(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: -)
القواعد والأصول وتطبيقات التدبر القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: القواعد والأصول وتطبيقات التدبر
المؤلف: د/ خالد بن عثمان السبت
الناشر: دار الحضارة للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1437 هـ - 2016 م
عدد الصفحات: 241
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 ربيع الأول 1440
বিধিমালা (القواعد), মূলনীতিসমূহ (الأصول) এবং অনুধাবনের (التدبر) প্রয়োগসমূহ বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
গ্রন্থ: বিধিমালা (القواعد), মূলনীতিসমূহ (الأصول) এবং অনুধাবনের (التدبر) প্রয়োগসমূহ
লেখক: ড./ খালিদ বিন উসমান আস-সাবত
প্রকাশক: দারুল হাজারা পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৭ হিজরি - ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب
القواعد والأصول
وتطبيقات التدبر
د/ خالد بن عثمان السبت
গ্রন্থ
মূলনীতি (قواعد) ও উসুল (أصول)
এবং তাদাব্বুর-এর প্রয়োগসমূহ
ড. খালিদ বিন উসমান আস-সাবত
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله وسلم وبارك عليه وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فهذه جُملة من الأصول والقواعد والضوابط وطرق الدلالة المُنوعة، وما له نوع اتصال بذلك مما يُتَوَصَّل به إلى استخراج المعاني والهدايات من القرآن الكريم، مقرونة بتطبيقاتها وأمثلتها التي توضحها وتجليها، إلى غير ذلك مما تجده مسطورًا في هذا الكتاب.
قال الشيخ عبد الرحمن السعدي رحمه الله: «ومن أصول التفسير: إذا فَهِمْت ما دلت عليه الآيات الكريمة من المعاني مُطَابَقَة وتَضَمُّنًا، فاعلم أن لوازم هذه المعاني، وما لا تتم إلا به، وشروطَها وتوابعَها؛ تابعةٌ لذلك المعنى؛ فما لا يتم الخبر إلا به فهو تابع للخبر، وما لا يتم الحكم إلا به فهو تابع للحكم. وأن الآيات التي يُفْهَم منها التَّعَارُض والتناقُض، ليس فيها تَنَاقُضٌ ولا تَعَارُض، بل يجب حَمْل كل منها على الحالة المُنَاسِبة اللائقة بها. وأن حَذْف المُتَعَلَّقَات -من مَفْعُولاتٍ وغيرها- يدل على تعميم المعنى؛ لأن هذا من أعظم فوائد الحذف. وأنه لا يجوز حذف ما لا يدل عليه السياق اللفظي، والقرينة الحالية» اهـ (1).
وقبل الشروع في المقصود، فإني أضع بين يدي القارئ الكريم بعض الجوانب التي ينبغي اعتبارها؛ فمن ذلك:
--------------------------------------------
উপস্থাপনানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন। অতঃপর:
এখানে কিছু মূলনীতি (أصول), নিয়মাবলি (قواعد), নীতিমালা (ضوابط) এবং বিভিন্ন প্রকার নির্দেশক পদ্ধতি ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সংকলিত হয়েছে, যার মাধ্যমে কুরআন মাজিদ থেকে অর্থ ও হেদায়েত উদ্ধার করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে এগুলোর ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের জন্য প্রয়োগবিধি ও উদাহরণ যুক্ত করা হয়েছে, যা আপনি এই কিতাবে লিখিত পাবেন।
শায়খ আবদুর রহমান আস-সা’দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «তাফসিরের মূলনীতি (أصول)-সমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: আপনি যখন কোনো মহান আয়াতের শাব্দিক সামঞ্জস্য (مطابقة) ও অন্তর্ভুক্তিমূলক (تضمنا) অর্থ বুঝতে পারবেন, তখন জেনে রাখুন যে, সেই অর্থসমূহের অনিবার্য বিষয়াদি, যা ছাড়া এটি পূর্ণতা পায় না, এর শর্তাবলি ও আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহও সেই অর্থের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে বিষয়টি ছাড়া কোনো বর্ণনা পূর্ণ হয় না, তা সেই বর্ণনারই অংশ। আর যে বিষয়টি ছাড়া কোনো বিধান পূর্ণ হয় না, তা সেই বিধানেরই অংশ। আর যেসব আয়াতের মধ্যে বাহ্যত বৈপরীত্য ও বিরোধ অনুভূত হয়, প্রকৃতপক্ষে সেগুলোতে কোনো বিরোধ বা বৈপরীত্য নেই; বরং প্রত্যেক আয়াতকে তার উপযুক্ত ও যথাযথ অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক (واجب)। আর সংশ্লিষ্ট বিষয়—যেমন কর্ম ও অন্যান্য বিষয়—উহ্য রাখা অর্থের ব্যাপকতা নির্দেশ করে; কারণ এটি উহ্য রাখার অন্যতম প্রধান উপকারিতা। এছাড়া শব্দগত প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতিগত আলামত নির্দেশ করে না এমন কোনো কিছু উহ্য রাখা বৈধ নয়» সমাপ্ত (১)।
মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে আমি সম্মানিত পাঠকের সামনে কিছু দিক তুলে ধরছি যা বিবেচনা করা আবশ্যক; তার মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ৬)
أولًا: لم أتعرض لمعنى التدبر وبعض المقدمات المتعلقة به اكتفاء بما ذكرته في الكتاب الآخر الموسوم بـ (الخلاصة في تدبر القرآن) الذي يختص بالجوانب النظرية المتصلة بموضوع التدبر.
ثانيًا: ينبغي أن نعلم أن التدبر لا يخضع لقواعد محددة، لكن إذا كان المُتَدَبِّر مُتَحَقِّقًا بالعلوم التي يُسْتَخْرَج بواسطتها أنواع المعاني والحِكَم والأحكام؛ فإن ذلك يكون أدعى إلى نَظَرٍ أَسَدّ، وتَدَبُّرٍ أَدَقّ، وغَوْصٍ أعمق عند قراءة القرآن الكريم.
ثالثًا: تتنوع مطالب المتدبرين من تدبرهم للقرآن الكريم (1)؛ فمنهم من يقرؤه ليُرَقِّق قلبه، ويقرؤه آخر للوقوف على مواعظه ومواطن العِبَر فيه، ويقرؤه ثالث ليتعرف على مَحَابِّ الله ومَسَاخِطِه، وأوصاف أوليائه، وسِمَات أعدائه، وربما قرأه لمعرفة ربه ومولاه بأسمائه وصفاته ودلائل قدرته وعظمته، أو يقرأ لاستخراج هداياته المتنوعة من الحِكَم والأحكام والآداب وغيرها؛ فإن ذلك لا يُتَوَصَّل إليه إلا بالتدبر، ولا يصح الفصل بين هذه المطالب وبين التدبر بحال.
ولا يخفى أن هذه المطالبَ متفاوتة فيما يتوقف حصولها عليه؛ فمنها ما يفتقر إلى آلة يتمكن معها المُتَدَبِّر من استخراج المعاني والهدايات الدقيقة المبنية على أُسُس وقواعد صحيحة في الاستدلال.
ومن هنا جاءت الإشارة إلى هذه الجملة من طُرق الدلالة والقواعد التي تضبط الفهم.
--------------------------------------------
প্রথমত: আমি তাদাব্বুর (কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা) এর অর্থ এবং এ সংক্রান্ত কিছু ভূমিকা আলোচনা করিনি। বরং আমি আমার অপর গ্রন্থ ‘আল-খুলাসা ফি তাদাব্বুরিল কুরআন’-এ যা উল্লেখ করেছি, তা-ই যথেষ্ট মনে করেছি; উক্ত গ্রন্থটি মূলত তাদাব্বুর বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট তাত্ত্বিক দিকগুলো নিয়ে নিবেদিত।
দ্বিতীয়ত: আমাদের জানা উচিত যে, তাদাব্বুর কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতির অধীনে নয়। তবে যদি তাদাব্বুরকারী এমন সব বিদ্যায় পারদর্শী হন যার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার অর্থ, হিকমত এবং বিধি-বিধান আহরণ করা হয়, তবে তা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের সময় অধিক সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, সুক্ষ্মতর তাদাব্বুর এবং গভীরতর গবেষণার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
তৃতীয়ত: পবিত্র কুরআন নিয়ে তাদাব্বুর করার ক্ষেত্রে তাদাব্বুরকারীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে (১)। তাদের কেউ কুরআন পাঠ করেন অন্তরকে বিগলিত করার জন্য; কেউ পাঠ করেন এর নসিহত এবং শিক্ষণীয় বিষয়গুলো উপলব্ধি করার জন্য; আবার কেউ পাঠ করেন মহান আল্লাহর প্রিয় ও অপ্রিয় বিষয়সমূহ, তাঁর ওলিগণের বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর শত্রুদের লক্ষণসমূহ চেনার জন্য। সম্ভবত কেউ কুরআন পাঠ করেন তাঁর রব ও মাওলাকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং তাঁর কুদরত ও মহত্ত্বের প্রমাণাদির মাধ্যমে চেনার জন্য। অথবা কেউ পাঠ করেন কুরআনের বিভিন্ন হিকমত, বিধি-বিধান, আদব ও অন্যান্য বিষয় থেকে নানাবিধ হিদায়াত আহরণের জন্য। বস্তুত তাদাব্বুর ছাড়া এসবের কোনোটিই অর্জন করা সম্ভব নয় এবং কোনো অবস্থাতেই এই লক্ষ্যগুলোকে তাদাব্বুর থেকে বিচ্ছিন্ন করা সঠিক হবে না।
এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই লক্ষ্যসমূহ যা কিছুর ওপর নির্ভরশীল, তাতেও তারতম্য রয়েছে। এগুলোর মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা অর্জনের জন্য এমন এক যোগ্যতার (আলাত) প্রয়োজন, যার মাধ্যমে তাদাব্বুরকারী ইস্তিদলাল বা দলিল গ্রহণের সঠিক মূলনীতি ও নিয়মের ওপর ভিত্তি করে সূক্ষ্ম অর্থ ও হিদায়াতসমূহ বের করতে সক্ষম হন।
এই প্রেক্ষাপট থেকেই দালালাহ বা নির্দেশনার পদ্ধতিসমূহ এবং সঠিক অনুধাবনের নিয়ামক মূলনীতিমালার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ৭)
رابعًا: إنما أردت في هذا الكتاب إيراد قدر صالح من طُرق الدلالة وما من شأنه أن يُوصِل إلى المطلوب من المعاني ونحوها؛ ليتعرف به القارئ الكريم على هذه الأصول والقواعد وطُرق الدلالة من جهة، ومن جهةٍ أخرى يربط بين ذلك وبين الجانب التطبيقي؛ ليكون ذلك أوعى وأبين وأرسخ في الفهم.
ولم يكن المقصود الاستيعاب والاستقراء للأصول النظرية، ولا النماذج التطبيقية؛ فذلك مما يفوت الحصر، ولكن أردت ذِكْر طَرَف منها يحصل به المقصود، ويتضح به المراد، ويدل على غيره، فيتتبعه طالب العلم في مَظَانِّه.
خامسًا: انتقيتُ النماذج التطبيقية مما كنتُ أجمعه عند قراءتي في كتب التفسير وغيرها؛ إذ كنتُ أُدَوِّن ما أستحسنه من اللطائف واللفتات الدقيقة المُستخرجة بثاقب النظر والفِكْر مما جَادَتْ به قَرَائح العلماء وفُهومهم، كما قرأت المجموعات الخمس (1) التي صدرت عن (مركز تدبر للدراسات والاستشارات) تحت عنوان (ليدبروا آياته)، وانتقيت بعض الأمثلة منها، فأوردتُّ في هذا الكتاب من هذا وذاك أحسن ما جمعتُ.
سادسًا: رتبتُ الكتاب على طريقة مُتَسَلْسِلة بالنظر إلى الطُّرق التي يُتَوَصَّل بها إلى المُراد من ألوان الدلالات.
وهناك بعض النماذج والأمثلة لا تخضع لشيء من الطُرق والأنواع، فألحقتُها في آخر الكتاب وجعلتُها تحت عنوان يُوَضِّح ذلك.
--------------------------------------------
চতুর্থত: এই কিতাবে আমি নির্দেশনার পদ্ধতিসমূহ (طرق الدلالة) এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থ ও তদ্রূপ বিষয়ে পৌঁছানোর মাধ্যমগুলোর একটি পর্যাপ্ত অংশ উপস্থাপন করতে চেয়েছি; যাতে একদিকে সম্মানিত পাঠক এই মূলনীতিসমূহ (أصول), নিয়মাবলি (قواعد) ও নির্দেশনার পদ্ধতিসমূহ (طرق الدلالة) সম্পর্কে পরিচিত হতে পারেন, এবং অন্যদিকে এগুলোর সাথে প্রায়োগিক দিকের সমন্বয় ঘটাতে পারেন; যাতে তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে অধিকতর বোধগম্য, সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় হয়।
তাত্ত্বিক মূলনীতিসমূহ (أصول نظرية) কিংবা প্রায়োগিক উদাহরণসমূহের পূর্ণাঙ্গ ব্যাপ্তি ও আদ্যোপান্ত পর্যালোচনা (استقراء) করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না; কারণ তা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। বরং আমি এর একটি অংশ উল্লেখ করতে চেয়েছি যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল হয়, লক্ষ্য স্পষ্ট হয় এবং যা অন্যান্য বিষয়ের প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করে, ফলে ইলম অন্বেষী (طالب العلم) ব্যক্তি তার উৎসস্থলে তা খুঁজে নিতে পারেন।
পঞ্চমত: আমি তাফসিরের কিতাবসমূহ ও অন্যান্য গ্রন্থ পাঠের সময় যা সংগ্রহ করতাম, সেখান থেকেই প্রায়োগিক উদাহরণগুলো নির্বাচন করেছি; যেহেতু আমি উলামায়ে কেরামের মেধা ও প্রজ্ঞা থেকে উৎসারিত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও চিন্তার মাধ্যমে আহরিত সূক্ষ্ম তথ্য ও নিগূঢ় ইশারাগুলোর মধ্যে যা উত্তম মনে করতাম তা লিপিবদ্ধ করে রাখতাম। তেমনিভাবে আমি 'মারকায তাদাব্বুর ফর স্টাডিজ অ্যান্ড কনসালটেশন' থেকে ‘লি ইয়াদাব্বারু আয়াতিহি’ শিরোনামে প্রকাশিত পাঁচটি সংকলন (১) পাঠ করেছি এবং সেখান থেকে কিছু উদাহরণ নির্বাচন করেছি। অতঃপর আমি সংগৃহীত বিষয়গুলোর মধ্য থেকে সর্বোত্তমগুলো এই কিতাবে সন্নিবেশিত করেছি।
ষষ্ঠত: নির্দেশনার (دلالات) প্রকারভেদের মধ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পদ্ধতিসমূহের প্রতি লক্ষ রেখে আমি কিতাবটিকে একটি ধারাবাহিক পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছি।
এখানে এমন কিছু নমুনা ও উদাহরণ রয়েছে যা কোনো পদ্ধতি বা প্রকারের অধীনে পড়ে না, তাই আমি সেগুলোকে কিতাবের শেষে যুক্ত করেছি এবং এমন একটি শিরোনাম দিয়েছি যা বিষয়টি স্পষ্ট করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ৮)
ومما يدخل في هذا النوع ما يُسمَّى بـ (التفسير الإشاري).
وهذا النوع من التفسير إنما يُقال له: (تفسير)، على سبيل التَّجَوُّز، وإلا فإنه لا يدخل تحت التفسير، كما أن عامة ما يُذكر فيه لا يصح.
وقد أفردتُّ له عنوانًا في آخر الكتاب وأَوردتُّ فيه نماذج صالحة مُسْتَحْسَنة مما ذكره العلماء الثقات: كشيخ الإسلام ابن تيمية، وتلميذه ابن القيم، والحافظ ابن كثير، والشيخ عبد الرحمن السعدي، والشيخ محمد الأمين الشنقيطي؛ رحمهم الله، سواء صَرَّحُوا فيه بأنه من قبيل الإشارة، أو لم يُصَرِّحوا بذلك، لكنه داخل تحته.
كما أوردتُّ في آخر الكتاب ما يتصل بالتطبيق والعمل والامتثال؛ لكون ذلك يتصل بالتدبر من جهة أن بعض السلف قد فسَّر التدبر بالعمل به؛ كما أوضحنا ذلك في كتاب (الخلاصة في تدبر القرآن). ولا شك أن من مطالب المتدبرين: العمل والامتثال.
هذا بالإضافة إلى الربط بين تدبُّر الآيات المتلوة، والتفكر في الآيات المشهودة، وقد صار ذلك مُتاحًا لكل أحد بصورة أعمق في هذا الوقت؛ نظرًا لما توفر من الوسائل الحديثة التي يمكن لعموم الناس مشاهدة ذلك من خلالها.
وفي هذا الكتاب أَوْرَدتُّ نماذج من هذا النوع؛ لتدل على غيرها.
قال ابن القيم رحمه الله: «والتفكر في القرآن نوعان: تفكر فيه ليقع على مُراد الرب تعالى منه، وتَفَكُّر في معاني ما دعا عباده الى التَّفَكُّر فيه؛ فالأول: تَفَكُّر في الدليل القرآني، والثاني: تَفَكُّر في الدليل العياني؛ الأول: تفكُّر في آياته المسموعة، والثاني: تفكُّر في آياته المشهودة؛ ولهذا أنزل الله القرآن ليُتدبَّر، ويُتفكَّر فيه، ويُعمَل به» اهـ (1).
--------------------------------------------
এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো যা ‘ইশারি তাফসির’ (ইঙ্গিতমূলক ব্যাখ্যা) হিসেবে পরিচিত।
এই ধরণের ব্যাখ্যাকে কেবল রূপকার্থে ‘তাফসির’ বলা হয়, অন্যথায় এটি তাফসিরের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়; তদুপরি এর মধ্যে যা কিছু উল্লেখ করা হয় তার অধিকাংশ বর্ণনা বিশুদ্ধ (صحيح) নয়।
আমি বইয়ের শেষে এর জন্য একটি আলাদা শিরোনাম নির্ধারণ করেছি এবং তাতে নির্ভরযোগ্য (ثقات) আলেমদের উল্লিখিত উত্তম ও গ্রহণযোগ্য কিছু নমুনা পেশ করেছি। যেমন: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম, হাফিজ ইবনে কাসির, শায়খ আবদুর রহমান আস-সাদী এবং শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতী (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন); তাঁরা একে ‘ইশারা’ (ইঙ্গিত) হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন বা না করুন, এটি এর অন্তর্ভুক্ত।
একইভাবে আমি বইয়ের শেষে প্রয়োগ, আমল ও অনুসরণের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও উল্লেখ করেছি; কারণ এটি ‘তাদাব্বুর’ (গভীর চিন্তা)-এর সাথে এই দিক থেকে সংশ্লিষ্ট যে, কিছু সালাফ (পূর্বসূরি আলেম) তাদাব্বুর-এর ব্যাখ্যা করেছেন সেই অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে; যেমনটি আমরা ‘আল-খুলাসাহ ফি তাদাব্বুরিল কুরআন’ গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদাব্বুরকারীদের অন্যতম দাবি হলো আমল ও অনুসরণ।
এর সাথে পঠিত আয়াতসমূহের তাদাব্বুর এবং দৃশ্যমান নিদর্শনসমূহে চিন্তার মাঝে সমন্বয় সাধন করা হয়েছে। বর্তমানে আধুনিক বিভিন্ন উপকরণের সহজলভ্যতার কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা প্রত্যক্ষ করা এবং আরও গভীরভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হয়েছে।
আর আমি এই গ্রন্থে এই প্রকারের কিছু নমুনা উপস্থাপন করেছি যেন তা অন্যগুলোর দিকনির্দেশনা দেয়।
ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «কুরআনে চিন্তাভাবনা (তাফাক্কুর) দুই প্রকার: প্রথমত, আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুধাবনের জন্য চিন্তা করা এবং দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যেসব বিষয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানিয়েছেন সেগুলোর মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা করা। প্রথমটি হলো কুরআনি দলিলের ওপর চিন্তা করা এবং দ্বিতীয়টি হলো চাক্ষুষ দলিলের ওপর চিন্তা করা। প্রথমটি হলো তাঁর শ্রুত আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা করা এবং দ্বিতীয়টি হলো তাঁর দৃশ্যমান আয়াত নিয়ে চিন্তা করা। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআন নাজিল করেছেন যেন তা নিয়ে তাদাব্বুর করা হয়, চিন্তা করা হয় এবং সে অনুযায়ী আমল করা হয়» সমাপ্ত (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ৯)
وحاصل ذلك جاء مستوفى في ستة أبواب ومقدمة وخاتمة؛ وإليك مجملها:
الباب الأول: النظر الكلي - الإجمالي - لآيات السورة؛ وذلك يشمل:
1 - تدبر الآيات إجمالاً للتوصل إلى الموضوع أو الموضوعات التي تدور حولها الآيات في السورة.
2 - تدبر الآيات إجمالًا للتوصل إلى مقاصد السورة.
3 - تدبر المعنى العام للآية للتوصل إلى المعنى الأساسي الذي نزلت لتقريره.
الباب الثاني: في المعاني والهدايات المستخرجة وفق القواعد والأصول المعتبرة:
فمن ذلك:
أولًا: إعمال أنواع الدلالة في استخراج الهدايات من الآيات الكريمة؛ وذلك نوعان:
النوع الأول: دلالة المنطوق؛ وهو قسمان:
1 - المنطوق الصريح؛ وهو نوعان:
1) دلالة المطابقة.
2) دلالة التَّضَمُّن.
2 - المنطوق غير الصريح (دلالة الالتزام)؛ ويدخل تحتها ثلاثة أنواع:
الأول: دلالة الاقتضاء.
এর ফলাফল ছয়টি অধ্যায়, একটি ভূমিকা ও একটি উপসংহারে পূর্ণাঙ্গভাবে এসেছে; নিচে তার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
প্রথম অধ্যায়: সূরার আয়াতসমূহের সামগ্রিক—সার্বিক—পর্যবেক্ষণ; যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
১ - সূরার আয়াতগুলো যে বিষয় বা বিষয়াবলিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, তা অনুধাবনের জন্য আয়াতগুলো সম্পর্কে সামগ্রিকভাবে চিন্তা-গবেষণা করা।
২ - সূরার উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) অনুধাবনের জন্য আয়াতগুলো সম্পর্কে সামগ্রিকভাবে চিন্তা-গবেষণা করা।
৩ - আয়াতের সাধারণ অর্থ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা, যাতে সেই মৌলিক অর্থটি অনুধাবন করা যায় যা প্রতিষ্ঠার জন্য আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: নির্ভরযোগ্য নীতিমালা ও মূলনীতি (أصول) অনুযায়ী আহরিত অর্থ ও হিদায়াতসমূহ প্রসঙ্গে:
তন্মধ্যে রয়েছে:
প্রথমত: পবিত্র আয়াতসমূহ থেকে হিদায়াত বের করার ক্ষেত্রে নির্দেশনার (دلالة) প্রকারভেদ প্রয়োগ করা; আর তা দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: ব্যক্ত নির্দেশ (دلالة المنطوق); এটি দুই ভাগে বিভক্ত:
১ - স্পষ্ট ব্যক্ত নির্দেশ (المنطوق الصريح); এটি দুই প্রকার:
১) পূর্ণার্থবোধক নির্দেশ (دلالة المطابقة)।
২) অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্দেশ (دلالة التضمن)।
২ - অস্পষ্ট ব্যক্ত নির্দেশ (المنطوق غير الصريح) বা আবশ্যিক নির্দেশ (دلالة الالتزام); এর অধীনে তিনটি প্রকার রয়েছে:
প্রথম: অনিবার্য নির্দেশ (دلالة الاقتضاء)।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ১০)
الثاني: دلالة الإشارة؛ وله صورتان:
الثالث: دلالة الإيماء والتنبيه.
النوع الثاني: دلالة المفهوم؛ وهو قسمان:
1 - مفهوم الموافقة.
2 - مفهوم المخالفة.
ثانيًا: العموم والخصوص.
ثالثًا: الإطلاق والتقييد.
رابعًا: ما يُسْتَفَاد من بعض القواعد في التفسير.
خامسًا: القواعد القرآنية.
الباب الثالث: النظر والتدبر في المناسبات.
الباب الرابع: ما يتوصل إليه بالنظر إلى النواحي اللغوية والجوانب البلاغية:
فمن ذلك:
1 - الحقيقة والمجاز (عند القائل به).
2 - ما يتصل بمرجع الضمير.
3 - ما يُؤْخَذ من الإظهار في موضع الإضمار، وعكسه.
4 - الالتفات.
দ্বিতীয়: নির্দেশক অর্থবোধকতা (دلالة الإشارة); এবং এর দুটি রূপ রয়েছে:
তৃতীয়: ইশারা ও সতর্কতামূলক অর্থবোধকতা (دلالة الإيماء والتنبيه)।
দ্বিতীয় প্রকার: অনুমিত অর্থবোধকতা (دلالة المفهوم); এবং এটি দুই প্রকার:
1 - সামঞ্জস্যপূর্ণ অনুমিত অর্থ (مفهوم الموافقة)।
2 - বৈপরিত্যমূলক অনুমিত অর্থ (مفهوم المخالفة)।
দ্বিতীয়ত: ব্যাপকতা (العموم) ও বিশেষত্ব (الخصوص)।
তৃতীয়ত: শর্তহীনতা (الإطلاق) ও শর্তযুক্তকরণ (التقييد)।
চতুর্থত: তাফসিরের কিছু মূলনীতি থেকে যা আহরিত হয়।
পঞ্চমত: কুরআনিক মূলনীতিসমূহ (القواعد القرآنية)।
তৃতীয় অধ্যায়: পারস্পরিক সম্পর্ক (المناسبات) পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবন করা।
চতুর্থ অধ্যায়: ভাষাগত ও আলঙ্কারিক (البلاغية) দিকগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে যা অর্জিত হয়:
তার মধ্যে রয়েছে:
1 - প্রকৃত (الحقيقة) ও রূপক (المجاز) অর্থ (যারা এই মত পোষণ করেন তাদের নিকট)।
2 - সর্বনামের প্রত্যাবর্তনস্থলের (مرجع الضمير) সাথে যা সংশ্লিষ্ট।
3 - সর্বনামের স্থলে প্রকাশ্য বিশেষ্য ব্যবহার (الإظهار) এবং এর বিপরীত (الإضمار) প্রক্রিয়া থেকে যা গ্রহণ করা হয়।
4 - বাকরীতি পরিবর্তন (الالتفات)।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ১১)
5 - الفروق اللفظية.
6 - المتشابه اللفظي.
7 - دلالات الجملة (الاسمية والفعلية).
8 - ما يرجع إلى تصريف اللفظ.
9 - ما يرجع إلى معاني الحروف، ودلالاتها، والتضمين.
10 - التقدير والحذف والزيادة، والتكرار، والتقديم والتأخير والترتيب بين الأمور المذكورة في الآية.
11 - الإيجاز والبسط والاستطراد.
12 - الأمثال والتشبيهات.
الباب الخامس: ما لا يدخل في شيء مما سبق؛ وهو نوعان:
الأول: صور من التدبر لا تخضع لشيء مما سبق.
الثاني: التفسير الإشاري.
الباب السادس: التدبر العَمَلي؛ وهو نوعان:
الأول: التطبيق والعمل والامتثال.
الثاني: النظر في الكون والآيات المشهودة.
الخاتمة.
৫ - শাব্দিক পার্থক্যসমূহ (الفروق اللفظية)।
৬ - শাব্দিক সাদৃশ্য (المتشابه اللفظي)।
৭ - বাক্যের নির্দেশনাসমূহ (নামবাচক (الاسمية) এবং ক্রিয়াধর্মী (الفعلية))।
৮ - যা শব্দের রূপান্তর (تصريف) সংক্রান্ত।
৯ - যা অব্যয়ের (الحروف) অর্থ, তার নির্দেশনা এবং অর্থ-অন্তর্ভুক্তি (التضمين) সংক্রান্ত।
১০ - উহ্য রাখা (التقدير), বিলোপ (الحذف), বৃদ্ধি (الزيادة), পুনরাবৃত্তি (التكرار), আগে আনা ও পরে নেওয়া (التقديم والتأخير) এবং আয়াতে বর্ণিত বিষয়গুলোর মধ্যকার ধারাবাহিকতা (الترتيب)।
১১ - সংক্ষেপণ (الإيجاز), সম্প্রসারণ (البسط) এবং প্রসঙ্গান্তর (الاستطراد)।
১২ - প্রবাদ (الأمثال) এবং উপমাসমূহ (التشبيهات)।
পঞ্চম অধ্যায়: যা পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়; এটি দুই প্রকার:
প্রথম: গভীর অনুধাবনের (التدبر) এমন কিছু রূপ যা পূর্বোক্ত কোনো বিষয়ের অধীন নয়।
দ্বিতীয়: ইঙ্গিতবাহী ব্যাখ্যা (التفسير الإشاري)।
ষষ্ঠ অধ্যায়: ব্যবহারিক গভীর অনুধাবন (التدبر العملي); এটি দুই প্রকার:
প্রথম: প্রয়োগ (التطبيق), আমল (العمل) এবং আনুগত্য (الامتثال)।
দ্বিতীয়: মহাবিশ্ব এবং প্রত্যক্ষ নিদর্শনাদির প্রতি দৃষ্টিপাত করা।
উপসংহার।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ১২)
سابعًا: تجد في هذا الكتاب تخريج الأحاديث تخريجًا موجزًا، فما أخرجه الشيخان أو أحدهما اكتفيتُ به، وإن لم يكن فيهما فأكتفي بتخريجه من بقية الكتب الستة، فإن لم يكن في شيء منها فمن بقية الكتب التسعة، فإن لم يكن في شيء منها خَرَّجْتُه من غيرها.
كما عَرَّفْتُ بالمصطلحات العلمية التي يحتاج القارئ إلى معرفة المراد بها، وترجمتُ لغير المشاهير من الأعلام ترجمةً مُوجَزَة.
وألحقت بالكتاب فهرسًا للمصادر، وآخر للموضوعات.
وقد أسميتُه بـ (القواعد والأصول وتطبيقات التدبر).
هذا، وأسأل الله تعالى أن يتقبله بقبول حسن، وأن يجعله ذخرًا لي يوم أن ألقاه؛ إنه سميع مجيب.
وكتبه: خالد بن عثمان السبت
05/ 09/1436 هـ
Khaled 2224@gmail.com
সপ্তম: আপনি এই কিতাবে হাদিসসমূহের সংক্ষিপ্ত উৎসনির্দেশ (تخريج) পাবেন; সুতরাং শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা তাঁদের কোনো একজন যা বর্ণনা করেছেন, আমি কেবল সেটিই উল্লেখ করেছি। যদি তাঁদের কিতাবে না থাকে, তবে কুতুবুস সিত্তাহর অবশিষ্ট কিতাবসমূহ থেকে এর উৎসনির্দেশ (تخريج) করেছি। যদি সেগুলোর কোনোটিতেও না থাকে, তবে বাকি নয়টি কিতাব থেকে তা উল্লেখ করেছি। আর যদি সেগুলোর কোনোটিতেও না পাওয়া যায়, তবে আমি অন্য কিতাব থেকে এর উৎসনির্দেশ (تخريج) করেছি।
সেই সাথে আমি ওই সকল জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিভাষা (مصطلحات علمية) ব্যাখ্যা করেছি যা পাঠকের জানা প্রয়োজন এবং যেসব ব্যক্তি প্রসিদ্ধ নন, তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) পেশ করেছি।
আমি কিতাবের সাথে একটি তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট এবং অপর একটি বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।
আমি এর নামকরণ করেছি— (আল-কাওয়াইদ ওয়াল-উসুল ওয়া তাতবিকাতুত তাদাব্বুর)।
পরিশেষে, আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে উত্তমভাবে কবুল করেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনে একে আমার জন্য সঞ্চিত পাথেয় করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
লেখক: খালিদ বিন উসমান আল-সাবত
০৫/০৯/১৪৩৬ হিজরি
Khaled 2224@gmail.com
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الباب الأولالنظر الكلي -الإجمالي- في آيات السورة (1)
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদসূরার আয়াতসমূহের সামগ্রিক—সার্বিক—পর্যবেক্ষণ (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
1 - تدبر الآيات إجمالًا للتوصل إلى الموضوع أو الموضوعات التي تدور حولها الآيات في السورة (1).
التطبيق:قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: «وقد ذكرتُ في مواضع ما اشتملت عليه (سورة البقرة) من تقرير أصول العلم وقواعد الدين: أن الله تعالى افتتحها بذِكْر كتابه الهادي للمتقين، فوَصَفَ حال أهل الهدى، ثم الكافرين، ثم المنافقين؛ فهذه (جمل خبرية). ثم ذكر (الجمل الطلبية)، فدعا الناس إلى عبادته وَحْده، ثم ذكر الدلائل على ذلك من فَرْش الأرض، وبناء السماء، وإنزال الماء، وإخراج الثمار رِزْقًا للعباد، ثم قَرَّر الرسالة، وذَكَر الوعد والوعيد، ثم ذَكَر مَبْدَأ النبوة والهدى، وما بَثَّه في العالَم من الخلق والأمر، ثم ذَكَر تعليم آدم الأسماء، وإسجاد الملائكة له لِمَا شَرَّفه من العلم؛ فإن هذا تقرير لجِنْس ما بُعِث به محمد صلى الله عليه وسلم من الهدى ودين الحق، فَقَصّ جِنْس دعوة الأنبياء.
ثم انتقل إلى خطاب بني إسرائيل وقصة موسى معهم، وضَمَّن ذلك تقرير نبوته؛ إذ هو قرين محمد صلى الله عليه وسلم، فذكر آدم الذي هو أول، وموسى الذي هو نَظِيره، وهما اللذان احتجا، وموسى قَتَل نفسًا فغُفِر له، وآدم أَكَل من الشجرة فتاب عليه، وكان في قصة موسى رَدٌّ على الصابئة ونحوهم ممن يُقِرّ بجنس النبوات، ولا يُوجِب اتّباع
--------------------------------------------
১ - সূরার আয়াতসমূহের বিষয়বস্তু বা যে বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে আয়াতগুলো আবর্তিত হয়েছে, সে সম্পর্কে উপনীত হওয়ার জন্য আয়াতসমূহ নিয়ে সামগ্রিকভাবে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করা (১)।
প্রয়োগ:শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «আমি বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছি যে, (সূরা আল-বাকারাহ) ইলমের মূলনীতি ও দ্বীনের বুনিয়াদি নিয়মাবলি সাব্যস্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে: আল্লাহ তাআলা এই সূরার সূচনা করেছেন মুত্তাকীদের পথপ্রদর্শক তাঁর কিতাবের আলোচনার মাধ্যমে। অতঃপর তিনি হিদায়াতপ্রাপ্তদের (أهل الهدى) অবস্থা বর্ণনা করেছেন, তারপর কাফিরদের, তারপর মুনাফিকদের; এগুলো হলো ‘বর্ণনামূলক বাক্য’ (جمل خبرية)। এরপর তিনি ‘অনুরোধমূলক বা নির্দেশনামূলক বাক্যসমূহ’ (الجمل الطلبية) উল্লেখ করেছেন এবং মানুষকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন। অতঃপর তিনি এর ওপর প্রমাণাদি উল্লেখ করেছেন—জমিনকে বিছানা হিসেবে প্রস্তুত করা, আকাশ নির্মাণ, পানি বর্ষণ এবং বান্দাদের জীবিকা হিসেবে ফলমূল উৎপাদন করা। এরপর তিনি রিসালাতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারি (الوعد والوعيد) বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি নবুওয়াত ও হিদায়াতের সূচনা এবং সৃষ্টি ও নির্দেশের মাধ্যমে বিশ্বে যা ছড়িয়ে দিয়েছেন তা উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি আদমকে নামসমূহ শিক্ষা দান এবং তাঁর ইলমের সম্মানের কারণে ফেরেশতাদের দ্বারা তাঁকে সিজদাহ করানোর কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ, এটি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, তারই মূল প্রকৃতির স্বীকৃতি। এভাবেই তিনি নবীদের দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর তিনি বনী ইসরাঈলের প্রতি সম্বোধন এবং তাদের সাথে মুসার গল্পের দিকে অগ্রসর হয়েছেন এবং এর মধ্যে তাঁর নবুওয়াতের স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যেহেতু তিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমতুল্য। তিনি আদমের কথা উল্লেখ করেছেন যিনি সর্বপ্রথম, এবং মুসার কথা যিনি তাঁর সমপর্যায়ের। তাঁরা উভয়েই বিতর্ক করেছিলেন। মুসা এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন এবং তাঁকে ক্ষমা করা হয়েছিল, আর আদম বৃক্ষ থেকে আহার করেছিলেন এবং তাঁর তাওবা কবুল করা হয়েছিল। মুসার গল্পের মধ্যে সাবীঈন ও তাদের ন্যায় অন্যদের প্রতিবাদ (رَدٌّ) বিদ্যমান ছিল, যারা নবুওয়াতের মূল বিষয়কে স্বীকার করে কিন্তু অনুসরণ করাকে আবশ্যক মনে করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ما جاؤوا به، وقد يتأوَّلُون أخبار الأنبياء، وفيها ردٌّ على أهل الكتاب بما تَضَمَّنه ذلك من الأمر بالإيمان بما جاء به محمد صلى الله عليه وسلم، وتقرير نبوته، وذِكْر حال من عَدَل عن النبوة إلى السِّحْر، وذِكْر النَّسْخ الذي ينكره بعضهم، وذِكْر النصارى، وأن الأُمَّتَين لن يرضوا عنه حتى يَتَّبِع مِلَّتَهم؛ كل هذا في تقرير أصول الدين؛ من الوحدانية والرسالة.
ثم أخذ سبحانه في بيان شرائع الإسلام التي على مِلَّة إبراهيم، فَذَكر إبراهيم الذي هو إمام، وبناء البيت الذي بتعظيمه يَتَمَيَّز أهل الإسلام عما سواهم، وذَكَر استقباله، وقَرَّر ذلك؛ فإنه شعار المِلَّة بين أهلها وغيرهم؛ ولهذا يُقَال: أهل القبلة، كما يُقال: «مَن صلَّى صلاتنا، واستقبل قِبْلتنا، وأكل ذبيحتنا؛ فهو المُسْلِم» (1).
وذَكَر من المناسك ما يختص بالمكان؛ وذلك أن الحج له مكان وزمان، والعمرة لها مكان فقط، والعكوف والركوع والسجود شُرِع فيه ولا يتقيد به ولا بمكان ولا بزمان، لكن الصلاة تتقيد باستقباله، فذكر سبحانه هذه الأنواع الخمسة: من العكوف، والصلاة، والطواف، والعمرة، والحج؛ والطواف يختص بالمكان فقط، ثم أتبع ذلك ما يتعلق بالبيت، من الطواف بالجبلين، وأنه لا جُنَاح فيه؛ جوابًا لما كان عليه الأنصار في الجاهلية من كراهة الطواف بهما لأجل إهلالهم لمَنَاة، وجوابًا لقوم تَوَقَّفُوا عن الطواف بهما. وجاء ذكر الطواف بعد العبادات المُتَعَلِّقة بالبيت -بل وبالقلوب والأبدان والأموال- بعد ما أُمِرُوا به من الاستعانة بالصبر والصلاة اللَّذَين لا يقوم الدين إلا بهما، وكان ذلك مفتاح الجهاد المؤسس على الصبر؛ لأن ذلك من تمام أمر البيت؛ لأن أهل المِلَل لا يُخَالِفُون فيه، فلا يقوم أمر البيت إلا بالجهاد عنه.
--------------------------------------------
তারা যা নিয়ে এসেছে এবং তারা সম্ভবত নবীদের সংবাদসমূহের অপব্যাখ্যা (تأويل) করে থাকে। এতে কিতাবধারীদের প্রতি খণ্ডন রয়েছে সেই বিষয়গুলোর মাধ্যমে যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ, তাঁর নবুওয়ত সাব্যস্ত করা, এবং নবুওয়ত থেকে বিমুখ হয়ে জাদুর দিকে ধাবিত হওয়া ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করা এবং রহিতকরণ (النسخ) প্রক্রিয়ার উল্লেখ করা—যা তাদের কেউ কেউ অস্বীকার করে। এছাড়া নাসারাদের সম্পর্কে আলোচনা এবং এই বিষয়ে যে, উভয় জাতি কখনোই তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না তিনি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করেন; এই সব কিছুই দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) তথা একত্ববাদ (الوحدانية) ও রিসালাত (الرسالة) সাব্যস্ত করার অন্তর্ভুক্ত।
অতঃপর মহান আল্লাহ ইব্রাহিমী মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত ইসলামের শরয়ি বিধানসমূহ বর্ণনায় প্রবৃত্ত হন। অতঃপর তিনি ইব্রাহিম (আ.)-কে উল্লেখ করেছেন যিনি একজন ইমাম, এবং বায়তুল্লাহ নির্মাণ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে মুসলিমরা অন্যদের থেকে পৃথক হয়। তিনি কিবলামুখী হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তা প্রতিষ্ঠিত করেছেন; কেননা এটি অনুসারীদের মাঝে এবং অন্যদের নিকট দ্বীনের নিদর্শন। একারণেই বলা হয়: আহলে কিবলা, যেমনটি বলা হয়েছে: «যে ব্যক্তি আমাদের মতো নামাজ পড়বে, আমাদের কিবলার (قبلة) দিকে মুখ করবে এবং আমাদের জবেহ করা পশু ভক্ষণ করবে; সে-ই মুসলিম» (১)।
তিনি ইবাদতসমূহের মধ্য থেকে স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন। কারণ হজের নির্দিষ্ট স্থান ও সময় রয়েছে, উমরার কেবল স্থান রয়েছে। আর ইতিকাফ (العكوف), রুকু ও সিজদা তাতে বিধিবদ্ধ হলেও তা কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ নয়; তবে নামাজ কিবলামুখী হওয়ার (قبلة) সাথে সীমাবদ্ধ। অতঃপর আল্লাহ এই পাঁচ প্রকারের ইবাদত উল্লেখ করেছেন: ইতিকাফ (العكوف), নামাজ, তাওয়াফ, উমরা ও হজ। আর তাওয়াফ কেবল নির্দিষ্ট স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট। অতঃপর তিনি বায়তুল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছেন, যেমন দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ করা এবং এতে কোনো গুনাহ না থাকা; এটি জাহেলি যুগে আনসারদের সেই অপছন্দবোধের উত্তরস্বরূপ যা মানাত-এর জন্য ইহরাম বাঁধার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল, এবং সেই সম্প্রদায়ের উত্তরস্বরূপ যারা সেখানে তাওয়াফ করতে দ্বিধাবোধ করত। বায়তুল্লাহর সাথে—বরং অন্তর, শরীর ও সম্পদের সাথে—সংশ্লিষ্ট ইবাদতসমূহের বর্ণনার পর তাওয়াফের উল্লেখ এসেছে সেই নির্দেশের পর যেখানে ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে, যা ছাড়া দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় না। আর এটিই ছিল ধৈর্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত জিহাদের চাবিকাঠি; কারণ এটি বায়তুল্লাহর বিষয়াদি পূর্ণ করার অন্তর্ভুক্ত। কেননা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা এর বিরোধিতা করে না, তাই জিহাদ ব্যতীত বায়তুল্লাহর মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وذكر الصبر على المشروع والمقدور، وبيَّن ما أنعم به على هذه الأمة من البشرى للصابرين؛ فإنها أُعْطِيَت ما لم تُعْطَ الأممُ قبلها، فكان ذلك من خصائصها وشعائرها؛ كالعبادات المُتَعَلِّقة بالبيت؛ ولهذا يَقْرِن بين الحج والجهاد؛ لدخول كل منهما في سبيل الله؛ فأما الجهاد فهو أعظم سبيل الله بالنص والإجماع، وكذلك الحج في الأصح؛ كما قال: «الحج من سبيل الله» (1). وبيَّن أن هذا معروف عند أهل الكتاب، بِذَمِّه لكاتِم العلم.
ثم ذكر أنه لا يقبل دينًا غير ذلك؛ ففي أولها: {فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ (22)} (البقرة)، وفي أثنائها: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا} (البقرة: 165)، فالأول نهي عام، والثاني نهي خاص، وذَكَرَها بعد البيت ليُنْتَهَى عن قَصْد الأنداد المُضَاهِيَة له، ولِبَيْتِه من الأصنام والمقابر ونحو ذلك، ووَحَّد نَفْسه قبل ذلك، وأنه: {لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ (163)} (البقرة).
ثم ذَكَر ما يَتَعَلَّق بتوحيده من الآيات؛ ثم ذكر الحلال والحرام، وأَطْلَق الأَمْر في المَطاعِم؛ لأن الرسول بُعِث بالحَنِيفيَّة وشعارها؛ وهو البيت، وذَكَر سَماحَتها في الأحوال المباحة، وفي الدماء بما شَرَعه من القِصَاص، ومن أَخْذ الديّة؛ ثم ذكر العبادات المُتَعَلِّقة بالزمان؛ فذكر الوصية المُتَعَلِّقة بالموت، ثم الصيام المُتَعَلِّق برمضان وما يتصل به من الاعتكاف ذَكَرَه في عبادات المكان، وعبادات الزمان؛ فإنه يختص بالمسجد وبالزمان استحبابًا أو وجوبًا بوقت الصيام، وَوَسطه أولًا بين الطواف والصلاة؛ لأن الطواف يختص بالمسجد الحرام، والصلاة تُشْرَع في جميع
--------------------------------------------
তিনি শরীয়ত অনুমোদিত বিষয় এবং তকদিরে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর সবর (ধৈর্য) ধারণের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এই উম্মতকে ধৈর্যশীলদের জন্য যে সুসংবাদের মাধ্যমে অনুগ্রহ করা হয়েছে তা বর্ণনা করেছেন; কেননা এই উম্মতকে এমন কিছু প্রদান করা হয়েছে যা পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রদান করা হয়নি। আর তা ছিল এই উম্মতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ও নিদর্শন; যেমন কাবার সাথে সংশ্লিষ্ট ইবাদতসমূহ। এই কারণেই তিনি হজ ও জিহাদকে একত্রে উল্লেখ করেছেন; যেহেতু এগুলোর প্রত্যেকটিই আল্লাহর পথে (সাবিলিল্লাহ) শামিল। আর জিহাদ হলো নস (النص) এবং ইজমা (الإجماع) অনুযায়ী আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ পথ, তেমনিভাবে হজও অধিক বিশুদ্ধ (الأصح) মত অনুযায়ী আল্লাহর পথ; যেমনটি তিনি বলেছেন: "হজ আল্লাহর পথের অন্তর্ভুক্ত" (১)। আর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, ইলম গোপনকারীর নিন্দা করার মাধ্যমে এটি আহলে কিতাবদের নিকট সুপরিচিত বলে স্পষ্ট করেছেন।
অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি ব্যতীত অন্য কোনো দীন কবুল করবেন না; এর শুরুতে রয়েছে: {সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর জন্য সমকক্ষ স্থির করো না (২২)} (সূরা বাকারা), এবং এর মধ্যভাগে রয়েছে: {আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে তাঁর সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে} (সূরা বাকারা: ১৬৫)। এখানে প্রথমটি সাধারণ নিষেধ এবং দ্বিতীয়টি বিশেষ নিষেধ। তিনি কাবার বর্ণনার পর এটি উল্লেখ করেছেন যাতে কাবার সাদৃশ্যপূর্ণ প্রতিমা, মাকবারা (কবর) এবং এই জাতীয় সমকক্ষদের লক্ষ্যবস্তু বানানো থেকে বিরত থাকা যায়। এর আগেই তিনি নিজের একত্ববাদ ঘোষণা করেছেন যে: {তিনি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু (১৬৩)} (সূরা বাকারা)।
এরপর তিনি তাঁর তাওহীদ সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ উল্লেখ করেছেন; তারপর হালাল ও হারামের বিষয়াবলী বর্ণনা করেছেন এবং খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্দেশ প্রদান করেছেন; কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) হানিফিয়্যাহ (একনিষ্ঠ আদর্শ) ও তার মূল নিদর্শন অর্থাৎ কাবার আদর্শ নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন। তিনি বৈধ ক্ষেত্রসমূহে এর উদারতা এবং রক্তপাতের ক্ষেত্রে শরীয়ত প্রবর্তিত কিসাস ও দিয়ত গ্রহণের বিধানসমূহ উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ইবাদতসমূহ আলোচনা করেছেন; মৃত্যুর সাথে সংশ্লিষ্ট অসিয়ত এবং রমজানের সাথে সংশ্লিষ্ট সিয়ামের কথা উল্লেখ করেছেন। ইতিকাফের বিষয়টি তিনি স্থান ও কাল উভয় সংশ্লিষ্ট ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেননা এটি মসজিদের সাথে এবং মুস্তাহাব বা ওয়াজিব হিসেবে সিয়ামের সময়ের সাথে নির্দিষ্ট। আর প্রথমে তিনি একে তওয়াফ ও সালাতের মাঝখানে রেখেছেন; কারণ তওয়াফ মসজিদুল হারামের সাথে নির্দিষ্ট এবং সালাত সকল স্থানে পালনের বিধান রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الأرض، والعكوف بينهما. ثم أتبع ذلك بالنهي عن أكل الأموال بالباطل، وأخبر أن المُحَرَّم نوعان: نوع لعَيْنِه؛ كالميتة، ونوع لكَسْبه؛ كالربا والمغصوب، فأَتْبَع المعنى الثَابِت بالمُحَرَّم الثابِت تحريمه لعَيْنِه، وذكر في أثناء عبادات الزمان المنتقلِ الحرامَ المُنْتَقِلَ؛ ولهذا أَتْبَعَه بقوله: {يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ} الآية (البقرة: 189)، وهي أعلام العبادات الزمنية، وأخبر أنه جعلها مواقيت للناس في أمر دينهم ودنياهم وللحج؛ لأن البيت تَحُجُّه الملائكة والجن، فكان هذا أيضًا في أن الحج مُوَقَّت بالزمان، كأنه مُوَقَّت بالبيت المكاني؛ ولهذا ذكر بعد هذا من أحكام الحج ما يختص بالزمان مع أن المكان من تمام الحج والعمرة.
وذكر المُحْصَر، وذَكَر تقديم الإحلال المُتَعَلِّق بالمال -وهو الهدي- عن الإحلال المُتَعَلِّق بالنَّفْس -وهو الحلق- وأن المُتَحَلِّل يَخْرُج من إحرامه، فيَحِلّ بالأسهل فالأسهل؛ ولهذا كان آخر ما يَحِل عين الوطء؛ فإنه أعظم المحظورات، ولا يَفْسُد النُّسُك بمحظور سواه.
وذكر التمتع بالعمرة إلى الحج لتَعَلُّقه بالزمان مع المكان؛ فإنه لا يكون مُتَمَتِّعًا حتى يُحْرِم بالعمرة في أشهر الحج، وحتى لا يكون أهله حاضري المسجد الحرامَ -وهو الأُفُقِيّ- فإنه الذي يَظْهَر التَّمَتُّع في حقه؛ لتَرَفُّهِه بسقوط أحد السفرين عنه، أما الذي هو حاضر فسِيَّانِ عنده تمتع أو اعتمر قبل أشهر الحج.
ثم ذكر وقت الحج، وأنه أشهر معلومات، وذكر الإحرام والوقوف بعرفة ومزدلفة؛ فإن هذا مختص بزمان ومكان؛ ولهذا قال: {فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ} (البقرة: 197)، ولم يقل: والعمرة؛ لأنها تُفْرَض في كل وقت، ولا ريب أن السُّنَّة فَرْض الحج في أشهره، ومن فَرَض قبله خالف السُّنَّة؛ فإما أن يلزمه ما التزمه
ভূমি এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান (ইতিকাফ)। এরপর তিনি অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, নিষিদ্ধ বিষয় দুই প্রকার: এক প্রকার যা সত্তাগত কারণেই নিষিদ্ধ, যেমন মৃত প্রাণী; এবং অন্য প্রকার যা উপার্জনের কারণে নিষিদ্ধ, যেমন সুদ ও জবরদখলকৃত সম্পদ। অতঃপর তিনি স্থায়ী বিষয়ের অনুগামী হিসেবে সত্তাগতভাবে নিষিদ্ধ বিষয়ের বিধানটি বর্ণনা করেছেন। আর সময়ভিত্তিক ইবাদতসমূহ আলোচনার মাঝে তিনি পরিবর্তনশীল নিষিদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। এজন্যই এর পরপরই তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীটি উল্লেখ করেছেন: "তারা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে" (আল-বাকারা: ১৮৯), যা সময়ভিত্তিক ইবাদতসমূহের নিদর্শন। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি একে মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ের জন্য এবং হজের জন্য সময় নির্ধারণকারী করেছেন। কারণ ফেরেশতা ও জিনগণ এই গৃহের (কাবা) হজ পালন করেন। সুতরাং এটিও হজের সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে, যেমনটি এটি নির্দিষ্ট স্থানভিত্তিক গৃহের সাথে নির্ধারিত। এ কারণেই তিনি এরপর হজের বিধানাবলি থেকে সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, যদিও স্থান হজ ও উমরার পূর্ণতার অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অতঃপর তিনি মুহসার (বাধাগ্রস্ত ব্যক্তি) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানের সাথে সংশ্লিষ্ট ইহরাম ত্যাগের বিষয়—যা হলো মুণ্ডন—তার আগে মালের সাথে সংশ্লিষ্ট ইহরাম ত্যাগের বিষয়—যা হলো হাদি বা কুরবানির পশু—তাকে উল্লেখ করেছেন। আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইহরাম ত্যাগকারী ব্যক্তি তার ইহরাম থেকে বের হয়ে আসবে এবং পর্যায়ক্রমে সহজতর পন্থায় হালাল হবে। এ কারণেই সবশেষে যা হালাল হয় তা হলো সহবাস; কেননা এটি সর্বশ্রেষ্ঠ নিষিদ্ধ কাজ এবং এটি ব্যতীত অন্য কোনো নিষিদ্ধ কার্যের মাধ্যমে ইবাদত নষ্ট হয় না।
তিনি হজের সাথে উমরার তামাত্তু যুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, কারণ এটি স্থানের সাথে সময়েরও সংশ্লিষ্টতা রাখে। কেননা হজের মাসসমূহে উমরার ইহরাম না বাঁধা পর্যন্ত কেউ তামাত্তুকারী হতে পারে না এবং শর্ত হলো তার পরিবার যেন মাসজিদুল হারামের নিকটবর্তী না হয়—যিনি দূরবর্তী হিসেবে গণ্য। মূলত তার ক্ষেত্রেই তামাত্তু প্রকাশ পায়; কারণ দুই সফরের একটি কমে যাওয়ায় সে এক প্রকার স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত রয়েছে, তার নিকট তামাত্তু করা কিংবা হজের মাসসমূহের আগে উমরা করা সমান কথা।
অতঃপর তিনি হজের সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন যে, তা হলো সুনির্দিষ্ট কয়েকটি মাস। তিনি ইহরাম, আরাফায় অবস্থান এবং মুজদালিফায় অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন; কারণ এগুলো নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট। এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে হজের সংকল্প করে" (আল-বাকারা: ১৯৭); তিনি এখানে উমরার কথা বলেননি, কারণ উমরা যেকোনো সময় পালন করা যায়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুন্নাহ (سنة) হলো হজের মাসগুলোতেই হজের ইহরাম বাঁধা। আর যে ব্যক্তি এর আগে ইহরাম বাঁধল সে সুন্নাহ (سنة) বিরোধী কাজ করল; এমতাবস্থায় সে যা নিজের ওপর অবধারিত করেছে তা হয় তাকে পালন করতে হবে...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كالنذر -إذ ليس فيه نَقْض للمشروع، وليس كمن صلى قبل الوقت- وإما أن يَلْزَم الإحرام، ويَسْقُط الحج، ويكون مُعْتَمِرًا؛ وهذان قولان مشهوران.
ثم أمر عند قضاء المناسك بذِكْره، وقضاؤها -والله أعلم- قضاء التَّفَث والإحلال؛ ولهذا قال بعد ذلك: {وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ} (البقرة: 203)، وهذا أيضًا من العبادات الزمانية المكانية؛ وهو ذكر الله تعالى مع رمي الجمار، ومع الصلوات، ودلّ على أنه مكاني قوله: {فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ} الآية (البقرة: 203)، وإنما يكون التعجيل والتأخير في الخروج من المكان؛ ولهذا تُضَاف هذه الأيام إلى مكانها فيُقال: أيام منى، وإلى عملها فيُقال: أيام التشريق، كما يُقال: ليلة جَمْع، وليلة مزدلفة، ويوم عرفة، ويوم الحج الأكبر، ويوم العيد، ويوم الجمعة؛ فُتضاف إلى الأعمال وأماكن الأعمال؛ إذ الزمان تابِع للحركة، والحركة تابعة للمكان.
فتدبَّر تناسب القرآن، وارتباط بعضه ببعض، وكيف ذَكَر أحكام الحج فيها في موضعين: مع ذكر بيته، وما يتعلق بمكانه، ومَوْضِعٍ ذَكَر فيه الأَهِلَّة، فذكر ما يتَعَلَّق بزمانه، وذكر أيضًا القتال في المسجد الحرام، والمقَاصَّة في الشهر الحرام؛ لأن ذلك مما يتعلَّق بالزمان المُتَعَلِّق بالمكان؛ ولهذا قَرَن سبحانه ذِكْر كون الأهلة مواقيت للناس والحج وذِكْر أن البِرّ ليس أن يُشْقِي الرجلُ نَفْسَه، ويفعل ما لا فائدة فيه؛ من كونه يَبْرُز للسماء فلا يَسْتَظِلّ بسَقْف بيته، حتى إذا أراد دخول بيته لا يأتيه إلا من ظهره، فأخبر أن الهلال الذي جُعِل مِيقاتًا للحج شَرْعٌ مثل هذا، وإنما تَضَمَّن شَرْعَ التقوى.
মানত করার মতো—যেহেতু এতে বিধিবদ্ধ বিধানের কোনো লঙ্ঘন নেই এবং এটি ওয়াক্ত হওয়ার আগে সালাত আদায় করার মতোও নয়—বরং হয় ইহরাম আবশ্যক হবে এবং হজ বাতিল হয়ে যাবে এবং সে ওমরাহ পালনকারী হবে; আর এগুলো দুটি প্রসিদ্ধ (مشهور) অভিমত।
অতঃপর হজের কার্যাদি সম্পন্নের সময় তাঁর জিকিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এগুলো সম্পন্ন করা—আল্লাহই ভালো জানেন—হলো ময়লা-আবর্জনা দূর করা এবং ইহরাম ত্যাগ করা; এ কারণেই তিনি এরপর বলেছেন: {আর তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো নির্দিষ্ট দিনসমূহে} (আল-বাকারাহ: ২০৩)। এটিও সময় ও স্থান কেন্দ্রিক ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত; যা হলো জামারাতে পাথর নিক্ষেপের সাথে এবং সালাতসমূহের সাথে মহান আল্লাহর জিকির করা। আর এটি যে স্থান কেন্দ্রিক, তার প্রমাণ হলো তাঁর বাণী: {তবে যে ব্যক্তি দু’দিনের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে চলে আসবে} আয়াত (আল-বাকারাহ: ২০৩)। কেননা তাড়াহুড়ো বা বিলম্ব করা কেবল স্থান থেকে প্রস্থানের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। এ কারণেই এই দিনগুলোকে তাদের স্থানের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, ফলে বলা হয়: মিনার দিনসমূহ; আর তাদের কাজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে বলা হয়: তাশরীকের দিনসমূহ। যেমন বলা হয়: জাম-এর রাত, মুজদালিফার রাত, আরাফার দিন, বড় হজ্বের দিন, ঈদের দিন এবং জুমার দিন। সুতরাং এগুলো আমল এবং আমলের স্থানের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়; যেহেতু সময় হলো গতির অনুসারী, আর গতি হলো স্থানের অনুসারী।
অতএব কুরআনের সামঞ্জস্য ও এর একটির সাথে অন্যটির আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে চিন্তা করুন। হজ্বের বিধানাবলি এতে কীভাবে দুটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে: একটি তাঁর ঘরের আলোচনার সাথে এবং এর স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির সাথে; আর অন্য স্থানে নতুন চাঁদের আলোচনার সাথে, যেখানে এর সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও মসজিদে হারামে যুদ্ধ এবং হারাম মাসে প্রতিশোধ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন; কারণ এগুলো স্থান-সংশ্লিষ্ট সময়ের সাথে যুক্ত। একারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নতুন চাঁদ মানুষের জন্য এবং হজ্বের জন্য সময় নির্ধারণকারী হওয়ার আলোচনার সাথে এই বিষয়টি যুক্ত করেছেন যে, পুণ্য এটি নয় যে মানুষ নিজেকে কষ্টে ফেলবে এবং এমন কাজ করবে যাতে কোনো ফায়দা নেই; যেমন খোলা আকাশের নিচে থাকা এবং নিজের ঘরের ছাদের ছায়াতলে না আসা, এমনকি যখন সে ঘরে প্রবেশ করতে চায় তখন কেবল ঘরের পেছন দিক দিয়ে আসা। তিনি জানিয়েছেন যে, নতুন চাঁদ যা হজ্বের জন্য সময় (ميقات) হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, তা এ জাতীয় বিধানের মতোই এবং তা কেবল তাকওয়ার বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ২০)
ثم ذكر بعد ذلك ما يتَعَلَّق بأحكام النكاح والوالدات، وما يتعلَّق بالأموال والصدقات والربا والديون وغير ذلك، ثم ختمها بالدعاء العظيم المُتَضَمِّن وَضْع الآصار والأغلال، والعفو والمغفرة، والرحمة وطلب النصر على القوم الكافرين الذين هم أعداء ما شَرَعَه من الدين في كتابه المبين. والحمد لله رب العالمين» اهـ (1).
وقال الشاطبي رحمه الله: «ثم لما هاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المدينة كان من أول ما نزل عليه سورة البقرة، وهي التي قرَّرَت قواعد التقوى المَبْنِيَّة على قواعد سورة الأنعام؛ فإنها بَيَّنَت من أقسام أفعال المكلفين جُمْلَتها، وإن تَبَيَّن في غيرها تفاصيل لها؛ كالعبادات التي هي قواعد الإسلام، والعادات من أصل المأكول والمشروب وغيرهما، والمعاملات من البيوع والأنكحة وما دَارَ بها، والجنايات من أحكام الدماء وما يليها.
وأيضًا؛ فإن حِفْظ الدين فيها، وحِفْظ النَّفْس والعقل والنسل والمال مُضَمَّن فيها، وما خرج عن المُقَرَّر فيها فبحكم التَّكْمِيل، فغيرها من السور المدنية المتأخرة عنها مَبْنِي عليها، كما كان غير الأنعام من المَكِّي المُتَأخِّر عنها مَبْنِيًّا عليها، وإذا تَنَزَّلْت إلى سائر السور بعضها مع بعض في الترتيب؛ وجدتَّها كذلك، حذو القُذَّة بالقُذَّة؛ فلا يَغِيبَنّ عن النَّاظر في الكتاب هذا المعنى؛ فإنه من أسرار علوم التفسير، وعلى حَسَب المعرفة به تَحْصُل له المعرفة بكلام ربه سبحانه» اهـ (2).
--------------------------------------------
এরপর তিনি বিবাহ ও মায়েদের বিধানাবলী এবং সম্পদ, সদকা, সুদ, ঋণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি এই সূরাটিকে সেই মহান দোয়ার মাধ্যমে শেষ করেছেন যাতে কঠিন বোঝা (الآصار) ও শৃঙ্খল (الأغلال) অপসারণ, ক্ষমা ও মাগফিরাত, রহমত এবং সেই কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্যের আবেদন রয়েছে যারা তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে বর্ণিত দ্বীনি বিধানের শত্রু। সকল প্রশংসা মহান রব্বুল আলামীনের জন্য। - সমাপ্ত (১)।
ইমাম শাতবি (রহ.) বলেন: “অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তাঁর ওপর সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছিল তা হলো সূরা আল-বাকারা। এটি তাকওয়ার সেই মূলনীতিসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে যা সূরা আল-আনআমের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত। কেননা এটি শরীয়তের দায়বদ্ধ (المكلفين) ব্যক্তিদের কার্যাবলীর প্রকারসমূহ সামগ্রিকভাবে বর্ণনা করেছে, যদিও সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ অন্য সব সূরায় এসেছে; যেমন ইবাদত—যা ইসলামের মূল ভিত্তি, সাধারণ রীতিনীতি (العادات) যেমন পানাহার ও অন্যান্য বিষয়, লেনদেন (المعاملات) যেমন ক্রয়-বিক্রয় ও বিবাহ এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ, এবং অপরাধ দণ্ডবিধি (الجنايات) যেমন রক্তপণ সংক্রান্ত বিধান ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ।
অনুরূপভাবে দ্বীন সংরক্ষণ, জীবন, আকল বা বুদ্ধি, বংশধারা এবং সম্পদ সংরক্ষণ—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। আর এতে যা নির্ধারিত হয়েছে তার অতিরিক্ত অংশ অন্য সূরায় পরিপূরক (التكميل) হিসেবে এসেছে। সুতরাং সূরা আল-বাকারার পরে অবতীর্ণ অন্যান্য মাদানি সূরাগুলো এর ওপরই ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, ঠিক যেমন সূরা আল-আনআমের পরে অবতীর্ণ অন্যান্য মাক্কি সূরাগুলো তার ওপর ভিত্তি করে ছিল। আপনি যদি অন্যান্য সূরাগুলোর পারস্পরিক ধারাবাহিক বিন্যাস লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন সেগুলো একে অপরের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ (حذو القذة بالقذة)। কিতাব অধ্যয়নকারীর নিকট যেন এই বিষয়টি গোপন না থাকে; কেননা এটি তাফসির শাস্ত্রের অন্যতম রহস্য, এবং এ সংক্রান্ত জ্ঞানের গভীরতা অনুসারেই তার রবের বাণীর মর্ম উপলব্ধি করা সম্ভব হবে।” - সমাপ্ত (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ২১)
2 - تدبر الآيات إجمالًا للتوصل إلى مقاصد السورة (1).
التطبيق:
1 - (سورة العنكبوت):قال ابن القيم رحمه الله: «فمضمون هذه السورة هو سِرُّ الخلق والأمر؛ فإنها سورة الابتلاء والامتحان، وبيان حال أهل البلوى في الدنيا والآخرة، ومن تأمل فاتحتها ووسطها وخاتمها، وجد في ضمنها أن أول الأمر ابتلاء وامتحان، ووسطه صبر وتوكل، وآخره هداية ونصر» (2).
2 - (سورة الرحمن):قال ابن القيم رحمه الله: «تأمل قوله تعالى: {الرَّحْمَنُ (1) عَلَّمَ الْقُرْآنَ (2) خَلَقَ الْإِنْسَانَ (3) عَلَّمَهُ الْبَيَانَ (4)} (الرحمن)، كيف جعل الخلق والتعليم ناشئًا عن صفة الرحمة مُتَعَلِّقًا باسم الرحمن، وجعل معاني السورة مُرتبطة بهذا الاسم، وختمها بقوله: {تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ (78)} (الرحمن)، فالاسم الذي تبارك هو الاسم الذي افتَتَح به السورة؛ إذ مجيء البركة كلِّها منه، وبه وُضِعَت البركة في كل مبارك، فكل ما ذُكِر عليه بُورك فيه، وكل ما خَلِيَ منه نُزِعَت منه البركة» (3).
--------------------------------------------
২ - সূরার উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) অনুধাবনের লক্ষ্যে সামগ্রিকভাবে আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করা (১)।
প্রয়োগ:
১ - (সূরা আল-আনকাবুত):ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «এই সূরার বিষয়বস্তু হলো সৃষ্টি ও আদেশের নিগূঢ় রহস্য; কেননা এটি পরীক্ষা (الابتلاء) ও যাচাইয়ের (الامتحان) সূরা, এবং দুনিয়া ও আখিরাতে বিপদগ্রস্তদের অবস্থার বর্ণনা। যে ব্যক্তি এর শুরু, মধ্যভাগ এবং শেষ নিয়ে চিন্তা করবে, সে এর অভ্যন্তরে দেখতে পাবে যে, বিষয়ের শুরু হলো পরীক্ষা (ابتلاء) ও যাচাই (امتحان), এর মধ্যভাগ হলো ধৈর্য (صبر) ও তাওয়াক্কুল (توكل), এবং এর শেষ হলো হিদায়াত (هداية) ও বিজয় (نصر)» (২)।
২ - (সূরা আর-রহমান):ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «আল্লাহ তাআলার এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন: {পরম করুণাময় (১) শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন (২) সৃষ্টি করেছেন মানুষ (৩) তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনাশক্তি (৪)} (আর-রহমান), কীভাবে তিনি সৃষ্টি এবং শিক্ষাদানকে রহমত (رحمة) গুণের ফল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং তা 'আর-রহমান' নামের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি সূরার অর্থসমূহকে এই নামের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন এবং এর সমাপ্তি টেনেছেন এই বাণীর মাধ্যমে: {মহিমান্বিত আপনার রবের নাম, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব (৭৮)} (আর-রহমান)। সুতরাং যে নামটি বরকতময় বলা হয়েছে, তা সেই নাম যার মাধ্যমে তিনি সূরাটি শুরু করেছিলেন; কেননা সকল বরকত (البركة) তাঁর পক্ষ থেকেই আসে এবং তাঁর মাধ্যমেই প্রতিটি বরকতপূর্ণ বস্তুর মধ্যে বরকত (البركة) প্রদান করা হয়েছে। ফলে যার ওপরই এই নাম স্মরণ করা হয় তাতে বরকত (بُورك) দেওয়া হয়, আর যা থেকে এটি বাদ পড়ে তা থেকে বরকত (البركة) ছিনিয়ে নেওয়া হয়» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ২২)
3 - (سورة الليل):«عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «إني لأقول: هذه السورة نزلت في السماحة والبخل» (1).
4 - (سور: الكافرون، الإخلاص، المعوذتان):فمقصود سورة الكافرون: تقرير البراءة من عبادة الكافرين ومن معبوداتهم؛ فهي في توحيد الطلب والقصد (توحيد العبادة).
أما سورة الإخلاص، فمقصودها: تقرير الوحدانية لله تعالى بذكر صفاته الدالة على ذلك؛ فهي في توحيد الإثبات والمعرفة (الأسماء والصفات).
وأما المعوذتان، فمقصود سورة الفلق: الاستعاذة من جميع الشرور.
وأما الناس: فالاستعاذة من شر الوسواس الخناس.
--------------------------------------------
৩ - (সূরা আল-লাইল):«ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি অবশ্যই বলি যে, এই সূরাটি উদারতা ও কৃপণতা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে" (১)।
৪ - (সূরাসমূহ: আল-কাফিরুন, আল-ইখলাস, আল-মুআউবিজাতাইন):সূরা আল-কাফিরুন-এর উদ্দেশ্য হলো: কাফিরদের ইবাদত এবং তাদের উপাস্যসমূহ থেকে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা প্রদান করা; এটি মূলত ইবাদতে আল্লাহর একত্ববাদের তলব ও উদ্দেশ্য (توحيد الطلب والقصد) তথা ইবাদতের একত্ববাদ (توحيد العبادة) সংশ্লিষ্ট।
আর সূরা আল-ইখলাস, এর উদ্দেশ্য হলো: মহান আল্লাহর গুণাবলী বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর একত্ববাদকে সাব্যস্ত করা যা এর প্রতি নির্দেশ করে; এটি মূলত সাব্যস্তকরণ এবং পরিচয়ের একত্ববাদ (توحيد الإثبات والمعرفة) তথা আল্লাহর নাম ও গুণাবলী (الأسماء والصفات) সংশ্লিষ্ট।
আর মুআউবিজাতাইন-এর ক্ষেত্রে, সূরা আল-ফালাকের উদ্দেশ্য হলো: সকল অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা।
আর সূরা আন-নাস: এর উদ্দেশ্য হলো আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার (الوسواس الخناس) অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3 - تدبُّر المعنى العام للآية للتوصُّل إلى المعنى الأساسي الذي نزلت لتقريره.
وهذا أمر لابد من مراعاته؛ ذلك أن المعنى المقصود أصالةً، قد يُفْقَد عند تَتَبُّع اللَّطائف البلاغية، والمُلَح التدبُّريَّة في وجوه التعبير المتنوعة؛ ولذا نجد أن ابن جرير رحمه الله يُورِد المعنى العام بعد الآية مباشرة، ثم يذكر التفاصيل والأقوال بعد ذلك.
وهذا وسط بين رأي من أنكر الاشتغال بالمناسبات والدقائق واللطائف، ومن أغرق في ذلك على حساب المعنى الأصلي للآية، مما يصرف القارئ عن ملاحظته (1).
--------------------------------------------
৩ - আয়াতের মূল অর্থ যা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সেটি অবতীর্ণ হয়েছে, তা অনুধাবনের জন্য এর সাধারণ অর্থ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা.
এটি এমন একটি বিষয় যা অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত; কারণ মৌলিকভাবে উদ্দেশ্যকৃত অর্থটি অনেক সময় অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সূক্ষ্মতা এবং গবেষণা-প্রসূত চমৎকার বিষয়সমূহ অনুসন্ধানের ভিড়ে হারিয়ে যেতে পারে। এজন্যই আমরা লক্ষ্য করি যে, ইবনে জারীর (রহিমাহুল্লাহ) আয়াতের পরপরই এর সাধারণ অর্থ উল্লেখ করেন এবং এরপর অন্যান্য বিস্তারিত বিবরণ ও মতামতসমূহ বর্ণনা করেন।
এটি তাদের অবস্থানের মাঝামাঝি একটি পথ, যারা আয়াতের পারস্পরিক সম্পর্ক (مناسبات), সূক্ষ্ম বিষয় এবং গূঢ় রহস্য নিয়ে চর্চাকে অস্বীকার করেন, আর যারা আয়াতের মূল অর্থের বিনিময়ে এগুলোর গভীরে অতিমাত্রায় নিমজ্জিত হন, যা পাঠককে মূল বিষয় লক্ষ্য করা থেকে বিচ্যুত করে দেয় (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الباب الثانيفي المعاني والهدايات المستخرجةوفق القواعد والأصول المعتبرة (1)
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদআহরিত অর্থ ও হেদায়াতসমূহ প্রসঙ্গেস্বীকৃত নিয়মাবলি (القواعد) এবং মূলনীতি (الأصول) অনুযায়ী(১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أولاً: إعمال أنواع الدلالة في استخراج الهدايات من الآيات الكريمة.
توطئة:من المعلوم أن معاني الألفاظ: إما أن تكون مُسْتَفادة من منطوق اللفظ، أو من مفهومه.
وكل نوع من هذين (المنطوق والمفهوم) تحته أنواع، سنعرض جملة منها مع تطبيقاتها.
قال السعدي رحمه الله: «القاعدة الحادية عشرة: مُرَاعَاة دلالة التَّضَمُّن والمُطَابَقة والالتزام.
كما أن المُفَسِّر للقرآن يُرَاعِي ما دلت عليه ألفاظه مُطَابَقة، وما دخل في ضمنها، فعليه أن يُرَاعِي لوازم تلك المعاني، وما تستدعيه من المعاني التي لم يُعَرَّج في اللفظ على ذِكْرِها.
وهذه القاعدة: من أَجَلّ قواعد التفسير وأنفعها، وتَسْتَدعي قوة فِكْر، وحُسْن تدبر، وصحة قصد؛ فإن الذي أنزله للهدى والرحمة هو العَالِم بكل شيء، الذي أحاط علمه بما تُكِنّ الصدور، وبما تَضَمَّنَه القرآن من المعاني، وما يتبعها وما يتقدمها، وتتوقف هي عليه.
ولهذا أجمع العلماء على الاستدلال باللوازم في كلام الله لهذا السبب.
والطريق إلى سلوك هذا الأصل النافع: أن تَفْهَم ما دل عليه اللفظ من المعاني، فإذا فهمتها فهمًا جيدًا، فَفَكِّر في الأمور التي تتوقف عليها، ولا تحصل بدونها، وما يُشْتَرط لها، وكذلك فَكِّر فيما يترتب عليها، وما يتفرع عنها، وينبني عليها،
প্রথমত: পবিত্র আয়াতসমূহ থেকে হেদায়েত আহরণে নির্দেশনার (دلالة) প্রকারভেদসমূহের প্রয়োগ।উপস্থাপনা:এটি সুবিদিত যে, শব্দের অর্থসমূহ: হয় শব্দের বাচ্যার্থ বা সুস্পষ্ট উচ্চারণ (منطوق) থেকে গৃহীত হয়, অথবা এর মর্মার্থ বা ব্যঞ্জনা (مفهوم) থেকে।
এই দুই প্রকারের (বাচ্যার্থ (منطوق) ও মর্মার্থ (مفهوم)) প্রত্যেকটির অধীনে আরও বিভিন্ন প্রকার রয়েছে, যেগুলোর মধ্য থেকে কিছু আমরা প্রয়োগসহ উপস্থাপন করব।
ইমাম সাদি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «একাদশ নীতি: অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্দেশনা (تضمن), পূর্ণাঙ্গ সমার্থক নির্দেশনা (مطابقة) এবং আবশ্যিক অনুষঙ্গিক নির্দেশনা (التزام)-এর প্রতি লক্ষ্য রাখা।
কুরআনের মুফাসসির যেভাবে এর শব্দসমূহ পূর্ণাঙ্গ সমার্থক (مطابقة) হিসেবে যা নির্দেশ করে এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেদিকে লক্ষ্য রাখেন, তেমনিভাবে তাঁর উচিত সেই অর্থগুলোর আবশ্যিক অনুষঙ্গসমূহের (لوازم) প্রতিও খেয়াল রাখা; এবং ঐ সকল অর্থের প্রতিও লক্ষ্য রাখা যা সেই শব্দগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করা সত্ত্বেও শব্দগুলো দাবি করে।
আর এই নীতিটি: তাফসিরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক উপকারী নীতি। এটি গভীর চিন্তা-শক্তি, উত্তম অনুধাবন এবং সঠিক সংকল্পের দাবি রাখে। কারণ যিনি একে হেদায়েত ও রহমত হিসেবে নাজিল করেছেন, তিনি সর্বজ্ঞাত; যাঁর জ্ঞান অন্তরসমূহে যা গোপন আছে এবং কুরআনে যে সকল অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এর অনুগামী ও অগ্রগামী যা কিছু আছে এবং যার ওপর এগুলো নির্ভরশীল—সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।
একারণেই এই বিশেষ কারণে আলেমগণ আল্লাহর কালামের ক্ষেত্রে আবশ্যিক অনুষঙ্গসমূহ (لوازم) দ্বারা প্রমাণ গ্রহণের (استدلال) বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
এই উপকারী মূলনীতিটি অনুসরণের পথ হলো: শব্দ যে সকল অর্থ নির্দেশ করে তা আপনি অনুধাবন করবেন; যখন আপনি সেগুলো ভালোভাবে বুঝবেন, তখন সেই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করবেন যার ওপর এই অর্থগুলো নির্ভরশীল এবং যা ব্যতীত এগুলো অর্জিত হয় না এবং যা এর জন্য শর্তারোপ (يشترط) করা হয়। একইভাবে চিন্তা করবেন সেই বিষয়গুলো নিয়ে যা এর পরিণাম হিসেবে সাব্যস্ত হয়, যা এর থেকে উৎসারিত হয় এবং যা এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأَكْثِر من هذا التفكير ودَاوِم عليه، حتى تصير لك مَلَكَة جيدة في الغَوْص على المعاني الدقيقة؛ فإن القرآن حق، ولَازِم الحق حق، وما يتوقف على الحق حق، وما يتفرع عن الحق حق؛ ذلك كله حق ولا بد.
فمن وُفِّق لهذه الطريقة، وأعطاه الله توفيقًا ونورًا، انفتحت له في القرآن العلوم النافعة، والمعارف الجليلة، والأخلاق السامية، والآداب الكريمة العالية» اهـ (1).
تطبيقات شاملة (2):
1 - قال تعالى: {وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ (56)} (الأعراف).
قال ابن القيم رحمه الله: «وقوله: {إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ} له دلالة بمنطوقه، ودلالة بإيمائه وتعليله، ودلالة بمفهومه؛ فدلالته بمنطوقه على قُرْب الرحمة من أهل الإحسان، ودلالته بتعليله وإيمائه على أن هذا القُرْب مُسْتَحَقٌّ بالإحسان؛ فهو السبب في قُرْب الرحمة منهم، ودلالته بمفهومه على بُعْد الرحمة من غير المحسنين؛ فهذه ثلاث دلالات لهذه الجملة» (3).
2 - قال تعالى: {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ (2) غَافِرِ الذَّنْبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ الْعِقَابِ ذِي الطَّوْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ (3) مَا يُجَادِلُ فِي آيَاتِ اللَّهِ إِلَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَا يَغْرُرْكَ تَقَلُّبُهُمْ فِي الْبِلَادِ (4)} (غافر).
--------------------------------------------
এই প্রকার চিন্তা অধিক পরিমাণে করুন এবং এতে নিরন্তর নিমগ্ন থাকুন, যতক্ষণ না আপনার মাঝে সূক্ষ্ম অর্থসমূহ উদঘাটনে একটি সুনিপুণ দক্ষতা (ملكة) তৈরি হয়; কারণ কুরআন সত্য, আর সত্যের অনিবার্য দাবি (لازم) সত্য, যা সত্যের ওপর নির্ভরশীল তাও সত্য এবং যা সত্য থেকে উৎসারিত তাও সত্য; এই সবকিছুই অনিবার্যভাবে সত্য।
সুতরাং যাকে এই পদ্ধতির তাওফিক দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ যাকে তাওফিক ও নূর দান করেছেন, তার জন্য কুরআনের উপকারী ইলম, মহান জ্ঞান, উচ্চতর চরিত্র এবং মহান ও উন্নত আদবসমূহের দ্বার উন্মোচিত হয়।" সমাপ্ত (১)।
সামগ্রিক প্রয়োগ (২):
১ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা যমীনে সংশোধন করার পর তাতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না, এবং তাঁকে ভয় ও আশা নিয়ে ডাকো; নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত ইহসানকারীদের নিকটবর্তী (৫৬)} (আরাফ)।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত ইহসানকারীদের নিকটবর্তী} এর সুস্পষ্ট ভাষ্যের (منطوق) মাধ্যমে একটি নির্দেশক অর্থ রয়েছে, এর ইঙ্গিত (إيماء) ও কারণ নির্দেশের (تعليل) মাধ্যমে একটি নির্দেশক অর্থ রয়েছে এবং এর মর্মার্থের (مفهوم) মাধ্যমে একটি নির্দেশক অর্থ রয়েছে। এর সুস্পষ্ট ভাষ্যের (منطوق) নির্দেশক অর্থ (دلالة) হলো ইহসানকারীদের প্রতি রহমত নিকটবর্তী হওয়া; এর কারণ নির্দেশ (تعليل) ও ইঙ্গিতের (إيماء) নির্দেশক অর্থ (دلالة) হলো এই যে, এই নৈকট্য ইহসানের মাধ্যমেই অর্জিত হয়, আর এটিই তাদের প্রতি রহমত নিকটবর্তী হওয়ার কারণ; এবং এর মর্মার্থের (مفهوم) নির্দেশক অর্থ (دلالة) হলো যারা ইহসানকারী নয় তাদের থেকে রহমত দূরে থাকা। সুতরাং এই বাক্যটির তিনটি নির্দেশক অর্থ (دلالات) রয়েছে।" (৩)।
২ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে, (২) যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা এবং সামর্থ্যবান। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে। (৩) যারা কুফরি করে তারা ছাড়া আর কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্ক করে না। সুতরাং শহরগুলোতে তাদের বিচরণ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে (৪)} (গাফির)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال ابن القيم رحمه الله: «وتَأَمَّل كيف افْتَتَح الآية بقوله: {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ}، والتنزيل يَسْتَلْزِم عُلُوَّ المُنَزَّل من عنده؛ لا تَعْقِل العرب من لغتها -بل ولا غيرها من الأمم السليمة الفطرة- إلا ذلك.
وقد أخبر أن تنزيل الكتاب منه، فهذا يدل على شيئين:
أحدهما: عُلُوّه تعالى على خلقه.
والثاني: أنه هو المتكلم بالكتاب المنزل من عنده لا غيره.
فإنه أخبر أنه منه، وهذا يقتضي أن يكون منه قولًا، كما أنه منه تنزيلًا. فإن غيره لو كان هو المتكلم به لكان الكتاب من ذلك الغير، فإن الكلام إنما يُضَاف إلى المُتَكَلِّم به، ومثل هذا: {وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي} (السجدة: 13)، ومثله: {قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ} (النحل: 102)، ومثله: {تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} (فصلت: 42)، فاسْتَمْسِك بحرف (مِن) في هذه المواضع، فإنه يقطع حُجَج شَغْب المعتزلة والجهمية.
وتأمل كيف قال: {تَنْزِيلٌ مِنْ}، ولم يقل: (تنزيله)، فتضمنت الآية إثبات علوه، وكلامه، وثبوت الرسالة.
ثم قال: {الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} (فصلت: 2)، فتضمن هذان الاسمان صِفَتَي القُدرة والعلم وخلق أعمال العباد وحُدُوث كل ما سوى الله؛ لأن القَدَر هو قُدرة الله؛ كما قال أحمد بن حنبل؛ فتضمنت إثبات القدر؛ ولأن عزته تمنع أن يكون في مُلْكِه ما لا يشاؤه، أو أن يشاء ما لا يكون؛ فكمال عزته تُبْطِل ذلك.
وكذلك كمال قدرته تُوجب أن يكون خالق كل شيء، وذلك ينفي أن يكون في العالم شيء قديم لا يتعلق به خلقه؛ لأن كمال قدرته وعزته يُبْطِل ذلك.
ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «লক্ষ্য করুন, কীভাবে তিনি এই বাণীর মাধ্যমে আয়াতের সূচনা করেছেন: {কিতাব অবতীর্ণ হওয়া}; আর 'অবতরণ' (تنزيل) অবধারিতভাবে প্রমাণ করে যে, যাঁর পক্ষ থেকে এটি অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর 'সুউচ্চতা' (علو) রয়েছে। আরবরা তাদের ভাষা থেকে—বরং সুস্থ স্বভাবজাত অন্য কোনো জাতিও—এটি ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না।
তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে কিতাব অবতীর্ণ হওয়া তাঁরই পক্ষ থেকে, আর এটি দুটি বিষয় প্রমাণ করে:
প্রথমটি: সৃষ্টিজগতের ওপর মহান আল্লাহর 'সুউচ্চতা' (علو)।
দ্বিতীয়টি: তিনিই এই অবতীর্ণ কিতাবের 'বক্তা' (متكلم), অন্য কেউ নয়।
কেননা তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে এটি তাঁরই পক্ষ থেকে; আর এটি দাবি করে যে, কিতাবটি যেমন তাঁর পক্ষ থেকে 'অবতরণকৃত' (تنزيل), তেমনিভাবে এটি তাঁরই 'বাণী' (قول)। কারণ, অন্য কেউ যদি এর বক্তা হতো, তবে কিতাবটি সেই অন্য ব্যক্তির হতো। কেননা কথা মূলত যাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয় তারই দিকে সম্বন্ধ করা হয়। আর এর অনুরূপ হলো: {কিন্তু আমার পক্ষ থেকেই কথা (القول) সত্য হয়েছে} (আস-সাজদাহ: ১৩), এবং অনুরূপ: {বলুন, একে পবিত্র আত্মা আপনার রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করেছেন} (আন-নাহল: ১০২), এবং অনুরূপ: {এটি প্রজ্ঞাময় ও চির প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل)} (ফুসসিলাত: ৪২)। সুতরাং এই স্থানগুলোতে 'মিন' (مِن) অক্ষরটি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন; কেননা এটি মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের বিভ্রান্তিকর বিতর্ক ও যুক্তিগুলোকে ছিন্ন করে দেয়।
আর লক্ষ্য করুন, তিনি কীভাবে বলেছেন: {পক্ষ থেকে অবতীর্ণ}, তিনি 'তাঁর অবতরণ' বলেননি। ফলে এই আয়াতটি তাঁর 'সুউচ্চতা' (علو), তাঁর 'কালাম' (كلام) এবং রিসালাতের সত্যতাকে সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এরপর তিনি বলেছেন: {পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ} (ফুসসিলাত: ২)। সুতরাং এই নাম দুটি 'ক্ষমতা' (قدرة) ও 'জ্ঞান' (علم)-এর গুণাবলী, বান্দাদের আমল সৃষ্টি এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে সেগুলোর 'নশ্বরতা' (حدوث)-কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। কারণ 'তাকদীর' (القدر) হলো আল্লাহর 'ক্ষমতা' (قدرة); যেমনটি আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন। ফলে এটি 'তাকদীরের' (القدر) প্রমাণকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। কেননা তাঁর 'পরাক্রম' (عزة) এতে বাধা দেয় যে, তাঁর রাজত্বে এমন কিছু ঘটবে যা তিনি চান না, অথবা তিনি এমন কিছু চাইবেন যা ঘটবে না; সুতরাং তাঁর পূর্ণাঙ্গ 'পরাক্রম' (عزة) একে বাতিল করে দেয়।
একইভাবে তাঁর 'ক্ষমতার' (قدرة) পূর্ণতা এটি আবশ্যক করে যে, তিনি হবেন প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা। আর এটি জগৎ সংসারে এমন কোনো 'অনাদি' (قديم) বিষয়ের অস্তিত্বকে নাকচ করে যার সৃষ্টির সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই; কারণ তাঁর ক্ষমতার পূর্ণতা এবং তাঁর 'পরাক্রম' (عزة) একে বাতিল করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ثم قال تعالى: {غَافِرِ الذَّنْبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ} (غافر: 3)، والذنب مخالفة شرعه وأمره، فتضمن هذان الاسمان إثبات شرعه وإحسانه وفضله.
ثم قال تعالى: {شَدِيدِ الْعِقَابِ}، وهذا جزاؤه للمذنبين، {ذِي الطَّوْلِ} جزاؤه للمحسنين، فتضمنت الثواب والعقاب.
ثم قال تعالى: {لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ} (غافر: 3)، فتضمن ذلك التوحيد والمعاد.
فتضمنت الآيتان إثبات صفة العلو، والكلام، والقدرة، والعلم، والشرع، والقَدَر، وحدوث العالم، والثواب والعقاب، والتوحيد والمعاد، وتنزيل الكتاب منه على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم يتضمن الرسالة والنبوة؛ فهذه عشرة قواعد الإسلام والإيمان تجلى على سمعك في هذه الآية العظيمة.
ولكن ..
خَوْدٌ تُزَفُّ إلى ضرير مُقْعَد
… . . . . . . . . . . . . . . . . . . (1).
فهل خطر ببالك قط أن هذه الآية تتضمن هذه العلوم والمعارف مع كثرة قراءتك لها وسماعك إياها؟ ! وهكذا سائر آيات القرآن، فما أشَدَّها من حسرة وأعظمها من غَبْنَة على من أفنى أوقاته في طلب العلم، ثم يخرج من الدنيا وما فهم حقائق القرآن ولا باشر قلبه أسراره ومعانيه، فالله المستعان» (2).
--------------------------------------------
অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {পাপ ক্ষমাশীল এবং তওবা কবুলকারী} (গাফির: ৩)। আর পাপ হলো তাঁর শরিয়ত ও আদেশের বিরুদ্ধাচরণ। সুতরাং এই নাম দুটি তাঁর শরিয়ত, অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্বের সাব্যস্তকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।
অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {কঠোর শাস্তিদাতা}, এটি হলো পাপিষ্ঠদের জন্য তাঁর প্রতিদান; {প্রাচুর্যের অধিকারী}, এটি সৎকর্মশীলদের জন্য তাঁর প্রতিদান। ফলে এতে সওয়াব ও শাস্তি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এরপর মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনস্থল} (গাফির: ৩)। ফলে এটি তাওহিদ ও পরকালকে অন্তর্ভুক্ত করে।
সুতরাং এই আয়াত দুটি উচ্চমর্যাদা, কালাম (কথা), ক্ষমতা, জ্ঞান, শরিয়ত, তাকদির, জগতের সৃষ্টি, সওয়াব ও আজাব, তাওহিদ এবং পরকালের গুণাবলি সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে কিতাব নাজিল হওয়া রেসালাত ও নবুওয়াতকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই হলো ইসলাম ও ঈমানের দশটি মূলনীতি, যা এই মহান আয়াতে আপনার কর্ণে উদ্ভাসিত হয়েছে।
কিন্তু ..
একজন সুন্দরী যুবতীকে বাসরঘরে পাঠানো হচ্ছে একজন অন্ধ ও পঙ্গু ব্যক্তির কাছে
… . . . . . . . . . . . . . . . . . . (১)।
আপনার মনে কি কখনো এই চিন্তা এসেছে যে, এই আয়াতটি বারবার পড়া এবং শোনা সত্ত্বেও এতে এমন সব জ্ঞান ও প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে?! কোরআনের অন্যান্য আয়াতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। সেই ব্যক্তির জন্য আফসোস ও বঞ্চনা কতই না প্রবল, যে জ্ঞান অন্বেষণে নিজের সময় ব্যয় করল, অথচ কোরআনের প্রকৃত হাকিকত না বুঝেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিল এবং তার অন্তর কোরআনের রহস্য ও অর্থ স্পর্শ করতে পারল না। আল্লাহই সাহায্যকারী (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وبعد هذا الإجمال إليك شيئًا من التفصيل في هذه الأنواع:
النوع الأول: «دلالة المنطوق» (1):
وهو قسمان:
1 - المنطوق الصريح؛ وهو نوعان:
(أ) دلالة المطابقة (2):
التطبيق:1 - قال تعالى: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ (185)} (البقرة).
قال ابن عثيمين رحمه الله: «هذه الهداية تشمل: هداية العلم وهداية العمل، وهي التي يُعَبَّر عنها أحيانًا بهداية الإرشاد، وهداية التوفيق؛ فالإنسان إذا صام رمضان وأكمله، فقد منّ الله عليه بهدايتين: هداية العلم، وهداية العمل.
--------------------------------------------
এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনার পর, এই প্রকারগুলোর কিছুটা বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:প্রথম প্রকার: «শব্দের উচ্চারিত অর্থের নির্দেশনা (دلالة المنطوق)» (১):
এটি দুই প্রকার:
১ - সুস্পষ্ট উচ্চারিত অর্থ (المنطوق الصريح); এটি দুই প্রকার:(ক) পূর্ণাঙ্গ অর্থের নির্দেশনা (دلالة المطابقة) (২):
প্রয়োগ:১ - মহান আল্লাহ বলেন: {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট প্রমাণ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন এতে রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তাকে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কষ্ট চান না। আর যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে পার এবং তোমাদের যে হিদায়াত দিয়েছেন তার জন্য আল্লাহর মহিমা ঘোষণা কর আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।} (আল-বাকারাহ: ১৮৫)।
ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «এই হিদায়াত ইলম বা জ্ঞানের হিদায়াত এবং আমল বা কর্মের হিদায়াত—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। একে অনেক সময় পথপ্রদর্শনমূলক হিদায়াত (هداية الإرشاد) এবং তৌফিকদানকারী হিদায়াত (هداية التوفيق) হিসেবে অভিহিত করা হয়; সুতরাং কোনো ব্যক্তি যখন রমজানের রোজা রাখে এবং তা পূর্ণ করে, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে দুটি হিদায়াত দ্বারাই ধন্য করেন: জ্ঞানের হিদায়াত এবং কর্মের হিদায়াত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قوله تعالى: {وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ}؛ أي: تقومون بشكر الله عز وجل؛ و (لعل) هنا للتعليل، و {تَشْكُرُونَ} على أمور أربعة: إرادة الله بنا اليُسْر، عدم إرادته العُسْر، إكمال العِدَّة، التكبير على ما هدانا؛ هذه الأمور كلها نِعَم تحتاج منا أن نشكر الله عز وجل عليها؛ ولهذا قال تعالى: {وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ}، و (الشكر) هو القيام بطاعة المُنْعِم بفعل أوامره، واجتناب نواهيه» (1).
2 - قال تعالى: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} (البقرة: 196).
لا تُفَكِّر في تصميم حج مُختصر (2).
3 - قال تعالى: {وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِتَعْتَدُوا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ} (البقرة: 231).
إنها تربية قرآنية تؤكد على أن الاعتداء على الآخرين هو ظلم للنفس أولًا؛ بتعريضها لسخط الله وغضبه (3).
4 - قال تعالى: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ} (العنكبوت: 69).
قال السعدي رحمه الله: «دل هذا على أن أحرى الناس بموافقة الصواب أهل الجهاد، وعلى أن من أحسن فيما أُمِرَ به أعانه الله ويسر له أسباب الهداية، وعلى أن من جد واجتهد في طلب العلم الشرعي، فإنه يحصل له من الهداية والمعونة على تحصيل
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলার বাণী: {যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো}; অর্থাৎ: তোমরা মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করো; আর এখানে (লা'আল্লা) শব্দটি কারণ দর্শানোর (تعليل) জন্য এসেছে। আর {তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} বিষয়টি চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে: আমাদের জন্য আল্লাহর সহজ করার ইচ্ছা পোষণ করা, কাঠিন্য বা কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছা না রাখা, দিন গণনা পূর্ণ করা এবং হিদায়াত প্রদানের জন্য তাঁর মহিমা ঘোষণা করা; এই বিষয়গুলো সবই এমন নেয়ামত যার জন্য আমাদের মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রয়োজন; এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো}। আর (শুকর) বা কৃতজ্ঞতা হলো নেয়ামত প্রদানকারীর আনুগত্য করা তাঁর নির্দেশসমূহ পালন এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জনের মাধ্যমে। (১)
২ - মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ ও উমরা পূর্ণ করো} (বাকারাহ: ১৯৬)।
সংক্ষিপ্ত কোনো হজের পরিকল্পনা করার কথা ভাববেন না (২)।
৩ - মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তাদের কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না সীমা লঙ্ঘন করার জন্য; আর যে এরূপ করবে সে নিজের প্রতিই জুলুম করবে} (বাকারাহ: ২৩১)।
এটি একটি কুরআনিক শিক্ষা যা এই কথা নিশ্চিত করে যে, অন্যের ওপর সীমালঙ্ঘন করা আসলে প্রথমত নিজের ওপরই জুলুম করা; যা তাকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও ক্রোধের সম্মুখীন করে (৩)।
৪ - মহান আল্লাহ বলেন: {যারা আমার পথে সাধনা করে আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব; নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন} (আনকাবুত: ৬৯)।
আস-সাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক পথে চলার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মানুষ হলো জিহাদে লিপ্ত ব্যক্তিরা; আর যে ব্যক্তি তাকে দেওয়া নির্দেশের ব্যাপারে নিষ্ঠার সাথে সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন এবং তার জন্য হিদায়াতের পথ সহজ করে দেন। আর যে ব্যক্তি শরয়ি জ্ঞান অর্জনে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করে, তবে সে হিদায়াত এবং জ্ঞান অর্জনে সহায়তা প্রাপ্ত হয়...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
مطلوبه أمور إلهية خارجة عن مُدْرَك اجتهاده، وتيسر له أمر العلم؛ فإن طلب العلم الشرعي من الجهاد في سبيل الله، بل هو أحد نوعي الجهاد الذي لايقوم به إلا خواص الخلق» (1).
وقال ابن القيم رحمه الله: «عَلَّق سبحانه الهداية بالجهاد، فأكملُ الناس هداية أعظمهم جهادًا، وأَفْرَضُ الجهاد: جهاد النَّفس، وجهاد الهوى، وجهاد الشَّيطان، وجهاد الدُّنيَا؛ فمن جاهد هذه الأربعة في الله، هداه الله سبل رِضاهُ الموصلة إلى جنته، ومن ترك الجهاد، فَاتَهُ من الهدى بِحَسب ما عَطَّل من الجهاد، قال الجُنَيد: والَّذين جاهدوا أهواءهم فِينَا بالتوبة، لنهدينهم سبل الإخلاص. ولا يتَمَكَّن من جهاد عدوه في الظَّاهر إلا من جاهد هذه الأعدَاء باطنًا؛ فمن نُصِر عَلَيهَا نُصِر على عدوه، ومن نُصِرت عليه نُصِر عليه عدوه» (2).
ب- دلالة التَّضَمُّن (3):
التطبيق:1 - قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (183)} (البقرة).
قال شيخ الإسلام رحمه الله: «لكن أهل الكتابين بدّلوا؛ ولهذا نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن تقدم رمضان باليوم واليومين، وعَلَّل الفقهاء ذلك بما يُخَاف من أن يُزَاد في الصوم
--------------------------------------------
তাঁর অন্বেষিত বস্তু হলো এমন কিছু ঐশ্বরিক বিষয় যা তাঁর ব্যক্তিগত গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর বোধগম্যতার ঊর্ধ্বে, এবং তাঁর জন্য ইলম বা জ্ঞানের বিষয়টিকে সহজ করে দেওয়া হয়েছে; কেননা শরয়ী জ্ঞান অর্জন করা আল্লাহর পথে জিহাদের অন্তর্ভুক্ত, বরং এটি জিহাদের এমন দুই প্রকারের একটি যা কেবল সৃষ্টির বিশিষ্ট ব্যক্তিরাই সম্পাদন করে থাকেন» (১)।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হিদায়াতকে জিহাদের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। অতএব মানুষের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণ হিদায়াতপ্রাপ্ত তারাই যারা জিহাদে সবচেয়ে অগ্রগামী। আর সবচেয়ে আবশ্যিক জিহাদ হলো: নফসের (نفس) সাথে জিহাদ, কুপ্রবৃত্তির (هوى) সাথে জিহাদ, শয়তানের সাথে জিহাদ এবং দুনিয়ার সাথে জিহাদ; যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই চারটির বিরুদ্ধে জিহাদ করবে, আল্লাহ তাকে তাঁর সন্তুষ্টির সেই পথে পরিচালিত করবেন যা জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। আর যে ব্যক্তি জিহাদ ত্যাগ করবে, সে যতটুকু জিহাদ ত্যাগ করেছে সেই অনুপাতে হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হবে। জুনায়েদ (র.) বলেন: যারা তওবার মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্যে তাদের কুপ্রবৃত্তির (أهواء) বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে একনিষ্ঠতা বা ইখলাসের (إخلاص) পথে পরিচালিত করব। বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা ততক্ষণ সম্ভব নয় যতক্ষণ না কেউ অভ্যন্তরীণভাবে এই শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে; যে ব্যক্তি এই অভ্যন্তরীণ শত্রুদের ওপর বিজয়ী হয় সে তার (বাহ্যিক) শত্রুর ওপরও বিজয়ী হয়, আর যে এদের কাছে পরাজিত হয় তার শত্রু তার ওপর বিজয়ী হয়» (২)।
খ- অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থবোধকতা (دلالة التضمن) (৩):
প্রয়োগ:১ - মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার (১৮৩)} (আল-বাকারাহ)।
শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «কিন্তু দুই কিতাবধারী তথা আহলে কিতাবগণ পরিবর্তন সাধন করেছে; এ কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের একদিন বা দুইদিন আগে থেকে রোজা শুরু করতে নিষেধ করেছেন। আর ফকিহগণ (فقهاء) এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, রোজার মধ্যে অতিরিক্ত কিছু বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াল উসূলু ওয়া তাতবীকাতুত তাদাব্বুর
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المفروض ما ليس منه، كما زاده أهل الكتاب من النصارى، فإنهم زادوا في صومهم، وجعلوه فيما بين الشتاء والصيف، وجعلوا له طريقة من الحساب يتعرفونه بها» (1).
وقال السعدي رحمه الله: «وفيه تنشيطٌ لهذه الأمة بأنه ينبغي لكم أن تُنَافِسُوا غيركم في تكميل الأعمال، والمُسارعة إلى صالح الخِصَال، وأنه ليس من الأمور الثقيلة التي اختصيتم بها» (2)؛ إشارة إلى أصل الفرضية، وذلك بعض معنى الآية.
2 - قال تعالى: {مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ (79)} (آل عمران).
قال ابن كثير رحمه الله: «قال الضحاك رحمه الله:
… حق على من تعلم القرآن أن يكون فقيهًا» (3). وذلك أحد المعاني الداخلة تحت هذا الوصف (الرباني).
3 - قال تعالى: {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ (24)} (السجدة).
قال ابن كثير رحمه الله: «قال قتادة وسفيان: {لَمَّا صَبَرُوا} عن الدنيا
… قال سفيان: هكذا كان هؤلاء، ولا ينبغي للرجل أن يكون إمامًا يُقْتَدَى به حتى يتحامى عن الدنيا» (4)؛ وهو بعض معنى الآية.
--------------------------------------------
নির্ধারিত দায়িত্ব (المفروض) নয় এমন কিছু তাতে অন্তর্ভুক্ত করা, যেমনটি আহলে কিতাবের নাসারারা (খ্রিস্টানরা) বৃদ্ধি করেছিল। তারা তাদের সিয়াম বা রোজায় বৃদ্ধি ঘটিয়েছিল এবং তা শীত ও গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে নির্ধারণ করেছিল। তারা এটি নির্ধারণের জন্য গণনার একটি পদ্ধতিও তৈরি করেছিল (১)।
আস-সাদি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এর মধ্যে এই উম্মতের জন্য অনুপ্রেরণা রয়েছে যে, আমলসমূহ পূর্ণ করতে এবং উত্তম গুণাবলি অর্জনে দ্রুত ধাবিত হওয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতা করা উচিত। আর এটি এমন কোনো ভারী বিষয় নয় যা কেবল তোমাদের ওপরই অর্পণ করা হয়েছে" (২); এটি মূলত ফরজ হওয়ার মূল বিধানের প্রতি ইঙ্গিত, যা আয়াতের অর্থের একটি অংশ।
২ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {কোনো মানুষের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, প্রজ্ঞা ও নবুওয়াত দান করবেন, আর সে মানুষকে বলবে—আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা আমার ইবাদতকারী হয়ে যাও। বরং সে বলবে—তোমরা রাব্বানি (আল্লাহওয়ালা) হও; যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং নিজেরাও তা অধ্যয়ন করতে (৭৯)} (সূরা আল-ইমরান)।
ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "দাহহাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ... যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করেছে তার জন্য ফকিহ (فقيه) হওয়া আবশ্যক" (৩)। আর এটিই হলো এই গুণের (রাব্বানি) অন্তর্গত অন্যতম একটি অর্থ।
৩ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি তাদের মধ্য থেকে ইমাম বা নেতা (أئمة) মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশে পথপ্রদর্শন করত; যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল (২৪)} (সূরা আস-সাজদাহ)।
ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "কাতাদাহ ও সুফিয়ান বলেছেন: {যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল} পার্থিব মোহ ত্যাগ করে... সুফিয়ান বলেন: তারা এমনই ছিলেন। আর দুনিয়া থেকে নিরাসক্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির জন্য অনুসরণযোগ্য ইমাম (إمام) হওয়া সমীচীন নয়" (৪); এটি আয়াতের অর্থের একটি অংশ।
--------------------------------------------