(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
فضل رب البرية في شرح الدرر البهية   (علي الرملي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: فضل رب البرية في شرح الدرر البهية

المؤلف: أبو الحسن علي بن مختار الرملي

عدد الصفحات: 681

[الكتاب غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 ربيع الأول 1440

সৃষ্টিজগতের রবের অনুগ্রহ, আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ-র ব্যাখ্যায়   (আলী আর-রামলী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: সৃষ্টিজগতের রবের অনুগ্রহ, আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ-র ব্যাখ্যায়

লেখক: আবুল হাসান আলী বিন মুখতার আর-রামলী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮১

[বইটি মুদ্রিত নয়]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
- فَضْلُ رَبِّ الْبَرِيَّةِ -

في شَرْحِ

- الدُّرَرِ البَهِيَّةِ -

طبعة كاملة ومصححة

شرح

أبي الحسن علي الرملي

- عفا الله عنه بمنه وكرمه -
- সৃষ্টিজগতের রবের অনুগ্রহ -

এর ব্যাখ্যায়

- আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ -

পূর্ণাঙ্গ ও সংশোধিত সংস্করণ

ব্যাখ্যা করেছেন

আবু আল-হাসান আলী আল-রামলী

- আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও মহানুভবতায় তাঁকে ক্ষমা করুন -
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌مقدمة الشارح

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، أما بعد:

فقد منّ الله عليّ بشرح "الدرر البهية " التي ألفها محمد بن علي الشوكاني رحمه الله في الفقه الشرعي شرحاً صوتياً، وسُجلت الدروس وفُرغت، فانتفع بها الطلبة بفضل الله.

ولمّا رأيت النفع بها قد حصل، والطلبة أقبلوا عليها؛ عزمت على طباعتها؛ كي يعم النفع بها بإذن الله.

فقمت بمراجعة المفرغات، فصححتُ ما احتاجَ إلى تصحيح، وزدتُ وحذفتُ بعض الأشياء التي لابد منها، فمن المعلوم أن الشروح الصوتية ليست كالمكتوبة.

وأشكر كل من شارك في إخراج الكتاب على النحو الذي هو عليه.

وأخص بالذكر كلًّ مِن:

أبي عبد الله علي بداني الجزائري

وأبي زيد رياض الجزائري

وأبي حذيفة محمود الشيخ

وأبي حمزة محمد حرز الله

وزوجي أم الحسن بنت بسام الصادق.

وغيرهم ممن شارك في تفريغ الكتاب.

وأخيراً، أسأل الله أن ينفع به كما نفع بأصله، وأن ينفع بنا، ويجعلنا من دعاة الحق وأنصاره، إنه قريب مجيب.

 

المؤلف

أبو الحسن علي بن مختار الرملي

يوم 25/ 1/ 1436 هـ
ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম আল্লাহর রাসূলের ওপর বর্ষিত হোক। অতঃপর:

আল্লাহ তাআলা আমাকে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আশ-শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক শরয়ী ফিকহ বিষয়ে রচিত "আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ" গ্রন্থটির একটি মৌখিক ব্যাখ্যা প্রদান করার অনুগ্রহ দান করেছেন। এই পাঠগুলো রেকর্ড করা হয়েছিল এবং পরে তা অনুলিখন করা হয়েছে, ফলে আল্লাহর অনুগ্রহে ছাত্ররা এর দ্বারা উপকৃত হয়েছে।

যখন আমি দেখলাম যে এর মাধ্যমে উপকার সাধিত হচ্ছে এবং ছাত্ররা এর প্রতি আগ্রহী হয়েছে, তখন আমি এটি ছাপানোর সংকল্প করলাম; যাতে আল্লাহর অনুমতিতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয়।

তাই আমি অনুলিপিগুলো পর্যালোচনা করেছি, যেখানে সংশোধনের প্রয়োজন ছিল তা সংশোধন করেছি এবং কিছু অনিবার্য বিষয় যোগ ও বিয়োগ করেছি। কারণ এটি সবারই জানা যে, মৌখিক ব্যাখ্যাগুলো লিখিত ব্যাখ্যার মতো হয় না।

বইটি বর্তমান অবয়বে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, আমি তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।

বিশেষভাবে যাদের নাম উল্লেখ করছি তারা হলেন:

আবু আব্দুল্লাহ আলী বাদানী আল-জাযাইরি

আবু যায়েদ রিয়াদ আল-জাযাইরি

আবু হুযাইফাহ মাহমুদ আল-শাইখ

আবু হামযাহ মুহাম্মাদ হিরযুল্লাহ

এবং আমার স্ত্রী উম্মুল হাসান বিনতে বাসসাম আস-সাদিক।

এবং আরও যারা বইটির অনুলিখনে অংশগ্রহণ করেছেন।

পরিশেষে, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা তেমনি উপকার সাধন করেন যেমনটি তিনি এর মূল গ্রন্থের মাধ্যমে করেছেন, এবং তিনি যেন আমাদের মাধ্যমে অন্যদের উপকৃত করেন এবং আমাদের সত্যের আহ্বায়ক ও সাহায্যকারী হিসেবে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটবর্তী ও দুআ কবুলকারী।

 

লেখক

আবুল হাসান আলী বিন মুখতার আর-রামলী

২৫/ ১/ ১৪৩৬ হিজরী
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تعريف الفقه

‌‌‌‌الفقه لغةً ‌‌واصطلاحاً:

الفقه لغة: الفهم، قال الله تعالى {قالوا يا شعيب ما نفقه كثيراً مما تقول}.

 

واصطلاحاً، يختلف المعنى الشرعي للفقه عن المعنى الاصطلاحي عند الفقهاء والأصوليين.

‌‌فالفقه في الشرع: معرفةُ كلِّ ما جاء عن الله سبحانه وتعالى سواء كان في العقيدة أو الأعمال أو الأخلاق، أي كل ما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم.

‌‌وأما الفقه عند الأصوليين: فهو معرفة الأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية.

فالعقيدة عندهم ليست من الفقه، وكذلك معرفة الأحكام الشرعية العملية التي عُرِفت بالضرورة، كتحريم الزنا والربا ووجوب الصلاة، فهذه لا تسمى عند بعضهم فقهاً، وكذلك الأحكام التي عُرِفت بالتقليد، لا تسمى فقهاً عند البعض.

فعلى ذلك، فالفقيه عندهم هو من كانت له ملكة الاستنباط، أي عنده الآلة التي يتمكن بها من استنباط الأحكام الشرعية العملية من الأدلة التفصيلية، وهي أدلة الكتاب والسنة، وعنده قدرة على استعمال تلك الآلة.

 

‌‌وأما الفقه عند الفقهاء، فهو: معرفة الأحكام الشرعية العملية، بأدلتها التفصيلية، سواء كانت بالاستنباط أو بالتقليد أو بالضرورة، فكلها داخلة في الفقه، فهو أعم من الفقه بالمعنى الأصولي.
ফিকহের সংজ্ঞা

আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ফিকহ:

আভিধানিক অর্থে ফিকহ: বুঝা বা অনুধাবন করা। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা বলল, হে শুআইব! আপনি যা বলেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না}।

 

পারিভাষিক অর্থে, ফিকহের শরয়ী অর্থ ফকীহগণ ও উসুলবিদগণের নিকট প্রচলিত পারিভাষিক অর্থ থেকে ভিন্ন।

শরয়ী পরিভাষায় ফিকহ: মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তার জ্ঞান অর্জন করা, চাই তা আকীদা, আমল কিংবা আখলাক সংক্রান্ত হোক; অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সবটুকুই এর অন্তর্ভুক্ত।

আর উসুলবিদগণের নিকট ফিকহ: বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ থেকে আমল সম্পর্কিত শরয়ী বিধানসমূহ জানা।

তাদের নিকট আকীদা ফিকহের অন্তর্ভুক্ত নয়। অনুরূপভাবে, যেসব আমলী শরয়ী বিধান অপরিহার্যভাবে জানা যায় (জরুরিয়্যাতে দ্বীন), যেমন—ব্যভিচার ও সুদের হারম হওয়া এবং সালাত ওয়াজিব হওয়া—এসবের জ্ঞানকেও তাদের কারো কারো নিকট ফিকহ বলা হয় না। তেমনিভাবে তাকলীদের মাধ্যমে প্রাপ্ত বিধানসমূহকেও কারো কারো মতে ফিকহ বলা হয় না।

সে হিসেবে, তাদের নিকট ফকীহ হলেন ঐ ব্যক্তি যার ইস্তিনবাত বা মাসআলা উদ্ঘাটন করার যোগ্যতা রয়েছে। অর্থাৎ যার নিকট এমন জ্ঞান বা সরঞ্জাম রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি বিস্তারিত দলিলসমূহ—যা হলো কুরআন ও সুন্নাহর দলিল—থেকে আমল সংক্রান্ত শরয়ী বিধানসমূহ উদ্ঘাটন করতে সক্ষম এবং ঐ সরঞ্জামগুলো ব্যবহারের সক্ষমতা রাখেন।

 

আর ফকীহগণের নিকট ফিকহ হলো: আমল সংক্রান্ত শরয়ী বিধানসমূহকে সেগুলোর বিস্তারিত দলিলসহ জানা, চাই তা ইস্তিনবাত, তাকলীদ কিংবা অপরিহার্য জ্ঞানের মাধ্যমে হোক; এর সবই ফিকহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এটি উসুলবিদদের সংজ্ঞায়িত ফিকহ অপেক্ষা অধিক ব্যাপক।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
فعلى ذلك، من حفظ جملة من الأحكام الشرعية العملية، الواردة في الكتاب والسنة، والمجمع عليها؛ يسمى عند الفقهاء فقيهاً.

لكن هذا الحفظ - حفظ طائفة من الأحكام الشرعية -، غير متيسر للكثيرين في زماننا هذا، فقال بعض أهل العلم: الضابط في معرفة الفقيه في زماننا هذا أن يتمكن من معرفة موضع المسألة الفقهية، فإذا تمكن من ذلك يكون فقيهاً عند بعض الفقهاء.

ولكن الذي ينال الفضائل الواردة في تعلم العلم، ويحصل على مكانة العلماء وفضائلهم، ونرجو له أن يحشر خلف معاذ بن جبل، هو: من حقق المعنى الشرعي للفقيه، وكان عاملاً به

وأما الاصطلاحات فلا يُبنى عليها حكم شرعي، وإنما هي لتقريب العلم فقط.

ويُعَدُّ الفقه غايةً بالنسبة لعلوم الآلة، وثمرته العمل، فلا يصحّ عمل من غير علم (1)

فواجب على كل مسلم أن يتفقه قبل أن يعمل.

--------------------------------------------

(1) لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد».

أخرجه مسلم في «صحيحه» (1718) عن عائشة، وعلقه البخاري في «صحيحه» قبل الحديث رقم (7349)، وأخرجه البخاري (2697)، ومسلم (1718) بلفظ: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد».
সেই অনুযায়ী, যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহে বর্ণিত এবং ইজমা’কৃত ব্যবহারিক শরয়ী বিধানসমূহের একটি বড় অংশ মুখস্থ রাখেন, ফকীহদের নিকট তিনি ফকীহ হিসেবে অভিহিত হন।

কিন্তু এই মুখস্থকরণ—অর্থাৎ শরয়ী বিধানের একটি অংশ আত্মস্থ রাখা—আমাদের বর্তমান সময়ে অনেকের জন্যই সহজসাধ্য নয়। তাই কোনো কোনো আলেম বলেছেন: আমাদের বর্তমান সময়ে ফকীহ চেনার মানদণ্ড হলো, কোনো ফিকহী মাসআলার উৎসস্থল সম্পর্কে অবগত হতে সক্ষম হওয়া। যদি কেউ এতে সক্ষম হন, তবে কোনো কোনো ফকীহর নিকট তিনি ফকীহ হিসেবে গণ্য হবেন।

তবে ইলম অর্জনের ব্যাপারে বর্ণিত ফযীলতসমূহ এবং ওলামায়ে কেরামের সুউচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব যিনি লাভ করবেন—আর আমরা যাঁর সম্পর্কে আশা রাখি যে তাঁকে মুয়ায বিন জাবালের পেছনে হাশর করা হবে—তিনি হলেন সেই ব্যক্তি: যিনি 'ফকীহ' শব্দটির শরয়ী মর্মকে বাস্তবায়িত করেছেন এবং সেই অনুযায়ী আমল করেছেন।

আর পরিভাষাসমূহের ওপর কোনো শরয়ী হুকুম বা বিধান প্রতিষ্ঠিত হয় না, বরং এগুলো কেবল ইলমকে সহজ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

ফিকহকে সহায়ক শাস্ত্রসমূহের লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এর ফসল হলো আমল। সুতরাং ইলম ব্যতীত আমল সঠিক হয় না (১)।

অতএব, আমল করার পূর্বেই প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফিকহ বা দ্বীনি গভীর জ্ঞান অর্জন করা ওয়াজিব।

--------------------------------------------

(১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।"

এটি মুসলিম তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে (১৭১৮) আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বুখারী তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে ৭৩৪৯ নম্বর হাদীসের পূর্বে এটি মুআল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া বুখারী (২৬৯৭) ও মুসলিম (১৭১৮) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।"
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ترجمة الشوكاني

الشوكاني: هو أبو عبد الله أو أبو علي محمد بن علي الشوكاني ثم الصنعاني، من علماء اليمن، ولد عام 1173 هـ، ومات عام 1250 هـ، وهو من فقهاء المحدثين.

له عدة مؤلفات من أشهرها: «نيل الأوطار في شرح منتقى الأخبار»، وكتابه هذا «الدرر البهية» وشرحه «الدراري المضية».
আশ-শাওকানী-র পরিচিতি

আশ-শাওকানী: তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ অথবা আবু আলী মুহাম্মাদ বিন আলী আশ-শাওকানী অতঃপর আস-সানআনী। তিনি ইয়ামেনের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ১১৭৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৫০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ফকিহ মুহাদ্দিসগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো: «নাইলুল আওতার ফি শারহি মুনতাকাল আখবার», এবং তাঁর এই কিতাব «আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ» ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ «আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ»।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌«الدُّرَرُ البَهيَّة» للشوكاني

الدُّرر، جمع درة، وهي: اللؤلؤة العظيمة الكبيرة.

البهية: الحسنة الجميلة.

قال المؤلف رحمه الله: (بسمِ اللهِ الرحمنِ الرحيمِ)

ابتدأ المؤلف بالبسملة، اقتداء بكتاب الله تبارك وتعالى، وبسنة النبي صلى الله عليه وسلم فإنه عليه الصلاة والسلام كان يقتصر عليها في مراسلاته من دون الحمد، كما في كتابه لهرقل عظيم الروم (1).

وأما في خطبه صلى الله عليه وسلم فكان يبدأ بالحمد (2).

ومعنى البسملة هنا: أكتب مستعيناً بالله ذي الرحمة.

ثم قال رحمه الله: (أحمدُ مَنْ أمَرَنا بالتَّفَقُّه في الدين)

الذي أمرنا بالتفقه في الدين هو الله تبارك وتعالى، فقال سبحانه {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122].

وقال صلى الله عليه وسلم: «طلبُ العلمِ فريضةٌ على كل مسلمٍ» (3)

وقول النبي صلى الله عليه وسلم وحي من الله، فأمره أمر من الله؛ لأن الله تبارك وتعالى يقول: {وما ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى}.

والفقه في الدين يشمل علم العقيدة، وعلم الفقه، وعلم الأخلاق والآداب.

يحمدُ المؤلفُ اللهَ تبارك وتعالى، وقد عدل عن قوله (أحمدُ الله تبارك وتعالى إلى قوله: (أحمدُ من أمرنا بالتفقه في الدين) مع حمده لله في بداية تأليفه، إشارة منه رحمه الله إلى

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (2941) عن أبي سفيان بن حرب رضي الله عنه.

(2) أخرجه البخاري (86) و (467) و (923)، ومسلم (901) و (905) و (1017) عن جمع من الصحابة.

(3) أخرجه ابن ماجه (224) عن أنس رضي الله عنه، وروي عن جمع من الصحابة، أفضلها حديث أنس رضي الله عنه.

قال الإمام أحمد: «لا يثبت عندنا فيه شيء» «المنتخب من علل الخلال» (62)

وقال البيهقي: «متنه مشهور، وأسانيده ضعيفة، لا أعرف له إسناداً يثبت بمثله الحديث». المدخل إلى السنن الكبرى (325).

وانظر: «المقاصد الحسنة» (660) للسخاوي.
আশ-শাওকানি রচিত «আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ»

আদ-দুরার হলো 'দুররাহ'-এর বহুবচন, যার অর্থ: সুমহান ও বড় মুক্তা।

আল-বাহিয়্যাহ: সুন্দর ও চমৎকার।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে)

লেখক আল্লাহর কিতাব (তাবারাকা ওয়া তাআলা) এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে 'বিসমিল্লাহ' দিয়ে শুরু করেছেন। কেননা তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর পত্রালাপের ক্ষেত্রে হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) ব্যতীত কেবল এর (বিসমিল্লাহ) ওপর সীমাবদ্ধ থাকতেন, যেমনটি রোমের অধিপতি হিরাক্লিয়াসের কাছে পাঠানো তাঁর চিঠিতে পাওয়া যায় (১)।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর খুতবা বা ভাষণসমূহে হামদ বা আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করতেন (২)।

এখানে 'বিসমিল্লাহ'-এর অর্থ হলো: আমি দয়াময় আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে লিখছি।

অতপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আমি তাঁর প্রশংসা করি যিনি আমাদের দ্বীনের জ্ঞান বা ফিকহ অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন)

যিনি আমাদের দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি হলেন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা। সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর মুমিনদের পক্ষে একযোগে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের কওম যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে।} [আত-তাওবাহ: ১২২]।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ» (৩)

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি, তাই তাঁর নির্দেশ মানেই আল্লাহর নির্দেশ; কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলছেন: {আর তিনি নিজ খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না। এ তো ওহি, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।}।

দ্বীনের ফিকহ বা গভীর জ্ঞান আকিদাহ শাস্ত্র, ফিকহ শাস্ত্র এবং চরিত্র ও আদব সংক্রান্ত জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে।

লেখক আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার প্রশংসা করছেন। তিনি তাঁর রচনার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা করতে গিয়ে "আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি" কথাটির পরিবর্তে "আমি তাঁর প্রশংসা করছি যিনি আমাদের দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন" কথাটি ব্যবহার করেছেন, এর মাধ্যমে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ইঙ্গিত করেছেন যে

--------------------------------------------

(১) বুখারি (২৯৪১), আবু সুফিয়ান ইবন হারব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারি (৮৬), (৪৬৭) ও (৯২৩); এবং মুসলিম (৯০১), (৯০৫) ও (১০১৭), একদল সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইবনে মাজাহ (২২৪), আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি সর্বোত্তম।

ইমাম আহমাদ বলেন: «এই বিষয়ে আমাদের নিকট কোনো কিছুই সাব্যস্ত নেই» «আল-মুনতাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল» (৬২)

আল-বায়হাকি বলেন: «এর মতন (মূল পাঠ) প্রসিদ্ধ, তবে এর সনদসমূহ দুর্বল। আমার জানা মতে এমন কোনো সনদ নেই যার দ্বারা হাদিসটি সাব্যস্ত হতে পারে»। আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা (৩২৫)।

দেখুন: সাখাওয়ি রচিত «আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ» (৬৬০)।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
موضوع الكتاب، وهو ما يسمى عند العلماء «براعة الاستهلال»، وهي أن يقدِّم المصنفُ في ديباجة كتابه - أي في فاتحة كتابه - جملة من الألفاظ يشير بها إلى موضوع كتابه.

و«الحمد» الثناء على المحمود بجميل صفاته وأفعاله مع المحبة والتعظيم، ويكون هذا الثناء بالقلب واللسان.

ثم قال رحمه الله: (وأشكرُ من أرْشَدَنا إلى اتباعِ سُنَن سيدِ المرسلين)

هذا شكر من المؤلف رحمه الله لله تبارك وتعالى، فإنه هو من وضح وبيّن لنا طريق النبي صلى الله عليه وسلم وأمرنا باتباعه.

ولعل المؤلف يشير بذلك إلى أن كتابه الفقهي هذا سيكون مبنيا على الكتاب والسنة، فإنه لم يذكر فيه من المسائل الفقهية إلا التي صحّ دليلها عنده أو أجمع عليها العلماء، وترك من المسائل ما استنبطه العلماء استنباطاً، أي المسائل الاجتهادية.

فقد حاول رحمه الله أن يسير على طريقة أهل الحديث في الفقه، التي تقدم الكتاب والسنة على كل شيء مع اعتبارهم للمعاني.

وهذه مدرسة من مدارس الفقه، وهي أول مدرسة وأكثر مدرسة تعظم الكتاب والسنة بطريقة صحيحة، وذلك لأنهم أخذوا هذه الطريقة عن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم.

ومن المدارس الفقهية أيضا، مدرسة أهل الرأي، وهذه تعتمد على الرأي كثيراً في بناء فقهها، بل يصل الحال بالبعض إلى تقديم الرأي على النقل، أي على الكتاب والسنة، ومن هنا جاء ذم السلف للرأي.

وتعجبني كلمة قالها الإمام الأوزاعي رحمه الله في بعض أهل الرأي، قال: «ما نقمنا على فلان أنه يرى، كلنا يرى - يشير إلى أن القياس واستعمال الرأي في حال الضرورة كلنا نحتاج إليه، لكن هذا عند الضرورة، عندما لا يوجد في المسألة كتاب ولا سنة ولا إجماع - قال: ولكنا نقمنا عليه أنه يجيئه الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم فيخالفه إلى غيره. انتهى

هنا جاء الإنكار، فمصيبة أن تترك الكتاب والسنة، وتقدم رأيك، هذا ضلال وأيما ضلال، أن تلويَ أعناق النصوص كي تتماشى مع رأيك، وعقلك، كما يفعل كثير من أهل الأهواء اليوم.
কিতাবটির মূল বিষয়বস্তু, যাকে আলেমদের পরিভাষায় «বারাআতুল ইস্তিহলাল» বলা হয়; আর তা হলো লেখক তাঁর কিতাবের ভুমিকায়—অর্থাৎ কিতাবের শুরুতে—এমন কিছু শব্দ উপস্থাপন করবেন যার মাধ্যমে তিনি কিতাবের বিষয়বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করেন।

আর «হামদ» হলো মহব্বত ও সম্মানের সাথে প্রশংসিত সত্তার সুন্দর গুণাবলি ও কার্যাবলির প্রশংসা করা। আর এই প্রশংসা অন্তর ও জিহ্বার মাধ্যমে হয়ে থাকে।

অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বললেন: (এবং আমি তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি যিনি আমাদের রাসুলগণের সরদারের সুন্নাতসমূহ অনুসরণের পথে পরিচালিত করেছেন)।

এটি লেখকের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) পক্ষ থেকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন। কেননা তিনিই আমাদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথকে সুস্পষ্ট ও বিবৃত করেছেন এবং আমাদের তাঁর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

সম্ভবত লেখক এর দ্বারা এ দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, তাঁর এই ফিকহী কিতাবটি কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে রচিত হবে। কেননা তিনি এতে কেবল সেই সকল ফিকহী মাসআলাই উল্লেখ করেছেন যার দলিল তাঁর নিকট সহিহ প্রমাণিত হয়েছে অথবা আলেমগণ যার ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আর তিনি সেই মাসআলাগুলো পরিহার করেছেন যা আলেমগণ গবেষণার মাধ্যমে বের করেছেন, অর্থাৎ ইজতিহাদী মাসআলাসমূহ।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ফিকহের ক্ষেত্রে আহলে হাদিসদের পদ্ধতিতে চলার চেষ্টা করেছেন, যা মর্ম বিবেচনার পাশাপাশি কুরআন ও সুন্নাহকে অন্য সবকিছুর ওপর প্রাধান্য দেয়।

আর এটি ফিকহের মাযহাব বা ধারাগুলোর মধ্যে একটি ধারা। এটিই প্রথম এবং সবচেয়ে বেশি কুরআন ও সুন্নাহর যথাযথ মর্যাদা দানকারী ধারা। আর তা এজন্য যে, তাঁরা এই পদ্ধতিটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন।

ফিকহী ধারাগুলোর মধ্যে আরও একটি হলো আহলুর রায় (যুক্তিনির্ভর ধারা)। এই ধারাটি তাদের ফিকহ বিনির্মাণে যুক্তির ওপর অধিক নির্ভর করে; এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তারা নফল বা শ্রুতির (অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর) ওপর যুক্তিকে প্রাধান্য দেয়। আর এখান থেকেই সালাফে সালেহীনদের পক্ষ থেকে রায়ের নিন্দা এসেছে।

ইমাম আওযায়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) কিছু আহলুর রায়ের ব্যাপারে একটি কথা বলেছিলেন যা আমাকে মুগ্ধ করে। তিনি বলেছিলেন: «আমরা অমুক ব্যক্তির প্রতি এজন্য অসন্তুষ্ট নই যে তিনি রায় বা যুক্তি পেশ করেন; আমরা সবাই-ই রায় প্রদান করি —তিনি এর দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন যে কিয়াস এবং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তির ব্যবহার আমাদের সকলেরই প্রয়োজন হয়, তবে তা কেবল প্রয়োজনের সময়, যখন মাসআলার ক্ষেত্রে কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমা পাওয়া যায় না— তিনি বলেন: কিন্তু আমরা তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট এজন্য যে, তাঁর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস পৌঁছানোর পরও তিনি তা ছেড়ে অন্য মতের দিকে চলে যান।» সমাপ্ত।

এখানেই আপত্তির বিষয়টি এসেছে। কুরআন ও সুন্নাহকে বর্জন করে নিজের মতকে প্রাধান্য দেওয়া এক চরম বিপদ। এটি পথভ্রষ্টতা এবং চরম ভ্রষ্টতা হলো দলিলের অর্থকে বিকৃত করা যাতে তা নিজের মত ও বিবেকের সাথে মিলে যায়, যেমনটি বর্তমানে অনেক প্রবৃত্তি পূজারীরা করে থাকে।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
هذه مدرسة ثانية، تسمى عند الفقهاء: مدرسة أهل الرأي، من أئمتها أبو حنيفة وتلاميذه.

وأما مدرسة أهل الحديث فمن أئمتها: صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم وأئمة التابعين كفقهاء المدينة السبعة، والحسن البصري، ومحمد بن سيرين، وغيرهم.

وكذلك فقهاء بلادهم في أزمانهم كالأوزاعي في الشام، ومالك في المدينة، والليث في مصر، وعبد الله بن المبارك في خراسان، والثوري في الكوفة، وابن عيينة في مكة، ومنهم الأئمة الثلاثة مالك والشافعي وأحمد، كل هؤلاء من أئمة أهل الحديث، كانوا يعظّمون الكتاب والسنة، ويقدمونهما، ولا يستعملون القياس إلا عند الضرورة، حين لا يوجد كتاب ولا سنة في المسألة.

و«الشكر»: ظهور أثر النعمة على اللسان والقلب والجوارح، بأن يكون اللسان مُقِرّاً بالمعروف مثنياً به، ويكون القلب معترفاً بالنعمة، وتكون الجوارح مسْتَعْمِلَةً النعمةَ فيما يرضاه المشكور.

والشكر لله يكون بذلك كله، فلا بد من صرف النعمة التي أنعم الله بها عليك في طاعته كي تكون شاكراً.

قال تعالى {اعْمَلُوا آلَ دَاوُودَ شُكْرًا وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ} [سبأ: 13].

وقال المغيرة بن شعبة: قام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى تورّمت قدماه، فقيل له: غفر الله لك ما تقدم من ذنبك وما تأخر، قال «أفلا أكون عبداً شكوراً» (1).

فالشكر يكون بالعمل كما يكون باللسان والقلب، وأما الحمد فلا يكون بالعمل، فالشكر أعم من هذا الوجه.

والحمد يكون من غير سبق إحسان من المحمود، أو مع الإحسان، وأما الشكر فلا يكون إلا على الإحسان، فالحمد أعم من هذا الوجه.

ثم قال المؤلف رحمه الله: (وأُصلّي وأُسلِّم على الرسولِ الأمينِ وآله الطّاهرين وأصحابه الأكرمين)

(وأصلي وأسلم) أي أسأل الله أن يصلي ويسلم على سيدنا محمدٍ صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (1130)، ومسلم (2819) عن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه.
এটি দ্বিতীয় একটি মাযহাব (ধারা), যা ফকিহগণের নিকট ‘আহলুর রায়’ (যুক্তিপন্থীদের ধারা) নামে পরিচিত। এর ইমামদের মধ্যে রয়েছেন আবু হানিফা এবং তাঁর ছাত্রগণ।

আর ‘আহলুল হাদিস’ (হাদিসপন্থীদের ধারা) এর ইমামদের মধ্যে রয়েছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ এবং তাবিঈগণের ইমামগণ, যেমন মদিনার সাতজন ফকিহ, হাসান বসরি, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন এবং অন্যান্যগণ।

অনুরূপভাবে স্ব-স্ব সময়ের বিভিন্ন ভূখণ্ডের ফকিহগণ, যেমন শামে আওযায়ী, মদিনায় মালিক, মিশরে লাইস, খোরাসানে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, কুফায় সাওরি, মক্কায় ইবনে উয়াইনা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তিন ইমাম—মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদ। তাঁরা সকলেই আহলুল হাদিসের ইমাম ছিলেন। তাঁরা কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহকে সম্মান করতেন এবং এ দুটিকে অগ্রাধিকার দিতেন। মাসআলার ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহর দলিল পাওয়া না গেলে কেবল তখনই অপরিহার্য প্রয়োজনে কিয়াস (অনুমান বা যুক্তি) ব্যবহার করতেন।

আর ‘শুকর’ (কৃতজ্ঞতা) হলো: জবান (জিহ্বা), অন্তর এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে নেয়ামতের প্রভাব প্রকাশ পাওয়া। যেমন—জবান নেয়ামতকে স্বীকার করবে এবং এর প্রশংসা করবে, অন্তর নেয়ামতকে মনে-প্রাণে স্বীকার করবে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ সেই নেয়ামতকে এমন কাজে ব্যবহার করবে যা কৃতজ্ঞতাভাজন সত্তা (আল্লাহ) পছন্দ করেন।

আল্লাহর প্রতি শুকর বা কৃতজ্ঞতা এই সবকিছুর মাধ্যমেই হয়। সুতরাং কৃতজ্ঞ হওয়ার জন্য এটি আবশ্যক যে, আল্লাহ আপনাকে যে নেয়ামত দান করেছেন তা তাঁর আনুগত্যের পথে ব্যয় করা।

মহান আল্লাহ বলেন: “হে দাউদ পরিবার! তোমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আমল করো। আর আমার বান্দাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ।” [সাবা: ১৩]।

মুগিরা ইবনে শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে দাঁড়িয়ে থাকতেন যতক্ষণ না তাঁর পা দু’টি ফুলে যেত। তাঁকে বলা হলো: আল্লাহ তো আপনার আগের এবং পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বললেন: “তবে কি আমি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?” (১)।

সুতরাং শুকর বা কৃতজ্ঞতা যেমন জবান ও অন্তরের মাধ্যমে হয়, তেমনি আমল বা কর্মের মাধ্যমেও হয়। পক্ষান্তরে ‘হামদ’ (প্রশংসা) কর্মের মাধ্যমে হয় না। এ দিক থেকে শুকর বিষয়টি হামদ অপেক্ষা অধিক ব্যাপক।

আবার যাঁর প্রশংসা (মাহমুদ) করা হচ্ছে তাঁর পক্ষ থেকে আগে থেকে কোনো অনুগ্রহ আসুক বা না আসুক, উভয় ক্ষেত্রেই হামদ করা যায়। কিন্তু শুকর কেবল অনুগ্রহ প্রাপ্তির পরেই করা হয়। তাই এ দিক থেকে হামদ বিষয়টি শুকর অপেক্ষা অধিক ব্যাপক।

এরপর লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেন: (আর আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবার ও সম্মানিত সঙ্গীগণের ওপর)

(আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি) অর্থাৎ আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করেন।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১১৩০) এবং মুসলিম (২৮১৯), মুগিরা ইবনে শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وصلاة الله على نبيه، ثناؤه عليه عند الملائكة المقربين، كما قال أبو العالية (1).

و(السلام): أي يسلمه من الآفات والنقائص.

(وآله الطاهرين) الآل إذا ذكروا من غير ذكر الأصحاب معهم، فالمقصود أتباعه على دينه من قرابته وغيرهم، وأما إذا ذكر الأصحاب معهم كما فعل المؤلف، فالمقصود قرابته، المؤمنون منهم.

والمؤلف صلى وسلم على النبي صلى الله عليه وسلم امتثالاً لقول الله تبارك وتعالى: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب: 56].

وقد صلى النبي صلى الله عليه وسلم على نفسه وآله حين علمنا الصلاة عليه (2).

فالآل تأتي بمعنى الأتباع، وبمعنى الأهل.

وصلاة الملائكة والعباد على النبي صلى الله عليه وسلم، الدعاء له بالرحمة.

 

‌‌كتاب الطهارة

ثم قال رحمه الله: (كتاب الطهارة)

كتاب: مصدر، يقال: كَتَبَ يَكْتُبُ كِتابَةً وكِتاباً، ومادة كتب تدل على الجمع والضم، لذلك سميت كتيبةُ الجيش كتيبة، لأنها تجمع وتضم مجموعة من أفراد الجيش.

واستعمل العلماء ذلك فيما يجمع أشياء من الأبواب والفصول الجامعة للمسائل، والجمع والضم فيه حاصل على الحروف والكلمات وعلى المعاني.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب التفسير من «صحيحه» قبل الحديث رقم (4797) معلقاً، ووصله إسماعيل القاضي وابن أبي حاتم وغيرهما من طريق أبي جعفر الرازي.

وفيه خلاف يحتج به في مثل هذه الرواية، فهو صحيح.

(2) أخرجه البخاري (6357)، ومسلم (406) عن كعب بن عجرة رضي الله عنه.
নবীর ওপর আল্লাহর সালাত হলো নিকটবর্তী ফেরেশতাদের কাছে তাঁর প্রশংসা করা, যেমনটি আবুল আলিয়া (১) বলেছেন।

আর (সালাম): অর্থাৎ তাঁকে সকল বিপদ-আপদ ও ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে নিরাপদ রাখা।

(এবং তাঁর পবিত্র বংশধরগণ) 'আল' (বংশধর বা পরিজন) শব্দটির সাথে যখন সাহাবীগণের উল্লেখ না থাকে, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর দ্বীনের অনুসারীগণ, চাই তারা নিকটাত্মীয় হোক বা অন্য কেউ। কিন্তু যখন এর সাথে সাহাবীগণের উল্লেখ করা হয়—যেমনটি লেখক করেছেন—তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় তাঁর নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যারা মুমিন।

আর লেখক মহান আল্লাহর এই বাণীর আনুগত্য স্বরূপ নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর সালাত ও সালাম পাঠ করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর ওপর সালাত পেশ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর ওপর সালাত পেশ করো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও।" [সূরা আহযাব: ৫৬]।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আমাদের তাঁর ওপর সালাত পড়ার নিয়ম শিখিয়েছেন, তখন তিনি নিজের ওপর এবং নিজের পরিজনের ওপর সালাত পাঠ করেছেন (২)।

সুতরাং 'আল' শব্দটি অনুসারী অর্থেও আসে এবং পরিবার-পরিজন অর্থেও আসে।

আর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর ফেরেশতা ও বান্দাদের সালাত পাঠ করার অর্থ হলো তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করা।

 

‌‌পবিত্রতা অধ্যায়

এরপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: (পবিত্রতা অধ্যায়)

কিতাব: এটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), বলা হয়: সে লিখেছে, সে লিখছে, লেখা। আর 'কা-তা-বা' (كتب) ধাতুটি মূলত একত্র করা ও মেলানোর অর্থ প্রদান করে। এই কারণেই সেনাবাহিনীর দলকে 'কাতিবাহ' বলা হয়, কারণ এটি সেনাবাহিনীর একদল সদস্যকে একত্রিত ও সমবেত করে।

আলেমগণ এই শব্দটি এমন ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন যা মাসআলা-সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদকে একত্রিত করে। আর এতে অক্ষর, শব্দ এবং অর্থের একত্রীকরণ ও সংযোজন ঘটে থাকে।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী তাঁর ‘সহীহ’-এর তাফসীর অধ্যায়ে ৪৭৯৭ নম্বর হাদীসের আগে মুআল্লাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইসমাইল আল-কাজী, ইবনে আবি হাতিম এবং অন্যরা আবু জাফর আর-রাজীর সূত্রে এটি নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন। আর এতে এমন মতভেদ রয়েছে যা এই ধরণের বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায়, তাই এটি সহীহ।

(২) এটি বুখারী (৬৩৫৭) এবং মুসলিম (৪০৬) কাব ইবনে উজরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
والمراد هنا من حيث المعنى: جمع وضم الأبواب والمسائل المتعلقة بالطهارة.

وتعريف الكتاب اصطلاحاً هو: اسم لجملة مختصة من العلم مشتملة على أبواب وفصول غالباً.

وأما (الطهارة) فلغة: النظافة، والتنزّه عن الأدناس وهي الأوساخ.

وفي الشرع تطلق على معنيين:

الأول: طهارة القلب من الشرك في العبادة، والغلّ والبغضاء لعباد الله المؤمنين، وهذه من مباحث الاعتقاد.

والمعنى الثاني، وهو المراد هنا: رفع الحدث وإزالة النجاسة، أو ما في معناهما.

(الحدث) هو ما يوجب الوضوء أو الغسل، فما يوجب الوضوء يسمى الحدث الأصغر كخروج الريح أو قضاء الحاجة، أما ما يوجب الغسل فيسمى الحدث الأكبر كالجنابة، وقد صح عن عَبيدة السلماني أنه سئل، ما يوجب الوضوء؟ قال: الحدث، أي الأصغر (1).

و(النجاسة) في اللغة: القذر.

وفي الشرع: كل عين يجب التطهر منها، كالبول والبراز.

وقولنا: (أو ما في معناهما) كتجديد الوضوء فإنه يسمى طهارة مع أنه ليس رافعا لحدث ولا مزيلا لنجاسة.

والنجاسة إما عينية أي عين الشيء نجسة كالبراز، أو وصفية كالبول إذا وقع على الثوب، فإن الثوب يوصف بأنه نجس.

والعينية تطّهر بالاستحالة، والوصفية بتنظيفها.

فهذا معنى كتاب الطهارة، فإن المصنف قد جمع في هذا المبحث كل ما يتعلق بالطهارة من المسائل الفقهية التي صح دليلها.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الطبري في «تفسيره» (8/ 153 - هجر)، المائدة (6).
অর্থের দিক থেকে এখানে উদ্দেশ্য হলো: পবিত্রতা সংশ্লিষ্ট অধ্যায় ও মাসআলাসমূহ একত্রিত ও সংকলিত করা।

আর পারিভাষিক অর্থে কিতাবের সংজ্ঞা হলো: এটি জ্ঞানের একটি নির্দিষ্ট অংশের নাম, যা সাধারণত বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত হয়।

আর পবিত্রতা (তাহারাহ) শাব্দিক অর্থে: পরিচ্ছন্নতা, এবং অপবিত্রতা বা ময়লা-আবর্জনা থেকে মুক্ত থাকা।

শরীয়তের পরিভাষায় এটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

প্রথমত: ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক থেকে এবং আল্লাহর মুমিন বান্দাদের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে অন্তরকে পবিত্র রাখা; এটি আকিদা বা বিশ্বাসগত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় অর্থ, যা এখানে উদ্দেশ্য: অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করা এবং নাপাকি (নাজাসাত) অপনোদন করা, অথবা এই দুটির সমপর্যায়ের কিছু করা।

'হাদাস' হলো এমন অবস্থা যা ওযু বা গোসলকে ওয়াজিব করে। যা ওযুকে ওয়াজিব করে তাকে 'হাদাসে আসগর' (ছোট অপবিত্রতা) বলা হয়, যেমন বায়ু নির্গত হওয়া বা মলমূত্র ত্যাগ করা। আর যা গোসল ওয়াজিব করে তাকে 'হাদাসে আকবার' (বড় অপবিত্রতা) বলা হয়, যেমন জুনুব বা জানাবাত অবস্থা। উবাইদাহ আস-সালমানি থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন জিনিস ওযু ওয়াজিব করে? তিনি বললেন: হাদাস, অর্থাৎ ছোট অপবিত্রতা (১)।

আর 'নাজাসাত' শাব্দিক অর্থে: অপবিত্র বস্তু বা নোংরামি।

শরীয়তের পরিভাষায়: এমন প্রতিটি বস্তু যা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব, যেমন প্রস্রাব ও পায়খানা।

আমাদের কথা: 'অথবা এই দুটির সমপর্যায়ের কিছু করা'—যেমন ওযু থাকা অবস্থায় পুনরায় ওযু করা (তাজদিদে ওযু), একেও পবিত্রতা বলা হয় যদিও এটি কোনো হাদাস দূর করে না এবং কোনো নাজাসাতও অপনোদন করে না।

নাজাসাত বা নাপাকি দুই প্রকার: হয় তা সত্তাগত, অর্থাৎ সেই বস্তুটি নিজেই নাপাক যেমন পায়খানা; অথবা তা গুণগত, যেমন প্রস্রাব যদি কাপড়ে লাগে, তবে কাপড়টি নাপাক হিসেবে অভিহিত হয়।

সত্তাগত নাপাকি রূপান্তরের মাধ্যমে পবিত্র হয়, আর গুণগত নাপাকি তা পরিষ্কার করার মাধ্যমে পবিত্র হয়।

এটিই হলো পবিত্রতা অধ্যায়ের অর্থ। গ্রন্থকার এই পরিচ্ছেদে পবিত্রতা সংশ্লিষ্ট সেই সকল ফিকহি মাসআলা একত্রিত করেছেন যার দলীল সহিহ।

--------------------------------------------

(১) আত-তাবারী তাঁর ‘তাফসীর’-এ এটি বর্ণনা করেছেন (৮/১৫৩ - হিজর সংস্করণ), আল-মায়িদাহ (৬)।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
والمؤلف رحمه الله قد بدأ بكتاب الطهارة كبقية العلماء الذين ألَّفوا في الفقه، لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصيام رمضان والحج».

فبدأ بالتوحيد، وهذا قد أفردت له مصنفات خاصة، ثم بالصلاة.

ولما كانت الصلاة لا تصح إلا بالطهارة، ويجب تحقيق الطهارة قبل الدخول في الصلاة، بدأ الفقهاء بالطهارة ثم الصلاة ثم الزكاة ثم الصيام ثم بالحج، أي بالأهم فالمهم، أو بما لا يصحّ المهم إلا به.

قال المؤلف رحمه الله: (باب)

الباب لغة: هو الطريق إلى الشيء والموصل إليه، وباب المسجد وباب الدار: ما يدخل منه إليه.

وفي الاصطلاح: اسم لجملة مختصة من الكتاب، ويكون بين مسائل الباب ارتباط أخص من ارتباطها بمسائل الطهارة.

 

وهذا الباب الذي سيبدأ به المؤلف، هو‌‌ باب حكم المياه.

قال رحمه الله: (هذا البابٌ قد اشتملَ على مسائل)

(المسائل) جمع مسألة، من السؤال، وهي المطلوب الذي يحتاج إثباته إلى برهان ودليل.

قال رحمه الله: (الأولى)

أي المسألة الأولى من مسائل هذا الباب.

 

قال: ‌‌(الماءُ طاهرٌ مُطَهِّرٌ)

المراد بالماء هنا الماء المطلق، والماء المطلق هو ما كفى في تعريفه اسم الماء، أي الذي لم يُضَفْ إلى شيء فليس ماء ورد مثلاً، فالماء الذي لم يضف إلى شيء، يسمى ماء مطلقاً من غير إضافة شيء آخر إليه، كالماء النازل من السماء أو النابع من الأرض، أو مياه الأنهار والبحار.
লেখক (আল্লাহ তাঁর উপর দয়া করুন) ফিকহ শাস্ত্রের অন্যান্য গ্রন্থকারদের মতো পবিত্রতা অধ্যায় দিয়ে শুরু করেছেন। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং হজ করা।"

তিনি তাওহিদ দিয়ে শুরু করেছেন, যার জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে, এরপর সালাত (নিয়ে আলোচনা করেছেন)।

যেহেতু পবিত্রতা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না এবং সালাতে প্রবেশের পূর্বে পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব, তাই ফকিহগণ পবিত্রতা দিয়ে শুরু করেছেন, তারপর সালাত, তারপর জাকাত, তারপর সিয়াম এবং তারপর হজ। অর্থাৎ অধিক গুরুত্বপূর্ণ থেকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুযায়ী, অথবা যার মাধ্যমে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুদ্ধ হয় তা দিয়ে (শুরু করেছেন)।

লেখক (আল্লাহ তাঁর উপর দয়া করুন) বলেছেন: (অধ্যায়)

শাব্দিক অর্থে 'অধ্যায়' হলো: কোনো কিছুর দিকে যাওয়ার পথ বা যা সেখানে পৌঁছে দেয়। যেমন মসজিদের দরজা বা ঘরের দরজা: যা দিয়ে তাতে প্রবেশ করা হয়।

পারিভাষিক অর্থে: এটি গ্রন্থের একটি বিশেষ অংশের নাম, যেখানে ওই অধ্যায়ের মাসয়ালাগুলোর মধ্যে সাধারণ পবিত্রতার মাসয়ালাগুলোর তুলনায় অধিকতর নিবিড় সম্পর্ক থাকে।

 

লেখক যে অধ্যায়টি দিয়ে শুরু করবেন তা হলো পানির বিধান সংক্রান্ত অধ্যায়।

তিনি (আল্লাহ তাঁর উপর দয়া করুন) বলেছেন: (এই অধ্যায়টি বেশ কিছু মাসয়ালা অন্তর্ভুক্ত করেছে)

(আল-মাসায়িল) হলো 'মাসয়ালা' শব্দের বহুবচন, যা 'সুয়াল' (জিজ্ঞাসা) থেকে নির্গত। এটি এমন এক উদ্দিষ্ট বিষয় যা প্রমাণের জন্য দলিল ও প্রমাণের প্রয়োজন হয়।

তিনি (আল্লাহ তাঁর উপর দয়া করুন) বলেছেন: (প্রথমটি)

অর্থাৎ এই অধ্যায়ের মাসয়ালাগুলোর মধ্যে প্রথম মাসয়ালা।

 

তিনি বলেছেন: (পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী)

এখানে পানি বলতে 'সাধারণ পানি' বোঝানো হয়েছে। সাধারণ পানি হলো তা-ই যার সংজ্ঞায় কেবল 'পানি' শব্দটুকুই যথেষ্ট। অর্থাৎ যা অন্য কোনো কিছুর সাথে সম্পৃক্ত বা যুক্ত নয়; যেমন উদাহরণস্বরূপ গোলাপ জল নয়। সুতরাং যে পানি অন্য কোনো কিছুর সাথে সম্পৃক্ত নয়, তাকে অন্য কোনো কিছু যুক্ত করা ছাড়াই 'সাধারণ পানি' বলা হয়। যেমন আকাশ থেকে বর্ষিত পানি, ভূমি থেকে নির্গত পানি অথবা নদ-নদী ও সমুদ্রের পানি।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
و (الماء طاهر) أي ليس بنجس و (مطهر) أي مجزئ في الطهارة الشرعية من رفع حدث وإزالة نجس وغيرهما كالأغسال المندوبة، فلك أن تتطهر به وتتوضأ به، كما قال عليه السلام للمرأة حين سألته عن ثوبها الذي أصابه دم حيض، قال: «واقرصيه بالماء» (1) أي نظفيه بالماء.

وكقوله للصحابة: «أهريقوا عليه ذنوباً من ماء» حين بال الأعرابي في المسجد (2).

وأصل ذلك قول الله تبارك وتعالى: {وأنزلنا من السماء ماء طهوراً}

قال ثعلب - وهو أحد أئمة اللغة -: الطَّهور: هو الطاهر بنفسه المطهر لغيره، وكذا قال الأزهري رحمه الله صاحب كتاب «تهذيب اللغة».

وقال تعالى: {وينزل عليكم من السماء ماء ليطهركم به}.

وقال: {فلم تجدوا ماء فتيمموا}.

وقال صلى الله عليه وسلم: «الماء طَهور لا ينجسه شيء» (3).

وقد جاءت أحاديث كثيرة أمر فيها النبي صلى الله عليه وسلم بتطهير النجاسات بالماء، وستأتي إن شاء الله.

ونقل ابن رشد الإجماع على أن الماء طاهر مطهر (4).

وقال المؤلف رحمه الله: (لا يُخْرِجُهُ عن الوَصْفَيْن)

أي لا يَخرُج الماء عن كونه طاهراً في نفسه - وهذا الوصف الأول - ومطهراً لغيره - وهذا الوصف الثاني.

قال: (إلا ما غَيَّرَ ريحَهُ أو لَوْنَهُ أو طَعْمَهُ من النجاساتِ)

--------------------------------------------

(1). أخرجه البخاري (227)، ومسلم (291) عن أسماء بنت أبي بكر الصديق رضي الله عنهما.

(2) أخرجه البخاري (6128) عن أبي هريرة رضي الله عنه.

(3) أخرجه أحمد (17/ 359 - الرسالة)، وأبو داود (66)، والترمذي (66)، والنسائي (326) عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه.

(4) قال ابن رشد في «بداية المجتهد ونهاية المقتصد» (1/ 29): «وأجمع العلماء على أن جميع أنواع المياه طاهرة في نفسها مطهرة لغيرها، إلا ماء البحر، فإن فيه خلافاً في الصدر الأول شاذ».
এবং (পানি পবিত্র) অর্থাৎ তা অপবিত্র নয় এবং (পবিত্রকারী) অর্থাৎ শরয়ি পবিত্রতা অর্জনে এটি যথেষ্ট, যেমন হাদাস (অপবিত্রতা) দূর করা এবং নাপাকি পরিষ্কার করা এবং অন্যান্য বিষয় যেমন মুস্তাহাব গোসলসমূহ। সুতরাং আপনার জন্য এটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা এবং অজু করা বৈধ, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক নারীকে বলেছিলেন যখন তিনি তাকে তার কাপড়ে ঋতুর রক্ত লাগার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "এবং তুমি তা পানি দিয়ে রগড়াও" (১) অর্থাৎ পানি দিয়ে তা পরিষ্কার করো।

এবং সাহাবীদের প্রতি তার নির্দেশ: "এর উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও", যখন এক বেদুইন মসজিদে পেশাব করেছিল (২)।

আর এর মূল ভিত্তি হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্র পানি বর্ষণ করেছি}

সালাব - যিনি ভাষাবিজ্ঞানের অন্যতম ইমাম - তিনি বলেন: 'তাহুর' হলো যা স্বয়ং পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী। একই কথা আল-আজহারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, যিনি 'তাহজীবুল লুগাহ' গ্রন্থের রচয়িতা।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেন যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের পবিত্র করতে পারেন}।

এবং তিনি বলেন: {অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও তবে তায়াম্মুম করো}।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে নাপাক করতে পারে না" (৩)।

এ বিষয়ে আরও অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাপাকি পানি দিয়ে পবিত্র করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

এবং ইবনে রুশদ এই মর্মে ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা করেছেন যে, পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী (৪)।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (তা পানিকে এই দুটি গুণ থেকে বিচ্যুত করে না)

অর্থাৎ পানি স্বয়ং পবিত্র হওয়া - এটি প্রথম গুণ - এবং অন্যকে পবিত্রকারী হওয়া - এটি দ্বিতীয় গুণ - থেকে বের হয়ে যায় না।

তিনি বলেন: (তবে নাপাকি পড়ার কারণে যদি তার ঘ্রাণ, বর্ণ অথবা স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে যায়)

--------------------------------------------

(১). এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (২২৭) এবং মুসলিম (২৯১), আসমা বিনতে আবি বকর সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (৬১২৮), আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (১৭/৩৫৯ - আর-রিসালাহ), আবু দাউদ (৬৬), তিরমিজি (৬৬) এবং নাসাঈ (৩২৬), আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।

(৪) ইবনে রুশদ 'বিদায়াতুল মুজতাহিদ ওয়া নিহায়াতুল মুকতাসিদ' (১/২৯) গ্রন্থে বলেছেন: "উলামায়ে কেরাম এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সকল প্রকার পানি স্বয়ং পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী, সমুদ্রের পানি ব্যতীত; কারণ প্রথম যুগে এ বিষয়ে একটি ভিন্নমত (শায) বিদ্যমান ছিল।"
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أي إن الماء المطلق يبقى طاهراً مطهراً إلى أن تخالطه نجاسة فتغير رائحته أو لونه أو طعمه، فعندئذ لا يبقى طاهراً ولا مطهّراً، بل يصير نجساً، لا يجزئ في رفع الحدث وإزالة النجاسة.

هذه المسألة الثانية من مسائل الباب.

فعندنا أصل وهو أن الماء طاهر مطهر، وعرفنا دليل هذا الأصل، وهو عموم الآيات والأحاديث التي تقدمت، فلا يخرج الماء عن كونه طاهراً ومطهراً إلا بدليل.

وذكر المؤلف أن الماء لا يخرج عن كونه طاهراً ومطهراً إلا إن خالطته نجاسة غيرت أحد أوصافه الثلاثة، لونه أو ريحه أو طعمه، فيصير نجساً لا يطهر، ودليل ذلك الإجماع.

قال ابن المنذر: «وأجمعوا على أن الماء القليل والكثير إذا وقعت فيه نجاسة فغير للماء طعماً أو لوناً أو ريحاً أنه نجس مادام كذلك» (1).

والأدلة الشرعية: الكتاب، والسنة، والإجماع، وقد انعقد الإجماع على ذلك، فالإجماع يخصص عموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: «الماء طهور لا ينجسه شيء» (2)، ويخصص عموم الأدلة التي دلت على أن الماء طاهر مطهر.

وورد في ذلك حديث عند ابن ماجة وغيره أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الماء لا ينجسه شيء إلا ما غلب على ريحه وطعمه ولونه» (3)

ولكنه حديث ضعيف، قال النووي: «اتفقوا على ضعفه» (4)، والضعيف منه الاستثناء، أي قوله: «إلا ما غلب على ريحه وطعمه ولونه» وأما قوله: «الماء طهور لا ينجسه شيء» فقد صح من حديث أبي سعيد الخدري كما تقدم.

--------------------------------------------

(1) «الإجماع» (ص 35). وقال البيهقي: لا نعلم في نجاسة الماء إذا تغير بالنجاسة خلافاً. والله أعلم

(2) تقدم تخريجه.

(3) أخرجه ابن ماجه (521)، والدارقطني في «سننه» (47)، والبيهقي في «سننه الكبرى» (1/ 392) عن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه.

 

قال البيهقي بعدما أخرجه موصولاً مرفوعاً، قال: «ورواه عيسى بن يونس عن الأحوص بن حكيم عن راشد بن سعد عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلاً، ورواه أبو أمامة عن الأحوص عن ابن عون وراشد بن سعد من قولهما، والحديث غير قوي، إلا أنا لا نعلم في نجاسة الماء إذا تغير بالنجاسة خلافاً. والله أعلم

(4) «المجموع» للنووي (1/ 110).
অর্থাৎ স্বাভাবিক পানি ততক্ষণ পর্যন্ত পবিত্র ও পবিত্রকারী থাকে যতক্ষণ না তার সাথে কোনো নাপাকি মিশ্রিত হয়ে এর ঘ্রাণ, রঙ অথবা স্বাদ পরিবর্তন করে দেয়। এমতাবস্থায় তা আর পবিত্র বা পবিত্রকারী থাকে না, বরং নাপাক হয়ে যায়; যা হাদাস (অপবিত্রতা) দূর করতে এবং নাজাসাত (নাপাকি) অপসারণে যথেষ্ট হয় না।

এটি এই অধ্যায়ের মাসআলাসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় মাসআলা।

আমাদের নিকট একটি মূলনীতি রয়েছে যে, পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী। আমরা এই মূলনীতির দলীল জেনেছি, যা হলো ইতিপূর্বে উল্লেখিত আয়াত ও হাদিসসমূহের ব্যাপকতা। সুতরাং কোনো দলীল ছাড়া পানি তার পবিত্র ও পবিত্রকারী হওয়ার অবস্থা থেকে বিচ্যুত হবে না।

লেখক উল্লেখ করেছেন যে, পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী হওয়ার অবস্থা থেকে বিচ্যুত হয় না যদি না কোনো নাপাকি তার সাথে মিশ্রিত হয়ে তার তিনটি গুণের কোনো একটি—রঙ, ঘ্রাণ অথবা স্বাদ—পরিবর্তন করে দেয়। এমতাবস্থায় তা নাপাক হয়ে যায় এবং পবিত্রতা অর্জনে ব্যবহৃত হতে পারে না; আর এর দলীল হলো ইজমা (ঐক্যমত)।

ইবনুল মুনযির বলেন: «সকলে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, অল্প বা অধিক পানিতে যদি নাপাকি পড়ে এবং তা পানির স্বাদ, রঙ অথবা ঘ্রাণ পরিবর্তন করে দেয়, তবে যতক্ষণ তা ঐ অবস্থায় থাকবে ততক্ষণ তা নাপাক গণ্য হবে» (১)।

শরয়ি দলীলসমূহ হলো: কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং ইজমা। এ বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং এই ইজমা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর ব্যাপকতাকে খাস (সুনির্দিষ্ট) করে, যেখানে তিনি বলেছেন: «পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে নাপাক করে না» (২), এবং এটি সেই দলীলসমূহের ব্যাপকতাকে খাস করে যা পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী হওয়ার বিষয়ের প্রমাণ দেয়।

এ বিষয়ে ইবনে মাজাহ ও অন্যদের নিকট একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই পানিকে কোনো কিছুই নাপাক করে না, তবে যা এর ঘ্রাণ, স্বাদ ও রঙের ওপর প্রভাব বিস্তার করে (তা ব্যতীত)» (৩)

কিন্তু এটি একটি যঈফ (দুর্বল) হাদিস। ইমাম নববী বলেন: «এর দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত হয়েছেন» (৪)। এই হাদিসের ব্যতিক্রমী অংশটিই দুর্বল, অর্থাৎ তাঁর এই কথা: «তবে যা এর ঘ্রাণ, স্বাদ ও রঙের ওপর প্রভাব বিস্তার করে»। আর তাঁর এই বাণী: «পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে নাপাক করে না»—এটি আবু সাঈদ খুদরী বর্ণিত হাদিস থেকে সহীহ হিসেবে প্রমাণিত, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) «আল-ইজমা» (পৃষ্ঠা ৩৫)। বায়হাকী বলেন: নাপাকির কারণে পানির পরিবর্তন হয়ে গেলে সেটি নাপাক হওয়ার ব্যাপারে আমরা কোনো মতভেদ জানি না। আল্লাহু আলাম (আল্লাহই সর্বজ্ঞ)।

(২) এর তাখরীজ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৩) এটি ইবনে মাজাহ (৫২১), দারা কুতনী তাঁর «সুনান» (৪৭) গ্রন্থে এবং বায়হাকী তাঁর «সুনানুল কুবরা» (১/৩৯২) গ্রন্থে আবু উমামাহ আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

বায়হাকী হাদিসটিকে সংযুক্ত মারফু হিসেবে বর্ণনা করার পর বলেন: «এটি ঈসা ইবনে ইউনুস, আহওয়াস ইবনে হাকীম থেকে, তিনি রাশিদ ইবনে সাদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর আবু উমামাহ এটি আহওয়াস থেকে, তিনি ইবনে আউন ও রাশিদ ইবনে সাদ থেকে তাঁদের উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসটি শক্তিশালী নয়, তবে নাপাকির কারণে পানির পরিবর্তন হয়ে গেলে সেটি নাপাক হওয়ার ব্যাপারে আমরা কোনো মতভেদ জানি না। আল্লাহু আলাম (আল্লাহই সর্বজ্ঞ)।

(৪) নববীর «আল-মাজমু» (১/১১০)।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم قال رحمه الله: (وعن الثاني: ما أخرجه عن اسم الماء المطلق من المُغَيِّراتِ الطاهرة)

قوله (عن الثاني) أي عن الوصف الثاني، وهو كونه مطهراً، فيريد أن الماء يبقى مطهراً لغيره إلا إذا خالطه شيء طاهرٌ فأخرجه عن كونه ماء مطلقاً، أي غير إطلاقه، فصار له اسم آخر وهذه المسألة الثالثة.

مثال ذلك: إذا أخذنا كأساً من الماء ووضعنا فيه كيساً من الشاي، فإن الشاي طاهرٌ نزل في الماء فغير لون الماء حتى تغيرت حقيقته، فلم يعد ماء مطلقاً، بل تغيرت حقيقته وصار شاياً، فهذا طاهر ليس بنجس، ولكنه لا يطهر، لأن الذي يطهر هو الماء المطلق، فهو ما ثبت به الدليل، وأما غيره من المائعات، فلم يثبت فيه شيء فليست من المطهرات.

قال ابن المنذر (1): «وأجمعوا على أنه لا يجوز الاغتسال ولا الوضوء بشيء من هذه الأشربة سوى النبيذ» أي أن النبيذ قد حصل خلاف في جواز الوضوء به، والصحيح أنه لا يجزئ في ذلك لعدم وجود الدليل الصحيح.

ولكن إذا كان التغير بطاهر تغيّراً يسيراً، فإن الماء في هذه الحالة يبقى طاهراً مطهراً، فقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال في تغسيل ابنته: «اغسلنها بماءٍ وسدر واجعلن في الآخرة كافوراً» (2).

وكذلك الماء المتغير بما لا ينفك عنه غالباً، كالطحالب والتراب، فإنه يبقى مطهراً بالاتفاق (3).

ثم قال رحمه الله (ولا فرق بين قليل أو كثير)

هذه المسألة الرابعة.

أي أن الماء القليل والكثير له نفس الأحكام المتقدمة، لا يختلف، وفي هذا رد لقول الذين فرّقوا، إذ إن الأدلة ليست معهم في ذلك كما سيأتي.

--------------------------------------------

(1) «الإجماع» لابن المنذر (ص 34).

(2) أخرجه البخاري (1253) ومسلم (939) عن أم عطية رضي الله عنها.

(3) انظر «بداية المجتهد» لابن رشد (1/ 30).
এরপর তিনি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (আর দ্বিতীয়টি সম্পর্কে: যা পবিত্র পরিবর্তনকারী বস্তুর কারণে পানির সাধারণ নাম থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়)

তাঁর কথা (দ্বিতীয়টি সম্পর্কে) অর্থাৎ দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে, যা হলো এর পবিত্রকারী হওয়া। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী হিসেবেই অবশিষ্ট থাকে যতক্ষণ না এতে এমন কোনো পবিত্র বস্তু মিশ্রিত হয় যা তাকে 'পরম পানি' (বিশুদ্ধ পানি) হওয়ার বৈশিষ্ট্য থেকে বের করে দেয়, অর্থাৎ তার সাধারণ পরিচিতি বদলে দেয়; ফলে তার অন্য একটি নাম হয়ে যায়। এটি হলো তৃতীয় মাসআলা।

এর উদাহরণ হলো: যদি আমরা এক গ্লাস পানি নেই এবং তাতে একটি চায়ের প্যাকেট রাখি, তবে চা একটি পবিত্র বস্তু যা পানির মধ্যে পড়ার পর পানির রঙ এমনভাবে পরিবর্তন করে দেয় যে তার প্রকৃত সত্তাও বদলে যায়। তখন সেটি আর 'পরম পানি' থাকে না, বরং তার হাকিকত বা সত্তা পরিবর্তিত হয়ে চায়ে পরিণত হয়। এটি পবিত্র, নাপাক নয়; কিন্তু এটি অন্যকে পবিত্র করতে পারে না। কারণ যা পবিত্র করতে পারে তা হলো কেবল 'পরম পানি', যা দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত। আর অন্যান্য তরল পদার্থের ক্ষেত্রে পবিত্র করার ব্যাপারে কোনো দলিল নেই, তাই সেগুলো পবিত্রকারী বস্তুর অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইবনুল মুনযির (১) বলেন: «বিদ্বানগণ একমত হয়েছেন যে, 'নাবিজ' (খেজুর বা কিশমিশ ভেজানো পানি) ব্যতীত অন্য কোনো পানীয় দ্বারা গোসল বা অজু করা জায়েজ নয়।» অর্থাৎ, নাবিজ দিয়ে অজুর বৈধতার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। তবে সঠিক মত হলো, সহিহ দলিলের অভাবে এটি দ্বারা অজু যথেষ্ট হবে না।

তবে যদি পবিত্র বস্তু দ্বারা পানির পরিবর্তন সামান্য হয়, তবে এই অবস্থায় পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী হিসেবেই গণ্য হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর কন্যার গোসলের ব্যাপারে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন: «তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করাও এবং শেষে কিছুটা কর্পূর মিশিয়ে দাও।» (২)।

অনুরূপভাবে, পানি যদি এমন বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত হয় যা থেকে সাধারণত পানিকে আলাদা রাখা যায় না, যেমন শেওলা বা মাটি, তবে সেটি সর্বসম্মতিক্রমে পবিত্রকারী হিসেবেই অবশিষ্ট থাকে (৩)।

এরপর তিনি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (আর অল্প বা অধিক পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই)

এটি হলো চতুর্থ মাসআলা।

অর্থাৎ, অল্প ও অধিক পানির ক্ষেত্রে পূর্বোল্লিখিত হুকুমগুলো একই, কোনো পার্থক্য নেই। এতে ওই সব ব্যক্তিদের মতের খণ্ডন রয়েছে যারা পার্থক্য করেছেন; কেননা এ ব্যাপারে তাদের সপক্ষে কোনো দলিল নেই, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল মুনযির রচিত «আল-ইজমা» (পৃ. ৩৪)।

(২) বুখারি (১২৫৩) ও মুসলিম (৯৩৯) উম্মে আতিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইবনে রুশদ রচিত «বিদায়াতুল মুজতাহিদ» (১/৩০) দেখুন।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فقالوا في تفريقهم: إذا وقعت النجاسة في الماء القليل نجسته سواء غيرت أوصافه أم لا، وأما في الماء الكثير فلا تنجسه حتى تغير أحد أوصافه. ثم اختلفوا في ضابط التفريق بين القليل والكثير، فقال بعضهم بالتفريق ما بين القلتين وما دونهما.

قال المؤلف رحمه الله: (وما فوقَ القُلَّتَيْنِ وما دونهما)

أي لا فرق بين الماء القليل الذي ضابطه أن يكون أقل من قلتين، وما فوقهما

والتفريق بين ما فوق القلتين وما دونهما تحديد من بعض أهل العلم، ومنهم الشافعية، فالشافعية مثلاً وغيرهم قالوا: ما كان أكثر من قلتين، إن سقطت فيه النجاسة، ولم تغير أحد أوصافه الثلاثة، يبقى طاهراً، أما إذا كان دون القلتين، فيصير نجساً بمجرد أن تسقط النجاسة فيه، واختلفوا في القلتين، في مقدارهما.

والقلتان: تثنية قلّة، والقلّة: الجرّة الكبيرة، وقد اختلفوا في تقديرها اختلافاً كثيراً.

فبعضهم يقول: قدرها مائة وستون لتراً، وبعضهم قال: مائتا لتر، وبعضهم: مائتان وخمسون، ومائتان وخمسة وسبعون، والبعض: ثلاثمائة، فاختلفوا في أصل قدر القلتين واضطربوا فيه اضطراباً كثيراً، والنبي صلى الله عليه وسلم لا يضع ضابطاً بمثل هذه المقادير التي يُختلف فيها، ولا يُعرف قدرها.

واعتمدوا في هذا على حديث «إذا بلغ الماء قلتين لم ينجسه شيء» (1)،

لكن هذا الحديث في صحته خلاف ونزاع بين أهل العلم، والصحيح هو ما رجّحه الإمام المزّي، وشيخ الإسلام ابن تيمية - رحمهما الله - أنه حديث ضعيف فيه اضطراب، والأقرب إلى الصواب أن يكون موقوفاً على ابن عمر رضي الله عنه أي من كلامه. والله أعلم.

وهذا أقوى ما يحتج به من فرَّق بين القليل والكثير. والراجح أنه لا فرق بين القليل والكثير.

ثم قال رحمه الله: (وَمُتَحَرِّكٍ وساكِنٍ)

الماء الساكن كماء المستنقعات، والمتحرك كماء الأنهار

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (4605)، وأبو داود (65)، والترمذي (67)، والنسائي (52)، وابن ماجه (517) عن ابن عمر رضي الله عنه.

 

وهو ضعيف، والصحيح وقفه على ابن عمر رضي الله عنه.
তারা তাদের পার্থক্যের ক্ষেত্রে বলেছে: যদি অল্প পানির মধ্যে অপবিত্রতা পড়ে, তবে তা পানিকে নাপাক করে দেয়, চাই তার গুণাগুণ পরিবর্তন হোক বা না হোক; আর যদি অধিক পানি হয়, তবে কোনো একটি গুণাগুণ পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তা পানিকে নাপাক করে না। এরপর তারা অল্প ও অধিক পানির সংজ্ঞার মানদণ্ড নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ দুই কুল্লা এবং এর কম পরিমাণের মাধ্যমে পার্থক্য করার কথা বলেছেন।

লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (দুই কুল্লার অধিক এবং এর কম)

অর্থাৎ, অল্প পানি—যার মানদণ্ড হলো দুই কুল্লার কম হওয়া—এবং তার অধিক পরিমাণের পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দুই কুল্লার অধিক ও কম পরিমাণের মাধ্যমে পার্থক্য করা একদল আলেমের পক্ষ থেকে একটি সীমা নির্ধারণ, যাদের মধ্যে শাফিঈগণও রয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ শাফিঈ এবং অন্যরা বলেছেন: পানি যদি দুই কুল্লার বেশি হয় এবং তাতে নাপাকি পড়ে কিন্তু তার তিনটি গুণের কোনোটি পরিবর্তন না হয়, তবে তা পবিত্র থাকবে। পক্ষান্তরে তা যদি দুই কুল্লার কম হয়, তবে নাপাকি পড়ার সাথে সাথেই তা নাপাক হয়ে যাবে। আর তারা দুই কুল্লার পরিমাপ নিয়ে মতভেদ করেছেন।

দুই কুল্লা হলো 'কুল্লা' শব্দের দ্বিবচন, আর 'কুল্লা' হলো বড় মটকা। এর পরিমাপ নির্ধারণে তারা অনেক মতভেদ করেছেন।

তাদের কেউ বলেন: এর পরিমাণ ১৬০ লিটার। কেউ বলেন: ২০০ লিটার। কেউ বলেন: ২৫০ লিটার বা ২৭৫ লিটার। আবার কেউ বলেন: ৩০০ লিটার। এভাবে তারা দুই কুল্লার মূল পরিমাপ নিয়ে মতভেদ করেছেন এবং এ বিষয়ে তারা অনেক অসংলগ্ন বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন কোনো বিষয়ের মাধ্যমে মানদণ্ড নির্ধারণ করবেন না যা নিয়ে মতভেদ হয় এবং যার সঠিক পরিমাণ জানা যায় না।

তারা এ বিষয়ে এই হাদিসের ওপর নির্ভর করেছেন: "যখন পানি দুই কুল্লায় পৌঁছে, তখন কোনো কিছুই তাকে নাপাক করে না" (১)।

কিন্তু এই হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ ও বিবাদ রয়েছে। সঠিক মত হলো যা ইমাম মিযযী এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুমাল্লাহ প্রাধান্য দিয়েছেন যে, এটি একটি দুর্বল হাদিস যাতে অসংলগ্নতা রয়েছে। আর সত্যের অধিক নিকটতর হলো এটি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ওপর মাওকুফ হওয়া, অর্থাৎ এটি তাঁর নিজস্ব বক্তব্য। আল্লাহই ভালো জানেন।

যারা অল্প ও অধিক পানির মধ্যে পার্থক্য করেন, এটিই তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল। তবে অগ্রগণ্য মত হলো—অল্প ও অধিক পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

এরপর তিনি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (প্রবাহিত ও স্থির পানি)

স্থির পানি যেমন ডোবা বা জলাশয়ের পানি, আর প্রবাহিত পানি যেমন নদীর পানি।

--------------------------------------------

(১) এটি আহমাদ (৪৬০৫), আবু দাউদ (৬৫), তিরমিযী (৬৭), নাসাঈ (৫২) এবং ইবনে মাজাহ (৫১৭) ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

এটি দুর্বল, আর সঠিক হলো এটি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিজস্ব উক্তি (মাওকুফ)।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
أي لا فرق بين الماء المتحرك والساكن، وهذه المسألة الخامسة من مسائل الباب.

وقد ذهب بعض أهل العلم إلى عدم جواز التطهر بالماء الراكد، واحتجوا بقول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يغتسل أحدكم في الماء الدائم وهو جنب» (1).

والرد عليه في نفس الحديث، فقد سأل السامعون أبا هريرة، فقالوا: يا أبا هريرة كيف يَفعل؟ قال: يتناوله تناولاً.

فأجاز التطهر به، وراوي الحديث أدرى بمرويه، ولو لم يكن مطهراً لما أجاز التناول منه.

وأجاب بعض أهل العلم الذين يقولون إن الماء الساكن مطهر، بأن علة النهي عن الاغتسال فيه من الجنابة كونه يصير مستخبثاً بتوارد الاستعمال فيبطل نفعه، فالنهي لسد الذريعة لا لشيء آخر، ويدل على ذلك قول أبي هريرة السابق

ثم قال المؤلف رحمه الله: (وَمُسْتَعْمَلٍ وغيرِ مُسْتَعْمَلٍ)

هذه المسألة السادسة.

اختلف أهل العلم في الماء المستعمل لعبادة من العبادات، هل يخرج بذلك عن كونه مطهراً؟

فلو أنك توضأت أو اغتسلت، وجمعت الماء الساقط من وضوئك أو غسلك، فهل يجوز لك أن تتوضأ بهذا الماء أو تغتسل أم لا؟ وهو ما يسمى عند العلماء بالماء المستعمل.

اختلف أهل العلم في ذلك، فالبعض قال: هو طاهر ومطهر. والبعض قال: هو نجس. والبعض قال: هو طاهر، لكنه غير مطهر.

وكل احتج بأدلة، والصحيح أنه طاهر مطهر.

والدليل على أنه طاهر أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا توضأ كادوا يقتتلون على وضوئه (2)، ولو كان نجساً لما قربوه.

--------------------------------------------

(1). أخرجه مسلم (283) عن أبي هريرة رضي الله عنه.

(2) أخرجه البخاري (18) و (2731) من حديث مروان بن الحكم والمسور بن مخرمة.
অর্থাৎ প্রবহমান পানি এবং স্থির পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, আর এটি এই অধ্যায়ের মাসআলাসমূহের মধ্যে পঞ্চম মাসআলা।

কোনো কোনো আলেম স্থির পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন জায়েজ না হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন, এবং তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: «তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে» (১)।

এর উত্তর খোদ হাদিসের মধ্যেই রয়েছে। শ্রোতারা আবু হুরায়রাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তারা বললেন: হে আবু হুরায়রা, তবে সে কী করবে? তিনি বললেন: সে তা অঞ্জলি ভরে নিয়ে ব্যবহার করবে।

সুতরাং তিনি এর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করাকে জায়েজ সাব্যস্ত করেছেন। আর হাদিস বর্ণনাকারী তাঁর বর্ণিত হাদিসের মর্ম সম্পর্কে অধিক অবগত। যদি এটি পবিত্রকারী না হতো, তবে তিনি তা অঞ্জলি ভরে নিয়ে ব্যবহারের অনুমতি দিতেন না।

আর যে সকল আলেম স্থির পানিকে পবিত্রকারী বলেন, তারা উত্তর দিয়েছেন যে, অপবিত্র অবস্থায় তাতে গোসল করতে নিষেধ করার কারণ হলো—ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে তা নোংরা হয়ে যায় এবং এর উপযোগিতা নষ্ট হয়। অতএব, এই নিষেধ কেবল অশুভ পথ বন্ধ করার (সাদ্দুদ যারিয়াহ) জন্য, অন্য কোনো কারণে নয়। আবু হুরায়রার পূর্বোক্ত বক্তব্য এরই প্রমাণ বহন করে।

এরপর লেখক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (ব্যবহৃত এবং অব্যবহৃত)

এটি ষষ্ঠ মাসআলা।

ইবাদতের জন্য ব্যবহৃত পানির ক্ষেত্রে আলেমগণ মতভেদ করেছেন যে, ব্যবহারের কারণে কি তা পবিত্রকারী হওয়ার গুণ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়?

যেমন আপনি ওজু বা গোসল করলেন এবং ওজু বা গোসলের ঝরে পড়া পানি জমা করলেন; তবে কি আপনার জন্য এই পানি দিয়ে ওজু বা গোসল করা জায়েজ হবে কি না? একেই আলেমদের পরিভাষায় 'ব্যবহৃত পানি' বলা হয়।

এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন: এটি পবিত্র এবং পবিত্রকারী। কেউ বলেছেন: এটি অপবিত্র। আবার কেউ বলেছেন: এটি পবিত্র, কিন্তু পবিত্রকারী নয়।

প্রত্যেকেই নিজ নিজ দলিল পেশ করেছেন। তবে সঠিক মত হলো, এটি পবিত্র এবং পবিত্রকারী।

এটি পবিত্র হওয়ার দলিল হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ওজু করতেন, তখন সাহাবীগণ তাঁর ওজুর পানি নেওয়ার জন্য প্রায় একে অপরের সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হতেন (২)। যদি তা অপবিত্র হতো, তবে তারা এর ধারেকাছেও যেতেন না।

--------------------------------------------

(১). মুসলিম (২৮৩) এটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারি (১৮) এবং (২৭৩১) এটি মারওয়ান বিন হাকাম এবং মিসওয়ার বিন মাখরামার হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقد ثبت أنه عليه السلام صب على جابر من وضوئه (1)، وثبت أن أحد الصحابة شرب من وضوءه صلى الله عليه وسلم (2)، وبوّب البخاري باباً في استعمال فضل الوضوء، وساق آثاراً في ذلك (3).

وأما كونه مطهراً، فإن الماء المستعمل ماء مطلق داخل في عموم الأدلة المتقدّمة التي تدل على أن الماء المطلق طاهر مطهر ولا يجوز إخراجه منها إلا بدليل صحيح، ولا يوجد.

وخلاصة هذا البحث:

أن الماء المطلق طاهر مطهر، والماء إما أن يخالطه شيء طاهر أو شيء نجس.

فإن خالطه طاهر، فينظر إن أخرجه عن اسم الماء المطلق، فهو طاهر غير مطهر، وإن لم يخرجه فهو طاهر مطهر.

ومخالطة الشيء الطاهر اليسير له لا تؤثر فيه كمخالطة الصابون ونحوه، فقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال لأم عطية في تغسيل ابنته: «اغسلنها بماء وسدر» (4) متفق عليه، وكذلك مخالطة ما لا يمكن الاحتراز منه غالباً كمخالطة الطحالب أو ورق الشجر، أو التراب وغيرها من الأشياء التي تختلط بالماء.

وأما الماء الذي خالطته نجاسة، فإن غيرت أحد أوصافه الثلاثة، فهو نجس لا يصح التطهر ولا التطهير به.

وإن لم يتغير أحد أوصافه الثلاثة فهو طاهر مطهر ولا فرق بين القليل والكثير على الصحيح.

ومن أقوى المذاهب الفقهية في باب المياه مذهب الإمام مالك، حتى قال الغزالي أحد أئمة المذهب الشافعي: وددت لو أن مذهب الشافعي في المياه كان كمذهب مالك.

فإنه كان من أقوى المذاهب في المياه، وكذلك مذهبه في البيوع.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (194) ومسلم (1616) عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه.

(2) أخرجه البخاري (190) ومسلم (2345) عن السائب بن يزيد قال: ذهبت بي خالتي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقالت: يا رسول الله إن ابن أختي وَجِعٌ، فمسح رأسي ودعا لي بالبركة، ثم توضأ فشربت من وضوئه، ثم قمت خلف ظهره فنظرت إلى خاتمه بين كتفيه مثل زر الحجلة».

(3) «صحيح البخاري»، كتاب الوضوء، باب استعمال فضل وضوء الناس، أول حديث برقم (187).

(4) تقدم تخريجه.
এবং এটি প্রমাণিত যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাবিরের ওপর তাঁর ওজুর পানি ঢেলেছিলেন (১); এবং এটিও প্রমাণিত যে জনৈক সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওজুর অবশিষ্ট পানি পান করেছিলেন (২)। আর ইমাম বুখারী মানুষের ওজুর অবশিষ্ট পানি ব্যবহারের বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং এতে বেশ কিছু বর্ণনা পেশ করেছেন (৩)।

আর ব্যবহৃত পানি পবিত্রকারী হওয়ার বিষয়টি হলো—ব্যবহৃত পানি মূলত সাধারণ পানির অন্তর্ভুক্ত, যা ইতিপূর্বে উল্লিখিত ঐসব দলিলের সাধারণ হুকুমের আওতায় পড়ে যা প্রমাণ করে যে সাধারণ পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী; আর কোনো সহীহ দলিল ছাড়া এই পানিকে সাধারণ পানির হুকুম থেকে বের করা জায়েজ নয়, আর এমন কোনো দলিল নেই।

এই আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো:

সাধারণ পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী; আর পানির সাথে হয় কোনো পবিত্র বস্তু মিশবে অথবা কোনো অপবিত্র বস্তু মিশবে।

যদি এর সাথে কোনো পবিত্র বস্তু মিশে যায়, তবে দেখতে হবে যে তা পানিকে সাধারণ পানির নাম থেকে বের করে দিয়েছে কি না; যদি বের করে দেয় তবে তা পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়, আর যদি বের না করে তবে তা পবিত্র ও পবিত্রকারী।

পানির সাথে সামান্য পরিমাণ পবিত্র বস্তু মিশলে তা পানির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না, যেমন সাবান বা এই জাতীয় কিছুর সংমিশ্রণ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত যে, তিনি তাঁর কন্যাকে গোসল করানোর সময় উম্মে আতিয়াহকে বলেছিলেন: "তোমরা তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করাও" (৪) এটি বুখারী ও মুসলিমের ঐকমত্যে বর্ণিত। তদ্রূপ ঐসব বস্তুর সংমিশ্রণ যা থেকে সাধারণত বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, যেমন শেওলা, গাছের পাতা বা মাটি এবং অন্যান্য বস্তু যা পানির সাথে মিশে যায়।

আর যে পানির সাথে নাপাকি মিশেছে, যদি তা পানির তিনটি গুণের (রঙ, স্বাদ বা গন্ধ) কোনো একটি পরিবর্তন করে দেয়, তবে তা অপবিত্র; তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা কিংবা কোনো কিছু পবিত্র করা সঠিক হবে না।

আর যদি তিনটি গুণের কোনোটিই পরিবর্তিত না হয়, তবে তা পবিত্র ও পবিত্রকারী; বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এক্ষেত্রে পানির পরিমাণ অল্প বা বেশি হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পানি সংক্রান্ত বিষয়ে ফিকহী মাযহাবগুলোর মধ্যে ইমাম মালিকের মাযহাব অন্যতম শক্তিশালী মাযহাব; এমনকি শাফেয়ী মাযহাবের অন্যতম ইমাম আল-গাজ্জালী বলেছেন: "আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যদি পানি সংক্রান্ত বিষয়ে শাফেয়ী মাযহাব মালিকী মাযহাবের মতো হতো।"

কেননা পানি সংক্রান্ত বিষয়ে এটি অন্যতম শক্তিশালী মাযহাব ছিল, আর তদ্রূপ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর মাযহাব অত্যন্ত শক্তিশালী।

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম বুখারী (১৯৪) এবং মুসলিম (১৬১৬) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি ইমাম বুখারী (১৯০) এবং মুসলিম (২৩৪৫) সায়েব ইবনে ইয়াযিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার খালা আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাগ্নে অসুস্থ। তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার জন্য বরকতের দোয়া করলেন। এরপর তিনি ওজু করলেন এবং আমি তাঁর ওজুর অবশিষ্ট পানি পান করলাম। এরপর আমি তাঁর পিঠের পেছনে দাঁড়ালাম এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে কবুতরের ডিমের মতো নবুওয়াতের মোহর দেখতে পেলাম।

(৩) 'সহীহ বুখারী', ওজু অধ্যায়, মানুষের ওজুর অবশিষ্ট পানি ব্যবহার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, প্রথম হাদিস নং (১৮৭)।

(৪) এর উৎস পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌(فصل باب النجاسات)

قال رحمه الله: (والنجاساتُ هي غَائِطُ الإنسانِ مطلقاً وَبَوْلُهُ إلا الذكرَ الرَّضيعَ)

تقدم تعريف النجاسة، وأنها في اللغة: القذر.

وفي الشرع: كل عين يجب التطهر منها مثل البول والبراز.

والمؤلف رحمه الله يريد هنا أن يبين لنا النجاسات التي ثبت في الشرع وصفها بذلك.

ولابد أولاً أن نذكر قاعدة في هذا الباب، وهي أن: «الأصل في الأشياء الطهارة، فإذا جاء دليل ناقل عن ذلك الأصل أُخِذ به».

وقد دلَّ على هذا الأصل كليات وجزئيات في الشريعة.

ونأخذ منه أن أي شخص يدّعي أن عيناً ما نجسة وجَبَ عليه أن يأتي بالدليل على دعواه.

وأول الأشياء التي أثبت المؤلف نجاستها، غائط الإنسان، وهو عند العرب: ما اطمأن من الأرض، أي المنخفض، فكانوا فيما مضى إذا أراد الرجل أن يقضي حاجته طلب الموضع المطمئن من الأرض، لأنه أستر له، فكثر هذا منهم حتى سمّوا الحدث الخارج من الإنسان باسم الموضع.

وقد كان عند العرب أدب في انتقاء الألفاظ والكلمات، فلما كان الخارج من الإنسان مستقذراً، حاولوا أن ينقلوا الاسم إلى شيء قريب كي يكون مقبولاً.

والغائط نجس - كما قال المؤلف - بالاتفاق، أي المسألة محل إجماع (1)،

وإذا كانت المسألة محل إجماع فلا نقاش فيها، لأن الإجماع دليل من أدلة الشرع الصحيحة، ومعرفة الأدلة الشرعية يرجع فيها إلى علم أصول الفقه.

--------------------------------------------

(1). قال ابن حزم في «مراتب الإجماع» (ص 19): «واتفقوا على أن بول ابن آدم إذا كان كثيراً ولم يكن كرؤوس الإبر، وغائطه نجس».

 

وانظر «بداية المجتهد» (1/ 83) لابن رشد.
(পরিচ্ছেদ: অপবিত্রতা সংক্রান্ত অধ্যায়)

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: (এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ হলো মানুষের মল সাধারণভাবে এবং তার প্রস্রাব, কেবল দুগ্ধপোষ্য পুত্রসন্তান ব্যতীত)

অপবিত্রতার সংজ্ঞা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, আর আভিধানিক অর্থে তা হলো: ময়লা বা নোংরা বস্তু।

আর শরয়ি পরিভাষায়: এমন প্রতিটি বস্তু যা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা আবশ্যক, যেমন প্রস্রাব ও মল।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এখানে আমাদের নিকট সেই অপবিত্র বস্তুগুলো বর্ণনা করতে চেয়েছেন যেগুলোকে শরয়ি বিধানে অপবিত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

এই অধ্যায়ে আমাদের প্রথমে একটি মূলনীতি উল্লেখ করা আবশ্যক, তা হলো: «বস্তুর ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো পবিত্রতা; সুতরাং যখন এই মূল থেকে বিচ্যুত করার মতো কোনো দলিল আসবে, তখন সেটি গ্রহণ করা হবে।»

শরয়ি সাধারণ ও বিশেষ বিধানসমূহ এই মূলনীতির ওপর প্রমাণ পেশ করেছে।

এ থেকে আমরা এই শিক্ষা গ্রহণ করি যে, কোনো ব্যক্তি যদি দাবি করে কোনো বস্তু অপবিত্র, তবে তার দাবির স্বপক্ষে দলিল পেশ করা তার ওপর আবশ্যক।

লেখক যে বিষয়গুলোর অপবিত্রতা প্রথম প্রমাণ করেছেন তা হলো মানুষের মল; আরবদের নিকট এর আভিধানিক অর্থ হলো: জমিনের নিচু স্থান। অতীতে যখন কোনো ব্যক্তি মলত্যাগ করতে চাইতেন, তখন তিনি জমিনের নিচু স্থান খুঁজতেন, কারণ তা তার জন্য অধিক আবরণকারী বা গোপনীয় হতো। মানুষের মাঝে এই চর্চা অধিক হওয়ার ফলে তারা মানুষের শরীর থেকে নির্গত আবর্জনাকে সেই স্থানের নামেই নামকরণ করেছে।

শব্দ ও বাক্য চয়নের ক্ষেত্রে আরবদের মাঝে এক প্রকার শিষ্টাচার ছিল। যেহেতু মানুষের শরীর থেকে নির্গত বস্তু ছিল নোংরা, তাই তারা এর নামটিকে একটি মার্জিত বিষয়ের দিকে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করেছে যাতে তা শ্রুতিমধুর হয়।

লেখক যেমনটি বলেছেন, মানুষের মল সর্বসম্মতিক্রমে অপবিত্র, অর্থাৎ বিষয়টি ইজমার অন্তর্ভুক্ত (১)।

আর যদি বিষয়টি ইজমার অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তাতে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই; কারণ ইজমা হলো শরয়ি দলিলসমূহের মধ্যে একটি সঠিক দলিল। আর শরয়ি দলিলসমূহ চেনার বিষয়টি উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১). ইবনে হাজম ‘মারাতীবুল ইজমা’ গ্রন্থে (পৃ. ১৯) বলেছেন: «আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, আদম সন্তানের প্রস্রাব যদি পরিমাণে বেশি হয় এবং সুঁইয়ের মাথার মতো (সামান্য) না হয়, তবে তা অপবিত্র, এবং তার মলও অপবিত্র।»

 

আরও দেখুন ইবনে রুশদ-এর ‘বিদায়াতুল মুজতাহিদ’ (১/ ৮৩)।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وإذا أقمنا الدليل من الكتاب والسنة مع الإجماع زادت المسألة قوة في النفس، لتعدد الأدلة.

قال النبي صلى الله عليه وسلم «إذا جاء أحدكم إلى المسجد فلينظر، فإن رأى في نعليه قذراً أو أذى، فليمسحه، وليصلِّ فيهما» (1).

وكذلك البول نجس بالاتفاق (2)، وجاء عن أبي هريرة أنه قال: إن أعرابياً بال في المسجد فقام إليه الناس، فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: «دعوه وأهريقوا على بوله ذنوباً من ماء، فإنما بعثتم ميسرين، ولم تبعثوا معسرين» (3).

واختلفوا في بول الذكر الرضيع، والصحيح أنه نجس أيضاً إلا أن الشارع خفف في طهارته تخفيفاً على الأمة، لحديث أم قيس رضي الله عنها: «أنها أتت بابن لها لم يبلغ أن يأكل الطعام فبال في حجر رسول الله صلى الله عليه وسلم، فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بماء فنضحه على ثوبه ولم يغسله غسلاً» (4)

ومعنى نضحه: أي رش عليه الماء بدرجة لا تصل إلى الجريان.

وفي حديث علي: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يُنضح بول الغلام ويُغسل بول الجارية» (5).

وهذا لا يدل على طهارة بول الغلام، فلو كان طاهراً لما أُمرنا بنضحه، واختلاف كيفية التطهير للنجس غير موجبة لخروجه عن النجاسة، كتطهير النعلين مثلا من الأذى، وتطهير الثوب من دم الحيض، فإنهما لما اختلفا لم يوجب هذا أنهما غير نجسين.

ثم قال المؤلف رحمه الله: (ولُعابُ كلبٍ)

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (17/ 242)، وأبو داود (650) وغيرهما.

وأما حديث أبي هريرة رضي الله عنه: «إذا وطئ أحدكم بنعله الأذى فإن التراب له طهور»، فضعيف؛ رواه جمع عن الأوزاعي قال: نبئت عن سعيد بن أبي سعيد … إلخ، وخالفهم محمد بن كثير فذكر المبهم وهو محمد بن عجلان، ولكن ابن كثير منكر الحديث، فالصواب رواية الجماعة، فالإسناد ضعيف. وله طرق أخرى ضعيفة انظرها في «البدر المنير» (4/ 127).

(2) قال ابن المنذر: «وأجمعوا على إثبات نجاسة البول».

«الإجماع» (ص 36)، وتقدم ما قاله ابن حزم في «مراتب الإجماع» (ص 19).

(3) أخرجه البخاري (220).

(4) أخرجه البخاري (223)، ومسلم (287) عن أم قيس بنت محصن.

(5) أخرجه أحمد (2/ 7) رقم (563)، وأبو داود (377)، والترمذي (610)، وابن ماجه (525) عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه.
যখন আমরা কিতাব ও সুন্নাহর পাশাপাশি ইজমার দলিল উপস্থাপন করি, তখন দলিলের প্রাচুর্যের কারণে বিষয়টি অন্তরে অধিক শক্তিশালী রূপ ধারণ করে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসে, তখন সে যেন লক্ষ্য করে; যদি সে তার জুতোদ্বয়ে কোনো নাপাকি বা ময়লা দেখে, তবে সে যেন তা মুছে ফেলে এবং তাতে সালাত আদায় করে" (১)।

অনুরূপভাবে প্রস্রাব সর্বসম্মতভাবে নাপাক (২), এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: এক গ্রাম্য ব্যক্তি মসজিদে প্রস্রাব করে দিল, তখন লোকেরা তার দিকে ধাবিত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের বললেন: "তাকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও; কেননা তোমরা সহজকারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছ, কঠোরতা অবলম্বনকারী হিসেবে প্রেরিত হওনি" (৩)।

দুগ্ধপোষ্য পুত্রসন্তানের প্রস্রাব সম্পর্কে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। সঠিক মত হলো এটিও নাপাক, তবে উম্মতের প্রতি সহজ করার উদ্দেশ্যে শরিয়ত প্রণেতা এর পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতিতে শিথিলতা দান করেছেন। এর প্রমাণ উম্মে কায়েস (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিস: "তিনি তাঁর এক পুত্রসন্তানকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলেন যে তখনো খাবার খাওয়া শুরু করেনি। শিশুটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোলে প্রস্রাব করে দিল। তখন তিনি পানি চাইলেন এবং তা তাঁর কাপড়ে ছিটিয়ে দিলেন, কিন্তু তা ধৌত করেননি" (৪)।

আর 'নাযহ্' (ছিটানো)-এর অর্থ হলো: এর ওপর এমনভাবে পানি ছিটানো যা গড়িয়ে পড়ার পর্যায়ে পৌঁছাবে না।

আলীর হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পুত্রসন্তানের প্রস্রাবে পানি ছিটানো হবে এবং কন্যাসন্তানের প্রস্রাব ধৌত করা হবে" (৫)।

এটি পুত্রসন্তানের প্রস্রাব পবিত্র হওয়ার ওপর দলিল নয়; কারণ যদি তা পবিত্রই হতো তবে আমাদের তা ছিটানোর নির্দেশ দেওয়া হতো না। আর নাপাকি থেকে পবিত্র হওয়ার পদ্ধতির ভিন্নতা তা নাপাকি থেকে বের হয়ে যাওয়ার আবশ্যক করে না। যেমন—জুতো থেকে ময়লা পরিষ্কার করা এবং কাপড় থেকে হায়েজের রক্ত পরিষ্কার করার পদ্ধতি ভিন্ন; কিন্তু পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ার কারণে এ কথা বলা যাবে না যে তারা নাপাক নয়।

অতঃপর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (এবং কুকুরের লালা)

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (১৭/ ২৪২), আবু দাউদ (৬৫০) এবং অন্যান্যগণ।

আর আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস: "যখন তোমাদের কেউ তার জুতো দিয়ে ময়লা মাড়াবে, তখন মাটিই তার জন্য পবিত্রকারী"—এটি দুর্বল। একদল বর্ণনাকারী এটি আওযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ থেকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে... ইত্যাদি। কিন্তু মুহাম্মদ ইবনে কাসীর তাদের বিরোধিতা করে একজন অস্পষ্ট বর্ণনাকারীর উল্লেখ করেছেন যিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আজলান, কিন্তু ইবনে কাসীর 'মুনকারুল হাদিস' (অগ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী)। সুতরাং জামাআতের (সংখ্যাগরিষ্ঠের) বর্ণনাটিই সঠিক, আর এর সনদ দুর্বল। এর আরও কিছু দুর্বল সূত্র রয়েছে, যা দেখুন 'আল-বদরুল মুনীর' (৪/ ১২৭) গ্রন্থে।

(২) ইবনুল মুনযির বলেন: "প্রস্রাব নাপাক হওয়ার বিষয়ে উলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন।"

'আল-ইজমা' (পৃ. ৩৬), এবং ইবনে হাযম 'মারাতীবুল ইজমা' (পৃ. ১৯) গ্রন্থে যা বলেছেন তা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারি (২২০)।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারি (২২৩) এবং মুসলিম (২৮৭), উম্মে কায়েস বিনতে মিহসান থেকে।

(৫) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (২/ ৭) নং (৫৬৩), আবু দাউদ (৩৭৭), আত-তিরমিযী (৬১০), এবং ইবনে মাজাহ (৫২৫); আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «طُهُور إناء أحدكم إذا ولغ فيه الكلب أن يغسله سبع مرات أولاهن بالتراب» (1).

والصحيح أن لعاب الكلب ليس نجساً، والطهارة المأمور بها هنا لإزالة الجراثيم التي تكون في لعاب الكلب وتختلط بالإناء وما فيه.

وقال مالك: «الأمر تعبُّدي».

والدليل على طهارة لعاب الكلب، أن الله سبحانه وتعالى أذن في الأكل مما أمسكن علينا، فصيده حلال، فلو كان الكلب نجساً لنجّس الصيدَ بمماسته.

قال الإمام مالك رحمه الله: «يؤكل صيده فكيف يكره لعابه» (2).

ولفظ الطهارة لا تدل على نجاسة الشيء دائماً، فقد تأتي لرفع النجاسة، وقد تأتي لغير ذلك، قال الله تبارك وتعالى {وإن كنتم جنباً فاطّهروا} وهنا أمر بالتطهر، و «المؤمن لا ينجس» كما قال عليه الصلاة والسلام (3).

فالطهارة هنا لرفع الجنابة فقط وليست لإزالة النجاسة، فالطهارة إذاً تستعمل لإزالة النجاسة، وتستعمل لغير ذلك.

وقال عليه الصلاة والسلام في الهرة: «إنها من الطوّافين عليكم والطوّافات» (4)، والكلاب كذلك.

وهذا قول الزهري ومالك والأوزاعي وابن المنذر وكثير من المالكية.

ثم قال رحمه الله: (وروثٌ)

الروث هو رجيع ذوات الحوافر.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (172)، ومسلم (279) عن أبي هريرة رضي الله عنه، واللفظ لمسلم، ولفظ البخاري: «إذا شرب الكلب في إناء أحدكم فليغسله سبعاً».

(2) «المدونة» (1/ 116).

(3) أخرجه البخاري (283)، ومسلم (371) عن أبي هريرة رضي الله عنه.

(4) أخرجه أحمد (37/ 211) رقم (22528)، وأبو داود (75)، والترمذي (92)، والنسائي (68) وابن ماجه (367) عن أبي قتادة رضي الله عنه.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: «তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুর মুখ দেয়, তখন তার পবিত্রতা অর্জনের উপায় হলো সেটিকে সাতবার ধৌত করা, যার প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে» (১)।

সঠিক মত হলো, কুকুরের লালা অপবিত্র নয়। এখানে পবিত্রতার যে আদেশ দেওয়া হয়েছে তা মূলত কুকুরের লালায় থাকা জীবাণু দূর করার জন্য, যা পাত্র এবং তাতে থাকা বস্তুর সাথে মিশে যায়।

ইমাম মালিক বলেছেন: «এই নির্দেশটি হলো ইবাদতগত (তাআব্বুদি)»।

কুকুরের লালা পবিত্র হওয়ার প্রমাণ হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের জন্য তাদের (শিকারী কুকুরের) ধরে আনা শিকার ভক্ষণ করার অনুমতি দিয়েছেন। সুতরাং তার শিকার হালাল। যদি কুকুর অপবিত্র হতো, তবে তা স্পর্শের মাধ্যমে শিকারকেও অপবিত্র করে দিত।

ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: «তার শিকার খাওয়া যায়, তবে তার লালা কীভাবে অপছন্দনীয় (অপবিত্র) হতে পারে» (২)।

এবং 'পবিত্রতা' শব্দটি সর্বদা কোনো জিনিসের অপবিত্রতা নির্দেশ করে না। এটি কখনও নাপাকি দূর করার অর্থে আসে, আবার কখনও অন্য অর্থেও আসে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন {এবং যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাকো তবে পবিত্রতা অর্জন করো}। এখানে পবিত্র হওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে, অথচ নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম যেমনটি বলেছেন: «মুমিন অপবিত্র হয় না» (৩)।

সুতরাং এখানে পবিত্রতা কেবল জুনুবি অবস্থা দূর করার জন্য, নাপাকি দূর করার জন্য নয়। অতএব, পবিত্রতা শব্দটি নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, আবার অন্য ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।

বিড়াল সম্পর্কে তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: «এটি তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত» (৪)। কুকুরের বিষয়টিও তেমনই।

এটি জুহরি, মালিক, আওজায়ি, ইবনুল মুনজির এবং মালেকি মাজহাবের অনেক আলেমের অভিমত।

এরপর তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: (এবং গোবর)

গোবর হলো ক্ষুরযুক্ত পশুর বিষ্ঠা।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১৭২) এবং মুসলিম (২৭৯) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, শব্দগুলো মুসলিমের। বুখারির শব্দ হলো: «যখন কুকুর তোমাদের কারো পাত্রে পান করে, তখন সে যেন তা সাতবার ধুয়ে নেয়»।

(২) «আল-মুদাওওয়ানা» (১/ ১১৬)।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (২৮৩) এবং মুসলিম (৩৭১) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৩৭/ ২১১) নম্বর (২২৫২৮), আবু দাউদ (৭৫), তিরমিজি (৯২), নাসায়ি (৬৮) এবং ইবনে মাজাহ (৩৬৭) আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
أما روث وبول ما يؤكل لحمه فهو طاهر، يدل على ذلك حديث أنس قال: «قدم أناس من عُكل أو عُرينة فاجتووا المدينة فأمرهم النبي صلى الله عليه وسلم بلِقاح وأن يشربوا من أبوالها وألبانها» متفق عليه (1).

والشاهد أن النبي صلى الله عليه وسلم أذن لهم بالشرب من أبوال الإبل والنجس يحرم شربه.

وكذلك لم يأمرهم صلى الله عليه وسلم بغسل ما يصيبهم منه، ولا بدّ من ذلك.

وصحّ عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه رخّص في الصلاة في مرابض الغنم (2) وهي لا تخلو من روثها وبولها، وغيرُ الإبلِ والغنمِ مما يؤكل لحمه يقاس عليها.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «وبول ما أكل لحمه وروثه طاهر لم يذهب أحد من الصحابة إلى تنجسه، بل القول بنجاسته قول محدث لا سلف له من الصحابة» انتهى (3)

وأما روث ما لا يؤكل لحمه كالبغال والحمير، فنجس عند جمهور العلماء، وهو الصحيح ودليله حديث ابن مسعود، قال: «أتى النبي صلى الله عليه وسلم الغائطَ، فأمرني أن آتيه بثلاثة أحجار، فوجدت حجرين وروثة فأخذ الحجرين وألقى الروثة، وقال: «هذا رجس أو ركس» أخرجه البخاري (4).

ثم قال رحمه الله: (ودمُ حَيْضٍ)

لحديث أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنها قالت: «جاءت امرأة إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقالت: إحدانا يصيب ثوبها من دم حيض، فكيف تصنع؟ قال: «تحتُّه ثم تقرصه بالماء ثم تنضحه ثم تصلي فيه» متفق عليه (5).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (233)، ومسلم (1671) عن أنس بن مالك رضي الله عنه.

(2) أخرج مسلم (360) عن جابر بن سمرة، أن رجلاً سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم، أأتوضأ من لحوم الغنم؟ قال: «إن شئت فتوضأ، وإن شئت فلا توضأ قال أتوضأ من لحوم الإبل؟ قال: «نعم فتوضأ من لحوم الإبل» قال: أصلي في مرابض الغنم؟ قال: «نعم» قال: أصلي في مبارك الإبل؟ قال: «لا».

وأخرج البخاري (234)، ومسلم (524) عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يصلي قبل أن يبنى المسجد في مرابض الغنم.

ومرابض الغنم: مأواها، أي المكان الذي تبيت فيه.

(3) «الفتاوى الكبرى» (5/ 313).

(4) أخرجه البخاري (156) عن ابن مسعود رضي الله عنه.

(5) أخرجه البخاري (227)، ومسلم (291) عن أسماء بنت أبي بكر الصديق رضي الله عنها.
যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় তার বিষ্ঠা ও প্রস্রাব পবিত্র। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস এর প্রমাণ দেয়, তিনি বলেন: "উকল বা উরাইনা গোত্রের কিছু লোক মদিনায় আসলো, কিন্তু মদিনার আবহাওয়া তাদের প্রতিকূল হলো। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে উটের পালের কাছে যাওয়ার এবং তাদের প্রস্রাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত্য) (১)।

এখানে প্রামাণ্য বিষয় হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে উটের প্রস্রাব পান করার অনুমতি দিয়েছিলেন, আর নাপাক বস্তু পান করা হারাম।

অনুরূপভাবে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই প্রস্রাব শরীরে লাগলে তা ধৌত করার নির্দেশ দেননি, অথচ তা যদি নাপাক হতো তবে তা করা আবশ্যক ছিল।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ছাগলের খোঁয়াড়ে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছেন (২), যা ছাগলের বিষ্ঠা ও প্রস্রাব থেকে মুক্ত থাকে না। আর উট ও ছাগল ব্যতীত অন্যান্য হালাল প্রাণী যাদের গোশত খাওয়া হয়, তাদের বিধানও এদের উপর কিয়াস করা হবে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় তাদের প্রস্রাব ও বিষ্ঠা পবিত্র। সাহাবীগণের মধ্যে কেউ একে নাপাক মনে করতেন না, বরং একে নাপাক বলা একটি নব উদ্ভাবিত মত যার সলফ বা পূর্বসূরী সাহাবীগণের মধ্যে নেই।" (সমাপ্ত) (৩)

আর যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় না যেমন খচ্চর ও গাধা, জুমহুর ওলামায়ে কেরামের মতে তাদের বিষ্ঠা নাপাক। এটিই সঠিক মত এবং এর দলিল হলো ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শৌচাগারে গেলেন এবং আমাকে তিনটি পাথর আনতে নির্দেশ দিলেন। আমি দুটি পাথর এবং একটি বিষ্ঠা পেলাম। তিনি পাথর দুটি গ্রহণ করলেন এবং বিষ্ঠাটি ফেলে দিলেন এবং বললেন: 'এটি অপবিত্র বা নাপাক'।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (৪)।

অতপর তিনি রহিমাহুল্লাহ বললেন: (এবং ঋতুস্রাবের রক্ত)

আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: আমাদের কারো কাপড়ে ঋতুস্রাবের রক্ত লাগলে সে কী করবে? তিনি বললেন: 'সেটি ঘষবে, তারপর পানি দিয়ে কচলাবে, এরপর তাতে পানি ছিটিয়ে দেবে এবং সেই কাপড়ে নামাজ পড়বে'।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (৫)।

--------------------------------------------

(১) আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বুখারি (২৩৩) ও মুসলিম (১৬৭১) বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম (৩৬০) জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: আমি কি ছাগলের গোশত খেয়ে ওজু করব? তিনি বললেন: "তুমি চাইলে ওজু করতে পারো, আর না চাইলে করো না।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আমি কি উটের গোশত খেয়ে ওজু করব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, উটের গোশত খেয়ে ওজু করো।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আমি কি ছাগলের খোঁয়াড়ে নামাজ পড়তে পারি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আমি কি উটের আস্তাবলে নামাজ পড়তে পারি? তিনি বললেন: "না।"

এবং আনাস (রা.) থেকে বুখারি (২৩৪) ও মুসলিম (৫২৪) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদ নির্মাণের আগে ছাগলের খোঁয়াড়ে নামাজ পড়তেন।

ছাগলের খোঁয়াড়: তাদের আশ্রয়স্থল, অর্থাৎ যেখানে তারা রাত কাটায়।

(৩) "আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা" (৫/৩১৩)।

(৪) ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বুখারি (১৫৬) বর্ণনা করেছেন।

(৫) আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর কন্যা আসমা (রা.) থেকে বুখারি (২২৭) ও মুসলিম (২৯১) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
فالأمر بغسل دم الحيض والتشديد فيه قبل الصلاة في الثوب، يفيد ثبوت نجاسته، وقد اتفق العلماء على نجاسته (1).

ثم قال رحمه الله: (ولحمُ خنزيرٍ)

والدليل على نجاسته قوله تعالى {قل لا أجد فيما أُوحي إليّ مُحرّماً على طاعم يطعمه إلا أن يكون ميتة أو دماً مسفوحاً أو لحم خنزير فإنه رجس} أي نجس، ونقل بعض أهل العلم الاتفاق على نجاسة لحمه، وكذلك لحم الميتة (2).

ثم قال رحمه الله: (وفيما عدا ذلك خلاف)

اختلف أهل العلم في أشياء هل هي نجسة أم لا؟

من ذلك (المَذْيُ): وهو ماء أبيض رقيق لزج، يخرج عند شهوة، لا بشهوة ولا يعقبه فتور، وربما لا يشعر بخروجه، ويكون ذلك للرجل والمرأة.

كذا قال النووي في «شرح مسلم».

وهو نجس على الصحيح، لأمر النبي صلى الله عليه وسلم بغسل الذكر منه كما جاء في حديث علي في «الصحيحين»، قال: كنت رجلاً مذّاءً، وكنت أستحيي أن أسأل النبي صلى الله عليه وسلم لمكان ابنته، فأمرت المقداد بن الأسود فسأله، فقال: «يغْسِلُ ذكَرَه ويتَوَضّأ» (3).

وأما (المني) الذي يكون منه الولد، وهو سائل أبيض ثخين، وينزل عند اكتمال الشهوة وشدتها، ويكون بعده فتور وارتخاء، وهذا الماء طاهر على الصحيح وليس بنجس، بناء على الأصل في الأشياء، ولم يصح دليل يدل على نجاسة المني.

وكذلك (الخمر) ليس بنجس على الصحيح، وليس كلُّ محرَّمٍ نجساً، بينما كلُّ نجسٍ محرَّمٌ.

--------------------------------------------

(1) انظر «المجموع» (2/ 557) للنووي، و «بداية المجتهد» (1/ 83) لابن رشد، و «مراتب الإجماع» (19) لابن حزم، و «نيل الأوطار» للمؤلف (1/ 58).

(2) قال ابن حزم: «واتفقوا أن لحم الميتة وشحمها وودكها وغضروفها ومخها، وأن لحم الخنزير وشحمه وودكه وغضروفه ومخه وعصبه، حرام كله، وكل ذلك نجس» «مراتب الإجماع» (ص 23).

والودك: دسم اللحم ودهنه الذي يستخرج منه، والغضروف هو كل عظم يؤكل كرؤوس الأضلاع، فيكون بين اللحم والعظم.

(3) أخرجه البخاري (269)، ومسلم (303).
মাসিকের রক্ত ধৌত করার আদেশ এবং কাপড়ে তা থাকা অবস্থায় সালাত আদায়ের ব্যাপারে কঠোরতা এর অপবিত্রতা সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ দেয়। আর উলামায়ে কেরাম এর অপবিত্রতার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন (১)।

অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (এবং শূকরের মাংস)

এর অপবিত্রতার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমার কাছে যে ওহী পাঠানো হয়েছে তাতে আহারকারীর জন্য যা সে আহার করে এমন কিছু হারাম পাই না, যদি না তা মৃত জন্তু হয় অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শূকরের মাংস; কেননা তা অপবিত্র (রিজস)} অর্থাৎ নাপাক। আর কোনো কোনো আহলে ইলম এর মাংস এবং একইভাবে মৃত জন্তুর মাংসের অপবিত্রতার বিষয়ে ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন (২)।

অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আর এগুলো ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে)

আহলে ইলমগণ কিছু জিনিসের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যে, সেগুলো কি নাপাক নাকি নাপাক নয়?

এর মধ্যে একটি হলো (মাযি): এটি একটি সাদা, পাতলা ও আঠালো তরল, যা কামোত্তেজনার সময় নির্গত হয়। এটি (মণির মতো) সজোরে নির্গত হয় না এবং এর পরে শরীরে শিথিলতা আসে না। অনেক সময় এটি নির্গত হওয়ার বিষয়টি অনুভূতও হয় না। এটি পুরুষ ও নারী উভয়েরই হয়ে থাকে।

ইমাম নববী 'শারহ মুসলিম'-এ এভাবেই বলেছেন।

বিশুদ্ধ মতানুসারে এটি নাপাক। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি লাগলে লিঙ্গ ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি বুখারী ও মুসলিমের 'সহীহাইন'-এ বর্ণিত আলীর (রা.) হাদিসে এসেছে। তিনি বলেন: আমি প্রচুর মাযি নির্গত হওয়া একজন ব্যক্তি ছিলাম। রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কন্যা আমার স্ত্রী হওয়ার কারণে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা পাচ্ছিলাম। তাই আমি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদকে নির্দেশ দিলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "সে যেন তার লিঙ্গ ধৌত করে এবং ওযু করে" (৩)।

আর (মণি) যা থেকে সন্তান জন্ম লাভ করে, তা হলো একটি সাদা ও ঘন তরল। এটি কামভাবের পূর্ণতা ও তীব্রতার সময় নির্গত হয় এবং এর পরে শরীরে অবসাদ ও শিথিলতা আসে। বিশুদ্ধ মতানুসারে এই তরলটি পবিত্র এবং এটি নাপাক নয়। এর ভিত্তি হলো বস্তুর মূল অবস্থার (পবিত্রতার) ওপর, আর মণির অপবিত্রতার বিষয়ে সহীহ কোনো দলিল নেই।

একইভাবে (মদ) বিশুদ্ধ মতানুসারে নাপাক নয়। কেননা প্রতিটি হারাম বস্তুই নাপাক নয়, তবে প্রতিটি নাপাক বস্তুই হারাম।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: নববীর ‘আল-মাজমু’ (২/৫৫৭), ইবনে রুশদের ‘বিদায়াতুল মুজতাহিদ’ (১/৮৩), ইবনে হাজমের ‘মারাতিবুল ইজমা’ (১৯) এবং লেখকের ‘নাইলুল আওতার’ (১/৫৮)।

(২) ইবনে হাজম বলেন: “তারা (উলামায়ে কেরাম) ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে—মৃত জন্তুর মাংস, চর্বি, গলানো চর্বি, তরুণাস্থি ও মগজ; এবং শূকরের মাংস, চর্বি, গলানো চর্বি, তরুণাস্থি, মগজ ও স্নায়ু—এই সবই হারাম এবং এগুলোর প্রতিটিই নাপাক” ‘মারাতিবুল ইজমা’ (পৃষ্ঠা ২৩)।

‘ওয়াদাক’ হলো মাংসের তৈলাক্ত অংশ বা চর্বি যা তা থেকে নির্যাস হিসেবে বের করা হয়। আর ‘গুযরুফ’ বা তরুণাস্থি হলো এমন নরম হাড় যা খাওয়া যায়, যেমন পাঁজরের হাড়ের অগ্রভাগ, যা মাংস ও শক্ত হাড়ের মাঝে থাকে।

(৩) এটি বুখারী (২৬৯) ও মুসলিম (৩০৩) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ثم قال رحمه الله: (والأصلُ الطهارةُ)

أي الأصل في الأشياء طهارتها.

قال: (فلا يَنْقُلُ عنها إلا ناقلٌ صحيحٌ لم يُعَارِضْهُ ما يساوِيه أو يقدَّم عليه)

والناقل الصحيح دليل من الكتاب أو السنة، أو الإجماع، أو قياس صحيح - على من يقول به في هذا الموطن -، لم يعارضه ما يساويه أو يقدم عليه في القوة.

قال الشوكاني رحمه الله: «لأن الأصل الطهارة وهذا معلوم من كليات الشريعة المطهرة وجزئياتها، ولا ريب أن الحكم بنجاسة شيء يستلزم تكليف العباد بحكم من أحكام الشرع، والأصل البراءة من ذلك، ولا سيّما من الأمور التي تعم بها البلوى … إلخ (1).

قال رحمه الله: (فصل)

الفصل لغة: الحجز بين الشيئين، ومنه فصل الربيع، لأنه يحجز بين الشتاء والصيف، وهو في كتب العلم كذلك، لأنه يحجز بين أجناس المسائل وأنواعها.

أو يقال في تعريفه: هو اسم لجملة مختصة من الباب.

ثم قال رحمه الله: (ويُطَهّرُ ما يتنجّس بغَسْلِهِ، حتى لا يبقى لها عينٌ، ولا لونٌ، ولا ريحٌ، ولا طعمٌ، والنعلُ بالمسحِ)

اعلم علمني الله وإياك، أن نجاسة الشيء إما أن تكون حكمية، كالبول إذا وقع على الثوب، فيوصف الثوب بأنه نجس، ويحكم عليه بذلك شرعاً، بسبب البول الذي وقع عليه، فإنه لم يكن في الأصل نجساً بل صار كذلك بعد أن وقع البول عليه، وصار متنجّساً.

وإما أن تكون عينيّة، أي عين الشيء نجسة، كالروث الذي هو براز ما لا يؤكل لحمه.

فأما النوع الأول من النجاسة فيطهّر بالكيفية التي وردت في الشرع، ذلك لأنه إن ورد في الشرع كيفية تطهير معينة وجب الالتزام بها والاقتصار عليها، دون مخالفة بزيادة أو نقصان، كما ورد في النعل إذا تلوّث بالنجاسة طهُر بمسحه بالتراب.

--------------------------------------------

(1) «الدراري المضيئة» (1/ 33).
এরপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: (মূল ভিত্তি হলো পবিত্রতা)

অর্থাৎ, সকল বস্তুর ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো তার পবিত্রতা।

তিনি বলেছেন: (সুতরাং কোনো সহীহ দলীল ছাড়া তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না, যদি না এর বিপরীতে সমপর্যায়ের বা এর চেয়ে অগ্রগণ্য কোনো দলীল থাকে)

বিচ্যুতকারী সহীহ দলীল বলতে বুঝায় কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা অথবা সঠিক কিয়াস—যারা এক্ষেত্রে কিয়াসকে দলীল হিসেবে গণ্য করেন তাদের মতে—যার বিপরীতে শক্তিমত্তার দিক থেকে সমপর্যায়ের বা এর চেয়ে অগ্রগণ্য কোনো কিছু নেই।

শাওকানী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: "কেননা মূল ভিত্তি হলো পবিত্রতা এবং এটি পবিত্র শরীয়তের সামগ্রিক ও আংশিক মূলনীতিসমূহ থেকে সুবিদিত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো বস্তুকে নাপাক হিসেবে সাব্যস্ত করা বান্দাদের ওপর শরীয়তের একটি হুকুম চাপিয়ে দেওয়ার নামান্তর, অথচ মূল ভিত্তি হলো এ থেকে দায়মুক্তি। বিশেষ করে ঐ সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে যা সাধারণ মানুষের জন্য এড়িয়ে চলা কঠিন... ইত্যাদি (১)।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: (পরিচ্ছেদ)

'ফসল' (পরিচ্ছেদ) এর আভিধানিক অর্থ: দুটি বস্তুর মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করা। এখান থেকেই বসন্তকালকে 'ফসল' বলা হয়, কারণ তা শীত ও গ্রীষ্মের মাঝে অন্তরায় তৈরি করে। ইলমী কিতাবসমূহেও এর অর্থ অনুরূপ, কারণ তা মাসআলাসমূহের বিভিন্ন শ্রেণী ও প্রকারের মাঝে বিভাজন তৈরি করে।

অথবা এর সংজ্ঞায় বলা হয়: এটি কোনো অধ্যায়ের একটি বিশেষ অংশ বা সমষ্টির নাম।

অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: (যা কিছু অপবিত্র হয়েছে তা ধোয়ার মাধ্যমে পবিত্র করতে হবে, যতক্ষণ না তার মূল সত্তা, রঙ, ঘ্রাণ ও স্বাদ অবশিষ্ট থাকে; আর জুতা পবিত্র হবে মোছার মাধ্যমে)

জেনে রাখুন, আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে ইলম দান করুন যে, কোনো বস্তুর নাপাকী হয় 'হুকমী' (বিধানগত) হবে, যেমন কাপড়ে প্রস্রাব লাগলে। এমতাবস্থায় কাপড়টিকে নাপাক হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং প্রস্রাব লাগার কারণে শরঈভাবে এর ওপর নাপাক হওয়ার বিধান আরোপ করা হয়। কেননা কাপড়টি মূলত নাপাক ছিল না, বরং প্রস্রাব লাগার পর তা নাপাক হয়েছে এবং একে নাপাকযুক্ত বলা হয়।

অথবা নাপাকীটি হবে 'আইনী' (সত্তা বা অস্তিত্বগত), অর্থাৎ বস্তুটির মূল সত্তাই নাপাক। যেমন সেই প্রাণীর গোবর যার গোশত খাওয়া হয় না।

প্রথম প্রকারের নাপাকী সেই পদ্ধতির মাধ্যমে পবিত্র করতে হবে যা শরীয়তে বর্ণিত হয়েছে। কারণ শরীয়তে যদি পবিত্র করার কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি বর্ণিত থাকে, তবে কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি বা বিরোধিতা না করে তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা এবং তা অনুসরণ করা ওয়াজিব। যেমন জুতায় নাপাকী লাগলে তা মাটি দিয়ে মোছার মাধ্যমে পবিত্র হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) «আদ-দারারি আল-মুদিয়্যাহ» (১/৩৩)।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد تقدم هذا الحديث، وهو قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا جاء أحدكم المسجد فليقلب نعله، فلينظر فيها، فإن رأى بها خبثاً فليمسحه بالأرض ثم ليصلِّ فيهما … » أخرجه أحمد وغيره.

وكذا بالنسبة لذيل المرأة إذا مشت وأصابته نجاسة طهره ما بعده من تراب (1).

وكذلك دم الحيض، فإنه يطهّر بالكيفية التي وردت في السنة، سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم: المرأة يصيب ثوبها من دم الحيضة، كيف تصنع به؟ قال: «تحتّه، ثم تقرصه بالماء، ثم تنضحه ثم تصلي فيه» (2).

و(تحتّه) أي تحكّه لإزالة عين الدم.

(تقرصه) أي تدلك الدم بأطراف الأصابع، ليتحلّل ويخرج ما شربه الثوب منه.

(تنضحه) أي تغسله بالماء.

أما بول الذكر الرضيع فبالنضح كما تقدم.

وأما ما ورد عن الشارع أنه نجس ولم يرد فيه بيان كيفية تطهيره، فالواجب التخلص من العين النجسة حتى لا يبقى لها ريح ولا لون ولا طعم، لأن الشيء الذي يجد الإنسان ريحه أو طعمه، فقد بقي فيه جزء من العين، وإن لم يبقَ جرْمُها أو لونها، إذ وجود الرائحة لا يكون إلا عن وجود النجاسة التي وجدت رائحتها، وكذلك وجود الطعم لا يكون إلا عن وجود النجاسة التي وجد طعمها.

وهذا كله في كيفية تطهير النجاسة الوصفية، وأما العينية،

فقد قال المؤلف رحمه الله: (والاستِحَالَةُ مُطَهِّرةٌ لعدم وجود الوصف المحكوم عليه)

(الاستحالة): هي التحوّل، أي تغيّر الشيء عن طبعه ووصفه، فيصير شيئاً آخر كتحوّل العَذِرَة إلى رماد، وتحوّل الخنزير إلى ملح.

فالنجاسة العينية لا تطهر إلا بالاستحالة، وهي أن تتحوّل إلى شيء آخر مخالف للشيء الأول في حقيقته، كاستحالة العَذِرَة رماداً.

--------------------------------------------

(1) لحديث أم سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن امرأة سألتها: إني أطيل ذيلي وأمشي في المكان القذر، فقالت أم سلمة: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يطهِّره ما بعده»

أخرجه أحمد (44/ 283) رقم (26686)، وأبو داود (383) وغيرهما.

(2) أخرجه البخاري (227)، ومسلم (291) عن أسماء.
এই হাদীসটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসে, সে যেন তার জুতা উল্টে দেখে। যদি তাতে কোনো অপবিত্রতা দেখতে পায়, তবে সে যেন তা মাটির সাথে মুছে ফেলে এবং তারপর তাতে (জুতা পরে) সালাত আদায় করে…" এটি আহমাদ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপভাবে নারীর পরিধেয় বস্ত্রের প্রান্তভাগের ক্ষেত্রেও, যখন সে পথ চলে এবং তাতে কোনো অপবিত্রতা লাগে, তবে তার পরবর্তী পবিত্র মাটি তা পবিত্র করে দেয় (১)।

একইভাবে মাসিকের রক্ত; সুন্নাহে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী তা পবিত্র করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হয়েছিল: নারীর কাপড়ে যদি মাসিকের রক্ত লাগে, তবে সে কী করবে? তিনি বললেন: "সে যেন তা ঘষে ফেলে, তারপর পানি দিয়ে আঙুলের মাথা দিয়ে কচলাবে, এরপর তা ধৌত করবে এবং তারপর তাতে সালাত আদায় করবে" (২)।

'সে যেন তা ঘষে ফেলে' অর্থ হলো রক্তের মূল অংশ দূর করার জন্য তা ঘষা।

'আঙুলের মাথা দিয়ে কচলাবে' অর্থ হলো আঙুলের ডগা দিয়ে রক্ত ঘষে তোলা, যাতে তা দ্রবীভূত হয়ে যায় এবং কাপড় যা শোষণ করেছে তা বের হয়ে যায়।

'ধৌত করবে' অর্থ হলো পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলা।

আর দুগ্ধপোষ্য ছেলে শিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে পানি ছিটানোর মাধ্যমে পবিত্র করতে হয়, যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আর শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে যা অপবিত্র হিসেবে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু তা পবিত্র করার পদ্ধতি বর্ণিত হয়নি, সে ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো অপবিত্রতার মূল বস্তুটিকে এমনভাবে দূর করা যাতে তার কোনো গন্ধ, রঙ বা স্বাদ অবশিষ্ট না থাকে। কারণ কোনো জিনিসের গন্ধ বা স্বাদ যদি মানুষ অনুভব করতে পারে, তবে বোঝা যাবে যে তার কিছু অংশ অবশিষ্ট রয়ে গেছে, যদিও তার স্থূল দেহ বা রঙ অবশিষ্ট না থাকে। কেননা গন্ধের অস্তিত্ব কেবল তখনই সম্ভব যখন সেই অপবিত্র বস্তুটি বর্তমান থাকে যার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে স্বাদের অস্তিত্ব কেবল তখনই সম্ভব যখন সেই অপবিত্র বস্তুটি বর্তমান থাকে যার স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে।

আর এই সব কিছু হলো গুণগত অপবিত্রতা পবিত্র করার পদ্ধতি সম্পর্কে; কিন্তু বস্তুগত অপবিত্রতার ক্ষেত্রে—

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (রূপান্তর বা ইস্তিহালাহ পবিত্রকারী; যেহেতু যে গুণের ওপর ভিত্তি করে বিধান দেওয়া হয়েছিল তা আর বিদ্যমান নেই)

(ইস্তিহালাহ): এটি হলো রূপান্তর, অর্থাৎ কোনো জিনিসের প্রকৃতি ও গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়ে অন্য কিছুতে পরিণত হওয়া। যেমন বিষ্ঠার ভস্মে পরিণত হওয়া এবং শূকরের লবণে পরিণত হওয়া।

সুতরাং বস্তুগত অপবিত্রতা রূপান্তর (ইস্তিহালাহ) ছাড়া পবিত্র হয় না। আর তা হলো বস্তুটির এমন এক জিনিসে পরিণত হওয়া যা তার মূল সত্তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, যেমন বিষ্ঠার ভস্মে রূপান্তরিত হওয়া।

--------------------------------------------

(১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদীস থেকে বর্ণিত যে, এক নারী তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমি আমার কাপড়ের প্রান্তভাগ লম্বা রাখি এবং অপবিত্র স্থানে চলাফেরা করি। তখন উম্মে সালামাহ বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তার পরবর্তী (পবিত্র স্থান) তাকে পবিত্র করে দেয়।"

আহমাদ (৪৪/২৮৩), নম্বর (২৬৬৮৬), আবু দাউদ (৩৮৩) এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) আসমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বুখারী (২২৭) এবং মুসলিম (২৯১) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وتطهُر في هذه الحالة، لأن الوصف الذي وقع عليه الحكم بالنجاسة فُقِدَ ولم يعد موجوداً.

ثم قال رحمه الله: (وما لا يمكن غَسْلُه، فبالصبّ عليه أو النَّزْحِ منه حتى لا يبقى للنجاسة أثرٌ)

المراد بالنزح: الإبعاد.

تحدث المؤلف هنا عمّا لا يمكن غسله كالأرض والبئر، فأما الأرض فتطهر بالصب عليها كما جاء في حديث الأعرابي الذي بال في المسجد (1)، وأما البئر فيطهر بإبعاد الماء منها حتى لا يوجد للنجاسة أثر (2).

ثم قال رحمه الله: (والماء هو الأصل في التطهير، فلا يقوم غيرُهُ مَقامَهُ إلا بإذنٍ من الشارع)

الأصل في تطهير النجاسات هو الماء، لأن الماء قد وصف كما تقدم بأنه طاهر مطهر، فالأصل التطهير به إلا إن وجد دليل من الكتاب والسنة يدل على أن غيره مطهّر لنجاسة ما، فنتقيد بما ورد.

وقد ذهب جمهور علماء الإسلام إلى أن الماء هو المتعين في تطهير النجاسات، وهذا صحيح في غير ما ورد الدليل بخلافه.

ومن أثبت مطهّراً لم يرد في الكتاب والسنة أنه مطهّر للنجاسة، أو أثبت تطهيراً على غير الصفة الثابتة فيهما، فقوله مردود، لمخالفته للأدلّة.

 

ثم قال رحمه الله: ‌‌(بابُ قضاءِ الحاجةِ)

قضاء الحاجة، يعني بها الذهاب إلى الخلاء لإخراج البول أو الغائط، فيريد أن يذكر هنا أحكام وآداب ذلك.

قال رحمه الله: (على المُتَخَلّي الاستتارُ حتى يَدْنُوَ مِنَ الأرضِ)

(المُتخلّي): الذي ذهب إلى الخلاء لقضاء حاجته.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (219)، ومسلم (284) عن أنس بن مالك رضي الله عنه.

(2). استدلّ من قال بقول المؤلف بأثر ابن عباس الذي أخرجه ابن أبي شيبة في «المصنف» (1/ 150) وغيره، ورواه عن ابن الزبير، وبيّن ضعفه البيهقي في «معرفة السنن» (1/ 402) وأنكره الشافعي وابن عيينة.
এবং এই অবস্থায় তা পবিত্র হয়ে যায়, কারণ যে বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে অপবিত্রতার বিধান প্রদান করা হয়েছিল তা বিলুপ্ত হয়েছে এবং বর্তমানে তা আর অবশিষ্ট নেই।

অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: (আর যা ধৌত করা সম্ভব নয়, তার ওপর পানি ঢেলে অথবা তা থেকে পানি সেঁচে ফেলে পবিত্র করতে হবে, যতক্ষণ না অপবিত্রতার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে)

'নাজহ' (সেচন) এর অর্থ হলো: দূর করা।

লেখক এখানে এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন যা ধৌত করা সম্ভব নয়, যেমন জমি এবং কূপ। জমির ক্ষেত্রে তার ওপর পানি ঢেলে দিলে তা পবিত্র হয়, যেমনটি মসজিদে প্রস্রাব করা সেই বেদুইনের হাদিসে (১) এসেছে। আর কূপের ক্ষেত্রে তা থেকে পানি সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে পবিত্র করা হয়, যতক্ষণ না অপবিত্রতার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে (২)।

অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: (আর পানিই হলো পবিত্রকরণের মূল মাধ্যম, সুতরাং শরিয়ত প্রবর্তকের অনুমতি ব্যতীত অন্য কিছু তার স্থলাভিষিক্ত হবে না)

নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে পানিই হলো মূল ভিত্তি, কারণ পানিকে ইতিপূর্বে পবিত্র ও পবিত্রকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অতএব, পানি দিয়েই পবিত্রতা অর্জন করা মূল নিয়ম, যদি না কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় যা নির্দেশ করে যে অন্য কিছু কোনো নির্দিষ্ট নাপাকির ক্ষেত্রে পবিত্রকারী হতে পারে, সেক্ষেত্রে আমরা যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।

ইসলামের জমহুর ওলামায়ে কেরাম এই মত পোষণ করেছেন যে, নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে পানিই নির্ধারিত। আর যে বিষয়ে এর বিপরীতে দলিল পাওয়া যায় না, সে ক্ষেত্রে এটিই সঠিক।

আর যে ব্যক্তি এমন কোনো পবিত্রকারী সাব্যস্ত করে যা কুরআন ও সুন্নাহতে নাপাকি দূরকারী হিসেবে বর্ণিত হয়নি, অথবা কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত পদ্ধতির বাইরে ভিন্ন কোনো পদ্ধতিতে পবিত্রতা সাব্যস্ত করে, তবে তার সেই বক্তব্য দলিলের পরিপন্থী হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যাত।

 

অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: (প্রয়োজন পূরণ বা শৌচকার্যের অধ্যায়)

প্রয়োজন পূরণ বলতে প্রস্রাব বা মলত্যাগের জন্য নির্জনে যাওয়া বোঝায়। লেখক এখানে সেই বিষয়ের বিধান এবং আদবসমূহ উল্লেখ করতে চেয়েছেন।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: (শৌচাকার্য সম্পাদনকারীর জন্য কর্তব্য হলো মাটির কাছাকাছি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পর্দা বজায় রাখা বা নিজেকে আবৃত রাখা)

(আল-মুতখাল্লি): যে ব্যক্তি তার প্রয়োজন পূরণের জন্য নির্জনে বা শৌচাগারে যায়।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (২১৯) এবং মুসলিম (২৮৪) আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২). যারা লেখকের বক্তব্যের অনুরূপ মত দিয়েছেন, তারা ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর একটি আসার দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা ইবনে আবি শায়বা তার 'আল-মুসান্নাফ' (১/১৫০) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এটি ইবনে যুবাইর থেকেও বর্ণিত হয়েছে। তবে বায়হাকি তার 'মা'রিফাতুস সুনান' (১/৪০২) গ্রন্থে এর দুর্বলতা স্পষ্ট করেছেন এবং শাফেয়ী ও ইবনে উয়াইনা এটিকে অস্বীকার করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
(الاستتار) أي طلب ما يستره عن أعين الناس.

(حتى يدنو من الأرض) أي يبقى مستتراً إلى أن يجلس.

ويدلّ على ذلك جميع الأدلة التي وردت في وجوب ستر العورة.

فإن كان المتخلّي في فضاء كان ستر عورته واجباً، وأما إذا كان في مكان مغلق أو يغلب على ظنه أن أحداً لا يراه فلا بأس بخلع ملابسه قبل أن يدنو من الأرض، لأن المراد هو ستر العورة.

وجاء في «سنن أبي داود» (1): «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أراد حاجة لا يرفع ثوبه حتى يدنو من الأرض» ولكنه حديث ضعيف، لأنه مضطرب.

وكذا حديث: «من أتى الغائط فليستتر» (2) فإنه ضعيف أيضاً.

والعمدة على ما ذكرنا سابقاً، وهو عموم الأدلة التي أمرت بستر العورة، فقد قال الله تعالى: {قل للمؤمنين يغضّوا من أبصارهم ويحفظوا فروجهم} وقال صلى الله عليه وسلم: «احفظ عورتك إلا من زوجتك أو ما ملكت يمينك» (3).

ثم قال رحمه الله: (والبُعْدُ ودخولُ الكنيفِ)

(البعد): أي الابتعاد عن أعين الناس.

و(الكنيف): أصله الحظيرة التي تعمل للإبل، فَتُكِنُّها - أي تحفظها - من البرد، ثم سمّوا ما حظَروه وجعلوه موضعاً للحدث كنيفاً.

أخرج أبو داود وغيره: «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا ذهب المذهب أبعد» (4).

وعن جابر «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أراد البراز انطلق حتى لا يراه أحد» (5).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (14)، والترمذي (14) وغيرهما عن أنس وابن عمر رضي الله عنهما.

ضعفه الدارقطني في «العلل» (2462)، وانظر «العلل الكبير» للترمذي (8).

(2) أخرجه أحمد (14/ 432) رقم (8838)، وأبو داود (35)، وابن ماجه (337) عن أبي هريرة رضي الله عنه.

فيه الحصين الحبراني، وأبو سعيد مختلف في توثيقهما وجهالتهما، انظر «البدر المنير» (2/ 299).

(3) أخرجه أحمد (33/ 235) رقم (20034)، وأبو داود (4017)، والترمذي (2769)، وابن ماجه (1920) من حديث بهز بن حكيم عن أبيه عن جده.

(4) أخرجه أبو داود (1)، والترمذي (20)، والنسائي (17)، وابن ماجه (331) عن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه.

(5) أخرجه أبو داود (2)، وابن ماجه (335) عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه.
(নিজেকে আড়াল করা) অর্থাৎ মানুষের চোখ থেকে নিজেকে আড়াল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

(যতক্ষণ না ভূমির নিকটবর্তী হয়) অর্থাৎ বসে পড়া পর্যন্ত নিজেকে আবৃত রাখবে।

সতর ঢাকা ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত সকল দলিল একথার প্রমাণ বহন করে।

যদি কেউ খোলা ময়দানে হাজত পূরণ করতে চায়, তবে তার সতর ঢাকা ওয়াজিব। আর যদি সে কোনো বন্ধ জায়গায় থাকে অথবা প্রবল ধারণা হয় যে কেউ তাকে দেখছে না, তবে ভূমির নিকটবর্তী হওয়ার আগেই কাপড় খুললে কোনো সমস্যা নেই; কেননা মূল উদ্দেশ্য হলো সতর আবৃত রাখা।

‘সুনানে আবু দাউদ’-এ (১) এসেছে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাজত পূরণের ইচ্ছা করতেন, তখন ভূমির নিকটবর্তী হওয়ার আগে কাপড় তুলতেন না।” তবে এটি একটি যঈফ (দুর্বল) হাদিস, কারণ এটি মুদতারিব (অসংগতিপূর্ণ)।

অনুরূপভাবে এই হাদিসটিও: “যে ব্যক্তি মলত্যাগ করতে যায়, সে যেন নিজেকে আড়াল করে” (২)—এটিও যঈফ।

নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হলো সেই বিষয়টি যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি; আর তা হলো সতর ঢাকার নির্দেশ সম্বলিত দলিলসমূহের ব্যাপকতা। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: “মুমিনদের বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাযত করে।” এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমার সতর হেফাযত করো তোমার স্ত্রী ও তোমার অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া।” (৩)।

অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (দূরে যাওয়া এবং কানিফ-এ প্রবেশ করা)

(দূরত্ব): অর্থাৎ মানুষের দৃষ্টি থেকে দূরে চলে যাওয়া।

এবং (কানিফ): মূলত এটি এমন বেষ্টনী যা উটের জন্য তৈরি করা হতো, যা তাদেরকে ঠান্ডা থেকে রক্ষা—অর্থাৎ হেফাযত—করত। পরবর্তীতে যা কিছু ঘেরাও করে মলমূত্র ত্যাগের স্থান বানানো হয় তাকেই ‘কানিফ’ বলা হতে থাকে।

আবু দাউদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মলমূত্র ত্যাগের জন্য যেতেন, তখন অনেক দূরে চলে যেতেন।” (৪)।

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মলত্যাগের ইচ্ছা করতেন, তখন এমন দূরত্বে চলে যেতেন যে কেউ তাকে দেখতে পেত না।” (৫)।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ (১৪), তিরমিযী (১৪) ও অন্যান্যরা আনাস ও ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। দারা কুতনী ‘আল-ইলাল’ গ্রন্থে (২৪৬২) এটিকে যঈফ বলেছেন। দেখুন তিরমিযীর ‘আল-ইলালুল কাবীর’ (৮)।

(২) এটি আহমাদ (১৪/৪৩২) নম্বর (৮৮৩৮), আবু দাউদ (৩৫), এবং ইবনে মাজাহ (৩৩৭) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে হুসাইন আল-হাবরানী ও আবু সাঈদ নামক বর্ণনাকারী রয়েছেন, যাদের বিশ্বস্ততা ও পরিচয় নিয়ে মতভেদ রয়েছে। দেখুন ‘আল-বদরুল মুনীর’ (২/২৯৯)।

(৩) এটি আহমাদ (৩৩/২৩৫) নম্বর (২০০৩৪), আবু দাউদ (৪০১৭), তিরমিযী (২৭৬৯) এবং ইবনে মাজাহ (১৯২০) বাহয বিন হাকিম থেকে তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

(৪) এটি আবু দাউদ (১), তিরমিযী (২০), নাসায়ী (১৭) এবং ইবনে মাজাহ (৩৩১) মুগীরা ইবনে শুবা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৫) এটি আবু দাউদ (২) এবং ইবনে মাজাহ (৩৩৫) জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهذان الحديثان فيهما كلام، ولكن يشهد أحدهما للآخر.

وهذا مع حديث المغيرة في «الصحيحين»، «أن النبي صلى الله عليه وسلم بال عند سباطة قوم» (1)، والسباطة، هي المزبلة، وتكون قريبة من الناس.

وكذلك رآه ابن عمر على سطح بيت حفصة يقضي حاجته (2).

فالظاهر أنه إذا أمن أن يراه أحد أو كان في كنيف فلا بأس أن يكون قريباً.

ثم قال رحمه الله: (وتركُ الكلامِ)

أي يجب على المُتخلّي عند قضاء الحاجة ترك الكلام، لما أخرجه أبو داود وغيره عن أبي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يخرُج الرجلان يضربان الغائط كاشفين عن عورتهما يتحدّثان، فإن الله عز وجل يمقت على ذلك» (3).

ولكنه حديث ضعيف مضطرب، وفيه راوٍ مجهول.

فإذا كان الحديث ضعيفاً ولا يوجد ما يدل على تحريم الكلام عند قضاء الحاجة غيره، فيبقى الأمر على الإباحة بناء على الأصل، فإن أصل هذه الأشياء الإباحة ولا يوجد ما يدل على خلافه.

ويكره ذكر الله ورد السلام، لأنه صلى الله عليه وسلم امتنع من رد السلام على رجل وهو يبول (4).

ثم قال (والمُلابَسَةُ لما لهُ حُرْمَةٌ)

مثل المصحف أو الخاتم الذي عليه ذكر الله أو ما شابه ذلك، فلا يلبسه في يده أو في رقبته أو يضعه في مخبئه عند قضاء الحاجة، وذلك لحديث أنس الذي أخرجه أبو داود وغيره «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا دخل الخلاء وضع خاتمه» (5) أي نزعه.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (224)، ومسلم (273) عن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه.

(2) أخرجه البخاري (148)، ومسلم (266) عن عبد الله بن عمر رضي الله عنه.

(3) أخرجه أحمد (17/ 412)، وأبو داود (15)، وابن ماجه (342) عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه.

(4) أخرجه مسلم في «صحيحه» (370) عن ابن عمر رضي الله عنه: «إن رجلاً مرّ ورسول الله صلى الله عليه وسلم يبول فسلّم، فلم يردّ عليه».

 

وأخرج (369) من حديث أبي جهم قال: «أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم من نحو بئر جملٍ، فلقيه رجل فسلم عليه، فلم يردّ رسول الله صلى الله عليه وسلم عليه، حتى أقبل على الجدار فمسح وجهه ويديه، ثم ردّ عليه السلام».

(5) أخرجه أبو داود (19)، والترمذي (1746)، والنسائي (5213)، وابن ماجه (303) عن أنس بن مالك رضي الله عنه، وقال أبو داود: هذا حديث منكر.
এই হাদিস দুটির ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে, তবে একটি অপরটির সমর্থন দেয়।

এটি ‘সহিহাইন’ (বুখারি ও মুসলিম)-এ বর্ণিত মুগিরার হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যাতে বলা হয়েছে যে, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গোত্রের আবর্জনা ফেলার স্থানের কাছে প্রস্রাব করেছিলেন” (১)। আর ‘সুবাতাহ’ হলো আবর্জনা ফেলার স্থান, যা মানুষের কাছাকাছি হয়ে থাকে।

অনুরূপভাবে ইবনে ওমর তাকে হাফসার ঘরের ছাদে প্রাকৃতিক কাজ সম্পন্ন করতে দেখেছিলেন (২)।

সুতরাং স্পষ্টত বোঝা যায় যে, যদি কেউ তাকে দেখার ভয় না থাকে অথবা তিনি যদি শৌচাগারে থাকেন, তবে মানুষের সন্নিকটে প্রাকৃতিক কাজ করাতে কোনো অসুবিধা নেই।

অতপর তিনি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (এবং কথা বলা বর্জন করা)

অর্থাৎ শৌচকার্য সম্পাদনকারীর জন্য প্রাকৃতিক কাজ সারার সময় কথা বলা বর্জন করা ওয়াজিব। কারণ আবু দাউদ ও অন্যান্যরা আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «দুইজন পুরুষ যেন তাদের সতর অনাবৃত করে প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য না বের হয় এবং পরস্পর কথা না বলে। কেননা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এতে রাগান্বিত হন» (৩)।

কিন্তু এটি একটি দুর্বল ও অসংগতিপূর্ণ হাদিস এবং এতে একজন অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছে।

সুতরাং হাদিসটি যেহেতু দুর্বল এবং এছাড়া শৌচকার্য পালনের সময় কথা বলা হারাম হওয়ার ব্যাপারে অন্য কোনো দলিল নেই, তাই মূল নীতির ভিত্তিতে বিষয়টি বৈধতার ওপরই বহাল থাকবে। কারণ এসব বিষয়ের মূল নীতি হলো বৈধতা এবং এর বিপরীতে কোনো দলিল নেই।

আর আল্লাহর জিকির করা এবং সালামের উত্তর দেওয়া অপছন্দনীয়, কারণ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাব করার সময় এক ব্যক্তিকে সালামের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন (৪)।

অতপর তিনি বলেছেন: (এবং মর্যাদাপূর্ণ বস্তু সাথে রাখা)

যেমন কুরআন মাজিদ বা এমন আংটি যাতে আল্লাহর নাম রয়েছে অথবা এই জাতীয় কিছু। সুতরাং প্রাকৃতিক কাজের সময় তা হাতে বা গলায় পরিধান করবে না অথবা পকেটে রাখবে না। এর প্রমাণ হলো আনাস বর্ণিত হাদিস যা আবু দাউদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর আংটি রেখে দিতেন» (৫), অর্থাৎ সেটি খুলে ফেলতেন।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (২২৪) ও মুসলিম (২৭৩) বর্ণনা করেছেন হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে।

(২) বুখারি (১৪৮) ও মুসলিম (২৬৬) বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে।

(৩) আহমদ (১৭/৪১২), আবু দাউদ (১৫) ও ইবনে মাজাহ (৩৪২) বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে।

(৪) মুসলিম তাঁর ‘সহিহ’-এ (৩৭০) বর্ণনা করেছেন ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে: «এক ব্যক্তি অতিক্রম করার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাব করছিলেন। সে ব্যক্তি তাঁকে সালাম দিলে তিনি তার উত্তর দেননি»।

 

এবং আবু জাহম বর্ণিত হাদিসে (৩৬৯) এসেছে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বীর-ই-জামাল নামক স্থানের দিক থেকে আসছিলেন। জনৈক ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে সালাম দিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো উত্তর দেননি। যতক্ষণ না তিনি একটি দেয়ালের দিকে অগ্রসর হলেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল ও আল্লাহর হাতসমূহ (উভয় হাত) মাসেহ করলেন, অতপর সালামের উত্তর দিলেন»।

(৫) আবু দাউদ (১৯), তিরমিজি (১৭৪৬), নাসায়ি (৫২১৩) ও ইবনে মাজাহ (৩০৩) বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে। আবু দাউদ বলেছেন: এই হাদিসটি মুনকার।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولكنه حديث ضعيف لا يصحّ، وبما أن الحديث ضعيف فلا يعمل به ويبقى الأمر على الإباحة بشرط ألا يمس ذلك نجاسة.

فالخاتم إذا كان في اليد اليسرى وجب أن يُنزع، لأن النجاسات ستلاقيه على تلك الحال، فإنه في اليد اليسرى التي سيستنجي بها الشخص، أما إذا كان المصحف في مخبئه - أي جيبه - محفوظاً بعيداً عن الأذى فلا بأس والله أعلم.

وقال رحمه الله: (وَتَجَنُّبُ الأمْكِنَةِ التي مَنَعَ عن التَّخَلّي فيها شرعٌ أو عُرْفٌ)

وذلك لما صحّ عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «اتقوا اللَّعَّانين»، قالوا وما اللعانان يا رسول الله؟ قال: «الذي يتخلّى في طريق الناس أو ظلِّهم» أخرجه مسلم (1).

و(اللعانان)، الأمران الجالبان للَّعنِ.

ووردت في ذلك أحاديث أخرى فيها ضعف.

لكن هذا الحديث يدل على تحريم قضاء الحاجة في طريق الناس أو في المكان الذي يستظلّون به، وما في معنى هذه الأمكنة، كحول الأنهار والآبار وأفنية الناس وكل ما يتأذى الناس من قضاء الحاجة فيه.

وأما الحديث الوارد في النهي عن البول في الجحر، فضعيف (2).

وصحّ عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه نهى أن يبول أحدنا في مغتسله (3) أي في المكان الذي يغتسل فيه.

قال أهل العلم: وإنما نهى عنه إذا لم يكن له مسلك يذهب فيه البول، أو كان المكان صُلْباً فيتوهم أنه أصابه منه شيء، فيحصل منه الوسواس.

وكذلك نهى النبي صلى الله عليه وسلم أن يبال في الماء الراكد (4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (269) عن أبي هريرة رضي الله عنه.

(2) أخرجه أحمد (34/ 372)، وأبو داود (29)، والنسائي (34) عن عبد الله بن سرجس رضي الله عنه.

 

اختلف في سماع قتادة من عبد الله بن سرجس، وقتادة مدلس لا يقبل منه في مثل هذا الموطن إلا أن يصرِّح بالتحديث.

انظر «إرواء الغليل» (55) للشيخ الألباني رحمه الله.

(3) أخرجه أحمد (28/ 223)، وأبو داود (28)، والنسائي (238) عن رجل صحب النبي صلى الله عليه وسلم.

(4) أخرجه مسلم (281) عن جابر رضي الله عنه.
কিন্তু এটি একটি দুর্বল হাদিস যা সহিহ নয়, আর যেহেতু হাদিসটি দুর্বল, তাই এর ওপর আমল করা হবে না এবং বিষয়টি বৈধতার ওপরই বহাল থাকবে, এই শর্তে যে তা যেন অপবিত্রতা স্পর্শ না করে।

সুতরাং আংটি যদি বাম হাতে থাকে, তবে তা খুলে ফেলা আবশ্যক, কারণ এমতাবস্থায় তা অপবিত্রতার সংস্পর্শে আসবে; কেননা তা বাম হাতে থাকে যা দিয়ে ব্যক্তি ইস্তিনজা (শৌচকার্য) করবে। আর যদি মুসহাফ (কুরআন) তার লুকানো স্থানে—অর্থাৎ তার পকেটে—সুরক্ষিত এবং অনিষ্ট থেকে দূরে থাকে, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

এবং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আর এমন সব স্থান পরিহার করা যেখানে মলমূত্র ত্যাগ করা শরিয়ত বা প্রথা অনুযায়ী নিষিদ্ধ)।

আর এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসের কারণে যে তিনি বলেছেন: "তোমরা অভিশাপ সৃষ্টিকারী দুটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো।" তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! অভিশাপ সৃষ্টিকারী দুটি কাজ কী? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি মানুষের চলাচলের পথে অথবা তাদের ছায়াযুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।

আর (আল-লায়ানান) অর্থ হলো সেই দুটি কাজ যা অভিশাপ ডেকে আনে।

এবং এ বিষয়ে অন্যান্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে যেগুলোতে দুর্বলতা রয়েছে।

কিন্তু এই হাদিসটি মানুষের চলাচলের পথে অথবা তারা যেখানে ছায়া গ্রহণ করে এমন স্থানে এবং এ জাতীয় অন্যান্য স্থানে—যেমন নদীর পাড়ে, কূপের কাছে, মানুষের আঙিনায় এবং এমন সব জায়গায় যেখানে মলমূত্র ত্যাগের কারণে মানুষের কষ্ট হয়—সেখানে হাজত সম্পন্ন করা হারাম হওয়ার ওপর দলিল প্রদান করে।

আর গর্তের মধ্যে প্রস্রাব করা নিষেধ হওয়া সংক্রান্ত যে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, তা দুর্বল (২)।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আমাদের কাউকে তার গোসলখানায় প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন (৩), অর্থাৎ যে স্থানে সে গোসল করে।

আহলে ইলমগণ বলেছেন: এটি কেবল তখনই নিষেধ করা হয়েছে যদি সেখানে প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার কোনো পথ না থাকে, অথবা স্থানটি যদি শক্ত হয় যার ফলে তার শরীরে ছিটে আসার সন্দেহ তৈরি হয় এবং এর থেকে কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) সৃষ্টি হয়।

অনুরূপভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম (২৬৯) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি আহমাদ (৩৪/ ৩৭২), আবু দাউদ (২৯) এবং নাসায়ি (৩৪) আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস থেকে কাতাদাহর শোনার (সামা‘) ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, আর কাতাদাহ একজন মুদাল্লিস বর্ণনাকারী, এই জাতীয় ক্ষেত্রে যতক্ষণ না তিনি সরাসরি শোনার বিষয়টি স্পষ্ট করেন ততক্ষণ তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।

দেখুন শেখ আলবানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘ইরওয়াউল গালিল’ (৫৫)।

(৩) এটি আহমাদ (২৮/ ২২৩), আবু দাউদ (২৮) এবং নাসায়ি (২৩৮) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একজন সাহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৪) এটি মুসলিম (২৮১) জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال رحمه الله: (وعدمُ الاسْتِقْبَالِ والاسْتِدْبارِ للقبلة)

(الاستقبال) أن تجعل القبلة أمامك عند قضاء الحاجة.

و(الاستدبار) أن تجعلها خلفك.

ورد في ذلك أحاديث منها قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا جلس أحدكم على حاجته فلا يستقبل القبلة ولا يَسْتَدْبِرْها» (1).

وقال سلمان: «نهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نستقبل القبلة بغائط أو بول … » (2) الحديث.

وجاء عن أبي أيوب، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا أتيتم الغائط فلا تستقبلوا القبلة بغائط ولا بول، ولكن شرِّقوا أو غرِّبوا» (3).

وجاء عن ابن عمر أنه قال: «لقد ارتقيتُ على ظهر البيت فرأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم على لبنتين مستقبلَ بيتِ المقدسِ لحاجتِهِ» (4).

لهذه الأحاديث اختلف أهل العلم في حكم استقبال البيت واستدباره بغائط أو بول.

وأصح هذه الأقوال والذي فيه العمل بجميع الأدلة، قول الإمام الشافعي والبخاري وابن المنذر والجمهور، وهو التفريق بين الصحاري والبنيان.

فيجوز في البنيان عملاً بحديث ابن عمر وغيره.

ولا يجوز في الصحاري عملاً بحديث أبي أيوب وغيره.

وهذا أولى ممن أعمل بعض الأحاديث وأهمل البعض الآخر، فلا إشكال بأن الأَوْلى هو العمل بجميع الأدلة وعدم إهمال أحدها.

ومن أراد المزيد فليراجع «فتح الباري» للحافظ ابن حجر كتاب الوضوء باب (11) حديث (144).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (265) عن أبي هريرة رضي الله عنه.

(2) أخرجه مسلم (262).

(3) أخرجه البخاري (144)، ومسلم (264).

(4) أخرجه البخاري (145)، ومسلم (266).
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (এবং কিবলার দিকে মুখ না করা ও পিঠ না দেওয়া)

(আল-ইস্তিকবাল) হলো প্রয়োজন পূরণের (শৌচকার্য সম্পাদনের) সময় কিবলাকে আপনার সামনে রাখা।

এবং (আল-ইস্তিদবার) হলো একে আপনার পেছনে রাখা।

এ বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী হলো: «যখন তোমাদের কেউ তার প্রয়োজন পূরণের জন্য বসবে, সে যেন কিবলামুখী না হয় এবং তার দিকে পিঠও না দেয়» (১)।

সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলামুখী হতে নিষেধ করেছেন… » (২) হাদিসটি।

আবু আইয়ুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যখন তোমরা মলমূত্র ত্যাগ করতে আসবে, তখন মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলামুখী হবে না এবং কিবলার দিকে পিঠও দেবে না; বরং তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করো» (৩)।

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: «আমি (একবার) ঘরের ছাদের ওপর উঠেছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুটি ইটের ওপর বসে বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে তাঁর প্রয়োজন পূরণ করতে দেখেছি» (৪)।

এই হাদিসগুলোর কারণে আলেমগণ মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দেওয়ার বিধান নিয়ে মতভেদ করেছেন।

এই মতগুলোর মধ্যে অধিক সঠিক এবং যাতে সমস্ত দলিলের ওপর আমল হয়, তা হলো ইমাম শাফিঈ, বুখারি, ইবনুল মুনজির এবং জমহুর (অধিকাংশ) ওলামায়ে কেরামের মত; আর তা হলো খোলা ময়দান এবং দালানকোঠার মধ্যে পার্থক্য করা।

সুতরাং ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) ও অন্যান্যদের হাদিস অনুযায়ী দালানকোঠার ভেতরে তা জায়েজ।

আর আবু আইয়ুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও অন্যান্যদের হাদিস অনুযায়ী খোলা ময়দানে তা নাজায়েজ।

আর যারা কিছু হাদিসের ওপর আমল করেছেন এবং অন্যগুলো পরিত্যাগ করেছেন, তাদের তুলনায় এটিই অধিক উত্তম; এতে কোনো সংশয় নেই যে, সমস্ত দলিলের ওপর আমল করা এবং তার কোনোটিকে পরিত্যাগ না করাই শ্রেয়।

যিনি আরও বিস্তারিত জানতে চান, তিনি হাফেজ ইবনে হাজার-এর «ফাতহুল বারি», কিতাবুল অজু, অনুচ্ছেদ (১১), হাদিস (১৪৪) দেখতে পারেন।

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম (২৬৫) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি মুসলিম (২৬২) বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি বুখারি (১৪৪) ও মুসলিম (২৬৪) বর্ণনা করেছেন।

(৪) এটি বুখারি (১৪৫) ও মুসলিম (২৬৬) বর্ণনা করেছেন।