(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: -)
سيرة الصحابي الجليل مصعب بن عمير - رضي الله عنه - القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: سيرة الصحابي الجليل مصعب بن عمير - رضي الله عنه -
المؤلف: عدنان بن سليمان بن مسعد الجابري
راجعه ودققه: فضيلة الدكتور/ عبد الحق بن حمادي الهواس
الناشر: دار الأوراق الثقافية
الطبعة: الأولى، 1435 هـ
عدد الصفحات: 56
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 ذو الحجة 1435
মহান সাহাবী মুসআব বিন উমাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
কিতাব: মহান সাহাবী মুসআব বিন উমাইর - রাদিয়াল্লাহু আনহু --এর জীবনী
লেখক: আদনান বিন সুলাইমান বিন মুসআদ আল-জাবিরি
পর্যালোচনা ও নিরীক্ষা করেছেন: শায়খ ড./ আব্দুল হক বিন হাম্মাদি আল-হাওয়াস
প্রকাশক: দারুল আওরাক আস-সাকাফিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৫ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ জিলহজ্জ ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ১)
سيرة الصحابي الجليل
مصعب بن عمير رضي الله عنه
ويليه
آداب الحوار من خلال سيرة مصعب بن عمير رضي الله عنه
إعداد
عدنان بن سليمان بن مسعد الجابري
تعليقات
فضيلة الشيخ الدكتور/ حسين بن نفاع الجابري
أستاذ التربية المساعد بالجامعة الإسلامية بالمدينة
راجعه ودققه
فضيلة الدكتور/ عبدالحق بن حمادي الهواس
أستاذ اللغة العربية المشارك بالمعهد العالي للأئمة والخطباء بجامعة طيبة
عدنان سليمان الجابري ، 1434 هـ
মহান সাহাবীর জীবনী
মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
এবং সেইসাথে
মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহুর জীবনীর আলোকে সংলাপের আদবসমূহ
প্রস্তুতকরণে
আদনান বিন সুলাইমান বিন মুসআদ আল-জাবিরি
টীকা ও মন্তব্য
সম্মানিত শাইখ ডক্টর হুসাইন বিন নাফফা আল-জাবিরি
মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক
নিরীক্ষণ ও যাচাইকরণে
সম্মানিত ডক্টর আব্দুল হক বিন হাম্মাদি আল-হাওয়াস
তাইবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমাম ও খতিবদের উচ্চতর ইনস্টিটিউটের আরবী ভাষার সহযোগী অধ্যাপক
আদনান সুলাইমান আল-জাবিরি, ১৪৩৪ হিজরী
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ৩)
فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر
الجابري ، عدنان سليمان
سيرة الصحابي الجليل مصعب بن عمير رضي الله عنه .... /
عدنان سليمان الجابري.- المدينة المنورة ، 1434هـ
108 ص؛ 17×24سم
ردمك: 0_3610_01_603_978
1 - مصعب بن عمير بن هاشم ، ت 3 هـ 2 - الصحابة والتابعون أ. العنوان
ديوي 9‚239
… 10592/ 1434
رقم الإيداع: 10592/ 1434
ردمك: 0_3610_01_603_978
প্রকাশের সময় কিং ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের নির্ঘণ্টকরণ
আল-জাবেরি, আদনান সুলাইমান
মহান সাহাবী মুসআব বিন উমায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী .... /
আদনান সুলাইমান আল-জাবেরি — মদিনা মুনাওয়ারা, ১৪৩৪ হিজরি
১০৮ পৃষ্ঠা; ১৭×২৪ সেমি
আইএসবিএন: ৯৭৮-৬০৩-০১-৩৬১০-০
১ - মুসআব বিন উমায়ের বিন হাশিম, মৃত্যু ৩ হিজরি ২ - সাহাবী এবং তাবেয়িগণ ক. শিরোনাম
ডিউই ২৩৯.৯
… ১০৫৯২/ ১৪৩৪
নিবন্ধন নম্বর: ১০৫৯২/ ১৪৩৪
আইএসবিএন: ৯৭৮-৬০৩-০১-৩৬১০-০
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ৪)
سيرة الصحابي الجليل
مصعب بن عمير رضي الله عنه
إعداد
عدنان بن سليمان بن مسعد الجابري
تعليقات
فضيلة الشيخ الدكتور/ حسين بن نفاع الجابري
أستاذ التربية المساعد بالجامعة الإسلامية بالمدينة
راجعه ودققه
فضيلة الدكتور/ عبدالحق بن حمادي الهواس
أستاذ اللغة العربية المشارك بالمعهد العالي للأئمة والخطباء بجامعة طيبة
মহান সাহাবীর জীবনী
মুসআব বিন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)
প্রস্তুতকরণ
আদনান বিন সুলাইমান বিন মাসআদ আল-জাবেরি
টীকা ও মন্তব্য
ফযীলাতুশ শাইখ ডক্টর হুসাইন বিন নাফ্ফা আল-জাবেরি
মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক (শিক্ষা)
পর্যালোচনা ও নিরীক্ষণ
ফযীলাতুশ ডক্টর আব্দুল হক বিন হাম্মাদি আল-হাওয়াছ
তাইবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমাম ও খতীবদের উচ্চতর ইনস্টিটিউটের আরবি ভাষার সহযোগী অধ্যাপক
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله رب العالمين ، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين ، وعلى آله وأصحابه أجمعين. وبعد:
فإن الله سبحانه وتعالى قد أرسل إلينا خير رسله وخاتمهم ، وتكفل لرسوله صلى الله عليه وسلم بالنصر والتمكين ، والغلبة لهذا الدين ، فبعد المحن والعذاب بمكة ، هيأ الله جل وعلا لنبيه صلى الله عليه وسلم خيرة الخلق بعد الأنبياء والرسل عليهم السلام ، وهم صحابته الكرام رضي الله عنهم ، فقد آزروا النبي صلى الله عليه وسلم ونصروه ، وضحوا بأنفسهم وأموالهم وأهليهم في سبيل هذا الدين والدفاع عنه ، ولذا أثنى الله عليهم في كتابه حيث قال عز وجل: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا} (1) ، وقد قال فيهم النبي صلى الله عليه وسلم: «لا تسبوا أصحابي ، فلو أن أحدكم أنفق مثل أحدٍ ذهباً ما بلغ مد أحدهم ولا نصيفه» (2).
ومن بين هؤلاء الصحابة رضي الله عنهم مصعب بن عمير رضي الله عنه ، الذي ضحى بالترف والدلال ورغد العيش ، ولاقى من العذاب والتنكيل ما أثّر في جسده ، وذلك في سبيل هذا الدين العظيم ، وقد أثبتت مواقفه البطولية إخلاصه وصدق إيمانه ، وحبه العظيم لله ورسوله صلى الله عليه وسلم ، وتفانيه في الدعوة إلى الله عز وجل إذ أسلم على يديه خلق كثير من الصحابة رضي الله عنهم حين أرسله الرسول صلى الله عليه وسلم إلى المدينة؛ لذلك جاء
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা সৃষ্টিজগতের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত নবীর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের নিকট তাঁর রাসূলগণের মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বশেষ রাসূলকে প্রেরণ করেছেন এবং তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাহায্য, প্রতিষ্ঠা এবং এই দ্বীনের বিজয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মক্কায় পরীক্ষা ও নির্যাতনের পর, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য নবী ও রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) পর সৃষ্টির সেরা মানুষদের মনোনীত করেছেন, আর তাঁরা হলেন তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন এবং এই দ্বীনের পথে ও একে রক্ষার জন্য নিজেদের জীবন, সম্পদ ও পরিবার উৎসর্গ করেছেন। আর এই কারণেই আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁদের প্রশংসা করে বলেছেন: "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আপনি তাঁদের রুকু ও সিজদারত অবস্থায় দেখবেন, তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করেন।" (১), আর তাঁদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। কারণ তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করো, তবুও তা তাঁদের কারো এক 'মুদ' (এক অঞ্জলি) বা তার অর্ধেকের সমান হবে না।" (২)।
এই সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্যে অন্যতম হলেন মুসআব বিন উমাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু), যিনি বিলাসিতা, আদর-যত্ন ও সচ্ছল জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন এবং এই মহান দ্বীনের পথে এমন নির্যাতন ও লাঞ্ছনা ভোগ করেছিলেন যা তাঁর শরীরে প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবস্থানসমূহ তাঁর নিষ্ঠা, ঈমানের সত্যতা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর সুমহান ভালোবাসা এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-এর দিকে দাওয়াত প্রদানে তাঁর একনিষ্ঠতাকে প্রমাণ করেছে। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে মদিনায় পাঠিয়েছিলেন, তখন তাঁর হাতে সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এক বিশাল গোষ্ঠী ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন; এ কারণেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ৬)
هذا الكتاب ليبين لنا سيرته رضي الله عنه بشيء من التفصيل ، إذ لم يقف المؤلف - بعد بحث طويل- على مؤلَّف يحوي سيرته رضي الله عنه كاملة ، فقام بحصر شامل لما ورد عنه من أحاديث وآثار ، ثم أعاد تنسيقها ليكوّن منها سيرة متكاملة لحياة هذا الصحابي الجليل رضي الله عنه.
وأصل هذا الكتاب بحث علمي تكميلي لنيل درجة الماجستير في التربية الإسلامية من قسم التربية بالجامعة الإسلامية بالمدينة ، حصل الباحث فيه على تقدير ممتاز مع مرتبة الشرف الأولى ، وكان بعنوان: (أسلوب الحوار من خلال سيرة مصعب بن عمير رضي الله عنه وتطبيقاته التربوية) ، فحرص المؤلف كثيراً على إفراد سيرة مصعب بن عمير رضي الله عنه من هذا البحث في كتاب مستقل ، وقد كان لهذا الكتاب مزيد عناية ، من خلال الإضافة والتعديل والتثبت ، فضلاً عن إعادة هيكلة الفصول والمواضيع الفرعية.
وقد قام فضيلة شيخنا الدكتور / حسين بن نفاع الجابري (أستاذ التربية المساعد بالجامعة الإسلامية بالمدينة) ، بإضافات جميلة على هذا الكتاب ، وذلك من خلال التعليقات الدينية والتربوية ، كما زاد الكتاب جمالاً مراجعة وتدقيق فضيلة الدكتور / عبدالحق بن حمادي الهواس (أستاذ اللغة العربية بالمعهد العالي للأئمة والخطباء بجامعة طيبة) ، فجزاهما الله خيراً ، وأجزل لهم المثوبة والعطاء ، وجزى الله خيراً كل من شارك في إعداد هذا الكتاب.
এই গ্রন্থটি আমাদের নিকট তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) জীবনী কিছুটা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করার জন্য রচিত হয়েছে। কেননা দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর লেখক এমন কোনো রচনার সন্ধান পাননি যা তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পূর্ণাঙ্গ জীবনীকে ধারণ করে। তাই তিনি তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদীস ও আছার (বর্ণনা) ব্যাপকভাবে সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলোকে পুনরায় বিন্যস্ত করেছেন যাতে এই মহান সাহাবীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী তৈরি করা যায়।
এই গ্রন্থের মূল ভিত্তি হলো মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগ থেকে ইসলামী শিক্ষায় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশকৃত একটি সম্পূরক গবেষণাপত্র। গবেষক এতে প্রথম শ্রেণির সম্মানের সাথে 'চমৎকার' (মুমতাজ) মান অর্জন করেছিলেন। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ছিল: (মুসআব ইবনে উমায়ের -আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন- এর জীবনীর আলোকে সংলাপ পদ্ধতি এবং এর শিক্ষামূলক প্রয়োগ)। লেখক এই গবেষণা থেকে মুসআব ইবনে উমায়ের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর জীবনীকে পৃথক করে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে রূপান্তর করতে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। পরিমার্জন, পরিবর্ধন এবং তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এই গ্রন্থটির প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি অধ্যায় ও উপ-বিষয়সমূহকে নতুন আঙ্গিকে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ ডক্টর হুসাইন বিন নাফফে আল-জাবেরি (মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক) ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক টীকা প্রদানের মাধ্যমে এই গ্রন্থটিতে চমৎকার কিছু সংযোজন করেছেন। এছাড়া ডক্টর আব্দুল হক বিন হাম্মাদী আল-হাওয়াস (তাইবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমাম ও খতিবদের উচ্চতর ইনস্টিটিউটের আরবি ভাষার অধ্যাপক) গ্রন্থটি পর্যালোচনা ও নিরীক্ষণ করে এর মান আরও বৃদ্ধি করেছেন। আল্লাহ তাঁদের উভয়কে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদের সওয়াব ও পুরস্কার বহুগুণে বাড়িয়ে দিন। আর যারা এই গ্রন্থটি প্রস্তুত করতে অংশগ্রহণ করেছেন, আল্লাহ তাঁদের সকলকেও উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
هذا ما يسر الله عليه وأعان ، فما كان فيه من نقص وخطأ فمن نفسي ، وما كان فيه من صواب فمن الله وحده.
والله أسأل أن يرزقنا الإخلاص والتوفيق ، وأن يملأ قلوبنا بمحبته سبحانه وتعالى ومحبة رسوله صلى الله عليه وسلم ومحبة صحابته رضي الله عنهم ، وأن يكتب لهذا الكتاب النفع والفائدة.
وصلى الله وسلم على سيدنا ونبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين
وآخر دعوانا أن الحمد الله رب العالمين ،،،
المؤلف
14/ 9/1434هـ
… gmail.com@Oboiodo
আল্লাহ যা সহজ করেছেন এবং যাতে সাহায্য করেছেন তা এখানেই সমাপ্ত; সুতরাং এতে যা কিছু ত্রুটি ও ভুল রয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে, আর যা কিছু সঠিক তা কেবল একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের ইখলাস (নিষ্ঠা) ও তাওফিক দান করেন এবং আমাদের অন্তরসমূহকে তাঁর—পবিত্র ও মহান—ভালোবাসা, তাঁর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর ভালোবাসা এবং তাঁর সাহাবী (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন)-দের ভালোবাসায় পূর্ণ করে দেন, আর এই কিতাবটির জন্য উপকার ও কল্যাণ লিখে দেন।
আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লেখক
১৪/ ৯/ ১৪৩৪ হিজরি
… Oboiodo@gmail.com
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول: حياة مصعب بن عمير رضي الله عنه قبل الإسلام:
المبحث الأول: ولادته ونسبه رضي الله عنه -:
من خلال الاطلاع والقراءة في كتب التاريخ والتراجم ، لم يقف المؤلف -حسب جهده - على تاريخ يحدد مولد مصعب بن عمير رضي الله عنه ، ولكن بالنظر إلى وفاته رضي الله عنه ، قيل إن عمره كان أربعين سنة ، أو أكثر قليلاً (1) ، وكان ذلك في غزوة أحد السنة الثالثة من الهجرة عام 625م (2) ، فنستطيع معرفة ولادته رضي الله عنه ، في أنه ولد بعد مولد النبي صلى الله عليه وسلم بأربع عشرة سنة ، أو أكثر قليلاً؛ أي عام 585م تقريباً (3).
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুসআব বিন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবন:প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বংশপরিচয় (রাযিয়াল্লাহু আনহু) -:
ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থসমূহ পাঠ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে লেখক -তাঁর সাধ্যানুযায়ী- মুসআব বিন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্মের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখের ওপর অবগত হতে পারেননি। তবে তাঁর শাহাদাতের সময়ের প্রতি লক্ষ্য করলে বলা হয় যে, তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর অথবা তার চেয়ে কিছুটা বেশি (১), আর তা ছিল হিজরি তৃতীয় সনের উহুদ যুদ্ধের সময় অর্থাৎ ৬২৫ খ্রিস্টাব্দে (২)। এর ভিত্তিতে আমরা তাঁর জন্মকাল সম্পর্কে জানতে পারি যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মের চৌদ্দ বছর পর বা তার কিছুকাল পরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন; অর্থাৎ আনুমানিক ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأما نسبه فهو: مصعب بن عمير بن هاشم بن عبد مناف بن عبد الدار بن قصي (1) بن كلاب العبدري (2) القرشي (3) ، يكنى أبا عبدالله (4) ، وأبا محمد (5) ، وكان يلقب (مصعب الخير) (6).
المبحث الثاني: أسرته رضي الله عنه -:
فأمه هي: خناس بنت مالك بن المطرف بن وهيب بن عمرو بن حجير بن عبد بن معيص بن عامر (7). لها مواقف مع ابنها مصعب بن عمير رضي الله عنه يأتي ذكرها في ثنايا الموضوع -إن شاء الله-.
--------------------------------------------
আর তাঁর বংশপরিচয় হলো: মুসআব ইবনে উমায়ের ইবনে হাশিম ইবনে আবদ মানাফ ইবনে আবদ আদ-দার ইবনে কুসাই (১) ইবনে কিলাব আল-আবদারি (২) আল-কুরাশি (৩), তাঁর উপনাম ছিল আবু আবদুল্লাহ (৪) এবং আবু মুহাম্মাদ (৫), আর তাঁকে ‘মুসআব আল-খায়ের’ (৬) উপাধিতে ভূষিত করা হতো।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর পরিবার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) -:
তাঁর মাতা হলেন: খুনাস বিনতে মালিক ইবনুল মুতাররিফ ইবনে উহাইব ইবনে আমর ইবনে হুজাইর ইবনে আবদ ইবনে মায়িস ইবনে আমির (৭)। তাঁর পুত্র মুসআব ইবনে উমায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে তাঁর কিছু ঘটনা রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ আলোচনার প্রাসঙ্গিকতায় সামনে আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وأما أبوه عمير بن هاشم فلم أقف على شيء له ، إلا أنه كان مع زوجته في رعاية مصعب رضي الله عنه والحرص عليه ، ويتضح ذلك في الآثار الواردة التي يأتي ذكرها -إن شاء الله-.
المطلب الأول: إخوته رضي الله عنه -:
وكان لمصعب بن عمير رضي الله عنه إخوة ، وهم:
1 - أبو هاشم بن عتبة بن ربيعة رضي الله عنه وهو أخوه لأمه (1).
2 - أبو الروم بن عمير رضي الله عنه أخوه لأبيه (2) واسمه منصور بن عمير (3).
3 - أبو عزيز شقيقه لأبويه (4) واسمه زرارة بن عمير (5).
4 - يزيد بن عمير ، وقيل زيد بن عمير (6).
فأما أبو هاشم رضي الله عنه فهو: أبو هاشم بن عتبة بن ربيعة بن عبد شمس بن عبد مناف القرشي العبشمي ، خال معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهما، وأخو أبي حذيفة لأبيه، قيل: اسمه شيبة، وقيل: هشيم، وقيل: مهشم ، وقيل: خالد ، وقيل:
--------------------------------------------
আর তাঁর পিতা উমাইর বিন হাশিম সম্পর্কে আমি তেমন কিছু জানতে পারিনি, তবে তিনি তাঁর স্ত্রীর সাথে মুসআব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দেখাশোনা ও তাঁর প্রতি যত্নশীল থাকার ব্যাপারে যুক্ত ছিলেন। এটি সামনে উল্লিখিত বর্ণনাসমূহ থেকে স্পষ্ট হবে—ইনশাআল্লাহ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ভাইগণ -:
মুসআব বিন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কয়েকজন ভাই ছিলেন, তাঁরা হলেন:
১ - আবু হাশিম বিন উতবা বিন রাবিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি তাঁর বৈমাত্রেয় (মাতার দিক থেকে) ভাই ছিলেন (১)।
২ - আবু রুম বিন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি তাঁর বৈমাত্রেয় (পিতার দিক থেকে) ভাই (২) এবং তাঁর নাম ছিল মানসুর বিন উমাইর (৩)।
৩ - আবু আযিয, তিনি তাঁর সহোদর ভাই (৪) এবং তাঁর নাম ছিল যুরারাহ বিন উমাইর (৫)।
৪ - ইয়াযিদ বিন উমাইর, মতান্তরে যায়িদ বিন উমাইর (৬)।
আবু হাশিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হলেন: আবু হাশিম বিন উতবা বিন রাবিয়াহ বিন আব্দ শামস বিন আব্দ মানাফ আল-কুরাশি আল-আবশামি, তিনি মুআবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মামা এবং আবু হুযাইফার বৈমাত্রেয় (পিতার দিক থেকে) ভাই। বলা হয়েছে: তাঁর নাম শায়বাহ, মতান্তরে হুশাইম, মতান্তরে মুহাশশিম, মতান্তরে খালিদ, আবার বলা হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৪)
اسمه كنيته. وكان فاضلاً، وكان أبو هريرة رضي الله عنه إذا ذكره قال: ذاك الرجل الصالح. أسلم يوم الفتح، وسكن الشام، وتوفي في خلافة عثمان بن عفان رضي الله عنه ، وقيل: ذهبت عينه يوم اليرموك، ومات في زمن معاوية رضي الله عنه (1).
عن سمرة بن سهم قال: نزلت على أبي هاشم بن عتبة ، وهو طعين فأتاه معاوية يعوده ، فبكى أبو هاشم ، فقال معاوية: ما يبكيك؟ أي خال أَوَجَعٌ يشئزك؟ (2) أم على الدنيا فقد ذهب صفوها؟ قال: على كُلٍّ لا ، ولكنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم عهد إلي عهداً وددت أني كنت تبعتُه ، قال: «إنك لعلك تدرك أموالاً تقسم بين أقوام، وإنما يكفيك من ذلك خادم ومركب في سبيل الله» فأدركت فجمعت (3).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه: أنه أقبل حتى نزل دمشق ، فنزل على أبي كلثوم الدوسي فتذاكروا الصلاة الوسطى ، فقال: اختلفنا كما اختلفتم ، ونحن بفناء بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وفينا الرجل الصالح أبو هاشم بن عتبة بن ربيعة بن عبد شمس، فقال: أنا أعلم لكم ذلك ، فأتى النبي صلى الله عليه وسلم وكان جريئا عليه فاستأذن، فدخل عليه ، ثم خرج إلينا فأخبرنا أنها صلاة العصر (4).
وأما أبو الروم بن عمير رضي الله عنه فاسمه منصور وأمه رومية ، وكان قديم الإسلام
--------------------------------------------
তাঁর নামই তাঁর উপনাম বা কুনিয়া ছিল। তিনি অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখনই তাঁর কথা বলতেন তখন বলতেন: "সেই নেককার ব্যক্তি।" তিনি মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং শামে বসবাস শুরু করেন। উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে তিনি ইন্তেকাল করেন। বলা হয়ে থাকে যে, ইয়ারমুক যুদ্ধের দিন তাঁর একটি চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাসনামলে মৃত্যুবরণ করেন (১)।
সামুরা বিন সাহম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু হাশিম ইবনে উতবার কাছে আসলাম যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। এমতাবস্থায় মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে দেখতে এলেন। তখন আবু হাশিম কাঁদতে শুরু করলেন। মুয়াবিয়া বললেন: "আপনি কেন কাঁদছেন? হে মামা, কোনো ব্যথাই কি আপনাকে অস্থির করে তুলছে? (২) নাকি দুনিয়ার মোহে, যার নির্মলতা চলে গেছে?" তিনি বললেন: "না, এর কোনোটিই নয়; বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যে আমি যদি তা পূর্ণরূপে অনুসরণ করতে পারতাম। তিনি বলেছিলেন: 'সম্ভবত তুমি এমন ধন-সম্পদ পাবে যা মানুষের মধ্যে বণ্টন করা হবে, অথচ তোমার জন্য তো কেবল একজন সেবক এবং আল্লাহর পথে একটি সওয়ারিই যথেষ্ট।' কিন্তু আমি তা অর্জন করেছি এবং জমা করেছি (৩)।"
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: তিনি দামেস্কে আসা পর্যন্ত পথ চললেন এবং আবু কুলসুম আদ-দাওসীর মেহমান হলেন। সেখানে তাঁরা 'সালাতুল উসতা' (মধ্যবর্তী নামাজ) সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন: "আমরাও তোমাদের মতোই এ নিয়ে মতবিরোধ করেছিলাম যখন আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘরের প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলাম। আমাদের মাঝে নেককার ব্যক্তি আবু হাশিম ইবনে উতবা ইবনে রবিয়া ইবনে আবদু শামস উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন: 'আমি তোমাদের জন্য এ বিষয়ে জেনে আসছি।' অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গেলেন—তিনি তাঁর সাথে কথা বলতে সাহসী ছিলেন—এবং অনুমতি প্রার্থনা করলেন। এরপর তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং বের হয়ে আমাদের সংবাদ দিলেন যে, তা হলো আসরের নামাজ (৪)।"
আর আবু রূম বিন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে বলা যায় যে, তাঁর নাম ছিল মনসুর এবং তাঁর মা ছিলেন রোমান। তিনি ইসলামের শুরুর দিকেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بمكة وليس له عقب ، وأما هجرته إلى الحبشة فقد اختلف فيه ، فمنهم من قال: ليس أبو الروم من مهاجرة الحبشة (1) ، وذكر ابن إسحاق أن أبا الروم ممن هاجر إلى الحبشة في المرة الثانية (2) -والله أعلم- ، شهد أحداً رضي الله عنه ، وبعد مقتل أخيه مصعب بن عمير رضي الله عنه دفع إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم لواء المهاجرين إلى آخر النهار (3) ، بل ولم يزل في يديه حتى دخل به المدينة (4) ، وكان من الذين نزلوا في قبر مصعب بن عمير رضي الله عنه (5) ، وقتل أبو الروم رضي الله عنه يوم اليرموك (6).
وأما أبو عزيز زرارة بن عمير فكان ممن شهد بدراً كافراً وأُسر يومئذٍ ، فعن أبي عزيز، قال: كنت في الأسارى يوم بدر، فسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «استوصوا بالأسارى خيرا» فإن كان ليقدم إليهم الطعام، فما يقع بيد أحدهم كسرة إلا رمى بها إلي، ويأكلون التمر يؤثروني، فكنت أستحيي، فآخذ الكسرة فأرمي بها إليه، فيرمي بها إلي.
وقد اختُلف في إسلامه ، فذكره خليفة بن خياط في الصحابة ، وقال ابن الكلبي والزبير: قتل أبو عزيز يوم أحد كافراً ، وقال أبو نعيم: ذكره المتأخر يعني ابن منده ، ولا أعرف له إسلاما، ولم يعده ابن إسحاق فيمن قتل من المشركين يوم أحد ، -والله أعلم-. وقد كان أبو عزيز صاحب لواء المشركين يوم أحد (7). وله
--------------------------------------------
মক্কায় এবং তাঁর কোনো উত্তরসূরি ছিল না। আর হাবাশায় তাঁর হিজরতের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: আবু আল-রুম হাবাশায় হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না (১)। ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে, আবু আল-রুম দ্বিতীয় দফায় হাবাশায় হিজরতকারীদের একজন ছিলেন (২) - আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি ওহুদ যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন (রাযিয়াল্লাহু আনহু), এবং তাঁর ভাই মুসআব ইবনে উমাইরের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) শাহাদাতের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের শেষভাগ পর্যন্ত মুহাজিরদের ঝাণ্ডা তাঁর হাতে অর্পণ করেন (৩)। বরং এটি মদিনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তাঁর হাতেই ছিল (৪)। তিনি তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা মুসআব ইবনে উমাইরের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কবরে নেমেছিলেন (৫)। আর আবু আল-রুম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইয়ারমুক যুদ্ধের দিন নিহত হন (৬)।
আর আবু আযীয যুরারাহ ইবনে উমাইর বদর যুদ্ধে কাফির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং সেদিন বন্দি হন। আবু আযীয থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বদরের দিন বন্দিদের মধ্যে ছিলাম, তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমরা বন্দিদের সাথে সদয় আচরণের উপদেশ গ্রহণ করো।» যখন তাদের কাছে খাবার আনা হতো, তখন রুটির কোনো টুকরো কারো হাতে পড়লে তারা সেটি আমার দিকে ছুঁড়ে দিত, আর তারা নিজেরা খেজুর খেত এবং আমাকে অগ্রাধিকার দিত। আমি লজ্জিত হতাম, ফলে আমি রুটির টুকরোটি নিয়ে তাদের দিকে ছুঁড়ে দিতাম, কিন্তু তারা সেটি আবার আমার দিকেই ছুঁড়ে দিত।
তাঁর ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। খলিফা ইবনে খাইয়াত তাঁকে সাহাবীদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। ইবনে আল-কালবি এবং আল-যুবায়ের বলেছেন: আবু আযীয ওহুদ যুদ্ধের দিন কাফির অবস্থায় নিহত হন। আবু নুআইম বলেছেন: পরবর্তীগণ অর্থাৎ ইবনে মানদাহ তাঁকে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আমি তাঁর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে জানি না। ইবনে ইসহাক ওহুদ যুদ্ধে নিহত মুশরিকদের মধ্যে তাঁকে গণনা করেননি - আল্লাহই ভালো জানেন। আর আবু আযীয ওহুদ যুদ্ধের দিন মুশরিকদের ঝাণ্ডাবাহী ছিলেন (৭)। তাঁর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৬)
موقف مع أخيه مصعب بن عمير رضي الله عنه حين أُسر يوم بدر ،يأتي ذكره في غزوة بدرٍ -إن شاء الله-.
وأما يزيد بن عمير ، فقد ذكره ابن هشام أن قزمان قتله يوم أحد (1) ، ومنهم من قال أن الذي قُتل هو أبو عزيز كما ذُكر سابقاً ، وقد ذكر بعض المفسرين عبيد بن عمير ، ولعل المقصود به يزيد بن عمير، وذلك في تفسير قوله تعالى:
… {
… لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ} (2) ، (أو إخوانهم) يعني مصعب بن عمير رضي الله عنه قتل أخاه عبيد بن عمير يوم أحد (3) ، -والله تعالى أعلم-.
المطلب الثاني: أخواته رضي الله عنه -:
وكان لمصعب بن عمير رضي الله عنه أخوات ، وهن:
1 - أم أبان بنت عتبة بن ربيعة بن عبد شمس رضي الله عنها، وهذه أخته لأمه (4).
--------------------------------------------
তার ভাই মুসআব ইবন উমাইর (রা.)-এর সাথে একটি ঘটনা, যখন তিনি বদর যুদ্ধের দিন বন্দী হয়েছিলেন, তার উল্লেখ বদর যুদ্ধের বর্ণনায় আসবে -ইনশাআল্লাহ-।
আর ইয়াযীদ ইবন উমাইরের বিষয়ে ইবন হিশাম উল্লেখ করেছেন যে, কুযমান তাকে উহুদ যুদ্ধের দিন হত্যা করেছিলেন (১)। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, যাকে হত্যা করা হয়েছিল তিনি ছিলেন আবু আযীয, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু মুফাসসির উবাইদ ইবন উমাইরের কথা উল্লেখ করেছেন, সম্ভবত এর দ্বারা ইয়াযীদ ইবন উমাইরকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে এসেছে:
... {
... তুমি পাবে না এমন কোনো সম্প্রদায়কে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, অথচ তারা ভালোবাসা পোষণ করে তাদের সাথে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে; যদিও তারা তাদের পিতা হোক, কিংবা পুত্র, কিংবা ভাই, অথবা তাদের আত্মীয়-স্বজন} (২)। (অথবা তাদের ভাই) অর্থাৎ মুসআব ইবন উমাইর (রা.) উহুদ যুদ্ধের দিন তাঁর ভাই উবাইদ ইবন উমাইরকে হত্যা করেছিলেন (৩) -আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন-।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বোনগণ (রা.) -:
মুসআব ইবন উমাইর (রা.)-এর কয়েকজন বোন ছিল, তাঁরা হলেন:
১ - উম্মু আবান বিনতে উতবাহ ইবন রাবিআহ ইবন আবদে শামস (রা.), তিনি ছিলেন তাঁর বৈপিত্রেয় বোন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৭)
2 - أم شيبة بنت عمير (1).
3 - أم جميل بنت عمير ، واسمها هند (2).
فأما أم أبان بنت عتبة رضي الله عنها فقد كانت بالشام مع زوجها أبان بن سعيد بن العاص فقتل عنها بأجنادين (3)، فعادت إلى المدينة فخطبها عمر، وعلي، والزبير، وطلحة رضي الله عنهم. فاختارت طلحة رضي الله عنه فتزوجها فولدت له يعقوب ، وإسحاق. ولا تعرف لها رواية (4).
وفي هذا أنه لا بأس بخطبة المرأة مالم تركن إلى الأول لحديث: «ولا يخطب الرجل على خطبة أخيه، حتى يترك الخاطب قبله أو يأذن له الخاطب» (5).
وأما أم شيبة بنت عمير فقد تزوجها الحجاج بن علاط السلمي رضي الله عنه أسلم عام خيبر وشهدها ، وله من الأبناء: نصر بن الحجاج الذي كان من أجمل الناس وجها ، وله معرِّض بن الحجاج (6) ، واستأذن الحجاج رضي الله عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم في إتيان مكة ليأخذ مالاً له هناك عند زوجته أم شيبة بنت عمير، فأذن له رسول الله صلى الله عليه وسلم في
--------------------------------------------
২ - উম্মু শায়বা বিনতে উমাইর (১)।
৩ - উম্মু জামিল বিনতে উমাইর, এবং তার নাম ছিল হিন্দ (২)।
আর উম্মু আবান বিনতে উতবা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ব্যাপারে কথা হলো, তিনি শামে তার স্বামী আবান ইবনে সাঈদ ইবনে আস-এর সাথে ছিলেন। সেখানে আজনাদাইন (৩)-এর যুদ্ধে তার স্বামী শহীদ হন। অতঃপর তিনি মদিনায় ফিরে আসেন এবং উমর, আলী, যুবায়ের এবং তালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। তিনি তালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে পছন্দ করেন এবং তিনি তাকে বিবাহ করেন। তিনি তার গর্ভে ইয়াকুব এবং ইসহাককে জন্ম দেন। তার থেকে কোনো বর্ণনা জানা নেই (৪)।
এতে এই প্রমাণ পাওয়া যায় যে, কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়াতে কোনো দোষ নেই যতক্ষণ না তিনি প্রথম প্রস্তাবকারীর প্রতি সম্মত হন। কারণ হাদিসে এসেছে: "এক ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব না দেয়, যতক্ষণ না পূর্বের প্রস্তাবকারী তা পরিত্যাগ করে অথবা তাকে অনুমতি প্রদান করে" (৫)।
আর উম্মু শায়বা বিনতে উমাইর-এর ব্যাপার হলো, হাজ্জাজ ইবনে ইলাত আস-সুলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি খায়বারের বছর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তার সন্তানদের মধ্যে ছিলেন: নাসর ইবনুল হাজ্জাজ, যিনি মানুষের মধ্যে অত্যন্ত সুন্দর চেহারার অধিকারী ছিলেন এবং মুয়াররিয ইবনুল হাজ্জাজ (৬)। হাজ্জাজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মক্কায় যাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন, যাতে তিনি তার স্ত্রী উম্মু শায়বা বিনতে উমাইর-এর কাছে থাকা তার সম্পদ নিয়ে আসতে পারেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে অনুমতি দিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ذلك، فقدم مكة ، وأهلها لا يعلمون بخبر خيبر ولا بإسلامه، فقال لقريش متقربا إليها: إن محمداً قد أسِر ونُكب أصحابه، فلما بلغ العباس ذلك اشتد عليه وغمَّه ، فخرج حتى لقي الحجاج في خلوة ، فسأله عن الخبر، فقال: اكتم علي فداك أبي وأمي جميع ما أقول لك ثلاثا حتى آخذ مالي عند زوجتي ، ثم أظهر الأمر إني قد أسلمت ، فَسُرِّيَ عنهُ، فلما مضت ثلاثة أيام وخرج الحجاج يريد رسول الله صلى الله عليه وسلم، غدا الْعَبَّاس فوقف على باب أم شيبة ، فقال: أين الحجاج؟ قالت: خرج يبتاع مما غنم أهل خيبر من محمد وأصحابه، فقال: ذاك والله الباطل، لقد خلص ماله، وإنك لا تحلين له حتى تتبعي دينه، فقالت: صدقت والثواقب (1).
وهذا من قسم الجاهلية وقد أبطل الإسلام هذا ، فلا يحل لأحد أن يحلف إلا بالله عز وجل كما في الحديث: «من كان حالفا، فليحلف بالله أو ليصمت» (2).
وأما أم جميل بنت عمير فاسمها هند ، وقد تزوجها عثمان بن طلحة رضي الله عنه ، وهو الذي دفع إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم مفتاح الكعبة ، وقد ولدت له شيبة ووهباً (3).
--------------------------------------------
সেটি ঘটার পর তিনি মক্কায় আসলেন, অথচ মক্কাবাসী খায়বারের সংবাদ বা তাঁর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে কিছুই জানত না। তিনি কুরাইশদের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বললেন: মুহাম্মদ বন্দী হয়েছেন এবং তাঁর সাথীরা বিপদে পড়েছেন। যখন আব্বাস (রা.)-এর কাছে এই সংবাদ পৌঁছাল, তখন এটি তাঁর নিকট অসহনীয় মনে হলো এবং তিনি অত্যন্ত শোকাহত হলেন। তিনি বের হলেন এবং নির্জনে হাজ্জাজের দেখা পেলেন। তিনি সংবাদটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে হাজ্জাজ বললেন: আমার কথাগুলো তিন দিন গোপন রাখুন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন, যতক্ষণ না আমি আমার স্ত্রীর কাছ থেকে আমার সম্পদ গ্রহণ করি। এরপর আপনি বিষয়টি প্রকাশ করবেন যে আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। এতে তাঁর দুশ্চিন্তা দূরীভূত হলো। তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর হাজ্জাজ যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন, তখন সকালে আব্বাস (রা.) উম্মে শাইবার দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: হাজ্জাজ কোথায়? তিনি বললেন: তিনি মুহাম্মদ এবং তাঁর সাথীদের থেকে খায়বারবাসীরা যা গনীমত হিসেবে লাভ করেছে, তা থেকে কিছু ক্রয় করতে বের হয়েছেন। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, এটি মিথ্যা। তিনি তাঁর সম্পদ উদ্ধার করেছেন। আর আপনিও তাঁর জন্য বৈধ নন যতক্ষণ না আপনি তাঁর দ্বীন অনুসরণ করেন। তখন তিনি (উম্মে শাইবা) বললেন: আপনি সত্য বলেছেন, আস-সাওয়াকিব-এর শপথ।
এটি জাহিলী যুগের শপথের অন্তর্ভুক্ত এবং ইসলাম একে বাতিল ঘোষণা করেছে। অতএব, মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নামে শপথ করা কারও জন্য বৈধ নয়, যেমনটি হাদীসে এসেছে: «যে ব্যক্তি শপথ করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে»।
আর উম্মে জামিল বিনতে উমাইর-এর নাম ছিল হিন্দ। উসমান ইবনে তালহা (রা.) তাঁকে বিবাহ করেছিলেন, যাঁর কাছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার চাবি অর্পণ করেছিলেন। তাঁর গর্ভে শাইবা ও ওয়াহাব জন্মগ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الثالث: نشأته وشبابه رضي الله عنه -:
لقد كان رضي الله عنه فتى مكة شباباً وجمالاً وسبيباً (1) ، وكان أبواه يحبانه، وكانت أمه مليئة كثيرة المال ، وكان يلبس الحضرمي من النعال (2) ، وتكسوه أمه أحسن ما يكون من الثياب ، وكان أعطر أهل مكة يدهن بالعبير ، ويذيل يمنة اليمن (3).
وقد كان رضي الله عنه رقيق البَشَرة حسن اللِّمَّة ليس بالقصير ولا بالطويل (4) ، وكان يذكره رسول الله صلى الله عليه وسلم ويقول: «ما رأيت بمكة أحداً أحسن لِمّةً ولا أرق حُلةً ، ولا أنعم نعمةً من مصعب بن عمير» (5).
فلقد كان رضي الله عنه منعماً مدللاً من قبل أبويه ، فيأكل أفضل الطعام ، ويلبس أحسن الثياب ، وكانت أمه شديدة الكَلَفِ به ، فلا يبيت إلا وتضع قَعْب الحَيْس عند رأسه فإذا استيقظ أكل منه (6) ، فعن عمر رضي الله عنه قال: نظر رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى مصعب بن
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর লালন-পালন ও যৌবন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) -:
তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মক্কায় তারুণ্য, সৌন্দর্য এবং লম্বা কেশরাশির (১) দিক থেকে অনন্য যুবক ছিলেন। তাঁর পিতা-মাতা তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাঁর মা ছিলেন প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী। তিনি হাযরামি জুতো (২) পরিধান করতেন এবং তাঁর মা তাঁকে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করাতেন। তিনি মক্কাবাসীদের মধ্যে সর্বাধিক সুগন্ধি ব্যবহারকারী ছিলেন, তিনি আবীর মাখতেন এবং ইয়ামানি চাদর ঝুলিয়ে হাঁটতেন (৩)।
তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন কোমল ত্বকের অধিকারী এবং সুন্দর চুলের অধিকারী, তিনি খুব লম্বাও ছিলেন না আবার খুব খাটোও ছিলেন না (৪)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে স্মরণ করতেন এবং বলতেন: «আমি মক্কায় মুসআব ইবন উমায়েরের চেয়ে সুন্দর চুলবিশিষ্ট, পরিপাটি পোশাকধারী এবং অধিক সুখে থাকা আর কাউকে দেখিনি» (৫)।
তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পিতা-মাতার কাছে অত্যন্ত আদরে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। তিনি সর্বোত্তম খাবার খেতেন এবং শ্রেষ্ঠ পোশাক পরিধান করতেন। তাঁর মা তাঁর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন। তিনি ঘুমানোর সময় মুসআবের মাথার কাছে এক বিশাল পাত্রে 'হাইস' (খেজুর ও পনিরের তৈরি খাবার) রেখে দিতেন, যাতে তিনি ঘুম থেকে জেগে তা খেতে পারেন (৬)। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসআব ইবন... এর দিকে তাকালেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ২০)
عمير رضي الله عنه مقبلاً، عليه إهاب (1) كبش قد تنطَّق به، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «انظروا إلى هذا الذي نوَّر الله قلبه لقد رأيته بين أبوين يغذوانه بأطيب الطعام والشراب، ولقد رأيت عليه حُلّة شراها أو شُريت بمائتي درهم، فدعاه حبُّ الله وحب رسوله إلى ما ترون» (2).
المبحث الرابع: زواجه رضي الله عنه -:
تزوج مصعب بن عمير رضي الله عنه حمنة بنت جحش بن رياب بن يعمر رضي الله عنها (3) وهي أخت زينب بنت جحش زوجة رسول الله صلى الله عليه وسلم (4) ، وأمهما أميمة بنت عبدالمطلب بن هاشم (5) عمة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وقد أنجب مصعب رضي الله عنه من حمنة رضي الله عنها بنتاً سماها زينب
--------------------------------------------
উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আসছিলেন, তাঁর পরিধানে ছিল একটি মেষের চামড়া (১) যা তিনি কোমরে বেঁধেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তোমরা সেই ব্যক্তির দিকে তাকাও যার অন্তরকে আল্লাহ নূরান্বিত করেছেন। আমি তাঁকে তাঁর পিতামাতার কাছে দেখেছি যারা তাঁকে সর্বোত্তম খাবার ও পানীয় খাইয়ে লালন-পালন করত এবং আমি তাঁর গায়ে এমন পোশাক দেখেছি যা দুইশত দিরহাম দিয়ে কেনা হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা তাঁকে সেই অবস্থায় নিয়ে এসেছে যা তোমরা এখন দেখছ» (২)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর বিবাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) -:মুসআব বিন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হামনাহ বিনতে জাহশ বিন রিয়াব বিন ইয়ামুর (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে বিবাহ করেন (৩)। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী যায়নাব বিনতে জাহশ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর বোন (৪), এবং তাঁদের মাতা ছিলেন উমাইমাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম (৫), যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফুফু।
মুসআব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হামনাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর গর্ভে একটি কন্যা সন্তান লাভ করেন যার নাম তিনি যায়নাব রেখেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ২১)
-رضي الله عنها ولم ينجب سواها. فلما كبرت ابنته زينب رضي الله عنها زوجها بعبدالله بن عبدالله بن أبي أمية بن المغيرة رضي الله عنه ، وأنجبت منه محمداً ، ومصعباً ، وقريبة وعاتكة (1).
فلما مات مصعب بن عمير رضي الله عنه تقدم طلحة بن عبيد الله رضي الله عنه لحمنة بنت جحش رضي الله عنها فتزوجها ، وأنجب منها محمداً الملقب بـ: السجاد ، وعمران (2).
وقد شاركت حمنة بنت جحش رضي الله عنها في غزوة أحد ، ولها موقف مؤثر حين سمعت بمقتل زوجها ، يأتي ذكرها في تلك الغزوة -إن شاء الله تعالى-.
--------------------------------------------
—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন— এবং তিনি তাঁর ছাড়া অন্য কোনো সন্তান লাভ করেননি। যখন তাঁর কন্যা যয়নাব —আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন— বড় হলেন, তখন তিনি তাঁকে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়্যাহ ইবনে আল-মুগীরাহ —আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন— এর সাথে বিবাহ দিলেন। তিনি তাঁর গর্ভে মুহাম্মদ, মুসআব, কারীবাহ এবং আতিকাহকে জন্ম দেন (১)।
অতঃপর যখন মুসআব ইবনে উমায়ের —আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন— মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তালহাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ —আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন— হামনাহ বিনতে জাহশ —আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন— এর নিকট বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং তাঁকে বিবাহ করলেন। তিনি তাঁর গর্ভে মুহাম্মদ—যাঁর উপাধি ছিল আস-সাজ্জাদ— এবং ইমরানকে জন্ম দেন (২)।
হামনাহ বিনতে জাহশ —আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন— উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর স্বামীর শাহাদাতের সংবাদ শোনার সময় তাঁর একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী অবস্থান ছিল, সেই যুদ্ধের বর্ণনায় ইনশাআল্লাহ তাআলা তাঁর উল্লেখ আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفصل الثاني: حياة مصعب بن عمير رضي الله عنه بعد الإسلام:
المبحث الأول: إسلامه رضي الله عنه -:
عندما بُعث النبي صلى الله عليه وسلم وبدأ الدعوة إلى الله آمن به كبار الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين ، فآمنت به زوجته خديجة رضي الله عنها ، ثم علي بن أبي طالب رضي الله عنه ، ثم زيد بن حارثة رضي الله عنه (1) ، فكان هؤلاء قد آمنوا به قبل أن يدخل دار الأرقم رضي الله عنه ، ولما اشتد أذى كفار قريش دخل النبي صلى الله عليه وسلم دار الأرقم بن أبي الأرقم رضي الله عنه يعبد اللَّه تعالى فيها سرّا من قومه، ودخل معه جماعة حتى تكامل المسلمون أربعين رجلاً (2) ، وكانت هذه الدار في الصفا، بعيدة عن أعين كفار قريش ومجالسهم، فاختارها رسول الله صلى الله عليه وسلم ليجتمع فيها بالمسلمين سرًا ، وذلك في السنة الخامسة من البعثة، فيتلو عليهم آيات الله ويزكيهم ويعلمهم الكتاب والحكمة؛ وليؤدي المسلمون عبادتهم وأعمالهم، ويتلقوا ما أنزل الله على رسوله صلى الله عليه وسلم وهم في أمن وسلام، وليدخل من يدخل في الإسلام ، ولا يعلم به
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামের পর মুসআব ইবন উমায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবন:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইসলাম গ্রহণ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) -:
যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত হলেন এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া শুরু করলেন, তখন বড় বড় সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) তাঁর ওপর ঈমান আনলেন। ফলে তাঁর প্রতি ঈমান আনলেন তাঁর স্ত্রী খাদীজাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা), এরপর আলী ইবন আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তারপর যায়েদ ইবন হারিসাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) (১)। তাঁরা দারুল আরকামে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) প্রবেশের পূর্বেই তাঁর ওপর ঈমান এনেছিলেন। যখন কুরাইশ কাফিরদের নির্যাতন তীব্র হলো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরকাম ইবন আবিল আরকামের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ঘরে প্রবেশ করলেন সেখানে স্বজাতির আড়ালে গোপনে মহান আল্লাহর ইবাদত করার জন্য। তাঁর সাথে একটি জামাতও প্রবেশ করল যতক্ষণ না মুসলমানদের সংখ্যা চল্লিশ জন পূর্ণ হলো (২)। এই ঘরটি ছিল সাফা পাহাড়ে, কুরাইশ কাফিরদের চোখ এবং তাদের মজলিসগুলো থেকে দূরে। তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলমানদের সাথে সেখানে গোপনে সমবেত হওয়ার জন্য এটি বেছে নিয়েছিলেন। এটি ছিল নবুওয়াতের পঞ্চম বর্ষের ঘটনা। সেখানে তিনি তাদের সামনে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করতেন, তাদের পরিশুদ্ধ করতেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিতেন; যাতে মুসলমানরা তাদের ইবাদত ও কার্যাবলি সম্পাদন করতে পারেন এবং মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর যা নাযিল করেছেন তা নিরাপত্তা ও শান্তির সাথে গ্রহণ করতে পারেন, আর যাতে যারা ইসলামে দাখিল হতে চায় তারা দাখিল হতে পারে এবং কেউ তা জানতে না পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الطغاة من أصحاب السطوة والنقمة (1).
ولقد كان مصعب بن عمير رضي الله عنه يعيش بين أفراد قبيلته على دينهم، وعلى ما كان عليه آباؤه وأجداده ، فتلك الجاهلية العمياء قادتهم إلى عبادة الأصنام وشرب الخمور ، وحضور مجالس المعازف والغناء ، وغيرها من العبادات الباطلة ، مع ما يصحب ذلك من سوء في الأخلاق ، ودناءة في النفوس ، وخرافة في الأفكار التي كانت منتشرة في المجتمع الجاهلي. ولكن مصعباً رضي الله عنه بعقله البصير ورؤيته الثاقبة ، استطاع أن يميز بين ما هو عليه وما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم من الدين الحق الذي رأى فيه من التعاليم الإسلامية السمحة التي توافق العقل ولا تعارض الفطرة الإنسانية.
فعزم رضي الله عنه بنفسه من غير أن يدعوه أحد على الدخول في هذا الدين ، فدخل على النبي صلى الله عليه وسلم في دار الأرقم بن أبي الأرقم رضي الله عنه فأسلم وصدّق به وخرج فكتم إسلامه خوفا من أمه وقومه ، فكان يختلف إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم سراً (2).
وقد كتم إسلامه رضي الله عنه كغيره من الصحابة رضي الله عنهم ، ولأنه يعرف أنه أتى بدين يخالف دين قومه فسوف يلاقي من العذاب والأذى ما لاقاه الصحابة رضي الله عنهم ، وكان اختلافه على رسول الله صلى الله عليه وسلم في دار الأرقم ليختفي عن أنظار المترصدين من كفار قريش ، ويشارك بقية الصحابة رضي الله عنهم في عبادة الله وحده ، ويتلقى العلم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ، فأخذ ينهل من معين الوحيين حتى أصبح من أعلم الصحابة رضي الله عنهم في
--------------------------------------------
ক্ষমতা ও আক্রোশের অধিকারী জালেম শাসকগণ (১)।
মুসআব ইবনে উমায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর গোত্রের লোকদের মাঝে তাদের ধর্মের ওপর এবং তাঁর পিতৃপুরুষদের রীতির ওপর জীবনযাপন করতেন। সেই অন্ধ জাহেলিয়াত তাদেরকে মূর্তিপূজা, মদ্যপান এবং বাদ্যযন্ত্র ও গানের মজলিসে উপস্থিত হওয়ার দিকে পরিচালিত করেছিল। এর পাশাপাশি জাহেলি সমাজে প্রচলিত অন্যান্য বাতিল ইবাদত, চরিত্রের কলুষতা, আত্মার হীনতা এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন চিন্তাধারাও সেখানে ছড়িয়ে ছিল। কিন্তু মুসআব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর প্রখর বুদ্ধি ও তীক্ষ্ণ দূরদর্শিতার মাধ্যমে তাঁর বর্তমান অবস্থা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সত্য দ্বীন নিয়ে এসেছেন—যার উদার ইসলামি শিক্ষা বিবেকের অনুকূল এবং মানবীয় স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক নয়—তার মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হন।
তিনি কারও দাওয়াত ছাড়াই নিজে থেকে এই দ্বীনে প্রবেশের সংকল্প করেন। তিনি দারুল আরকাম ইবনে আবিল আরকামে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন ও তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করেন। অতঃপর তিনি সেখান থেকে বের হয়ে তাঁর মা ও গোত্রের ভয়ে নিজের ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি গোপন রাখেন এবং গোপনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যাতায়াত করতে থাকেন (২)।
অন্যান্য সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ন্যায় তিনিও নিজের ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। কারণ তিনি জানতেন যে, তিনি এমন এক দ্বীন গ্রহণ করেছেন যা তাঁর গোত্রের ধর্মের পরিপন্থী, যার ফলে তাঁকে অন্যান্য সাহাবীদের ন্যায় নির্যাতন ও কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে। কুরাইশ কাফেরদের কড়া নজরদারি থেকে আড়ালে থাকতে তিনি দারুল আরকামে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যাতায়াত করতেন এবং সেখানে অন্য সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সাথে এক আল্লাহর ইবাদতে শরিক হতেন ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছ থেকে ইলম অর্জন করতেন। এভাবে তিনি ওহীর ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণ করতে থাকেন, এমনকি তিনি সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্যে অন্যতম বিজ্ঞ ব্যক্তিতে পরিণত হন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ذلك الوقت؛ لذلك أرسله النبي صلى الله عليه وسلم إلى المدينة مع من أسلم من الأنصار ليقرأ عليهم القرآن ويعلمهم أمور دينهم ، وذلك في هجرته الأولى إلى المدينة.
المبحث الثاني: عذابه وابتلاؤه وصبره رضي الله عنه -:
ومما كان ظاهراً في مكة ، الترصد لأتباع النبي صلى الله عليه وسلم ، لذلك بصر عثمان بن طلحة بمصعب بن عمير رضي الله عنه وهو يصلي ، فأخبر أمه وقومه لتبدأ مرحلة جديدة من العذاب والنكال ، فأخذوه فحبسوه فلم يزل محبوسا حتى خرج إلى أرض الحبشة في الهجرة الأولى (1). وقد خرجت أمه حين علمت بإسلامه ناشرةً شعرها ، وقالت: لا ألبس خِماراً، ولا أستظلُّ، ولا أدَّهنُ ولا آكلُ طعاماً، ولا أشرب شراباً حتى تدع ما أنت عليه، فقال أخوه أبو عزيز بن عمير: يا أمه دعيني وإياه فإنه غلام عاف ولو أصابه بعض الجوع لترك ما هو عليه ، ثم أخذه وحبسه (2).
ولقد مر بمصعب رضي الله عنه ألوانٌ من العذاب كغيره من الصحابة رضي الله عنهم بل أشد؛ وذلك لفارق ما كان عليه في الجاهلية وما وقع عليه بعد إسلامه ، فالأم التي كان لا يشغل بالها إلا ابنها من فرط حبها له، أصبحت معولاً هداماً لذلك الجسم المنعم ، فلا تتردد في تعذيبه ، وحرمانه مما كان عليه سابقاً ، بل كانت تعين قومه
--------------------------------------------
সেই সময়; একারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মদিনায় আনসারদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তাঁদের সাথে প্রেরণ করেন, যাতে তিনি তাঁদের নিকট কুরআন পাঠ করেন এবং তাঁদের দ্বীনের বিষয়াদি শিক্ষা দেন। আর এটি ছিল মদিনায় তাঁর প্রথম হিজরতের সময়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ওপর নির্যাতন, পরীক্ষা এবং ধৈর্য (সবর) রাদিয়াল্লাহু আনহু -:
মক্কায় যা অত্যন্ত প্রকাশ্য ছিল তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসারীদের ওপর নজরদারি করা। একারণে উসমান বিন তালহা মুসআব বিন উমায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নামাজ আদায় করতে দেখে ফেলেন এবং তাঁর মা ও কওমকে তা জানিয়ে দেন, যাতে তাঁর ওপর আযাব ও নির্যাতনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। অতঃপর তারা তাঁকে পাকড়াও করে বন্দী করে রাখে। তিনি প্রথম হিজরতে হাবাশা অভিমুখে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত বন্দী অবস্থায় ছিলেন (১)। তাঁর মা যখন তাঁর ইসলাম গ্রহণের খবর জানতে পারলেন, তখন তিনি তাঁর চুল এলোমেলো করে বেরিয়ে পড়লেন এবং বললেন: "আমি মাথায় কাপড় দেব না, ছায়ায় আশ্রয় নেব না, শরীরে তেল মাখব না এবং কোনো খাদ্য গ্রহণ করব না ও পানীয় পান করব না যতক্ষণ না তুমি তোমার বর্তমান আদর্শ ত্যাগ করো।" তখন তাঁর ভাই আবু আজিজ বিন উমায়ের বললেন: "হে মা! আমাকে আর তাকে একা ছেড়ে দাও, কারণ সে একজন হৃষ্টপুষ্ট যুবক, যদি তার সামান্য ক্ষুধা লাগে তবে সে তার এই পথ ছেড়ে দেবে।" এরপর সে তাঁকে নিয়ে বন্দী করে রাখল (২)।
মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহু অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মতো বিভিন্ন ধরণের আযাব ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, বরং তাঁর ক্ষেত্রে তা ছিল আরও কঠোর; কারণ জাহিলিয়াত যুগে তিনি যে সচ্ছল অবস্থায় ছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর ওপর যা আপতিত হয়েছিল তার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান ছিল। যে মা তাঁর প্রতি ভালোবাসার আতিশয্যে কেবল ছেলেকে নিয়েই নিমগ্ন থাকতেন, তিনিই এখন সেই সুকোমল দেহের জন্য এক বিধ্বংসী হাতিয়ারে পরিণত হলেন। তিনি তাঁকে নির্যাতন করতে এবং পূর্বের যাবতীয় সুখ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে মোটেও দ্বিধাবোধ করতেন না, বরং তিনি তাঁর কওমকে সহায়তা করতেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عليه ، حتى " أصابه من الشدة ما غَيَّر لونه وأذهب لحمه، ونهكت جسمه حتى كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينظر إليه، وعليه فروة قد رفعها، فيبكي لما كان يعرف من نعمته، وحلفت أمه حين أسلم وهاجر ألا تأكل ولا تشرب ولا تستظل بظل حتى يرجع إليها، فكانت تقف للشمس حتى تسقط مغشيا عليها، وكان بنوها يحشون فاهها بشجار، وهو عود ، فيصبون فيه الحساء لئلا تموت " (1).
ولذا تغيرت حياة مصعب بن عمير رضي الله عنه وتبدلت أحواله في ملبسه ومأكله وشأنه كله ، فقد قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: إنا لجلوس مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد إذ طلع علينا مصعب بن عمير رضي الله عنه، وما عليه إلا بردة له مرقوعة بفرو، فلما رآه رسول الله صلى الله عليه وسلم بكى للذي كان فيه من النعمة، والذي هو فيه اليوم، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كيف بكم إذا غدا أحدكم في حلة وراح في حلة، ووضعت بين يديه صحفة، ورفعت أخرى، وسترتم بيوتكم كما تستر الكعبة؟» قالوا: يا رسول الله، نحن يومئذ خير منا اليوم، نتفرغ للعبادة ونكفى المؤنة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أنتم اليوم خير منكم يومئذ» (2).
وعن عروة بن الزبير عن أبيه رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم جالساً بقُباء ومعه نفر، فقام مصعب بن عمير رضي الله عنه عليه بردة ما تكاد تواريه، ونكَس القوم، فجاء فسلم ، فردوا عليه، فقال فيه النبي صلى الله عليه وسلم خيراً وأثنى عليه، ثم قال: «لقد رأيت هذا عند أبويه بمكة يكرمانه وينعمانه، وما فتى من فتيان قريش مثله ، ثم خرج من ذلك
--------------------------------------------
তাঁর ওপর (কষ্ট নেমে এল), এমনকি সেই কঠোরতা তাঁকে এমনভাবে স্পর্শ করল যা তাঁর বর্ণ পরিবর্তন করে দিল এবং তাঁর দেহের মাংস কমিয়ে দিল, আর তাঁর শরীরকে জীর্ণ করে ফেলল। এমনকি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে তাকাতেন—তখন তাঁর গায়ে ছিল একটি পশমি চামড়া যা তিনি তালি দিয়ে পরেছিলেন—এবং তিনি তাঁর পূর্বের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য স্মরণ করে কাঁদতেন। যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং হিজরত করলেন, তখন তাঁর মা শপথ করেছিলেন যে, তিনি আহার করবেন না, পান করবেন না এবং ছায়ায় আশ্রয় নেবেন না যতক্ষণ না তিনি (মুসআব) তাঁর কাছে ফিরে আসেন। ফলে তিনি তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে থাকতেন এমনকি শেষ পর্যন্ত মূর্ছা যেতেন। তাঁর অন্য সন্তানরা একটি কাঠ দিয়ে তাঁর মুখ ফাঁক করে ধরত এবং তাতে সুপ ঢেলে দিত যাতে তিনি মারা না যান (১)।
আর এ কারণেই মুসআব বিন উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবন পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল এবং তাঁর পোশাক, আহার ও সামগ্রিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছিল। আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমরা মসজিদে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসা ছিলাম, এমন সময় মুসআব বিন উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের সামনে আসলেন। তাঁর গায়ে ছিল একটি চাদর যাতে পশমের তালি লাগানো ছিল। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখলেন, তিনি তাঁর আগেকার বিলাসিতা এবং বর্তমান অবস্থার কথা চিন্তা করে কেঁদে ফেললেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমাদের অবস্থা তখন কেমন হবে যখন তোমাদের কেউ সকালে এক পোশাকে এবং বিকেলে অন্য পোশাকে বের হবে, এবং তার সামনে আহারের একটি পাত্র রাখা হবে আবার অন্যটি সরিয়ে নেওয়া হবে, আর তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কাপড়ে আবৃত করবে যেভাবে কাবাকে আবৃত করা হয়?” তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সেদিন আজকের চেয়ে উত্তম থাকব, আমরা ইবাদতের জন্য অবসর পাব এবং আমাদের ভরণপোষণের কষ্ট লাঘব হবে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “বরং তোমরা সেদিনকার চেয়ে আজই উত্তম” (২)।
উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে তাঁর পিতা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবায় উপবিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর সাথে একদল লোক ছিল। তখন মুসআব বিন উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু আসলেন, তাঁর গায়ে ছিল একটি চাদর যা তাঁকে প্রায় আবৃত করতে পারছিল না। লোকেরা (লজ্জায় ও সমবেদনায়) মাথা নিচু করে ফেলল। তিনি এসে সালাম দিলেন এবং তাঁরা সালামের উত্তর দিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে কল্যাণকর কথা বললেন এবং তাঁর প্রশংসা করলেন। এরপর তিনি বললেন: “আমি মক্কায় তার বাবা-মায়ের কাছে তাকে দেখেছি, তারা তাকে অত্যন্ত সম্মান ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে রাখত। কুরাইশদের যুবকদের মধ্যে তার মতো আর কেউ ছিল না। এরপর সে তা থেকে বের হয়ে এসেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ابتغاءَ مرضاة الله ونصرة رسوله، أما أنه لا يأتي عليكم إلا كذا وكذا حتى يُفتح عليكم فارس والروم، فيغدو أحدكم في حلة ويروح في حلة، ويُغدى عليكم بقصعة ، ويُراح عليكم بقصعة». قالوا: يا رسول الله، نحن اليوم خير أو ذلك اليوم؟ قال: «بل أنتم اليوم خيرٌ منكم ذلك اليوم أما لو تعلمون من الدنيا ما أعلم لاستراحت أنفسكم منها» (1).
وفي لفظ ، أقبل مصعب بن عمير رضي الله عنه ذات يوم والنبي صلى الله عليه وسلم جالس في أصحابه رضي الله عنهم عليه قطعة نمرة قد وصلها بإهاب قد ودنه ، فلما رآه أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم نكسوا رؤوسهم رحمة له ليس عندهم ما يغيرون عنه ، فسلم فرد عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأحسن عليه الثناء ، وقال: «الحمد لله ليقلب الدنيا بأهلها ، لقد رأيت هذا (يعني مصعباً) وما بمكة فتى من قريش أنعم عند أبويه نعيما منه ، ثم أخرجه من ذلك الرغبة في الخير في حب الله ورسوله» (2).
--------------------------------------------
আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ এবং তাঁর রাসূলের সাহায্যের উদ্দেশ্যে। জেনে রেখো, তোমাদের ওপর এমন সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত অবকাশ নেই যতক্ষণ না তোমাদের জন্য পারস্য ও রোম বিজিত হবে, তখন তোমাদের কেউ সকালে এক পোশাকে বের হবে এবং সন্ধ্যায় অন্য পোশাকে ফিরবে, আর তোমাদের সামনে সকালে এক পাত্র খাবার আনা হবে এবং সন্ধ্যায় এক পাত্র খাবার আনা হবে। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি আজ উত্তম নাকি সেই দিনের মানুষরা? তিনি বললেন: বরং তোমরা সেই দিনের চেয়ে আজই উত্তম। যদি তোমরা দুনিয়া সম্পর্কে তা জানতে যা আমি জানি, তবে তোমাদের অন্তর দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়ে শান্তি পেত। (১)।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, একদিন মুসআব বিন উমায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উপস্থিত হলেন যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মাঝে উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁর শরীরে ছিল এক টুকরো ডোরাকাটা পশমী বস্ত্র যা তিনি পাকা করা চামড়া দিয়ে জোড়া দিয়েছিলেন। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ তাঁকে দেখলেন, তাঁর প্রতি করুণাবশত তাঁরা মাথা নিচু করে ফেললেন, কারণ তাঁর অবস্থা পরিবর্তন করার মতো কিছুই তাঁদের কাছে ছিল না। অতঃপর তিনি সালাম দিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সালামের উত্তর দিলেন ও তাঁর উত্তম প্রশংসা করলেন। তিনি বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি দুনিয়াকে তার অধিবাসীদের নিয়ে পরিবর্তন করেন। আমি এই ব্যক্তিকে (অর্থাৎ মুসআবকে) দেখেছি যখন মক্কায় কুরাইশদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি সচ্ছল ও পিতামাতার আদরে লালিত-পালিত আর কোনো কিশোর ছিল না। অতঃপর কল্যাণ লাভের আকাঙ্ক্ষায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসাই তাকে সেই অবস্থা থেকে বের করে এনেছে।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وأما في حصار الشعب فقد بلغ الجهد منه رضي الله عنه مبلغه ، فلم يعد يقدر على المشي مع ما أصاب جسده من ضعف بعد ما كان مرفهاً مدللاً ،فقد قال سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه: كان مصعب بن عمير أترف غلام بمكة بين أبويه، فلما أصابه ما أصابنا لم يقو على ذلك، ولقد رأيته وإن جلده ليتطاير عنه تطاير جلد الحية، ولقد رأيته يتقطع به، فما يستطيع أن يمشي، فنعرض له القِسِيَّ (1)، ثم نحمله على عواتقنا (2).
ومنه يتبين مدى الابتلاء الذي تعرض له مصعب بن عمير رضي الله عنه بعد إسلامه ويتمثل فيما يأتي:
1 - الأذى المادي: إذ قُطعت عنه جميع الموارد المالية التي كان يحصل عليها لا سيما من قبل أمه ، حتى أصبح لا يجد ما يلبس إلا فروة لا تكاد تواريه.
2 - الأذى الجسدي: فقد ذبل جسمه وتغيّر لونه وأصابه من الجوع ما لا يستطيع الوقوف معه.
3 - الأذى النفسي: إذ كان يرى أمه وهي تنشر شعرها وتخرج ويراها وهي تقف في الشمس نكاية به حتى يرجع عن دينه.
مما يبين بجلاء نجاح التربية النبوية في غرس المبادئ والثبات عليها في نفوس الصحابة رضي الله عنهم ، وهو ما نحتاجه اليوم في تربيتنا للأجيال على مبادئ الكتاب والسنة والصبر على ما يواجهونه من مصاعب في سبيل ذلك.
--------------------------------------------
আর শি’ব-এ (আবি তালেবের উপত্যকায়) অবরোধের সময় তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কষ্ট চরমে পৌঁছেছিল। বিলাসিতা ও আদরে লালিত-পালিত হওয়ার পর তাঁর শরীরে যে দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল, তার ফলে তিনি আর হাঁটার সামর্থ্য রাখতেন না। সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: মুস’আব ইবন উমায়র মক্কায় তাঁর পিতামাতার নিকট সবচেয়ে বিলাসী যুবক ছিলেন। অতঃপর আমাদের ওপর যে বিপদ এসেছিল তা যখন তাঁর ওপরও এল, তখন তিনি তা সহ্য করার শক্তি পাচ্ছিলেন না। আমি তাঁকে দেখেছি যে, সাপের চামড়া খসে পড়ার মতো তাঁর শরীরের চামড়া খসে পড়ছিল। আমি তাঁকে দেখেছি যে, তিনি অবসন্ন হয়ে পড়েছিলেন এবং হাঁটতে পারছিলেন না। তাই আমরা তাঁর সামনে ধনুক (১) বাড়িয়ে দিতাম, এরপর আমরা তাঁকে আমাদের কাঁধে (২) বহন করতাম।
এর মাধ্যমে মুস’আব ইবন উমায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণের পর যে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন তার গভীরতা স্পষ্ট হয়, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে ফুটে ওঠে:
১ - আর্থিক কষ্ট: তাঁর কাছে আসা সমস্ত আর্থিক উৎস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, বিশেষ করে তাঁর মায়ের পক্ষ থেকে। এমনকি শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিধান করার মতো একটি পশমি বস্ত্র ছাড়া আর কিছুই ছিল না যা দিয়ে তিনি নিজেকে আবৃত করতে পারেন।
২ - শারীরিক কষ্ট: তাঁর শরীর শুকিয়ে গিয়েছিল এবং গায়ের রং পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। ক্ষুধার তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তিনি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেন না।
৩ - মানসিক কষ্ট: তিনি দেখতেন তাঁর মা চুল এলিয়ে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যেতেন এবং তাঁকে কষ্ট দেওয়ার জন্য প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থাকতেন, যাতে তিনি তাঁর ধর্ম থেকে ফিরে আসেন।
এটি সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের অন্তরে আদর্শ বপন এবং তার ওপর অবিচল রাখার ক্ষেত্রে নববী তারবিয়াতের (শিক্ষার) সাফল্য সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। আজ আমাদের প্রজন্মকে কিতাব ও সুন্নাহর আদর্শের ওপর গড়ে তুলতে এবং এই পথে তারা যেসব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয় তাতে ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দিতে এটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الفصل الثالث: هجرته إلى الحبشة ، ثم المدينة رضي الله عنه -:
المبحث الأول: هجرته إلى الحبشة رضي الله عنه -:
لما رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم أصحابه رضي الله عنهم وما يصيبهم من البلاء والشدة، وأنه لا يقدر على أن يمنعهم من قومهم، وأنه ليس في قومهم من يمنعهم كما منعه عمه أبو طالب، أمرهم بالهجرة إلى أرض الحبشة، وقال لهم: «إن بأرض الحبشة ملكا لا يظلم أحد عنده ، فالحقوا ببلاده حتى يجعل الله لكم فرجًا ومخرجًا مما أنتم فيه» (1)، فهاجر رجال من أصحابه إلى أرض الحبشة مخافة الفتنة، وفروا إلى الله عز وجل بدينهم، واستخفى آخرون بإسلامهم (2) ، وكان ذلك في السنة الخامسة من البعثة النبوية (3).
وقد خرج مصعب بن عمير رضي الله عنه مع من خرج من الصحابة إلى الحبشة (4) ،
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর আবিসিনিয়া (হাবাশা), অতঃপর মদিনায় হিজরত (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-:
প্রথম পাঠ: তাঁর আবিসিনিয়ায় হিজরত (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-:
যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) এবং তাঁদের ওপর আপতিত বিপদ-আপদ ও কঠোরতা প্রত্যক্ষ করলেন, আর তিনি তাঁদের নিজ কওম থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হচ্ছিলেন না, এবং তাঁদের কওমের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যারা তাঁদের সুরক্ষা দেবে যেভাবে তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁকে সুরক্ষা দিতেন, তখন তিনি তাঁদের আবিসিনিয়া ভূখণ্ডের দিকে হিজরত করার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁদের বললেন: «আবিসিনিয়া ভূখণ্ডে এমন একজন রাজা আছেন যাঁর নিকট কেউ জুলুমের শিকার হয় না, সুতরাং তোমরা তাঁর দেশে চলে যাও যতক্ষণ না আল্লাহ তোমাদের এই বর্তমান অবস্থা থেকে মুক্তি ও নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দেন» (১), ফলে তাঁর সাহাবীগণের মধ্য থেকে একদল লোক ফিতনার আশঙ্কায় আবিসিনিয়া অভিমুখে হিজরত করলেন এবং তাঁরা নিজেদের দ্বীন রক্ষার্থে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকে প্রস্থান করলেন। আর অন্যরা তাঁদের ইসলাম গোপন রাখলেন (২), এবং এটি ছিল নবুয়তের পঞ্চম বর্ষের ঘটনা (৩)।
সাহাবীগণের মধ্য থেকে যারা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন, মুসআব বিন উমায়ের (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) তাঁদের সাথেই বেরিয়েছিলেন (৪),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وكان معه أخوه منصور بن عمير (1).
فعن ليلى بنت أبي حثمة رضي الله عنها ، قالت: لما اجتمعوا على الخروج جاءنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «إن مصعب بن عمير قد حبسته أمه ، وهو يريد الخروج الليلة فإذا رقدوا» ، قال عامر بن ربيعة: فنحن ننتظره ، ولا نغلق بابا دونه ، فلما هدأت الرِّجْلُ جاءنا مصعب بن عمير فبات عندنا ، وظل يومه حتى إذا كان الليل خرج متسللا ووعدناه فلحقه فيه ، وأدركناه فاصطحبناه قال: وهم يمشون على أقدامهم ، وأنا على بعير لنا ، وكان مصعب بن عمير رقيق البَشَرِ ليس بصاحب رِجْلِهِ ، ولقد رأيت رجليه تقطران دما من الرقة ، فرأيت عامرا خلع حذاءه فأعطاه حتى انتهينا إلى السفينة فنجد سفينة قد حملت ذُرَةً وفرَّغت ما فيها جاءت من مَوْرٍ (2) فتكارينا (3) إلى مَوْرٍ ، ثم تكارينا من مَوْرٍ إلى الحبشة ، ولقد كنت أرى عامر بن ربيعة يَرِقُّ على مصعب بن عمير رِقَّةً ما يرقُّها على ولده وما معه دينار ولا درهم ، وكان معنا خمسة عشر دينارا (4).
ويتبين من هذا النص ما يأتي:
1 - عِظم ما لاقاه مصعب وسائر الصحابة رضي الله عنهم من صنوف الابتلاءات.
2 - التعاون الكبير بين الصحابة رضي الله عنهم ووقوف بعضهم إلى جنب بعض في مثل هذه الظروف الصعبة ، وأعظم ما اتصفوا به هو: خلق الإيثار.
--------------------------------------------
তাঁর সাথে তাঁর ভাই মনসুর বিন উমায়েরও ছিলেন (১)।
লায়লা বিনতে আবি হাসমাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন তারা বের হওয়ার জন্য একত্রিত হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে এসে বললেন: «মুসআব বিন উমায়েরকে তার মা আটকে রেখেছে, সে আজ রাতে বের হতে চায় যখন তারা ঘুমিয়ে পড়বে»। আমির বিন রাবীয়াহ বললেন: আমরা তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম এবং তার আসার জন্য কোনো দরজা বন্ধ করিনি। যখন মানুষের চলাচল থেমে গেল, মুসআব বিন উমায়ের আমাদের কাছে এলেন এবং আমাদের কাছে রাত যাপন করলেন। তিনি সারা দিন থাকলেন, এরপর যখন রাত হলো তিনি অত্যন্ত সংগোপনে বেরিয়ে পড়লেন। আমরা যেখানে ওয়াদা দিয়েছিলাম সেখানে তিনি পৌঁছালেন এবং আমরা তাকে আমাদের সাথে নিয়ে নিলাম। তিনি বললেন: তারা পায়ে হেঁটে চলছিলেন, আর আমি আমাদের একটি উটের পিঠে ছিলাম। মুসআব বিন উমায়ের ছিলেন অত্যন্ত সুকুমার ত্বকের অধিকারী এবং তিনি দীর্ঘ পথ পায়ে হাঁটায় অভ্যস্ত ছিলেন না। আমি দেখলাম তাঁর পা দুটি কোমলতার কারণে ফেটে রক্ত ঝরছে। আমি দেখলাম আমির তাঁর জুতো জোড়া খুলে তাঁকে দিয়ে দিলেন। পরিশেষে আমরা জাহাজের কাছে পৌঁছলাম। সেখানে একটি জাহাজ পেলাম যা ভুট্টা বহন করে এনেছিল এবং মালামাল খালাস করেছিল। জাহাজটি মাওর (২) নামক স্থান থেকে এসেছিল। আমরা মাওর পর্যন্ত জাহাজ ভাড়া করলাম (৩), এরপর মাওর থেকে আবিসিনিয়া (হাবশা) পর্যন্ত ভাড়া করলাম। আমি আমির বিন রাবীয়াহকে মুসআব বিন উমায়েরের প্রতি এমন মমতা দেখাতে দেখেছি যা তিনি তাঁর নিজের সন্তানের প্রতিও দেখাতেন না, অথচ মুসআবের কাছে কোনো দিনার বা দিরহাম ছিল না; আমাদের কাছে ছিল পনেরো দিনার (৪)।
এই পাঠ্য থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়:
১ - মুসআব এবং অন্যান্য সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যে ধরণের কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন তার ভয়াবহতা।
২ - সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্যে বিদ্যমান সুগভীর সহযোগিতা এবং এই ধরণের কঠিন পরিস্থিতিতে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো; আর তাদের অন্যতম মহান গুণ ছিল: আত্মত্যাগ (ইসার)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ৩০)
3 - التخطيط الدقيق لأي عمل يراد القيام به ، فالتخطيط أساس من أسس النجاح.
ثم رجع مع المسلمين حين رجعوا، فرجع متغيِّر الحال قد حرج - يعني غَلُظَ - فكفَّت أمه عنه من العذل (1) ، وقد شهد رضي الله عنه مع الصحابة الهجرتين إلى الحبشة ، فعن عاصم بن عبيد الله عن عبد الله بن عامر بن ربيعة، عن أبيه قال: كان مصعب بن عمير لي خدنا وصاحبا منذ يوم أسلم إلى أن قتل رحمه الله بأحدٍ ، خرج معنا إلى الهجرتين جميعا بأرض الحبشة ، وكان رفيقي من بين القوم، فلم أرَ رجلا قط كان أحسن خلقا، ولا أقل خلافا منه (2).
--------------------------------------------
৩ - যেকোনো কাজ করার জন্য সূক্ষ্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা; কেননা পরিকল্পনা হলো সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
অতঃপর তিনি মুসলিমদের সাথে ফিরে এলেন যখন তারা ফিরেছিলেন। তিনি এমতাবস্থায় ফিরলেন যে তার অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি রুক্ষ হয়ে গিয়েছিলেন - অর্থাৎ শরীর শক্ত হয়ে গিয়েছিল - ফলে তার মা তাকে তিরস্কার করা থেকে বিরত হলেন (১)। তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাহাবীদের সাথে হাবশার উভয় হিজরতে শরিক ছিলেন। আসিম বিন উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমির বিন রাবিয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুসআব বিন উমাইর ইসলাম গ্রহণ করার দিন থেকে ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হওয়া (রহিমাহুল্লাহ) পর্যন্ত আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাথী ছিলেন। তিনি আমাদের সাথে হাবশার জমিনে উভয় হিজরতেই বের হয়েছিলেন। তিনি কাফেলার মধ্যে আমার সফরসঙ্গী ছিলেন। আমি তার চেয়ে উত্তম চরিত্রের এবং তার চেয়ে কম মতভেদকারী কোনো ব্যক্তি কখনো দেখিনি (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المبحث الثاني: هجرته الأولى إلى المدينة رضي الله عنه -:
رجع مصعب بن عمير رضي الله عنه إلى مكة وأصبح الأمر أكثر استقرارا ، ثم أتى ذلك الموسم الذي لقي فيه النبي صلى الله عليه وسلم نفر من الأنصار ، وكانوا رهطا من الخزرج أراد الله بهم خيرا (1) ، فعرض عليهم الإسلام فآمنوا به وصدقوه (2) ، ثم جاء العام الذي بعده فوافى الموسم من الأنصار اثنا عشر رجلا فلقوا النبي صلى الله عليه وسلم وبايعوه على بيعة النساء (3) ، فعن عبادة بن الصامت رضي الله عنه، أنه قال: إني من النقباء (4) الذين بايعوا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقال: «بايعناه على أن لا نشرك بالله شيئا، ولا نسرق، ولا نزني، ولا نقتل النفس التي حرم الله، ولا ننتهب، ولا نعصي، بالجنة إن فعلنا ذلك، فإن غشينا من ذلك شيئا، كان قضاء ذلك إلى الله» (5).
فلما انصرف عنه القوم بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم معهم مصعب بن عمير رضي الله عنه ، وأمره أن يقرئهم القرآن ، ويعلمهم الإسلام ويفقههم في الدين، فكان مصعب يسمى المقرئ بالمدينة، وكان منزله على أسعد بن زرارة بن عدس أبي أمامة، وكان يصلي بهم، وذلك أن الأوس والخزرج كره بعضهم أن يؤمه بعض (6).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মদিনায় তাঁর প্রথম হিজরত (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-:
মুসআব ইবন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মক্কায় ফিরে এলেন এবং পরিস্থিতি অধিকতর স্থিতিশীল হলো। অতঃপর সেই হজ মৌসুমটি এল যাতে আনসারদের একটি দলের সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাক্ষাৎ হলো। তাঁরা ছিলেন খাজরাজ গোত্রের একটি দল, আল্লাহ যাঁদের মাধ্যমে কল্যাণের ইচ্ছা করেছিলেন (১)। তিনি তাঁদের নিকট ইসলাম পেশ করলেন, ফলে তাঁরা তাঁর প্রতি ঈমান আনলেন এবং তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করলেন (২)। অতঃপর যখন পরবর্তী বছর এল, তখন আনসারদের বারো জন ব্যক্তি হজ মৌসুমে উপস্থিত হলেন। তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁর নিকট 'বাইয়াতে নিসা' বা মহিলাদের বাইয়াতের শর্তে বাইয়াত গ্রহণ করলেন (৩)। উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সেই নুকাবা বা প্রতিনিধিদের (৪) একজন ছিলাম যাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বাইয়াত হয়েছিলেন। তিনি বলেন: «আমরা তাঁর নিকট এই মর্মে বাইয়াত হয়েছিলাম যে, আমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করব না, চুরি করব না, ব্যভিচার করব না, আল্লাহ যে প্রাণকে হত্যা করা হারাম করেছেন তাকে হত্যা করব না, লুণ্ঠন করব না এবং অবাধ্য হব না। যদি আমরা তা পালন করি তবে আমাদের জন্য জান্নাত। আর যদি আমরা এর কোনোটিতে লিপ্ত হই, তবে তার ফয়সালা আল্লাহর নিকট সোপর্দ» (৫)।
অতঃপর যখন দলটি তাঁর কাছ থেকে ফিরে যাওয়ার উপক্রম করল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের সাথে মুসআব ইবন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে প্রেরণ করলেন। তিনি তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাঁদেরকে কুরআন পড়ে শুনান, ইসলাম শিক্ষা দেন এবং দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন। মদিনায় মুসআবকে 'আল-মুকরি' (কুরআন শিক্ষক) নামে ডাকা হতো। তিনি আসআদ ইবন যুরারাহ ইবন আদাস আবু উমামাহর ঘরে অবস্থান করতেন। তিনি তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন; আর তা এই কারণে যে, আউস ও খাজরাজ গোত্রের লোকেরা একে অপরের ইমামতি অপছন্দ করত (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فكان رضي الله عنه أول من قدم على الأنصار في المدينة ، يقول البراء رضي الله عنه: «أول من قدم علينا مصعب بن عمير، وابن أم مكتوم، ثم قدم علينا عمار بن ياسر، وبلال رضي الله عنهم» (1) ، وفي رواية أخرى عن أبي إسحاق، قال: سمعت البراء بن عازب رضي الله عنهما، قال: «أول من قدم علينا مصعب بن عمير، وابن أم مكتوم ، وكانا يقرئان الناس
…» (2).
فهو أول من هاجر إلى المدينة رضي الله عنه للإقامة بها ولتعليم من أسلم من أهلها بأمر النبي صلى الله عليه وسلم ، فله الأوّليّة في الهجرة إلى المدينة من هذه الجهة (3).
وعن الأعمش، قال: سمعت شقيق بن سلمة، قال: حدثنا خباب، قال: «هاجرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم نبتغي وجه الله، ووجب أجرنا على الله، فمنا من مضى لم يأكل من أجره شيئا، منهم مصعب بن عمير
…» (4) ، فقد هاجروا بإذن الرسول صلى الله عليه وسلم وأمره ، والمراد بالمعية الاشتراك في حكم الهجرة، إذ لم يكن معه صلى الله عليه وسلم إلا أبو بكر وعامر بن فهيرة (5).
وعن أبي مسعود الأنصاري رضي الله عنه قال: أول من قدم من المهاجرين المدينة مصعب بن عمير، وهو أول من جمع بها أول يوم جمعة قبل أن يقدم
--------------------------------------------
তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি মদিনায় আনসারদের নিকট আগমন করেছিলেন। বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: «আমাদের নিকট প্রথম আগমন করেছেন মুসআব ইবনে উমায়ের এবং ইবনে উম্মে মাকতুম। এরপর আমাদের নিকট আগমন করেছেন আম্মার ইবনে ইয়াসির এবং বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)» (১)। আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন: আমি বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «আমাদের নিকট প্রথম আগমন করেছেন মুসআব ইবনে উমায়ের এবং ইবনে উম্মে মাকতুম, আর তাঁরা দুজনে মানুষকে (কুরআন) পাঠ করে শোনাতেন...» (২)।
সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশে মদিনায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য এবং সেখানকার ইসলাম গ্রহণকারীদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তিনিই প্রথম হিজরতকারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। এই দিক থেকে মদিনায় হিজরত করার ক্ষেত্রে তাঁরই অগ্রবর্তিতা রয়েছে (৩)।
আমাশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি শাকিক ইবনে সালামাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: খাব্বাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে হিজরত করেছি এবং আমাদের প্রতিদান আল্লাহর নিকট সুনিশ্চিত হয়ে গেছে। আমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি দুনিয়াতে তাঁর প্রতিদানের কিছুই ভোগ না করে চলে গেছেন, তাঁদের মধ্যে মুসআব ইবনে উমায়ের অন্যতম...» (৪)। তাঁরা মূলত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুমতি ও নির্দেশেই হিজরত করেছিলেন। আর 'সাথে' থাকার অর্থ হলো হিজরতের হুকুম বা বিধানে শরিক হওয়া, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে (শারীরিকভাবে) কেবল আবু বকর এবং আমির ইবনে ফুহাইরা ছিলেন (৫)।
আবু মাসউদ আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুহাজিরদের মধ্যে প্রথম যিনি মদিনায় আগমন করেছেন তিনি হলেন মুসআব ইবনে উমায়ের, আর তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নবীজির আগমনের পূর্বে সেখানে প্রথম জুমার নামাজ কায়েম করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সাহাবিয়্যিল জালীল মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى بهم (1).
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: " أذن النبي صلى الله عليه وسلم في الجمعة قبل أن يهاجر ، ولم يستطع أن يجمع بمكة ، فكتب إلى مصعب بن عمير: أما بعد فانظر اليوم الذى تجهر فيه اليهود بالزبور ، فاجمعوا نساءكم وأبناءكم ، فإذا مال النهار عن شطره عند الزوال من يوم الجمعة ، فتقربوا إلى الله بركعتين ، قال فهو أول من جمع حتى قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة ، فجمع عند الزوال من الظهر ، وأظهر ذلك " (2) ، وكان ذلك في دار سعد بن خيثمة ، وهم اثنا عشر رجلاً ، وما ذبح لهم يومئذٍ إلا شاة (3).
المبحث الثالث: تعليمه رضي الله عنه لأهل المدينة ونشر الإسلام فيها:لما نزل مصعب بن عمير على أسعد بن زرارة رضي الله عنهما ، بدأ مباشرة بتعليم أهل المدينة مبادئ الإسلام وقد ظهرت النتائج مبهرة في وقت يسير ، وذلك بعد توفيق الله -جل وعلا- يعود إلى أمور تميّز بها مصعب رضي الله عنه منها:
1 - العلم الغزير الذي كان يحمله مصعب رضي الله عنه.
2 - قوة الحجة وبلاغة العرض.
3 - السكينة والوقار وعدم التسرع والطيش.
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন (১)।
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরত করার পূর্বেই জুমার অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি মক্কায় জুমা কায়েম করতে সক্ষম হননি। তাই তিনি মুসআব ইবনে উমাইরের নিকট লিখে পাঠান: 'অতঃপর, যে দিনটিতে ইহুদিরা উচ্চস্বরে জাবুর পাঠ করে সেই দিনটির দিকে লক্ষ রেখো; তোমরা তোমাদের নারী ও সন্তানদের একত্রিত করো। অতঃপর জুমার দিনে যখন সূর্য ঢলে পড়বে, তখন দুই রাকাত সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করো।' বর্ণনাকারী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় আসার আগ পর্যন্ত তিনিই প্রথম জুমা কায়েম করেছিলেন। এরপর তিনি (নবীজি) যোহরের সময় সূর্য ঢলে পড়লে জুমা কায়েম করেন এবং তা প্রকাশ করেন" (২)। আর তা ছিল সাদ বিন খাইসামার বাড়িতে, সেখানে তারা ছিলেন বারোজন পুরুষ, আর সেদিন তাদের জন্য কেবল একটি বকরি জবাই করা হয়েছিল (৩)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মদিনাবাসীদের প্রতি তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শিক্ষা প্রদান এবং সেখানে ইসলাম প্রচার:যখন মুসআব ইবনে উমাইর আসআদ বিন জুরারাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট অবতরণ করলেন, তখন তিনি সরাসরি মদিনাবাসীদের ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহ শিক্ষা দিতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এর বিস্ময়কর ফলাফল প্রকাশ পায়। আল্লাহর -যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ- তাওফিকের পর এটি মুসআব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণে সম্ভব হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - মুসআব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যে অগাধ জ্ঞান বহন করতেন।
২ - অকাট্য যুক্তি এবং উপস্থাপনার প্রাঞ্জলতা।
৩ - স্থিরতা, গাম্ভীর্য এবং তাড়াহুড়ো ও চপলতার অভাব।
--------------------------------------------