(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: -)
الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين   (مقبل بن هادي الوادعي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين

المؤلف: أبو عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي (ت 1422 هـ)

الناشر: دار الآثار - صنعاء، اليمن

الطبعة: الرابعة، 1428 هـ - 2007 م

عدد الأجزاء: 2

أعده للشاملة: محمد المنصور

تمت مقابلة جميع نصوص الكتاب على الأصل المطبوع

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1440

আস-সহীহ আল-মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস-সহীহাইন   (মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদি'ঈ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: আস-সহীহ আল-মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস-সহীহাইন

লেখক: আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদি'ঈ (মৃ. ১৪২২ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল আসার - সানা, ইয়েমেন

সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মদ আল-মনসুর

গ্রন্থের সমস্ত পাঠ মূল মুদ্রিত কপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين

تأليف

أبي عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي

المتوفى سنة 1422 هـ رحمه الله تعالى

 

‌‌الجزء الأول

طبعة جديدة منقحة وتحتوي زيادات وتراجعات تنشر لأول مرة

 

دار الآثار

صنعاء
সহীহাইন-এর বহির্ভূত সহীহ মুসনাদ

রচনা

আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদীয়ী

মৃত্যু: ১৪২২ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন

 

প্রথম খণ্ড

নতুন পরিমার্জিত সংস্করণ, যা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত কিছু সংযোজন ও সংশোধনী সম্বলিত

 

দারুল আসার

সানা
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة الناشر للطبعة الثالثة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه، وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

أما بعد:

فإن من منة الله علينا أن وفقنا لخدمة كتب العلامة المجدد ناصر السنة وقامع البدعة أبي عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي رحمه الله تعالى، وهانحن نقدم للمسلمين في أرجاء الدنيا هذا الكتاب الذي هو أجل كتب الشيخ رحمه الله وأحبها إليه، حتى أنه إذا أطلق كلمة "الصحيح المسند" فالمراد به هذا الكتاب من بين كتبه التي تسمى بـ"الصحيح المسند"، وقد كان عمل فيه على فترات متفرقة، بدأت من دراسته في الجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية، وكان كثير العناية به، دائم النظر فيه، وكانت عنده نسخة خاصة يضيف إليها ويعدل عليها، ولقد توفي الشيخ رحمه الله قبل أن يقدمها للطبع، وقد قمنا بطباعة هذه الطبعة الجديدة من هذه النسخة مع دفتر الزيادات التي زادها رحمه الله.

وهذه الطبعة الجديدة تتميز باحتوائها على آخر ما زاده الشيخ إلى هذا الكتاب من أحاديث (1)، وتتميز أيضًا بحذف الأحاديث التي تراجع عن

--------------------------------------------

(1) وهي أكثر من ثمانين حديثًا موزعة على مسانيدها.
তৃতীয় সংস্করণের প্রকাশকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর উপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

অতপর:

আমাদের ওপর আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ এই যে, তিনি আমাদের প্রাজ্ঞ আল্লামা, মুজাদ্দিদ, সুন্নাহর সাহায্যকারী এবং বিদআতের মূলোৎপাটনকারী আবু আব্দুর রহমান মুকবিল ইবনে হাদি আল-ওয়াদিঈ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর কিতাবসমূহের খিদমত করার তাওফিক দিয়েছেন। আর এখন আমরা বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা মুসলিমদের সম্মুখে শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবটি পেশ করছি, যা তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ছিল। এমনকি তিনি যখন কেবল "আস-সহীহ আল-মুসনাদ" শব্দটি ব্যবহার করতেন, তখন তাঁর সেই সকল কিতাব—যাদের নাম "আস-সহীহ আল-মুসনাদ"—সেগুলোর মধ্যে এই কিতাবটিই উদ্দেশ্য হতো। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে এতে কাজ করেছেন, যা মদিনা নববীয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর অধ্যয়নকাল থেকে শুরু হয়েছিল। তিনি এর প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং সর্বদা এটি পর্যবেক্ষণ করতেন। তাঁর নিকট একটি বিশেষ পাণ্ডুলিপি ছিল যাতে তিনি বিভিন্ন বিষয় সংযোজন ও পরিমার্জন করতেন। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) সেটি মুদ্রণের জন্য দেওয়ার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন। আমরা এই পাণ্ডুলিপি এবং শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) কৃত সংযোজন সংবলিত খাতাটি থেকে এই নতুন সংস্করণটি মুদ্রণ করেছি।

এই নতুন সংস্করণটির বিশেষত্ব হলো, এতে শাইখ কর্তৃক এই কিতাবে সংযোজিত সর্বশেষ হাদিসসমূহ (১) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আরেকটি বিশেষত্ব হলো, এতে ঐ সকল হাদিস বাদ দেওয়া হয়েছে যা থেকে তিনি প্রত্যাবর্তন করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) এটি আশিরও অধিক হাদিস যা বিভিন্ন মুসনাদে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ৬)
تصحيحها الشيخ رحمه الله (1)، وتتميز بجودة الترتيب من تقديم وتأخير، وتتميز بدقة الترقيم (2)، وغير ذلك مما سيراه القارئ اللبيب؛ ولهذا فإن هذه الطبعة تعتبر ناسخة للطبعات السابقة.

وقد أضفنا في آخر الكتاب فهرسًا شاملًا لأطراف الأحاديث، وفهرسًا للرواة الذين ترجم لهم الشيخ رحمه الله.

نسأل الله العظيم أن يتقبل منا خدمتنا لكتب الشيخ رحمه الله، وأن يتغمدنا وإياه بواسع رحمته، وأن يثبتنا على الحق حتى نلقاه، إنه ولي ذلك والقادر عليه.

 

الناشر

سعيد بن عمر حبيشان

--------------------------------------------

(1) وغالب هذا الصنف هو من الأحاديث التي يكون ظاهر سندها الصحة وهي معلة، ولذا فقد أوردها الشيخ رحمه الله جميعها في كتاب "أحاديث معلة ظاهرها الصحة".

وأرقامها كما في الطبعة الثالثة من "أحاديث معلة" هي: 30، 31، 39، 42، 45، 47، 48، 50، 70، 97، 110، 111، 125، 126، 164، 165، 211، 220، 233، 234، 238، 251، 265، 269، 270، 271، 275، 285، 304، 307، 309، 312، 336، 354، 359، 372، 388، 396، 463، 466، 467، 469، 479، 506، 509، 514.

‌‌(2) وليعلم أن الترقيم إنما هو من الناشر، سواء في هذه الطبعة أو في الطبعات السابقة، وليس للشيخ رحمه الله فيه يد.
শায়খ (আল্লাহ তাকে রহম করুন) এটি সংশোধন করেছেন (১), এবং এটি বিন্যাসের উৎকর্ষ—তথা অগ্রপশ্চাৎ করার বিন্যাস—এবং নাম্বারিংয়ের নির্ভুলতা (২) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য, যা বিচক্ষণ পাঠক দেখতে পাবেন; আর এ কারণেই এই সংস্করণটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর রহিতকারী (স্থলাভিষিক্ত) হিসেবে গণ্য।

আমরা কিতাবটির শেষে হাদিসের প্রথমাংশের একটি বিস্তৃত সূচি এবং শায়খ (আল্লাহ তাকে রহম করুন) যে বর্ণনাকারীদের জীবনী লিখেছেন তাদের একটি সূচি যুক্ত করেছি।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি শায়খের (আল্লাহ তাকে রহম করুন) কিতাবসমূহের প্রতি আমাদের এই খিদমত কবুল করেন, আমাদের এবং তাকে তাঁর প্রশস্ত রহমতের ছায়াতলে স্থান দেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত আমাদের হকের ওপর অটল রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

 

প্রকাশক

সাঈদ বিন উমর হুবাইশান

--------------------------------------------

(১) এই শ্রেণীর অধিকাংশ হাদিস হলো সেই সব হাদিস যার সনদের বাহ্যিক দিক সহিহ মনে হলেও তা মূলত ত্রুটিযুক্ত (মু'আল্লাল)। এজন্যই শায়খ (আল্লাহ তাকে রহম করুন) এগুলোর সবগুলো "আহাদিসু মু'আল্লালাহ যাহিরুহাস সিহাহ" নামক কিতাবে উল্লেখ করেছেন।

"আহাদিসু মু'আল্লালাহ" এর তৃতীয় সংস্করণ অনুযায়ী এগুলোর নম্বর হলো: ৩০, ৩১, ৩৯, ৪২, ৪৫, ৪৭, ৪৮, ৫০, ৭০, ৯৭, ১১০, ১১১, ১২৫, ১২৬, ১৬৪, ১৬৫, ২১১, ২২০, ২৩৩, ২৩৪, ২৩৮, ২৫১, ২৬৫, ২৬৯, ২৭০, ২৭১, ২৭৫, ২৮৫, ৩০৪, ৩০৭, ৩০৯, ৩১২, ৩৩৬, ৩৫৪, ৩৫৯, ৩৭২, ৩৮৮, ৩৯৬, ৪৬৩, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৯, ৪৭৯, ৫০৬, ৫০৯, ৫১৪।

‌‌(২) জেনে রাখা উচিত যে, নাম্বারিং করা মূলত প্রকাশকের পক্ষ থেকে হয়েছে, চাই এই সংস্করণে হোক বা পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে; এতে শায়খের (আল্লাহ তাকে রহম করুন) কোনো হাত নেই।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

الحمد لله الذي من علينا، ووفقنا للعلم النافع، وصلى الله على نبينا محمد القائل: «نَضَّرَ اللهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا ثُمَّ أَدَّاهَا كَمَا سَمِعَهَا».

وعلى آله وصحبه المتمسكين بسنته والداعين إليها، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

أما بعد: فإن مما وفقني الله له تأليف "الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين"، وبعد خروج الكتاب عُثِرَ فيه على أخطاء، بعضها من أوهامي، والكثير أغلاط مطبعية.

وقد قام الأخ منصور بن علي بن أحمد الأديبي، والأخ محمد بن قائد بن أحمد، والأخ أحمد بن محمد المقدسي بمراجعة الكتاب، وبذلوا فيه جهدًا مشكورًا، فحصل في الكتاب بعض التغيير من تقديم وتأخير وحذف، فأرجو أن يخرج الكتاب إذا وفقهم الله لمراجعته عند الطبع أرجو أن يخرج قليل الأخطاء.

والواقع أنني لست راضيًا عن طباعة كثير من كتبي، أبذل جهدًا في التأليف ثم يخرج الكتاب مشوهًا، فإلى الله المشتكى.

والله أسأل أن يبارك ويجزي الإخوة الذين قاموا بمراجعة هذا الكتاب خيرًا.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের উপকারী জ্ঞান অর্জনের তাওফিক দান করেছেন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, যিনি বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তির মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করে দিন, যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা আত্মস্থ করেছে এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিয়েছে।»

এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যারা তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেছেন এবং এর দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর: আল্লাহ আমাকে যে বিষয়গুলোর তাওফিক দিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো "আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইনি" গ্রন্থটি সংকলন করা। গ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার পর তাতে কিছু ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে; যার কিছু ছিল আমার অসাবধানতা জনিত ভুল এবং অধিকাংশ ছিল মুদ্রণজনিত ত্রুটি।

ভাই মানসুর বিন আলী বিন আহমাদ আল-আদীবি, ভাই মুহাম্মাদ বিন কায়েদ বিন আহমাদ এবং ভাই আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মাকদিসি গ্রন্থটি পুনর্নিরীক্ষণ করেছেন এবং এতে তারা প্রশংসনীয় পরিশ্রম করেছেন। ফলে গ্রন্থে কিছু পরিবর্তন, যেমন—অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাস এবং কিছু অংশ বর্জন করা হয়েছে। আমি আশা করি, আল্লাহ যদি মুদ্রণের সময় তাঁদেরকে এটি সংশোধনের তাওফিক দান করেন, তবে গ্রন্থটি এবার খুব সামান্য ভুলসহ প্রকাশিত হবে।

বাস্তবতা হলো, আমি আমার অনেক গ্রন্থের মুদ্রণ নিয়ে সন্তুষ্ট নই; আমি গ্রন্থ রচনায় কঠোর পরিশ্রম করি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বইটি বিকৃত অবস্থায় প্রকাশিত হয়। আল্লাহর কাছেই আমি এ বিষয়ে ফরিয়াদ জানাচ্ছি।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই গ্রন্থটি পুনর্নিরীক্ষণকারী ভাইদের বরকত দান করেন এবং তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করেন।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

الحمد لله حمدًا مباركًا طيبًا فيه كما يحب ربنا ويرضى.

{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ} (1).

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

اللهم صلِّ على محمد وعلى آل محمد، كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم، إنك حميدٌ مجيدٌ.

اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم، إنك حميدٌ مجيدٌ.

أما بعد: فإني أحمد الله سبحانه وتعالى الذي وفَّقني لطلب العلم النافع، وهيأ لي سُبُله، وحبب إليَّ سنَّة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، وبغَّض إليَّ البدع، فله الحمد حتى يرضى.

وإني بحمد الله أحبُّ كتاب ربي والسنة الغراء، سيما "الصحيحين"،

--------------------------------------------

(1) سورة الأنعام، الآية: 1.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন বরকতময় ও পবিত্র প্রশংসা যা আমাদের প্রতিপালক পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।

{সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন; তা সত্ত্বেও যারা কুফরি করে তারা তাদের প্রতিপালকের সমতুল্য স্থির করে।} (১)।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।

হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেমন আপনি বরকত নাজিল করেছেন ইব্রাহিমের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

অতঃপর: আমি সেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রশংসা করছি যিনি আমাকে উপকারী ইলম অন্বেষণ করার তাওফিক দিয়েছেন, এর পথসমূহ আমার জন্য সহজ করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে আমার কাছে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং বিদআতসমূহকে আমার নিকট অপ্রিয় করেছেন। সুতরাং তাঁরই প্রশংসা যতক্ষণ না তিনি সন্তুষ্ট হন।

আল্লাহর প্রশংসায় আমি আমার প্রতিপালকের কিতাব এবং উজ্জ্বল সুন্নাহকে ভালোবাসি, বিশেষ করে "সহিহাইন" (বুখারি ও মুসলিম)-কে,

--------------------------------------------

(১) সুরা আল-আনআম, আয়াত: ১।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ৯)
والقراءة فيهما عندي أحلى لذة في الدنيا، وإني إذا فتحت "صحيح البخاري" وقلت: قال الإمام البخاري رحمه الله: حدثنا عبد الله بن يوسف، قال: حدثنا مالك.

أو فتحت "صحيح مسلم" وقلت: قال الإمام مسلم رحمه الله: حدثنا يحيى بن يحيى، قال: قرأت على مالك. أنسى جميع مشاغل الدنيا ومشاكلها.

وكنت أتمنى لو قُدِّر لي أن أجمع مجموعة من الحديث الصحيح، تضاف إلى "الصحيحين"، تكون نقيةً من الأحاديث الضعيفة والموضوعة. وقد قام الحاكم رحمه الله بتأليف "المستدرك"، وبعده الضياء المقدسي (1).

فأما المقدسي فلم يتم كتابه (2)، والظاهر أن منه ما هو مفقود، والموجود ليس مطبوعًا فيُستفاد منه.

 

‌‌[المآخذ على مستدرك الحاكم]

وأما الحاكم رحمه الله: فإنه واسع الخطو في التصحيح، كما ذكره ابن الصلاح في "المقدمة". وقال الحافظ ابن كثير في "مختصر علوم الحديث": إن الحاكم يلزمهما بإخراج أحاديث لا تلزمهما، لضعف رواتها عندهما، أو لتعليلهما ذلك. اهـ

أقول: الذي يظهر لي أنه لا يصفو للحاكم ثلث الكتاب، الذي لا ينتقد عليه فيه، وإلا فما أكثر ما يخرج أحاديث محمد بن إسحاق -صاحب السيرة- ويقول: صحيح على شرط مسلم. ومسلم إنما روى له قدر خمسة

--------------------------------------------

(1) اسمه محمد بن عبد الواحد، كما ذكر في "تذكرة الحفاظ".

‌‌(2) قال شيخ الإسلام ابن تيمية: إن كتابه أصح من "صحيح الحاكم". "مختصر الصواعق" (ج 2 ص 281).
আমার নিকট এই দুই কিতাব পাঠ করা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় স্বাদ। আমি যখন 'সহীহ আল-বুখারী' খুলি এবং বলি: ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক।

অথবা যখন আমি 'সহীহ মুসলিম' খুলি এবং বলি: ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া, তিনি বলেছেন: আমি মালিকের নিকট পাঠ করেছি। তখন আমি দুনিয়ার সমস্ত ব্যস্ততা ও সমস্যা ভুলে যাই।

আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যদি আমার ভাগ্যে থাকত যে, আমি সহীহ হাদীসের একটি সংকলন তৈরি করতাম যা 'সহীহাইন'-এর সাথে যুক্ত হতো এবং যা যঈফ (দুর্বল) ও মাউযু (জাল) হাদীস থেকে মুক্ত হতো। ইমাম হাকেম (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-মুস্তাদরাক' রচনা করেছেন এবং তাঁর পরে যিয়া আল-মাকদিসী (১)।

মাকদিসী তাঁর কিতাবটি সম্পন্ন করতে পারেননি (২), এবং যতটুকু প্রতীয়মান হয় যে এর কিছু অংশ হারিয়ে গেছে, আর যা বিদ্যমান আছে তা মুদ্রিত নয় যে তা থেকে উপকৃত হওয়া যাবে।

 

‌‌[হাকেমের মুস্তাদরাকের ওপর সমালোচনা]

আর ইমাম হাকেম (রাহিমাহুল্লাহ) হাদীস সহীহ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত শিথিল ছিলেন, যেমনটি ইবনে সালাহ 'আল-মুকাদ্দিমাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইবনে কাসীর 'মুখতাসার উলূমুল হাদীস'-এ বলেছেন: হাকেম তাঁদের (বুখারী ও মুসলিম) ওপর এমন সব হাদীস বের করা আবশ্যক করেছেন যা তাঁদের ওপর আবশ্যক নয়, কারণ তাঁদের নিকট ঐসব হাদীসের বর্ণনাকারীগণ দুর্বল অথবা তাঁদের নিকট হাদীসগুলোতে সূক্ষ্ম ত্রুটি বিদ্যমান। সমাপ্ত।

আমি বলি: আমার কাছে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, হাকেমের কিতাবের এক-তৃতীয়াংশও এমন বিশুদ্ধ নয় যার ওপর সমালোচনা করা যায় না। অন্যথায়, তিনি সীরাতকার মুহাম্মাদ বিন ইসহাকের হাদীস কত বেশি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। অথচ ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে মাত্র পাঁচটি হাদীসের মতো বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর নাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ, যেমনটি 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

‌‌(২) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: তাঁর কিতাব হাকেমের 'সহীহ' (মুস্তাদরাক) অপেক্ষা অধিক সহীহ। 'মুখতাসারুস সাওয়ায়িক' (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮১)।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ১০)
أحاديث في الشواهد والمتابعات.

وهكذا يخرج لنعيم بن حماد الخزاعي، ويقول: صحيح على شرط البخاري. والبخاري لم يخرج له في "الصحيح" سوى موضع أو موضعين، كما في "مقدمة الفتح"، ثم نعيم مختلف فيه والراجح ضعفه.

وللحاكم أوهامٌ كثيرة، منها قدر ثلاثمائة حديث، الذي يقول فيه: صحيح على شرطهما ولم يخرجاه، أو على شرط البخاري ولم يخرجاه، أو على شرط مسلم ولم يخرجاه، أو صحيح ولم يخرجاه. مع أنهما قد أخرجاه.

فإن مد الله في العمر فإني إن شاء الله أجمع ذلك في مؤلف مستقل (1)، حتى يستريح الباحث من البحث في سند الحاكم الطويل، ويثق بأن الحديث في "الصحيح".

 

أما‌‌ أوهامه في تصحيح الموضوعات، فشيء كثير. وإني ذاكر لك جملة من الأحاديث التي تعقبه عليها الحافظ الذهبي بشدة:

‌‌1 - ذكر الحاكم (ج 1 ص 234) حديث أنس: صَلَّيْتُ خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ، وَخَلْفَ أَبِي بَكْرٍ، وَخَلْفَ عُمَرَ، وَخَلْفَ عُثْمَانَ، وَخَلْفَ عَلِيٍّ، فَكُلُّهُمْ كَانُوا يَجْهَرُونَ بِقِرَاءَةِ {بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}.

فتعقبه الذهبي فقال: قلت: أما اسْتَحْيَى المؤلف أن يورد هذا الحديث الموضوع، فأشهد بالله ولله بأنه كذب.

--------------------------------------------

(1) وقد وفق الله الأخ صالح بن قائد الوادعي أعانه الله على إتمامه، ويسر نشره، إنه على كل شيء قدير.
সাক্ষী (শাওয়াহেদ) এবং সমর্থক (মুতাবায়াত) হিসেবে বর্ণিত হাদীসসমূহ।

এভাবেই তিনি নুআইম ইবনে হাম্মাদ আল-খুজাঈর হাদীস উদ্ধৃত করেন এবং বলেন: এটি বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ। অথচ বুখারী তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে তাঁর থেকে মাত্র এক বা দুটি স্থান ব্যতীত আর কিছু উদ্ধৃত করেননি, যেমনটি "মুকাদ্দিমাতুল ফাতহ"-এ বর্ণিত হয়েছে। তদুপরি নুআইমের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে এবং অধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো তিনি দুর্বল।

আর হাকিমের অনেক ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় তিনশ হাদীস এমন, যেগুলোর ব্যাপারে তিনি বলেন: এটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ের শর্তানুযায়ী সহীহ অথচ তাঁরা তা বর্ণনা করেননি, অথবা বুখারীর শর্তানুযায়ী কিন্তু তিনি বর্ণনা করেননি, অথবা মুসলিমের শর্তানুযায়ী কিন্তু তিনি বর্ণনা করেননি, অথবা হাদীসটি সহীহ কিন্তু তাঁরা তা বর্ণনা করেননি। অথচ তাঁরা উভয়ই সেই হাদীসটি ইতিপূর্বেই বর্ণনা করেছেন।

আল্লাহ যদি হায়াত দীর্ঘ করেন তবে আমি ইনশাআল্লাহ তা একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে (১) সংকলন করব, যাতে গবেষক হাকিমের দীর্ঘ সনদ অনুসন্ধানের কষ্ট থেকে রেহাই পান এবং নিশ্চিত হতে পারেন যে হাদীসটি "সহীহ" গ্রন্থে বিদ্যমান।

 

আর জাল হাদীসসমূহকে সহীহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভুল-ভ্রান্তি অনেক। আমি আপনার কাছে এমন কিছু হাদীস উল্লেখ করছি যেগুলোর ক্ষেত্রে হাফেজ যাহাবী অত্যন্ত কঠোরভাবে তাঁর সমালোচনা করেছেন:

১ - হাকিম (১ম খণ্ড, ২৩৪ পৃষ্ঠা) আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস উল্লেখ করেছেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর, উমর, উসমান এবং আলীর পেছনে সালাত আদায় করেছি; তাঁরা সকলেই উচ্চস্বরে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম' পাঠ করতেন।"

হাফেজ যাহাবী এর সমালোচনা করে বলেছেন: "আমি বলি: এই জাল হাদীসটি উল্লেখ করতে কি লেখকের লজ্জা হলো না? আমি আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এটি একটি মিথ্যা।"

--------------------------------------------

(১) আল্লাহ ভাই সালেহ বিন কায়িদ আল-ওয়াদিয়ীকে এটি সম্পন্ন করার তাওফীক দান করেছেন, আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন এবং এর প্রকাশনা সহজ করে দিন; নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌2 - (ج 3 ص 32) ذكر الحاكم حديث مبارزة علي بن أبي طالب لعمرو بن ود يوم الخندق: «أَفْضَلُ مِنْ أَعْمَالِ أُمَّتِي إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ».

قال الذهبي: قلت: قبح الله رافضيًّا افتراه.

‌‌3 - وقال الحاكم (ج 3 ص 60) في حديث ابن مسعود، وفيه: أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: «أَوَّلُ مَنْ يُصَلِّي عَلَيَّ جِبْرِيلُ … » إلخ.

قال الحاكم: عبد الملك بن عبد الرحمن الذي في هذا الإسناد مجهول، لا نعرفه بعدالةٍ ولا جرحٍ، والباقون كلهم ثقات.

فقال الذهبي: قلت: بل كذبه الفلَّاس، قال -يعني الحاكم-: والباقون ثقات. قلت: وهذا شأن الموضوع، يكون كل رواته ثقات سوى واحد، فلو استحيى الحاكم لما أورد مثل هذا.

‌‌4 - قال الحاكم رحمه الله (ج 3 ص 98) في حديث سهل بن سعد: «أَفِي الْجَنَّةِ بَرْقٌ؟ … » الحديث، قال الحاكم: إن كان الحسين بن عبيد الله هذا حفظه عن عبد العزيز بن أبي حازم، فإنه صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه.

فقال الذهبي متعقبًا للحاكم: قلت: ذا موضوع، وهذا هو الحسين بن عبيد الله العجلي الذي يروي عن مالك وغيره الموضوعات، أفيحتج عاقل بمثله، فضلًا عن أن يورد له في الصحاح؟

‌‌5 - ذكر الحاكم (ج 3 ص 127) حديث: «أَنَا مَدِينَةُ الْعِلْمِ وَعَلِيٌّ بَابُهَا».

فقال الذهبي: قلت: العجب من الحاكم وجرأته في تصحيح هذا وأمثاله من البواطيل، وأحمد هذا (يعني أحمد بن عبد الله بن يزيد الحراني
২ - (৩য় খণ্ড, ৩২ পৃষ্ঠা) আল-হাকিম খন্দকের যুদ্ধের দিন আমর ইবন আবদ উদের বিরুদ্ধে আলী ইবন আবী তালিবের দ্বৈরথের একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন: "কিয়ামত দিবস পর্যন্ত আমার উম্মতের আমলসমূহের চেয়েও এটি শ্রেষ্ঠ।"

আয-যাহাবী বলেন: আমি বলি: আল্লাহ সেই রাফেযীকে ধ্বংস করুন যে এটি মিথ্যা রটনা করেছে।

৩ - এবং আল-হাকিম (৩য় খণ্ড, ৬০ পৃষ্ঠা) ইবন মাসউদের হাদিস সম্পর্কে বলেন, যাতে রয়েছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সর্বপ্রথম যিনি আমার ওপর দরুদ পাঠ করবেন তিনি হলেন জিবরাঈল..." ইত্যাদি।

আল-হাকিম বলেন: এই সনদে থাকা আবদুল মালিক ইবন আবদুর রহমান একজন অপরিচিত ব্যক্তি, আমরা তার ন্যায়পরায়ণতা বা ত্রুটি সম্পর্কে কিছুই জানি না; তবে বাকিরা সবাই নির্ভরযোগ্য।

অতঃপর আয-যাহাবী বলেন: আমি বলি: বরং আল-ফাল্লাস তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। তিনি (অর্থাৎ আল-হাকিম) বলেছেন—বাকিরা নির্ভরযোগ্য। আমি বলি: আর জাল হাদিসের স্বরূপ এমনই হয়, যেখানে একজন ছাড়া বাকি সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য হয়। আল-হাকিম যদি লজ্জিত হতেন, তবে তিনি এই জাতীয় বর্ণনা উল্লেখ করতেন না।

৪ - আল-হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) (৩য় খণ্ড, ৯৮ পৃষ্ঠা) সাহল ইবন সা'দের হাদিস সম্পর্কে বলেন: "জান্নাতে কি বিদ্যুৎ চমক আছে?..." হাদিসটি। আল-হাকিম বলেন: এই হুসাইন ইবন উবায়দুল্লাহ যদি এটি আবদুল আযীয ইবন আবী হাযিম থেকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে থাকেন, তবে এটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ, যদিও তারা এটি বর্ণনা করেননি।

অতঃপর আয-যাহাবী আল-হাকিমের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন: আমি বলি: এটি জাল। এই হুসাইন ইবন উবায়দুল্লাহ আল-ইজলি ইমাম মালিক ও অন্যদের নামে জাল হাদিস বর্ণনা করে। কোনো বিবেকবান মানুষ কি তার মতো ব্যক্তির বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করতে পারে, তাকে সহিহ হাদিসের কিতাবে স্থান দেওয়া তো দূরের কথা?

৫ - আল-হাকিম (৩য় খণ্ড, ১২৭ পৃষ্ঠা) এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "আমি জ্ঞানের শহর এবং আলী তার প্রবেশদ্বার।"

অতঃপর আয-যাহাবী বলেন: আমি বলি: আল-হাকিম ও তার দুঃসাহসের ওপর বিস্ময় জাগে যে, তিনি এই ধরনের বাতিল বর্ণনাকে সহিহ বলছেন। আর এই আহমদ (অর্থাৎ আহমদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযিদ আল-হাররানী)
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ১২)
أحد رجال السند) دجال كذاب.

‌‌6 - قال الحاكم (ج 3 ص 129) في حديث: «عَلِيٌّ إِمَامُ الْبَرَرَةِ»: صحيح الإسناد ولم يخرجاه.

فقال الذهبي: بل والله موضوع، وأحمد كذاب (يعني أحمد بن عبد الله المتقدم)، ثم قال الذهبي: فما أجهلك على سعة معرفتك.

‌‌7 - قال الحاكم (ج 3 ص 131) في الكلام على حديث الطير: وقد قال صحيح على شرط الشيخين. فتعقبه الذهبي فقال: قلت: ابن عياض لا أعرفه (يعني محمد بن أحمد بن عياض)، ولقد كنت زمانًا طويلًا أظن أن حديث الطير لم يجسر الحاكم أن يودعه في "مستدركه"، فلما علقت هذا الكتاب رأيت الهول من الموضوعات التي فيه، فإذا حديث الطير بالنسبة إليها سماء.

‌‌8 - وقال الحاكم (ج 3 ص 160) في حديث ميناء: «أَنَا الشَّجَرَةُ وَفَاطِمَةُ فَرْعُهَا … » الحديث: هذا متنٌ شاذٌّ، وإن كان كذلك فإن إسحاق الدبري صدوق، وعبد الرزاق وأبوه وجده ثقات، وميناء مولى عبد الرحمن بن عوف قد أدرك النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم وسمع منه، والله أعلم.

قتعقبه الذهبي فقال: قلت: ما قال هذا بشر سوى الحاكم، وإنما ذا تابعيٌّ ساقط، وقال أبو حاتم: كذاب يكذب. وقال ابن معين: ليس بثقة. ولكن أظن أن هذا وضع على الدبري، فإن ابن حيويه متهم بالكذب. أفما استحييت أيها المؤلف أن تورد هذه الأخلوقات من أقوال الطرقية فيما يستدرك على الشيخين؟ !
(সনদের অন্যতম বর্ণনাকারী) একজন দাজ্জাল ও চরম মিথ্যাবাদী।

‌‌৬ - ইমাম হাকিম (৩য় খণ্ড, ১২৯ পৃষ্ঠা) ‘আলী পুণ্যবানদের ইমাম’—এই হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: এর সনদ সহিহ, তবে তাঁরা দুজনে (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি।

অতঃপর ইমাম যাহাবী বলেছেন: বরং আল্লাহর কসম, এটি জাল; আর আহমদ একজন মিথ্যাবাদী (অর্থাৎ পূর্বে উল্লিখিত আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ)। এরপর ইমাম যাহাবী বলেছেন: আপনার ব্যাপক পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও আপনি কতই না অজ্ঞ!

‌‌৭ - ইমাম হাকিম (৩য় খণ্ড, ১৩১ পৃষ্ঠা) পাখির হাদিস প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: এটি শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ। ইমাম যাহাবী তার সমালোচনা করে বলেছেন: আমি বলছি, ইবনে ইয়াদকে আমি চিনি না (অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াদ)। আমি দীর্ঘকাল মনে করতাম যে, ইমাম হাকিম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে পাখির হাদিসটি অন্তর্ভুক্ত করার সাহস করবেন না। কিন্তু যখন আমি এই কিতাবটির ওপর টীকা লিখলাম, তখন এতে এত বিপুল পরিমাণ জাল বর্ণনার ভয়াবহতা দেখলাম যে, সেগুলোর তুলনায় পাখির হাদিসটি আকাশসম (উন্নত)।

‌‌৮ - ইমাম হাকিম (৩য় খণ্ড, ১৬০ পৃষ্ঠা) মীনার বর্ণিত হাদিস ‘আমি হলাম গাছ এবং ফাতিমা তার শাখা...’ প্রসঙ্গে বলেছেন: এই মতনটি (মূল পাঠ) শায (ব্যতিক্রমী)। যদিও বিষয়টি এমন, তবুও ইসহাক আদ-দাবারি সত্যবাদী, আর আব্দুর রাজ্জাক, তাঁর পিতা ও পিতামহ নির্ভরযোগ্য। আব্দুর রহমান ইবনে আউফের মুক্তদাস মীনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং তাঁর থেকে হাদিস শুনেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

ইমাম যাহাবী তার প্রতিবাদে বলেছেন: আমি বলছি, হাকিম ছাড়া আর কোনো মানুষ এমন কথা বলেনি। সে তো একজন পরিত্যক্ত তাবেয়ি। আবু হাতিম বলেছেন: সে একজন মিথ্যাবাদী, যে মিথ্যা কথা বলে। ইবনে মাইন বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়। তবে আমার ধারণা, এটি দাবারি-র ওপর আরোপ করে জাল করা হয়েছে; কারণ ইবনে হাইয়ুয়াহ মিথ্যাচারের দায়ে অভিযুক্ত। হে লেখক, শাইখাইনের ওপর তদারকি করতে গিয়ে সুফিদের এই কাল্পনিক গল্পগুলো উল্লেখ করতে কি আপনার লজ্জা হলো না? !
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌9 - قال الحاكم رحمه الله (ج 3 ص 215) في الكلام على حديث عائشة: «مَا بَعَثَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ فِي جَيْشٍ قَطُّ إِلَّا أَمَّرَهُ … » الحديث.

قال: صحيح الإسناد ولم يخرجاه.

قال الذهبي رحمه الله: قلت: سهل، قال الحاكم في "تاريخه": كذاب. وهنا يصحح له، فأين الدين؟ !

ويعني: سهل بن عمار، أحد رجال السند.

‌‌10 - ذكر الحاكم حديث جابر في خاتم الذهب وحرمته، من طريق حرام بن عثمان.

فتعقبه الذهبي فقال: قلت: حرام هالك، فليت شعري أما سمع المؤلف قول الشافعي رحمه الله تعالى: الرواية عن حرامٍ حرامٌ؟ ثم إن الحديث باطل … وذكر العلة في بطلان متنه.

 

‌‌أوهام الحاكم في استدراكه أحاديث قد أخرجاها:

للحاكم أوهام متكاثرة في أحاديث "مستدركه على الشيخين"، وقد أخرجاها أو أخرجها أحدهما. وأنا أذكر مثلًا من صفحات متوالية:

‌‌1 - حديث أنس (ج 4 ص 273): أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا تَكَلَّمَ تَكَلَّمَ ثَلَاثًا. قال: على شرط الشيخين ولم يخرجاه.

وقد رواه البخاري كما في "تحفة الأشراف" في ترجمة ثمامة، عن أنس.

‌‌2 - حديث جبير بن مطعم، في عَدِّ أسماء رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم (ج 4 ص 273) قال: على شرط الشيخين ولم يخرجاه.
৯ - হাকিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) (৩য় খণ্ড, ২১৫ পৃষ্ঠা) আয়েশার (রা.) হাদীস সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যখনই যায়িদ বিন হারিসাহকে কোনো সৈন্যবাহিনীর অভিযানে পাঠিয়েছেন, তখনই তাঁকে আমীর নিযুক্ত করেছেন...» হাদীসটি।

তিনি বলেছেন: এর সনদ সহীহ, তবে তাঁরা দুজন (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি।

যাহাবী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: আমি বলি: (এই বর্ণনাকারী হলেন) সাহল; হাকিম তাঁর "তারীখ" গ্রন্থে বলেছেন যে সে একজন চরম মিথ্যাবাদী। অথচ এখানে তিনি তার হাদীসকে সহীহ বলছেন, তাহলে দ্বীনদারি কোথায়?!

আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সাহল বিন আম্মার, যিনি এই সনদের একজন বর্ণনাকারী।

‌১০ - হাকিম হারাম বিন উসমানের সূত্রে স্বর্ণের আংটি এবং তার নিষিদ্ধতা সম্পর্কে জাবিরের হাদীস উল্লেখ করেছেন।

যাহাবী এর সমালোচনা করে বলেছেন: আমি বলি: হারাম (বর্ণনাকারী) ধ্বংসপ্রাপ্ত। আফসোস! গ্রন্থকার কি ইমাম শাফিয়ীর (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) এই উক্তি শোনেননি যে: "হারামের নিকট থেকে বর্ণনা করা হারাম"? এরপর হাদীসটি বাতিল... তিনি এর মতন (মূল পাঠ) বাতিল হওয়ার কারণ উল্লেখ করেন।

 

‌মুস্তাদরাক গ্রন্থে এমন সব হাদীস বর্ণনায় হাকিমের ভুল যা ইতিপূর্বেই তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন:

শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) ওপর রচিত তাঁর "মুস্তাদরাক" গ্রন্থে হাকিমের এমন অসংখ্য ভুল রয়েছে যা ইতিপূর্বেই তাঁরা দুজন অথবা তাঁদের কোনো একজন বর্ণনা করেছেন। আমি ধারাবাহিক কিছু পৃষ্ঠা থেকে এর উদাহরণ দিচ্ছি:

‌১ - আনাসের হাদীস (৪র্থ খণ্ড, ২৭৩ পৃষ্ঠা): নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো কথা বলতেন, তখন তা তিনবার বলতেন। তিনি (হাকিম) বলেছেন: এটি শায়খাইনের শর্ত অনুযায়ী (সহীহ), কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি।

অথচ ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি "তুহফাতুল আশরাফ" গ্রন্থে সুমামাহ-এর জীবনীতে আনাস থেকে বর্ণিত হয়েছে।

‌২ - জুবাইর বিন মুতয়িমের হাদীস, রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) নামসমূহ গণনার বিষয়ে (৪র্থ খণ্ড, ২৭৩ পৃষ্ঠা)। তিনি (হাকিম) বলেছেন: এটি শায়খাইনের শর্ত অনুযায়ী (সহীহ), কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد أخرجاه، كما في "تحفة الأشراف" في ترجمة محمد بن جبير بن مطعم، أن له خمسة أسماء.

‌‌3 - حديث ابن عمر: «أَحَبُّ الْأَسْمَاءِ إِلَى اللهِ: عَبْدُ اللهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ»، (ج 4 ص 274) قال: صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه. وقد أخرجه مسلم، كما في "فيض القدير".

‌‌4 - حديث جابر: «لَا تُسَمِّ غُلَامَكَ رَبَاحًا وَأَفْلَحَ وَنَجِيحًا … » الحديث. وقد وهم فيه أبو أحمد، فجعله عن جابر عن عمر، وهو في "صحيح مسلم" (ج 3 ص 1686) بتحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي.

‌‌5 - حديث أبي هريرة: «أَخْنَعَ الْأَسْمَاءِ عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلَاكِ» (ج 4 ص 274).

قال: صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه.

وقد أخرجاه، كما في "فيض القدير".

وأنت إذا نظرت إلى (ج 4 ص 274) وجدته قد وهم في أحاديث الصفحة كلها. فَأَعْجَبُ لهذا "المستدرك" الذي أتعب من بعده بسبب أوهامه الشنيعة!

‌‌6 - حديث مطيع: «لَا يُقْتَلَنَّ قُرَشِيٌّ بَعْدَ الْيَوْمِ» (ج 4 ص 275) قال: صحيح ولم يخرجاه.

وقد أخرجه مسلم بتحقيق محمد فؤاد عبد الباقي (ج 3 ص 1408).

نعم، إن للحاكم رحمه الله جهدًا يشكر عليه، وهو جمع الطرق لبعض
তাঁরা উভয়েই (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি "তুহফাতুল আশরাফ"-এ মুহাম্মদ বিন জুবায়ের বিন মুতঈম-এর জীবনীতে উল্লেখ আছে যে, তাঁর পাঁচটি নাম রয়েছে।

‌‌৩ - ইবনে উমর (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস: "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো: আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান" (৪র্থ খণ্ড, ২৭৪ পৃষ্ঠা)। তিনি (হাকিম) বলেছেন: এটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্ত অনুযায়ী সহিহ, কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি। অথচ ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি "ফয়জুল কাদির"-এ রয়েছে।

‌‌৪ - জাবির (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস: "তোমার গোলামের নাম রাবাহ, আফলাহ ও নাজিহ রেখো না..."। আবু আহমদ এতে ভুল করেছেন এবং তিনি এটিকে জাবির থেকে উমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অথচ এটি "সহিহ মুসলিম"-এ (৩য় খণ্ড, ১৬৮৬ পৃষ্ঠা, মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী সম্পাদিত) বিদ্যমান।

‌‌৫ - আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস: "কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট নাম হলো সেই ব্যক্তির, যে নিজের নাম 'মালিকুল আমলাক' (রাজাধিরাজ) রেখেছে" (৪র্থ খণ্ড, ২৭৪ পৃষ্ঠা)।

তিনি বলেছেন: এটি শায়খাইন-এর শর্ত অনুযায়ী সহিহ, কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি।

অথচ তাঁরা উভয়েই এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি "ফয়জুল কাদির"-এ রয়েছে।

আপনি যদি (৪র্থ খণ্ড, ২৭৪ পৃষ্ঠা)-এর দিকে তাকান, তবে দেখতে পাবেন যে তিনি উক্ত পৃষ্ঠার সবকটি হাদিসেই ভুল করেছেন। এই "মুস্তাদরাক"-এর জন্য বড়ই বিস্ময় জাগে, যা তার পরবর্তী গবেষকদের তাঁর মারাত্মক ভুলগুলোর কারণে ক্লান্ত করে তুলেছে!

‌‌৬ - মুতি' (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস: "আজকের পর কোনো কুরাইশিকে আর হত্যা করা হবে না" (৪র্থ খণ্ড, ২৭৫ পৃষ্ঠা)। তিনি বলেছেন: এটি সহিহ, কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি।

অথচ ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী সম্পাদিত ৩য় খণ্ড, ১৪০৮ পৃষ্ঠা)।

হ্যাঁ, ইমাম হাকিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর এমন কিছু প্রচেষ্টা রয়েছে যার জন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার, আর তা হলো কিছু হাদিসের বিভিন্ন সূত্র একত্রিত করা...
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ১৫)
الأحاديث، مثل حديث البراء بن عازب: «زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ» (ج 1 ص 571)، وهكذا حديث: «لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ».

وحديث أسامة بن شريك: «عِبَادَ اللهِ، إِنَّ اللهَ وَضَعَ الْحَرَجَ» (ج 4 ص 399 و 400 و 401)، فجزاه الله خيرًا.

وأنا بحمد الله أتتبع أوهام الحاكم التي سكت عليها الذهبي، ولعلها قد بلغت نحو الألفين. وإن شاء الله بعد الانتهاء ستخرج مع "المستدرك".

 

‌‌[شرطي في "الصحيح المسند"]

أما "الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين" فإني بحمد الله قد نظرت في أكثر كتب السنة الموجودة بمكتبتي، ولكن شرطي فيه شديد:

• فإني إذا أردت أن أكتب الحديث أنظر في "تحفة الأشراف"، هل اختلف في رفع الحديث ووقفه، أو وصله وانقطاعه؟ فإن ترجح لي الرفع كتبته.

• وهكذا أنظر في كتب العلل، إذا كان الحديث معللًا بعلةٍ قادحةٍ تركته. وإذا شككت في الحديث تركته، وقد فعل هذا الإمام مالك بن أنس كما في "مناقب الشافعي" (ج 1 ص 503)، وعفان بن مسلم، ففي "تقريب التهذيب" قال ابن المديني: كان إذا شك في حرف من الحديث تركه، وربما وهم. وفي "تهذيب التهذيب" أن علي بن المديني قال: إن عفان شك في حرف فضرب على خمسة أسطر.

ورب حديث سنده كالشمس، بعد النظر في كتب أهل العلم تظهر فيه علة. وقد جمعت من هذا نحو خمسمائة حديث (1).

--------------------------------------------

(1) قد وصلت أربعمائة وزيادة، وقد خرجت بحمد الله في كتاب "أحاديث معلة ظاهرها الصحة".
হাদিসসমূহ, যেমন বারা ইবন আযিব-এর হাদিস: «তোমাদের কণ্ঠস্বর দ্বারা কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো» (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৭১), এবং অনুরূপভাবে হাদিস: «অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই»।

এবং উসামাহ ইবন শারিক-এর হাদিস: «হে আল্লাহর বান্দারা, নিশ্চয়ই আল্লাহ সংকীর্ণতা (কষ্ট) দূর করেছেন» (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৯৯, ৪০০ এবং ৪০১), সুতরাং আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আর আমি আল্লাহর প্রশংসার সাথে আল-হাকিম-এর সেই বিভ্রান্তিগুলো অনুসন্ধান করছি যেগুলোর ব্যাপারে আয-যাহাবি নীরব থেকেছেন, আর সম্ভবত সেগুলো প্রায় দুই হাজারে পৌঁছেছে। এবং ইনশাআল্লাহ, কাজ শেষ হওয়ার পর তা "আল-মুস্তাদরাক"-এর সাথে প্রকাশিত হবে।

 

‌‌["আস-সহিহ আল-মুসনাদ" গ্রন্থে আমার শর্তাবলি]

আর "আস-সহিহ আল-মুসনাদ মিমা লাইসা ফিস-সহিহাইন" (সহিহাইন-এ নেই এমন সহিহ মুসনাদ হাদিসসমূহ)-এর ব্যাপারে আমি আল্লাহর প্রশংসার সাথে আমার লাইব্রেরিতে বিদ্যমান সুন্নাহর অধিকাংশ কিতাব দেখেছি, তবে এতে আমার শর্ত অত্যন্ত কঠোর:

• কেননা আমি যখন কোনো হাদিস লিখতে চাই, তখন "তুহফাতুল আশরাফ"-এ দেখি—হাদিসটি মারফু (রাসূলের কথা হিসেবে) নাকি মাওকুফ (সাহাবীর কথা হিসেবে) হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ আছে কি না, অথবা এটি কি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) নাকি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)? যদি আমার নিকট মারফু হওয়াটি প্রাধান্য পায়, তবে আমি তা লিখি।

• অনুরূপভাবে আমি ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) বিষয়ক কিতাবগুলোতে দেখি, যদি হাদিসটিতে কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটি থাকে তবে আমি তা বর্জন করি। আর যদি আমি হাদিসের ব্যাপারে সন্দিহান হই তবে তা বর্জন করি, আর ইমাম মালিক ইবন আনাস এমনটিই করেছেন যেমনটি "মানাকিবুশ শাফিঈ" (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩)-তে রয়েছে, এবং আফফান ইবন মুসলিমও (এমনটি করেছেন)। "তাকরিবুত তাহযিব"-এ ইবনুল মাদিনি বলেছেন: তিনি যখন হাদিসের কোনো একটি অক্ষরের ব্যাপারেও সন্দেহ করতেন, তখন তা বর্জন করতেন, আর হয়তো তিনি দ্বিধান্বিত হতেন। এবং "তাহযিবুত তাহযিব"-এ রয়েছে যে আলী ইবনুল মাদিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আফফান একটি অক্ষরের ব্যাপারে সন্দেহ করেছিলেন বিধায় পাঁচটি লাইন কেটে দিয়েছিলেন।

অনেক সময় এমন হাদিস পাওয়া যায় যার সনদ সূর্যের ন্যায় স্পষ্ট, কিন্তু ইলমওয়ালাদের কিতাবসমূহ দেখার পর তাতে কোনো ত্রুটি প্রকাশ পায়। আর আমি এই জাতীয় প্রায় পাঁচশত হাদিস সংগ্রহ করেছি (১)।

--------------------------------------------

(১) তা চারশত ছাড়িয়ে গেছে, এবং আল্লাহর প্রশংসার সাথে তা "আহাদিসু মুআল্লাতুন যাহিরুহাস সিহহা" (ত্রুটিপূর্ণ হাদিস যার বাহ্যিক দিক সহিহ) নামক কিতাবে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌[أمثلة لأحاديث ظاهرها الصحة وهي معلة]

وإليك أمثلة من هذا:

‌‌1 - قال الإمام الترمذي رحمه الله (ج 9 ص 383): حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، أخبرَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، أخبرَنَا خَالِدٌ الحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي العَالِيَةِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي سُجُودِ القُرْآنِ بِاللَّيْلِ: «سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ».

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

وأخرجه النسائي (ج 2 ص 222).

فأنت إذا نظرت في رجاله وجدتهم رجال الصحيح، ولكنه منقطع. ففي "تهذيب التهذيب" قال أحمد: لم يسمع خالد بن مهران الحذاء من أبي العالية.

‌‌2 - قال الإمام الترمذي رحمه الله (ج 9 ص 385): حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ، أخبرَنَا وَكِيعٌ، أخبرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ قَالَ: «بِسْمِ اللهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ نَزِلَّ، أَوْ نَضِلَّ، أَوْ نَظْلِمَ، أَوْ نُظْلَمَ، أَوْ نَجْهَلَ، أَوْ يُجْهَلَ عَلَيْنَا».

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

فأنت إذا نظرت في سنده وجدته مسلسلًا بالأثبات، ولكنه منقطع. ففي "تهذيب التهذيب" في ترجمة الشعبي، عن علي بن المديني: لم يسمع من زيد بن ثابت، ولم يلقَ أبا سعيد الخدري، ولا أم سلمة. اهـ
[সেসব হাদীসের উদাহরণ যেগুলোর বাহ্যিক রূপ সহীহ কিন্তু সেগুলো ত্রুটিযুক্ত (মুআল্লাল)]

এর কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:

১ - ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৯ম খণ্ড, ৩৮৩ পৃষ্ঠা): আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বাশশার, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ আল-হাদ্দা, তিনি আবুল আলিয়া থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) রাতের বেলা কুরআনের সিজদাহ করার সময় বলতেন: "আমার চেহারা সিজদাহ করল সেই সত্তার জন্য যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং স্বীয় শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে এতে শ্রবণ ও দর্শনের ক্ষমতা দান করেছেন।"

এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস।

নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন (২য় খণ্ড, ২২২ পৃষ্ঠা)।

আপনি যদি এর বর্ণনাকারীদের (রিজাল) দিকে তাকান তবে তাদের সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী হিসেবে পাবেন, কিন্তু এটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি‘)। 'তাহযীবুত তাহযীব'-এ ইমাম আহমাদ বলেছেন: খালিদ ইবনে মিহরান আল-হাদ্দা আবুল আলিয়া থেকে শোনেননি।

২ - ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৯ম খণ্ড, ৩৮৫ পৃষ্ঠা): আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মাহমুদ ইবনে গায়লান, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকী‘, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান, তিনি মানসূর থেকে, তিনি আমির আশ-শা'বী থেকে এবং তিনি উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যখন ঘর থেকে বের হতেন তখন বলতেন: "আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট আশ্রয় চাই পদস্খলিত হওয়া থেকে, পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে, কারো ওপর জুলুম করা থেকে অথবা অন্য কারো দ্বারা আমাদের ওপর জুলুম হওয়া থেকে, মূর্খতা প্রকাশ করা থেকে অথবা অন্য কারো দ্বারা আমাদের ওপর মূর্খতাসূলভ আচরণ করা থেকে।"

এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস।

আপনি যদি এর সনদের দিকে লক্ষ্য করেন তবে একে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতা হিসেবে পাবেন, কিন্তু এটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি‘)। 'তাহযীবুত তাহযীব'-এ শা'বীর জীবনীতে আলী ইবনুল মাদীনী থেকে বর্ণিত হয়েছে: তিনি যায়েদ ইবনে সাবিত থেকে শোনেননি এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী ও উম্মে সালামাহর সাথেও তাঁর সাক্ষাৎ ঘটেনি। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وللحديث علة أخرى، ففي "عمل اليوم والليلة" للنسائي (ج 176): ورواه زبيد، عن الشعبي مرسلًا: أخبرنا محمد بن بشار، عن حديث عبد الرحمن، عن سفيان، عن زبيد، عن الشعبي، عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم مثله، ولم يذكر: بسم الله.

‌‌3 - قال أبو داود رحمه الله (ج 13 ص 173): حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أخبرَنَا أَبَانُ، أخبرَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنِي أَبُو مِجْلَزٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ مَنْ جَلَسَ وَسْطَ الْحَلْقَةِ.

الحديث أخرجه الترمذي (ج 8 ص 28) وقال: هذا حديث حسن صحيح.

فأنت إذا نظرت إلى رجال السند وجدتهم رجال الصحيح، ولكن في "تهذيب التهذيب" في ترجمة أبي مجلز لاحق بن حميد: وأرسل عن عمر وحذيفة. وفي "تهذيب التهذيب" أيضًا قال الدوري عن ابن معين: لم يسمع من حذيفة.

‌‌4 - قال أبو داود رحمه الله (ج 4 ص 364): حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، أخبرَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: سُرِقَتْ مِلْحَفَةٌ لَهَا، فَجَعَلَتْ تَدْعُو عَلَى مَنْ سَرَقَهَا، فَجَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا تُسَبِّخِي عَنْهُ».

عطاء هو ابن أبي رباح.

هذا الحديث إذا نظرت إذا سنده وجدتهم رجال الصحيح، لكن سفيان الثوري قد رواه عن حبيب، عن عطاء مرسلًا، كما في "تحفة الأشراف".
হাদিসটির আরও একটি ত্রুটি রয়েছে। নাসায়ীর 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে (খণ্ড ১৭৬) বর্ণিত হয়েছে: জুবাইদ এটি শাবি থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন বাশার, আব্দুর রহমানের হাদিস থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি জুবাইদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি 'বিসমিল্লাহ' উল্লেখ করেননি।

‌‌৩ - আবু দাউদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি (খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ১৭৩) বলেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুসা বিন ইসমাইল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাতাদাহ, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মিজলায, হুজাইফা থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সেই ব্যক্তির ওপর লানত করেছেন যে মজলিসের মাঝখানে বসে।

হাদিসটি তিরমিযী (খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ২৮) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান সহিহ।

আপনি যদি এই সনদের বর্ণনাকারীদের প্রতি লক্ষ্য করেন, তবে তাদের সহিহ বর্ণনাকারী হিসেবে পাবেন। কিন্তু 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থে আবু মিজলায লাহিক বিন হুমাইদের জীবনীতে বলা হয়েছে: তিনি ওমর এবং হুজাইফা থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থে আরও উল্লেখ আছে যে, আদ-দুরি ইবনে মঈন থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি হুজাইফা থেকে কোনো হাদিস শোনেননি।

‌‌৪ - আবু দাউদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৬৪) বলেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উসমান বিন আবি শাইবাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফস বিন গিয়াস, তিনি আমাশ থেকে, তিনি হাবিব বিন আবি সাবিত থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: তাঁর একটি চাদর চুরি হয়েছিল, ফলে তিনি চোরের ওপর বদদোয়া করতে শুরু করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলতে লাগলেন: "তার (গুনাহের বোঝা) হালকা করো না।"

আতা হলেন ইবনে আবি রাবাহ।

এই হাদিসটির সনদের দিকে তাকালে আপনি তাদের সহিহ বর্ণনাকারী হিসেবে পাবেন, কিন্তু সুফিয়ান সাওরি এটি হাবিব থেকে, তিনি আতা থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি 'তুহফাতুল আশরাফ' গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ১৮)
والإمام العقيلي رحمه الله قد ذكره في ترجمة حبيب بن أبي ثابت، وقال: وله عن عطاء غير حديث لا يتابع عليه. وقال: إن يحيى بن سعيد يقول: حبيب عن عطاء ليست بمحفوظة. وذكر هذا الحافظ في "تهذيب التهذيب" مُقِرًّا له، وكذا الحافظ ابن رجب ذكر هذا في "شرح علل الترمذي" (ج 2 ص 654).

‌‌5 - قال الإمام الترمذي رحمه الله (ج 6 ص 206): حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، أخبرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ كَوَى أَسْعَدَ بْنَ زُرَارَةَ مِنَ الشَّوْكَةِ.

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ.

فأنت إذا نظرت إلى سنده وجدتهم رجال الصحيح، ولكن الحافظ في "الإصابة" يقول: إن هذه الطريق شاذة، وإن المحفوظ رواية عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن أبي أمامة بن سهل، وهو مرسل.

ويقول ابن رجب في "شرح علل الترمذي": والصواب المرسل، وقد جعلته مثالًا لما اختلف فيه على معمر باليمن وبالبصرة؛ فرواه باليمن مرسلًا، وبالبصرة متصلًا، ثم قال: والصواب المرسل.

وقال ابن أبي حاتم في "العلل" (ج 2 ص 261): سألت أبي عن حديث رواه يزيد بن زريع، عن معمر، عن الزهري، عن أنس: أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم كوى أسعد بن زرارة من الشوكة؟ فقال أبي: هذا خطأ، أخطأ فيه معمر، إنما هو الزهري، عن أبي أمامة بن سهل: أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم كوى أسعد؛ مرسل.
আর ইমাম আল-উকায়লী (রহিমাহুল্লাহ) একে হাবীব ইবনে আবি সাবিত-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: “আতা থেকে তার এমন কিছু হাদিস আছে যার অনুসরণ করা যায় না।” তিনি আরও বলেছেন: “ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেন: আতা থেকে হাবীবের বর্ণনা সংরক্ষিত নয়।” হাফিয (ইবনে হাজার) ‘তাহযীবুত তাহযীব’ গ্রন্থে এটি সমর্থন করে উল্লেখ করেছেন এবং একইভাবে হাফিয ইবনে রাজাব এটি ‘শারহু ইলালিত তিরমিযী’ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৫৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

‌‌৫ - ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২০৬): হুমায়দ ইবনে মাসআদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবনে যুরায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) আস’আদ ইবনে যুরারাহকে বিষাক্ত ক্ষতের কারণে দাগ (সেঁক) দিয়েছিলেন।

এই হাদিসটি হাসান গরীব।

সুতরাং আপনি যখন এর সনদের দিকে তাকাবেন, তখন এর বর্ণনাকারীদের সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী হিসেবে পাবেন, কিন্তু হাফিয ‘আল-ইসাবাহ’ গ্রন্থে বলেন: এই সূত্রটি শায (বিচ্ছিন্ন), আর সংরক্ষিত হলো আব্দুর রাজ্জাকের বর্ণনা যা মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু উমামাহ ইবনে সাহল থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তা মুরসাল।

ইবনে রাজাব ‘শারহু ইলালিত তিরমিযী’ গ্রন্থে বলেন: সঠিক হলো মুরসাল বর্ণনাটি। আর আমি ইয়ামেন ও বসরার বর্ণনায় মা’মারের বর্ণনার পার্থক্যের উদাহরণ হিসেবে এটি পেশ করেছি; তিনি ইয়ামেনে এটি মুরসাল হিসেবে এবং বসরায় মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন: সঠিক হলো মুরসাল বর্ণনাটি।

আর ইবনে আবি হাতিম ‘আল-ইলাল’ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৬১) গ্রন্থে বলেছেন: আমি আমার পিতাকে সেই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যা ইয়াযীদ ইবনে যুরায় মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) আস’আদ ইবনে যুরারাহকে বিষাক্ত ক্ষতের কারণে দাগ দিয়েছিলেন? তখন আমার পিতা বললেন: এটি ভুল, মা’মার এতে ভুল করেছেন; মূলত এটি যুহরী থেকে আবু উমামাহ ইবনে সাহল বর্ণিত যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) আস’আদকে দাগ দিয়েছিলেন; যা মুরসাল।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌6 - قال أبو داود رحمه الله (ج 8 ص 464): حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ، وَأَبَا بَكْرٍ، وَعُمَرَ يَمْشُونَ أَمَامَ الْجَنَازَةِ.

هذا الحديث إذا نظرت إلى سنده قلت: هو في غاية من الصحة، وإليك ما قاله الإمام الترمذي رحمه الله حول هذا الحديث (ج 4 ص 88) بعد أن ساقه بسنده من طريق سفيان بن عيينة متصلًا، ثم قال: حَدَّثَنَا الحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الخَلَّالُ، أخبرَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، أخبرنا هَمَّامٍ، عَنْ مَنْصُورٍ وَبَكْرٍ الكُوفِيِّ وَزِيَادٍ وَسُفْيَانَ، كُلُّهُمْ يَذْكُرُ أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنَ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ، وَأَبَا بَكْرٍ، وَعُمَرَ يَمْشُونَ أَمَامَ الجَنَازَةِ.

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أخبرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ يَمْشُونَ أَمَامَ الجَنَازَةِ.

قَالَ الزُّهْرِيُّ: وَأَخْبَرَنِي سَالِمٌ: أَنَّ أَبَاهُ كَانَ يَمْشِي أَمَامَ الجَنَازَةِ.

قال أبو عيسى: حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ هَكَذَا، رَوَى ابْنُ جُرَيْجٍ وَزِيَادُ بْنُ سَعْدٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ عُيَيْنَةَ.

وَرَوَى مَعْمَرٌ وَيُونُسُ بْنُ يَزِيدَ وَمَالِكٌ مِنَ الحُفَّاظِ وَغَيْرُهُمْ، عَنِ الزُّهْرِيِّ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَمْشِي أَمَامَ الجَنَازَةِ.

وَأَهْلُ الحَدِيثِ كُلُّهُمْ يَرَوْنَ أَنَّ الحَدِيثَ المُرْسَلَ فِي ذَلِكَ أَصَحُّ.

قال أبو عيسى: وَسَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مُوسَى، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّزَّاقِ، يَقُولُ: قَالَ ابْنُ المُبَارَكِ: حَدِيثُ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا مُرْسَلٌ، أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ
৬ - ইমাম আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন (৮ম খণ্ড, ৪৬৪ পৃষ্ঠা): আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কানাবি, তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর এবং উমরকে জানাজার সামনে হাঁটতে দেখেছি।

আপনি যদি এই হাদিসটির সনদের দিকে লক্ষ্য করেন তবে বলবেন: এটি অত্যন্ত সহিহ। এই হাদিসটি সম্পর্কে ইমাম তিরমিজি (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তা আপনার সামনে তুলে ধরা হলো (৪র্থ খণ্ড, ৮৮ পৃষ্ঠা), তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনার সূত্র ধরে মুত্তাসিল সনদে হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আলি আল-খাল্লাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে আসিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাম, তিনি মানসুর, বকর আল-কুফি, জিয়াদ এবং সুফিয়ান থেকে, তাঁরা সকলে উল্লেখ করেছেন যে তাঁরা এটি যুহরি থেকে শুনেছেন, তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর এবং উমরকে জানাজার সামনে হাঁটতে দেখেছি।

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দ ইবনে হুমাইদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মামার, তিনি যুহরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর এবং উমর জানাজার সামনে হাঁটতেন।

যুহরি বলেন: এবং আমাকে সালিম সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর পিতা জানাজার সামনে হাঁটতেন।

আবু ঈসা বলেন: ইবনে উমরের হাদিসটি এই রূপই। ইবনে জুরাইজ, জিয়াদ ইবনে সাদ এবং একাধিক বর্ণনাকারী যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে ইবনে উইয়াইনার হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আর হাফেজদের মধ্য থেকে মামার, ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ, মালিক এবং অন্যরা যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) জানাজার সামনে হাঁটতেন।

এবং হাদিস বিশারদগণ সকলে মনে করেন যে, এক্ষেত্রে মুরসাল হাদিসটিই অধিক বিশুদ্ধ।

আবু ঈসা বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মুসাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রাজ্জাককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক বলেছেন: এই বিষয়ে যুহরির মুরসাল হাদিসটি ইবনে... এর হাদিসের চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ২০)
عُيَيْنَةَ». قَالَ ابْنُ المُبَارَكِ: وَأَرَى ابْنَ جُرَيْجٍ أَخَذَهُ عَنْ ابْنِ عُيَيْنَةَ.

قال أبو عيسى: وَرَوَى هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى هَذَا الحَدِيثَ، عَنْ زِيَادٍ هُوَ ابْنُ سَعْدٍ وَمَنْصُورٍ وَبَكْرٍ وَسُفْيَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ. وَإِنَّمَا هُوَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، رَوَى عَنْهُ هَمَّامٌ. اهـ

يقصد الترمذي من هذا أن همام بن يحيى وَهِمَ فيه، وقال النسائي (ج 4 ص 56): هذا خطأ، والصواب مرسل. وراجع "التلخيص الحبير" للحافظ ابن حجر رحمه الله.

وهذا الحديث كما ترى سكت عنه أبو داود، فعلى هذا فقوله رحمه الله تعالى: وما سَكَتُّ عنه فهو صالح، يحتاج إلى بحث. فقد سكت عن أحاديث وتعقبه الحافظ المنذري، وسكت المنذري عن أشياء فتعقبه الحافظ ابن القيم، كما يُعلم من كتابيهما.

‌‌7 - قال الإمام أحمد رحمه الله (ج 6 ص 444): حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ، لَا تَخْتَصَّ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ بِقِيَامٍ دُونَ اللَّيَالِي، وَلَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِصِيَامٍ دُونَ الْأَيَّامِ».

عاصم هو ابن سليمان الأحول، والحديث ظاهر سنده أنه صحيح على شرط الشيخين، ولكن في "جامع التحصيل" في ترجمة محمد بن سيرين عن أبي حاتم: ولا أظنه سمع من أبي الدرداء، ذاك بالشام وذاك بالبصرة. وفيه أيضًا: وقال في "التهذيب": إن روايته عن حذيفة وأبي الدرداء مرسلة. اهـ

‌‌8 - قال الإمام أحمد رحمه الله (ج 2 ص 88): حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا
উয়াইনা। ইবনুল মুবারক বলেন: আমি মনে করি ইবনু জুরাইজ এটি ইবনু উয়াইনার নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন।

আবু ঈসা বলেন: হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যিয়াদ (যিনি ইবনে সাদ), মানসুর, বকর এবং সুফিয়ান থেকে, তারা জুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে। আর তিনি মূলত সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, যার থেকে হাম্মাম বর্ণনা করেছেন। (সমাপ্ত)

এর মাধ্যমে তিরমিজি বুঝাতে চেয়েছেন যে হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া এতে ভুল করেছেন, এবং নাসাঈ বলেছেন (৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৬): এটি ভুল, আর সঠিক হলো এটি মুরসাল। হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর "আত-তালখিসুল হাবীর" কিতাবটি দেখে নিন।

আর এই হাদিসটি যেমন দেখছেন আবু দাউদ এ সম্পর্কে নীরব থেকেছেন। সুতরাং সেই অনুযায়ী তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) কথা: "আমি যে বিষয়ে নীরব থেকেছি তা সালেহ (গ্রহণযোগ্য)", এটি পর্যালোচনার দাবি রাখে। কারণ তিনি অনেক হাদিসের ক্ষেত্রে নীরব থেকেছেন অথচ হাফেজ আল-মুনজিরি সেগুলোর সমালোচনা করেছেন, আবার মুনজিরি কিছু বিষয়ে নীরব থেকেছেন যা হাফেজ ইবনুল কায়্যিম সমালোচনা করেছেন, যেমনটি তাঁদের কিতাবদ্বয় থেকে জানা যায়।

৭ - ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৬ষ্ঠ খণ্ড, ৪৪৪ পৃষ্ঠা): আসওয়াদ ইবনে আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসরাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «হে আবু দারদা, অন্যান্য রাত বাদ দিয়ে শুধুমাত্র জুমার রাতকে কিয়ামের (ইবাদত) জন্য নির্দিষ্ট করো না এবং অন্যান্য দিন বাদ দিয়ে শুধুমাত্র জুমার দিনকে রোজা রাখার জন্য নির্দিষ্ট করো না।»

আসিম হলেন ইবনে সুলাইমান আল-আহওয়াল। হাদিসটির বাহ্যিক সনদ শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ, কিন্তু "জামেউত তাহসীল" কিতাবে মুহাম্মদ ইবনে সিরিনের জীবনীতে আবু হাতিম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: আমি মনে করি না তিনি আবু দারদা থেকে হাদিস শুনেছেন; কারণ তিনি (আবু দারদা) ছিলেন সিরিয়ায় আর তিনি (ইবনে সিরিন) ছিলেন বসরায়। এতে আরও উল্লেখ আছে: "আত-তাহযীব" কিতাবে বলা হয়েছে: হুযাইফা ও আবু দারদা থেকে তাঁর বর্ণনা মুরসাল। (সমাপ্ত)

৮ - ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (২য় খণ্ড, ৮৮ পৃষ্ঠা): আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ২১)
مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: رَأَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ عَلَى عُمَرَ ثَوْبًا أَبْيَضَ، فَقَالَ: «أَجَدِيدٌ ثَوْبُكَ أَمْ غَسِيلٌ؟ » فَقَالَ: فَلَا أَدْرِي مَا رَدَّ عَلَيْهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «الْبَسْ جَدِيدًا، وَعِشْ حَمِيدًا، وَمُتْ شَهِيدًا» أَظُنُّهُ قَالَ: «وَيَرْزُقُكَ اللهُ قُرَّةَ عَيْنٍ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ».

هذا الحديث إذا نظرت إليه تقول: هو صحيح على شرط الشيخين، ولكن ابن أبي حاتم يذكره في "العلل" (ج 1 ص 490) ثم قال بعد أن سأل أباه عنه: ورواه عبد الرزاق أيضًا، عن الثوري، عن عاصم بن عبيد الله، عن سالم، عن أبيه، عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، مثله. فأنكر الناس ذلك، وهو حديث باطل، فالتمس الحديث: هل رواه أحد؟ فوجدوه قد رواه ابن إدريس، عن إسماعيل بن أبي خالد، عن أبي الأشهب النخعي، عن رجل من مزينة، عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، فذكر مثله.

وقال الحافظ المزي في "تحفة الأشراف" (ج 5 ص 397): قال حمزة بن محمد الكناني الحافظ: لا أعلم أحدًا رواه عن الزهري غير معمر، وما أحسبه بالصحيح، والله.

وقال الحافظ في "النكت الظراف": قلت: قال النسائي: هذا حديث منكر، أنكره يحيى القطان على عبد الرزاق، ولم يروه عن معمر غيره. وقد روي عن معقل واختلف عليه فيه، فقيل: عنه، عن إبراهيم بن سعد، عن الزهري مرسلًا، وليس هذا الحديث من حديث الزهري. هكذا وقع في رواية ابن الأحمر. اهـ

قلت: وهو كذلك في "عمل اليوم والليلة" (ص 276).
মা’মার থেকে বর্ণিত, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালেম থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরনে একটি সাদা কাপড় দেখতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: “তোমার এই কাপড়টি কি নতুন নাকি ধোয়া?” বর্ণনাকারী বলেন: আমি জানি না তিনি কী উত্তর দিয়েছিলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “নতুন কাপড় পরিধান করো, প্রশংসিত জীবন যাপন করো এবং শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করো।” আমার ধারণা তিনি এও বলেছিলেন: “এবং আল্লাহ তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে চোখের শীতলতা দান করুন।”

এই হাদীসটির দিকে তাকালে আপনি বলবেন যে, এটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী সহীহ। কিন্তু ইবনে আবি হাতিম তার “আল-ইলাল” (১ম খণ্ড, ৪৯০ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তার পিতাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর বলেছেন: আব্দুর রাজ্জাক এটি সওরী থেকে, তিনি আসিম ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞগণ এটি অস্বীকার করেছেন এবং এটি একটি বাতিল হাদীস। অতঃপর তারা হাদীসটির অনুসন্ধান করলেন যে, এটি কি অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন? তখন তারা পেলেন যে, ইবনে ইদ্রিস এটি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি আবুল আশহাব আন-নাখায়ী থেকে, তিনি মুযাইনা গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এবং হাফিয আল-মিযযী “তুহফাতুল আশরাফ” (৫ম খণ্ড, ৩৯৭ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে বলেছেন: হাফিয হামযা ইবনে মুহাম্মদ আল-কিনানি বলেছেন: মা’মার ব্যতীত অন্য কেউ এটি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই এবং আমি এটিকে সহীহ মনে করি না, আল্লাহই ভালো জানেন।

এবং হাফিয “আন-নুকাতুয যিরাফ” গ্রন্থে বলেছেন: আমি বলছি: নাসাঈ বলেছেন: এটি একটি মুনকার হাদীস। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এটি আব্দুর রাজ্জাকের বর্ণনায় হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং মা’মার থেকে তিনি ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি। মা’কিল থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে এবং তার সূত্রে এতে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে: তার থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে সা’দ থেকে, তিনি যুহরী থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এই হাদীসটি যুহরীর হাদীস নয়। ইবনুল আহমারের বর্ণনায় এভাবেই এসেছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

আমি বলছি: “আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলাহ” (২৭৬ পৃষ্ঠা) গ্রন্থেও এটি এভাবেই রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌9 - قال أبو داود رحمه الله (ج 7 ص 236): حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، أخبرَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي يَحْيَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «تَكُونُ إِبِلٌ لِلشَّيَاطِينِ، وَبُيُوتٌ لِلشَّيَاطِينِ؛ فَأَمَّا إِبِلُ الشَّيَاطِينِ فَقَدْ رَأَيْتُهَا، يَخْرُجُ أَحَدُكُمْ بِجُنَيْبَاتٍ مَعَهُ قَدْ أَسْمَنَهَا فَلَا يَعْلُو بَعِيرًا مِنْهَا، وَيَمُرُّ بِأَخِيهِ قَدِ انْقَطَعَ بِهِ فَلَا يَحْمِلُهُ، وَأَمَّا بُيُوتُ الشَّيَاطِينِ فَلَمْ أَرَهَا». كَانَ سَعِيدٌ يَقُولُ: لَا أُرَاهَا إِلَّا هَذِهِ الْأَقْفَاصُ الَّتِي يَسْتُرُ النَّاسُ بِالدِّيبَاجِ.

هذا الحديث إذا نظرت إلى سنده وجدته رجال الصحيح، إلا عبد الله بن أبي يحيى، وقد وثَّقه أحمد وابن معين وأبو داود، كما في "تهذيب التهذيب"، ولكن سعيد بن أبي هند لم يلقَ أبا هريرة، كما في "عون المعبود" عن أبي حاتم. اهـ

‌‌10 - قال الإمام أبو داود رحمه الله (ج 1 ص 249): حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، قال: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ سَرِيَّةً، فَأَصَابَهُمُ الْبَرْدُ، فَلَمَّا قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُمْ أَنْ يَمْسَحُوا عَلَى الْعَصَائِبِ وَالتَّسَاخِينِ». اهـ

ثور هو ابن يزيد. وهذا الحديث إذا نظرت في سنده وجدتهم ثقات، ولكن راشد بن سعد لم يسمع من ثوبان، قاله أبو حاتم وإبراهيم الحربي، وقال الخلال عن أحمد: لا ينبغي أن يكون سمع. اهـ من "تهذيب التهذيب". ثم وجدت أن البخاري يقول: في "التاريخ الكبير": سمع ثوبان. فعلى هذا فليس معلًّا.
‌৯ - আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৩৬): মুহাম্মদ ইবনে রাফি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি ফুদাইক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইয়াহইয়া আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «শয়তানদের জন্য কিছু উট থাকবে এবং শয়তানদের জন্য কিছু ঘর থাকবে। শয়তানদের উটের বিষয় তো আমি দেখেছি; তোমাদের কেউ তার সাথে কিছু অতিরিক্ত উট নিয়ে বের হয় যেগুলোকে সে মোটাতাজা করেছে অথচ সেগুলোর কোনোটিতে সে আরোহণ করে না, আর সে তার এমন এক ভাইয়ের পাশ দিয়ে যায় যার বাহন তাকে মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছে, অথচ সে তাকে বহন করে না। আর শয়তানদের ঘরের বিষয় আমি দেখিনি।» সাঈদ বলতেন: আমি সেগুলোকে এই পালকিগুলো ছাড়া আর কিছু মনে করি না যা মানুষ রেশম দিয়ে ঢেকে রাখে।

এই হাদিসটির সনদের দিকে তাকালে আপনি একে সহিহ স্তরের বর্ণনাকারী সম্বলিত পাবেন, কেবল আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইয়াহইয়া ব্যতীত; আর আহমদ, ইবনে মাঈন এবং আবু দাউদ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, যেমনটি "তাহজীবুত তাহজীব"-এ রয়েছে। কিন্তু সাঈদ ইবনে আবি হিন্দ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাক্ষাত পাননি, যেমনটি আবু হাতিম থেকে উদ্ধৃত করে "আওনুল মাবুদ"-এ বলা হয়েছে। সমাপ্ত।

‌১০ - ইমাম আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৪৯): আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাওরের সূত্রে, তিনি রাশিদ ইবনে সা'দ থেকে, তিনি সাওবান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) একটি ছোট সৈন্যদল প্রেরণ করলেন, অতঃপর তারা প্রচণ্ড শীতের কবলে পড়ল। তারা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এল, তিনি তাদেরকে পাগড়ি এবং মোজার উপর মাসেহ করার নির্দেশ দিলেন। সমাপ্ত।

সাওর হলেন ইবনে ইয়াজিদ। এই হাদিসটির সনদের দিকে লক্ষ্য করলে আপনি তাদের নির্ভরযোগ্য পাবেন, কিন্তু রাশিদ ইবনে সা'দ সাওবান থেকে শ্রবণ করেননি; এটি আবু হাতিম এবং ইব্রাহিম আল-হারবি বলেছেন। আর আল-খাল্লাল আহমদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তার শ্রবণ করার কথা নয়। এটি "তাহজীবুত তাহজীব" থেকে সমাপ্ত। অতঃপর আমি দেখতে পেলাম যে, বুখারি "আত-তারিখুল কবির"-এ বলেছেন: তিনি সাওবান থেকে শ্রবণ করেছেন। সুতরাং এই ভিত্তিতে হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌11 - قال الإمام أحمد رحمه الله (ج 3 ص 364): حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: قَاتَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ مُحَارِبَ خَصَفَةَ بِنَخْلٍ، فَرَأَوْا مِنَ الْمُسْلِمِينَ غِرَّةً، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْهُمْ يُقَالَ لَهُ: غَوْرَثُ بْنُ الْحَارِثِ، حَتَّى قَامَ عَلَى رَأْسِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ بِالسَّيْفِ، فَقَالَ: مَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي؟ قَالَ: «اللهُ عز وجل» فَسَقَطَ السَّيْفُ مِنْ يَدِهِ، فَأَخَذَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي؟ » قَالَ: كُنْ كَخَيْرِ آخِذٍ. قَالَ: «أَتَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ؟ » قَالَ: لَا، وَلَكِنِّي أُعَاهِدُكَ أَنْ لَا أُقَاتِلَكَ، وَلَا أَكُونَ مَعَ قَوْمٍ يُقَاتِلُونَكَ. فَخَلَّى سَبِيلَهُ، قَالَ: فَذَهَبَ إِلَى أَصْحَابِهِ، قَالَ: قَدْ جِئْتُكُمْ مِنْ عِنْدِ خَيْرِ النَّاسِ. فَلَمَّا كَانَ الظُّهْرُ أَوِ الْعَصْرُ صَلَّى بِهِمْ صَلَاةَ الْخَوْفِ، فَكَانَ النَّاسُ طَائِفَتَيْنِ: طَائِفَةً بِإِزَاءِ عَدُوِّهِمْ، وَطَائِفَةً صَلَّوْا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى بِالطَّائِفَةِ الَّذِينَ كَانُوا مَعَهُ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ انْصَرَفُوا، فَكَانُوا مَكَانَ أُولَئِكَ الَّذِينَ كَانُوا بِإِزَاءِ عَدُوِّهِمْ، وَجَاءَ أُولَئِكَ فَصَلَّى بِهِمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ، فَكَانَ لِلْقَوْمِ رَكْعَتَانِ رَكْعَتَانِ، وَلِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ.

وقال رحمه الله (ص 390): ثنا سريج، ثنا أبو عوانة، عن أبي بشر، عن سليمان بن قيس.

أنت إذا نظرت في سند هذا الحديث وجدتهم ثقات رجال الصحيح، إلا سليمان بن قيس، وقد وثقه أبو زرعة والنسائي، كما في "تهذيب التهذيب".

ولكن أبا بشر وهو جعفر بن أبي وحشية لم يسمع من سليمان بن قيس، كما في "تهذيب التهذيب" عن البخاري وابن حبان.
১১ - ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন (৩য় খণ্ড, ৩৬৪ পৃষ্ঠা): আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবন কায়স থেকে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) নাখল নামক স্থানে মুহারিব খাসাফাহ গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। শত্রুরা মুসলিমদের মাঝে অসতর্কতা দেখতে পায়। তখন তাদের মধ্য থেকে গাওরাস ইবনুল হারিস নামক এক ব্যক্তি তলোয়ার হাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাথার ওপর এসে দাঁড়াল। সে বলল: "কে আপনাকে আমার থেকে রক্ষা করবে?" তিনি বললেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল।" তখন তার হাত থেকে তলোয়ারটি পড়ে গেল। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সেটি তুলে নিলেন এবং বললেন: "কে তোমাকে আমার থেকে রক্ষা করবে?" সে বলল: "আপনি উত্তম গ্রহণকারী (ক্ষমাশীল) হোন।" তিনি বললেন: "তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই?" সে বলল: "না, তবে আমি আপনার সাথে এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে, আমি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না এবং যারা আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তাদের সাথেও থাকব না।" তখন তিনি তার পথ ছেড়ে দিলেন (তাকে মুক্ত করে দিলেন)। সে তার সাথীদের কাছে গিয়ে বলল: "আমি তোমাদের কাছে শ্রেষ্ঠ মানুষের নিকট থেকে এসেছি।" অতঃপর যখন যোহর বা আসরের সময় হলো, তিনি তাদের নিয়ে ভীতি অবস্থার নামায (সালাতুল খাওফ) আদায় করলেন। মানুষ দুই দলে বিভক্ত হলো: এক দল শত্রুর মোকাবিলায় দাঁড়িয়ে থাকল এবং এক দল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে নামায আদায় করল। তিনি তার সাথে থাকা দলকে নিয়ে দুই রাকাত নামায পড়লেন, এরপর তারা চলে গিয়ে শত্রুর মোকাবিলায় থাকা লোকদের স্থলাভিষিক্ত হলো। অতঃপর অন্য দলটি আসল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিয়ে দুই রাকাত নামায পড়লেন। ফলে লোকদের জন্য হলো দুই রাকাত করে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য হলো মোট চার রাকাত।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন (৩৯০ পৃষ্ঠা): সুরাইজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বিশর থেকে, তিনি সুলাইমান ইবন কায়স থেকে।

আপনি যদি এই হাদিসের সনদের দিকে লক্ষ্য করেন, তবে সুলাইমান ইবন কায়স ব্যতীত বর্ণনাকারীদের সকলকে 'সহীহ' গ্রন্থের নির্ভরযোগ্য (সিক্বাহ) রাবী হিসেবে পাবেন। আর আবু যুরআহ ও নাসাঈ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, যেমনটি 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থে উল্লেখ আছে।

কিন্তু আবু বিশর—যিনি হলেন জাফর ইবন আবি ওয়াহশিয়া—তিনি সুলাইমান ইবন কায়স থেকে সরাসরি শোনেননি, যেমনটি ইমাম বুখারী ও ইবন হিব্বানের উদ্ধৃতিতে 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ২৪)
والحديث صحيح عن جابر من طرق أخرى، رواه مسلم (ج 1 ص 576) من حديث أبي سلمة بن عبد الرحمن، عن جابر بنحوه.

* * *

• هذا، ومما لا أعرِّج عليه: ما إذا كان التابعي يرسل، ولم يذكروا أنه سمع من ذلك الصحابي ولا أنه لم يسمع منه، ولم أجد الشيخين رحمهما الله قد أخرجا له عن ذلك الصحابي، فهذا مما أتوقف في الإخراج عنه.

• ومنها: أن يكون التابعي مكثرًا والصحابي مكثرًا أيضًا، ولم يُصرح بالتحديث عن ذلك الصحابي، ولم يخرج له الشيخان عنه، فهذا مما أتوقف فيه، وإن لم يكن التابعي ممن قيل فيه: يرسل. ولا يقال: إن عنعنة غير المدلس مقبولة، فإنه مقيد بما إذا قد سمع منه، فعنعنة غير المدلس عمن سمع منه محمولة على السماع.

• ومنها: أن يكون الراوي لم يوثقه معتبر، وليس مشهورًا بالطلب، فإني أتوقف فيه. فإن كان قد روى له الشيخان، فإني أتوقف فيما إذا كان خارج "الصحيحين". ولست بحمد الله أجهل انتقاد الحافظ الذهبي في "الميزان" لابن القطان، حيث جهَّل بعض من روى عنه جماعة، كمالك بن الخير المصري، ولكني غير مقتنع بكلام الحافظ الذهبي، فالذي يظهر لي أنه لا بد من توثيق من معتبر، أو شهرة في الطلب، كما في "فتح المغيث". والله أعلم.

ثم إن هذه ليست قاعدة مطردة، فرُبَّ راوٍ يروي عنه جماعة ويقول الحافظ الذهبي في "الميزان": لم يوثَّق، ويقول الحافظ فيه: مقبول. فهي
এবং জাবির থেকে অন্যান্য সূত্রে হাদিসটি সহিহ, ইমাম মুসলিম (১ম খণ্ড, ৫৭৬ পৃষ্ঠা) আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমানের হাদিস থেকে জাবির সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

* * *

• এটি এমন একটি বিষয় যা আমি ধর্তব্যের মধ্যে আনি না: যদি কোনো তাবেয়ি মুরসাল হাদিস বর্ণনা করেন, অথচ মুহাদ্দিসগণ এটি উল্লেখ করেননি যে তিনি সেই সাহাবি থেকে হাদিস শুনেছেন কি শোনেননি, আর আমি শেখাইন (বুখারি ও মুসলিম) রাহিমাহুমাল্লাহকেও সেই তাবেয়ি কর্তৃক উক্ত সাহাবির সূত্রে কোনো হাদিস বর্ণনা করতে না দেখি, তবে এটি এমন একটি বিষয় যেখানে আমি হাদিসটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিরত থাকি।

• আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি তাবেয়ি অধিক হাদিস বর্ণনাকারী হন এবং সাহাবিও অধিক হাদিস বর্ণনাকারী হন, কিন্তু তিনি সেই সাহাবি থেকে শোনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করেন এবং শেখাইনও তার সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা না করেন, তবে এটি এমন একটি বিষয় যেখানে আমি বিরত থাকি, যদিও সেই তাবেয়ি সম্পর্কে এমনটি বলা না হয়ে থাকে যে ‘তিনি মুরসাল বর্ণনা করেন’। এটিও বলা যাবে না যে, মুদাল্লিস নন এমন রাবির ‘আন-আনা’ (সূত্র মারফত বর্ণনা) সর্বদা গ্রহণযোগ্য; কারণ এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যার থেকে শ্রবণ প্রমাণিত। সুতরাং মুদাল্লিস নন এমন রাবির ‘আন-আনা’ তখনই সরাসরি শ্রবণের ওপর গণ্য হবে যখন তিনি ইতিপূর্বে তার থেকে শুনেছেন।

• আর এর মধ্যে রয়েছে: যদি কোনো রাবিকে কোনো নির্ভরযোগ্য ইমাম নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) না বলেন এবং তিনি ইলম অন্বেষণেও প্রসিদ্ধ না হন, তবে আমি তার ব্যাপারে বিরত থাকি। যদি শেখাইন তার থেকে হাদিস বর্ণনা করে থাকেন, তবে ‘সহিহাইন’-এর বাইরের হাদিসের ক্ষেত্রে আমি বিরত থাকি। আর আল্লাহর প্রশংসায় আমি ‘আল-মিজান’ গ্রন্থে ইবনুল কাত্তানের প্রতি হাফেজ যাহাবির সমালোচনা সম্পর্কে অজ্ঞ নই, যেখানে তিনি এমন কিছু রাবিকে অপরিচিত (মাজহুল) বলেছেন যাদের থেকে একদল রাবি বর্ণনা করেছেন, যেমন মালিক ইবনুল খাইর আল-মিসরি। কিন্তু আমি হাফেজ যাহাবির কথায় আশ্বস্ত নই; বরং আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো—কোনো নির্ভরযোগ্য ইমাম কর্তৃক তাকে নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করা জরুরি অথবা ইলম অন্বেষণে তার প্রসিদ্ধি থাকা আবশ্যক, যেমনটি ‘ফাতহুল মুগিস’ গ্রন্থে রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

অতঃপর এটি কোনো অপরিবর্তনীয় মূলনীতি নয়, কারণ অনেক সময় এমন রাবি থাকেন যার থেকে একদল রাবি বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ যাহাবি ‘আল-মিজান’ গ্রন্থে বলেন: ‘তাকে নির্ভরযোগ্য বলা হয়নি’, আবার হাফেজ (ইবনে হাজার) তার সম্পর্কে বলেন: ‘মাকবুল’ (গ্রহণযোগ্য)। সুতরাং এটি...
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ২৫)
مسألة اجتهادية.

• ورُبَّ حديث قد صححه علماؤنا الأفاضل المعاصرون فأرى فيه علة، فأعرض عنه صفحًا، وربما ذكرته في "أحاديث ظاهرها الصحة وهي معلة".

 

‌‌الحكم على الحديث:

كنت في أول الأمر أقول: صحيح على شرط الشيخين، أو على شرط أحدهما، أو صحيح. فلما طال عليَّ الزمن اقتصرت على: صحيح، أو حسن. والله المستعان.

 

‌‌الحسن لغيره:

لم أتمكن من كتابة الحسن لغيره، إذ هو يحتاج إلى وقت طويل، والبحث واسع كما ترى، فلم أتمكن.

 

‌‌زيادات الثقات:

كذلك زيادات الثقات لم أتمكن من كتابتها، إذ هي تحتاج إلى جمع طرق الحديث، ثم النظر فيها هل هي محفوظة أم شاذة؟ من أجل هذا لم تتيسر كتابتها.

 

‌‌بقي كتب ينظر فيها إن شاء الله:

بعد الانتهاء من "السنن" ومن "مسند الإمام أحمد" لم يبقَ كثير، بل في آخر الأمر كان ينتهي النهار في البحث وأنا أقلب ورقًا فلا أجد
ইজতিহাদমূলক বিষয়।

• অনেক সময় এমন হয় যে, আমাদের সমকালীন শ্রদ্ধেয় উলামায়ে কেরাম কোনো হাদিসকে সহিহ বলেছেন, অথচ আমি তাতে কোনো ইল্লত (ত্রুটি) খুঁজে পেয়েছি। তখন আমি তা এড়িয়ে গেছি, অথবা হয়তো আমি তা 'বাহ্যিকভাবে সহিহ কিন্তু ত্রুটিযুক্ত হাদিসসমূহ' নামক শিরোনামে উল্লেখ করেছি।

 

‌‌হাদিসের মান নির্ণয়:

শুরুর দিকে আমি বলতাম: দুই ইমামের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ, অথবা তাদের একজনের শর্তানুযায়ী সহিহ, অথবা সহিহ। অতঃপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আমি কেবল: সহিহ, অথবা হাসান বলার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

 

‌‌হাসান লি-গাইরিহি (অন্য বর্ণনার কারণে হাসান):

আমি হাসান লি-গাইরিহি সম্পর্কে লিখতে সক্ষম হইনি, কারণ এর জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন ছিল এবং আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে গবেষণাটি অনেক বিস্তৃত, তাই আমার পক্ষে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

 

‌‌নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশ (যিয়াদাতুত থিকাত):

একইভাবে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশ সম্পর্কেও আমি লিখতে পারিনি, কারণ এর জন্য হাদিসের সকল সূত্র একত্র করা এবং এরপর সেগুলো সংরক্ষিত (মাহফুজ) নাকি বিচ্ছিন্ন (শায) তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন হয়। এই কারণেই তা লিখে ওঠা সহজসাধ্য হয়নি।

 

‌‌অবশিষ্ট কিতাবসমূহ যা খতিয়ে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ:

'সুনান' গ্রন্থসমূহ এবং 'মুসনাদে ইমাম আহমাদ' শেষ করার পর খুব বেশি কিছু বাকি নেই; বরং শেষ পর্যায়ে এসে গবেষণার কাজে পাতা উল্টাতে উল্টাতে দিন শেষ হয়ে যেত কিন্তু আমি নতুন কিছু পেতাম না।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ২৬)
حديثًا أكتبه. من أجل هذا رأيت إخراج ما تيسَّر، وأنا عازم إن شاء الله على المرور على "المطالب العالية"، و"معجم الطبراني الكبير"، و"صحيح ابن حبان"، وبقية الكتب التي في متناولي، فإن عثرت على شيء فسينشر إن شاء الله في طبعات قادمة (1)، والله المستعان.

 

‌‌أوهام:

كنت أكتب وأنا على وجل من تكرار الحديث، وقد حصل، ولكن إن شاء الله عند الجمع سيحذف المكرر.

وعلى وجل من أن يكون الحديث في "الصحيحين" أو في أحدهما، فأكون كالحاكم الذي يقول: صحيح على شرطهما ولم يخرجاه، والواقع أنهما قد أخرجاه.

وكذا أخاف أن أصحح حديثًا وهو ضعيف. ولكن الذي يسليني أن لا تكون أوهامي كالحاكم إن شاء الله، بل ليست بشيء بالنسبة لأوهام الحاكم رحمه الله.

وعلى كُلٍّ، فهذا عنواني من أجل من اطلع على وَهَمٍ يفيدني، وجزاه الله خيرًا: (اليمن - صعدة - ص. ب: 90070).

 

‌‌التخريج:

لم أهتم بكثرة التخريج عن عمد، لكي أقدم للقارئ نبذة يسيرة تضم إلى "الصحيحين". وقد اخترت من الأسانيد أحسنها، وربما أكتب الحديث

--------------------------------------------

(1) وقد مر الشيخ رحمه الله على هذه الكتب التي سماها وعلى غيرها؛ مثل: مسند أبي يعلى"، و"مسند البزار"، و"شرح مشكل الآثار"، وأضاف منها أحاديث في هذه الطبعة الجديدة. اهـ الناشر
আমি একটি হাদিস লিখছি। এজন্য যা সহজসাধ্য হয়েছে তা প্রকাশ করা সমীচীন মনে করেছি। ইনশাআল্লাহ আমি "আল-মাতালিব আল-আলিয়া", "মু'জামুত তাবারানি আল-কাবির", "সহিহ ইবনে হিব্বান" এবং আমার হাতের কাছে থাকা অবশিষ্ট কিতাবগুলো পর্যালোচনার সংকল্প করেছি। যদি আমি (সেগুলোতে) নতুন কিছু পাই, তবে ইনশাআল্লাহ তা আগামী সংস্করণগুলোতে প্রকাশিত হবে (১)। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

 

‌‌ভ্রান্তি ও ভুলসমূহ:

হাদিসের পুনরাবৃত্তি হওয়ার ভয়ে ভীত থাকা অবস্থায় আমি লিখছিলাম; আর তা ঘটেছেও। তবে ইনশাআল্লাহ একত্র করার সময় পুনরাবৃত্ত হাদিসগুলো বাদ দেওয়া হবে।

আমি এই বিষয়েও শঙ্কিত যে, কোনো হাদিস হয়তো "সহিহাইন" (বুখারি ও মুসলিম) বা এই দুটির কোনো একটিতে রয়েছে; ফলে আমি ইমাম হাকিমের মতো হয়ে যাব, যিনি বলেন: এটি তাদের (বুখারি ও মুসলিমের) শর্তানুযায়ী সহিহ অথচ তারা এটি বর্ণনা করেননি, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় তারা তা বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপভাবে আমি ভয় পাচ্ছি যে কোনো দুর্বল হাদিসকে সহিহ বলে ফেলি কিনা। তবে যে বিষয়টি আমাকে সান্ত্বনা দেয় তা হলো, ইনশাআল্লাহ আমার ভুলগুলো ইমাম হাকিমের ভুলের মতো হবে না; বরং ইমাম হাকিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ভুলের তুলনায় এগুলো কিছুই নয়।

যাইহোক, কেউ যদি কোনো ভুলের সন্ধান পান তবে যেন আমাকে অবহিত করেন, সেজন্য এটি আমার ঠিকানা; আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন: (ইয়েমেন - সাদাহ - পোস্ট বক্স: ৯০০৭০)।

 

‌‌তখরিজ (উৎস নির্দেশ):

আমি উদ্দেশ্যমূলকভাবেই তখরিজের আধিক্যের প্রতি গুরুত্ব দেইনি, যাতে পাঠকের সামনে এমন একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন পেশ করতে পারি যা "সহিহাইন"-এর সাথে যুক্ত করা যায়। আমি সনদসমূহের মধ্যে সবচেয়ে উত্তমটি গ্রহণ করেছি এবং সম্ভবত আমি হাদিসটি লিখব—

--------------------------------------------

(১) শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর উল্লিখিত কিতাবসমূহ এবং এ ছাড়াও অন্যান্য কিতাব যেমন: "মুসনাদে আবু ইয়ালা", "মুসনাদে বাজার" এবং "শারহু মুশকিলিল আসার" পর্যালোচনা করেছেন এবং এই নতুন সংস্করণে সেখান থেকে হাদিসসমূহ যুক্ত করেছেন। - প্রকাশক
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسند حسن، فأراه بسند صحيح فأضيفه، وأنبه على ذلك، والحمد لله.

 

‌‌الاستدراك:

استفسر مني بعض إخواني في الله: هل تسمح بالاستدراك؟

فأقول لهم: إن كان بيان ضعيف قد صححته، أو وَهَمٍ قد وهمت فيه، فأقول: جزى الله من فعل ذلك خيرًا. وإن كان لما فاتني، فبعد انتهائي إن شاء الله من كتب السنَّة التي في متناولي.

نسأل الله أن يتمم ذلك بخير، وأن يعيذ بلدنا وسائر بلاد المسلمين من الفتن، إنه على كل شيء قدير.

 

‌‌ترتيب الكتاب:

رأيت أن أرتبه على المسانيد وعلى ترتيب "تقريب التهذيب"، لأنه قد أَلِفَهُ الباحثون. وإني عازم إن شاء الله بعد الانتهاء منه، على ترتيبه على الأبواب الفقهية، محليًا له بالآيات القرآنية، وبفوائد تتعلق بالأحاديث. ويصير -إن شاء الله- كتابين، فمن أحب أن يقرأ في "المسند"، ومن أحب أن يقرأ المرتب على الأبواب الفقهية، يسر الله ذلك، إنه على كل شيء قدير.
হাসান সনদে, এরপর আমি একে সহীহ সনদে প্রাপ্ত হয়ে তা যুক্ত করি এবং সে বিষয়ে অবহিত করি। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

 

‌‌পরিমার্জন ও সংশোধন:

আল্লাহর পথে আমার কতিপয় ভাই আমার নিকট জিজ্ঞাসা করেছেন: আপনি কি পরিমার্জন বা সংশোধন করার অনুমতি প্রদান করবেন?

আমি তাদের বলি: যদি তা এমন কোনো দুর্বল বর্ণনার বর্ণনা হয় যা আমি সহীহ বলেছি, অথবা কোনো ভুল হয় যাতে আমি নিপতিত হয়েছি, তবে আমি বলব: যে ব্যক্তি তা করবে আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আর যদি তা এমন কিছুর জন্য হয় যা আমার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে, তবে ইনশাআল্লাহ আমার নিকট বিদ্যমান সুন্নাহর কিতাবসমূহ সমাপ্ত করার পর তা বিবেচনা করা হবে।

আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এটি কল্যাণের সাথে সমাপ্ত করেন, এবং আমাদের দেশ ও মুসলমানদের অন্যান্য সকল ভূখণ্ডকে ফিতনা থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।

 

‌‌গ্রন্থের বিন্যাস:

আমি একে মুসনাদসমূহের ক্রমানুসারে এবং 'তাকরীবুত তাহযীব'-এর বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো সমীচীন মনে করেছি, কারণ গবেষকগণ এর সাথে পরিচিত। আর ইনশাআল্লাহ এটি সমাপ্ত করার পর আমি একে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করার সংকল্প রাখি, যাকে কুরআনের আয়াত এবং হাদীস সংশ্লিষ্ট নানাবিধ ফায়দা দ্বারা অলঙ্কৃত করব। এর ফলে ইনশাআল্লাহ এটি দুইটি গ্রন্থে পরিণত হবে; সুতরাং যে ব্যক্তি 'মুসনাদ' অনুসারে পড়তে পছন্দ করবে সে তা পারবে, আর যে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত কপিটি পড়তে পছন্দ করবে সেও তা পারবে। আল্লাহ তা সহজ করে দিন, নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌كلمة شكر

أشكر ربي الذي وفقني لطلب العلم، وهيَّأ لي سبله، فهو علَّمني ما لم أكن أعلم، وكان فضل الله عليَّ عظيمًا، وأسأله أن يختم لي بالحسنى.

ثم أشكر لمشايخي، وأخص من بينهم الشيخ عبد الله بن محمد بن حُمَيْد، إذ درَّسنا في "التحفة السنية" في الحرم المكي بعد العشاء، ثم الشيخ السيد محمد الحكيم، والشيخ محمود بن عبد الوهاب بن فائد، المدرِّسَيْن في الجامعة الإسلامية.

وأشكر لجميع من ساعدني على تبليغ الدعوة ومواصلة طلب العلم والتعليم، أثابهم الله على ما قدموا من خدمة للدعوة، وجزاهم الله عن الدعوة خيرًا.

ثم إني أشكر لإخواني في الله الذين ساعدوني على الكتابة والمقابلة، وهم: الأخ محمد بن ناجي العودي، والأخ حسين بن محمد مناع، والأخ عبد الرحمن بن محمد النمراني، والأخ أحمد بن سالم الزبيدي، والأخ محمد بن قائد الحجري، والأخ عيسى بن يحيى بن معافى، والأخ محمد بن صالح النوبي المحويتي، والأخ عثمان، والأخ أحمد بن علي الوصابي، فجزاهم الله خيرًا.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন

আমি আমার রবের শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি আমাকে ইলম অন্বেষণের তাওফিক দিয়েছেন এবং আমার জন্য এর পথসমূহ সুগম করে দিয়েছেন। তিনি আমাকে তা শিখিয়েছেন যা আমি জানতাম না। আমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল অপরিসীম। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন কল্যাণের সাথে আমার জীবনের সমাপ্তি ঘটান।

অতঃপর আমি আমার শায়খদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি; তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করছি শায়খ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হুমাইদ-এর কথা, তিনি আমাদের মক্কার হারামে এশার নামাজের পর "আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ" পড়াতেন। এরপর শায়খ আস-সায়্যিদ মুহাম্মদ আল-হাকিম এবং শায়খ মাহমুদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন ফায়েদ-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যাঁরা উভয়েই ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

আমি তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই যাঁরা আমাকে দাওয়াত প্রচার এবং ইলম অন্বেষণ ও শিক্ষাদান অব্যাহত রাখতে সাহায্য করেছেন। দাওয়াতের যে খিদমত তাঁরা আঞ্জাম দিয়েছেন তার জন্য আল্লাহ তাঁদের উত্তম সওয়াব দান করুন এবং দাওয়াতের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাঁদের কল্যাণ দান করুন।

অতঃপর আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সেই ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যাঁরা আমাকে লেখালেখি এবং পাণ্ডুলিপি যাচাইয়ের কাজে সহযোগিতা করেছেন। তাঁরা হলেন: ভাই মুহাম্মদ বিন নাজি আল-আওদি, ভাই হুসাইন বিন মুহাম্মদ মান্না, ভাই আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আন-নিমরানি, ভাই আহমদ বিন সালিম আজ-জুবাইদি, ভাই মুহাম্মদ বিন কাইদ আল-হাজরি, ভাই ঈসা বিন ইয়াহইয়া বিন মুআফা, ভাই মুহাম্মদ বিন সালিহ আন-নুবি আল-মাহউইতি, ভাই উসমান এবং ভাই আহমদ বিন আলি আল-ওয়াসাবি। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আর আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌مسند أُبَيِّ بن كعب رضي الله عنه

‌‌1 - قال عبد الله بن أحمد في "زوائد المسند" (ج 5 ص 136): حدثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ أَبُو يَحْيَى الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا أَبُو حُذَيْفَةَ مُوسَى بْنُ مَسْعُودٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عُتَىٍّ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مَطْعَمَ ابْنِ آدَمَ جُعِلَ مَثَلًا لِلدُّنْيَا، وَإِنْ قَزَّحَهُ وَمَلَّحَهُ، فَانْظُرُوا إِلَى مَاذَا يَصِيرُ».

هذا حديث حسنٌ.
উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসনাদ

১ - আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ 'যাওয়াইদুল মুসনাদ' (৫ম খণ্ড, ১৩৬ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহীম আবু ইয়াহইয়া আল-বাযযার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুযাইফা মুসা ইবনে মাসউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি উতায় থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আদম সন্তানের খাদ্যকে দুনিয়ার দৃষ্টান্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে; যদিও সে তাতে মশলাযুক্ত করে এবং লবণ দিয়ে সুস্বাদু করে, তবুও তোমরা লক্ষ্য করো তা পরিশেষে কীসে পরিণত হয়।»

এই হাদিসটি হাসান।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌2 - قال الإمام أبو داود رحمه الله (ج 7 ص 135): حدثنا موسى بن إسماعيل، أخبرنا حماد، أنبأنا ثابت، عن أبي رافع، عن أبي بن كعب: أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم كان يعتكف العشر الأواخر من رمضان، فلم يعتكف عامًا، فلما كان في العام المقبل اعتكف عشرين ليلة.

هذا حديث صحيحٌ على شرط مسلم. وحماد هو ابن سلمة، وأبو رافع هو نُفَيْعُ بن رافع الصائغ.

الحديث أخرجه ابن ماجه (ج 1 ص 562).
২ - ইমাম আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৭ম খণ্ড, ১৩৫ পৃষ্ঠা): মূসা ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাবিত আমাদের জানিয়েছেন আবু রাফি থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) রমাদানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন; তবে এক বছর তিনি ইতিকাফ করেননি, তাই পরবর্তী বছর যখন আসলো তিনি বিশ রাত ইতিকাফ করলেন।

এই হাদিসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ। আর হাম্মাদ হলেন ইবনে সালামাহ, এবং আবু রাফি হলেন নুফাই ইবনে রাফি আস-সায়িগ।

হাদিসটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (১ম খণ্ড, ৫৬২ পৃষ্ঠা)।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌3 - قال الإمام الترمذي رحمه الله (ج 10 ص 397): حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ، أخبرَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، قَال: سَمِعْتُ زِرَّ بْنَ حُبَيْشٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ: «إِنَّ اللهَ [ص: 30] أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ القرآن» فَقَرَأَ عَلَيْهِ: {لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا} (1) وَقَرَأَ فِيهَا: «إِنَّ الدِّينِ عِنْدَ اللهِ الْحَنِيفِيَّةُ الْمُسْلِمَةُ، لَا الْيَهُودِيَّةُ وَلَا النَّصْرَانِيَّةُ وَلَا الْمَجُوسِيَّةُ، مَنْ يَعْمَلْ خَيْرًا فَلَنْ يُكْفَرَهُ»، وَقَرَأَ عَلَيْهِ: «لَوْ أَنَّ لِابْنِ آدَمَ وَادِيًا مِنْ مَالٍ لَابْتَغَى إِلَيْهِ ثَانِيًا، وَلَوْ كَانَ لَهُ ثَانِيًا لَابْتَغَى إِلَيْهِ ثَالِثًا، وَلَا يَمْلَأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلَّا التُّرَابُ، وَيَتُوبُ اللهُ عَلَى مَنْ تَابَ».

قال أبو عيسى: هذا حديث حسن صحيح.

قال أبو عبد الرحمن: هو حديث حسنٌ.

--------------------------------------------

(1) سورة البينة، الآية: 1.
৩ - ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (১০ম খণ্ড, ৩৯৭ পৃষ্ঠা): আমাদের নিকট মাহমুদ ইবনে গায়লান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু দাউদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু'বাহ সংবাদ দিয়েছেন আসিম থেকে, তিনি বলেন: আমি যির ইবনে হুবাইশকে উবাই ইবনে কা'ব থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁকে বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ [পৃষ্ঠা: ৩০] আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমার নিকট কুরআন পাঠ করি।» অতঃপর তিনি তাঁর নিকট পাঠ করলেন: {কাফিররা ছিল না} (১) এবং তাতে পাঠ করলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট দ্বীন হলো একনিষ্ঠ মুসলিম ধর্ম (আল-হানিফিয়্যাহ আল-মুসলিমাহ), ইহুদি ধর্ম নয়, খ্রিস্টধর্ম নয় এবং অগ্নিপূজকদের ধর্মও নয়। যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণকর কাজ করবে, তা কখনোই অস্বীকার করা হবে না।» এবং তিনি তাঁর নিকট আরও পাঠ করলেন: «আদমসন্তানের যদি ধন-সম্পদে পূর্ণ একটি উপত্যকা থাকত, তবে সে অবশ্যই দ্বিতীয়টির আকাঙ্ক্ষা করত; আর যদি তার দ্বিতীয়টি থাকত, তবে সে অবশ্যই তৃতীয়টির আকাঙ্ক্ষা করত। আদমসন্তানের পেট মাটি ছাড়া আর কিছুই পূর্ণ করতে পারে না, আর যে তাওবা করে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।»

আবু ঈসা বলেন: এই হাদিসটি হাসান সহীহ।

আবু আবদুর রহমান বলেন: এটি হাসান হাদিস।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বায়্যিনাহ, আয়াত: ১।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌4 - قال أبو داود رحمه الله (ج 4 ص 350): حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، أخبرَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «يَا أُبَيُّ، إِنِّي أُقْرِئْتُ الْقُرْآنَ، فَقِيلَ لِي: عَلَى حَرْفٍ أَوْ حَرْفَيْنِ؟ فَقَالَ الْمَلَكُ الَّذِي مَعِي قُلْ: عَلَى حَرْفَيْنِ. قُلْتُ: عَلَى حرْفَيْنِ. فَقِيلَ لِي: عَلَى حَرْفَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةٍ؟ فَقَالَ الْمَلَكُ الَّذِي مَعِي: قُلْ عَلَى ثَلَاثَةٍ. قُلْتُ: عَلَى ثَلَاثَةٍ. حَتَّى بَلَغَ سَبْعَةَ أَحْرُفٍ، ثُمَّ قَالَ: لَيْسَ مِنْهَا إِلَّا شَافٍ كَافٍ، إِنْ قُلْتَ: سَمِيعًا عَلِيمًا عَزِيزًا حَكِيمًا، مَا لَمْ تَخْتِمْ آيَةَ عَذَابٍ بِرَحْمَةٍ، أَوْ آيَةَ رَحْمَةٍ بِعَذَابٍ».

هذا حديث صحيحٌ على شرط الشَّيخين.

والحديث أصله في مسلم (ج 1 ص 560) بتحقيق محمد فؤاد عبد الباقي.
‌৪ - আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫০): আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাতাদা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে সুরাদ আল-খুজায়ি থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «হে উবাই, আমাকে কুরআন পাঠ করানো হয়েছে। অতঃপর আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো: এক হরফে না দুই হরফে? তখন আমার সাথে থাকা ফেরেশতা বললেন: বলুন, দুই হরফে। আমি বললাম: দুই হরফে। পুনরায় আমাকে বলা হলো: দুই হরফে না তিন হরফে? তখন আমার সাথে থাকা ফেরেশতা বললেন: বলুন, তিন হরফে। আমি বললাম: তিন হরফে। এভাবে সাত হরফ পর্যন্ত পৌঁছাল। এরপর তিনি বললেন: এগুলোর প্রতিটিই পর্যাপ্ত ও যথেষ্ট, যতক্ষণ না তুমি শাস্তির আয়াতকে রহমতের সাথে অথবা রহমতের আয়াতকে শাস্তির সাথে মিলিয়ে শেষ করো; যেমন তুমি বললে: সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ, মহা-পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।»

এই হাদিসটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী সহিহ।

হাদিসটির মূল উৎস সহিহ মুসলিমে (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৬০) রয়েছে, যা মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি কর্তৃক সম্পাদিত।