(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: -)
الخلاصة في تدبر القرآن الكريم القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: الخلاصة في تدبر القرآن الكريم
المؤلف: د/ خالد بن عثمان السبت
الناشر: دار الحضارة للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1437 هـ - 2016 م
عدد الصفحات: 91
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 ربيع الأول 1440
আল-খুলাসাতু ফি তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম (কুরআনুল কারীমের তাদাব্বুর বিষয়ক সংক্ষিপ্তসার) বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর
গ্রন্থ: আল-খুলাসাতু ফি তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম (কুরআনুল কারীমের তাদাব্বুর বিষয়ক সংক্ষিপ্তসার)
লেখক: ড/ খালিদ বিন উসমান আস-সাবত
প্রকাশক: দারুল হাদারা প্রকাশনা ও পরিবেশনা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৭ হিজরী - ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب
الخلاصة
في تدبر القرآن الكريم
গ্রন্থ
সারসংক্ষেপ
পবিত্র কুরআন গভীরভাবে অনুধাবনের ক্ষেত্রে
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৪)
"ومن أصغى إلى كلام الله وكلام رسوله بعقله، وتدبره بقلبه؛ وجد فيه من الفهم والحلاوة والبركة والمنفعة ما لا يجده في شيء من الكلام لا منظومه ولا منثوره"
ابن تيمية
"যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণী এবং তাঁর রাসূলের বাণীর প্রতি নিজ বুদ্ধি দিয়ে কর্ণপাত করে এবং নিজ অন্তর দিয়ে তা অনুধাবন করে; সে এর মধ্যে এমন উপলব্ধি, মাধুর্য, বরকত ও কল্যাণ খুঁজে পাবে যা অন্য কোনো কথার মধ্যে—চাই তা পদ্য হোক কিংবা গদ্য—খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।"
ইবনে তাইমিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله الذي جعل كتابه موعظةً وشفاء لما في الصدور، والصلاة والسلام على من نزل عليه الكتاب تبيانًا لكلِّ شيء، وهدًى ورحمة وبشرى للمسلمين، أما بعد:
فإن الله تعالى حَمِدَ نَفسَه على إنزال هذا القرآن العظيم فقال: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجًا (1) قَيِّمًا لِيُنْذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِنْ لَدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا} (الكهف: 1، 2)، {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} (الفرقان: 1)، وجعله مُيَسَّرًا للأفهام: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} (القمر: 17)، {بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} (الشعراء: 195)، وضَمَّنَه ألوان الهدايات: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} (الإسراء: 9)، {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} (النحل: 89)، وجعله في غاية التأثير: {لَوْ أَنْزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُتَصَدِّعًا مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ} (الحشر: 21)، {وَلَوْ أَنَّ قُرْآنًا سُيِّرَتْ بِهِ الْجِبَالُ أَوْ قُطِّعَتْ بِهِ الْأَرْضُ أَوْ كُلِّمَ بِهِ الْمَوْتَى} (الرعد: 31)، {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُتَشَابِهًا مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ} (الزمر: 23)، ودعا عباده إلى تدبُّره: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ}
(ص: 29)، وأنكر على من لم يرفع بذلك رأسًا: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ} (النساء: 82، محمد: 24)، {أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ} (المؤمنون: 68)؛ في أربع آيات من القرآن الكريم؛ وذلك دليلٌ على عظيم
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর কিতাবকে নসিহত এবং অন্তরের ব্যাধির নিরাময়স্বরূপ অবতীর্ণ করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁর ওপর প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা, পথনির্দেশ, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই সুমহান কুরআন অবতীর্ণ করার কারণে নিজের প্রশংসা করেছেন; তিনি বলেছেন: {সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। (১) একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যেন তিনি নিজের পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন করতে পারেন এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দিতে পারেন যারা সৎকর্ম করে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।} (আল-কাহফ: ১, ২), {কত বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছেন যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।} (আল-ফুরকান: ১)। তিনি একে বোধগম্য হওয়ার জন্য সহজ করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, সুতরাং উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?} (আল-কামার: ১৭), {পরিষ্কার আরবি ভাষায়।} (আশ-শুআরা: ১৯৫)। তিনি এতে বিভিন্ন প্রকার হিদায়াত অন্তর্ভুক্ত করেছেন: {নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ দেখায় যা অধিকতর সুদৃঢ়।} (আল-ইসরা: ৯), {এবং আমি আপনার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে এবং মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ, রহমত ও সুসংবাদস্বরূপ।} (আন-নাহল: ৮৯)। তিনি একে চূড়ান্ত প্রভাববিস্তারকারী করেছেন: {যদি আমি এই কুরআন কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে আপনি তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হতে দেখতেন।} (আল-হাশর: ২১), {আর যদি এমন কোনো কুরআন হতো যার দ্বারা পাহাড়সমূহকে গতিশীল করা হতো, অথবা যমীনকে বিদীর্ণ করা হতো কিংবা মৃতদের সাথে কথা বলানো হতো (তবুও তারা ঈমান আনত না)।} (আর-রাদ: ৩১), {আল্লাহ সর্বোত্তম হাদিস সম্বলিত একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা সামঞ্জস্যপূর্ণ ও বারবার পঠিত হয়; যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, এতে তাদের গায়ের চামড়া শিহরিত হয়, অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়।} (আয-যুমার: ২৩)। তিনি তাঁর বান্দাদের এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন: {এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং জ্ঞানীরা যেন উপদেশ গ্রহণ করে।}
(সোয়াদ: ২৯)। আর তিনি তাদের তিরস্কার করেছেন যারা এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না?} (আন-নিসা: ৮২, মুহাম্মদ: ২৪), {তবে কি তারা এই বাণী নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেনি?} (আল-মুমিনুন: ৬৮); পবিত্র কুরআনের চারটি আয়াতে এটি এসেছে; আর এটি সুমহান... এর প্রমাণ।
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬)
شأن التدبر، وجلالة قدره؛ إذ إنه الطريق لِتَعَقُّل معاني القرآن، والاعتبار بأمثاله وزواجره، والتأدُّب بآدابه، والامتثال لأوامره، والاتعاظ بمواعظه.
ومن هنا كانت هذه الرسالة التي أكتبها لنفسي أولًا؛ لتكون باعثةً على تحقيق هذا المطلب، ثم لإخواني المسلمين؛ تواصيًا بالحقِّ والصبر.
وقد تناولتُ فيها جملةً من الجوانب المهمَّة المتعلِّقة بهذا الباب الشريف؛ من جهة بيان حقيقته، وما له من تعلُّق ببعض المعاني المُقارِبة، مع بيان أركانه، وأنواعه، وشروطه، وموانعه. ولم أقصد الاستيعاب؛ إذ بعضُ القول قد يغني اللبيبَ عن تطويل العبارة، كما حرَصت على تضمينه كثيرًا من عبارات أهل العلم؛ ليقفَ القارئ عليها ويكونَ ذلك أنفعَ لمن أراد أن يُلقيَ درسًا أو يكتب في هذا الموضوع.
واللهَ أسألُ أن يجعله خالصًا لوجهه الكريم، ومُقَرِّبًا إلى مرضاته، إنه سميع مجيب، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
خالد بن عثمان السبت
05/ 09/1436 هـ
khaled 2224@gmail.com
গভীর চিন্তার (تدبر) গুরুত্ব এবং এর সুমহান মর্যাদা; কেননা এটিই হলো কুরআনের মর্মার্থ উপলব্ধি করার, এর দৃষ্টান্ত ও সতর্কবাণী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার, এর শিষ্টাচার দ্বারা সুশোভিত হওয়ার, এর আদেশসমূহ পালন করার এবং এর উপদেশাবলি থেকে উপদেশ গ্রহণ করার পথ।
আর এ কারণেই এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাটি আমি প্রথমত নিজের জন্য লিখেছি; যেন তা এই লক্ষ্য অর্জনে প্রেরণা জোগায়, অতঃপর আমার মুসলিম ভাইদের জন্য; সত্য ও ধৈর্যের উপদেশের (تواصي) নিমিত্তে।
এতে আমি এই মহান অধ্যায় সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু দিক আলোচনা করেছি; এর স্বরূপ বর্ণনা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট নিকটবর্তী কিছু বিষয়ের সম্পর্কের দিক থেকে, সেই সাথে এর রুকনসমূহ (أركان), প্রকারভেদ, শর্তসমূহ (شروط) এবং প্রতিবন্ধকসমূহ (موانع) বর্ণনা করার মাধ্যমে। আমি বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ পরিব্যাপ্তির (استيعاب) সংকল্প করিনি; কারণ প্রাজ্ঞ ব্যক্তির জন্য দীর্ঘ আলোচনার চেয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যই যথেষ্ট হতে পারে। তেমনিভাবে আমি এতে আলেমদের অনেক উক্তি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি; যেন পাঠক তা অবগত হতে পারেন এবং যারা এ বিষয়ে দরস দিতে বা লিখতে চান তাদের জন্য এটি অধিকতর উপকারী হয়।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি একে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির (إخلاص) জন্য কবুল করেন এবং তাঁর সন্তুষ্টির নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যম বানান। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও প্রার্থনা কবুলকারী। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
খালিদ বিন উসমান আস-সাবত
০৫/০৯/১৪৩৬ হিজরি
khaled 2224@gmail.com
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭)
بيان معنى التدبر
1 - التدبُّر في اللغة:التَّدَبُّر: مصدر (تَدَبَّر)، وأصل هذه المادة: (د ب ر) يدل على آخر الشيء وخَلْفِه (1)؛
يقال: دَبَر السهمُ الهدفَ: سقط خلفه، ودَبَر فَلانٌ القوم: صار خلفهم (2).
وقد اشتقوا من (الدُّبُر) فعلًا، فقالوا: تَدَبَّر: إذا نظر في دُبُر الأمر؛ أي: في غائبه أو عاقبته (3).
فهو من الأفعال التي اشتُقَّت من الأسماء الجامدة (4).
ودُبُر كل شيء: عَقِبُه ومُؤَخَّرُه.
ومنه (الدُّبُر) خلاف القُبُل، وفي الحديث: «لا تدابروا» (5)؛ وذلك أن يترك كلُّ واحد منهما الإقبالَ على صاحبه بوجهه (6)؛ أي: لا يُوَلِّ بعضكم بعضًا دبره (7).
قال أبو عُبيد: «التدابر: المُصَارَمة والهجران؛ مأخوذ من أن يُوَلِّي الرجلُ صاحبَه دُبُرَه وقفاه، ويُعْرِض عنه بوجهه» (8).
--------------------------------------------
তদাব্বুরের অর্থ বর্ণনা১ - আভিধানিক অর্থে তদাব্বুর:তদাব্বুর: এটি 'তদাব্বারা' এর মাসদার (ক্রিয়ামূল); আর এই শব্দের মূল ধাতু হলো: (দ-ব-র), যা কোনো বস্তুর শেষ অংশ এবং তার পশ্চাদভাগকে নির্দেশ করে (১);
বলা হয়ে থাকে: তীরটি লক্ষ্যবস্তু অতিক্রম করে পেছনে পড়েছে; অর্থাৎ তার পেছনে গিয়ে পতিত হয়েছে। আর অমুক ব্যক্তি সম্প্রদায়ের পেছনে হয়েছে; অর্থাৎ তাদের পেছনে অবস্থান নিয়েছে (২)।
তারা 'দুবুর' (পশ্চাদভাগ) শব্দ থেকে একটি ক্রিয়া উদ্গত করেছেন, ফলে তারা বলেন: 'তদাব্বারা' (সে তদাব্বুর করেছে); অর্থাৎ যখন সে কোনো বিষয়ের শেষ পরিণাম বা তার অদৃশ্য অংশ বা তার ফলাফল নিয়ে চিন্তা করে (৩)।
এটি এমন সব ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত যা স্থির বিশেষ্য (ইসম জামিদ) থেকে উদ্গত হয়েছে (৪)।
আর কোনো বস্তুর 'দুবুর' হলো তার পশ্চাদভাগ ও শেষ অংশ।
এর থেকেই 'দুবুর' শব্দটি 'কুবুল' (সম্মুখভাগ) এর বিপরীত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাদিসে এসেছে: «তোমরা একে অপরের প্রতি পিঠ প্রদর্শন করো না» (৫); আর তা হলো তাদের প্রত্যেকের তার সাথীর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বর্জন করা (৬); অর্থাৎ: তোমাদের কেউ যেন অন্যকে তার পিঠ প্রদর্শন না করে (৭)।
আবু উবাইদ বলেছেন: «তাদাবুর হলো: পারস্পরিক সম্পর্কচ্ছেদ এবং বিচ্ছেদ; এটি এখান থেকে গৃহীত হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি তার সাথীকে তার পিঠ ও ঘাড় প্রদর্শন করবে এবং তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে» (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৮)
ويُقال: أدبر القوم: مضى أمرهم إلى آخره (1).
ودَبَر القومُ يَدْبُرون دَبارًا: إذا هلكوا (2).
ودَبِرَ البعير دَبَرًا، فهو أدبر: صار بِقَرْحِه دَبِرًا؛ أي: متأخرًا (3).
ومنه: دُبُر الشهر: آخره.
ودابر الشيء: آخره.
ودُبُر الأمر: آخره.
والدَّبَار: الهلاك الذي يقطع دابرتهم (4).
ويُقال: فلان ما يدري قِبَالَ الأمر من دِبَارِه؛ أي: أوَّلَه من آخره.
ومن ذلك: {وَأَدْبَارَ السُّجُودِ} (ق: 40)؛ أي: أواخر الصلوات (5).
ومنه قيل للنحل: (الدَّبْر)؛ لأنه يُعْقِب ما يُنتفع به (6)، أو لأن سلاحها في أدبارها (7).
وهكذا قيل للمال الكثير: (الدِّبْر)؛ لأنه يبقى للأعقاب (8).
--------------------------------------------
বলা হয়: কওম বা সম্প্রদায়টি পিঠ ফিরিয়েছে (আদবারাল কাওমু): তাদের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে (১)।
আর কওম বা সম্প্রদায়টি ধ্বংস হওয়া অর্থে 'দাবারা আল-কাওমু ইয়াদবুরুন দাবারান' ব্যবহৃত হয় (২)।
আর উটটি পিঠের ক্ষতে আক্রান্ত হয়েছে (দাবিরা আল-বাঈরু দাবারান), ফলে সেটি ক্ষতবিক্ষত (আদবার): অর্থাৎ ক্ষতের কারণে সেটি পিঠের ব্যথায় জর্জরিত হয়েছে; যা তাকে পিছিয়ে দেয় (৩)।
আর এ থেকেই এসেছে: মাসের শেষ ভাগ (দুবুরুশ শাহর): অর্থাৎ তার শেষাংশ।
আর কোনো বস্তুর শেষাংশ (দাবিরুশ শাই): অর্থাৎ তার শেষ ভাগ।
আর কোনো বিষয়ের শেষ (দুবুরুল আমর): অর্থাৎ তার পরিণতি।
আর 'আদ-দাবার' হলো: এমন ধ্বংস যা তাদের মূলোৎপাটন করে (৪)।
বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি কোনো বিষয়ের অগ্র-পশ্চাৎ বোঝে না; অর্থাৎ: তার শুরু থেকে শেষ অনুধাবন করতে পারে না।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং সিজদাহর পরে} (সূরা কাফ: ৪০); অর্থাৎ: সালাতসমূহের শেষাংশ (৫)।
এ থেকেই মৌমাছিকে 'আদ-দাবর' বলা হয়; কারণ এটি উপকারী বস্তুর অনুগামী হয় (৬), অথবা এ কারণে যে তাদের হুল বা আত্মরক্ষার অস্ত্র তাদের পেছনের অংশে থাকে (৭)।
একইভাবে প্রচুর ধন-সম্পদকে 'আদ-দিবর' বলা হয়; কারণ তা উত্তরসূরিদের জন্য অবশিষ্ট থাকে (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৯)
ويُقال: دَبَّر الأمر وتَدَبَّره؛ أي: نظر وتَفَكَّر في عاقِبَتِهِ (1).
ويُقال: اسْتَدْبَرَه؛ أي: رأى في عاقبته ما لم يره في صدره (2).
ويُقال: عرف الأمر تَدَبُّرًا؛ أي: بأَخَرَة.
ومنه قول جرير:
ولا تَتَّقُونَ الشَّرَّ حتّى يُصيبَكُم
… ولا تعرفونَ الأمرَ إلا تَدَبُّرَا (3)
قال أَكْثَمُ بنُ صَيفيٍّ لبنيه: «يا بَنِيَّ، لا تَتَدَبَّروا أعجاز أمور قد ولّت صُدُورُها» (4).
والتدبير في الأمر: أن تنظر إلى ما تؤول إليه عاقبته (5)، فهو بمعنى التفكير في دُبُر الأمور (6)، وذلك بأن يُدَبِّر الإنسان أمره كأنه ينظر إلى ما تصير إليه عاقبته (7).
ولذا قيل: هو النظر في العواقب بمعرفة الخير، أو إجراء الأمور على علم العواقب (8).
--------------------------------------------
বলা হয়ে থাকে: তিনি বিষয়টি পরিচালনা করেছেন এবং তা অনুধাবন করেছেন; অর্থাৎ: তিনি এর পরিণাম সম্পর্কে দৃষ্টিপাত ও চিন্তা করেছেন (১)।
বলা হয়ে থাকে: তিনি এর পরিণাম পর্যবেক্ষণ করেছেন; অর্থাৎ: তিনি এর পরিণামে এমন কিছু দেখেছেন যা এর প্রারম্ভে প্রত্যক্ষ করেননি (২)।
বলা হয়ে থাকে: তিনি বিষয়টি শেষ পর্যায়ে অবগত হয়েছেন; অর্থাৎ: বিলম্বে।
আর এ থেকেই জারীরের উক্তি:
তোমরা অমঙ্গল থেকে আত্মরক্ষা করো না যতক্ষণ না তা তোমাদেরকে আক্রান্ত করে... এবং তোমরা বিষয়টি শেষ পর্যায়ে (পরিণাম ঘটা) ব্যতীত অবগত হও না (৩)।
আকসাম বিন সাইফি তার সন্তানদের বলেছিলেন: "হে বৎসগণ! তোমরা সে সব বিষয়ের শেষ ভাগ নিয়ে পড়ে থেকো না যেগুলোর শুরু ভাগ অতিবাহিত হয়ে গেছে" (৪)।
আর কোনো বিষয়ে পরিচালনা বা ব্যবস্থা গ্রহণ হলো: এর পরিণাম কী হতে পারে সেদিকে দৃষ্টিপাত করা (৫); সুতরাং এটি বিষয়ের শেষ বা পরিণাম নিয়ে চিন্তা করার অর্থে ব্যবহৃত হয় (৬); আর তা এই যে, মানুষ তার বিষয়াদি এমনভাবে পরিচালনা করবে যেন সে তার কার্যের পরিণতির দিকে তাকাচ্ছে (৭)।
আর এ কারণেই বলা হয়েছে: তা হলো কল্যাণের জ্ঞানের মাধ্যমে পরিণাম পর্যবেক্ষণ করা, অথবা পরিণাম সম্পর্কে অবগত হয়ে বিষয়াদি সম্পাদন করা (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১০)
والتدبير: عِتق العبد عن دُبُر؛ وهو أن يقول له: أنت حرٌّ بعد موتي (1)، ويقال للعبد: مُدَبَّر.
ويقال: إن فلانًا لو استقبل في أمره ما استدبره لهُدي لوِجْهَةِ أمرِه؛ أي: لو علم في بَدْءِ أمرِه ما عَلِمَه في آخره لاسترشد لأمره (2).
ومما تقدم يُعْلَم أن أصل التدبُّر: التأمُّل والتفكُّر في أدبار الأمور وعواقبها؛ أي: فيما لا يظهر منها للمُتَأَمِّل بادئ ذي بَدْء (3).
ثم استُعمل في كل تَأَمُّل (4)، سواء كان نظرًا في حقيقة الشيء وأجزائه، أو سوابقه وأسبابه، أو لواحقه وأعقابه (5).
2 - التدبُّر بمعناه العام:التدبر في الأمر: التفكر فيه (6)؛ أي: تحصيل المعرفتين لتحصيل معرفة ثالثة (7).
وهو بمعنى قول بعضهم: «إعمال النظر العقلي في دلالات الدلائل على ما نُصبت له» (8)
--------------------------------------------
তাদবীর (التدبير) হলো: মৃত্যুর অব্যবহিত পর দাসের মুক্তিদান (عتق) করা; আর তা হলো মুনিব তাকে বলবে: তুমি আমার মৃত্যুর পর স্বাধীন (১), আর সেই দাসকে বলা হয় মুদাব্বার (مدبر)।
বলা হয়ে থাকে যে: অমুক ব্যক্তি যদি তার কার্যাবলীর শুরুতে তা অনুধাবন করতে পারত যা সে শেষে বুঝতে পেরেছে, তবে সে তার কার্যাবলীর সঠিক পথের দিশা পেত; অর্থাৎ: সে যদি কাজের শুরুতে তা জানত যা শেষে জেনেছে, তবে সে তার কাজের সঠিক গন্তব্যের সন্ধান পেত (২)।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে জানা যায় যে, তাদাব্বুর (التدبر)-এর মূল অর্থ হলো: বিষয়াদির শেষ পরিণাম ও পরিণতির বিষয়ে গভীর চিন্তা (التأمل) ও গবেষণা (التفكر) করা; অর্থাৎ: যা প্রাথমিকভাবে চিন্তাকারীর নিকট প্রকাশ পায় না (৩)।
অতঃপর এটি প্রত্যেক গভীর চিন্তার (تأمل) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে শুরু করে (৪), চাই তা কোনো বস্তুর হাকীকত ও তার অংশসমূহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ হোক, অথবা তার পূর্ববর্তী অবস্থা ও কারণসমূহ নিয়ে হোক, কিংবা তার পরবর্তী বিষয় ও ফলাফল নিয়ে হোক (৫)।
২ - সাধারণ অর্থে তাদাব্বুর (التدبر):কোনো বিষয়ে তাদাব্বুর (التدبر) করা হলো: তাতে গভীর চিন্তা (التفكر) করা (৬); অর্থাৎ: একটি তৃতীয় জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে দুটি অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগানো (৭)।
এটি কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের এই বক্তব্যের সমার্থক: "প্রমাণাদি যে বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা হয়েছে, তার নির্দেশনার ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টি নিবদ্ধ করা" (৮)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১১)
أي: تَصَرُّف القلب بالنظر في الدلائل (1)، وهذا تفسير له بالتفكر.
وبعضهم يفرق بينهما؛ باعتبار أن التدبر: تَصَرُّف القلب بالنظر في العواقب، وأما التفكر: فتَصَرُّفه بالنظر في الدليل (2).
وعبَّر عنه بعضهم بأنه: التفكر في عاقبة الشيء وما يؤول إليه أمره (3).
وهو بمعنى قول من فَسَّره بالنظر في أعقاب الأمور وتأويلات الأشياء (4).
وهما تعريفان مُتقَارِبان، والله أعلم.
3 - معنى تدبُّر القرآن خاصَّة (المعنى الشرعي):هناك تعريفات متعددة لتدبر القرآن وبينها تقارب؛ فمن ذلك:
- قال في الكشاف: «معنى تدبر القرآن: تأمل معانيه وتَبَصُّر ما فيه» (5).
وقال: «وتدبر الآيات: التفكر فيها، والتأمل الذي يؤدي إلى معرفة ما يَدْبُر ظاهرَها من التأويلات الصحيحة والمعاني الحسنة؛ لأن من اقتنع بظاهر المتلوِّ لم يَحْل منه بكثير طائل، وكان مَثَلُه كمَثَل من له لِقْحَة دَرُورٌ لا يحلبها، ومُهْرَة نَثُورٌ لا يستولدها» (6).
--------------------------------------------
অর্থাৎ: দলিলসমূহের (الدلائل) প্রতি দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে হৃদয়ের পরিচালনা করা (১), এবং এটি চিন্তাভাবনার (التفكر) মাধ্যমে এর একটি ব্যাখ্যা।
কেউ কেউ এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন; এই বিবেচনায় যে, গভীর অনুধাবন (التدبر) হলো: পরিণামসমূহের (العواقب) প্রতি দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে হৃদয়ের পরিচালনা করা, আর চিন্তাভাবনা (التفكر) হলো: দলিলের (الدليل) প্রতি দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে হৃদয়ের পরিচালনা করা (২)।
তাদের কেউ কেউ একে এভাবে প্রকাশ করেছেন যে: এটি হলো জিনিসের পরিণাম এবং এর শেষ ফলাফল সম্পর্কে চিন্তাভাবনা (التفكر) করা (৩)।
আর এটি ঐ ব্যক্তির কথার অর্থ বহন করে যিনি একে ব্যাখ্যা করেছেন বিষয়ের পরিণাম এবং জিনিসের ব্যাখ্যাসমূহের (التأويلات) প্রতি দৃষ্টিপাত করার মাধ্যমে (৪)।
আর এই দুটি কাছাকাছি সংজ্ঞা, আল্লাহই ভালো জানেন।
৩ - বিশেষভাবে কুরআন গভীর অনুধাবনের (التدبر) অর্থ (শরয়ী অর্থ (المعنى الشرعي)):কুরআনের গভীর অনুধাবনের (التدبر) একাধিক সংজ্ঞা রয়েছে এবং সেগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে; তার মধ্যে রয়েছে:
- আল-কাশশাফ গ্রন্থে বলা হয়েছে: «কুরআনের গভীর অনুধাবনের (التدبر) অর্থ হলো: এর অর্থসমূহ নিয়ে চিন্তা করা এবং এর ভেতরে যা আছে তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা» (৫)।
তিনি আরও বলেন: «আর আয়াতসমূহের গভীর অনুধাবন (التدبر) হলো: সেগুলোর ব্যাপারে চিন্তাভাবনা (التفكر) করা, এবং এমন চিন্তা যা এর বাহ্যিক শব্দের অন্তরালে থাকা সঠিক ব্যাখ্যা (التأويلات الصحيحة) ও সুন্দর অর্থসমূহ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে; কারণ যে ব্যক্তি কেবল তিলাওয়াতকৃত অংশের বাহ্যিক দিকে তুষ্ট থাকে, সে এর দ্বারা খুব বেশি উপকৃত হতে পারে না। তার উদাহরণ হলো এমন ব্যক্তির মতো যার একটি প্রচুর দুগ্ধবতী উটনী আছে কিন্তু সে তার দুধ দোহন করে না, এবং যার একটি অধিক প্রজননক্ষম ঘোটকী আছে কিন্তু সে তাকে বাচ্চা জন্মদানে ব্যবহার করে না» (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১২)
- وقال القرطبي: «هو التفكر فيه وفي معانيه» (1).
- وقال الخازن: «ومعنى تدبر القرآن: تَأَمُّل معانيه، وتَفَكُّر في حِكَمِه، وتَبَصُّر ما فيه من الآيات» (2).
- وقال أبو حيان: «هو التفكر في الآيات، والتَّأَمُّل الذي يُفْضِي بصاحبه إلى النظر في عواقب الأشياء» (3).
- وقال ابن القيم: «هو تَحْدِيق نَاظِر القلب إلى معانيه، وجَمْع الفكر على تَدَبُّره وتَعَقُّله» (4).
- وقال السعدي: «هو التأمل في معانيه، وتحديق الفكر فيه، وفي مبادئه وعواقبه، ولوازم ذلك» (5).
- وقال ابن عاشور: «هو تَعَقُّب ظواهر الألفاظ؛ لِيُعْلَم ما يَدْبُر ظواهرَها من المعاني المكنونة والتأويلات اللائقة» (6).
- وقال عبدالرحمن حبنَّكة: «هو التفكر الشامل الواصل إلى أواخر دلالات الكلم ومراميه البعيدة» (7).
--------------------------------------------
- ইমাম কুরতুবী বলেন: «এটি হলো কুরআন এবং এর অর্থসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা» (১)।
- ইমাম খাজেন বলেন: «আর কুরআনের তাদাব্বুরের অর্থ হলো: এর অর্থসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা, এর প্রজ্ঞাসমূহ নিয়ে গবেষণা করা এবং এর আয়াতের নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করা» (২)।
- আবু হাইয়ান বলেন: «এটি হলো আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা করা এবং এমন গভীর অনুধাবন যা পাঠককে বিষয়ের পরিণতির দিকে ধাবিত করে» (৩)।
- ইবনুল কায়্যিম বলেন: «এটি হলো হৃদয়ের দৃষ্টিকে এর অর্থসমূহে নিবদ্ধ করা এবং এর তাদাব্বুর ও অনুধাবনের ক্ষেত্রে চিন্তাকে কেন্দ্রীভূত করা» (৪)।
- ইমাম সা'দী বলেন: «এটি হলো এর অর্থসমূহ গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখা, এতে চিন্তা নিবদ্ধ করা, এর প্রারম্ভ ও পরিণাম এবং এর অনুষঙ্গসমূহ নিয়ে ভাবা» (৫)।
- ইবনে আশুর বলেন: «এটি হলো শব্দের বাহ্যিক রূপের অন্তরালে অন্বেষণ করা; যাতে এর আবরণে থাকা নিগূঢ় অর্থ এবং যথাযথ ব্যাখ্যাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়» (৬)।
- আব্দুর রহমান হাবান্নাকাহ বলেন: «এটি হলো এমন এক সামগ্রিক চিন্তা-গবেষণা যা শব্দের অর্থগত ব্যাপ্তি এবং এর দূরবর্তী লক্ষ্যসমূহ পর্যন্ত পৌঁছায়» (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
- وقيل: هو التفكر والتَّأَمُّل لآيات القرآن من أَجْل فهمه، وإدراك معانيه، وحِكَمه، والمراد منه.
- وقيل: هو تَفَهُّم معاني ألفاظه، والتفكر فيما تدل عليه آياته مُطَابَقَة، وما دخل في ضمنها، وما لا تتم تلك المعاني إلا به مما لم يُعَرِّج اللفظ على ذِكْره من الإشارات والتنبيهات، وانتفاع القلب بذلك بخشوعه عند مواعظه، وخضوعه لأوامره، وأخذ العِبْرَة منه.
ويجمع ذلك: النظر إلى ما وراء الألفاظ من المعاني والعِبَر والمقاصد، الذي يثمر العلوم النافعة والأعمال الزاكية.
وإنما ذكرت هذه الجملةَ الأخيرة؛ لأنه قد ورد عن جماعة من السلف تفسير التدبر بالعمل والامتثال وما إلى ذلك مما يقع في القلب، ويظهر على الجوارح، ولا ريب أن هذا يكون أعلى مراتب التدبر، وإلا فقد يحصل ببعض ذلك كما لا يخفى.
4 - ذكر بعض عبارات المفسِّرين في معنى التدبر:من عبارات المفسرين في قوله تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ} (النساء: 82، محمد: 24)، وقوله تعالى: {لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ} (ص: 29):
- ابن جرير: «أفلا يتدبر هؤلاء المنافقون مواعظ الله التي يعظهم بها في آي القرآن الذي أنزله على نبيه عليه الصلاة والسلام، ويتفكرون في حُجَجِه التي بينها لهم في تنزيله؟ ! » (1).
--------------------------------------------
- এবং বলা হয়েছে: এটি হলো কুরআনের আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা (تفكر) ও গভীর অনুধ্যান (تأمل), যাতে এর মর্ম অনুধাবন এবং এর অর্থ, প্রজ্ঞা ও উদ্দেশ্য উপলব্ধি করা যায়।
- আরও বলা হয়েছে: এটি হলো এর শব্দসমূহের অর্থ উপলব্ধি করা, এবং এর আয়াতসমূহ শাব্দিক সামঞ্জস্যের (مطابقة) ভিত্তিতে যা নির্দেশ করে তা নিয়ে চিন্তা করা, সেই সাথে এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ এবং এমন আনুষঙ্গিক বিষয়াদি যা ছাড়া সেই অর্থসমূহ পূর্ণতা পায় না—যেগুলোর প্রতি শব্দ সরাসরি ইঙ্গিত না করলেও বিভিন্ন ইশারা ও সতর্কবার্তার মাধ্যমে নির্দেশ করে—সেগুলো নিয়ে ভাবা। পাশাপাশি এর উপদেশবাণী শুনে বিনম্র চিত্তে এবং এর নির্দেশাবলির প্রতি অনুগত হয়ে হৃদয়ের উপকৃত হওয়া এবং এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।
আর এই সবকিছুর সারকথা হলো: শব্দের অন্তরালে থাকা অর্থ, শিক্ষা ও উদ্দেশ্যসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করা, যা উপকারী জ্ঞান এবং পবিত্র আমল বয়ে আনে।
আমি এই শেষ বাক্যটি উল্লেখ করেছি; কারণ পূর্বসূরিদের (سلف) এক জামাতের নিকট থেকে চিন্তা-গবেষণার (تدبر) ব্যাখ্যায় আমল করা, আনুগত্য করা এবং অন্তরে যা উদিত হয় ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে যা প্রকাশ পায়—এমন বিষয়গুলো বর্ণিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি চিন্তা-গবেষণার (تدبر) সর্বোচ্চ স্তর, অন্যথায় এর আংশিক অর্জনের মাধ্যমেও তা অর্জিত হতে পারে, যা অস্পষ্ট নয়।
৪ - চিন্তা-গবেষণার (تدبر) অর্থ সম্পর্কে মুফাসসিরগণের কিছু উক্তি:আল্লাহ তাআলার বাণী: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে না?} (আন-নিসা: ৮২, মুহাম্মদ: ২৪), এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে} (সোয়াদ: ২৯) প্রসঙ্গে মুফাসসিরগণের কিছু উক্তি হলো:
- ইবনে জারীর: «তবে কি এই মুনাফিকরা আল্লাহর সেই উপদেশসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে না, যা তিনি তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ওপর নাযিলকৃত কুরআনের আয়াতসমূহের মাধ্যমে তাদের দিয়েছেন? এবং তারা কি তাঁর ওহিতে তাদের জন্য স্পষ্টকৃত দলিল-প্রমাণগুলো নিয়ে চিন্তা করে না? ! » (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
- البغوي: «أفلا يتفكرون في القرآن؟ ! » (1).
- ابن الجوزي: «ليتفكروا فيها» (2).
- القرطبي: «أي: يتفهمونه» (3).
- الخازن: «يتفكرون فيه وفي مواعظه وزواجره» (4).
- أبو حيان: «أي: فلا يتأملون ما نزل عليك من الوحي ولا يعرضون عنه؛ فإنه في تدبره يظهر برهانه ويسطع نوره، ولا يظهر ذلك لمن أعرض عنه ولم يتأمله» (5).
- البقاعي: «أي: يتأملون» (6).
- الشوكاني: «أفلا يتفهمونه
… » (7).
- ابن عاشور: «يتأملون دلالته
… » (8).
وبهذا نعلم أن كلامهم يدور على إعمال الفكر والنظر بالتأمل والتفهم في آي القرآن الكريم للتوصل إلى معانيه ومقاصده. والله أعلم.
--------------------------------------------
- আল-বাগবি: «তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? ! » (১)।
- ইবনুল জাওজি: «যাতে তারা তাতে চিন্তা-গবেষণা করে» (২)।
- আল-কুরতুবি: «অর্থাৎ: তারা তা অনুধাবন করে» (৩)।
- আল-খাজিন: «তারা এটি নিয়ে এবং এর উপদেশ ও সতর্কবাণীসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে» (৪)।
- আবু হাইয়ান: «অর্থাৎ: তারা কি আপনার প্রতি অবতীর্ণ ওহি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে না এবং তা থেকে বিমুখ হবে না? কারণ এর গভীর চিন্তার মধ্যেই এর অকাট্য প্রমাণ প্রকাশ পায় এবং এর নূর উদ্ভাসিত হয়; আর যে ব্যক্তি এটি থেকে বিমুখ হয় এবং এতে গভীরভাবে চিন্তা করে না, তার নিকট তা প্রকাশ পায় না» (৫)।
- আল-বিকায়ি: «অর্থাৎ: তারা গভীরভাবে চিন্তা করে» (৬)।
- আশ-শাওকানি: «তারা কি তা অনুধাবন করে না
… » (৭)।
- ইবনে আশুর: «তারা এর নির্দেশনাসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে
… » (৮)।
এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, কুরআনুল কারিমের আয়াতসমূহের অর্থ ও উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য গভীর চিন্তা ও অনুধাবনের মাধ্যমে চিন্তা ও দৃষ্টির প্রয়োগের ওপরই তাঁদের আলোচনা আবর্তিত। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
العلاقة بين التدبر وما يقاربه من الألفاظ
أولًا: علاقته بالتفسير:إن أصل مادة (التفسير) تدور على الكشف والبيان؛ يقال: فسَّر الكلام؛ أي: أبان معناه وأظهره، فهو إخراج الشيء من مقام الخفاء إلى مقام التَّجَلِّي (1).
وأما في الاصطلاح: فهو علم يُبحث فيه عن أحوال القرآن الكريم من حيث دلالته على مراد الله تعالى بقدر الطاقة البشرية (2).
وبناء على ذلك، يقال في العلاقة بين التفسير والتدبر: بأن بينهما ملازمة؛ وذلك أن التوصل إلى مراد الله تعالى من كلامه يحتاج إلى تدبر ونظر وتأمل، كما أن التدبر يتوقف على معرفة المعنى. والله أعلم.
ثانيًا: علاقته بالتأويل:التأويل يأتي لمعنيين (3):
الأول: بمعنى التفسير؛ ومن ذلك قوله تعالى: {سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا} (الكهف: 78)، وقوله: {ذَلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا} (الكهف: 82)، وقوله: {فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ} (آل عمران: 7)؛ على أحد الأوجه في التفسير.
--------------------------------------------
গভীরভাবে অনুধাবন (تدبر) এবং এর নিকটবর্তী শব্দাবলির মধ্যকার সম্পর্কপ্রথমত: ব্যাখ্যা (تفسير)-এর সাথে এর সম্পর্ক:নিশ্চয়ই 'তাফসির' (تفسير) শব্দের মূল উপাদান উন্মোচন ও বর্ণনার অর্থ প্রকাশ করে; বলা হয়ে থাকে: 'কালামের তাফসির করা হয়েছে'; অর্থাৎ: এর অর্থ স্পষ্ট ও প্রকাশ করা হয়েছে। সুতরাং এটি কোনো বিষয়কে অস্পষ্টতার স্তর থেকে স্পষ্টতার স্তরে নিয়ে আসা (১)।
আর পরিভাষায়: এটি এমন একটি জ্ঞান, যাতে আল-কুরআনুল কারীমের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়—মানুষের সাধ্য অনুযায়ী মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুধাবনের দিক থেকে (২)।
এর ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা (تفسير) ও গভীরভাবে অনুধাবন (تدبر)-এর মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে বলা হয়: এই দুটির মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে; কারণ মহান আল্লাহর কালাম থেকে তাঁর উদ্দেশ্য অনুধাবন করার জন্য গভীর চিন্তা, পর্যবেক্ষণ ও ধ্যানের প্রয়োজন। তেমনিভাবে, গভীরভাবে অনুধাবন (تدبر) করা অর্থের জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
দ্বিতীয়ত: অর্থ ব্যাখ্যা (تأويل)-এর সাথে এর সম্পর্ক:তাউয়িল (تأويل) শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয় (৩):
প্রথমটি: ব্যাখ্যা (تفسير)-এর অর্থে; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {আমি আপনাকে সেই বিষয়ের ব্যাখ্যা (تأويل) জানিয়ে দিচ্ছি, যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি} (সূরা কাহফ: ৭৮), এবং তাঁর বাণী: {এটিই সেই বিষয়ের ব্যাখ্যা (تأويل), যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেননি} (সূরা কাহফ: ৮২), এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর তারা ফিতনা সৃষ্টি ও ভুল ব্যাখ্যার (تأويل) উদ্দেশ্যে এর মধ্যকার অস্পষ্ট বিষয়গুলোর অনুসরণ করে} (সূরা আলে ইমরান: ৭); ব্যাখ্যার (تفسير) অন্যতম একটি দিক অনুযায়ী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فتأويل القرآن بمعنى تفسيره، وهو المراد بقوله صلى الله عليه وسلم في دعائه لابن عباس رضي الله عنهما: «وعَلِّمْه التأويل» (1).
وهكذا تأويل الرؤيا يأتي بمعنى تفسيرها؛ كما في قوله تعالى: {نَبِّئْنَا بِتَأْوِيلِهِ} (يوسف: 36)، وقوله: {وَكَذَلِكَ يَجْتَبِيكَ رَبُّكَ وَيُعَلِّمُكَ مِنْ تَأْوِيلِ الْأَحَادِيثِ} (يوسف: 6)، وقوله: {وَلِنُعَلِّمَهُ مِنْ تَأْوِيلِ الْأَحَادِيثِ} (يوسف: 21)، وقوله: {وَمَا نَحْنُ بِتَأْوِيلِ الْأَحْلَامِ بِعَالِمِينَ} (يوسف: 44)، وقوله: {وَعَلَّمْتَنِي مِنْ تَأْوِيلِ الْأَحَادِيثِ} (يوسف: 101)، وقوله: {أَنَا أُنَبِّئُكُمْ بِتَأْوِيلِهِ فَأَرْسِلُونِ} (يوسف: 45)؛ فهذا كله بمعنى تفسير الرؤيا.
الثاني: بمعنى ما يصير إليه الشيء في ثاني حال؛ فتأويل الخبر بوقوع المُخْبَر؛ ومن ذلك قوله تعالى: {هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا تَأْوِيلَهُ يَوْمَ يَأْتِي تَأْوِيلُهُ يَقُولُ الَّذِينَ نَسُوهُ مِنْ قَبْلُ قَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ} (الأعراف: 53)، وقوله: {بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ} (يونس: 39).
وهكذا يُعَبَّر بـ (التأويل) في الرؤيا بمعنى تحقق الوقوع، ومن ذلك قوله تعالى: {وَقَالَ يَاأَبَتِ هَذَا تَأْوِيلُ رُؤْيَايَ} (يوسف: 100).
كما ورد بمعنى العاقبة؛ ومن ذلك قوله تعالى في موضعين من القرآن: {ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} (النساء: 59، الإسراء: 35).
--------------------------------------------
কুরআনের তাবিল (تأويل) বলতে এর তাফসির (تفسير) বা ব্যাখ্যাকে বোঝায়; আর ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দু‘আ— "এবং তাকে তাবিল (تأويل) শিক্ষা দিন"—এ এটাই উদ্দেশ্য। (১)
অনুরূপভাবে স্বপ্নের তাবিল (تأويل) বলতেও এর ব্যাখ্যা বোঝায়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমাদেরকে এর তাবিল (تأويل) জানিয়ে দিন} (ইউসুফ: ৩৬), এবং তাঁর বাণী: {এবং এভাবেই আপনার প্রতিপালক আপনাকে মনোনীত করবেন এবং আপনাকে বিভিন্ন বিষয়ের তাবিল (تأويل) শিক্ষা দেবেন} (ইউসুফ: ৬), এবং তাঁর বাণী: {এবং যাতে আমরা তাকে বিভিন্ন বিষয়ের তাবিল (تأويل) শিক্ষা দেই} (ইউসুফ: ২১), এবং তাঁর বাণী: {আর আমরা স্বপ্নের তাবিল (تأويل) সম্পর্কে অবগত নই} (ইউসুফ: ৪৪), এবং তাঁর বাণী: {এবং আপনি আমাকে বিভিন্ন বিষয়ের তাবিল (تأويل) শিক্ষা দিয়েছেন} (ইউসুফ: ১০১), এবং তাঁর বাণী: {আমি তোমাদেরকে এর তাবিল (تأويل) জানিয়ে দেব, সুতরাং তোমরা আমাকে প্রেরণ করো} (ইউসুফ: ৪৫); এই সবই স্বপ্নের তাফসির (تفسير) বা ব্যাখ্যা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
দ্বিতীয় অর্থ: কোনো বিষয় পরিণামে যা দাঁড়ায় সেই অর্থে; সুতরাং সংবাদের তাবিল (تأويل) হলো সংবাদকৃত বিষয়টি বাস্তবে সংঘটিত হওয়া। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি কেবল এর তাবিল (تأويل) বা পরিণামের প্রতীক্ষা করছে? যেদিন এর তাবিল (تأويل) আসবে, সেদিন যারা ইতিপূর্বে একে ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে, আমাদের প্রতিপালকের রাসুলগণ সত্য নিয়েই এসেছিলেন} (আল-আরাফ: ৫৩), এবং তাঁর বাণী: {বরং তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে যা তাদের জ্ঞানের আয়ত্তে ছিল না এবং যার তাবিল (تأويل) বা প্রকৃত অর্থ এখনো তাদের কাছে আসেনি} (ইউনুস: ৩৯)।
একইভাবে স্বপ্নের ক্ষেত্রেও তাবিল (تأويل) শব্দটি বাস্তবতা রূপায়ণ বা বাস্তবায়ন অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি বললেন, হে আমার পিতা! এটাই আমার ইতিপূর্বের স্বপ্নের তাবিল (تأويل) বা বাস্তবায়ন} (ইউসুফ: ১০০)।
আবার এটি 'পরিণাম' অর্থেও বর্ণিত হয়েছে; যেমন কুরআনের দুটি স্থানে মহান আল্লাহর বাণী: {সেটিই উত্তম এবং তাবিল (تأويل) বা পরিণামের দিক থেকে উৎকৃষ্টতর} (আন-নিসা: ৫৯, আল-ইসরা: ৩৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهكذا يُعبر بـ (التأويل) عن امتثال المأمور، ومن ذلك حديث عائشة رضي الله عنها: كان النبي صلى الله عليه وسلم يُكْثِر أن يقول في ركوعه وسجوده: «سبحانك اللهم ربنا وبحمدك اللهم اغفر لي»؛ يتأَوَّل القرآن (1).
بعد ذلك يمكن أن يُقَال بأن التأويل له تَعَلُّق بالتدبر باعتبار الإطلاقين السابقين، وبيان ذلك: أن تَعَلُّقه به من جهة إطلاقه مُرادًا به التفسير لا يخفى؛ إذ القول فيه كالقول في التفسير.
وأما وجه تَعَلُّقه بالتأويل إذا أُريد به المعنى الآخر: فإن ذلك يكون بالامتثال والعمل والتطبيق، وذلك من المعاني الداخلة تحت التدبر، إضافة إلى التفكر فيما يؤول إليه الإنسان، وما يقع في الدنيا والآخرة مما وعد الله به أهل طاعته وأهل معصيته، والله أعلم.
ثالثًا: علاقته بالبيان:البيان: من بان الشيء: إذا اتضح وانكشف.
هذا من حيث الجملة، ويتقيَّدُ معناه بحسب مُتَعَلَّقِه، والمقصود هنا: ما يتعلق بالتدبر؛ وذلك بإطلاق البيان على ما يُشْرَح به المُجْمَل والمُبْهَم ويُكْشَف به عن المعنى، ومن ذلك قوله تعالى: {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} (القيامة: 19)، وقوله: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} (النحل: 44) (2).
والقول فيه بهذا الاعتبار كالقول في التفسير من جهة المُلازَمة بينه وبين التدبر.
--------------------------------------------
وهكذا يُعبر بـ (التأويل) عن امتثال المأمور، ومن ذلك حديث عائشة رضي الله عنها: كان النبي صلى الله عليه وسلم يُكْثِر أن يقول في ركوعه وسجوده: «سبحانك اللهم ربنا وبحمدك اللهم اغفر لي»؛ يتأَوَّل القرآن (1). এভাবে আদেশ পালনের ক্ষেত্রেও 'তাউইল' (التأويل) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ হলো আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকু ও সিজদাহয় অধিক পরিমাণে বলতেন: "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী" (হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন); তিনি কুরআনের নির্দেশ বাস্তবায়ন (يتأول) করতেন (১)।
بعد ذلك يمكن أن يُقَال بأن التأويل له تَعَلُّق بالتدبر باعتبار الإطلاقين السابقين، وبيان ذلك: أن تَعَلُّقه به من جهة إطلاقه مُرادًا به التفسير لا يخفى؛ إذ القول فيه كالقول في التفسير. এরপর বলা যেতে পারে যে, পূর্বোক্ত দুটি প্রয়োগের বিচারে তাউইলের (التأويل) সাথে তাদাব্বুরের (التدبر) একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলো: তাউইল (التأويل) যখন তাফসির (التفسير) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তাদাব্বুরের সাথে এর সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট; কারণ এক্ষেত্রে এর বিষয়টি তাফসিরের (التفسير) আলোচনার অনুরূপ।
وأما وجه تَعَلُّقه بالتأويل إذا أُريد به المعنى الآخر: فإن ذلك يكون بالامتثال والعمل والتطبيق، وذلك من المعاني الداخلة تحت التدبر، إضافة إلى التفكر فيما يؤول إليه الإنسان، وما يقع في الدنيا والآخرة مما وعد الله به أهل طاعته وأهل معصيته، والله أعلم. আর যখন তাউইল (التأويل) দ্বারা দ্বিতীয় অর্থটি (বাস্তবায়ন) উদ্দেশ্য হয়, তখন তাদাব্বুরের সাথে এর সম্পর্কের দিকটি হলো— আদেশ পালন, আমল ও প্রয়োগ। আর এগুলো তাদাব্বুরের (التدبر) অন্তর্ভুক্ত অর্থসমূহেরই অংশ। এর সাথে যুক্ত হবে মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে চিন্তা করা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর অনুগত ও অবাধ্যদের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা সংঘটিত হওয়া সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবা। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
ثالثًا: علاقته بالبيان: তৃতীয়ত: বায়ানের (البيان) সাথে এর সম্পর্ক:
البيان: من بان الشيء: إذا اتضح وانكشف. বায়ান (البيان): এটি 'বানা আশ-শাই' থেকে উদ্গত, যার অর্থ কোনো কিছু স্পষ্ট ও উন্মোচিত হওয়া।
هذا من حيث الجملة، ويتقيَّدُ معناه بحسب مُتَعَلَّقِه، والمقصود هنا: ما يتعلق بالتدبر؛ وذلك بإطلاق البيان على ما يُشْرَح به المُجْمَل والمُبْهَم ويُكْشَف به عن المعنى، ومن ذلك قوله تعالى: {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} (القيامة: 19)، وقوله: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} (النحل: 44) (2). এটি হলো সাধারণ অর্থ, তবে এর প্রসঙ্গের প্রেক্ষিতে এর অর্থ সুনির্দিষ্ট হয়। এখানে উদ্দেশ্য হলো তাদাব্বুরের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়; আর তা হলো অস্পষ্ট (المجمل) ও অস্পষ্টতর (المبهم) বিষয়কে ব্যাখ্যা করা এবং অর্থ উন্মোচন করার ক্ষেত্রে বায়ান (البيان) শব্দের প্রয়োগ। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর এর বিশদ বর্ণনার (بيان) দায়িত্ব তো আমারই" (আল-কিয়ামাহ: ১৯), এবং তাঁর বাণী: "যাতে আপনি মানুষের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা (تبين) করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে" (আন-নাহল: ৪৪) (২)।
والقول فيه بهذا الاعتبار كالقول في التفسير من جهة المُلازَمة بينه وبين التدبر. এই বিচারে বায়ান (البيان) সম্পর্কে বক্তব্যটিও তাফসিরের (التفسير) বক্তব্যের মতোই, কারণ উভয়ের সাথেই তাদাব্বুরের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
رابعًا: علاقته بالاستنباط:ترجع مادة (الاستنباط) إلى الاستخراج (1)؛ قال ابن جرير رحمه الله: «وكل مُسْتَخرِج شيئًا كان مُسْتترًا عن أبصار العيون أو عن معارف القلوب، فهو له مُسْتَنْبِط» اهـ (2).
وبناء على ذلك، فإن الاستنباط من القرآن يكون بمعنى استخراج المعاني والأحكام وألوان الهدايات في العقائد والسلوك وغير ذلك، وهذا يكون نتيجة للتدبر كما لا يخفى، وهو قدر زائد على مجرد فهم اللفظ والكشف عن معناه، والله أعلم.
قال ابن القيم رحمه الله: «وقد مدح الله تعالى أهل الاستنباط في كتابه، وأخبر أنهم أهل العلم، ومعلوم أن الاستنباط إنما هو استنباط المعاني والعِلَل، ونِسْبة بعضها إلى بعض، فيُعْتَبَر ما يَصِحّ منها بصحة مِثْلِه ومُشْبِهه ونَظِيره، ويُلْغَى ما لا يَصِحّ. هذا الذي يَعْقِله الناس من الاستنباط.
قال الجوهري: «الاستنباط: كالاستخراج» (3)، ومعلوم أن ذلك قَدْر زائد على مُجَرّد فَهْم اللفظ؛ فإن ذلك ليس طَرِيْقُه الاستنباط؛ إذ موضوعات الألفاظ لا تُنَال بالاستنباط، وإنما تُنَال به العِلَل والمعاني والأشباه والنظائر ومقاصد المتكلم، والله سبحانه ذَمّ من سمع ظاهرًا مُجَرَّدًا فأَذَاعَه وأَفْشَاه، وحَمِد من استنبط من أُولي العلم حقيقتَه ومعناه.
--------------------------------------------
চতুর্থত: মাসআলা আহরণের (استنباط) সাথে এর সম্পর্ক:‘মাসআলা আহরণ’ (استنباط) শব্দটির মূল অর্থ হলো ‘নিষ্কাশন’ (استخراج) (১); ইবনে জারীর রহিমাহুল্লাহ বলেন: “যে কোনো ব্যক্তি এমন কিছু নিষ্কাশন (استخراج) করে যা চোখের দৃষ্টি অথবা হৃদয়ের জ্ঞানের আড়ালে ছিল, তবে সে ব্যক্তিই তার জন্য উদ্ভাবক বা মাসআলা আহরণকারী (مستنبط)।”—উদ্ধৃতি শেষ (২)।
এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, কুরআন থেকে ‘মাসআলা আহরণ’ (استنباط) বলতে অর্থসমূহ, বিধানসমূহ (أحكام) এবং আকিদাহ (عقائد), আমল-আচরণ ও অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন প্রকার হিদায়াত বা পথনির্দেশনা বের করাকে বোঝায়। এটি যে গভীরভাবে অনুধাবন করার (تدبر) ফল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এটি নিছক শব্দের আভিধানিক রূপ বোঝা বা এর অর্থ উন্মোচন করার চেয়েও অতিরিক্ত একটি বিষয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন: “আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে মাসআলা আহরণকারী (استنباط) ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে তারাই হলো আলেম বা বিজ্ঞ সমাজ। এটি সুবিদিত যে, ‘মাসআলা আহরণ’ (استنباط) হলো মূলত অর্থসমূহ ও গূঢ় কারণসমূহ (علل) আহরণ করা এবং একটিকে অন্যটির সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা। ফলে এগুলোর মধ্য থেকে যা সহিহ (صحيح) বা সঠিক তা তার অনুরূপ ও সদৃশ বিষয়ের সঠিকতার নিরিখে বিবেচনা করা হয়, আর যা সহিহ (صحيح) নয় তা বর্জন করা হয়। মানুষ ‘মাসআলা আহরণ’ (استنباط) বলতে এটিই বুঝে থাকে।
আল-জাওহারী বলেন: “‘মাসআলা আহরণ’ (استنباط) হলো ‘নিষ্কাশন’ (استخراج)-এর ন্যায়” (৩)। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, এটি নিছক শব্দ বোঝার চেয়ে অতিরিক্ত কিছু; কেননা নিছক শব্দের অর্থ বোঝার পথ ‘মাসআলা আহরণ’ (استنباط) নয়। কারণ শব্দের আভিধানিক প্রয়োগগুলো ‘মাসআলা আহরণ’ (استنباط) করার মাধ্যমে অর্জিত হয় না; বরং এর মাধ্যমে গূঢ় কারণসমূহ (علل), নিহিত অর্থসমূহ, সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়াবলি এবং বক্তার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়। মহান আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে নিন্দা করেছেন যে কোনো সংবাদ শোনার পর কেবল তার বাহ্যিক রূপটি প্রচার ও প্রকাশ করে দেয়; পক্ষান্তরে তিনি আলেমদের মধ্য হতে সেই ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন যারা এর প্রকৃত রহস্য ও মর্মার্থ আহরণ (استنباط) করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويُوَضِّحه: أن الاستنباط استخراج الأمر الذي من شأنه أن يَخْفَى على غير مُسْتَنْبِطه، ومنه: استنباط الماء من أرض البئر والعين، ومن هذا قول علي بن أبي طالب رضي الله عنه وقد سئل: هل خَصَّكم رسول الله صلى الله عليه وسلم بشيء دون الناس؟ فقال: «لا، والذي فَلَق الحَبّة، وبَرَأ النَّسَمَة؛ إلا فَهْمًا يُؤْتِيه الله عبدًا في كتابه» (1).
ومعلوم أن هذا الفَهْم قَدْر زائد على معرفة موضوع اللفظ وعمومه أو خصوصه؛ فإن هذا قَدْر مُشْتَرك بين سائر من يَعْرِف لغة العرب، وإنما هذا فَهْم لَوَازِم المعنى ونظائره، ومُرَاد المُتَكَلِّم بكلامه، ومعرفة حدود كلامه، بحيث لا يدخل فيها غير المُرَاد، ولا يَخْرُج منها شيء من المراد
… » اهـ (2)، ثم ذكر أمثلة لذلك.
خامسًا: علاقته بالفهم:الفهم: قيل: هو تصور المعنى من اللفظ، وقيل: هيئة للنفس يتحقق بها ما يَحْسُن (3).
وبناء على ذلك، فإن الفهم يكون نتيجة للتدبر، كما أنه يكون وسيلة لما وراء ذلك من المعاني الداخلة تحت التدبر، فإن من التدبر ما لا يكون إلا بعد الفهم، والله أعلم.
وبهذا نعلم أن بين التدبر والفهم ملازمة، ولا يخفى أن الناس يتفاوتون في الفهم تفاوتًا كبيرًا، وكلٌّ يحصل له من التدبر بحسبه.
--------------------------------------------
বিষয়টি সুস্পষ্ট করে যে: ‘ইস্তিনবাত’ বা গবেষণালব্ধ নির্যাস বের করা (استنباط) হলো এমন বিষয় নিরূপণ করা যা সাধারণত গবেষক ব্যতীত অন্যদের কাছে অস্পষ্ট থাকে। এরই একটি উদাহরণ হলো: কুয়া বা প্রস্রবণের ভূমি থেকে পানি উত্তোলন করা। এ অর্থেই আলী ইবনে আবু তালিব (রা.)-এর উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ‘আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি আপনাদেরকে সাধারণ মানুষের তুলনায় বিশেষ কোনো কিছু দিয়ে স্বতন্ত্র করেছেন?’ তিনি উত্তর দিলেন: ‘না, সেই সত্তার শপথ যিনি শস্যদানা বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন; তবে আল্লাহ কোনো বান্দাকে তাঁর কিতাব (কুরআন) সম্পর্কে যে বিশেষ অনুধাবন (فهم) দান করেন, তা স্বতন্ত্র।’ (১)
এটি সর্বজনবিদিত যে, এই বিশেষ অনুধাবন (فهم) শব্দের আভিধানিক অর্থ, এর ব্যাপকতা (عموم) বা বিশেষত্ব (خصوص) জানার চেয়েও অতিরিক্ত একটি বিষয়; কারণ এই প্রাথমিক জ্ঞানটুকু আরবি ভাষা জানা সকল ব্যক্তির মধ্যেই সমানভাবে বিদ্যমান। মূলত এটি হলো কোনো বক্তব্যের মর্মার্থের আবশ্যিক বিষয়াবলি ও এর সদৃশ দিকসমূহ অনুধাবন করা, বক্তার মূল উদ্দেশ্য এবং তাঁর বক্তব্যের সীমা রেখা সম্পর্কে অবগত হওয়া; যাতে বক্তব্যের বহির্ভূত কোনো বিষয় তাতে প্রবেশ না করে এবং বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত কোনো বিষয় তা থেকে বাদ না পড়ে
… » সমাপ্ত (২), অতঃপর তিনি এর কতিপয় উদাহরণ পেশ করেছেন।
পঞ্চম: অনুধাবনের সাথে এর সম্পর্ক:অনুধাবন (فهم): বলা হয়েছে, এটি হলো শব্দ থেকে অর্থের ধারণা লাভ করা। আবার বলা হয়েছে, এটি মনের এমন একটি অবস্থা যার মাধ্যমে কল্যাণকর বিষয়সমূহ অনুধাবন করা সম্ভব হয় (৩)।
এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, অনুধাবন (فهم) হলো গভীর চিন্তাভাবনার (تدبر) একটি ফলাফল, আবার এটি তাদাব্বুরের অন্তর্ভুক্ত উচ্চতর অর্থসমূহ অর্জনের একটি মাধ্যমও বটে। কেননা গভীর চিন্তাভাবনা বা তাদাব্বুরের (تدبر) এমন কিছু স্তর রয়েছে যা সঠিক অনুধাবন (فهم) ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, তাদাব্বুর বা গভীর চিন্তাভাবনা (تدبر) এবং অনুধাবনের (فهم) মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। এটি সুস্পষ্ট যে, মানুষের অনুধাবন ক্ষমতার মধ্যে ব্যাপক তারতম্য রয়েছে এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ সক্ষমতা অনুযায়ী গভীর চিন্তাভাবনার (تدبر) ফল লাভ করে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২০)
سادسًا: علاقته بالتَّفَكُّر:ظهر جليًّا من خلال عرض عبارات أهل العلم في التدبر بمعناه العام، أو الخاص، وما ذكره المفسرون عند تفسير الآيات المتعلقة بذلك- أن الكثيرين يُفَسِّرون التدبر بالتفكر؛ وذلك لما بينهما من المُقَاربة الشديدة، وقد فَرَّق بعضهم- كما سبق- بأن التدبر: تَصَرُّف القلب بالنظر في العواقب، وأما التفكر: فَتَصَرُّفه بالنظر في الدلائل.
والذي يظهر أنهما يرجعان إلى معنًى واحد في الأصل، وقد يَفْتَرِقان في بعض المعاني الدِّلَالية الخاصة بكل لفظة؛ وذلك أن كلمة (التدبر) تحمل معنى زائدًا، وهو (دُبُر الشيء، وعاقبته)، ومن هنا جاء التفريق السابق بينهما.
ولا يخفى أن الواقع في الاستعمال أوسع من ذلك؛ حيث صار يُعَبَّر بكلٍّ منهما من غير مراعاة لِمُتَعَلَّق النظر في كل لفظة، والله أعلم.
ষষ্ঠত: চিন্তা-ভাবনার (التفكر) সাথে এর সম্পর্ক:গভীর অনুধাবনের (التدبر) সাধারণ কিংবা বিশেষ অর্থ সম্পর্কে আলেমগণের বর্ণনা এবং এ সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের (المفسرون) বক্তব্যের মাধ্যমে এটি সুস্পষ্ট হয়েছে যে, অনেকেই গভীর অনুধাবনকে (التدبر) চিন্তা-ভাবনা (التفكر) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। আর এটি মূলত উভয়ের মধ্যকার অত্যধিক নৈকট্যের কারণে। তাদের কেউ কেউ—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—এভাবে পার্থক্য করেছেন যে, গভীর অনুধাবন (التدبر) হলো: পরিণতির (العواقب) দিকে লক্ষ্য রেখে হৃদয়ের কর্মতৎপরতা; আর চিন্তা-ভাবনা (التفكر) হলো: দলিল-প্রমাণের (الدلائل) দিকে লক্ষ্য রেখে হৃদয়ের কর্মতৎপরতা।
প্রকৃতপক্ষে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, উভয়ই মূলগতভাবে একই অর্থের দিকে ফিরে যায়; তবে প্রতিটি শব্দের নিজস্ব অর্থগত তাৎপর্যের ক্ষেত্রে এগুলোর মাঝে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। আর তা হলো, ‘তদাব্বুর’ (التدبر) শব্দটি একটি অতিরিক্ত অর্থ বহন করে, যা হলো ‘কোনো বিষয়ের পশ্চাৎভাগ এবং তার পরিণতি’ (دبر الشيء وعاقبته); মূলত এখান থেকেই উভয়ের মাঝে উল্লিখিত পার্থক্যের অবতারণা হয়েছে।
এটিও স্পষ্ট যে, বাস্তবিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ আরও ব্যাপক; যেখানে প্রতিটি শব্দের নির্দিষ্ট প্রয়োগক্ষেত্রের প্রতি লক্ষ্য না রেখেই এগুলোর একটির মাধ্যমে অন্যটিকে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২১)
فضله وشرفهمعلوم أن شرف الشيء بشرف مُتَعَلَّقِه، ولما كان التدبر يتعلق بكتاب الله تعالى، صار من أشرف الأمور وأَجَلِّها وأفضلها.
للتدبر من النتائج والثمرات ما هو في غاية النفع كما سيأتي.
قال الآجري رحمه الله: «والقليل من الدرس للقرآن مع الفكر فيه وتدبُّره، أحبُّ إليَّ من قراءة الكثير من القرآن بغير تدبر ولا تفكر فيه، وظاهر القرآن يدل على ذلك، والسنة، وأقوال أئمة المسلمين» (1).
التدبر شأن العَالِمِين الذين يعقلون آيات الله ويتفهمونها.
أهمية التدبريمكن أن نستبين أهمية التدبر من وجوه عدة؛ منها:
أن الله تعالى جعل ذلك مقصودًا من إنزاله؛ كما في قوله: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ} (ص: 29).
قال الشيخ محمد الأمين الشِّنقيطي رحمه الله تعليقًا على هذه الآية: «وأمَّا كون تَدبُّر آياته، من حِكَم إنزاله: فقد أشار إليه في بعض الآيات، بِالتَّحْضِيضِ على تَدبُّره، وتوبيخ من لم يتدبره؛ كقوله تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} (محمد: 24)، وقوله تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} (النساء: 82)، وقوله تعالى: {أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ أَمْ جَاءَهُمْ مَا لَمْ يَأْتِ آبَاءَهُمُ الْأَوَّلِينَ} (المؤمنون: 68)» اهـ (2).
--------------------------------------------
এর ফযিলত ও মর্যাদাএটি সর্বজনবিদিত যে, কোনো বিষয়ের মর্যাদা তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মর্যাদার ওপর নির্ভর করে। যেহেতু চিন্তা-গবেষণা (تدبر) মহান আল্লাহর কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই এটি সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ, মহান ও শ্রেষ্ঠ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
চিন্তা-গবেষণার (تدبر) এমন কিছু ফলাফল ও প্রাপ্তি রয়েছে যা অত্যন্ত কল্যাণকর, যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসবে।
ইমাম আজুররি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "চিন্তা ও গবেষণার (تدبر) সাথে অল্প কুরআন পাঠ করা আমার কাছে চিন্তা ও গবেষণা (تدبر) ছাড়া অধিক পরিমাণ কুরআন পাঠ করার চেয়ে বেশি পছন্দনীয়। কুরআনের বাহ্যিক অর্থ, সুন্নাহ এবং মুসলিম ইমামগণের বাণীসমূহ এর পক্ষেই প্রমাণ পেশ করে" (১)।
চিন্তা-গবেষণা (تدبر) হলো আলিমদের বৈশিষ্ট্য, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অনুধাবন করেন এবং তা হৃদয়ঙ্গম করেন।
চিন্তা-গবেষণার (تدبر) গুরুত্বআমরা বিভিন্নভাবে চিন্তা-গবেষণার (تدبر) গুরুত্ব স্পষ্ট করতে পারি; তন্মধ্যে রয়েছে:
মহান আল্লাহ একে কুরআন অবতীর্ণ করার অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; যেমনটি তাঁর বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: "(এটি) এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে এবং বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে" (সোয়াদ: ২৯)।
শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শিনকিতি (রহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: "আর এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করা যে এটি অবতীর্ণ করার অন্যতম হিকমত, তা আল্লাহ তাআলা কিছু আয়াতে এর প্রতি উৎসাহিত করার মাধ্যমে এবং যারা চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে না তাদের তিরস্কার করার মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: 'তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে না? না কি তাদের অন্তরসমূহে তালা লাগানো রয়েছে?' (মুহাম্মদ: ২৪)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: 'তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে না? যদি এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত' (নিসা: ৮২)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: 'তবে কি তারা এই বাণী (কুরআন) নিয়ে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করেনি? না কি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?' (মুমিনুন: ৬৮)" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২২)
أن الله تعالى أنكر على من لم يتدبره؛ كما في قوله عز وجل: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} (النساء: 82)، وقوله: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} (محمد: 24).
قال الشيخ الشنقيطي رحمه الله تعليقًا على هذه الآية: «ومعلوم أن كلَّ من لم يشتغل بتدبُّر آيات هذا القرآن العظيم- أي: تَصَفُّحِها وتَفَهُّمِها، وإدراك معانيها والعمل بها- فإنه مُعْرِض عنها، غير متدبِّر لها؛ فيستحق الإنكار والتوبيخ المذكور في الآيات إن كان الله أعطاه فهمًا يقدر به على التدبر، وقد شكا النبي صلى الله عليه وسلم إلى ربه من هجر قومه هذا القرآن؛ كما قال تعالى: {وَقَالَ الرَّسُولُ يَارَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَذَا الْقُرْآنَ مَهْجُورًا} (الفرقان: 30).
وهذه الآيات المذكورة تدل على أن تدبر القرآن وتَفَهُّمَه وتَعَلُّمَه والعمل به، أمر لا بد منه للمسلمين.
وقد بين النبي صلى الله عليه وسلم أن المشتغلين بذلك هم خير الناس؛ كما ثبت عنه صلى الله عليه وسلم فِي الصحيح، من حديث عثمان بن عفان رضي الله عنه، أنه صلى الله عليه وسلم قال: «خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ» (1)، وقال تعالى: {وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ} (آل عمران: 79).
فإعراض كثير من الأقطار عن النظر في كتاب الله وتَفَهُّمه والعمل به وبالسنة الثابتة المُبَيِّنة له، من أعظم المناكر وأشنعها، وإنْ ظن فاعلوه أنهم على هدى
… » (2).
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন যারা এটি (কুরআন) নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য পেত} (আন-নিসা: ৮২), এবং তাঁর বাণী: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? নাকি তাদের হৃদয়ে তালা লাগানো রয়েছে?} (মুহাম্মাদ: ২৪)।
শাইখ আশ-শানকিতী (রহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: «এটি সুপরিচিত যে, যে ব্যক্তি এই মহান কুরআনের আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণায়—অর্থাৎ তা পাঠ করা, অনুধাবন করা, এর অর্থ উপলব্ধি করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা—লিপ্ত হয় না, সে মূলত তা থেকে বিমুখ এবং এটি নিয়ে গবেষণায় বিমুখ; ফলে সে আয়াতে বর্ণিত তিরস্কার ও ভর্ৎসনার যোগ্য, যদি আল্লাহ তাকে এমন বোধশক্তি দিয়ে থাকেন যার মাধ্যমে সে অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রবের কাছে তাঁর কওম কর্তৃক কুরআন পরিত্যাগের ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাসূল বলল, হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমার কওম এই কুরআনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে} (আল-ফুরকান: ৩০)।
উল্লিখিত আয়াতসমূহ নির্দেশ করে যে, কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা, তা অনুধাবন করা, শিক্ষা করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা মুসলিমদের জন্য একটি অপরিহার্য বিষয়।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বর্ণনা করেছেন যে, যারা এসব কাজে ব্যাপৃত থাকে তারাই সর্বোত্তম মানুষ; যেমনটি সহিহ গ্রন্থে উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়» (১), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {বরং তোমরা রব্বানি হও যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং নিজেরাও তা অধ্যয়ন করতে} (আলে ইমরান: ৭৯)।
সুতরাং অনেক অঞ্চলের মানুষের আল্লাহর কিতাব পাঠ, তা অনুধাবন এবং সে অনুযায়ী ও তাকে ব্যাখ্যাকারী প্রমাণিত (ثابت) সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা থেকে বিমুখ থাকা এক চরম এবং অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ, যদিও এর কর্তারা ধারণা করে যে তারা হিদায়াতের ওপর রয়েছে
… » (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أنه لا سبيل إلى تحصيل المطالب العالية والكمالات إلا بالإقبال عليه وتدبره وتَفَهُّمه.
قال الحافظ ابن القيم رحمه الله: «فلما كان كمال الإنسان إنما هو بالعلم النافع، والعمل الصالح، وهما الهدى ودين الحقِّ، وبتكميله لغيره في هذينِ الأمرين؛ كما قال تعالى: {وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ} (العصر: 1 - 3)، أقسم سبحانه أنّ كلَّ أحد خاسر إِلا من كَمَّل قوته العلمية بالإيمان، وقوته العملية بالعمل الصالح، وكَمَّل غيره بالتوصية بالحق والصبر عليه، فالحقُّ هو الإيمان والعمل، ولا يَتِمَّان إلا بالصبر عليهما، والتواصي بهما-: كان حقيقًا بالإنسان أن ينفق ساعات عمره، بل أنفاسه، فيما ينالُ به المطالب العالية، ويخلص بهِ من الخسران المبين، وليس ذلك إلا بالإِقبال على القرآن وتَفَهُّمه وتدبره، واستخراج كنوزه، وإثارة دفائنه، وصرف العناية إليه، والعكوف بالهمة عليه، فإنه الكفيل بمصالح العباد في المَعَاش والمعاد، والمُوصِل لهم إلى سبيل الرشاد» اهـ (1).
أنه الطريق إلى معرفة العبد لخالقه جل جلاله معرفة صحيحة بأسمائه وصفاته وأفعاله، وهو الطريق إلى معرفة صراطه المستقيم الذي أمر العباد بسلوكه.
قال الآجري رحمه الله: «ومن تدبر كلامه، عرف الربَّ عز وجل، وعرف عظيم سلطانه وقدرته، وعرف عظيم تَفَضُّله على المؤمنين، وعرف ما عليه من فَرْضِ عبادته، فألزم نفسه الواجب، فحذر مما حذَّره مولاه الكريم، ورغب فيما رَغَّبه فيه، ومن كانت هذه صفته عند تلاوته للقرآن وعند استماعه من غيره، كان القرآن له شفاء، فاستغنى بلا مال، وَعَزَّ بلا عشيرة، وأَنِس بما يستوحش منه غيره، وكان هَمُّه
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই উচ্চতর লক্ষ্যসমূহ এবং পূর্ণতা অর্জনের আর কোনো পথ নেই কেবল তাঁর (কুরআনের) প্রতি মনোনিবেশ করা, তা অনুধাবন করা এবং তা গভীরভাবে চিন্তা করা ছাড়া।
হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «যেহেতু মানুষের পূর্ণতা কেবল উপকারী জ্ঞান এবং নেক আমলের মাধ্যমেই অর্জিত হয়—যা হলো হিদায়াত ও সত্য দ্বীন—এবং এই দুটি বিষয়ে অন্যকে পূর্ণতা অর্জনে সহায়তা করার মাধ্যমে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {সময়ের শপথ। নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ততায় নিমজ্জিত। তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে} (সূরা আল-আসর: ১-৩)। মহান আল্লাহ শপথ করেছেন যে, প্রত্যেকেই ক্ষতিগ্রস্ত, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে তার তাত্ত্বিক শক্তিকে ঈমানের মাধ্যমে এবং ব্যবহারিক শক্তিকে নেক আমলের মাধ্যমে পূর্ণতা দান করেছে, আর অন্যকে সত্যের নসিহত ও ধৈর্যের উপদেশের মাধ্যমে পূর্ণ করেছে। সুতরাং 'সত্য' হলো ঈমান ও আমল, আর এই দুটি কেবল ধৈর্যের মাধ্যমে এবং একে অপরের উপদেশের মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়। অতএব, মানুষের জন্য এটিই সমীচীন যে, সে তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, বরং প্রতিটি নিঃশ্বাস ব্যয় করবে এমন কাজে যার মাধ্যমে উচ্চতর লক্ষ্যসমূহ অর্জিত হয় এবং যা তাকে সুস্পষ্ট ক্ষতি থেকে মুক্তি দেয়। আর তা কুরআনের প্রতি মনোনিবেশ করা, তা অনুধাবন ও গভীরভাবে চিন্তা করা, এর গোপন ভাণ্ডারগুলো উন্মোচন করা, এর অন্তর্নিহিত তত্ত্বসমূহ উদ্ঘাটন করা, এতে পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করা এবং দৃঢ় সংকল্পের সাথে এতে নিমগ্ন থাকা ছাড়া সম্ভব নয়। কেননা এটিই ইহকাল ও পরকালে বান্দার কল্যাণ নিশ্চিতকারী এবং তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করার মাধ্যম।» সমাপ্ত (১)।
নিশ্চয়ই এটি বান্দার জন্য তার মহান স্রষ্টাকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলির মাধ্যমে সঠিকভাবে (صحيحة) চেনার পথ, এবং এটিই তাঁর সিরাত-ই-মুস্তাকিম (সরল পথ) চেনার পথ যা তিনি বান্দাদের অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আল-আজরুরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণী গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে তার মহান রবকে চিনতে পারবে; সে তাঁর সুমহান আধিপত্য ও ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারবে, মুমিনদের প্রতি তাঁর অসীম অনুগ্রহ সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তাঁর ওপর অর্পিত ইবাদতের আবশ্যকতা সম্পর্কে অবগত হতে পারবে। ফলে সে নিজেকে আবশ্যিক কার্যাবলি পালনে বাধ্য করবে, তার মহান মনিব যা থেকে সতর্ক করেছেন তা থেকে সে সতর্ক থাকবে এবং তিনি যা অর্জনে উৎসাহিত করেছেন তার প্রতি অনুরাগী হবে। যার অবস্থা কুরআন তিলাওয়াতের সময় বা অন্যের থেকে তা শোনার সময় এরূপ হয়, কুরআন তার জন্য আরোগ্য হিসেবে গণ্য হয়। তখন সে সম্পদ ছাড়াই অভাবমুক্ত হয়ে যায়, কোনো গোষ্ঠী বা আত্মীয়-স্বজন ছাড়াই সম্মানিত হয় এবং এমন বিষয়ে স্বস্তি পায় যা অন্যকে আতঙ্কিত করে তোলে। আর তার চিন্তা-চেতনা...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عند التلاوة للسّورة إذا افتتحها: متى أتعظ بما أتلو؟ ! ولم يكن مراده: متى أختم السّورة؟ ! وإنما مراده: متى أعقل عن الله الخطاب؟ ! متى أزدجر؟ ! متى أعتبر؟ ! لأن تلاوته للقرآن عبادة، والعبادة لا تكون بغفلة» اهـ (1).
أن ذلك من النصيحة لكتاب الله تعالى.
قال الحافظ ابن رجب رحمه الله: «وأما النصيحة لكتاب الله، فَشِدَّة حُبِّه وتعظيم قَدْرِه؛ إذ هو كلام الخالق، وشِدَّة الرغبة في فهمه، وشِدَّة العناية لتدبره والوقوف عند تلاوته لطلب معاني ما أحب مولاه أن يفهمه عنه، أو يقوم به له بعد ما يفهمه، وكذلك الناصح من العباد يفهم وصية من ينصحه، وإن ورد عليه كتاب منه، عُني بفهمه؛ ليقوم عليه بما كتب به فيه إليه، فكذلك الناصح لكتاب ربه؛ يُعْنَى بفهمه ليقوم لله بما أمره به كما يُحِب ويرضى، ثم ينشر ما فهم في العباد ويديم دراسته بالمحبة له، والتخلق بأخلاقه، والتأدب بآدابه» اهـ (2).
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: «فإنه قد عُلِم أنه من قرأ كتابًا في الطب أو الحساب أو النحو أو الفقه أو غير ذلك، فإنه لا بد أن يكون راغبًا في فهمه وتَصَوُّر معانيه، فكيف بمنْ قرؤوا كتاب الله تعالى المُنزل إليهم الذي به هداهم الله، وبه عَرَّفَهم الحق والباطل، والخير والشر، والهدى والضلال، والرشاد والغي؟ ! فمن المعلوم أن رغبتهم فِي فهمه وتصوُّرِ معانيه أعظم الرغبات، بل إذا سمع المتعلم من العالم حديثًا، فإنه يرغب في فهمه؛ فكيف بمن يسمعون كلام الله من المبلِّغ عنه؟ ! بل من المعلوم أن رغبة الرسول صلى الله عليه وسلم في تعريفهم معاني القرآن أعظم من رغبته في تعريفهم حروفه؛ فإن معرفة الحروف بدون المعاني لا تُحَصِّل المقصود؛ إذ اللَّفظ إنما يُرَاد للمعنى» (3).
--------------------------------------------
সুরা তিলাওয়াত শুরু করার সময় (তাঁর মনোভাব থাকে): আমি যা পাঠ করছি তা থেকে কখন শিক্ষা গ্রহণ করব?! তাঁর উদ্দেশ্য এটি থাকে না যে: কখন সুরাটি শেষ করব?! বরং তাঁর উদ্দেশ্য থাকে: আল্লাহর বাণী আমি কখন অনুধাবন করব?! কখন আমি অন্যায় থেকে বিরত থাকব?! কখন আমি উপদেশ গ্রহণ করব?! কারণ কুরআন তিলাওয়াত একটি ইবাদত, আর অসতর্কতার সাথে ইবাদত হয় না— সমাপ্ত (১)।
এটি মহান আল্লাহর কিতাবের প্রতি একনিষ্ঠতা প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
হাফিজ (الحافظ) ইবনে রাজাব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আর আল্লাহর কিতাবের প্রতি একনিষ্ঠতা হলো—এর প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং এর মর্যাদাকে সম্মান করা; যেহেতু এটি স্রষ্টার বাণী। এটি বোঝার জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং এর মর্ম উপলব্ধির জন্য নিবিড় মনোযোগ প্রদান করা এবং তিলাওয়াতের সময় এমন অর্থসমূহ অন্বেষণ করা যা তাঁর প্রতিপালক তাকে বোঝাতে চেয়েছেন বা যা বোঝার পর তা পালন করা আবশ্যক। তেমনিভাবে একজন হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি তার কল্যাণকামী ব্যক্তির উপদেশ বোঝার চেষ্টা করে। যদি তার কাছে কোনো চিঠি আসে, তবে সে তা সযত্নে বোঝার চেষ্টা করে যেন সে অনুযায়ী কাজ করতে পারে। তদ্রূপ তার রবের কিতাবের প্রতি একনিষ্ঠ ব্যক্তিও তা বোঝার জন্য যত্নবান হয় যেন আল্লাহর নির্দেশিত কাজগুলো তাঁর পছন্দ ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী পালন করতে পারে। অতঃপর যা কিছু সে অনুধাবন করেছে তা মানুষের মাঝে প্রচার করে, এর প্রতি ভালোবাসার সাথে সর্বদা অধ্যয়ন অব্যাহত রাখে এবং এর উন্নত চরিত্র ও শিষ্টাচার দ্বারা নিজেকে সুশোভিত করে»— সমাপ্ত (২)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «নিশ্চয়ই এটি সুবিদিত যে, কেউ যখন চিকিৎসা শাস্ত্র, গণিত, ব্যাকরণ, ফিকহ বা অন্য কোনো বিষয়ের বই পড়ে, তখন সে অবশ্যই এর বিষয়বস্তু বুঝতে ও তার অর্থ উপলব্ধি করতে আগ্রহী থাকে। তবে যারা মহান আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব পাঠ করে—যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদের পথ দেখিয়েছেন, যার দ্বারা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য এবং ভালো-মন্দ, হেদায়াত-গোমরাহি ও সুপথ-বিপথের পরিচয় দিয়েছেন—তাদের অবস্থা তবে কেমন হওয়া উচিত?! এটা নিশ্চিত যে, এর মর্ম উপলব্ধি ও অর্থ অনুধাবনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি হওয়া উচিত। এমনকি কোনো শিক্ষার্থী যখন কোনো আলেমের নিকট থেকে কোনো হাদিস শোনে, তখন সে তা বোঝার প্রতি গভীর আগ্রহী হয়; তাহলে যারা স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে পৌঁছানো বাণী শোনে, তাদের অবস্থা কেমন হবে?! বরং এটি সুস্পষ্ট যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সাহাবীদেরকে কুরআনের শব্দাবলি শেখানোর চেয়ে এর অর্থাবলি শেখানোর আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি ছিল। কারণ অর্থ ছাড়া কেবল শব্দজ্ঞান মূল উদ্দেশ্য হাসিল করে না; কেননা শব্দ তো কেবল অর্থ প্রকাশের জন্যই ব্যবহৃত হয়» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أن تدبر القرآن من أَجَلّ الأعمال وأفضل التَّعَبُّدَات.
قال الحافظ ابن رجب رحمه الله: «ومن أعظم ما يُتَقَرَّب به إلى الله تعالى من النوافل كثرة تلاوة القرآن، وسماعه بتفكُّر وتدبر وتَفَهُّم؛ قال خَبَّاب بن الأرت لرجل: تقرب إلى الله ما استطعت، واعلم أنك لن تتقرب إليه بشيء هو أحبُّ إليه من كلامه» اهـ (1).
ثمراته ونتائجهالتدبر يورث اليقين، ويزيد الإيمان.
وهو طريق إلى العمل بما في القرآن من المأمورات، والكف عن المنهيات.
وهو سبيل إلى الاعتبار والاتعاظ بأمثاله وقصصه.
وأنه يحمل على محاسبة النفس ومراجعتها.
وهو الطريق إلى معرفة مَحَابّ الله ومَسَاخِطِه، وأوصاف أوليائه وصفات أعدائه.
وبه تكون معرفة الطريق إلى الله تعالى.
وهو أقوى الأسباب لترقيق القلب وتليينه.
قال ابن القيم رحمه الله: «وبالجملة فلا شيْء أنفع للقلب من قراءَة القرآن بالتدبر والتَّفَكُّر؛ فَإنَّه جَامعٌ لجميع منازل السائرين، وأحوال العاملين، ومقامات العارفين، وهو الذي يُورث المحبة والشوق، وَالخوف والرجاء، والإنابة والتوكل، والرِّضَا والتفويض، وَالشكر وَالصبر، وَسَائِر الأحوال الَّتِي بها حَيَاة القلب وكماله، وكذلك يزْجر عَن جميع الصِّفات والأفعال المذمومة، والتي بها فساد القلب وهلاكه.
--------------------------------------------
কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করা মহানতম আমল এবং সর্বোত্তম ইবাদতসমূহের (تعبدات) অন্তর্ভুক্ত।
হাফিজ ইবনে রাজাব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের নফল (نوافل) ইবাদতসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম মাধ্যম হলো অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা এবং চিন্তা, গবেষণা ও অনুধাবনের সাথে তা শ্রবণ করা; খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন: তোমার সাধ্যমতো আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করো এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহর কাছে তাঁর কালামের চেয়ে প্রিয় আর কোনো কিছুর মাধ্যমেই তুমি তাঁর নৈকট্য লাভ করতে পারবে না» সমাপ্ত (اهـ) (১)।
এর সুফল ও ফলাফলচিন্তা-গবেষণা (تدبر) সুদৃঢ় বিশ্বাস (يقين) তৈরি করে এবং ঈমান বৃদ্ধি করে।
এটি কুরআনে বর্ণিত আদেশসমূহ (مأمورات) পালন এবং নিষেধসমূহ (منهيات) থেকে বিরত থাকার পথ।
এটি কুরআনের উদাহরণ ও কাহিনীগুলো থেকে শিক্ষা (اعتبار) ও উপদেশ গ্রহণ (اتعاظ)-এর মাধ্যম।
এটি মানুষকে আত্মপর্যালোচনা (محاسبة النفس) ও নিজের অবস্থা পর্যালোচনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে।
এটি আল্লাহর পছন্দনীয় বিষয় ও তাঁর অসন্তুষ্টির কারণসমূহ এবং তাঁর বন্ধুদের (أولياء) বৈশিষ্ট্য ও শত্রুদের গুণাবলি জানার পথ।
এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলার দিকে যাওয়ার পথ চেনা সম্ভব হয়।
এটি অন্তরকে বিগলিত ও কোমল করার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম।
ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «সারকথা হলো, চিন্তা ও গবেষণার সাথে কুরআন পাঠ করার চেয়ে অন্তরের জন্য অধিক উপকারী আর কিছু নেই। কারণ এটি আল্লাহর পথের পথিকদের সকল স্তর (منازل), আমলকারীদের সকল অবস্থা (أحوال) এবং মারেফত অর্জনকারীদের সকল অবস্থানকে (مقامات) শামিল করে। এটিই অন্তরে ভালোবাসা ও ব্যাকুলতা, ভয় (خوف) ও আশা (رجاء), আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন (إنابة) ও নির্ভরতা (توكل), সন্তুষ্টি (رضا) ও সঁপে দেওয়া (تفويض), কৃতজ্ঞতা (شكر) ও ধৈর্য (صبر) এবং এমন সব অবস্থার জন্ম দেয় যা অন্তরের জীবন ও পূর্ণতার ভিত্তি। একইভাবে এটি সমস্ত নিন্দনীয় গুণাবলি ও মন্দ কর্মসমূহ থেকে বিরত রাখে, যা অন্তরের বিপর্যয় ও ধ্বংসের কারণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فَلَو علم النَّاس ما في قراءة القرآن بالتدبر، لاشتغلوا بها عن كل ما سواها، فإذا قرأهُ بتفكر حتى مر بآية وهو مُحْتَاج إليها في شفاء قلبه، كررها ولو مئَة مرّة ولو لَيْلَة، فقراءة آيَة بتفكر وتَفَهُّم خير من قراءة ختمة بغير تدبر وتَفَهُّم، وأنفع للقلب، وأدعى إلى حصول الإيمان وذوق حلاوة القرآن
… فقراءة القرآن بالتفكر هي أصل صلاح القلب
… ولهذا أنزل الله القرآن ليُتَدَبَّر ويُتَفكَّر فيه، ويُعمَلَ به، لا لمجرد الإعراض عنه» اهـ (1).
وقال السعدي رحمه الله: «فَإنَّ تدبر كتاب الله مفتاح للعلوم والمعارف، وبه يُسْتَنْتَج كل خير، وتُسْتَخْرَج منه جميع العلوم، وبه يزداد الإيمان في القلب وترسخ شجرته؛ فإنه يُعرِّف بالرب المعبود، وما له من صفات الكمال، وما يُنَزَّه عنه من سمات النقص، ويُعرِّف الطريق المُوصِلة إليه وصفة أهلها، وما لهم عند القُدوم عليه، ويعرِّف العدو الذي هو العدو على الحقيقة، والطريق المُوصِلة إلى العذاب، وصفة أهلها، وما لهم عند وجود أسباب العقاب» اهـ (2).
مظاهره وعلاماتهالتأثر بما يقرأ، والخشوع عند قراءته أو سماعه.
الإقبال عليه إقبالًا تامًّا دون الاشتغال بما يصرف عن تدبره، والإنصات عند سماعه.
العمل بما يدعو إليه، والكف عما يزجر عنه.
موضوعهالقرآن الكريم.
--------------------------------------------
মানুষ যদি জানত যে অনুধাবন (تدبر) সহকারে কুরআন পাঠ করার মাঝে কী নিহিত রয়েছে, তবে তারা অন্য সবকিছু ছেড়ে কেবল এটি নিয়েই ব্যস্ত থাকত। ফলে যখন সে চিন্তা-গবেষণার (تفكر) সাথে তা পাঠ করে এবং এমন কোনো আয়াতের (آية) ওপর দিয়ে যায় যার দ্বারা তার অন্তরের আরোগ্য প্রয়োজন, সে তা শতবার এমনকি সারা রাত ধরে পুনরাবৃত্তি করে। কেননা অনুধাবন (تدبر) ও উপলব্ধি (تفهّم) ছাড়া একবার কুরআন খতম (ختمة) করার চেয়ে চিন্তা-গবেষণা (تفكر) ও উপলব্ধি (تفهّم) সহকারে একটি আয়াত (آية) তিলাওয়াত করা উত্তম, অন্তরের জন্য অধিক উপকারী এবং ঈমান অর্জন ও কুরআনের মিষ্টতা আস্বাদনের জন্য অধিক সহায়ক
… সুতরাং চিন্তা-গবেষণার (تفكر) সাথে কুরআন তিলাওয়াত করাই হলো অন্তরের সংশোধনের মূল ভিত্তি
… আর একারণেই আল্লাহ কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যেন এটি নিয়ে অনুধাবন (تدبر) ও চিন্তা-গবেষণা (تفكر) করা হয় এবং এর ওপর আমল করা হয়, কেবল তা থেকে বিমুখ থাকার জন্য নয়।» সমাপ্ত (১)।
আস-সা'দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাব নিয়ে অনুধাবন (تدبر) করা হলো বিভিন্ন জ্ঞান ও প্রজ্ঞার চাবিকাঠি। এর মাধ্যমেই সকল কল্যাণ আহরণ করা যায় এবং এর থেকেই সকল জ্ঞান উদ্ঘাটন করা হয়। এর মাধ্যমেই অন্তরে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তার বৃক্ষ সুদৃঢ় হয়। কেননা এটি উপাস্য রব সম্পর্কে এবং তাঁর যে সকল পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি রয়েছে ও যে সকল অপূর্ণতা থেকে তিনি পবিত্র, সে সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেয়। এটি তাঁর দিকে পৌঁছে দেওয়ার পথ এবং সেই পথের পথিকদের বৈশিষ্ট্য ও তাঁর কাছে উপস্থিত হওয়ার পর তাদের জন্য কী প্রতিদান রয়েছে তা বর্ণনা করে। এটি প্রকৃত শত্রুর পরিচয় দান করে এবং যে পথ আযাবের দিকে নিয়ে যায় তা এবং সেই পথের অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য ও শাস্তির কারণসমূহ উপস্থিত হলে তাদের পরিণাম কী হবে সে সম্পর্কে জ্ঞান দান করে।» সমাপ্ত (২)।
এর বহিঃপ্রকাশ ও নিদর্শনসমূহযা পাঠ করা হয় তার দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এবং তিলাওয়াতের সময় বা তা শোনার সময় বিনম্রতা (خشوع) অবলম্বন করা।
অন্যান্য সকল ব্যস্ততা ত্যাগ করে এর প্রতি পূর্ণরূপে মনোনিবেশ করা যা অনুধাবনে (تدبر) ব্যাঘাত ঘটায় এবং শ্রবণের সময় তা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
এটি যা আহ্বান করে তদানুযায়ী আমল করা এবং যা থেকে বারণ করে তা থেকে বিরত থাকা।
এর আলোচ্য বিষয়আল-কুরআনুল কারীম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أنواع تدبر القرآن(مَطالِب المُتَدَبِّرين ومقاصِدهم)
النوع الأول: تدبره لمعرفة صِدْق من جاء به، وأنه حق من عند الله تعالى:وذلك أن الله تعالى نَعَى على المنافقين إعراضهم عن طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم، فقال: {وَيَقُولُونَ طَاعَةٌ فَإِذَا بَرَزُوا مِنْ عِنْدِكَ بَيَّتَ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ غَيْرَ الَّذِي تَقُولُ وَاللَّهُ يَكْتُبُ مَا يُبَيِّتُونَ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا (81) أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} (النساء: 81 - 82).
قال ابن جرير رحمه الله في تفسير قوله تعالى: {طس تِلْكَ آيَاتُ الْقُرْآنِ وَكِتَابٍ مُبِينٍ (1)} (النمل: 1): «يَبِين لِمَن تَدَبَّرَه وفَكَّر فيه بفَهْم أنه من عند الله، أنزله إليك، لم تَتَخَرَّصه أنت، ولم تَتَقَوَّله ولا أحد سِوَاك من خَلْق الله؛ لأنه لا يَقْدِر أحد من الخَلْق أن يأتي بمثله، ولو تَظَاهَر عليه الجِنّ والإنس» اهـ (1).
قال ابن القيم رحمه الله: «ومن شهادته أيضًا ما أودعه في قلوب عباده من التصديق الجازم، واليقين الثابت، والطمأنينة بكلامه ووحيه، فإن العادة تُحيل حصول ذلك بما هو من أعظم الكذب والافتراء على رب العالمين، والإخبار عنه بخلاف ما هو عليه من أسمائه وصفاته، بل ذلك يُوقِع أعظم الرَّيْب والشك، وتدفعه الفِطَر والعقول السليمة، كما تَدفع الفِطَرُ التي فُطِر عليها الحيوان الأغذية الخبيثة الضارة التي لا تُغَذِّي؛ كالأبوال والأنتان؛ فإن الله سبحانه وتعالى فَطَر القلوب على قبول الحق، والانقياد له، والطمأنينة به، والسكون إليه، ومحبته، وفَطَرها على بُغْض الكذب والباطل، والنفور عنه، والريبة به، وعدم السكون إليه، ولو بقيت الفِطَر على حالها
--------------------------------------------
কুরআন অনুধাবনের প্রকারভেদ(অনুধাবনকারীদের অন্বেষণ ও লক্ষ্যসমূহ)প্রথম প্রকার: কুরআন নিয়ে যিনি এসেছেন তাঁর সত্যতা এবং এটি যে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সত্য তা জানার জন্য এটি অনুধাবন করা:আর তা এই কারণে যে, আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য থেকে বিমুখ হওয়ার নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন: {তারা বলে, ‘আমরা অনুগত’; কিন্তু যখন তারা আপনার নিকট থেকে চলে যায়, তখন তাদের একদল আপনি যা বলেন তার বাইরে অন্য কিছুর গোপন পরামর্শ করে। তারা রাতে যা কিছু গোপন পরামর্শ করে আল্লাহ তা লিখে রাখেন। সুতরাং আপনি তাদের উপেক্ষা করুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট (৮১)। তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে অবশ্যই তারা তাতে অনেক অসঙ্গতি পেত (৮২)} (সূরা আন-নিসা: ৮১ - ৮২)।
ইবনে জারীর (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহ তাআলার বাণী— {ত্ব-সীন, এগুলো কুরআনের ও সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত} (সূরা আন-নামল: ১)-এর তাফসীরে বলেন: «যে ব্যক্তি এটি অনুধাবন করবে এবং বোধশক্তি দিয়ে তা নিয়ে চিন্তা করবে, তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে; তিনি আপনার প্রতি তা নাযিল করেছেন। এটি আপনি নিজে উদ্ভাবন করেননি এবং আপনার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউও তা রচনা করেনি; কারণ কোনো সৃষ্টির পক্ষেই এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসা সম্ভব নয়, যদিও জিন ও মানুষ এ ব্যাপারে একে অপরকে সাহায্য করে» সমাপ্ত (১)।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «তাঁর সাক্ষ্যের মধ্যে এটিও অন্তর্ভুক্ত যে, তিনি তাঁর বান্দাদের অন্তরে তাঁর কালাম ও ওহীর প্রতি যে সুদৃঢ় সত্যায়ন, অটল বিশ্বাস এবং প্রশান্তি গচ্ছিত রেখেছেন। কারণ স্বভাবজাত নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বপ্রতিপালকের ওপর চরম মিথ্যা (كذب) ও অপবাদ আরোপের মাধ্যমে এবং তাঁর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে বাস্তবতার পরিপন্থী সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে এরূপ ফল লাভ হওয়া অসম্ভব। বরং তা মনে চরম সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টি করে এবং সুস্থ প্রকৃতি ও বুদ্ধি তা বর্জন করে। ঠিক যেমন কোনো প্রাণীর সহজাত প্রবৃত্তি সেই দূষিত ও ক্ষতিকর খাদ্য বর্জন করে যা কোনো পুষ্টি যোগায় না; যেমন মূত্র ও দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অন্তরগুলোকে সত্য গ্রহণ করা, তার অনুগত হওয়া, তার মাধ্যমে প্রশান্ত হওয়া, তাতে স্বস্তি পাওয়া এবং তাকে ভালোবাসার ওপর সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি অন্তরগুলোকে মিথ্যা (كذب) ও বাতিলের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা, তা থেকে বিমুখ হওয়া, তাতে সন্দেহ পোষণ করা এবং তাতে স্থিরতা না পাওয়ার ওপর সৃষ্টি করেছেন। যদি মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি তার আদি অবস্থায় থাকত...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لما آثرت على الحق سواه، ولما سكنت إلا إليه، ولا اطمأنت إلا به، ولا أحبت غيره؛ ولهذا ندب الله عز وجل عباده إلى تدبر القرآن؛ فإن كل من تدبره أوجب له تدبرُهُ علمًا ضروريًّا ويقينًا جازمًا أنه حق وصدق، بل أَحَقُّ كُلّ حق، وأصدق كل صدق، وأن الذي جاء به أصدق خلق الله وأبَرُّهم وأكملهم علمًا وعملًا ومعرفة؛ كما قال تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} (النساء: 82)، وقال تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} (محمد: 24)؛ فلو رُفعت الأقفال عن القلوب لباشرتها حقائق القرآن، واستنارت فيها مصابيح الإيمان، وعلمت علمًا ضروريًّا- يكون عندها كسائر الأمور الوجدانية من الفرح والألم والحب والخوف- أنه من عند الله، تكلم به حقًّا، وبَلَّغه رسولُه جبريل عنه إلى رسوله محمد، فهذا الشاهد في القلب من أعظم الشواهد، وبه احتج هرقل على أبي سفيان، حيث قال له: فهل يرتد أحد منهم سَخْطَة لدينه بعد أن يدخل فيه؟ فقال: لا! فقال له: وكذلك الإيمان إذا خالطت حلاوتهُ بشَاشَةَ القلوب لا يَسْخَطه أحد (1).
وقد أشار تعالى إلى هذا المعنى في قوله: {بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا الظَّالِمُونَ} (العنكبوت: 49)، وقوله: {وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ} (الحج: 54)، وقوله: {وَيَرَى الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ الَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ هُوَ الْحَقَّ وَيَهْدِي إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} (سبأ: 6)، وقوله: {أَفَمَنْ يَعْلَمُ أَنَّمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَى إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ} (الرعد: 19)، وقوله: {وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِنْ رَبِّهِ قُلْ إِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ أَنَابَ} (الرعد: 27)؛ يعني: أن الآية التي
--------------------------------------------
যেহেতু এটি সত্য ছাড়া অন্য কিছুকে প্রাধান্য দেয়নি, এবং এটি একমাত্র সত্যের নিকটই প্রশান্তি লাভ করেছে, এবং এটি ছাড়া অন্য কোথাও স্থির হয়নি, আর সত্য ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসেনি। এই কারণেই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর বান্দাদের কুরআন অনুধাবনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কেননা যে ব্যক্তিই এটি অনুধাবন করবে, এই অনুধাবন তার জন্য এমন এক আবশ্যিক জ্ঞান ও সুনিশ্চিত বিশ্বাস সৃষ্টি করবে যে, এটিই সত্য ও সঠিক, বরং এটিই সকল সত্যের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সত্য এবং সকল সত্যের মধ্যে সবচেয়ে সত্য। আর যিনি এটি নিয়ে এসেছেন, তিনি আল্লাহর সৃষ্টিজগতের মধ্যে সবচেয়ে সত্যবাদী, সবচেয়ে নেককার এবং জ্ঞান, আমল ও মারেফাতের দিক থেকে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে অবশ্যই তারা তাতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত} (নিসা: ৮২), এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? নাকি তাদের হৃদয়ে তালা লাগানো রয়েছে?} (মুহাম্মদ: ২৪)। সুতরাং যদি অন্তরসমূহ থেকে তালাগুলো সরিয়ে নেওয়া হতো, তবে কুরআনের হাকীকতগুলো হৃদয়ে গেঁথে যেত এবং তাতে ঈমানের আলোকবর্তিকাগুলো প্রজ্বলিত হতো। এবং তখন তারা এমন এক আবশ্যিক জ্ঞান লাভ করত—যা আনন্দ, বেদনা, ভালোবাসা ও ভয়ের মতো অন্যান্য আত্মিক অনুভূতির মতোই অনুভূত হতো—যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত, তিনি প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমেই কথা বলেছেন এবং তাঁর ফেরেশতা জিবরাইল তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর রসূল মুহাম্মাদের নিকট এটি পৌঁছে দিয়েছেন। হৃদয়ে এই যে সাক্ষ্য (شاهد), তা সর্বশ্রেষ্ঠ সাক্ষ্যসমূহের (شواهد) অন্যতম। আর এর মাধ্যমেই হিরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেশ করেছিলেন, যখন তিনি তাকে বলেছিলেন: "তাদের মধ্য থেকে কেউ কি এই দ্বীনে প্রবেশ করার পর তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ধর্মত্যাগ করে?" তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: "না!" তখন তিনি তাকে বললেন: "তেমনিভাবে ঈমানও যখন এর মিষ্টতা হৃদয়ের প্রফুল্লতার সাথে মিশে যায়, তখন কেউই এর ওপর অসন্তুষ্ট হয় না" (১)।
আর আল্লাহ তাআলা এই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {বরং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের অন্তরে তা সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ। আর জালিমরা ছাড়া কেউ আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে না} (আনকাবুত: ৪৯), এবং তাঁর বাণী: {আর যাতে যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা জানতে পারে যে, তা আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্য, অতঃপর তারা যেন তাতে ঈমান আনে} (হজ: ৫৪), এবং তাঁর বাণী: {আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা দেখতে পায় যে, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য এবং তা পরাক্রমশালী, পরম প্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে পরিচালিত করে} (সাবা: ৬), এবং তাঁর বাণী: {যে ব্যক্তি জানে যে আপনার প্রতি আপনার রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য, সে কি ওই ব্যক্তির মতো যে অন্ধ? কেবল বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে} (রাদ: ১৯), এবং তাঁর বাণী: {আর কাফিররা বলে, ‘তার ওপর তার রবের পক্ষ থেকে কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন?’ বলুন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং তিনি তাঁর অভিমুখী ব্যক্তিকে পথ প্রদর্শন করেন’} (রাদ: ২৭); অর্থাৎ: যে নিদর্শন যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يقترحونها لا تُوجِب هداية، بل الله هو الذي يهدي ويُضِل، ثم نَبَّهَهُمْ على أعظم آية وأَجَلِّها وهي طمأنينة في قلوب المؤمنين بذكره الذي أنزله، فقال: {الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ} (الرعد: 28)؛ أي: بكتابه وكلامه، {أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ}؛ فطمأنينة القلوب الصحيحة والفطر السليمة به وسكونها إليه من أعظم الآيات؛ إذ يستحيل في العادة أن تطمئن القلوب وتسكن إلى الكذب والافتراء والباطل» اهـ (1).
وذلك يحصل لهم بتدبره من وجوه متعددة؛ منها:
اتساق معانيه (2).
ائتلاف أحكامه (3).
«تأييد بعضه بعضًا بالتصديق، وشهادة بعضه لبعض بالتحقيق؛ فإن ذلك لو كان من عند غير الله لاختلفت أحكامه، وتناقضت معانيه، وأبان بعضه عن فساد بعض» (4).
قال ابن عباس رضي الله عنهما: «أفلا يتدبرون القرآن فيتفكرون فيه، فيرون تصديق بعضه لبعض، وما فيه من المواعظ والذكر والأمر والنهي، وأن أحدًا من الخلائق لا يقدر عليه» (5).
--------------------------------------------
তারা যে নিদর্শনগুলো প্রস্তাব করে তা হিদায়াত নিশ্চিত করে না, বরং আল্লাহই যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। এরপর তিনি তাদেরকে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শনের প্রতি সজাগ করেছেন, আর তা হলো তাঁর অবতীর্ণ জিকিরের (স্মরণের) মাধ্যমে মুমিনদের অন্তরের প্রশান্তি। তিনি বলেছেন: {যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়} (আর-রাদ: ২৮); অর্থাৎ: তাঁর কিতাব ও কালামের মাধ্যমে। {জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়}। সুতরাং বিশুদ্ধ (صحيح) অন্তর এবং সুস্থ স্বভাবজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তি লাভ এবং তাঁর প্রতি স্থির হওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন; কেননা সাধারণত মিথ্যা, অপবাদ এবং বাতিলের মাধ্যমে অন্তরসমূহ প্রশান্ত হওয়া এবং স্থিতি পাওয়া অসম্ভব। সমাপ্ত (১)।
আর তা তাদের জন্য অর্জিত হয় বিভিন্ন দিক থেকে কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার মাধ্যমে; যার মধ্যে রয়েছে:
এর অর্থসমূহের সুসংগতি (২)।
এর বিধানসমূহের সামঞ্জস্য (৩)।
«এক অংশ অপর অংশকে সত্যায়নের মাধ্যমে সমর্থন করা এবং এক অংশ অপর অংশের যাথার্থ্যের সাক্ষ্য প্রদান করা; কেননা এটি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে এর বিধানসমূহে মতপার্থক্য দেখা দিত, এর অর্থসমূহ হতো স্ববিরোধী এবং এক অংশ অপর অংশের অসারতা প্রকাশ করে দিত» (৪)।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: «তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? তাহলে তারা এতে চিন্তা করত এবং এক অংশ কর্তৃক অপর অংশের সত্যয়ন দেখতে পেত। এতে যে উপদেশ, জিকির, আদেশ ও নিষেধ রয়েছে এবং সৃষ্টির কেউ যে এর সমতুল্য কিছু করতে সক্ষম নয়, তাও তারা দেখতে পেত» (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
صِدْق ما تضمنه من الإخبار عن الغيوب الماضية والمستقبلة.
ومن ذلك: كَشْف خبايا وخفايا المنافقين وإظهار ذلك، وهم يعلمون صِدْق ما أخبر به عنهم (1).
5. ما حواه من ألوان الأدلة والبراهين التي يخضع لها كل مُنْصِف مُريد للحق مُتجرد من الهوى (2).
6. فصاحته وإعجازه للإنس والجن، عربهم وعجمهم؛ وهذه سِمَة لا تُفارقه من أوله إلى آخره، فهو على كثرة سوره وآياته، وطول المدة التي نزل فيها، لا تجد فيه تفاوتًا ولا خللًا في موضع واحد، وهذا لا يتَأتَّى للبشر مهما بلغت فصاحتهم (3).
7. ما اشتمل عليه من أنواع الهدايات التي تشهد لصحتها العقول- فيما للعقل مجال لإدراكه- وتوافق الفطر السليمة، فهو يدعو إلى كل معروف وخير، وينهى عن كل منكر وشر؛ فلا تجد فيه ما يُجَافي الحقيقة والفضيلة، أو يأمر بارتكاب الشر والفساد، أو يصرف عن الأخلاق الفاضلة (4).
النوع الثاني: تدبره للوقوف على عظاته، والاعتبار بما فيه من القصص والأخبار، وتَعَقُّل أمثاله المضروبة، وما اشتمل عليه من الوعد والوعيد، والترغيب والترهيب؛ من أجل أن يرعوي العبد فيستدرك ما وقع له من تقصير، ويزداد من الإقبال والتشمير في طاعة الله تعالى (5).
--------------------------------------------
অতীত এবং ভবিষ্যতের অদৃশ্য (غيب) সংবাদ (أخبار) সংক্রান্ত যা কিছু এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার সত্যতা।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: মুনাফিকদের গোপন ও লুকানো বিষয়সমূহ উন্মোচন করা এবং তা প্রকাশ করে দেওয়া, অথচ তারা তাদের সম্পর্কে দেওয়া সংবাদের (أخبار) সত্যতা সম্পর্কে অবগত ছিল (১)।
৫. এটি এমন সব দলিল ও প্রমাণাদি সংবলিত যার সামনে প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ, সত্য সন্ধানী এবং প্রবৃত্তি-মুক্ত ব্যক্তি মস্তক অবনত করে (২)।
৬. মানব ও জিন—চাই তারা আরব হোক বা অনারব—সবার জন্যই এর প্রাঞ্জলতা (فصاحة) এবং অলৌকিকত্ব (إعجاز); এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এর সাথে অবিচ্ছেদ্য। এর সূরা ও আয়াতের আধিক্য এবং অবতীর্ণ হওয়ার দীর্ঘ সময়কাল সত্ত্বেও আপনি এতে কোনো অসংগতি বা ত্রুটি খুঁজে পাবেন না। মানুষের অলঙ্কারশাস্ত্র যত উন্নতই হোক না কেন, তাদের পক্ষে এমন কিছু করা সম্ভব নয় (৩)।
৭. এটি এমন সব হিদায়াত বা পথনির্দেশনা সংবলিত, যার সঠিকতার (صحة) সাক্ষ্য বিবেক প্রদান করে—বিবেকের উপলব্ধি করার মতো ক্ষেত্রগুলোতে—এবং যা সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি প্রত্যেক পরিচিত সৎকাজ (معروف) ও কল্যাণের দিকে আহ্বান জানায় এবং প্রত্যেক মন্দ কাজ (منكر) ও অকল্যাণ থেকে নিষেধ করে। এতে আপনি সত্য ও মহত্ত্বের পরিপন্থী কিছু পাবেন না, কিংবা মন্দ কাজ ও ফাসাদ সৃষ্টির কোনো আদেশ পাবেন না, অথবা এটি মহান চরিত্র থেকে বিমুখ করে না (৪)।
দ্বিতীয় প্রকার: এর উপদেশসমূহ অনুধাবন করার জন্য এতে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করা, এবং এতে বর্ণিত কাহিনী ও সংবাদ (أخبار) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা, উপস্থাপিত উদাহরণসমূহ (أمثال) অনুধাবন করা এবং এতে বর্ণিত প্রতিশ্রুত পুরস্কার ও শাস্তির ধমক এবং উৎসাহ প্রদান (ترغيب) ও ভীতি প্রদর্শন (ترهيب) নিয়ে চিন্তা করা; যাতে বান্দা নিবৃত্ত হয় এবং নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে নেয় এবং মহান আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি অধিক মনোযোগী ও সচেষ্ট হয় (৫)।--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুলাসাতু ফী তাদাব্বুরিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
النوع الثالث: تدبره لاستخراج الأحكام منه، سواء كان ذلك مما يتصل بالعقائد، أو الأعمال المتعلقة بالجوارح، أو السلوك؛ إذ الأحكام تشمل ذلك كله بمفهومها الأوسع.
قال شيخ الإسلام رحمه الله: «فمن تدبر القرآن وتدبر ما قبل الآية وما بعدها وعرف مقصود القرآن، تبين له المراد، وعرف الهدى والرسالة، وعرف السداد من الانحراف والاعوجاج» اهـ (1).
وقال: «ومن تدبَّر القرآن طالبًا للهدى منه؛ تبين له طريق الحقِّ» اهـ (2).
النوع الرابع: تدبره للوقوف على ما حواه من العلوم والأخبار والقصص، وما ورد فيه من أوصاف هذه الدار، وما بعدها من الجنة أو النار، وما وصف الله تعالى فيه من أهوال القيامة ونهاية الحياة الدنيا، وأوصاف المؤمنين والكافرين بطوائفهم، وصفات أهل النفاق، إضافةً إلى الأوصاف المحبوبة لله تعالى، والأوصاف التي يكرهها
… إلى غير ذلك مما يلتحق بهذا المعنى.
قال مسروق: «من سَرَّه أن يَعْلَم عِلْم الأولين والآخرين، وعِلْم الدنيا والآخرة؛ فليقرأ سورة الواقعة» (3).
قال الذهبي: «هذا قاله مسروق على المُبَالَغة، لِعِظَم ما في السورة من جُمَل أمور الدَّارَين، ومعنى قوله: «فليقرأ الواقعة»؛ أي: يقرؤها بتَدَبُّر وتَفَكُّر وحضور، ولا يكن كمَثَل الحمار يَحْمِل أسفارًا» اهـ (4).
--------------------------------------------
তৃতীয় প্রকার: কুরআন থেকে বিধানসমূহ আহরণ করার উদ্দেশ্যে তা নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করা, চাই তা আকিদা (বিশ্বাস), কিংবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংশ্লিষ্ট আমল অথবা আচার-আচরণ সংক্রান্ত যাই হোক না কেন; কেননা বিধানের ব্যাপক অর্থ এই সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে.
শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «যে ব্যক্তি কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করে এবং কোনো আয়াতের পূর্বাপর বিষয়াবলি নিয়ে ভাবে এবং কুরআনের উদ্দেশ্য অনুধাবন করে, তার নিকট কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সে হিদায়াত ও রিসালাতের মর্ম বুঝতে পারে এবং বিচ্যুতি ও বক্রতা থেকে সঠিক পথ অনুধাবন করতে পারে» (১)।
তিনি আরও বলেন: «যে ব্যক্তি হিদায়াত লাভের প্রত্যাশায় কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করবে, তার জন্য সত্যের পথ উদ্ভাসিত হয়ে যাবে» (২)।
চতুর্থ প্রকার: কুরআন যে সকল জ্ঞান, সংবাদ ও কাহিনী ধারণ করে আছে এবং এই জগৎ সম্পর্কে যে সকল বর্ণনা এতে এসেছে, তা অবগত হওয়ার উদ্দেশ্যে গভীরভাবে চিন্তা করা, এবং এর পরবর্তী জান্নাত ও জাহান্নাম, কিয়ামতের ভয়াবহতা ও পার্থিব জীবনের সমাপ্তি সম্পর্কে মহান আল্লাহ যে বর্ণনা দিয়েছেন তা অনুধাবন করা। এছাড়া মুমিন ও বিভিন্ন শ্রেণির কাফিরদের বৈশিষ্ট্য, মুনাফিকদের গুণাবলি এবং এর পাশাপাশি আল্লাহর প্রিয় ও অপছন্দনীয় গুণাবলি... এবং এই অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা।
মাসরুক বলেন: «যে ব্যক্তি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের জ্ঞান এবং দুনিয়া ও আখিরাতের জ্ঞান লাভে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন সূরা আল-ওয়াকিয়া পাঠ করে» (৩)।
ইমাম যাহাবি বলেন: «মাসরুক এটি অতিশয়োক্তি হিসেবে বলেছেন, কারণ এই সূরায় উভয় জগতের সামগ্রিক বিষয়াবলির সারসংক্ষেপ বিদ্যমান। আর তাঁর উক্তি ‘সে যেন আল-ওয়াকিয়া পাঠ করে’-এর অর্থ হলো: সে যেন তা গভীর চিন্তা-গবেষণা, অনুধাবন ও উপস্থিত হৃদয়ে পাঠ করে; সে যেন সেই গাধার ন্যায় না হয় যে পিঠে কিতাব বহন করে (কিন্তু তার মর্ম বুঝে না)» (৪)।
--------------------------------------------