(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: -)
الناسخ والمنسوخ - ابن العربي   (أبو بكر ابن العربي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الناسخ والمنسوخ في القرآن الكريم

المؤلف: أبو بكر بن العربي المعافري

المحقق: الدكتور عبد الكبير العلوي المدغري

تقديم: د عائشة عبد الرحمن (بنت الشاطئ)

أصل التحقيق: رسالة دكتوراة للمحقق

الناشر: مكتبة الثقافة الدينية

الطبعة: الأولى، 1413 هـ - 1992 م

عدد الأجزاء: 2

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1440

আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবি   (আবু বকর ইবনুল আরাবি)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং উসূলুত তাফসির


বই: আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআনিল কারীম

লেখক: আবু বকর বিন আল-আরাবি আল-মা'আফিরি

সম্পাদক: ডক্টর আব্দুল কাবীর আল-আলাউয়ি আল-মাদাগরি

উপস্থাপনা: ড. আয়েশা আব্দুর রহমান (বিনতুশ শাতি)

সম্পাদনার উৎস: সম্পাদকের পিএইচডি থিসিস

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দীনিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ، বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)، এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আওকাফ আব্দুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান আল-খাইরিয়্যাহ)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১)
المنزلة الثالثة:

وإذ انتهيت إلى هذا المقام، فللنسخ شرائط أمهاتها ستة:

الأول: أن يكون شرعيا غير عقلي، فإن الموت لا ينسخ التكليف مثلا.

الثاني: أن يكون منفصلا غير متصل، ونحن نعلم أنه لما قال: {ثم أتموا الصيام إلى الليل} لم يكن نسخا. فلا خلاف فيه إذا كانت الغاية معلومة كما قدمنا. فإن كانت مجهولة كقوله تعالى: {حتى يتوفاهن الموت أو يجعل الله لهن سبيلا} ، فاختلف الناس فيه: هل هو نسخ او لا؟ والصحيح أنه نسخ، لأن معاني النسخ فيه موجودة وقد بيناه في الأصول.

الثالث: أن يكون المقتضى بالمنسوخ غير المقتضى بالناسخ حتى لا يكون منه البدل، ولذلك قال كثير من علمائنا: إن النسخ هو النص (الدال) على أن مثل الحكم الثابت بالنص المتقدم زائل (في الاستقبال) على وجه لولاه لثبت. وقال "أبو المعالي": النسخ ظهور ما ينافي شرط استمرار الحكم، فقوله: افعل، طلب إلا أنه مشروط في المعنى بأن لا ينهى عنه. وحقيقة النسخ إنما تصادف (الظاهر) في اعتقادنا، فأما (عند الله) فالأمر أولا وآخرا على ما ظهر.

الرابع: أن يكون الجمع بين الدليلين غير ممكن.

الخامس: أن يكون الناسخ في العلم والعمل مثل المنسوخ، وذلك مما اختلف الأوائل فيه، وسنبينه (في موضعه) إن شاء الله تعالى.

السادس: معرفة (المتقدم من المتأخر).
তৃতীয় স্তর:

এবং যখন আপনি এই অবস্থানে উপনীত হয়েছেন, তখন জেনে রাখুন যে রহিতকরণের (النسخ) কিছু শর্ত রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো ছয়টি:

প্রথম: এটি শরয়ি হতে হবে, যৌক্তিক নয়। উদাহরণস্বরূপ, মৃত্যু শরয়ি দায়িত্বকে (التكليف) রহিত (النسخ) করে না।

দ্বিতীয়: এটি পৃথক হতে হবে, সংযুক্ত নয়। আমরা জানি যে, যখন আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো", তখন তা রহিতকরণ (النسخ) ছিল না। যদি সময়সীমা নির্ধারিত থাকে, তবে এতে কোনো মতভেদ নেই, যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। কিন্তু যদি তা অজানা থাকে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "যতক্ষণ না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ নির্ধারণ করেন", তবে এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে: এটি কি রহিতকরণ (النسخ) নাকি নয়? সঠিক (الصحيح) মত হলো এটি রহিতকরণ (النسخ), কারণ এতে রহিতকরণের (النسخ) অর্থ বিদ্যমান রয়েছে এবং আমরা উসুল (الأصول) শাস্ত্রে তা বর্ণনা করেছি।

তৃতীয়: রহিত (المنسوخ) বিষয়ের দাবি এবং রহিতকারী (الناسخ) বিষয়ের দাবি ভিন্ন হতে হবে যাতে তার পরিবর্তে কোনো বিকল্প না হয়। এজন্য আমাদের অনেক আলেম বলেছেন: রহিতকরণ (النسخ) হলো এমন পাঠ্য (النص) যা নির্দেশ করে যে, পূর্ববর্তী পাঠ্য (النص) দ্বারা সাব্যস্ত হওয়া বিধানের (الحكم) অনুরূপ বিধান ভবিষ্যতে অপসারিত হবে, যা না থাকলে তা বহাল থাকতো। 'আবু আল-মাআলি' বলেছেন: রহিতকরণ (النسخ) হলো এমন কিছুর প্রকাশ পাওয়া যা বিধানের (الحكم) ধারাবাহিকতা বজায় থাকার শর্তের পরিপন্থী। সুতরাং তাঁর বাণী: "তুমি করো", এটি একটি নির্দেশ, তবে এর অর্থের মধ্যে শর্তযুক্ত যে এটি পরে নিষেধ করা হবে না। রহিতকরণের (النسخ) বাস্তবতা আমাদের বিশ্বাসে কেবল প্রকাশ্য (الظاهر) বিষয়ের ক্ষেত্রে ঘটে, কিন্তু আল্লাহর নিকট বিষয়টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তেমনই যেমনটি প্রকাশিত হয়েছে।

চতুর্থ: দুটি দলিলদ্বয়ের (الدليلين) মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব না হওয়া।

পঞ্চম: জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে রহিতকারী (الناسخ) যেন রহিত (المنسوخ) বিষয়ের সমতুল্য হয়। এ বিষয়ে পূর্ববর্তীগণ মতভেদ করেছেন এবং আমরা ইনশাআল্লাহ যথাযোগ্য স্থানে তা বর্ণনা করব।

ষষ্ঠ: পূর্ববর্তী ও পরবর্তী (المتقدم والمتأخر) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২)
المنزلة الرابعة:

وكذلك ليس من شرطه أن يكون إلى بدل، خلافا لما ظنه قوم من المقصرين في ذلك لقول الله تعالى (ما ننسخ من آية أو ننسها نأت بخير منها أو مثلها). فإن ذلك مفهوم (حسب) ما يأتي، إذ ترك البدل (كثير) فقد نسخ الله ترك تقديم الصدقة في النجوى (ونسخ التربص حولا كاملا بالنص) على أربعة أشهر وعشرا. كل ذلك إلى غير بدل. ولكنه قد يكون النسخ إلى بدل وهي:

المنزلة الخامسة:

وهو على خمسة أوجه:

الأول: أن الله تعالى نسخ وجوب ثبوت العشرة للمائة في القتال، إلى ثبوت الواحد للأثنين، وبقي ثبوت العشرة ندبا، أو مباحا، أو ممنوعا، على ما يأتي بيانه إن شاء الله.

الثاني: نسخ قيام الليل بالصلوات الخمس على قول، أو (وضع) الندب موضع الوجوب على (آخر).

الثالث: نسخ التخيير (بالإلزام) في الصوم.
চতুর্থ পর্যায় (المنزلة):

অনুরূপভাবে, কোনো বিকল্প (بدل) বিধান থাকা রহিতকরণের (نسخ) জন্য শর্ত নয়; এটি সেই সব ত্রুটিপূর্ণ একদল লোকের ধারণার পরিপন্থী যারা আল্লাহর এই বাণীর কারণে তা মনে করে থাকে: (আমি কোনো আয়াত (آية) রহিত (نسخ) করলে বা ভুলিয়ে দিলে তার চেয়ে উত্তম কিংবা তার সমপর্যায়ের কোনো আয়াত নিয়ে আসি)। প্রকৃতপক্ষে এর মর্মার্থ পরবর্তী বর্ণনা অনুযায়ী (حسب) অনুধাবনযোগ্য, কারণ বিকল্প (بدل) ব্যতিরেকেই রহিতকরণ (نسخ) অনেক (كثير) ঘটেছে। যেমন, আল্লাহ তাআলা গোপন পরামর্শের প্রাক্কালে সদকা প্রদানের বিধান রহিত (نسخ) করেছেন এবং স্পষ্ট ভাষ্যের (نص) মাধ্যমে এক পূর্ণ বছর প্রতীক্ষার বিধান রহিত (نسخ) করে চার মাস দশ দিনের বিধান দিয়েছেন। এ সবই কোনো বিকল্প (بدل) ব্যতিরেকে হয়েছে। তবে কখনও কখনও বিকল্প (بدل) সহকারেও রহিতকরণ (نسخ) হয়ে থাকে, আর তা হলো:

পঞ্চম পর্যায় (المنزلة):

এটি পাঁচটি পদ্ধতির (أوجه) ওপর ভিত্তি করে:

প্রথমত: আল্লাহ তাআলা যুদ্ধে একশ জনের বিপরীতে দশ জনের অবিচল থাকার আবশ্যকতাকে (وجوب) রহিত (نسخ) করে দুই জনের বিপরীতে এক জনের অবিচল থাকার বিধান দিয়েছেন। আর দশ জনের অবিচল থাকার বিষয়টি মুস্তাহাব (ندب), অথবা বৈধ (مباح), কিংবা নিষিদ্ধ (ممنوع) হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে ইনশাআল্লাহ আসবে।

দ্বিতীয়ত: এক অভিমত অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মাধ্যমে কিয়ামুল লাইল রহিত (نسخ) করা হয়েছে, অথবা অন্য (آخر) অভিমতানুসারে আবশ্যকতা (وجوب) এর স্থলে মুস্তাহাব (ندب) বিধান স্থলাভিষিক্ত (وضع) করা হয়েছে।

তৃতীয়ত: সিয়ামের ক্ষেত্রে ঐচ্ছিকতাকে আবশ্যকতা (بالإلزام) প্রদানের মাধ্যমে রহিত (نسخ) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৩)
الرابع: نسخ القبلة بالقبلة.

الخامس: نسخ التحريم بالإباحة في المباشرة من بعد النوم، والفطر إلى الفطر الآخر، وكذلك زيارة القبور بعد المنع من زيارتها لقوله صلى الله عليه وسلم: "إني كنت نهيتكم عن زيارة القبور فالآن زوروها ولا تقولوا هجرا" وكذلك بإباحة لحوم الأضاحي مدخرة، بعد النهي عن ادخارها. وليس من شرطه وهي:

المنزلة السادسة:

أن يعلم أن الأخف قد نسخ بالأشد، لما يعلم الله ذلك، فإن قيل: وكيف هذا؟ قلنا قد ينسخ التخيير في الصوم بالإلزام. فإن قيل: فقد قال الله تعالى: {وما جعل عليكم في الدين من حرج} قلنا: اعتراض على الله الذي لا يُسأل عما يفعل. فإن قيل: إنما هو سؤال إيضاح مشكل، وتأليف متعارض، قلنا: إلزام الصوم لا حرج فيه، والتخيير دونه، فانتقل عما لاحرج فيه إلى ما لا حرج فيه.

المنزلة السابعة:

إذا انتهى بدء التنزيل إلى هذه المنزلة فلا بد من معرفة الناسخ بعد معرفة النسخ، والناسخ فاعل من نسخ، وذلك بالحقيقة لله وحده. زكون كلامه ناسخا مجاز ثان للحقيقة، وكون الشيء المخبر عن الكلام ناسخا مجاز ثالث لهما وجاز إطلاقه على غير الله مع معرفة الحقيقة، قصدا إلى تعريف البيان، وإذا عرفتم فأقسامه أربعة:

الأول: كتاب ينسخ كتابا.

الثاني: سنة تنسخ سنة.

الثالث: كتاب ينسخ سنة.

الرابع: سنة تنسخ كتابا.
চতুর্থ: এক কিবলা দ্বারা অন্য কিবলা রহিত (نسخ) করা।

পঞ্চম: ঘুমের পর স্ত্রী-সহবাস এবং এক ইফতার থেকে অন্য ইফতার পর্যন্ত পানাহার নিষিদ্ধ থাকার বিধানকে বৈধতা প্রদানের মাধ্যমে রহিত (نسخ) করা। অনুরূপভাবে, কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ করার পর তা পুনরায় বৈধ করা; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা জিয়ারত করো এবং মন্দ কিছু বলো না।" একইভাবে কুরবানির গোশত জমা রাখার নিষেধাজ্ঞার পর তা বৈধ করা। এটি শর্তের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা হলো:

ষষ্ঠ পর্যায়:

এটি জানা যে, আল্লাহ যখন সংগত মনে করেন তখন সহজ বিধান কঠিন বিধান দ্বারা রহিত (نسخ) হতে পারে। যদি প্রশ্ন করা হয়: এটি কীভাবে সম্ভব? আমরা বলি: রোজার ক্ষেত্রে ঐচ্ছিকতাকে আবশ্যিকতা (إلزام) দ্বারা রহিত (نسخ) করা হয়েছে। যদি প্রশ্ন করা হয়: মহান আল্লাহ তো বলেছেন: "তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা চাপিয়ে দেননি।" আমরা বলি: এটি আল্লাহর ওপর আপত্তি করার শামিল, অথচ তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যায় না। যদি বলা হয়: এটি কেবল অস্পষ্টতা দূরীকরণ এবং আপাতবিরোধী বিষয়ের সামঞ্জস্য বিধানের প্রশ্ন; তবে আমরা বলি: রোজা আবশ্যক করার মধ্যে কোনো সংকীর্ণতা নেই, আর ঐচ্ছিকতা ছিল তার চেয়েও সহজ; সুতরাং এখানে এক সংকীর্ণতাহীন বিধান থেকে অন্য এক সংকীর্ণতাহীন বিধানের দিকেই স্থানান্তর ঘটেছে।

সপ্তম পর্যায়:

ওহি অবতীর্ণের ধারা যখন এই পর্যায়ে পৌঁছে, তখন রহিতকরণ (نسخ) সম্পর্কে জানার পর রহিতকারী (ناسخ) সম্পর্কে জানাও আবশ্যক। রহিতকারী (ناسخ) শব্দটি রহিতকরণ (نسخ) শব্দ থেকে উৎপন্ন একটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য, যা প্রকৃত অর্থে কেবল আল্লাহর জন্যই প্রযোজ্য। তাঁর বাণী বা কালাম রহিতকারী (ناسخ) হওয়া মূলত দ্বিতীয় পর্যায়ের রূপক (مجاز) অর্থ। আর সেই বাণী সম্পর্কে যা অবহিত করে তাকে রহিতকারী (ناسخ) বলা হলো তৃতীয় পর্যায়ের রূপক (مجاز)। প্রকৃত অর্থ জানা সাপেক্ষে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের প্রতিও এই শব্দের প্রয়োগ বৈধ। যখন আপনারা এটি অবগত হলেন, তখন এর প্রকারভেদ চারটি:

প্রথম: কিতাব দ্বারা কিতাব রহিত (نسخ) হওয়া।

দ্বিতীয়: সুন্নাহ দ্বারা সুন্নাহ রহিত (نسخ) হওয়া।

তৃতীয়: কিতাব দ্বারা সুন্নাহ রহিত (نسخ) হওয়া।

চতুর্থ: সুন্নাহ দ্বারা কিতাব রহিত (نسخ) হওয়া।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৪)
والكل من عند الله ينسخ بعضه بعضا. وقيل عن قوم "إنه لا ينسخ الكتاب إلا الكتاب، ولا تنسخ السنة إلا السنة، إذ لا ينسخ الشيء إلا بمثله". وأجل من حُكِيَ عنه ذلك الشافعي في صحيح أقواله، وغاية متعلقهم شيئان: أحدهما أن الرسول صلى الله عليه وسلم كان له أن يجتهد واجتهاده واجب الإتباع. فلا يجوز أن يبين الرسول باجتهاده ما يخالف الكتاب.

أما الثاني (في) قوله أن الكتاب لا ينسخ السنة فإن فيه تقرير الرسول صلى الله عليه وسلم على الخطأ ما بين العمل بالسنة ثم ورود الكتاب بعدها. وهذا ضعيف جدا. إنما الكل من عند الله (وقد) استوت في العلم، فالعمل بها واجب (وإن اختلفوا في) خبر الواحد (كأن) يأتي خبر الواحد بخلافه فإن الاجماع قد انعقد على أن القرآن لا ينسخ به ( … ) وقد ظن قوم أن السنة نسخت القرآن في الوصية
এবং সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে, যার একটি অংশ অপর অংশকে রহিত (نسخ) করে। একদল থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, "কুরআন কেবল কুরআন দ্বারাই রহিত (نسخ) হয় এবং সুন্নাহ কেবল সুন্নাহ দ্বারাই রহিত (نسخ) হয়; কেননা কোনো বিষয়কে কেবল তার অনুরূপ বিষয় দ্বারাই রহিত (نسخ) করা যায়।" যাঁদের থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে তাঁদের মধ্যে ইমাম শাফিঈ তাঁর বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে সর্বশ্রেষ্ঠ। তাঁদের দলিলের ভিত্তি হলো দুটি বিষয়: প্রথমটি হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইজতিহাদ (اجتهاد) করার সুযোগ ছিল এবং তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) অনুসরণ করা আবশ্যক (واجب)। সুতরাং রাসুলের জন্য তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) দ্বারা কুরআনের পরিপন্থী কোনো বিষয় ব্যাখ্যা করা বৈধ (جائز) নয়।

আর দ্বিতীয়টি হলো—কুরআন সুন্নাহকে রহিত (نسخ) করে না এই বক্তব্যের সপক্ষে—তাতে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা এবং পরবর্তীতে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে ভুল বিষয়ের ওপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌন সম্মতি (تقرير) থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে। অথচ এই অভিমতটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا)। বরং সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে এগুলো সমান; তাই এগুলোর ওপর আমল করা আবশ্যক (واجب)। (যদিও তাঁরা) একক বর্ণনা (خبر الواحد) সম্পর্কে মতভেদ করেছেন; যদি একক বর্ণনা (خبر الواحد) তার বিপরীতে আসে, তবে এ বিষয়ে সর্বসম্মতি (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, একক বর্ণনা দ্বারা কুরআন রহিত (نسخ) হয় না। ( … ) আর একদল ধারণা করেছেন যে, অসিয়তের ক্ষেত্রে সুন্নাহ কুরআনকে রহিত (نسخ) করেছে।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৫)
للوالدين والأقربين. نسختها السنة. قلنا: ما نسختها غلا آية المواريث على ما نبينه. وكذلك قالوا: الامساك في البيوت قرآن نسختها الرجم سنة، وقد قال قوم: نسختها آية الرجم ثم نسخ لفظها وبقي حكمها، كما قال عمر رضي الله عنه، وكذلك قوله تعالى: {وإن فاتكم شيء من أزواجكم إلى الكفار فعاقبتم} ، مثله، على ما يأتي بيانه إن شاء الله. ونسخ الإجماع من هذا القبيل فإن الإجماع إما أن يكون عن خبر أو عن نظر، والنظر لا يرفع النص والخبر قد يظهر وقد يطمسه الإجماع.

المنزلة الثامنة:

فإذا تقرر النسخ فقد ينسخ الحكم مع بقاء التلاوة، ويجوز نسخ التلاوة ويقاء الحكم، ومنعته المعتزلة، وقالوا: كيف ينسخ الأصل ويبقى الفرع؟ قلنا: الحكم وإن ثبت بالتلاوة، إذا استقر ساوى كل حكم ثبت بغير نص، ومنها نسخ الحكم مع بقاء التلاوة ومنها نسخ ما ليس متلوا بما ليس بمتلو، كقول عائشة رضي الله عنها (كان مما أنزل في القرآن عشر رضعات معلومات فنسخن بخمس رضعات معلومات) إلى أقسام كثيرة أعدادها نضعها في مواضعها.

وقد ينسخ الأمر أصلا فلا يبقى له ذكر لا في اللفظ ولا في المعنى. فقد روي عن أبي موسى الأشعري أنه قال: إن سورة نحوا من التوبة نزلت ثم رفعت. فهذه منازل النسخ الثمانية التي يتنزل المرء فيها، وتعرض بعد هذا مغالطات نبهنا عليها في كتب الأصول، أمهاتها خمس:
পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য। এটি সুন্নাহ দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে। আমরা বলি: উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াত ব্যতীত অন্য কিছু এটিকে রহিত (نسخ) করেনি, যা আমরা বর্ণনা করব। অনুরূপভাবে তারা বলেছেন: ঘরে আটকে রাখা সংক্রান্ত কুরআনের বিধানটি সুন্নাহ তথা পাথর নিক্ষেপ (রজম) দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে। একদল বলেছেন: এটি রজম সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে, অতঃপর তার শব্দাবলি রহিত (نسخ) হয়ে গিয়েছে কিন্তু তার বিধান অবশিষ্ট রয়েছে, যেমনটি ওমর (রা.) বলেছেন। অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং যদি তোমাদের স্ত্রীদের মধ্য থেকে কেউ তোমাদের হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের কাছে চলে যায়, অতঃপর তোমরা যুদ্ধ জয় করো...} এর বিষয়টিও একই রূপ, যা সামনে ইনশাআল্লাহ বর্ণনা করা হবে। আর ইজমার (إجماع) মাধ্যমে রহিতকরণ (نسخ) এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। কারণ ইজমা (إجماع) হয় কোনো বর্ণনা (خبر) বা গবেষণার (نظر) ভিত্তিতে হয়ে থাকে। আর গবেষণা (نظر) কখনও নস (نص) বা অকাট্য প্রমাণকে রহিত করতে পারে না। কিন্তু বর্ণনা (خبر) কখনও প্রকাশিত হতে পারে আবার কখনও ইজমা (إجماع) তাকে বিলুপ্ত করে দিতে পারে।

অষ্টম স্তর:

যখন রহিতকরণ (نسخ) সাব্যস্ত হয়, তখন তিলাওয়াত (تلاوة) অবশিষ্ট থাকা অবস্থায় বিধান রহিত (نسخ) হতে পারে। আবার তিলাওয়াত (تلاوة) রহিত (نسخ) হয়ে বিধান অবশিষ্ট থাকাও জায়েজ। মুতাজিলারা এটি অস্বীকার করেছে এবং তারা বলেছে: মূল (الأصل) কীভাবে রহিত হয় অথচ শাখা (الفرع) অবশিষ্ট থাকে? আমরা বলি: বিধান যদিও তিলাওয়াতের (تلاوة) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, তবে তা যখন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা নস (نص) ব্যতীত সাব্যস্ত হওয়া প্রতিটি বিধানের সমান হয়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে তিলাওয়াত (تলাوة) অবশিষ্ট থাকা অবস্থায় বিধান রহিত (نسخ) হওয়া। আবার যা তিলাওয়াতকৃত নয় এমন বিষয়কে অন্য তিলাওয়াতকৃত নয় এমন বিষয় দ্বারা রহিত (نسخ) করা। যেমন আয়েশা (রা.) এর উক্তি: (কুরআনে যা নাজিল হয়েছিল তার মধ্যে ছিল দশবার স্তন্যপান করানো, যা পরবর্তীতে পাঁচটি স্তন্যপান দ্বারা রহিত (نسخ) করা হয়েছে)। এ রূপ আরও অনেক প্রকার রয়েছে যা আমরা যথাস্থানে উল্লেখ করব।

কখনও কখনও কোনো বিষয় সম্পূর্ণরূপে রহিত (نسخ) হয়ে যায়, যার কোনো চিহ্ন শব্দ বা অর্থ—কোথাও অবশিষ্ট থাকে না। আবু মুসা আল-াশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: সুরা তাওবার মতো একটি সুরা নাজিল হয়েছিল, অতঃপর তা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এই হলো রহিতকরণের (نسخ) আটটি স্তর যার মধ্যে একজন বিচরণ করে। এরপর কিছু বিভ্রান্তি (مغالطات) সামনে আসে যা আমরা উসুল (أصول) শাস্ত্রের কিতাবসমূহে সর্তক করেছি, যার মূল বিষয় হলো পাঁচটি:
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৬)
المغالطة الأولى:

قول طائفة إن الناس اختلفوا في الزيادة على النص هل هي نسخ أو لا؟ ولا شك في أنها نسخ وقد بيناها في أصول الفقه، وفي تصويرها عسر وستراه في موضعه إن شاء الله. والذي يحقق ذلك أن الأجزاء دون الزيادة حكما ثم طرأ على الأجزاء زيادة نفته فكانت نسخا.

المغالطة الثانية:

زيادة الشرط في الشيء هل يكون نسخا أولا يكون نسخا؟ وإنما يكون نسخا كزيادة الإيمان في وصف رقبة الظهار تخصيص لا نسخ. وقد بينا الفرق بين التخصيص والنسخ. وكذلك النقصان نسخ وقد بيناه في الأصول، وكل ما تسمع فيه من التطويل ليس وراءه تحصيل.

المغالطة الثالثة:

متى يثبت حكم النسخ: إذا نزل أو بلغ المكلف؟ ولا شك أن حكمه إنما يثبت مع البلوغ فأما قبل ذلك فلا مؤاخذة به سمعا وإن جازت عقلا ولم يرد بذلك سمع فبقينا على أصل النفي.
প্রথম বিভ্রান্তি:

একদল লোকের বক্তব্য এই যে, মূল পাঠের (নস) ওপর অতিরিক্ত সংযোজন কি রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হবে কি না—তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি রহিতকরণ (نسخ) এবং আমরা উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে তা ব্যাখ্যা করেছি। এর স্বরূপ অনুধাবন করা কিছুটা দুরূহ, যা ইনশাআল্লাহ আপনি যথাস্থানে দেখতে পাবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করার যুক্তি হলো, অতিরিক্ত অংশ আসার আগে মূল অংশগুলোর একটি বিশেষ বিধান ছিল, এরপর সেই অংশগুলোর ওপর এমন এক বৃদ্ধি বা সংযোজন আপতিত হলো যা পূর্বের অবস্থাকে নাকচ করে দিয়েছে; ফলে তা রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হয়েছে।

দ্বিতীয় বিভ্রান্তি:

কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত শর্তারোপ করা কি রহিতকরণ (نسخ) হবে নাকি হবে না? এটি [এক মতে] রহিতকরণ (نسخ) হয়; তবে যিহারের কাফফারার দাসের বর্ণনায় ঈমানের শর্ত যুক্ত করা মূলত একটি বিশেষায়ন (تخصيص), রহিতকরণ (نسخ) নয়। আমরা বিশেষায়ন (تخصيص) ও রহিতকরণ (نسخ)-এর মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করেছি। অনুরূপভাবে, কোনো কিছু হ্রাস করাও রহিতকরণ (نسخ), যা আমরা উসুলশাস্ত্রে বর্ণনা করেছি। এ বিষয়ে আপনি দীর্ঘ যে আলোচনা শোনেন, তার সারমর্ম এটুকুই।

তৃতীয় বিভ্রান্তি:

রহিতকরণের (نسخ) বিধান কখন সাব্যস্ত হয়: যখন তা অবতীর্ণ হয়, নাকি যখন তা মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তির (المكلف) নিকট পৌঁছায়? এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর বিধান কেবল পৌঁছানোর মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। এর আগে শ্রুতিগত বা শারয়ি দলিলাদির (سمعا) ভিত্তিতে তাকে দায়ী করা যাবে না, যদিও বিবেকবুদ্ধির বিচারে (عقلا) তা সম্ভব হতে পারে। যেহেতু এ বিষয়ে কোনো শারয়ি প্রমাণ অবতীর্ণ হয়নি, তাই আমরা এর মূল নেতিবাচক অবস্থার ওপরই বহাল থাকব।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৭)
المغالطة الرابعة:

ظن قوم أن الإجماع نسخ في نفسه وينسخ به، ولا يتصور ذلك فيه لأنه لا دليل يستقر بعد الوحي. فإن قيل: فإذا أجمعت الأمة على قول من قولين تقدما في القرن السابق؟ قلنا: لا يكون نسخا لأن من يقول بأن الخلافلا يرتفع به قد بان ذلك فيه، ومن قال يرتفع الخلاف لم يكن هذا من باب النسخ، فإن الاجتهاد كان سابقا وتردد النظر على قولين ثم انحذف أحد الاجتهادين وبقي الثاني. ولو كان صحيحا لكان القياس نسخا عند النظر به أو فيه، ولا يصح ذلك لجواز الرجوع في كل حال عنه وإنما هي فسحة أذن الشرع فيها ورحمة خص هذه الأمة بها، وضوعف (الأجر) لها عليها.

المغالطة الخامسة:

ظن قوم أن النسخ في جميع القرآن ([طمس]) وهو باطل والذي أوقعهم فيه قوله تعالى: (ولئن شئنا لنذهبن بالذي أوحينا إليك). وهذه الآية من المشكلات وقد استوفينا النظر فيها في كتابها ولبابه أن المعلومات على أقسام فيما يتعلق بغرضنا هذا:

منها المحال كاجتماع الضدين.

ومنها خلاف المعلوم الذي وقع الإخبار بعلم الباري فيه وعنه.

ومنها الجائز المطلق الذي لم يتعلق علم عندنا في علمنا به.

فأما المطلق إذا علقت به الإرادة فقال ربنا: لو شئت لكان كذا، فهذا مطلق وإرادة مطلق ومعنى موضح لا إشكال فيه. وإذا علق الإرادة سبحانه بالمحال المعلوم الذي أخبر به، فذلك المشكل الذي يفسره التأويل كقوله تعالى: {لو أراد الله أن يتخذ ولدا لاصطفى مما يخلق ما يشاء سبحانه} فهذا إن حمل اللفظ فيه على الولد حقيقة كان تقديره: لو أراد الله أن يتخذ ولدا حقيقة لاتخذه.
চতুর্থ বিভ্রান্তি:

একদল লোক ধারণা করেছেন যে, সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) নিজেই একটি রহিতকরণ (نسخ) এবং এর দ্বারা অন্য কিছু রহিত (نسخ) করা যায়। অথচ এটি কল্পনা করা সম্ভব নয়; কারণ ওহী (وحي) এর সমাপ্তির পর অন্য কোনো দলিল চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। যদি বলা হয়: উম্মত যদি এমন কোনো একটি মতের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় যা পূর্ববর্তী যুগে বিদ্যমান দুটি মতের একটি ছিল? আমরা বলব: এটি রহিতকরণ (نسخ) হবে না। কারণ যারা মনে করেন যে এর মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন হয় না, তাদের নিকট বিষয়টি স্পষ্ট। আর যারা মনে করেন যে এর মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন হয়, তাদের নিকটও এটি রহিতকরণ (نسخ) এর পর্যায়ভুক্ত নয়। কেননা ইজতিহাদ (اجتهاد) পূর্বেই বিদ্যমান ছিল এবং তখন দুটি ভিন্ন মতের অবকাশ ছিল, অতঃপর একটি ইজতিহাদ (اجتهাদ) বিলুপ্ত হয়েছে এবং দ্বিতীয়টি অবশিষ্ট রয়ে গেছে। যদি এটি সঠিক হতো, তবে সাদৃশ্যভিত্তিক অনুমান (قياس) এর মাধ্যমে কোনো বিষয় পর্যালোচনার সময় সেটিও রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু তা সঠিক নয়, কারণ প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা থেকে প্রত্যাবর্তন করা বৈধ। মূলত এটি শারিয়াহর পক্ষ থেকে অনুমোদিত একটি অবকাশ এবং এটি একটি রহমত যা বিশেষ করে এই উম্মতকে প্রদান করা হয়েছে এবং এর বিনিময়ে সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পঞ্চম বিভ্রান্তি:

একদল লোক মনে করেন যে, পুরো কুরআনের রহিতকরণ (نسخ) মানে হলো তা সম্পূর্ণরূপে মিটিয়ে ফেলা (طمس), যা একটি বাতিল ধারণা। তাদের এই ভ্রান্তিতে পড়ার কারণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আমি ইচ্ছা করলে তোমার নিকট যা ওহী (وحي) পাঠিয়েছি তা অবশ্যই তুলে নিতাম।" এই আয়াতটি জটিল বিষয়সমূহের (مشكلات) অন্তর্ভুক্ত এবং আমরা আমাদের কিতাবে এ নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করেছি। এর মূল নির্যাস হলো, আমাদের এই উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট জ্ঞাত বিষয়সমূহ কয়েক ভাগে বিভক্ত:

তার মধ্যে একটি হলো অসম্ভব (محال), যেমন দুটি বিপরীত বিষয়ের একত্রে সমাবেশ।

আরেকটি হলো জ্ঞাত বিষয়ের বিপরীত, যা সম্পর্কে মহান স্রষ্টার ইলম অনুযায়ী সংবাদ প্রদান করা হয়েছে।

আরেকটি হলো নিরঙ্কুশ সম্ভাব্য (جائز مطلق) বিষয়, যার সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধিতে কোনো ইলম নেই।

অতঃপর নিরঙ্কুশ বিষয়ের সাথে যখন ইচ্ছা বা ইরাদা সংশ্লিষ্ট হয় এবং আমাদের প্রতিপালক বলেন: 'যদি আমি চাইতাম তবে এমন হতো', তখন এটি নিরঙ্কুশ বিষয় এবং নিরঙ্কুশ ইচ্ছা হিসেবে গণ্য হয়, যার অর্থ সুস্পষ্ট এবং এতে কোনো অস্পষ্টতা (إشكال) নেই। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা যখন তাঁর ইচ্ছাকে এমন কোনো পরিচিত অসম্ভব (محال) বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করেন যা সম্পর্কে তিনি পূর্বেই সংবাদ দিয়েছেন, তবে সেটিই হলো সেই জটিল বিষয় (مشكل) যা ব্যাখ্যা (تأويل) দ্বারা স্পষ্ট করা হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ যদি সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেন, তবে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা পছন্দ করে নিতেন, তিনি পবিত্র।" এখানে শব্দটিকে যদি প্রকৃত সন্তানের অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে এর মর্মার্থ হবে: আল্লাহ যদি প্রকৃতপক্ষে সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেন, তবে তিনি অবশ্যই তা করতেন।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৮)
وذلك لا يتصور فيؤول القول إلى أن معناه لو أراد الله مالا يتصور ولا يصح أن يوجد لوجد فكان ينفي أول الكلام آخره ولا يبقى له معنى، ولو كان معناه لو أراد الله أن يتبنى ولدا لاصطفاه من خلقه باستحالته وتبين بأخباره أن ذلك لا يكون.

وهذا القدر هو الذي جهله المبطلون فقالوا: إن الله قادر على أن يجعل له ولدا.

سبحانه وتعالى عما يقولون. وكقوله تعالى: {ولئن شئنا لنذهبن بالذي أوحينا إليك} إذ كان جائزا ألا يبعث رسولا وإذ بعثه فقد كان جائزا أن يذهب به وبما أرسله به، ولكنه قد أخبر سبحانه أنه لا يفعل ذلك وأبان أنه مبعوث بالرحمة إلى يوم القيامة، فامتنع ذلك بخلاف المعلوم فعلق الارادة به جائز في ذاته وامتناعه من جهة الخبر ظاهر بوروده. ومن أراد الشفاء من داء الغوامض فعليه بكتابها والله الموفق.

وإذ قد بلغ القول إلى هذا المنتهى فلنشرع بعد بعون الله في بيان أعداد الآي المنسوخة والمخصوصة على ترتيب السور كما وعدنا إن شاء الله تعالى، مع ما يتبعها من عوارض ولواحق بحول الله تعالى.
আর এটি অকল্পনীয়, তাই বক্তব্যের মর্মার্থ এই দাঁড়ায় যে, আল্লাহ যদি এমন কিছু ইচ্ছা করতেন যা অকল্পনীয় এবং যার অস্তিত্ব লাভ করা সম্ভব নয়, তবে তা অস্তিত্ব লাভ করত। এর ফলে বক্তব্যের প্রথমাংশ শেষাংশকে নাকচ করে দিত এবং এর কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকত না। আর যদি এর অর্থ এমন হয় যে, আল্লাহ যদি সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেন, তবে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে কাউকে মনোনীত করতেন—তার অসম্ভবতা সত্ত্বেও—তবে তিনি তাঁর সংবাদ (خبر)-এর মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তা সংঘটিত হবে না।

আর এই বিষয়টিই বাতিলপন্থীরা বুঝতে পারেনি, ফলে তারা বলেছে: আল্লাহ নিজের জন্য সন্তান গ্রহণে সক্ষম। তারা যা বলে তা থেকে তিনি পবিত্র ও মহান। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি ইচ্ছা করলে তোমার কাছে যা ওহি পাঠিয়েছি তা অবশ্যই তুলে নিতাম}। যেহেতু এটি বৈধ (جائز) ছিল যে তিনি কোনো রাসুল পাঠাবেন না, আর যখন তিনি পাঠিয়েছেন তখন এটিও বৈধ (جائز) ছিল যে তিনি তাঁকে এবং যা দিয়ে তাঁকে পাঠিয়েছেন তা তুলে নেবেন। কিন্তু তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ (خبر) দিয়েছেন যে তিনি তা করবেন না এবং স্পষ্ট করেছেন যে তাঁকে কিয়ামত পর্যন্ত রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে। সুতরাং বাস্তবতার বিপরীতে তা অসম্ভব হয়ে পড়েছে; এর সাথে ইচ্ছাকে সংশ্লিষ্ট করা মূলত বৈধ (جائز), কিন্তু সংবাদের (خبر) প্রেক্ষিতে এর অসম্ভাব্যতা তাঁর বাণীর মাধ্যমেই স্পষ্ট। আর যে ব্যক্তি জটিল বিষয়ের ব্যাধি থেকে আরোগ্য চায়, তার উচিত এর সংশ্লিষ্ট কিতাব অধ্যয়ন করা; আল্লাহই তাওফিকদাতা।

যেহেতু আলোচনা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাই এখন আমরা আল্লাহর সাহায্যে সুরার ক্রম অনুযায়ী রহিত (منسوخ) ও সুনির্দিষ্টকৃত (مخصوص) আয়াতসমূহের সংখ্যা বর্ণনায় প্রবৃত্ত হব, যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ ওয়াদা করেছিলাম; সাথে আনুষঙ্গিক ও সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহও আল্লাহর শক্তিতে বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌{سورة البقرة}

مدنية بإجماع ومعرفة المدني من المكي أمر عسير لم تبلغ إليه معرفة العلماء على التحقيق ولا ثبت فيه النقل على الصحيح. وإنما أراد الله أن يكون كذلك في سبيل الاحتمال حتى تختلف بالمجتهدين الأحوال، وأمثل ما تحصل لي في ذلك ما أورده على خلافه.

ذكر ما نزل من القرآن بمكة.

روى محمد بن علي عن أبيه: نزل بمكة: أربع وثمانون سورة وسائره بالمدينة، وعن ابن المسيب نحوه، وقال القاسم بن محمد عن عائشة رضي الله عنها: نزلت بمكة ست عشرة سورة قبل الهجرة: (اقرأ باسم ربك، ون والقلم، وتبت يدا أبي لهب، والكوثر، والأعلى، وألم نشرح، والفجر، ولم يكن الذين كفروا، وعبس وتولى، وإنا أنزلناه في ليلة القدر، والرحمن والجن، ويس، ومريم،
{সূরা আল-বাকারা}

এটি সর্বসম্মতভাবে (إجماع) মাদানি (مدنية)। মক্কি (مكي) থেকে মাদানি (مدنية) সূরার পার্থক্য নিরূপণ করা একটি কঠিন বিষয়, যা নিয়ে আলেমগণের জ্ঞান চূড়ান্ত গবেষণালব্ধ (التحقيق) পর্যায়ে পৌঁছেনি এবং এই বিষয়ে সঠিক (الصحيح) কোনো বর্ণনাও প্রমাণিত নয়। মূলত আল্লাহ তাআলা একে সম্ভাবনার (الاحتمال) পথে রাখতে চেয়েছেন যাতে মুজতাহিদগণের (المجتهدين) অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন হয়। আর এই বিষয়ে আমার নিকট যা প্রতিভাত হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্যটি আমি এর ভিন্নমতের বিপরীতে উপস্থাপন করছি।

মক্কায় কুরআনের যা অবতীর্ণ হয়েছে তার বর্ণনা।

মুহাম্মাদ ইবনে আলী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: মক্কায় চুরাশিটি সূরা নাজিল হয়েছে এবং অবশিষ্টগুলো মদিনায়। ইবনুল মুসাইয়িব থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন: হিজরতের পূর্বে মক্কায় ষোলটি সূরা নাজিল হয়েছিল: (ইকরা বিসমি রাব্বিকা, নুন ওয়াল কলাম, তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবিওঁ, আল-কাউসার, আল-আ’লা, আলাম নাশরাহ, আল-ফাজর, লাম ইয়াকুনিল্লাযিনা কাফারু, আবাসা ওয়া তাওয়াল্লা, ইন্না আনযালনাহু ফি লাইলাতিল কদর, আর-রাহমান ও আল-জিন, ইয়াসিন এবং মারইয়াম,
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১০)
والواقعة). وقال مجاهد (نزل بمكة خمس وثمانون سورة. اقرأ باسم ربك، ثم ن والقلم، ثم يا أيها المزمل، وآخرها بطريق مكة ــ ثم تبت يدا، ثم الأعلى، ثم ألم نشرح لك صدرك، ثم العصر، ثم الفجر، ثم الضحى، ثم الليل إذا يغشى، ثم العاديات ضبحا، ثم الكوثر ،ثم ألهاكم، ثم أرأيت، ثم قل يا أيا الكافرون، ثم الفيل، ثم قل هو الله أحد، ثم قل أعوذ برب الفلق، ثم قل أعوذ برب الناس، ويقال إنها مدنية ــ ثم عبس، ثم إنا أنزلناه في ليلة القدر، ثم الشمس وضحاها، ثم والسماء ذات البروج، ثم والتين والزيتون، ثم لإيلاف قريش، ثم القارعة، ثم لا أقسم بيوم القيامة، ثم ويل لكل همزة، ثم المرسلات، ثم ق والقرآن المجيد، ثم لا أقسم بهذا البلد، ثم الرحمن، ثم قل أوحي، ثم يسن، ثم (الفرقان) ، ثم ص، ثم المدثر، ثم تبارك، ثم الحمد لله فاطر، ثم سائر الملائكة، ثم مريم، ثم طه، ثم الشعراء، ثم طس، ثم القصص، ثم بني اسرائيل، ثم هود، ثم يونس، ثم يوسف، ثم سبأ، ثم الزمر، ثم الحجر، ثم الصافات، ثم لقمان ــ آخرها مدني ــ ثم الأنبياء، ثم حم المومن، ثم حم السجدة، ثم حم عسق، ــ منها آي مدني ـثم حم الزخرف، ثم حم الدخان، ثم حم الشريعة ثم الأحقاف _ (فيها) مدني _ثم
এবং আল-ওয়াকিয়া)। আর মুজাহিদ বলেন (মক্কায় পঁচাশটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। সেগুলো হলো: ইকরা বি-ইসমি রব্বিকা, এরপর নূন ওয়াল কলাম, এরপর ইয়া আইয়ুহাল মুজ্জাম্মিল—যার শেষভাগ মক্কার পথে অবতীর্ণ—এরপর তাব্বাত ইয়াদা, এরপর আল-আ’লা, এরপর আলাম নাশরাহ লাকা সদরাক, এরপর আল-আসর, এরপর আল-ফজর, এরপর আদ-দুহা, এরপর আল-লায়ল ইযা ইয়াগশা, এরপর আল-আদিয়াত দবহা, এরপর আল-কাওসার, এরপর আলহাকুমুত তাকাসুর, এরপর আরাআইতাল্লাযি, এরপর কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন, এরপর আল-ফিল, এরপর কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, এরপর কুল আউযু বি-রব্বিল ফালাক, এরপর কুল আউযু বি-রব্বিন নাস—বলা হয়ে থাকে যে এটি মাদানি (مدنية)—এরপর আবাসা, এরপর ইন্না আনযালনাহু ফী লাইলাতিল কদর, এরপর আশ-শামসু ওয়া দুহাহা, এরপর ওয়াস-সামায়ি যাতিল বুরুজ, এরপর ওয়াত-তীনি ওয়ায-যাইতূন, এরপর লি-ঈলাফি কুরাইশ, এরপর আল-কারিয়াহ, এরপর লা উকসিমু বি-ইয়াউমিল কিয়ামাহ, এরপর ওয়াইলুল লিকুল্লি হুমাজাহ, এরপর আল-মুরসালাত, এরপর ক্বফ ওয়াল কুরআনিল মাজিদ, এরপর লা উকসিমু বি-হাযাল বালাদ, এরপর আর-রাহমান, এরপর কুল ঊহিয়া, এরপর ইয়াসিন, এরপর (আল-ফুরকান), এরপর সোয়াদ, এরপর আল-মুদ্দাসসির, এরপর তাবারাকা, এরপর আল-হামদুলিল্লাহি ফাতির, এরপর সাইরুল মালাইকাহ, এরপর মারইয়াম, এরপর ত্বহা, এরপর আশ-শুয়ারা, এরপর ত্বসীন, এরপর আল-কাসাস, এরপর বনী ইসরাইল, এরপর হুদ, এরপর ইউনুস, এরপর ইউসুফ, এরপর সাবা, এরপর আয-যুমার, এরপর আল-হিজর, এরপর আস-সাফফাত, এরপর লুকমান—যার শেষাংশ মাদানি (مدني)—এরপর আল-আম্বিয়া, এরপর হা-মীম আল-মুমিন, এরপর হা-মীম আস-সাজদাহ, এরপর হা-মীম আইন-সীন-ক্বফ—যার কিছু আয়াত মাদানি (مدني)—এরপর হা-মীম আয-যুখরুফ, এরপর হা-মীম আদ-দুখান, এরপর হা-মীম আশ-শারীয়াহ, এরপর আল-আহকাফ—এতে মাদানি (مدني) আয়াত রয়েছে—এরপর...
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১১)
الذاريات، ثم الغاشية، ثم الكهف، ثم الأنعام، ثم النحل ــ آخرها مدني ــ ثم سورة نوح، ثم سورة إبراهيم، ثم سورة المؤمنون، ثم التنزيل السجدة، ثم الطور، ثم سورة الملك، ثم الحاقة، ثم المعارج، ثم عم يتساءلون، ثم النازعات، ثم الانشقاق، ثم البروج، ثم العنكبوت، ثم ويل للمطففين ــ ويقال إنها مدنية ــ ثم اقتربت، ثم الطارق. انتهى كلام مجاهد بلفظه.

قال القاضي أبو بكر رحمه الله: هذا الذي قاله الراوي عن مجاهد. أو مجاهد، لا سبيل إلى علمه، وفيها ما صح فساده، فإن الصحيح قد نقل أن الذي نزل من القرآن أولا إما القلم وإما المدثر إحداهما تالية الأخرى وثانيتها، فكيف تجعل هاهنا بعد كثير من سور القرآن؟ وليتنا علمنا ما نزل بالمدينة فكيف بنا أن نعلم ترتيب النزول واحدة بعد أخرى؟ هذا ما لا سبيل لمعرفته إلى أحد وقد روي عن أم (عامر) الأشلية رضي الله عنها قالت: "قرأت (قبل) أن يقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم من مكة للهجرة احدى وعشرين سورة. قلت ماهن؟ قالت: سورة مريم، وطه، وعبس وتولى، وإنا أنزلناه في ليلة القدر والشمس وضحاها، والسماء ذات البروج، والتين والزيتون، ولإيلاف قريش، والقارعة، ولا أقسم بيوم القيامة، وويل لكل همزة، والمرسلات، وق والقرآن، ولا أقسم بهذا البلد، والرحمن، وتبارك الذي بيده الملك، ويوسف حم المومن، وحم السجدة، وحم عسق، وحم (الجاثية) ، وثبت عن عبدالله بن مسعود رضي الله عنه أنه قال: " الكهف وبنو اسرائيل، وطه، وسورة الأنبياء، من تلادي الأول".
আয-যারিয়াত, এরপর আল-গাশিয়াহ, এরপর আল-কাহফ, এরপর আল-আনআম, এরপর আন-নাহল — এর শেষাংশ মাদানি (مدني) — এরপর সুরা নূহ, এরপর সুরা ইবরাহিম, এরপর সুরা আল-মুমিনুন, এরপর আত-তানজিল আস-সাজদাহ, এরপর আত-তুর, এরপর সুরা আল-মুলক, এরপর আল-হাক্কাহ, এরপর আল-মাআরিজ, এরপর আম্মা ইয়াতাসায়ালুন, এরপর আন-নাযিয়াত, এরপর আল-ইনশিকাক, এরপর আল-বুরূজ, এরপর আল-আনকাবুত, এরপর ওয়াইলুল লিল-মুতাফফিফিন — এবং বলা হয় যে এটি মাদানি (مدني) — এরপর ইকতরাবাত, এরপর আত-তারিক। মুজাহিদের বক্তব্য এখানে আক্ষরিকভাবে সমাপ্ত হলো।

কাযি আবু বকর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: মুজাহিদ থেকে বর্ণনাকারী (راوي) যা বলেছেন, অথবা মুজাহিদ যা বলেছেন, তা জানার কোনো পথ নেই। এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার অসারতা সহিহ (صحيح) ভাবে প্রমাণিত; কেননা সহিহ (صحيح) বর্ণনায় এসেছে যে, কুরআনের যা প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে তা হয় আল-কালাম অথবা আল-মুদ্দাসসির, যার একটি অন্যটির ঠিক পরেই অবতীর্ণ হয়েছিল। তবে কীভাবে এগুলোকে এখানে কুরআনের অনেক সুরার পরে স্থান দেওয়া হলো? আমরা যদি কেবল মদিনায় কী অবতীর্ণ হয়েছে তা-ই জানতে পারতাম! তবে আমাদের পক্ষে অবতরণের ধারাবাহিক ক্রম একটির পর একটি জানা কীভাবে সম্ভব? এটি জানার কোনো পথ কারো কাছে নেই। আর উম্মে আমের আল-আশলিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে আসার পূর্বে আমি একুশটি সুরা পাঠ করেছি।" আমি জিজ্ঞেস করলাম: সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: "সুরা মারইয়াম, ত্বহা, আবাসা ওয়া তাওয়াল্লা, ইন্না আনযালনাহু ফি লাইলাতিল কদর, আশ-শামস ওয়া দুহাহা, আস-সামাউ যাতিল বুরূজ, আত-তিন ওয়াত-যাইতুন, লি-ইলাফি কুরাইশ, আল-কারিয়াহ, লা উকসিমু বি-ইয়াওমিল কিয়ামা, ওয়াইলুল লিকুল্লি হুমাজাহ, আল-মুরসালাত, ক্বাফ ওয়াল কুরআন, লা উকসিমু বি-হাযাল বালাদ, আর-রাহমান, তাবারাকাল্লাযি বি-ইয়াদিহিল মুলক, ইউসুফ, হা-মিম আল-মুমিন, হা-মিম আস-সাজদাহ, হা-মিম আইন-সিন-ক্বাফ এবং হা-মিম আল-জাথিয়াহ।" আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আল-কাহফ, বনু ইসরাইল, ত্বহা এবং সুরা আল-আম্বিয়া আমার প্রাথমিক জীবনের অর্জিত সম্পদ।"
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১২)
وروى كريب عن ابن عباس رضي الله عنه أنه قال: "وجدنا في كتاب ابن عباس ــ وكان الكتاب عند كريب ــ أول ما نزل من القرآن بمكة: اقرأ باسم ربك، والليل إذا يغشى، ون والقلم، ويا أيها المزمل، ويا أيها المدثر، وتبت يدا أبي لهب، وإذا الشمس كورت، والأعلى، والضحى، وألم نشرح، والعصر، والعاديات، والكوثر، والتكاثر، والدين، والكافرون، والفيل، ثم الفلق ثم الناس، ثم قل هو الله أحد، ثم النجم، ثم عبس، ثم القدر، ثم الشمس وضحاها، ثم البروج، ثم التين والزيتون، ثم قريش، ثم القارعة، ثم لا أقسم بيوم القيامة، ثم ويل لكل همزة، ثم والمرسلات عرفا، ثم قاف والقرآن المجيد، ثم البلد، ثم الطارق، ثم اقتربت الساعة، ثم ص، ثم المص، ثم قل أوحي إلي، ثم يس، ثم الفرقان، ثم فاطر، ثم مريم، ثم طه ثم الواقعة، ثم الشعراء، ثم النمل ثم القصص، ثم بني اسرائيل، ثم هود، ثم يوسف، ثم الحجر، ثم الأنعام، ثم الصافات، ثم لقمان، ثم سبأ، ثم الزمر، ثم (المومن) ، ثم السجدة ثم حم عسق، (ثم) حم الزخرف، ثم حم الدخان ، ثم الجاثية، ثم الأحقاف ، ثم الذاريات ثم الغاشية، ثم الكهف، ثم النحل ثم نوح، ثم ابراهيم، ثم الأنبياء، ثم (المومنون) ، ثم تنزيل السجدة، ثم الطور، ثم تبارك الذي بيده الملك، ثم الحاقة، ثم سأل سائل، ثم النبأ، ثم النازعاتو ثم إذا السماء انفطرت، ثم ويل للمطففين.

ذكر ما نزل بالمدينة:

قال: "كريب" في كتابه عن ابن عباس رضي الله عنه: " نزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم حين هاجر: البقرة: والأنفال، وآل عمران، والأحزاب، والمائدة، والممتحنة، والنساء، واذا زلزلت، ثم الحديد، ثم الذين كفروا، ثم سورة الرعد، ثم الرحمن، ثم} هل أتى على الأنسان {ثم الطلاق، ثم} لم يكن الذين كفروا {ثم الحشر ثم} إذا جاء نصر الله {، ثم سورة النور، ثم سورة الحج، ثم المنافقون، ثم المجادلة، ثم
কুরাইব ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: "আমরা ইবনে আব্বাসের কিতাবে পেয়েছি — আর কিতাবটি কুরাইবের নিকট সংরক্ষিত ছিল — কোরআনের সর্বপ্রথম যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: ইকরা বিসমি রাব্বিকা (সূরা আলাক), অল-লাইলি ইযা ইয়াগশা (সূরা লাইল), নুন ওয়াল কলাম (সূরা কলাম), ইয়া আইয়ুহাল মুজ্জাম্মিল (সূরা মুজ্জাম্মিল), ইয়া আইয়ুহাল মুদ্দাসসির (সূরা মুদ্দাসসির), তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবিও (সূরা লাহাব), ইযাশ শামসু কুউয়িরাত (সূরা তাকউইর), আল-আ’লা, আদ-দুহা, আলাম নাশরহ (সূরা ইনশিরাহ), আল-আসর, আল-আদিয়াত, আল-কাউসার, আত-তাকাসুর, আদ-দীন (সূরা মাউন), আল-কাফিরুন, আল-ফিল, এরপর আল-ফালাক, এরপর আন-নাস, এরপর কুল হুয়াল্লাহু আহাদ (সূরা ইখলাস), এরপর আন-নাজম, এরপর আবাসাহ, এরপর আল-কদর, এরপর আশ-শামসু ওয়া দুহাহা (সূরা শামস), এরপর আল-বুরুজ, এরপর আত-তীন ওয়াজ-জাইতুন, এরপর কুরাইশ, এরপর আল-কারিয়াহ, এরপর লা উকসিমু বি-ইয়াউমিল কিয়ামাহ (সূরা কিয়ামাহ), এরপর ওয়াইলুল লিকুল্লি হুমাজাহ (সূরা হুমাজাহ), এরপর ওয়াল মুরসালাতি উরফা (সূরা মুরসালাত), এরপর কাফ ওয়াল কুরআনিল মাজিদ (সূরা কাফ), এরপর আল-বালাদ, এরপর আত-তারিক, এরপর ইকতরাবাতিস সা’আহ (সূরা কামার), এরপর সোয়াদ, এরপর আল-মিম-সোয়াদ (সূরা আরাফ), এরপর কুল উহিয়া ইলাইয়া (সূরা জিন), এরপর ইয়াসীন, এরপর আল-ফুরকান, এরপর ফাতির, এরপর মারইয়াম, এরপর তাহা, এরপর আল-ওয়াকিয়াহ, এরপর আশ-শুয়ারা, এরপর আন-নামল, এরপর আল-কাসাস, এরপর বনী ইসরাঈল (সূরা ইসরা), এরপর হুদ, এরপর ইউসুফ, এরপর আল-হিজর, এরপর আল-আনআম, এরপর আস-সাফফাত, এরপর লুকমান, এরপর সাবা, এরপর আজ-জুমার, এরপর আল-মুমিন (সূরা গাফির), এরপর আস-সাজদাহ (সূরা ফুসসিলাত), এরপর হামীম আইন-সীন-কাফ (সূরা শুরা), এরপর হামীম আজ-জুখরুফ, এরপর হামীম আদ-দুখান, এরপর আল-জাছিয়াহ, এরপর আল-আহকাফ, এরপর আজ-জারিয়াত, এরপর আল-গাশিয়াহ, এরপর আল-কাহফ, এরপর আন-নাহল, এরপর নূহ, এরপর ইবরাহিম, এরপর আল-আনবিয়া, এরপর আল-মুমিনুন, এরপর তানজিলুস সাজদাহ (সূরা সাজদাহ), এরপর আত-তুর, এরপর তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক (সূরা মুলক), এরপর আল-হাক্কাহ, এরপর সাআলা সাইয়িল (সূরা মা’আরিজ), এরপর আন-নাবা, এরপর আন-নাজিআত, এরপর ইযাস সামাউ উনফাতারাত (সূরা ইনফিতার), এরপর ওয়াইলুল লিল-মুতাফফিফিন।

মদিনায় যা অবতীর্ণ হয়েছে তার বিবরণ:

কুরাইব তাঁর কিতাবে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরত করেন তখন তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়: আল-বাকারাহ, আল-আনফাল, আলে ইমরান, আল-আহজাব, আল-মায়িদাহ, আল-মুমতাহিনা, আন-নিসা, ইযা জুলযিলাত (সূরা যিলযাল), এরপর আল-হাদীদ, এরপর আল্লাযীনা কাফারু (সূরা মুহাম্মদ), এরপর সূরা আর-রা’দ, এরপর আর-রহমান, এরপর 'হাল আতা আলাল ইনসান' (সূরা ইনসান), এরপর আত-তালাক, এরপর 'লাম ইয়াকুনিল্লাযীনা কাফারু' (সূরা বাইয়্যিনাহ), এরপর আল-হাশর, এরপর 'ইযা জাআ নাসরুল্লাহ' (সূরা নাসর), এরপর সূরা আন-নূর, এরপর সূরা আল-হাজ্জ, এরপর আল-মুনাফিকুন, এরপর আল-মুজাদালাহ, এরপর"
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৩)
الحجرات، ثم التحريم، ثم الجمعة ثم التغابن، ثم الحواريون، ثم {إنا فتحنا لك} ، ثم التوبة. فذلك ثماني وعشرون سورة". وكذلك يروى عن ابن الزبير رضي الله عنه: " نزل بالمدينة ثمان وعشرون سورة وسائرها بمكة". زاد عبدالله بن عياش بن أبي ربيعة: "والمائدة والممتحنة والحديد، والحج والرعد، واقتربت الساعة".

واتفق كثير من المفسرين على أن قوله تعالى: {يا أيها الناس} مكي وقوله: {يا أيها الذين آمنوا} مدني. وروي عن ابن مسعود رضي الله عنه: قرأنا المفصل حججا ليس فيه: {يا أيها الذين آمنوا}. وقال "يزيد بن رومان: ربما نزل أول السورة بمكة وآخرها بالمدينة. وسورة الأنعام بعضها مكي وبعضها مدني، وسورة النحل والتطفيف كذلك، وروي عن مجاهد في تعداد سور المدينة نحو مما قال كريب، وقد روي أن سورة الأنعام نزلت جملة ليلا على النبي " معها سبعون ألف ملك وخمسون ألف ملك لهم زجل وتسبيح، ولقد جمعت لها الشياطين وجاءني بها جبريل حتى أقرها في صدري كما يقر الماء في الحوض، ولقد
আল-হুজুরাত, এরপর আত-তাহরিম, এরপর আল-জুমুআ, এরপর আত-তাগাবুন, এরপর আল-হাওয়ারিয়ুন, এরপর {ইন্না ফাতাহনা লাকা}, এরপর আত-তাওবাহ। এ হলো মোট আটাশটি সূরা। একইভাবে ইবনে আল-যুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (يروى) হয়েছে: "মদীনায় আটাশটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে এবং অবশিষ্টাংশ মক্কায়।" আবদুল্লাহ ইবনে আইয়্যাশ ইবনে আবি রাবিআ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "এবং আল-মায়িদাহ, আল-মুমতাহিনাহ, আল-হাদিদ, আল-হজ্জ, আর-রাদ এবং ইকতারাবতিস সাআহ।"

অনেক মুফাসসির এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী: {হে মানবজাতি} মক্কি (مكي) এবং তাঁর বাণী: {হে মুমিনগণ} মাদানি (مدني)। ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে: "আমরা দীর্ঘকাল মুফাসসাল সূরাগুলো পাঠ করেছি যার মধ্যে {হে মুমিনগণ} বাক্যটি ছিল না।" ইয়াজিদ ইবনে রুমান বলেন: "কখনো সূরার প্রথমাংশ মক্কায় এবং শেষাংশ মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। সূরা আল-আনআমের কিছু অংশ মক্কি (مكي) এবং কিছু অংশ মাদানি (مدني), সূরা আন-নাহল এবং সূরা আত-তাতফিফ-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।" মদীনার সূরাগুলোর গণনার বিষয়ে মুজাহিদ থেকে কুরাইব যা বলেছেন তারই অনুরূপ বর্ণিত (روي) হয়েছে। এটিও বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, সূরা আল-আনআম রাতে একত্রে নবীর ওপর নাযিল হয়েছিল, যার সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা এবং পঞ্চাশ হাজার ফেরেশতা উচ্চস্বরে তাসবিহ পাঠ করছিলেন। শয়তানরা এর বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছিল এবং জিবরাঈল এটি নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি এটি আমার হৃদয়ে এমনভাবে বদ্ধমূল করে দিলেন যেমনভাবে হাউজে পানি স্থির থাকে।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৪)
أعزني الله تعالى وإياكم بها عزا لا يذلنا بعه ابدا، فيها دحض حجج المشركين ووعد الله جل ثناؤه لا يخلفه".

ذكر آخر ما نزل من القرآن: قوله تعالى: {اليوم اكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي} الآية. نزلت على النبي صلى الله عليه وسلم بعرفة في حجة يوم الجمعة، وثبت أن آخر سورة نزلت التوبة، وآخر آية نزلت {قل الله يفتيكم في الكلالة} رواه البراء.

وثبت أنه روي عن عمرو بن العاص رضي الله عنه: آخر سورة نزلت المائدة.

وروي عن ابن عباس رضي الله عنه: " آخر آية نزلت: الربا "وقد ثبت ذلك ايضا من غير طريقة، وروى عن ابن عباس رضي الله عنه: آخر سورة نزلت سورة الفتح" ولم يصح.

مدرجة:

تعرض بعض المفسرون لتنويع السور في الناسخ والمنسوخ فقال: سورة الفتح، والحشر، والمنافقين والتغابن، والطلاق، والأعلى، ليس فيها ناسخ ولا منسوخ فهذه
আল্লাহ তাআলা আমাকে এবং আপনাদেরকে এর মাধ্যমে এমন সম্মান দান করুন যার মাধ্যমে তিনি আমাদের কখনোই অপদস্থ করবেন না। এতে মুশরিকদের যুক্তিসমূহ খণ্ডন করা হয়েছে এবং আল্লাহ জল্লা সানাউহু-এর ওয়াদা রয়েছে যা তিনি খেলাফ করেন না।

কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ অংশ সম্পর্কে আলোচনা: মহান আল্লাহর বাণী: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম} (আয়াত)। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর আরাফায় জুমার দিনে বিদায় হজের সময় অবতীর্ণ হয়েছিল। এবং এটি প্রমাণিত (ثبت) যে সর্বশেষ অবতীর্ণ হওয়া সূরা হলো আত-তাওবাহ, আর সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো {বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে ‘কালালাহ’ সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন} এটি বারা (রা.) বর্ণনা করেছেন।

এবং এটি প্রমাণিত (ثبت) যে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে: সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হলো আল-মায়িদাহ।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে: "সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো: সুদের আয়াত।" এটি ভিন্ন সূত্রেও প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে: "সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হলো সূরা আল-ফাতহ", তবে এটি সহিহ (صح) নয়।

প্রক্ষিপ্ত (مدرجة):

জনৈক মুফাসসিরগণ নাসিখ (ناسخ) ও মানসুখ (منسوخ) এর ভিত্তিতে সূরাসমূহের শ্রেণিবিভাগ করতে গিয়ে বলেছেন: সূরা আল-ফাতহ, আল-হাশর, আল-মুনাফিকুন, আত-তাগাবুন, আত-তালাক এবং আল-আ’লা—এগুলোতে কোনো নাসিখ (ناسخ) নেই এবং মানসুখ (منسوخ) নেই, সুতরাং এগুলো...
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৫)
ست. وسورة الأنعام، والأعراف ويونس، وهود، والرعد، والحجر، وبنو إسرائيل، والكهف، وطه، والمومنون، والنمل، والقصص، والعنكبوت، والروم، ولقمان، والمضاجع، والملائكة، والصافات، وص، والزمر، والمصابيح، والزخرف، والدخان، والجاثية، والاحقاف، وسورة محمد عليه السلام، والباسقات والنجم والقمر، والامتحان، ون، والمعارج، والمدثر، و (القيامة) ، والإنسان، وعبس، والطلاق، والغاشية، و (التين) ، والكافرون، فهذه أربعون سورة فيها منسوخ وليس فيها ناسخ. وأما البقرة، وآل عمران، والنساء، والمائدة، و (الأعراف الأنفال) والتوبة وابراهيم، والنحل، والأنبياء والحج والنور، والفرقان، والشعراء، والأحزاب وسبأ، والمومن والشورى، والذاريات، والطور، والواقعة والمجادلة، والمزمل، والكوثر، والعصر، فيدخلها الناسخ والمنسوخ.

قال القاضي أبو بكر بن العربي رحمه الله: وفي هذا تجاوز عظيم، سترى تحقيقها واردة على السور إن شاء الله، على مدارج كمدارج النجوم، جارية
ছয়। এবং সূরা আন'আম, আল-আরাফ, ইউনুস, হুদ, রা'দ, আল-হিজর, বনী ইসরাঈল, আল-কাহাফ, ত্বহা, আল-মুমিনুন, আন-নামল, আল-কাসাস, আল-আনকাবুত, আর-রূম, লুকমান, আল-মাদাজি‘ (সাজদাহ), আল-মালাইকা (ফাতির), আস-সাফফাত, সোয়াদ, আয-যুমার, আল-মাসাবিহ (ফুসসিলাত), আয-যুখরুফ, আদ-দুখান, আল-জাছিয়াহ, আল-আহকাফ, সূরা মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাম), আল-বাসিকাত (ক্বাফ), আন-নাজম, আল-কামার, আল-ইমতিহান (মুমতাহিনাহ), নূন (ক্বলম), আল-মাআরিজ, আল-মুদ্দাসসির, আল-কিয়ামা, আল-ইনসান, আবাসা, আত-তালাক, আল-গাশিয়া, আত-তীন এবং আল-কাফিরুন; এই হলো চল্লিশটি সূরা যাতে রহিত (منسوخ) বিষয় রয়েছে কিন্তু কোনো রহিতকারী (ناسخ) বিষয় নেই। আর বাকারা, আল-ইমরান, নিসা, মায়িদাহ, আল-আরাফ, আল-আনফাল, তাওবাহ, ইবরাহীম, নাহল, আম্বিয়া, হাজ্জ, নূর, ফুরকান, শুআরা, আহযাব, সাবা, মুমিন (গাফির), শূরা, যারিয়াত, তূর, ওয়াকিআহ, মুজাদিলাহ, মুযযাম্মিল, কাওসার এবং আসর; এগুলোর মধ্যে রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হয়।

কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এর মধ্যে বড় ধরনের অতিশয়োক্তি রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আপনি সূরাগুলোর ওপর এর যথাযথ বিশ্লেষণ দেখতে পাবেন, যা নক্ষত্ররাজির কক্ষপথের ন্যায় সুশৃঙ্খল ও পর্যায়ক্রমিকভাবে চলমান।"
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৬)
على ما ينبغي معرفته فيها من العلوم، والذي علمناه على الجملة من القرآن في هذه الطريق، أن منه مكيا ومدنيا، وسفريا وحضريا، وليليا ونهاريا، وسمائيا أرضيا، وما نزل بين السماء والأرض، وما نزل تحت الأرض في الغار.

أخبرنا أبو بكر الفهري قرأته عليه: اخبرنا التميمي، أخبرنا هبة الله المفسر أنه قال: القرآن نزل بين مكة والمدينة إلا ست آيات لم تنزل في الأرض ولا في السماء: ثلاثة في سورة الصافات وهي قوله تعالى: {وما منا إلا له مقام معلوم} إلى آخر الثلاث الآيات، وواحة في الزخرف {واسأل من أرسلنا من قبلك من رسلنا، أجعلنا من دون الرحمن آلهة يعبدون}. والآيتان الآخرتان من سورة البقرة.

قال القاضي أبو بكر بن العربي رحمه الله: في صحيح مسلم عن ابن عباس قال: " بينا جبريل قاعد عند النبي صلى الله عليه وسلم سمع نقيضا من فوقه فرفع رأسه فقال: هذا باب من السماء فتح اليوم لم يفتح قط إلا اليوم فنزل منه ملك فقال: هذا ملك نزل إلى الأرض لم ينزل قط إلا اليم فسلم وقال: أبشر بنورين أوتيتهما لم يوتهما نبي قبلك: فاتحة الكتاب وخواتيم سورة البقرة، لن تقرأ بحرف منها إلا أعطيته".
এই শাস্ত্রে যা কিছু জানা প্রয়োজন, এবং এই পথে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আমরা সাধারণভাবে যা জেনেছি তা হলো—কুরআনের আয়াতসমূহ মক্কি (مكي), মাদানি (مدني), সফরকালীন (سفري), আবাসনকালীন (حضري), রাত্রিকালীন (ليلي), দিবাচরী (نهاري), আসমানি (سمائي) এবং জমিনি (أرضي) প্রকৃতির হয়ে থাকে; আবার কিছু আয়াত আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে অবতীর্ণ হয়েছে, আর কিছু অবতীর্ণ হয়েছে জমিনের নিচে গুহার অভ্যন্তরে।

আবু বকর আল-ফিহরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমি তাঁর নিকট এটি পাঠ করেছি: আত-তামিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুফাসসির (مفسر) হিবাতুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলেন: কুরআন মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থানে অবতীর্ণ হয়েছে, তবে ছয়টি আয়াত ব্যতিরেকে যেগুলো জমিনে বা আসমানে অবতীর্ণ হয়নি: তিনটি সুরা আস-সাফফাত-এ, যা মহান আল্লাহর বাণী: "আমাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে সুনির্দিষ্ট অবস্থান" থেকে পরবর্তী তিনটি আয়াত পর্যন্ত; একটি সুরা আজ-জুুখরুফে: "তোমার পূর্বে আমি যেসব রাসুল প্রেরণ করেছি তাদের জিজ্ঞেস করো, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য স্থির করেছিলাম যাদের ইবাদত করা হতো?"; এবং অপর দুটি আয়াত হলো সুরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত।

কাজি আবু বকর ইবনুল আরাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সহিহ মুসলিম গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: "একদা জিবরিল (আলাইহিস সালাম) নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় তিনি ওপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন এবং মাথা তুললেন। অতঃপর বললেন: 'এটি আসমানের একটি দরজা যা আজ খোলা হয়েছে, যা আজকের আগে কখনো খোলা হয়নি।' অতঃপর সেখান থেকে একজন ফেরেশতা অবতরণ করলেন। তিনি বললেন: 'এই ফেরেশতা জমিনে নেমে এসেছেন যিনি আজকের আগে কখনো অবতরণ করেননি।' সেই ফেরেশতা সালাম দিলেন এবং বললেন: 'আপনি এমন দুটি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে, যা আপনার পূর্বে অন্য কোনো নবিকে দেওয়া হয়নি: সুরা ফাতিহা এবং সুরা আল-বাকারার শেষাংশ। আপনি এর প্রতিটি অক্ষর যা-ই পাঠ করবেন, আপনাকে তা (এর প্রতিদান) প্রদান করা হবে'।"
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌ذكر تعداد الآيات:

قال الإمام القاضي أبو بكر بن العربي رحمه الله: ذكر أصحاب التفسير في هذه السورة نحوا من ثلاثين آية، الداخل منها في قسم النسخ سبع آيات، ومنها في قسم المخصوص والمحكم ما بقي بعد هذا العدد.

 

‌‌الآية الأولى: {قوله تعالى كتب عليكم إذا حضر أحدكم الموت إن ترك خير الوصية للوالدين والأقربين بالمعروف، حقا على المتقين}.

قال علماؤنا وابن القاسم عن مالك": هذه الآية نزلت قبل الفرائض ثم أنزل الله الفرائض في المواريث فنسخت الوصية للوالدين ولكل وارث إلا أن تأذن الورثة في شيء فيجوز".

اتفق الكل على أنها منسوخة واختلفوا في ناسخها على أربعة أقوال:

الأول: أن ناسخها آية المواريث.
‌‌আয়াত সংখ্যা গণনা সংক্রান্ত আলোচনা:

ইমাম আল-কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: মুফাসসিরগণ এই সূরায় প্রায় ত্রিশটি আয়াতের কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রহিত (منسوخ) হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে সাতটি আয়াত, আর অবশিষ্টগুলো সুনির্দিষ্ট (مخصوص) এবং সুদৃঢ় (محكم) বিধানের অন্তর্ভুক্ত।

 

‌‌প্রথম আয়াত: {আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমাদের কারও নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে কোনো ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে তার পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায়সঙ্গত পন্থায় অসিয়ত করার বিধান তোমাদের জন্য আবশ্যক করা হলো; এটি মুত্তাকিদের জন্য একটি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।"}

আমাদের উলামায়ে কেরাম এবং ইবনুল কাসিম ইমাম মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন: "এই আয়াতটি উত্তরাধিকারের অকাট্য বিধান (الفرائض) নাজিল হওয়ার আগে অবতীর্ণ হয়েছিল। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা মিরাস সংক্রান্ত অকাট্য বিধান (الفرائض) অবতীর্ণ করেন এবং পিতামাতা ও প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর (وارث) জন্য অসিয়ত করার বিধানটি রহিত (منسوخ) করে দেন; তবে উত্তরাধিকারীগণ (الورثة) কোনো বিষয়ে অনুমতি দিলে তা বৈধ হবে।"

এটি রহিত (منسوخ) হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত হয়েছেন, তবে এর রহিতকারী (ناسخ) আয়াত সম্পর্কে চারটি অভিমত রয়েছে:

প্রথম: এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মিরাস বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াত।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৮)
الثاني: أن ناسخها قوله تعالى: {وإذا حضر القسمة أولوا القربى واليتامى والمساكين فارزقوهم منه وقولوا لهم قولا معروفا}.

الثالث: أنه نسخها أن الله أعطى كل ذى حق حقه لا وصية لوارث.

الرابع: أنه نسخها بإجماع الأمة على إبطالها وأن الوصية لا تجوز لأحد ممن سمى الله له فرضامعروفا او جعل له النبي صلى الله عليه وسلم حقا مفروضا.

قال القاضي أبو بكر بن العربي رحمه الله: قد بينا في شروط النسخ استحالة الجمع بين الدليلين، وشرطنا أيضا معرفة التأخر والتقدم، وليس بين آية الوصية وآية المواريث هاتين تعارض، ولا عندنا من معرفة المتقدمة منهما من المتأخرة أصل ولا سيما والوصية مشروعة لبعض الأقربين. وأما من قال إن ناسخها قوله تعالى في سورة النساء {وإذا حضر القسمة أولوا القربى واليتامى والمساكين فارزقوهم منه} فلا يصح لأنه لا مضادة بينهما أصلا. وقد (بينا) أن القسمة تكون بين الورثة فمن حضرها من غيرهم ففيهم تكون القسمة من ذي القربى وغيره.

وقد بيناه في الأحكام وأما من قال إنه نسخها (لا وصية لوارث) فنقول بذلك لو كان خبرا صحيحا متواترا حتى يماثل الناسخ المنسوخ ي العلم والعمل كما شرطناه بيد أنه ليس له في الصحة اصل، وأما من قال نسخها إجماع الأمة، فقد
দ্বিতীয়ত: এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর যখন বণ্টনের সময় নিকটাত্মীয়, এতিম ও অভাবীরা উপস্থিত হয়, তখন তাদের সেখান থেকে কিছু দাও এবং তাদের সাথে সদালাপ করো।"

তৃতীয়ত: একে রহিত করেছে এই মূলনীতি যে, আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করেছেন; সুতরাং কোনো উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়ত (وصية) নেই।

চতুর্থত: এটি রহিত হয়েছে উম্মতের ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা এর বাতিলের ওপর; আর অসিয়ত (وصية) বৈধ নয় এমন কারো জন্য যার জন্য আল্লাহ সুনির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করেছেন কিংবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যার জন্য কোনো নির্ধারিত হক সাব্যস্ত করেছেন।

কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমরা রহিতকরণের (النسخ) শর্তাবলীতে বর্ণনা করেছি যে, দুটি দলিলের (دليل) মাঝে সমন্বয় অসম্ভব হওয়া আবশ্যক। আমরা আরও শর্তারোপ করেছি যে, কোনটি আগে এবং কোনটি পরে তা জানা থাকতে হবে। অসিয়তের আয়াত এবং মিরাসের আয়াত—এই দুটির মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আর এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি অগ্রবর্তী এবং কোনটি পরবর্তী সে সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো মূল সূত্র নেই; বিশেষ করে অসিয়ত (وصية) যেখানে কিছু নিকটাত্মীয়ের জন্য শরিয়তসম্মত। আর যারা বলেন যে, এর রহিতকারী (ناسخ) হলো সূরা আন-নিসার মহান আল্লাহর বাণী—"আর যখন বণ্টনের সময় নিকটাত্মীয়, এতিম ও অভাবীরা উপস্থিত হয় তখন তাদের সেখান থেকে কিছু দাও"—তাদের এই দাবি সঠিক নয়; কারণ এই দুইয়ের মাঝে বিন্দুমাত্র কোনো বৈপরীত্য নেই। আমরা ইতিপূর্বেও বর্ণনা করেছি যে, বণ্টন হবে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে, আর তাদের বাইরে যারা উপস্থিত হবে তাদের মধ্যে যারা নিকটাত্মীয় বা অন্যরা আছে, তাদেরকে এর থেকে প্রদান করা হবে।

আমরা তা ‘আহকাম’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছি। আর যারা বলেন যে, "কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত নেই" এই হাদিসটি একে রহিত করেছে, তাদের ক্ষেত্রে আমরা বলব—যদি এটি একটি সহিহ (صحيح) ও মুতাওয়াতির (متواتر) বর্ণনা (خبر) হতো তবে আমরা তা গ্রহণ করতাম, যাতে জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিতকৃত (منسوخ) বিষয়ের মাঝে সমতা থাকত যেমনটি আমরা শর্তারোপ করেছি। কিন্তু এই হাদিসটির সহিহ (صحة) হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো মূল ভিত্তি নেই। আর যারা বলেন যে, এটি উম্মতের ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা রহিত হয়েছে, তারা...
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৯)
اتفق علماؤنا على أن الإجماع لا ينسخ لأنه ينعقد بعد موت النبي صلى الله عليه وسلم وتجديد شرع بعده لا يتصور. هذا الظاهر على الجملة، بيد أن فيه تفصيلا بديعا: وذلك أن الإجماع ينعقد على أثر ونظر، فأن كان ناسخا، ويكون الناسخ الخبر الذي انبنى عليه الإجماع، وهذه مسألتنا بعينها، فإن الأمة إنما جمعت رأيها على اسقاط الوصية للوالدين لقول النبي صلى الله عليه وسلم لكنه درس وبقي الاجماع الممهد المقطوع بصحته. أما أنه قد بقي ما يدل عليه في الحديث الصحيح وهو قول النبي صلى الله عليه وسلم (ألحقوا الفرائض بأهلها فما أبقت القسمة فهو لأولى عصبة ذكر).

تكملة:

لما نسخت الوصية للوالدين بالمواريث بقيت الوصية فيمن لم يرث من القرابة مندوبا فنسخ من الآية حتم الوصية بالمال للقرابة ونسخ جوازها أصلا لمن يرث وبقي ندبها فيمن لا يرث وهذا تحقيق بالغ. فأما فرض الوصية على المسلمين فقد بيناها في موضعها والله أعلم.

আমাদের বিশেষজ্ঞ আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ইজমা (الإجماع) কোনো বিধানকে রহিত (ينسخ) করে না; কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর সংঘটিত হয় এবং তাঁর পরে নতুন শরিয়ত প্রবর্তন কল্পনা করা যায় না। এটি বাহ্যিকভাবে মোটের ওপর সঠিক, তবে এর মধ্যে একটি চমৎকার বিশ্লেষণ রয়েছে: আর তা হলো এই যে, ইজমা (الإجماع) কোনো বর্ণনা (أثر) এবং গবেষণালব্ধ অন্তর্দৃষ্টির (نظر) ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং যদি কোনো ক্ষেত্রে একে রহিতকারী (ناسخ) মনে করা হয়, তবে মূলত সেই খবর বা বর্ণনাটিই (الخبر) রহিতকারী (الناسخ) হবে যার ওপর ইজমা (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটিই আমাদের নির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়। কেননা উম্মত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর পরিপ্রেক্ষিতেই পিতামাতার অনুকূলে অসিয়ত করার বিধান বাতিলের বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছে; তবে সেই মূল বর্ণনাটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ও অকাট্য বিশুদ্ধ (المقطوع بصحته) হিসেবে পরিগণিত ইজমাটি (الإجماع) অবশিষ্ট রয়েছে। তবে সহিহ (صحيح) হাদিসে এর স্বপক্ষে প্রমাণ অবশিষ্ট রয়েছে, আর তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "তোমরা নির্ধারিত অংশগুলো (ফারায়েজ) তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।"

পরিশিষ্ট:

যখন মিরাস বা উত্তরাধিকার আইনের মাধ্যমে পিতামাতার অনুকূলে অসিয়তের বিধান রহিত (نسخت) করা হলো, তখন নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যারা উত্তরাধিকারী নয় তাদের জন্য অসিয়ত করার বিষয়টি পছন্দনীয় (مندوبا) হিসেবে থেকে গেল। সুতরাং সংশ্লিষ্ট আয়াতটি থেকে নিকটাত্মীয়দের জন্য সম্পদের অসিয়ত করার আবশ্যকতা রহিত (نسخ) করা হয়েছে এবং যারা উত্তরাধিকারী হবে তাদের জন্য অসিয়তের বৈধতাকেও সমূলে রহিত (نسخ) করা হয়েছে। আর যারা উত্তরাধিকারী নয়, তাদের জন্য এর পছন্দনীয়তা (ندب) বহাল রয়ে গেছে। এটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও চূড়ান্ত বিশ্লেষণ। আর মুসলমানদের ওপর অসিয়তের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট স্থানে বর্ণনা করেছি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الآية الثانية: قوله تعالى: {وعلى الذين يطيقونه فدية طعام مساكين} هذه الآية منسوخة بقوله تعالى: {فمن شهد منكم الشهر فليصمه} لأن الله سبحانه فرض رمضان وأباح الفدية. يروى عن معاذ وغيره.

قال: " ثم أوجب الله على الصحيح المقيم بقوله: {فمن شهد منكم الشهر فليصمه} وثبت الإطعام على من لم يطق الصيام إذا أفطر من كبر" وهو قول ابن عمر، وعكرمة، والحسن، وقتادة، رضي الله عنهم وروي عن عائشة رضي الله عنها مثله وقرأته " وعلى الذين يطوقونه" وبه قال
দ্বিতীয় আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যাদের জন্য তা (রোজা রাখা) কষ্টসাধ্য, তাদের বিনিময় (ফিদইয়া) হলো একজন মিসকিনকে অন্নদান করা}। এই আয়াতটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (منسوخ) হয়েছে: {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাসটি পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে}। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং (শুরুতে) ফিদইয়া প্রদানের অনুমতি দিয়েছিলেন। এটি মুআজ এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত (يروى) হয়েছে।

তিনি বলেন: "অতঃপর আল্লাহ তাআলা সুস্থ ও মুকিম (নিবাসি) ব্যক্তির ওপর তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে রোজা আবশ্যক (أوجب) করেছেন: {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাসটি পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে}। আর যে ব্যক্তি বার্ধক্যের কারণে রোজা পালনে সক্ষম নয়, সে রোজা ভঙ্গ করলে তার জন্য খাদ্য প্রদানের বিধান সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে।" এটি ইবনে ওমর, ইকরিমা, হাসান এবং কাতাদা (রা.)-এর অভিমত। আয়েশা (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত (روي) হয়েছে। আর আমি এটি "ওয়া আলাল্লাজিনা ইয়ুত্বাওয়্যাকুনাহু" (يطوقونه) হিসেবে পাঠ করেছি এবং তিনি এই মতই ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২১)
مالك في إحدى رواياته فهذا قول الثاني أن الإطعام يستحب للكبير. قاله مالك، والحامل تفطر وتقضي دون فدية وتفطر المرضع وتفدي.

الثالث: قال وهب عنه: المراد بهذه الآية الرجل يفطر لمرض أو سفر ثم لا يقضي حتى يأتي عام آخر فيصومه ثم يقضي ما فاته من العام قبله ثم يفتدي عن التأخير وهذا قول زيد بن أسلم.

الرابع: قراءة مجاهد (يطوقونه) وروى عن ابن عباس أنه قرأها (يطيقونه) وهو نحو من الأول.

الخامس: المعنى بقوله (يطيقونه) يعني يطيقون الإطعام ولا يقدرون على الصيام وقد يرجع الضمير على ما بعده كما قال: {فأصلح بينهم} فرجع الضمير على متقدم الذكر قاله ابن الأنباري قال القاضي أبو بكر رحمه
ইমাম মালেক তার অন্যতম একটি বর্ণনা (رواية)-তে উল্লেখ করেছেন। এটি দ্বিতীয় অভিমত যে, বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য খাদ্য দান করা মুস্তাহাব (مستحب)। এটি ইমাম মালেক বলেছেন। গর্ভবতী নারী রোজা ভঙ্গ করবেন এবং ফিদইয়া (فدية) ছাড়াই কাজা (قضاء) করবেন; আর স্তন্যদানকারী নারী রোজা ভঙ্গ করবেন এবং ফিদইয়া (فدية) প্রদান করবেন।

তৃতীয়: ওয়াহাব তার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যক্তি যে অসুস্থতা বা সফরের কারণে রোজা ভঙ্গ করে, এরপর পরবর্তী বছর না আসা পর্যন্ত তা কাজা (قضاء) করে না; অতঃপর সে ওই বছরের রোজা পালন করে এবং আগের বছরের অনাদায়ী রোজা কাজা (قضاء) করে, এরপর বিলম্ব করার কারণে ফিদইয়া (فدية) প্রদান করে। এটি জায়েদ ইবনে আসলামের উক্তি।

চতুর্থ: মুজাহিদের কিরাত (قراءة) হলো ‘ইউতাউওয়াকুনাহু’ (يطوقونه)। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত (مروي) হয়েছে যে, তিনি এটি ‘ইউতিকুনাহু’ (يطيقونه) পাঠ করতেন, যা প্রথম মতের অনুরূপ।

পঞ্চম: ‘ইউতিকুনাহু’ (يطيقونه) বাক্যাংশের অর্থ হলো, তারা খাদ্য দানে সক্ষম কিন্তু রোজা পালনে সক্ষম নয়। কখনো কখনো সর্বনাম (ضمير) পরবর্তী পদের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "তবে তাদের মাঝে মীমাংসা করে দাও"; এখানে সর্বনামটি পূর্বে উল্লিখিত আলোচনার দিকে ফিরেছে। এটি ইবনে আনবারি বলেছেন। কাজী আবু বকর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন...
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২২)
الله: أما القول بأن الضمير يرجع إلى الإطعام فهو قول ضعيف لن الضمير إنما يرجع إلى ما بعده لضرورة لا يمكن غيرها كقول الشاعر:

جزى ربه عني عدي بن حاتم … جزاء الكلاب العاويات وقد فعل

فصرف الضمير في الرب إلى المتأخر الذكر لأنه لم يمكن غيرة وإن كان جاء ذكره بعد ذلك، وأما قوله تعالى: {فأصلح بينهم} فإنما يرجع إلى متقدم الذكر في الكلام لأنه قال: {فمن خاف من موص جنفا} فاقتضى قوله سبحانه {من موص} موصى عليه وموصى به، والموصى إليه المقتضى هاهنا هم الوالدان والأقربون الذين تقدم ذكرهم، فرجع الضمير إليهم في قول: (بينهم) وهذا لا خفاء به على الشاذين فضلا عن الراسخين.

وأما من قال يطوقونه بضم الياء وبفتحها وكذلك ما ينسب إلى ابن عباس رضي الله عنه فلا يعول عليه لأنه شاذ لا (يوجب علما ولا) عملا لاتفاق الأمة على رفضه في ذلك.

وأما من قال إنه مبين لحكم القادرين الأصحاء الحاضرين أن من شاء صام منهم ومن شاء أفطر ثم نسخه قول: {فمن شهد منكم الشهر فليصمه ومن كان مريضا أو على سفر فعدة من أيام أخر} لأنه معارض له إذ الناس على قسمين: مسافر وحاضر، والحاضر على قسمين: مريض وصحيح. فخرج البيان في المريض والمسافر بعدة من أيام أخر، وبقي الصحيح القادر المقيم على رسم الازام، فهذا بحكم
আল্লাহ: আর এ কথা বলা যে, সর্বনামটি খাদ্যদানের (ইতআম) দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তবে তা একটি দুর্বল (ضعيف) মত। কারণ, সর্বনাম কেবল অনিবার্য প্রয়োজনেই তার পরবর্তী শব্দের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, যেমনটি কবির উক্তিতে দেখা যায়:

“তার রব আমার পক্ষ থেকে আদি বিন হাতিমকে প্রতিদান দিন … চিৎকারকারী কুকুরের ন্যায় প্রতিদান, আর তিনি তা-ই করেছেন।”

এখানে ‘রব’ শব্দের সাথে যুক্ত সর্বনামটিকে পরবর্তী শব্দের দিকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে কারণ অন্য কোনো বিকল্প সম্ভব ছিল না, যদিও তার উল্লেখ পরে এসেছে। আর আল্লাহ তাআলার বাণী: {তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও}, এখানে সর্বনামটি আলোচনার পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। কারণ তিনি বলেছেন: {যদি কেউ কোনো অসিয়তকারীর পক্ষ থেকে পক্ষপাতের আশঙ্কা করে}। মহান আল্লাহর বাণী {অসিয়তকারী থেকে} কথাটি অসিয়তকৃত ব্যক্তি ও অসিয়তকৃত বস্তুর দাবি রাখে। আর এখানে যাদের উদ্দেশ্যে অসিয়ত করা হয়েছে তারা হলেন ঐসব পিতামাতা ও নিকটাত্মীয় যাদের কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং ‘তাদের মধ্যে’ (বাইনাহুম) উক্তিতে সর্বনামটি তাদের দিকেই ফিরেছে। বিষয়টি এমনকি যারা বিচ্ছিন্ন (شاذ) চিন্তার অধিকারী তাদের কাছেও অস্পষ্ট নয়, প্রাজ্ঞ আলেমদের তো প্রশ্নই আসে না।

আর যারা ‘ইউতুয়্যাক্বুনাহু’ (ইয়া বর্ণে পেশ এবং যবর সহযোগে) পাঠের কথা বলেছেন এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করা যাবে না। কেননা তা বিচ্ছিন্ন (شاذ) যা কোনো (নিশ্চিত জ্ঞান কিংবা) আমল সাব্যস্ত করে না; কারণ উম্মাহ এটি বর্জনের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে।

আর যারা বলেছেন যে, এটি সুস্থ, সক্ষম ও উপস্থিত ব্যক্তিদের হুকুম বর্ণনা করে যে—তাদের মধ্যে যার ইচ্ছা রোজা রাখবে আর যার ইচ্ছা ভঙ্গ করবে, অতঃপর তা রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পায় সে যেন রোজা রাখে, আর যে অসুস্থ থাকে কিংবা সফরে থাকে তবে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নেবে}। কারণ এটি তার বিরোধপূর্ণ (معارض), যেহেতু মানুষ দুই প্রকার: মুসাফির ও মুকিম। আবার মুকিম দুই প্রকার: অসুস্থ ও সুস্থ। সুতরাং অসুস্থ ও মুসাফিরের ব্যাপারে বিধান এসেছে অন্য দিনগুলোতে রোজা পূর্ণ করার, আর সক্ষম সুস্থ মুকিম ব্যক্তিটি আবশ্যিক বিধানের ওপর বহাল থাকল। সুতরাং এটি হুকুম অনুযায়ী—
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৩)
المعارضة، وأما بحكم التأخير فثبت برواية البخاري وغيره عن سلمة بن الأكوع رضي الله عنه قال لما نزلت: {وعلى الذين يطيقونه فدية طعام مساكين} كان من أراد أن يفطر يفتدي حتى نزلت الآية التي بعدها فنسختها، وأما من قال إنه يستحب الإطعام للشيخ الكبير فليس من الآية لأن المنسوخ لا يؤخذ منه حكم.

وأما قوله: {فمن تطوع خيرا فهو خير له} فإنما هو إشارة إلى زيادة على قدر طعام مسكين في الفدية، على هذا يدل ظاهر الآية ومساقها. وإنما يؤخذ الاستحباب من دليل آخر حسب ما نبهنا عليه في كتب الفقه. ولهذا تفطن حبر الأمة عبد الله بن عباس رضوان الله عليه فقال: إن هذه الآية منسوخة إلا الحامل والمرضع فإنهما يفطران ويطعمان. وهو أحد أقوال مالك. والصحيح أن الحامل في حكم المريض ولذلك كانت أفعالها في (الثلث والمرضع) هي التي يصح أن يبقى الحكم فيها ويتناول لفظ الآية أمرها لأنها قادة على الصيام ولأنها تفطر لأجل الغير.

 

وأما قول ابن وهب: "أن المراد بالآية" من فاته قضاء رمضان حتى دخل عليه رمضان آخر فلا وجه له في الفقه، ولا يدل عليه ظاهر الآية، فتعين الإعراض عنه فلم يبق إلا قول ابن عباس رضي الله عنه وفيه نوع من التحقيق بديع، وذلك.
বিরোধিতার ব্যাপারে; আর বিলম্বিতকরণের বিধান (حكم) প্রসঙ্গে বলা যায় যে, তা বুখারি ও অন্যদের বর্ণনায় সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন: যখন অবতীর্ণ হলো: {যাদের জন্য সিয়াম অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদিয়া—একজন মিসকিনকে অন্নদান করা}, তখন যারা সিয়াম পালন না করে ইফতার করতে চাইত, তারা ফিদিয়া প্রদান করত। এরপর পরবর্তী আয়াতটি অবতীর্ণ হয়ে একে রহিত (منسوخ) করে দেয়। আর যারা বলেন যে, অতি বৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য খাদ্য দান করা মুস্তাহাব (مستحب), তা এই আয়াত থেকে প্রমাণিত নয়; কারণ রহিত (منسوخ) হওয়া কোনো বিষয় থেকে কোনো বিধান (حكم) গ্রহণ করা যায় না।

আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর হবে} মূলত ফিদিয়ার ক্ষেত্রে একজন মিসকিনের খাদ্যের পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত প্রদানের প্রতি ইঙ্গিত করছে; আয়াতের প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) ও প্রসঙ্গ এ দিকেই নির্দেশ করে। আর এর মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়টি অন্য দলিল (دليل) থেকে গৃহীত, যা আমরা ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে স্পষ্ট করেছি। এ কারণেই উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) সূক্ষ্মভাবে এটি অনুধাবন করে বলেছিলেন: নিশ্চয়ই এই আয়াতটি রহিত (منسوخ), তবে গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী ব্যতীত; তারা সিয়াম ভঙ্গ করবে এবং খাদ্য দান করবে। এটি ইমাম মালিকের অন্যতম অভিমত। আর সঠিক (صحيح) মত হলো, গর্ভবতী নারী অসুস্থ ব্যক্তির বিধানের (حكم) অন্তর্ভুক্ত; এ কারণেই (এক তৃতীয়াংশের ব্যাপারে) তার কার্যাবলীর ক্ষেত্রেও এই হুকুম কার্যকর হয়। আর স্তন্যদানকারী নারীর ক্ষেত্রে এই বিধান (حكم) বহাল থাকা এবং আয়াতের শব্দগুলো তার অবস্থাকে শামিল করা সঠিক; কারণ সে সিয়াম পালনে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও অন্যের (সন্তানের) স্বার্থে সিয়াম ভঙ্গ করছে।

 

আর ইবনে ওয়াহাবের এই বক্তব্য যে: "আয়াতটির উদ্দেশ্য হলো" যার রমজানের কাজা পরবর্তী রমজান আসা পর্যন্ত অনাদায়ী রয়ে গেছে—ফিকহ শাস্ত্রে এর কোনো ভিত্তি নেই এবং আয়াতের প্রকাশ্য অর্থও (ظاهر) এর ওপর প্রমাণ পেশ করে না। ফলে এটি বর্জন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। এখন শুধু ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বক্তব্যটিই অবশিষ্ট থাকে, যার মধ্যে এক প্রকার চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী যাচাই-বাছাই (تحقيق) রয়েছে, আর তা হলো...
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৪)
أن إخراج القادرين عن الآية خلا المرضع وحدها أو الحامل والمرضع كلتيهما تخصيص غير نسخ في بادي الرأي. إلا أن النكتة العظمى فيه أن التخصيص هو إخراج ما تناوله اللفظ ولم يكن به عمل، فبين المراد به والتكليف فيه. فأما أنه أوقع العمل بالعموم ثم جاء التخصيص فهو نسخ ظاهر فيما خرج، تخصيص فيما بقي، وذلك من غرائب الآيات والله أعلم.

 

‌‌الآية الثالثة: قوله تعالى: {أحل لكم ليلة الصيام الرفث إلى نسائكم} إلى قوله: {فالآن باشروهن وابتغوا ما كتب الله لكم}.

هذه الآية في كتاب الأحكام، وهو القسم الثالث من علوم القرآن، بيانها على التفصيل، وهي ناسخة للآية التي قبلها وهي قوله: {يا أيها الذين آمنوا كتب عليكم الصيام كما كتب على الذين من قبلكم لعلكم تتقون}.
সক্ষম ব্যক্তিদের এই আয়াতের আওতা থেকে বাদ দেওয়া—একমাত্র দুগ্ধদানকারী নারী বা গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী উভয়কে ছাড়া—প্রাথমিক দৃষ্টিতে এটি একটি বিশেষায়ন (تخصيص), রহিতকরণ (نسخ) নয়। তবে এর মধ্যকার মহত্তম সূক্ষ্ম রহস্য এই যে, বিশেষায়ন (تخصيص) হলো শব্দের ব্যাপকতা থেকে এমন কিছুকে বের করে দেওয়া যার ওপর আমল করা হয়নি; ফলে এর দ্বারা উদ্দেশ্য এবং এর বিধানটি স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু যদি ব্যাপকতা (عموم)-এর ওপর আমল সংঘটিত হওয়ার পর বিশেষায়ন (تخصيص) আসে, তবে যা বাদ পড়েছে তার ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টত রহিতকরণ (نسخ) এবং যা অবশিষ্ট আছে তার ক্ষেত্রে বিশেষায়ন (تخصيص) হিসেবে গণ্য হয়। এটি আয়াতের এক বিস্ময়কর দিক। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

 

‌‌তৃতীয় আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস বৈধ করা হয়েছে} থেকে তাঁর বাণী: {কাজেই এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তা অন্বেষণ করো} পর্যন্ত।

এই আয়াতটি 'কিতাবুল আহকাম'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা উলুমুল কুরআনের (علوم القرآن) তৃতীয় অংশ; এর বিস্তারিত বর্ণনা সেখানে রয়েছে। এটি তার পূর্ববর্তী আয়াতের রহিতকারী (ناسخة), যা হলো আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।}
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وذلك أن المفسرين قالوا: إن المراد بقوله: {كما كتب على الذين من قبلكم لعلكم تتقون}. هم أهل الكتاب، وكان من شأن صومهم إذا جاء وقت الفطر فأفطر من أفطر وترك من ترك إذا نام لا يحل له وطء ولا أكل إلى حين الفطر من اليوم الثاني، فكان صوم المسلمين على هذا (السبيل) حتى جاءت هذه الآية فثبت حكم الصوم والفطر في هذه المسألة من قوله تعالى: {من الفجر} ، وكان سبب ذلك فيما نقلوه أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه وروي (عن صرمة) بن قيس وهو أصح ــ نام فاختان نفسه (بعد) النوم ووطئ أهله. فنزلت الرخصة فيهم (والجميع) الآية من أجلهم. والجملة الصحيحة في ذلك ما رواه البخاري وغيرة عن البراء بن عازب، قال: لما نزل صوم رمضان كانوا لا يقربون النساء (رمضان) كله وكان رجال يخونون أنفسهم "فأنزل الله تعالى" {علم الله أنكم كنتم تختانون أنفسكم} الآية. فجاء قول البراء هكذا مطلقا صحيحا وما تقدم تفسير له والله أعلم.

وعلى مساق قول (البراء) المطلق تكون هذه الآية ناسخة للسنة وعلى ما روى المفسرون تكون الآية ناسخة لآية أخرى وهو الصحيح، وفي مضمون الآية ما يدل على ما في السنة من طريق البراء وما روى المفسرون وهو قوله تعالى: {علم الله أنكم كنتم تختانون أنفسكم} ، فإخبار الله بالخيانة دليل على ما تقدم من فرض الإمساك عن النساء ليلة الصيام وكذلك قوله: {فالآن باشروهن} دليل عليه
এর কারণ হলো, মুফাসসিরগণ বলেছেন: মহান আল্লাহর বাণী—"যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর তা লিখে দেয়া হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো"—এর মাধ্যমে আহলে কিতাবদের বোঝানো হয়েছে। তাদের রোজার নিয়ম ছিল এমন যে, যখন ইফতারের সময় হতো, তখন যারা ইফতার করার তারা ইফতার করত এবং যারা বিরত থাকার তারা বিরত থাকত; তবে যদি কেউ ঘুমিয়ে পড়ত, তবে তার জন্য দ্বিতীয় দিনের ইফতারের সময় পর্যন্ত স্ত্রী-সহবাস এবং পানাহার বৈধ ছিল না। মুসলমানদের রোজাও এই পদ্ধতিতে (السبيل) ছিল, যতক্ষণ না এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো। ফলে এই মাসআলায় রোজা ও ইফতারের বিধান মহান আল্লাহর বাণী "ফজর পর্যন্ত" থেকে সাব্যস্ত হলো। বর্ণনাকারীদের মতে এর কারণ ছিল এই যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)—এবং এটি সিরমা (عن صرمة) বিন কায়স থেকেও বর্ণিত হয়েছে যা অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح)—ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, অতঃপর ঘুমের পর (بعد) তিনি নিজের নফসের প্রতি খিয়ানত করে স্ত্রীর সাথে মিলিত হন। ফলে তাদের ব্যাপারে শিথিলতার বিধান অবতীর্ণ হয় এবং পুরো (والجميع) আয়াতটি তাদের কারণেই নাজিল হয়। এ বিষয়ে বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা হলো যা বুখারি ও অন্যান্যরা বারা বিন আযিব থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: যখন রমজানের রোজার বিধান অবতীর্ণ হলো, তখন তারা পুরো রমজান (رمضان) মাস স্ত্রীদের নিকটবর্তী হতেন না, কিন্তু কিছু লোক নিজেদের নফসের সাথে খিয়ানত করছিলেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: "আল্লাহ জেনেছেন যে তোমরা তোমাদের নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে"। সুতরাং বারা-এর এই বক্তব্যটি এভাবে নিরঙ্কুশ (مطلق) ও বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে এসেছে এবং পূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে তা এরই তাফসির। আল্লাহই ভালো জানেন।

বারা-এর নিরঙ্কুশ (مطلق) বক্তব্যের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই আয়াতটি সুন্নাহর রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে গণ্য হয়; আর মুফাসসিরগণ যা বর্ণনা করেছেন সে অনুযায়ী আয়াতটি অন্য একটি আয়াতের রহিতকারী (ناسخ), আর এটিই হলো বিশুদ্ধ (صحيح)। আয়াতের বিষয়বস্তুর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা বারা-এর মাধ্যমে বর্ণিত সুন্নাহ এবং মুফাসসিরগণের বর্ণনার প্রমাণ বহন করে, আর তা হলো আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ জেনেছেন যে তোমরা তোমাদের নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে"। আল্লাহর পক্ষ থেকে খিয়ানতের সংবাদ প্রদান রোজার রাতে স্ত্রীদের থেকে বিরত থাকার বিধান পূর্বে বিদ্যমান থাকার প্রমাণ দেয়। তেমনিভাবে তাঁর বাণী: "সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো" তারই দলিল।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وهذا الذي قلنا هو الذي روى "ابن القاسم" عن مالك: "كان أول الإسلام من رقد قبل أن يطعم لم يطعم شيئا من الليل فأنزل الله تعالى} فالآن باشروهن وابتغوا ما كتب الله لكم {وعرض هاهنا تخصيصان:

أحدهما قوله تعالى: {فمن شهد منكم الشهر فليصمه} خصتها السنة في الحائض لا تصوم وتقضي.

الثاني قوله تعالى: {وابتغوا ما كتب الله لكم} خصها في الحائض قوله: {فاعتزلوا النساء في المحيض} وخصها النهي عن نكاح المحرمة فلا يحل وطء الحائض ولا المحرمة. وذلك كثير.

 

‌‌الآية الرابعة: قوله تعالى: {يسألونك عن الشهر الحرام قتال فيه} هذه الآية نص في تحريم القتال في الأشهر الحرم لا خلاف فيه. وردت
আমরা যা বলেছি তা-ই "ইবনে আল-কাসিম" মালিক থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন: "ইসলামের প্রারম্ভিক সময়ে নিয়ম ছিল যে, কেউ আহার করার পূর্বে ঘুমিয়ে পড়লে সে রাতে আর কিছুই আহার করতে পারত না। অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {অতএব এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অন্বেষণ করো}। আর এখানে দুটি নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) পরিলক্ষিত হয়:

তন্মধ্যে একটি হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে}। ঋতুবতী নারীর ক্ষেত্রে সুন্নাহ একে নির্দিষ্ট (خصتها) করেছে যে, সে সিয়াম পালন করবে না বরং তা কাজা (تقضي) করবে।

দ্বিতীয়টি হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অন্বেষণ করো}। ঋতুবতী নারীর ক্ষেত্রে একে নির্দিষ্ট (خصها) করেছে আল্লাহর এই বাণী: {সুতরাং তোমরা ঋতুকালীন অবস্থায় স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো} এবং ইহরাম অবস্থায় থাকা নারীর সাথে সহবাসের নিষেধাজ্ঞা একে নির্দিষ্ট (خصها) করেছে; সুতরাং ঋতুবতী বা ইহরাম অবস্থায় থাকা নারীর সাথে সহবাস বৈধ নয়। আর এ রূপ উদাহরণ প্রচুর।

 

‌‌চতুর্থ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {তারা আপনাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে}। এই আয়াতটি পবিত্র মাসগুলোতে যুদ্ধ হারাম হওয়ার বিষয়ে একটি অকাট্য প্রমাণ (نص), এতে কোনো মতভেদ নেই। বর্ণিত হয়েছে (وردت)
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৭)
الشريعة على تعظيم الشهر الحرم عند الناس وتحريم القتل والقتال فيها، فأقرت الشريعة حرمتها وعظمت القتل والقتال فيها. ثم نسخت في القتل التحريم وأبقت فيه الحرمة والتعظيم. فأما إبقاء الحرمة والتعظيم، ففي الحديث الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال في حجة الوداع: "إن الزمان قد استدار كهيئته يوم خلق الله السماوات والأرض. السنة اثنا عشر شهرا منها أربعة حرم، ثلاث متواليات ذو القعدة وذو الحجة والمحرم، ورجب مضر الذي بين جمادى وشعبان" فنص على إبقاء الحرمة والتعظيم، ثم انزل الله تعالى سورة براءة سنة تسع بعد نزول آية البقرة هذه بثمانية أعوام وهي قوله سبحانه: {فسيحوا في الأرض أربعة أشهر}. إلى قوله {فإذا انسلخ الأشهر الحرم فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم} فرجع ذكر الأشهر إلى ما تقدم من ذكرها لينتظم معنى الآية ويكون آخرها مرتبطا بأولها ويكون الكلام مقيدا بها وفيها. وقد روى المفسرون عن عطاء أنه قال: إن هذه الآية محكمة، وأن القتال في الأشهر الحرم لا يجوز، وهذا القول من عطاء مسبوق بالإجماع من الصحابة والأخبار الواردة عن النبي صلى الله عليه وسلم بقتاله في الأشهر الحرم وإرساله سراياه فيها، وعليه يدل قوله تعالى: {إن عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا في كتاب الله يوم خلق السموات والأرض منها أربعة حرم ذلك الدين القيم فلا تظلموا فيهن أنفسكم وقاتلوا المشركين كافة كما يقاتلونكم كافة}. فنهى عن ظلم النفس فيها وأمر بقتال المشركين كافة. فإن قيل إنما يعتقد عطاء ومن قال بقوله أن قوله تعالى: {فإذا انسلخ الأشهر الحرم} يعني به ذا القعدة وذا الحجة والمحرم ورجب. قلنا لو كلن هذا لكان قوله: (مضمنا بمعنى) هو سيحوا في الأرض ثمانية أشهر: أربعة تسيير النبي للكفار وأربعة بحكم التحريم. وقال النبي صلى الله عليه وسلم
শরীয়ত মানুষের নিকট হারাম মাসসমূহের (الأشهر الحرم) সম্মান প্রদর্শন এবং তাতে হত্যা ও যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধকরণের (تحريم) ওপর প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং শরীয়ত এগুলোর পবিত্রতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এতে হত্যা ও যুদ্ধ করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে। অতঃপর হত্যার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধকরণকে (تحريم) রহিত (منسوخ) করা হয়েছে এবং এর সম্মান ও মহিমাকে বহাল রাখা হয়েছে। সম্মান ও মহিমা বহাল রাখার বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসে এসেছে যে, তিনি বিদায় হজের সময় বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই কাল আবর্তিত হয়েছে তার সেই আদি অবস্থায়, যে অবস্থায় আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছিলেন। বছর হলো বারো মাস, যার মধ্যে চারটি মাস হারাম (حرم); তিনটি ধারাবাহিক— জিলকদ, জিলহজ ও মহরম, আর অপরটি হলো মুদার গোত্রের রজব মাস, যা জমাদিউল আখিরা ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী।" সুতরাং এটি সম্মান ও মহিমা বহাল রাখার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ভাষ্য। এরপর মহান আল্লাহ আল-বাকারার এই আয়াত নাজিলের আট বছর পর নবম হিজরীতে সূরা বারাআত নাজিল করেন, যা মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা জমিনে চার মাস পরিভ্রমণ করো}। থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {অতঃপর যখন হারাম মাসসমূহ অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো}। এখানে মাসসমূহের উল্লেখটি পূর্ববর্তী আলোচনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছে যাতে আয়াতের অর্থ সুশৃঙ্খল হয় এবং এর শেষাংশ প্রথমাংশের সাথে যুক্ত থাকে এবং বক্তব্যটি সেই মাসগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়। মুফাসসিরগণ আতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: এই আয়াতটি সুস্পষ্ট/অপরিবর্তিত (محكمة), এবং হারাম মাসগুলোতে যুদ্ধ করা বৈধ নয়। তবে আতার এই বক্তব্যটি সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমত (إجماع) এবং হারাম মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধ করা ও ছোট যুদ্ধ অভিযান (سرية) প্রেরণ সংক্রান্ত বর্ণিত সংবাদ বা হাদিসগুলোর (أخبار) পরিপন্থী। আর এর ওপর মহান আল্লাহর এই বাণী প্রমাণ বহন করে: {নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবে আল্লাহর নিকট মাসসমূহের গণনা বারোটি, যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে চারটি হারাম (حرم); এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। সুতরাং এ মাসগুলোতে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। আর তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করো, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে}। সুতরাং এখানে এই মাসগুলোতে নিজের প্রতি জুলুম করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে। যদি বলা হয় যে, আতা এবং যারা তার মত পোষণ করেন তারা মনে করেন যে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন হারাম মাসসমূহ অতিবাহিত হয়ে যাবে} এর দ্বারা জিলকদ, জিলহজ, মহরম ও রজব উদ্দেশ্য। আমরা বলবো, যদি বিষয়টি এমন হতো তবে আল্লাহর এই বাণীটি (অর্থগতভাবে অন্তর্ভুক্ত - مضمنا بمعنى) এমন হতো যে: তোমরা জমিনে আট মাস পরিভ্রমণ করো; চার মাস নবীর পক্ষ থেকে কাফেরদের দেওয়া সুযোগ হিসেবে এবং বাকি চার মাস নিষিদ্ধকরণের (تحريم) বিধান অনুসারে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন...
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৮)
لصفوان: انزل أبا وهب. قال: على أن تسير في شهرين. قال: "بل لك أربعة أشهر" فمن الحكم أن تكون أشهر السياحة الأربعة متصلة من يوم النداء بها وهو يوم النحر ولا يكون قبلها تحريم ولا بعدها وهذا بالغ (فيه).

 

‌‌الآية الخامسة: قوله تعالى: {يسألونك عن الخمر والميسر قل فيهما إثم كبير ومنافع للناس وإثمهما أكبر من نفعهما}.

اختلف الناس في عذه الآية أهي ناسخة أو منسوخة؟ فمن قال إنها ناسخة التفت إلى قوله تعالى: {فيهما إثم كبير} فأثبت لها صفة الإثم وقد كانت مباحة لا إثم فيها، ومن قال منسوخة التفت إلى قوله تعالى: {ومنافع للناس} وذلك منسوخ، فإنها لما حرمت لم تبق فيها منفعة.

وتحقيق القول أن الله تعالى ألزم الشرائع بشرا متفرقا حكما بعد آخر ووظيفته تتلو أخرى، والناس قبل ذلك مسترسلون على أفعالهم مستمرون في أحوالهم فجرى أمر الخبر على صفة مروية وهي أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: اللهم بين لنا في الخمر بيان شفاء. فنزلت هذه الآية: {يا أيها الذين آمنوا لا تقربوا الصلاة وأنتم سكارى حتى تعلموا ما تقولون}. وكان منادي رسول الله صلى الله عليه وسلم ينادي وقت الصلاة: لا يقربن الصلاة سكران. فدعي عمر فقرئت عليه فقال: اللهم بين لنا في الخمر بينا شافيا.
সাফওয়ানের উদ্দেশ্যে: হে আবু ওয়াহাব, নিচে নেমে আসুন। তিনি বললেন: এই শর্তে যে আপনি আমাকে দুই মাস সময় দেবেন। তিনি বললেন: "বরং আপনার জন্য চার মাস সময় রইল।" সুতরাং বিধান হলো যে, বিচরণের চার মাস ঘোষণা প্রদানের দিন অর্থাৎ নহরের দিন থেকে নিরবচ্ছিন্ন হতে হবে। এর আগে বা পরে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

‌‌পঞ্চম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন, এ দুটির মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারিতা; আর এ দুটির পাপ এদের উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়}.

এই আয়াতটি কি রহিতকারী (ناسخة) নাকি রহিত (منسوخة)—তা নিয়ে আলেমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। যারা একে রহিতকারী (ناسخة) বলেছেন, তারা মহান আল্লাহর বাণী: {এ দুটির মধ্যে রয়েছে মহাপাপ}-এর প্রতি লক্ষ্য করেছেন; ফলে তিনি এর জন্য পাপের বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করেছেন, অথচ তা ইতিপূর্বে বৈধ (مباحة) ছিল এবং তাতে কোনো পাপ ছিল না। আর যারা একে রহিত (منسوخة) বলেছেন, তারা মহান আল্লাহর বাণী: {এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারিতা}-এর প্রতি লক্ষ্য করেছেন; আর তা রহিত (منسوخة) হয়ে গেছে। কারণ, তা যখন হারাম করা হয়েছে, তখন তাতে আর কোনো উপকারিতা অবশিষ্ট থাকেনি।

বক্তব্যের যথার্থ বিশ্লেষণ হলো, আল্লাহ তায়ালা শরিয়তের বিধানসমূহ পর্যায়ক্রমে একটির পর একটি বিধান এবং একটি দায়িত্বের পর আরেকটি দায়িত্ব হিসেবে মানবজাতির ওপর অর্পণ করেছেন। এর আগে মানুষ তাদের চিরাচরিত অভ্যাসের ওপর অটল ও নিজ নিজ অবস্থায় নিমগ্ন ছিল। বর্ণিত (مروية) বর্ণনা অনুযায়ী বিষয়টি এভাবে অগ্রসর হয়েছে যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছিলেন: হে আল্লাহ, মদের বিষয়ে আমাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও নিরাময়মূলক বর্ণনা দান করুন। তখন এই আয়াতটি নাজিল হলো: {হে মুমিনগণ, তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলছো তা বুঝতে পারো}। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে একজন ঘোষক নামাজের সময় ঘোষণা করতেন: কোনো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি যেন নামাজের নিকটবর্তী না হয়। এরপর ওমর (রা.)-কে ডাকা হলো এবং তাঁর সামনে এটি তিলাওয়াত করা হলো; তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহ, মদের বিষয়ে আমাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও নিরাময়মূলক বর্ণনা দান করুন।
(খণ্ড: ২) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনুল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
فنزلت: {إنما يريد الشيطان أن يوقع بينكم العداوة والبغضاء في الخمر والميسر ويصدكم عن ذكر الله وعن الصلاة فهل أنتم منتهون}.

فدعي عمر فقرئت عليه فقال: انتهينا انتهينا. ففي الصحيح أن منادي رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج ينادي: (ألا إن الخمر حرمت فكسرت الدنان حتى جرت الخمر في سكك المدينة).

وتحقيق المعاني التي توقف فيها "عمر رضي الله عنه" أنه لما نزلت {يسألونك عن الخمر والميسر قل فيهما إثم كبير ومنافع للناس}. علم عمر رضي الله عنه أن الإثم فيها ما يتعلق بها من زوال العقل والوقوع فيما لا ينبغي بذهابه من قول قبيح وفعل سيء. وقد روي عن (علي) رضوان الله عليه أنه قال: "إذا سكر هذى وإذا هذى افترى (فاجلدوه) حد المفتري". وكما روى "النسائي" وغيره أن عثمان رحمه الله ورضي عنه قال: "اجتنبوا الخمر فغنها أم الخبائث، إنه كان رجل ممن خلا قبلكم يتعبد فعلقته امرأة غوية فأرسلت إليه جاريتها فقالت له إنا ندهوك للشهادة. فانطلق مع جارتها فطفقت كلما دخل عليها بابا أغلقته دونه حتى أفضى إلى امرأة وضيئة عندها غلام وباطية خمر فقالت: إني والله ما دعوتك للشهادة، ولكني دعوتك لتقع علي، أو تشرب من هذه الخمر كأسا، أو تقتل هذا الغلام. قال: فاسقني من هذا الخمر كأسا، فسقته فقال: زيدوني. فلم يرم حتى وقع عليها وقتل النفس. فاجتنبوا الخمر فإنه والله لا يجتمع الإيمان وإدمان الخمر إلا أوشك أن يخرج أحدهما صاحبه"
অতঃপর অবতীর্ণ হলো: {শয়তান তো কেবল এটাই চায় যে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখবে। সুতরাং তোমরা কি নিবৃত্ত হবে?}

অতঃপর উমর (রা.)-কে ডাকা হলো এবং তাঁর সামনে এটি পাঠ করা হলো। তখন তিনি বললেন: "আমরা নিবৃত্ত হলাম, আমরা নিবৃত্ত হলাম।" সহিহ (صحيح) বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষক বের হয়ে ঘোষণা দিলেন: "জেনে রেখো, মদ হারাম করা হয়েছে।" ফলে মদের মটকাগুলো ভেঙে ফেলা হলো, এমনকি মদিনার অলিগলিতে মদ প্রবাহিত হতে লাগল।

উমর (রা.) যেসব বিষয়ের মর্মার্থ নিয়ে অপেক্ষমাণ (توقف) ছিলেন তার প্রকৃত স্বরূপ এই যে, যখন অবতীর্ণ হলো: {তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলো, উভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারও।} তখন উমর (রা.) বুঝতে পারলেন যে, এর মধ্যে যে পাপ নিহিত আছে তা হলো এর সাথে সংশ্লিষ্ট বুদ্ধি বিলোপ হওয়া এবং বুদ্ধি হারানোর ফলে কুরুচিপূর্ণ কথা ও মন্দ কাজের মতো অনভিপ্রেত বিষয়ে লিপ্ত হওয়া। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যখন সে মাতাল হয় তখন সে প্রলাপ বকে, আর যখন প্রলাপ বকে তখন সে অপবাদ আরোপ করে, (সুতরাং তাকে অপবাদ আরোপকারীর দণ্ড প্রদান করো)।" যেমন নাসায়ি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, উসমান (রা.) বলেছেন: "তোমরা মদ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা সকল পাপাচারের মূল। তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল যে ইবাদত করত। এক ভ্রষ্ট নারী তার প্রতি আসক্ত হলো এবং তার নিকট তার দাসীকে পাঠিয়ে বলল যে, 'আমরা আপনাকে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডাকছি।' সে ঐ দাসীর সাথে রওয়ানা হলো। সে যখনই কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করত, দাসীটি তার পিছনে তা বন্ধ করে দিত। শেষ পর্যন্ত সে এক সুন্দরী নারীর কাছে পৌঁছাল, যার কাছে ছিল একটি কিশোর এবং একটি মদের পাত্র। নারীটি বলল: 'আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকিনি; বরং আমি আপনাকে ডেকেছি আমার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য অথবা এই পাত্র থেকে এক পেয়ালা মদ পান করার জন্য অথবা এই কিশোরটিকে হত্যা করার জন্য।' সে বলল: 'আমাকে এই মদ থেকে এক পেয়ালা পান করাও।' সে তাকে পান করাল। এরপর সে বলল: 'আমাকে আরও দাও।' অতঃপর সে বিরত হলো না যতক্ষণ না সে ঐ নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলো এবং সেই কিশোরটিকে হত্যা করল। অতএব, তোমরা মদ পরিহার করো; কারণ আল্লাহর কসম! ঈমান এবং মদ্যপানে আসক্তি একত্রে অবস্থান করতে পারে না, শীঘ্রই তাদের একটি অন্যটিকে বের করে দিবে।"