(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: -)
مجمع البحرين في زوائد المعجمين الأوسط والصغير للطبراني   (نور الدين الهيثمي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: مجمع البحرين في زوائد المعجمين (المعجم الأوسط والمعجم الصغير للطبراني)

المؤلف: نور الدين الهيثمي (735 - 807 هـ)

تحقيق ودراسة: عبد القدوس بن محمد نذير

الناشر: مكتبة الرشد - الرياض

الطبعة: الأولي، 1413 هـ - 1992 م

عدد الأجزاء: 9 (8 والفهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الآخرة 1445

তাবারানির আল-মু'জামুল আওসাত এবং আল-মু'জামুস সগির-এর অতিরিক্ত হাদিসসমূহের সংকলন: মাজমাউল বাহরাইন   (নূরুদ্দিন আল-হাইসামি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: মাজমাউল বাহরাইন ফি যাওয়ায়িদিল মু'জামাইন (তাবারানির আল-মু'জামুল আওসাত এবং আল-মু'জামুস সগির)

লেখক: নূরুদ্দিন আল-হাইসামি (৭৩৫ - ৮০৭ হিজরি)

তাহকিক ও গবেষণা: আব্দুল কুদ্দুস বিন মুহাম্মাদ নাযির

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৯ (৮ খণ্ড এবং সূচিপত্র)

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله، فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا اله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}‌‌(1).

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}‌‌(2).

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا}‌‌(3).

أما بعد! فيسعدني أن أقدم للقراء والباحثين كتابا من أهم كتب الحديث، ومرجعًا مهمًا من مراجع الحديث، ألا وهو كتاب "مجمع البحرين في زوائد المعجمين" للحافظ نور الدين الهيثمي رحمه الله ولقد أعجبت به كثيرًا، لما طالعته أول مرة- وأنا أبحث في رسالة الماجيستير، وأجمع مواد الرسالة من الكتب المطبوعة والمخطوطة، فرأيت فيه أحاديث نفيسة، وأسانيد غريبة قلما توجد في كتب أخرى، وكيف لا؟ وهو كتاب يجمع بين دفتيه زوائد المعجم الصغير، والمعجم الأوسط للإمام الطبراني على الكتب الستة، وقال الإِمام الطبراني في كتابه الأوسط: هذا الكتاب روحي.

--------------------------------------------

‌‌(1) سورة آل عمران: آية 102.

‌‌(2) سورة النساء: آية 1.

‌‌(3) سورة الأحزاب: آية 70.

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ প্রদর্শন করতে পারে না।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ব্যতীত মৃত্যুবরণ করো না।}‌‌(১)।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।}‌‌(২)।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।}‌‌(৩)।

অতঃপর! পাঠক ও গবেষকদের সামনে হাদিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কিতাব এবং হাদিসের কিতাবসমূহের মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস উপস্থাপন করতে পেরে আমি আনন্দিত। আর সেটি হলো হাফেজ নূরুদ্দীন আল-হাইতামী (রাহিমাহুল্লাহ) সংকলিত "মাজমাউল বাহরাইন ফি যাওয়াইদিল মুজামাইন" কিতাবটি। আমি যখন প্রথমবার এটি অধ্যয়ন করি—যখন আমি আমার মাস্টার্স থিসিসের জন্য কাজ করছিলাম এবং মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি উভয় প্রকার কিতাব থেকে থিসিসের উপাদান সংগ্রহ করছিলাম—তখন এটি আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছিল। আমি এতে অত্যন্ত মূল্যবান হাদিস এবং বিরল সনদসমূহ পেয়েছি যা অন্য কিতাবগুলোতে খুব কমই পাওয়া যায়। আর কেনই বা হবে না? কারণ এটি এমন এক কিতাব যা ইমাম তাবারানির "আল-মুজামুস সাগির" এবং "আল-মুজামুল আওসাত" এর সেই হাদিসগুলোকে নিজের মধ্যে ধারণ করেছে যা কুতুবে সিত্তাহর অতিরিক্ত। আর ইমাম তাবারানি তাঁর "আওসাত" কিতাব সম্পর্কে বলেছেন: "এই কিতাবটি আমার প্রাণ।"

--------------------------------------------

‌‌(১) সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১০২।

‌‌(২) সূরা নিসা: আয়াত ১।

‌‌(৩) সূরা আহযাব: আয়াত ৭০।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৬)
فحينذاك عاهدت نفسي، وقطعت عليها بإخراج هذا الكتاب من حيز لمخطوطات إلى عالم المطبوعات كي تعم الفائدة للجميع:

وإني لأشكر الله كثيرًا على ما وفقني وهداني لخدمة هذا السفر الجليل، وتقديمه للقراء الكرام محققًا ومدروسًا بعض جوانبه المهمة، وأرجو الله أن يجعله خالصًا لوجهه الكريم، وأن يعم بنفعه الجميع.

وكما أتوجه بالشكر الجزيل لشيخي الجليل العلامة صالح بن محمَّد اللحيدان رئيس الهيئة الدائمة لمجلس القضاء الأعلى الذي قرأ جزءًا من هذا الكتاب، ووجهني إلى بعض الملاحظات القيمة، وأفادني بمعلوماته الواسعة وآرائه السديدة، فجزاه الله خيرًا وبارك في حياته، وعلمه.

وكما أود أن لا يفوتني أن أشكر لذي الفضل فضله الذي لبّي رغبتي في نشر هذا الكتاب، وسارع إلى تذليل الصعاب في سبيل طباعته، صاحب مكتبة الرشد الشيخ أحمد بن فهد الحمدان، ومعاونه وساعده الأيمن الشيخ فيصل بن محمَّد مريشد، فبارك الله فيها ووفقهما لمزيد نشر العلم النافع وتراث سلفنا الصالح.

وصلى الله على نبينا محمَّد وعلى آله وصحبه وسلم.
সেই সময়ে আমি নিজের কাছে অঙ্গীকার করি এবং এ ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করি যে, এই পাণ্ডুলিপিটিকে ছাপানো বইয়ের জগতে নিয়ে আসব, যাতে এর উপকারিতা সকলের কাছে পৌঁছে যায়:

আর আমি মহান আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি আমাকে এই মহান গ্রন্থটির খেদমত করার এবং এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তাহকীক ও গবেষণাসহ সম্মানিত পাঠকদের সামনে পেশ করার তাওফীক ও হিদায়াত দান করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করেন।

তেমনিভাবে আমি আমার সম্মানিত উস্তাদ আল্লামা সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-লুহায়দান—যিনি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের স্থায়ী কমিটির সভাপতি—তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনি এই কিতাবের একটি অংশ পাঠ করেছেন এবং আমাকে কিছু মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আমাকে তাঁর অগাধ জ্ঞান ও সঠিক মতামতের মাধ্যমে উপকৃত করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর জীবনে ও ইলমে বরকত দান করুন।

সেই সাথে আমি আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সেই গুণী ব্যক্তির প্রতি, যিনি এই কিতাবটি প্রকাশের ব্যাপারে আমার আকাঙ্ক্ষায় সাড়া দিয়েছেন এবং এর মুদ্রণ ও প্রকাশের পথে সকল বাধা দূর করতে সচেষ্ট হয়েছেন। তিনি হলেন মাকতাবাতুর রুশদ-এর মালিক শায়খ আহমাদ বিন ফাহাদ আল-হামদান এবং তাঁর সহযোগী ও দক্ষিণহস্ত স্বরূপ শায়খ ফয়সাল বিন মুহাম্মাদ মুরাইশিদ। আল্লাহ তাঁদের উভয়কে বরকত দান করুন এবং উপকারী ইলম ও আমাদের সালাফ আস-সালিহীনের ঐতিহ্য প্রচারের কাজে আরও তাওফীক দান করুন।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة الإِمام الطبراني

‌‌نَسَبه:

هو أبو القاسم سليمان بن أحمد بن أيوب بن مطير اللخمي الطبراني الشامي‌‌(1).

 

‌‌نِسبته:

ينسب الإِمام الطبراني من جهة القبيلة "باللخمي"- بفتح اللام وسكون الخاء المعجمة، وبعدها ميم -وهذه النسبة إلى لخم- واسمه مالك بن عدي بن حارث بن مرة بن أدد بن زيد بن يشجب بن عريب بن زيد بن كهلان بن سبأ بن يشجب بن يعرب بن قحطان‌‌(2).

وهو أخو جذام -واسمه عامر، ولخم وجذام قبيلتان كبيرتان من القحطانية في اليمن.

وذكر الزبيدي وجه تسميتهما لخمًا وجذامًا -نقلا عن ابن الكلبي وغيره- فقال: لخم اسمه مالك، وجذام اسمه عامر- وهما أخوان، فجذم مالك إصبع عامر، فسمي جذامًا، ولخم عامر مالكًا، فسمي لخمًا، واللخم: اللطم‌‌(3).

وأما من جهة المولد والوطن، فينسب بالطبراني -بفتح الطاء المهملة والباء الموحدة والراء، وبعد الألف نون‌‌(1).-نسبه إلى طبرية- وهي مدينة بالشام مطلة على البحيرة

--------------------------------------------

‌‌(1) وفيات الأعيان (2/ 141).

‌‌(2) معجم قبائل العرب لعمر رضا كحالة (3/ 1011).

‌‌(3) تاج العروس (9/ 58) مادة لخم.

ইমাম তাবারানীর জীবনী

‌তাঁর বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আবুল কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমাদ ইবনে আইয়ুব ইবনে মুতাইর আল-লাখমী আত-তাবারানী আশ-শামী‌‌(১)।

 

‌তাঁর নিসবত (সম্পর্কিত নাম):

ইমাম তাবারানীকে গোত্রীয় দিক থেকে "আল-লাখমী" বলা হয়—লাম বর্ণে ফাতহাহ (যবর) এবং বিন্দাযুক্ত খা বর্ণে সুকুন এবং এরপর মীম বর্ণ সহযোগে—আর এই নিসবতটি হলো লাখম-এর দিকে—এবং তাঁর (লাখমের) নাম হলো মালিক ইবনে আদি ইবনে হারিস ইবনে মুররাহ ইবনে আদাদ ইবনে যায়দ ইবনে ইয়াশজুব ইবনে উরাইব ইবনে যায়দ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা ইবনে ইয়াশজুব ইবনে ইয়ারুব ইবনে কাহতান‌‌(২)।

তিনি (লাখম) জুজামের ভাই—এবং তার (জুজামের) নাম হলো আমির। লাখম ও জুজাম হলো ইয়েমেনের কাহতানী বংশোদ্ভূত দুটি বৃহৎ গোত্র।

আয-যাবীদী তাদের লাখম ও জুজাম নামকরণের কারণ উল্লেখ করেছেন—ইবনুল কালবী এবং অন্যদের থেকে উদ্ধৃত করে—তিনি বলেছেন: লাখমের নাম হলো মালিক এবং জুজামের নাম হলো আমির—তারা দুজনেই ভাই। মালিক আমিরের আঙুল কেটে ফেলেছিলেন, তাই তাঁর নাম হয় জুজাম। আর আমির মালিককে চড় মেরেছিলেন, তাই তাঁর নাম হয় লাখম; আর 'আল-লাখম' অর্থ হলো: চড় মারা‌‌(৩)।

আর জন্মস্থান ও স্বদেশের দিক থেকে তাঁকে 'আত-তাবারানী' বলা হয়—বিন্দুহীন তা, এক বিন্দুযুক্ত বা এবং রা বর্ণে ফাতহাহ (যবর) সহকারে এবং আলিফের পর নুন বর্ণ সহযোগে‌‌(১)।—এটি তাবারিয়ার সাথে সম্পর্কিত নিসবত—যা শামের একটি শহর এবং এটি একটি হ্রদের পাড়ে অবস্থিত।

--------------------------------------------

‌‌(১) ওফায়াতুল আইয়ান (২/১৪১)।

‌‌(২) উমর রিদা কাহহালার মু'জামু কাবাইলিল আরব (৩/১০১১)।

‌‌(৩) তাজুল আরূস (৯/৫৮), লাখম অধ্যায়।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৮)
المعروفة ببحيرة طبرية- وهي في طرف جبل، وجبل الطور مطل عليها، بينها وبين دمشق ثلاثة أيام، وكذلك بينها وبين بيت المقدس وبينها وبين عكا يومان‌‌(1).

وقد اشتهر به أكثر من غيره، حتى يكاد لا يعرف إلا بالطبراني.

 

‌‌مولده:

ولد الإِمام الطبراني في صفر سنة ستين ومئتين (260) بعكا‌‌(2) - وهي بلدة على ساحل بحر الشام، ومن أحسن بلاد الساحل، وكانت أمه من أهلها‌‌(3).

 

‌‌طلبه العلم:

بدأ الإِمام الطبراني في طلب الحديث من صغره، وكتب وسمع الأحاديث من مشايخ بلده- وعمره ثلاث عشرة سنة، وارتحل في طلب الحديث وطاف البلاد، ولما يبلغ سن البلوغ.

قال الذهبي في العبر‌‌(4): وأول سماعه في سنة ثلاث وسبعين ومئتين بطبرية، ورحل أولًا الى القدس سنة أربع وسبعين، ثم رحل إلى قيسارية سنة خمس وسبعين، فسمع من أصحاب محمَّد بن يوسف الفريابي، ثم رحل إلى حمص، وجبلة ومدائن الشام، وحج ودخل اليمن، ورد إلى مصر، ثم رحل إلى العراق وأصبهان وفارس، روى عن أبي زرعة الدمشقي، وإسحاق الدبري، وطبقتهما.

وفي سير أعلام النبلاء‌‌(5): فأول ارتحاله كان في سنة خمس وسبعين، فبقي في الارتحال، ولقي الرجال ستة عشر عامًا، وكتب عن من أقبل، وأدبر، وبرع في هذا الشأن.

وقال ابن خلكان: "رحل في طلب الحديث من الشام إلى العراق، والحجاز، واليمن، ومصر، وبلاد الجزيرة الفراتية، وأقام في الرحلة ثلاثًا وثلاثين سنة، وسمع الكثير"‌‌(6).

--------------------------------------------

‌‌(1) معجم البلدان (4/ 17).

‌‌(2) طبقات المفسرين للداودي (1/ 198).

‌‌(3) الأنساب للسمعاني (9/ 343)، ومعجم البلدان (4/ 143).

‌‌(4) (2/ 315).

‌‌(5) (16/ 119).

‌‌(6) وفيات الاعيان (2/ 141).

যা তাবারিয়া হ্রদ নামে পরিচিত- এটি একটি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, এবং তূর পাহাড় এর উপর দৃশ্যমান। এর এবং দামেস্কের মধ্যবর্তী দূরত্ব তিন দিনের পথ, একইভাবে এর এবং বাইতুল মুকাদ্দাস এবং এর এবং আক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব দুই দিনের পথ‌‌(১)।

তিনি অন্য সবকিছুর চেয়ে এই নামেই অধিক পরিচিতি লাভ করেন, এমনকি তাকে তাবারানি ছাড়া আর কোনো নামে চেনাই মুশকিল হয়ে পড়ে।

 

‌‌তাঁর জন্ম:

ইমাম তাবারানি ২৬০ হিজরির সফর মাসে আক্কাতে জন্মগ্রহণ করেন‌‌(২) - যা সিরীয় সমুদ্র উপকূলের একটি শহর এবং উপকূলীয় শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ। তাঁর মা ছিলেন সেই শহরেরই অধিবাসী‌‌(৩)।

 

‌‌তাঁর ইলম অন্বেষণ:

ইমাম তাবারানি শৈশব থেকেই হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন এবং তেরো বছর বয়সে নিজ শহরের শায়খদের কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ ও সংকলন করেন। তিনি হাদিস অন্বেষণে দেশ ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন, অথচ তখনো তিনি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাননি।

আয-যাহাবি 'আল-ইবার' গ্রন্থে বলেছেন‌‌(৪): তিনি সর্বপ্রথম ২৭৩ হিজরিতে তাবারিয়াতে হাদিস শ্রবণ করেন। অত:পর ২৭৪ হিজরিতে সর্বপ্রথম কুদসের (জেরুজালেম) দিকে সফর করেন। এরপর ২৭৫ হিজরিতে কায়সারিয়ার দিকে যাত্রা করেন এবং সেখানে মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবির সাথীদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। এরপর তিনি হিমস, জাবালা এবং সিরিয়ার বিভিন্ন শহরের দিকে সফর করেন। তিনি হজ পালন করেন, ইয়ামেনে প্রবেশ করেন এবং মিশরে প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর তিনি ইরাক, আসবাহান ও পারস্য সফর করেন। তিনি আবু যুরআ আদ-দিমাশকি, ইসহাক আদ-দাবারি এবং তাদের সমসাময়িকদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে রয়েছে‌‌(৫): তাঁর প্রথম সফরের সূচনা ছিল ২৭৫ হিজরিতে। তিনি দীর্ঘ ষোল বছর ভ্রমণরত অবস্থায় কাটান এবং আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি যার কাছে সুযোগ পেয়েছেন তার থেকেই হাদিস লিখেছেন এবং এ বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন।

ইবনে খাল্লিকান বলেন: "তিনি হাদিস অন্বেষণে সিরিয়া থেকে ইরাক, হিজাজ, ইয়ামেন, মিশর এবং জাজিরা-ফোরাত অঞ্চলে সফর করেছেন। তিনি এই ভ্রমণে তেত্রিশ বছর অতিবাহিত করেন এবং প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন"‌‌(৬)।

--------------------------------------------

‌‌(১) মুজামুল বুলদান (৪/ ১৭)।

‌‌(২) আদ-দাউদি রচিত তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (১/ ১৯৮)।

‌‌(৩) আস-সামআনি রচিত আল-আনসাব (৯/ ৩৪৩) এবং মুজামুল বুলদান (৪/ ১৪৩)।

‌‌(৪) (২/ ৩১৫)।

‌‌(৫) (১৬/ ১১৯)।

‌‌(৬) ওয়াফায়াতুল আইয়ান (২/ ১৪১)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৯)
فكانت نتيجة تلك الرحلات في الأمصار والبلدان أن جمع له من الأحاديث ما لم يحصل لغيره من الأقران.

"سئل عن كثرة حديثه، فقال: كنت أنام على البواري ثلاثين سنة"‌‌(1).

 

‌‌شيوخه:

بدؤ الإِمام الطبراني طلبه الحديث من الصغر، وترحاله في البلدان آتي أكله وثماره، وظهرت آثاره في مشايخه، أن سمع كثيرًا من المشايخ الكلبار، ولقي أصحاب يزيد بن هارون المتوفى سنة 206 هـ، وحجاج بن محمَّد المتوفى سنة 206 هـ، وروح بن عبادة المتوفى سنة 205 هـ أو 207 هـ، وأبي عاصم المتوفى سنة 212 هـ، وعبد الرزاق المتوفى سنة 211 هـ.

ولم يزل يكتب حتى كتب عن أقرانه‌‌(2).

"وإلى الطبراني المنتهى في كثرة الحديث، وعلوه، فإنه عاش مئة سنة، وسمع -وهو ابن ثلاث عشرة سنة"‌‌(3).

وأما عدد شيوخه الذين كتب عنهم، فقال ابن خلكان: وعدد شيوخه ألف شيخ‌‌(4).

وقال الذهبي، والسيوطي، والداودي: "وحدث عن ألف شيخ أو يزيدون"‌‌(5).

 

‌‌منزلته عند مشايخه:

قال أبو نعيم الحافظ: سمعت أحمد بن بندار يقول: دخلت العسكر سنة ثمان وثمانين ومئتين، فحضرت مجلس عبدان، وخرج ليملي، فجعل المستملى يقول له: إن رأيت أن تملي؟ فيقول: حتى يحضر الطبراني.

قال: فأقبل أبو القاسم (الطبراني) بعد ساعة متزرًا بإزار مرتديًا بآخر. ومعه أجزاء،

وقد تبعه نحو من عشرين نفسًا من الغرباء من بلدان شتى، حتى يفيدهم الحديث‌‌(6).

--------------------------------------------

‌‌(1) سير أعلام النبلاء (16/ 122)، وطبقات الحفاظ للسيوطي (372).

‌‌(2) سير أعلام النبلاء (16/ 120).

‌‌(3) ميزان الاعتدال (2/ 195).

‌‌(4) وفيات الاعيان (2/ 141).

‌‌(5) سير أعلام النبلاء (16/ 120)، وطبقات الحفاظ (372) وطبقات المفسريق (1/ 198).

‌‌(6) سير أعلام النبلاء (16/ 122).

শহর ও জনপদসমূহে তাঁর সেই সফরের ফল ছিল এই যে, তাঁর কাছে এমন বিপুল সংখ্যক হাদিস সংগৃহীত হয়েছিল যা তাঁর সমসাময়িক অন্য কারো পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

"তাঁর হাদিসের প্রাচুর্য সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: আমি ত্রিশ বছর চাটাইয়ের ওপর ঘুমিয়েছি"‌‌(১)।

 

‌‌তাঁর উস্তাদগণ:

ইমাম তাবারানি শৈশব থেকেই হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন এবং বিভিন্ন জনপদে তাঁর সফর সুফল ও সার্থকতা বয়ে আনে। তাঁর উস্তাদদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কারণ তিনি অনেক বড় বড় শাইখের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি ২০৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইয়াজিদ ইবনে হারুন, ২০৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ, ২০৫ বা ২০৭ হিজরিতে ইন্তেকালকারী রাওহ ইবনে উবাদাহ, ২১২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু আসিম এবং ২১১ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আব্দুর রাজ্জাকের শিষ্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

তিনি বিরতিহীনভাবে হাদিস লিখে যেতেন, এমনকি তিনি তাঁর সমসাময়িকদের থেকেও হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন‌‌(২)।

"হাদিসের প্রাচুর্য এবং সনদের উচ্চতার ক্ষেত্রে তাবারানিই ছিলেন শেষ সীমা, কেননা তিনি একশ বছর জীবিত ছিলেন এবং মাত্র তেরো বছর বয়সেই হাদিস শ্রবণ শুরু করেছিলেন"‌‌(৩)।

আর তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা যাদের থেকে তিনি হাদিস লিখেছিলেন, সে সম্পর্কে ইবনে খাল্লিকান বলেন: তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা এক হাজার শাইখ‌‌(৪)।

যাহাবি, সুয়ুতি এবং দাউদি বলেন: "তিনি এক হাজার বা তারও বেশি শাইখের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন"‌‌(৫)।

 

‌‌তাঁর উস্তাদদের কাছে তাঁর মর্যাদা:

হাফেজ আবু নুআইম বলেন: আমি আহমদ ইবনে বান্দারকে বলতে শুনেছি: আমি দুইশ আটাশি হিজরিতে আসকারে প্রবেশ করি এবং আবদানের মজলিসে উপস্থিত হই। তিনি হাদিস শ্রুতলিপি প্রদানের জন্য বের হলেন। তখন মুস্তামলি (যিনি উচ্চস্বরে হাদিস পাঠ করেন) তাঁকে বললেন: আপনি কি শ্রুতলিপি প্রদান শুরু করবেন? তিনি বললেন: যতক্ষণ না তাবারানি উপস্থিত হয়।

তিনি বলেন: কিছুক্ষণ পর আবুল কাসিম (তাবারানি) একটি চাদর লুঙ্গি হিসেবে এবং অন্যটি গায়ে জড়িয়ে উপস্থিত হলেন। তাঁর সাথে কিছু পাণ্ডুলিপি ছিল,

এবং তাঁর সাথে বিভিন্ন দেশের প্রায় বিশজন বিদেশি আগন্তুক ছিল, যাতে তিনি তাদের হাদিসের ফায়দা দিতে পারেন‌‌(৬)।

--------------------------------------------

‌‌(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/১২২), এবং সুয়ুতির তাবাকাতুল হুফফাজ (৩৭২)।

‌‌(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/১২০)।

‌‌(৩) মিযানুল ইতিদাল (২/১৯৫)।

‌‌(৪) ওফায়াতুল আইয়ান (২/১৪১)।

‌‌(৫) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/১২০), তাবাকাতুল হুফফাজ (৩৭২) এবং তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (১/১৯৮)।

‌‌(৬) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/১২২)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌تلامذته.

لما فرغ الإِمام الطبراني من جمع وكتابة الحديث، قدم إلى أصبهان قدمته الثانية‌‌(1) سنة عشر وثلاث مئة، فأقام بها محدثًا، وازدحم إليه المحدثون، ودخلوا عليه من الأقطار، وسمع منه شيوخ أصبهان.

قال سليمان بن إبراهيم الحافظ: "قال أبو أحمد العسال القاضي: أنا سمعت من الطبراني عشرين ألف حديث، وسمع منه أبو إِسحاق بن حمزة ثلاثين ألفًا، وسمع منه أبو الشيخ أربعين ألفًا. قال الذهبي: هؤلاء كانوا شيوخ أصبهان مع الطبراني"‌‌(2) وممن سمع منه، وروى عنه:

* أبو خليفة الفضل بن الحباب الجمحي الثقة محدث البصرة، المتوفى سنة 305 هـ‌‌(3).

* والحافظ ابن عقدة أحمد بن محمد بن سعيد الكوفي المتوفى سنة 332 هـ‌‌(4). وهما من شيوخه.

* وابن مندة أبو عبد الله محمَّد بن إِسحاق بن محمَّد بن سير بن مندة محدث العصر، المتوفى سنة 395 هـ‌‌(5).

* وأبو بكر أحمد بن موسى بن مردويه الأصبهاني صاحب التفسير والتاريخ المتوفى سنة 410 هـ‌‌(6).

* وأبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد الأصبهاني الحافظ الكبير محدث العصر المتوفى سنة 430 هـ‌‌(7).

--------------------------------------------

‌‌(1) قال أبو نعيم في أخبار أصبهان (1/ 335) قدم أصبهان سنة تسعين ومئتين، فخرج منها، ثم قدمها ثانيًا، فأقام بها محدثًا ستين سنة.

‌‌(2) سير أعلام النبلاء (16/ 122)

‌‌(3) التذكرة (2/ 670).

‌‌(4) التذكرة (3/ 839).

‌‌(5) التذكرة (3/ 10310).

‌‌(6) التذكرة (3/ 1050).

‌‌(7) التذكرة (3/ 1097).

তাঁর ছাত্রবৃন্দ।

যখন ইমাম তাবারানি হাদিস সংগ্রহ ও তা লিপিবদ্ধ করার কাজ সম্পন্ন করলেন, তখন ৩১০ হিজরি সনে তিনি দ্বিতীয়বারের(১) মতো আসবাহানে পদার্পণ করেন। সেখানে তিনি মুহাদ্দিস হিসেবে অবস্থান করেন এবং বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুহাদ্দিসগণ তাঁর নিকট ভিড় জমাতে থাকেন। তারা দেশ-বিদেশ থেকে তাঁর নিকট আসতেন এবং আসবাহানের শায়খগণ তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।

হাফিয সুলায়মান বিন ইবরাহিম বলেন: "কাযী আবু আহমদ আল-আসসাল বলেছেন: আমি তাবারানির নিকট থেকে বিশ হাজার হাদিস শ্রবণ করেছি, আবু ইসহাক বিন হামযাহ তাঁর নিকট থেকে ত্রিশ হাজার এবং আবুশ শায়খ তাঁর নিকট থেকে চল্লিশ হাজার হাদিস শ্রবণ করেছেন। ইমাম যাহাবি বলেন: তাঁরা তাবারানির সমসাময়িক আসবাহানের শায়খ ছিলেন।"(২) যারা তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

* বসরার নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস আবু খলিফা আল-ফাদল বিন আল-হুবাব আল-জুমাহি, মৃত্যু ৩০৫ হিজরি(৩)।

* এবং হাফিয ইবনে উকদাহ আহমদ bin মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-কুফি, মৃত্যু ৩৩২ হিজরি(৪)। তাঁরা উভয়েই তাঁর শায়খদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

* এবং সমকালীন শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইবনে মানদাহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন সায়র বিন মানদাহ, মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি(৫)।

* এবং তাফসীর ও ইতিহাসগ্রন্থের প্রণেতা আবু বকর আহমদ বিন মূসা বিন মারদুওয়াইহ আল-আসবাহানি, মৃত্যু ৪১০ হিজরি(৬)।

* এবং মহান হাফিয ও সমকালীন শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-আসবাহানি, মৃত্যু ৪৩০ হিজরি(৭)।

--------------------------------------------

(১) আবু নুআইম 'আখবারু আসবাহান' (১/৩৩৫) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি ২৯০ হিজরি সনে আসবাহানে আসেন এবং সেখান থেকে চলে যান। অতঃপর দ্বিতীয়বার সেখানে আগমন করেন এবং মুহাদ্দিস হিসেবে ষাট বছর অবস্থান করেন।

(২) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৬/১২২)

(৩) আত-তাযকিরাহ (২/৬৭০)।

(৪) আত-তাযকিরাহ (৩/৮৩৯)।

(৫) আত-তাযকিরাহ (৩/১০৩১০)।

(৬) আত-তাযকিরাহ (৩/১০৫০)।

(৭) আত-তাযকিরাহ (৩/১০৯৭)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১১)
* وأبو سعيد بن محمَّد بن بن عمرو النقاش الحنبلي الأصبهاني المتوفى سنة 414 هـ‌‌(1).

* والإمام الجوال أبو بكر أحمد بن عبد الرحمن بن أحمد الشيرازي صاحب كتاب الألقاب توفي سنة 407 هـ‌‌(2)

وخلق كثير أخرهم موتًا

* أبو بكر محمَّد بن عبد الله بن ربذة التاجر، ثم عاش بعده.

* أبو القاسم عبد الرحمن بن أبي بكر الذكراني، يروي عن الطبراني بالإجازة،

فمات سنة اثنتين أو ثلاث وأربعين، وأربع مئة، ومات ابن ربذة عام أربعين‌‌(3).

 

‌‌ثناء العلماء عليه:

اثنى عليه العلماء كثيرًا، وشهدوا له بالفضل والإمامة والحفظ، والإتقان، وبراعته في علم الحديث.

قال أحمد بن منصور الشيرازي الحافظ: كتبت عن الطبراني ثلاث مئة ألف حديث- وهو ثقة‌‌(4).

وقال أبو بكر بن أبي علي: الطبراني أشهر من أن يدل على فضله، وعلمه، كان واسع العلم كثير التصانيف‌‌(5).

وقال أبو جعفر بن أبي السري: لقيت ابن عقدة بالكوفة، فسألته يومًا أن يعيد لي فوتًا (أي ما فاته من مجلس سماع الحديث فامتنع، فشددت عليه، فقال: من أي بلد أنت؟ قلت: من أصبهان، فقال: ناصبة؟ ينصبون العداوة لأهل البيت، فقلت: لا تقل هذا، فإن فيهم متفقهة وفضلاء، ومتشيعة، فقال: شيعة معاوية؟ قلت: لا، والله بل شيعة علي، وما فيهم أحد إلا وعلي أعز عليه من عينه وأهله، فأعاد علي ما فاتني، ثم قال لي: سمعت

--------------------------------------------

‌‌(1) التذكرة (3/ 1059).

‌‌(2) التذكرة (3/ 1065).

‌‌(3) سير أعلام النبلاء (16/ 121 - 122).

‌‌(4) طبقات الحفاظ للسيوطي (ص 373)، ولسان الميزان (3/ 74).

‌‌(5) سير أعلام النبلاء (16/ 127)، ولسان الميزان (3/ 74).

এবং আবু সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন আমর আন-নাক্কাশ আল-হাম্বালি আল-আসবাহানি, যিনি ৪১৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন‌‌(১)।

* এবং ভ্রাম্যমাণ ইমাম আবু বকর আহমদ বিন আবদুর রহমান বিন আহমদ আশ-শিরাজি, যিনি ‘কিতাবুল আলকাব’-এর রচয়িতা, তিনি ৪০৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন‌‌(২)

এবং আরও অনেক লোক, যাদের মধ্যে সবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন—

* আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন রাবযাহ আত-তাজির, যিনি তাঁর পরেও বেঁচে ছিলেন।

* আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান বিন আবি বকর আয-যিকরানি, যিনি ইজাজতের মাধ্যমে তাবারানি থেকে বর্ণনা করেন,

তিনি ৪৪২ বা ৪৪৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং ইবনে রাবযাহ ৪৪০ সনে মৃত্যুবরণ করেন‌‌(৩)।

 

‌‌তাঁর প্রতি আলেমদের প্রশংসা:

আলেমগণ তাঁর অনেক প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, ইমামত (নেতৃত্ব), হিফয (মুখস্থশক্তি), নির্ভরযোগ্যতা এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর পারদর্শিতার সাক্ষ্য দিয়েছেন।

হাফেজ আহমদ বিন মনসুর আশ-শিরাজি বলেন: "আমি তাবারানি থেকে তিন লক্ষ হাদিস লিখেছি—আর তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)‌‌(৪)।"

আবু বকর বিন আবি আলি বলেন: "তাবারানি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও ইলমের প্রমাণের মুখাপেক্ষী হওয়ার চেয়েও অনেক বেশি প্রসিদ্ধ, তিনি ছিলেন বিশাল জ্ঞানের অধিকারী এবং বহু কিতাবের রচয়িতা‌‌(৫)।"

আবু জাফর বিন আবি আস-সারী বলেন: "আমি কুফায় ইবনে উকদাহর সাথে দেখা করলাম। একদিন আমি তাকে তাঁর হাদিস শ্রবণের মজলিসে আমার যা ছুটে গিয়েছিল (অর্থাৎ শ্রবণের মজলিস থেকে যা বাদ পড়েছিল) তা পুনরায় শুনিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলাম। তিনি অস্বীকৃতি জানালেন। আমি যখন তাঁর ওপর খুব জোরাজুরি করলাম, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'তুমি কোন শহরের?' আমি বললাম: 'আসবাহান থেকে'। তিনি বললেন: 'নাসিবী? তারা কি আহলে বায়তের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে?' আমি বললাম: 'এমন বলবেন না, কারণ তাদের মধ্যে ফকিহ, গুণীজন এবং শিয়া মতাবলম্বীও আছেন।' তিনি বললেন: 'মুয়াবিয়ার শিয়া?' আমি বললাম: 'না, আল্লাহর কসম, বরং আলীর শিয়া। আর তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার কাছে আলী তাঁর নিজের চোখ ও পরিবার-পরিজনের চেয়েও বেশি প্রিয় নন।' তখন তিনি আমার যা ছুটে গিয়েছিল তা পুনরায় শোনালেন। এরপর তিনি আমাকে বললেন: আমি শুনেছি

--------------------------------------------

‌‌(১) আত-তাযকিরাহ (৩/ ১০৫৯)।

‌‌(২) আত-তাযকিরাহ (৩/ ১০৬৫)।

‌‌(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ১২১-১২২)।

‌‌(৪) সুয়ুতির তাবাকাতুল হুফফায (পৃ. ৩৭৩) এবং লিসানুল মিজান (৩/ ৭৪)।

‌‌(৫) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ১২৭) এবং লিসানুল মিজান (৩/ ৭৪)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১২)
سليمان بن أحمد اللخمىِ؟ فقلت: لا، لا أعرفه، فقال: يا سبحان الله! أبو القاسم ببلدكم، وأنت لا تسمع منه، وتؤذيني هذا الأذى بالكوفة، ما أعرف لأبي القاسم نظيرًا‌‌(1).

وقال الذهبي: "الطبراني هو الإِمام الحافظ الثقة الرحال الجوال محدث الإِسلام، علم المعمرين‌‌(2).

وقال -أيضًا-: كان ثقة صدوقًا واسع الحفظ بصيرًا بالعلل، والرجال والأبواب كثير التصانيف‌‌(3).

وقال الداودي: الإِمام الحجة بقية الحفاظ … مسند الدنيا‌‌(4). وهو من فرسان هذا الشأن مع الصدق والأمانة‌‌(4)

 

‌‌حفظه وإتقانه:

قال أبو الحسين أحمد بن فارس اللغوي: سمعت الأستاذ ابن العميد يقول: ما كنت أظن أن في الدنيا حلاوة ألذ من الرئاسة، والوزارة التي أنا فيها، حتى شاهدت مذاكرة أبي القاسم الطبراني. وأبي بكر الجعابي بحضرتي، فكان الطبراني يغلب أبا بكر بكثرة حفظه، وكان أبو بكر يغلب بفطنته وذكائه، حتى ارتفعت أصواتهما، ولا يكاد أحدهما يغلب صاحبه، فقال الجعابي: عندي حديث ليس في الدنيا إلا عندي، فقال: هات، فقال: حدثنا أبو خليفة الجمحي، حدثنا سيمان بن أيوب، وحدث بحديث.

فقال الطبراني: أخبرنا سليمان بن أيوب -ومني سمعه أبو خليفة فاسمعه مني حتى يعلو فيه إسنادك، فخجل الجعابي، فوددت أن الوزارة لم تكن، وكنت أنا الطبراني، وفرحت كفرحه، أو كما قال‌‌(5).

--------------------------------------------

‌‌(1) سير أعلام النبلاء (16/ 125)، وطبقات المفسرين (1/ 200).

‌‌(2) سير أعلام النبلاء (16/ 119).

‌‌(3) العبر (2/ 315).

‌‌(4) طبقات المفسرين (1/ 198، 199).

‌‌(5) سير أعلام النبلاء (16/ 124)، وطبقك الحنابلة (2/ 50)، وطبقات المفسرين (1/ 200)، والمنهج الأحمد (2/ 49)

সুলায়মান ইবনে আহমাদ আল-লাখমি? আমি বললাম: না, আমি তাকে চিনি না। তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! আবুল কাসেম আপনার শহরে অবস্থান করছেন, অথচ আপনি তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণ করছেন না, আর কুফায় আমাকে এভাবে প্রশ্ন করে কষ্ট দিচ্ছেন? আবুল কাসেমের কোনো সমকক্ষ আমার জানা নেই‌‌(১).

আয-যাহাবি বলেন: "তাবারানি হলেন ইমাম, হাফেজ, নির্ভরযোগ্য, পর্যটক, বিশ্বভ্রমণকারী, ইসলামের মুহাদ্দিস এবং দীর্ঘজীবীদের মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত‌‌(২).

তিনি আরও বলেন: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, পরম সত্যবাদী, প্রখর মুখস্থ শক্তির অধিকারী, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি, বর্ণনাকারী ও পরিচ্ছেদসমূহ সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শী এবং বহু কিতাবের রচয়িতা‌‌(৩).

আদ-দাউদি বলেন: ইমাম, হুজ্জাহ (প্রমাণ), অবশিষ্ট হাফেজদের অন্যতম... বিশ্বের শীর্ষ মুসনিদ‌‌(৪)। তিনি সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার সাথে এই শাস্ত্রের পারদর্শীদের অন্যতম‌‌(৪)

 

‌‌তাঁর মুখস্থ শক্তি ও নির্ভুলতা:

আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবনে ফারিস আল-লুগাভি বলেন: আমি উস্তাদ ইবনুল আমিদকে বলতে শুনেছি: আমি মনে করতাম না যে পৃথিবীতে নেতৃত্ব ও মন্ত্রিত্বের চেয়ে সুস্বাদু আর কোনো মিষ্টতা আছে যাতে আমি রয়েছি, যতক্ষণ না আমি আমার উপস্থিতিতে আবুল কাসেম তাবারানি এবং আবু বকর আল-জি’আবির মধ্যকার জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনা ও বিতর্ক প্রত্যক্ষ করলাম। তাবারানি তাঁর মুখস্থ শক্তির আধিক্য দিয়ে আবু বকরকে পরাভূত করছিলেন, আর আবু বকর তাঁর চতুরতা ও মেধা দিয়ে জয়ী হচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাদের উভয়ের কণ্ঠস্বর উচ্চ হলো এবং কেউই কাউকে পরাস্ত করতে পারছিলেন না। তখন আল-জি’আবি বললেন: আমার কাছে এমন একটি হাদিস আছে যা পৃথিবীতে একমাত্র আমার কাছেই আছে। তিনি বললেন: পেশ করুন। তিনি বললেন: আমাদের কাছে আবু খলিফা আল-জুমাহি বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলায়মান ইবনে আইয়ুব থেকে, এরপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করলেন।

তখন তাবারানি বললেন: সুলায়মান ইবনে আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আর আবু খলিফা সেটি আমার থেকেই শুনেছেন, সুতরাং আপনি এটি সরাসরি আমার থেকে শুনে নিন যাতে আপনার সনদ আরও উচ্চ হয়। এতে আল-জি’আবি লজ্জিত হলেন। তখন আমি (ইবনুল আমিদ) আকাঙ্ক্ষা করলাম যে যদি আমার মন্ত্রিত্ব না থাকত এবং আমি তাবারানি হতাম আর তাঁর মতো আনন্দ পেতাম, অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন‌‌(৫)।

--------------------------------------------

‌‌(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ১২৫), এবং তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (১/ ২০০)।

‌‌(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ১১৯)।

‌‌(৩) আল-ইবার (২/ ৩১৫)।

‌‌(৪) তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (১/ ১৯৮, ১৯৯)।

‌‌(৫) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ১২৪), তাবাকাতুল হানাবিলাহ (২/ ৫০), তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (১/ ২০০), এবং আল-মানহাজুল আহমাদ (২/ ৪৯)

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌أخلاقه:

قال أبو عمر بن عبد الوهاب السلمي: سمعت الطبراني يقول: لما قدم ابن رستم- عامل أصبهان- من فارس أعطاني خمس مئة درهم فلما كان في آخر أمره تكلم في أبي بكر، وعمر رضي الله عنهما ببعض الشيء، فخرجت ولم أعد إليه بعد‌‌(1).

وقال ابن مندة: وبلغني أن الطبراني كان حسن المشاهدة، طيب المحاضرة، قرأ عليه يومًا أبو طاهر بن لوقا: حديثًا كان يغسل حصى جماره، فصحفه، وقال: خصي حماره، فقال: ما أراد بذلك يا أبا طاهر؟ قال: التواضع- وكان هذا كالمغفل‌‌(2).

وقيل: "ذهبت عيناه في آخر أيامه، فكان يقول: الزنادقة سحرتني، فقال له يومًا حسن العطار -تلميذه- يمتحن بصره: كم عدد الجذوع التي في السقف؟ فقال: لا أدري، ولكن نقش خاتمي سليمان بن أحمد.

قال الذهبي: "هذا قاله على سبيل الدعابة"‌‌(3).

وقال له مرة: من هذا الآتي؟ -يعني ابنه- فقال: أبو ذر، وليس بالغفاري‌‌(3).

 

‌‌ما أُخذ عليه:

تكلم فيه بعض معاصريه، وأخذ عليه بما لا يقدح في جلالة علمه وحفظه، ولا يحط من قدره ومنزلته، وقد تناول العلماء بهذه المآخذ بالبحث والإجابة عنها:

‌‌1 - فمما أخذ عليه: وهمه في إسناد حديث.

قال أبو عبد الله الحاكم: وجدت أبا علي "النيسابوري الحافظ سيء الرأي في أبي القاسم اللخمي، فسألته عن السبب فيه، فقال: اجتمعنا على باب أبي خليفة، فذكرت له طرق حديث "أمرت أن أسجد على سبعة أعضاء"، فقلت له: يحفظ شعبة عن عبد الملك بن ميسرة، عن طاوس، عن ابن عباس.

قال: بلى، رواه غندر وابن أبي عدي.

--------------------------------------------

‌‌(1) طبقات المفسرين (1/ 200).

‌‌(2) سير أعلام النبلاء (16/ 123).

‌‌(3) سير أعلام النبلاء (16/ 127).

‌তাঁর চরিত্র:

আবু উমর বিন আব্দুল ওয়াহহাব আস-সুলামী বলেন: আমি তাবারানীকে বলতে শুনেছি: ইসফাহানের গভর্নর ইবনে রুস্তম যখন পারস্য থেকে আসলেন, তিনি আমাকে পাঁচশত দিরহাম দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ জীবনে তিনি আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) সম্পর্কে আপত্তিকর কিছু কথা বলেন, তাই আমি বেরিয়ে আসি এবং এরপর আর কখনো তাঁর কাছে ফিরে যাইনি‌‌(১)।

ইবনে মান্দাহ বলেন: আমার কাছে পৌঁছেছে যে, তাবারানী সুন্দর দর্শনের অধিকারী এবং চমৎকার আলাপচারী ছিলেন। একদিন আবু তাহির বিন লুকা তাঁর সামনে একটি হাদিস পাঠ করলেন যে, "তিনি তাঁর জামারাতের পাথর (হাসা জিমারিহি) ধৌত করতেন", কিন্তু তিনি তা ভুল পড়ে বললেন: "তাঁর গাধার অণ্ডকোষ (খাসি হিমারিহি)"। তখন তাবারানী বললেন: "হে আবু তাহির! তিনি এর দ্বারা কী বুঝিয়েছেন?" তিনি উত্তর দিলেন: "বিনয়" - আর এই ব্যক্তিটি ছিল অনেকটা নির্বোধের মতো‌‌(২)।

বর্ণিত আছে যে: "শেষ জীবনে তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল, তখন তিনি বলতেন: যিনদীকরা আমার ওপর জাদু করেছে। একদিন তাঁর ছাত্র হাসান আল-আত্তার তাঁর দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করার জন্য তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: ছাদে কয়টি কড়িকাঠ আছে? তিনি বললেন: আমি জানি না, তবে আমার আংটির খোদাই করা লেখাটি হলো 'সুলাইমান বিন আহমাদ'।"

আয-যাহাবী বলেন: "তিনি এটি কৌতুকচ্ছলে বলেছিলেন"‌‌(৩)।

একবার তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: "এই যে আগন্তুক, তিনি কে?" -অর্থাৎ তাঁর ছেলে সম্পর্কে- তিনি বললেন: "আবু যার, তবে গিফারী নন"‌‌(৩)।

 

‌তাঁর সমালোচনা:

তাঁর সমসাময়িকদের কেউ কেউ তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন এবং এমন কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছেন যা তাঁর জ্ঞানের বিশালতা বা মুখস্থ শক্তির মহিমা ক্ষুন্ন করে না, কিংবা তাঁর মর্যাদা ও অবস্থানকেও খাটো করে না। ওলামায়ে কেরাম এই সমালোচনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোর জবাব দিয়েছেন:

‌‌১ - তাঁর বিরুদ্ধে আনা একটি অভিযোগ হলো: একটি হাদিসের সনদে তাঁর বিভ্রম (ভুল)।

আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: আমি হাফেয আবু আলী আন-নিসাবুরীকে আবুল কাসিম আল-লাখমীর (তাবারানী) ব্যাপারে বিরূপ ধারণা পোষণ করতে দেখলাম। আমি এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন: আমরা আবু খলীফার দরজায় সমবেত হয়েছিলাম, তখন আমি তাঁর কাছে 'আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে' হাদিসটির বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করলাম। আমি তাঁকে বললাম: শু'বাহ এটি আব্দুল মালিক বিন মাইসারা থেকে, তিনি তাউস থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি (তাবারানী) বললেন: হ্যাঁ, এটি গুন্দার এবং ইবনে আবি আদি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) তাবাকাতুল মুফাসসিরীন (১/ ২০০)।

‌‌(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ১২৩)।

‌‌(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ১২৭)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৪)
قلت: من عنهما؟.

قال: حدّثناه عبد الله بن أحمد، عن أبيه، عنهما.

فاتهمته أذ ذاك، فإنه ما حدث به غير عثمان بن عمر عن شعبة‌‌(1).

وقد أجاب عنه الحافظ ضياء الدين المقدسي في الجزء الذي جمعه في الذب عن الطبراني، فقال: ظن -أي الطبراني- أنه سئل عن رواية شعبة عن عمرو بن دينار، عن طاوس، فهي التي عند غندر. عن شعية، وهي التي رواها ابن الصواف عن عبد لله بن أحمد، والمسؤول عنها رواية شعبة عن عبد الملك بن ميسرة، عن طاوس، فهي التي انفرد بها عثمان بن عمر.

قال: والدليل على أنه لم يسمعه، أنه ساق الطريقين في كتابه الذي جمع فيه حديث شعبة، فأورد إحداهما في ترجمة شعبة عن عمرو بن دينار، عن طاوس من رواية غندر عن شعبة، وأورد الأخرى في ترجمة شعبة عن عبد الملك بن ميسرة من رواية عثمان بن عمر عن شعبة.

ثم قال الضياء: لو كان كل من وهم في حديث أو حديثين اتهم لكان هذا لا يسلم منه أحد‌‌(2).

‌‌2 - ومما أخذ عليه تكثيره عن إدريس بن جعفر العطار، وأهلُ بلده لم يرووا عنه إلا قليلًا.

قال الحافظ أبو بكر بن مردويه: دخلت بغداد، وتطلبت حديث إدريس بن جعفر العطار، عن يزيد بن هارون، وروح، فلم أجد إلا أحاديث معدودة، وقد روى الطبراني عن إدريس، عن يزيد كثيرًا‌‌(3).

وأجاب الذهبي عن هذا، فقال: هذا لا يدل على شيء، فإن البغاددة كاثروا على إدريس للينه، وظفر به الطبراني، فاغتنم علو إسناده، وأكثر عنه، واعتنى بأمره‌‌(4).

--------------------------------------------

‌‌(1) علوم الحديث للحاكم (ص 143)، وسير أعلام النبلاء (16/ 126).

‌‌(2) لسان الميزان (3/ 74).

‌‌(3) سير أعلام النبلاء (16/ 127)، ولسان الميزان (3/ 74).

‌‌(4) سير أعلام النبلاء (16/ 127).

আমি বললাম: তাঁদের উভয়ের পক্ষ থেকে কে?

তিনি বললেন: আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ, তাঁর পিতার সূত্রে, তাঁদের উভয় থেকে।

তখন আমি তাঁর প্রতি অপবাদ আরোপ করলাম, কারণ উসমান ইবনে উমর ব্যতীত অন্য কেউ শু'বাহ থেকে এটি বর্ণনা করেননি‌‌(১)।

হাফেজ জিয়াউদ্দিন আল-মাকদিসি তাবারানির পক্ষ সমর্থনে রচিত তাঁর পুস্তিকায় এর উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন: তিনি (তাবারানি) ধারণা করেছিলেন যে, তাঁকে শু'বাহ থেকে আমর ইবনে দীনার, তাঁর সূত্রে তাউস-এর বর্ণনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, যা গুন্দারের নিকট শু'বাহ থেকে বর্ণিত। আর এটি ইবনুল সাওয়াফ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। অথচ যাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছিল তা হলো শু'বাহ থেকে আবদুল মালিক ইবনে মাইসারা, তাঁর সূত্রে তাউস-এর বর্ণনা, যেটিতে উসমান ইবনে উমর একক হয়ে গিয়েছেন।

তিনি বলেন: তিনি এটি যে শোনেননি তার প্রমাণ হলো, তিনি তাঁর গ্রন্থে, যেখানে তিনি শু'বাহর হাদিসগুলো সংকলন করেছেন, উভয় সূত্র উল্লেখ করেছেন। তিনি একটিকে শু'বাহ থেকে আমর ইবনে দীনার, তাঁর সূত্রে তাউস-এর জীবনীতে গুন্দারের সূত্রে শু'বাহ থেকে উল্লেখ করেছেন। আর অন্যটিকে শু'বাহ থেকে আবদুল মালিক ইবনে মাইসারা-এর জীবনীতে উসমান ইবনে উমর-এর সূত্রে শু'বাহ থেকে উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর আল-জিয়া বলেন: যদি এক বা একাধিক হাদিসে ভুল করার কারণে কাউকে অভিযুক্ত করা হতো, তবে কেউই তা থেকে রেহাই পেত না‌‌(২)।

‌‌২ - তাঁর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ হলো ইদ্রিস ইবনে জাফর আল-আত্তার থেকে তাঁর অধিক পরিমাণে বর্ণনা করা, অথচ তাঁর দেশবাসীরা তাঁর থেকে সামান্যই বর্ণনা করেছেন।

হাফেজ আবু বকর ইবনে মারদুওয়াই বলেন: আমি বাগদাদে প্রবেশ করলাম এবং ইদ্রিস ইবনে জাফর আল-আত্তার থেকে ইয়াজিদ ইবনে হারুন ও রাওহ-এর হাদিসগুলো তালাশ করলাম, কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটি হাদিস ছাড়া পেলাম না। অথচ তাবারানি ইদ্রিস থেকে ইয়াজিদ-এর সূত্রে অনেক বর্ণনা করেছেন‌‌(৩)।

যাহাবি এর উত্তর দিয়ে বলেছেন: এটি কোনো কিছু প্রমাণ করে না। কারণ বাগদাদবাসীরা ইদ্রিসের শিথিলতার কারণে তাঁর কাছে ভিড় জমাতেন এবং তাবারানি তাঁকে পেয়ে তাঁর উচ্চ সনদের সুযোগ গ্রহণ করেন, তাঁর থেকে অধিক বর্ণনা করেন এবং তাঁর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন‌‌(৪)।

--------------------------------------------

‌‌(১) উলুমুল হাদিস লিল হাকিম (পৃ. ১৪৩), এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ১২৬)।

‌‌(২) লিসানুল মিজান (৩/ ৭৪)।

‌‌(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ১২৭), এবং লিসানুল মিজান (৩/ ৭৪)।

‌‌(৪) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ১২৭)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال سليمان بن إبراهيم الحافظ: كان ابن مردويه في قلبه شيء على الطبراني، فتلفظ بكلام، فقال له أبو نعيم: كم كتب يا أبا بكر عنه؟ فأشار إلى حزم، فقال: ومن رأيت مثله؟ فلم يقل شيئًا‌‌(1).

وقال الحافظ الضياء: ذكر ابن مردويه في تاريخه الأصبهان جماعة، وضعفهم، وذكر الطبراني فلم يضعفه، فلو كان عنده ضعيفًا لضعفه‌‌(1).

‌‌3 - ومما أخذ عليه روايته عن أحمد بن عبد الله بن عبد الرحيم البرقي، ولم يحتمل منة لقيه، توفي أحمد بمصر سنة 266 هـ، وقيل سنة 270 هـ. وعلى الحالين فما لقيه".

ولا قارب، فإنه مات قبل دخوك الطبراني مصر بعشر سنين، أو أكثر.

وقد اعتذر عنه الذهبي، ومن قبله الحافظ أحمد بن منصور الشيرازي، بأنه أراد أخاه عبد الرحيم بن عبد الله بن البرقي، فتوهم أن شيخه عبد الرحيم اسمه أحمد، واستمر على هذا، يروي عنه ويسميه أحمد‌‌(2).

قال أحمد بن منصور الشيرازي الحافظ: إنهما -أي أحمد وعبد الرحيم- كانا أخوين، فسمع الطبراني من عبد الرحيم، فظن أنه أحمد، فروى عنه، واستمر يروي عنه ما سمعه من عبد الرحيم‌‌(3).

وقال ابن حجر: وقد ذكر الطبراني في مسند الشاميين له ما يدل على أنه كان يشك في اسم عبد الرحيم، فقال في ترجمة محمَّد بن مهاجر، حدثنا ابن البرقي- وأظن اسمه عبد الرحيم، فذكر حديثًا‌‌(3).

‌‌4 - وعاب عليه إسماعيل بن محمَّد بن الفضل التيمي جمعه الأحاديث بالأفراد مع ما فيها من النكارة الشديدة، والموضوعات، وفي بعضها القدح في كثير من القدماء من الصحابة وغيرهم‌‌(4).

وردّ عليه ابن حجر بقوله: "وهذا أمر لا يختص به الطبراني فلا معنى لإفراده، بل

--------------------------------------------

‌‌(1) سير أعلام النبلاء (16/ 127).

‌‌(2) راجع سير أعلام النبلاء (16/ 125)، وميزان الإعتدال (2/ 195).

‌‌(3) لسان الميزان (3/ 74).

‌‌(4) لسان الميزان (3/ 75).

হাফেজ সুলাইমান ইবন ইব্রাহিম বলেন: ইবন মারদুইয়াহ-এর অন্তরে তাবারানি সম্পর্কে কিছুটা ক্ষোভ ছিল, ফলে তিনি কিছু কথা উচ্চারণ করেছিলেন। তখন আবু নুআইম তাকে বললেন: "হে আবু বকর, আপনি তার থেকে কতটুকু লিখেছেন?" তিনি এক স্তূপের দিকে ইশারা করলেন। তখন তিনি (আবু নুআইম) বললেন: "আপনি কি তার মতো আর কাউকে দেখেছেন?" তখন তিনি (ইবন মারদুইয়াহ) আর কিছু বললেন না‌‌(১).

হাফেজ জিয়া বলেন: ইবন মারদুইয়াহ তার আসবাহানের ইতিহাসে একদল লোকের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাদেরকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন; সেখানে তিনি তাবারানির কথা উল্লেখ করলেও তাকে দুর্বল বলেননি। যদি তার নিকট তিনি দুর্বল হতেন, তবে তিনি তাকে অবশ্যই দুর্বল আখ্যা দিতেন‌‌(১).

‌‌৩ - তার ওপর যা কিছু আপত্তি তোলা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহিম আল-বারকির সূত্রে তার বর্ণনা করা, অথচ তার সাথে তার সাক্ষাৎ হওয়া সম্ভব ছিল না। আহমাদ ২৬৬ হিজরিতে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন, আবার বলা হয় ২৭০ হিজরিতে। উভয় অবস্থাতেই তার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি।

এমনকি তিনি তার কাছাকাছিও ছিলেন না, কারণ তাবারানি মিশরে প্রবেশের অন্তত দশ বছর বা তারও বেশি সময় আগে তিনি মারা যান।

ইমাম যাহাবি এবং তার পূর্বে হাফেজ আহমাদ ইবন মানসুর আল-শিরাজি তার পক্ষ থেকে ওজর পেশ করে বলেছেন যে, মূলত তিনি তার ভাই আবদুর রহিম ইবন আবদুল্লাহ ইবন আল-বারকিকে উদ্দেশ্য করেছিলেন, কিন্তু তিনি ভুলবশত মনে করেছিলেন যে তার শাইখ আবদুর রহিমের নাম আহমাদ। আর তিনি এভাবেই তার থেকে বর্ণনা করে যেতেন এবং তাকে আহমাদ বলে ডাকতেন‌‌(২).

হাফেজ আহমাদ ইবন মানসুর আল-শিরাজি বলেন: তারা দুজন—অর্থাৎ আহমাদ এবং আবদুর রহিম—ভাই ছিলেন। তাবারানি আবদুর রহিমের নিকট থেকে শুনেছিলেন, কিন্তু তিনি তাকে আহমাদ মনে করেছিলেন। ফলে তিনি তার থেকে বর্ণনা করেন এবং আবদুর রহিমের নিকট যা শুনেছিলেন তা তার থেকেই বর্ণনা করে যেতেন‌‌(৩).

ইবন হাজার বলেন: তাবারানি তার মুসনাদুশ শামিয়্যিন-এ এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে তিনি আবদুর রহিমের নাম সম্পর্কে সন্দিহান ছিলেন। তিনি মুহাম্মদ ইবন মুহাজিরের জীবনী আলোচনায় বলেছেন: "ইবনুল বারকি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন—এবং আমার মনে হয় তার নাম আবদুর রহিম," এরপর তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেন‌‌(৩).

‌‌৪ - ইসমাইল ইবন মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আত-তাইমি তার ওপর এই মর্মে ত্রুটিারোপ করেছেন যে, তিনি এমন সব একক হাদিস সংগ্রহ করেছেন যেগুলোর মধ্যে চরম অগ্রহণযোগ্যতা এবং জাল বর্ণনা রয়েছে; যার কয়েকটিতে অনেক প্রাচীন সাহাবি এবং অন্যদের প্রতি কটাক্ষ করা হয়েছে‌‌(৪).

ইবন হাজার তার এই কথার প্রতিবাদ করে বলেছেন: "এটি এমন একটি বিষয় যা কেবল তাবারানির সাথেই সংশ্লিষ্ট নয়, তাই তাকে এককভাবে দোষারোপ করার কোনো মানে হয় না, বরং

--------------------------------------------

‌‌(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ১২৭)।

‌‌(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ১২৫) এবং মিযানুল ইতিদাল (২/ ১৯৫) দ্রষ্টব্য।

‌‌(৩) লিসানুল মিযান (৩/ ৭৪)।

‌‌(৪) লিসানুল মিযান (৩/ ৭৫)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৬)
أكثر المحدثين في الأعصار الماضية من سنة مئتين، وهلم جرا، إذا ساقوا الحديث بإسناده، اعتقدوا أنهم برأوا من عهدته. والله أعلم‌‌(1).

 

‌‌آثاره العلمية:

لقد عاش الإِمام الطبراني قرنًا كاملًا، وصرف عمره في خدمة السنة المطهرة، فجمع وألف، وترك عدة مؤلفات قيمة مفيدة، منها.

‌‌1 - المعجم الكبير- وهو معجم أسماء الصحابة وتراجمهم على غرار مسند الإمام أحمد/ المعروف، فبدأ بمسانيد العشرة المبشرة بالجنة، ولم يسق فيه من مسند المكثرين إلا ابن عباس، وابن عمر، وذكر شيئًا قليلًا من مسانيد أنس، وجابر، وأبي سعيد، وعائشة، وغيرهم من المكثرين.

فأما أبو هريرة فلم يسق له مسندًا، ولا حديث جماعة من المتوسطين لأنه أفرد لكل مسندًا، فاستغنى عن إعادته.

وقد طبع هذا الكتاب العظيم في العراق بتحقيق فضيلة الشيخ حمدي عبد المجيد السلفي في 25 جزءًا، ما عدا الجزء 13 - 16، والجزء 21. فلم يعثر المحقق الفاضل على مخطوطة تلك الأجزاء.

‌‌2 - المعجم الأوسط -وهو على معجم شيوخه، يأتي فيه عن كل شيخ بما له من الغرائب والعجائب، فهو نظير كتاب "الأفراد" للدارقطني، بيَّن فيه فضيلته وسعة روايته، وكان يقول: "هذا الكتاب روحي" فإنه تعب عليه.

وفيه كل نفيس وعزيز، ومنكر،

وتوجد له نسخة مخطوطة كاملة في جزءين، الجزء الأول يشتمل على ثلاث مئة ورقة وتسع ورق خلا ورقة 62، و 304، فإنهما مفقودتان والجزء الثاني -أيضًا- يشتمل على ثلاث مئة وتسع ورق، وكل ورقة على صفحتين، وكل صفحة فيها 33 سطرًا، وخطها جيد كتبت قبل عام 922 هـ. وهي موجودة في تركيا. وعندي نسخة مصورة منها.

--------------------------------------------

‌‌(1) لسان الميزان (3/ 75).

বিগত যুগে দুইশত হিজরি থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের অধিকাংশ মুহাদ্দিস যখন কোনো হাদিস তার সনদসহ বর্ণনা করতেন, তখন তারা মনে করতেন যে তারা এর দায়ভার থেকে মুক্ত হয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন‌‌(১).

 

‌তাঁর ইলমি অবদানসমূহ:

ইমাম তাবারানি পূর্ণ এক শতাব্দীকাল বেঁচে ছিলেন এবং তাঁর পুরো জীবন পবিত্র সুন্নাহর খিদমতে ব্যয় করেছেন। তিনি হাদিস সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন এবং বেশ কিছু মূল্যবান ও উপকারী গ্রন্থ রেখে গেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

‌‌১ - আল-মু'জামুল কাবীর—এটি সাহাবিদের নামের তালিকা ও তাঁদের জীবনী সম্বলিত একটি সংকলন, যা প্রসিদ্ধ ইমাম আহমাদের মুসনাদের আদলে রচিত। তিনি এটি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবির (আশারা মুবাশশারা) মুসনাদ দিয়ে শুরু করেছেন। যারা অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে কেবল ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমরের মুসনাদ এতে পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন এবং আনাস, জাবির, আবু সাঈদ, আয়েশা ও অন্যান্য অধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের মুসনাদ থেকে সামান্য কিছু উল্লেখ করেছেন।

তবে আবু হুরায়রা (রা.)-এর জন্য কোনো মুসনাদ এতে আনেননি, এমনকি মধ্যম সারির একদল সাহাবির হাদিসও উল্লেখ করেননি; কারণ তিনি তাঁদের প্রত্যেকের জন্য পৃথক মুসনাদ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, ফলে এখানে তার পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন মনে করেননি।

এই মহান গ্রন্থটি ইরাকে শায়খ হামদি আব্দুল মাজিদ আস-সালাফির তাহকীকসহ ২৫ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, তবে ১৩ থেকে ১৬ খণ্ড এবং ২১ নম্বর খণ্ড ব্যতিরেকে। কারণ ফাযিল মুহাক্কিক উক্ত খণ্ডগুলোর কোনো পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাননি।

‌‌২ - আল-মু'জামুল আওসাত—এটি তাঁর উস্তাদদের নামের ক্রমানুসারে রচিত। এতে তিনি প্রত্যেক উস্তাদ থেকে বর্ণিত বিরল ও বিস্ময়কর হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন। এটি দারাকুতনির "আল-আফরাদ" গ্রন্থের অনুরূপ। এতে তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও বর্ণনার ব্যাপকতা ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি বলতেন: "এই বইটি আমার প্রাণ", কারণ তিনি এর পেছনে অনেক শ্রম দিয়েছিলেন।

এতে সব ধরনের মূল্যবান, দুর্লভ এবং মুনকার বর্ণনাও রয়েছে।

এর একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি দুই খণ্ডে বিদ্যমান। প্রথম খণ্ডে ৩০৯টি পাতা রয়েছে, কেবল ৬২ ও ৩০৪ নম্বর পাতা দুটি নিখোঁজ। দ্বিতীয় খণ্ডেও ৩০৯টি পাতা রয়েছে। প্রতিটি পাতায় দুটি করে পৃষ্ঠা এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ৩৩টি লাইন আছে। এর হস্তলিপি অত্যন্ত চমৎকার এবং এটি ৯২২ হিজরির পূর্বে লিখিত। এটি তুরস্কে সংরক্ষিত আছে এবং আমার কাছে এর একটি আলোকচিত্র কপি (ফটোকপি) রয়েছে।

--------------------------------------------

‌‌(১) লিসানুল মিজান (৩/ ৭৫)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقد طبع من هذا السفر الجليل ثلاث مجلدات بتحقيق الدكتور محمود الطحان، نشرتها مكتبة المعارف بالرياض، وفق الله محققه وناشره لتكميل تحقيق الكتاب وطبعه.

‌‌3 - المعجم الصغير، وهو عن كل شيخ له حديث واحد، وقد طبع هذا الكتاب مرارًا.

‌‌4 - كتاب الدعاء في مجلد كبير (246 ورقة) مخطوط في مكتبة سليم آغا 229، وعندي منه نسخة مصورة‌‌(1). وقد طبع الآن بتحقيق در في ثلاث مجلدات.

‌‌5 - مسند الشاميين في مجلدين مخطوط، واطلعت على نسخة مصورة منه عند فضيلة الشيخ عبد القادر حبيب الله السندي أستاذ بالجامعة الإِسلامية بالمدينة المنورة.

‌‌6 - مكارم الأخلاق، مخطوط بمكتبة الظاهرية مجموع 46/ 8، وبرلين 5390‌‌(1).

‌‌7 - فضل الرمي وتعليمه مخطوط كوير يلي 384/ 2‌‌(1).

‌‌8 - كتاب الأوائل مخطوط المتحف البريطاني الملحق 604 مخطوطات شرقية 1530‌‌(1).

‌‌9 - الأحاديث الطوال مخطوط، السعيدية بحيدر آباد حديث 355.

وله مؤلفات أخرى ذكرها الحافظ الذهبي في سير أعلام النبلاء، منها.

‌‌10 - دلائل النبوة.

‌‌11 - النوادر.

‌‌12 - مسند شعبة.

‌‌13 - مسند سفيان.

‌‌14 - كتاب عشرة النساء.

‌‌15 - كتاب السنة.

‌‌16 - كتاب التفسير كبير جدًا.

‌‌17 - كتاب المناسك.

‌‌18 - مسند عائشة.

‌‌19 - مسند أبي هريرة.

--------------------------------------------

‌‌(1) تاريخ التراث العربي (1/ 395) لفؤاد سيزكين.

এই মহান গ্রন্থের তিন খণ্ড ডক্টর মাহমুদ আত-তাহহানের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে, যা রিয়াদের মাকতাবাতুল মাআরিফ প্রকাশ করেছে। আল্লাহ এর সম্পাদক ও প্রকাশককে কিতাবটির সম্পাদনা ও মুদ্রণ সম্পন্ন করার তাওফিক দান করুন।

‌‌৩ - আল-মু'জাম আস-সাগীর; এটি এমন একটি গ্রন্থ যেখানে তিনি তাঁর প্রত্যেক শাইখ থেকে একটি করে হাদিস বর্ণনা করেছেন। এই বইটি বারবার মুদ্রিত হয়েছে।

‌‌৪ - কিতাবুদ দুআ; এটি এক বিশাল খণ্ডে (২৪৬টি পাতা) সলিম আগা লাইব্রেরি (২২৯)-তে পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত আছে এবং আমার কাছে এর একটি ছায়ালিপি রয়েছে‌‌(১)। বর্তমানে এটি তিন খণ্ডে দির-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।

‌‌৫ - মুসনাদুশ শামিয়্যিন; এটি দুই খণ্ডের একটি পাণ্ডুলিপি। আমি মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাইখ আব্দুল কাদির হাবিবুল্লাহ আস-সিন্ধি-র নিকট এর একটি ছায়ালিপি দেখেছি।

‌‌৬ - মাকারিমুল আখলাক; এটি জাহিরিয়া লাইব্রেরি (মাজমু' ৪৬/৮) এবং বার্লিনে (৫৩৯০) পাণ্ডুলিপি হিসেবে রয়েছে‌‌(১)।

‌‌৭ - ফাদলুর রাময়ি ওয়া তা'লীমুহু (তীরন্দাজির শ্রেষ্ঠত্ব ও তার শিক্ষা); এটি কোপরুলু (৩৮৪/২)-তে পাণ্ডুলিপি হিসেবে রয়েছে‌‌(১)।

‌‌৮ - কিতাবুল আওয়াইল; এটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামের (সংযোজন ৬০৪, প্রাচ্য পাণ্ডুলিপি ১৫৩০) পাণ্ডুলিপি‌‌(১)।

‌‌৯ - আল-আহাদিসুত তুওয়াল (দীর্ঘ হাদিসসমূহ); এটি হায়দ্রাবাদের সায়িদিয়া লাইব্রেরিতে (হাদিস নং ৩৫৫) পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত।

তাঁর আরও অন্যান্য রচনা রয়েছে যা হাফেজ যাহাবি 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে:

‌‌১০ - দালাইলুন নুবুওয়াহ (নবুওয়তের প্রমাণাদি)।

‌‌১১ - আন-নাওয়াদির।

‌‌১২ - মুসনাদু শু'বাহ।

‌‌১৩ - মুসনাদু সুফিয়ান।

‌‌১৪ - কিতাবু ইশরাতিল নিসা (নারীদের সাথে আচরণবিধি)।

‌‌১৫ - কিতাবুস সুন্নাহ।

‌‌১৬ - কিতাবুত তাফসির (এটি অত্যন্ত বিশাল)।

‌‌১৭ - কিতাবুল মানাসিক।

‌‌১৮ - মুসনাদু আইশা।

‌‌১৯ - মুসনাদু আবি হুরায়রা।

--------------------------------------------

‌‌(১) ফুয়াদ সেজগিন রচিত 'তারিখুত তুরাসিল আরাবি' (১/৩৯৫)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌20 - مسند أبي ذر

‌‌21 - معرفة الصحابة.

‌‌22 - العلم.

‌‌23 - الرؤية.

‌‌42 - فضل العرب.

‌‌25 - الجود.

‌‌26 - الفرائض.

‌‌27 - مناقب أحمد.

‌‌28 - كتاب الأشربة.

‌‌29 - كتاب الأولوية في خلافة أبي بكر وعمر.

وغير ذلك.

ثم قال الذهبي: -بعد سرد أسماء كتبه- ولم يزل حديث الطبراني رائجًا نافقًا مرغوبًا فيه، لا سيما في زمان صاحبه ابن ربذة فقد سمع منه خلائق، وكتب السلفي عن نحو مئة نفس منهم، ومن أصحاب ابن فاذشاه … وأزدهم الخلق على خاتمتهم فاطمة الجوزدانية الميتة في سنة أربع وعشرين وخمس مئة، وارتحل ابن خليل، والضياء، وأولاد الحافظ عبد الغني، وعدة من المحدثين في طلب حديث الطبراني واستجازوا من بقايا المشيخة لأقاربهم وصغارهم، وجلبوه إلى الشام، ورووه، ونشروه‌‌(1).

 

‌‌وفاته:

عاش الطبراني رحمه الله مئة سنة وعشرة أشهر، وتوفي يوم السبت لليلتين بقيتا من ذي القعدة سنة ستين وثلاث مئة بأصبهان، ودفن يوم الأحد من غده إلى جنب قبر حممة الدوسي‌‌(2) صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم في تربة واحدة‌‌(3).

--------------------------------------------

‌‌(1) سير أعلام النبلاء (16/ 128).

‌‌(2) حممة بن أبي حممة الدوسي صحب النبي صلى الله عليه وسلم، وغزا أصبهان زمان عمر رضي الله عنه، فقال: اللهم إن حممة يزعم أنه يحب لقاءك، اللهم إن كان صادقًا فاعزم له بصدقه، وإن كان كاذبًا فاحمله عليه، وإن كره، اللهم لا ترجع حممة من سفره هذا، فمات بأصبهان (أسد الغابة 2/ 53).

‌‌(3) أخبار أصبهان (1/ 335)، وسير أعلام النبلاء (16/ 129)، وطبقات الحنابلة (2/ 49)، وفيات الأعيان (2/ 141).

‌২০ - মুসনাদে আবু যর

‌২১ - মারিফাতুস সাহাবাহ।

‌২২ - আল-ইলম।

‌২৩ - আর-রুইয়াহ।

‌৪২ - ফাদলুল আরব।

‌২৫ - আল-জুদ।

‌২৬ - আল-ফারায়িদ।

‌২৭ - মানাকিবে আহমদ।

‌২৮ - কিতাবুল আশরিবাহ।

‌২৯ - কিতাবুল আওলাওয়িয়্যাহ ফি খিলাফাতি আবি বকর ওয়া উমর।

এবং আরও অন্যান্য।

অতঃপর আয-যাহাবি তার বইসমূহের নাম তালিকাভুক্ত করার পর বলেন: আত-তাবারানির বর্ণিত হাদিস সর্বদা প্রচলিত, চাহিদাসম্পন্ন এবং কাঙ্ক্ষিত ছিল, বিশেষ করে তার ছাত্র ইবনুর রাবযাহর সময়ে, যার নিকট থেকে অসংখ্য মানুষ হাদিস শ্রবণ করেছেন। আস-সিলাফি তাদের মধ্যে প্রায় একশত ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস লিখে নিয়েছেন, এবং ইবনে ফাযশাহ-র ছাত্রদের থেকে... এবং তাদের মধ্যে সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি ফাতিমা আল-জাওযদানিয়ার নিকট মানুষের প্রচণ্ড ভিড় ছিল, যিনি ৫২৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ইবনে খলিল, আয-যিয়া, হাফেজ আব্দুল গনির সন্তানগণ এবং আরও অনেক মুহাদ্দিস আত-তাবারানির হাদিস অন্বেষণে সফর করেছেন এবং তারা তাদের নিকটাত্মীয় ও ছোটদের জন্য অবশিষ্ট শায়খদের নিকট থেকে ইজাযত গ্রহণ করেছেন, এবং তারা তা শামে নিয়ে গেছেন, বর্ণনা করেছেন এবং প্রচার করেছেন‌‌(১)।

 

‌‌ইন্তেকাল:

আত-তাবারানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি একশ বছর দশ মাস বেঁচে ছিলেন, এবং তিনি ৩৬০ হিজরি সনের যিলকদ মাস শেষ হতে দুই দিন বাকি থাকতে শনিবার দিন আসফাহানে ইন্তেকাল করেন। পরের দিন রবিবার তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী হামামা আদ-দাওসি‌‌(২)-র কবরের পাশে একই ভূমিতে দাফন করা হয়‌‌(৩)।

--------------------------------------------

‌‌(১) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৬/ ১২৮)।

‌‌(২) হামামা বিন আবি হামামা আদ-দাওসি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছিলেন এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে আসফাহান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহ! হামামা দাবি করে যে সে আপনার সাক্ষাৎ ভালোবাসে। হে আল্লাহ! যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে তার এই সত্যের কারণে তাকে সংকল্পবদ্ধ করুন; আর যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তাকে তা অপছন্দ করা সত্ত্বেও সেদিকেই পরিচালিত করুন। হে আল্লাহ! হামামাকে তার এই সফর থেকে ফেরত পাঠাবেন না। অতঃপর তিনি আসফাহানে ইন্তেকাল করেন (উসদুল গাবাহ ২/ ৫৩)।

‌‌(৩) আখবারু আসফাহান (১/ ৩৩৫), সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৬/ ১২৯), তাবাকাতুল হানাবিলাহ (২/ ৪৯), ওয়াফায়াতুল আইয়ান (২/ ১৪১)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌ترجمة الحافظ الهيثمي رحمه الله ‌‌(1)

‌‌اسمه ونسبه:

هو علي بن أبي بكر بن سليمان بن أبي بكر بن عمر بن صالح المصري.

كنيته: أبو الحسن، ولقبه نور الدين.

نسبته: ينتسب بالهيثمي نسبة إلى محلة أبي الهيثم- قرية بمصر‌‌(2) وهو يعرف به أكثر من غيره.

 

‌‌مولده:

ولد في شهر رجب سنة خمس وثلاثين وسبع مئة، ونشأ في بقعة منعزلة هادئة، فإن أباه كان صاحب حانوت في صحراء الفسطاط التي بينها وبين المقطم، فنشأ في تلك البقعة الهادئة. وقرأ القرآن.

 

‌‌طلبه العلم:

لما بلغ من العمر خمسة عشر عامًا مال إلى طلب العلم، فسافر إلى القاهرة بحثًا عن العلم، فتتلمذ على العلماء والمشايخ وشاءت المقادير أن يلتقي الحافظ زين الدين العراقي، فصحبه ولازمه أشد الملازمة، ولم يفارقه في الحضر، ولا في السفر حتى مات، فسمع معه من

--------------------------------------------

‌‌(1) مصادر ترجمته: إبناء الغمر بأبناء العمر (5/ 257)، وذيل تذكرة الحفاظ (372)، ولحظ الألحاظ بذيل طبقات الحفاظ (239)، والضوء اللامع (5/ 201)، وشذرات الذهب (7/ 70)، والبدر الطالع (1/ 441)، وطبقات الحفاظ للسيوطي (54)، وحسن المحاضرة (1/ 362).

‌‌(2) - لسان العرب (9/ 98).

হাফেজ আল-হাইসামি (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী(১)

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আলি বিন আবি বকর বিন সুলাইমান বিন আবি বকর বিন উমর বিন সালিহ আল-মিসরি।

তাঁর কুনিয়াত: আবুল হাসান, এবং উপাধি: নুরউদ্দিন।

তাঁর নিসবত: তিনি আল-হাইসামি হিসেবে পরিচিত, যা মিসরের একটি গ্রাম 'মাহাল্লাত আবি হাইসাম'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত এবং তিনি অন্য যে কোনো পরিচয়ের চেয়ে এই নামেই অধিক পরিচিত।

 

তাঁর জন্ম:

তিনি ৭৩৫ হিজরি সনের রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং এক নির্জন ও শান্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা ফুসতাতের মরুভূমিতে একটি দোকানের মালিক ছিলেন, যা ফুসতাত ও মুকাত্তাম পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত; ফলে তিনি সেই শান্ত জনপদেই বেড়ে ওঠেন। সেখানে তিনি কুরআন পাঠ সম্পন্ন করেন।

 

তাঁর ইলম অন্বেষণ:

যখন তাঁর বয়স পনেরো বছর হলো, তখন তিনি ইলম অর্জনের প্রতি আগ্রহী হলেন এবং ইলমের সন্ধানে কায়রো সফর করলেন। সেখানে তিনি উলামা ও মাশায়েখদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাকদিরের ইচ্ছায় হাফেজ জাইন উদ্দিন আল-ইরাকির সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে। এরপর তিনি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে তাঁর সান্নিধ্যে থাকতে শুরু করেন এবং আবস্থান কিংবা সফর—কোনো অবস্থাতেই আমৃত্যু তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেননি। তাঁর সাথেই তিনি বিভিন্ন উস্তাদ থেকে শ্রবণ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ: ইনবাউল গুমর বি আবনাইিল উমর (৫/২৫৭), জাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ (৩৭২), লাহজুল আলহাজ বি জাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ (২৩৯), আদ-দাউউল লামি (৫/২০১), শাজারাতুজ জাহাব (৭/৭০), আল-বাদরুত তালি (১/৪৪১), সুয়ুতির তাবাকাতুল হুফফাজ (৫৪) এবং হুসনুল মুহাদারা (১/৩৬২)।

(২) লিসানুল আরব (৯/৯৮)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২০)
ابتداء طلبه على أبي الفتح الميدومي‌‌(1)، وابن الملوك‌‌(2) وابن القُطرواني‌‌(3) وغيرهم من المصريين. ومن ابن الخباز‌‌(4) وابن الحموي‌‌(5) وابن قيم الضيائية‌‌(6) وغيرهم من الشاميين.

ثم رحل معه جميع رحلاته، وحج معه جميع حجاته، ورافقه في جميع مسموعه بمصر، والقاهرة، والحرمين، وبيت المقدس، ودمشق، وبعلبك، وحلب، وحماة، وطرابلس وغيرها. وربما سمع الزين بقراءته.

ولم يتؤد أحدهما عن الآخر بسماع أو شيخ إلا في أشياء قليلة.

 

‌‌أعتناء الحافظ العراقي بالهيثمي:

رأى الحافظ العراقي فيه حسن الخلق، والجد في الطلب، وحدة الذهن، وفهمًا ثاقبًا، وذاكرة قوية، فاهتم به كثيرًا، واعتنى به عناية فائقة، فزوجه بنته خديجة، وأفاده بكتبه وتصانيفه، بل قرأ عليه الهيثمي أكثرها. وتخرج به في الحديث، ودربه في إفراد زوائد كتب المعاجم الثلاثة للطبراني. ومسانيد أحمد، والبزار، وأبي يعلى -على الكتب الستة، ثم مر عليها الحافظ العراقي وحررها، وعمل خطبها.

 

‌‌خدمته لشيخه واحترامه له:

عرفانًا بالجميل لشيخه، وتقديرًا لجهوده المخلصة، وتوجيهه السليم. خدمه الحافظ الهيثمي في الحضر والسفر خدمة منقطعة النظير.

--------------------------------------------

‌‌(1) هو محمَّد بن محمَّد بن إبراهيم بن أبي القاسم المدومي صدر الدين، ولد في شعبان سنة 64، ومات في شهر رمضان سنة 754 (الدرر الكامنة 4/ 274)

‌‌(2) هو محمَّد بن إسماعيل بن عبد العزيز بن عيسى المعروف بابن الملوك ولد سنة 674، ومات بالقاهرة في جمادي الأولى سنة 756 (الدرر الكامنة).

‌‌(3) هو محمَّد بن علي بن عبد العزيز بن مصطفى قطب الدين القُطرواني المصري، ولد بعد السبعين، ومات في سابع عشر ذي الحجة سنة 760 (الدرر الكامنة 4/ 187).

‌‌(4) هو محمَّد بن إسماعيل بن إبراهيم بن الخباز ولد في رجب سنة 667 وتوفي سنة 756 (الدرر الكامنة 4/ 4، وشذرات الذهب 6/ 181).

‌‌(5) هو محمَّد بن إسماعيل بن عمر بن المسلم بن حسن بن نصر بن يحيى الدمشقي، عز الدين بن

ضياء الدين بن الحموي ولد سنة 680 (الدرر الكامنة 4/ 9).

‌‌(6) هو تقي الدين أبو عمد عبد الله بن محمَّد بن إبراهيم بن نصير المقدسي، الصالحي الزوري العطار مسند الوقت ولد في أواخر سنة 669، وتوفي سنة 761 (الدرر الكامنة 2/ 388، والشذرات 6/ 191

তাঁর ইলম অর্জনের সূচনা হয়েছিল আবুল ফাতহ আল-মাইদুমি‌‌(১), ইবনুল মুলুক‌‌(২), ইবনুল কুত্রাওয়ানি‌‌(৩) এবং অন্যান্য মিশরীয় আলেমদের নিকট। আর ইবনুল খাব্বাজ‌‌(৪), ইবনুল হামাউই‌‌(৫), ইবনু কায়্যিম আদ-দিয়াইয়্যাহ‌‌(৬) এবং অন্যান্য শামী (সিরীয়) আলেমদের নিকট থেকে।

অতঃপর তিনি তাঁর (উস্তাদের) সাথে তাঁর সকল সফরে সফর করেছেন, তাঁর সাথে তাঁর সকল হজ সম্পাদন করেছেন এবং মিশর, কায়রো, হারামাইন (মক্কা ও মদিনা), বায়তুল মাকদিস, দামেস্ক, বালবাক্ক, আলেপ্পো, হামাত, ত্রিপোলি ও অন্যান্য স্থানে তাঁর সকল শ্রবণ আসরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন। কখনও কখনও যাইন (যাইনুদ্দিন ইরাকি) তাঁর পাঠের মাধ্যমে হাদিস শ্রবণ করতেন।

আর অল্প কিছু বিষয় ছাড়া তাঁদের কেউ একে অপরের চেয়ে হাদিস শ্রবণ বা উস্তাদের ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন না।

 

‌‌হায়সামির প্রতি হাফিজ ইরাকির যত্ন ও মনোযোগ:

হাফিজ ইরাকি তাঁর মাঝে সুন্দর চরিত্র, জ্ঞান অর্জনে একনিষ্ঠতা, তীক্ষ্ণ মেধা, গভীর বোধশক্তি এবং প্রখর স্মরণশক্তি দেখতে পান। তাই তিনি তাঁর প্রতি অনেক গুরুত্ব প্রদান করেন এবং অত্যন্ত যত্ন নেন। এমনকি তিনি তাঁর নিজ কন্যা খাদিজাকে তাঁর সাথে বিয়ে দেন এবং তাঁর কিতাব ও রচনাবলী দ্বারা তাঁকে উপকৃত করেন; বরং হায়সামি তাঁর নিকট সেগুলোর অধিকাংশ পাঠ করেন। তাঁর মাধ্যমেই তিনি হাদিস শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি তাঁকে তাবারানির তিন মু’জাম এবং আহমাদ, বাযযার ও আবু ইয়া’লার মুসনাদ গ্রন্থসমূহের সেই হাদিসগুলো পৃথক করার প্রশিক্ষণ দেন যা কুতুবে সিত্তাহ-তে নেই (যা ‘যাওয়ায়েদ’ নামে পরিচিত)। পরবর্তীতে হাফিজ ইরাকি সেগুলো পুনরায় দেখে পরিমার্জন করেন এবং সেগুলোর ভূমিকা লিখে দেন।

 

‌‌উস্তাদের খেদমত ও তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন:

উস্তাদের ইহসানের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এবং তাঁর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মূল্যায়নে হাফিজ হায়সামি আবাসে ও প্রবাসে (সফরে ও অবস্থানে) তাঁর এমন খেদমত করেছেন যার নজির মেলা ভার।

--------------------------------------------

‌‌(১) তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন আবুল কাসিম আল-মাইদুমি সদরুদ্দিন, তিনি ৬৬৪ হিজরির শাবান মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৫৪ হিজরির রমজান মাসে ইন্তেকাল করেন (আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/২৭৪)।

‌‌(২) তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন আব্দুল আজিজ বিন ঈসা, যিনি ইবনুল মুলুক নামে পরিচিত। তিনি ৬৭৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৫৬ হিজরির জমাদিউল উলা মাসে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন (আদ-দুরারুল কামিনাহ)।

‌‌(৩) তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন আব্দুল আজিজ বিন মুস্তফা কুতুবুদ্দিন আল-কুত্রাওয়ানি আল-মিসরি। তিনি ৬৭০ হিজরির পরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৬০ হিজরির ১৭ই জিলহজ ইন্তেকাল করেন (আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/১৮৭)।

‌‌(৪) তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম ইবনুল খাব্বাজ। তিনি ৬৬৭ হিজরির রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৫৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/৪ এবং শাযারাতুয যাহাব ৬/১৮১)।

‌‌(৫) তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন উমর বিন আল-মুসলিম বিন হাসান বিন নাসর বিন ইয়াহইয়া আদ-দিমাশকি, ইজ্জুদ্দিন বিন দিয়াউদ্দীন ইবনুল হামাউই। তিনি ৬৮০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন (আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/৯)।

‌‌(৬) তিনি হলেন তাকিউদ্দীন আবু আমদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন নাসির আল-মাকদিসি আস-সালিহি আয-যাওরি আল-আত্তার, সমকালের সর্বোচ্চ হাদিস বর্ণনাকারী (মুসনিদুল ওয়াক্ত)। তিনি ৬৬৯ হিজরির শেষের দিকে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৬১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/৩৮৮ এবং শাযারাত ৬/১৯১)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২১)
قال الحافظ ابن حجر: وقد عاشرتهما مدة، فلم أرهما يتركان قيام الليل، ورأيت من خدمته لشيخنا (العراقي) وتأدبه معه من غير تكلف لذلك ما لم أره لغيره، ولا أظن أحدًا يقوى عليه‌‌(1).

وقال -أيضًا- كان لا يسأم ولا يضجر من خدمة الشيخ‌‌(2).

وقال البرهان الحلبي: غالب نهاره في اشتغال وكتابة مع ملازمة خدمة الشيخ في أمر وضوئه، وثيابه، ولا يخاطبه إلا بسيدي حتى كان في أمر خدمته كالعبد‌‌(3).

ولم يزل على تقدير شيخه، وتوقيره حتى بعد وفاته.

قال العلامة السخاوي: "بعد وفاة الشيخ أكثروا عنه، ومع ذلك فلم يغير حاله، ولاتصدر، ولا تمشيخ، وكان مع كونه شريكًا للشيخ يكتب عنه الأمالي"، بحيث كتب عنه جميعها، وربما استملى عليه، ويحدث بذلك عن الشيخ، ولا عن نفسه إلا لمن يضايقه‌‌(4).

 

‌‌أخلاقه وصفاته:

كان رحمه الله نموذج سلفنا الصالح في الزهد، والتقوى، والتواضع، ومحبة الخير للناس، وغير ذلك من الصفات الحميدة.

قال ابن حجر رحمه الله: كان رحمه الله هينًا لينًا خيرًا دينًا محبًا في أهل الخير، لا يسأم ولا يضجر من خدمة الشيخ، وكتابة الحديث، كان سليم الفطرة، كثير الخير، كثير الاحتمال للأذى- خصوصًا من جماعة الشيخ‌‌(5).

وقال ابن فهد: وكان -رحمة الله تعالى عليه- إمامًا عالمًا حافظًا ورعًا زاهدًا متقشفًا متواضعًا خيرًا هينًا لينًا ساكنًا، سليم الفطرة، شديد الإنكار للمنكر، كثير الاحتمال محبًا للغرباء، وأهلُ الدين والعلم والحديث، كثير التودد إلى الناس مع العبادة والاقتصاد، والتعفف، وكان رحمه الله من محاسن القاهرة، ومن أهل الخير، غالب أوقاته في اشتغال وكتابة، كثير التلاوة بالليل والتهجد.

--------------------------------------------

‌‌(1) المعجم المفهرس (. . .)، والضوء اللامع (5/ 202)

‌‌(2) إنباء الغمر (5/ 257).

‌‌(3) الضوء اللامع (5/ 202).

‌‌(4) الضوء اللامع (5/ 201).

‌‌(5) إنباء الغمر (5/ 257).

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: আমি দীর্ঘকাল তাদের উভয়ের সাথে কাটিয়েছি, আমি তাদেরকে কখনো রাতের সালাত (কিয়ামুল লাইল) ত্যাগ করতে দেখিনি। আমাদের শাইখ (আল-ইরাকি)-এর প্রতি তার যে সেবা এবং তার সাথে যে অকৃত্রিম আদব ও শিষ্টাচার আমি দেখেছি, তা অন্য কারো মধ্যে দেখিনি। আমার মনে হয় না অন্য কেউ এমনটি করতে সমর্থ হবে‌‌(১).

তিনি আরও বলেন—শাইখের সেবা করতে গিয়ে তিনি কখনো ক্লান্ত বা বিরক্ত হতেন না‌‌(২).

বুরহান আল-হালাবি বলেন: তার দিনের অধিকাংশ সময় কাটত জ্ঞানচর্চা ও লেখালেখিতে, সেই সাথে শাইখের অজু এবং পোশাক-পরিচ্ছদ দেখাশোনার সেবায় তিনি সর্বদা নিয়োজিত থাকতেন। তিনি শাইখকে 'আমার নেতা' ব্যতীত সম্বোধন করতেন না, এমনকি শাইখের সেবার ক্ষেত্রে তিনি একজন দাসের ন্যায় ছিলেন‌‌(৩).

শাইখের ইন্তেকালের পরেও তার প্রতি সম্মান ও মর্যাদাবোধের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আল্লামা সাখাবি বলেন: "শাইখের ইন্তেকালের পর লোকজন তার নিকট প্রচুর ভিড় করতে থাকে, তা সত্ত্বেও তিনি নিজের অবস্থার কোনো পরিবর্তন করেননি। তিনি কোনো অহংকার করেননি এবং নিজেকে বড় শাইখ হিসেবে জাহির করেননি। শাইখের সমকক্ষ হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার কাছ থেকে 'আমালি' (শাইখের শ্রুতিলিপি) লিখে নিতেন", এমনকি তিনি শাইখের সমস্ত আমালি লিখেছিলেন এবং মাঝে মাঝে শাইখ তাকে পাঠ করে শোনাতেন। তিনি শাইখের উদ্ধৃতি দিয়েই হাদিস বর্ণনা করতেন, নিজের পক্ষ থেকে কিছুই বলতেন না, যতক্ষণ না কেউ তাকে সে বিষয়ে পীড়াপীড়ি করত‌‌(৪).

 

‌‌তার চরিত্র ও গুণাবলি:

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বৈরাগ্য, তাকওয়া, বিনয় এবং মানুষের প্রতি কল্যাণকামিতার ক্ষেত্রে আমাদের সালাফে সালেহীনের এক অনন্য আদর্শ ছিলেন এবং তার মধ্যে আরও অনেক প্রশংসনীয় গুণাবলি ছিল।

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন অত্যন্ত নম্র, কোমল স্বভাবের, পরোপকারী এবং দ্বীনদার; তিনি নেককার ব্যক্তিদের ভালোবাসতেন। শাইখের সেবা এবং হাদিস অনুলিখনে তিনি কখনো ক্লান্তি বা বিরক্তি অনুভব করতেন না। তিনি ছিলেন নির্মল স্বভাবের ও অত্যন্ত কল্যাণকামী এবং দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার অসামান্য ক্ষমতা তার ছিল—বিশেষ করে শাইখের সঙ্গীদের পক্ষ থেকে আসা আচরণের ক্ষেত্রে‌‌(৫).

ইবনে ফাহাদ বলেন: তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, হাফেজ, পরহেজগার, দুনিয়াবিমুখ, কৃচ্ছ্রসাধনকারী, বিনয়ী, শান্ত এবং অমায়িক স্বভাবের। তিনি ছিলেন সুস্থ স্বভাবের অধিকারী এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আপোসহীন। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন এবং আগন্তুক মুসাফির ও দ্বীন, জ্ঞান ও হাদিস চর্চাকারীদের ভালোবাসতেন। ইবাদত, পরিমিতিবোধ ও পবিত্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি তিনি মানুষের সাথে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ করতেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন কায়রোর সৌন্দর্যস্বরূপ এবং সজ্জন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তার সময়ের অধিকাংশ ব্যয় হতো জ্ঞানচর্চা ও লেখালেখিতে। তিনি রাতের বেলা প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত ও তাহাজ্জুদ আদায় করতেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) আল-মুজাম আল-মুফাহরাস (...), এবং আদ-দউ আল-লামি (৫/ ২০২)

‌‌(২) ইনবাউল গুমর (৫/ ২৫৭)।

‌‌(৩) আদ-দউ আল-লামি (৫/ ২০২)।

‌‌(৪) আদ-দউ আল-লামি (৫/ ২০১)।

‌‌(৫) ইনবাউল গুমর (৫/ ২৫৭)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২২)
وكان -تغمده الله تعالى برحمته- استحضاره كثيرًا للمتون، يجيب عنها بسرعة، فيعجب ذلك شيخنا الحافظ زين الدين العراقي، وربما رجع في حفظ المتون عليهه‌‌(1).

وقال السخاوي: وكان عجبًا في الدين والتقوى والزهد، والإقبال على العلم والعبادة والأوراد، وخدمة الشيخ، وعدم مخالطة الناس في شي من الأمور، والمحبة في الحديث وأهله.

وقال -أيضأ- والثناء على دينه وزهده وورعه ونحو ذلك كثير جدًا، بل هو في ذلك كلمة اتفاق‌‌(2).

 

‌‌مؤلفاته:

تقدمت الإشارة أن الحافظ العراقي أشار عليه بتخريج زوائد حسند أحمد، وساعده على ذلك بكتبه، وآرائه السديدة، ومشورته المفيدة، وشجعه بتحريره، وكتابة خطبه ونحو ذلك، حتى حبب إليه هذا العمل، واختص بجمع الأحاديث الزائدة على الكتب الستة، وبلغ ما كتبه في الزوائد ثمانية كتب- وهي:

‌‌1 - "غاية المقصد في زوائد مسند أحمد". جمع فيه ما انفرد به الإِمام أحمد في مسنده عن الكتب الستة من حديث بتمامه أو من حديث فيه زيادة على ما في الكتب الستة، ورتبها على أبواب الفقه. وقد حقق النصف الأول منه، قام بتحقيقه أخونا الفاضل المرحوم الدكتور سيف الرحمن مصطفى، وأخونا الدكتور حمزة الهندي، ونالا به درجة الدكتوراه من جامعة أم القرى- حرسها الله-. بمكة المكرمة.

‌‌2 - "كشف الأستار عن مسند البزار". جمع فيه زوائد مسند البزار على الكتب الستة، وقد طبع هذا الكتاب في أربعة أجزاء بتحقيق فضيلة الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي.

‌‌3 - "المقصد العلي في زوائد أبي يعلى الموصلي". خرج فيه الهيثمي رحمه الله زوائد مسند أبي يعلى على الكتب الستة، ورتبها على أبواب الفقه، وقد طبع منه الجزء الأول بتحقيق الدكتور نايف بن هاشم الدعيش، وأخذ عليه درجة الدكتوراه من الجامعة الإِسلامية -حرسها الله- بالمدينة المنورة. ووفقه الله لإخراج أجزائه الباقية.

--------------------------------------------

‌‌(1) لحظ الألحاظ (239).

‌‌(2) الضوء اللامع (5/ 201، 202).

তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন—প্রচুর পরিমাণ ‘মতন’ (মূল পাঠ) মুখস্থ রাখতেন এবং অত্যন্ত দ্রুত সেগুলোর উত্তর দিতেন। আমাদের শাইখ হাফেজ যাইনুদ্দীন আল-ইরাকি এটি দেখে বিস্মিত হতেন এবং কখনো কখনো মতন মুখস্থের বিষয়ে তাঁর শরণাপন্ন হতেন‌‌(১).

আস-সাখাভি বলেন: তিনি দ্বীনদারী, তাকওয়া, দুনিয়াত্যাগ (যুহদ), জ্ঞানার্জন, ইবাদত, অজিফা পালন, শাইখের খিদমত, লোকজনের সাথে কোনো বিষয়ে মেলামেশা না করা এবং হাদিস ও হাদিস বিশারদদের প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

তিনি আরও বলেন: তাঁর দ্বীনদারী, দুনিয়াত্যাগ, পরহেজগারী এবং এই জাতীয় গুণাবলির প্রশংসা অত্যধিক, বরং এই বিষয়গুলোতে তিনি একমত হওয়ার মতো ব্যক্তিত্ব ছিলেন‌‌(২).

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, হাফেজ আল-ইরাকি তাঁকে ‘মুসনাদে আহমাদ’-এর জাওয়াইদ (অতিরিক্ত হাদিসসমূহ) সংকলনের পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁকে নিজের কিতাবসমূহ, সঠিক মতামত ও উপকারী পরামর্শের মাধ্যমে সাহায্য করেছিলেন। তিনি তাঁকে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকরণ, ভূমিকা লিখন ইত্যাদির মাধ্যমে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত এই কাজটির প্রতি তাঁর অন্তরে ভালোবাসা জন্মে যায়। তিনি কুতুবে সিত্তা (ছয়টি মূল কিতাব)-এর অতিরিক্ত হাদিসসমূহ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিশিষ্টতা লাভ করেন এবং জাওয়াইদ বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা আটটিতে পৌঁছেছে—সেগুলো হলো:

‌‌১ - “গায়াতুল মাকসাদ ফি জাওয়াইদি মুসনাদি আহমাদ”। এতে তিনি মুসনাদে আহমাদ-এর সেই হাদিসগুলো সংগ্রহ করেছেন যা ইমাম আহমাদ কুতুবে সিত্তার বিপরীতে এককভাবে বর্ণনা করেছেন—তা পূর্ণাঙ্গ হাদিস হোক কিংবা কুতুবে সিত্তায় থাকা হাদিসের অতিরিক্ত অংশ হোক। তিনি কিতাবটি ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। এর প্রথমার্ধ তাহকিক করা হয়েছে; এটি তাহকিক করেছেন আমাদের শ্রদ্ধেয় ভাই মরহুম ডক্টর সাইফুর রহমান মোস্তফা এবং আমাদের ভাই ডক্টর হামজা আল-হিন্দি। তাঁরা এর মাধ্যমে মক্কাতুল মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়—আল্লাহ একে রক্ষা করুন—থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন।

‌‌২ - “কাশফুল আস্তার আন মুসনাদিল বাজ্জার”। এতে তিনি কুতুবে সিত্তার অতিরিক্ত মুসনাদে বাজ্জারের হাদিসগুলো সংগ্রহ করেছেন। এই কিতাবটি শাইখ হাবিবুর রহমান আল-আজমির তাহকিকে চার খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

‌‌৩ - “আল-মাকসাদুল আলি ফি জাওয়াইদি আবি ইয়ালা আল-মাওসিলি”। এতে আল-হাইসামি (রহিমাহুল্লাহ) কুতুবে সিত্তার অতিরিক্ত মুসনাদে আবু ইয়ালার হাদিসগুলো বের করেছেন এবং সেগুলো ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী সাজিয়েছেন। এর প্রথম খণ্ড ডক্টর নায়েফ বিন হাশিম আদ-দুঈশের তাহকিকে মুদ্রিত হয়েছে এবং তিনি এর মাধ্যমে মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়—আল্লাহ একে রক্ষা করুন—থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। আল্লাহ তাঁকে অবশিষ্ট খণ্ডগুলো বের করার তৌফিক দান করুন।

--------------------------------------------

‌‌(১) লাহজুল আলহাজ (২৩৯)।

‌‌(২) আদ-দাউউল লামি (৫/ ২০১, ২০২)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌4 - "البدر المنير في زوائد المعجم الكبير". جمع فيه رحمه الله زوائد المعجم الكبير للطبراني، على الكتب الستة -وهو مخطوط- كما ذكره الشيخ الكتاني في الرسالة المستطرفة (ص 140) في ثلاث مجلدات.

‌‌5 - "مجمع البحرين في زوائد المعجمين".-الأوسط والصغير- للإمام الطبراني، وهو الكتاب الذي أقوم بتحقيقه، وتقديمه بين يدي القراء -إن شاء الله- وسيأتي وصفه والكلام عليه قريبًا.

‌‌6 - "مجمع الزوائد ومنبع الفوائد". ولما فرغ الحافظ الهيثمي رحمه الله من جمع زوائد مسند أحمد، ومسند البزار، ومسند أبي يعلى، وزوائد المعاجم الثلاثة للطبراني" جمع زوائد هذه الكتب الستة في كتاب سماه مجمع الزوائد ومنبع الفوائد، وحذف أسانيدها، وتكلم عقب كل حديث لبيان درجة الحديث من صحة، وحسن، وضعف، وغير ذلك.

وهذا الكتاب من أهم كتب السنة بعد الأصول الستة، ومن يطلع عليه يخضع لجلالة قدر مؤلفه في الحديث، وهو مطبوع في عشرة أجزاء.

‌‌7 - "موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان". جمع فيه المؤلف زوائد صحيح ابن حبان على الصحيحين -صحيح البخاري، وصحيح مسلم- ورتبها على الأبواب الفقهية. وقد طبع هذا الكتاب مرارًا.

‌‌8 - "بغية الباحث عن زوائد مسند الحارث". مخطوط.

وللهيثمي رحمه الله مؤلفات في ترتيب بعض الكتب التي كانت تصعب الاستفادة منها إلاَّ بجهد، وصرف وقت طويل، فرتبها على حروف الهجاء ليسهل على الباحث الرجوع إليها بيسر وسهولة وبجهد أقل، ووقت أقصر. فمنها:

‌‌9 - "ترتيب ثقات ابن حبان". مخطوط‌‌(1).

‌‌10 - "ترتيب ثقات العجلي"، وقد طبع هذا الكتاب في مجلدين بتحقيق أخينا الفاضل الشيخ عبد العليم بن عبد العظيم البستوي، وقد بذل في تحقيقه ودراسته جهدًا كبيرًا يشكر عليه.

--------------------------------------------

‌‌(1) المقصد العلي (ص 56).

‌ ৪ - "আল-বদরুল মুনীর ফী যাওয়াইদিল মু'জামিল কাবীর"। তিনি এতে —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— কুতুবে সিত্তাহ বা প্রসিদ্ধ ছয়টি গ্রন্থের অতিরিক্ত ইমাম তাবারানির 'আল-মু'জামুল কাবীর'-এর হাদিসসমূহ সংগ্রহ করেছেন। এটি একটি পাণ্ডুলিপি—যেমনটি শায়খ কাত্তানি 'আর-রিসালাতুল মুসতাতরিফাহ' (পৃষ্ঠা ১৪০) গ্রন্থে তিন খণ্ডে উল্লেখ করেছেন।

‌ ৫ - "মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মু'জামাইন"। এটি ইমাম তাবারানির দুই মু'জাম—আল-আওসাত এবং আস-সাগীর—এর অতিরিক্ত হাদিসসমূহের সংকলন। এটি সেই কিতাব যা আমি সম্পাদনা করছি এবং ইনশাআল্লাহ পাঠকদের সামনে তা পেশ করব। অচিরেই এর বর্ণনা এবং এ সম্পর্কিত আলোচনা আসবে।

‌ ৬ - "মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ"। যখন হাফেজ হাইসামি —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— মুসনাদে আহমদ, মুসনাদে বাযযার, মুসনাদে আবু ইয়ালা এবং তাবারানির তিনটি মু'জামের অতিরিক্ত হাদিসসমূহ সংগ্রহের কাজ শেষ করলেন, তখন তিনি এই ছয়টি গ্রন্থের অতিরিক্ত হাদিসগুলোকে 'মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ' নামক একটি কিতাবে একত্রিত করলেন। তিনি এর সনদগুলো বাদ দিয়েছেন এবং প্রতিটি হাদিসের শেষে হাদিসের মান অর্থাৎ সহীহ, হাসান, যয়ীফ ইত্যাদি বর্ণনা করেছেন।

এই কিতাবটি মূল ছয়টি গ্রন্থের (উসূলে সিত্তাহ) পরে সুন্নাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। যে ব্যক্তি এটি অধ্যয়ন করবে, সে হাদিস শাস্ত্রে এর লেখকের সুউচ্চ মর্যাদার সামনে মস্তক অবনত করবে। এটি দশ খণ্ডে মুদ্রিত।

‌ ৭ - "মাওয়ারিদুয যামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান"। লেখক এতে সহীহায়েন—সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম—এর অতিরিক্ত 'সহীহ ইবনে হিব্বান'-এর হাদিসগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলোকে ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। এই কিতাবটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে।

‌ ৮ - "বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস"। এটি একটি পাণ্ডুলিপি।

হাইসামি —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— এর এমন কিছু রচনা রয়েছে যেখানে তিনি এমন কিছু কিতাব বিন্যস্ত করেছেন যা থেকে উপকৃত হওয়া কঠিন পরিশ্রম এবং দীর্ঘ সময় ব্যয় করা ছাড়া সম্ভব ছিল না। তিনি সেগুলোকে বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজিয়েছেন যাতে গবেষকদের জন্য তা থেকে তথ্য বের করা সহজ ও কম সময়সাপেক্ষ হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌ ৯ - "তারতীবু সিকাত ইবনে হিব্বান"। এটি পাণ্ডুলিপি‌ (১)।

‌ ১০ - "তারতীবু সিকাতিল ইজলি"। এই কিতাবটি আমাদের শ্রদ্ধেয় ভাই শায়খ আব্দুল আলীম বিন আব্দুল আযীম আল-বস্তাভীর সম্পাদনায় দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। তিনি এর সম্পাদনা ও গবেষণায় অনেক বড় শ্রম দিয়েছেন যার জন্য তিনি প্রশংসার যোগ্য।

--------------------------------------------

‌ (১) আল-মাকসাদুল আলী (পৃষ্ঠা ৫৬)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌11 - ترتيب الأحاديث المسندة في حليه الأولياء للحافظ أبي نعيم ورتبها على الأبواب، ومات عنه وهو مسود، فبيضه وأكمله ابن حجر رحمه الله‌‌(1).

كما رتب:

‌‌12 - أحاديث الغيلانيات.

‌‌13 - وأحاديث الخلعيات.

‌‌14 - وفوائد أبي تمام.

‌‌15 - والأفراد للدارقطني.

رتبها على الأبواب.

ذكر ذلك الحافظ السخاوي في الضوء اللامع‌‌(2).

 

‌‌وفاته:

توفي رحمه الله في ليلة الثلاثاء التاسع والعشرين مع شهر رمضان المعظم سنة سبع وثمان مئة. ولم يخلف بعده مثله‌‌(3).

--------------------------------------------

‌‌(1) لحظ الألحاظ (239)، والضوء اللامع (5/ 201).

 

‌‌(2) 5/ 201.

‌‌(3) لحظ الألحاظ (ص 239).

১১ - হাফেজ আবু নুআইম-এর 'হিলইয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থের মুসনাদ হাদিসসমূহের বিন্যাস; তিনি এগুলোকে অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। তিনি এটি খসড়া অবস্থায় রেখে ইন্তেকাল করেন, অতঃপর ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) এটিকে পরিমার্জিত পাণ্ডুলিপিতে রূপান্তর করেন ও পূর্ণাঙ্গ করেন(১)।

তেমনিভাবে তিনি বিন্যস্ত করেছেন:

১২ - আল-গাইলানিয়্যাত-এর হাদিসসমূহ।

১৩ - আল-খুলায়িয়্যাত-এর হাদিসসমূহ।

১৪ - আবু তাম্মাম-এর ফাওয়াইদ।

১৫ - আদ-দারাকুতনি-এর আল-আফরাদ।

তিনি এগুলোকে অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন।

হাফেজ সাখাভি 'আদ-দাউ আল-লামি' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন(২)।

 

মৃত্যু:

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ৮০৭ হিজরি সনের মহিমান্বিত রমজান মাসের ঊনত্রিশতম দিবাগত মঙ্গলবার রাতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পরে তাঁর মতো আর কেউ স্থলাভিষিক্ত হননি(৩)।

--------------------------------------------

(১) লাহযুল আলহায (২৩৯), এবং আদ-দাউ আল-লামি (৫/ ২০১)।

 

(২) ৫/ ২০১।

(৩) লাহযুল আলহায (পৃ. ২৩৯)।

(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌كتاب "مجمع البحرين في زوائد المعجمين" للهيثمي رحمه الله-

هذا الكتاب يحتوي بين طياته على زوائد المعجم الأوسط، والمعجم الصغير "للإمام الطبراني رحمه الله، خرج فيه الحافظ الهيثمي رحمه الله ما انفرد به الطبراني فيهما عن أهل الكتب الستة من حديث بتمامه أو من حديث فيه بعض الزيادة عليهم، مميزًا بقوله: أخرجه فلان خلا كذا، أو ذكرته لأجل كذا، ولم أره بهذا السياق" وشبه هذا.

وخرج فيه -أيضًا- ما رواه الترمذي في الشمائل، والنسائي في الكبير مما ليس في المجتبى الصغير، كعمل يوم وليلة، والتفسير والسير والمناقب، والطب، وكثير من عشرة النساء وشيء من الصيام.

فأخرج الحافظ الهيثمي، تلك الأحاديث الزائدة على الكتب الستة من المعجم الأوسط، والمعجم الصغير للطبراني بأسانيدها، وقسمها على الكتب، بدءًا بكتاب الإيمان، وإنهاء بكتاب الزهد.

ثم قسم كل كتاب على الأبواب الفقهية، وترجم لكل باب ترجمة دقيقة، وذكر فيه من حديث أو أكثر ما يناسب تلك الترجمة، ليسهل على الباحث الكشف عليه، والرجوع إليه في وقت قصير.

 

‌‌نسخ الكتاب:

قد عثرت على نسختين للكتاب المذكور:

‌‌1 - نسخة كاملة بمكتبة الحرم المكي برقم 812 حديث، ولدي الآن نسخة مصورة منها.
আল-হাইসামি (রহিমাহুল্লাহ) রচিত গ্রন্থ "মাজমাউল বাহরাইন ফি জাওয়ায়িদিল মুজামাইন"-

এই গ্রন্থটি ইমাম তাবারানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর "আল-মুজামুল আওসাত" এবং "আল-মুজামুস সাগির"-এর অতিরিক্ত (জাওয়ায়িদ) হাদিসসমূহকে নিজের মাঝে ধারণ করেছে। হাফিজ আল-হাইসামি (রহিমাহুল্লাহ) এতে সেইসব হাদিস সংকলন করেছেন যেগুলোর বর্ণনায় তাবারানি এই দুই গ্রন্থে কুতুবে সিত্তাহ-এর (ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থ) লেখকদের তুলনায় একক ছিলেন—চাই তা পূর্ণাঙ্গ হাদিস হোক কিংবা এমন হাদিস যাতে তাঁদের বর্ণনার তুলনায় কিছুটা অতিরিক্ত অংশ রয়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে এভাবে পার্থক্য নির্দেশ করেছেন: "অমুক এটি বর্ণনা করেছেন কেবল এই অংশটুকু ব্যতীত," অথবা "আমি এটি অমুক কারণে উল্লেখ করেছি," অথবা "আমি একে এই ধারাবাহিকতায় দেখিনি" এবং এই জাতীয় শব্দাবলি দ্বারা।

তিনি এতে আরও অন্তর্ভুক্ত করেছেন—তিরমিজি-এর "শামায়েল" এবং নাসাঈ-এর "আস-সুনানুল কুবরা"-এর সেই হাদিসগুলো যা "আল-মুজতাবা আস-সাগির"-এ নেই; যেমন: দিন ও রাতের আমল, তাফসির, সিয়ার (জীবনী), মানাকিব (মর্যাদা), তিব্ব (চিকিৎসা), নারী সংসর্গ বিষয়ক অনেক বিষয় এবং রোজা সম্পর্কিত কিছু বিষয়।

হাফিজ আল-হাইসামি তাবারানি-র "আল-মুজামুল আওসাত" এবং "আল-মুজামুস সাগির" থেকে কুতুবে সিত্তাহ-এর অতিরিক্ত ওই হাদিসগুলো সেগুলোর সনদসহ সংকলন করেছেন এবং সেগুলোকে বিভিন্ন মূল অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন, যা ঈমান অধ্যায় দিয়ে শুরু হয়ে যুহদ (বিরাগ) অধ্যায়ের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।

এরপর তিনি প্রতিটি মূল অধ্যায়কে ফিকহি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের জন্য সূক্ষ্ম শিরোনাম দিয়েছেন। সেখানে তিনি এক বা একাধিক এমন হাদিস উল্লেখ করেছেন যা ওই শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যাতে গবেষকের জন্য তা খুঁজে বের করা এবং অল্প সময়ে সেটির কাছে ফিরে আসা সহজ হয়।

 

গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ:

আমি উক্ত গ্রন্থের দুটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছি:

১ - মক্কা হারামের লাইব্রেরিতে হাদিস বিভাগে ৮১২ নম্বরে সংরক্ষিত একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি, বর্তমানে আমার কাছে সেটির একটি ছায়ালিপি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وجاء عنوان الكتاب على غلافه كالتالي.

"كتاب مجمع البحرين في زوائد المعجمين، للإمام الحافظ نور الدين الهيثمي رحمه الله.

وتقع هذه النسخة في خمس مئة وثمان صفحات كبيرة، وكل صفحة فيها 39 سطرًا.

خطها دقيق ومقروء، وفيها بعض الأخطاء الفنية في رسم الكلمات التي لاتخفى على من مارس قراءة المخطوطات.

لم يذكر ناسخ النسخة اسمه لا في أول الكتاب، ولا في آخره.

وأما تاريخ نسخه فهو سنة ثمان مئة وسبع وخمسين الهجرية بالقاهرة -كما جاء في آخر الكتاب.

‌‌2 - نسخة بسرائي أحمد الثالث بتركيا، برقم 463، ولدي نسخة مصورة منها، وهي تتمثل نصف الكتاب، وعنوان الكتاب على الغلاف كالتالي:

"الجزء الأول -وهو النصف- من زوائد معجمي الطبراني -الأوسط والصغير- للحافظ أبي الحسن الهيثمي رحمة الله عليه".

ويقع هذا الجزء في 232 ورقة، وكل ورقة فيها صفحتان، وكل صفحة تشتمل على 25 سطرًا.

خطها جيد، والأخطاء فيها قليلة جدًا.

وكاتب النسخة، وما لكها: هو محمَّد بن أحمد المظفري -وهو رجل ثقة من أهل العلم ترجم له الحافظ السخاوي في الضوء اللامع (7/ 76) وقال: ولد سنة تسع وسبعين (وثمان مئة) بسويقة المظفر، وحفظ القرآن، والبعض من كل من الحاوي، والمنهاج، وألفيّة ابن مالك وغير ذلك، إلى أن قال: وكتبت له إجازة في كراسة.

وأما تاريخ نسخه فلم يذكر لا في أول الكتاب، ولا في آخره.

ويظهر بالمقارنة بين النسختين -نسخة الحرم المكي، ونسخة تركيا أن نسخة تركيا أصح من نسخة الحرم المكي، كماتختلف هذه النسخة عن نسخة الحرم المكي في الأمور التالية:
বইয়ের প্রচ্ছদে এর শিরোনাম নিম্নরূপভাবে এসেছে।

"ইমাম হাফিজ নূরুদ্দীন আল-হাইতামী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বিরচিত 'মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মু'জামাইন'।

এই পাণ্ডুলিপিটি পাঁচশত আটটি বড় পৃষ্ঠার সমন্বয়ে গঠিত এবং প্রতিটি পৃষ্ঠায় ৩৯টি করে লাইন রয়েছে।

এর হস্তলিপি সূক্ষ্ম ও পঠনযোগ্য, তবে এতে শব্দ লিখনের ক্ষেত্রে কিছু কৌশলগত ভুল রয়েছে যা প্রাচীন পাণ্ডুলিপি পাঠে অভিজ্ঞ ব্যক্তির নিকট গোপন থাকবে না।

পাণ্ডুলিপিটির নকলকারী বা অনুলিপিকারক বইয়ের শুরুতে বা শেষে কোথাও নিজের নাম উল্লেখ করেননি।

আর এটি নকল করার তারিখ হলো হিজরি আটশত সাতান্ন সাল, যা কায়রোতে সম্পন্ন হয়েছে—যেমনটি বইয়ের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে।

‌‌২ - তুরস্কের সারায়ি আহমাদ আস-সালিছ-এ সংরক্ষিত ৪৬৩ নম্বর পাণ্ডুলিপি। আমার কাছে এর একটি ছায়াচিত্র বা ফটোকপি সংস্করণ রয়েছে। এটি মূল বইয়ের অর্ধাংশ। বইটির প্রচ্ছদে শিরোনাম নিম্নরূপভাবে দেওয়া আছে:

"হাফিজ আবুল হাসান আল-হাইতামী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সংকলিত তাবারানীর দুই মু'জাম—আল-আওসাত এবং আস-সাগীর—এর যাওয়াইদের প্রথম খণ্ড (যা বইয়ের অর্ধেক অংশ)।"

এই খণ্ডটি ২৩২টি পত্র বা পাতার সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিটি পত্রে দুইটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে এবং প্রতিটি পৃষ্ঠা ২৫টি লাইনের সমাহার।

এর হস্তলিপি চমৎকার এবং এতে ভুলভ্রান্তি অত্যন্ত কম।

পাণ্ডুলিপিটির লেখক ও মালিক হলেন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-মুজাফফরী। তিনি আহলে ইলমদের মধ্য থেকে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। হাফিজ সাখাভী 'আদ-দউ আল-লামি' (৭/৭৬) গ্রন্থে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি আটশত ঊনআশি হিজরিতে সুওয়াইকাতুল মুজাফফরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং 'আল-হাভী', 'আল-মিনহাজ' ও ইবনে মালিকের 'আলফিয়্যাহ' সহ অন্যান্য কিতাবের কিছু অংশ মুখস্থ করেন। সাখাভী আরও বলেন: আমি তার জন্য একটি পুস্তিকায় ইজাজত বা অনুমতিপত্র লিখে দিয়েছিলাম।

এটি নকল বা অনুলিপি করার তারিখ বইয়ের শুরুতে বা শেষে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি।

মক্কার হারাম শরিফের পাণ্ডুলিপি এবং তুরস্কের পাণ্ডুলিপির মধ্যে তুলনা করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, তুরস্কের পাণ্ডুলিপিটি মক্কার হারামের পাণ্ডুলিপি অপেক্ষা অধিক শুদ্ধ। অধিকন্তু, এই পাণ্ডুলিপিটি মক্কার হারামের পাণ্ডুলিপি থেকে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহে ভিন্নতর:
(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌1 - في تفريع الأبواب.

ففي نسخة الحرم المكي عدد الأبواب التابعة للكتاب أقل مما جاء في نسخة تركيا.

فكل باب أحيط بمعكوفتين هكذا []، فهو من نسخة تركيا فقط.

‌‌2 - في ترتيب الأبواب، والأحاديث، تقديمًا وتأخيرًا:

وهذا الاختلاف حاصل في بعض مواضع الكتاب، وعند وقوع الخلاف بين النسختين في التقديم والتأخير، اخترت ترتيب نسخة تركيا، فإنه في نظري أدق وأصلح، وذكرت في الهامش: أن هذا الباب أو هذا الحديث في (ح) -أي نسخة الحرم المكي- بعد رقم حديث كذا.

‌‌3 - في تقديم كلام الطبراني عقب الحديث، وتأخيره:

ذيل الإِمام الطبراني عقب رواية كل حديث- خاصة في المعجم الأوسط بقوله: لا يروى عن فلان إلا بهذا الإسناد، أو لم يرو عن فلان إلا فلان، أو تفرد به فلان، أو نحو هذا. فإن كان للهيثمي تعليق على الحديث لتوضيح شيء، أو لبيان سبب أخراجه في الزوائد، ففي مثل هذه الحالة ذكر في نسخة تركيا كلام الهيثمي أولًا، ثم ذكر تذييل الطبراني على الحديث. وأما في نسخة الحرم المكي قدم تذييل الطبراني على الإسناد على تعليق الهيثمي على الحديث.

هذا وقد رمزت نسخة الحرم المكي بـ (ح)، ونسخة تركيا بـ (ت).

 

‌‌أهمية الكتاب:

كفى به أهمية أنه زوائد معجم الأوسط الذي كان يقول فيه مؤلفه الإِمام الطبراني: هذا الكتاب "روحي".

ثم أنه يشتمل على الأحاديث التي لا توجد في أحد الكتب الستة المتداولة أكثر.

فإخراج مثل هذا الكتاب مهم جدًا، وسيكون مفيدًا، ونافعًا للجميع إن شاء الله.
১ - পরিচ্ছেদ বিন্যাসের ক্ষেত্রে।

হারম মক্কী পাণ্ডুলিপিতে কিতাব সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদ সংখ্যা তুরস্কের পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত সংখ্যার চেয়ে কম।

সুতরাং প্রতিটি পরিচ্ছেদ যা এমন তৃতীয় বন্ধনী [] দ্বারা বেষ্টিত, তা কেবল তুরস্কের পাণ্ডুলিপি থেকে গৃহীত।

২ - পরিচ্ছেদ এবং হাদিসসমূহের বিন্যাসে অগ্র-পশ্চাৎ হওয়ার ক্ষেত্রে:

এই মতপার্থক্য কিতাবের কিছু কিছু স্থানে ঘটেছে। যখন অগ্র-পশ্চাৎ হওয়ার বিষয়ে দুই পাণ্ডুলিপির মধ্যে পার্থক্য দেখা দিয়েছে, তখন আমি তুরস্কের পাণ্ডুলিপির বিন্যাসকে বেছে নিয়েছি; কারণ আমার দৃষ্টিতে এটি অধিকতর নির্ভুল ও যথাযথ। আমি টীকায় উল্লেখ করেছি যে: এই পরিচ্ছেদ বা এই হাদিসটি (হা) -অর্থাৎ হারম মক্কী পাণ্ডুলিপিতে- অমুক হাদিস নম্বরের পরে রয়েছে।

৩ - হাদিসের শেষে তাবারানির বক্তব্য আগে বা পরে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে:

ইমাম তাবারানি প্রতিটি হাদিস বর্ণনার পর—বিশেষ করে আল-মু'জামুল আওসাত-এ—পরিশিষ্ট যোগ করেছেন এই বলে যে: "অমুক থেকে এই সনদ ব্যতীত এটি বর্ণিত হয়নি", অথবা "অমুক থেকে কেবল অমুক এটি বর্ণনা করেছেন", অথবা "অমুক এতে একক হয়েছেন", অথবা এই জাতীয় কিছু। যদি কোনো বিষয় স্পষ্ট করার জন্য অথবা যাওয়াইদ-এ এটি অন্তর্ভুক্ত করার কারণ বর্ণনার জন্য হাদিসের উপর হাইসামির কোনো মন্তব্য থাকে, তবে এমতাবস্থায় তুরস্কের পাণ্ডুলিপিতে প্রথমে হাইসামির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর হাদিসের উপর তাবারানির পরিশিষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। আর হারম মক্কী পাণ্ডুলিপিতে হাদিসের উপর হাইসামির মন্তব্যের তুলনায় তাবারানির পরিশিষ্টকে আগে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, আমি হারম মক্কী পাণ্ডুলিপিকে (হা) এবং তুরস্কের পাণ্ডুলিপিকে (তা) দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

 

কিতাবটির গুরুত্ব:

এর গুরুত্বের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, এটি আল-মু'জামুল আওসাত-এর অতিরিক্ত হাদিসসমূহের (জাওয়াইদ) সংগ্রহ, যে কিতাব সম্পর্কে এর লেখক ইমাম তাবারানি বলতেন: "এই কিতাবটি আমার প্রাণ"।

তদুপরি, এটি এমন সব হাদিস অন্তর্ভুক্ত করে যা বহুল প্রচলিত ছয়টি কিতাবের কোনোটিতেই পাওয়া যায় না।

সুতরাং এই জাতীয় কিতাব প্রকাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ইনশাআল্লাহ সকলের জন্য ফলপ্রসূ ও উপকারী হবে।
(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌عملي في تحقيق الكتاب

يتلخص عملي في تحقيق هذا الكتاب في الأمور التالية:

 

‌‌1 - تحقيق نصوص الكتاب:

وقد اعتمدت في ذلك على نسختين، نسخة الحرم المكي، ورمزت لها بـ (ح)، ونسخة سرائي أحمد الثالث بتركيا، ورمزت لها بـ (ت)، بالإضافة إلى الأصلين- المعجم الأوسط- الذي رمزت له بـ (طس)، والمعجم الصغير الذي رمزت له بـ (طص)، فقابلت نصوص بعضها من بعض، وعند الاختلاف في كلمة، أو أكثر عن كلمة، حاولت قدر المستطاع أن أثبت الصواب، أو الراجح في صلب الكتاب، وذكرت خلافه في الهامش، مشيرًا إلى النسخة التي ورد فيها.

وأشرف إلى بدء الورقات لنسخة سرائي أحمد الثالث وبدء الصفحات لنسخة الحرم المكي بوضع خط مائل قبل الكلمة الأولى من أول كل ورقة أو صفحة، ثم أكتب بمحاذاة ذلك الخط رمز النسخة، ورقم الورقة أو الصفحة. ليسهل الرجوع إلى الأصل لمن أراد ذلك.

 

‌‌2 - ترجمة موجزة لرجال السند:

درست رجال السند دراسة عميقة بالرجوع إلى الكتب المعتمدة في تراجم رواة الحديث للتأكد في أسمائهم. ونَسَبهم، ونِسَبهم، ثم ذكرت فيهم أقوال الأئمة النقاد بالإيجاز جرحًا وتعديلًا، وبينت فيهم الرأي الراجح عند وقوع الاختلاف ما عدا الرواة الذين خرج لهم الشيخان -البخاري، ومسلم- أو أحدهما فإنني اكتفيت فيهم بالدراسة فقط للتأكد في صحة أسمائهم ونسبهم، وعدم وقوع تحريف أو تصحيف من الناسخ ولم أكتب تراجمهم كي
গ্রন্থটি সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি

এই গ্রন্থটি সম্পাদনায় (তাহকীক) আমার কাজ নিম্নোক্ত বিষয়াবলিতে নিহিত:

 

১ - গ্রন্থের পাঠ্যসমূহ যাচাই ও সম্পাদনা:

এ ক্ষেত্রে আমি দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি; মক্কা হারামের পাণ্ডুলিপি, যাকে আমি (হা) চিহ্ন দ্বারা নির্দেশ করেছি এবং তুরস্কের সারাই আহমদ ৩-এর পাণ্ডুলিপি, যাকে আমি (তা) চিহ্ন দ্বারা নির্দেশ করেছি। এর পাশাপাশি মূল গ্রন্থদ্বয়— আল-মুজামুল আওসাত, যাকে আমি (ত্বাস) চিহ্ন দ্বারা এবং আল-মুজামুস সাগির, যাকে আমি (ত্বাসো) চিহ্ন দ্বারা নির্দেশ করেছি। আমি এগুলোর পাঠ্যসমূহ একটির সাথে অপরটি মিলিয়েছি। যখন কোনো শব্দ বা একাধিক শব্দে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে, আমি সাধ্যমতো মূল পাঠে সঠিক বা অগ্রগণ্য বিষয়টি সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেছি এবং ভিন্নতর পাঠটি কোন পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখপূর্বক টীকায় লিখে দিয়েছি।

আমি সারাই আহমদ ৩ পাণ্ডুলিপির পত্রের শুরু এবং মক্কা হারাম পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠার শুরুতে প্রতিটি পত্র বা পৃষ্ঠার প্রথম শব্দের পূর্বে একটি বাঁকা রেখা দিয়ে চিহ্ন প্রদান করেছি। অতঃপর সেই রেখার সমান্তরালে পাণ্ডুলিপির প্রতীক এবং পত্র বা পৃষ্ঠা নম্বর লিখেছি, যাতে আগ্রহী ব্যক্তি সহজেই মূল পাণ্ডুলিপির উদ্ধৃতি খুঁজে পেতে পারেন।

 

২ - সনদের বর্ণনাকারীদের সংক্ষিপ্ত জীবনী:

আমি সনদের বর্ণনাকারীদের (রিজাল) নাম, বংশপরিচয় এবং সম্বন্ধের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য হাদিসের বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের সহায়তায় গভীর অধ্যয়ন করেছি। অতঃপর তাদের সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ ইমামগণের ‘জারহ’ ও ‘তাদিল’ (সমালোচনা ও প্রশংসা) সংক্রান্ত বক্তব্যগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি এবং মতভেদের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য মতটি বর্ণনা করেছি। তবে শাইখাইন— ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম— অথবা তাঁদের কোনো একজন যাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে আমি শুধু নাম ও বংশপরিচয় সঠিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য এবং লিপিকরের পক্ষ থেকে কোনো বর্ণগত বা শব্দগত বিকৃতি ঘটেছে কি না তা যাচাই করার জন্য অধ্যয়ন করেছি; আমি তাদের পূর্ণাঙ্গ জীবনী লিখিনি যাতে...
(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৯)
لا يطول الهامش ومن ثم الكتاب من شيء ليس فيه كثير جدوى. فأي راوٍ من رواة الحديث لم يترجم له في الهامش، فمعناه أنه من رجال الصحيحين كليهما أو أحدهما.

وقد بذلت في تراجم الرواة قصارى جهدي، وعانيت فيها معاناة شديدة، خاصة في تراجم شيوخ الطبراني، وما يقدَّر ذلك إلا من جرب حظه في هذا المضمار، وأدلى دلوه في هذه البحار، ومع ذلك لم أتمكن على معرفة تراجم عديدة، ولعل سبب ذلك عدم دقتي في البحث، أو عدم توفر بعض المراجع لديّ، فتركت أمرها لمن هم أوسع اطلاعًا مني، راجيًا منهم أن لا يضنوا بي عند الوقوف على مثل هذه التراجم ليمكن إلحاقها أوإضافتها في الطبعات القادمة.

ومما يثلج صدري وتقر عيني بأنني ما آليت جهدًا في البحث عن تراجم الرواة، أننىِ قد وقفت على تراجم لم يقف عليها الحافظ الهيثمي- كما يجيء ذلك مفصلًا في صفحات الكتاب.

 

‌‌3 - تخريج الأحاديث:

حيث أن كتاب مجمع البحرين يحتوي على زوائد المعجمين - المعجم الأوسط، والمعجم الصغير للطبراني، فخرجت أولًا كل حديث من الأوسط أو الصغير أومنهما، ثم خرجته من مجمع الزوائد وذكرت رأي الهيثمي في الحديث تصحيحًا أو تضعيفًا، وربما خالفته في ضوء ما وصلت إليه من دراسة إسناد الحديث.

كما حاولت تخريج كل حديث من مصادر أخرى لمعرفة طرقه والتأكد به، وذكرت كل ذلك في هامش الكتاب.

 

‌‌4 - شرح الكلمات الصعبة:

مستعينًا بكتب غرائب الحديث، وكتب المعاجم.

هذا، وأسأل الله المولى عز وجل أن يعلمنا ما جهلنا، وينفعنا بما علمنا ويهدينا إلى السواء السبيل. وصلى الله على نبينا ورسولنا محمَّد وعلى آله وصحبه وبارك وسلم.

 

الراجي عفو ربه القدير

عبد القدوس محمَّد نذير

4/ 3/1408 هـ
পাদটীকা এবং ফলশ্রুতিতে কিতাব যেন এমন কিছু দ্বারা দীর্ঘ না হয় যাতে বিশেষ কোনো উপকার নেই। তাই হাদিসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে যাদের জীবনী পাদটীকায় দেওয়া হয়নি, তার অর্থ হলো তিনি বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থের অথবা যেকোনো একটির বর্ণনাকারী।

বর্ণনাকারীদের জীবনী পর্যালোচনায় আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং এতে চরম কষ্ট স্বীকার করেছি, বিশেষ করে তাবারানির উস্তাদদের জীবনীর ক্ষেত্রে। এ কষ্টের গভীরতা কেবল তারাই উপলব্ধি করতে পারবেন যারা এই ময়দানে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করেছেন এবং এই সমুদ্রের গভীরে অবগাহন করেছেন। তা সত্ত্বেও আমি অনেক বর্ণনাকারীর জীবনী জানতে সক্ষম হইনি। সম্ভবত এর কারণ হলো অনুসন্ধানে আমার ত্রুটি অথবা প্রয়োজনীয় কিছু রেফারেন্স হাতের কাছে না থাকা। তাই আমি বিষয়টি তাদের জন্য ছেড়ে দিয়েছি যারা আমার চেয়ে অধিক প্রাজ্ঞ, এই প্রত্যাশায় যে তারা যখন এই ধরনের বর্ণনাকারীদের জীবনী খুঁজে পাবেন তখন তা আমাকে জানাতে কার্পণ্য করবেন না, যাতে পরবর্তী মুদ্রণগুলোতে তা যুক্ত করা সম্ভব হয়।

যা আমার অন্তরকে শান্ত করে এবং চোখকে জুড়ায় তা হলো—বর্ণনাকারীদের জীবনী অনুসন্ধানে আমি কোনো ত্রুটি করিনি—আমি এমন কিছু জীবনী খুঁজে পেয়েছি যা হাফেজ হাইসামি খুঁজে পাননি, যেমনটি কিতাবের পাতাগুলোতে বিস্তারিত আসবে।

 

‌‌৩ - হাদিসের তাখরিজ (উৎস নির্ণয়):

যেহেতু 'মাজমাউল বাহরাইন' কিতাবটি তাবারানির 'আল-মুজামুল আওসাত' এবং 'আল-মুজামুস সাগির'-এর অতিরিক্ত হাদিসসমূহ ধারণ করে, তাই আমি প্রথমে প্রতিটি হাদিসের উৎস আওসাত, সাগির অথবা উভয়টি থেকে বর্ণনা করেছি। এরপর আমি তা 'মাজমাউয যাওয়াইদ' থেকে উদ্ধৃত করেছি এবং হাদিসের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা সম্পর্কে হাইসামির অভিমত উল্লেখ করেছি। আর কখনও কখনও হাদিসের সনদের গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে আমি তার ভিন্নমতও পোষণ করেছি।

একইভাবে আমি অন্যান্য উৎস থেকেও প্রতিটি হাদিসের তাখরিজ করার চেষ্টা করেছি যাতে এর বিভিন্ন সূত্র সম্পর্কে জানা যায় এবং তা নিশ্চিত হওয়া যায়। এর সবকিছুই আমি কিতাবের পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।

 

‌‌৪ - কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা:

'গারিবুল হাদিস' এবং অভিধান গ্রন্থসমূহের সাহায্য নিয়ে এটি সম্পন্ন করেছি।

সবশেষে, আমি মহান প্রতিপালক আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের যা অজানা তা শিক্ষা দেন, যা শিখেছি তা দিয়ে আমাদের উপকৃত করেন এবং আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। আমাদের নবী ও রাসুল মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত, বরকত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

তাঁর পরাক্রমশালী রবের ক্ষমার প্রত্যাশী

আব্দুল কুদ্দুস মুহাম্মদ নাযির

৪/ ৩/ ১৪০৮ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

[" ربنا آتنا من لدنك رحمة وهيء لنا من أمرنا رشدا]‌‌(1)، وصلى الله وسلم على سيدنا محمَّد وآله وصحبه.

الحمد الله المعين على تيسير العسير، وأشهد أن لا إله، إلا الله وحده لا شريك له، شهادة تنجي قائلها من عذاب السعير، وأشهد أن محمدًا عبده، ورسوله البشير النذير، صلى الله عليه وعلى آله ما أشرق يوم منير، وطلعت شمس على ثبير.

وبعد! فقد رأيت المعجم الأوسط والمعجم الصغير لأبي القاسم الطبراني ذي العلم الغزير، قد حويا من العلم ما لا يحصل لطالبه. إلا بعد كشف كبير. فأردت أن أجمع منهما، كل شاردة إلى باب من الفقه يحسن أن تكون فيه واردة. فجمعت ما انفرد به عن أهل الكتب الستة من حديث بتمامه، وحديث شاركهم فيه بزيادة عنده مميزًا لها بقولي: أخرجه فلان خلا كذا، أو ذكرته لأجل كذا، ولم أره بهذا السياق، وشبه هذا.

وأخرجت فيه -أيضًا- ما رواه الترمذي في الشمائل، والنسائي في الكبير مما‌‌(2)، ليس في المجتبى الصغير، كعمل اليوم والليلة، والتفسير، والسير، والمناقب، والطب، وكثير من عشرة النساء، وشيء من الصيام، فما كان فيه من كتاب عشرة النساء في الكبير أو الصوم، وليس هو في الصغير ذكرته، وقلت: أخرجه الشيخ جمال الدين [في الأطراف‌‌(3)]، وليس هو في المجتبى، أو لم أره في نسختي.

--------------------------------------------

‌‌(1) ما بين القوسين ليس في (ت).

‌‌(2) في (ت) مما زاده على المجتبى.

‌‌(3) ما بين القوسين ليس في (ت).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

[হে আমাদের রব, আমাদের আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজ সঠিক করে দিন]‌‌(১), এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কঠিনকে সহজ করার ক্ষেত্রে সাহায্যকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য যা প্রদানকারীকে প্রজ্বলিত আগুনের শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা এবং তাঁর রাসূল, যিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী। তাঁর ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক যতক্ষণ কোনো উজ্জ্বল দিন আলোকিত থাকবে এবং সাবীর পাহাড়ের ওপর সূর্য উদিত হবে।

অতঃপর! আমি দেখেছি যে, অগাধ ইলমের অধিকারী আবুল কাসেম তাবারানীর ‘আল-মুজামুল আওসাত’ এবং ‘আল-মুজামুস সাগির’ গ্রন্থদ্বয় এমন জ্ঞান ধারণ করে আছে, যা এর অন্বেষণকারী দীর্ঘ অনুসন্ধান ব্যতীত অর্জন করতে পারে না। তাই আমি সেই গ্রন্থদ্বয় থেকে প্রতিটি বিরল বিষয়কে সংকলন করতে চেয়েছি এবং সেগুলোকে ফিকহ শাস্ত্রের এমন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করতে চেয়েছি যেখানে সেগুলো আসা সঙ্গত। সুতরাং আমি সেই সকল হাদিস পূর্ণাঙ্গভাবে সংকলন করেছি যেগুলোতে তিনি কুতুবে সিত্তার লেখকদের থেকে একক বর্ণনা এনেছেন। আর যে সকল হাদিসে তিনি তাদের সাথে শরিক হয়েছেন কিন্তু তাঁর কাছে কিছু অতিরিক্ত অংশ রয়েছে, সেগুলোকে আমি আমার এই বক্তব্যের মাধ্যমে পৃথক করেছি যে: ‘অমুক এটি বর্ণনা করেছেন তবে এটি ব্যতীত’, অথবা ‘আমি এটি এই কারণে উল্লেখ করেছি’, এবং ‘আমি এটি এই ধারাবাহিকতায় দেখিনি’—এই জাতীয় বক্তব্যের মাধ্যমে।

আর আমি এতে আরও সংকলন করেছি যা তিরমিযী ‘আশ-শামাইল’ গ্রন্থে এবং নাসাঈ তাঁর ‘আল-কাবীর’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—যা‌‌(২) ‘আল-মুজতাবা আস-সাগির’ গ্রন্থে নেই; যেমন: দিন-রাতের আমল, তাফসির, সিরাত, মর্যাদা, চিকিৎসাবিদ্যা এবং ‘নারীদের সাথে মেলামেশা’ অধ্যায়ের অনেক কিছু এবং রোজা সংক্রান্ত কিছু বিষয়। সুতরাং ‘আল-কাবীর’-এর ‘নারীদের সাথে মেলামেশা’ অথবা ‘রোজা’ অধ্যায়ে যা আছে কিন্তু ‘আস-সাগির’-এ নেই, তা আমি উল্লেখ করেছি এবং বলেছি: ‘এটি শায়খ জামালুদ্দিন [আল-আতরাফ গ্রন্থে‌‌(৩)] বর্ণনা করেছেন’, এবং ‘এটি আল-মুজতাবা-তে নেই’ অথবা ‘আমি আমার পাণ্ডুলিপিতে এটি দেখিনি’।

--------------------------------------------

‌‌(১) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু (ত) পাণ্ডুলিপিতে নেই।

‌‌(২) (ত) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘যা তিনি আল-মুজতাবার ওপর অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন’।

‌‌(৩) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু (ত) পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
فما كان من حديث على أوله (ق) فهو في المعجم الصغير والأوسط، بإسناده سواء، ومتنه بنحوه، أو مثله.

وما كان على أوله (ص) فهو ما انفرد به الصغير، وما كان من الصغير، وله أسانيد في الأوسط بدأت بإسناد الصغير وذكرت طرقه من الأوسط، مستمدًا من الله سبحانه العون على هذا وعلى غيره، ولا حول ولا قوة، إلا بالله، وأسأل الله السلامة لي، ولأصحابي، إنه قريب مجيب.

 

وقد رتبته على كتب، أذكرها لكي يسهل الكشف إن شاء الله تعالى، وهي:

[كتاب‌‌(1)] الإيمان، [كتاب] العلم، [كتاب] الطهارة، [كتاب] الصلاة، [كتاب الجنائز]، وفيه ما يتعلق بعيادة المريض، ونحوه، و [كتاب] الزكاة، وفيه صدقة التطوع، [كتاب] الصيام، [كتاب] الحج، [كتاب] الأضاحي، [كتاب] الصيد والذ بائح، [كتاب] الوليمة والعقيقة، [كتاب] البيوع، [‌‌(2) وفيه اللقطة والغصب وغيرها]، [كتاب] الوصايا، [كتاب] الفرائض، [كتاب] العتق، [كتاب] الأيمان، والنذور، [كتاب] الشهادات‌‌(3)، [كتاب] النكاح، [كتاب] الطلاق، [كتاب] الحدود، [كتاب] الديات، [كتاب] الخلافة، وما يتعلق بالأمراء، [كتاب] الجهاد، [كتاب] المغازي، [كتاب] قتال أهل البغي، [كتاب] البر والصلة، [كتاب] الأدب، [كتاب] التعبير، [كتاب] القدر، [كتاب] التفسير، وفيه القراءات، وكم أنزل القرآن على حرف، [وفضائل القرآن]‌‌(4)، وما يتعلق بقراءته، [كتاب] علامات النبوة، وفيه ذكر الأنبياء، صلى الله على نبينا وعليهم وسلم، والخضر رضي الله عنه، [وكتاب] المناقب، [كتاب] الأطعمة، [كتاب] الأشربة، [كتاب] الطب، [كتاب] اللباس، [كتاب] الزينة، [كتاب] الفتن، [كتاب] الأذكار، [كتاب] الأدعية، [كتاب] التوبة، [كتاب]، البعث، [كتاب] صفة النار، [كتاب] صفة الجنة، [كتاب] الزهد، وأسأل الله سبحانه أن ينفع به إنه سميع الدعاء.

 

وقد أخبرني بالمعجم الصغير الشيخان المسندان، أبو الحرم محمَّد بن محمَّد بن محمَّد بن

--------------------------------------------

‌‌(1) ما بين القوسين زيد من (ت).

‌‌(2) ما بين القوسين ليس في (ت).

‌‌(3) في (ت): الأحكام، بدل الشهادات.

‌‌(4) ما بين المعكوفين ساقط من (ت).
যে হাদীসের শুরুতে (ক্বাফ) রয়েছে, তা আল-মু'জাম আস-সাগীর এবং আল-আওসাত উভয় গ্রন্থে বিদ্যমান, যার সনদ অভিন্ন এবং মতন (মূল পাঠ) কাছাকাছি বা অনুরূপ।

আর যার শুরুতে (সোয়াদ) রয়েছে, তা কেবল আস-সাগীর গ্রন্থে এককভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর যা আস-সাগীর থেকে নেওয়া হয়েছে এবং আল-আওসাতে যার একাধিক সনদ রয়েছে, তা আস-সাগীরের সনদ দিয়ে শুরু করেছি এবং আল-আওসাত থেকে এর অন্যান্য সূত্রসমূহ উল্লেখ করেছি। এ কাজে এবং অন্যান্য সকল কাজে আমি মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই। আমি আল্লাহর কাছে আমার জন্য এবং আমার সঙ্গীদের জন্য নিরাপত্তা কামনা করি; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে ও দুআ কবুলকারী।

 

আমি একে বিভিন্ন কিতাব বা অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি, যা আমি নিচে উল্লেখ করছি যেন ইনশাআল্লাহ তা খুঁজে পেতে সহজ হয়। সেগুলো হলো:

[কিতাব‌‌(১)] ঈমান, [কিতাব] ইলম, [কিতাব] পবিত্রতা, [কিতাব] সালাত, [জানাজা কিতাব], এতে রোগী দেখা ও এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি রয়েছে, [কিতাব] যাকাত, এতে নফল দান-সদকাও রয়েছে, [কিতাব] সিয়াম, [কিতাব] হজ্জ, [কিতাব] কুরবানি, [কিতাব] শিকার ও যবেহ, [কিতাব] ওলিমা ও আকিকা, [কিতাব] ক্রয়-বিক্রয়, [‌‌(২) এতে কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু, জবরদখল ও অন্যান্য বিষয় রয়েছে], [কিতাব] অসিয়ত, [কিতাব] উত্তরাধিকার আইন, [কিতাব] দাসমুক্তি, [কিতাব] শপথ ও মানত, [কিতাব] সাক্ষ্য প্রদান‌‌(৩), [কিতাব] বিবাহ, [কিতাব] তালাক, [কিতাব] দণ্ডবিধি, [কিতাব] রক্তপণ, [কিতাব] খিলাফত ও আমিরদের সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, [কিতাব] জিহাদ, [কিতাব] যুদ্ধাভিযান, [কিতাব] বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই, [কিতাব] সদাচার ও আত্মীয়তা রক্ষা, [কিতাব] শিষ্টাচার, [কিতাব] স্বপ্ন ব্যাখ্যা, [কিতাব] তাকদীর, [কিতাব] তাফসীর, এতে কিরাতসমূহ এবং কুরআন কতটি অক্ষরে অবতীর্ণ হয়েছে তা বর্ণিত হয়েছে, [কুরআনের ফযীলত]‌‌(৪) এবং এর তিলাওয়াত সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, [কিতাব] নবুওয়াতের আলামত, এতে নবীদের কথা উল্লেখ রয়েছে (আমাদের নবী ও তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) এবং খিজির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনা রয়েছে, [কিতাব] মর্যাদা, [কিতাব] খাদ্যদ্রব্য, [কিতাব] পানীয়, [কিতাব] চিকিৎসা, [কিতাব] পোশাক, [কিতাব] সাজসজ্জা, [কিতাব] ফিতনা, [কিতাব] যিকিরসমূহ, [কিতাব] দুআসমূহ, [কিতাব] তওবা, [কিতাব] পুনরুত্থান, [কিতাব] জাহান্নামের বৈশিষ্ট্য, [কিতাব] জান্নাতের বৈশিষ্ট্য, [কিতাব] দুনিয়া বিমুখতা; আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার করেন, নিশ্চয়ই তিনি দুআ শ্রবণকারী।

 

আমাকে আল-মু'জাম আস-সাগীর সম্পর্কে অবহিত করেছেন দুই শাইখ ও মুসনিদ (সনদ বর্ণনাকারী), আবুল হারাম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন...

--------------------------------------------

‌‌(১) বন্ধনীভুক্ত অংশটি (তা) পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ধিত।

‌‌(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটি (তা) পাণ্ডুলিপিতে নেই।

‌‌(৩) (তা) পাণ্ডুলিপিতে 'শাহাদাত' (সাক্ষ্য প্রদান)-এর পরিবর্তে 'আহকাম' (বিধানসমূহ) রয়েছে।

‌‌(৪) থার্ড ব্র্যাকেট বা কুরুশ বন্ধনীভুক্ত অংশটি (তা) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
أبي الحرم القلانسي‌‌(1)، والمحدث ناصر الدين أبو عبد الله محمَّد بن أبي القاسم [‌‌(2) بن إسماعيل] الفارقي‌‌(3)، قراءة عليهما، وأنا أسمع، وقراءة مني بعد ذلك على الفارقي فقط، قالا: أخبرتنا الشيخة الصالحة ذات إقبال مؤنسة خاتون ابنة الملك العادل أبي بكر بن أيوب‌‌(4)، قال الأول: بجميع الكتاب، وقال الثاني: من باب الحاء المهملة إلى آخره‌‌(5)، قالت: أخبرنا المشايخ الأربعة، أبو الفخر أسعد بن سعيد بن روح‌‌(6)، وأبو سعد أحمد بن محمد بن أبي نصر، وأم هاني عفيفة بنت أحمد الفارقانية‌‌(7)، وأم حبيبة عائشة بنت معمر بن عبد الواحد بن الفاخر‌‌(8) [‌‌(9) إجازة]، قالوا: أخبرتنا أم إبراهيم فاطمة بنت عبد الله بن أحمد الجوزدانية‌‌(10)، قالت عائشة: حضورًا، وقال الباقون: سماعًا (ح).

وقال الفارقي -أيضًا-: أنا الحافظ شرف الدين أبو محمد عبد المؤمن بن خلف الدمياطي‌‌(11)، سماعًا عليه بجميع الكتاب، قال: أنا أبو المظفر صقر بن يحيى بن صقر

--------------------------------------------

‌‌(1) هو فتح الدين أبو الحرم محمَّد بن محمَّد بن محمَّد بن أبي الحرم بن أبي طالب بن عبد الجبار القلانسي الحنبلي ولد سنة 683، وتوفي بالقاهرة، سنة 765 (ذيل تذكرة الحفاظ 147، والشذرات 6/ 206).

‌‌(2) ما بين القوسين سقط من (ت).

‌‌(3) ولد سنة عن وسبعين وست مائة، وتوفي سنة إحدى وستين سبع مائة (الدور الكامنة 5/ 265).

‌‌(4) الدارقطبية المعمرة، المسندة كانت آخر أولاد أبيها موتًا، توفيت سنة 693 عن تسعين سنة (البداية والنهاية 13/ 337، والدليل الشافي على المنهل الصافي 2/ 755).

‌‌(5) في (ت) إلى آخر الكتاب.

‌‌(6) هو أبو الفخر أسعد بن سعيد بن محمود بن محمَّد بن روح الأصبهاني التاجر، ولد سنة 517، وتوفي في ذي الحجة سنة 607 (الشذرات 5/ 24).

‌‌(7) أم هانئ عفيفة بنت أحمد بن عبد القادر الفارقانية الأصبهانية توفيت سنة 606 عن العمر 96 سنة (مرآة الجنان 5/ 19، وأعلام النساء 3/ 299).

‌‌(8) أنصارية محدثة حدثت عن فاطمة الجوزدانية وغيرها توفيت سنة 607، وناهزت الثمانين (أعلام النساء 3/ 192، والشذرات 5/ 25).

‌‌(9) ليست في (ت).

‌‌(10) خاتمة ومسندة من روى عن ابن ريذة توفيت بأصبهان سنة 524 (تذكرة الحفاظ 1274، والشذرات 4/ 69، وأعلام النساء 4/ 68).

‌‌(11) التوني الشافعي صاحب التصانيف إمام صادق متقن جيد العربية، توفي سنة 705 (تذكرة الحفاظ 14/ 1477، وحسن المحاضرة 1/ 357، والشذرات 6/ 12، وطبقات الشافعية 10/ 1
আবি আল-হারাম আল-কালানিসী‌‌(১) এবং মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবিল কাসিম [‌‌(২) বিন ইসমাঈল] আল-ফারিকী‌‌(৩), তাঁদের উভয়ের সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শ্রবণ করেছি; এরপর কেবল আল-ফারিকীর নিকট আমার পাঠ করার মাধ্যমে। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পুণ্যবতী শায়খা এবং কল্যাণময়ী মুনিসা খাতুন, যিনি সুলতান আল-মালিক আল-আদিল আবু বকর বিন আইয়ুবের কন্যা‌‌(৪)। প্রথমজন (কালানিসী) বলেছেন: সম্পূর্ণ কিতাবটি, এবং দ্বিতীয়জন (ফারিকী) বলেছেন: 'হা' (ح) বর্ণ সংবলিত অধ্যায় থেকে শেষ পর্যন্ত‌‌(৫)। তিনি (মুনিসা খাতুন) বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন চারজন শায়খ—আবু আল-ফাখর আসআদ বিন সাঈদ বিন রূহ‌‌(৬), আবু সা’দ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি নাসর, উম্মে হানী আফীফা বিনতে আহমাদ আল-ফারকানিয়্যাহ‌‌(৭) এবং উম্মে হাবীবা আয়িশা বিনতে মুয়াম্মার বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-ফাখির‌‌(৮) [‌‌(৯) অনুমতি সূত্রে]। তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মে ইবরাহীম ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-জুজদানিয়্যাহ‌‌(১০)। আয়িশা বলেছেন: উপস্থিত থাকার মাধ্যমে এবং বাকিরা বলেছেন: শ্রবণের মাধ্যমে (হা)।

আল-ফারিকী আরও বলেছেন: আমাকে হাফিজ শারফুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দিমইয়াতি‌‌(১১) সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পূর্ণ কিতাবটি শ্রবণের মাধ্যমে; তিনি বলেছেন: আমাকে আবু আল-মুজাফফর সাকার বিন ইয়াহইয়া বিন সাকার সংবাদ দিয়েছেন...

--------------------------------------------

‌‌(১) তিনি হলেন ফাতহুদ্দীন আবু আল-হারাম মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবিল হারাম বিন আবি তালিব বিন আব্দুল জাব্বার আল-কালানিসী আল-হাম্বলী। তিনি ৬৮৩ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৬৫ হিজরীতে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন (যায়লু তাযকিরাতিল হুফফাজ ১৪৭, এবং আশ-শাযারাত ৬/২০৬)।

‌‌(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটি (ত) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

‌‌(৩) তিনি ৬৭০ হিজরীর পরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৬১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (আদ-দুরারুল কামিনাহ ৫/২৬৫)।

‌‌(৪) আদ-দারাকুতনিয়্যাহ, দীর্ঘজীবী এবং প্রখ্যাত বর্ণনাকারী। তিনি তাঁর পিতার সন্তানদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ছিলেন। তিনি ৯৩ বছর বয়সে ৬৯৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/৩৩৭, এবং আদ-দালিলুশ শাফী আলাল মানহালিস সাফী ২/৭৫৫)।

‌‌(৫) (ত) পাণ্ডুলিপিতে আছে: কিতাবের শেষ পর্যন্ত।

‌‌(৬) তিনি হলেন আবু আল-ফাখর আসআদ বিন সাঈদ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ বিন রূহ আল-আসবাহানী আল-তাজির। তিনি ৫১৭ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬০৭ হিজরীর জিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন (আশ-শাযারাত ৫/২৪)।

‌‌(৭) উম্মে হানী আফীফা বিনতে আহমাদ বিন আব্দুল কাদির আল-ফারকানিয়্যাহ আল-আসবাহানিয়্যাহ। তিনি ৬০৬ হিজরীতে ৯৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন (মিরআতুল জিনান ৫/১৯, এবং আলামুন নিসা ৩/২৯৯)।

‌‌(৮) আনসারী মুহাদ্দিসা, যিনি ফাতিমা আল-জুজদানিয়্যাহ এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৬০৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স আশির কাছাকাছি ছিল (আলামুন নিসা ৩/১৯২, এবং আশ-শাযারাত ৫/২৫)।

‌‌(৯) এটি (ত) পাণ্ডুলিপিতে নেই।

‌‌(১০) ইবনে রিযাহ থেকে বর্ণনাকারীদের শেষ প্রতিনিধি এবং মুসনিদাহ। তিনি ৫২৪ হিজরীতে আসবাহানে মৃত্যুবরণ করেন (তাযকিরাতুল হুফফাজ ১২৭৪, আশ-শাযারাত ৪/৬৯, এবং আলামুন নিসা ৪/৬৮)।

‌‌(১১) আত-তূনী আশ-শাফিঈ, বহু গ্রন্থের প্রণেতা, সত্যবাদী ইমাম, অত্যন্ত দক্ষ এবং আরবি ভাষায় পারদর্শী। তিনি ৭০৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (তাযকিরাতুল হুফফাজ ১৪/১৪৭৭, হুসনুল মুহাযারা ১/৩৫৭, আশ-শাযারাত ৬/১২, এবং তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ১০/১)।
(খণ্ড: ১) মাজমাউল বাহরাইন ফী যাওয়াইদিল মুজামাইন আল-আওসাত ওয়াস সাগীর লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
الحلبي‌‌(1)، واللفظ له، وأبو إسحاق إبراهيم بن خليل [‌‌(2) بن عبد الله الدمشقي الحافظ]‌‌(3) وأبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن أحمد المقدسي‌‌(4)، قالوا: أنا أبو الفرج يحيى بن محمود الثقفى‌‌(5)، أنا أبو عدنان محمد بن أحمد بن أبي نزار، وفاطمة بنت عبد الله الجوزدانية، قالا: أنا أبو بكر محمد بن عبد الله بن ريذة‌‌(6)، أنا [أبو] القاسم سليمان بن أحمد بن أيوب الطبراني، (ح).

وأخبرني بالمعجم الأوسط أبو طلحة محمد بن علي بن يوسف الحراوي‌‌(7) قراءة عليه، وأنا أسمع من أول باب النون إلى آخر الكتاب وأجازني باقيه‌‌(8)، أنا الحافظ أبو محمد عبد المؤمن [[بن خلف] الدمياطي، إجازة] [‌‌(9) لجميعه]، أنا الحافظ أبو الحجاج يوسف بن خليل‌‌(10) [الدمشقي، قراءة عليه وأنا أسمع]، أنا أبو سعيد خليل بن أبي الرجاء بن أبي الفتح الراراني‌‌(11)، [بقراءتي عليه بجميعه (3)] أنا أبو علي الحسن بن أحمد بن الحسن

--------------------------------------------

‌‌(1) ولد سنة 559، وتفقه في مذهب الشافعي وبرع توفي سنة 653 (البداية 13/ 186، والشذرات 5/ 263، وطبقات السبكي 8/ 153، ونكت الهميان 174).

‌‌(2) ما بين القوسين زيد من (ت).

‌‌(3) توفي شهيدًا تحت السيف بكائنة حلب سنة 658 (التذكرة 4/ 1441، والشذرات 5/ 292).

‌‌(4) النابلسي الحنبلي المسند خطيب مردا، الفقيه توفي سنة 656 بمردا (الشذرات 5/ 283، وطبقات السبكي 6/ 95).

‌‌(5) أبو الفرج يحيى بن محمود بن سعد الثقفي الأصبهاني المسند العالم توفي سنة 584 في نواحي همذان (الشذرات 4/ 282).

‌‌(6) الأصبهاني، قال يحيى بن مندة: ثقة أمين، كان أحد وجوه الناس وافر العقل، كامل الفضل مكرمًا لأهل العلم حسن الحظ توفي سنة 440 (الشذرات 3/ 265، والعبر 3/ 248).

‌‌(7) محمد بن علي بن يوسف الحرّاوي الشيخ المسند ناصر الدين الدمياطي، الكردي الأصل، توفي في رجب سنة إحدى وثمانين وسبع مائة (الدرر الكامنة 4/ 216، والدليل الشافي 2/ 658، والشذرات 6/ 272، والنجوم الزاهرة 11/ 200).

‌‌(8) في (ت) وإجازة لباقيه.

‌‌(9) ما بين القوسين ساقط من (ت).

‌‌(10) الآدمي محدث دمشق، ولد سنة 555، وكان حافظًا ثقة عالمًا بما يقرأ عليه، لا يكاد يفوته اسم رجل، توفي سنة 648 (التذكرة 4/ 1410، وذيل طبقات الحنابلة 2/ 244، والشذرات 5/ 243، والنجوم الزاهرة 7/ 22).

‌‌(11) الراراني براءين مهملتين نسبة إلى راران قرية بأصبهان ولد سنة 500، وتوفي سنة 595 (الشذرات 4/ 323).
আল-হালাবি‌‌(১), আর শব্দাবলি তাঁরই, এবং আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে খলিল [‌‌(২) ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকি আল-হাফিজ]‌‌(৩) এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আহমদ আল-মাকদিসি‌‌(৪), তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফারাজ ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফি‌‌(৫), তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আদনান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবি নিযার এবং ফাতেমা বিনতে আব্দুল্লাহ আল-জাওযদানিয়্যাহ, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রিযাহ‌‌(৬), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন [আবু] আল-কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব আত-তাবারানি, (হ)।

এবং আমাকে আল-মুজাম আল-আওসাত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন আবু তালহা মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে ইউসুফ আল-হাররাউয়ি‌‌(৭) তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে, এমতাবস্থায় যে আমি শুনছিলাম ‘নুন’ (ن) অধ্যায়ের শুরু থেকে কিতাবের শেষ পর্যন্ত এবং কিতাবের অবশিষ্ট অংশের জন্য তিনি আমাকে ইজাযাহ প্রদান করেছেন‌‌(৮), তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফিজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুমিন [[ইবনে খালাফ] আদ-দামিয়াতি, ইজাযাহ সূত্রে] [‌‌(৯) সম্পূর্ণ কিতাবের জন্য], তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফিজ আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিল‌‌(১০) [আদ-দিমাশকি, তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে এমতাবস্থায় যে আমি শুনছিলাম], তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ খলিল ইবনে আবি রাজাহ ইবনে আবিল ফাতহ আর-ররানি‌‌(১১), [তাঁর নিকট আমার সম্পূর্ণ কিতাব পাঠের মাধ্যমে (৩)] তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলি আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান

--------------------------------------------

‌‌(১) তিনি ৫৫৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, শাফেয়ি মাযহাবে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং পারদর্শিতা অর্জন করেন। ৬৫৩ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (আল-বিদায়াহ ১৩/১৮৬, আশ-শাযারাত ৫/২৬৩, তাবাকাতুস সুবকি ৮/১৫৩, নুকাতুল হিমইয়ান ১৭৪)।

‌‌(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটি (ত) পাণ্ডুলিপি থেকে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

‌‌(৩) তিনি ৬৫৮ হিজরিতে হালাব (আলেপ্পো) ট্র্যাজেডিতে তরবারির নিচে শহিদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন (আত-তাযকিরাহ ৪/১৪৪১, আশ-শাযারাত ৫/২৯২)।

‌‌(৪) তিনি আন-নাবুলসি আল-হাম্বলি আল-মুসনিদ, মারদার খতিব, ফকিহ; তিনি ৬৫৬ হিজরিতে মারদাতে মৃত্যুবরণ করেন (আশ-শাযারাত ৫/২৮৩, তাবাকাতুস সুবকি ৬/৯৫)।

‌‌(৫) আবু আল-ফারাজ ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ ইবনে সাদ আস-সাকাফি আল-আসফাহানি আল-মুসনিদ আল-আলিম; তিনি ৫৮৪ হিজরিতে হামযানের আশপাশে মৃত্যুবরণ করেন (আশ-শাযারাত ৪/২৮২)।

‌‌(৬) আল-আসফাহানি, ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ বলেন: তিনি বিশ্বস্ত ও আমানতদার ছিলেন, মানুষের শীর্ষস্থানীয়দের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, প্রখর বুদ্ধি ও পরিপূর্ণ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, ইলমের ধারকদের সম্মান করতেন এবং তাঁর হাতের লেখা সুন্দর ছিল; তিনি ৪৪০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (আশ-শাযারাত ৩/২৬৫, আল-ইবার ৩/২৪৮)।

‌‌(৭) মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে ইউসুফ আল-হাররাউয়ি আশ-শায়খ আল-মুসনিদ নাসিরুদ্দিন আদ-দামিয়াতি, বংশগতভাবে কুর্দি; তিনি ৭৮১ হিজরির রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন (আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৪/২১৬, আদ-দালিলুশ শাফি ২/৬৫৮, আশ-শাযারাত ৬/২৭২, আন-নুজুম আয-যাহিরাহ ১১/২০০)।

‌‌(৮) (ত) পাণ্ডুলিপিতে আছে: "এবং অবশিষ্ট অংশের জন্য ইজাযাহ সূত্রে"।

‌‌(৯) বন্ধনীভুক্ত অংশটি (ত) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

‌‌(১০) আল-আদামি, দামেস্কের মুহাদ্দিস; ৫৫৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাফিজ, বিশ্বস্ত এবং তাঁর নিকট যা পাঠ করা হতো সে সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন, কোনো ব্যক্তির নাম সাধারণত তাঁর বাদ যেত না; তিনি ৬৪৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (আত-তাযকিরাহ ৪/১৪১০, যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ ২/২৪৪, আশ-শাযারাত ৫/২৪৩, আন-নুজুম আয-যাহিরাহ ৭/২২)।

‌‌(১১) আর-ররানি—দুটি নুকতাহীন 'র' (র-র)-সহ—এটি আসফাহানের একটি গ্রাম 'ররান'-এর দিকে সম্পৃক্ত। তিনি ৫০০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (আশ-শাযারাত ৪/৩২৩)।