(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: -)
صحيح الأدب المفرد القسم: كتب السنة
الكتاب: صحيح الأدب المفرد للإمام البخاري
المؤلف: محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة البخاري، أبو عبد الله (ت 256هـ)
حقق أحاديثه وعلق عليه: محمد ناصر الدين الألباني
الناشر: دار الصديق للنشر والتوزيع
الطبعة: الرابعة، 1418 هـ - 1997 م
عدد الصفحات: 502
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সহীহ আদাবুল মুফরাদ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: ইমাম বুখারী রহ.-এর সহীহ আদাবুল মুফরাদ
লেখক: মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহিম বিন আল-মুগীরা আল-বুখারী, আবু আব্দুল্লাহ (মৃত্যু ২৫৬ হি.)
হাদিসসমূহের তাহকীক ও টীকা প্রদান করেছেন: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী
প্রকাশক: দারুস সিদ্দিক প্রকাশনী ও বিতরণী
সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪১৮ হি. - ১৯৯৭ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০২
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
1- بَابُ قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بوالديه حسناً} - 1 (1)
1/1 (2) (صحيح) عن أبي عمرو الشيباني قال: حَدَّثَنَا صَاحِبُ هَذِهِ الدَّارِ وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عز وجل قَالَ: "الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا ". قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: ثُمَّ "بِرُّ الْوَالِدَيْنِ " قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: ((ثُمَّ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ)) قَالَ: حَدَّثَنِي بِهِنَّ وَلَوِ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي.
2/2 (صحيح) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الوالد وسخط الرب في سخط الوالد.
--------------------------------------------
১- মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি} সংক্রান্ত অধ্যায় - ১ (১)
১/১ (২) (সহীহ) আবু আমর আশ-শায়বানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট এই গৃহের অধিবাসী হাদীস বর্ণনা করেছেন—এবং তিনি নিজের হাত দিয়ে আব্দুল্লাহর গৃহের দিকে ইশারা করলেন—তিনি (আব্দুল্লাহ) বললেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট কোন আমলটি সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বললেন: "সময়মতো সালাত আদায় করা।" আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "তারপর মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।" আমি বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন: "তারপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা।" তিনি (আব্দুল্লাহ) বলেন: তিনি আমাকে এই বিষয়গুলো জানিয়েছেন, আমি যদি তাঁর নিকট আরও অধিক জানতে চাইতাম তবে তিনি আমাকে আরও বলতেন।
২/২ (সহীহ) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: প্রতিপালকের সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টিতে এবং প্রতিপালকের অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টিতে নিহিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
2- باب بر الأم - 23/3 (حسن) عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! مَنْ أَبَرُّ؟ قَالَ: "أُمَّكَ" قُلْتُ: مَنْ أَبَرُّ؟ قَالَ: "أُمَّكَ" قُلْتُ: مَنْ أَبَرُّ؟ قَالَ: "أُمَّكَ" قُلْتُ: مَنْ أَبَرُّ؟ قَالَ: "أباك، ثم الأقرب، فالأقرب".
4/4 (صحيح) عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ أَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنِّي خَطَبْتُ امْرَأَةً، فَأَبَتْ أَنْ تَنْكِحَنِي، وَخَطَبَهَا غَيْرِي، فَأَحَبَّتْ أَنْ تَنْكِحَهُ، فَغِرْتُ عَلَيْهَا فَقَتَلْتُهَا، فَهَلْ لِي مِنْ تَوْبَةٍ؟ قَالَ: أُمُّكَ حَيَّةٌ؟ قَالَ: لَا. قَالَ: تُبْ إِلَى اللَّهِ عز وجل، وَتَقَرَّبْ إِلَيْهِ مَا اسْتَطَعْتَ. [قال: عطاء بن يسار:] فَذَهَبْتُ، فَسَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ: لِمَ سَأَلْتَهُ عَنْ حَيَاةِ أُمِّهِ؟ فَقَالَ: "إِنِّي لَا أَعْلَمُ عَمَلًا أَقْرَبَ إِلَى اللَّهِ عز وجل مِنْ بِرِّ الْوَالِدَةِ".
3- بَابُ بِرِّ الْأَبِ - 35/5 (صحيح) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم! مَنْ أَبَرُّ؟ قَالَ: "أُمَّكَ". قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: "أُمَّكَ". قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: "أمك". قال: ثم من؟ [ثم عاد الرابعةَ فـ]
২- মায়ের প্রতি সদাচার পরিচ্ছেদ - ২৩/৩ (হাসান) বাহয ইবনে হাকিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কার সাথে সবচেয়ে বেশি সদাচার করব? তিনি বললেন: "তোমার মায়ের সাথে"। আমি বললাম: এরপর কার সাথে সদাচার করব? তিনি বললেন: "তোমার মায়ের সাথে"। আমি বললাম: এরপর কার সাথে সদাচার করব? তিনি বললেন: "তোমার মায়ের সাথে"। আমি বললাম: এরপর কার সাথে সদাচার করব? তিনি বললেন: "তোমার পিতার সাথে, এরপর নিকটাত্মীয়, তারপর তার পরবর্তী নিকটাত্মীয়ের সাথে"।
৪/৪ (সহীহ) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করল। অন্য এক ব্যক্তি তাকে প্রস্তাব দিলে সে তাকে বিয়ে করতে পছন্দ করল। এতে আমার মধ্যে ঈর্ষা জাগল এবং আমি তাকে হত্যা করে ফেললাম। এখন কি আমার তাওবার কোনো সুযোগ আছে? তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার মা কি জীবিত আছেন? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে আল্লাহর কাছে তাওবা করো এবং সাধ্যমতো তাঁর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করো। [আতা ইবনে ইয়াসার বলেন:] এরপর আমি গিয়ে ইবনে আব্বাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কেন তাকে তার মায়ের জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন? তিনি বললেন: "আমি মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য মায়ের প্রতি সদাচারের চেয়ে অধিক উত্তম কোনো আমল সম্পর্কে জানি না।"
৩- পিতার প্রতি সদাচার পরিচ্ছেদ - ৩৫/৫ (সহীহ) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি কার সাথে সবচেয়ে বেশি সদাচার করব? তিনি বললেন: "তোমার মায়ের সাথে"। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এরপর কার সাথে? তিনি বললেন: "তোমার মায়ের সাথে"। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এরপর কার সাথে? তিনি বললেন: "তোমার মায়ের সাথে"। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এরপর কার সাথে? [অতঃপর চতুর্থবার তিনি বললেন...]
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
قال: "أباك".
4- باب لين الكلام لوالديه - 56/8 - (صحيح الإسناد.) عن طَيْسَلَةُ بْنُ مَيَّاسٍ (1) قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّجَدَاتِ (2) ، فَأَصَبْتُ ذُنُوبًا لَا أَرَاهَا إِلَّا مِنَ الْكَبَائِرِ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِابْنِ عُمَرَ. قَالَ: مَا هِيَ؟ قُلْتُ: كَذَا وَكَذَا. قَالَ: لَيْسَتْ هَذِهِ مِنَ الْكَبَائِرِ، هُنَّ تِسْعٌ: الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، وَقَتْلُ نَسَمَةٍ، وَالْفِرَارُ مِنَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ الْمُحْصَنَةِ، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ، وَإِلْحَادٌ فِي الْمَسْجِدِ، وَالَّذِي يَسْتَسْخِرُ (3) ، وَبُكَاءُ الْوَالِدَيْنِ مِنَ الْعُقُوقِ، قَالَ: لِي ابْنُ عُمَرَ: أَتَفْرَقُ (4) النَّارَ، وَتُحِبُّ أَنْ تَدْخُلَ الْجَنَّةَ؟ قُلْتُ: إي، والله! قال: أحيٌّ والداك؟ قُلْتُ: عِنْدِي أُمِّي. قَالَ: فَوَاللَّهِ! لَوْ أَلَنْتَ لَهَا الْكَلَامَ، وَأَطْعَمْتَهَا الطَّعَامَ، لَتَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ مَا اجْتَنَبْتَ الكبائر.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "তোমার পিতা।"
৪- অধ্যায়: পিতা-মাতার সাথে নরম ভাষায় কথা বলা - ৫৬/৮ - (সনদ সহীহ।) তায়সালা ইবনে মাইয়াস (১) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নাজদাতদের (২) সাথে ছিলাম। আমি এমন কিছু গুনাহ করে ফেলি যেগুলোকে আমি কবিরা গুনাহ ছাড়া অন্য কিছু মনে করতাম না। আমি ইবনে উমর-এর নিকট তা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: "সেগুলো কী?" আমি বললাম: "এই এই।" তিনি বললেন: "এগুলো কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত নয়। কবিরা গুনাহ হলো নয়টি: আল্লাহর সাথে শিরক করা, কোনো প্রাণ হত্যা করা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া, সচ্চরিত্রা নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া, সুদ খাওয়া, এতিমের মাল ভক্ষণ করা, মসজিদে (হারামে) ধর্মদ্রোহিতা করা, যে বিদ্রূপ বা উপহাস করে (৩), এবং অবাধ্যতার মাধ্যমে পিতা-মাতাকে কাঁদানো।" তিনি (ইবনে উমর) আমাকে বললেন: "তুমি কি জাহান্নামকে ভয় (৪) পাও এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে পছন্দ করো?" আমি বললাম: "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম!" তিনি বললেন: "তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছেন?" আমি বললাম: "আমার মা আমার কাছে আছেন।" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম! তুমি যদি তাঁর সাথে নরম ভাষায় কথা বলো এবং তাঁকে অন্ন দান করো, তবে তুমি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
7/9- (صحيح الإسناد) عن عروة قَالَ:: {وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ} [الإسراء: 24] قَالَ: "لَا تَمْتَنِعْ مِنْ شَيْءٍ أَحَبَّاهُ".
5- بَابُ جزاء الوالدين-68/10- (صحيح) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لَا يَجْزِي وَلَدٌ وَالِدَهُ، إِلَّا أَنْ يَجِدَهُ مَمْلُوكًا فَيَشْتَرِيَهُ فَيُعْتِقَهُ".
9/11 - (صحيح الإسناد.) عن أبى بردة؛ أَنَّهُ شَهِدَ ابْنَ عُمَرَ، ورجلٌ يمانيٌ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ - حَمَلَ أُمَّهُ وراء ظهره - يقول:
إِنِّي لَهَا بَعِيرُهَا الْمُذَلَّلُ
… ... إِنْ أُذْعِرَتْ رِكَابُهَا (1) لَمْ أُذْعَرِ
ثُمَّ قَالَ: يَا ابْنَ عُمَرَ! أَتُرَانِي جَزَيْتُهَا؟ قَالَ: لَا. وَلَا بِزَفْرَةٍ واحدة (2) ، واحدة ثم
طَافَ ابْنُ عُمَرَ، فَأَتَى الْمَقَامَ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ. ثُمَّ قَالَ: يَا ابْنَ أَبِي مُوسَى! إِنَّ كُلَّ ركعتين تكفران ما أمامهما.
10/13 - (صحيح) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُبَايِعُهُ عَلَى الْهِجْرَةِ، وَتَرَكَ أَبَوَيْهِ يَبْكِيَانِ، فقال:
--------------------------------------------
৭/৯- (সহিহ ইসনাদ) উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: {আর তাদের প্রতি মমতাবশত নম্রতার ডানা নামিয়ে দাও} [সূরা আল-ইসরা: ২৪] তিনি বলেন: "তারা যা পছন্দ করেন এমন কোনো কিছু থেকে নিজেকে বিরত রেখো না।"
৫- অনুচ্ছেদ: পিতামাতার প্রতিদান-৬৮/১০- (সহিহ) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সন্তান তার পিতার প্রতিদান দিতে পারে না, তবে যদি সে তাকে ক্রীতদাস হিসেবে পায় এবং তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দেয় (তবেই তা সম্ভব)।"
৯/১১ - (সহিহ ইসনাদ) আবু বুরদাহ থেকে বর্ণিত; তিনি ইবনে উমরকে লক্ষ্য করলেন যে, এক ইয়েমেনি লোক তার মাকে পিঠে বহন করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছে এবং বলছে:
নিশ্চয়ই আমি তার জন্য তার এক অনুগত উট
… ... যদি তার অন্যান্য সওয়ারিগুলো আতঙ্কিতও হয় (১), তবুও আমি আতঙ্কিত হই না।
এরপর সে বলল: হে ইবনে উমর! আপনি কি মনে করেন আমি তার প্রতিদান দিতে পেরেছি? তিনি বললেন: না। এমনকি প্রসবকালীন একটি যন্ত্রণাদায়ক দীর্ঘশ্বাসেরও (২) প্রতিদান হয়নি। এরপর ইবনে উমর তাওয়াফ করলেন এবং মাকামে ইবরাহিমে এসে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন। তারপর তিনি বললেন: হে আবু মুসার পুত্র! নিশ্চয়ই প্রতি দুই রাকাত নামাজ তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ।
১০/১৩ - (সহিহ) আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে হিজরতের বায়আত নিতে এলো এবং সে তার পিতামাতাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় রেখে এসেছিল। তখন তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
"ارْجِعْ إِلَيْهِمَا، وَأَضْحِكْهُمَا كَمَا أَبْكَيْتَهُمَا".
11/14 (حسن الإسناد) عن أبي مُرَّةَ؛ مَوْلَى أُمِّ هَانِئِ ابْنَةِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ "أَنَّهُ رَكِبَ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ إِلَى أَرْضِهِ بـ (العقيق) فَإِذَا دَخَلَ أَرْضَهُ صَاحَ بِأَعْلَى صوته: السَّلَامُ عَلَيْكِ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ يَا أُمَّتَاهُ! تَقُولُ: وَعَلَيْكَ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ. يَقُولُ: رَحِمَكِ اللَّهُ كَمَا رَبَّيْتِنِي صَغِيرًا. فَتَقُولُ: يَا بُنَيَّ! وَأَنْتَ. فَجَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا وَرَضِيَ عَنْكَ، كَمَا بَرَرْتَنِي كَبِيرًا" قَالَ: مُوسَى: كَانَ اسْمُ أَبِي هُرَيْرَةَ: عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عمرو.
6- باب عقوق الوالدين- 712/15 (صحيح) عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قَالَ: رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ؟ " ثَلَاثًا. قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ! قَالَ: "الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ - وَجَلَسَ وَكَانَ مُتَّكِئًا - أَلَا وَقَوْلُ الزُّورِ" مَا زَالَ يُكَرِّرُهَا حتى قلت: ليته سكت.
"তাদের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের হাসাও যেমন তুমি তাদের কাঁদিয়েছিলে।"
১১/১৪ (উত্তম সনদ) আবু মুররাহ থেকে বর্ণিত; তিনি আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানির আযাদকৃত গোলাম ছিলেন, তিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, "তিনি আবু হুরায়রার সাথে আকিক-এ অবস্থিত তার জমির দিকে সওয়ার হয়েছিলেন। যখন তিনি তার জমিতে প্রবেশ করলেন তখন উচ্চস্বরে ডেকে বললেন: হে আম্মাজান! আপনার ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। তিনি (মা) উত্তরে বলতেন: এবং তোমার ওপরও আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। তিনি (আবু হুরায়রা) বলতেন: আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন যেমন আপনি শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন। তখন তিনি বলতেন: হে প্রিয় বৎস! তোমার প্রতিও (দয়া করুন)। আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তোমার ওপর সন্তুষ্ট হোন, যেমন তুমি আমার বৃদ্ধাবস্থায় আমার প্রতি সদাচরণ করেছ।" মুসা বলেন: আবু হুরায়রার নাম ছিল আবদুল্লাহ ইবনে আমর।
৬- অধ্যায়: পিতা-মাতার অবাধ্যতা- ৭১২/১৫ (সহিহ) আবু বাকরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না?" তিনি তিনবার এ কথা বললেন। তাঁরা বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে শরিক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।" - তিনি হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন, অতঃপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন - "সাবধান! আর মিথ্যা কথা (বা মিথ্যা সাক্ষ্য)।" তিনি কথাটি বারবার পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন, এমনকি আমি (মনে মনে) বললাম: তিনি যদি এখন থামতেন।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
7- بَابُ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ لَعَنَ والديه - 813/17 (صحيح) عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ قَالَ: سُئِلَ عَلِيٌّ: هَلْ خَصَّكُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِشَيْءٍ لَمْ يَخُصَّ بِهِ النَّاسَ كَافَّةً؟ قَالَ: مَا خَصَّنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَيْءٍ لَمْ يَخُصَّ بِهِ النَّاسَ؛ إِلَّا مَا فِي قِرَابِ سَيْفِي، ثُمَّ أَخْرَجَ صَحِيفَةً، فَإِذَا فِيهَا مَكْتُوبٌ: "لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ، لَعَنَ اللَّهُ مَنْ سَرَقَ مَنَارَ الْأَرْضِ، لَعَنَ اللَّهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَيْهِ، لَعَنَ اللَّهُ مَنْ آوَى مُحْدِثًا" (1) .
8 - بَابُ يَبَرُّ وَالِدَيْهِ مَا لم يكن معصية - 914/18 (حسن) عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: أَوْصَانِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِتِسْعٍ: "لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَإِنْ قُطِّعْتَ أَوْ حُرِّقْتَ، وَلَا تَتْرُكَنَّ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ مُتَعَمِّدًا؛ وَمَنْ تَرَكَهَا مُتَعَمِّدًا بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ (2) ، وَلَا تَشْرَبَنَّ الْخَمْرَ؛ فَإِنَّهَا مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ، وَأَطِعْ وَالِدَيْكَ، وَإِنْ أَمَرَاكَ أَنْ تَخْرُجَ مِنْ دنياك؛ فاخرج لهما، ولا
--------------------------------------------
৭- পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন যে তার পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেয় - ৮১৩/১৭ (সহিহ) আবু তুফাইল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনাদের জন্য বিশেষ কোনো কিছু নির্দিষ্ট করেছেন যা তিনি সাধারণ মানুষের জন্য করেননি? তিনি বললেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য বিশেষ কিছু নির্দিষ্ট করেননি যা তিনি সাধারণ মানুষের জন্য করেননি; তবে যা আমার তলোয়ারের খাপে আছে তা ছাড়া। এরপর তিনি একটি সহিফা (লিপি) বের করলেন, তাতে লেখা ছিল: "আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন যে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবেহ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন যে জমিনের সীমানা চিহ্ন চুরি করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন যে তার পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেয় এবং আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন যে কোনো অপরাধীকে (বিদআতকারীকে) আশ্রয় দেয়।" (১)।
৮ - পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা যতক্ষণ তা পাপাচার না হয় - ৯১৪/১৮ (হাসান) আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নয়টি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন: "আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না যদিও তোমাকে টুকরো টুকরো করা হয় অথবা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে ফরয সালাত ত্যাগ করো না; কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তা ত্যাগ করে, তার ওপর থেকে (আল্লাহর) রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব উঠে যায় (২)। আর কখনোই মদ পান করো না; কারণ তা সকল অনিষ্টের চাবিকাঠি। তোমার পিতা-মাতার আনুগত্য করো; যদিও তারা তোমাকে তোমার দুনিয়া থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, তবে তাদের নির্দেশে তুমি বের হয়ে যাও। আর..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
تُنَازِعَنَّ وُلَاةَ الْأَمْرِ، وَإِنْ رَأَيْتَ أَنَّكَ أَنْتَ (1) ، وَلَا تفرِر مِنَ الزَّحْفِ؛ وَإِنْ هَلَكْتَ وَفَرَّ أَصْحَابُكَ، وَأَنْفِقْ مِنْ طَولك عَلَى أَهْلِكَ، وَلَا تَرْفَعْ عَصَاكَ عَنْ أَهْلِكَ، وَأَخِفْهُمْ فِي اللَّهِ عز وجل" (2) .
15/20 (صحيح) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: "جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُرِيدُ الْجِهَادَ، فَقَالَ: "أَحَيٌّ وَالِدَاكَ؟ " فَقَالَ: نَعَمْ. فَقَالَ: "فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ".
9 - بَابُ مَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ فَلَمْ يَدْخُلِ الجنة - 1016/21 (صحيح) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "رَغِمَ (3) أَنْفُهُ، رَغِمَ أَنْفُهُ، رَغِمَ أَنْفُهُ". قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! مَنْ؟ قَالَ: "مَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ عنده الْكِبْرِ (4) ، أَوْ أَحَدَهُمَا، فَدَخَلَ النَّارَ".
--------------------------------------------
শাসকবর্গের সাথে বিবাদে লিপ্ত হবে না, যদিও তুমি মনে করো যে তুমিই সত্যের ওপর আছো (১), আর রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করবে না; যদিও তুমি ধ্বংস হয়ে যাও এবং তোমার সঙ্গীরা পালিয়ে যায়। তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করো। তোমার পরিবার থেকে তোমার শাসনের লাঠি সরিয়ে নিও না এবং মহান আল্লাহর ব্যাপারে তাদের মনে ভয় বজায় রাখো (২)।
১৫/২০ (সহীহ) আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট জিহাদের ইচ্ছা নিয়ে আসল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত?" সে বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তবে তাদের সেবার মাধ্যমেই জিহাদ করো।"
৯ - পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে পেল অথচ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না - ১০১৬/২১ (সহীহ) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সে লাঞ্ছিত হোক (৩), সে লাঞ্ছিত হোক, সে লাঞ্ছিত হোক।" তারা জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! কে সে?" তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অথবা তাদের একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল (৪), অথচ সে জাহান্নামে প্রবেশ করল।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
10 - بَابُ لَا يَسْتَغْفِرُ لِأَبِيهِ الْمُشْرِكِ - 1217/23 (حسن الإسناد) عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ عز وجل: {إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ} [الإسراء: 24] إِلَى قَوْلِهِ: {كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا} [الإسراء: 24] فَنَسَخَتْهَا الْآيَةُ فِي بَرَاءَةَ: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ} [التوبة: 113] .
11 - باب بر الوالد المشرك - 1318/24 (صحيح) عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ:: نَزَلَتْ فِيَّ أَرْبَعُ آيَاتٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى: كَانَتْ أُمِّي حَلَفَتْ، أَنْ لَا تَأْكُلَ وَلَا تَشْرَبَ، حَتَّى أُفَارِقَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل: {وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلَى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطُعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا} [لقمان: 15] . وَالثَّانِيَةُ: أَنِّي كُنْتُ أَخَذْتُ سَيْفًا أَعْجَبَنِي، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! هَبْ لِي هَذَا. فَنَزَلَتْ: {يسألونك عن الأنفال} . وَالثَّالِثَةُ: أَنِّي مَرِضْتُ فَأَتَانِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَقْسِمَ مَالِي، أَفَأُوصِي بِالنِّصْفِ؟ فَقَالَ: "لَا". فَقُلْتُ: الثُّلُثُ؟ فَسَكَتَ، فَكَانَ الثُّلُثُ بَعْدَهُ جَائِزًا. وَالرَّابِعَةُ: إِنِّي شَرِبْتُ الْخَمْرَ مَعَ قَوْمٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَضَرَبَ رجل منهم
১০ - অধ্যায়: মুশরিক পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা যাবে না - ১২১৭/২৩ (হাসান ইসনাদ) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে: {তোমার কাছে তাদের কোনো একজন অথবা উভয়ই যদি বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের প্রতি ‘উফ’ বলো না} [আল-ইসরা: ২৩] থেকে {যেমন তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছিলেন} [আল-ইসরা: ২৪] পর্যন্ত; সূরা বারাআতের এই আয়াতটি দ্বারা তা মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে: {নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়, তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে তারা জাহান্নামী} [আত-তওবা: ১১৩]।
১১ - অধ্যায়: মুশরিক পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার - ১৩১৮/২৪ (সহীহ) সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মহান আল্লাহর কিতাবের চারটি আয়াত আমার ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। আমার মা কসম করেছিলেন যে, তিনি আহার ও পান করবেন না যতক্ষণ না আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ত্যাগ করি। তখন মহান আল্লাহ নাযিল করেন: {আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরিক করার জন্য পীড়াপীড়ি করে যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না, আর দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো} [লুকমান: ১৫]। দ্বিতীয়ত: আমি একটি তলোয়ার নিয়েছিলাম যা আমার পছন্দ হয়েছিল। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এটি আমাকে দান করুন। তখন নাযিল হলো: {তারা আপনাকে আনফাল (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে}। তৃতীয়ত: আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে দেখতে আসেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার সম্পদ বণ্টন করতে চাই, আমি কি অর্ধেক অসিয়ত করতে পারি? তিনি বললেন: "না"। আমি বললাম: তবে কি এক-তৃতীয়াংশ? তিনি চুপ থাকলেন, তাই এর পর থেকে এক-তৃতীয়াংশ (অসিয়ত করা) জায়েয হয়ে গেল। চতুর্থত: আমি আনসারদের এক দলের সাথে মদ পান করেছিলাম, তখন তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আঘাত করল...
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٤١)
أَنْفِي بلحيِ جملٍ (1) ، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ عز وجل تحريم الخمر.
19/25 (صحيح) عن أَسْمَاءُ بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ: أَتَتْنِي أُمِّي رَاغِبَةً، فِي عَهْدِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: أصِلُها؟ قَالَ: "نَعَمْ". قَالَ: ابْنُ عُيَيْنَةَ: فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل فِيهَا: {لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدين} [الممتحنة: 8] .
20/26 (صحيح) عن ابن عمر قال: رَأَى عُمَرُ رضي الله عنه حُلَّةً سِيَرَاءَ (2) تُبَاعُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! ابْتَعْ هَذِهِ، فَالْبَسْهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَإِذَا جَاءَكَ الْوُفُودُ. قَالَ: "إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لا خلاق له".
--------------------------------------------
আমার নাক উটের চোয়ালের হাড় দিয়ে (আঘাত করা হয়েছিল) (১), অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলাম, তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা মদ হারাম করার বিধান নাজিল করলেন।
১৯/২৫ (সহিহ) আসমা বিনতে আবু বকর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আমার মা আমার কাছে আসলেন কোনো কিছুর প্রত্যাশায়, তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম: আমি কি তাঁর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" ইবনে উয়ায়না বলেন: তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা এ বিষয়ে (আয়াত) নাজিল করলেন: {দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি আল্লাহ তাদের সাথে দয়া ও ন্যায়বিচার করতে তোমাদের নিষেধ করেন না} [আল-মুমতাহিনা: ৮]।
২০/২৬ (সহিহ) ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি রেশমি মিশ্রিত পোশাক (২) বিক্রি হতে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এটি ক্রয় করুন এবং জুমার দিন ও যখন আপনার কাছে প্রতিনিধি দল আসে তখন এটি পরিধান করুন। তিনি বললেন: "এটি কেবল সেই ব্যক্তিই পরিধান করে যার (আখেরাতে) কোনো অংশ নেই।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
فَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا بِحُلَلٍ، فَأَرْسَلَ إِلَى عُمَرَ بِحُلَّةٍ، فَقَالَ: كَيْفَ أَلْبَسُهَا وَقَدْ قلتَ فِيهَا مَا قُلْتَ. قَالَ: "إِنِّي لَمْ أُعْطِكَهَا لِتَلْبَسَهَا، وَلَكِنْ تَبِيعَهَا أَوْ تَكْسُوَهَا". فَأَرْسَلَ بِهَا عُمَرُ إِلَى أَخٍ لَهُ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ، قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ.
12- بَابُ لَا يَسُبُّ وَالِدَيْهِ - 1421/27 (صحيح) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ: النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " مِنَ الْكَبَائِرِ أَنْ يَشْتِمَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ". فَقَالُوا: كَيْفَ يَشْتِمُ؟ قَالَ: "يَشْتِمُ الرَّجُلَ، فَيَشْتُمُ أباه وأمه".
22/28 (حسن الإسناد) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بن العاص قال:: "مِنَ الْكَبَائِرِ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى أَنْ يَسْتَسِبَّ الرَّجُلُ لِوَالِدِهِ".
13- بَابُ عقوبة عقوق الوالدين - 1523/29 (صحيح) عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَا مِنْ ذَنْبٍ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجَّلَ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةُ مَعَ مَا يدخر له؛ من البغى
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কিছু রেশমি পোশাক আনা হলো। তিনি উমর (রা.)-এর নিকট একটি পোশাক পাঠালেন। উমর (রা.) বললেন: আমি এটি কীভাবে পরিধান করব, অথচ আপনি এ সম্পর্কে যা বলার বলেছিলেন? তিনি বললেন: "আমি তোমাকে এটি পরিধান করার জন্য দিইনি, বরং বিক্রি করার জন্য অথবা কাউকে পরিধান করানোর জন্য দিয়েছি।" অতঃপর উমর (রা.) সেটি মক্কায় অবস্থানরত তার এক ভাইয়ের কাছে পাঠালেন, তার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে।
১২- পরিচ্ছেদ: নিজ পিতা-মাতাকে গালি না দেওয়া - ১৪২১/২৭ (সহিহ) আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির নিজ পিতা-মাতাকে গালি দেওয়া কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: সে কীভাবে গালি দেয়? তিনি বললেন: "সে অন্য ব্যক্তিকে গালি দেয়, বিনিময়ে ঐ ব্যক্তি তার পিতাকে এবং তার মাতাকে গালি দেয়।"
২২/২৮ (হাসান ইসনাদ) আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলার নিকট কোনো ব্যক্তির তার পিতার গালির কারণ হওয়া কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।"
১৩- পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতার অবাধ্যতার শাস্তি - ১৫২৩/২৯ (সহিহ) আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বিদ্রোহ বা সীমালঙ্ঘন অপেক্ষা এমন কোনো পাপ নেই, যার কর্তাকে পরকালের সঞ্চিত শাস্তির পাশাপাশি দুনিয়াতেও দ্রুত শাস্তি প্রদান করা অধিক সমীচীন..."
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
وقطيعة الرحم".
14- باب دعوة الوالدين- 1724/32 (حسن) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: "ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ لَهُنَّ، لَا شَكَّ فِيهِنَّ: دَعْوَةُ الْمَظْلُومِ، وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ، وَدَعْوَةُ الْوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ".
25/33 (صحيح) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "مَا تَكَلَّمَ مَوْلُودٌ مِنَ النَّاسِ فِي مَهْدٍ إِلَّا عيسى بن مَرْيَمَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ [وَسَلَّمَ] وَصَاحِبُ جُرَيْجٍ" قِيلَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ! وَمَا صَاحِبُ جُرَيْجٍ؟ قَالَ: "فَإِنَّ جُرَيْجًا كَانَ رَجُلًا رَاهِبًا فِي صَوْمَعَةٍ لَهُ، وَكَانَ رَاعِيَ بَقَرٍ يَأْوِي إِلَى أَسْفَلِ صَوْمَعَتِهِ، وَكَانَتِ امْرَأَةٌ مِنْ أَهْلِ الْقَرْيَةِ تَخْتَلِفُ إِلَى الرَّاعِي، فَأَتَتْ أُمُّهُ يَوْمًا فَقَالَتْ: يَا جُرَيْجُ! وَهُوَ يُصَلِّي، فَقَالَ فِي نَفْسِهِ - وَهُوَ يُصَلِّي - أُمِّي وَصَلَاتِي؟ فَرَأَى أَنْ يُؤْثِرَ صَلَاتَهُ، ثُمَّ صَرَخَتْ بِهِ الثَّانِيَةَ، فَقَالَ فِي نَفْسِهِ: أُمِّي وَصَلَاتِي؟ فَرَأَى أَنْ يُؤْثِرَ صَلَاتَهُ. ثُمَّ صَرَخَتْ بِهِ الثَّالِثَةَ فَقَالَ: أمي وصلاتى. فرأى أن
এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা।"
১৪- অধ্যায়: পিতা-মাতার দু'আ- ১৭২৪/৩২ (হাসান) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি দু'আ কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই: মজলুমের দু'আ, মুসাফিরের দু'আ এবং সন্তানের বিরুদ্ধে পিতার দু'আ।"
২৫/৩৩ (সহীহ) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "মানুষের মধ্যে দোলনায় থাকা অবস্থায় ঈসা ইবনে মারইয়াম এবং জুরাইজের সাথী (সেই শিশুটি) ব্যতীত আর কেউ কথা বলেনি।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর নবী! জুরাইজের সাথী কে? তিনি বললেন: "জুরাইজ ছিলেন একজন ইবাদতগুজার ব্যক্তি, যিনি তার গির্জায় (উপাসনালয়ে) থাকতেন। এক রাখাল তার গরুর পাল নিয়ে তার গির্জার নিচে অবস্থান করত। গ্রামের এক নারী ঐ রাখালের কাছে আসা-যাওয়া করত। একদিন জুরাইজের মা এসে ডাকলেন: হে জুরাইজ! তখন তিনি নামাজ পড়ছিলেন। তিনি মনে মনে বললেন—এমতাবস্থায় যে তিনি নামাজরত—আমার মা নাকি আমার নামাজ? তখন তিনি তার নামাজকেই অগ্রাধিকার দেওয়া শ্রেয় মনে করলেন। অতঃপর মা দ্বিতীয়বার তাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন। তিনি মনে মনে বললেন: আমার মা নাকি আমার নামাজ? তিনি তার নামাজকেই অগ্রাধিকার দিলেন। এরপর মা তাকে তৃতীয়বার ডাকলেন। তখন তিনি মনে মনে বললেন: আমার মা নাকি আমার নামাজ। তিনি মনে করলেন যে..."
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
يُؤْثِرَ صَلَاتَهُ. فَلَمَّا لَمْ يُجِبْهَا قَالَتْ: لَا أَمَاتَكَ اللَّهُ يَا جُرَيْجُ! حَتَّى تَنْظُرَ فِي وَجْهِ الْمُومِسَاتِ. ثُمَّ انْصَرَفَتْ فأُتَيَ الْمَلِكُ بتلك المرأة ولدت (1) . وَلَدَتْ فَقَالَ: مِمَّنْ؟ قَالَتْ: مِنْ جُرَيْجٍ. قَالَ: أَصَاحِبُ الصَّوْمَعَةِ؟ قَالَتْ: نَعَمْ. قَالَ: اهْدِمُوا صَوْمَعَتَهُ وَأْتُونِي بِهِ، فَضَرَبُوا صَوْمَعَتَهُ بِالْفُئُوسِ، حَتَّى وَقَعَتْ. فَجَعَلُوا يَدَهُ إِلَى عُنُقِهِ بِحَبْلٍ؛ ثُمَّ انْطُلِقَ بِهِ، فَمَرَّ بِهِ عَلَى الْمُومِسَاتِ، فَرَآهُنَّ فَتَبَسَّمَ، وَهُنَّ يَنْظُرْنَ إِلَيْهِ فِي النَّاسِ. فَقَالَ الْمَلِكُ: مَا تَزْعُمُ هَذِهِ؟ قَالَ: مَا تَزْعُمُ؟ قَالَ: تَزْعُمُ أَنَّ وَلَدَهَا مِنْكَ. قَالَ: أَنْتِ تَزْعُمِينَ؟ قَالَتْ: نَعَمْ. قَالَ: أَيْنَ هذا الصغير؟ قالوا: هذا فِي حِجْرِهَا، فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ. فَقَالَ: مَنْ أَبُوكَ؟ قَالَ: رَاعِي الْبَقَرِ. قَالَ الْمَلِكُ: أَنَجْعَلُ صَوْمَعَتَكَ مِنْ ذَهَبٍ؟ قَالَ: لَا. قَالَ: مِنْ فِضَّةٍ؟ قَالَ: لَا. قَالَ: فَمَا نَجْعَلُهَا؟ قَالَ: رُدُّوهَا كَمَا كَانَتْ. قَالَ: فَمَا الَّذِي تَبَسَّمْتَ؟ قَالَ: أَمْرًا عَرَفْتُهُ، أَدْرَكَتْنِي دَعْوَةُ أُمِّي، ثُمَّ أَخْبَرَهُمْ".
15- بَابُ عَرْضِ الْإِسْلَامِ على الأم النصرانية - 1826/34 (حسن) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: مَا سَمِعَ بِي أَحَدٌ، يَهُودِيٌّ وَلَا نَصْرَانِيٌّ إِلَّا أَحَبَّنِي، إِنَّ أُمِّي كُنْتُ أُرِيدُهَا عَلَى الْإِسْلَامِ فَتَأْبَى، فَقُلْتُ لَهَا فَأَبَتْ، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ: ادع الله
--------------------------------------------
তিনি তাঁর সালাতকেই প্রাধান্য দিলেন। যখন তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন না, তখন মা বললেন: হে জুরাইজ! আল্লাহ যেন তোমাকে মৃত্যু না দেন যতক্ষণ না তুমি ব্যভিচারিণী নারীদের মুখ দেখবে। অতঃপর তিনি চলে গেলেন। এরপর বাদশাহর নিকট সেই নারীকে আনা হলো যে সন্তান প্রসব করেছিল (১)। সে সন্তান প্রসব করলে বাদশাহ জিজ্ঞেস করলেন: কার থেকে? সে বলল: জুরাইজ থেকে। তিনি বললেন: সেই গির্জার অধিবাসী? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তার গির্জাটি ভেঙে ফেলো এবং তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো। তারা কুঠার দিয়ে তার গির্জায় আঘাত করল যতক্ষণ না তা ভেঙে পড়ল। অতঃপর তারা রশি দিয়ে তার হাত তাঁর ঘাড়ের সাথে বেঁধে ফেলল; তারপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো। তাঁকে ব্যভিচারিণী নারীদের নিকট দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাঁদের দেখলেন এবং মুচকি হাসলেন, আর তাঁরা মানুষের ভিড়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল। বাদশাহ বললেন: এই নারী কী দাবি করছে? তিনি বললেন: সে কী দাবি করছে? বাদশাহ বললেন: সে দাবি করছে যে তার সন্তানটি তোমার থেকে। তিনি বললেন: তুমি কি এমন দাবি করছ? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এই শিশুটি কোথায়? তারা বলল: এই যে তার কোলে। অতঃপর তিনি শিশুর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং বললেন: তোমার পিতা কে? শিশুটি বলল: গাভী পালনকারী রাখাল। বাদশাহ বললেন: আমরা কি তোমার গির্জাটি সোনা দিয়ে তৈরি করে দেব? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: রুপা দিয়ে? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তবে আমরা এটি কী দিয়ে তৈরি করব? তিনি বললেন: এটি আগের মতো করে দিন। বাদশাহ বললেন: তুমি হাসলে কেন? তিনি বললেন: আমি একটি বিষয় বুঝতে পেরেছি, আমার মায়ের বদদোয়া আমাকে পেয়ে বসেছে। তারপর তিনি তাদের সব ঘটনা খুলে বললেন।
১৫- অধ্যায়: খ্রিস্টান মায়ের নিকট ইসলাম পেশ করা - ১৮২৬/৩৪ (হাসান) আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টান আমার কথা শোনেনি কিন্তু সে আমাকে ভালোবেসেছে। আমি আমার মাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করতে চাইতাম কিন্তু তিনি অস্বীকার করতেন। আমি তাঁকে পুনরায় বললাম কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন। তখন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম: আল্লাহর কাছে দোয়া করুন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
لَهَا، فَدَعَا، فَأَتَيْتُهَا وَقَدْ أَجَافَتْ عَلَيْهَا الْبَابَ - فَقَالَتْ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ! إِنِّي أَسْلَمْتُ، فَأَخْبَرْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: ادْعُ اللَّهَ لِي وَلِأُمِّي، فَقَالَ: "اللَّهُمَّ! عَبْدُكَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَأُمُّهُ، أَحِبَّهُمَا إِلَى النَّاسِ".
16- بَابُ بِرِّ الوالدين بعد موتهما - 1927/36 (حسن الإسناد) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: " تُرْفَعُ لِلْمَيِّتِ بَعْدَ مَوْتِهِ دَرَجَتُهُ. فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ! أَيُّ شَيْءٍ هَذِهِ؟ فيقال: "ولدك استغفر لك".
28/37 (صحيح الإسناد) عن محمد بن سيرين قال: كُنَّا عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ لَيْلَةً، فَقَالَ: "اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأَبِي هُرَيْرَةَ، وَلِأُمِّي، وَلِمَنِ اسْتَغْفَرَ لَهُمَا" قَالَ لِي مُحَمَّدٌ: فَنَحْنُ نَسْتَغْفِرُ لَهُمَا؛ حَتَّى نَدْخُلَ فِي دَعْوَةِ أَبِي هريرة.
29/38 (صحيح) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ؛ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِذَا مَاتَ الْعَبْدُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ: صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو له".
তার জন্য, অতঃপর তিনি দুআ করলেন। তারপর আমি তার কাছে আসলাম, তখন তিনি দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। তিনি বললেন: হে আবু হুরায়রা! নিশ্চয়ই আমি ইসলাম কবুল করেছি। তখন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সংবাদ দিলাম এবং বললাম: আপনি আমার ও আমার মায়ের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আপনার বান্দা আবু হুরায়রা ও তার মা, এই উভয়কে মানুষের নিকট প্রিয় করে দিন।"
১৬- পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের সাথে সদাচরণ - ১৯২৭/৩৬ (হাসান ইসনাদ) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। তখন সে বলে: হে আমার রব! এটি কিসের জন্য? তখন বলা হয়: তোমার সন্তান তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।"
২৮/৩৭ (সহীহ ইসনাদ) মুহাম্মদ ইবনে সিরীন (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা এক রাতে আবু হুরায়রা (রা.)-এর নিকট ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আবু হুরায়রাকে, তার মাকে এবং যে ব্যক্তি তাদের উভয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে তাকে ক্ষমা করে দিন।" মুহাম্মদ (রহ.) আমাকে বললেন: তাই আমরা তাদের উভয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি; যেন আমরা আবু হুরায়রা (রা.)-এর দুআর অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।
২৯/৩৮ (সহীহ) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত; আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো বান্দা মারা যায়, তখন তিনটি বিষয় ব্যতীত তার আমল বন্ধ হয়ে যায়: সাদাকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা নেককার সন্তান যে তার জন্য দুআ করে।"
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
30/39 (صحيح) عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَلَمْ تُوصِ، أَفَيَنْفَعُهَا أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهَا؟ قَالَ: "نَعَمْ".
17 - بَابُ بِرِّ مِنْ كَانَ يَصِلُهُ أبوه - 2031/41 (صحيح) عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِنَّ أَبَرَّ الْبِرِّ أَنْ يَصِلَ الرَّجُلُ أَهْلَ وُدِّ أَبِيهِ".
18 - بَابُ لَا يُسَمِّي الرَّجُلُ أَبَاهُ، وَلَا يَجْلِسُ قَبْلَهُ وَلَا يَمْشِي أمامه - 2332/44 (صحيح الإسناد) عن عروة - أَوْ غَيْرِهِ - أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَبْصَرَ رَجُلَيْنِ. فَقَالَ لِأَحَدِهِمَا: مَا هَذَا مِنْكَ؟ فَقَالَ: أَبِي. فَقَالَ: " لَا تُسَمِّهِ بِاسْمِهِ، وَلَا تَمْشِ أمامه، ولا تجلس قبله".
৩০/৩৯ (সহিহ) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা ইন্তেকাল করেছেন এবং তিনি কোনো অসিয়ত করে যাননি। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে দান-সদকা করলে তিনি কি এর দ্বারা উপকৃত হবেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
১৭ - পরিচ্ছেদ: পিতার বন্ধুদের সাথে সদাচরণ করা - ২০৩১/৪১ (সহিহ) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সর্বোত্তম নেক কাজ হলো কোনো ব্যক্তির তার পিতার বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।"
১৮ - পরিচ্ছেদ: কোনো ব্যক্তি তার পিতাকে নাম ধরে ডাকবে না, তার আগে বসবে না এবং তার সামনে হাঁটবে না - ২৩৩২/৪৪ (সহিহ সনদে) উরওয়াহ - অথবা অন্য কেউ - থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরায়রা দুই ব্যক্তিকে দেখলেন। তিনি তাদের একজনকে বললেন: এই ব্যক্তি তোমার কে হন? সে উত্তর দিল: আমার পিতা। তখন তিনি বললেন: "তুমি তাকে নাম ধরে ডাকবে না, তার সামনে হাঁটবে না এবং তার আগে বসবে না।"
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
19- باب هل يكني أباه؟ - 2433/46 (صحيح الإسناد) عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: " لَكِنْ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ قَضَى".
20 - بَابُ وجوب صلة الرحم - 2534/48 (صحيح) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [الشعراء: 214] قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَنَادَى: "يَا بَنِي كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ! أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ. يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ! أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ. يَا بَنِي هَاشِمٍ! أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ. يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ! أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ. يَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ! أَنْقِذِي نَفْسَكِ مِنَ النَّارِ، فَإِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، غَيْرَ أَنَّ لَكُمْ رَحِمًا سأبلها ببلالها" (1) .
--------------------------------------------
১৯- পরিচ্ছেদ: সন্তান কি তার পিতাকে উপনাম (কুনিয়া) ধরে ডাকতে পারে? - ২৪৩৩/৪৬ (সহীহ ইসনাদ) ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "কিন্তু আবু হাফস উমর ফয়সালা করেছেন।"
২০ - পরিচ্ছেদ: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আবশ্যকতা - ২৫৩৪/৪৮ (সহীহ) আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} [শুআরা: ২১৪], তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঠে দাঁড়ালেন এবং ডাক দিলেন: "হে বনী কাব ইবনে লুয়াই! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। হে বনী আবদে মানাফ! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। হে বনী হাশেম! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। হে বনী আবদিল মুত্তালিব! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা! তুমি নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। কেননা আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাকে বাঁচানোর কোনো ক্ষমতা আমার নেই। তবে তোমাদের সাথে আমার যে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে, আমি তা সিক্ত রাখব (বজায় রাখব)।" (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
21 - باب صلة الرحم - 2635/49 (صحيح) عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، أَنَّ أعرابيا عرض لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي مَسِيرِهِ، فَقَالَ: أَخْبِرْنِي مَا يُقَرِّبُنِي مِنَ الْجَنَّةِ، وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ؟ قَالَ: "تَعْبُدُ اللَّهَ وَلَا تُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وتؤتي الزكاة، وتصل الرحم".
36/50 (صحيح) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ؛ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " خَلَقَ اللَّهُ عز وجل الْخَلْقَ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْهُ قَامَتِ الرَّحِمُ، فَقَالَ: مَهْ! قَالَتْ: هَذَا مَقَامُ الْعَائِذِ بِكَ مِنَ الْقَطِيعَةِ، قَالَ: أَلَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ؟ قَالَتْ: بَلَى يَا رَبِّ! قَالَ: فَذَلِكَ لَكِ" ثُمَّ قَالَ أَبُو هريرة: اقرأوا إِنْ شِئْتُمْ: {فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وتقطعوا أرحامكم} [محمد: 22] .
২১ - আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা অধ্যায় - ২৬৩৫/৪৯ (সহিহ) আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক গ্রাম্য লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সফরের সময় তাঁর পথ আগলে দাঁড়াল। অতঃপর সে বলল: আমাকে এমন আমল সম্পর্কে বলুন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বললেন: "তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে।"
৩৬/৫০ (সহিহ) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল যখন সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করলেন, আর যখন সৃষ্টি সম্পন্ন করলেন, তখন আত্মীয়তার বন্ধন দাঁড়িয়ে গেল। আল্লাহ বললেন: থামো! সে বলল: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে আপনার নিকট আশ্রয়প্রার্থীর দাঁড়ানোর স্থান এটি। তিনি বললেন: তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যে তোমার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে আমি তার সাথে সুসম্পর্ক রাখব, আর যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব? সে বলল: অবশ্যই, হে আমার রব! তিনি বললেন: তবে তোমার জন্য তা-ই নির্ধারিত হলো।" অতঃপর আবু হুরায়রা (রা.) বললেন: তোমরা চাইলে পাঠ করো: {তবে কি তোমরা প্রত্যাশা করছ যে, যদি তোমরা শাসনক্ষমতা লাভ করো তবে জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে?} [মুহাম্মাদ: ২২]।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
22- باب فضل صلة الرحم - 2737/52 (صحيح) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: "أَتَى رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ لِي قَرَابَةً أَصِلُهُمْ وَيَقْطَعُونَ، وَأُحْسِنُ إِلَيْهِمْ وَيُسِيئُونَ إِلَيَّ، وَيَجْهَلُونَ عَلَيَّ وَأَحْلُمُ عَنْهُمْ. قَالَ: "لَئِنْ كَانَ كَمَا تَقُولُ كَأَنَّمَا تُسِفُّهُمُ (1) الْمَلَّ، وَلَا يَزَالُ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظَهِيرٌ عَلَيْهِمْ مَا دُمْتَ على ذلك".
38/53 (صحيح) عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ؛ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " قَالَ اللَّهُ عز وجل: أَنَا الرَّحْمَنُ، وَأَنَا خَلَقْتُ الرَّحِمَ، وَاشْتَقَقْتُ لَهَا مِنَ اسْمِي، فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ، ومن قطعها بتَتّه".
39/54 (صحيح) عَنْ أَبِي الْعَنْبَسِ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فِي الْوَهْطِ- يَعْنِي: أَرْضًا لَهُ بالطائف - فقال:
--------------------------------------------
২২- অধ্যায়: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ফজিলত - ২৭৩৭/৫২ (সহিহ) আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমার কিছু আত্মীয় আছে যাদের সাথে আমি সুসম্পর্ক বজায় রাখি কিন্তু তারা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে; আমি তাদের প্রতি সদাচরণ করি কিন্তু তারা আমার প্রতি দুর্ব্যবহার করে; তারা আমার সাথে মূর্খের মতো আচরণ করে কিন্তু আমি ধৈর্য ধারণ করি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "যদি বিষয়টি তেমনই হয় যেমনটি তুমি বলেছ, তবে তুমি যেন তাদের উত্তপ্ত ছাই খাওয়াচ্ছ (১), আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য সর্বদা একজন সাহায্যকারী থাকবে যতক্ষণ তুমি এই অবস্থার ওপর অবিচল থাকবে"।"
৩৮/৫৩ (সহিহ) আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাযি.) থেকে বর্ণিত; তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: আমি রহমান (পরম করুণাময়), আর আমি 'রাহিম' (আত্মীয়তার বন্ধন) সৃষ্টি করেছি এবং একে আমার নাম থেকেই নির্গত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক রাখব; আর যে ব্যক্তি তা ছিন্ন করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব।"
৩৯/৫৪ (সহিহ) আবুল আমবাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি তায়েফে ওয়াহ্ত নামক স্থানে—অর্থাৎ তার একটি জমিতে—আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযি.)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
عَطَفَ لَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِصْبَعَهُ فَقَالَ: "الرَّحِمُ شُجْنَةٌ (1) مِنَ الرَّحْمَنِ، مَنْ يَصِلْهَا يَصِلْهُ، وَمَنْ يَقْطَعْهَا يَقْطَعْهُ، لَهَا لِسَانٌ طَلْقٌ (2) ذَلْقٌ (3) يَوْمَ الْقِيَامَةِ".
40/55 (صحيح) عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها؛ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "الرَّحِمُ شُجْنَةٌ مِنَ اللَّهِ، مَنْ وَصَلَهَا وَصَلَهُ اللَّهُ، وَمَنْ قَطَعَهَا قَطَعَهُ اللَّهُ".
23- بَابُ صِلَةِ الرَّحِمِ تَزِيدُ فِي الْعُمْرِ- 2841/56 (صحيح) عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ؛ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، وَأَنْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ (4) ، فَلْيَصِلْ رحمه".
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর আঙুলটি আমাদের দিকে বাঁকিয়ে বললেন: "রক্তের সম্পর্ক (আত্মীয়তা) হলো রহমান থেকে উৎসারিত একটি শাখা (১)। যে একে যুক্ত রাখে, তিনিও তাকে যুক্ত রাখেন; আর যে একে ছিন্ন করে, তিনিও তাকে ছিন্ন করেন। কিয়ামতের দিন এর একটি সাবলীল (২) ও প্রাঞ্জল (৩) জিহ্বা থাকবে।"
৪০/৫৫ (সহীহ) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "রক্তের সম্পর্ক আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি শাখা। যে একে যুক্ত রাখে, আল্লাহ তাকে যুক্ত রাখেন; আর যে একে ছিন্ন করে, আল্লাহ তাকে ছিন্ন করেন।"
২৩- অধ্যায়: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা আয়ু বৃদ্ধি করে- ২৮৪১/৫৬ (সহীহ) আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি চায় যে তার রিযিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি পাক (৪), সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٥١)
42/57 (صحيح) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، وَأَنْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ".
24 - بَابُ مَنْ وَصَلَ رَحِمَهُ أحبه أهله - 2943/58 (حسن) عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: "مَنِ اتقى ربه، ووصل رحمه، نُسّىءَ في أجله، (وفي لفظ: أُنسيء لَهُ فِي عُمُرهِ /59) وَثَرَى مَالُهُ، وأحبه أهله".
৪২/৫৭ (সহিহ) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি তার রিজিক প্রশস্ত হওয়া এবং আয়ু বৃদ্ধি পাওয়া পছন্দ করে, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।"
২৪ - পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে তার পরিবার তাকে ভালোবাসে - ২৯৪৩/৫৮ (হাসান) ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি তার প্রতিপালককে ভয় করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, তার আয়ু বৃদ্ধি করা হয়, (অন্য বর্ণনায়: তার জীবনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় /৫৯) তার ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং তার পরিবার তাকে ভালোবাসে।"
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
25- باب بر الأقرب فالأقرب- 3044/60 (صحيح) عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ؛ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "إِنَّ اللَّهَ يُوصِيكُمْ بِأُمَّهَاتِكُمْ، ثُمَّ يُوصِيكُمْ بِأُمَّهَاتِكُمْ، ثُمَّ يُوصِيكُمْ بِآبَائِكُمْ، ثُمَّ يوصيكم بالأقرب فالأقرب".
26 - باب إثم قاطع الرحم - 3245/64 (صحيح) عن جبير بن مطعم؛ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " لَا يدخل الجنة قاطع رحم".
46/65 (حسن) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِنَّ الرَّحِمَ شُجْنَةٌ مِنَ الرَّحْمَنِ، تَقُولُ: يَا رَبِّ! إِنِّي ظُلِمْتُ، يَا رَبِّ! إِنِّي قُطِعْتُ. يَا رَبِّ! إِنِّي إِنِّي. يَا رَبِّ! يَا رَبِّ! فَيُجِيبُهَا: أَلَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ، وأصل من وصلك؟ ".
47/66 (صحيح) عن سَعِيدُ بْنُ سَمْعَانَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَتَعَوَّذُ مِنْ إِمَارَةِ
২৫- অধ্যায়: নিকটতমের সাথে সদাচার, অতঃপর তার পরের নিকটতমের সাথে- ৩০৪৪/৬০ (সহিহ) মিকদাম ইবনে মাদী কারিব থেকে বর্ণিত; তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের ব্যাপারে নির্দেশ দিচ্ছেন, অতঃপর তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের ব্যাপারে নির্দেশ দিচ্ছেন, অতঃপর তোমাদেরকে তোমাদের বাবাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিচ্ছেন, অতঃপর তোমাদেরকে তোমাদের নিকটতমদের ব্যাপারে, তারপর তার পরের নিকটতমদের ব্যাপারে নির্দেশ দিচ্ছেন।"
২৬ - অধ্যায়: আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীর পাপ - ৩২৪৫/৬৪ (সহিহ) জুবাইর ইবনে মুতয়িম থেকে বর্ণিত; তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"
৪৬/৬৫ (হাসান) আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয় আত্মীয়তার বন্ধন (আর-রাহিম) হলো পরম করুণাময় (আর-রাহমান)-এর পক্ষ থেকে আসা একটি শাখা। এটি বলে: হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমার ওপর জুলুম করা হয়েছে, হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমাকে ছিন্ন করা হয়েছে। হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমি... আমি... হে আমার রব! হে আমার রব! তখন তিনি (আল্লাহ) একে উত্তর দেন: তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যে তোমাকে ছিন্ন করবে আমি তাকে ছিন্ন করব, আর যে তোমার সাথে সম্পর্ক যুক্ত রাখবে আমি তার সাথে সম্পর্ক যুক্ত রাখব?"
৪৭/৬৬ (সহিহ) সাঈদ ইবনে সামআন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু হুরাইরাকে (নিম্নোক্তদের) নেতৃত্ব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি-
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
الصبيان والسفهاء.
27- بَابُ عُقُوبَةِ قَاطِعِ الرَّحِمِ فِي الدنيا - 3348/67 (صحيح) عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَا مِنْ ذَنْبٍ أَحْرَى أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا، مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ قَطِيعَةِ الرَّحِمِ وَالْبَغْيِ".
28 - بَابُ لَيْسَ الْوَاصِلُ بالمكافئ - 3449/68 (صحيح) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو؛ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قال: "ليس الواصل بالمكافىء، وَلَكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا".
29- بَابُ فَضْلِ مَنْ يصل ذا الرحم الظالم - 3550/69 (صحيح) عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ! عَلِّمْنِي عملاً
শিশু এবং নির্বোধগণ।
২৭- অধ্যায়: দুনিয়াতে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীর শাস্তি - ৩৩৪৮/৬৭ (সহিহ) আবু বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দুনিয়াতে দ্রুত শাস্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা এবং অনাচার বা বিদ্রোহের চেয়ে আর কোনো গুনাহই অধিক উপযুক্ত নয়; এর সাথে তো পরকালের শাস্তি তার জন্য জমা থাকবেই।"
২৮ - অধ্যায়: বিনিময় প্রদানকারী প্রকৃত আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী নয় - ৩৪৪৯/৬৮ (সহিহ) আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সমান সমান বিনিময় প্রদানকারী ব্যক্তি প্রকৃত আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী নয়; বরং প্রকৃত আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী সেই ব্যক্তি, যার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হলে সে তা পুনরায় জুড়ে দেয়।"
২৯- অধ্যায়: জালেম আত্মীয়র সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ফজিলত - ৩৫৫০/৬৯ (সহিহ) বারাআ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক বেদুইন ব্যক্তি এসে বলল: হে আল্লাহর নবী! আমাকে একটি আমল শিক্ষা দিন...
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ. قَالَ: "لَئِنْ كُنْتَ أَقَصَرْتَ الْخُطْبَةَ لَقَدْ أَعْرَضْتَ الْمَسْأَلَةَ، أَعْتِقِ النَّسَمَةَ، وَفُكَّ الرَّقَبَةَ". قَالَ: أَوَ لَيْسَتَا وَاحِدًا؟ قَالَ: "لَا؛ عِتْقُ النَّسَمَةِ أَنْ تَعْتِقَ النَّسَمَةَ، وفكُّ الرّقبةِ أَنْ تُعين عَلَى الرَّقَبَةِ، والمنيحةُ الرغوبُ (1) ، وَالْفَيْءُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ؛ فَإِنْ لَمْ تُطِقْ ذَلِكَ، فَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ، وانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ، فَإِنْ لَمْ تُطِقْ ذَلِكَ، فَكُفَّ لِسَانَكَ، إِلَّا مِنْ خَيْرٍ"
30 - بَابُ مَنْ وَصَلَ رَحِمَهُ فِي الجاهلية ثم أسلم - 3651/70 (صحيح) عن حكيم بن حزام؛ أَنَّهُ قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: أَرَأَيْتَ أُمُورًا كُنْتُ أَتَحَنَّثُ بِهَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ؛ مِنْ صِلَةٍ، وَعَتَاقَةٍ، وَصَدَقَةٍ، فَهَلْ لِي فِيهَا أَجْرٌ؟ قَالَ حَكِيمٌ: قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "أَسْلَمْتَ عَلَى مَا سَلَفَ من خير". .
--------------------------------------------
যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বললেন: "যদিও তুমি সংক্ষিপ্ত কথা বলেছ, তবে তুমি এক বিশাল বিষয়ে প্রশ্ন করেছ। দাস মুক্ত করো এবং ঘাড় মুক্ত করো।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এ দুটি কি একই কাজ নয়? তিনি বললেন: "না; 'দাস মুক্ত করা' হলো তুমি একাই কোনো দাসকে মুক্তি প্রদান করবে, আর 'ঘাড় মুক্ত করা' হলো তুমি দাস মুক্তির পণে সাহায্য প্রদান করবে। আর প্রচুর দুগ্ধবতী পশু দান করা এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়কে সাহায্য করা; যদি তুমি এটি করতে সক্ষম না হও, তবে সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো। আর যদি তুমি এটিও করতে সক্ষম না হও, তবে কল্যাণকর কথা ব্যতীত তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখো।"
৩০ - পরিচ্ছেদ: জাহিলিয়াত যুগে যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করত অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করল - ৩৬৫১/৭০ (সহীহ) হাকিম ইবনে হিজাম থেকে বর্ণিত; তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেন: আপনি কি মনে করেন যে, জাহিলিয়াত যুগে আমি যেসব নেক কাজ করতাম; যেমন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, দাস মুক্ত করা এবং দান-সদকা করা, সেগুলোতে কি আমার কোনো প্রতিদান রয়েছে? হাকিম বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তুমি তোমার পূর্বের নেক আমলসমূহসহই ইসলাম গ্রহণ করেছ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
31 - بَابُ صِلَةِ ذِي الرَّحِمِ الْمُشْرِكِ والهديّة - 3752/71 (صحيح) عَنِ ابْنِ عُمَرَ: رَأَى عُمَرُ حُلَّةً سِيَرَاءَ (1) فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! لَوِ اشْتَرَيْتَ هَذِهِ، فَلَبِسْتَهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَلِلْوُفُودِ إِذَا أَتَوْكَ. فَقَالَ: يَا عُمَرُ! إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لَا خَلَاقَ لَهُ". ثم أهدي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا حُلَلٌ، فَأَهْدَى إِلَى عُمَرَ مِنْهَا حُلَّةً. فَجَاءَ عُمَرُ إِلَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! بَعَثْتَ إِلَيَّ هَذِهِ، وَقَدْ سَمِعْتُكَ قُلْتَ فِيهَا مَا قُلْتَ! قَالَ: "إِنِّي لَمْ أُهْدِهَا لَكَ لِتَلْبَسَهَا. إِنَّمَا أَهْدَيْتُهَا إِلَيْكَ لِتَبِيعَهَا، أَوْ لِتَكْسُوَهَا". فَأَهْدَاهَا عُمَرُ لِأَخٍ لَهُ مِنْ أُمِّهِ مُشْرِكٍ.
32 - بَابُ تَعَلَّمُوا مِنْ أَنْسَابِكُمْ مَا تَصِلُونَ بِهِ أرحامكم - 3853/72 (حسن الإسناد) عن جبير بن مطعم أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ: "تَعَلَّمُوا أَنْسَابَكُمْ، ثُمَّ صِلُوا أَرْحَامَكُمْ، وَاللَّهِ إِنَّهُ لِيَكُونُ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ أَخِيهِ الشَّيْءُ، وَلَوْ يَعْلَمُ الَّذِي بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ مِنْ دَاخِلَةِ الرَّحِمِ، لَأَوْزَعَهُ ذَلِكَ عَنِ انتهاكه".
--------------------------------------------
৩১ - অধ্যায়: মুশরিক আত্মীয়ের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করা এবং উপহার প্রদান - ৩৭৫২/৭১ (সহীহ) ইবনে উমর হতে বর্ণিত: উমর একটি রেশমি ডোরাকাটা পোশাক (১) দেখতে পেয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এটি ক্রয় করতেন এবং জুমার দিনে ও আপনার নিকট আগত প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতের সময় পরিধান করতেন। তখন তিনি বললেন: "হে উমর! এটি কেবল সেই পরিধান করে যার (পরকালে) কোনো অংশ নেই।" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এ ধরনের কিছু পোশাক উপহার হিসেবে আসলো এবং তিনি উমরকে তা থেকে একটি পোশাক প্রদান করলেন। উমর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটি আমার নিকট পাঠিয়েছেন, অথচ আমি এটি সম্পর্কে আপনাকে যা বলার তা বলতে শুনেছি! তিনি বললেন: "আমি এটি তোমাকে পরিধান করার জন্য দেইনি। বরং আমি এটি তোমাকে দিয়েছি যেন তুমি তা বিক্রি করতে পারো অথবা অন্য কাউকে পরিয়ে দিতে পারো।" এরপর উমর তা তাঁর এক মুশরিক বৈপিত্রীয় ভাইকে উপহার দিলেন।
৩২ - অধ্যায়: তোমরা তোমাদের বংশপরিচয় শিক্ষা করো যা দ্বারা তোমরা আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখবে - ৩৮৫৩/৭২ (হাসান ইসনাদ) জুবায়ের ইবনে মুতইম হতে বর্ণিত যে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন: "তোমরা তোমাদের বংশলতিকা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করো, অতঃপর তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করো। আল্লাহর কসম! কোনো ব্যক্তি ও তার ভাইয়ের মধ্যে কোনো তিক্ততা থাকতে পারে, কিন্তু যদি সে তাদের মধ্যকার নিকটাত্মীয়তার গভীরতা সম্পর্কে জানত, তবে অবশ্যই তা তাকে আত্মীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা থেকে বিরত রাখত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
54/73 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ؛ أَنَّهُ قَالَ: " احْفَظُوا أَنْسَابَكُمْ، تَصَلُوا أَرْحَامَكُمْ؛ فَإِنَّهُ لَا بُعْدَ بِالرَّحِمِ إِذَا قَرُبَتْ، وَإِنْ كَانَتْ بَعِيدَةً، وَلَا قُرْبَ بِهَا إِذَا بَعُدَتْ، وَإِنْ كَانَتْ قَرِيبَةً، وَكُلُّ رَحِمٍ آتِيَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمَامَ صَاحِبِهَا، تَشْهَدُ لَهُ بِصِلَةٍ؛ إِنْ كَانَ وَصَلَهَا، وَعَلَيْهِ بِقَطِيعَةٍ؛ إِنْ كَانَ قَطَعَهَا".
33 - بَابُ مولى القوم من أنفسهم - 4055/75 (حسن) عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ؛ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: "اجْمَعْ لِي قَوْمَكَ". فَجَمَعَهُمْ، فَلَمَّا حَضَرُوا بَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهِ عُمَرُ فَقَالَ: قَدْ جَمَعْتُ لَكَ قَوْمِي، فَسَمِعَ ذَلِكَ الْأَنْصَارُ، فَقَالُوا: قَدْ نَزَلَ فِي قُرَيْشٍ الْوَحْيُ، فَجَاءَ الْمُسْتَمِعُ وَالنَّاظِرُ مَا يُقَالُ لَهُمْ، فَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَامَ بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ، فَقَالَ: "هَلْ فِيكُمْ مِنْ غَيْرِكُمْ؟ " قَالُوا نَعَمْ فِينَا حَلِيفُنَا وَابْنُ أُخْتِنَا وَمَوَالِينَا. قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "حَلِيفُنَا مِنَّا، وَابْنُ أُخْتِنَا مِنَّا، وَمَوَالِينَا مِنَّا، وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ: إِنَّ أَوْلِيَائِي مِنْكُمُ الْمُتَّقُونَ؛ فَإِنْ كُنْتُمْ أُولَئِكَ فَذَاكَ، وَإِلَّا فَانْظُرُوا لَا يَأْتِي النَّاسُ بِالْأَعْمَالِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَتَأْتُونَ بِالْأَثْقَالِ، فَيُعْرَضَ عَنْكُمْ" ثُمَّ نَادَى فَقَالَ: "يَا أَيُّهَا النَّاسُ! - وَرَفَعَ يَدَيْهِ يَضَعَهُمَا على رؤوس قريش - أيها الناس! إن
৫৪/৭৩ - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন: "তোমরা তোমাদের বংশপরিচয় সংরক্ষণ করো, যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারবে; কেননা আত্মীয়তার বন্ধন যদি রক্ষা করা হয় তবে তা দূরে থাকলেও কোনো দূরত্ব থাকে না, আর যদি তা ছিন্ন করা হয় তবে তা নিকটবর্তী হলেও কোনো নৈকট্য থাকে না। কিয়ামতের দিন প্রতিটি আত্মীয়তার বন্ধন তার অধিকারীর সামনে উপস্থিত হবে এবং তার সপক্ষে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার সাক্ষ্য দিবে যদি সে তা রক্ষা করে থাকে, আর তার বিরুদ্ধে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার সাক্ষ্য দিবে যদি সে তা ছিন্ন করে থাকে।"
৩৩ - পরিচ্ছেদ: কোনো সম্প্রদায়ের মুক্তদাস তাদেরই অন্তর্ভুক্ত - ৪০৫৫/৭৫ (হাসান) রিফায়া ইবনে রাফে (রা.) থেকে বর্ণিত; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমর (রা.)-কে বললেন: "আমার জন্য তোমার কওমকে একত্র করো।" অতঃপর তিনি তাদের একত্র করলেন। তারা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরজায় উপস্থিত হলেন, উমর (রা.) তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললেন: আমি আপনার জন্য আমার কওমকে একত্র করেছি। আনসারগণ তা শুনতে পেয়ে বললেন: কুরাইশদের বিষয়ে ওহি নাজিল হয়েছে। ফলে তারা কী বলা হয় তা শোনার ও দেখার জন্য উপস্থিত হলেন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হলেন এবং তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন: "তোমাদের মাঝে কি তোমাদের বাইরের কেউ আছে?" তারা বললেন: "হ্যাঁ, আমাদের মাঝে আমাদের মিত্র, আমাদের ভাগ্নে এবং আমাদের মুক্তদাসগণ রয়েছে।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমাদের মিত্র আমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, আমাদের ভাগ্নে আমাদেরই অন্তর্ভুক্ত এবং আমাদের মুক্তদাসগণও আমাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আর তোমরা শোনো: তোমাদের মধ্যে কেবল মুত্তাকিরাই আমার বন্ধু; সুতরাং তোমরা যদি তেমন হও তবে তো ভালো, অন্যথায় লক্ষ্য করো—কিয়ামতের দিন মানুষ যেন আমল নিয়ে না আসে আর তোমরা (পাপের) বোঝা নিয়ে আসো, ফলে তোমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হবে।" এরপর তিনি উচ্চস্বরে আহ্বান করে বললেন: "হে লোকসকল! - এবং তিনি তাঁর হাত দুটি উত্তোলন করে কুরাইশদের মাথার ওপর রাখলেন - হে লোকসকল! নিশ্চয়ই..."
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
قُرَيْشًا أَهْلُ أَمَانَةٍ، مَنْ بَغَى بِهِمْ - قَالَ: زُهَيْرٌ أَظُنُّهُ قَالَ: الْعَوَاثِرَ (1) - كَبَّهُ اللَّهُ لِمِنْخِرَيْهِ" يَقُولُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ.
34 - بَابُ مَنْ عال جاريتين أو واحدة - 4156/76 (صحيح) عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " مَنْ كَانَ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ، وَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ، وَكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِهِ (2) ؛ كُنَّ لَهُ حجابا من النار".
57/77 (حسن لغيره) عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَا مِنْ مُسْلِمٍ تُدْرِكُهُ ابْنَتَانِ، فَيُحْسِنُ صُحْبَتَهُمَا، إِلَّا أَدْخَلَتَاهُ الْجَنَّةَ".
58/78 (حسن) عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَهُمْ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ كَانَ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ، يُؤْوِيهِنَّ، ويكفيهن، ويرحمهن، فقد وجبت
--------------------------------------------
"কুরাইশরা হলো আমানতদার জাতি, যে ব্যক্তি তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে—যুহাইর বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছেন: বিপদ-আপদ—আল্লাহ তাকে তার নাকের ভরে উপুড় করে নিক্ষেপ করবেন।" তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন।
৩৪ - পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি দু’টি বা একটি কন্যাসন্তান লালন-পালন করে - ৪১৫৬/৭৬ (সহিহ) উকবাহ ইবনে আমির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যার তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং সে তাদের লালন-পালনে ধৈর্য ধারণ করে এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ দান করে; তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল হবে।"
৫৭/৭৭ (হাসান লিগাইরিহি) ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে কোনো মুসলিমের দু’টি কন্যাসন্তান থাকে এবং সে তাদের সাথে উত্তম সাহচর্য বজায় রাখে, তবে তারা তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবে।"
৫৮/৭৮ (হাসান) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যার তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যাদের সে আশ্রয় দেয়, তাদের প্রয়োজন পূরণ করে এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে, তবে অবশ্যই তার জন্য [জান্নাত] ওয়াজিব হয়ে গেল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
لَهُ الْجَنَّةُ الْبَتَّةَ". فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ بَعْضِ الْقَوْمِ: وَثِنْتَيْنِ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: "وَثِنْتَيْنِ".
35 - بَابُ من عال ثلاث أخوات - 4259/97 (حسن) عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ؛ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لَا يَكُونُ لِأَحَدٍ ثَلَاثُ بَنَاتٍ، أَوْ ثَلَاثُ أَخَوَاتٍ فَيُحْسِنُ إِلَيْهِنَّ، إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ".
36- بَابُ فَضْلِ مَنْ عَالَ ابْنَتَهُ المردودة (1) - 43
60/82 (صحيح) عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ؛ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " مَا أَطْعَمْتَ نَفْسَكَ فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ وَلَدَكَ فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ زَوْجَكَ فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ خَادِمَكَ فهو لك صدقة".
--------------------------------------------
"তার জন্য অবশ্যই জান্নাত নির্ধারিত।" তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! যদি দুইজন হয়?" তিনি বললেন: "দুইজন হলেও।"
৩৫ - অধ্যায়: যে ব্যক্তি তিনটি বোনকে লালন-পালন করে - ৪২৫৯/৯৭ (হাসান) আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত; নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান অথবা তিনটি বোন থাকে এবং সে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
৩৬- অধ্যায়: (তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা হয়ে) ফিরে আসা নিজ কন্যাকে লালন-পালন করার মর্যাদা (১) - ৪৩
৬০/৮২ (সহীহ) মিকদাম ইবনে মা’দী কারিব (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "তুমি নিজেকে যা খাওয়াও তা তোমার জন্য সদকাহ, তুমি তোমার সন্তানকে যা খাওয়াও তা তোমার জন্য সদকাহ, তুমি তোমার স্ত্রীকে যা খাওয়াও তা তোমার জন্য সদকাহ এবং তুমি তোমার সেবককে যা খাওয়াও তাও তোমার জন্য সদকাহ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
37 - باب الولد مبخلة مجبنة (1) - 45
61/84 (حسن الإسناد) عن عائشة رضي الله تعالى عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه يَوْمًا: "وَاللَّهِ مَا عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ رَجُلٌ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ عُمَرَ، فَلَمَّا خَرَجَ رَجَعَ فَقَالَ: كَيْفَ حَلَفْتُ أَيْ بُنَيَّةُ؟ فَقُلْتُ لَهُ. فَقَالَ: أعز علي والولد ألوط (2) ".
62/58 (صحيح) عَنِ ابْنِ أَبِي نُعْمٍ قَالَ: كنت شاهداً ابن عمر، إذا سَأَلَهُ رَجُلٌ عَنْ دَمِ الْبَعُوضَةِ؟ فَقَالَ: مِمَّنْ أَنْتَ؟ فَقَالَ: مِنْ أهل العراق. قال: انْظُرُوا إِلَى هَذَا يَسْأَلُنِي عَنْ دَمِ الْبَعُوضَةِ، وَقَدْ قَتَلُوا ابْنَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((هُمَا رَيْحَانَيَّ مِنَ الدُّنْيَا)) .
38 - بَابُ حَمْلِ الصَّبِيِّ عَلَى العاتق - 4663/68 (صحيح) عن البراء قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَالْحَسَنُ - صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ - عَلَى عَاتِقِهِ وَهُوَ يَقُولُ: "اللهم! إني أحبه فأحبه".
--------------------------------------------
৩৭ - অধ্যায়: সন্তান কার্পণ্য ও ভীরুতার কারণ (১) - ৪৫
৬১/৮৪ (হাসান ইসনাদ) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন বললেন: "আল্লাহর কসম! ভূপৃষ্ঠে উমরের চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো ব্যক্তি আমার কাছে নেই।" অতঃপর তিনি যখন বেরিয়ে গেলেন, পুনরায় ফিরে এসে বললেন: "হে প্রিয় কন্যা! আমি কী শপথ করেছি?" আমি তাকে বললাম (তিনি কী বলেছিলেন)। তখন তিনি বললেন: "তিনি আমার কাছে অধিক প্রিয়, তবে সন্তান হৃদয়ের সাথে অধিক নিবিড়ভাবে লেগে থাকে (২)।"
৬২/৫৮ (সহিহ) ইবনে আবু নু’ম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরের কাছে উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাকে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কোন দেশের লোক?" সে বলল: "ইরাকবাসী।" তিনি বললেন: "তোমরা এই ব্যক্তির দিকে তাকাও, সে আমাকে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে, অথচ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাতিকে হত্যা করেছে। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'তারা উভয়ই দুনিয়াতে আমার দুটি সুগন্ধি ফুল'।"
৩৮ - অধ্যায়: শিশুকে কাঁধে বহন করা - ৪৬৬৩/৬৮ (সহিহ) বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি এমতাবস্থায় যে, হাসান—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—তাঁর কাঁধের ওপর ছিলেন এবং তিনি বলছিলেন: "হে আল্লাহ! আমি তাকে ভালোবাসি, সুতরাং আপনিও তাকে ভালোবাসুন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
39- باب الولد قرة العين - 4764/87 (صحيح) عن جبير بن نفير قَالَ: جَلَسْنَا إِلَى الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ يَوْمًا، فَمَرَّ بِهِ رَجُلٌ، فَقَالَ: طُوبَى لِهَاتَيْنِ الْعَيْنَيْنِ اللَّتَيْنِ رَأَتَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَاللَّهِ! لَوَدِدْنَا أَنَّا رَأَيْنَا مَا رَأَيْتَ، وَشَهِدْنَا مَا شَهِدْتَ، فَاسْتُغْضِبَ، فَجَعَلْتُ أَعْجَبُ، مَا قَالَ إِلَّا خَيْرًا! ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فَقَالَ: "مَا يَحْمِلُ الرَّجُلُ عَلَى أَنْ يَتَمَنَّى مُحْضَرًا غَيَّبَهُ اللَّهُ عَنْهُ؟ لَا يَدْرِي لَوْ شَهِدَهُ كَيْفَ يَكُونُ فِيهِ؟ وَاللَّهِ! لَقَدْ حَضَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْوَامٌ كَبَّهُمُ اللَّهُ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ فِي جَهَنَّمَ؛ لَمْ يُجِيبُوهُ وَلَمْ يُصَدِّقُوهُ! أَوَلَا تَحْمَدُونَ اللَّهَ عز وجل إِذْ أَخْرَجَكُمْ لَا تَعْرِفُونَ إِلَّا رَبَّكُمْ، فَتُصَدِّقُونَ بِمَا جَاءَ بِهِ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم، قَدْ كُفِيتُمُ الْبَلَاءَ بِغَيْرِكُمْ. وَاللَّهِ لَقَدْ بُعِثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَشَدِّ حَالٍ بُعِثَ عَلَيْهَا نَبِيٌّ قَطُّ، فِي فَتْرَةٍ وَجَاهِلِيَّةٍ، مَا يَرَوْنَ أَنَّ دِينًا أَفْضَلُ مِنْ عِبَادَةِ الْأَوْثَانِ! فَجَاءَ بِفُرْقَانٍ فَرَّقَ بِهِ بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ، وَفَرَّقَ بِهِ بَيْنَ الْوَالِدِ وَوَلَدِهِ، حَتَّى إِنْ كَانَ الرَّجُلُ لَيَرَى وَالِدَهُ أَوْ وَلَدَهُ أَوْ أَخَاهُ كَافِرًا، وَقَدْ فَتْحَ اللَّهُ قُفْلَ قَلْبِهِ بِالْإِيمَانِ وَيَعْلَمُ أَنَّهُ إِنْ هَلَكَ دَخَلَ النَّارَ، فَلَا تَقَرُّ عَيْنُهُ، وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّ حَبِيبَهُ فِي النَّارِ، وَأنَّهَا لِلَّتِي قَالَ: اللَّهُ عز وجل: {وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ} [الفرقان: 74] .
৩৯- অধ্যায়: সন্তান চোখের শীতলতা - ৪৭৬৪/৮৭ (সহীহ) জুবাইর ইবনে নুফাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমরা মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলল: "ঐ দু’টি চোখের জন্য সুসংবাদ যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছে! আল্লাহর শপথ! আমাদের কতই না আকাঙ্ক্ষা হতো যদি আমরা তা দেখতে পেতাম যা আপনি দেখেছেন এবং সেই সব ঘটনায় উপস্থিত থাকতে পারতাম যাতে আপনি উপস্থিত ছিলেন।" এতে তিনি (মিকদাদ) রাগান্বিত হলেন। আমি অবাক হতে লাগলাম, কারণ লোকটি তো কেবল ভালো কথাই বলেছে! অতঃপর তিনি লোকটির দিকে অগ্রসর হয়ে বললেন: "মানুষকে কিসে প্ররোচিত করে এমন এক অবস্থায় উপস্থিত থাকার আকাঙ্ক্ষা করতে যা থেকে আল্লাহ তাকে আড়ালে রেখেছেন? সে জানে না যদি সে সেখানে উপস্থিত থাকত তবে তার অবস্থা কেমন হতো? আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এমন অনেক কওম উপস্থিত হয়েছিল যাদের আল্লাহ উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করেছেন; কারণ তারা তাঁর দাওয়াত কবুল করেনি এবং তাঁকে বিশ্বাস করেনি। তোমরা কি মহান আল্লাহর প্রশংসা করবে না যে, তিনি তোমাদের এমন অবস্থায় বের করে এনেছেন যে তোমরা তোমাদের রব ছাড়া আর কাউকে চেনো না এবং তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা বিশ্বাস করছ? অন্যের পরীক্ষার বিনিময়ে তোমাদের সেই পরীক্ষা থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ! নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে পাঠানো হয়েছিল যে পরিস্থিতিতে কোনো নবীকেই কখনো পাঠানো হয়নি; তা ছিল ওহী বন্ধ থাকার সময় এবং জাহেলিয়াতের চরম যুগ, যখন তারা মূর্তিপূজার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো দ্বীন আছে বলে মনে করত না। অতঃপর তিনি এক সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী মানদণ্ড নিয়ে আসলেন, যার মাধ্যমে তিনি সত্য ও মিথ্যার মাঝে এবং পিতা ও সন্তানের মাঝে পার্থক্য করে দিলেন। এমনকি কোনো ব্যক্তি যখন তার পিতা, সন্তান বা ভাইকে কাফির হিসেবে দেখত, এমতাবস্থায় আল্লাহ তার নিজের হৃদয়ের তালা ঈমানের মাধ্যমে খুলে দিয়েছেন, তখন সে জানত যে তার সেই আত্মীয় মারা গেলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। ফলে তার চোখ শীতল হতো না এই জেনে যে তার প্রিয়জন জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। আর এটিই সেই বিষয় যার প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং যারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে চোখের শীতলতা দান করুন} [সূরা আল-ফুরকান: ৭৪]।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল আদাবুল মুফরাদ
(পৃষ্ঠা: ٦١)
40-بَابُ مَنْ دَعَا لِصَاحِبِهِ أَنْ أكثر ماله وولده- 4865/88 (صحيح) عَنْ أَنَسٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا، وَمَا هُوَ إِلَّا أَنَا وَأُمِّي وَأُمُّ حَرَامٍ خَالَتِي، إِذْ دَخَلَ عَلَيْنَا، فَقَالَ لَنَا: " أَلَا أُصَلِّي بِكُمْ؟ " وَذَاكَ فِي غَيْرِ وَقْتِ صَلَاةٍ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: فَأَيْنَ جَعَلَ أَنَسًا مِنْهُ؟ فقال: جعله يَمِينِهِ، ثُمَّ صَلَّى بِنَا، ثُمَّ دَعَا لَنَا - أَهْلَ الْبَيْتِ- بِكُلِّ خَيْرٍ مِنْ خَيْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، فَقَالَتْ أُمِّي: يَا رَسُولَ اللَّهِ! خُوَيْدِمُكَ؛ ادْعُ اللَّهَ لَهُ، فَدَعَا لِي بِكُلِّ خَيْرٍ، كَانَ فِي آخِرِ دُعَائِهِ أَنْ قَالَ: "اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ".
41 - باب الوالدات رحيماتٌ - 4966/89 (صحيح) عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى عَائِشَةَ رضي الله عنها، فَأَعْطَتْهَا عَائِشَةُ ثَلَاثَ تَمَرَاتٍ، فَأَعْطَتْ كُلَّ صَبِيٍّ لَهَا تَمْرَةً، وَأَمْسَكَتْ لِنَفْسِهَا تَمْرَةً، فَأَكَلَ الصِّبْيَانُ التَّمْرَتَيْنِ وَنَظَرَا إِلَى أُمِّهِمَا، فَعَمَدَتْ إِلَى التَّمْرَةِ فَشَقَّتْهَا، فَأَعْطَتْ كُلَّ صَبِيٍّ نِصْفَ تَمْرَةٍ، فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَتْهُ عَائِشَةُ فَقَالَ: "وَمَا يُعْجِبُكَ مِنْ ذَلِكَ؟ لَقَدْ رَحِمَهَا اللَّهُ بِرَحْمَتِهَا صبييها".
৪০-পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তার সঙ্গীর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির জন্য দোয়া করে - ৪৮৬৫/৮৮ (সহিহ) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলাম, তখন সেখানে আমি, আমার মা এবং আমার খালা উম্মু হারাম ব্যতীত আর কেউ ছিল না। এমতাবস্থায় তিনি আমাদের নিকট আসলেন এবং আমাদের বললেন: "আমি কি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব না?" অথচ তখন সালাতের কোনো নির্ধারিত সময় ছিল না। উপস্থিত লোকদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: তিনি আনাসকে তার কোথায় দাঁড় করিয়েছিলেন? বর্ণনাকারী বললেন: তিনি তাকে তার ডান পাশে দাঁড় করিয়েছিলেন। এরপর তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি আমাদের—অর্থাৎ এই পরিবারের সদস্যদের জন্য—দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণের দোয়া করলেন। তখন আমার মা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনার এই ছোট খাদেমটির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তখন তিনি আমার জন্য সকল কল্যাণের দোয়া করলেন। তার দোয়ার শেষ অংশে তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আপনি তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিন এবং তাতে বরকত দান করুন।"
৪১-পরিচ্ছেদ: মায়েরা মমতাশীল হয় - ৪৯৬৬/৮৯ (সহিহ) আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত: জনৈক নারী আয়েশা (রা.)-এর কাছে আসলেন। আয়েশা (রা.) তাকে তিনটি খেজুর দিলেন। ঐ নারী তার দুই সন্তানের প্রত্যেককে একটি করে খেজুর দিলেন এবং একটি খেজুর নিজের জন্য রেখে দিলেন। শিশু দুটি তাদের খেজুর দুটি খেয়ে ফেলল এবং তাদের মায়ের (হাতের খেজুরটির) দিকে তাকাতে লাগল। তখন তিনি নিজের খেজুরটি নিলেন এবং তা দুই খণ্ড করে প্রত্যেক শিশুকে অর্ধেক করে দিলেন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন এবং আয়েশা (রা.) তাকে বিষয়টি জানালেন। তখন তিনি বললেন: "তুমি এতে অবাক হচ্ছ কেন? সন্তানদের প্রতি তার এই মমতার কারণে আল্লাহও তার প্রতি রহম করেছেন।"