(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: -)
دراسات أصولية تطبيقية على آيات الأحكام القسم: أصول الفقه
الكتاب: دراسات أصولية تطبيقية على آيات الأحكام
المؤلف: عبد الرحمن بن علي الحطاب
الناشر: دار طيبة الخضراء - مكة المكرمة
الطبعة: الأولى، 1443 هـ - 2021 م
عدد الصفحات: 407
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 جُمادَى الآخرة 1445
আহকামের আয়াতসমূহের ওপর উসূলের প্রায়োগিক গবেষণা বিভাগ: উসূলে ফিকহ
বই: আহকামের আয়াতসমূহের ওপর উসূলের প্রায়োগিক গবেষণা
লেখক: আবদুর রহমান বিন আলী আল-হাততাব
প্রকাশক: দার তাইবাহ আল-খাদরা - মক্কা আল-মুকাররমাহ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪৩ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৭
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبيه الأمين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:
فإن القرآن الكريم لما كان هو المصدر الأول من مصادر التشريع، وهو دستور هذه الأمة، كانت عناية العلماء به في جميع تخصصاتهم به أشد عناية من غيره، أما في الأحكام فقد كان القرآن والسنة محط رحال العلماء، وموردهم في الاستدلال به، فألفت المؤلفات الخاصة بكل واحد منهما، عند علماء التفسير والحديث، وأخذ الفقهاء زبدتهما، مستنبطين أحكامهما بواسطة القواعد الأصولية، ثم ظهرت المؤلفات الخاصة بربط الفروع بأصولها، وما زالت الجامعات تخرج من رحمها الرسائل العلمية، تارة باسم أثر الأصول، أو الأدلة، أو القواعد المؤثرة، أو القواعد الأصولية وتطبيقاتها، أو إعمال القواعد الأصوليَّة، وكثير منها خرج باسم تخريج الفروع على الأصول، وكل تلك الرسائل والأعمال فيها تطبيقات أصوليَّة لبيان مأخذ من مآخذ الأحكام، وهو المأخذ الأصولي، وهنا (دراسات أصوليَّة تطبيقيَّة على آيات الأحكام)، وهي مجموعة أبحاث محكَّمة عدا الدراستين الأولى والثانية، وقد تصرفت في الجانب التأصيلي بالحذف والاختصار، وقصدت التنوع في الطرح، من حيث الشمول، وطريقة الدراسة، ليشمل ما يعرض لدليل القرآن، من دلالة لفظه ومعناه، وكيفية استثمار نصِّه من منطوقه ومفهومه.
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম তাঁর বিশ্বস্ত নবী, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর বর্ষিত হোক। অতঃপর:
যেহেতু পবিত্র কুরআন শরীয়তের উৎসসমূহের মধ্যে প্রথম উৎস এবং এই উম্মতের সংবিধান, তাই বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম এর প্রতি অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। আহকাম বা বিধিবিধানের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহ ছিল ওলামায়ে কেরামের গন্তব্যস্থল ও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু এবং দলীল গ্রহণের মূল উৎস। মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণের নিকট এ দুটির প্রত্যেকটির ওপর বিশেষ গ্রন্থ রচিত হয়েছে। ফকীহগণ উসূলী মূলনীতির মাধ্যমে এ দুটি থেকে বিধান উদ্ঘাটন করে এদের নির্যাস গ্রহণ করেছেন। এরপর শাখা মাসআলাগুলোকে মূলনীতির সাথে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে বিশেষ গ্রন্থাবলি আত্মপ্রকাশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এখনো বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা অভিসন্দর্ভ প্রকাশিত হচ্ছে; কখনো মূলনীতির প্রভাব, অথবা দলিলসমূহ, অথবা প্রভাব বিস্তারকারী কায়েদা, অথবা উসূলী কায়েদা ও এর প্রয়োগ, অথবা উসূলী কায়েদার বাস্তবায়ন নামে। আর এর অনেকগুলোই মূলনীতির ভিত্তিতে শাখা বিধানের উদ্ঘাটন শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। এই সকল অভিসন্দর্ভ ও গবেষণায় আহকামের অন্যতম একটি উৎস অর্থাৎ উসূলী উৎস বর্ণনা করার জন্য উসূলী প্রয়োগসমূহ বিদ্যমান রয়েছে। আর এখানে রয়েছে ‘আহকাম সংশ্লিষ্ট আয়াতের ওপর প্রায়োগিক উসূলী পর্যালোচনা’, যা প্রথম ও দ্বিতীয় গবেষণা ব্যতীত একগুচ্ছ পর্যালোচিত গবেষণাপত্র। আমি মূলনীতি সংক্রান্ত অংশে বর্জন ও সংক্ষেপণের মাধ্যমে কিছু পরিবর্তন পরিমার্জন করেছি এবং এর উপস্থাপনায় বিষয়বস্তুর ব্যাপকতা ও গবেষণা পদ্ধতির দিক থেকে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেছি; যাতে কুরআনের দলীল থেকে যা কিছু উদ্ভূত হয়—যেমন শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য এবং এর প্রত্যক্ষ ও অন্তর্নিহিত বক্তব্য থেকে মূল পাঠ্য ব্যবহারের পদ্ধতি—সবই এর অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
فالدراسة الأولى وهي: التطبيق على سورة البقرة، وقد سلَّطت الضوء على أثر القواعد الأصوليَّة على الأحكام المستنبطة من آيات سورة البقرة، من خلال الأحكام الواردة في كتاب الإكليل في استنباط التنزيل للسيوطي، والأصل أن ترتيبها حسب ترتيب سورة البقرة، إلا أنني آثرت وضع ما استله أحد طلابي من كتابي (فتح الجليل في التعليق على كتاب الإكليل).
والدراسة الثانية وهي: التطبيق على آيات الحج، ومجال البحث فيها متجه لأحكام عبادة من العبادات، وركن من أركان الإسلام، وهو الحج، بجمع الآيات الواردة في القرآن الدالة على أحكامه، وبيان أثر القواعد الأصوليَّة في استنباط أحكامها، ورتبتها حسب ترتيبها في سور القرآن، والدراسة مستلة من كتابي (فتح العلام في شرح بلوغ المرام من آيات الأحكام).
والدراسة الثالثة: التطبيق على آية الوضوء، ببيان الأحكام المستنبطة، وتوزيعها على أبوابها الفقهية، والانطلاق فيه من الحكم والترتيب الفقهي.
والدراسة الرابعة تطبيق صيغة الأمر (ليفعل) على آيات الأحكام، والانطلاق فيها من قاعدة من قواعد الأصول، أو من أسلوب من الأساليب الدالة على الأحكام، هي والدراسة الآتية، وقد رتبتهما حسب ورودها في القرآن.
والدراسة الخامسة تطبيق الخبر بمعنى الأمر على آيات الأحكام.
والدراسة السادسة التطبيق على نوازل أحكام العبادات، والانطلاق فيها من الآيات، ورتبتها على الأبواب الفقهية على ترتيب بلوغ المرام من آيات الأحكام.
والدراسة السابعة: الاستثمار الأصولي للنص بالتطبيق على قوله تعالى: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا}، وهي دراسة تهدف إلى بيان كيفية استثمار الأصولي
প্রথম অধ্যয়নটি হলো: সূরা আল-বাকারার ওপর প্রয়োগ। এতে সুয়ূতী রচিত ‘আল-ইকলীল ফী ইসতিনবাতিত তানযীল’ গ্রন্থে বর্ণিত বিধানসমূহের মাধ্যমে সূরা আল-বাকারার আয়াতসমূহ থেকে উদ্ভূত বিধিবিধানের ওপর উসূলী মূলনীতিসমূহের প্রভাবের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। মূলত এর বিন্যাস সূরা আল-বাকারার ক্রম অনুযায়ী হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমি আমার রচিত গ্রন্থ ‘ফাতহুল জালীল ফীত তালীক আলা কিতাবিল ইকলীল’ থেকে আমার একজন ছাত্র যা চয়ন করেছেন, তা এখানে স্থান দেয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।
দ্বিতীয় অধ্যয়নটি হলো: হজের আয়াতসমূহের ওপর প্রয়োগ। এর গবেষণার ক্ষেত্রটি ইসলামের অন্যতম রুকন বা স্তম্ভ এবং ইবাদতসমূহের একটি ইবাদত তথা হজের বিধানের দিকে নিবদ্ধ। এখানে কুরআনে বর্ণিত হজের বিধান নির্দেশক আয়াতসমূহ একত্রিত করা হয়েছে এবং সেগুলোর বিধান উদ্ঘাটনে উসূলী মূলনীতিসমূহের প্রভাব বর্ণনা করা হয়েছে। আমি এটি কুরআনের সূরাসমূহের ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি। এই অধ্যয়নটি আমার রচিত গ্রন্থ ‘ফাতহুল আল্লাম ফী শারহি বুলূগিল মারাম মিন আয়াতিল আহকাম’ থেকে সংগৃহীত।
তৃতীয় অধ্যয়নটি হলো: ওযূর আয়াতের ওপর প্রয়োগ। এতে উদ্ভূত বিধানসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে এবং সেগুলোকে ফিকহী পরিচ্ছেদ অনুযায়ী বিন্যাস করা হয়েছে। এর ভিত্তি হলো ফিকহী বিধান ও তার বিন্যাস।
চতুর্থ অধ্যয়নটি হলো: আহকাম বা বিধান সংক্রান্ত আয়াতসমূহের ওপর আমর বা আদেশের গঠন (সে যেন করে) প্রয়োগ। এটি এবং পরবর্তী অধ্যয়নটি কোনো উসূলী মূলনীতি অথবা বিধান নির্দেশক কোনো পদ্ধতি থেকে উৎসারিত। কুরআনে এগুলো যেভাবে এসেছে, আমি সেভাবেই এগুলো বিন্যস্ত করেছি।
পঞ্চম অধ্যয়নটি হলো: আহকাম বা বিধান সংক্রান্ত আয়াতসমূহের ওপর আদেশের অর্থে ব্যবহৃত ‘খবর’ বা বিবৃতির প্রয়োগ।
ষষ্ঠ অধ্যয়নটি হলো: ইবাদতের বিধান সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক ঘটনাবলি বা নাওয়াজিলের ওপর প্রয়োগ। এতে আয়াতসমূহ থেকে শুরু করা হয়েছে এবং একে ‘বুলূগিল মারাম মিন আয়াতিল আহকাম’-এর বিন্যাস অনুযায়ী ফিকহী পরিচ্ছেদসমূহে সাজানো হয়েছে।
সপ্তম অধ্যয়নটি হলো: আল্লাহর বাণী—{আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন}-এর ওপর প্রয়োগের মাধ্যমে পাঠ্যের (নস) উসূলী উপযোগিতা নিরূপণ। এটি এমন একটি অধ্যয়ন যার লক্ষ্য হলো একজন উসূলী বিশারদ কীভাবে পাঠ্যটিকে কাজে লাগান তা বর্ণনা করা।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
النص الشرعي، كالآية المذكورة، من حيث إثبات القاعدة بها، أو نقض قاعدة الخصم بها، أو بيان كيفية استنباط الأحكام الشرعية من النص.
والدراسة الثامنة: دراسة تحليلية أصوليَّة لآيات المحرماتِ نكاحهن.
والمقصود بالتطبيق الأصولي هو إعمال القاعدة الأصوليَّة، وذلك بمراعاة مقتضاها في فهم النص واستنباط حكمه، كما سبق.
ومعلوم أن القاعدة الأصوليَّة واسطة بين الحكم الشرعي ودليله، وهي آلة استنباطه، حيث يقوم المجتهد بتسليط القاعدة الأصوليَّة وتنزيلها على الدليل الجزئي ليتمكن من استخراج الحكم الشرعي، وإلا لما أمكن استخراجه، «فإن إثبات الشرع بغير أدلته وقواعده بمجرد الهوى خلاف الإجماع»، كما قال القرافي في نفائس الأصول، وقال قبله: «وما علموا أنه لولا أصول الفقه لم يثبت من الشريعة قليل ولا كثير؛ فإن كل حكم شرعي لا بد له من سبب موضوع، ودليل يدل عليه، وعلى سببه، فإذا ألغينا أصول الفقه ألغينا الأدلة، فلا يبقى لنا حكم ولا سبب»
(1).
لذا كان مقصود هذه الدراسات الوقوف على مآخذ الأحكام الأصوليَّة، للوقوف عليها، والتدرب على تطبيقها، وهذا مطلب مهم لطالب العلم، لا يستغني عنه.
يقول الإمام الجويني في غِياث الأمم: «وأهم المطالب في الفقه: التدرب في مآخذ الظنون في مجال الأحكام، وهذا يسمى فقيه النفس، وهو أنفس صفات علماء الشريعة»
(2).
وقال ابن السبكي في طبقاته: «المرء إذا لم يعرف الخلاف والمآخذ لا يكون فقيهاً إلى أن يلج الجمل في سمّ الخياط، وإنما يكون ناقلاً متخبطاً، حامل فقه
--------------------------------------------
শরয়ী নস বা পাঠ, যেমন উল্লিখিত আয়াত, যার মাধ্যমে কোনো মূলনীতি সাব্যস্ত করা হয়, অথবা প্রতিপক্ষের কোনো মূলনীতি খণ্ডন করা হয়, অথবা নস থেকে শরয়ী বিধান আহরণের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়।
অষ্টম অধ্যয়ন: বিবাহে নিষিদ্ধ নারীদের সম্পর্কিত আয়াতসমূহের একটি উসূলি বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন।
উসূলি প্রয়োগের উদ্দেশ্য হলো উসূলি মূলনীতিকে কার্যকর করা, আর তা হলো—যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে—নস উপলব্ধি এবং এর বিধান আহরণের ক্ষেত্রে এর (মূলনীতির) দাবি ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা।
এটি জানা কথা যে, উসূলি মূলনীতি হলো শরয়ী বিধান এবং এর দলীলের মধ্যবর্তী মাধ্যম, আর এটি বিধান আহরণের হাতিয়ার। যেখানে মুজতাহিদ আংশিক দলীলের ওপর উসূলি মূলনীতি প্রয়োগ ও অবতারণ করেন যাতে শরয়ী বিধান বের করতে সক্ষম হন; অন্যথায় তা বের করা সম্ভব হতো না। যেমনটি আল-কারাফী 'নাফাইস আল-উসূল' গ্রন্থে বলেছেন: "দলীল ও মূলনীতি ব্যতিরেকে নিছক খেয়ালখুশিমতো শরীয়ত সাব্যস্ত করা ইজমার পরিপন্থী।" তিনি এর আগে বলেছেন: "তারা কি জানে না যে, উসূলে ফিকহ না থাকলে শরীয়তের সামান্য বা অধিক কিছুই সাব্যস্ত হতো না; কেননা প্রতিটি শরয়ী বিধানের জন্য একটি নির্ধারিত কারণ ও একটি দলীলের প্রয়োজন যা সেই বিধান ও কারণের ওপর প্রমাণ পেশ করে। সুতরাং আমরা যদি উসূলে ফিকহকে বাতিল করি, তবে আমরা দলীলগুলোকেও বাতিল করলাম, ফলে আমাদের কাছে কোনো বিধান বা কারণ অবশিষ্ট থাকবে না।"
(১)তাই এই অধ্যয়নগুলোর উদ্দেশ্য ছিল উসূলি বিধানসমূহের উৎসস্থলগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং এগুলোর প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ লাভ করা। এটি ইলম অন্বেষণকারীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা, যা থেকে সে বিমুখ থাকতে পারে না।
ইমাম আল-জুওয়াইনী 'গিয়াসুল উমাম' গ্রন্থে বলেন: "ফিকহ শাস্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্বেষা হলো: বিধানের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণার উৎসগুলোতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা; আর একেই 'ফকিহে নাফস' (স্বভাবজাত ফকিহ) বলা হয়, যা শরীয়তের আলেমদের সর্বোৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্য।"
(২)ইবনুস সুবকী তার 'তাবাকাত' গ্রন্থে বলেছেন: "ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত মতভেদ এবং বিধানের উৎসস্থলগুলো না জানবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে ফকিহ হতে পারবে না যে পর্যন্ত না সুঁচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। বরং সে কেবল একজন বিভ্রান্ত বর্ণনাকারী এবং ফিকহ বহনকারী মাত্র..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
إلى غيره»
(1).
والمراد بآيات الأحكام: آيات القرآن الدالة على أحكام فروعية فقهية، تتعلق بمصالح العباد في دنياهم وأخراهم
(2).
فلفظ (الأحكام) وإن كان عاماً، شاملاً للأحكام الاعتقادية والفقهية والأخلاقية وغيرها، إلا أن المراد بها هنا الأحكام الفقهية، وعليه سارت كتب أحكام القرآن المؤلفة.
يقول ابن جزي: «وأما أحكام القرآن فهي ما ورد فيه من الأوامر والنواهي والمسائل الفقهية»
(3).
* وقد اختلف العلماء في حصر آيات الأحكام بعدد معين على قولين:
القول الأول: إن آيات الأحكام تحصر بعدد معين. وهؤلاء اختلفوا في عددها، فقيل: خمسمائة آية
(4). وقيل: مئتا آية أو قريب من ذلك
(5). وقيل: مائة وخمسون آية
(6). وقيل: غير ذلك
(7).
--------------------------------------------
অন্যের কাছে।»
(১).
আর আয়াতুল আহকাম (বিধানের আয়াতসমূহ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কুরআনের সেই আয়াতসমূহ যা ফিকহ শাস্ত্রীয় শাখা-প্রশাখাগত বিধানের ওপর নির্দেশ করে, যা দুনিয়া ও আখেরাতে বান্দাদের কল্যাণের সাথে সংশ্লিষ্ট
(২).
সুতরাং (আহকাম) শব্দটি যদিও সাধারণ, যা আকিদাগত, ফিকহী, নৈতিক এবং অন্যান্য সকল বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু এখানে তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফিকহী বিধানসমূহ; আর এর ওপর ভিত্তি করেই ‘আহকামুল কুরআন’ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে।
ইবনে জুযাই বলেন: «আর আহকামুল কুরআন হলো তা-ই, যা এতে আদেশ, নিষেধ এবং ফিকহী মাসআলা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে»
(৩).
* আর আলেমগণ আয়াতুল আহকামকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করার ব্যাপারে দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথম মত: আয়াতুল আহকাম একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে এর সংখ্যার ব্যাপারে তাঁরা মতভেদ করেছেন। বলা হয়েছে: পাঁচশ আয়াত
(৪)। কেউ বলেছেন: দুইশ আয়াত বা এর কাছাকাছি
(৫)। কেউ বলেছেন: একশ পঞ্চাশটি আয়াত
(৬)। কেউ আবার অন্য কিছুও বলেছেন
(৭).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
القول الثاني: إن آيات الأحكام لا تنحصر بعدد معين
(1)؛ لأن كل آية في القرآن يمكن أن يستنبط منها حكم معين، وهو يختلف باختلاف القرائح والأذهان، وما يفتحه الله من وجوه الاستنباط
(2).
يقول الطوفي: «والصحيح أن هذا التقدير غير معتبر، وأن مقدار أدلة الأحكام غير منحصرة، فإن أحكام الشرع كما تستنبط من الأوامر والنواهي؛ تستنبط من الأقاصيص والمواعظ ونحوها، وقلَّ أن يوجد في القرآن آية إلا ويستنبط منها شيء من الأحكام»
(3).
* ومن
أبرز المؤلفات في أحكام القرآن ما يلي
(4):
(1) تفسير الخمسمائة آية، لمقاتل بن سليمان البلخي، المتوفى سنة (150 هـ).
(2) أحكام القرآن، لأبي بكر الرازي الجصاص، المتوفى سنة (370 هـ).
(3) أحكام القرآن لأحمد بن علي الباغائي، المتوفى (401 هـ).
(4) أحكام القرآن، للشافعي، جمع أبي بكر البيهقي، المتوفى (458 هـ).
(5) أحكام القرآن، لأبي الحسن الكيا الهراسي، المتوفى سنة (504 هـ).
(6) أحكام القرآن، لأبي بكر بن العربي، المتوفى سنة (543 هـ).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মত: বিধান সম্বলিত আয়াতসমূহ (আয়াতুল আহকাম) নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়
(১); কারণ কুরআনের প্রতিটি আয়াত থেকেই বিশেষ কোনো বিধান উদ্ঘাটন করা সম্ভব। আর এটি মেধা ও ধীশক্তি এবং আল্লাহ উদ্ঘাটনের যে পথগুলো উন্মুক্ত করে দেন, তার পার্থক্যের কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে
(২)।
তুফী বলেন: «সঠিক কথা হলো, এই নির্ধারণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিধানের দলীলসমূহের পরিমাণ সীমাবদ্ধ নয়। কেননা শরীয়তের বিধানসমূহ যেমন আদেশ ও নিষেধ থেকে উদ্ঘাটন করা হয়, তেমনিভাবে কিচ্ছা-কাহিনী, নসীহত এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ থেকেও উদ্ঘাটন করা হয়। কুরআনে এমন আয়াত খুব কমই আছে যা থেকে কোনো না কোনো বিধান উদ্ঘাটন করা যায় না»
(৩)।
* এবং
আহকামুল কুরআনের (কুরআনের বিধানসমূহ) ওপর রচিত প্রধান গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
(৪):
(১) তাফসীরুল খামসামিয়া আয়াহ, মুকাতিল বিন সুলায়মান আল-বালখী, মৃত্যু (১৫০ হি.)।
(২) আহকামুল কুরআন, আবু বকর আর-রাযী আল-জাস্সাস, মৃত্যু (৩৭০ হি.)।
(৩) আহকামুল কুরআন, আহমদ বিন আলী আল-বাগাঈ, মৃত্যু (৪০১ হি.)।
(৪) আহকামুল কুরআন, শাফেয়ী, সংকলনে আবু বকর আল-বায়হাকী, মৃত্যু (৪৫৮ হি.)।
(৫) আহকামুল কুরআন, আবুল হাসান আল-কিয়া আল-হাররাসী, মৃত্যু (৫০৪ হি.)।
(৬) আহকামুল কুরআন, আবু বকর ইবনুল আরাবী, মৃত্যু (৫৪৩ হি.)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
(7) أحكام القرآن، لعبد المنعم بن الفرس، المتوفى سنة (599 هـ).
(8) الجامع لأحكام القرآن، لأبي عبد الله القرطبي، المتوفى سنة (671).
(9) القول الوجيز في أحكام الكتاب العزيز، للسمين الحلبي، المتوفى سنة (756 هـ).
(10) تيسير البيان لأحكام القرآن، لابن نور الدين الموزعي، المتوفى سنة (820 هـ).
(11) أحكام الكتاب المبين، لعلي بن عبد الله الشنفكي، المتوفى سنة (907).
(12) الإكليل في استنباط التنزيل، لجلال الدين السيوطي المتوفى سنة (911 هـ).
وليعلم أن غالب آيات الأحكام ترد الأحكام فيها على سبيل الإجمال والعموم، وبيانها وتفصيل أحكامها يكون بالسنة النبوية، وقد قال سبحانه: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44]
يقول الشاطبي في موافقاته: " تعريف القرآن بالأحكام الشرعية أكثره كليٌّ لا جزئيٌّ، وما كان كلياً لا يسوغ الاكتفاء به في إدراك الأحكام التفصيلية "
(1).
أما المنهج الذي سرت عليه على وجه الإجمال فهو:
ليس من قصد هذه الدراسات تحقيق الأصل أو تحقيق الفرع، فإن شأن ذلك في كتب الفقه وأصوله، وإنما تهدف هذه الدراسات إلى قول معتمد على قاعدة أصوليَّة، فتظهر الدراسة وجه الاعتماد، وكيفية الاستنباط، ليكون وسيلة للتدرب، ولم أقل بقول إلا ولي فيه إمام - إلا ما ندر - ولا أذكر قولاً إلا ولي فيه إمام ممن يعتمد قوله، وإنما استثنيت خشية النسيان، وأسميت هذه الدراسات ب (دراسات أصوليَّة تطبيقية على آيات الأحكام).
أسأل الله بمنه وكرمه أن يجعلني ممن خدم كتابه، واستغفره من جهلي وتقصيري.
--------------------------------------------
(৭) আহকামুল কুরআন, যা লিখেছেন আবদুল মুনঈম ইবনুল ফারাস, মৃত্যু (৫৯৯ হিজরি)।
(৮) আল-জামি’ লি-আহকামিল কুরআন, যা লিখেছেন আবু আবদুল্লাহ আল-কুরতুবি, মৃত্যু (৬৭১)।
(৯) আল-কাওলুল ওয়াজিজ ফি আহকামিল কিতাবিল আজিজ, যা লিখেছেন সামিন আল-হালাবি, মৃত্যু (৭৫৬ হিজরি)।
(১০) তায়সিরুল বায়ান লি-আহকামিল কুরআন, যা লিখেছেন ইবনু নূরুদ্দিন আল-মাওজায়ী, মৃত্যু (৮২০ হিজরি)।
(১১) আহকামুল কিতাবিল মুবিন, যা লিখেছেন আলী বিন আবদুল্লাহ আল-শানফাকি, মৃত্যু (৯০৭)।
(১২) আল-ইকলিল ফি ইস্তিনবাতিত তানজিল, যা লিখেছেন জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতি, মৃত্যু (৯১১ হিজরি)।
এটি জানা থাকা প্রয়োজন যে, আহকামের অধিকাংশ আয়াতে বিধানসমূহ সংক্ষিপ্ত ও সাধারণ আকারে এসেছে এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা ও বিধানসমূহের বিস্তারিত বিবরণ সুন্নাহে নববীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: “আর আমি তোমার প্রতি যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষের সামনে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দাও যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে।” [আন-নাহল: ৪৪]
আশ-শাতিবি তার ‘মুওয়াফাকাত’ গ্রন্থে বলেন: “শরয়ি আহকাম সম্পর্কে কুরআনের সংজ্ঞা বা বর্ণনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামষ্টিক, তা আংশিক বা বিস্তারিত নয়। আর যা কিছু সামষ্টিক বা মূলনীতিমূলক, তা বিস্তারিত আহকাম অনুধাবনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট হিসেবে গ্রহণ করা সমীচীন নয়”
(১)।
আমি সাধারণভাবে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা হলো:
এই গবেষণার উদ্দেশ্য মূলনীতি বা শাখা যাচাই-বাছাই করা নয়, কারণ সেটি ফিকহ এবং উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের কাজ। বরং এই গবেষণার লক্ষ্য হলো উসুলি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে কোনো নির্ভরযোগ্য বক্তব্য প্রদান করা, যাতে গবেষণায় ওই নির্ভরযোগ্যতার ভিত্তি এবং মাসআলা বের করার (ইস্তিনবাত) পদ্ধতি ফুটে ওঠে এবং তা অনুশীলনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। আমি কোনো কথাই বলিনি যাতে আমার সামনে কোনো ইমাম নেই—খুব বিরল ক্ষেত্র ছাড়া—এবং আমি এমন কোনো মত উল্লেখ করিনি যার পেছনে নির্ভরযোগ্য কোনো ইমামের সমর্থন নেই। কেবল ভুলে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্যতিক্রম কথাটি উল্লেখ করেছি। আমি এই গবেষণার নাম দিয়েছি ‘দিরাসাতুন উসূলিয়্যাতুন তাত্ত্বিকিয়্যাতুন আলা আয়াতিল আহকাম’ (আহকামের আয়াতসমূহের ওপর উসুলি প্রয়োগিক গবেষণা)।
আমি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্য দ্বারা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে তাঁর কিতাবের খিদমতকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আমি আমার অজ্ঞতা ও ত্রুটির জন্য তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
الدراسة الأولى: التطبيق على سورة البقرة
প্রথম অধ্যয়ন: সূরা আল-বাকারার ওপর প্রয়োগ
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:
فهذه أحكام ذكرها السيوطي في كتابه الإكليل في استنباط التنزيل، بينت فيها أثر القواعد الأصوليَّة في استنباط تلك الأحكام، في تعليقي عليه في كتابي فتح الجليل في التعليق على كتاب الإكليل، استلها ورتبها الشيخ حمي درامي، الطالب في قسم أصول الفقه في مرحلة الدكتوراه بالجامعة الإسلاميَّة، ورتبها بالشكل المذكور، حذفت منها ما كان الأثر الأصولي مأخوذاً من مقدمة الإكليل لا من سورة البقرة، وتركت ما فاته، مما لا غنى فيه للرجوع إلى الأصل، إذ القصد في هذه الدراسة وما تليها هو إظهار التنوع في تناول التطبيق الأصولي للنصوص الشرعيَّة.
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের উপর। অতঃপর:
এগুলো হলো সেসব বিধান যা সুয়ূতী তাঁর 'আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আমি সেই বিধানগুলো আহরণে উসূলী নিয়মাবলির প্রভাব স্পষ্ট করেছি আমার রচিত গ্রন্থ 'ফাতহুল জালীল ফিত তালীকি আলা কিতাবিল ইকলীল'-এ। একে চয়ন ও বিন্যাস করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উসূলুল ফিকহ বিভাগের পিএইচডি গবেষক শাইখ হুমি ড্রামি। তিনি এগুলোকে যেভাবে বিন্যস্ত করেছেন, আমি সেখান থেকে সেসব বিষয় বাদ দিয়েছি যার উসূলী প্রভাব 'আল-ইকলীল'-এর ভূমিকা থেকে নেওয়া হয়েছে, সূরা আল-বাকারাহ থেকে নয়। আর তিনি যা বাদ দিয়েছিলেন, আমি তা সংযুক্ত করেছি, যার ফলে মূল গ্রন্থের শরণাপন্ন হওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। কেননা এই গবেষণা এবং এর পরবর্তী আলোচনাগুলোর উদ্দেশ্য হলো শারঈ মূলপাঠসমূহের ক্ষেত্রে উসূলী প্রয়োগের বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الدراسة التطبيقية
•
قاعدة: ما لايتم الواجب إلاّ به فهو واجب.معنى القاعدة: أنّ ما يتوقف عليه إيقاع الواجب المطلق من الأسباب والشروط التي في مقدور المكلف فهو واجب.
من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* حكم الولاية على مال السفيه
(1):
السفيه يحجر عليه وتلغى أقواله وتصرّفاته وإقراره، ولا بدّ له من ولي يلي أمره، لقوله تعالى: {فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهُ بِالْعَدْلِ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر وجه اندرجها أنّ حفظ مال السّفيه واجب، ولا يتم حفظ ماله إلا بولي، والقاعدة أن ما لايتم الواجب إلا به فهو واجب، وعليه فإنّ الولي واجب.
--------------------------------------------
প্রয়োগিক অধ্যয়ন
•
মূলনীতি: যা ব্যতীত ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, তাও ওয়াজিব।মূলনীতির অর্থ: শর্তহীন ওয়াজিব আদায় করা যেসব কারণ ও শর্তের ওপর নির্ভরশীল এবং যা মুকাল্লাফের (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) সাধ্যায়ত্ত, তা পালন করাও ওয়াজিব।
এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত কিছু শাখাগত মাসয়ালা:
* নির্বোধের সম্পদের ওপর অভিভাবকত্বের বিধান
(১):
নির্বোধ ব্যক্তিকে (সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে) বিধি-নিষেধের আওতায় আনা হবে এবং তার বক্তব্য, লেনদেন ও স্বীকারোক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। তার বিষয়গুলো পরিচালনার জন্য অবশ্যই একজন অভিভাবক থাকতে হবে; কেননা মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {কাজেই তার অভিভাবক যেন ইনসাফের সাথে তা লিখিয়ে দেয়}।
মূলনীতির অধীনে এই মাসয়ালাটি আসার যৌক্তিকতা: বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ স্পষ্ট যে, নির্বোধের সম্পদ রক্ষা করা ওয়াজিব, আর অভিভাবক ছাড়া তার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয়। আর মূলনীতি হলো—যা ব্যতীত ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, তাও ওয়াজিব। অতএব, অভিভাবক নিয়োগ করা ওয়াজিব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قاعدة: من صيغ الوجوب لفظ كتب.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* مشروعية القصاص
(1):
والدليل على مشروعيته ووجوبه قوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ}
وجه اندرج المسألة تحت القاعدة:
وجه ذلك ظاهر من لفظ "كُتِبَ"، وهو من الألفاظ الدّالة على الوجوب كما هو مقرر في القاعدة.
* فرضية الصوم
(2):
والدليل على فرضيته قوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ}
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك ظاهر من إخباره سبحانه وتعالى عن الحكم بلفظ "كتب" وهو من الألفاظ الدّالة على الوجوب والفرضية كما هو مقرر في القاعدة.
--------------------------------------------
মূলনীতি: আবশ্যিকতা বা ওয়াজিব বুঝানোর অন্যতম একটি শব্দরূপ হলো 'লিখে দেওয়া' (কাতিবা) শব্দ।এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত শাখাগত মাসআলাসমূহ:
* ক্বিসাসের (প্রতিশোধের) বিধানের বৈধতা
(১):
এর বৈধতা ও আবশ্যিকতার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের ওপর ক্বিসাস লিখে দেওয়া হয়েছে (অপরিহার্য করা হয়েছে)}
মাসআলাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ:
এর বিষয়টি 'লিখে দেওয়া' শব্দ থেকে স্পষ্ট, আর এটি আবশ্যিকতা বা ওয়াজিব নির্দেশক শব্দসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি মূলনীতিতে নির্ধারিত হয়েছে।
* সিয়ামের (রোজা) আবশ্যকতা
(২):
এর আবশ্যকতার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের ওপর সিয়াম লিখে দেওয়া হয়েছে (অপরিহার্য করা হয়েছে)}
মাসআলাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: বিষয়টি মহান আল্লাহ কর্তৃক বিধানটিকে 'লিখে দেওয়া' শব্দের মাধ্যমে সংবাদ প্রদানের দ্বারা স্পষ্ট, যা আবশ্যিকতা ও ফরজিয়ত নির্দেশক শব্দসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি মূলনীতিতে নির্ধারিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قاعدة: المعلّق على الشرطين لا يثبت إلاّ بوجودهما.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* الرِّدة محبطة للعمل بشرط اتصالها بالموت
(2):
وممّا استدلّوا به قوله تعالى: {وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ}
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك أن الله سبحانه وتعالى علّق إحباط عمل المرتدّ على الشرطين (الرّدة والموت عليها)، وعليه فلا يحبط عمل المرتد بمجرّد الرّدة خلافا لقوم؛ لأنّ القاعدة أنّ المعلّق على الشرطين لا يثبت إلا بوجودهما.
•
قاعدة: التعبير عن العبادة بمشروع فيها يدل على وجوب ذلك المشروع وفرضه.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* فرضية الركوع في الصلاة
(3):
وممّا استدلّوا به على فرضيته قوله تعالى: {وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ}
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر ذلك من مأخذ الحكم من الآية، وذلك أنّ الله عبّر عنها بجزء فيها، وهو الركوع، والقاعدة أنّ التعبير بالعبادة بمشروع فيها يدل على وجوب ذلك المشروع وفرضه، وذلك أنّ الشيء لا يجعل دلالة على غيره، إلاّ إذا كان مقصودا بنفسه.
--------------------------------------------
মূলনীতি: যে বিষয়টি দুটি শর্তের ওপর নির্ভরশীল, তা উভয় শর্তের উপস্থিতি ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না।এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত শাখা বিষয়সমূহের মধ্যে রয়েছে:
* ধর্মত্যাগ আমল বিনষ্টকারী হওয়ার জন্য মৃত্যুর সময় পর্যন্ত তার ধারাবাহিকতা শর্ত
(২):
এ বিষয়ে তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা নিজ ধর্ম থেকে ফিরে যাবে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে।"
মাসআলাটি এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এর কারণ হলো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুরতাদের আমল নিষ্ফল হওয়াকে দুটি শর্তের (ধর্মত্যাগ করা এবং সেই অবস্থায় মৃত্যু হওয়া) ওপর ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এর ভিত্তিতে, একদল আলিমের মতের বিপরীতে কেবল ধর্মত্যাগের কারণেই আমল নিষ্ফল হবে না; কারণ মূলনীতি হলো, যা দুটি শর্তের ওপর নির্ভরশীল তা উভয়টির উপস্থিতি ছাড়া সাব্যস্ত হয় না।
•
মূলনীতি: কোনো ইবাদতকে তার অন্তর্ভুক্ত কোনো শরয়ি বিধানের মাধ্যমে ব্যক্ত করা ওই বিধানটি ওয়াজিব ও ফরজ হওয়ার প্রমাণ।এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত শাখা বিষয়সমূহের মধ্যে রয়েছে:
* সালাতে রুকু ফরজ হওয়া
(৩):
এর ফরজ হওয়ার ব্যাপারে তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "আর তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু করো।"
মাসআলাটি এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: আয়াত থেকে বিধান গ্রহণের উৎস থেকে এটি স্পষ্ট হয়। আর তা হলো, আল্লাহ এখানে সালাতকে তার একটি অংশ অর্থাৎ রুকুর মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন। আর মূলনীতি হলো, কোনো ইবাদতকে তার অন্তর্ভুক্ত কোনো বিধানের মাধ্যমে ব্যক্ত করা উক্ত বিধানটি ওয়াজিব ও ফরজ হওয়ার প্রমাণ। কারণ, কোনো বিষয়কে অন্য বিষয়ের পরিচয়জ্ঞাপক করা হয় না যতক্ষণ না তা স্বয়ং উদ্দিষ্ট হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
•
قاعدة: تفسير الصحابي حجة.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* الطواف قبل الصلاة
(1):
ومما استدلّوا به قوله تعالى: {أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ}
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك ظاهر من مأخذ الحكم، وهو أثر ابن عباس رضي الله عنه لما سأله رجل هل يصلي قبل أن يطوف، أو يطوف قبل أن يصلي؟ وفيه قوله: «خذ ذاك من كتاب الله فإنّه أجدر أن يحفظ
… وقال: {أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ}، فالطواف قبل الصلاة
(2)، وهذا تفسير صحابي، والقاعدة أن تفسير الصحابي حجة.
•
قاعدة: الأمر المطلق يقتضي الوجوب.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* وجوب استقبال القبلة في كل صلاة
(3): والدّليل قوله تعالى: {وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ}
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر ذلك من وجه الاستدلال من الآية، وذلك أن لفظ "فوَلّوا" صيغة أمر، والقاعدة أن الأمر المطلق يقتضي الوجوب، وعليه فإن استقبال القبلة واجب.
--------------------------------------------
মূলনীতি: সাহাবীর তাফসীর দলিল হিসেবে গণ্য।এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত শাখাগত মাসআলাসমূহ:
* সালাতের আগে তাওয়াফ করা
(১):
আর তাঁরা যা দিয়ে দলিল পেশ করেছেন তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো।}
মূলনীতির অধীনে মাসআলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: বিধান গ্রহণের উৎস থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। আর তা হলো ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা, যখন এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তিনি কি তাওয়াফের আগে সালাত আদায় করবেন, নাকি সালাতের আগে তাওয়াফ করবেন? এতে তাঁর (ইবনে আব্বাস) বক্তব্য হলো: «এটি আল্লাহর কিতাব থেকে গ্রহণ করো, কারণ তা সংরক্ষণ করার জন্য অধিক উপযুক্ত
… এবং তিনি পাঠ করলেন: {আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো}। সুতরাং সালাতের আগে তাওয়াফ করতে হবে
(২), আর এটি একজন সাহাবীর তাফসীর। আর মূলনীতি হলো সাহাবীর তাফসীর দলিল হিসেবে গণ্য।
•
মূলনীতি: শর্তহীন আদেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে।এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত শাখাগত মাসআলাসমূহ:
* প্রত্যেক সালাতে কিবলামুখী হওয়া ওয়াজিব হওয়া
(৩): দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের চেহারা সেদিকেই ফিরাও।}
মূলনীতির অধীনে মাসআলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: আয়াতটি থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি থেকে তা প্রকাশ পায়। আর তা হলো "তোমরা ফিরাও" শব্দটি একটি আদেশের শব্দ, আর মূলনীতি হলো শর্তহীন আদেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে। এর ভিত্তিতে কিবলামুখী হওয়া ওয়াজিব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وجوب القيام في الصلاة
(1):
وممّا استدلّوا به قوله تعالى: {وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ}
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك ظاهر من قوله: {وَقُومُوا}، وهو أمر، والقاعدة أن الأمر المطلق يقتضي الوجوب، وهو أمر بالقيام على صفة القنوت والخشوع، فيستفاد منه وجوب القيام عند الحنابلة وغيرهم.
* عدم جواز الأكل لمن شك في الغروب
(2):
اتفق العلماء على أنه لا يجوز الأكل لمن شكّ في غروب الشمس، لقوله تعالى: {ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك ظاهر من مأخذ الحكم وذلك أن قوله: {أَتِمُّوا}، أمر، والقاعدة أن الأمر المطلق يقتضي الوجوب، وإتمامه يكون إلى الليل، والليل الذي يتم به الصيام مغيب قرص الشمس.
* وجوب إتمام الحج والعمرة بعد الشروع فيهما فرضا كان أو نفلاً
(3):
لقوله تعالى: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك ظاهر من مأخذ الحكم وذلك أن لفظ {وَأَتِمُّوا} أمر بالإتمام، والقاعدة أن الأمر المطلق يقتضي الوجوب، فدلّ ذلك على وجوب إتمامهما بعد الشروع فيهما فرضا كان أو نفلا.
--------------------------------------------
সালাতে দাঁড়ানো ওয়াজিব হওয়া
(১):
তারা যা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াও।"
মাসআলাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এর কারণ তাঁর বাণী "তোমরা দাঁড়াও" থেকে স্পষ্ট, যা একটি নির্দেশ (আমর)। আর মূলনীতি হলো—সাধারণ নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে। এটি আনুগত্য ও বিনম্রতার বৈশিষ্ট্যে দাঁড়ানোর একটি নির্দেশ, ফলে এর দ্বারা হাম্বলি ও অন্যদের নিকট সালাতে দাঁড়ানো ওয়াজিব হওয়া প্রমাণিত হয়।
* সূর্যাস্তের বিষয়ে সন্দিহান ব্যক্তির জন্য আহার করা জায়েজ না হওয়া
(২):
ওলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, যার সূর্যাস্তের ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে তার জন্য আহার করা জায়েজ নয়, কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো।"
মাসআলাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: বিধান গ্রহণের উৎস থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। আর তা হলো—তাঁর বাণী "পূর্ণ করো" একটি নির্দেশ। আর মূলনীতি হলো—সাধারণ নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে। আর তা রাত পর্যন্ত পূর্ণ করতে হবে, আর যে রাতের মাধ্যমে সিয়াম পূর্ণ হয় তা হলো সূর্যমণ্ডল অদৃশ্য হওয়া (সূর্যাস্ত)।
* হজ ও উমরা শুরু করার পর তা পূর্ণ করা ওয়াজিব, চাই তা ফরজ হোক বা নফল
(৩):
কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর তোমরা আল্লাহর জন্য হজ ও উমরা পূর্ণ করো।"
মাসআলাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: বিধান গ্রহণের উৎস থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। আর তা হলো—"পূর্ণ করো" শব্দটি পূর্ণ করার একটি নির্দেশ। আর মূলনীতি হলো—সাধারণ নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে। এটি প্রমাণ করে যে, হজ ও উমরা শুরু করার পর তা পূর্ণ করা ওয়াজিব, চাই তা ফরজ হোক বা নফল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
•
قاعدة: الأمر بعد الحظر للإباحة.معنى القاعدة: أن من صوارف الأمر عن الوجوب إلى الإباحة وروده بعد الحظر.
والمراد بالحظر: التحريم، أو ما كان من حقه التحريم
(1).
من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* جواز الجماع في ليالي رمضان
(2): لقوله تعالى: {فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك ظاهر من مأخذ الحكم فقوله: {بَاشِرُوهُنَّ}، صيغة أمر وردت بعد حظر سابق، والقاعدة أن الأمر بعد الحظر يفيد الإباحة، فدل ذلك على إباحة الجماع في ليالي رمضان.
•
قاعدة: من صوارف الأمر عن الوجوب فعله صلى الله عليه وسلم-.
من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* حكم كتابة الدين
(3): ذهب قوم إلى أن كتابة الدين مندوب وليس بواجب.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر وجه الاندراج من مأخذ قولهم حيث حملوا الأمر الوارد في قوله تعالى: {فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ}، على الندب، وذلك لفعله صلى الله عليه وسلم حيث ابتاع بلا كتابة ولا إشهاد، والقاعدة أن من صوارف الأمر من الوجوب إلى الندب فعله صلى الله عليه وسلم
(4).
--------------------------------------------
•
নীতি: নিষেধাজ্ঞার পর আদেশ বৈধতা (ইবাহাত) প্রদানের জন্য হয়ে থাকে।নীতির অর্থ: কোনো আদেশকে ওয়াজিব বা আবশ্যকতা থেকে সরিয়ে বৈধতার দিকে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো নিষেধাজ্ঞার পর তার আগমন।
আর নিষেধাজ্ঞা (হাঝর) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: হারাম হওয়া, অথবা যা হারাম হওয়ার যোগ্য ছিল
(১)।
এই নীতির অন্তর্ভুক্ত শাখা বিষয়াবলি:
* রমজানের রাতে সহবাসের বৈধতা
(২): মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো।"
নীতিটির অধীনে এই মাসআলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দিক: এর কারণ বিধানের উৎস থেকে স্পষ্ট, কেননা তাঁর বাণী: "তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো" হলো আদেশের শব্দ যা পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞার পর এসেছে। আর নীতি হলো, নিষেধাজ্ঞার পর আদেশ বৈধতা নির্দেশ করে। সুতরাং এটি রমজানের রাতে সহবাসের বৈধতা প্রমাণ করে।
•
নীতি: আদেশকে ওয়াজিব থেকে সরিয়ে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল।এই নীতির অন্তর্ভুক্ত শাখা বিষয়াবলি:
* ঋণ লিখে রাখার বিধান
(৩): একদল আলিম এই মত পোষণ করেছেন যে, ঋণ লিখে রাখা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়), ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়।
নীতিটির অধীনে মাসআলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দিক: তাদের মতের উৎস থেকে এর অন্তর্ভুক্তির দিকটি স্পষ্ট হয়, যেখানে তারা মহান আল্লাহর বাণী: "যদি তোমরা একে অপরকে বিশ্বাস করো, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়েছে সে যেন তার আমানত আদায় করে" -এ বর্ণিত আদেশটিকে মুস্তাহাব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মের কারণে, কারণ তিনি কোনো প্রকার লেখা বা সাক্ষী রাখা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় করেছেন। আর নীতি হলো, আদেশকে ওয়াজিব থেকে মুস্তাহাবে সরিয়ে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
•
قاعدة: الأمر بالشيء نهي عن ضده.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* تحريم مطالبة المعسر بالدين وتحريم حبسه
(3): لقوله تعالى: {وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر ذلك من مأخذ الحكم، وذلك أن الله أوجب إنظاره، لقوله: {فَنَظِرَةٌ}، أي: فعليكم إنظاره، وإذا وجب إنظاره حرم مطالبته، لأن الأمر بالشيء نهي عن ضدّه، وإذا حرم مطالبته فحبسه من باب أولى.
•
قاعدة: النهي عن الشيء أمر بضده.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* وجوب الإجابة على من طلب منه الكتابة
(4):
ذهب قوم إلى وجوب الإجابة على من طُلب منه كتابة الدين؛
لقوله تعالى: {وَلَا يَأْبَ كَاتِبٌ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر وجه ذلك من مأخذ الحكم، حيث إن الوجوب مستفاد من النهي عن الامتناع، فإذا حرم الامتناع عن الكتابة وجب
--------------------------------------------
•
মূলনীতি: কোনো বিষয়ের আদেশ প্রদান করা তার বিপরীত বিষয়কে নিষেধ করার নামান্তর।এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত শাখাসমূহ:
* অসচ্ছল ব্যক্তির নিকট ঋণ দাবি করা এবং তাকে কারারুদ্ধ করা হারাম হওয়া
(৩): মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যদি সে অসচ্ছল হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দেওয়া উচিত}।
বিষয়টি এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এটি বিধান গ্রহণের উৎস থেকে স্পষ্ট হয়, আর তা হলো—আল্লাহ তাকে অবকাশ দেওয়া ওয়াজিব করেছেন, তাঁর এই বাণীর কারণে: {তবে অবকাশ দেওয়া উচিত}, অর্থাৎ: তোমাদের ওপর তাকে অবকাশ দেওয়া আবশ্যক। আর যখন তাকে অবকাশ দেওয়া ওয়াজিব হলো, তখন তার নিকট পাওনা দাবি করা হারাম হয়ে গেল; কারণ কোনো বিষয়ের আদেশ তার বিপরীত বিষয়কে নিষেধ করার নামান্তর। আর যখন পাওনা দাবি করা হারাম হলো, তখন তাকে কারারুদ্ধ করা আরও জোরালোভাবে (আউলা) হারাম।
•
মূলনীতি: কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করা তার বিপরীত বিষয়ের আদেশ দেওয়ার নামান্তর।এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত শাখাসমূহ:
* যার নিকট দলিল লিখে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে তার সাড়া দেওয়া ওয়াজিব হওয়া
(৪):
একদল আলিম ঐ ব্যক্তির জন্য সাড়া দেওয়া ওয়াজিব হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন, যার নিকট ঋণের দলিল লিখে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে;
মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর কোনো লেখক যেন লিখতে অস্বীকার না করে}।
বিষয়টি এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: বিধান গ্রহণের উৎস থেকে এর প্রেক্ষিত স্পষ্ট হয়, কেননা এখানে ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি অস্বীকৃতি জানানোর ওপর নিষেধ থেকে গৃহীত হয়েছে। সুতরাং যখন লেখা থেকে বিরত থাকা বা অস্বীকৃতি জানানো হারাম হলো, তখন তা ওয়াজিব হয়ে গেল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
الاستجابة؛ لأنّ النهي عن الشيء أمر بضدّه كما هو مقرر في القاعدة، ولأن الإجابة للكتابة وسيلة للكتابة، ووسيلة الشيء تأخذ حكمه، وهذا بناء على القول بوجوب الكتابة للأمر بها في قوله: {فَاكْتُبُوهُ} {وَلْيَكْتُبْ بَيْنَكُمْ كَاتِبٌ بِالْعَدْلِ} ..
* حكم تحمل الشهادة وأدائها
(1): ذهب قوم إلى وجوب تحمّل الشهادة وأدائها؛ لقوله تعالى: {وَلَا يَأْبَ الشُّهَدَاءُ إِذَا مَا دُعُوا}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر وجه الاندراج أنّ الله نهى عن الامتناع من تحمل الشهادة وأداءها ممن دعي إليها، وإذا حرم ذلك وجب التحمّل والأداء، لأنّ النهي عن الشيء أمر بضدّه كما هو مقرّر في القاعدة.
•
قاعدة: النهي يقتضي التحريم.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* تحريم وطء الحائض
(2): الدليل على تحريم وطء الحائض قوله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر وجه ذلك من مأخذ الحكم، وذلك أن قوله: {فَاعْتَزِلُوا}. أمر بمعنى النّهي، والقاعدة أن النهي يقتضي التحريم ..
* تحريم العضل على الأولياء
(3): لقوله تعالى: {فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُمْ بِالْمَعْرُوفِ}.
--------------------------------------------
সাড়া দেওয়া; কারণ কোনো বিষয়ে নিষেধ করা তার বিপরীত বিষয়ের নির্দেশ দেওয়ার সমতুল্য, যেমনটি মূলনীতিতে সাব্যস্ত হয়েছে। এবং লেখার ডাকে সাড়া দেওয়া হলো লেখার একটি মাধ্যম, আর কোনো বিষয়ের মাধ্যম সেই বিষয়ের বিধানই গ্রহণ করে। এটি মহান আল্লাহর এই বাণী: {তোমরা তা লিখে রাখো} {এবং তোমাদের মধ্যে কোনো লেখক যেন ন্যায়ের সাথে লিখে দেয়}-তে লেখার নির্দেশ দেওয়ার কারণে লেখার আবশ্যকতা হওয়ার মতের ওপর ভিত্তি করে ..
* সাক্ষ্য গ্রহণ ও তা প্রদানের বিধান
(১): একদল আলিম সাক্ষ্য গ্রহণ ও তা প্রদান ওয়াজিব হওয়ার দিকে গিয়েছেন; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {সাক্ষীদের যখন ডাকা হয়, তখন তারা যেন অস্বীকার না করে}।
মূলনীতির অধীনে মাসআলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দিক: অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দিকটি এভাবে স্পষ্ট হয় যে, যাকে সাক্ষ্যের জন্য ডাকা হয়েছে, তার জন্য সাক্ষ্য গ্রহণ ও তা প্রদান থেকে বিরত থাকাকে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। আর যখন এটি হারাম করা হয়েছে, তখন সাক্ষ্য গ্রহণ ও প্রদান ওয়াজিব হয়ে গেছে; কারণ কোনো বিষয়ে নিষেধ করা তার বিপরীত বিষয়ের নির্দেশ দেওয়ার সমতুল্য, যেমনটি মূলনীতিতে সাব্যস্ত হয়েছে।
•
মূলনীতি: নিষেধ হারাম হওয়ার দাবি রাখে।এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত শাখাগত মাসআলাসমূহ:
* ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস হারাম হওয়া
(২): ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস হারাম হওয়ার দলিল হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা ঋতুকালীন সময়ে স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো}।
মূলনীতির অধীনে মাসআলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দিক: এটি বিধান গ্রহণের উৎস থেকে স্পষ্ট হয়। আর তা হলো, তাঁর বাণী: {পৃথক থাকো}। এটি নিষেধের অর্থে একটি নির্দেশ, আর মূলনীতি হলো যে, নিষেধ হারাম হওয়ার দাবি রাখে ..
* অভিভাবকদের জন্য বাধা দেওয়া হারাম হওয়া
(৩): মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের সাথে বিবাহ বসতে বাধা দিও না, যখন তারা বিধি মোতাবেক পরস্পর সম্মত হয়}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك ظاهر من لفظ {فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ} وهو صيغة نهي، والقاعدة أن النهي يقتضي التحريم.
•
قاعدة: النهي يقتضي الفساد.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* هل إسلام أهل الذمة بالإكراه يصح
(1): ذهب الشافعي إلى أن إسلام أهل الذمة بالإكراه لا يصح، لقوله تعالى: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ}، فهي خبر بمعنى النّهي.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أنه ورد نهي عن الإكراه على الإسلام، والقاعدة أن النهي يقتضي الفساد، وعليه فإسلامهم بالإكراه لا يصح للقاعدة، وإذا لم يصح فكأنهم لم يسلموا فلهم الرجوع إلى ما كانوا عليه ..
•
قاعدة: من الشرطية تفيد العموم.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* إذا اجتهد الأسير وصام فوافق رمضان هل يجزئه؟
(2): ذهب الجمهور إلى أنّه يجزئه؛ لعموم قوله تعالى: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك ظاهر من مأخذ الحكم، وذلك أن قوله: {فَمَنْ} شرطية، وهي تفيد العموم، فيدخل في عمومها الأسير المجتهد إن صادف رمضان؛ لأنه مدرك له سواء بالحجة القاطعة أو الاجتهاد
(3).
--------------------------------------------
মাসআলাটি এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এর কারণ "তোমরা তাদের বাধা দিও না" এই শব্দ থেকে সুস্পষ্ট, যা একটি নিষেধবাচক শব্দ, আর মূলনীতি হলো, নিষেধ হারামের দাবি রাখে।
•
মূলনীতি: নিষেধ বাতিল (অকার্যকর) হওয়ার দাবি রাখে।এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত উপ-শাখাগুলোর মধ্য থেকে:
* জিম্মিদের জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণ কি সহীহ হবে?
(১): ইমাম শাফিঈ এই মত পোষণ করেছেন যে, জিম্মিদের জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণ সহীহ নয়। কেননা মহান আল্লাহর বাণী: "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই", এটি নিষেধের অর্থবোধক একটি সংবাদ।
মাসআলাটি এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার ব্যাপারে নিষেধ বর্ণিত হয়েছে, আর মূলনীতি হলো, নিষেধ বাতিল হওয়ার দাবি রাখে। সেই অনুযায়ী, এই মূলনীতির ভিত্তিতে তাদের জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণ সহীহ হবে না। আর যদি তা সহীহ না হয়, তবে তারা ইসলাম গ্রহণ করেনি বলেই গণ্য হবে এবং তারা তাদের পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে...
•
মূলনীতি: শর্তবাচক "যে কেউ" (মান) ব্যাপকতা প্রকাশ করে।এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত উপ-শাখাগুলোর মধ্য থেকে:
* একজন বন্দী যদি নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা (ইজতিহাদ) করে রোজা রাখে এবং তা রমজানের সাথে মিলে যায়, তবে কি তা যথেষ্ট হবে?
(২): জমহুর (অধিকাংশ আলেম) এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি যথেষ্ট হবে। কারণ মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা রয়েছে: "সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাসটি পায়, সে যেন তাতে রোজা রাখে।"
মাসআলাটি এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: বিধানের উৎস থেকে এর কারণ সুস্পষ্ট। আর তা হলো, "যে কেউ" শব্দটি শর্তবাচক, যা ব্যাপকতা প্রকাশ করে। সুতরাং ইজতিহাদকারী বন্দী যদি রমজানের সাক্ষাৎ পায়, তবে সে এই ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ সে অকাট্য প্রমাণ বা ইজতিহাদ—যেকোনো মাধ্যমেই হোক না কেন—মাসটি পেয়েছে।
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
* حكم الصوم على من رأى الهلال وحده
(1): استدل القائلون بوجوب الصوم على من رأى الهلال وحده، -خلافا لمن قال بعدم وجوبه عليه إلا بحكم الإمام- بقوله تعالى: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ}
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أن لفظ مَنْ في قوله: {فَمَنْ} شرطية، والقاعدة أن من الشرطية تفيد العموم، فمن رأى الهلال وحده فهو داخل في عموم الآية، وعليه فيجب عليه الصوم.
•
قاعدة: ما الموصولة تفيد العموم.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* حكم الخلع بأكثر مما أصدقها
(2): استدلّ القائلون بجواز الخلع بأكثر ممّا أصدقها بعموم قوله تعالى: {فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر وجه ذلك أنّ لفظ "ما" في قوله: {فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ}، موصولة، والقاعدة أن "ما الموصولة تفيد العموم"، فيدخل فيه الخلع بقدر ما أصدقها، أو ما زاد عليه للعموم الوارد في الآية.
* نصاب زكاة الخارج من الأرض
(3): ذهب أبو حنيفة إلى وجوب الزكاة في الخارج من الأرض قلّ أو كثر؛ لعموم قوله تعالى: {وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك أن لفظ "ما" في قوله: {وَمِمَّا} موصولة، والقاعدة أن "ما الموصولة تفيد العموم"، فيدخل في عمومها
--------------------------------------------
* যে ব্যক্তি একাকী চাঁদ দেখেছে তার ওপর রোযার বিধান
(1): যারা একাকী চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির ওপর রোযা ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে মত দিয়েছেন — ইমামের ফায়সালা ব্যতীত ওয়াজিব না হওয়ার মত পোষণকারীদের বিপরীতে — তারা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {তোমাদের মধ্যে যে এই মাস প্রত্যক্ষ করবে, সে যেন তাতে রোযা রাখে।}
উক্ত উসুলের অধীনে মাসআলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: {যে ব্যক্তি} বাণীর মধ্যে 'মান' শব্দটি শর্তবাচক, আর নিয়ম হলো শর্তবাচক 'মান' ব্যাপকতা প্রকাশ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি একাকী চাঁদ দেখবে, সে এই আয়াতের ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তার ওপর রোযা রাখা ওয়াজিব হবে।
•
উসুলী নীতি: 'মা মাওসুলা' (সংশ্লিষ্ট সর্বনাম) ব্যাপকতা প্রকাশ করে।এই উসুলের অধীনে অন্তর্ভুক্ত কিছু শাখা মাসআলা:
* মোহরানার অতিরিক্ত পরিমাণ দিয়ে খুলআ করার বিধান
(2): যারা মোহরানার অতিরিক্ত দিয়ে খুলআ করা বৈধ মনে করেন, তারা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাপকতা থেকে দলিল পেশ করেছেন: {তারা উভয়ে যা বিনিময় প্রদান করবে, তাতে তাদের কোনো গুনাহ নেই}।
উক্ত উসুলের অধীনে মাসআলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এর কারণ হলো {যা বিনিময় প্রদান করবে} বাণীর মধ্যে 'মা' শব্দটি মাওসুলা (সংশ্লিষ্ট সর্বনাম), আর নিয়ম হলো 'মা মাওসুলা' ব্যাপকতা প্রকাশ করে। সুতরাং আয়াতের ব্যাপকতার কারণে মোহরানার সমপরিমাণ বা তার অতিরিক্ত দিয়ে খুলআ করা এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
* ভূমি হতে উৎপাদিত ফসলের যাকাতের নিসাব
(3): ইমাম আবু হানিফা ভূমি হতে উৎপাদিত ফসলের পরিমাণ কম হোক বা বেশি হোক, তাতে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার মত পোষণ করেছেন; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাপকতার কারণে: {এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি হতে যা কিছু উৎপাদন করেছি তা হতে}।
উক্ত উসুলের অধীনে মাসআলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এর কারণ হলো {যা কিছু} বাণীর মধ্যে 'মা' শব্দটি মাওসুলা, আর নিয়ম হলো 'মা মাওসুলা' ব্যাপকতা প্রকাশ করে, ফলে এটি এর ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قليل ما تخرجه الأرض وكثيره.
•
قاعدة: الجمع المعرف يفيد العموم.من الصيغ التي يستفاد منها العموم الجمع المعرف نحو: "المؤمنون".
من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* وجوب العدة على كل مطلقة مدخولة بها، بائنا كانت أو رجعية
(1): لعموم قوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ}، وهو خبر بمعنى الأمر، أي عليهن أن يتربّصن.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر وجه ذلك من مأخذ الحكم، وذلك أنّ قوله: {وَالْمُطَلَّقَاتُ}، جمع معرّف ب "أل" والقاعدة أن "الجمع المعرف يفيد العموم"، فيدخل في عمومه كل مطلّقة، بائنا كان أو رجعية إلا ما خصه الدليل.
•
قاعدة: النكرة في سياق النفي تفيد العموم.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* حكم طواف الراكب والمحدث
(2): قال ابن الفرس واستُدلّ بعموم الآية:
{إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا} على صحة طواف الراكب والمحدث.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أنّ قوله: {أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا} جملة فعلية تنحل لمصدر، وكأنه سبحانه قال: "لا جناح عليه تَطَوّفًا بهما"، و"تطَوّفا" نكرة في سياق النفي فتفيد العموم، وعليه فيصدق على من طاف راكبا، وكذلك المحدث للعموم الوارد فيها.
--------------------------------------------
জমিন যা উৎপন্ন করে তার অল্প এবং বেশি।
•
মূলনীতি: আলিফ-লাম যুক্ত (নির্দিষ্ট) বহুবচন ব্যাপকতা প্রদান করে।যেসব শব্দরূপ থেকে ব্যাপকতা (উমুম) আহরিত হয়, তার মধ্যে একটি হলো নির্দিষ্ট বহুবচন, যেমন: "মুমিনগণ"।
এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত শাখা বিষয়াবলি:
* সহবাস হয়েছে এমন প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্ত নারীর জন্য ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব, সে তালাক বায়েন হোক বা রাজয়ী
(১): মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতার কারণে: "আর তালাকপ্রাপ্ত নারীরা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে।" এটি সংবাদসূচক বাক্য হলেও তা আদেশের অর্থ প্রদান করে, অর্থাৎ তাদের ওপর প্রতীক্ষা করা (ইদ্দত পালন করা) আবশ্যক।
মূলনীতির অধীনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যৌক্তিকতা: হুকুমের উৎস থেকেই এর কারণ স্পষ্ট হয়। আর তা হলো, "তালাকপ্রাপ্ত নারীরা" শব্দটি 'আলিফ-লাম' দ্বারা নির্দিষ্ট একটি বহুবচন। আর মূলনীতি হলো "নির্দিষ্ট বহুবচন ব্যাপকতা প্রদান করে"। ফলে এর ব্যাপকতার মধ্যে প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্ত নারী অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বায়েন হোক বা রাজয়ী, যতক্ষণ না অন্য কোনো দলিল একে সুনির্দিষ্ট করে।
•
মূলনীতি: না-বোধক বাক্যে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য ব্যাপকতা প্রদান করে।এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত শাখা বিষয়াবলি:
* আরোহী এবং অপবিত্র ব্যক্তির তাওয়াফ করার বিধান
(২): ইবনুল ফারাস বলেন, আয়াতের ব্যাপকতা থেকে দলিল গ্রহণ করা হয়েছে:
"নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কাবা গৃহের হজ বা উমরা করবে, তার জন্য এই দুটিতে তাওয়াফ করায় কোনো পাপ নেই।" এর মাধ্যমে আরোহী এবং অপবিত্র ব্যক্তির তাওয়াফ সহিহ হওয়ার সপক্ষে দলিল দেয়া হয়েছে।
মূলনীতির অধীনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যৌক্তিকতা: "যে সে দুটিতে তাওয়াফ করবে" কথাটি একটি ক্রিয়াবাচক বাক্য যা ক্রিয়ামূলে রূপান্তরিত হয়। যেন মহান আল্লাহ বলেছেন: "তাদের ওপর এ দুটিতে কোনো প্রকার তাওয়াফ করায় কোনো পাপ নেই।" এখানে "কোনো প্রকার তাওয়াফ" শব্দটি না-বোধক বাক্যে একটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য, যা ব্যাপকতা প্রদান করে। সুতরাং এর ব্যাপকতার ভিত্তিতে এটি আরোহী হয়ে তাওয়াফকারী এবং অপবিত্র অবস্থায় তাওয়াফকারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
•
قاعدة: النكرة في سياق الشرط تفيد العموم.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* سقوط القصاص بالعفو عن بعضه
(1): استدل بقوله تعالى: {فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ} على سقوط القصاص بالعفو عن بعضه.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجهه أن لفظ {شَيْءٌ} نكرة في سياق الشرط، والقاعدة أن النكرة في سياق الشرط تفيد العموم، فيعم العفو عن الشيء القليل والكثير، كما أن القصاص لا يتجزأ، وذكر بعض ما لا يتجزأ كذكر كله.
* إباحة الفطر بمجرد المرض وبمجرد السفر
(2): استدلّ بقوله تعالى:: {فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} من قال بإباحة الفطر بمجرد المرض وإن كان يسيرا، وبمجرد السفر وإن كان قصيرا.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أن لفظ: {مَرِيضًا} و: {سَفَرٍ} نكرتان في سياق الشرط، والقاعدة أن النكرة في سياق الشرط تفيد العموم، فيدخل في عمومها المرض اليسير والسفر القصير.
* حكم الفطر للمسافر سفر معصية
(3): استدل بقوله تعالى: {فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} من قال بإباحة الفطر للمسافر سفر معصية، أو غير مباح.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أن لفظ {سَفَرٍ} في الآية نكرة في سياق الشرط، فتعم كل سفر، فيدخل فيها سفر الطاعة وغيرها.
--------------------------------------------
নীতি: শর্তের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরাহ) ব্যাপকতা প্রদান করে।এই নীতির অন্তর্ভুক্ত শাখা-মাসআলাসমূহের মধ্যে রয়েছে:
* আংশিক ক্ষমার মাধ্যমে কিসাস রহিত হওয়া: মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যার জন্য তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু ক্ষমা করা হয়" থেকে আংশিক ক্ষমার দ্বারাও কিসাস রহিত হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে।
নীতিটির অধীনে মাসআলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: কারণটি হলো আয়াতে "সামান্য কিছু" শব্দটি শর্তের প্রেক্ষাপটে একটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য, আর নীতি অনুযায়ী শর্তের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য ব্যাপকতা প্রদান করে। ফলে এটি সামান্য বা অধিক—সব ধরনের ক্ষমাকেই অন্তর্ভুক্ত করে। তদুপরি কিসাস বিভাজ্য নয়, আর যা বিভাজ্য নয় তার আংশিক উল্লেখ করা পূর্ণ অংশ উল্লেখ করারই সমতুল্য।
* কেবল অসুস্থতা বা সফরের কারণে রোজা ভঙ্গের বৈধতা: মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নেবে" থেকে তারা দলিল পেশ করেছেন যারা কেবল অসুস্থতার কারণেই রোজা ভঙ্গের বৈধতার কথা বলেন—যদিও তা সামান্য হয়, এবং কেবল সফরের কারণেই—যদিও তা সংক্ষিপ্ত হয়।
নীতিটির অধীনে মাসআলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: "অসুস্থ" এবং "সফর" শব্দ দুটি শর্তের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য, আর নীতি অনুযায়ী শর্তের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য ব্যাপকতা প্রদান করে। ফলে সামান্য অসুস্থতা এবং সংক্ষিপ্ত সফর এর ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত হবে।
* গুনাহের সফরে লিপ্ত মুসাফিরের রোজা ভঙ্গের বিধান: মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নেবে" থেকে তারা দলিল পেশ করেছেন যারা গুনাহের সফর বা অবৈধ সফরের ক্ষেত্রেও রোজা ভঙ্গের বৈধতার কথা বলেন।
নীতিটির অধীনে মাসআলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: আয়াতে বর্ণিত "সফর" শব্দটি শর্তের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য, ফলে এটি সকল সফরকেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং আনুগত্যের সফর এবং তা ব্যতিরেকে অন্য সফরও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
* حكم التطوع بصيام يوم الشك
(1): قال ابن الفرس: يحتج بها -أي بقوله تعالى: {فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ} على جواز التطوع بصوم يوم الشك لعموم قوله {خَيْرًا}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: ظاهر من مأخذ العموم، وذلك أن لفظ {خَيْرًا} نكرة في سياق الشرط، فتعم كل خير، والصوم خير فيدخل في العموم.
* إباحة ارتكاب المحظور للمحرم في كل مرض أو أذى يُحْوجه إلى ذلك
(2): لعموم قوله تعالى: {فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أن لفظ {مَرِيضًا} و {أَذًى} نكرتان في سياق الشرط، والقاعدة أن النكرة في سياق الشرط تفيد العموم، فتعم كل مرض أو أذى مما يُحْوِج المحرم لارتكاب المحظور.
* صلاة الخوف يشمل خوف العدو والسبع وغير ذلك
(3): لقوله تعالى: {فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أن قوله {فَإِنْ خِفْتُمْ} فعل في سياق الشرط فيفيد العموم؛ لأن الأفعال نكرات، والقاعدة أن النكرة في سياق الشرط تفيد العموم.
--------------------------------------------
* সন্দেহের দিনে নফল রোজা রাখার বিধান
(১): ইবনুল ফারাস বলেন: মহান আল্লাহর বাণী—"অতঃপর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো কল্যাণকর কাজ করবে, তবে তা তার জন্য কল্যাণকর"—এর মাধ্যমে সন্দেহের দিনে নফল রোজা রাখার বৈধতার পক্ষে দলিল পেশ করা হয়, কারণ "কল্যাণকর কাজ" শব্দটির ব্যাপকতা রয়েছে।
মাসআলাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এটি ব্যাপকতার উৎস থেকে স্পষ্ট, আর তা হলো "কল্যাণকর কাজ" শব্দটি শর্তের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট পদ (নাকিরাহ), ফলে তা সকল প্রকার কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর রোজা একটি কল্যাণকর কাজ, তাই এটি এই ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত হবে।
* ইহরামকারী ব্যক্তির জন্য এমন প্রতিটি রোগ বা কষ্টের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ কাজ করার বৈধতা যা তাকে তা করতে বাধ্য করে
(২): মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতার কারণে: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ হবে কিংবা যার মাথায় কোনো কষ্ট থাকবে, তবে সে যেন রোজা, সদকা কিংবা কোরবানির মাধ্যমে ফিদয়া আদায় করে।"
মাসআলাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: "অসুস্থ" এবং "কষ্ট" শব্দ দুটি শর্তের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট পদ (নাকিরাহ), আর মূলনীতি হলো শর্তের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট পদ ব্যাপকতা প্রদান করে। ফলে এটি এমন প্রতিটি রোগ বা কষ্টকে অন্তর্ভুক্ত করে যা ইহরামকারীকে নিষিদ্ধ কাজ করতে বাধ্য করে।
* ভয়ের নামাজ শত্রুর ভয়, হিংস্র পশুর ভয় এবং এ জাতীয় অন্যান্য ভয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে
(৩): মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "যদি তোমরা ভীত হও, তবে পায়ে হেঁটে কিংবা আরোহী অবস্থায় (নামাজ আদায় করো)।"
মাসআলাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: "যদি তোমরা ভীত হও" কথাটি শর্তের প্রেক্ষাপটে একটি ক্রিয়া, যা ব্যাপকতা প্রদান করে; কারণ ক্রিয়াগুলো অনির্দিষ্ট পদের স্থলাভিষিক্ত হয়, আর মূলনীতি হলো শর্তের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট পদ ব্যাপকতা প্রদান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قاعدة: أل للجنس تفيد العموم.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* حكم ميتة السمك الطافي
(1): استدلّ بقوله تعالى: {إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ} من قال بتحريم ميتة السمك الطافي.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: ظاهر من مأخذ قولهم، وذلك أن قوله {الْمَيْتَةَ} دخلت عليه "أل" التي للجنس، والقاعدة أن "أل" التي للجنس تفيد العموم، فتعم كل ميتة، فتدخل فيها ميتة السمك الطافي من باب عموم اللفظ.
* حكم خنزير البحر
(2): استدلّ من قال بحرمة خنزير البحر بعموم قوله تعالى: {إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك أن "أل" في لفظ {الْخِنْزِيرِ} "أل" جنسية، والقاعدة أن "أل" التي للجنس تفيد العموم، فيعم كل خنزير بريّا كان أو بحريا.
* عدم اختصاص الاعتكاف بالجامع والمساجد الثلاثة
(3): من أدلة من قال بعدم اختصاص الاعتكاف بالجامع والمساجد الثلاثة قوله تعالى: {وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أن لفظ {الْمَسَاجِدِ}. دخلت عليه "أل" الجنسية، والقاعدة أن "أل" التي للجنس تفيد العموم، وعليه فإن الاعتكاف يصح في كل مسجد لعموم الآية.
--------------------------------------------
নীতিমালা: জাতিবাচক 'আল' ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে।এই নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত শাখাগত মাসআলাসমূহ:
* ভেসে থাকা মৃত মাছের বিধান
(1): যারা ভেসে থাকা মৃত মাছ হারাম হওয়ার কথা বলেছেন, তারা মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি কেবল তোমাদের ওপর মৃত জীব ও রক্ত হারাম করেছেন}-এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন।
নীতিমালার অধীনে মাসআলাটির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: তাদের বক্তব্যের উৎস থেকে এটি স্পষ্ট। বিষয়টি হলো, {মৃত জীব} শব্দটিতে জাতিবাচক "আল" যুক্ত হয়েছে। আর নীতিমালা হলো, জাতিবাচক "আল" ব্যাপক অর্থ প্রদান করে। ফলে এটি সকল মৃত জীবকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর শব্দের এই ব্যাপকতার দরুন ভেসে থাকা মৃত মাছও এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
* সমুদ্র-শূকরের বিধান
(2): যারা সমুদ্র-শূকর হারাম হওয়ার কথা বলেছেন, তারা মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা থেকে দলিল পেশ করেছেন: {তিনি কেবল তোমাদের ওপর মৃত জীব, রক্ত ও শূকরের গোশত হারাম করেছেন}।
নীতিমালার অধীনে মাসআলাটির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এর কারণ হলো, {শূকর} শব্দটিতে "আল" হলো জাতিবাচক। আর নীতিমালা হলো, জাতিবাচক "আল" ব্যাপক অর্থ প্রদান করে। ফলে তা স্থলজ কিংবা জলজ—সকল প্রকার শূকরকেই অন্তর্ভুক্ত করে।
* ইতিকাফ কেবল জামে মসজিদ ও তিন মসজিদের সাথে খাস না হওয়া
(3): যারা ইতিকাফ কেবল জামে মসজিদ ও তিন মসজিদের সাথে খাস নয় বলে মত দিয়েছেন, তাদের অন্যতম দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাদের সাথে সহবাস করো না}।
নীতিমালার অধীনে মাসআলাটির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: {মসজিদসমূহ} শব্দটিতে জাতিবাচক "আল" যুক্ত হয়েছে। আর নীতিমালা হলো, জাতিবাচক "আল" ব্যাপক অর্থ প্রদান করে। সেই হিসেবে, আয়াতের ব্যাপকতার কারণে প্রতিটি মসজিদেই ইতিকাফ করা সহিহ হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
* وجوب إتمام الحج والعمرة بعد الشروع فرضا أو نفلا
(1): استُدل على ذلك بقوله تعالى: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أن "أل" الداخلة على الحج والعمرة تفيد العموم، فيعم كل حج فرضا كان أو نفلا، وكذا العمرة.
* إباحة البيوع بأنواعه إلا ما خصه الدليل
(2): لعموم قوله تعالى: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أن لفظ {الْبَيْعَ} في الآية دخلت عليه "أل" الجنسية، والقاعدة أن "ال" التي للجنس تفيد العموم" فيعمّ كل بيع إلا ما دلّ الدليل على تحريمه.
* تحريم الربا بأنواعه إلا ما خصه الدليل
(3): لعموم قوله تعالى: {وَحَرَّمَ الرِّبَا}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أن لفظ {الرِّبَا} في الآية دخلت عليه "أل" الجنسية، فيحرم الرّبا بأنواعه.
•
قاعدة: أنّى تفيد العموم.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* حكم العزل
(4): استُدل بقوله تعالى: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} على إباحة العزل، قال ابن عباس: فإن شئتم فاعتزلوا وإن شئتم فلا تفعلوا.
--------------------------------------------
* ফরয বা নফল হিসেবে শুরু করার পর হজ ও উমরা সম্পন্ন করা ওয়াজিব
(১): মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা এর স্বপক্ষে দলীল পেশ করা হয়েছে: “তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ ও উমরা পূর্ণ করো।”
মাসআলাটি মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: ‘হজ’ ও ‘উমরা’ শব্দের শুরুতে যুক্ত ‘আল’ (আলিফ-লাম) ব্যাপকতা প্রকাশ করে। ফলে এটি ফরয হোক বা নফল, সকল প্রকার হজ ও উমরাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
* দলীল দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন বিষয় ছাড়া সকল প্রকার ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়া
(২): মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপকতার কারণে: “আর আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন।”
মাসআলাটি মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: আয়াতে ‘আল-বায়’ (ক্রয়-বিক্রয়) শব্দটিতে ‘আল’ জিনসিয়্যাহ (শ্রেণিবাচক আলিফ-লাম) যুক্ত হয়েছে। আর মূলনীতি হলো, শ্রেণিবাচক ‘আল’ ব্যাপকতা প্রকাশ করে। সুতরাং হারাম হওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দলীল থাকা বিষয়গুলো ছাড়া তা সকল প্রকার ক্রয়-বিক্রয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে।
* দলীল দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে পৃথক করা হয়েছে এমন বিষয় ছাড়া সকল প্রকার সুদ হারাম হওয়া
(৩): মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপকতার কারণে: “আর তিনি সুদকে হারাম করেছেন।”
মাসআলাটি মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: আয়াতে ‘আর-রিবা’ (সুদ) শব্দটিতে ‘আল’ জিনসিয়্যাহ যুক্ত হয়েছে, ফলে এটি সকল প্রকার সুদকে হারাম সাব্যস্ত করে।
•
মূলনীতি: ‘আন্না’ (যেভাবে/যেখানে) ব্যাপকতা প্রকাশ করে।এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত শাখাগত মাসআলাসমূহের মধ্যে রয়েছে:
* আযল (বীর্যস্খলনের সময় অঙ্গ সরিয়ে নেওয়া)-এর বিধান
(৪): আযল বৈধ হওয়ার স্বপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলীল পেশ করা হয়েছে: “তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র স্বরূপ। সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।” ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন: “তোমরা চাইলে আযল করতে পারো, আর চাইলে নাও করতে পারো।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أن {أَنَّى} في الآية أداة شرط تأتي للزمان وللمكان وهي تفيد العموم، فتشمل الآية وضعه ما بين الفخذين دون الفرج كذلك، لعموم اللفظ.
•
قاعدة: هل يدخل النساء في الخطاب الخاص بالرجال.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* حكم اعتكاف المرأة في غير المسجد
(1): واستدل أبو حنيفة على صحة اعتكاف المرأة في غير المسجد دون الرجل بقوله تعالى: {وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ}؛ بناء على أنها لا تدخل في خطاب الرجال.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر ذلك من مأخذ قوله، {عَاكِفُونَ} وذلك أن الخطاب الوارد في مشروعية الاعتكاف في المساجد موجه للذكور، والنساء لا يدخلن في الخطاب الخاص بالذكور، وعليه فيصح اعتكافها في غير المسجد.
•
قاعدة: حذف المعمول يفيد العموم.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* حكم أكل المضطر ميتة الخنزير والآدمي
(2): استدلّ القائلون بجواز أكل المضطر ميتة الخنزير والآدمي بعموم قوله تعالى: {إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ}.
--------------------------------------------
এই মাসআলাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ হলো: আয়াতের {যেভাবে/যেখানে} শব্দটি একটি শর্তবোধক অব্যয় যা সময় এবং স্থান উভয় অর্থে আসে এবং এটি ব্যাপকতা (উমুম) প্রদান করে। ফলে শব্দের ব্যাপকতার কারণে এই আয়াতটি যৌনাঙ্গ ব্যতীত উরুর মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
•
মূলনীতি: পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট সম্বোধনে কি নারীরা অন্তর্ভুক্ত হবে?এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত শাখাগত মাসআলাসমূহ:
* মসজিদ ব্যতীত অন্য স্থানে নারীর ইতিকাফের বিধান
(১): ইমাম আবু হানিফা পুরুষ ব্যতীত নারীর জন্য মসজিদ ছাড়া অন্য স্থানে ইতিকাফ বৈধ হওয়ার পক্ষে আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {আর তোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় থাকো, তখন তাদের সাথে সংগত হয়ো না}; এর ভিত্তি হলো এই যে, নারীরা পুরুষদের সম্বোধনে অন্তর্ভুক্ত নয়।
এই মাসআলাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এটি তাঁর বক্তব্যের উৎস {ইতিকাফরত} শব্দ থেকে স্পষ্ট হয়। তা হলো, মসজিদে ইতিকাফের বিধান সংক্রান্ত সম্বোধনটি পুরুষদের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, আর নারীরা পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত নয়; ফলে নারীর জন্য মসজিদ ছাড়া অন্য স্থানে ইতিকাফ করা সহিহ।
•
মূলনীতি: মা’মূল উহ্য রাখা ব্যাপকতা (উমুম) প্রকাশ করে।এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত শাখাগত মাসআলাসমূহ:
* নিরুপায় ব্যক্তির শুকর ও মানুষের মৃতদেহ খাওয়ার বিধান
(২): যারা নিরুপায় ব্যক্তির জন্য শুকর ও মানুষের মৃতদেহ খাওয়া জায়েজ হওয়ার মত পোষণ করেন, তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপকতা দ্বারা দলিল পেশ করেন: {তিনি কেবল তোমাদের ওপর হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস এবং যার ওপর আল্লাহর নাম ছাড়া অন্যের নাম নেওয়া হয়েছে। তবে যে ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে পড়ে অথচ সে অবাধ্য নয় এবং সীমালঙ্ঘনকারীও নয়, তার কোনো পাপ হবে না}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: ظاهر من خلال حذف المعمول، والقاعدة أن حذف المعمول يفيد العموم، وبيانه: أنه يقدر "فمن اضطر إلى أكل ما يحتاجه، فلا إثم عليه، وعليه فتدخل المذكورات للعموم.
•
قاعدة: أقل الجمع ثلاثة.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* تحديد أشهر الحج
(1): استدلّ القائلون بأن أشهر الحج هي شوال وذو القعدة وذو الحجة كله بقوله تعالى: {الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ}
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك ظاهر من مأخذ قولهم، حيث إن قوله {أَشْهُرٌ} جمع، والقاعدة أن أقل الجمع ثلاثة.
•
قاعدة: المطلق يجري على إطلاقه مالم يدل دليل على تقييده.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* جواز القضاء متتابعا ومتفرقا
(2): استدلّ بقوله تعالى: {فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} على جواز القضاء متتابعا ومتفرقا.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر ذلك من مأخذ الحكم: حيث أطلق الأيام، فيصدق على المتتابعة والمتفرقة، والقاعدة أن المطلق يجري على إطلاقه مالم يدل دليل على تقييده.
--------------------------------------------
নিয়মের অধীনে মাসআলাটির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এটি 'মা'মূল' (সংশ্লিষ্ট কর্মপদ) উহ্য রাখার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। আর নীতি হলো, মা'মূল উহ্য রাখা ব্যাপকতা (উমুম) প্রকাশ করে। এর ব্যাখ্যা হলো: এটি এভাবে প্রাক্কলিত হবে— "যিনি তাঁর প্রয়োজনীয় খাবার খেতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁর কোনো পাপ নেই।" এর ভিত্তিতে উল্লিখিত বিষয়গুলো ব্যাপকতার কারণে অন্তর্ভুক্ত হবে।
•
নীতি: বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো তিন।এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত শাখা-মাসআলাগুলোর মধ্য থেকে:
* হজের মাসগুলো নির্ধারণ
(১): যারা মনে করেন হজের মাসগুলো হলো শাওয়াল, যুল-ক্বাদাহ এবং পুরো যুল-হিজ্জাহ মাস, তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {হজ হলো সুপরিচিত কয়েকটি মাস}
নিয়মের অধীনে মাসআলাটির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এটি তাদের মতামতের উৎস থেকে স্পষ্ট, যেহেতু আল্লাহর বাণী {মাসগুলো} শব্দটি বহুবচন, আর নীতি হলো বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো তিন।
•
নীতি: মুতলাক্ব বা শর্তহীন শব্দ তার শর্তহীন অর্থেই প্রযোজ্য হবে যতক্ষণ না সেটি সীমাবদ্ধ করার কোনো দলিল পাওয়া যায়।এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত শাখা-মাসআলাগুলোর মধ্য থেকে:
* কাযা রোজা একাদিক্রমে বা বিরতি দিয়ে রাখার বৈধতা
(২): মহান আল্লাহর বাণী: {অন্য দিনগুলো থেকে সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে}-এর মাধ্যমে কাযা রোজা টানা বা পৃথকভাবে রাখার বৈধতার ওপর দলিল পেশ করা হয়েছে।
নিয়মের অধীনে মাসআলাটির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এটি বিধানের উৎস থেকে প্রতীয়মান হয়; যেহেতু এখানে 'দিনসমূহ' শব্দটিকে শর্তহীনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তাই এটি একাদিক্রমে বা পৃথক—উভয় প্রকার দিনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর নীতি হলো, মুতলাক্ব বা শর্তহীন শব্দ তার শর্তহীন অর্থেই বহাল থাকে যতক্ষণ না সেটি সীমাবদ্ধ করার কোনো দলিল পাওয়া যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
* إجزاء صوم يوم قصير عن يوم طويل
(1): استدلّ بقوله تعالى: {فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} على أنّه يجزئ صوم يوم قصير مكان يوم طويل.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك ظاهر من تنكير {أَيَّامٍ} في الآية، فهو مطلق، والقاعدة أن المطلق يجري على إطلاقه مالم يدلّ دليل على تقييده، ولا دليل هنا يقيّد إطلاقها، فيدخل فيه اليوم الطويل والقصير، فيجرى على إطلاقه دون مراعاة زمنه.
•
قاعدة: يحمل المطلق على المقيد.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* مكان ذبح دم الإحصار
(2): استدل الحنفية على وجوب ذبح دم الإحصار في الحرم لا حيث أحصر بقوله تعالى: {حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ} مع قوله: {ثُمَّ مَحِلُّهَا إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيقِ}، وقوله: {هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ}
يظهر وجه ذلك من مأخذ قولهم حيث ورد الحكم مطلقا عن أي قيد في الآية الأولى، وورد في الآيتين الأخيرتين مقيدا بالحرم، والقاعدة أن المطلق يحمل على المقيد، فيحمل المطلق على المقيد.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: حمل مطلق قوله: {حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ} على المقيدين المذكورين.
وأجيب: أن المقيّد محمول في حق غير المحصر، أمّا المحصر فقد دلّ قوله تعالى: {وَالْهَدْيَ مَعْكُوفًا أَنْ يَبْلُغَ مَحِلَّهُ} وبيَّن النبي صلى الله عليه وسلم محله، فذبح في الحلِّ، مما
--------------------------------------------
* দীর্ঘ দিনের পরিবর্তে ছোট দিনে রোজা রাখার পর্যাপ্ততা
(১): মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর অন্য দিনগুলো থেকে সমসংখ্যক গণনা পূরণ করতে হবে} থেকে দলিল পেশ করা হয়েছে যে, দীর্ঘ দিনের পরিবর্তে ছোট দিনে রোজা রাখা যথেষ্ট হবে।
মাসআলাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: বিষয়টি আয়াতে {দিনসমূহ} শব্দটির অনির্দিষ্ট ব্যবহার থেকে স্পষ্ট, যা শব্দটিকে 'মুতলাক' বা নিঃশর্ত করেছে। আর মূলনীতি হলো, মুতলাক তার নিঃশর্ত অবস্থার ওপরই বহাল থাকবে যতক্ষণ না তা শর্তযুক্ত (মুকাইয়্যাদ) করার কোনো দলিল পাওয়া যায়। এখানে একে শর্তযুক্ত করার কোনো দলিল নেই, ফলে এর মধ্যে দীর্ঘ ও ছোট উভয় দিনই অন্তর্ভুক্ত হবে। সুতরাং সময়ের দৈর্ঘ্যের বিবেচনা না করে একে তার নিঃশর্ত অর্থেই গ্রহণ করা হবে।
•
মূলনীতি: মুতলাককে (নিঃশর্ত) মুকাইয়্যাদ (শর্তযুক্ত)-এর ওপর প্রয়োগ করা হবে।এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত কিছু শাখাগত মাসআলা:
* ইহসারের (হজ বা উমরায় বাধাগ্রস্ত হওয়া) দমের পশু জবাই করার স্থান
(২): হানাফীগণ যেখানে বাধাগ্রস্ত হয়েছে সেখানে নয়, বরং হারামের সীমানায় ইহসারের দমের পশু জবাই করা ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী: {যতক্ষণ না হাদি (কুরবানির পশু) তার গন্তব্যে পৌঁছায়}-এর সাথে তাঁর অন্য বাণী: {অতঃপর তার গন্তব্য হলো প্রাচীন গৃহ পর্যন্ত} এবং {কাবা পর্যন্ত পৌঁছানো হাদিস্বরূপ} দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
তাদের গ্রহণের উৎসের দিক থেকে এর কারণটি স্পষ্ট হয়, যেখানে প্রথম আয়াতে বিধানটি কোনো শর্ত ছাড়াই মুতলাক হিসেবে এসেছে, আর পরবর্তী আয়াত দুটিতে তা হারামের সীমানার শর্তের সাথে মুকাইয়্যাদ হয়ে এসেছে। আর মূলনীতি হলো, মুতলাককে মুকাইয়্যাদ-এর ওপর প্রয়োগ করা হয়, তাই এখানেও মুতলাককে মুকাইয়্যাদ-এর ওপর প্রয়োগ করা হবে।
মাসআলাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: {যতক্ষণ না হাদি তার গন্তব্যে পৌঁছায়} এই মুতলাক কথাটিকে উল্লিখিত দুটি মুকাইয়্যাদ বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা।
এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: মুকাইয়্যাদ বা শর্তযুক্ত বিধানটি ইহসারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর যে ব্যক্তি ইহসারপ্রাপ্ত, তার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং হাদি তার গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত ছিল} দলিল হিসেবে কাজ করে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গন্তব্যস্থল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ফলে তিনি হারামের সীমানার বাইরে (হিল এলাকায়) জবাই করেছেন, যা থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
يدل على أنّه لا يشترط كونه في الحرم.
* هل مجرد الردة توجب إحباط العمل بالكلية
(1): ذهب مالك وغيره إلى أن مجرّد الرّدة محبطة للعمل، فلو كان حجّ ثم ارتدّ وعاد إلى الإسلام، وجب عليه إعادة الحج، ومما استدلوا به: قوله تعالى: {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ} وقوله: {وَمَنْ يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر وجه ذلك من خلال ما أجيب به عن استدلالهم بالآيتين، أنهما مطلقان، وقد ورد ما يقيدهما في سورة البقرة وهو قوله تعالى: {وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ}، والقاعدة أن المطلق يحمل على المقيد، وعليه فلا يبطل عمل المرتد بمجرد الردة، بل لابدّ من شرط آخر، وهو اتصالها بالموت.
•
قاعدة: يجوز تخصيص العموم بالمفهوم.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* هل يقتل حر بعبد
(2): استدلّ القائلون بأن الحر لا يقتل بعبد بقوله تعالى: {الْحُرُّ بِالْحُرِّ}.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: وجه ذلك ظاهر حيث يدل مفهومها على أن الحر لا يقتل بعبد، وهو خاص في مقابل العموم الوارد في قوله تعالى: {أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ}. فيخصص عموم منطوق هذه الآية بمفهوم الآية الأولى عند القائلين بأن الحر لا يقتل بعبد.
--------------------------------------------
এটি নির্দেশ করে যে, সেটি হারাম শরীফের ভেতরে হওয়া শর্ত নয়।
* কেবল মুরতাদ হওয়াই কি আমল পুরোপুরি বিনষ্ট করে দেয়
(১): ইমাম মালিক ও অন্যান্যরা এই মত পোষণ করেছেন যে, কেবল মুরতাদ হওয়াই আমল বিনষ্টকারী। সুতরাং যদি কেউ হজ করে থাকে, এরপর মুরতাদ হয় এবং পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে, তবে তার ওপর পুনরায় হজ করা ওয়াজিব হবে। তারা যা দিয়ে দলিল পেশ করেছেন তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "যদি তুমি শিরক করো তবে অবশ্যই তোমার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে" এবং তাঁর বাণী: "আর যে ঈমানকে অস্বীকার করে, তার আমল অবশ্যই বিনষ্ট হয়ে যায়।"
মাসয়ালাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: তাদের পেশকৃত আয়তদ্বয়ের দলিলের জবাবে যা বলা হয়েছে তার মাধ্যমে এর কারণ স্পষ্ট হয়; আর তা হলো আয়াত দুটি ‘মুতলাক’ (শর্তহীন)। আর সূরা আল-বাকারায় একে ‘মুকাইয়্যাদ’ (শর্তযুক্ত) করে এমন আয়াত বর্ণিত হয়েছে, যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজের দ্বীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে"। মূলনীতি হলো, মুতলাককে মুকাইয়্যাদ-এর ওপর প্রয়োগ করা হবে। সে অনুযায়ী, কেবল মুরতাদ হওয়ার কারণেই মুরতাদের আমল বাতিল হবে না, বরং এর জন্য আরেকটি শর্ত প্রয়োজন, আর তা হলো কুফরি অবস্থায় মৃত্যু হওয়া।
•
মূলনীতি: মাফহুম (পরোক্ষ অর্থ) দ্বারা উমুম (সাধারণ বিধান)-কে তাখসিস (সুনির্দিষ্ট) করা জায়েজ।এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত শাখা মাসয়ালাসমূহ থেকে:
* দাসের পরিবর্তে কি স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে
(২): যারা বলেন যে দাসের পরিবর্তে স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা যাবে না, তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: "স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি"।।
মাসয়ালাটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: এর কারণটি সুস্পষ্ট, যেহেতু আয়াতের ‘মাফহুম’ (পরোক্ষ মর্মার্থ) নির্দেশ করে যে দাসের পরিবর্তে স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা যাবে না। আর এটি মহান আল্লাহর বাণী: "প্রাণের বদলে প্রাণ"-এ বর্ণিত ‘উমুম’ (সাধারণ বিধান)-এর বিপরীতে ‘খাস’ (বিশেষ বিধান)। সুতরাং যারা মনে করেন যে দাসের বদলে স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা যাবে না, তাদের নিকট এই (দ্বিতীয়) আয়াতের ‘মানতুক’ (প্রত্যক্ষ উচ্চারণ)-এর সাধারণ বিধানকে প্রথম আয়াতের ‘মাফহুম’ (পরোক্ষ মর্মার্থ) দ্বারা সুনির্দিষ্ট (তাখসিস) করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
قاعدة: دلالة الإشارة حجة:* صحة صوم الجنب
(1): قال السيوطي: استدل بقوله تعالى: {فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ} إلى قوله {مِنَ الْفَجْرِ} على صحة صوم الجنب؛ لأنه يلزم من إباحة الجماع إلى تبين الفجر إباحته في آخر أجزاء الليل، ويلزم من ذلك بطريق الإشارة طلوع الفجر وهو جنب.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر ذلك من وجه استدلالهم بالآية، وهو استنباط عن طريق دلالة الإشارة؛ إذ الآية لم تكن مسوقة لبيان حكم صوم الجنب، والقاعدة أن دلالة الإشارة حجة.
* إجزاء النّية مع طلوع الفجر
(2): استدلّ اللخمي بقوله تعالى: {فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ} إلى قوله {مِنَ الْفَجْرِ} على إجزاء النية مع طلوع الفجر؛ لأنه إذا كان الأكل مباحا إلى الفجر لم تجب النّية إلا في الموضع الذي يجب فيه الإمساك.
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر ذلك من وجه استدلاله بالآية، وهو استنباط عن طريق دلالة الإشارة؛ إذ الخطاب ليس مسوقا لبيان حكم النية، بل مسوقاً لبيان وقت الإفطار.
•
قاعدة: دلالة الإيماء حجة.من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* مأخذ من قال بوجوب الصوم على المسافر والمريض والحائض
(3):
استدلّ من قال بوجوب الصوم على المسافر والمريض والحائض بقوله تعالى: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ}.
--------------------------------------------
নীতি: ইশারার দলীল (ইঙ্গিতবাহী প্রমাণ) নির্ভরযোগ্য দলিল:* জুনুবি (জানাবাতগ্রস্ত) ব্যক্তির রোজা সহীহ হওয়া: সুয়ূতী (রহ.) বলেন: মহান আল্লাহর বাণী— "অতএব এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো" থেকে "ফজর হওয়া পর্যন্ত" অংশটি দ্বারা জুনুবি ব্যক্তির রোজা সহীহ হওয়ার পক্ষে দলীল গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ ফজর স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত সহবাস বৈধ হওয়ার আবশ্যিক অর্থ হলো রাতের শেষ অংশ পর্যন্ত তা বৈধ থাকা; আর এর দ্বারা ইশারার পদ্ধতিতে (ইঙ্গিতরূপে) এটি প্রমাণিত হয় যে, ফজর উদয়ের সময় ওই ব্যক্তি জুনুবি অবস্থায় থাকবে।
মাসআলাটি এই নীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: আয়াতটি থেকে তাদের দলীল গ্রহণের পদ্ধতি থেকেই এটি স্পষ্ট হয়, আর তা হলো ইশারার দলীলের (দালালাতুল ইশারা) মাধ্যমে মাসআলা উদ্ভাবন। কেননা আয়াতটি জুনুবি ব্যক্তির রোজার হুকুম বর্ণনার উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ হয়নি। আর নীতি হলো, ইশারার দলীল নির্ভরযোগ্য প্রমাণ।
* ফজর উদয়ের সাথে সাথে নিয়ত করা যথেষ্ট হওয়া: আল-লাখমী (রহ.) মহান আল্লাহর বাণী— "অতএব এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো" থেকে "ফজর হওয়া পর্যন্ত" অংশটি দ্বারা ফজর উদয়ের সাথে সাথে নিয়ত করলে তা যথেষ্ট হওয়ার পক্ষে দলীল প্রদান করেছেন। কারণ ফজর পর্যন্ত যখন আহার করা বৈধ, তখন যে সময় থেকে পানাহার বর্জন (ইমসাক) ওয়াজিব হয়, কেবল সেই মুহূর্তেই নিয়ত করা ওয়াজিব হবে।
মাসআলাটি এই নীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: আয়াতটি থেকে তাঁর দলীল গ্রহণের পদ্ধতি থেকেই এটি স্পষ্ট হয়, যা ইশারার দলীলের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে। কেননা এই সম্বোধনটি নিয়তের হুকুম বর্ণনার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ইফতার শেষ করার (বা রোজা শুরুর) সময় বর্ণনার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
•
নীতি: ইশারার (ইঙ্গিতধর্মী বা ইমা) দলীল নির্ভরযোগ্য দলিল।এই নীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত কিছু শাখাগত মাসআলা:
* মুসাফির, অসুস্থ এবং ঋতুবতী নারীর ওপর রোজা ওয়াজিব হওয়ার প্রবক্তাদের দলীল গ্রহণের উৎস:
যারা মুসাফির, অসুস্থ এবং ঋতুবতী নারীর ওপর রোজা ওয়াজিব হওয়ার কথা বলেন, তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলীল পেশ করেন: "কাজেই তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাসটি পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাত উসুলিয়্যাহ তাতবিকিয়্যাহ আলা আয়াতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: أن الله علّق الصوم على شهود الشهر، فالشهود علة الوجوب؛ لاقتران الحكم بالوصف {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ}، وهؤلاء قد شهدوه، فيجب عليهم الصوم.
•
قاعدة: مفهوم المخالفة حجة.المراد بمفهوم المخالفة: «دلالة اللفظ على ثبوت نقيض حكم المنطوق للمسكوت عنه»، وهو أنواع.
من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* الرجعة بعد انقضاء العدة تحتاج إلى رضا الزوجة وولي
(1):
دليله قوله تعالى: {وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَلِكَ}، أي في مدة التربص (العدة).
وجه اندراج المسألة تحت القاعدة: يظهر وجه الاندراج من مأخذ الحكم، وذلك أن منطوق الآية دلّ على أن الزوج يستقل بالرجعة في العدة من غير ولي ولا رضا الزوجة، وبمفهوم قوله: {فِي ذَلِكَ} على أن ما بعد العدة بخلاف ذلك، بل لا بد من رضاها وولي، وعقد جديد، والقاعدة أن مفهوم المخالفة حجة.
•
قاعدة: مفهوم الصفة حجة.المراد بمفهوم الصفة: أن يكون للذات صفتان، فيعلّق الحكم بإحدى الصفتين، ممّا يدلّ على نفي الحكم عنه عند انتفاء تلك الصفة.
من الفروع المندرجة تحت القاعدة:
* حكم ولاية الفاسق والذمي
(2): استدلّ بقوله تعالى: {فَإِنْ كَانَ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ سَفِيهًا أَوْ ضَعِيفًا أَوْ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يُمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهُ بِالْعَدْلِ}.، على أنه لا يجوز أن
--------------------------------------------
মাসআলাটি মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: আল্লাহ তাআলা রোযা রাখাকে মাস প্রত্যক্ষ করার ওপর নির্ভরশীল করেছেন, সুতরাং প্রত্যক্ষ করা হলো ওয়াজিব হওয়ার কারণ (ইল্লাত); যেহেতু বিধানটি গুণের সাথে যুক্ত হয়েছে: "সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাস প্রত্যক্ষ করবে, সে যেন তাতে রোযা রাখে।" আর এই ব্যক্তিরা তা প্রত্যক্ষ করেছে, তাই তাদের ওপর রোযা রাখা আবশ্যক।
•
মূলনীতি: মাফহুম আল-মুখালাফাহ (বিপরীত অর্থবোধক ইঙ্গিত) একটি দলিল।মাফহুম আল-মুখালাফাহ বলতে উদ্দেশ্য হলো: "প্রকাশ্য ভাষ্যের (মানতুক) যে বিধান, তার বিপরীত বিধান অপ্রকাশ্য বিষয়ের (মাসকুত আনহু) জন্য সাব্যস্ত হওয়ার ওপর শব্দের ইঙ্গিত", এবং এটি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত শাখাগত মাসআলাসমূহ:
* ইদ্দত শেষ হওয়ার পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য স্ত্রীর সম্মতি এবং অভিভাবকের প্রয়োজন
(১):
এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তাদের স্বামীরা সেই সময়ের মধ্যে তাদের ফিরিয়ে নিতে অধিক হকদার।" অর্থাৎ প্রতীক্ষার সময়সীমার (ইদ্দত) মধ্যে।
মাসআলাটি মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ: বিধানটি গ্রহণের উৎস থেকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি প্রকাশ পায়। আর তা হলো, আয়াতের প্রকাশ্য ভাষ্য (মানতুক) একথার ওপর প্রমাণ দেয় যে, স্বামী ইদ্দত চলাকালীন সময়ে অভিভাবক এবং স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একক কর্তৃত্ব রাখে। আর "সেই সময়ের মধ্যে" বাণীর বিপরীত ইঙ্গিত (মাফহুম) দ্বারা বোঝা যায় যে, ইদ্দত পরবর্তী সময়ের বিধান এর বিপরীত হবে। বরং তখন অবশ্যই স্ত্রীর সম্মতি, অভিভাবক এবং নতুন নিকাহর প্রয়োজন হবে। আর মূলনীতি হলো মাফহুম আল-মুখালাফাহ একটি দলিল।
•
মূলনীতি: মাফহুম আস-সিফাত (বিশেষণের ইঙ্গিত) একটি দলিল।মাফহুম আস-সিফাত বলতে উদ্দেশ্য হলো: কোনো সত্তার দুটি বৈশিষ্ট্য থাকা এবং বিধানটিকে কোনো একটি বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পৃক্ত করা, যা ওই বৈশিষ্ট্য না থাকলে বিধানটি না থাকার ওপর প্রমাণ দেয়।
এই মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত শাখাগত মাসআলাসমূহ:
* ফাসেক এবং জিম্মির অভিভাবকত্বের বিধান
(২): মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে: "অতঃপর যার ওপর পাওনা রয়েছে সে যদি নির্বোধ বা দুর্বল হয় অথবা সে নিজে বলতে না পারে, তবে যেন তার অভিভাবক ন্যায়বিচারের সাথে তা লিখিয়ে দেয়।" এর দ্বারা দলিল দেওয়া হয়েছে যে, এটি জায়েজ নয় যে
--------------------------------------------