(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
إغاثة اللهفان في حكم طلاق الغضبان - ت الحفيان القسم: مسائل فقهية
الكتاب: إغاثة اللهفان في حكم طلاق الغضبان - ت الحفيان
المؤلف: شمس الدين محمد بن أبي بكر ابن قيم الجوزية (691 - 751 هـ)
ومعه حاشية نفيسة للعلامتين: محمد جمال الدين القاسمي (ت 1332 هـ) و محمد بن مانع النجدي (ت 1385 هـ)
حققه وخرج أحاديثه: عمر سليمان الحفيان
الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1424 - 2004
عدد الصفحات: 113
(قام المحقق بتصحيح بعض الأخطاء الطباعية وأرسلها لنا مشكورا؛ فأثبتناها في هذه النشرة الإلكترونية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 جُمادَى الأولى 1442
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গদবান - তাহকীক: আল-হাফইয়ান বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গদবান - তাহকীক: আল-হাফইয়ান
লেখক: শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (৬৯১ - ৭৫১ হিজরি)
এবং সাথে রয়েছে দুই আল্লামার মূল্যবান পাদটীকা: মুহাম্মদ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি (মৃত্যু ১৩৩২ হিজরি) এবং মুহাম্মদ বিন মানে' আন-নাজদি (মৃত্যু ১৩৮৫ হিজরি)
সম্পাদনা (تحقيق) এবং হাদিসসমূহ তাখরিজ (تخريج) করেছেন: উমর সুলাইমান আল-হাফইয়ান
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ - ২০০৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৩
(সম্পাদক কিছু মুদ্রণজনিত ভুল সংশোধন করেছেন এবং অনুগ্রহপূর্বক তা আমাদের নিকট প্রেরণ করেছেন; আমরা এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে তা অন্তর্ভুক্ত করেছি)
[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ জুমাদাল উলা ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১)
إغاثة اللَّهفان
في
حكم طلاق الغضبان
تأليف
الإمام شمس الدين
محمد بن أبي بكر ابن قيم الجوزية
(691 - 751 هـ)
ومعه حاشية نفيسة للعلامتين: محمد جمال الدين القاسمي (المتوفى: 1332 هـ) و محمد بن مانع النجدي (المتوفى: 1385 هـ)
حققه وخرج أحاديثه: عمر سليمان الحفيان
مؤسسة الرسالة
ইগাসাতুল লাহফান
প্রসঙ্গে
ক্রুদ্ধ ব্যক্তির তালাকের বিধান
রচনায়
ইমাম শামসুদ্দিন
মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ
(৬৯১ - ৭৫১ হিজরি)
সাথে রয়েছে দুই প্রথিতযশা পণ্ডিতের মূল্যবান পার্শ্বটীকা (حاشية): মুহাম্মদ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি (মৃত্যু: ১৩৩২ হিজরি) এবং মুহাম্মদ বিন মানি' আন-নাজদি (মৃত্যু: ১৩৮৫ হিজরি)
গবেষণালব্ধ সম্পাদনা (تحقيق) ও হাদিস সূত্রায়ন (تخريج) করেছেন: উমর সুলাইমান আল-হাফিয়ান
মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২)
- أ -
تقديم
إن الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وجميع صحبه ومن والاه، ومن تبعهم من حملة فقه دين الله، إلى يوم لُقياه، وهو -سبحانه- راض عنَّا وعنهم بفضله وكرمه.
وبعد:
فقد سبق للمكتب الإسلامي للطباعة والنشر -في دمشق وبيروت- الذي بارك الله في منشوراته لمدة زادت على الستين سنة في نشر علوم القرآن الكريم، وأحاديث سيدنا رسول الله، ونشر سُنَّته المطهرة، وما يتبع ذلك من سيرته العطرة صلى الله عليه وسلم، واللغة الكريمة التي أنزل الله بها كتابه، والفقه الذي ارتضاه لعباده، وجعل فيه تسيير أمورهم في دنياهم، والموصل إلى جنته في أُخراهم.
وكان من ذلك نشرنا كتاب:
«إغاثة اللهفان في حكم طلاق الغضبان»
للإمام العلامة محمد بن أبي بكر ابن قيم الجوزية، بتحقيق المهندس الأستاذ محمد عفيفي المصري (1415 هـ)، تلميذ صديقي الشيخ حامد الفقي (1378 هـ) رئيس جماعة أنصار السُّنة المحمدية بمصر، رحمهما الله تعالى، في سنة 1406 هـ.
ومن قبل ذلك نشرنا العديد من مؤلفات شيخ الإسلام أحمد ابن تيمية، وكتب غيره ممن سار على دربه، أو ترجم عنه مثل
- ক -
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর যারা তাঁকে ভালোবেসেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের অনুসরণ করে আল্লাহর দ্বীনের ফিকহ বহন করেন তাঁদের সবার ওপর। মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়াগুণে আমাদের এবং তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট।
অতঃপর:
দামেস্ক ও বৈরুত ভিত্তিক ‘আল-মাকতাব আল-ইসলামি’ মুদ্রণ ও প্রকাশনা সংস্থা—যাদের প্রকাশনায় আল্লাহ দীর্ঘ ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে বরকত দান করেছেন—পবিত্র কুরআনের জ্ঞান, আমাদের নেতা আল্লাহর রাসুলের হাদিসসমূহ এবং তাঁর পবিত্র সুন্নাহ প্রচারের কাজ আঞ্জাম দিয়ে আসছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে তাঁর সুগন্ধিময় সীরাত, যে মহান ভাষার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সেই ভাষা এবং সেই ফিকহ যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য মনোনীত করেছেন—যার মধ্যে রয়েছে তাদের পার্থিব বিষয়ের পরিচালনা এবং পরকালে জান্নাতে পৌঁছানোর পথ।
তারই অংশ হিসেবে আমাদের প্রকাশিত কিতাব ছিল:
«ইগাছাতুল লাহফান ফি হুকমি ত্বলাকিল গদবান»
ইমাম আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ-এর এই গ্রন্থটি তাহকিক করেছেন ইঞ্জিনিয়ার উস্তাদ মুহাম্মদ আফিফি আল-মিসরি (১৪১৫ হিজরি), যিনি মিশরের ‘আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ’ জামাতের প্রধান আমার বন্ধু শায়খ হামিদ আল-ফিকি (১৩৭৮ হিজরি)-এর ছাত্র ছিলেন—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন—এটি ১৪০৬ হিজরি সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
এর আগে আমরা শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর বহু গ্রন্থ এবং তাঁর অনুসৃত পথে যারা চলেছেন কিংবা যাদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে এমন অন্যদের বইও প্রকাশ করেছি। যেমন
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৩)
- ب -
كتاب: «حياة شيخ الإسلام ابن تيمية» لأستاذنا الفاضل الكريم الشيخ محمد بهجة البيطار (1396 هـ) رحمه الله، وفيه بحث عن الطلاق من أفضل ما كتب من المصنفات، انظر الصفحات (55) إلى (66).
ويضاف إليه ما نشرته مما هو متعلق بعلم شيخ الإسلام أحمد ابن تيمية، وأهمه كتاب: «الرد الوافر على من زعم بأن من سمى ابن تيمية شيخ الإسلام كافر» للحافظ ابن ناصر الدين الدمشقي (842 هـ)، ورده على الشيخ العلاء البخاري (841 هـ)، وتوسعي في الرد على الشيخ العلقمي؟ ؟ (879 هـ)، وكتاب: «الأعلام العلية في مناقب ابن تيمية (728 هـ)» للعلامة عمر بن علي البزَّار (749 هـ)، وغير ذلك.
وهذه فيها كلها نقول أو فصول حول أهمية البحث في حكم طلاق الغضبان.
وطلاق الغضبان لم يعرِّفه بشكل دقيق -فيما نعلم- أحد قبل الإمام ابن القيم، بمثل ما جاء في كتابه هذا.
وهو بذلك قد منع تفريق البيوت عن الخراب، وحفظ على العائلة الكثير مما شاهدناه عند بعضهم من إيقاع هذا الطلاق، وغيره من كلام الهازل، والمُقْسِم على أمور ما أراد بها الطلاق أصلاً.
وكان في طبعتنا بتحقيق المهندس عفيفي إطالة وتوسع، وطبعاً كان من قبلها ما نشره شيخ مشايخنا العلامة السلفي الشيخ جمال الدين القاسمي (1332 هـ)، العالم الذي أطبق علمه الآفاق.
- ব -
গ্রন্থ: আমাদের শ্রদ্ধেয় ও মহান উস্তাদ শায়খ মুহাম্মদ বাহজাত আল-বাইতার (১৩৯৬ হি.) রহিমাহুল্লাহ রচিত 'হায়াতু শায়খিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ'। এতে তালাক সংক্রান্ত একটি গবেষণা রয়েছে যা এই বিষয়ে রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাবলির (المصنفات) অন্যতম; দেখুন পৃষ্ঠা ৫৫ হতে ৬৬।
এর সাথে যুক্ত করা যেতে পারে শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহর ইলম সংশ্লিষ্ট আমার প্রকাশিত অন্যান্য কাজগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাফিজ (الحافظ) ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি (৮৪২ হি.) রচিত গ্রন্থ: 'আর-رদ্দু ওয়াকির আলা মান যাআমা বিআন্না মান সাম্মা ইবনা তাইমিয়্যাহ শায়খাল ইসলাম কাফির'। এতে তিনি শায়খ আলা আল-বুখারি (৮৪১ হি.)-এর ওপর উত্তর প্রদান করেছেন। এছাড়া শায়খ আলকামি (৮৭৯ হি.)-এর ওপর আমার বিস্তারিত খণ্ডন এবং আল্লামা উমর ইবনে আলি আল-বাযযার (৭৪৯ হি.) রচিত গ্রন্থ: 'আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়্যাহ (৭২৮ হি.)' এবং অন্যান্য।
এগুলোর সবকটিতেই রাগান্বিত ব্যক্তির তালাকের বিধান সংক্রান্ত আলোচনার গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু উদ্ধৃতি বা পরিচ্ছেদ রয়েছে।
আমাদের জানামতে, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম এই গ্রন্থে যেভাবে রাগান্বিত ব্যক্তির তালাকের নিখুঁত সংজ্ঞায়ন করেছেন, তাঁর পূর্বে আর কেউ তা করেননি।
এর মাধ্যমে তিনি ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন এবং পরিবারকে এমন অনেক বিপর্যয় থেকে হেফাজত করেছেন যা আমরা অনেকের ক্ষেত্রে ঘটতে দেখেছি—যেমন এই তালাকের প্রয়োগ (إيقاع), এছাড়া বিদ্রূপকারীর (الهازل) কথা এবং এমন সব বিষয়ে কসমকারীর বক্তব্য যার মাধ্যমে সে মূলত তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করেনি।
ইঞ্জিনিয়ার আফিফির পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) সম্বলিত আমাদের এই সংস্করণে আলোচনা বেশ দীর্ঘ ও বিস্তারিত ছিল। অবশ্য এর পূর্বে আমাদের শায়খদের শায়খ আল্লামা সালাফি শায়খ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি (১৩৩২ হি.) এটি প্রকাশ করেছিলেন; তিনি এমন এক আলেম ছিলেন যার ইলম বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৪)
- جـ -
وقد تكرم وزارني في جدة بعد أيام من حجي الأخير في المحرم (1424 هـ) أخي وتلميذ إخواني العالم
(1) الفاضل الشيخ عمر بن سليمان الحفيان الحموي الأصل، بارك الله به، ومعه هذه الرسالة محققة، وقد أعدَّها للطبع لأسباب بيّنها في مقدمته القيِّمة، وفيها التعقبات النافعة للضروري من الكلام، مع حسن تخريج الأحاديث جزاه الله الخير.
فوجدتها نافعة موفقة إن شاء الله، وذكَّرني إتقانه بقول الشاعر:
وإذا رأيت من الهلال نموه
… أيقنت أن سيكون بدراً كاملاً
وكان بودي التوسع في بيان فوائد طبعته هذه، ولكن حال بيني وبين ذلك ما اعتراني من أمراض، أرجو الله أن يعافيني منها، إنه سميع مجيب، والحمد لله ربِّ العالمين.
زهير الشاويش
بيروت غرة رجب الخير
من سنة 1424 هـ الموافق 28/ 8/ 2003 م
--------------------------------------------
- জ -
আমার সর্বশেষ হজ্জ সম্পাদনের পর মহররম (১৪২৪ হিজরি) মাসে জেদ্দায় আমার কাছে দয়া করে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন আমার ভাই এবং আমার ভাইদের ছাত্র, বিদগ্ধ (العالم)
(১) ও মহৎ আলেম শেখ উমর বিন সুলায়মান আল-হাফইয়ান আল-হামাউয়ী (মূলত হামাত অধিবাসী), আল্লাহ তাকে বরকত দান করুন। তার সাথে ছিল এই সম্পাদিত (محققة) রিসালাটি। তিনি তার মূল্যবান ভূমিকায় বর্ণিত কিছু কারণে এটি মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করেছেন। এতে প্রয়োজনীয় বক্তব্যের ওপর উপকারী পর্যালোচনা (التعقبات) রয়েছে এবং হাদিসসমূহের উত্তম সূত্র নির্দেশ (تخريج) করা হয়েছে; আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
ইনশাআল্লাহ আমি এটিকে উপকারী ও সফল পেয়েছি এবং তার এই নিখুঁত কর্মতৎপরতা আমাকে কবির সেই পংক্তির কথা মনে করিয়ে দিল:
যখন তুমি নতুন চাঁদকে বাড়তে দেখবে
… তখন নিশ্চিত হবে যে এটি একদিন পূর্ণিমার চাঁদে পরিণত হবে
আমার ইচ্ছা ছিল তার এই সংস্করণের উপকারিতাগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করার, কিন্তু আমার ওপর আপতিত অসুস্থতাগুলো আমাকে তা থেকে বিরত রেখেছে। আমি আল্লাহর কাছে সেগুলো থেকে আরোগ্য প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
জুহাইর আশ-শাভিশ
বৈরুত, ১লা রজবুল খায়ের
১৪২৪ হিজরি মোতাবেক ২৮/০৮/২০০৩ ইংরেজি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
إنَّ الحمدَ لله؛ نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذُ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، مَن يهده الله فلا مضلَّ له، ومَن يضلل فلا هادي له. وأشهد أنْ لا إله إلا الله؛ وحدَه لا شَريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه، وسَلَّم تسليماً كثيراً.
أما بعدُ:
فهذه قِلادةٌ دُرِّيَّة، وسبيكةٌ عَسجديَّة، وجُؤنةٌ ذهبيَّة، تَضُوعُ مِسكاً، وتَفوحُ عَنبراً، جادتْ بها يراعَةُ ابن القيم، وتفطرتْ عنها قريحتُه.
وهي رسالةٌ مستقلَّة، ألَّفها ابتداءً، وأولاها اهتماماً واعتناءً، وهي -على هذا- ليستْ مُستلَّةً مِن كتاب «إغاثة اللهفان، من مصايد
(1) الشيطان»، أو «إعلام الموقعين»، أو «زاد المعاد»، أو غيرها من كُتُبه، مع أنَّ هناك تداخلاً بين موضوع هذه الرسالة وبعض مباحث تلك الكتب، كما سوف ترى مِن تعليقات القاسمي، رحمه الله.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীবর্গের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অত:পর:
এটি একটি মুক্তার হার, স্বর্ণের পিণ্ড এবং স্বর্ণালঙ্কারের সিন্দুক সদৃশ, যা থেকে মিশক ও আম্বরের সুবাস বিচ্ছুরিত হচ্ছে। এটি ইবনুল কাইয়্যিম-এর কলম নিঃসৃত এক অনবদ্য রচনা এবং তাঁর প্রখর মেধা থেকে উৎসারিত।
এটি একটি স্বতন্ত্র রিসালাহ (পুস্তিকা), যা তিনি মৌলিকভাবে রচনা করেছেন এবং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব ও যত্ন প্রদান করেছেন। সেই হিসেবে এটি ‘ইগাসাতুল লাহফান মিন মাসায়িদিশ শয়তান’, ‘ইলামুল মুওয়াক্কিঈন’, ‘যাদুল মাআদ’ অথবা তাঁর অন্য কোনো কিতাব থেকে চয়নকৃত নয়। যদিও এই রিসালাহ-এর বিষয়বস্তু এবং সেসব কিতাবের কিছু আলোচনার মধ্যে পরস্পর সম্পৃক্ততা রয়েছে, যা আপনি কাসেমী (রহিমাহুল্লাহ)-এর টীকা থেকে দেখতে পাবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৬)
موضوعها:
تناول فيها المؤلِّفُ قضيةً تَعُمُّ بها البلوى في كلِّ زمان ومكان، تنتاب الأُسَرَ فتقوِّضُها، والأحبةَ فتفرِّقُهم، وهي: «حكمُ الطَّلاقِ حالَ الغضب». وهي مسألة دقيقة حسَّاسة، لها صُوَرٌ متعدِّدة، ولكل صورة حُكمها، فكان لزاماً بَحْثُ هذه المسألة بتأنٍّ ورَويَّة، بما يتَّفِقُ مع رُوح الشَّرع الحنيف، ومقاصده السامية، القائمة على تحقيق مصالح العباد في الحال والمآل، بعيداً عن التقليد الفقهي والتعصُّب المذهبي.
فَبَسَطَ المؤلِّفُ رحمه الله أقوالَ أهل العلم، ومذاهبَ علماء الأمصار، وناقشها وفنَّدها، ودلَّل للمسألة مِن الكتاب، والسُّنَّة، وأقوال الصحابة، ثم توسَّع في أوجه الاستدلال من الاعتبار وأصول الشريعة حتى أوصلها إلى خمسة وعشرين وجهاً، بعد أن بَذَلَ فيها وُسْعه، وقلَّب فِكْره، وأطال تأمُّله، حتى خرجَتْ رسالةً مُحْكَمةً محرَّرة، منقَّحةً مهذَّبة، أتى فيها على أوجه المسألة، وما يتعلَّق بها.
وبَحَثَ في غضون ذلك: حقيقةَ الغضب، وكُنْهَه، وبواعثَه، وأنواعه، وبيَّنَ أنه مَرَضٌ من الأمراض التي تعتري القلوبَ نظيرَ الحُمَّى للبَدَن. وأوضح أوجُهَ الشَّبَهِ والاختلافِ بين الغضبان،
বিষয়বস্তু:
লেখক এতে এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন যা প্রতিটি যুগে ও স্থানে একটি সর্বব্যাপী সমস্যা (عموم البلوى) হিসেবে বিদ্যমান, যা পরিবারগুলোকে আক্রান্ত করে তা ভেঙে দেয় এবং প্রিয়জনদের বিচ্ছিন্ন করে দেয়; আর তা হলো: ‘রাগান্বিত অবস্থায় তালাকের বিধান (حكم)’। এটি একটি সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল মাসয়ালা, যার একাধিক রূপ রয়েছে এবং প্রত্যেক রূপের আলাদা বিধান (حكم) রয়েছে। তাই এই মাসয়ালাটি অত্যন্ত ধীরস্থিরতা ও গভীর চিন্তার সাথে গবেষণা করা আবশ্যক ছিল, যা পবিত্র শরীয়তের চেতনা ও এর সুউচ্চ লক্ষ্যসমূহের (مقاصد) সাথে সংগতিপূর্ণ, যা বর্তমান ও ভবিষ্যতে বান্দাদের কল্যাণ সাধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত; কোনো ফিকহী অন্ধানুকরণ (تقليد) এবং মাযহাবী গোঁড়ামি (تعصب) থেকে মুক্ত থেকে।
অতঃপর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) আলেমগণের মতামত এবং বিভিন্ন অঞ্চলের আলেমদের মাযহাবসমূহ (مذاهب) বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন, সেগুলো নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করেছেন এবং কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবীগণের বক্তব্যের মাধ্যমে মাসয়ালাটির সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন। এরপর তিনি যুক্তি এবং শরীয়তের মূলনীতিসমূহ (أصول) থেকে দলিলের দিকগুলো বিস্তারিত আলোচনা করে পঁচিশটি দিক পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি তার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করেছেন এবং দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করেছেন, যতক্ষণ না এটি একটি সুসংহত, সম্পাদিত, পরিমার্জিত ও সুশৃঙ্খল গবেষণাপত্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে তিনি মাসয়ালার সকল দিক এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।
এরই মধ্যে তিনি রাগের হাকিকত, এর সারবস্তু, কারণসমূহ এবং প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি অন্তরের রোগসমূহের মধ্যে এমন একটি রোগ যা শরীরের জ্বরের মতো অন্তরকে আক্রান্ত করে। তিনি রাগান্বিত ব্যক্তির মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের দিকগুলো ব্যাখ্যা করেছেন,
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৭)
والسكران، والمُكْرَه، والهازل، والمُوَسْوَس، ومَن سبق لسانُهُ بالطلاق وهو لا يقصد.
وبيَّن أنَّ عَدَمَ وقوعِ طلاق الغضبان جارٍ على أصولِ عامَّةِ الفقهاء، وأنه يلزمهم القولُ بموجَبِهِ، ولهذه المسألة نظائرُ كثيرة عندهم؛ أعمَلوا فيها قَصْدَ المتكلِّم ونيَّته.
ونكتةُ المسألة التي وُفِّقَ لها المؤلِّفُ وشيخُه مِن قَبْله، وغابت عن كثير من الفقهاء: أنَّ الغضب ليس نوعاً واحداً، بل هو أنواعٌ وأقسام ثلاثة؛ كما بيَّنه المؤلِّفُ أحسَنَ بيان وأوضحه.
توثيق نسبة الرسالة:
1 - جاء في المخطوط على صفحة العنوان ((الظَّهْرِيَّة)) نسبةُ هذه الرسالة لابن القيم؛ كما يظهر من الصورة المرفقة.
2 - أحال عليها المؤلِّف في كتابه «مدارج السالكين»
(1) فقال: «
… وقد أشبعنا الكلامَ في هذا في كتابنا المُسمَّى: إغاثة اللهفان، في طلاق الغضبان
… »؛ وهذا يفيد أنَّ المؤلِّفَ هو الذي سمَّى كتابه بنفسه، كما هي عادته.
3 - ذكرها كلٌّ من ابن العماد الحنبلي المُتوفَّى (1089 هـ) في
--------------------------------------------
এবং মদ্যপ (سكران), বাধ্যকৃত (مكره), কৌতুককারী (هازل), কুমন্ত্রণায় আক্রান্ত (موسوس) এবং যার অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখে তালাকের শব্দ চলে এসেছে।
তিনি বর্ণনা করেছেন যে, রাগান্বিত ব্যক্তির তালাক কার্যকর না হওয়া অধিকাংশ ফকিহদের মূলনীতির (أصول) অন্তর্ভুক্ত এবং এর দাবি অনুযায়ী মত প্রকাশ করা তাদের জন্য আবশ্যক। তাদের নিকট এই মাসআলার অনেক সদৃশ উদাহরণ রয়েছে; যেখানে তারা বক্তার উদ্দেশ্য (قصد) এবং নিয়তকে (نية) কার্যকর বিবেচনা করেছেন।
এই মাসআলার সূক্ষ্ম বিষয়টি, যা অর্জনে লেখক এবং তাঁর পূর্ববর্তী শাইখ (شيخ) তাওফিক লাভ করেছেন এবং যা অনেক ফকিহদের নিকট অস্পষ্ট থেকে গিয়েছে, তা হলো: রাগ কেবল এক প্রকারের নয়; বরং এটি তিন প্রকার ও তিন ধরনের; যেমনটি লেখক অত্যন্ত সুন্দর ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
রিসালাহটির (رسالة) সম্পর্কের প্রামাণ্যতা:
১ - পাণ্ডুলিপির (مخطوط) শিরোনাম পৃষ্ঠায় (যাহিরিয়্যাহ) এই রিসালাহটিকে (رسالة) ইবনুল কায়্যিমের বলে উল্লেখ করা হয়েছে; যা সংযুক্ত ছবি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়।
২ - লেখক তাঁর 'মাদারিজুস সালিকিন' গ্রন্থে এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
(১) তিনি বলেছেন: « ... এবং আমরা আমাদের 'ইগাছাতুল লাহফান ফি তালাকিল গদবান' নামক গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ... »; আর এটি প্রমাণ করে যে, লেখক স্বয়ং তাঁর কিতাবটির নামকরণ করেছেন, যেমনটি তাঁর অভ্যাস।
৩ - ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি (মৃত্যু ১০৮৯ হি.) এটি উল্লেখ করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৮)
«شذرات الذهب»
(1)، ومصطفى السُّيُوطي الرُّحَيباني المُتوفَّى (1243 هـ) في كتابه «مطالب أُولي النُّهى، في شرح غاية المُنتهى»
(2) ونَقَلَ منها من قوله: «الغضب ثلاثة أقسام
… » إلى قوله: «وهو فرع من الإغلاق كما فسَّره به الأئمة»، وذكرها أيضاً ابن عابدين المُتوفَّى (1252 هـ) في «حاشيته»
(3)؛ اعتماداً على ((مطالب أُولي النُّهى)).
4 - منهجُ البحث ونفَسُ كاتبه هو منهجُ ابن القيم ونَفَسُهُ في سائر تصانيفه، ما تعدَّاه قِيدَ
(4) أنملة.
5 - ذكرَ ابنُ القيم فحوى هذا البحث ونقلَ بعض النصوص والأدلة الواردة فيه في عدد من كتبه المشار إليها سابقاً، ونَقَل اختيارات شيخه (ابن تيمية) كعادته.
وصف المخطوط المعتمد:
اعتمدتُ في تحقيق هذه الرسالة على نسخة خطية فريدة
(5)، تقع
--------------------------------------------
«শাযারাতুয যাহাব»
(১), এবং মুস্তাফা আস-সুয়ূতী আর-রুহাইবানী (মৃত্যু ১২৪৩ হিজরী) তাঁর কিতাব «মাতালিবু উলি আন-নুহা ফী শারহি গায়াতিল মুনতাহা»-তে
(২); তিনি সেখান থেকে তাঁর এই বক্তব্য: «ক্রোধ তিন প্রকার … » হতে তাঁর এই কথা পর্যন্ত উদ্ধৃত করেছেন: «আর এটি ইগলাক (الإغلاق) এর একটি শাখা যেমনটি ইমামগণ ব্যাখ্যা করেছেন»। ইবনে আবিদীনও (মৃত্যু ১২৫২ হিজরী) তাঁর «হাশিয়া»-তে
(৩) «মাতালিবু উলি আন-নুহা»-র ওপর ভিত্তি করে এটি উল্লেখ করেছেন।
৪ - এই গবেষণার পদ্ধতি (منهজ البحث) এবং এর লেখকের শৈলী হলো ইবনুল কাইয়্যিমের পদ্ধতি এবং তাঁর অন্যান্য রচনার অনুরূপ শৈলী, যা থেকে তিনি এক কণা
(৪) পরিমাণও বিচ্যুত হননি।
৫ - ইবনুল কাইয়্যিম এই গবেষণার মূল নির্যাস উল্লেখ করেছেন এবং এতে বর্ণিত কিছু পাঠ ও দলিল তাঁর পূর্বে উল্লিখিত বেশ কিছু কিতাবে উদ্ধৃত করেছেন, আর তিনি তাঁর অভ্যাস অনুযায়ী তাঁর শাইখ (ইবনে তাইমিয়্যাহ)-এর পছন্দসমূহ (اختيارات) বর্ণনা করেছেন।
নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির (نسخة مخطوطة) বিবরণ:
এই রিসালাহটির সম্পাদনা (تحقيق) করার ক্ষেত্রে আমি একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية فريدة)
(৫) ওপর নির্ভর করেছি, যা অবস্থিত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ৯)
ضمن مجموع أصيل [من ص (53) إلى ص (72) منه]، وهو من مخطوطات علَّامة الشَّام العلامة محمد جمال الدين القاسمي
(1) رحمه الله وَرِثها عن أبيه عن جدِّه.
ثم آلت ملكيتها بعدُ إلى مكتبة الملك فهد بالرياض
(2)، وهي محفوظة فيها برقم (473).
--------------------------------------------
একটি মূল সংকলনের অন্তর্ভুক্ত [পৃষ্ঠা (৫৩) হতে পৃষ্ঠা (৭২) পর্যন্ত], যা সিরিয়ার প্রখ্যাত আলেম আল্লামা মুহাম্মাদ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী
(1) (রহিমাহুল্লাহ)-এর পাণ্ডুলিপিসমূহের অন্তর্ভুক্ত; তিনি এটি তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছিলেন।
পরবর্তীতে এর মালিকানা রিয়াদের কিং ফাহাদ লাইব্রেরির
(2) নিকট হস্তান্তরিত হয় এবং এটি সেখানে ৪৭৩ নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০)
صفحة العنوان (الظَّهْريَّة) مؤلَّفةٌ مِن صفحة قديمة مِن كتابٍ - لعلَّه في الفقه الحنبلي - ثم ضُرب عليها، ولُصِقَ في وَسَطها بطاقة مقاسها (5.8 × 10 سم)، كُتب عليها: «كتاب إغاثة اللهفان، في حكم طلاق الغضبان، تأليف الشيخ الإمام، العالم العلامة، الزاهد العابد الورع، الصَّدر الكامل، شيخ الإسلام أبو [كذا] عبد الله محمد بن أبي بكر، الشهير بابن قيم الجوزية -قدَّس الله تعالى روحه الزكية، ونفع بعلومه المرضية- علَّقه فقير رحمة ربِّه الباري محمد بن عبد الله بن هشام الأنصاري، بليل، في شهر شعبان سنة 885، أحسن الله تقضيتها».
أي: أنَّ قَيْدَ الفراغ قد كَتَبه الناسخُ على «الظَّهريَّة» بخلاف المعتاد!
أما أسفل الورقة؛ فقد كُتب عليه جوابٌ لسؤال، وبشكل عمودي، وبخط مغاير.
الناسخ: هو محمد بن عبد الله بن هشام الأنصاري.
تاريخ النسخ: شهر شعبان من عام (885 هـ).
الخط: نسخي معتاد، واضح، ومعجم.
والرسالة مقابَلَة، ومصحَّحة بقلم مغاير، بل بأكثر من قلم.
শিরোনাম পাতা (الظَّهريَّة) একটি পুরাতন গ্রন্থের পাতা দিয়ে গঠিত - সম্ভবত সেটি হাম্বলি ফিকহ শাস্ত্রের কোনো কিতাব - যা পরবর্তীতে কেটে দেওয়া হয়েছে। অতঃপর এর ঠিক মাঝখানে ৫.৮ × ১০ সেন্টিমিটার পরিমাপের একটি কার্ড সাঁটানো হয়েছে, যাতে লেখা আছে: «কিতাব ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তালাকিল গাদবান, রচনায় শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, দুনিয়াবিমুখ ইবাদতকারী ও পরহেযগার, পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব, শাইখুল ইসলাম আবু [sic] আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর, যিনি ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ নামে সুপ্রসিদ্ধ - মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র আত্মাকে মহিমান্বিত করুন এবং তাঁর সন্তোষজনক ইলম দ্বারা উপকৃত করুন - এটি লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁর প্রতিপালকের রহমতের মুখাপেক্ষী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম আল-আনসারি, রাতের বেলা, শাবان মাসে ৮৮৫ হিজরি সনে; আল্লাহ এর উত্তম সমাপ্তি দান করুন»।
অর্থাৎ, অনুলিপিকার প্রচলিত নিয়মের বিপরীতে পাণ্ডুলিপির বহিঃপৃষ্ঠায় (الظَّهريَّة) অনুলিপি সমাপ্তির বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন!
আর পাতার নিচের অংশে একটি প্রশ্নের উত্তর উলম্বভাবে এবং ভিন্ন হস্তাক্ষরে লেখা রয়েছে।
অনুলিপিকার: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম আল-আনসারি।
অনুলিপির তারিখ: শাবান মাস, ৮৮৫ হিজরি।
লিখনরীতি: সাধারণ নাসখ রীতি, স্পষ্ট এবং নুকতাযুক্ত (معجم)।
আর এই রিসালাটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে যাচাইকৃত (مقابلة) এবং ভিন্ন কলমে, বরং একাধিক কলমে সংশোধিত (مصححة)।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১)
كَتَبَ القاسميُّ في آخر الرسالة - وبشكل مائل - بخطه الفارسي الجميل ما نصُّه: «نقلها وصحَّحها وعلَّق عليها حواشي: الفقيرُ جمال الدين القاسمي، في رمضان سنة (1327 هـ)، والحمد لله رَبِّ العالمين»، ثم ضُرِب على عبارته هذه بقلم حبر أزرق جاف متأخِّرٍ جدّاً! ! .
والمخطوطة على أنها مقابلة ومصحَّحة كما تقدم؛ إلا أنها لا تخلو مِن أخطاء وتصحيفات، وخاصَّةً في أسماء الرواة، وقد اجتهدتُ في تصحيحها واستدراك السَّاقط منها عن طريق توثيق النصوص ومقابلتها على مصادرها الأصلية.
وثَمَّةَ أمرٌ ينبغي التنبيهُ عليه؛ وهو أن هذه النسخةَ قد تداولتها أيدي علماء، ونالت عنايتهم، وجالَتْ فيها أقلامهم؛ لتصحيح ما فيها مِن الأخطاء، بل والتعليقِ على المواضع المشكِلة فيها، وهم على التوالي: الشيخ قاسم بن صالح القاسمي، ثم الشيخ محمد سعيد بن قاسم القاسمي
(1)، ثم ابنه العلامة محمد جمال الدين القاسمي، ثم الشيخ محمد بن مانع النجدي
(2) - وذلك بعد أن تمَّ
--------------------------------------------
কাসিমি এই পুস্তিকার শেষে—তীর্যকভাবে—তার সুন্দর ফারসি হস্তাক্ষরে যা লিখেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: «এটি নকল করেছেন, সংশোধন করেছেন এবং এতে টীকা যুক্ত করেছেন: নিঃস্ব জামালুদ্দিন আল-কাসিমি, রমজান ১৩২৭ হিজরি সনে; আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য», অতঃপর অনেক পরে একটি নীল কালির বলপয়েন্ট কলম দিয়ে তার এই বক্তব্যের ওপর আঁচড় কাটা হয়েছে! ! .
পাণ্ডুলিপিটি পূর্বে উল্লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী পরিমার্জিত এবং সংশোধিত হওয়া সত্ত্বেও এতে কিছু ভুল এবং লিখনপ্রমাদ (تصحيفات) রয়েছে, বিশেষ করে বর্ণনাকারীদের (رواة) নামের ক্ষেত্রে। আমি মূল পাঠ্যসমূহের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق) এবং সেগুলোকে আদি উৎসগ্রন্থগুলোর সাথে মেলানোর মাধ্যমে ভুল সংশোধন এবং বাদ পড়া অংশগুলো পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চালিয়েছি।
একটি বিষয় সতর্ক করা প্রয়োজন; আর তা হলো এই পাণ্ডুলিপিটি বিভিন্ন আলিমের হাতে আবর্তিত হয়েছে, তাঁদের বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছে এবং তাঁরা এর ভুলগুলো সংশোধন করার জন্য এবং জটিল স্থানগুলোতে মন্তব্য করার জন্য কলম চালিয়েছেন। তাঁরা ধারাবাহিকভাবে হলেন: শাইখ কাসিম বিন সালিহ আল-কাসিমি, অতঃপর শাইখ মুহাম্মদ সাঈদ বিন কাসিম আল-কাসিমি
(১), অতঃপর তাঁর পুত্র আল্লামা মুহাম্মদ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি, অতঃপর শাইখ মুহাম্মদ বিন মানি' আন-নাজদি
(২) - এবং এটি পূর্ণ হওয়ার পর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২)
طبعُها - فعلَّق على المطبوعة
(1).
طبعات الكتاب:
1 - طبعة القاسمي: يعود الفضل التام، في نشر هذا الكتاب بين الأنام، وبأبخس الأثمان
(2)، لعلَّامةِ الشام، محمد جمال الدين القاسمي رحمه الله تعالى، وذلك في عام (1327 هـ) اعتماداً على مخطوطته التي تقدَّم وصفُها. وكان الشيخُ القاسميُّ رحمه الله كثيرَ الحفاوة والعناية بهذا الكتاب، يقول رحمه الله في رسالةٍ بعث بها إلى صديقه وصَفيِّه في العراق الشيخ محمود شكري الآلوسي
(3) رحمه الله ما نصُّه: «
… وكتاب إغاثة اللهفان، في
--------------------------------------------
এর মুদ্রণ - এরপর তিনি মুদ্রিত কপির
(১) ওপর টীকা প্রদান করেন।
গ্রন্থটির সংস্করণসমূহ:
১ - কাসেমী সংস্করণ: সাধারণ মানুষের মাঝে অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে
(২) এই গ্রন্থটি প্রকাশের পূর্ণ কৃতিত্ব সিরিয়ার প্রখ্যাত আল্লামা মুহাম্মদ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রাপ্য; যা তিনি তার ইতিপূর্বে বর্ণিত পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে (১৩২৭ হিজরী) সালে সম্পন্ন করেন। শায়খ কাসেমী (রহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবটির প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ও মনোযোগী ছিলেন। ইরাকে তার অন্তরঙ্গ ও অকৃত্রিম বন্ধু শায়খ মাহমুদ শুকরি আল-আলূসী
(৩) (রহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে প্রেরিত এক পত্রে তিনি যা লিখেছিলেন তার পাঠ হলো: «
… এবং ইগাসাতুল লাহফান কিতাবটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حكم طلاق الغضبان؛ لابن القيم، وهو كتاب نفيس، يفيد الأمة فائدة عظيمة في المسألة المذكورة، ولا أدري هل ظَفِرتُم به؟ فإني ظَفِرتُ بنسخة منه في خزانة الجد [قاسم] عليه الرحمة، ضمن أحد المجاميع، وكان الوالد رحمه الله يطالعه دائماً، ويبتهج به
… »
(1).
ويقول عنها في رسالة أخرى: «
… وحجمها نحو ثلاثة كراريس، إلا أنها مِن النوادر المضنون بها، ويقول لي الشيخ الروَّاف
(2): إنها لا نظير لها؛ ولا في خزائن كتب نجد. ويَرى أنها لا
--------------------------------------------
ইবনে আল-কাইয়্যিম রচিত 'হুকমু তলাকিল গদবান' (ক্রোধান্বিত ব্যক্তির তালাকের বিধান); এটি একটি অমূল্য কিতাব, যা উল্লেখিত মাসআলায় উম্মাহর জন্য বিরাট উপকারে আসবে। আমি জানি না আপনারা এটি সংগ্রহ করতে পেরেছেন কি না? আমি আমার দাদা [কাসেম]-এর (রহমতুল্লাহি আলাইহি) কুতুবখানায় একটি সংকলনের মধ্যে এর একটি পাণ্ডুলিপি পেয়েছি। আমার বাবা (রহিমাহুল্লাহ) সর্বদা এটি পাঠ করতেন এবং এতে অত্যন্ত আনন্দিত হতেন
… »
(১).
অন্য একটি পত্রে তিনি এই কিতাব সম্পর্কে বলেন: «
… এর আকার প্রায় তিনটি পুস্তিকার মতো, তবে এটি অত্যন্ত বিরল ও সযত্নে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্তর্ভুক্ত। শায়খ আল-রাওয়াফ
(২) আমাকে বলেন: এর কোনো নজির নেই; এমনকি নজদ অঞ্চলের কিতাব ভাণ্ডারেও নয়। তিনি মনে করেন যে এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
توجد إلا عندنا. وكان الجَدُّ [قاسم] والوالد [محمد سعيد]-قدَّس الله روحهما- يطالعانها كثيراً، بل إني شُغفت بها مِن صغري؛ لكثرة ما أرى الوالد ينظر فيها
… ))
(1).
ثم بدا للشيخ القاسميِّ رحمه الله أنْ ينشر هذه الرسالة في سياق مشروعه الكبير لنشر كتب السَّلَف بين الناس؛ لأنه كان يرى أنَّ نَشْرَ كتابٍ واحد خيرٌ من إرسال ألف داعٍ يتفرَّقون في الأقطار
(2).
فقام يتطلَّبُ نُسَخاً أخرى لها، فبحث في المكتبة الظاهرية بدمشق، فلم يظفَرْ بشيء، ثم راسل صديقَه العلامة محمود شكري الآلوسي؛ كي يقوم بالبحث مِن قِبَلِهِ في العراق فلم يعثر على شيء، وأفاده صديقُهُ الشيخ الروَّاف أنها لا وجود لها في خزائن كتب نجد. فلم يبقَ إلا أن يطبعها اعتماداً على المخطوطة التي بحوزته، فقام بمراجعتها، والتعليقِ عليها بحواشٍ، وتوزيع النص على أصل المخطوط! !
--------------------------------------------
...কেবল আমাদের নিকটই তা বিদ্যমান ছিল। আর দাদা [কাসেম] এবং পিতা [মুহাম্মদ সাঈদ]—আল্লাহ তাঁদের আত্মাকে পবিত্র করুন—এটি অধিক মাত্রায় পাঠ করতেন, বরং আমি শৈশব থেকেই এর প্রতি আসক্ত ছিলাম; কারণ আমি পিতাকে প্রায়ই এতে নিবিষ্ট থাকতে দেখতাম
… ))
(১).
অতঃপর শায়খ কাসেমী (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট এই রিসালাহ (رسالة)টি জনসাধারণের মাঝে সালাফ (سلف)-দের কিতাবসমূহ প্রচারের তাঁর বৃহৎ প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রকাশ করার বিষয়টি সমীচীন মনে হলো; কারণ তিনি মনে করতেন যে, একটি কিতাব প্রকাশ করা বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া হাজারো দাঈ (داعي) প্রেরণের চেয়েও উত্তম
(২).
তাই তিনি এর অন্যান্য অনুলিপি (نسخة) অন্বেষণ করতে শুরু করলেন এবং দামেস্কের মাকতাবাতুজ জাহিরিয়াতে অনুসন্ধান করলেন, কিন্তু কোনো কিছুই পেলেন না। এরপর তিনি তাঁর বন্ধু আল্লামা মাহমুদ শুকরি আল-আলুসিকে পত্র লিখলেন যেন তিনি তাঁর পক্ষ থেকে ইরাকে অনুসন্ধান করেন, কিন্তু সেখানেও তিনি কিছুই পেলেন না। তাঁর বন্ধু শায়খ রাওয়াফ তাঁকে জানালেন যে, নজদ অঞ্চলের গ্রন্থশালায় এর কোনো অস্তিত্ব নেই। এমতাবস্থায় তাঁর নিকট সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি (مخطوطة)-টির ওপর ভিত্তি করেই এটি মুদ্রণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় অবশিষ্ট রইল না। ফলে তিনি এটি পুনঃনিরীক্ষণ করলেন, টীকা (حاشية) সংযোজন করলেন এবং মূল পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) অনুযায়ী এর পাঠ বিন্যাস করলেন! !
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ثم كلَّف تلميذَه الشيخَ حامد التقي
(1) بنسخها، وأردفها بقصيدة «المُطلَّقة» لمعروف الرُّصافي
(2)، وأرسلها إلى صديقه الوجيه محمد حسين نَصِيف في جُدَّة، كي يتكفَّل بطبعها عَلَى عادته الكريمة، فوافق على طبعها
(3)، وأرسلها إلى الشيخ محمد رشيد رِضا
(4) صاحب مجلة «المنار» في القاهرة، فطُبعت في مطبعة المنار سنة (1327 هـ).
يقول رحمه الله في رسالة بَعَثَ بها إلى صديقه محمد حسين نَصِيف مؤرَّخة (19/ ذي القعدة/ 1327)، وذلك بعد الشروع بطبع الكتاب: «تناولْتُ أمسِ أوراقَ الملزمة الأولى من «إغاثة اللهفان»، وقد سُررنا بالبشارة بطبعها؛ لما أنها أنجَحُ ما أُلِّف للإصلاح في الزوجية والعائلات، وتحقيق أيمان الطلاقات، فإنَّ
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি তাঁর ছাত্র শেখ হামিদ আত-তাকি
(১)-কে এটি অনুলিপি করার দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং এর সাথে মারুফ আল-রুসাফি
(২)-র 'আল-মুতাল্লাকা' কবিতাটি যুক্ত করেন। এরপর তিনি এটি জেদ্দায় অবস্থানরত তাঁর বন্ধু বিশিষ্ট ব্যক্তি মুহাম্মদ হুসাইন নাসিফের কাছে পাঠান, যাতে তিনি তাঁর মহানুভবতার রীতি অনুযায়ী এটি ছাপানোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এটি ছাপাতে সম্মত হন
(৩) এবং কায়রোতে 'আল-মানার' সাময়িকীর সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ রশিদ রিদা
(৪)-র কাছে পাঠিয়ে দেন। ফলে ১৩২৭ হিজরি সালে আল-মানার প্রেস থেকে এটি মুদ্রিত হয়।
কিতাবটি ছাপানো শুরু হওয়ার পর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর বন্ধু মুহাম্মদ হুসাইন নাসিফের কাছে ১৩২৭ হিজরির ১৯শে যিলকদ তারিখে প্রেরিত এক পত্রে বলেন: "গতকাল আমি 'ইগাসাতুল লাহফান'-এর প্রথম ফরমের কাগজগুলো হাতে পেয়েছি। এটি ছাপানোর সুসংবাদে আমরা আনন্দিত হয়েছি; কারণ এটি দাম্পত্য ও পারিবারিক সংস্কার এবং তালাকের শপথের স্বরূপ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে রচিত কিতাবগুলোর মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি কিতাব। কারণ..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
سعادة الأمة في زِيجتها هو معرفةُ الحالةِ التي تنحلُّ بها العصمةُ قطعاً بلا خلاف، والحالةِ التي لا أثر لها في حَلِّ عصمة الزوجية. فإذا وُفِّقت لمعرفة هذه الحالة، والجري عليها، والفتوى بها، سعدت؛ لأن سعادة الأفراد سعادةُ البيوتات، والعكسُ بالعكس. وهذا الكتاب [إغاثة اللهفان] نرجو منه تعالى أن يُنبِّه المتفقِّهة والمفتين على فيصل الحقِّ في هذا الباب.
ولا جَرَم هنا أن ما ينجُمُ عنه من الفوائد والمعارف هو في صحيفة مولانا الفاضل، بارك الله لنا في هِمته، ونَفَع الأمة بخيراته، ويَحِقُّ للسَّلَفيين الآن أن يفاخروا بأمثالكم، ويدعوا لكم بالحياة الطيبة، زادكم المولى توفيقاً، وكان لكم عوناً ومعيناً، آمين»
(1).
وفَوْرَ الفراغ مِن طباعة الكتاب أُعلن عنه في مجلَّة «المنار»
(2)، وكَتَبَ حسين وصفي رِضا تقريظاً له في العدد نفسِه مِن المجلَّة؛ بيَّن فيه ضرورة الطلاقِ للمجتمعات؛ حتى إنه آلَ الأمرُ بالمجتمعات الإفرنجيَّة إلى الاعتراف به، إلا أنهم تخبَّطوا فيه واضطربوا، وتردَّدوا بين الإفراط والتفريط، أمَّا الشريعة الإسلامية؛ فالطلاقُ فيها منضبطٌ بما يكفُلُ سعادةَ المجتمعات، ويرفعُ الحَرَجَ عنها.
--------------------------------------------
একটি জাতির বৈবাহিক জীবনের সুখ নিহিত রয়েছে এমন অবস্থা সম্পর্কে জানার মাঝে, যার দ্বারা বৈবাহিক বন্ধন কোনো প্রকার মতভেদ ছাড়াই নিশ্চিতভাবে ছিন্ন হয়ে যায়, এবং এমন অবস্থা সম্পর্কে জানার মাঝে যার বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন করার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব নেই। যদি এই অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ, তদানুযায়ী আমল এবং ফতোয়া প্রদানের তাওফিক অর্জিত হয়, তবেই সেই জাতি সৌভাগ্যমন্ডিত হবে; কেননা ব্যক্তির সুখই হলো পরিবারের সুখ, আর এর বিপরীতটি তথা ব্যক্তির দুর্ভাগ্যই হলো পরিবারের দুর্ভাগ্য। এই কিতাব [ইগাছাতুল লাহফান] সম্পর্কে আমরা মহান আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, এটি ফকিহ ও মুফতিগণকে এই বিষয়ের চূড়ান্ত সত্য সম্পর্কে সচেতন করবে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ থেকে উদ্ভূত সকল ফায়দা ও জ্ঞান আমাদের মহিমান্বিত মহোদয়ের আমলনামায় গণ্য হবে; আল্লাহ তাআলা তাঁর হিম্মত ও প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন এবং তাঁর কল্যাণ দ্বারা উম্মাহকে উপকৃত করুন। বর্তমান সময়ের সালাফিদের জন্য আপনাদের মতো ব্যক্তিদের নিয়ে গর্ব করা এবং আপনাদের সুন্দর জীবনের জন্য দোয়া করা যথাযথ। মহান প্রতিপালক আপনার তাওফিক বৃদ্ধি করুন এবং আপনার সহায় ও সাহায্যকারী হোন, আমিন।
(১)গ্রন্থটির মুদ্রণ সম্পন্ন হওয়ার অব্যবহিত পরেই ‘আল-মানার’ সাময়িকীতে এর ঘোষণা দেওয়া হয়
(২), এবং হুসাইন ওয়াসফি রিদা সাময়িকীর সেই সংখ্যাতেই এর একটি প্রশংসা-সূচক আলোচনা লিখেন; যেখানে তিনি সমাজের জন্য তালাকের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত পাশ্চাত্য সমাজগুলোও তালাকের বিষয়টি স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে, তবে তারা এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতার শিকার হয়েছে এবং বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির দোলাচলে নিমজ্জিত ছিল। পক্ষান্তরে ইসলামি শরিয়তে তালাক এমন সুনিয়ন্ত্রিত যা সমাজের সুখ নিশ্চিত করে এবং সংকীর্ণতা দূর করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال رحمه الله: «الطلاقُ مِن ضرورات الاجتماع التي لا بُدَّ منها، ولا مَندوحة عنها، وقد اعترف كثيرون مِن عُقلاء الفِرِنْجة والأمريكان بذلك، بل إنَّ بلاد أمريكا أصبح الطلاقُ فيها أكثر شيوعاً منه في سائر البلاد الإسلامية، والسببُ في ذلك: تفريطُهم وإفراطهم، فقد أحكموا في الأول عُقْدة النِّكاح إحكاماً، صيَّروا به حلَّها جناية وأثاماً! وقد بالغوا في الثاني في حلِّها حتى صارت أوهى مِن بيت العنكبوت!
أما المسلمون؛ فَيَرَوْنَ الطَّلاقَ رُخصةً من الرُّخَص التي يُصار إليها عند الاضطرار، كما أرشدهم إلى ذلك دينهم، وهكذا يكون شأن الأمة الوسط: لا تفريطَ ولا إفراط، وهذه هي الخُطَّة التي تحوم حولها القلوب، وتهفو إليها النفوس؛ لأنَّ تحريم الطلاق تحريماً قطعيّاً من الحرج الذي لا يُطاق ولا تستقيم معه حال الاجتماع، وإباحتُه إباحةً عامة من دونِ شَرْطٍ ولا قيد من العبث المُخلِّ المفسدِ لنظامِ الأُسرِ والبيوتات.
ولقد يَظُنُّ كثيرون مِن الفِرِنْجة والمتفرنجين الذين ينظرون إلى الإسلام بعيون حُولٍ: أنَّ الطلاق يقع بالكلمة تقذفها بادرةُ غضب، فتصبح عُقدةُ النِّكاح المحكمةُ مفكَّكةً محلولة، وتُمسي الزوجُ التي لم تَجْنِ ذنباً أجنبيةً غير حليلة، ويرون أنَّ ذلك ليس مما يلتئم مع
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «তালাক হলো সামাজিক প্রয়োজনীয়তার অন্তর্ভুক্ত যা অপরিহার্য এবং যা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কোনো উপায় নেই। ইউরোপীয় ও আমেরিকানদের অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তি তা স্বীকার করেছেন; বরং আমেরিকা অঞ্চলে তালাক বর্তমানে অন্যান্য মুসলিম দেশের তুলনায় অনেক বেশি প্রচলিত। এর কারণ হলো: তাদের শিথিলতা ও বাড়াবাড়ি। তারা প্রথমে বিয়ের বন্ধনকে এতটাই সুদৃঢ় করেছিল যে, এর বিচ্ছেদকে তারা অপরাধ ও পাপে পরিণত করেছিল! আবার পরবর্তীতে তারা এর বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে এতটাই বাড়াবাড়ি করেছে যে, তা মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল হয়ে পড়েছে!
পক্ষান্তরে মুসলিমগণ তালাককে একটি বিশেষ অবকাশ (رخصة) হিসেবে দেখেন যা কেবল নিরুপায় অবস্থায় অবলম্বন করা হয়, যেমনটি তাদের দ্বীন তাদের নির্দেশনা দিয়েছে। আর এভাবেই মধ্যপন্থী উম্মতের বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে: কোনো শিথিলতা নেই এবং কোনো বাড়াবাড়িও নেই। আর এটিই সেই পন্থা যার চারদিকে অন্তরসমূহ আবর্তিত হয় এবং যা অর্জনে আত্মা ব্যাকুল হয়; কারণ তালাককে চূড়ান্তভাবে (قطعي) নিষিদ্ধ করা এমন এক দুঃসহ কষ্ট যা সহ্য করা সম্ভব নয় এবং যার ফলে সামাজিক ব্যবস্থা সুস্থিত থাকে না। আবার কোনো শর্ত বা বিধি-নিষেধ ছাড়াই একে সাধারণভাবে বৈধ করে দেওয়া এক প্রকার অনর্থক কাজ যা পরিবার ও গৃহের শৃঙ্খলার বিনাশ ঘটায়।
অনেক ইউরোপীয় এবং ইউরোপীয় ভাবধারায় প্রভাবিত ব্যক্তি যারা ইসলামের দিকে বক্রদৃষ্টিতে তাকায়, তারা মনে করে যে: তালাক কেবল রাগের মাথায় ছুড়ে দেওয়া একটি শব্দের মাধ্যমেই কার্যকর হয়ে যায়, যার ফলে বিবাহের সুদৃঢ় বন্ধনটি শিথিল ও ছিন্ন হয়ে যায়; আর যে স্ত্রী কোনো অপরাধ করেনি সে একজন অপরিচিতা ও অবৈধ নারীতে পরিণত হয়। তারা মনে করে যে এটি সংগতিপূর্ণ নয়...
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الحكمة، أو يتفق مع المصلحة، وقد يكونون معذورين في هذا القول الذي يتفق مع أقوال كثير من الفقهاء، ولو أنهم اطَّلعوا على الكتاب الذي نُقرِّظه اليوم لآبوا معترفين للإسلام بأنه دِينُ المدنية والفضيلة والعمران.
استهلَّ الإمامُ المؤلِّفُ كتابه بالحديث الشريف: «لا طلاق ولا عَتَاق في إغلاق»، ثم بيَّن معنى الإغلاق أو الغِلاق مِن كلام الأئمة، وأنَّ معناه الغضب، أو مِن معانيه، ثم طَفِقَ المؤلِّفُ يدلي بالحجّة تلو الحجّة، ويأتي بالدليل بعد الدليل مِن الكتاب، والسُّنَّة، والمأثور عن أئمة السَّلف، الناطقةِ كلها بعدم وقوع طلاق الغضبان، وأفاض المؤلِّفُ في ذلك أيَّما إفاضة شأنَهُ في كلِّ الموضوعات التي كتب فيها، ونَصَبَ ميزانَ التعارض والترجيح، فأظهر -أثابه الله- الرَّغوةَ مِن اللبن الصريح».
وقد وقع في هذه الطبعة تصحيفاتٌ وبعضُ السُّقوط يستطيع القارئ الفَطِنُ تلافيَها، وأهمُّ التصحيفات التي تُؤثِّرُ في المعنى هي:
أ- ما وقع في صفحة (39) السطر الثاني من أسفل لدى قول ابن القيم: «
… وقد صرَّح بإرادة أحدهما مشترطاً على رَبِّه، فدلَّ على عموم إرادته لما دعا به في حال الغضب
… ».
والصواب كما في المخطوط: «
… وقد صرَّح بإرادة أحدهما
...প্রজ্ঞা অথবা জনকল্যাণের (المصلحة) অনুকূল; আর অনেক ফকিহদের (الفقهاء) মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই বক্তব্যের জন্য তারা হয়তো ওজরপ্রাপ্ত হতে পারেন। তবে আজ আমরা যে কিতাবটির প্রশংসা করছি, তা যদি তারা পাঠ করতেন তবে তারা অবশ্যই এটি স্বীকার করে ইসলামের দিকে ফিরে আসতেন যে, ইসলাম হলো সভ্যতা, শিষ্টাচার এবং সমৃদ্ধির ধর্ম।
ইমাম লেখক তার কিতাবটি এই হাদিস শরীফের মাধ্যমে শুরু করেছেন: «ইগলাক (إغلاق) বা রুদ্ধাবস্থায় কোনো তালাক নেই এবং কোনো দাসমুক্তিও নেই», অতঃপর তিনি ইমামগণের বক্তব্যের আলোকে 'ইগলাক' বা 'গালাক'-এর অর্থ স্পষ্ট করেছেন যে, এর অর্থ হলো ক্রোধ, অথবা এটি এর অন্যতম অর্থ। এরপর লেখক একের পর এক অকাট্য যুক্তি ও কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ এবং সালাফ (السلف) ইমামগণের থেকে বর্ণিত (المأثور) দলীলসমূহ উপস্থাপন করতে থাকেন, যার সবগুলোই রাগান্বিত অবস্থায় তালাক পতিত না হওয়ার সপক্ষে সোচ্চার। লেখক এ বিষয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যেমনটি তিনি তার রচিত সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে করে থাকেন। তিনি বৈপরীত্য (التعارض) ও অগ্রাধিকার (الترجيح) নিরূপণের মানদণ্ড স্থাপন করেছেন এবং—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন—দুধ থেকে ফেনা পৃথক করার ন্যায় সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
এই মুদ্রণে কিছু শব্দবিভ্রাট (تصحيفات) এবং কিছু বিলুপ্তি ঘটেছে যা একজন বিচক্ষণ পাঠক সংশোধন করে নিতে পারবেন। অর্থকে প্রভাবিত করে এমন গুরুত্বপূর্ণ শব্দবিভ্রাটগুলো হলো:
ক- ৩৯ পৃষ্ঠার নিচ থেকে দ্বিতীয় লাইনে ইবনুল কাইয়্যিমের এই বক্তব্যে যা ঘটেছে: «
… তিনি তার রবের নিকট শর্তারোপ করে উভয়ের একটির ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন, যা রাগান্বিত অবস্থায় তিনি যা প্রার্থনা করেছেন তার ইচ্ছার ব্যাপকতা নির্দেশ করে
… »।
পাণ্ডুলিপিতে (المخطوط) যা রয়েছে সেটিই সঠিক: «
… এবং তিনি উভয়ের একটির ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مشترطاً له على ربِّه، فدلَّ عَلَى عدم إرادته لما دعا به في حال الغضب
… ».
ب- ما وقع في صفحة (8) السطر (11) لدى قوله: «ولا ريب أنَّ الدُّعاء بالشرِّ كثيراً ما يجلب الدُّعاء بالخير
… » كذا وقع، وهو مُشكِل!
والصَّواب: «ولا ريب أنَّ الدُّعاء بالشرِّ كثيراً ما يُجاب كالدُّعاء بالخير
… ».
جـ- ما وقع في صفحة (35) السطر (3) لدى قول أبي جعفر الباقر: «لا طلاق إلا على بينة
… ».
والصواب كما في المخطوط: «لا طلاق إلا على سُنَّة
… ».
2 - طبعة مكتبة الكليات الأزهرية: فقد قامت مكتبة الكليات الأزهرية بمصر، بإعادة صَفِّ مطبوعة القاسميِّ، ونشرتها مع المحافظة على تعليقات القاسمي رحمه الله وكتبوا على الغِلاف: «وقد عُني بتصحيحه وتخريجه وتعليق حواشيه: الأستاذ الشيخ جمال الدين القاسمي 1396 هـ-1976 م».
والواقع أن الشيخ القاسمي رحمه الله لم يُصحِّحْ طبعتهم تلك، والتاريخ الذي كتبوه بعد وفاته بكثير! ووقعتْ فيها بعضُ
তাঁর রবের নিকট তাঁর জন্য শর্তারোপকারী হিসেবে, যা প্রমাণ করে যে, ক্রোধান্বিত অবস্থায় তিনি যা প্রার্থনা করেছেন তা তিনি চাননি
… »।
খ- (৮) নং পৃষ্ঠার (১১) নং চরণে যা তাঁর এই উক্তিতে এসেছে: «এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অকল্যাণের দোয়া প্রায়শই কল্যাণের দোয়াকে টেনে আনে
… » এভাবেই সেখানে এসেছে, যা সমস্যাসংকুল (مشكل)!
আর সঠিক পাঠ হলো: «এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অকল্যাণের দোয়াও কল্যাণের দোয়ার মতোই প্রায়শই কবুল করা হয়
… »।
গ- (৩৫) নং পৃষ্ঠার (৩) নং চরণে আবু জাফর আল-বাকিরের উক্তি হিসেবে যা এসেছে: «স্পষ্ট প্রমাণ (بينة) ছাড়া কোনো তালাক নেই
… »।
পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী সঠিক পাঠ হলো: «সুন্নাহ অনুযায়ী হওয়া ছাড়া কোনো তালাক নেই
… »।
২ - মাকতাবাতুল কুল্লিয়াত আল-আজহারিয়া সংস্করণ: মিশরের মাকতাবাতুল কুল্লিয়াত আল-আজহারিয়া কাসেমীর মুদ্রিত সংস্করণটি পুনরায় বিন্যাস করেছে এবং কাসেমী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর টীকাগুলো অক্ষুণ্ণ রেখে তা প্রকাশ করেছে। তারা প্রচ্ছদে লিখেছে: «এর বিশুদ্ধকরণ (تصحيح), উৎস নির্ণয় (تخريج) এবং টীকা সংযোজন করেছেন: উস্তাদ শায়খ জামালুদ্দিন আল-কাসেমী, ১৩৯৬ হিজরী - ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ।»
বাস্তবতা হলো, শায়খ কাসেমী (রাহিমাহুল্লাহ) তাদের সেই সংস্করণটি বিশুদ্ধকরণ (تصحيح) করেননি, আর তারা যে তারিখটি লিখেছে তা তাঁর মৃত্যুর অনেক পরের! সেখানে কিছু সংশ্লিষ্ট ভুলও সংঘটিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২০)
التصحيفات زيادةً على التصحيفات الواردة في طبعة القاسمي -ولا حول ولا قوة إلا بالله- ومِن أشنع ما وقع لهم من التصحيفات:
- ما وَرَدَ في صفحة (34) من مطبوعتهم لدى قول ابن القيم: «ومنهم من اشترط مع ذلك أن يكون مريداً لمعناه، ناوياً له، فإن لم يَنْوِ معناه، ولم يُرِدْه، لم يلزمه حكمُه، وهذا قولُ من يقول لا يلزم لصريح الطلاق النية .. »! ! ! !
والصوابُ كما يقتضيه المعنى، وهو كذلك في المخطوط: «ومنهم مَن اشترط مع ذلك أن يكون مريداً لمعناه، ناوياً له، فإن لم يَنْوِ معناه، ولم يُرِدْه، لم يلزمه حكمه، وهذا قول مَن يشترط لصريح الطلاق النية .. ».
ولمكتبة الكليات الأزهرية طبعةٌ أخرى، وصَفٌّ آخر للكتاب، وبحرف مختلف بلا تاريخ، وهي كسابقتها، ولا أدري إنْ كانت سابقة عليها! !
3 - طبعة مكتبة القاهرة: وهي صورة عن طبعة مكتبة الكليات الأزهرية الثانية، ولا أدري مَن الذي صَوَّرَ مِن الآخر؛ لأنَّ كِلا الطبعتين بلا تاريخ.
4 - طبعة مكتبة دار الفكر العربي: وقد اعتمدوا في طَبْعها على
কাসেমী সংস্করণে উল্লিখিত শব্দবিভ্রাট (التصحيفات) সমূহের অতিরিক্ত আরও কিছু শব্দবিভ্রাট (التصحيفات) —আর আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই— এবং তাদের করা শব্দবিভ্রাট (التصحيفات) সমূহের মধ্যে জঘন্যতম হলো:
- তাদের মুদ্রিত সংস্করণের ৩৪ পৃষ্ঠায় ইবনুল কাইয়্যিমের উক্তির মধ্যে যা বর্ণিত হয়েছে: «এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর সাথে এই শর্তারোপ করেছেন যে, তাকে এর অর্থের সংকল্পকারী ও নিয়তকারী (ناوياً) হতে হবে; অতএব সে যদি এর অর্থের নিয়ত (ينو) না করে এবং তা না চায়, তবে তার ওপর এর বিধান (حكم) বর্তাবে না। আর এটি ঐ ব্যক্তির কথা যে বলে যে, সুস্পষ্ট তালাকের (صريح الطلاق) জন্য নিয়তের (النية) প্রয়োজন নেই .. »! ! ! !
আর সঠিক বিষয়টি হলো যেমনটি অর্থের দাবি এবং পাণ্ডুলিপিতেও (المخطوط) ঠিক তেমনটিই রয়েছে: «এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর সাথে এই শর্তারোপ করেছেন যে, তাকে এর অর্থের সংকল্পকারী ও নিয়তকারী হতে হবে; অতএব সে যদি এর অর্থের নিয়ত না করে এবং তা না চায়, তবে তার ওপর এর বিধান (حكم) বর্তাবে না। আর এটি ঐ ব্যক্তির কথা যে সুস্পষ্ট তালাকের (صريح الطلاق) জন্য নিয়তকে (النية) শর্তারোপ করেন .. »।
মাকতাবাতুল কুল্লিয়াত আল-আযহারিয়ার আরও একটি সংস্করণ ও স্বতন্ত্র বিন্যাস রয়েছে, যা ভিন্ন হরফে এবং কোনো তারিখবিহীন। এটি পূর্বের সংস্করণের মতোই, তবে আমি জানি না এটি তার আগের কি না! !
৩ - মাকতাবাতুল কাহিরা সংস্করণ: এটি মাকতাবাতুল কুল্লিয়াত আল-আযহারিয়ার দ্বিতীয় সংস্করণের একটি প্রতিচ্ছবি বা অনুলিপি। আমি জানি না কে কার থেকে অনুলিপি করেছে; কারণ উভয় সংস্করণই তারিখবিহীন।
৪ - মাকতাবাতু দারিল ফিকরিল আরাবি সংস্করণ: তারা এটি মুদ্রণের ক্ষেত্রে নির্ভর করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২১)
إحدى الطبعات التجارية المتوافرة بالمكتبات آنذاك، كما أخبرني الناشر بنفسه.
5 - طبعة محمد عفيفي: بعد طبعة الكليات الأزهرية بنحو عشر سنوات، قام محمد عفيفي رحمه الله بتخريج أحاديث الكتاب، والتعليق عليه، والتقديم له بمقدِّمة طويلة ذَبَّ فيها عن ابن القيم وشيخه، ووَثَّقَ نسبة الرسالة لمؤلِّفها بما لم يُسبَقْ إليه، فجزاه الله خيراً، وطَبَعَه بالمكتب الإسلامي سنة (1406 هـ) معتمداً على مطبوعة الكليات الأزهرية الثانية؛ ظنّاً منه أنها مطبوعة القاسمي! لذلك لم يستطع أنْ يصحِّح شيئاً من التصحيفات السابقة، بل قد وَقَعَ رحمه الله في أوهام لغوية
(1) وحديثية
(2) منكرة، غَفَرَ الله لنا وله
(3).
6 - طبعة الدكتور أحمد حجازي السقا: أعاد صفَّ الكتاب مع المحافظة الكاملة على تعليقات القاسمي، وطَبَعَه في مكتبة الثقافة الدينية في القاهرة، ويبدو لي أنه اعتمد مطبوعة القاسميِّ مباشرة؛ لأنه سَلِمَ مِن بعض الأخطاء التي تواردت عليها الطبعاتُ التي تقدَّم وصفُها.
--------------------------------------------
তৎকালীন লাইব্রেরিগুলোতে সহজলভ্য বাণিজ্যিক সংস্করণগুলোর একটি, যেমনটি প্রকাশক নিজেই আমাকে জানিয়েছেন।
৫ - মুহাম্মাদ আফিফীর সংস্করণ: কুল্লিয়াতুল আযহারিয়া সংস্করণের প্রায় দশ বছর পর, মুহাম্মাদ আফিফী (রাহিমাহুল্লাহ) বইটির হাদিসসমূহের উৎস নির্ণয় (تخريج), এর ওপর টীকা প্রদান এবং একটি দীর্ঘ ভূমিকা লিখেছিলেন যাতে তিনি ইবনুল কাইয়্যিম ও তাঁর উস্তাদের পক্ষ সমর্থন করেছেন। তিনি ইতিপূর্বে আর কেউ যা করেনি এমনভাবে লেখকের সাথে এই রিসালাহটির সম্বন্ধের নির্ভরযোগ্যতা (وثق) প্রমাণ করেছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। তিনি এটি আল-মাকতাব আল-ইসলামী থেকে ১৪০৬ হিজরি সালে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি কুল্লিয়াতুল আযহারিয়ার দ্বিতীয় মুদ্রণের ওপর নির্ভর করেছিলেন; এটি কাসিমীর সংস্করণ মনে করে! এই কারণে তিনি পূর্ববর্তী শব্দগত ভুলগুলোর কোনোটিই সংশোধন করতে পারেননি, বরং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ভাষাগত এবং হাদিস-সংক্রান্ত অস্বীকৃত (منكر) বিভ্রমের শিকার হয়েছেন। আল্লাহ আমাদের এবং তাকে ক্ষমা করুন।
(১)(২)(৩)৬ - ড. আহমদ হিজাযী আস-সাক্কার সংস্করণ: তিনি কাসিমীর টীকাগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষণ করে বইটির নতুন বিন্যাস করেছেন এবং কায়রোর মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দীনিইয়াহ থেকে এটি প্রকাশ করেছেন। আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সরাসরি কাসিমীর মুদ্রণের ওপর নির্ভর করেছিলেন; কারণ ইতিপূর্বে বর্ণিত সংস্করণগুলোতে যে ভুলগুলো পরিলক্ষিত হয়েছিল, সেগুলো থেকে এটি মুক্ত ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২২)
المنهج المتبع في التحقيق:
1 - اعتمدتُّ المخطوط أصلاً، وقابلته بمطبوعة القاسمي.
2 - صحَّحتُ الأخطاءَ والتصحيفاتِ الواردةَ في الأصل، واستدركتُ الأسقاطَ - وهي قليلة - اعتماداً على توثيق النصوص التي نقلها ابن القيم؛ وذلك بمعارضتها بمصادرها الأصيلة أو الفرعية، ونبَّهتُ في الحاشية على ما في الأصل.
3 - خرَّجتُ الأحاديث والآثار، وعرَّفت بالأعلام غير المشهورين.
4 - وثَّقتُ جُلَّ الأقوال والمسائل الفقهية الواردة في الرسالة؛ بعزوها إلى الكتب المعتمدة في كل مذهب.
5 - وضعتُ تعليقاتِ العلَاّمتين: جمال الدين القاسمي، ومحمد ابن مانع النجدي في أماكنها، وأشرت إلى اسم صاحب التعليق في نهاية كل تعليق.
6 - وثَّقتُ نقولَ العلامة القاسمي رحمه الله.
7 - ترجمتُ لابن القيم رحمه الله ترجمةً آثرتُ أنْ تكون مقتضبةً؛ لأنَّ عدداً مِن محققي كتبه توسَّعوا في ترجمته، كما أفرد لها بعضُ الباحثين كتباً مستقلَّة، فجزاهم الله خيراً.
সম্পাদনায় অনুসৃত পদ্ধতি:
১ - আমি পাণ্ডুলিপিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং আল-কাসিমির মুদ্রিত কপির সাথে তা যাচাই করেছি।
২ - মূলে বিদ্যমান ভুল ও বর্ণবিভ্রাট (تصحيف) সংশোধন করেছি এবং ইবনুল কাইয়িম কর্তৃক উদ্ধৃত পাঠ্যসমূহের প্রমাণীকরণ (توثيق) করার ওপর ভিত্তি করে বিলুপ্ত অংশসমূহ—যা সংখ্যায় অতি সামান্য—পুনরুদ্ধার করেছি; আর এটি সম্পন্ন করেছি সেগুলোকে তাদের মূল অথবা আনুষঙ্গিক উৎসের সাথে যাচাই করার মাধ্যমে এবং মূলে যা ছিল সে ব্যাপারে টীকায় উল্লেখ করেছি।
৩ - আমি হাদিস ও বর্ণনাসমূহের (أثر) সূত্রনির্দেশ (تخريج) করেছি এবং অখ্যাত ব্যক্তিবর্গের (أعلام) পরিচয় প্রদান করেছি।
৪ - এই পুস্তিকায় উল্লেখিত অধিকাংশ ফিকহি মতবাদ ও মাসআলাসমূহ প্রতিটি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে প্রমাণীকরণ (توثيق) করেছি।
৫ - আমি দুই বরেণ্য আল্লামা: জামালুদ্দিন আল-কাসিমি এবং মুহাম্মদ ইবনে মানি আল-নাজদির টীকাগুলো তাদের যথাযথ স্থানে স্থাপন করেছি এবং প্রতিটি মন্তব্যের শেষে সংশ্লিষ্ট লেখকের নাম উল্লেখ করেছি।
৬ - আমি আল্লামা কাসিমি (রহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্ধৃতিসমূহ প্রমাণীকরণ (توثيق) করেছি।
৭ - ইবনুল কাইয়িম (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি জীবনী (ترجمة) প্রস্তুত করেছি, যা সংক্ষিপ্ত রাখাকেই আমি শ্রেয় মনে করেছি; কারণ তাঁর গ্রন্থসমূহের অনেক সম্পাদক তাঁর জীবনী বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন, আবার কিছু গবেষক তাঁর জীবনী নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
هذا؛ ولا يفوتني أن أُسجِّل شكري وتقديري للأخوين الكريمين: الشيخ عمار تُمالت على مساعدته في البحث عن نُسَخٍ أخرى للرسالة في فهارس المخطوطات، والشيخ حسنين حُسني على تفضُّله بمراجعة الكتاب، فجزاهما الله خيراً.
ثم بعد الفراغ من تحقيق الكتاب وصفّه تكرم الشيخ زهير الشاويش حفظه الله تعالى بمراجعة الكتاب، والتعليق على مواضع منه، وتفضل بكتابة تقديم للكتاب رغم مرضه وكبر سنه، كتب الله له الشفاء، وبارك في عمره، وجزاه الله خيراً.
ونسألُ اللهَ الكريم رَبَّ العرش العظيم أن يتقبَّل مِنَّا، وأن يتجاوز عمَّا وقع مِنَّا مِن الزَّلَل والتقصير، وأن يغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بخدمة هذا الكتاب، وصلَّى الله وسلَّم وبارك على نبينا محمد وآله وصحبه.
قيَّده
عُمر بن سُلَيمان الحَفْيَان
غفر الله له ولوالديه
دمشق في غُرَّة ذي القَعْدة عام 1422 هـ
ثم جال فيها القلمُ ببعض الفوائد
والتصحيحات والاستدراكات في الخُبَر والرياض
এ পর্যায়ে আমি দুই সম্মানিত ভাই: শায়খ আম্মার তুমালতকে পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগগুলোতে এই গবেষণাপত্রের অন্যান্য পাণ্ডুলিপি (نسخ) অনুসন্ধানে সহায়তার জন্য এবং শায়খ হাসনাইন হুসনিকে কিতাবটি পর্যালোচনার অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন।
অতঃপর গ্রন্থটির সম্পাদনা (تحقيق) এবং কম্পোজ শেষ হওয়ার পর শায়খ জুহাইর আল-শাওয়িশ (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন) কিতাবটি পর্যালোচনা এবং এর বিভিন্ন স্থানে টীকা প্রদানের অনুগ্রহ করেছেন। অসুস্থতা ও বার্ধক্য সত্ত্বেও তিনি কিতাবটির একটি ভূমিকা লিখে দেওয়ার বদান্যতা দেখিয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে আরোগ্য দান করুন, তাঁর হায়াতে বরকত দান করুন এবং তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।
আমরা মহান আরশের অধিপতি দয়াময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন, আমাদের বিচ্যুতি ও ত্রুটিসমূহ মার্জনা করেন এবং আমাদের ও আমাদের সেই সকল ভাইদের ক্ষমা করেন যারা ইতিপূর্বে এই কিতাবের খিদমতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
এটি লিপিবদ্ধ করেছেন
উমর বিন সুলাইমান আল-হাফইয়ান
আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন
দামেস্ক, ১লা জিলকদ, ১৪২২ হিজরি
পরবর্তীতে এতে কিছু তাত্ত্বিক আলোচনা (فوائد)
এবং সংশোধনী (تصحيحات) ও পরিশিষ্ট (استدراكات) আল-খোবার এবং রিয়াদে সংযোজন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ترجمة الإمام ابن القيم (1)هو الإمامُ العالم، العارفُ العابد، المحقِّقُ المتقنُ ذو الفنون، أبو عبد الله، شمس الدين، محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد بن حريز بن مكي، الزُّرَعيُّ، ثم الدمشقي.
وُلد في بيت عِلم وصلاح في السابع مِن صفر سنة (691 هـ).
بدأ منذ نعومة أظفاره بطلب العِلم، والقراءة على الشيوخ، فسمع الكثيرَ مِن علماء دمشق، ودمشقُ - حينذاك - حاضرةُ العِلم والعلماء، ثم رحل إلى مصر في طلب العلم.
بعد عودة شيخ الإسلام ابن تيمية من مصر عام (712 هـ) لازمه ملازمةً تامةً، حَتَّى إنه دخل معه السجن في قلعة دمشق، وبقي إلى حين وفاة ابن تيمية حيث خُلِّي سبيله.
--------------------------------------------
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের জীবনী(১)তিনি হলেন ইমাম, আলেম, আরিফ, ইবাদতকারী, সূক্ষ্ম গবেষক (محقق) ও দক্ষ (متقن) এবং বহু বিদ্যায় পারদর্শী; আবু আবদুল্লাহ, শামসুদ্দিন, মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন সাদ বিন হুরইজ বিন মাক্কি, আজ-জুরায়ি, অতঃপর আদ-দিমাশকি।
তিনি ৬৯১ হিজরি সনের ৭ই সফর এক জ্ঞান ও পুণ্যবান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
শৈশব থেকেই তিনি ইলম অর্জন এবং শায়খদের কাছে পাঠ গ্রহণের সূচনা করেন। তিনি দামেস্কের অসংখ্য ওলামায়ে কেরামের নিকট থেকে শ্রবণ (سمع) করেছেন। তৎকালীন সময়ে দামেস্ক ছিল ইলম ও ওলামায়ে কেরামের কেন্দ্রস্থল। অতঃপর তিনি ইলম অন্বেষণে মিশরে সফর করেন।
৭১২ হিজরিতে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মিশর থেকে ফিরে আসার পর তিনি তাঁর একনিষ্ঠ সান্নিধ্যে (لازمه) থাকেন, এমনকি তিনি তাঁর সাথে দামেস্ক দুর্গের কারাগারেও বন্দি ছিলেন এবং ইবনে তাইমিয়্যাহর মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন; এরপর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
سار بعد وفاة شيخه على طريقته في الدعوة إلى الكتاب والسُّنَّة، والذَّبِّ عن مذهب السَّلف الصالح، ومحاربةِ البِدَعِ، فصنَّف المصنفاتِ النافعة، وناظر المبتدعة، وبقي على هذه الحالة حَتَّى توفّاه الله سنة (751 هـ)
رحمه الله تعالى.
وقد أفادني الشيخ زهير الشاويش حفظه الله بما يلي:
«ودُفن ابن القيم رحمه الله في مقبرة الباب الصغير، بجوار الباب الغربي، تجاه المدرسة الصابونية على الطريق العام.
ومنذ أكثر من ثلاثين سنة أُبعد القبر إلى شرقي المدخل لمسافة أربعة أمتار؛ لتوسعة الطريق -رحمه الله تعالى-».
তিনি তাঁর শাইখের ইন্তেকালের পর কিতাব ও সুন্নাহর দিকে দাওয়াত প্রদান, সালাফে সালেহীনের মাযহাবের প্রতিরক্ষা এবং বিদআতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তাঁর (শাইখের) পথ অনুসরণ করেন। তিনি অনেক উপকারী গ্রন্থ রচনা করেন এবং বিদআতীদের সাথে বিতর্ক করেন। তিনি এই অবস্থায় অবিচল থাকেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা ৭৫১ হিজরি সনে তাঁর মৃত্যু দান করেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
শাইখ যুহাইর আশ-শাউয়িশ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) আমাকে নিম্নোক্ত তথ্য প্রদান করেছেন:
«ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বাবুস সাগির কবরস্থানে, পশ্চিম দরজার পার্শ্বে, প্রধান সড়কের ওপর সাবুনিয়্যা মাদরাসার বিপরীতে দাফন করা হয়েছিল।
রাস্তা প্রশস্ত করার কারণে আজ থেকে ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় আগে কবরটি প্রবেশপথের পূর্ব দিকে চার মিটার দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।»
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
صورة الصفحة الأولى من المخطوط
(الظَّهريَّة)
পাণ্ডুলিপির (مخطوط) প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র
(জাহিরিয়্যাহ)
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
نموذج من المخطوط
وتظهر تعليقات القاسمي بخطه
পাণ্ডুলিপির একটি নমুনা
এবং আল-কাসিমির টীকাগুলো তাঁর নিজ হাতের লেখায় দৃশ্যমান।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
صورة الصفحة الأخيرة من المخطوط
(الغاشية)
পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার চিত্র
(আল-গাশিয়া)
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফী হুকমি তালাকিল গাদবান - ত আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
صورة صفحة العنوان من
مطبوعة القاسمي
শিরোনাম পৃষ্ঠার চিত্র
কাসেমী সংস্করণ