(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: -)
صفة جزيرة الأندلس   (الحميري، ابن عبد المنعم)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: صفة جزيرة الأندلس منتخبة من كتاب الروض المعطار

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن عبد المنعم الحِميرى (ت 900هـ)

عنى بنشرها وتصحيحها وتعليق حواشيها: إ. لافي بروفنصال أستاذ تاريخ المغرب العربي بجامعة الجزائر، ومعهد الدراسات الاسلامية بجامعة باريس، ومدير فخري لمعهد الأبحاث المغربية العليا بالرباط

الناشر: دار الجيل، بيروت - لبنان

الطبعة: الثانية، 1408 هـ - 1988 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আন্দালুস উপদ্বীপের বর্ণনা   (আল-হিময়ারি, ইবন আবদ আল-মুনইম)

বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণ


বই: আর-রাওদ আল-মিতার কিতাব থেকে সংকলিত আন্দালুস উপদ্বীপের বর্ণনা

লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদ আল-মুনইম আল-হিময়ারি (মৃত্যু ৯০০ হিজরি)

সম্পাদনা, সংশোধন ও টীকা প্রদান করেছেন: ই. লেভি প্রোভেনসাল, আলজিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মাগরেব ইতিহাসের অধ্যাপক, প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শিক্ষা ইনস্টিটিউট এবং রাবাতে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অফ হায়ার মরক্কান রিসার্চের অনারারি ডিরেক্টর

প্রকাশক: দার আল-জিল, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة كتاب الروض المعطار

قال أبو عبد الله محمد بن أبي محمد عبد الله بن المنعم الحميري: الحمد لله الذي جعل الأرض قرارا، وفجر خلالها أنهارا، وجعل لها رواسي ألزمتها استقرارا، ومنعتها اضطراباً وانتثارا، جعلها قسمين فيافى وبحارا، وأودع فيها من بدائع الحكم وفنون المنافع ما بهر ظهوراً وانتشارا، وأطلع في آفاقها شموساً وأقمارا؛ جعلها ذلولا، وأوسعها عرضاً وطولا، وأمتع بها شيباً وشباباً وكهولا، وعاقب عليها غيوثاً وقبولا، وأغرى بالمشي في مناكبها تسويغاً للنعمة الطولى، وتتميماً لإحسانه الذي نرجوه في الآخرة والألى، وإن في ذلك لعبرةً لمن صار له قلب وسمع وبصر وفهم منقولاً ومعقولا، إن السمع والبصر والفؤاد كل أولئك كان عنه مسؤلا؛ أحمده على جزائل آلائه التي وإلى أمدادها، وأحصى أعدادها، وعم بها البرية وبلادها؛ وصلى الله على نبيه الكريم الذي زويت له الأرض فرأى غايتها، وأبصر نهايتها؛ وأخبر أن ملك أمته سيبلغ ما رآه، وينتهي إلى حيث قدره الخالق وأنهاه. وبعد فإني قصدت في هذا المجموع ذكر المواضع المشهورة عند الناس من العربية والعجمية، والأصقاع التي تعلقت بها قصة، أو كان في ذكرها فائدة، أو كلام فيه حكمة، أولها خبر ظريف، أو معنى يستملح أو يستغرب ويحسن إيراده، أما ما كان غريباً عند الناس، ولم يتعلق بذكره فائدة، ولا له خبر يحسن إيراده، فلا ألم بذكره، ولا أتعرض له غالباً استغناء عنه واستثقالاً لذكره؛ ولو ذهبت إلى إيراد المواضع والبقاع على
আর-রওজ আল-মিতার গ্রন্থের ভূমিকা

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুনয়িম আল-হিমইয়ারি বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি যমীনকে স্থির করেছেন এবং তার বুক চিরে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন, আর এতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পাহাড়সমূহ যা তাকে স্থিতি দান করেছে এবং তাকে কম্পন ও বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করেছে। তিনি একে মরুভূমি ও সমুদ্র—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং এতে গচ্ছিত রেখেছেন এমন বিস্ময়কর হিকমত ও নানা প্রকারের কল্যাণ যা প্রকাশ ও প্রচারের দিক থেকে অত্যন্ত চমৎকার। আর এর দিগন্তসমূহে উদিত করেছেন সূর্য ও চন্দ্রসমূহ; তিনি যমীনকে বশীভূত করেছেন এবং এর প্রস্থ ও দৈর্ঘ্যকে প্রশস্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বৃদ্ধ, যুবক ও প্রৌঢ়দের উপকৃত করেছেন এবং এর ওপর পর্যায়ক্রমে বর্ষণ করেছেন বৃষ্টি ও পুবালি বাতাস। আর তাঁর মহান নেয়ামত ভোগের নিমিত্তে এবং আখেরাত ও দুনিয়ায় আমরা যাঁর ইহসানের প্রত্যাশা করি, সেই ইহসানের পূর্ণতা সাধনের লক্ষ্যে তিনি যমীনের দিগন্তসমূহে বিচরণ করতে উৎসাহিত করেছেন। নিশ্চয়ই এতে শিক্ষা রয়েছে তার জন্য, যার রয়েছে হৃদয় এবং শ্রবণ ও দর্শন শক্তি এবং যার রয়েছে শ্রুত ও বুদ্ধিগত বিষয়ের অনুধাবন ক্ষমতা। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে; আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর সেই অঢেল নেয়ামতরাজির জন্য যা তিনি অবিরত দান করেছেন, যার সংখ্যা তিনি গণনা করেছেন এবং যার দ্বারা তিনি সৃষ্টিজগত ও তাদের জনপদসমূহকে পরিবেষ্টন করেছেন; এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর সেই সম্মানিত নবীর ওপর, যাঁর জন্য যমীনকে সংকুচিত করা হয়েছিল ফলে তিনি এর শেষ সীমা দেখেছিলেন এবং এর প্রান্তসমূহ প্রত্যক্ষ করেছিলেন; এবং তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন যে, তাঁর উম্মতের রাজত্ব সেই পর্যন্ত পৌঁছাবে যা তিনি দেখেছিলেন এবং সেখানে গিয়েই শেষ হবে যেখানে সৃষ্টিকর্তা তা নির্ধারণ ও সমাপ্ত করেছেন। অতঃপর, আমি এই সংকলনে মানুষের কাছে সুপরিচিত আরব ও অনারব স্থানসমূহের বর্ণনা প্রদানের সংকল্প করেছি, এবং এমন সব এলাকা যেগুলোর সাথে কোনো কাহিনী জড়িত আছে, অথবা যা উল্লেখ করার মধ্যে কোনো উপকারিতা রয়েছে, কিংবা যাতে হিকমতপূর্ণ কোনো কথা রয়েছে, অথবা যার চমৎকার কোনো সংবাদ আছে, কিংবা এমন কোনো অর্থ যা প্রশংসনীয় বা বিস্ময়কর এবং যা উল্লেখ করা সমীচীন মনে হয়। পক্ষান্তরে যে স্থানটি মানুষের কাছে অপরিচিত এবং যার বর্ণনায় কোনো ফায়দা নেই, কিংবা যার এমন কোনো খবর নেই যা উল্লেখ করা সুন্দর হবে, আমি তা উল্লেখ করার ইচ্ছা করিনি এবং সাধারণত সেটির অবতারণা করিনি—তার প্রয়োজনহীনতা ও তার উল্লেখ করার ভার অনুভবের কারণে; আর আমি যদি স্থান ও জনপদগুলোর বিবরণ প্রদানের পথে চলতাম...
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১০)
الاستقصاء لطال الكتاب، وقل إمتاعه؛ فقتصرت لذلك على المشهور من البقاع وما في ذكره فائدة ونكتفى عما سوى ذلك، ورتبته على حروف المعجم لما في ذلك من الإحماض المرغوب فيه، ولما فيه من سرعة هجوم الطالب على اسم الموضع الخاص من غير تكلف عناء ولا تجشم تعبٍ؛ فقد صار هذا الكتاب محتوياً على فنين مختلفين: أحدهما ذكر الأقطار الجهات، وما اشتملت عليه من النعوت والصفات؛ وثانيها الأخبار والوقائع والمعاني المختلفة بها، الصادرة عن مجتليها؛ واختلست ذلك ساعات زماني، وجعلته فكاهة نفسي؛ وأنصبت فيه بفكري وبدني؛ ورضته حتى انقاد للعمل، وجاء حسب الأصل، فأصبح طارداً للهموم، ملقيا للغموم، وشاهداً بقدرة القيوم؛ مغنيا عن مؤانسة الصحب، منبها على حكمة الرب؛ باعثاً على الاعتبار، مستحضراً لخصائص الأقطار؛ مشيراً لآثار الأمم وأحداثها، مشيراً إلى وقائع الأخباز وأنبائها؛ ثم إني قسته بالكتاب الأخبارى المسمى بنزهة المشتاق فوجدته أعظم فائدةً وأكثر أخباراً وأوسع في فنون التواريخ وصنوف الأحداث مجالاً حتى في وصف البلاد فإنه إنما ذكر نبذة منها شيئاً قليلاً في مواضع مخصوصةٍ معدودة، بل إنما عظم حجمه بما اشتمل عليه من قوله: من فلانة إلى فلانة خمسون ميلاً أو عشرون فرسخاً، ومن فلانة إلى فلانة كذا وكذا، أما الخبر عن الأصقاع مما يحسن إيراده، ويلذ سماعه، من خبرٍ ظريف، أو وصفٍ يستغرب أو يستملح، فإنما يوجد فيه في مواضع قليلةٍ معدودةٍ، إلى غير ذلك من عسر وجدان الناظر فيه بمطلوبه بأول وهلةٍ بل بعد البحث والتفتيش.

وجعلت الإيجاز في هذا الكتاب قصدى، وحرصت على الاختصار جهدي؛
বিস্তারিত অনুসন্ধান করলে গ্রন্থটি দীর্ঘ হয়ে যেত এবং এর পাঠের আনন্দ কমে যেত; এই কারণে আমি কেবল প্রসিদ্ধ ভূখণ্ডসমূহ এবং যেগুলোর বর্ণনায় উপকার রয়েছে তাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং এছাড়া অন্য সব কিছু থেকে নিবৃত্ত হয়েছি। আর আমি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছি যাতে এতে কাঙ্ক্ষিত বৈচিত্র্য থাকে এবং জ্ঞান অন্বেষণকারী কোনো কষ্ট বা ক্লান্তি ছাড়াই অতি দ্রুত নির্দিষ্ট স্থানের নাম খুঁজে পেতে পারে। ফলে এই গ্রন্থটি দুটি ভিন্ন বিষয়ের সংমিশ্রণে পরিণত হয়েছে: প্রথমটি হলো বিভিন্ন অঞ্চল ও দিকসমূহের উল্লেখ এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির বর্ণনা; দ্বিতীয়টি হলো সে সমস্ত অঞ্চলের সংবাদ, ঘটনাবলি এবং সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিবিধ অর্থ যা প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। আমি আমার সময়ের বহু প্রহর এতে ব্যয় করেছি এবং একে আমার নিজের জন্য আনন্দের খোরাক বানিয়েছি; এতে আমি আমার চিন্তা ও শরীরকে নিয়োজিত করেছি এবং একে পরিশীলিত করেছি যতক্ষণ না তা কর্মের অনুগত হয়েছে এবং মূল পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এটি দুশ্চিন্তা দূরকারী, বিষণ্ণতা বিমোচনকারী এবং চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক আল্লাহর (আল-কাইয়ুম) কুদরত বা ক্ষমতার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে; এটি বন্ধুদের সাহচর্যের অভাব পূরণকারী, রবের হিকমতের প্রতি সতর্ককারী, শিক্ষা গ্রহণের প্রেরণা দানকারী এবং বিভিন্ন অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যসমূহ উপস্থাপনকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটি বিগত জাতিসমূহের নিদর্শন ও তাদের ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে এবং বিভিন্ন সংবাদ ও বার্তার প্রতি নির্দেশ করে। অতঃপর আমি একে ‘নুজহাতুল মুশতাক’ নামক ইতিহাস গ্রন্থের সাথে তুলনা করে দেখেছি এবং একে অধিকতর উপকারী, সংবাদসমৃদ্ধ এবং ইতিহাসের নানাবিধ ধারা ও ঘটনাবলির বর্ণনায় অধিকতর বিস্তৃত পেয়েছি। এমনকি দেশসমূহের বর্ণনার ক্ষেত্রেও এটি অগ্রগামী, কেননা ঐ গ্রন্থে কেবল কিছু নির্দিষ্ট ও সীমিত স্থানে অতি সামান্য বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বরং ঐ গ্রন্থের কলেবর কেবল এই ধরণের আলোচনার কারণেই বৃদ্ধি পেয়েছে যে: ‘অমুক স্থান থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত দূরত্ব পঞ্চাশ মাইল বা বিশ ফারসাখ’ এবং ‘অমুক স্থান থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত দূরত্ব এত এত’। পক্ষান্তরে বিভিন্ন জনপদ সম্পর্কে এমন সব সংবাদ যা উল্লেখ করা শোভনীয় এবং যা শুনতে আনন্দদায়ক—যেমন কোনো চমৎকার সংবাদ অথবা এমন কোনো বর্ণনা যা বিস্ময়কর বা মনোহর—তা ঐ গ্রন্থে কেবল হাতেগোনা কয়েকটি স্থানেই পাওয়া যায়। তদুপরি, সেখানে পাঠকের পক্ষে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি প্রথম দর্শনেই খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন, বরং তা অনেক অনুসন্ধান ও তালাশ করার পরেই পাওয়া সম্ভব।

আমি এই গ্রন্থে সংক্ষিপ্তসার করাকেই আমার মূল লক্ষ্য স্থির করেছি এবং যথাযথভাবে সংক্ষেপ করার ঐকান্তিক চেষ্টা করেছি;
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১১)
حتى جاء نسيج وحده ميليحاً في فنه، غريباً في معناه، مبهجاً للنفوس المتشوقة، ومذهباً للأفكار المحرقة؛ مؤنسا لمن استولى عليه الانفراد ورغب عن معاشرة الناس، ومع هذا فقد لمت نفسي على التشاغل بهذا الوضع الصاد عن الاشتغال بما لا يغنى عن أمر الآخرة والمهم عن العلم المزلف عند الله تعالى وقلت: هذا من شأن البطالين وشغل من لا يهمه وقته، ثم رأيت ذلك من قبيل ما فيه ترويح لهذه النفوس، ومن حسن تعليلها بالمباح لمن ينشط إلى ما هي به أعنى؛ ثم هو مهيع يسلكه الناس، واعتنى به طائفة من العلماء، وقيده جماعة من أهل التحصيل؛ فلا حرج في الاقتداء بهم بل أقول: أعوذ بالله من علمٍ لا ينفع، وأستغفره وأستقيله، واسأله التجاوز عن الهفوات، والصفح عن الاشتغال بما لا يفيد في الآخرة، فيا رب عفواً عن اقتراف ما لا رضى لك فيه فأنت على كل شيء قدير؟!

অবশেষে এটি আপন বৈশিষ্ট্যে অনন্য, নিজ শিল্পশৈলীতে সুনিপুণ, এর মর্মে অতুলনীয়, অনুরাগী আত্মাগুলোর জন্য আনন্দদায়ক এবং দহনকারী চিন্তাসমূহের অপনোদনকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল; এটি তার জন্য এক অন্তরঙ্গ সঙ্গী যার ওপর একাকীত্ব আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং যে লোকালয় ত্যাগ করতে আগ্রহী হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও, আমি আখেরাতের পাথেয় অর্জনে কোনো কাজে আসে না এমন বিষয়ে মগ্ন হওয়ার জন্য এবং আল্লাহ তাআলার নৈকট্য দানকারী গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান থেকে বিমুখ হওয়ার জন্য নিজেকে ভর্ৎসনা করেছি এবং বলেছি: এটি আলস্যপ্রিয়দের কাজ এবং তাদের ব্যস্ততা যাদের কাছে সময়ের কোনো মূল্য নেই। অতঃপর আমি উপলব্ধি করলাম যে, এটি সেই পর্যায়ের বিষয় যাতে এই আত্মাগুলোর প্রশান্তি রয়েছে এবং বৈধ পন্থায় এর দ্বারা ওই ব্যক্তির চিত্তবিনোদনের চমৎকার সুযোগ রয়েছে, যে ব্যক্তি সেই বিষয়ের প্রতি সক্রিয় বা আগ্রহী যা আমি উদ্দেশ্য করছি। অধিকন্তু এটি এমন এক পথ যা মানুষ অনুসরণ করে থাকে, উলামায়ে কেরামের একটি দল এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তত্ত্বান্বেষী আলিমদের একটি গোষ্ঠী তা লিপিবদ্ধ করেছেন; সুতরাং তাদের অনুসরণে কোনো দোষ নেই। বরং আমি বলছি: আমি আল্লাহর কাছে এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাই যা কোনো উপকারে আসে না; আমি তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং অব্যাহতি কামনা করছি। আমি তাঁর কাছে বিচ্যুতিসমূহ মার্জনা করার এবং আখেরাতে কোনো উপকারে আসবে না এমন কাজে লিপ্ত হওয়ার অপরাধ ক্ষমা করার প্রার্থনা করছি। হে আমার প্রতিপালক! যা আপনার সন্তুষ্টির পরিপন্থী তেমন কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য আমি আপনার নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করছি, নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌حرف الألف

‌‌الأندلس

هذه الجزيرة في آخر الإقليم الرابع إلى المغرب، هذا قول الرازي، وقال صاعد ابن أحمد في تأليفه في طبقات الحكماء: معظم الأندلس في الإقليم الخامس وجانب منها في الرابع كإشبيلية ومالقة وقرطبة وغرناطة والمرية ومرسية.

واسم الأندلس في اللغة اليونانية إشبانيا، والأندلس بقعة كريمتة طيبة كثيرة الفواكه، والخيرات فيها دائمة، وبها المدن الكثيرة والقواعد العظيمة، وفيها معادن الذهب والفضة والنحاس والرصاص والزيبق واللازورد والشب والتوتيا والزاج والطفل.

والأندلس آخر المعمور في المغرب لأنها متصلة ببحر أقيانس الأعظم الذي لا عمارة وراءه، ويقال: إن أول من اختط الأندلس بنو طوبال بن يافت بن نوح، سكنوا الأندلس في أول الزمان، وملوكهم مائة وخمسون ملكاً، ويقال إن الأندلس خربت وأقفرت وانجلى عنها أهلها لمحلٍ أصابهم فبقيت خالية مائة سنةٍ، ثم وقع ببلاد إفريقية محل شديد ومجاعة عظيمة فرقت أهلها، فلما رأى ملك إفريقية ما وقع ببلاده اتخذ مراكب وشحنها بالرجال، وقدم عليهم رجلاً من إفريقية ووجههم، فرمى بهم البحر إلى حائط إفرنجة وهم يومئذ مجوس، فوجههم صاحب إفرنجة إلى الأندلس.
আলিফ বর্ণ

আন্দালুস

এই উপদ্বীপটি পশ্চিমের চতুর্থ জলবায়ু অঞ্চলের শেষ প্রান্তে অবস্থিত; এটি আর-রাজির অভিমত। সা’ইদ ইবনে আহমদ তার ‘তাবাকাতুল হুকামা’ নামক গ্রন্থে বলেছেন: আন্দালুসের অধিকাংশ এলাকা পঞ্চম জলবায়ু অঞ্চলে এবং এর একটি অংশ চতুর্থ জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত, যেমন—ইশবিলিয়া, মালাগা, কুরতুবা, গারনাতা, আল-মারিয়া ও মুরসিয়া।

গ্রিক ভাষায় আন্দালুসের নাম হলো ইশপানিয়া। আন্দালুস এক অনন্য ও মনোরম ভূখণ্ড যা প্রচুর ফলমূলে সমৃদ্ধ। এখানে সর্বদা নেয়ামত ও কল্যাণ বিরাজমান। এতে অসংখ্য শহর ও মহান সব নগরী রয়েছে। এখানে স্বর্ণ, রৌপ্য, তামা, সিসা, পারদ, লাজওয়ার্থ, ফিটকিরি, তুঁতে, সালফার ও বিশেষ প্রকারের কাদার (মৃত্তিকা) খনি রয়েছে।

আন্দালুস হলো পশ্চিমের জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের শেষ সীমা, কারণ এটি বিশাল মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত যার ওপারে আর কোনো জনবসতি নেই। বলা হয়ে থাকে যে, সর্বপ্রথম যারা আন্দালুসের সীমানা নির্ধারণ করেছিলেন তারা হলেন নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র ইয়াফিস-এর সন্তান তুবালের বংশধরগণ। তারা প্রাচীনকালে আন্দালুসে বসবাস করতেন এবং তাদের রাজাদের সংখ্যা ছিল একশত পঞ্চাশ জন। আরও বলা হয় যে, আন্দালুস বিধ্বস্ত ও জনশূন্য হয়ে পড়েছিল এবং দুর্ভিক্ষের কারণে এর অধিবাসীরা চলে গিয়েছিল, ফলে তা একশ বছর বিরান অবস্থায় ছিল। অতঃপর আফ্রিকা ভূখণ্ডে তীব্র অনাবৃষ্টি ও ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে সেখানকার মানুষ ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকার রাজা যখন তার দেশে যা ঘটেছে তা দেখলেন, তখন তিনি কতগুলো জাহাজ প্রস্তুত করে তাতে লোক ভর্তি করলেন এবং আফ্রিকার এক ব্যক্তিকে তাদের নেতা নিযুক্ত করে পাঠিয়ে দিলেন। সমুদ্রের ঢেউ তাদের ইফ্রাঞ্জা উপকূলে নিয়ে ফেলল, যারা সে সময় অগ্নিপূজক ছিল। অতঃপর ইফ্রাঞ্জার অধিপতি তাদের আন্দালুসের দিকে পাঠিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ২)
وقيل اسمها في القديم: إبارية، ثم سميت بعد ذلك: باطقة، ثم سميت: إشبانيا من اسم رجل ملكها في القديم كان اسمه إشبان، وقيل سميت بالإشبان الذين سكنوها في الأول من الزمان، وسميت بعد ذلك بالأندلس من أسماء الأندليش الذين سكنوها.

وسميت جزيرة الأندلس بجزيرة لأنها شكل مثلث وتضيق من ناحية شرق الأندلس حتى تكون بين البحر الشأمى والبحر المظلم المحيط بالأندلس خمسة أيام، ورأسها العريض نحو من سبعة عشر يوماً، وهذا الرأس هو في أقصى المغرب في نهاية انتهاء المعمور من الأرض محصور في البحر المظلم، ولا يعلم أحد ما خلف هذا البحر المظلم، ولا وقف منه بشر على خبرٍ صحيحٍ لصعوبة عبوره وإظلامه، وتعاظم موجه وكثرة أهواله، وتسلط دوابه وهيجان رياحه، حسبما يرد ذلك في موضعه اللائق به إن شاء الله تعالى، وبلاد الأندلس مثلث الشكل كما قلناه.

ويحيط بها البحر من جميع جهاتها الثلاث؛ فجنوبيها يحيط به البحر الشأمى، وجوفيها يحيط به البحر المظلم، وشماليها يحيط به بحر الأنقليشيين من الروم، وطول الأندلس من كنيسة الغراب التي على البحر المظلم إلى الجبل المسمى بهيكل الزهرة ألف ميل ومائة ميلٍ، وعرضها ستمائة ميلٍ.

والأندلس أقاليم عدة ورساتيق جملة، وفي كل إقليم منها عدة مدنٍ، والركن الواحد من أركانها الثلاثة هو الموضع الذي فيه صنم قادس بين المغرب والقبلة، والركن الثاني شرقي الأندلس بين مدينة نربونة ومدينة برذيل بإزاء جزيرتي ميورقة
প্রাচীনকালে এর নাম ইবারিয়া বলা হতো, এরপর এর নাম রাখা হয় বাতিকা, তারপর প্রাচীনকালে এর রাজত্বকারী জনৈক ব্যক্তির নামানুসারে ইশবানিয়া নামকরণ করা হয় যার নাম ছিল ইশবান। আবার বলা হয় যে, আদি যুগে সেখানে বসবাসকারী ইশবানদের নামানুসারে এই নাম রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সেখানে বসবাসকারী আন্দালিশদের নামানুসারে একে আন্দালুস নামকরণ করা হয়েছে।

আন্দালুস উপদ্বীপকে 'জাজিরা' (দ্বীপ) বলা হয় কারণ এটি ত্রিভুজাকার এবং আন্দালুসের পূর্ব দিক থেকে এটি সংকুচিত হয়ে এসেছে, এমনকি শাম সাগর এবং আন্দালুসকে পরিবেষ্টনকারী অন্ধকার সাগরের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচ দিনের পথ। এর প্রশস্ত উপরিভাগ প্রায় সতেরো দিনের পথ। এই উপরিভাগটি দূরতম মাগরিবে (পশ্চিমে) পৃথিবীর জনবসতির শেষ প্রান্তে অবস্থিত যা অন্ধকার সাগর দ্বারা বেষ্টিত। এই অন্ধকার সাগরের ওপারে কী আছে তা কেউ জানে না, এবং এটি অতিক্রম করা অত্যন্ত কঠিন, অন্ধকারাচ্ছন্ন, উত্তাল ঢেউ, বহুভীতি, সমুদ্রের বিশালাকার প্রাণীদের আধিপত্য এবং প্রচণ্ড বাতাসের কারণে এর সম্পর্কে কোনো মানুষ সঠিক সংবাদ লাভ করতে পারেনি—যেমনটি আল্লাহ তায়ালা চাইলে যথোপযুক্ত স্থানে বর্ণিত হবে। আর আন্দালুস ভূখণ্ড আমাদের পূর্বোল্লিখিত বর্ণনানুসারে ত্রিভুজাকৃতির।

এর তিন দিক সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত; এর দক্ষিণে শাম সাগর, এর অভ্যন্তরে অন্ধকার সাগর এবং এর উত্তরে রোমকদের অন্তর্গত ইনকলীশিউনদের (ইংরেজদের) সাগর পরিবেষ্টিত। অন্ধকার সাগরের তীরে অবস্থিত কানিসাতুল গুরাব থেকে শুরু করে হায়কালে জুহরা নামক পাহাড় পর্যন্ত আন্দালুসের দৈর্ঘ্য এক হাজার একশ মাইল এবং এর প্রস্থ ছয়শ মাইল।

আন্দালুস অনেকগুলো প্রদেশ ও বহু জনপদ নিয়ে গঠিত এবং এর প্রতিটি প্রদেশে বেশ কিছু শহর রয়েছে। এর তিনটি কোণের একটি হলো সেই স্থান যেখানে মাগরিব এবং কিবলার মধ্যবর্তী স্থানে কাদিসের মূর্তিটি অবস্থিত। দ্বিতীয় কোণটি আন্দালুসের পূর্ব দিকে নরবোনা শহর এবং বারদিল শহরের মধ্যবর্তী স্থানে, যা মিয়োরকা দ্বীপদ্বয়ের বিপরীতে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ৩)
ومنورقة، والركن الثالث حيث يتعطف البحر من الجوف إلى المغرب حيث المنارة في الجبل الموفى على البحر، وفيه الصنم العالي المشبه بصنم قادس، وهو في البلد الطالع على بلد برطانية.

والأندلس شأمية في طيبها وهوائها، يمانية في اعتدالها واستوائها، هندية في عطرها وذكائها، أهوازية في عظم جبايتها، صينية في جواهر معادنها، عدنية في منافع سواحلها؛ وفيها آثار عظيمة لليونانيين أهل الحكمة وحاملي الفلسفة، وكان من ملوكهم الذين أثروا الآثار بالأندلس هرقلش، وله الأثر في الصنم بجزيرة قادس، وصنم جليقية، والأثر في مدينة طر كونه الذي لا نظير له.

وفي غربي شنترين على مقدار خمسين ميلا فيما بين أشبونة وشنترة، في جبلٍ هناك كان حصناً فيما مضى، يوجد الحجر اليهودي، وهو على شكل البلوط سواء، ومن خاصيته تفتيت الحصى التي تكون في المثانة والكلية ويقع في الأكحال، وفي جوفي بطليوس على قدر أربعين ميلاً معدن المهى.

والأندلس دار جهاد وموطن رباط، وقد أحاط بشرقيها وشماليها وبعض غربيها أصناف أهل الكفر؛ وروى عن عثمان رضي الله عنه أنه كتب إلى من انتدب إلى غزو الأندلس: أما بعد فإن القسطنطينية إنما تفتح من قبل الأندلس، وإنكم إن فتحتموها كنتم شركاء من يفتحها في الأخير والسلام؛ وعن كعب الأحبار أنه قال: يعبر البحر إلى الأندلس أقوام يفتحونها يعرفون بنورهم يوم القيامة. ودخل الأندلس رجل واحد من أصحاب النبي " صلى الله عليه وسلم "، قال عبد الملك بن حبيب: اسمه المنذر الإفريقي، وإنه
...এবং মেনোর্কা; তৃতীয় কোণটি সেখানে যেখানে সাগর উত্তর থেকে পশ্চিম দিকে মোড় নিয়েছে, সেখানে সাগরের ওপর মাথা তুলে দাঁড়ানো পাহাড়ে একটি বাতিঘর আছে। তাতে একটি উঁচু মূর্তি রয়েছে যা কাদিসের মূর্তির সদৃশ, আর এটি ব্রিটেন অঞ্চলের অভিমুখে অবস্থিত একটি জনপদে অবস্থিত।

আন্দালুস তার সুগন্ধ ও আবহাওয়ায় সিরীয় (শামী), তার ভারসাম্য ও সুষমতায় ইয়ামানি, তার সুগন্ধি ও প্রখরতায় ভারতীয়, তার বিশাল রাজস্ব আদায়ে আহওয়াযি, তার খনিজ রত্নরাজিতে চীনা এবং তার উপকূলীয় উপযোগিতায় আদানি সদৃশ। এতে প্রজ্ঞার অধিকারী ও দর্শনের ধারক গ্রীকদের মহান অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। তাদের রাজাদের মধ্যে যারা আন্দালুসে নিদর্শনাদি রেখে গেছেন তাদের একজন হলেন হারকিউলিস; কাদিস দ্বীপের মূর্তি, গ্যালিসিয়ার মূর্তি এবং তারাগোনা শহরের সেই অতুলনীয় নিদর্শনে তার ছাপ রয়েছে।

সান্তারেন-এর পশ্চিমে লিসবন ও সিন্ত্রার মধ্যবর্তী স্থানে প্রায় পঞ্চাশ মাইল দূরত্বে একটি পাহাড় রয়েছে যেখানে অতীতে একটি দুর্গ ছিল। সেখানে 'ইহুদি পাথর' পাওয়া যায়, যা দেখতে অবিকল ওক ফলের মতো। এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি মূত্রথলি ও বৃক্কের পাথর চূর্ণ করে দেয় এবং এটি সুরমায় ব্যবহৃত হয়। বাদাজোয-এর উত্তরে প্রায় চল্লিশ মাইল দূরে স্ফটিকের খনি রয়েছে।

আন্দালুস হলো জিহাদের আবাসভূমি এবং সীমান্ত পাহারার (রিবাত) স্থান। এর পূর্ব, উত্তর এবং পশ্চিমের কিছু অংশ বিভিন্ন প্রকার কুফরি শক্তি বেষ্টন করে আছে। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি আন্দালুস অভিযানে যোগদানকারীদের প্রতি লিখেছিলেন: "অতঃপর কথা হলো, কনস্টান্টিনোপল আন্দালুস দিক দিয়েই বিজিত হবে। তোমরা যদি তা জয় করো, তবে তোমরা শেষ সময়ে যারা তা জয় করবে তাদের সওয়াবের অংশীদার হবে। আস-সালাম।" কাব আল-আহবার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "আন্দালুসের দিকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে এমন কিছু জাতি আসবে যারা তা জয় করবে এবং কিয়ামতের দিন তারা তাদের নূর দ্বারা পরিচিত হবে।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি আন্দালুসে প্রবেশ করেছিলেন। আব্দুল মালিক ইবনে হাবিব বলেন: তার নাম আল-মুনযির আল-ইফ্রিকি এবং তিনি...
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ৪)
يروى عنه عليه الصلاة والسلام أنه قال: من قال رضيت بالله ربا إلى آخرها فأنا الزعيم لآخذن بيده وأدخله الجنة! ودخلها من التابعين حنش بن عبد الله الصنعاني وهو الذي أسس جامع سرقسطة وكان مع علىٍ " رضه " بالكوفة، فلما قتل على " رضه " انتقل إلى مصر وقبره بسر قسطة معروف، ومنهم على بن رباح اللخمى، وعمرو بن العاصي، وعلقمة بن عامر، وأبو عبد الرحمن عبد الله الجبلي الأنصار، وعياض بن عقبة الفهرى، وموسى بن نصير، يقال بكرى ويقال لخمى؛ ويقال إن نصيرا من سبى عين التمر أعتقه صبيح مولى أبي العاص بن أمية، يقال أصابه خالد في علوج عين التمر وادعوا أنهم من بكر بن وائلٍ، فصار نصير وصيفاً لعبد العزيز بن مروان وأعتقه فمن أجل هبذا يختلف في نسبه؛ وعقد الوليد لموسى على إفريقية سنة83، وكان مولد موسى سنة19 في خلافة عمر " رضه "، وكان معاوية " رضه " قد جعل نصيراً أبا موسى على حرسه، فلم يقاتل معه عليا " رضه "، فقال له معاوية " رضه ": ما منعك من الخروج على علي ولم تكاف يدي عليك؟ فقال: لم يمكنني أن أشكرك بكفر من هو أولى بشكرى منك، فقال: ومن هو؟ قال: الله عز وجل! ومسافة ما يملكه المسلمون من الأندلس ثلاثمائة فرسخٍ طولاً في ثمانين فرسخاً عرضاً؛ والذي يملك منها النصارى مثل ما يملكه المسلمون أو نيفا، ثم حدث فيها من تغلب الثوار ما أضاع ثغورهم وأذهب أكثر بلادهم، ولم يبق من ذلك إلا الأقل. وبها الجبال المشهورة والحمامات الكثيرة.

قال الرازي: أول من سكن الأندلس بعد الطوفان على ما يذكره علماء عجمها قوم يعرفون بالأندلس بشين معجمة بهم سمى البلد ثم عرب، وكانوا أهل تمجسٍ
তাঁর (তাঁর ওপর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলবে—আমি আল্লাহকে রব হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছি (শেষ পর্যন্ত), তবে আমি তার জন্য জামিন হব, যেন আমি তার হাত ধরে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাই!" আর তাবেঈগণের মধ্যে যারা সেখানে (আন্দালুস) প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের একজন হলেন হানাশ বিন আবদুল্লাহ আস-সানআনী, যিনি সারাগোসা জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি কুফায় আলী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-র সাথে ছিলেন। যখন আলী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) শহীদ হলেন, তখন তিনি মিসরে চলে যান এবং সারাগোসায় তাঁর কবর সুপরিচিত। তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন আলী বিন রাবাহ আল-লাখমী, আমর বিন আস, আলকামা বিন আমির, আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ আল-জাবালি আল-আনসারী, ইয়াদ বিন উকবা আল-ফিহরি এবং মুসা বিন নুসাইর। মুসা বিন নুসাইর সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি বকরী বংশীয়, আবার বলা হয় তিনি লাখমী। আরও বলা হয় যে, নুসাইর ছিলেন আইনুত তামর-এর যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত, যাঁকে আবুল আস বিন উমাইয়্যার মুক্তদাস সবিহ মুক্তি দিয়েছিলেন। বলা হয় যে খালিদ বিন ওয়ালিদ তাঁকে আইনুত তামর-এর অনারবদের মধ্যে পেয়েছিলেন এবং তারা দাবি করত যে তারা বকর বিন ওয়াইল গোত্রভুক্ত। পরবর্তীতে নুসাইর আবদুল আজিজ বিন মারওয়ানের খাদেম হন এবং তিনি তাঁকে মুক্তি দেন; এ কারণেই তাঁর বংশপরিচয় নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক ৮৩ হিজরিতে মুসাকে ইফ্রিকিয়ার গভর্নর নিযুক্ত করেন। মুসার জন্ম হয়েছিল ১৯ হিজরিতে উমর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর খিলাফতকালে। মুয়াবিয়া (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) মুসার পিতা নুসাইরকে তাঁর দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করেছিলেন, কিন্তু তিনি মুয়াবিয়ার সাথে থেকে আলীর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি। তখন মুয়াবিয়া (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) তাঁকে বললেন: "আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে বের হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল, অথচ তোমার প্রতি কি আমার হাতের অনুগ্রহ ছিল না?" তিনি উত্তরে বললেন: "আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে আমি তাঁর প্রতি অকৃতজ্ঞ হতে পারিনি, যিনি আপনার চেয়ে আমার কৃতজ্ঞতা পাওয়ার বেশি হকদার।" মুয়াবিয়া বললেন: "তিনি কে?" তিনি বললেন: "আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা (মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত)!" আন্দালুসের যে অংশ মুসলমানদের অধীনে ছিল তার দৈর্ঘ্য ছিল তিনশত ফারসাখ এবং প্রস্থ ছিল আশি ফারসাখ। আর খ্রিস্টানদের দখলে ছিল মুসলমানদের সমান অংশ বা তার চেয়ে সামান্য বেশি। এরপর সেখানে বিদ্রোহীদের আধিপত্য বিস্তারের মতো ঘটনা ঘটে, যা তাদের সীমান্তগুলোকে নষ্ট করে দেয় এবং তাদের অধিকাংশ দেশ হাতছাড়া হয়ে যায়; ফলে তার সামান্য অংশই অবশিষ্ট থাকে। সেখানে রয়েছে প্রসিদ্ধ পাহাড়সমূহ এবং অসংখ্য স্নানাগার।

আর-রাযী বলেন: প্লাবনের পর আন্দালুসে সর্বপ্রথম যারা বসবাস করেছিল—সেখানকার অনারব আলেমদের বর্ণনা অনুযায়ী—তারা 'আন্দালুশ' (শিন সহযোগে) নামে পরিচিত এক জাতি ছিল। তাদের নামানুসারেই দেশটির নামকরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে একে আরবিকরণ করা হয়েছে; তারা ছিল অগ্নিপূজক।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ৫)
فحبس الله تعالى عنهم المطر حتى غارت عيونها ويبست أنهارها، فهلك أكثرهم وفر من قدر على الفرار منهم فأقفرت الأندلس وبقيت خالية مائة عامٍ، وملكها إشبان ابن طيطش، وهو الذي غزا الأفارقة وحاصر ملكهم بطالقة، ونقل رخامها إلى إشبيلية وبه سميت، فاتخذها دار مملكته وكثرت جموعه فعلا في الأرض وغزا من إشبيلية إيلياء بعد سنتين من ملكه، خرج إليها في السفن وهدمها، وقتل من اليهود مائة ألفٍ واسترق مائة ألفٍ، وفرق في البلاد مائة ألف، وانتقل رخام إيلياء وآلاتها إلى الأندلس؛ والغرائب التي أصيبت في مغانم الأندلس كمائدة سليمان التي ألفاها طارق ابن زياد بكنيسة طليطلة، وقليلة الدر التي ألفاها موسى بن نصير بكنيسة ماردة، وغيرهما من الذخائر، إنما كانت مما حازه صاحب الأندلس من غنيمة بيت المقدس إذ حضر فتحها مع بخت نصر.

وذكروا أن الخضر وقف بإشبان هذا وهو يحرث الأرض بفدانٍ له أيام حداثته فقال: يا إشبان، إنك لذو شأنٍ، وسوف يحظيك زمان، ويعلي سلطان، فإذا أنت تغلبت على إيلياء فارفق بورثة الأنبياء! فقال له إشبان: أساحر أنت رحمك الله أني يكون هذا، وأنا ضعيف مهين حقير؟ فقال: قدر ذلك من قدر في عصاك اليابسة ما تراه! فنظر إشبان إلى عصاه فرآها قد أورقت، فريع لما رأى وذهب الخضر عنه؛ وقد وقر ذلك الكلام في نفسه والثقة بكونه، فترك الامتهان وداخل الناس، وصحب أجل الناس وسما به جده فارتقى في طلب السلطان حتى نال منه عظيما، وكان ملكه عشرين سنة، واتصلت مملكة
মহান আল্লাহ তাদের থেকে বৃষ্টি বন্ধ করে দিলেন, ফলে সেখানের ঝরনাগুলো শুকিয়ে গেল এবং তাদের নদীগুলো শুষ্ক হয়ে গেল। এতে তাদের অধিকাংশ লোক ধ্বংস হয়ে গেল এবং যাদের পালানোর সামর্থ্য ছিল তারা পালিয়ে গেল। ফলে আন্দালুস জনশূন্য হয়ে পড়ল এবং একশত বছর পর্যন্ত বিরান পড়ে রইল। এরপর তিতাসপুত্র ইশবান সেখানে রাজত্ব করেন। তিনিই আফ্রিকাবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং তালকায় তাদের রাজাকে অবরোধ করেছিলেন। তিনি সেখানকার মার্বেল পাথর ইশবিলিয়াহতে (সেভিল) স্থানান্তর করেন এবং তার নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয়। তিনি ইশবিলিয়াহকে তার রাজধানী হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তার সৈন্যদল বৃদ্ধি পায়, ফলে তিনি ভূমিতে দাপট বিস্তার করেন। তার রাজত্বের দুই বছর পর তিনি ইশবিলিয়াহ থেকে ইলিয়ার (জেরুজালেম) উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি জাহাজে চড়ে সেখানে যান এবং তা ধ্বংস করে দেন। তিনি এক লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করেন, এক লক্ষকে দাসে পরিণত করেন এবং এক লক্ষকে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেন। আর ইলিয়ার মার্বেল পাথর ও সরঞ্জামাদি আন্দালুসে স্থানান্তরিত করা হয়। আন্দালুসের গনিমতের মালে যে সব বিস্ময়কর বস্তু পাওয়া গিয়েছিল—যেমন তলেদোর গির্জায় তারিক বিন জিয়াদ কর্তৃক প্রাপ্ত সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর দস্তরখান, এবং মারিদার গির্জায় মুসা বিন নুসাইর কর্তৃক প্রাপ্ত মুক্তার আধার, আর অন্যান্য ধনভাণ্ডার—তা মূলত আন্দালুসের সেই অধিপতি বায়তুল মুকাদ্দাসের গনিমত থেকে যা কিছু সংগ্রহ করেছিলেন তা থেকেই অর্জিত হয়েছিল, যখন তিনি বখতে নাসরের সাথে এর বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন।

আর তারা উল্লেখ করেছেন যে, খিজির (আলাইহিস সালাম) এই ইশবানের যৌবনকালে যখন তিনি তার এক জোড়া বলদ দিয়ে জমি চাষ করছিলেন, তখন তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: হে ইশবান! তোমার এক বিশাল মর্যাদা রয়েছে। সময় তোমাকে সৌভাগ্য দান করবে এবং তোমার ক্ষমতাকে উচ্চ করবে। সুতরাং তুমি যখন ইলিয়ার ওপর বিজয়ী হবে, তখন নবীদের উত্তরসূরিদের সাথে কোমল আচরণ করো! তখন ইশবান তাকে বললেন: আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, আপনি কি কোনো জাদুকর? এটি কীভাবে সম্ভব হবে, অথচ আমি একজন দুর্বল, লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ মানুষ? তখন তিনি বললেন: যিনি তোমার এই শুষ্ক লাঠির মধ্যে যা দেখছ তা ঘটিয়েছেন, তিনিই এটি নির্ধারণ করেছেন! ইশবান তার লাঠির দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে তাতে পাতা গজিয়েছে। যা দেখলেন তাতে তিনি ভীত ও বিস্মিত হলেন এবং খিজির তাঁর কাছ থেকে চলে গেলেন। এই কথাটি তার অন্তরে দৃঢ়ভাবে গেঁথে গেল এবং এটি বাস্তবায়িত হওয়ার ব্যাপারে তার পূর্ণ বিশ্বাস জন্মালো। ফলে তিনি শ্রমিকের কাজ ত্যাগ করে মানুষের মাঝে মেলামেশা শুরু করলেন। তিনি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সান্নিধ্য গ্রহণ করলেন এবং তার সৌভাগ্য সুপ্রসন্ন হলো। ফলে তিনি রাজপদ অন্বেষণে ক্রমাগত উন্নতি করতে লাগলেন এবং পরিশেষে এক বিশাল সাম্রাজ্য লাভ করলেন। তার রাজত্বকাল ছিল বিশ বছর এবং তার রাজত্ব প্রসারিত হয়েছিল...
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ৬)
الإشبان بعده إلى أن ملك منهم الأندلس خمسة وخمسون ملكاً، ثم دخل عليهم من عجم رومة أمة أخرى تعرف بالشبونقات، وذلك زمان مبعث المسيح عليه السلام، فملكوا الأندلس وإفرنجة معها واتخذوا دار مملكتهم مدينة ماردة واتصلت مملكتهم إلى أن ملك منهم أربعة وعشرون ملكاً، ويقال إن منهم كان ذو القرنين.

ثم دخل على هؤلاء الشبونقات أمة القوط فغلبوا على الأندلس واقتطعوها من يؤمئذٍ عن صاحب رومة وانفردوا بسلطانهم واتخذوا مدينة طليطلة دار سلطانهم؛ ودخشوش ملك القوط هو أول من تنصر من هؤلاء، فدعا الحواريين ودعا قومه إلى النصرانية، وكان أعدل ملوكهم وأحسنهم سيرةً، وهو الذي أصل النصرانية؛ والإنجيلات أو المصاحف الأربعة من انتساخه وجمعه وتثقيفه؛ فتنافست ملوك القوط بالأندلس بعده حتى غلبهم عليها العرب؛ وعدد من ملك منهم إلى آخرهم وهو لذريق ستة وثلاثون ملكاً.

والذريق لم يكن من أبناء الملوك ولا بصحيح النسب في القوط، وإنما نال الملك من طريق الغصب والتسور عندما مات غيطشة الملك وكان أثيراً لديه فاستصغر أولاده واستمال طائفةً من الرجال مالوا إليه فانترع الملك من ولد غيطشة، وغيطشة آخر ملوك القوط بالأندلس، ولى سنة77 من الهجرة فملك خمسة عشرة سنة.

وكانت طليطلة دار المملكة بالأندلس حينئذٍ، وكان بها بيت مغلق متحامى الفتح يلزمه من ثقات القوط قوم قدو كلوا به لئلا يفتح، قد عهد الأول في ذلك إلى الآخر، كلما ملك منهم ملك زاد على البيت قفلاً، فلما ولى لذريق عزم على فتح الباب
তাঁর পরে ইশবানদের মধ্য থেকে আন্দালুসে পঞ্চান্ন জন রাজা রাজত্ব করেন। এরপর রোমের অ-আরবদের মধ্য থেকে ‘শাবুনকাত’ নামে পরিচিত অন্য এক জাতি তাদের ওপর চড়াও হয়; আর তা ছিল মসীহ আলাইহিস সালামের আগমনের সময়কাল। তারা আন্দালুস এবং তার সাথে ইফ্রাঞ্জা (ফ্রান্স) দখল করে নেয় এবং মারিদাহ শহরকে তাদের রাজ্যের রাজধানী হিসেবে গ্রহণ করে। তাদের রাজত্বকাল দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তাদের মধ্য থেকে চব্বিশ জন রাজা শাসন করেন। বলা হয়ে থাকে যে, যুল-কারনাইন তাদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

এরপর এই শাবুনকাতদের ওপর গোথ জাতি আক্রমণ করে এবং তারা আন্দালুস জয় করে নেয়। তারা তৎকালীন রোম অধিপতির শাসন থেকে একে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং তাদের স্বতন্ত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। তারা তুলাইতুলাহ শহরকে তাদের সালতানাতের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে। গোথ রাজা দাখশুশ ছিলেন তাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি হাওয়ারীদের (শিষ্যদের) আহ্বান করেন এবং নিজ জাতিকে খ্রিস্টধর্মের দিকে দাওয়াত দেন। তিনি তাদের রাজাদের মধ্যে সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ এবং সুন্দর চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনিই খ্রিস্টধর্মের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন এবং ইঞ্জিলসমূহ বা চারটি কিতাবের প্রতিলিপি তৈরি, সংগ্রহ ও বিন্যাস তাঁরই তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। তাঁর পরবর্তী সময়ে আন্দালুসে গোথ রাজারা একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়, যা আরবদের বিজয় পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তাদের মধ্য থেকে শেষ রাজা লাযরিক পর্যন্ত মোট ছত্রিশ জন রাজা রাজত্ব করেন।

লাযরিক রাজবংশের সন্তান ছিলেন না এবং গোথদের মধ্যে তাঁর বংশমর্যাদাও সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল না। বরং তিনি জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে রাজত্ব লাভ করেছিলেন। যখন রাজা গাইতাশাহ মারা যান—যার কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন—তখন তিনি তাঁর সন্তানদের তুচ্ছজ্ঞান করেন এবং একদল লোককে নিজের পক্ষে ভিড়িয়ে নেন। তারা তাঁর প্রতি অনুগত হলে তিনি গাইতাশাহর সন্তানদের কাছ থেকে রাজ্য ছিনিয়ে নেন। গাইতাশাহ ছিলেন আন্দালুসে গোথদের শেষ (বৈধ) রাজা; তিনি হিজরী ৭৭ সনে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং পনের বছর রাজত্ব করেন।

তৎকালীন সময়ে তুলাইতুলাহ ছিল আন্দালুসের রাজধানী। সেখানে একটি তালাবদ্ধ ঘর ছিল যা খোলা থেকে বিরত থাকা হতো। গোথদের একদল বিশ্বস্ত লোক তা পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকত যাতে সেটি খোলা না হয়। পূর্ববর্তী রাজারা পরবর্তীদের এই মর্মে অসিয়ত করে যেতেন যে, যখনই তাদের কেউ রাজা হতেন, তিনি ঐ ঘরে একটি করে নতুন তালা যুক্ত করতেন। কিন্তু লাযরিক যখন ক্ষমতায় বসলেন, তিনি সেই ঘরের দরজা খোলার দৃঢ় সংকল্প করলেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ৭)
والاطلاع على ما في البيت، فأعظم ذلك أكابرهم، وتضرعوا إليه في الكف فأبى، وظن أنه بيت مالٍ، ففض الأقفال عنه ودخله فأصابه فارغاً لا شيء فيه إلا تابوتاً عليه قفل، فأمر بفتحه فألفاه أيضاً فارغاً ليس فيه إلا شقة مدرجة قد صورت فيها صور العرب على الخيول وعليهم العمائم، متقلدي السيوف، متنكبى القسى، رافعى الرايات على الرماح، وفي أعلاها كتابة بالعجمية فقرئت فإذا هي: إذا كسرت هذه الأقفال من هذا البيت وفتح هذا التابوت فظهر ما فيه من هذه الصور فإن الأمة المصورة فيه تغلب على الأندلس وتملكها، فوجم لذريق وعظم غمه وغم العجم وأمر برد الأقفال وإقرار الحراس على حالهم.

وكان من سير الأعاجم بالأندلس أن يبعث أكابرهم إلى بساط الملك ليتأدبوا بأدبه، وينالوا من كراماته، حتى إذا بلغوا أنكح بعضهم بعضا استئلافاً لآبائهم، وحمل صدقاتهم وتولى تجهيز إناثهم إلى أزواجهن؛ فاتفق أن فعل ذلك يليان عامل لذريق على سبتة، وجه ابنةً له بارعة الجمال تكرم عليه، فوقعت عين لذريق عليها فأعجبته فاستكرهها على نفسها واحتالت حتى أعلمت أباها بذلك سراً بمكاتبةٍ خفيةٍ، فأحفظه شأنها وقال: ودين المسيح لأزيلن سلطانه! وكان امتعاضه من فاحشة ابنته السبب لفتح الأندلس بالذي سبق من قدر الله سبحانه؛ ثم إن يليان ركب بحر الزقاق من سبتة في أصعب الأوقات في شهر ينير، وأقبل حتى احتل بطليطلة حضرة لذريق، فأنكر عليه مجيئه في ذلك الوقت وسأله عن السبب في ذلك، فذكر له أن زوجته اشتد شوقها إلى ابنتها التي عنده، وتمنت لقاءها قبل الموت، وألحت عليه في إحضارها،
এবং ঘরে কী আছে তা দেখা। তাদের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একে অত্যন্ত গুরুতর মনে করলেন এবং তাকে তা থেকে বিরত থাকার জন্য বিনীত অনুনয় করলেন, কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন যে এটি একটি রাজকোষ। ফলে তিনি তালাগুলো ভেঙে ফেললেন এবং তাতে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি একটি সিন্দুক ছাড়া আর কিছুই পেলেন না, যাতে একটি তালা লাগানো ছিল। তিনি সেটি খোলার নির্দেশ দিলেন এবং তা-ও শূন্য পেলেন; সেখানে কেবল একটি ভাঁজ করা কাপড় ছিল যাতে ঘোড়ার ওপর আরোহী আরবদের ছবি চিত্রিত ছিল। তাদের মাথায় পাগড়ি ছিল, তারা তরবারি পরিহিত ছিল, কাঁধে ধনুক ছিল এবং বর্শার ডগায় পতাকা উড্ডীন ছিল। তার উপরিভাগে অনারব ভাষায় একটি লিপি ছিল, যা পাঠ করা হলে দেখা গেল তাতে লেখা আছে: "যখন এই ঘরের তালাগুলো ভাঙা হবে এবং এই সিন্দুকটি খোলা হবে এবং এতে থাকা এই ছবিগুলো প্রকাশ পাবে, তখন এই চিত্রে চিত্রিত জাতি আন্দালুসের ওপর বিজয়ী হবে এবং এর মালিক হবে।" এতে রডরিক স্তম্ভিত হয়ে গেলেন এবং তার ও অন্যান্য অনারবদের দুঃখ ঘনীভূত হলো। তিনি পুনরায় তালাগুলো লাগিয়ে দেওয়ার এবং প্রহরীদের তাদের পূর্বের অবস্থায় বহাল রাখার নির্দেশ দিলেন।

আন্দালুসের অনারবদের একটি রীতি ছিল যে, তাদের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের সন্তানদের রাজদরবারে পাঠাতেন যেন তারা রাজকীয় শিষ্টাচার অর্জন করতে পারে এবং রাজার অনুগ্রহ লাভ করতে পারে। এমনকি তারা যখন প্রাপ্তবয়স্ক হতো, তখন তাদের পিতাদের মধ্যে প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজা তাদের পরস্পরের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে দিতেন। তিনি তাদের দেনমোহরের ভার বহন করতেন এবং কন্যাদের তাদের স্বামীদের কাছে প্রেরণের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করতেন। সে অনুযায়ী সেউতার শাসক এবং রডরিকের প্রতিনিধি জুলিয়ান তার এক পরম সুন্দরী ও আদরের কন্যাকে সেখানে পাঠালেন। রডরিকের দৃষ্টি তার ওপর পড়লে তিনি তাকে পছন্দ করলেন এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে লাঞ্ছিত করলেন। সেই কন্যাটি কোনোভাবে কৌশলে একটি গোপন পত্রের মাধ্যমে তার পিতাকে বিষয়টি অবহিত করল। এতে তার পিতা অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হলেন এবং বললেন: "মসীহের ধর্মের কসম, আমি অবশ্যই তার রাজত্ব বিলীন করে দেব!" মহান আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত তাকদির অনুসারে, তার কন্যার সাথে সংঘটিত এই অশ্লীলতার প্রতি তার তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভই ছিল আন্দালুস বিজয়ের মূল কারণ। এরপর জুলিয়ান জানুয়ারি মাসে অত্যন্ত প্রতিকূল সময়ে সেউতা থেকে সমুদ্র পথ পাড়ি দিলেন এবং রডরিকের দরবার টলেডোতে উপস্থিত হলেন। রডরিক সেই অসময়ে তার আগমনে বিস্ময় প্রকাশ করলেন এবং এর কারণ জানতে চাইলেন। জুলিয়ান তাকে বললেন যে, তার স্ত্রী তার কাছে থাকা কন্যার জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন এবং মৃত্যুর পূর্বে তাকে দেখার শেষ ইচ্ছা পোষণ করেছেন, আর তাকে নিয়ে আসার জন্য তাকে অত্যন্ত পীড়াপীড়ি করছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ৮)
وأحب إسعافها بها، وسأل الملك إخراجها إليه وتعجيل إطلاقه للمبادرة بها؛ ففعل وأجاز الجارية، وتوثق منها بالكتمان عليه، وأفضل عليها وعلى أبيها وانقلب عنه.

وذكر أنه لما دخل عليه قال له لذريق: إذا أنت قدمت علينا فاستفره لنا من الشذانقات! فقال له: أيها الملك، والمسيح لأدخلن عليك شذانقات ما دخل عليك بمثلها قط! يعرض له بما أضمره من السعي في إدخال رجال العرب الأندلس عليه، وهو لا يفطن؛ فلم يتنهنه يليان إذ وصل سبته أن تهيأ للمسير نحو موسى بن نصير، فأتاه بإفريقية، فحرضه على غزو الأندلس ووصف له حسنها وفوائدها وفضلها، وهون عليه حال رجالها، فعاقده موسى على الانحراف إلى المسلمين وسامه مكاشفة أهل ملته من أهل الأندلس، ففعل يليان ذلك وحل بساحل الجزيرة الخضراء، فقتل وسبى وغنم وأقام بها أياماً يشن الغارات، وشاع الخبر عند المسلمين، فآنسوا بيليان، وذلك عقب سنة90.

وكتب موسى بن نصير إلى الوليد يعلمه بما دعاه إليه يليان ويستأذنه في افتتاح الأندلس، فكتب إليه الوليد أن خضها بالسرايا حتى تختبر شأنها ولا تغرر بالمسلمين في بحرٍ شديد الأهوال، فراجعه أنه ليس ببحراٍ وإنما هو خليج يتبين للناظر ما وراءه، فكتب إليه: وإن كان فلا بد من اختباره بالسرايا! فبعث موسى عند ذلك رجلاً من مواليه من البربر اسمه طريف بن ملوك المعافى يكنى أبا زرع في أربعمائة رجلٍ فعبر بهم ونزل في الجزيرة المنسوبة إليه؛ ثم أغار على الجزيرة الخضراء ونواحيها فأصاب سبياً لم ير موسى فميا أصابه مثله حسناً، وأصاب مالاً جسيماً وأمتعة، وذلك في شهر رمضان من سنة91
তিনি সেই প্রার্থনা পূরণ করতে চাইলেন এবং রাজার কাছে তাকে তাঁর নিকট পাঠিয়ে দিতে এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার কাজে ত্বরান্বিত করতে অনুরোধ করলেন যেন তিনি তা নিয়ে অগ্রসর হতে পারেন। রাজা তা-ই করলেন এবং সেই দাসীকে অনুমতি দিলেন। রাজা বিষয়টি গোপন রাখার ব্যাপারে তার কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলেন এবং তার ও তার পিতার প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করে বিদায় নিলেন।

বর্ণিত আছে যে, যখন তিনি রাজার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন লুযরিক তাকে বললেন: "আপনি যখন আমাদের কাছে আসবেন, তখন আমাদের জন্য কিছু উন্নত মানের শিকারি পাখি সংগ্রহ করে আনবেন!" তিনি তাকে বললেন: "হে রাজন, মসীহের শপথ! আমি আপনার কাছে এমন সব শিকারি পাখি নিয়ে আসব যার সদৃশ আপনার নিকট ইতিপূর্বে কখনও আসেনি!" এর মাধ্যমে তিনি আন্দালুসে আরব যোদ্ধাদের প্রবেশের ব্যাপারে মনে মনে যে প্রচেষ্টা পোষণ করেছিলেন তার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, কিন্তু রাজা তা বুঝতে পারেননি। ইউলিয়ান যখন সেউতায় পৌঁছালেন, তখন তিনি মুসা ইবনে নুসাইরের দিকে যাত্রার প্রস্তুতি নিতে কোনো বিলম্ব করলেন না। তিনি আফ্রিকায় তাঁর নিকট এসে তাকে আন্দালুস অভিযানে উৎসাহিত করলেন এবং এর সৌন্দর্য, সুযোগ-সুবিধা ও শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা দিলেন। তিনি সেখানকার যোদ্ধাদের সক্ষমতাকে তাঁর কাছে তুচ্ছ করে তুলে ধরলেন। ফলে মুসা তাকে মুসলিমদের পক্ষে আসার বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ করলেন এবং নিজের স্বধর্মী আন্দালুসীয়দের দুর্বলতা প্রকাশের প্রস্তাব দিলেন। ইউলিয়ান তাই করলেন এবং আল-জাযিরা আল-খাযরা উপকূলে অবতরণ করলেন। তিনি সেখানে লড়াই করলেন, বন্দি করলেন এবং গনিমত সংগ্রহ করলেন এবং সেখানে কয়েক দিন অবস্থান করে আক্রমণ পরিচালনা করলেন। মুসলিমদের মধ্যে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল এবং তারা ইউলিয়ানের প্রতি আশ্বস্ত হলেন। এটি ছিল ৯০ হিজরি সালের শেষের দিকের ঘটনা।

মুসা ইবনে নুসাইর খলিফা ওয়ালিদকে পত্র লিখে ইউলিয়ান তাকে কিসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তা জানালেন এবং আন্দালুস বিজয়ের অনুমতি চাইলেন। ওয়ালিদ তাকে লিখলেন যে, "ছোট ছোট সেনাদল পাঠিয়ে সেখানকার অবস্থা পরীক্ষা করুন এবং ভয়ানক বিপদসংকুল সমুদ্রে মুসলিমদের বিপদে ফেলবেন না।" মুসা প্রত্যুত্তরে জানালেন যে, এটি কোনো সমুদ্র নয়, বরং এটি একটি উপসাগর যার অপর তীরের দৃশ্য প্রত্যক্ষকারীর সামনে স্পষ্ট ফুটে ওঠে। ওয়ালিদ তাকে লিখলেন: "যদি তাই হয়, তবুও সেনাদল পাঠিয়ে তা পরীক্ষা করা অপরিহার্য!" তখন মুসা তাঁর বারবার বংশীয় আযাদকৃত দাসদের মধ্য থেকে তরীফ বিন মুলুক আল-মুআফি—যাঁর উপনাম ছিল আবু যুরআ—নামক এক ব্যক্তিকে চারশত সৈন্যসহ প্রেরণ করলেন। তিনি তাদের নিয়ে সমুদ্র পার হলেন এবং তাঁর নামে নামাঙ্কিত দ্বীপে অবতরণ করলেন। অতঃপর তিনি আল-জাযিরা আল-খাযরা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আক্রমণ চালিয়ে এমন সব যুদ্ধবন্দি লাভ করলেন যেগুলোর মতো সৌন্দর্য মুসা ইতিপূর্বে প্রাপ্ত গনিমতের মধ্যে দেখেননি। এছাড়া তিনি বিপুল ধন-সম্পদ ও আসবাবপত্র লাভ করলেন। এটি ছিল ৯১ হিজরি সালের রমজান মাসের ঘটনা।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ৯)
فلما رأى ذلك الناس أسرعوا إلى الدخول، فدعا موسى مولىً له كان على مقدماته يسمى طارق بن زياد، قيل هو فارسي وقيل هو من الصدف وقيل ليس بمولى، وقيل هو بربري من نفزه، فعقد له وبعثه في سبعة آلاف من البربر والموالى، ليس فيهم عربي إلا القليل. فهيأ له يليان المراكب وحل بجبل طارق يوم سبت في شعبان من سنة92، وهو من شهور العجم شهر أغشت، وقيل في رجب من السنة، في اثنى عشر ألفاً غير ستة عشر رجلاً لم يكن فيهم من العرب إلا القليل.

وأصاب طارق عجوزاً من أهل الجزيرة فقالت له: كان لي زوج عالم بالحدثان، وكان يحدث عن أميرٍ يدخل بلدنا هذا ويصفه ضخم الهامة وأنت كذلك! ومنها أن بكتفه الأيسر شامةً عليها شعر، فإن كانت بك هذه الشامة فأنت هو، فكشف طارق ثوبه فإذا بالشامة على كتفه كما ذكرت العجوز، فاستبشر بذلك هو ومن معه.

وذكر عن طارق أنه كان نائماً في المركب فرأى في منامه النبي " صلى الله عليه وسلم " والخلفاء الأربعة يمشون على الماء حتى مروا به، فبشره النبي " صلى الله عليه وسلم " بالفتح وأمره بالرفق على المسلمين والوفاء بالعهد؛ وفي حكايةٍ إنه لما ركب البحر غلبته عيناه فرأى النبي " صلى الله عليه وسلم " وحوله المهاجرون والأنصار قد تقلدوا السيوف، وتنكبوا القسى، فيقول له النبي: يا طارق تقدم لشأنك! ونظر إليه وإلى أصحابه قد دخلوا الأندلس قدامه فهب من نومه مستبشراً وبشر أصحابه ولم يشك في الظفر، فنزل بالجبل شاناً للغارات في البسائط، ولذريق يومئذٍ غائب في غزاةٍ له، واتصل به الخبر فعظم عليه أمره، وفهم الخبر الذي أتى منه مع يليان، وأقبل مبادراً في جموعه حتى احتل بقرطبة أياماً والجنود تتوافى عليه،
যখন মানুষ তা দেখল, তারা প্রবেশের জন্য ত্বরান্বিত হলো। অতঃপর মুসা তাঁর এক মুক্তদাসকে ডাকলেন যিনি তাঁর অগ্রবর্তী সেনাদলের দায়িত্বে ছিলেন, যাঁর নাম ছিল তারিক বিন যিয়াদ। কেউ বলেন তিনি পারস্যের, কেউ বলেন তিনি আস-সাদাফ গোত্রের, কেউ বলেন তিনি মুক্তদাস ছিলেন না, আবার কেউ বলেন তিনি নাফযা গোত্রের বারবার। মুসা তাঁর জন্য সেনাপতিত্বের ঝাণ্ডা বাঁধলেন এবং তাঁকে সাত হাজার বারবার ও মুক্তদাসদের সমন্বয়ে পাঠালেন, যাদের মধ্যে আরব ছিল অতি সামান্য। অতঃপর জুলিয়ান তাঁর জন্য নৌযানসমূহ প্রস্তুত করলেন এবং তিনি ৯২ হিজরির শাবান মাসের এক শনিবার জাবালে তারিক-এ অবতরণ করলেন, যা ছিল অনারবীয় অগাস্ট মাস। কেউ বলেন তা ছিল সেই বছরের রজব মাসে। তখন তাঁর সাথে ছিলেন ষোলো জন কম বারো হাজার সৈন্য, যাদের মধ্যে আরব ছিল অতি সামান্য।

তারিক উপদ্বীপের এক বৃদ্ধার সাক্ষাৎ পেলেন। তিনি তাকে বললেন: "আমার এক স্বামী ছিল যিনি ভবিষ্যৎ ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি এমন এক আমীর সম্পর্কে বলতেন যিনি আমাদের এই দেশে প্রবেশ করবেন এবং তাঁর বর্ণনায় বলতেন যে তাঁর মাথা হবে বিশাল, আর আপনিও ঠিক তেমন! আর তার একটি নিদর্শন হলো তাঁর বাম কাঁধে একটি তিল থাকবে যার ওপর চুল থাকবে। যদি আপনার মধ্যে এই তিল থাকে তবে আপনিই সেই ব্যক্তি।" তখন তারিক তাঁর কাপড় সরালেন এবং বৃদ্ধা যেমনটি বলেছিলেন ঠিক তেমনি তাঁর কাঁধে সেই তিলটি দেখতে পেলেন। এতে তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা অত্যন্ত আনন্দিত হলেন।

তারিক সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নৌযানে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং চার খলিফাকে দেখলেন যে তাঁরা পানির ওপর দিয়ে হেঁটে তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিজয়ের সুসংবাদ দিলেন এবং মুসলমানদের প্রতি সদয় হতে ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার আদেশ দিলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, যখন তিনি সমুদ্রযাত্রা করছিলেন, তাঁর চোখে তন্দ্রা নেমে এলো। তিনি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন এবং তাঁর চারপাশে মুহাজির ও আনসারগণ তরবারি পরিহিত অবস্থায় ও ধনুক কাঁধে ঝুলিয়ে অবস্থান করছেন। তখন নবী তাঁকে বললেন: "হে তারিক! তোমার লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হও!" তিনি দেখলেন যে তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা তাঁর সম্মুখেই আন্দালুসে প্রবেশ করেছেন। তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং তাঁর সঙ্গীদের সুসংবাদ দিলেন। বিজয়ের ব্যাপারে তাঁর আর কোনো সন্দেহ রইল না। তিনি পাহাড়ে অবতরণ করে সমতল ভূমিতে আক্রমণ শুরু করলেন। সেই সময় রডারিক তাঁর কোনো এক যুদ্ধে লিপ্ত থাকায় অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর কাছে এই সংবাদ পৌঁছালে তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং জুলিয়ানের পক্ষ থেকে যে সংবাদ এসেছে তার গুরুত্ব অনুধাবন করলেন। তিনি ত্বরিত গতিতে তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়ে এগিয়ে এলেন এবং কর্ডোভায় বেশ কয়েক দিন অবস্থান করলেন, আর সেখানে তাঁর নিকট ক্রমাগত সৈন্যবাহিনী জমা হতে লাগল।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১০)
وكان في وجهته ولى ششبوت بن الملك غيطشه ميمنته وأخاه ميسرته، وهما الولدان الذان سلبهما ملك أبيهما، فبعثا إلى طارق يسألانه الأمان إذا مالا إليه عند اللقاء بمن معهما، وعلى أن يسلم إليهما ضياع والدهما غيطشة إن ظفر، فأجابهما طارق إلى ذلك، وعاقدهما عليه؛ فلما التقى الجمعان انحاز هذان الغلامان إلى طارق، فكان ذلك سبب الفتح، وكان الطاغية لذريق في ستمائة ألف فارسٍ.

وقد خرجت عن حكم الاختصار الذى التزمت في هذا الوضع فلنقتصر على هذا القدر، وأما ذكر بلاد الأندلس فتأتى في مواضعها اللائقة بها إن شاء الله تعالى.

وافتتحت الأندلس في أيام الوليد بن عبد الملك، فكان فتحها من أعظم الفتوح الذاهبة بالصيت في ظهور الملة الحنيفية؛ وكان عمر بن عبد العزيز معتنياً بها، مهتماً بشأنها، وهو الذي قطعها عن نظر وإلى إفريقية وجرد لها عاملاً من قبله.

 

‌‌أبال

حصن بالأندلس في شمال قرطبة وعلى مرحلة منها، وهو الحصن الذي فيه معدن الزئبق.

وفيه يعمل الزنجفور ومنه يتجهز بالزئبق والزنجفور إلى جميع أقطار الأرض، ويخدم هذا المعدن أكثر من ألف رجلٍ، فقوم للنزول وقطع الحجر، وقوم لنقل الحطب لحرق المعدن، وقوم لعمل أواني السبك والتصفية، وقوم لبنيان الأفران والحرق، ومن وجه الأرض إلى أسفله فيما حكى أكثر من مائة قامةٍ.
তার সম্মুখভাগে রাজা ঘাইতাশাহর পুত্র সিসবার্ট ছিল ডান বাহুতে এবং তার ভাই ছিল বাম বাহুতে; এই দুইজন সেই সন্তান যাদের থেকে তাদের পিতার রাজত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তারা তারিক বিন জিয়াদের নিকট এই মর্মে নিরাপত্তা চেয়ে বার্তা পাঠাল যে, যুদ্ধের সময় তারা তাদের অনুসারীদের নিয়ে তার সাথে যোগ দেবে, এই শর্তে যে যদি তিনি জয়লাভ করেন তবে তাদের পিতার জমিজমা তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। তারিক তাদের প্রস্তাবে সম্মত হলেন এবং তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেন। যখন দুই বাহিনী মুখোমুখি হলো, তখন এই দুই যুবক তারিকের পক্ষে চলে এল, আর এটিই ছিল বিজয়ের প্রধান কারণ। স্বৈরাচারী রডারিক তখন ছয় লক্ষ অশ্বারোহী সৈন্যের সাথে ছিল।

আমি এই স্থানে যে সংক্ষেপণের নীতি অবলম্বন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা থেকে কিছুটা বিচ্যুত হয়ে পড়েছি, তাই এই পরিমাণেই সীমাবদ্ধ থাকছি। আর আন্দালুস ভূখণ্ডের বর্ণনা আল্লাহ তাআলা চাইলে যথোপযুক্ত স্থানে আসবে।

আন্দালুস বিজিত হয়েছিল ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের শাসনামলে। এর বিজয় ছিল ইসলামি মিল্লাতের উত্থানে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও মহান বিজয়গুলোর অন্যতম। উমর বিন আব্দুল আজিজ এর প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং এর বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতেন। তিনিই আন্দালুসকে আফ্রিকার গভর্নরের তত্ত্বাবধান থেকে পৃথক করেছিলেন এবং নিজের পক্ষ থেকে এর জন্য একজন স্বতন্ত্র প্রশাসক নিয়োগ করেছিলেন।

 

‌‌আব্বল

এটি আন্দালুসের একটি দুর্গ যা কর্ডোভার উত্তরে এবং সেখান থেকে এক পর্যায় দূরত্বে অবস্থিত। এটি সেই দুর্গ যেখানে পারদের খনি রয়েছে।

সেখানে শিংরাফ তৈরি করা হয় এবং সেখান থেকেই পারদ ও শিংরাফ পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। এই খনিতে এক হাজারেরও বেশি মানুষ কাজ করে; একদল খনিতে নামা ও পাথর কাটার জন্য, একদল খনিজ পুড়ানোর জন্য কাঠ বহনের জন্য, একদল ছাঁচে ঢালাই এবং পরিশোধনের পাত্র তৈরির জন্য এবং একদল চুল্লি নির্মাণ ও পুড়ানোর কাজে নিয়োজিত। বর্ণনা অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠ থেকে এর তলদেশ পর্যন্ত গভীরতা একশ মানব-উচ্চতারও বেশি।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أبذة

مدينة بالأندلس.

بينها وبينب بياسة سبعة أميال، وهي مدينة صغيرة وعلى مقربة من النهر الكبير، ولها مزارع وغلات، قمح وشعير، كثيرة جداً.

وفي سنة 609 مالت عليها جموع النصرانية بعد كائنة العقاب، وكان أهلها قد أنفوا من إخلائها كما فعل جيرانها أهل بياسة، ولم ترفع تلك الجموع يداً عن قتالها حتى ملكتها بالسيف، وقتل فيها كثير، وأسروا كثيراً، ووقع على ما كان فيها بين أجناس النصارى خصام آل إلى الشحناء والافتراق، وكفى الله المسلمين بذلك شراً كثيراً، وكان بعضهم قد طلب أبذة فتنافسوا فيها ولم يأخذها أحد منهم وخربوا أسوارها.

 

‌‌أبطير

حصن بالأندلس بمقربة من بطليوس، من بناء محمد بن أبي بعامر من جليل الصخر، داخله عين ماء خرارة، وهو اليوم خالٍ.

وعلى مقربة منه، بنحو ثلاث غلاءٍ، قبر في نشزٍ من الأرض قد نحت في حجرٍ وقد نضد عليه صفائح الحجارة، ويعرف بقبر الشهيد، ولا يعلم له وقت لقدمه، يرفع عنه بعض تلك الصفائح فيرى صحيح الجسم لم يتغير، نابت الشعر.

 

‌‌أربونة

مدينة هي آخر ما كان بأيدي المسلمين من مدن الأندلس وثغورها مما يلي بلاد
আবদাহ

আন্দালুসের একটি শহর।

এটি এবং বাইয়াসার মধ্যকার দূরত্ব সাত মাইল। এটি একটি ছোট শহর এবং বড় নদীর সন্নিকটে অবস্থিত। এতে প্রচুর কৃষিজমি ও শস্য রয়েছে; বিশেষ করে গম ও যব প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়।

৬০৯ হিজরি সনে ‘আল-উকাব’ যুদ্ধের পর খ্রিস্টান বাহিনী এর দিকে ধাবিত হয়। এর অধিবাসীরা তাদের প্রতিবেশী বাইয়াসাবাসীদের মতো শহরটি ছেড়ে যেতে অস্বীকার করেছিল। সেই বাহিনী তলোয়ারের জোরে শহরটি দখল না করা পর্যন্ত লড়াই থেকে ক্ষান্ত হয়নি। সেখানে অনেক লোক নিহত হয় এবং অনেককে বন্দী করা হয়। সেখানে যা কিছু ছিল তা নিয়ে বিভিন্ন খ্রিস্টান গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত শত্রুতা ও বিচ্ছিন্নতায় রূপ নেয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ মুসলিমদের অনেক বড় অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবদাহ শহরের নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিল, ফলে তারা এটি নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। শেষ পর্যন্ত তাদের কেউই এটি গ্রহণ করেনি এবং তারা এর প্রাচীরগুলো ধ্বংস করে দেয়।

 

‌আবতির

আন্দালুসের একটি দুর্গ যা বাতলিয়ূসের সন্নিকটে অবস্থিত। এটি মুহাম্মদ বিন আবি আমির বিশালাকার পাথর দিয়ে নির্মাণ করেছিলেন। এর ভেতরে একটি খরস্রোতা পানির ঝরনা রয়েছে এবং বর্তমানে এটি জনশূন্য।

এর অদূরে, প্রায় তিন তীরের পাল্লা সমান দূরত্বে, ভূমির এক উঁচু স্থানে একটি কবর রয়েছে যা পাথরের ওপর খোদাই করা এবং তার ওপর পাথরের ফলক সাজানো রয়েছে। এটি শহীদের কবর নামে পরিচিত। এর প্রাচীনত্বের কারণে এর সময়কাল সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। সেই ফলকগুলোর কিছু অংশ সরালে দেখা যায় যে, তাঁর দেহটি সুস্থ ও অক্ষত রয়েছে, কোনো পরিবর্তন ঘটেনি এবং চুলও গজানো অবস্থায় রয়েছে।

 

‌আরবুনাহ

এটি একটি শহর যা আন্দালুসের শহর ও সীমান্ত এলাকাগুলোর মধ্যে মুসলিমদের অধিকারে থাকা সর্বশেষ শহর ছিল, যা পরবর্তী দেশগুলোর সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১২)
الإفرنجة، وقد خرجت من أيدي المسلمين سنة 330مع غيرها مما كان في أيدي المسلمين من المدن والحصون.

 

‌‌أرجونة

مدينة أو قلعة بالأندلس، إليها ينسب محمد بن يوسف بن الأحمر الارجوني من متأخرى سلاطين الأندلس.

 

‌‌أرشذونة

بالأندلس وهي قاعدة كورةٍ، ومنزل الولاة والعمال، وهي بقبلى قرطبة، تسقى أرضها وتطرد في نواحيها عيون غزار، وأنهار كبار، وهي برية بحرية، سهلها واسع وجبلها مانع، وسورها الآن مهدوم، ولها حصن فوق المدينة، ولها مدن كثيرة، وبها آثار قديمة، ومن مدنها مالقة، بينهما وعشرون ميلاً.

 

‌‌أرغون

هو اسم بلاد غرسية بن شانجه تشتمل على بلادٍ ومنازل وأعمالٍ.

 

‌‌الأرك

هو حصن منيع بمقربة من قلعة رباح أول حصون إذ فونش بالأندلس، وهناك كانت وقعة الأرك على صاحب قشتالة وجموع النصارى على يد المنصور يعقوب ابن يوسف بن عبد المؤمن بن علي ملك المغرب في سنة 591؛ وكان بلغ المنصور يعقوب
ফ্রাঙ্করা, এবং ৩৩০ হিজরি সনে এটি মুসলিমদের হাত থেকে বেরিয়ে যায়, সাথে আরও অন্যান্য শহর ও দুর্গ যা মুসলিমদের অধীনে ছিল।

 

‌‌আরজুনা

এটি আন্দালুসের একটি শহর বা দুর্গ। আন্দালুসের পরবর্তী যুগের সুলতানদের অন্যতম মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আল-আহমার আল-আরজুনি এই শহরের দিকেই সম্পৃক্ত।

 

‌‌আরশাযুনা

এটি আন্দালুসে অবস্থিত এবং এটি একটি প্রশাসনিক অঞ্চলের কেন্দ্র, গভর্নর ও আমলাদের আবাসস্থল। এটি কর্ডোভার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এর ভূমি সেচপ্রাপ্ত এবং এর চারপাশ দিয়ে প্রচুর ঝরনা ও বড় বড় নদী প্রবাহিত। এটি স্থল ও নৌ-যোগাযোগ সমৃদ্ধ এলাকা, এর সমতল ভূমি প্রশস্ত এবং পর্বত দুর্ভেদ্য। এর প্রাচীর এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। শহরের উপরে একটি দুর্গ রয়েছে এবং এর অধীনে অনেক শহর আছে। সেখানে প্রাচীন নিদর্শনাবলি রয়েছে। এর শহরগুলোর মধ্যে মালাকা অন্যতম, যে দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব কুড়ি মাইল।

 

‌‌আরগুন

এটি গার্সিয়া ইবনে সানচোর অঞ্চলের নাম, যা বিভিন্ন জনপদ, আবাসস্থল এবং প্রশাসনিক এলাকা নিয়ে গঠিত।

 

‌‌আল-আরক

এটি আন্দালুসের কালাত রাবাহ-এর নিকটবর্তী একটি সুরক্ষিত দুর্গ, যা আলফনসোর দুর্গসমূহের মধ্যে প্রথম। সেখানে ৫৯১ হিজরি সনে কাস্টিল রাজ ও খ্রিষ্টান বাহিনীর বিরুদ্ধে মাগরিবের শাসক মানসুর ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ ইবনে আবদুল মুমিন ইবনে আলীর হাতে 'আল-আরকের যুদ্ধ' সংঘটিত হয়েছিল। মানসুর ইয়াকুবের নিকট সংবাদ পৌঁছেছিল...
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১৩)
أن صاحب قشتالة شن الغارات على بلاد المسلمين بالأندلس شرقاً وغرباً في يوم واحدٍ، وعم ذلك جهة إشبيلية ونواحيها، فامتعض من ذلك ثم تحرك من حضرته مراكش إلى الأندلس واستقر بإشبيلية فأعرض الجند وأعطى البركات، ثم نهض في الحادي عشر من جمادى الأخرى ووصل قرطبة فروح بها فالتقى الجمعان بجسر الأرك والتحم القتال فانهزم العدو وركبهم بالسيف من ضحى يوم الأربعاء تاسع شعبان إلى الزوال وانتهب محلة الروم وقتل منهم زهاء ثلاثين ألفاً، واستشهد من المسلمين دون الخمسمائة، وأفلت إذ فونش واجتاز على طليطلة لا يعرج على شئ في عشرين فارساً، وحصر المسلمون فلهم بحصن الأرك وكانوا خمسة آلاف فصالحوا بقدرهم من أسارى المسلمين.

وسمعت من يحدث أن هذا الفتح كان اتفاقيا بسبب إحراز الروم بعض رايات المسلمين وذهابهم بها قائمةً منتصبةً وانبعاث حفائظ بعض القبائل لما عاينوا راية إخوانهم مقدمةً على العدو، وإذ ظنوا أن أصحابهم حملوا على العدو فأوغلوا وهم لا يعلمون الحال، وكيفما كان فهو فتح مبين ونصر مؤزر.

ثم رجع المنصور إلى إشبيلية ظافراً فأقام مدة ثم غزا بلاد الجوف فحاصر ترجاله ونزل على بلنسية ففتحها عنوةً، وقبض على قائدها يومئذ مع مائة وخمسين من أعيان كفارها، ووجههم إلى خدمة بناء الجامع الكبير بسلا مع أسارى الأرك، ثم انتقل إلى طلبيرة ومكادة فخربهما، ثم برز على طليطلة فشن عليها الغارات، ثم نازل مجريط وشرع في القفول، فأخذ على جيان إلى قرطبة إلى

 

‌‌إستجة إلى قرمونة، ووصل إلى إشبيلية في رمضان.
কাস্টিলের অধিপতি আন্দালুসের মুসলিম ভূখণ্ডের পূর্ব ও পশ্চিমে একদিনে আক্রমণ চালিয়েছিলেন এবং তা সেভিল ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে তিনি (খলিফা) অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেন, অতঃপর তাঁর রাজধানী মারাক্কেশ থেকে আন্দালুসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সেভিলে অবস্থান গ্রহণ করলেন। তিনি সৈন্যদল পরিদর্শন করলেন এবং প্রচুর দান-দক্ষিণা দিলেন। এরপর তিনি জুমাদাল আখিরা মাসের ১১ তারিখে অগ্রসর হয়ে কর্ডোভায় পৌঁছালেন এবং সেখানে বিশ্রাম নিলেন। অতঃপর আরক ব্রিজের নিকট উভয় বাহিনী মুখোমুখি হল এবং তুমুল লড়াই শুরু হল। শত্রুরা পরাজিত হল এবং বুধবার ৯ই শাবান চাশতের ওয়াক্ত থেকে শুরু করে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত তাদের ওপর তরবারি চালানো হল। রোমানদের তাবু লুণ্ঠন করা হল এবং তাদের প্রায় ত্রিশ হাজার সৈন্য নিহত হল, যেখানে মুসলিমদের মধ্য থেকে শহীদ হলেন পাঁচশ জনেরও কম। আলফোনসো পালিয়ে গেল এবং বিশজন অশ্বারোহী নিয়ে কোনো দিকে না তাকিয়ে টলেডো অতিক্রম করল। মুসলিমরা আরক দুর্গ অবরোধ করল, সেখানে পাঁচ হাজার সৈন্য ছিল; অতঃপর তারা সমসংখ্যক মুসলিম বন্দীদের মুক্তির শর্তে সন্ধি করল।

আমি কাউকে বলতে শুনেছি যে, এই বিজয়টি ছিল আকস্মিক; কারণ রোমানরা মুসলিমদের কিছু পতাকা দখল করে তা সোজা করে ধরে রেখেছিল। কিছু গোত্রের মাঝে তখন বীরত্ব ও আত্মমর্যাদা জেগে ওঠে যখন তারা দেখল তাদের ভাইদের পতাকা শত্রুদের অগ্রভাগে রয়েছে; তারা মনে করেছিল যে তাদের সঙ্গীরা শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে, অথচ তারা প্রকৃত অবস্থা জানত না। ঘটনা যাই হোক না কেন, এটি ছিল একটি সুস্পষ্ট বিজয় এবং শক্তিশালী সাহায্য।

অতঃপর আল-মনসুর বিজয়ী বেশে সেভিলে ফিরে এলেন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করলেন। এরপর তিনি জাউফ অঞ্চল অভিযানে বের হয়ে ত্রুহিলো অবরোধ করলেন এবং ভ্যালেন্সিয়া আক্রমণ করে তা শক্তি প্রয়োগে জয় করলেন। তিনি সেদিন সেখানকার শাসনকর্তাসহ একশ পঞ্চাশ জন গণ্যমান্য কাফেরকে বন্দী করলেন এবং আরক যুদ্ধের বন্দীদের সাথে তাদের সালের জামে মসজিদের নির্মাণকাজে নিয়োজিত করার জন্য পাঠিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তালাভেরা ও মাকাদায় গিয়ে সে দুটি ধ্বংস করলেন। এরপর তিনি টলেডোর উপকণ্ঠে পৌঁছে সেখানে আক্রমণ চালালেন। অতঃপর তিনি মাদ্রিদে অবতরণ করে ফেরার পথ ধরলেন। তিনি জাইন হয়ে কর্ডোভা থেকে

 

‌‌এসিজা হয়ে কারমোনা হয়ে রমজান মাসে সেভিলে পৌঁছালেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌أركش

حصن بالأندلس على وادي لكه وهو مدينة أزلية قد خربت مراراً وعمرت، وعندها زيتون كثير.

 

‌‌أرنيط

مدينة بالأندلس أولية بينها وبين تطيلة ثلاثون ميلاً، وحواليها بطاح طيبة المزارع، وهي قلعة عظيمة منيعة من أجل القلاع، وفيها بئر عذبة لا تنزح، قد أنبطت في الحجر الصلد؛ وهذه القلعة مطلة على أرض العدو، وبينها وبين تطيلة ثلاثون ميلاً.

إستجة

بين القبلة والغرب من قرطبة بينهما مرحلة كاملة، وهي مدينة قديمة لم يزل أهلها في جاهليةٍ وإسلامٍ على انحرافٍ وخروج عن الطاعة. ومعنى هذا الاسم عندهم جمعت الفوائد؛ وفي أخبار الحدثان إنه كان يقال: إستجة البغي، مذكورة باللعنة والخزى، ويذهب خيارها، ويبقى شرارها.

وكانت هيئتها التي ألفاها عليها طارق بن زياد أن سورها كان قد عقد بسورين أحدهما صخر أبيض والثاني صخر أحمر بأجمل صنعةٍ وأحكم بناءٍ، وردم وسوى
আরকাশ

আন্দালুসের একটি দুর্গ যা লাক্কা উপত্যকার তীরে অবস্থিত। এটি একটি অতি প্রাচীন শহর যা বহুবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে এবং পুনরায় আবাদ করা হয়েছে। এখানে প্রচুর জলপাই গাছ রয়েছে।

 

আরনিত

আন্দালুসের একটি প্রাচীন শহর, এটি এবং তুতিলা-র মধ্যবর্তী দূরত্ব ত্রিশ মাইল। এর চারপাশ চমৎকার আবাদযোগ্য সমতল ভূমি বেষ্টিত। এটি অত্যন্ত সুদৃঢ় ও বিশাল দুর্গসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এতে মিষ্টি পানির একটি কূপ রয়েছে যা কখনো নিঃশেষ হয় না; এটি নিরেট পাথর খুঁড়ে বের করা হয়েছে। এই দুর্গটি শত্রু ভূখণ্ডের ওপর নজরদারি করার মতো অবস্থানে অবস্থিত। এটি এবং তুতিলা-র মধ্যবর্তী দূরত্ব ত্রিশ মাইল।

ইস্তিজাহ

কর্ডোবা থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানে এটি অবস্থিত, উভয়ের মধ্যে দূরত্ব পূর্ণ এক মঞ্জিল। এটি একটি প্রাচীন শহর, জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগেই এর অধিবাসীরা সর্বদা সত্যচ্যুতি ও অবাধ্যতায় লিপ্ত ছিল। তাদের মতে এই নামের অর্থ হলো ‘উপকারিতার সমাহার’। ইতিহাসের বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, একে ‘বিদ্রোহী ইস্তিজাহ’ বলা হতো। এটি অভিশাপ ও লাঞ্ছনার সাথে পরিচিত; এর উত্তম ব্যক্তিরা চলে যায় এবং নিকৃষ্টরাই অবশিষ্ট থাকে।

তারিক বিন যিয়াদ একে যে অবস্থায় পেয়েছিলেন তা হলো—এর প্রাচীর দুটি স্তরে নির্মিত ছিল; যার একটি সাদা পাথরের এবং অন্যটি লাল পাথরের। এটি অত্যন্ত চমৎকার কারুকার্যমন্ডিত ও সুদৃঢ় নির্মাণশৈলী দ্বারা তৈরি ছিল এবং তা ভরাট ও সমতল করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১৫)
ووضع في مواضع الشرفات من المرمر صور بني آدم من كل الجهات تواجه القاصد نحوها فلا يشك الناظر أنها رجال وقوف، وكان لها من الأبواب باب القنطرة شرقي، باب أشونة قبلي، باب رزق غربي، باب السويقة جوفي، وغير ذلك من الأبواب، والمدينة مبنية على الرصيف الأعظم المسلوك عليه من البحر إلى البحر.

وكانت إستجة واسعة الأرباض ذات أسواقٍ عامرةٍ وفنادق جمةٍ، وجامعها في ربضها مبنى بالصخر له خمس بلاطات على أعمدة رخامٍ، وتجاوره كنيسة للنصارى؛ وبإستجة آثار كثيرة ورسوم تحت الأرض موجودة وهي منفسحة الخطة، عذبة الأرض، زكية الريع، كثيرة الثمار والبساتين، نضيرة الفواكه والزرع، ولها أقاليم خمسة.

وكان أهل إستجة ممن خلع وخالف، فافتتحها عبد الرحمن بن محمد على يد بدر الحاجب سنة300، فهدم سورها ووضع بالأرض قواعدها، وألحق أعاليها بأسافلها، وهدم قنطرة نهرها، وفي ذلك يقول أحمد بن محمد بن عبد ربه " طويل ".

ألا إنه فتح يقر له الفتح … فأوله سعد وآخره نجح

سرى القاعد الميمون خير سريةٍ … تقدمها نصر وتابعها فتح

ألم تره أردى بإستجة العدا … فلقوا عذاباً كان موعده الصبح

فلا عهد للمراء من بعد هذه … يتم له عند الإمام ولا صلح

فولوا عباديد بكل ثنيةٍ … وقد مسهم قدح وما مسنا قدح

وبين إستجة ومرشانة عشرون ميلاً، وكذلك بينها وبين قرمونة.
আর মার্বেল পাথরের বারান্দাগুলোতে চতুর্দিক থেকে বনী আদমের এমন সব প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছিল যা আগন্তুকের অভিমুখী ছিল, ফলে দর্শক বিন্দুমাত্র সন্দেহ করত না যে এগুলো দণ্ডায়মান ব্যক্তি। এর ফটকগুলোর মধ্যে ছিল পূর্ব দিকে বাবুল কানতারা (সেতু তোরণ), দক্ষিণ দিকে বাবু আশুনা, পশ্চিম দিকে বাবু রিজক, উত্তর দিকে বাবুস সুওয়াইকা এবং আরও অন্যান্য ফটক। আর শহরটি সেই মহান প্রশস্ত পথের ওপর নির্মিত ছিল যা এক সমুদ্র থেকে অন্য সমুদ্র পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হতো।

ইস্তিজিয়া ছিল প্রশস্ত উপশহর বিশিষ্ট, যার বাজারগুলো ছিল জনাকীর্ণ এবং যেখানে প্রচুর সরাইখানা ছিল। এর জামে মসজিদটি ছিল উপশহরে, যা পাথর দ্বারা নির্মিত ছিল; এর মার্বেল পাথরের স্তম্ভগুলোর ওপর পাঁচটি বারান্দা ছিল এবং এর পাশেই ছিল নাসারাদের একটি গির্জা। ইস্তিজিয়ায় অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও মাটির নিচে বিদ্যমান ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এটি বিস্তৃত ভূখণ্ডের অধিকারী, এর মাটি সুমিষ্ট, উৎপাদন বরকতময়, ফলমূল ও বাগান সমৃদ্ধ, শস্য ও ফলের সজীবতায় ভরপুর এবং এর পাঁচটি অঞ্চল রয়েছে।

ইস্তিজিয়ার অধিবাসীরা বিদ্রোহ ও বিরোধিতা করেছিল, ফলে ৩০০ হিজরি সনে বদর আল-হাজিবের মাধ্যমে আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ এটি জয় করেন। তিনি এর নগরপ্রাচীর ধ্বংস করে দেন এবং এর ভিত্তি মাটির সাথে মিশিয়ে দেন, এর উপরিভাগকে নিচের সাথে একীভূত করেন এবং এর নদীর ওপরের সেতুটি ধ্বংস করেন। আর এ সম্পর্কে আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দ রাব্বিহি "তওয়ীল" ছন্দে বলেন:

জেনে রেখো, এটি এমন এক বিজয় যার কাছে অন্য সকল বিজয় মস্তক অবনত করে … যার শুরু ছিল সৌভাগ্য এবং সমাপ্তি ছিল সফলতা।

কল্যাণময় নেতা এক শ্রেষ্ঠ অভিযানে বের হলেন … যার অগ্রভাগে ছিল সাহায্য এবং অনুগামী ছিল বিজয়।

তুমি কি দেখনি তিনি ইস্তিজিয়ায় শত্রুদের ধ্বংস করেছেন … ফলে তারা এমন শাস্তির সম্মুখীন হয়েছে যার নির্ধারিত সময় ছিল সকালবেলা।

অতঃপর কোনো সংশয়বাদীর জন্য এর পরে ইমামের নিকট আর কোনো অঙ্গীকার বা সন্ধি পূর্ণতা পাবে না।

ফলে তারা প্রতিটি গিরিপথে বিচ্ছিন্নভাবে পালিয়ে গেল … তাদের ওপর আঘাত হেনেছে কিন্তু আমাদের কোনো আঘাত স্পর্শ করেনি।

ইস্তিজিয়া ও মার্শানার মধ্যবর্তী দূরত্ব বিশ মাইল, আর একইভাবে এর ও কারমুনার মধ্যবর্তী দূরত্বও বিশ মাইল।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌أشبونة

بالأندلس من كور باجة المختلطة بها، وهي مدينة الاشبونة، والأشبونة بغربي باجة، وهي مدينة قديمة على سيف البحر تنكسر أمواجه في سورها، واسمها قودية، وسورها رائق البنيان، بديع الشأن، وبابها الغربي قد عقدت عليه حنايا فوق حنايا على عمدٍ من رخام مثبتةٍ على حجارة من رخام وهو أكبر أبوابها، ولها باب غربي أيضاً يعرف بباب الخوخة مشرف على سرح فسيح يشقه جدولا ماء يصبان في البحر، ولها باب قبلي يسمى باب البحر تدخل أمواج البحر فيه عند مده وترتفع في سوره ثلاث قيم، وباب شرقي يعرف بباب الحمة، والحمة على مقربةٍ منه ومن البحر ديماس ماءٍ حارٍ وماءٍ باردٍ، فإذا مد البحر واراهما؛ وباب شرقي أيضاً يعرف بباب المقبرة.

والمدينة في ذاتها حسنة ممتدة مع النهر، لها سور وقصبة منيعة؛ والأشبونة على نحر البحر المظلم؛ وعلى ضفة البحر من جنوبه قبالة مدينة الأشبونة حصن المعدن؛ ويسمى بذلك لأن عند هيجان البحر يقذف بالذهب التبر هناك؛ فإذا كان الشتاء قصد إلى هذا الحصن أهل تلك البلاد فيخدمون المعدن الذي به إلى انقضاء الشتاء، وهو من عجائب الأرض.

ومن مدينة الأشبونة كان خروج المغرورين في ركوب بحر الظلمات ليعرفوا ما فيه وإلى أين انتهاؤه، ولهم بأشبونة موضع بقرب الحمة منسوب إليهم يعرف
আশবনা

আন্দালুসের বাজা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত যা এর সাথে সংলগ্ন, আর এটি হলো আশবনা শহর। আশবনা বাজার পশ্চিমে অবস্থিত। এটি সমুদ্রতীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন শহর যার প্রাচীরে সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ে। এর নাম কুদিয়া। এর প্রাচীরের নির্মাণশৈলী অত্যন্ত মনোরম ও বিস্ময়কর। এর পশ্চিম তোরণটি মার্বেল পাথরের স্তম্ভের ওপর একের পর এক খিলান দিয়ে নির্মিত, যা মার্বেল পাথরেরই ভিত্তির ওপর স্থাপিত এবং এটিই শহরের বৃহত্তম তোরণ। এর আরেকটি পশ্চিম তোরণ রয়েছে যা 'বাবুল খুখা' নামে পরিচিত। এটি একটি প্রশস্ত চারণভূমির দিকে উন্মুক্ত, যার মাঝখান দিয়ে দুটি জলধারা প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে। এর দক্ষিণ দিকে একটি তোরণ রয়েছে যাকে 'বাবুল বাহর' (সমুদ্র তোরণ) বলা হয়। জোয়ারের সময় সমুদ্রের ঢেউ এর ভেতর প্রবেশ করে এবং এর প্রাচীরে তিন মানব-উচ্চতা পর্যন্ত উপরে ওঠে। এর পূর্ব দিকে একটি তোরণ রয়েছে যা 'বাবুল হাম্মাহ' নামে পরিচিত। এই তোরণ এবং সমুদ্রের কাছেই উষ্ণ ও শীতল পানির একটি কুণ্ড রয়েছে। যখন সমুদ্রের জোয়ার আসে, তখন তা এই দুটিকে ঢেকে দেয়। এর পূর্ব দিকে আরও একটি তোরণ আছে যা 'বাবুল মাকবারাহ' (কবরস্থান তোরণ) নামে পরিচিত।

শহরটি নিজস্ব অবয়বে অত্যন্ত সুন্দর এবং নদীর সমান্তরালে বিস্তৃত। এর একটি প্রাচীর ও একটি সুরক্ষিত দুর্গ রয়েছে। আশবনা অন্ধকার সমুদ্রের তীরে অবস্থিত। আশবনা শহরের বিপরীতে সমুদ্রের দক্ষিণ তীরে 'হিসনুল মাদিন' (খনি দুর্গ) অবস্থিত। একে এই নামে অভিহিত করা হয় কারণ সমুদ্র যখন উত্তাল হয়, তখন সেখানে কাঁচা সোনা নিক্ষেপ করে। শীতকাল এলে ওই অঞ্চলের অধিবাসীরা এই দুর্গের দিকে যাত্রা করে এবং শীত শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানকার খনিতে কাজ করে। এটি পৃথিবীর অন্যতম এক বিস্ময়।

এই আশবনা শহর থেকেই সেই দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা অন্ধকার সমুদ্রে পাড়ি জমিয়েছিল, যাতে তারা জানতে পারে সেখানে কী আছে এবং তার শেষ কোথায়। আশবনায় হাম্মাহর নিকটবর্তী স্থানে তাদের সাথে সম্পর্কিত একটি জায়গা রয়েছে যা পরিচিত...
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১৭)
بدرب المغرورين، وذلك أن ثمانية رجال، كلهم أبناء عمٍ، اجتمعوا فابتغوا مركباً وأدخلوا فيه من الماء والزاد ما يكفيهم لأشهرٍ، ثم دخلوا البحر في أول طاروس الريح الشرقية، فجروا بها نحواً من إحدى عشر يوماً؛ فوصلوا إلى بحرٍ غليظ الموج، كدر الروائح، كثير التروش، قليل الضوء، فأيقنوا بالتلف، فردوا قلعهم في اليد الأخرى، وجروا في البحر في ناحية اثنى عشر يوماً؛ فخرجوا إلى جزية الغنم، وفيها من الغنم مالا يأخذه عدو لا تحصيل، وهي سلوحة لا ناظر لها ولا راع، فقصدوا الجزيرة ونزلوها فوجدوا عين بماء جاريةً، عليها شجرة تينٍ برىٍ، فأخذوا من تلك الغنيم فذبحوها فوجدوا لحومها مرةً لا يقدر أحد على أكلها، فأخذوا من جلودها وساروا مع الجنوب اثنى عشر يوماً إلى أن لا حت لهم جزيرة، فنظروا فيها إلى عمارةٍ وحرثٍ، فقصدوا إليها ليروا ما فيها، فما كان إلا غير بعيدٍ حتى أحيط بهم في زوارق، فأخذوا وحملوا إلى مدينةٍ على ضفة البحر، فأنزلوا بها في دارٍ، فرأوا بها رجالاً شقراً زعراً، شعورهم سبطة، وهم طوال القدود، ولنسائهم جمال عجيب، فاعتقلوا في بيت ثلاثة أيام ثم دخل عليهم في اليوم الرابع رجل يتكلم باللسان العربي، فسألهم عن حالهم، وفيم جاؤوا، وأين بلادهم فأخبروه بكل خبرهم فوعدهم خيراً، وأعلمهم أنه ترجمان؛ فلما كان في اليوم الثاني من ذلك اليوم أحضروا بين يدي الملك، فسألهم عما سألهم عنه الترجمان فأخبروه بما أخبروا به الترجمان بالأمس، وأنهم اقتحموا البحر ليروا ما فيه من العجائب، وليقفوا على نهايته، فلما علم الملك ذلك ضحك وقال للترجمان: أخبر القوم أن أبي أمر قوماً من عبيده بركوب هذا البحر، وأنهم جروا في عرضه شهراً

মগরুরীনদের পথে, আর তা হলো আটজন ব্যক্তি, যারা সবাই ছিল পরস্পর চাচাতো ভাই, তারা একত্রিত হলো এবং একটি বড় নৌকা অনুসন্ধান করল। তারা তাতে কয়েক মাসের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও রসদ বোঝাই করল। অতঃপর তারা পূর্ব দিগন্তের বায়ুপ্রবাহের শুরুতে সমুদ্রে প্রবেশ করল এবং প্রায় এগারো দিন পর্যন্ত সেই বায়ুর অনুকূলে চলতে থাকল। অতঃপর তারা এমন এক সমুদ্রে পৌঁছাল যার ঢেউ ছিল অত্যন্ত উত্তাল, যার ঘ্রাণ ছিল দুর্গন্ধযুক্ত, যেখানে অন্ধকার ছিল ঘন এবং আলো ছিল অতি সামান্য। তখন তারা ধ্বংসের ব্যাপারে নিশ্চিত হলো। ফলে তারা তাদের পাল বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে দিল এবং সমুদ্রের এক পার্শ্বে বারো দিন পর্যন্ত যাত্রা করল। অতঃপর তারা মেষের দ্বীপে গিয়ে উপনীত হলো। সেখানে এমন অসংখ্য মেষ ছিল যা গুনে শেষ করা বা করায়ত্ত করা অসম্ভব। দ্বীপটি ছিল বিস্তৃত প্রান্তর সদৃশ, সেখানে কোনো তত্ত্বাবধায়ক বা রাখাল ছিল না। তারা দ্বীপটি লক্ষ্য করে অগ্রসর হলো এবং সেখানে অবতরণ করল। সেখানে তারা প্রবহমান একটি ঝরনা এবং তার নিকট একটি বুনো ডুমুর গাছ দেখতে পেল। তারা সেই ছোট ছোট মেষ থেকে কিছু ধরল এবং সেগুলো জবেহ করল, কিন্তু দেখতে পেল যে সেগুলোর গোশত অত্যন্ত তিতা, যা কারো পক্ষে খাওয়া সম্ভব নয়। তখন তারা সেগুলোর চামড়াগুলো নিল এবং দক্ষিণ দিক অভিমুখে বারো দিন পর্যন্ত পথ চলল, যতক্ষণ না তাদের কাছে একটি দ্বীপ দৃশ্যমান হলো। তারা সেখানে জনবসতি ও কৃষিক্ষেত দেখতে পেল এবং সেখানে কী আছে তা দেখার জন্য সেদিকে অগ্রসর হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই কতগুলো ছোট নৌকা তাদের ঘিরে ফেলল এবং তাদের বন্দি করে সমুদ্রতীরে অবস্থিত একটি শহরে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে তাদেরকে একটি বাড়িতে রাখা হলো। সেখানে তারা এমন সব পুরুষদের দেখল যারা ছিল লালচে ফর্সা বর্ণের, দাড়ি-গোঁফ ছিল সামান্য এবং মাথার চুল ছিল সোজা। তারা ছিল দীর্ঘকায় আর তাদের নারীদের রূপ ছিল বিস্ময়কর। তাদেরকে তিন দিন পর্যন্ত একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হলো। অতঃপর চতুর্থ দিনে তাদের কাছে এমন এক ব্যক্তি প্রবেশ করল যে আরবি ভাষায় কথা বলতে সক্ষম। সে তাদের অবস্থা, আসার কারণ এবং তাদের দেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তারা তাকে তাদের সকল সংবাদ জানাল। সে তাদের সাথে ভালো ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিল এবং জানাল যে সে একজন দোভাষী। যখন তার পরের দিন এল, তখন তাদেরকে রাজার সম্মুখে উপস্থিত করা হলো। দোভাষী তাদের কাছে যা জানতে চেয়েছিল, রাজাও তাদের কাছে ঠিক সেই বিষয়গুলোই জিজ্ঞাসা করলেন। তারা দোভাষীকে গতদিন যা বলেছিল রাজাকেও তাই অবহিত করল এবং জানাল যে, তারা সমুদ্রের বিস্ময়কর বিষয়াবলি দেখতে এবং এর শেষ সীমানা সম্পর্কে জানতে সমুদ্রে পাড়ি জমিয়েছে। রাজা যখন এ কথা জানতে পারলেন, তিনি হাসলেন এবং দোভাষীকে বললেন: এই লোকদের বলো যে, আমার পিতা তার একদল দাসকে এই সমুদ্রে যাত্রার আদেশ দিয়েছিলেন এবং তারা এর প্রশস্ততায় এক মাস পর্যন্ত পথ চলেছিল।

(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১৮)
إلى أن انقطع عنهم الضوء وانصرفوا من غير فائدةٍ تجدي، ثم وعدهم خيراً، وصرفوا إلى موضع حبسهم، إلى أن بدأ جرى الريح الغربية؛ فعمر بهم زورق وعصبت عيونهم وجرى بهم في البحر برهةً من الدهر.

قال القوم: قدرنا أنه جرى بنا ثلاثة أيامٍ بلياليها، حتى جئ بنا إلى البر، فأخرجنا وكتفنا إلى خلفٍ، وتركنا بالساحل إلى أن تضاحى النهار، وطلعت الشمس، ونحن في ضنكٍ وسوء حالٍ من شدة الكتاف، حتى سمعنا ضوضاء وأصوات ناسٍ فصحنا بجملتنا، فأقبل القوم إلينا فوجدونا بتلك الحال السيئة؛ فحلوا أو ثاقنا وسألونا فأخبرناهم بخبرنا، وكانوا برابر، فقال لنا أحدهم: أتعلمون كم بينكم وبين بلدكم؟ فقلنا: لا، فقال: مسيرة شهرين! فقال زعيم القوم: واأسفى! فسمى المكان إلى اليوم آسفي، وهو المرسى الذي في أقصى المغرب.

 

‌‌إشبيلية

مدينة بالأندلس جليلة بينها وبين قرطبة مسيرة ثلاثة أيامٍ، ومن الأميال ثمانون. وهي مدينة قديمة أزلية، يذكر أهل العلم باللسان اللطينى أن أصل تسميتها إشبالى معناه المدينة المنبسطة، ويقال إن الذي بناها يوليش القيصر، وإنه أول من تسمى قيصر، وكان سبب بنائه إياها أنه لما دخل الأندلس ووصل إلى مكانها أعجبه كرم ساحته، وطيب أرضه، وجبله المعروف بالشرف. فردم على النهر الأكبر مكاناً، وأقام فيه المدينة وأحدق عليها بأسوارٍ من صخرٍ، وبنى في وسط المدينة قصبتين
যতক্ষণ না তাদের নিকট থেকে আলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং তারা কোনো ফলপ্রসূ উপকার ছাড়াই প্রস্থান করল। এরপর তিনি তাদের মঙ্গলের প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং তাদের কারাবাসের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হলো, যতক্ষণ না পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হতে শুরু করল; তখন তাদের একটি নৌকাতে আরোহণ করানো হলো এবং তাদের চোখ বেঁধে দেওয়া হলো এবং সাগরে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের নিয়ে চলা হলো।

লোকেরা বলল: আমরা অনুমান করলাম যে আমাদের নিয়ে তিন দিন ও তিন রাত পথ চলা হয়েছে, যতক্ষণ না আমাদের স্থলে নিয়ে আসা হলো। অতঃপর আমাদের বের করা হলো এবং আমাদের হাতগুলো পেছনের দিকে বাঁধা হলো, আর আমাদের উপকূলের তীরে ফেলে রাখা হলো যতক্ষণ না দিন প্রখর হলো এবং সূর্য উদিত হলো। আমরা বাঁধনের তীব্রতায় অত্যন্ত সংকটে ও শোচনীয় অবস্থায় ছিলাম, এমনকি আমরা মানুষের হট্টগোল ও কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, তখন আমরা সমস্বরে চিৎকার করে উঠলাম। ফলে লোকেরা আমাদের কাছে এগিয়ে এল এবং আমাদের সেই শোচনীয় অবস্থায় দেখতে পেল; তারা আমাদের বাঁধন খুলে দিল এবং আমাদের জিজ্ঞাসা করল, তখন আমরা তাদের আমাদের সংবাদ জানালাম। তারা ছিল বারবার জনগোষ্ঠীর লোক। তাদের মধ্যে একজন আমাদের বলল: তোমরা কি জান তোমাদের ও তোমাদের দেশের মধ্যে কতটুকু দূরত্ব? আমরা বললাম: না। সে বলল: দুই মাসের পথ! তখন কাফেলার নেতা বলে উঠল: "ওয়া আসাফি" (হায় আফসোস)! তাই সেই স্থানের নাম আজ পর্যন্ত "আসাফি" রাখা হয়েছে, যা সুদূর মরক্কোর একটি বন্দর।

 

‌‌সেভিল (ইশবিলিয়াহ)

এটি আন্দালুসের একটি সুমহান শহর, এর এবং কুরতুবাহর মধ্যে তিন দিনের পথ এবং দূরত্বের হিসেবে আশি মাইল। এটি একটি অতি প্রাচীন শহর। লাতিন ভাষা বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেন যে, এর নামকরণের মূল উৎস হলো 'ইশপালি', যার অর্থ সমতল শহর। বলা হয় যে, এর নির্মাতা ছিলেন জুলিয়াস সিজার, এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাকে 'সিজার' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাঁর এটি নির্মাণের কারণ ছিল এই যে, যখন তিনি আন্দালুসে প্রবেশ করে এই স্থানে পৌঁছান, তখন এখানকার আঙিনার সৌন্দর্য, ভূমির উর্বরতা এবং 'আশ-শরাফ' নামক পাহাড় তাঁকে মুগ্ধ করে। অতঃপর তিনি বৃহৎ নদীর ওপর একটি স্থান ভরাট করেন এবং সেখানে শহরটি গড়ে তোলেন ও পাথরের প্রাচীর দিয়ে একে ঘিরে দেন এবং শহরের মধ্যস্থলে দুটি দুর্গ নির্মাণ করেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ১৯)
متقنتين عجيبتى الشأن، تعرفان بالأخوين، وجعلها أم قواعد الأندلس، واشتق لها اسماً من اسمه ومن اسم رومية فسماها رومية يوليش؛ ويقال إن إشبانيا اسم خاص ببلد إشبيلية الذي كان يبزله إشبان بن طيطش وباسمه سميت الأندلس إشبانيا، ولم تزل معظمة عند العجم من ذلك الوقت، وقد كان منها رجال ولوا قيادة العجم العظمى والمملكة بمدينة رومية، وروى ابن وضاح أن المرأة التي قتلت يحيى بن زكرياء عليه السلام من إشبيلية من قرية طالقة.

وهي كبيرة عامرة لها أسوار حصينة، وأسواقها عامرة، وخلقها كثير، وأهلها مياسير، وجل تجارتهم الزيت يتجهزون به إلى المشرق والمغرب برا وبحراً فيجتمع هذا الزيت من الشرف، وهو مسافة أربعين ميلاً كلها في ظل شجر الزيتون والتين، أوله مدينة إشبيلية، وآخره مدينة لبلة، وسعته اثنا عشر ميلاً، وفيه ثمانية آلاف قريةٍ عامرةٍ بالحمامات والديار الحسنة، وبين الشرف وإشبيلية ثلاثة أميال.

ومدينة إشبيلية موفية على النهر الكبير، وهو في غربيها؛ ويذكر في بعض الأخبار أن إشبان بن طيطش من ذرية طوبيل بن يافت بن نوح كان أحد أملاك الإشبانين، وخص بملك أكثر الدنيا، وأن بدء ظهوره كان من إشبيلية فغلظ أمره، وبعد صيته، وتمكن في كل ناحية سلطانه: فلما ملك نواحى الأندلس، وطاعت له أقاصى البلاد خرج في السفن من إشبيلية إلى إيلياء؛ فغنمها وهدمها وقتل بها من اليهود
সুনিপুণ ও বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, যা 'আল-আখাওয়াইন' (দুই ভাই) নামে পরিচিত ছিল। তিনি একে আন্দালুসের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন এবং নিজের নাম ও রোমের নামের সাথে মিলিয়ে এর নামকরণ করেছিলেন 'রূমিয়া ইউলিশ'। বলা হয়ে থাকে যে, 'ইশবানিয়া' নামটি বিশেষভাবে ইশবিলিয়াহ শহরের জন্য প্রযোজ্য ছিল, যেখানে ইশবান ইবনে তাইতাশ বসবাস করতেন এবং তার নামানুসারেই আন্দালুসকে 'ইশবানিয়া' নামকরণ করা হয়। সেই সময় থেকে অনারবদের নিকট এটি অত্যন্ত সম্মানিত ছিল। এখান থেকে এমন অনেক ব্যক্তি তৈরি হয়েছিলেন যারা রোম শহরে অনারবদের মহান নেতৃত্ব ও রাজত্ব পরিচালনা করেছিলেন। ইবনে ওয়াদদাহ বর্ণনা করেছেন যে, যে নারী ইয়াহিয়া ইবনে জাকারিয়া আলাইহিস সালামকে হত্যা করেছিলেন, তিনি ইশবিলিয়াহর 'তালিকা' নামক গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

এটি একটি বিশাল ও জনবহুল শহর, যার চারদিকে সুদৃঢ় প্রাচীর রয়েছে। এর বাজারগুলো সমৃদ্ধ এবং এখানকার জনসংখ্যা অনেক। এখানকার অধিবাসীরা সচ্ছল এবং তাদের প্রধান ব্যবসা হলো জয়তুনের তেল। তারা স্থল ও জলপথে পূর্ব ও পশ্চিমে এই তেল সরবরাহ করে থাকে। এই তেল 'আশ-শারাফ' অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়, যা চল্লিশ মাইল দীর্ঘ একটি এলাকা এবং এর পুরোটাই জয়তুন ও ডুমুর গাছের ছায়ায় ঘেরা। এর শুরু ইশবিলিয়াহ শহর থেকে এবং শেষ লাবলা শহরে। এর প্রশস্ততা বারো মাইল এবং এতে আট হাজার জনবহুল গ্রাম রয়েছে, যেখানে উন্নত মানের হাম্মামখানা ও সুন্দর ঘরবাড়ি বিদ্যমান। শারাফ ও ইশবিলিয়াহর মধ্যবর্তী দূরত্ব তিন মাইল।

ইশবিলিয়াহ শহরটি নহরে কাবীর (বড় নদী)-এর তীরে অবস্থিত, যা এর পশ্চিম দিকে প্রবাহিত। কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, নূহ আলাইহিস সালামের পুত্র ইয়াফিসের সন্তান তুবীলের বংশোদ্ভূত ইশবান ইবনে তাইতাশ ছিলেন স্পেনীয় রাজাদের অন্যতম। তিনি পৃথিবীর অধিকাংশ অংশের রাজত্ব লাভে ধন্য হয়েছিলেন। তার উত্থান ইশবিলিয়াহ থেকেই শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তার শক্তি বৃদ্ধি পায় ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সকল প্রান্তে তার শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যখন তিনি আন্দালুসের বিভিন্ন অঞ্চল জয় করলেন এবং দূরবর্তী দেশগুলো তার আনুগত্য স্বীকার করল, তখন তিনি যুদ্ধজাহাজে চড়ে ইশবিলিয়াহ থেকে ইলিয়া (জেরুজালেম) অভিমুখে যাত্রা করেন। তিনি সেখানে বিজয় লাভ করেন, তা ধ্বংস করেন এবং সেখানে ইহুদিদের হত্যা করেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ২০)
مائة ألف، وسبى مائة ألف، وفرق في الأرض مائة ألف، وانتقل رخامها إلى إشبيلية وماردة وباجة؛ وإنه صاحب المائدة التي ألفيت بطليطلة، وصاحب الحجر الذي وجد بماردة، وصاحب قليلة الجوهر التي كانت بماردة أيضاً على حسب ما ذكر في فتح الأندلس، فإنه حضر خراب بيت المقدس الأول مع بخت نصر، وحضر الخراب الذي كان مع قيصر بشيشيان؛ وأذريان قيصر يذكر أنه من طالقة إشبيلية، وفي سنة عشرين من دولته أنفق ببنيان إيلياء، وكان من مضى من ملوك الأعاجم يتداولون بمسكنهم أربعة من المدن الأندلسية: إشبيلية، وماردة، وقرطبة، وطليطلة، ويقسمون أزمانهم على الكينونة.

وكان سور إشبيلية من بناء الإمام عبد الرحمن بن الحكم، بناه بعد غلبة المجوس عليها بالحجر وأحكم بناءها، وكذلك جامعها من بنائه، وهو من عجيب البنيان وجليله، وصومعته بديعة الصناعة، غريبة العمل، وأركانها الأربعة عمود فوق عمودٍ إلى أعلاها، في كل ركنٍ ثلاثة أعمدة؛ فلما مات عبد الرحمن بن إبراهيم بن حجاج في محرم سنة 301 قدم أهلها أحمد بن مسلمة، وكان من أهل البأس والنجدة فأظهر العناد، وجاهر بالخلاف، فأخرج إليه عبد الرحمن بن محمد قائداً من قواده بعد قائدٍ، حتى افتتحها على يدي الحاجب يوم الاثنين لخمس خلون من جمادى الأولى سنة301.

واستعمل عليها سيعد بن المنذر المعروف بابن السليم، فهدم سورها، وألحق أعاليه بأسافله، وبنى القصر القديم المعروف بدار الإمارة، وحصنه بسور صخرٍ
এক লক্ষ নিহত, এক লক্ষ যুদ্ধবন্দী এবং এক লক্ষকে জমিনে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল; এবং এর মার্বেল পাথরসমূহ ইশবিলিয়া, মারিদা ও বাজাহ-তে স্থানান্তরিত হয়। তিনি সেই দস্তরখানের অধিকারী যা তুলাইতুলাহ-তে পাওয়া গিয়েছিল, এবং সেই পাথরের অধিকারী যা মারিদাতে পাওয়া গিয়েছিল, আর সেই রত্নখচিত ক্ষুদ্র পাত্রটিরও অধিকারী যা মারিদাতে ছিল; যেমনটি 'ফাতহুল আন্দালুস' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বুখত নাসরের সাথে বায়তুল মাকদিসের প্রথম ধ্বংসযজ্ঞে উপস্থিত ছিলেন এবং কায়সার বিশিশিয়ানের সময়কার ধ্বংসযজ্ঞেও উপস্থিত ছিলেন। কায়সার আদরিয়ান সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি ইশবিলিয়ার তালিকা অঞ্চলের লোক ছিলেন। তাঁর শাসনের বিংশতম বছরে তিনি ঈলিয়া পুনর্নির্মাণে অর্থ ব্যয় করেন। বিগত অনারব রাজন্যবর্গ তাঁদের আবাসস্থল হিসেবে আন্দালুসের চারটি শহর পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করতেন: ইশবিলিয়া, মারিদা, কুরতুবাহ ও তুলাইতুলাহ; এবং তাঁরা সেখানে অবস্থানের সময়কালকে ভাগ করে নিতেন।

ইশবিলিয়ার প্রাচীর ইমাম আবদুর রহমান বিন আল-হাকামের নির্মাণ করা; মাজুসদের ওপর বিজয়ী হওয়ার পর তিনি এটি পাথর দিয়ে অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে নির্মাণ করেন। একইভাবে এর জামে মসজিদটিও তাঁরই নির্মিত, যা এক বিস্ময়কর ও মহিমান্বিত স্থাপত্য। এর মিনারটি অত্যন্ত নিপুণ কারুকার্য ও অদ্ভুত নির্মাণশৈলীর অধিকারী, যার চার কোণের শীর্ষ পর্যন্ত স্তম্ভের ওপর স্তম্ভ স্থাপিত; প্রতি কোণে তিনটি করে স্তম্ভ রয়েছে। অতঃপর যখন ৩০১ হিজরীর মহররম মাসে আবদুর রহমান বিন ইবরাহিম বিন হাজ্জাজ ইন্তেকাল করেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা আহমাদ বিন মাসলামাহকে সামনে নিয়ে আসে। তিনি অত্যন্ত সাহসী ও বীরযোদ্ধা ছিলেন, ফলে তিনি অবাধ্যতা প্রকাশ করেন এবং প্রকাশ্যে বিরোধিতায় লিপ্ত হন। আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক সেনাপতি প্রেরণ করেন, অবশেষে ৩০১ হিজরীর ৫ই জুমাদাল উলা, সোমবার দিন হাজিবের হাতে এটি বিজিত হয়।

সেখানে সাঈদ বিন আল-মুনজিরকে নিযুক্ত করা হয়, যিনি ইবনুল সালিম নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি এর প্রাচীর ধ্বংস করে দেন এবং এর উপরিভাগকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেন। তিনি 'দারুল ইমারাহ' নামে পরিচিত প্রাচীন রাজপ্রাসাদটি নির্মাণ করেন এবং একে পাথরের প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত করেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ২১)
رفيع، أبراج منيعةٍ وبنى سور المدينة في الفتنة بالتراب.

وبإشبيلية آثار للأول كثيرة، وبها أساطين عظام تدل على هياكل كانت بها؛ وإشبيلية من الكور المجندة نزلها جند حمص، ولواؤهم في الميمنة بعد لواء جند دمشق، وهي من أمصار الأندلس الجليلة الكثيرة المنافع، والعظيمة الفوائد، ويظل على إشبيلية جبل الشرف، وهو شريف البقعة، كريم التربة، دائم الخضرة، فراسخ في فراسخ طولاً وعرضاً، لا تكاد تشمس منه بقعة لا لتفاف زيتونه واشتباك غصونه، وزيته من أطيب الزيوت كثيرة الرفع عند العصر، لا يتغير على طول الدهر، ومن هناك يتجهز به إلى الآفاق براً وبحراً، وكل ما استودع أرض إشبيلية نمى وزكى وجل؛ والقطن يجود بأرضها فيعم بلاد الأندلس ويتجهز به التجار إلى إفريقية وسجلماسة وما والاها، وكذلك العصفر بها يفضل عصفر الآفاق؛ وبقبلى مدينة إشبيلية بساتين تعرف بجنات المصلى وبها قصب السكر، وفي آخر نهر إشبيلية من كلتى جانبيه جزائر كثيرة يحيط بها الماء، كلأها قائم لا يصوح لدولم ندوتها، ورطوبة أرضها، ويصلح نتاجها وتدوم ألبانها ويمتنع ما فيها من الحوافر والظلف على العدو فلا يصل إليه أحد، وهذه الجزائر تعرف بالمدائن وبعضها بقرب من البحر.

وفي سنة 597، في جماداها الأخير، كان السيل العظيم الجارف على إشبيلية المربى على كل سيلٍ، وهو مذكور في الثاني من جالى الفكر في أول ورقة منه سنة597 فانقله من هناك.
উচ্চ, সুদৃঢ় বুরজসমূহ এবং ফিতনার সময় মাটির সাহায্যে শহরের প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

ইশবিলিয়্যাতে প্রাচীনদের অনেক নিদর্শন রয়েছে এবং সেখানে বিশাল সব স্তম্ভ রয়েছে যা সেখানে বিদ্যমান থাকা বড় বড় কাঠামোর প্রমাণ দেয়; ইশবিলিয়্যা হলো সেইসব সামরিক জেলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত যেখানে হিমসের সৈন্যরা অবস্থান নিয়েছিল এবং দামেস্কের সৈন্যদের পতাকার পর ডান পার্শ্বে তাদের অবস্থান ছিল। এটি আন্দালুসের মহান শহরগুলোর অন্যতম, যা অত্যন্ত উপকারী এবং বহু কল্যাণময়। ইশবিলিয়্যার উপর জাবালুশ শরাফ (সম্মানিত পাহাড়) ছায়া দিয়ে থাকে, এটি অত্যন্ত সম্মানিত স্থান, এর মাটি উর্বর এবং তা সর্বদা চিরসবুজ থাকে; দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে এটি মাইলের পর মাইল বিস্তৃত। সেখানে জলপাই গাছের ঘনবিন্যাস এবং ডালপালার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকার কারণে সূর্যের আলো কোনো স্থানে পৌঁছাতে পারে না বললেই চলে। এর জলপাই তেল অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের, নিংড়ানোর সময় অধিক পরিমাণে পাওয়া যায় এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এর কোনো পরিবর্তন হয় না। সেখান থেকেই স্থল ও জলপথে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এটি সরবরাহ করা হয়। ইশবিলিয়্যার ভূমিতে যা কিছু বপন করা হয় তা বৃদ্ধি পায়, পবিত্র হয় এবং মহৎ রূপ নেয়। এর ভূমিতে তুলার ফলন খুব ভালো হয়, যা সমগ্র আন্দালুসে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা তা আফ্রিকা, সিজিলমাসা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে নিয়ে যায়। একইভাবে সেখানকার কুসুম ফুলও বিশ্বের অন্যান্য স্থানের কুসুম ফুলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। ইশবিলিয়্যা শহরের দক্ষিণ দিকে 'জান্নাতুল মুসাল্লা' নামে পরিচিত বাগানসমূহ রয়েছে এবং সেখানে ইক্ষু উৎপাদিত হয়। ইশবিলিয়্যা নদীর শেষ প্রান্তের উভয় পাশে জলবেষ্টিত অনেক দ্বীপ রয়েছে, যেগুলোর ঘাস ও লতাপাতা সবসময় সতেজ থাকে এবং দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্রতা ও মাটির সিক্ততার কারণে তা কখনও শুকায় না। সেখানে গবাদি পশুর উৎপাদন ভালো হয় এবং দুধের প্রাচুর্য থাকে; সেখানে বিচরণরত খুরবিশিষ্ট পশুগুলো শত্রুর নাগাল থেকে নিরাপদ থাকে, ফলে কেউ সেখানে পৌঁছাতে পারে না। এই দ্বীপগুলো 'মাদায়েন' নামে পরিচিত এবং এগুলোর কিছু সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থিত।

৫৯৭ হিজরি সনের জমাদিউস সানি মাসে ইশবিলিয়্যায় এক বিধ্বংসী মহাপ্লাবন আঘাত হেনেছিল, যা পূর্ববর্তী সকল বন্যাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এটি 'জালিউল ফিকর'-এর দ্বিতীয় খণ্ডের ৫৯৭ হিজরির শুরুর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে, সেখান থেকে এটি সংগ্রহ করে নিন।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ২২)
وفي سنة 646، تغلب العدو على مدينة إشبيلية في شعبان منها، بعد أن حوصرت أشهراً حتى ساءت أحوال أهلها، وخافو وأيئسوا من الإعانة، فأصفق رأيهم على إسلامها للعدو والخروج عنها؛ فكان ذلك أجلهم الفنش ريثما يستوفون احتمال ما استطاعوا حمله من أموالهم، ثم خرجوا عنها وأقامت خاليةً ثلاثة أيام وسرح معهم الطاغية خيلاً توصلهم إلى مأمنهم، وكان صاحب أناةٍ وسياسةٍ، ويقال إنه لما مات دفن في قبلة جامعها الأعظم.

 

‌‌أشتبين

حصن بالأندلس على يسار الطريق، تحت أصل جبلٍ ممتنع، لا يدركه مقاتل طمع، بنى عليه بعض الملوك حصوناً كثيرةً، وحوصر مدةً سنة313. وبعد لأيٍ ما افتتح وذلك في عقب سنة313.

 

‌‌أشكوني

بالأندلس من كور تدمير معروف، ومن الغرائب أن من أراد أن يتخذ فيه جناناً صرف إلى الموضع العناية بالتدمين والعمارة والسقى من النهر، فتنبت الأرض هناك بطبعها شجر التفاح والكمئرى والتين والرمان وضروب الفواكه حاشا شجر التوتِ من غير غراسةٍ ولا اعتمالٍ.
৬৪৬ হিজরি সনে, উক্ত বছরের শাবান মাসে শত্রু পক্ষ ইশবিলিয়া শহরটি জয় করে নেয়। দীর্ঘ কয়েক মাস অবরুদ্ধ থাকার ফলে অধিবাসীদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছিল এবং তারা কোনো প্রকার সাহায্য লাভের ব্যাপারে ভীত ও হতাশ হয়ে পড়েছিল। তখন তারা শহরটি শত্রুর নিকট সমর্পণ করে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করে। আল-ফানশ তাদের সেই পর্যন্ত অবকাশ দিয়েছিল যতক্ষণ না তারা তাদের যতটুকু সম্ভব সম্পদ বহন করে নিতে সক্ষম হয়। অতঃপর তারা শহরটি ত্যাগ করে এবং তিন দিন তা জনশূন্য পড়ে থাকে। স্বৈরাচারী শাসক তাদের সাথে এমন অশ্বারোহী বাহিনী পাঠিয়েছিল যারা তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেয়। সে ছিল ধৈর্যশীল ও দূরদর্শী রাজনীতির অধিকারী। বর্ণিত আছে যে, সে যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তাকে ওই শহরের জামে মসজিদের কিবলার দিকে দাফন করা হয়।

 

‌‌আশতাবিন

আন্দালুসের একটি দুর্গ, যা রাস্তার বাম দিকে একটি দুর্ভেদ্য পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত; কোনো আক্রমণকারীর লালসা সেখানে পৌঁছাতে পারে না। জনৈক রাজা এর উপরে অনেকগুলো দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এটি ৩১৩ হিজরি সনে দীর্ঘকাল অবরুদ্ধ ছিল। অত্যন্ত কষ্টের পর ৩১৩ হিজরি সনের শেষের দিকে এটি বিজিত হয়।

 

‌‌আশকুনি

আন্দালুসের তুদমির অঞ্চলের একটি পরিচিত স্থান। সেখানকার আশ্চর্যজনক বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো, যদি কেউ সেখানে বাগান তৈরি করতে চায় এবং সেই স্থানের যত্ন নেওয়া, সার প্রদান ও নদী থেকে সেচ দেওয়ার প্রতি মনোযোগী হয়, তবে সেই ভূমি তার নিজস্ব প্রকৃতিতেই সেখানে আপেল, নাশপাতি, ডুমুর, ডালিম এবং বিভিন্ন প্রকার ফলের গাছ উৎপন্ন করে—তুঁত গাছ ব্যতীত—কোনো প্রকার চারা রোপণ বা পরিশ্রম ছাড়াই।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌أشونة

من كور إشتجة بالأندلس بينهما نصف يوم، وحصن اشونة ممدن، كثير الساكن.

 

‌‌إصطبة

مدينة بالأندلس على خمسة وعشرين ميلاً من قلشانة، ومن قلشانة، وهي قاعدة شذونة، إلى قرطبة أربعة أيامٍ، ومن الأميال مائة ميلٍ وعشرة أميالٍ.

 

‌‌إغرناطة

مدينة بالأندلس، بينها وبين وادي آش أربعون ميلاً، وهي من مدن إلبيرة.

وهي محدثة من أيام الثوار بالأندلس، وإنما كانت المدينة المقصودة إلبيرة؛ فخلت وانتقل أهلها منها إلى إغراناطة، ومدنها وحصن أسوارها، وبنى قصبتها حبوس الصنهاجى، ثم خلفه ابنه باديس بن حبوس؛ فكملت في أيامه، وعمرت إلى الآن، ويشقها نهر يسمى حدره، وبينها وبين إلبيرة ستة أميال، وتعرف بإغرناطة اليهود لأن نازليها كانوا يهود، وهي اليوم مدينة كبيرة قد لحقت بأمصار الأندلس المشهورة، وقصبتها بجوفيها، وهي من القصاب الحصينة، وجلب الماء إلى داخلها من عينٍ عذبةٍ تجاورها، والنهر المعروف بنهر فلوم ينقسم عند مدينتها قسمين: قسم بحري في أسفل المدينة، وقسم يجري في أعلاها، يشقها شقاً، فيجري في بعض حماماتها، وتطحن
আশুনা

এটি আল-আন্দালুসের ইশতিজা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, এই দুই স্থানের মধ্যবর্তী দূরত্ব অর্ধ দিবসের পথ। আশুনা দুর্গটি একটি শহরতলী সদৃশ এলাকা এবং এখানে জনবসতি অত্যন্ত ঘন।

 

ইস্তাব্বা

এটি আল-আন্দালুসের একটি শহর, যা কালশানা থেকে পঁচিশ মাইল দূরে অবস্থিত। আর কালশানা—যা শাযুনা অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্র—সেখান থেকে কুরতুবা পর্যন্ত চার দিনের পথ, আর মাইলের হিসেবে তা একশত দশ মাইল।

 

ইগরানাতা

আল-আন্দালুসের একটি শহর, এর এবং ওয়াদি আশ-এর মধ্যবর্তী দূরত্ব চল্লিশ মাইল। এটি ইলবিরা অঞ্চলের শহরগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

এটি আল-আন্দালুসের বিদ্রোহীদের সমসাময়িক কালে প্রতিষ্ঠিত একটি নতুন শহর। মূলত ইলবিরাই ছিল প্রধান শহর; পরবর্তীতে তা জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং সেখানকার অধিবাসীরা ইগরানাতায় স্থানান্তরিত হয়। এর শহর ও প্রাচীরসমূহকে সুরক্ষিত করা হয় এবং এর দুর্গটি হাব্বুস আস-সিনহাজি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে তার পুত্র বাদিস বিন হাব্বুস তার স্থলাভিষিক্ত হন; তার শাসনামলেই এর নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয় এবং আজ অবধি এটি আবাদ রয়েছে। এর মাঝ দিয়ে 'হাদরা' নামক একটি নদী প্রবাহিত হয়েছে। ইলবিরা ও এর মধ্যবর্তী দূরত্ব ছয় মাইল। এটি 'ইয়াহুদি ইগরানাতা' নামেও পরিচিত, কারণ এর আদি বাসিন্দারা ছিল ইয়াহুদি। বর্তমানে এটি একটি বৃহৎ শহর যা আল-আন্দালুসের প্রসিদ্ধ মহানগরীগুলোর সমপর্যায়ে পৌঁছেছে। এর দুর্গটি এর উত্তর দিকে অবস্থিত এবং এটি অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গগুলোর একটি। এর অভ্যন্তরে পার্শ্ববর্তী একটি সুপেয় পানির ঝরনা থেকে পানি আনা হয়। আর 'ফুলুম' নামে পরিচিত নদীটি এই শহরের কাছে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে: এক ভাগ শহরের নিচু এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়, আর অন্য ভাগটি শহরের উপরিভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে একে দ্বিখণ্ডিত করেছে। এই পানি শহরের কিছু হাম্মামে প্রবাহিত হয় এবং এর দ্বারা আটা পেষাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ২৪)
الأرحاء عليه خلال منازلها، ومخرجه من جبلٍ هناك، وتلقط في جرية مائه برادة الذهب الخالص، ويعرف بالذهب المدتى، ومقبرة إغرناطة بغربيها عند باب إلبيرة.

وفحص إلبيرة أزيد من مسافة يومٍ في مثله يصرفون فيه مياه الأنهار كيف شاؤوا كل أوان، ومن جميع الأزمان، وهو أطيب البقاع نفعةً، وأكرم الأرضين تربة، ولا يعدل به مكان غير غوطة دمشق وشارحة الفيوم، ولا تعلم شجرة تستعمل وتستغل إلا وهي أنجب شيء في هذا الفحص، وما من فاكهةٍ توصف وتستظرف إلا وما هناك من الفاكهة فوقها، ويجود فيها من ذلك ما لا يجود إلا بالساحل من اللوز وقصب السكر وما أشبهما. وحرير فحص إلبيرة هو الذي ينتشر في البلاد، ويعم الآفاق، وكتان هذا الفحص يربو جيده على كتان النيل، ويكثر حتى يصل إلى أقاصي بلاد المسلمين، وبإلبيرة معادن جوهرية من الذهب والفضة والصفر والحديد والرصاص والتوتيا، وجبل الثلج هو جبل يشرف على جبل إلبيرة.

 

‌‌إفراغة

مدينة بقرب لاردة من الأندلس، بينهما ثمانية عشر ميلاً، وهي على نهر الزيتون، حسنة البناء لها حصن منيع لا يرام وبساتين كثيرة لا نظير لها.

وحاضرها العدو في جمع كثيفٍ، وآلى زعيمهم ابن ردمير على نفسه ألا يبرح حتى يأخذها عنوةً، وذلك سنة525، في شهر رمضان منها، فسهد إليه يحيى بن علي بعزمة صادقةٍ ونيةٍ صحيحةٍ في جموعه؛ فلقاه الله تعالى بركتها، وأجناه ثمرتها، وهزمه بعد
এর বিভিন্ন স্থানে যাঁতাকল রয়েছে এবং এর উৎস সেখানকার একটি পাহাড় থেকে। এর প্রবহমান পানির স্রোতে খাঁটি স্বর্ণের গুঁড়ো পাওয়া যায়, যা 'মুদতা' স্বর্ণ নামে পরিচিত। গ্রানাডার কবরস্থান এর পশ্চিম দিকে ইলবিরা তোরণের কাছে অবস্থিত।

ইলবিরার প্রান্তর দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে একদিনের বেশি পথ জুড়ে বিস্তৃত, যেখানে তারা বছরের সব ঋতুতে নদীর পানিকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করে। এটি সর্বাপেক্ষা কল্যাণকর ভূখণ্ড এবং এখানকার মাটি অত্যন্ত উর্বর। দামেস্কের ঘউতা এবং ফায়্যুমের শারাহা ব্যতীত অন্য কোনো স্থান এর সমতুল্য নয়। এমন কোনো উপকারী বা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক বৃক্ষ সম্পর্কে জানা নেই যা এই প্রান্তরে সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্টভাবে জন্মে না। কোনো সুস্বাদু ও চমৎকার ফলের গুণগান করা হলে দেখা যায় এখানকার ফল তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এখানে এমন সব ফসল উৎপন্ন হয় যা সাধারণত কেবল উপকূলীয় অঞ্চলেই ভালো জন্মে, যেমন কাঠবাদাম, আখ এবং অনুরূপ আরও অনেক কিছু। ইলবিরা প্রান্তরের রেশমই বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং দিগন্তজুড়ে খ্যাতি লাভ করেছে। এই প্রান্তরের তিসি (লিনেন) মানের দিক থেকে নীল নদের তিসির চেয়েও শ্রেষ্ঠ এবং তা মুসলিম বিশ্বের দূরদূরান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ইলবিরাতে সোনা, রূপা, তামা, লোহা, সিসা ও দস্তার মতো মূল্যবান খনিজ সম্পদ রয়েছে। আর 'জাবালুস সালজ' (বরফ পাহাড়) এমন একটি পাহাড় যা ইলবিরা পাহাড়ের ওপর উচ্চতা নিয়ে অবস্থান করছে।

 

‌ইফরাগা

এটি আন্দালুসের লারিদা শহরের নিকটবর্তী একটি শহর, উভয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব আঠারো মাইল। এটি যাইতুন নদীর তীরে অবস্থিত। এর নির্মাণশৈলী অত্যন্ত সুন্দর এবং এর একটি দুর্ভেদ্য দুর্গ রয়েছে যা জয় করা অসম্ভব। এখানে অগণিত বাগান রয়েছে যার কোনো তুলনা নেই।

এক বিশাল বাহিনী নিয়ে শত্রু একে অবরোধ করেছিল। তাদের নেতা ইবনে রাদমির শপথ করেছিল যে, জোরপূর্বক এটি দখল না করা পর্যন্ত সে প্রস্থান করবে না। এটি ছিল ৫২৫ হিজরী সালের রমজান মাসের ঘটনা। অতঃপর ইয়াহইয়া ইবনে আলী সুদৃঢ় সংকল্প ও সঠিক নিয়ত নিয়ে এক বিশাল বাহিনীসহ তার মোকাবিলা করেন। আল্লাহ তাআলা তাকে এর বরকত দান করেন এবং এর সুফল প্রদান করেন। তাকে পরাজিত করার পর...
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ২৫)
أن قتل أكثر رجاله، والجملة التي بها كان يصول من أبطاله، وفر اللعين وسيوف المجاهدين تأخذ منه، وعزيمتهم لا تقلع عنه، إلى أن أوى إلى حصنٍ خربٍ في رأس جبلٍ شاهقٍ مع الفل الذي بقي معه بعد الإمساء، وأحدق المسلمون تلك الليلة بذلك الحصن يرقبونه؛ ولما أيقن أنه سيصطلم إن أقام هناك تسلل في ظلمة الليل من ذلك الموضع واتخذ الليل جملاً، وإذا رأى غير شيء ظنه رجلاً.

وانصرف المسلمون مغتبطين بغنيمتهم وأجرهم وكان ذلك سبباً لبقائها بأيدي المسلمين، إلى أن ينقضى أجل الكتاب.

ففي صفة الحال، يقول شاعر الشرق في وقعة يحيى بن علي هذه، أبو جعفر بن وضاح المرسى، من قصيدةٍ يمدحه بها بسيط:

شمرت برديك لما أسبل الوانى … وشب منك الأعادي نار غيان

دلفت في غابة الخطى نحوهم … كالعين يهفو عليها وطف أجفان

عقرتهم بسيوف الهند مصلتهً … كأنما شربوا منها بغدران

هون عليك سوى نفسٍ قتلتهم … من يكسر النبع لم يعجز عن البان

أودى الصميم وعاقت عن هيئتهم … مقادر أغمدت أسياف شجعان

وقفت والجيش عقد منك منتثراً … إلا فرائد أشياخ وشبان

والخيل تنحط من وقع الرماح بها … كأن تصهالها ترجيع ألحان

في أبيات غير هذه.
তার অধিকাংশ সৈন্য এবং তার বীরদের সেই দলটি যাদের মাধ্যমে সে আক্রমণ চালাত, তারা নিহত হওয়ার পর সেই অভিশপ্ত ব্যক্তিটি পালিয়ে গেল। মুজাহিদদের তলোয়ারগুলো তাকে আঘাত করছিল এবং তাদের সংকল্প তার পিছু ছাড়ছিল না। অবশেষে সন্ধ্যার পর তার সাথে অবশিষ্ট থাকা স্বল্প সংখ্যক লোক নিয়ে সে এক সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গে আশ্রয় নিল। মুসলিমরা সেই রাতে সেই দুর্গটি ঘিরে ফেলে তাকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল। যখন সে নিশ্চিত হলো যে সেখানে অবস্থান করলে সে সমূলে বিনাশ হবে, তখন সে সেই স্থান থেকে রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে বের হয়ে পড়ল এবং রাতকেই বাহন বানিয়ে নিল; এমনকি সে অন্য কিছু দেখলেও সেটিকে মানুষ বলে ভ্রম করছিল।

মুসলিমরা তাদের গনীমত ও প্রতিদান নিয়ে আনন্দিত অবস্থায় ফিরে এলেন এবং এটিই নির্ধারিত সময়কাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা মুসলিমদের অধিকারে থাকার কারণ হয়ে দাঁড়ালো।

অবস্থার বর্ণনায় প্রাচ্যের কবি আবু জাফর বিন ওয়াদ্দাহ আল-মুরসি, ইয়াহইয়া বিন আলী-র এই যুদ্ধের স্মরণে তাকে প্রশংসা করে রচিত একটি কাসিদায় বলেন:

যখন অলসরা পিছিয়ে পড়ছিল তখন আপনি আপনার কাপড় গুটিয়ে নিলেন … আর আপনার কারণে শত্রুরা অবাধ্যতার আগুন প্রজ্বলিত করল

আপনি বর্শার অরণ্যে তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন … যেন এমন এক চোখ যার ওপর ঘন চোখের পাতা পতপত করছে

আপনি কোষমুক্ত ভারতীয় তলোয়ার দিয়ে তাদের ক্ষতবিক্ষত করলেন … যেন তারা তা থেকে জলাশয়ের পানি পান করছিল

সহজভাবে নিন, আপনি আপনার প্রাণ দিয়ে তাদের পর্যুদস্ত করেছেন … যে শক্ত কাঠ ভাঙতে পারে সে নরম ডাল ভাঙতে অক্ষম হয় না

মূল শক্তি ধ্বংস হয়ে গেল এবং তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে বাধা দিল … এমন এক নিয়তি যা বীরদের তলোয়ারকে খাপবদ্ধ করে দিল

আপনি অটল রইলেন যখন আপনার সৈন্যবাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছিল … কেবল কিছু অনন্য বৃদ্ধ ও যুবক ব্যতীত

আর ঘোড়াগুলো বর্শার আঘাতে লুটিয়ে পড়ছিল … যেন তাদের চিঁহি ডাক ছিল সুরের মুর্ছনা

এগুলি ছাড়াও আরও কিছু পঙক্তিতে।
(খণ্ড: ১) সিফাতু জাযীরাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌إفرنجة

في وسط الإقليم الخامس، هواؤها غليظ لشدة بردها، ومصيفها معتدل، وهي بلاد كثيرة الفاكهة، وغزيرة الأنهار المنبعثة من ذوب الثلج، ومدائنها متقنة الأسوار، محكمة البناء، وآخر حدودها البحر الشأمى بقبليها، والبحر المحيط بجوفيها، وتتصل ببلاد رومة أيضاً من ناحية القبلة، وتتصل أيضاً من ناحية الجوف ببلاد الصقالبة، بينهما شعراء ملتفة مسيرة الأيام الكثيرة، وتتصل في الشرق بالصقالبة أيضاً، وتتصل في الغرب بالبشكنش، وتتمادى أعمال إفرنجة في الطول والعرض مسيرة شهرين في شهرين، ويحجز بين بلاد الصقالبة من الجوف والشرق الجبل المعترض بين البحرين فيتمادى بلاد الإفرنج مع ساحل البحر الشأمى حتى يلزق بجزيرة رومة وبلاد لنقبرذية، ويتمادى مع الجبل المعترض في الجوف إلى البحر المحيط، ويتصل بالصقالبة بلاد المجوس المعروفين بالأنقاش؛ وسيوف إفرنجة تفوق سيوف الهند، ومنها يرد الرقيق من بلاد الصقالبة، ولا يكاد يرى ببلاد إفرنجة زمن ولا ذو عاهةٍ، والزنى في غير ذوات الأزواج عند الإفرنج غير منكرٍ، وإذا حلف أميرهم أو كبيرهم حانثاً استهانوه، ولم يزالوا يعيرونه بذلك، وأبناء الأشراف عندهم يسترضعون في الأباعد، ولا يعرف الا بن أبويه حتى يعقل، وإذا عقل رد إليهما، فيراهما كالسيدين ويكون لهما كالعبد.

وكانت مملكتهم مجتمعةً، وأمرهم ملتئماً حتى ثار على رجلٍ من ملوكهم
ইফরঞ্জাহ

এটি পঞ্চম ইকলিমের মধ্যভাগে অবস্থিত। প্রচণ্ড শীতের কারণে এর বায়ুমণ্ডল ঘন, তবে গ্রীষ্মকাল নাতিশীতোষ্ণ। এটি প্রচুর ফলমূলের দেশ; আর বরফ গলার ফলে সৃষ্ট নদ-নদীতে এ অঞ্চল সমৃদ্ধ। এখানকার শহরগুলোর প্রাচীর অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং নির্মাণশৈলী অত্যন্ত মজবুত। এর দক্ষিণ সীমানায় শামী সাগর এবং উত্তর সীমানায় মুহিত সাগর অবস্থিত। দক্ষিণ দিক থেকে এটি রোম সাম্রাজ্যের সাথে সংযুক্ত এবং উত্তর দিক থেকে সকালাবা (স্লাভ) দেশের সাথে যুক্ত। উভয় দেশের মাঝখানে ঘন বনজঙ্গল রয়েছে যা অতিক্রম করতে অনেক দিন সময় লাগে। পূর্ব দিকেও এটি সকালাবা দেশের সাথে এবং পশ্চিম দিকে বাশকানশ (বাস্ক) দেশের সাথে সংযুক্ত। ইফরঞ্জাহ-র দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ দুই মাস করে ভ্রমণের সমান পথব্যাপী বিস্তৃত। উত্তর ও পূর্ব দিকে দুই সমুদ্রের মধ্যবর্তী একটি আড়াআড়ি পর্বত একে সকালাবা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ফলে ইফরঞ্জাহ দেশ শামী সাগরের উপকূল ধরে রোম উপদ্বীপ এবং লানকাবারদিয়াহ দেশ পর্যন্ত চলে গেছে। উত্তর দিকে আড়াআড়ি পর্বত বরাবর এটি মুহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। সকালাবা দেশের সাথে আনকাশ নামে পরিচিত মাজুসদের দেশও সংযুক্ত। ইফরঞ্জাহ-র তলোয়ারগুলো হিন্দুস্তানের তলোয়ারের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এখান দিয়েই সকালাবা দেশ থেকে ক্রীতদাস আনা-নেওয়া করা হয়। ইফরঞ্জাহ দেশে কোনো রুগ্ন বা বিকলাঙ্গ মানুষ প্রায় চোখেই পড়ে না। অবিবাহিতাদের ক্ষেত্রে ব্যভিচার ইফরঞ্জদের নিকট কোনো নিন্দনীয় কাজ নয়। তাদের কোনো আমির বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তি যখন শপথ ভঙ্গ করে, তখন তারা তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এবং সর্বদা তাকে এজন্য লজ্জিত করতে থাকে। তাদের অভিজাত শ্রেণির সন্তানদের দূরবর্তী এলাকায় ধাত্রীদের কাছে স্তন্যপানের জন্য পাঠানো হয়। শিশুটি বুদ্ধিমান হওয়ার আগ পর্যন্ত তার মা-বাবাকে চিনতে পারে না। যখন সে জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়, তখন তাকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়; তখন সে তাদের স্বীয় মনিবের মতো শ্রদ্ধা করে এবং তাদের সামনে দাসের মতো অনুগত থাকে। তাদের রাজ্য সুসংহত ছিল এবং তাদের শাসনব্যবস্থা সুশৃঙ্খল ছিল, যতক্ষণ না তাদের কোনো এক রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়।