(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
رواية صحيح مسلم من طريق ابن ماهان مقارنة برواية ابن سفيان القسم: علوم الحديث
الكتاب: رواية صحيح مسلم من طريق ابن ماهان مقارنة برواية ابن سفيان
المؤلف: مصدق أمين عطية الدوري
رسالة :ماجستير - كلية التربية - جامعة تكريت - قسم علوم القرآن - تخصص الحديث النبوي الشريف
الرسالة بإشراف: أ. د محمد إبراهيم خليل السامرائي
عام النشر: (1432 هـ - 2010م)
عدد الصفحات: 413
الرسالة إهداء من مؤلفها - جزاه الله خيرا - للمكتبة الشاملة
تاريخ النشر بالشاملة: 5 شوّال 1435
ইবনে সুফিয়ানের বর্ণনার (رواية) তুলনায় ইবনে মাহানের সূত্রে সহিহ মুসলিমের বর্ণনা (رواية) বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: ইবনে সুফিয়ানের বর্ণনার (رواية) তুলনায় ইবনে মাহানের সূত্রে সহিহ মুসলিমের বর্ণনা (رواية)
লেখক: মুসাদ্দিক আমিন আতিয়াহ আদ-দাওরি
গবেষণাপত্র :মাস্টার্স - শিক্ষা অনুষদ - তিকরিত বিশ্ববিদ্যালয় - কুরআন বিজ্ঞান বিভাগ - পবিত্র নববী হাদিস বিশেষায়ন
তত্ত্বাবধানে: প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ ইবরাহিম খলিল আস-সামাররায়ি
প্রকাশকাল: (১৪৩২ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৩
গবেষণাপত্রটি এর লেখকের পক্ষ থেকে - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন - আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য একটি উপহার
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৫ শাওয়াল ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
وزارة التعليم العالي والبحث العلمي
جامعة تكريت
كلية التربية
قسم علوم القرآن
رواية صحيح مسلم من طريق ابن ماهان مقارنة برواية ابن سفيان
رسالة ماجستير تقدم بها الطالب:
مصدق أمين عطية الدوري
وهي جزء من متطلبات نيل درجة الماجستير في علوم القرآن / تخصص الحديث النبوي الشريف
إشراف:
أ. د محمد إبراهيم خليل السامرائي
(1432 هـ - 2010م)
উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা মন্ত্রণালয়
তিকরিত বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষা অনুষদ
কুরআন বিজ্ঞান বিভাগ
ইবনে মাহান-এর সূত্রের (طريق) মাধ্যমে সহিহ মুসলিম-এর বর্ণনা (رواية): ইবনে সুফিয়ান-এর বর্ণনার (رواية) সাথে একটি তুলনামূলক অধ্যয়ন
শিক্ষার্থী কর্তৃক উপস্থাপিত মাস্টার্স থিসিস:
মুসাদ্দাক আমিন আতিয়্যাহ আদ-দুরি
এটি কুরআন বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের প্রয়োজনীয় শর্তাবলির একটি অংশ / বিশেষায়িত ক্ষেত্র: পবিত্র হাদিস শাস্ত্র
তত্ত্বাবধানে:
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল আল-সামাররাই
(১৪৩২ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ)
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم
{يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ}
صدق الله العظيم
سورة المجادلة، من الآية: 11
- أ -
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
{তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে উচ্চতর করবেন।}
মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন।
সূরা আল-মুজাদিলাহ, আয়াত: ১১ এর অংশবিশেষ
- আলিফ -
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
{نَضَّرَ الله عَبْدًا سمع مَقَالَتِي فَوَعَاهَا، ثُمَّ أَدَّاهَا إلى من لم يَسْمَعْهَا، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَا فِقْهَ له، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إلى من هو أَفْقَهُ منه}
مسند الإمام أحمد بن حنبل: (تأليف: أحمد بن حنبل أبي عبد الله الشيباني)، مؤسسة قرطبة - القاهرة، مسند الأنصار، حديث أبي ذر رضي الله عنه الحديث رقم 21630، 5/ 183.
- ب -
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
{আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও সতেজ রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে এবং এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিয়েছে যে তা শোনেনি। কেননা অনেক ফিকহ বহনকারী ব্যক্তি নিজে ফকীহ (فقيه) নন, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়ে অধিক ফকীহ (فقيه)।}
মুসনাদ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল: (রচনায়: আহমাদ ইবনে হাম্বল আবু আব্দুল্লাহ আল-শাইবানী), মুয়াসসাসাতু কুরতুবা - কায়রো, মুসনাদুল আনসার, আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস, হাদিস নং ২১৬৩০, ৫/ ১৮৩।
- খ -
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
الإهداء
إلى والديَّ العزيزين
… اهدي بحثي هذا
- جـ -
উৎসর্গ
আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতার প্রতি
… আমার এই গবেষণাটি উৎসর্গ করছি
- জ -
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
شكر وعرفان
أوجه شكري وعرفاني إلى كل من ساعدني في توفير الجو المناسب لإنجاح مهمتي في كتابة هذه الدراسة وأبتدؤهم بالمشرف على رسالتي هذه أ. م. د. محمد إبراهيم خليل، وأ. م. د. محمود عيدان احمد في توجيهه السديد في بعض الإجراءات العلمية، والدكتور عمار عبد الرؤوف رئيس قسم علوم القرآن / جامعة الموصل سابقاً.
واشكر الدكتور مجيد خليفة والدكتور عبد الرحمن الفقيه والدكتور عبد الرحمن السديس والدكتور عبد المحسن عباد لحصولي على بحوثهم المتميزة في هذا المجال وتضمين بعضها في هذه الدراسة.
كما اشكر رئاسة القسم ومقرريته وأخص بالذكر منهم أ. م. د. حاتم جاسم محمد الجميلي والدكتور حسن احمد حسين الجواري للدعم المستمر في إتمام مراحل الدراسة.
وأتقدم بشكري للأساتذة والمدرسين والمشايخ ممن علمني حرفاً.
وشكري أيضاً من صميم قلبي لزملائي في المرحلة الدراسية لمساعدتهم المستمرة في توفير المصادر العلمية، وأدعو لهم بالموفقية.
وأشكر العاملين في مكتبة كلية الشريعة / جامعة تكريت والمكتبة الوقفية المنشورة على شبكة المعلومات الدولية (الانترنيت).
وأشكر الأخوة من أبناء بلدتي لمساعدتهم لي وتوفير الدعم العلمي على شبكة المعلومات الدولية (الانترنيت) وهم: المهندس ماجد يعقوب يوسف، والمهندس حامد شاكر مرهج، والأستاذ رائد نزهان عيادة، والسيد هُمام احمد شوقي.
سائلاً المولى القدير أن يجعلها في ميزان حسناتهم.
مصدق
- د -
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি
এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিয়ে যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন, আমি তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করছি। প্রথমেই আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার থিসিসের তত্ত্বাবধায়ক সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল-এর প্রতি। পাশাপাশি কিছু বৈজ্ঞানিক কার্যপ্রণালীতে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য সহকারী অধ্যাপক ড. মাহমুদ ইদান আহমদ এবং মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ড. আম্মার আব্দুর রউফ-এর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
আমি আরও ধন্যবাদ জানাই ড. মাজিদ খলিফা, ড. আব্দুর রহমান আল-ফকিহ, ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইস এবং ড. আব্দুল মুহসিন আব্বাদ-কে, তাদের এই বিষয়ক বিশিষ্ট গবেষণাপত্রগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার এবং তার কিছু অংশ এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ লাভের জন্য।
এছাড়াও আমি বিভাগীয় প্রধান ও এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই, বিশেষ করে সহকারী অধ্যাপক ড. হাতেম জাসিম মুহাম্মদ আল-জুমাইলি এবং ড. হাসান আহমদ হুসাইন আল-জুওয়ারি-কে, গবেষণার প্রতিটি পর্যায় সম্পন্ন করতে তাদের নিরন্তর সহযোগিতার জন্য।
আমি আমার সেই সকল অধ্যাপক, শিক্ষক ও মাশায়েখদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যাদের কাছে আমি সামান্যতম হলেও শিক্ষা গ্রহণ করেছি।
আমার হৃদয়ের গভীর থেকে সহপাঠীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, গবেষণার উৎস ও তথ্যসূত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার জন্য। আমি তাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
আমি তিকরিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদ লাইব্রেরির কর্মী এবং ইন্টারনেটে প্রকাশিত ওয়াকফ লাইব্রেরির সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আমার নিজ শহরের যে ভাইয়েরা আমাকে ইন্টারনেটে বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানাই। তারা হলেন: প্রকৌশলী মাজিদ ইয়াকুব ইউসুফ, প্রকৌশলী হামিদ শাকির মুরহিজ, জনাব রায়েদ নাযহান আয়াদা এবং জনাব হুমাম আহমদ শাওকি।
আমি মহান আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে তাদের নেক আমলের পাল্লায় গণ্য করেন।
মুসাদ্দিক
- দ -
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم الأنبياء والمرسلين، وعلى آله الطيبين الطاهرين، وصحابته الغر الميامين، وتابعيهم ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وبعد:
لا يخفى على أحد ما لصحيح مسلم بن الحجاج النيسابوري من أهمية في هذا الدين فهو الحاوي لجملة طيبة من الحديث الصحيح المجرد عن رسول الله ـ صلى الله عليه وسلم ـ.
بنقل العدول الضابطين، وهو الأصل الثاني من الأصول الستة في كتب الحديث التي هي: صحيح البخاري، صحيح مسلم، سنن أبي داود، سنن الترمذي، سنن النسائي، سنن ابن ماجه.
وقد فضله بعض العلماء على صحيح البخاري لما له من حسن ترتيب، وجمع الأحاديث في الباب الواحد، وسهولة البحث عن الحديث في المسألة المعينة.
ودراستي هذه تأتي أهميتها من أهمية هذا الكتاب، فلا أظن أن اثنين يختلفان في صحة ما ورد فيه من أصول، ولهذا فإن هذه الدراسة بعيدة كل البعد عن البحث في التصحيح والتضعيف، وهذا ما وجدناه عند البعض من هاجس في عدم الخوض في دراسة هذا الصحيح؛ ظانين أن موضوعاً كهذا يثير جدلاً، ويفتح باباً لا يغلق أمام الإنتقادات التي ستوجه إلى هذه الدراسة، لخطورة الموضوع.
إلا أن العلماء قد أغلقوا كل باب من شأنه أن يكون منفذاً للطعن أو الاعتراض على هذا الأصل المتين كالإلزامات والتتبع للدارقطني التي أجاب عنها ابن الصلاح في صيانة صحيح مسلم، وظهر من الإنقطاع ما أجاب عنه الحافظ ابن حجر في تغليق التعليق، وقد نال هذا الكتاب من الشهرة والقبول في البلاد الإسلامية في مشرقها ومغربها، بل حتى البلاد غير الإسلامية درسته دراسة الفاحص المتمهل ليعرفوا ما فيه فما وجدوا فيه من مثلمة، ليصل إلى أن يترجم إلى عدة لغات غير العربية.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারী; এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ, তাঁর মর্যাদাবান ও বরকতময় সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী হবেন তাদের সবার ওপর। অতপর:
দ্বীনের ক্ষেত্রে মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী রচিত সহীহ মুসলিম-এর গুরুত্ব কারো কাছে অজানা নয়। কেননা এটি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত কেবল বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের এক বিশাল সংকলন।
যা ন্যায়পরায়ণ (عدول) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابطين) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বর্ণিত। হাদিসের কিতাবসমূহের ছয়টি মূল স্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। কিতাবগুলো হলো: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিযী, সুনানে নাসাঈ ও সুনানে ইবনে মাজাহ।
কোনো কোনো আলিম এর চমৎকার বিন্যাস, এক অধ্যায়ে একাধিক হাদিসের একত্রিকরণ এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে হাদিস অনুসন্ধানের সহজতার কারণে একে সহীহ বুখারীর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।
আমার এই গবেষণার গুরুত্ব এই কিতাবের গুরুত্ব থেকেই উৎসারিত। আমি মনে করি না যে, এতে বর্ণিত মূল বিষয়গুলোর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে কোনো দুজন ব্যক্তির মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে। এই কারণেই বর্তমান গবেষণাটি হাদিসকে বিশুদ্ধ (تصحيح) বা দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার আলোচনা থেকে সম্পূর্ণ দূরে। তবে আমরা কারো কারো মধ্যে এই সহীহ কিতাবটি নিয়ে গভীর গবেষণায় না যাওয়ার একটি আশঙ্কা লক্ষ্য করেছি; তারা মনে করেন যে, এ ধরণের বিষয় বিতর্ক উসকে দিতে পারে এবং এই গবেষণার দিকে এমন সমালোচনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে যা সহজে বন্ধ হবে না, কারণ বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
তবে উলামায়ে কিরাম এই মজবুত স্তম্ভের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা আপত্তির সব পথই রুদ্ধ করে দিয়েছেন। যেমন আদ-দারাকুতনী প্রণীত আল-ইলযামাত ওয়াত তাতাব্বু কিতাবে উত্থাপিত প্রশ্নাবলির উত্তর ইবনুস সালাহ তাঁর সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম গ্রন্থে দিয়েছেন। এছাড়া বর্ণনাসূত্রে যে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) প্রকাশ পেয়েছিল, হাফেজ ইবনে হাজার তাগলীকুত তালীক গ্রন্থে তার জওয়াব দিয়েছেন। এই কিতাবটি মুসলিম বিশ্বের প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে ব্যাপক খ্যাতি ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। এমনকি অমুসলিম দেশগুলোতেও গবেষকগণ অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে কিতাবটি নিয়ে গবেষণা করেছেন এর বিষয়বস্তু জানার জন্য, কিন্তু তারা এতে কোনো ত্রুটি খুঁজে পাননি। শেষ পর্যন্ত এটি আরবি ছাড়াও আরও অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২)
ووجد هذا الكتاب من العناية الفائقة من العلماء الذين تناقلوه جيلاً بعد جيل شرقاً وغرباً، إلا أنه حصل فيه إختلاف في أسانيد أحاديثه والمتون من نقلة الآثار من تلاميذ مؤلفه وتلاميذهم، ما جعل العلماء أن ينبهوا على الأخطاء والأوهام التي وقعت فيه، التي بلغت الحصيلةُ 010،0 عشرةً بالألف من مجموع أحاديثه، ومع ذلك فلم يغفلوها ونبهوا عليها.
وممن نبه على ذلك علماء المغرب منهم: أبو علي الغساني، والإمام
… المازري، والقاضي عياض، وغيرهم، وحذا حذوهم من أهل المشرق الإمامين النووي والسيوطي.
على أن هذه الأوهام والأخطاء مندفعة وفق هذه الدراسة للأسباب الآتية:
1 - لا يلزم بالضرورة أن يكون للحديث الواحد طريقاً واحداً، فما وجد في رواية من طريق معين فقد يكون عند الرواية الأخرى من طريق آخر، ويكون قد سمعه الرواة من الشيخ الواحد فيفترق السند إلى أكثر من طريق، وهذا يحصل مع الأقران.
2 - تعدد مجالس السماع تجعل الشيخ يروي الحديث بأكثر من طريق، حسب ما وجد عنده، ولأكثر من مرة.
3 - التباس بعض الأسماء ببعض أو الكنى والألقاب في الراوي الواحد أو الرواة الكثر فيختلط.
4 - ما يحصل من اختلاف في الألفاظ فهو محتمل المعنى إذ ليس من شرط الرواية أن تأتي نصاً.
5 - يأتي لفظ على الخصوص وآخر على العموم.
6 - ليس ما وجد مُصَحَّفاً أن يكون فعلاً تصحيفاً.
وأما أسباب البحث في هذه الدراسة فهي:
1 - انتشار الصحيح في العالم الإسلامي وتعدد النسخ فيه، والاختلاف الحاصل في أسانيده ومتونه.
এই গ্রন্থটি পূর্ব ও পশ্চিমের আলেমদের (علماء) কাছ থেকে অত্যধিক গুরুত্ব লাভ করেছে, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একে অপরের কাছে এটি পৌঁছে দিয়েছেন। তবে এর হাদিসসমূহের সনদসমূহ (أسانيد) এবং মতনসমূহে (متون) গ্রন্থকারের ছাত্র ও তাদের ছাত্রদের মতো আসার বর্ণনাকারীদের (نقلة الآثار) মাধ্যমে কিছু মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে, যা আলেমদের (علماء) এতে ঘটে যাওয়া ভুল ও বিভ্রান্তিগুলোর (أوهام) প্রতি সতর্ক করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এগুলোর পরিমাণ মোট হাদিসের প্রতি হাজারে দশটির মতো পৌঁছেছে; তবুও তারা এগুলোকে উপেক্ষা করেননি বরং এগুলোর প্রতি সতর্ক করেছেন।
মাগরিব অঞ্চলের আলেমদের (علماء) মধ্যে যারা এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আলী আল-গাসসানি, ইমাম
… আল-মাযিরি, কাজি আইয়াজ এবং আরও অনেকে। আর প্রাচ্যের আলেমদের মধ্য থেকে ইমাম নববী ও ইমাম সুয়ূতী তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন।
তবে এই গবেষণার আলোকে উক্ত বিভ্রান্তি (أوهام) ও ভুলগুলো নিচের কারণসমূহের ভিত্তিতে খণ্ডনযোগ্য:
1 - একটি হাদিসের জন্য কেবল একটিই সূত্র (طريق) থাকা আবশ্যক নয়; বরং কোনো বর্ণনায় (رواية) যা একটি নির্দিষ্ট সূত্রে পাওয়া যায়, অন্য বর্ণনায় (رواية) তা ভিন্ন সূত্রে থাকতে পারে। আবার বর্ণনাকারীরা একই শায়খ (شيخ) থেকে শুনে থাকতে পারেন, ফলে সনদ (سند) একাধিক সূত্রে বিভক্ত হয়ে যায়; আর সমসাময়িকদের (أقران) ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে থাকে।
2 - শ্রবণ মজলিস (مجالس السماع) একাধিক হওয়ার কারণে শায়খ (شيخ) তার কাছে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী একাধিকবার একাধিক সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেন।
3 - কোনো একজন বর্ণনাকারী (راوي) বা একাধিক বর্ণনাকারীর নাম, উপনাম (كنى) বা উপাধির (ألقاب) মধ্যে সাদৃশ্য থাকার ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
4 - শব্দের মধ্যে যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় তা অর্থের দিক থেকে গ্রহণযোগ্য; কারণ বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে শব্দে শব্দে হুবহু হওয়া শর্ত নয়।
5 - কোনো শব্দ বিশেষ (خصوص) অর্থে আসে এবং অন্যটি সাধারণ (عموم) অর্থে।
6 - কোনো শব্দকে বিকৃত (مصحف) হিসেবে পাওয়া গেলেই তা প্রকৃতপক্ষে শব্দগত বিকৃতি (تصحيف) হিসেবে গণ্য হয় না।
এই গবেষণার কারণসমূহ হলো:
1 - মুসলিম বিশ্বে সহিহ গ্রন্থটির প্রসার, এর পাণ্ডুলিপির প্রাচুর্য এবং এর সনদসমূহ (أسانيد) ও মতনসমূহে (متون) বিদ্যমান মতপার্থক্য।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৩)
2 - لئلا يأتي مغرض فيثير جدلاً هذه الخلافات، ويوظفها توظيفاً سيئاً، لينصر رأيه.
3 - وجدت نفسي في موضع المدافع عن هذا الصحيح، والذب عن السنة المطهرة.
وخطة البحث:
فقد قسمت هذه الدراسة إلى مقدمة وثلاثةِ فصول هي:
الفصل الأول:
التعريف بالإمام مسلم وصحيحه.
وفيه ثلاثةُ مباحث:
المبحث الأول:
التعريف بالإمام مسلم، وفيه ستة مطالب:
المطلب الأول:
اسمه ونسبه وموطنه.
المطلب الثاني:
ولادته ووفاته.
المطلب الثالث:
رحلاته وسماعاته.
المطلب الرابع:
أهم شيوخه.
المطلب الخامس:
آثاره: تلاميذه، ومصنفاته.
المطلب السادس:
مكانته بين العلماء.
المبحث الثاني:
التعريف بصحيح مسلم، وفيه خمسة مطالب:
2 - যাতে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি এসে এই মতভেদগুলো নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতে না পারে এবং নিজের মতের স্বপক্ষে এগুলোকে অপব্যবহার করতে না পারে।
3 - আমি নিজেকে এই সহিহ গ্রন্থের রক্ষক এবং পবিত্র সুন্নাহর প্রতিরক্ষাকারীর অবস্থানে পেয়েছি।
গবেষণার রূপরেখা:
আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা এবং তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি, যা হলো:
প্রথম অধ্যায়:
ইমাম মুসলিম এবং তাঁর সহিহ গ্রন্থের পরিচিতি।
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ:
ইমাম মুসলিমের পরিচিতি, এতে ছয়টি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ:
তাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং আবাসস্থল।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ:
তাঁর জন্ম ও মৃত্যু।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ:
তাঁর সফরসমূহ এবং শ্রবণ (سماعات) সমূহ।
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ:
তাঁর প্রধান শিক্ষকগণ।
পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ:
তাঁর অবদান: ছাত্রবৃন্দ এবং গ্রন্থসমূহ।
ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ:
আলেমদের নিকট তাঁর মর্যাদা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
সহিহ মুসলিমের পরিচিতি, এতে পাঁচটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৪)
المطلب الأول:
اسم الكتاب.
المطلب الثاني:
الباعث على تصنيفه، والغرض منه.
المطلب الثالث:
مكان وزمن التصنيف.
المطلب الرابع:
سمات منهجية الصحيح.
المطلب الخامس:
علاقته بصحيح البخاري، والترجيح بينهما.
المبحث الثالث:
العناية بالصحيح، وفيه خمسةُ مطالب:
المطلب الأول:
النسخ المعتمدة المطبوعة.
المطلب الثاني:
رواة النسخ.
المطلب الثالث:
أسانيد النسخ.
المطلب الرابع:
أثر اختلاف النسخ.
المطلب الخامس:
عدد الشروح على صحيح مسلم وأسماؤها
… ومؤلفوها، الشروح التي اعتنت بالروايتين.
الفصل الثاني:
الاختلاف في الأسانيد.
প্রথম পরিচ্ছেদ:
গ্রন্থের নাম।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
গ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট এবং এর উদ্দেশ্য।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:
সংকলনের স্থান ও কাল।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ:
সহিহ গ্রন্থের পদ্ধতিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ:
সহিহ বুখারির সাথে এর সম্পর্ক এবং উভয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ:
সহিহ গ্রন্থের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ, এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ:
নির্ভরযোগ্য মুদ্রিত পাণ্ডুলিপিসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
পাণ্ডুলিপির বর্ণনাকারীগণ (رواة)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:
পাণ্ডুলিপির সনদসমূহ (أسانيد)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ:
পাণ্ডুলিপিগত পার্থক্যের প্রভাব।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ:
সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংখ্যা ও সেগুলোর নাম
… এবং সেগুলোর রচয়িতাগণ, আর সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ যা উভয় বর্ণনার (روايتين) প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়:
সনদসমূহের (أسانيد) মধ্যকার মতভেদ।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৫)
الفصل الثالث:
الاختلاف في المتون.
وخاتمة وأهم النتائج.
منهج البحث:
أ- قمت بجمع الاختلافات بين رواية ابن ماهان وغيرها من الكتب الآتية:
1 - تقييد المهمل وتمييز المشكل لأبي علي الغساني ت 498هـ.
2 - المعلم بفوائد مسلم لأبي عبد الله المازري ت 536هـ.
3 - إكمال المعلم بفوائد مسلم.
4 - مشارق الأنوار على صحاح الآثار (كلاهما للقاضي عياض ت 544هـ).
5 - شرح النووي على صحيح مسلم للإمام يحيى بن شرف النووي ت 676هـ.
6 - الديباج على صحيح مسلم بن الحجاج للإمام السيوطي ت 911هـ.
ب- رتبت هذه الاختلافات وفق ترتيب صحيح مسلم.
جـ- وفقت بين الروايتين بالجمع بينهما ما أمكن ذلك.
د- ضبطت أسماء الرواة وكناهم وألقابهم وطبقاتهم مستنداً إلى أقوال العلماء الأجلاء فيما دونوه في كتب التراجم والأنساب والإثبات، ومنهجي في تراجم الرواة كالآتي:
1 - ترجمت في الفصل الأول لشيوخ الإمام مسلم، ثم تلاميذه، ثم الرواة عن التلاميذ، وكل ذلك حسب طبقتهم لذلك سوف أحافظ على الترتيب الزمني لكل طبقة.
2 - وأترجم لكل من الشيوخ والتلاميذ وفق سبع فقرات هي: اسمه، لقبه
… وكنيته، موطنه، سمع من؟، من روى عنه، توثيق الأئمة له، وفاته. لذلك سيجد القاريء الإطالة بعض الشيء.
3 - وأترجم لمن يقع فيه الخلاف في فصل الأسانيد من الرواة في الروايتين وأستطرد الكلام للوصول إلى الطبقة والمعاصرة واللقاء ما أمكن ذلك لتحديد صواب الرواية الواحدة أو الروايتين.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:
মতন বা মূল পাঠের (المتون) মধ্যকার ভিন্নতা।
উপসংহার এবং গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ।
গবেষণার পদ্ধতি:
ক- আমি ইবনে মাহানের বর্ণনা (رواية) এবং নিম্নোক্ত গ্রন্থসমূহের মধ্যকার ভিন্নতাগুলো সংগ্রহ করেছি:
১ - আবু আলী আল-গাসসানি (মৃত্যু ৪৯৮ হি.) রচিত তাকয়ীদুল মুহমাল ওয়া তামীযুল মুশকাল।
২ - আবু আব্দুল্লাহ আল-মাযিরি (মৃত্যু ৫৩৬ হি.) রচিত আল-মু’লিম বি-ফাওয়াইদি মুসলিম।
৩ - ইকমালুল মু’লিম বি-ফাওয়াইদি মুসলিম।
৪ - মাশারিকুল আনওয়ার আলা সিহাহিল আসার (উভয় গ্রন্থই কাজি আইয়াজ (মৃত্যু ৫৪৪ হি.) রচিত)।
৫ - ইমাম ইয়াহইয়া বিন শরফ আন-নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হি.) রচিত সহীহ মুসলিমের শারহ আন-নববী।
৬ - ইমাম সুয়ূতি (মৃত্যু ৯১১ হি.) রচিত আদ-দিবাজ আলা সহীহ মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ।
খ- আমি এই ভিন্নতাগুলোকে সহীহ মুসলিমের বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি।
গ- আমি বর্ণনা (الروايتين) দুটির মধ্যে সম্ভবপর সমন্বয় সাধন করেছি।
ঘ- বর্ণনাকারীদের (الرواة) নাম, উপনাম (الكنية), উপাধি এবং স্তরসমূহ (الطبقات) আমি জীবনীগ্রন্থ (التراجم), বংশবৃত্তান্ত এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসমূহের গ্রন্থে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম যা লিপিবদ্ধ করেছেন তার ভিত্তিতে নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করেছি। বর্ণনাকারীদের (الرواة) জীবনীর ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি নিম্নরূপ:
১ - প্রথম পরিচ্ছেদে আমি ইমাম মুসলিমের শিক্ষকগণ (الشيوخ), অতঃপর তাঁর ছাত্রগণ, এরপর ছাত্রদের থেকে যারা বর্ণনা (الرواة) করেছেন তাদের জীবনী আলোচনা করেছি। এই সবকিছুই তাদের স্তর (الطبقة) অনুযায়ী করা হয়েছে, তাই আমি প্রতিটি স্তরের (الطبقة) জন্য কালানুক্রমিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখব।
২ - আমি শিক্ষক (الشيوخ) ও ছাত্র—উভয় শ্রেণীর প্রত্যেকের জীবনী সাতটি বিষয়ের আলোকে বর্ণনা করব: তাঁর নাম, উপাধি... ও উপনাম (الكنية), আবাসস্থল, তিনি কার থেকে শুনেছেন, কারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, ইমামগণ কর্তৃক তাঁকে নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করা (توثيق), এবং তাঁর মৃত্যু। এ কারণে পাঠক কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা দেখতে পাবেন।
৩ - সনদ (الأسانيد) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে বর্ণনা (الروايتين) দুটির মধ্যকার যেসব বর্ণনাকারীর (الرواة) ক্ষেত্রে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে, আমি তাদের জীবনী আলোচনা করব। একটি বর্ণনা অথবা উভয় বর্ণনার সঠিকতা নিরূপণের লক্ষ্যে স্তর (الطبقة), সমসাময়িকতা এবং পারস্পরিক সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমি বিস্তারিত আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৬)
4 - وأترجم لأصحاب المؤلفات ممن أحسبه غير معروف للقاريء لذلك سوف لا تظهر في هذه الدراسة الكثير من تراجم المؤلفين لشهرتهم ومحاولة عدم إثقال الحاشية في التراجم لكثرة الأسماء الواردة في هذه الدراسة.
هـ- ضبطت المعنى الدقيق للألفاظ الغريبة، والألفاظ المختلفة المحتملة المعنى ووجهت المعاني بما يتناسب مع مدلولها اللغوي، ومراد العرب منها فيما أطلقتْه وأرادت به غيره، مستنداً بذلك إلى أقوال أهل اللغة وغريب الحديث.
و- التزمت في نقل النصوص عن مؤلفيها، وتصرفت ببعض النصوص فيما وجدته مطولاً، على أن لا يكون مخلاً به.
ز- ضبطت الخطأ والوهم فيما ظهر أن المعنى لا ينطبق مع المدلول اللغوي، وأيدت به القاضي عياض وغيره.
حـ- وظهر من خلال الدراسة أن ليس كل ما قالوا عنه خطأ أو وهم، يكون فعلاً كذلك؛ لما وجدته من سعة المعاني المحتملة التي ينطبق بعضها مع ما وقع للرواة في نسخهم.
ط- وسرت في منهجي هذا على منهج القاضي عياض، والإمام النووي، والحافظ ابن حجر العسقلاني في التصويب والجمع بين الروايتين ما أمكن ذلك.
وقد تظهر رموز في هذه الدراسة ولذلك سأبينها هنا لتشمل جميع الدراسه وهي:
ي ـ *: للدلالة على انتهاء كلام الباحث من الحديث السابق والبدء بحديث آخر في الصفحة نفسها، وفي حالة البدء بحديث في بداية صفحة لا أضع هذه العلامة.
ك ـ ما يظهر في هذه الدراسة في كتب التراجم والأطراف من حروف فهي كما معروف عند المحدثين خ: البخاري، م: مسلم، د: أبو داود، ت: الترمذي، س: النسائي، هـ: ابن ماجه وهكذا.
ل ـ أقواس الآية: {}
4 - আমি সেই গ্রন্থকারদের জীবনী (تراجم) রচনা করেছি যাদেরকে আমি সাধারণ পাঠকের কাছে অপরিচিত মনে করি। এ কারণেই, প্রথিতযশা হওয়ার দরুণ অনেক গ্রন্থকারের জীবনী এই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়নি, যাতে এই গবেষণায় আসা অসংখ্য নামের কারণে পাদটীকা অধিক ভারাক্রান্ত না হয়ে যায়।
৫- আমি বিরল শব্দাবলি (غريب) এবং সম্ভাব্য একাধিক অর্থবোধক শব্দের সূক্ষ্ম অর্থ নির্ধারণ করেছি। শব্দগুলোর অর্থ আমি সেগুলোর আভিধানিক তাৎপর্য এবং আরবদের ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী এমনভাবে বিন্যস্ত করেছি যা তাদের নির্দেশিত অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ—যেখানে তারা কোনো শব্দ প্রয়োগ করে অন্য কোনো অর্থ বোঝাতে চেয়েছেন। এক্ষেত্রে আমি ভাষাবিদদের বক্তব্য এবং হাদিসের বিরল শব্দের (غريب الحديث) ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করেছি।
৬- আমি মূল গ্রন্থকারদের থেকে উদ্ধৃতি বর্ণনায় নিষ্ঠা বজায় রেখেছি, তবে কোনো কোনো দীর্ঘ উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে আমি কিছুটা পরিমার্জন করেছি যেন তাতে মূল অর্থের কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
৭- আমি ভুল ও বিভ্রান্তি (وهم) সংশোধন করেছি যেখানে প্রতীয়মান হয়েছে যে অর্থটি আভিধানিক তাৎপর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এক্ষেত্রে আমি কাজী আয়াজ ও অন্যদের অভিমতকে সমর্থন করেছি।
৮- এই গবেষণার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তাঁরা যে বিষয়গুলোকে ভুল বা বিভ্রান্তি (وهم) বলে চিহ্নিত করেছেন, তার প্রতিটিই প্রকৃতপক্ষে ভুল নয়। এর কারণ হলো সম্ভাব্য অর্থের ব্যাপকতা, যার কিছু দিক বর্ণনাকারীদের (رواة) পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৯- আমি আমার এই কর্মপদ্ধতিতে কাজী আয়াজ, ইমাম নববী এবং হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির অনুসৃত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি—যাতে ভুল সংশোধন এবং যতটুকু সম্ভব দুই বর্ণনার (رواية) মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যায়।
এই গবেষণায় কিছু সংকেত ব্যবহৃত হয়েছে, তাই আমি এখানে সেগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছি যা পুরো গবেষণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, আর সেগুলো হলো:
১০- *: পূর্ববর্তী হাদিস সম্পর্কে গবেষকের আলোচনা শেষ হওয়া এবং একই পৃষ্ঠায় অন্য হাদিসের আলোচনা শুরু হওয়া বোঝাতে এই চিহ্নটি ব্যবহৃত হয়েছে। তবে কোনো পৃষ্ঠার শুরুতে হাদিস আলোচনা শুরু হলে আমি এই চিহ্নটি ব্যবহার করিনি।
১১- জীবনী গ্রন্থ এবং আতরাফ (أطراف) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে যে বর্ণগুলো ব্যবহৃত হয়েছে, তা হাদিস বিশারদদের (محدثين) নিকট সুপরিচিত। যেমন- খ: বুখারি, ম: মুসলিম, দ: আবু দাউদ, ত: তিরমিজি, স: নাসায়ি, হ: ইবনে মাজাহ ইত্যাদি।
১২- আয়াতের জন্য ব্যবহৃত বন্ধনী: {}
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৭)
م ـ أقواس الحديث: {}
ن ـ أقواس حصر الرواة داخل السند () وكذلك لحصر الأحاديث في شرح الإمام النووي على صحيح مسلم.
س ـ علامات التنصيص" " لحصر النصوص لما سوى اللآيات والأحاديث.
الدراسات والبحوث السابقة:
لم أجد من الدراسات والبحوث السابقة إلا من كتب كتابات يسيرة، وإشارات بسيطة فيما يتعلق في الفصل الأول من هذه الدراسة، وبعضها قد وفّى بضمونه، والبعض الآخر اقتصر على ذكر جزء مما نحتاج إليه، والمتبقي منه ينفرد به في غير مجال دراستنا، والبعض الآخر أخطأ فيه.
وهذه الدراسات هي:
1 - الإمام مسلم ومنهجه في صحيحه، للدكتور محمد عبد الرحمن طوالبة.
2 - التعريف بالإمام مسلم وصحيحه، للدكتور عبد الرحمن السديس.
3 - جهود العلماء برواية صحيح مسلم بالأندلس، للدكتور مجيد خليفة.
4 - الإمام مسلم وصحيحه، للدكتور عبد المحسن عباد.
5 - من يأتينا بترجمة هذا الراوي (القلانسي)، وهي إجابات وحوارات على موقع أهل الحديث، للدكتور عبد الرحمن بن عمر الفقيه، وشكل هذا المبحث أسطرا قليلة لا غير.
6 - إبراهيم بن محمد بن سفيان، للدكتور عبد الله بن محمد حسن.
7 - ووجدت على شبكة (الإنترنت) مقالة توجه بعض اختلافات المتون، وهي متعلقة برواية ابن الحذاء، فليس من موضوعنا.
8 - الحديث المعنعن في صحيح مسلم، للدكتور فهمي أحمد عبد الرحمن القزاز، وعقد فصلاً في ترجمة الإمام مسلم.
ম - হাদিসের বন্ধনী: {}
ন - সনদের (السند) মধ্যস্থ বর্ণনাকারীদের (الرواة) সীমাবদ্ধ করার জন্য এবং ইমাম নববীর ‘শরহে সহিহ মুসলিম’-এ হাদিসগুলোকে চিহ্নিত করার জন্য ব্যবহৃত বন্ধনী ()।
স - আয়াত ও হাদিস ব্যতীত অন্যান্য উদ্ধৃতিসমূহ সীমাবদ্ধ করার জন্য উদ্ধৃতি চিহ্ন " "।
পূর্ববর্তী গবেষণা ও অনুসন্ধানসমূহ:
আমি পূর্ববর্তী গবেষণা ও অনুসন্ধানসমূহের মধ্যে কেবল কিছু সংক্ষিপ্ত লেখা এবং এই গবেষণার প্রথম অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু সামান্য ইঙ্গিত খুঁজে পেয়েছি। এগুলোর মধ্যে কোনটি তার বিষয়বস্তু যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, কোনটি আবার আমাদের যা প্রয়োজন তার সামান্য কিছু উল্লেখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, আর অবশিষ্টাংশ আমাদের গবেষণার ক্ষেত্রের বাইরে, আবার কেউ কেউ এতে ভুলও করেছেন।
সেই গবেষণাসমূহ হলো:
1 - আল-ইমাম মুসলিম ওয়া মানহাজুহু ফি সাহিহিহ, ডক্টর মুহাম্মাদ আবদুর রহমান তাওয়ালিবা।
2 - আত-তারিফ বিল ইমাম মুসলিম ওয়া সাহিহিহ, ডক্টর আবদুর রহমান আস-সুদাইস।
3 - জুহুদুল উলামা বি রিওয়ায়াতি সহিহ মুসলিম বিল আন্দালুস, ডক্টর মাজিদ খলিফা।
4 - আল-ইমাম মুসলিম ওয়া সাহিহুহু, ডক্টর আবদুল মুহসিন আব্বাদ।
5 - মান ইয়া’তিনা বি তারজামতি হাজাল রাউয়ি (আল-কালানিসি)? (কে আমাদের এই বর্ণনাকারীর (الراوي) জীবনী (ترجمة) এনে দেবে?), এটি ‘আহলুল হাদিস’ ওয়েবসাইটে ডক্টর আবদুর রহমান বিন উমর আল-ফাকিহের উত্তর ও আলোচনার সংকলন; এই আলোচনাটি সামান্য কয়েক লাইন মাত্র।
6 - ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুফিয়ান, ডক্টর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ হাসান।
7 - ইন্টারনেটে আমি একটি নিবন্ধ পেয়েছি যা মূল পাঠের (المتون) কিছু পার্থক্যের দিকে আলোকপাত করে; এটি ইবনুল হাজ্জার বর্ণনা (رواية) সংশ্লিষ্ট, যা আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
8 - আল-হাদিস আল-মুআনআন (المعنعن) ফি সহিহ মুসলিম, ডক্টর ফাহমি আহমদ আবদুর রহমান আল-কাযযাায; এতে তিনি ইমাম মুসলিমের জীবনী (ترجمة) সংক্রান্ত একটি অধ্যায় যুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৮)
تمهيدكان الإمام مسلم واحداً ممن ألف كتاباً في الحديث الصحيح المجرد إلا أن هذا الكتاب الصحيح وجهت لبعض الأحاديث التي فيه انتقادات، وهذه الانتقادات في كتب العلل والسؤالات، وأخص بالذكر منها الإلزامات والتتبع للدارقطني، وأجاب عنها كثير من العلماء على رأسهم ابن الصلاح في صيانة صحيح مسلم من الإخلال والغلط وحمايته من الإسقاط والسقط، والإمام النووي في شرحه لصحيح مسلم، وظهر من الأنقطاع ما أجاب عنه، الحافظ ابن حجر في تغليق التعليق.
وهناك ظهرت اختلافات راجعة إلى الإختلاف بالنسخ والروايات وهذه لا علاقة لها بهذه الإنتقادات، وإنما في إثبات الرواية وتخطئتها مما طرأ على صحيح مسلم من التلاميذ الذين نقلوا الروايات من المشرق إلى المغرب في التحمل والأداء، وإلا فما معنى أن صحيح مسلم يفضله أهل المغرب على صحيح البخاري؛ لولا ضبطه وإتقانه، وهذا ما سنفصله في موضعه.
وقد وجدنا اختلافات في بعض نسخ أهل المغرب ومنهم ابن ماهان في بعض الأحاديث في الأسانيد والمتون، ولاسيما أن راوي الصحيح (ابن ماهان) ثقة ما يعني وجود أكثر من مجلس للسماع لصحيح مسلم من مؤلفه، فأما ما يتعلق بالسند فهو راجع إلى شرطه بالرواة - الطبقتين الأولى والثانية - اللتين روى عنهما وهذا يجعل تفاوت الحفظ والإتقان بين الرواة، ومن جعل منهم راوٍ بدل آخر يرجع إلى هذا التعليل، أو إلى الخطأ والوهم، أو هو حقيقة مروي من طريقهما وهذا ما وجدناه في كتب الحديث غير كتاب مسلم أيضاً، وأما ما يتعلق بالمتن فهو راجع إلى المعنى المحتمل ولهذا لم نجد في دراستنا هذه خللاً في هذا الكتاب يعرضه للانتقاد
… والحمد لله.
وكان علينا أن نذكر ما وقع من اختلاف في نسخة ابن ماهان حصراً إلا إننا قد نضطر أن نتكلم عن بعض روايات ابن ماهان مما كان الخلاف من تلامذته إذا كان في الحديث أكثر من خلاف، وبعض الخلافات عن ابن ماهان عن الإمام مسلم مباشرة او كان كل طرق ابن ماهان فارجعنا الخلاف عن ابن ماهان ومما شجعنا
ভূমিকাইমাম মুসলিম ছিলেন তাদের মধ্যে একজন যারা কেবল বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তবে এই সহিহ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কিছু হাদিসের প্রতি সমালোচনা করা হয়েছে। এই সমালোচনাগুলো ইল্লাল (علل) ও সুয়ালাত (سؤالات) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান। আমি বিশেষভাবে দারাকুতনি রচিত 'আল-ইলজامات ওয়াত তাতাউ' গ্রন্থের কথা উল্লেখ করছি। ইবনে সালাহ তার 'সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম মিনাল ইখলাল ওয়াল গালাত ওয়া হিমায়াতুহু মিনাল ইসکات ওয়াস সাকাত' গ্রন্থে এবং ইমাম নববী 'শরহে সহিহ মুসলিম'-এ এসব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। এছাড়া যেসব বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) প্রকাশ পেয়েছে, হাফেজ ইবনে হাজার 'তাগলিকুত তালিকে' সেগুলোর উত্তর দিয়েছেন।
সেখানে পাণ্ডুলিপি ও বর্ণনাভেদে (رواية) কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় যেগুলোর সাথে এই সমালোচনাগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এগুলো বর্ণনার (رواية) সঠিকতা নিরূপণ বা ভুল নির্ধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা সহিহ মুসলিমের সেইসব ছাত্রদের মাধ্যমে ঘটেছে যারা প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যে বর্ণনাগুলো (رواية) শ্রবণ ও প্রদান (التحمل والأداء) পদ্ধতির মাধ্যমে স্থানান্তর করেছিলেন। অন্যথায়, মাগরিবের (পাশ্চাত্যের) অধিবাসীরা কেন সহিহ বুখারীর ওপর সহিহ মুসলিমকে প্রাধান্য দেবেন, যদি না এর নির্ভুলতা ও সুনিপুণতা (إتقان) যথাযথ হতো? আমরা যথাস্থানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
আমরা মাগরিববাসীদের কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে পার্থক্য খুঁজে পেয়েছি, যার মধ্যে ইবনে মাহানও রয়েছেন; বিশেষ করে কিছু হাদিসের সনদ (إسناد) ও মতন (متن) এর ক্ষেত্রে। যেহেতু সহিহ (সহিহ মুসলিম)-এর বর্ণনাকারী ইবনে মাহান একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি, এর অর্থ দাঁড়ায় যে গ্রন্থকারের কাছ থেকে সহিহ মুসলিম শোনার একাধিক মজলিস বা অধিবেশন ছিল। সনদের (إسناد) সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো বর্ণনাকারীদের—প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর—শর্তের সাথে সংশ্লিষ্ট যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন। এটি বর্ণনাকারীদের মুখস্থশক্তি (حفظ) ও সুনিপুণতার (إتقান) তারতম্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর একজনের বদলে অন্য বর্ণনাকারীকে স্থলাভিষিক্ত করা মূলত এই কারণ দর্শানো (تعليل), অথবা ভুল (خطأ) ও ভ্রান্তির (وهم) দিকে ধাবিত করে, অথবা এটি প্রকৃতপক্ষে উভয় পথেই বর্ণিত হয়েছে। আমরা মুসলিমের গ্রন্থ ছাড়াও অন্যান্য হাদিস গ্রন্থেও এমনটি পেয়েছি। আর মতনের (متن) ক্ষেত্রে এটি সম্ভাব্য অর্থের কারণে হয়েছে। এ কারণে আমাদের এই গবেষণায় আমরা এই গ্রন্থে এমন কোনো ত্রুটি পাইনি যা একে সমালোচনার সম্মুখীন করে
… আলহামদুলিল্লাহ।
আমাদের কেবল ইবনে মাহানের পাণ্ডুলিপিতে প্রাপ্ত পার্থক্যগুলো উল্লেখ করার কথা ছিল, কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাদিসে একাধিক মতভেদ থাকলে আমরা ইবনে মাহানের কিছু বর্ণনা (رواية) নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য হয়েছি। আবার ইবনে মাহান সরাসরি ইমাম মুসলিম থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে কিছু মতভেদ রয়েছে অথবা ইবনে মাহানের সকল সূত্রের (طرق) ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে, ফলে আমরা ইবনে মাহান থেকে বর্ণিত মতভেদগুলোকে সংশ্লিষ্ট করেছি এবং যা আমাদের উৎসাহিত করেছে...
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৯)
على هذا وجود ما يؤشر ان الرواة عن ابن ماهان هو نفس قول القاضي عياض وعند ابن ماهان ومثاله حديث في كتاب اللباس والزينة، باب تحريم استعمال آنية الذهب والفضة
… (1).
وقد سلكنا منهجاً وسطاً في التوفيق بين الروايتين محتجين بقول الحافظ ابن حجر (2):
1 - ما تختلف الرواة فيه بالزيادة والنقص من رجال الإسناد فإن أخرج صاحب الصحيح الطريق المزيدة وعلله الناقد بالطريق الناقصة فهو تعليل مردود كما صرح به الدارقطني
… ؛ لأن الراوي إن كان سَمِعَهُ فالزيادة لا تضر لأنه قد يكون سمعه بواسطة عن شيخه ثم لقيه فسمعه منه. وأضيف أنا: أو في مجلس آخر لإحتمال السماع في غير مرة.
2 - ما تختلف الرواة فيه بتغيير رجال بعض الإسناد فالجواب عنه إن أمكن الجمع بأن يكون الحديث عند ذلك الراوي على الوجهين جميعا فأخرجهما المصنف ولم يقتصر على أحدهما حيث يكون المختلفون في ذلك متعادلين في الحفظ
… والعدد
… ، وإن أمتنع بأن يكون المختلفون غير متعادلين بل متقاربين في الحفظ والعدد فيخرج المصنف الطريق الراجحة ويعرض عن الطريق المرجوحة أو يشير إليها
… ، فالتعليل بجميع ذلك من أجل مجرد الاختلاف غير قادح إذ لا يلزم من مجرد الاختلاف اضطراباً يوجب الضعف فينبغي الإعراض أيضا عما هذا سبيله، والله أعلم.
3 - ما تفرد بعض الرواة بزيادة فيه دون من هو أكثر عددا أو أضبط ممن لم يذكرها فهذا لا يؤثر التعليل به إلا إن كانت الزيادة منافيةً بحيث يتعذر الجمع إما إن كانت الزيادة لا منافاة فيها بحيث تكون كالحديث المستقل فلا، اللهم إلا إن وضح
--------------------------------------------
এর ওপর ভিত্তি করে এমন কিছু ইঙ্গিত রয়েছে যে, ইবনে মাহান-এর বর্ণনাকারীদের (رواة) বক্তব্য এবং কাজি আয়াজ-এর বক্তব্য একই। ইবনে মাহান-এর নিকট এর উদাহরণ হলো কিতাবুল লিবাস ওয়াজ যিনা-এর স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহারের নিষিদ্ধতা অধ্যায়ের একটি হাদিস
… (১)।
আমরা উভয় বর্ণনার (روايتين) মধ্যে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে একটি মধ্যম পন্থা অবলম্বন করেছি এবং হাফিজ ইবনে হাজার-এর বক্তব্যের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছি (২):
১ - বর্ণনাকারীগণ (رواة) সনদের (إسناد) রাবিদের সংখ্যার কম-বেশির মাধ্যমে যে বিষয়ে মতভেদ করেন; যদি সহিহ গ্রন্থের সংকলক অতিরিক্ত সূত্রটি (طريق) বর্ণনা করেন এবং কোনো সমালোচক (ناقد) কম সংবলিত সূত্রের মাধ্যমে সেটিকে ত্রুটিযুক্ত (علله) সাব্যস্ত করেন, তবে সেই ত্রুটি নির্ণয়টি প্রত্যাখ্যাত (مردود), যেমনটি দারা কুতনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন
…; কারণ বর্ণনাকারী (راوي) যদি তা শুনে থাকেন, তবে অতিরিক্ত অংশটি কোনো ক্ষতি করে না। কেননা হতে পারে তিনি তা কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তার শায়খের নিকট থেকে শুনেছেন, অতঃপর সরাসরি তার সাথে সাক্ষাৎ করে তার থেকে তা শুনেছেন। আমি (লেখক) আরও যোগ করছি: অথবা অন্য কোনো মজলিসে শুনেছেন, যেহেতু একাধিকবার শোনার সম্ভাবনা থাকে।
২ - সনদের (إسناد) কিছু রাবি পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্ণনাকারীগণ (رواة) যেখানে ভিন্নতা প্রকাশ করেন, তার উত্তর হলো: যদি সমন্বয় করা সম্ভব হয় এভাবে যে, হাদিসটি সংশ্লিষ্ট বর্ণনাকারীর (راوي) নিকট উভয়ভাবেই বিদ্যমান ছিল এবং গ্রন্থকার (مصنف) কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে উভয়টিই বর্ণনা করেছেন; যেখানে মতভেদকারীগণ মুখস্থশক্তি (حفظ)
… ও সংখ্যার (عدد)
… দিক থেকে সমান পর্যায়ের। আর যদি তা অসম্ভব হয়—অর্থাৎ মতভেদকারীগণ সমান না হয়ে বরং মুখস্থশক্তি (حفظ) ও সংখ্যার (عدد) দিক থেকে কাছাকাছি পর্যায়ের হন, তবে গ্রন্থকার (مصنف) অগ্রগণ্য (راجحة) সূত্রটি (طريق) উল্লেখ করেন এবং গুরুত্বহীন (مرجوحة) সূত্রটি (طريق) এড়িয়ে যান অথবা সেটির দিকে ইঙ্গিত করেন
…। সুতরাং, কেবল মতভেদের কারণে এভাবে ত্রুটি নির্ণয় করা (تعليل) কোনো দোষযুক্ত (قادح) বিষয় নয়; কেননা কেবল মতভেদ থাকলেই সূত্রাগত বৈচিত্র্য (اضطراب) আবশ্যক হয় না যা হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) সাব্যস্ত করে। অতএব, এ জাতীয় বিষয়গুলো এড়িয়ে চলাই সমীচীন। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
৩ - কোনো বর্ণনাকারী (رواة) যদি কোনো বিষয়ে এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেন যা অধিক সংখ্যক কিংবা অধিক নির্ভরযোগ্য (أضبط) বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেননি, তবে এর মাধ্যমে ত্রুটি নির্ণয় (تعليل) কার্যকর হবে না; যদি না সেই অতিরিক্ত অংশটি এমন সাংঘর্ষিক হয় যে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে অতিরিক্ত অংশটি যদি সাংঘর্ষিক না হয়—বরং একটি স্বতন্ত্র হাদিসের মতো হয়, তবে তা ত্রুটিযুক্ত হবে না। অবশ্য যদি বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০)
بالدلائل القوية أن تلك الزيادة مدرجة في المتن من كلام بعض رواته فما كان من هذا القسم فهو مؤثر.
4 - ما حكم فيه بالوهم على بعض رجاله فمنه ما يؤثر ذلك الوهم قدحا ومنه ما لا يؤثر
…5 - ما اختلف فيه بتغيير بعض ألفاظ المتن فهذا أكثره لا يترتب عليه قدح؛ لإمكان الجمع في المختلف من ذلك أو الترجيح.
শক্তিশালী প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত যে, সেই অতিরিক্ত অংশটি কোনো কোনো বর্ণনাকারীর বক্তব্য থেকে মূল পাঠের (متن) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তথা তা অনুপ্রবেশিত (مدرج); সুতরাং এই প্রকারের বিষয়টি প্রভাব বিস্তারকারী।
4 - যাতে এর কিছু বর্ণনাকারীর ভ্রমের (وهم) ব্যাপারে হুকুম প্রদান করা হয়েছে; এর মধ্যে এমন কিছু ভ্রম রয়েছে যা দোষ বা ত্রুটি (قدح) হিসেবে প্রভাব ফেলে, আবার কিছু ক্ষেত্রে তা প্রভাব ফেলে না
…5 - মূল পাঠের (متن) কিছু শব্দ পরিবর্তনের কারণে যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে; এর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো ত্রুটি (قدح) সাব্যস্ত হয় না; কারণ এ ধরনের মতভেদপূর্ণ বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় (جمع) সাধন করা অথবা কোনো একটিকে অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদান করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الأولالتعريف بالإمام مسلم وصحيحه
المبحث الأولالتعريف بالإمام مسلموفيه ستة مطالب:
المطلب الأول
اسمه وكنيته
أبو الحسين مسلم بن الحجاج بن مسلم بن ورد بن كوشاذ (1).
نسبه وموطنه
فهو قشيري النسب نيسابوري الموطن، قال ابن الصلاح: القشيري النسب، النيسابوريُّ الدار والموطن، عربيّ صَلِيبة (2).
اما القشيري: منسوب إلى قشير بن كعب بن ربيعة بن عامر بن صعصعة،
… ينسب إليه جماعة من الصحابة، فمن بعدهم (3).
وفي اللباب: قبيلة كبيرة ينسب إليها كثير من العلماء منهم
… الإمام أبو الحسين مسلم بن الحجاج القشيريُّ صاحب الصحيح (4). وقال الكتانيُّ: "نسبة إلى بني قشير
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়ইমাম মুসলিম এবং তাঁর সহীহ গ্রন্থ-এর পরিচিতি
প্রথম পরিচ্ছেদইমাম মুসলিমের পরিচিতিএতে ছয়টি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ
তাঁর নাম ও কুনিয়াত
আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারদ ইবনে কুশায (১)।
তাঁর বংশপরিচয় ও আবাসস্থল
তিনি বংশসূত্রে কুশাইরী এবং আবাসস্থলের দিক থেকে নিশাপুরী। ইবনুল সালাহ বলেন: তিনি বংশীয়ভাবে কুশাইরী, ঘর ও আবাসস্থলের দিক থেকে নিশাপুরী এবং বিশুদ্ধ (صليبة) আরব (২)।
কুশাইরী সম্পর্কে বলা যায়: এটি কুশাইর ইবনে কাব ইবনে রাবিয়া ইবনে আমির ইবনে সা’সা’র দিকে সম্বন্ধযুক্ত,
… একদল সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তীগণ এই বংশের অন্তর্ভুক্ত (৩)।
আল-লুবাব গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি একটি বিশাল গোত্র যার সাথে বহু আলেম নিজেদের সম্পৃক্ত করেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন
… ইমাম আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী, যিনি সহীহ গ্রন্থের রচয়িতা (৪)। কাত্তানী বলেন: "বনু কুশাইর-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قبيلة معروفة من قبائل العرب" (1).
وأما النيسابوري: "نسبة إلى نيسابور مدينة مشهورة بخراسان من أحسن مدنها، وأجمعها للعلم والخير" (2).
ونيسابور: بفتح أوله من أمهات بلاد خراسان، كان المسلمون قد فتحوها في أيام عثمان بن عفان رضي الله عنه سنة 13 صلحاً، وقيل: فتحت في أيام عمر رضي الله عنه (3).
وقال الحاكم: "وكان مسكنه أعلى الزمجار، ومنجزه خان (4) محمش (5)، ومعاشه من ضياعة (6) باستواو" (7).
--------------------------------------------
আরব গোত্রগুলোর মধ্যে এটি একটি সুপরিচিত গোত্র" (১)।
আর নিসাবুরী (النيسابوري) সম্পর্কে বলা হয়েছে: "এটি খুরাসানের একটি বিখ্যাত শহর নিসাবুরের (نيسابور) দিকে একটি সম্বন্ধ (نسبة), যা সেখানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শহর এবং জ্ঞান ও কল্যাণের কেন্দ্রবিন্দু" (২)।
নিসাবুর (نيسابور): এর প্রথম বর্ণে ফাতহা (فتح) সহ উচ্চারিত; এটি খুরাসান অঞ্চলের প্রধান শহরগুলোর একটি। মুসলমানরা উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে ১৩ হিজরি সনে সন্ধির মাধ্যমে এটি জয় করেছিলেন। আবার বলা হয়েছে: এটি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে জয় করা হয়েছে (৩)।
আল-হাকিম বলেছেন: "তাঁর বাসস্থান ছিল আ'লা আয-জামজারে, তাঁর কাজের জায়গা ছিল খান (خان) মুহাম্মাশে এবং তাঁর জীবিকা নির্বাহ হতো উসতুওয়ায় তাঁর পেশা (ضياعة) থেকে" (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المطلب الثانيولادته ووفاته1 - ولادته:
اختلفت المصادر في ضبط مولده إلى أربعة أقوال (1)، وحاصلها:
أن ولادته سنة 201هـ ذكر ذلك الإمام الذهبي، وابن العماد (2).
وقيل سنة 202هـ ذكر ذلك بروكلمان، وسزكين (3).
وقيل سنة 204هـ ذكر ذلك الذهبي في قول آخر، وابن كثير، وابن حجر، وابن تغري بردي، وغيرهم (4).
وقيل سنة 206هـ ذكر ذلك الحاكم وابن الصلاح (5).
وقال الدكتور طوالبة:"والصحيح - فيما يبدو لي - القول الأخير؛ وأن ولادته
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদতাঁর জন্ম ও মৃত্যু১ - তাঁর জন্ম:
তাঁর জন্ম সাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে উৎসসমূহ চারটি মতে (১) বিভক্ত হয়েছে, আর তার সারসংক্ষেপ হলো:
নিশ্চয়ই তাঁর জন্ম ২০১ হিজরি সনে; ইমাম দাহাবি এবং ইবনুল ইমাদ (২) এটি উল্লেখ করেছেন।
বলা হয়েছে ২০২ হিজরি সনে; ব্রোকলম্যান এবং সেজগিন (৩) এটি উল্লেখ করেছেন।
আরও বলা হয়েছে ২০৪ হিজরি সনে; দাহাবি অন্য একটি মতে, এবং ইবনে কাসির, ইবনে হাজার, ইবনে তাগরি বারদি ও অন্যান্যরা (৪) এটি উল্লেখ করেছেন।
আবার বলা হয়েছে ২০৬ হিজরি সনে; আল-হাকিম এবং ইবনুস সালাহ (৫) এটি উল্লেখ করেছেন।
ডক্টর তাওয়ালিবা বলেন: "আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় সে অনুযায়ী সঠিক (الصحيح) হলো শেষোক্ত মতটি; আর তাঁর জন্ম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كانت سنة 206هـ - 821م في خلافة المأمون؛ لأن أول من ذكر وفاته وتقدير سنّه ابن الأخرم ت 344هـ
… ، ونقله عنه تلميذه الحاكم، ت 405هـ في كتاب علماء الأمصار، وكتاب المزكين لرواة الأخبار" (1).
وقال أيضاً: "ونقل ابن الصلاح ت 643هـ، وابن خلكان ت 681هـ، وقال: إنه تملك من نفس النسخة التي نقل منها شيخه ابن الصلاح، والنووي عن كتاب المزكين لرواة الأخبار، وبه جزم طاش كبري زاده حيث قال: [والصحيح أنه ولد في سنة ست ومائتين] " (2).
وكل ذلك على تقدير وفاته، ثم إنقاص مدة حياته فيتبين تقدير مولده، وهذا ليس ضابطاً أو فصلاً للمسألة، فمنهم من جعل حياته سبعاً وخمسين سنة، ومنهم من جعلها خمساً وخمسين سنة.
قال ابن خلكان: "توفي مسلم بن الحجاج عشية يوم الأحد
… لخمس، وقيل لست بقين من شهر رجب الفرد سنة إحدى وستين ومائتين بنيسابور، وعمره خمس وخمسون سنة، هكذا وجدته في بعض الكتب، ولم أر أحداً من الحفاظ يضبط مولده، ولا تقدير عمره، وأجمعوا أنه ولد بعد المائتين" (3).
وممن جزم بمولده ابن كثير فقال: "وكان مولده في السنة التي توفي فيها الشافعي، وهي سنة أربع ومائتين، فكان عمره سبعاً وخمسين سنة" (4).
والأقرب إلى الفصل بالمسألة أن ولادته كانت سنة 204هـ أو 206هـ، وضابط ذلك قول الذهبي: "وحج في سنة عشرين وهو أمرد" (5)، فهذا الحدث أقرب تأريخاً من وفاته وكان فيه أمرد: أي لم تظهر عليه علامات البلوغ إذا اعتبرنا سن البلوغ ما بين الرابعة عشرة إلى السادسة عشرة.
--------------------------------------------
২০৬ হিজরি - ৮২১ খ্রিস্টাব্দ ছিল খলিফা আল-মামুনের খেলাফতকাল; কারণ সর্বপ্রথম ইবনুল আখরাম (মৃত্যু: ৩৪৪ হি.) তাঁর মৃত্যু এবং বয়সের সম্ভাব্য হিসাব উল্লেখ করেছেন
… , এবং তাঁর থেকে তাঁর ছাত্র আল-হাকিম (মৃত্যু: ৪০৫ হি.) 'উলামাউল আমসার' এবং 'কিতাবুল মুযাক্কিন লি-রুওয়াতিল আখবার' গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন। (১)
তিনি আরও বলেন: "ইবনুস সালাহ (মৃত্যু: ৬৪৩ হি.) এবং ইবনে খাল্লিকান (মৃত্যু: ৬৮১ হি.) এটি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, তিনি সেই একই পাণ্ডুলিপি থেকে এটি প্রাপ্ত হয়েছেন যেখান থেকে তাঁর শাইখ ইবনুস সালাহ এবং আন-নওয়াবী 'কিতাবুল মুযাক্কিন লি-রুওয়াতিল আখবার' গ্রন্থ হতে উদ্ধৃত করেছেন। আর তাশ কুবরি জাদাহ এটিই নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: [এবং সঠিক (الصحيح) মত এই যে, তিনি ২০৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন]।" (২)
এই সব কিছুই তাঁর মৃত্যুর তারিখ নির্ধারণ এবং এরপর তাঁর জীবনকাল বিয়োগ করার ভিত্তিতে করা হয়েছে, যার ফলে তাঁর জন্মের সম্ভাব্য তারিখটি স্পষ্ট হয়। এটি এই বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড বা চূড়ান্ত মীমাংসা নয়। কারণ তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর জীবনকাল ৫৭ বছর এবং কেউ কেউ ৫৫ বছর নির্ধারণ করেছেন।
ইবনে খাল্লিকান বলেন: "মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ২৬১ হিজরি সনের রজম মাসের শেষ ভাগে রবিবার দিবাগত রাতে নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন। বলা হয়েছে মাসের ৫ দিন বাকি থাকতে, আবার বলা হয়েছে ৬ দিন বাকি থাকতে
… । তখন তাঁর বয়স ছিল ৫৫ বছর। আমি কিছু কিতাবে এভাবেই পেয়েছি। আমি হাফেজগণের (الحفاظ) মধ্যে কাউকে তাঁর জন্মের সঠিক তারিখ বা বয়সের হিসাব সুনির্দিষ্ট করতে দেখিনি। তবে তাঁরা এ বিষয়ে একমত (أجمعوا) হয়েছেন যে, তিনি ২০০ হিজরির পর জন্মগ্রহণ করেছেন।" (৩)
যাঁরা তাঁর জন্মের বছর নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন তাঁদের মধ্যে ইবনে কাসির অন্যতম, তিনি বলেন: "তাঁর জন্ম ছিল সেই বছর যে বছর ইমাম শাফেয়ী ইন্তেকাল করেছেন, আর সেটি হলো ২০৪ হিজরি। সুতরাং তাঁর বয়স ছিল ৫৭ বছর।" (৪)
এই বিষয়ের মীমাংসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিকটবর্তী মত হলো তাঁর জন্ম ২০৪ হিজরি অথবা ২০৬ হিজরিতে হয়েছে। এর মানদণ্ড হলো আয-যাহাবীর বক্তব্য: "তিনি ২২০ হিজরিতে হজ করেন এবং তখন তিনি কিশোর (أمرد) ছিলেন।" (৫)। এই ঘটনাটি তাঁর মৃত্যুর তুলনায় তারিখের অধিক নিকটবর্তী এবং তখন তিনি কিশোর (أمرد) ছিলেন; অর্থাৎ তাঁর মধ্যে সাবালকত্বের লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়নি যদি আমরা সাবালকত্বের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যবর্তী সময় বিবেচনা করি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وفاته
وبعد عمر مليء بالعطاء، والرحلة في طلب العلم والتأليف، توفي رحمه الله عشية يوم الأحد، ودفن يوم الاثنين لخمس بقين من رجب سنة إحدى وستين ومائتين (1)، وقد اتفقت المصادر على تأريخ وفاته.
المطلب الثالثرحلاته وسماعاتهرحل الإمام مسلم رحلة طاف بها البلاد، داخل خراسان وخارجها، فمن المدن التي داخل خراسان هي:
1 - الري: سمع بها من محمد بن مهران، وإبراهيم بن موسى الفراء، وأبي غسان محمد بن عمرو زنيج (2).
2 - بلخ: قال الذهبي في ترجمة أحمد بن سلمة: "رفيق مسلم في الرحلة إلى بلخ" (3).
أما خارج خراسان، فرحل إلى بلاد الحرمين، والعراق، ومصر والشام، ففي الحجاز رحل إلى:
1 - مكة: قال الإمام الذهبي: "وحج في سنة عشرين، وهو شاب أمرد، فسمع بمكة من القعنبي، فهو أكبر شيخ له" (4).
2 - المدينة: قال ابن الصلاح: [وسمع الإمام مسلم] بالحجاز: سعيد بن منصور، وأبو مصعب الزهري (5)، وقال الذهبي: "سمع إسماعيل بن أبي أويس" (6).
وفي العراق رحل إلى ثلاث مدن هي:
1 ---------------------------------------------
তাঁর ইন্তেকাল
দ্বীনি খিদমতে পূর্ণ এক দীর্ঘ জীবন এবং ইলম অর্জন ও গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যে সফরের পর, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি রবিবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন এবং ২৬১ হিজরির রজব মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে সোমবার তাঁকে দাফন করা হয় (১)। তাঁর মৃত্যুর তারিখের ব্যাপারে ঐতিহাসিক উৎসসমূহ একমত পোষণ করেছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদতাঁর সফরসমূহ এবং হাদিস শ্রবণসমূহ (سماعات)ইমাম মুসলিম দেশজুড়ে এক দীর্ঘ সফর করেন, যার মাধ্যমে তিনি খোরাসানের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন জনপদ ভ্রমণ করেন। খোরাসানের ভেতরে অবস্থিত শহরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - রাই: এখানে তিনি মুহাম্মদ ইবনে মিহরান, ইব্রাহিম ইবনে মুসা আল-ফাররা এবং আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনে আমর জুনাইজ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন (২)।
২ - বলখ: ইমাম যাহাবি আহমদ ইবনে সালামার জীবনী (ترجمة) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: "তিনি বলখ সফরে ইমাম মুসলিমের সফরসঙ্গী ছিলেন" (৩)।
খোরাসানের বাইরে তিনি হারামাইন (মক্কা ও মদিনা), ইরাক, মিসর এবং শাম দেশে সফর করেন। হিজাজে তিনি যে স্থানগুলোতে সফর করেন:
১ - মক্কা: ইমাম যাহাবি বলেছেন: "তিনি ২২০ হিজরিতে হজ পালন করেন, তখন তিনি ছিলেন এক নওজোয়ান যুবক; তিনি মক্কায় আল-কা'নাবি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, আর তিনি ছিলেন তাঁর সর্বজ্যেষ্ঠ উস্তাদ (شيخ)" (৪)।
২ - মদিনা: ইবনুস সালাহ বলেছেন: "[ইমাম মুসলিম] হিজাজে সাঈদ ইবনে মানসুর এবং আবু মুসআব আজ-যুহরি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন" (৫)। ইমাম যাহাবি বলেছেন: "তিনি ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন" (৬)।
ইরাকে তিনি তিনটি শহরে সফর করেন, সেগুলো হলো:
১ ---------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بغداد: قال ابن أبي يعلى: "قدم [أي الإمام مسلم] بغداد غير مرة، وحدث
… بها، فروى عنه أهلها، يحيى بن صاعد، ومحمد بن مخلد، وآخر قدومه بغداد كان سنة تسع وخمسين ومائتين" (1).
2 - الكوفة: قال الذهبي: "وسمع بالكوفة من أحمد بن يونس، وجماعة" (2).
3 - البصرة: رحل إليها مع رفيقه بالرحلة أحمد بن سلمة (3).
ورحل إلى مصر قال ابن عساكر: إنه سمع "من محمد بن رمح، وعيسى ابن حماد، وعمرو بن سواد وحرملة، وهارون بن سعيد الأيلي، ومحمد بن سلمة المرادي " (4).
وقال الذهبي نقلاً عن الحاكم: "حدثنا أبو بكر محمد بن علي النجار" سمعت إبراهيم بن أبي طالب بقول: قلت لمسلم: قد أكثرت في الصحيح عن أحمد بن عبد الرحمن الوهبي، وحاله قد ظهر فقال: "إنما نقموا عليه بعد خروجي من مصر" (5).
الشام: قال ابن عساكر: "وسمع بدمشق محمد بن خالد السكسكي، وكتب عنه في حديث الوليد بن مسلم" (6).
ولم يرتضِ الإمام الذهبي ما قاله ابن عساكر كونه رحل إلى دمشق بناءً على سماعه من محمد بن خالد السكسكي فقط، والظاهر أنه لقيه في الموسم، وقال: "فلم يكن مسلم ليدخل دمشق فلا يسمع إلا من شيخ واحد"!، والله أعلم.
وقال الدكتور محمد عبد الرحمن طوالبة: قلت: "وليس بمستغرب، ولا مستنكر في عرف المحدثين أن يدخل مسلم دمشق ليسمع من شيخ واحد، فهذا كتاب الخطيب البغدادي" الرحلة في طلب الحديث طافح برحلات العلماء الذين رحلوا من أجل سماع الحديث الواحد، أو السماع من الشيخ الواحد" (7).
--------------------------------------------
বাগদাদ: ইবনে আবি ইয়ালা বলেন: "তিনি [অর্থাৎ ইমাম মুসলিম] একাধিকবার বাগদাদে আগমন করেন এবং সেখানে হাদিস বর্ণনা (حدث) করেন। ফলে সেখানকার অধিবাসীগণ—ইয়াহইয়া ইবনে সায়েদ এবং মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ—তার থেকে বর্ণনা করেছেন। বাগদাদে তার শেষ সফর ছিল ২৫৯ হিজরি সালে" (১)।
২ - কুফা: আয-যাহাবি বলেন: "তিনি কুফায় আহমদ ইবনে ইউনুস এবং একদল বর্ণনাকারীর থেকে শ্রবণ করেছেন" (২)।
৩ - বসরা: তিনি তার সফরসঙ্গী আহমদ ইবনে সালামার সাথে সেখানে সফর করেন (৩)।
তিনি মিশরেও সফর করেছিলেন। ইবনে আসাকির বলেন: তিনি "মুহাম্মদ ইবনে রুমহ, ঈসা ইবনে হাম্মাদ, আমর ইবনে সাওয়াদ, হারমালাহ, হারুন ইবনে সাঈদ আল-আয়লি এবং মুহাম্মদ ইবনে সালামা আল-মুরাদি" থেকে শ্রবণ করেছেন (৪)।
আয-যাহাবি আল-হাকিমের বরাতে বলেন: "আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আলী আন-নাজ্জার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা (حدثنا) করেছেন," আমি ইব্রাহিম ইবনে আবি তালিবকে বলতে শুনেছি: আমি মুসলিমকে বললাম: আপনি আপনার সহিহ্ গ্রন্থে আহমদ ইবনে আবদুর রহমান আল-ওয়াহবির থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন, অথচ তার অবস্থা এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে (অর্থাৎ তার দুর্বলতা প্রকাশিত হয়েছে)। তিনি বললেন: "আমি মিশর ত্যাগের পরই কেবল তার ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছে" (৫)।
শাম (সিরিয়া): ইবনে আসাকির বলেন: "তিনি দামেস্কে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আস-সাকসাকি থেকে শ্রবণ করেছেন এবং ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমের হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তার থেকে লিপিবদ্ধ করেছেন" (৬)।
ইবনে আসাকিরের এই বক্তব্যটি ইমাম যাহাবি গ্রহণ করেননি যে, তিনি কেবল মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আস-সাকসাকির নিকট থেকে শ্রবণ করার উদ্দেশ্যেই দামেস্ক সফর করেছিলেন। দৃশ্যত তিনি হজের মৌসুমে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ইমাম যাহাবি বলেন: "ইমাম মুসলিম দামেস্কে প্রবেশ করবেন অথচ মাত্র একজন শায়খ (شيخ) ব্যতীত আর কারো থেকে শ্রবণ করবেন না, এমনটি হতে পারে না!" আর আল্লাহই ভালো জানেন।
ড. মুহাম্মদ আবদুর রহমান তাওয়ালিবা বলেন: আমি বলি: "মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ইমাম মুসলিমের জন্য দামেস্কে প্রবেশ করে মাত্র একজন শায়খ (شيخ) থেকে শ্রবণ করা কোনো বিস্ময়কর বা আপত্তিকর বিষয় নয়। খতিব বাগদাদির 'আর-রিহলা ফি তালাবিল হাদিস' গ্রন্থটি এমন সব আলেমদের সফরের বর্ণনায় ভরপুর, যারা কেবল একটি হাদিস অথবা একজন মাত্র শায়খ (شيخ) থেকে শ্রবণের উদ্দেশ্যেই দীর্ঘ সফর করেছিলেন" (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المطلب الرابعأهم شيوخهلا أرى شيخاً من شيوخ مسلم ليس مهماً، إلا أني سأذكر مَن أكثر الرواية عنهم في صحيحه، ولاسيما أنه يشارك البخاري فيهم (1)، وهم:
1 - أبو بكر بن أبي شيبة روى له 1450 حديثاً.
2 - زهير بن حرب أبو خيثمة روى له 1281 حديثاً.
3 - محمد بن المثنى الملقب بالزمٍن روى له 772 حديثاً.
4 - يحيى بن يحيى بن بكر النيسابوري روى له 689 حديثاً.
5 - قتيبة بن سعيد روى له 668 حديثاً.
6 - محمد بن عبد الله بن نمير روى له 573 حديثاً.
7 - أبو كريب محمد بن العلاء بن كريب روى له 556 حديثاً.
8 - محمد بن يشار الملقب بندار روى له 460 حديثاً.
9 - إسحاق بن راهويه روى له 387 حديثاً.
10 - محمد بن رافع النيسابوري روى له 362 حديثاً.
11 - محمد بن حاتم الملقب بالسمين روى له 300 حديث.
12 - علي بن حجر السعدي روى له 188 حديثاً.
13 - عمرو الناقد روى له 166 حديثاً.
وهذه تراجمهم:
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদতাঁর প্রধান উস্তাদগণ (شيوخ)আমি ইমাম মুসলিমের উস্তাদগণের মধ্যে কাউকেই কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না, তবে আমি এখানে তাঁদের কথাই উল্লেখ করব যাঁদের থেকে তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে অধিক বর্ণনা করেছেন, বিশেষ করে যাঁদের বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি ইমাম বুখারির সাথে অংশীদার (১), তাঁরা হলেন:
১ - আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, তাঁর থেকে তিনি ১৪৫০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
২ - জুহায়ের ইবনে হারব আবু খাইসামাহ, তাঁর থেকে তিনি ১২৮১টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৩ - মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না, যাঁর উপাধি আল-যামান, তাঁর থেকে তিনি ৭৭২টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৪ - ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে বকর আল-নিশাপুরি, তাঁর থেকে তিনি ৬৮৯টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৫ - কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ, তাঁর থেকে তিনি ৬৬৮টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৬ - মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, তাঁর থেকে তিনি ৫৭৩টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৭ - আবু কুরাইব মুহাম্মদ ইবনুল আলা ইবনে কুরাইব, তাঁর থেকে তিনি ৫৫৬টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৮ - মুহাম্মদ ইবনে বাশশার, যাঁর উপাধি বুন্দার, তাঁর থেকে তিনি ৪৬০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৯ - ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, তাঁর থেকে তিনি ৩৮৭টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
১০ - মুহাম্মদ ইবনে রাফে আল-নিশাপুরি, তাঁর থেকে তিনি ৩৬২টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
১১ - মুহাম্মদ ইবনে হাতিম, যাঁর উপাধি আল-সামীন, তাঁর থেকে তিনি ৩০০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
১২ - আলী ইবনে হুজর আল-সাদি, তাঁর থেকে তিনি ১৮৮টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
১৩ - আমর আল-নাকিদ, তাঁর থেকে তিনি ১৬৬টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
আর এগুলো হলো তাঁদের জীবনী (تراجم):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أبو بكر بن أبي شيبة (1):
عبد الله بن محمد بن القاضي أبي شيبة إبراهيم بن عثمان بن خواستي الإمام العلم سيد الحفاظ، وصاحب الكتب الكبار: المسند، والمصنف، والتفسير، أبو العبسي مولاهم الكوفي، الواسطي الأصل (2)، ومن أقران أحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه، وعلي بن المديني، في السن والمولد والحفظ. من الطبقة العاشرة، سمع من عبد الأعلى بن عبد الأعلى، ووكيع بن الجراح، ويحيى القطان
… وغيرهم، حدث عنه الشيخان، وأبو داود، وأبن ماجه، وروى النسائي عن أصحابه، ولا شيء له في جامع أبي عيسى الترمذي قال العجلي: كان أبو بكر ثقة حافظاً للحديث، توفي سنة 235.
زهير بن حرب (3):
زهير بن حرب بن شداد الحرشي أبو خيثمة النسائي، نزيل بغداد، مولى بني الحريش بن كعب، وكان اسم جده أشتال، فعرب شداداً.
روى عن ابن عيينة، وحفص بن غياث، وجرير بن عبد الحميد، وابن علية، وعبد الله بن نمير، وعبد الرزاق وغيرهم، وعنه البخاري ومسلم وأبو داود وابن ماجة، روى له النسائي بواسطة أحمد بن علي بن سعيد المروزي، وابنه أبو بكر بن أبي خيثمة، وأبو زرعة، وأبو حاتم، وبقي بن مخلد، وإبراهيم الحربي، وموسى بن هارون، وابن أبي الدنيا. قال أبو بكر الخطيب: كان ثقة ثبتاً حافظاً متقناً، وقال الذهبي: "أحد أعلام الحديث" (4) قال ابنه أبو بكر: ولد أبي سنة 160 ومات ليلة الخميس لسبع خلون من شعبان، وهو ابن 74، أي سنة 234 (5).
--------------------------------------------
আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ (১):
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-কাদি আবু শায়বাহ ইবরাহিম ইবনে উসমান ইবনে খাওয়াসতি; তিনি ইমাম, সুউচ্চ ইলমের অধিকারী, হাফেজদের (الحفاظ) সর্দার এবং বড় বড় কিতাবের রচয়িতা: যেমন- মুসনাদ, মুসান্নাফ এবং তাফসির। আবু বকর আল-আবসি তাদের মুক্ত করা দাস, কুফি, আদি নিবাস ওয়াসিত (২)। তিনি বয়স, জন্ম এবং হিফজের (الحفظ) দিক থেকে আহমদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়ায়হ এবং আলী ইবনুল মাদিনীর সমসাময়িক ছিলেন। তিনি দশম স্তরের (الطبقة) অন্তর্ভুক্ত। তিনি আবদ আল-আ’লা ইবনে আবদ আল-আ’লা, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান
… প্রমুখের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম), আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল-নাসায়ি তাঁর ছাত্রদের মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, আর সুনান তিরমিজিতে তাঁর কোনো বর্ণনা নেই। আল-ইজলি বলেন: আবু বকর ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং হাদিস সংরক্ষণকারী (حافظاً); তিনি ২৩৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
জুহায়ের ইবনে হারব (৩):
জুহায়ের ইবনে হারব ইবনে শাদ্দাদ আল-হারশি আবু খায়সামা আন-নাসায়ি, বাগদাদে বসবাসকারী, বনু আল-হারিশ ইবনে কাবের মুক্ত করা দাস। তাঁর দাদার নাম ছিল আশতাল, যা আরবিতে শাদ্দাদ হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে।
তিনি ইবনে উইয়াইনাহ, হাফস ইবনে গিয়াস, জারির ইবনে আবদ আল-হামিদ, ইবনে উলাইয়্যাহ, আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর, আবদ আল-রাজ্জাক প্রমুখের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসায়ি আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাঈদ আল-মারওয়াজির মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এ ছাড়া তাঁর পুত্র আবু বকর ইবনে আবি খায়সামা, আবু যুরআহ, আবু হাতিম, বাকি ইবনে মাখলাদ, ইবরাহিম আল-হারবি, মুসা ইবনে হারুন এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু বকর আল-খতিব বলেন: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبتاً), সংরক্ষণকারী (حافظاً) এবং নিখুঁত (متقناً)। ইমাম যাহাবি বলেন: "তিনি হাদিসের অন্যতম দিকপাল" (৪)। তাঁর পুত্র আবু বকর বলেন: আমার পিতা ১৬০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৩৪ হিজরির শাবান মাসের সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরণ করেন; তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৪ বছর (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২০)
محمد بن المثنى (1):
محمد بن المثنى بن عبيد بن قيس بن دينار العنزي أبو موسى البصري المعروف بالزمن، قال الذهبي: "الحافظ، الحجة، محدث العصر" (2)، وقال ابن حجر: "ثقة ثبت من العاشرة" (3)، روى عن عبد الله بن إدريس، وأبي معاوية، وأبي النعمان العجلي، وابن نمير، وابن مهدي، والقطان، وغيرهم. روى عنه الجماعة، ومسلم سبعمائة واثنين وسبعين حديثاً!.
وقال ابن حبان: "كان صاحب كتاب لا يحدث إلا من كتابه" (4). مات سنة 252.
يحيى بن يحيى:
يحيى بن يحيى بن بكر التميمي النيسابوري أبو زكريا أحد الأعلام، عن مالك وزهير بن معاوية، وعنه البخاري ومسلم وداود بن الحسين البيهقي قال أحمد: ما أخرجت خراسان بعد بن المبارك مثله، وقال بن راهويه: ما رأيت مثله ولا رأى مثل نفسه مات 226، ثبت فقيه صاحب حديث وليس بالمكثر جدا خ م ت س.
روى له البخاري 6 أحاديث ومسلم 689 حديثاً (5).
قتيبة بن سعيد (6):
قتيبة بن سعيد بن جميل بن طريف بن عبد الله الثقفي، أبو رجاء البلخيُّ البغلانيُّ، وبغلان قرية من قرى بلخ، قال أبو أحمد بن عدي: اسمه يحيى بن سعيد، وقتيبة لقب، وقال عبد الله بن منده: اسمه علي.
روى عن مالك، والليث، وابن لهيعة
… وغيرهم، روى عنه الجماعة سوى ابن ماجه، فروايته عنه بواسطة.
--------------------------------------------
মুহাম্মাদ বিন আল-মুসান্না (১):
মুহাম্মাদ বিন আল-মুসান্না বিন উবাইদ বিন কায়িস বিন দিনার আল-আনাজি আবু মুসা আল-বাসরি, যিনি 'আয-যামান' হিসেবে পরিচিত। আয-যাহাবি বলেছেন: "তিনি হাফেজ (الحافظ), হুজ্জাত (الحجة) এবং সমকালের মুহাদ্দিস (محدث العصر)" (২)। ইবনে হাজার বলেছেন: "তিনি দশম স্তরের (العاشرة) একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (ثبت) রাবী" (৩)। তিনি আব্দুল্লাহ বিন ইদরিস, আবু মুয়াবিয়া, আবু নুমান আল-ইজলি, ইবনে নুমাইর, ইবনে মাহদি, আল-কাত্তান এবং অন্যদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আল-জামাআহ (الجماعة) হাদিস বর্ণনা করেছেন; ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে সাতশত বাহাত্তরটি হাদিস বর্ণনা করেছেন!
ইবনে হিব্বান বলেছেন: "তিনি কিতাবধারী ব্যক্তি ছিলেন, তিনি তাঁর কিতাব ব্যতীত হাদিস বর্ণনা করতেন না" (৪)। তিনি ২৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া:
ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বিন বাকর আত-তামিমি আন-নাইসাবুরি আবু জাকারিয়া, যিনি অন্যতম একজন ইমাম। তিনি মালিক এবং জুহাইর বিন মুয়াবিয়া থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বুখারি, মুসলিম এবং দাউদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ বলেন: ইবনুল মুবারকের পর খুরাসান তাঁর মতো কাউকে বের করেনি (তথা জন্ম দেয়নি)। ইবনে রাহওয়াইহ বলেন: আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি এবং তিনি নিজেও তাঁর মতো কাউকে দেখেননি। তিনি ২২৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একজন সুদৃঢ় (ثبت), ফকিহ (فقيه) এবং হাদিস বিশারদ (صاحب حديث) ছিলেন, তবে তিনি খুব বেশি হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন না। বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি এবং নাসাঈতে তাঁর হাদিস রয়েছে।
বুখারি তাঁর থেকে ৬টি হাদিস এবং মুসলিম ৬৮৯টি হাদিস বর্ণনা করেছেন (৫)।
কুতাইবা বিন সাঈদ (৬):
কুতাইবা বিন সাঈদ বিন জামিল বিন তারিফ বিন আব্দুল্লাহ আস-সাকাফি, আবু রাজা আল-বালখি আল-বাগলানি; বাগলান হচ্ছে বালখের গ্রামসমূহের একটি গ্রাম। আবু আহমাদ বিন আদি বলেন: তাঁর নাম ইয়াহইয়া বিন সাঈদ এবং কুতাইবা হলো তাঁর উপাধি (لقب)। আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ বলেন: তাঁর নাম আলী।
তিনি মালিক, লাইস, ইবনে লাহিয়াহ
… এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে ইবনে মাজাহ ব্যতীত আল-জামাআহ (الجماعة) হাদিস বর্ণনা করেছেন; তবে ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال ابن حجر: "ثقة ثبت من العاشرة، مات سنة 240" (1).
محمد بن عبد الله بن نمير (2):
محمد بن عبد الله بن نمير الهمدانيُّ الخارقيُّ أبو عبد الرحمن الكوفيُّ، ثقة حافظ فاضل، من العاشرة (3)، روى عن أبيه، وسفيان بن عيينة، ومروان بن معاوية، وإسماعيل بن علية، وغيرهم، روى عنه البخاريُّ، ومسلم، وأبو داود، وابن ماجة، وروى الترمذي، والنسائي عنه بواسطة البخاري.
روى عنه البخاري 573 حديثاً، مات سنة 234هـ (4).
محمد بن العلاء بن كريب (5):
محمد بن العلاء بن كريب الهمداني أبو كريب الكوفيُّ، الحافظ الثقة من العاشرة (6)، روى عن عبد الله بن إدريس، وحفص بن غياث، وأبي بكر بن
… عياش، وابن المبارك، وسفيان بن عيينة، وغيرهم، روى عنه الجماعة، وروى النسائي عن أبي بكر بن علي المروزي عن زكريا بن يحيى السجزي عنه، وغيرهم. روى عنه البخاري 75 حديثاً، ومسلم خمسمائة وستة وخمسين حديثاً.
قال ابن حجر: "مات سنة 247، وهو ابن سبع وثمانين سنة" (7)، وقال الذهبي (8): "توفي سنة 248".
محمد بن بشار الملقب بندار (9):
محمد بن بشار بن عثمان بن داود بن كيسان العبدي أبو بكر، الحافظ البصري، الملقب بندار، ثقة، من العاشرة (10) 0)، روى عن يحيى القطان، وابن مهدي، وأبي داود الطيالسي، وغيرهم، روى عنه الجماعة، وروى النسائي عن
--------------------------------------------
ইবনে হাজার বলেছেন: "দশম স্তরের (العاشرة) নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও নির্ভুল (ثبت) বর্ণনাকারী, ২৪০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন" (১)।
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর (২):
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর আল-হামদানি আল-খারিকি আবু আব্দুর রহমান আল-কুফি; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة), হাফেজ (حافظ) ও মর্যাদাবান ব্যক্তি, তিনি দশম স্তরের (العاشرة) (৩)। তিনি তাঁর পিতা, সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না, মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া, ইসমাইল ইবনে উলিয়া এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন; আর তিরমিজি ও নাসাঈ বুখারির মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
বুখারি তাঁর থেকে ৫৭৩টি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ২৩৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।
মুহাম্মদ বিন আল-আলা বিন কুরাইব (৫):
মুহাম্মদ বিন আল-আলা বিন কুরাইব আল-হামদানি আবু কুরাইব আল-কুফি; দশম স্তরের (العاشرة) একজন হাফেজ (حافظ) ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) (৬)। তিনি আব্দুল্লাহ বিন ইদ্রিস, হাফস বিন গিয়াস, আবু বকর বিন
… আইয়াশ, ইবনুল মুবারক, সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-জামাআহ (ছয়জন ইমাম) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং নাসাঈ আবু বকর বিন আলী আল-মারওয়াজির সূত্রে জাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আস-সিজজি থেকে, তাঁর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং অন্যান্যরা। বুখারি তাঁর থেকে ৭৫টি হাদিস এবং মুসলিম ৫৫৬টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
ইবনে হাজার বলেছেন: "তিনি ২৪৭ হিজরিতে ৮৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন" (৭), এবং জাহাবি (৮) বলেছেন: "২৪৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন"।
মুহাম্মদ বিন বাশশার, যাঁর উপাধি বুন্দার (৯):
মুহাম্মদ বিন বাশশার বিন উসমান বিন দাউদ বিন কায়সান আল-আবদি আবু বকর, হাফেজ (حافظ) ও বাসরাবাসী, যাঁর উপাধি বুন্দার; তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং দশম স্তরের (العاشرة) (১০)। তিনি ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, ইবনে মাহদি, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-জামাআহ (ছয়জন ইমাম) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং নাসাঈ বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২২)
أبي بكر المروزي، وزكريا السجزي عنه، وروى له البخاري مائتي حديث وخمسة أحاديث، ومسلم أربعمائة وستين حديثاً، توفي سنة 252 (1).
إسحاق بن راهويه:
إسحاق بن إبراهيم بن مخلد الإمام أبو يعقوب المروزي بن راهويه عالم خراسان عن جرير والداروردي ومعتمر وعنه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وبقية شيخه وأبو العباس السراج أملى المسند من حفظه مات في شعبان سنة 238 وعاش سبعا وسبعين سنة.
روى له البخاري 57 حديثاً، وروى له مسلم 387 حديثاً (2).
محمد بن رافع النيسابوري (3):
محمد بن رافع بن أبي زيد، واسمه سابور القشيري مولاهم أبو عبد الله النيسابوري الزاهد، كان ثبتاً فاضلاً، روى عن عبد الرزاق، وزيد بن حبان، وابن أبي فديك، وعبد الله بن نافع الصائغ، وعبد الله بن كيسان، وإبراهيم بن عمر الصغانيُّ، روى عنه الجماعة سوى ابن ماجه، روى عنه البخاري 17 حديثاً، ومسلم 362 حديثاً، قال أبو زرعة: شيخ صدوق (4)، مات سنة خمس وأربعين ومائتين (5).
محمد بن حاتم الملقب بالسمين (6):
محمد بن حاتم بن ميمون البغدادي أبو عبد الله القطيعيُّ المعروف بالسمين،
مروزي الأصل، سكن بغداد، وثقه الدارقطني (7)، قال ابن حجر: "صدوق ربما وهم، من العاشرة" (8). روى عن وكيع، وابن عيينة، وابن علية، وغيرهم، روى عنه مسلم وأبو داود وأبو زرعة، وغيرهم، روى عنه مسلم ثلاثمائة حديث، مات
--------------------------------------------
আবু বকর আল-মারওয়াযি এবং যাকারিয়া আস-সিজযি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি তাঁর থেকে ২০৫টি হাদিস এবং ইমাম মুসলিম ৪৬০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৫২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (১)।
ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি:
ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মাখলাদ, ইমাম আবু ইয়াকুব আল-মারওয়াযি ইবনে রাহওয়াইহি, খোরাসানের আলিম। তিনি জারির, আদ-দারওয়ার্দি এবং মুতামির থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ, তাঁর উস্তাদ বাকিয়্যাহ এবং আবু আব্বাস আস-সাররাজ। তিনি তাঁর মুখস্থ স্মৃতি থেকে মুসনাদ এর শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন। তিনি ২৩৮ হিজরি সনের শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং সাতাত্তর বছর জীবিত ছিলেন।
ইমাম বুখারি তাঁর থেকে ৫৭টি হাদিস এবং ইমাম মুসলিম ৩৮৭টি হাদিস বর্ণনা করেছেন (২)।
মুহাম্মদ ইবনে রাফি আন-নিশাপুরি (৩):
মুহাম্মদ ইবনে রাফি ইবনে আবি যায়েদ, তাঁর নাম সাবুর আল-কুশায়রি, তাঁদের মুক্ত করা গোলাম, আবু আব্দুল্লাহ আন-নিশাপুরি আয-যাহিদ। তিনি সুদৃঢ় (ثبت) ও ফযিলতপূর্ণ ছিলেন। তিনি আব্দুর রাজ্জাক, যায়েদ ইবনে হিব্বান, ইবনে আবি ফুদাইক, আব্দুল্লাহ ইবনে নাফি আস-সায়িগ, আব্দুল্লাহ ইবনে কাইসান এবং ইব্রাহিম ইবনে উমর আস-সাগানি থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ ব্যতীত জামায়াত (الجماعة) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি তাঁর থেকে ১৭টি হাদিস এবং ইমাম মুসলিম ৩৬২টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু যুরআ বলেছেন: সত্যবাদী শায়খ (شيخ صدوق) (৪)। তিনি ২৪৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (৫)।
মুহাম্মদ ইবনে হাতিম, যাঁর উপাধি আস-সামিন (৬):
মুহাম্মদ ইবনে হাতিম ইবনে মাইমুন আল-বাগদাদি, আবু আব্দুল্লাহ আল-কাতিয়ি, আস-সামিন হিসেবে পরিচিত।
মূলে মারওয়াযি ছিলেন, বাগদাদে বসবাস করতেন। আদ-দারাকুতনি তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন (৭)। ইবনে হাজার বলেন: "সত্যবাদী, কখনো কখনো ভ্রম করতেন (صدوق ربما وهم), তিনি দশম স্তরের বর্ণনাকারী" (৮)। তিনি ওয়াকি, ইবনে উয়ায়নাহ, ইবনে উলাইয়্যাহ এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, আবু যুরআ এবং অন্যান্যরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে তিনশত হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ইন্তেকাল করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
سنة 235 (1).
علي بن حجر (2):
علي بن حجر بن إياس بن مقاتل بن مخادش بن مشمرج بن خالد السعدي أبو الحسن المروزي، سكن بغداد قديماً، ثم انتقل إلى مرو فنزلها، قال النسائي:"ثقة مأمون" (3)، وقال ابن حجر: "ثقة مأمون حافظ من صغار التاسعة" (4).
روى عن أبيه، ومعروف الخياط، وخلف بن خليفة، وغيرهم، روى عنه البخاري خمسة أحاديث، ومسلم 188 حديثاً، مات سنة 244 (5).
عمرو الناقد:
عمرو الناقد هو الامام الحافظ الحجة، أبو عثمان، عمرو بن محمد بن بكير بن سابور البغدادي الناقد نزيل الرقة، حدث عن: هشيم، وأبي خالد الاحمر، وسفيان بن عيينة، وحفص ابن غياث، ومعتمر بن سليمان، وأبي معاوية الضرير، وعبد الرزاق بن همام، وطبقتهم، وكان من أوعية العلم.
حدث عنه: البخاري، ومسلم، وأبو داود، وأبو زرعة، وأبو حاتم، ومحمد بن إبراهيم السراج، وأبو يعلى الموصلي، وأبو القاسم البغوي، وجعفر الفريابي، وخلق سواهم.
قال أحمد بن حنبل: كان عمرو الناقد يتحرى الصدق. وقال أبو حاتم: ثقة أمين، وقال الحسين بن فهم: كان ثقة، صاحب حديث، فقيها من الحفاظ المعدودين، مات لاربع خلون من ذي الحجة سنة اثنتين وثلاثين ومئتين ببغداد (6). روى له البخاري ومسلم وابو داود روى له مسلم 166 حديثاً (7).
--------------------------------------------
২৩৫ হিজরি (১)।
আলী ইবনে হুজর (২):
আলী ইবনে হুজর ইবনে ইয়াস ইবনে মুকাতিল ইবনে মুখাদিশ ইবনে মুশামরিজ ইবনে খালিদ আস-সাদী আবুল হাসান আল-মারওয়াযী। তিনি পূর্বে বাগদাদে বসবাস করতেন, এরপর মারভে চলে যান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আন-নাসায়ী বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون)" (৩)। ইবনে হুজর বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), বিশ্বস্ত (مأمون) এবং হাফিজ (حافظ); তিনি নবম স্তরের কনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত" (৪)।
তিনি তাঁর পিতা, মারুফ আল-খাইয়াত, খালাফ ইবনে খলিফা এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি তাঁর থেকে ৫টি হাদিস এবং ইমাম মুসলিম ১৮৮টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৪৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৫)।
আমর আন-নাকিদ:
আমর আন-নাকিদ হলেন ইমাম (الإمام), হাফিজ (الحافظ) এবং হুজ্জাহ (الحجة), আবু উসমান আমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বুকাইর ইবনে সাবুর আল-বাগদাদী আন-নাকিদ, যিনি রাক্কাহ-তে অবস্থান করতেন। তিনি হুশাইম, আবু খালিদ আল-আহমার, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, হাফস ইবনে গিয়াস, মুতামির ইবনে সুলাইমান, আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর, আবদুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম এবং তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ছিলেন জ্ঞানের আধার।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, আবু যুরআহ, আবু হাতিম, মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আস-সাররাজ, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী, আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ী, জাফর আল-ফিরইয়াবী এবং আরও অনেকে।
আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: আমর আন-নাকিদ সত্যনিষ্ঠা অন্বেষণ করতেন। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও আমানতদার (أمين)। হুসাইন ইবনে ফাহম বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), হাদিস বিশারদ (صاحب حديث) এবং ফকিহ (فقيها) ছিলেন এবং তিনি গণ্যমান্য হাফিজদের (الحفاظ) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ২৩২ হিজরির ৪ঠা জিলহজ বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন (৬)। বুখারি, মুসলিম এবং আবু দাউদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে ১৬৬টি হাদিস বর্ণনা করেছেন (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المطلب الخامس
تلاميذهتلاميذ الإمام مسلم بن الحجاج، كثيرون منهم من روى الصحيح عنه، ومنهم من ألف كتاباً خاصاً به في مجال الحديث، أو في الرجال، ومنهم مَنْ نقل أصناف العلوم كالحديث، والفقه، وأصوله وغيرها، وهؤلاء التلاميذ يصعب إحصاؤهم، لكن سأترجم لأشهرهم، ولاسيما من له علاقة بموضوع دراستنا كإبراهيم بن محمد ابن سفيان، ومكي بن عبدان، وأحمد بن علي القلانسي، وآخرين.
أولاً - تلاميذه:
أحمد بن محمد بن الحسن، ابن الشرقي (1):
أحمد بن محمد بن الحسن الإمام الحافظ أبو حامد بن الشرقيُّ تلميذ مسلم، قال الدارقطنيُّ: ثقة مأمون. سمع محمد بن يحيى، وأحمد بن يوسف، وأحمد بن الأزهر، وأحمد بن حفص بن عبد الله، وأبا حاتم، ومحمد بن إسحاق الصاغاني، وعبد الله بن أبي مسرّة، وخلقاً. روى عنه أبو بكر محمد بن محمد الباغندي، وأبو العباس بن عقدة، وأبو أحمد العسال، وأبو أحمد بن عدي، وأبو علي الحافظ، وزاهر بن أحمد، والحسن بن أحمد المخلدي، وأبو بكر الجوزقي، وغيرهم، ولد سنة أربعين ومائتين، وصنف الصحيح، وحج مرات، توفي في شهر رمضان سنة خمس وعشرين وثلاثمائة.
عبد الله بن محمد بن ياسين الدوريُّ (2):
عبد الله بن محمد بن ياسين أبو الحسن الفقيه الدوري، قال أبو بكر الإسماعيلي: ثقة صاحب حديث، ومرة أخرى: ثقة ثبت، قال الدارقطني: ثقة.
قال ابن نقطة: حدث عن مسلم (3)، سمع بسطام بن الفضل، ومحمد بن عبد الله الزيادي، ومحمد بن يحيى القطيعي الدرهمي، وإسحاق بن إبراهيم الصواف،
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ
তাঁর ছাত্রগণইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজের ছাত্র অনেক; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর থেকে সহিহ গ্রন্থটি বর্ণনা করেছেন, আবার কেউ হাদিস বা বর্ণনাকারী (রিজাল) শাস্ত্র নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা হাদিস, ফিকহ, উসুল এবং অন্যান্য শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা বর্ণনা করেছেন। এই ছাত্রদের সংখ্যা নিরূপণ করা কঠিন, তবে আমি তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধদের জীবনী উল্লেখ করব; বিশেষ করে যাদের সাথে আমাদের আলোচনার বিষয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে, যেমন: ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান, মাক্কি ইবনে আবদান, আহমাদ ইবনে আলি আল-কালানিসি এবং অন্যান্যরা।
প্রথমত - তাঁর ছাত্রগণ:
আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান, ইবনুশ শারকি (১):
আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইমাম হাফিজ আবু হামিদ ইবনুশ শারকি ছিলেন ইমাম মুসলিমের ছাত্র। দারা কুতনি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون)। তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, আহমাদ ইবনে ইউসুফ, আহমাদ ইবনুল আজহার, আহমাদ ইবনে হাফস ইবনে আবদুল্লাহ, আবু হাতিম, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি, আবদুল্লাহ ইবনে আবি মাসরাহ এবং আরও অনেকের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগিন্দি, আবুল আব্বাস ইবনে উকদাহ, আবু আহমাদ আল-আসসাল, আবু আহমাদ ইবনে আদি, আবু আলি আল-হাফিজ, জাহির ইবনে আহমাদ, হাসান ইবনে আহমাদ আল-মাখলাদি, আবু বকর আল-জাওযাকি এবং অন্যান্যরা। তিনি ২৪০ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সহিহ গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং বহুবার হজ পালন করেছেন। ৩২৫ হিজরি সালের রমজান মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াসিন আদ-দুরি (২):
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াসিন আবু হাসান ফকিহ (الفقيه) আদ-দুরি। আবু বকর আল-ইসমাঈলি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও হাদিস অনুরাগী। তিনি অন্যত্রে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (ثبت)। দারা কুতনি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।
ইবনে নুকতাহ বলেন: তিনি ইমাম মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন (৩)। তিনি বিস্তাম ইবনুল ফাদল, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আজ-জিয়াদি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-কুতিয়ি আদ-দিরাহামি, ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আস-সাওয়াফ থেকে শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতু সহীহি মুসলিম মিন ত্বরীকি ইবনি মাহান মুকারানাতান বি-রিওয়ায়াতি ইবনি সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ومحمد بن بكر اليمامي، ومحمد بن بشار بندار، ويوسف بن موسى القطان، روى عنه: أبو بكر الشافعي، ومحمد بن الحسن اليقطيني، وغيرهما، مات سنة 302، وقيل سنة 303.
محمد بن عبد الرحمن الدغولي (1):
محمد بن عبد الرحمن بن محمد أبو العباس الدغولي السرخسي، الفقيه الإمام الحافظ، شيخ أهل خراسان في زمانه، صاحب المسند المشهور، وأحد علماء الشافعية.
سمع عبد الرحمن بن بشر بن الحكم، ومحمد بن يحيى الذهلي، ومحمد بن إسماعيل بن سمرة الأحمسي، وخلقاً كثيراً من طبقتهم، وممن بعدهم بخراسان والعراق، روى عنه أبو علي الحافظ، وأبو بكر الجوزقي، وطائفة (2)، توفي سنة 325.
أحمد بن حمدون أبو حامد الأعمش (3):
الإمام الحافظ الثقة، أبو حامد أحمد بن حمدون بن أحمد بن عمارة بن رستم النيسابوري، قال أبو عبد الله الحاكم: أحاديثه كلها مستقيمة، سمع محمد بن رافع، وعلي بن خشرم، وإسحاق الكوسج، وعمار بن رجاء الجرجاني، وأبا سعيد الأشج، ويحيى بن المقوم، وطبقتهم، روى عنه أبو الوليد الفقيه، وأبو علي الحافظ، وأبو إسحاق المزكي، وأبو سهل الصعلوكي، وأبو أحمد الحاكم، توفي سنة إحدى وعشرين وثلاثمائة.
--------------------------------------------
এবং মুহাম্মদ ইবন বকর আল-ইয়ামামি, মুহাম্মদ ইবন বাশার বুন্দার এবং ইউসুফ ইবন মুসা আল-কাত্তান। তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু বকর আল-শাফিঈ, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-ইয়াকতিনি এবং অন্যান্যরা। তিনি ৩০২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, এবং বলা হয় ৩০৩ হিজরিতে।
মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান আদ-দাগুলি (১):
মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ আবু আব্বাস আদ-দাগুলি আস-সারখাসি; তিনি ছিলেন একজন আইনবিদ (فقيه), ইমাম (إمام) ও হাফিজ (حافظ)। তিনি নিজ যুগের খোরাসানবাসীদের শায়খ (شيخ), সুপ্রসিদ্ধ মুসনাদ গ্রন্থের প্রণেতা এবং শাফিঈ আলেমদের অন্যতম ছিলেন।
তিনি আবদুর রহমান ইবন বিশর ইবনুল হাকাম, মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া আদ-যুহলি, মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন সামুরা আল-আহমাসি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের (طبقة) বহু বর্ণনাকারী এবং খোরাসান ও ইরাকে তাঁদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন আবু আলি আল-হাফিজ (حافظ), আবু বকর আল-জাওযাকি এবং একদল (طائفة) বর্ণনাকারী। (২) তিনি ৩২৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
আহমদ ইবন হামদুন আবু হামিদ আল-আমাস (৩):
ইমাম (إمام), হাফিজ (حافظ) ও নির্ভরযোগ্য (ثقة); তিনি হলেন আবু হামিদ আহমদ ইবন হামদুন ইবন আহমদ ইবন আমারা ইবন রুস্তম আন-নায়সাবুরি। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো সব সঠিক ও সুসংগত (مستقيمة)। তিনি মুহাম্মদ ইবন রাফি, আলি ইবন খাশরাম, ইসহাক আল-কাওসাজ, আম্মার ইবন রাজা আল-জুরজানি, আবু সাঈদ আল-আশাজ, ইয়াহইয়া ইবনুল মাক্বউম এবং তাঁদের সমপর্যায়ের (طبقة) ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন আবু ওয়ালিদ আল-ফকিহ (فقيه), আবু আলি আল-হাফিজ (حافظ), আবু ইসহাক আল-মুযাক্কি, আবু সাহল আস-সালুকি এবং আবু আহমদ আল-হাকিম। তিনি ৩২১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------------------------------