(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: -)
فتح الجليل في التعليق على كتاب الإكليل   (عبد الرحمن بن علي الحطاب)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: فتح الجليل في التعليق على كتاب الإكليل

(تعليقات على كتاب الإكليل في استنباط التنزيل لجلال الدين السيوطي)

توضيح: الكتاب أصله دروس ألقاها المؤلف، ثم هذبها ونقحها، والتعليقات مقتصرة على المقدمة وسورة البقرة مع التركيز على المآخذ الأصولية في استنباط الأحكام

المؤلف: عبد الرحمن بن علي الحطاب

عدد الصفحات: 165

[كتاب إلكتروني]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 جُمادَى الآخرة 1445

কিতাবুল ইকলীল-এর ব্যাখ্যায় ফাতহুল জলীল   (আব্দুর রহমান বিন আলী আল-হাততাব)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)


কিতাব: কিতাবুল ইকলীল-এর ব্যাখ্যায় ফাতহুল জলীল

(জালালুদ্দিন আল-সুয়ূতী রচিত ‘আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল’-এর ওপর টীকা বা ব্যাখ্যাসমূহ)

ব্যাখ্যা: গ্রন্থটি মূলত লেখকের প্রদানকৃত পাঠের সমষ্টি, যা পরবর্তীতে তিনি পরিমার্জন ও সংশোধন করেছেন, এবং এই ব্যাখ্যাগুলো শুধুমাত্র ভূমিকা ও সূরা আল-বাকারার মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এখানে শরয়ী বিধান আহরণের (استنباط الأحكام) ক্ষেত্রে উসূলি বা মূলনীতি সংক্রান্ত (الأصولية) উৎসগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে

লেখক: আব্দুর রহমান বিন আলী আল-হাততাব

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৫

[ই-বুক]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৭ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تقديم

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على نبيِّه الأمين، نبيِّنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد: فهذه تعليقات على كتاب الإكليل في استنباط التنزيل لجلال الدين السيوطي رحمه الله سميتها (فتح الجليل في التعليق على كتاب الإكليل) أصلها دروس ألقيت في بيت من بيوت الله عام 1439، جمعتها لما رأيت تمزق وتساقط بعض أوراق مادة الدرس، فأحببت أن أدرك الموجود وأعوض المفقود، وبذلت جهداً لإخراجها مهذبة منقحة.

واقتصرت هنا على التعليق على المقدمة وسورة البقرة، أما المقدمة فقد ذكر فيها السيوطي الأساليب الشرعية الدالة على الأحكام، وجعلها كمفتاح للدخول وشرط للاستنباط، وهي كذلك فإن من لم يدركها فقد فاته الكثير من أوجه الاستنباط للأحكام، وأما الاقتصار على سورة البقرة فلأنها فسطاط القرآن، والحاوية لأصول الأحكام أولاً، وثانياً: لأنني علقت على جُل الأحكام الفقهية الواردة في كتاب الإكليل في شرحي على كتابي (بلوغ المرام من آيات الأحكام) المسمى ب (فتح العلام في بيان مآخذ الأحكام).

وقد ركزت في هذه التعليقة على المآخذ الأصولية في استنباط تلك الأحكام، إذا هي الجانب الأقوى في النظر والاستنباط، والأضعف في الطرح العلمي في نظري.
‌উপস্থাপনা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর বিশ্বস্ত নবী, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর: এটি ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) বিরচিত 'আল-ইকলিল ফি ইস্তিনবাতিত তানজিল' গ্রন্থের ওপর কিছু টীকা-টিপ্পনী, যার নামকরণ আমি করেছি 'ফাতহুল জলিল ফিত তা'লিক আলা কিতাবিল ইকলিল'। মূলত এগুলো ছিল ১৪৩৯ হিজরিতে আল্লাহর ঘরসমূহের একটিতে প্রদত্ত কিছু পাঠ। আমি এগুলোকে সংকলিত করেছি যখন দেখলাম এই পাঠের উপকরণের কিছু পৃষ্ঠা ছিঁড়ে যাচ্ছে ও ঝরে পড়ছে, তাই আমি বিদ্যমান অংশটুকুকে সংরক্ষণ করতে এবং হারানো অংশটুকুর ক্ষতিপূরণ করতে চেয়েছি। আমি এগুলোকে সুসংবদ্ধ ও পরিমার্জিতভাবে উপস্থাপনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

এখানে আমি কেবল ভূমিকা এবং সূরা বাকারার ওপর টীকা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। ভূমিকার ক্ষেত্রে সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) বিধান (أحكام) নির্দেশক শরয়ী (الشرعية) পদ্ধতিসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং একে প্রবেশের চাবিকাঠি ও বিধান আহরণ (استنباط)-এর শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি এমনই; কারণ যে ব্যক্তি এটি অনুধাবন করতে সক্ষম হবে না, সে বিধান (أحكام) আহরণ (استنباط)-এর অনেক দিক থেকেই বঞ্চিত হবে। আর সূরা বাকারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কারণ হলো, প্রথমত এটি হচ্ছে কুরআনের কেন্দ্রবিন্দু (ফুসতাতুল কুরআন) এবং বিধানের মূলনীতি (أصول الأحكام)-সমূহের ধারক। দ্বিতীয়ত, আমি 'আল-ইকলিল' গ্রন্থে উল্লিখিত অধিকাংশ ফিকহি বিধান (أحكام)-এর ওপর ইতিমধ্যে আমার 'বুলুগুল মারাম মিন আয়াতিল আহকাম' গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল আল্লাম ফি বায়ানি মাআখিজিল আহকাম'-এ বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

এই টীকায় আমি ওই সকল বিধান (أحكام) আহরণ (استنباط)-এর ক্ষেত্রে উসূলি উৎস (المآخذ الأصولية)-সমূহের ওপর গুরুত্বারোপ করেছি; কেননা চিন্তা-গবেষণা ও বিধান আহরণ (استنباط)-এর ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী দিক, অথচ আমার দৃষ্টিতে ইলমি আলোচনার ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে দুর্বল দিক।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৬)
وأنبه هنا إلى أن كتاب الإكليل قد حقق بتحقيقات متعددة، واعتمدت منها على تحقيق الدكتور عامر بن علي العرابي في ضبط نص كلام السيوطي، إذ هي الطبعة التي علقت عليها، واستفدت من تحقيق الشيخ مصطفى العدوى في التعليق على الأحاديث والحكم عليها، أما الآثار فتركت تخريجها والحكم عليها لكثرتها، ولخروجها عن غرض الكتاب وهدفه، وهو بيان مآخذ تلك الأحكام، ومن أراد الحكم على هذه الآثار فليرجع إلى العملين السابقين ففيهما الغنية، والله الموفق.

আমি এখানে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, আল-ইকলিল গ্রন্থটি একাধিক গবেষণামূলক সম্পাদনার (تحقيق) মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে। আল-সুয়ুতির মূল বক্তব্য বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমি ডক্টর আমির বিন আলী আল-আরাবির সম্পাদনার ওপর নির্ভর করেছি, কেননা এটিই সেই সংস্করণ যার ওপর আমি টীকা লিখেছি। আর হাদিসসমূহের ওপর টীকা প্রদান এবং সেগুলোর হুকুম বা সিদ্ধান্ত (الحكم) প্রদানের ক্ষেত্রে আমি শায়খ মুস্তফা আল-আদাওয়ীর সম্পাদনা থেকে উপকৃত হয়েছি। তবে আসার বা বর্ণনাগুলোর (الآثار) সংখ্যাধিক্যের কারণে এবং এই গ্রন্থের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বহির্ভূত হওয়ায় আমি সেগুলোর তাখরিজ বা উৎস নির্দেশ (تخريج) এবং সেগুলোর ওপর হুকুম (الحكم) প্রদান করা থেকে বিরত থেকেছি। এই গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য হলো ওই সকল বিধানের উৎসসমূহ বর্ণনা করা। সুতরাং যারা এই আসারগুলোর (الآثار) ব্যাপারে হুকুম (الحكم) জানতে চান, তারা যেন পূর্বোক্ত দুটি কাজের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন, কারণ সেগুলোর মধ্যেই পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে; আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌التمهيد

استفتح السيوطي رحمه الله كتابه الإكليل بمقدمتين، الأولى لم ينص على كونها مقدِّمة، بخلاف الأخرى، وكأنه أرادها تمهيداً للكتاب، وقد نقل السيوطي المقدمتين، أو التمهيد والمقدِّمة بنصها في كتابه الإتقان في علوم القرآن، تحت النوع الخامس والستون، بعنوان: في العلوم المستنبطة من القرآن(1).

وأما التمهيد فكان متعلقاً ببيان العلوم المستنبطة من القرآن، ولم أشأ الخوض والبسط فيه لقلة الثمرة المتعلقة به.

وخلاصته: أن السيوطي كأنه يميل إلى أن القرآن الكريم مشتمل على كل شيء في شتى أنواع العلوم وساق لذلك أدلة من الكتاب والسنة والآثار.

فمن الكتاب: قوله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 89]، وقوله تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38].

ومن السنة قوله صلى الله عليه وسلم: «ستكون فتن. قيل: وما المخرج منها؟ قال: كتاب الله فيه نبأ ما قبلكم وخبر ما بعدكم وحكم ما بينكم»(2).

ومن الآثار قول ابن مسعود: (من أراد العلم فعليه بالقرآن؛ فإن فيه خبر الأولين والآخرين)(3).

--------------------------------------------

(1) ينظر: الإتقان في علوم القرآن (5/ 1906).

(2) أخرجه الترمذي (2908) وقال عنه: "هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه، وإسناده مجهول، وفي الحارث مقال ".

(3) أخرجه سعيد بن منصور في سننه (1/ 7) قال الهيثمي في مجمع الزوائد (7/ 168) رواه الطبراني بأسانيد، ورجال أحدها رجال الصحيح ".
উপক্রমণিকা

আস-সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-ইকলিল' গ্রন্থটি দুটি ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছেন। প্রথমটির ক্ষেত্রে তিনি সেটিকে 'ভূমিকা' হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, যা দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে করেছেন। মনে হয় তিনি একে গ্রন্থের একটি উপক্রমণিকা হিসেবে রাখতে চেয়েছেন। আস-সুয়ূতী এই দুটি ভূমিকা অথবা উপক্রমণিকা ও ভূমিকা উভয়টিই হুবহু তাঁর 'আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন' গ্রন্থে পঁয়ষট্টিতম প্রকারের অধীনে 'কুরআন থেকে উদ্ভাবিত জ্ঞানসমূহ' শিরোনামে উল্লেখ করেছেন।(১)

আর উপক্রমণিকাটি কুরআন থেকে উদ্ভাবিত জ্ঞানসমূহের বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা বা দীর্ঘসূত্রিতা করতে চাইনি, কারণ এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক ফলাফল খুবই সামান্য।

এর সারকথা হলো: আস-সুয়ূতী যেন এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন যে, পবিত্র কুরআন বিভিন্ন প্রকারের সমস্ত জ্ঞানই অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর সপক্ষে তিনি কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ ও বর্ণনা (آثار) থেকে দলিল পেশ করেছেন।

কিতাব থেকে দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা।} [আন-নাহল: ৮৯], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি।} [আল-আনআম: ৩৮]।

সুন্নাহ থেকে দলিল: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণী: «অচিরেই ফিতনা দেখা দেবে। জিজ্ঞেস করা হলো: তা থেকে উত্তরণের পথ কী? তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাব। এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিচার-মীমাংসা রয়েছে।»(২)

আর বর্ণনা (آثار) থেকে দলিল হলো ইবনে মাসউদের উক্তি: (যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে চায়, তার উচিত কুরআন আঁকড়ে ধরা; কারণ এতে পূর্বাপর সকলের সংবাদ রয়েছে।)(৩)

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন (৫/১৯০৬)।

(২) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন (২৯০৮) এবং এর সম্পর্কে বলেছেন: "এই হাদিসটি বিরল (غريب), আমরা কেবল এই সূত্রেই এটি জানি। এর সনদ (إسناد) অজ্ঞাত (مجهول) এবং হারিস সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে।"

(৩) সাঈদ বিন মানসুর তাঁর সুনানে এটি বর্ণনা করেছেন (১/৭)। হাইসামি তাঁর 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৭/১৬৮) গ্রন্থে বলেছেন: "তাবারানি এটি একাধিক সনদসমূহ (أسانيد) দ্বারা বর্ণনা করেছেন এবং এর একটির বর্ণনাকারীগণ (رجال) বিশুদ্ধ (صحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের ন্যায়।"
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৮)
ثم نقل كلام أبي الفضل المرسي (ت 655 هـ) باختصار، ومما قاله المرسي بعد ذكره ما أُخذ من القرآن من العلوم الإسلامية، قال: «هذه الفنون التي أخذتها الملة الإسلامية منه، وقد احتوى على علوم أُخر من علوم الأوائل، مثل الطب، والجدل، والهيئة، والهندسة، والجبر، والمقابلة، والنجامة، وغير ذلك»(1)، ثم ذكر بعد ذلك ما في القرآن من أصول الصنائع وأسماء الآلات التي تدعو الضرورة إليها كالخياطة، والحدادة، والبناء، والنجارة، والغزل، والنسج، والفلاحة، وغيرها ".

ويظهر مما ذكره من الأمثلة أن مقصوده بالاحتواء مجرد الذكر، فإذا ذكر شيء له تعلق بعلم اعتبر ذلك احتواءً لذلك العلم(2).

والسيوطي بعد ذكره لكلام المرسي لم يعترض عليه، بل قال معقباً على كلامه: «وأنا أقول قد اشتمل كتاب الله العزيز على كل شيء. أما أنواع العلوم فليس منها باب، ولا مسألة هي أصل إلا وفي القرآن ما يدلّ عليها»(3) ثمَّ ذكر أمثلة.

وهذا النص قد يشعر بموافقة السيوطي له، إلا أن جميع ما ذكره من الأمثلة هو من العلوم الشرعية، أو مما تأتي الأديان بمثله(4).

قال ابن عاشور: «لا شك أن المراد أنه عموم عرفي في دائرة ما لمثله تجيء الأديان والشرائع»(5).

ثم ذكر أن المراد بشمولية القرآن شموليته لما يحتاجه الناس في أمور دينهم، وما يقيم شؤون حياتهم، كما أراد الله تعالى، وذلك كبيان إصلاح النفوس، وإكمال

--------------------------------------------

(1) الإكليل (1/ 247).

(2) ينظر: حاشية (6) من منهج الاستنباط من القرآن للوهبي (68).

(3) الإكليل (1/ 253).

(4) ينظر: منهج الاستنباط من القرآن للوهبي (79).

(5) التحرير والتنوير (7/ 253).
অতঃপর তিনি আবুল ফজল আল-মুরসির (মৃত্যু ৬৫৫ হিজরি) বক্তব্য সংক্ষেপে উদ্ধৃত করেছেন। কুরআন থেকে আহরিত ইসলামি জ্ঞানসমূহ উল্লেখ করার পর আল-মুরসি যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "এই সেই সকল শাস্ত্র যা ইসলামি জাতি এটি (কুরআন) থেকে গ্রহণ করেছে। এছাড়াও এতে প্রাচীনদের অন্যান্য জ্ঞানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন: চিকিৎসাবিদ্যা, বিতর্কবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যামিতি, বীজগণিত, সমীকরণ (মুকা-বালাহ), জ্যোতিষশাস্ত্র এবং আরও অনেক কিছু"(১)। এরপর তিনি কুরআনে বিদ্যমান কারুশিল্পের মূলনীতি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির নাম উল্লেখ করেছেন, যেমন: সেলাই, কর্মকারের কাজ, নির্মাণ কাজ, কাঠমিস্ত্রির কাজ, সুতা কাটা, বয়ন শিল্প, কৃষি কাজ এবং অন্যান্য বিষয়।

তিনি যে সকল উদাহরণ দিয়েছেন তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, 'অন্তর্ভুক্তি' বলতে তাঁর উদ্দেশ্য হলো নিছক উল্লেখ থাকা। সুতরাং যদি এমন কিছু উল্লেখ করা হয় যার সাথে কোনো শাস্ত্রের সম্পর্ক রয়েছে, তবে তিনি সেটাকে ওই শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্তি হিসেবে গণ্য করেছেন(২)।

ইমাম সুয়ূতী আল-মুরসির কথা উল্লেখ করার পর এর ওপর কোনো আপত্তি করেননি, বরং তাঁর কথার প্রেক্ষিতে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "আমি বলি, মহান আল্লাহর কিতাব প্রতিটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার ক্ষেত্রে এমন কোনো অধ্যায় বা মৌলিক মাসয়ালা (مسألة هي أصل) নেই যা নির্দেশ করার মতো কিছু কুরআনে বিদ্যমান নেই"(৩)। এরপর তিনি কিছু উদাহরণ পেশ করেছেন।

এই পাঠ্যটি আল-মুরসির সাথে সুয়ূতীর একমত হওয়ার আভাস দিতে পারে, তবে তিনি যে সকল উদাহরণ উল্লেখ করেছেন তার সবই শরিয়াহ সংক্রান্ত জ্ঞান (العلوم الشرعية), অথবা এমন বিষয় যা ধর্মসমূহ নিয়ে আসে(৪)।

ইবনে আশুর বলেছেন: "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই পরিমণ্ডলে একটি প্রচলিত সাধারণতা (عموم عرفي), যার সদৃশ বিষয়সমূহ নিয়ে ধর্ম ও শরিয়তসমূহ অবতীর্ণ হয়"(৫)।

এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনের ব্যাপকতা বলতে উদ্দেশ্য হলো দ্বীনি বিষয়ে মানুষের যা প্রয়োজন এবং তাদের জীবনযাত্রাকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য যা আবশ্যক তার ব্যাপকতা, যেভাবে আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন; যেমন আত্মশুদ্ধির বর্ণনা এবং পূর্ণতা প্রদান...

--------------------------------------------

(১) আল-ইকিল (১/ ২৪৭)।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-ওয়াহবি রচিত মানহাজুল ইস্তিনবাত মিনাল কুরআনের টীকা (৬) (৬৮)।

(৩) আল-ইকিল (১/ ২৫৩)।

(৪) দ্রষ্টব্য: আল-ওয়াহবি রচিত মানহাজুল ইস্তিনবাত মিনাল কুরআন (৭৯)।

(৫) আত-তাহরির ওয়াত তানভির (৭/ ২৫৩)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৯)
الأخلاق، وتقويم المجتمع، وتبيين الحقوق، وما تتوقف عليه الدعوة من الاستدلال على الوحدانية، وصدق الرسول صلى الله عليه وسلم، وما يأتي من خلال ذلك من الحقائق العلمية، والدقائق الكونية، ووصف أحوال الأمم، وأسباب فلاحها وخسارها، والموعظة بآثارها، بشواهد التاريخ، وما يتخلل ذلك من قوانينهم، وحضاراتهم، وصنائعهم، وفي خلال ذلك كلّه أسرار ونكت، من أصول العلوم المعارف(1). والله أعلم.

والحقيقة أن موقف الإمام السيوطي ليس ظاهراً في أنه متابع لأبي الفضل المرسي، وإجمالاً فالعلماء مختلفون في دلالة قوله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 89]، وقوله تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38]، هل هما من العام الباقي على عمومه، أو من العام المراد به الخاص، وبالثاني قال به جمهور أهل العلم، وعليه فالمراد: أن القرآن بيان لكل شيء من أمور الدين، أو لما لمثله تجيء الشرائع(2).

--------------------------------------------

(1) ينظر: المصدر السابق (7/ 253)، ومنهج الاستنباط من القرآن للوهبي (71).

(2) ينظر: منهج الاستنباط من القرآن للوهبي (68).
চরিত্র, সমাজ সংস্কার, অধিকারের ব্যাখ্যা এবং তাওহিদ ও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সত্যতার দালিলিক প্রমাণের ওপর দাওয়াত যে বিষয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল; এছাড়া এর মাধ্যমে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক সত্য, মহাজাগতিক সূক্ষ্ম বিষয়াবলি, বিভিন্ন জাতির অবস্থার বিবরণ, তাদের সফলতা ও ব্যর্থতার কারণ এবং ইতিহাসের সাক্ষ্যের মাধ্যমে সেগুলোর উপদেশ গ্রহণ; আর এর মাঝে বিদ্যমান তাদের আইন-কানুন, সভ্যতা ও শিল্পকলা। এই সবকিছুর মাঝে নিহিত রয়েছে মৌলিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞার রহস্য ও সূক্ষ্মতা(১)। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

প্রকৃতপক্ষে ইমাম সুয়ুতির অবস্থান থেকে এটি স্পষ্ট নয় যে, তিনি আবু আল-ফজল আল-মুরসিকে অনুসরণ করেছেন। সামগ্রিকভাবে, মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি আপনার নিকট কিতাবটি নাযিল করেছি সবকিছু স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার জন্য} [নাহল: ৮৯] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি} [আনআম: ৩৮]-এর অর্থের ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। আয়াত দুটি কি এমন সাধারণ (عام) যা তার সাধারণ অর্থেই বহাল রয়েছে, নাকি এমন সাধারণ (عام) যার দ্বারা বিশেষ (خاص) উদ্দেশ্য গ্রহণ করা হয়েছে? জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণ দ্বিতীয় মতটি পোষণ করেছেন। সেই অনুযায়ী এর উদ্দেশ্য হলো: কুরআন দ্বীনি বিষয়াবলির প্রতিটি বিষয়ের বর্ণনা, অথবা এমন বিষয়ের বর্ণনা যার জন্য শরীয়ত অবতীর্ণ হয়(২)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: পূর্বোক্ত উৎস (৭/২৫৩), এবং আল-ওয়াহবি রচিত 'মানহাজ আল-ইসতিনবাত মিন আল-কুরআন' (৭১)।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-ওয়াহবি রচিত 'মানহাজ আল-ইসতিনবাত মিন আল-কুরআন' (৬৮)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌مقدمة (1)

قال الغزالي وغيره: آيات الأحكام(2) خمسمائة آية(3)، وقال بعضهم مائة وخمسون(4)، وقيل لعل مرادهم المصرح به؛ فإن آيات القصص والأمثال وغيرها


 

(1) جاء في شرح مختصر الروضة للطوفي (1/ 113): المقدّمة: «مأخوذة من مقدّمة الجيش - بكسر الدّال- وهي أوّله، لم يحك الجوهري فيها غير الكسر، لكنه ذكر قادمتي الرّحل مقدمة - بفتح الدّال- وهي أوّله مما يلي وجه الرّاكب، وهي مقابلة آخر الرّحل.

وهذه المادة ترجع تراكيبها إلى معنى الأولية، فمقدمة الكتاب - أيضًا- أوّله، ويجوز فيها كسر الدّال على صيغة الفاعل، وفتحها على صيغة المفعول، وهي في الأصل صفة، ثم استعملوها اسمًا في كل ما وجد فيه التقديم نحو مقدمة الجيش والكتاب».

وكان جلُّ مقدمة السيوطي متعلقة بالأساليب الخبرية للأحكام الشرعية التكليفية الخمس: الواجب والمندوب والحرام والمكروه والمباح.

(2) ذكر السيوطي في الإكليل (1/ 282) المراد بآيات الأحكام: «كل ما استنبط من القرآن، أو استدل به عليه من مسائل فقهيّة، أو أصلية، أو اعتقادية»، والمراد بالأصلية: أصول الفقه.

(3) قد صرّح بذلك الغزالي في كتابه المستصفى، وكذا الرّازي، وابن قدامة، والإسنوي، وعبد العزيز البخاري، وغيرهم.

وذكر الزركشي أن سبب حصرهم آيات الأحكام بخمسمئة أية هي متابعتهم لمقاتل بن سليمان، حيث إنّه أوّل من أفرد آيات الأحكام في تصنيف وجعلها خمسمئة أية

ينظر: المستصفى (2/ 383) المحصول (6/ 23)، روضة الناظر (3/ 960)، نهاية السول (2/ 1036) كشف الأسرار (4/ 15)، البحر المحيط (6/ 199)

(4) لم ينسبها لأحد المصنف هنا، ولا في كتابه الإتقان، وكذا الزركشي في البرهان

ينظر: الإتقان (5/ 1928)، البرهان (3/ 402).
‌ভূমিকা (১)

ইমাম গাযালী এবং অন্যান্যরা বলেছেন: বিধিবিধান সম্বলিত আয়াতসমূহ (آيات الأحكام)(২) হলো পাঁচশত আয়াত(৩), এবং তাদের কেউ কেউ বলেছেন একশত পঞ্চাশটি(৪)। আর বলা হয়েছে, সম্ভবত তাদের উদ্দেশ্য হলো যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে; কেননা কিচ্ছা-কাহিনী, উপমা এবং অন্যান্য আয়াতসমূহ...


 

(১) তুফী রচিত শারহু মুখতাসারির রওযা (১/ ১১৩) গ্রন্থে এসেছে: মুকাদ্দিমা (المقدّمة): «এটি ‘মুকাদ্দিমাতুল জাইশ’ —দাল বর্ণে কাসরা যোগে— থেকে গৃহীত, যা সৈন্যবাহিনীর অগ্রভাগকে বোঝায়; আল-জাওহারী এতে কাসরা ব্যতীত অন্য কোনো উচ্চারণ বর্ণনা করেননি। তবে তিনি উটের জিনের অগ্রভাগকে মুকাদ্দিমাহ (مقدمة) —দাল বর্ণে ফাতহা যোগে— হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা আরোহীর মুখের দিকের অংশ এবং এটি জিনের শেষাংশের বিপরীত।

এই মূল ধাতুর শব্দগঠনগুলো মূলত ‘অগ্রবর্তিতা’ বা ‘শুরু’ হওয়ার অর্থের দিকে ফিরে যায়। সুতরাং কিতাবের মুকাদ্দিমাও তার শুরু। এতে দাল বর্ণে কাসরা দিয়ে কর্তৃবাচক রূপ (صيغة الفاعل) হিসেবে এবং ফাতহা দিয়ে কর্মবাচক রূপ (صيغة المفعول) হিসেবে পড়া বৈধ। এটি মূলত একটি গুণবাচক (صفة) শব্দ, পরবর্তীতে তারা একে নাম (اسم) হিসেবে ব্যবহার করেছেন এমন সব ক্ষেত্রে যেখানে অগ্রবর্তিতা পাওয়া যায়, যেমন সৈন্যবাহিনীর অগ্রভাগ এবং কিতাবের ভূমিকা।»

সুয়ূতী-র ভূমিকার অধিকাংশ অংশই পাঁচটি শরয়ি বিধানের বর্ণনামূলক পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট: ওয়াজিব (الواجب), মানদুব (المندوب), হারাম (الحرام), মাকরূহ (المكروه) এবং মুবাহ (المباح)।

(২) সুয়ূতী আল-ইকলীল (১/ ২৮২) গ্রন্থে বিধিবিধান সম্বলিত আয়াতসমূহ (آيات الأحكام) দ্বারা যা উদ্দেশ্য তা উল্লেখ করেছেন: «কুরআন থেকে যা কিছু উদ্ভাবন করা হয়েছে, অথবা যা দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে — চাই তা ফিকহ শাস্ত্রীয় মাসআলা হোক, অথবা উসূল সংক্রান্ত হোক, কিংবা আকিদাগত হোক», আর উসূল সংক্রান্ত বলতে উসূলুল ফিকহ বোঝানো হয়েছে।

(৩) ইমাম গাযালী তার আল-মুস্তাসফা কিতাবে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, অনুরূপভাবে রাযী, ইবনু কুদামা, আল-ইসনাবী, আব্দুল আযীয আল-বুখারী এবং অন্যান্যরা।

যারকাশী উল্লেখ করেছেন যে, তাদের বিধিবিধান সম্বলিত আয়াতসমূহ (آيات الأحكام) পাঁচশ আয়াতে সীমাবদ্ধ করার কারণ হলো মুকাতিল ইবনু সুলাইমানের অনুসরণ। কেননা তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি বিধিবিধান সম্বলিত আয়াতসমূহকে স্বতন্ত্রভাবে বিন্যস্ত করেছেন এবং সেগুলোকে পাঁচশ আয়াত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

দ্রষ্টব্য: আল-মুস্তাসফা (২/ ৩৮৩), আল-মাহসুল (৬/ ২৩), রওদাতুন নাযির (৩/ ৯৬০), নিহায়াতুস সুল (২/ ১০৩৬), কাশফুল আসরার (৪/ ১৫), আল-বাহরুল মুহিত (৬/ ১৯৯)।

(৪) গ্রন্থকার এখানে বা তার আল-ইতকান গ্রন্থে এই মতটি কারো দিকে সম্পর্কিত (نسبة) করেননি, অনুরূপভাবে যারকাশী আল-বুরহান গ্রন্থেও করেননি।

দ্রষ্টব্য: আল-ইতকান (৫/ ১৯২৮), আল-বুরহান (৩/ ৪০২)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ১১)
يستنبط منها(1) كثير من الأحكام(2).


 

(1) من أمثلة استنباط الأحكام من القصص ما ذكره السيوطي في هذا الكتاب من استحباب القيام للعالم ونحوه من قوله تعالى: {وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ} [البقرة: 34].

وهذا الحكم مستنبط من دلالة سياق الآيات، حيث إنّ النّظر في الآيات السابقة من موضع الشاهد تبين أن العلم هو الأمر الذّي فضِّل به آدم عليه السلام على الملائكة.

قال سبحانه: {وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (31) قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} [البقرة: 31 - 32]

قال ابن كثير رحمه الله في تفسيره (1/ 334): «هذا مقام ذكر الله تعالى فيه شرف آدم على الملائكة، بما اختصه من علم أسماء كل شيء دونهم، وهذا كان بعد سجودهم له».

وينبه هنا إلى أن القصة القرآنية تشمل أخبار الأنبياء وغير الأنبياء، والأخبار المستقبلية التي سيقت في سياق القصص، أمّا قصص الأنبياء وما ورد من شرائعهم فالأحكام المستنبطة منها كثيرة عند من يقول بأن شرع من قبلنا شرع لنا. وأما غيرها فقد يكون المأخذ إقرار الله سبحانه وتعالى وعدم إنكاره، مما يعلم من خلال سياق القصة على مشروعيته.

قال ابن القيم في زاد المعاد (3/ 135 - 136): «ما حكاه الله سبحانه في قصة يوسف من استدلال الشاهد بقرينة قدِّ القميص من دبر على صدقه، وكذب المرأة، وأنه كان هاربًا موليًا، فأدركته المرأة من ورائه فجبذته فقدَّت قميصه من دبر، فعلم بعلها والحاضرون صدقه وقبلوا هذا الحكم وجعلوا الذنب ذنبها، وأمروها بالتوبة وحكاه الله سبحانه وتعالى حكاية مقرر له غير منكر، والتأسي بذلك وأمثاله في إقرار الله له، وعدم إنكاره، لا في مجرد حكايته فإنه إذا أخبر به مقرًا عليه، ومثنيًا على فاعله ومادحًا له، دلَّ على رضاه به، وأنه موافق لحكمه ومرضاته، فليتدبر هذا الموضع، فإنه نافع جدًا».

(2) هناك أقوال أخر في الحصر لم يذكر أصحابها دليلًا على الحصر؛ لذا كان القول بعدم الحصر هو الأظهر.

قال الطوفي في شرح مختصر الروضة (3/ 415): «والصّحيح أن هذا التقدير غير معتبر، وأن مقدار أدلة الأحكام في ذلك غير منحصر، فإن أحكام الشرع كما تستنبط من الأوامر والنواهي؛ كذلك تستنبط من الأقاصيص والمواعظ ونحوها، فقلَّ آية من القرآن الكريم إلّا ويستنبط منها شيء من الأحكام وإذا أردت تحقيق هذا، فانظر إلى كتاب أدلة الأحكام للشيخ عز الدين بن عبد السلام، وكأن هؤلاء الذين حصروها في خمسمئة آية إنما نظروا إلى ما قصد منه بيان الحكم دون ما استفيدت منه، ولم يقصد به بيانها».

وقال القرافي في شرح التنقيح (476): «فلا تكاد تجد آية إلّا وفيها حكم، وحصرها في خمسمئة آية بعيد».
সেগুলো থেকে(১) বহু বিধান (أحكام)(২) আহরণ করা হয়।


 

(১) কাহিনী থেকে বিধান (أحكام) আহরণের একটি উদাহরণ হলো যা আস-সুয়ূতি এই গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; যেমন: আলেম ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদের জন্য সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ানো পছন্দনীয় (استحباب) হওয়া। এটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত: {আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, ‘তোমরা আদমের প্রতি সেজদা করো’, তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সেজদা করল; সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।} [সূরা আল-বাকারা: ৩৪]।

আর এই বিধানটি (حكم) আয়াতের প্রেক্ষাপটের ইঙ্গিত থেকে আহরিত হয়েছে, কারণ সাব্যস্ত বিষয়ের পূর্ববর্তী আয়াতগুলোতে লক্ষ্য করলে স্পষ্ট হয় যে, ইলম বা জ্ঞানই ছিল সেই বিষয় যার মাধ্যমে আদম আলাইহিস সালামকে ফেরেশতাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা হয়েছিল।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, ‘তোমরা আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’। তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই; নিশ্চয় আপনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়’।} [সূরা আল-বাকারা: ৩১-৩২]

ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর তাফসিরে (১/ ৩৩৪) বলেন: «এটি এমন এক স্থান যেখানে মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের ওপর আদমের শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করেছেন; কারণ তিনি তাঁকে তাদের পরিবর্তে সকল বস্তুর নাম শেখানোর মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছিলেন। আর এটি ছিল তাঁর প্রতি তাদের সেজদা করার পরের ঘটনা।»

এখানে লক্ষণীয় যে, কুরআনের কাহিনীসমূহের মধ্যে নবীগণের এবং নবী ছাড়া অন্যদের সংবাদ এবং কাহিনীর প্রেক্ষাপটে বর্ণিত ভবিষ্যৎ সংবাদসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নবীগণের কাহিনী এবং তাঁদের শরিয়ত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো থেকে আহরিত বিধান (أحكام) তাঁদের নিকট অনেক যারা মনে করেন যে, ‘আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়ত আমাদের জন্যও শরিয়ত’। আর অন্যান্য কাহিনীর ক্ষেত্রে বিধান গ্রহণের ভিত্তি হতে পারে মহান আল্লাহর সমর্থন এবং তা প্রত্যাখ্যান না করা, যা কাহিনীর প্রেক্ষাপট থেকে এর বৈধতা সম্পর্কে জানা যায়।

ইবনুল কাইয়্যিম জাদুল মাআদ-এ (৩/ ১৩৫-১৩৬) বলেন: «ইউসুফ আলাইহিস সালামের কাহিনীতে মহান আল্লাহ যা বর্ণনা করেছেন—তা হলো পেছন থেকে জামা ছেঁড়া থাকার নমুনাকে সাক্ষীর পক্ষ থেকে ইউসুফ (আ.)-এর সত্যবাদিতা এবং মহিলার মিথ্যাচারের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা। কারণ তিনি পলায়নপর ছিলেন আর মহিলাটি পেছন থেকে তাঁকে ধরে ফেলেছিল এবং তাঁর জামা পেছন থেকে ছিঁড়ে ফেলেছিল। ফলে তাঁর স্বামী ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ তাঁর সত্যবাদিতা বুঝতে পেরেছিলেন এবং এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। তারা অপরাধটি মহিলার বলে সাব্যস্ত করেছিলেন এবং তাকে তওবা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কাহিনীটি এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যা একে সমর্থন করে এবং এর প্রতিবাদ করেননি। এর অনুসরণ এবং অনুরূপ বিষয়গুলোতে আল্লাহর সমর্থন ও তা প্রত্যাখ্যান না করাই মূল ভিত্তি, কেবল বর্ণনাই উদ্দেশ্য নয়। কেননা যখন তিনি কোনো বিষয় সমর্থনসহকারে বর্ণনা করেন এবং এর কর্তার প্রশংসা ও গুণগান করেন, তখন তা তাঁর সন্তুষ্টির প্রমাণ দেয় এবং এটি তাঁর বিধান ও সন্তুষ্টির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং এই বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত, কারণ এটি অত্যন্ত উপকারী।»

(২) বিধানের আয়াত সীমাবদ্ধ করার ব্যাপারে অন্যান্য মতামত রয়েছে যেগুলোর প্রবক্তারা কোনো দলিল পেশ করেননি; তাই সীমাবদ্ধ না থাকাই অধিকতর স্পষ্ট (الأظهر) মত।

আত-তুফি শারহু মুখতাসারির রওজা-তে (৩/ ৪১৫) বলেন: «সঠিক (الصحيح) কথা হলো এই সংখ্যা নির্ধারণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিধানের (أحكام) দলিলসমূহের পরিমাণ সীমাবদ্ধ নয়। কেননা শরিয়তের বিধান (أحكام) যেমন আদেশ ও নিষেধ থেকে আহরণ করা হয়, তেমনি কাহিনী ও উপদেশমূলক বর্ণনা থেকেও আহরিত হয়। সুতরাং কুরআন মাজিদের এমন কোনো আয়াত নেই বললেই চলে যেখান থেকে কোনো না কোনো বিধান (أحكام) আহরিত হয় না। আপনি যদি এর বাস্তবতা দেখতে চান, তবে শায়খ ইযযুদ্দিন বিন আব্দুস সালামের আদিল্লাতুল আহকাম কিতাবটি দেখুন। যারা একে পাঁচশত আয়াতে সীমাবদ্ধ করেছেন, তারা কেবল সেই আয়াতগুলোর দিকে লক্ষ্য করেছেন যেখানে সরাসরি বিধান (حكم) বর্ণনা করা উদ্দেশ্য ছিল, আর যেখান থেকে বিধান আহরণ করা যায় কিন্তু সরাসরি বর্ণনা উদ্দেশ্য ছিল না সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য করেননি।»

আর আল-কারাফি শারহুত তানকিহ-তে (৪৭۶) বলেন: «আপনি খুব কম আয়াতই পাবেন যেখানে কোনো বিধান (حكم) নেই, তাই একে পাঁচশত আয়াতে সীমাবদ্ধ করা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে।»
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ১২)
قال الشيخ عز الدين بن عبد السلام في كتاب الإمام: إنما ضرب الله الأمثال(1) في كتابه تذكيراً ووعظاً(2) فما اشتمل منها على تفاوت في ثواب أو على إحباط عمل أو على مدح أو ذم أو نحوه فإنه يدل على الأحكام، ثم قال: ومعظم أي القرآن لا تخلو عن أحكام مشتملة على آداب حسنة وأخلاق جميلة(3).


 

(1) أمثال القرآن قسمان -كما يقول السيوطي في الإتقان- ظاهر مصرح بلفظ المثل كقوله: {مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا} [البقرة: 17] وكامن لا ذكر للمثل فيه.

ومن أمثلة الأمثال المستنبط منها أحكام شرعية، وهي من القسم الأول، قوله تعالى: {ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا عَبْدًا مَمْلُوكًا لَا يَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ} [النحل: 75]

قال السيوطي في هذا الكتاب الإكليل (2/ 905): «استدل به الشافعي على أن العبد لا يملك. واستدل به من قال: إنّه لا يملك الطّلاق أيضا، وأن طلاقه بيد سيده، أخرج ابن أبي حاتم عن ابن عباس: [ليس للعبد طلاق إلا بإذن سيده وقرأ هذه الآية]»

ووجه الاستنباط: أن كلمة (شيء) نكرة في سياق النفي، فتعمّ كل شيء: المال والطلاق.

ومن أمثلة استنباط الحكم من الأمثال الكامنة، قوله تعالى: {وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا} [الفرقان: 67]

ذكره السيوطي في الإتقان (5/ 1936). من أمثال العرب وقولهم: [خير الأمور أوساطها]

وقال في الإكليل (3/ 1057): «فيه ذم الإسراف والإقتار في النفقة ومدح التوسط».

(2) نقل المصنف عن العزّ بعض مقاصد القرآن من ضرب الأمثال، وهي الوعظ والتّذكير. وذكر في الإتقان (5/ 1933 - 1934) مقاصد أخرى.

والوعظ والعظة والموعظة هو: النصح والتذكير بالعواقب، ونقل ابن منظور عن ابن سيدة قوله: «هو تذكيرك للإنسان بما يلين قبله من ثواب وعقاب» كما في لسان العرب (7/ 466).

وقال الراغب الأصفهاني في معجم ألفاظ القرآن (564): «الوعظ: زجر مقترن بتخويف. قال الخليل: هو التذكير بالخير فيما يرق له القلب».

فالوعظ في الأصل هو التّذكير بالعواقب سواء بالتّرغيب أو التّرهيب.

والتّرغيب بالفعل من خاصية الواجب والمندوب، والترهيب من خاصية المحرم في جانب الفعل، أو الواجب في جانب الترك، فدلالة التذكير والوعظ على الأحكام ظاهرة.

(3) ختم العزّ كتابه العظيم (الإمام في بيان أدلة الأحكام) بهذه العبارات بعد أن فصَّل في الأساليب الشّرعيّة الدّالة على الأحكام، وقال بعدها (284): «جعلها الله نصائح لخلقة مقربات إليه مزلفات لديه، رحمة لعباده، فطوبى لمن تأدب بآداب القرآن،، وتخلق بأخلاقه الجامعة لخير الدنيا والآخرة».
শেখ عز الدين بن عبد السلام (ইজ্জুদ্দীন বিন আবদুস সালাম) 'আল-ইমাম' গ্রন্থে বলেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে উপদেশ ও নসিহত স্বরূপ দৃষ্টান্তসমূহ পেশ করেছেন(১)। সুতরাং সেগুলোর মধ্যে যা সওয়াবের তারতম্য বা আমল বাতিল হওয়া কিংবা প্রশংসা বা নিন্দা অথবা অনুরূপ কিছুর অন্তর্ভুক্ত, তা বিধানসমূহের (আহকাম) ওপর নির্দেশ করে। এরপর তিনি বলেন: আর কুরআনের অধিকাংশ অংশই উত্তম আদব এবং সুন্দর চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত বিধানসমূহ (আহকাম) থেকে মুক্ত নয়(৩)।


 

(১) কুরআনের দৃষ্টান্তসমূহ দুই প্রকার—যেমন সুয়ূতী 'আল-ইতকান' গ্রন্থে বলেছেন—প্রকাশ্য, যাতে 'মাসাল' (দৃষ্টান্ত) শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালিয়েছে} [আল-বাকারা: ১৭]। আর অন্যটি হলো প্রচ্ছন্ন, যাতে দৃষ্টান্ত শব্দের কোনো উল্লেখ নেই।

দৃষ্টান্তের এমন উদাহরণ যা থেকে শরয়ী বিধানসমূহ (আহকাম) উদ্ভূত হয়েছে এবং যা প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন এক মালিকানাধীন দাসের, যে কোনো কিছুর ওপর ক্ষমতা রাখে না} [আন-নাহল: ৭৫]।

সুয়ূতী তাঁর এই 'আল-ইকলীল' গ্রন্থে (২/৯০৫) বলেন: «ইমাম শাফেয়ী এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, দাস কোনো কিছুর মালিক হয় না। আর যারা বলেন যে দাস তালাকেরও মালিক নয় বরং তার তালাক তার মনিবের হাতে, তারাও এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: [মনিবের অনুমতি ব্যতীত দাসের কোনো তালাক নেই এবং তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন]»।

উদ্ভূতকরণের পদ্ধতি (ওয়াজহু আল-ইস্তিনবাত) হলো: 'শাইউন' (شيء) শব্দটি না-বোধক বাক্যে অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) হিসেবে এসেছে, ফলে তা সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে: সম্পদ ও তালাক।

প্রচ্ছন্ন দৃষ্টান্ত থেকে বিধান (হুকুম) উদ্ভূত হওয়ার একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যারা ব্যয় করার সময় অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না, বরং তাদের ব্যয় এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে} [আল-ফারকান: ৬৭]।

সুয়ূতী এটি 'আল-ইতকান' (৫/১৯৩৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এটি আরবদের প্রবাদ [সর্বোত্তম কাজ হলো মধ্যপন্থা অবলম্বন করা]-এর অন্তর্ভুক্ত।

এবং তিনি 'আল-ইকলীল' (৩/১০৫৭) গ্রন্থে বলেন: «এতে ব্যয় করার ক্ষেত্রে অপব্যয় ও কার্পণ্যের নিন্দা এবং মধ্যপন্থা অবলম্বনের প্রশংসা করা হয়েছে»।

(২) লেখক আল-ইজ্জ থেকে কুরআন কর্তৃক দৃষ্টান্ত পেশ করার কিছু উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন, যা হলো নসিহত ও উপদেশ। 'আল-ইতকান' (৫/১৯৩৩ - ১৯৩৪) গ্রন্থে তিনি আরও কিছু উদ্দেশ্য উল্লেখ করেছেন।

আর 'ওয়াজ' (উপদেশ), 'ইজাহ' ও 'মাওিজাহ' হলো: নসিহত এবং পরিণাম সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। ইবনে মনজুর ইবনে সীদাহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন: «এটি হলো মানুষকে এমন বিষয়ের মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া যা তার হৃদয়কে সওয়াব ও শাস্তির কথা স্মরণের মাধ্যমে নরম করে» যেমনটি 'লিসানুল আরব' (৭/৪৬৬) গ্রন্থে রয়েছে।

রাগিব আল-ইসফাহানী 'মুজামু আলফাযিল কুরআন' (৫৬৪) গ্রন্থে বলেন: «ওয়াজ হলো: ভীতি প্রদর্শনের সাথে সম্পৃক্ত কোনো কাজ থেকে বারণ করা। খলীল বলেন: এটি হলো হৃদয়ে প্রভাব ফেলে এমন কল্যাণকর বিষয়ের মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া»।

সুতরাং মূলত 'ওয়াজ' হলো পরিণাম সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া, চাই তা উৎসাহ প্রদানের (তারগীব) মাধ্যমে হোক কিংবা ভীতি প্রদর্শনের (তারহীব) মাধ্যমে।

আর কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান করা ওয়াজিব (আবশ্যক) এবং মানদুব (পছন্দনীয়) বিষয়ের বৈশিষ্ট্য, আর ভীতি প্রদর্শন করা কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে হারামের (নিষিদ্ধ) বৈশিষ্ট্য অথবা কোনো কাজ বর্জনের ক্ষেত্রে ওয়াজিবের বৈশিষ্ট্য। অতএব, বিধানসমূহের (আহকাম) ওপর উপদেশ ও নসিহতের নির্দেশ সুস্পষ্ট।

(৩) আল-ইজ্জ তাঁর মহান গ্রন্থ 'আল-ইমাম ফি বায়ানি আদিল্লাতিল আহকাম'-কে এই বক্তব্যের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন, যেখানে তিনি বিধানের ওপর নির্দেশকারী শরয়ী পদ্ধতিসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন (২৮৪): «আল্লাহ এগুলোকে তাঁর সৃষ্টির জন্য নসিহত, তাঁর নৈকট্য লাভের উপায় এবং তাঁর নিকট মর্যাদাবান হওয়ার মাধ্যম ও বান্দাদের জন্য রহমত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং ধন্য সেই ব্যক্তি যে কুরআনের আদব গ্রহণ করে এবং কুরআনের সামগ্রিক চরিত্রে চরিত্রবান হয়, যা দুনিয়া ও আখেরাতের সকল কল্যাণকে শামিল করে»।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثم من الآيات ما صُرِّح فيه بالأحكام(1)، ومنها: ما يؤخذ بطريق الاستنباط(2) إما بلا ضمٍّ إلى آية أخرى كاستنباط تحريم الاستمناء من قوله: {إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ} إلى قوله: {فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ} [المؤمنون: 7](3)، وصحة أنكحة الكفار، من قوله: {وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ} [المسد: 4](4)، وصحة صوم الجنب من قوله: {فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ} إلى قوله: {حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ} [البقرة: 187] الآية(5).


 

(1) وهذا هو أكثر ما في القرآن، وسيأتي تفصيل ذلك عند قول المصنف: «قال الشيخ عزّ الدّين: ويستدل على الأحكام تارة بالصيغة وهو ظاهر … إلى آخر المقدمة.

(2) أي يكون فيه شيء من الخفاء، والاستنباط هو: استخراج ما خفي المراد به من اللفظ، كما يقول العلماء.

أو: استخراج الأمر الذّي من شأنه أن يخفى على غير المستنبط.

تهذيب الأسماء واللغات للنووي (4/ 158)، إعلام الموقعين لابن القيم (1/ 172) منهج الاستنباط من القرآن للوهبي (35)

(3) قال السيوطي في هذا الكتاب الإكليل (3/ 1000): «واستدل به مالك والشافعي أيضًا على تحريم الاستمناء باليد». ووجه الاستنباط: أنّه لما حصر الله تعالى إباحة الاستمتاع في الزوجة وملك اليمين، دلّ ذلك على حرمة الاستمناء باليد؛ لخروجه عن هذين القسمين، وذلك بناء على مفهوم الحصر بالاستثناء. ينظر: منهج الاستنباط من القرآن للوهبي (125).

(4) قال السيوطي في الإكليل (3/ 1353): «قوله: {وَامْرَأَتُهُ} استدل به الشافعي على صحة أنكحة الكفار».

ووجه الاستنباط: أن الله سبحانه وتعالى أضاف النساء إليهم، وحقيقة الإضافة تقتضي زوجية صحيحة، والأصل في الإطلاق الحقيقة. ينظر: حاشية (5) منهج الاستنباط من القرآن للوهبي (126).

(5) قال السيوطي في الإكليل (1/ 359): «واستدل به على صحة صوم الجنب؛ لأنّه يلزم من إباحة الجماع إلى تبين الفجر إباحته في آخر جزء من أجزاء الليل، ويلزم من ذلك بطريق الإشارة طلوع الفجر وهو جنب».

وذكر السيوطي في كلامه السّابق بناء المسألة على أصلين ومأخذين:

الأول: دلالة الغاية في قوله: {حَتَّى يَتَبَيَّنَ} أي: جواز المباشرة إلى التبين، ومفهوم هذه الدلالة عدم وجوب الاغتسال عليه قبل الفجر؛ لأنّه إذا كانت المباشرة مأذونًا فيها إلى الفجر لم يمكنه الاغتسال إلّا بعد الفجر.

الثاني: دلالة الإشارة؛ فإنّه يلزم من تأخير الجماع إلى تبين الفجر، أنّه لا يغتسل إلّا بعد طلوع الفجر.

وقول السيوطي: «ويلزم من ذلك بطريق الإشارة» بيان لوجه هذه الدلالة كونها تدل على المعنى من جهة اللزوم العقلي.

ودلالة الإشارة هي: دلالة اللفظ على معنى ليس مقصودًا باللفظ في الأصل، ولكنه لازم للمقصود، فكأنه مقصود بالتّبع لا بالأصل. ينظر: مذكرة أصول الفقه للشنقيطي (236).
অতঃপর আয়াতের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যাতে বিধানসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে(১), আর কিছু রয়েছে যা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (الاستنباط)(২) মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়; যা হতে পারে অন্য কোনো আয়াতের সাথে সংযুক্ত না করেই, যেমন হস্থমৈথুন হারাম হওয়ার বিষয়টি গবেষণা করে বের করা আল্লাহর এই বাণী থেকে: "তবে তাদের স্ত্রী অথবা তাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে ব্যতীত..." থেকে "সুতরাং যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করবে তারাই হবে সীমালঙ্ঘনকারী" পর্যন্ত [আল-মুমিনুন: ৭](৩)। এছাড়া অমুসলিমদের বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা প্রমাণিত হওয়া আল্লাহর এই বাণী থেকে: "এবং তার স্ত্রীও, যে কাষ্ঠ বহনকারিনী" [আল-মাসাদ: ৪](৪)। আর জুনুবি (নাপাকি) অবস্থায় রোজা রাখা বৈধ হওয়া প্রমাণিত হওয়া আল্লাহর এই বাণী থেকে: "অতএব এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো..." থেকে "যতক্ষণ না তোমাদের কাছে সাদা সুতা স্পষ্ট হয়..." পর্যন্ত [আল-বাকারা: ১৮৭] আয়াত(৫)।


 

(১) কুরআনের অধিকাংশ আয়াতই এমন, আর এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা গ্রন্থকারের এই বক্তব্যের সময় আসবে: "শায়খ ইযযুদ্দীন বলেছেন: বিধানসমূহের ক্ষেত্রে কখনও শব্দের গঠনের (الصيغة) মাধ্যমে দলীল গ্রহণ করা হয় এবং তা সুস্পষ্ট..." ভূমিকার শেষ পর্যন্ত।

(২) অর্থাৎ যাতে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকে। আর গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (الاستنباط) হলো: শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ যা অস্পষ্ট তা বের করে আনা, যেমনটি উলামায়ে কেরাম বলেন।

অথবা: এমন বিষয় বের করা যা সাধারণত গবেষক ব্যতীত অন্যের কাছে অস্পষ্ট থাকে।

তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত, নববী (৪/১৫৮); ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, ইবনুল কায়্যিম (১/১৭২); মানহাজুল ইস্তিম্বাত মিনাল কুরআন, ওয়াহাবি (৩৫)।

(৩) সুয়ূতী এই কিতাব আল-ইকলীল (৩/১০০০)-এ বলেছেন: "মালিক এবং শাফিঈও হস্তমৈথুন হারাম হওয়ার বিষয়ে এর দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।" গবেষণার প্রেক্ষিত (وجه الاستنباط) হলো: যেহেতু আল্লাহ তাআলা উপভোগের বৈধতাকে স্ত্রী ও দাসীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, তা হস্তমৈথুন হারাম হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে; কারণ তা এই দুই প্রকারের বহির্ভূত। আর এটি ইস্তিসনা বা ব্যতিক্রমের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করার মর্মার্থের (مفهوم الحصر بالاستثناء) ওপর ভিত্তি করে। দ্রষ্টব্য: মানহাজুল ইস্তিম্বাত মিনাল কুরআন, ওয়াহাবি (১২৫)।

(৪) সুয়ূতী আল-ইকলীল (৩/১৩৫৩)-এ বলেছেন: "তাঁর বাণী: {এবং তার স্ত্রী}, শাফিঈ এর মাধ্যমে অমুসলিমদের বিবাহের বৈধতার ওপর দলীল পেশ করেছেন।"

গবেষণার প্রেক্ষিত (وجه الاستنباط) হলো: মহান আল্লাহ নারীদের তাদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, আর সম্বন্ধের প্রকৃত দাবি (حقيقة الإضافة) হলো বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক, আর কোনো শব্দের সাধারণ প্রয়োগে তার প্রকৃত অর্থই মূল (الأصل في الإطلاق الحقيقة)। দ্রষ্টব্য: টীকা (৫), মানহাজুল ইস্তিম্বাত মিনাল কুরআন, ওয়াহাবি (১২৬)।

(৫) সুয়ূতী আল-ইকলীল (১/৩৫৯)-এ বলেছেন: "জুনুবি বা নাপাকি অবস্থায় রোজা শুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে এর দ্বারা দলীল পেশ করা হয়েছে; কারণ ফজর স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত সহবাস বৈধ হওয়ার আবশ্যিক ফলাফল হলো রাতের শেষাংশ পর্যন্ত তা বৈধ হওয়া, আর এর মাধ্যমে পরোক্ষ ইঙ্গিত পদ্ধতিতে (طريق الإشارة) এটি প্রমাণিত হয় যে, ফজর উদিত হওয়ার সময় সে নাপাক অবস্থায় থাকবে।"

সুয়ূতী তাঁর পূর্বোক্ত আলোচনায় মাসআলাটিকে দুটি মূলনীতি ও উৎসের ওপর ভিত্তি করেছেন:

প্রথমত: তাঁর বাণী {যতক্ষণ না স্পষ্ট হয়}-এর মধ্যে সীমার নির্দেশনা (دلالة الغاية); অর্থাৎ ফজর স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত সহবাস জায়েজ হওয়া। এই নির্দেশনার মর্মার্থ (مفهوم الدلالة) হলো ফজরের আগে গোসল করা ওয়াজিব না হওয়া; কারণ যদি ফজর পর্যন্ত সহবাসের অনুমতি থাকে, তবে ফজরের পরেই কেবল গোসল করা সম্ভব।

দ্বিতীয়ত: পরোক্ষ নির্দেশ (دلالة الإشارة); কারণ ফজর স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত সহবাস বিলম্বিত করার অর্থই হলো ফজর হওয়ার পরেই সে গোসল করবে।

সুয়ূতীর বক্তব্য: "এবং এর মাধ্যমে পরোক্ষ ইঙ্গিত পদ্ধতিতে প্রমাণিত হয়" এটি এই নির্দেশনার ধরণ (وجه الدلالة) পরিষ্কার করার জন্য যে, এটি বুদ্ধিবৃত্তিক অনিবার্যতার (اللزوم العقلي) দিক থেকে অর্থ প্রকাশ করে।

আর পরোক্ষ নির্দেশ (دلالة الإشارة) হলো: শব্দের এমন অর্থের ওপর নির্দেশনা যা মূলত শব্দের মূল উদ্দেশ্য নয়, কিন্তু উদ্দিষ্ট বিষয়ের সাথে অনিবার্যভাবে যুক্ত, ফলে তা মূলগতভাবে না হলেও আনুষঙ্গিকভাবে উদ্দেশ্য বলে গণ্য হয়। দ্রষ্টব্য: মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ, শানকিতী (২৩৬)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ১৪)
وإما به(1) كاستنباط أن أقل الحمل ستة أشهر من قوله: {وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا} [الأحقاف: 15] مع قوله: {وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ} [لقمان: 14](2).

قال الشيخ عز الدين: ويستدل على الأحكام تارة بالصيغة وهو ظاهر(3)،


 

(1) أي: بضم أية أخرى، وتسمى عند بعض العلماء ب دلالة التركيب، وهي داخلة في دلالة الإشارة.

ينظر: منهج الاستنباط من القرآن للوهبي (132، 351).

(2) قال السيوطي في الإكليل (3/ 1181): «قوله تعالى: {وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا} استدل به علي بن أبي طالب على أن أقل مدة الحمل ستة أشهر مع قوله: {وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ}»، ثم ذكر قصة هذا الاستنباط.

ووجه الاستنباط: أن الله تعالى بيَّن في أية البقرة مدة الرضاع حولين كاملين، وهي أربعة وعشرين شهرًا، وبيَّن في أية الأحقاف مدّة الحمل والفصال ثلاثين شهرًا؛ فإذا أخذ منها مدّة الفصال بقي للحمل ستة أشهر. ينظر: منهج الاستنباط من القرآن للوهبي (134).

(3) ظهور ذلك يمكن تقريبه فيما يلي:

أولًا: الأحكام الشّرعيّة التّكليفية هي: الوجوب والندب والإباحة، والتحريم والكراهة.

ثانيا: هذه الأحكام مطلوبة من الشارع، إمّا طلب فعل أو طلب ترك، وقد يستوي فيها الفعل أو الترك، والأخير هو المباح، على خلاف في دخوله في مسمى الحكم التكليفي.

أمّا طلب الفعل فهو: إمّا أن يكون طلبًا جازمًا وهو الواجب، أو طلبًا غير جازم وهو النّدب.

وطلب الترك: إمّا أن يكون طلب ترك جازم وهو المحرم، أو غير جازم وهو المكروه.

وطلب الفعل هو الأمر به، وصيغته صيغة الأمر، وهي: (افعل) للحاضر، والفعل المضارع المجزوم بلام الأمر (لتفعل) للغائب، واسم الفعل، والمصدر، وهذه الصيغ عند الإطلاق تحمل على الوجوب، وقد تصرف من الوجوب إلى النّدب أو الإباحة بصارف من الصوارف، والصوارف متعددة.

وطلب الترك هو النهي، وهو عند الإطلاق يحمل على التحريم، وقد يصرف من التحريم إلى الكراهة، وصيغته: الفعل المضارع المجزوم بلا الناهيّة (لا تفعل).

وعليه: فقد يستدل على الوجوب والندب والإباحة بإحدى صيغ الأمر الأربعة، وقد يستدل على التّحريم والكراهة بصيغة النهي (لا تفعل) وهذا ما أشار إليه المصنف نقلًا عن العزّ بقوله: «ويستدل على الأحكام تارة بالصيغة» وانظر: الإمام في بيان أدلة الأحكام (79).
অথবা এর মাধ্যমে(১); যেমন গর্ভধারণের সর্বনিম্ন মেয়াদ ছয় মাস হওয়া ইস্তিনবাত (استنباط) করা; আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {এবং তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার দুধ ছাড়াতে লাগে ত্রিশ মাস} [আল-আহকাফ: ১৫] এবং তাঁর অন্য বাণী: {এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে} [লুকমান: ১৪]-এর সমন্বয়ে।(২)

শায়খ ইযযুদ্দিন বলেন: কখনো কখনো আহকাম বা বিধানসমূহের স্বপক্ষে সিগাহ (صيغة) বা শব্দরূপের মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয়, যা অত্যন্ত স্পষ্ট।(৩)


 

(১) অর্থাৎ: অন্য একটি আয়াতকে সাথে মিলিয়ে; কোনো কোনো আলিমের নিকট একে দিলালাতুত তারকিব (دلالة التركيب) বলা হয় এবং এটি দিলালাতুল ইশারা (دلالة الإشارة)-এর অন্তর্ভুক্ত।

দেখুন: আল-ওয়াহবি রচিত মানহাজুল ইস্তিনবাত মিনাল কুরআন (১৩২, ৩৫১)।

(২) আস-সুয়ূতী আল-ইকলীল (৩/১১৮১) গ্রন্থে বলেন: "আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার দুধ ছাড়াতে লাগে ত্রিশ মাস}—এর মাধ্যমে আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) গর্ভধারণের সর্বনিম্ন মেয়াদ ছয় মাস হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন, যখন একে {এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে} বাণীর সাথে মিলিয়ে দেখা হয়।" এরপর তিনি এই ইস্তিনবাত (استنباط)-এর ঘটনাটি উল্লেখ করেন।

ইস্তিনবাত (استنباط)-এর পদ্ধতিটি হলো: আল্লাহ তাআলা সূরা বাকারার আয়াতে দুধ পান করানোর পূর্ণ সময়কাল দুই বছর (حولين كاملين) বর্ণনা করেছেন, যা চব্বিশ মাস। আর সূরা আল-আহকাফের আয়াতে গর্ভধারণ ও দুধ ছাড়ানোর মোট সময়কাল ত্রিশ মাস বর্ণনা করেছেন। সুতরাং তা থেকে যদি দুধ ছাড়ানোর সময়কাল বাদ দেওয়া হয়, তবে গর্ভধারণের জন্য বাকি থাকে ছয় মাস। দেখুন: মানহাজুল ইস্তিনবাত মিনাল কুরআন (১৩৪)।

(৩) বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কারণ নিম্নোক্ত আলোচনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা যায়:

প্রথমত: শরয়ী হুকুম তাকলিফী (حكم تكليفي) গুলো হলো: আবশ্যক (وجوب), পছন্দনীয় (ندب), বৈধ (إباحة), নিষিদ্ধ (تحريم) এবং অপছন্দনীয় (كراهة)।

দ্বিতীয়ত: এই বিধানগুলো শারি' (বিধানদাতা) কর্তৃক তলবকৃত; যা হয় কোনো কাজ করার তলব অথবা বর্জন করার তলব। কখনো কখনো এতে করা বা বর্জন করা সমান হতে পারে, আর এটিই হলো বৈধ (مباح); যদিও হুকুম তাকলিফী (حكم تكليفي)-এর নামকরণে এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

কাজ করার তলব বা আহ্বান হয় সুদৃঢ় তলব—যা হলো আবশ্যক (واجب), অথবা অ-সুদৃঢ় তলব—যা হলো পছন্দনীয় (ندب)।

বর্জন করার তলব হয় সুদৃঢ় বর্জন করার তলব—যা হলো নিষিদ্ধ (محرم), অথবা অ-সুদৃঢ় তলব—যা হলো অপছন্দনীয় (مكروه)।

কাজ করার তলবই হলো 'আমর' বা আদেশ, এবং এর রূপ হলো আমরের সিগাহ (صيغة الأمر)। যথা: উপস্থিত ব্যক্তির জন্য 'ইফ্'আল' (افعل), অনুপস্থিতের জন্য লাম-এ-আমর যুক্ত মুজারে 'লি-তাফ'আল' (لتفعل), ইসমুল ফাউল এবং মাসদার। এই সিগাহগুলো সাধারণভাবে আবশ্যক (وجوب) অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (সারিফ) কারণে তা ওয়াজিব থেকে পছন্দনীয় (ندب) বা বৈধ (إباحة) অর্থের দিকে পরিবর্তিত হতে পারে। এমন পরিবর্তনকারী প্রমাণ অনেক রয়েছে।

বর্জন করার তলব হলো 'নাহি' বা নিষেধ, যা সাধারণভাবে নিষিদ্ধ (تحريم) অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে কখনো তা নিষিদ্ধ থেকে অপছন্দনীয় (كراهة) অর্থের দিকে পরিবর্তিত হতে পারে। এর সিগাহ হলো: লা-এ-নাহিয়াহ যুক্ত মুজারে (لا تفعل)।

তদনুসারে: আবশ্যক (وجوب), পছন্দনীয় (ندব) এবং বৈধ (إباحة)-এর স্বপক্ষে আমরের চারটি সিগাহর যেকোনোটি দ্বারা দলিল পেশ করা যেতে পারে। আবার নিষিদ্ধ (تحريم) ও অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার বিষয়ে নাহির সিগাহ (لا تفعل) দ্বারা দলিল পেশ করা হতে পারে। আর এটিই গ্রন্থকার আল-ইয-এর উক্তি থেকে উদ্ধৃত করে ইঙ্গিত করেছেন: "কখনো কখনো সিগাহ দ্বারা বিধানের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়"। আরও দেখুন: আল-ইমাম ফী বয়ানি আদিল্লাতিল আহকাম (৭৯)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ১৫)
وتارة بالإخبار مثل {أُحِلَّ لَكُمْ} [المائدة: 96]، {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ} [المائدة: 3]، و {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ} [البقرة: 183](1)، وتارة بما رتب عليها في العاجل أو الآجل من خير أو شر أو نفع أو ضر(2).


 

(1) أي: وتارة يستدل على الأحكام بأسلوب الإخبار عن الحكم، كالحل والحرمة، والكتب، أي: الفرض.

(2) وهذا أيضًا يدخل في الأسلوب الخبري، إلّا أنّه مختص بذكر خاصة من خواص الحكم، كذكره خاصة الواجب، وهو الوعيد على الترك، وذلك بالتّرهيب، أو بذكر ما يترتب عليه في العاجل أو الأجل من شر حال التّرك، أو خير حال الفعل، ويشترك المندوب معه في الخير حال الفعل.

ويمكن تقسيم الأساليب الخبرية الدّالة على الحكم إلى ثلاثة أقسام:

القسم الأول: أسلوب الإخبار عن حكم الشارع: وفيه يخبر المولى سبحانه وتعالى عن الحكم إما بلفظ صريح، أو ظاهر، والأحكام التكليفية خمسة، ولكل حكم ألفاظ أخبر بها الشارع، وبيان ذلك:

أولاً: الإخبار عن حكم الشارع المقتضي للوجوب.

1. إثبات الحكم بلفظ الفرض وما تصرف منه: ومن أمثلته:

قوله تعالى: {قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ فِي أَزْوَاجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ} [الأحزاب: 50]، أي: ما فرضنا عليهم التزامه من الأحكام المتعلقة بالزوجات، والإماء، مثل عدم الزيادة على أربع نسوة، وعدم الزواج إلا بِوَلِيّ وشهود، أو أن تكون المرأة الموطوءة بملك اليمين مسلمة أو كتابية، وأن تستبرأ قبل الوطء، فهذه جملة من الأحكام التي فرضها الله على المؤمنين، فيجب التزامها.

وقوله تعالى بعد أن بين مصارف الزكاة والصدقات: {فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} [التوبة: 60]، والتقدير: «فرض الله هذه الأشياء فريضة».

2. إثبات الحكم بلفظ الكتب وما تصرف منه، فقد ورد بلفظ «كتب" ومن أمثلته قوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ} [البقرة: 183]، وقوله: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ} [البقرة: 216]، وورد بلفظ «كتاب" ومن أمثلته: قوله تعالى {وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ} [النساء: 24] أي: الزموا ما كتب الله عليكم، أي: فرضه. ومثله قوله تعالى: {كِتَابًا مَوْقُوتًا} [النساء: 103] أي: واجبًاً مفروضاً مؤقتًا وقّته الله عليهم.

3. إثبات الحكم بلفظ الأمر وما يتصرف منه، ومن أمثلته: {أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} [يوسف: 40] وقوله: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا} [النساء: 58]، وقوله: {يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ} [النساء: 60].

4. إثبات الحكم بلفظ «قضى» ومن أمثلته: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا} [الإسراء: 23].

5. إثبات الحكم بلفظ «وصى» وما تصرف منه، ومن ذلك قوله تعالى: {وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا} [العنكبوت: 8]، وقوله تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ} [النساء: 11]، وقوله في آية المواريث: {وَصِيَّةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ} [النساء: 12].

6. الدلالة على الحكم بلفظ (على) ملفوظًا، أو مقدّرًا، ومن ذلك قوله تعالى في آية الصيام: {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ} [البقرة: 184] وقوله تعالى: {وَمَتِّعُوهُنَّ عَلَى الْمُوسِعِ قَدَرُهُ وَعَلَى الْمُقْتِرِ قَدَرُهُ مَتَاعًا بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِينَ} [البقرة: 236] وجاء بصيغة الجمع كقوله تعالى: {فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ} [النساء: 25].

أما المقدَّر فيه لفظ (على) فهو كثير في كتاب الله، أكتفي بمثال واحد، وهو ما ورد في آية الظهار.

يقول القرطبي: «قوله تعالى: {وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ} هذا ابتداء، والخبر: {فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ} وحذف «عليهم» لدلالة الكلام عليه، أي: فعليهم تحرير رقبة».

7. وصف الشارع للفعل بأنه (حق)، ومن ذلك قوله تعالى: {وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِنَّهُ لَلْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ} [البقرة: 149]، وقوله تعالى: {وَلِلْمُطَلَّقَاتِ مَتَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ} [البقرة: 241].

8. إثبات الحكم بلفظ العزيمة وما تصرف منه: ومن ذلك قوله تعالى: {يَابُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ} [لقمان: 17] أي: من الأمور الواجبة المعزومة؛ أي المقطوعة، كما يقول الرازي.

ثانياً: الإخبار عن حكم الشارع المقتضي للندب.

1. إثبات الحكم بلفظ التطوع، قال تعالى: {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ} [البقرة: 184]. قيل: الإطعام مع الصيام. وقيل: إطعام مسكين آخر.

2. إثبات الحكم بلفظ النافلة، قال تعالى: {وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا} [الإسراء: 79]

ثالثاً: الإخبار عن حكم الشارع المقتضي للتحريم.

إثبات الحكم بلفظ التحريم وما يتصرف منه: ومن ذلك قوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ} [المائدة: 3]

1. إثبات الحكم بلفظ النهي، وما يتصرف منه: ومن ذلك قوله تعالى: {وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ} [النحل: 90]

2. إثبات الحكم بلفظ (نفي الحل): ومن ذلك قوله تعالى: {لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ} [النساء: 19]

3. إثبات الحكم بلفظ الكراهة، وهو مشترك بين التحريم والكراهة: ومن ذلك قوله تعالى:

{كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِّئُهُ عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا} [الإسراء: 38].

رابعاً: الإخبار عن حكم الشارع المقتضي للإباحة.

1. إثبات الحكم بلفظ الحل: ومن ذلك قوله تعالى: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ} [البقرة: 275] {وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ} [النساء: 24]

2. إثبات الحكم بلفظ (نفي الحرمة): ومن ذلك قوله تعالى: {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ} [الأعراف: 32]

3. إثبات الحكم بلفظ نفي الحرج والجناح: ومن ذلك قوله تعالى: {لَيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَى وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنْفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ} [التوبة: 91] قوله تعالى: {فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا إِنْ ظَنَّا أَنْ يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ} [البقرة: 230].

4. إثبات الحكم بلفظ نفي الإثم: ومن ذلك قوله تعالى: {فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ} [البقرة: 173] {فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ لِمَنِ اتَّقَى} [البقرة: 203].

5. إثبات الحكم بلفظ نفي السبيل {وَلَمَنِ انْتَصَرَ بَعْدَ ظُلْمِهِ فَأُولَئِكَ مَا عَلَيْهِمْ مِنْ سَبِيلٍ} [الشورى: 41] {لَيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَى وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنْفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِنْ سَبِيلٍ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [التوبة: 91].

وهناك أساليب مشتركة بين الوجوب والندب، وبين التحريم والكراهة، وقد جمعت هذه الأساليب في رسائل علمية، من أجمعها كتاب أساليب الحكم الشرعي للدكتور علي المطرودي.

القسم الثاني: من أقسام الأساليب الخبرية الدالة على الحكم هو: ذكر خاصية من خواص الواجب، إما بالوعيد على الترك، أو بترتب العقاب على الترك، أو الذم والتوبيخ، ولها صوَر عديدة، كما أن ترتب الثواب أو المدح على طلب الفعل والأمر به، وله صور متعدّدة.

وهو كما قال السيوطي نقلاً عن عزِّ الدِّين كما سيأتي: «وقد نوّع الشّارع ذلك أنواعًا كثيرة ترغيبًا لعباده، وترهيبا وتقريبًا إلى أفهامهم، … ». هـ.

القسم الثالث: أسلوب الخبر المراد به الأمر، فيما عدا الأسلوبين السابقين، وهو الأسلوب الذي ينبه عليه المفسرون بأنه طلب أو أمر خرج مخرج الخبر، وهو محط أمثلة الأصوليين غالبًا، وهذا الأسلوب يعرف كونه مستعملًا في معنى الأمر من سياق الكلام، وما يستوجه من الإلزام. والمقصود بالإلزام هنا: ما يشير إليه العلماء غالبًا في إثبات كون الصيغة للطلب مثل قولهم: لو لم يكن للطلب للزم الخلف لما هو مشاهد في الواقع، فيقولون -مثلا- عند قوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ} [البقرة: 228]، وجدت مطلقات لا يتربصن ثلاثة قروء، ولو كان خبراً محضاً لما تخلف الخبر عن مخبره، لأن أخبار الله تعالى لا تنفك من وجود مخبراتها، فلما وجد الانفكاك علمنا بأنه خرج من الخبرية إلى الإنشائية معنًى دون اللفظ.

يقول الزركشي عن الآية نفسها في كتابه البرهان في علوم القرن (2/ 320): «إن السياق يدل على أن الله تعالى أمر بذلك لا أنه خبرٌ، وإلا لزم الخلف في الخبر».

أو يقولوا في قوله تعالى: {فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ} [البقرة: 197]، إن الرفث والفسوق والجدال موجود، ولو كان خبراً لما تخلف الخبر عن مخبره، فدلَّ أن المقصود بالخبر هنا النهي، أي: لا ترفثوا، ولا تفسقوا، ولا تجادلوا.

وهذه الأساليب مستفادة من تقسيمات الأصوليين.

يقول المرداوي في التحبير (2/ 180): «فائدة: أدلة الأحكام لا تتقيد استفادتها من صريح الأمر والنهي، بل تكون بنص، أو إجماع، أو قياس. والنص إما أن يكون أمرًا، أو نهيًا، أو إذنًا، أو خبرًا بمعناها، أو إخبارًا بالحكم، نحو: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُون} {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ} [البقرة: 183]، {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا} [النساء: 58]، (إن الله ينهاكم أن تحلفوا بآبائكم) أخرجه البخاري برقم (6270)، {أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ} [المائدة: 96]، أو بذكر خاصية لأحدهما، كوعيد عن فعل شيء، أو تركه، أو وعد على فعل شيء أو تركه، ونحو ذلك» ا. هـ
আবার কখনও সংবাদ প্রদানের (إخبار) মাধ্যমে বিধান বর্ণিত হয় যেমন: {তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে} [আল-মায়েদাহ: ৯৬], {তোমাদের জন্য মৃত জানোয়ার হারাম করা হয়েছে} [আল-মায়েদাহ: ৩], এবং {তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে} [আল-বাক্বারাহ: ১৮৩](১)। আবার কখনও ইহকাল বা পরকালে তার ওপর বর্তানো ভালো বা মন্দ অথবা উপকার বা অপকারের বর্ণনার মাধ্যমেও বিধান বর্ণিত হয়(২)।


 

(১) অর্থাৎ: কখনও বিধানের সংবাদ প্রদানের পদ্ধতির মাধ্যমে শরঈ বিধানের দলিল পেশ করা হয়; যেমন বৈধতা (إباحة), নিষিদ্ধতা (تحريم) এবং 'কিতাব' অর্থাৎ ফরজ (فرض) হওয়া।

(২) এটিও সংবাদ প্রদানমূলক (إخبار) পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত, তবে এটি বিধানের বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যের বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন ওয়াজিব (واجب) এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা, আর তা হলো কোনো কাজ ত্যাগের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন (ترهيب) বা শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া। অথবা ইহকাল বা পরকালে সেই কাজ ত্যাগের ক্ষেত্রে মন্দ পরিণতি আর পালনের ক্ষেত্রে কল্যাণ প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করা। এক্ষেত্রে পছন্দনীয় (مندوب) বিষয়সমূহও কাজ পালনের ক্ষেত্রে কল্যাণ প্রাপ্তির দিক থেকে এর সাথে শরিক থাকে।

বিধানের ওপর দلالতকারী সংবাদ প্রদানমূলক পদ্ধতিগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:

প্রথম বিভাগ: বিধানদাতার (শারী') পক্ষ থেকে বিধান প্রদানের পদ্ধতি: এতে মহান আল্লাহ বিধান সম্পর্কে হয় সুস্পষ্ট শব্দে (صريح), না হয় আপাত অর্থবোধক (ظاهر) শব্দের মাধ্যমে সংবাদ দেন। তাকলিফী বিধান পাঁচটি, আর প্রতিটি বিধানের জন্য বিধানদাতা কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন। তার বর্ণনা নিম্নরূপ:

প্রথমত: বিধানদাতার পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদান যা আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে।

১. ফরজ (فرض) শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত শব্দাবলির মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এর উদাহরণ হলো:

মহান আল্লাহর বাণী: {আমি অবশ্যই জানি তাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে এবং তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ব্যাপারে আমি তাদের ওপর যা ফরজ করেছি} [আল-আহযাব: ৫০]। অর্থাৎ: স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যে সকল বিধান পালন করা আমি তাদের ওপর আবশ্যক (واجب) করেছি; যেমন চারটির অধিক স্ত্রী গ্রহণ না করা, অভিভাবক ও সাক্ষী ছাড়া বিবাহ না করা, অথবা অধিকারভুক্ত দাসী মুসলিম বা কিতাবধারী হওয়া এবং মিলনের পূর্বে ইস্তিবরা (গর্ভাশয় মুক্ত কি না তা নিশ্চিত করা)। এগুলো সেই সকল বিধানের সমষ্টি যা আল্লাহ মুমিনদের ওপর ফরজ (فرض) করেছেন, সুতরাং এগুলো পালন করা আবশ্যক (واجب)।

এবং জাকাত ও সদকার খাতসমূহ বর্ণনার পর মহান আল্লাহর বাণী: {এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ (فريضة), আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} [আত-তাওবাহ: ৬০]। এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো: "আল্লাহ এই বিষয়গুলোকে আবশ্যিক বিধান (فريضة) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।"

২. 'কাতাবা' (كتب) বা লিখন শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত শব্দাবলির মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এটি 'كتب' শব্দে এসেছে যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে (كتب)} [আল-বাক্বারাহ: ১৮৩], এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে (كتب), অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়} [আল-বাক্বারাহ: ২১৬]। আবার 'কিতাব' (كتاب) শব্দেও এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং নারীদের মধ্যে যারা সধবা তারা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের ছাড়া; এটি তোমাদের ওপর আল্লাহর বিধান (كتاب الله)} [আন-নিসা: ২৪]। অর্থাৎ: আল্লাহ যা তোমাদের ওপর লিখে দিয়েছেন বা ফরজ (فرض) করেছেন তা আঁকড়ে ধরো। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরজ (كتابا موقوتا)} [আন-নিসা: ১০৩]। অর্থাৎ: আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে পালনযোগ্য একটি আবশ্যিক (واجب) ও ফরজ (فرض) ইবাদত।

৩. আদেশ (أمر) শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত শব্দাবলির মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এর উদাহরণ হলো: {তিনি আদেশ (أمر) দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না} [ইউসুফ: ৪০] এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ (أمر) দিচ্ছেন যেন তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও} [আন-নিসা: ৫৮], এবং তাঁর বাণী: {তারা তাগুতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদেরকে আদেশ (أمر) দেওয়া হয়েছে যেন তারা তাকে অস্বীকার করে} [আন-নিসা: ৬০]।

৪. 'ক্বদা' (قضى) বা ফয়সালা শব্দের মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এর উদাহরণ হলো: {আর তোমার রব ফয়সালা (قضى) করেছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে} [আল-ইসরা: ২৩]।

৫. 'ওয়াসসা' (وصى) বা নির্দেশ প্রদান শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত শব্দাবলির মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি মানুষকে তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ (وصينا) দিয়েছি} [আল-আনকাবুত: ৮], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের (উত্তরাধিকারের) ব্যাপারে নির্দেশ (يوصيكم) দিচ্ছেন} [আন-নিসা: ১১], এবং মিরাসের আয়াতের শেষে তাঁর বাণী: {এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ (وصية), আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল} [আন-নিসা: ১২]।

৬. সরাসরি উচ্চারিত বা উহ্য 'আলা' (على) শব্দের মাধ্যমে বিধান নির্দেশ করা: এর উদাহরণ হলো সিয়ামের আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {আর যাদের জন্য তা কষ্টকর, তাদের ওপর (على) কর্তব্য হলো ফিদইয়া দেওয়া—একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করা} [আল-বাক্বারাহ: ১৮৪] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তাদেরকে কিছু সংস্থান করে দাও; সামর্থ্যবানের ওপর (على) তার সামর্থ্য অনুযায়ী এবং অভাবীর ওপর (على) তার সামর্থ্য অনুযায়ী—ন্যায়সঙ্গত বিধান হিসেবে; এটি সৎকর্মশীলদের ওপর একটি কর্তব্য (حق)} [আল-বাক্বারাহ: ২৩৬]। এটি বহুবচন রূপেও এসেছে যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে তাদের ওপর (عليهن) সেই শাস্তির অর্ধেক যা স্বাধীন নারীদের ওপর (على المحصنات) নির্ধারিত} [আন-নিসা: ২৫]।

আর যেখানে 'আলা' (على) শব্দটি উহ্য রয়েছে, আল্লাহর কিতাবে এমন উদাহরণ অনেক। আমি কেবল একটি উদাহরণ দিচ্ছি যা যিহারের আয়াতে এসেছে।

কুরতুবী বলেন: "মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে যিহার করে}, এটি বাক্যের শুরু (ابتداء), আর এর খবর (خبر) হলো: {তবে একটি দাস মুক্ত করা (فتحرير رقبة)}; এখানে বাক্যের অর্থের স্পষ্টতার কারণে 'তাদের ওপর' (عليهم) শব্দটি উহ্য রাখা হয়েছে। অর্থাৎ: তাদের ওপর (عليهم) একটি দাস মুক্ত করা আবশ্যক।"

৭. বিধানদাতা কর্তৃক কোনো কাজকে 'হক' (حق) বা যথার্থ হিসেবে অভিহিত করা: এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তুমি যেখান থেকেই বের হও, মসজিদে হারামের দিকে মুখ ফিরাও; আর এটিই তোমার রবের পক্ষ থেকে হক (الحق)} [আল-বাক্বারাহ: ১৪৯], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য থাকবে বিধি মোতাবেক সংস্থান, যা মুত্তাকীদের ওপর একটি কর্তব্য (حقا)} [আল-বাক্বারাহ: ২৪১]।

৮. আজীমাহ (عزيمة) বা দৃঢ় সংকল্প শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত শব্দাবলির মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {হে বৎস! সালাত কায়েম করো, সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে বাধা দাও এবং তোমার ওপর যা আপতিত হয় তাতে ধৈর্য ধরো। নিশ্চয়ই এটি দৃঢ় সংকল্পের (عزم الأمور) কাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত} [লুকমান: ১৭]। অর্থাৎ: যেমনটি রাযী বলেছেন—আবশ্যিক (واجب) ও সুনির্ধারিত কাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয়ত: বিধানদাতার পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদান যা পছন্দনীয় (ندب) হওয়া নির্দেশ করে।

১. স্বেচ্ছামূলক (تطوع) শব্দের মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: মহান আল্লাহ বলেন: {আর যাদের জন্য তা কষ্টকর, তাদের ওপর কর্তব্য হলো ফিদইয়া দেওয়া—একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করা। তবে যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় (تطوع) কোনো সৎকাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর} [আল-বাক্বারাহ: ১৮৪]। বলা হয়েছে: এর অর্থ সিয়ামের সাথে খাদ্য দান করা। আবার বলা হয়েছে: অন্য একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করা।

২. নফল (نافلة) শব্দের মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: মহান আল্লাহ বলেন: {আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ো, এটি তোমার জন্য অতিরিক্ত (نافلة) ইবাদত; আশা করা যায় তোমার রব তোমাকে মাক্বামে মাহমুদে পৌঁছাবেন} [আল-ইসরা: ৭৯]।

তৃতীয়ত: বিধানদাতার পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদান যা নিষিদ্ধতা (تحريم) নির্দেশ করে।

নিষিদ্ধকরণ (تحريم) শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত শব্দাবলির মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের ওপর মৃত জানোয়ার হারাম (حرمت) করা হয়েছে} [আল-মায়েদাহ: ৩]।

১. নিষেধ (نهي) শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত শব্দাবলির মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎকাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ (ينهى) করেন} [আন-নাহল: ৯০]।

২. 'বৈধতা নাকচ' (نفي الحل) শব্দের মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য এটি বৈধ (لا يحل) নয় যে, তোমরা নারীদেরকে জোরপূর্বক উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহণ করবে...} [আন-নিসা: ১৯]।

৩. অপছন্দনীয় (كراهة) শব্দের মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা, যা নিষিদ্ধকরণ (تحريم) এবং অপছন্দনীয়তা (كراهة) উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়: এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী:

{এসবের মধ্যে যা মন্দ, তা তোমার রবের নিকট অপছন্দনীয় (مكروها)} [আল-ইসরা: ৩৮]।

চতুর্থত: বিধানদাতার পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদান যা বৈধতা (إباحة) নির্দেশ করে।

১. 'হিল্ল' বা বৈধতা (حل) শব্দের মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল (أحل) করেছেন} [আল-বাক্বারাহ: ২৭৫], {এবং এদের ছাড়া অন্য নারীদের তোমাদের জন্য হালাল (أحل) করা হয়েছে} [আন-নিসা: ২৪]।

২. 'নিষিদ্ধতা নাকচ' (نفي الحرمة) এর মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আল্লাহর সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিক যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম (حرم) করেছে?} [আল-আরাফ: ৩২]।

৩. সংকীর্ণতা ও পাপ নাকচ (نفي الحرج والجناح) এর মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {দুর্বল, অসুস্থ এবং যাদের ব্যয় করার মতো কিছু নেই, তাদের ওপর কোনো গুনাহ (حرج) নেই, যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকে} [আত-তাওবাহ: ৯১]। মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয়, তবে সে তার জন্য আর বৈধ হবে না যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে। অতঃপর সে যদি তাকে তালাক দেয়, তবে তাদের উভয়ের পুনরায় মিলিত হওয়াতে কোনো অপরাধ (جناح) নেই, যদি তারা মনে করে যে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে} [আল-বাক্বারাহ: ২৩০]।

৪. গুনাহ নাকচ (نفي الإثم) এর মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যে ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে পড়ে, কিন্তু সে অবাধ্য বা সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তবে তার ওপর কোনো গুনাহ (إثم) নেই} [আল-বাক্বারাহ: ১৭৩]। {অতঃপর যে ব্যক্তি দ্রুত দুই দিনে চলে আসে তার ওপর কোনো গুনাহ (إثم) নেই, আর যে বিলম্ব করে তার ওপরও কোনো গুনাহ (إثم) নেই—এটি তার জন্য যে তাকওয়া অবলম্বন করে} [আল-বাক্বারাহ: ২০৩]।

৫. অভিযোগের পথ নাকচ (نفي السبيل) এর মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা: {আর যে ব্যক্তি তার ওপর জুলুম করার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো পথ (سبيل) নেই} [আশ-শূরা: ৪১]। {দুর্বল, অসুস্থ এবং যাদের ব্যয় করার মতো কিছু নেই, তাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই... সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো পথ (سبيل) নেই; আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [আত-তাওবাহ: ৯১]।

আবার এমন কিছু পদ্ধতি রয়েছে যা আবশ্যকতা (وجوب) ও পছন্দনীয়তা (ندব) এর মাঝে এবং নিষিদ্ধকরণ (تحريم) ও অপছন্দনীয়তা (كراهة) এর মাঝে সাধারণ। এই পদ্ধতিগুলো নিয়ে বিভিন্ন গবেষণাপত্র রচিত হয়েছে, যার মধ্যে ড. আলী আল-মাতরূদী রচিত 'আসালিবুল হুকমিশ শারঈ' বইটি অত্যন্ত তথ্যবহুল।

বিধান নির্দেশক সংবাদ প্রদানমূলক পদ্ধতির দ্বিতীয় বিভাগ হলো: ওয়াজিব (واجب) এর কোনো একটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করা; হয় কাজটি ত্যাগের ওপর শাস্তির হুঁশিয়ারি প্রদানের মাধ্যমে, অথবা ত্যাগের কারণে শাস্তির বিধানের মাধ্যমে, কিংবা নিন্দা ও ভর্ৎসনার মাধ্যমে। এর অনেকগুলো রূপ রয়েছে। একইভাবে কোনো কাজ করার আদেশ বা الطلب (অনুজ্ঞা) এর ক্ষেত্রে পুরস্কার বা প্রশংসার ঘোষণা দেওয়া—এরও অনেক রূপ রয়েছে।

এটি যেমনটি আস-সুয়ূতী ইজ্জুদ্দীন থেকে উদ্ধৃত করে সামনে বলবেন: "বিধানদাতা তাঁর বান্দাদের উৎসাহিত করার (ترغيب), ভীতি প্রদর্শন করার (ترهيب) এবং তাদের বোধগম্য করার জন্য একে অনেক প্রকারে বিভক্ত করেছেন...।" (সংক্ষেপিত)

তৃতীয় বিভাগ: সংবাদ প্রদানমূলক বাক্য (خبر) যার দ্বারা আদেশ (أمر) উদ্দেশ্য; উপরের দুটি পদ্ধতি ছাড়া। এটি এমন পদ্ধতি যা মুফাসসিরগণ নির্দেশ করেছেন যে, এটি একটি অনুজ্ঞা (طلب) বা আদেশ (أمر) যা সংবাদের আকারে এসেছে। উসুলবিদদের (الأصوليين) উদাহরণসমূহের প্রধান ক্ষেত্র সাধারণত এটিই। বাক্যের পূর্বাপর প্রসঙ্গ (سياق) এবং এর দ্বারা বাধ্যতামূলক হওয়ার (إلزام) দাবি থেকে এই পদ্ধতিটি আদেশ (أمر) অর্থে ব্যবহৃত হওয়া জানা যায়। এখানে বাধ্যতামূলক হওয়া বলতে বিজ্ঞানীরা সাধারণত অনুজ্ঞার (طلب) রূপটি প্রমাণের ক্ষেত্রে যা উল্লেখ করেন তা-ই উদ্দেশ্য। যেমন তাঁরা বলেন: যদি এটি অনুজ্ঞার জন্য না হতো, তবে বাস্তবে যা দেখা যায় তার বিপরীতে খবর প্রদানের আবশ্যকতা দেখা দিত। উদাহরণস্বরূপ তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে বলেন: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ঋতুকাল পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে} [আল-বাক্বারাহ: ২২৮]। বাস্তবে এমন অনেক তালাকপ্রাপ্তা নারী পাওয়া যায় যারা তিন ঋতুকাল প্রতীক্ষা করে না; যদি এটি নিছক সংবাদ হতো, তবে সংবাদটি বাস্তব ঘটনার বিপরীত হতো না। যেহেতু মহান আল্লাহর সংবাদ তাঁর বাস্তব কাজের সাথে সর্বদা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এখানে অসামঞ্জস্য দেখা দিচ্ছে, তাই আমরা বুঝতে পারি যে এটি শব্দের দিক থেকে খবর হলেও অর্থের দিক থেকে ইনশায়িয়্যাহ বা নির্দেশমূলক (إنشائية)।

আয-যারকাশী তাঁর 'আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন' (২/৩২০) গ্রন্থে এই আয়াত সম্পর্কে বলেন: "নিশ্চয়ই বাক্যের পূর্বাপর প্রসঙ্গ প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা আদেশ (أمر) দিয়েছেন, এটি কেবল সংবাদ (خبر) নয়; অন্যথায় খবরের বিপরীত হওয়ার আবশ্যকতা দেখা দিত।"

অথবা মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে তাঁরা বলেন: {অতঃপর যে ব্যক্তি তাতে হজের সংকল্প করে, হজের সময় তার জন্য স্ত্রী সহবাস, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয়} [আল-বাক্বারাহ: ১৯৭]। এখানে স্ত্রী সহবাস, পাপাচার ও ঝগড়া বিবাদ বিদ্যমান রয়েছে; যদি এটি কেবল সংবাদ হতো তবে তা খবরের বিপরীত হতো না। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এখানে সংবাদ প্রদানের উদ্দেশ্য হলো নিষেধ (نهي); অর্থাৎ: তোমরা স্ত্রী সহবাস করো না, পাপাচার করো না এবং ঝগড়া করো না।

আর এই পদ্ধতিগুলো উসুলবিদদের (الأصوليين) শ্রেণিবিভাগ থেকে সংগৃহীত।

আল-মারদাবী তাঁর 'আত-তাহবীর' (২/১৮০) গ্রন্থে বলেন: "ফায়দা: বিধানের দলিলসমূহ কেবল সুস্পষ্ট আদেশ (أمر) ও নিষেধ (نهي) এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা নস (نص), ইজমা (إجماع) বা কিয়াস (قياس) এর মাধ্যমেও হতে পারে। আর নস (نص) হয় আদেশ (أمر), নিষেধ (نهي), অনুমতি (إذن) অথবা সে অর্থে কোনো সংবাদ (خبر), কিংবা বিধানের সংবাদ প্রদান (إخبار) হতে পারে; যেমন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে (كتب) যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর করা হয়েছিল যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো} [আল-বাক্বারাহ: ১৮৩]। {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ (أمر) দিচ্ছেন যেন তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও} [আন-নিসা: ৫৮]। (নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করতে নিষেধ (ينهاكم) করছেন)—এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৬২৭০। {তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার হালাল (أحل) করা হয়েছে} [আল-মায়েদাহ: ৯৬]। অথবা আদেশ বা নিষেধের কোনো বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করার মাধ্যমেও হতে পারে, যেমন কোনো কাজ করা বা ছাড়ার ওপর শাস্তির হুঁশিয়ারি কিংবা কাজ করা বা ছাড়ার ওপর পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয়।" (সংক্ষেপিত)
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد نوع الشارع ذلك أنواعاً كثيرة(1) ترغيباً للعباد، وترهيباً وتقريباً


 

(1) أي نوع في الأدلة: أدلة الأمر،، وأدلة النهي، وأدلة الإباحة.

وسيبدأ في أدلة الأمر، وهي الدالة على مشروعية الفعل، وهي التي يشترك فيها الفعل بين الوجوب والندب. أي تدلُّ على كونه واجباً أو مندوباً ..
বিধানদাতা (الشارع) সেগুলোকে বহু প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন(১) যাতে বান্দাদের উৎসাহিত করা যায়, ভীতি প্রদর্শন করা যায় এবং সহজবোধ্য করা যায়।


 

(১) অর্থাৎ দলীলসমূহের (الأدلة) ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এনেছেন: আদেশের দলীলসমূহ, নিষেধের দলীলসমূহ এবং বৈধতার (الإباحة) দলীলসমূহ।

অতঃপর তিনি আদেশের দলীলসমূহ নিয়ে আলোচনা শুরু করবেন, যা কোনো কাজের বৈধতা (مشروعية) নির্দেশ করে। এটি এমন বিষয় যেখানে কাজটি ওয়াজিব (الوجوب) এবং মুস্তাহাব (الندব) হওয়ার মাঝে সাধারণতা বজায় রাখে। অর্থাৎ এটি নির্দেশ করে যে কাজটি ওয়াজিব (واجباً) অথবা মুস্তাহাব (مندوباً) ..
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ১৯)
إلى أفهامهم: فكل فعل(1) عظمه الشرع(2) أو مدحه(3) أو مدح فاعله(4)، أو أحبه(5)


 

(1) المقصود بالأفعال هنا: الأفعال الكسبية، وهي: الأفعال الصادرة عن اختيار المكلف، والمفضية إلى اجتلاب نفع أو دفع ضر.

أما الأفعال الجبلية، وهي الاضطرارية التي لا اختيار ولا كسب فيه للمكلَّف، فلا يتعلق بها تكليف. كالحركة والسكون.

قال العز ابن عبد السلام في كتابه الإمام (77): «ثمَّ لا يتعلَّق طلب ولا تخيير إلا بفعل كسبي، ولا يمدح شيئاً من أفعال، ولا يذمه، ولا يمدح فاعله ولا يذمه، ولا يوبخ عليه ولا ينكره، ولا يعد عليه الثواب، ولا عقاب إلا أن يكون كسبياً، فإن علَّق شيء من ذلك بفعل جبلي كان متعلقاً بآثاره، كقوله تعالى: {وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ} [النور: 2]، وقوله صلى الله عليه وسلم: «إنَّ فيك لخصلتين يحبهما الله الحلم والأناة» ".

(2) كقوله تعالى: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ} [فاطر: 10]، وإصعاد الشيء ورفعه دلالة على تعظيمه، ودلالة على مشروعية الفعل: الكلم الطيب، والعمل الصالح، وهذه المشروعية كما سيذكر المؤلف دائرة بين الوجوب والندب. ومن الأمثلة على التعظيم قوله تعالى: {إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا} [المزمل: 6]، وفيه دلالة على مشروعية قيام الليل.

(3) أي: كل فعل مدحه الشارع فيدل مدحه على مشروعيته الدائرة بين الوجوب والندب، كقوله تعالى: {وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} [العنكبوت: 45]، وفيها مدح للصلاة بكونها تنهى عن الفحشاء والمنكر، فدلَّ على مشروعية الصلاة، وكقوله تعالى: {انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [التوبة: 41]، وفيها مدح للجهاد بأنه خيرٌ، فدلَّ على مشروعيته.

(4) كقوله تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [آل عمران: 104]، مدح المولى سبحانه وتعالى الآمرين بالمعروف والناهين عن المنكر بأنهم من المفلحين، فذلَّ على مشروعية فعلهم، وهو الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وكقوله في مدح الصابرين: {وَخُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا فَاضْرِبْ بِهِ وَلَا تَحْنَثْ إِنَّا وَجَدْنَاهُ صَابِرًا نِعْمَ الْعَبْدُ إِنَّهُ أَوَّابٌ} [ص: 44]، فدلَّ على مشروعية الصبر.

(5) أي: أحب الفعل، كقوله صلى الله عليه وسلم: «إِنْ الله يحب أَنْ تُؤْتى رخصه كَمَا يجب أَنْ تُؤْتى عَزَائِمه» أخرجه أحمد (2/ 108) وصححه الألباني كما في الإرواء (3/ 10)، وفيه الندب إلى قصر الصلاة في السفر، وهو مذهب الجمهور، وَقَوله صلى الله عليه وسلم: (إِنَّك عَفْو تحب الْعَفو)، أَي: يحب أَنْ يعْفُو بَعْضنَا عَنْ بعض. والحديث أخرجه الترمذي (3513)، وابن ماجة (3850) وصححه الألباني كما في السلسلة الصحيحة (7/ 1008).
তাদের বোধগম্যতার প্রতি: সুতরাং প্রতিটি কর্ম(১) যাকে শরীয়ত(২) মহিমান্বিত করেছে অথবা যার প্রশংসা করেছে(৩) অথবা যার সম্পাদনকারীর প্রশংসা করেছে(৪) অথবা যাকে পছন্দ করেছে(৫)


 

(১) এখানে কর্মসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: উপার্জনমূলক কর্মসমূহ (الأفعال الكسبية), আর সেগুলো হলো: মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর ইচ্ছায় সম্পাদিত কর্মসমূহ, যা কোনো উপকার লাভ বা ক্ষতি প্রতিরোধের দিকে ধাবিত করে।

পক্ষান্তরে সহজাত কর্মসমূহ (الأفعال الجبلية), যা হলো অত্যাবশ্যকীয় বিষয় যাতে মুকাল্লাফের কোনো ইচ্ছা বা উপার্জন নেই, তার সাথে শরীয়তের কোনো বিধান সংশ্লিষ্ট হয় না। যেমন নড়াচড়া করা এবং স্থির থাকা।

ইজ্জ ইবন আবদুস সালাম তাঁর কিতাব আল-ইমাম (৭৭)-এ বলেছেন: «অতঃপর কোনো তলব (আদেশ) বা এখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) কেবল উপার্জনমূলক কর্মের (فعل كسبي) সাথেই সংশ্লিষ্ট হয়, আর তিনি কর্মসমূহের কোনোটির প্রশংসা করেন না এবং নিন্দাও করেন না, আর এর সম্পাদনকারীরও প্রশংসা করেন না এবং নিন্দাও করেন না, এর জন্য তিরস্কার করেন না এবং একে অস্বীকারও করেন না, আর এর ওপর সওয়াব কিংবা আজাবও গণনা করেন না, যদি না তা উপার্জনমূলক হয়। যদি এর কোনো কিছু সহজাত কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তা তার প্রভাবের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মনে যেন তাদের প্রতি দয়ার উদ্রেক না হয়} [আন-নূর: ২], এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে এমন দুটি গুণ রয়েছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন: সহনশীলতা ও ধীরস্থিরতা"»।

(২) যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {পবিত্র বাণী তাঁরই দিকে আরোহন করে এবং সৎকর্ম একে উন্নীত করে} [ফাতির: ১০]। কোনো কিছুকে আরোহণ করানো এবং উন্নীত করা তার মহিমান্বিতকরণের প্রমাণ বহন করে, এবং এটি সেই কর্মের—অর্থাৎ পবিত্র বাণী ও সৎকর্মের—বৈধতার (مشروعية) ওপর দলিল। আর এই বৈধতা (مشروعية) লেখক যেমনটি উল্লেখ করবেন তা ওয়াজিব (وجوب) এবং মুস্তাহাব (ندب)-এর মধ্যে আবর্তিত। মহিমান্বিতকরণের উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই রাতে জেগে ইবাদত করা অধিক কার্যকর এবং বাক্যালাপের জন্য অধিক উপযোগী} [আল-মুয্যাম্মিল: ৬], এতে তাহাজ্জুদের নামাজের বৈধতার (مشروعية) ওপর দলিল রয়েছে।

(৩) অর্থাৎ: শরীয়ত প্রণেতা প্রতিটি যে কর্মের প্রশংসা করেছেন, তার সেই প্রশংসা সেই কর্মের বৈধতার (مشروعية) ওপর দলিল প্রদান করে যা ওয়াজিব (وجوب) এবং মুস্তাহাব (ندب)-এর মধ্যে আবর্তিত। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সালাত কায়েম করো। নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে} [আল-আনকাবুত: ৪৫]। এতে সালাতের প্রশংসা রয়েছে এই গুণের কারণে যে তা অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, যা সালাতের বৈধতার (مشروعية) ওপর দলিল প্রদান করে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা অভিযানে বের হয়ে পড়—হালকা অবস্থায় হোক কিংবা ভারী অবস্থায় এবং আল্লাহর পথে তোমাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করো; এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা জানতে} [আত-তাওবা: ৪১]। এতে জিহাদের প্রশংসা রয়েছে একে 'কল্যাণকর' হিসেবে বর্ণনা করার মাধ্যমে, যা এর বৈধতার (مشروعية) ওপর দলিল প্রদান করে।

(৪) যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের নির্দেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম} [আল-ইমরান: ১০৪]। মহান মাবুদ এখানে সৎকাজের আদেশদাতা ও অসৎকাজের নিষেধকারীদের সফলকাম হিসেবে প্রশংসা করেছেন, যা তাদের কর্মের—অর্থাৎ সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের—বৈধতার (مشروعية) ওপর দলিল প্রদান করে। যেমন ধৈর্যশীলদের প্রশংসায় তাঁর বাণী: {এবং তোমার হাতে এক মুষ্ঠি ঘাস নাও, তা দিয়ে আঘাত করো এবং শপথ ভঙ্গ করো না। নিশ্চয়ই আমি তাকে ধৈর্যশীল পেয়েছি। কত চমৎকার বান্দা সে! নিশ্চয়ই সে অতিশয় প্রত্যাবর্তনশীল} [সা-দ: ৪৪]। এটি ধৈর্যের বৈধতার (مشروعية) ওপর দলিল প্রদান করে।

(৫) অর্থাৎ: তিনি কর্মটিকে পছন্দ করেন, যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন যে তাঁর দেওয়া রুখসতসমূহ (ছাড়) গ্রহণ করা হোক যেমনটি তিনি পছন্দ করেন যে তাঁর দেওয়া আযীমতসমূহ (দৃঢ় সংকল্পিত বিধান) পালন করা হোক»। এটি আহমাদ (২/১০৮) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন যেমনটি ইরওয়াউল গালীল (৩/১০) গ্রন্থে রয়েছে। এতে সফরে নামাজ কসর করার প্রতি উৎসাহিত (ندب) করা হয়েছে এবং এটি জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মাযহাব। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করা পছন্দ করেন), অর্থাৎ: তিনি পছন্দ করেন যে আমরা একে অপরকে ক্ষমা করি। হাদিসটি তিরমিজি (৩৫১৩) এবং ইবনে মাজাহ (৩৮৫০) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন যেমনটি সিলসিলাতুস সহিহা (৭/১০০৮) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২০)
أو أحب فاعله(1)، أو رضي به(2) أو رضي عن فاعله(3)، أو وصفه بالاستقامة(4) أو البركة(5) أو الطيب(6)، أو أقسم


 

(1) أي: فاعل الفعل، كقوله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ} [البقرة: 222] أحب الذين يتطهرون عن إتيان النساء حال الحيض، كقوله تعالى: {يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ} [التوبة: 4] {يُحِبُّ الصَّابِرِينَ} [آل عمران: 146] {إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} [البقرة: 195]، وفيها التصريح بمحبة الفاعل للدلالة على حب الفعل وطلبه.

(2) أي رضي المولى عز وجل عَنْ الْفعل، كقوله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3]، وقوله: {إِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكُمْ وَلَا يَرْضَى لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ وَإِنْ تَشْكُرُوا يَرْضَهُ لَكُمْ} [الزمر: 7].

(3) أي: رضَا الله عز وجل عَنْ الْفَاعِل، كقوله تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} [التوبة: 100]، وقوله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ (20) يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُمْ بِرَحْمَةٍ مِنْهُ وَرِضْوَانٍ وَجَنَّاتٍ لَهُمْ فِيهَا نَعِيمٌ مُقِيمٌ} [التوبة: 20 - 21].

(4) أي: وصف الْفِعْل بالاستقامة، ومثَّل العز رحمه الله لهذا النوع من الأدلة في كتابه الإمام (92) بقوله تعالى: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} [الفاتحة: 5]، وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ} [فصلت: 30] [والشاهد في الأحقاف: 13] أي: قالوا ربنا الله - وهذا الإيمان والإسلام - ثمَّ استقاموا عليها، وهذا حث على التمسك بالدِّين.

(5) أي: وصف الْفِعْل بِالْبركَةِ، كقوله تعالى: {فَإِذَا دَخَلْتُمْ بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً} [النور: 61] فالسلام تحية وفعل مطلوب من الشارع، وكقوله عليه السلام في التشهد: (التَّحِيَّات المباركات الطَّيِّبَات لله) وفيه كما عند البخاري (6230): (فإنه إذا قال ذلك أصاب كل عبد صالح في السماء والأرض).

(6) أي: وصف الْفِعْل بالطيب، كقوله تعالى: {وَهُدُوا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوا إِلَى صِرَاطِ الْحَمِيدِ} [الحج: 24]، وإذا رجعنا إلى تفسير السلف للوقوف على القول الذي هدوا إليه، نجدهم يختلفون فيه اختلاف تنوع: فقيل: إنه لا إله إلا الله والحمد لله. وقيل: القرآن. وقيل: الحمد لله.

وعليه فالآية تدلُّ على مشروعية القول المنقول عنهم؛ لأنه وصف بالطّيب. ومن أمثلة هذا النوع كذلك: قوله عليه السلام: (من عاد مريضاً أو زار أخاً له نادى مناد من السماء أن طبت وطاب ممشاك وتبوأت من الجنة منزلاً)، أخرجه الترمذي (2008) وحسنه الألباني كما في صحيح الجامع (2/ 1091)، ودلَّ الحديث على مشروعية زيارة وعيادة المريض.
أو أحب فاعله(1)، أو رضي به(2) أو رضي عن فاعله(3)، أو وصفه بالاستقامة(4) أو البركة(5) أو الطيب(6)، أو أقسم


 

(1) অর্থাৎ: কর্মের সম্পাদনকারী, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা আপনাকে মাসিক ঋতু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা ঋতুকালীন সময়ে স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকো এবং যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয় ততক্ষণ তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে, তখন তাদের কাছে গমন করো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন} [আল-বাকারা: ২২২]। অর্থাৎ যারা ঋতুকালীন সময়ে স্ত্রীগমন থেকে পবিত্র থাকে তাদের তিনি ভালোবাসেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি মুত্তাকিদের ভালোবাসেন} [আত-তাওবা: ৪], {তিনি ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন} [আল-ইমরান: ১৪৬], {নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন} [আল-বাকারা: ১৯৫]। আর এতে কর্মটি পছন্দনীয় হওয়া এবং তা তলব করার প্রতি ইঙ্গিত প্রদানের উদ্দেশ্যে সম্পাদনকারীকে ভালোবাসার কথা স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।

(2) অর্থাৎ মহান রব সেই কর্মের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত (সন্তুষ্ট) করলাম} [আল-মায়েদা: ৩]। এবং তাঁর বাণী: {যদি তোমরা কুফরি করো তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী এবং তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না, আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো তবে তিনি তোমাদের জন্য তাতে সন্তুষ্ট হন} [আয-যুমার: ৭]।

(3) অর্থাৎ: সম্পাদনকারীর প্রতি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তিনিও তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটিই মহাসাফল্য} [আত-তাওবা: ১০০]। এবং তাঁর বাণী: {যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও জান দিয়ে জিহাদ করেছে, আল্লাহর কাছে তারা মর্যাদায় অনেক বড় এবং তারাই সফলকাম (২০) তাদের রব তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন নিজের পক্ষ থেকে দয়া, সন্তুষ্টি এবং এমন জান্নাতের যেখানে তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী নিয়ামত} [আত-তাওবা: ২০-২১]।

(4) অর্থাৎ: কর্মটিকে নিষ্ঠা বা সঠিকতা হিসেবে বর্ণনা করা। আল-ইযয (রহ.) তাঁর কিতাব আল-ইমাম (৯২)-এ এই ধরণের দলিলের উদাহরণ দিয়েছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন} [আল-ফাতিহা: ৫]। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা বলে আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর তারা অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে যে, তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল} [ফুসসিলাত: ৩০] [আর এর প্রমাণ আল-আহকাফ: ১৩-তে রয়েছে]। অর্থাৎ: তারা বলে আমাদের রব আল্লাহ—আর এটিই হলো ঈমান ও ইসলাম—অতঃপর তারা তার ওপর অবিচল থাকে; আর এটি দ্বীনের ওপর দৃঢ় থাকার প্রতি এক প্রকার উৎসাহ প্রদান।

(5) অর্থাৎ: কর্মটিকে বরকতময় হিসেবে বর্ণনা করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ করবে, তখন তোমরা নিজেদের প্রতি সালাম করবে, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক কল্যাণময় ও পবিত্র অভিবাদন} [আন-নূর: ৬১]। এখানে সালাম একটি অভিবাদন এবং এটি শরিয়ত প্রবর্তকের পক্ষ থেকে কাম্য একটি কাজ। যেমন তাশাহহুদে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: (সমস্ত অভিবাদন, বরকতসমূহ ও পবিত্র বিষয়সমূহ আল্লাহর জন্য)। এতে বুখারি (৬২৩০)-তে যেমন বর্ণিত হয়েছে: (যখন সে এটি বলবে, তখন তা আসমান ও জমিনের প্রতিটি নেককার বান্দার কাছে পৌঁছে যাবে)।

(6) অর্থাৎ: কর্মটিকে পবিত্র হিসেবে বর্ণনা করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তাদেরকে পবিত্র বাক্যের দিকে পরিচালিত করা হয়েছিল এবং প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে পরিচালিত করা হয়েছিল} [আল-হাজ্জ: ২৪]। সলফে সালেহিনের তাফসিরের দিকে যদি আমরা দৃষ্টিপাত করি যে বাক্যটির দিকে তাদের পরিচালিত করা হয়েছিল তা কী, তবে দেখা যায় যে তারা এ বিষয়ে একাধিক মত পোষণ করেছেন: কেউ বলেছেন এটি হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' ও 'আলহামদুলিল্লাহ'। কেউ বলেছেন এটি কুরআন। কেউ বলেছেন এটি আলহামদুলিল্লাহ।

এর ওপর ভিত্তি করে আয়াতটি তাদের থেকে বর্ণিত এই বিষয়গুলোর বৈধতার ওপর প্রমাণ বহন করে; কারণ একে 'পবিত্র' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই প্রকারের আরও একটি উদাহরণ হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: (যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায় অথবা তার কোনো ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে যায়, আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন: তুমি ধন্য হয়েছো, তোমার পথচলা ধন্য হয়েছে এবং তুমি জান্নাতে তোমার আবাস গ্রহণ করেছ)। এটি তিরমিজি (২০০৮) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে হাসান (حسن) সাব্যস্ত করেছেন যেমনটি সহিহুল জামে (২/১০৯১) গ্রন্থে রয়েছে। আর এই হাদিসটি অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া এবং ভ্রাতৃত্বমূলক সাক্ষাতের বৈধতার ওপর প্রমাণ বহন করে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২১)
به(1) أو بفاعله(2)، كالأقسام بالشفع، والوتر، وبخيل المجاهدين، وبالنفس اللوامة، أو نصبه سبباً لذكره عبده(3)، أو لمحبته(4)، أو للثواب عاجلاً(5)


 

(1) قال المصنف: «أو أقسم به أو بفاعله كالأقسام بالشفع والوتر وبخيل المجاهدين، وبالنفس اللوامة»، أي: أقسم بِالْفِعْلِ، أو أقسم بالفاعل. كقوله تعالى: {وَالْفَجْرِ (1) وَلَيَالٍ عَشْرٍ (2) وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ} [الفجر: 1 - 3]، والمراد بالفجر على أحد التفاسير: صلاة الفجر. والشفع والوتر: الوتر المغرب، وباقي الصلوات شفع. والصلاة من فعل المصلي؛ إذ لا توجد صلاة بلا مصل، فإقسامه بها إقساماً بفعلها.

قال العز (96): «إِنْ حمل على الصَّلَوَات فَإِنَّهُ يرجع إِلَى تَعْظِيم الْفِعْل فَإِنَّهُم لَا يقسمون إِلَّا بِمَا يحترمون ويعظمون».

(2) كقوله تعالى: {وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ} [القيامة: 2] أقسم بِنَفس الْمُؤمن لِكَثْرَة لومها إِيَّاه فِي ذَات الله تَعَالَى، فدلَّ على مشروعية لوم النفس على تقصيرها في حق الله سبحانه. وكذا الإقسام بخيل الْمُجَاهدين كما فِي قَوْله {وَالْعَادِيَاتِ ضَبْحًا} [العاديات: 1] تَنْبِيه على تَعْظِيم الْمُجَاهدين وتوقيرهم بطرِيق الأولى، كما قال العز في كتابه الإمام (95).

(3) أي: نصب الْفِعْل سَببا لذكر الله تَعَالَى، كما في قوله تعالى: {فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ} وهذا حث على ذكر الله، لكي يحضى العبد بذكر المولى سبحانه وتعالى له. وفي الحديث: (من ذَكرنِي فِي نَفسه ذكرته فِي نَفسِي وَمن ذَكرنِي فِي مَلأ ذكرته فِي مَلأ خير مِنْهُم وَأكْثر). فالذكر فعل مطلوب؛ لأن الشارع نصبه سبباً لذكر الله تعالى، والحديث أخرجه أحمد في المسند (9254) وصححه الألباني في تحقيقه لكتاب الإيمان (77).

(4) أي: نصب الْفِعْل سَببا لمحبة الله تَعَالَى، كقوله تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} [آل عمران: 31]، وفيه مشروعية اتباع النبي صلى الله عليه وسلم. وكقوله عليه السلام: (وَما يزَال عَبدِي يتَقرَّب إِلَيّ بالنوافل حَتَّى أحبه)، يدلُّ على مشروعية التقرب بالنوافل. والحديث أخرجه البخاري (6502).

(5) أي: نصب الله عز وجل الفعل سَببا للثواب عَاجلاً، ومثَّل له العز رحمه الله في كتابه الإمام (96) بقوله تعالى: {وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ} [الأعراف: 96]، فدلَّ على مشروعية الإيمان بالله عز وجل وكذا قوله تعالى: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا (2) وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ} [الطلاق: 2 - 3].
তা দ্বারা(১) অথবা তার সম্পাদনকারী দ্বারা(২), যেমন জোড় (شفع) ও বিজোড় (وتر), মুজাহিদদের ঘোড়া এবং তিরস্কারকারী আত্মার শপথ করা; অথবা কোনো কাজকে আল্লাহ কর্তৃক তাঁর বান্দাকে স্মরণ করার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা(৩), কিংবা তাঁর ভালোবাসার কারণ হিসেবে(৪), অথবা দ্রুত পার্থিব প্রতিদানের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা।(৫)


 

(১) গ্রন্থকার বলেন: "অথবা তিনি তা দ্বারা বা তার সম্পাদনকারী দ্বারা শপথ করেছেন, যেমন জোড়, বিজোড়, মুজাহিদদের ঘোড়া এবং তিরস্কারকারী আত্মার শপথ।" অর্থাৎ: তিনি কর্মের মাধ্যমে শপথ করেছেন অথবা কর্ম সম্পাদনকারীর মাধ্যমে শপথ করেছেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {শপথ ফজরের, শপথ দশ রাতের, শপথ জোড় ও বিজোড়ের} [আল-ফজর: ১-৩]। বিভিন্ন তাফসিরের একটি অনুযায়ী 'ফজর' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফজরের নামাজ। আর জোড় ও বিজোড় হলো: মাগরিবের নামাজ বিজোড় (وتر), এবং বাকি নামাজগুলো জোড় (شفع)। নামাজ হলো নামাজ আদায়কারীর একটি কাজ; কারণ আদায়কারী ব্যতীত নামাজের কোনো অস্তিত্ব নেই। সুতরাং নামাজের শপথ করা মানেই তার কর্মের শপথ করা।

আল-ইজ্জ (৯৬) বলেন: "যদি একে নামাজের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে তা আমলের মর্যাদার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। কারণ তারা কেবল এমন বিষয়েরই শপথ করে যাকে তারা সম্মান ও শ্রদ্ধা করে।"

(২) যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমি শপথ করছি তিরস্কারকারী আত্মার} [আল-কিয়ামাহ: ২]। এখানে মুমিনের নফসের শপথ করা হয়েছে কারণ এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে তাকে বারবার তিরস্কার করে। এটি আল্লাহর হকের ব্যাপারে নিজের ত্রুটির জন্য নফসকে ভর্ৎসনা করার বৈধতার প্রমাণ দেয়। একইভাবে মুজাহিদদের ঘোড়ার শপথ করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {শপথ সেই ঘোড়াসমূহের যারা ফোঁস ফোঁস শব্দে ধাবিত হয়} [আল-আদিয়াত: ১]। এটি মুজাহিদদের সম্মান ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতি এক বিশেষ ইঙ্গিত, যেমনটি আল-ইজ্জ তাঁর 'আল-ইমাম' (৯৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(৩) অর্থাৎ: কোনো আমল বা কাজকে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁকে স্মরণ করার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব}। এটি আল্লাহর জিকিরের প্রতি এক বড় উৎসাহ প্রদান, যাতে বান্দা মহান রবের পক্ষ থেকে স্মরণের সৌভাগ্য লাভ করতে পারে। হাদিসে এসেছে: (যে ব্যক্তি আমাকে তার মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর যে ব্যক্তি আমাকে কোনো সমাবেশে স্মরণ করে, আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম ও বরকতময় সমাবেশে স্মরণ করি)। এখানে জিকির একটি কাম্য কাজ; কারণ বিধানদাতা একে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে স্মরণের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। হাদিসটি ইমাম আহমাদ মুসনাদে (৯২৫৪) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি কিতাবুল ইমানের তাহকিকে একে সঠিক (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন (৭৭)।

(৪) অর্থাৎ: কোনো আমলকে আল্লাহর ভালোবাসার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} [আল-ইমরান: ৩১]। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের নির্দেশ নিহিত রয়েছে। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (আমার বান্দা নফল (نوافل) ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি)। এটি নফল (نوافل) ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বৈধতা নির্দেশ করে। হাদিসটি বুখারি (৬৫০২) বর্ণনা করেছেন।

(৫) অর্থাৎ: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কোনো কাজকে দ্রুত দুনিয়াবী প্রতিদান লাভের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল-ইজ্জ (রহ.) তাঁর 'আল-ইমাম' (৯৬) গ্রন্থে এর উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণী পেশ করেছেন: {যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম; কিন্তু তারা অস্বীকার করল, ফলে আমি তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের পাকড়াও করলাম} [আল-আরাফ: ৯৬]। এটি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার বৈধতা ও গুরুত্ব নির্দেশ করে। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না} [আত-তালাক: ২-৩]
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২২)
أو آجلاً(1)، أو لشكره له(2)، أو لهدايته إياه(3)، أو لإرضاء فاعله(4)، أو لمغفرة ذنبه وتكفير سيئآته(5)، أو لقبوله(6)، أو لنصرة


 

(1) أي: نصب الْفِعْل سَببا لثواب آجل وَهُوَ أَكثر وعود الْقُرْآن، ومن ذلك قوله تعالى: {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ} [الزلزلة: 7] يدلُّ على مشروعية الأعمال الصالحة الخيرة، وكقوله تعالى: {مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} [البقرة: 245].

(2) أي: نصب الْفِعْل سَببا لشكر الله عز وجل، أي: لشكر الله عز وجل لعبده، قال تعالى: {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ} [البقرة: 158]. قال ابن جرير في تفسيره (3/ 247): إن الصواب عندنا في ذلك أن معنى ذلك: ومن تطوع بالحج والعمرة بعد قضاء حجته الواجبة عليه؛ فإن الله شاكر له تطوعه أ. هـ. وعليه: فإن تكرار الحج والعمرة مطلوب شرعاً؛ لأن الله نصبه سبباً لشكره. ومن أمثلته كذلك قوله تعالى: {مَا يَفْعَلُ اللَّهُ بِعَذَابِكُمْ إِنْ شَكَرْتُمْ وَآمَنْتُمْ وَكَانَ اللَّهُ شَاكِرًا عَلِيمًا} [النساء: 147].

(3) أي: نصب الْفِعْل سَببا للهداية، كقوله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ} [العنكبوت: 69]، أي: من جاهد بالطاعة هداه سبيل الجنة، وكقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ يَهْدِيهِمْ رَبُّهُمْ بِإِيمَانِهِمْ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ} [يونس: 9].

(4) أي: رضَا الْفَاعِل عَنْ ربه، قال تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} [التوبة: 100] اتباع السلف الصالح بإحسان سبب لنيل العبد رضا ربه. ومن ذلك قوله تعالى: {فَاصْبِرْ عَلَى مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا وَمِنْ آنَاءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضَى} [طه: 130].

(5) أي: نصب الْفِعْل سَببا لمغفرة الخطيئات وتكفير السَّيِّئَات. قال تعالى: {وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ} [هود: 114]، وقال تعالى: {إِنْ تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} [البقرة: 271].

(6) أي: نصب الْفِعْل سَببا لقبُول الْعَمَل، كقوله تعالى: {وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا حَتَّى إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (15) أُولَئِكَ الَّذِينَ نَتَقَبَّلُ عَنْهُمْ أَحْسَنَ مَا عَمِلُوا وَنَتَجَاوَزُ عَنْ سَيِّئَاتِهِمْ فِي أَصْحَابِ الْجَنَّةِ وَعْدَ الصِّدْقِ الَّذِي كَانُوا يُوعَدُونَ} [الأحقاف: 15]- فجعل الإحسان للوالدين سبباً لقبول العمل.
অথবা বিলম্বে(১), অথবা তাঁর প্রতি তাঁর (আল্লাহর) কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য(২), অথবা তাঁকে হিদায়াত দানের জন্য(৩), অথবা কাজ সম্পাদনকারীকে সন্তুষ্ট করার জন্য(৪), অথবা তাঁর গুনাহ মাফ এবং মন্দ কাজসমূহ মোচনের জন্য(৫), অথবা তা কবুল করার জন্য(৬), অথবা সাহায্যের জন্য


 

(১) অর্থাৎ: কোনো কাজকে পরকালীন সওয়াবের কারণ সাব্যস্ত করা, আর এটিই কুরআনের অধিকাংশ ওয়াদার ক্ষেত্রে ঘটেছে। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে} [ঝিলঝাল: ৭] যা নেক আমল ও ভালো কাজের বৈধতার ওপর দালালত করে। অনুরূপ মহান আল্লাহর বাণী: {এমন কে আছে যে আল্লাহকে করজে হাসানা প্রদান করবে? তবে তিনি তার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন। আর আল্লাহই সংকুচিত করেন ও সম্প্রসারিত করেন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে} [বাকারা: ২৪৫]।

(২) অর্থাৎ: কোনো কাজকে মহান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কারণ সাব্যস্ত করা; অর্থাৎ মহান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কর্তৃক তাঁর বান্দার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কাবাগৃহে হজ বা উমরা করবে, তার জন্য এ দুটির মাঝে সায়ি করতে কোনো দোষ নেই। আর যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো কল্যাণকর কাজ করবে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সর্বজ্ঞ} [বাকারা: ১৫৮]। ইবনে জারীর তাঁর তাফসিরে (৩/২৪৭) বলেন: আমাদের মতে এক্ষেত্রে সঠিক কথা হলো যে, এর অর্থ: যে ব্যক্তি তার ওপর ফরজ হজ আদায়ের পর নফল হিসেবে হজ ও উমরা করবে, আল্লাহ তাআলা তার সেই নফল কাজের জন্য তাকে প্রতিদান দেবেন। আ.হ.। তদনুসারে: বারবার হজ ও উমরা করা শরিয়তগতভাবে কাম্য; কারণ আল্লাহ একে তাঁর কৃতজ্ঞতার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর আরও একটি বাণী: {যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো এবং ঈমান আনো, তবে তোমাদের আজাব দিয়ে আল্লাহ কী করবেন? আর আল্লাহ হলেন গুণগ্রাহী ও সর্বজ্ঞ} [নিসা: ১৪৭]।

(৩) অর্থাৎ: কোনো কাজকে হিদায়াতের কারণ সাব্যস্ত করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন} [আনকাবুত: ৬৯]। অর্থাৎ: যে ব্যক্তি আনুগত্যের মাধ্যমে জিহাদ (প্রচেষ্টা) করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করবেন। অনুরূপ মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের রব তাদের ঈমানের কারণে তাদেরকে হিদায়াত দান করবেন; নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতসমূহে তাদের পাদদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে} [ইউনূস: ৯]।

(৪) অর্থাৎ: বান্দার (কর্মসম্পাদনকারীর) তার রবের প্রতি সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন এমন জান্নাতসমূহ যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য} [তওবা: ১০০]। উত্তমরূপে সালফে সালেহীনের অনুসরণ করা বান্দার জন্য তার রবের সন্তুষ্টি লাভের কারণ। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর এই বাণী: {সুতরাং তারা যা বলে সে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারণ করো এবং সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে তোমার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করো এবং রাতের কিছু অংশে ও দিনের প্রান্তভাগেও পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পারো} [তহা: ১৩০]।

(৫) অর্থাৎ: কোনো কাজকে গুনাহ মাফ ও মন্দ কাজ মোচনের কারণ সাব্যস্ত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর দিনের দুই প্রান্তেই নামাজ কায়েম করো এবং রাতের প্রথমাংশেও। নিশ্চয় নেক কাজ মন্দ কাজসমূহকে মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে এটি তাদের জন্য এক উপদেশ} [হুদ: ১১৪]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {যদি তোমরা সদকা প্রকাশ্যে দাও তবে তা কতই না ভালো! আর যদি তা গোপনে দাও এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম এবং তিনি তোমাদের কিছু পাপ মোচন করবেন। আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত} [বাকারা: ২৭১]।

(৬) অর্থাৎ: কোনো কাজকে আমল কবুল হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে গর্ভে ধারণ করেছে কষ্টের সাথে এবং তাকে প্রসব করেছে কষ্টের সাথে। তার গর্ভধারণ ও দুধ ছাড়ানো সময় লাগে ত্রিশ মাস। অবশেষে যখন সে পূর্ণ শক্তিতে উপনীত হয় এবং চল্লিশ বছরে পদার্পণ করে, তখন সে বলে, হে আমার রব! আমাকে সামর্থ্য দাও যাতে আমি তোমার সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি এমন নেক আমল করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো। আর আমার জন্য আমার সন্তান-সন্ততিদের সংশোধন করে দাও। নিশ্চয় আমি তোমারই অভিমুখী হলাম এবং নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত (১৫) ওরাই তারা, যাদের আমলসমূহের মধ্যে যা অতি উত্তম তা আমি কবুল করি এবং তাদের মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করি; তারা জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। তাদের যে সত্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা হলো এক বাস্তব ওয়াদা} [আহকাফ: ১৫-১৬]। এখানে পিতা-মাতার সাথে সদাচরণকে আমল কবুল হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২৩)
فاعله(1)، أو بشارته(2)، أو وصف فاعله بالطيب(3)، أو وصف الفعل بكونه معروفاً(4)، أو نفي الحزن أو الخوف عن فاعله(5)، أو وعده بالأمن(6)،


 

(1) أي: نصب الْفِعْل سَببا لمعونة الْفَاعِل ونصرته، قال تعالى {وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ} [الحج: 40] {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} [محمد: 7].

(2) أي: نصب الْفِعْل سَببا للبشارة، قال تعالى: {وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ} [البقرة: 154 - 155] {وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} [البقرة: 223] {وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ} [الحج: 37] {وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ} [البقرة: 25] [التوبة: 19 - 21].

(3) أي: وصف الْفَاعِل بالطيب. قال تعالى: {قُلْ لَا يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيثِ فَاتَّقُوا اللَّهَ يَاأُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [المائدة: 100] {لِيَمِيزَ اللَّهُ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ وَيَجْعَلَ الْخَبِيثَ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ فَيَرْكُمَهُ جَمِيعًا فَيَجْعَلَهُ فِي جَهَنَّمَ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ} [الأنفال: 37]، الطَّيب يطلق في القرآن على الإيمان أو المؤمن، وعلى الطاعة، والأعمال الطيبة، والمال الحلال، وعلى السعادة، وعلى أهل الجنة. فدلَّت الآية على مشروعية الإيمان، والعمل الطيب الصالح، والكسب الحلال، وفي المقابل الخبيث على الكفر أو الكافر، والمعصية، والأعمال السيئة، والمال الحرام، والشقاوة، وعلى أهل النار.

(4) أي: وصف الْفِعْل بِكَوْنِهِ مَعْرُوفا. والمعروف: ما يعرفه الشرع ويأمر به، ويمدحه، ويثني على أهله، ويدخل في ذلك جميع الطاعات، وفي مقدمتها التوحيد والإيمان بالله، قال تعالى: {قَوْلٌ مَعْرُوفٌ وَمَغْفِرَةٌ خَيْرٌ مِنْ صَدَقَةٍ يَتْبَعُهَا أَذًى} [البقرة: 263]، والمعروف هنا قيل: الكلام الحسن والرد الجميل على السائل، وقوله: {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ} [الأعراف: 199] والعرف هنا بمعنى المعروف، ضد المنكر، فدخل فيه جميع الطاعات. ومن ذلك قوله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران: 110].

(5) أي: نفي الْحزن وَالْخَوْف عَنْ الْفَاعِل. قال تعالى: {قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة: 38]، وقوله تعالى: {الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَا أَنْفَقُوا مَنًّا وَلَا أَذًى لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة: 262].

(6) أي: تأمين الفاعل من عذاب الآخرة بسبب الفعل، كما قال تعالى: {إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ (45) ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ} [الحجر: 45 - 46]، وقوله تعالى: {وَمَا أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ بِالَّتِي تُقَرِّبُكُمْ عِنْدَنَا زُلْفَى إِلَّا مَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ لَهُمْ جَزَاءُ الضِّعْفِ بِمَا عَمِلُوا وَهُمْ فِي الْغُرُفَاتِ آمِنُونَ (37)} [سبأ: 37]،

وفِي حديث سخبرة الأسدي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أُعطي فشكر، وابتُلي فصبر، وظَلَم فاستغفر، ثم سكت فقالوا: يا رسول الله ماله؟. قال: أولئك لهم الأمن وهم مهتدون» فذلَّ على مشروعية الشكر والصبر والاستغفار. والحديث أخرجه الطبراني في المعجم الكبير (6613).
তার কর্মের জন্য সাহায্য(১), অথবা তার প্রতি সুসংবাদ(২), অথবা কর্তাকে পবিত্র/উত্তম (طيب) বিশেষণে বিশেষিত করা(৩), অথবা কাজটিকে সৎকর্ম (معروف) হিসেবে বর্ণনা করা(৪), অথবা কর্তার থেকে দুঃখ ও ভয় দূর করা(৫), অথবা তাকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা(৬),


 

(১) অর্থাৎ: কাজটিকে কর্তার সাহায্য ও সহযোগিতার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করবেন, যে তাঁকে সাহায্য করে" [হজ্জ: ৪০]। "হে মুমিনগণ, যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদযুগল সুদৃঢ় করবেন" [মুহাম্মদ: ৭]।

(২) অর্থাৎ: কাজটিকে সুসংবাদের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফসলের স্বল্পতা দিয়ে; আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের" [বাকারা: ১৫৪-১৫৫]। "আর মুমিনদের সুসংবাদ দিন" [বাকারা: ২২৩]। "আর সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ দিন" [হজ্জ: ৩৭]। "আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, আপনি তাদের সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত..." [বাকারা: ২৫; তওবা: ১৯-২১]।

(৩) অর্থাৎ: কর্তাকে পবিত্র/উত্তম (طيب) বিশেষণে বিশেষিত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, অপবিত্র (خبيث) ও পবিত্র (طيب) সমান নয়, যদিও অপবিত্রের আধিক্য আপনাকে মুগ্ধ করে। অতএব হে বুদ্ধিমানগণ, আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো" [মায়েদা: ১০০]। "যাতে আল্লাহ অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করেন এবং অপবিত্রদের একে অপরের ওপর স্তূপীকৃত করেন, অতঃপর তা সব একত্রে স্তূপ করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন। ওরাই ক্ষতিগ্রস্ত" [আনফাল: ৩৭]। কুরআনে 'তৈয়্যিব' (طيب) শব্দটি ঈমান বা মুমিন, আনুগত্য, নেক আমল, হালাল সম্পদ, সৌভাগ্য এবং জান্নাতবাসীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং আয়াতটি ঈমান, নেক আমল ও হালাল উপার্জনের বৈধতার ওপর প্রমাণ পেশ করে। বিপরীতে 'খবিস' (خبيث) শব্দটি কুফর বা কাফের, পাপাচার, মন্দ কাজ, হারাম সম্পদ, দুর্ভাগ্য ও জাহান্নামবাসীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

(৪) অর্থাৎ: কাজটিকে সৎকর্ম (معروف) হিসেবে বর্ণনা করা। 'মা'রুফ' (معروف) হলো তা, যা শরিয়ত কর্তৃক স্বীকৃত এবং যার নির্দেশ শরিয়ত প্রদান করে, যার প্রশংসা করে এবং এর অনুসারীদের গুণকীর্তন করে। সকল প্রকার আনুগত্য এর অন্তর্ভুক্ত, যার শীর্ষে রয়েছে তাওহিদ ও আল্লাহর প্রতি ঈমান। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নম্র কথা ও ক্ষমা সেই সদকা অপেক্ষা উত্তম যার পেছনে কষ্ট দেওয়া হয়" [বাকারা: ২৬৩]। এখানে 'মা'রুফ' (معروف) বলতে সুন্দর কথা ও প্রার্থীকে সুন্দরভাবে ফিরিয়ে দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তুমি ক্ষমা প্রদর্শন করো এবং সৎকাজের (معروف) নির্দেশ দাও" [আরাফ: ১৯৯]। এখানে 'উরফ' (عرف) অর্থ 'মা'রুফ' (معروف), যা 'মুনকার' (منكر) বা অসৎকাজের বিপরীত। এর মধ্যে সকল প্রকার আনুগত্য অন্তর্ভুক্ত। তদ্রূপ আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণে তোমাদের বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের (معروف) নির্দেশ দাও এবং অসৎকাজে (منكر) নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো" [আল ইমরান: ১১০]।

(৫) অর্থাৎ: কর্তার থেকে দুঃখ ও ভয় দূর করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি বললাম, তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়েত আসবে, তখন যারা আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না" [বাকারা: ৩৮]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, অতঃপর যা ব্যয় করেছে তার পেছনে খোটা দেয় না এবং কোনো কষ্টও দেয় না, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে প্রতিদান রয়েছে; তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না" [বাকারা: ২৬২]।

(৬) অর্থাৎ: আমলের কারণে কর্তাকে পরকালের আজাব থেকে নিরাপদ রাখা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই মুত্তাকিরা থাকবে জান্নাত ও প্রস্রবণসমূহে। (বলা হবে) তোমরা সেখানে শান্তিতে ও নিরাপদে প্রবেশ করো" [হিজর: ৪৫-৪৬]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি এমন কিছু নয় যা তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করে দেবে; তবে যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে, তারাই তাদের কাজের জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান পাবে এবং তারা সুউচ্চ প্রাসাদে নিরাপদে থাকবে" [সাবা: ৩৭]।

সাখবারাহ আল-আসাদি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যাকে দান করা হলো সে শোকর করল, যাকে পরীক্ষায় ফেলা হলো সে ধৈর্য ধারণ করল, যে জুলুম করল সে ক্ষমা চাইল, অতঃপর তিনি চুপ থাকলেন। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসুল, তার কী হবে? তিনি বললেন: 'তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত'।" এটি শোকর, সবর ও ইস্তিগফারের বৈধতার ওপর প্রমাণ পেশ করে। হাদিসটি তাবারানি তার আল-মুজাম আল-কাবির (৬৬১৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২৪)
أو نصبه سبباً لولايته(1)، أو أخبر عن دعاء الرسول بحصوله(2)، أو وصفه بكون قربه(3)، أو بصفة مدح كالحياة والنور


 

(1) أي: نصب الْفِعْل سَببا لولاية الله تَعَالَى، كقوله تعالى: {اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ} [البقرة: 257] وقوله {إِنَّ وَلِيِّيَ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ} [الأعراف: 196].

(2) الألف واللام في الرسول للجنس، فيعم؛ لذا قال العز بن عبد السلام في كتابه الإمام (102 - 103): «دُعَاء الْأَنْبِيَاء بِالْفِعْلِ»، ومثاله قوله تعالى: {رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ} [إبراهيم: 40]، وقوله تعالى: {فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًا مِنْ قَوْلِهَا وَقَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ} [النمل: 19].

ويشترط في ذلك ألا يكون من خصائص الأنبياء كما في قوله تعالى: {وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَيْمَانَ وَأَلْقَيْنَا عَلَى كُرْسِيِّهِ جَسَدًا ثُمَّ أَنَابَ (34) قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ} [ص: 34 - 35].

(3) أي: وصف الْفِعْل بِكَوْنِهِ قربَة، كقوله تعالى: {وَمِنَ الْأَعْرَابِ مَنْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَتَّخِذُ مَا يُنْفِقُ قُرُبَاتٍ عِنْدَ اللَّهِ وَصَلَوَاتِ الرَّسُولِ أَلَا إِنَّهَا قُرْبَةٌ لَهُمْ سَيُدْخِلُهُمُ اللَّهُ فِي رَحْمَتِهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [التوبة: 99]، قال القرطبي في جامعه (8/ 235): {قُرُبَاتٍ} جمع قربة، وهي: ما يتقرب به إلى الله تعالى {أَلَا إِنَّهَا قُرْبَةٌ لَهُمْ} أي: تقربهم من رحمة الله، يعني نفقاتهم».

ومنها التحريض على قيام الليل، بقوله عليه السلام: (عليكم بقيام الليل فإنه دأب الصالحين فيكم، وهو قربة لكم إلى ربكم) أخرجه الترمذي (3549) وصححه الألباني في الإرواء (2/ 199 - 200)، وصحيح الجامع (2/ 752). وعند العز زيادة في الإمام (93) وهي: «وصف الْفَاعِل بالتقريب». ومثَّل له، بقوله تعالى: {وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ (10) أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ} [الواقعة: 10 - 11]، على مشروعية المسابقة في الطاعات.

ومن التقريب ذكر لفظ العندية، ومن ذلك: قوله تعالى: {إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ (54) فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُقْتَدِرٍ} [القمر: 54 - 55]، فدلَّت الآية على مشروعية التقوى، وقوله تعالى: {الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَا أَنْفَقُوا مَنًّا وَلَا أَذًى لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة: 262] أو بيان القرب، كقوله عليه الصلاة والسلام: (أَنا جليس من ذَكرنِي) أخرجه البيهقي في شعب الإيمان (670).
অথবা কাজটিকে তাঁর (আল্লাহর) বন্ধুত্বের (ولاية) কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা(১), অথবা রাসুলের দোয়ার মাধ্যমে সেটি অর্জিত হওয়ার সংবাদ দেওয়া(২), অথবা কাজটিকে একটি নৈকট্য (قربة) হিসেবে বর্ণনা করা(৩), কিংবা জীবন ও নূরের মতো প্রশংসামূলক বিশেষণে ভূষিত করা।


 

(১) অর্থাৎ: কাজটিকে মহান আল্লাহর বন্ধুত্বের (ولاية) কারণ সাব্যস্ত করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ তাদের অভিভাবক যারা ঈমান এনেছে, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন" [বাকারা: ২৫৭] এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আমার অভিভাবক হলেন আল্লাহ, যিনি কিতাব নাজিল করেছেন এবং তিনি নেককারদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন" [আরাফ: ১৯৬]।

(২) 'রাসুল' শব্দের শুরুতে আলিফ ও লাম (الألف واللام) শ্রেণি বা প্রকৃতি (الجنس) বোঝাতে এসেছে, যা ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে। এজন্যই ইয বিন আব্দুস সালাম তাঁর কিতাব 'আল-ইমাম' (১০২-১০৩)-এ বলেছেন: "কোনো কাজের প্রেক্ষিতে নবীগণের দোয়া"। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "হে আমার রব! আমাকে সালাত কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব! আমার দোয়া কবুল করুন" [ইবরাহিম: ৪০]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তিনি (সুলাইমান) তাঁর কথায় মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে আমার রব! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন যাতে আমি আপনার সেই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে দান করেছেন এবং যাতে আমি এমন নেক আমল করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আর আপনার অনুগ্রহে আমাকে আপনার নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন" [নামল: ১৯]।

এক্ষেত্রে শর্ত হলো, বিষয়টি যেন নবীগণের একান্ত বৈশিষ্ট্যের (خصائص) অন্তর্ভুক্ত না হয়, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: "আর আমি অবশ্যই সুলাইমানকে পরীক্ষা করলাম এবং তাঁর সিংহাসনের ওপর একটি দেহ রাখলাম, অতঃপর সে ফিরে এল। সে বলল, হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পরে আর কেউ পাবে না। নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা" [সোয়াদ: ৩৪-৩৫]।

(৩) অর্থাৎ: কাজটিকে একটি নৈকট্য (قربة) হিসেবে বর্ণনা করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর মরুচারীদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এবং যা ব্যয় করে তাকে আল্লাহর নৈকট্য (قربات) ও রাসুলের দোয়া লাভের উপায় হিসেবে গণ্য করে। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তা তাদের জন্য একটি নৈকট্য (قربة)। অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে তাঁর রহমতে প্রবেশ করাবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু" [তওবা: ৯৯]। ইমাম কুরতুবি তাঁর জামিউল কুরতুবি (৮/২৩৫) গ্রন্থে বলেন: "{قربات} হলো {قربة} এর বহুবচন, আর তা হলো এমন কাজ যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। {ألا إنها قربة لهم} অর্থাৎ: এটি তাদেরকে আল্লাহর রহমতের নিকটবর্তী করবে, অর্থাৎ তাদের দান-সদকা।"

এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাহাজ্জুদের নামাজের প্রতি উৎসাহিত করে দেওয়া রাসুলের এই বাণী: (তোমরা রাতের ইবাদত বা কিয়ামুল লাইলকে আঁকড়ে ধরো, কারণ তা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের অভ্যাস এবং তা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য একটি নৈকট্য (قربة))। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন (৩৫৪৯) এবং আলবানি ইরওয়াউল গালিল (২/১৯৯-২০০) ও সহিহুল জামি (২/৭৫২) গ্রন্থে একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন। ইয বিন আব্দুস সালামের 'আল-ইমাম' (৯৩) গ্রন্থে একটি সংযোজন রয়েছে, যা হলো: "আমলকারীকে নৈকট্যপ্রাপ্ত হিসেবে বর্ণনা করা"। তিনি এর উদাহরণ দিয়েছেন মহান আল্লাহর বাণী দিয়ে: "আর অগ্রগামীরাই তো অগ্রগামী। তারাই হলো নৈকট্যপ্রাপ্ত (المقربون)" [ওয়াকিয়াহ: ১০-১১], যা আনুগত্যের কাজে প্রতিযোগিতা করার বৈধতা প্রমাণ করে।

(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২৫)
والشفاء(1)، فهو دليل على مشروعيته المشتركة بين الوجوب والندب(2).

وكل فعل طلب الشارع تركه(3)، أو ذمه(4)،


 

(1) أي: وصف الفعل بصفة مدح. وهذا لم يذكره العز بن عبد السلام، استغناء بما ذكره في أول أنواع الأدلة، عند قوله:: «فكل فعل عظمه الشرع أو مدحه أو مدح فاعله، .... الخ». ومن أمثلة هذا الأسلوب قوله تعالى: {أَوَمَنْ كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَنْ مَثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِنْهَا كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأنعام: 122] مدح المولى سبحانه الإيمان والمؤمنين وشبههم بالأحياء والنور، وقيل: بأن المراد بالذي كان ميتاً فأحياه الله: عمر بن الخطاب. وقيل عمار بن ياسر. أما الذي مثله بالظلمات - أي ظلمات الكفر - فهو أبو جهل بن هشام. على قول كثير من المفسرين.

(2) تنبيه: 1 - وَقد يتَعَلَّق بعض هَذِه الْأَدِلَّة باجتناب الْحَرَام كَقَوْلِه {وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا} [الفرقان: 68] فَإِنَّهُ مدحهم باجتناب الْمحرم كَمَا مدحهم بِفعل الْوَاجِب وَلذَلِك مدحهم بقوله {وَالَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ} [الشورى: 37].

وكل هَذِه الْأَدِلَّة عَائِدَة إِلَى الْمَدْح والوعد وَلَكِن لما اخْتلفت أَنْوَاع الوعود والمدائح عددت هَذِه الْأَنْوَاع لينْتَفع بهَا المتدرب فِي مضانها

2 - مما لم يذكره السيوطي في الإكليل من الأنواع التي ذكرها العز بن عبد السلام (89، 101):

الأول: الْفَرح بِالْفِعْلِ كقوله عليه السلام: (لله أفرح بتوبة أحدكُم من أحدكُم بضالته إِذا وجدهَا) أخرجه البخاري (5933). الثاني: نصب الْفِعْل سَببا لإِصْلَاح الْعَمَل {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71] {وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتًا} [النساء: 66] جعل الله الْعَمَل سَببا للتثبيت.

(3) يكون بصيغة النهي: كتحريم الزنا، {وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا} [الإسراء: 32] وتحريم أكل الأموال بالباطل {وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ} [البقرة: 188]، وبصيغة الأمر: كتحريم جماع الحائض {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ} [البقرة: 222]، وتحريم شرب الخمر {إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [المائدة: 90].

(4) مثاله: قوله تعالى: {لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ عَنْ قَوْلِهِمُ الْإِثْمَ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَصْنَعُونَ} [المائدة: 63]، وقوله تعالى: {وَلُوطًا آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ تَعْمَلُ الْخَبَائِثَ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَاسِقِينَ} [الأنبياء: 74].
এবং নিরাময়(১), এটি তার বৈধতা (مشروعية) এর প্রমাণ যা আবশ্যকতা (وجوب) ও মুস্তাহাব (ندب) হওয়ার মধ্যে সাধারণ(২)।

এবং শারীআহ প্রণেতা (شارع) প্রতিটি কাজ বর্জনের দাবি জানিয়েছেন(৩), অথবা তার নিন্দা করেছেন(৪),


 

(১) অর্থাৎ: কাজকে প্রশংসার বিশেষণে বিশেষিত করা। এটি ইজ্জুদ্দিন ইবনে আবদুস সালাম উল্লেখ করেননি, কারণ তিনি দলিলের প্রকারসমূহের শুরুতে যা উল্লেখ করেছেন তা-ই যথেষ্ট ছিল। তিনি বলেছিলেন: «প্রত্যেক কাজ যাকে শরিয়ত মহিমান্বিত করেছে অথবা তার প্রশংসা করেছে অথবা তার কর্তার প্রশংসা করেছে, .... ইত্যাদি»। এই শৈলীর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি মৃত ছিল, এরপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে একটি নূর দিয়েছি যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো হতে পারে যে অন্ধকারে রয়েছে এবং সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এভাবেই কাফেরদের জন্য তাদের আমলসমূহ সুশোভিত করা হয়েছে} [আল-আনআম: ১২২]। এখানে মহান প্রতিপালক ঈমান ও মুমিনদের প্রশংসা করেছেন এবং তাদেরকে জীবিত ও নূরের সাথে তুলনা করেছেন। বলা হয়েছে যে, যিনি মৃত ছিলেন অতঃপর আল্লাহ তাকে জীবিত করেছেন, তিনি হলেন উমর ইবনুল খাত্তাব। আবার কারো মতে তিনি আম্মার ইবনে ইয়াসির। আর যার উপমা অন্ধকারে—অর্থাৎ কুফরির অন্ধকারে—সে হলো আবু জাহল ইবনে হিশাম। এটি বহু মুফাসসিরের অভিমত।

(২) সতর্কবার্তা: ১ - এই দলিলসমূহের কোনো কোনোটি হারাম (حرام) বর্জন করার সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে, যেমন আল্লাহর বাণী: {আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে না, আর আল্লাহ যাকে হারাম করেছেন সেই আত্মাকে সংগত কারণ ছাড়া হত্যা করে না এবং তারা ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি এসব করবে সে শাস্তির মুখোমুখি হবে} [আল-ফুরকান: ৬৮]। এখানে হারাম (حرام) বর্জন করার কারণে তাদের প্রশংসা করা হয়েছে, যেমনটি ওয়াজিব (واجب) পালনের কারণে তাদের প্রশংসা করা হয়। একইভাবে তিনি তাদের প্রশংসা করেছেন এই বলে: {যারা বড় বড় পাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে এবং যখন রাগান্বিত হয় তখন তারা ক্ষমা করে দেয়} [আশ-শূরা: ৩৭]।

এই সকল দলিলই প্রশংসা ও প্রতিশ্রুতির দিকে প্রত্যাবর্তন করে। কিন্তু যখন প্রতিশ্রুতি ও প্রশংসার প্রকারভেদ ভিন্ন ভিন্ন হলো, তখন এই প্রকারসমূহ গণনা করা হয়েছে যাতে প্রশিক্ষণার্থীগণ যথাস্থানে এ দ্বারা উপকৃত হতে পারেন।

২ - ইমাম সুয়ূতী আল-ইকলীল গ্রন্থে ইজ্জুদ্দিন ইবনে আবদুস সালাম বর্ণিত (৮৯, ১০১) যে প্রকারগুলো উল্লেখ করেননি তার মধ্যে রয়েছে:

প্রথম: কোনো কাজে আনন্দিত হওয়া। যেমন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কারো তওবাতে ঐ ব্যক্তির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন, যে তার হারিয়ে যাওয়া সওয়ারি খুঁজে পেয়েছে)। এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন (৫৯৩৩)। দ্বিতীয়: আমল সংস্কারের জন্য কোনো কাজকে কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করেছে} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]। {আর তারা যদি তা করতো যার উপদেশ তাদের দেওয়া হয়েছে, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো এবং তাদের সুদৃঢ় রাখার জন্য অধিক কার্যকর হতো} [আন-নিসা: ৬৬]। এখানে আল্লাহ তাআলা আমলকে সুদৃঢ় থাকার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

(৩) এটি নিষেধ (نهي) এর সিগার মাধ্যমে হতে পারে: যেমন ব্যভিচার হারাম (تحريم) হওয়া সংক্রান্ত আয়াত— {আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয়ই এটি একটি অশ্লীল কাজ এবং অতি মন্দ পথ} [আল-ইসরা: ৩২]। এবং অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ হারাম (تحريم) করা— {আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না} [আল-বাকারা: ১৮৮]। আবার আদেশ (أمر) এর সিগার মাধ্যমেও হতে পারে: যেমন ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস হারাম (تحريم) হওয়া সংক্রান্ত আয়াত— {আর তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে; বলুন, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকো} [আল-বাকারা: ২২২]। এবং মদ্যপান হারাম (تحريم) হওয়া— {নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এসব বর্জন করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} [আল-মায়িদা: ৯০]।

(৪) এর উদাহরণ: মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহওয়ালা ও আলিমরা কেন তাদেরকে পাপের কথা বলতে এবং অবৈধ সম্পদ ভক্ষণ করতে নিষেধ করে না? তারা যা করছে তা অত্যন্ত মন্দ} [আল-মায়িদা: ৬৩]। এবং আল্লাহর বাণী: {আর আমি লূতকে দিয়েছিলাম হিকমত ও জ্ঞান এবং তাকে আমি সেই জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম যারা অশ্লীল কাজে লিপ্ত ছিল। নিশ্চয়ই তারা ছিল এক মন্দ ও পাপাচারী জাতি} [আল-আম্বিয়া: ৭৪]।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২৬)
أو ذم فاعله(1)، أو عتب عليه(2)، أو مقت فاعله(3)، أو لعنه(4)، أو نفي محبته(5)


 

(1) أي: ذمّ الفاعل، ومثاله: قوله تعالى: {إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الَّذِينَ كَفَرُوا فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ}

[الأنفال: 55] وقوله تعالى: {تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} [البقرة: 229] وقوله تعالى: {وَلُوطًا آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ تَعْمَلُ الْخَبَائِثَ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَاسِقِينَ} [الأنبياء: 74].

(2) أي: العتب على الْفَاعِل، ومثال ذلك قوله تعالى: {عَفَا اللَّهُ عَنْكَ لِمَ أَذِنْتَ لَهُمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَاذِبِينَ} [التوبة: 43]، ونقل السيوطي في الإكليل (2/ 810 - 811) عن أبي حاتم عن عون قوله: سمعتم بمعاتبة أحسن من هذا؟ بدأ بالعفو قبل المعاتبة.

ومن العتب على الْفَاعِل قوله تعالى: {وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ} [الأحزاب: 37].

(3) ومثال ذلك من الأدلة، قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنَادَوْنَ لَمَقْتُ اللَّهِ أَكْبَرُ مِنْ مَقْتِكُمْ أَنْفُسَكُمْ إِذْ تُدْعَوْنَ إِلَى الْإِيمَانِ فَتَكْفُرُونَ} [غافر: 10].

وذكر العز في كتابه الإمام (108) - أيضاً -: مقت الْفِعْل ومثَّل له بقوله تعالى: {وَلَا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُمْ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتًا وَسَاءَ سَبِيلًا} [النساء: 22] وقوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ (2) كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ} [الصف: 2 - 3].

(4) أي: لعن الفاعل بسبب الفعل. وقال العز في قواعد الأحكام (1/ 24): «وقد ضبط بعض العلماء الكبائر بأن قال: كل ذنب قُرن بوعيد، أو حد، أو لعن فهو من الكبائر».

ومن الأمثلة لهذا النوع من الأدلة: تحريم الكذب، بقوله تعالى: {فَنَجْعَلْ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ} [آل عمران: 61]، وتحريم الوصل والوشم بقوله صلى الله عليه وسلم: «لعن الله الواصلة والمستوصلة، والواشمة والمستوشمة».

وذكر العز رحمه الله (115) كذلك وصف الفعل بأنه سبب اللعن، ومن ذلك تحريم القتل متعمداً، بقوله تعالى: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا} [النساء: 93].

(5) أي: نفي محبَّة الْفِعْل أو الفاعل. ومثَّل العز رحمه الله لنفي محبة الفعل (108) بقوله تعالى: {وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْفَسَادَ} [البقرة: 205] وقوله تعالى: {لَا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظُلِمَ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا} [النساء: 148].
অথবা তার সম্পাদনকারীর নিন্দা করা(১), অথবা তার প্রতি তিরস্কার করা(২), অথবা তার সম্পাদনকারীকে ঘৃণা করা(৩), অথবা তাকে অভিসম্পাত করা(৪), অথবা তার প্রতি ভালোবাসা নাকচ করা(৫)


 

(১) অর্থাৎ: সম্পাদনকারীর নিন্দা করা। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম প্রাণিকুল তারা যারা কুফরি করেছে, ফলে তারা ঈমান আনে না} [আল-আনফাল: ৫৫]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এগুলো আল্লাহর সীমারেখা; সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। আর যারা আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, তারাই জালিম (ظالمون)} [আল-বাকারা: ২২৯]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি লূতকে বিচারবুদ্ধি ও জ্ঞান দান করেছিলাম এবং তাকে সেই জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম যারা নোংরা কাজে লিপ্ত ছিল; নিশ্চয়ই তারা ছিল এক মন্দ ও পাপাচারী (فاسقين) জাতি} [আল-আম্বিয়া: ৭৪]।

(২) অর্থাৎ: সম্পাদনকারীর প্রতি তিরস্কার করা। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন; কেন আপনি তাদেরকে অনুমতি দিলেন যতক্ষণ না সত্যবাদীরা আপনার নিকট স্পষ্ট হতো এবং আপনি মিথ্যাবাদীদের (الكاذبين) জেনে নিতেন?} [আত-তাওবাহ: ৪৩]। সুয়ূতী 'আল-ইকলীল' গ্রন্থে (২/ ৮১০-৮১১) আউন থেকে এবং তিনি আবু হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন: "আপনারা কি এর চেয়ে উত্তম কোনো অনুযোগ শুনেছেন? তিনি অনুযোগ করার পূর্বেই ক্ষমা দিয়ে শুরু করেছেন।"

সম্পাদনকারীর প্রতি তিরস্কারের আরেকটি উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {স্মরণ করুন, যখন আপনি তাকে বলছিলেন যাকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও অনুগ্রহ করেছেন যে, 'তুমি তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করো', আর আপনি আপনার অন্তরে গোপন রাখছিলেন যা আল্লাহ প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন এবং আপনি মানুষকে ভয় করছিলেন অথচ আল্লাহকেই ভয় করা আপনার জন্য অধিকতর সমীচীন ছিল} [আল-আহজাব: ৩৭]।

(৩) দলিলের মধ্য থেকে এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে তাদেরকে ডেকে বলা হবে, 'তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের আজকের যে ঘৃণা, তার চেয়ে আল্লাহর ঘৃণা অনেক বেশি ছিল যখন তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি আহ্বান করা হতো আর তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে'} [গাফির: ১০]।

ইযযুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম তাঁর 'আল-ইমাম' (১০৮) গ্রন্থে কর্মের প্রতি ঘৃণার কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী পেশ করেছেন: {তোমাদের পিতৃপুরুষরা যে নারীদের বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না, তবে যা গত হয়ে গেছে তা ভিন্ন। নিশ্চয়ই তা ছিল অশ্লীলতা ও ঘৃণ্য এবং নিকৃষ্ট পথ} [আন-নিসা: ২২]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না তা কেন বলো? তোমরা যা করো না তা বলা আল্লাহর নিকট চরম ঘৃণার বিষয়} [আস-সাফ: ২-৩]।

(৪) অর্থাৎ: কর্মের কারণে সম্পাদনকারীকে অভিশাপ প্রদান করা। ইযযুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম 'কাওয়ায়িদুল আহকাম' গ্রন্থে (১/ ২৪) বলেন: «কোনো কোনো আলেম কবিরা গুনাহসমূহ (الكبائر) সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: প্রত্যেক ঐ গুনাহ যার সাথে শাস্তির হুঁশিয়ারি, কিংবা দণ্ডবিধি (حد), অথবা অভিশাপ (لعن) যুক্ত হয়েছে, তাই কবিরা গুনাহ (الكبائر) হিসেবে গণ্য।»

এই জাতীয় দলিলের উদাহরণ হলো: মিথ্যা বলা হারাম হওয়া, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {অতঃপর আমরা প্রার্থনা করি যে, মিথ্যাবাদীদের (الكاذبين) ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক} [আল-ইমরান: ৬১]। এবং পরচুলা লাগানো ও উল্কি আঁকা হারাম হওয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমে: «আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন ঐ নারীর ওপর যে নিজের চুলে অন্য চুল জোড়া দেয় এবং যে নারী অন্য নারীর চুলে জোড়া লাগিয়ে দেয়; আর ঐ নারীর ওপর যে উল্কি অঙ্কন করে এবং যে নারী উল্কি অঙ্কন করিয়ে নেয়।»

ইযযুদ্দীন (রাহিমাহুল্লাহ) আরও উল্লেখ করেছেন (১১৫) কর্মটিকে অভিশাপের কারণ হিসেবে বর্ণনা করা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হারাম হওয়া, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাকে অভিশপ্ত করেছেন এবং তার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন মহা আজাব} [আন-নিসা: ৯৩]।

(৫) অর্থাৎ: কর্ম বা সম্পাদনকারীর প্রতি ভালোবাসা নাকচ করা। ইযযুদ্দীন (রাহিমাহুল্লাহ) কর্মের প্রতি ভালোবাসা নাকচ করার উদাহরণ হিসেবে (১০৮) মহান আল্লাহর এই বাণী পেশ করেছেন: {আর আল্লাহ বিপর্যয় পছন্দ করেন না} [আল-বাকারা: ২০৫]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {মন্দের প্রচার আল্লাহ পছন্দ করেন না, তবে যার ওপর জুলুম করা হয়েছে তার কথা ভিন্ন; আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [আন-নিসা: ১৪৮]।।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২৭)
أو محبة فاعله(1)، أو الرضا به(2) أو عن فاعله(3)، أو شبه فاعله بالبهائم(4) أو بالشياطين(5)، أو جعله مانعاً من الهدى(6) أو القبول(7)،


 

(1) ومثَّل العز رحمه الله لنفي محبَّة الْفَاعِل من الأدلة (108)، بقوله تعالى: {وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ} [المائدة: 64] وقوله تعالى: {وَإِمَّا تَخَافَنَّ مِنْ قَوْمٍ خِيَانَةً فَانْبِذْ إِلَيْهِمْ عَلَى سَوَاءٍ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِينَ} [الأنفال: 58] وقوله تعالى: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [البقرة: 190]، وقوله تعالى: {وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ} [الحديد: 23].

(2) أي: نفي الرِّضَا بِالْفِعْلِ، ومثَّل العز رحمه الله لنفي عدم الرضا بالفعل (108) بقوله تعالى: {إِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكُمْ وَلَا يَرْضَى لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ} [الزمر: 7].

(3) ومثَّل العز رحمه الله لنفي الرِّضَا عَنْ الْفَاعِل من الأدلة (109)، بقوله تعالى: {فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَرْضَى عَنِ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ} [التوبة: 96].

(4) ومثَّل العز رحمه الله لهذا النوع من الأدلة - وهو تشبيه الفاعل بالبهائم - (109) بقوله تعالى: {وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَثْ ذَلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [الأعراف: 176]

الكلب إن كان رابضاً لهث، وإن طُرد لهث، وكذا من أتاه الله العلم والحكمة، أو الذي يقرأ القرآن ولايعمل به، كالكافر والمنافق، أي لا ينفعه العلم والقرآن سواء وعظ بها، أو لم يوعظ، والكلب يلهث سواء طردته أو تركته رابضاً.

(5) كقوله تعالى: {إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ} [الإسراء: 27]، وزاد العز كذلك التشبه بالكفرة (109) ومن أمثلتها، قوله تعالى: {وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا} [النساء: 140] وفيه تحريم الجلوس في مجلس يستهزأ فيه بآيات الله.

(6) ومثال كون الفعل سبباً لحرمان الهدي، قوله تعالى: {وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ} [البقرة: 264]، أي: لما يرشدهم إِلَيْهِ ويقربهم مِنْهُ، فجعل الكفر سبباً في حرمان الهدى. ومن الأمثلة قوله تعالى: {سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ} [الأعراف: 146] أَي عَنْ فهم آياتي أَوْ تدبر آياتي.

(7) أي: نصب الْفِعْل سَببا لحرمان القَبول، ومثاله من الأدلة، قوله تعالى: {وَمَا مَنَعَهُمْ أَنْ تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّا أَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ وَلَا يَأْتُونَ الصَّلَاةَ إِلَّا وَهُمْ كُسَالَى وَلَا يُنْفِقُونَ إِلَّا وَهُمْ كَارِهُونَ} [التوبة: 54]، وفي الحديث: (من أتى عرَّافاً فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة) رواه مسلم (2230).
অথবা এর সম্পাদনকারীর প্রতি ভালোবাসা(১), অথবা তাতে সন্তুষ্টি(২) অথবা এর সম্পাদনকারীর প্রতি সন্তুষ্টি(৩), অথবা এর সম্পাদনকারীকে চতুষ্পদ জন্তুর সাথে তুলনা করা(৪) কিংবা শয়তানদের সাথে তুলনা করা(৫), অথবা একে হিদায়াত(৬) কিংবা কবুলিয়ত (القبول) লাভের অন্তরায় হিসেবে সাব্যস্ত করা(৭),


 

(১) আল-ইজ্জ (রহিমাহুল্লাহ) দালিলসমূহ (১০৮) থেকে সম্পাদনকারীর প্রতি ভালোবাসা নাকচ করার উদাহরণ দিয়েছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালোবাসেন না} [আল-মায়িদাহ: ৬৪] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তুমি কোনো সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে খিয়ানতের আশঙ্কা করো, তবে তুমিও তাদের সাথে চুক্তি বাতিল করো সমানভাবে; নিশ্চয় আল্লাহ খিয়ানতকারীদের ভালোবাসেন না} [আল-আনফাল: ৫৮] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে এবং সীমালঙ্ঘন করো না; নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না} [আল-বাকারাহ: ১৯০], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ কোনো উদ্ধত, অহংকারীকে ভালোবাসেন না} [আল-হাদিদ: ২৩]।

(২) অর্থাৎ: কার্যের প্রতি সন্তুষ্টি নাকচ করা। আল-ইজ্জ (রহিমাহুল্লাহ) কার্যের প্রতি সন্তুষ্ট না হওয়ার (১০৮) উদাহরণ দিয়েছেন আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: {যদি তোমরা কুফরি করো, তবে নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী; আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না} [আয-যুমার: ৭]।

(৩) আল-ইজ্জ (রহিমাহুল্লাহ) দালিলসমূহ (১০৯) থেকে সম্পাদনকারীর প্রতি সন্তুষ্টি নাকচ করার উদাহরণ দিয়েছেন আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: {নিশ্চয় আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন না} [আত-তাওবাহ: ৯৬]।

(৪) আল-ইজ্জ (রহিমাহুল্লাহ) এই ধরনের দালিল—যা হলো সম্পাদনকারীকে চতুষ্পদ জন্তুর সাথে তুলনা করা—এর উদাহরণ হিসেবে (১০৯) আল্লাহ তাআলার এই বাণী উল্লেখ করেছেন: {আর আমি চাইলে এর মাধ্যমে তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করতাম, কিন্তু সে মাটির দিকে ঝুঁকে রইল এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত কুকুরের মতো, তাকে তাড়া করলে সে জিহ্বা বের করে হাঁপায় আর ছেড়ে দিলেও সে জিহ্বা বের করে হাঁপায়। এটাই সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। অতএব তুমি এই কাহিনী বর্ণনা করো যাতে তারা চিন্তা করে} [আল-আরাফ: ১৭৬]।

কুকুর বসে থাকলেও হাঁপায়, আর তাকে তাড়িয়ে দিলেও হাঁপায়। অনুরূপভাবে যাকে আল্লাহ জ্ঞান ও হিকমত দান করেছেন, অথবা যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে অথচ সে অনুযায়ী আমল করে না, সে কাফির ও মুনাফিকের মতো; অর্থাৎ জ্ঞান ও কুরআন তার কোনো উপকারে আসে না, চাই তাকে এর দ্বারা উপদেশ দেওয়া হোক বা না হোক। কুকুর যেমন তাকে তাড়া করলেও হাঁপায়, আবার বসে থাকতে দিলেও হাঁপায়।

(৫) যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই} [আল-ইসরা: ২৭]। আল-ইজ্জ কাফিরদের সাথে সাদৃশ্যকেও (১০৯) এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যার উদাহরণ আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তিনি কিতাবে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হয়; নতুবা তোমরাও তাদের মতো হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ মুনাফিক ও কাফিরদের সকলকেই জাহান্নামে একত্রিত করবেন} [আন-নিসা: ১৪০]। এতে এমন মজলিসে বসা হারাম হওয়ার প্রমাণ রয়েছে যেখানে আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়।

(৬) আর কাজ হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হওয়ার উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না} [আল-বাকারাহ: ২৬৪]। অর্থাৎ: যা তাদের সঠিক পথ দেখাত এবং তাঁর নিকটবর্তী করত। সুতরাং তিনি কুফরিকে হিদায়াত লাভের অন্তরায় হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। এর আরও উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি অচিরেই আমার নিদর্শনসমূহ থেকে তাদের বিমুখ করে দেব যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করে} [আল-আরাফ: ১৪৬]। অর্থাৎ আমার নিদর্শনসমূহ বোঝা বা তা নিয়ে চিন্তা করা থেকে।

(৭) অর্থাৎ: কোনো কাজকে কবুলিয়ত (القبول) থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হিসেবে স্থির করা। দালিলসমূহ থেকে এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তাদের দান কবুল হওয়া থেকে অন্য কিছু বাধা দেয়নি কেবল এটি ছাড়া যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছে, আর তারা নামাযে আসে না অলসতা ছাড়া এবং তারা দান করে না অনিচ্ছা ছাড়া} [আত-তাওবাহ: ৫৪]। আর হাদিসে রয়েছে: (যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে এসে কিছু জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ রাতের নামায কবুল (تقبل) হবে না) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২২৩০)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২৮)
أو وصفه بسوء أو كراهة(1)، أو استعاذ الأنبياء منه(2)، أو أبغضوه(3)، أو جعله سبباً لنفي الفلاح(4)، أو لعذاب آجل(5)


 

(1) مثَّل العز رحمه الله لهذا النوع من الأدلة (110)، بقوله تعالى: {وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا مَحْسُورًا (29) إِنَّ رَبَّكَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ إِنَّهُ كَانَ بِعِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا (30) وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا (31) وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا (32) وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُومًا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَانًا فَلَا يُسْرِفْ فِي الْقَتْلِ إِنَّهُ كَانَ مَنْصُورًا (33) وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا (34) وَأَوْفُوا الْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا (35) وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا (36) وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولًا (37) كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِّئُهُ عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا} [الإسراء: 29 - 38]، وَفِي الحَدِيث: (وَيكرهُ لكم ثَلَاثًا قيل وَقَالَ، وَكَثْرَة السُّؤَال، وإضاعة المَال) أخرجه البخاري (1477)، ومسلم (1715).

(2) أي: استعاذة الْأَنْبِيَاء من الْفِعْل، ومثاله من الأدلة، قوله تعالى: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُوا بَقَرَةً قَالُوا أَتَتَّخِذُنَا هُزُوًا قَالَ أَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ} [البقرة: 67]، وَفِي الحَدِيث: (وَأَعُوذ بك أَنْ أزل أَوْ أضلّ أَوْ أظلم أَوْ أظلم أَوْ أَجْهَل أَوْ يجهل عَليّ). قال العز (110 - 111): «استعاذوا من المخالفات كَمَا استعاذوا من البليات». وكونه يظلم أو يجهل فهذا من المخالفات. وكون الظلم والجهل يقع عليه، فهذا من البليات. وأمروا بالاستعادة من البليات؛ لأنه قد لا يصبر، فالمؤمن يحتاج لصبر على البليات والطاعات، ويحتاج لصبر عن المعاصي والمخالفات.

(3) مثال إبغاض الْأَنْبِيَاء للْفِعْل وكراهتهم لَهُ من الأدلة، قوله تعالى: {قَالَ إِنِّي لِعَمَلِكُمْ مِنَ الْقَالِينَ} [الشعراء: 168] {قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِنْ قَوْمِهِ لَنُخْرِجَنَّكَ يَاشُعَيْبُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَكَ مِنْ قَرْيَتِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا قَالَ أَوَلَوْ كُنَّا كَارِهِينَ} [الأعراف: 88].

(4) مثال نصب الْفِعْل سَببا لنفي الْفَلاح من الأدلة، قوله تعالى: {إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ} [المؤمنون: 117] وقوله تعالى: {إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ} [الأنعام: 21] وقوله تعالى: {وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى} [طه: 69]، وَفِي الحَدِيث لن يفلح قوم ولوا أَمرهم امْرَأَة.

(5) ومثال نصب الْفِعْل سَببا لعذاب آجل - وَهُوَ أَكثر وَعِيد الْقُرْآن، كما قال العز (112) - من الأدلة، قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا} [النساء: 10]، وفي الحديث: (الذي يشرب في آنية الفضة) أو (إن الذي يأكل أو يشرب في آنية الفضة والذهب إِنَّمَا يجرجر فِي بَطْنه نَار جَهَنَّم). رواهما مسلم (2065).
অথবা সেটিকে মন্দের সাথে বা অপছন্দনীয়তার (كراهة) সাথে বিশেষায়িত করা হয়েছে(১), কিংবা নবীগণ তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন(২), অথবা তাঁরা সেটিকে ঘৃণা করেছেন(৩), অথবা সেটিকে সফলতা নস্যাৎ করার কারণ সাব্যস্ত করেছেন(৪), অথবা পরকালীন শাস্তির কারণ বানিয়েছেন(৫)।


 

(১) ইমাম ইজ্জ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ জাতীয় দলিলের (১১০) উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণী পেশ করেছেন: {তোমরা তোমাদের হাতকে গ্রীবাবদ্ধ করে রেখো না এবং তা পূর্ণরূপে প্রসারিতও করো না, তাহলে তোমরা নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়বে (২৯) নিশ্চয়ই তোমার রব যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং সংকুচিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত ও সর্বদ্রষ্টা (৩০) দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না; আমরাই তাদেরকে রিযিক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয়ই তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ (৩১) আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না; নিশ্চয়ই এটি অশ্লীলতা ও মন্দ পথ (৩২) আর আল্লাহ যার হত্যা হারাম করেছেন, যথাযথ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করো না; কেউ অন্যায়ভাবে নিহত হলে আমরা তার উত্তরাধিকারীকে প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছি, কিন্তু হত্যার ব্যাপারে সে যেন সীমালঙ্ঘন না করে; নিশ্চয়ই সে সাহায্যপ্রাপ্ত (৩৩) আর এতিম বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তার সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না, তবে উৎকৃষ্ট পন্থায় হতে পারে; এবং তোমরা প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো, নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে (৩৪) আর যখন তোমরা মেপে দেবে, তখন পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে; এটিই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট (৩৫) যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়—এদের প্রত্যেকের নিকট এ সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে (৩৬) আর জমিনে দম্ভভরে বিচরণ করো না; নিশ্চয়ই তুমি কখনোই পদভারে ভূপৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় কখনোই পাহাড়সম পৌঁছাতে পারবে না (৩৭) এসবের মধ্যে যা মন্দ, তা তোমার রবের নিকট অপছন্দনীয় (مكروه)} [বনী ইসরাঈল: ২৯ - ৩৮]। এবং হাদিসে এসেছে: (তোমাদের জন্য তিনটি বিষয় অপছন্দ করা হয়েছে: অনর্থক কথা বলা, অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদ বিনষ্ট করা) এটি বুখারি (১৪৭৭) এবং মুসলিম (১৭১৫) বর্ণনা করেছেন।

(২) অর্থাৎ: কোনো কাজ থেকে নবীগণের আশ্রয় প্রার্থনা করা। দলিলের উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: {স্মরণ করো যখন মুসা তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন: আল্লাহ তোমাদের একটি গাভী যবেহ করার আদেশ দিচ্ছেন; তারা বলল: আপনি কি আমাদের সাথে উপহাস করছেন? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত না হই} [আল-বাকারা: ৬৭]। এবং হাদিসে রয়েছে: (আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি যেন আমি পদস্খলিত না হই অথবা পথভ্রষ্ট না হই, কিংবা জুলুম না করি অথবা জুলুমের শিকার না হই, অথবা মূর্খতা প্রকাশ না করি কিংবা আমার প্রতি মূর্খতা প্রকাশ করা না হয়)। ইজ্জ রহ. (১১০-১১১) বলেন: «তাঁরা অবাধ্যতা বা লঙ্ঘন (المخالفات) থেকে ঠিক তেমনি আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন যেমনটি তাঁরা বিপদ-আপদ (البليات) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।» জুলুম করা বা মূর্খতা প্রকাশ করা হলো অবাধ্যতা বা লঙ্ঘন (المخالفات)। আর জুলুমের শিকার হওয়া বা অন্যের মূর্খতার পাত্র হওয়া হলো বিপদ-আপদ (البليات)। আর বিপদ-আপদ (البليات) থেকে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; কারণ মানুষ অনেক সময় এতে ধৈর্য ধারণ করতে পারে না। ফলে মুমিনের যেমন বিপদ-আপদ (البليات) ও ইবাদত পালনে ধৈর্যের প্রয়োজন হয়, তেমনি গুনাহ ও শরয়ি বিধান লঙ্ঘন (المخالفات) থেকে বেঁচে থাকতেও ধৈর্যের প্রয়োজন হয়।

(৩) কোনো কাজের প্রতি নবীগণের ঘৃণা ও অপছন্দের দলিলের উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি বললেন, আমি তোমাদের এই কাজের চরম বিদ্বেষীদের অন্তর্ভুক্ত} [আশ-শুআরা: ১৬৮]। {তাঁর সম্প্রদায়ের দাম্ভিক নেতৃবর্গ বলল, হে শুআইব! আমরা তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদের আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেবই অথবা তোমাদের আমাদের ধর্মাদর্শে ফিরে আসতে হবে। তিনি বললেন, যদিও আমরা তা অপছন্দ করি তবুও?} [আল-আরাফ: ৮৮]।

(৪) কোনো কাজকে সফলতা নস্যাৎ করার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার দলিলের উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই কাফিররা সফলকাম হবে না} [আল-মুমিনুন: ১১৭]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই জালিমরা সফলকাম হবে না} [আল-আনআম: ২১]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {জাদুকর যেখানেই আসুক সফল হবে না} [ত্বহা: ৬৯]। এবং হাদিসে এসেছে: (ঐ জাতি কখনোই সফল হবে না যারা তাদের শাসনের ভার কোনো নারীর ওপর অর্পণ করে)।

(৫) কোনো কাজকে পরকালীন শাস্তির কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার উদাহরণ—যা কুরআনের অধিকাংশ সতর্কবাণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেমনটি ইজ্জ রহ. (১১২) বলেছেন—মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পদ ভক্ষণ করে, তারা তাদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করে এবং অতিসত্বর তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে} [আন-নিসা: ১০]। এবং হাদিসে এসেছে: (যে ব্যক্তি রুপার পাত্রে পান করে) অথবা (নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সোনা ও রুপার পাত্রে আহার বা পান করে, সে মূলত তার পেটে জাহান্নামের আগুন টেনে নেয়)। মুসলিম (২০৬৫) উভয়টি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২৯)
أو عاجل(1)، أو لذم أو لوم(2)، أو ضلالة(3) أو معصية(4)، أو وصف بخبث(5) أو رجس(6) أو نجس، أو بكونه فسقاً(7) أو إثماً(8)، أو سبباً لإثم أو رجس، أو لعن


 

(1) ومثال نصب الْفِعْل سَببا لعذاب عَاجل من الأدلة، قوله تعالى: في قوم عاد {فَأَصْبَحُوا لَا يُرَى إِلَّا مَسَاكِنُهُمْ كَذَلِكَ نَجْزِي الْقَوْمَ الْمُجْرِمِينَ} [الأحقاف: 25] وقوله تعالى: {فَأَذَاقَهُمُ اللَّهُ الْخِزْيَ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ} [الزمر: 26] وقوله تعالى: {وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} [طه: 124].

(2) ومثَّل العز رحمه الله لهذا النوع من الأدلة (113)، بقوله تعالى: {لَا تَجْعَلْ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَتَقْعُدَ مَذْمُومًا مَخْذُولًا} [الإسراء: 22] وقوله تعالى: {وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا مَحْسُورًا} [الإسراء: 29].

(3) مثال الوقوع في المعصية بسبب الفعل من الأدلة، حديث أبي هريرة رضي الله عنه أنه رأى رجلاً خرج بعد الأذان فقال: (أما هذا فقد عصى أبا القاسم صلى الله عليه وسلم أخرجه مسلم (655)، وحديث عمار: (من صام اليوم الذي يشك فيه فقد عصى أبا القاسم)، (من لعب بالنرد فقد عصى الله ورسوله) أخرجه أبو داود (4938)، وابن ماجة (3762)، وحسنه الألباني في الإرواء (2670).

(4) مثال الوقوع في الضلالة بسبب الفعل من الأدلة، قوله تعالى: {وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا} [النساء: 116]، وقوله تعالى: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} [الأحزاب: 36].

(5) مثال وصف الفعل بكونه رجساً من الأدلة: قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [المائدة: 90]. والرجس هو النجس.

(6) مثال وصف الفعل بكونه خبثاً من الأدلة: قوله تعالى: {وَلُوطًا آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ تَعْمَلُ الْخَبَائِثَ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَاسِقِينَ} [الأنبياء: 74]، وأضاف العز (114): وصف الْفَاعِل بِأَنَّهُ رِجْس أَوْ نجس، ومثَّل لهذا النوع من الأدلة، بقوله تعالى: {سَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ إِنَّهُمْ رِجْسٌ} [التوبة: 95] وقوله تعالى: {إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ} [التوبة: 28].

(7) مثال وصف الفعل بكونه فسقا من الأدلة: قوله تعالى: {وَلَا يُضَارَّ كَاتِبٌ وَلَا شَهِيدٌ وَإِنْ تَفْعَلُوا فَإِنَّهُ فُسُوقٌ بِكُمْ} [البقرة: 282] وقوله تعالى: {وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ} [الحجرات: 7].

(8) مثال وصف الفعل بكونه إِثْمًا أَوْ سَبَباً لإِثْم من الأدلة: قوله تعالى: {وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ} [البقرة: 283] وقوله تعالى: {يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ} [البقرة: 219].
অথবা পার্থিব(১), অথবা নিন্দা (ذم) বা তিরস্কারের (لوم)(২) জন্য, অথবা পথভ্রষ্টতা (ضلالة)(৩) অথবা নাফরমানি (معصية)(৪), অথবা কদর্যতা (خبث)(৫) বা অপবিত্রতা (رجس)(৬) বা নাপাকি (نجس) দ্বারা বিশেষিত করা, অথবা একে পাপাচার (فسقاً)(৭) বা গুনাহ (إثماً)(৮) হিসেবে গণ্য করা, অথবা গুনাহ বা অপবিত্রতার কারণ হওয়া, অথবা অভিশাপ দেওয়া।


 

(১) কোনো কাজকে পার্থিব শাস্তির কারণ হিসেবে নির্ধারণ করার দলিলসমূহের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: আদ জাতির বর্ণনায় {অতঃপর তাদের অবস্থা এমন হলো যে, তাদের বসতিগুলো ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এভাবেই আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে প্রতিফল দিয়ে থাকি} [আল-আহকাফ: ২৫] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার স্বাদ আস্বাদন করালেন, আর আখিরাতের শাস্তি তো আরও বড়; যদি তারা জানত!} [আয-যুমার: ২৬] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব} [তহা: ১২৪]।

(২) ইযযুদ্দিন (রাহিমাহুল্লাহ) এই ধরণের দলিলের উদাহরণ দিয়েছেন (১১৩), মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ স্থির করো না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় অবস্থায় বসে পড়বে} [আল-ইসরা: ২২] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তুমি তোমার হাত তোমার ঘাড়ে আবদ্ধ করে রেখো না এবং তা পুরোপুরি সম্প্রসারিতও করো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়বে} [আল-ইসরা: ২৯]।

(৩) কোনো কাজের কারণে নাফরমানিতে লিপ্ত হওয়ার দলিলের উদাহরণ হলো আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, তিনি এক ব্যক্তিকে আযানের পর (মসজিদ থেকে) বের হয়ে যেতে দেখে বললেন: "এই ব্যক্তি আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবাধ্যতা করল।" এটি মুসলিম (৬৫৫) বর্ণনা করেছেন। আর আম্মার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদিস: "যে ব্যক্তি সন্দেহের দিনে রোজা রাখল, সে আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবাধ্যতা করল।" এবং "যে ব্যক্তি পাশা খেলল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করল।" এটি আবু দাউদ (৪৯৩৮) ও ইবনে মাজাহ (৩৭৬২) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি ইরওয়াউল গালিল (২৬৭০)-এ একে হাসান (حسن) বলে অভিহিত করেছেন।

(৪) কোনো কাজের কারণে পথভ্রষ্টতায় (ضلالة) পতিত হওয়ার দলিলের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে আল্লাহর সাথে শরিক করে, সে সুদূর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো} [আন-নিসা: ১১৬] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য হয়, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়} [আল-আহযাব: ৩৬]।

(৫) কোনো কাজকে অপবিত্রতা (رجس) হিসেবে অভিহিত করার দলিলের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ শয়তানের কাজ ও অপবিত্রতা (رجس); সুতরাং তোমরা এগুলো বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} [আল-মায়েদাহ: ৯০]। আর 'রিজস' (الرجس) হলো নাপাকি বা অপবিত্র।

(৬) কাজকে কদর্যতা (خبث) হিসেবে অভিহিত করার দলিলের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর লুতকে আমি দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান এবং তাকে সেই জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম যারা কদর্য কাজে লিপ্ত ছিল; নিশ্চয়ই তারা ছিল এক মন্দ ও পাপাচারী সম্প্রদায়} [আল-আম্বিয়া: ৭৪]। ইযযুদ্দিন (১১৪) আরও যোগ করেছেন: কাজ সম্পাদনকারীকে অপবিত্র (رجس) বা নাপাক (نجس) হিসেবে বর্ণনা করা; তিনি এই ধরণের দলিলের উদাহরণ দিয়েছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তোমাদের সামনে আল্লাহর শপথ করবে যাতে তোমরা তাদের উপেক্ষা করো; সুতরাং তোমরা তাদের উপেক্ষা করো, নিশ্চয়ই তারা অপবিত্র (رجس)} [আত-তাওবাহ: ৯৫] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র (نجس)} [আত-তাওবাহ: ২৮]।

(৭) কাজকে পাপাচার (فسقا) হিসেবে অভিহিত করার দলিলের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর কোনো লেখক বা সাক্ষী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়; আর যদি তোমরা তা করো, তবে তা তোমাদের জন্য পাপাচার (فسوق)} [আল-বাকারাহ: ২৮২] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি তোমাদের কাছে কুফরি, পাপাচার (الفُسُوق) ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করেছেন} [আল-হুজুরাত: ৭]।

(৮) কাজকে গুনাহ (إثما) বা গুনাহের কারণ হিসেবে অভিহিত করার দলিলের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না; আর যে ব্যক্তি তা গোপন করে, নিশ্চয়ই তার অন্তর গুনাহগার} [আল-বাকারাহ: ২৮৩] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {লোকেরা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন, এ দুটোর মধ্যে রয়েছে মহাপাপ (إثم كبير)} [আল-বাকারাহ: ২১৯]।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩০)
أو غضب(1)، أو زوال نعمة(2)، أو حلول نقمة(3)، أو حد من الحدود(4)، أو قسوة(5)، أو خزي(6)، أو ارتهان نفس(7)، أو لعداوة الله ومحاربته(8)، أو لاستهزائه(9)،


 

(1) مثال وصف الْفِعْل بِأَنَّهُ سَبَب رِجْس أَوْ لعن أَوْ غضب من الأدلة، قوله تعالى: {قَالَ قَدْ وَقَعَ عَلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ رِجْسٌ وَغَضَبٌ أَتُجَادِلُونَنِي فِي أَسْمَاءٍ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا نَزَّلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ فَانْتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُنْتَظِرِينَ} [الأعراف: 71] وقوله تعالى: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا} [النساء: 93].

(2) مثال نصب الْفِعْل سَببا لزوَال نعْمَة من الأدلة قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ} [الرعد: 11].

(3) مثال نصب الْفِعْل سَببا لحلول نقمة فمثاله من الأدلة قوله تعالى: {إِنَّا بَلَوْنَاهُمْ كَمَا بَلَوْنَا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ إِذْ أَقْسَمُوا لَيَصْرِمُنَّهَا مُصْبِحِينَ (17) وَلَا يَسْتَثْنُونَ (18) فَطَافَ عَلَيْهَا طَائِفٌ مِنْ رَبِّكَ وَهُمْ نَائِمُونَ (19) فَأَصْبَحَتْ كَالصَّرِيمِ} [القلم: 17 - 20].

(4) مثال نصب الْفِعْل في كونه سَببا لحد من الأدلة، قوله تعالى: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ} [المائدة: 33] وقوله تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} [المائدة: 38] وقوله تعالى: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ} [النور: 2].

(5) ومثال نصب الْفِعْل سَببا لقسوة: من الأدلة، قوله تعالى: {فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً} [المائدة: 13] وقوله تعالى: {فَوَيْلٌ لِلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ} [الزمر: 22].

(6) ومثال نصب الْفِعْل سَببا لخزي: من الأدلة، قوله تعالى: {كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَأَتَاهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ (25) فَأَذَاقَهُمُ اللَّهُ الْخِزْيَ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ} [الزمر: 25 - 26].

(7) مثال نصب الْفِعْل سَببا لارتهان النُّفُوس: من الأدلة، قوله تعالى: {كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ} [المدثر: 38] وقوله تعالى: {كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ} [الطور: 21].

(8) مثال نصب الْفِعْل سَببا لعداوة الله ومحاربته: من الأدلة، قوله تعالى: {فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ} [البقرة: 98] وقوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (278) فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} [البقرة: 278 - 279].

(9) مثال نَصب الفعل سَببا لاستهزاء الله بفاعله من الأدلة، قوله تعالى: {وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَى شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ (14) اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ} [البقرة: 14 - 15].
অথবা ক্রোধ(১), অথবা নিয়ামত দূর হওয়া(২), অথবা বিপদ অবতীর্ণ হওয়া(৩), অথবা শরয়ি শাস্তিসমূহের মধ্য হতে কোনো শাস্তি (হদ)(৪), অথবা কঠোরতা(৫), অথবা লাঞ্ছনা(৬), অথবা নফসের দায়বদ্ধতা(৭), অথবা আল্লাহর শত্রুতা ও তাঁর সাথে যুদ্ধের কারণে(৮), অথবা তাঁর উপহাসের কারণে(৯),


 

(১) দলীলসমূহ থেকে কোনো কাজকে অপবিত্রতা, অভিশাপ বা ক্রোধের কারণ হিসেবে বর্ণনা করার উদাহরণ; মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি বললেন, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের ওপর অপবিত্রতা ও ক্রোধ অবধারিত হয়ে গেছে। তোমরা কি আমার সাথে এমন সব নাম নিয়ে বিতর্ক করছ, যা তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষরা রেখেছ, যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি? সুতরাং তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণদের অন্তর্ভুক্ত।} [আল-আরাফ: ৭১] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার ওপর ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিশপ্ত করেছেন এবং তার জন্য মহা আজাব প্রস্তুত করে রেখেছেন।} [আন-নিসা: ৯৩]।

(২) দলীলসমূহ থেকে কোনো কাজকে নিয়ামত দূর হওয়ার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার উদাহরণ; মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো কওমের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।} [আর-রাদ: ১১]।

(৩) দলীলসমূহ থেকে কোনো কাজকে বিপদ অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার উদাহরণ; মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি যেমন পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদের, যখন তারা কসম করেছিল যে, অবশ্যই সকালে তারা ফল আহরণ করবে (১৭) এবং তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেনি (১৮)। অতঃপর তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক বিপর্যয় সেই বাগানের ওপর দিয়ে বয়ে গেল যখন তারা ঘুমন্ত ছিল (১৯)। ফলে সেটি কর্তিত ফসলের ন্যায় কালো হয়ে গেল।} [আল-কালাম: ১৭ - ২০]।

(৪) দলীলসমূহ থেকে কোনো কাজকে হদ বা নির্ধারিত শাস্তির কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার উদাহরণ; মহান আল্লাহর বাণী: {যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি কেবল এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে।} [আল-মায়িদাহ: ৩৩] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {চোর পুরুষ ও চোর নারী, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও।} [আল-মায়িদাহ: ৩৮] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত করো।} [আন-নূর: ২]।

(৫) দলীলসমূহ থেকে কোনো কাজকে কঠোরতার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার উদাহরণ; মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদেরকে অভিশপ্ত করেছি এবং তাদের অন্তরসমূহকে কঠোর করে দিয়েছি।} [আল-মায়িদাহ: ১৩] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {দুর্ভোগ তাদের জন্য যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে কঠোর হয়ে গেছে।} [আয-যুমার: ২২]।

(৬) দলীলসমূহ থেকে কোনো কাজকে লাঞ্ছনার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার উদাহরণ; মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের পূর্ববর্তীরাও অস্বীকার করেছিল, ফলে তাদের ওপর আযাব এমনভাবে আসল যে তারা টেরও পায়নি (২৫)। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার স্বাদ আস্বাদন করালেন। আর আখিরাতের আযাব তো আরও কঠিন, যদি তারা জানত!} [আয-যুমার: ২৫ - ২৬]।

(৭) দলীলসমূহ থেকে কোনো কাজকে নফসের দায়বদ্ধতার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার উদাহরণ; মহান আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের বিনিময়ে দায়বদ্ধ।} [আল-মুদ্দাসসির: ৩৮] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেক ব্যক্তি যা উপার্জন করেছে তার জন্য দায়বদ্ধ।} [আত-তুর: ২১]।

(৮) দলীলসমূহ থেকে কোনো কাজকে আল্লাহর শত্রুতা ও তাঁর সাথে যুদ্ধের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার উদাহরণ; মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের শত্রু।} [আল-বাকারাহ: ৯৮] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো (২৭৮)। আর যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও।} [আল-বাকারাহ: ২৭৮ - ২৭৯]।

(৯) দলীলসমূহ থেকে কোনো কাজকে তার কর্তার সাথে আল্লাহর উপহাসের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার উদাহরণ; মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আবার যখন তারা নির্জনে তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি; আমরা তো কেবল উপহাসকারী’ (১৪)। আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন এবং তাদের অবাধ্যতায় তাদেরকে দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ানোর অবকাশ দেন।} [আল-বাকারাহ: ১৪ - ১৫]।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩১)
أو سخريته(1)، أو جعله الله سبباً لنسيانه فاعله(2)، أو وصف نفسه بالصبر عليه(3) أو بالحلم أو بالصفح عنه(4)، أو دعا إلى التوبة منه(5)، أو وصف فاعله بخبث(6) أو احتقار(7)، أو نسبه إلى عمل


 

(1) مثال نَصب الفعل سَببا لسخرية الله من الأدلة، قوله تعالى: {الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لَا يَجِدُونَ إِلَّا جُهْدَهُمْ فَيَسْخَرُونَ مِنْهُمْ سَخِرَ اللَّهُ مِنْهُمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [التوبة: 79].

(2) مثال نَصب الفعل سَببا لنسيان الله له: من الأدلة، قوله تعالى: {الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمُنْكَرِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمَعْرُوفِ وَيَقْبِضُونَ أَيْدِيَهُمْ نَسُوا اللَّهَ فَنَسِيَهُمْ} [التوبة: 67].

(3) قال العز (119): «لَا حلم وَلَا صفح وَلَا مغْفرَة وَلَا عَفْو وَلَا صَبر إِلَّا على مذنب أَوْ عَنْ مذنب»، ومثَّل العز رحمه الله لهذا النوع من الأدلة، بقوله صلى الله عليه وسلم: «لَا أحد أَصْبِر على أَذَى يسمعهُ من الله عز وجل» أخرجه مسلم (2804).

(4) ومثال الأمر بالعفو والصفح - وإن كان هنا من المأمور -: قوله تعالى: {فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَى خَائِنَةٍ مِنْهُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْهُمْ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} [المائدة: 13].

(5) قال العز (119 - 120): «وَلَا تَوْبَة فِي الْأَغْلَب إِلَّا عَنْ ذَنْب والذنب هُوَ الْمُخَالفَة لاقْتِضَاء الْأَمر أَوْ النَّهْي وَلَا يكون الصَّبْر إِلَّا على مَكْرُوه أَوْ عَنْ مَحْبُوب .. وَقد تطلق التَّوْبَة باعتبارات أخر وَلَكِن غلب عرف الشَّرْع على بعض مسميات التَّوْبَة». وقال ابن القيم في مدارج السالكين (1/ 305): «فحقيقة التوبة: الرجوع إلى الله بالتزام فعل ما يجب، وترك ما يكره، ولهذا علَّق سبحانه الفلاح المطلق على التوبة، حيث قال: {وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [النور: 31]». ومثال الدعوة للتوبة: {ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} [التوبة: 118].

(6) مثال لوصف الفاعل بالخبث، قوله تعالى: {الْخَبِيثَاتُ لِلْخَبِيثِينَ وَالْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَاتِ وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ أُولَئِكَ مُبَرَّءُونَ مِمَّا يَقُولُونَ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ} [النور: 26].

(7) مثال لاحتقار الفاعل من الأدلة، قوله تعالى: {أُفٍّ لَكُمْ وَلِمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ} [الأنبياء: 67]، وقوله تعالى: {أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا} [الكهف: 105].

وزاد العز (122): وحجبه، ومثَّل له بقوله تعالى: {وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ (10) الَّذِينَ يُكَذِّبُونَ بِيَوْمِ الدِّينِ (11) وَمَا يُكَذِّبُ بِهِ إِلَّا كُلُّ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ (12) إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ آيَاتُنَا قَالَ أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ (13) كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ (14) كَلَّا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} [المطففين: 10 - 15].
অথবা তাঁর উপহাস করা(১), অথবা আল্লাহ তাআলা কোনো কাজকে এর সম্পাদনকারীকে ভুলে যাওয়ার কারণ সাব্যস্ত করা(২), অথবা তাঁর ওপর ধৈর্যধারণ(৩) বা সহনশীলতা বা তা থেকে ক্ষমা প্রদর্শন(৪) দ্বারা নিজের গুণ বর্ণনা করা, অথবা তা থেকে তওবা করার আহ্বান জানানো(৫), অথবা এর সম্পাদনকারীকে অপবিত্রতা(৬) বা তুচ্ছজ্ঞান(৭) দ্বারা বিশেষায়িত করা, অথবা একে কোনো কর্মের সাথে সম্পৃক্ত করা


 

(১) দলিলসমূহের মধ্য থেকে কোনো কাজকে আল্লাহর উপহাসের কারণ সাব্যস্ত করার উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {যারা মুমিনদের মধ্য থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সদকা প্রদানকারীদের এবং যাদের নিজ পরিশ্রম ছাড়া আর কিছুই নেই তাদেরকে বিদ্রূপ করে, আল্লাহ তাদেরকে উপহাস করেন এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} [আত-তাওবাহ: ৭৯]।

(২) কোনো কাজকে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে ভুলে যাওয়ার কারণ সাব্যস্ত করার উদাহরণ হলো দলিলসমূহ থেকে আল্লাহ তাআলার বাণী: {মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা একে অপরের অংশ; তারা মন্দ কাজের আদেশ দেয় এবং ভালো কাজ থেকে নিষেধ করে এবং তারা তাদের হাত গুটিয়ে রাখে। তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, ফলে আল্লাহও তাদেরকে ভুলে গিয়েছেন।} [আত-তাওবাহ: ৬৭]।

(৩) আল-ইজ্জ (১১৯) বলেছেন: "পাপী ব্যক্তি ছাড়া বা পাপী ব্যক্তি ব্যতীত কোনো সহনশীলতা, ক্ষমা, মার্জনা বা ধৈর্য নেই।" আল-ইজ্জ (রাহিমাহুল্লাহ) এ ধরণের দলিলের উদাহরণ হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী উল্লেখ করেছেন: "আল্লাহ তাআলার চেয়ে বেশি ধৈর্যশীল আর কেউ নেই সেই কষ্টের ওপর যা তিনি শ্রবণ করেন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (أخرجه) (২৮০৪)।

(৪) ক্ষমা ও মার্জনার আদেশের উদাহরণ—যদিও এখানে নির্দেশিত ব্যক্তি অন্য—হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {সুতরাং তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের ওপর লানত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা শব্দগুলোকে আপন স্থান থেকে বিকৃত করে এবং তাদেরকে যা উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার একাংশ তারা ভুলে গিয়েছে। আর আপনি সর্বদা তাদের কোনো না কোনো বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে অবগত হতে থাকেন, তাদের অল্প কজন ছাড়া। সুতরাং আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।} [আল-মায়িদাহ: ১৩]।

(৫) আল-ইজ্জ (১১৯ - ১২০) বলেছেন: "সাধারণত কোনো পাপ ছাড়া তওবা হয় না। আর পাপ হলো আদেশ বা নিষেধের চাহিদার বিরোধিতা করা। আর কোনো অপছন্দনীয় বিষয়ের ওপর অথবা প্রিয় বিষয়ের বিপরীতে ছাড়া ধৈর্য হয় না... তওবা কখনো অন্য অর্থেও ব্যবহৃত হয়, তবে শরিয়তের পরিভাষায় তওবা কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপরই প্রচলিত।" ইবনুল কাইয়িম 'মাদারিজুস সালিকিন' (১/৩০৫) গ্রন্থে বলেছেন: "তওবার প্রকৃত হাকিকত হলো: যা ওয়াজিব তা সম্পাদনের এবং যা অপছন্দনীয় তা বর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা। এই কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিঃশর্ত সফলতাকে তওবার সাথে যুক্ত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।} [আন-নূর: ৩১]।" তওবার আহ্বানের উদাহরণ: {অতঃপর তিনি তাদের প্রতি দয়াশীল হলেন যেন তারা তওবা করতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।} [আত-তাওবাহ: ১১৮]।

(৬) কর্ম সম্পাদনকারীকে অপবিত্রতা দ্বারা বিশেষায়িত করার উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {দুশ্চরিত্রা নারীরা দুশ্চرিত্র পুরুষদের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষরা দুশ্চরিত্রা নারীদের জন্য; আর সচ্চরিত্রা নারীরা সচ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষরা সচ্চরিত্রা নারীদের জন্য। তারা যা বলে, এরা তা থেকে মুক্ত। এদের জন্য রয়েছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।} [আন-নূর: ২৬]।

(৭) দলিলসমূহ থেকে কর্ম সম্পাদনকারীকে তুচ্ছজ্ঞান করার উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {ধিক তোমাদের প্রতি এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করো তাদের প্রতি! তবে কি তোমরা বুঝবে না?} [আল-আম্বিয়া: ৬৭]। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {এরাই তারা যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎকে অস্বীকার করেছে, ফলে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে গিয়েছে। সুতরাং কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোনো ওজন স্থাপন করব না।} [আল-কাহফ: ১০৫]।

আল-ইজ্জ (১২২) আরও বৃদ্ধি করেছেন: এবং তাকে বঞ্চিত করা। তিনি এর উদাহরণ হিসেবে আল্লাহ তাআলার বাণী উল্লেখ করেছেন: {ধিক সেই দিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য (১০), যারা বিচার দিবসকে অস্বীকার করে (১১)। সীমালঙ্ঘনকারী পাপিষ্ঠ ছাড়া কেউ একে অস্বীকার করে না (১২)। যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, সে বলে, 'এগুলো তো পূর্ববর্তীদের রূপকথা' (১৩)। কখনই না, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং ধরিয়ে দিয়েছে (১৪)। কখনই না, নিশ্চয়ই সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার অন্তরালে (বঞ্চিত) থাকবে (১৫)।} [আল-মুতাফফিফিন: ১০ - ১৫]।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩২)
الشيطان(1) أو تزيينه(2) أو تولي الشيطان لفاعله(3)، أو وصف بصفة ذم ككونه ظلماً(4) أو بغياً(5)، أو عدوناً(6)، أو إثماً(7)، أو مرضاً(8)، أو تبرأ الأنبياء منه، أو من فاعله(9)، أو شكوا إلى الله من


 

(1) مثال نِسْبَة الْفِعْل أَوْ الْفَاعِل إِلَى الشَّيْطَان من الأدلة: قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [المائدة: 90]

وقوله تعالى: {وَدَخَلَ الْمَدِينَةَ عَلَى حِينِ غَفْلَةٍ مِنْ أَهْلِهَا فَوَجَدَ فِيهَا رَجُلَيْنِ يَقْتَتِلَانِ هَذَا مِنْ شِيعَتِهِ وَهَذَا مِنْ عَدُوِّهِ فَاسْتَغَاثَهُ الَّذِي مِنْ شِيعَتِهِ عَلَى الَّذِي مِنْ عَدُوِّهِ فَوَكَزَهُ مُوسَى فَقَضَى عَلَيْهِ قَالَ هَذَا مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ عَدُوٌّ مُضِلٌّ مُبِينٌ} [القصص: 15].

(2) مثال تزيين الشيطان للْفِعْل. قوله تعالى: {وَجَدْتُهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمْسِ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَ} [النمل: 24].

(3) مثال تولي الشيطان للْفَاعِل. قوله تعالى: {اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [البقرة: 257].

(4) مثال وصف الفعل بأنه ظلم من الأدلة، قوله تعالى: {يَابُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ} [لقمان: 13].

(5) مثال وصف الفعل بأنه بغيٌ، قوله تعالى: {وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ} [البقرة: 213] وقوله تعالى: {قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا} [مريم: 20].

(6) مثال وصف الفعل بأنه عدوانٌ، قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا (29) وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ عُدْوَانًا وَظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَارًا وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا} [النساء: 29 - 30].

(7) مثال وصف الفعل بأنه إثمٌ، قوله تعالى: {يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ} [البقرة: 219]، وقوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ} [الحجرات: 12].

(8) مثال وصف الفعل بأنه مرض، قوله تعالى: {وَإِذَا مَا أُنْزِلَتْ سُورَةٌ فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَهُمْ يَسْتَبْشِرُونَ (124) وَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزَادَتْهُمْ رِجْسًا إِلَى رِجْسِهِمْ وَمَاتُوا وَهُمْ كَافِرُونَ} [التوبة: 124 - 125].

(9) مثال لتَبرأ الْأَنْبِيَاء صلى الله عليه وسلم من الْفَاعِل وَإِظْهَار عدواته من الأدلة، قوله تعالى: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ} [الزخرف: 26].
শয়তান(১) অথবা তার দ্বারা সুশোভিত করা(২) অথবা শয়তান কর্তৃক সেই কাজের সম্পাদনকারীর দায়িত্ব গ্রহণ করা(৩), অথবা নিন্দনীয় কোনো গুণের মাধ্যমে বিশেষিত হওয়া যেমন তা জুলুম (ظلم)(৪) বা অবাধ্যতা (بغي)(৫), বা সীমালঙ্ঘন (عدوان)(৬), বা পাপ (إثم)(৭), বা ব্যাধি (مرض)(৮) হওয়া, অথবা নবীগণের সেই কাজ থেকে বা এর সম্পাদনকারী থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা(৯), অথবা আল্লাহর কাছে তা নিয়ে অভিযোগ করা


 

(১) দলিলসমূহ থেকে কাজ বা কাজ সম্পাদনকারীকে শয়তানের দিকে সম্বন্ধ করার উদাহরণ: মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্যনির্ধারক শরসমূহ—এসবই শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব তোমরা এসব বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।} [আল-মায়িদাহ: ৯০]

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি শহরে প্রবেশ করলেন যখন তার অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক। তথায় তিনি দুই ব্যক্তিকে লড়াই করতে দেখলেন, একজন তাঁর নিজ দলের এবং অন্যজন তাঁর শত্রুদলের। তাঁর নিজ দলের লোকটি তাঁর শত্রুদলের লোকটির বিরুদ্ধে তাঁর সাহায্য চাইল। তখন মূসা তাকে ঘুষি মারলেন এবং তাতেই তার মৃত্যু হলো। মূসা বললেন, 'এটি শয়তানের কাজ; নিশ্চয়ই সে পথভ্রষ্টকারী ও প্রকাশ্য শত্রু।'} [আল-কাসাস: ১৫]।

(২) শয়তান কর্তৃক কাজকে সুশোভিত করার উদাহরণ। মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম যে তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সিজদা করছে; শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের নিকট সুশোভিত করে দিয়েছে এবং তাদেরকে সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত করেছে, ফলে তারা হেদায়েত পায় না।} [আন-নামল: ২৪]।

(৩) শয়তান কর্তৃক কাজ সম্পাদনকারীর দায়িত্ব গ্রহণ করার উদাহরণ। মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তাদের অভিভাবক যারা ঈমান এনেছে; তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরি করে, তাগুত তাদের অভিভাবক; তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে বের করে নিয়ে যায়। তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।} [আল-বাকারাহ: ২৫৭]।

(৪) দলিলসমূহ থেকে কাজকে জুলুম (ظلم) হিসেবে বর্ণনা করার উদাহরণ, মহান আল্লাহর বাণী: {হে বৎস, আল্লাহর সাথে শরিক করো না; নিশ্চয়ই শিরক একটি মহা জুলুম (ظلم)।} [লুকমান: ১৩]।

(৫) কাজকে অবাধ্যতা (بغي) হিসেবে বর্ণনা করার উদাহরণ, মহান আল্লাহর বাণী: {বস্তুত স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর নিজেদের মধ্যে বিদ্বেষবশত (بغي) মতভেদ করা ছাড়া অন্য কেউ এতে ভিন্নমত পোষণ করেনি।} [আল-বাকারাহ: ২১৩] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সে বলল, 'কীভাবে আমার পুত্র হবে যখন কোনো মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণী (بغي) ছিলাম না?'} [মারইয়াম: ২০]।

(৬) কাজকে সীমালঙ্ঘন (عدوان) হিসেবে বর্ণনা করার উদাহরণ, মহান আল্লাহর বাণী: {হে ঈমানদারগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না, তবে তোমাদের সম্মতিতে ব্যবসা হলে ভিন্ন কথা; আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। (২৯) আর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন (عدوان) ও জুলুম (ظلم) করে তা করবে, অচিরেই আমি তাকে আগুনে দগ্ধ করব; আর তা আল্লাহর পক্ষে সহজ।} [আন-নিসা: ২৯ - ৩০]।

(৭) কাজকে পাপ (إثم) হিসেবে বর্ণনা করার উদাহরণ, মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলো, উভয়ের মধ্যেই বড় পাপ (إثم) রয়েছে।} [আল-বাকারাহ: ২১৯], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাকো, কারণ কিছু কিছু অনুমান পাপ (إثم)।} [আল-হুজুরাত: ১২]।

(৮) কাজকে ব্যাধি (مرض) হিসেবে বর্ণনা করার উদাহরণ, মহান আল্লাহর বাণী: {যখন কোনো সূরা নাজিল হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, 'এ সূরা তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বৃদ্ধি করল?' বস্তুত যারা ঈমান এনেছে এ সূরা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়। (১২৪) আর যাদের অন্তরে ব্যাধি (مرض) আছে, এটি তাদের কলুষের সাথে আরও কলুষ যুক্ত করে এবং তারা কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।} [আত-তাওবাহ: ১২৪ - ১২৫]।

(৯) নবীগণের (صلى الله عليه وسلم) কাজ সম্পাদনকারী থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং তার প্রতি শত্রুতা প্রদর্শনের উদাহরণ, মহান আল্লাহর বাণী: {যখন ইবরাহিম তাঁর পিতা ও সম্প্রদায়কে বললেন, 'নিশ্চয়ই তোমরা যাদের ইবাদত করো, আমি তাদের থেকে মুক্ত (براء)।'} [আজ-জুখরুফ: ২৬]‌।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فعله(1)، أو جاهروا فاعله بالعداوة(2)، أو نهوا عن الآسى والحزن عليه(3)، أو نصب سبباً لخيبه فاعله عاجلاً أو آجلاً(4)، أو رتب عليه حرمان الجنة وما فيها(5)، أو نصب فاعله بأنه عدو الله أو بأن الله عدوه(6)، أو أعلم بحرب من الله ورسوله(7)،


 

(1) مثال لشكوى الْأَنْبِيَاء من الْفَاعِل من الأدلة، قوله تعالى: {قَالُوا لَئِنْ لَمْ تَنْتَهِ يَانُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمَرْجُومِينَ (116) قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوْمِي كَذَّبُونِ} [الشعراء: 116 - 117] وقوله تعالى: {وَقَالَ الرَّسُولُ يَارَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَذَا الْقُرْآنَ مَهْجُورًا} [الفرقان: 30].

(2) قال العز في الإمام (121 - 122) عداوة الله للفاعل، مثَّل له بقوله تعالى: {مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ} [البقرة: 98] وسبق أن مثل بالآية كذلك على نصب الفعل لعداوة الله، وهنا للفاعل، ومثَّل كذلك بقوله تعالى: {لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ} [الممتحنة: 1].

(3) مثال لنهي الْأَنْبِيَاء عَنْ الأسى والحزن على الْفَاعِل من الأدلة، بقوله تعالى: {فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ} [المائدة: 26] وقوله تعالى: {فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ} [المائدة: 68] وقوله تعالى: {قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ (69) وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُنْ فِي ضَيْقٍ مِمَّا يَمْكُرُونَ} [النمل: 69 - 70].

(4) أي: نصب الْفِعْل سَببا لخيبة عاجلة أو آجلة، ومثَّل العز رحمه الله لهذا النوع من الأدلة (122)، بقوله تعالى: {قَالَ لَهُمْ مُوسَى وَيْلَكُمْ لَا تَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ كَذِبًا فَيُسْحِتَكُمْ بِعَذَابٍ وَقَدْ خَابَ مَنِ افْتَرَى} [طه: 61] وقوله تعالى: {وَعَنَتِ الْوُجُوهُ لِلْحَيِّ الْقَيُّومِ وَقَدْ خَابَ مَنْ حَمَلَ ظُلْمًا} [طه: 111] وقوله تعالى: {وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا} [الشمس: 10].

(5) ومثالها من الأدلة، قوله تعالى: {وَنَادَى أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ} [الأعراف: 50] وقوله تعالى: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ} [المائدة: 72].

(6) ومثَّل العز رحمه الله لهذا النوع من الأدلة (121 - 122)، بقوله تعالى: {مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ} [البقرة: 98] وقوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ وَقَدْ كَفَرُوا بِمَا جَاءَكُمْ مِنَ الْحَقِّ} [الممتحنة: 1].

(7) ومثالها من الأدلة، قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (278) فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} [البقرة: 278 - 279].
তার কর্ম(1), অথবা তারা কর্তার সাথে প্রকাশ্য শত্রুতা পোষণ করেছে(2), অথবা তার প্রতি অনুতাপ ও দুঃখ প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়েছে(3), অথবা ইহকাল বা পরকালে কর্তার ব্যর্থতার কারণ হিসেবে একে সাব্যস্ত করা হয়েছে(4), অথবা এর ওপর জান্নাত ও তথাকার নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়াকে অবধারিত করা হয়েছে(5), অথবা কর্তাকে আল্লাহর শত্রু হিসেবে অথবা আল্লাহকে তার শত্রু হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে(6), অথবা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের সংবাদ দেওয়া হয়েছে(7),


 

(1) প্রমাণাদি থেকে কোনো কাজের কর্তার বিরুদ্ধে নবীদের অভিযোগের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তারা বলল, হে নূহ! তুমি যদি বিরত না হও, তবে অবশ্যই তুমি প্রস্তরাঘাতে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (নূহ) বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমার সম্প্রদায় আমাকে অস্বীকার করেছে।" [আশ-শুআরা: ১১৬ - ১১৭] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর রাসূল বললেন, হে আমার পালনকর্তা! নিশ্চয়ই আমার সম্প্রদায় এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য সাব্যস্ত করেছে।" [আল-ফুরকান: ৩০]।

(2) আল-ইজ্জ 'আল-ইমাম' (১২১ - ১২২) গ্রন্থে কর্তার প্রতি আল্লাহর শত্রুতা প্রসঙ্গে বলেছেন, তিনি এর উদাহরণ দিয়েছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: "যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর রাসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাইলের শত্রু হবে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফের (كافر) দের শত্রু।" [আল-বাকারাহ: ৯৮]। ইতিপূর্বে এই আয়াতের মাধ্যমে কোনো কাজকে আল্লাহর শত্রুতার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, আর এখানে কর্তার ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে। তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমেও উদাহরণ দিয়েছেন: "তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।" [আল-মুমতাহিনাহ: ১]।

(3) প্রমাণাদি থেকে কর্তার প্রতি অনুতাপ ও দুঃখ প্রকাশ করতে নবীদের নিষেধ করার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং তুমি পাপাচারী (فاسق) সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করো না।" [আল-মায়েদাহ: ২৬] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং তুমি কাফের (كافر) সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করো না।" [আল-মায়েদাহ: ৬৮] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো এবং দেখ অপরাধী (مجرم) দের পরিণাম কেমন হয়েছিল। আর তাদের জন্য দুঃখ করবেন না এবং তারা যে ষড়যন্ত্র করছে সে কারণে মনঃকষ্টে থাকবেন না।" [আন-নামল: ৬৯ - ৭০]।

(4) অর্থাৎ: কোনো কাজকে ইহকাল বা পরকালে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা। আল-ইজ্জ (রহ.) এই প্রকারের জন্য প্রমাণাদি (১২২) থেকে উদাহরণ দিয়েছেন মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা: "মূসা তাদের বললেন, দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না, তাহলে তিনি তোমাদের আযাব দ্বারা সমূলে ধ্বংস করে দেবেন; আর যে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে সেই ব্যর্থ হয়েছে।" [ত্বহা: ৬১] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "সেই চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী সত্তার সামনে সকল চেহারা অবনত হবে এবং সেই ব্যর্থ হবে যে জুলুম (ظلم) বহন করবে।" [ত্বহা: ১১১] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর সেই ব্যর্থ হয়েছে যে নিজেকে কলুষিত করেছে।" [আশ-শামস: ১০]।

(5) প্রমাণাদি থেকে এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর জাহান্নামবাসীরা জান্নাতবাসীদের ডেকে বলবে, আমাদের ওপর সামান্য পানি ঢেলে দাও অথবা আল্লাহ তোমাদের যা রিযিক দিয়েছেন তা থেকে কিছু দাও। তারা বলবে, আল্লাহ এ উভয়টি কাফের (كافر) দের জন্য হারাম (حرام) করেছেন।" [আল-আরাফ: ৫০] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম (حرام) করে দিয়েছেন।" [আল-মায়েদাহ: ৭২]।

(6) আল-ইজ্জ (রহ.) এই প্রকারের জন্য প্রমাণাদি (১২১ - ১২২) থেকে উদাহরণ দিয়েছেন মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা: "যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর রাসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাইলের শত্রু হবে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফের (كافر) দের শত্রু।" [আল-বাকারাহ: ৯৮] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও অথচ তোমাদের কাছে যে সত্য এসেছে তারা তা অস্বীকার করেছে।" [আল-মুমতাহিনাহ: ১]।

(7) প্রমাণাদি থেকে এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা বর্জন করো যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। অতঃপর যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও।" [আল-বাকারাহ: ২৭৮ - ২৭৯]।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
أو حمل فاعله إثم غيره(1)، أو قيل فيه لا ينبغي هذا، أو لا يكون(2)، أو أمر بالتقوى عن السؤال عنه(3)، أو أمر بفعل مضاده(4)، أو بهجر فاعله(5)، أو تلاعن فاعلوه في الآخرة(6)، أو تبرأ بعضهم من بعض(7)، أو دعا


 

(1) ومثالها من الأدلة، قوله تعالى: {لِيَحْمِلُوا أَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمِنْ أَوْزَارِ الَّذِينَ يُضِلُّونَهُمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ أَلَا سَاءَ مَا يَزِرُونَ} [النحل: 25] وقوله تعالى: {وَلَيَحْمِلُنَّ أَثْقَالَهُمْ وَأَثْقَالًا مَعَ أَثْقَالِهِمْ} [العنكبوت: 13].

(2) ومثالها من الأدلة، قوله تعالى: {قَالُوا سُبْحَانَكَ مَا كَانَ يَنْبَغِي لَنَا أَنْ نَتَّخِذَ مِنْ دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَاءَ} [الفرقان: 18] وقوله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَقْتُلَ مُؤْمِنًا إِلَّا خَطَأً} [النساء: 92] وقوله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} [الأحزاب: 36].

(3) ومثالها من الأدلة: ما رواه النعمان بن بشير رضي الله عنه أن أباه أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: إني نحلت ابني هذا غلاماً -أي وهبته عبداً - فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أكلَّ ولدك نحلته مثله؟»، فقال: لا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فأرجعه» رواه البخاري (2586)، وفي رواية -وهي الشاهد -: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فاتقوا الله واعدلوا بين أولادكم» البخاري (2587).

ويمكن التمثيل على أن التذكير بالتقوى بسبب الفعل تدل على عدم مشروعية ذلك الفعل، بقوله تعالى: {فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ} [البقرة: 194] حيث إن الشارع حرم الزيادة على عدوان الغير.

(4) ومثالها من الأدلة، قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انْظُرْنَا وَاسْمَعُوا} [البقرة: 104].

(5) ومثالها من الأدلة، قوله تعالى: {وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ} [النساء: 34] وقوله تعالى: {وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ} [الأنعام: 68].

(6) مثال تلاعن فاعلوه في الآخرة، قوله تعالى: {وَقَالَ إِنَّمَا اتَّخَذْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَوْثَانًا مَوَدَّةَ بَيْنِكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ثُمَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُ بَعْضُكُمْ بِبَعْضٍ وَيَلْعَنُ بَعْضُكُمْ بَعْضًا وَمَأْوَاكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِنْ نَاصِرِينَ} [العنكبوت: 25].

(7) مثال تبرأ بعضهم من بعض في الآخرة، قوله تعالى: {إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتُّبِعُوا مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الْأَسْبَابُ} [البقرة: 166].
অথবা কাজটির সম্পাদনকারীর ওপর অন্যের পাপের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়(১), অথবা সে সম্পর্কে বলা হয় এটি সমীচীন নয়, কিংবা এটি হতে পারে না(২), অথবা সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়(৩), অথবা তার বিপরীত কোনো কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়(৪), অথবা এর সম্পাদনকারীকে বর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়(৫), অথবা পরকালে এর সম্পাদনকারীরা একে অপরকে লানত বা অভিশাপ দেয়(৬), অথবা তারা একে অপরের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়(৭), অথবা দুয়া (প্রার্থনা) করে...


 

(১) দলিলসমূহের মধ্যে এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তারা কিয়ামতের দিন তাদের নিজেদের পাপের বোঝা পূর্ণরূপে বহন করে এবং তাদের পাপের বোঝাও বহন করে যাদেরকে তারা জ্ঞান ছাড়াই বিভ্রান্ত করে। দেখ, তারা যা বহন করে তা কতই না নিকৃষ্ট} [নাহল: ২৫]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা অবশ্যই নিজেদের বোঝা বহন করবে এবং নিজেদের বোঝার সাথে আরও অনেক বোঝা বহন করবে} [আনকাবুত: ১৩]।

(২) দলিলসমূহের মধ্যে এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা বলবে, আপনি মহিমান্বিত! আপনার পরিবর্তে অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করা আমাদের জন্য সমীচীন ছিল না} [ফুরকান: ১৮]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {ভুলবশত ছাড়া কোনো মুমিনের জন্য অন্য মুমিনকে হত্যা করা বৈধ নয় (হতে পারে না)} [নিসা: ৯২]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ের ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকা সম্ভব নয়} [আহজাব: ৩৬]।

(৩) দলিলসমূহের মধ্যে এর উদাহরণ: নুমান ইবনে বাশির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: আমি আমার এই ছেলেকে একটি গোলাম দান করেছি—অর্থাৎ তাকে একজন দাস উপহার দিয়েছি—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তুমি কি তোমার সব সন্তানকেই অনুরূপ দান করেছ?» তিনি বললেন: না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তাহলে এটি ফেরত নাও» এটি বুখারি (২৫৮৬) বর্ণনা করেছেন। অন্য এক বর্ণনা (رواية)—যা এখানে মূল সাক্ষ্য (شاهد)—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো» বুখারি (২৫৮৭)।

এবং কোনো কাজের কারণে তাকওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে সেই কাজটি অবৈধ হওয়ার দলিল, তার উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণীটিও পেশ করা যায়: {সুতরাং যে তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, তোমরাও তার ওপর আক্রমণ করো ঠিক তেমন, যেমন সে তোমাদের ওপর করেছে। আর আল্লাহকে ভয় করো} [বাকারা: ১৯৪]; যেখানে শরিয়ত প্রণেতা অন্যের সীমালঙ্ঘনের চেয়ে অতিরিক্ত করাকে হারাম করেছেন।

(৪) দলিলসমূহের মধ্যে এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা ‘রাইনা’ বোলো না, বরং ‘উনযুরনা’ বলো এবং শোনো} [বাকারা: ১০৪]।

(৫) দলিলসমূহের মধ্যে এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা করো তাদেরকে উপদেশ দাও, তারপর শয্যায় তাদেরকে বর্জন করো এবং প্রহার করো} [নিসা: ৩৪]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তুমি তাদেরকে দেখো যারা আমার আয়াতসমূহ নিয়ে উপহাসমূলক আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও যতক্ষণ না তারা অন্য আলোচনায় প্রবৃত্ত হয়} [আনআম: ৬৮]।

(৬) পরকালে কাজটির সম্পাদনকারীদের একে অপরকে লানত বা অভিশাপ দেওয়ার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সে বলল, পার্থিব জীবনে তোমাদের পারস্পরিক বন্ধুত্বের খাতিরেই তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে মূর্তিদের গ্রহণ করেছ। কিন্তু কিয়ামতের দিন তোমরা একে অপরকে অস্বীকার করবে এবং একে অপরকে অভিশাপ দেবে। আর তোমাদের আবাস হবে জাহান্নাম এবং তোমাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী থাকবে না} [আনকাবুত: ২৫]।

(৭) পরকালে একে অপরের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যখন অনুসারিতরা তাদের অনুসারীদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং তারা আযাব দেখতে পাবে এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে} [বাকারা: ১৬৬]।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল জালীল ফীত-তালিক আলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩৫)
بعضهم على بعض(1)، أو وصف فاعله بالضلالة(2)، أو أنه ليس من الله في شيء(3)، أو ليس من الرسول وأصحابه(4)، أو جعل اجتنابه سبباً للفلاح(5)، أو جعله سبباً لإيقاع العداوة والبغضاء بين المسلمين، أو قيل هل أنت منته(6)، أو نهى الانبياء عن الدعاء لفاعله(7)، أو رتب عليه إبعاداً أو طرداً أو لعنة(8)، قتل من فعله(9)، أو قاتله


 

(1) مثال دعا بعضهم على بعض في الآخرة، قوله تعالى: {وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا (67) رَبَّنَا آتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْنًا كَبِيرًا} [الأحزاب: 67 - 68].

(2) مثال وصف فاعله بالضلالة من الأدلة، قوله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} [الأحزاب: 36].

(3) مثال وصف الفاعل بأنه ليس من الله في شيء من الأدلة، قوله تعالى: {لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً} [آل عمران: 28].

(4) كقوله عليه السلام: (ليس منا من لطم الخدود، وشق الجيوب، ودعا بدعوى الجاهلية) أخرجه البخاري (1294)، ومسلم (165).

(5) ومثالها من الأدلة، قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [آل عمران: 130].

(6) مثالها من الأدلة، قوله تعالى: {إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ} [المائدة: 91].

(7) ومثَّل العز رحمه الله لهذا النوع من الأدلة (123)، بقوله تعالى: {وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا وَلَا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا إِنَّهُمْ مُغْرَقُونَ} [هود: 37] وقوله تعالى: {وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ} [التوبة: 84].

(8) مثال ما رتب عليه الإبعاد أو الطرد، من الأدلة قوله تعالى: {أَلَا إِنَّ ثَمُودَ كَفَرُوا رَبَّهُمْ أَلَا بُعْدًا لِثَمُودَ} [هود: 68].

(9) مثال ما رتب عليه قتل فاعله، من الأدلة قوله تعالى: {فَقَاتِلُوا أَوْلِيَاءَ الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا} [النساء: 76] {فَقَاتِلُوا أَئِمَّةَ الْكُفْرِ إِنَّهُمْ لَا أَيْمَانَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَنْتَهُونَ} [التوبة: 12] وقوله تعالى: {وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ} [الحجرات: 9].
একে অপরের বিরুদ্ধে (বদদোয়া করা)(1), অথবা এর কর্তাকে পথভ্রষ্টতা (ضلالة) দ্বারা বিশেষায়িত করা(2), অথবা সে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনোকিছুর ওপর নেই (অর্থাৎ আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই)(3), অথবা সে রাসূল ও তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত নয়(4), অথবা তা বর্জন করাকে সফলতার কারণ নির্ধারণ করা(5), অথবা একে মুসলিমদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টির কারণ সাব্যস্ত করা, অথবা বলা হওয়া ‘তোমরা কি বিরত হবে না?’(6), অথবা নবীদেরকে এর কর্তার জন্য দোয়া করতে নিষেধ করা(7), অথবা এর ওপর দূরত্ব বজায় রাখা, বিতাড়ন বা অভিশাপ (لعنة) আরোপ করা(8), এর কর্তাকে হত্যা করা(9), অথবা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা।


 

(1) পরকালে একে অপরের বিরুদ্ধে দোয়া করার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব! আমরা তো আমাদের নেতা ও বড়দের আনুগত্য করেছিলাম, তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের রব! আপনি তাদের দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদের মহা অভিশাপ (لعنة) দিন’।} [সূরা আল-আহজাব: ৬৭ - ৬৮]।

(2) দলিল থেকে কর্তাকে পথভ্রষ্টতা (ضلالة) দ্বারা বিশেষায়িত করার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে কোনো পছন্দের ইখতিয়ার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় (ضلالة) পতিত হলো।} [সূরা আল-আহজাব: ৩৬]।

(3) দলিল থেকে কর্তাকে ‘সে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনোকিছুর ওপর নেই’—এভাবে বর্ণনা করার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {মুমিনগণ যেন মুমিনদের বাদ দিয়ে কাফেরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করে। আর যে ব্যক্তি তা করবে, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে যদি তোমরা তাদের থেকে আত্মরক্ষা করতে চাও।} [সূরা আলে ইমরান: ২৮]।

(4) যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে গালে চপেটাঘাত করে, জামার বুক ফেড়ে ফেলে এবং জাহেলি যুগের মতো চিৎকার করে)। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (১২৯৪) এবং মুসলিম (১৬৫)।

(5) দলিল থেকে এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।} [সূরা আলে ইমরান: ১৩০]।

(6) দলিল থেকে এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখতে চায়। সুতরাং তোমরা কি বিরত হবে না?} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৯১]।

(7) আল-ইজ্জ রহিমাহুল্লাহ এ ধরণের দলিলের উদাহরণ দিয়েছেন (১২৩), মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর তুমি আমার চোখের সামনে ও আমার ওহী অনুযায়ী নৌকা তৈরি করো এবং যারা সীমা লঙ্ঘন করেছে তাদের ব্যাপারে আমার কাছে কোনো সুপারিশ করো না; তারা অবশ্যই নিমজ্জিত হবে।} [সূরা হুদ: ৩৭] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে তুমি কখনো তার জানাজার সালাত পড়বে না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবে না। তারা তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছিল এবং তারা পাপাচারী (فاسق) অবস্থায় মারা গেছে।} [সূরা আত-তাওবাহ: ৮৪]।

(8) দলিল থেকে দূরবর্তী হওয়া বা বিতাড়িত হওয়ার পরিণাম সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {জেনে রেখো, সামূদ জাতি তো তাদের রবকে অস্বীকার করেছিল। আরও জেনে রেখো, সামূদ জাতির জন্য ধ্বংস (বা দূরত্ব) নির্ধারিত।} [সূরা হুদ: ৬৮]।

(9) দলিল থেকে এর কর্তাকে হত্যা করার বিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো; নিশ্চয় শয়তানের কৌশল দুর্বল (ضعيف)।} [সূরা আন-নিসা: ৭৬]। {তবে কুফরের নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো—কারণ তাদের কোনো কসম বা অঙ্গীকার নেই—যাতে তারা বিরত হয়।} [সূরা আত-তাওবাহ: ১২]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর তাদের এক দল অন্য দলের ওপর সীমালঙ্ঘন করলে, তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর আদেশের দিকে ফিরে আসে।} [সূরা আল-হুজুরাত: ৯]‌।