(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أحاديث منتخبة من مغازي موسى بن عقبة القسم: كتب السنة
الكتاب: أحاديث منتخبة من مغازي موسى بن عقبة
المؤلف: موسى بن عقبة بن أبي عياش الأسدي بالولاء، أبو محمد، مولى آل الزبير (ت 141هـ)
انتخاب: يوسف بن مُحَمَّد بن عمر بن قاضي شهبة المتوفى: 789 هـ
المحقق: مشهور حسن سلمان
الناشر: مؤسسة الريان - دار ابن حزم
الطبعة: الأولى، 1991 م
عدد الصفحات: 96
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: أحمد الخضري (نسخ) ، ويا باغي الخير أقبل (مقابلة)
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসা বিন উকবার মাগাজি থেকে নির্বাচিত হাদিসসমূহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মুসা বিন উকবার মাগাজি থেকে নির্বাচিত হাদিসসমূহ
লেখক: মুসা বিন উকবা বিন আবি আইয়াশ আল-আসাদি (আনুগত্যের সূত্রে)، আবু মুহাম্মাদ، আজ-জুবাইর পরিবারের আযাদকৃত দাস (মৃত্যু ১৪১ হিজরি)
নির্বাচন: ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন উমর বিন কাজি শাহবাহ, মৃত্যু: ৭৮৯ হিজরি
মুহাক্কিক: মাশহুর হাসান সালমান
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রায়য়ান - দার ইবনে হাজম
সংস্করণ: প্রথম، ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে মিল রয়েছে]
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদরি (অনুলিপি) ، এবং ইয়া বাগিয়াল খায়ের আকবিল (পাঠ যাচাই)
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
بس الله الرحمن الرحيم
اللهم صل على محمد وآله وسلم
أَخْبَرنَا أَقْضَى الْقُضَاةِ أَبُو الْمَحَاسِنِ جَمَالُ الدِّينِ يُوسُفُ ابْنُ الشَّيْخِ الإِمَامِ الْعَلامَةِ أَقْضَى الْقُضَاةِ شَمْسِ الدِّينِ مُحَمَّد بْنِ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّد بن عبد الوهاب بن قاضي شهبة يوم الأحد لأربع ليال بقين من شعبان سنة 782 [قراءةً عليه وأنا أسمع] أَخْبَرنَا الشَّيْخُ شَرَفُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الحُسَين بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّد بْنِ الْعِمَادِ الْكَاتِبُ القرشي حَدَّثَنا الشَّيْخَانِ الْمُسْنِدَانِ أَبُو مُحَمَّد إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي الْيُسْرِ شَاكِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ التَّنُوخِيُّ وَأَبُو الحَسَن عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَبِي الْفَضْلِ بْنِ حَازِمٍ الأنصاريّ المعروف بابن الأوحد قراءةً عليهما ونحن نسمع قالا أَخْبَرنَا أَبُو طَاهِرٍ بَرَكَاتُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَاهِرٍ الْقُرَشِيُّ الْخُشُوعِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ سَنَةَ 594 حَدَّثَنا الشيخ الأمين
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি আবুল মাহাসিন জামালুদ্দীন ইউসুফ, যিনি শাইখ, ইমাম, আল্লামা ও প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে কাযী শুহবার পুত্র; ৭৮২ হিজরি সালের শাবান মাসের চার রাত অবশিষ্ট থাকতে রবিবার দিনে [তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম]। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ শরফুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল ইমাদ আল-কাতিব আল-কুরাশী। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সনদধারী দুজন শাইখ—আবু মুহাম্মাদ ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে আবুল ইয়ুসর শাকির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আত-তানূখী এবং আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আবুল ফযল ইবনে হাযেম আল-আনসারী, যিনি ইবনুল আওহাদ নামে পরিচিত; তাঁদের উভয়ের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমরা তা শ্রবণ করছিলাম। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির বারাকাত ইবনে ইবরাহীম ইবনে তাহির আল-কুরাশী আল-খুশূয়ী, ৫৯৪ হিজরি সালে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমরা তা শ্রবণ করছিলাম। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশ্বস্ত শাইখ...
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
أَبُو مُحَمَّد هِبَةُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّد بْنِ هِبَةِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ بْنُ الأَكْفَانِيِّ في سنة 519 قال: حدثنا الْحَافِظُ الإِمَامُ أَبُو بَكْر أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ مِنْ لَفْظِهِ فِي سنة 457 حَدَّثَنا أَبُو الحُسَيْن مُحَمَّدِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّد بن الفضل القطان قراءةً عليه حَدَّثَنا أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أحمد بن عتاب العبدي حَدَّثَنا أَبُو مُحَمَّد الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ المغيرة حَدَّثَنا إسماعيل بن أبي أويس حَدَّثَنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ عَنْ عَمِّهِ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ صَاحِبِ الْمَغَازِي رَحِمَهُ اللَّهُ تعالى.
আবু মুহাম্মাদ হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হিবাতুল্লাহ আল-আনসারী ইবনুল আকফানী ৫১৯ হিজরি সনে বলেছেন: হাফিজ, ইমাম আবু বকর আহমাদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খাতিব আল-বাগদাদী ৪৫৭ হিজরি সনে তাঁর নিজ উচ্চারণে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল ফাদল আল-কাত্তান তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে ইত্তাব আল-আবদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুগীরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে উকবাহ তাঁর চাচা মাগাযী রচয়িতা মূসা ইবনে উকবাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
مِنَ الْجُزْءِ الأَوَّلِ
1- قَالَ: قَالَ ابْنُ شِهَاب أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ أَنِّي أَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ ، فَإِذَا رَجُلٌ سَبِطُ الشَّعْرِ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ ينظف أَوْ يُهْرَاقُ رَأْسُهُ مَاءً فَقُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: ابْنُ مَرْيَمَ فَذَهَبْتُ أَلْتَفِتُ ، فَإِذَا رَجُلٌ أَحْمَرُ جَسِيمٌ جَعْدُ الرَّأْسِ أَعْوَرُ كَأَنَّ عَيْنَهُ عنبة طافية فقلت من هذا قالوا: الدَّجَّالُ أَقْرَبُ النَّاسِ لَهُ شَبَهًا ابْنُ قَطَنٍ الخزاعي.
প্রথম খণ্ড হতে
১- তিনি বলেন: ইবনে শিহাব বলেছেন, সালেম ইবনে আবদুল্লাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেন: "আমি যখন নিদ্রাবস্থায় ছিলাম, তখন স্বপ্নে দেখলাম যে আমি কাবার চারদিকে তাওয়াফ করছি। এমতাবস্থায় একজন সোজা চুলবিশিষ্ট ব্যক্তি (দৃষ্টিগোচর হলেন), যিনি অন্য দুজন ব্যক্তির মাঝে ছিলেন, তাঁর মাথা থেকে পানি ঝরছিল বা ফোঁটা ফোঁটা পড়ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইনি কে? তাঁরা বললেন: ইনি মারইয়ামের পুত্র (ঈসা)। এরপর আমি অন্যদিকে তাকালাম, তখন লাল বর্ণের একজন স্থূলকায় ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম যার মাথার চুল ছিল অত্যন্ত কোঁকড়ানো এবং সে এক চোখ কানা, তার চোখটি যেন একটি ভেসে ওঠা আঙুর। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এ কে? তাঁরা বললেন: এ হলো দাজ্জাল। মানুষের মধ্যে ইবনে কাতান আল-খুজায়ী তার সাথে সবচেয়ে বেশি সদৃশ।"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وَمِنَ الْجُزْءِ الثَّانِي
2- قَالَ: قَالَ ابْنُ شِهَاب وكان أول من جمع الجمع بِالْمَدِينَةِ لِلْمُسْلِمِينَ قَبْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يعني مصعب بن عمير.
দ্বিতীয় খণ্ড হতে
২- তিনি বলেন: ইবনে শিহাব বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে মদীনায় মুসলমানদের জন্য সর্বপ্রথম যিনি জুমুআর জামাত কায়েম করেছিলেন তিনি হলেন মুসআব ইবনে উমায়ের।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
3- حَدَّثَنا ابْنُ شِهَاب حَديثا مِنْ حَدِيثِ سُرَاقَةَ يُخَالِفُ هَذَا قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشَمٍ الْمُدْلِجِيُّ أَنَّ أَبَاهُ مَالِكًا أَخْبَرَهُ أَنَّ أَخَاهُ سُرَاقَةَ بْنَ جُعْشَمٍ أَخْبَرَهُ؛ أَنَّهُ لَمَّا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَكَّةَ مُهَاجِرًا إِلَى الْمَدِينَةِ جَعَلَتْ قريش لمن رده عليهم مئة نَاقَةٍ ، قَالَ: فَبَيْنَا أَنَا جَالِسٌ فِي نَادِي قومي إذ جاء رجل منا قال: وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ ثَلاثَةً مَرُّوا عليَّ آنِفًا إني لأظنه محمدا فَأَوْمَأْتُ لَهُ بِعَيْنِي أَنِ اسْكُتْ، فَقُلْتُ: إِنَّمَا هُمْ بَنُو فُلانٍ يَبْغُونَ ضَالَّةً لَهُمْ، قَالَ: لعله، ثم سكت، قال: فمكثت قَلِيلا ثُمَّ قُمْتُ فَدَخَلْتُ بَيْتِي فَأَمَرْتُ بِفَرَسِي فَقِيدَ إِلَى بَطْنِ الْوَادِي. قَالَ: فَأَخْرَجْتُ سِلاحِي
⦗ص: 65⦘ مِنْ وَرَاءِ حُجْرَتِي، ثُمَّ أَخَذْتُ قِدَاحِي الَّتِي أَسْتَقْسِمُ بِهَا، ثُمَّ لَبِسْتُ لأْمَتِي، ثُمَّ أَخْرَجْتُ قِدَاحِي فَاسْتَقْسَمْتُ بِهَا، فَخَرَجَ السَّهْمُ الَّذِي أَكْرَهُ: لأنصره، قال: وكنت أرجو أن أرده فآخذ المئة الناقة، قَالَ: فَرَكِبْتُ عَلَى أَثَرِهِ فَبَيْنَا فَرَسِي يَشْتَدُّ بِي عَثَرَ فَسَقَطْتُ عَنْهُ، قَالَ: فَأَخْرَجْتُ قِدَاحِي فَاسْتَقْسَمْتُ بِهَا فَخَرَجَ السَّهْمُ الَّذِي أَكْرَهُ: لا تضره، فَأَبَيْتُ إِلا أَنْ أَتْبَعَهُ، فَرَكِبْتُ فَلَمَّا بَدَا لِي الْقَوْمُ فَنَظَرْتُ إِلَيْهِمْ عَثَرَ فَرَسِي، فَذَهَبَتْ يَدَاهُ فِي الأَرْضِ، فَسَقَطْتُ عَنْهُ، فاستُخرج، وَأُتْبِعُهُ دخان مثل العثان، فَعَرَفْتُ أَنَّهُ مُنِعَ مِنِّي وَأَنَّهُ ظَاهِرٌ، فَنَادَيْتُهُمْ فقلت: انظروني فو الله لا أُرِيبُكُمْ، وَلا يَأْتِيكُمْ منِيِّ شَيْءٌ تَكْرَهُونَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: قل له ماذا تبتغي؟ قال: قلت اكتب كِتَابًا يَكُونُ بَيْنِي وَبَيْنَكَ آيَةً؟ قَالَ: اكْتُبْ له يا أبا بكر، قال: فَكَتَبَ ثُمَّ أَلْقَاهُ إِلَيَّ. فَسَكَتُّ فَلَمْ أَذْكُرْ شَيْئًا مِمَّا كَانَ، حَتَّى إِذَا فَتَحَ اللَّهُ مَكَّةَ وَفَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ حُنَيْنٍ؛ خَرَجْتُ
⦗ص: 66⦘ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَنْ أَلْقَاهُ ومعي الكتاب الذي كتب لي، فبينا أَنَا عَامِدٌ لَهُ؛ دَخَلْتُ بَيْنَ ظَهْرَيْ كَتِيبَةٍ مِنْ كَتَائِبِ الأَنْصَارِ، قَالَ: فَطَفِقُوا يَقْرَعُونِي بِالرِّمَاحِ، ويقولون: إليك إليك، حتى دنوت إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وهو على ناقته، أَنْظُرُ إِلَى سَاقِهِ فِي غَرْزَهِ كَأَنَّهَا جُمَّارَةٌ فَرَفَعْتُ يَدِي بِالْكِتَابِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَذَا كِتَابُكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: يَوْمُ وَفَاءٍ وَبِرٍّ، ادْنُهْ، قَالَ: فَأَسْلَمْتُ ثُمَّ ذَكَرْتُ شَيْئًا أَسْأَلُ عَنْهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: إِنَّمَا سأله عَنِ الضَّالَّةِ وَشَيْءٍ فَعَلَهُ فِي وَجْهِهِ. فَمَا ذَكَرْتُ شَيْئًا إِلا أَنِّي قَدْ قُلْتُ: يَا رسول الله، الضَّالَّةُ تَغْشَى حِيَاضِي قَدْ مَلأْتُهَا لإِبِلِي هَلْ لِي مِنْ أَجْرٍ أُسِقيهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: نعم في كل كبد حر أجر، فَانْصَرَفْتُ فَسُقْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَدَقَتِي.
৩- ইবনে শিহাব সুরাকার বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্য থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যা এর বিপরীত। তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে মালিক ইবনে জুশাম আল-মুদলিজি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তার পিতা মালিক তাকে জানিয়েছেন যে, তার ভাই সুরাকা ইবনে জুশাম তাকে জানিয়েছেন; যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন কুরাইশরা তাকে ধরে ফিরিয়ে আনতে পারলে তার জন্য একশত উটের পুরস্কার ঘোষণা করল। তিনি বলেন: এমতাবস্থায় আমি আমার কওমের মজলিসে বসেছিলাম, তখন আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এসে বলল: আল্লাহর কসম, আমি এইমাত্র তিনজনকে আমার পাশ দিয়ে যেতে দেখেছি, আমি নিশ্চিতভাবেই মনে করি যে তারা মুহাম্মদ। তখন আমি তাকে চোখ টিপে ইশারা করলাম যেন সে চুপ থাকে। এরপর আমি বললাম: তারা তো অমুক গোত্রের লোক, যারা তাদের হারানো পশুর সন্ধান করছে। সে বলল: হতে পারে। এরপর সে চুপ হয়ে গেল। তিনি বলেন: আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম, তারপর উঠে আমার ঘরে প্রবেশ করলাম এবং আমার ঘোড়া নিয়ে আসার নির্দেশ দিলাম, তখন সেটিকে উপত্যকার ভেতরে বেঁধে রাখা হলো। তিনি বলেন: আমি আমার কক্ষের পেছন থেকে আমার অস্ত্র বের করলাম
⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘, এরপর আমার ভাগ্য নির্ণায়ক তীরগুলো নিলাম যা দিয়ে আমি লটারি করতাম। এরপর আমি আমার যুদ্ধবস্ত্র পরিধান করলাম। তারপর আমি তীর বের করে ভাগ্য পরীক্ষা করলাম, তখন আমার অপছন্দনীয় তীরটিই বের হলো: (অর্থাৎ) তাকে সাহায্য করার তীরটি। তিনি বলেন: আমি আশা করছিলাম যে, তাকে ফিরিয়ে দিয়ে একশত উট লাভ করব। তিনি বলেন: আমি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চললাম। পথিমধ্যে যখন আমার ঘোড়া আমাকে নিয়ে দ্রুতবেগে ছুটছিল, তখন তা হোঁচট খেল এবং আমি তা থেকে পড়ে গেলাম। তিনি বলেন: আমি পুনরায় আমার তীরগুলো বের করে ভাগ্য পরীক্ষা করলাম। এবারও আমার অপছন্দনীয় তীরটি বের হলো: (অর্থাৎ) তার কোনো ক্ষতি না হওয়ার তীরটি। কিন্তু আমি তার পিছু নেওয়া ছাড়লাম না। আমি ঘোড়ায় চড়ে চললাম। যখন দলটি আমার দৃষ্টিগোচর হলো এবং আমি তাদের দিকে তাকালাম, তখন আমার ঘোড়া আবার হোঁচট খেল এবং এর অগ্রপদদ্বয় মাটিতে দেবে গেল। আমি ঘোড়া থেকে পড়ে গেলাম। ঘোড়াটি যখন তার পা বের করে নিল, তখন সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতে লাগল যা আকাশের দিকে বিস্তৃত হয়ে গেল। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তাকে আমার থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি অবশ্যই বিজয়ী হবেন। তখন আমি তাদের ডাক দিয়ে বললাম: আপনারা থামুন, আল্লাহর কসম, আমি আপনাদের কোনো ক্ষতি করব না এবং আমার পক্ষ থেকে এমন কিছু ঘটবে না যা আপনারা অপছন্দ করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাকে জিজ্ঞেস করো সে কী চায়? তিনি বলেন: আমি বললাম, আমার ও আপনার মাঝে নিদর্শনস্বরূপ একটি অঙ্গীকারনামা লিখে দিন। তিনি বললেন: হে আবু বকর, তার জন্য লিখে দাও। তিনি বলেন: আবু বকর (রা.) তা লিখে আমার দিকে ছুড়ে দিলেন। আমি তা নিয়ে চুপ থাকলাম এবং এই ঘটনার কথা কাউকে বললাম না। অবশেষে যখন আল্লাহ মক্কা বিজয় দান করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইন যুদ্ধ শেষ করলেন; তখন আমি
⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বের হলাম এবং আমার সাথে সেই লিখিত পত্রটি ছিল। যখন আমি তার অভিমুখে যাচ্ছিলাম, তখন আমি আনসারদের একটি সেনাদলের মাঝে ঢুকে পড়লাম। তিনি বলেন: তারা আমাকে বর্শা দিয়ে মৃদু আঘাত করতে লাগল এবং বলছিল: দূরে সরো, দূরে সরো। পরিশেষে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হলাম, তিনি তখন তার উটের ওপর আরোহী ছিলেন। আমি রিকাভে রাখা তার পায়ের গোছার দিকে তাকালাম, যা দেখতে শুভ্র খেজুরের শাঁসের মতো ছিল। আমি পত্রটি নিয়ে হাত উঁচিয়ে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি আপনার লিখিত পত্র। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এটি প্রতিশ্রুতি পূরণ ও সৌজন্য প্রদর্শনের দিন, কাছে এসো। তিনি বলেন: এরপর আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার কথা স্মরণ করলাম।
ইবনে শিহাব বলেন: তিনি মূলত তাকে হারানো পশু এবং তার চেহারার ওপর কিছু করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি শুধু এটুকু বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার উটের জন্য পূর্ণ করে রাখা পানির হাউজে যদি কোনো হারানো পশু এসে পানি পান করে, তবে কি আমি তাকে পানি পান করানোর সওয়াব পাব? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হ্যাঁ, প্রত্যেক প্রাণীর তৃষ্ণা মেটানোর মধ্যেই সওয়াব রয়েছে। এরপর আমি ফিরে গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমার সদকা পাঠিয়ে দিলাম।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
4- قَالَ وَزَعَمَ ابْنُ شِهَاب أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ قَالَ إِنَّ الزُّبَيْرَ لَقِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم في ركب مِنَ الْمُسْلِمِينَ كَانُوا تُجَّارًا بِالشَّامِ قَافِلِينَ إِلَى مكة فعارضوا رسول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَسَى الزُّبَيْرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بكر ثيابا بيضا.
৪- তিনি বলেন, ইবনে শিহাব বর্ণনা করেছেন যে, উরওয়াহ ইবনে যুবাইর বলেছেন, যুবাইর একদল মুসলিম আরোহীর সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেন; তাঁরা সিরিয়ায় ব্যবসায়ী ছিলেন এবং মক্কার দিকে ফিরে আসছিলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখোমুখি হলেন, অতঃপর যুবাইর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকরকে সাদা পোশাক পরিধান করালেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
ومن الْجُزْءِ الثَّالِثِ
5- قَالَ: قَالَ نَافِعٌ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ أُنَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ رسول الله صلى الله عليه وسلم أتنادي أناسا موتى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ لِمَا قُلْتُ مِنْهُمْ.
এবং তৃতীয় অংশ থেকে
৫- তিনি বলেন: নাফে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী বললেন: আপনি কি মৃত ব্যক্তিদের ডাকছেন? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি যা বলছি তা তোমরা তাদের চেয়ে অধিক শুনতে পাচ্ছ না।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৭০)
ومن الجزء الرابع
6- قال: قال ابن شِهَاب حَدَّثَنا أنس بن مالك إِنَّ رِجَالا مِنَ الأَنْصَارِ اسْتَأْذَنُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فقالوا ائذن لنا يا رسول الله فلنترك لابن أختنا عباس فداه فقال لا والله ولا تذروا درهما.
চতুর্থ খণ্ড থেকে
৬- তিনি বললেন: ইবনে শিহাব বলেছেন, আনাস বিন মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আনসারদের কিছু লোক আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের অনুমতি দিন যেন আমরা আমাদের ভাগিনেয় আব্বাসের মুক্তিপণ মওকুফ করে দেই।" তখন তিনি বললেন, "না, আল্লাহর শপথ! তোমরা একটি দিরহামও ছাড়বে না।"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৭১)
وَمِنَ الْجُزْءِ الْخَامِسِ
7- وَكَانَ ابْنُ شِهَاب يَقُولُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ السُّلَمِيُّ وَرِجَالٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ عَامِرَ بْنَ مالك بن جعفر الذي يدعى لاعب الأَسِنَّةِ قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُشْرِكٌ فَعَرَضَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الإِسْلامَ فَأَبَى أن يسلم وأهدى لرسول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَدِيَّةً. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنِّي لا أَقْبَلُ هَدِيَّةَ مُشْرِكٍ فَقَالَ عَامِرُ بْنُ مَالِكٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْعَثْ مَعِي مَنْ شِئْتَ مِنْ رُسُلِكَ فَأَنَا لَهُمْ جَارٍ.
⦗ص: 72⦘ فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَهْطًا فيهم الْمُنْذِرُ بْنُ عَمْرٍو السَّاعِدِيُّ وَهُوَ الَّذِي يُقَالُ له أَعنِقْ لتموت عَيناً لَهُ فِي أَهْلِ نَجْدٍ فَسَمِعَ بِهِمْ عَامِرُ بْنُ الطُّفَيْلِ فَاسْتَنْفَرَ بَنِي عَامِرٍ فَأَبَوْا أَنْ يُطِيعُوهُ وَأَبَوْا أَنْ يَخْفِرُوا عَامِرَ بْنَ مالك فاستنفر لهم مالك بْنُ الطُّفَيْلِ بَنِي سُلَيْمٍ فَنَفَرُوا مَعَهُ فَقَتَلُوهُمْ بِبِئْرِ مَعُونَةَ غَيْرَ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ أَخَذَهُ عَامِرُ بْنُ الطُّفَيْلِ فَأَرْسَلَهُ، فَلَمَّا قَدِمَ عَمْرُو بْنُ أُمَيَّةَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أمن بينهم.
পঞ্চম খণ্ড হতে
৭- ইবনে শিহাব এই হাদিস সম্পর্কে বলতেন, আমাকে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালিক আস-সুলামী এবং একদল আলেম বর্ণনা করেছেন যে, আমির ইবনে মালিক ইবনে জাফর, যাকে 'লাইবুল আসিননাহ' (বর্ষার খেলোয়াড়) বলা হত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এমতাবস্থায় যে তিনি তখনো মুশরিক ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট ইসলাম পেশ করলেন, কিন্তু তিনি ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি উপহার প্রদান করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই আমি কোনো মুশরিকের উপহার গ্রহণ করি না।" তখন আমির ইবনে মালিক বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতিনিধিদের মধ্য হতে আপনি যাকে ইচ্ছা আমার সাথে প্রেরণ করুন, আমি তাদের নিরাপত্তার জিম্মাদার হব।
⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ক্ষুদ্র দল পাঠালেন যাদের মধ্যে মুনজির ইবনে আমর আস-সা’ঈদী ছিলেন। তিনি সেই ব্যক্তি যাঁর সম্পর্কে বলা হতো ‘মৃত্যুর দিকে দ্রুত ধাবমান’, তিনি নজদবাসীদের মধ্যে তাঁর গোয়েন্দা হিসেবে ছিলেন। অতঃপর আমির ইবনে তুফায়েল তাদের আগমনের খবর শুনতে পেয়ে বনু আমির গোত্রকে যুদ্ধের ডাক দিলেন, কিন্তু তারা তাঁর আনুগত্য করতে অস্বীকার করল এবং আমির ইবনে মালিকের দেওয়া নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে অসম্মতি জানাল। অতঃপর আমির ইবনে তুফায়েল তাদের বিরুদ্ধে বনু সুলাইম গোত্রকে সাহায্যের জন্য ডাকলেন। তারা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বেরিয়ে পড়ল এবং ‘বি’রে মাউনা’ নামক স্থানে তাঁদেরকে হত্যা করল। তবে আমর ইবনে উমাইয়া আদ-দামরী ব্যতীত, যাকে আমির ইবনে তুফায়েল বন্দী করার পর মুক্তি দিয়ে দিয়েছিলেন। যখন আমর ইবনে উমাইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "তুমি কি তাদের মধ্য হতেই বেঁচে ফিরলে?"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
8- حدثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ قَالَ: قَالَ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بن عمر فطعن بَعْضُ النَّاسِ فِي إِمَارَةِ أُسَامَةَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنْ تَطْعُنُوا فِي إِمَارَةِ أُسَامَةَ فَقَدْ كُنْتُمْ تَطْعُنُونَ في إمارة أبيه من قبل وَأَيْمُ اللَّهِ إِنْ كَانَ لَخَلِيقًا لإِمَارَةٍ وَإِنْ كَانَ لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ كُلِّهِمْ إِلَيَّ وَإِنَّ هَذَا لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ بَعْدَهُ فَاسْتَوْصُوا بِهِ خَيْرًا مِنْ بَعْدِي فَإِنَّهُ مِنْ خِيَارِكُمْ.
৮- আমাদের নিকট ইসমাইল ইবনু ইবরাহিম ইবনু উকবাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিম ইবনু আবদুল্লাহ বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর বর্ণনা করেছেন যে, কিছু লোক উসামার নেতৃত্বের ব্যাপারে সমালোচনা করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন: “যদি তোমরা উসামার নেতৃত্বের সমালোচনা করো, তবে ইতিপূর্বে তোমরা তাঁর পিতার নেতৃত্বের ব্যাপারেও সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহর কসম! তিনি অবশ্যই নেতৃত্বের যোগ্য ছিলেন এবং তিনি আমার নিকট সকল মানুষের মধ্যে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। আর নিশ্চয়ই এ (উসামা) তাঁর পরে আমার নিকট অত্যন্ত প্রিয় মানুষদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তোমরা আমার পরে তাঁর ব্যাপারে কল্যাণের ওসিয়ত গ্রহণ করো, কেননা সে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।”
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
9- قَالَ مُوسَى: قَالَ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مَا كَانَ رسول الله صلى الله عليه وسلم يَسْتَثْنِي فَاطِمَةَ رضي الله عنها.
৯- মুসা বলেন: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে বাদ দিতেন না।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
10- قَالَ قَالَ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْفَضْلِ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رضي الله عنه يَقُولُ حَزِنْتُ عَلَى من أصيب بالحرة من قومي فكتب إِلَى زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ وَبَلَغَهُ شِدَّةُ حُزْنِي يذكر أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلأَنْصَارِ وَلأَبْنَاءِ الأَنْصَارِ وشك الفضل في أبناء أبناء الأنصار.
১০- তিনি বলেন, মূসা ইবনে উকবা বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনুল ফজল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন, হাররার যুদ্ধে আমার গোত্রের যারা আক্রান্ত হয়েছিল তাদের জন্য আমি অত্যন্ত শোকাতুর ছিলাম। অতঃপর যায়েদ ইবনে আরকাম আমার নিকট (পত্র) লিখলেন, কারণ আমার শোকের তীব্রতার কথা তাঁর নিকট পৌঁছেছিল। তিনি তাতে উল্লেখ করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "হে আল্লাহ! আপনি আনসারদের ক্ষমা করুন এবং আনসারদের সন্তানদের ক্ষমা করুন।" আর ফজল "আনসারদের সন্তানদের সন্তানদের" কথাটির ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
11- قال ابْنُ الْفَضْلِ فَسَأَلَ نَاسٌ بَعْضَ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ ⦗ص: 79⦘ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ فَقَالَ هُوَ الذي يقول لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا الَّذِي أَوْفَى اللَّهُ لَهُ بِإِذْنِهِ.
১১- ইবনুল ফজল বলেন, অতঃপর কিছু লোক তাঁর নিকট উপস্থিত ব্যক্তিদের কাউকে ⦗পৃষ্ঠা: ৭৯⦘ জায়েদ বিন আরকাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ইনি সেই ব্যক্তি যাঁর সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: "ইনি সেই ব্যক্তি যার জন্য আল্লাহ তাঁর নির্দেশে (অঙ্গীকার/সাক্ষ্য) পূর্ণ করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৮০)
وَمِنَ الْجُزْءِ السَّابِعِ
12- قَالَ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ: حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَاب حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ وَابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِبِلالٍ يَوْمَئِذٍ قُمْ فَأَذِّنْ إِنَّهُ لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلا مُؤْمِنٌ وَإِنَّ اللَّهَ لَيُؤَيِّدُ الدِّينَ بِالرَّجُلِ الْفَاجِرِ وَذَلِكَ عِنْدَ ذِكْرِ الرَّجُلِ الَّذِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أنه من أهل النار.
এবং সপ্তম খণ্ড হতে
১২- মুসা ইবনে উকবা বলেন: ইবনে শিহাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং আব্দুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালিকের পুত্র আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেদিন বিলালকে বললেন: দাঁড়াও এবং ঘোষণা দাও যে, নিশ্চয়ই মুমিন ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপাচারী লোক দ্বারাও এই দ্বীনকে শক্তিশালী করেন। আর এটি সেই ব্যক্তির আলোচনার সময় হয়েছিল, যার সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন যে সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৮২)
من الْجُزْءِ الثَّامِنِ
13- قَالَ: قَالَ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ حَدَّثَنا نَافِعٌ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ لَمَّا فُتِحَتْ خَيْبَرُ سَأَلَتِ يهود رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يقرهم فيها على أن يعملوا عن نصف ما خرج منها من الثمرة فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نُقِرُّكُمْ فِيهَا عَلَى ذَلِكَ مَا شِئْنَا.
فَكَانُوا فِيهَا كَذَلِكَ حَتَّى أَخْرَجَهُمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، يَقُولُ لَمْ يُوصِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إلا بثلاث أوصى للرهاويين من خيبر بجاد مئة وسق وللداريين بجاد مئة وسق وللسبائيين بجاد مئة وسق، وللأشعريين بجاد مئة وَسْقٍ، وَأَوْصَى بِتَنْفِيذِ بَعْثِ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وأن لا يترك دينان مختلفان.
অষ্টম অংশ হতে
১৩- তিনি বলেন: মুসা ইবনে উকবাহ বলেছেন, নাফি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) বলেছেন, যখন খায়বার বিজিত হলো, তখন ইহুদিরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আবেদন করল যেন তিনি তাদেরকে সেখানে থাকার অনুমতি প্রদান করেন এই শর্তে যে, তারা সেখানে শ্রম দেবে এবং বিনিময়ে সেখান থেকে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক লাভ করবে। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমরা তোমাদেরকে এই শর্তে সেখানে থাকতে দেব যতক্ষণ আমরা চাই।"
অতঃপর তারা সেখানে এভাবেই অবস্থান করছিল যতক্ষণ না উমর ইবনুল খাত্তাব তাদেরকে সেখান থেকে বহিষ্কার করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাত্র তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছিলেন: তিনি খায়বার থেকে রাহাউয়ীদের জন্য একশ ওয়াসাক (শস্য), দারীদের জন্য একশ ওয়াসাক, সাবায়ীদের জন্য একশ ওয়াসাক এবং আশআরীদের জন্য একশ ওয়াসাক অসিয়ত করেন। আর তিনি উসামা ইবনে যায়েদের বাহিনীকে অভিযানে প্রেরণের এবং যেন (আরব উপদ্বীপে) দুটি ভিন্ন ধর্ম অবশিষ্ট না থাকে সে বিষয়ে অসিয়ত করেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
14- وَحَدَّثَنا نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه كَانَ لا يَدَعُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى وَلا الْمَجُوسَ يَمْكُثُونَ بالمدينة فوق ثلاثة أيام قدر ما يبيعون وَكَانَ يَقُولُ لا يَجْتَمِعُ دِينَانِ وَإِنَّهُ أَجْلَى الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ.
১৪- নাফে‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইহুদি, নাসারা এবং অগ্নিপূজকদের মদিনায় তিন দিনের বেশি অবস্থান করতে দিতেন না, কেবল তাদের কেনাবেচা বা ব্যবসার প্রয়োজনীয় সময়টুকু ব্যতীত। তিনি বলতেন: "দুইটি ধর্ম (এক স্থানে) একত্রিত হবে না।" আর তিনি আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও নাসারাদের বহিষ্কার করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
وَمِنَ الْجُزْءِ التَّاسِعِ
15- قَالَ: حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ قَالَ: قَالَ ابْنُ شِهَاب حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم [قال] حِينَ أَذِنَ لِلنَّاسِ فِي عِتْقِ سَبْيِ هَوَازِنَ إِنِّي لا أَدْرِي مَنْ أَذِنَ لَكُمْ مِمَّنْ لَمْ يَأْذَنْ فَارْجِعُوا حَتَّى يَرْفَعَ إِلَيْنَا عُرَفَاؤُكُمْ أمركم فرجع الناس فحكمهم عُرَفَاؤُهُمْ فَرَجَعُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرُوهُ أَنَّ النَّاسَ قَدْ طَيَّبُوا وأذنوا.
নবম খণ্ড থেকে
১৫- তিনি বলেন: মূসা ইবন উকবা আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন শিহাব বলেছেন, উরওয়া ইবন আল-যুবায়র আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, মারওয়ান ইবন আল-হাকাম এবং আল-মিসওয়ার ইবন মাখরামা তাকে জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাওয়াযিন গোত্রের বন্দীদের মুক্ত করার ব্যাপারে যখন লোকজনকে অনুমতি দিচ্ছিলেন, তখন [বললেন]: নিশ্চয়ই আমি জানি না তোমাদের মধ্যে কে অনুমতি দিয়েছ আর কে দাওনি। সুতরাং তোমরা ফিরে যাও, যতক্ষণ না তোমাদের প্রতিনিধিরা তোমাদের বিষয়টি আমাদের নিকট পেশ করেন। অতঃপর লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের প্রতিনিধিরা তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত করলেন। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে আসলেন এবং তাঁকে অবহিত করলেন যে, লোকেরা সানন্দে রাজী হয়েছে এবং অনুমতি দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯০)
16- قَالَ ابْنُ شِهَاب أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ وعروة بن الزبير أن سبي هوازن الذي رَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كانوا ستة آلاف مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ وَأَنَّهُ خَيَّرَ نِسَاءً كن تحت رجال قُرَيْشٍ مِنْهُمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ وَصَفْوَانُ بْنُ أُمَيَّةَ كَانَا قَدِ اسْتَسَرَّا الْمَرْأَتَيْنِ اللَّتَيْنِ كانتا عندهما فاختارتا قومهما.
১৬- ইবনু শিহাব বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং উরওয়াহ ইবনুয যুবায়ের আমাকে অবহিত করেছেন যে, হাওয়াযিন গোত্রের যে সকল যুদ্ধবন্দীদের রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফেরত দিয়েছিলেন, তারা পুরুষ, নারী ও শিশুসহ মোট ছয় হাজার ছিল। আর তিনি সেইসব নারীদের ইখতিয়ার বা পছন্দের সুযোগ দিয়েছিলেন যারা কুরাইশ পুরুষদের অধীনে ছিল। তাদের মধ্যে আবদুর রহমান ইবনু আওফ এবং সাফওয়ান ইবনু উমাইয়াহ তাদের কাছে থাকা দুইজন নারীকে দাসী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন; অতঃপর তারা (নারীরা) তাদের নিজ কওমকেই বেছে নিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯১)
ومن الْجُزْءِ الْعَاشِرِ
17- قَالَ: ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ عَمِّهِ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ قَالَ: قَالَ ابْنُ شِهَاب: وَحَجَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَجَّةَ التَّمَامِ سَنَةَ عَشْرٍ فَأَرَى النَّاسَ مَنَاسِكَهُمْ وَخَطَبَ النَّاسَ بِعَرَفَةَ عَلَى نَاقَتِهِ الْجَدْعَاءِ.
দশম অংশ থেকে
১৭- তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে উকবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর চাচা মূসা ইবনে উকবাহ থেকে, তিনি বলেন: ইবনে শিহাব বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশম হিজরি সনে পূর্ণাঙ্গ হজ্জ সম্পাদন করেন। তিনি মানুষকে তাদের হজ্জের নিয়ম-পদ্ধতি প্রদর্শন করেন এবং আরাফাতে তাঁর 'আল-জাদআ' নামক উটনীর ওপর বসে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯২)
18- ثنا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ قَالَ: قَالَ ابْنُ شِهَاب حَدَّثَنا عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَمْرَو بْنَ عَوْفٍ، وَهُوَ حَلِيفٌ لبني عامر بن لؤي [قال] كان شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ يَأْتِي بِجِزْيَتِهَا، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ صَالَحَ أَهْلَ الْبَحْرَيْنِ، وَأَمَّرَ عَلَيْهِمُ الْعَلاءَ بْنَ الْحَضْرَمِيِّ، فَقَدِمَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِمَالٍ مِنَ الْبَحْرَيْنِ، فَسَمِعَتِ الأَنْصَارُ بِقُدُومِهِ، فَوَافَقَتْ صَلاةَ الصُّبْحِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَعَرَّضُوا، فَتَبَسَّمَ حِينَ رآهم، وقال: ⦗ص: 93⦘ أظنكم قد سَمِعْتُمْ بِقُدُومِ أَبِي عُبَيْدَةَ وَأَنَّهُ جَاءَ بِشَيْءٍ؟ فَقَالُوا: أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: فَأَبْشِرُوا وَأْمُلُوا مَا يَسُرُّكُمْ، فَوَاللَّهِ مَا الْفَقْرَ أَخْشَى عَلَيْكُمْ وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُبْسَطَ عَلَيْكُمُ، كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، فَتَنَافَسُوهَا، وَتُلْهِيكُمْ كَمَا أَلْهَتْهُمْ.
১৮- মূসা ইবনে উকবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে শিহাব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, উরওয়াহ ইবনে যুবাইর তাকে অবহিত করেছেন যে, মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আমর ইবনে আউফ—যিনি বনু আমির ইবনে লুয়াই-এর মিত্র ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন—তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহকে বাহরাইনের জিজিয়া সংগ্রহের জন্য পাঠিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং বাহরাইনবাসীর সাথে সন্ধি করেছিলেন এবং তাদের ওপর আলা ইবনুল হাদরামিকে আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। অতঃপর আবু উবাইদাহ বাহরাইন থেকে সম্পদ নিয়ে আসলেন। আনসারগণ তাঁর আগমনের কথা শুনতে পেলেন এবং তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ফজরের সালাতে শরিক হলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন, তখন তাঁরা তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন। তিনি তাঁদের দেখে মুচকি হাসলেন এবং বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৯৩⦘ আমার মনে হয় তোমরা শুনেছ যে আবু উবাইদাহ আগমন করেছে এবং সে কিছু নিয়ে এসেছে? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তবে তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং যা তোমাদের আনন্দিত করবে তার আশা রাখো। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ওপর দারিদ্র্যের আশঙ্কা করছি না, বরং আমি তোমাদের ওপর এই আশঙ্কা করছি যে, তোমাদের সামনে দুনিয়াকে বিস্তৃত করে দেওয়া হবে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের সামনে বিস্তৃত করা হয়েছিল; ফলে তোমরা তা অর্জনের জন্য একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে যেমন তারা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল, আর তা তোমাদেরকে গাফেল করে দেবে যেমন তাদেরকে গাফেল করে দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
19- حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ قَالَ: قَالَ سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ رضي الله عنه كَانَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الخطاب رضي الله عنه يومئذ، وَأَنَّهُ هُوَ كَسَرَ سَيْفَ الزُّبَيْرِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ من كَسْرِهِ ، ثُمَّ قَامَ أَبُو بَكْرٍ فَخَطَبَ النَّاسَ وَاعْتَذَرَ إِلَيْهِمْ، فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا كُنْتُ حَرِيصًا عَلَى الإِمَارَةِ يَوْمًا قَطُّ وَلا لَيْلَةً، وَلا كُنْتُ فِيهَا رَاغِبًا، وَلا سَأَلْتُهَا اللَّهَ قَطُّ فِي سِرٍّ وَلا عَلانِيَةٍ، وَلَكِنِّي أَشْفَقْتُ مِنَ الْفِتْنَةِ، وَمَا لِي فِي الإِمَارَةِ مِنْ رَاحَةٍ، ولكن قلدت أمرا عظيما ما لي به طاقة، ولا يدان إِلا بِتَقْوِيَةِ اللَّهِ عز وجل، وَلَوَدِدْتُ أَنَّ أَقْوَى النَّاسِ عَلَيْهَا مَكَانِي، فَقَبِلَ الْمُهَاجِرُونَ ⦗ص: 95⦘ مِنْهُ مَا قَالَ وَمَا اعْتَذَرَ بِهِ، وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ: مَا غضبنا إلا أنا أخرنا عن المشاورة، وَإِنَّا لَنَرَى أَبَا بَكْرٍ أَحَقَّ النَّاسِ بِهَا بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إنه لصاحب الغار، ثاني اثنين، وإنا لنعرف لَهُ شَرَفَهُ وَكِبْرَهُ، وَلَقَدْ أَمَّرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالصَّلاةِ لِلنَّاسِ وَهُوَ حي.
১৯- মুসা ইবনে উকবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাদ ইবনে ইব্রাহিম বলেছেন, ইব্রাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেদিন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে ছিলেন, এবং তিনিই যুবাইরের তলোয়ারটি ভেঙেছিলেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন কে এটি ভেঙেছিলেন। অতঃপর আবু বকর দাঁড়ালেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন ও তাদের নিকট ওজর পেশ করলেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি কোনোদিন বা কোনো রাতে নেতৃত্বের প্রতি কখনো লালায়িত ছিলাম না, আর না আমার এতে কোনো আগ্রহ ছিল, এবং আমি গোপনে বা প্রকাশ্যে কখনো আল্লাহর নিকট এটি প্রার্থনা করিনি। কিন্তু আমি ফিতনার ভয় পেয়েছি, আর নেতৃত্বে আমার জন্য কোনো স্বস্তি নেই। বরং আমাকে এমন এক মহান বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যা বহন করার শক্তি আমার নেই এবং মহান আল্লাহ (আযযা ওয়া জাল্লা)-র শক্তি প্রদান ব্যতীত আমার কোনো দুই হাত (সামর্থ্য) নেই। আমি অবশ্যই কামনা করতাম যে, আমার স্থলে যদি এই কাজের জন্য মানুষের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তিটি থাকতেন। অতঃপর মুহাজিরগণ ⦗পৃষ্ঠা: ৯৫⦘ তাঁর কথা ও তাঁর ওজর গ্রহণ করলেন। আর আলী ইবনে আবি তালিব ও যুবাইর ইবনুল আওয়াম বললেন: আমরা কেবল এ কারণেই অসন্তুষ্ট হয়েছিলাম যে আমাদের পরামর্শ গ্রহণে বিলম্ব করা হয়েছিল; অথচ আমরা আবু বকরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর মানুষের মধ্যে এই পদের জন্য সবচেয়ে বেশি হকদার মনে করি। নিশ্চয়ই তিনি গুহার সাথী, দুইজনের দ্বিতীয়জন, আর আমরা অবশ্যই তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জীবিতাবস্থায়ই তাঁকে লোকদের সালাতে ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসে মুনতাখাবাহ মিন মাগাযী মূসা বিন উকবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
20- وَبِالإِسْنَادِ إِلَى أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّد بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَتَّابٍ
(1) قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْنُ صالح المعروف بكعب الذراع قال: حدثنا شعيب بن إبراهيم حَدَّثَنا سَيْفُ بْنُ عُمَرَ عَنْ أَبِي رَوْقٍ عَطِيَّةَ بْنِ الْحَارِثِ الْهَمْدَانِيِّ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ عَلِيٍّ عليه السلام قَالَ نَعَى اللَّهُ عز وجل لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم نَفْسَهُ حِينَ أَنْزَلَ عَلَيْهِ {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ والفتح} فكان الفتح من مُهَاجَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَنَةِ ثَمَانٍ فَلَمَّا طُعِنَ فِي سَنَةِ تسع من مُهَاجَرِهِ تَتَابَعَ عَلَيْهِ الْقَبَائِلُ تَسْعَى فَلَمْ يَدْرِ مَتَى الأَجَلُ لَيْلا أَوْ نَهَارًا فَفَعَلَ عَلَى قدر ذلك فوسع السنن وَشَدَّدَ الْفَرَائِضَ وَأَظْهَرَ الرُّخَصَ وَنَسَخَ كَثِيرًا مِنَ الأحاديث فنسخت الرخصة الشك والشك في بعض الرخص وَغَزَا تَبُوكَ وَفَعَلَ فِعْلَ مُوَدِّعٍ صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
২০- এবং আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আত্তাব
(১)-এর নিকট পৌঁছানো সনদের মাধ্যমে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন সালিহ—যিনি কাব আল-জিরা হিসেবে পরিচিত—বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শুআইব বিন ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাইফ বিন উমর বর্ণনা করেছেন আবু রওক আতিয়্যাহ বিন আল-হারিস আল-হামদানি থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে, তিনি আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ মহামহিম ও মহিমান্বিত তাঁর নবীর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) নিকট তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ প্রদান করেন যখন তিনি তাঁর ওপর অবতীর্ণ করেন {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে}। আর বিজয় সংঘটিত হয়েছিল রাসুলুল্লাহর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) হিজরতের অষ্টম বছরে। অতঃপর যখন তাঁর হিজরতের নবম বছর উপস্থিত হলো, তখন বিভিন্ন গোত্র দ্রুতগতিতে ধারাবাহিকভাবে তাঁর নিকট আসতে শুরু করল। তিনি জানতেন না যে তাঁর অন্তিম সময় কখন আসবে—রাতে নাকি দিনে। তাই তিনি সেই সময় অনুযায়ী আমল করলেন; তিনি সুন্নাতসমূহকে বিস্তৃত করলেন, ফরজ বিধানসমূহকে সুদৃঢ় করলেন, সহজসাধ্য বিষয়গুলো (অনুমতিসমূহ) প্রকাশ করলেন এবং পূর্বের অনেক বক্তব্য রহিত করলেন। ফলে এই সহজসাধ্য বিধানগুলো সন্দেহকে রহিত করে দিল এবং কিছু সহজসাধ্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও সন্দেহ দূর হলো। তিনি তাবুক যুদ্ধ পরিচালনা করলেন এবং বিদায় গ্রহণকারীর ন্যায় আচরণ করলেন (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)।
--------------------------------------------