(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
تحقيقات وأنظار في القرآن والسنة القسم: الفقه العام
الكتاب: تحقيقات وأنظار في القرآن والسنة
المؤلف: محمد الطاهر ابن عاشور
الناشر: (دار سحنون للنشر والتوزيع، تونس)، (دار السلام للطباعة والنشر والتوزيع والترجمة، القاهرة - مصر)
الطبعة: الثانية، 1429 هـ - 2008 م
عدد الصفحات: 179
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1440
কুরআন ও সুন্নাহর গবেষণামূলক পর্যালোচনা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর গবেষণামূলক পর্যালোচনা ও দৃষ্টিভঙ্গি
লেখক: মুহাম্মদ আত-তাহির ইবনে আশুর
প্রকাশক: (দার সাহনুন পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, তিউনিসিয়া), (দারুস সালাম প্রিন্টিং, পাবলিশিং, ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড ট্রান্সলেশন, কায়রো - মিশর)
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৯
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নাসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আওকাফ আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
تحقيقات وأنظار
في القُرآنِ والسُّنَّةِ
تَأليفُ
فضِيْلَةِ الشيَّخِ محَّمد الَّطاهرِ ابْنِ عاشوُرِ
গবেষণা ও পর্যালোচনা
কুরআন ও সুন্নাহ বিষয়ক
রচনায়
বিশিষ্ট আলেম শায়খ মুহাম্মাদ আত-তাহির ইবনে আশুর
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيد
تنبيه ونصيحةإن واجب النصح في الدين والتنبيه إلى ما يغفل عنه المسلمون مما يحسبونه هيَّنَّا وهو عند الله عظيم قضى عليَّ أن أنبه إخواننا إلى خطر أمر تفسير كتاب الله والقول فيه دون مستند من نقل صحيح عن أساطين المفسرين، أو من إبداء تفسير أو تأويل من قائله إلا إذا كان القائل قد توفرت فيه شروط المفسر من الضلاعة في علوم الشريعة وعلوم العربية ولا سيما علمي المعاني والبيان اللذين بدونهما لا يأمن المرء من تكرر الخطأ في فهم معاني القرآن فيضل المقدم على ذلك ويضل غيره، وقد قال العلامة الزمخشري في خطبة الكشاف: «إن أملأ العلوم بما يغمر القرائح وأنهضها بما يبهر الألباب القوارح
… علم التفسير الذي لا يتم لتعاطيه وإجالة النظر فيه كل ذي علم.
فالفقيه وإن برز على الأقران في علم الفتاوى والأحكام، والمتكلم وإن بزَّ أهل الدنيا في صناعة الكلام
… والنحوي وإن كان أنحى من سيبويه، واللغوي وإن علك اللغات بقوة لحييه، لا يتصدى منهم أحد لسلوك تلك الطرائق، ولا يغوص على شيء من تلك الحقائق، إلا رجل قد برع في علمين مختصين بالقرآن، وهما: علم المعاني، وعلم البيان، وتمهل في ارتيادهما آونة، وتعب في التنقير عنهما أزمنة، بعد أن يكون آخذًا من سائر العلوم بحظ، جامعًا بين أمرين تحقيق وحفظ، كثير المطالعات، طويل المراجعات، قد رجع زمانًا ورجع إليه ورد عليه فارسًا في علم الإعراب، مقدمًا في جملة الكتاب (يعني كتاب سيبويه) وكان مع ذلك مسترسل الطبيعة منقادها، مشتعل القريحة وقادها، يقظان النفس، دراكًا للمحة وإن لطف شأنها، منبهًا على الرَّمزَة وإن خفي مكانها) ا. هـ.
وقال العلامة السكاكي في المفتاح: «وفيما ذكرنا ما ينبه على أن الواقف على تمام مراد الحكيم تعالى وتقدَّس من كلامه مفتقر إلى هذين العملين المعاني والبيان أشد الافتقار، فالويل كل الويل لمن تعاطى التفسير وهو فيهما راجل» ا. هـ.
ভূমিকাসতর্কতা ও নসিহতদ্বীনের বিষয়ে নসিহত করা এবং মুসলমানগণ যে বিষয়ে গাফেল রয়েছেন অথচ যা মহান আল্লাহর নিকট অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, সে সম্পর্কে সতর্ক করার আবশ্যকতা আমাকে বাধ্য করেছে যে, আমি আমাদের ভাইদেরকে আল্লাহর কিতাবের তাফসির করার এবং এ বিষয়ে মুফাসসিরগণের দিকপালদের থেকে বর্ণিত সঠিক (صحيح) বর্ণনার ভিত্তি ব্যতীত কোনো কথা বলার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করি। অথবা কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে নিজস্ব তাফসির বা ব্যাখ্যার উপস্থাপনা করা, যতক্ষণ না সেই ব্যক্তির মধ্যে শরয়ি ইলম ও আরবি ভাষায় পারদর্শিতার মতো একজন মুফাসসিরের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূর্ণ হয়। বিশেষ করে ইলমে মাআনি ও ইলমে বায়ান; যা ছাড়া কোরআনের অর্থ বুঝার ক্ষেত্রে বারবার ভুল করা থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব নয়। ফলে যে ব্যক্তি এ কাজে অগ্রসর হবে সে নিজেও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। আল্লামা যামাখশারি তার ‘আল-কাশশাফ’ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: «নিশ্চয়ই যে ইলম মেধাকে শানিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পূর্ণ এবং প্রজ্ঞাকে চমৎকৃত করার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য তা হলো
… ইলমে তাফসির; যা নিয়ে চর্চা করা বা তাতে গভীর দৃষ্টিপাত করা প্রতিটি জ্ঞানীর পক্ষে সম্ভব নয়।
একজন ফকিহ যদিও ফাতাওয়া ও আহকাম সংক্রান্ত ইলমে সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন, এবং একজন মুতাকাল্লিম যদিও ইলমে কালামের শিল্পে জগদ্বাসীকে ছাড়িয়ে যান
… এবং একজন ব্যাকরণবিদ যদিও তিনি সীবওয়াইহ-এর চেয়েও বড় ব্যাকরণবিদ হন, এবং একজন ভাষাবিদ যদিও তিনি ভাষাগত গভীরতায় অত্যধিক পারদর্শী হন; তাদের কেউই এই পথে অগ্রসর হতে পারবে না এবং এসব হাকিকত বা গূঢ়তত্ত্বের গভীরে ডুব দিতে পারবে না। কেবল সেই ব্যক্তিই তা পারবে যিনি কোরআন সংশ্লিষ্ট দুটি বিশেষ বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছেন, আর তা হলো: ইলমে মাআনি ও ইলমে বায়ান। এবং দীর্ঘ সময় ধরে এগুলোর গবেষণায় ধীরস্থিরভাবে নিয়োজিত থাকেন এবং দীর্ঘকাল এগুলোর সূক্ষ্ম অনুসন্ধানে ক্লান্তি স্বীকার করেন; পাশাপাশি অন্যান্য যাবতীয় বিদ্যায় পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন এবং বিশ্লেষণ (تحقيق) ও মুখস্থ (حفظ) — এই উভয় বিষয়ের সমন্বয় ঘটান। যিনি অধিক অধ্যয়ন ও দীর্ঘ পর্যালোচনায় নিমগ্ন থাকেন, যিনি ইলমে এরাব-এ একজন দক্ষ অশ্বারোহী এবং ‘আল-কিতাব’ (অর্থাৎ সীবওয়াইহ-এর কিতাব) এর পারদর্শীদের অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি তিনি অত্যন্ত রুচিশীল স্বভাবের অধিকারী, প্রখর মেধার অধিকারী এবং সদা জাগ্রত চিত্তের অধিকারী হন; যা অতি সূক্ষ্ম বিষয়কেও ধরে ফেলতে পারে এবং অত্যন্ত অস্পষ্ট ইঙ্গিতকেও উন্মোচন করতে সক্ষম হয়» সমাপ্ত।
আল্লামা সাক্কাকি তার ‘আল-মিফতাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: «আমরা যা উল্লেখ করেছি তা একথাই স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মহামহিম প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কালামের পূর্ণ উদ্দেশ্য অনুধাবন করার জন্য ইলমে মাআনি ও ইলমে বায়ানের প্রতি মুখাপেক্ষিতা অত্যন্ত প্রবল। সুতরাং ধ্বংস অনিবার্য সেই ব্যক্তির জন্য, যে এই দুটি বিদ্যায় অদক্ষ হওয়া সত্ত্বেও তাফসির করার দুঃসাহস দেখায়» সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد ذكر القرطبي في مقدمة التفسير: «إن من فسَّر شيئًا من القرآن بدون مستند من نقل صحيح أو دليل اقتضته قوانين العلم؛ كالنحو، والأصول، والبلاغة فهو متبع لهواه ورأيه المجرد، واقع في الوعيد الوارد فيمن فسر القرآن بهواه ورأيه».
وبرغم هذا ونحوه قد رأينا تهافت كثير من الناس على الخوض في تفسير آيات من القرآن. فمنهم من يتصدى لبيان معاني الآيات على طريقة كتب التفسير، ومنهم من يضع الآية ثم يركض في مجالات من أساليب المقالات تاركًا معنى الآية جانبًا، جالبًا من معاني الدعوة والموعظة ما كان جالبًا، وقد دلَّت شواهد الحال على ضعف كفاءة البعض لهذا العمل العلمي الجليل، فيجب على العاقل أن يعرف قدره، وأن لا يتعدى طوره، وأن يرد الأشياء إلى أربابها، ويأتي البيوت من أبوابها. وعلى من لا يأنس من نفسه الكفاءة وهو يرغب في إفادة العموم بمعاني القرآن أن يقتصر على نقل كلام المفسرين في التفاسير المشتهرة عازيًا ذلك إلى مواقعه مع التحفظ على عباراته. وفي الناس طبقة ترتقي كفاءتها إلى درجة تخولها التصرف في جمع كلام المفسرين وترتيبه واختصاره. والواجب على كل راغب في التحلي بذلك أن يدقق النظر في ميزان نفسه ليقف عند الحد الذي يثق به عندها حتى لا يختلط الخاثر بالزباد، ولا يكون كحاطب في حالك سواد، وبذلك تحصل الفائدة والاستبراء للدين والعرض. وإن سكوت العلماء على زيادة في الورطة، وإفحاش لأهل هذه الغلطة، فمن يركب متن عمياء، ويخبط خبط عشواء، فحق على أساطين العلم تقويم اعوجاجه، وتمييز حلوه من أجابه، تحذيرًا للمطالع، وتنزيلًا في البرج والطالع.
محمد الطاهر ابن عاشوُر
* * *
ইমাম আল-কুরতুবী তাঁর তাফসিরের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন: «নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি বিশুদ্ধ (صحيح) কোনো বর্ণনা অথবা জ্ঞান-বিজ্ঞানের নীতিমালা—যেমন নাহু, উসুল এবং বালাগাত—কর্তৃক নির্দেশিত প্রমাণ ব্যতিরেকে কুরআনের কোনো কিছুর ব্যাখ্যা প্রদান করে, সে কেবল স্বীয় প্রবৃত্তি ও নিছক ব্যক্তিগত মতামতের অনুসরণ করল; ফলে সে ঐ হুমকির সম্মুখীন হলো যা প্রবৃত্তি ও ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে কুরআনের তাফসিরকারীর ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে।»
এতদসত্ত্বেও আমরা অনেক মানুষকে কুরআনের আয়াতসমূহের তাফসিরে অযথা লিপ্ত হতে দেখেছি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাফসির গ্রন্থসমূহের রীতি অনুযায়ী আয়াতের মর্মার্থ বর্ণনায় সচেষ্ট হয়, আবার কেউ কেউ আয়াতটি উপস্থাপন করে প্রবন্ধের শৈলীতে মত্ত হয়—আয়াতের মূল অর্থকে একপাশে সরিয়ে রেখে দাওয়াত ও নসিহতের নানাবিধ বিষয় টেনে আনে। বর্তমান অবস্থা এই মহৎ ইলমি কাজের ক্ষেত্রে কারো কারো যোগ্যতার অভাবকেই নির্দেশ করে। সুতরাং বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া, নিজ সীমা লঙ্ঘন না করা, প্রতিটি বিষয়কে তার উপযুক্ত বিশেষজ্ঞদের কাছে সোপর্দ করা এবং কোনো কাজ তার যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পাদন করা। আর যে ব্যক্তি নিজের মাঝে পর্যাপ্ত যোগ্যতা অনুভব করে না, অথচ সাধারণ মানুষের কাছে কুরআনের মর্ম পৌঁছে দিতে আগ্রহী, তার উচিত হবে সুপ্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থসমূহ থেকে মুফাসসিরগণের বক্তব্য বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং মূল পাঠের সংহতি রক্ষা করে সেগুলোকে যথাযথ উৎসের দিকে নিসবত করা। মানুষের মাঝে এমন এক শ্রেণী রয়েছে যাদের যোগ্যতা এমন স্তরে উন্নীত যা তাদেরকে মুফাসসিরগণের বক্তব্য সংগ্রহ, বিন্যাস এবং সংক্ষিপ্তকরণের অধিকার প্রদান করে। এই কাজে আগ্রহী প্রত্যেকের জন্য অপরিহার্য হলো নিজের যোগ্যতার মানদণ্ডে সূক্ষ্মভাবে দৃষ্টিপাত করা, যাতে সে তার বিশ্বস্ততার সীমানায় অবস্থান করতে পারে; ফলে খাঁটি ও অসার বস্তুর সংমিশ্রণ ঘটবে না এবং সে অন্ধকার রাতে কাষ্ঠ সংগ্রহকারীর মতো হবে না। এর মাধ্যমেই প্রকৃত কল্যাণ অর্জিত হবে এবং দ্বীন ও সম্মানের পবিত্রতা রক্ষা পাবে। বস্তুত আলেমদের নীরবতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে এবং ভুলকারীদের ধৃষ্টতাকে বাড়িয়ে দেবে। সুতরাং যে ব্যক্তি অন্ধকারে পথ চলবে এবং লক্ষ্যহীনভাবে পা ফেলবে, ইলমের দিগপালদের জন্য আবশ্যক হলো তার বক্রতা সংশোধন করা এবং পাঠকদের সতর্ক করার নিমিত্তে ও সঠিক দিশা প্রদানের লক্ষ্যে তার মিষ্টতাকে তিক্ততা থেকে পৃথক করে দেওয়া।
মুহাম্মদ আত-তহির ইবনে আশুর
* * *
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
تحقيْقات وأنظار
في القُرآنِ والسُّنَّةِ
القسم الأولفي القرآن
গবেষণামূলক পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ
কুরআন ও সুন্নাহ বিষয়ক
প্রথম অংশকুরআন প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
{الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى}«كتب إليَّ أحد الفضلاء من بلد طولقة من عمالة قسنطينة يسألني عن قوله تعالى في سورة طه: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5]، وذكر أنه عجز عن فهم المراد منها وأنه تطلب كشف الإشكال فلم يحظ بكشفه، ولما رأيت من حذقه وسُمُوَّ همته أحببت أن أتحفه بتفسير هذه الآية على وجه أرجو أن يزيل إشكاله ويزيد على مثل هذا اللمم الشريف إقباله.
هذه الآية تندرج تحت القسم الثاني من أقسام المتشابه العشرة التي تعرضت لتأصيلها وفرعتها في تفسير سورة آل عمران ونشرت خلاصة ما كتبته فيها في مجلة الهداية الإسلامية في (ج 12) من المجلد (2) لسنة (1348 هـ) وحاصله أن هذا القسم هو من المتشابه الذي نشأ التشابه فيه من القصد إلى إعلام الأمة بمعانٍ من شؤون عظمة الله تعالى تعين إيرادها مجملة لتعظيم وقعها في نفوس السامعين حتى يستحضر كل لبٍّ مقدارًا من مدلولها على مقدار تفاوت القرائح والأفهام مع الاعتماد على إيمان المخاطبين بها أن لا يحملوها على ما يظهر بادئ الرأي من معانٍ لا تليق بجلال الله تعالى، وهذه الآية ونحوها كقوله تعالى في سورة الأعراف: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف: 54، يونس: 3، الرعد: 2، الفرقان: 59، السَّجدة: 4، الحديد: 4]، لكونها من المتشابه كانت طرائق علماء الإسلام في الكلام عليها مختلفة متفاوتة.
فأما السلف من الصحابة فلم يخض منهم فيه سائل ولا مسؤول، ولا تطلبوا بيانه من الرسول، وتلك سنتهم في أمثالها حين كانت عقائد الأمة سالمة من الدَّغل، وحين كان معظم انصرافها إلى حسن العمل، ثم حدث التشوف إلى الغوص على المعاني في عصر التابعين، وربما ظنت بكذابهم أسئلة السائلين، فأخذوا يسدون باب الخوض في مثل هذا، ويبتعدون عنه لِوَاذًا، وألحقوه بالمتشابه فقضوا بالإمساك عن تأويله، ويقولون آمنا به، ويتأولون لطريقتهم بقوله تعالى: {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ} [آل عمران: 7]، ثم بقوله: {وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آَمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا} [آل عمران: 7]؛ ولذلك نقل عن جماعة منهم أنهم قالوا في آيات المتشابه: «نمرها
{পরম দয়াময় আরশের ওপর সমাসীন হয়েছেন}কনস্টান্টিন প্রদেশের ত্বলগা নামক এক জনপদ হতে এক সম্মানিত ব্যক্তি আমাকে লিখেছিলেন এবং সূরা ত্বাহা-এর এই আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [ত্বাহা: ৫]। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এর উদ্দেশ্য বুঝতে অক্ষম হয়েছেন এবং এই অস্পষ্টতা নিরসনের অনুসন্ধান করেও সফল হননি। আমি যখন তার মেধা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখলাম, তখন তাকে এই আয়াতের এমন এক তাফসির উপহার দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম, যা আশা করি তার অস্পষ্টতা দূর করবে এবং তার মতো সম্মানিত ব্যক্তির জ্ঞানানুসন্ধানের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করবে।
এই আয়াতটি রূপক বা অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের দশটি প্রকারের মধ্যে দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোর মূলনীতি ও শাখাগুলো আমি সূরা আলে ইমরানের তাফসিরে আলোচনা করেছি এবং সেটির সারসংক্ষেপ ১৩৪৮ হিজরি সনের 'আল-হিদায়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ' সাময়িকীর ২য় ভলিউমের ১২তম সংখ্যায় প্রকাশ করেছি। এর সারমর্ম হলো, এই প্রকারটি ঐসব রূপক বা অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যার অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে উম্মতকে মহান আল্লাহর মহত্ত্বের বিষয়গুলো অবহিত করার উদ্দেশ্যে। এই বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপনের প্রয়োজন ছিল যেন শ্রোতাদের হৃদয়ে এর প্রভাব সুগভীর হয় এবং প্রত্যেকের বিবেক তার মেধা ও বোধশক্তি অনুযায়ী এর মর্মার্থের কিছুটা অনুভব করতে পারে। সাথে সাথে সম্বোধিত ব্যক্তিদের ঈমানের ওপর এই নির্ভরতা রাখা হয়েছে যে, তারা যেন এর বাহ্যিক এমন কোনো অর্থ গ্রহণ না করে যা মহান আল্লাহর মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। এই আয়াত এবং এর অনুরূপ অন্যান্য আয়াত—যেমন সূরা আল-আরাফের বাণী: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [আরাফ: ৫৪, ইউনুস: ৩, রা'দ: ২, ফুরকান: ৫৯, সাজদাহ: ৪, হাদিদ: ৪]—রূপক বা অস্পষ্ট (متشابه) হওয়ার কারণে এগুলোর আলোচনায় ইসলামি পণ্ডিতগণের কর্মপন্থা ছিল বিভিন্ন ও বৈচিত্র্যময়।
পূর্বসূরিদের (سلف) মধ্যে থাকা সাহাবায়ে কেরামের কথা বলতে গেলে, তাদের মধ্যে কেউ এই বিষয়ে প্রশ্ন করেননি এবং কাউকে উত্তরও দিতে হয়নি। এমনকি তারা রাসূলের কাছেও এর ব্যাখ্যা তলব করেননি। তাদের সুন্নাহ বা রীতি এমনই ছিল যখন উম্মতের আকিদা বা বিশ্বাস যাবতীয় কালিমা থেকে মুক্ত ছিল এবং যখন তাদের অধিকাংশ মনোযোগ ছিল নেক আমলের প্রতি। অতঃপর তাবেয়ী (تابعين) যুগে অর্থের গভীরে অবগাহন করার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলো এবং হয়তো তাদের মধ্যে থাকা মিথ্যাবাদীদের (كذاب) পক্ষ থেকে প্রশ্নকারীদের মনে সংশয় জাগানো হয়েছিল। ফলে তারা এই জাতীয় বিষয়ে আলোচনার পথ রুদ্ধ করতে শুরু করলেন এবং তা থেকে সযত্নে দূরে থাকলেন। তারা এগুলোকে রূপক বা অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করলেন এবং এর ব্যাখ্যা (تأويل) করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন। তারা বলতেন, 'আমরা এতে ঈমান এনেছি।' তারা তাদের এই কর্মপন্থার সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলিল পেশ করতেন: {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ} [আলে ইমরান: ৭], অর্থাৎ 'আল্লাহ ব্যতীত এর ব্যাখ্যা (تأويل) আর কেউ জানে না।' অতঃপর এই অংশ পাঠ করতেন: {وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آَمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا} [আলে ইমরান: ৭]। এই কারণেই তাদের একদল হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা রূপক বা অস্পষ্ট (متشابه) আয়াতগুলোর ব্যাপারে বলতেন: «আমরা এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিক্রম করাব (نمرها)»।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
إمرارًا كما جاءت بلا كيف ولا تعطيل ولا تشبيه ولا تمثيل».
ودرج على ذلك معظم أئمة العصر الذي بعد عصر التابعين مثل: مالك، وأبي حنيفة، والأوزاعي، وسفيان الثوري، والليث بن سعد، وسفيان بن عيينة ومن تبع طريقتهم من أصحابهم والطبقة التي تليهم مثل: الشافعي، وعبد الله بن المبارك، وإسحاق بن راهويه، ونعيم بن حماد شيخ البخاري، وأحمد بن حنبل، والبخاري.
وقد سئل مالك رحمه الله عن هذه الآية، فقال للسائل: «الاستواء معلوم، والكيفية مجهولة، وفي رواية: (الكيف غير معقول)، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة، وأظنك رجل سوء أخرجوه عني». وعن سفيان الثوري أنه سئل عن الآية، فقال: «فعل فعلًا في العرش سماه استواء». ثم طلع الشك بقرنه في نفوس مَنْ لم يزنوا الإيمان حق وزنه، فاضطر المتكلمون من أئمة الإسلام فيما اضطروا إليه من تبيين حقائق الصفات وتعلقاتها، إلى أن يخوضوا في الآيات وتأويل متشابهاتها؛ إقناعًا للمرتاب وإقماعًا لمن جاء يفتح لإلحاده الباب. ولم يروا عملهم هذا مخالفًا لما درج عليه السلف ولكنهم رأوا السلف سلكوا التأويل بإجمال، ورأوا أنفسهم في حاجة إلى تفصيل التأويل ورأوا أن كلتا الطريقتين تأويل. وفسروا قوله تعالى: {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ} [آل عمران: 7]، بمعنى عطف قوله: {وَالرَّاسِخُونَ} على اسم الجلالة. ولقد أبدع إمام الحرمين في بيان وجه عدم الإمساك عن تفصيل التأويل؛ إذ قال: «إن كل مؤمن مجمع على أن لفظة الاستواء ليست على عرفها في الكلام العربي فإذا فعل ذلك فهو قد فسر لا محالة (يعني حيث لم يحمل اللفظ على ظاهر معناه) فلا فائدة في تأخيره عن طلب الوجه والمخرج البين، بل في تأخره عن ذلك إلباس على الناس وإيهام للعوام، وقال الغزالي: «لا خلاف في وجوب التأويل عند تعين شبهة لا ترتفع إلا به» ا. هـ. وتسمَّى هذه الطريقة طريقة الخلف وهي الطريقة المثلى المناسبة لما عدا القرون الثلاثة الأولى، ومن ثمَّ قال بعض العلماء: «طريقة السلف أسلم وطريقة الخلف أعلم».
ومعنى هذا الكلام فيما أفهم أنا: أن السلف أرشدوا إلى تطلب السلامة من الخوض في مثله خشية قصور الأفهام والتورط في الشك، فلما لم ينصع الناس إلى نصحهم وأبوا إلا السؤال وإدخال الشك تعين سلوك طريقة الخلف فهي أعلم، أي: أدخل في العلم، أي: أكثر علمًا؛ لأن بيان التأويل وتفصيله يكثر فيه الاحتياج إلى الاستدلال بالعلم والقواعد.
«সেগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই ছেড়ে দেওয়া, কোনো ধরন নির্ধারণ করা ব্যতিরেকে এবং নিষ্ক্রিয়করণ (تعطيل), সাদৃশ্য প্রদান (تشبيه) বা উপমা প্রদান (تمثيل) ছাড়াই।»
তাবেয়িদের পরবর্তী যুগের অধিকাংশ ইমামগণ এই পথই অনুসরণ করেছেন। যেমন: মালিক, আবু হানিফা, আওযায়ি, সুফিয়ান সাওরি, লাইস বিন সাদ, সুফিয়ান বিন উয়াইনা এবং তাদের অনুসারী ও পরবর্তী স্তরের (الطبقة) আলেমগণ, যেমন: শাফেয়ি, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি, বুখারির উস্তাদ নুয়াইম বিন হাম্মাদ, আহমাদ বিন হাম্বল এবং বুখারি।
ইমাম মালিক (রহ.)-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি প্রশ্নকারীকে বললেন: «ইস্তিওয়া পরিজ্ঞাত এবং এর ধরন অজ্ঞাত; অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: (ধরন বুদ্ধিগম্য নয়), এর ওপর ঈমান আনা আবশ্যক (واجب) এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত (بدعة)। আমার মনে হয় তুমি একজন মন্দ লোক, একে আমার কাছ থেকে বের করে দাও»। সুফিয়ান সাওরি থেকে বর্ণিত যে, তাকে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «তিনি আরশে এমন কিছু করেছেন যাকে তিনি ইস্তিওয়া বলে অভিহিত করেছেন»। অতঃপর যাদের অন্তরে ঈমানের প্রকৃত গুরুত্ব নেই, তাদের মধ্যে সংশয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। ফলে ইসলামের ইমামগণের মধ্য হতে মুতাকাল্লিমগণ সিফাত বা গুণাবলির হাকিকত ও তার স্বরূপ বর্ণনার ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা থেকে উত্তরণের জন্য আয়াতের গভীরে প্রবেশ এবং অস্পষ্ট বিষয়াবলির (متشابهات) ব্যাখ্যা (تأويل) করতে বাধ্য হলেন; এটি ছিল সংশয়বাদীদের আশ্বস্ত করতে এবং যারা নাস্তিকতার দ্বার উন্মোচন করতে চায় তাদের দমন করতে। তারা তাদের এই কর্মকে সালাফদের অনুসৃত পথের বিরোধী মনে করেননি; বরং তারা মনে করেছেন যে, সালাফগণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা (تأويل) করার নীতি অবলম্বন করেছিলেন, আর তারা নিজেরা ব্যাখ্যার (تأويل) বিস্তারিত বিবরণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। তারা মনে করতেন যে, উভয় পদ্ধতিই হলো ব্যাখ্যা (تأويل)। তারা মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ এবং যারা জ্ঞানে সুগভীর (الراسخون في العلم) তারা ব্যতীত আর কেউ এর ব্যাখ্যা (تأويل) জানে না} [আল ইমরান: ৭]-কে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, {জ্ঞানে সুগভীর} কথাটি মহান আল্লাহর নামের সাথে সংযোজন (عطف) করা হয়েছে। ইমামুল হারামাইন ব্যাখ্যার (تأويل) বিস্তারিত বর্ণনা থেকে বিরত না থাকার কারণ বর্ণনায় চমৎকার বলেছেন। তিনি বলেন: «প্রত্যেক মুমিন এ ব্যাপারে একমত যে, ইস্তিওয়া শব্দটি আরবি ভাষায় প্রচলিত আক্ষরিক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। যখন তিনি এটি করবেন, তখন তিনি অনিবার্যভাবেই ব্যাখ্যা করলেন (অর্থাৎ যখন শব্দটিকে তার বাহ্যিক অর্থে গ্রহণ করা হলো না)। এমতাবস্থায় এর সুস্পষ্ট পথ ও সমাধান তালাশ করতে বিলম্ব করার কোনো ফায়দা নেই; বরং এতে বিলম্ব করা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে এবং সাধারণ মানুষকে সংশয়ে ফেলবে»। ইমাম গাজালি বলেন: «যখন এমন কোনো সংশয় দেখা দেয় যা ব্যাখ্যা (تأويل) ছাড়া দূর করা সম্ভব নয়, তখন ব্যাখ্যা করা আবশ্যক (واجب) হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।» এই পদ্ধতিকে খালাফদের পদ্ধতি বলা হয়। প্রথম তিন যুগের পরবর্তী সময়ের জন্য এটিই সর্বোত্তম ও উপযোগী পদ্ধতি। এই প্রেক্ষাপটে কোনো কোনো আলেম বলেছেন: «সালাফদের পদ্ধতি অধিকতর নিরাপদ (أسلم) এবং খালাফদের পদ্ধতি অধিকতর জ্ঞানগর্ভ (أعلم)»।
আমার উপলব্ধিতে এই কথার অর্থ হলো: সালাফগণ এ জাতীয় বিষয়ে গভীর আলোচনা থেকে বিরত থেকে নিরাপত্তার পথ বেছে নিতে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, যাতে বুঝের সীমাবদ্ধতা বা সংশয়ে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা না থাকে। কিন্তু মানুষ যখন তাদের উপদেশ মানল না এবং প্রশ্ন করা ও সংশয় সৃষ্টির ব্যাপারে অটল থাকল, তখন খালাফদের পদ্ধতি অনুসরণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ল। তাই তা অধিকতর জ্ঞানগর্ভ (أعلم); অর্থাৎ ইলমের ভেতরে অধিকতর প্রবেশকারী বা অধিকতর জ্ঞানসমৃদ্ধ। কারণ ব্যাখ্যার (تأويل) বিস্তারিত বর্ণনায় ইলমি দলিল এবং মূলনীতিমালার (القواعد) প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি থাকে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وكلتا الطريقتين طريقة هدي يسع المسلم سلوكها. قال ابن السبكي في خاتمة جمع الجوامع: «وما صح في الكتاب والسنة من الصفات نعتقد ظاهر المعنى، وننزه عند سماع المشكل. ثم اختلف أئمتنا أنؤول أم نفوض منزهين مع اتفاقهم على أن جهلنا بتفصيله لا يقدح».
فعلى طريقة الخلف تأولوا قوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5] بتأويلات ثلاثة: التأويل الأول: قال جمهور الأشاعرة وفي مقدمتهم إمام الحرمين: إن معنى الاستواء القهر والغلبة والاستيلاء، كما في قول الأخطل:
قد استوى بِشْرٌ على العراق
… من غير سيف ودم مهراق
وقول الآخر:
فلما علونا واستوينا عليهم
… جعلناهم مرعى لنسر وطائر
وهذا هو التأويل الشائع بين طلبة العلم. وعندي أن معناه ضعيف؛ إذ لا مناسبة لأن تستعمل غلبة العرش في معنى عظمة الله تعالى؛ إذ ليس العرش بمتوهم فيه خالقية ولا تعاص حتى يعبر بغلبته عن عظمة الغالب وعلى هذا التأويل. فالمراد بالعرش: العرش الذي هو من عالم السماوات.
التأويل الثاني: للإمام الرازي قال: الاستواء الاقتدار، وزعم أنه أحسن تأويل. والحق عندي أنه تأويل ضعيف؛ إذ لا كبير معنى للاقتدار هنا، والمراد بالعرش على هذا مثل المراد به على التأويل الأول.
التأويل الثالث: قال صاحب الكشاف: «لما كان الاستواء على العرش وهو سرير الملك (بكسر اللام) يرادف المُلْك (بضم الميم وسكون اللام) عرفًا (أي: يلازم وصف الملك جعله العرب كناية عن المُلْك (بضم الميم)، فقالوا: استوى فلان على العرش يريدون مَلِك وإن لم يقعد على السرير ألبتة» ا. هـ، «يريد أن ذلك من الكناية باللازم المتعارف عن الملزوم، ومعلوم أن اللفظ المستعمل كناية عن لازم معناه لا يلزم فيه صحة إرادة الملزوم؛ فلذلك زاد صاحب الكشاف قوله: «وإن لم يقعد على السرير ألبتة»، فالمراد بالاستواء فيه هو معنى الجلوس، والمراد بالعرش
উভয় পদ্ধতিই হিদায়াতের পথ, যা অনুসরণ করার অবকাশ একজন মুসলিমের রয়েছে। ইবনে আল-সুবকি জামউল জাওয়ামি গ্রন্থের শেষে বলেন: «কিতাব ও সুন্নাহতে গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে যা সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে, আমরা তার বাহ্যিক অর্থে বিশ্বাস করি এবং অস্পষ্ট বিষয় শ্রবণের সময় আল্লাহকে পবিত্র জ্ঞাপন করি। অতঃপর আমাদের ইমামগণ এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, আমরা কি পবিত্রতা বজায় রেখে ব্যাখ্যা (تأويل) করব নাকি অর্পণ (تفويض) করব; যদিও তারা এই বিষয়ে একমত যে, এর বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা কোনো ক্ষতি করে না»।
পরবর্তী যুগের আলিমদের (খালাফ) পদ্ধতি অনুযায়ী তারা আল্লাহ তাআলার বাণী: {পরম করুণাময় আরশের ওপর সমাসীন (استواء) হয়েছেন} [ত্বহা: ৫] -এর তিনটি ব্যাখ্যা (تأويل) করেছেন: প্রথম ব্যাখ্যা (تأويل): জুমহুর আশআরিগণ এবং তাদের অগ্রভাগে ইমামুল হারামাইন বলেছেন: সমাসীন হওয়ার (استواء) অর্থ হলো কর্তৃত্ব, বিজয় ও নিয়ন্ত্রণ লাভ করা; যেমনটি আল-আখতালের উক্তিতে রয়েছে:
বিশর ইরাকের ওপর কর্তৃত্ব লাভ (استواء) করেছেন
… কোনো তলোয়ার এবং রক্তপাত ছাড়াই।
এবং অন্য এক কবির উক্তিতে:
যখন আমরা শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করলাম এবং তাদের ওপর বিজয়ী (استواء) হলাম
… তখন আমরা তাদের শকুন ও পাখিদের চারণভূমি বানালাম।
এটিই জ্ঞানান্বেষীদের মাঝে বহুল প্রচলিত ব্যাখ্যা (تأويل)। তবে আমার মতে এর অর্থটি দুর্বল (ضعيف); কারণ আরশের ওপর বিজয় লাভ করার বিষয়টিকে আল্লাহ তাআলার মহানত্বের অর্থে ব্যবহার করার কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। কেননা আরশের ক্ষেত্রে স্রষ্টা হওয়ার কোনো বিভ্রম বা অবাধ্যতার অবকাশ নেই যে, তার ওপর বিজয় লাভের মাধ্যমে বিজয়ীর মহানত্ব প্রকাশ করা হবে। আর এই ব্যাখ্যা (تأويل) অনুযায়ী আরশ বলতে উদ্দেশ্য হলো: সেই আরশ যা আসমানি জগতের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় ব্যাখ্যা (تأويل): এটি ইমাম রাজির; তিনি বলেছেন: ইস্তিওয়া (استواء) হলো সক্ষমতা বা ক্ষমতা। তিনি দাবি করেছেন যে এটিই সর্বোত্তম ব্যাখ্যা (تأويل)। কিন্তু আমার নিকট সত্য এই যে এটি একটি দুর্বল (ضعيف) ব্যাখ্যা (تأويل); কারণ এখানে ক্ষমতার তেমন কোনো বিশেষ তাৎপর্য নেই। আর এই মতে আরশ দ্বারা তা-ই উদ্দেশ্য যা প্রথম ব্যাখ্যায় (تأويل) উদ্দেশ্য ছিল।
তৃতীয় ব্যাখ্যা (تأويل): কাশশাফ রচয়িতা বলেন: «যেহেতু আরশের ওপর সমাসীন হওয়া (استواء)—যা মূলত রাজকীয় সিংহাসন—তা প্রচলিত রীতিতে রাজত্ব বা কর্তৃত্বের সমার্থক (অর্থাৎ এটি রাজত্বের অবিচ্ছেদ্য গুণ), তাই আরবরা একে রাজত্বের রূপক হিসেবে গ্রহণ করেছে। ফলে তারা বলে: অমুক আরশে আরোহণ করেছেন, এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চায় যে তিনি রাজা হয়েছেন, যদিও তিনি কখনো সিংহাসনে না বসেন» (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। «তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এটি প্রচলিত অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ (লাযিম) দ্বারা মূল বিষয়কে (মালযুম) রূপক হিসেবে ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। আর এটি জানা কথা যে, কোনো শব্দ যখন রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তার মূল অর্থটি উদ্দেশ্য হওয়া আবশ্যক নয়। একারণেই কাশশাফ রচয়িতা অতিরিক্ত যোগ করেছেন: ‘যদিও তিনি কখনো সিংহাসনে না বসেন’», সুতরাং এখানে সমাসীন হওয়া (استواء) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উপবেশন বা বসার অর্থ, আর আরশ দ্বারা উদ্দেশ্য...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
كرسي الملك فحصلت الكناية بذلك عن الملك ولا استواء ولا عرش.
ويظهر لي تأويل رابع، وميزانه في سورة الحق ماتع، وهو أن قوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5]، مركب دال على هيئة جلوس الملك على العرش، وتلك هيئة عظيمة في عقول السامعين فقد عرف العرب ملوك الفرس وملوك الروم وتبابعة اليمن ودخلت وفودهم إليهم، وتحدَّثوا بعظمتهم في سوامرهم ونواديهم حتى تقرر في أذهان أهل الصناعة اللسانية منهم ما لهؤلاء الملوك عند جلوسهم على عرضهم من العظمة المفرطة والجلالة البالغة، فجاء في هذه الآية تشبيه عظمة الله تعالى التي لا تصل العقول إلى كنه هيئتها، بهيئة عظمة هؤلاء الملوك تشبيهًا مقصودًا به التقريب وهو من تشبيه المعقول بالمحسوس، واستعمل المركب الدال على الهيئة المشبه بها في معنى الهيئة المشبهة استعمال الاستعارة التمثيلية. وقد تقرر في علم البيان أن التمثيل هو أعلى أنواع الاستعارة؛ لابتنائه على التشبيه المركب الذي هو أبدع من التشبيه البسيط وقد نشأت عنه أمثال العرب كما هو مقرر، وعلى هذا الوجه فالمراد بالاستواء وبالعرش مثل المراد به في التأويل الثالث، وإنما ترجح عندي كون الآية استعارة تمثيلية وليست بكناية وإن كانت الكناية تجيء بالمركب نحو قول زياد الأعجم:
إن السماحة والمروءة والندى
… في قبة ضربت على ابن الحشرج
لوجهين: أحدهما: اعتبار رشاقة المعنى فإن الكناية تنبني على صحة إرادة المعنى الصريح وذلك أصل الفرق بينها وبين المجاز المرسل الذي علاقته اللزوم، فقولهم: طويل النجاد، لا يفهم منه السامع إلا أن له نجادًا طويلًا، وأن ذلك يلزمه طول القامة، وأن المتكلم ما أراد إلا الإخبار عن طول القامة، فالسامع يظن أنه طويل النجاد حقيقة، وكذلك جبان الكلب، ومهزول الفصيل، ألا ترى أن قول عنترة:
فشككت بالرمح الأصم ثيابه
… ليس الكريم على القنا بمحرم
لا يفهم منه السامع إلا أن الشاعر شبك بالرمح جَسدًا لعلمه بأنه لا يشك ثيابه بالرمح لقصده تخريق ثيابه، بل إنما أراد أنه شك جسده، ولما كان شك الجسد لا يكون إلا مع شك الثياب صح التكني عنه بشك الثياب والمقصود شك الجسد، أي: طعنه، وهنا لا يحصل المعنى الكنائي إلا مع المعنى الأصلي، وقد يكون المتحدث عنه لا نجاد له ولا كلب له ولا فصيل إلا أن ذلك أمر قلما يعلمه السامع.
রাজসিংহাসন, ফলে এর মাধ্যমে রাজত্বের একটি পরোক্ষ অর্থ (كناية) অর্জিত হয়েছে; যেখানে কোনো উপবেশন (استواء) নেই এবং কোনো আরশ (عرش)-ও নেই।
আমার নিকট চতুর্থ একটি ব্যাখ্যা (تأويل) প্রকাশ পেয়েছে, আর এর মানদণ্ড সূরা আল-হাক্ক-এ অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিদ্যমান। তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], এটি একটি যৌগিক বাক্য যা আরশের ওপর রাজার উপবেশনভঙ্গিকে নির্দেশ করে। শ্রোতাদের অন্তরে এটি এক মহান দৃশ্য। আরবগণ পারস্যের সম্রাট, রোমের সম্রাট এবং ইয়ামেনের তুব্বা রাজবংশ সম্পর্কে জানত এবং তাদের প্রতিনিধি দলগুলো তাদের কাছে যাতায়াত করত। তারা তাদের সান্ধ্য আড্ডা ও মজলিসগুলোতে তাদের মহিমা সম্পর্কে আলোচনা করত। ফলে তাদের মধ্যে ভাষাবিদদের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল যে, এই রাজারা যখন তাদের সিংহাসনে আসীন হন, তখন তাদের মধ্যে এক প্রচণ্ড মহিমা এবং চরম গাম্ভীর্য প্রকাশ পায়। সুতরাং এই আয়াতে মহান আল্লাহর সেই মহিমাকে—যার প্রকৃত রূপ সম্পর্কে মানবীয় বুদ্ধি পৌঁছাতে অক্ষম—এই রাজাদের মহিমার দৃশ্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক উপমা (تشبيه), যা আল্লাহর বড়ত্বকে নিকটতর করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটি মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়কে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সাথে তুলনা করা। এখানে উপমিত দৃশ্যের নির্দেশক যৌগিক বাক্যটিকে উপমেয় দৃশ্যের অর্থে প্রতিনিধিত্বমূলক রূপক (استعارة تمثيلية) হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অলঙ্কার শাস্ত্রে (علم البيان) এটি প্রতিষ্ঠিত যে, প্রতিনিধিত্বমূলক রূপক (تمثيل) হলো রূপকের (استعارة) সর্বোত্তম প্রকার; কারণ এটি যৌগিক উপমার (تشبيه مركب) ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা সরল উপমার (تشبيه بسيط) চেয়ে অধিক চমৎকার। এর থেকেই আরবদের প্রবাদগুলোর উদ্ভব হয়েছে যেমনটি স্বীকৃত। এই দিক থেকে 'ইস্তিওয়া' (استواء) ও 'আরশ' (عرش) দ্বারা উদ্দেশ্য তাই, যা তৃতীয় ব্যাখ্যায় (تأويل) উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আমার কাছে আয়াতে প্রতিনিধিত্বমূলক রূপক (استعارة تمثيلية) হওয়ার বিষয়টি অগ্রগণ্য মনে হয়েছে, পরোক্ষ অর্থ (كناية) নয়; যদিও পরোক্ষ অর্থ (كناية) যৌগিক বাক্যের মাধ্যমেও আসে যেমন যিয়াদ আল-আ’জামের উক্তিতে রয়েছে:
নিশ্চয়ই মহানুভবতা, বীরত্ব ও দানশীলতা
… সেই গম্বুজে রয়েছে যা ইবনুল হাশরাজের ওপর স্থাপন করা হয়েছে।
এর দুটি কারণ রয়েছে: প্রথমত, অর্থের সাবলীলতা বিবেচনা। কেননা পরোক্ষ অর্থ (كناية) আক্ষরিক অর্থের সঠিকতা কামনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এটিই পরোক্ষ অর্থ (كناية) এবং মুক্ত রূপক (مجاز مرسل)—যার সম্পর্ক হচ্ছে অবিচ্ছেদ্যতা (اللزوم)—মধ্যে মৌলিক পার্থক্য। যেমন তাদের কথা: "দীর্ঘ তলোয়ারের বেল্টধারী" (طويل النجاد), এখান থেকে শ্রোতা শুধু এটাই বোঝেন যে তার তলোয়ারের বেল্টটি দীর্ঘ, এবং এর ফলে তার দীর্ঘদেহী হওয়া অবিচ্ছেদ্য (اللزوم) বিষয়। বক্তা মূলত তার দীর্ঘদেহী হওয়ার সংবাদ দিতে চেয়েছেন। শ্রোতা মনে করেন যে তিনি প্রকৃতপক্ষে লম্বা বেল্টধারী (طويل النجاد)। অনুরূপভাবে "ভীরু কুকুর" (جبان الكلب) এবং "কৃশকায় উটের বাচ্চা" (مهزول الفصيل)-এর উদাহরণও প্রযোজ্য। আপনি কি দেখেন না যে, আনতারার উক্তি:
আমি শক্ত বর্শা দিয়ে তার পোশাকে আঘাত করলাম
… বর্শার আঘাতে কোনো সম্মানিত ব্যক্তিই সুরক্ষিত নয়।
এখান থেকে শ্রোতা শুধু এটাই বোঝেন যে, কবি বর্শা দিয়ে একটি দেহে আঘাত করেছেন; কারণ তিনি জানেন যে কবি শুধু কাপড় ছিঁড়ে ফেলার উদ্দেশ্যে কাপড়ে বর্শা বিদ্ধ করবেন না। বরং তিনি মূলত তার দেহে আঘাত করতে চেয়েছিলেন। যেহেতু দেহে আঘাত করা কাপড়ে আঘাত করা ব্যতীত সম্ভব নয়, তাই কাপড়ে আঘাত করার কথা বলে দেহের আঘাতকে পরোক্ষভাবে (كناية) বোঝানো সঠিক হয়েছে, অথচ উদ্দেশ্য ছিল দেহে আঘাত করা অর্থাৎ বর্শা মারা। এখানে আদি অর্থের সাথেই পরোক্ষ অর্থটি (كنائي) অর্জিত হয়। কখনো কখনো যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে তার কোনো তলোয়ারের বেল্ট, কুকুর বা উটের বাচ্চা থাকে না, তবে শ্রোতা বিষয়টি খুব কমই জানতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأما الآية فلا يصح فيها إرادة المعنى الأصلي لما هو معلوم لكل مؤمن من استحالة جلوس الرحمن على العرش فلا يصح التكني به عن معنى الملك المقصود من الآية. ولا يغني عن ذلك قول صاحب الكشاف: «وإن كان لم يقعد على السرير ألبتة»؛ لأن الذي نظر به تجوز فيه إرادة المعنى الأصلي والآية لا يجوز فيها ذلك، فكيف يصح في الآية الانتقال من المعنى الأصلي إلى المعنى الكنائي مع أن المنتقل منه لا يستقر فيه الذهن فضلًا على أن ينتقل منه، فلزم سلوك طريقة الاستعارة التمثيلية، ونظير الآية قول أبي تمام:
من شاعر وقف الكلام ببابه
… وَاكتنَّ في كنفي ذراه المنطق
فقوله: وقف الكلام ببابه، ليس كناية عن ملازمة صنعة الكلام لهذا الشاعر، بل هو تمثيل لتسخير الكلام حتى صارت هيئة مقدرته على الكلام الذي يريده تشبه هيئة تسخير عبد واقف ببابه لخدمته يتوجه أينما وجهه، أو هيئة عاف واقف ببابه لطلب معروفه، وكذلك قوله: واكتن في كنفي ذراه المنطق، لظهور أن الشاعر لم يثبت لنفسه ذرى يسكنها المنطق، بخلاف بيت زياد الأعجم فإن المروءة والسماحة والندى مشتمل عليها ابن الحشرج فتكون قبة ابن الحشرج مشتملة على السماحة والمروءة والندى لاشتمالها على الموصوف بها.
الوجه الثاني: بقاء لفظ الاستواء ولفظ العرش لمعنييهما الحقيقيين؛ لأن المركب في الاستعارة التمثيلية ليس فيها إطلاق مفرداته على غير ما وضعت له بل مفرداته باقية في معانيها، وإنما الاستعارة في مجموع المركب. وهذا الوجه أحسن تأويلًا، وأقوم قيلًا، وأوضح حجةً ودليلًا.
* * *
আর আয়াতের ক্ষেত্রে এর মূল অর্থ গ্রহণ করা সঠিক নয়, কারণ প্রত্যেক মুমিনের নিকট এটি বিদিত যে, আরশের ওপর দয়াময় আল্লাহর উপবেশন অসম্ভব। সুতরাং আয়াতের উদ্দেশ্য যে রাজত্ব বা কর্তৃত্ব, তার ওপর ইঙ্গিতময় শব্দ বা রূপক (كناية) প্রয়োগ করা সঠিক হবে না। আর আল-কাশশাফ এর লেখকের এই কথা এক্ষেত্রে কোনো ফলদায়ক হবে না যে: «যদিও তিনি কোনোভাবেই সিংহাসনের ওপর উপবেশন করেননি»; কারণ তিনি যে বিষয়ের সাথে তুলনা করেছেন সেখানে মূল অর্থ গ্রহণ করা সম্ভব, কিন্তু আয়াতের ক্ষেত্রে তা বৈধ নয়। সুতরাং আয়াতে মূল অর্থ থেকে রূপক অর্থ (معنى كنائي) গ্রহণ করা কীভাবে সঠিক হতে পারে, যেখানে যা থেকে রূপান্তর ঘটছে তা-ই তো মনে স্থিতি পায় না, তার থেকে অন্য অর্থে যাওয়া তো বহু দূরের কথা। তাই এক্ষেত্রে উপমামূলক রূপক (استعارة تمثيلية) এর পথ অবলম্বন করা আবশ্যক। আর আয়াতের দৃষ্টান্ত হলো আবু তাম্মামের উক্তি:
এমন এক কবির কথা যার দ্বারে কাব্য কথা দণ্ডায়মান থাকে
… আর তার আশ্রয়ে বাগ্মীতা লুক্কায়িত থাকে।
এখানে তার উক্তি: "কাব্য কথা তার দ্বারে দণ্ডায়মান থাকে" - এটি কেবল এই কবির কাব্য রচনার সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে ইঙ্গিত বা রূপক (كناية) নয়, বরং এটি কাব্য কথাকে বশীভূত করার একটি উপমা (تمثيل), যার ফলে তার কাঙ্ক্ষিত কথা বলার ক্ষমতার অবস্থাটি এমন এক দাসের অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে যে তার সেবার জন্য দরজায় দাঁড়িয়ে আছে এবং তাকে যেদিকে নির্দেশ দেওয়া হয় সেদিকেই ধাবিত হয়; অথবা এমন এক প্রার্থীর অবস্থার মতো যে তার অনুগ্রহ লাভের আশায় দ্বারে দাঁড়িয়ে আছে। অনুরূপভাবে তার কথা: "তার আশ্রয়ে বাগ্মীতা লুক্কায়িত থাকে" - এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে কবি নিজের জন্য এমন কোনো আশ্রয় সাব্যস্ত করেননি যেখানে বাগ্মীতা বসবাস করবে; যা যিয়াদ আল-আ’জামের কবিতার বিপরীত। কেননা ইবনে আল-হাশরাজ মহানুভবতা, উদারতা ও দানশীলতার আধার, তাই ইবনে আল-হাশরাজের গম্বুজটি উদারতা, মহানুভবতা ও দানশীলতাকে ধারণ করে আছে, যেহেতু এটি ওই গুণাবলির আধার ব্যক্তিকে ধারণ করে আছে।
দ্বিতীয় দিক: ইস্তিওয়া (استواء) ও আরশ (عرش) শব্দ দুটিকে তাদের প্রকৃত অর্থেই বহাল রাখা; কারণ উপমামূলক রূপকের (استعارة تمثيلية) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দসমষ্টির একক শব্দগুলোকে তাদের মূল অর্থের বাইরে প্রয়োগ করা হয় না, বরং শব্দগুলো তাদের স্ব স্ব অর্থেই বহাল থাকে; মূলত রূপকটি অলংকৃত হয় পূর্ণাঙ্গ শব্দসমষ্টির মাধ্যমে। আর এই দিকটি ব্যাখ্যার দিক থেকে অধিকতর উত্তম, উক্তির দিক থেকে সুদৃঢ় এবং দলিল ও প্রমাণের দিক থেকে অধিক স্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
تَفْسير آيّة التَّغَابنسألني عالم فاضل صديق، اعتاد تأنيسي بزيارته، عن تفسير قوله تعالى: {يَوْمَ يَجْمَعُكُمْ لِيَوْمِ الْجَمْعِ ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ} [التغابن: 9]، وما وجه تسمية يوم القيامة في هذه الآية بيوم التغابن غير منثلج لما قاله بعض المفسرين في وجه هذه التسمية من أن التغابن هو أن أهل الجنة يغبنون أهل النار، وذكر أنه راجع تفاسير كثيرة فلم يجد فيها ما يقنعه، وحاورني في ذلك محاورة هزَّت من عطفي إلى أن أفصح في تفسير هذه الآية بما عسى أن يكون فيه مقنع، واللبيب يتبع أحسن القول ويسمع، ذهب الجمهور: إلى أن سورة التغابن مكية إلا الآيات الأخيرة من آخرها التي أولها {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلادِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ} [التغابن: 14] الآيات، وأحسب أن هذه الآيات هي التي بعثت القائلين بأن السورة مدنية، إذن نعلم أن المقصود من الخطاب بالآية هم أهل مكة ابتداء وهم قريش؛ ولذلك جاء فيها: {زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ (7) فَآَمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالنُّورِ الَّذِي أَنْزَلْنَا وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ (8) يَوْمَ يَجْمَعُكُمْ لِيَوْمِ الْجَمْعِ ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ} [التغابن 7 - 9]، وقد قال أئمة من المفسرين: إن عادة القرآن أنه يريد بالذين كفروا متى ذكر في القرآن المشركين من قريش، وقوله {قُلْ بَلَى} كلمة (بلى) فيه إبطال للنفي الواقع في قوله: {لَنْ يُبْعَثُوا}، فإنها حرف يفيد عكس معنى (نعم) ويقع بعد النفي في الاستفهام وفي الخبر، وقوله: {يَوْمَ يَجْمَعُكُمْ لِيَوْمِ الْجَمْعِ} [التغابن: 9]، ظرف متعلق بقوله: {لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ} ويجوز أن يتعلق بقوله: {لَتُبْعَثُنَّ} باعتبار عطف قوله: {ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ} عليه، أي: يبعثكم فينبؤكم يوم يجمعكم ليوم الجمع؛ لأن البعث حاصل قبل الجمع، وقوله: {فَآَمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ} [التغابن: 7]
… إلخ، جملة معترضة بين الفعل والظرف، و {لِيَوْمِ الْجَمْعِ} يوم القيامة، وقوله: {ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ} جاء فيه اسم الإشارة للبعيد؛ لتهويله ولفت العقول إليه؛ فذلك عدل عن وصفه بيوم بعده، فلم يقل: ليوم الجمع يوم التغابن؛ لئلا يفوت معنى الحصر المقصود، وسيعلم ما فيه من النكبة، وجملة: {ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ} جملة اسمية معرفة الجزأين فكان حقها أن تفيد الحصر، أي: هو يوم التغابن وليس غيره من الأيام يوم تغابن، ومعنى هذا الحصر: أن ذلك اليوم لما حصل فيه التغابن في أهم الفضائل جعل ما عداه من الأيام التي يقع فيها
সূরা আত-তাগাবুনের আয়াতের তাফসিরএকজন উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন আলেম বন্ধু, যিনি নিয়মিত সাক্ষাতের মাধ্যমে আমাকে সঙ্গ দিতে অভ্যস্ত, তিনি আমাকে মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: "যেদিন তিনি তোমাদের সমবেত করবেন সমাবেশের দিনের জন্য, সেটিই পারস্পরিক লাভ-ক্ষতির (التغابن) দিন।" [আত-তাগাবুন: ৯]। কিয়ামতের দিনকে কেন এই আয়াতে 'তাগাবুন' নামে অভিহিত করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু মুফাসসিরের বর্ণনায় তিনি আশ্বস্ত হতে পারছিলেন না। তাঁদের মতে, 'তাগাবুন' হলো জান্নাতবাসীরা জাহান্নামবাসীদের বঞ্চিত করবে। তিনি উল্লেখ করলেন যে, তিনি অনেক তাফসির গ্রন্থ অধ্যয়ন করেছেন কিন্তু সেগুলোতে এমন কিছু পাননি যা তাঁকে আশ্বস্ত করতে পারে। এই বিষয়ে তিনি আমার সাথে এমনভাবে আলোচনা করলেন যা আমাকে গভীরভাবে আলোড়িত করল; অবশেষে আমি এই আয়াতের এমন এক ব্যাখ্যা ব্যক্ত করলাম যাতে হয়তো সন্তোষজনক উত্তর রয়েছে। আর বুদ্ধিমান তো সেই যে উত্তম কথার অনুসরণ করে এবং তা শ্রবণ করে। জমহুর (الجمهور) ওলামাদের মতে: সূরা আত-তাগাবুন মক্কী (مكية), তবে এর শেষ দিকের আয়াতগুলো ব্যতীত; যার শুরু হয়েছে এখান থেকে: "হে মুমিনগণ! তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের শত্রু..." [আত-তাগাবুন: ১৪] আয়াতসমূহ। আমার মনে হয়, এই আয়াতগুলোর কারণেই একদল আলেম একে মাদানী (مدنية) সূরা হওয়ার প্রবক্তা হয়েছেন। সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে, এই আয়াতের সম্বোধনের মূল লক্ষ্য প্রথমত মক্কাবাসী তথা কুরাইশরা; আর এই কারণেই এতে বর্ণিত হয়েছে: "কাফিররা দাবি করে যে, তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না। বলো, অবশ্যই হ্যাঁ, আমার রবের কসম! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে, তারপর তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে তোমাদের অবশ্যই অবহিত করা হবে। আর এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ। (৭) অতএব তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও অবতীর্ণ নূরের ওপর ঈমান আনো। আর তোমরা যা করো সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত। (৮) যেদিন তিনি তোমাদের সমবেত করবেন সমাবেশের দিনের জন্য, সেটিই পারস্পরিক লাভ-ক্ষতির (التغابن) দিন।" [আত-তাগাবুন ৭ - ৯]। মুফাসসিরগণের ইমামগণ বলেছেন: কুরআনের সাধারণ রীতি হলো, যখনই এতে কাফিরদের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন এর দ্বারা কুরাইশ মুশরিকদের উদ্দেশ্য করা হয়। আর তাঁর বাণী "বলো, অবশ্যই হ্যাঁ", এখানে 'বালা (بلى)' শব্দটি পূর্বের "তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না" বাক্যের নেতিবাচক অর্থকে বাতিল করে দিচ্ছে। কারণ এটি এমন একটি অব্যয় যা 'হ্যাঁ' শব্দের বিপরীত অর্থ প্রদান করে এবং প্রশ্নবোধক ও বর্ণনামূলক বাক্যে না-বোধক শব্দের পরে ব্যবহৃত হয়। আর মহান আল্লাহর বাণী: "যেদিন তিনি তোমাদের সমবেত করবেন সমাবেশের দিনের জন্য" [আত-তাগাবুন: ৯], এটি একটি সময়বাচক পদ (ظرف) যা "তোমাদের অবশ্যই অবহিত করা হবে" বাক্যের সাথে সংশ্লিষ্ট। আবার এটি "তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে" বাক্যের সাথেও সংশ্লিষ্ট হওয়া বৈধ এই বিবেচনায় যে, "তারপর তোমাদের অবহিত করা হবে" বাক্যটি এর ওপর সংযোজিত (عطف) হয়েছে। অর্থাৎ: তিনি তোমাদের পুনরুত্থিত করবেন এবং সমাবেশের দিনে তোমাদের অবহিত করবেন; কারণ পুনরুত্থান সমাবেশের পূর্বেই ঘটে থাকে। আর তাঁর বাণী: "অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো" [আত-তাগাবুন: ৭]
… ইত্যাদি হলো ক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সময়বাচক পদের মধ্যবর্তী একটি ব্যাখ্যামূলক বাক্য (جملة معترضة)। আর "সমাবেশের দিন" হলো কিয়ামতের দিন। এবং আল্লাহর বাণী: "সেটিই পারস্পরিক লাভ-ক্ষতির (التغابن) দিন", এখানে দূরবর্তী নির্দেশক বিশেষ্য (اسم الإشارة للبعيد) ব্যবহার করা হয়েছে বিষয়টির ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলার জন্য এবং মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে সেদিকে আকর্ষণ করার জন্য। এটি একে পরবর্তী কোনো গুণের দ্বারা বর্ণনা করা থেকে বিমুখ হয়েছে; তাই "সমাবেশের দিন, পারস্পরিক লাভ-ক্ষতির দিন" এভাবে সরাসরি বলা হয়নি, যাতে কাঙ্ক্ষিত সীমাবদ্ধকরণের (الحصر) বিষয়টি হারিয়ে না যায়; আর এতে যে বিপর্যয় রয়েছে তা অচিরেই জানা যাবে। "সেটিই পারস্পরিক লাভ-ক্ষতির (التغابن) দিন" বাক্যটি একটি বিশেষ্যমূলক বাক্য (جملة اسمية) যার উভয় অংশই নির্দিষ্ট (معرفة), তাই এর দাবি হলো এটি সীমাবদ্ধকরণ (الحصر) বুঝাবে। অর্থাৎ: সেটিই হলো পারস্পরিক লাভ-ক্ষতির দিন, অন্য কোনো দিন প্রকৃতার্থে লাভ-ক্ষতির দিন নয়। এই সীমাবদ্ধকরণের অর্থ হলো: যেহেতু সেই দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে পারস্পরিক লাভ-ক্ষতি (التغابن) সংঘটিত হবে, তাই অন্য দিনগুলোকে যা কিছু ঘটে সেগুলোকে...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التغابن؛ كالعدم فحصر جنس يوم التغابن في ذلك اليوم بتنزيل الواقع غيره منزلة العدم.
وهذا من قصر الصفة على الموصوف على وجه المبالغة، وهذا الوجه من الحصر يسمى بالحصر الادعائي؛ لأن المتكلم يدعي أن الوصف بيوم التغابن محصور في ذلك اليوم وهو يوم الجمع؛ كقولهم: أنت الحبيب.
واعلم أن الحصر إنما حصل هنا من صيغة القصر التي هي تعريف المسند والمسند إليه ولم يحصل الحصر من التعريف باللام في قوله: {التَّغَابُنِ} بناء على أن اللام فيه دالة على معنى الكمال؛ لأن معنى الجنس الذي هو أصل معنى اللام صالح هنا فلا يعدل عنه إلى حمل اللام على معنى الكمال؛ إذ لا يحمل عليه إلا عند تعين الحمل عليه بالقرينة وهي منفية هنا لاستقامة الحمل على تعريف الجنس وهو أكثر معاني اللام، ولولا صيغة القصر لما استفيد معنى الحصر، فكيف يكون حاصلًا من معنى الكمال الذي لم ينشأ في هذا المقام إلا من حصول معنى الحصر، فلا يختلط عليك كما اختلط على بعض العلماء.
والتغابن مشتق من الغبن، والغبن: الحط من قيمة المبيع عند شرائه، فكل شراء بأقل من القيمة فهو غبن، ومادة التغابن تفاعل من الغبن، وأصل مادة التفاعل تدل على وقوع الفعل من جانبين فصاعدًا؛ كالتقاتل، والتسابق، فلفظ: {التَّغَابُنِ} يدل على وقوع غبن حاصل بين جوانب في يوم القيامة، وقد اتفق المفسرون على أن المفاعلة غير مقصود منها هنا وقوع الفعل من جوانب ولكنهم اختلفوا في تحصيل المعنى.
فذهب الزمخشري ومن تبعه مثل: الفخر والبيضاوي إلى أن المفاعلة هنا هي أن يغبن أهل السعادة أهل الشقاوة؛ إذ ينزلون منازل الجنة التي كان يمكن لأهل الشقاوة أن ينزلوها لو عملوا عمل السعداء، وهذا يشبه الغبن، فالغبن المستفاد من هذا الجانب استعارة وهذا أحد جانبي الفعل، وأما جانب غبن أهل الشقاوة فجعله الزمخشري تهكمًا؛ لأن نزولهم في منازل النار ليس غبنًا لأهل السعادة، وعلى هذا الوجه يكون اللفظ مستعملًا في مجازين مختلفين على وجه يشبه المشاكلة التقديرية، وهذا المعنى ينحو إلى تفصيل كلام مجمل نقل عن ابن عباس وهو تفسير بعيد جد البعد.
আত-তাগাবুন; এটি অস্তিত্বহীনতার ন্যায়। সুতরাং 'তাগাবুন' দিবসের ধরনকে কেবল সেই দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ (حصر) করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সেদিন ব্যতিরেকে অন্য যা কিছু ঘটে তাকে অস্তিত্বহীন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
এটি অতিশয়োক্তির ভিত্তিতে বিশেষিত বস্তুর ওপর গুণকে সীমাবদ্ধ (قصر) করার অন্তর্ভুক্ত। সীমাবদ্ধকরণের (حصر) এই পদ্ধতিকে দাবিবাচক সীমাবদ্ধকরণ (الحصر الادعائي) বলা হয়; কারণ বক্তা এখানে দাবি করছেন যে, 'তাগাবুন' দিবস হওয়ার গুণটি কেবল সেই দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ (محصور), আর সেটি হলো একত্রিত হওয়ার দিন; যেমন তাদের কথা: "আপনিই প্রকৃত প্রিয়তম।"
জেনে রাখুন যে, এখানে সীমাবদ্ধকরণ (حصر) কেবল সীমাবদ্ধ করার কাঠামো (صيغة القصر) থেকেই অর্জিত হয়েছে, যা হলো বিধেয় (مسند) ও উদ্দেশ্য (مسند إليه)-কে নির্দিষ্ট (تعريف) করা। মহান আল্লাহর বাণী: {আত-তাগাবুন}-এর মধ্যে 'লাম' দ্বারা নির্দিষ্ট করার কারণে সীমাবদ্ধকরণ (حصر) অর্জিত হয়নি—এই ধারণার ভিত্তিতে যে, এখানকার 'লাম'টি পূর্ণতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ 'লাম'-এর মূল অর্থ যে শ্রেণি নির্দেশ করা, তা এখানে প্রযোজ্য হতে পারে; সুতরাং একে পূর্ণতা অর্থে বহন করার দিকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। কেননা কোনো সূত্র বা প্রমাণ (قرينة) ছাড়া শব্দকে পূর্ণতার অর্থে বহন করা যায় না, আর এখানে তেমন কোনো সূত্রের অনুপস্থিতিতে শব্দটিকে শ্রেণি নির্দেশক (تعريف الجنس) হিসেবে গ্রহণ করাই সংগত, যা 'লাম' অক্ষরের সর্বাধিক প্রচলিত অর্থ। যদি সীমাবদ্ধ করার কাঠামো (صيغة القصر) না থাকত, তবে সীমাবদ্ধকরণের (حصر) অর্থ পাওয়া যেত না। সুতরাং কীভাবে তা পূর্ণতা অর্থ থেকে অর্জিত হতে পারে, যা কিনা এই স্থানে সীমাবদ্ধকরণের (حصر) অর্থ পাওয়া যাওয়ার পরই সৃষ্টি হয়েছে? অতএব, বিষয়টি আপনার কাছে অস্পষ্ট হওয়া উচিত নয়, যেমনটি কোনো কোনো আলেমের কাছে অস্পষ্ট হয়েছে।
আর 'তাগাবুন' শব্দটি 'গাবুন' থেকে উদ্ভূত। 'গাবুন' (غبن) হলো ক্রয়ের সময় বিক্রিত পণ্যের মূল্য কমিয়ে দেওয়া। সুতরাং মূল্যের চেয়ে কমে কেনা প্রতিটি কাজই হলো গাবুন। 'তাগাবুন' শব্দমূলটি 'গাবুন' থেকে 'তাফা'উল' (تفاعل) ছাঁচে গঠিত। 'তাফা'উল' ছাঁচটি মূলত দুই বা ততোধিক পক্ষের দিক থেকে কাজটি সম্পন্ন হওয়া বোঝায়; যেমন: পরস্পর লড়াই এবং পরস্পর প্রতিযোগিতা। সুতরাং {আত-তাগাবুন} শব্দটি কিয়ামতের দিন বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক লোকসান ঘটার প্রতি নির্দেশ করে। মুফাসসিরগণ এই বিষয়ে একমত যে, এখানে মুফা'আলাহ (مفاعلة) বা পারস্পরিক ক্রিয়া দ্বারা উভয় পক্ষ থেকে আক্ষরিকভাবে কাজটি সম্পন্ন হওয়া উদ্দেশ্য নয়, তবে এর অর্থ উদঘাটনে তাঁরা মতভেদ করেছেন।
যামাখশারী এবং তাঁর অনুসারীগণ যেমন: ফখরুদ্দীন রাজি ও বায়দাভী এই মত পোষণ করেছেন যে, এখানে পারস্পরিক ক্রিয়া (مفاعلة) বলতে বোঝায়—সৌভাগ্যবান ব্যক্তিগণ দুর্ভাগাদের লোকসানে ফেলা; কারণ তারা জান্নাতের এমন সব প্রাসাদে স্থান নেবে, যেখানে দুর্ভাগারা স্থান পেতে পারত যদি তারা নেক আমল করত। এটি লোকসানের সদৃশ। সুতরাং এই দিক থেকে প্রাপ্ত লোকসান বা 'গাবুন' শব্দটি রূপক (استعارة) হিসেবে ব্যবহৃত, যা ক্রিয়াটির একটি দিক। আর দুর্ভাগাদের পক্ষ থেকে লোকসানের বিষয়টি যামাখশারী বিদ্রূপাত্মক (تهكم) অর্থে নিয়েছেন; কারণ জাহান্নামের আগুনে তাদের অবস্থান সৌভাগ্যবানদের জন্য কোনো লোকসান নয়। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শব্দটি দুটি ভিন্ন অলঙ্কারিক অর্থে (مجاز) ব্যবহৃত হয়েছে যা আনুমানিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المشاكلة التقديرية) বিষয়ের অনুরূপ। এই অর্থটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত একটি সংক্ষিপ্ত (مجمل) বক্তব্যের বিস্তারিত রূপের দিকে ধাবিত হয়, যা অত্যন্ত দূরবর্তী একটি ব্যাখ্যা।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وذهب ابن عطية إلى أن صيغة التفاعل هنا غير مستعملة في معناها الأصلي وهو الدلالة على وقوع الفعل من جانبين فأكثر، بل هنا لحصول الفعل من جانب واحد للمبالغة مثل: التواضع والتمايل، فيكون المعنى: ذلك يوم الغبن، أي: يوم غبن الكافرين، وهو ينحو إلى تفصيل كلام نقل عن مجاهد في تفسير الآية هو أقرب إلى الاستعمال وأبعد عن التعسف ولكنه لا يشفي الغليل؛ لأن الأشقياء والكفار لم يغبنوا فيما لقوه، بل أخذوا حقهم من العذاب فلم يحصل معنى أصل الغبن فضلًا عن المبالغة فيه المستفادة من مادة التفاعل التي لا يحسن ادعاؤها إلا إذا كان أصل الفعل واقعًا، فهذا التفسير وإن خرج من ورطة عدم صحة التفاعل لم يخرج من ورطة عدم وجود أصل مادة الغبن.
وجميع التفاسير مع رأينا لم يخرج عن هذين المعنيين إما مع ضبط أو مع تخليط، ومنهم من مرَّ بالآية مرًّا ولم يحتلب منها درًّا، أما أنا فأكد ثمادي، وأستهدي بالهادي فأقول
ليس المعنى في الآية حاصلًا من مراعاة معاني المفردات لا على وجه الحقيقة ولا على وجه المجاز، ولكنه معنى عزيز جليل حاصل من مجموع التركيب، وهو قوله: {ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ} فقد أشار الحصر الادعائي الذي قدمنا بيانه إلى أن المخاطبين يحسبون أيامًا كثيرة أيام تغابن قد عرفوها واشتهرت، وأن المتكلم يحسب أن تلك الأيام التي عرفها الناس ليست بأيام تغابن، وأن هذا اليوم المتحدث عنه هو يوم التغابن لا غيره من الأيام، فبنا أن نتعرَّف الأيام التي يعدها المخاطبون أيام تغابن، وأن نرجع إلى أحوال المخاطبين وهم أهل مكة ومن حولهم ذلك أن {التَّغَابُنِ} هنا قد أضيف إليه {يَوْمُ} فعملنا أن ليس المراد من التغابن تغابن آحاد الناس في بيوعاتهم الخاصة التي تعرض من شاعة إلى أخرى وفي يوم وآخر، بل المراد تغابن يحصل في يوم معين يكثر فيه التبايع فيغبن فيه ناس كثير ويتربص فيه بعض الناس ببعض لإلحاق الغبن والخسارة، ولا نجد أيامًا بهذه الصفة غير أيام الأسواق، وقد كانت قريش أهل تجارة وكانت الأسواق حول مكة في الحج سوق عكاظ، وسوق ذي المجاز، وسوق مجنة، فكل داخل إلى الأسواق يحرص على أن يجلب الربح إلى نفسه ويغبن غيره ويحذر من أن يغبنه غيره، فكل يترقب الربح ويحذر الخسارة ولا يرضى لنفسه أن يكون مغبونًا؛ لأن الغبن يؤذن بغباوة المغبون واستخفاف الناس به وتمشي الحيلة عليه، وكل هذه أوصاف يأباها العربي، فشبه في الآية حال الناس يوم القيامة بحال
ইবনে আতিয়্যাহর অভিমত এই যে, এখানে ‘তাফা’উল’ ছিগাহ (صيغة التفاعل) বা রূপান্তরযোগ্য কাঠামোটি তার মূল অর্থে ব্যবহৃত হয়নি, যা সাধারণত দুই বা ততোধিক পক্ষ থেকে কাজ সংঘটিত হওয়া বুঝায়; বরং এখানে আধিক্য বুঝানোর জন্য এক পক্ষ থেকে কাজ সম্পন্ন হওয়া অর্থে এটি ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন: ‘বিনয় (التواضع)’ এবং ‘ঢলে পড়া (التمايل)’। সেক্ষেত্রে অর্থ হবে: এটি লোকসান বা ঠকানোর (الغبن) দিন, অর্থাৎ কাফিরদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দিন। তিনি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ থেকে বর্ণিত একটি মতের বিস্তারিত বর্ণনার দিকে ঝুঁকেছেন যা প্রয়োগরীতির অধিকতর নিকটবর্তী এবং কষ্টকল্পনা থেকে মুক্ত, কিন্তু তা পুরোপুরি পিপাসা নিবারণ করে না (তৃপ্তিদায়ক নয়)। কারণ হতভাগ্য ও কাফিররা যা লাভ করেছে তাতে তারা প্রকৃতপক্ষে লোকসান বা প্রতারণার (الغبن) শিকার হয়নি, বরং তারা তাদের প্রাপ্য আজাবই ভোগ করেছে। ফলে এখানে মূল লোকসানের (الغبن) অর্থই পাওয়া যাচ্ছে না, ‘তাফা’উল’ কাঠামো থেকে উদ্ভূত আধিক্যের অর্থ তো দূরের কথা—যা দাবি করা তখনই সঙ্গত হয় যখন মূল ক্রিয়াটি বাস্তবে ঘটে থাকে। সুতরাং এই তাফসিরটি যদিও কাঠামোগত অসারতার সংকট থেকে মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু লোকসানের (الغبن) মূল অর্থের অনুপস্থিতির সংকট থেকে বের হতে পারেনি।
আমাদের নিজস্ব মতামতসহ প্রায় সকল তাফসিরই এই দুটি অর্থের আবর্তে ঘুরপাক খেয়েছে, চাই তা সুশৃঙ্খল হোক বা বিশৃঙ্খল। আর তাফসিরকারকদের মধ্যে কেউ কেউ আয়াতের উপর দিয়ে কেবল ভাসাভাসাভাবে অতিবাহিত হয়ে গেছেন, এর থেকে কোনো সারবস্তু আহরণ করতে পারেননি। আর আমি আমার সামান্য জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এবং সঠিক পথপ্রদর্শকের নিকট হিদায়াত কামনা করে বলছি—
আয়াতের অর্থটি কেবল একক শব্দাবলির অর্থের বিবেচনার মাধ্যমে অর্জিত হয়নি, চাই তা প্রকৃত (الحقيقة) অর্থে হোক বা রূপক (المجاز) অর্থে; বরং এটি সম্পূর্ণ বাক্য কাঠামোর সমন্বয়ে গঠিত এক অনন্য ও মহান অর্থ। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সেটি পারস্পরিক হার-জিতের (التغابن) দিন}। এখানে ‘হাসর’ বা দাবিমূলক সীমাবদ্ধকরণ পদ্ধতিটি—যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি—ইঙ্গিত দেয় যে, সম্বোধিত ব্যক্তিরা এমন অনেক দিনকেই পারস্পরিক ঠকানোর দিন বলে মনে করে যা তাদের নিকট সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ। কিন্তু বক্তা (আল্লাহ) এটি বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, মানুষ যে দিনগুলোকে চেনে সেগুলো প্রকৃত হার-জিতের দিন নয়, বরং আলোচিত এই দিনটিই হচ্ছে প্রকৃত পারস্পরিক হার-জিতের (التغابن) দিন, অন্য কোনো দিন নয়। সুতরাং আমাদের উচিত সেই দিনগুলোকে চেনা যেগুলোকে সম্বোধিত ব্যক্তিরা পারস্পরিক ঠকানোর দিন গণ্য করত। আমাদের ফিরে যেতে হবে সম্বোধিত ব্যক্তিদের অবস্থার দিকে, যারা ছিলেন মক্কাবাসী এবং তাদের আশপাশের লোক। কারণ, এখানে ‘পারস্পরিক হার-জিত (التغابن)’ শব্দটির সাথে ‘দিন (يوم)’ শব্দটিকে সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) করা হয়েছে। এর দ্বারা আমরা বুঝতে পারি যে, এখানে সাধারণ কেনাবেচার ক্ষেত্রে মানুষের ব্যক্তিগত পর্যায়ে একে অপরকে ঠকানো উদ্দেশ্য নয় যা সময়ের ব্যবধানে বা ভিন্ন ভিন্ন দিনে ঘটে থাকে; বরং এখানে এমন এক নির্দিষ্ট দিনে সংঘটিত পারস্পরিক হার-জিত (التغابن) উদ্দেশ্য, যে দিনে কেনাবেচা ব্যাপক হারে হয়, ফলে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একে অপরকে লোকসানে ফেলার জন্য ওত পেতে থাকে। আমরা বাজারের দিনগুলো ছাড়া অন্য কোনো দিনকে এই বৈশিষ্ট্যে পাই না। আর কুরাইশরা ছিল ব্যবসায়ী জাতি এবং হজের মৌসুমে মক্কার আশেপাশে উকায বাজার, যিল মাজায বাজার এবং মাজান্নাহ বাজার বসত। বাজারে প্রবেশকারী প্রত্যেকেই নিজের মুনাফা লাভে সচেষ্ট থাকত এবং অন্যকে লোকসানে (الغبن) ফেলতে চাইত, আর নিজে অন্য দ্বারা প্রবঞ্চিত হওয়া থেকে সতর্ক থাকত। প্রত্যেকেই লাভের আশায় থাকত এবং ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকতে চাইত। কেউই নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত (مغبون) হিসেবে দেখতে পছন্দ করত না; কারণ লোকসান বা প্রবঞ্চনার (الغبن) শিকার হওয়া ব্যক্তির নির্বুদ্ধিতা, লোকসমাজে তার তুচ্ছতা এবং তার ওপর প্রতারণা কার্যকর হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আর এ জাতীয় সকল বৈশিষ্ট্যই আরবীয়রা ঘৃণা করত। সুতরাং আয়াতে কিয়ামতের দিন মানুষের অবস্থাকে তুলনা করা হয়েছে সেই অবস্থার সাথে...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الناس يوم السوق في ترقب ما ينفع والإشفاق مما يضر، وهو تشيبه هيئة بهيئة، وليس تشبيه معنى لفظ مفرد بمعنى مفرد آخر، واستعمل المركب الدال على الهيئة المشبه بها فأطلق على الهيئة المشبهة على طريقة الاستعارة التمثيلية وهي أعلى أنواع الاستعارة، والمقصود من ذلك: تذكير الكفار والمؤمنين بتلك الحالة بين الرغبة والرهبة حتى يستحضروا كأنهم قد تلبَّسوا بها فيحذروا سوء عاقبتها من الآن؛ وذلك بأن يسعوا إلى ما يجلب الربح ويتقوا ما يجلب الخسارة الحقة، قال تعالى: {يَرْجُونَ تِجَارَةً لَنْ تَبُورَ} [فاطر: 29]، وقد تكرر في القرآن تمثيل حال أهل الفوز وأهل الثبور في الآخرة بحال التجارة، كما في قوله تعالى: {فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ} [البقرة: 16].
ونظير هذا المعنى قول النبي صلى الله عليه وسلم فيما رواه الترمذي، وذكره البخاري تعليقًا في بعض أبواب الأدب: «إنما المفلس الذي يفلس يوم القيامة»، وقوله تعالى: {ذَلِكَ الْيَوْمُ الْحَقُّ} [النبأ: 39]، أي: يوم القيامة هو يوم النصر؛ لأن اليوم إذا أطلق فهو يوم النصر لبعض جيوش العرب أو بعض ملوكهم كما قالوا يوم تحلاف اللمم، وفي الحديث: «الصوم في الشتاء الغنيمة الباردة» فإنه اشتهر بين الناس الغنيمة الباردة، بمعنى الغنيمة بلا مشقة عمل من شأنه اصعاد مرادة البدن لكن الصيام في الشتاء هو الغنيمة الباردة؛ لأنه غنيمة أجر عظيم حصلت في برودة الجسم وهو الآمن بهذا الوصف الذي هو وصف مدح في عرفهم، ومن هذا قوله تعالى: {قُلْ إِنَّ الْخَاسِرِينَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} [الزمر: 15]، أي: إذا كنتم تعلمون وصف الخاسر فالخاسرون حقَّا هم الذين خسروا أنفسهم
… إلخ.
ولذلك جاء هذا الكلام المجموع في قوله: {ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ} مجيء الدليل والمقدمة، وهو أسلوب عجيب في صناعة التخاطب فهو بمنزلة الدليل، لقوله: {فَآَمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالنُّورِ الَّذِي أَنْزَلْنَا} [التغابن: 8]، وهو أيضًا بمنزلة المقدمة لقوله: {وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ وَيَعْمَلْ صَالِحًا يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (9) وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآَيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ خَالِدِينَ فِيهَا وَبِئْسَ الْمَصِيرُ (10)} [التغابن: 9، 10]، فلا جرم أن يحصل للسامعين بعد سماع تلك المقدمة وهذه النتيجة روعة الخائف الوجل، فتحملهم على توخي خير العمل.
* * *
মানুষ বাজারের দিন যা লাভজনক তার প্রতীক্ষায় এবং যা ক্ষতিকর তা থেকে আশঙ্কার মধ্যে থাকে; এটি হলো সামগ্রিক অবস্থাকে সামগ্রিক অবস্থার সাথে সাদৃশ্যদান (تشبيه هيئة بهيئة), এটি কোনো একটি একক শব্দের অর্থকে অন্য একটি একক শব্দের অর্থের সাথে সাদৃশ্যদান নয়। এখানে যে অবস্থার সাথে তুলনা করা হয়েছে তার জন্য এমন একটি যৌগিক পদসমষ্টি ব্যবহৃত হয়েছে যা রূপক উপমা (استعارة تمثيلية) পদ্ধতিতে তুলনীয় অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, আর এটি রূপক অলঙ্কারের সর্বোচ্চ স্তর। এর উদ্দেশ্য হলো: কাফির ও মুমিনদের সেই আশা ও আশঙ্কার মধ্যবর্তী অবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, যাতে তারা মনে করতে পারে যে তারা যেন তাতে আচ্ছন্ন হয়ে আছে এবং এখন থেকেই এর মন্দ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক হতে পারে। আর তা হবে লাভের দিকে ধাবিত হওয়া এবং প্রকৃত ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টার মাধ্যমে। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা এমন ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না} [ফাতির: ২৯]। পরকালে সফল ও ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থাকে ব্যবসার অবস্থার সাথে তুলনা করার বিষয়টি কুরআনে বারবার এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি} [আল-বাকারা: ১৬]।
এই অর্থের অনুরূপ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী যা তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বুখারি আদব বিষয়ক কিছু অধ্যায়ে বিযুক্তভাবে (معلقًا) উল্লেখ করেছেন: ‘প্রকৃত নিঃস্ব সেই ব্যক্তি যে কিয়ামতের দিন নিঃস্ব হবে।’ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সেটিই সত্য দিন} [আন-নাবা: ৩৯], অর্থাৎ: কিয়ামতের দিনই হলো বিজয়ের দিন; কারণ ‘দিন’ শব্দটি যখন নিরঙ্কুশভাবে ব্যবহৃত হয় তখন তা আরবের কিছু সেনাবাহিনী বা তাদের কিছু রাজার বিজয়ের দিনকে বোঝায়, যেমন তারা ‘তহলাফ আল-লামাম’-এর দিন বলত। হাদিসে এসেছে: ‘শীতকালের রোজা হলো শীতল গনিমত’। মানুষের মাঝে ‘শীতল গনিমত’ বিষয়টি এমন গনিমত বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্থে প্রসিদ্ধ যা অর্জনে কোনো শারীরিক পরিশ্রম করতে হয় না যা শরীরের উত্তাপ বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু শীতকালের রোজা হলো শীতল গনিমত; কারণ এটি একটি মহান সওয়াবের গনিমত যা শরীরের শীতল অবস্থায় অর্জিত হয়। তাদের প্রথা অনুযায়ী এটি একটি প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য যা নিরাপদ। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের এবং নিজেদের পরিবার-পরিজনের ক্ষতি সাধন করেছে} [আয-যুমার: ১৫], অর্থাৎ: তোমরা যদি ক্ষতিগ্রস্তের পরিচয় জেনে থাকো তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে
… ইত্যাদি।
এই কারণেই {সেদিন হবে পারস্পরিক হার-জিতের (التغابن) দিন}—এই কথাটি সমষ্টিগতভাবে দলিল ও ভূমিকা হিসেবে এসেছে। এটি সম্বোধন শৈলীর এক বিস্ময়কর পদ্ধতি যা দলিলের স্থলাভিষিক্ত। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর জন্য দলিল স্বরূপ: {অতএব তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আমি যে নূর নাযিল করেছি তার ওপর ঈমান আনো} [আত-তাগাবুন: ৮]। আবার এটি এই বাণীর জন্য ভূমিকা স্বরূপ: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে, তিনি তার পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটিই মহাসাফল্য (৯) আর যারা কুফরি করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং এটি কতই না মন্দ গন্তব্য (১০)} [আত-তাগাবুন: ৯-১০]। সুতরাং সেই ভূমিকা এবং এই ফলাফল শোনার পর শ্রোতাদের মনে ভীত-সন্ত্রস্ত ব্যক্তির মতো যে ভীতির সঞ্চার হবে, তা তাদের সর্বোত্তম আমল অন্বেষণ করতে বাধ্য করবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।
* * *
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
مراجعة في تفسير قوله تعالى:{قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى} [الشورى: 23]
طالعت في الجزء السادس من المجلة الزيتونية بحثًا نفسيًا دبجه قلم الأستاذ الفاضل المنزل مني منزلة الابن البار الشيخ الناصر الصدام في ما يعول عليه من تفسير قوله تعالى: {قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى} [الشورى: 23]، فرأيته ختم بحثه بالرغبة في إحقاق الحق من معنى الآية، وعلمت أنه يحب مجاذبة البحث مما أكده من الرجاء والحث، فهز عطفي إلى تذكر عهد زمن مديد، بأن أسايره بتكملة وتأييد، وفصل بين قريب وبعيد، أقول:
إن ما استظهره في معنى الآية الأظهر وهو المأثور عن ابن عباس في صحيح البخاري وغيره وتابعه عليه أساطين المفسرين من التابعين مجاهد وقتادة وعكرمة ومقاتل وطاوس والشعبي والسدي والضحاك، وهو الذي اقتصر عليه البخاري في كتاب التفسير وعياض في الباب الأول من كتاب الشفاء، وعلى ذلك التفسير تكون {فيِ} من قوله تعالى: {فِي الْقُرْبَى} تعليلية، ومما لا يشك فيه المضطلع بأسرار كلام البلغاء أن التعليل الذي يستفاد بـ {فيِ} غير التعليل الذي يستفاد بلام التعليل؛ لأن التعليل بـ {فيِ} إنما هو معنى عارض لها متفرع عن معنى الظرفية الأصلي فيها، فإن {فيِ} قد تستعار للظرفية المجازية، ومن صور تلك الظرفية المجازية: أن تنزل علة الشيء وسببه منزلة الظرف الواقع الشيء فيه لما في المجاز من الدقة والبيان؛ وذلك مقتضى العدول عن الحقيقة إلى المجاز، فللَّه در الشيخ صاحب البحث من تطرقه إلى بيان موجب العدول عن لام التعليل إلى حرف الظرفية.
أما ما ارتآه من إشعار حرف الظرفية بأضعف مما يشعر به حرف التعليل في التسبب فلا أشايعه عليه ولا أحسبه مرادًا من استعمال العرب، ألا ترى قول الحماسي وهو سبرة الفقعسي من شعراء الجاهلية:
نحابي بها أكفاءنا ونهينها
… ونشرب في أثمانها ونقامر
وقد كنت ذكرت في شرحي على الحماسة المسمى «فوائد الأمالي التونسية على فرائد اللآلي الحماسية»، أن {فيَ} للظرفية المجازية، أي: تحصل معاقرة الخمر ومعاطاة الميسر بأثمان تلك الإبل، فربما كان الأكثر للشرب، وربما كان الأكثر للقمار، والكل
মহান আল্লাহর বাণীর তাফসির (تفسير) বিষয়ক একটি পর্যালোচনা:{বলো, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, শুধু আত্মীয়তার সৌহার্দ্য ছাড়া} [আশ-শুরা: ২৩]
আমি মাজাল্লাত আল-যাইতুনিয়ার ষষ্ঠ খণ্ডে একটি সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা পাঠ করেছি, যা আমার কাছে অত্যন্ত স্নেহভাজন ও সুযোগ্য সন্তানতুল্য শেখ আন-নাসির আস-সাদ্দাম রচনা করেছেন। এটি মহান আল্লাহর বাণী: {বলো, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, শুধু আত্মীয়তার সৌহার্দ্য ছাড়া} [আশ-শুরা: ২৩]-এর নির্ভরযোগ্য তাফসির (تفسير) সংক্রান্ত। আমি লক্ষ্য করলাম যে, তিনি আয়াতের প্রকৃত অর্থ উদ্ঘাটনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাঁর আলোচনা শেষ করেছেন। আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি এই বিষয়ে পারস্পরিক গবেষণামূলক আলোচনা পছন্দ করেন, যা তাঁর সনির্বন্ধ অনুরোধ ও উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে আরও নিশ্চিত হয়েছে। এটি আমাকে দীর্ঘকাল আগের স্মৃতি মনে করিয়ে দিল এবং আমাকে তাঁর সাথে সম্পূরক আলোচনা ও সমর্থনের মাধ্যমে পথ চলতে এবং নিকটবর্তী ও দূরবর্তী বিষয়গুলোর মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করতে উদ্বুদ্ধ করল। আমি বলছি:
আয়াতের অর্থ সম্পর্কে তিনি যা প্রকাশ করেছেন তা-ই অধিকতর স্পষ্ট। আর এটিই সহিহ বুখারি এবং অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত (المأثور) হয়েছে। তাবেয়ি (تابعين)গণের মধ্যে নেতৃস্থানীয় মুফাসসির (مفسرين) যেমন মুজাহিদ, কাতাদাহ, ইকরিমাহ, মুকাতিল, তাউস, আশ-শাবি, আস-সুদ্দি এবং আদ-দাহহাক তাঁর অনুসরণ করেছেন। ইমাম বুখারি 'কিতাবুত তাফসির'-এ এবং কাদি ইয়াদ 'কিতাবুশ শিফা'-এর প্রথম অধ্যায়ে কেবল এই ব্যাখ্যাটিই গ্রহণ করেছেন। এই তাফসির (تفسير) অনুযায়ী, মহান আল্লাহর বাণী {فِي الْقُرْبَى} (আত্মীয়তার মধ্যে)-তে {فيِ} (মধ্যে) অব্যয়টি কারণবাচক (تعليلية) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের বাণীর রহস্য সম্পর্কে যারা পূর্ণ অবগত, তারা এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করেন না যে, {فيِ} থেকে যে কারণবাচকতা (تعليل) পাওয়া যায়, তা কারণবাচক 'লাম' (لام التعليل) থেকে প্রাপ্ত কারণবাচকতা থেকে ভিন্ন। কারণ {فيِ} এর মাধ্যমে কারণ দর্শানো একটি আপতিক অর্থ, যা এর মূল অর্থ 'আধারবাচকতা' (الظرفية) থেকে উদ্ভূত হয়েছে। কেননা {فيِ} শব্দটি রূপক আধারবাচকতার (الظرفية المجازية) জন্য অলঙ্কার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। রূপক আধারবাচকতার একটি রূপ হলো: কোনো জিনিসের কারণ ও হেতুকে একটি আধারের স্থলাভিষিক্ত করা যার মধ্যে জিনিসটি সংঘটিত হয়, কারণ রূপক ব্যবহারের মধ্যে সূক্ষ্মতা ও স্পষ্টতা বিদ্যমান। এটিই মূলত প্রকৃত অর্থ থেকে রূপক অর্থের দিকে বিবর্তনের দাবি। সুতরাং, গবেষণাপত্রের লেখক শেখ অত্যন্ত চমৎকারভাবে কারণবাচক 'লাম' বর্জন করে আধারবাচক অব্যয় ব্যবহারের কারণ বর্ণনা করার পথ বেছে নিয়েছেন।
তবে আধারবাচক অব্যয়টি কারণবাচক অব্যয়ের তুলনায় কার্যকরণ বা হেতু নির্ণয়ে দুর্বলতর অর্থ প্রদান করে বলে তিনি যে মত ব্যক্ত করেছেন, সে ব্যাপারে আমি তাঁর সাথে একমত নই। আমি মনে করি না যে, আরবদের ভাষাগত ব্যবহারে এটি উদ্দেশ্য থাকে। আপনি কি হামাসাহ কাব্যগ্রন্থের কবি জাহেলি যুগের সাবিরা আল-فাক’আসির উক্তিটি দেখেননি:
আমরা এর মাধ্যমে আমাদের সমকক্ষদের সম্মান করি এবং এটিকে তুচ্ছ করি... এবং আমরা এর মূল্যের বিনিময়ে মদ্যপান করি ও জুয়া খেলি।
আমি হামাসাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম ‘ফাওয়াইদুল আমালি আত-তিউনিসিয়্যাহ আলা ফারাইদিল লাআলি আল-হামাসিয়্যাহ’-তে উল্লেখ করেছি যে, এখানে {فيَ} রূপক আধারবাচকতার (الظرفية المجازية) জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ: সেই উটগুলোর মূল্যের বিনিময়ে মদ্যপান এবং জুয়া খেলা সম্পন্ন হয়। কখনো হয়তো মদ্যপানের আধিক্য থাকে, আবার কখনো জুয়া খেলার আধিক্য থাকে, আর সবটুকুই...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
مظروف في أثمانها فجعلها ظرفًا ليتطرق بذلك إلى إرادة إتلاف جميع أثمانها في ذلك؛ فالظرفية على معنى باء السببية، والمقصود هذا المسبب وهو ما يرضيهم من الشراب والميسر؛ ولذلك لم يأت بـ (من) لئلا يوهم أنهم يشربون ويقامرون ببعض أثمانهم ويستبقون بعضها اكتنازًا فهم يتعيرون بذلك، ونظير الظرفية قوله تعالى: {وَارْزُقُوهُمْ فِيهَا وَاكْسُوهُمْ} [النساء: 5]، أي: ارزقوهم بها، ولم يقل منها؛ للإشارة إلى عدم التقتير عليهم في أموالهم وإنما هي أسباب لرزقهم وكسوتهم، فالمنظور إليه هو المسبب، والسبب، تبع الحال المسبب، ويكون التعريف في قوله تعالى {الْقُرْبَى} تعريف الأجل، أي: لأجل حقيقة القرابة بيننا، وهذا الوجه في معنى الآية هو الأنسب بالسياق؛ لأن الخطاب مؤجَّه إلى المشركين وكانوا عادوا النبي صلى الله عليه وسلم وتداعوا للتألب عليه، فناسب أن يذكروا بوشائج الأرحام والتذكير بها سنة عربية مألوفة، كما قال القتال الكلابي:
نشدتُ زيادًا والمقامةُ بيننا
… وذكرته أرحام سعر وهيتم
وليس من مناسب المقام أن يسألهم مودة أهل بيته وأقاربه؛ لأن ذلك لا غناء له في غرض الآية.
وأما الوجه الثاني في تفسيرها فليس بباطل؛ إذ قد قال به جمع من التابعين، مثل: عمرو بن شعيب، وسعيد بن جبير، وعلي بن الحسين، وذكره صاحب الكشاف ولم يذهب إليه أحد من الصحابة وإني أراه مرجوحًا وضعيفًا، وقد روى البخاري إنكار ابن عباس على سعيد بن جبير تفسير الآية به، ولم يعرج على ذكره عياض في فصل وجوب البر بآل محمد صلى الله عليه وسلم من كتاب الشفاء، وعلى هذا الوجه يكون في قوله تعالى: {فِي الْقُرْبَى} حذف مضاف، أي: في ذوي القربى، وتكون {فِي} مستعملة في الظرفية المجازية بأن جعل أهل قرابة الرسول كالمكان لاستقرار لمودة كما صرح به في الكشاف، وقد ذكر بعض المفسر ين في تر جيح كون هذا الوجه هو المراد من الآية حديثًا عن ابن عباس أنه قال: لما نزلت هذه الآية، قالوا: يا رسول الله من هؤلاء الذين أمر الله بمودتهم؟ فقال: «فاطمة وولدها» ا. هـ.
وهذا الحديث شديد الضعف؛ لأن في سنده حسينًا الأشقر وكان مشهورًا بالغلو في التشيع، وكان مع ذلك مجهولًا غير مقبول الحديث، وأما ما يرمي إليه الكميت في أبياته وشريح بن أوفى العبسي في بيته، فإنما هو تقليد لهذا التأويل في معنى الآية.
ثم لا حاجة بنا إلى التخليط الذي وقع فيه بعض المفسرين في ترجيح هذا التأويل
তাদের মূল্যের মধ্যে নিহিত করা হয়েছে, ফলে তিনি সেগুলোকে একটি আধারে পরিণত করেছেন যাতে এর মাধ্যমে সেই মূল্যগুলো সম্পূর্ণরূপে বিনাশ করার ইচ্ছার দিকে ধাবিত হওয়া যায়; সুতরাং এখানে আধেয় হওয়ার বিষয়টি 'বা' (ب) হরফের কারণবাচক অর্থের ভিত্তিতে হয়েছে। আর মূল লক্ষ্য হলো সেই কারণ, যা মদ্যপান ও জুয়ার মাধ্যমে তাদের সন্তুষ্ট করে। এই কারণেই এখানে 'মিন' (من) ব্যবহার করা হয়নি, যাতে কেউ এমন ধারণা না করে যে তারা তাদের সম্পদের একাংশ দিয়ে মদ্যপান ও জুয়া খেলছে এবং বাকি অংশ সঞ্চয় করছে; বরং তারা এর মাধ্যমেই একে অপরকে বিদ্রূপ করত। এই আধেয় বা আধারের অনুরূপ ব্যবহার মহান আল্লাহর এই বাণীতে পাওয়া যায়: {وَارْزُقُوهُمْ فِيهَا وَاكْسُوهُمْ} [নিসা: ৫], অর্থাৎ: তাদের সেই সম্পদের মাধ্যমে জীবিকা দান করো। এখানে 'মিনহা' (منها) বলা হয়নি যাতে তাদের সম্পদে কৃপণতা না করার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বরং সম্পদ হলো তাদের জীবিকা ও পোশাকের উপায়। সুতরাং এখানে মূল লক্ষ্য হলো ফলাফল, আর কারণটি ফলাফলের অনুগামী মাত্র। মহান আল্লাহর বাণী {الْقُرْبَى}-তে আলিফ-লামটি কারণ বর্ণনার জন্য, অর্থাৎ: আমাদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে। আয়াতের অর্থের ক্ষেত্রে এই অভিমতটিই প্রসঙ্গের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ এই সম্বোধনটি মুশরিকদের প্রতি করা হয়েছে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরোধিতা করেছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তাই তাদের আত্মীয়তার বন্ধন এবং তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া অধিক যুক্তিসঙ্গত, যা একটি সুপরিচিত আরবীয় রীতি। যেমনটি আল-কত্তাল আল-কিলাবি বলেছেন:
আমি জিয়াদের কাছে আবেদন জানালাম যখন আমাদের মধ্যে সভা চলছিল
… এবং তাকে সা'র ও হায়তামের আত্মীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম
আর এই প্রসঙ্গের দাবি এমন নয় যে, তিনি তাদের কাছে তাঁর পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা চাইবেন; কারণ আয়াতের মূল উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে এর কোনো আবশ্যকতা নেই।
এই আয়াতের তাফসিরের দ্বিতীয় অভিমতটি একেবারে বাতিল নয়; কেননা একদল তাবেয়ি (تابعي) এমনটি বলেছেন, যেমন: আমর ইবনে শুয়াইব, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং আলী ইবনে হুসাইন। কাশশাফের লেখক এটি উল্লেখ করেছেন, তবে সাহাবিদের (صحابة) মধ্য থেকে কেউ এই মত পোষণ করেননি। আমি এটিকে অগ্রাহ্য (مرجوح) এবং দুর্বল (ضعيف) মনে করি। সাঈদ ইবনে জুবায়ের কর্তৃক আয়াতের এই ব্যাখ্যা করার বিপরীতে সহিহ বুখারি-তে ইবনে আব্বাসের অস্বীকৃতি বর্ণিত হয়েছে। কাদি ইয়াজ তাঁর কিতাবুশ শিফা-র 'আলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সদাচারের আবশ্যকতা' অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করেননি। এই অভিমত অনুযায়ী মহান আল্লাহর বাণী {فِي الْقُرْبَى}-তে একটি ঊহ্য শব্দ (মুদাফ) রয়েছে, অর্থাৎ: আত্মীয়স্বজনের ক্ষেত্রে। আর এখানে {فِي} হরফটি রূপক আধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেন রাসুলের আত্মীয়স্বজনকে ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু বা স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা কাশশাফ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। কোনো কোনো মুফাসসির এই অভিমতটিকে প্রধান্য দেওয়ার স্বপক্ষে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: যখন এই আয়াতটি নাজিল হলো, তখন তারা বলল: হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা যাদের ভালোবাসার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন? তিনি বললেন: 'ফাতেমা ও তার সন্তানগণ'।
এই হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল (شديد الضعف); কারণ এর সনদে (سند) হুসাইন আল-আশকার রয়েছে, যে শিয়া মতবাদে চরমপন্থার (غلو) জন্য সুপরিচিত ছিল। তদুপরি সে ছিল অপরিচিত (مجهول) এবং হাদিস গ্রহণে অযোগ্য (غير مقبول الحديث)। আর কুমাইত তার কবিতায় এবং শুরাইহ ইবনে আওফা আল-আবাসি তার চরণে যা ইঙ্গিত করেছেন, তা মূলত আয়াতের অর্থের ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যারই অনুকরণ মাত্র।
অতঃপর এই ব্যাখ্যাটিকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কোনো মুফাসসির যে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন, তাতে আমাদের জড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
بجلب الأدلة على وجوب مودة أهل قرابة رسول الله صلى الله عليه وسلم فإن إبطال كون ذلك مستفادًا من هذه الآية لا يوهم إبطاله في نفسه؛ إذ لم يدع أحد انحصار الدليل في هذه الآية.
وهنالك وجه ثالث في تفسير الآية هو أبعد الوجوه، فقد روي عن ابن عباس والحسن البصري: أن المعنى إلا أن تودوا الله وتتقربوا إليه بالطاعة، فيكون المراد القربى المجازية، أي: الموالاة وتطلب الرضا، ويكون التعريف للعهد بقرينة من مقام الخطاب لا وجود لها في لفظ الآية، وقد ذكر أبو بكر بن العربي الوجوه الثلاثة وقال إثرها: «وليس يبعد أن يكون الكل معنيًّا من الآية». ا. هـ. ويتعين أن يكون أراد من نفي الاستبعاد نفي استبعاد يقتضي البطلان بحيق يكون احتمالًا لا يسمح به لفظ الآية، وليس يعني به استواء الوجوه الثلاثة في المتبادر من الآية، وكيف -وهو بصدد شرح الخبر الذي أخرجه الترمذي عن ابن عباس- أنه أنكر على سعيد عن جبير تفسيره الآية بالوجه الثاني وفسرها ابن عباس بالوجه الأول؟ !
وأما الاستثناء الواقع في قوله: {إِلَّا الْمَوَدَّةَ} فهو منقطع على جميع الوجوه؛ لأن المودة ليست بأجر، فالاستثناء في المعنى الاستدراك، وقد استعملت أداة الاستثناء في معنى أداة الاستدراك ولذلك جعل العلماء الاستثناء في مثله منقطعًا، ثم فسروه بأنه على ادعاء أنه إن كان أجر فهذا هو أجري، ويسمى هذا الاستعمال في اصطلاح الأدباء تأكيد المدح بما يشبه الذم وهو معدود في المحسنات البديعة بهذا الاسم وبضده وهو تأكيد الذم يشبه المدح، وقال العلامة التفتازاني: الأجدر أن يسمى تأكيد الشيء بما يشبه نقيضه ا. هـ. وأنا سميته في كتاب موجز البلاغة تأكيد الشيء بما يشبه ضده توسعة في التسمية؛ لئلا يختص بالنقيض ثم أرى أنه يتعين في مثل هذا الاستثناء أنه إن وقع في مقام تعتبر في مثله المحسنات فليسم استثناءً ادعائيًّا، كما سمى البلغاء بعض أنواع القصر قصرًا ادعائيًّا، وإن كان عريًّا عن قصد التحسين سمي استثناءً منقطعًا، وللأديب تتبع فروقه، وتعين صوبه من شيم بروقه.
* * *
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা পোষণ ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে, এই আয়াত থেকে তা আহরিত হওয়াকে বাতিল সাব্যস্ত করা স্বয়ং সেই বিধানটিকেই বাতিল করা বুঝায় না; কেননা কেউই এই আয়াতের মধ্যে দলিলের সীমাবদ্ধতা দাবি করেননি।
এই আয়াতের তাফসিরের ক্ষেত্রে একটি তৃতীয় দিক রয়েছে যা সবচেয়ে দূরবর্তী ব্যাখ্যা। ইবনে আব্বাস ও হাসান বসরী থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, এর অর্থ হলো: তবে তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো এবং আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করো। ফলে এখানে নৈকট্য বলতে রূপক নৈকট্য উদ্দেশ্য হবে, অর্থাৎ আনুগত্য ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ। এখানে নির্দিষ্টতা এসেছে সম্বোধনের প্রেক্ষাপট থেকে, যা আয়াতে সরাসরি শব্দে নেই। আবু বকর ইবনুল আরাবী এই তিনটি ব্যাখ্যা উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এমনটি অসম্ভব নয় যে, সবগুলো অর্থই এই আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য।" সমাপ্ত। এটি নিশ্চিত যে, তিনি অসম্ভবতা নাকচ করার মাধ্যমে এমন অসম্ভবতা নাকচ করতে চেয়েছেন যা বাতিল হওয়ার দাবি রাখে, অর্থাৎ এমন সম্ভাবনা যা আয়াতের শব্দগত দিক থেকে অনুমোদিত নয়। এর অর্থ এই নয় যে, আয়াত থেকে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি ব্যাখ্যাই সমান। আর তা হবেই বা কীভাবে - অথচ তিনি তিরমিজি কর্তৃক ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (خبر) ব্যাখ্যা করার প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (ইবনে আব্বাস) সাঈদ ইবনে জুবায়েরের আয়াতটির দ্বিতীয় ব্যাখ্যা প্রদানের প্রতিবাদ করেছেন এবং ইবনে আব্বাস নিজে এর প্রথম ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন?!
আর {إِلَّا الْمَوَدَّةَ} অংশে যে ব্যতিক্রমটি এসেছে, তা সকল ব্যাখ্যার আলোকেই বিচ্ছিন্ন (منقطع); কারণ ভালোবাসা কোনো প্রতিদান নয়। ফলে অর্থের দিক থেকে এই ব্যতিক্রমটি হলো সংশোধনমূলক। এখানে ব্যতিক্রমবোধক অব্যয়টি সংশোধনমূলক অব্যয়ের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, আর এজন্যই আলেমগণ এই জাতীয় ব্যতিক্রমকে বিচ্ছিন্ন (منقطع) হিসেবে গণ্য করেছেন। অতঃপর তাঁরা এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই দাবি অনুযায়ী যে, যদি কোনো প্রতিদান থেকে থাকে তবে এটিই আমার প্রতিদান। সাহিত্যিকদের পরিভাষায় এই ব্যবহারকে বলা হয় 'নিন্দার ছলে প্রশংসা' যা অলঙ্কারশাস্ত্রে এই নামে এবং এর বিপরীত নামে অর্থাৎ 'প্রশংসার ছলে নিন্দা' হিসেবে গণ্য করা হয়। আল্লামা তাফতাজানি বলেছেন: "এটিকে কোনো বিষয়কে তার বিপরীতের সাদৃশ্যে সুদৃঢ় করা হিসেবে নামকরণ করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত।" সমাপ্ত। আমি আমার 'মুজিজুল বালাগাহ' কিতাবে নামকরণের পরিধি বিস্তারের লক্ষ্যে একে 'কোনো বিষয়কে তার বিপরীতের সাদৃশ্যে দৃঢ় করা' হিসেবে নামকরণ করেছি; যাতে এটি কেবল বৈপরীত্যের মাঝে সীমাবদ্ধ না থাকে। অতঃপর আমি মনে করি যে, এই জাতীয় ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে এটি নির্দিষ্ট যে, যদি তা এমন ক্ষেত্রে ঘটে যেখানে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সৌন্দর্য বিবেচনা করা হয়, তবে তাকে দাবিপ্রসূত ব্যতিক্রম বলা উচিত, যেমনটি অলঙ্কারবিদগণ সীমাবদ্ধকরণের কিছু প্রকারকে 'দাবিপ্রসূত সীমাবদ্ধকরণ' নামে অভিহিত করেছেন। আর যদি অলঙ্করণের উদ্দেশ্য না থাকে, তবে তাকে বিচ্ছিন্ন (منقطع) ব্যতিক্রম বলা হবে। সাহিত্যিকগণ এর পার্থক্যসমূহ অনুসন্ধান করতে পারেন এবং এর যথাযথ রূপ নির্ণয় করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
شرف الكعْبَةبسم الله الرحمن الرحيم
قال الله تعالى: {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ (96) فِيهِ آَيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آَمِنًا} [آل عمران: 96، 97].
الغرض من هذه الآية: بيان شرف الكعبة لوقوع هذه الآية عقب قوله تعالى {قُلْ صَدَقَ اللَّهُ فَاتَّبِعُوا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [آل عمران: 95]، وقبل قوله: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا} [آل عمران: 97]، فعلمنا أنها مسوقة مساق الدليل لما قبلها؛ لأن شأن الدليل أن يقع عقب المطلوب ومساق المقدمة لما بعدها، وكلاهما مؤذن بالتعليل، والعلة أوضح دلالة من المعلول، فكان ذلك مؤذنًا بتقرر شرف الكعبة، وكل من الدليل والمقدمة طريق في صناعة الخطابة لإثبات مقصود الخطيب، والاستدلال يكون بطريق التدليل والتعقيب والمقدمة بطريق التصدير والتقديم، فالجمع في موقع هذه الآية بين الطريقتين من بلاغة القرآن وإعجازه الذي لم أر من نبه عليه، وتصدير الآية بحرف التأكيد من دون تقدم إنكار منكر ولا تردد تأكيد مقصود منه الاهتمام بالخبر، ومن شأن {إنَّ} إذا جاءت لمجرد الاهتمام أن تغني غناء فاء العطف وتفيد من التعليل والربط شيئًا عجيبًا، فيكون الكلام بها مستأنفًا غير مستأنف، مقطوعًا موصولًا معًا، كما فصله الشيخ عبد القاهر في دلائل الإعجاز، ومثله بقول بشار بن برد:
بَكَّرَا صاحِبَيَّ قبل الهجير
… إن ذاك النجاح في التبكير
وذكر قصة خلف الأحمر وأبي عمرو بن العلاء مع بشار في شأن هذا البيت، وإيقاع (إنَّ) في أول هذه الآية أدخل في الإعجاز بحيث نجد وقوعها متعينًا في بلوغ الكلام حد الإعجاز؛ لأنها مفيدة لتعليل ما قبلها؛ إذ هي بمنزلة فاء التفريع كما تقدم، وهي أيضًا مفيدة مفاد أداة الاستفتاح لما فيها من معنى الاهتمام الذي يناسب صدر الكلام؛ ولذلك قال الشيخ عبد القاهر: «فترى الكلام معها مستأنفًا غير مستأنف مقطوعًا موصولًا معًا» ولو وقعت الفاء في أول الآية لما صلحت إلا لتكون
কাবার শ্রেষ্ঠত্বপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছে, তা হলো সেই ঘর যা মক্কায় অবস্থিত; এটি বরকতময় এবং বিশ্বজগতের জন্য পথপ্রদর্শক। তাতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে, যেমন মাকামে ইব্রাহিম। আর যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে, সে নিরাপদ।} [সূরা আলে ইমরান: ৯৬, ৯৭]।
এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো: কাবার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা। কারণ এই আয়াতটি মহান আল্লাহর এই বাণীর পরপরই এসেছে—{বলুন, আল্লাহ সত্য বলেছেন। সুতরাং তোমরা ইব্রাহিমের একনিষ্ঠ মিল্লাতের অনুসরণ করো এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না} [সূরা আলে ইমরান: ৯৫], এবং এরপরেই মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের ওপর এই ঘরের হজ করা ফরজ, যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে} [সূরা আলে ইমরান: ৯৭]। সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম যে, এই আয়াতটি পূর্ববর্তী বক্তব্যের দলিল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; কারণ দলিলে বৈশিষ্ট্য হলো তা উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্যের পরে আসে। আবার এটি পরবর্তী বক্তব্যের ভূমিকা হিসেবেও কাজ করে। এই উভয় দিকই কারণ দর্শানোর প্রতি ইঙ্গিত দেয়; আর কারণটি মূল বিষয়ের চেয়ে অধিক স্পষ্ট ইঙ্গিতবহ। এটি কাবার শ্রেষ্ঠত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার একটি বার্তা। দলিল এবং ভূমিকা—উভয়টিই কোনো উদ্দেশ্য প্রমাণের জন্য অলঙ্কারশাস্ত্রের একেকটি পদ্ধতি। প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তা দলিল পেশ ও পরবর্তী সংযোগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, আর ভূমিকার ক্ষেত্রে তা প্রারম্ভিকা ও অগ্রবর্তী উপস্থাপনের মাধ্যমে হয়। এই আয়াতের অবস্থানে উভয় পদ্ধতির এই সমন্বয় কুরআনের অলঙ্কার ও অলৌকিকত্বের অন্তর্ভুক্ত, যার প্রতি আমি ইতিপূর্বে কাউকে ইঙ্গিত করতে দেখিনি। কোনো অস্বীকারকারীর অস্বীকার বা কারো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই আয়াতের শুরুতে দৃঢ়তাবোধক অব্যয় ব্যবহারের মাধ্যমে সংবাদটির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আর 'ইন্না' যখন কেবল গুরুত্ব প্রদানের জন্য আসে, তখন তা সংযোজক অব্যয় 'ফা' এর কাজ করে এবং এক চমৎকার কার্যকারণ ও যোগসূত্র প্রদান করে। এর ফলে বক্তব্যটি একই সাথে প্রারম্ভিক ও অপ্রারম্ভিক, বিচ্ছিন্ন (مقطوع) এবং সংযুক্ত (موصول) উভয়ই মনে হয়; যেমনটি শেখ আব্দুল কাহের 'দালাইলুল ই'জায' গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনি বাশশার ইবনে বুরদের একটি কাব্য-পঙক্তিকে এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন:
হে আমার দুই বন্ধু! দ্বিপ্রহরের তাপ আসার আগেই তোমরা ভোরে যাত্রা করো
… নিশ্চয়ই সফলতা হলো ভোরে ওঠার মধ্যেই।
এবং তিনি এই কবিতা সম্পর্কে খালাফ আল-আহমার ও আবু আমর ইবনুল আলার সাথে বাশশারের একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এই আয়াতের শুরুতে 'ইন্না' শব্দটির ব্যবহার অলৌকিকত্বের এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যে, কালামটি অলৌকিকত্বের চরম সীমায় পৌঁছানোর জন্য এর ব্যবহারই সুনির্ধারিত মনে হয়। কারণ এটি পূর্ববর্তী বক্তব্যের কারণ দর্শানোর সুফল দেয়; যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি উপশাখা নির্দেশক 'ফা' এর সমপর্যায়ের। আবার সংবাদটির প্রতি গুরুত্ব প্রদানের অর্থ থাকার কারণে এটি প্রারম্ভিকা বা প্রারম্ভিক শব্দেরও সুফল দেয়, যা বক্তব্যের শুরুর সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। এই কারণেই শেখ আব্দুল কাহের বলেছেন: "তুমি বক্তব্যটিকে এর মাধ্যমে একই সাথে প্রারম্ভিক ও অপ্রারম্ভিক এবং বিচ্ছিন্ন (مقطوع) এবং সংযুক্ত (موصول) উভয়ই দেখতে পাবে।" যদি আয়াতের শুরুতে 'ফা' আসত, তবে সেটি কেবল...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تفريغًا عما قبلها فتفيد التعليل ولا تفيد الاهتمام ولا تصلح الجملة حينئذٍ لأن تكون مقدمة لما بعدها، هذا وجه إفادة شرف الكعبة على وجه الإجمال وسنجيئك بتفصيله من بعد بيان معنى الآية.
قوله تعالى: {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ} الأول اسم يدل على السابق في حال من الأحوال، فإذا أطلق فهو الأول المطلق؛ وذلك كما في اسمه تعالى (الأول) وإذا أضيف إلى اسم جنس ظاهر أو مقدر فهو الأول في ذلك الجنس؛ كقوله تعالى: {مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ}، وقول الفرزدق:
ومهلهل الشعراء ذاك الأول
أي: أول الشعراء، وقد يطلق الأول ويراد به السابق في الفضل والكمال في أحوال ما أضيف إليه كقوله صلى الله عليه وسلم: «نحن الأولون السابقون يوم القيامة بيد أنهم أوتوا الكتاب من قبلنا»، والأولية عند العرب من شعار التفضيل فيما يتنافس فيه المتنافسون كما قال حسان في رثاء أبي بكر الصديق:
أول الناس حقًّا صدق الرسلا
ومن ذلك إطلاق العتيق عندهم على الشريف؛ إذ العتيق عندهم في الحقيقة هو القديم، والقديم شيء أول، وقد فسر به قوله تعالى: {وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ} [الحج: 29]، والبيت محتجر من الأرض بحجارة أو بنسيج من ثياب الشعر يتخذ للإيواء والسكني، فإن كان من أدم فهو القبة، وقد يطلق البيت على المسجد بتقدير: أنه بيت الله أو بيت الصلاة، قال تعالى: {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ} [النور: 36]، وقال حكاية عن إبراهيم عليه السلام: {رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ} [إبراهيم: 37]، وسموا المسجد الأقصى بيت المقدس.
ومعنى {وُضِعَ لِلنَّاسِ}: أقيم واتخذ، وأصل الوضع في كلام العرب ضد الرفع، يقولون: وضعت لك الشيء في محل كذا، أي: قربته لك وهيأته، ثم استعمل بمعنى مطلق الجهل والإقامة، والناس: اسم جمع لطائفة من البشر لا واحد له من لفظه في كلام العرب، فإذا دخل عليه حرف التعريف دل غالبًا على الاستغراق الحقيقي نحو: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} [الناس: 1]، ويكون التعريف فيه للعهد أيضًا نحو قول الخطيب: أيها الناس، يعني: سامعيه، وقوله تعالى: {إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ} [آل عمران: 173]، يعني: قريشًا.
এটি পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের একটি অনুসিদ্ধান্ত (تفريغ), যা কারণ নির্দেশ করে (تعليل) এবং বিশেষ গুরুত্ব (اهتمام) প্রদান করে না। সেই মুহূর্তে বাক্যটি তার পরবর্তী অংশের জন্য ভূমিকা (مقدمة) হওয়ার উপযুক্ত থাকে না। এটি হলো সংক্ষেপে কাবার শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নির্দেশ করার একটি দিক, আর আয়াতের অর্থ বর্ণনার পর আমরা আপনার কাছে এর বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে আসব।
মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম ঘর}। 'প্রথম' (الأول) এমন একটি নাম যা কোনো এক অবস্থায় পূর্ববর্তী হওয়াকে নির্দেশ করে। সুতরাং যখন এটি নিরঙ্কুশভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা পরম প্রথম (الأول المطلق) অর্থ প্রদান করে; যেমনটি মহান আল্লাহর গুণবাচক নাম 'আল-আউয়াল' (الأول)-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর যখন এটি কোনো প্রকাশ্য বা উহ্য জাতিবাচক বিশেষ্যের (اسم جنس) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তখন এটি সেই জাতির অন্তর্ভুক্ত প্রথম হওয়াকে বোঝায়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {প্রথম দিন থেকে}, এবং কবি ফারাযদাকের উক্তি:
এবং কবিদের মধ্যে মুহালহিল হলো সেই প্রথম
অর্থাৎ: কবিদের মধ্যে প্রথম। কখনো কখনো 'প্রথম' শব্দটি এমন ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যেখানে তার মাধ্যমে কোনো বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতায় অগ্রগামী হওয়া বোঝানো হয় যার দিকে এটি সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমরা কিয়ামতের দিন প্রথম অগ্রগামী (الأولون السابقون), তবে পার্থক্য হলো তাদের আমাদের আগে কিতাব দেওয়া হয়েছে।" আরবদের নিকট 'প্রথম হওয়া' হলো শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা নিয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করে। যেমন হাসসান ইবনে সাবিত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর শোকগাথায় বলেছেন:
মানুষের মধ্যে প্রথম যিনি সত্যিকার অর্থেই রাসূলগণকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন
অনুরূপভাবে তাদের নিকট কোনো মর্যাদাবান (الشريف) ব্যক্তিকে 'প্রাচীন' (العتيق) বলা হয়; কেননা তাদের নিকট প্রকৃতপক্ষে 'আতীক' (العتيق) হলো পুরাতন (القديم), আর পুরাতন বা প্রাচীন হলো আদি কোনো বিষয়। মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা যেন প্রাচীন গৃহের (بالبيت العتيق) তাওয়াফ করে} [হজ: ২৯]-এর ব্যাখ্যা এর দ্বারাই করা হয়েছে। আর 'গৃহ' (البيت) হলো পাথর বা পশমি কাপড়ের বুনন দ্বারা ঘেরা ভূমির অংশ যা আশ্রয় ও বসবাসের জন্য গ্রহণ করা হয়। যদি তা চামড়ার তৈরি হয় তবে তাকে 'কুব্বা' (القبة) বা গম্বুজ বলা হয়। কখনো কখনো মসজিদকেও 'গৃহ' (البيت) বলা হয় এই বিবেচনায় যে, সেটি আল্লাহর ঘর বা সালাতের ঘর। মহান আল্লাহ বলেন: {সেই সব ঘরে যাকে সমুন্নত করতে এবং যেখানে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন} [নূর: ৩৬]। ইব্রাহিম (আ.)-এর কাহিনী বর্ণনা করে তিনি বলেন: {হে আমাদের রব! আমি আমার বংশধরদের এক শস্যহীন উপত্যকায় আপনার পবিত্র গৃহের (بيتك المحرم) নিকট বসবাস করালাম} [ইব্রাহিম: ৩৭]। তারা মসজিদুল আকসাকে 'বাইতুল মাকদিস' নামকরণ করেছেন।
{মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে} (وُضِعَ لِلنَّاسِ) এর অর্থ হলো: প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ও গ্রহণ করা হয়েছে। আরবদের ভাষায় 'ওয়াদ' (الوضع) এর মূল অর্থ হলো 'উন্নত করা' বা উঠানোর বিপরীত। তারা বলে: 'আমি তোমার জন্য অমুক স্থানে বস্তুটি রেখেছি' (وضعت), অর্থাৎ: আমি তা তোমার জন্য নিকটবর্তী ও প্রস্তুত করেছি। পরবর্তীতে এটি সাধারণ অর্থে কোনো কিছু স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহৃত হতে থাকে। আর 'মানুষ' (الناس) হলো মানবজাতির একটি দলের জন্য ব্যবহৃত সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (اسم جمع), আরবদের ভাষায় যার মূল শব্দ থেকে কোনো একবচন রূপ নেই। যখন এতে নির্দিষ্টতাবোধক অব্যয় (حرف التعريف) যুক্ত হয়, তখন তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যাপকতা (الاستغراق الحقيقي) বোঝায়; যেমন: {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের নিকট} [নাস: ১]। আবার এতে নির্দিষ্টতাবোধক অব্যয়টি 'আহদ' বা পূর্ব-পরিচিতি (العهد) বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়; যেমন খতীবের উক্তি: "হে লোকসকল", অর্থাৎ তার উপস্থিত শ্রোতৃমণ্ডলী। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মানুষেরা (النَّاسَ) তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে} [আল ইমরান: ১৭৩], এখানে 'মানুষ' দ্বারা কুরাইশদের বোঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقوله تعالى: {لَلَّذِي بِبَكَّةَ} [آل عمران: 96]، جاء بالموصولية دون أن يقول الكعبة الذي هو علم البيت الحرام لزيادة الإيضاح؛ إذ قد اتخذت الحبشة الكعبة اليمانية في صنعاء فحجت إليها خثعم وبعض قبائل العرب.
«وبكة» اسم البلد الذي به الكعبة وهو مكة، فهو بالباء وبالميم في أوله، وقد ورد الاستعمالان معًا في القرآن، قال تعالى: {بَطْنِ مَكَّةَ} [الفتح: 24]، والعرب يبدلون الباء ميمًا وعكسه إبدالًا غير قياسي ولا سيما مازن يقولون: با اسمك، أي ما اسمك، وقد نبه على هذا الإبدال أبو علي القالي في أماليه كقولهم: لازب ولازم، وقولهم: أربد وأرمد، وفي سماع ابن القاسم من العتبية أم مالكًا رحمه الله تعالى قال: بكة بالباء اسم موضع الكعبة، وبالميم اسم بقية البلاد، وقد اقتضت الآية أن الكعبة أول بيت وضع للناس، وظاهر هذا التركيب أنها أول بيت بني للبشر، وقد تناولت أفهام المفسرين هذه الآية بتفاسير مختلفة ونحن نشير إلى مجمل أقوالهم، ثم نتبعها بما نختاره في تفسيرها.
حمل قتادة ومجاهد والسدي وقليل من المفسرين الآية على ظاهرها بجعل الأولية حقيقية والناس على عمومه، فأما مجاهد وغيره فقد أحسوا بأن في بني آدم مباني سابقة الكعبة، فقالوا: إن أول من بنى الكعبة آدم، وكانت تسمى الضُّراح -بضم الضاد المعجمة- وأنه رفع إلى السماء في وقت الطوفان، فصارت الملائكة تطوف به وتسكنه في السماء، ثم بنى إبراهيم الكعبة في موضعه، ولهم في ذلك أحاديث وقصص، قال الشيخ ابن عطية في تفسيره: وقد رويت في ذلك أقاصيص ضعيفة الإسناد تركت ذكرها، وقال الفخر: أنكر ذلك الباقلاني وعلى هذه القصة بنى المعري قوله:
وقد بلغ الضراح وساكنيه
… ثناك وزار من سكن الضريحا
وأما السدي فقال: كانت الكعبة أول بناء في الأرض ولم يلتفت إلى ما كان قبل ذلك من البنيان، وهذا القول غير مستقيم، فقد كانت قبل إبراهيم مبانٍ كثيرة منها صرح بابل بُني بعد الطوفان، ومنها بيت الأصنام في بلد الكلدان، وهو البيت الذي دخله إبراهيم وكسر الأصنام التي فيه كما أشار إليه القرآن وورد بيانه في الحديث الصحيح، وروي عن علي رضي الله عنه أنه سئل عن هذه الآية: أكانت الكعبة أول بيت؟
আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় (সেই ঘর) যা বাক্কাহ-তে (অবস্থিত)} [আল ইমরান: ৯৬], এখানে 'কা’বা'—যা বায়তুল হারামের সুনির্দিষ্ট নাম—তা সরাসরি উল্লেখ না করে ইসমে মাওসুল (সংযুক্ত পদ) ব্যবহার করা হয়েছে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার জন্য; কারণ হাবশারা (আবিসিনিয়া) সানআয় 'কা’বা আল-ইয়ামানিয়্যাহ' নির্মাণ করেছিল এবং খাশআম ও আরবদের কিছু গোত্র সেখানে হজ করত।
‘বাক্কাহ’ হলো সেই জনপদের নাম যেখানে কা’বা অবস্থিত, আর তা হলো মক্কা। এর শুরুতে ‘বা’ এবং ‘মিম’ উভয় বর্ণেরই ব্যবহার রয়েছে এবং কুরআনে উভয় রূপই বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বতনু মাক্কাহ} [আল ফাতহ: ২৪]। আরবরা ‘বা’-কে ‘মিম’ দ্বারা এবং এর বিপরীতে ‘মিম’-কে ‘বা’ দ্বারা অনিয়মিতভাবে পরিবর্তন করে থাকে, বিশেষ করে মাযিন গোত্র; তারা বলে থাকে: ‘বা ইসমুকা’, যার অর্থ হলো: ‘মা ইসমুকা’ (তোমার নাম কী?)। আবু আলী আল-কালী তাঁর ‘আল-আমালী’ গ্রন্থে এই পরিবর্তনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যেমন তাদের ব্যবহার: ‘লাযিব’ ও ‘লাযিম’, এবং ‘আরবাদ’ ও ‘আরমাদ’। আল-উতবিয়্যাহ গ্রন্থে ইবনে কাসিমের বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ‘বাক্কাহ’ (বা দিয়ে) হলো কা’বার অবস্থানের জায়গার নাম, আর ‘মক্কা’ (মিম দিয়ে) হলো অবশিষ্ট শহরের নাম। এই আয়াতটি দাবি করে যে, কা’বা হলো মানুষের জন্য স্থাপিত প্রথম ঘর। এই বাক্যের বাহ্যিক রূপ থেকে বোঝা যায় যে, এটিই মানবজাতির জন্য নির্মিত প্রথম গৃহ। মুফাসসিরগণ এই আয়াতের বিভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন। আমরা তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করব এবং এরপর এর ব্যাখ্যায় আমাদের পছন্দসই মতটি তুলে ধরব।
কাতাদাহ, মুজাহিদ, সুদ্দী এবং অল্প সংখ্যক মুফাসসির আয়াতটিকে এর বাহ্যিক অর্থের ওপর গ্রহণ করেছেন। তারা ‘প্রথম হওয়া’ বিষয়টি প্রকৃত অর্থে এবং ‘মানুষ’ শব্দটিকে এর ব্যাপক অর্থে গণ্য করেছেন। তবে মুজাহিদ ও অন্যান্যরা এটি অনুভব করেছিলেন যে, আদম সন্তানদের মধ্যে কা’বার পূর্বেও কিছু স্থাপনা ছিল। তাই তারা বলেছেন: আদম (আ.) সর্বপ্রথম কা’বা নির্মাণ করেছিলেন এবং একে ‘দুরাহ’ (সোয়াদ বর্ণের পেশ দিয়ে) বলা হতো। মহাপ্লাবনের সময় একে আকাশে তুলে নেওয়া হয় এবং ফেরেশতারা তা তাওয়াফ করতে থাকেন ও সেখানে বসবাস করেন। পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আ.) সেই স্থানেই কা’বা পুনর্নির্মাণ করেন। এ বিষয়ে তাদের কিছু হাদিস ও কাহিনী রয়েছে। শায়খ ইবনে আতিয়্যাহ তাঁর তাফসির গ্রন্থে বলেছেন: ‘এ বিষয়ে কিছু দুর্বল (ضعيف) সনদের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে যা আমি উল্লেখ করা বর্জন করেছি।’ ফখর (আর-রাজি) বলেছেন: বাকিল্লানি এটি অস্বীকার করেছেন। আর এই কাহিনীর ওপর ভিত্তি করেই আল-মা’আররি তাঁর পঙক্তিটি রচনা করেছেন:
এবং ‘দুরাহ’ ও এর বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছেছে
… তোমার প্রশংসা, আর সে যিয়ারত করেছে যে সমাধিতে বাস করে।
আর সুদ্দী বলেছেন: কা’বা ছিল যমিনের বুকে প্রথম স্থাপনা, এবং তিনি এর পূর্বের স্থাপনাগুলোর দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি। তবে এই মতটি সঠিক নয়; কারণ ইব্রাহিম (আ.)-এর পূর্বে অনেক স্থাপনা ছিল, যার মধ্যে অন্যতম হলো মহাপ্লাবনের পরে নির্মিত ব্যাবিলনের সুউচ্চ প্রাসাদ। আরও ছিল ক্যালডীয়দের দেশে মূর্তিপূজার ঘর, যে ঘরে ইব্রাহিম (আ.) প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখানকার মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলেছিলেন, যেমনটি কুরআনে ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং সহিহ (صحيح) হাদিসে এর বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কা’বাই কি প্রথম ঘর ছিল?
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال: لا، قد كان قبله بيوت ولكنه كان {أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ (96) فِيهِ آَيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آَمِنًا} [آل عمران: 96، 97]، فجعل الأولية المقصودة هي المقيدة بالحالين {مُبَارَكًا وَهُدًى} وأنا أستبعد صحة هذه الرواية عنه؛ إذ هو عربي بليغ، وهذه الأحوال غير صالحة لتقييد الأولية؛ إذ ليست هي أحوالًا من المضاف إليه، بل هي أحوال من خبر إن، ولا يجوز جعلها أحوالًا من المضاف إليه؛ لأنه يقتضي الفصل بين الحال وصاحبه؛ وذلك يوجب اللبس بجعل {مُبَارَكًا} حالًا من {بَيْتٍ} تقييدًا للعامل وهو: {أَوَّلَ}، وفي رواية عنه: أنه أول بيت وضع لعبادة الله، وهذا أحسن، ومن المفسرين من يجعل {أَوَّلَ} هنا بمعنى الشرف، أي كقوله: {الْبَيْتِ الْعَتِيقِ} ومنهم من حمل {النَّاسَ} على خصوص العرب، وعن مجاهد ما يقتضي جعله أول بالنسبة إلى خصوص بيت المقدس.
وهذه الأقوال راجعة إلى التأويل إما بتأويل لفظ {أَوَّلَ} أو بتأويل معنى البيت، أو بتأويل معنى الوضع، أو بتأويل المراد بالناس، أو بتأويل نظم الآية ولا حاجة بنا إلى استيعابها استدلالًا وردًّا؛ إذ ليس ذلك من غرضنا.
والذي أراه وأجزم به في معنى الآية: أن القرآن كتاب شريعة وهدى، وليس من أغراضه تاريخ المباني ولا تاريخ أطوار مساكن البشر فلا يعبأ بذكر المباني غير الدينية ولا بذكر الهياكل الدينية الضالة، وأن الآية مسوقة كما بيناه آنفًا للاستدلال على وجوب اتباع ملة إبراهيم معنيَّا بها الإسلام ووجوب الحج؛ فتعين أن يكون المراد من الأول: الأول في نوع، وبالبيوت: بيوت العبادة الحقة والهدى إلى الحق؛ وذلك أن الله تعالى بعث الرسل قبل إبراهيم فدعوا إلى عبادة الله وتوحيده، وكانت الأمم في ضلالتهم إذا أشركوا بالله أقاموا لمعبوداتهم ولشُرَكَائِهم تماثيل وهياكل كما فعل قوم نوح وقوم إبراهيم الكلدانيون، وقامت الرسل تدعو إلى التوحيد بالقول؛ ولكن لم يؤمر أحد منهم بأن يقيم هيكلًا ينادي فيه لعبادة الله ولتوحيده، ويناغي بذلك تماثيل المشركين، ويردد ذلك على مسامع الناس، فلما بعث الله إبراهيم أمره بإقامة هيكل لعبادة الرب الحق الواحد ليدافع بذلك تظاهر المشركين، قال تعالى: {وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ (26) وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ} [الحج: 26، 27]؛ فكان بناء الكعبة رمزًا
তিনি বললেন: না, এর পূর্বেও বহু ঘর ছিল, তবে এটি ছিল {নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছে, তা তো বক্কায় অবস্থিত; এটি বরকতময় এবং বিশ্বজগতের জন্য দিশারি। এতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে, যেমন মাকামে ইবরাহিম। আর যে কেউ সেখানে প্রবেশ করে, সে নিরাপদ} [আলে ইমরান: ৯৬, ৯৭]। ফলে তিনি এখানে 'সর্বপ্রথম' হওয়ার বিষয়টিকে দুটি অবস্থার সাথে শর্তযুক্ত করেছেন: {বরকতময় ও দিশারি}। আমি তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাটির (رواية) বিশুদ্ধতাকে (صحة) সুদূরপরাহত মনে করি; কারণ তিনি ছিলেন একজন সাবলীলভাষী আরব, আর এই অবস্থাগুলো 'সর্বপ্রথম' হওয়াকে সীমাবদ্ধ করার জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ এগুলো মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধপদ) থেকে আগত হাল (অবস্থা) নয়, বরং 'ইন্না'-র খবরের হাল (অবস্থা)। আর সেগুলোকে মুদাফ ইলাইহি থেকে আগত হাল (অবস্থা) হিসেবে গণ্য করা বৈধ নয়; কারণ এতে হাল (অবস্থা) ও যার অবস্থা বর্ণনা করা হচ্ছে, তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে। এর ফলে {বরকতময়} শব্দটিকে {ঘর} শব্দের হাল (অবস্থা) হিসেবে গণ্য করলে আমেল বা ক্রিয়ক অর্থাৎ {সর্বপ্রথম} শব্দের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা তৈরি হয়। তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে যে: এটি আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্মিত সর্বপ্রথম ঘর। এই কথাটিই অধিকতর উত্তম। কোনো কোনো মুফাসসির এখানে {সর্বপ্রথম} বলতে মর্যাদাগত শ্রেষ্ঠত্ব বুঝিয়েছেন, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী {প্রাচীন ঘর}-এর ক্ষেত্রে হয়েছে। আবার কেউ কেউ {মানুষ} বলতে কেবল আরবদের বুঝিয়েছেন। মুজাহিদ থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা একে কেবল বায়তুল মুকাদ্দাসের তুলনায় প্রথম হওয়াকে নির্দেশ করে।
এই মতগুলো ব্যাখ্যার (তাবিল) দিকেই ধাবিত হয়; হয় {সর্বপ্রথম} শব্দের ব্যাখ্যা, অথবা ঘরের সংজ্ঞার ব্যাখ্যা, অথবা নির্মাণের সংজ্ঞার ব্যাখ্যা, অথবা মানুষ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে তার ব্যাখ্যা, অথবা আয়াতের বিন্যাসের ব্যাখ্যা। আমাদের এগুলো নিয়ে দলিল-প্রমাণ বা খণ্ডনসহ বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়োজন নেই; কারণ এটি আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়।
আয়াতের অর্থের ব্যাপারে আমি যা মনে করি এবং যে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত তা হলো: কুরআন হলো শরিয়ত ও হিদায়াতের কিতাব; দালানকোঠার ইতিহাস বা মানববসতির বিবর্তনের ইতিহাস বর্ণনা করা এর উদ্দেশ্য নয়। তাই এটি ধর্মীয় নয় এমন কোনো দালানকোঠা বা পথভ্রষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয়ের বিবরণের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না। আমি ইতিপূর্বে যেমনটি স্পষ্ট করেছি, এই আয়াতটি ইবরাহিমি মিল্লাত তথা ইসলাম অনুসরণ এবং হজ পালনের আবশ্যকতা প্রমাণের জন্য উপস্থাপিত হয়েছে। সুতরাং এটি সুনিশ্চিত যে, এখানে 'প্রথম' দ্বারা কোনো এক বিশেষ প্রকারের মধ্যে প্রথম হওয়া বোঝানো হয়েছে। আর 'ঘর' দ্বারা হকের ইবাদত ও হকের দিকে হিদায়াতের ঘরসমূহকে বোঝানো হয়েছে। বিষয়টি হলো, মহান আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-এর পূর্বেও রাসুল প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁরা আল্লাহর ইবাদত ও তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছিলেন। উম্মতগণ যখন পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়ে আল্লাহর সাথে শরিক করত, তখন তারা তাদের উপাস্য ও শরিকদের জন্য মূর্তি ও বেদী নির্মাণ করত, যেমনটি নূহ (আ.)-এর কওম এবং ইবরাহিম (আ.)-এর কওম ক্যালডীয়রা করেছিল। রাসুলগণ মৌখিকভাবে তাওহিদের দাওয়াত দিচ্ছিলেন; কিন্তু তাঁদের কাউকেই এমন কোনো স্থাপনা নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়নি যেখানে আল্লাহর ইবাদত ও তাওহিদের ঘোষণা দেওয়া হবে, যা মুশরিকদের মূর্তিপূজার বিপরীতে অবস্থান নেবে এবং মানুষের কানে তা বারবার পৌঁছে দেবে। অতঃপর যখন আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-কে প্রেরণ করলেন, তখন তাঁকে সত্য ও এক মাবুদের ইবাদতের জন্য একটি স্থাপনা নির্মাণের নির্দেশ দিলেন, যাতে মুশরিকদের প্রকাশ্য আচরণের মোকাবিলা করা যায়। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আমি ইবরাহিমের জন্য ঘরের স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম এই বলে যে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, সালাতে দণ্ডায়মান এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো। আর মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দাও} [হজ: ২৬, ২৭]। সুতরাং কাবা নির্মাণ ছিল একটি প্রতীক...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
للتوحيد؛ ولذلك قال: {أَنْ لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا}، ثم قال: {وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ}، أي: بالحج لله فاتخذ إبراهيم الكعبة ودعا الناس إلى الحج لعبادة الله الصادقة، فكان الحج مجمعًا لأهل التوحيد يجددون ذكراهم ويدعون إليه من عداهم، وإقام ولده فيها داعيًا بعده وجعل من ذريته سدنة لذلك، وأوصاهم بكلمة التوحيد وبثها، قال تعالى: {وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [البقرة: 132]، وقال: {وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [الزخرف: 28]، وبهذا المعنى يظهر وجه وصف البيت بأنه {وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ} كما سيأتي، فالكعبة أول بيت توحيد وضع للناس، أي: البشر؛ لأن واضع معابد الوحدانية هو إبراهيم عليه السلام والكعبة أول مسجد وضعه إبراهيم.
ففي صحيح مسلم عن أبي ذر رضي الله عنه قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم أي مسجد وضع أول؟ قال: «المسجد الحرام»، قلت: ثم أي؟ قال: «المسجد الأقصى»، قلت: كم كان بينهما؟ قال «أربعون سنة»، ولا شك أن مراد رسول الله بالمسجد الأقصى المسجد الذي بناه إبراهيم هنالك لا المسجد المعروف الذي بناه سليمان ابن داود، ويكون مسجد سليمان مبنيًّا على موضع مسجد إبراهيم، وهذا ما تقتضيه الفقرة السادسة من الإصحاح (12) من سفر التكوين: إن إبراهيم لما مرَّ بأرض كنعان بنى مذبحًا لله في بلوطة مورة في مكان شكيم ومذبحًا غربي بيت إيل، ويؤخذ من تاريخ ابن العربي والقديس أبروسيمرس: أن ذلك في الجبل الذي بنى عليه داود خيمته، وبنى عليه سليمان هيكله فيندفع الإشكال عن الحديث؛ إذ قد ثبت في التوراة أن إبراهيم بنى مذابح، أي مساجد في كثير من البلاد التي مرَّ عليها وحقيق من بينها بذلك البلد الذي أراه الله ووعده أن يعطيه ذريته بلاد العرب سابقًا على الوعد بإعطاء بني إسرائيل بلاد الشام فظهر معنى الحديث أتم الظهور.
وهذا الوجه فيه بقاء الأولية على ظاهرها وبقاء لفظ (الناس) على ظاهر عمومه، وإبقاء نظم القرآن على ظاهره دون صرف الأولية إلى أولية مقيدة بالحال أو بالنسبة إلى بيت المقدس، وليس فيه إلا تأويل البيت بأنه بيت العبادة الحق؛ وذلك تأويل قريب لشيوع إطلاق البيت على بيت العبادة؛ ولأن قرينة السياق تقرب هذا التأويل ويكون مناط التشريف والثناء هو الخبر بأن الكعبة أول بيت؛ إذ الخبر هو محط الفائدة ويكون
তাওহিদের জন্য; আর একারণেই তিনি বলেছেন: {আমার সাথে কোনো কিছু শরিক করো না}, এরপর বলেছেন: {এবং মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দাও}, অর্থাৎ: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজের। অতঃপর ইব্রাহিম কাবাকে (কেন্দ্র হিসেবে) গ্রহণ করলেন এবং মানুষকে আল্লাহর একনিষ্ঠ ইবাদত হিসেবে হজের দিকে আহ্বান জানালেন। ফলে হজ তাওহিদপন্থীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হলো, যেখানে তারা তাদের স্মৃতি সজীব করে এবং অন্যদের এর প্রতি আহ্বান জানায়। তিনি তার সন্তানকে সেখানে ইবাদতের আহ্বানকারী হিসেবে রেখে গেলেন এবং তার বংশধরদের এর রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করলেন। তিনি তাদের তাওহিদের বাণীর অসিয়ত করেন এবং তা প্রচার করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং ইব্রাহিম ও ইয়াকুব তাদের সন্তানদের এ বিষয়ে অসিয়ত করেছিলেন, হে আমার সন্তানগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য দ্বীনকে মনোনীত করেছেন, সুতরাং তোমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না} [বাকারা: ১৩২]। তিনি আরও বলেন: {এবং তিনি একে একটি স্থায়ী বাণীরূপে তার বংশধরদের মাঝে রেখে গেছেন যাতে তারা ফিরে আসে} [যুখরুফ: ২৮]। এই অর্থের মাধ্যমেই এই ঘরটিকে {বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াত} হিসেবে বর্ণনা করার মাহাত্ম্য প্রকাশ পায়, যেমনটি সামনে আলোচিত হবে। সুতরাং কাবা হলো তাওহিদের প্রথম ঘর যা মানুষের জন্য, অর্থাৎ মানবজাতির জন্য স্থাপন করা হয়েছে। কারণ একত্ববাদের উপাসনালয়সমূহ স্থাপনকারী হলেন ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এবং কাবা হলো ইব্রাহিম কর্তৃক স্থাপিত প্রথম মসজিদ।
সহিহ মুসলিম-এ আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি স্থাপন করা হয়েছে? তিনি বললেন: «মসজিদুল হারাম»। আমি বললাম: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: «মসজিদুল আকসা»। আমি বললাম: এ দুটির নির্মাণের মধ্যবর্তী সময় কত ছিল? তিনি বললেন: «চল্লিশ বছর»। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদুল আকসা বলতে সেই মসজিদকে বুঝিয়েছেন যেটি ইব্রাহিম সেখানে নির্মাণ করেছিলেন, সুলাইমান ইবনে দাউদ কর্তৃক নির্মিত সেই সুপরিচিত মসজিদটি নয়। বরং সুলাইমানের মসজিদটি ইব্রাহিমের মসজিদের জায়গার ওপরই নির্মিত হয়েছিল। জেনেসিস (আদিপুস্তক) এর ১২তম অধ্যায়ের ৬ষ্ঠ অনুচ্ছেদের বক্তব্যও এটিই সমর্থন করে: ইব্রাহিম যখন কেনান ভূমির ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি শিখেম নামক স্থানে মোরার ওক গাছের কাছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি যজ্ঞবেদি (মজবাহ) নির্মাণ করেছিলেন এবং বায়তুল ইলের পশ্চিমে একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করেছিলেন। ইবনুল আরাবি এবং সেন্ট আমব্রোসিয়াসের ইতিহাস থেকে জানা যায়: এটি সেই পাহাড়ের ওপর অবস্থিত যেখানে দাউদ (আ.) তার তাবু স্থাপন করেছিলেন এবং সুলাইমান তার মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। এর মাধ্যমে উক্ত হাদিসের অস্পষ্টতা দূর হয়ে যায়; কারণ তাওরাতে এটি প্রমাণিত যে, ইব্রাহিম অনেক দেশে যজ্ঞবেদি তথা মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন যেখান দিয়ে তিনি ভ্রমণ করেছিলেন। আর এগুলোর মধ্যে সেই ভূখণ্ডটিই এর সবচেয়ে বেশি দাবিদার যা আল্লাহ তাকে দেখিয়েছিলেন এবং তার বংশধরদের দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা বনী ইসরায়েলকে শাম দেশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পূর্বেই আরব ভূখণ্ড হিসেবে তার সন্তানদের দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে হাদিসের অর্থ পূর্ণরূপে পরিস্ফুটিত হয়।
এই দৃষ্টিভঙ্গিতে 'প্রথম' হওয়ার বিষয়টি তার প্রকাশ্য অর্থের ওপর বহাল থাকে এবং 'মানুষ' (নাস) শব্দটি তার সাধারণ ব্যাপকতার ওপর বহাল থাকে। একইভাবে কুরআনের বিন্যাসকেও তার প্রকাশ্য রূপেই রাখা হয়েছে, একে কোনো বিশেষ অবস্থা বা বায়তুল মুকাদ্দাসের সাপেক্ষে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। এখানে ঘর বলতে কেবল 'সত্য ইবাদতের ঘর' উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে; ইবাদতগাহ অর্থে 'ঘর' শব্দের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে এটি একটি নিকটবর্তী ব্যাখ্যা। যেহেতু প্রসঙ্গের ইঙ্গিত এই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে এবং কাবার প্রথম ঘর হওয়ার সংবাদটিই এখানে সম্মান ও প্রশংসার মূল কেন্দ্রবিন্দু; কারণ এই সংবাদটিই হলো মূল প্রতিপাদ্য বিষয় এবং এটিই হবে...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الحالان في قوله: {مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ} زيادة في تمجيده وتشريفه وليس هما غرض المخبر، إذ ليست الحال عمدة الكلام وكذلك ما بعدها من الصفات.
فكانت الكعبة بهذا أفضل المساجد، وإنما كانت أولية السبق مقتضية التفضيل؛ لأن هذا المسجد كان أصلًا للبقية، فكل فضل لغيره بعده يكون له منه حظ فلا يزال فضله يتزايد؛ ولأن مواضع العبادة لا تتفاضل من جهة وقوع العبادة فيها؛ إذ هي في ذلك سواء، وإنما تتفاضل بما يحف بها من طول الزمان في عمرانها بالأنوار الملكية وبإخلاص مؤسسيها في تأسيسها، وأي إخلاص أعظم من إخلاص تأسيس أصل معابد التوحيد التي كانت المعابد بعده تقليدًا له محاكاةً لغرضه؛ وإذ قد تبينت أن مساق الآية مساق الاستدلال على علة الأمر باتباع ملة إبراهيم، فكأنك قد استشرفت إلى بيان وجه هذا الدليل، وكيف تمام التقريب فيه؟ .
ووجهه أن الكعبة لما كانت أول هيكل أقيم لإعلان توحيد الله وهو مبدأ الحنيفية فقد ثبتت لهذا البيت أفضلية على كل مسجد تقام فيه دلائل التوحيد، وهذا الأثر أقامه إبراهيم عليه السلام كما دل عليه آخر الآية، وإبراهيم هو رسول الحنيفية الأول، فإذا استقرت فضيلة هذا الأثر على بقية الآثار الدينية الحقة ثبتت الفضيلة لا محالة للملة التي أقيم هذا الأثر دليلًا عليها ومناديًا بها على ممر الأحقاب لكونه دليلها وفيه ظهرت، فتكون أشرف الملل، وهذا الاستدلال جارٍ على طريق دلالة الالتزام فهو استدلال بطريقة الكفاية بشرف المحل على شرف الحال فيه؛ كقول زياد الأعجم (شاعر أموي):
إن السماحة والمروءة والندى
… في قبة ضربت على ابن الحشرج
وهذه الطريقة في صناعة البلاغة كإثبات الشيء بحجة ولها تأثير على المخاطبين فكانت الحنيفية بذلك أفضل الملل؛ لأنها أقامت للتوحيد أول معبد ومسجد، ولأنها جمعت للدعوة الحق بالقول الدعوة له بالمشاهدة؛ ولأن الملل التي تقدمتها كانت تنسى بوفاة رسلها وانقطاع أقوالهم، والحنفية بقي أثرها ناطقًا، فإذا كان أول مسجد بناه إبراهيم للتوحيد هو الكعبة تكون الملة التي نبعت منه وظهرت فيه أفضل الملل بحكم إعطاء شرف القرين لقرينه.
وقوله تعالى: {مُبَارَكًا} حال من اسم الموصول الصادق على البيت، أي:
{বরকতময় ও বিশ্বজগতের জন্য হেদায়েতস্বরূপ} - এই বাণীতে উল্লিখিত অবস্থা (হাল) দু’টি তাঁর মহিমা ও সম্মান বৃদ্ধির জন্য এসেছে, তবে তা সংবাদদাতার মূল উদ্দেশ্য নয়; কারণ অবস্থা (হাল) বাক্যের মূল স্তম্ভ নয় এবং এর পরবর্তী গুণাবলিও তদ্রূপ।
এভাবেই কাবা ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ মসজিদ। আর সূচনার অগ্রবর্তিতাই শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে; কারণ এই মসজিদটিই ছিল অবশিষ্টাংশের মূল ভিত্তি। ফলে এর পরবর্তী অন্য যা কিছুরই মর্যাদা থাকুক না কেন, তাতে এর একটি অংশ বিদ্যমান থাকে, যার ফলে এর মর্যাদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতেই থাকে। তাছাড়া ইবাদতের স্থানসমূহের মধ্যে কেবল ইবাদত সম্পন্ন হওয়ার দিক থেকে কোনো তারতম্য হয় না; কেননা এক্ষেত্রে সব স্থানই সমান। বরং সেগুলোর মর্যাদা নির্ভর করে সেগুলোকে ঘিরে থাকা দীর্ঘ সময়ব্যাপী ফেরেশতাকুলোচিত নূরের আবাদ এবং এর প্রতিষ্ঠাতাদের ইখলাস বা নিষ্ঠার ওপর। আর তাওহিদের আদি ইবাদতগৃহের মূল ভিত্তি স্থাপনের নিষ্ঠার চেয়ে মহান আর কী হতে পারে? যার পরবর্তী ইবাদতগৃহগুলো ছিল কেবল এর অনুসরণ ও এর উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার অনুকরণ মাত্র। যেহেতু আপনি স্পষ্ট হয়েছেন যে, আয়াতের এই ধারাটি ইব্রাহিমি মিল্লাত অনুসরণের নির্দেশের কারণ সম্পর্কে যুক্তি প্রদর্শনের (استدلال) উদ্দেশ্যে এসেছে, তাই আপনি যেন এই দলিলের স্বরূপ এবং এর পূর্ণাঙ্গ বিন্যাস জানার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
এর স্বরূপ হলো, কাবা যখন আল্লাহর তাওহিদ বা একত্ববাদ ঘোষণার জন্য নির্মিত প্রথম স্থাপনা এবং যা ছিল হানীফিয়াতের সূচনা, তখন এই গৃহের শ্রেষ্ঠত্ব সেই সকল মসজিদের ওপর সাব্যস্ত হয় যেখানে তাওহিদের নিদর্শনাবলি প্রতিষ্ঠিত। আর এই স্মৃতিচিহ্ন বা নিদর্শনটি (أثر) ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) নির্মাণ করেছিলেন, যা আয়াতের শেষাংশ নির্দেশ করে। ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) হলেন হানীফিয়াতের প্রথম রাসুল। সুতরাং যখন এই নিদর্শনের (أثر) শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য সকল সত্য ধর্মীয় নিদর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন অনিবার্যভাবেই সেই মিল্লাত বা আদর্শের শ্রেষ্ঠত্বও সাব্যস্ত হয় যার প্রমাণ হিসেবে এবং যার আহবায়ক হিসেবে এই নিদর্শনটি (أثر) যুগ যুগ ধরে বিদ্যমান রয়েছে; কারণ এটি সেই আদর্শের দলিল এবং এখানেই তা প্রকাশিত হয়েছে। ফলে এটি হবে শ্রেষ্ঠতম মিল্লাত। আর এই যুক্তি প্রদর্শনের পদ্ধতিটি আবশ্যিক নির্দেশনা (دلالة الالتزام) পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। এটি হলো আধার বা স্থানের শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর পর্যাপ্ত প্রমাণের একটি পদ্ধতি; যেমনটি উমাইয়া কবি জিয়াদ আল-আজম বলেছিলেন:
নিশ্চয়ই মহানুভবতা, পৌরুষ ও বদান্যতা
… সেই গম্বুজের নিচে রয়েছে যা ইবনে হাশরাজ-এর ওপর নির্মিত হয়েছে।
অলঙ্কারশাস্ত্রের এই পদ্ধতিটি হলো কোনো বিষয়কে প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত করা এবং যা শ্রোতাদের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে। এ কারণেই হানীফিয়াত ছিল শ্রেষ্ঠতম মিল্লাত; কারণ এটি তাওহিদের জন্য প্রথম ইবাদতগৃহ ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এটি সত্যের দাওয়াতের ক্ষেত্রে বাচনিক আহবানের সাথে চাক্ষুষ বা দৃশ্যমান দাওয়াতের সমন্বয় ঘটিয়েছে। আর পূর্ববর্তী মিল্লাতগুলো তাদের রাসুলদের ইন্তেকাল ও তাদের বাণীর ধারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে বিস্মৃত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু হানীফিয়াতের নিদর্শনটি (أثر) আজ অবধি উচ্চকিত রয়েছে। সুতরাং তাওহিদের জন্য ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক নির্মিত প্রথম মসজিদ যদি কাবা হয়ে থাকে, তবে যে মিল্লাত বা আদর্শ তা থেকে উৎসারিত হয়েছে এবং সেখানে প্রকাশিত হয়েছে, তা সঙ্গীর শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে তার অনুষঙ্গীকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের নিয়ম অনুযায়ী শ্রেষ্ঠ মিল্লাত হিসেবে গণ্য হবে।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {বরকতময়} শব্দটি হলো সেই ইসমুল মাউসুল (অব্যয় পদ) থেকে প্রাপ্ত অবস্থা (হাল), যা এই পবিত্র গৃহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ:
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مجعولًا ذا بركة، والبركة كثرة الخير ونماؤه من جانب الله تعالى دون سبب عادي، ووصف البيت بذلك باعتبار ذاته؛ إذ كان قد باشر بناءه رسول الله إبراهيم وابنه إسماعيل رسول الله، فلامست أيديهما حجارته وطينه، ثم أعان فيه محمد صلى الله عليه وسلم حين بنتْه قريش، ثم ان هو الواضع للحجر الأسود منه بيده لما اختلف بطون قريش في الذي يتولى وضعه في موضعه، فقد توالى على بنائه ثلاثة رسل وذلك لم يكن لبناء غيره، وذلك الحجر الأسود الذي وضعته أيدي ثلاثة رسل هو لم يزل قائمًا ماثلًا للناس.
وقوله: {وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ} حال ثانية من الموصول، ويجيّ الحال مصدرًا كالوصف بالمصدر، وكالإخبار بالمصدر لقصد المبالغة، أي: هاديًا للعالمين فجعل كأنه نفس الهدى، ووصف البيت بذلك؛ لأن وضعه كان للدلالة على توحيد الله كما علمت، فكل من يراه يسأل عنه وعن سبب وضعه وعن واضعه فيخبر بذلك فينظر فيهتدي إلى التوحيد؛ ولأن سدنته وحفظته وهم ذرية واضعه قد وكلن إليهم الدعوة إلى ذلك الهدى الذي أراده جدهم، وفي هذا تعريض بالمشركين؛ إذ جعلوا مصدر الهدى إشراكًا، ولذلك لما أزال النبي صلى الله عليه وسلم الأصنام من الكعبة يوم الفتح قرأ: {جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ} ولم يأمر بذلك في إزالة الأصنام الأخرى؛ لأن وضع الأصنام في هيكل التوحيد من أعظم الباطل والاعتداء زيادة على كون مجرد اتخاذ الأصنام هو من الباطل.
وقوله تعالى: {فِيهِ آَيَاتٌ بَيِّنَاتٌ} يجوز أن يكون استئناف كلام، ويجوز أن يكون حالًا ثالثة، وكيفما كان فهو من تفصيل التفضيل، والآيات: جمع آية وهي العلامة المصدقة للدعوى، فالمراد هنا آيات على كونه مباركًا وهدى سواء اشترك في الاهتداء بها سائر الناس أم اختص بها البعض على تفاوتهم في الاختصاص بها بحسب ما يفتح الله لهم من أبواب الإرشاد الإلهي والفتح النوراني.
وقد اقتضى الكلام أن الآيات كائنة في البيت، فإن كانت الظرفية المستفادة من (في) ظرفية حقيقة، فالمراد من الآيات آيات ظاهرة كائنة في المسجد الحرام، وهل عدة، منها: الحجر الأسود، فالمتواتر أنه نزل من السماء رآه إبراهيم حين نزل على جبل أبي قبيس فأخذه وجعله في ركن الكعبة زيادة في تشريفها؛ إذ كان من حجارة جدرانها حجارة نزلت من السماء، ومعنى ذلك: أن يكون الحجر الأسود من الحجارة التي ترمي بها النجوم فتصادف ظهر الأرض تارات، وتكون هذه خصوصية
এটি বরকতময় হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে; আর বরকত হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোনো সাধারণ কারণ ছাড়াই কল্যাণ ও প্রবৃদ্ধি লাভ করা। ঘরটিকে এই গুণে ভূষিত করা হয়েছে এর সত্তাগত বিচারে; যেহেতু আল্লাহর রাসুল ইবরাহিম ও তাঁর পুত্র আল্লাহর রাসুল ইসমাইল সরাসরি এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছিলেন, ফলে তাঁদের হাত এর পাথর ও মাটির সংস্পর্শ পেয়েছে। অতঃপর কুরাইশরা যখন এটি নির্মাণ করছিল, তখন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এতে সহায়তা করেছিলেন। এরপর তিনিই নিজ হাতে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করেছিলেন, যখন কুরাইশ গোত্রগুলোর মধ্যে এটি নিজ স্থানে স্থাপনের দায়িত্ব নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। সুতরাং পর্যায়ক্রমে তিনজন রাসুল এর নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেছেন, যা অন্য কোনো স্থাপনার ক্ষেত্রে ঘটেনি। আর সেই হাজরে আসওয়াদ যা তিনজন রাসুলের হাত স্পর্শ করেছে, তা আজও মানুষের সামনে বিদ্যমান রয়েছে।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {সারা জাহানের জন্য হিদায়াত}—এটি পূর্ববর্তী পদ থেকে দ্বিতীয় অবস্থা (হাল)। অনেক সময় অতিশয়োক্তি বা গুরুত্ব বুঝানোর জন্য সিফাত বা খবরের পরিবর্তে মাসদারকে 'হাল' হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, এটি বিশ্ববাসীর জন্য পথপ্রদর্শক, তাই একে সরাসরি হিদায়াত হিসেবেই অভিহিত করা হয়েছে। ঘরটিকে এই বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে কারণ এর স্থাপন ছিল আল্লাহর তাওহিদের নিদর্শন স্বরূপ, যেমনটি আপনি জানেন। সুতরাং যে ব্যক্তিই এটি দেখে, সে এটি সম্পর্কে, এর স্থাপনের কারণ সম্পর্কে এবং এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে প্রশ্ন করে। তখন তাকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়, ফলে সে তা নিয়ে চিন্তা করে তাওহিদের দিকে পথ খুঁজে পায়। তদুপরি এর খাদেম ও রক্ষক যারা এর প্রতিষ্ঠাতার বংশধর, তাদের ওপর সেই হিদায়াতের দাওয়াতের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে যা তাদের পূর্বপুরুষ চেয়েছিলেন। এর মধ্যে মুশরিকদের প্রতি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত রয়েছে; কেননা তারা হিদায়াতের উৎসকে শিরকে পরিণত করেছিল। এই কারণেই মক্কা বিজয়ের দিনে যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাবার ভেতর থেকে মূর্তিগুলো অপসারণ করেছিলেন, তখন তিলাওয়াত করেছিলেন: {সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে}। অন্য কোনো স্থান থেকে মূর্তি অপসারণের সময় তিনি এই নির্দেশ দেননি; কারণ তাওহিদের মূল কেন্দ্রে মূর্তিস্থাপন করা ছিল চরম মিথ্যাচার ও সীমা লঙ্ঘন, যা নিছক মূর্তি পূজার মিথ্যার চেয়েও গুরুতর।
আর আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাতে রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ}—এটি একটি নতুন বাক্য হিসেবে শুরু হতে পারে অথবা এটি তৃতীয় 'হাল' হতে পারে। যেভাবেই হোক না কেন, এটি এর শ্রেষ্ঠত্বের বিস্তারিত বর্ণনা। এখানে 'আয়াত' হলো নিদর্শন (আয়াহ) শব্দের বহুবচন, যা দাবির সত্যতা প্রমাণকারী চিহ্ন। সুতরাং এখানে এর অর্থ হলো এমন সব নিদর্শন যা এর বরকতময় ও হিদায়াত হওয়ার প্রমাণ বহন করে; চাই এর মাধ্যমে হিদায়াত লাভে সকল মানুষ শরিক হোক অথবা আল্লাহর পক্ষ থেকে ইলাহি পথপ্রদর্শন ও নূরানি ফয়সালার দ্বার উন্মুক্ত হওয়ার তফাত অনুযায়ী কেউ কেউ বিশেষভাবে এর অন্তর্ভুক্ত হোক।
কথার প্রাসঙ্গিকতা দাবি করে যে, এই নিদর্শনসমূহ কাবা ঘরের মধ্যেই বিদ্যমান। যদি 'ফি' (মধ্যে) অব্যয় থেকে প্রাপ্ত অর্থটি আক্ষরিক হয়, তবে নিদর্শন বলতে মাসজিদুল হারামে অবস্থিত প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহকে বুঝানো হয়েছে। আর সেগুলো সংখ্যায় একাধিক, যার মধ্যে অন্যতম হলো: হাজরে আসওয়াদ। এটি অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (متواتر) যে, এটি জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। জাবালে আবু কুবাইসে এটি অবতীর্ণ হওয়ার পর ইবরাহিম তা দেখেছিলেন, অতঃপর কাবার মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি তা কাবার এক কোণে স্থাপন করেছিলেন; যেন এর দেয়ালের পাথরের মধ্যে আসমান থেকে অবতীর্ণ পাথরও শামিল থাকে। এর অর্থ হলো: হাজরে আসওয়াদ সেসব পাথরের অন্তর্ভুক্ত যা নক্ষত্র থেকে নিক্ষিপ্ত হয় এবং মাঝে মাঝে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়, আর এটি এর একটি বিশেষত্ব।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
له لثبوت نزوله برؤية الرسول إبراهيم إياه حين نزوله ولتواتر ذلك عن خبره في العرب، والآية الثانية أثر أقدام إبراهيم في الحجر الذي كان يقف عليه وذلك متواتر عند الناس إلى اليوم، ومن المأثور عند العرب قول أبي طالب من قصيدته:
وموطئ إبراهيم في الصخر قائمًا
… على قدميه حافيًا غير ناعل
ومنها: بئر زمزم الذي تواتر عند العرب أن الله فجره لهاجر لما ظمئت وظمئ ولدها إسماعيل، ومنها: أن البيت هو الأثر الوحيد المقطوع بأن إبراهيم أقامه هنالك؛ لأنه لما أقامه أقام له أهله شهداء عليه وتناقلته الأجيال بالتواتر، وهذا لا يوجد في أثر آخر من آثار إبراهيم عليه السلام بل كلها قد اندثرت وما تعين موضع بيت المقدس إلا بوحي وخبر.
وإن كانت الظرفية مجازية، فالمعنى أنه يشتمل على دلائل الوحدانية والرسالة بالدلائل المحسوسة التي ذكرناها وبما علمناه مما حدث فيه من المعجزات لإبراهيم وإسماعيل عليه السلام، ومعجزات محمد صلى الله عليه وسلم مثل: شق صدره، والإسراء به، ونزول الوحي عليه، وعصمة الله تعالى إياه من أعدائه، كل ذلك كائن فيه وحواليه، وبما لم نعلمه من المعجزات والأسرار الواقعة فيه بين الله ورسله مما لا يعلمه إلا الله؛ ومن أطلعه من خاصة عباده.
ومن آياته ما جعل له من الحرمة في نفوس الخلق من العرب وغيرهم من سائر الملل فقد حجته الجبابرة من الملوك والأكاسرة وكسته التبابعة وقدسته سائر العرب واحترموا قريشًا؛ لأنهم سدنته وذرية مؤسسه، وقد قال أبو طالب في خطبته: «وجعلنا حضنة بيته وسواس حرمه، وجعلنا الحكام على الناس»، ومنها ما يسر الله لسكانه من الأرزاق بسببه وذلك بمجيء الناس للحج من كل فج عميق، قال الله تعالى: {جَعَلَ اللَّهُ الْكَعْبَةَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ قِيَامًا لِلنَّاسِ وَالشَّهْرَ الْحَرَامَ وَالْهَدْيَ وَالْقَلَائِدَ ذَلِكَ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [المائدة: 97]، وإن من أكبر الآيات فيه للمتهدي أنه مصدر التوحيد والحنيفية، ثم انشقت منه جداول الشرائع. والهدي اشتقاق الجداول من النهر، ثم اجتمعت وأوت إليه في شريعة الإسلام، فعاد النهر إلى مجراه وفي ذلك رمز إلهي إلى أن الدين عند الله هو الإسلام وأنه ابتدأ على يد إبراهيم في مكة كالحبة المزروعة إلى أن آن أوان جناه، فظهر من حيث بدئ ليدل على أن الزرع قد نضج وأن الغرس قد أثمر.
এর অবতরণের বিষয়টি সুসাব্যস্ত হয়েছে, কারণ রাসুল ইব্রাহিম (আ.) এটি অবতরণের সময় তা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং আরবদের মাঝে এই সংবাদটি নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার (متواتر) মাধ্যমে সুপ্রসিদ্ধ। দ্বিতীয় নিদর্শনটি হলো সেই পাথরে ইব্রাহিম (আ.)-এর পদচিহ্ন যার ওপর তিনি দাঁড়িয়েছিলেন এবং এটি মানুষের কাছে আজ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে (متواتر) স্বীকৃত। আরবদের মাঝে প্রচলিত আবু তালিবের কাসিদার একটি পঙক্তি হলো:
আর পাথরের ওপর ইব্রাহিমের পদচিহ্ন বিদ্যমান
… খালি পায়ে জুতোহীন অবস্থায় দণ্ডায়মান।
তার মধ্যে রয়েছে: জমজম কূপ, যার ব্যাপারে আরবদের নিকট নিরবচ্ছিন্নভাবে (متواتر) বর্ণিত রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা এটি হাজেরা (আ.)-এর জন্য প্রবাহিত করেছিলেন যখন তিনি এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.) তৃষ্ণার্ত ছিলেন। আরও একটি বিষয় হলো: এই গৃহটিই একমাত্র সুনিশ্চিত নিদর্শন (أثر) যা ইব্রাহিম (আ.) সেখানে নির্মাণ করেছিলেন। কারণ তিনি যখন এটি নির্মাণ করেন, তখন তিনি তাঁর পরিবারকে এর সাক্ষী হিসেবে রেখেছিলেন এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলোর নিকট এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে (بالتواتر) হস্তান্তরিত হয়ে আসছে। ইব্রাহিম (আ.)-এর অন্যান্য নিদর্শনের (آثار) ক্ষেত্রে এমনটি পাওয়া যায় না, বরং সেগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বায়তুল মাকদিসের স্থানটিও ওহি এবং সংবাদের (خبر) মাধ্যমেই কেবল নির্ধারিত হয়েছে।
আর যদি এর ব্যাপ্তি রূপক অর্থে হয়, তবে এর অর্থ দাঁড়াবে যে, এটি আমাদের উল্লিখিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণাদি এবং সেখানে সংঘটিত ইব্রাহিম ও ইসমাইল (আ.)-এর মুজিজা ও অলৌকিক ঘটনাবলির মাধ্যমে তাওহিদ ও রিসালাতের প্রমাণসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়া মুহাম্মাদ (সা.)-এর মুজিজাসমূহ যেমন: বক্ষ বিদারণ, ইসরা (নৈশভ্রমণ), ওহি অবতীর্ণ হওয়া এবং আল্লাহ তাআলা কর্তৃক শত্রুদের হাত থেকে তাঁকে রক্ষা করা—এই সবকিছুই এর ভেতরে এবং চারপাশে বিদ্যমান। এছাড়াও এমন সব মুজিজা ও রহস্য রয়েছে যা সেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে এবং যা আল্লাহ ও তাঁর মনোনীত বিশেষ বান্দাগণ ছাড়া কেউ জানে না।
তাঁর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো আরবে এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকট এর জন্য যে সম্মান ও মর্যাদা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছে। প্রবল প্রতাপশালী রাজা ও পারস্য সম্রাটগণ এখানে হজ্জ করেছেন, তুব্বা (ইয়েমেনের রাজা) বংশীয়রা একে গিলাফ পরিয়েছেন এবং আরবের সকল গোত্র একে পবিত্র জ্ঞান করেছে। তারা কুরাইশদের সম্মান করত কারণ তারা ছিল এর রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং এর প্রতিষ্ঠাতার বংশধর। আবু তালিব তাঁর ভাষণে বলেছিলেন: «তিনি আমাদের তাঁর গৃহের অভিভাবক ও তাঁর হারামের তত্ত্বাবধায়ক করেছেন এবং আমাদের মানুষের ওপর শাসক হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।» এর অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হলো আল্লাহ তাআলা এর বাসিন্দাদের জন্য এর মাধ্যমে যে রিযিকের সহজলভ্যতা করে দিয়েছেন, যা দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের হজ্জে আসার কারণে হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ কা'বাকে—যা অত্যন্ত সম্মানিত গৃহ—মানুষের কল্যাণের ধারক ও স্থিতিশীলতার মাধ্যম করেছেন এবং পবিত্র মাস, কুরবানির পশু ও গলায় পরানো চিহ্নবিশিষ্ট পশুকেও। এটি এজন্য যে, তোমরা যেন জানতে পারো যা কিছু আসমানে আছে এবং যা কিছু যমীনে আছে আল্লাহ তা জানেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।} [আল-মায়িদাহ: ৯৭]। হেদায়েতপ্রাপ্তদের জন্য এর সবচেয়ে বড় নিদর্শন হলো এটি তাওহিদ ও হানিফিয়্যাতের (একনিষ্ঠতা) উৎস, যেখান থেকে শরিয়তের ঝর্ণাধারাগুলো প্রবাহিত হয়েছে। মূল নদী থেকে নালা বের হওয়া যেমন 'হাদি', ঠিক তেমনি সেগুলো ইসলামের শরিয়তে পুনরায় একত্রিত হয়ে প্রত্যাবর্তন করেছে। ফলে নদীটি তার মূল ধারায় ফিরে এসেছে। এর মধ্যে একটি খোদায়ী ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহর নিকট মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম। মক্কায় ইব্রাহিম (আ.)-এর মাধ্যমে একটি রোপিত বীজের মতো এর সূচনা হয়েছিল, যা ফসল সংগ্রহের সময় আসা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অতঃপর এটি যেখান থেকে শুরু হয়েছিল সেখানেই প্রকাশ পেয়েছে, যা প্রমাণ করে যে শস্য পরিপক্ব হয়েছে এবং বৃক্ষ ফলবতী হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وقوله تعالى: {مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ} المقام اسم على وزن المفعل مشتق من القيام مراد به مكان القيام، والقيام يطلق أيضًا على الوقوف للدعاء والعبادة كالصلاة، فمقام إبراهيم يصح أن يكون المراد منه مسجد إبراهيم مصلى ومحل وقوفه بين يدي ربه، كما قال زيد بن عمرو بن نفيل:
عذت بما عاذ به إبراهيم
… مستقبل الكعبة وهو قائم
وعليه فمقام إبراهيم هو البيت فيكون قوله: {مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ} مرفوعًا على الاستئناف كالنعت المقطوع، أي: هو مسجد إبراهيم، والغرض من الإضافة لهذا الاسم التنويه بالمضاف لزيادة تشريف المضاف، ويصح أن يكون المقام مشتقَّا من مطلق القيام، أي: محل قيام إبراهيم لبناء الكعبة، كقول أبي طالب المتقدم.
وموطئ إبراهيم في الصخر قائمًا
… ... (البيت).
فيكون المراد بالمقام الحجر الذي فيه أثر قدمي إبراهيم عليه السلام وهو مما أطلق عليه المقام من عهد الجاهلية وفي الإسلام، وقد قيل إنه المراد في قوله تعالى: {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى} [البقرة: 125]، وقال الفرزدق:
…ألم ترني عاهدت ربي وإنني
… لبين رتاج قائمًا ومقام
فيكون رفعه على أنه بدل من «آيات» بدل مفصل من مجمل غير أن المبدل منه جمع والبدل مفرد فلم يذكر بقية المفصل اكتفاء بالمهم من الآيات، وعلى هذا المعنى فسر الزجاج وتبعه الزمخشري، وزاد فجعل مقام إبراهيم بمنزلة آيات كثيرة لقوة دلالته أو لأنه يشتمل على آيات؛ لأن بقاء أثر القدم في الصخرة الصمَّاء آية، وغوصه فيها إلى الكعبين آية، ولأنه بعض الصخرة دون بعض آية ا. هـ.
وقوله تعالى: {وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آَمِنًا} [آل عمران: 97]، لفظه لفظ الخبر، والظاهر أن معناه كذلك فيكون من جملة صفات البيت، ويكون هذا من دلائل عناية الله بما سخر الأمم وألهمهم لاحترامه وتأمين داخله؛ فقد كان العرب مع شدة حقهم على أعدائهم يلقى الرجل في المسجد الحرام قاتل ابنه أو أبيه فلا يتعرض له، ويكون هذا المعنى آية ثانية؛ فيكون البدل من الجمع قد وقع باثنين وسكت عن الثالث، ونظيره في الكشاف بقول جرير:
كانت حنيفة أثلاثًا فثلثهم
… من العبيد وثلثٌ من مواليها
وقوله تعالى: {مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ} المقام اسم على وزن المفعل مشتق من القيام مراد به مكان القيام، والقيام يطلق أيضًا على الوقوف للدعاء والعبادة كالصلاة، فمقام إبراهيم يصح أن يكون المراد منه مسجد إبراهيم مصلى ومحل وقوفه بين يدي ربه، كما قال زيد بن عمرو بن نفيل:
আমি সেই সত্তার আশ্রয় প্রার্থনা করছি যাঁর আশ্রয় ইবরাহিম গ্রহণ করেছিলেন
… কাবার অভিমুখী হয়ে দণ্ডায়মান অবস্থায়।
আর সেই অনুযায়ী মাকামে ইবরাহিম হলো সেই ঘর (বাইতুল্লাহ), ফলে মহান আল্লাহর বাণী: {مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ} শব্দটি 'ইস্তিনাফ' (নতুন বাক্য শুরু) হিসেবে পেশযুক্ত (مرفوع) হয়েছে, যেমনটি 'নাত মাকতু' (বিচ্ছিন্ন গুণ) এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। অর্থাৎ: এটি ইবরাহিমের মসজিদ। আর এই নামের সাথে সম্বন্ধ (ইদাফাত) করার উদ্দেশ্য হলো সম্বন্ধযুক্ত শব্দটির মাহাত্ম্য বর্ণনা করা এবং এর মর্যাদা বৃদ্ধি করা। এটিও সঠিক হতে পারে যে, মাকাম শব্দটি সাধারণ দণ্ডায়মান হওয়া থেকে উদ্ভূত, অর্থাৎ: কাবা নির্মাণের সময় ইবরাহিমের দাঁড়ানোর স্থান, যেমনটি আবু তালিবের পূর্বে বর্ণিত উক্তিটিতে রয়েছে।
এবং পাথরের ওপর ইবরাহিমের পদচিহ্ন যখন তিনি দণ্ডায়মান ছিলেন
… ... (কবিতাটি পূর্ণ)।
সেক্ষেত্রে মাকাম দ্বারা সেই পাথরটি উদ্দেশ্য যাতে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর পদচিহ্ন রয়েছে। জাহিলিয়াত (جاهلية) ও ইসলাম (إسلام) উভয় যুগেই একে মাকাম হিসেবে অভিহিত করা হতো। আর বলা হয়ে থাকে যে, মহান আল্লাহর এই বাণীতে এটিই উদ্দেশ্য: {তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো} [আল-বাকারা: ১২৫]। ফারাজদাক বলেছেন:
…তুমি কি দেখনি যে আমি আমার রবের সাথে অঙ্গীকার করেছি, আর আমি
… কাবার দরজা ও মাকামের মাঝখানে দণ্ডায়মান ছিলাম।
সুতরাং এর পেশযুক্ত হওয়া এই ভিত্তিতে যে, এটি ‘আয়াত’ (নিদর্শনসমূহ) শব্দ থেকে একটি ‘বদল’ (بدل) বা স্থলাভিষিক্ত, যা সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা স্বরূপ। তবে এখানে ‘মুবদাল মিনহু’ (যার থেকে বদল হয়েছে) শব্দটি বহুবচন কিন্তু ‘বদল’ শব্দটি একবচন; তাই নিদর্শনসমূহের (آيات) মধ্যে গুরুত্বপূর্ণটির ওপর নির্ভর করে বিস্তারিত বর্ণনার বাকি অংশগুলো উল্লেখ করা হয়নি। এই অর্থেই যাজ্জাজ ব্যাখ্যা করেছেন এবং যামাখশারি তাঁর অনুসরণ করেছেন। তিনি আরও বর্ধিত করে বলেছেন যে, মাকামে ইবরাহিমের প্রমাণের প্রবলতার কারণে অথবা এটি অনেক নিদর্শনকে অন্তর্ভুক্ত করার কারণে একে বহু নিদর্শনের (آيات كثيرة) স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। কারণ নিরেট পাথরে পদচিহ্ন স্থায়ী হওয়া একটি নিদর্শন (آية), টাখনু পর্যন্ত তাতে দেবে যাওয়া একটি নিদর্শন (آية), এবং এটি পাথরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে হওয়া আর বাকি অংশে না হওয়াও একটি নিদর্শন (آية)। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ (آمنًا) থাকবে} [আল-ইমরান: ৯৭], এর শব্দরূপটি সংবাদের (خبر) মতো, এবং বাহ্যত এর অর্থও তাই; ফলে এটি কাবাঘরের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে। এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের নিদর্শনসমূহের একটি, যার মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন জাতিকে অনুগত করেছেন এবং এই ঘরের সম্মান ও এতে প্রবেশকারীর নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়ে তাদের অন্তরে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। কেননা আরবরা তাদের শত্রুদের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করা সত্ত্বেও, কোনো ব্যক্তি মসজিদুল হারামে তার পিতা বা পুত্রের হত্যাকারীকে পেলেও তাকে আক্রমণ করত না। এই অর্থটি হবে দ্বিতীয় একটি নিদর্শন (آية); ফলে বহুবচন থেকে হওয়া ‘বদল’ বা স্থলাভিষিক্তকরণটি দুটি বিষয় দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে এবং তৃতীয়টি সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে। আল-কাশশাফ গ্রন্থে জারিরের কবিতার মাধ্যমে এর অনুরূপ উদাহরণ দেওয়া হয়েছে:
বনু হানিফা ছিল তিন ভাগে বিভক্ত; তাদের এক তৃতীয়াংশ ছিল
… দাস এবং অন্য এক তৃতীয়াংশ ছিল তাদের আযাদকৃত গোলাম।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ولم يذكر الثلث الثالث، ثم يبقى على هذا الوجه أن بقية الآيات ترك ذكرها اكتفاءً بهاتين الآيتين العظيمتين أو بما يتضمنه قوله: {وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آَمِنًا} [آل عمران: 97]، من آيات كثيرة منها تيسير الأرزاق ولذلك جمع إبراهيم في دعوته للبلد الحرام ملاك الخيرات؛ إذ قال فيما حكى الله عنه: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آَمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ} [البقرة: 126]، ويجوز أن تكون الآية الثالثة هي مضمون قوله: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ} [آل عمران: 97]، الخ، لما يقتضيه الحج من الخيرات لأهل مكة.
وقيل: إن معنى هذا الخبر الأمر أي أمَّنُوا من دخله؛ كقوله صلى الله عليه وسلم يوم الفتح «من دخل دار أبى سفيان فهو آمن»، أي فأمَّنوه وهو لا يفيد المقصود من التشريف؛ ولكنه يدل على تشريف مقرر قديم والحمل على الأول أولى، ولا يرد عليه أنه قد انتهكت حرمة أمنه في بعض الأزمنة مثل ما فعله القرامطة؛ لأن الآية هي أمنة فيما مضى، يسَّره الله لهم ليكون ملجأ قائمًا مقام العدل، ثم أتى الله بعد ذلك بالإسلام، ولأن القضايا النادرة لا تقدح في الشرف الأثيل، على أن أمن من دخل البيت لا يقتضي أمن كل من كان بالمسجد الحرام أو ببلد مكة.
واعلم أن مغزى هذه الآية مع سابقتها هو التنويه بملة الإسلام وبيان أنها هي الحنيفية التي فضلها الله تعالى والتي بعث إبراهيم بأصولها، أو أنها دعوة إبراهيم فيما حكى الله عنه من قوله: {رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ} [البقرة: 129]، فكانت ملة الإسلام هي كمال الحنيفية وتفصيلها، وقد نصب الله على ذلك آية خفية تظهر للمهتدي وهي أن إبراهيم أظهر الحنيفية في مكة وأقام لذلك علمًا وهو المسجد الحرام، وأقام ابنه إسماعيل داعيًا لها هنالك، ثم لم يبعث الله رسولًا بعد إبراهيم وابنه في ذلك البلد فتطوحت الشرائع في بلاد الله حتى جاء الدين الذي أراده الله لإظهار الشريعة الجامعة، وفي بقاء هذا الأثر المبارك من آثار إبراهيم واندثار غيره معجزة خفية وإشارة إلهية إلى أن جميع الشرائع التي تفرعت عن ملة إبراهيم من شريعة موسى وغيره شرائع زائلة، وأن الشريعة الخالدة هي الشريعة التي تظهر مرة أخرى من جانب هذا الأثر، فبعث الله من مكة رسولًا يلم بدعوته أشتات الأمم، ويزجي بهم إلى الانضواء تحت ذلك العلم، وبذلك حق مراد الله تعالى وتم.
এবং তিনি তৃতীয় কোনো অংশের কথা উল্লেখ করেননি। অতঃপর বিষয়টি এভাবে অবশিষ্ট থাকে যে, অবশিষ্ট আয়াতগুলোর উল্লেখ বর্জন করা হয়েছে এই মহান দুটি আয়াতের ওপর নির্ভর করে অথবা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে: {এবং যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ হবে} [আল ইমরান: ৯৭]। এখানে বহু নিদর্শন রয়েছে যার একটি হলো রিযিকের সহজলভ্যতা; এজন্যই ইবরাহিম (আ.) পবিত্র নগরীর জন্য তাঁর দোয়ায় যাবতীয় কল্যাণের মূল বিষয়গুলো একত্রিত করেছিলেন, যখন তিনি বলেছিলেন যা আল্লাহ তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন: {এবং যখন ইবরাহিম বলল: হে আমার প্রতিপালক! আপনি একে একটি নিরাপদ শহর বানান এবং এর অধিবাসীদের ফলমূল দিয়ে রিযিক দান করুন} [আল-বাকারা: ১২৬]। আর এটিও সম্ভব যে, তৃতীয় আয়াতটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত বিষয়: {আর মানুষের ওপর আল্লাহর অধিকার হলো বায়তুল্লাহর হজ করা} [আল ইমরান: ৯৭], ইত্যাদি; কারণ হজ মক্কাবাসীদের জন্য প্রভূত কল্যাণ বয়ে আনে।
বলা হয়েছে যে, এই সংবাদ (خبر) মূলত আদেশের (أمر) অর্থ প্রকাশ করে; অর্থাৎ যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে তাকে তোমরা নিরাপত্তা প্রদান করো। যেমনটি মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন: “যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ”, অর্থাৎ তোমরা তাকে নিরাপত্তা দাও। এটি মক্কার সম্মান প্রদর্শনের মূল উদ্দেশ্যটি প্রকাশ করে না, বরং এটি একটি সুপ্রাচীন ও সুপ্রতিষ্ঠিত সম্মানের প্রতি ইঙ্গিত করে এবং প্রথম ব্যাখ্যাটি গ্রহণ করাই অধিকতর উত্তম। এর বিরুদ্ধে এই আপত্তি তোলা যাবে না যে, বিভিন্ন সময়ে মক্কার নিরাপত্তার পবিত্রতা লঙ্ঘিত হয়েছে, যেমনটি কারামাতিরা করেছিল; কারণ আয়াতটি অতীতকাল থেকে চলে আসা একটি নিরাপত্তার বিষয়, যা আল্লাহ তাদের জন্য সহজ করে দিয়েছিলেন যাতে এটি ন্যায়ের স্থলাভিষিক্ত একটি স্থায়ী আশ্রয়স্থল হিসেবে টিকে থাকে। এরপর আল্লাহ তাআলা ইসলাম নিয়ে এসেছেন। তাছাড়া বিরল ও বিচ্ছিন্ন ঘটনাবলী সুপ্রাচীন আভিজাত্য বা সম্মানের কোনো ক্ষতি করে না। উপরন্তু, বায়তুল্লাহতে প্রবেশকারীর নিরাপত্তার অর্থ এই নয় যে, মসজিদে হারাম বা মক্কা শহরে অবস্থানকারী প্রত্যেকের নিরাপত্তাই এতে উদ্দেশ্য।
জেনে রাখা প্রয়োজন যে, এই আয়াতের মূল লক্ষ্য তার পূর্ববর্তী আয়াতের ন্যায় ইসলাম ধর্মের মাহাত্ম্য ঘোষণা করা এবং এটি স্পষ্ট করা যে, এটিই হলো সেই একনিষ্ঠ দ্বীন (حنيفية) যাকে আল্লাহ তাআলা শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যার মূলনীতির ওপর ইবরাহিম (আ.)-কে প্রেরণ করেছিলেন। অথবা এটি ইবরাহিম (আ.)-এর সেই দোয়া যা আল্লাহ তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন: {হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসুল প্রেরণ করুন, যে তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবে এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে} [আল-বাকারা: ১২৯]। সুতরাং ইসলাম ধর্ম ছিল ইবরাহিমি একনিষ্ঠ দ্বীনের (حنيفية) পূর্ণতা ও বিস্তারিত রূপ। আল্লাহ তাআলা এর ওপর একটি সূক্ষ্ম নিদর্শন স্থাপন করেছেন যা হিদায়াতপ্রাপ্তদের কাছে স্পষ্ট হয়; আর তা হলো ইবরাহিম (আ.) মক্কায় একনিষ্ঠ দ্বীন (حنيفية) প্রকাশ করেছিলেন এবং এর প্রতীক হিসেবে মসজিদে হারাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর তিনি তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে সেখানে এর দাওয়াত প্রচারকারী হিসেবে নিয়োজিত করেছিলেন। এরপর আল্লাহ তাআলা সেই জনপদে ইবরাহিম ও তাঁর পুত্রের পর আর কোনো রাসুল প্রেরণ করেননি। ফলে আল্লাহর অন্যান্য জনপদে বিভিন্ন শরিয়ত (شريعة) প্রবর্তিত হলেও এই জনপদে কোনোটি আসেনি, যতক্ষণ না সেই দ্বীন আসল যা আল্লাহ একটি সর্বজনীন শরিয়ত (شريعة) প্রকাশের জন্য ইচ্ছা করেছিলেন। ইবরাহিম (আ.)-এর এই বরকতময় নিদর্শনের টিকে থাকা এবং অন্যান্য নিদর্শনের বিলুপ্তি ঘটার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) এবং ঐশী ইঙ্গিত রয়েছে যে, ইবরাহিমি মিল্লাত থেকে উৎসারিদ মুসা (আ.) ও অন্যদের সমস্ত শরিয়ত (شريعة) ছিল ক্ষণস্থায়ী, আর শাশ্বত শরিয়ত (شريعة) হলো সেটি যা পুনরায় এই স্মৃতিচিহ্ন বা নিদর্শনের পাশ থেকেই আত্মপ্রকাশ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা মক্কা থেকে এমন একজন রাসুল প্রেরণ করলেন যিনি তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন জাতিসমূহকে একত্রিত করবেন এবং তাদেরকে সেই পতাকাতলে আসার জন্য পরিচালিত করবেন। আর এভাবেই মহান আল্লাহর ইচ্ছা বাস্তবায়িত ও পূর্ণতা লাভ করল।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
تَكليم الله لموسى عليه السلام -
قد أعلمنا الدليل العقلي بأن الله تعالى يستحيل عليه السمات المحدثات من الصوت والجهر ونحوه، وقد أعلمنا أنه كلم موسى تكليمًا، ونحن نعلم أيضًا أن موسى عليه السلام كان يومئذٍ في شاطئ الواد الأيمن في البقعة المباركة من الشجرة وقد سمع صوتًا يقول: {إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي} إلى قوله: {لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى} [طه: 14 - 44]، فهل يجوز أن يكون هذا الصوت قائمًا بالله تعالى؟ حاشا لله لم يكن لله أن يقوم به صوت وموسى قد سمع صوتًا، سمعه بأذنه الحادثة، فهل يكون ذلك هو الكلام النفسي القديم؟ أم هل يكون موسى قد سمع ذلك بقلبه؟ كلَّا، لو كان ذلك لم يفضل موسى عليه السلام على النَّحلة التي أوحى الله إليها: أن اتخذي من الجبال بيوتًا؛ ولكن نجزم أنه صوت كلَّامه بلا واسطة، فقل: إن تثبيت كلمته الشجرة، أو كلمه شاطئ الواد، أو كلمه الجو، بل ذلك يفضي إلى كلامه ووحي من الله تعالى بدون واسطة، فمن قال: كلمته شجرة، أراد التمثيل والاحتمال كالتعيين، ولا يصح قول من قال من أصحابنا: إن الكلام الذي كلم الله به موسى هو كلامه الذي هو صفة ذاته؛ لأنه يفضي إما إلى حدوث الله (جل وعلا) لأنه يستلزم أن تكون ألفاظًا صادرة عن شفتي الله (تعالى وتقدس). نعم، عندهم شيء سهل المبدأ صعب الغاية وهو أن يقولوا: إن الله خلق لموسى سمعًا قديمًا في صماخه يسْمَعَهُ؛ وهاته مضحكة؛ لأنه يلزم عليه تركيب موسى من قديم وحادث فاتضح أن الكلام الذي سمعه موسى على ما تَعَارَفَهُ الناس.
ستقولون فما هاته المنقبة لموسى التي يعدها الله تعالى وهو لم يزد على سماع كلام متعارف، فالجواب أن المنقبة لموسى التي يعدها الله تعالى وهو لم يزد على سماع كلام متعارف، فالجواب أن المنقبة في اللاجئ إليه بلا واسطة، وذلك كما يلقي الله الوحي إلى جبريل، فإنه يكون بكتابة تظهر له أو نطق من بعض الأشياء، مما يدله على أن هذا قول الله، والذي سوغ إطلاق إضافته إلى الله في قوله تعالى: {قَالَ يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي} [الأعراف: 144]، هو انقطاع الواسطة، ودلالة تلك الألفاظ المخلوقة على كلام الله النفسي ومراده من موسى كما يسمى القرآن كلام الله وكتاب الله بهذا المعنى وهو بناء على الشايع المتعارف من إسناد الأمور التي خفيت أسبابها إلى الله تعالى وإن كان الكل من عند الله، يقول العامة اليوم في السؤال عن
মুসা আলাইহিস সালামের সাথে আল্লাহর কথোপকথন -
যৌক্তিক দলিল আমাদের এ কথা অবগত করেছে যে, মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে শব্দ (صوت), উচ্চস্বর (جهر) এবং এই জাতীয় সৃষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহ অসম্ভব। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি মুসার সাথে কথোপকথন করেছেন। আমরা আরও জানি যে, মুসা আলাইহিস সালাম সেদিন উপত্যকার ডান পার্শ্বে বরকতময় স্থানে বৃক্ষের নিকট ছিলেন এবং তিনি একটি আওয়ায (صوت) শুনতে পেয়েছিলেন যা বলছিল: {নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; অতএব আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো} থেকে {সম্ভবত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে} [ত্বহা: ১৪ - ৪৪] পর্যন্ত। তবে কি এই আওয়ায (صوت) মহান আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান হওয়া সম্ভব? আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আল্লাহর সত্তার সাথে কোনো আওয়ায (صوت) বিদ্যমান থাকা সম্ভব নয়; অথচ মুসা একটি আওয়ায (صوت) শুনেছিলেন, যা তিনি তাঁর সৃষ্ট কান দ্বারা শ্রবণ করেছিলেন। তবে কি এটি সেই অনাদি আত্মগত কালাম (الكلام النفسي) ছিল? নাকি মুসা তা তাঁর অন্তর দিয়ে শ্রবণ করেছিলেন? কদাপি নয়; যদি তাই হতো, তবে মৌমাছির ওপর মুসা আলাইহিস সালামের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব থাকত না, যার প্রতি আল্লাহ ওহি (وحي) পাঠিয়েছিলেন যে: ‘পাহাড়সমূহে ঘর নির্মাণ করো’। বরং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এটি ছিল একটি আওয়ায (صوت) যার মাধ্যমে তিনি কোনো মাধ্যম ছাড়াই তাঁর সাথে কথা বলেছিলেন। সুতরাং বলো, বৃক্ষ তাঁর কথাকে সাব্যস্ত করেছে, অথবা উপত্যকার পার্শ্ব তাঁর সাথে কথা বলেছে, কিংবা শূন্যমণ্ডল তাঁর সাথে কথা বলেছে; বরং এটি কোনো মাধ্যম ছাড়াই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সাথে কথোপকথন ও ওহি (وحي) পর্যন্ত পৌঁছায়। সুতরাং যারা বলে ‘বৃক্ষ কথা বলেছে’, তারা মূলত উদাহরণের মাধ্যমে সম্ভাবনা প্রকাশ করতে চেয়েছে। আর আমাদের সাথীদের মধ্যে যারা বলেন, ‘যে কথার মাধ্যমে আল্লাহ মুসার সাথে কথা বলেছিলেন তা তাঁর সত্তাগত গুণ (صفة الذات)’, তাদের এই কথা সঠিক নয়; কারণ এটি হয় মহান আল্লাহর নতুন করে সৃষ্টি হওয়া (حدوث)-এর দিকে নিয়ে যায়, যেহেতু এর জন্য আল্লাহর ওষ্ঠদ্বয় থেকে শব্দ নির্গত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে (আল্লাহ তাআলা এ থেকে অত্যন্ত পবিত্র)। হ্যাঁ, তাদের নিকট এমন একটি বিষয় রয়েছে যা শুরুতে সহজ মনে হলেও পরিণতিতে অত্যন্ত কঠিন; আর তা হলো তাদের এই কথা যে: ‘আল্লাহ মুসার কর্ণে একটি অনাদি শ্রবণশক্তি সৃষ্টি করেছিলেন যার দ্বারা তিনি শ্রবণ করেছিলেন’। এটি একটি হাস্যকর দাবি; কারণ এর ফলে মুসার সত্তা অনাদি ও সৃষ্ট বিষয়ের সংমিশ্রণে গঠিত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, মুসা যে কথা শুনেছিলেন তা মানুষের পরিচিত পদ্ধতি অনুসারেই ছিল।
তোমরা বলবে, মুসার জন্য তবে সেই বিশেষত্ব (منقبة) কী যা আল্লাহ তাআলা গণনা করেন, অথচ তিনি প্রচলিত আওয়ায শোনার অতিরিক্ত কিছু করেননি? উত্তর হলো, সেই বিশেষত্ব (منقبة) নিহিত রয়েছে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি তাঁর শরণাপন্ন হওয়ার মধ্যে। এটি ঠিক সেরকম যেমন আল্লাহ জিবরিলের প্রতি ওহি (وحي) অবতীর্ণ করেন; যা তার কাছে দৃশ্যমান কোনো লিপি বা কোনো বস্তুর বাণীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা তাকে এটি আল্লাহর বাণী হওয়ার ব্যাপারে পথপ্রদর্শন করে। আর মহান আল্লাহর বাণীতে: {তিনি বললেন, হে মুসা! আমি আমার রিসালাত ও আমার কালামের মাধ্যমে তোমাকে মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি} [আরাফ: ১৪৪]—এক্ষেত্রে আল্লাহর দিকে এই কথোপকথনের সম্পৃক্ততাকে যা বৈধ করেছে, তা হলো মধ্যস্থতাকারীর অনুপস্থিতি। এবং সেই সৃষ্ট শব্দাবলি মহান আল্লাহর আত্মগত কালাম (الكلام النفسي) এবং মুসার প্রতি তাঁর ইচ্ছার ওপর প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে। যেমনটি কুরআনকে এই অর্থেই আল্লাহর কালাম এবং আল্লাহর কিতাব বলা হয়। আর এটি প্রচলিত সেই রীতির ওপর ভিত্তি করে যেখানে অপ্রকাশিত কারণবিশিষ্ট বিষয়সমূহকে মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, যদিও সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে। সাধারণ মানুষ আজ যখন প্রশ্ন করে...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الميت: قتله أحد أم مات موت ربي؟ وبهذا يتضح لكم أن الاختلاف بيننا وبين المعتزلة في هذا الشأن، وأن من قال غير هذا فقد توقف في فهم معنى الآية وعسر عليه الأمر وإنكم إلى اليوم لم تفهموا هذا إلا بتقليد محض لا يمكنكم الركون إليه ولا التعبير عنه لشدة اضطرابه.
انظر الحديث الذي ذكر صورة إلقاء الوحي إلى جبريل أظنه في تفسير قوله تعالى: {حَتَّى إِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ} [سبأ: 23]، من سورة سبأ من صحيح البخاري.
* * *
মৃত ব্যক্তি: তাকে কি কেউ হত্যা করেছে নাকি সে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে? এর মাধ্যমেই আপনাদের নিকট এটি স্পষ্ট হবে যে, এ বিষয়ে আমাদের ও মুতাজিলাদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়। যে ব্যক্তি এর বাইরে কিছু বলবে, সে আয়াতের অর্থ অনুধাবনে থমকে যাবে এবং বিষয়টি তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। আপনারা আজ পর্যন্ত নিছক অন্ধ অনুকরণ (تقليد) ছাড়া এটি বোঝেননি, যার ওপর আপনারা আস্থা রাখতে পারেন না এবং এর প্রবল অস্থিরতা বা অসঙ্গতি (اضطراب)-এর কারণে তা প্রকাশ করতেও পারেন না।
জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট ওহি অবতীর্ণ করার দৃশ্যপট বর্ণিত হয়েছে এমন হাদিসটি দেখুন; আমার ধারণা এটি সহিহ বুখারি-এর সূরা সাবার অন্তর্গত মহান আল্লাহর বাণী: {অবশেষে যখন তাদের অন্তর থেকে আতঙ্ক দূর করা হয়} [সাবা: ২৩]-এর তাফসিরে বর্ণিত হয়েছে।
* * *
(খণ্ড: ১)
তাহকীকাত ওয়া আনজার ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
تفسير قوله تعالى:{فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا}قال الله تعالى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [الروم: 30].
كلما لمح آيات القرآن قارئها المتبصر وتدبرها حق التدبُّر وجد فصاحة إعجازه الدالة على أنه ليس من مألوف كلام البشر، سارية في كل ما يحتويه مما له دلالة على مقدار من معاني الكلام البليغ، سواء كان جملًا تامة الإفادة، أو تراكيب مكلمة إفادة ما معها، أو روابط تشد بين كلماته وتراكيبه عرى الالتئام، فتكون للكلام كالسلك للعقد النظيم، أو القالب الذي يفرغ فيه الذهب الكريم.
فبهذه المثابة، وعلى هذا النعت، نجد موقع الفاء، التي افتتحت بها هذه الآيات، تلك هي الفاء التي يسميها علماء العربية فاء الفصيحة، ويحق لها هنا أن يقال لها الفاء الفصيحة.
فاء الفصيحة هي التي تقع بعد كلام يفيد غرضًا من الأغراض، فتوزن بشيء مقدر كشرط تكون تلك الفاء رابطة لجوابه لقصد الإيجاز، فيقدر هنا إجمالًا: إذا علمت ما قيل لك {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا}، وقد يكون المقدر غير شرط في كلام آخر؛ ذلك أن الآيات السابقة تحوم حول إثبات أن الله واحد في الألوهية، وأنه لا شريك له، وأن قدرته لا يتعاصى عليها شيء من الممكنات إبطالًا لتكذيب المشركين بالبعث، ابتداء من قوله تعالى: {وَمِنْ آَيَاتِهِ أَنْ خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ إِذَا أَنْتُمْ بَشَرٌ تَنْتَشِرُونَ} [الروم: 20]، وما عطف عليه من الدلائل والأمثال بتقدير الكلام تفصيلًا: إذ علمت أنك على الحق وعلمت أن المعرضين عن دعوتك معاندون مبطلون {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا}.
فالأمر مستعمل في طلب الدوام على الفعل، لا في ابتداء إيجابه وهو مثل قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا آَمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ} [النساء: 136].
والخطاب للرسول صلى الله عليه وسلم تثبيتًا لفؤاده وتأييدًا له، وهو شامل للمسلمين؛ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم قدوتهم؛ ولذلك قال في الآية التي بعدها: {مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ} [الروم: 31].
আল্লাহ তাআলার বাণীর তাফসির:{সুতরাং আপনি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন}মহান আল্লাহ বলেন: {সুতরাং আপনি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন; এটাই আল্লাহর ফিতরাত, যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না} [আর-রুম: ৩০]।
যখনই কোনো অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন পাঠক কুরআনের আয়াতসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং যথাযথভাবে তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন, তখনই তিনি এর অলৌকিক বাগ্মিতা খুঁজে পান। যা প্রমাণ করে যে এটি মানুষের সাধারণ বক্তব্যের মতো নয়। এই অলৌকিকত্ব কুরআনের প্রতিটি বিষয়ের মধ্যে প্রবহমান, যা অলঙ্কারপূর্ণ বাণীর গূঢ় অর্থের পরিমাণের ওপর প্রমাণ পেশ করে; চাই তা পূর্ণ অর্থবোধক বাক্য হোক, কিংবা অন্য অংশের অর্থ পরিপূর্ণকারী কোনো গঠন হোক, অথবা শব্দ ও বাক্যের মাঝে সুদৃঢ় বন্ধন সৃষ্টিকারী কোনো সংযোগকারী হোক। ফলে এই সংযোগটি বাণীর জন্য সুবিন্যস্ত হারের সুতোর মতো অথবা এমন একটি ছাঁচের মতো হয় যাতে মূল্যবান সোনা ঢালা হয়।
এই বিচারে এবং এই গুণাবলির ভিত্তিতেই আমরা 'ফা' বর্ণটির অবস্থান দেখতে পাই, যার মাধ্যমে এই আয়াতগুলো শুরু হয়েছে। এটি সেই 'ফা' যাকে আরবি ভাষাবিদগণ 'ফা আল-ফাসিহা' বলে অভিহিত করেন এবং এখানে একে 'ফা আল-ফাসিহা' বলাটিই যুক্তিযুক্ত।
'ফা আল-ফাসিহা' হলো সেই বর্ণ যা এমন কোনো বক্তব্যের পরে আসে যা কোনো একটি উদ্দেশ্য প্রকাশ করে। অতঃপর সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে একে একটি উহ্য শর্তের জাওয়াব বা প্রতিদান হিসেবে গণ্য করা হয়। এখানে সামগ্রিকভাবে এর সারসংক্ষেপ দাঁড়ায়: যখন আপনি জানতে পারলেন যা আপনাকে বলা হয়েছে, {তখন আপনি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন}। অন্য কোনো বক্তব্যে উহ্য বিষয়টি শর্ত ছাড়াও হতে পারে। এর কারণ হলো, পূর্ববর্তী আয়াতগুলো আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করা, তাঁর কোনো শরিক না থাকা এবং তাঁর ক্ষমতার অসাধ্য কিছুই নেই—এই বিষয়গুলোর ওপর আবর্তিত হয়েছে, যাতে পুনরুত্থান অস্বীকারকারী মুশরিকদের দাবি নস্যাৎ করা যায়। যা মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে শুরু হয়েছে: {তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর এখন তোমরা মানুষ হয়ে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছ} [আর-রুম: ২০]। এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রমাণ ও উদাহরণসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী বাক্যের মর্ম দাঁড়ায়: যেহেতু আপনি জানতে পেরেছেন যে আপনি সত্যের ওপর আছেন এবং জানতে পেরেছেন যে আপনার দাওয়াত প্রত্যাখ্যানকারীরা জেদি ও বাতিলপন্থী, {তাই আপনি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন}।
এখানে আদেশটি কোনো কাজের স্থায়িত্ব বা ধারাবাহিকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, নতুনভাবে কোনো কাজ শুরু করার অর্থে নয়। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো} [আন-নিসা: ১৩৬]।
আর এই সম্বোধনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি তাঁর হৃদয়কে দৃঢ় করতে এবং তাঁকে সমর্থন জোগাতে করা হয়েছে, তবে এটি সকল মুসলিমকেও অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য আদর্শ। এই কারণেই এর পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে: {তাঁর প্রতি রুজু হয়ে এবং তাঁকে ভয় করো} [আর-রুম: ৩১]।