(খণ্ড: ১)
নাযরাতুল মুসতাশরিকীন লিস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ আল-মুত্বহ্হারাহ (শুবুহাত ওয়া রুদুদ)
(পৃষ্ঠা: -)
نظرة المستشرقين للسنة النبوية المطهرة (شبهات وردود) (مثنى الزيدي)
القسم: علوم الحديث
الكتاب: نظرةُ المستشرقينَ للسنَّةِ النبويَّةِ المطهَّرَةِ (شبهاتٌ وردودٌ)
المؤلف: مثنى الزيدي، المشرف العام على موقع العلم الشرعي
عدد الصفحات: 8
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
পবিত্র সুন্নাহর প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি (সংশয় ও খণ্ডন) (মুসান্না আল-জাইদি)
বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: পবিত্র সুন্নাহর প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি (সংশয় ও খণ্ডন)
লেখক: মুসান্না আল-জাইদি, 'আল-ইলমুশ শরয়ী' ওয়েবসাইটের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুল মুসতাশরিকীন লিস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ আল-মুত্বহ্হারাহ (শুবুহাত ওয়া রুদুদ)
(পৃষ্ঠা: ১)
نظرةُ المستشرقينَ للسنَّةِ النبويَّةِ المطهَّرَةِ" شبهاتٌ وردودٌ "بقلم الشيخ مثنى الزيديالمشرف العام على موقع العلم الشرعيالحمد لله مفلج الحق وناصره، ومدحض الباطل وماحقه، الذي اختار الإسلام لنفسه دينا، فأمر به وأحاطه، وتوكل بحفظه وضمن إظهاره، ثم اصطفى من خلقه رسلا ابتعثهم بالدعاء إليه، وأمرهم بالقيام به والصبر على ما نابهم فيه من جهلة خلقه، وامتحنهم من المحن بصنوف، وابتلاهم من البلاء بضروب، تكريما لهم غير تذليل، وتشريفا غير تخسير، ورفع بعضهم فوق بعض درجات، فكان أرفعهم عنده درجة أجدَّهم ثباتا مع شدة المحن، فصلى الله على نبينا محمد وعلى الأنبياء أجمعين وال بيته الطيبين وصحابته الطاهرين ومن اقتفى أثرهم إلى يوم الدين، وبعد: (المستشرقون والسنة النبوية)كان للمستشرقين دورا في قذف الشبهات حول السنة النبوية المطهرة وذلك للتشكيك في صحتها، كونهم على علم بأنَّ السنة النبوية هي المصدر الثاني من مصادر التشريع، فإذا استطاعوا ذلك فان الطريق مأمونٌ للتشكيك بالقرآن الكريم الذي هو المصدر الأول من مصادر هذا التشريع.تتصدَّرهم من الداخل طلائع التنويريين المتأثرين بالغرب، ومن الخارج جحافل المستشرقين، كل ذلك ما كان له ذِكْر في عالم الحقيقة لولا طرق الدعاية وسبل النشر التي حضيت بأعلى الاهتمامات الغربية والى يومنا هذا.ولكن هل وُفِّقت هذه العصبة في تحقيق أهدافها؟يكفي في الجواب على هذا السؤال أنَّ جامعة "لندن" وكذلك جامعة "كمبردج" لم توافقا على أن تناقَش أيَّ اطروحة لدراسة ونقد كتاب المؤلف "شاخت" المسمى "اصول الشريعة المحمدية"، ذلك الكتاب الذي يعتبر من ابرز ما كُتب في الطعن بالسنة النبوية والتشريع الإسلامي، بل ويعتبر أساسا لكل دراسة عن الإسلام وشريعته، على الأقل في العالم الغربي كما قال البروفسور " جب ".وهذا ما وقع بالفعل، فقد طُرد احد الأساتذة في جامعة "أكسفورد" بعدما لخَّص آراء شاخت في الفقه الإسلامي ونقدها بأدلة دامغة وواضحة، فَلِمَ الطرد إذا ولجت شبهاتهم في أبواب الحقيقة؟ إنَّ هذا يدل دلالة قاطعة على أنها لا تعني إلا العجز عن المزاولة العلمية والمطاولة المعرفية لإظهار الحقيقة بصفائها العذب.وتبقى سنة النبي صلى الله عليه وسلم، سنة خاتم الانبياء تقتاء الطاعنين فيها كما يقتاء احدنا عن معدته ما فسد من الطعام فلم تستطع ان تهضمه.
পবিত্র সুন্নাহ (سنة)-এর প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি"সংশয় ও নিরসন"শেখ মুসান্না আল-যাইদি কর্তৃক লিখিত'ইলম শরয়ী' ওয়েবসাইটের জেনারেল সুপারভাইজারসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সত্যকে বিজয়ী ও সাহায্যকারী করেন এবং বাতিলকে চূর্ণ-বিচূর্ণ ও নিশ্চিহ্নকারী করেন। যিনি নিজের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন, এর আদেশ দিয়েছেন এবং একে নিরাপদ করেছেন। তিনি এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং একে প্রকাশ করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে রাসূলগণকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁদেরকে তাঁর দিকে আহ্বান করার জন্য প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁদেরকে এর ওপর অটল থাকতে এবং মূর্খদের পক্ষ থেকে আসা বিপদে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তাঁদেরকে বিভিন্ন প্রকার পরীক্ষা ও কষ্টের মাধ্যমে যাচাই করেছেন—যা ছিল তাঁদের সম্মানিত করার জন্য, লাঞ্ছিত করার জন্য নয়; এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য, ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য নয়। তিনি তাঁদের কয়েকজনকে অন্যদের ওপর উচ্চতর মর্যাদা দান করেছেন। তাঁর কাছে সেই ব্যক্তির মর্যাদা সবচেয়ে বেশি, যিনি কঠিন পরীক্ষার মধ্যেও অত্যন্ত দৃঢ়পদ ছিলেন। সুতরাং আমাদের নবী মুহাম্মাদ, সকল নবী, তাঁদের পবিত্র পরিবারবর্গ, পবিত্র সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণকারীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর: (প্রাচ্যবিদ এবং সুন্নাহ (سنة))পবিত্র সুন্নাহ (سنة)-এর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে সংশয় তৈরির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াতে প্রাচ্যবিদদের একটি বিশেষ ভূমিকা ছিল। কারণ তারা অবগত আছেন যে, সুন্নাহ (سنة) হলো শরয়ী বিধানের (تشريع) দ্বিতীয় উৎস। যদি তারা এতে সফল হতে পারে, তবে পবিত্র কুরআনের ব্যাপারে সন্দেহ তৈরির পথ সুগম হবে, যা এই শরীয়তের (تشريع) প্রথম উৎস।ভেতর থেকে তাদের নেতৃত্বে রয়েছে পশ্চিমা চিন্তাধারায় প্রভাবিত তথাকথিত আলোকিত আধুনিকতাবাদীদের অগ্রগামী দল, আর বাহির থেকে রয়েছে প্রাচ্যবিদদের বিশাল বাহিনী। প্রচারের ধরণ এবং প্রকাশনার বৈশ্বিক মাধ্যমগুলো—যা আজ অবধি পশ্চিমা বিশ্বের সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—তা যদি না থাকত, তবে বাস্তব জগতে এসবের কোনো অস্তিত্বই থাকত না।কিন্তু এই গোষ্ঠী কি তাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে?এই প্রশ্নের উত্তরে এটিই যথেষ্ট যে, "লন্ডন" বিশ্ববিদ্যালয় এবং "ক্যামব্রিজ" বিশ্ববিদ্যালয় লেখক "শাখত"-এর "মুহাম্মাদী শরীয়তের মূলনীতি" নামক বইটির সমালোচনা বা পর্যালোচনা সংক্রান্ত কোনো গবেষণাপত্র নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়নি। এই বইটি সুন্নাহ (سنة) এবং ইসলামী শরীয়তের (تشريع) বিরুদ্ধে বিষোদ্গারের ক্ষেত্রে লেখা অন্যতম প্রধান বই হিসেবে বিবেচিত হয়। বরং প্রফেসর "গিব"-এর মতে, অন্তত পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম এবং এর শরীয়ত (تشريع) সম্পর্কিত প্রতিটি গবেষণার ভিত্তি হিসেবে এটি গণ্য হয়।এবং বাস্তবেও তাই ঘটেছে। "অক্সফোর্ড" বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে বহিষ্কার করা হয়েছিল যখন তিনি ইসলামী ফিকহ (فقه) শাস্ত্রে শাখতের মতামতের সারসংক্ষেপ করেছিলেন এবং অকাট্য ও স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সেগুলোর সমালোচনা করেছিলেন। তাহলে তাদের সংশয়গুলো যদি বাস্তবতার দরজায় করাঘাত করে, তবে এই বহিষ্কার কেন? এটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, সত্যকে তার নির্মল ও স্বচ্ছ রূপে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তারা বৈজ্ঞানিক চর্চা এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক লড়াইয়ে অক্ষম।আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة)—যিনি শেষ নবী—তা সর্বদা নিন্দুকদের অপবাদকে সেভাবেই উগড়ে দেবে, যেভাবে আমাদের পাকস্থলী নষ্ট খাবারকে গ্রহণ না করে বর্জন করে।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুল মুসতাশরিকীন লিস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ আল-মুত্বহ্হারাহ (শুবুহাত ওয়া রুদুদ)
(পৃষ্ঠা: ২)
شبهة العادة المقدسة والدحض الحتميمن هذه الشُبَه المقذوفة بين طرفي المنازلة المنكَفئ، بين السنة النبوية المطهرة وبين اعدائها "شبهة العادة المقدسة"، وهي للمستشرق "جولد تسيهر" حيث زعم هذا المستشرق ان السنة النبوية هي جوهر العادات، وأنه تفكير الامة الإسلامية قديما، وتسمى بالعادة المقدسة والأمر الأول، كذلك فهو يصفها بأنها "العواطف القائمة مقام غيرها" كل هذا جاء في الكثير من الكتب والدراسات حول الاستشراق، ومنها كتاب "المستشرقون ومصادر التشريع الاسلامي" وكتاب "المستشرقون والسنة" الى غير هذه المؤلفات، والعرب هم من نقل السنة إلى الإسلام، فأوهم الإسلامُ -كما يقولون هم- الداخلينَ فيه أنَّها سنة جديدة من دون تراكمات سابقة وعادات بالية، ويدَّعون بان المسلمين اخذوا ينتهجون منهجا جديدا من الأقوال والأفعال ويضعونها في المحل الأول أو تلك التي صحت عن الصحابة ويضعونها في المحل الثاني، حتى قالوا أنَّ السنة هي أصلا لما كان معروفا سابقا قبل الإسلام.هذه هي شبهة واحدة من شبهاتهم الواهية، حيث أن التناقض موجود والوهم حاصل في ثنايا كلامهم.وتُذكِّرُنا الطبيعة الجوهرية لهذه الشبهة بالشبهة التي زعمت أن بني امية ادخلوا في السنة النبوية المطهرة ما ليس منها وجعلوه سنة نبوية، ويبدو لنا ان الشبهتين متقاربتين في لفظهما،،، لكني اقول انهما متقاربتان في بطلانهما ايضا.فإذا كان تفيهُقُهُم صحيحا-على فرض التسليم- فهذا لا يعني ذلك انَّ الأشياء المسنونة سميت فيما بعد بسنة النبي عليه الصلاة والسلام، ثم إنَّ حقيقة السنَّة عند المسلمين متجوهرة في الطاعة المفروضة للنبي صلى الله عليه وسلم، وليس في اللفظ اللغوي الذي انتزعوا منه حقيقة اقدميته، فلا يشك احدٌ أنَّ السنة لها معانٍ في اللغة متعددة.حتى أن الأمر البياني في القرآن الكريم لم يأمر بإطاعة السنة بل أمر بإطاعة الرسول لأنها هي الأصل المتجوهر في الاعتقاد والمعرفة المكنونة في الفؤاد.قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} النساء: 59. وقال عز وجل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} الحشر: 7. ثم ذكر في آية اخرى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَإِنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ (12)} التغابن: 12.فهل أمر تعالى بطاعة السنة؟ أم أمَرَ تعالى بطاعة صاحبها صلى الله عليه وسلم؟ فأين الفائدة الاستشراقية اذاً في اللعب على أوتار المصطلحات التي لا مَشاحة فيها؟ مع العلم بأن "جولد تسيهر" لم يكن الوحيد الذي حاول تلك المحاولات، بل شاركه "مارغليوث" حين أرجع معنى السنة إلى العرف القائم، ووافقه على ذلك "شاخت" وسماها بالأعراف السائدة وغيرهم على مر العصور.
পবিত্র রীতির সংশয় এবং এর অনিবার্য খণ্ডনপবিত্র সুন্নাহ (سنة) এবং এর শত্রুদের মাঝে চলমান লড়াইয়ের ময়দানে নিক্ষিপ্ত সংশয়গুলোর মধ্যে একটি হলো "পবিত্র রীতির সংশয়"। এটি প্রাচ্যবিদ "গোল্ডজিহার"-এর পক্ষ থেকে উত্থাপিত হয়েছে, যেখানে এই প্রাচ্যবিদ দাবি করেছেন যে, সুন্নাহ (سنة) হলো পূর্বতন রীতিনীতির নির্যাস এবং এটি প্রাচীন মুসলিম উম্মাহর চিন্তা-চেতনা মাত্র, যাকে পবিত্র রীতি বা আদি বিষয় হিসেবে অভিহিত করা হয়। একইভাবে তিনি একে "অন্যান্য বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত আবেগ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রাচ্যতত্ত্ব বিষয়ক অনেক বই ও গবেষণায় এসব বিষয় উঠে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে "আল-মুস্তাশরিকুনা ওয়া মাসাদিরুত তাশরিয়িল ইসলামি" এবং "আল-মুস্তাশরিকুনা ওয়াস সুন্নাহ" ইত্যাদি গ্রন্থ। তাদের দাবি অনুযায়ী, আরবরাই সুন্নাহকে (سنة) ইসলামের দিকে স্থানান্তরিত করেছে; ফলে ইসলাম—তাদের ভাষ্যমতে—নতুন অনুসারীদের সামনে এমন এক বিভ্রম সৃষ্টি করেছে যে এটি কোনো পূর্বতন অবশেষ বা জীর্ণ রীতি নয়, বরং একটি নতুন সুন্নাহ (سنة)। তারা আরও দাবি করে যে, মুসলমানরা বিভিন্ন কথা ও কাজের ক্ষেত্রে একটি নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করতে শুরু করে এবং সেগুলোকে প্রথম সারিতে স্থান দেয়, অথবা যেগুলো সাহাবীগণের (الصحابة) পক্ষ থেকে শুদ্ধ (صحيح) বলে প্রমাণিত, সেগুলোকে দ্বিতীয় সারিতে রাখে। এমনকি তারা বলেছে যে, সুন্নাহ (سنة) মূলত ইসলামের পূর্ববর্তী পরিচিত বিষয়গুলোরই একটি পরিবর্তিত রূপ।এটি তাদের ভিত্তিহীন সংশয়গুলোর মধ্যে একটি মাত্র, কারণ তাদের বক্তব্যের পরতে পরতে বৈপরীত্য এবং বিভ্রান্তি বিদ্যমান।এই সংশয়টির মূল প্রকৃতি আমাদের সেই সংশয়ের কথা মনে করিয়ে দেয় যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, বনু উমাইয়ারা পবিত্র সুন্নাহর (سنة) মধ্যে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে যা এর অংশ নয় এবং সেগুলোকে সুন্নাহ (سنة) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমাদের কাছে মনে হয় যে, এই দুই সংশয় শাব্দিক দিক থেকে যেমন কাছাকাছি, তেমনি আমি বলব এগুলো বাতুলতার দিক থেকেও পরস্পর সদৃশ।যদি তাদের এই বাগাড়ম্বর সঠিকও ধরে নেওয়া হয়—তর্কের খাতিরে—তবুও তার অর্থ এই নয় যে, পরবর্তীতে প্রচলিত বিষয়গুলোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ (سنة) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। তাছাড়া মুসলমানদের কাছে সুন্নাহর (سنة) প্রকৃত সত্তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অর্পিত ফরয আনুগত্যের মধ্যে নিহিত, সেই শাব্দিক অর্থের মধ্যে নয় যেখান থেকে তারা এর প্রাচীনত্বের প্রমাণ হাতড়াতে চায়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অভিধানে সুন্নাহ (سنة) শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে।এমনকি পবিত্র কুরআনের বর্ণনারীতিতেও সুন্নাহর আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, বরং রাসুলের আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ এটিই হলো আকিদা বা বিশ্বাসের মূল সত্তা এবং অন্তরে প্রোথিত নিগূঢ় জ্ঞান।আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো} সূরা নিসা: ৫৯। তিনি আরও বলেন: {রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} সূরা হাশর: ৭। এরপর অন্য আয়াতে উল্লেখ করেছেন: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রেখো যে আমাদের রাসুলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া} সূরা তাগাবুন: ১২।সুতরাং আল্লাহ তাআলা কি সুন্নাহর আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন? নাকি সুন্নাহর প্রবর্তক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন? তাহলে পরিভাষার মারপ্যাঁচে প্রাচ্যবিদদের কারসাজির সার্থকতা কোথায়, যেখানে এ নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই? উল্লেখ্য যে, "গোল্ডজিহার" একাই এই প্রচেষ্টা চালাননি, বরং "মারগোলিউথ"-ও এতে শরিক ছিলেন যখন তিনি সুন্নাহর (سنة) অর্থকে বিদ্যমান সামাজিক প্রথার দিকে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে "শাখত"ও এর সাথে একমত পোষণ করেন এবং একে প্রচলিত লোকরীতি হিসেবে অভিহিত করেন। যুগে যুগে আরও অনেকেই এই পথ অবলম্বন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুল মুসতাশরিকীন লিস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ আল-মুত্বহ্হারাহ (শুবুহাত ওয়া রুদুদ)
(পৃষ্ঠা: ৩)
وتزيد الوقائع الحيَّة تأكيدا لنصاعة الآيات القرآنية وكفايتها في الرد على تهافت هؤلاء، ففي مسند الإمام احمد عن سَالِمٍ قَالَ: (كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يُفْتِي بِالَّذِي أَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل مِنْ الرُّخْصَةِ بِالتَّمَتُّعِ وَسَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهِ فَيَقُولُ نَاسٌ لِابْنِ عُمَرَ كَيْفَ تُخَالِفُ أَبَاكَ وَقَدْ نَهَى عَنْ ذَلِكَ فَيَقُولُ لَهُمْ عَبْدُ اللَّهِ وَيْلَكُمْ أَلَا تَتَّقُونَ اللَّهَ إِنْ كَانَ عُمَرُ نَهَى عَنْ ذَلِكَ فَيَبْتَغِي فِيهِ الْخَيْرَ يَلْتَمِسُ بِهِ تَمَامَ الْعُمْرَةِ فَلِمَ تُحَرِّمُونَ ذَلِكَ وَقَدْ أَحَلَّهُ اللَّهُ وَعَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَقُّ أَنْ تَتَّبِعُوا سُنَّتَهُ أَمْ سُنَّةَ عُمَرَ؟ إِنَّ عُمَرَ لَمْ يَقُلْ لَكُمْ إِنَّ الْعُمْرَةَ فِي أَشْهُرِ الْحَجّ حَرَامٌ وَلَكِنَّهُ قَالَ إِنَّ أَتَمَّ الْعُمْرَةِ أَنْ تُفْرِدُوهَا مِنْ أَشْهُرِ الْحَجًًًًِّ).وقد علَّق الدكتور سعد المرصفي في كتابه " المستشرقون والسنة النبوية" على ذلك بقوله:"وهذا القول من ابن عمر فصل في القضية، حيث مايز بين قضيتين مختلفتين تماما، اثبت للاولى حق الإتباع ولو كان العرف الشائع أو تقاليد المجتمع هما السنة".قال الشيخ العلامة احمد شاكر: "فلم يكن إتباع المسلمين لسنة النبي صلى الله عليه وسلم عن عادة اتباع الآباء … أمر الله الناس بإتباع الحق حيثما كان، وأمرهم باستعمال عقولهم في التدبر في الكون وآثاره … " إلى آخر ما قال رحمه الله.وهذا يتقارب مع ما قيل في ان السنة النبوية حُرِّفت في الازمنة التي تلت زمن الصحابة رضي الله عنهم، وهذا باطل، لا يصدقة عاقل.الجمع والتدوين الرسمي لم يقبل أي كلام أو خبر عن النبي صلى الله عليه وسلم دون أن يكون محفوظا في الصدور قبل السطور، فهي مراحل وليست مرحلة واحدة، هل تتعاقب كلها شرقها وغربها متواطئة على الكذب؟ثم أن التدوين لم يتوقف في زمن النبي صلى الله عليه وسلم بشكل نهائي بل ثبت عن جمع كبير من الصحابة ان النبي صلى الله عليه وسلم أمرهم بكتابة بعض الاحاديث، ونقل الامام ابن حجر الاجماع على ذلك كما قال "الشواط حسين" في "حجية السنة" بالادلة الصحيحة.ولا شك أن أدلة الإذن أكثر وأرجح، ورغم ذلك، فقد سلك العلماء مذهب الجمع بين أحاديث النهي وأحاديث الإذن، لأن إعمال الأدلة جميعها، أولى من إهدار بعضها، وايضا مما قيل في هذا الشأن:أن أحاديث النهي متعلقة بمن لا يخاف النسيان، خشية أن يتكل على الكتابة فيضعف حفظه، وهذا مما ينزل من مرتبته، لأن حفظ الصدر، كما قرر علماء الأصول، أرجح من حفظ الكتاب، وأما أحاديث الإذن، فهي متعلقة بسيئ الحفظ، مخافة أن ينسى شيئا مما سمعه.
জীবন্ত ঘটনাবলি কুরআনের আয়াতসমূহের স্পষ্টতা এবং এই ব্যক্তিদের অসারতার জবাবে সেগুলোর পর্যাপ্ততাকে আরও সুদৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করে। ইমাম আহমদের মুসনাদে সালিম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: (আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা হজের তামাত্তু করার যে অবকাশ নাযিল করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে যে সুন্নাহ বা নিয়ম প্রবর্তন করেছেন, সে অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন। তখন কিছু লোক ইবনে উমরকে বলত, আপনি কীভাবে আপনার পিতার বিরোধিতা করছেন, অথচ তিনি তো তা নিষেধ করেছেন? তখন আবদুল্লাহ তাদের বলতেন, ধিক তোমাদের! তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করো না? উমর যদি তা নিষেধ করে থাকেন তবে তিনি তাতে কল্যাণই অন্বেষণ করেছেন এবং এর মাধ্যমে উমরাহ পূর্ণ করতে চেয়েছেন। কিন্তু তোমরা কেন তা হারাম করছ, অথচ আল্লাহ তা হালাল করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পালন করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ করা কি তোমাদের নিকট অধিক যুক্তিযুক্ত নাকি উমরের সুন্নাহ? নিশ্চয়ই উমর তোমাদের বলেননি যে, হজের মাসগুলোতে উমরাহ করা হারাম; বরং তিনি বলেছিলেন যে, উমরাহকে পূর্ণাঙ্গ করার পদ্ধতি হলো তাকে হজের মাসগুলো থেকে পৃথক করা)।ডক্টর সাদ আল-মারসাফি তাঁর 'আল-মুস্তাশরিকুন ওয়াস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ' গ্রন্থে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "ইবনে উমরের এই বক্তব্যটি ছিল বিষয়টির চূড়ান্ত ফয়সালা, যেখানে তিনি দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি প্রথম বিষয়টির ক্ষেত্রে অনুসরণের আবশ্যকতা প্রমাণ করেছেন, এমনকি প্রচলিত প্রথা বা সমাজের ঐতিহ্য যদি সুন্নাহর বিপরীতে হয় তবুও।"আল্লামা শায়খ আহমদ শাকির বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতি মুসলমানদের আনুগত্য পিতৃপুরুষদের অন্ধ অনুসরণের অভ্যাসবশত ছিল না … আল্লাহ মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন সত্য যেখানেই থাকুক তা অনুসরণ করতে এবং তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মহাবিশ্ব ও এর নিদর্শনসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণায় নিজেদের বুদ্ধি প্রয়োগ করতে … " - তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত (রহিমাহুল্লাহ)।এটি সেই দাবির কাছাকাছি যা বলা হয়ে থাকে যে, সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের যুগের পরবর্তী সময়ে সুন্নাহ বিকৃত করা হয়েছে; এটি একটি অসার দাবি, যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি বিশ্বাস করতে পারে না।হাদিস সংগ্রহ ও আনুষ্ঠানিক সংকলনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো কথা বা সংবাদ ততক্ষণ গ্রহণ করা হয়নি, যতক্ষণ না তা লিখিত হওয়ার আগে অন্তরে সংরক্ষিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সুতরাং এটি বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, কোনো একক পর্যায় নয়। এটা কি সম্ভব যে, পূর্ব ও পশ্চিমের সকল বর্ণনাকারী মিথ্যা বিষয়ে একমত হওয়া (متواطئة على الكذب) এর মতো কর্মে লিপ্ত হয়ে একের পর এক প্রজন্ম অতিবাহিত করবে?অধিকন্তু, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হাদিস লিপিবদ্ধকরণ চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি; বরং বহু সংখ্যক সাহাবী থেকে প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কিছু হাদিস লিখে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইমাম ইবনে হাজার এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন, যেমনটি "শাওয়াত হুসাইন" তাঁর 'হুজজিয়াতুস সুন্নাহ' গ্রন্থে সঠিক (صحيح) প্রমাণাদিসহ উল্লেখ করেছেন।নিঃসন্দেহে অনুমতির প্রমাণসমূহ অধিক এবং শক্তিশালী (أرجح)। তা সত্ত্বেও, উলামায়ে কেরাম নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতির হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের পথ বেছে নিয়েছেন। কারণ সকল দলিলের ওপর আমল করা, কিছু দলিল বর্জন করার চেয়ে উত্তম। এছাড়াও এ বিষয়ে যা বলা হয়েছে তা হলো:নিষেধাজ্ঞামূলক হাদিসসমূহ ঐ ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্কিত যাদের বিস্মৃতির ভয় ছিল না, যাতে তারা লেখার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে এবং ফলে তাদের মুখস্থ শক্তি দুর্বল না হয়ে যায়। এটি তাদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারত; কারণ উসুল শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ (علماء الأصول) যেমনটি সাব্যস্ত করেছেন যে, স্মৃতিস্থ রাখা বা অন্তরে সংরক্ষণ করা লিখিত সংরক্ষণের চেয়ে অগ্রগণ্য (أرجح)। আর অনুমতির হাদিসগুলো ঐ ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্কিত যারা দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (سيئ الحفظ), যাতে তারা যা শুনেছে তার কোনো অংশ ভুলে না যায়।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুল মুসতাশরিকীন লিস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ আল-মুত্বহ্হারাহ (শুবুহাত ওয়া রুদুদ)
(পৃষ্ঠা: ৪)
وأن النهي متعلق بكتابة القرآن مع الحديث في صحيفة واحدة، والإذن متعلق بالفصل بينهما، ولعل هذا من الأسباب التي من أجلها ورد النهي أولا، مخافة أن يختلط القرآن بغيره كما قال العلماء، حتى إذا ما أتقن الناس القرآن وميزوه عن غيره، زال سبب النهي فزال حكمه، وعلى هذا يمكن تخريج قول عمر رضي الله عنه لقرضة بن كعب، رضي الله عنه، وأصحابه لما خرج يشيعهم إلى العراق: "إنكم تأتون أهل قرية لهم دوي بالقرآن كدوي النحل، فلا تصدوهم بالأحاديث فتشغلوهم، جودوا القرآن، وأقلوا الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم".فعمر، لم ينههم عن التحديث مطلقا، كما حاول بعض المغرضين أن يروج لهذه الشبهة ليصد الناس عن تعلم السنة، وإنما أراد الإقلال من الرواية، لأن أهل العراق، ما زالوا حديثي عهد بإسلام، فلا ينبغي أن يشغلهم شاغل عن القرآن حتى يتقنوه، ولا مانع أن يتلقوا علوم السنة، مع القرآن، ولكن بجرعات قليلة، حتى لا يحدث الخلط بينها وبين القرآن، ومعلوم أن الجرعات العلمية القليلة، أنفع للمبتدئ في أي علم، ولذا نرى المبتدئين في أي علم يعمدون إلى مختصراته المبسطة، ثم يزيدون عليها شيئا فشيئا حتى يصلوا للمطولات، كما قرر ذلك ابن خلدون، رحمه الله، فقليل متصل، مع التركيز في فهمه وتدبره وحفظه خير من كثير منقطع بلا فهم أو تدبر، وما جاء جملة واحدة فإنه يذهب جملة واحدة.ثم جاء إجماع الأمة القطعي بعد قرينة قاطعة على أن الإذن هو الأمر الأخير، وهو إجماع ثابت بالتواتر العملي، عن كل طوائف الأمة بعد الصدر الأول، رضي الله عنهم أجمعين.والجدير بالذكر انه قد سلك العلماء مسلك الجمع بين هذا الراي وذاك، ولكن القول التي تواترت الامة عليه وأطبقت هو ان التدوين مر بمراحل عديدة لم تكن إلا مراحلا محكمة ومعتمدة على العدول وهم خيرة الناس بعد الانبياء والرسل وهم الصحابة صحابة محمد خير الانبياء وخاتمهم.قال بعض العلماء:" … وفي هذا العصر لم يكن لعلم الجرح والتعديل وجود، لأن عدالة الصحابة المطلقة لا يلزم معها البحث في أحوال الرواة، خلاف من ادعى ردة القوم إلا عددا يسيرا فنسف مخارج السنة نسفا، لأنه اسقط أول حلقة في سلسلة رجالها، ولازم هذا القول الخبيث عدم صحة القرآن الذي بين أيدينا، فهم نقلة الاثنين، كما سبقت الإشارة إلى ذلك، وإلى اليوم ما زال شيوخهم يُفتون بل ويصنفون ما يروج لهذه الفرية الشنيعة التي لا يرضاها عاقل سَوي".ومن اهم ما كتبه الصحابة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم من المدونات الفردية هي:-الصحيفة الصادقة لعبد الله بن عمرو بن العاص، رضي الله عنه، وقد اشتملت على 1000 حديث، وكتاب سعد بن عبادة، وكتاب سعد بن معاذ، وكتاب عمرو بن حزم في الديات، ولعلي بن ابي طالب كرم الله وجهه وغيرها.يتضح بذلك أنَّ المسلم والمؤمن الحق في عين النبي صلى الله عليه وسلم وتشريعه الحي هو المتبع لما جاء به هذا النبي عليه الصلاة والسلام ولو كان ما جاء به ينافي عقيدة الاباء والاجداد، فما بالك اذا كانت هذه العقيدة من العقائد التي نهى الله تعالى عنها وحذَّر منها؟.
হাদিসের সাথে কুরআনকে একই কাগজে লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞাটি সম্পর্কিত ছিল, আর অনুমতির বিষয়টি ছিল উভয়ের মাঝে পৃথক করার সাথে সংশ্লিষ্ট। সম্ভবত এটিই ছিল প্রথমদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের অন্যতম কারণ, যাতে আলিমগণ যেমনটি বলেছেন—কুরআনের সাথে অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটার আশঙ্কা ছিল। যখন মানুষ কুরআনকে সুসংহত করল এবং অন্য কিছু থেকে একে পৃথক করতে শিখল, তখন নিষেধাজ্ঞার কারণ দূর হয়ে গেল এবং এর বিধানও রহিত হয়ে গেল। এর ভিত্তিতেই ওমর (রা.)-এর সেই উক্তিটি ব্যাখ্যা করা যায় যা তিনি কারাজা ইবনে কাব (রা.) এবং তাঁর সাথীদের ইরাকে বিদায় জানানোর সময় বলেছিলেন: "তোমরা এমন এক জনপদের মানুষের কাছে যাচ্ছ যাদের কুরআনের গুঞ্জন মৌমাছির গুঞ্জনের মতো। সুতরাং তোমরা তাদেরকে হাদিস দিয়ে বিমুখ করো না ও ব্যস্ত করে ফেলো না। কুরআনকে সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করো এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা (رواية) কম করো।"ওমর (রা.) তাদেরকে ঢালাওভাবে হাদিস বর্ণনা করতে নিষেধ করেননি, যেমনটি কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সুন্নাহ শিক্ষা থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্য এই সংশয় ছড়িয়ে থাকে। বরং তিনি বর্ণনার (رواية) পরিমাণ কমানোর ইচ্ছা করেছিলেন; কারণ ইরাকবাসী তখনো নতুন ইসলাম গ্রহণকারী ছিলেন। তাই কুরআন ভালোভাবে রপ্ত করা পর্যন্ত কোনো বিষয় যেন তাদেরকে ব্যতিব্যস্ত না করে। কুরআনের সাথে সুন্নাহর ইলম অর্জনে কোনো বাধা ছিল না, তবে তা অল্প মাত্রায় হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল, যাতে কুরআনের সাথে কোনো সংমিশ্রণ না ঘটে। এটি সর্বজনবিদিত যে, যেকোনো ইলমের শুরুতে অল্প মাত্রা অধিক উপকারী। তাই আমরা দেখি যেকোনো শাস্ত্রের নবীন শিক্ষার্থীরা সহজ ও সংক্ষিপ্ত কিতাবগুলো অনুসরণ করে, এরপর ধীরে ধীরে দীর্ঘ কিতাবসমূহের দিকে অগ্রসর হয়—যেমনটি ইবনে খালদুন (রহ.) নির্ধারণ করেছেন। অল্প কিন্তু ধারাবাহিক শিক্ষা এবং তা অনুধাবন, চিন্তা ও হিফজ করা, সেই বিপুল কিন্তু বিচ্ছিন্ন শিক্ষার চেয়ে উত্তম যা বুঝ বা চিন্তা ছাড়াই অর্জিত হয়। আর যা একবারে আসে, তা একবারে চলে যায়।এরপর অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে উম্মাহর চূড়ান্ত ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, অনুমতি প্রদানের বিষয়টিই ছিল সর্বশেষ নির্দেশ। এই ঐক্যমত (إجماع) প্রথম প্রজন্মের পর উম্মাহর সকল স্তরের মানুষের মাঝে কর্মগত নিরবচ্ছিন্নতার (تواتر عملي) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত।উল্লেখ্য যে, আলিমগণ এই দুই মতের মধ্যে সমন্বয়ের পথ অবলম্বন করেছেন। তবে উম্মাহ যে বিষয়ের ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে একমত হয়েছে তা হলো, হাদিস সংকলন বা তাদউইন (تدوين) বিভিন্ন সুশৃঙ্খল স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে, যা নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তিদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাঁরা আম্বিয়া ও রাসূলগণের পর শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাহাবিগণ।কিছু আলিম বলেছেন: "… এই যুগে জারহ ও তাদিল (جرح وتعديل) শাস্ত্রের অস্তিত্ব ছিল না। কারণ সাহাবিগণের নিরঙ্কুশ ন্যায়পরায়ণতা বা আদালাত (عدالة)-এর কারণে বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা যাচাই করার প্রয়োজন ছিল না। যারা গুটিকয়েক ছাড়া অন্যদের ধর্মত্যাগী দাবি করে তারা সুন্নাহর ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দিয়েছে, কারণ তারা বর্ণনাকারীদের ধারাক্রমের প্রথম সূত্রটিকেই বাতিল করে দিয়েছে। এই জঘন্য উক্তির অনিবার্য ফলাফল হলো আমাদের হাতে থাকা কুরআনের বিশুদ্ধতাকে অস্বীকার করা, কারণ তাঁরা উভয়টিরই বাহক—যেমনটি আগে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আজও তাদের শায়খরা এমন ফতোয়া প্রদান করছেন এবং কিতাব রচনা করছেন যা এই জঘন্য মিথ্যাকেই প্রচার করে, যা কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ গ্রহণ করতে পারে না।"নবী (সা.)-এর যুগে সাহাবিদের ব্যক্তিগত সংকলনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-এর আস-সাহীফাতুস সাদিকাহ, যা ১০০০ হাদিস সম্বলিত ছিল। এছাড়া সা'দ ইবনে উবাদাহর কিতাব, সা'দ ইবনে মুআজের কিতাব, দিয়াত সংক্রান্ত আমর ইবনে হাযমের কিতাব এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর কিতাব ইত্যাদি।এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, নবী (সা.)-এর দৃষ্টিতে এবং তাঁর জীবন্ত শরিয়তে প্রকৃত মুসলিম ও মুমিন সেই, যে তাঁর আনীত বিধান অনুসরণ করে, যদিও তা পূর্বপুরুষদের আকিদাহর (عقيدة) পরিপন্থী হয়। আর যদি সেই আকিদাহ (عقيدة) এমন হয় যা থেকে আল্লাহ তাআলা নিষেধ করেছেন ও সতর্ক করেছেন, তবে তো কথাই নেই।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুল মুসতাশরিকীন লিস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ আল-মুত্বহ্হারাহ (শুবুহাত ওয়া রুদুদ)
(পৃষ্ঠা: ৫)
ومن امن بكتاب الله فقد امن بسنة رسول الله على سواء لان السنة والقران مصدران من مصادر التشريع وصلت الينا بطريق النبوة الخالص دون غيره.فقد روى الحاكم في المستدرك عن الحسن البصري قوله: بينما عمران بن حصين يحدث عن سنة نبينا صلى الله عليه وسلم إذ قال له رجل: يا أبا نجيد حدثنا بالقرآن فقال له عمران: أنت وأصحابك يقرؤون القرآن أكنت محدثي عن الصلاة وما فيها وحدودها أكنت محدثي عن الزكاة في الذهب والإبل والبقر وأصناف المال؟ ولكن قد شهدت وغبت أنت ثم قال: فرض علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم في الزكاة كذا وكذا، فقال الرجل: أحييتني أحياك الله قال الحسن: فما مات ذلك الرجل حتى صار من فقهاء المسلمين.فهذه هي الحقيقة في منزلة السنة النبوية المطهرة، وانَّ الباحث ليجد ان الفقهاء وصلوا الى مرتبة تارك السنة النبوية والمكتفي بما في الكتاب الى درجة الكفر اعاذنا الله من ذلك.ألم يقفوا في كتاب الله وهم يدَّعون انهم اهله عن قوله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا (36)} الأحزاب: 36.زد على هذا ما قدَّمنا من الآيات البينات التي ما دلَّت على امر كدلالتها على وجوب طاعة النبي صلى الله عليه واله وسلم.ولقد قدم علماؤنا افدح مهر في درب الحفاظ على السنة المطهرة، فيلمح المؤمن عند ذلك وفي قلب الدياجي رايات نصر وعلامات بشر في ان الشريعة محفوظة لن تنال منها سهام اخطأت ولم تصب. سلسلتان … احداهما منقطعةعندما يقذف البركان حماه في لهيب الصيف وسباسبه المشتعلة بنار الشمس، تتسلسل الحمم ولن تتوقف بعدها، بين الحين والاخر تراها قاذفة لها، بالضبط كالشبه المقذوفة، لن تتوقف ابدا في الطعن بهذه السنة النبوية الناصعة.وامام هذه السلسلة هناك سلسلة اخرى لا يمكن للأنظار ان تغفل عنها، تميَّزت سنة النبي صلى الله عليه وسلم بها، ألا وهي اسنادها المتصل، فالسنة النبوية متصلة، مبتداها من رب العزة والملكوت رب العالمين جل جلاله متصلة الى صاحبها عليه الصلاة والسلام ومنتهاها حتى اخر مسلم على وجه الارض يسمع شيئا من هذه السنَّة المحمدية ويَعيها ويعمل بها، وهكذا الى ان تقوم الساعة، يوم تقوم الارض ومن عليها.ولبقاء الاسناد المتصل حيا ينبض بنبراس السنة النبوية المطهرة جعل الله تعالى في قلب حكمته اصحابا للنبي عليه الصلاة والسلام يحملون اسمى صفة لحاملي الامانة وهي صفة العدالة الغرّاء التي تمتع بها الصحابة جميعا دون استثناء، رضي الله عنهم وارضاهم.ولهذا كان من اهداف اهل الزندقة قديما وحديثا الطعن بالصحابة-الذي ربما سنتكلم عنه بتفصيل قادم-، وسبب هذا الطعن لانهم الناقلة لهذه السنة باعمق امانة، فاذا طعنوا بالناقلة بطل المنقول، وهذا ما ذكره كبير اهل الزندقة يوم ان جاء به هارون الرشيد ليضرب عنقه في بغداد، كما جاء في تاريخها.فالسلسلة الاولى إذاً هي سلسلة الاسناد المتصل.
যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের ওপর ঈমান এনেছে, সে সমভাবে রাসূলুল্লাহর সুন্নাহর ওপরও ঈমান এনেছে। কারণ সুন্নাহ এবং কুরআন হলো শরিয়ত প্রণয়নের অন্যতম দুটি উৎস (مصدران من مصادر التشريع), যা কেবল নবুওয়াতের বিশুদ্ধ পন্থায় আমাদের কাছে পৌঁছেছে।হাকেম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমরান ইবনে হুসাইন যখন আমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ সম্পর্কে বর্ণনা করছিলেন, তখন এক লোক তাঁকে বলল: 'হে আবু নুজাইদ, আপনি আমাদের কাছে কুরআন থেকে বর্ণনা করুন।' ইমরান তাকে বললেন: 'তুমি এবং তোমার সঙ্গীরা কি কুরআন পাঠ করো না? তুমি কি আমাকে সালাত এবং এর বিধিবিধান ও সীমা সম্পর্কে অবহিত করতে পারবে? তুমি কি আমাকে সোনা, উট, গরু এবং বিভিন্ন প্রকার সম্পদের জাকাত সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারবে? আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম আর তুমি অনুপস্থিত ছিলে।' এরপর তিনি বললেন: 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের ওপর জাকাতের ক্ষেত্রে এই এই বিষয় নির্ধারণ করেছেন।' তখন লোকটি বলল: 'আপনি আমাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন।' হাসান বসরী বলেন: 'সেই লোকটি মৃত্যুর আগেই মুসলিম ফকিহদের (فقهاء) অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন।'পবিত্র সুন্নাহর মর্যাদার প্রকৃত স্বরূপ এটাই। কোনো গবেষক দেখতে পাবেন যে, ফকিহগণ সুন্নাহ ত্যাগকারী এবং কেবল কুরআনের ওপর নির্ভরকারী ব্যক্তিকে কুফরের স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের এ থেকে রক্ষা করুন।তারা কি আল্লাহর কিতাব নিয়ে চিন্তা করেনি? অথচ তারা নিজেদের কিতাবওয়ালা বলে দাবি করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন নর-নারীর সে বিষয়ে কোনো এখতিয়ার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে, সে তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হলো (৩৬)} সূরা আল-আহযাব: ৩৬।এর সাথে যুক্ত করুন সেই সব সুস্পষ্ট আয়াত যা আমরা ইতিপূর্বে উপস্থাপন করেছি, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্যের আবশ্যকতাকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।আমাদের ওলামায়ে কেরাম পবিত্র সুন্নাহ সংরক্ষণের পথে অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন। মুমিন ব্যক্তি এর মাধ্যমে ঘোর অন্ধকারের মাঝেও বিজয়ের পতাকা এবং সুসংবাদের চিহ্ন দেখতে পায় যে, শরিয়ত সুরক্ষিত এবং এর বিরুদ্ধে ছোঁড়া লক্ষ্যভ্রষ্ট তিরগুলো কখনোই সফল হবে না। দুটি ধারা (سلسلتان) … যার একটি বিচ্ছিন্ন (منقطعة)যখন আগ্নেয়গিরি গ্রীষ্মের দাবদাহে এবং সূর্যের প্রখর তাপে তার লাভা উদ্গিরণ করে, তখন সেই লাভার প্রবাহ আর থামে না। মাঝেমধ্যে তা নিক্ষিপ্ত হতে দেখা যায়। ঠিক একইভাবে নিক্ষিপ্ত সংশয়গুলোর মতো, এই উজ্জ্বল সুন্নাহর প্রতি আক্রমণগুলো কখনোই থামবে না।এই ধারার বিপরীতে আরেকটি ধারা রয়েছে যা দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়, যার মাধ্যমে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। আর তা হলো এর অবিচ্ছিন্ন সনদ (اسنادها المتصل)। সুন্নাহর ধারাটি অবিচ্ছিন্ন (متصلة), যার শুরু হয়েছে রাব্বুল আলামীন জাল্লা জালালুহু থেকে এবং তা পৌঁছেছে এর অধিকারী নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) পর্যন্ত। আর এর সমাপ্তি পৃথিবীর শেষ মুসলিম পর্যন্ত, যে এই মুহাম্মাদি সুন্নাহ শুনবে, অনুধাবন করবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে। কিয়ামত পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকবে, যে দিন পৃথিবী এবং এর ওপর যা কিছু আছে সব দণ্ডায়মান হবে।পবিত্র সুন্নাহর প্রদীপ্ত শিখায় এই অবিচ্ছিন্ন সনদকে (الاسناد المتصل) জীবন্ত রাখার জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রজ্ঞার মাধ্যমে নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর এমন সব সাহাবীকে মনোনীত করেছেন, যারা আমানতদারদের সর্বোচ্চ গুণ ধারণ করেন। আর তা হলো সুমহান ন্যায়পরায়ণতা (العدالة), যা কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই সকল সাহাবী অর্জন করেছিলেন, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।একারণেই প্রাচীন ও আধুনিক যুগের যিন্দিকদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সাহাবায়ে কেরামকে আক্রমণ করা—যা নিয়ে আমরা ভবিষ্যতে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই আক্রমণের মূল কারণ হলো, তাঁরাই অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে এই সুন্নাহর বাহক। যদি বর্ণনাকারীদের (الناقلة) ওপর অপবাদ দেওয়া যায়, তবে বর্ণিত বিষয়ও (المنقول) বাতিল হয়ে যাবে। বাগদাদের ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক প্রধান যিন্দিককে যখন হারুনুর রশিদের কাছে শিরশ্ছেদের জন্য আনা হয়, তখন সে এই কথাটিই উল্লেখ করেছিল।সুতরাং প্রথম ধারাটি হলো অবিচ্ছিন্ন সনদের (الاسناد المتصل) ধারা।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুল মুসতাশরিকীন লিস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ আল-মুত্বহ্হারাহ (শুবুহাত ওয়া রুদুদ)
(পৃষ্ঠা: ৬)
يعرف العلماء الإسناد بأنه سلسلة رواة الحديث النبوي الشريف الموصلة-يعني السلسلة-الى المتن، فهو اذا الطريق الى نص الحديث.والمتن -كما هو معلوم- هو نص الحديث النبوي الشريف الذي حدَّث به النبي صلى الله عليه وسلم اصحابه وال بيته رضي الله عنهم وامرهم بتبليغه وهو كلُّ ما اضيف الى النبي من قول او فعل او تقرير او صفة خَلْقية أو خُلُقية.فاعتمد العلماء في قبول الحديث وعدم قبوله وفي صحته وعدم صحته وفي اخذه وردِّه، اعتمدوا في ذلك كله على الاسناد، ووصف باوصاف كثيرة من قبل المسلمين وكذلك من قبل الطاعنين.فالاسناد هو القوائم الذي قامت عليه جهود حفظ السنة كما وصفه ابن المبارك رحمه الله، وزاد على ذلك ايضا بمقالته المشهورة بان الاسناد من الدين ولولا الاسناد لقال من شاء في دين الله ما شاء.ولا يبعد الشافعي على هذا عند وصفه بان الاخذ للسنة من دون اسناد كالمحتطب في الليل، يحتطب ليلا والافعى في حطبه.فلا تكاد تجد سنة محفوظة لاحد كحفظ سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا ما لم يدعه المسلمون لانفسهم وحدهم، حتى ان فلاسفة اليهود اعترفوا بذلك، والمنصفون ايضا قد بانت امام اعينهم تلك الحقيقة، وقد نقل الشيخ عبد الفتاح ابو غدة في كتابه "الاسناد من الدين" قول ذلك العالم الالماني المدعو "شبرينجر" فقال: "ان الدنيا لم تر ولن ترى امة مثل المسلمين فقد درس بفضل علم الرجال الذي اوجدوه حياة نصف مليون رجل".وهذا جاء نقلا عن مقدمة القائل الالماني على كتاب "الاصابة في تمييز الصحابة" لابن حجر العسقلاني رحمه الله.فالشمس والقمر لا يُحجبان بحاجب الاهواء، أفتحجب السنة بحاجب الاقوال؟فقد قيل وقيل، ولكن … أنَّى للاقوال ان تغلب الحقيقة من دون حق، وهذا لا يحتاج منا الى بيان، وما بياننا امام بيان الله تعالى، وهو الواحد الديان المتكفل بحفظ السنة والقران في كل زمان ومكان.كان ابو بكر احمد بن اسحاق الفقيه يحدِّث في مناظرته لرجل، فقال له الرجل دعنا من حدثنا، الى متى حدثنا؟ فزجره الشيخ وطرده من بيته واشهد من يجالسه بانه لم يطرد احدا من بيته سواه.فما من شيء اثقل على اهل البدع ولا ابغض اليهم من سماع الحديث وروايته باسناده، وهذا قول الامام الحاكم نقلا عن احمد بن سلام الفقيه.وهو وارد لمن اراد الطعن بالسنة، فانهم يعلمون انه لا يمكن لطعنهم ان ينفذ من قوسه بقيام الاسناد وقيام اهله القائمون اليه، فما بال طلبة العلم عنه منشغلون والناس عنه معرضون.فقد احتفظ العلماء باسانيد كل الاحاديث التي رويت عن النبي صلى الله عليه وسلم وحتى يومنا هذا، ولن يعترفوا بحديث كان في اسناده خلل وعلَّة ابدا، او لم يكن له اسناد اصلا، وما حاز علم من علوم الشريعة على جهودِ علماءٍ كما حازت السنة النبوية الشريفة.
আলেমগণ সনদ (الإسنাদ)-কে সংজ্ঞায়িত করেছেন নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের বর্ণনাকারীদের এমন একটি ধারাবাহিকতা (سلسلة رواة) হিসেবে যা মূলপাঠ (المتن) পর্যন্ত পৌঁছে দেয়; অর্থাৎ এটি হাদিসের মূল পাঠে পৌঁছানোর পথ।আর মূলপাঠ (المتن) — যেমনটি সর্বজনবিদিত — তা হলো নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের সেই বাণী যা তিনি তাঁর সাহাবি ও আহলে বাইত (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর নিকট বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের তা প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি এমন সব বিষয় যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি (قول), কর্ম (فعل), মৌন সম্মতি (تقرير) অথবা তাঁর শারীরিক (خَلْقية) বা চারিত্রিক (خُلُقية) বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পৃক্ত।আলেমগণ হাদিস গ্রহণ বা বর্জন, এর বিশুদ্ধতা (صحة) বা অশুদ্ধতা এবং তা গ্রহণ বা প্রত্যাখানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে সনদ (الإسنাদ)-এর ওপর নির্ভর করেছেন। মুসলিমদের পক্ষ থেকে এবং একই সাথে সমালোচকদের পক্ষ থেকেও একে নানা বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে।সনদ (الإسنাদ) হলো সেই ভিত্তি যার ওপর সুন্নাহ সংরক্ষণের প্রচেষ্টা দাঁড়িয়ে আছে, যেমনটি ইবনুল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তিতে আরও যোগ করেছেন যে, সনদ (الإسنাদ) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; যদি সনদ (الإسنাদ) না থাকত, তবে যে কেউ আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে যা ইচ্ছা তা-ই বলত।ইমাম শাফিয়িও এই বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেননি যখন তিনি বর্ণনা করেন যে, সনদ (الإسناد) ব্যতিরেকে সুন্নাহ গ্রহণ করা সেই ব্যক্তির মতো যে রাতের অন্ধকারে লাকড়ি সংগ্রহ করে; সে রাতে লাকড়ি সংগ্রহ করে অথচ তার লাকড়ির ভেতরে সাপ লুকিয়ে থাকে।নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ যেভাবে সংরক্ষিত হয়েছে, অন্য কারো আদর্শ বা ঐতিহ্য সেভাবে সংরক্ষিত হয়েছে বলে আপনি পাবেন না। এটি কেবল মুসলিমরাই নিজেদের জন্য দাবি করেননি, এমনকি ইহুদি দার্শনিকরাও তা স্বীকার করেছেন। ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিগণের সামনেও এই সত্যটি স্পষ্ট হয়েছে। শেখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ তাঁর ‘আল-ইসনাদু মিনাদ দ্বীন’ গ্রন্থে ‘স্প্রেঞ্জার’ নামক জনৈক জার্মান পণ্ডিতের উক্তি উদ্ধৃত করেছেন যেখানে তিনি বলেন: "পৃথিবী মুসলিমদের মতো কোনো জাতি দেখেনি এবং দেখবেও না; কারণ তারা বর্ণনাকারী সংক্রান্ত শাস্ত্র (علم الرجال)-এর বদৌলতে পাঁচ লক্ষ মানুষের জীবনবৃত্তান্ত অধ্যয়ন করেছে।"এটি ইবনে হাজার আসকালানি (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত 'আল-ইসাবাহ ফি তাময়িজিস সাহাবাহ' গ্রন্থের ওপর উক্ত জার্মান লেখকের ভূমিকার উদ্ধৃতি থেকে এসেছে।সূর্য ও চন্দ্র তো কুপ্রবৃত্তির অন্তরালে ঢাকা পড়ে না, তবে কি কথার আড়ালে সুন্নাহ ঢাকা পড়ে যাবে?অনেক কথাই বলা হয়েছে, কিন্তু … সত্য ব্যতিরেকে কেবল অসার বাক্য কীভাবে সত্যের ওপর জয়ী হতে পারে? এটি আমাদের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়। মহান আল্লাহর বর্ণনার সামনে আমাদের বর্ণনা আর কী-ই বা হতে পারে! তিনি তো সেই মহান বিচারক যিনি সর্বকাল ও সর্বস্থানে সুন্নাহ ও কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।আবু বকর আহমদ বিন ইসহাক আল-ফকিহ জনৈক ব্যক্তির সাথে বিতর্কের সময় হাদিস বর্ণনা করছিলেন। তখন সেই ব্যক্তি তাঁকে বলল, "আমাদেরকে 'হাদ্দাসানা' (আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন) থেকে মুক্তি দিন, আর কত কাল এই 'হাদ্দাসানা' চলবে?" এতে শেখ তাকে ধমক দিলেন এবং ঘর থেকে বের করে দিলেন। তিনি তাঁর মজলিসে উপস্থিত ব্যক্তিদের সাক্ষী রেখে বললেন যে, তিনি সেই ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকেই তাঁর ঘর থেকে বের করে দেননি।বিদয়াতি (أهل البدع)-দের কাছে হাদিস শোনা এবং সনদ (الإسنাদ)-সহ তার বর্ণনা করার চেয়ে অধিক ভারী ও অপ্রিয় আর কিছু নেই। এটি ইমাম হাকিম আহমদ বিন সালাম আল-ফকিহ-এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন।এটি তাদের জন্যও প্রযোজ্য যারা সুন্নাহকে আক্রমণ করতে চায়; কারণ তারা জানে যে, সনদ (الإسنাদ) এবং এর ধারক-বাহকগণ অটল থাকা অবস্থায় তাদের আক্রমণ লক্ষ্যভেদে সক্ষম হবে না। তবে কেন ইলম অন্বেষণকারীরা এ থেকে বিমুখ আর সাধারণ মানুষ উদাসীন?আলেমগণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সকল হাদিসের সনদ (الإسنাদ) আজ অবধি সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তাঁরা এমন কোনো হাদিসকে কখনোই স্বীকৃতি দেবেন না যার সনদে কোনো ঘাটতি বা ত্রুটি (علة) রয়েছে অথবা যার আদৌ কোনো সনদ (الإسنাদ) নেই। শরিয়তের কোনো জ্ঞানই আলেমদের নিকট থেকে এতটা শ্রম ও প্রচেষ্টা পায়নি যতটা নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুল মুসতাশরিকীন লিস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ আল-মুত্বহ্হারাহ (শুবুহাত ওয়া রুদুদ)
(পৃষ্ঠা: ৭)
فلو لم تكن هذه الخصائص لتساوت السنة مع الخرافات والروايات والقصص والاقوال التي تنتشر هنا وهناك، وكما قال ابن المبارك لقال من شاء في دين الله ما شاء، وفعلا، لكانت السنة النبوية ما قالته الاشخاص، اينما كانوا وكيفما كانوا، وحاشا لله تعالى ان يجعل مصادر التشريع في دينه الاسلام خاتم الاديان عبارة عن اقوال واوهام بين شفاه الحاقدين، وهم قد عاصروا السنة من اول يوم لها وكانوا لها اعداء.لو اراد احدنا -مثلا- حفظ وصية يتعلق بها مال أو متاع زائل، او ايَّ شيء آخر، لما أودعها الا بيد من يصونها ويعتقد به اهلية حفظها، دون ان تصل اليها ايادي الاخرين ايَّا كانوا، ولربما تكون ليس لها اهمية، أو لم يتعلق بها كثير من المال، فما بالك بمصدر من مصادر تشريع هذا الدين؟ افيعجز من بيده ملكوت السموات والارض ان يحفظ دينه الذي انزله؟ بل تكفَّل بحفظه بعد أن انزله وشرَّعه؟ حاشا لله تعالى ذلك.ومما يدعو للاطمئنان والابصار بعين اليقين والايمان ان الله لم يتكفل بحفظ دينه فقط، وانما سخَّر جهودا كانت بالأمس قد طعنت ثم بعد ايّأم من التفكير اذعنت، ولا ينسى احد اسراب العائدين ولسان حالهم يقول ويردد:كناطح صخرة يوما ليوهنها … فلم يضرها وأوهى قرنه الوعلومنهم "وينسيفك" الذي قاد بنفسه حملة الرد على من زعم تشويه ائمة الحديث النبوي واعلن عن صدق نَقَلَتِهِ، واجاد في ذلك بدلائل بينت الادوار التي قام بها اهل الحديث رحمهم الله تعالى.بهذه السلسلة التي لم ولن تنقطع يوما بإذن الله تعالى ترى العبادة الموحدة للمسلمين، وهم مبتعدون البيئة الجغرافية، فالمصلي في جنوب الشرق يتوحد بالعبادة مع مصلي في شمال الغرب، فكيف يقولون انما جاءت السنة نتيجة للتطورات البيئية، لماذا لم تختلف العبادة اذا والمصلي في جنوب الصومال وهو جائع يصلي على الارض ثم يلتحفها من فقره، وترى اخاه في امريكا يصلي في الطائرة او المطار او البارجة؟ فهل التطور البيئي كان في زمن النبي صلى الله عليه وسلم اشد من تطورنا اليوم؟ لا … لكنها تناقضاتهم تتواصل فزعا بالحقيقة وهي تسير في قلوبهم ومع سيرها تنادي الحيارى ان هلموا معنا.يروي الإمام مسلم في مقدمة صحيحه عن ابن سيرين قوله: " لم يكونوا يسألون عن الإسناد فلما وقعت الفتنة قالوا: سمُّوا لنا رجالكم فينظر الى اهل السنة فيؤخذ قولهم وينظر الى اهل البدع فلا يؤخذ حديثهم ".وليس هذا بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم بفترة طويلة وإنما حدث هذا في زمن ابي بكر رضي الله عنه فهو اول من الزم الرواة بذكر أسانيدهم، فسنَّ رضي الله عنه امر التثبت من الراوي، فلم يقبل حديث اي صحابي يرفعه الى النبي عليه الصلاة والسلام حتى يشهد معه غيره بانه سمعه من النبي عليه افضل الصلاة واتم التسليم، وليس على هذا سار علماء الجرح والتعديل "علماء الحديث" وانَّما تعدوا ذلك الى انهم زادوا شروطا لا يسلم منها وضَّاع ابدا مهما جاء من وسيلة.والتاريخ الصحيح نقل الينا ان علم الحديث لم تؤثر به السياسات المختلفة على ارض الواقع لان علماء الحديث لم يكونوا يتبعون ايا منها، كان الحديث مستقلا باستقلال علمائه.
যদি এই বৈশিষ্ট্যগুলো না থাকত, তবে সুন্নাহ (السنة) সেইসব কুসংস্কার, উপকথা, গল্প এবং উক্তিগুলোর সমপর্যায়ের হয়ে যেত যা এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকে। যেমনটি ইবনুল মুবারক বলেছিলেন, তবে যার যা ইচ্ছা সে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তাই বলত। প্রকৃতপক্ষে, সুন্নাহ (السنة) তখন ব্যক্তিবিশেষের কথায় পরিণত হতো, তারা যেখানেই থাকুক বা যেমনই হোক না কেন। আল্লাহ তাআলা তা থেকে পবিত্র যে, তিনি তাঁর ইসলাম ধর্মের—যা সর্বশেষ ধর্ম—শরিয়তের উৎসগুলোকে (مصادر التشريع) বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তিদের মুখে মুখে ফেরা উক্তি ও বিভ্রমে পরিণত করবেন, অথচ তারা সুন্নাহর (السنة) প্রথম দিন থেকেই এর সমসাময়িক ছিল এবং এর শত্রু ছিল।উদাহরণস্বরূপ, আমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অসিয়ত সংরক্ষণ করতে চায় যার সাথে অর্থ বা কোনো নশ্বর সম্পদ বা অন্য কিছু জড়িত, তবে সে তা কেবল এমন ব্যক্তির হাতেই আমানত রাখবে যে তা রক্ষা করবে এবং যাকে সে সংরক্ষণের যোগ্য মনে করবে, যাতে অন্যদের হাত সেখানে পৌঁছাতে না পারে তারা যেই হোক না কেন। এমনকি সেই অসিয়তের হয়তো তেমন কোনো গুরুত্ব নেই বা এর সাথে খুব বেশি অর্থ জড়িত নয়; তাহলে এই দ্বীনের শরিয়তের উৎসগুলোর (مصادر التشريع) কোনো একটির ব্যাপারে আপনার কী ধারণা? আসমান ও জমিনের রাজত্ব যাঁর হাতে, তিনি কি তাঁর নাযিলকৃত দ্বীনকে রক্ষা করতে অক্ষম হবেন? বরং তিনি তা নাযিল ও প্রবর্তন করার পর এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিজেই নিয়েছেন; আল্লাহ তাআলা এ থেকে পবিত্র।আশ্বস্ত হওয়ার এবং নিশ্চিত বিশ্বাস ও ঈমানের সাথে দেখার মতো একটি বিষয় হলো যে, আল্লাহ কেবল তাঁর দ্বীন সংরক্ষণের দায়িত্বই নেননি, বরং তিনি এমন কিছু প্রচেষ্টাকে এর জন্য নিয়োজিত করেছেন যারা অতীতে একে আক্রমণ করেছিল, কিন্তু কিছুদিন চিন্তা-ভাবনার পর তারা নতি স্বীকার করেছে। ফিরে আসা ব্যক্তিদের সেই কাফেলার কথা কেউ ভুলবে না, যাদের অবস্থার ভাষা বারবার এ কথাই বলছে:একদিন কোনো এক পাহাড়কে আঘাতকারী সদৃশ, যেন সেটিকে দুর্বল করতে পারে … অথচ সে পাহাড়ের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি বরং সেই বন্য মেষেরই শিং ভেঙে গেছে।তাদের মধ্যে "ওয়েনসিনক" অন্যতম, যিনি নিজে সেই প্রচারণার জবাব দেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যারা নববী হাদিসের ইমামদের বিকৃত করার দাবি করেছিল। তিনি এর বর্ণনাকারীদের (نقلة) সত্যতা ঘোষণা করেছিলেন এবং হাদিস বিশারদগণ যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তা প্রমাণের মাধ্যমে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।আল্লাহর ইচ্ছায় এই অবিচ্ছিন্ন সিলসিলার মাধ্যমে আপনি মুসলিমদের একীভূত ইবাদত দেখতে পান, যদিও তারা ভৌগোলিক পরিবেশ থেকে অনেক দূরে। ফলে দক্ষিণ-পূর্বের একজন মুসল্লি উত্তর-পশ্চিমের একজন মুসল্লির সাথে ইবাদতে একীভূত হন। তাহলে তারা কীভাবে বলে যে, সুন্নাহ (السنة) কেবল পরিবেশগত বিবর্তনের ফলস্বরূপ এসেছে? তবে কেন ইবাদত ভিন্ন হলো না যখন দক্ষিণ সোমালিয়ার একজন মুসল্লি ক্ষুধার্ত অবস্থায় মাটিতে নামাজ পড়ছেন এবং দারিদ্র্যের কারণে তাতেই আশ্রয় নিচ্ছেন, আর আপনি আমেরিকায় আপনার ভাইকে দেখছেন তিনি বিমানে বা বিমানবন্দরে বা রণতরীতে নামাজ পড়ছেন? তবে কি পরিবেশগত বিবর্তন আজ আমাদের সময়ের চেয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে বেশি তীব্র ছিল? না … বরং এটি তাদেরই বৈপরীত্য যা সত্যের ভয়ে তাড়া খেয়ে চলেছে, আর সেই সত্য তাদের অন্তরে প্রবেশ করছে এবং তাদের চলার পথে বিভ্রান্তদের ডাক দিয়ে বলছে যে, আমাদের সাথে এসো।ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ-এর মুকাদ্দিমায় ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "তারা সনদ (الإسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না, কিন্তু যখন ফেতনা শুরু হলো তখন তারা বলল: তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো। অতঃপর আহলুস সুন্নাহর (أهل السنة) দিকে দৃষ্টি দেওয়া হতো এবং তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের (أهل البدع) দিকে দৃষ্টি দেওয়া হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না।"এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের অনেক পরে ঘটেনি, বরং এটি আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে ঘটেছিল। তিনিই প্রথম বর্ণনাকারীদের (الرواة) ওপর তাদের সনদ (أسانيدهم) উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করেছিলেন। সুতরাং তিনি বর্ণনাকারীর কাছ থেকে যাচাইকরণের (التثبت) বিষয়টি প্রবর্তন করেন। তিনি কোনো সাহাবীর (صحابي) হাদিস গ্রহণ করতেন না যতক্ষণ না অন্য কেউ তাঁর সাথে সাক্ষ্য দিত যে সে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছে। আর জারহ ও তাদিল বিশেষজ্ঞ বা হাদিস বিশারদগণ (علماء الجرح والتعديل) কেবল এখানেই থেমে থাকেননি, বরং তাঁরা আরও এমন কিছু শর্তারোপ করেছেন যার জাল বিস্তার থেকে কোনো জালকারী (وضَّاع) কখনোই রক্ষা পেতে পারে না, সে যে মাধ্যমই অবলম্বন করুক না কেন।সঠিক ইতিহাস আমাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, হাদিস বিজ্ঞান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্বারা প্রভাবিত হয়নি, কারণ হাদিস বিশারদগণ রাজনীতির অনুসারী ছিলেন না। হাদিস তার আলেমদের স্বাধীনতার মতোই স্বতন্ত্র ও স্বাধীন ছিল।
(খণ্ড: ১)
নাযরাতুল মুসতাশরিকীন লিস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ আল-মুত্বহ্হারাহ (শুবুহাত ওয়া রুদুদ)
(পৃষ্ঠা: ৮)
علما ان رقعة وجود العلماء اتسعت مع اتساع رقعة البلاد المسلمة فلم يكونوا متجمعين لوحدهم في اقليم واحد ليستطيعوا وضع حديث من انفسهم، فان كان البعض من العلماء يوالون البعض من الامراء -كما يدعي المستشرقون-فاين علماء الحديث الاخرين في عموم بلدان المسلمين وقد ترامت اطرافها؟ثم لا ننسى انَّ قواعد العلماء في نقد الحديث لم يشهد لها التاريخ العلمي مثيلا ابدا، ويا لها من قواعد كانت بالفعل بحجم ما وضعت له "وهي احاديث النبي صلى الله عليه وسلم".كانت قواعدهم مستحكمة لامرين اثنين وخطوتين مهمتين، الخطوة الاولى متعلقة بالسند، وهو الذي قدمنا الكلام عنه وهو السلسلة المتصلة للرواة، والخطوة الثانية تعلقت بالمتن وهو النص النبوي، وقد سبق تعريفهما.ففي كل الرواة في السند اشترط العلماء شروطا وضوابطا عديدة، كالعدالة والضبط والحفظ والسماع، هذا في كل راو من رواة السلسلة في السند.واما المتن فقد وضعوا لها خمسة عشر قاعدة لقبوله، وهذه القواعد يطول المجال لذكرها، كانت هذه القواعد عميقة وكافية، ناهيك عن القواعد الاضافية التي وضعوها كالاضطراب والعلة والشذوذ، وكذلك القلب والغلط والادراج، وهي مصطلحات حديثية يعرفها اهل الحديث جيدا.ولا تعجب من غاية الاحتياط في دين الله عندما جعلوا احاديث الاحاد لا تفيد القطع وانما افادت الظن مع وجوب العمل بها كما قال علماء الحديث رحمة الله عليهم.ولا يبقى الا سلسلة ثانية، هي سلسلة الشبه المقذوفة، هي باقية ما بقي القاذفون لكن حقيقتها انها منقطعة في الروح والحق والتأثير.فقل يا اخي القاريء أين نذهب بشبهاتهم المدحوضة؟ وقُلِّي في أي بحر غاصت عقولهم المتبلدة من التفكير بما دعى إليه العظيم الكبير من التشنيع على المستنين بدين الآباء والأجداد؟ ولنعلم بعدها ان هذه الشبه العقيمة ليست نهاية أوحالهم بل هي في مستنقع آسن.
--------------------------------------------
المصادر:-1 - صريح السنة، للإمام الطبري.2 - الاستشراق، د. مازن بن صلاح مطبقاني.3 - رؤية إسلامية للاستشراق، احمد عبد الحميد غراب.4 - الاستشراق والدراسات الإسلامية، د. عبد القهار العاني رحمه الله.5 - الاستشراق والخلفية الفكرية، محمود زقزوق.6 - المستشرقون والسنة النبوية، د. سعد المرصفي.7 - السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي، د. مصطفى السباعي.8 - مسند الإمام احمد، ط2،مؤسسة الرسالة، تحقيق شعيب الارنؤوط.9 - حجية السنة، حسين الشواط.
জেনে রাখা প্রয়োজন যে, মুসলিম দেশসমূহের সীমানা বিস্তারের সাথে সাথে আলেমদের উপস্থিতির পরিধিও বিস্তৃত হয়েছিল। ফলে তারা কোনো একক অঞ্চলে পুঞ্জীভূত ছিলেন না যে তারা নিজেরা কোনো হাদিস জাল (وضع) করতে সক্ষম হতেন। যদি কিছু আলেম কিছু আমিরের অনুগত থেকে থাকেন—যেমনটি প্রাচ্যবিদগণ (المستشرقون) দাবি করেন—তাহলে মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য হাদিস বিশারদগণ তখন কোথায় ছিলেন যখন দেশগুলোর সীমানা এত বিশাল ছিল?অতঃপর আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, হাদিস পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আলেমদের প্রণীত নীতিমালা বৈজ্ঞানিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই নীতিমালাগুলো প্রকৃতপক্ষে সেই বিষয়ের গুরুত্ব অনুযায়ীই প্রণীত হয়েছিল যার জন্য এগুলো তৈরি করা হয়েছে, আর তা হলো "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ"।তাদের নীতিমালা দুটি বিষয় এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কারণে অত্যন্ত সুদৃঢ় ছিল। প্রথম পদক্ষেপটি ছিল সনদ (السند) সংশ্লিষ্ট, যার বর্ণনা আমরা ইতিপূর্বে দিয়েছি এবং যা হলো বর্ণনাকারীদের নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা। আর দ্বিতীয় পদক্ষেপটি ছিল মতন (المتن) সংশ্লিষ্ট, যা হলো নববীয় বাণী; ইতিপূর্বে এ দুটির সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।সনদের অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেক বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে আলেমগণ অনেকগুলো শর্ত ও মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন, যেমন: ন্যায়পরায়ণতা (العدالة), নির্ভুলতা (الضبط), মুখস্থ শক্তি (الحفظ) এবং শ্রবণ (السماع)। বর্ণনাকারীদের এই সিলসিলার প্রতিটি রাবির ক্ষেত্রে এই শর্তগুলো প্রযোজ্য ছিল।আর মতনের ক্ষেত্রে তারা এটি গ্রহণের জন্য পনেরোটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন, যা এখানে বিস্তারিত উল্লেখ করার অবকাশ নেই। এই নীতিমালাগুলো ছিল অত্যন্ত গভীর ও পর্যাপ্ত। এছাড়াও তারা অতিরিক্ত কিছু নিয়মাবলি নির্ধারণ করেছিলেন যেমন: অস্থিরতা (الاضطراب), সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة), এবং বিচ্যুতি (الشذوذ); তেমনিভাবে ওলটপালট (القلب), ভুল (الغلط), এবং প্রক্ষেপণ (الادراج)। এগুলো এমন সব হাদিস শাস্ত্রীয় পরিভাষা যা হাদিস বিশারদগণ খুব ভালোভাবেই অবগত।আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তাদের চূড়ান্ত সতর্কতা দেখে বিস্মিত হবেন না, যখন তারা একক বর্ণনা (الآحاد) সম্বলিত হাদিসগুলোকে অকাট্য নিশ্চিত (القطع) জ্ঞানের পরিচায়ক না বলে কেবল প্রবল ধারণা (الظن) লাভের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করেছেন, যদিও সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব বা আবশ্যক; যেমনটি হাদিস বিশারদগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন।এখন কেবল দ্বিতীয় একটি সিলসিলা বা ধারাবাহিকতা অবশিষ্ট থাকে, আর তা হলো নিক্ষিপ্ত সংশয়সমূহের সিলসিলা। নিক্ষেপকারীরা যতক্ষণ থাকবে এটিও ততক্ষণ থাকবে, তবে এর বাস্তবতা হলো এটি রূহানিয়াত, সত্য এবং প্রভাবের দিক থেকে বিচ্ছিন্ন (منقطعة)।হে পাঠক ভাই, আপনিই বলুন তাদের এই খণ্ডিত সংশয় নিয়ে আমরা কোথায় যাব? আর আমাকে বলুন, তাদের স্থবির চিন্তাশক্তি কোন সাগরে নিমজ্জিত হয়েছে যে, তারা সেই মহান সত্তার আহ্বানের কথা ভুলে গেল—যিনি পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুসারীদের কঠোর নিন্দা করেছেন? এরপর আমাদের জেনে রাখা উচিত যে, এই বন্ধ্যা সংশয়গুলোই তাদের পঙ্কিলতার শেষ সীমানা নয়, বরং তারা এক দুর্গন্ধযুক্ত জলাশয়ে নিমজ্জিত।
--------------------------------------------
উৎসসমূহ:-১ - সারিহ আস-সুন্নাহ, ইমাম তবারি।২ - আল-ইসতিশরাক, ড. মাজেন বিন সালাহ মুতবাকানি।৩ - রুয়াহ ইসলামিয়্যাহ লিল-ইসতিশরাক, আহমদ আব্দুল হামিদ গুরাব।৪ - আল-ইসতিশরাক ওয়াদ-দিরাসাত আল-ইসলামিয়্যাহ, ড. আব্দুল কাহার আল-আনি (রহিমাহুল্লাহ)।৫ - আল-ইসতিশরাক ওয়াল-খালফিয়্যাহ আল-ফিকরিয়্যাহ, মাহমুদ জাকজুক।৬ - আল-মুস্তাশরিকুন ওয়াস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ড. সাদ আল-মারসাফি।৭ - আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরি আল-ইসলামি, ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ।৮ - মুসনাদ ইমাম আহমদ, ২য় সংস্করণ, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, তাহকিক: শুয়াইব আরনাউত।৯ - হুজজিয়াতুস সুন্নাহ, হুসাইন আশ-শাওয়াত।