(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: -)
العلل لابن أبي حاتم ت الحميد   (ابن أبي حاتم)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: العلل لابن أبي حاتم

المؤلف: أبو محمد عبد الرحمن بن محمد بن إدريس بن المنذر التميمي، الحنظلي، الرازي ابن أبي حاتم (ت 327 هـ)

تحقيق: فريق من الباحثين، بإشراف وعناية د/ سعد بن عبد الله الحميد

و د/ خالد بن عبد الرحمن الجريسي

يُطلَب من: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان - الرياض

الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م

عدد الأجزاء: 7 (6 أجزاء ومجلد فهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইলাল - ইবন আবি হাতিম (তাহকিক: আল-হুমাইদ)   (ইবন আবি হাতিম)

বিভাগ: আল-ইলাল এবং হাদিস বিষয়ক প্রশ্নাবলী


গ্রন্থ: আল-ইলাল - ইবন আবি হাতিম

লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস বিন আল-মুনজির আত-তামিমি, আল-হানজালি, আর-রাজি ইবন আবি হাতিম (মৃত্যু: ৩২৭ হিজরি)

সম্পাদনা: একদল গবেষক, ড. সা'দ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ-এর তত্ত্বাবধান ও পরিশ্রমে

এবং ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাইসি

প্রাপ্তিস্থান: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৭ (৬ খণ্ড এবং ১টি নির্ঘণ্ট খণ্ড)

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ৫)
{بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ *}

{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَْرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ *} [الأنعَام: 1] {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَْرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ *} .

والحمدُ لله الذي لا يُؤَدَّى شُكْرُ نِعْمة من نِعَمه إلا بنعمةٍ منه تُوجِبُ على مؤدِّي ماضي نِعَمِهِ بأدائها: نعمةً حادثةً يجبُ عليه شكرُهُ بها!

ولا يَبْلُغُ الواصفون كُنْهَ عظمته. الذي هو كما وَصَفَ نفسَهُ، وفوق ما يصفه به خلقُهُ.

نَحْمَدُهُ سبحانه حمدًا كما ينبغي لِكَرَمِ وجهه وعِزِّ جلاله، ونستعينُهُ استعانةَ مَنْ لا حولَ له ولا قوةَ إلا به، ونستهديه بهداه الذي لا يَضِلُّ مَنْ أنعَمَ به عليه، ونستغفرُهُ لِمَا أَزْلَفْنَا وأَخَّرْنَا استغفارَ مَنْ يُقِرُّ بعبوديته، ويعلمُ أنه لا يغفر ذنبَهُ ولا يُنَجِّيهِ منه إلا هو.

ونَشْهَدُ أنْ لا إِلَهَ إِلا اللهُ وَحْدَهُ لا شريكَ لَهُ، وأنَّ محمَّدًا عبدُهُ ورسوله، بعثَهُ اللهُ على حينِ فَتْرةٍ من الرسلِ، فكان خِيرَتَهُ المصطفَى لوحيه، المنتَخَبَ لرسالته، المُفضَّلَ على جميع خلقِه: بفتحِ رحمتِهِ وختمِ نبوتِهِ، وأعمِّ ما أُرْسِلَ به مُرْسَلٌ قبله، المرفوعَ ذِكْرُهُ مع ذِكْرِهِ في الأُولى، والشافعَ المشفَّعَ في الأخرى، أفضلَ خلقِهِ نَفْسًا، وأجمعَهُمْ لكلِّ خُلُقٍ رَضِيَهُ في دينٍ ودنيا، وخيرَهم نسبًا ودارًا.
{পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।}

{সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন; এরপরও যারা কুফরি করে, তারা তাদের রবের সমকক্ষ দাঁড় করায়।} [আল-আনআম: ১] {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন; এরপরও যারা কুফরি করে, তারা তাদের রবের সমকক্ষ দাঁড় করায়।}।

আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর কোনো একটি নেয়ামতের শুকরিয়া তাঁরই পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অন্য কোনো নেয়ামত ছাড়া আদায় করা সম্ভব নয়; যা তাঁর নেয়ামতসমূহ আদায়কারীর ওপর নতুন এক নেয়ামতকে অনিবার্য করে দেয়, যার মাধ্যমে তাঁর শুকরিয়া আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব হয়ে পড়ে!

বর্ণনাকারীরা তাঁর মহত্ত্বের সারমর্মে পৌঁছাতে পারে না। তিনি তেমনই, যেমন তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন, এবং তাঁর সৃষ্টিরা তাঁর যে গুণকীর্তন করে, তিনি তার চেয়েও ঊর্ধ্বে।

আমরা তাঁর পবিত্রতা ও প্রশংসা করি এমনভাবে যা তাঁর সত্তার মহানুভবতা ও তাঁর প্রতাপের মহিমার জন্য উপযুক্ত। আমরা তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এমন ব্যক্তির ন্যায় যার তিনি ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই। আমরা তাঁর কাছে তাঁর হেদায়েত প্রার্থনা করি, যাকে তিনি হেদায়েত দান করেন সে কখনো পথভ্রষ্ট হয় না। আমরা আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহের জন্য তাঁর কাছে এমনভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করি, যে নিজের দাসত্ব স্বীকার করে এবং বিশ্বাস করে যে, তিনি ছাড়া আর কেউ তার গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না এবং তাকে তা থেকে নাজাত দিতে পারে না।

আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আর মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে রাসূলদের আগমনের দীর্ঘ বিরতির পর পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁর ওহির জন্য মনোনীত ও নির্বাচিত এবং তাঁর রিসালাতের জন্য বাছাইকৃত। তিনি আল্লাহর সকল সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্বপ্রাপ্ত: তাঁর মাধ্যমে রহমতের দ্বার উন্মোচন ও নবুওয়তের সমাপ্তি ঘটেছে। তাঁকে এমন ব্যাপক আদর্শ দিয়ে পাঠানো হয়েছে যা তাঁর পূর্ববর্তী কোনো রাসূলকে দেওয়া হয়নি। ইহকালে আল্লাহর নামের সাথে তাঁর নামকেও সমুন্নত করা হয়েছে এবং পরকালে তিনি হবেন এমন এক সুপারিশকারী যাঁর সুপারিশ কবুল করা হবে। তিনি আল্লাহর সৃষ্টিজগতের মধ্যে আত্মিক দিক থেকে শ্রেষ্ঠ এবং দ্বীন ও দুনিয়ার সকল উত্তম চরিত্রের আধার, আর বংশমর্যাদা ও অবস্থানের দিক দিয়েও তিনি সর্বোত্তম।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ৬)
فصلَّى الله على نبيِّنا كلَّما ذكره الذاكرون، وغفَلَ عن ذِكْره الغافلون، وصلَّى عليه في الأوَّلين والآخِرِين، أفضلَ وأكثَرَ وأزكى ما صلَّى على أحدٍ مِنْ خَلْقِه، وزكَّانا - وإياكم - بالصلاةِ عليه أفضلَ ما زكَّى أحدًا من أمته بصلاتِهِ عليه، وجزاه اللهُ عنا أفضَلَ ما جزى مُرْسَلاً عَمَّنْ أُرْسِلَ إليه، فلم تُمْسِ بنا نعمةٌ ظهرَتْ ولا بطنَتْ، نلنا بها حَظًّا في دينٍ ودنيا، أو دُفِعَ بها عنا مكروهٌ فيهما أو في واحدٍ منهما - إلا ومحمَّدٌ صلى الله عليه سَبَبُهَا، القائدُ إلى خَيْرِها، والهادي إلى رُشْدِها(1) .

أما بعد:

فإنَّ عِلْمَ عِلَلِ الحديثِ مِنْ أَجَلِّ العلومِ(2) التي لم تَتَهَيَّأْ معرفتُهَا إلا لنَزْرٍ يَسِيرٍ مِنْ أهلِ العلمِ؛ وقد صُنِّفَتْ فيه مصنَّفاتٌ عديدةٌ(3) ، من أَهَمِّهَا "كِتَابُ الْعِلَلِ" لأبي محمَّدٍ عبدِ الرحمنِ ابنِ أبي حاتمٍ الرازيِّ (ت327هـ) ، الذي جَمَعَ فيه كلامَ أبيه وأبي زُرْعَةَ في تعليلِ الأحاديثِ، معَ زيادةِ كلامِ بعضِ الأئمَّةِ الآخَرِينَ - على قِلَّتِهِ - وربَّما أَدْلَى هو بِدَلْوِهِ في الكلامِ في هذه العِلَلِ أحيانًا.

وقد طُبِعَ هذا الكتابُ أَوَّلَ مَرَّةٍ سنةَ (1343هـ) بتحقيقِ الأستاذِ مُحِبِّ الدِّينِ الخَطِيبِ _ح؛ في المطبعةِ السَّلَفيَّةِ التي كان أنشأَهَا،

--------------------------------------------

(1) من مقدمة الإمام الشافعي لكتاب "الرسالة" بتصرف.

(2) انظر مبحث "أهمية علم علل الحديث" الآتي (ص9) .

(3) انظر مبحث "المصنفات في علل الحديث" الآتي (ص19) .
আল্লাহ আমাদের নবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন যখনই স্মরণকারীরা তাঁকে স্মরণ করে এবং গাফেলরা তাঁর স্মরণ হতে বিমুখ থাকে। তিনি তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের মাঝে—এমন সর্বোত্তম, সর্বাধিক এবং সবচেয়ে পবিত্র রহমত যা তিনি তাঁর সৃষ্টির কারো ওপর বর্ষণ করেছেন। তিনি যেন আমাদের এবং আপনাদের তাঁর ওপর দুরুদ পাঠের উসিলায় পবিত্র করেন, যেভাবে তিনি তাঁর উম্মতের কাউকে তাঁর ওপর দুরুদ পাঠের কারণে পবিত্র করেছেন। আল্লাহ আমাদের পক্ষ হতে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, যা তিনি কোনো রাসূলকে তাঁর প্রেরিত জাতির পক্ষ হতে দান করেছেন। আমাদের নিকট প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য এমন কোনো নিয়ামত পৌঁছায়নি, যার মাধ্যমে আমরা দ্বীন ও দুনিয়াতে কোনো কল্যাণ লাভ করেছি, কিংবা উভয় জগতের কোনো অনিষ্ট আমাদের থেকে দূর হয়েছে—অথচ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন সেই সবের মাধ্যম, কল্যাণের দিকে পরিচালনাকারী এবং সঠিক পথের দিশারী(১)।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই ইলমে ইলালুল হাদিস (হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান) হলো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত(২) যার জ্ঞান অর্জন করা আহলুল ইলমের (বিদ্বানদের) মাঝে অতি সামান্য একদল ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে(৩), যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতেম আর-রাযী (মৃত্যু ৩২৭ হি.)-এর রচিত "কিতাবুল ইলাল"। তিনি এতে হাদিসের ত্রুটি বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর পিতা এবং আবু যুরআর বক্তব্যসমূহ সংকলন করেছেন, সাথে অন্যান্য কিছু ইমামদের বক্তব্যও যোগ করেছেন—যদিও তা পরিমাণে কম—এবং কখনও কখনও তিনি নিজেও এই ত্রুটিগুলোর বিষয়ে তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন।

এই বইটি প্রথমবারের মতো ১৩৪৩ হিজরী সনে উস্তাদ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব (রহ.)-এর তাহকীকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'আল-মাতবাআতুস সালাফিয়্যাহ' থেকে মুদ্রিত হয়েছিল,

--------------------------------------------

(১) ইমাম শাফেয়ীর "আর-রিসালাহ" গ্রন্থের ভূমিকা হতে পরিমার্জিত।

(২) সামনে আগত "ইলমে ইলালুল হাদিসের গুরুত্ব" পরিচ্ছেদটি দেখুন (পৃ. ৯)।

(৩) সামনে আগত "ইলমে ইলালুল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ" পরিচ্ছেদটি দেখুন (পৃ. ১৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ৭)
مُعْتَمِدًا في تحقيقِه على نُسْخَتَيْنِ، لكنَّ إحداهما منقولةٌ عن الأخرى كما سيأتي بيانُهُ(1) ، وفيهما أسقاطٌ وتصحيفاتٌ، لكنَّهُ وَفَّى بإثباتِ النَّصِّ على حَسَبِ استطاعتِهِ.

ثم عَمَدَ الأخُ نَشْأَتُ بنُ كمالٍ الْمِصْرِيُّ، فحَقَّقَ الكتابَ اعتمادًا على النُّسَخِ الخَطِّيَّةِ الأخرى، وطُبِعَ الكتابُ بتحقيقِهِ في (4) مجلَّداتٍ، غيرَ أنَّه وقَعَ في أخطاءٍ نَبَّهَ عليها الأخُ محمَّدُ بنُ صالحٍ الدباسِيُّ الذي قام بتحقيقِ الكتابِ وإخراجِهِ في (3) مجلَّدات، على وجهٍ أَفْضَلَ مِنْ سابقَيْهِ؛ فجزى اللهُ الجميعَ خيرَ الجزاءِ.

وقد مَنَّ اللهُ تعالى عَلَيْنَا بالفَرَاغِ مِنْ تحقيقِ هذا الكتابِ، الذي ابتدأْنَا العمَلَ فيه قبل أكثَرَ من خمس سنين، وما كنا نتوقَّع أننا سنلاقي ما لاقيناه من عَنَتٍ ومَشَقَّةٍ في إخراجه على وجهٍ نرجو أن يكونَ الأقرَبَ إلى الصوابِ إنْ شاء الله تعالى.

وكانت الرغبةُ في أولِ الأَمْرِ متجهةً إلى إخراجِهِ اعتمادًا على نسخةِ مكتبة أحمد الثالث وحدها؛ دون تخريجٍ أو تعليقٍ إلا على ما لابُدَّ منه، لكنْ واجهَنَا كثيرٌ من الإشكالاتِ التي تَطَلَّبَتِ الرجوعَ إلى نُسَخٍ أخرى، فجمعنا ما وَقَفْنَا عليه منها، ومع هذا كلِّه لم يَزَلْ في الكتابِ مواضعُ أخرى مُشْكِلَةٌ، فرأينا ضرورةَ تقصِّي المراجعِ التي تأخذُ عن ابن أبي حاتم بطريق الرواية أو النقل، كما رأينا ضرورةَ

--------------------------------------------

(1) (ص144 وما بعدها) من هذه المقدمة.
তিনি তাঁর সম্পাদনায় (তাহকিক) দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন, কিন্তু তার মধ্যে একটি অপরটি থেকে অনুলিখিত, যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসবে(১)। সেগুলোতে কিছু বিচ্যুতি ও লিপিকরজনিত ভুল রয়েছে, তবে তিনি তাঁর সাধ্যমতো পাঠ্যটি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সচেষ্ট ছিলেন।

অতঃপর ভাই নাশআত বিন কামাল আল-মিসরি অগ্রসর হন এবং অন্যান্য হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে বইটি সম্পাদনা করেন। তাঁর সম্পাদনায় বইটি (৪) খণ্ডে মুদ্রিত হয়, তবে তিনি এমন কিছু ভুল করেছেন যা ভাই মুহাম্মাদ বিন সালিহ আদ-দাব্বাসি চিহ্নিত করেছেন। আদ-দাব্বাসি বইটি (৩) খণ্ডে সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন, যা পূর্ববর্তী দুই প্রচেষ্টার তুলনায় অধিকতর উত্তম। আল্লাহ সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

মহান আল্লাহ আমাদের এই কিতাবটির সম্পাদনা সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেছেন, যার কাজ আমরা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আগে শুরু করেছিলাম। আমরা কল্পনাও করিনি যে, কিতাবটিকে সঠিক পাঠের যতটা সম্ভব নিকটবর্তী করার প্রক্রিয়ায় আমাদের এতটা কষ্ট ও শ্রমের মুখোমুখি হতে হবে, ইনশাআল্লাহু তাআলা।

শুরুতে আমাদের ইচ্ছা ছিল কিতাবটি শুধুমাত্র ‘আহমাদ আস-সালিস’ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা; অত্যাবশ্যকীয় বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো তাখরিজ (উৎস অনুসন্ধান) বা টীকা ছাড়াই। কিন্তু আমরা এমন অনেক জটিলতার সম্মুখীন হয়েছি যা অন্যান্য পাণ্ডুলিপির শরণাপন্ন হওয়াকে অপরিহার্য করে তুলেছে। ফলে আমরা যেগুলোর সন্ধান পেয়েছি সেগুলো সংগ্রহ করেছি। তা সত্ত্বেও কিতাবটিতে আরও কিছু অমীমাংসিত স্থান রয়ে গেছে, তাই আমরা ইবন আবি হাতিম থেকে বর্ণনা বা উদ্ধৃতি আকারে গ্রহণকারী অন্যান্য উৎসগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। যেমন আমরা প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি...

--------------------------------------------

(১) এই ভূমিকার (১৪৪ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ৮)
تخريجِ الرواياتِ والطرقِ لإتمامِ العمل، فساعَدَنَا هذان الأمران كثيرًا على إزالةِ كثيرٍ من تلك الإشكالاتِ كما سيأتي تفصيلُهُ في خُطَّةِ العملِ إن شاء الله.

وقد قدَّمنا للكتاب بمقدمةٍ تناولنا فيها ما يلي:

1 - أهميَّة عِلْمِ عِلَلِ الحديث، والمصنَّفات فيه، وتعريف العِلَّة في اللغة والاصطلاح، وذِكْر أسباب العلة. وكنا نرغب في ذكر قرائن الترجيح والتعليل وأجناس العلة، لكن رأينا الاكتفاء برسالة أخينا الدكتور عادل الزُّرَقي في «قرائن العلة»(1) ، وبما ذكره أبو عبد الله الحاكم في «معرفة علوم الحديث» (ص113-118) عن أجناس العلَّة، ولخَّصه وهذَّبه السُّيُوطي في «تدريب الراوي» (1/422-427) وبلَغَنَا أنَّ الأخ أبا سفيان مصطفى باحو جَمَعَ ذلك وزاد عليه في بحثٍ بعنوان "العِلَّة وأجناسها عند المحدِّثين" لم يُطْبَعْ بعدُ. أجزل الله الأجر والثواب للجميع.

2 - دراسة مُطَوَّلة للمُصَنِّف عبد الرحمن بن أبي حاتم _ح.

3 - ترجمة موجزة لأبي حاتم، وأبي زرعة، رحمة الله عليهما.

4 - التعريف بـ"كتابِ العِلَلِ" لابن أبي حاتم، وفيه:

أ) تمهيدٌ يتضمَّنُ أَهَمِّيَّةَ الكتابِ، وبَعْضَ مميِّزاتِهِ، ومَنْهَجَ مصنِّفِهِ فيه.

--------------------------------------------

(1) وهو بحث بعنوان "قواعد العلل، وقرائن الترجيح"، طبع بدار المحدِّث، سنة 1425هـ، الرياض - السعودية.
কাজের পূর্ণতার জন্য বর্ণনা এবং সূত্রগুলোর (তাকরিজ) অনুসন্ধান; এই দুটি বিষয় আমাদের সেই সব জটিলতার অনেকগুলো নিরসনে অনেক সাহায্য করেছে, যেমনটি ইনশাআল্লাহ কর্মপরিকল্পনায় বিস্তারিত আসবে।

আমরা বইটির শুরুতে একটি ভূমিকা প্রদান করেছি যাতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে:

১ - ইলমে ইলালুল হাদিসের গুরুত্ব, এ বিষয়ের গ্রন্থসমূহ, আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ‘ইল্লত’ (ত্রুটি)-এর সংজ্ঞা এবং ইল্লতের কারণসমূহের উল্লেখ। আমরা তারজিহ (প্রাধান্য প্রদান) ও তালিল (ত্রুটি চিহ্নিতকরণ)-এর আলামত এবং ইল্লতের প্রকারভেদগুলো উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের ভাই ডক্টর আদিল আয-যুরাকির ‘কারাইনুল ইল্লা’(১) নামক গবেষণাপত্র এবং আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিমের ‘মারিফাতু উলুমিল হাদিস’ (পৃ. ১১৩-১১৮)-এ ইল্লতের প্রকারভেদ নিয়ে যা উল্লেখ করেছেন তা যথেষ্ট মনে করেছি, যা সুয়ুতি ‘তাদরিবুর রাবি’ (১/৪২২-৪২৭)-তে সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত করেছেন। আর আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ভাই আবু সুফিয়ান মুস্তফা বাহু ‘আল-ইল্লা ওয়াাজনাসুহা ইনদাল মুহাদ্দিসিন’ শিরোনামের একটি গবেষণায় তা একত্র করেছেন এবং আরও কিছু সংযোজন করেছেন যা এখনও মুদ্রিত হয়নি। আল্লাহ সবাইকে উত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করুন।

২ - গ্রন্থকার আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম (রহ.)-এর ওপর একটি দীর্ঘ পর্যালোচনা।

৩ - আবু হাতিম এবং আবু জুরআ (রহমতুল্লাহি আলাইহিমা)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী।

৪ - ইবনে আবি হাতিমের ‘কিতাবুল ইলাল’-এর পরিচিতি, যার মধ্যে রয়েছে:

ক) একটি উপক্রমণিকা যাতে গ্রন্থটির গুরুত্ব, কিছু বৈশিষ্ট্য এবং এতে গ্রন্থকারের অনুসৃত পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এটি একটি গবেষণা প্রবন্ধ যার শিরোনাম ‘কাওয়াইদুল ইলাল ওয়া কারাইনুত তারজিহ’, যা ১৪২৫ হিজরিতে সৌদি আরবের রিয়াদের দারুল মুহাদ্দিস থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ৯)
ب) رواياتُ الكتاب.

جـ) ترجمة لرواة الكتاب.

د) وصف النُّسَخِ الخَطِّيَّةِ المعتمدة.

هـ) تحقيق اسمِ الكتابِ، وصِحَّةِ نِسْبَتِهِ إلى مصنِّفِهِ.

و) خُطَّة العَمَلِ ومنهجنا في تحقيق الكتاب، مع بعضِ التنبيهات.

ز) نماذج من النُّسَخِ الخَطِّيَّةِ للكتاب.

وها هو الكتابُ بين يدَيْكَ - أخي القارئ الكريم - لك غُنْمُهُ، وعلينا غُرْمُهُ، ولا نستطيعُ أنْ نَصِفَ لك ما بُذِلَ فيه من جُهْد، نسألُ اللهَ تعالى أَلاَّ يَحْرِمنا أَجْرَهُ، وحسبنا أنَّا بَذَلْنَا وُسْعَنَا ولا نَدَّعي الكمال، فإنْ أصبنا فَمِنَ الله، وإنْ أخطأنا فَمِنْ أنفسنا ومِنَ الشيطان، مع دعائنا لِمَنْ أتحفَنَا بشيءٍ من الملحوظاتِ حتى نَتَلَافاها ونَتَدَارَكَهَا في طبعةٍ لاحقة إنْ شاء الله.

ولا يفوتنا في الختامِ أنْ نَتقدَّمَ بالشُّكْرِ الجزيلِ لفضيلة الدكتور الشيخ محمد بن تُرْكي التُّرْكي الذي أَتْحَفنا ببعضِ النسخ الخطية لهذا الكتاب.

والشُّكْرُ موصولٌ للمحرِّك الإداري للعمل الشيخ أبي أسامة محمد ابن سالم بن علي بن جابر؛ على بَذْلِ وُسْعِهِ وطاقتِهِ، وحُنْكتِهِ في الإدارة على وجه ظهرت ثماره بحمد الله.
খ) গ্রন্থের বর্ণনাসমূহ।

গ) গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের জীবনী।

ঘ) নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ।

ঙ) গ্রন্থের নামকরণের তাহকীক এবং এর সংকলকের দিকে এর সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা যাচাই।

চ) কর্মপরিকল্পনা এবং গ্রন্থটি তাহকীক বা সম্পাদনায় আমাদের অনুসৃত পদ্ধতি, সাথে কিছু প্রয়োজনীয় সতর্কতা।

ছ) গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোর কিছু নমুনা।

সম্মানিত পাঠক ভাই! এই তো গ্রন্থটি এখন আপনার সামনে—এর প্রাপ্তি বা উপকারটুকু আপনার জন্য, আর এর দায়ভার আমাদের ওপর। এতে যে পরিমাণ শ্রম ব্যয় করা হয়েছে তা আপনার কাছে ভাষায় বর্ণনা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এর প্রতিদান থেকে বঞ্চিত না করেন। আমাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এবং আমরা পূর্ণতার দাবি করছি না। সুতরাং আমরা যদি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকি তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি কোনো ভুল করে থাকি তবে তা আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। সেই সাথে আমাদের পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির জন্য দুআ রইল যিনি আমাদের কোনো পর্যবেক্ষণ বা নোট প্রদান করে ধন্য করবেন, যাতে আমরা পরবর্তী সংস্করণে তা সংশোধন ও কাটিয়ে উঠতে পারি, ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে আমরা ফযীলাতুশ শায়খ ড. মুহাম্মদ ইবনে তুর্কি আল-তুর্কি-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি আমাদের এই গ্রন্থের কিছু পাণ্ডুলিপি দিয়ে ধন্য করেছেন।

আরও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এই কাজের প্রশাসনিক চালিকাশক্তি শায়খ আবু উসামা মুহাম্মদ ইবনে সালিম ইবনে আলি ইবনে জাবিরের প্রতি; তার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও শক্তি ব্যয় এবং প্রশাসনিক বিচক্ষণতার জন্য, যার সুফল আল্লাহর প্রশংসায় সুস্পস্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ১০)
كما نشكُرُ فَرِيقَ التحقيقِ في هذا الكتابِ الذين لولا تيسيرُ الله سبحانه، ثم تضافُرُ جهودهم؛ لَمَا أمكَنَ إنجازُ هذا العمل الضخم، مع هذه الصعوبات، وهم الإخوة الأساتذة:

1) د. حيدر بن عيدروس علي أحمد.

2) عيسى بن كُوكُوني صُوك.

3) عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الضاحي.

4) حسني بن أحمد بن حَسَانين الجُهَني.

5) حسام بن محمد القَطَّان.

6) علي بن أحمد بن عبد الباقي الخُولي.

7) أيمن بن أحمد ذو الغِنى.

8) محمد بن خالد الوَبَارنه.

9) محمد بن رجب بن محمد الخُولي.

كما نَشْكُرُ كلًّا من مُنَضِّد الكتاب الأستاذ يسري بن حسين محمد سعد، وفريق المقابلة: الأستاذ إبراهيم بن عبد الجليل رضوان، والأستاذ حسان بن عبد الكريم العثمان.

وآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ

د/ سعد بن عبد الله بن عبد العزيز الحميِّد

د/ خالد بن عبد الرحمن بن علي الجريسي
আমরা এই বইটির গবেষণা ও সম্পাদনা দলকে ধন্যবাদ জানাই, যাদের প্রচেষ্টার সমন্বয় এবং সর্বোপরি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার তাওফিক না থাকলে নানা প্রতিকূলতার মাঝে এই বিশাল কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। তাঁরা হলেন উস্তাদ ভাইয়েরা:

১) ড. হায়দার বিন আইদারুস আলী আহমদ।

২) ঈসা বিন কুকুনী সুক।

৩) আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ আদ-দাহি।

৪) হুসনী বিন আহমদ বিন হাসনাইন আল-জুহানী।

৫) হুসাম বিন মুহাম্মদ আল-কাত্তান।

৬) আলী বিন আহমদ বিন আব্দুল বাকি আল-খুলি।

৭) আয়মান বিন আহমদ যুল গিনা।

৮) মুহাম্মদ বিন খালিদ আল-ওয়াবারনাহ।

৯) মুহাম্মদ বিন রজব বিন মুহাম্মদ আল-খুলি।

এছাড়াও আমরা বইটির কম্পোজিটর উস্তাদ ইউসরি বিন হুসাইন মুহাম্মদ সাদ এবং প্রুফরিডিং দল: উস্তাদ ইবরাহীম বিন আব্দুল জলিল রাদওয়ান ও উস্তাদ হাসসান বিন আব্দুল কারীম আল-উসমানকে ধন্যবাদ জানাই।

এবং আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

ড. সাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আযীয আল-হুমাইয়িদ

ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান বিন আলী আল-জুরাইসী
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ১১)
أَهَمِّيَّةُ عِلْمِ عِلَلِ الحَدِيثِ

لقد مَنَّ اللهُ على الأُمَّةِ المحمَّديةِ أنْ جعلها خيرَ الأمم، ودينَها خاتَمَ الأديانِ وأكملَهَا، ونبيَّها خاتَمَ الأنبياءِ وأفضلَهم. وتكفَّل اللهُ لهذه الأُمَّةِ بِحِفْظِ وَحْيها من التحريف والتبديل؛ فقال سبحانه: [الحِجر: 9] ، {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ *} والذِّكْرُ هنا يَعُمُّ الكتابَ والسُّنَّة؛ لأنَّ السنَّةَ وحيٌ منزَّلٌ من الله سبحانه؛ قال تعالى: [النّجْم: 3] {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى *} ، وهي المبيِّنة للقرآن، وسمَّاها الله ذكرًا؛ قال تعالى: [النّحل: 44] {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} ، فلا يمكن العملُ بالقرآن بمَعْزِل عن السنة؛ كعدد الصَّلوات في اليوم والليلة، وعدد ركعات الصَّلاة، وصفة أدائها، وهكذا الزكاة، والحَجُّ، والصَّوم، وغير ذلك، وهذا الذي جَعَلَ مكحولاً _ح يقول: القرآنُ أحوَجُ إلى السُّنَّة من السنَّة إلى القُرآن(1) .

وقال يحيى بن أبي كثير: السُّنَّة قاضيةٌ على الكتاب، وليس الكتابُ بقاضٍ على السنَّة(2) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه سعيد بن منصور - كما في "تفسير القرطبي" (1/39) - والمروزي في "السنة" (104) ، والخطيب في "الكفاية" (ص14) ، والهروي في "ذم الكلام" (214) . ومن طريق سعيد بن منصور أخرجه ابن شاهين في "السنة" (48) ، والهروي في الموضع السابق.

(2) أخرجه سعيد بن منصور - كما في الموضع السابق من "تفسير القرطبي" - والدارمي في "سننه" (587) ، والخطيب في الموضع السابق (1/39) ، والمروزي في "السنة" (103) ، والهروي في "ذم الكلام" (211) . ومن طريق سعيد بن منصور أخرجه ابن شاهين في "السنة" (48) ، والهروي في الموضع السابق.
ইলমে ইলালুল হাদিসের গুরুত্ব

আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুহাম্মাদিয়ার প্রতি এই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি একে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত করেছেন এবং এর দ্বীনকে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ দ্বীন এবং এর নবীকে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী করেছেন। আল্লাহ এই উম্মতের জন্য তাদের ওহীকে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন; মহান আল্লাহ বলেন: [আল-হিজর: ৯], {নিশ্চয়ই আমি যিক্ (স্মারক) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।} আর এখানে ‘যিক্’ বলতে কুরআন ও সুন্নাহ উভয়কেই বোঝানো হয়েছে; কারণ সুন্নাহও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী; মহান আল্লাহ বলেন: [আন-নাজম: ৩] {এবং তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না।}। আর এটি কুরআনের ব্যাখ্যাকারী, এবং আল্লাহ একেও ‘যিক্’ নামে অভিহিত করেছেন; আল্লাহ তাআলা বলেন: [আন-নাহল: ৪৪] {আর আমি আপনার প্রতি যিক্ অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য যা নাযিল করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন এবং যেন তারা চিন্তা-ভাবনা করে।}। সুতরাং সুন্নাহকে বিচ্ছিন্ন রেখে কুরআনের ওপর আমল করা সম্ভব নয়; যেমন—দিন ও রাতের সালাতের সংখ্যা, সালাতের রাকাত সংখ্যা, তা আদায়ের পদ্ধতি, এবং একইভাবে জাকাত, হজ, সাওম ইত্যাদি। আর এই কারণেই মাকহুল বলেন: কুরআন সুন্নাহর প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী, সুন্নাহ কুরআনের প্রতি যতটুকু মুখাপেক্ষী তার চেয়েও বেশি(১)।

ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর বলেন: সুন্নাহ কিতাবুল্লাহর ওপর চূড়ান্ত ফয়সালাকারী, কিন্তু কিতাবুল্লাহ সুন্নাহর ওপর চূড়ান্ত ফয়সালাকারী নয়(২)।

--------------------------------------------

(১) এটি সাঈদ ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন—যেমনটি ‘তাফসিরে কুরতুবী’ (১/৩৯)-তে রয়েছে—এবং মারওয়াযী ‘আস-সুন্নাহ’ (১০৪) গ্রন্থে, খতীব ‘আল-কিফায়া’ (পৃ. ১৪) গ্রন্থে এবং হারাবী ‘যাম্মুল কালাম’ (২১৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর সাঈদ ইবনে মানসুরের সূত্র ধরে ইবনে শাহীন ‘আস-সুন্নাহ’ (৪৮) গ্রন্থে এবং হারাবী পূর্বোক্ত স্থানে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

(২) এটি সাঈদ ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন—যেমনটি ‘তাফসিরে কুরতুবী’র পূর্বোক্ত স্থানে রয়েছে—এবং দারেমী তাঁর ‘সুনান’ (৫৮৭) গ্রন্থে, খতীব পূর্বোক্ত স্থানে (১/৩৯), মারওয়াযী ‘আস-সুন্নাহ’ (১০৩) গ্রন্থে এবং হারাবী ‘যাম্মুল কালাম’ (২১১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর সাঈদ ইবনে মানসুরের সূত্র ধরে ইবনে শাহীন ‘আস-সুন্নাহ’ (৪৮) গ্রন্থে এবং হারাবী পূর্বোক্ত স্থানে এটি উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ১২)
وقال الفَضْل بن زياد: سمعتُ أحمدَ بن حنبل وسُئل عن هذا الحديث الذي رُوي: أنَّ السُّنَّةَ قاضيةٌ على الكتاب؟ فقال: ما أجسُرُ على هذا أنْ أقولَهُ، ولكنَّ السنَّةَ تفسِّر الكتاب، وتعرِّفُ الكتابَ وتبيِّنه(1) .

وقال حَسَّان بن عَطيَّة: كان جبريلُ _ج يَنْزِلُ على رسول الله (ص) بالسُّنَّة كما ينزل عليه بالقرآن، يعلِّمه إياها كما يعلِّمه القرآن(2) .

وقال إسماعيل بن عُبَيدالله: ينبغي لنا أن نَحْفَظَ حديثَ رسول الله (ص) كما نحفَظُ القرآنَ؛ لأن الله تعالى يقول: [الحَشر: 7] {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ}(3) .

وهذا هو الذي فهمه الصحابيُّ الجليلُ عبد الله بن مسعود ح حين قال: «لَعَنَ اللهُ الواشمَاتِ والمُسْتَوْشِمَاتِ، والنَّامِصَاتِ والمُتَنمِّصَاتِ، والمُتَفلِّجَاتِ للحُسْنِ، المُغيِّراتِ خَلْقَ اللهِ» ، فبلغ ذلك امرأةً من بني أَسَدٍ يقال لها: أُمُّ يعقوب، وكانتْ تَقْرَأُ القرآنَ، فأتتْهُ فقالت: ما حديثٌ بلغني عنك؛ أنك لعنتَ الواشمات والمُسْتَوشمات،

--------------------------------------------

(1) أخرجه الخطيب في "الكفاية" (ص15) ، والهروي في "ذم الكلام" (213) ، وابن أبي يعلى في "طبقات الحنابلة" (1/252) .

(2) أخرجه الدارمي (588) ، والمروزي في "السنة" (102) ، والخطيب في "الكفاية" (ص12 و15) ، والهروي في "ذم الكلام" (216) .

(3) أخرجه الخطيب في "الكفاية" (ص12) ، والهروي في "ذم الكلام" (217) .
এবং ফযল ইবন যিয়াদ বলেন: আমি আহমাদ ইবন হাম্বলকে এই বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি যে: সুন্নাহ কি কুরআনের ওপর ফয়সালাকারী বা বিচারক? তিনি বললেন: আমি এমনটি বলার সাহস করি না; বরং সুন্নাহ কুরআনকে ব্যাখ্যা করে, কুরআনকে চিনিয়ে দেয় এবং একে সুস্পষ্ট করে(১) ।

হাসসান ইবন আতিয়্যাহ বলেন: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট সুন্নাহ নিয়ে অবতীর্ণ হতেন যেভাবে তিনি কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হতেন। তিনি তাঁকে সুন্নাহ শিক্ষা দিতেন যেভাবে তাঁকে কুরআন শিক্ষা দিতেন(২) ।

ইসমাঈল ইবন উবাইদুল্লাহ বলেন: আমাদের উচিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস মুখস্থ রাখা যেভাবে আমরা কুরআন মুখস্থ রাখি; কারণ মহান আল্লাহ বলেন: [আল-হাশর: ৭] {আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন, তা গ্রহণ করো}(৩) ।

আর এটিই সেই বিষয় যা মহান সাহাবী আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বুঝেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন: «আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন ঐসব নারীদের যারা উল্কি অংকন করে এবং যারা উল্কি করায়, আর ঐসব নারীদের যারা ভ্রূ উপড়ায় এবং যারা ভ্রূ উপড়িয়ে নেয়, আর সৌন্দর্যের জন্য যারা দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করে—যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে»। এই খবরটি বনু আসাদ গোত্রের উম্মু ইয়াকুব নামক এক মহিলার কাছে পৌঁছাল, তিনি কুরআন পাঠ করতেন। তিনি তাঁর কাছে এসে বললেন: আপনার পক্ষ থেকে আমার কাছে কী এক হাদীস পৌঁছাল যে; আপনি নাকি উল্কি অংকনকারিণী ও যারা উল্কি করিয়ে নেয় তাদের অভিশাপ দিয়েছেন,

--------------------------------------------

(১) খতীব আল-বাগদাদী এটি ‘আল-কিফায়া’ (পৃ. ১৫) গ্রন্থে, হারাবী ‘যাম্মুল কালাম’ (২১৩) গ্রন্থে এবং ইবন আবু ইয়ালা ‘তাবাকাতুল হানাবিলা’ (১/২৫২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি দারেমী (৫৮৮), মারওয়াযী ‘আস-সুন্নাহ’ (১০২), খতীব ‘আল-কিফায়া’ (পৃ. ১২ ও ১৫) এবং হারাবী ‘যাম্মুল কালাম’ (২১৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি খতীব ‘আল-কিফায়া’ (পৃ. ১২) এবং হারাবী ‘যাম্মুল কালাম’ (২১৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
والمُتَنمِّصات، والمُتَفلِّجات للحُسْن، المغيِّراتِ خَلْقَ الله؟ فقال عبد الله: وما لي لا ألعَنُ مَنْ لَعَنَ رسولُ الله (ص) ، وهو في كتاب الله؟! فقالت المرأة: لقد قرأتُ ما بين لَوْحَيِ المصحفِ فما وجدتُّهُ، فقال: لئنْ كنتِ قرأتِيهِ لقد وجَدتِّيهِ(1) ؛ قال الله عز وجل: [الحَشر: 7] {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} . فقالتِ المرأةُ: فإني أرى شيئًا مِنْ هذا على امرأتِكَ الآنَ، قال: اذهبي فانظُري، فدخلَتْ على امرأةِ عبد الله، فلم تَرَ شيئًا، فجاءتْ إليه فقالتْ: ما رأيتُ شيئًا، فقال: أَمَا لو كان ذلك لم نُجامِعْها(2) .

وكما أنَّ اللهَ سبحانه ابتَلَى آدَمَ وذريَّتَهُ بالإهباطِ إلى الأرض، وبِمَكْرِ الشيطانِ وكَيْدِهِ لهم لِيَعْلَمَ مَنْ يُطِيعه ممَّن يَعْصيه، وهو القادر سبحانه على أن يجعلَهُمْ كلَّهم عاملين بطاعته؛ كما قال تعالى: [السَّجدَة: 13] {وَلَوْ شِئْنَا لآَتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي لأَِمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ *} ؛ فإنه كذلك ابتلى الأمَّةَ المحمَّديةَ بطريقةِ نقل السُّنَّة النبوية وروايتها، فمِنَ المعلوم أنَّ السُّنَّة لم

--------------------------------------------

(1) كذا في الصحيحين، بإشباع كسرة تاء المخاطبة، وهي لغةٌ حكاها الخليل الفراهيدي. انظر التعليق على المسألة رقم (1243) من هذا الكتاب.

(2) أخرجه البخاري في "صحيحه" (4886) ، ومسلم (2125) . وقوله: «لم نجامعها» هذا لفظُ مسلم. واختلفت روايات البخاري، قال الحافظ ابن حجر في "الفتح" (8/631) : «قوله: ما جامعتُهَا، يَحْتمل أن يكون المراد بالجماعِ: الوَطْءَ، أو الاجتماعَ، وهو أبلغ، ويؤيِّده قوله في رواية الكُشْمَيْهَني: ما جامَعَتْنَا، وللإسماعيلي: ما جامَعَتْنِي» . اهـ.
এবং যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং যারা সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করে, যারা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে? আব্দুল্লাহ বললেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) যাকে অভিশাপ দিয়েছেন তাকে আমি কেন অভিশাপ দেব না, অথচ তা আল্লাহর কিতাবে রয়েছে?! মহিলাটি বলল: আমি মুসহাফের দুই মলাটের মধ্যবর্তী যা আছে সব পড়েছি কিন্তু তা পাইনি। তিনি বললেন: যদি তুমি তা পড়তে তবে অবশ্যই তা পেতে; আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেছেন: [আল-হাশর: ৭] {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}। মহিলাটি বলল: আমি আপনার স্ত্রীর মধ্যে এখন এর কিছু দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন: যাও, গিয়ে দেখো। সে আব্দুল্লাহর স্ত্রীর কাছে প্রবেশ করল কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। সে তাঁর কাছে ফিরে এসে বলল: আমি তো কিছুই দেখলাম না। তিনি বললেন: যদি তেমনটি হতো, তবে আমরা তার সাথে একত্রে বসবাস করতাম না।

আর আল্লাহ সুবহানাহু যেভাবে আদম ও তাঁর সন্তানদের পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এবং শয়তানের প্রতারণা ও চক্রান্তের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছেন—যাতে তিনি জেনে নেন কে তাঁর আনুগত্য করে আর কে অবাধ্য হয়; অথচ তিনি সুবহানাহু এ বিষয়ে সক্ষম ছিলেন যে তাদের সবাইকে তাঁর আনুগত্যকারী বানিয়ে দেবেন; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: [আস-সাজদাহ: ১৩] {আর যদি আমরা চাইতাম তবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার হিদায়াত দান করতাম, কিন্তু আমার পক্ষ থেকে এই কথা সত্য হয়েছে যে, আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব}; একইভাবে তিনি উম্মাতে মুহাম্মাদিয়াকে নববী সুন্নাহ স্থানান্তর ও বর্ণনার পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষা করেছেন। এটা সুবিদিত যে সুন্নাহ...

--------------------------------------------

(১) সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ এভাবেই রয়েছে, স্ত্রীবাচক সম্বোধনের 'তা' বর্ণের কাসরাহ-কে প্রলম্বিত করার মাধ্যমে, যা খলীল আল-ফরাহিদী কর্তৃক বর্ণিত একটি উপভাষা। এই কিতাবের ১২৪৩ নং মাসআলার টিকা দেখুন।

(২) এটি বুখারী তাঁর 'সহীহ' (৪৮৮৬) এবং মুসলিম (২১২৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথা: «আমরা তার সাথে একত্রে বসবাস করতাম না» এটি মুসলিমের শব্দ। বুখারীর বর্ণনাগুলো ভিন্ন ভিন্ন। হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ফাতহ' (৮/৬৩১) গ্রন্থে বলেছেন: «তাঁর কথা: 'আমি তার সাথে সংগত হইনি', এখানে 'জিমায়' (সংগত হওয়া) দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে সহবাস অথবা একত্রে বসবাস করা, আর এটাই অধিকতর স্পষ্ট। কুশমাইহানির বর্ণনায় 'সে আমাদের সাথে থাকেনি' এবং ইসমাইলির বর্ণনায় 'সে আমার সাথে থাকেনি' শব্দগুলো একে সমর্থন করে।» সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
تُدَوَّنْ في عصر النبوَّة والخلفاءِ الراشدين كما دُوِّن القرآن؛ لأسبابٍ يطولُ ذِكْرُها(1) ؛ من أهمِّها: طولُ الفترة التي يلزمُهُمْ فيها تدوينُ كُلِّ ما يَصْدُرُ عنه (ص) مِنْ أقوالٍ، وأفعال، وتقريرات، وهي ثلاثٌ وعشرون سنة، مع قِلَّةِ الكَتَبة، ونُدْرَةِ أدواتِ الكتابة، على نحوٍ يَصْعُبُ معه - بل يستحيلُ - كتابةُ كُلِّ ما يَصْدُرُ عنه (ص) طيلةَ هذه الفترة على أكتافِ الإبل، والألواح، وعُسُبِ النخل، والحجارةِ؛ فهذه هي الأدواتُ التي كانوا يَكْتُبون عليها، أما الجُلود فنادرةٌ، وأما الوَرَقُ فمعدومٌ.

وكما أنَّ الصِّراعَ بين الشيطان وبني آدم قائمٌ منذ أنْ أُهْبِطَ آدَمُ إلى الأرض، فالصِّراعُ كذلك موجودٌ بين علماء الحديث وأعداء السُّنَّة، وقد تمخَّض هذا الصِّراع عن تلك الجُهُود التي بذلها العلماءُ لحمايةِ جَنَابِ السُّنَّة، وذَبِّ الكذبِ عنها والدَّخيلِ عليها، وتتمثَّلُ في أمور عديدة، من أهمِّها: نَشْأَةُ الإسناد، وعِلْمُ الجرح والتعديل والكلامُ في الرواةِ جَرْحًا وتعديلاً، ومعرفةُ التاريخِ الذي يَسْتبِينُ به صدقُ الرواةِ وكذبُهم، واتصالُ الأسانيدِ وانقطاعُهَا، وعِلْمُ مصطلح الحديث، والمصنَّفاتُ في صحيحِ السُّنَّة وضعيفها، وغيرُ ذلك كثير؛ ومن أشهره: معرفةُ عِلَلِ الحديثِ الذي هو موضوعُ كتابنا هذا.

--------------------------------------------

(1) تجدها مبسوطة عند الخطيب البغدادي في كتابه "تقييد العلم"، وعند محمد عجاج الخطيب في كتابه "السنة قبل التدوين"، وغيرهما.
নবুওয়াত ও খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে কুরআন সংকলনের ন্যায় (সুন্নাহ) সংকলিত হয়নি; এমন কিছু কারণবশত যা উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হবে(১); তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: সেই দীর্ঘ সময়কাল যাতে তাঁদের জন্য তাঁর (সা.) থেকে নিঃসৃত সকল কথা, কাজ ও মৌনসম্মতিসমূহ সংকলন করা আবশ্যক ছিল, আর তা হলো তেইশ বছর; তার সাথে ছিল লেখকের স্বল্পতা এবং লিখন সামগ্রীর দুষ্প্রাপ্যতা, এমনভাবে যা এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর (সা.) থেকে যা কিছু নিঃসৃত হয়েছে তার সবকিছু উটের কাঁধের হাড়, কাষ্ঠফলক, খেজুরের ডাল ও পাথরের উপর লিখে রাখা কঠিন - বরং অসম্ভব - করে তুলেছিল; কারণ এগুলোই ছিল সেই সামগ্রী যার উপর তাঁরা লিখতেন, আর চামড়া ছিল বিরল এবং কাগজ ছিল একেবারেই অনুপস্থিত।

আর যেভাবে শয়তান ও আদমসন্তানের মাঝে দ্বন্দ্ব আদমকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়ার সময় থেকে বিদ্যমান, তেমনি হাদিস বিশারদগণ ও সুন্নাহর শত্রুদের মাঝেও দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। এই দ্বন্দ্বের ফসল হলো সেই সকল প্রচেষ্টা যা উলামায়ে কেরাম সুন্নাহর মর্যাদা রক্ষা এবং তা থেকে মিথ্যা ও অনুপ্রবেশকারী বিষয়সমূহ বিতাড়িত করার জন্য ব্যয় করেছেন। তা অনেকগুলো বিষয়ের মাধ্যমে প্রতিভাত হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো: ইসনাদের উদ্ভব, ইলমুল জারহ ওয়াত তা'দীল এবং বর্ণনাকারীদের বিষয়ে জারহ ও তা'দীল সংক্রান্ত আলোচনা, সেই ইতিহাস জানা যার মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের সত্যবাদিতা ও মিথ্যাবাদিতা এবং সনদের সংযোগ ও বিচ্ছিন্নতা স্পষ্ট হয়, ইলমুত মুসতালাহিল হাদিস, সহীহ ও যঈফ সুন্নাহ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং আরও অনেক কিছু; যার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো: হাদিসের 'ইলল' (সূক্ষ্ম ত্রুটি) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যা আমাদের এই গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়।

--------------------------------------------

(১) আপনি এটি খতীব বাগদাদীর তাঁর 'তাকয়ীদুল ইলম' কিতাবে এবং মুহাম্মদ আজ্জাজ আল-খতীবের তাঁর 'আস-সুন্নাহ ক্বাবলাত তাদওয়ীন' কিতাবে এবং অন্যান্যদের নিকট বিস্তারিত পাবেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ومع أنَّ مدارَ معرفةِ الصحيح من السَّقيم من الحديثِ: على الإسناد الذي قالوا عنه: إنه مِنَ الدِّين(1) ، والنظرُ في الإسنادِ يكونُ في اتصالِهِ وثِقَةِ رجاله؛ إلا أنَّ المحدِّثين وضعوا نُصْبَ أعينهم أمرًا آخَرَ، وهو أنَّ الثقةَ قد يَهِمُ، وربَّما دَخَلَ في دِينِ الله ما ليس منه بسببِ أوهامِ الثقاتِ الذين يُظَنُّ بهم الظَّنُّ الحسن؛ فَمِنْ هنا نشأ عِلْمُ عِلَلِ

--------------------------------------------

(1) جاء في "مقدمة صحيح مسلم" (1/15) عن عبد الله بن المبارك _ح أنه قال: «الإسنادُ من الدين، ولولا الإسنادُ لقال من شاء ما شاء» .
যদিও হাদিসের বিশুদ্ধ ও অশুদ্ধ জ্ঞান অর্জনের ভিত্তি হলো ইসনাদ বা বর্ণনাপরম্পরা, যার ব্যাপারে তাঁরা বলেছেন যে এটি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত(১), আর ইসনাদ যাচাইয়ের ভিত্তি হলো এর নিরবচ্ছিন্নতা এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা; তবে মুহাদ্দিসগণ অন্য একটি বিষয়কেও তাঁদের চোখের সামনে রেখেছেন, আর তা হলো—নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীও ভ্রান্তিতে পতিত হতে পারেন। আর সম্ভবত আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করতে পারে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, সেই সকল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ভ্রান্তির কারণে যাদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করা হয়। এখান থেকেই ইলমে ইলাল (হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান)-এর উৎপত্তি ঘটেছে।

--------------------------------------------

(১) 'সহিহ মুসলিমের ভূমিকা'য় (১/১৫) আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “ইসনাদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; আর ইসনাদ না থাকলে যে কেউ যা ইচ্ছা তা-ই বলত।”
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الحديث الذي يُعْنَى أولَ ما يُعْنَى بأوهامِ الثقات.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية(1) : «والمقصودُ هنا أنَّ تَعَدُّدَ الطُّرُق - مع عدمِ التشاعرِ أو الاتفاقِ في العادة - يُوجِبُ العلمَ بمضمون المنقول، لكنَّ هذا يُنتفَعُ به كثيرًا في عِلْمِ أحوال الناقلين، وفى مثل هذا يُنتفَعُ برواية المجهول، والسيِّئ الحفظ، وبالحديثِ المُرْسَل، ونحوِ ذلك. ولهذا كان أهلُ العلم يَكْتُبون مثلَ هذه الأحاديث ويقولون: إنه يَصْلُحُ للشواهدِ والاعتبارِ ما لا يَصْلُحُ لغيره؛ قال أحمد: قد أكتُبُ حديثَ الرجلِ لأعتبرَهُ....

وكما أنهم يَسْتَشهدونَ ويَعْتبرونَ بحديثِ الذي فيه سوءُ حفظ، فإنهم أيضًا يضعِّفون مِنْ حديثِ الثقة الصدوقِ الضابطِ أشياءَ تبيَّن لهم أنه غَلِطَ فيها، بأمورٍ يستدلُّون بها، ويسمُّون هذا: «عِلْمَ عِلَلِ الحديث» ، وهو مِنْ أشرفِ علومهم، بحيثُ يكونُ الحديثُ قد رواه ثقةٌ ضابطٌ وغَلِطَ فيه، وغَلَطُهُ فيه عُرِفَ إما بسببٍ ظاهرٍ [أو خفيٍّ](2) ؛ كما عَرَفُوا أنَّ النبيَّ (ص) تزوَّج ميمونةَ وهو حلال، وأنه صلَّى في البيت ركعتين، وجعلوا روايةَ ابنِ عباس- لتزوُّجِها حرامًا، ولكونِهِ لم يُصَلِّ - مما وقَعَ فيه الغَلَطُ … .

والناسُ في هذا الباب طرفانِ: طَرَفٌ مِنْ أهلِ الكلام ونحوهم ممَّن هو بعيدٌ عن معرفةِ الحديثِ وأهله، لا يُميِّز بين الصحيحِ والضعيف، فيَشُكُّ في صحةِ أحاديثَ، أو في القَطْعِ بها، مع كونها معلومةً مقطوعًا بها عند أهلِ العِلْمِ به. وطَرَفٌ ممن يدَّعي اتباعَ الحديثِ والعَمَلَ به؛ كلَّما وجَدَ لفظًا في حديثٍ قد رواه ثقةٌ، أو رأى حديثًا بإسنادٍ ظاهرُهُ الصحةُ، يريدُ أن يَجْعَلَ ذلك مِنْ جنسِ ما جزَمَ أهلُ العلم بصحَّته، حتى إذا عارَضَ الصحيحَ المعروفَ، أخَذَ يتكلَّفُ له التأويلاتِ الباردةَ، أو يجعلُهُ دليلاً له في مسائلِ العلم، مع أنَّ أهلَ العلم بالحديثِ يَعْرِفون أنَّ مثلَ هذا غَلَطٌ» . اهـ.

وقال ابن القيِّم(3) - في كلامه على حديث: «قَضى باليَمِينِ مع الشَّاهد» ، والرَّدِّ على من أعلَّه -: «وهذه العللُ وأمثالها تَعَنُّتٌ لا تُتْرَكُ لها الأحاديثُ الثابتةُ، ولو تُرِكَتِ السننُ بمثلها لَوُجِدَ السبيلُ إلى تَرْكِ

--------------------------------------------

(1) في "مجموع الفتاوى" (13/352-353) . وانظر: "مقدمة أصول التفسير" (ص68- 74) .

(2) ما بين المعقوفين سقط من "مجموع الفتاوى" و"مقدمة أصول التفسير"، فأثبتناه من "توجيه النظر" للشيخ طاهر الجزائري (1/328) ؛ لنقله هذا النَّصَّ عنه.

(3) في "تهذيب السنن" (10/25) .
হাদিস, যা প্রধানত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ভুলভ্রান্তি বা সংশয় নিয়ে আলোচনা করে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ(১) বলেছেন: «এখানে উদ্দেশ্য হলো—স্বাভাবিকভাবে একে অপরের অবস্থা না জানা বা সাধারণ অভ্যাসে ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব হওয়া সত্ত্বেও—বর্ণনার সূত্রের আধিক্য বর্ণিত বিষয়ের নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। তবে এটি বর্ণনাকারীদের অবস্থা জানার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে উপকারে আসে এবং এই পদ্ধতিতে অজ্ঞাত বর্ণনাকারী, দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী এবং মুরসাল হাদিস ইত্যাদির মাধ্যমেও উপকার লাভ করা যায়। এই কারণেই ইলম অর্জনকারীগণ এই ধরনের হাদিসসমূহ লিখে রাখতেন এবং বলতেন: এটি শাহেদ (সমর্থনকারী) ও ইতিবার (পর্যবেক্ষণ)-এর জন্য উপযুক্ত, যা অন্য ক্ষেত্রে উপযুক্ত নয়। ইমাম আহমাদ বলেছেন: আমি কোনো ব্যক্তির হাদিস লিখে রাখি যাতে আমি তা যাচাই করতে পারি....

এবং তারা যেমন দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী ব্যক্তির হাদিস দ্বারা সমর্থন ও যাচাই করেন, তেমনি তাঁরা নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী ও স্মৃতিধর বর্ণনাকারীর হাদিস থেকেও এমন কিছু বিষয়কে দুর্বল আখ্যা দেন যাতে তিনি ভুল করেছেন বলে তাঁদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে। তাঁরা কিছু বিষয়ের মাধ্যমে এর প্রমাণ পেশ করেন এবং একে নাম দিয়েছেন: «ইলমুল ইলালিল হাদিস» (হাদিসের ত্রুটি সংক্রান্ত জ্ঞান), যা তাঁদের নিকট শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে এমন হাদিস চিহ্নিত করা হয় যা কোনো নির্ভরযোগ্য স্মৃতিধর ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন অথচ তাতে ভুল করেছেন। তাঁর সেই ভুল কখনো প্রকাশ্য [আবার কখনো প্রচ্ছন্ন](২) কারণে ধরা পড়ে; যেমন তাঁরা জেনেছেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মায়মুনাকে বিয়ে করেছিলেন যখন তিনি হালাল (ইহরামমুক্ত) ছিলেন, এবং তিনি কাবা ঘরের ভেতরে দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন। অথচ ইবনে আব্বাসের বর্ণনা—যেখানে বলা হয়েছে বিয়েটি ইহরাম অবস্থায় হয়েছিল এবং তিনি নামাজ পড়েননি—সেটিকে তাঁরা ভুলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন … .

এই বিষয়ে মানুষ দুই প্রান্তে বিভক্ত: একদল ইলমুল কালাম ও তাদের সমমনা যারা হাদিস ও হাদিস বিশারদদের জ্ঞান থেকে দূরে, তারা সহিহ ও জঈফের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। ফলে তারা হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে অথবা তা নিশ্চিতভাবে গ্রহণে দ্বিধা করে, অথচ ইলম অর্জনকারীদের নিকট তা সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। অপর দলটি হাদিস অনুসরণ ও তার ওপর আমল করার দাবি করে; যখনই তারা কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর হাদিসে কোনো শব্দ পায় অথবা বাহ্যিকভাবে সহিহ সনদের কোনো হাদিস দেখে, তখনই তারা সেটিকে ইলমে হাদিসের ইমামগণ কর্তৃক অকাট্যভাবে বিশুদ্ধ প্রমাণিত হাদিসের পর্যায়ভুক্ত করতে চায়। এমনকি যখন তা সুপরিচিত সহিহ হাদিসের বিরোধী হয়, তখন তারা এর জন্য অসার ও কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যার আশ্রয় নেয় অথবা ইলমি মাসআলায় একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে, অথচ হাদিস বিশারদগণ জানেন যে এটি একটি ভুল»। সমাপ্ত।

ইবনুল কাইয়্যিম(৩) —«এক সাক্ষীর সাথে শপথের ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদান» সংক্রান্ত হাদিসের আলোচনায় এবং যারা একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন তাদের খণ্ডন প্রসঙ্গে—বলেছেন: «এই ধরণের ত্রুটি বা এই জাতীয় বিষয়গুলো মূলত হঠকারিতা, যার কারণে প্রমাণিত হাদিসসমূহ বর্জন করা যায় না। যদি এমন কারণে সুন্নাহ বর্জন করা হতো, তবে তা বর্জনের পথ খুলে যেত

--------------------------------------------

(১) "মাজমুউল ফাতাওয়া" (১৩/৩৫২-৩৫৩)। এবং দেখুন: "মুকাদ্দিমা উসুলিত তাফসির" (পৃ. ৬৮-৭৪)।

(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটি "মাজমুউল ফাতাওয়া" ও "মুকাদ্দিমা উসুলিত তাফসির" থেকে বিলুপ্ত হয়েছিল, তাই আমরা শাইখ তাহের আল-জাজাইরি-এর "তাওজিহুন নাজার" (১/৩২৮) থেকে তা সংযোজন করেছি; যেহেতু তিনি এই পাঠটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

(৩) "তাহজিবুস সুনান" (১০/২৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
عامَّةِ الأحاديثِ الصحيحةِ الثابتة بمثلِ هذه الخَيَالات. وهذه الطريقُ في مقابلها طريقُ الأصوليين وأكثرِ الفقهاء: أنهم لا يَلْتَفتون إلى علَّةٍ للحديثِ إذا سَلِمَتْ طريقٌ من الطرق منها، فإذا وَصَله ثقةٌ أو رَفَعه لا يبالون بخلافِ مَنْ خالفه ولو كَثُروا. والصوابُ في ذلك: طريقةُ أئمة هذا الشأن، العالمين به وبِعِلَلِهِ؛ وهو النَّظَرُ والتَّمَهُّر في العلل، والنظر في الواقفين والرافعين، والمُرْسِلين والواصلين: أنهم أَكْثَرُ، وأوثقُ، وأَخَصُّ بالشيخ، وأعرَفُ بحديثه،،، إلى غيرِ ذلك من الأمور التي يَجْزِمون معها بالعِلَّةِ المؤثِّرة في موضعٍ، وبانتفائها في موضعٍ آخَرَ؛ لا يرتضون طريقَ هؤلاء، ولا طريقَ هؤلاء» .

وقال أبو شَامَةَ المَقْدِسي(1) : «وأئمةُ الحديثِ هم المعتبَرون القُدْوةُ في فنِّهم؛ فوجَبَ الرجوعُ إليهم في ذلك، وعَرْضُ آراءِ الفقهاءِ على السننِ والآثارِ الصَّحيحة؛ فما ساعَدَهُ الأَثَرُ فهو المعتبَرُ، وإلا فلا نُبْطِلُ الخَبَرَ بالرأي، ولا نضَعِّفه إنْ كان على خلافِ وُجُوهِ الضَّعْفِ من علل الحديثِ المعروفةِ عند أهله، أو بإجماعِ الكافَّةِ على خلافه؛ فقد يَظْهَرُ ضَعْفُ الحديثِ وقد يخفى. وأقربُ ما يُؤْمَرُ به في ذلك: أنك إذا رأيتَ حديثًا خارجًا عن دواوينِ الإسلام - كالموطَّأ، ومسند أحمد، والصَّحيحَيْنِ، وسنن أبي داود، والترمذي، والنَّسَائي، ونحوها مما تقدَّم ذكرُه ومما لم نذكُرْهُ - فانظُرْ فيه: فإنْ كان له نظيرٌ في الصحاح

--------------------------------------------

(1) في "مختصر المؤمل" (ص55) .
সাধারণত সহীহ ও সুসাব্যস্ত হাদিসসমূহকে এ ধরনের কল্পনার মাধ্যমে বাতিল করা। আর এর বিপরীতে উসুলবিদ এবং অধিকাংশ ফকিহদের পদ্ধতি হলো: তারা হাদিসের কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না যদি তার কোনো একটি সূত্র তা থেকে মুক্ত থাকে। সুতরাং যখন কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী একে সংযুক্ত করেন অথবা রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত করেন, তখন তারা তার বিরোধিতাকারীদের মতভেদকে পরোয়া করেন না, যদিও তারা সংখ্যায় অনেক হয়। আর এক্ষেত্রে সঠিক হলো: এই বিষয়ের ইমামগণের পদ্ধতি, যারা এই শাস্ত্র এবং এর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে অবগত; আর তা হলো ত্রুটিসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা ও তাতে পারদর্শিতা অর্জন করা এবং যারা বর্ণনাকে স্থগিত করেছেন ও যারা রাসূল পর্যন্ত উন্নীত করেছেন, যারা অসংযুক্তভাবে বর্ণনা করেছেন ও যারা সংযুক্ত করেছেন তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা: তারা সংখ্যায় অধিক কি না, অধিক নির্ভরযোগ্য কি না, শাইখের অধিক ঘনিষ্ঠ কি না এবং তার বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত কি না—ইত্যাদি আরও অনেক বিষয়, যার মাধ্যমে তারা কোনো ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ত্রুটির ব্যাপারে নিশ্চিত হন, আবার অন্য ক্ষেত্রে তার অনুপস্থিতির ব্যাপারে নিশ্চিত হন; তারা এদের পথকেও পছন্দ করেন না, আবার অন্যদের পথকেও না।

আবু শামা আল-মাকদিসি(১) বলেন: "হাদিসের ইমামগণই তাদের এই শিল্পে অনুসরণীয় আদর্শ; তাই তাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক, এবং ফকিহদের মতামতকে সুন্নাহ ও সহীহ আসারসমূহের সামনে পেশ করা কর্তব্য; সুতরাং যা আসারের অনুকূলে থাকবে তাই গ্রহণযোগ্য হবে। অন্যথায় আমরা যুক্তির মাধ্যমে সংবাদকে বাতিল করব না এবং একে দুর্বলও বলব না যদি তা এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিকট পরিচিত হাদিসের ত্রুটিজনিত দুর্বলতার কারণসমূহের বাইরে হয়, অথবা তার বিরুদ্ধে সর্বসাধারণের ঐকমত্য না থাকে; কেননা হাদিসের দুর্বলতা কখনো স্পষ্ট হয় আবার কখনো অস্পষ্ট থাকে। আর এক্ষেত্রে সবচাইতে নিকটবর্তী নির্দেশ হলো: যখন তুমি কোনো হাদিসকে ইসলামের প্রধান সংকলনসমূহের বাইরে দেখবে—যেমন মুয়াত্তা, মুসনাদে আহমাদ, সহীহাইন, সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ এবং এর অনুরূপ যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে বা যা আমরা উল্লেখ করিনি—তখন তাতে লক্ষ্য করো: যদি সহীহ গ্রন্থসমূহে তার অনুরূপ কিছু থাকে...

--------------------------------------------

(১) 'মুখতাসারুল মুআম্মাল' গ্রন্থে (পৃ. ৫৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
والحسان قَرُبَ أَمْرُهُ، وإنْ رأيتَهُ يُبَايِنُ الأصولَ وارتَبْتَ به فتأمَّلْ رجالَ إسناده، واعتبِرْ أحوالَهُمْ مِنَ الكُتُبِ المصنَّفَة في ذلك. وأصعبُ الأحوال: أن يكونَ رجالُ الإسنادِ كلُّهم ثقات، ويكونَ متنُ الحديثِ موضوعًا عليهم، أو مقلوبًا، أو قد جرى فيه تدليسٌ، ولا يَعْرِفُ هذا إلا النُّقَّادُ من علماء الحديث؛ فإنْ كنتَ مِنْ أهله فَبِهِ، وإلا فاسألْ عنه أهلَهُ» .

وقال ابن رجب(1) : «أَمَّا أهلُ العلمِ والمعرفة، والسُّنَّةِ والجماعة، فإنَّما يَذْكُرون عِلَلَ الحديثِ نصيحةً لِلدِّين، وحفظًا لسنَّة النبيِّ (ص) ، وصيانةً لها، وتمييزًا مما يَدْخُلُ على رواتها من الغَلَطِ والسَّهْوِ والوَهَمِ، ولا يوجبُ ذلك عندهم طَعْنًا في غير الأحاديث المُعَلَّة، بل تَقْوَى بذلك الأحاديثُ السليمةُ عندهم؛ لبراءتها من العلل، وسلامتها من الآفات، فهؤلاءِ هم العارفونَ بِسُنَّةِ رسول الله حَقًّا، وهم النقَّاد الجَهابذةُ الذين ينتقدون انتقادَ الصيرفيِّ الحاذقِ للنَّقْدِ البَهْرَجِ(2) من الخالص، وانتقادَ الجوهريِّ الحاذق للجوهر مما دُلِّسَ به» .

وذكر ابن رجب أيضًا(3) روايةَ أَبِي إسحاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عائشة؛ قالت: كانَ النبيُّ (ص) يَنَامُ وَهُوَ جُنُبٌ، وَلا يَمَسُّ ماءً، ثم قال:

--------------------------------------------

(1) في "شرح علل الترمذي" (2/894) .

(2) البَهْرَجُ - ويقال: النَّبَهْرَج -: هو الرديءُ من الشيء، وكلُّ رديء من الدراهم وغيرها: بَهْرَج. انظر "لسان العرب" (2/217و373) .

(3) في "فتح الباري" (1/362-363) .
এবং হাসান হাদীসের বিষয়টি সহজ। আর যদি আপনি দেখেন যে তা মূলনীতিগুলোর পরিপন্থী এবং আপনার মনে সংশয় জাগে, তবে তার ইসনাদের বর্ণনাকারীদের প্রতি লক্ষ্য করুন এবং এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ থেকে তাদের অবস্থা বিচার করুন। আর সবচেয়ে কঠিন অবস্থা হলো: ইসনাদের বর্ণনাকারীরা সবাই নির্ভরযোগ্য, কিন্তু হাদীসের মূল পাঠ (মতন) তাদের ওপর আরোপ করে জাল করা হয়েছে, অথবা তা ওলটপালট করা হয়েছে, অথবা তাতে তাদলীস করা হয়েছে। আর হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ সমালোচকগণ ছাড়া অন্য কেউ এটি চিনতে পারেন না। আপনি যদি সেই বিষয়ের যোগ্য হন তবে তো ভালো, অন্যথায় এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের নিকট জিজ্ঞাসা করুন।

ইবনে রজব বলেন: «পক্ষান্তরে ইলম, মারিফাত এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসারীগণ হাদীসের ত্রুটিসমূহ বর্ণনা করেন দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ কল্যাণকামনা হিসেবে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহকে হেফাযত ও সুরক্ষার উদ্দেশ্যে এবং বর্ণনাকারীদের ভুল, অসতর্কতা ও কাল্পনিক ধারণা থেকে যা কিছু এতে অনুপ্রবেশ করে তা পৃথক করার জন্য। এটি তাঁদের নিকট ত্রুটিযুক্ত হাদীস ছাড়া অন্য হাদীসগুলোর ওপর কোনো প্রকার কটাক্ষের কারণ হয় না; বরং এর মাধ্যমে তাঁদের নিকট সহীহ হাদীসগুলো আরও সুদৃঢ় হয়, কারণ সেগুলো ত্রুটি ও খুঁত থেকে মুক্ত। মূলত এরাই হলেন আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞানী এবং তাঁরাই হলেন সেই বিচক্ষণ সমালোচক যারা খাঁটি মুদ্রা থেকে ভেজাল মুদ্রাকে এমনভাবে পরখ করেন যেমন একজন দক্ষ মুদ্রা বিশেষজ্ঞ করেন, এবং কৃত্রিম জহরত থেকে আসল জহরতকে এমনভাবে পৃথক করেন যেমন একজন দক্ষ জহুরি করেন।»

ইবনে রজব আবু ইসহাক থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনাও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুনুবি (নাপাক) অবস্থায় পানি স্পর্শ না করেই ঘুমাতেন। এরপর তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) "শারহু ইলালিত তিরমিযী" (২/৮৯৪) গ্রন্থে।

(২) আল-বাহরাজ—যাকে আন-নাবাহরাজও বলা হয়—এর অর্থ হলো কোনো জিনিসের নিকৃষ্ট অংশ। দিরহাম বা অন্য যে কোনো জিনিসের মধ্যে যা মন্দ বা বাতিল তাকেই 'বাহরাজ' বলা হয়। দেখুন: "লিসানুল আরব" (২/২১৭ ও ৩৭৩)।

(৩) "ফাতহুল বারী" (১/৩৬২-৩৬৩) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
«وهذا الحديثُ مما اتفَقَ أئمةُ الحديث مِن السَّلَفِ على إنكارِهِ على أبي إسحاق … وقال أحمدُ بن صالحٍ المِصْريُّ الحافظ: لا يَحِلُّ أن يُروى هَذا الحديثُ؛ يعني: أنَّهُ خطأٌ مقطوعٌ بهِ، فلا تحلُّ روايته مِنْ دونِ بيانِ علَّته. وأما الفقهاءُ المتأخِّرون، فكثيرٌ مِنهُم نظَرَ إلى ثقة رجاله، فظنَّ صِحَّتَهُ، وهؤلاءِ يظنُّون أنَّ كلَّ حديث رواه ثقةٌ فهو صحيحٌ، ولا يتفطَّنون لدقائق علم علل الحديث. ووافقَهم طائفةٌ من المحدِّثين المتأخِّرين؛ كالطَّحَاويِّ، والحاكم، والبيهقي» . اهـ.

وفي هذا دَلَالةٌ على أهميَّةِ عِلْمِ العلل الذي يقولُ عنه عبد الرحمن ابن مَهْدي: «لَأَنْ أَعْرِفَ عِلَّةَ حديثٍ هُوَ عِنْدِي، أَحَبُّ إليَّ من أن أكتبَ عشرين حديثًا لَيْسَ عِنْدِي»(1) .

وقال محمد بن عبد الله بن نُمَيْر: قال عبد الرحمن بْن مَهْدي: «معرفةُ الحديثِ إلهامٌ» . قَالَ ابْنُ نُمَيْر: «وصَدَقَ! لو قلتَ لَهُ: مِنْ أينَ قلتَ؟ لم يكنْ له جوابٌ» (*) .

وقال أبو حاتِم الرازي: قال عبد الرحمن بْن مَهْدي: «إنكارُنا الحديثَ عِنْد الجهَّالِ كِهَانةٌ» (*) .

وقال نُعَيم بن حمَّاد: قلت لعبد الرحمن بن مَهْدي: كيف تَعْرِفُ صحيحَ الحديثِ مِنْ خطئه؟ قال: «كما يَعْرِفُ الطبيبُ المجنونَ»(2) .

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة المصنف لهذا الكتاب "العلل" (ص3-4) .

(

*) … المرجع السابق.

(2) "دلائل النبوة" للبيهقي (1/31) .
«আর এই হাদিসটি এমন যা সম্পর্কে সালাফদের হাদিস বিশারদ ইমামগণ আবু ইসহাকের ওপর এর অস্বীকৃতির বিষয়ে একমত হয়েছেন … এবং হাফেজ আহমদ ইবনে সালিহ আল-মিসরি বলেছেন: এই হাদিসটি বর্ণনা করা বৈধ নয়; অর্থাৎ এটি একটি নিশ্চিত ভুল, তাই এর ত্রুটি বর্ণনা করা ছাড়া এটি বর্ণনা করা জায়েজ নয়। পরবর্তী যুগের ফকিহদের কথা বলতে গেলে, তাঁদের অনেকেই এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন এবং এটিকে সহিহ বলে মনে করেছেন। তাঁরা মনে করেন যে, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণিত প্রতিটি হাদিসই সহিহ, অথচ তাঁরা হাদিসের ইলমে ইলাল (সূক্ষ্ম ত্রুটিবিদ্যা)-এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারেন না। পরবর্তী যুগের একদল মুহাদ্দিস তাঁদের সাথে একমত হয়েছেন; যেমন তহাবি, হাকিম এবং বায়হাকি।» সমাপ্ত।

এর মধ্যে ইলমে ইলাল-এর গুরুত্বের প্রমাণ রয়েছে, যে সম্পর্কে আবদুর রহমান ইবনে মাহদি বলেন: «আমার নিকট থাকা কোনো হাদিসের ত্রুটি (ইল্লত) জানতে পারা আমার কাছে এমন বিশটি হাদিস লেখার চেয়ে বেশি প্রিয় যা আমার কাছে নেই»(১) ।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর বলেন, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি বলেছেন: «হাদিস চেনা হলো একটি ইলহাম»। ইবনে নুমাইর বলেন: «তিনি সত্য বলেছেন! আপনি যদি তাঁকে জিজ্ঞেস করতেন: আপনি এটি কোত্থেকে বললেন? তবে তাঁর কাছে কোনো উত্তর থাকত না» (*) ।

আবু হাতিম আর-রাজি বলেন, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি বলেছেন: «মূর্খদের কাছে আমাদের হাদিস প্রত্যাখ্যান করাটা গণকগিরির মতো মনে হয়» (*) ।

নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ বলেন: আমি আবদুর রহমান ইবনে মাহদিকে বললাম: আপনি সহিহ হাদিস ও ভুল হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করেন কীভাবে? তিনি বললেন: «যেভাবে একজন চিকিৎসক পাগলকে চিনতে পারেন»(২) ।

--------------------------------------------

(১) এই গ্রন্থের লেখকের ভূমিকা 'আল-ইলাল' (পৃ. ৩-৪) দেখুন।

(

*) … পূর্বোক্ত উৎস।

(২) বায়হাকির "দালাইলুন নুবুওয়াহ" (১/৩১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ২০)
وقال أبو غالبٍ عليُّ بن أحمدَ بن النَّضْر: سمعتُ عليَّ بن المَدِيني يقول: أخَذَ عبد الرحمن بن مَهْدي على رجلٍ مِنْ أهلِ البَصْرة - لا أسمِّيه - حديثًا؛ قال: فغَضِبَ له جماعةٌ؛ قال: فَأَتَوْهُ فقالوا: يا أبا سعيد، مِنْ أَيْنَ قلتَ هذا في صاحبنا؟ قال: فغَضِبَ عبدُالرحمنِ ابنُ مَهْدي، وقال: «أرأيتَ لو أنَّ رجلاً أتى بدينار إلى صَيْرَفِيٍّ، فقال: انتَقِدْ لي هذا، فقال: هو بَهْرَجٌ، يقولُ له: مِنْ أين قلتَ لي: إنه بَهْرَج؟! اِلزَمْ عملي هذا عِشْرين سَنَةً حتى تَعْلَمَ منه ما أَعْلَمُ»(1) .

وروى هذه الحكايةَ البخاريُّ عن شيخه عليِّ بن المَديني باختلافٍ يَسِير(2) .

وقد رُوِيَ أيضًا نحوُ هذا المعنى عن الإمام أحمد(3) .

وقال الخطيبُ البغدادي(4) : «فمِنَ الأحاديثِ ما تَخْفَى عِلَّتُه فلا يوقَفُ عليها إلا بعد النظرِ الشديد، ومُضِيِّ الزمانِ البعيد» .

وقال صالحُ بن محمد البغدادي - المعروفُ بصالحِ جَزَرة -: سمعتُ عليَّ بن المَدِيني يقول: «رُبَّمَا أدركتُ عِلَّةَ حديثٍ بعد أربعين سنةً»(5) .

--------------------------------------------

(1) "الجامع، لأخلاق الراوي وآداب السامع" (1838) .

(2) رواها البيهقي في "دلائل النبوة" (1/31) ، بسنده إلى البخاري.

(3) انظر "جامع العلوم والحكم" (ص484) .

(4) في "الجامع، لأخلاق الراوي وآداب السامع" (2/385) .

(5) المرجع السابق (1841) .
আবু গালিব আলী ইবন আহমদ ইবনুন নাদর বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদীনীকে বলতে শুনেছি: আবদুর রহমান ইবন মাহদী বসরার জনৈক ব্যক্তির—যাঁর নাম আমি উল্লেখ করছি না—একটি হাদিসের দোষত্রুটি ধরেন; বর্ণনাকারী বলেন: এতে একদল লোক তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হলো; তিনি বলেন: তারা তাঁর নিকট এসে বলল: হে আবু সাঈদ, আমাদের সাথীর ব্যাপারে আপনি কিসের ভিত্তিতে এটি বললেন? তিনি বলেন: তখন আবদুর রহমান ইবন মাহদী রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: «তুমি কি মনে করো, যদি কোনো ব্যক্তি একজন মুদ্রাশোধকের নিকট একটি দিনার নিয়ে আসে এবং বলে: এটি আমার জন্য পরীক্ষা করে দিন, আর সে যদি বলে: এটি ভেজাল; তবে কি সে তাকে বলবে: আপনি কিসের ভিত্তিতে আমাকে বললেন যে এটি ভেজাল?! তুমি বিশ বছর আমার এই কাজে লেগে থাকো, যাতে তুমি এ থেকে তা জানতে পারো যা আমি জানি»(১) ।

ইমাম বুখারি সামান্য পার্থক্যসহ তাঁর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনী থেকে এই কাহিনীটি বর্ণনা করেছেন(২) ।

ইমাম আহমাদ থেকেও এই একই মর্মের বর্ণনা পাওয়া যায়(৩) ।

আল-খতিব আল-বাগদাদী বলেন(৪) : «হাদিসসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার ত্রুটি (ইল্লাত) অত্যন্ত সূক্ষ্ম, ফলে গভীর নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং সুদীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া ছাড়া তা উদঘাটন করা যায় না» ।

সালিহ ইবন মুহাম্মদ আল-বাগদাদী—যিনি সালিহ জাযারাহ নামে পরিচিত—বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদীনীকে বলতে শুনেছি: «কখনো কখনো আমি চল্লিশ বছর পর কোনো হাদিসের ত্রুটি অনুধাবন করতে পেরেছি»(৫) ।

--------------------------------------------

(১) "আল-জামি লি-আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি" (১৮৩৮) ।

(২) এটি বায়হাকি 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে (১/৩১) তাঁর নিজস্ব সনদে বুখারি থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) দেখুন "জামি’উল উলূমি ওয়াল হিকাম" (পৃ. ৪৮৪) ।

(৪) "আল-জামি লি-আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি" গ্রন্থে (২/৩৮৫) ।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস (১৮৪১) ।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ২১)
وقال الربيع بن خُثَيْم: «إنَّ مِنَ الحديثِ حديثًا له ضَوْءٌ كضوء النهار تعرفُهُ، وإنَّ مِنَ الحديثِ حديثًا له ظُلمةٌ كظُلْمة الليلِ تُنْكِرُهُ»(1) .

وقال الشافعي(2) : «ولا يُستدلُّ على أكثرِ صِدْقِ الحديثِ وكَذِبِهِ إلا بصدقِ المُخْبِرِ وكذبه، إلا في الخاصِّ القليلِ من الحديث» .

وأوضَحَ البيهقيُّ عبارةَ الشافعيِّ هذه بقوله(3) : «وهذا الذي استثناه الشافعيُّ لا يقف عليه إلا الحُذَّاقُ مِنْ أهل الحِفْظ؛ فقد يَزِلُّ الصدوقُ فيما يكتبُهُ، فيَدْخُلُ له حديثٌ في حديث، فيصيرُ حديثٌ رُوِيَ بإسناد ضعيفٍ مُرَكَّبًا على إسنادٍ صحيحٍ. وقد يَزِلُّ القَلَمُ، ويُخْطئ السمع، ويَخُونُ الحِفْظ؛ فيروي الشاذَّ من الحديث عن غير قَصْدٍ، فَيَعْرِفُهُ أهلُ الصَّنْعة الذين قيَّضَهُمُ اللهُ تعالى لحفظِ سُنَنِ رسولِ الله (ص) على عباده؛ بِكَثْرة سماعه، وطُولِ مُجالستِهِ أهلَ العِلْمِ به ومُذاكَرتِهِ إيَّاهم» . اهـ.

ولذا كان أهلُ الحديث لا يُسلِّمون بكل ما يُرْوَى وإنْ كان صحيحَ السَّنَدِ، حتى يَعْرِضوه على أهل الاختصاص:

قال الأعمش: «كان إبراهيمُ(4) صَيْرَفِيَّ الحديث، فكنتُ إذا

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن سعد في "الطبقات" (6/186) ، وهناد في "الزهد" (513) ، ويعقوب ابن سفيان في "المعرفة والتاريخ" (2/327) ، والرامهرمزي في "المحدث الفاصل" (ص316) ، والحاكم في "المعرفة" (ص62) ، والهروي في "ذم الكلام" (5/45) ، ومن طريق يعقوب بن سفيان أخرجه الخطيب في "الكفاية" (ص431) .

(2) في "الرسالة" (ص399) .

(3) في "دلائل النبوة" (1/30) .

(4) يعني: إبراهيم بن يزيد النخعي.
আর রবি বিন খুসাইম বলেছেন: «নিশ্চয়ই হাদিসের মধ্যে এমন হাদিস রয়েছে যার দিনের আলোর মতো উজ্জ্বলতা আছে যা তুমি চিনতে পারো, আবার হাদিসের মধ্যে এমন হাদিসও রয়েছে যার রাতের অন্ধকারের মতো অন্ধকার আছে যা তুমি প্রত্যাখ্যান করো»(১) ।

আর শাফেয়ি বলেছেন(২) : «অধিকাংশ হাদিসের সত্যতা বা মিথ্যা হওয়া সাব্যস্ত করা যায় না বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতা বা মিথ্যাবাদী হওয়া ছাড়া, তবে অল্প কিছু বিশেষ হাদিস ব্যতিরেকে» ।

আর বায়হাকি শাফেয়ির এই উক্তিটি ব্যাখ্যা করেছেন তাঁর এই কথার মাধ্যমে(৩) : «শাফেয়ি যা ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তা হেফজ বা মুখস্থবিদ্যায় পারদর্শী দক্ষ উলামাগণ ছাড়া অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারে না। কেননা একজন সত্যবাদী বর্ণনাকারীও তাঁর লেখায় ভুল করতে পারেন, ফলে একটি হাদিস অন্যটির মধ্যে ঢুকে যায়; তখন একটি দুর্বল সনদে বর্ণিত হাদিস সহিহ সনদের ওপর আরোপিত হয়ে যায়। কখনো কলম পিছলে যেতে পারে, শ্রবণে ভুল হতে পারে, কিংবা স্মৃতিশক্তি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে; ফলে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে শায (বিরল) হাদিস বর্ণনা করে বসেন। এই বিষয়টি সেই শাস্ত্রবিদগণই চিনতে পারেন যাদেরকে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য নিয়োজিত করেছেন; প্রচুর হাদিস শ্রবণ, দীর্ঘকাল এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের সাহচর্যে থাকা এবং তাঁদের সাথে শাস্ত্রীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে»। সমাপ্ত।

আর এই কারণেই হাদিস বিশারদগণ যা কিছু বর্ণিত হয় তার সবকিছুই মেনে নিতেন না—যদিও তার সনদ সহিহ হতো—যতক্ষণ না তা বিশেষজ্ঞগণের নিকট উপস্থাপন করতেন:

আমাশ বলেছেন: «ইব্রাহিম(৪) ছিলেন হাদিসের জহুরি (পারদর্শী), তাই আমি যখন...»

--------------------------------------------

(১) ইবনে সাদ 'আত-তাবাকাত' (৬/১৮৬), হান্নাদ 'আয-যুহদ' (৫১৩), ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান 'আল-মা’রিফাত ওয়াত তারিখ' (২/৩২৭), রামহুরমুজি 'আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল' (পৃ. ৩১৬), হাকিম 'আল-মা’রিফা' (পৃ. ৬২), হারউই 'যম্মুল কালাম' (৫/৪৫) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ানের সূত্র ধরে খতিব 'আল-কিফায়া' (পৃ. ৪৩১) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) 'আর-রিসালা' (পৃ. ৩৯৯) গ্রন্থে।

(৩) 'দালাইলুন নুবুওয়্যাহ' (১/৩০) গ্রন্থে।

(৪) অর্থাৎ: ইব্রাহিম বিন ইয়াযিদ আন-নাখায়ি।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ২২)
سمعتُ الحديثَ مِنْ بعضِ أصحابنا، أتيتُهُ فعرضتُهُ عليه»(1) .

وقال جريرُ بن عبد الحميد: «كنتُ إذا سمعتُ الحديثَ جِئْتُ به إلى المغيرة، فعرضْتُهُ عليه؛ فما قال لي: أَلْقِهِ، أَلْقَيْتُهُ»(2) .

وقال قَبِيصة بن عُقْبة: «رأيتُ زائدةَ يَعْرِضُ كُتُبَهُ على سُفْيان الثَّوْري، ثم التفَتَ إلى رجل في المَجْلِس فقال: ما لك لا تَعْرِضُ كتبَك على الجَهابِذَةِ كما نَعْرِض؟!»(3) .

وقال زائدة: «كنا نأتي الأعمشَ، فيحدِّثنا، فَيُكْثِرُ، ونأتي سُفْيانَ الثوريَّ فنذكُرُ تلك الأحاديثَ له، فيقولُ: ليس هذا مِنْ حديثِ الأعمش. فنقول: هو حدَّثنا به الساعةَ! فيقول: اذهَبُوا فقولوا له إنْ شئتم. فنأتي الأعمشَ، فَنُخْبِره بذلك، فيقول: صَدَقَ سفيان؛ ليس هذا مِنْ حديثنا»(4) .

وقال الأوزاعيُّ: «إنْ كنا لَنَسْمَعُ الحديثَ فَنَعْرِضُهُ على أصحابنا كما نَعْرِضُ الدرهمَ الزائفَ على الصَّيارفةِ؛ فما عَرَفُوا أَخَذْنا، وما أَنْكَروا تَرَكْنا»(5) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه الحاكم في "المعرفة" (ص16) ، والخليلي في "الإرشاد" (2/556) ، وأبو نعيم في "الحلية" (4/219-220) .

(2) "الكفاية، في علم الرواية" للخطيب (ص431) .

(3) "الآداب الشرعية" لابن مفلح (2/127) .

(4) مقدمة "الجرح والتعديل" (ص71) . وهذا يدل - فيما يظهر - على أن الأعمش دلَّس هذه الأحاديث.

(5) "تاريخ دمشق" (35/185-186) ، و"الكفاية" للخطيب (ص431) ، و"الآداب الشرعية" (1/126) ، و"جامع العلوم والحكم" (ص484) .
“আমি আমাদের কিছু সঙ্গীদের কাছ থেকে হাদিসটি শুনেছিলাম, এরপর আমি তাঁর কাছে গিয়ে তা তাঁকে পেশ করলাম।”(১) ।

এবং জারীর ইবনে আব্দুল হামিদ বলেন: “আমি যখনই কোনো হাদিস শুনতাম, তা মুগীরাহর কাছে নিয়ে আসতাম এবং তাঁর কাছে পেশ করতাম; অতঃপর তিনি আমাকে যা বর্জন করতে বলতেন, আমি তা বর্জন করতাম।”(২) ।

এবং কাবিছা ইবনে উকবা বলেন: “আমি যায়িদাহকে তাঁর কিতাবসমূহ সুফিয়ান আস-সাওরীর কাছে পেশ করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি মজলিসের এক ব্যক্তির দিকে ফিরে বললেন: তোমার কী হয়েছে যে, আমরা যেভাবে দক্ষ সমঝদারদের কাছে আমাদের কিতাবসমূহ পেশ করি, তুমি সেভাবে পেশ করো না?!”(৩) ।

যায়িদাহ বলেন: “আমরা আমাশের কাছে আসতাম, তিনি আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং প্রচুর হাদিস বলতেন। এরপর আমরা সুফিয়ান আস-সাওরীর কাছে আসতাম এবং তাঁর কাছে সেই হাদিসগুলো উল্লেখ করতাম। তখন তিনি বলতেন: এগুলো আমাশের হাদিস নয়। আমরা বলতাম: তিনি তো এইমাত্র আমাদের কাছে এগুলো বর্ণনা করলেন! তিনি বলতেন: তোমরা যাও এবং চাইলে তাঁকে বলো। তখন আমরা আমাশের কাছে এসে তাঁকে বিষয়টি জানাতাম, তখন তিনি বলতেন: সুফিয়ান সত্য বলেছে; এগুলো আমাদের হাদিস নয়।”(৪) ।

আল-আওযায়ী বলেন: “আমরা হাদিস শুনতাম এবং তা আমাদের সঙ্গীদের কাছে পেশ করতাম, ঠিক যেমন আমরা খুঁতযুক্ত দিরহামকে মুদ্রা পরীক্ষকদের কাছে পেশ করি; তারা যা চিনে নিতেন আমরা তা গ্রহণ করতাম, আর যা তারা প্রত্যাখ্যান করতেন আমরা তা বর্জন করতাম।”(৫) ।

--------------------------------------------

(১) আল-হাকিম 'আল-মা'রিফাহ' (পৃ. ১৬), আল-খালিলি 'আল-ইরশাদ' (২/৫৫৬) এবং আবু নুয়াইম 'আল-হিলয়াহ' (৪/২১৯-২২০) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) খতিব বাগদাদীর 'আল-কিফায়াহ ফি ইলমির রিওয়ায়াহ' (পৃ. ৪৩১)।

(৩) ইবনে মুফলিহ-এর 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ' (২/১২৭)।

(৪) 'আল-জারহ ওয়াত তা'দিল'-এর ভূমিকা (পৃ. ৭১)। এটি প্রকাশ্যত প্রমাণ করে যে, আমাশ এই হাদিসগুলোতে 'তাদলিস' করেছেন।

(৫) 'তারিখে দিমাশক' (৩৫/১৮৫-১৮৬), খতিব বাগদাদীর 'আল-কিফায়াহ' (পৃ. ৪৩১), 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ' (১/১২৬) এবং 'জামি'উল উলুম ওয়াল হিকাম' (পৃ. ৪৮৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال عمرو بن قيس: «ينبغي لصاحبِ الحديثِ أنْ يكونَ مِثْلَ الصيرفيِّ الذي يَنْقُدُ الدرهمَ الزائفَ والبَهْرَجَ، وكذا الحديثُ»(1) .

وروى أبو حاتِمٍ(2) ، عن محمود بن إبراهيم ابن سُمَيْع؛ قَالَ: سمعتُ أَحْمَد بْن صَالِحٍ يَقُولُ: معرفةُ الحديثِ بمنزلةِ معرفة الذَّهَبِ والشَّبَه؛ فإنَّ الجَوْهَرَ إِنَّمَا يَعْرِفُهُ أهلُهُ، وَلَيْسَ للبصير فِيهِ حُجَّةٌ إِذَا قِيلَ لَهُ: كيف قلتَ: «إنّ هَذَا بائنٌ» ؟ يعني: الجيِّدَ أو الرديءَ. اهـ.

وقال محمد بن عمرو بن العَلَاء الجُرْجاني: حدَّثنا يحيى بن مَعِين؛ قال: «لولا الجَهابذةُ لَكَثُرَتِ السَّتُّوقَةُ(3) والزُّيوفُ في روايةِ الشريعة، فمتى أحبَبْتَ فهَلُمَّ ما سَمِعْتَ حتى أَعْزِلَ لك منه نقدَ بيت المال، أَمَا تَحْفَظُ قولَ شُرَيْح: «إنَّ للأثرِ جَهابذةً كجَهابِذَة الوَرِق» ؟!(4) .

وقال محمد بن صالح الكِيلِيني(5) : سمعتُ أبا زرعة وقال له رجلٌ: ما الحُجَّةُ في تعليلكم الحديث؟ قال: «الحُجَّةُ أَنْ تسألَني عن حديثٍ له عِلَّةٌ، فأذكُرَ علَّته، ثم تَقْصِدَ ابنَ وارَة - يعني: مُحَمَّد بْن مُسْلِم بْن وارَة - وتسألَهُ عنه، ولا تُخْبِرُهُ بأنك قد سألتَني عنه، فيذكُرَ علَّته، ثم تَقْصِدَ أبا حاتِم فيعلِّله، ثم تُمَيِّزَ كلامَ كلٍّ منَّا على ذلك

--------------------------------------------

(1) "جامع العلوم والحكم" (ص484) .

(2) انظر مقدمة المصنف لهذا الكتاب "العلل" (ص184) .

(3) السَّتُّوقَةُ: الدراهم الرديئة المغشوشة. انظر "المُغْرِب" للمطرِّزي (1/382) .

(4) "دلائل النبوة" للبيهقي (1/31) ، و"الآداب الشرعية" لابن مفلح (2/127) .

(5) انظر: "توضيح المشتبه" (7/338) .
আমর ইবনে কায়স বলেন: «হাদিস বিশারদের উচিত একজন মুদ্রা পরীক্ষকের মতো হওয়া, যিনি জাল ও ভেজাল দিরহাম শনাক্ত করেন; হাদিসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই»(১) ।

আবু হাতিম মাহমুদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে সামি থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আমি আহমদ ইবনে সালিহকে বলতে শুনেছি: «হাদিসের জ্ঞান হচ্ছে সোনা ও পিতল চেনার জ্ঞানের সমতুল্য; কারণ মণি-মুক্তা কেবল তার বিশেষজ্ঞরাই চিনতে পারেন। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়: 'আপনি কীভাবে বললেন যে এটি স্বতন্ত্র?'—অর্থাৎ এটি ভালো না মন্দ—তখন বিশেষজ্ঞের কাছে তার স্বপক্ষে (বাহ্যিক) কোনো যুক্তি থাকে না»। ইতি।

মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনুল আলা আল-জুরজানি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: «যদি পারদর্শী সমালোচকগণ না থাকতেন, তবে শরীয়তের বর্ণনায় মেকি ও ত্রুটিপূর্ণ মুদ্রার ছড়াছড়ি হতো। সুতরাং তুমি যখনই চাও, তোমার যা শোনা আছে তা নিয়ে এসো, যাতে আমি তোমার জন্য তা থেকে বায়তুল মালের মুদ্রার ন্যায় বিশুদ্ধগুলো পৃথক করে দিতে পারি। তুমি কি শুরাইহ-এর উক্তি স্মরণ করো না: 'নিশ্চয়ই হাদিসের এমন পারদর্শী সমালোচক রয়েছেন যেমনটি রৌপ্যমুদ্রার ক্ষেত্রে থাকে'?»(৪) ।

মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-কিলিনি বলেন: আমি আবু যুরআকে বলতে শুনেছি, যখন এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল: হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ে আপনাদের দলিল কী? তিনি বললেন: «দলিল হলো এই যে—তুমি আমাকে এমন একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে যাতে ত্রুটি রয়েছে, আর আমি তার ত্রুটি বর্ণনা করব। তারপর তুমি ইবনে ওয়ারাহ—অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারাহ—এর কাছে যাবে এবং তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, কিন্তু তাকে বলবে না যে তুমি আমাকে ইতোপূর্বে জিজ্ঞেস করেছ; তিনিও এর ত্রুটি বর্ণনা করবেন। এরপর তুমি আবু হাতিমের কাছে যাবে এবং তিনিও এর ত্রুটি বর্ণনা করবেন। এরপর তুমি আমাদের প্রত্যেকের কথা যাচাই করবে...»

--------------------------------------------

(১) "জামি'উল উলুম ওয়াল হিকাম" (পৃ. ৪৮৪)।

(২) এই গ্রন্থের (আল-ইলাল) জন্য লেখকের ভূমিকা দেখুন (পৃ. ১৮৪)।

(৩) আস-সাত্তুকাহ: নিকৃষ্ট ও ভেজাল দিরহাম। দেখুন: মুতাররিজি-র "আল-মুগরিব" (১/৩৮২)।

(৪) বায়হাকির "দালাইলুন নুবুওয়াহ" (১/৩১) এবং ইবনে মুফলিহের "আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ" (২/১২৭)।

(৫) দেখুন: "তাওদিহুল মুশতাবিহ" (৭/৩৩৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الحديث؛ فإنْ وجدتَّ بيننا خلافًا في علَّته فاعلَمْ أنَّ كلًّا منَّا تكلَّم على مُراده، وإنْ وجدتَّ الكلمةَ متفقةً فاعلَمْ حقيقةَ هذا العلم» . قال: ففعَلَ الرجلُ، فاتفقَتْ كلمتُهم عليه، فقال: أشهَدُ أنَّ هذا العلمَ إِلْهَام(1) .

وقال أبو حاتِم الرازي: «مَثَلُ معرفةِ الحديثِ كمَثَلِ فَصٍّ ثَمَنُهُ مئةُ دينار، وآخَرَ مِثْلِهِ عَلَى لونه ثَمَنُهُ عَشَرَةُ دراهم»(2) .

وقال عبد الرحمن بن أبي حاتِم الرازي(3) : سمعتُ أبي _ح يقول: «جاءني رجلٌ من جِلَّةِ أصحابِ الرأي - مِنْ أهلِ الفَهْمِ منهم - ومعه دَفْتَرٌ، فعرَضَهُ عليَّ، فقلتُ في بعضها: هذا حديثٌ خطأٌ؛ قد دخَلَ لصاحبِهِ حديثٌ في حديث، وقلتُ في بعضه: هذا حديثٌ باطلٌ، وقلتُ في بعضه: هذا حديثٌ منكر، وقلتُ في بعضه: هذا حديثٌ كَذِبٌ، وسائرُ ذلك أحاديثُ صحاحٌ، فقال: مِنْ أين عَلِمْتَ أنَّ هذا خطأٌ، وأنَّ هذا باطلٌ، وأن هذا كذبٌ؛ أخبرَكَ راوي هذا الكتابِ بأني غَلِطْتُ، وأنِّي كَذَبْتُ في حديثِ كذا؟! فقلتُ: لا، ما أدري هذا الجُزْءُ مِنْ روايةِ مَنْ هو؟ غيرَ أني أَعْلَمُ أنَّ هذا خطأٌ، وأنَّ هذا الحديثَ باطلٌ، وأنَّ هذا الحديثَ كَذِبٌ، فقال: تدَّعي الغيبَ؟ قال: قلتُ: ما هذا ادعاءُ الغَيْبِ، قال: فما الدليلُ على ما تقول؟ قلتُ: سَلْ عما قلتُ مَنْ يُحْسِنُ مِثْلَ

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو عبد الله الحاكم في "معرفة علوم الحديث" (ص112-113) ، والخطيب في "الجامع، لأخلاق الراوي وآداب السامع" (1840) . ومن طريق الحاكم أخرجه ابن عساكر في "تاريخ دمشق" (55/392) .

(2) مقدمة "العلل" لابن أبي حاتم (ص183-184) .

(3) في "مقدمة الجرح والتعديل" (ص349-351) .
হাদিস; যদি আপনি আমাদের মধ্যে এর ত্রুটি নির্ণয়ে মতভেদ পান, তবে জেনে রাখুন যে আমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী কথা বলেছেন। আর যদি দেখেন আমাদের বক্তব্য একই হয়েছে, তবে এই বিদ্যার প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করুন।" তিনি বলেন: "অতঃপর লোকটি তাই করল এবং তাদের সবার বক্তব্য ঐকমত্যে পৌঁছাল। তখন সে বলল: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই ইলম বা বিদ্যা হলো ইলহাম (ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণা)।"(১)

আবু হাতিম আর-রাজি বলেন: "হাদিস চেনার দৃষ্টান্ত হলো এমন একটি রত্নের মতো যার মূল্য একশ দিনার, আর ঠিক একই রঙের অন্য একটি রত্নের মতো যার মূল্য মাত্র দশ দিরহাম।"(২)

আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি(৩) বলেন: "আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: 'আসহাবুর রায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজন সমঝদার লোক আমার নিকট আসলেন। তার কাছে একটি খাতা ছিল, যা তিনি আমার সম্মুখে পেশ করলেন। আমি তার কিছু অংশ সম্পর্কে বললাম: এটি ভুল হাদিস; এর বর্ণনাকারীর এক হাদিস অন্য হাদিসের মধ্যে ঢুকে গেছে। কিছু অংশ সম্পর্কে বললাম: এটি বাতিল হাদিস। কিছু অংশ সম্পর্কে বললাম: এটি মুনকার হাদিস। কিছু অংশ সম্পর্কে বললাম: এটি মিথ্যা হাদিস। আর বাকিগুলো সহিহ হাদিস। তখন তিনি বললেন: আপনি কীভাবে জানলেন যে এটি ভুল, এটি বাতিল আর এটি মিথ্যা? এই কিতাবের বর্ণনাকারী কি আপনাকে জানিয়েছেন যে আমি অমুক হাদিসে ভুল করেছি বা মিথ্যা বলেছি?! আমি বললাম: না, আমি তো এটিও জানি না যে এই অংশটি কার বর্ণনা। তবে আমি জানি যে এটি ভুল, এই হাদিসটি বাতিল এবং এই হাদিসটি মিথ্যা। তখন তিনি বললেন: আপনি কি গায়েবের দাবি করছেন? তিনি বললেন: আমি বললাম: এটি গায়েবের দাবি নয়। তিনি বললেন: তবে আপনি যা বলছেন তার দলিল কী? আমি বললাম: আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে এমন কাউকে জিজ্ঞাসা করুন যিনি এই বিষয়ে পারদর্শী...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস' (পৃ. ১১২-১১৩) গ্রন্থে এবং খতিব 'আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি' (১৮৪০) গ্রন্থে। আর হাকিমের সূত্র ধরে ইবনে আসাকির 'তারিখু দিমাস্ক' (৫৫/৩৯২) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) ইবনে আবি হাতিম প্রণীত 'আল-ইলাল' এর ভূমিকা (পৃ. ১৮৩-১৮৪)।

(৩) 'মুকাদ্দিমাতুল জারহি ওয়াত তা'দিল' (পৃ. ৩৪৯-৩৫১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ما أُحْسِنُ، فإنِ اتفقنا عَلِمْتَ أنَّا لم نُجَازِفْ، ولم نقله إلا بفَهْم، قال: مَنْ هو الذي يُحْسِنُ مِثْلَ ما تُحْسِن؟ قلتُ: أبو زُرْعة، قال: ويقولُ أبو زرعة مثلَ ما قلتَ؟ قلتُ: نعم، قال: هذا عَجَبٌ! فأخذ فكتَبَ في كاغَذٍ(1) ألفاظي في تلك الأحاديث، ثم رجَعَ إليَّ وقد كتَبَ ألفاظَ ما تكلَّم به أبو زرعة في تلك الأحاديث: فما قلتُ: إنه باطلٌ، قال أبو زرعة: هو كَذِبٌ، قلتُ: الكَذِبُ والباطلُ واحدٌ، وما قلتُ: إنه كذبٌ، قال أبو زرعة: هو باطلٌ، وما قلتُ: إنه منكرٌ، قال: هو منكرٌ، كما قلتُ، وما قلتُ: إنه صَحَاحٌ، قال أبو زرعة: هو صَحَاحٌ(2) .

فقال: ما أعجَبَ هذا؛ تَتَّفِقان مِنْ غيرِ مواطأةٍ فيما بينكما!! فقلتُ: فقد بان لك أنَّا لم نُجازف، وإنما قلناه بِعِلْمٍ ومعرفةٍ قد أُوتِينَا، والدليلُ على صحَّة ما نقوله: أنَّ دينارًا نَبَهْرَجًا(3) يُحمَلُ إلى الناقدِ، فيقول: هذا دينار نَبَهْرَجٌ، ويقول لدينار: هو جيِّدٌ، فإنْ قيل له: مِنْ أين قلتَ: إنَّ هذا نَبَهْرَجٌ، هل كنتَ حاضرًا حين بُهْرِجَ هذا الدينارُ؟ قال: لا، فإنْ قيل له: فأَخْبَرَكَ الرجلُ الذي بَهْرَجَهُ: إنِّي بَهْرَجْتُ هذا الدينارَ؟ قال: لا، قيل:

--------------------------------------------

(1) الكاغَذ - بالذال المعجمة - لغةٌ في الكاغَد - بالدال المهملة - وهو: القِرْطاسُ الذي يُكتَب فيه. انظر "لسان العرب" (3/505) ، و"القاموس المحيط" (ص402) .

(2) قوله: «صَحَاح» في الموضعين: بفتح الصاد وتخفيف الحاء، وهو لغةٌ في صَحِيح، ويُجْمَعَان على «صِحَاح» بكسر الصاد..انظر: "المصباح المنير" (ص333) ، و"مقدمة صحاح الجوهري" لأحمد عبد الغفور عطار (ص111/ ضبط اسم "الصحاح") .

(3) تقدّم أنه والبهرج بمعنًى واحد، وهو الزائف.
আমি ভালো করতে পারি না; তবে আমরা যদি একমত হই তবে আপনি জানতে পারবেন যে আমরা আন্দাজে কিছু বলি না এবং আমরা তা বুঝ ও প্রজ্ঞা ব্যতিরেকে বলি না। তিনি বললেন: আপনার মতো আর কে এমন পারদর্শী? আমি বললাম: আবু জুরআহ। তিনি বললেন: আবু জুরআহ কি আপনার মতোই বলেন? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এ তো এক বিস্ময়কর ব্যাপার! অতঃপর তিনি একটি কাগজ(১) নিলেন এবং সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে আমার শব্দগুলো লিখে রাখলেন। তারপর তিনি আমার কাছে ফিরে এলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে আবু জুরআহ যা বলেছেন তাও লিখে এনেছেন। আমি যেটিকে 'বাতিল' বলেছি, আবু জুরআহ সেটিকে 'মিথ্যা' বলেছেন। আমি বললাম: মিথ্যা ও বাতিল তো একই বিষয়। আর আমি যেটিকে 'মিথ্যা' বলেছি, আবু জুরআহ সেটিকে 'বাতিল' বলেছেন। আমি যেটিকে 'মুনকার' বলেছি, তিনিও আমার মতোই সেটিকে 'মুনকার' বলেছেন। আর আমি যেটিকে 'সহিহ'(২) বলেছি, আবু জুরআহও সেটিকে 'সহিহ' বলেছেন।

অতঃপর তিনি বললেন: এটি কতই না বিস্ময়কর! আপনারা দুজন নিজেদের মধ্যে কোনো পূর্ব-পরামর্শ ছাড়াই একমত হচ্ছেন!! আমি বললাম: এখন আপনার নিকট স্পষ্ট হলো যে, আমরা আন্দাজে কিছু বলি না, বরং আমরা তা আমাদের প্রদত্ত ইলম ও মারেফাতের ভিত্তিতেই বলি। আর আমরা যা বলছি তার সত্যতার প্রমাণ হলো—একটি ভেজাল(৩) দিনার যখন কোনো স্বর্ণ-পারখীর নিকট নিয়ে আসা হয়, তখন সে বলে: এটি একটি ভেজাল দিনার। আবার অন্য একটি দিনার সম্পর্কে সে বলে: এটি আসল ও উৎকৃষ্ট। যদি তাকে জিজ্ঞেস করা হয়: আপনি কিসের ভিত্তিতে বললেন যে এটি ভেজাল? এই দিনারটি যখন ভেজাল করা হচ্ছিল তখন কি আপনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন? সে বলে: না। যদি তাকে বলা হয়: তবে যে ব্যক্তি এটি ভেজাল করেছে সে কি আপনাকে বলেছে যে আমি এই দিনারটি ভেজাল করেছি? সে বলে: না। তখন বলা হয়:

--------------------------------------------

(১) আল-কাগাজ — 'যাল' বর্ণের সাথে — এটি আল-কাগাদ — 'দাল' বর্ণের সাথে — শব্দেরই একটি রূপ; আর তা হলো সেই কাগজ যাতে লেখা হয়। দেখুন: "লিসানুল আরব" (৩/৫০৫) এবং "আল-কামুসুল মুহিত" (পৃষ্ঠা ৪০২)।

(২) তাঁর উক্তি: উভয় স্থানে "সাচাহ"; এটি 'সদ' বর্ণের জবর এবং 'হা' বর্ণের হালকা উচ্চারণের (তাশদিদহীন) সাথে। এটি 'সহিহ' শব্দেরই একটি রূপ, আর এ দুটির বহুবচন হলো 'সিহাহ' 'সদ' বর্ণের যের সহযোগে। দেখুন: "আল-মিসবাহুল মুনির" (পৃষ্ঠা ৩৩৩) এবং আহমাদ আব্দুল গফুর আত্তার কর্তৃক "সিহাহুল জাওহারি"-র ভূমিকা (পৃষ্ঠা ১১১/ "আল-সিহাহ" নামের বিন্যাস প্রসঙ্গে)।

(৩) ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে এটি এবং 'বাহরাজ' একই অর্থবোধক, আর তা হলো—ভেজাল বা মেকি।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فَمِنْ أين قلتَ: إنَّ هذا نَبَهْرَجٌ؟ قال: عِلْمًا رُزِقْتُ. وكذلك نحن رُزِقْنَا معرفةَ ذلك.

قلتُ له: فتَحْمِلُ فَصَّ ياقوتٍ إلى واحد من البُصَراء من الجَوهَرِيِّين، فيقولُ: هذا زُجَاجٌ، ويقولُ لمثله: هذا ياقوتٌ. فإنْ قيل له: مِنْ أين عَلِمْتَ أنَّ هذا زجاجٌ، وأنَّ هذا ياقوتٌ؟ هل حَضَرْتَ الموضعَ الذي صُنِعَ فيه هذا الزجاجُ؟ قال: لا، قيل له: فهل أعلمَكَ الذي صاغَهُ بأنه صاغ هذا زجاجًا؟ قال: لا، قال: فمِنْ أين علمتَ؟ قال: هذا عِلْمٌ رُزِقْتُ، وكذلك نحن رُزِقْنَا علمًا لا يتهيَّأُ لنا أن نُخْبِرَكَ كيف علمنا بأنَّ هذا الحديثَ كذب، وهذا حديثٌ منكر، إلا بما نَعْرِفُهُ» .

ثم قال ابن أبي حاتِم: «تُعْرَفُ جَودةُ الدينار بالقياس إلى غيره؛ فإنْ تخلَّف عنه في الحُمْرَةِ والصَّفَاءِ، عُلِمَ أنه مَغْشوش. ويُعْلَمُ جنسُ الجَوْهَرِ بالقياس إلى غيره؛ فإنْ خالفه بالماء والصَّلابة، عُلِمَ أنه زجاج. ويُقاس صِحَّةُ الحديثِ بعدالة ناقليه، وأنْ يكونَ كلامًا يَصْلُحُ أنْ يكونَ مِنْ كلامِ النُّبُوَّةِ. ويُعْلَمُ سقمُهُ وإنكاره بتفرُّدِ مَنْ لم تَصِحَّ عدالتُهُ بروايته، والله أعلم» . اهـ.

وذكر أبو عبد الله الحاكم في "معرفة علوم الحديث"(1) : معرفةَ

--------------------------------------------

(1) في النوع السابع والعشرين منه (ص112-113) ، وانظر "النكت" لابن حجر (2/710) .
তুমি কোথা থেকে বললে যে এটি ভেজাল? তিনি বললেন: এটি এমন এক জ্ঞান যা আমাকে দান করা হয়েছে। আর আমাদেরকেও অনুরূপভাবে এর জ্ঞান দান করা হয়েছে।

আমি তাকে বললাম: আপনি যদি রত্ন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কোনো এক বিচক্ষণ ব্যক্তির কাছে একটি ইয়াকুত পাথরের টুকরো নিয়ে যান, তবে তিনি বলবেন: এটি কাঁচ, আবার অনুরূপ অন্যটির ব্যাপারে বলবেন: এটি ইয়াকুত। যদি তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়: আপনি কোথা থেকে জানলেন যে এটি কাঁচ এবং ওটি ইয়াকুত? আপনি কি সেই স্থানে উপস্থিত ছিলেন যেখানে এই কাঁচ তৈরি করা হয়েছে? তিনি বলবেন: না। তাকে বলা হয়: তবে যে ব্যক্তি এটি তৈরি করেছে সে কি আপনাকে জানিয়েছে যে সে এটি কাঁচ হিসেবে তৈরি করেছে? তিনি বলবেন: না। বলা হয়: তবে আপনি কোথা থেকে জানলেন? তিনি বললেন: এটি এমন এক জ্ঞান যা আমাকে দান করা হয়েছে। অনুরূপভাবে আমাদেরকেও এমন জ্ঞান দান করা হয়েছে যে, আমাদের পক্ষে আপনাকে ব্যক্ত করা সম্ভব নয় যে আমরা কীভাবে জানলাম যে এই হাদিসটি মিথ্যা এবং এই হাদিসটি মুনকার (অস্বীকৃত), কেবল আমরা যা জানি সেটির মাধ্যমেই এটি নির্ণয় করি।

অতঃপর ইবনে আবি হাতিম বলেন: «দীনারের গুণাগুণ অন্যটির সাথে তুলনা করার মাধ্যমে চেনা যায়; যদি এটি লালচে ভাব ও স্বচ্ছতায় অন্যটির থেকে পিছিয়ে থাকে, তবে জানা যায় যে এটি ভেজাল। আর রত্নের ধরনও অন্যটির সাথে তুলনা করার মাধ্যমে জানা যায়; যদি এটি উজ্জ্বলতা ও দৃঢ়তায় ভিন্ন হয়, তবে জানা যায় যে এটি কাঁচ। আর হাদিসের বিশুদ্ধতা পরিমাপ করা হয় এর বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতার দ্বারা এবং সেটি এমন বক্তব্য হওয়ার দ্বারা যা নবুওয়তের বাণীর উপযুক্ত হয়। আর এর ত্রুটি ও অগ্রহণযোগ্যতা জানা যায় এমন ব্যক্তির একক বর্ণনার দ্বারা যার ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণিত নয়। আল্লাহই ভালো জানেন»। সমাপ্ত।

আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস'(১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: জানা...

--------------------------------------------

(১) এর ২৭তম প্রকারের মধ্যে (পৃষ্ঠা ১১২-১১৩), এবং দেখুন ইবনে হাজারের 'আন-নুকাত' (২/৭১০)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
علل الحديث، فقال: «وهو عِلْمٌ برأسه، غيرُ الصحيح والسقيم والجَرْحِ والتعديل … وإنما يعلَّل الحديثُ مِنْ أوجُهٍ ليس للجَرْح فيها مَدْخَل؛ فإنَّ حديثَ المجروح ساقطٌ واهٍ، وعلَّةُ الحديثِ تَكثُرُ في أحاديث الثقات؛ أن يحدِّثوا بحديثٍ له علَّة، فيَخْفَى عليهم علمُهُ، فيصيرُ الحديثُ معلولاً، والحُجَّةُ فيه عندنا: الحفظُ والفَهْم والمعرفةُ لا غير» .

وفي موضعٍ آخَرَ(1) ذكَرَ معرفةَ الصَّحيح والسقيم، فقال: «وهذا النوعُ مِنْ هذه العلومِ غيرُ الجَرْحِ والتعديل الذي قدَّمنا ذِكْرَه، فرُبَّ إسنادٍ يَسْلَمُ من المجروحين غيرُ مُخَرَّجٍ في الصحيح، فمِنْ ذلك … » ، ثم ذكر ثلاثةَ أحاديثَ معلولةً، وتكلَّم على عللها، ثم قال: «ففي هذه الأحاديثِ الثلاثةِ قياسٌ على ثلاثِ مِئَةٍ، أو ثلاثةِ آلاف، أو أكثَرَ من ذلك: أنَّ الصَّحيح لا يُعْرَفُ بروايته فقطْ، وإنما يُعْرَفُ بالفَهْمِ والحفظِ وكثرةِ السَّمَاع، وليس لهذا النوع من العلم عَوْنٌ أكثَرُ مِنْ مذاكرةِ أهلِ الفَهْم والمعرفة؛ لِيَظْهَرَ ما يخفى من عِلَّةِ الحديث، فإذا وُجِدَ مِثْلُ هذه الأحاديثِ بالأسانيد الصَّحيحة غَيْرَ مخرَّجة في كتابَيِ الإمامَيْنِ البخاري ومسلم؛ لَزِمَ صاحبَ الحديثِ التنقيرُ عن علَّته، ومذاكرةُ أهلِ المعرفةِ به لِتَظْهَرَ عِلَّته» . اهـ.

وبوَّب الخطيبُ البغداديُّ(2) بابًا ذكَرَ فيه أنَّ المعرفةَ بالحديثِ

--------------------------------------------

(1) "معرفة علوم الحديث" (ص58-60) ، في النوع التاسع عشر.

(2) في "الجامع، لأخلاق الراوي وآداب السامع" (2/382) .
হাদিসের ইল্লাত (গোপন ত্রুটি) সম্পর্কে তিনি বলেছেন: «এটি একটি স্বতন্ত্র জ্ঞান, যা সহিহ-সাকিম এবং জারহ-তাদিল থেকে ভিন্ন … আর হাদিসে ইল্লাত বা ত্রুটি ধরা পড়ে এমন সব দিক থেকে যেখানে জারহ বা সমালোচনার কোনো অবকাশ নেই; কেননা সমালোচিত ব্যক্তির বর্ণিত হাদিস তো পরিত্যক্ত ও অসার। পক্ষান্তরে হাদিসের ইল্লাত অধিকহারে দেখা যায় নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (সিকাহ) হাদিসে; তারা এমন হাদিস বর্ণনা করেন যার মধ্যে ইল্লাত রয়েছে, কিন্তু সেই বিষয়ের জ্ঞান তাদের নিকট গোপন থেকে যায়, ফলে হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (মালুল) হয়ে পড়ে। আমাদের নিকট এক্ষেত্রে দলিল হলো: মুখস্থশক্তি, প্রজ্ঞা এবং গভীর জ্ঞান—এ ছাড়া অন্য কিছু নয়»।

অন্য এক স্থানে(১) তিনি সহিহ ও সাকিম চেনার বিষয়ে আলোচনা করে বলেন: «এই শাস্ত্রটি সেই জারহ ও তাদিল থেকে ভিন্ন যার আলোচনা আমরা ইতিপূর্বে করেছি। কেননা এমন অনেক সনদ আছে যা সমালোচিত বর্ণনাকারীদের থেকে মুক্ত হওয়া সত্ত্বেও সহিহ কিতাবসমূহে সংকলিত হয়নি; এর উদাহরণ হলো … »। এরপর তিনি তিনটি ত্রুটিযুক্ত হাদিস উল্লেখ করলেন এবং সেগুলোর ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করলেন। অতঃপর বললেন: «এই তিনটি হাদিসের আলোকে তিনশত, তিন হাজার বা তার চেয়েও বেশি হাদিসের ওপর কিয়াস (অনুমান) করা যায় যে: সহিহ হাদিস কেবল বর্ণনার মাধ্যমেই চেনা যায় না, বরং তা চেনা যায় প্রজ্ঞা, মুখস্থশক্তি এবং অধিক শ্রবণের মাধ্যমে। এই শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জনে বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে আলোচনার চেয়ে বড় কোনো সহায়ক নেই; যাতে হাদিসের গোপন ত্রুটি প্রকাশ পায়। সুতরাং যখন এমন কোনো হাদিস পাওয়া যাবে যার সনদ সহিহ কিন্তু দুই ইমাম—বুখারি ও মুসলিমের কিতাবদ্বয়ে সংকলিত হয়নি, তখন হাদিস অন্বেষণকারীর জন্য আবশ্যক হলো তার ত্রুটি অনুসন্ধান করা এবং এ বিষয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করা যাতে তার ত্রুটি প্রকাশ পায়»। সমাপ্ত।

খতিব বাগদাদি(২) একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন যাতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে হাদিস সংক্রান্ত জ্ঞান...

--------------------------------------------

(১) "মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস" (পৃষ্ঠা ৫৮-৬০), উনবিংশ প্রকারের আলোচনায়।

(২) "আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি" (২/৩৮২) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ليستْ تلقينًا وإنما هو عِلْمٌ يُحْدِثُهُ اللهُ في القلب، ثم قال: «أَشْبَهُ الأشياءِ بعلمِ الحديث: معرفةُ الصَّرْفِ ونقدُ الدنانيرِ والدراهم؛ فإنه لا يُعْرَفُ جَودةُ الدينارِ والدراهم بلونٍ، ولا مَسٍّ، ولا طَرَاوةٍ، ولا دَنَسٍ، ولا نَقْشٍ، ولا صفةٍ تعودُ إلى صِغَرٍ أو كِبَرٍ، ولا إلى ضِيقٍ أو سَعَة، وإنما يَعْرِفه الناقدُ عند المُعاينة، فَيَعْرِفُ البَهْرَجَ والزائفَ، والخالصَ والمغشوشَ، وكذلك تمييزُ الحديث؛ فإنَّه عِلْمٌ يخلقُهُ اللهُ تعالى في القلوبِ بعد طولِ المُمارسة له والاعتناءِ به» .

وقال ابنُ رجب(1) بعد ذِكْرِ بعض الأحاديث المعلولة: «وإنما تُحْمَلُ مِثْلُ هذه الأحاديثِ - على تقدير صحَّتها - على معرفةِ أئمَّةِ الحديثِ الجَهَابذةِ النُّقَّادِ الذين كَثُرَتْ ممارستُهُمْ لكلامِ النبيِّ (ص) وكلامِ غيره، ولحالِ رواةِ الأحاديث ونَقَلَةِ الأخبار، ومعرفَتِهِمْ بِصِدْقهم وكذبهم، وحِفْظهم وضَبْطهم؛ فإنَّ هؤلاءِ لهم نَقْدٌ خاصٌّ في الحديث يَخْتَصُّون بمعرفته، كما يَخْتَصُّ الصيرفيُّ الحاذقُ بمعرفة النقود؛ جَيِّدها ورديئها، وخالِصِهَا ومَشُوبها، والجَوهريُّ الحاذقُ في معرفةِ الجَوْهر بانتقادِ الجَوَاهر، وكلٌّ مِنْ هؤلاءِ لا يمكنُ أن يعبِّر عن سببِ معرفته، ولا يقيمُ عليه دليلاً لغيره، وآيةُ ذلك: أنه يُعْرَضُ الحديثُ الواحدُ على جماعةٍ ممَّن يَعْلَمُ هذا العلم، فَيَتَّفِقون على الجَوَابِ فيه من غير مُواطأة، وقد امتُحِنَ هذا منهم غَيْرَ مَرَّة في زَمَنِ أبي زُرْعة وأبي حاتم،

--------------------------------------------

(1) في "جامع العلوم والحكم" (ص483-485) .
এটি কেবল মুখস্থ করানো কোনো বিদ্যা নয়, বরং এটি এমন এক ইলম যা আল্লাহ অন্তরে সৃষ্টি করেন। এরপর তিনি বলেন: «হাদিস শাস্ত্রের ইলমের সাথে সবচেয়ে সদৃশ বিষয় হলো: মুদ্রা বিনিময় এবং দিনার ও দিরহামের মান যাচাইয়ের জ্ঞান; কেননা দিনার ও দিরহামের উৎকর্ষ তার রং, স্পর্শ, নমনীয়তা, মলিনতা, নকশা, কিংবা ছোট-বড় হওয়া অথবা প্রশস্ততা বা সংকীর্ণতার মতো কোনো গুণের মাধ্যমে চেনা যায় না। বরং বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই তা চিনতে পারেন; ফলে তিনি মেকি ও কৃত্রিম এবং খাঁটি ও ভেজালকে চিনে নেন। হাদিসের পার্থক্য নিরূপণের বিষয়টিও ঠিক তদ্রূপ; কেননা এটি এমন এক ইলম যা মহান আল্লাহ দীর্ঘ অনুশীলন এবং এর প্রতি গভীর যত্নের পর অন্তরে সৃষ্টি করেন»।

ইবনে রজব(১) কিছু ত্রুটিপূর্ণ হাদিস উল্লেখ করার পর বলেন: «এ জাতীয় হাদিসগুলো—সেগুলো সহিহ হওয়ার সম্ভাবনা ধরে নিলেও—নির্ভর করে হাদিসের সেই বিজ্ঞ সমালোচক ইমামগণের জ্ঞানের ওপর, যাদের নবী (সা.)-এর বাণী ও অন্যদের বাণীর ওপর দীর্ঘদিনের অনুশীলন রয়েছে, এবং হাদিসের বর্ণনাকারী ও সংবাদ বাহকদের অবস্থা, তাদের সত্যবাদিতা ও মিথ্যাচার এবং তাদের মুখস্থ ও আয়ত্ত করার ক্ষমতা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রয়েছে। কেননা হাদিস যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের এমন এক বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে যাতে তাঁরাই পারদর্শী, যেমন দক্ষ মুদ্রা বিনিময়কারী মুদ্রার ভালো-মন্দ এবং খাঁটি ও মিশ্রিত রূপ চেনার ক্ষেত্রে পারদর্শী হন, কিংবা রত্ন বিশারদ রত্ন যাচাইয়ের মাধ্যমে রত্ন চিনতে পারদর্শী হন। তাঁদের কেউই তাঁদের এই জ্ঞানের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেন না এবং অন্যের কাছে এর কোনো প্রমাণও উপস্থাপন করতে পারেন না। এর নিদর্শন হলো: যখন এই শাস্ত্রের পণ্ডিত একদল ব্যক্তির সামনে একটি নির্দিষ্ট হাদিস পেশ করা হয়, তখন তাঁরা কোনো পূর্ব আলোচনা ছাড়াই সেটির বিষয়ে একই সিদ্ধান্তে উপনীত হন। আবু জুরআ ও আবু হাতেমের যুগে বহুবার তাঁদের মাধ্যমে এই পরীক্ষা করা হয়েছে,

--------------------------------------------

(১) "জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম" (পৃ. ৪৮৩-৪৮৫)-এ।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فوُجِدَ الأَمْرُ على ذلك، فقال السائل: أَشْهَدُ أنَّ هذا العلمَ إلهامٌ....

وبكلِّ حالٍ: فالجَهابذةُ النُّقَّاد العارفون بعللِ الحديثِ أفرادٌ قليلٌ من أهل الحديث جِدًّا، وأولُ مَنِ اشتُهِرَ في الكلام في نقد الحديث: ابنُ سِيرين، ثم خلَفَهُ أيوبُ السَّخْتِياني، وأخَذَ ذلك عنه شُعْبةُ، وأخَذَ عن شُعْبةَ يحيى القَطَّانُ وابنُ مَهْدي، وأخَذَ عنهما أحمدُ وعليُّ بنُ المَديني وابنُ مَعِين، وأخَذَ عنهم مثلُ البخاريِّ وأبي داود وأبي زرعة وأبي حاتِم، وكان أبو زرعة في زمانه يقول: قلَّ مَنْ يَفْهَمُ هذا، ما أعزَّهُ! إذا رَفَعْتَ هذا عن واحدٍ واثنين، فما أقلَّ ما تَجِدُ مَن يُحْسِنُ هذا! ولمَّا مات أبو زرعة قال أبو حاتِم: ذهَبَ الذي كان يُحْسِنُ هذا المعنى - يعني: أبا زرعة - ما بقي بِمِصْرَ ولا بالعراقِ واحدٌ يُحْسِنُ هذا. وقيل له بعد موت أبي زرعة: يُعْرَفُ اليومَ واحدٌ يَعْرِفُ هذا؟ قال: لا.

وجاء بعد هؤلاءِ جماعةٌ، منهم: النَّسَائيُّ، والعُقَيْلي، وابنُ عَدِيٍّ، والدَّارَقُطْني، وقَلَّ مَنْ جاء بعدهم مَنْ هو بارعٌ في معرفة ذلك، حتى قال أبو الفَرَجِ ابنُ الجَوْزي في أول كتابه "الموضوعات"(1) : قَلَّ من يَفْهَمُ هذا، بل عُدِمَ، والله أعلم» . اهـ.

وذكر الحافظُ ابن حجر(2) عن العَلَائي أنه قال: «وهذا الفَنُّ أغمضُ أنواعِ الحديث، وأَدَقُّها مَسْلَكًا، ولا يقومُ به إلا مَنْ منحَهُ اللهُ

--------------------------------------------

(1) (1/145) .

(2) في "النكت" (2/711، 777) .
বস্তুত বিষয়টি তেমনই পাওয়া গেল, তখন প্রশ্নকারী বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই জ্ঞান হলো ইলহাম (ঐশী প্রেরণা)....

যাই হোক, হাদিসের গূঢ় ত্রুটিসমূহ (ইলল) সম্পর্কে অভিজ্ঞ পারদর্শী সমালোচকগণ হাদিস বিশারদদের মধ্যে সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য। হাদিস সমালোচনায় যারা প্রথম প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন তারা হলেন: ইবনে সিরিন, অতঃপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি। তাঁর থেকে এই জ্ঞান অর্জন করেন শু’বাহ, আর শু’বাহ থেকে ইয়াহইয়া আল-কাত্তান ও ইবনে মাহদি। তাঁদের থেকে অর্জন করেন আহমাদ, আলী ইবনুল মাদিনি ও ইবনে মাইন। তাঁদের থেকে অর্জন করেছেন বুখারি, আবু দাউদ, আবু জুরআ ও আবু হাতিমের মতো ইমামগণ। আবু জুরআ তাঁর সময়ে বলতেন: “খুব কম লোকই এটি বোঝে, এটি কতই না দুর্লভ! যদি আপনি একে এক বা দুইজন থেকে সরিয়ে নেন, তবে খুব কমই কাউকে পাবেন যে এটি ভালোভাবে করতে পারে!” যখন আবু জুরআ মারা গেলেন, আবু হাতিম বললেন: “যিনি এই বিষয়টি ভালো বুঝতেন তিনি চলে গেলেন—অর্থাৎ আবু জুরআ—এখন মিসর বা ইরাকে এমন একজনও অবশিষ্ট নেই যে এটি ভালো বোঝে।” আবু জুরআর মৃত্যুর পর তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: “আজ কি এমন কাউকে চেনা যায় যে এটি জানে?” তিনি বললেন: “না।”

তাঁদের পর একদল আলিম আসলেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: নাসাঈ, উকায়লি, ইবনে আদি ও দারা কুতনি। তাঁদের পরে যারা এসেছেন, তাঁদের মধ্যে এই জ্ঞানে পারদর্শী ব্যক্তির সংখ্যা খুবই কম। এমনকি আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি তাঁর ‘আল-মাওদুআত’ গ্রন্থের শুরুতে বলেছেন: “খুব কম লোকই এটি বোঝে, বরং এটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।” সমাপ্ত।

হাফিজ ইবনে হাজার আল-আলাই থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: “আর এই শাস্ত্র হাদিসের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে অত্যন্ত জটিল এবং এর পথ অত্যন্ত সূক্ষ্ম। এটি কেবল সেই ব্যক্তিই আঞ্জাম দিতে পারে যাকে আল্লাহ দান করেছেন...

--------------------------------------------

(১) (১/১৪৫)।

(২) ‘আন-নুকাত’ গ্রন্থে (২/৭১১, ৭৭৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فَهْمًا غائصًا، واطِّلَاعًا حاويًا، وإدراكًا لمراتبِ الرواة، ومعرفةً ثاقبة؛ ولهذا لم يَتَكَلَّمْ فيه إلا أفرادُ أئمَّةِ هذا الشأنِ وحذاقُهم؛ كابنِ المَدِينيِّ، والبخاري، وأبي زُرْعة، وأبي حاتِم، وأمثالهم، وإليهم المَرْجِعُ في ذلك؛ لِمَا جعَلَ اللهُ فيهم مِنْ معرفةِ ذلك والاطِّلاعِ على غَوامضه، دون غيرهم مِمَّنْ لم يُمارِسْ ذلك. وقد تَقْصُرُ عبارةُ المعلِّل منهم، فلا يُفْصِحُ بما استقرَّ في نفسه مِنْ تَرجيحِ إحدى الروايتَيْن على الأُخْرى، كما في نَقْدِ الصَّيرفي سواء، فمتى وَجَدْنَا حديثًا قد حكَمَ إمامٌ من الأئمَّة المَرجوعِ إليهم بتعليله، فالأَوْلَى اتِّباعُهُ في ذلك كما نتَّبِعُهُ في تصحيح الحديثِ إذا صَحَّحَهُ» .

গভীর অনুধাবন, ব্যাপক পাণ্ডিত্য, বর্ণনাকারীদের স্তরসমূহ সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধি এবং সুতীক্ষ্ণ জ্ঞান; আর একারণেই এই বিষয়ে কেবল এই শাস্ত্রের হাতেগোনা কতিপয় ইমাম এবং তাঁদের মধ্যকার অত্যন্ত দক্ষ পণ্ডিতগণই কথা বলেছেন; যেমন ইবনুল মাদিনী, বুখারি, আবু যুরআ, আবু হাতিম ও তাঁদের সমগোত্রীয় ব্যক্তিবর্গ। আর এই বিষয়ে তাঁদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ও নির্ভরযোগ্য; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে এই শাস্ত্রের গভীর জ্ঞান এবং এর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রহস্যসমূহ উদ্ঘাটনের সামর্থ্য দান করেছেন, যা অন্যদের দেওয়া হয়নি যারা এই চর্চায় লিপ্ত নন। অনেক সময় তাঁদের মধ্য থেকে ত্রুটি অনুসন্ধানকারী (মুআল্লিল) ইমামের অভিব্যক্তি সংক্ষিপ্ত হতে পারে, ফলে তিনি দুই বর্ণনার মধ্যে একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার পেছনে তাঁর অন্তরে যে কারণটি স্থির হয়েছে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন না; এটি ঠিক মুদ্রাশনাক্তকারী জহুরির সূক্ষ্ম বিচারবোধের মতোই। সুতরাং যখনই আমরা এমন কোনো হাদিস পাব যেটির ব্যাপারে এই নির্ভরযোগ্য ইমামগণের কোনো একজন সেটিকে ত্রুটিপূর্ণ (ইল্লতযুক্ত) হিসেবে রায় দিয়েছেন, তখন সে ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করাই অধিকতর শ্রেয়; যেমনটি আমরা হাদিস সহিহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণ করে থাকি যখন তাঁরা কোনো হাদিসকে সহিহ বলেন।

(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
المُصَنَّفاتُ فِي عِلَلِ الحَدِيثِ

تقدَّمتِ الإشارةُ إلى أنَّ عِلْمَ عِلَلِ الحديثِ من أجلِّ العلومِ التي لم تَتهيَّأْ معرفتُهَا إلاَّ لِنَزْرٍ يسيرٍ من أهلِ العلمِ. وقد صُنِّفَتْ فيه مصنَّفاتٌ عديدةٌ، ذَكَرَ بعضَهَا الحافظُ السَّخَاويُّ في "فتحِ المغيثِ"(1) ، والدكتورُ همَّام سعيد في مقدِّمةِ تحقيقِه لـ"شرحِ عللِ الترمذيِّ" لابنِ رجبٍ الحنبليِّ(2) ، والدكتور محفوظ زين الله في مقدِّمة تحقيقِهِ لـ"عِلَلِ الدَّارَقُطْنِيِّ"(3) ، والدكتور وَصِيّ الله عَبَّاس في مقدِّمة تحقيقه لـ"العِلَلِ" للإمامِ أحمد بروايةِ عبد الله(4) ، والدكتورُ عبدُ الكريمِ الوريكاتُ في كتابِه "الوَهَمُ في رواياتِ مُخْتَلِفِي الأمصارِ"(5) ، والأستاذُ إبراهيمُ بنُ الصِّدِّيقِ في كتابِهِ "عِلْمُ عِلَلِ الحديثِ، مِنْ خلالِ كتابِ بيانِ الوَهَمِ والإيهامِ"(6) ، وقد أَتَى على ذلك كُلِّهِ وزاد عليه زياداتٍ مفيدةً، ونبَّه على بعضِ الأوهامِ فيه- الشيخُ الدكتورُ عليُّ بنُ عبدِ اللهِ الصَّيَّاحُ في رسالةٍ له بعنوانِ "جُهُودُ الْمُحَدِّثِينَ في بيانِ عِلَلِ الأحاديثِ"، غيرَ أنَّه لم يُفْرِدِ المصنَّفاتِ في العِلَلِ، وإنما ذَكَرها تَبَعًا لذكرِه لمؤلِّفيها في غَمْرَةِ الأئمَّةِ العارفينَ بالعِلَلِ.

وفيما يلي ذِكْرُ بعضِ ما وقَفْنَا عليه مِنْ هذه المصنَّفاتِ حتى وفاةِ الخَطِيبِ البغداديِّ:

1) "العِلَلُ" لعليِّ بنِ عبدِ اللهِ بنِ الْمَدِينيِّ (ت 234هـ) ، وهي

--------------------------------------------

(1) (3/311) .

(2) (1/30-37) .

(3) (1/47-56) .

(4) (1/38-44) .

(5) (ص128-140) .

(6) (1/68-89) .
ইললুল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ

ইতিপূর্বে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে যে, হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান (ইলমুল ইলাল) এমন এক সুমহান শাস্ত্র, যার জ্ঞান কেবল অল্প সংখ্যক আলিমের পক্ষেই অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এই বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। হাফেজ সাখাভী 'ফাতহুল মুগিস'(১) গ্রন্থে এগুলোর কিছু উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ড. হাম্মাম সাঈদ ইবনে রজব আল-হাম্বলীর 'শারহু ইলালিত তিরমিযী'র(২) তাহকিকের ভূমিকায়, ড. মাহফুজ যয়নুল্লাহ 'ইলালুদ দারাকুতনী'র(৩) তাহকিকের ভূমিকায়, ড. ওয়াসিউল্লাহ আব্বাস আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণিত ইমাম আহমদের 'আল-ইলাল'(৪) গ্রন্থের তাহকিকের ভূমিকায়, ড. আব্দুল কারীম আল-ওয়ারিকাত তাঁর ‘আল-ওয়াহামু ফী রিওয়ায়াতি মুখতালিফীল আমসার’(৫) গ্রন্থে এবং ওস্তাদ ইব্রাহিম বিন আস-সিদ্দীক তাঁর ‘ইলমু ইলালিল হাদিস, মিন খিলালি কিতাবি বায়ানিল ওয়াহামি ওয়াল ইহাম’(৬) গ্রন্থে এই বিষয়ক গ্রন্থসমূহ আলোচনা করেছেন। শেখ ড. আলী বিন আব্দুল্লাহ আস-সায়্যাহ তাঁর ‘জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল আহাদিস’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভে এই সবগুলোকে একত্রিত করেছেন এবং এতে বহু উপকারী তথ্য সংযোজন করেছেন, সেইসাথে পূর্বোক্ত কাজগুলোর কিছু ভুলভ্রান্তিও নির্দেশ করেছেন। তবে তিনি ইলাল বিষয়ক গ্রন্থগুলোকে পৃথক পরিচ্ছেদে আলোচনা করেননি, বরং ইলাল শাস্ত্রের পণ্ডিত ইমামদের আলোচনার ধারাবাহিকতায় আনুষঙ্গিকভাবে গ্রন্থগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন।

নিম্নে খতিব বাগদাদীর মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের নজরে আসা এই সংক্রান্ত কিছু গ্রন্থের নাম উল্লেখ করা হলো:

১) আলী বিন আব্দুল্লাহ ইবনুল মাদীনী (মৃত্যু: ২৩৪ হি.) রচিত ‘আল-ইলাল’। এটি হলো—

--------------------------------------------

(১) (৩/৩১১)।

(২) (১/৩০-৩৭)।

(৩) (১/৪৭-৫৬)।

(৪) (১/৩৮-৪৪)।

(৫) (পৃষ্ঠা ১২৮-১৪০)।

(৬) (১/৬৮-৮৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
كتبٌ متعدِّدةٌ، لكنْ لم يَصِلْ إلينا منها إلا قِطْعَةٌ صغيرةٌ من روايةِ محمَّد ابنِ أحمدَ بنِ البَرَاء، عنه(1) .

وقد سَمَّى أبو عبدِ اللهِ الحاكمُ(2) بعضَ هذه الكُتُبِ، ومنها:

أ - "كتابُ عِلَلِ الْمُسْنَدِ" ثلاثون جُزْءًا.

ب - "كتابُ العِلَلِ" لإسماعيلَ القاضي(3) ، أربعةَ عَشَرَ جُزْءًا.

ج - "كتابُ عِلَلِ حديثِ ابنِ عُيَيْنَةَ" ثلاثةَ عَشَرَ جزءًا(4) .

د - "كتابُ الوَهَمِ والخطأِ" خمسةُ أجزاءٍ.

هـ - "العِلَلُ المتفرِّقةُ" ثلاثونَ جزءًا.

وذكر الخَطِيبُ البغداديُّ(5) أنّ إسماعيلَ ابنَ الصَّلْتِ بنِ أبي مريمَ، سَمِعَ من عليِّ بنِ المدينيِّ، وعندَهُ عنه كتابٌ صغيرٌ في عللِ الحديثِ.

2) "العِلَلُ" للإمامِ أحمدَ (ت241هـ)(6) ، وهو أيضًا روايات متعددة، منها:

--------------------------------------------

(1) وقد طبعت هذه القطعة بتحقيق الدكتور محمد مصطفى الأعظمي، وعن هذه الطبعة طُبِعَ الكتاب طبعات أخرى.

(2) في "معرفة علوم الحديث" (ص71) .

(3) يعني: أنه من رواية إسماعيل القاضي، عنه.

(4) وقد ذَكَرَهُ السخاويُّ في الموضع السابق من "فتح المغيث" باسم: "العِلَلُ عن ابنِ عُيَيْنة، روايةُ ابنِ المَدِينِيّ عنه"؛ وبناءً عليه ذكر الدكتور محفوظ زين الله _ح في مقدِّمة تحقيقه لـ"عِلَلِ الدَّارَقُطْني" (1/47) أنَّ سفيان بن عيينة أوَّلُ من صنَّف في العِلَلِ، وتابعه على ذلك الأستاذ إبراهيم بن الصِّدَّيق في كتابه السابق الذِّكْر. وقد نبَّه على هذا الوَهَمِ ومَنْشَئِهِ الدكتور علي الصَّيَّاح في "جهود المحدِّثين" (ص180) .

(5) في "تاريخ بغداد" (6/280) .

(6) انظر: "تاريخ بغداد" (2/131) .
একাধিক বই, তবে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-বারার বর্ণনা থেকে তাঁর সূত্রে আমাদের কাছে কেবল একটি ছোট অংশ পৌঁছেছে(১)।

আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম(২) এই বইগুলোর কয়েকটির নাম উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

ক - "কিতাব ইলালিল মুসনাদ" ৩০ খণ্ড।

খ - ইসমাইল আল-কাদীর বর্ণনা সূত্রে "কিতাবুল ইলাল"(৩), ১৪ খণ্ড।

গ - "কিতাব ইলালে হাদিস ইবনু উইয়াইনাহ" ১৩ খণ্ড(৪)।

ঘ - "কিতাবুল ওয়াহাম ওয়াল খাতা" ৫ খণ্ড।

ঙ - "আল-ইলালুল মুতাফাররিকাহ" ৩০ খণ্ড।

আল-খতিব আল-বাগদাদি(৫) উল্লেখ করেছেন যে, ইসমাইল ইবনে আস-সালত ইবনে আবি মারইয়াম, আলি ইবনুল মাদিনি থেকে শুনেছেন এবং তাঁর নিকট ইবনুল মাদিনির সূত্রে হাদিসের ইলাল (ত্রুটি) বিষয়ক একটি ছোট বই রয়েছে।

২) ইমাম আহমদের (মৃ. ২৪১ হি.)(৬) "আল-ইলাল", এটিও একাধিক বর্ণনায় সংকলিত, যার মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) এই অংশটি ড. মুহাম্মদ মোস্তফা আল-আজমির সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে এবং এই সংস্করণের ভিত্তিতে বইটির আরও অন্যান্য সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।

(২) "মা'রিফাতু উলূমিল হাদিস" (পৃ. ৭১) এ।

(৩) অর্থাৎ: এটি তাঁর (ইবনুল মাদিনি) থেকে ইসমাইল আল-কাদীর বর্ণনা।

(৪) সাখাভী "ফাতহুল মুগীস"-এর পূর্বোক্ত স্থানে এটি "আল-ইলাল আন ইবনে উইয়াইনাহ, রিওয়ায়াতু ইবনিল মাদিনি আনহু" নামে উল্লেখ করেছেন; এর ভিত্তিতে ড. মাহফুজ জয়নুল্লাহ (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর সম্পাদিত "ইলালুদ দারাকুতনি" (১/৪৭) এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ হলেন ইলাল শাস্ত্রের প্রথম রচয়িতা, আর অধ্যাপক ইব্রাহিম ইবনুল সিদ্দিক তাঁর পূর্বোক্ত বইয়ে এই বিষয়ে তাঁকে অনুসরণ করেছেন। ড. আলী আস-সাইয়াহ "জুহুদুল মুহাদ্দিসিন" (পৃ. ১৮০) গ্রন্থে এই ভুল ধারণা এবং এর উৎস সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

(৫) "তারিখু বাগদাদ" (৬/২৮০) এ।

(৬) দেখুন: "তারিখু বাগদাদ" (২/১৩১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলাল লি ইবনে আবী হাতিম ত্বর হামীদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
أ- روايةُ عبد الله ابنِ الإمام أحمد(1) .

ب- رواية أبي بَكْر الْْمَرُّوذِيِّ، وعبد الملك المَيْمُوني، وصالحٍ ابنِ الإمامِ أحمد(2) .

ج- رواية الخَلاَّل، ولم يصلنا منها سوى قِطْعةٍ من انتخابِ ابنِ قُدَامة منها(3) .

3) "العِلَلُ" لمحمدِ بنِ عبدِ اللهِ بنِ عَمَّارٍ المَوْصِليِّ (ت242هـ) .

4) "العِلَلُ" لأبي حَفْصٍ عَمْرِو بنِ عليٍّ الفَلاَّسِ (ت249هـ) .

5) "عِلَلُ حديثِ الزهريِّ" لمحمدِ بنِ يحيى الذُّهْلِيِّ (ت258هـ) .

6) "العِلَلُ"، و"التمييزُ"، كلاهما لمسلمِ ابنِ الحَجَّاجِ النَّيْسَابوريِّ (ت261هـ) ، وهما كتابان مختلفانِ، ذَكَرَهُمَا السَّخَاويُّ في الموضعِ السابقِ بما يَدُلُّ على المغايرةِ بينهما، وقد نَصَّ حاجي خَليفة(4) على أنَّ مسلمَ بنَ الحَجَّاجِ ممَّن صنَّف في عِلَلِ الحديثِ.

7) العِلَلُ" لأبي بكرٍ الأَثْرَمِ أحمدَ بنِ محمدِ بنِ هانئٍ (ت قريبًا من سنةِ 260هـ) .

8) "المُسْنَدُ الكبيرُ المُعَلَّلُ" ليعقوبَ بنِ شَيْبَةَ السَّدُوسيِّ (ت262هـ) .

--------------------------------------------

(1) وقد طبع بتحقيق د. وَصِيّ الله عباس.

(2) وقد طبعت هذه الروايات مجموعةً بتحقيق د. وَصِيّ الله عباس أيضًا.

(3) طبعت هذه القطعة بتحقيق الأخ طارق بن عوض الله.

(4) في "كشف الظنون" (2/1159-1160) .
ক- ইমাম আহমাদের পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনা (রিওয়ায়াত)(১) ।

খ- আবু বকর আল-মাররুযী, আব্দুল মালিক আল-মায়মুনি এবং ইমাম আহমাদের পুত্র সালিহ-এর বর্ণনা (রিওয়ায়াত)(২) ।

গ- আল-খাল্লালের বর্ণনা (রিওয়ায়াত), যার মধ্য থেকে ইবনে কুদামাহ কর্তৃক নির্বাচিত একটি অংশ ছাড়া আমাদের কাছে আর কিছু পৌঁছেনি(৩) ।

৩) মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার আল-মাওসিলী (মৃ. ২৪২ হি.)-এর "আল-ইলাল"।

৪) আবু হাফস আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস (মৃ. ২৪৯ হি.)-এর "আল-ইলাল"।

৫) মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী (মৃ. ২৫৮ হি.)-এর "ইলালু হাদিসিজ যুহরী"।

৬) মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নাইসাবুরী (মৃ. ২৬১ হি.)-এর "আল-ইলাল" এবং "আত-তাময়ীয"; উভয়টি ভিন্ন ভিন্ন গ্রন্থ। সাখাভী পূর্ববর্তী স্থানে এ দুটিকে এমনভাবে উল্লেখ করেছেন যা তাদের মধ্যকার ভিন্নতাকে প্রমাণ করে। হাজী খলীফা(৪) সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা হাদিসের ইলাল (ত্রুটি) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

৭) আবু বকর আল-আছরাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হানি (মৃ. ২৬০ হিজরির নিকটবর্তী সময়ে)-এর "আল-ইলাল"।

৮) ইয়াকুব বিন শায়বাহ আস-সাদূসী (মৃ. ২৬২ হি.)-এর "আল-মুসনাদুল কাবীর আল-মুআল্লাল"।

--------------------------------------------

(১) এটি ড. ওয়াসিউল্লাহ আব্বাসের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।

(২) এই বর্ণনাগুলো একত্রে ড. ওয়াসিউল্লাহ আব্বাসের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।

(৩) এই অংশটি ভাই তারিক বিন আওয়াদুল্লাহর সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।

(৪) "কাশফুজ জুনুন"-এ (২/১১৫৯-১১৬০)।