(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: -)
طبقات الأولياء   (ابن الملقن)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: طبقات الأولياء

المؤلف: ابن الملقن سراج الدين أبو حفص عمر بن علي بن أحمد الشافعي المصري (ت 804هـ)

بتحقيق: نور الدين شريبه من علماء الأزهر

الناشر: مكتبة الخانجي، بالقاهرة

الطبعة: الثانية، 1415 هـ - 1994 م

عدد الصفحات: 578

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আউলিয়াগণের স্তরসমূহ   (ইবনুল মুলক্কিন)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আউলিয়াগণের স্তরসমূহ

লেখক: ইবনুল মুলক্কিন সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলী বিন আহমদ আশ-শাফিঈ আল-মিসরী (মৃত্যু ৮০৪ হি.)

সম্পাদনা: আল-আযহারের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত নূরুদ্দীন শুরাইবা

প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজী, কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৫ হি. - ১৯৯৪ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌خطبة الكتاب

‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله على رفع الأعلام، لمن شاء من الأعيان الأعلام، وعلى بيان الطريق، لأهل التحقيق. وأشهد أن لا اله الا الله، وحده لا شريك له، شهادة نافعة على الدوام، وأشهد أن سيدنا محمد عبده ورسوله، مصباح الظلام. صلى الله وسلم عليه وعلى آله وأصحابه الكرام.

وبعد: فهذه جملة من طبقات الأعلام الأعيان، وأوتاد الأقطاب فى كل قطر وأوان؛ جمعتهم لأهتدى بمآثرهم، وأقتفى بآثارهم، رجاء أن أنظم في سلكهم، " فالمرء مع من أحب "، وأحيا بذكرهم، ويزول عني النصب.

وعلى الله واليه التفويض والاستناد
কিতাবের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর ইচ্ছাধীন বিশিষ্ট মহান ব্যক্তিদের জন্য পতাকাসমূহকে সমুন্নত করেছেন এবং সত্যানুসন্ধানীদের জন্য পথকে সুস্পষ্ট করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য যা সর্বদা কল্যাণকর। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, যিনি অন্ধকারের প্রদীপ। তাঁর ওপর এবং তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর: এটি প্রতিটি ভূখণ্ড ও সময়ের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রধান আধ্যাত্মিক স্তম্ভদের জীবনীস্তরের একটি সংকলন; আমি তাদের বিষয়াদি একত্রিত করেছি যাতে আমি তাদের কীর্তি দ্বারা পথনির্দেশ পেতে পারি এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারি, এই আশায় যে আমি তাদের সারিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারব; কেননা "মানুষ তার সাথেই থাকবে যাকে সে ভালোবাসে"। আমি তাদের স্মরণের মাধ্যমে সজীব থাকতে চাই এবং যেন আমার ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।

আর আল্লাহর ওপরই সকল কাজের সমর্পণ এবং তাঁর কাছেই সাহায্য ও ভরসা।
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌حرف الألف

‌‌إبراهيم بن أدهم

-‌‌ 161 للهجرة

ابرهيم بن أدهم، أبو اسحاق البلخي. ولد بمكة، وطافت به أمه على الخلق، وسألت الدعاء له أن يكون صالحاً فأستجيب لها، وترك الامارة، وما كان فيه.

خرج متصيداً، فأثار ثعلباً - أو أرنباً - واذ هو طلبه، هتف به هاتف من قربوس سرجه: " والله! ما لهذا خلقت!، ولا بهذا أمرت! ". فنزل عن دابته، وصادف راعياً أبيه، فأخذ جبته - وكانت من صوف - فلبسها، وأعطاه ثيابه وقماشه وفرسه.
আলিফ অধ্যায়

ইবরাহিম ইবনে আদহাম

- ১৬১ হিজরি

ইবরাহিম ইবনে আদহাম, আবু ইসহাক আল-বালখি। তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতা তাঁকে মানুষের দ্বারে দ্বারে নিয়ে যেতেন এবং তাঁর জন্য দোয়া চাইতেন যেন তিনি একজন পুণ্যবান ব্যক্তি হন; তাঁর সেই দোয়া কবুল করা হয়েছিল। তিনি রাজপদ এবং তাঁর যা কিছু ছিল সব ত্যাগ করেছিলেন।

তিনি শিকারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন, এরপর একটি শিয়াল অথবা খরগোশ তাড়া করেন। যখন তিনি তার পিছু নিচ্ছিলেন, তখন তাঁর জিনের সম্মুখভাগ থেকে এক অদৃশ্য ঘোষক ডেকে বলল: "আল্লাহর কসম! তোমাকে এর জন্য সৃষ্টি করা হয়নি এবং তোমাকে এর নির্দেশও দেওয়া হয়নি!"। অতঃপর তিনি তাঁর সওয়ারি থেকে নেমে পড়লেন এবং তাঁর পিতার এক রাখালের দেখা পেলেন। তিনি তার জুব্বাটি নিলেন—যা ছিল পশমের তৈরি—এবং তা পরিধান করলেন। আর তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ ও ঘোড়াটি তাকে দিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٦)
ثم دخل مكة، ثم الشام، لطلب الحلال. وكان يأكل من عمل يده.

وصحب بمكة سفيان الثورى، والفضيل بن عياض. وتوفى بالجزيرة في الغزو، وحمل إلى صور - مدينة بساحل الشام، أو ببلاد الروم على ساحل البحر - فدفن بها سنة إحدى وستين ومائة.

ومناقبه جمة، أفردها ابن الحلبى بالتأليف.

واختلف - ليلة أن مات - إلى الخلاء نيفاً وعشرين مرة، في كل مرة يجدد الوضوء للصلاة، فلما أحس بالموت، قال: " أوتروا لى قوسى! " فقبض عليه، فقبضت روحه والقوس في يده.
অতঃপর তিনি মক্কায় প্রবেশ করেন, এরপর সিরিয়ায়, হালাল জীবিকা অন্বেষণের উদ্দেশ্যে। তিনি স্বহস্তে উপার্জিত খাদ্য গ্রহণ করতেন।

মক্কায় থাকাকালীন তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী এবং ফুদাইল ইবন ইয়াজের সাহচর্য লাভ করেন। জিহাদরত অবস্থায় আল-জাজিরায় তাঁর ইন্তেকাল হয় এবং তাঁকে 'সুর' নামক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়—যা সিরিয়ার উপকূলে অবস্থিত একটি শহর অথবা সমুদ্রতীরবর্তী রোম সাম্রাজ্যের কোনো ভূখণ্ড—সেখানে ১৬১ হিজরিতে তাঁকে দাফন করা হয়।

তাঁর গুণাবলি ও মর্যাদা অসংখ্য, যা ইবনুল হালাবি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে রচনা করেছেন।

যে রাতে তাঁর ইন্তেকাল হয়, সে রাতে তিনি বিশ বারেরও বেশি বার শৌচাগারে গমনাগমন করেন এবং প্রত্যেক বারেই নামাজের জন্য নতুনভাবে ওজু করেন। অতঃপর যখন তিনি মৃত্যু ঘনিয়ে আসার বিষয়টি অনুভব করলেন, তখন তিনি বললেন: "আমার ধনুকের ছিলা পরিয়ে দাও!" এরপর তিনি তা দৃঢ়ভাবে ধরলেন এবং ধনুকটি তাঁর হাতে থাকা অবস্থাতেই তাঁর আত্মা দেহত্যাগ করল।
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٧)
ومن كلامه البديع: " الفقر مخزون في السماء، يعدل الشهادة عند الله، لا يعطيه إلا لمن أحبه ".

ومنه: " على القلب ثلاثة أغطية: الفرح، والحزن، والسرور. فإذا فرحت بالموجود فأنت حريص، والحريص محروم. وإذا حزنت على المفقود فأنت ساخط، والساخط معذب. وإذا سررت بالمدح فأنت معجب، والعجب يحبط العمل. ودليل ذلك قوله تعالى:) لكيلا تأسوا على ما فاتكم ولا تفرحوا بما آتيكم (.

ومن كلامه: " قلة الحرص والطمع تورث الصدق والورع، وكثرة الحرص والطمع تكثر الهم والجزع ".

وقال: " وجدت يوماً راحة، فطابت نفسي لحسن صنع الله بي، فقلت: اللهم! إن كنت أعطيت أحداً من المحبين لك ما سكنت به قلوبهم قبل لقائك فأعطني كذلك! فقد أضر بي القلق ". فرأيت رب العزة في المنام، فأوقفني بين يديه، وقال لي: " يا إبرهيم! أما استحيت منى! تسألني أن أعطيك
তাঁর চমৎকার বাণীসমূহের মধ্যে রয়েছে: "দরিদ্রতা আসমানে সংরক্ষিত ধন, যা আল্লাহর নিকট শাহাদাতের সমতুল্য; তিনি কেবল তাকেই এটি দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন।"

আরও রয়েছে: "অন্তরের ওপর তিনটি পর্দা রয়েছে: আনন্দ, বিষাদ এবং উল্লাস। সুতরাং যদি তুমি বিদ্যমান কোনো বস্তুর প্রাপ্তিতে আনন্দিত হও তবে তুমি লোভী, আর লোভী ব্যক্তি বঞ্চিত। আর যদি তুমি হারানো কোনো বস্তুর জন্য বিষাদগ্রস্ত হও তবে তুমি অসন্তুষ্ট, আর অসন্তুষ্ট ব্যক্তি যন্ত্রণাপ্রাপ্ত। আর যদি তুমি প্রশংসিত হয়ে উল্লাসিত হও তবে তুমি আত্মমুগ্ধ, আর আত্মমুগ্ধতা আমলকে ধ্বংস করে দেয়। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (যেন তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য আক্ষেপ না করো এবং তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার জন্য উল্লসিত না হও)।"

তাঁর বাণীসমূহের মধ্যে রয়েছে: "লোভ ও লালসার স্বল্পতা সত্যবাদিতা ও পরহেজগারি আনয়ন করে, আর লোভ ও লালসার আধিক্য দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়।"

তিনি বলেন: "একদিন আমি প্রশান্তি অনুভব করলাম, আমার প্রতি আল্লাহর সুন্দর অনুগ্রহের কারণে আমার মন আনন্দিত হলো। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহ! আপনার প্রেমিকদের কাউকে যদি আপনি এমন কিছু দান করে থাকেন যার দ্বারা আপনার সাথে সাক্ষাতের আগেই তাদের অন্তর প্রশান্ত হয়ে যায়, তবে আমাকেও তা দান করুন! কেননা উদ্বেগ আমাকে ব্যথিত করেছে।" তখন আমি স্বপ্নে মহান রবকে দেখলাম, তিনি আমাকে তাঁর দুই হাতের সামনে দাঁড় করালেন এবং আমাকে বললেন: "হে ইবরাহিম! তুমি কি আমার নিকট লজ্জা পাও না! তুমি আমার নিকট প্রার্থনা করছ যে আমি তোমাকে দান করি
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٨)
ما يسكن به قلبك قبل لقائى؟! وهل يسكن قلب المشتاق إلى غير حبيبه؟! أم هل يستريح المحب إلى غير من اشتاق إليه؟! ". قال، فقلت: " يا رب! تهت في حبك، فلو أدر ما أقول! ".

قال ابرهيم بن بشار خادمه: " كنت ذات ليلة معه، وليس معنا شىء نفطر عليه، ولا لنا حيلة، فرآنى مغموماً، فقال: " يا ابن بشار! ماذا انعم الله تعالى على الفقراء والمساكين، من النعم والراحة دنيا وأخرى!. لا يسألهم يوم القيامة عن حج ولا زكاة، ولا صلة رحم ولا مواساة؛ وإنما يسأل ويحاسب هؤلاء المساكين، أغنياء في الدنيا، فقراء في الآخرة، أعزة في الدنيا، أذلة يوم القيامة. لا تغتم! فرزق الله مضمون سيأتيك!. نحن والله الملوك والأغنياء، قد تعجلنا الراحة في الدنيا، لا نبالي على أي حال أصبحنا أو أمسينا إذا أطعنا الله! ". ثم قام إلى الصلاة، وقمت إلى صلاتى، فما لبثنا غير ساعة، واذا نحن برجل قد جاء بثمانية أغنية وتمر كثير؛ فوضعه بين أيدينا، وقال: " كلوا! رحمكم الله! " فسلم ابرهيم من صلاته وقال: " كل يا مغموم! " فدخل سائل وقال: " أطعمونى شيئاً! " فأطعمه ثلاثة أرغفة مع تمر كثير، وأعطانى ثلاثة، وأكل رغيفين، وقال: " المواساة من أخلاق المؤمنين ".

وقال ابرهيم لشقيق: " علام اصلتم اصولكم؟ " فقال:
"আমার সাথে সাক্ষাতের আগে তোমার অন্তর কিসে শান্ত হবে?! আর যে ব্যাকুল, তার অন্তর কি তার প্রিয়তম ব্যতীত অন্য কারও কাছে শান্ত হতে পারে?! অথবা যে প্রেমিক, সে কি তার আকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও কাছে প্রশান্তি পেতে পারে?!" তিনি বললেন, তখন আমি বললাম: "হে আমার রব! আমি আপনার ভালোবাসায় দিশেহারা হয়ে গেছি, আমি কী বলছি তা যদি আমি জানতাম!"

তাঁর খাদেম ইব্রাহিম ইবনে বাশশার বলেন: "এক রাতে আমি তাঁর সাথে ছিলাম, আমাদের নিকট ইফতার করার মতো কিছুই ছিল না এবং আমাদের কোনো উপায়ও ছিল না। তিনি আমাকে বিষণ্ণ দেখে বললেন: "হে ইবনে বাশশার! আল্লাহ তাআলা দরিদ্র ও অভাবীদের দুনিয়া ও আখিরাতে কতই না নেয়ামত ও প্রশান্তি দান করেছেন! কিয়ামতের দিন তাদের হজ, জাকাত, আত্মীয়তার বন্ধন বা সহমর্মিতা প্রদর্শন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না; বরং হিসাব ও জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হবে তো ঐ সকল হতভাগ্যরা, যারা দুনিয়াতে ধনী কিন্তু আখিরাতে দরিদ্র, দুনিয়াতে সম্মানিত কিন্তু কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত। চিন্তা করো না! আল্লাহর দেওয়া রিজিক সুনিশ্চিত, তা তোমার কাছে আসবেই। আল্লাহর কসম, আমরাই প্রকৃত রাজা ও ধনী; আমরা দুনিয়াতেই প্রশান্তি লাভ করেছি। যদি আমরা আল্লাহর আনুগত্য করি, তবে আমাদের সকাল বা সন্ধ্যা যেভাবেই অতিবাহিত হোক না কেন, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না!" এরপর তিনি সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমিও আমার সালাতে দাঁড়িয়ে গেলাম। এক ঘণ্টা পার হতে না হতেই জনৈক ব্যক্তি আটটি রুটি এবং প্রচুর খেজুর নিয়ে এল; সে সেগুলো আমাদের সামনে রাখল এবং বলল: "খান, আল্লাহ আপনাদের প্রতি দয়া করুন!" এরপর ইব্রাহিম সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করলেন এবং বললেন: "হে বিষণ্ণ ব্যক্তি, খাও!" তখন এক ভিক্ষুক প্রবেশ করল এবং বলল: "আমাকে কিছু খেতে দিন!" তিনি তাকে প্রচুর খেজুরসহ তিনটি রুটি দিলেন, আমাকে তিনটি দিলেন এবং নিজে দুইটি রুটি খেলেন। এরপর তিনি বললেন: "সহমর্মিতা মুমিনদের চরিত্রের অংশ।"

আর ইব্রাহিম শাকিককে বললেন: "তোমরা তোমাদের মূলনীতি কিসের ওপর ভিত্তি করে গড়েছ?" তখন তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٩)
" اذا رزقنا أكلنا، واذا منعنا صبرنا ". فقال ابرهيم: " هكذا كلاب بلخ! اذا رزقت أكلت، واذا منعت صبرت. أنا أصلنا أصولنا على انا اذا رزقنا آثرنا، واذا منعنا حمدنا وشكرنا ". فقام شقيق، وقعد بين يديه وقال: " انت استاذنا! ".

وحصد ابرهيم في المزارع عشرين ديناراً ودخل إلى أذنة، ومعه صاحب له. فأراد أن يحلق ويحتجم؛ فجاء إلى حجام، فحقره الحجام وصاحبه، وقال: " ما في الدنيا أحد أبغض إلى من هؤلاء! أما وجدوا غيري؟! " فقضى شغل غيرهما، وأعرض عنهما. ثم قال: " أي شيء تريدان؟ " فقال ابرهيم: " أحتجم واحلق ". ففعل به، وأما صاحبه فقال له: " لا أفعل ذلك! " لتهاونه بهما، ثم أعطاه ابرهيم الذي كان معه، فقال له صاحبه: " كيف ذاك؟! " فقال: " اسكت؟ لئلا يحتقر فقيراً بعده ".

وروى انه كان يعمل في الحصاد وحفظ البساتين وغير ذلك، وينفق على من في صحبته من الفقراء. وكان يعمل نهاره، ويجتمعون ليلا إلى
"যখন আমাদের রিযিক দেওয়া হয় আমরা ভক্ষণ করি, আর যখন আমাদের বঞ্চিত করা হয় তখন আমরা ধৈর্য ধারণ করি।" ইব্রাহিম বললেন: "বালখ শহরের কুকুরগুলোও তো এমনই! যখন তাদের রিযিক দেওয়া হয় তারা খায়, আর যখন তাদের বঞ্চিত করা হয় তখন তারা ধৈর্য ধারণ করে। আমরা আমাদের মূলনীতিকে এর ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি যে, যখন আমাদের রিযিক দেওয়া হয় তখন আমরা অন্যকে প্রাধান্য দিই, আর যখন আমাদের বঞ্চিত করা হয় তখন আমরা আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।" তখন শাকিক উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর সামনে বসলেন ও বললেন: "আপনিই আমাদের উস্তাদ!"

ইব্রাহিম ফসলের মাঠে কাজ করে বিশ দিনার উপার্জন করলেন এবং আদানা শহরে প্রবেশ করলেন, তাঁর সাথে তাঁর এক সঙ্গী ছিল। তিনি চুল কাটতে ও সিঙ্গা লাগাতে চাইলেন; তাই তিনি একজন নাপিতের কাছে এলেন। নাপিত তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গীকে অত্যন্ত তুচ্ছজ্ঞান করল এবং বলল: "দুনিয়াতে এই লোকদের চেয়ে অধিক ঘৃণিত আমার কাছে আর কেউ নেই! তারা কি আমি ছাড়া আর কাউকে পেল না?!" এরপর সে অন্যদের কাজ শেষ করল এবং তাঁদের দিক থেকে বিমুখ হয়ে থাকল। তারপর সে বলল: "তোমরা কী চাও?" ইব্রাহিম বললেন: "আমি সিঙ্গা লাগাতে ও চুল কাটতে চাই।" সে তাঁর কাজ করে দিল, কিন্তু তাঁর সঙ্গীর ব্যাপারে সে বলল: "আমি এটি করব না!" তাদের প্রতি অবজ্ঞার কারণেই সে এমনটি করল। এরপর ইব্রাহিম তাঁর কাছে যা ছিল তা তাকে প্রদান করলেন। তাঁর সঙ্গী তাঁকে বললেন: "এটি আপনি কীভাবে করলেন?!" তিনি বললেন: "চুপ করো! যাতে সে এর পরে আর কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে তুচ্ছজ্ঞান না করে।"

বর্ণিত আছে যে, তিনি ফসল কাটা, বাগান পাহারা দেওয়া এবং এ জাতীয় কাজ করতেন এবং তাঁর সংশ্রবে থাকা দরিদ্রদের জন্য ব্যয় করতেন। তিনি দিনে কাজ করতেন এবং রাতে তাঁরা একত্রিত হতেন...
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ١٠)
موضع، وهم صيام؛ وكان ابرهيم يبطىء فى رجوعه من عمله. فقالوا ليلة: " هلم نسبقه حتى لا يبطىء في رجوعه من عمله؟ " ففعلوا وناموا. فجاء ابرهيم، فظن انهم لم يجدوا طعاماً، فأصلحه لهم، فأنتبهوا وقد وضع شيبته فى النار، وينفخ بها، فقالوا له في ذلك فقال: " ظننت إنكم نمتم جوعى لأجل العدم، فأصلحت لكم ذلك! ". فقال بعضهم لبعض: " انظروا ما الذي عملنا، وما الذي يعاملنا به ".

وقال سهل بن ابرهيم: " صحبته، فمرضت، فأنفق على نفقته، فاشتهيت شهوة، فباع حماره وأنفق على. فلما تماثلت قلت أين الحمار؟. قال: بعناه!. فقلت: ماذا أركب؟! فقال: يا أخي! على عنقي. فحملني ثلاثة منازل ".

وقال: " أتيت ليلة بعض المساجد لأبيت فيه، وكانت ليلة باردة، فلم أمكن، وجررت برجلي إلى مزبلة؛ فرأيت أتون حمام، ووقاداً يوقد، فسلمت عليه، فلم يرد السلام حتى فرغ من عمله؛ وكان يلتفت يميناً شمالا، فقلت: " يا هذا! لم لا ترد على السلام فى وقته؟! "، فقال: " كنت مستأجراً فخفت أن اشغل معك، فأقصر في عملي، فآثم؛ والتفاتي خوف الموت، لا أدرى من أين يأتيني ". قلت: " فبكم تعمل كل يوم؟ " قال: " بدرهم ودانق، فأنفق الدانق على نفسي، والدرهم على أولاد أخ لي
একটি স্থান, তারা সকলে সিয়াম পালনরত ছিলেন; ইব্রাহিম তার কাজ থেকে ফিরতে বিলম্ব করতেন। এক রাতে তারা বলল: "এসো, আমরা তার পূর্বেই চলে যাই যাতে তার কাজ থেকে ফিরতে দেরি না হয়।" তারা তা-ই করল এবং ঘুমিয়ে পড়ল। ইব্রাহিম আসলেন এবং ধারণা করলেন যে তারা খাবার পায়নি, তাই তিনি তাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করলেন। তারা জাগ্রত হয়ে দেখল যে তিনি আগুনের উপর নিজের শুভ্র দাড়ি নুয়ে দিয়ে তাতে ফুঁ দিচ্ছেন। তারা এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আমি ভেবেছিলাম খাদ্যাভাবে তোমরা হয়তো ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছ, তাই আমি তোমাদের জন্য তা প্রস্তুত করলাম!" তখন তারা একে অপরকে বলতে লাগল: "দেখো আমরা কী করেছি, আর তিনি আমাদের সাথে কেমন আচরণ করছেন।"

সহল ইবনে ইব্রাহিম বলেন: "আমি তার সান্নিধ্যে ছিলাম, অতঃপর আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তিনি তার নিজের অর্থ থেকে আমার জন্য ব্যয় করতে লাগলেন। আমার মনে একটি জিনিসের আকাঙ্ক্ষা জাগল, তখন তিনি তার গাধাটি বিক্রি করে দিলেন এবং সেই অর্থ আমার জন্য ব্যয় করলেন। আমি যখন সুস্থ হলাম, তখন বললাম, গাধাটি কোথায়? তিনি বললেন: আমরা তা বিক্রি করে দিয়েছি! আমি বললাম: তবে আমি কিসে আরোহণ করব?! তিনি বললেন: হে আমার ভাই! আমার ঘাড়ের ওপর। অতঃপর তিনি আমাকে তিন মঞ্জিল পর্যন্ত বহন করলেন।"

তিনি বললেন: "এক রাতে আমি কোনো এক মসজিদে রাত যাপনের জন্য আসলাম, সেটি ছিল এক প্রচণ্ড শীতের রাত। সেখানে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হলো না, আমি আমার পা টেনে টেনে একটি আবর্জনার স্তূপের দিকে গেলাম। সেখানে আমি হাম্মামখানার একটি চুল্লি এবং একজন প্রজ্বলককে আগুন জ্বালাতে দেখলাম। আমি তাকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি তার কাজ শেষ না করা পর্যন্ত সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি ডানে ও বামে তাকাচ্ছিলেন। আমি বললাম: ওহে ব্যক্তি! তুমি কেন যথাসময়ে সালামের উত্তর দিলে না?! তিনি বললেন: আমি একজন বেতনভুক্ত শ্রমিক ছিলাম, তাই আশঙ্কা করলাম যে আপনার সাথে আলাপে মগ্ন হয়ে আমি যদি কাজে অবহেলা করি তবে আমি পাপিষ্ঠ হবো। আর আমার ডানে-বামে তাকানো হলো মৃত্যুর আশঙ্কায়, আমি জানি না মৃত্যু কোন দিক থেকে আমার নিকট আসবে। আমি বললাম: তুমি প্রতিদিন কত মজুরিতে কাজ করো? তিনি বললেন: এক দিরহাম ও এক দানিক বিনিময়ে; আমি দানিকটি নিজের জন্য ব্যয় করি আর দিরহামটি আমার এক ভাইয়ের সন্তানদের জন্য ব্যয় করি।"
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ١١)
في الله، مات منذ عشرين سنة ". قلت: " فهل سألت الله تعالى حاجة قط؟ " قال: " نعم! سألته في حاجة منذ عشرين سنة، وما قضيت بعد! " قلت: " ما هي؟ " قال: " أن يريني ابرهيم بن أدهم، فأموت! " فقلت " والله! ما رضى بي أن آتيك إلا سحباً على وجهي! أنا هو ". فعانقني، ووضع رأسه في حجري، ثم قال: " إلهي! قضيت حاجتي، فاقبضني إليك! " ومات من ساعته ".

وقال شقيق: " كنا عنده يوماً، إذ مر به رجل، فقال: " أليس هذا فلاناً؟ " فقلنا: " نعم! " فقال الرجل: " أدركه. وقل له: لم لم تسلم؟ " فقال له: " أن امرأتي وضعت، وليس عندي شيء، فخرجت شبه المجنون " فقال: " أنا لله! غفلنا عن صاحبنا! ". ثم أستقرض له دينارين، وأمر أن يشترى له بدينار ما يصلح، ويدفع أليه الآخر. فدفع ذلك إلى زوجته، فقالت: " اللهم! لا تنس هذا اليوم لابرهيم! "، ففرح فرحاً لم يفرح مثله قط ".

وركب مرة البحر، فقال عليهم، فلف رأسه في عباءة ونام. فقيل له: " ما ترى ما نحن فيه من الشدة؟! " فقال: " ليس هذا شدة! الشدة الحاجة إلى الناس ". ثم قال: " اللهم! أريتنا قدرتك، فأرنا عفوك! ".
"আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে, বিশ বছর আগে তিনি মারা গেছেন।" আমি বললাম, "আপনি কি কখনো মহান আল্লাহর কাছে কোনো হাজত বা প্রয়োজন চেয়েছেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ! বিশ বছর আগে তাঁর কাছে একটি হাজত প্রার্থনা করেছিলাম, যা এখনো পূর্ণ হয়নি!" আমি বললাম, "তা কী?" তিনি বললেন, "তিনি যেন আমাকে ইব্রাহিম ইবনে আদহামকে দেখান, আর এরপরই যেন আমার মৃত্যু হয়!" আমি বললাম, "আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমার জন্য এটা পছন্দ করেননি যে আমি স্বাচ্ছন্দ্যে আপনার কাছে আসব, বরং আমাকে যেন মুখের ওপর টেনে আনা হয়! আমিই সেই ব্যক্তি।" তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং আমার কোলে মাথা রাখলেন, তারপর বললেন, "হে আমার ইলাহ! আপনি আমার হাজত পূর্ণ করেছেন, এখন আমাকে আপনার কাছে তুলে নিন!" এবং সেই মুহূর্তেই তিনি ইন্তেকাল করলেন।

শাকীক বলেন, "একদিন আমরা তাঁর নিকট ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। তিনি বললেন, 'এটি কি অমুক ব্যক্তি নয়?' আমরা বললাম, 'হ্যাঁ!' তখন ইব্রাহিম বললেন, 'তাকে গিয়ে ধরো এবং তাকে বলো: কেন সে সালাম দিল না?' সে তাকে বলল, 'আমার স্ত্রী সন্তান প্রসব করেছে, অথচ আমার কাছে কিছুই নেই, তাই আমি প্রায় উন্মাদের মতো বেরিয়ে পড়েছি।' তিনি বললেন, 'আমরা তো আল্লাহরই জন্য! আমরা আমাদের সাথীর কথা ভুলেই গিয়েছিলাম!' অতঃপর তিনি তার জন্য দুই দিনার ঋণ নিলেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন এক দিনার দিয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা হয় এবং অপরটি তাকে দিয়ে দেওয়া হয়। সে তা তার স্ত্রীর কাছে নিয়ে গেলে সে বলল, 'হে আল্লাহ! ইব্রাহিমের এই দিনের উপকারের কথা ভুলে যাবেন না!' এতে তিনি এমন আনন্দিত হলেন যা ইতিপূর্বে কখনো হননি।"

একবার তিনি সমুদ্রযাত্রা করছিলেন, তখন সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠল। তিনি তাঁর মাথা একটি চাদরে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। তাঁকে বলা হলো, "আমরা যে চরম সংকটের মধ্যে আছি, তা কি আপনি দেখছেন না?!" তিনি বললেন, "এটি কোনো সংকট নয়! আসল সংকট হলো মানুষের মুখাপেক্ষী হওয়া।" তারপর তিনি বললেন, "হে আল্লাহ! আপনি আমাদের আপনার ক্ষমতা দেখিয়েছেন, এখন আমাদের আপনার ক্ষমা প্রদর্শন করুন!"
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ١٢)
فصار البحر كأنه قدح زيت.

وقال ابراهيم: مررت ببعض بلاد الشام، فإذا حجر مكتوب عليه:

كل حى وان بقى … فمن العين يستقي

فاعمل اليوم واجتهد … واحذر الموت يا شقي

فقعدت زماناً أقرأه وأبكي.

وكان كثيراً ما يتمثل بهذا البيت:

للقمة بجريش الملح آكلها … ألذ من تمرة تحشى بزنبور

ومن أصحابه شقيق بن ابرهيم البلخى، أبو على، من كبار مشايخ خراسان. حدث عن أبى حنيفة، وكان استاذ حاتم الأصم.
ফলে সমুদ্র যেন তেলের একটি পাত্রের মতো হয়ে গেল।

এবং ইব্রাহিম বলেন: আমি শামের কোনো এক অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় একটি পাথর দেখতে পেলাম যাতে খোদাই করা ছিল:

প্রতিটি জীবিত সত্তা যদিও দীর্ঘকাল টিকে থাকে … পরিশেষে সে মৃত্যুর ঝর্ণা থেকেই পান করে।

অতএব আজ আমল করো এবং পরিশ্রম করো … আর হে হতভাগ্য, মৃত্যুকে ভয় করো।

অতঃপর আমি দীর্ঘ সময় বসে তা পড়ছিলাম এবং কাঁদছিলাম।

এবং তিনি প্রায়ই এই পঙ্‌ক্তিটি আবৃত্তি করতেন:

মোটা দানাদার লবণের সাথে এক গ্রাস অন্ন গ্রহণ করা … মিষ্টান্ন দ্বারা পূর্ণ করা খেজুরের চেয়েও অধিক তৃপ্তিদায়ক।

আর তাঁর সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন শাকিক ইবনে ইব্রাহিম আল-বালখি, আবু আলি; তিনি খুরাসানের মহান শায়খদের অন্যতম ছিলেন। তিনি আবু হানিফার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাতেম আল-আসামের উস্তাদ ছিলেন।
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ١٣)
مات شهيداً فى غزوة كولان، سنة أربع وتسعين ومائة، حكاه ابن عساكر. وجزم ابن الجوزى، في " المنتظم " بأنه مات سنة ثلاث وخمسين ومائة.

وأخبر عن نفسه في تلك الغزوة أنه رأى نفسه في ذلك اليوم كيوم الزفاف، ونام بين الصفين، حتى سمع غطيطه.

قيل: كان سبب زهده أنه رأى مملوكا يلعب ويمرح فى زمن قحط، فعاتبه، فقال: " لمولاى قرية يدخل له منها ما يحتاج إليه! " فانتبه شقيق، فقال: " هذا مولاه مخلوق، ومولاى أغنى الأغنياء! " فترك ما في بيته، وتخلى للعبادة.

ومن كلامه: " التوكل طمأنينة القلب لموعود الله ".

" من شكا مصيبة نزلت به إلى غير الله لم يجد في قلبه حلاوة لطاعة الله ".
তিনি একশত চুরানব্বই হিজরি সনে কোলান যুদ্ধে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন, যা ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন। আর ইবনুল জাওযী তাঁর 'আল-মুন্তাজাম' গ্রন্থে দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একশত তিপ্পান্ন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি সেই যুদ্ধের সময় নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, সেদিন তিনি নিজেকে বাসর রাতের বরের ন্যায় অনুভব করেছিলেন এবং দুই সৈন্যদলের সারির মাঝে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, এমনকি তাঁর নাক ডাকার শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর দুনিয়াবিমুখতার কারণ ছিল এই যে, তিনি দুর্ভিক্ষের সময় একজন দাসকে আনন্দ-উল্লাস করতে দেখেন। তিনি তাকে তিরস্কার করলে দাসটি বলল: "আমার মনিবের একটি গ্রাম রয়েছে যেখান থেকে তাঁর প্রয়োজনীয় সকল বস্তু তাঁর কাছে পৌঁছে যায়!" তখন শাকীক সচেতন হয়ে উঠলেন এবং বললেন: "এর মনিব তো একজন সৃষ্টি মাত্র, অথচ আমার মনিব হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ অভাবমুক্ত!" অতঃপর তিনি তাঁর ঘরে যা কিছু ছিল সব বর্জন করলেন এবং ইবাদতের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলেন।

তাঁর বাণীর অন্তর্ভুক্ত হলো: "তাওয়াক্কুল হলো আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর হৃদয়ের প্রশান্তি।"

"যে ব্যক্তি নিজের ওপর আপতিত কোনো বিপদের অভিযোগ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট করে, সে তার হৃদয়ে আল্লাহর আনুগত্যের স্বাদ ও মিষ্টতা খুঁজে পায় না।"
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ١٤)
ومنه: " اذا أردت أن تكون فى راحة فكل ما أصبت، والبس ما وجدت، وارض بما قضى الله عليك ".

وقال: " ليس شيء أحب إلى من الضيف، لأن رزقه ومؤنته على الله، وأجره لي ".

وقال: " إن أردت أن تعرف الرجل، فانظر إلى ما وعده الله، ووعده الناس، بأيهما يكون قلبه أوثق! ".

وقال: " تعرف تقوى الرجل في ثلاثة أشياء: في أخذه، ومنعه، وكلامه ".

وسئل: " ما علامة التوبة؟ " فقال: " إدمان البكاء على ما سلف من الذنوب، والخوف المقلق من الوقوع فيها، وهجران أخوان السوء، وملازمة أهل الخير ".

وقيل له: " ما علامة المطرود؟ " فقال: " إذا رأيته منع الطاعة واستوحش منها قلبه؛ وحلاله المعصية واستأنس بها؛ ورغب في الدنيا وزهد في الآخرة؛ وشغله بطنه وفرجه؛ ولم يبال من اين
এর মধ্য হতে: "যদি তুমি শান্তিতে থাকতে চাও, তবে যা পেয়েছ তা-ই আহার করো, যা পেয়েছ তা-ই পরিধান করো এবং আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যা নির্ধারণ করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো।"

তিনি আরও বলেছেন: "আমার কাছে মেহমানের চেয়ে প্রিয় আর কিছু নেই, কেননা তার রিজিক ও ভরণপোষণ আল্লাহর জিম্মায়, আর তার প্রতিদান আমার জন্য।"

তিনি আরও বলেছেন: "যদি তুমি কোনো ব্যক্তিকে চিনতে চাও, তবে দেখো আল্লাহ তাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং মানুষ তাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—এই দুটির মধ্যে কোনটির প্রতি তার অন্তর অধিক আশ্বস্ত!"

তিনি আরও বলেছেন: "তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির তাকওয়া অনুধাবন করা যায়: তার গ্রহণ করার ক্ষেত্রে, তার বর্জন করার ক্ষেত্রে এবং তার কথাবার্তার ক্ষেত্রে।"

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: "তওবার লক্ষণ কী?" তিনি বললেন: "অতীতের গুনাহসমূহের ওপর অনবরত ক্রন্দন করা, পুনরায় তাতে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে আতঙ্কিত থাকা, মন্দ বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগ করা এবং নেককারদের সাথে অবস্থান করা।"

তাকে বলা হলো: "বিতাড়িত ব্যক্তির লক্ষণ কী?" তিনি বললেন: "যখন দেখবে সে আনুগত্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তার অন্তর তা থেকে সংকুচিত হয়ে পড়েছে; পাপাচার তার কাছে প্রিয় হয়েছে এবং সে তাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে; সে দুনিয়ার প্রতি লালায়িত হয়েছে এবং আখিরাতের প্রতি বিমুখ হয়েছে; তার পেট ও যৌনাঙ্গ তাকে ব্যস্ত করে রেখেছে এবং সে কোনো পরোয়া করছে না কোথা থেকে
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ١٥)
أخذ الدنيا؛ فاعلم انه عند الله مباعد، لم يرضه لخدمته ".

والتقى هو وابرهيم بن أدهم بمكة، فقال له ابرهيم: " ما بدء حالك الذي بلغك هذا؟ " قال: " سرت في بعض الفلوات، فرأيت طيراً مكسور الجناحين، في فلاة من الأرض، فقلت: انظر من أين يرزق هذا!. فإذا أنا بطير قد أقبل، وفى فيه جرادة، فوضعها في منقاره. فاعتبرت وتركت الكسب، وأقبلت على العبادة ".

فقال ابرهيم: " ولم لا تكون أنت الذي أطعم المكسور، حتى تكون أفضل منه؟!. أما سمعت عن النبي صلى الله عليه وسلم:) اليد العليا خير من اليد السفلى (؛ ومن علامة المؤمن أن يطلب أعلى الدرجتين فى أموره كلها، حتى يبلغ منازل الأبرار! " فأخذ شقيق يده يقبلها، وقال له. " أنت أستاذنا! ".
দুনিয়া গ্রহণ করল; তবে জেনে রাখুন যে, সে আল্লাহর নিকট থেকে দূরে নিক্ষিপ্ত, তিনি তাকে তাঁর সেবার জন্য পছন্দ করেননি।

মক্কায় তাঁর সাথে ইব্রাহিম ইবনে আদহামের সাক্ষাৎ হলো। ইব্রাহিম তাঁকে বললেন: "আপনার এই অবস্থার সূচনা কী ছিল, যা আপনাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে?" তিনি বললেন: "আমি এক নির্জন মরুভূমিতে ভ্রমণ করছিলাম, সেখানে আমি ডানা ভাঙা একটি পাখি দেখতে পেলাম। আমি মনে মনে ভাবলাম: দেখি এই পাখিটি কোত্থেকে রিযিক পায়! হঠাৎ দেখলাম একটি পাখি উড়ে এল, যার মুখে ছিল একটি ঘাসফড়িং, সেটি সে ডানা ভাঙা পাখিটির ঠোঁটে তুলে দিল। তা দেখে আমি শিক্ষা গ্রহণ করলাম এবং উপার্জন করা ছেড়ে দিয়ে ইবাদতে মগ্ন হলাম।"

তখন ইব্রাহিম বললেন: "কেন আপনি সেই ব্যক্তি হলেন না যে ডানা ভাঙা পাখিটিকে আহার করায়, যাতে আপনি তার চেয়ে উত্তম হতে পারতেন?! আপনি কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শোনেননি যে: 'উন্নত হাত নিম্ন হাত অপেক্ষা উত্তম'; আর মুমিনের অন্যতম লক্ষণ হলো সে তার সকল বিষয়ে উচ্চতর মর্যাদা অনুসন্ধান করবে, যাতে সে পুণ্যবানদের স্তরে পৌঁছাতে পারে!" তখন শাকীক তাঁর হাত ধরে চুম্বন করলেন এবং তাঁকে বললেন: "আপনিই আমাদের উস্তাদ!"
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌إبراهيم الخواص

-‌‌ 291 للهجرة

ابرهيم بن أحمد الخواص أبو إسحاق، أوحد المشايخ. صحب أبا عبد الله المغربي، وكان من أقران الجنيد والنووى.

مات بالرى سنة إحدى وتسعين ومائتين.

قيل: مرض بالجامع، وكان به علة القيام، وكان إذا قام يدخل الماء، يغتسل ويعود إلى المسجد، ويركع ركعتين، فدخل مرة الماء، فخرجت روحه فيه.
ইবরাহিম আল-খাওওয়াস

-‌২৯১ হিজরি

ইবরাহিম বিন আহমাদ আল-খাওওয়াস আবু ইসহাক, শায়েখদের মধ্যে অনন্য। তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-মাগরিবির সাহচর্য লাভ করেন এবং তিনি জুনাইদ ও নুরির সমসাময়িক ছিলেন।

তিনি দু’শ একানব্বই হিজরি সনে রাই নগরে মৃত্যুবরণ করেন।

বলা হয় যে, তিনি জামে মসজিদে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তার পেটের পীড়া (বারবার শৌচকার্যের প্রয়োজন) দেখা দিয়েছিল। যখনই তিনি শৌচকার্যের জন্য উঠতেন, পানিতে প্রবেশ করতেন, গোসল করতেন এবং মসজিদে ফিরে এসে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। একবার তিনি পানিতে প্রবেশ করলেন এবং সেখানেই তার রূহ নির্গত হলো।
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ١٧)
وله رياضيات وسياحات وتدقيق في التوكل. وكان لا يفرقه إبرة وخيوط، وركوة ومقارض، وقال: " مثل هذا لا ينقص التوكل، لأجل الإعانة على ستر العورة، واذا رأيت الفقير بلا ذلك فاتهمه في صلاته ".

ومن كلامه: " دواء القلب خمسة: قراءة القرآن بالتدبر، وخلاء البطن، وقيام الليل، والتضرع عند السحر، ومجالسة الصالحين ".

وقال: " من لم تبك الدنيا عليه لم تضحك الآخرة إليه ".

وقال: " ليس العلم بكثرة الرواية، إنما العالم من اتبع العلم واستعمله، واقتدى بالسنن، وان كان قليل العلم ".

روى عنه أنه كان إذا دعى إلى دعوة فيها خبز بائت امسك يده، وقال: " هذا قد منع حق الله فيه، إذ بات ولم يخرج من يومه ".

وقال: " تاه بعض أصحابنا أياماً كثيرة في البادية، فوقع على عمارة بعد أيام، فنظر إلى جارية تغتسل فى عين ماء، فلما رأته تجللت بشعرها، وقالت له: " إليك عنى يا إنسان! "، فقال لها: " كيف أذهب عنك، والكل منى
তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনা, পরিভ্রমণ এবং তাওয়াক্কুলের ক্ষেত্রে গভীর সূক্ষ্মতা ছিল। সূঁচ, সুতা, পানির পাত্র এবং কাঁচি কখনো তাঁর থেকে পৃথক হতো না। তিনি বলতেন: "এই ধরনের বস্তু সাথে রাখা তাওয়াক্কুলকে ক্ষুণ্ণ করে না, সতর আবৃত করার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য। আর যখন তুমি কোনো ফকীরকে এগুলো ছাড়া দেখবে, তখন তার সালাতের বিষয়ে তাকে অভিযুক্ত করো।"

তাঁর বাণীর অন্তর্ভুক্ত হলো: "অন্তরের ঔষধ পাঁচটি: চিন্তা ও গবেষণাসহ কুরআন পাঠ, উদর খালি রাখা, রাত্রি জাগরণ, শেষ রাতে রোনাজারি করা এবং সৎকর্মশীলদের সাহচর্য।"

তিনি বলেছেন: "দুনিয়া যার জন্য কাঁদেনি, আখিরাত তার প্রতি হাস্যোজ্জ্বল হবে না।"

তিনি আরও বলেছেন: "অধিক বর্ণনার নাম ইলম নয়; বরং প্রকৃত আলেম তো সেই ব্যক্তি যে ইলমের অনুসরণ করে এবং তা প্রয়োগ করে, আর সুন্নাহর ইত্তিবা করে—যদিও তার ইলম অল্প হয়।"

তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত যে, যখন তাঁকে এমন কোনো দাওয়াতে ডাকা হতো যেখানে বাসি রুটি থাকত, তিনি হাত গুটিয়ে নিতেন এবং বলতেন: "এতে আল্লাহর হক আদায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে, যেহেতু এটি রাত পার করেছে অথচ সেদিনই তা বের করে দেওয়া হয়নি।"

তিনি বলেছেন: "আমাদের জনৈক সঙ্গী মরুভূমিতে অনেক দিন পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন, অতঃপর অনেক দিন পর জনবসতির সন্ধান পেলেন। সেখানে তিনি এক ঝরনায় এক তরুণীকে গোসল করতে দেখলেন। সে যখন তাঁকে দেখল, তখন সে তার চুল দিয়ে নিজেকে আবৃত করে নিল এবং তাঁকে বলল: 'হে মানুষ! তুমি আমার থেকে সরে যাও!' তিনি তাকে বললেন: 'আমি তোমার থেকে কীভাবে সরে যাব, যখন সবকিছুই আমার..."
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ١٨)
مشغول بك؟ ". فقالت له: " في العين الأخرى جارية أحسن منى، فهل رأيتها؟ ". فالتفت إلى خافه، فقالت له: " ما أحسن الصدق، وأقبح الكذب!. زعمت أن الكل منك مشغول بنا، وأنت تلتفت إلى غيرنا! ". ثم التفت فلم ير أحداً.

وقال: " قرأت في التوراة: ويح ابن آدم!. يذنب الذنب ويستغفرني فأغفر له؛ ثم يعود، ويستغفرني فأغفر له. ويحه!. لا هو يترك الذنب، ولا هو ييأس من رحمتي!. أشهدكم يا ملائكتي أنى قد غفرت له ".

وقال: " أعجب ما رأيت في البادية، أنى نمت على حجر، فإذا بشيطان قد جاء وقال: قم من هنا، فقلت اذهب؛ فقال: اني أرفسك فتهلك؛ فقلت: افعل ما شئت. فرفسني فوقعت رجله على كأنها خرقة. فقال: أنت ولى الله، من أنت؟!. قلت: ابرهيم الخواص؛ قال: صدقت!. ثم قال: يا ابرهيم! معي حلال وحرام، فأما الحلال فرمان من الجبل الفلاني، وأما الحرام فحيتان، مررت على صيادين، فتخاونا، فأخذت الخيانة؛ فكل أنت الحلال ودع الحرام ".

وقال ممشاذ الدينورى: " كنت يوماً في مسجدي بين النائم
"...আপনার দ্বারা মগ্ন?" সে তাকে বলল: "অন্য পাশে আমার চেয়েও সুন্দরী এক তরুণী রয়েছে, আপনি কি তাকে দেখেছেন?" তখন সে তার পেছনের দিকে ফিরে তাকাল। সে তাকে বলল: "সত্য কতই না সুন্দর, আর মিথ্যা কতই না কুৎসিত! আপনি দাবি করলেন যে আপনার সর্বস্ব আমাদের নিয়ে মগ্ন, অথচ আপনি আমাদের ছেড়ে অন্যের দিকে তাকাচ্ছেন!" এরপর সে ফিরে তাকাল কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না।

এবং তিনি বললেন: "আমি তাওরাতে পড়েছি: আদম সন্তানের জন্য পরিতাপ! সে পাপ করে এবং আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আমি তাকে ক্ষমা করি; পুনরায় সে পাপে লিপ্ত হয় এবং আমার নিকট ক্ষমা চায়, আমি তাকে ক্ষমা করি। তার জন্য আফসোস! সে না পাপ ছাড়ে, আর না আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়। হে আমার ফেরেশতারা! আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।"

এবং তিনি বললেন: "মরুভূমিতে দেখা আমার সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা হলো এই যে, আমি একটি পাথরের ওপর ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাৎ এক শয়তান এসে হাজির হয়ে বলল: এখান থেকে ওঠো। আমি বললাম: চলে যাও। সে বলল: আমি তোমাকে লাথি মারব যাতে তুমি ধ্বংস হয়ে যাও। আমি বললাম: তোমার যা ইচ্ছা করো। তখন সে আমাকে লাথি মারল এবং তার পা আমার ওপর এমনভাবে পড়ল যেন তা এক টুকরো ছিন্ন বস্ত্র। সে বলল: আপনি আল্লাহর ওলি, আপনি কে? আমি বললাম: ইব্রাহিম আল-খাওওয়াস। সে বলল: আপনি সত্য বলেছেন! তারপর সে বলল: হে ইব্রাহিম! আমার কাছে হালাল ও হারাম উভয়ই আছে। হালাল হলো অমুক পাহাড়ের ডালিম, আর হারাম হলো মাছ; আমি কিছু জেলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তারা পরস্পরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, আর আমি সেই খিয়ানতের অংশটি গ্রহণ করেছি। সুতরাং আপনি হালালটুকু ভক্ষণ করুন এবং হারাম বর্জন করুন।"

এবং মুমশাদ আদ-দিনাওয়ারী বলেন: "একদা আমি আমার মসজিদে তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলাম..."
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ١٩)
واليقظان، فسمعت هاتفاً يهتف: أن أردت أن تلقى ولياً من الأولياء فامض إلى " تل التوبة ". قال: " فقمت وخرجت، فإذا أنا بثلج عظيم، فذهبت إلى تل التوبة، فإذا إنسان قاعد مربع على راس التل، وحوله خال من الثلج قدر موضع خيمة، فتقدمت أليه، فإذا هو ابرهيم الخواص، فسلمت عليه، وجلست إليه، فقلت: بماذا نلت هذه المنزلة؟! فقال: بخدمة الفقراء ".

ومن شعره:

صبرت على بعض الأذى كله … ودافعت عن نفسي لنفسي فعزت

وجرعتها المكروه حتى تدربت … ولو جرعته جملة لاشمأزت

ألا رب ذل ساق للنفس عزة … ويا رب نفس بالتذليل عزت

إذا ما مددت الكف التمس الغنى … إلى غير من قال: " اسألوني "، فشلت

سأصبر جهدي إن في الصبر عزة … وأرضى بدنيائى، وان هى قلت
...এবং জাগ্রত ব্যক্তি, তখন আমি এক অদৃশ্য আহ্বানকারীকে আহ্বান করতে শুনলাম: যদি তুমি ওলিদের (আল্লাহর বন্ধুদের) মধ্য হতে কোনো একজনের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাও, তবে 'তাল আত-তাওবা'-তে যাও। তিনি বললেন: "অতঃপর আমি উঠলাম এবং বের হলাম, এমতাবস্থায় যে সেখানে প্রচুর তুষারপাত হচ্ছিল। আমি তাল আত-তাওবা-র দিকে গেলাম এবং পাহাড়ের চূড়ায় একজন ব্যক্তিকে বাবু হয়ে বসে থাকতে দেখলাম। তাঁর চারপাশে একটি তাঁবুর আয়তন পরিমাণ স্থান তুষারমুক্ত ছিল। আমি তাঁর কাছে এগিয়ে গেলাম, তিনি ছিলেন ইব্রাহিম আল-খাওওয়াস। আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং তাঁর নিকট বসলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কিসের বিনিময়ে এই মর্তবা লাভ করেছেন?! তিনি বললেন: অভাবীদের খিদমতের মাধ্যমে।"

তাঁর কবিতা থেকে:

আমি যৎসামান্য কষ্টের ওপর পূর্ণ ধৈর্য ধারণ করেছি … এবং আমি আমার নফসের জন্য একে রক্ষা করেছি, ফলে তা সম্মানিত হয়েছে

আমি তাকে অপ্রিয় বিষয়গুলো পান করিয়েছি যতক্ষণ না তা এতে অভ্যস্ত হয়েছে … আর যদি আমি তাকে তা একযোগে পান করাতাম, তবে সে বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হতো

জেনে রেখো, অনেক লাঞ্ছনাই নফসকে সম্মানের দিকে ধাবিত করেছে … আর অনেক নফসই নিজেকে তুচ্ছ করার (আল্লাহর নিকট বিনয় অবলম্বনের) মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছে

যখনই আমি সচ্ছলতা অনুসন্ধানে অন্যের দিকে হাত প্রসারিত করেছি … সেই সত্তা ব্যতীত যিনি বলেছেন: "তোমরা আমার নিকট প্রার্থনা করো", তখনই আমার হাত অবশ হয়ে গেছে

আমি সাধ্যমতো ধৈর্য ধারণ করব, কেননা ধৈর্যের মধ্যে রয়েছে মর্যাদা … আর আমি আমার পার্থিব জীবনে তুষ্ট থাকব, যদিও তা পরিমাণে নগণ্য হয়
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وقال جعفر بن محمد: " بت ليلة معه، فانتبهت فإذا هو يناجى إلى الصباح، وينشد ويقول:

برح الخفاء، وفى التلاقى راحة … هل يشتفى خل بغير خليله؟

وقال:

عليل ليس يبريه الدواء … طويل الصبر، يضنيه الشقاء

سرائره بواد، ليس تبدو … خفيات اذا برح الخفاء

وروى أنه تأوه، فقال له بعض أصحابه: " ما هذا؟! "، فقال: " أوه! كيف يفلح من يسره ما يضره؟! ". وأنشأ يقول:

تعودت مس الضر حتى ألفته … وأسلمنى حب العراء إلى الصبر

وقطعت أيامى من الناس آيساً … لعلمي بصنع الله من حيث لا أدرى
জাফর বিন মুহাম্মদ বলেন: "আমি এক রাত তাঁর সাথে অতিবাহিত করলাম, অতঃপর আমি জেগে উঠে দেখলাম তিনি সকাল পর্যন্ত নিভৃতে প্রার্থনা করছেন এবং আবৃত্তি করছেন ও বলছেন:

গোপন কথা প্রকাশ হয়ে পড়েছে, আর মিলনেই রয়েছে প্রশান্তি … বন্ধু কি তার বন্ধু ব্যতীত আরোগ্য লাভ করতে পারে?

তিনি আরও বললেন:

এমন এক অসুস্থ ব্যক্তি যাকে কোনো ঔষধই সুস্থ করতে পারে না … দীর্ঘ ধৈর্যশীল, যাকে দুর্ভোগ জীর্ণ করে ফেলেছে

তাঁর অন্তরের রহস্যসমূহ এমন এক উপত্যকায় যা দৃশ্যমান নয় … গোপন বিষয়সমূহ যখন প্রকাশ হয়ে পড়ে

বর্ণিত আছে যে, তিনি ব্যথিত হয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন, তখন তাঁর জনৈক সঙ্গী তাঁকে বললেন: "এটা কী?!" তিনি বললেন: "হায়! সেই ব্যক্তি কীভাবে সফল হবে যাকে সেই জিনিসই আনন্দ দেয় যা তার ক্ষতি করে?!" অতঃপর তিনি কাব্য আবৃত্তি করে বললেন:

আমি দুঃখ-কষ্টের স্পর্শে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়েছি যে শেষ পর্যন্ত আমি তার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছি … আর জনশূন্য প্রান্তরের ভালোবাসা আমাকে ধৈর্যের নিকট সোপর্দ করেছে

আমি মানুষের দিক থেকে নিরাশ হয়ে আমার দিনগুলো অতিবাহিত করেছি … কেননা আল্লাহর সেই নিপুণ কারুকার্য সম্পর্কে আমার জ্ঞান রয়েছে যা আমি জানি না।
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌إبراهيم بن شيبان القرميسينى

-‌‌ 330 للهجرة

ابرهيم بن شيبان، الحجة القرميسيني، نسبة إلى مدينة قرميسين من جبال العراق.

صحب أبا عبد الله المغربي ثلاثين سنة. ودخل عليه يوماً - وهو يأكل - فقال له: " أدن وكل معى " قال: فقلت: " أني صحبتك منذ ثلاثين سنة، لم تدعني إلى طعامك قبل اليوم، فما بالك دعوتنى اليوم؟! " فقال: " أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا يأكل طعامك إلا تقي؛ ولم يظهر لي تقاك إلا اليوم ".
ইবরাহিম বিন শায়বান আল-কিরমিসিনি

-‌৩৩০ হিজরি

ইবরাহিম বিন শায়বান, হুজ্জাতুল কিরমিসিনি; ইরাকের পাহাড়ি অঞ্চলের শহর কিরমিসিনের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তাকে এই নামে অভিহিত করা হয়।

তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-মাগরিবির সাথে ত্রিশ বছর অতিবাহিত করেছেন। একদিন তিনি তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন—সে সময় তিনি আহার করছিলেন—তখন তিনি তাকে বললেন: "কাছে এসো এবং আমার সাথে আহার করো।" তিনি বললেন: "আমি ত্রিশ বছর যাবৎ আপনার সাহচর্যে রয়েছি, আজকের আগে আপনি কখনোই আমাকে আপনার সাথে আহার করার জন্য ডাকেননি, তবে আজ কেন আমাকে ডাকলেন?" তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘মুত্তাকি ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ যেন তোমার আহার গ্রহণ না করে’; আর আজ ছাড়া তোমার তাকওয়া আমার নিকট ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়নি।"
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٢)
مات سنة ثلاثين وثلثمائة.

ومن عباراته: " من ترك حرمة المشايخ ابتلى بالدعاوى الكاذبة، وافتضح بها. ومن تكلم فى الإخلاص، ولم يطالب نفسه بذلك، أتلاه الله بهتك ستره عند أقرانه وإخوانه. والخلق محل الآفات، وأكثر منهم آفة من يأنس بهم، أو يسكن إليهم ".

وقال: " إن التوكل سر بين العبد وربه، فلا ينبغي أن يطلع على ذلك السر أحداً ".

وأوصى ابنه إسحاق، فقال: " تعلم العلم لآداب الظاهر، واستعمل الورع لآداب الباطن، وإياك أن يشغلك عن الله شاغل، فقل من أعرض عنه فأقبل عليه ".

وقال إسحاق: قلت لأبى: " بماذا أصل إلى الورع؟ ". قال: بأكل الحلال، وخدمة الفقراء ". فقلت: " من الفقراء؟ " فقال: " الخلق كلهم؛ فلا تميز بين من مكنك من خدمته، واعرف فضله عليك في ذلك ".
তিনি তিনশ ত্রিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে: "যে ব্যক্তি মাশায়েখদের (শিক্ষক ও বুজুর্গদের) সম্মান বর্জন করে, সে মিথ্যা দাবির পরীক্ষায় নিপতিত হয় এবং এর মাধ্যমে লাঞ্ছিত হয়। আর যে ব্যক্তি ইখলাস (নিষ্ঠা) সম্পর্কে কথা বলে অথচ নিজের নফসকে তা পালনে বাধ্য করে না, আল্লাহ তাকে তার সমসাময়িক ও ভাইদের কাছে তার গোপনীয়তা প্রকাশের মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলেন। আর সৃষ্টিজগত হলো আপদ-বিপদের আধার, আর তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপদে সেই আছে যে তাদের সাথে অন্তরঙ্গতা গড়ে তোলে বা তাদের ওপর নির্ভর করে।"

তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই তাওয়াক্কুল হলো বান্দা ও তার রবের মধ্যকার এক গোপন রহস্য, সুতরাং এই রহস্য সম্পর্কে কাউকে অবগত করা উচিত নয়।"

তিনি তাঁর পুত্র ইসহাককে অসিয়ত করে বলেন: "বাহ্যিক শিষ্টাচারের জন্য ইলম (জ্ঞান) অর্জন করো এবং অভ্যন্তরীণ শিষ্টাচারের জন্য ওয়ারআ (সংযম) অবলম্বন করো। আর সাবধান! কোনো ব্যস্ততা যেন তোমাকে আল্লাহ থেকে বিমুখ না করে, কারণ খুব কম লোকই এমন আছে যারা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অথচ তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহ নিয়ে অগ্রসর হয়েছেন।"

ইসহাক বলেন: আমি আমার পিতাকে বললাম: "কিসের মাধ্যমে আমি ওয়ারআ লাভ করতে পারি?" তিনি বললেন: "হালাল ভক্ষণ এবং অভাবীদের (ফকিরদের) খেদমতের মাধ্যমে।" আমি বললাম: "অভাবী কারা?" তিনি বললেন: "সমগ্র সৃষ্টিজগত; সুতরাং যে তোমাকে তার সেবা করার সুযোগ দিয়েছে তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করো না এবং এ ব্যাপারে তোমার ওপর তার শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহ স্বীকার করো।"
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٣)
ومن كلامه: " التواضع من تصفية الباطن تلقى بركاته على الظاهر، والتكبر من كدورة الباطن تظهر ظلمه على الظاهر ".

وقال الحسين ابن ابرهيم: " دخلت على ابرهيم بن شيبان، فقال لي: " لم جئتنى؟! " فقلت: " لأخدمك! " قال: " أستأذنت والدتك؟ " قلت: " نعم! ". فدخل عليه قوم من السوقة، وقوم من الفقراء، فقال لى: " قم واخدمهم ". فنظرت فى البيت إلى سفرتين: جديدة، وخلقه؛ فقدمت الجديدة للفقراء، والخلقة للسوقة؛ وحملت الطعام النظيف للفقراء، وغيره للسوقة. فنظر إلى واستبشر، وقال: " من علمك هذا؟ ". قلت: حسن نيتي فيك ". فقال: " بارك الله عليك! ". فما حلفت بعد ذلك باراً ولا حانثاً، وما عققت والدي، ولا عقني أحد من أولادي ".
তাঁর বাণীর অন্তর্ভুক্ত হলো: "বিনয় হচ্ছে অন্তরের স্বচ্ছতা থেকে উৎসারিত, যার বরকত বাহ্যিক অবয়বে পতিত হয়; আর অহংকার হচ্ছে অন্তরের কলুষতা থেকে উদ্ভূত, যার অন্ধকার বাহ্যিক অবয়বে প্রকাশ পায়।"

হুসাইন ইবনে ইব্রাহিম বলেন: "আমি ইব্রাহিম ইবনে শায়বানের নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে বললেন: 'তুমি কেন আমার কাছে এসেছ?' আমি বললাম: 'আপনার খেদমত করার জন্য!' তিনি বললেন: 'তুমি কি তোমার মায়ের অনুমতি নিয়েছ?' আমি বললাম: 'হ্যাঁ!' এরপর তাঁর নিকট একদল সাধারণ মানুষ এবং একদল অভাবী লোক আসলেন। তিনি আমাকে বললেন: 'দাঁড়াও এবং তাঁদের খেদমত করো।' আমি ঘরের ভেতর দু’টি দস্তরখান দেখলাম: একটি নতুন এবং অন্যটি পুরনো। আমি দরিদ্রদের সামনে নতুনটি এবং সাধারণ মানুষের সামনে পুরনোটি পেশ করলাম; আর পরিচ্ছন্ন ও উন্নত খাবার দরিদ্রদের নিকট এবং অন্য খাবার সাধারণ মানুষের নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে আনন্দিত হলেন এবং বললেন: 'তোমাকে এটি কে শিখিয়েছে?' আমি বললাম: 'আপনার প্রতি আমার সদিচ্ছা।' তিনি বললেন: 'আল্লাহ তোমার ওপর বরকত দান করুন!' এরপর থেকে আমি সত্য বা মিথ্যা কোনো শপথ করিনি, আমার পিতামাতার অবাধ্য হইনি এবং আমার সন্তানদের মধ্য হতেও কেউ আমার অবাধ্য হয়নি।"
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌إبراهيم بن سعد العلوى

ابرهيم بن سعد العلوي، الشريف الزاهد، أبو إسحاق البغدادي، ثم الشامي، ذو الكرامات.

وهو أستاذ أبى الحارث الأولاسى.

حكى عنه أبو الحارث، قال: " كنت معه فى البحر، فبسط كساءه على الماء وصلى عليه ".

ومن أصحابه الفيض بن الخضر بن أحمد الأولاسى أبو الحارث، الجليل الزاهد.

مات بطرطوس سنة سبع وتسعين ومائتين.
ইবরাহীম বিন সা'দ আল-আলাওয়ী

ইবরাহীম বিন সা'দ আল-আলাওয়ী, অত্যন্ত মর্যাদাবান ও দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি, আবু ইসহাক আল-বাগদাদী, পরবর্তীতে আশ-শামী, যিনি বহু কারামতের অধিকারী ছিলেন।

তিনি আবু আল-হারিস আল-আওলাসীর উস্তাদ ছিলেন।

আবু আল-হারিস তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন: "আমি তাঁর সাথে সমুদ্রে ছিলাম, তখন তিনি পানির ওপর নিজের চাদর বিছিয়ে দিলেন এবং তার ওপর সালাত আদায় করলেন।"

তাঁর সহচরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন আল-ফায়জ বিন আল-খিজর বিন আহমদ আল-আওলাসী আবু আল-হারিস, যিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ও যাহিদ।

তিনি দুইশত সাতানব্বই হিজরি সনে তারতুস নগরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌إبراهيم الصياد البغدادي

ابرهيم الصياد البغدادي الجليل من أقران سرى.

من كلامه: " علامة الفقير الصادق كونه فى كل وقت بحكمه " قال الجنيد: " جاء ابرهيم الصياد يوماً إلى سرى. وهو متزر بقطعة حصير. فأمر السرى فجىء له بجبة فامتنع من لبسها؛ فقال له سرى: " البسها!، فانه كان معى مقدار عشرة دراهم من موضع حلال، فاشتريتها به " فنظر اليه شزراً، وقال: " أنت تقعد مع الفقراء، ومعك عشرة دراهم؟! ". وامتنع من أخذها ".
ইবরাহিম আস-সাইয়াদ আল-বাগদাদি

মহান ইবরাহিম আস-সাইয়াদ আল-বাগদাদি ছিলেন সাররি (আস-সাকতি)-এর সমসাময়িকদের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর বাণীর অন্তর্ভুক্ত হলো: "সত্যনিষ্ঠ ফকিরে (নিঃস্ব)র নিদর্শন হলো প্রতিটি সময়ে তাঁর (আল্লাহর) হুকুমের অনুগত থাকা।" জুনায়েদ বলেন: "একদিন ইবরাহিম আস-সাইয়াদ সাররির নিকট এলেন। তিনি চাটাইয়ের একটি টুকরো পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তখন সাররি নির্দেশ দিলে তাঁর জন্য একটি জুব্বা আনা হলো, কিন্তু তিনি তা পরিধান করতে অস্বীকৃতি জানালেন। তখন সাররি তাঁকে বললেন: 'এটি পরিধান করুন! কেননা আমার নিকট হালাল উৎস থেকে প্রাপ্ত দশ দিরহাম ছিল, যা দিয়ে আমি এটি ক্রয় করেছি।' তখন তিনি তাঁর দিকে রুষ্ট দৃষ্টিতে তাকালেন এবং বললেন: 'আপনি ফকিদের সাথে ওঠাবসা করেন, অথচ আপনার নিকট দশ দিরহাম জমা আছে?!' অতঃপর তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন।"
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌أبو القاسم النصر اباذى

-‌‌ 367 للهجرة

ابرهيم بن محمد النصر اباذى نسبة إلى نصر اباذ محلة من محال نيسابور أبو القاسم. شيخ نيسابور، والمحدث المؤرخ.

صحب الشبلى، وأبا على الروذبارى، والمرتعش، وغيرهم. وهو استاذ أبى عبد الرحمن السلمى.

مات بمكة - ودفن بقرب الفضيل - سنة سبع وستين وثلثمائة.
আবু আল-কাসিম আন-নাসরাবাজী

-‌ ৩৬৭ হিজরি

ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আন-নাসরাবাজী, নিশাপুরের একটি এলাকা নাসরাবাজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত, আবু আল-কাসিম। তিনি নিশাপুরের শায়খ, মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক।

তিনি আশ-শিবলী, আবু আলি আর-রুজবারী, আল-মুরতাশ এবং অন্যদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তিনি আবু আবদুর রহমান আস-সুলামীর উস্তাদ।

তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেন—এবং ফুযাইলের নিকট সমাহিত হন—তিনশ সাতষট্টি হিজরি সনে।
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٧)
من كلامه: " مراعاة الأوقات من علامات التيقظ ".

وقال: " التصوف ملازمة الكتاب والسنة، وترك الأهواء والبدع، وتعظيم حرمات المشايخ، والملازمة على الأوراد، وترك ارتكاب الرخص والتأويلات ".

وقال: " المحبة مجانبة السلو على كل حال ". ثم أنشد:

ومن كان طول الهوى ذاق سلوة … فانى من ليلى لها غير ذائق

وأكثر شىء نلته من وصالها … أمانى لم تصدق كلمحة بارق

قال أبو عبد الرحمن السلمي: " وقع قحط، فخرج الناس للاستسقاء؛ فلما ارتفع النهار جاء غبار وريح وظلمة، لا يستطيع أن يرى أحد أحداً، من شدة الغبار ونحن مع الأستاذ أبى القاسم، فقال: " جئنا بأبدان مظلمة، وقلوب غافلة، ودعونا بلسان مثل الريح، فنحن نكيل ريحاً، ويكتال علينا ريح ".

فلما كان الغد خرج - وكان فقيراً، لكن له وجاهة عند الناس - فطلب من أغنيائهم، فاشترى بقرة، وكثيراً من لحم الغنم، وأرزاً، وآلات حلوى، ونادى: " من أراد من ذلك فليحضر عند المصلى! " فحضروا وأكلوا وحملوا، فمطروا بعد العصر مطراً كثيراً؛ وركنا إلى مسجد حتى الصباح وكان يترنم:
তাঁর বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "সময়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া হলো জাগ্রত হওয়ার অন্যতম লক্ষণ।"

তিনি আরও বলেছেন: "তাসাউফ হলো কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, প্রবৃত্তি ও বিদআত বর্জন করা, মাশায়েখদের সম্মান রক্ষা করা, নিয়মিত ওজিফা পালন করা এবং অহেতুক ছাড় ও অপব্যাখ্যা গ্রহণ পরিত্যাগ করা।"

তিনি বলেছেন: "মহব্বত হলো সর্বাবস্থায় বিমুখতা বা উদাসীনতা পরিহার করা।" এরপর তিনি আবৃত্তি করলেন:

দীর্ঘ অনুরাগের কারণে যে ব্যক্তি বিস্মৃতি বা স্বস্তি লাভ করে … আমি আমার লায়লার প্রতি অনুরাগে এমন স্বস্তি আস্বাদনকারী নই।

তার নৈকট্য থেকে আমি যা সবচেয়ে বেশি লাভ করেছি … তা হলো এমন কিছু আকাঙ্ক্ষা যা বিজলির চমকের মতো সত্য প্রমাণিত হয়নি।

আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি বলেছেন: "একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিল, ফলে মানুষ বৃষ্টির প্রার্থনায় বের হলো; যখন দিন বাড়ল, তখন ধুলোবালি, প্রবল বাতাস এবং অন্ধকার নেমে এল, ধুলোর তীব্রতায় কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছিল না। আমরা উস্তাদ আবুল কাসিমের সাথে ছিলাম। তিনি বললেন: 'আমরা অন্ধকারাচ্ছন্ন দেহ এবং গাফেল অন্তর নিয়ে এসেছি, আর এমন জিহবা দিয়ে দোয়া করেছি যা বাতাসের মতো; তাই আমরা বাতাসই মাপছি আর আমাদের ওপর বাতাসই মাপা হচ্ছে'।"

পরদিন তিনি বের হলেন—তিনি অভাবী ছিলেন, কিন্তু মানুষের কাছে তাঁর বিশেষ মর্যাদা ছিল—তিনি ধনীদের কাছে সাহায্য চাইলেন এবং একটি গরু, প্রচুর পরিমাণ ছাগলের মাংস, চাল ও মিষ্টান্ন সামগ্রী ক্রয় করলেন। এরপর তিনি ঘোষণা করলেন: "যে ব্যক্তি এর কিছু অংশ পেতে চায়, সে যেন প্রার্থনাস্থলে উপস্থিত হয়!" ফলে মানুষ সেখানে উপস্থিত হলো, আহার করল এবং সঙ্গে করে নিয়ে গেল। আসরের পর প্রচুর বৃষ্টিপাত হলো; আমরা সকাল পর্যন্ত একটি মসজিদে অবস্থান করলাম এবং তিনি গুনগুন করে আবৃত্তি করছিলেন:
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
خرجوا للاستسقا، فقلت لهم: … دمعى ينوب لكم عن الأنواء!

قالوا: صدقت! ففى دموعك مقنع … لو لم تكن ممزوجة بدماء!

وقال: " لما هم بالحج - سنة ست وستين وثلثمائة - صحبته. فكان كل منزلة يقصد سماع الحديث، فلما دخل بغداد جاء إلى القطيعى، فرد على قارئه مرة ثم أخرى. فقال له: " إن كنت تحسن القراءة فقم فاقرأ! "، فأخذ الجزء منه، وقرأ قراءة تحير منها القوم، قرأوا في مجلس واحد قدر قراءة خمسة أيام ".

وكان لا يفارقه المحبرة والمقلمة والبياض فقيل له في ذلك فقال: " ربما سمعت شيئاً - من حمال أو غيره - حكمة، فأثبته ".

ولما دخل إلى مكة نظر إلى المقبرة، فقال: " طوبى لمن كان قبره بها " وأمرني بالرجوع لوالدي فمرض، واشتهى التمر فطلب تمراً، وجيء به اليه، فلم يتناوله.
তারা বৃষ্টির প্রার্থনায় বের হলো, তখন আমি তাদের বললাম: … আমার অশ্রু তোমাদের জন্য মেঘমালার স্থলাভিষিক্ত হবে!

তারা বলল: তুমি সত্য বলেছ! তোমার অশ্রুই যথেষ্ট … যদি তা রক্তের সাথে মিশ্রিত না হতো!

তিনি বললেন: "যখন তিনি হজ্জ করার ইচ্ছা করলেন—তিনশত ৬৬ হিজরি সনে—আমি তাঁর সাথে ছিলাম। প্রতিটি মঞ্জিলেই তিনি হাদিস শ্রবণের সংকল্প রাখতেন। যখন তিনি বাগদাদে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি আল-কুতায়ি'-র নিকট আসলেন। তিনি তাঁর পাঠকারীকে একবার, অতঃপর পুনরায় সংশোধন করে দিলেন। এরপর তিনি তাকে বললেন: "যদি তুমি উত্তমরূপে পাঠ করতে পারো তবে দাঁড়িয়ে পাঠ করো!" তখন তিনি তাঁর নিকট থেকে খণ্ডটি গ্রহণ করলেন এবং এমনভাবে পাঠ করলেন যে উপস্থিত লোকজন বিস্মিত হয়ে গেল। তাঁরা এক মজলিসেই পাঁচ দিনের পড়ার সমপরিমাণ পাঠ শেষ করলেন।"

দোয়াত, কলমদানি এবং সাদা কাগজ কখনো তাঁর থেকে পৃথক হতো না। এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: "কখনো কখনো আমি কোনো মুটে বা অন্য কারো কাছ থেকে প্রজ্ঞাপূর্ণ কোনো কথা শুনি, তখন আমি তা লিখে রাখি।"

আর যখন তিনি মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন তিনি কবরস্থানের দিকে তাকিয়ে বললেন: "সৌভাগ্য তার জন্য যার কবর এখানে হবে।" তিনি আমাকে আমার পিতার নিকট ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাঁর খেজুর খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হলো। তখন খেজুর চাওয়া হলো এবং তা তাঁর নিকট আনা হলো, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি।
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌إبراهيم الرقي

-‌‌ 326 للهجرة

ابرهيم بن داود الرقى، من أقران الجنيد وابن الجلاء، والرقى نسبة إلى مدينة الرقة على طرف الفرات.

عمر وصحبه أكثر مشايخ الشام. مات سنة ست وعشرين وثلثمائة.

من كلامه: " أضعف الخلق من ضعف عن رد شهواته؛ وأقوى الخلق من قوى على ردها ".

وقال: " علامة محبة الله ايثار طاعته ومتابعة نبيه ".
ইবরাহিম আল-রাক্কি

-৩২৬ হিজরি

ইবরাহিম বিন দাউদ আল-রাক্কি; তিনি আল-জুনায়েদ এবং ইবনুল জাল্লা-এর সমসাময়িক ছিলেন। 'আল-রাক্কি' নিসবতটি (উপনামটি) ফুরাত নদীর তীরে অবস্থিত রাক্কা শহরের দিকে সম্পৃক্ত।

তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং শামের (সিরিয়া) অধিকাংশ শায়খের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। তিনি তিনশ ছাব্বিশ (৩২৬) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর বাণীসমূহের মধ্যে রয়েছে: "সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল সেই ব্যক্তি, যে তার কুপ্রবৃত্তিকে প্রতিহত করতে অক্ষম; আর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে তা প্রতিহত করতে সক্ষম।"

তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হলো তাঁর আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তাঁর নবীর অনুসরণ করা।"
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وسئل: " هل يبدى المحب حبه؟ وهل يطيق كتمانه؟ " فأنشد:

ظفرتم بكتمان اللسان، فمن لكم … بكتمان عين دمعها الدهر تذرف

حملتم جبال الحب فوقى واننى … لأعجز عن حمل القميص وأضعف

وقال: " حسبك من الدنيا شيئان: صحبة فقير، وحرمة ولى ".
তাকে প্রশ্ন করা হলো: "প্রেমিক কি তার প্রেম প্রকাশ করবে? এবং সে কি তা গোপন রাখতে সক্ষম?" অতঃপর তিনি আবৃত্তি করলেন:

তোমরা জিহ্বার গোপনীয়তা রক্ষায় বিজয়ী হয়েছ, কিন্তু সেই চোখের গোপনীয়তা কে রক্ষা করবে … যার অশ্রু নিরন্তর ঝরছে?

তোমরা আমার ওপর ভালোবাসার পর্বতমালা চাপিয়ে দিয়েছ, অথচ আমি … একটি জামা বহন করতেই অক্ষম এবং অত্যন্ত দুর্বল।

তিনি আরও বললেন: "দুনিয়া থেকে তোমার জন্য দুটি বিষয়ই যথেষ্ট: একজন ফকীরের সাহচর্য এবং একজন ওলীর সম্মান রক্ষা করা।"
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌أحمد بن أبي الحواري

‌‌148 - 230 للهجرة

احمد بن أبى الحواري عبد الله بن ميمون، أبو العباس الدمشقي. صحب الداراني وغيره.

كان الجنيد يقول فيه: " انه ريحانة أهل الشام ".

مات سنة ثلاثين ومائتين، كما قال السلمي والقشيري وغيرهما. والصواب سنة أربعين، كما نبه عليه ابن عساكر عن اثنتين وثمانين سنة.

وكان ولده صالحاً عابداً.
আহমদ বিন আবি আল-হাওয়ারী

১৪৮ - ২৩০ হিজরি

আহমদ বিন আবি আল-হাওয়ারী আবদুল্লাহ বিন মাইমুন, আবু আল-আব্বাস আদ-দিমাশকি। তিনি আদ-দারানি এবং অন্যান্যদের সান্নিধ্য লাভ করেন।

জুনাইদ তাঁর সম্পর্কে বলতেন: "তিনি শামবাসীদের সুগন্ধি ফুল।"

তিনি ২৩০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, যেমনটি আস-সুলামি, আল-কুশাইরি এবং অন্যান্যরা বলেছেন। তবে সঠিক হলো ২৪০ হিজরি, যেমনটি ইবনে আসাকির বিরাশি বছর বয়সের কথা উল্লেখ করে অবহিত করেছেন।

তাঁর পুত্রও সৎকর্মশীল ও ইবাদতগুজার ছিলেন।
(খণ্ড: ১) তাবাক্বাতুল আওলিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
من كلامه: " من نظر إلى الدنيا نظر ارادة وحب لها أخرج الله نور اليقين والزهد من قلبه ".

وقال: " ما ابتلى الله عبداً بشىء أشد من الغفلة والقسوة ".

وطلب العلم ثلاثين سنة، فلما بلغ الغاية غرق كتبه، وقال: لم أفعله تهاوناً ولا استخفافاً بحقك، ولكن طلبنا الهداية فحصلت، فاستغنيت عنك به ".

فان قلت: " هذه اضاعة مال! ". قلت: " لعله كان فيها شيء لا يرى تعديه إلى الغير. وقد روى نحو هذا عن سفيان الثوري الأمام، انه أوصى بدفن كتبه، وكان ندم على أشياء كتبها عن الضعفاء، وقال: " حملني عليها شهوة الحديث ". فكأنه لما عسر عليه التمييز بين الصحيح وغيره، أوصى أن تدفن كلها.

أو أن هذا من باب إلقاء أهل السفينة الموال رجاء النجاة. واين ذلك من غرق النفس فى بحر الركون إلى المألوفات المنافية لصفاء الذكر، والالتجاء إلى الله تعالى في فسيح أبواب الفكر، لا سيما إذا خاف فوات الأولى بالاشتغال به،
তাঁর বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি আকাঙ্ক্ষা ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকায়, আল্লাহ তার অন্তর থেকে ইয়াকিন ও যুহদ (সংসারবিরাগ)-এর নূর বের করে নেন।"

তিনি বলেছেন: "আল্লাহ কোনো বান্দাকে গাফলত (উদাসীনতা) ও কঠোরতার চেয়ে কঠিন কোনো বস্তু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলেননি।"

তিনি ত্রিশ বছর ইলম অন্বেষণ করেন। অতঃপর যখন তিনি পূর্ণতা প্রাপ্ত হলেন, তখন তাঁর কিতাবগুলো (পানিতে) ডুবিয়ে দিলেন এবং বললেন: "আমি তোমার হকের প্রতি অবহেলা কিংবা তুচ্ছজ্ঞানবশত এটি করিনি, বরং আমরা হিদায়াত চেয়েছিলাম এবং তা অর্জিত হয়েছে, তাই তাঁর মাধ্যমে আমি তোমার থেকে অমুখাপেক্ষী হয়েছি।"

যদি আপনি বলেন: "এটি তো সম্পদের অপচয়!" আমি বলব: "সম্ভবত তাতে এমন কিছু ছিল যা অন্যের কাছে সংক্রমিত হওয়া তিনি সমীচীন মনে করেননি। ইমাম সুফিয়ান আস-সাওরী থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর কিতাবসমূহ দাফন করার ওসিয়ত করেছিলেন। তিনি দুর্বল রাবিদের থেকে যা লিখেছিলেন সে জন্য অনুতপ্ত হয়ে বলেছিলেন: 'হাদিসের মোহই আমাকে তা করতে প্ররোচিত করেছিল।' যখন তাঁর জন্য সহিহ ও অ-সহিহ পৃথক করা দুরূহ হয়ে পড়েছিল, তখন তিনি সব কিতাব দাফন করার ওসিয়ত করেছিলেন।"

অথবা এটি ছিল নাজাতের আশায় নৌকার আরোহীদের আসবাবপত্র ফেলে দেওয়ার মতো। আর জিকিরের নির্মলতার পরিপন্থী অভ্যস্ত বিষয়ের সাগরে নফসের নিমজ্জিত হওয়া থেকে এর দূরত্ব কতই না বেশি, এবং চিন্তার প্রশস্ত দ্বারসমূহে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় গ্রহণের গুরুত্বও কত গভীর; বিশেষ করে যখন সেটির পেছনে মগ্ন থাকার কারণে শ্রেষ্ঠ বিষয়টি হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে।