(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
صلاة الاستخارة مسائل فقهية وفوائد تربوية   (عقيل بن سالم الشهري)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: صلاة الاستخارة - مسائل فقهية وفوائد تربوية

المؤلف: عقيل بن سالم الشهري

الناشر: دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م

عدد الصفحات: 78

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 جُمادَى الآخرة 1436

সালাতুল ইস্তিখারা: ফিকহি মাসআলা ও শিক্ষামূলক ফায়দা   (আকিল বিন সালিম আল-শেহরি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলা


গ্রন্থ: সালাতুল ইস্তিখারা - ফিকহি মাসআলা ও শিক্ষামূলক ফায়দা

লেখক: আকিল বিন সালিম আল-শেহরি

প্রকাশক: দার কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুমাদিউল আখিরা ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
صَلَاة الاستخارة - مسَائِل فقهية وفوائد تربوية

 

تأليف

عقيل بن سَالم الشهري

 

دَار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع
সালাতুল ইস্তিখারা - ফিকহী মাসআলাসমূহ ও শিক্ষামূলক ফায়দাসমূহ

 

রচনা

আকিল ইবনে সালেম আল-শেহরি

 

দার কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين ..

وبعد:

فقد امتن الله علينا بإنزاله القرآن العظيم، فيه شفاء للقلوب من أسقامها، وتزكية للنفوس عن أدرانها، وأنزل مع السنة النبوية تبيانًا له، فلا يشقى من تمسك بهما، ولا يخاف من اهتدى بهما، ولما كان عمود ذلك يقوم على التدبر والتأمل، وإعمال الفكر، وإعادة النظر، حتى يجول القلب في ملكوت الحكمة، فيقتنص من أوابدها، ويغوص لتحصيل دررها وجواهرها، فقد أنكر الله على من أهمل ذلك قائلًا له: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآَنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} [النساء: 82].

واستجابة لأمر الله في التدبر والتأمل في وحيه، والسنة النبوية من وحيه تعالى، فقد عقدت العزم على التأمل والتدبر والاستنباط في بعض الأحاديث النبوية، وقد جمعت من ذلك ما يكون بداية طريق ارتسمته لنفسي، ومن ذلك قراءة حديث الاستخارة والغوص في معانيه، وحداني لذلك أمران:

الأول: تطبيق عملي لمشروعي في استنباطات من السنة النبوية.

الثاني: اختصاص حديث الاستخارة بتعليم النبي صلى الله عليه وسلم للصحابة، حتى كأنه يعلمهم السورة من القرآن، وهذا يقتضي الإعادة والتكرار والمدارسة حتى يحفظوه.

ولا شك أن هذا يسترعي الاستغراب، ويستدعي الانتباه إلى وجوده أسرار إيمانية اختص بها دعاء الاستخارة من غيره من الأدعية.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠের ওপর...

অতপর:

আল্লাহ তাআলা মহান কুরআন অবতীর্ণ করার মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যাতে রয়েছে অন্তরের ব্যাধিগুলোর জন্য নিরাময় এবং নফস বা আত্মার কলুষতা থেকে পবিত্রতা। তিনি এর ব্যাখ্যাস্বরূপ নববী সুন্নাহ অবতীর্ণ করেছেন; সুতরাং যে ব্যক্তি এ উভয়টি মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে সে দুর্ভাগা হবে না, আর যে এগুলোর মাধ্যমে হেদায়েত প্রাপ্ত হবে সে ভীত হবে না। যেহেতু এর মূল স্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে গভীর চিন্তা (تدبر), অনুধ্যান (تأمل), চিন্তাশক্তির প্রয়োগ এবং পুনঃনিরীক্ষণের ওপর, যাতে অন্তর হিকমতের রাজ্যে বিচরণ করতে পারে, এর দুর্লভ বিষয়গুলো শিকার করতে পারে এবং এর মুক্তা ও মণি-মাণিক্য আহরণের জন্য ডুব দিতে পারে। তাই যারা এ বিষয়ে অবহেলা করে, আল্লাহ তাদের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা (تدبر) করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা তাতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত} [আন-নিসা: ৮২]।

আল্লাহর ওহী নিয়ে গভীর চিন্তা (تدبر) ও অনুধ্যান (تأمل) করার আদেশের প্রতি সাড়া দিয়ে—আর নববী সুন্নাহও আল্লাহ তাআলার ওহীর অন্তর্ভুক্ত—আমি কিছু নববী হাদিস নিয়ে অনুধ্যান (تأمل), গভীর চিন্তা (تدبر) এবং মাসআলা উদ্ঘাটন (استنباط) করার সংকল্প করেছি। আমি এ থেকে যা সংগ্রহ করেছি তা আমার নিজের জন্য এঁকে রাখা একটি পথের সূচনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইস্তিখারার হাদিস পাঠ এবং এর মর্মার্থের গভীরে অবগাহন করা। আর দুটি বিষয় আমাকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে:

প্রথমত: নববী সুন্নাহ থেকে মাসআলা উদ্ঘাটন (استنباط) সংক্রান্ত আমার প্রকল্পের একটি ব্যবহারিক প্রয়োগ।

দ্বিতীয়ত: ইস্তিখারার হাদিসের সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে এটি এমনভাবে শিক্ষা দিতেন যেন তিনি তাদের কুরআনের কোনো সূরা শিক্ষা দিচ্ছেন। এটি বিষয়টির পুনরাবৃত্তি, চর্চা এবং পর্যালোচনার দাবি রাখে যাতে তারা এটি মুখস্থ করে নিতে পারেন।

নিঃসন্দেহে বিষয়টি বিস্ময় জাগানিয়া এবং এ দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে, ইস্তিখারার দোয়ার মধ্যে এমন কিছু ঈমানি রহস্য বিদ্যমান রয়েছে যা একে অন্যান্য দোয়া থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দান করেছে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ومع صغر البحث إلا أني أحببت تقسيمه إلى قسمين، هما:

القسم الأول: المسائل الفقهية المتعلقة بصلاة الاستخارة، وفيه إحدى وعشرون مسألة:

المسألة الأولى: الأحاديث الواردة في الاستخارة.

المسألة الثانية: أصل مشروعيتها.

المسألة الثالثة: حكم صلاة الاستخارة.

المسألة الرابعة: ما هي الأمور التي تشرع لها صلاة الاستخارة؟

المسألة الخامسة: هل تؤدى صلاة الاستخارة في وقت النهي؟

المسألة السادسة: متى تبدأ نية صلاة الاستخارة؟

المسألة السابعة: عدد ركعات صلاة الاستخارة.

المسألة الثامنة: ماذا يقرأ في صلاة الاستخارة؟

المسألة التاسعة: متى يقال دعاء الاستخارة؟

المسألة العاشرة: ما يفعله من لم يحفظ دعاء الاستخارة:

المسألة الحادية عشرة: هل يستحب البدء في الدعاء بالحمد لله، والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم؟

المسألة الثانية عشرة: هل يشرع تكرار صلاة الاستخارة؟

المسألة الثالثة عشرة: ماذا يفعل المسلم بعد صلاة الاستخارة؟

المسألة الرابعة عشرة: هل صلاة الاستخارة صلاة مستقلة أو يصح تداخلها مع غيرها من الصلوات؟

المسألة الخامسة عشرة: هل تصح النيابة في صلاة الاستخارة؟

المسألة السادسة عشرة: أنواع صلاة الاستخارة.

المسألة السابعة عشرة: هل يصح الاستخارة في أمرين أو أكثر في صلاة واحدة؟
গবেষণাটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আমি একে দুই ভাগে বিভক্ত করা পছন্দ করেছি, সেগুলো হলো:

প্রথম অংশ: ইস্তিখারা সালাত সংশ্লিষ্ট ফিকহী মাসআলাসমূহ, এতে একুশটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: ইস্তিখারা বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ।

втоরীয় মাসআলা: এর শরয়ি ভিত্তি।

তৃতীয় মাসআলা: ইস্তিখারা সালাতের বিধান।

চতুর্থ মাসআলা: কোন বিষয়গুলোর জন্য ইস্তিখারা সালাত বিধিবদ্ধ?

পঞ্চম মাসআলা: ইস্তিখারা সালাত কি নিষিদ্ধ সময়ে আদায় করা যাবে?

ষষ্ঠ মাসআলা: ইস্তিখারা সালাতের নিয়ত কখন শুরু হবে?

সপ্তম মাসআলা: ইস্তিখারা সালাতের রাকাত সংখ্যা।

অষ্টম মাসআলা: ইস্তিখারা সালাতে কী পাঠ করা হবে?

নবম মাসআলা: ইস্তিখারার দোয়া কখন পড়তে হয়?

দশম মাসআলা: যার ইস্তিখারার দোয়া মুখস্থ নেই সে কী করবে:

একাদশ মাসআলা: দোয়ার শুরুতে আলহামদুলিল্লাহ বলা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা কি মুস্তাহাব?

দ্বাদশ মাসআলা: ইস্তিখারা সালাত বারবার আদায় করা কি বিধিবদ্ধ?

ত্রয়োদশ মাসআলা: ইস্তিখারা সালাতের পর একজন মুসলিম কী করবেন?

চতুর্দশ মাসআলা: ইস্তিখারা সালাত কি একটি স্বতন্ত্র সালাত নাকি অন্য সালাতের সাথে এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া সহিহ (صحيح)?

পঞ্চদশ মাসআলা: ইস্তিখারা সালাতে কি প্রতিনিধিত্ব করা সহিহ (صحيح)?

ষোড়শ মাসআলা: ইস্তিখারা সালাতের প্রকারভেদ।

সপ্তদশ মাসআলা: এক সালাতে কি দুই বা ততোধিক বিষয়ে ইস্তিখারা করা সহিহ (صحيح)?
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
المسألة الثامنة عشرة: ما يختاره الداعي من الألفاظ التي اختلفت الرواية فيها؟

المسألة التاسعة عشرة: هل يسمي حاجته أو يكتفي بالنية؟

المسألة العشرون: أيهما يقدم الاستخارة أو الاستشارة؟

المسألة الحادية والعشرون: مما قيل في الاستخارة.

القسم الثاني: الفوائد التربوية من دعاء صلاة الاستخارة، وفيه: ثمانون فائدة.

ولقد ترسخ لدي قناعةٌ بحاجة السنة النبوية إلى زيادة نظر وتدقيق واستنباط أحكام وفوائد، أو ما يصح تسميته (تثوير السنة) (1).

ولئن خدمها سلفنا الصالح بالتمحيص والتدقيق والتخريج، وبيان الشاذ من الألفاظ من غيرها، فقد كان لهم جهد واضح في الاستنباط، وكتاب فتح الباري للحافظ ابن حجر نموذج فريد في ذلك، كان بالإمكان أن يُحتذى حذوه في بقية كتب السنة النبوية.

وأسال الله أن يرزقنا العلم النافع والعمل الصالح، والإخلاص في القول والعمل، وأن يتقبله مني، وأن يجعله في ميزان حسناتي ووالدي يرحمه الله، وألا يحرمه أجري وأجر جميع أعمالي، وأشكر الأخ الفاضل/ خليف بن هيشان العنزي على جهده في إخراج هذا الكتاب، وعنائه في ترتيبه وقراءته وفهرسته، سائلًا الله أن يجعل ذلك في ميزان حسناته وأن ينفع به، وصلى الله وسلم على نبينا محمد.

عقيل بن سالم الشمري

عضو الدعوة والإرشاد بحفر الباطن

Ageel001@yahoo.com

--------------------------------------------

(1) هذا المصطلح مأخوذ من قول ابن مسعود رضي الله عنه موقوفًا: (من أراد علم الأولين والآخرين فليثور القرآن). أخرجه البيهقي في الشعب 2/ 331، والطبراني في الكبير 9/ 135.
আঠারোতম মাসআলা: বর্ণনার (الرواية) শব্দাবলির মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে দুআকারী কোন শব্দগুলো বেছে নেবে?

ঊনিশতম মাসআলা: সে কি তার প্রয়োজনের কথা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করবে নাকি কেবল নিয়ত করাই যথেষ্ট?

বিশতম মাসআলা: ইস্তিখারা নাকি পরামর্শ—কোনটিকে অগ্রগণ্য করবে?

একুশতম মাসআলা: ইস্তিখারা সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় অংশ: ইস্তিখারার নামাজের দুআ থেকে শিক্ষণীয় ফায়দা (উপকারিতা), এতে আশিটি ফায়দা রয়েছে।

সুন্নাহর প্রতি অধিকতর দৃষ্টিপাত, পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা এবং সেখান থেকে আহকাম ও ফায়দা উদ্ঘাটনের (الاستنباط) প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমার মধ্যে একটি দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে, যাকে যথাযথভাবে 'সুন্নাহর গভীরে অনুসন্ধান' (তাতবীরুস সুন্নাহ) বলা যেতে পারে (১)।

আমাদের সালাফে সালেহীন (পূর্বসূরি নেককারগণ) যদিও যাচাই-বাছাই, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, উৎস নির্দেশ বা তাখরিজ (تخريج) এবং শায (الشاذ) শব্দাবলিকে অন্যান্য শব্দ থেকে পৃথক করার মাধ্যমে সুন্নাহর সেবা করেছেন, তবুও মাসআলা উদ্ঘাটনের (الاستنباط) ক্ষেত্রেও তাদের সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা ছিল। হাফেজ ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী কিতাবটি এক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত, সুন্নাহর অন্যান্য কিতাবসমূহের ক্ষেত্রেও যা অনুসরণ করা সম্ভব ছিল।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের উপকারী ইলম ও নেক আমল নসিব করেন, এবং কথা ও কাজে ইখলাস দান করেন। তিনি যেন আমার এই কাজ কবুল করেন এবং একে আমার ও আমার মরহুম পিতার আমলনামায় যুক্ত করেন। তিনি যেন আমাকে এর সওয়াব এবং আমার সকল কর্মের প্রতিদান থেকে বঞ্চিত না করেন। আমি শ্রদ্ধেয় ভাই খলিফ বিন হিশান আল-আনাজিকে ধন্যবাদ জানাই এই কিতাবটি প্রকাশে তার প্রচেষ্টা এবং এর বিন্যাস, পাঠ ও নির্ঘণ্ট তৈরির কষ্টের জন্য। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এটি তার নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন এবং এর দ্বারা তাকে উপকৃত করেন। আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আকীল বিন সালেম আল-শামারি

দাওয়াহ ও ইরশাদ সদস্য, হাফর আল-বাতিন

Ageel001@yahoo.com

--------------------------------------------

(১) এই পরিভাষাটি ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মাওকুফ (موقوفًا) উক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে: "যে ব্যক্তি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে যেন কুরআনের গভীরে অনুসন্ধান করে।" এটি বায়হাকি শুআবুল ঈমান (২/৩৩১) এবং তাবারানি আল-মুজামুল কাবীর (৯/১৩৫)-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌القسم الأول

المسائل الفقهية المتعلقة بصلاة الاستخارة
প্রথম পরিচ্ছেদ

সালাতুল ইস্তিখারা সংক্রান্ত ফিকহি মাসআলাসমূহ
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
القسم الأول

المسائل الفقهية المتعلقة بصلاة الاستخارة

صلاة الاستخارة لا تختلف عن أنواع الصلاة الأخرى من حيث الشروط والأركان والواجبات والمستحبات، إلا أن هناك أحكامًا تخصها، ومن ذلك ما يلي:

 

‌‌المسألة الأولى: الأحاديث الواردة في الاستخارة.

ورد في الاستخارة عدة أحاديث، وهي كالتالي:

1 - حديث جابر رضي الله عنه:

عن جابر رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنا الاستخارة في الأمور كلها كما يعلمنا السورة من القرآن يقول: «إذا هم أحدكم بالأمر فليركع ركعتين من غير الفريضة؛ ثم ليقل: اللهم إني أستخيرك بعلمك، وأستقدك بقدرتك، وأسألك من فضلك العظيم؛ فإنك تقدر ولا أقدر، وتعلم ولا أعلم؛ وأنت علام الغيوب، اللهم إن كنت تعلم أن هذا الأمر خير لي في ديني، ومعاشي وعاقبة أمري، أو قال: عاجل أمري وآجله، فاقدره لي ويسره لي ثم بارك لي فيه، وإن كنت تعلم أن هذا الأمر شر لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمري، أو قال: عاجل أمري وآجله فاصرفه عني واصرفني عنه واقدر لي الخير حيث كان ثم أرضني به قال: ويسمي حاجته».

أخرجه: البخاري في عدة مواضع (1109) (2345) (2690)، وأبو داود (1538) والترمذي (480) والنسائي (3253) وابن ماجه (1383) وأحمد (344) وغيرهم من طريق عبد الرحمن بن أبي الموال عن ابن المنكدر عن جابر به.

وأنكر الإمام أحمد رواية ابن أبي الموال فقال: وروي عن محمد بن المنكدر حديث الاستخارة وليس أحد يرويه غيره، وهو منكر (1).

--------------------------------------------

(1) الكامل في الضعفاء 4/ 307.
প্রথম পরিচ্ছেদ

ইস্তিখারার সালাত সংশ্লিষ্ট ফিকহী মাসআলাসমূহ

শর্তাবলি (شروط), আরকান, ওয়াজিবাত এবং মুস্তাহাবসমূহের দিক থেকে ইস্তিখারার সালাত অন্যান্য সালাতের চেয়ে ভিন্ন নয়। তবে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ কিছু বিধান রয়েছে, যা নিম্নরূপ:

 

‌‌প্রথম মাসআলা: ইস্তিখারা সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ।

ইস্তিখারা সম্পর্কে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা নিম্নরূপ:

১ - জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস:

জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতিটি কাজে ইস্তিখারা করার শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: «তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজ করার সংকল্প করে, তখন সে যেন ফরয সালাত ব্যতিরেকে দুই রাকাত সালাত আদায় করে। অতঃপর যেন বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের মাধ্যমে শক্তি প্রার্থনা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ কামনা করছি। কেননা আপনি সক্ষম, আমি সক্ষম নই; আপনি জানেন, আমি জানি না; আর আপনি অদৃশ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। হে আল্লাহ! আপনার জ্ঞানে যদি এই কাজটি আমার দীন, জীবন-জীবিকা ও পরিণতির জন্য— অথবা বললেন: ইহকাল ও পরকালের জন্য— কল্যাণকর হয়, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন এবং সহজ করে দিন। অতঃপর তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন। আর যদি আপনার জ্ঞানে এই বিষয়টি আমার দীন, জীবন-জীবিকা ও পরিণতির জন্য— অথবা বললেন: ইহকাল ও পরকালের জন্য— ক্ষতিকর হয়, তবে তা আমার থেকে ফিরিয়ে নিন এবং আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আর আমার জন্য কল্যাণ যেখানেই থাকুক না কেন তা নির্ধারিত করুন এবং আমাকে তাতে সন্তুষ্ট রাখুন। তিনি বলেন: এরপর সে যেন তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে।»

এটি বর্ণনা করেছেন: বুখারি তাঁর কিতাবের একাধিক স্থানে (১১০৯) (২৩৪৫) (২৬৯০), এবং আবু দাউদ (১৫৩৮), তিরমিজি (৪৮০), নাসায়ি (৩২৫৩), ইবনে মাজাহ (১৩৮৩), আহমাদ (৩৪৪) সহ অন্যান্যগণ ইবনে মুনকাদির-এর মাধ্যমে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসটি আব্দুর রহমান ইবনে আবিল মুওয়াল-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমাদ ইবনে আবিল মুওয়াল-এর বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন: "মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির থেকে ইস্তিখারার হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, তবে তিনি ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি; এটি একটি আপত্তিকর (منكر) বর্ণনা।" (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-কামিল ফিদ দুয়াফা ৪/ ৩০৭।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ورده ابن عدي بقوله: وقد روى حديث الاستخارة غير واحد من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم كما رواه بن أبي الموال (1)، أي أن للحديث شواهد، كما أن عبد الرحمن بن الموال وثقه جماعة من أهله العلم (2)، والحديث هو العمدة في الباب.

2 - حديث ابن مسعود رضي الله عنه:

عن عبد الله قال: علمنا رسول الله الاستخارة قال: «إذا أراد أحدكم أمرًا فليقل: اللهم إني أستخيرك بعلمك فذكره، ولم يقل: العظيم، وقدم قوله: وتعلم على قوله: وتقدر، وقال: فإن كان هذا الذي أريد خيرًا في ديني وعاقبة أمري فيسره لي، وإن كان غير ذلك خيرًا لي فاقدر لي الخير حيث كان، يقول: ثم يعزم».

أخرجه الطبراني في الكبير (10012) من رواية صالح بن موسى الطلحي عن الأعمش عن إبراهيم عن علقمة، ورواه أيضًا من طريق أخرى (1301) من طريق ابن أبي ليلى عن فضيل بن عمرو عن إبراهيم عن علقمة.

3 - حديث أبي أيوب رضي الله عنه:

عن أبي أيوب الأنصاري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أكتم الخطبة ثم توضأ فأحسن الوضوء ثم صل ما كتب الله لك ثم أحمد ربك ومجده، ثم قل: اللهم إنك تقدر ولا أقدر الحديث إلى قوله الغيوب، وبعده فإن رأيت لي في فلانة تسميها باسمها خيرًا في دنياي وآخرتي فاقض لي بها أو قال فاقدرها لي».

وفي لفظ: «خيرًا لي في ديني ودنياي وآخرتي فاقدرها لي وإن كان غيرها خيرًا لي منها في ديني ودنياي وآخرتي فاقض لي ذلك».

--------------------------------------------

(1) الكامل 4/ 307.

(2) انظر: الفتح 11/ 183 وما بعدها.
ইবন আদি এটি এই বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একাধিক সাহাবী ইস্তিখারার হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইবন আবিল মাওয়াল বর্ণনা করেছেন (১); অর্থাৎ হাদিসটির স্বপক্ষে একাধিক সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে। তদুপরি ইলমে হাদিসের একদল বিশেষজ্ঞ আবদুর রহমান ইবনুল মাওয়ালকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলে অভিহিত করেছেন (২)। আর এই হাদিসটিই এই বিষয়ের মূল ভিত্তি (العمدة)।

২ - ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস:

আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন। তিনি বললেন: «তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের ইচ্ছা করে, সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের সাহায্যে আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি...» এরপর তিনি তা উল্লেখ করলেন, তবে ‘মহান’ শব্দটি বলেননি। তিনি ‘আপনি জানেন’ কথাটিকে ‘আপনি সক্ষম’ কথাটির আগে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «আমি যা ইচ্ছা করছি তা যদি আমার দ্বীন ও আমার কাজের পরিণতির জন্য কল্যাণকর হয়, তবে তা আমার জন্য সহজ করে দিন। আর যদি তা ছাড়া অন্য কিছু আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তবে কল্যাণ যেখানেই থাকুক না কেন তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন।» তিনি বলেন: «এরপর সে সংকল্প করবে।»

তাবারানি এটি আল-কাবির গ্রন্থে (১০০১২) সালিহ ইবন মুসা আত-তালহীর বর্ণনা (رواية) সূত্রে আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি এটি অন্য একটি সূত্র (طريق) (১৩০১) মারফতও বর্ণনা করেছেন, যা ইবন আবি লায়লা থেকে, তিনি ফুদাইল ইবন আমর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে প্রাপ্ত।

৩ - আবু আইয়ুব রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস:

আবু আইয়ুব আনসারী থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «বিয়ের প্রস্তাব গোপন রাখো, এরপর ভালোভাবে ওজু করো এবং তোমার জন্য আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন (ততটুকু) সালাত আদায় করো। এরপর তোমার রবের প্রশংসা করো এবং তাঁর মহিমা ঘোষণা করো। তারপর বলো: হে আল্লাহ! আপনি সক্ষম কিন্তু আমি সক্ষম নই...» হাদিসের ‘অদৃশ্য বিষয়সমূহ’ অংশ পর্যন্ত। এরপর: «যদি আপনি আমার জন্য অমুক নারীর মধ্যে—তার নাম উল্লেখ করবে—আমার দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য কল্যাণ দেখেন, তবে তাকে আমার জন্য ফয়সালা করে দিন,» অথবা তিনি বলেছেন: «তবে তাকে আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন।»

অন্য একটি পাঠে (لفظ) এসেছে: «আমার দ্বীন, দুনিয়া ও আখেরাতে আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তবে তাকে আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন। আর যদি সে ছাড়া অন্য কেউ আমার দ্বীন, দুনিয়া ও আখেরাতে আমার জন্য বেশি কল্যাণকর হয়, তবে আমার জন্য তাই ফয়সালা করুন।»

--------------------------------------------

(১) আল-কামিল ৪/৩০৭।

(২) দেখুন: আল-ফাতহ ১১/১৮৩ এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أخرجه الطبراني في الكبير (1307) من رواية الوليد بن أبي الوليد أن أيوب بن خالد بن أبي أيوب حدثه عن أبيه.

وأيوب وخالد ذكرهما ابن حبان في الثقات.

4 - حديث أبي بكر رضي الله عنه:

عن أبي بكر الصديق رضي الله عنه أن النبي كان إذا أراد أمرًا قال: «اللهم خر لي واختر لي».

أخرجه: الترمذي (3516) وأبو يعلى (44) والبزار في مسنده (59).

وقال الترمذي: غريب لا نعرفه إلا من حديث زنفل وهو ضعيف عند أهل الحديث.

وقال البزار: وهذا الحديث لا نعلمه يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا من هذا الوجه بهذا الإسناد، وزنفل قد حدث عنه غير إنسان؛ إلا أنه لم يتابع على هذا الحديث، ولكن لما لم نحفظ هذا الكلام عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا برواية زنفل لم نجد بدًا من كتابته؛ ونبين العلة فيه (1).

5 - حديث أبي سعيد رضي الله عنه:

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إذا أراد أحدهم أمرًا فليقل: اللهم إني أستخيرك بعلمك» الحديث - على نحو حديث جابر - وقال في آخره: «ثم قدر لي الخير أينما كان لا حول ولا قوة إلا بالله».

وأخرجه أبو يعلى في مسنده (1342)، والطبراني في الدعاء (1304)، وابن حبان في صحيحه (885) من طريق محمد بن عمرو بن عطاء عن عطاء بن يسار عن أبي سعيد بنحو حديث جابر.

--------------------------------------------

(1) مسند البزار (1/ 185).
তাবারানি এটি আল-কাবীর (১৩০৭) গ্রন্থে ওয়ালিদ ইবনে আবি ওয়ালিদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আইয়ুব ইবনে খালিদ ইবনে আবি আইয়ুব তার পিতার সূত্রে তার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং আইয়ুব ও খালিদ—উভয়কেই ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

৪ - আবু বকর (রা.) বর্ণিত হাদিস:

আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) যখন কোনো কাজের ইচ্ছা পোষণ করতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন এবং আমার জন্য পছন্দ করুন।»

এটি তিরমিজি (৩৫১৬), আবু ইয়ালা (৪৪) এবং বাজ্জার তার মুসনাদ (৫৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি অপরিচিত (غريب), আমরা এটি কেবল যানফালের বর্ণিত হাদিস হিসেবেই জানি, আর তিনি হাদিস বিশারদদের নিকট দুর্বল (ضعيف)।

বাজ্জার বলেন: এই হাদিসটি নবী (সা.) থেকে কেবল এই সূত্রে এবং এই সনদে বর্ণিত হয়েছে বলে আমরা জানি। যানফালের নিকট থেকে একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন; তবে এই হাদিসের ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করা হয়নি (অর্থাৎ এর কোনো সমর্থক বর্ণনা নেই)। কিন্তু যেহেতু নবী (সা.) থেকে এই বাণীটি যানফালের বর্ণনা ব্যতীত আমাদের সংরক্ষিত নেই, তাই আমরা এটি উদ্ধৃত করতে বাধ্য হয়েছি এবং এর ভেতরের ত্রুটি (العلة) স্পষ্ট করে দিচ্ছি (১)।

৫ - আবু সাঈদ (রা.) বর্ণিত হাদিস:

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করে, তবে সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি»—জাবিরের বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ—এবং তিনি এর শেষে বলেছেন: «অতঃপর আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন তা যেখানেই থাকুক। আল্লাহর সাহায্য ও শক্তি ব্যতীত আর কোনো উপায় নেই।»

এটি আবু ইয়ালা তার মুসনাদ (১৩৪২), তাবারানি আদ-দুয়া (১৩০৪) এবং ইবনে হিব্বান তার সহিহ (৮৮৫) গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা-এর সূত্রে আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে জাবিরের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মুসনাদ বাজ্জার (১/১৮৫)।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
6 - حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه:

عن سعد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من سعادة ابن آدم استخارته الله، ومن سعادة ابن آدم رضاه بما قضاه الله، ومن شقوة ابن آدم تركه استخارة الله، ومن شقوة ابن آدم سخطه بما قضى الله عز وجل».

أخرجه الترمذي (2151) وأحمد (1444) والحاكم (1990) من طريق إسماعيل بن محمد بن سعد بن أبي وقاص عن أبيه عن جده.

وقال الترمذي: هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث محمد بن أبي حميد ويقال له أيضًا حماد بن أبي حميد، وهو إبراهيم المدني وليس هو بالقوي عند أهل الحديث.

وصححه الحاكم ووافقه الذهبي، وحسنه الحافظ ابن حجر في الفتح (11/ 184).

7 - حديث ابن عباس رضي الله عنه.

8 - حديث ابن عمر رضي الله عنه.

عن عبد الله بن عمر وابن عباس رضي الله عنه قالا: كان رسول الله يعلمنا الاستخارة كما يعلمنا السورة من القرآن اللهم إني أستخيرك الحديث إلى آخر قوله علام الغيوب، وزاد بعده: «اللهم ما قضيت علي من قضاء فاجعل عاقبته إلى خير».

أخرجهما الطبراني في الكبير (1305) وقال العيني: وإسناده ضعيف وفيه عبد الله بن هانئ متهم بالكذب (1).

9 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا أراد أحدكم أمرًا فليقل: اللهم إني أستخيرك فذكره ولم يقل العظيم، وفي آخره: ورضني بقدرك».

--------------------------------------------

(1) عمدة القارئ 11/ 380.
6 - সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর হাদিস:

সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «আদম সন্তানের সৌভাগ্যের অন্যতম বিষয় হলো আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা (কল্যাণ প্রার্থনা) করা, এবং আদম সন্তানের সৌভাগ্যের অন্যতম বিষয় হলো আল্লাহ যা ফয়সালা করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা। আর আদম সন্তানের দুর্ভাগ্যের অন্যতম বিষয় হলো আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করা বর্জন করা, এবং আদম সন্তানের দুর্ভাগ্যের অন্যতম বিষয় হলো আল্লাহ যা ফয়সালা করেছেন তার প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া»।

তিরমিজি (২১৫১), আহমাদ (১৪৪৪) ও হাকিম (১৯৯০) এটি ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিজি বলেন: এই হাদিসটি অপরিচিত (غريب), মুহাম্মাদ ইবনে আবি হুমাইদ-এর বর্ণনা ছাড়া এটি আমরা অন্য কোনোভাবে চিনি না। তাঁকে হাম্মাদ ইবনে আবি হুমাইদও বলা হয়; তিনি মূলত ইবরাহিম আল-মাদানি এবং হাদিস বিশারদদের কাছে তিনি শক্তিশালী (القوي) নন।

হাকিম এটিকে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন এবং জাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আর হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারিতে (১১/ ১৮৪) এটিকে হাসান (حسن) বলেছেন।

7 - ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস।

8 - ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন যেমনভাবে তিনি আমাদের কুরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন— 'হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি...' হাদিসটির শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ 'অদৃশ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত' বলা পর্যন্ত। তিনি এর সাথে আরও বৃদ্ধি করেছেন: «হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য যে ফয়সালা করেছেন, তার পরিণাম যেন কল্যাণের দিকে পরিচালিত হয়»।

তাবারানি আল-কাবিরে (১৩০৫) হাদিস দুটি বর্ণনা করেছেন। আইনি বলেন: এর সনদ দুর্বল (ضعيف) এবং এতে আবদুল্লাহ ইবনে হানি নামক রাবি রয়েছেন যিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) (১)।

9 - আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের সংকল্প করে, তখন সে যেন বলে: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি...» অতঃপর তিনি পূর্ণ হাদিস উল্লেখ করেছেন, তবে 'আল-আজিম' (মহান) শব্দটি বলেননি, এবং এর শেষে উল্লেখ করেছেন: «এবং আপনার তকদিরে আমাকে সন্তুষ্ট রাখুন»।

--------------------------------------------

(১) উমদাতুল কারি ১১/ ৩৮০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
أخرجه الطبراني في الكبير (1306)، وابن حبان في صحيحه (886) من طريق أبي الفضل بن العلاء بن عبد الرحمن؛ عن أبيه عن جده.

وقال ابن حبان: أبو الفضل اسمه شبل بن العلاء بن عبد الرحمن، مستقيم الأمر في الحديث.

وقد ضعفه ابن عدي فقال: حدث بأحاديث له غير محفوظة مناكير وأورد له هذا الحديث، وقال: إنه منكر لا يحدث به غير شبل.

10 - حديث أنس رضي الله عنه.

عن أنس رضي الله عنه مرفوعًا: «إذا أهممت بأمر فاستخر ربك سبعًا، ثم انظر إلى الذي يسبق في قلبك فإن الخير فيه».

أخرجه ابن السني في عمل اليوم والليلة (551)، ولكنه لا يصح، قال الحافظ في الفتح (18/ 171): ولو صح لكان المعتمد لكن إسناده واه جدًا (1).

فنلاحظ أن صلاة الركعتين لم ترد إلا في حديث جابر رضي الله عنه، وهو أصحها إسنادًا، وأتمها سياقًا.

****

--------------------------------------------

(1) الفتح 18/ 171.
এটি তাবারানি আল-কাবিরে (১৩০৬) এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সাহিহ-তে (৮৮৬) আবুল ফজল ইবনুল আলা ইবনে আবদুর রহমানের সূত্রে; তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হিব্বান বলেন: আবুল ফজলের নাম শিবল ইবনুল আলা ইবনে আবদুর রহমান, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে সুসংহত (مستقيم الأمر)।

তবে ইবনে আদি তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন (ضعفه) এবং বলেছেন: তিনি এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন যা অসংরক্ষিত (غير محفوظة) এবং বর্জিত (مناكير)। তিনি তাঁর বর্ণনায় এই হাদিসটি উল্লেখ করে বলেছেন: এটি একটি বর্জিত (منكر) হাদিস, যা শিবল ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেনি।

১০ - আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস।

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে (مرفوعًا) বর্ণিত: «যখন তুমি কোনো কাজ করার ইচ্ছা করো, তখন তোমার রবের কাছে সাতবার ইস্তিখারা করো। এরপর তোমার অন্তরে যা প্রথমে আসে তার দিকে তাকাও, কারণ তাতেই কল্যাণ রয়েছে।»

এটি ইবনুস সুন্নি আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ (৫৫১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তবে এটি বিশুদ্ধ নয় (لا يصح)। হাফেজ ইবনে হাজার আল-ফাতহ গ্রন্থে (১৮/১৭১) বলেছেন: যদি এটি বিশুদ্ধ (صح) হতো তবে এর ওপরই নির্ভর করা হতো, কিন্তু এর বর্ণনাপরম্পরা অত্যন্ত দুর্বল (واه جدًا) (১)।

আমরা লক্ষ্য করি যে, দুই রাকাত নামাজের কথা কেবল জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসেই বর্ণিত হয়েছে, যা বর্ণনাপরম্পরার (إسنادًا) দিক থেকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصحها) এবং বর্ণনার ধারাক্রমের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ।

****

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতহ ১৮/১৭১।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المسألة الثانية

أصل مشروعيتها

من رحمة الله أن أرسل رسوله بالهدى ودين الحق، فبعثه يجدد لهم ملة أبيهم إبراهيم، وينشر توحيد الله وعبادته في الأرض، وكان أهل الجاهلية تبعًا لما هم عليه من الشرك؛ يقدمون على أمورهم ومصالحهم الدنيوية ويحجمون عنها بالاستقسام بالأزلام، وبتحريك الطيور والنظر إلى جهاتها.

فعوض الله المسلمين بركعتي الاستخارة، لما فيهما من التوكل على الله؛ وتفويض الأمر إليه؛ والرضا بقدر الله وقضائه.

فإذا هممت بأمر وأردت أن تعزم عليه بعد استشارة الناس فإنك تستخير.

وبعض العلماء يستقبح الاستخارة قبل الاستشارة؛ لأنك إذا استخرت فلا تستشر أحدًا بعد الله عز وجل، ولذلك قالوا: تكون الاستخارة هي آخر الأمر.

ويؤيد ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: «إذا هم أحدكم بالأمر» أي: أن يكون عنده الاهتمام، ومعنى ذلك أنه قد وجد من مشورة الناس ومن حديث النفس ما يجعله يتردد.

وهذا أمر مستحسن؛ إلا أنه لا يعني عدم صحة الاستخارة لو تقدمت على استشارة غيره من المسلمين.

****
‌‌দ্বিতীয় মাসআলা (বিষয়)

এর বৈধতার মূল ভিত্তি

আল্লাহর অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, তিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁকে তাঁদের পিতা ইব্রাহিমের আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং জমিনে আল্লাহর তাওহীদ ও ইবাদত প্রচারের জন্য পাঠিয়েছেন। জাহেলি যুগের লোকেরা তাদের শিরকপূর্ণ রীতিনীতির অনুসারী ছিল; তারা তাদের পার্থিব কর্মকাণ্ড ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অগ্রসর হওয়া বা বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত তীরের মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা এবং পাখি উড়িয়ে সেগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের এর পরিবর্তে দুই রাকাত ইস্তিখারার সালাত দান করেছেন; কারণ এতে রয়েছে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা, তাঁর কাছে বিষয়াদি সোপর্দ করা এবং আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকা।

সুতরাং যখন আপনি কোনো কাজের ইচ্ছা পোষণ করবেন এবং মানুষের সাথে পরামর্শ করার পর সে বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প করবেন, তখন আপনি ইস্তিখারা করবেন।

কোনো কোনো আলিম পরামর্শের আগে ইস্তিখারা করাকে অপছন্দ করেছেন; কারণ যখন আপনি ইস্তিখারা করবেন, তখন মহান আল্লাহর পর আর কারো নিকট পরামর্শ চাওয়ার অবকাশ থাকে না। এই কারণেই তাঁরা বলেছেন: ইস্তিখারা হবে কোনো বিষয়ের সর্বশেষ পদক্ষেপ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী একে সমর্থন করে: «যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের সংকল্প করে» অর্থাৎ তার অন্তরে কোনো বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব বা আগ্রহ তৈরি হয়। এর অর্থ হলো, মানুষের পরামর্শ এবং নিজের মনের জল্পনা-কল্পনা থেকে সে এমন কিছু পেয়েছে যা তাকে দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলেছে।

আর এটি একটি উত্তম পদ্ধতি; তবে এর অর্থ এই নয় যে, অন্যান্য মুসলিমদের পরামর্শ করার আগে ইস্তিখারা করলে তা সঠিক (صحيح) হবে না।

****
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المسألة الثالثة

حكم صلاة الاستخارة

أجمع العلماء على أن صلاة الاستخارة سنة (1)، وأومأ الشوكاني في نيل الأوطار إلى الوجوب ولم يجزم به، والقول بالوجوب متجه على مذهب الظاهرية، لصراحة الأمر في قوله: «فليركع ركعتين»، ولكن يرد عليه أنه أمر معلق بقوله: «إذا هم أحدكم بالأمر» فليس هو أمرًا مطلقًا.

****

 

‌‌المسألة الرابعة

ما هي الأمور التي تشرع لها صلاة الاستخارة
؟

اختلف العلماء في الأمور التي تشرع لها الاستخارة على أقوال كما يلي:

القول الأول: يستخير المسلم في كل أمر، سواء كان أمرًا دنيويًا أو دينيًا:

أما أمور الدنيا: فبالاتفاق.

وأما أمور الدين: فلا يستخير في ذات الأمر الشرعي، وإنما فيما يحتف به من أحوال، كأن يستخير في وقت العمرة، أو مقدار الوقف، أو غير ذلك.

وذلك لأن ذات الأمر الديني مما نهى الله عنه، أو أمر به، أو ندب إليه، أو كرهه؛ أو أباحه لا خيار فيه للعبد المؤمن، لأن العبادة مبناها على التسليم لشرع الله.

القول الثاني: يستخير المسلم في المباحات والمندوبات، أما الواجبات والمحرمات فلا يستخير فيها (2).

--------------------------------------------

(1) الموسوعة الكويتية 3/ 242.

(2) حاشية الروض 3/ 220.
তৃতীয় মাসআলা

ইস্তিখারার সালাতের বিধান

উলামায়ে কেরাম এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ইস্তিখারার সালাত সুন্নাত (سنة) (১), আর শাওকানী 'নাইলুল আওতার' গ্রন্থে এটি ওয়াজিব হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তবে তিনি এ ব্যাপারে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেননি। ওয়াজিব হওয়ার মতটি যাহেরী মাযহাব অনুযায়ী সঙ্গতিপূর্ণ, কারণ ‘সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় করে’—এই নির্দেশের মাঝে স্পষ্টতা রয়েছে। তবে এর বিপরীতে বলা যায় যে, এটি একটি শর্তযুক্ত নির্দেশ যা ‘যখন তোমাদের কেউ কোনো বিষয়ের ইচ্ছা পোষণ করে’—এই বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট; সুতরাং এটি কোনো নিঃশর্ত (مطلق) নির্দেশ নয়।

****

 

চতুর্থ মাসআলা

কোন কোন বিষয়ে ইস্তিখারার সালাত বিধিবদ্ধ?

যেসব বিষয়ে ইস্তিখারা করা বিধিবদ্ধ, সে ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের মাঝে নিম্নরূপ বিভিন্ন অভিমত রয়েছে:

প্রথম মত: মুসলিম ব্যক্তি প্রতিটি বিষয়েই ইস্তিখারা করবে, তা পার্থিব হোক কিংবা দ্বীনি বিষয় হোক।

পার্থিব বিষয়ের ক্ষেত্রে: এটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাব্যস্ত।

আর দ্বীনি বিষয়ের ক্ষেত্রে: শরয়ি বিধানের মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে সে ইস্তিখারা করবে না, বরং বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে করবে; যেমন উমরার সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে, অথবা ওয়াকফ-এর পরিমাণের ক্ষেত্রে অথবা এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে।

কেননা দ্বীনি বিধানের মূল বিষয়টি এমন—যা আল্লাহ নিষেধ করেছেন, অথবা আদেশ করেছেন, অথবা করার জন্য উৎসাহিত করেছেন, অথবা অপছন্দ করেছেন কিংবা যা বৈধ করেছেন; এতে মুমিন বান্দার কোনো পছন্দের সুযোগ নেই। কারণ ইবাদতের ভিত্তি হলো আল্লাহর শরীয়তের প্রতি আত্মসমর্পণের ওপর।

দ্বিতীয় মত: মুসলিম ব্যক্তি বৈধ (مباح) এবং পছন্দনীয় (مندوب) বিষয়সমূহে ইস্তিখারা করবে, তবে ওয়াজিব ও হারাম কার্যাবলির ক্ষেত্রে সে ইস্তিখারা করবে না (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-মাওসুআতুল কুয়েতিয়্যাহ ৩/২৪২।

(২) হাশিয়াতুর রওদ ৩/২২০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
القول الثالث: يستخير فيما يتعلق بالمباحات والمشروعات، وليس في ذات المشروع أنه واجب أو مستحب، وإنما فيما يتعلق بالمباحات مثل الزواج، ومثل شراء المركوب، أو شراء البيت أو غير ذلك.

كذلك أيضًا ما يتعلق بالمشروعات كزمان السفر؛ وآلة السفر وغيرها (1).

والذي يظهر - والله أعلم -:

أن هناك أمورًا متفق عليها، وهي كما يلي:

1 - اتفق العلماء على أنه لا يشرع الاستخارة في كل شيء من أمور الإنسان، كأموره العبادية والحياتية ودقائق تصرفاته، لأنه لم يرد أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يستخير في كل شيء.

2 - اتفق العلماء على أنه لا يشرع للمسلم الاستخارة في ذات أمور العبادة، سواء الواجبات أو المحرمات، فلا يجوز أن يستخير في أداء أمر واجب، أو ترك فعل محرم.

3 - اتفق العلماء على أنه يشرع للمسلم الاستخارة فيما يحتف بالأمور المباحة من أحوال كزواج من فلانة، أو وقت سفر، أو تعيين وظيفة، أو تحديد منزل للشراء أو غير ذلك.

واختلفوا في عدة أمور:

1 - هل تشرع الاستخارة فيما ظهرت مصلحته للإنسان؟

2 - هل تشرع الاستخارة في المندوبات؟

والراجح - والله أعلم وأحكم -:

أن الاستخارة تشرع في كل شيء مما يستخار له، سواء كان مندوبًا أو مباحًا، ويدل لذلك عموم قوله: (قوله يعملنا الاستخارة في كل الأمور) التي تعترينا وتحتاج للاستخارة.

--------------------------------------------

(1) شرح الشيخ المشيقح على عمدة الطالب (2/ 235).
তৃতীয় মত: বৈধ (مباح) এবং বিধিবদ্ধ কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইস্তিখারা করা যাবে; কোনো বিধিবদ্ধ কাজ স্বীয় সত্তার দিক থেকে আবশ্যক (واجب) নাকি পছন্দনীয় (مستحب)—সেই বিচারে ইস্তিখারা হবে না। বরং তা হবে বৈধ (مباح) বিষয়াবলির আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রে, যেমন বিবাহ, বাহন ক্রয়, বাড়ি ক্রয় বা অনুরূপ বিষয়ে।

অনুরূপভাবে বিধিবদ্ধ কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়াদি, যেমন সফরের সময় এবং সফরের বাহন ইত্যাদি (১)।

আর যা প্রতীয়মান হয়—এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ—:

সেখানে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলো নিম্নরূপ:

১ - আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মানুষের জীবনের প্রতিটি বিষয়ে ইস্তিখারা করা বিধিবদ্ধ নয়, যেমন তার ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়, জীবনযাত্রার কার্যাবলী এবং খুঁটিনাটি আচরণসমূহ। কেননা এমনটি বর্ণিত হয়নি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি বিষয়ে ইস্তিখারা করতেন।

২ - আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ইবাদতের মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে একজন মুসলমানের জন্য ইস্তিখারা করা বিধিবদ্ধ নয়, তা আবশ্যক (واجب) কাজ হোক কিংবা নিষিদ্ধ (محرم) কাজ হোক। সুতরাং কোনো আবশ্যক (واجب) কাজ সম্পাদন বা কোনো নিষিদ্ধ (محرم) কাজ বর্জনের ক্ষেত্রে ইস্তিখারা করা জায়েজ নয়।

৩ - আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, বৈধ (مباح) বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অবস্থাসমূহের ক্ষেত্রে ইস্তিখারা করা বিধিবদ্ধ, যেমন নির্দিষ্ট কাউকে বিবাহ করা, সফরের সময় নির্ধারণ করা, কর্মসংস্থান নির্বাচন করা বা ক্রয়ের জন্য বাড়ি নির্ধারণ করা ইত্যাদি।

তবে তাঁরা বেশ কিছু বিষয়ে মতভেদ করেছেন:

১ - যে বিষয়ে মানুষের কল্যাণ বা উপকারিতা স্পষ্ট, সেখানে কি ইস্তিখারা বিধিবদ্ধ?

২ - পছন্দনীয় (مندوب) বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে কি ইস্তিখারা বিধিবদ্ধ?

আর অগ্রগণ্য (راجح) মত হচ্ছে—এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ ও মহাপ্রজ্ঞাময়—:

ইস্তিখারা করা যায় এমন প্রতিটি বিষয়েই ইস্তিখারা করা বিধিবদ্ধ; চাই তা পছন্দনীয় (مندوب) হোক বা বৈধ (مباح) হোক। এর প্রমাণ হলো তাঁর এই বাণীর ব্যাপকতা: (তাঁর বাণী: তিনি আমাদের সকল বিষয়ে ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন), যা আমাদের সামনে আসে এবং ইস্তিখারার প্রয়োজন হয়।

--------------------------------------------

(১) উমদাতুত তালিব-এর ওপর শেখ আল-মুশাইকিহ এর শারহ (২/২৩৫)।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومما ينبغي التنبيه عليه أن قوله صلى الله عليه وسلم: «إذا هم أحدكم بالأمر فليركع» تدل على الاستعجال بالاستخارة وعدم التباطؤ فيها.

****

 

‌‌المسألة الخامسة

هل تؤدي صلاة الاستخارة في وقت النهي
؟

هذه المسألة تعرف بذوات الأسباب، ومؤداها: هل يجوز أداء ذوات الأسباب في وقت النهي؟ وقد اختلف العلماء في ذلك على قولين (1):

القول الأول: جواز فعل ذوات الأسباب في أوقات النهي عند وجود أسبابها، وهذا قول الشافعي، ورواية عن الإمام أحمد، اختارها بعض الحنابلة، كأبي الخطاب، وابن عقيل، وشيخ الإسلام ابن تيمية، وابن القيم، واستدلوا بما يلي:

1 - أن أحاديث النهي عن الصلاة من العام غير المحفوظ؛ لأنه قد دخله التخصيص بأحاديث أخرى، مثل:

- قضاء الفائتة، لقوله صلى الله عليه وسلم: «من نسي صلاة فليصلها إذا ذكرها، لا كفارة لها إلا ذلك» (2).

- وبمثل إعادة الجماعة فيمن دخل مسجدًا فوجد الناس يصلون وهو قد صلى، فإنه يصلي معهم، ولو كان الوقت نهيًا، لحديث يزيد بن الأسود في قصة الرجلين؛ وفيه: عن أبي ذر رضي الله عنه قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كيف أنت إذا كانت عليك أمراء يؤخرون الصلاة عن وقتها أو يميتون الصلاة عن وقتها؟ قال: قلت: فما تأمرني قال: صل الصلاة لوقتها، فإن أدركتها معهم فصل فإنها لك نافلة» (3)، وغير ذلك مما دلت عليه السنة.

--------------------------------------------

(1) منحة العلام 1/ 159 وما بعدها مختصرًا.

(2) رواه مسلم (314).

(3) أخرجه مسلم (1497).
একটি বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন যে, আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করে, সে যেন দুই রাকাত নামাজ আদায় করে" - এটি ইস্তিখারার ক্ষেত্রে দ্রুত করার প্রতি এবং এতে দেরি না করার প্রতি নির্দেশ করে।

****

 

‌‌পঞ্চম মাসআলা

নিষিদ্ধ সময়ে (وقت النهي) কি ইস্তিখারার নামাজ আদায় করা যাবে?

এই বিষয়টি 'কারণসংশ্লিষ্ট নামাজ' (ذوات الأسباب) হিসেবে পরিচিত। এর মূল কথা হলো: নিষিদ্ধ সময়ে (وقت النهي) কি কারণসংশ্লিষ্ট নামাজ (ذوات الأسباب) আদায় করা জায়েজ? এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন (১):

প্রথম মত: কারণ বিদ্যমান থাকলে নিষিদ্ধ সময়ে (أوقات النهي) কারণসংশ্লিষ্ট নামাজ (ذوات الأسباب) আদায় করা জায়েজ। এটি ইমাম শাফেয়ীর অভিমত এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা। কিছু হাম্বলি আলেম যেমন আবুল খাত্তাব, ইবনে আকিল, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ এবং ইবনুল কায়্যিম এই মতটি গ্রহণ করেছেন। তারা নিম্নোক্ত দলিলসমূহ পেশ করেছেন:

1 - নামাজ সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলো অ-সংরক্ষিত ব্যাপক (العام غير المحفوظ) পর্যায়ের; কেননা অন্য হাদিস দ্বারা এগুলোতে বিশেষায়ন (تخصيص) প্রবেশ করেছে, যেমন:

- ছুটে যাওয়া নামাজ কাজা করা, আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর কারণে: «যে ব্যক্তি কোনো নামাজ ভুলে যায়, সে যখনই তা স্মরণ করবে তখনই যেন তা আদায় করে নেয়, এছাড়া এর আর কোনো কাফফারা নেই» (২)।

- অনুরূপভাবে জামাত পুনরায় আদায় করা সেই ব্যক্তির জন্য, যে মসজিদে প্রবেশ করে দেখল লোকেরা নামাজ পড়ছে অথচ সে আগে নামাজ পড়ে নিয়েছে; সে তাদের সাথে নামাজ আদায় করবে, যদিও সেটি নিষিদ্ধ সময় (وقت نهي) হয়। এর দলিল হলো ইয়াজিদ ইবনুল আসওয়াদের বর্ণিত দুই ব্যক্তির ঘটনার হাদিস; তাতে রয়েছে: আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন: «তোমার অবস্থা কেমন হবে যখন তোমার ওপর এমন শাসক নিযুক্ত হবে যারা নামাজকে তার সময় থেকে পিছিয়ে দেবে অথবা সময় পার করে দিবে? তিনি (আবু যার) বলেন: আমি বললাম: আপনি আমাকে কী নির্দেশ দেন? তিনি বললেন: তুমি সময়মতো নামাজ আদায় করে নিবে, এরপর যদি তাদের সাথেও নামাজ পাও তবে আদায় করে নিবে; তা তোমার জন্য নফল (نافلة) হিসেবে গণ্য হবে» (৩), এ ছাড়াও সুন্নাহর অন্যান্য দলিলও এর ওপর প্রমাণ পেশ করে।

--------------------------------------------

(১) মিনহাতুল আল্লাম, ১/১৫৯ এবং এর পরবর্তী অংশ থেকে সংক্ষেপে।

(২) মুসলিম (৩১৪) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) মুসলিম (১৪৯৭) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ومثل حديث صلاة الاستخارة وتحية المسجد فإنه عام في جميع الأوقات، محفوظ لم يدخله التخصيص، لقوله صلى الله عليه وسلم: «فليركع ركعتين من غير الفريضة» لهذا لفظ عام، والقاعدة أن العام الذي لم يدخله التخصيص مقدم على العام الذي دخله التخصيص.

2 - أن ذوات الأسباب كصلاة الاستخارة وتحية المسجد مثلًا مقرونة بسبب، فلا تدخل في أحاديث النهي، كقوله صلى الله عليه وسلم: «لا يتحرى أحدكم فيصلي عند طلوع الشمس ولا عند غروبها» (1)، والذي يصلي لسبب لا يقال: إنه تحرى الصلاة، بخلاف التطوع المطلق الذي لا سبب له.

القول الثاني: أنه لا يجوز فعل ذوات الأسباب من النوافل في أوقات النهي مطلقًا، وهذا مذهب الحنفية، والمالكية، وأحمد في المشهور عنه، واستدلوا:

1 - بعموم أحاديث النهي عن الصلاة في هذه الأوقات؛ لأن أحاديث النهي أقوى، فإنها قد بلغت حد التواتر، كما جزم بذلك الطحاوي، وشيخ الإسلام ابن تيمية وغيرهما.

والراجح:

هو القول الأول؛ لقوة دليله، يضاف إلى ذلك أن ذوات الأسباب تفوت بفوات أسبابها ومن ذلك صلاة الاستخارة في وقت النهي، وتكون مخصوصة من عموم النهي.

****

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: أخرجه البخاري (585)، ومسلم (1961).
যেমন ইস্তিখারা সালাত এবং তাহিয়াতুল মসজিদের হাদিস; এটি সকল সময়ের জন্য সাধারণ (عام), এবং এটি সংরক্ষিত (محفوظ) যা কোনো বিশেষীকরণ (تخصيص) দ্বারা প্রভাবিত হয়নি। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সে যেন ফরজ ব্যতীত দুই রাকাত সালাত আদায় করে», এটি একটি সাধারণ (عام) শব্দ। আর মূলনীতি হলো, যে সাধারণ (عام) শব্দে বিশেষীকরণ (تخصيص) প্রবেশ করেনি, তা এমন সাধারণ (عام) শব্দের ওপর অগ্রগণ্য যাতে বিশেষীকরণ (تخصيص) প্রবেশ করেছে।

২ - কারণ-সংশ্লিষ্ট সালাত (ذوات الأسباب) যেমন ইস্তিখারা সালাত ও তাহিয়াতুল মসজিদ কোনো না কোনো কারণের সাথে যুক্ত। তাই এগুলো নিষেধের (نهي) হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত হবে না। যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তোমাদের কেউ যেন সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায়ের উদ্দেশ্য না করে» (১)। আর যে ব্যক্তি কোনো কারণে সালাত আদায় করে, তাকে সালাতের উদ্দেশ্যকারী বলা হয় না; যা কারণহীন সাধারণ নফল (التطوع المطلق) সালাতের বিপরীত।

দ্বিতীয় মত: নিষিদ্ধ (نهي) সময়ে কারণ-সংশ্লিষ্ট (ذوات الأسباب) কোনো নফল সালাত আদায় করা মোটেও জায়েজ নয়। এটি হানাফি, মালেকি এবং ইমাম আহমদের প্রসিদ্ধ অভিমত। তারা দলিল পেশ করেছেন:

১ - এই সময়গুলোতে সালাত আদায় নিষিদ্ধ (نهي) সংক্রান্ত হাদিসগুলোর ব্যাপকতার (عموم) মাধ্যমে; কারণ নিষেধের (نهي) হাদিসগুলো অধিক শক্তিশালী এবং এগুলো মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেমনটি ইমাম তহাবি, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং অন্যরা দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন।

অধিকতর সঠিক (راجح) মত:

প্রথম মতটিই অগ্রগণ্য; এর দলিলের শক্তির কারণে। এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, কারণ-সংশ্লিষ্ট (ذوات الأسباب) সালাতগুলো তার কারণ অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে হাতছাড়া হয়ে যায়। এর মধ্যে নিষিদ্ধ (نهي) সময়ে ইস্তিখারা সালাতও অন্তর্ভুক্ত, এবং এটি সাধারণ নিষেধের (عموم النهي) বিধান থেকে বিশেষায়িত (مخصوصة) হিসেবে গণ্য হবে।

****

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): এটি বুখারি (৫৮৫) ও মুসলিম (১৯৬১) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المسألة السادسة

متى تبدأ نية صلاة الاستخارة
؟

وصورة المسألة: شخص صلى ركعتين نافلة مطلقة، ثم بدا له أثناء الصلاة أمرٌ من الأمور يستدعي صلاة الاستخارة، فهل يحق له أن ينوي أم لا؟

الذي يظهر لي - والله أعلم وأحكم - أن نية صلاة الاستخارة تكون قبل البدء فيها، ويدل لذلك ما يلي:

1 - قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث: «إذا هم أحدكم بالأمر فليركع ركعتين من غير الفريضة» فلفظ الحديث مشعر باستقلال الاستخارة بنية خاصة لها تكون من بداية الصلاة.

2 - أن النية شرط، والشروط تكون قبل الأفعال.

وعلى هذا لا يصح لمن كان في صلاة أن ينوي الاستخارة داخل صلاته.

****

 

‌‌المسألة السابعة

عدد ركعات صلاة الاستخارة

اتفق العلماء على ثلاثة أمور هي:

الأول: اتفقوا على أنها لا تصح بركعة واحدة، وذلك لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «فليركع ركعتين».

الثاني: اتفقوا على أن الأفضل أن تكون ركعتان، وذلك لأن لفظ الحديث نص عليهما.

الثالث: اتفقوا على أنها لا تكون وترًا، لأن الحديث نص على الشفع بقوله: «فليركع ركعتين».
‌‌ষষ্ঠ মাসআলা

ইস্তিখারার নামাজের নিয়ত কখন শুরু হয়
?

মাসআলাটির রূপরেখা: কোনো ব্যক্তি দুই রাকাত সাধারণ নফল (نافلة مطلقة) নামাজ পড়ছে, অতঃপর নামাজের মাঝখানে তার মনে এমন কোনো বিষয়ের উদয় হলো যার জন্য ইস্তিখারার নামাজ প্রয়োজন, তবে কি তার জন্য নিয়ত করা বৈধ হবে কি না?

আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়—এবং আল্লাহ অধিক জ্ঞাত ও প্রজ্ঞাময়—তা হলো, ইস্তিখারার নামাজের নিয়ত তা শুরু করার পূর্বেই হতে হবে। এর স্বপক্ষে দলিলসমূহ নিম্নরূপ:

১ - হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের সংকল্প করে, তখন সে যেন ফরজ নামাজ ছাড়া দুই রাকাত নামাজ আদায় করে»; হাদিসের এই শব্দাবলি ইঙ্গিত দেয় যে, ইস্তিখারার জন্য স্বতন্ত্র একটি বিশেষ নিয়ত থাকা আবশ্যক যা নামাজের শুরু থেকেই হতে হবে।

২ - নিশ্চয়ই নিয়ত হলো একটি শর্ত (شرط), আর শর্তসমূহ আমলের পূর্বেই সম্পন্ন হতে হয়।

এর ওপর ভিত্তি করে, যে ব্যক্তি নামাজে রত আছেন, তার জন্য নামাজের ভেতরে ইস্তিখারার নিয়ত করা সঠিক (صحيح) হবে না।

****

 

‌‌সপ্তম মাসআলা

ইস্তিখারার নামাজের রাকাত সংখ্যা

ওলামায়ে কেরাম তিনটি বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, সেগুলো হলো:

প্রথমত: তারা একমত হয়েছেন যে, এক রাকাতের মাধ্যমে এটি সঠিক (صحيح) হবে না। এর কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «সে যেন দুই রাকাত নামাজ আদায় করে»।

দ্বিতীয়ত: তারা একমত হয়েছেন যে, দুই রাকাত হওয়াই উত্তম। কারণ হাদিসের শব্দে স্পষ্টভাবে দুই রাকাতের কথা উল্লেখ আছে।

তৃতীয়ত: তারা একমত হয়েছেন যে, এটি বিতর (وتر) হবে না। কারণ হাদিসে «সে যেন দুই রাকাত নামাজ আদায় করে» বলার মাধ্যমে জোড় রাকাতের ওপর সুস্পষ্ট নির্দেশ (نص) প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
واختلفوا فيما زاد على الركعتين ولم يكن وترًا - كأن يصلي أربعًا - على قولين:

القول الأول: لا تجوز الزيادة على الركعتين، وهو قول الجمهور، واستدلوا بما يلي:

1 - أن الحديث نص على الركعتين فلا تجوز الزيادة على الحديث.

2 - أن العبادات مبناها على التوقيف، وقد ورد الدليل بأنها ركعتان فقط.

القول الثاني: جواز الزيادة على ركعتين، وهو قول الشافعية (1)، واستدلوا بما يلي:

1 - أن القول بالاقتصار على الركعتين غايته أنه احتجاج بمفهوم العدد، ومفهوم العدد ضعيف كما في علم أصول الفقه.

2 - ذكر الركعتين في الحديث لا يعني عدم الزيادة، وإنما المراد منه بيان أقل عدد من صلاة الاستخارة؛ بحيث أنه لا يجوز النقصان عن ذلك، وليس المراد منه الزيادة.

والراجح - والله أعلم -:

هو الاقتصار على الركعتين وعدم الزيادة عليهما، وذلك وقوفًا مع السنة النبوية، والنبي صلى الله عليه وسلم في مقام تعليم، خاصة أن صلاة الاستخارة كان يعلمها أصحابه كما يعلمهم السورة من القرآن؛ فيبعد مع ذلك جوازها بأكثر من ذلك ولم يبينها لهم.

وليس ذكر الركعتين في حديث جابر رضي الله عنه من باب مفهوم العدد، لأن مفهوم العدد أن يعلق الحكم على عدد معين (2)، وإنما حديث جابر رضي الله عنه من بيان الصفة فيلزم التقيد به.

****

--------------------------------------------

(1) الدين الخالص 1/ 255، والموسوعة الكويتية 3/ 243.

(2) إرشاد الفحول 2/ 44.
দুই রাকাতের অতিরিক্ত এবং যা বিতর নয়—যেমন চার রাকাত পড়া—এ বিষয়ে উলামায়ে কেরাম দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: দুই রাকাতের অতিরিক্ত পড়া জায়েজ নয়। এটি জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মত। তারা নিম্নোক্ত দলিলগুলো পেশ করেছেন:

১ - হাদিসটি দুই রাকাতের ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য (নস), তাই হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে তার অতিরিক্ত বাড়ানো জায়েজ নয়।

২ - ইবাদতের ভিত্তি হলো শরয়ি দলীলের ওপর নির্ভরশীলতা (তাওকিফ), আর দলিল অনুযায়ী এটি কেবল দুই রাকাত হিসেবেই বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় মত: দুই রাকাতের অতিরিক্ত পড়া জায়েজ। এটি শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারীদের মত (১), এবং তারা নিম্নোক্ত দলিলগুলো পেশ করেছেন:

১ - কেবল দুই রাকাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার দাবিটির চূড়ান্ত ভিত্তি হলো সংখ্যাগত অর্থবোধকতা (মাফহুম আল-আদাদ) দ্বারা দলিল পেশ করা; অথচ উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র অনুযায়ী সংখ্যাগত অর্থবোধকতা হলো দুর্বল (ضعيف)।

২ - হাদিসে দুই রাকাতের উল্লেখ থাকার অর্থ এই নয় যে এর অতিরিক্ত করা যাবে না; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইস্তিখারার নামাজের সর্বনিম্ন সংখ্যা বর্ণনা করা, যাতে এর চেয়ে কমানো জায়েজ না হয়; এর দ্বারা অতিরিক্ত করাকে নিষেধ করা উদ্দেশ্য নয়।

এবং অধিক গ্রহণযোগ্য (রাজিহ) মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—:

দুই রাকাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা এবং এর অতিরিক্ত না করা। আর তা হলো সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকার নিমিত্তে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন শিক্ষা দেওয়ার অবস্থানে ছিলেন, বিশেষ করে তিনি তাঁর সাহাবীদের ইস্তিখারার দোয়াটি এমনভাবে শেখাতেন যেমনটি কুরআনের সূরা শেখাতেন; এমতাবস্থায় এর চেয়ে অতিরিক্ত জায়েজ হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাদের নিকট তা বর্ণনা করেননি—এমনটি হওয়া সুদূরপরাহত।

জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে দুই রাকাতের উল্লেখ থাকাটি 'সংখ্যাগত অর্থবোধকতা' (মাফহুম আল-আদাদ) এর পর্যায়ভুক্ত নয়। কারণ সংখ্যাগত অর্থবোধকতা হলো কোনো বিধানকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট করা (২); বরং জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি হলো পদ্ধতি বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, তাই এর অনুসরণ করা আবশ্যক।

****

--------------------------------------------

(১) আদ-দীন আল-খালিস ১/ ২৫৫, এবং আল-মাওসুআ আল-কুয়েতিয়্যাহ ৩/ ২৪৩।

(২) ইরশাদুল ফুহুল ২/ ৪৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المسألة الثامنة

ماذا يقرأ في صلاة الاستخارة
؟

للعلماء في ذلك تفصيل كما يلي:

1 - اتفق العلماء على أن صلاة الاستخارة كغيرها من الصلوات في ركنية الفاتحة، وسنية ما بعدها من السور.

2 - اتفق العلماء على أن أي سورة أو آية بعد الفاتحة فهو مجزئ.

واختلفوا في الأفضل في صلاة الاستخارة على أقوال هي (1):

القول الأول: وقال به أكثر أهل العلم وهو أن الأفضل أن يقرأ بعد الفاتحة:

- في الركعة الأولى {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ}.

- في الركعة الثانية {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}.

وعللوا ذلك: بأنه من الأنسب أن يقرأ سورتي الإخلاص؛ لما فيهما من الرغبة لله، وإعلان توحيده، وبراءته من الشرك.

القول الثاني: وقال به بعض السلف وهو أن الأفضل أن يقرأ بعد الفاتحة:

- في الركعة الأولى: {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ * وَرَبُّكَ يَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُورُهُمْ وَمَا يُعْلِنُونَ} [القصص: 68، 69].

- في الركعة الثانية: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} [الأحزاب: 36].

--------------------------------------------

(1) الدين الخالص 1/ 254، والموسوعة الكويتية 3/ 245.
‌‌অষ্টম মাসআলা

ইস্তিখারার সালাতে কী তিলাওয়াত করতে হবে?
?

এ বিষয়ে আলেমগণের বিস্তারিত বর্ণনা নিম্নরূপ:

১ - আলেমগণ এই মর্মে একমত হয়েছেন যে, ইস্তিখারার সালাত অন্যান্য সালাতের মতোই—এতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা রুকন এবং এর পরবর্তী সূরা পাঠ করা সুন্নাত।

২ - আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, সূরা ফাতিহার পর যেকোনো সূরা বা আয়াত পাঠ করলেই তা যথেষ্ট হবে।

তবে ইস্তিখারার সালাতে কোনটি সর্বোত্তম, সে বিষয়ে একাধিক অভিমত রয়েছে (১):

প্রথম মত: অধিকাংশ আলেমগণের অভিমত হলো, সূরা ফাতিহার পর নিম্নোক্ত সূরাগুলো পাঠ করা উত্তম:

- প্রথম রাকাতে {বলুন: হে কাফিরগণ} [সূরা আল-কাফিরুন]।

- দ্বিতীয় রাকাতে {বলুন: তিনি আল্লাহ, এক} [সূরা আল-ইখলাস]।

তাঁরা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে: ইখলাসের এই সূরাদ্বয় পাঠ করাই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ এতে আল্লাহর প্রতি গভীর অনুরাগ, তাঁর তাওহীদের ঘোষণা এবং শিরক থেকে দায়মুক্তির প্রকাশ ঘটে।

দ্বিতীয় মত: কোনো কোনো সালাফ-এর অভিমত হলো, সূরা ফাতিহার পর নিম্নোক্ত আয়াতগুলো পাঠ করা উত্তম:

- প্রথম রাকাতে: {আর আপনার প্রতিপালক যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং (যাকে ইচ্ছা) মনোনীত করেন, তাদের কোনো পছন্দ করার ইখতিয়ার নেই। আল্লাহ পবিত্র এবং তারা যাকে শরিক করে তা থেকে তিনি ঊর্ধ্বে। আর আপনার প্রতিপালক জানেন যা তাদের অন্তরসমূহ গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে} [আল-কাসাস: ৬৮, ৬৯]।

- দ্বিতীয় রাকাতে: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর সেই বিষয়ে অন্য কোনো ইখতিয়ার বা সিদ্ধান্তের অবকাশ থাকে না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পথভ্রষ্ট হবে} [আল-আহযাব: ৩৬]।

--------------------------------------------

(১) আদ-দীনুল খালিস ১/ ২৫৪, এবং আল-মাওসূআতুল কুয়েতিয়্যাহ ৩/ ২৪৫।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وعللوا ذلك: لمناسبة الحال لهما.

والقول الثالث: وقال به الحنابلة وغيرهم وهو أنه لم يرد في القراءة دليل، فتبقى على إطلاقها، ويكون الأفضل بحسب ما يختار المصلي.

والذي يظهر - والله أعلم -: أن الأمر في ذلك واسع.

****

 

‌‌المسألة التاسعة

متى يقال دعاء الاستخارة
؟

اختلف العلماء في ذلك على ثلاثة أقوال:

القول الأول: أن الدعاء يقال قبل السلام، واستدلوا بما يلي:

1 - سياق الحديث، فإنه ذكر صلاة الركعتين ثم قال: «ثم ليقل» وهذه الصيغة في الأحاديث تدل على اتصال بين الدعاء والصلاة.

2 - أن ما قبل السلام موطن من مواطن الدعاء، كما دل عليه حديث ابن مسعود رضي الله عنه وفيه: «ثم ليتخير من الدعاء أعجبه إليه فيدعو» (1).

القول الثاني: أن الدعاء يقال بعد السلام، واستدل بما يلي:

- قوله صلى الله عليه وسلم: «فليركع ركعتين من غير الفريضة ثم ليقل» فهذا الصيغة تفيد التراخي، فدل على أن الدعاء بعد السلام، بدلالة حرف التراخي (ثم).

القول الثالث: أن الأمر في ذلك واسع، ورجحه ابن تيمية (2).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: أخرجه البخاري (835)، ومسلم (927).

(2) الفتاوى (2/ 265).
তারা এর কারণ বর্ণনা করেছেন: অবস্থাটি এই দুটির জন্য উপযোগী হওয়ার কারণে।

তৃতীয় মত: হাম্বলি মাযহাবের অনুসারী ও অন্যরা এই মত পোষণ করেছেন। আর তা হলো—কিরাআতের ক্ষেত্রে কোনো (নির্দিষ্ট) দলিল বর্ণিত হয়নি, তাই এটি তার সাধারণ (مطلق) অবস্থায় থাকবে এবং মুসল্লি যা পছন্দ করবেন সেটিই উত্তম হবে।

যা প্রতীয়মান হয়—আল্লাহই ভালো জানেন—তা হলো: এই বিষয়টি প্রশস্ত।

****

 

‌‌নবম মাসআলা

ইস্তিখারার দোয়া কখন পড়তে হয়?
?

এ বিষয়ে উলামায়ে কেরাম তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: দোয়া সালাম ফেরানোর আগে পড়তে হবে। তারা নিম্নোক্ত দলিলগুলো পেশ করেছেন:

1 - হাদিসের বর্ণনাভঙ্গি; কেননা এতে দুই রাকাত সালাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর বলা হয়েছে: "তারপর সে যেন বলে"। হাদিসে এই শব্দপ্রয়োগ দোয়া ও সালাতের মধ্যে নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) নির্দেশ করে।

2 - সালাম ফেরানোর আগের সময়টি দোয়ার অন্যতম স্থান। যেমনটি ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, যেখানে রয়েছে: "অতঃপর সে যেন তার পছন্দনীয় দোয়া বেছে নেয় এবং তা পাঠ করে" (১)।

দ্বিতীয় মত: দোয়া সালাম ফেরানোর পর পড়তে হবে। এর সপক্ষে নিম্নোক্ত দলিল পেশ করা হয়েছে:

- রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "সে যেন ফরজ ব্যতীত দুই রাকাত সালাত আদায় করে, তারপর সে যেন বলে"। এই শব্দপ্রয়োগটি বিলম্ব বা ব্যবধান (تراخي) অর্থ প্রদান করে। সুতরাং 'সুম্মা' (ثم) নামক বিলম্ববোধক অব্যয়টির অর্থগত প্রমাণ অনুযায়ী এটি নির্দেশ করে যে, দোয়া সালামের পরে হবে।

তৃতীয় মত: বিষয়টি প্রশস্ত। ইবনে তাইমিয়্যাহ একেই প্রাধান্য দিয়েছেন (২)।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): এটি বুখারি (৮৩৫) ও মুসলিম (৯২৭) বর্ণনা করেছেন।

(২) আল-ফাতাওয়া (২/২৬৫)।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
والراجح - والله أعلم -:

أن الأمر في ذلك واسع لاحتمال الدليل، فالأمران متجهان، وإن كان الأولى أن يكون قبل السلام؛ لعموم الأحاديث الدالة على أن ما قبل السلام موطن من مواطن الدعاء.

****

 

‌‌المسألة العاشرة

ما يفعله من لم يحفظ دعاء الاستخارة

لا يخلو ذلك من حالتين:

الحالة الأولى: أن يكون ممن يعرف القراءة:

وفي هذه الحالة لا بأس له بقراءة الدعاء من ورقة أو كتاب، وتكون الحركة التي سيفعلها مغتفرة؛ لأنها لأجل مصلحة الصلاة، ومعلوم أن الحركة إن كانت لأجل الصلاة فلا حرج فيها، وعلى ذلك أدلة كثيرة.

الحالة الثانية: أن يكون ممن لا يعرف القراءة:

فلا بأس بأي دعاء يؤدي معنى الاستخارة، كأن يقول: اللهم خر لي، وغير ذلك.

****

 

‌‌المسألة الحادية عشرة

هل يستحب البدء في الدعاء بالحمد لله، والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم
-؟

استحب ذلك النووي (1)، ولعله يستند إلى عمومات الأحاديث الأخرى التي فيها الأمر بالحمد والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم.

ولا شك أن الأفضل أن يقتصر على ما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا يزد على ذلك، وعمومات أدلة الدعاء يقدم عليها ما ورد في صلاة الاستخارة على وجه الخصوص.

****

--------------------------------------------

(1) الأذكار 179.
এবং বিশুদ্ধতর (الراجح) মত হচ্ছে — আল্লাহ অধিক ভালো জানেন —:

এ বিষয়টি প্রশস্ত হওয়ার অবকাশ রয়েছে, কারণ দলিল উভয় দিকের সম্ভাবনা রাখে। সুতরাং উভয় পদ্ধতিই গ্রহণীয় হতে পারে। যদিও সালাম ফেরানোর আগে দোয়া করাটিই উত্তম (الأولى); কারণ সাধারণ হাদিসসমূহ একথার প্রমাণ দেয় যে, সালাম ফেরানোর আগের সময়টি দোয়া করার অন্যতম একটি ক্ষেত্র।

****

 

‌‌দশম মাসআলা

যার ইস্তিখারার দোয়া মুখস্থ নেই সে কী করবে

এটি দুই অবস্থার বাইরে নয়:

প্রথম অবস্থা: যদি সে এমন ব্যক্তি হয় যে পড়তে জানে:

এমতাবস্থায় কাগজ বা বই দেখে দোয়া পাঠ করাতে কোনো সমস্যা নেই। আর এক্ষেত্রে সে যে নড়াচড়া করবে তা ক্ষমার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে; কারণ তা নামাজের স্বার্থেই করা হচ্ছে। আর এটি সুপরিচিত যে, যদি নামাজের প্রয়োজনে নড়াচড়া করা হয় তবে তাতে কোনো দোষ নেই এবং এর সপক্ষে বহু দলিল রয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থা: যদি সে এমন ব্যক্তি হয় যে পড়তে জানে না:

সেক্ষেত্রে ইস্তিখারার অর্থ প্রকাশ করে এমন যেকোনো দোয়া পড়লে কোনো সমস্যা নেই, যেমন সে বলতে পারে: "হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য কল্যাণকর বিষয়টি নির্ধারণ করে দিন" ইত্যাদি।

****

 

‌‌একাদশ মাসআলা

দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা কি পছন্দনীয় (يستحب)?

ইমাম নববী এটিকে পছন্দনীয় (استحب) বলেছেন (১), সম্ভবত তিনি অন্য সাধারণ হাদিসগুলোর ওপর ভিত্তি করে এটি বলেছেন যাতে আল্লাহর প্রশংসা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পড়ার নির্দেশ রয়েছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাতে সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেষ্ঠতর (الأفضل) এবং এর ওপর অতিরিক্ত কিছু না করাই উচিত। কারণ দোয়ার সাধারণ দলিলের ওপর ইস্তিখারার নামাজের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে যা বর্ণিত হয়েছে তাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।

****

--------------------------------------------

(১) আল-আযকার ১৭৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المسألة الثانية عشرة

هل يشرع تكرار صلاة الاستخارة
؟

اختلف أهل العلم في هذه المسألة على قولين:

القول الأول: أنه لا يشرع تكرار صلاة الاستخارة، واستدلوا بما يلي:

1 - أن الذي ورد في السنة هو تحديدها بركعتين، كما هو نص الحديث، وعليه فلا يجوز تكرارها.

2 - أن المؤمن مطلوب منه أن يؤدي صلاة الاستخارة ولا ينتظر شيئًا آخر، وإنما يمضي لفعله، وما يقدره الله بعد ذلك فهو خيرته لعبده، فلا حاجة لتكراره الاستخارة.

القول الثاني: لا بأس بتكرار الاستخارة، واستدلوا بما يلي:

1 - بما رواه مسلم عن ابن الزبير قوله في قصة هدم الكعبة: «إني مستخير ربي ثلاثًا» (1) وهو فعل صحابي وفي محفل من الصحابة ولم يعارض.

2 - ما رواه عبد الرزاق في مصنفه: أن عمر بن الخطاب أراد أن يكتب السنن؛ فاستشار أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذلك؛ فأشاروا عليه أن يكتبها؛ فطفق يستخير الله فيها شهرًا، ثم أصبح يومًا وقد عزم الله له فقال: إني كنت أريد أن أكتب السنن وإني ذكرت قومًا كانوا قبلكم كتبوا كتبًا فأكبوا عليها، وتركوا كتاب الله، وإني والله لا ألبس كتاب الله بشيء أبدًا (2).

3 - روى ابن السني عن أنس مرفوعًا: «إذا هممت بأمر فاستخر ربك فيه سبع مرات ثم انظر إلى الذي يسبق إلى قلبك فإن الخير فيه» (3).

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (1333).

(2) المصنف 11/ 257.

(3) أخرجه ابن السني في عمل اليوم والليلة (551)، ولكنه لا يصح، قال الحافظ في الفتح (18/ 171): ولو صح لكان المعتمد لكن إسناده واه جدًا.
দ্বাদশ মাসয়ালা

ইস্তিখারার সালাত কি পুনরাবৃত্তি করা শরিয়তসম্মত?

এ বিষয়ে আলেমগণ দুইটি মতভেদে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: ইস্তিখারার সালাত পুনরাবৃত্তি করা শরিয়তসম্মত নয়। তাঁরা নিম্নোক্ত দলীলসমূহ পেশ করেছেন:

১ - সুন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী এটি দুই রাকাআত নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমনটি হাদিসের পাঠে এসেছে। সুতরাং এর পুনরাবৃত্তি করা জায়েজ নয়।

২ - মুমিনের করণীয় হলো সে ইস্তিখারার সালাত আদায় করবে এবং অন্য কিছুর অপেক্ষা করবে না, বরং সে তার কাজে অগ্রসর হবে। এরপর আল্লাহ যা ফয়সালা করবেন তা-ই তাঁর বান্দার জন্য তাঁর মনোনীত কল্যাণ। সুতরাং ইস্তিখারা পুনরাবৃত্তি করার কোনো প্রয়োজন নেই।

দ্বিতীয় মত: ইস্তিখারা পুনরাবৃত্তি করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তাঁরা নিম্নোক্ত দলীলসমূহ পেশ করেছেন:

১ - ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত ইবনে যুবাইর (রা.)-এর উক্তি, যা তিনি কাবা পুনর্নির্মাণের ঘটনায় বলেছিলেন: "আমি আমার রবের কাছে তিনবার ইস্তিখারা করছি।" এটি একজন সাহাবীর আমল এবং সাহাবীদের এক সমাবেশের উপস্থিতিতে হয়েছিল যেখানে কেউ এর প্রতিবাদ করেননি।

২ - আবদুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) সুন্নাহসমূহ সংকলন করার ইচ্ছা পোষণ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবীদের সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করলেন। তাঁরা তাঁকে তা সংকলনের পরামর্শ দিলেন। এরপর তিনি এক মাস যাবত এ বিষয়ে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করতে থাকলেন। অতঃপর একদিন সকালে আল্লাহ তাঁর সংকল্প দৃঢ় করে দিলেন। তখন তিনি বললেন: "আমি সুন্নাহসমূহ সংকলন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তোমাদের পূর্ববর্তী কওমের কথা আমার স্মরণে এল যারা কিতাবসমূহ লিখেছিল এবং সেগুলোর ওপর ঝুঁকে পড়ে আল্লাহর কিতাব পরিত্যাগ করেছিল। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর কিতাবের সাথে কখনোই অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটাব না।"

৩ - ইবনুস সুন্নী আনাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যখন তুমি কোনো বিষয়ে ইচ্ছা পোষণ করবে, তখন তোমার রবের কাছে সাতবার ইস্তিখারা করো। এরপর তোমার অন্তরে যেটির উদ্রেক হয় সেটির দিকে লক্ষ্য করো, কারণ তাতেই কল্যাণ নিহিত থাকে।"

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম (১৩৩৩) বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসান্নাফ ১১/ ২৫৭।

(৩) ইবনুস সুন্নী 'আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলাহ' (৫৫১) গ্রন্থে এটি বের করেছেন, কিন্তু এটি সহিহ (صحيح) নয়। হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' (১৮/ ১৭১) গ্রন্থে বলেছেন: এটি যদি সহিহ (صحيح) হতো তবে এটিই হতো নির্ভরযোগ্য দলিল, কিন্তু এর সনদ (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (واه جدًا)।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
4 - أن صلاة الاستخارة دعاء لله، وقد وردت الأحاديث بمشروعية تكرار الدعاء ثلاثًا.

والراجح - والله أعلم -:

أن المسلم لا يخلوا من حالتين:

الأولى: أن يتبين له شيء فيما يستخير ربه فيه، فهنا لا يشرع تكرارها.

الثانية: ألا يتبين له شيء، ولم ترتفع حيرته؛ فهنا يشرع له تكرارها لعموم الأدلة، ولفعل الصحابة رضي الله عنه، أما ما رواه ابن السني فلا يحتج به.

****

 

‌‌المسألة الثالثة عشرة

ماذا يفعل المسلم بعد صلاة الاستخارة
(1)؟

اختلف أقوال العلماء فيما يفعله المسلم بعد صلاة الاستخارة، ولا تخلو أقوالهم من تداخل فيما بينها، ولعل السبب فيما يظهر لي هو خلو أحاديث صلاة الاستخارة من بيان للعلامات التي تعقب صلاة الاستخارة، وفيما يلي بعض الأقوال:

القول الأول:

أن المسلم بعد الاستخارة عليه ألا ينتظر شيئًا، وإنما يقدم على ما يريد، فإن يسره الله له أو صده عنه فهذا اختيار الله له.

القول الثاني:

لا يخلو حال المسلم إذا أدى صلاة الاستخارة من أحد أمور ثلاثة، هي:

--------------------------------------------

(1) ينظر: فتح الباري 18/ 171، والموسوعة الكويتية 3/ 246، وشرح الصقعبي لمنار السبيل 1/ 94 وغير ذلك.
৪ - নিশ্চয়ই ইস্তিখারার সালাত আল্লাহর কাছে একটি দোয়া, আর দোয়া তিনবার পুনরাবৃত্তি করার বৈধতা সম্পর্কে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

এবং অধিকতর সঠিক (الراجح) মত হচ্ছে—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—:

একজন মুসলিম দুটি অবস্থার বাইরে নয়:

প্রথমত: যে বিষয়ে সে তার রবের কাছে ইস্তিখারা করছে, তা যদি তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, তবে এক্ষেত্রে তা পুনরাবৃত্তি করা বিধেয় নয়।

দ্বিতীয়ত: যদি তার কাছে কিছুই স্পষ্ট না হয় এবং তার দ্বিধা দূর না হয়; তবে সাধারণ দলিলসমূহের ভিত্তিতে এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর আমলের কারণে তার জন্য তা পুনরাবৃত্তি করা বিধেয়। আর ইবনুস সুন্নি যা বর্ণনা করেছেন তা দলিলযোগ্য (لا يحتج به) নয়।

****

 

‌‌ত্রয়োদশ মাসআলা

ইস্তিখারার সালাতের পর একজন মুসলিম কী করবে
(১)?

ইস্তিখারার সালাতের পর মুসলিম ব্যক্তি কী করবে সে সম্পর্কে আলেমদের মতভেদ রয়েছে এবং তাদের বক্তব্যগুলোর একটি অপরটির সাথে পরস্পর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তার কারণ সম্ভবত এই যে, ইস্তিখারার সালাতের পরবর্তী আলামতসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে ইস্তিখারার হাদিসগুলোতে কোনো বর্ণনা নেই। নিচে কিছু অভিমত উল্লেখ করা হলো:

প্রথম মত:

ইস্তিখারার পর মুসলিম ব্যক্তির কোনো কিছুর অপেক্ষা করা উচিত নয়, বরং সে যা করতে চায় সেদিকে অগ্রসর হবে। আল্লাহ যদি তার জন্য তা সহজ করে দেন অথবা তা থেকে তাকে সরিয়ে দেন, তবে সেটিই তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পছন্দকৃত বিষয়।

দ্বিতীয় মত:

একজন মুসলিম যখন ইস্তিখারার সালাত আদায় করে, তখন তার অবস্থা তিনটি বিষয়ের কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেগুলো হলো:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতহুল বারী ১৮/১৭১, আল-মাওসুআতুল কুয়েতিয়্যাহ ৩/২৪৬, শারহুস সাকআবি লি-মানারিস সাবিল ১/৯৪ এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
1 - أن يجد في نفسه نشاطًا وارتياحًا للعمل الذي تردد فيه، ويذهب عنه التردد، وفي هذه الحالة يشرع له أن يمضي في العمل.

2 - أن يجد في نفسه انصرافًا عن العمل، وعدم رغبة فيه، فيشرع له أن لا يمضي في العمل.

3 - أن لا يحصل له شعور جديد، بل يبقى مترددًا، وفي هذه الحالة عليه أن يمضي في العمل؛ إذا ترجح له عقلًا فائدة ذلك العمل، فإن الظن بالله أنه سيختار له ما هو خير.

القول الثالث:

إذا استخار الإنسان ربه فلا يخلو من أمرين:

1 - أن ينشرح صدره له: فهذا دليل على أن هذا الأمر هو الذي اختاره الله تعالى.

2 - أن يبقي مترددًا: فإنه يعيد الاستخارة مرة ثانية وثالثة، فإنه تبين له، وإلا استشار غيره بما هو عليه، ويكون ما قدره الله هو الخير إن شاء الله تعالى.

القول الرابع:

يفعل ما اتفق، ويستدل له بقوله في بعض طرق حديث ابن مسعود رضي الله عنه مرفوعًا - وفي آخره -: «ثم يعزم».

القول الخامس:

ينظر إلى ما تهواه نفسه، وهو لا يخلو من حالتين:

1 - إن كان يهواه قبل الاستخارة: فلا يفعله، لأن موافقة الهوى مذمومة غالبًا.

2 - إن كان لا يهواه قبل الاستخارة: فيفعله، لأن مخالفة الهوى محمودة شرعًا والذي يظهر - والله أعلم -:

أن ما يعقب صلاة الاستخارة لم يرد فيه دليل يبينه، وعلى هذا فليس هناك علامة محددة ينتظرها الإنسان، إلا أن انشراح الصدر علامة قبول باتفاق من ذكر العلامات،
১ - তিনি যে কাজটির ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, সেই কাজটির প্রতি নিজের মনে উদ্যম ও প্রশান্তি অনুভব করা এবং দ্বিধা দূর হয়ে যাওয়া। এমতাবস্থায় তার জন্য সেই কাজে অগ্রসর হওয়া বিধেয়।

২ - নিজের মনে কাজটির প্রতি অনীহা ও অনাগ্রহ অনুভব করা। এমতাবস্থায় তার জন্য সেই কাজে অগ্রসর না হওয়া বিধেয়।

৩ - কোনো নতুন অনুভূতি সৃষ্টি না হওয়া, বরং দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় থেকে যাওয়া। এমতাবস্থায় যদি যুক্তিগতভাবে কাজটির উপকারিতা তার কাছে প্রবল বলে মনে হয়, তবে তার উচিত সেই কাজে অগ্রসর হওয়া। কেননা আল্লাহর প্রতি সুধারণা এই যে, তিনি তার জন্য যা কল্যাণকর তাই চয়ন করবেন।

তৃতীয় মত:

যখন কোনো মানুষ তার রবের কাছে ইস্তিখারা করে, তখন বিষয়টি দুটি অবস্থার বাইরে থাকে না:

১ - তার বক্ষ সেই বিষয়ের জন্য উন্মুক্ত ও প্রশান্ত হওয়া: এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, আল্লাহ তাআলাই এই বিষয়টি তার জন্য পছন্দ করেছেন।

২ - দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় থেকে যাওয়া: এমতাবস্থায় সে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ইস্তিখারা পুনরায় করবে। এতে যদি বিষয়টি তার কাছে স্পষ্ট হয় (তবে তো ভালো), নতুবা সে নিজের অবস্থা সম্পর্কে অন্যদের সাথে পরামর্শ করবে। আর আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন, ইনশাআল্লাহ তা-ই কল্যাণকর হবে।

চতুর্থ মত:

যা সাব্যস্ত হয় বা ঘটে যায় সে অনুযায়ী আমল করা। ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসের কিছু সূত্রে যা মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, তার শেষাংশে উল্লিখিত «অতঃপর সে সংকল্প করবে» বাক্যটি দ্বারা এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়।

পঞ্চম মত:

নিজের মন বা প্রবৃত্তি কী কামনা করছে সেদিকে লক্ষ করা। এটি দুটি অবস্থার বাইরে নয়:

১ - যদি ইস্তিখারার পূর্বেই তার প্রবৃত্তি সেটির অনুকূলে থেকে থাকে: তবে সে তা করবে না। কারণ প্রবৃত্তির অনুসরণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিন্দনীয়।

২ - যদি ইস্তিখারার পূর্বে তার প্রবৃত্তি সেটির অনুকূলে না থেকে থাকে: তবে সে তা করবে। কারণ প্রবৃত্তির বিরোধিতা করা শরয়িভাবে প্রশংসনীয়। আর যা স্পষ্ট হয়—আল্লাহই ভালো জানেন—তাহলো:

ইস্তিখারার সালাতের পরে কী ঘটবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দলিল বর্ণিত হয়নি। এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, এমন কোনো নির্দিষ্ট নিদর্শন নেই যার জন্য মানুষ অপেক্ষা করবে। তবে যারা নিদর্শনের কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের ঐকমত্যে বক্ষ প্রশান্ত হওয়া হলো কবুল হওয়ার একটি নিদর্শন।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ولكنها ليست العلامة الوحيدة، فلا يتشدد الإنسان مع نفسه ليبحث عن علامة وينتظر حصولها، فقد لا تحصل فيزداد حيرة بعد صلاة الاستخارة، وإنما على المؤمن أن يكون مطمئنًا بمجرد أدائه صلاة الاستخارة، ولا يخفى أن الأثر النفسي له دور كبير على حصول انشراح الصدر من عدمه، والله أعلم.

****

 

‌‌المسألة الرابعة عشرة

هل صلاة الاستخارة صلاة مستقلة أو يصح تداخلها مع غيرها من الصلوات
؟

هذه المسألة فيها تفصيل كالتالي:

1 - اتفق العلماء على أن صلاة الاستخارة لا يصح أداؤها مع الصلاة المكتوبة، لقوله صلى الله عليه وسلم: «فليركع ركعتين من غير الفريضة».

2 - اتفق العلماء على أن الأفضل أن يصلي المسلم الاستخارة مستقلةً؛ لا ينو معها غيرها.

واختلفوا في أداء صلاة الاستخارة ضمن السنن الراتبة، أو ذوات الأسباب كتحية المسجد، وصلاة الضحى وغير ذلك، على قولين:

القول الأول: يصح أداء صلاة الاستخارة مع كل صلاة غير الفريضة (1)، واستدلوا:

- بقوله في الحديث: «من غير الفريضة» فكل ما كان غير الفريضة، فيصح أداء الاستخارة فيه.

--------------------------------------------

(1) شرح أبي داود للعيني 5/ 450، ودروس عمدة الفقه للشنقيطي 2/ 261.
কিন্তু এটিই একমাত্র লক্ষণ নয়; তাই কোনো লক্ষণের সন্ধানে বা তার প্রতীক্ষায় নিজের ওপর কঠোরতা আরোপ করা উচিত নয়। কারণ অনেক সময় কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, যার ফলে ইস্তিখারার সালাতের পর বিভ্রান্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। বরং মুমিনের উচিত কেবল ইস্তিখারার সালাত আদায়ের মাধ্যমেই প্রশান্ত থাকা। আর এটি অনস্বীকার্য যে, বক্ষ প্রশস্ত হওয়া বা না হওয়ার ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

****

 

‌‌চতুর্দশ মাসআলা

ইস্তিখারার সালাত কি একটি স্বতন্ত্র সালাত, নাকি অন্যান্য সালাতের সাথে এটি সম্পাদন করা বৈধ?

এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা নিম্নরূপ:

১ - আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, ফরজ (الفريضة) সালাতের সাথে ইস্তিখারার সালাত আদায় করা বৈধ নয়; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সে যেন ফরজ (الفريضة) ব্যতীত দুই রাকাত সালাত আদায় করে।"

২ - আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, কোনো মুসলিমের জন্য ইস্তিখারার সালাত স্বতন্ত্রভাবে আদায় করাই সর্বোত্তম; যার সাথে তিনি অন্য কোনো সালাতের নিয়ত করবেন না।

তবে সুন্নতে রাতেবাহ (السنن الراتبة) অথবা কারণ সংবলিত সালাত (ذوات الأسباب) যেমন—তাহিয়্যাতুল মাসজিদ, চাশতের সালাত ইত্যাদির অন্তর্ভুক্ত করে ইস্তিখারার সালাত আদায়ের বিষয়ে তারা দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: ফরজ (الفريضة) ব্যতীত প্রতিটি সালাতের সাথে ইস্তিখারার সালাত আদায় করা বৈধ (১)। তারা দলিল পেশ করেছেন:

— হাদিসে বর্ণিত তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "ফরজ (الفريضة) ব্যতীত"; সুতরাং যা কিছু ফরজ (الفريضة) নয়, তার মধ্যে ইস্তিখারা আদায় করা বৈধ হবে।

--------------------------------------------

(১) শরহু আবি দাউদ লি-আইনি ৫/৪৫০ এবং দুরুসু উমদাতিল ফিকহ লিশ-শানকিতি ২/২৬১।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
القول الثاني: التفريق بين النوافل، حيث قسموا النوافل إلى نوعين:

أ- النوافل المطلقة: فيصح أداء صلاة الاستخارة معها، كنافلة ركعتين تطوعًا لله.

ب- النوافل المعينة: فلا يصح أداء صلاة الاستخارة معها كالسنن الرواتب، أو النوافل المعينة وذوات الأسباب، وهناك من يفصل في هذا النوع من النوافل، والله أعلم.

والراجح - والله أعلم -:

أن الاستخارة صلاة مخصوصة لا تتداخل مع غيرها، ويدل لذلك لفظ الحديث: «فليركع ركعتين من غير الفريضة» أي: ركعتين خاصة لهذه الصلاة يصليهما للاستخارة على وجه الخصوص.

****

 

‌‌المسألة الخامسة عشرة

هل تصح النيابة في صلاة الاستخارة
؟

انعقد الإجماع على أن الصلاة لا تدخلها النيابة، قال ابن عبد البر: «أما الصلاة فإجماع من العلماء أنه لا يُصلي أحدٌ عن أحدٍ فرضًا عليه من الصلاة، ولا سُنة، ولا تطوعًا لا عن حي ولا عن ميت، وكذلك الصيام عن الحي لا يجزئ صوم أحدٌ في حياته عن أحد، وهذا كُله إجماع لا خلاف فيه» (1). أ. هـ.

وعلى هذا فلا يصح أن يستخير شخص عن آخر؛ لانعقاد الإجماع على المنع.

****

--------------------------------------------

(1) الاستذكار 3/ 340.
দ্বিতীয় মত: নফল (نوافل) নামাজের মধ্যে পার্থক্য করা। তারা নফল নামাজকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:

ক. সাধারণ নফল (النوافل المطلقة): এগুলোর সাথে ইস্তিখারার নামাজ আদায় করা সহিহ (يصح)। যেমন—আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সাধারণ দুই রাকাত নফল নামাজ।

খ. নির্দিষ্ট নফল (النوافل المعينة): এগুলোর সাথে ইস্তিখারার নামাজ আদায় করা সহিহ (يصح) নয়। যেমন—সুন্নতে মুয়াক্কাদা (السنن الرواتب), অথবা নির্দিষ্ট নফল ও কারণ সংশ্লিষ্ট নফলসমূহ। নফলের এই প্রকারের ক্ষেত্রে কারো কারো বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

আর অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো—আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ—:

ইস্তিখারা একটি বিশেষ নামাজ যা অন্য কোনো নামাজের সাথে একীভূত হয় না। হাদিসের শব্দাবলি এর প্রমাণ বহন করে: «সে যেন ফরজ (الفريضة) ব্যতীত দুই রাকাত নামাজ পড়ে» অর্থাৎ: বিশেষভাবে এই নামাজের জন্য সে দুই রাকাত নামাজ পড়বে যা হবে সুনির্দিষ্টভাবে ইস্তিখারার উদ্দেশ্যে।

****

 

‌‌পঞ্চদশ মাসআলা

ইস্তিখারার নামাজে কি প্রতিনিধিত্ব (النيابة) সহিহ (تصح)?

এ বিষয়ে ইজমা (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, নামাজে কোনো প্রতিনিধিত্ব চলে না। ইবনে আব্দুল বার বলেন: «নামাজের ক্ষেত্রে আলেমগণের ঐক্যমত (إجماع) রয়েছে যে, কেউ কারো পক্ষ থেকে নামাজ আদায় করবে না; চাই তা ফরজ (فرضًا), সুন্নত (سُنة) বা নফল (تطوعًا) হোক—জীবিত বা মৃত কারো পক্ষ থেকেই নয়। একইভাবে জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা আদায় করাও গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়গুলোর সবকটিতেই ইজমা (إجماع) রয়েছে, এতে কোনো মতভেদ নেই» (১)। সমাপ্ত।

অতএব, একজনের পক্ষ থেকে অন্যজনের ইস্তিখারা করা সহিহ (يصح) নয়; কারণ এটি নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে ইজমা (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

****

--------------------------------------------

(১) আল-ইস্তিজকার ৩/ ৩৪০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌المسألة السادسة عشرة

أنواع صلاة الاستخارة

ذكر أهل العلم نوعان للاستخارة، وهما (1):

النوع الأول: وهو المتفق عليه، وهي الصفة المعروفة ركعتان من غير الفريضة؛ ثم يقول بعدهما الدعاء المأثور.

النوع الثاني: وقال به كثير من أهل العلم؛ وهو الاقتصار على الدعاء فقط، وعلى هذا فتجوز بعد أي صلاة.

والذي يظهر - والله أعلم -:

أن دعاء الاستخارة مما يدعو به المسلم في شأنه كله، لأنه دعاء من الأدعية التي وردت في السنة؛ إلا أنه لا يسمى استخارة بالمعنى الاصطلاحي المعروف الذي ورد في حديث جابر، وإنما هو مجرد دعاء أن ييسر الله له الخيرة أينما كانت، أما صلاة الاستخارة التي وردت فهي صلاة مخصوصة بينتها السنة.

****

 

‌‌المسألة السابعة عشرة

هل تصح الاستخارة في أمرين أو أكثر في صلاة واحدة
؟

الأظهر - والله أعلم - أن الأمور تختلف، ويمكن تقسيمها إلى نوعين:

النوع الأول: أمور مرتبطة بعضها ببعض، كأمور الدراسة في الجامعة، وتنوع الكليات، فيصح أن يجمع أكثر من أمر في صلاة واحدة.

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح مختصر خليل 1/ 156، وأسنى المطالب 1/ 250، والموسوعة الكويتية 3/ 243.
ষোড়শ মাসআলা

ইস্তিখারা সালাতের প্রকারভেদ

বিজ্ঞ আলিমগণ ইস্তিখারার দুটি প্রকার উল্লেখ করেছেন, যেগুলো হলো (১):

প্রথম প্রকার: এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) পদ্ধতি, যা সুপরিচিত রূপ হিসেবে স্বীকৃত; অর্থাৎ ফরয সালাত ব্যতীত দুই রাকাত সালাত আদায় করা; অতঃপর সালাত শেষে বর্ণিত (مأثور) দুআ পাঠ করা।

দ্বিতীয় প্রকার: অনেক আলিম এই মত পোষণ করেছেন; তা হলো কেবল দুআর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। এই মতানুসারে যেকোনো সালাতের পর এটি করা বৈধ।

যা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়—আল্লাহই ভালো জানেন—:

ইস্তিখারার দুআ এমন একটি আমল যা একজন মুসলিম তার সকল বিষয়ে করতে পারে, কারণ এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত দুআসমূহের একটি; তবে জাবির (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে যে সুপরিচিত পারিভাষিক (اصطلاحي) অর্থের ইস্তিখারার কথা এসেছে, একে সেই নামে অভিহিত করা হবে না। বরং এটি স্রেফ একটি দুআ যাতে আল্লাহ বান্দার জন্য যেখানেই কল্যাণ রয়েছে তা সহজ করে দেন। পক্ষান্তরে, বর্ণিত ইস্তিখারা সালাত হলো একটি বিশেষ সালাত যা সুন্নাহর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।

****

 

‌সপ্তদশ মাসআলা

এক সালাতে কি দুই বা ততোধিক বিষয়ের জন্য ইস্তিখারা করা সঠিক (صحيح) হবে?

অধিকতর স্পষ্ট মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—বিষয়গুলো ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে এবং একে দুই ভাগে ভাগ করা সম্ভব:

প্রথম প্রকার: যে বিষয়গুলো একে অপরের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা সংক্রান্ত বিষয় এবং বিভিন্ন অনুষদ বা বিভাগ নির্বাচন। এক্ষেত্রে এক সালাতে একাধিক বিষয় একত্র করা সঠিক (صحيح) হবে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শারহু মুখতাসারি খলিল ১/১৫৬, আসনী আল-মাতালিব ১/২৫০ এবং আল-মাওসুআতুল কুয়েতিয়্যাহ ৩/২৪৩।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
النوع الثاني: أمور غير مرتبطة ببعضها:

فهناك من أهل العلم من يجيز الجمع بين أكثر من أمر، قال فضية الشيخ عبد الله بن جبرين رحمه الله: «ويجوز أن يستخير في موضع واحد لأمرين أو لثلاثة، ولا يلزم أن يصلي لكل أمر صلاة ويدعو لها دعاء».

إلا أن الظاهر من حديث الباب أن لكل أمر استخارة تخصه؛ ولا يجمع بين أمرين في صلاة واحدة، والله أعلم.

****

 

‌‌المسألة الثامنة عشرة

ما يختاره الداعي من الألفاظ التي اختلفت الرواية فيها
؟

اختلفت الرواية في حديث جابر رضي الله عنه في بعض الألفاظ، وبيان ذلك:

ورد في حديث جابر قوله: «وإن كنت تعلم أن هذا الأمر خير لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمري، أو قال عاجل أمري وآجله».

وهذا شك من الراوي، قال الحافظ: هو شك من الراوي ولم تختلف الطرق في ذلك (1).

وبناء على هذا فشك الراوي له ثلاثة احتمالات، هي ما يلي:

الاحتمال الأول (2):

أنه بدل من الألفاظ الثلاثة في الرواية الأولى - ديني ومعاشي وعاقبة أمري - وعلى هذا يكون لفظ الحديث «إن كنت تعلم أن هذا الأمر خير لي في عاجل أمري وآجله».

--------------------------------------------

(1) الفتح 18/ 171.

(2) فتح الباري 18/ 171، وعون المعبود 4/ 279.
দ্বিতীয় প্রকার: পরস্পর সম্পর্কহীন বিষয়সমূহ:

আলেমগণের (أهل العلم) মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা একাধিক বিষয়কে একত্রিত করা বৈধ মনে করেন। ফযীলাতুশ শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে জিবরীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «একই স্থানে দুই বা তিনটি বিষয়ের জন্য ইস্তিখারা করা জায়েজ এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা সালাত আদায় করা ও দু'আ করা আবশ্যক নয়»।

তবে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের হাদিস থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, প্রতিটি বিষয়ের জন্য পৃথক ইস্তিখারা রয়েছে; এক সালাতে দুটি বিষয় একত্রিত করা যাবে না। আল্লাহু আলাম (আল্লাহ সর্বজ্ঞ)।

****

 

‌অষ্টাদশ মাসআলা

যে সকল শব্দের বর্ণনায় (الرواية) ভিন্নতা রয়েছে, দু'আকারী সেগুলোর মধ্য থেকে কোনটি চয়ন করবেন?

জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কিছু শব্দে বর্ণনায় (الرواية) ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে, তার বিবরণ নিম্নরূপ:

জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে তাঁর বক্তব্য এসেছে: «আর আপনি যদি জানেন যে এ বিষয়টি আমার জন্য কল্যাণকর আমার দ্বীন, জীবন ও পরিণতির ক্ষেত্রে, অথবা তিনি বলেছেন: আমার ইহকাল ও পরকালে»।

এটি বর্ণনাকারীর (الراوي) পক্ষ থেকে সন্দেহ (شك)। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: এটি বর্ণনাকারীর (الراوي) পক্ষ থেকে সন্দেহ (شك), তবে এ ক্ষেত্রে হাদিসের সূত্রগুলোর (الطرق) মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই (১)।

এর ওপর ভিত্তি করে বর্ণনাকারীর (الراوي) সন্দেহের (شك) তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিম্নরূপ:

প্রথম সম্ভাবনা (২):

এটি প্রথম বর্ণনার (الرواية) তিনটি শব্দের - দ্বীন, জীবন ও পরিণতি - পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। সে অনুযায়ী হাদিসের শব্দগুলো হবে: «যদি আপনি জানেন যে এ বিষয়টি আমার ইহকাল ও পরকালে আমার জন্য কল্যাণকর»।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতহ ১৮/১৭১।

(২) ফাতহুল বারী ১৮/১৭১, এবং আওনুল মাবুদ ৪/২৭৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الاحتمال الثاني: أنه بدل من اللفظين الأخيرين في الرواية الأولى، وعلى هذا يكون لفظ الحديث: «إن كنت تعلم أن هذا الأمر خير لي في ديني وعاجل أمري وآجله».

الاحتمال الثالث:

أنه بدل من اللفظ الأخير في الرواية الأولى، وعلى هذا يكون لفظ الحديث: «إن كنت تعلم أن هذا الأمر خير لي في ديني ومعاشي وعاجل أمري وآجله» (1).

وعلى هذا: فماذا يفعل المصلي للاستخارة تجاه هذا الشك؟

الذي وقفت عليه من التصرفات على ثلاثة أنواع:

النوع الأول: أن المصلي عليه أن يصلي ثلاث مرات، وفي كل مرة يأتي بذكر وارد ليصيب جميع ما قاله النبي صلى الله عليه وسلم (2).

النوع الثاني: أن المصلي عليه أن يأتي بجميع الألفاظ الواردة في الحديث، فيقول في دعاء الاستخارة: اللهم إن كنت تعلم أن هذا الأمر خير لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمري وعاجل أمري وآجله ونحو ذلك.

وهذان النوعان باطلان، ومما يرد به عليهما ما يلي (3):

1 - أن هذه طريقة محدثة لم يسبق إليها أحد من الأئمة المعروفين.

2 - أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يجمع بين هذه الألفاظ التي وردت، وإنما غاية ذلك أنه شك من الراوي.

--------------------------------------------

(1) جلاء الأفهام 4/ 148.

(2) انظر: الفتح 18/ 171.

(3) انظر: جلاء الأفهام 4/ 148 مختصرًا.
দ্বিতীয় সম্ভাবনা: এটি প্রথম বর্ণনার (رواية) শেষ দুটি শব্দের স্থলাভিষিক্ত, আর এ ভিত্তিতে হাদিসের শব্দসমূহ হবে: «যদি আপনি জানেন যে এই বিষয়টি আমার দ্বীন এবং আমার ইহকাল ও পরকালের জন্য কল্যাণকর»।

তৃতীয় সম্ভাবনা:

এটি প্রথম বর্ণনার (رواية) শেষ শব্দটির স্থলাভিষিক্ত, আর এ ভিত্তিতে হাদিসের শব্দসমূহ হবে: «যদি আপনি জানেন যে এই বিষয়টি আমার দ্বীন, আমার জীবন এবং আমার ইহকাল ও পরকালের জন্য কল্যাণকর» (১)।

এমতাবস্থায়: ইস্তিখারার নামাজ আদায়কারী এই সন্দেহের (شك) ক্ষেত্রে কী করবেন?

আমি এই বিষয়ে যে কর্মপদ্ধতিগুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছি তা তিন প্রকার:

প্রথম প্রকার: নামাজ আদায়কারী তিনবার নামাজ পড়বেন এবং প্রতিবার বর্ণিত জিকিরের (ذكر) মধ্য থেকে একটি করে পাঠ করবেন, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু বলেছেন তার সবগুলোই পালিত হয় (২)।

দ্বিতীয় প্রকার: নামাজ আদায়কারী হাদিসে বর্ণিত সকল শব্দাবলী একত্রে পাঠ করবেন। তিনি ইস্তিখারার দোয়ায় বলবেন: হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে এই বিষয়টি আমার দ্বীন, আমার জীবন, কাজের পরিণতি এবং আমার ইহকাল ও পরকালের জন্য কল্যাণকর ইত্যাদি।

আর এই উভয় পদ্ধতিই বাতিল (باطل), এবং এগুলো খণ্ডনের কারণগুলো নিম্নরূপ (৩):

১ - এটি একটি নব-উদ্ভাবিত (محدثة) পদ্ধতি যা সুপরিচিত ইমামদের (الأئمة) কেউ পূর্বে অনুসরণ করেননি।

২ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণিত এই শব্দগুলোকে একত্রিত করেননি, বরং এটি বর্ণনাকারীর (الراوي) পক্ষ থেকে নিছক একটি সন্দেহ (شك)।

--------------------------------------------

(১) জালাউল আফহাম ৪/১৪৮।

(২) দেখুন: আল-ফাতহ ১৮/১৭১।

(৩) দেখুন: জালাউল আফহাম ৪/১৪৮ সংক্ষেপে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিখারাহ মাসাইলু ফিকহিয়্যাহ ওয়া ফাওয়াইদু তারবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
النوع الثالث: أنه يرجح بين هذه الألفاظ، واختار ذلك ابن القيم رضي الله عنه، وعليه المحققون من أهل العلم.

وقد رجح ابن القيم بقوله: «ومثال ما يترجح فيه أحد الألفاظ حديث الاستخارة فإن الراوي شك هل قال النبي صلى الله عليه وسلم: «اللهم إن كنت تعلم أن هذا الأمر خير لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمري»، أو قال: «وعاجل أمري وآجله» بدل «وعاقبة أمري»، والصحيح اللفظ الأول، وهو قوله: وعاقبة أمري؛ لأن عاجل الأمر وآجله هو مضمون قوله: ديني ومعاشي، وعاقبة أمري فيكون الجمع بين المعاش وعاجل الأمر وآجله تكرارًا، بخلاف ذكر المعاش والعاقبة، فإنه لا تكرار فيه، فإن المعاش هو عاجل الأمر والعاقبة آجله» (1).

وعلى العموم لو اقتصر على أحد اللفظين أجزأه ذلك، ولو اقتصر على قول: «وعاقبة أمري» - لأنه لم يرد فيها شك كما في حديث أبي سعيد وابن مسعود رضي الله عنه لكان أفضل.

****

 

‌‌المسألة التاسعة عشرة

هل يسمي حاجته أو يكتفي بالنية
؟

قال الحافظ: «قوله في الحديث «ثم يسميه بعينه»:

ظاهر سياقه أن ينطق به، ويحتمل أن يكتفي باستحضارة بقلبه عند الدعاء، وعلى الأول تكون التسمية بعد الدعاء، وعلى الثاني تكون الجملة حالية؛ والتقدير فليدع مسميًا حاجته» (2) أ. هـ.

--------------------------------------------

(1) جلاء الأفهام 4/ 148 مختصرًا.

(2) الفتح 1/ 171.
তৃতীয় প্রকার: তিনি এই শব্দগুলোর মধ্যে একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য (ترجيح) দেবেন। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) এটিই পছন্দ করেছেন এবং বিজ্ঞ গবেষক আলিমগণের (المحققون) সিদ্ধান্তও এটিই।

ইবনুল কাইয়্যিম নিম্নোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি প্রাধান্য দিয়েছেন: "শব্দগুলোর মধ্যে একটি প্রাধান্য পাওয়ার উদাহরণ হলো ইস্তিখারার হাদিস। কেননা বর্ণনাকারী (الراوي) সন্দেহ (شك) প্রকাশ করেছেন যে, নবী (সা.) কি বলেছেন: 'হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে এই বিষয়টি আমার দীন, জীবন ও কর্মফলের জন্য কল্যাণকর...', অথবা তিনি 'আমার কর্মফলের' পরিবর্তে 'আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য' বলেছেন। এক্ষেত্রে সঠিক (الصحيح) হলো প্রথম শব্দগুচ্ছ, যা হলো: 'আমার কর্মফল'; কারণ কোনো বিষয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মূলত 'দীন ও জীবন' এবং 'কর্মফল' এরই অন্তর্ভুক্ত। ফলে জীবন এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা একত্রে উল্লেখ করা পুনরাবৃত্তি (تكرار) হবে; পক্ষান্তরে জীবন ও কর্মফলের উল্লেখ তেমন নয়, কারণ এতে কোনো পুনরাবৃত্তি নেই। কেননা 'জীবন' হলো বর্তমান অবস্থা এবং 'কর্মফল' হলো ভবিষ্যৎ।" (১)।

সামগ্রিকভাবে, যদি কেউ যেকোনো একটি শব্দগুচ্ছের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে তবে তা যথেষ্ট হবে। তবে যদি কেউ শুধু 'আমার কর্মফল' কথাটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকে—যেহেতু আবু সাঈদ ও ইবনে মাসউদ (রা.)-এর হাদিসে এতে কোনো সন্দেহ (شك) বর্ণিত হয়নি—তবে তা-ই উত্তম হবে।

****

 

‌‌উনিশতম মাসআলা

তিনি কি তার প্রয়োজনের কথা মুখে বলবেন নাকি কেবল নিয়ত করাই যথেষ্ট?

হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: "হাদিসের বাণী 'অতঃপর তিনি নির্দিষ্টভাবে তার প্রয়োজনের নাম উল্লেখ করবেন':

এর বাহ্যিক প্রেক্ষাপট (سياق) থেকে প্রতীয়মান হয় যে তিনি তা মুখে উচ্চারণ করবেন। তবে এ সম্ভাবনাও (يحتمل) আছে যে, দোয়ার সময় অন্তরে তা উপস্থিত করাই যথেষ্ট হবে। প্রথম মত অনুযায়ী, নাম উল্লেখ করা হবে দোয়ার পরে, আর দ্বিতীয় মত অনুযায়ী বাক্যটি অবস্থা নির্দেশক (حال) হিসেবে গণ্য হবে; যার ব্যাখ্যা হলো: তিনি তার প্রয়োজনকে নির্দিষ্ট করা অবস্থায় দোয়া করবেন।" (২) সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) জালাউল আফহাম ৪/১৪৮ সংক্ষেপে।

(২) আল-ফাতহ ১/১৭১।