব্যতীত অন্যরা: তারা বিধানের (আহকামের) ভিত্তি আকলের মাধ্যমে ভালো ও মন্দ নির্ধারণ (تحسين وتقبيح) কিংবা কল্যাণের (صلاح) আবশ্যকতাকে মনে করেন না। ফলে আল্লাহ যদি দুটি কাজের একত্রে করা থেকে বিরত থাকার মাঝে কোনো কল্যাণ নিহিত রাখেন, তবে তাতে কোনো বাধা নেই; এমনকি যদি মুকাল্লাফ (শারঈ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) তাদের কোনো একটি সম্পন্ন করে, তবে ওই দুটি কাজ একত্রে করার ফলে যে ক্ষতির (مفسدة) উদ্রেক হতে পারত, তা ঘটবে না
(১).
নবম: একক সংবাদ (خبر الآحاد) অনুযায়ী আমল করার বাধ্যবাধকতা।আকলের ভালো-মন্দ নির্ধারণের প্রবক্তারা একক সংবাদ (خبر الآحاد) অনুযায়ী আমল করার বিষয়ে মতভেদ করেছেন।
তাদের কেউ কেউ এটি নিষেধ করেছেন; কারণ «শারঈ দায়িত্বসমূহ কল্যাণ অর্জন ও অকল্যাণ দূরীকরণের ওপর নির্ভর করে। আর এটি দাবি করে যে, কল্যাণ বা অকল্যাণ সুনিশ্চিতভাবে জ্ঞাত হতে হবে। অথচ একক সংবাদ (خبر الواحد) কেবল ধারণা (الظن) প্রদান করে, যাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে মুকাল্লাফ অজ্ঞতা ও অনিষ্টের মধ্যে নিপতিত হবে, যা অনুমোদিত নয়»
(২), আর এজন্য যে, এর সাথে শারঈ দায়িত্বকে সংশ্লিষ্ট করার মাঝে সম্পদ ও সম্মানের ওপর হস্তক্ষেপ করার মতো অকল্যাণ (مفسدة) নিহিত রয়েছে এমন একটি ধারণাপ্রসূত বিষয়ের ভিত্তিতে যাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যরা এর ওপর আমল করা বৈধ বলেছেন; কারণ এর ওপর আমল করার মাঝে উত্তমতা (حسن) রয়েছে। আর এটি এজন্য যে, মুতাওয়াতির (المتواتر) অত্যন্ত বিরল; ফলে যদি একক সংবাদ (خبر الآحاد) অনুযায়ী আমল না করা হয়, তবে জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো বিঘ্নিত হবে
(৩)।
দশম: নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য আকলি (عقلًا) বিচারে গুনাহ সংঘটিত হওয়া অসম্ভব (৪); কেননা পাপাচার তার কর্তার প্রতি অবজ্ঞা সৃষ্টি করে, ফলে মানুষের স্বভাব তাদের অনুসরণ থেকে বিমুখ হয়। এটি আকলি বিচারে মন্দ (قبيح), যা জনকল্যাণের পরিপন্থী। আর একারণেই যা জনকল্যাণের পরিপন্থী, তা সংঘটিত হওয়া অসম্ভব
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومن لم يقل بوجوب رعاية المصلحة قال لا يمتنع عليه تعالى فعل شيء، فله أن يفعل ما يريد، ويحكم بما يشاء، ومن ذلك المعصية من النبي صلى الله عليه وسلم قبل البعثة
(1). بل إن جواز ذلك لا يفضي إلى القبح العقلي؛ لأن الإنسان بعد صفاء السريرة وحسن السيرة ينعكس حال الناس معه من حال الازدراء والاستخفاف إلى حال التعظيم والإجلال، ويؤكد ذلك أن انعكاس حالهم حينئذ دلالة المعجزة على صدقه وأحقيته بالرسالة، والمشاهدة قاضية بهذا الانعكاس في كثير من الصلحاء، حيث كانوا موصوفين بضد الصلاح محقورين من الناس، ثم انعكس حالهم بعد الصلاح، فلا وجه للملازمة
(2).
الحادية عشرة: ذهب بعض من قال بالتحسين والتقبيح إلى كون النسخ بيانًا؛ لأنه لو كان رفعًا؛ لأدى إلى أن ينقلب الحسن - الذي أثبته الله بالأمر - إلى قبيح وذلك بالنهي عنه، وهذا محال
(3).
وبيانه: أنَّ الشيء إنما يؤمر به لحسنه وما فيه من مصلحة، وينهى عنه لقبحه وما فيه من مفسدة، ولو أمر بالحكم الواحد، ثم نهى عنه لكان حسنًا قبيحًا، مصلحة مفسدة، مرادًا غير مراد، وهو جمع بين النقيضين، والقول بالرفع يلزم منه ذلك؛ لأنه أمر بالحكم المنسوخ لحسنه، ثم نهى عنه برفعه لقبحه، فلزم أن يجتمع فيه النقيضان
(4).
--------------------------------------------
ومن যারা জনস্বার্থ রক্ষা (مصلحة) করা আবশ্যক বলে মনে করেন না, তারা বলেন যে, মহান আল্লাহর জন্য কোনো কিছুই করা অসম্ভব নয়। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারেন এবং যা ইচ্ছা বিধান দিতে পারেন। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো নবুওয়াত লাভের পূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে সংঘটিত পাপ (معصية)
(1)। বরং এর বৈধতা কোনো বুদ্ধিগত কদর্যতা বা মন্দত্বের (قبح عقلي) দিকে ধাবিত করে না; কারণ মানুষের অন্তরের পরিচ্ছন্নতা ও চরিত্রের মাধুর্য প্রকাশিত হওয়ার পর, তাদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অবজ্ঞা ও তুচ্ছজ্ঞান করার অবস্থা থেকে সম্মান ও মর্যাদার অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে যায়। এটি আরও দৃঢ় হয় এই কারণে যে, তখন তাদের অবস্থার এই পরিবর্তন তাঁর সত্যতা এবং রিসালাতের যোগ্যতার ওপর মুজিজার প্রমাণস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক পুণ্যবান ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা যায়, যেখানে তারা ইতিপূর্বে পুণ্যহীন হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং মানুষের কাছে তুচ্ছ ছিলেন, অতঃপর সৎ হওয়ার পর তাদের অবস্থা বদলে যায়। সুতরাং এক্ষেত্রে কোনো অনিবার্য সম্পর্ক (ملازمة) থাকার কারণ নেই
(2)।
একাদশ: যারা ভালো ও মন্দের যৌক্তিকতা (تحسين وتقبيح) এর প্রবক্তা, তাদের কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে, রহিতকরণ (نسخ) মূলত একটি স্পষ্টীকরণ (بيان); কারণ এটি যদি বিলোপকরণ (رفع) হতো, তবে তা এমন পরিণতির দিকে নিয়ে যেত যে, আল্লাহ তাআলা আদেশের মাধ্যমে যা উত্তম (حسن) হিসেবে সাব্যস্ত করেছিলেন, তা নিষেদাজ্ঞার মাধ্যমে মন্দে (قبيح) পরিণত হতো, আর তা অসম্ভব
(3)।
এর ব্যাখ্যা হলো: কোনো বিষয়ের আদেশ দেওয়া হয় তার ভালো গুণ এবং তাতে নিহিত কল্যাণের (مصلحة) কারণে, আর কোনো বিষয়ে নিষেধ করা হয় তার মন্দ দিক এবং তাতে নিহিত অকল্যাণের (مفسدة) কারণে। যদি একই বিধানের ব্যাপারে প্রথমে আদেশ দেওয়া হয় এবং পরে তা নিষেধ করা হয়, তবে তা একইসাথে উত্তম ও মন্দ, কল্যাণকর ও অকল্যাণকর এবং কাঙ্ক্ষিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে গণ্য হবে। এটি মূলত দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের একত্রীকরণ। আর বিলোপকরণের (رفع) মতবাদের ক্ষেত্রে এটিই আবশ্যক হয়ে পড়ে; কারণ তিনি রহিত (منسوخ) বিধানটির উত্তম গুণের কারণে সেটির আদেশ দিয়েছিলেন, এরপর মন্দ হওয়ার কারণে বিলোপের মাধ্যমে তা নিষেধ করেছেন। ফলে এতে দুটি বৈপরীত্যের একত্র হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে
(4)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মু’তাকাদ ওয়া আসারুহু আলা মাসাইল উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وذهب شذوذ من المسلمين، بعض طوائف اليهود
(1)، إلى عدم وقوع النسخ، بسبب ذلك.
ونوقش: بأن التناقض إنما يكون مع اتحاد الزمان، وشرط النسخ التراخي ولا تناقض مع تعدد الزمان
(2).
كما أنه يجوز أن يكون ذلك الفعل مصلحة في وقت ومفسدة في وقت آخر، فيأمر به في الوقت الذي علم أنه مصلحة فيه، فيكون حسنًا في وقت قبيحًا في وقت آخر، فلا يكون مناقضًا للحسن والقبح
(3).
الثانية عشرة: قبول جميع الأحكام للنسخ.عدم قبول جميع الأحكام للنسخ
(4)، لأن الحسن والقبح صفات وأحكام لا تتغير بتغير الشرائع، ولذا يمتنع النسخ في هذه الأفعال المقتضية للحسن والقبح لاستحالة الأمر بالقبح، والنهي عن الحسن
(5)، وهذا عند القائلين بالتحسين والتقبيح.
أما من لم يقل بالتحسين والتقبيح، فقد اختلفوا:
فقال بعضهم بالمنع؛ لأن ما لا يمكن أن يقع إلا على وجه واحد، يمتنع أن يقع
--------------------------------------------
মুসলিমদের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ (شذوذ) এবং ইহুদিদের কিছু গোষ্ঠী
(১) এই কারণে রহিতকরণ (النسخ) সংঘটিত না হওয়ার মত পোষণ করেছেন।
এর উত্তরে বলা হয়েছে: বৈপরীত্য কেবল তখনই ঘটে যখন সময় অভিন্ন হয়, আর রহিতকরণের (النسخ) শর্ত হলো সময়ের ব্যবধান; সুতরাং সময়ের ভিন্নতার কারণে কোনো বৈপরীত্য তৈরি হয় না
(২)।
তেমনিভাবে কোনো কাজ এক সময়ে কল্যাণকর (مصلحة) এবং অন্য সময়ে অকল্যাণকর (مفسدة) হওয়া সম্ভব। তাই যে সময়ে তা কল্যাণকর বলে পরিজ্ঞাত, সে সময়েই তার নির্দেশ প্রদান করা হয়। ফলে তা এক সময়ে উত্তম (حسن) এবং অন্য সময়ে মন্দ (قبيح) হিসেবে বিবেচিত হয়; যা উত্তম ও মন্দের (للحسن والقبح) সংজ্ঞার সাথে সাংঘর্ষিক নয়
(৩)।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: সকল বিধানের রহিতকরণ (النسخ)যোগ্য হওয়া।সকল বিধান রহিতকরণ (النسخ) গ্রহণ করে না
(৪); কারণ ভালো ও মন্দ (الحسن والقبح) এমন কিছু গুণ ও বিধান যা শরয়ি বিধানের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না। ফলে উত্তম ও মন্দ দাবি করে এমন কাজের ক্ষেত্রে রহিতকরণ (النسخ) অসম্ভব; কেননা মন্দ কাজের নির্দেশ প্রদান এবং ভালো কাজ থেকে নিষেধ করা অসম্ভব
(৫)। এটি মূলত তাদের মত যারা যুক্তিভিত্তিক ভালো-মন্দ নির্ধারণে (التحسين والتقبيح) বিশ্বাসী।
আর যারা যুক্তিভিত্তিক ভালো-মন্দ নির্ধারণের (بالتحسين والتقبيح) প্রবক্তা নন, তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন:
তাদের কেউ কেউ একে নিষিদ্ধ বলেছেন; কারণ যা কেবল একটি পদ্ধতিতেই ঘটা সম্ভব, তা ঘটা অসম্ভব
--------------------------------------------