(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: -)
ديوان جرير بشرح محمد بن حبيب القسم: الشعر ودواوينه
الكتاب: ديوان جرير بشرح محمد بن حبيب
المحقق: د. نعمان محمد أمين طه
الناشر: دار المعارف، القاهرة - مصر
الطبعة: الثالثة
عدد الأجزاء: 3
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 ربيع الأول 1440
মুহাম্মদ ইবনে হাবীবের ব্যাখ্যাসহ জারীরের দিওয়ান বিভাগ: কবিতা ও দিওয়ানসমূহ
গ্রন্থ: মুহাম্মদ ইবনে হাবীবের ব্যাখ্যাসহ জারীরের দিওয়ান
সম্পাদক: ড. নুমান মুহাম্মদ আমীন তাহা
প্রকাশক: দার আল-মাআরিফ, কায়রো - মিশর
সংস্করণ: তৃতীয়
খণ্ড সংখ্যা: ৩
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাত আল-নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকায আল-নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আওকাফ আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আল-দাহইয়ান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট)
[গ্রন্থের নম্বরকরণ মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
ديوان جرير
رواية أبي الحسن محمد بن العباس بن أحمد بن الفرات عن أبيه أبي الخطاب العباسي بن أحمد عن أبي سعيد الحسن بن الحسين السكري عن أبي جعفر محمد بن حبيب.
ورواية القاضي أبي سعيد الحسن بن عبد الله بن المرزبان السيرافي عن أبي عبد الله محمد بن عرفة النحوي عن السكري عن ابن حبيب. سماع لمحمد بن أحمد بن عمر بن الخلال أبي الغنائم.
الجزء الأول
জরীরের কাব্যসমগ্র
আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস ইবনে আহমদ ইবনুল ফুরাতের বর্ণনা, যা তিনি তাঁর পিতা আবুল খাত্তাব আল-আব্বাসি ইবনে আহমদ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনুল হুসাইন আস-সুক্কারী থেকে এবং তিনি আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে হাবীব থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং কাজী আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল মারযুবান আস-সিরাফীর বর্ণনা, যা তিনি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আরাফা আন-নাহবী থেকে, তিনি আস-সুক্কারী থেকে এবং তিনি ইবনে হাবীব থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে উমর ইবনুল খাল্লাল আবু আল-গানাইম কর্তৃক শ্রবণকৃত।
প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين وصلى الله على خيرته من خلقه سيدنا محمد خاتم النبيين، وعلى عترته الظاهرين، وسلم تسيلمًا.
1قال جرير بن عطية بن الخطفى: وهو حذيفة بن بدر بن سلمة بن عوف بن كليب بن يربوع بن حنظلة بن مالك بن زيد مناة بن تميم، يهجو الأخطل:
1 حىِّ الغداة برامة الأطلالا
… رسمًا تحمل أهله فأحال
رامة: ماء لقيس على اثنيّ عشرة مرحلة من البصرة، آخر بلاد تميم، أحال: أتت عليه أحوال. وروى عمارة: (تقادم عهده). تقادم: أي قدم.
2 إنَّ السوارى والغوادى غادرت
… للريح مخترقًا به ومجالا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা, আমাদের নেতা, সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও পূর্ণ সালাম বর্ষিত হোক।
১জারীর ইবনে আতিয়্যাহ ইবনে আল-খাতফা (যিনি হলেন হুযায়ফা ইবনে বদর ইবনে সালামাহ ইবনে আউফ ইবনে কুলাইব ইবনে ইয়ারবু ইবনে হানজালা ইবনে মালিক ইবনে যায়দ মানাত ইবনে তামীম) আল-আখতালকে ব্যঙ্গ করে বলেছেন:
১. প্রভাতবেলায় রামাহর ধ্বংসাবশেষকে সম্ভাষণ জানাও
… এমন এক চিহ্ন যার বাসিন্দারা প্রস্থান করেছে, ফলে তা জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
রামাহ: কায়েস গোত্রের একটি জলাশয় যা বসরা থেকে বারো মনজিল (পথের বিরতি) দূরত্বে, তামীম গোত্রের ভূখণ্ডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। 'আহালা' (أحال): অর্থাৎ তার ওপর অনেক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। উমারাহ বর্ণনা করেছেন: (তার যুগ পুরনো হয়ে গেছে)। 'তাকাদুম' (تقادم): অর্থাৎ প্রাচীন হওয়া।
২. নিশ্চয়ই রাতে ও সকালে বর্ষণকারী মেঘমালা একে এমন অবস্থায় রেখে গেছে যে
… সেখানে বাতাসের যাতায়াত ও বিচরণক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
السواري: ما أسري عليه ليلا. والغوادى: ما غاداه. والمجال: المسلك. والمطَّرد: الاطراد: تتابع الطريق واستواؤه.
3 لم أر مثلك بعد عهدك منزلًا
… فسقيت من سبل السِّماك سجالا
السبل: المطر. والسماك: من أنواء الصيف، وهو أيمن نجوم الصيف.
4 أصبحت بعد جميع أهلك دمنةً
… قفرًا وكنت مربَّةً محلالا
الدمنة: الكساحة والأبعار في هذا الموضع. والدمنة: المنزل بعينه والدمنة: الحقد. والمربَّة: المألوفة المختارة. والمحلال: المختارة للحلَّة.
5 ولقد عجبت من الديار وأهلها
… والدَّهر كيف يبدِّل الأبدالا
6 ورأيت راحلة الصِّبا قد أقصرت
… بعد الوجيف وملَّت التَّرحالا
আস-সাওয়ারি: যা দ্বারা রাতে ভ্রমণ করা হয়েছে। আল-গাওয়াযা: যা দ্বারা ভোরে যাত্রা করা হয়েছে। আল-মাজাল: চলার পথ। আল-মুত্তারিদ: আল-ইত্তিরাদ হলো পথের ধারাবাহিকতা ও তার ঋজুতা বা সমতা।
৩. তোমার সময়ের পর তোমার মতো কোনো আবাসস্থল আমি দেখিনি
… ফলে সিমাক নক্ষত্রের বৃষ্টির প্রবাহে তুমি প্রচুর সিক্ত হয়েছ।
আস-সুবুল: বৃষ্টি। আস-সিমাক: গ্রীষ্মকালীন নক্ষত্রপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি গ্রীষ্মের সর্বাপেক্ষা সৌভাগ্যময় নক্ষত্র।
৪. তোমার সকল অধিবাসী বিদায় নেওয়ার পর তুমি আজ এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছ
… নির্জন প্রান্তরে পরিণত হয়েছ, অথচ তুমি ছিলে জনাকীর্ণ ও বসতি স্থাপনের জন্য পছন্দনীয় এক জনপদ।
আদ-দিমনাহ: এই স্থানে এর অর্থ হলো আবর্জনা ও পশুর বিষ্ঠা। আদ-দিমনাহ: মূল ঘর বা আবাসস্থল। আদ-দিমনাহ: বিদ্বেষ। আল-মুরিব্বাহ: পরিচিত ও পছন্দনীয়। আল-মিহলাল: কাফেলা বা দলের অবস্থানের জন্য পছন্দকৃত স্থান।
৫. আমি এই গৃহসমূহ ও তার অধিবাসীদের দেখে বিস্মিত হয়েছি
… এবং মহাকাল কীভাবে সবকিছুকে পরিবর্তিত করে দেয় তা দেখেও।
৬. আর আমি দেখলাম যে যৌবনের বাহন আজ গতি হারিয়েছে
… দ্রুত পথ চলার পর পরিশ্রান্ত হয়ে তা দেশান্তরি হতে বিমুখ হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
يقال منه: وجف البعير يجف وجيفًا وأوجفته أنا إيجافا. والوجيف: سير الرفيع
والذميل: بين العنق والوجيف
7 إن الظعائن يوم برقة عاقل
… قد هجن ذا سقم فزدن خبالا
أصل البرقة اختلاف اللونين. والبرقة من الأرض: ذات رمل وحصى، وربما خلطه طين.
7 طرب الفؤاد لذكرهنَّ وقد مضت
… بالليل أجنحة النجوم فمالا
أجنحة النجوم: ما جنح منها للسقوط. وميل الليل: تهُّوره وسقوطه.
9 يجعلن مدفع عاقلين أيامنًا
… وجعلن أمعز رامتين شمالا
مدفعه: مجرى سيله. وعاقلان: ثنى عاقلا بغيره كما قالوا رامتان وإنما هي واحدة. والأمعز: الأرض ذات الحصى وهي المعزاء. وعاقل أيامنا. وعاقل قريب من رامة. وروى ابن الأعرابي: يجعلن مدفع عاقل أيمانها.
10 لا يتصلن إذا افتخرن بتغلب
… ورزقن زخرف نعمة وجمالا
এটা থেকে বলা হয়: উট দ্রুত চলল, সে দ্রুত চলে, দ্রুত চলা; আর আমি তাকে দ্রুত চালিত করলাম। আর ওয়াজিফ হলো: দ্রুত চলন।
আর যামিল হলো: স্বাভাবিক চলন এবং দ্রুত চলনের মধ্যবর্তী এক প্রকার গতি।
৭। নিশ্চয়ই ভ্রমণরত মহিলারা বুরকাহ আকিলের দিনে
… তারা এক অসুস্থ ব্যক্তিকে ব্যাকুল করে তুলেছে এবং তার উন্মাদনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
'বুরকাহ' শব্দের মূল অর্থ হলো দুই রঙের ভিন্নতা। আর ভূমির ক্ষেত্রে 'বুরকাহ' হলো: বালু ও কাঁকরযুক্ত ভূমি, কখনও কখনও এর সাথে কাদা মিশ্রিত থাকে।
৭। তাদের স্মরণে অন্তর ব্যাকুল হলো, যখন রাতের বেলা নক্ষত্রের পার্শ্বসমূহ গত হয়ে গেল এবং তা হেলে পড়ল
… নক্ষত্রের পার্শ্বসমূহ: নক্ষত্ররাজির সেই অংশ যা অস্ত যাওয়ার দিকে হেলে পড়ে। আর রাতের হেলে পড়া বলতে এর অতিবাহিত হওয়া ও শেষ হওয়া বোঝায়।
৯। তারা আকিলিনের প্রবাহপথকে ডানে রাখল
… এবং রামাতাইনের কঙ্করাময় ভূমিকে বামে রাখল।
'মাদফা' হলো: প্লাবনের প্রবাহপথ। আর 'আকিলান' শব্দটি 'আকিল'কে অন্য একটির সাথে দ্বিবচন করা হয়েছে, যেমন তারা 'রামাতান' বলে থাকে অথচ তা মূলত একটিই। 'আম’আয' হলো: কাঁকরময় ভূমি, যাকে 'মা’আযা'ও বলা হয়। আর আকিল আমাদের ডানে। আকিল হলো রামাহ-এর নিকটবর্তী একটি স্থান। ইবনুল আরাবি বর্ণনা করেছেন: তারা আকিলের প্রবাহপথকে তাদের ডানে রাখল।
১০। তারা যখন গর্ব করে তখন নিজেদেরকে তাগলিব গোত্রের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে না
… এবং তাদেরকে নেয়ামতের চাকচিক্য ও সৌন্দর্য দান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
11 طرق الخيال لأمِّ حزرة موهنًا
… ولحبَّ بالطيف الملم خيالا
الطروق: لا يكون إلا بعد هدأة من الليل وكذلك الوهن والموهن والهدأ والهدوء مهموز، والهدأة والهزيع والتهواء والسعواء والجش والجوش والذهْل والذهَل بمعنى واحد. وقوله: ولحب: أراد لحبب.
12 [يا ليت شعرى] يوم دارة صلصلٍ
… أتريد صرمى أم تريد دلالا
دارة صلصل، ودارة جلجل، ودار مكمن، ودارة زخرف، ودارة قطقط، ودارة الدور، ودارة الخرج، ودارة [القلتين] ودارة وشحى، ودارة الكور، ودارة المعدن.
13 لو أن عصم عمايتين ويذبل
… سمعت حديثك أنزلا الأوعالا
العصم: الوعول، وإنما جعلت عصما لبياض في أيديها، وذلك يقال له عصمة. وعماية ويذبل، جيلان بالعالية، ثنَّى عماية وهو جبل واحد، كما ثنى رامتين. وفرس أعصم: إذا كانت إحدى يديه بيضاء.
১১ উম্মে হাযরার কাল্পনিক রূপটি রাতের শেষ প্রহরে উপস্থিত হলো
… আর সেই আগন্তুক কাল্পনিক রূপটি কতই না প্রিয়।
তুরুক (রাত্রে আসা): রাতের নিস্তব্ধতা ঘনিয়ে আসার আগে এটি ঘটে না। একইভাবে ওয়াহন, মু্হান, হাদ এবং হুদু (হামযাযুক্ত) শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়। এছাড়া হাদআহ, হাযি, তাহওয়া, সাওয়া, জাশশ, জাওশ, যাহল এবং যাহাল শব্দগুলো একই অর্থ বহন করে। কবির উক্তি: ‘লা-হাব্বা’ দ্বারা তিনি ‘লা-হাব্বাবা’ (কতই না প্রিয়) বুঝিয়েছেন।
১২ [হায়, আমি যদি জানতাম] দারাতে সালসালের দিনে
… তুমি কি আমার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে চাও নাকি ছলনা করতে চাও?
দারাতে সালসাল, দারাতে জুলজুল, দারা মাকমান, দারাতে যুখরুফ, দারাতে কাতকাত, দারাতে আদ-দূর, দারাতে আল-খারজ, দারাতে [আল-কুল্লাতাইন], দারাতে ওয়াশহা, দারাতে আল-কাওর এবং দারাতে আল-মা’দিন।
১৩ যদি আমায়াতাইন ও ইযবুল পাহাড়ের সাদা পা-বিশিষ্ট পাহাড়ী ছাগলগুলো
… তোমার কথা শুনতে পেত, তবে তারা পাহাড়ী বুনো ছাগলগুলোকে নিচে নামিয়ে আনত।
‘উসম’ অর্থ পাহাড়ী ছাগল। এদের অগ্রপদে (হাতে) শুভ্রতা থাকার কারণে এদের ‘উসম’ বলা হয়েছে, আর এই শুভ্রতাকে বলা হয় ‘ইসমাহ’। আমায়াহ এবং ইযবুল হলো উচ্চভূমির দুটি পাহাড়। এখানে আমায়াহ শব্দটিকে দ্বিবচন করা হয়েছে যদিও তা একটি পাহাড়, যেমনটি রামাতাইন শব্দটির ক্ষেত্রে করা হয়। আর ‘আ’সাম’ ঘোড়া বলা হয় যখন তার একটি অগ্রপদ (হাত) সাদা হয়।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٥١)
14 حيّيت لست غدًا لهنَّ بصاحب
… بحزيز وجرة إذ يخدن عجالا
وجرة: دون مكة بثلاث مراحل لبنى سليم. والحزيز: الغليظ. المنقاد مستطيلا، وجمّاعة أحزة وحزَّان. والوخد: ضرب من السير رفيع، يقال: وخد البعير يخد وخدًا ووخدانًا ويروى: كرِّى فلست.
15 أجهضن معجلةً لستَّة أشهر
… وحذين بعد نعالهنَّ نعالا
الإجهاض والإعجال واحد وهو أن تلقيه قبل وقته.
16 وإذا النهار تقاصرت أظلاله
… وونى المطىُّ سآمةً وكلالا
تقاصر الظلال عند عقول الشمس وتكبُّدها السماء، وفي ذلك الوقت تخور الإبل وتضعف. وونى: فتر، يقال منه ونى ينى ونيًّا. والسآمة: الملالة والضجر، يقال سم يسأم سأمًا وسآمة.
17 رفع المطيُّ بكل أبيض شاحب
… خلق القميص تخاله مختالا
رفع المطى: يريد رفعه في سيره، واختياله: ميده، شبهه لميده على
১৪. অভিবাদিত হও, আগামী কাল আমি তাদের সঙ্গী নই
... ওয়াজরাহ-এর শক্ত ভূমিতে যখন তারা দ্রুতগতিতে পথ চলে।
ওয়াজরাহ: মক্কা থেকে তিন মঞ্জিল দূরে অবস্থিত বনু সুলাইমের একটি স্থান। আল-হাযীয: শক্ত ও কঠিন ভূমি, যা লম্বা হয়ে প্রসারিত হয়, এর বহুবচন হলো 'আহিযযাহ' এবং 'হুয্যান'। আল-ওয়াখদ: এক ধরণের দ্রুত চলন, বলা হয়: উট দ্রুত পদক্ষেপে চলেছিল। আর একটি পাঠভেদে বর্ণিত হয়েছে: 'কিররী ফালাসতু' (ফিরে এসো, আমি নই)।
১৫. তারা ছয় মাসেই অপরিণত গর্ভপাত ঘটিয়েছে
... এবং তাদের খুরের নিচে আরও শক্ত আবরণ তৈরি হয়েছে।
আল-ইজহাদ এবং আল-ই’জাল একই অর্থ প্রকাশ করে, আর তা হলো সময়ের পূর্বেই গর্ভপাত করা বা সন্তান প্রসব করা।
১৬. যখন দিনের ছায়া ছোট হয়ে আসে
... এবং ক্লান্তি ও অবসাদে সওয়ারি উটগুলো মন্থর হয়ে পড়ে।
সূর্য যখন মাথার উপরে আসে এবং আকাশের মধ্যস্থলে অবস্থান করে তখন ছায়া ছোট হয়ে যায়, আর সেই সময়ে উটগুলো অবসন্ন ও দুর্বল হয়ে পড়ে। ওয়ানা: শিথিল হওয়া, এর ব্যাকরণগত রূপান্তর হলো ওয়ানা-ইয়ানী-ওয়ানিয়ান। আস-সাআমাহ: বিরক্তি ও ক্লান্তি, বলা হয় সে ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়েছে।
১৭. সওয়ারিগুলোকে দ্রুত হাঁকিয়ে নেওয়া হচ্ছিল এমন প্রত্যেক পাণ্ডুবর্ণের পরিশ্রান্ত ব্যক্তির দ্বারা
... যার পরিহিত জামাটি জীর্ণ, যাকে দেখে মনে হবে সে দুলছে।
রাফ’উল মাতী: এর দ্বারা সওয়ারির চলার গতি বাড়িয়ে দেওয়া বুঝানো হয়েছে। আর তার 'ইখতিয়াল' হলো: তার হেলেদুলে চলা, তার হেলেদুলে চলার কারণে তাকে এমন তুলনা করা হয়েছে...
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
رحله وضر [به] برأسه من النعاس بالمختال.
18 إني جعلت فلن أعافى تغلبًا
… للظالمين عقوبةً ونكالا
19 قَبَح الإله وجوه تغلب إنها
… هانت علىَّ مراسنًا وسبالا
المراسن: الأنوف، واحدها مرسن.
20 قبح الإله وجوه تغلب كلما
… شبح الحجيج وكبروا إهلالا
الشبح: رفع الأيدي بالدعاء، والإهلال: رفع الصوت، ومن هذا يقال للملبِّى: أهلَّ بالحج: إذا لبَّى.
21 عبدوا الصليب وكذبوا بمحمد
… وبجبرئيل وكذبوا ميكالا
يقال جبريل وجبرين وجبرئيل وجبرال وميكال وميكائيل، وسرافين وسرافيل وإسماعيل وإسماعين وأنشد:
قالت جوارى الحيّ لمَّا جينا
هذا ورب البيت إسماعينا
22 المعرسين إذا انتشوا ببناتهم
… والدائبين إجارةً وسولا
يريد: الدائبين بين سائل وأجير.
23 والتغلبى إذا تنحنح للقرى
… حك استه وتمثَّل الأمثالا
তার জিন এবং সে তন্দ্রার কারণে তার মাথা দ্বারা অহংকারীর মতো ঝুলে পড়েছিল।
১৮ আমি প্রতিজ্ঞা করেছি যে, আমি তাগলিব গোত্রকে ক্ষমা করব না
… জালেমদের জন্য শাস্তি ও দৃষ্টান্ত স্বরূপ।
১৯ আল্লাহ তাগলিব গোত্রের মুখমণ্ডলকে বিকৃত করে দিন, কেননা তারা
… আমার কাছে তাদের নাক ও গোঁফ সহ লাঞ্ছিত হয়েছে।
আল-মারাসিন: নাকসমূহ, এর একবচন হলো মারসান।
২০ আল্লাহ তাগলিব গোত্রের মুখমণ্ডলকে বিকৃত করে দিন যখনই
… হাজীরা দোয়ার জন্য হাত তোলে এবং উচ্চস্বরে তাকবীর দেয়।
আশ-শাবহু: দোয়ার সময় হাত তোলা। আল-ইহলালু: উচ্চস্বরে আওয়াজ করা। এ থেকেই তালবিয়াহ পাঠকারী সম্পর্কে বলা হয়: সে হজের জন্য উচ্চস্বরে তালবিয়াহ পাঠ করেছে, যখন সে লাব্বাইক বলেছে।
২১ তারা ক্রুশের পূজা করেছে এবং মুহাম্মদকে অস্বীকার করেছে
… আর জিবরাঈল ও মিকাঈলকেও অস্বীকার করেছে।
জিবরীল, জিবরীন, জিবরাঈল, জিবরাল এবং মিকাল, মিকাঈল, সারফীন, সারাফীল এবং ইসমাঈল ও ইসমাঈন—এভাবে বলা হয়। এ প্রসঙ্গে কবিতা আবৃত্তি করা হয়েছে:
মহল্লার কিশোরীরা বলেছিল যখন আমরা এলাম
কাবার প্রভুর কসম, ইনিই হলেন ইসমাঈন
২২ যারা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজেদের কন্যাদের সাথে রাত যাপন করে
… এবং যারা মজুরি ও ভিক্ষাবৃত্তিতে লিপ্ত থাকে।
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ভিক্ষুক ও শ্রমিকের মাঝে সদা লিপ্ত থাকা।
২৩ আর তাগলিবী ব্যক্তি যখন আতিথেয়তার জন্য গলা পরিষ্কার করে
… তখন সে তার পশ্চাদ্দেশ চুলকায় এবং প্রবাদ আওড়ায়।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
24 أنسيت يومك بالجزيرة بعدما
… كانت عواقبه عليك وبالا
25 حملت عليك حماة قيس خيلها
… شعثًا عوابس تحمل الأبطالا
26 ما زلت تحسب كل شيءٍ بعدهم
… خيلا تكرّ عليكم ورجالا
27 زفر الرئيس أبو الهذيل أباركم
… فسبى النساء وأحرز الأموالا
هذا يوم الكحيل: وكان سببه أن عمير بن الحباب السلمىّ لما قتل بالحشاك، والحشاك بجانب الثرثار، وهو قريب من تكريت، أتى تميم بين الحباب زفر بن الحارث من بني كلاب، فأخبره بقتل عمير، وسأله الطلب له بثأره. فكره زفر المسير، وأبى عليهم. فسار تميم ابن الحباب بمن تبعه من قيس، وتابعه على ذلك مسلم بن ربيعة العقيلي. فلما وجهوا نحو بني تغلب لقيم الهذيل بن زفر في زراعة له فقال: أين تريدون؟ فأخبروه بما كان من زفر. فقال: أمهلوني ألق الشيخ.
২৪ তুমি কি জাজিরার সেই দিনের কথা ভুলে গিয়েছ, যখন
… তার পরিণাম তোমার জন্য অমঙ্গলজনক হয়েছিল।
২৫ কায়সের রক্ষীরা তাদের ঘোড়সওয়ার বাহিনী নিয়ে তোমার ওপর চড়াও হয়েছিল
… ধূলিমলিন ও ক্রুদ্ধ চেহারার সেই ঘোড়াগুলো বীরদের বহন করছিল।
২৬ তাদের সেই ঘটনার পর থেকে তুমি প্রতিটি বস্তুকেই মনে করছ
… যেন অশ্বারোহী এবং পদাতিক বাহিনী তোমাদের ওপর আক্রমণ করতে ফিরে আসছে।
২৭ নেতা আবু আল-হুজাইল যুফার তোমাদের বিনাশ করেছেন
… অতঃপর তিনি নারীদের বন্দি করেছেন এবং সম্পদ হস্তগত করেছেন।
এটি আল-কুহাইলের যুদ্ধ: এর কারণ ছিল এই যে, যখন উমাইর ইবনুল হুবাব আস-সুলামি আল-হাশাক নামক স্থানে নিহত হলেন—আর আল-হাশাক হলো আসারসার-এর পার্শ্ববর্তী একটি এলাকা যা তিকরীতের নিকটবর্তী—তখন তামীম ইবনুল হুবাব বনু কিলাব গোত্রের যুফার ইবনুল হারিসের নিকট এলেন। তিনি তাকে উমাইরের হত্যাকাণ্ডের সংবাদ দিলেন এবং তার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। যুফার অভিযানে বের হওয়া অপছন্দ করলেন এবং তাদের প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানালেন। ফলে তামীম ইবনুল হুবাব কায়স গোত্রের যারা তাকে অনুসরণ করেছিল তাদের নিয়ে রওনা হলেন এবং মুসলিম ইবনে রাবিআ আল-উকায়লিও তার অনুগামী হলেন। যখন তারা বনু তাগলিবের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন যুফারের পুত্র হুজাইল তার এক ফসলি জমিতে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তারা তাকে যুফারের অবস্থানের কথা জানালেন। তখন তিনি বললেন: আমাকে সময় দাও, আমি শায়খের সাথে দেখা করে আসি।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
فأقاما. ومضى الهذيل، فأتى زفر فقال: ما صنعت؟ والله لئن ظفر بهذه العصابة إنه لعار عليك، وإن ظفروا إنه لأشد! قال زفر: فاحبس علىّ القوم. فقام زفر في أصحابه خطيبًا، فحرضهم وحشدهم - أي جمعهم - وعرفهم ما ذهب منهم من عمير وسؤدده وبمكان عمير فيهم. ثم شخص، واستخلص عليهم أخاه أوس بن الحارث، فسار حتى انتهى إلى الثرثار فدفنوا أصحابهم، ثم وجه زفر بن الحارث يزيد بن حمران - من قيس، من أصحاب زفر - في خيل، فانتهى إلى بني فدوكس، فقتل رجالهم، واستباح أموالهم، فلم يبق في ذلك الحواء غير امرأة واحدة، يقال لها حميدة بنت امرئ القيس، عاذت بابن حمران، فأعاذها، وبعث الهذيل إلى بني كعب بن زهير - من بني تغلب - فقتل فيهم قتلًا ذريعًا وبعث مسلم بن ربيعة إلى ناحية أخرى، فأسرع في القتل وبلغ ذلك تغلب والنمر، فارتحلت تريد عبور دجلة، فلحقهم زفر بن الحارث بالكحيل - وهو نهر أسفل من الموصل مع المغرب - فاقتتلوا قتالًا شديدًا، وترجل أصحاب زفر أجمعون. وبقى زفر على بغل له، فقتلوهم ليلتهم، وبقروا ما وجدوا من النساء، وذكروا أن من غرق في دجلة أكثر ممن
তারা দুজন অবস্থান করল। আর হুজাইল চলে গেল এবং জুফরের কাছে এসে বলল: আপনি কী করলেন? আল্লাহর কসম, যদি তিনি এই দলটির ওপর জয়ী হন, তবে তা আপনার জন্য লজ্জার বিষয় হবে; আর যদি তারা জয়ী হয়, তবে তা আরও ভয়াবহ হবে! জুফর বলল: লোকদেরকে আমার জন্য থামিয়ে রাখো। অতঃপর জুফর তার সঙ্গীদের মাঝে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন, তাদের উৎসাহিত করলেন এবং সমবেত করলেন—অর্থাৎ তাদের একত্রিত করলেন—এবং উমায়রের বিদায়ে তাদের মধ্য থেকে যা হারিয়ে গেছে, তার নেতৃত্ব এবং তাদের মাঝে উমায়রের যে মর্যাদা ছিল, তা তাদের স্মরণ করিয়ে দিলেন। এরপর তিনি যাত্রার প্রস্তুতি নিলেন এবং তাদের ওপর তার ভাই আওস বিন আল-হারিসকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করলেন। তিনি অগ্রসর হয়ে সারসার পর্যন্ত পৌঁছালেন এবং তারা তাদের সঙ্গীদের দাফন করলেন। এরপর জুফর বিন আল-হারিস ইয়াজিদ বিন হামরানকে—যিনি কাইস গোত্রের এবং জুফরের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—একদল অশ্বারোহী বাহিনীসহ প্রেরণ করলেন। তিনি বনু ফাদুকাস পর্যন্ত পৌঁছালেন, তাদের পুরুষদের হত্যা করলেন এবং তাদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করলেন। সেই জনবসতিতে হামিদা বিনতে ইমরুল কায়স নামক এক নারী ব্যতীত আর কেউ অবশিষ্ট রইল না। সে ইবনে হামরানের আশ্রয় প্রার্থনা করলে তিনি তাকে আশ্রয় দিলেন। আর হুজাইলকে বনু তাগলিবের অন্তর্ভুক্ত বনু কাব বিন জুহাইরের নিকট পাঠালেন, তিনি সেখানে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চালালেন। এবং মুসলিম বিন রাবিয়াহকে অন্য এক অঞ্চলে পাঠালেন, তিনিও দ্রুত হত্যাযজ্ঞ চালালেন। যখন তাগলিব ও নামির গোত্র এ খবর পেল, তারা দজলা নদী পার হওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করল। তখন জুফর বিন আল-হারিস কুহাইল নামক স্থানে—যা মসুলের নিম্নভাগে পশ্চিম দিকে অবস্থিত একটি নদী—তাদের ধরে ফেললেন এবং তারা ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত হলো। জুফরের সঙ্গীরা সবাই বাহন থেকে নেমে পদব্রজে লড়াই শুরু করল। জুফর তার একটি খচ্চরের পিঠেই রয়ে গেলেন। তারা সেই রাতে তাদের হত্যা করল এবং তারা যেসব নারী পেল তাদের পেট চিরে ফেলল। তারা উল্লেখ করেন যে, দজলা নদীতে ডুবে যারা মারা গেছে তাদের সংখ্যা তাদের চেয়ে বেশি যারা নিহত হয়েছে...
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
قتل بالسيف، وأن الدم كان في دجلة قريبًا من رمية سهم، فلم يزالوا يقتلون من وجدوا حتى أصبحوا، فذكروا أن زفر دخل معهم دجلة، وكانت فيه بحة، وجعل ينادي ولا يسمع صوته أصحابه، وفقدوه، فخشوا أن يكون قد قتل، فتذامروا، وقالوا: لئن قتل شيخنا فما صنعنا شيئًا، فاتبعوا، فإذا هو في الماء يصيح بالناس وتغلب قد رمت بأنفسها تعبر في الماء، فخرج من الماء، وأقام في موضعه، فهذه الوقعة تسمى الحرجيَّة لأنهم أحرجوا، فألقوا أنفسهم في الماء، ثم وجه يزيد بن حمران، وتميم بن الحباب ومسلم بن ربيعة والهذيل بن زفر، كل واحد منهم في أصحابه، وأمرهم ألا يلقوا أحدًا إلا قتلوه.
فانصرفوا من ليلتهم، وكل قد أصاب حاجته من القتل والماء. ثم مضى يستقبل الشمال بجماعة أصحابه حتى أتى رأس الأيِّل، ولم يخلف بالكحيل أحدًا. والكحيل على عشرة فراسخ من مدينة الموصل فيما بينها وبين الجنوب - فصعد قبل رأس الأيل، فوجد عسكرًا من النمر وتغلب فقاتلوهم بقية ليلتهم، فهربت تغلب وصبرت النمر، وهذه الليلة تسميها تغلب "ليلة الهرير"، فقال زياد بن سليمان النمري يفخر على بني تغلب بصبر النمر:
তলোয়ার দ্বারা হত্যা করা হয়েছে এবং দজলা নদীতে রক্তের প্রবাহ প্রায় এক তীরের পাল্লা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। ভোর হওয়া পর্যন্ত তারা হাতের কাছে যাকে পেয়েছে তাকেই হত্যা করতে থাকল। উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুফার তাদের সাথে দজলায় প্রবেশ করেছিলেন। তার কণ্ঠে কিছুটা কর্কশতা ছিল, তিনি উচ্চস্বরে ডাকছিলেন কিন্তু তার সঙ্গীরা সেই আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিল না। তারা তাকে হারিয়ে ফেললে এই আশঙ্কা করল যে তিনি হয়তো নিহত হয়েছেন। তখন তারা একে অপরকে প্ররোচিত করে বলতে লাগল: "যদি আমাদের শায়খ (নেতা) নিহত হয়ে থাকেন, তবে তো আমরা কিছুই করতে পারলাম না।" এরপর তারা তাঁর পিছু নিল এবং তাঁকে পানির মধ্যে দেখতে পেল; তিনি লোকদের উদ্দেশ্যে উচ্চৈঃস্বরে হাঁক দিচ্ছিলেন। এদিকে তাগলিব গোত্রের লোকেরা নদী পার হওয়ার জন্য নিজেদের পানিতে ছুড়ে দিচ্ছিল। অতঃপর তিনি পানি থেকে উঠে এলেন এবং নিজ স্থানে অবস্থান করলেন। এই যুদ্ধটি 'হারজিয়্যাহ' নামে অভিহিত করা হয়, কারণ তারা সংকটে পতিত হয়ে নিজেদের পানিতে নিক্ষেপ করেছিল। এরপর তিনি ইয়াজিদ ইবনে হামরান, তামিম ইবনে আল-হুবাব, মুসলিম ইবনে রাবিআ এবং হুযাইল ইবনে যুফার—প্রত্যেককে তাদের বাহিনীর সাথে প্রেরণ করলেন এবং এই মর্মে আদেশ দিলেন যে, তারা যারই দেখা পাবে তাকেই যেন হত্যা করে।
তারা সেই রাতে ফিরে এল এবং প্রত্যেকেই হত্যা ও পানির মাধ্যমে নিজ নিজ উদ্দেশ্য হাসিল করল। অতঃপর তিনি তার সঙ্গীদলসহ উত্তরের অভিমুখে অগ্রসর হলেন এবং রাস আল-আইয়িল পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। তিনি আল-কুহাইলে কাউকে রেখে যাননি। আল-কুহাইল মোসুল শহর থেকে দক্ষিণ দিকে দশ ফারসাখ দূরত্বে অবস্থিত। তিনি রাস আল-আইয়িলের অভিমুখে আরোহণ করলেন এবং সেখানে নামির ও তাগলিব গোত্রের এক বিশাল বাহিনীর দেখা পেলেন। রাতের অবশিষ্টাংশ তারা তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন। তাগলিব গোত্র পলায়ন করল কিন্তু নামির গোত্র অটল ধৈর্য ধারণ করল। তাগলিব গোত্র এই রাতকে "লাইলাতুল হারির" (আর্তনাদের রাত) বলে অভিহিত করে থাকে। এ প্রসঙ্গে যিয়াদ ইবনে সুলাইমান আল-নামিরি বনু তাগলিবের ওপর নামির গোত্রের ধৈর্য ও সাহসিকতার গৌরব প্রকাশ করে বললেন:
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
وليلة الأيِّل من بلائها
إذ فرَّت الجعراء عن لواها
وحامت النِّمر على أكساها
وقال زفر بن الحارث في منصرفه:
ولما أن نعى الناعي عميرًا
… حسبت سماءهم دهيت بليل
وكاد النجم يطلع في قتام
… وخاف الذُّلَّ من يمن سهيل
وكنت قبيلها يا أم عمرو
… أرجِّل جمَّتي وأجرُّ ذيلي
فلو نبش المقابر عن عمير
… فيخبر عن بلاء أبي الهذيل
غداة يقارع الأبطال حتى
… جرى منهم دما مرج الكحيل
قبيل ينهدون إلى قبيل
… تعاقي الموت كيلا بعد كيل
আইয়িল এর রাত্রি ও তার বিপদসমূহ
যখন জাআরা তাদের পতাকা ছেড়ে পলায়ন করল
এবং নুমুর তাদের পশ্চাদভাগ ঘিরে ধরল
এবং জুফর ইবনুল হারিস তার প্রস্থানকালে বলেছিলেন:
যখন ঘোষণাকারী উমাইরের মৃত্যুসংবাদ প্রচার করল
… আমি মনে করলাম তাদের আকাশ নিশীথিনীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়েছে
ধূলিজালে নক্ষত্র উদিত হওয়ার উপক্রম হলো
… আর সুহাইলের দক্ষিণ দিক থেকে লাঞ্ছনার আশঙ্কা দেখা দিল
হে উম্মে আমর, এর কিছুকাল আগে আমি
… আমার কেশবিন্যাস করতাম এবং স্বাচ্ছন্দ্যে পোশাকের প্রান্ত টেনে চলতাম
যদি উমাইরের জন্য কবরগুলো খনন করা হতো
… তবে সে আবু আল-হুদায়লের বীরত্ব ও পরীক্ষা সম্পর্কে সংবাদ দিত
সেই প্রভাতে যখন সে বীরদের সাথে লড়াই করছিল যতক্ষণ না
… তাদের রক্তে মারজুল কুহাইল রঞ্জিত হলো
এক দল অন্য দলের দিকে ধাবিত হচ্ছিল
… মৃত্যু যেন পরিমাপের পর পরিমাপ বিলিয়ে দিচ্ছিল
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
28 قال الأخيطل إذ رأى راياتهم
… يا مارسرجس لا نريد قتالا
29 هلَاّ سألت غثاء دجلة عنكم
… والخامعات تجمِّع الأوصالا
الغثاء: ما حمله الماء من القماش، والخامعات: الضباع، رفع الخامعات جعل لها الواو العاطفة وقتًا، أراد: إذ الخامعات تجمع الأوصال.
30 ترك الأخيطل أمه وكأنَّها
… منحاة سانية تدير محالا
المنحاة: طريق السانية ما بين منتهى الرشاء إلى الرَّكي، والمحالة: بكرة السانية، فزعم أنه ترك أمه موطوءة كما توطأ المنحاة.
31 ورجا الأخيطل من سفاهة رأيه
… ما لم يكن وأب له لينالا
32 خل الطريق فقد لقيت قرومنا
… تنفى القروم تخمُّطًا وصيالا
تخمط البعير: هدره وعقده عنقه وإيعاده، وصياله: أكله الإبل:
28 উখাইতিল যখন তাদের পতাকা দেখল তখন বলল
… হে মার সারজিস, আমরা যুদ্ধ চাই না।
29 তুমি কি দজলার আবর্জনা এবং তোমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে না
… যখন হায়েনারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করছিল।
গূসা (গাশা): পানি যা খড়কুটো বা আবর্জনা বহন করে আনে; আর খামিআত: হায়েনা। এখানে খামিআত শব্দটিকে পেশ (রাফ') প্রদান করে এর পূর্বের 'ওয়াও' অব্যয়টিকে সময়ের অর্থ জ্ঞাপক করা হয়েছে। কবি বুঝিয়েছেন: যখন হায়েনারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একত্রিত করছিল।
30 উখাইতিল তার মাকে এমন অবস্থায় ফেলে গেল যেন সে
… পানি উত্তোলনকারী পশুর হাঁটার পথ, যা কপিকল ঘোরাচ্ছে।
মানহাত: পানি উত্তোলনকারী পশুর হাঁটার পথ যা রশির শেষ সীমা থেকে কূপ পর্যন্ত বিস্তৃত; আর মাহালাহ: পানি উত্তোলনকারী পশুর কপিকল। কবি দাবি করেছেন যে, সে তার মাকে পদদলিত অবস্থায় ছেড়ে গেছে যেমনটি হাঁটার পথ পদদলিত হয়।
31 আর উখাইতিল তার নির্বুদ্ধিতার কারণে এমন কিছুর আশা করেছিল
… যা সে এবং তার পিতাও কখনও অর্জন করতে পারত না।
32 পথ ছেড়ে দাও, কেননা তুমি আমাদের শ্রেষ্ঠ বীরদের মুখোমুখি হয়েছ
… যারা দম্ভ ও বীরত্বের সাথে অন্য বীরদের হটিয়ে দেয়।
উটের তাখাম্মুত: তার গর্জন করা, ঘাড় বাঁকানো এবং হুমকি প্রদান করা; আর সিয়াল: উটের আক্রমণ করা।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
يقال: بعير صئول: بيِّن الصيال، ويقال: صؤل البعير: إذ كان عضوضًا، وصال من الصولة صيالا.
33 تمَّت تميمي يا أخيطل فاحتجر
… خزى الأخيطل حين قلت وقالا
تمت: بلغت الشرف كله. ويقال: تممت إليه: أي قصدت إليه.
34 لو أن خندف زاحمت أركانها
… جبلا أصمَّ من الجبال لزالا
خندف: ليلى بنت حلوان بن عمران بن الحاف بن قضاعة أم مدركة وطابخة.
35 إن القوافي قد أمرَّ مريرها
… لبني فدوكس إذ جدعن عقالا
أمرَّ مريرها: أي أحكم صنعتها. وفدوكس: جد الأخطل. وعقال ابن محمد بن سفيان بن مجاشع جد الفرزدق.
36 ولقيت دوني من خزيمة معشرًا
… وشقاشقًا بذخت عليك طوالا
وروى عمارة: دوني من خزيمة تدرأ، مكان: معشرًا. والتدرأ: العز. والشقاشق: شبهها بشقاشق الفحول وهدرها. وخزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر.
37 راحت خزيمة بالجياد كأنها
… عقبان مدجنة نفضن طلالا
বলা হয়: আক্রমণাত্মক উট: তার আক্রমণ স্পষ্ট, এবং বলা হয়: উটটি আক্রমণাত্মক হয়েছে: যখন সে কামড় দেয়, এবং সে আক্রমণাত্মক ভঙ্গি থেকে আক্রমণ করেছে।
৩৩. হে আখাইতাল, আমার তামীম গোত্র পূর্ণতা লাভ করেছে, সুতরাং তুমি দূরে থাকো
… আখাইতাল লাঞ্ছিত হলো যখন আমি বললাম এবং সে বলল।
পূর্ণতা লাভ করেছে: অর্থাৎ সমস্ত সম্মানের শিখরে পৌঁছেছে। এবং বলা হয়: আমি তার দিকে সংকল্প করেছি: অর্থাৎ আমি তার দিকে অগ্রসর হয়েছি।
৩৪. যদি খানদাফ গোত্রের স্তম্ভগুলো পাহাড়সমূহের মধ্য থেকে কোনো নিরেট পাহাড়কে ধাক্কা দিত
… তবে তা অবশ্যই অপসারিত হতো।
খানদাফ: তিনি হলেন লায়লা বিনতে হুলওয়ান বিন ইমরান বিন আল-হাফ বিন কুদাআহ, যিনি মুদরিকাহ ও তাবিখার মা।
৩৫. নিশ্চয়ই এই ছন্দবদ্ধ কবিতাগুলো তাদের নির্মাণশৈলীতে সুদৃঢ় করা হয়েছে
… ফুদাকসের সন্তানদের জন্য, যখন তারা ইকালকে নাক-কান কেটে লাঞ্ছিত করেছিল।
তার রশি মজবুত করেছে: অর্থাৎ তার নির্মাণশৈলীকে সুদৃঢ় করেছে। ফুদাকস: আল-আখতালের দাদা। এবং ইকাল বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান বিন মুজাশে: আল-ফারাজদাকের দাদা।
৩৬. আর তুমি আমার পরিবর্তে খুজাইমাহ গোত্রের একদল লোক এবং উটের গলার থলির মতো গর্জনকারীদের সম্মুখীন হয়েছ
… যারা তোমার উপরে উচ্চতা নিয়ে দম্ভ করেছে।
উমারা বর্ণনা করেছেন: ‘মাশারান’ (একদল লোক) এর পরিবর্তে ‘তাদরা’ খুজাইমাহ হতে। আর ‘তাদরা’ মানে: সম্মান ও ক্ষমতা। ‘শাক্বাশিক্ব’: তিনি এগুলোকে শক্তিশালী উটের কণ্ঠনালী এবং তাদের গর্জনের সাথে তুলনা করেছেন। আর খুজাইমাহ বিন মুদরিকাহ বিন ইলিয়াস বিন মুদার।
৩৭. খুজাইমাহ এমন দ্রুতগামী ঘোড়া নিয়ে বের হলো যেন তারা
… মেঘাচ্ছন্ন দিনের ঈগল পাখি, যারা হালকা বৃষ্টির পানি ঝেড়ে ফেলছে।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
وروى عمارة: رعنا خزيمة بالجياد. وخزيمة بن طارق التغلبي أحد بني التغلبي أحد بني عتبان بن سعد بن زهير بن جشم بن بكر، أسر يوم زرود أسره أسيد ابن حنَّاءة السَّليطيّ وأنيف بن جبلة الضبي فاحتقا فيه إلى الحارث بن قراد الرياحي فحكم أن ناصيته لأسيد ولأنيف ثلاثين بكرة. ومدجنة: ماطرة. والطلال: الأنداء.
38 إنّا كذاك لمثل ذاك نعدُّها
… نسقي الحليب وتشعر الأجلال
39 ما كنت تلقى في الحروب فوارسي
… ميلًا إذا ركبوا ولا أكفالا
الأميل: الذي لا يثبت على الدابة. والكفل: الذي لا يقوم بأمر نفسه.
40 صبَّحن نسوة تغلب نسبتها
… ورأى الهذيل لوردهنَّ رعالا
الهذيل بن هبيرة. أحد بني حرفة التغلبي في يوم ذي بهدي، وهو يوم الحريم.
وهذا يوم ذي بهدي. كان الهذيل غزا بني أبي ربيعة بن ذهل بن
এবং উমারা বর্ণনা করেছেন: আমরা খুজাইমাহকে তেজস্বী ঘোড়া দ্বারা ভীত করেছিলাম। খুজাইমাহ বিন তারিক আত-তাগলিবি ছিলেন বনু তাগলিবের অন্তর্ভুক্ত, যিনি বনু উতবান বিন সাদ বিন যুহায়ের বিন জুশাম বিন বকর গোত্রের এক ব্যক্তি। যারুদের যুদ্ধে তিনি বন্দি হন; তাকে আসিদ ইবনে হান্নাহ আস-সালিদি এবং উনাইফ বিন জাবালা আদ-দাব্বি বন্দি করেছিলেন। তারা উভয়ে তার মালিকানার দাবিতে আল-হারিস বিন কুরাদ আর-রিয়াহির কাছে বিচারপ্রার্থী হন। তিনি ফয়সালা করেন যে, বন্দির ললাট (মর্যাদা) আসিদের প্রাপ্য এবং উনাইফের প্রাপ্য হবে ত্রিশটি মাদি উট শাবক। 'মুদজিনাহ' অর্থ: বর্ষণমুখর। আর 'তালাল' অর্থ: শিশিরবিন্দু।
৩৮. নিশ্চয়ই আমরা এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য তাদের (ঘোড়াগুলোকে) এভাবেই প্রস্তুত করি; আমরা তাদের দুধ পান করাই এবং গায়ের আচ্ছাদন দিয়ে ঢেকে রাখি।
৩৯. আপনি যুদ্ধে আমার অশ্বারোহীদের এমন পাবেন না যে তারা সওয়ার হলে টলটলায়মান থাকে, আর না তারা অক্ষম।
'আমিল' হলো সেই ব্যক্তি যে পশুর পিঠে স্থির হয়ে বসে থাকতে পারে না। আর 'কিফল' হলো সেই ব্যক্তি যে নিজের কাজ নিজে সম্পন্ন করতে পারে না।
৪০. তারা ভোরবেলা বনু তাগলিবের নারীদের নিকট উপস্থিত হলো এবং হুযাইল তাদের আগমনে অশ্বারোহী সেনাদলকে দেখতে পেলেন।
হুযাইল বিন হুবাইরা। বনু হুরফাহ আত-তাগলিবি গোত্রের জনৈক ব্যক্তি; যি-বাহদি দিবসের ঘটনায়, যা হারিম দিবস হিসেবে পরিচিত। আর এটি হলো যি-বাহদি দিবস। হুযাইল বনু আবি রবিআ বিন যুহাল বিন... এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
شيبان. فاطرد إبلهم يوم كنهل، فقال له قومه: أين تطرد هذه الإبل؟ أغر بنا على بعض من نمر به.
فأغار على بني كوز وبني هاجر من بني ضبَّة، فأصاب فيهم ثلاثين امرأة فيهن منضورة بنت شقيق أخت عامر بن شقيق، فأطلقهن مكانه وهو في دارهم.
غيرها: فإنه احتمل بها حتى وقع بها أرض قومه، وزوجها وأخوها غائبان، فبلغهما الخبر، فطلباها، حتى أتياها، فقال: هي بيني وبينكما، فإن أحبت فاتتبعكما، وإن كرهت لم أعطكماها. قالا: ننظر في أمرنا اليوم. فأتيا رجلا من بني تغلب، فحدَّثاه الحديث واستجارا، فأجارهما. فانطلق معهما إلى الهذيل، فقال: إنك قد أعطيت القوم ما قد علمت، أفأجيرهم عليك على الوفاء؟ قال: نعم، فخيِّرت، فقالت: والله ما كنت لأؤيم زوجي، ولا أنكس برأس أخي. فأعطاهم إياها، فانصرفوا بها، فقال الهذيل:
أعتقت من أفناء كوز وهاجر
… ثلاثين لم تهتك لسرٍّ جيوبها
ومنضورة الحسناء كنت اصطفيتها
… فأعتقتها لما أتاني حبيبها
ثم إن الهذيل تتبعتها نفسه، فأغار على بني ضبة وهم بذي بهدى
শায়বান। তিনি কানহালের যুদ্ধের দিন তাদের উটগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে গেলেন। তখন তার কওম তাকে বলল, "আপনি এই উটগুলোকে কোথায় তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন? আমাদের সাথে নিয়ে আপনি যাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন তাদের কারো ওপর আক্রমণ করুন।"
অতঃপর তিনি বনু দাব্বা গোত্রের বনু কুজ ও বনু হাজারের ওপর আক্রমণ করলেন। সেখানে তিনি ত্রিশজন নারীকে বন্দি হিসেবে পেলেন, যাদের মধ্যে আমির বিন শাকিকের বোন সুন্দরী মানজুরা বিনতে শাকিকও ছিলেন। তিনি তাদের সেই স্থানেই মুক্তি দিলেন যখন তিনি তাদের আবাসস্থলেই অবস্থান করছিলেন।
অন্য বর্ণনায়: তিনি তাকে নিয়ে নিজ গোত্রের ভূমিতে পৌঁছালেন। তখন তার স্বামী ও ভাই অনুপস্থিত ছিল। সংবাদ তাদের কাছে পৌঁছালে তারা তাকে খুঁজতে বের হলেন এবং শেষ পর্যন্ত তার কাছে পৌঁছালেন। তিনি (হুদাইল) বললেন, "সিদ্ধান্ত আমার এবং তোমাদের মাঝখানে; যদি সে চায় তবে তোমাদের অনুসরণ করবে, আর যদি সে অপছন্দ করে তবে আমি তাকে তোমাদের দেব না।" তারা বলল, "আজ আমরা বিষয়টি ভেবে দেখি।" এরপর তারা বনু তাগলিব গোত্রের এক ব্যক্তির কাছে এল এবং তাকে বিষয়টি খুলে বলে আশ্রয় প্রার্থনা করল। সে তাদের আশ্রয় দিল। সে তাদের সাথে নিয়ে হুদাইলের কাছে গেল এবং বলল, "আপনি তো এই লোকদের যা দেওয়ার (প্রতিশ্রুতি) তা দিয়েছেন, আমি কি তাদের ওয়াদা পূর্ণ করার বিষয়ে আপনার বিপরীতে তাদের আশ্রয় দিতে পারি?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" অতঃপর তাকে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হলে সে বলল, "আল্লাহর কসম, আমি আমার স্বামীকে ত্যাগ করে তাকে অসহায় করব না এবং আমার ভাইয়ের মাথাও হেয় করব না।" তখন তিনি তাকে তাদের হাতে সোপর্দ করলেন এবং তারা তাকে নিয়ে ফিরে গেল। তখন হুদাইল বললেন:
আমি বনু কুজ ও বনু হাজারের বিভিন্ন শাখা হতে ত্রিশজন নারীকে মুক্তি দিয়েছি
… যাদের আবরু কোনো গোপন কলঙ্কে ক্ষুণ্ণ হয়নি।
আর সুন্দরী মানজুরাকে আমি নিজের জন্য মনোনীত করেছিলাম
… কিন্তু যখন তার প্রিয়জন আমার নিকট এল, আমি তাকে মুক্তি দিয়ে দিলাম।
এরপর হুদাইলের মন তার প্রতি লালায়িত হলো, ফলে তিনি পুনরায় বনু দাব্বা গোত্রের ওপর আক্রমণ করলেন যখন তারা জি-বুহদা নামক স্থানে অবস্থান করছিল।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٦١)
وأودية الحريم وقد جمع لهم جمعًا عظيمًا من النمر وتغلب وإياد فأرسلوا، فاستصرخوا بني سعد بن زيد مناة بن تميم فالتقوا فقتل من بني تغلب ناس، وانهزموا أسوأ الهزيمة، وأسر يومئذ يزيد بن حذيفة من بني مرَّة بن عبيد بن الحارث بن كعب بن سعد بن زيد مناة الهذيل. وأسر عامر بن شقيق حسان بن الهذيل، فأوثقه في البيت، وكانت بنته فريعة بنت عامر منَّ عليها الهذيل يوم أخذها وهي من الثلاثين. فلما خرج أبوها من البيت حلت وثاقه، وأطلقته، وحملته، وأسر حصين بن عويَّة أحد بني كوز شبيب بن الهذيل وجعيس بن الهذيل. وأسر ابنا ناشرة بن زهير بن جندل بن نهشل، وهما عبد الله وعبد الحارث - وكانا مجاورين في بني ضبة - مشول بن الهذيل؛ فأما حصين بن عوية فإنه كانت عنده أسماء ابنة عمرو الغاضرية وكان الهذيل قد أسر مالكًا الغاضري، فدفع إليهم شبيبًا وهبه لهم، فبادلوا به ابن الهذيل وزادوا على ابن الهذيل ثلاثين من الإبل. وأما الهذيل فإنه منَّ عليه يزيد بن حذيفة فأثابه ثلثمائة من الإبل. وأما مشول فإن ابن الغريزة أخا بن جندل بن نهشل فكانت أمه أخيذة من بني تغلب، فأتاهم الهذيل في ابنه يطلب إليه أن يفاديه أو يمنَّ عليه، فوعده أن يفعل، فلما طال
হারিমের উপত্যকাসমূহ; তাদের বিরুদ্ধে নামির, তাগলিব ও ইয়াদ গোত্রের এক বিশাল বাহিনী একত্রিত করা হয়েছিল। তারা সাহায্যের আবেদন জানিয়ে বনু সা’দ বিন যায়েদ মানাত বিন তামীমের কাছে লোক পাঠাল। অতঃপর তারা যুদ্ধে লিপ্ত হলো এবং বনু তাগলিবের অনেক লোক নিহত হলো এবং তারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলো। সেদিন বনু মুররা বিন উবাইদ বিন আল-হারিস বিন কাব বিন সা’দ বিন যায়েদ মানাত গোত্রের ইয়াযিদ বিন হুযায়ফা হুযাইলকে বন্দী করেন। আমির বিন শাকীক হুযাইলের পুত্র হাসানকে বন্দী করে ঘরে বেঁধে রাখেন। আমিরের কন্যা ফুরাইআ বিনতে আমিরের প্রতি হুযাইল ইতিপূর্বে অনুগ্রহ করেছিলেন যখন তিনি তাকে ত্রিশজন বন্দীর সাথে ধরে নিয়েছিলেন। অতঃপর যখন তার পিতা ঘর থেকে বের হলেন, তখন সে তার (হাসানের) বাঁধন খুলে দিল, তাকে মুক্ত করল এবং তাকে বহন করে নিয়ে গেল। বনু কুযের অন্যতম সদস্য হুসাইন বিন আউইয়্যাহ হুযাইলের দুই পুত্র শাবীব ও জুআইসকে বন্দী করেন। আর নাশিরা বিন যুহাইর বিন জানদাল বিন নাহশালের দুই পুত্র—আবদুল্লাহ ও আবদুল হারিস, যারা বনু দ্বাব্বাহ গোত্রে অবস্থান করছিল—তারা হুযাইলের পুত্র মাশওয়ালকে বন্দী করল। হুসাইন বিন আউইয়্যাহর নিকট আমর আল-গাদারিয়ার কন্যা আসমা ছিলেন। ইতিপূর্বে হুযাইল মালিক আল-গাদারিকে বন্দী করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাদের নিকট শাবীবকে সমর্পণ করলেন এবং তাকে তাদের হাতে তুলে দিলেন। বিনিময়ে তারা হুযাইলের পুত্রকে ফেরত দিল এবং হুযাইলের পুত্রের প্রাণের বিনিময়ে আরও অতিরিক্ত ত্রিশটি উট প্রদান করল। আর হুযাইলের ওপর ইয়াযিদ বিন হুযায়ফা অনুগ্রহ করেন এবং তাকে তিনশত উট প্রতিদান স্বরূপ দান করেন। মাশওয়ালের বিষয়ে কথা হলো, ইবনুল গারীযাহ—যিনি জানদাল বিন নাহশালের ভাই ছিলেন এবং যার মা বনু তাগলিব গোত্রের একজন বন্দিনী ছিলেন—তার কাছে হুযাইল নিজের পুত্রের বিষয়ে আসলেন এবং তার নিকট মুক্তিপণ নিয়ে বা অনুগ্রহ করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেন। তিনি তা করার প্রতিশ্রুতি দিলেন। অতঃপর যখন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো—
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
ذلك عليه قال:
ألكني وفر لابن الغريزة عرضه
… إلى خالد من آل سلمى بن جندل
فما ابتغى في مالك بعد دارم
… وما ابتغى في دارم بعد نهشل
وما أبتغي في نهشل غير جندل
… إذا ما دعا الداعي لأمر مجلل
وما ابتغى في جندل بعد خالد
… لطارق ليل أو لعان مكبل
فأتى خالدًا، فأنشده، فأعطى ابن ناشرة مئة من الإبل، وأطلقه للهذيل، فقال في ذلك أشرس بن بشامة بن حزن النهشلي:
نحن رددنا ابن الهذيل لقومه
… به أثر الأغلال تدمي مناكبه
أخذنا به أحدوثةً لا تشينكم
… إذا ما حديث الصدق نثَّت غرائبه
41 قيس وخندف إن عددت فعالهم
… خير وأكرم من أبيك فعالا
42 إن حرَّموك لتحرمنَّ على العدا
… أو حلَّلوك لتوكلنَّ حلالا
43 هل تملكون من المشاعر مشعرًا
… أو تتزلون من الأراك ظلالا
44 فلنحن أكرم في المنازل منزلا
… منكم وأطول في السماء جبالا
সে সম্পর্কে তিনি বলেন:
আমার বার্তা বাহক হও এবং ইবনে আল-গারিযার সম্মান রক্ষা করো
… সালমা বিন জানদালের বংশের খালিদের নিকট পৌঁছে দাও।
কেননা তিনি দারিমের পর মালিকের মাঝে কাউকে খোঁজেননি
… আর নাহশালের পর দারিমের মাঝে কাউকে খোঁজেননি।
আর নাহশালের মাঝে আমি জানদাল ব্যতীত অন্য কাউকে খুঁজি না
… যখন আহ্বানকারী কোনো গুরুতর বিষয়ের জন্য ডাক দেয়।
আর জানদালের মাঝে তিনি খালিদের পর কাউকে খোঁজেননি
… রাতের কোনো আগন্তুক কিংবা শিকলবদ্ধ কোনো বন্দীর জন্য।
অতঃপর তিনি খালিদের কাছে আসলেন এবং তাকে কবিতাটি শোনালেন; এতে তিনি ইবনে নাশিরাকে একশটি উট প্রদান করলেন এবং হুজাইলির জন্য তাকে মুক্তি দিলেন। এই বিষয়ে আশরাস বিন বাশামা বিন হুযন আল-নাহশালি বললেন:
আমরাই ইবনে হুজাইলকে তার কওমের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি
… তার ঘাড় তখনও শিকলের আঘাতে রক্তাক্ত ছিল।
আমরা এর মাধ্যমে এমন এক অনন্য কীর্তি অর্জন করেছি যা তোমাদের জন্য লজ্জার কারণ হবে না
… যখন সত্য সংবাদ তার সকল বিস্ময়কর ঘটনাসহ প্রচারিত হবে।
৪১ কাইস ও খানদাফ—যদি তুমি তাদের কার্যাবলি গণনা করো
… তবে কর্মের বিচারে তারা তোমার পিতার চেয়েও উত্তম ও অধিক মর্যাদাবান।
৪২ তারা যদি তোমাকে নিষিদ্ধ করে, তবে শত্রুদের জন্য তুমি নিশ্চিতভাবেই নিষিদ্ধ হয়ে যাবে
… আর তারা যদি তোমাকে অনুমতি দেয়, তবে তুমি বৈধ মনে করে ভক্ষিত হবে।
৪৩ পবিত্র স্থানসমূহের কোনো একটির কি তোমরা মালিক
… অথবা তোমরা কি আরাক বৃক্ষের ছায়াতলে অবস্থান করো?
৪৪ আমরা আবাসের দিক থেকে তোমাদের চেয়েও অধিক অভিজাত
… এবং উচ্চতার দিক থেকে আকাশে আমাদের পর্বতসমূহ অধিক দীর্ঘ।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
45 قدنا حزيمة قد علمتم عنوةً
… وشتا الهذيل يمارس الأغلالا
46 ورأت حسينة بالعداب فوارسي
… تحوي النِّهاب وتقسم الأنظالا
حسينة بنت جابر بن أبجر العجلي. والعداب: حيث استرق الرمل وانقطع، وهذا يوم أيضًا لبني عبد مناة بن أدّ بن طابخة على عجل وحنيفة: هذا يوم العداب، وهو يوم الصعاب:
فإنه كان من سبب هذا اليوم - يوم العداب - أن بني عبد مناة بن أد بن طابخة أغاروا على عجل وحنيفة بالأراكة، من أرض جو اليمامة، وقتل منهم كريز بن سوادة العجلي، قتله مالك بن حياط العكلي ثم الأقيشي، وقتل أثال بن علهام قتله أسامة بن عامر العكلي ثم الأقيشي، وسبيت حسينة بنت جابر بن بجير بن شريط العجلي أخت أبجر، وكانت تحت تمّام بن سوادة معرسًا بها، فسباها عمرو ابن الحارث بن أقيش العكلي، فلبثت عنده، ثم إن تمامًا زوجها وأباه سوادة أتياها ليفادياها فاختارت عمرو بن الحارث، وقالت في ذلك
৪৫ আমরা হুযাইমাকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে নিয়ে এসেছি, যেমনটি তোমরা জেনেছ
… আর হুযাইল শৃঙ্খলিত অবস্থায় শীতকাল অতিবাহিত করেছে।
৪৬ আর হুসায়নাহ আল-আদাব নামক স্থানে আমার অশ্বারোহীদের দেখেছিল
… তারা লুণ্ঠিত সম্পদ সংগ্রহ করছিল এবং লটারির তীর ভাগ করছিল।
হুসায়নাহ বিনতে জাবির ইবনে আবজার আল-ইজলি। আর আল-আদাব: যেখানে বালুরাশি পাতলা হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এটি বনু আবদ মানাত ইবনে উদ্দ ইবনে তাবিখার একটি যুদ্ধ দিবস যা ইজল এবং হানিফা গোত্রের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল। এটি আল-আদাব এর যুদ্ধ, যা আল-সি'আব এর যুদ্ধও বটে:
এই দিনের—অর্থাৎ আদাব যুদ্ধের—কারণ ছিল এই যে, বনু আবদ মানাত ইবনে উদ্দ ইবনে তাবিখা জাও আল-ইয়ামামা অঞ্চলের আরাকাহ নামক স্থানে ইজল এবং হানিফা গোত্রের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। তাদের মধ্য থেকে কুরাইজ ইবনে সাওয়াদাহ আল-ইজলি নিহত হন, তাকে মালিক ইবনে হাইয়াত আল-উক্লি অতঃপর আল-উকাশী হত্যা করেন। আর আছাল ইবনে আলহামকে উসামা ইবনে আমির আল-উক্লি অতঃপর আল-উকাশী হত্যা করেন। সেই যুদ্ধে হুসায়নাহ বিনতে জাবির ইবনে বুজাইর ইবনে শরীত আল-ইজলি বন্দী হন, যিনি ছিলেন আবজারের বোন। তিনি তাম্মাম ইবনে সাওয়াদাহর সাথে বিবাহিতা ছিলেন। আমর ইবনে আল-হারিস ইবনে উকাশ আল-উক্লি তাকে বন্দী করেন এবং তিনি তার কাছেই অবস্থান করেন। এরপর তার স্বামী তাম্মাম এবং তার পিতা সাওয়াদাহ তাকে মুক্ত করার জন্য বিনিময়মূল্য নিয়ে আসলেন, কিন্তু তিনি আমর ইবনে আল-হারিসকেই পছন্দ করে নিলেন এবং এই বিষয়ে তিনি বললেন—
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
حسينة تعير تمامًا زوجها:
تمَّام قد أسلمتني لرماحهم
… وحرجت تركض في عجاج القسطل
وتلومني أن لا أكرَّ إليكم
… هيهات ذلك منكم لا أفعل
إني وجدتكم تكون نساؤكم
… يوم اللقاء لمن أتاكم أول
ثم إن أخاها أبجر بن جابر أتاها بعدما ردت تمامًا وأباه، فلامها على اختيارها على قومها، فرضيت بالرجوع مع أخيها، ففاداها بمئة من الغبل وخمسة أفراس. وسار معها عمرو بن الحارث حتى جوزها أرض بني تميم، فقال في ذلك عمرو بن الحارث العكلي:
وخيَّرنا حسينة إذ أتاها
… سوادة ضارعًا معه الفداء
فقالت إن رجعت إلى لجيم
… مخايرةً، فقد ذهب الحياء
فما صبروا ولا عطفوا علينا
… وندعوهم، فما سمع النداء
وكنت مهيرةً فيكم فأمسى
… ومهري فيكم الأسل الظماء
وكانت صفوتي من سبي عجل
… حسينة من كواكب كالظباء
وهبناها لأبجر إذ أتانا
… وفينا غيرها منهم نساء
فكان ثوابه منها جيادًا
… وسوق هنيدة فيها رعاء
হাসাইনা তার স্বামী তাম্মামকে তিরস্কার করে বলছেন:
হে তাম্মাম! তুমি আমাকে তাদের বর্শার মুখে সঁপে দিয়েছ
… আর তুমি রণক্ষেত্রের ধূলার মাঝে দৌড়ে পালিয়ে গিয়েছ।
তুমি আমাকে তিরস্কার করছ কেন আমি তোমাদের দিকে ফিরে আসলাম না
… অসম্ভব! তোমাদের সাথে এমন কাজ আমি কখনো করব না।
নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এমন পেয়েছি যে, যুদ্ধের দিনে তোমাদের নারীরা
… তারই হয়ে যায় যে তাদের কাছে প্রথম পৌঁছায়।
অতঃপর যখন তিনি (হাসাইনা) তাম্মাম ও তার পিতাকে প্রত্যাখ্যান করলেন, তখন তার ভাই আবজার বিন জাবির তার কাছে এলেন। তিনি নিজ গোত্রের বিপরীতে অন্যদের বেছে নেওয়ার কারণে তাকে ভর্ৎসনা করলেন। এরপর তিনি তার ভাইয়ের সাথে ফিরে যেতে সম্মত হলেন। তখন তিনি একশ উট ও পাঁচটি ঘোড়া দিয়ে তাকে মুক্ত করলেন। আমর বিন আল-হারিস তার সাথে চললেন যতক্ষণ না তিনি তাকে বনু তামীমের ভূখণ্ড পার করে দিলেন। এ সম্পর্কে আমর বিন আল-হারিস আল-উক্বলী বলেন:
আমরা হাসাইনাকে ইখতিয়ার দিয়েছিলাম যখন সাওয়াদা
… বিনয়াবনত হয়ে মুক্তিপণ নিয়ে তার কাছে এসেছিল।
তখন সে বলল: যদি আমি স্বেচ্ছায় লুজায়িমের কাছে ফিরে যাই
… তবে তো লজ্জাবোধই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
তারা ধৈর্য ধরেনি এবং আমাদের প্রতি সহমর্মিতাও দেখায়নি
… আমরা তাদের ডেকেছিলাম, কিন্তু সেই ডাক শোনা হয়নি।
আমি তোমাদের মাঝে এক উচ্চমর্যাদাবান স্ত্রী ছিলাম, অথচ এখন
… তোমাদের মাঝে তৃষ্ণার্থ বর্শাই আমার মোহরানা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইজল গোত্রের বন্দীদের মধ্যে আমার পছন্দ ছিল
… হাসাইনা, যে ছিল হরিণীর ন্যায় উজ্জ্বল তারকাদের একজন।
যখন আবজার আমাদের কাছে এল, তখন আমরা তাকে তার (হাসাইনার) কাছে সঁপে দিলাম
… অথচ আমাদের কাছে তাদের আরও নারী বন্দী ছিল।
তার পক্ষ থেকে এর প্রতিদান ছিল উৎকৃষ্ট সব ঘোড়া
… এবং রাখালসহ একশ উটের পাল।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
47 أوجدت فينا غير غدر مجاشع
… مجرِّ جعثن والزُّبير مقالا
48 ولوانَّ تغلب جمَّعت أحسابها
… يوم التفاضل لم تزن مثقالا
49 نبِّيت تغلب ينكحون رجالهم
… وترى نساؤهم الحرام حلالا
50 لا تطلبنَّ خؤولة في تغلب
… فالزنج أكرم منه أخوالا
51 وريمت هضبتنا بأفوق ناصل
… تبغي النضال فقد لقيت نضالا
أراد بسهم لا فوق له ولا نصل. الهضبة: الجبل، والأفوق: الذي لا فوق له. والناصل: الذي لا نصل له، وأنشد لعبد الله بن عنمة الضَّبي:
عميرة فاق السهم بيني وبينه
… فلا يطمعنَّ الخمر إن هو أصعدا
ويقال: فاق السهم وفوق فوقًا، وإنفاق انفياقًا وفووقًا.
51 إن كنت رمت من السَّفاهة عزَّنا
… تبغي الفضال فقد وجدت فضالا
52 لولا الجزي قسم السَّواد وتغلب
… في المسلمين فكنتم أنفالا
الجزى: جمع جزية. والأنفال: الغنائم.
47 তুমি কি মুজাশে’র মাঝে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছু পেয়েছ
… যা জা’সান এবং যুবায়েরের কুৎসা রটনার অবকাশ দেয়?
48 আর যদি তাগলিব গোত্র শ্রেষ্ঠত্ব বিচারের দিনে তাদের সকল আভিজাত্য একত্র করত
… তবে তা ওজনে একটি তিল পরিমাণও হতো না।
49 আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তাগলিবের পুরুষেরা পুরুষদের সাথে কুকর্মে লিপ্ত হয়
… এবং তাদের নারীরা হারামকে হালাল মনে করে।
50 তুমি তাগলিব গোত্রের মাঝে কখনও মামাবংশ খুঁজো না
… কারণ কৃষ্ণাঙ্গরাও মামাবংশের দিক থেকে তাদের চেয়ে অধিক সম্মানিত।
51 আমাদের পাহাড়কে এমন এক খাঁজহীন ও ফলকহীন তীরের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে
… তুমি লড়াই চেয়েছিলে, এখন লড়াইয়েরই মুখোমুখি হয়েছ।
তিনি এমন এক তীর বুঝিয়েছেন যার কোনো খাঁজ নেই এবং কোনো ফলক নেই। ‘হাদাবাহ’ অর্থ: পাহাড়। ‘আফওয়াক’ অর্থ: যার তীরের খাঁজ নেই। ‘নাসিল’ অর্থ: যার কোনো ফলক নেই। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আনামাহ আদ-দাব্বির কবিতা থেকে পাঠ করেছেন:
হে উমাইরাহ, আমার ও তার মধ্যে তীরের খাঁজ ভেঙে গেছে
… অতএব সে যেন মদের লালসা না করে যদি সে প্রস্থান করে।
বলা হয়: তীরের খাঁজ ভেঙে যাওয়া এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ভাষাগত রূপ ও ক্রিয়ামূল আরব্য ব্যাকরণে প্রচলিত আছে।
51 যদি তুমি নির্বুদ্ধিতার কারণে আমাদের সম্মানের ওপর চড়াও হতে চাও
… এবং শ্রেষ্ঠত্ব তালাশ করো, তবে তুমি প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্বেরই দেখা পেয়েছ।
52 যদি মুসলমানদের মাঝে সাওয়াদ অঞ্চল এবং তাগলিব গোত্রের জন্য জিজিয়া নির্ধারিত না থাকত
… তবে তোমরা অবশ্যই যুদ্ধলব্ধ গনিমত হিসেবে গণ্য হতে।
‘জিজা’ হলো জিজিয়ার বহুবচন। আর ‘আনফাল’ অর্থ হলো গনিমত বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
2وقال يمدح الوليد بن عبد الملك، ويذكر هدم الكنيسة: وذلك أن الوليد دخل مسجد الجامع، فصلى العصر بدمشق، فسمع قراءة النصارى في كنيستهم، وكانت إلى جنب المسجد وذلك أن دمشق فتح بعضها عنوة وبعضها بالصلح، فكان المسجد في الجانب الصلح، فلم يمكنهم هدم الكنيسة لحال الصلح، فلما هدمها الوليد بيده، ثم أمر بهدمها، أضافها إلى المسجد، وأنفق عليه أربعين ألف ألف. فكتب إليه ملك الروم: إنك قد هدمت كنيسة قد كان من قبلك تركها، فإن كانوا أصابوا فقد أخطأت، وإن كانوا أخطأوا فقد أصبت. فبعث إلى الزُّهري يسأل عن الجواب في هذا.
فقال: اكتب إليه قصة داود وسليمان إذ يحكمان في الحرث والغنم. فلما قام عمرو بن عبد العزيز أتاه النصارى فتظلموا إليه من الصلاة
২তিনি ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের প্রশংসা করে এবং গির্জা ভেঙে ফেলার কথা উল্লেখ করে বলেন: আর তা এই কারণে যে, ওয়ালিদ জামে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং দামেস্কে আসরের সালাত আদায় করলেন। তখন তিনি তাদের গির্জায় নাসারাদের পাঠ শুনতে পেলেন, আর তা ছিল মসজিদের পাশেই। এর কারণ এই যে, দামেস্কের কিছু অংশ বলপ্রয়োগে বিজিত হয়েছিল এবং কিছু অংশ সন্ধির মাধ্যমে। ফলে মসজিদটি সন্ধিভুক্ত অংশে থাকায় সন্ধির চুক্তির কারণে তাদের পক্ষে গির্জাটি ভেঙে ফেলা সম্ভব ছিল না। অতঃপর যখন ওয়ালিদ নিজ হাতে তা ভাঙলেন এবং এরপর তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন, তখন তিনি তা মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করে দিলেন এবং এর জন্য চার কোটি (মুদ্রা) ব্যয় করলেন। অতঃপর রোম সম্রাট তাকে লিখে পাঠালেন: আপনি এমন একটি গির্জা ভেঙে ফেলেছেন যা আপনার পূর্ববর্তীরা অক্ষত রেখেছিলেন। তারা যদি সঠিক হয়ে থাকেন তবে আপনি ভুল করেছেন, আর তারা যদি ভুল করে থাকেন তবে আপনি সঠিক করেছেন। তখন তিনি ইমাম যুহরীর নিকট এই বিষয়ে উত্তরের জন্য লোক পাঠালেন।
তিনি বললেন: তাকে দাঊদ ও সুলায়মানের সেই কাহিনীটি লিখে পাঠান যখন তারা শস্যক্ষেত ও মেষপাল নিয়ে বিচার করছিলেন। অতঃপর যখন উমর বিন আব্দুল العزيز দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন, তখন নাসারারা তাঁর নিকট এসে সালাত (বা মসজিদের স্থান) সম্পর্কে অভিযোগ পেশ করল।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
في كنيستهم، وأنهم لا يحلون له الصلاة فيها فقال: أمهلوني إلى غد. فاستشار في ذلك، فقيل له: هذه كنائس في الجانب المأخوذ عنوة، فادعهم إلى بناء الكنيسة كما كانت، واهدم تلك الكنائس فابنها مساجد. فلما أتوه، عرض هذا عليهم، وقال لهم: نحن نهدم الكنائس التي أخذناها عنوة، ونعيد هذا المسجد كنيسة كما كان. قالوا: لا، ولكنا نصفح عن المسجد، ونحل الصلاة فيه، واتركوا لنا كنائسنا، ففعل، فقال جرير:
1 حيِّ الديار بعاقل فالأنعم
… كالوحي في رقّ الزَّبور المعجم
عاقل: واد لبني أبان بن دارم. والأنعم: بالعالية. يقال أعجمت الكتاب أعجمه: إذا نقطته.
2 طلل تجرُّ به الرياح سواريا
… والمدجنات من السِّماك المرزم
أبو عبد الله: المرزم، ويروى: المرزم. السواري: التي تأتيها ليلًا، والمدجنات: الأسمية المواطر، وهي جماعة سماء. يريد ما أمطر بنوء السِّماك، والمرزم مرزم السماك: وهو منزل القمر، والمرزم: الكثير الرعد.
3 عفَّى المنازل كلُّ جون ماطر
… وكل معصفة حصاها يرتمي
তাদের গির্জায়, এবং তারা তাতে তাঁর জন্য সালাত আদায় করা বৈধ মনে করছিল না। তখন তিনি বললেন: আমাকে আগামীকাল পর্যন্ত অবকাশ দাও। অতঃপর তিনি এ বিষয়ে পরামর্শ করলেন। তাঁকে বলা হলো: এগুলো বিজিত অঞ্চলে অবস্থিত গির্জা। সুতরাং আপনি তাদের গির্জাটি পূর্বের ন্যায় নির্মাণ করার প্রস্তাব দিন এবং ওই গির্জাগুলো ভেঙে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করুন। যখন তারা তাঁর নিকট এল, তিনি তাদের কাছে এটি পেশ করলেন এবং বললেন: আমরা বলপূর্বক বিজিত অঞ্চলে অবস্থিত গির্জাগুলো ভেঙে ফেলব এবং এই মসজিদটিকে পূর্বের ন্যায় গির্জায় রূপান্তর করব। তারা বলল: না, বরং আমরা মসজিদের বিষয়টি মেনে নিচ্ছি এবং সেখানে সালাত আদায় করাকে বৈধ ঘোষণা করছি, আর আপনি আমাদের গির্জাগুলো আমাদের জন্য রেখে দিন। তিনি তাই করলেন। তখন জারির বললেন:
১. আকিল ও আনআমের ঘরবাড়িকে অভিবাদন জানাও
… যেমন জাবুরের চামড়ার পাতায় লিখিত সুস্পষ্ট ওহী।
আকিল: বনু আবান বিন দারিমের একটি উপত্যকা। আনআম: উচ্চভূমিতে অবস্থিত একটি স্থান। বলা হয়, 'আমি কিতাবটি আজামতু করেছি' অর্থাৎ যখন আমি তাতে নুকতা (ফোটা) প্রদান করেছি।
২. এটি এমন এক ধ্বংসস্তূপ যেখানে বায়ু রাতের মেঘমালাকে উড়িয়ে আনে
… এবং সিমেক নক্ষত্রের গর্জনকারী অন্ধকার বৃষ্টিবাহী মেঘকে।
আবু আবদুল্লাহ বলেন: শব্দটি আল-মুরজিম, আবার আল-মিরজামও বর্ণিত হয়েছে। সাওয়ারি: যা রাতে আসে। মুদজিনাতি: বর্ষণকারী মেঘমালা, এটি সামা-এর বহুবচন। তিনি সিমেক নক্ষত্রের প্রভাবে বর্ষিত বৃষ্টি বুঝিয়েছেন। আর মুরজিম হলো সিমেকের গর্জনকারী অংশ, যা চন্দ্রের একটি মঞ্জিল। মুরজিম অর্থ অধিক বজ্রপাতকারী।
৩. প্রতিটি বৃষ্টিবাহী কালো মেঘ এই আবাসস্থলকে মুছে দিয়েছে
… এবং প্রতিটি প্রবল বাতাস যার দ্বারা কঙ্করাশি নিক্ষিপ্ত হয়।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
عفَّى: درس. والجون ها هنا السحاب الأسود. والمعصفة: الريح الشديدة الهبوب، ويقال: أعصفت الريح وعصفت وهي معصفة وعاصف، ويقال أعصفت الناقة في سيرها: إذا أسرعت. روى عمارة: كل جون قاطر. وروى أيضًا: أو كل معصفة، فر من الزحاف
4 أصرمت حاجتك التي قضَّيتها
… ومع الظعائن حاجة لم تصرم
صرمت: قطعت. والظعائن: النساء في الهوادج.
5 بقر أوانس لم تصب غرَّاتها
… نبل الرُّماة ولا رماح المستمي
الأسماء: أن تؤتى الوحش في كنسها في أشد ما يكون من الحر، فتهيج حتى تخرج منها، ثم يتنحى عنها حتى تعود، يفعل بها ذلك مرارًا حتى تهرج فلا تفارق الكنس، ثم يهجم عليها فيطعن أو يرمى الظباء وهي تكذب أعينها وتصدق أنفها. عمارة: لم تصب غراته.
6 أخلفن كلَّ متيَّم منَّينه
… وجفون منزلة الرهين المغرم
7 إن البغيض له منازل عندنا
… ليست كمنزلة المحب المكرم
8 ما نظرةٌ لك يوم تجعل دونها
… فضل الرداء وتتقى بالمعصم
أراد: أيُّ نظرة، تعجبًا، كما قال النابغة:
আফফা: বিলীন হওয়া বা চিহ্ন মিটে যাওয়া। আর এখানে ‘আল-জাওন’ হলো কালো মেঘ। ‘আল-মু’সিফাহ’ হলো প্রবল বেগে প্রবাহিত বাতাস। বলা হয়: বাতাস প্রবলভাবে প্রবাহিত হয়েছে, তখন একে ‘মু’সিফাহ’ বা ‘আসিফ’ বলা হয়। আরও বলা হয়: উষ্ট্রী তার চলনে দ্রুত হয়েছে, যখন সে গতি বৃদ্ধি করে। উমারা বর্ণনা করেছেন: প্রত্যেক বর্ষণকারী কালো মেঘ। আরও বর্ণিত হয়েছে: অথবা প্রত্যেক প্রবল বাতাস, ছন্দের বিচ্যুতি থেকে বাঁচার জন্য।
৪. তুমি কি তোমার সেই প্রয়োজন ছিন্ন করেছ যা তুমি পূরণ করেছিলে
… অথচ হাওদাজে আরোহিত রমণীদের নিকট এমন এক প্রয়োজন রয়ে গেছে যা ছিন্ন করা হয়নি।
সারামতা: তুমি ছিন্ন করেছ। আল-যাআইন: হাওদাজে আরোহিত নারীগণ।
৫. তারা যেন পোষা বন্য গাভী যাদের অসতর্ক মুহূর্তগুলোকে আঘাত করতে পারেনি
… শিকারিদের তীর কিংবা শিকারির বর্শা।
আল-আসমা: প্রচণ্ড গরমে বন্য পশুর বিশ্রামের স্থানে যাওয়া, ফলে তারা উত্তেজিত হয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে, তারপর সে তাদের থেকে সরে যায় যতক্ষণ না তারা পুনরায় ফিরে আসে। সে তাদের সাথে বারবার এমনটি করতে থাকে যতক্ষণ না তারা ক্লান্ত-বিহ্বল হয়ে পড়ে এবং বিশ্রামের জায়গা ত্যাগ করে না। এরপর সে তাদের ওপর চড়াও হয় এবং বর্শা বিদ্ধ করে অথবা হরিণকে তীর মারে, এমতাবস্থায় হরিণ তার চোখকে অবিশ্বাস করে এবং ঘ্রাণশক্তিকে সত্য বলে গণ্য করে। উমারা বর্ণনা করেছেন: তার অসতর্কতা আঘাত পায়নি।
৬. তারা তাদের আকাঙ্ক্ষা জাগানিয়া প্রত্যেক প্রেমিকের সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করেছে
… আর ঋণে জর্জরিত বন্ধক রাখা ব্যক্তির ন্যায় তার চোখের পলক নিপতিত।
৭. নিশ্চয়ই আমাদের নিকট অপ্রিয় ব্যক্তির জন্য এমন মর্যাদা রয়েছে
… যা কোনো সম্মানিত প্রিয় পাত্রের মর্যাদার মতো নয়।
৮. তোমার সেই দৃষ্টি কেমন ছিল যেদিন সে নিজের সামনে আড়াল করেছিল
… চাদরের অতিরিক্ত অংশ এবং কবজি দিয়ে নিজেকে রক্ষা করছিল।
তিনি বুঝিয়েছেন: বিস্ময় প্রকাশ করে ‘কেমন দৃষ্টি’ বলা, যেমন নাবিগাহ বলেছিলেন:
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
سقط النصيف ولم يرد إسقاطه
… فتناولته واتقتنا باليد
9 ولقد قطعت مجاهلا ومناهلا
… وجمام آجنها كلون العندم
المجاهل: الأرض المجهولة لا علم بها. والمناهل: المياه. والاجن: المتغير. وجمامها: ما اجتمع من مائها، يقال: جم الماء يجم جمومًا، وجم الفرس يجمُّ جمامًا، وجمام المكّوك إذا كان مستويًا، وجمامه أعلاه. والعندم: البقَّم.
10 وإذا المطوَّق باض في أرجائها
… حسبت نقائضه فلاق الحنتم
المطوق: الحمام، وأرجاء البئر: نواحيها ونقائضه: ما انقاض من قشر بيضه، وقشر البيض هو القيض بعينه. والحنتم: الكيزان الحمر والخضر.
11 إن الوليد خليفة لخليفة
… رفع البناء على البناء الأعظم
12 فعلا بناؤكم الذي شرفتم
… ولكم أباطح كل واد مفعم
13 كم قد قطعت إليك من ديمومة
… يهماء غفل ليلها كالأيهم
الديمومة: الأرض البعيدة التي يدوم فيها السير لبعدها. واليهماء. الملساء لا علم فيها، وكذاك الغفل، والأيهم: مشتق من الحجر الأملس. وقال عمارة: الأيهم: البحر، شبه سواد الليل بالبحر وظلمته.
14 وتركت ناجية المهارى زاحفًا
… بعد الزِّورَّة والجلال الأحزم
الناجية: السريعة. والزاحف: الكليلة، يقال: زحف وأزحف وهو
ওড়নাটি পড়ে গেল অথচ সে তা ফেলতে চায়নি
… সে তা তুলে নিল এবং হাত দিয়ে আমাদের থেকে নিজেকে আড়াল করল।
৯. আমি পাড়ি দিয়েছি অজানা প্রান্তর ও পানির উৎসসমূহ
… আর তার জমে থাকা দূষিত পানি ছিল লাল রঙের মতো।
মাজাহিল: এমন অপরিচিত ভূমি যার সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই। মানাহিল: পানির উৎসসমূহ। আজিন: স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া পানি। জিমাম: পানির সেই অংশ যা কোনো স্থানে জমা হয়; বলা হয়: পানি জমা হয়েছে। ঘোড়ার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয় যখন সে বিশ্রাম নিয়ে তেজি হয়। পরিমাপক পাত্র যখন কানায় কানায় পূর্ণ হয় তাকে জিমাম বলা হয়, আবার এর উপরিভাগকেও জিমাম বলে। ইন্দাম: লাল রঙের কাঠ বা রঞ্জক।
১০. যখন কোনো কণ্ঠীধারী ঘুঘু তার চারপাশ জুড়ে ডিম পাড়ে
… তখন তুমি তার ভাঙা ডিমের খোসাগুলোকে লাল ও সবুজ রঙের কলসির টুকরো মনে করবে।
মুতাউওয়াক: ঘুঘু বা কবুতর। আরজাউল বি'র: কূপের চারপাশ বা প্রান্তসমূহ। নাকাইদ: ডিমের খোসার যে অংশ ভেঙে খসে পড়েছে; আর ডিমের খোসাকেই মূলত 'কাইদ' বলা হয়। হানতাম: লাল ও সবুজ রঙের মাটির কলসি।
১১. নিশ্চয়ই ওয়ালিদ হলেন খলিফার উত্তরসূরী খলিফা
… তিনি মহান কাঠামোর ওপর সুউচ্চ সৌধ নির্মাণ করেছেন।
১২. ফলে তোমাদের সেই স্থাপনা উচ্চ হয়েছে যার মাধ্যমে তোমরা মর্যাদা লাভ করেছ
… আর প্রতিটি কানায় কানায় পূর্ণ উপত্যকার সমতল ভূমি তোমাদেরই অধিকারে।
১৩. তোমার পানে পৌঁছাতে আমি কতই না দীর্ঘ প্রান্তর পাড়ি দিয়েছি
… চিহ্নহীন এক প্রান্তর যার রাত ছিল সমুদ্রের মতো গভীর অন্ধকার।
দাইমুমা: অত্যন্ত দূরবর্তী প্রান্তর যেখানে দূরত্বের কারণে দীর্ঘক্ষণ পথ চলতে হয়। ইয়াহমা: মসৃণ প্রান্তর যেখানে কোনো পথনির্দেশক চিহ্ন নেই; 'গুফল' শব্দটিও একই অর্থ দেয়। আইয়াহাম: শব্দটি মসৃণ পাথর থেকে উদ্ভূত। উমারা বলেন: আইয়াহাম অর্থ সমুদ্র; এখানে রাতের কৃষ্ণতাকে সমুদ্রের বিশালতা ও অন্ধকারের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
১৪. আর আমি দ্রুতগামী শ্রেষ্ঠ উটনীকে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি
… দীর্ঘ আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম এবং পিঠের শক্ত জিনের ঘর্ষণের পর।
নাজিয়াহ: দ্রুতগামী। যাহিফ: ক্লান্ত বা পরিশ্রান্ত। বলা হয়: সে ক্লান্ত হয়েছে বা তাকে ক্লান্ত করা হয়েছে, আর সে হলো...
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
مزحف وزاحف والزِّورَّة: السريعة. والجلال: المسنّ. والأحزم: العظيم الصدر.
15 إن الوليد هو الإمام المصطفى
… بالنصر لز لواؤه والمغنم
16 ذو العرض قدَّر أن تكون خليفة
… ملِّكت فاعل على المنابر واسلم
17 ورث الأعنة والأسنة وانتمى
… في بيت مكرمة رفيع السُّلم
18 ورأيت أبنية خوت وتهدمت
… وبناء عرشك خالد لم يهدم
يعني الخلافة: أن قومًا طلبوها ففاتتهم وثبتت لكم: عبد الله بن الزبير منهم، وخالد بن يزيد بن معاوية، وعمرو بن سعيد الأشدق ابن سعيد بن العاص.
19 نزل النجاة وحل حيث تمنَّعت
… أعياصه، فلكل خير ينتمي
النجاة: العلو. والأعياص: التفاف أغصان الشجر. النجاة: الارتفاع وهو من النجوة مأخوذ. ويروى: نزل النجاد: وهو جمع نجد: وهو ما ارتفع من الأرض. والأعياص: بنو أمية: العاص وأبو العاص والعيص وأبو العيص.
মুজাহহাফ, জাহিফ এবং আয-যাওরাহ: দ্রুতগামী। আল-জালাল: বয়োবৃদ্ধ। আল-আহযাম: প্রশস্ত বক্ষবিশিষ্ট।
১৫. নিশ্চয়ই ওয়ালিদ হলেন মনোনীত ইমাম
… বিজয়ের সাথে তার ঝাণ্ডা এবং গনিমত সুসংহত হয়েছে।
১৬. আরশের অধিপতি নির্ধারণ করেছেন যে আপনি খলিফা হবেন
… আপনাকে রাজত্ব দান করা হয়েছে, অতএব মিম্বরসমূহে আরোহণ করুন এবং নিরাপদ থাকুন।
১৭. তিনি ঘোড়ার লাগাম ও বর্শার উত্তরাধিকারী হয়েছেন এবং সম্বন্ধযুক্ত হয়েছেন
… এক সম্মানীত গৃহে যার সিঁড়ি অত্যন্ত উচ্চ।
১৮. আমি দেখলাম অনেক অট্টালিকা শূন্য হয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে
… কিন্তু আপনার আরশের ইমারত চিরস্থায়ী, যা ধ্বংস হয়নি।
এর দ্বারা খিলাফতকে বুঝানো হয়েছে: অর্থাৎ একদল লোক তা অন্বেষণ করেছিল কিন্তু তা তাদের হাতছাড়া হয়ে যায় এবং আপনাদের জন্য তা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর, খালিদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মুয়াবিয়া এবং আমর ইবনে সাঈদ আল-আশদাক ইবনে সাঈদ ইবনে আস।
১৯. তিনি উচ্চস্থানে অবতরণ করেছেন এবং সেখানে অবস্থান নিয়েছেন যেখানে তার বংশীয় মূল সুদৃঢ় হয়েছে
… ফলে তিনি সকল কল্যাণের সাথেই সম্বন্ধযুক্ত।
আন-নাজাত: উচ্চতা। আল-আইয়াস: বৃক্ষের ডালপালার ঘন হয়ে পেঁচিয়ে থাকা। আন-নাজাত: উচ্চতা, এটি নাজওয়াহ শব্দ থেকে গৃহীত। বর্ণিত আছে: 'নাজলা আল-নিয়াদ': এটি নাজদ শব্দের বহুবচন: আর তা হলো ভূমির উঁচু অংশ। আল-আইয়াস: বনু উমাইয়া: আস, আবু আল-আস, আইস এবং আবু আল-আইস।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٧١)
20 عرف البريّة أن كل خليفة
… من فرع عيصك كالفنيق المقرم
الفنيق: الفحل يفنَّق للضراب ولا يركب وكذلك المقرم.
21 خزم الأنوف وقاد كلَّ عمارة
… صعب القياد مخاطر لم يخزم
العمارة: القبيلة والجمع عمائر.
22 وبنو الوليد من الوليد بمنزل
… كالبدر حفَّ بواضحات أنجم
23 ولقد سموت إلى النصارى سموةً
… رجفت لوقعتها جبال الديلم
24 إن الكنيسة كان هدم بنائها
… قسرًا فكان هزيمة للأخرم
الأخرم: ملك من ملوك الروم.
25 فأراك ربُّك إذ كسرت صليبهم
… نور الهدى وعلمت ما لم تعلم
وروى عمارة: وعلمت ما لم نعلم.
26 وإذا الكتائب أعلمت راياتها
… وكأنهن عتاق طير حوَّم
حوم: تحوم على الشيء. وروى أبو عبد الله: أعلنت يعني أظهرت، وأعلمت: سومت. وعتاق الطير: سباعها.
27 نطح الرءوس بهامة فتفرقوا
… عنها وعظم فراشها لم يهزم
الفراش: عظام صغار إذا كسر الرأس تطايرت. ويهزم: يكسر.
28 مردى الحروب إذا الحروب توقدت
… وحيًا إذا كثرت عماد الرزَّم
الحيا: الخصب والغيث. والرُّزَّم: المهازيل، تنهض هزالا فترفع
20 সৃষ্টিজগত জেনেছে যে প্রত্যেক খলিফা
… তোমার আভিজাত্যের শাখা থেকে এক শক্তিশালী উটের মতো।
আল-ফানিদ: এমন শক্তিশালী পুরুষ উট যাকে প্রজননের জন্য হৃষ্টপুষ্ট করা হয় এবং যার ওপর সওয়ার হওয়া হয় না। আল-মুাকরাম-ও তদ্রূপ।
21 তিনি নাক ছিদ্র করে (অর্থাৎ বশীভূত করে) প্রতিটি বড় গোত্রকে পরিচালনা করেন
… যারা ছিল অবাধ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ যাদের আগে কখনো বশ করা হয়নি।
আল-ইমারাহ: গোত্র, এর বহুবচন হলো আমাইর।
22 আর ওয়ালিদের সন্তানরা আল-ওয়ালিদের নিকট এমন মর্যাদায় আসীন
… যেন পূর্ণিমার চাঁদ যাকে ঘিরে রয়েছে উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি।
23 নিশ্চয়ই তুমি খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে এমন বিক্রমে অগ্রসর হয়েছ
… যার আঘাতে দাইলামের পাহাড়সমূহ প্রকম্পিত হয়েছিল।
24 গির্জার সেই দালান ভেঙে ফেলা হয়েছিল
… জবরদস্তিমূলকভাবে, যা ছিল আখরামের জন্য এক পরাজয়।
আল-আখরাম: রোমের রাজাদের মধ্য থেকে একজন রাজা।
25 যখন তুমি তাদের ক্রুশ চূর্ণ করেছিলে, তখন তোমার রব তোমাকে দেখিয়েছেন
… হেদায়েতের নূর এবং তুমি তা জেনেছিলে যা তুমি জানতে না।
উমারাহ বর্ণনা করেছেন: এবং তুমি তা জেনেছিলে যা আমরা জানতাম না।
26 যখন সেনাদলগুলো তাদের পতাকাকে চিহ্নিত করল
… তখন তাদের এমন দেখাচ্ছিল যেন ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন শিকারি পাখিগুলো আকাশে চক্কর দিচ্ছে।
হাওয়াম: কোনো কিছুর ওপর চক্কর দেওয়া। আবু আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন: ‘আ'লানাত’ অর্থাৎ প্রকাশ করেছে, আর ‘আ'লামাত’ অর্থাৎ চিহ্নিত করেছে। ‘ইতাকুত তাইর’ হলো শিকারি পাখি।
27 তিনি নিজের মস্তক দিয়ে শত্রুদের মস্তকে আঘাত করলেন এবং তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল
… অথচ মাথার সূক্ষ্ম হাড়গুলো চূর্ণবিচূর্ণ হয়নি।
আল-ফারাস: মাথার সূক্ষ্ম হাড় যা মাথা ভাঙলে ছিটকে পড়ে। আর ‘ইয়াহজিম’ অর্থ হলো ভেঙে ফেলা।
28 যুদ্ধের আগুন যখন প্রজ্বলিত হয় তখন তিনি তাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন
… আর যখন দুর্ভিক্ষে জীর্ণশীর্ণ পশুর সংখ্যা বেড়ে যায় তখন তিনি জীবনদায়ী বৃষ্টির মতো।
আল-হায়া: সজীবতা ও বৃষ্টি। আর ‘আর-রুজ্জাম’ হলো এমন দুর্বল পশু যারা দুর্বলতার কারণে নড়াচড়া করতে পারে না, ফলে তাদের টেনে তোলা হয়।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
بالعمد لهزالها حتى تقوم، واحدها رازم، وكذلك الرُّزَّح واحدها رازح، وقال الأعشى:
ومشى القوم بالعماد إلى الرَّز
… حي وأعيا المسيم أين المساق
المسيم: الراعي.
29 إني من المتنصِّفين سجالكم
… ينفحن من ثبج الفرات الأعظم
السجال: الدلاء فيها ماء. واحدها سجل، ولا يكون السجل سجلًا إلا وفيه ماء. والنفح: العطاء. وثبج الفرات: معظمه وأعلاه.
30 أرجو سوابق ذي فواضل منهم
… وأخاف صولة ذي شبول ضيغم
31 أشكو إليك وربما تكفونني
… عضَّ الزمان وثقل دين المغرم
32 برُّ البلاد مسخَّر يجبي لكم
… والبحر سخِّر بالجواري العوَّم
وروى عمارة؛ مسخر لجباتكم.
32 وترى الجفان يمدُّها قمع الذُّرا
… مدَّ الجداول بالأتىِّ المعفم
وروى عمارة: تمدُّ من قمع الذرا. قمعة السنام: أعلاه. والجداول: الأنهار، واحدها جدول، وكل نهر جار فهو أتى.
34 والقدر تنهم بالمحال وترتمي
… بالزور همهمة الحصان الأدهم
রোগা হওয়ার কারণে খুঁটি দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় যতক্ষণ না তারা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে; এর একবচন হলো 'রাযিম', একইভাবে 'রুজ্জাহ' এর একবচন হলো 'রাযিহ'। আল-আশা বলেছেন:
এবং লোকজন খুঁটি নিয়ে দুর্বল পশুগুলোর দিকে অগ্রসর হলো
… এবং রাখাল ক্লান্ত হয়ে পড়ল যে কোথায় তাদের হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে
আল-মুসিম: রাখাল।
২৯. আমি তোমাদের সেই বালতিগুলো থেকে অংশীদার হতে চাই
… যা সুউচ্চ ও মহান ফুরাত নদীর মধ্যভাগ হতে উথলে পড়ে
আস-সিজাল: সেই বালতিগুলো যাতে পানি রয়েছে। এর একবচন হলো 'সিজল'। বালতিতে পানি না থাকলে তাকে 'সিজল' বলা হয় না। আন-নাফহ: দান করা। সাবাজুল ফুরাত: এর মূল অংশ এবং এর উপরিভাগ।
৩০. আমি তাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অনুগ্রহের আশা করি
… এবং আমি সিংহশাবক বিশিষ্ট সিংহের আক্রমণকে ভয় করি
৩১. আমি আপনার নিকট অভিযোগ পেশ করছি, সম্ভবত আপনিই আমাকে রক্ষা করবেন
… সময়ের নিষ্ঠুরতা এবং ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণের বোঝা থেকে
৩২. ভূখণ্ডকে বশীভূত করা হয়েছে যা তোমাদের জন্য সম্পদ সংগ্রহ করে
… এবং সমুদ্রকে বশীভূত করা হয়েছে প্রবহমান জাহাজগুলোর মাধ্যমে
আর উমারা বর্ণনা করেছেন; 'তোমাদের কর আদায়কারীদের জন্য বশীভূত'।
৩২. এবং আপনি বড় বড় পাত্রগুলো দেখতে পাবেন যা কুঁজের উপরিভাগের চর্বি দ্বারা পূর্ণ করা হচ্ছে
… যেমন সয়লাবের পানি দিয়ে ছোট ছোট খালগুলোকে পূর্ণ করা হয়
আর উমারা বর্ণনা করেছেন: 'কুঁজের উপরিভাগ থেকে পূর্ণ করা হচ্ছে'। কামাতুস সানাম: এর উপরিভাগ। আল-জাদাভিল: ছোট ছোট নদী বা খাল, এর একবচন 'জাদওয়াল'। আর প্রতিটি প্রবহমান নদীই হলো 'আতি'।
৩৪. এবং বড় হাঁড়ি গোশতের কারণে শব্দ করে ফুটতে থাকে এবং উপচে পড়ে
… কালো ঘোড়ার হ্রেষারধ্বনির মতো প্রচণ্ড বেগে সংশ্লিষ্ট অংশের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٧٣)
المحال: فقار الظهر واحدها محالة، والزَّور: الصدر. ونهيمها: صوت غليانها. همهمة الفرس دون صهيلة وهي مثل الحمحمة، والرجل يهمهم في حديثه نفسه بكلام لا يفهم وهي الهينمة والهتملة والهيلمة والرهسة والإهلاس والأحناج والإحلاج، فأما الحمحمة فهي في الصدر دون اللسان.
আল-মাহাল: মেরুদণ্ডের হাড়সমূহ, যার একবচন হলো মাহালাহ। আয-যাওর: বক্ষদেশ। আর নাহীম হলো: এর টগবগ করার শব্দ। ঘোড়ার হামহামাহ হলো তার উচ্চৈঃস্বরে হ্রেষারবের চেয়ে নিচু স্বরে ডাক এবং এটি হামহামার মতোই। আর মানুষ যখন আপন মনে এমন অস্পষ্ট কথা বলে যা বোঝা যায় না, তাকেও হামহামাহ বলা হয়; আর এটি হাইনামাহ, হাতমালাহ, হাইলামাহ, রাহসাহ, ইহলাস, আহনাজ এবং ইহলাজ নামেও অভিহিত। পক্ষান্তরে হামহামাহ হলো যা জিহ্বা ব্যতিরেকে কেবল বক্ষদেশ হতে উৎপন্ন হয়।
(খণ্ড: ١)
দিওয়ানু জারীর বিশারহি মুহাম্মাদ বিন হাবীব
(পৃষ্ঠা: ٧٤)
3وقال جرير يعاتب جده الخطفى:
وذلك أنه استنحله من ماله، وكان جده ذا ما لكثير، فقال: أنحلك كما نحلت عميك عطاء وحزامًا، وكان ينحل كل واحد من بنيه إذا استنحله ربع ماله وكان ربع ماله تلك السنة قليلا، فتسخَّطه جرير وقال: قد صرت شيخًا من بنيك وأبا عيال، فعاتبه واستزاده، فلم يزده.
قال: وهذه الأبيات التي هجا بها الفرزدق في آخرها فيما كان بينه وبين غسان قالها جرير بعد هذه بعشرين سنة:
أخبر عمارة بن عقيل بن بلال بن جرير بهذا الحديث، ومغيرة بن حجناء بن نوح بن جرير.
1 ألا حيِّ رهبى ثم حيِّ المطاليا
… فقد كان مأنوسًا فأصبح خاليا
رهبى: موضع. والمطالى: حمع مطلاة: وهو ما انخفض واتسع من الأرض.
2 فلا عهد إلا أن تذكَّر أو ترى
… ثمامًا حوالي منصب الخيم باليا
৩এবং জারির তার দাদা খাতাফাকে ভর্ৎসনা করে বলেন:
আর তা এ কারণে যে, তিনি তার কাছে তার সম্পদ থেকে কিছু উপঢৌকন চেয়েছিলেন। তার দাদা প্রচুর সম্পদের মালিক ছিলেন। তিনি বললেন: "আমি তোমাকে ঠিক তেমনই দান করব যেমন আমি তোমার দুই চাচা আতা এবং হিযামকে দান করেছিলাম।" তিনি তার সন্তানদের প্রত্যেককে, যখনই তারা তার কাছে কিছু চাইত, তার সম্পদের এক চতুর্থাংশ দান করতেন। কিন্তু সেই বছর তার সম্পদের এক চতুর্থাংশ ছিল সামান্য। ফলে জারির এতে অসন্তুষ্ট হলেন এবং বললেন: "আমি আপনার সন্তানদের মধ্যে এখন বয়োজ্যেষ্ঠ হয়েছি এবং এক পরিবারের পিতা হয়েছি।" তাই তিনি তাকে ভর্ৎসনা করলেন এবং আরও বৃদ্ধির দাবি জানালেন, কিন্তু তিনি তাকে আর বাড়িয়ে দিলেন না।
তিনি বলেন: আর এই কবিতাগুলো, যার শেষাংশে তিনি ফারাযদাককে বিদ্রূপ করেছেন গাসসানের সাথে তার যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে, তা জারির এই ঘটনার বিশ বছর পর বলেছিলেন।
উমারা ইবনে আকীল ইবনে বিলাল ইবনে জারির এবং মুগীরা ইবনে হুজনা ইবনে নূহ ইবনে জারির এই বিবরণ প্রদান করেছেন।
১. ওহে, রাহবাকে অভিবাদন জানাও, অতঃপর আল-মাতালিকেও
… কেননা তা একসময় জনাকীর্ণ ছিল, এখন তা জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
রাহবা: একটি স্থানের নাম। আল-মাতালি: মাতলা-এর বহুবচন; আর তা হলো ভূমির নিচু ও প্রশস্ত অংশ।
২. স্মৃতিরোমন্থন অথবা জীর্ণ হয়ে যাওয়া তাবু গাড়ার খুঁটির চারদিকের তুমান (এক প্রকার ঘাস) দেখা ছাড়া (অতীতের) আর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।