(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: -)
كشف الأسرار عن القول التليد فيما لحق مسألة الحجاب من تحريف وتبديل وتصحيف   (تركي بلحمر)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: كشف الأسرار عن القول التليد فيما لحق مسألة الحجاب من تحريف وتبديل وتصحيف

المؤلف: تركي بن عمر بن محمد بلحمر

الناشر: بدون

عام النشر: 1430 هـ

عدد الصفحات: 570

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 ربيع الأول 1440

কাশফ আল-আসরার আন আল-কাওল আল-তালিদ ফিমা লাহিকা মাসআলাত আল-হিজাব মিন তাহরিফ ওয়া তাবদিল ওয়া তাশহিফ   (তুর্কি বালহামার)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


কিতাব: কাশফ আল-আসরার আন আল-কাওল আল-তালিদ ফিমা লাহিকা মাসআলাত আল-হিজাব মিন তাহরিফ ওয়া তাবদিল ওয়া তাশহিফ

লেখক: তুর্কি বিন উমর বিন মুহাম্মদ বালহামার

প্রকাশক: নেই

প্রকাশকাল: ১৪৩০ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ১)
كشف الأسرار

عن القول التليد فيما لحق مسألة

الحجاب

من تحريف وتبديل وتصحيف

بحث تفصيلي وتأصيلي لأهم قواعد مسألة ونشأة فريضة الحجاب مدعماً بكلام أهل العلم المتقدمين وفيه دراسة لبدعة القائلين اليوم أن ستر وجه المرأة المسلمة عن الرجال سنة ومستحب

 

تأليف

الشيخ تركي بن عمر بن محمد بلحمر
কাশফ আল-আসরার

হিজাব সংক্রান্ত মাসআলায় যুক্ত হওয়া প্রাচীন বক্তব্যের

হিজাব

বিকৃতি (تحريف), পরিবর্তন (تبديل) এবং শব্দগত বিভ্রাট (تصحيف) প্রসঙ্গে

হিজাবের আবশ্যকতা ও এই মাসআলার প্রধান নীতিমালাসমূহের উৎপত্তির বিষয়ে একটি বিস্তারিত ও তাত্ত্বিক (تأصيلي) গবেষণা; যা প্রাচীন আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমে সমর্থিত এবং এতে বর্তমান যুগের সেই প্রবক্তাদের উদ্ভাবিত নবআবিষ্কার (بدعة) সম্পর্কে পর্যালোচনা রয়েছে যারা মনে করেন যে, পুরুষদের নিকট থেকে মুসলিম নারীর মুখমণ্ডল আবৃত রাখা সুন্নাহ (سنة) ও পছন্দনীয় (مستحب)

 

রচনায়

শেখ তুর্কি বিন উমর বিন মুহাম্মদ বালহামার
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ২)
كشف الأسرار

عن القول التليد فيما لحق مسألة

الحجاب

من تحريف وتبديل وتصحيف

 

بحث تفصيلي وتأصيلي لأهم قواعد مسألة ونشأة فريضة الحجاب مدعماً بكلام أهل العلم المتقدمين وفيه دراسة لبدعة القائلين اليوم أن ستر وجه المرأة المسلمة عن الرجال سنة ومستحب

 

تأليف

الشيخ تركي بن عمر بن محمد بلحمر
কশফুল আসরার (রহস্য উন্মোচন)

হিজাব সংশ্লিষ্ট মাসআলায় প্রাচীন বক্তব্যের ওপর যা আপতিত হয়েছে

হিজাব

বিকৃতি (تحريف), পরিবর্তন (تبديل) ও বর্ণ-বিভ্রান্তি (تصحيف) প্রসঙ্গে

 

হিজাবের আবশ্যকতা ও এর বিধানের সূচনার গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা (قواعد) সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত ও মৌলিক (تأصيلي) গবেষণা; যা পূর্বসূরী (متقدمين) বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমে সুদৃঢ় করা হয়েছে। এতে বর্তমান সময়ের প্রবক্তাদের সেই নব-উদ্ভাবিত (بدعة) মতবাদের ওপর পর্যালোচনা রয়েছে যে, পরপুরুষের নিকট থেকে মুসলিম নারীর মুখমণ্ডল আবৃত রাখা সুন্নাহ (سنة) ও পছন্দনীয় (مستحب)।

 

রচনায়

শায়খ তুর্কি বিন উমর বিন মুহাম্মদ বালহামার
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ৪)
خطاب الشيخ
শায়খের ভাষণ
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه.، ، أما بعد:

فقد أخبر الصادق المصدوق فيما رواه عنه أبو هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (بدأ الإسلام غريبا وسيعود كما بدأ غريبا فطوبى للغرباء) أخرجه مسلم، وله من رواية أخرى عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إن الإسلام بدأ غريبا وسيعود غريبا كما بدأ وهو يأرز بين المسجدين كما تأرز الحية إلى جحرها) ولا شك أن غربة الإسلام لن تكون في مسألة واحدة أو جانب واحد من مسائله بل ستطرأ في كافة الجوانب وبنسب متفاوتة ومختلفة كما نشاهده اليوم في جانب التوحيد والفرائض والواجبات، وكذلك في جانب الحلال والحرام كما أخبر بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ليكونن من أمتي أقوام يستحلون الحِر (1) والحرير والخمر والمعازف) أخرجه البخاري تعليقا (2).

--------------------------------------------

(1) الحر: هو الزنا.

(2) أخرجه البخاري تعليقاً (باب ما جاء فيمن يستحل الخمر ويسميه بغير اسمه) وقد وصله الطبراني والبيهقي وابن عساكر وغيرهم، من طرق عن هشام بن عمار به. وله طريق آخر عن عبد الرحمن بن يزيد، كما عند أبي داود (4039). قال ابن رجب في "نزهة الأسماع": (فالحديث صحيح محفوظ عن هشام بن عمار). وقال ابن حجر في "التغليق" (5/ 22): … (هذا حديث صحيح لا علة له ولا مطعن … ) انظر كذلك (هدى الساري صـ 248) وفتح الباري (10/ 53). والسلسلة الصحيحة للألباني (1/ 139).
‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও যাঁরা তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর। অতঃপর:

সত্যবাদী ও সত্যারোপিত রাসূলুল্লাহ (সা.) যা সংবাদ দিয়েছেন সেই মর্মে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (ইসলাম অপরিচিত (غريبا) অবস্থায় সূচিত হয়েছিল এবং অচিরেই তা সূচিত হওয়ার সময়ের ন্যায় অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে। অতএব সেই অপরিচিতদের (للغرباء) জন্য সুসংবাদ)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় নবী (সা.) বলেছেন: (নিশ্চয়ই ইসলাম অপরিচিত (غريبا) অবস্থায় শুরু হয়েছে এবং তা শুরুর ন্যায় অপরিচিত অবস্থায় ফিরে আসবে। আর তা দুই মসজিদের মধ্যবর্তী স্থানে গুটিয়ে আসবে যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে গুটিয়ে আসে)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলামের এই অপরিচিত অবস্থা (غربة) কেবল একটি মাসআলা বা কোনো একটি দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি বিভিন্ন মাত্রায় ও ভিন্ন ভিন্ন রূপে সকল দিকেই পরিলক্ষিত হবে, যেমনটি আমরা বর্তমানে তাওহিদ, ফারায়েজ ও ওয়াজিবাতের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করছি। তদ্রূপ হালাল ও হারামের ক্ষেত্রেও এটি দেখা যাবে, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) সংবাদ দিয়েছেন: (আমার উম্মতের মাঝে অবশ্যই এমন কিছু দলের আবির্ভাব ঘটবে যারা ব্যভিচার (الحِر), রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে)। বুখারি এটি মুআল্লাক (تعليقا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-হির (الحر): এটি হলো যিনা বা ব্যভিচার।

(২) বুখারি এটি মুআল্লাক (تعليقاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন (অধ্যায়: যারা মদকে হালাল মনে করে এবং একে ভিন্ন নামে নামকরণ করে)। তাবারানি, বায়হাকি, ইবনে আসাকির এবং অন্যরা একে হিশাম বিন আম্মার এর সূত্রে সংযুক্ত (وصله) করেছেন। আবু দাউদ (৪০৩৯)-এর ন্যায় আবদুর রহমান বিন ইয়াজিদের সূত্রে এর আরেকটি সূত্র (طريق) রয়েছে। ইবনে রজব "নুজহাতুল আসমা" গ্রন্থে বলেছেন: (হাদিসটি হিশাম বিন আম্মার থেকে বর্ণিত একটি সহিহ (صحيح) ও সংরক্ষিত (محفوظ) হাদিস)। ইবনে হাজার "আত-তাগলীক" (৫/২২) গ্রন্থে বলেছেন: … (এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, এতে কোনো ত্রুটি (علة) নেই এবং কোনো অভিযোগের অবকাশ নেই … ) আরও দেখুন (হাদিউস সারি, পৃষ্ঠা ২৪৮) এবং ফাতহুল বারি (১০/৫৩)। আলবানীর আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ (১/১৩৯)।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ৬)
فهذه الأمور مجمع على تحريمها، ومع ذلك فإنه يأتي زمان على الناس يسمونها بغير اسمها فيستحلونها بأدنى الحيل فكيف بغيرها ولا حول ولا قوة إلا بالله.

وفيما رواه حذيفة قال صلى الله عليه وسلم: (يدرس الإسلام كما يدرس وشي الثوب حتى لا يدري ما صيام ولا صلاة ولا نسك ولا صدقة ويسري على الكتاب في ليلة فلا يبقى في الأرض منه آية) أخرجه ابن ماجه (1).

الداعي لهذا البحث:

وقد كان يراودني دوما سؤال عن سبب التشكيك في صفة وكيفية فريضة الحجاب التي فرضها الله على المؤمنات الصالحات وبخاصة ما يشاع ويقال بين الحين والآخر أن الخلاف فيها كان بين الصحابة أنفسهم رضوان الله تعالى عليهم أجمعين.

والحجاب فريضة إلهية ومسألة دينية كبيرة تختص بجوانب اجتماعية كثيرة وشعيرة إسلامية ظاهرة فمسألة النقاب وحكمه من ناحية الوجوب أو عدمه لابد وأن يكون واضحاً وجلياً ومعلوماً وقد حُسم في الصدر الأول، فلا يمكن في حقهم أن يجهلوها أو يختلفوا فيها كبعض المسائل الأخرى، فمن أشنع الأقوال أن يقال أن الصحابة اختلفوا في فريضة الحجاب وهل هو تغطية المرأة لوجهها أم كشفه؟ .

--------------------------------------------

(1) قال الحافظ في الفتح (13/ 16) أخرجه ابن ماجة بسند قوي. وقال الألباني (صحيح) كما في السلسلة الصحيحة الحديث رقم (87).
এই বিষয়গুলোর নিষিদ্ধ (محرم) হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) রয়েছে, তা সত্ত্বেও মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে যখন তারা এগুলোকে অন্য নামে অভিহিত করবে এবং সামান্য অপকৌশলের মাধ্যমে সেগুলোকে বৈধ মনে করবে; তাহলে অন্য বিষয়গুলোর অবস্থা কেমন হবে? আল্লাহ ব্যতীত কোনো সামর্থ্য ও শক্তি নেই।

হুযায়ফাহ (রা.) কর্তৃক বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "ইসলাম এমনভাবে বিলীন হয়ে যাবে যেমন কাপড়ের নকশা বিলীন হয়ে যায়, এমনকি রোজা, নামাজ, হজ ও কোরবানি এবং সদকা কী—তাও কেউ জানবে না। এক রাতে আল্লাহর কিতাব তুলে নেওয়া হবে, ফলে জমিনে এর একটি আয়াতও অবশিষ্ট থাকবে না।" এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (১)।

এই গবেষণার প্রেক্ষাপট:

আল্লাহ তাআলা নেককার মুমিন নারীদের ওপর হিজাবের যে বিধান ফরজ করেছেন, তার প্রকৃতি ও পদ্ধতি নিয়ে কেন সংশয় সৃষ্টি করা হয়—সে প্রশ্নটি সর্বদা আমার মনে উঁকি দিত। বিশেষ করে মাঝেমধ্যে যে কথাটি রটানো হয় এবং বলা হয়ে থাকে যে, এই বিষয়ে স্বয়ং সাহাবায়ে কিরামের (রা.) মধ্যেই মতভেদ (خلاف) ছিল।

হিজাব একটি খোদায়ী ফরজ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিষয় যা অনেক সামাজিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এটি একটি প্রকাশ্য ইসলামি নিদর্শন। সুতরাং নেকাবের বিষয়টি এবং এর আবশ্যকতা (وجوب) বা অনাবশ্যকতা সংক্রান্ত বিধান অবশ্যই স্পষ্ট, উজ্জ্বল ও সুবিদিত হওয়া প্রয়োজন এবং এটি ইসলামের প্রাথমিক যুগেই মীমাংসিত হয়েছে। অন্যান্য কিছু বিষয়ের মতো এই বিষয়ে তাদের অজ্ঞাত থাকা বা মতভেদ করা সম্ভব নয়। সাহাবায়ে কিরাম হিজাবের বিধান এবং নারী তার মুখমণ্ডল ঢাকবে নাকি খোলা রাখবে—এই নিয়ে মতভেদ করেছেন বলে যা বলা হয়, তা অত্যন্ত জঘন্যতম উক্তিগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারী গ্রন্থে (১৩/ ১৬) বলেছেন, এটি ইবনে মাজাহ একটি শক্তিশালী সূত্র (سند قوي) দ্বারা বর্ণনা করেছেন। আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, যেমনটি সিলসিলাহ আস-সহিহাহ-এর ৮৭ নম্বর হাদিসে উল্লেখ আছে।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ৭)
ومثل هذا لا يمكن نسبته للصحابة بتاتاً، وهم حول رسول صلى الله عليه وسلم مع كثرة النساء الخارجات بينهم في اليوم والليلة، فلا يمكن لهذه المسألة أن تخفى أو تُجهل أو لا ينقل إلينا اختلافهم ونقاشهم فيها كما هو الحاصل اليوم بين الفريقين، ولهذا فلابد وأن تكون مسألة الخلاف فيها طارئة وحادثة وبعد إجماع العصور الأولى والقرون الثلاثة المفضلة ومن بعدهم.

فمسألة التشكيك في النقاب أو وجوبه لم تأتِ فجأة ولم تأتِ من نصوص الكتاب والسنة الظاهرة والصريحة ولا من فهم الصحابة والسلف الصالح لها، وبالتالي فلا بد وأن تكون غربته بدأت تدريجياً وشيئاً فشيئاً، فما سنذكره من أسباب وما سنجليه من أمور وحقائق ونقول لأهل العلم هي بمشيئة الله تعالى ما سيبين ذلك التدرج حتى وصلت بغربة الحجاب إلى ما وصلت إليه اليوم من حرب على النقاب وزادت بسبب ما بثه بعض العلماء المتأخرين اليوم، من شُبَه جديدة وتفاسير خاطئة وفهم مخالف لمراد الله ومراد رسوله صلى الله عليه وسلم ومقصد المتقدمين من السلف الصالح وأئمة الإسلام، وبعيداً عن أقوال أهل العلم السابقين، حتى حرفوا وبدلوا وصحفوا - بغير قصد - فريضة الحجاب عن حقيقتها.

ولهذا لابد أن يكون الحق الذي هو موافق لمراد الله ومراد رسوله صلى الله عليه وسلم ومراد سلف الأمة ظاهراً وليس كما حاول البعض أن يقنعنا أن الصحابة والسلف، وأئمة المذاهب الأربعة والذين كانوا قريبين من عصر النبوة قد اختلفوا فيها، بدون دليل ولا نقل صريح، فالمسألة
এবং এ ধরনের বিষয়কে সাহাবীগণের সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কিত করা সম্ভব নয়, অথচ তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারপাশেই অবস্থান করছিলেন এবং দিন-রাত তাঁদের মাঝে নারীদের চলাচলের আধিক্য ছিল। সুতরাং এই বিষয়টি গোপন থাকা, অজানা থেকে যাওয়া কিংবা তাঁদের মধ্যকার মতভেদ ও আলোচনা আমাদের নিকট বর্ণিত না হওয়া অসম্ভব, যেমনটি বর্তমানে দুই পক্ষের মাঝে ঘটছে। এ কারণে, এই মাসআলায় মতভেদের বিষয়টি অবশ্যই পরবর্তীকালে উদ্ভূত ও নতুন একটি বিষয়, যা প্রথম যুগের ঐক্যমত (إجماع) এবং পরবর্তী তিন শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম ও তাঁদের উত্তরসূরীদের যুগের পরে ঘটেছে।

সুতরাং নেকাব নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করা বা এর আবশ্যকতা (وجوب) সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হঠাৎ করে আসেনি এবং এটি কিতাব ও সুন্নাহর প্রকাশ্য (ظاهر) ও দ্ব্যর্থহীন (صريح) কোনো বর্ণনা (نص) থেকে উৎসারিত নয়, এমনকি সাহাবীগণ ও সালাফে সালেহীনের বুঝ থেকেও নয়। বরং এর অচেনা হওয়ার ধারাটি ধাপে ধাপে এবং ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে। আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় যে সকল কারণ উল্লেখ করব এবং যে সকল তথ্য ও সত্য উন্মোচন করব এবং আলেমগণের যে সকল উদ্ধৃতি পেশ করব, তা সেই পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনকেই স্পষ্ট করবে, যার ফলে হিজাবের এই বিজাতীয়তা বা অচেনা রূপ আজ নেকাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পর্যবসিত হয়েছে। বর্তমান সময়ের কিছু পরবর্তী যুগের (المتأخرون) আলেমের প্রচারিত নতুন কিছু সংশয় (شبهات), ভুল ব্যাখ্যা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্য ও পূর্ববর্তী সালাফে সালেহীন এবং আইম্মায়ে ইসলামের মাকসাদের পরিপন্থী বুঝের কারণে এটি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁরা পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্যের বাইরে গিয়ে—অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও—হিজাবের আবশ্যিক বিধানকে তার প্রকৃত রূপ থেকে বিচ্যুত, পরিবর্তিত ও বিকৃত করে ফেলেছেন।

এই কারণে সত্য বিষয়টি—যা আল্লাহ, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উম্মাহর সালাফের উদ্দেশ্যের অনুকূল—তা স্পষ্ট হওয়া আবশ্যক। বিষয়টি এমন নয় যেমনটি কিছু লোক আমাদের বোঝাতে চেষ্টা করে যে, সাহাবীগণ, সালাফ এবং চার মাযহাবের ইমামগণ—যাঁরা নবুওয়াতের যুগের নিকটবর্তী ছিলেন—কোনো প্রমাণ (دليل) বা দ্ব্যর্থহীন বর্ণনা (نقل صريح) ছাড়াই এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন। মূলত বিষয়টি...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ৮)
فريضة إلهية مذكورة ومحفوظة في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وتعنى بالشأن العام ونالت ما نالته من نصوص عديدة وكثيرة لا يمكن أن تخفى وتستتر حقيقتها عند البحث والتحقيق ولابد وأنه في كل الحالات سيكون الأمر واضحاً وجلياً ومدعماً بأدلة ووقائع خفيت مع طول الزمان بعض حقائقها، ولهذا عزمت مستعيناً بالله على كشفها وسبر أغوارها.

 

كتبه راجي عفو ربه

تركي بن عمر بن محمد بلحمر
এটি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহয় (سنة) বর্ণিত ও সংরক্ষিত একটি ঐশী বিধান যা জনকল্যাণ সংশ্লিষ্ট। এটি অসংখ্য এমন মূলপাঠ (نصوص) সমৃদ্ধ যার প্রকৃত রূপ গবেষণা ও অনুসন্ধানের (تحقيق) সময় প্রচ্ছন্ন বা লুকায়িত থাকা সম্ভব নয়। সর্বাবস্থায় বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রকাশ্য হবে এবং এমন সব প্রমাণ ও বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সমর্থিত হবে যার কিছু বাস্তবতা দীর্ঘ কাল পরিক্রমায় লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গিয়েছিল। এ কারণেই আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে বিষয়টির প্রকৃত রহস্য উন্মোচন এবং এর গভীরতা পর্যালোচনার (سبر) দৃঢ় সংকল্প করেছি।

 

লিখেছেন তাঁর রবের ক্ষমার প্রত্যাশী

তুর্কি বিন ওমর বিন মুহাম্মদ বালহামার
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ৯)
(المبحث الأول)

سورة الأحزاب وأول ما نزل من الآيات في مسألة الحجاب وما لحق تفسيرها من تحريف وتبديل وتصحيف
(প্রথম পরিচ্ছেদ)

সূরা আল-আহযাব এবং হিজাব সংক্রান্ত বিষয়ে সর্বপ্রথম অবতীর্ণ আয়াতসমূহ এবং এর তাফসীরের ক্ষেত্রে সংঘটিত বিকৃতি (تحريف), পরিবর্তন (تبديل) ও বর্ণবিভ্রান্তি (تصحيف)
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌(المبحث الأول)

سورة الأحزاب وأول ما نزل من الآيات في مسألة الحجاب وما لحق تفسيرها من تحريف وتصحيف وتبديل

يُخطئ كثير من المستدلين لمسألة الحجاب وبخاصة القائلين بسفور المرأة لوجهها (1) عندما يستشهدون بالآية الكريمة: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إلا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} [النور: 31].

فيستدلون بها وكأنها أول ما أنزل من آيات الحجاب وكأنها الأصل والأساس في المسألة على تشريع فريضة الحجاب على نساء المسلمين فهذه الآية من أواخر ما نزل في شأن الحجاب، حيث نزلت متأخرة وبعد نزول أول آيات الحجاب والتي جاءت في سورة الأحزاب وذلك بشهادة أعلم الناس بشأن الحجاب الصحابي الجليل وخادم رسول الله صلى الله عليه وسلم أنس بن مالك رضي الله عنه.

--------------------------------------------

(1) قال في "لسان العرب": (سفر) قال وإذا ألقت المرأة نقابها قيل سفرت فهي سافر .. وسفرت المرأة وجهها إذا كشف النقاب عن وجهها تسفر سفوراً). وقال في "المعجم الوسيط" بتحقيق مجمع اللغة العربية: (سفر) سفوراً وضح وانكشف … والمرأة كشفت عن وجهها. وقال عند (السافر) ويقال امرأة سافر للكاشفة عن وجهها). وقال في "المحيط في اللغة": (والسفور: سفور المرأة نقابها عن وجهها، فهي سافر). وقال في "تاج العروس": (يقال: سفرت المرأة إذا كشفت عن وجهها النقاب وفي المحكم: جلته وفي التهذيب: ألقته تسفر سفوراً فهي سافر).
(প্রথম পরিচ্ছেদ)

সূরা আল-আহজাব এবং হিজাবের মাসআলায় অবতীর্ণ প্রথম আয়াতসমূহ; এবং এর তাফসিরে যেসব বিকৃতি (تحريف), পাঠান্তরজনিত ভুল (تصحيف) ও পরিবর্তন (تبديل) ঘটেছে

হিজাবের মাসআলায় দলিল পেশকারীদের মধ্যে অনেকেই ভুল করেন, বিশেষ করে যারা নারীর মুখমণ্ডল উন্মোচন করার প্রবক্তা (১), যখন তারা এই মহান আয়াতটি উদ্ধৃত করেন: {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত} [আন-নূর: ৩১]।

তারা এটি দিয়ে এমনভাবে দলিল পেশ করেন যেন এটিই হিজাব সংক্রান্ত আয়াতসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম অবতীর্ণ আয়াত এবং যেন এটিই মুসলিম নারীদের ওপর হিজাবের বিধান ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে এই মাসআলার মূল ও ভিত্তি। অথচ এই আয়াতটি হিজাব সংক্রান্ত আয়াতসমূহের মধ্যে সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি অনেক দেরিতে অবতীর্ণ হয়েছে—হিজাবের প্রথম আয়াতসমূহ যা সূরা আল-আহজাবে এসেছে, তারও পরে। হিজাবের বিষয়ে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি, মহান সাহাবী (صحابي) এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খাদেম আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাক্ষ্য দ্বারা এটি প্রমাণিত।

--------------------------------------------

(১) 'লিসানুল আরব'-এ বলা হয়েছে: (সফর) যখন নারী তার নেকাব সরিয়ে ফেলে তখন বলা হয় 'সাফারাতি' (সে মুখ খুলেছে), সুতরাং সে হলো 'সাফির' (উন্মুক্ত)। নারী তার মুখমণ্ডল উন্মুক্ত করেছে (সফরাত) যখন সে তার মুখমণ্ডল থেকে নেকাব সরিয়ে নেয়। 'আল-মু'জাম আল-ওয়াসীত'-এ (যা মাজমাউল লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ দ্বারা সম্পাদিত) বলা হয়েছে: (সফর) 'সুফুরান' অর্থাৎ স্পষ্ট হওয়া ও উন্মোচিত হওয়া … আর নারী তার মুখমণ্ডল উন্মোচন করেছে। 'সাফির' সম্পর্কে বলা হয়েছে, যে নারী তার মুখমণ্ডল উন্মোচন করে তাকে 'সাফির' বলা হয়। 'আল-মুহিত ফিল-লুগাহ'-এ বলা হয়েছে: 'সুফুর' হলো নারীর তার মুখমণ্ডল থেকে নেকাব সরিয়ে ফেলা, এমতাবস্থায় সে হলো 'সাফির'। 'তাজুল আরূস'-এ বলা হয়েছে: বলা হয়, নারী 'সাফারাতি' যখন সে তার মুখমণ্ডল থেকে নেকাব সরিয়ে ফেলে। 'আল-মুহকাম'-এ বলা হয়েছে: সে তা প্রকাশ করেছে। 'আত-তাহযীব'-এ বলা হয়েছে: সে তা নিক্ষেপ করেছে (সরিয়ে ফেলেছে), এমতাবস্থায় সে হলো 'সাফির'।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ১২)
فمن استدل بها لبيان حكم وكيفية صفة فريضة الحجاب يكون قد خلط الأمر وبدأ طريقه خطأً فكلما سار على هذا الأساس بَعُد عن الصواب فكان مؤداه لأخطاء وتناقضات أكثر وأكبر، فهو جعل التفصيل والبيان والرُخص التي في سورة النور ومنه الاستثناء في قوله تعالى: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إلا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} هو الأصل العام والتشريع الأساسي لفريضة الحجاب ونسي أنها متأخرة وأنها استثناء والاستثناء لا بد وأن يأتي بعد أصل عام ومقرر سلفاً وصفه وحدوده وهو المستثنى منه فعليهم أن يرجعوا لأصل المسألة وأول ما نزل فيها حتى يفهموا المستثنى من ذلك تحديداً والغاية والمراد من ذلك الاستثناء كما أراده الله تعالى.

فقد نزلت قبلها آيات كما في سورة الأحزاب ما كان لهم أن يغفلوا عنها والتي حسمت وحددت الزينة التي يجب سترها وأمرت بتغطية المرأة لزينتها ومن ذلك وجهها كما عليه إجماع الصحابة والتابعين وعلماء أهل التفسير جميعاً كما سننقله عنهم قريباً بالتفصيل.

والآن ولكي نعرف حقيقة مسألة فريضة الحجاب علينا أن نحدد أول الآيات نزولاً في ذلك حسب تاريخ وأسباب النزول ثم نرتب آياتها ليتبين لنا الصواب في المسألة وحتى لا تتعارض معنا الآيات والأحاديث وتفاسير الصحابة، وحتى ندرك معنى كل آية حسب مراد الله ومراد رسوله صلى الله عليه وسلم ومراد صحابته الكرام.

সুতরাং যারা হিজাবের বিধান (حكم) এবং হিজাব বিধানের বৈশিষ্ট্যের (صفة) ধরণ বর্ণনা করার জন্য একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন, তারা বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলেছেন এবং ভুল পথে চলা শুরু করেছেন। তারা এই ভিত্তির ওপর যত বেশি অগ্রসর হবেন, সত্য থেকে তত বেশি দূরে সরে যাবেন; যার ফলে আরও বড় এবং অধিকতর ভুল ও বৈপরীত্যের সৃষ্টি হবে। তারা সুরা আন-নূরে বর্ণিত বিস্তারিত বিবরণ, ব্যাখ্যা এবং শিথিলতা (رخصة), যার অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া}, সেটিকে হিজাব বিধানের সাধারণ মূলনীতি (أصل عام) এবং মৌলিক বিধান হিসেবে গণ্য করেছেন। অথচ তারা ভুলে গেছেন যে এটি পরে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এটি একটি ব্যতিক্রম (استثناء); আর ব্যতিক্রম অবশ্যই এমন একটি সাধারণ মূলনীতি (أصل عام) এর পরে আসতে হয় যা আগে থেকেই নির্ধারিত এবং যার বর্ণনা ও সীমা সুনির্দিষ্ট, যা থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে (المستثنى منه)। তাই তাদের উচিত বিষয়ের মূলে এবং এ সম্পর্কে যা প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে সেদিকে ফিরে যাওয়া, যাতে তারা আল্লাহ তাআলা যেভাবে চেয়েছেন সে অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে সেই ব্যতিক্রমটি এবং উক্ত ব্যতিক্রমের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বুঝতে পারেন।

এর পূর্বে সুরা আল-আহজাবে এমন কিছু আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যা উপেক্ষা করা তাদের জন্য উচিত নয়; যে আয়াতগুলো সেই সৌন্দর্যকে সুনির্ধারিত ও সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে যা অবশ্যই আবৃত রাখতে হবে এবং নারীকে তার সৌন্দর্য ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো তার মুখমণ্ডল। যেমনটি সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং সমস্ত মুফাসসির ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা প্রমাণিত, যা আমরা শীঘ্রই তাদের থেকে বিস্তারিতভাবে উদ্ধৃত করব।

এখন, হিজাব বিধানের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য আমাদের উচিত নাযিলের ইতিহাস এবং অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) অনুযায়ী এ বিষয়ে সর্বপ্রথম অবতীর্ণ আয়াতগুলোকে চিহ্নিত করা, তারপর আয়াতগুলোকে ক্রমানুসারে সাজানো যাতে আমাদের কাছে এ বিষয়ের সঠিক সমাধান স্পষ্ট হয় এবং যাতে আমাদের সামনে আয়াতসমূহ, হাদিসসমূহ এবং সাহাবীগণের তাফসিরের মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি না হয়। এছাড়া আমরা যেন প্রতিটি আয়াতের অর্থ আল্লাহ, তাঁর রাসুল (সা.) এবং সম্মানিত সাহাবীগণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অনুধাবন করতে পারি।

(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تاريخ نزول أول الآيات في مسألة الحجاب:

أترك الجواب للصحابي الجليل أنس بن مالك خادمِ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (كنت ابن عشر سنين مَقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان أمهاتي يواظبنني على خدمة رسول الله فخدمته عشر سنين وتوفي صلى الله عليه وسلم، وأنا ابن عشرين سنة وكنت أعلم الناس بشأن الحجاب حين أنزل وكان أول ما أنزل في مبتنى رسول الله بزينب بنت جحش أصبح النبي بها عروساً فدعا القوم فأصابوا من الطعام ثم خرجوا وبقي رهطٌ منهم عند النبي صلى الله عليه وسلم فأطالوا المكث، - وفي رواية - ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالسٌ وزوجته موليةٌ وجهها إلى الحائط، فقام النبي فخرج وخرجْتُ معه لكي يخرجوا فمشى ومشيت حتى جاء عتبة حجرة عائشة - وفي رواية - فانطلق إلى حجرة عائشة فقال السلام عليكم أهل البيت ورحمة الله وبركاته فقالت وعليك السلام ورحمة الله كيف وجدت أهلك بارك الله لك؟ فتقَّرى حُجَر نسائه كلهن يقول لهن كما يقول لعائشة ويقلن له كما قالت عائشة - إلى أن قال- فإذا هم قد خرجوا فضرب النبي بيني وبينه بالستر - وفي رواية - فذهبت أدخل فألقى الحجاب بيني وبينه وأنزل الحجاب فخرج رسول الله وقرأهن على الناس: {يا أيها الذين آمنوا لا تدخلوا بيوت النبي إلا أن يؤذن لكم} إلى قوله: {من وراء حجاب} [الأحزاب: 53] أخرجه الشيخان وغيرهما.

قال الإمام ابن كثير في تفسيره: (هذه آية الحجاب وفيها أحكام وآداب شرعية وهي مما وافق تنزيلها قول عمر بن الخطاب رضي
পর্দার (হিজাব) প্রথম আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার ইতিহাস:

আমি এই উত্তরটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম, মহান সাহাবী আনাস বিন মালিক-এর জন্য ছেড়ে দিচ্ছি। তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন আমার বয়স ছিল দশ বছর। আমার মায়েরা আমাকে রাসূলুল্লাহর খিদমতে নিয়োজিত রাখতেন। আমি দশ বছর তাঁর খিদমত করেছি এবং যখন তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন আমার বয়স ছিল বিশ বছর। পর্দার (হিজাব) বিধান যখন অবতীর্ণ হয়, তখন আমি সে বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলাম। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জয়নব বিনতে জাহাশ-কে ঘরে তুললেন (বিয়ে করলেন), তখন প্রথম পর্দার বিধান অবতীর্ণ হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নববধূর সাথে বাসর উদযাপন করে লোকদের দাওয়াত দিলেন। তারা আহার করলেন এবং এরপর তারা চলে গেলেন। কিন্তু তাদের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে থেকে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলেন। — অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) আছে — রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে ছিলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বের হলেন। আমি তাঁর সাথে বের হলাম যাতে তারা বেরিয়ে যায়। তিনি হাঁটলেন এবং আমিও হাঁটলাম যতক্ষণ না তিনি আয়েশার কামরার চৌকাঠে পৌঁছালেন। — অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) আছে — তিনি আয়েশার কামরার দিকে গেলেন এবং বললেন, 'আসসালামু আলাইকুম আহলাল বায়িত ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ'। আয়েশা বললেন, 'ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার নতুন পরিবারকে কেমন পেলেন? আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন।' এরপর তিনি তাঁর সকল স্ত্রীর কামরাগুলোতে একে একে গেলেন এবং আয়েশাকে যা বলেছিলেন তাদেরও তাই বললেন এবং তারাও আয়েশার মতো উত্তর দিলেন। — বর্ণনাকারী বলেন — এরপর যখন দেখা গেল তারা চলে গেছেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ও তাঁর মাঝে একটি পর্দা (الستر) টেনে দিলেন। — অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) আছে — আমি প্রবেশ করতে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি আমার ও তাঁর মাঝে পর্দা (الحجاب) ফেলে দিলেন এবং পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হলো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং মানুষের সামনে তা পাঠ করলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা নবীর ঘরে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমাদের অনুমতি দেওয়া হয়} আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {পর্দার অন্তরাল থেকে} [সূরা আল-আহজাব: ৫৩]। এটি দুই শায়খ (বুখারি ও মুসলিম) এবং অন্যরা বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।)

ইমাম ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে বলেছেন: (এটি পর্দার (হিজাব) আয়াত এবং এতে শরয়ি বিধান ও শিষ্টাচার রয়েছে। এটি সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর অবতরণ ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর উক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল...)
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الله عنه كما ثبت ذلك في الصحيحين عنه أنه قال: وافقت ربي عز وجل في ثلاث: قلت: يا رسول الله لو اتخذت من مقام إبراهيم مصلى فأنزل الله تعالى: {وَاتَّخِذُوا مِن مقام إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى} [البقرة: 125] وقلت: يا رسول الله أن نساءك يدخل عليهن البر والفاجر، فلو حجبتهن، فأنزل الله آية الحجاب، وقلت لأزواج النبي صلى الله عليه وسلم لما تمالأن عليه في الغيرة: {عَسَى رَبُّهُ إن طَلَّقَكُنَّ أن يُبْدِلَهُ أَزْوَاجاً خَيْراً مِّنكُنَّ} [التحريم: 5] فنزلت كذلك، وفي رواية لمسلم، ذكر أسارى بدر وهي قضية رابعة.

وقد قال البخاري: حدثنا مسدد عن يحيى عن حميد عن أنس بن مالك قال: قال عمر بن الخطاب: يا رسول الله يدخل عليك البر والفاجر، فلو أمرت أمهات المؤمنين بالحجاب، فأنزل الله آية الحجاب وكان وقت نزولها في صبيحة عرس رسول الله صلى الله عليه وسلم بزينب بنت جحش الأسدية التي تولى الله تعالى تزويجها بنفسه، وكان ذلك في ذي القعدة من السنة الخامسة في قول قتادة والواقدي وغيرهما وزعم أبو عبيدة معمر بن المثنى وخليفة بن خياط أن ذلك كان في سنة ثلاث، فالله أعلم) انتهى من ابن كثير.

وبهذا يتبين أن بدايات أمر الحجاب وفرضه كانت بعد غزوة الأحزاب وبني قريظة في سورة الأحزاب وأن آياتها من أول ما أنزل في ذلك ومنها قوله تعالى: {يا أيها النَّبِيُّ قُل لأزواجك وَبَنَاتِكَ وَنِسَاء المؤمنين يدنين عليهن من جلابيبهن ذَلِكَ أَدْنَى أن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكان اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا} [الأحزاب: 59].
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, যেমনটি সহিহাইনে তাঁর থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন: "আমি তিনটি বিষয়ে আমার মহিমান্বিত প্রতিপালকের সাথে একমত হয়েছি। আমি বলেছিলাম: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি যদি মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতেন! তখন আল্লাহ তাআলা নাজিল করেন: {আর তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো} [আল-বাকারা: ১২৫]। আমি আরও বলেছিলাম: হে আল্লাহর রাসুল! আপনার স্ত্রীদের নিকট নেককার ও পাপাচারী উভয়ই প্রবেশ করে, আপনি যদি তাঁদের পর্দার নির্দেশ দিতেন! তখন আল্লাহ তাআলা পর্দার আয়াত নাজিল করেন। আর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণের প্রতি বলেছিলাম—যখন তাঁরা ইর্ষাবশত তাঁর বিরুদ্ধে একজোট হয়েছিলেন: {যদি তিনি তোমাদের তালাক দেন, তবে তাঁর প্রতিপালক তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী দান করবেন} [আত-তাহরিম: ৫]। তখন আয়াতটি এভাবেই অবতীর্ণ হলো।" আর সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় (رواية) বদরের যুদ্ধবন্দিদের কথা উল্লেখ রয়েছে এবং এটি চতুর্থ বিষয়।

ইমাম বুখারি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুসাদ্দাদ, ইয়াহইয়া থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আপনার নিকট নেককার ও পাপাচারী উভয়ই প্রবেশ করে। আপনি যদি মুমিন জননীদের পর্দার আদেশ দিতেন!" তখন আল্লাহ তাআলা পর্দার আয়াত নাজিল করেন। এটি নাজিল হওয়ার সময়টি ছিল যয়নব বিনতে জাহাশ আল-আসাদিয়ার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাসর রাতের পরদিন সকালে, যাঁর বিয়ের অভিভাবকত্ব আল্লাহ তাআলা স্বয়ং গ্রহণ করেছিলেন। কাতাদা, ওয়াকিদি এবং অন্যদের মতে এটি ছিল পঞ্চম হিজরির জিলকদ মাসের ঘটনা। তবে আবু উবাইদাহ মা’মার ইবনুল মুসান্না এবং খলিফা ইবনে খাইয়্যাত দাবি করেছেন যে এটি তৃতীয় হিজরিতে হয়েছিল। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। - ইবনে কাসির থেকে সমাপ্ত।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, পর্দার বিধানের সূচনা এবং তা ফরজ (فرض) করার বিষয়টি আহযাব ও বনু কুরাইজা যুদ্ধের পর সুরা আল-আহযাবে হয়েছিল। আর এ বিষয়ে নাজিল হওয়া প্রাথমিক আয়াতগুলোর মধ্যে একটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চিনে রাখা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু} [আল-আহযাব: ৫৯]।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
أما سورة النور وما فيها من قوله تعالى: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إلا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} [النور: 31]، فقد نزلت بعد ذلك بفترة، فكان ما فيها من آيات عديدة في مسائل الحجاب تفصيل وبيان واستثناء ورخص من الأصل السابق، وهذا معلوم من طريقة القرآن وأسلوبه ورحمة الله بعباده والتوسعة عليهم، والدليل على ذلك أمور جلية وبينة منها:

1 - أن سورة الأحزاب وحادثة التحزب والخندق المذكورة في السورة كانت في السنة الخامسة من الهجرة على الصحيح المشهور كما قاله ابن كثير في تفسيره وابن إسحاق وغيرهم (1)، فهي بلا خلاف قبل سورة النور والتي ذُكر في آياتها وقائع حادثة الإفك التي وقعت في السنة السادسة للهجرة.

2 - أن سورة النور ذكرت حادثة الإفك كما في الآية رقم (11) ثم جاء بعدها قوله تعالى: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إلا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} [النور: 31] وقد بينت عائشة رضي الله عنها عند روايتها للحادثة التي وقعت لها أنهن قد أمرن قبل ذلك بتغطية وجوههن عن الرجال كما أخرجه البخاري ومسلم وغيرهما فيما حكته عن نفسها قالت: (وكان صفوان من وراء الجيش فأصبح عند منزلي فرأى سواد إنسان فأتاني، فعرفني حين رآني وكان يراني قبل الحجاب فاستيقظت باسترجاعه حين عرفني فخمرت

--------------------------------------------

(1) سيرة ابن هشام (3/ 165). وقد جزم ابن حزم في جوامع السيرة (صـ 147) وابن القيم في زاد المعاد (3/ 269)، وغيرهما من العلماء المحققين بصحة قول ابن إسحاق.
আর সুরা আন-নূর এবং তাতে আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, যা প্রকাশ পায় তা ব্যতীত} [আন-নূর: ৩১] সম্পর্কে বলা যায় যে, এটি তার বেশ কিছু সময় পরে অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে হিজাবের মাসআলাগুলো সম্পর্কে এতে বিদ্যমান বহু আয়াত মূলত পূর্ববর্তী মূল বিধানের ব্যাখ্যা, বর্ণনা, ব্যতিক্রম এবং শিথিলতা স্বরূপ ছিল। আর এটি কুরআনের পদ্ধতি, শৈলী এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমত ও প্রশস্ততা প্রদানের নীতি থেকেই সুস্পষ্ট। এর প্রমাণ হিসেবে কিছু স্পষ্ট বিষয় নিম্নে দেওয়া হলো:

১ - সুরা আল-আহজাব এবং সুরায় বর্ণিত আহজাব বা খন্দকের যুদ্ধ পঞ্চম হিজরি সনে সংঘটিত হয়েছিল, যা বিশুদ্ধ (صحيح) ও প্রসিদ্ধ (مشهور) মত অনুযায়ী সাব্যস্ত; যেমনটি ইবনে কাসির তাঁর তাফসির গ্রন্থে, ইবনে ইসহাক এবং অন্যান্যরা বলেছেন (১)। সুতরাং এটি কোনো মতভেদ ছাড়াই সুরা আন-নূরের আগে নাযিল হয়েছে, যার আয়াতগুলোতে ষষ্ঠ হিজরিতে ঘটে যাওয়া ইফকের (মিথ্যা অপবাদ) ঘটনার বিবরণ রয়েছে।

২ - সুরা আন-নূরে ইফকের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যেমনটি ১১ নম্বর আয়াতে রয়েছে, অতঃপর আল্লাহ তাআলার এই বাণী এসেছে: {এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, যা প্রকাশ পায় তা ব্যতীত} [আন-নূর: ৩১]। আর আয়েশা (রা.) তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনায় (رواية) স্পষ্ট করেছেন যে, এর আগেই তাঁদেরকে পরপুরুষের সামনে মুখমণ্ডল আবৃত করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল; যেমনটি বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্যরা তাঁর নিজের বর্ণনা থেকে সংকলন (أخرجه) করেছেন, তিনি বলেন: (আর সাফওয়ান সেনাবাহিনীর পেছনে ছিলেন, তিনি ভোরবেলায় আমার অবস্থানের জায়গায় পৌঁছালেন এবং একজন মানুষের আকৃতি দেখতে পেয়ে আমার কাছে আসলেন। তিনি আমাকে দেখামাত্র চিনে ফেললেন, কারণ হিজাবের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার আগে তিনি আমাকে দেখেছিলেন। তিনি আমাকে চিনে ফেলে 'ইন্নালিল্লাহ' পড়লে তাঁর সেই আওয়াজে আমি জেগে উঠলাম এবং আমার চাদর দিয়ে [মুখমণ্ডল ঢেকে নিলাম]...)

--------------------------------------------

(১) সিরাত ইবনে হিশাম (৩/১৬৫)। ইবনে হাজম তাঁর জাওয়ামিউস সিরাহ (পৃ. ১৪৭) গ্রন্থে এবং ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর জাদুল মাআদ (৩/২৬৯) গ্রন্থে এবং অন্যান্য গবেষক (محققين) আলেমগণ ইবনে ইসহাকের বক্তব্যের বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وجهي بجلبابي)، فدل بوضوح أن الحجاب قد فرض قبل سورة النور وقبل ما فيها من قوله تعالى: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إلا مَاظَهَرَ مِنْهَا} [النور: 31].

3 - الحديث المتقدم لخادم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأعلم الناس بشأن الحجاب وقوله: (وكنت أعلم الناس بشأن الحجاب حين أنزل وكان أول ما أنزل في مبتنى رسول الله بزينب بنت جحش) متفق عليه.

وقد ذكر أهل السير أن زواج رسول الله صلى الله عليه وسلم بزينب، كان في السنة الخامسة للهجرة مما يدل على أن أول بدايات نزول آيات فرض الحجاب كانت في سورة الأحزاب التي ذكرها أنس وما بعدها من الآيات في نفس السورة، كقوله تعالى: {يدنين عليهن من جلابيبهن} وهي المتقدمة على سورة النور وما فيها من قوله تعالى: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إلا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} قال الحافظ ابن حجر: (ولا خلاف أن آية الحجاب نزلت حين دخوله صلى الله عليه وسلم بها فثبت أن الحجاب كان قبل قصة الإفك) (1) انتهى. كما هو جلي وواضح والحمد لله.

قال الإمام البيهقي: (وغزوة بني قريظة كانت عقيب الخندق في سنة خمس فنزول الحجاب كان بعده والله أعلم) (2) انتهى.

4 - وسوف نأتي لمزيد من الأدلة الأخرى عند تفسير آيات سورة النور بمشيئة الله تعالى (3).

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (8/ 463).

(2) سنن البيهقي الكبرى (7/ 92) "باب مساواة المرأة الرجل في حكم الحجاب والنظر إلى الأجانب".

(3) تفسير آيات سورة النور، المبحث الثاني صفحة (93).
...আমার জিলবাব দিয়ে আমার চেহারা [ঢেকে নিয়েছিলাম]), এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে সুরা আন-নূরের পূর্বে এবং তাতে বর্ণিত মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত} [আন-নূর: ৩১]-এর পূর্বেই হিজাব ফরজ করা হয়েছিল।

৩ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম এবং হিজাব সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তির বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিস এবং তাঁর বক্তব্য: (যখন হিজাব নাজিল করা হয় তখন আমি হিজাব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলাম। আর এটি সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জয়নাব বিনতে জাহশ-এর বাসর যাপনের সময় নাজিল হয়েছিল)। এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।

ইতিহাসবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জয়নাবের বিবাহ হিজরি পঞ্চম সনে হয়েছিল। এটি নির্দেশ করে যে, হিজাব ফরজ সংক্রান্ত আয়াতের প্রারম্ভিক অবতরণ ছিল সুরা আল-আহজাবে যা আনাস (রা.) উল্লেখ করেছেন এবং সেই একই সুরার পরবর্তী আয়াতসমূহে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়}। এটি সুরা আন-নূর এবং তাতে বর্ণিত মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত}-এর পূর্ববর্তী। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: (এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, হিজাবের আয়াত নাজিল হয়েছিল তাঁর সাথে বাসর যাপনের সময়। সুতরাং এটি প্রমাণিত (ثبت) হলো যে, হিজাব ইফকের ঘটনার পূর্বেই ছিল) (১) সমাপ্ত। যা অত্যন্ত পরিস্ফুট ও সুস্পষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ।

ইমাম বায়হাকি বলেন: (বনু কুরাইজা যুদ্ধ খন্দক যুদ্ধের অব্যবহিত পরে পঞ্চম হিজরিতে সংঘটিত হয়েছিল, সুতরাং হিজাব অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি ছিল এর পরে, আল্লাহই সর্বজ্ঞ) (২) সমাপ্ত।

৪ - ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহর ইচ্ছায় সুরা আন-নূরের আয়াতসমূহের তাফসিরের সময় আমরা আরও দলীল পেশ করব (৩)।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী (৮/ ৪৬৩)।

(২) সুনান বায়হাকি আল-কুবরা (৭/ ৯২) "অধ্যায়: হিজাবের বিধান এবং পরপুরুষের দিকে তাকানোর ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের বিধানের সমতা"।

(৩) সুরা আন-নূরের আয়াতসমূহের তাফসির, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পৃষ্ঠা (৯৩)।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌كيف مهد الإسلام لتشريع فريضة الحجاب؟ :

من بداية سورة الأحزاب والله عز وجل يمهد لفريضة الحجاب وذلك بعدة أمور، ومن العجيب الذي لا يمكننا أن نلخصه في هذه العجالة أنك ترى في سورة الأحزاب أعظم تمهيد لحدث لم يكن مألوفاً ولا معتاداً على المسلمين، فقد شملت من الترغيب والترهيب وبيان عظمة الله وقدرته والتسليم لأمره وأنه ما كان لمؤمن ولا مؤمنة إذا قضى الله ورسوله أمراً أن يكون لهم الخيرة من أمرهم، وغير ذلك مما جاء لعدة أغراض وأسباب، من ضمنها نزول فريضة الحجاب ولا يمكنني التعبير عن دقة ذلك وعظمته وتدرجه، فأحيل القارئ الكريم لقراءة السورة كاملة، وهي التي حوت فريضة الحجاب وأول ما نزل في شأنها ولا بأس أن نُذكِر ببعض التمهيد العام والخاص في ذلك، فمن التمهيد العام والذي سبق نزول فريضة الحجاب:

أ- عدم طاعة الكافرين والمنافقين والإعراض عن أذاهم:

أن فريضة الحجاب والنقاب وستر النساء لوجوههن عن الرجال لم يكن ذلك بالأمر المألوف أو الهين على المسلمين كونه لم يكن مشروعاً قبل ذلك وكانت نساء الصحابة وزوجات رسول الله صلى الله عليه وسلم يكشفن على الرجال، كما دلت على ذلك النصوص العديدة، فلم يكن تغيير ذلك الواقع سهلا بالنسبة لهم ولابد وأن النفوس البشرية ستستصعب ذلك.

كما لا ننسى أعداء الإسلام من المنافقين والمشركين وأهل الكتاب وكيف أنهم مشهورون بالسخرية والاستهزاء بالمؤمنين، ويحاربون كل
ইসলাম কীভাবে পর্দার আবশ্যিক বিধান (فريضة) প্রবর্তনের (تشريع) প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল? :

সূরা আল-আহযাবের শুরু থেকেই মহান আল্লাহ তায়ালা পর্দার আবশ্যিক বিধানের (فريضة) জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছেন এবং তা বেশ কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর যা এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে সংক্ষেপ করা সম্ভব নয়; আপনি সূরা আল-আহযাবে এমন এক ঘটনার জন্য এক মহান প্রস্তুতি দেখতে পাবেন যা মুসলমানদের জন্য পরিচিত বা অভ্যস্ত ছিল না। এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে উৎসাহ প্রদান (ترغيب), ভীতি প্রদর্শন (ترهيب), আল্লাহর মাহাত্ম্য ও কুদরতের বর্ণনা এবং তাঁর নির্দেশের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের ঘোষণা। যেমন—আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে কোনো নিজস্ব এখতিয়ার থাকে না। এছাড়া আরও অনেক বিষয় বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও কারণে এসেছে, যার মধ্যে পর্দার আবশ্যিক বিধান (فريضة) অবতীর্ণ হওয়া অন্যতম। এর সূক্ষ্মতা, মাহাত্ম্য এবং পর্যায়ক্রমিক ধারার গভীরতা ভাষায় প্রকাশ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি সম্মানিত পাঠককে পুরো সূরাটি পাঠ করার অনুরোধ করছি, যা পর্দার আবশ্যিক বিধান (فريضة) এবং এ বিষয়ে অবতীর্ণ প্রাথমিক নির্দেশনাসমূহ ধারণ করে আছে। এ প্রসঙ্গে সাধারণ ও বিশেষ কিছু প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। পর্দার আবশ্যিক বিধান (فريضة) অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী সাধারণ প্রস্তুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

ক- কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য না করা এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টদায়ক আচরণ উপেক্ষা করা:

পর্দার আবশ্যিক বিধান (فريضة), নেকাব এবং পুরুষদের দৃষ্টি থেকে নারীদের মুখমণ্ডল আবৃত করার বিষয়টি মুসলমানদের জন্য কোনো পরিচিত বা সহজ বিষয় ছিল না। কারণ এর আগে এটি শরীয়তসম্মত (مشروع) করা হয়নি এবং বিভিন্ন বর্ণনা বা দলিল (نصوص) দ্বারা প্রমাণিত যে, সাহাবীগণের স্ত্রীগণ এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সহধর্মিণীগণ পুরুষদের সামনে মুখমণ্ডল খোলা রাখতেন। তাই সেই বিদ্যমান বাস্তবতার পরিবর্তন করা তাদের জন্য সহজ ছিল না এবং মানবীয় স্বভাবজাত কারণেই এটি আয়ত্ত করা তাদের জন্য কঠিন ছিল।

একইভাবে আমরা ইসলামের শত্রু যথা—মুনাফিক, মুশরিক ও আহলে কিতাবদের কথা ভুলতে পারি না; তারা মুমিনদের নিয়ে বিদ্রূপ ও উপহাস করার জন্য সুপরিচিত ছিল এবং তারা প্রতিটি বিষয়ের বিরোধিতা করত...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
حكم وفريضة إسلامية يأتي بها الله تعالى، لهذا عندما تقرأ بدايات سورة الأحزاب، وإن جاءت لأسباب معينة كما ذكر ذلك بعض أهل التفسير فلا يمنع من أنها مهدت لفريضة الحجاب بأعظم تمهيد وتجهيز لنفوس عباده المؤمنين والمؤمنات لاستقبال أحكام الحجاب وغيره من الأحكام التي لم يكن المجتمع المسلم متعوداً عليها ومن أهمها إلغاء التبني والأمر بفريضة الحجاب فالعبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب، وإنك لتعلم مدى قوة هذين الأمرين وصعوبتهما على النفوس وخوفها من نظرة الآخرين وكلامهم وانتقاداتهم، وإنك لتعلم مدى رحمة الله بعباده عندما تقرأ في أول سورة الأحزاب تلك البداية العجيبة التي تقشعر منها الجلود وهي قوله تعالى في أول آية منها:

{يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيماً حَكِيماً {1} وَاتَّبِعْ مَا يُوحَى إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيراً {2} وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلاً {3} [الأحزاب].

فالأمر بعدم طاعة الكافرين والمنافقين لم يوجهه الله للمؤمنين مباشرة وإنما وجهه لأعلى شخصية إسلامية بأن يتقي الله، ويكون القدوة لأتباعه لتنفيذ ما يُوحَي إليه من ربه، في نفسه وأهل بيته وعموم المسلمين، ولا يطيع الكافرين والمنافقين ولو كانت أموراً عظيمة في جانب التوحيد أو التشريع مما لم يألفوها ويتعودوا عليها، فهو العليم الحكيم بما ينفع عباده، وهذا أروع استهلال وأعظم مقدمة تقشعر منها القلوب والجلود وتسلم لها الجوارح على حكمة العليم الحكيم ليهدم
এটি একটি ইসলামি বিধান এবং আবশ্যিক কর্তব্য (فريضة) যা মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। এই কারণেই যখন আপনি সূরা আল-আহযাবের প্রারম্ভিক আয়াতগুলো পাঠ করবেন—যদিও তা নির্দিষ্ট কিছু প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছিল যেমনটি মুফাসসিরগণ (أهل التفسير) উল্লেখ করেছেন—তথাপি এটি হিজাবের বিধানের (فريضة) জন্য মুমিন নর-নারীদের মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি ও প্রেক্ষাপট তৈরির ক্ষেত্রে এক মহান ভূমিকা পালন করেছে। এর মাধ্যমে হিজাবের বিধান এবং অন্যান্য এমন সব বিধান (أحكام) গ্রহণের জন্য তাদের প্রস্তুত করা হয়েছে যার সাথে তৎকালীন মুসলিম সমাজ অভ্যস্ত ছিল না। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পালক সন্তান গ্রহণের (التبني) প্রথা বিলোপ এবং হিজাবের আবশ্যিক বিধানের (فريضة) নির্দেশ। কেননা, মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শব্দের ব্যাপকতা, প্রেক্ষাপটের বিশেষত্ব নয় (العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب)। আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, মানুষের মনস্তত্ত্বের ওপর এই দুটি নির্দেশের প্রভাব কত গভীর এবং অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি, কথা ও সমালোচনার ভয়ে তা পরিপালন করা কতটা কঠিন ছিল। আপনি যখন সূরা আল-আহযাবের শুরুতে সেই বিস্ময়কর সূচনা পাঠ করবেন যা পাঠ করলে শরীরের লোম শিউরে ওঠে, তখন আপনি আপনার বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমতের ব্যাপ্তি অনুভব করতে পারবেন। সূরার প্রথম আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:

{হে নবী! আপনি আল্লাহকে ভয় করুন এবং কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। {১} আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা ওহি করা হয়, আপনি তারই অনুসরণ করুন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত। {২} আর আপনি আল্লাহর ওপর ভরসা করুন; কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। {৩} [আল-আহযাব]।

কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য না করার এই নির্দেশ আল্লাহ তাআলা সরাসরি মুমিনদের না দিয়ে বরং ইসলামের সর্বোচ্চ ব্যক্তিত্বকে দিয়েছেন; যাতে তিনি আল্লাহকে ভয় করেন এবং তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা ওহি করা হয় তা পালনে অনুসারীদের জন্য আদর্শ (قدوة) হন—নিজের ক্ষেত্রে, নিজের পরিবার-পরিজনের ক্ষেত্রে এবং সাধারণ মুসলিমদের ক্ষেত্রে। আর তিনি যেন কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য না করেন, যদিও তা তাওহিদ (التوحيد) বা শরিয়ত প্রণয়ন (التشريع) সংক্রান্ত এমন কোনো মহান বিষয় হয় যা তারা ইতিপূর্বে দেখেনি বা যাতে তারা অভ্যস্ত ছিল না। কারণ বান্দাদের জন্য যা কল্যাণকর, সে বিষয়ে তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। এটি অত্যন্ত চমৎকার এক প্রারম্ভিকা এবং মহান ভূমিকা, যা শুনে অন্তর ও শরীর শিউরে ওঠে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সেই সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়ের প্রজ্ঞার (حكمة) কাছে আত্মসমর্পণ করে, যাতে চূর্ণ করা যায়...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
قضية التبني ويُعد المؤمنين لاستقبال فريضة الحجاب والنقاب، وبذلك يجهز النفوس المؤمنة لمجابهة اللمز والغمز والمضايقات من أعداء الدين، فقال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالاً مُّبِيناً {36} [الأحزاب] ولهذا كرر سبحانه وتعالى ما قاله في أول السورة قبل آيات فرض الحجاب في البيوت كما في الآية الثامنة والأربعين فقال: {وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ وَدَعْ أَذَاهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلاً {48} [الأحزاب].

ثم كررها قبل آية الحجاب خارج البيوت كما في قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَاباً مُّهِيناً {57} وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَاناً وَإِثْماً مُّبِيناً {58} يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاء الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُوراً رَّحِيماً {59} لَئِن لَّمْ يَنتَهِ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْمُرْجِفُونَ فِي الْمَدِينَةِ لَنُغْرِيَنَّكَ بِهِمْ ثُمَّ لَا يُجَاوِرُونَكَ فِيهَا إِلَّا قَلِيلاً {60} مَلْعُونِينَ أَيْنَمَا ثُقِفُوا أُخِذُوا وَقُتِّلُوا تَقْتِيلاً {61} سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلُ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلاً {62} يَسْأَلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُونُ قَرِيباً {63} إِنَّ اللَّهَ لَعَنَ الْكَافِرِينَ وَأَعَدَّ لَهُمْ سَعِيراً {64} خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً لَّا يَجِدُونَ وَلِيّاً وَلَا نَصِيراً {65} يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يَا لَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ
পালক সন্তান গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়টি মুমিনদেরকে হিজাব ও নেকাবের আবশ্যিক বিধান (فريضة) গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করে। এর মাধ্যমে মুমিনদের আত্মাকে দ্বীনের শত্রুদের বিদ্রূপ, কটাক্ষ এবং হয়রানি মোকাবিলা করার জন্য সুসজ্জিত করা হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে নিজেদের কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হয়।" [সূরা আল-আহযাব: ৩৬]। এই কারণে মহান আল্লাহ সূরার শুরুতে যা বলেছিলেন, ঘরের ভেতরে হিজাব আবশ্যিক করার আয়াতের আগে সেই কথারই পুনরাবৃত্তি করেছেন, যেমনটি আটচল্লিশতম আয়াতে এসেছে। তিনি ইরশাদ করেছেন: "আর তুমি কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করো না, তাদের দেওয়া কষ্ট উপেক্ষা করো এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো। কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।" [সূরা আল-আহযাব: ৪৮]।

এরপর ঘরের বাইরে হিজাব সংক্রান্ত আয়াতের আগে তিনি আবারও এর পুনরাবৃত্তি করেছেন যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে এসেছে: "নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের লানত করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন লাঞ্ছনাকর শাস্তি। {৫৭} যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কোনো অপরাধ ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে। {৫৮} হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে এবং মুমিনদের নারীদেরকে বলো—তারা যেন তাদের জিলবাবের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে, ফলে তাদেরকে আর কষ্ট দেওয়া হবে না। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। {৫৯} যদি মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা এবং মদিনায় গুজব রটনাকারীরা বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে প্রবল করব, এরপর সেখানে তারা অল্প সময় ছাড়া তোমার প্রতিবেশী হয়ে থাকতে পারবে না। {৬০} তারা অভিশপ্ত, যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে সেখানেই ধরা হবে এবং কঠোরভাবে হত্যা করা হবে। {৬১} এটিই তাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর রীতি যারা পূর্বে গত হয়েছে; আর তুমি আল্লাহর রীতিতে কোনো পরিবর্তন পাবে না। {৬২} মানুষ তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলো, এর জ্ঞান কেবল আল্লাহরই কাছে। তুমি কীভাবে জানবে, হয়তো কিয়ামত নিকটেই। {৬৩} নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের লানত করেছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছেন। {৬৪} সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, তারা সেখানে কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না। {৬৫} যেদিন আগুনের মধ্যে তাদের মুখমণ্ডল ওলট-পালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে—হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ২০)
وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا {66} وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا {67} رَبَّنَا آتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْناً كَبِيراً {68} يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ آذَوْا مُوسَى فَبَرَّأَهُ اللَّهُ مِمَّا قَالُوا وَكَانَ عِندَ اللَّهِ وَجِيهاً {69} يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً {70} يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً {71} [الأحزاب].

وسبحان الله ما أشبه الليلة بالبارحة! فقد تكالب أعداء الإسلام وقاموا بحملة ضد النقاب ومنع المسلمات في كثير من دول العالم من تغطية وجوههن والاقتداء بزوجات رسول الله صلى الله عليه وسلم ونساء صحابته الكرام وأصدروا تشريعاتهم في ذلك لمحاربته والسخرية منه.

لهذا ستجد أيها القارئ الكريم أن سورة الأحزاب من أولها وحتى آخرها تدور حول إعداد النفوس المسلمة لمواجهة أوامر الله جميعها السابقة أو الجديدة عليهم والتي لم يتعودوها ومنها ما نحن بصدده من الأمر بفريضة الحجاب وغير ذلك بالرضا والتسليم وعدم طاعة الكافرين والمنافقين والمرجفين والإعراض عن أذاهم القولي أو الفعلي والتوكل على الله وكفى بالله وكيلاً.

ب - مهد الله قبل فرض الحجاب بتذكيرهم بيوم الأحزاب يوم أن نجاهم الله من شر عظيم وفزع كبير، فكان في الأمر للنساء بقرارهن في بيوتهن وسترهن لوجوههن سكينة ووقار وطمأنينة لهن مما لا تحتمله النساء من الشدة والعناء والجهاد والمصاعب:

...এবং আমরা রাসুলের আনুগত্য করেছিলাম {৬৬} এবং তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছিল {৬৭} হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন এবং তাদের মহা অভিশাপে অভিশপ্ত করুন {৬৮} হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা মুসাকে কষ্ট দিয়েছিল, অতঃপর তারা যা বলেছিল আল্লাহ তাকে তা থেকে নির্দোষ প্রমাণ করেন। আর তিনি আল্লাহর নিকট মর্যাদাবান ছিলেন {৬৯} হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো {৭০} তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে {৭১} [আল-আহজাব]।

সুবহানাল্লাহ, বর্তমান পরিস্থিতির সাথে অতীতের কী গভীর সাদৃশ্য! ইসলামের শত্রুরা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিকাবের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করেছে এবং বিশ্বের বহু দেশে মুসলিম নারীদের মুখমণ্ডল আবৃত করতে এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী ও সম্মানিত নারী সাহাবীদের অনুসরণ করতে বাধা প্রদান করছে। তারা এই বিধানের বিরোধিতা ও উপহাস করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে।

এজন্য হে সম্মানিত পাঠক, আপনি লক্ষ্য করবেন যে সূরা আল-আহজাব শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুসলিম মানসকে আল্লাহর সমস্ত পূর্ববর্তী ও নতুন আদেশ পালনের জন্য প্রস্তুত করার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, যেগুলোর সাথে তারা অভ্যস্ত ছিল না। এর মধ্যে আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয় পর্দার অবশ্যপালনীয় বিধান (فرض) এবং অন্যান্য নির্দেশাবলীও রয়েছে, যা পূর্ণ সন্তুষ্টি ও আত্মসমর্পণের সাথে গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবিশ্বাসী (كافرون), কপট বিশ্বাসী (منافقون) ও গুজব রটনাকারীদের (مرجفون) আনুগত্য না করতে, তাদের বাচনিক বা শারীরিক কষ্ট প্রদান উপেক্ষা করতে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

খ - আল্লাহ তাআলা পর্দার বিধান অবতীর্ণ করার পূর্বে আল-আহজাবের যুদ্ধের দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছেন, যেদিন আল্লাহ মুমিনদের এক মহা অনিষ্ট ও আতঙ্ক থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছিলেন। নারীদের নিজ গৃহে অবস্থান এবং মুখমণ্ডল আবৃত রাখার নির্দেশের মাঝে তাদের জন্য প্রশান্তি, গাম্ভীর্য ও স্বস্তি নিহিত ছিল, যা তাদের এমন কঠোরতা, পরিশ্রম, সংগ্রাম বা জিহাদ (جهاد) ও প্রতিকূলতা থেকে সুরক্ষা প্রদান করে যা নারীদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ২১)
فقبل أن يفرض الحجاب بدأ بتذكيرهم بنعمته عليهم ورعايته لهم من كيد أعدائهم ومكرهم يوم الأحزاب يوم أن تكالبوا عليهم وبلغت القلوب الحناجر ولم يكن لهم من ملجأ إلا اللهَ {ياأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحاً وَجُنُوداً لَّمْ تَرَوْهَا وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيراً {9} [الأحزاب]، وهذا من أعظم الدواعي المحفزة للاعتماد عليه والأخذ بما أمر وشرع، وأنهم حين يتبعون أمره فلا غالب لهم، مهما بلغت قوة أعدائهم.

ج- مهد الله لفريضة الحجاب بتشريف زوجات نبيه صلى الله عليه وسلم بأن جعلهن أمهات للمؤمنين، ثم أمرُهُ لهن، بعد ذلك بالبعد عن مثيرات الشهوات والحجاب ممن قضى أنهم أبناء لهن، فكن بذلك مخصوصات عن بقية أمهات العالمين بالتحجب من أبنائهن:

وهذا أعظم تمهيد عندما أعلن الله في بدايات السورة تكريمه لزوجات النبي صلى الله عليه وسلم بما أعلى به قدرهن، ورفع به شأنهن، بأن جعلهن أمهات للمؤمنين فقال: {النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنفُسِهِمْ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ … {6} [الأحزاب]، ولهذه البداية حكمة عظيمة قبل فرض الحجاب فبعد هذا التكريم صرن أمهات للمؤمنين، ولهذا أكثر المؤمنون قبل نزول الحجاب من الدخول على بيوت النبي صلى الله عليه وسلم بدون ترتيب أو استئذان حتى كان يدخل عليهن البر والفاجر، كما أخبر أنس، قَالَ: (قَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ يَدْخُلُ عَلَيْكَ البَرُّ وَالفَاجِرُ فَلَوْ أمرتَ أمهات المؤمنين بِالحِجَابِ فأنزل اللَّهُ آية الحِجَابِ) أخرجه البخاري
পর্দা (হিজাব) ফরজ করার আগে আল্লাহ তাআলা আহযাব যুদ্ধের দিন শত্রুদের চক্রান্ত এবং তাদের ষড়যন্ত্র থেকে তাদের প্রতি তাঁর নেয়ামত ও যত্নের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে শুরু করেছেন। সেই দিন যখন তারা মুমিনদের ওপর চড়াও হয়েছিল এবং প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছিল, আর আল্লাহ ছাড়া তাদের কোনো আশ্রয় ছিল না। {হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো, যখন তোমাদের ওপর এক সেনাবাহিনী চড়াও হয়েছিল, অতঃপর আমি তাদের ওপর পাঠিয়েছিলাম এক প্রবল বায়ু এবং এমন এক সৈন্যবাহিনী যা তোমরা দেখতে পাওনি। আর তোমরা যা করো আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। [সূরা আল-আহযাব: ৯]} এটি ছিল তাঁর ওপর নির্ভর করার এবং তাঁর আদেশ ও প্রবর্তিত বিধান গ্রহণ করার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণা। আর এটিও নির্দেশ করে যে, যখন তারা তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করবে, তখন তাদের ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারবে না, শত্রুদের শক্তি যতই হোক না কেন।

গ- আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্ত্রীদের মুমিনদের জননী হিসেবে সম্মানিত করার মাধ্যমে পর্দার বিধানের পথ প্রশস্ত করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন কুপ্রবৃত্তি উদ্রেককারী বিষয় থেকে দূরে থাকার এবং তাদের থেকে পর্দার অন্তরালে থাকার জন্য যাদেরকে তিনি তাদের সন্তান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বের অন্য সকল মায়েদের তুলনায় ব্যতিক্রমী এক মর্যাদা লাভ করেছেন যে, তাদের সন্তানদের থেকেও তাদের পর্দা করতে হয়।

এটি ছিল এক মহান প্রস্তুতি যখন আল্লাহ সূরার শুরুতেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীদের সম্মানের কথা ঘোষণা করে তাদের মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন তাদের মুমিনদের জননী সাব্যস্ত করার মাধ্যমে। তিনি ইরশাদ করেন: {নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা... … [সূরা আল-আহযাব: ৬]}। পর্দা ফরজ করার পূর্বে সূরার এই সূচনার মাঝে এক মহান প্রজ্ঞা নিহিত ছিল। কারণ এই বিশেষ সম্মানের পর তারা মুমিনদের জননীতে রূপান্তরিত হন। এই কারণেই পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে অনেক মুমিন কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা বা অনুমতি ছাড়াই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গৃহে প্রবেশ করতেন, এমনকি পুণ্যবান ও পাপিষ্ঠ সবাই তাদের নিকট প্রবেশ করত। যেমনটি আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট পুণ্যবান ও পাপিষ্ঠ উভয়ই প্রবেশ করে; যদি আপনি মুমিনদের জননীদের পর্দার আদেশ দিতেন! অতঃপর আল্লাহ পর্দার আয়াত অবতীর্ণ করেন)। বুখারী এটি সংকলন (أخرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ২২)
وغيره، وعمر ما قال ذلك إلا لما أكثر الناس من الدخول على بيوت النبي صلى الله عليه وسلم وشجعهم على ذلك وطمأنهم عليه كونهن أمهاتهم، وهو أولى بهم من أنفسهم كما نصت عليه الآية السادسة من سورة الأحزاب، ولم يكن لأحد بعد هذا أن يمنع أو يحجب الرجال عن الدخول على أمهاتهم إلا بنص قرآني آخر، ولهذا لم يحجبهن رسول الله صلى الله عليه وسلم من عند نفسه وكان شديد الحياء، فكان عمر رضي الله عنه يحث على ذلك حتى نزلت الآيات، قال الإمام السيوطي في لباب النقول في أسباب النزول: (قال الحافظ بن حجر (1): يمكن الجمع بأن ذلك وقع قبل قصة زينب فلقربه منها أطلق نزول آية الحجاب بهذا السبب ولا مانع من تعدد الأسباب، وأخرج ابن سعد عن محمد بن كعب قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا نهض إلى بيته بادروه فأخذوا المجالس فلا يعرف ذلك في وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا يبسط يده إلى الطعام استحياء منهم فعوتبوا في ذلك فأنزل الله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنكُمْ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعاً

--------------------------------------------

(1) وقال الحافظ في الفتح عند (قوله باب خروج النساء إلى البراز): (وطريق الجمع بينها أن أسباب نزول الحجاب تعددت وكانت قصة زينب آخرها للنص على قصتها في الآية، والمراد بآية الحجاب في بعضها قوله تعالى: {يدنين عليهن من جلابيبهن}) انتهى. ثم ساق من الأسباب حديث سودة رضي الله عنها عند خروجها، وسيأتي معنا ترتيب ذلك عند كلامنا في (المبحث السادس) عن أقوال أهل العلم في خصوصية أمهات المؤمنين ..

এবং অন্যান্যরা; আর ওমর (রা.) কেবল তখনই তা বলেছিলেন যখন মানুষ নবী (সা.)-এর ঘরে অধিক পরিমাণে প্রবেশ করতে শুরু করেছিল এবং তাদের এই কাজে উৎসাহিত ও আশ্বস্ত করেছিল এই কারণে যে, তাঁরা (নবী পত্নীগণ) তাঁদের মাতা, এবং তিনি (নবী) তাঁদের নিকট তাঁদের নিজেদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়, যেমনটি সূরা আল-আহযাবের ষষ্ঠ আয়াতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পর অন্য কোনো কুরআনিক নির্দেশ ব্যতিরেকে পুরুষদের তাঁদের মায়েদের কাছে প্রবেশ করা থেকে বাধা দেওয়া বা পর্দা করানোর বিধান কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের পক্ষ থেকে তাঁদের পর্দা করাননি এবং তিনি অত্যন্ত লজ্জাশীল ছিলেন। তাই ওমর (রা.) এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে থাকেন যতক্ষণ না আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়। ইমাম সুয়ূতী 'লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুযুল'-এ বলেছেন: (হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার (১) বলেছেন: এগুলোর মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, তা জয়নব (রা.)-এর ঘটনার আগে ঘটেছিল, ফলে সেই ঘটনার নিকটবর্তী হওয়ায় পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পেছনে এই কারণটি উল্লেখ করা হয়েছে। আর কারণ একাধিক হতে কোনো বাধা নেই। ইবনে সাদ মুহাম্মাদ বিন কাব থেকে উদ্ধৃত (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন তাঁর ঘরের দিকে যেতেন, তখন লোকেরা তাঁর আগেই সেখানে পৌঁছে আসন গ্রহণ করত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারায় তা প্রকাশ পেত না এবং তাদের প্রতি লজ্জাবশত তিনি খাবারের দিকে হাত বাড়াতেন না। তখন তাদের এ ব্যাপারে ভর্ৎসনা করা হয় এবং আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়া না হলে তোমরা খাবারের জন্য নবী-গৃহসমূহে প্রবেশ করো না এবং খাবার প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা করো না। তবে তোমাদেরকে যখন দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন তোমরা প্রবেশ করো। অতঃপর খাবার শেষ হলে তোমরা চলে যাও এবং আলাপচারিতায় মশগুল হয়ে পড়ো না। তোমাদের এ আচরণ নবীকে কষ্ট দেয়, তিনি তোমাদের কাছে (উঠে যাওয়ার কথা বলতে) লজ্জা বোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জা পান না। আর তোমরা যখন তাঁদের (নবী-পত্নীদের) কাছে কোনো আসবাবপত্র চাও...

--------------------------------------------

(১) এবং হাফেজ (الحافظ) ফাতহুল বারীতে (নারীদের প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া অধ্যায়)-এর আলোচনার সময় বলেছেন: (সমন্বয়ের পদ্ধতি হলো এই যে, পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার কারণ একাধিক ছিল এবং জয়নব (রা.)-এর ঘটনা ছিল সর্বশেষ, কারণ আয়াতে তাঁর ঘটনার স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে পর্দার আয়াত বলতে মহান আল্লাহর এই বাণী উদ্দেশ্য: {তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়}) সমাপ্ত। এরপর তিনি কারণসমূহের মধ্য থেকে সাওদা (রা.)-এর বাইরে বের হওয়ার সময়কার হাদিস উল্লেখ করেছেন। অচিরেই আমাদের আলোচনায় এগুলোর ধারাবাহিক বিন্যাস (ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ)-এ আসবে, যেখানে উম্মুল মুমিনীনগণের বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে আলেমদের মতামত নিয়ে আলোচনা করা হবে...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
فَاسْأَلُوهُنَّ مِن وَرَاء حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ وَمَا كَانَ لَكُمْ أَن تُؤْذُوا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا أَن تَنكِحُوا أَزْوَاجَهُ مِن بَعْدِهِ أَبَداً إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ عِندَ اللَّهِ عَظِيماً {53}) (1) انتهى.

فبدأ الله التمهيد لمسائل الحجاب بهن، وكأنه لما أكرمهن بهذا اللقب الرفيع كان ذلك لحكم عديدة بالغة منها: أن كل ما أمرت به الأمهات مع أبنائهن من الرجال فغيرهن من النساء مع الرجال الأجانب أولى وأحرى وأوجب، ثم بعد هذا التشريف وهن الأمهات حثهن على لزوم طاعة الله ورسوله وخيرهن باختبار كبير إن كنَّ يردن الله ورسوله والدار الآخرة أو يردن الدنيا وزينتها، ثم حذرهن من مواطن الريبة والفتنة والفواحش، وأن يكنَّ قدوات لغيرهن من المؤمنات في الخيرات بل من العجب أن بدأ بهن في خطاباته الأولى وهن الطاهرات العفيفات زوجات خير الأنبياء أمهات المؤمنين اللاتي الفتنة منهن وإليهن أبعد عمن سواهن من النساء، وما ذلك إلا ليحرض المؤمنين والمؤمنات على الاقتداء بهن والسير على نهجهن، وقد أمرهن بأبسط الأمور وأدقها، مع جلالة قدرهن وسمو مكانتهن، فنهين عن الخضوع بالقول، وأمرن بالقرار في بيوتهن وعدم الخروج إلا لحاجة ونهين عن تبرج الجاهلية الأولى وأمرن بإقامة الصلاة وإيتاء الزكاة وطاعة الله ورسوله صلى الله عليه وسلم وتبليغ ما أنزل في بيوتهن من آيات الله والحكمة، وهذا أعظم محفز لغيرهن من النساء أن يشددن الهمة على الامتثال لفريضة الحجاب ونبذ التغريب والمغريات الدنيوية والتبرج والسفور.

--------------------------------------------

(1) لباب النقول في أسباب النزول للإمام السيوطي (1/ 162).
"...অতএব তোমরা তাদের কাছে পর্দার (حجاب) আড়াল থেকে কিছু চাও। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র। আর আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়া তোমাদের জন্য সংগত নয় এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীদের বিবাহ করাও তোমাদের জন্য কখনও বৈধ নয়। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে এটি অতি গুরুতর বিষয়।" (৫৩) (১) সমাপ্ত।

আল্লাহ তাআলা পর্দার (حجاب) বিধানের প্রারম্ভিক অবতারণা তাঁদের মাধ্যমেই শুরু করেছেন। যেন যখন তিনি তাঁদের এই উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন উপাধিতে ভূষিত করেছেন, তখন তার পেছনে অনেক গভীর প্রজ্ঞা নিহিত ছিল। তন্মধ্যে একটি হলো: মায়েদেরকে তাঁদের সন্তানতুল্য পুরুষদের সাথে যা কিছু আদেশ করা হয়েছে, পরপুরুষদের (الأجانب) ক্ষেত্রে অন্যান্য নারীদের জন্য তা পালন করা আরও বেশি অগ্রগণ্য, সমীচীন এবং আবশ্যক। অতঃপর এই সম্মাননার পর—অথচ তাঁরা হলেন মুমিনদের মা—তিনি তাঁদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যে অবিচল থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং এক মহান পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদেরকে বাছাই করার সুযোগ দিয়েছেন—যদি তাঁরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকাল কামনা করেন, অথবা দুনিয়া ও এর চাকচিক্য কামনা করেন। অতঃপর তিনি তাঁদেরকে সন্দেহপূর্ণ (الريبة) স্থান, ফেতনা (الفتنة) এবং অশ্লীলতা (الفواحش) থেকে সতর্ক করেছেন এবং যেন তাঁরা সৎকর্মে অন্য মুমিন নারীদের জন্য আদর্শ হতে পারেন। বরং এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, আল্লাহ তাঁর প্রাথমিক সম্বোধনে তাঁদেরকেই বেছে নিয়েছেন, অথচ তাঁরা হলেন পবিত্র ও সচ্চরিত্রা, শ্রেষ্ঠ নবীর পত্নী এবং মুমিনদের মা—যাঁদের থেকে বা যাঁদের প্রতি ফেতনার (الفتنة) আশঙ্কা অন্যান্য নারীদের তুলনায় অনেক দূরে। এর উদ্দেশ্য কেবল মুমিন নর-নারীদের তাঁদের অনুসরণ করতে এবং তাঁদের পথে চলতে উৎসাহিত করা। তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা ও সুমহান স্থান থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাঁদেরকে অত্যন্ত সাধারণ ও সূক্ষ্ম বিষয়েও আদেশ দিয়েছেন। তাঁদেরকে কথা বলার সময় কোমলতা প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং নিজ ঘরে অবস্থান করার ও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদেরকে প্রথম জাহেলি যুগের (الجاهلية) মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج) করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা ও আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে তাঁদের ঘরে অবতীর্ণ আল্লাহর আয়াত (آيات الله) ও হিকমত (الحكمة) প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্দার (حجاب) বিধান পরিপালনে এবং পাশ্চাত্যকরণ, দুনিয়াবী প্রলোভন, বেপর্দা (التبرج) ও নগ্নতা (السفور) বর্জনে সচেষ্ট হওয়ার জন্য এটি অন্য নারীদের জন্য এক মহান অনুপ্রেরণা।

--------------------------------------------

(১) ইমাম সুয়ূতী রচিত লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুজুল (১/ ১৬২)।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وما بدأ الله بهن- وهن أمهات للمؤمنين - إلا ليمهد وينبه ويُسلي من بعدهن من المؤمنات بعظيم شأن الحجاب وقوة فريضته ويهون على من دونهن أوامره ونواهيه التي جاءت في ذلك.

وصرن بهذا مختصاتٍ بالأمر بالتحجب من أبنائهن، خلافاً لسائر الأمهات اللاتي ليس مفروضاً عليهن ذلك، ولا أريد أن أطيل هنا في مسألة خصوصيتهن وما لحقها من التحريف والتبديل والتصحيف من بعض المتأخرين، حتى قيل أن وجوب ستر الوجه مخصوص بأمهات المؤمنين وسنة على غيرهن من النساء، وبدون أن يكون لهم أدنى دليل أو مستند أو قول من أهل العلم في ذلك، إلا أنه عُكِس وبُدل مفهوم الخصوصية التي قصدها المتقدمون، فحورب النقاب لأجل هذا، وأُولت أدلته من الكتاب والسنة حتى عاد غريباً كما بدأ، بسبب فهم مغلوط ومعكوس لكلمة الخصوصية، وبهذا بدَّلوا الفائدة والحكمة التي أرادها الله من خصوصيتهن بالتحجب وهن الأمهات، وسوف نعقد لهذا فصلاً مستقلاً بمشيئة الله تعالى، وما يعنينا هنا، هو أن يُراجع القارئ الكريم السورة، ويتأمل ذكرها لهذا التشريف الكريم وما حوته من آيات مهدت بعده لهذا الحدث العظيم، وهو فريضة الحجاب، وستر النساء لوجوههن عن الرجال.

د - تمهيد سورة الأحزاب لمسائل الحجاب على سبيل الخصوص:

فإن كان هناك تمهيد وإعداد لفريضة الحجاب على سبيل العموم مما ذكرناه من عدم طاعة الكافرين والاعتماد على الله ولزوم أمره، وكذلك تذكيرهم بيوم الأحزاب وهذا فيه إشارة إلى أنه من كان مع الله
আল্লাহ তাআলা মুমিন জননীদের মাধ্যমে যা শুরু করেছেন—যাঁরা মুমিনদের মাতা—তা কেবল তাঁদের পরবর্তী মুমিন নারীদের জন্য পর্দার মহান মর্যাদা ও এর বিধানের আবশ্যকতা সম্পর্কে প্রস্তুতি গ্রহণ, সচেতনতা তৈরি এবং সান্ত্বনা প্রদানের উদ্দেশ্যে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁদের পরবর্তী নারীদের জন্য পর্দার বিষয়ে যে সকল আদেশ ও নিষেধ এসেছে তা সহজ করে দিয়েছেন।

এর ফলে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের নিকট থেকেও পর্দা করার নির্দেশের ক্ষেত্রে বিশিষ্টতা (خصوصية) লাভ করেছেন, যা অন্যান্য মায়েদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ তাঁদের ওপর তা আবশ্যক করা হয়নি। আমি এখানে তাঁদের এই বৈশিষ্ট্য (خصوصية) এবং পরবর্তীকালের কিছু লোকের মাধ্যমে এতে যে বিকৃতি (تحريف), পরিবর্তন (تبديل) এবং পাঠ্যগত বিভ্রাট (تصحيف) ঘটেছে সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে চাই না। এমনকি এমনও বলা হয়েছে যে, মুখমণ্ডল আবৃত করা কেবল মুমিন জননীদের জন্য আবশ্যকতা (وجوب) এবং অন্যান্য নারীদের জন্য সুন্নাত (سنة)। অথচ এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো সামান্যতম দলিল (دليل), ভিত্তি (مستند) অথবা বিজ্ঞ আলেমদের কোনো বক্তব্য নেই। বরং পূর্বসূরী (المتقدمون) উলামায়ে কেরাম 'বৈশিষ্ট্য' (خصوصية) বলতে যা বুঝিয়েছেন, তার ধারণাটি এখানে উল্টে দেওয়া হয়েছে এবং পরিবর্তন করা হয়েছে। এই কারণেই নিকাবের বিরোধিতা করা হয়েছে এবং কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহকে (أدلة) এমনভাবে অপব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, তা সূচনাকালের মতোই অপরিচিত (غريب) হয়ে পড়েছে। এটি হয়েছে 'বৈশিষ্ট্য' (خصوصية) শব্দটির ভুল ও উল্টো উপলব্ধির কারণে। এভাবেই তারা মা হওয়া সত্ত্বেও পর্দার ক্ষেত্রে তাঁদের যে বৈশিষ্ট্য (خصوصية) আল্লাহ চেয়েছিলেন, তার উপকারিতা ও প্রজ্ঞাকে পরিবর্তন করে ফেলেছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ আলোচনা করব। আমাদের এখানে উদ্দেশ্য হলো, সম্মানিত পাঠক যেন সূরাটি পুনরায় লক্ষ্য করেন এবং এই মহিমান্বিত সম্মানের উল্লেখ ও সেই আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা করেন যা এই মহান ঘটনা অর্থাৎ পর্দার বিধান এবং পরপুরুষের নিকট থেকে নারীদের মুখমণ্ডল আবৃত করার বিষয়টির পথ প্রশস্ত করেছে।

ঘ - বিশেষভাবে পর্দার মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে সূরা আহযাবের ভূমিকা:

যদি পর্দার বিধানের জন্য সাধারণভাবে কোনো ভূমিকা ও প্রস্তুতি থেকে থাকে—যেমনটি আমরা কাফিরদের আনুগত্য না করা, আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলার কথা উল্লেখ করেছি—তেমনিভাবে তাদেরকে আহযাবের যুদ্ধের দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত; আর এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে থাকে...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وأطاعه في أوامره ونواهيه لا يضره أذى المؤذين وكيد الكائدين، وغير ذلك مما جاء من التمهيد العمومي.

كذلك كان هناك تمهيد وتدرج بخصوصه، حيث نجد أنه نزل قبل فرض الحجاب آيات تنهى زوجات النبي الكريم أمهات المؤمنين عن الخضوع بالقول حتى لا يطمع الذي في قلبه مرض، وأمرن أن يقلن للرجال قولاً معروفاً مختصراً لا توسع فيه ولا تبسط، أي لا كما تخاطب المرأة زوجها، ثم جاء الأمر بقرارهن في البيوت وألا يخرجن إلا لحاجة، وألا يتبرجن تبرج الجاهلية الأولى، وهذا كله إعداد لمسألة الحجاب، حتى جاء أول ما نزل في شأن الحجاب كما أخبر به أنس رضي لله عنه وما تلاها من آيات هي الأولى في فريضة الحجاب.
এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ পালনের মাধ্যমে যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করল, কষ্টদানকারীদের কষ্ট এবং ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এ ছাড়াও আরও যা কিছু সাধারণ প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

একইভাবে, এই বিষয়ের ক্ষেত্রেও বিশেষ প্রস্তুতি ও পর্যায়ক্রমিক (تدرج) ধারা বিদ্যমান ছিল। আমরা দেখতে পাই যে, পর্দা (حجاب) আবশ্যিক (فرض) হওয়ার পূর্বে এমন কিছু আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল যা সম্মানিত নবীর পত্নীগণ তথা উম্মাহাতুল মুমিনিনদের (أمهات المؤمنين) পরপুরুষের সাথে কোমল স্বরে কথা বলতে নিষেধ করেছিল; যাতে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ না হয়। তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তাঁরা পুরুষদের সাথে সংগত ও সংক্ষিপ্ত কথা বলেন যাতে কোনো বিস্তার বা বাহুল্য না থাকে; অর্থাৎ নারী তার স্বামীর সাথে যেভাবে কথা বলে সেভাবে নয়। অতঃপর তাঁদেরকে নিজ গৃহে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং প্রয়োজন ব্যতিরেকে বাইরে বের হতে এবং প্রাক-ইসলামী জাহেলিয়াতের ন্যায় সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج) করতে নিষেধ করা হয়। এ সবটুকুই ছিল পর্দার (حجاب) বিষয়ের একটি প্রস্তুতি, যতক্ষণ না পর্দার বিষয়ে প্রথম অবতীর্ণ আয়াতগুলো নাজিল হয়—যেমনটি আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন—এবং এর পরবর্তী আয়াতগুলো ছিল পর্দার বিধানের (فريضة) ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌أول ما نزل في شأن الحجاب:

كل ما سبق وغيره مقدمات قبل فرض الحجاب حتى نزلت أول آية في شأن الحجاب كما أخبر بذلك أنس رضي الله عنه خادم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأعلم الناس بشأن الحجاب قال: (وكنت أعلم الناس بشأن الحجاب حين أنزل وكان أول ما أنزل في مبتنى رسول الله بزينب بنت جحش - إلى أن قال - فإذا هم قد خرجوا فضرب النبي بيني وبينه بالستر - وفي رواية - فذهبت أدخل، فألقى الحجاب بيني وبينه، وأنزل الحجاب فخرج رسول الله وقرأهن على الناس: {يا أيها الذين أمنوا لا تدخلوا بيوت النبي إلا أن يؤذن لكم} إلى قوله: {من وراء حجاب} [الأحزاب: 53] متفق عليه.

وهذه الآية في بداية التحجب وذلك بمنع دخول الرجال على النساء جميعاً وعلى هذا جميع المفسرين كما سيأتي في مبحث الخصوصية إن شاء الله فإن كان هذا في حق نساء النبي صلى الله عليه وسلم وهن في حكم الأمهات كما نصت عليه الآية السادسة من نفس سورة الأحزاب فغيرهن من النساء اللاتي لسن بأمهات ولا محارم للمؤمنين من باب أولى.

وكون الصحابة عاصروا نزول القرآن لم يختلط عليهم مثل هذا الأمر في أن كل ما أمرت به أمهاتهم بعد ذلك، من التصون والحجاب عن من هم في حكم الأبناء لهنَّ، كان بديهياً أن يُفهم منه حينها دخول نساء المؤمنين في ذلك الأمر وهن لسن بأمهات ولا محارم لأولئك الرجال، وقد أوضحنا سبب ذكر الآية لبيوت النبي صلى الله عليه وسلم بالذات؛ لأن
পর্দা (حجاب) সংক্রান্ত বিধান প্রথম অবতীর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে:

পর্দার বিধান ফরজ হওয়ার পূর্বে এর পূর্বপ্রস্তুতিমূলক বেশ কিছু বিষয় ও অন্যান্য ঘটনা অতিবাহিত হয়েছিল, অবশেষে পর্দা সংক্রান্ত প্রথম আয়াত অবতীর্ণ হয়। যেমনটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম এবং পর্দা সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: "যখন পর্দার বিধান অবতীর্ণ হয়, তখন আমি সে বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলাম। আর এটি প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল যখন আল্লাহর রাসূল যায়নাব বিনতে জাহাশ-এর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন—বর্ণনাকারী বলেন—অতঃপর যখন তারা বের হয়ে গেলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ও তাঁর মাঝে একটি আড়াল (ستر) টেনে দিলেন। অন্য একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী—আমি প্রবেশ করতে গেলাম, কিন্তু তিনি আমার ও তাঁর মাঝে পর্দা (حجاب) ঝুলিয়ে দিলেন এবং পর্দার আয়াত নাজিল হলো। অতঃপর আল্লাহর রাসূল বের হয়ে আসলেন এবং মানুষের সামনে তা পাঠ করলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা নবীর ঘরে প্রবেশ করো না...} আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {পর্দার অন্তরাল থেকে} [আল-আহযাব: ৫৩]।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।

আর এই আয়াতটি পর্দা প্রথার সূচনা লগ্নে পুরুষদেরকে সামগ্রিকভাবে নারীদের নিকট প্রবেশ করতে নিষেধ করে। সমস্ত তাফসিরবিদ (مفسرين) এই মতের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যা ইনশাআল্লাহ 'বিশিষ্টতা' (خصوصية) সংক্রান্ত আলোচনায় পরবর্তীতে আসবে। সুতরাং এই বিধান যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়—যাঁরা সূরা আল-আহযাবের ষষ্ঠ আয়াতের ভাষ্য অনুযায়ী উম্মাহর মায়েদের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত—তবে অন্যান্য নারী যাঁরা মুমিনদের মা নন কিংবা মাহরাম (محارم) নন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বিধান পালন করা আরও অধিকতর আবশ্যক।

সাহাবায়ে কেরাম যেহেতু কুরআনের অবতরণ প্রত্যক্ষ করেছেন, তাই তাঁদের কাছে এই বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল না যে, তাঁদের মায়েদেরকে (নবী-পত্নীগণ) তাঁদের সন্তানদের সমতুল্য ব্যক্তিদের নিকট থেকে আত্মরক্ষা ও পর্দার যে আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা থেকে মুমিনদের সাধারণ নারীদের এই বিধানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া তখন স্বত:সিদ্ধ বিষয় ছিল; অথচ তাঁরা সেই পুরুষদের মা কিংবা মাহরাম (محارم) নন। আর আয়াতে বিশেষভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গৃহসমূহের কথা উল্লেখ করার কারণ আমরা স্পষ্ট করেছি; কারণ...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الدخول قبل نزول الحجاب كان بكثرة في بيوت النبي صلى الله عليه وسلم وذلك لمكانته ومكانة زوجاته بنص أول الآيات في سورة الأحزاب، كما أنه لو جاء الأمر للمؤمنين بمنع الدخول على بيوت بعضهم البعض، لبقي الأمر على حاله في بيوت النبي صلى الله عليه وسلم ولما امتنع أحد من الدخول معتقدين أن الآية لا تعنيهم، وهم في حكم الأبناء مع أمهاتهم، لقوله تعالى بعد تلك الآية: {لَّا جُنَاحَ عَلَيْهِنَّ فِي آبَائِهِنَّ وَلَا أَبْنَائِهِنَّ .. {55} [الأحزاب].

ولهذا جاء بذكر بيوت النبي صلى الله عليه وسلم بالذات حتى يشمل الأمر بالحجاب أمهات المؤمنين.

قال العلامة الشيخ محمد الأمين الشنقيطي في دفع إيهام الاضطراب عن آيات الكتاب: (وبهذا يرتفع الإشكال في قوله: {وأزواجه أمهاتهم} مع قوله: {وإذا سألتموهن متاعا فاسألوهن من وراء حجاب} إذ يقال كيف يلزم الإنسان أن يسأل أمه من وراء حجاب؟ والجواب ما ذكرناه الآن فهن أمهات في الحرمة والاحترام والتوقير والإكرام لا في الخلوة بهن ولا في حرمة بناتهن ونحو ذلك والعلم عند الله تعالى) انتهى.

ولهذا فصار بعد التمهيد ونزول آيات الحجاب من المؤكد للجميع أن أمومة أمهات المؤمنين التي جاءت في بدايات السورة ليست كالأمومة الحقيقية من كل وجه، وإنما كما قال الإمام الشافعي: (في معنى دون معنى) (1).

--------------------------------------------

(1) انظر كتاب "الأم" للإمام الشافعي (5/ 151) وسيأتي معنا نقل الإمام البيهقي له في مبحث الخصوصية (صـ 396).
পর্দার (حجاب) বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘরসমূহে প্রবেশের আধিক্য ছিল। এটি ছিল সূরা আল-আহজাবের প্রথম দিকের আয়াতসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর মর্যাদা এবং তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের কারণে। অনুরূপভাবে, মুমিনদের জন্য যদি একে অপরের ঘরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ আসত, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘরসমূহের ক্ষেত্রে বিষয়টি পূর্বাবস্থায় বহাল থাকত এবং কেউই সেখানে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকত না। তারা মনে করত যে এই আয়াত তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ তারা তাদের মায়েদের নিকট সন্তানদের বিধানগত অবস্থানে (حكم) ছিল। কেননা আল্লাহ তাআলা সেই আয়াতের পরে বলেছেন: {তাদের জন্য কোনো গুনাহ নেই তাদের পিতাদের ক্ষেত্রে এবং তাদের পুত্রদের ক্ষেত্রে... {৫৫} [আল-আহজাব]}।

এই কারণেই বিশেষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘরসমূহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে পর্দার (حجاب) নির্দেশ উম্মুল মুমিনীনদেরও অন্তর্ভুক্ত করে।

আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আল-আমিন আল-শানকিতী তাঁর 'দাফউ ইহামিল ইদতিরাব আন আয়াতিল কিতাব' গ্রন্থে বলেছেন: (এর মাধ্যমে এই আয়াতের জটিলতা দূর হয়ে যায় যেখানে বলা হয়েছে: {এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা} এবং এর সাথে অন্য আয়াতের বক্তব্য: {আর যখন তোমরা তাদের কাছে কোনো সামগ্রী চাইবে, তখন পর্দার (حجاب) আড়াল থেকে চাইবে}। কারণ প্রশ্ন তোলা যেতে পারে যে, একজন মানুষের জন্য তার মায়ের কাছে পর্দার আড়াল থেকে কিছু চাওয়া কীভাবে আবশ্যক হতে পারে? এর উত্তর হলো যা আমরা এইমাত্র উল্লেখ করেছি। তাঁরা সম্মান, শ্রদ্ধা এবং মর্যাদার দিক থেকে মাতা; কিন্তু তাঁদের সাথে নির্জনে একাকী অবস্থানের (خلوة) ক্ষেত্রে বা তাঁদের কন্যাদের বিবাহের নিষিদ্ধতার (حرمة) বিষয়াদিতে নয়। আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহ তাআলার নিকটেই।) সমাপ্ত।

সুতরাং এই ভূমিকা এবং পর্দার (حجاب) আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার পর সবার কাছে এটি সুনিশ্চিত হয়ে গেল যে, সূরার শুরুতে বর্ণিত উম্মুল মুমিনীনদের মাতৃত্ব সব দিক থেকে প্রকৃত মাতৃত্বের মতো নয়; বরং ইমাম শাফিঈ যেমনটি বলেছেন: (এক অর্থে মাতৃত্ব, অন্য অর্থে নয়) (১)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম শাফিঈ রচিত 'আল-উম্ম' গ্রন্থ (৫/ ১৫১) দেখুন। সামনে 'মাবহাসুল খুসুসিয়াহ' (পৃ. ৩৯৬) অংশে আমাদের সাথে ইমাম বায়হাকীর উদ্ধৃতি আসবে।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
قال الإمام البيضاوي في تفسيره: (وأزواجه أمهاتهم منزلات منزلتهن في التحريم واستحقاق التعظيم وفيما عدا ذلك فكما الأجنبيات) انتهى.

وقال في تفسير المحرر الوجيز لابن عطية المحاربي: (قال الفقيه الإمام القاضي: وشرَّف تعالى أزواج النبي صلى الله عليه وسلم بأن جعلهن أمهات المؤمنين، في حرمة النكاح وفي المبرة وحجبهن رضي الله عنهن بخلاف الأمهات) انتهى.

وسيأتي معنا الكثير من نقولات أهل العلم بمشيئة الله تعالى في المبحث المستقل بخصوصية أمهات المؤمنين.

فالمقصود أن الله لم يُرد أن يختص أمهات المؤمنين بترك الحجاب بل اختصهم بالحجاب وهن الأمهات وجعلهن كبقية النساء فكن مخصوصات حيث لم تؤمر سائر أمهات العالمين بالحجاب من أبنائهن كما أمرت به أمهات المؤمنين، فكان فيه أبلغ وأعظم استشعار بأهمية فريضة الحجاب.

وهذا المنع من الدخول للبيوت كان بشكل إجمالي ثم جاء في سورة النور- المتأخرة عنها - وفصَّل وزاد في عدد الأصناف المسموح لهم بالدخول على النساء وبين أحكام الدخول وآدابه وطرق الاستئذان سواء للأجانب أوالأطفال بما لم يذكره هنا في الأحزاب.

أخرج الفريابي وابن جرير عن عدي بن ثابت قال: جاءت امرأة من الأنصار، فقالت: يا رسول الله، إني أكون في بيتي على حال لا أحب أن يراني عليها أحد، وأنه لا يزال يدخل عليّ رجل من أهلي،
ইমাম বায়যাভী তাঁর তাফসিরে বলেন: (এবং তাঁর স্ত্রীগণ হলেন মুমিনদের মাতা; বিবাহের নিষিদ্ধতা এবং সম্মান-মর্যাদাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে তাঁদেরকে মাতাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে তাঁরা পরনারীদের (الأجنبيات) মতোই।) সমাপ্ত।

ইবনে আতিয়্যাহ আল-মুহারিবীর 'আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ' তাফসিরে বলা হয়েছে: (ফকিহ ইমাম কাজি বলেন: আল্লাহ তাআলা নবী (সা.)-এর স্ত্রীদের মুমিনদের মাতা বানিয়ে সম্মানিত করেছেন—বিবাহের নিষিদ্ধতা এবং সদাচরণের ক্ষেত্রে; তবে সাধারণ মাতাদের বিপরীতে তাঁদের পর্দার (حجبهن) আদেশ দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন।) সমাপ্ত।

ইনশাআল্লাহ, মুমিন জননীদের বিশেষত্বের বিষয়ে স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে আলেমগণের আরও অনেক উদ্ধৃতি আমাদের সামনে আসবে।

মূল উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তাআলা মুমিন জননীদের পর্দা (الحجاب) বর্জন করার মাধ্যমে বিশেষায়িত করতে চাননি, বরং মাতা হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের পর্দার বিধানের মাধ্যমেই বিশেষায়িত করেছেন এবং তাঁদেরকে অন্যান্য সাধারণ নারীদের ন্যায় গণ্য করেছেন। ফলে তাঁরা এই বিশেষত্বের অধিকারী হয়েছেন যে, জগতের সাধারণ মাতাদের যেখানে তাঁদের সন্তানদের সামনে পর্দা করার আদেশ দেওয়া হয়নি, সেখানে মুমিন জননীদের সেই আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পর্দা (الحجاب) ফরজের গুরুত্ব সম্পর্কে সর্বাধিক ও সর্বোত্তম উপলব্ধি প্রকাশ পেয়েছে।

ঘরে প্রবেশের এই নিষেধাজ্ঞা ছিল সাধারণভাবে। এরপর সূরা আন-নূরে—যা এর পরে অবতীর্ণ হয়েছে—তা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে এবং নারীদের নিকট প্রবেশের অনুমতিপ্রাপ্ত শ্রেণির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেই সাথে প্রবেশের বিধান, শিষ্টাচার ও অনুমতি গ্রহণের (الاستئذان) পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে, চাই তা পরপুরুষ (الأجانب) বা শিশুদের ক্ষেত্রে হোক—যা এখানে সূরা আল-আহজাবে উল্লেখ করা হয়নি।

ফিরইয়াবি ও ইবনে জারির আদি ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক আনসারি নারী এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আমার ঘরে এমন অবস্থায় থাকি যে অবস্থায় কেউ আমাকে দেখুক তা আমি অপছন্দ করি; অথচ আমার পরিবারের পুরুষরা নিরন্তর আমার কাছে প্রবেশ করে।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأنا على تلك الحال، فكيف أصنع؟ فنزلت: {يا أيها الذين أمنُوا لا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأنسُوا} [النور: 27].

قال الإمام ابن كثير عند تفسيره للآية السابقة من قوله تعالى: {لَّا جُنَاحَ عَلَيْهِنَّ فِي آبَائِهِنَّ وَلَا أَبْنَائِهِنَّ وَلَا إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَاء إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَاء أَخَوَاتِهِنَّ وَلَا نِسَائِهِنَّ وَلَا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ وَاتَّقِينَ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيداً {55} [الأحزاب]: (لما أمر تعالى النساء بالحجاب من الأجانب، بين أن هؤلاء الأقارب لا يجب الاحتجاب منهم، كما استثناهم في سورة النور، عند قوله: {ولا يبدين زينتهن إلا لبعولتهن أو آبائهن أو آباء بعولتهن أو أبنائهن أو أبناء بعولتهن أو إخوانهن أو بني إخوانهن أو بني أخواتهن أو نسائهن أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُوْلِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاء} إلى آخرها، [النور: 31] وفيها زيادات على هذه) انتهى كلامه يرحمه الله.

وهكذا في الآيات التي بعدها - من سورة الأحزاب - في الأمر بالحجاب حال خروجهن من البيوت بدأ الله أيضا بأمهات المؤمنين زوجات النبي صلى الله عليه وسلم وبناته ونساء المؤمنين بأن يدنين عليهن من جلابيبهن ويسترن كامل زينتهن بما في ذلك وجوههن.

ثم في سورة النور فصل سبحانه وتعالى فبعد أن أكد الأمر السابق {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ}، استثني فرخص بإبداء الزينة في حالات الحاجة والضرورة بقوله تعالى: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إلا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} [النور: 31]
আমি তখন সেই অবস্থায় ছিলাম, এমতাবস্থায় আমি কী করব? তখন অবতীর্ণ হলো: {হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারও গৃহে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি গ্রহণ করো...} [আন-নূর: ২৭]।

ইমাম ইবনে কাসির মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের (নারীদের) জন্য কোনো গুনাহ নেই তাদের পিতাদের ব্যাপারে, না তাদের পুত্রদের ব্যাপারে, না তাদের ভাইদের ব্যাপারে, না তাদের ভ্রাতুষ্পুত্রদের ব্যাপারে, না তাদের ভগ্নিপুত্রদের ব্যাপারে, না তাদের নিজেদের নারীগণের ব্যাপারে, আর না তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের ব্যাপারে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী} [আল-আহযাব: ৫৫]-এর ব্যাখ্যায় বলেন: (আল্লাহ তাআলা যখন নারীদেরকে পরপুরুষদের থেকে পর্দার নির্দেশ দিলেন, তখন তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, এই নিকটাত্মীয়দের থেকে পর্দা করা আবশ্যক নয়, যেমনটি তিনি সূরা আন-নূরের আয়াতে তাদের ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে: {এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তাদের স্বামী, তাদের পিতা, তাদের শ্বশুর, তাদের পুত্র, তাদের স্বামীর পুত্র, তাদের ভাই, তাদের ভ্রাতুষ্পুত্র, তাদের ভগ্নিপুত্র, তাদের নিজেদের নারীগণ, তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসী, অথবা যৌনকামনামুক্ত অনুগামী পুরুষ অথবা ওইসব শিশু যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অবহিত নয়...} [আন-নূর: ৩১] শেষ পর্যন্ত। আর এই আয়াতে এর ওপর কিছু অতিরিক্ত বিষয়ও রয়েছে।) তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

অনুরূপভাবে সূরা আল-আহযাবের পরবর্তী আয়াতগুলোতে—ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পর্দার নির্দেশের ক্ষেত্রে—আল্লাহ তাআলা মুমিন জননীগণ তথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণ, তাঁর কন্যাগণ এবং মুমিন নারীদের সম্বোধন করে শুরু করেছেন যে, তারা যেন তাদের জিলবাবের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয় এবং মুখমণ্ডলসহ তাদের পূর্ণ সৌন্দর্য আবৃত রাখে।

অতঃপর সূরা আন-নূরে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন; পূর্বের নির্দেশ {এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে}-কে সুসংহত করার পর তিনি ব্যতিক্রম উল্লেখ করেছেন এবং প্রয়োজন ও জরুরতের ক্ষেত্রে সৌন্দর্য প্রকাশের অনুমতি দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত} [আন-নূর: ৩১]
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আনিল কাওলিত তালীদ ফীমা লাহিকা মাসআলাতিল হিজাবি মিন তাহরীফি ওয়া তাবদীলি ওয়া তাসহীফ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ولهذا جاء من أقوال السلف أنها الوجه والكفان، وجاء غير ذلك كثير أيضا، وإنما اشتهر ذلك كونهما الغالب مما تحتاج المرأة وتضطر لكشفه، فالآية لم تحدد ذلك، وإلا فقد تمرض المرأة وتحتاج إظهار أكثر من ذلك، وقد تحتاج إظهار أقل من ذلك من زينتها ككفها فقط، لهذا قالوا الخاتم، أو عينيها من خلف البرقع تبصر به الطريق وتتفحص بها الأشياء، لهذا قالوا الكحل، ونحو ذلك (1).

ثم جاء أيضا بعدها بالرخصة {وَالْقواعد مِنَ النِّسَآءِ الَّلَاتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحاً فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أن يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ متبرجات بِزِينَةٍ وَأن يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَّهُنَّ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عِلِيم} [النور: 60].

فكان ما في سورة النور تفصيل وتوضيح لما أجمل في سورة الأحزاب.

--------------------------------------------

(1) وسيأتي معنا بمشيئة الله تعالى تفصيل تلك الأحوال من أقوال الصحابة والسلف عند تفسير الآية في (المبحث الثالث).
এ কারণেই সালাফদের (পূর্বসূরিদের) বাণীসমূহে এসেছে যে, তা (প্রকাশমান সৌন্দর্য) হলো মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত দুই হাত। এছাড়া আরও অনেক বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে। মূলত এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এই কারণে যে, সাধারণত নারীর এই অঙ্গ দুটি খোলার প্রয়োজন বা বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। আয়াতটি তা নির্দিষ্ট করে দেয়নি; অন্যথায় নারী অসুস্থ হতে পারে এবং এর চেয়েও বেশি অংশ প্রকাশের প্রয়োজন হতে পারে, আবার কখনো তার সৌন্দর্যের এর চেয়েও কম অংশ প্রকাশের প্রয়োজন হতে পারে, যেমন কেবল তার হাতের তালু। এ কারণেই তাঁরা আংটির কথা বলেছেন, অথবা বোরকার আড়াল থেকে তার দুই চোখের কথা বলেছেন যার মাধ্যমে সে পথ দেখে এবং বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে। একারণেই তাঁরা সুরমা ও অনুরূপ বিষয়াদির কথা উল্লেখ করেছেন (১)।

এরপর এর পরেই একটি শিথিলতার (رخصة) বিধান এসেছে: {আর অতি বৃদ্ধা নারীরা, যারা বিবাহের আশা রাখে না, তাদের জন্য তাদের (অতিরিক্ত) পোশাক সরিয়ে রাখলে কোনো গুনাহ নেই, যদি না তারা সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী হয়। আর যদি তারা বিরত থাকে, তবে তা তাদের জন্য উত্তম। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [আন-নূর: ৬০]।

সুতরাং সূরা আন-নূরে যা বর্ণিত হয়েছে তা সূরা আল-আহযাবের সংক্ষিপ্ত (مجمل) প্রসঙ্গের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ।

--------------------------------------------

(১) ইনশাআল্লাহ, সাহাবী ও সালাফদের উক্তিসমূহ থেকে সেই সকল অবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা উক্ত আয়াতের তাফসীরের অধীনে (তৃতীয় পরিচ্ছেদ)-এ সামনে আসবে।