(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: -)
كشف النقاب عما في «كلمات» أبي غدة من الأباطيل والافتراءات القسم: الفرق والردود
الكتاب: كشف النقاب عما في «كلمات» أبي غدة من الأباطيل والافتراءات
المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني
الطبعة: الثانية، 1398 هـ - 1978 م
عدد الصفحات: 109
أعده للشاملة: محمد المنصور
تمت مقابلة الكتاب أيضًا على طبعته الأولى؛ لتصحيح بعض الأخطاء المطبعية الواقعة في الطبعة الثانية.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مقابل]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1440
আবু গুদ্দার "কালিমাত"-এ বিদ্যমান মিথ্যাচার ও অপবাদের পর্দা উন্মোচন বিভাগ: ফেরকাসমূহ এবং খণ্ডন
গ্রন্থ: আবু গুদ্দার «কালিমাত»-এ বিদ্যমান মিথ্যাচার ও অপবাদের পর্দা উন্মোচন
লেখক: মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯৮ হি. - ১৯৭৮ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৯
শামেলা সংস্করণ প্রস্তুতি: মুহাম্মাদ আল-মানসুর
বইটি এর প্রথম সংস্করণের সাথেও মিলিয়ে দেখা হয়েছে; যেন দ্বিতীয় সংস্করণে থাকা কিছু মুদ্রণজনিত ত্রুটি সংশোধন করা যায়।
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি মূলের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ১)
كشْف النّقابعمّا في كلمات أبي غدّة منَ الأباطيل والافتراءاتبقلم
محمد ناصر الدين الألباني
আবরণ উন্মোচনআবু গুদ্দাহর বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত অসারতা ও অপবাদসমূহের স্বরূপ উদ্ঘাটনকলমে
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى 1975 - 1395
الطبعة الثانية 1978 - 1398
প্রথম সংস্করণ ১৯৭৫ - ১৩৯৫
দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৭৮ - ১৩৯৮
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديمإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، أرسله بالحق بشيرًا ونذيرًا، وداعيًا إلى الله بإذنه وسراجًا منيرًا، فبلغ الرسالة، وأدى الأمانة، صلى الله عليه وسلم تسليمًا كثيرًا.
أما بعد فإن من المصائب الكبرى في العصر الحاضر أن يضطر المسلم الطالب للعلم إلى إضاعة كثير من وقته في الدفاع عن نفسه، ورد التهم والأباطيل عن شخصه التي ألصقها به بعض الناس ممن لا يخشون الله ولا يستحيون من عباد الله، مصداقًا لقوله صلى الله عليه وسلم: «إن مما أدرك الناس من كلام النبوة الأولى: إذا لم تستحِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি রিসালাতের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমানত আদায় করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর বর্তমান সময়ের অন্যতম এক মহা বিপর্যয় হলো এই যে, একজন মুসলিম ইলম অন্বেষণকারীকে তার সময়ের একটি বিরাট অংশ ব্যয় করতে বাধ্য হতে হয় নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে এবং সেই সব অপবাদ ও মিথ্যাচার খণ্ডন করতে যা তার ব্যক্তিত্বের ওপর লেপন করা হয়েছে এমন কিছু মানুষের পক্ষ থেকে, যারা আল্লাহকে ভয় করে না এবং আল্লাহর বান্দাদের প্রতিও লজ্জা বোধ করে না। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীরই বাস্তব প্রতিফলন: "পূর্ববর্তী নবুওয়তের বাণীসমূহ হতে মানুষ যা প্রাপ্ত হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো: যখন তোমার লজ্জা থাকবে না...`
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ৪)
فاصنع ما شئت». ومنه قول الشاعر:
إذا لم تصن عرضًا ولم تخشَ خالقًا
… وتستحي مخلوقًا* فما شئت فاصنع
إذا كنت تأتي المرء تعظم حقه
… ويجهل منك الحق فالصّرم أوسع
وإذا كان من المعلوم أن من لا حياء له لا دواء له، فلا تنفع فيه المعاتبة، كان من المتبادر أن الأولى الانصراف عنه، وتركه وشأنه كما قال الشاعر:
إذا رزق الفتى وجهًا وقاحًا
… تقلب في الأمور كما يشاء
ولم يَكُ للدواء ولا لشيء
… يعالجه به فيه غَناء
فما لك في معاتبة الذي لا
… حياء لوجهه إلا العناء
بيد أنه لما كان السكوت عن مثله، يعرِّض كثيرًا من الأبرياء للانزلاق من ورائه، والتأثر بتهمه وأباطيله، كان لا بد من الرد عليه، والكشف عن افتراءاته، {لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ، وَيَحْيَى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ}. وفي ذلك فائدة أخرى تعود إلى الباهت نفسه ألا وهي: احتمال أن يعود إلى رشده، والتقليل من أوزاره، من جراء تقليل عدد المتورطين المضللين به الذين سوف يحمل هو أوزارهم فوق أوزاره الخاصة به كما قال تعالى:
{وَلَيَحْمِلُنَّ أَثْقَالَهُمْ وَأَثْقَالًا مَعَ أَثْقَالِهِمْ، وَلَيُسْأَلُنَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَمَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ}. وفي الآية الأخرى: {لِيَحْمِلُوا
--------------------------------------------
সুতরাং তুমি যা ইচ্ছা কর।" কবির এই পঙ্ক্তিটিও সেই অর্থেরই অন্তর্ভুক্ত:
যদি তুমি সম্মান রক্ষা না কর, সৃষ্টিকর্তাকে ভয় না পাও
… এবং সৃষ্টিজীবকেও* লজ্জা না কর, তবে যা খুশি তা-ই কর
তুমি যদি কোনো ব্যক্তির কাছে আস তার অধিকারকে মর্যাদা দিয়ে
… অথচ সে তোমার অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, তবে সম্পর্কচ্ছেদই শ্রেয়
আর যখন এটি সুবিদিত যে, যার লজ্জা নেই তার কোনো প্রতিষেধকও নেই, এবং তাকে তিরস্কার করাও কোনো কাজে আসে না, তখন স্বভাবতই এটিই অগ্রগণ্য হওয়া উচিত যে, তাকে এড়িয়ে চলা এবং তাকে তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া; যেমনটি কবি বলেছেন:
কোনো যুবক যদি নির্লজ্জ চেহারার অধিকারী হয়
… তবে সে সকল বিষয়ে নিজের খেয়ালখুশিমতো বিচরণ করে
আর কোনো ঔষধ বা নিরাময়ের কোনো মাধ্যমই
… তাকে সুস্থ করার জন্য যথেষ্ট হয় না
সুতরাং যার চেহারায় লজ্জা নেই তাকে তিরস্কার করার মধ্যে
… কষ্ট ছাড়া তোমার আর কিছুই পাওয়ার নেই
তবে যেহেতু এই শ্রেণির লোকের বিষয়ে নীরব থাকা অনেক নিরপরাধ মানুষকে তাদের প্ররোচনায় পদচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে এবং তাদের অপবাদ ও অসত্য দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে, তাই তাদের জবাব দেওয়া এবং তাদের মিথ্যাচারগুলো উন্মোচন করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে; যেন— {যে ধ্বংস হওয়ার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয়, আর যে জীবিত থাকার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে}। এর মধ্যে সেই অপবাদদানকারীর নিজের জন্যও আরেকটি উপকারিতা রয়েছে, আর তা হলো: তার সুপথে ফিরে আসার সম্ভাবনা এবং তার পাপের বোঝা লাঘব হওয়া; কারণ তার মাধ্যমে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত হওয়া মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাবে—যাদের পাপের বোঝা সে তার নিজের পাপের বোঝার পাশাপাশি বহন করত, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন:
{তারা অবশ্যই নিজেদের ভার বহন করবে এবং নিজেদের ভারের সাথে আরও অনেক ভার বহন করবে; আর তারা যে মিথ্যাচার করত, সে সম্পর্কে কিয়ামতের দিন অবশ্যই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে}। এবং অন্য আয়াতে রয়েছে: {যেন তারা বহন করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ৫)
أَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمِنْ أَوْزَارِ الَّذِينَ يُضِلُّونَهُمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ أَلَا سَاءَ مَا يَزِرُونَ}.
ولعل في هذا تذكرة وإقناعًا للذين لا تروقهم مثل هذه الردود مطلقًا، ويتمنون أنه لو صرفت مثل هذه الجهود إلى نواحٍ علمية مجردة عن المناقشة والأخذ والرد، وغالبهم ليس عندهم الروح العلمية التي تساعد على تبيّن الحقيقة مما اختلف فيه الناس، ثم على التمسك بها والدعوة إليها.
ونحن وإن كنا مع هؤلاء فيما يتمنّون، فيجب أن يتذكروا أن كثيرًا ما تجري الرياح بما لا يشتهي الملاح كما قال الشاعر:
ما كل ما يتمنى المرء يدركه
… تجري الرياح بما لا تشتهي السفن
وأيضًا فإنه ليس من صفات المؤمنين أن يسكتوا على البغي والظلم، والبهت والكذب الذي يلصق بهم، وهم يجدون وسيلة مشروعة لدفعه ورده على صاحبه، خلافًا لما يُعْزى لسيدنا عيسى عليه السلام ويسميه النصارى بالآية الذهبية:
«من ضربك على خدّك الأيمن فأدر له الخد الأيسر، ومن طلب منك كساءك فأعطه رداءك، ومن طلب منك تمشي معه ميلًا فامش معه ميلين»! فليس في الإسلام شيء من هذا بل هو على إطلاقه يعارض القرآن الكريم في بيان بعض صفات عباد الرحمن المؤمنين التي منها ما أفادته الآية الكريمة: {وَالَّذِينَ إِذَا أَصَابَهُمُ الْبَغْيُ هُمْ يَنْتَصِرُونَ • وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِثْلُهَا فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ
{কেয়ামতের দিন তারা তাদের পাপের পূর্ণ বোঝা বহন করবে এবং তাদের পাপের একাংশও বহন করবে যাদেরকে তারা জ্ঞানহীনভাবে বিভ্রান্ত করে। সাবধান! তারা যা বহন করবে তা কতই না নিকৃষ্ট!}
সম্ভবত এর মধ্যে এমন ব্যক্তিদের জন্য এক উপদেশ ও প্রবোধ নিহিত রয়েছে, যারা এই প্রকার উত্তর বা খণ্ডনমূলক লেখা একেবারেই পছন্দ করেন না এবং কামনা করেন যে, যদি এই শ্রম ও প্রচেষ্টাগুলোকে বিতর্ক ও উত্তর-প্রত্যুত্তর বর্জিত নিছক তাত্ত্বিক জ্ঞানচর্চায় ব্যয় করা হতো। তাদের অধিকাংশের মধ্যে সেই তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক মানসিকতা নেই, যা মানুষের মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে সত্য উদ্ঘাটন করতে এবং পরবর্তীতে সেই সত্যকে আঁকড়ে ধরতে ও সেদিকে মানুষকে আহ্বান করতে সাহায্য করে।
যদিও আমরা তাদের কামনার সাথে একমত, তবুও তাদের মনে রাখা উচিত যে, অনেক সময় বাতাস এমনভাবে প্রবাহিত হয় যা নাবিকের মনঃপূত হয় না; যেমনটি কবি বলেছেন:
মানুষ যা আকাঙ্ক্ষা করে তার সবকিছু সে পায় না
… বাতাস সেদিকেই প্রবাহিত হয় যেদিকে জাহাজ চায় না।
তদুপরি, মুমিনদের বৈশিষ্ট্য এটি নয় যে, তারা নিজেদের ওপর আরোপিত জুলুম, অবিচার, অপবাদ ও মিথ্যার সামনে নীরব থাকবে, অথচ তা প্রতিহত করার ও প্রতিবাদ করার বৈধ উপায় তাদের নিকট বিদ্যমান। এটি আমাদের সাইয়্যিদিনা ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি আরোপিত সেই বাণীর পরিপন্থী, যাকে খ্রিস্টানরা 'স্বর্ণালি বিধান' বলে অভিহিত করে:
“যে তোমার ডান গালে চড় মারে, তার দিকে বাম গালটিও বাড়িয়ে দাও; আর যে তোমার পোশাক কেড়ে নিতে চায়, তাকে তোমার চাদরটিও দিয়ে দাও; আর যে তোমাকে এক মাইল পথ হাঁটতে বাধ্য করে, তার সাথে দুই মাইল যাও!” ইসলামে এই ধরনের কোনো শিক্ষার স্থান নেই, বরং তা সাধারণভাবে পবিত্র কুরআনের ওই বর্ণনার বিরোধী যেখানে ‘রাহমানের বান্দা’ মুমিনদের গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে মহিমান্বিত আয়াতের এই অংশটি অন্তর্ভুক্ত: {আর যখন তাদের ওপর জুলুম আপতিত হয়, তখন তারা প্রতিশোধ গ্রহণ করে। মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই; তবে যে ক্ষমা করে দেয় এবং আপস-নিষ্পত্তি করে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট রয়েছে। নিশ্চয়ই তিনি পছন্দ করেন না...}
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ৬)
الظَّالِمِينَ • وَلَمَنِ انْتَصَرَ بَعْدَ ظُلْمِهِ فَأُولَئِكَ مَا عَلَيْهِمْ مِنْ سَبِيلٍ • إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَظْلِمُونَ النَّاسَ وَيَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}.
فإن لم يكن في كل ما تقدم مما يقنع أولئك الناس، فلا أقل من أن يعتبر ذلك عذرًا لي، فقد قيل: ليس من العدل سرعة العذل. وقال الشاعر:
تأنّ ولا تعجل بلومكَ صاحبًا
… لعل له عذرًا وأنت تلوم
بل لقد كان الواجب عليهم أن يعودوا على الجائر الظالم باللوم والإنكار وردعه عن ظلمه، وأن ينتصروا للمظلوم لقوله عليه الصلاة والسلام: «انصر أخاك ظالمًا أو مظلومًا، قيل: * كيف أنصره ظالمًا؟ قال: تحجزه عن الظلم، فإن ذلك نصره». وفي حديث آخر: «لِينصر الرجل أخاه ظالمًا أو مظلومًا: إن كان ظالمًا فلينهه فإنه له نصرة، وإن كان مظلومًا فلينصره»، وقوله: «ما من امرئ يخذل امرءًا مسلمًا في موطن يُنقص فيه من عرضه، وينتهك فيه من حرمته، إلا خذله الله تعالى في موطن يحب فيه نصرته، وما من أحد ينصر مسلمًا في موطن ينتقص فيه من عرضه، وينتهك فيه من حرمته إلا نصره الله في موطن يحب فيه نصرته» (1).
وعلى كل حال فمن المعلوم أن إرضاء الناس غاية لا تدرك، كما جاء في بعض الأمثال:
ما قرعت عصا على عصا، إلا حزن لها قوم، وسرَّ
--------------------------------------------
জালিমদের। আর যারা জুলুমের শিকার হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো অবকাশ নেই। অভিযোগ কেবল তাদের বিরুদ্ধে যারা মানুষের ওপর জুলুম করে এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ ও অনাচার সৃষ্টি করে বেড়ায়; তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
উপরে যা কিছু আলোচিত হয়েছে তাতে যদি ওই সমস্ত লোক সন্তুষ্ট না হয়, তবে অন্তত বিষয়টিকে আমার একটি সংগত ওজর হিসেবে গণ্য করা উচিত। কেননা বলা হয়ে থাকে: দ্রুত সমালোচনা করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। জনৈক কবি বলেছেন:
ধৈর্য ধরো এবং তোমার সঙ্গীকে তিরস্কার করতে তাড়াহুড়ো করো না
… হতে পারে তার কোনো ওজর আছে, অথচ তুমি তাকে ভর্ৎসনা করছ।
বরং তাদের জন্য উচিত ছিল অত্যাচারী ও জালিমকে তিরস্কার করা, প্রতিবাদ জানানো এবং তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখা। আর মজলুমের পক্ষে অবস্থান নেওয়া; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "তুমি তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালিম হোক কিংবা মজলুম।" জিজ্ঞাসা করা হলো: * জালিম অবস্থায় তাকে কীভাবে সাহায্য করব? তিনি বললেন: "তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখবে, আর এটাই তাকে সাহায্য করা।" অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত তার ভাইকে সাহায্য করা, চাই সে জালিম হোক বা মজলুম। যদি সে জালিম হয় তবে তাকে বাধা দেবে, এটাই তাকে সাহায্য করা। আর যদি সে মজলুম হয় তবে তাকে সাহায্য করবে।" তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো স্থানে কোনো মুসলিমকে অপদস্থ হতে দেখে যেখানে তার সম্মানহানি করা হচ্ছে এবং তার মর্যাদাহানি করা হচ্ছে, আর সে তাকে সাহায্য করে না—তবে আল্লাহ তাআলা তাকে এমন এক স্থানে অপদস্থ করবেন যেখানে সে তাঁর সাহায্য কামনা করবে। আর যে ব্যক্তি এমন কোনো স্থানে কোনো মুসলিমকে সাহায্য করে যেখানে তার মান-মর্যাদা ও সম্মানে আঘাত হানা হচ্ছে—তবে আল্লাহ তাআলা তাকে এমন স্থানে সাহায্য করবেন যেখানে সে তাঁর সাহায্য কামনা করবে।" (১)।
যাই হোক, এটি সর্বজনবিদিত যে মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করা এমন এক লক্ষ্য যা কখনো অর্জিত হয় না। যেমনটি প্রবাদে এসেছে:
যখনই এক লাঠি অন্য লাঠির ওপর আঘাত হানে, তখনই একদল লোক তাতে ব্যথিত হয় আর অন্য দল আনন্দিত হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ৭)
لها آخرون. وقال الشاعر:
ولست بناج من مقالة طاعن
… ولو كنت في غار على جبل وعر
ومن ذا الذي ينجو من الناس سالمًا
… ولو غاب عنهم بين خافيتي نسر
وإذا كان الأمر كذلك فحسبي أنني سألتزم في ردي هذا حدود الشرع فلا أقابل الباغي بشيء من البغي، والباهت بشيء من البهت، وإنما سأصفه بما فيه كي يحذره الناس فلا يضلوا بضلاله، ولا ينحرفوا بانحرافه عن كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، لا سيما من كان منهم حديث صلة به، قد اغتر بمظهره ولا علم عنده بحقيقة أمره كما قال الشاعر:
لا يغرنْك صديق أبدًا
… لك في المنظر حتى تخبرُه
كم صديق كنت منه في عمى
… غرّني منه زمانًا منظره
كان يلقاني بوجه طلق
… وكلام كاللآلي ينشره
فإذا فتّشته عن غيبه
… لم أجد ذاك لوجد يضمره
فدع الإخوان إلا كل من
… يضمر الود كما قد يظهره
فإذا فزت بمن يجمع ذا
… فاجعلنه لك ذَخرًا تذخره
অন্যদের জন্যেও রয়েছে। কবি বলেছেন:
আপনি কোনো নিন্দুকের সমালোচনা থেকে মুক্তি পাবেন না
… যদিও আপনি কোনো দুর্গম পাহাড়ের গুহায় অবস্থান করেন।
আর কে আছে এমন যে মানুষের অনিষ্ট থেকে নিরাপদে বাঁচে?
… যদিও সে ঈগলের ডানার আড়ালে তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।
বিষয়টি যখন এমনই, তখন আমার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, আমি আমার এই প্রতিবাদে শরীয়তের সীমানা মেনে চলব। সুতরাং আমি কোনো সীমালঙ্ঘনকারীর মোকাবিলা সীমালঙ্ঘন দিয়ে করব না এবং কোনো মিথ্যা অপবাদকারীর উত্তর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দেব না। বরং আমি তার প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করব যাতে মানুষ তার সম্পর্কে সতর্ক থাকে এবং তারা যেন তার বিভ্রান্তিতে পথভ্রষ্ট না হয়, আর আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত না হয়; বিশেষ করে যারা তার সাথে নতুন নতুন পরিচিত হয়েছে এবং তার বাহ্যিক অবয়বে ধোঁকা খেয়েছে অথচ তার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, যেমনটি কবি বলেছেন:
কোনো বন্ধুর বাহ্যিক অবয়ব যেন আপনাকে কখনো প্রতারিত না করে
… যতক্ষণ না আপনি তাকে পরখ করে দেখছেন।
এমন কত বন্ধুই তো ছিল যাদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আমি অন্ধকারে ছিলাম
… দীর্ঘকাল ধরে তাদের বাহ্যিক রূপ আমাকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিল।
সে আমার সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাৎ করত
… এবং মুক্তার মতো সুশোভিত বাক্য ছড়িয়ে দিত।
কিন্তু যখন আমি তার ভেতরের অবস্থা অনুসন্ধান করলাম
… তখন তার অন্তরে লুকায়িত অনুরাগের মাঝে সেই বাহ্যিক রূপের কোনো মিল পেলাম না।
অতএব, সেই বন্ধু ছাড়া অন্য সব সঙ্গীকে ত্যাগ করুন
… যে তার অন্তরে তেমনই ভালোবাসা লালন করে যেমনটি সে প্রকাশ করে থাকে।
অতঃপর যদি আপনি এমন কাউকে পেয়ে যান যার মধ্যে এই দুই গুণের সমন্বয় রয়েছে
… তবে তাকে আপনার জীবনের এক পরম সঞ্চয় হিসেবে গ্রহণ করুন।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقديمًا قال العلماء:
القدح ليس بغيبة في ستة
… متظلّم ومعرّف ومحذر
ومجاهر فسقًا ومستفت ومن
… طلب الإعانة في إزالة منكر
وخصلة واحدة من هذه الخصال كافية لتجويز مثل هذا الرد، فكيف، وقد انضم إليها غيرها، وبخاصّة الأولى منها، ودليلها قول الله تبارك وتعالى:
{لَا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظُلِمَ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا}.
وقوله صلى الله عليه وسلم: «لَيُّ الواجد يحل عرضه وعقوبته» (1)
وقال الشاعر:
ووضع الندى في موضع السيف بالعلا
… مضر كوضع السيف في موضع الندى
أسأل الله تبارك وتعالى أن يعصمنا من الظلم وغمص الناس بغير حق، وأن يجعل ما أكتبه دفاعًا عن سنة النبي صلى الله عليه وسلم ونهج السلف الصالح، إنه سميع مجيب.
محمد ناصر الدين الألباني
--------------------------------------------
পূর্বসূরি আলিমগণ বলেছেন:
ছয়টি ক্ষেত্রে নিন্দা জ্ঞাপন গীবত নয়
… অত্যাচারিত, পরিচয় প্রদানকারী এবং সতর্ককারী
প্রকাশ্য পাপাচারী, ফতোয়া জিজ্ঞাসাকারী এবং ওই ব্যক্তি যে
… অন্যায় দূরীকরণে সাহায্য প্রার্থনা করে
এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্য হতে একটি মাত্র গুণই এই ধরণের প্রতিবাদ বৈধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট; এমতাবস্থায় যখন এর সাথে আরও কিছু যুক্ত হয়েছে, বিশেষ করে প্রথমটি, তবে তা আরও জোরালো হয়। আর এর প্রমাণ হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার বাণী:
“আল্লাহ মন্দ কথার প্রচারণা পছন্দ করেন না, তবে যার প্রতি জুলুম করা হয়েছে তার কথা ভিন্ন। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “সামর্থ্যবান ব্যক্তির (ঋণ পরিশোধে) গড়িমসি তার সম্মানহানি ও শাস্তিকে বৈধ করে দেয়।” (১)
জনৈক কবি বলেছেন:
সুউচ্চ মর্যাদার ক্ষেত্রে তলোয়ারের স্থলে মহানুভবতা প্রদর্শন
… ততটাই ক্ষতিকর যতটা বদান্যতার স্থলে তলোয়ারের ব্যবহার
আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের জুলুম এবং অন্যায়ভাবে মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা থেকে রক্ষা করেন; আর আমি যা লিখছি তা যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের মানহাজের প্রতিরক্ষাস্বরূপ হয়। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, প্রার্থনা কবুলকারী।
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ৯)
توطِئَةتعرفت على الشيخ عبد الفتاح «أبو غدة» في بلده (حلب) منذ أكثر من عشرين سنة تقريبًا. وقد عرفت فيه رجلًا متعصبًا للمذهب الحنفي تعصّبًا أعمى في درس له في مسجده في حلب قرر فيه جواز التداوي بالخمر بإرشاد طبيب حاذق مسلم. فقلت له: هذا لا يكفي بل لا بدّ أن يكون عالمًا بالسنة. ففي السنة مثلًا وصف الخمر بأنها داء وليست بدواء. فكيف يعقل لطبيب مسلم عالمٍ بشرعه أن يصف دواء وصفه نبيّه صلى الله عليه وسلم بأنه داء؟ ! فقال: لعل الحديث ضعيف لا يصح! قلت: كيف وهو في «صحيح مسلم» (1) فقال: نراجع لنتأكد من ذلك. فقال له أحد الحاضرين وهو صديق للفريقين: فإذا تأكدت من صحته أتأخذ به أم بالمذهب؟ فقال: بالمذهب! وتأكدت بعد من تعصبه الشديد مما كان يبلغني من حملاته في خطبه ودروسه على السلفية والدعاة إليها، ومن أجل ذلك كان بعض إخواننا في حلب يسعى حثيثًا لعقد اجتماعات بيني وبينه لمناقشته في تعصبه على السنة وشرح الدعوة له. فكان لا يستجيب لأي اجتماع يدعى إليه ولو على الانفراد.
--------------------------------------------
ভূমিকাআমি শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ 'আবু গুদ্দাহ'-র সাথে তাঁর নিজ শহর আলেপ্পোতে আজ থেকে প্রায় বিশ বছরেরও বেশি সময় পূর্বে পরিচিত হয়েছিলাম। আমি তাঁর মাঝে হানাফী মাযহাবের প্রতি এক অন্ধ অনুরাগী ব্যক্তিকে দেখতে পেয়েছিলাম। আলেপ্পোতে তাঁর নিজের মসজিদে এক পাঠদানকালে তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যে, একজন দক্ষ মুসলিম চিকিৎসকের পরামর্শে মদ দ্বারা চিকিৎসা করা বৈধ। তখন আমি তাঁকে বলেছিলাম: "এটিই যথেষ্ট নয়, বরং তাকে (চিকিৎসককে) অবশ্যই সুন্নাহ সম্পর্কে বিজ্ঞ হতে হবে। কেননা সুন্নাহতে উদাহরণস্বরূপ মদকে একটি ব্যাধি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, কোনো ওষুধ হিসেবে নয়। সুতরাং একজন মুসলিম চিকিৎসক—যিনি নিজের শরীয়ত সম্পর্কে অবগত—কীভাবে এমন একটি বস্তুকে ওষুধ হিসেবে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারেন যা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যাধি হিসেবে অভিহিত করেছেন?" তিনি বললেন: "সম্ভবত হাদীসটি দুর্বল, এটি সহীহ নয়!" আমি বললাম: "তা কী করে সম্ভব, যেখানে এটি 'সহীহ মুসলিম'-এ বর্ণিত হয়েছে?" তিনি বললেন: "বিষয়টি নিশ্চিত হতে আমরা তা পুনরায় দেখে নেব।" তখন উপস্থিতদের মধ্যে একজন, যিনি আমাদের উভয়েরই বন্ধু ছিলেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "যদি আপনি এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন, তবে আপনি কি হাদীসটি গ্রহণ করবেন নাকি মাযহাবকে?" তিনি উত্তর দিলেন: "মাযহাবকেই!" এরপর তাঁর খুতবা ও পাঠদানগুলোতে সালাফি মানহাজ এবং এর প্রচারকদের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণাত্মক অবস্থানের সংবাদ যখন আমার নিকট পৌঁছাতে লাগল, তখন তাঁর চরম গোঁড়ামি সম্পর্কে আমি আরও নিশ্চিত হলাম। একারণেই আলেপ্পোতে আমাদের কিছু ভাই সুন্নাহর প্রতি তাঁর এই বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের বিষয়ে আলোচনা করতে এবং তাঁর নিকট এই দাওয়াতের মূল হাকিকত ব্যাখ্যা করতে আমার ও তাঁর মাঝে বৈঠকের আয়োজনের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এমন কোনো বৈঠকের আহ্বানেই সাড়া দিতেন না, এমনকি তা যদি একান্ত নিভৃতেও হতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ১০)
اللهم إلا على طعام! ولكنه لا يفسح المجال لأي بحث حول الدعوة السلفية بل يطعم ثم ينصرف! وهو مع ذلك مستمر في الغمز واللمز والتشهير شأنه في ذلك كشأن غيره من الخطباء الجهلاء الحاقدين.
ثم أخذت الأيام والسنون تمضي، فإذا بأبو غدة يعين مدرسًا في كلية الشريعة في الرياض، وفي العطلة الصيفية كان يقضيها في لبنان، ويتردد كثيرًا على بيت ومكتبة أخينا الأستاذ زهير الشاويش، وصديقه يومئذٍ، فكنت ألتقي معه فيها أحيانًا وهو مصرٌّ على موقفه السابق من الامتناع عن الدخول في أي نقاش أو بحث على الرغم من توسط الأستاذ زهير ودفعه إياه لقبول البحث، ولكن عبثًا، ولقد كان من سياسة الأخ زهير وحكمته يومئذ معه أنه كان يقدمه أحيانًا ليصلي بنا، ليريه عمليًّا أن ما يشيعه هو وأمثاله من التكفير باطل، بدليل صلاتي خلفه، مع أن صلاته مخالفة للسنة الصحيحة في كثير من أحكامها! وكان يبدو عليه الاغتباط بهذا التقديم، فيتقدم دون أي تردد أو اعتذار أو تقديم منه لغيره! كأنه لا يريد بالمقابل أن يثبت لنا أنه يرى صحة صلاته خلف هذا الذي يصلي خلفه! !
وبينما كانت ظواهر الأمور تدل على أن أبو غدة في الآونة الأخيرة رجل مسالم إلى حد أنه يفرّ من الدخول في مناقشة علمية هادئة، بله مخاصمة مذهبية حامية، قانع بتعصّبه «لإمام الأئمة، ومقدَّم الأمة أبي حنيفة رضي الله عنه
… ».
إذا به يكشف عن أن «تحت جلد الضأن قلب الأذؤب» وأن «الطبع غلب التطبع»! فقد عاد إلى القيام بحملة
আল্লাহ যদি না তা কোনো খাবারের আসর হতো! কিন্তু তিনি সালাফি দাওয়াত নিয়ে কোনো প্রকার জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার সুযোগ দিতেন না, বরং আহার শেষ করে প্রস্থান করতেন। এর পাশাপাশি তিনি বিদ্রূপ, কটাক্ষ এবং মানহানিকর প্রচারণায় লিপ্ত থাকতেন, ঠিক যেমনটি অন্যান্য অজ্ঞ ও বিদ্বেষপরায়ণ বক্তারা করে থাকেন।
অতঃপর দিন ও বছর অতিবাহিত হতে লাগল। একদা আবু গুদ্দাহ রিয়াদের শরীয়াহ অনুষদে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হলেন। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ তিনি লেবাননে কাটাতেন এবং আমাদের ভাই উস্তাদ যুহাইর আশ-শাওয়ীশের বাড়ি ও লাইব্রেরিতে প্রায়শই যাতায়াত করতেন, যিনি সেই সময় তাঁর বন্ধু ছিলেন। সেখানে মাঝে মাঝে তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হতো। উস্তাদ যুহাইরের মধ্যস্থতা এবং তাঁকে আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান সত্ত্বেও তিনি কোনো প্রকার বিতর্ক বা গবেষণায় অবতীর্ণ না হওয়ার ব্যাপারে তাঁর পূর্বের সিদ্ধান্তে অটল থাকতেন। কিন্তু সব প্রচেষ্টাই বৃথা গেল। ভাই যুহাইরের তৎকালীন প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার একটি দিক ছিল এই যে, তিনি মাঝে মাঝে তাঁকে আমাদের ইমামতি করার জন্য এগিয়ে দিতেন। এর উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে বাস্তবিকভাবে দেখানো যে, তিনি এবং তাঁর মতাদর্শের লোকেরা যে কাফির আখ্যা দেওয়ার (তাকফির) অপবাদ ছড়ায় তা ভিত্তিহীন; যার প্রমাণ হলো তাঁর পেছনে আমার সালাত আদায় করা, যদিও তাঁর সালাতের অনেক বিধানই সহীহ সুন্নাহর পরিপন্থী ছিল! এই সুযোগ পেয়ে তাঁকে বেশ আনন্দিত মনে হতো এবং তিনি কোনো প্রকার দ্বিধা বা ওজর ছাড়াই কিংবা অন্য কাউকে অনুরোধ না করেই সামনে এগিয়ে যেতেন। মনে হচ্ছিল, বিনিময়ে তিনি আমাদের কাছে এটি প্রমাণ করতে চাইছিলেন না যে, তাঁর পেছনে যিনি সালাত আদায় করছেন তাঁর পেছনে নিজের সালাত আদায়ের বৈধতাকেও তিনি স্বীকার করেন! !
বাহ্যিক পরিস্থিতি থেকে মনে হচ্ছিল যে, আবু গুদ্দাহ সাম্প্রতিক সময়ে একজন শান্তিবাদী মানুষে পরিণত হয়েছেন, এমনকি তিনি কোনো শান্ত বৈজ্ঞানিক আলোচনা থেকেও দূরে থাকতেন, তপ্ত মাযহাবী বিতণ্ডার তো প্রশ্নই আসে না। তিনি "ইমামদের ইমাম এবং উম্মতের অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)
… "-এর প্রতি তাঁর অন্ধ অনুরাগে তুষ্ট ছিলেন।
হঠাৎ করেই তিনি প্রকাশ করে দিলেন যে, "ভেড়ার চামড়ার নিচে নেকড়ের হৃদয়" লুকিয়ে আছে এবং "স্বভাবই অভ্যাসের ওপর জয়ী হয়"! কেননা তিনি পুনরায় অভিযানে নেমে পড়লেন।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ১১)
شديدة من التهويش والتشنيع عليّ في المملكة العربية السعودية موطن وظيفته، ولبنان بلد مصيفه وذلك:
1 - ما أذاعه من الزور، وأشاعه من البهت هنا وهناك حتى بلغ مسامع بعض الطلاب المسلمين في أوربا أن الألباني يطعن في المذاهب الأربعة وبخاصة المذهب الحنفي في تعليقه على كتاب «مختصر صحيح مسلم للحافظ المنذري»، وليس فيه سوى قولي: «إن عيسى عليه السلام يحكم بشرعنا
… » مما سيأتي شرحه مع الرد عليه، فإن أبو غدة لم يقنع بإشاعة ذلك بلسانه، حتى كتبه بقلمه (1) فهو بذلك كلابس ثوبي زور: وكان طبع المختصر سنة 1388.
2 - افتراؤه علي تلويحًا وتصريحًا بأني من الشانئين المبغضين للإمام أبي حنيفة رحمه الله تعالى، واتّهمني بالتعصب عليه رحمه الله وبالخيانة العلمية في ترجمته، وذلك في تعليقه على كتاب «قواعد في علوم الحديث» للشيخ التهانوي، وقد فرغ من التعليق عليه -كما صرّح في خاتمته- في ربيع الآخر سنة 1390 بالرياض، أي قبل رفعه لتقريره الجائر، أو على الأقل قبل ردي عليه في «مقدمة شرح الطحاوية» بسنة (2).
--------------------------------------------
সৌদি আরব এবং লেবাননে আমার বিরুদ্ধে তীব্র বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং কুৎসা রটানো হয়েছে, যেখানে প্রথমটি তার কর্মস্থল এবং দ্বিতীয়টি তার গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপনের স্থান। আর তা হলো:
১ - তিনি এখানে-ওখানে এমন সব মিথ্যা ও অপবাদ প্রচার করেছেন যা ইউরোপের কিছু মুসলিম শিক্ষার্থীর কানেও পৌঁছেছে যে, আলবানী হাফেজ মুনজিরীর 'মুখতাসার সহীহ মুসলিম' গ্রন্থের টীকায় চার মাযহাবের, বিশেষ করে হানাফী মাযহাবের সমালোচনা করেছেন। অথচ সেখানে আমার এই উক্তি ছাড়া আর কিছুই নেই: "নিশ্চয়ই ঈসা (আলাইহিস সালাম) আমাদের শরীয়ত অনুযায়ী বিচার করবেন
… " যার ব্যাখ্যা এবং উত্তর সামনে আসবে। আবু গুদ্দাহ কেবল মুখে এই গুজব ছড়িয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি তা নিজ কলমেও লিখেছেন (১)। এর মাধ্যমে তিনি যেন মিথ্যার দুটি পোশাক পরিধান করলেন। উল্লেখ্য, 'মুখতাসার' গ্রন্থটি ১৩৮৮ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছিল।
২ - ইঙ্গিতে ও স্পষ্টভাবে আমার বিরুদ্ধে তাঁর এই মিথ্যাচার যে, আমি ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বিদ্বেষী ও শত্রুদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি শেখ আল-থানভীর 'কাওয়ায়েদ ফী উলূমিল হাদীস' গ্রন্থের টীকায় আমাকে তাঁর (ইমাম আবু হানীফা) প্রতি গোঁড়ামি এবং তাঁর জীবনী বর্ণনায় তাত্ত্বিক খেয়ানতের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি এই গ্রন্থের টীকা লিখার কাজ সমাপ্ত করেছেন—যেমনটি তিনি এর উপসংহারে উল্লেখ করেছেন—১৩৯০ হিজরির রবিউস সানী মাসে রিয়াদে; অর্থাৎ তাঁর সেই অন্যায় রিপোর্ট পেশ করার আগে, অথবা অন্ততপক্ষে 'মুকাদ্দিমা শারহুত তাহাবিয়্যাহ'-তে আমার দেওয়া উত্তরের এক বছর আগে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد رد عليه الأخ الفاضل الأستاذ زهير الشاويش في رسالة: «التوضيح» أحسن ردٍّ بما كشف عن افترائه واتهامه المذكور بالنقل عن كتبي بما يشهد لأبي حنيفة رحمه الله بما يستحق من علم وفضل، وأبان بذلك أن «أبو غدة» هو الذي خان الأمانة العلمية حين نقل كلامي مبتورًا.
فليراجع من شاء البيان رسالته المذكورة وهي مطبوعة لوحدها ومع «شرح العقيدة الطحاوية» الطبعة الرابعة.
--------------------------------------------
মান্যবর ভাই উস্তাদ যুহাইর আশ-শাঊইশ তাঁর 'আত-তাওদীহ' পুস্তিকায় এর চমৎকার উত্তর দিয়েছেন। সেখানে তিনি আমার কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির মিথ্যাচার ও অভিযোগগুলো উন্মোচিত করেছেন, যা ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রাপ্য জ্ঞান ও মর্যাদার সাক্ষ্য দেয়। তিনি স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, 'আবু গুদ্দাহ'-ই মূলত আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে উদ্ধৃত করে ইলমী আমানতের খেয়ানত করেছেন।
যারা বিস্তারিত জানতে চান তারা উক্ত পুস্তিকাটি দেখে নিতে পারেন; এটি স্বতন্ত্রভাবে এবং 'শারহুল আকীদা আত-তাহাবিয়্যাহ'-এর চতুর্থ সংস্করণের সাথে মুদ্রিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
3 - تقريره الجائر الذي رفعه إلى بعض المسؤولين في المملكة العربية السعودية سنة 1391 أو قبلها بقليل، -ولغير المسؤولين أيضًا- حول تخريجي لـ «شرح العقيدة الطحاوية»، وذلك بعد اطلاعه هو عليه بنحو عشر سنوات، دون أن يحدثني مطلقًا بشيء مما في نفسه من النقد عليه، ونحن نلتقي معه في هذه السنوات عند أخينا الأستاذ زهير الشاويش، أو على الأقل أن يحدثه هو بذلك! ! وهو صاحب المكتب الإسلامي والناشر للكتاب (1).
كل هذه الأمور وغيرها مما كان يبلغني عنه جعلني أتيقّن أننا قد ابتلينا بعدو ماكر، يظهر خلاف ما يبطن، وأنه لا بد من كتابة ردٍّ عليه، يكشف عن جهله فيما أخذه علي في «تقريره الجائر» وعما ضمنه من الكذب والزور وقلب الحقائق وغير ذلك من الصفات التي لا تليق بمؤمن يؤمن بالله واليوم الآخر، فكتبت الرد وجعلته مقدمة للطبعة الرابعة لشرح العقيدة الطحاوية، ليكون القراء الكرام على علم بالرد على مآخذ أبي غدة عن كثب، ومعرفة بعدائه الشديد لهذه العقيدة المتستر بنقد مخرجها، والمتظاهر بتعظيم شارحها!
وبعد صدور هذه الطبعة أواخر سنة 1391 هـ حججت إلى بيت الله الحرام، فزرت الأستاذ الفاضل الدكتور محمد أمين المصري في بيته في مكة المكرمة، فحدثني بأن الشيخ أبو غدة عنده في غرفة أخرى مع بعض الأساتذة الحلبيين، فقلت له: هل لك أن تتفضّل فتعرض عليه رغبتي بلقائه ومناقشته حول ما جاء في «تقريره»؟ فوافق
--------------------------------------------
৩ - তার সেই অন্যায্য প্রতিবেদন যা তিনি ১৩৯১ হিজরি বা তার সামান্য আগে সৌদি আরবের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছে—এবং দায়িত্বশীল নন এমন ব্যক্তিদের কাছেও—পেশ করেছিলেন। এটি ছিল আমার সম্পাদিত 'শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ' (তাহাবিয়্যাহ আকিদার ব্যাখ্যা)-এর হাদীস পর্যালোচনা (তাখরিজ) সংক্রান্ত। অথচ তিনি গ্রন্থটি দেখার প্রায় দশ বছর পর এই কাজটি করেন, কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে তিনি আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে তার মনে থাকা কোনো সমালোচনাই প্রকাশ করেননি। অথচ সেই বছরগুলোতে আমাদের ভাই উস্তাদ যুহাইর আশ-শাউইশ-এর বাসভবনে আমাদের নিয়মিত সাক্ষাৎ হতো; অন্তত তিনি তাকেও বিষয়টি বলতে পারতেন! অথচ তিনিই ছিলেন 'আল-মাকতাবুল ইসলামী'-র স্বত্বাধিকারী এবং উক্ত গ্রন্থের প্রকাশক (১)।
এই সব বিষয় এবং তার সম্পর্কে আমার কাছে আসা অন্যান্য সংবাদসমূহ আমাকে এই দৃঢ় বিশ্বাসে উপনীত করেছে যে, আমরা এক ধূর্ত শত্রুর কবলে পড়েছি, যে তার অন্তরে যা পোষণ করে মুখে তার বিপরীত প্রকাশ করে। এমতাবস্থায় তার সেই 'অন্যায্য প্রতিবেদন'-এ আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহে তার অজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং সেখানে তিনি যে মিথ্যাচার, জালিয়াতি ও সত্যের অপলাপ করেছেন—যা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো মুমিনের স্বভাব হতে পারে না—তার খণ্ডন করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। ফলে আমি একটি প্রতিবাদলিপি রচনা করি এবং 'শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ'-এর চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকা হিসেবে তা যুক্ত করি। এর উদ্দেশ্য ছিল যাতে সম্মানিত পাঠকরা আবু গুদ্দার আপত্তির জবাবগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন এবং এই আকিদার প্রতি তার চরম শত্রুতা সম্পর্কে জানতে পারেন, যা তিনি গবেষকের সমালোচনার আড়ালে গোপন রেখেছিলেন এবং মূল ব্যাখ্যাকারকে অতি-সম্মান প্রদর্শনের ভান করেছিলেন!
১৩৯১ হিজরির শেষের দিকে এই সংস্করণটি প্রকাশিত হওয়ার পর আমি বায়তুল্লাহ শরীফে হজ পালন করি। সেখানে মক্কাতুল মুকাররমায় শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ আমিন আল-মিশরির বাসভবনে তার সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি আমাকে জানালেন যে, শেখ আবু গুদ্দা পাশের কামরায় আলেপ্পোর কতিপয় উস্তাদের সাথে অবস্থান করছেন। আমি তাকে বললাম: "আপনি কি অনুগ্রহ করে তার কাছে আমার এই আগ্রহ ব্যক্ত করবেন যে, আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই এবং তার সেই 'প্রতিবেদন' সম্পর্কে আলোচনা করতে চাই?" তিনি এতে সম্মত হলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مسرورًا، ولكنه سرعان ما رجع آسفًا لأن أبو غدة رفض اللقاء على الرغم من استحسان الأساتذة لعرضي هذا كما حدثني به الدكتور المصري، وهو من أوثق الناس عندي.
بدء الرد على كلمات «أبو غدة» وأباطيلهوبعد ثلاث سنين تقريبًا من طبع الرد على التقرير الجائر طلع علينا الشيخ أبو غدة برسالته: «كلمات في كشف أباطيل وافتراءات» ذكر في آخرها أنه فرغ منها في 12/ 4/ 1394 بمدينة الرياض. وبعد الفراغ من قراءتها تبين لي أنها رد على جماعة ممن ردوا عليه وكشفوا للناس عن جهله بالسنة وعدائه الشديد لأهلها ولأئمتها، وفي مقدمتهم شيخ الإسلام ابن تيمية، وتلميذه العلامة ابن قيم الجوزية، وداعية التوحيد الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمهم الله تعالى، الذين يعاديهم أبو غدة أشد العداء تبعًا لشيخه الكوثري الضال المضل، والذي هو من آثاره! ! وأنه ليس فيها شيء من العلم مطلقًا، بل هي أكاذيب وأباطيل حقًّا، ومن ذلك أنه أفهم القراء أن هناك جماعة من المؤلفين يعملون ضده متعاونين متواطئين «من أصحاب الأغراض السيئة والطوايا المنحرفة الكائدة
… » بزعمه وهذا كذب محض، ولبيان ذلك أقول:
إن الكتب أو الرسائل التي يرد أبو غدة على بعض ما جاء فيها ويوهم القراء أن الجماعة تعاونوا على تأليفها ونشرها هي:
1 - كتاب «التصوف بين الحق والخلق» للأستاذ محمد فهر الشقفة الطبعة الثانية مزيدة ومحققة، ومن المعلوم أن الذي قام على نشره والتعليق عليه إنما هو الأستاذ محمود استانبولي.
আনন্দিতচিত্তে, কিন্তু অচিরেই তিনি আক্ষেপের সাথে ফিরে এলেন কারণ আবু গুদ্দাহ সাক্ষাতের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যদিও শিক্ষকমণ্ডলী আমার এই প্রস্তাবটি পছন্দ করেছিলেন; যেমনটি আমার কাছে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি মিশরীয় ডক্টর আমাকে জানিয়েছেন।
‘আবু গুদ্দাহ’র কথা ও তার মিথ্যাচারের প্রতিবাদ শুরুঅন্যায় প্রতিবেদনের জবাব প্রকাশের প্রায় তিন বছর পর শেখ আবু গুদ্দাহ তার পুস্তিকা: ‘কালিমাত ফি কাশফি আবাতিল ওয়া ইফতীরাআত’ (মিথ্যাচার ও অপবাদ উন্মোচনে কিছু কথা) নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হলেন। এর শেষে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ১৩৯৪ হিজরির ৪ঠা রবিউস সানি তারিখে রিয়াদ শহরে এটি লেখা সমাপ্ত করেছেন। এটি পাঠ করার পর আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে, এটি মূলত সেই একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি উত্তর যারা তাঁর প্রতিবাদ করেছিলেন এবং মানুষের কাছে সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর অজ্ঞতা এবং সুন্নাহর অনুসারী ও ইমামদের প্রতি তাঁর চরম শত্রুতা উন্মোচন করে দিয়েছিলেন। তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ এবং তাওহীদের আহ্বায়ক শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন)। আবু গুদ্দাহ তাঁর পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তকারী শাইখ আল-কাওসারীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁদের সাথে চরম শত্রুতা পোষণ করেন, আর তিনি মূলত তাঁরই ভাবধারার ফসল! ! সেখানে প্রকৃতপক্ষে ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক কোনো কিছুই নেই, বরং তা কেবলই মিথ্যা ও অসারতায় পূর্ণ। এর মধ্যে একটি বিষয় হলো, তিনি পাঠকদের এটি বোঝাতে চেয়েছেন যে, একদল লেখক অসৎ উদ্দেশ্যে এবং ষড়যন্ত্রমূলক ও বিভ্রান্তিকর মানসিকতা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কাজ করছেন—তাঁর ভাষায় যারা «মন্দ উদ্দেশ্য এবং বিভ্রান্তিকর ষড়যন্ত্রমূলক মানসিকতার অধিকারী
… » —এটি তাঁর নিছক ধারণা এবং চরম মিথ্যাচার। আর তা স্পষ্ট করার জন্য আমি বলছি:
আবু গুদ্দাহ যেসব বই বা পুস্তিকার কিছু বিষয়ের ওপর প্রতিবাদ করেছেন এবং পাঠকদের মনে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন যে একদল লোক সংঘবদ্ধ হয়ে সেগুলো রচনা ও প্রকাশ করেছে, সেগুলো হলো:
১ - উস্তাদ মুহাম্মদ ফিহর আশ-শাকফাহ রচিত ‘আত-তাসাউউফ বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক’ গ্রন্থটি, যার দ্বিতীয় সংস্করণ পরিবর্ধিত ও সম্পাদিত। এটি সবার জানা যে, এর প্রকাশনা এবং টীকা প্রদানের কাজ মূলত উস্তাদ মাহমুদ ইস্তাম্বুলী সম্পন্ন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
2 - «السيف الصقيل* العبقري على أباطيل تلميذ الكوثري» وهو للأستاذ عبد العزيز الربيعان المدرس في المعهد الثانوي في الجامعة الإسلامية في المدينة المنورة والذي كان في كلية الشريعة بالرياض يوم أن كان أبو غدة مدرسًا فيها ودعاه للمناظرة معه ورفض.
3 - مقالة نشرت في جريدة الدعوة عدد 323.
4 - مقدمتي على «شرح العقيدة الطحاوية».
5 - «المقابلة بين الهدى والضلال» بقلم الشيخ عبد الرزاق حمزة رحمه الله، وتحقيق عبد الله بن صالح المدني الفقيه.
6 - «التوضيح» للمقدمة المذكورة للأستاذ زهير الشاويش ولم يفصح أبو غدة عن اسمها ولعل السبب لأن المؤلف صديق أبي غدة القديم!
7 - «حجة النبي صلى الله عليه وسلم» تأليفي.
8 - تعليقي على «مختصر مسلم» للمنذري.
9 - «حجاب المرأة المسلمة» تأليفي.
10 - «بدعة التعصب المذهبي» للأخ الأستاذ محمد عيد عباسي.
فترى أبا غدة إذا رد على جملة ما في كتاب من هذه الكتب عزاها إلى جميع هؤلاء المؤلفين حتى الذي كتبه الشيخ عبد الرزاق رحمه الله موهمًا أنهم كتبوا ذلك متواطئين متعاونين! مع أنني لم أشارك مطلقًا في تأليف شيء منها حتى ولا في «التوضيح» فكيف في كتاب الشيخ عبد الرزاق رحمه الله؟ !
--------------------------------------------
২ - «আস-সাইফুল সাকীল আল-আবকারী আলা আবাতীলি তিলমীযিল কাওসারী» (কাওসারীর ছাত্রের অসারতা খণ্ডনে তীক্ষ্ণ ও মেধাদীপ্ত তলোয়ার)। এটি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক উস্তাদ আব্দুল আজিজ আর-রুবাইআনের রচনা। তিনি রিয়াদ শরিয়া কলেজে কর্মরত ছিলেন যখন আবু গুদ্দাহ সেখানে শিক্ষকতা করতেন এবং তিনি তাকে বিতর্কের আহ্বান জানিয়েছিলেন কিন্তু আবু গুদ্দাহ তা প্রত্যাখ্যান করেন।
৩ - 'আদ-দাওয়াহ' পত্রিকার ৩২৩তম সংখ্যায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধ।
৪ - 'শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ'-এর ওপর আমার লিখিত ভূমিকা।
৫ - «আল-মুকাবালা বাইনাল হুদা ওয়াদ-দালাল» (হেদায়েত ও পথভ্রষ্টতার মাঝে তুলনা); লেখক: শায়খ আব্দুর রাজ্জাক হামজাহ (রহিমাহুল্লাহ), এবং তাহকীক করেছেন: ফকিহ আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-মাদানী।
৬ - উস্তাদ যুহাইর আশ-শাভীশ কর্তৃক উল্লিখিত ভূমিকাটির জন্য রচিত «আত-তাওদীহ» (ব্যাখ্যা)। আবু গুদ্দাহ এর নাম স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেননি, সম্ভবত এর কারণ লেখক আবু গুদ্দাহর পুরোনো বন্ধু ছিলেন!
৭ - আমার রচিত «হুজ্জাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম»।
৮ - আল-মুনযিরী রচিত «মুখতাসার মুসলিম»-এর ওপর আমার তালীক (টিকা)।
৯ - আমার রচিত «হিজাবুল মারআতিল মুসলিমা» (মুসলিম নারীর পর্দা)।
১০ - দ্বীনি ভাই উস্তাদ মুহাম্মাদ ঈদ আব্বাসী রচিত «বিদআতুল তাআসসুবিল মাযহাবী» (মাযহাবী গোঁড়ামির বিদআত)।
আপনি দেখবেন যে, আবু গুদ্দাহ যখন এই বইগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটির কোনো বক্তব্যের খণ্ডন করেন, তখন তিনি তা এই সকল লেখকের দিকেই সম্বন্ধ করেন, এমনকি শায়খ আব্দুর রাজ্জাক (রহিমাহুল্লাহ)-এর লেখাটির ক্ষেত্রেও। তিনি এমন এক ধারণা সৃষ্টি করতে চান যেন তারা সকলে যোগসাজশ করে ও একে অপরের সহযোগিতায় এটি লিখেছেন! অথচ আমি এগুলোর কোনোটি লিখতেই বিন্দুমাত্র অংশগ্রহণ করিনি, এমনকি «আত-তাওদীহ»-তেও নয়; তাহলে শায়খ আব্দুর রাজ্জাক (রহিমাহুল্লাহ)-এর বইয়ে অংশগ্রহণ কীভাবে সম্ভব?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وبالتالي لم يشاركني أحد منهم في تأليف من تأليفاتي المذكورة، وأبو غدة على علم بذلك.
ومع ذلك فهو ينسب إليهم جميعًا كل عبارة يرد عليها، فهو يقول في الكتاب الأول ص (5):
«طبعوه في دمشق في سنة 1390 ودسوا فيه زورًا وبهتانًا كلامًا حولي
… » والحقيقة أن الذي طبعه إنما هو الأستاذ محمود استانبولي، والدس المزعوم إن ثبت فلا علاقة لنا به مطلقًا، لا سيما وأسلوبي في الكتابة يختلف عن أسلوبه كما هو معلوم لدى الجميع
…
ফলে আমার উল্লিখিত কোনো গ্রন্থ রচনায় তাদের কেউ আমার সাথে অংশগ্রহণ করেনি, এবং আবু গুদ্দাহ এ বিষয়ে অবগত আছেন।
তা সত্ত্বেও তিনি প্রতিটি বাক্য—যার তিনি প্রতিবাদ জানাচ্ছেন—তাদের সকলের প্রতি আরোপ করেন। তিনি প্রথম গ্রন্থের ৫ নং পৃষ্ঠায় বলেন:
«তারা এটি ১৩৯০ হিজরি সনে দামেস্কে মুদ্রণ করেছে এবং এতে জালিয়াতি ও অপবাদের আশ্রয়ে আমার সম্পর্কে কিছু কথাবার্তা অনুপ্রবেশ করিয়েছে
… » অথচ প্রকৃত সত্য এই যে, এটি যিনি মুদ্রণ করেছেন তিনি হলেন উস্তাদ মাহমুদ ইস্তাম্বুলি। আর কথিত সেই অনুপ্রবেশের বিষয়টি যদি প্রমাণিতও হয়, তবে তার সাথে আমাদের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই; বিশেষ করে আমার লিখনশৈলী তাঁর শৈলী থেকে ভিন্ন, যা সকলের নিকট সুপরিচিত
…
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تزوير على لسان الأستاذ الشقفةثم قال أبو غدة: «فما أن علم مؤلفه بذلك الدس حتى استشاط غضبه عليهم وغيظه منهم وبعث إلي برسالة منه بخطه يعبر
… ويستنكر ما فعلوه من تزوير عليه
… بما اقترفوه من الأكاذيب
… » إلخ.
أقول: فمن السهل على كل قارئ أن يكتشف هذا العزو الباطل الكاذب من أبي غدة إلى الجماعة وذلك بأن يرجع إلى نص كتاب الأستاذ فهر المصور من خطه بآخر كلمات «أبي غدة» لترى فيه ما يكذبه فقد جاء فيه:
«وقد كان هذا الأمر تزييدًا من الناشر محمود مهدي استانبولي دون علم مني
… فتوسمت فيه خيرًا عندما عرض علي إخراج كتابي
… فاستغل الناشر هذا التفويض
… وقد أنذرت الناشر».
ونحو ذلك في كتاب الأستاذ فهر الآخر المنشور صورته عقب الكتاب الأول. ومن ذلك يتبين أن أبا غدة لم يكذب على الجماعة فقط بنسبة الدس المزعوم إليهم جميعًا، لا إلى الناشر وحده كما هو صريح كلام الأستاذ فهر. بل وكذب أيضًا على الأستاذ نفسه في قوله السابق: «فما أن* علم مؤلفه
--------------------------------------------
অধ্যাপক আশ-শাকফাহর নামে জালিয়াতিএরপর আবু গুদ্দাহ বলেন: «গ্রন্থকার যখনই সেই প্রক্ষিপ্ত অংশ সম্পর্কে জানতে পারলেন, তখনই তিনি তাদের ওপর প্রচণ্ড ক্রোধান্বিত ও ক্ষুব্ধ হলেন এবং নিজের হস্তাক্ষরে আমার কাছে একটি পত্র পাঠালেন যাতে তিনি ব্যক্ত করেন
… এবং তার নামে তারা যে জালিয়াতি করেছে তার তীব্র নিন্দা জানান
… তাদের কৃত মিথ্যাচারের কারণে
… » ইত্যাদি।
আমি বলছি: আবু গুদ্দাহর পক্ষ থেকে জামায়াতের প্রতি এই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অপবাদটি উদ্ঘাটন করা প্রত্যেক পাঠকের জন্য অত্যন্ত সহজ। আর তা এভাবে যে, আবু গুদ্দাহর শেষোক্ত কথাগুলোর শেষে যুক্ত অধ্যাপক ফিহরের স্বহস্তে লিখিত বইটির পাণ্ডুলিপির ছবির দিকে দৃষ্টি দিলে আপনি সেখানে এমন কিছু দেখতে পাবেন যা আবু গুদ্দাহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। সেখানে বর্ণিত হয়েছে:
«এই বিষয়টি প্রকাশক মাহমুদ মাহদী ইস্তাম্বুলি কর্তৃক আমার অজান্তে একটি অনধিকার সংযোজন ছিল
… তিনি যখন আমার বইটি প্রকাশের প্রস্তাব দিলেন, তখন আমি তার মাঝে সততার আশা করেছিলাম
… কিন্তু প্রকাশক এই অনুমতির অপব্যবহার করেছেন
… এবং আমি প্রকাশককে সতর্ক করেছি»।
অধ্যাপক ফিহরের অপর গ্রন্থেও অনুরূপ কথা রয়েছে, যার চিত্র প্রথম গ্রন্থটির পরেই প্রকাশিত হয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, আবু গুদ্দাহ কেবল জামায়াতের ওপরই মিথ্যা আরোপ করেননি—যেখানে তিনি এই কথিত প্রক্ষিপ্তকরণের দায় সবার ওপর চাপিয়েছেন, অথচ অধ্যাপক ফিহরের সুস্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী এটি কেবল প্রকাশকের কাজ ছিল। বরং তিনি খোদ অধ্যাপকের নামেও মিথ্যাচার করেছেন তার পূর্বোক্ত এই বক্তব্যে: «যখনই* গ্রন্থকার জানতে পারলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بذلك الدس حتى استشاط غضبه عليهم
… » وما أظن إلا أن الأستاذ فهرًا قد استشاط غضبه فعلًا على أبي غدة لهذا العزو الباطل إليه! ولم يكتف أبو غدة بما سبق من الكذب بل أكده بقوله (ص 6):
«وقد أذعنوا لطلب المؤلف، ووضعوا على الكتاب المذكور .. » والله يشهد أنه لا علم لنا بالوضع المذكور ولا بالإذعان المفترى إلا حينما قرأنا عبارة أبي غدة هذه، أفلا يحق لنا أن نقول: ألا
…وكذلك قال فيما جاء في سائر الكتب المذكورة سابقًا: «نقلوا» و «قالوا» ونحو ذلك مما هو مخالف للواقع ويأتي ذكر أمثلة منه. فالناقل والقائل إنما هو المؤلف فما بال الآخرين وفيهم من انتقل إلى رحمة الله، وهذا لا علم له بما جد بعده من خصام بين أهل السنة أمثاله وبين أهل الأهواء والبدع أمثال تلميذ الكوثري، ولا علم للآخرين بما ألف هو رحمه الله وبالطبع أيضًا بعد انتشار كتابه! فما أشد غفلة أبي غدة، بل وما أكذبه!
من أجل ذلك كله رأيت أن أحصر ردي على «أبي غدة» فيما نالني من بغيه وظلمه وافترائه، تاركًا للآخرين أن يردوا عليه إن شاؤوا لكي لا يطول الرد هذا فأهل الدار أدرى بما فيها، والله عز وجل يقول: {أَمْ لَمْ يُنَبَّأْ بِمَا فِي صُحُفِ مُوسَى • وَإِبْرَاهِيمَ الَّذِي وَفَّى • أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى • وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى} فأقول وبالله وحده أستعين:
أولًا- من غرائب أبي غدة أنه لما تعرض للرد علي فيما قلته فيه بحق في مقدمة شرح الطحاوية «ردًّا على
সেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তাদের ওপর তাঁর ক্রোধ ফেটে পড়েছিল
… » এবং আমার মনে হয় যে, উস্তাদ ফিহর নিশ্চিতভাবেই আবু গুদ্দার ওপর এই মিথ্যা অপবাদের কারণে প্রচণ্ড ক্রোধান্বিত হয়েছেন! আবু গুদ্দা পূর্বোক্ত মিথ্যাচারেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি তাঁর এই উক্তির (পৃষ্ঠা ৬) মাধ্যমে তা আরও সুদৃঢ় করেছেন:
«এবং তারা লেখকের অনুরোধ মেনে নিয়েছেন এবং উল্লিখিত গ্রন্থের ওপর রেখেছেন .. » অথচ আল্লাহ সাক্ষী যে, এই রাখা বা এই বানোয়াট আনুগত্য সম্পর্কে আমাদের কোনো জ্ঞানই ছিল না, যতক্ষণ না আমরা আবু গুদ্দার এই বক্তব্যটি পাঠ করেছি। তবে কি আমাদের এটা বলার অধিকার নেই যে: সাবধান
…অনুরূপভাবে তিনি পূর্বে উল্লিখিত অন্যান্য গ্রন্থসমূহে যা এসেছে সে সম্পর্কে বলেছেন: «তারা উদ্ধৃত করেছেন» এবং «তারা বলেছেন» এবং এই জাতীয় বিষয় যা বাস্তবতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং সামনে এর উদাহরণ পেশ করা হবে। অথচ উদ্ধৃতকারী এবং প্রবক্তা স্বয়ং লেখকই, তাহলে অন্যদের দায় কোথায়? বিশেষ করে তাদের মধ্যে তো এমন ব্যক্তিও আছেন যিনি আল্লাহর রহমতে চলে গিয়েছেন (ইন্তেকাল করেছেন)। তাঁর মতো আহলুস সুন্নাহ এবং কাওসারীর শিষ্যের মতো প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতিদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে যে বিবাদের সৃষ্টি হয়েছে সে সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। আর তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) রচিত গ্রন্থ এবং স্বাভাবিকভাবেই গ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার পর কী ঘটেছে সে সম্পর্কেও অন্যদের কোনো জ্ঞান ছিল না! আবু গুদ্দা কতই না গাফেল, বরং তিনি কত বড় মিথ্যাবাদী!
এসব কারণেই আমি ‘আবু গুদ্দা’র প্রতি আমার এই প্রত্যুত্তরকে কেবল সেই সীমালঙ্ঘন, জুলুম এবং অপবাদের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রাখা সমীচীন মনে করেছি যা আমার ওপর আপতিত হয়েছে; অন্যদের জন্য বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছি যাতে তারা চাইলে এর জবাব দিতে পারেন, যাতে এই জবাবটি দীর্ঘায়িত না হয়। কেননা ঘরের অধিবাসীই ঘরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত। আর মহান আল্লাহ বলেন: {নাকি তাকে অবগত করা হয়নি যা মূসার কিতাবসমূহে ছিল? এবং ইব্রাহীমের (কিতাবে), যিনি আনুগত্য পূর্ণ করেছিলেন? যে, কোনো বহনকারী অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না। আর মানুষের জন্য কেবল তাই রয়েছে যা সে অর্জন করেছে।} অতঃপর আমি বলছি এবং একমাত্র আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি:
প্রথমত— আবু গুদ্দার অদ্ভুত বিষয়সমূহের মধ্যে অন্যতম হলো: তিনি যখন আমার সেই বক্তব্যের বিপরীতে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করলেন যা আমি ‘শারহুত তাহাবিয়া’র ভূমিকায় তাঁর সম্পর্কে যথাযথভাবেই বলেছিলাম, «প্রত্যুত্তরে...
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تقريره الجائر» لم يزد على أن عدد الألفاظ التي وصفناه بها فيها -بحق- فقال (ص 10):
«فقد حشوها بالألفاظ التالية: «بالتعصب، وتعمد الكذب، ووو
… والجهل ووو والتقليد
… والنفاق
… وبأني حنفي
… وبذم الشيوخ الأحناف وبأنهم على درجة بالغة من التعصب وأنهم يضمرون العداء الشديد لأهل الحديث
… » أقول ووجه الغرابة أنه حكى هذه الألفاظ التي وصفته بها دون أن يرد عليها بالحجة والبرهان مكتفيًا بقوله بأنها «افتراء صريح». مع العلم بأن هذه الألفاظ جاءت في تضاعيف ردي إليه، البالغ عدد صفحاته «44» صفحة. فهذه الألفاظ التي سردها لا تبلغ صفحة واحدة منها فأين الرد على سائر الصفحات التي أدنته فيها بذلك كله، فهل يشك عاقل منصف حين يرى أبا غدة لم يكتب كلمة واحدة في الرد عليها. ليثبت بذلك براءته منها - أنه لو وجد سبيلًا إلى ذلك لما اكتفى بما أشرنا إليه من أقواله. ولا بأس من إعادة خلاصة ما كان أخذ علي وغمزني به في تقريره الجائر وردي عليه وما أدنته به في المقدمة.
خلاصة ما أخذه علي أبو غدة، وردي عليه وما أدنته به في «المقدمة»1 - كان اتهمني بأن قولي في التخريج «صحيح أخرجه مسلم» أو «صحيح متفق عليه» إنما جاءت الصحة من حكمي له بالصحة وليس من حكم الإمام مسلم أو الشيخين، وما قلت فيه «رواه مسلم» أو «متفق عليه» ولم أصدره بقولي «صحيح» فمعنى ذلك عنده أنني متوقف فيه تحت المراجعة! وقال: فجاء بشيء لم يسبقه إليه المتقدمون والمتأخرون، فقلت له:
তাঁর সেই ‘অবিচারমূলক প্রতিবেদনটি’ শুধুমাত্র সেই শব্দাবলি গণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেগুলোর মাধ্যমে আমরা তাঁকে—ন্যায়সঙ্গতভাবেই—অভিহিত করেছিলাম। তিনি (১০ পৃষ্ঠায়) বলেছেন:
“তারা একে নিম্নোক্ত শব্দাবলি দ্বারা পূর্ণ করেছে: ‘গোঁড়ামি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার, এবং...
… অজ্ঞতা এবং... অন্ধ অনুসরণ (তাকলিদ)
… মুনাফেকি
… এবং আমি একজন হানাফি
… এবং হানাফি মাশায়েখদের নিন্দা এবং তারা চরম পর্যায়ের গোঁড়ামিতে নিমগ্ন এবং তারা আহলে হাদিসের প্রতি তীব্র শত্রুতা পোষণ করে
… ’।” আমি বলছি: আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি আমার ব্যবহৃত এই শব্দগুলোই বর্ণনা করেছেন অথচ দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে সেগুলোর কোনো উত্তর দেননি; বরং কেবল এইটুকু বলাই যথেষ্ট মনে করেছেন যে, এগুলো ‘সুস্পষ্ট মিথ্যাচার’। উল্লেখ্য যে, এই শব্দগুলো ছিল তাঁর প্রতি আমার সেই উত্তরের অন্তর্ভুক্ত, যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ‘৪৪’। তাঁর তালিকাভুক্ত এই শব্দগুলো তো এক পৃষ্ঠাও হবে না; তাহলে অবশিষ্ট পৃষ্ঠাগুলোর জবাব কোথায়, যাতে আমি তাঁকে এই সবকিছুর জন্য অভিযুক্ত করেছি? কোনো বিবেকবান ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি কি এতে সন্দেহ পোষণ করবেন—যখন তিনি দেখবেন যে আবু গুদ্দাহ সেগুলোর জবাবে একটি শব্দও লেখেননি যাতে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে পারেন—যে, যদি তিনি এর কোনো পথ পেতেন, তবে আমাদের উল্লেখ করা তাঁর এই উক্তিটুকুর ওপরই ক্ষান্ত হতেন না। তাঁর সেই অবিচারমূলক প্রতিবেদনে তিনি আমার যে বিষয়গুলো ভুল ধরেছেন ও সমালোচনা করেছেন, এবং তার প্রেক্ষিতে আমার জবাব ও ‘ভূমিকা’য় আমি তাঁকে যে বিষয়ে অভিযুক্ত করেছি, তার সারসংক্ষেপ পুনরায় উল্লেখ করাতে কোনো দোষ নেই।
আবু গুদ্দাহ আমার যেসব বিষয় ভুল ধরেছেন তার সারসংক্ষেপ, তাঁর প্রতি আমার উত্তর এবং ‘ভূমিকা’য় আমি তাঁকে যে বিষয়ে অভিযুক্ত করেছি১ - তিনি আমাকে অভিযুক্ত করেছিলেন যে, হাদিসের সূত্র যাচাইয়ের (তাখরিজ) ক্ষেত্রে আমার উক্তি— ‘সহিহ, মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন’ অথবা ‘সহিহ, মুত্তাফাকুন আলাইহি’—এর দ্বারা ‘সহিহ’ হওয়ার বিষয়টি আমার নিজের হুকুম বা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এসেছে, ইমাম মুসলিম বা শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নয়। আর যে হাদিস সম্পর্কে আমি কেবল বলেছি ‘মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন’ অথবা ‘মুত্তাফাকুন আলাইহি’ এবং শুরুতে ‘সহিহ’ শব্দটি উল্লেখ করিনি, তাঁর মতে এর অর্থ হলো আমি সেই হাদিসটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছি এবং তা পুনর্নিরীক্ষণাধীন রয়েছে! তিনি আরও বলেছেন: ‘তিনি এমন এক বিষয় নিয়ে এসেছেন যাতে পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কেউ তাঁর অগ্রগামী ছিল না।’ এর জবাবে আমি তাঁকে বললাম:
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ২০)
هذا تخرص واختلاق
… وفصلت القول في ذلك في أربع صفحات من المقدمة «17 - 20» وبينت أنني كنت صرحت في مقدمة الطبعة الثالثة عن هدفي من هذا الاصطلاح، وأني مسبوق إلى هذا الاستعمال من الحافظ البغوي في «شرح السنة»، فأثبت بذلك تخرصه وجهله فبماذا أجاب عنه؟ إنه بدل أن يعترف بجهله واتهامه لأخيه المسلم بما ليس فيه -وهو على علم به- أصر على ذلك ولم يتراجع، بل لجأ إلى التعالي والتمسكن في رده بأنه بريء مظلوم أمام القراء الذين لا يعلم أكثرهم ما اجترحته يداه. فهل هذا هو صفة من يقول في أول رسالته: «وبعد فإن الله تعالى شرع لنا هذا الدين الحنيف ليكون حاجزًا للمؤمن به عن كل شر وسوء، وداعيًا إلى القيام بكل خير وفضيلة، وليتحقق المنتسب إليه بالخلق القويم والسلوك المستقيم فلا يقول إلا حقًّا
… » إلخ كلامه الذي يذكر آخره بالمثل السائر «رمتني بدائها وانسلت» لأنه يتهمنا فيه بالأكاذيب والاختلاقات وهو مصدرها ومنبعها وهذا هو المثال الأول أمامك.
فهل هذا الإصرار على الاتهام والتجاهل هو من الخلق القويم عند أبي غدة وهو يعلم قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ • كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ}.
2 - كما انتقدني على قولي في أثر ابن مسعود: «هلك من لم يكن له قلب يعرف به المعروف والمنكر»: «لا أعرفه» فقال عقبه ما نصه بالحرف الواحد: «فهل المراد من هذا أنه لا يعرف المعروف من المنكر (! ) أو لا يعرف كلام عبد الله بن مسعود».
এটি একটি অনুমান ও অলীক উদ্ভাবন
… আমি ভূমিকার চারটি পৃষ্ঠায় (১৭-২০) এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকায় আমি এই পরিভাষাটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করেছি। আর এই ব্যবহারে হাফেজ বাগভী ‘শারহুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে আমার অগ্রবর্তী ছিলেন। এর মাধ্যমে আমি তার অনুমান ও অজ্ঞতা প্রমাণ করেছি। এমতাবস্থায় সে এর কী জবাব দিয়েছে? নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করা এবং একজন মুসলিম ভাইকে তার মাঝে বিদ্যমান নয় এমন বিষয়ে অভিযুক্ত করার পরিবর্তে—অথচ সে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল—সে তার অবস্থানে অনড় থাকে এবং পিছপা হয়নি। বরং সে তার জবাবে ঔদ্ধত্য এবং অসহায়ত্বের আশ্রয় নিয়েছে এই দাবিতে যে, সে পাঠকদের সামনে একজন নির্দোষ ও মজলুম ব্যক্তি, যাদের অধিকাংশেরই জানা নেই যে তার হাত কী অপরাধ করেছে। এটি কি এমন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য হতে পারে যে তার রিসালার শুরুতে বলে: “অতঃপর মহান আল্লাহ আমাদের জন্য এই দ্বীনে হানিফ প্রবর্তন করেছেন যেন তা মুমিনের জন্য সকল অনিষ্ট ও মন্দ থেকে অন্তরায় হয় এবং সকল কল্যাণ ও ফযিলত অর্জনে উৎসাহদাতা হয়; আর যেন এর অনুসারীরা সুউচ্চ চরিত্র ও সঠিক আচরণের অধিকারী হয়, ফলে সে সত্য বৈ কিছু বলবে না
… ” ইত্যাদি তার কথা, যার শেষাংশ একটি প্রচলিত প্রবাদের কথা মনে করিয়ে দেয়: “সে নিজের রোগ আমার ওপর চাপিয়ে সটকে পড়ল”। কারণ তিনি সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও জালিয়াতির অভিযোগ আনছেন, অথচ তিনি নিজেই সেগুলোর উৎস ও উৎপত্তিস্থল। আপনার সামনে এটিই হলো প্রথম উদাহরণ।
অভিযোগ ও সত্য গোপনের এই জেদ কি আবু গুদ্দাহর নিকট সেই ‘সুউচ্চ চরিত্র’, অথচ তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে অবগত আছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো? আল্লাহর কাছে এটি অত্যন্ত ক্রোধের বিষয় যে, তোমরা এমন কথা বলো যা তোমরা করো না}।
২ - অনুরূপভাবে ইবনে মাসউদ (রা.)-এর এই আসারের ক্ষেত্রে আমার মন্তব্য—“সে ধ্বংসপ্রাপ্ত যার এমন কোনো অন্তর নেই যা দিয়ে সে ন্যায় ও অন্যায় চিনতে পারে”: “আমি এটি জানি না”—এর ওপর তিনি সমালোচনা করেছেন। তিনি এর পরপরই হুবহু এই শব্দগুলো বলেছেন: “তবে কি এর অর্থ এই যে, সে ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য বোঝে না (!) নাকি সে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের কথা চেনে না?”
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ২১)
فرددت عليه في خمس صفحات (21 - 26) وبينت اصطلاح العلماء في هذه الكلمة «لا أعرفه» مما نقله أبو غدة في مقدمة له على بعض مطبوعاته، فنسبته من أجل ذلك إلى التجاهل، وإلى الجهل أيضًا وأنه لا علاقة لقوله المذكور بهذا الاصطلاح الذي تبعت فيه المحدثين، وأنه إنما قال ذلك ليروي غيظ قلبه، ويظهر للناس كمين حقده، وعظيم حسده بسوء لفظه حتى لا يدري ما يخرج من فمه نسأل الله العافية.
فلم يرد أبو غدة أيضًا على هذا بشيء مطلقًا سوى زعمه أنني رميته (وهو يقول تلبيسًا على القراء رموني! ) بالجهل والتجاهل! إن كنت يا أبا غدة صادقًا في هذا القول فهلا بينت علاقة قولك «فهل المراد من هذا أنه لا يعرف المعروف من المنكر» بقولي: «لا أعرفه» وأثبت بذلك أنك غير جاهل ولا متجاهل وأنت القائل في كلماتك «وسلوكي مكشوف وخلقي معروف، والحمد لله»؟ ! نعم سلوكك مكشوف وخلقك معروف، والحمد لله الذي لا يحمد على مكروه سواه.
3 - و 4 - كان سجل علي وهمين صرح بأحدهما وهو في ذلك مصيب، ولكنه دلس في صدد بيانه تدليسًا خبيثًا مع قلبه لبعض الحقائق كما بينته (ص 29 - 30)، فلزمه ما أدنته من التدليس وقلب الحقائق، لأنه لم يأت ولو بكلمة واحدة يبين براءته منه، سوى قوله فيه وفي أمثاله: افتراء صريح! !
والوهم الآخر كان أشار إليه، ولم يصرّح به وهو أنني كنت وهّمت الشارح رحمه الله في عزوه حديثًا لـ «الصحيح» وليس فيه، فحكى أبو غدة كلامي في ذلك ولم يزد وغرضه من ذلك إيهام القراء أنني واهم في توهيمي
অতঃপর আমি এর উত্তরে পাঁচ পৃষ্ঠা (২১-২৬) লিখেছি এবং 'লা আরিফুহু' (আমি তাকে চিনি না) শব্দটির বিষয়ে উলামায়ে কেরামের পারিভাষিক অর্থ স্পষ্ট করেছি, যা আবু গুদ্দাহ তার কিছু প্রকাশনার ভূমিকায় উদ্ধৃত করেছিলেন। এ কারণেই আমি তাকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া এবং অজ্ঞতার প্রতি নিসবত করেছি। তার উক্ত বক্তব্যের সাথে সেই পরিভাষার কোনো সম্পর্ক নেই যা আমি মুহাদ্দিসগণের অনুসরণে ব্যবহার করেছি। বরং তিনি তার অন্তরের ক্ষোভ মেটাতে এবং মানুষের সামনে তার গোপন বিদ্বেষ ও চরম হিংসা প্রকাশ করতেই কুরুচিপূর্ণ ভাষায় এমনটা বলেছেন, এমনকি মুখ দিয়ে কী বের হচ্ছে সে বোধটুকুও তার ছিল না। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই।
আবু গুদ্দাহও এর কোনো জবাবই দেননি, কেবল এ দাবি করা ছাড়া যে, আমি তাকে অজ্ঞতা ও জেনেশুনে এড়িয়ে যাওয়ার অপবাদ দিয়েছি (পাঠকদের বিভ্রান্ত করতে তিনি বলেছেন: 'তারা আমাকে অপবাদ দিয়েছে!' )। হে আবু গুদ্দাহ, আপনি যদি এ কথায় সত্যবাদী হয়ে থাকেন, তবে আপনার উক্তি—'এর দ্বারা কি উদ্দেশ্য এই যে, তিনি সৎ ও অসৎ-এর পার্থক্য বোঝেন না?'—এর সাথে আমার উক্তি—'আমি তাকে চিনি না'—এর সম্পর্ক কেন স্পষ্ট করলেন না? এর মাধ্যমে কি আপনি প্রমাণ করতেন না যে, আপনি অজ্ঞ নন এবং বিষয়টিকে এড়িয়েও যাননি? অথচ আপনি আপনার লেখায় বলেছিলেন, 'আমার আচরণ উন্মুক্ত এবং আমার চরিত্র সুপরিচিত, আলহামদুলিল্লাহ'। হ্যাঁ, আপনার আচরণ উন্মুক্ত এবং আপনার চরিত্র সুপরিচিত; আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ছাড়া অন্য কেউ অপ্রিয় বিষয়ের ওপর প্রশংসিত হন না।
৩ - এবং ৪ - তিনি আমার বিরুদ্ধে দুটি ভুল লিপিবদ্ধ করেছিলেন, যার একটি তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং এক্ষেত্রে তিনি সঠিক ছিলেন। কিন্তু এটি বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি জঘন্য প্রতারণা করেছেন এবং কিছু সত্যকে বিকৃত করেছেন, যেমনটি আমি বর্ণনা করেছি (পৃষ্ঠা ২৯-৩০)। ফলে আমি তাকে প্রতারণা ও সত্য বিকৃতির যে দায়ে অভিযুক্ত করেছি তা তার ওপর বর্তায়; কারণ তিনি নিজের নির্দোষিতা প্রমাণে একটি শব্দও উপস্থাপন করেননি, বরং এ বিষয়ে এবং এ জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে কেবল এটুকু বলেছেন: 'স্পষ্ট মিথ্যাচার!!'
অন্য ভুলটির দিকে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন কিন্তু স্পষ্টভাবে বলেননি; সেটি হলো, আমি ব্যাখ্যাকার (রহ.)-কে একটি হাদিস 'সহিহ' গ্রন্থের দিকে সম্বন্ধ করার কারণে ভুল সাব্যস্ত করেছিলাম, অথচ হাদিসটি সেখানে নেই। আবু গুদ্দাহ এ বিষয়ে কেবল আমার কথাটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এর বেশি কিছু বলেননি। তার উদ্দেশ্য ছিল পাঠকদের মনে এই ধারণা দেওয়া যে, ব্যাখ্যাকারকে ভুল সাব্যস্ত করতে গিয়ে আমি নিজেই ভুল করেছি।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ২২)
للشارح، والواقع أن لا وهم، وكان يرمي من وراء التسجيل المذكور إسقاط ثقة القراء من أهل العلم والفضل بتخريج الألباني! ! ليتخذ ذلك ذريعة لصرف الناس عن الكتاب نفسه «شرح العقيدة» فرددت عليه في عدة صفحات بما خلاصته: أنه لا يلزم من خطأ الثقة في حديث واحد أو أكثر أن ترفع الثقة عنه مطلقًا، ودعمت ذلك بما كان المتعصب الجائر نفسه نقله في بعض تعليقاته. وألزمته أن يسقط هو الثقة عن شارح الطحاوية. لأخطاء حقيقية غير قليلة، بينتها في تخريجي عليه ثم لخّصتها في «المقدمة» فألزمته بذلك أحد أمرين: الأول أن خطأ الألباني في حديث أو أكثر لا يسقط الثقة عنه. والآخر: أن ذلك إن كان يسقط الثقة عنه، فأخطاء الشارح أكثر، فهو بإسقاط الثقة عنه أولى عند أبي غدة وأظهر.
فسكت عن ذلك أيضًا فلزمه ما ألزمته به كما هو ظاهر لا سيما وقد كنت رجوته أن يبين لي إذا كنت مخطئًا في ذلك عنده، فلم يفعل، فمن يقول بعد هذا إنه «لا يلعب على الحبلين»؟ !
5 - كان غمزني في قولي في حديث رواه البخاري: «وفي سنده ضعف، ولكن له طرق لعله يتقوَّى بها
… » فرددت عليه من وجهين: خلاصة الأول منهما أنني مسبوق إلى تضعيف إسناده من قبل كبار الأئمة كالذهبي وابن رجب الحنبلي والحافظ العسقلاني، وأنني تحفظت في تضعيف متنه، بل رجوت أن يتقوّى بكثرة طرقه. ثم تأكدت من ذلك كما بيّنته في «الصحيحة» (1640).
وخلاصة الوجه الآخر أنني ألزمته بأن الغمز والطعن بشيخه الكوثري أولى لأنه نقل الطعن في حديث البخاري
ব্যাখ্যাকারকের ক্ষেত্রে বাস্তব সত্য হলো এখানে কোনো বিভ্রান্তি নেই। উক্ত টীকাটি লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে তার মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞান ও ফযিলতের অধিকারী পাঠকবৃন্দের নিকট আলবানীর ‘তাখরীজ’ সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা!! তিনি এটাকে একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন যাতে মানুষকে মূল গ্রন্থ ‘শরহুল আকিদাহ’ থেকে বিমুখ করা যায়। আমি এর উত্তরে বেশ কয়েক পৃষ্ঠায় যা লিখেছি তার সারমর্ম হলো: কোনো একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর একটি বা একাধিক হাদিসে ভুল হওয়া মানেই এই নয় যে, তার ওপর থেকে ঢালাওভাবে নির্ভরযোগ্যতা তুলে নিতে হবে। আমি এই বক্তব্যের সমর্থনে স্বয়ং সেই অন্যায্য গোঁড়া ব্যক্তির নিজস্ব কিছু টীকা থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছি যা তিনি নিজেই উল্লেখ করেছিলেন। আমি তাকে এ বিষয়ে বাধ্য করেছি যে, তাহাবিয়ার ব্যাখ্যাকারকের অসংখ্য প্রকৃত ভুলের কারণে তার ওপর থেকেও আস্থা তুলে নিতে হবে, যা আমি আমার ‘তাখরীজ’-এ বর্ণনা করেছি এবং পরবর্তীতে ‘ভূমিকা’ অংশে তার সারসংক্ষেপ পেশ করেছি। এর মাধ্যমে আমি তাকে দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি মেনে নিতে বাধ্য করেছি: প্রথমত, এক বা একাধিক হাদিসে আলবানীর ভুল তার নির্ভরযোগ্যতাকে নষ্ট করে না। দ্বিতীয়ত, যদি ভুল করার কারণে নির্ভরযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়, তবে ব্যাখ্যাকারকের ভুল আরও অনেক বেশি; ফলে আবু গুদ্দাহর নিকট ব্যাখ্যাকারকের ওপর থেকেই আস্থা তুলে নেওয়া অধিকতর যুক্তিসঙ্গত ও প্রকাশ্য।
তিনি এ বিষয়েও নীরব থেকেছেন, ফলে আমি যা তাকে মেনে নিতে বাধ্য করেছিলাম তা-ই তার জন্য সাব্যস্ত হয়েছে যেমনটি স্পষ্ট। বিশেষ করে যেহেতু আমি তাকে অনুরোধ করেছিলাম যে, আমার বক্তব্যে যদি কোনো ভুল থাকে তবে যেন তিনি তা আমাকে স্পষ্ট করে দেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। এমতাবস্থায় কে বলবে যে তিনি ‘দ্বিমুখী নীতি’ অবলম্বন করছেন না?!
৫ - ইমাম বুখারি বর্ণিত একটি হাদিস সম্পর্কে আমার মন্তব্য—"এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে, তবে এর বিভিন্ন সূত্র রয়েছে যার মাধ্যমে সম্ভবত এটি শক্তিশালী হবে..."—এ নিয়ে তিনি আমাকে বিদ্রূপ করেছিলেন। আমি এর উত্তরে দুটি দিক তুলে ধরেছি: প্রথমটির সারমর্ম হলো, এই হাদিসের সনদকে দুর্বল বলার ক্ষেত্রে ইমাম যাহাবী, ইবনে রাজাব হাম্বলী এবং হাফেয আসকালানীর মতো বড় বড় ইমামগণ আমার অগ্রবর্তী ছিলেন। আমি কেবল এর মূল পাঠ (মাতন) দুর্বল বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেছি, বরং আমি আশা ব্যক্ত করেছি যে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে এটি শক্তিশালী হতে পারে। পরবর্তীতে আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি, যা আমি ‘আস-সহিহাহ’ (১৬৪০) গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।
এবং দ্বিতীয় প্রসঙ্গের সারমর্ম হলো, আমি তাকে এটি মেনে নিতে বাধ্য করেছি যে, বিদ্রূপ ও সমালোচনা তার উস্তাদ আল-কাওসারীর প্রতি হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত; কারণ তিনিই বুখারির হাদিসের ওপর আপত্তিগুলো উদ্ধৃত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المذكور آنفًا وأقره، دون أن يتحفظ تحفظي المذكور! ثم أتبعته بذكر أربعة عشر حديثًا صحيحًا مما أخرجه البخاري ومسلم أو أحدهما ضعّفها كلها شيخه الكوثري «العلامة المحقق الحجة الإمام .. » كما يزعم تلميذه أبو غدة وبحديث آخر مما رواه مسلم ضعفه المتعصب الجائر نفسه! (انظر (ص 30 - 34) من المقدمة)، وبسكوته على قول الشيخ التهانوي في كتابه «مقدمة إعلاء السنن» تحت عنوان «ذكر بعض المغامز في الصحيحين وتكلف الجواب عنها»: «وما يقوله الناس إن من روى له الشيخان فقد جاوز القنطرة هذا من التجوّه (أي التكلف) ولا يقوى».
سكت على هذا أبو غدة في تعليقه على الكتاب (463). وعلى ما سبق من الأمثلة مما كتبه هو نفسه أو قرأه لشيخه، ويطعن فيّ لحديث واحد للبخاري ضعّفت إسناده دون متنه، ثم هو يتغافل عن ذلك كله ليقول شاكيًا في «كلماته» أننا رميناه بـ «
… واللعب على الحبلين» وفاته أن يذكر أننا قلنا في مثل صنيعه هذا أنه من باب الوزن بميزانين، والكيل بكيلين، أو من قبيل الجمع بين الصيف والشتاء على سطح واحد! فمن الذي ينكر انطباق هذه الأوصاف كلها على أبي غدة بعد اطلاعه على هذه الحقائق. لو أن المتعصب الجائر كان صادقًا في شكواه تلك لأجاب جوابًا علميًّا عن كل هذه الإلزامات التي ألزمناه بها. ولم يكتف بالرد على ذلك كله بقوله: «افتراء صريح» ونحو ذلك من الأقوال التي لا يعجز عنها أجهل الناس وأشدهم إيغالًا في الباطل والمكابرة على حد قولهم: عنزة ولو طارت.
ثانيًا- أليس هذا نفاقًا مكشوفًا؟
كنت ذكرت في المقدمة أن لدي البرهان القاطع على ما نسبت إلى أبي غدة من المداراة ولم أقل المداهنة.
ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তিনি তা অনুমোদন করেছেন, আমার উল্লিখিত কোনো সতর্কতা অবলম্বন করা ছাড়াই! অতঃপর আমি বুখারি ও মুসলিম বা উভয়ের কোনো একটিতে বর্ণিত চৌদ্দটি সহিহ হাদিস উল্লেখ করেছি, যার সবকটিকেই তার শাইখ আল-কাওসারী—যাকে তার শিষ্য আবু গুদ্দাহ ‘আল্লামা, মুহাক্কিক, হুজ্জাত, ইমাম...’ বলে দাবি করেন—যয়িফ (দুর্বল) সাব্যস্ত করেছেন। এছাড়া ইমাম মুসলিম বর্ণিত অন্য একটি হাদিসকেও সেই জালিম গোঁড়াপন্থী ব্যক্তিটি যয়িফ বলেছেন! (দেখুন ভূমিকার ৩০-৩৪ পৃষ্ঠা)। তদুপরি শেখ আত-তহানাভী তার ‘মুকাদ্দিমা ইলাউস সুনান’ গ্রন্থে ‘সহিহাইন-এর কিছু ত্রুটি এবং সেগুলোর উত্তরের ক্ষেত্রে কৃত্রিমতা’ শিরোনামের অধীনে যা বলেছেন, তাতেও তিনি (আবু গুদ্দাহ) নীরব থেকেছেন। সেখানে বলা হয়েছে: “মানুষ যা বলে যে, শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) যাদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন তারা পুল (সেতু) পার হয়ে গেছেন (অর্থাৎ সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে গেছেন), তা মূলত অতিরঞ্জন এবং এটি জোরালো কোনো কথা নয়।”
আবু গুদ্দাহ কিতাবটির টীকায় (৪৬৩) এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন। অথচ ইতিপূর্বে উল্লিখিত উদাহরণসমূহে তিনি নিজে যা লিখেছেন বা তার শাইখের থেকে পাঠ করেছেন সেগুলোতে তিনি এমনটিই করেন, অথচ বুখারির একটি মাত্র হাদিসের সনদে—মতন বা মূল পাঠে নয়—আমি দুর্বলতা দেখানোর কারণে তিনি আমার সমালোচনা করেন। অতঃপর তিনি এই সব কিছু এড়িয়ে গিয়ে তার ‘কালিমাত’ গ্রন্থে অভিযোগ করে বলেন যে, আমরা তাকে ‘
… এবং দুই রশিতে খেলা করার (দ্বিমুখী নীতি)’ অপবাদ দিয়েছি। তিনি এটা উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন যে, আমরা তার এই আচরণের ক্ষেত্রে বলেছি—এটি দুই রকম পাল্লায় মাপা এবং দুই ধরনের ওজনে পরিমাপ করার নামান্তর, অথবা একই ছাদের নিচে গ্রীষ্ম ও শীতকে একত্রিত করার মতো! এই সত্যগুলো জানার পর কে অস্বীকার করতে পারবে যে, এই বিশেষণগুলো আবু গুদ্দাহর ওপর প্রযোজ্য নয়? সেই জালিম গোঁড়াপন্থী ব্যক্তিটি যদি তার অভিযোগে সত্যবাদী হতেন, তবে আমরা তার ওপর যে যৌক্তিক বাধ্যবাধকতাগুলো আরোপ করেছি, তার ইলমি বা তাত্ত্বিক জবাব দিতেন। তিনি কেবল ‘স্পষ্ট মিথ্যাচার’ বা এ জাতীয় কথা বলেই ক্ষান্ত হতেন না; যা বলতে অত্যন্ত জাহেল এবং বাতিলের গভীরে নিমজ্জিত চরম অহংকারী ব্যক্তিও সক্ষম—যেমনটি প্রবাদে বলা হয়: ‘ছাগলই, যদিও তা উড়ে যায়’ (অর্থাৎ চরম জেদ)।
দ্বিতীয়ত- এটি কি প্রকাশ্য কপটতা নয়?আমি ভূমিকায় উল্লেখ করেছিলাম যে, আবু গুদ্দাহর প্রতি আমি যে ‘মুদারা’ (কৌশলী আচরণ)-এর সম্বন্ধ করেছি, তার সপক্ষে আমার কাছে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে; তবে আমি ‘মুদাহানা’ (চাটুকারিতা বা দ্বীন নিয়ে আপসকামিতা) বলিনি।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وهكذا قلت يومئذٍ متحفظًا ومتأنيًا حتى نرى جواب أبي غدة على ما ادعيته برهانًا قاطعًا، ثم نقلت عنه قوله في تقريره الجائر في شارح الطحاوية:
«إنه من التوثق و
… بإمامة ملموسة مشهورة».
ولعلمي بأن أبا غدة حنفي متعصب، والأحناف ماتريدية، والشارح يرد عليهم في مواطن كثيرة، خاصة في صفة الكلام الإلهي، بدا لي أن أبا غدة يقول فيه ما لا يعتقد لغرض شرحته هناك ولذلك أتبعت قوله المذكور بقولي:
«قلت: فإذا كان أبو غدة مؤمنًا حقًّا بهذه الإمامة الملموسة المشهورة فأنا أختار له من كلام هذا الإمام سبع مسائل، فإن أجاب عنها بما يوافق ما ذهب إليه هذا الإمام المشهور من قلب مخلص فذلك ما نرجوه، وأعتذر إليه من إساءة الظن به، وإن كانت الأخرى فذلك مما يؤيد -مع الأسف- ما رميته به من المداراة».
ثم سردت المسائل السبع مع شيء من التعليق عليها وبيان موقف شيخه الكوثري ضدها وهي:
الأولى: وأهل الكلام المذموم يطلقون نفي حلول الحوادث.
الثانية: وأن القرآن من كلام الله، منه بدا بلا كيفية قولًا، وأنزله على رسوله وحيًا، وصدقه المؤمنون على ذلك حقًّا، وأيقنوا أن كلام الله تعالى بالحقيقة ليس بمخلوق ككلام البرية. (1)
الثالثة: وهو تعالى مستغن عن العرش وما دونه، محيط بكل شيء وفوقه.
--------------------------------------------
এবং এভাবেই আমি সেদিন সতর্কতার সাথে এবং ধীরস্থিরভাবে বলেছিলাম, যতক্ষণ না আমরা আবু গুদ্দাহর সেই উত্তরের দেখা পাই যা আমি অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দাবি করেছিলাম। এরপর আমি 'শরহে তাহাবিয়া'র ব্যাখ্যাকারকের ওপর তার অন্যায় প্রতিবেদনে প্রদত্ত তার বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি:
«নিশ্চয়ই এটি সুদৃঢ়করণ এবং
… এক বাস্তব ও সুবিখ্যাত ইমামতের মাধ্যমে।»
আর যেহেতু আমি জানি যে আবু গুদ্দাহ একজন গোঁড়া হানাফী এবং হানাফীরা হলো মাতুরিদী, আর ব্যাখ্যাকারক অনেক স্থানে তাদের খণ্ডন করেছেন—বিশেষ করে আল্লাহর বাণীর (কালাম) সিফাত বা গুণের ক্ষেত্রে—তাই আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছিল যে, আবু গুদ্দাহ তার সম্পর্কে এমন কথা বলছেন যা তিনি বিশ্বাস করেন না; এটি তিনি একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে করেছিলেন যা আমি সেখানে ব্যাখ্যা করেছি। এজন্যই আমি তার উক্ত বক্তব্যের পিঠে আমার এই মন্তব্যটি যুক্ত করেছিলাম:
«আমি বলেছি: আবু গুদ্দাহ যদি প্রকৃতপক্ষে এই বাস্তব ও সুবিখ্যাত ইমামতের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকেন, তবে আমি এই ইমামের বক্তব্য থেকে তার জন্য সাতটি মাসআলা নির্বাচন করছি। যদি তিনি একনিষ্ঠ হৃদয়ে এই প্রখ্যাত ইমামের মতাদর্শের সাথে মিল রেখে সেগুলোর উত্তর দেন, তবে সেটিই আমাদের কাম্য, এবং তার সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করার জন্য আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব। কিন্তু যদি এর বিপরীত হয়, তবে তা পরিতাপের সাথে আমার সেই অভিযোগকেই সত্য প্রমাণ করবে যা আমি তার তোষামোদের (মুদারা) ব্যাপারে করেছিলাম।»
এরপর আমি সাতটি মাসআলা ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছি এবং সাথে সেগুলোর ওপর কিছু টীকা প্রদান করেছি এবং তার শায়খ কাউসারীর এগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বর্ণনা করেছি। সেগুলো হলো:
প্রথমত: নিন্দিত ইলমুল কালামের অনুসারীরা আল্লাহর সত্তায় নব্য বিষয়ের সংমিশ্রণ বা 'হুলুলুল হাওয়াদিস'কে সাধারণভাবে অস্বীকার করে থাকে।
দ্বিতীয়ত: নিশ্চয়ই কুরআন আল্লাহর কালাম; এটি কোনো ধরণ বা কাইফিয়াত ছাড়াই তাঁর পক্ষ থেকে বাণী হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে, তিনি ওহী হিসেবে এটি তাঁর রাসূলের ওপর অবতীর্ণ করেছেন এবং মুমিনরা এর সত্যতা যথাযথভাবে গ্রহণ করেছে। তারা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে যে, মহান আল্লাহর কালাম প্রকৃতপক্ষেই সৃষ্টির বাণীর মতো সৃষ্ট নয়। (১)
তৃতীয়ত: তিনি সুউচ্চ সত্তা আরশ এবং তার নিচের সবকিছু থেকে অমুখাপেক্ষী; তিনি প্রতিটি বস্তুকে বেষ্টন করে আছেন এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الرابعة: يثبت الإمام السؤال عن الفوقية بلفظ أين الله الذي سأل به رسول الله صلى الله عليه وسلم الجارية ليتعرف على إيمانها. وقلت له هناك:
وشيخك يا أبا غدة ينكر مثل هذا السؤال تبعًا لتشكيكه في صحة الحديث كما سبق (ص 22). فهل تؤمن أنت بهذا الحديث وتجيز هذا السؤال الذي سأله الرسول صلى الله عليه وسلم؟
الخامسة: يقول الإمام تبعًا للأئمة الثلاثة وغيرهم: إن الإيمان هو تصديق بالجنان، وإقرار باللسان، وعمل بالأركان، وقالوا: يزيد وينقص.
السادسة: ذهب الإمام إلى جواز الاستثناء في الإيمان وهو قول المؤمن: أنا مؤمن إن شاء الله تعالى خلافًا للحنفية. بل إن طائفة منهم ذهبوا إلى تكفير من قال ذلك.
السابعة: ذهب الإمام تبعًا لإمامه أبي حنيفة وصاحبيه إلى كراهة التوسل بحق الأنبياء وجاههم.
ثم قلت عقبها:
«قلت: فهذه سبع مسائل هامة، كلها في العقيدة إلا الأخيرة منها، قد وجهتها إلى أبي غدة الذي تظاهر بالثناء على شارح الطحاوية ووصفه بأنه صاحب «إمامة ملموسة مشهورة» فإذا أجاب بمتابعته له فيها، وهذا ما أستبعده على كوثريته - فالحمد لله، وإن خالفه فيها وظل على كوثريته فقد تبين للناس -إن شاء الله تعالى- أن ثناءه على شارح الطحاوية (الإمام) لم يكن عن اعتقاد وثقة به كما زعم، وإنما ليتخذه سلمًا للطعن بمخرج أحاديثه، وإلا كيف ساغ له أن يسكت عن الشارح في هذه الأخطاء بل الضلالات
চতুর্থত: ইমাম ‘আল্লাহ কোথায়’ এই শব্দে উপরিভাগ (ফাউকিয়্যাহ) সম্পর্কে প্রশ্ন করাকে সাব্যস্ত করেছেন, যে প্রশ্নের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্রীতদাসী মেয়েটির ঈমান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আর আমি সেখানে তাঁকে বলেছি:
হে আবু গুদ্দাহ, আপনার শাইখ ইতিপূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে (পৃষ্ঠা ২২), এই হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় পোষণ করে এই ধরণের প্রশ্নকে অস্বীকার করেন। তাহলে আপনি কি এই হাদিসের ওপর ঈমান রাখেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক কৃত এই প্রশ্নটিকে বৈধ মনে করেন?
পঞ্চমত: ইমাম অপর তিন ইমাম ও অন্যান্যদের অনুসরণ করে বলেন: ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা; এবং তাঁরা বলেছেন যে ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়।
ষষ্ঠত: হানাফিদের মতের বিপরীতে ইমাম ঈমানের ক্ষেত্রে ‘ইস্তিসনা’ বা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলাকে জায়েজ মনে করেন, যা হলো মুমিনের এই বলা যে: ‘আমি ইনশাআল্লাহ একজন মুমিন’। এমনকি হানাফিদের একটি দল এমনটি বলা ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করার পর্যায়েও গিয়েছেন।
সপ্তমত: ইমাম তাঁর ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর দুই সাথীর অনুসরণ করে নবীদের হক ও মর্যাদার উসিলা দিয়ে দোয়া করাকে মাকরূহ মনে করেছেন।
অতঃপর আমি এর পরে বলেছি:
«আমি বলছি: এগুলো সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা, যার শেষটি ছাড়া সবই আকিদা সংক্রান্ত। আমি এগুলো আবু গুদ্দাহর দিকে পেশ করেছি, যিনি তাহাবিয়্যাহর ব্যাখ্যাকারকের প্রশংসা প্রদর্শন করেছেন এবং তাঁকে ‘সুস্পষ্ট ও সুপ্রসিদ্ধ ইমামতের’ অধিকারী হিসেবে ভূষিত করেছেন। এখন তিনি যদি এই বিষয়গুলোতে তাঁর অনুসারী হওয়ার উত্তর দেন—যদিও তাঁর কাউসারি-পন্থী হওয়ার কারণে আমি তা অসম্ভব মনে করি—তবে আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি তিনি তাঁর বিরোধিতা করেন এবং তাঁর কাউসারি-পন্থাতেই অটল থাকেন, তবে ইনশাআল্লাহ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তাহাবিয়্যাহর ব্যাখ্যাকারকের (ইমাম) প্রতি তাঁর প্রশংসা কোনো বিশ্বাস বা আস্থার জায়গা থেকে ছিল না যা তিনি দাবি করেছিলেন; বরং একে তিনি কেবল তাঁর হাদিস সংকলকের ওপর আক্রমণের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নতুবা ব্যাখ্যাকারকের এই সব ভুল বরং ভ্রষ্টতাগুলোর ব্যাপারে তাঁর নীরব থাকা কীভাবে সম্ভব হলো?»
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
السبع بزعمه تبعًا للكوثري وعن أخطائه الأخرى الحديثية التي سبقت الإشارة إلى أنواع منها، وينتقدني شاكيًا إلى بعض رؤسائه أو المسؤولين هناك وغيرهم - في أمور -لو صح نقده فيها- لا تكاد تذكر تجاه تلك كمًّا ولا كيفًا؟ ! ».
فماذا كان جواب المتعصب الجائر عن هذه الأسئلة السبع؟ ! إن القارئ الكريم ليعجب إذا قلت: إنه أعرض عن الإجابة عنها مطلقًا، وصمت تجاهها صموت أهل الكهف، فلا هو صرح بأنه متابع فيها لصاحب «الإمامة الملموسة المشهورة» ولا أنه لا يزال على كوثريته فيها، فمن يقول بعد هذا أن هذا ليس نفاقًا مكشوفًا أو أنه لا يزال كوثريًّا كما وصفه به بعض زملائه في التتلمذ على الكوثري فيما نقلته عنه (ص 46 من المقدمة) وقد أقر هو ذلك ولم ينكره في «كلماته»، بل أكده بقوله فيها (ص 38):
«هم يعلمون من نحوه 25 سنة أني تلميذ الكوثري، فما معنى أني صرت تلميذه الآن».
وأقول: وهذه كذبة من كذباته التي لا تتناهى فمن قال ممن أشرت إليهم ووصفتهم بالعلم أنك صرت تلميذه الآن؟ وإنما الحقيقة أنك انكشفت للناس الذين لا يعرفونك من قبل تعليقاتك التي سودتها بالنقل عن شيخك الكوثري ومبالغتك في الثناء عليه مع عدائه الشديد للحديث وأهله، ودفعتنا دفعًا بذلك - وبتشنيعك علينا في حملاتك المسعورة لأقل هفوة تظنها، وخاصة في تقريرك الجائر الذي تضع فيه شخصًا وترفع آخر -مع اشتراكهما في الخطأ- على الرد عليك وكشف النقاب عن هويتك وبيان ما أنت فيه من الصفات التي لخصتها أنت في (كلماتك) (ص 10) وكنت متحفظًا في
আল-কাওসারীর অনুসরণে তার দাবিকৃত সেই সাতটি বিষয় এবং তার হাদীসতত্ত্ব বিষয়ক অন্যান্য ভুলভ্রান্তি—যার বিভিন্ন প্রকারের প্রতি ইতোপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে—সেগুলো সম্পর্কে (সে নিরব)। অথচ সে আমার বিরুদ্ধে সেখানকার কিছু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কাছে এবং অন্যদের কাছে এমন সব বিষয়ে অভিযোগ করে বেড়াচ্ছে যা—যদি তার সমালোচনা সঠিকও ধরে নেওয়া হয়—পরিমাণ বা গুণগত মান কোনো দিক থেকেই ওইসব (বিরাট ভুলের) তুলনায় উল্লেখ করার মতো কিছু নয়।
তবে এই সাতটি প্রশ্নের ব্যাপারে সেই জালেম ও গোঁড়া ব্যক্তির উত্তর কী ছিল? সম্মানীত পাঠক নিশ্চিতভাবে বিস্মিত হবেন যদি আমি বলি যে: সে এগুলোর উত্তর দেওয়া থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং এ ব্যাপারে আসহাবে কাহাফের ন্যায় নিস্তব্ধতা অবলম্বন করেছে। সে স্পষ্টভাবে এটিও বলেনি যে, সে এই বিষয়গুলোতে সেই ‘সুপরিচিত মূর্ত ইমামত’-এর প্রবক্তার অনুসারী, আর না এটি বলেছে যে সে এখনও তার সেই কাওসারী-পন্থার ওপরই অটল রয়েছে। এমতাবস্থায় কে বলবে যে এটি একটি প্রকাশ্য মুনাফিকি নয়? অথবা সে কি এখনও কাওসারী-পন্থীই রয়ে যায়নি—যেমনটি তার সাথে আল-কাওসারীর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণকারী জনৈক সহপাঠী তাকে বিশেষায়িত করেছিলেন এবং যা আমি তার থেকে উদ্ধৃত করেছি (ভূমিকার ৪৬ নং পৃষ্ঠায়)? বরং সে নিজেই তা স্বীকার করে নিয়েছে এবং তার ‘কালিমাত’ (বাণীসমূহ) গ্রন্থে তা অস্বীকার করেনি; অধিকন্তু সে সেখানে (৩৮ নং পৃষ্ঠায়) এই বলে তা নিশ্চিত করেছে:
“তারা প্রায় ২৫ বছর যাবৎ জানে যে আমি আল-কাওসারীর ছাত্র, সুতরাং এখন আমি তার ছাত্র হয়েছি—একথার মানে কী?”
আমি বলছি: এটি তার অগণিত মিথ্যাচারের মধ্যে অন্যতম একটি মিথ্যাচার। আমি যাদের কথা উল্লেখ করেছি এবং যাদের জ্ঞানবান বলে অভিহিত করেছি, তাদের মধ্যে কে বলেছে যে আপনি ‘এখন’ তার ছাত্র হয়েছেন? বরং প্রকৃত সত্য হলো, যারা আপনাকে আগে চিনত না, তাদের কাছে আপনার স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে গেছে আপনার সেই টীকা-টিপ্পনীর মাধ্যমে যা আপনি আপনার শায়খ আল-কাওসারীর উদ্ধৃতি দিয়ে কলঙ্কিত করেছেন এবং হাদীস ও হাদীসবেত্তাদের প্রতি তার চরম শত্রুতা থাকা সত্ত্বেও তার প্রশংসায় চরম অতিরঞ্জন করেছেন। আপনার এই কর্মকাণ্ড এবং আমাদের বিরুদ্ধে আপনার উন্মত্ত প্রচারণায় সামান্যতম ভুলের অজুহাতে কদর্য গালিগালাজ—বিশেষ করে আপনার সেই পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন যাতে আপনি একই ভুলের অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও একজনকে তুচ্ছ করেন আর অন্যজনকে মহিমান্বিত করেন—আমাদেরকে বাধ্য করেছে আপনাকে পাল্টা জবাব দিতে, আপনার প্রকৃত পরিচয় উন্মোচন করতে এবং আপনার সেই সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট করতে যা আপনি নিজেই আপনার ‘কালিমাত’-এ (১০ নং পৃষ্ঠায়) সংক্ষেপিত করেছেন, যদিও আমি সে ব্যাপারে সংযত ছিলাম...
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بعضها لما يوجبه الشرع علينا من التبين والتثبت وأما الآن فقد تجلت الحقيقة لكل ذي عينين.
وإن مما يؤكد بقاءه على كوثريته، وإيثاره تقليده على تقليد إمامه أبي حنيفة وصاحبيه رحمهم الله في كثير من المسائل، منها أن للكوثري رسالة بعنوان «محق* التقول في مسألة التوسل» ذهب فيها إلى جوازه وسلك فيه مسلك الاجتهاد المطلق واستدل بأحاديث بعضها صحيح لا يدل عليه، وبعضها ضعيف حاول تقويته بتقوية من هو ضعيف من الرواة اتباعًا لهواه، مخالفًا بذلك تصريحه هو نفسه بضعفه في حديث آخر كما بينت بعض ذلك في أول كتابي «سلسلة الأحاديث الضعيفة» ومن اتباعه لهواه ومتابعته للعامة لم يتعرض فيها بذكر لأقوال أئمته الثلاثة لأنها تمحق رسالته من أصلها محقًا (1) فتجد أبا غدة يقلده في هذه المسألة، مع مخالفته لأئمته الثلاثة في خطبة خطبها في مسجده في حلب، وطبعًا كان ذلك قبل توظفه في السعودية، وقد حصلت على شريط مسجل لخطبته، فيها التصريح ببعض أفكاره وعقائده التي يخالف فيها عقيدة السلف الصالح ومن تبعهم بإحسان كشيخ الإسلام ابن تيمية ومحمد بن عبد الوهاب وغيرهما، مثل اعتقاده أن الشرك إنما هو شرك الربوبية فقط فيجوز عنده التوسل بالنبي والولي إلى الله دون أن يناديه ويطلب منه، ولئن طلب خطأ فهذا المنادي لا يعتقد فيه أنه يحل ويربط ويعطي ويمنع، ويخفض ويرفع ويتصرف في مقدرات الله عز وجل! ! وعلى ذلك فالاستغاثة بالميت من دون الله تعالى ليست شركًا عنده لأن المستغيث لا يعتقد أن
--------------------------------------------
এর কিছু অংশ ছিল শরীয়ত কর্তৃক আমাদের ওপর অর্পিত তথ্য যাচাই ও সত্যতা নিশ্চিত করার আবশ্যিকতার কারণে; কিন্তু এখন সত্য প্রতিটি চক্ষুষ্মান ব্যক্তির কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তার 'কাওসারী' মতাদর্শের ওপর অটল থাকা এবং অনেক মাসআলায় তার ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর দুই সাথী (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর অনুকরণের চেয়ে কাওসারীর অনুকরণকে প্রাধান্য দেওয়ার একটি অন্যতম প্রমাণ হলো— কাওসারীর 'মাহকুত তাক্কুল ফি মাসআলাতিত তাওয়াসসুল' (তাওয়াসসুল প্রসঙ্গে মিথ্যাচারের মূলোৎপাটন) শিরোনামের একটি রিসালাহ বা পুস্তিকা রয়েছে। সেখানে তিনি তাওয়াসসুল বৈধ হওয়ার পক্ষাবলম্বন করেছেন এবং এতে 'ইজতিহাদুল মুতলাক' (স্বতন্ত্র গবেষণা) এর পথ অবলম্বন করেছেন। তিনি এমন কিছু হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যার কিছু সহিহ হলেও তা এই বিষয়ের ওপর প্রমাণ হিসেবে খাটে না, আর কিছু দুর্বল—যেগুলোকে তিনি নিজের খেয়ালখুশি অনুযায়ী দুর্বল রাবিদের (বর্ণনাকারী) শক্তিশালী করার মাধ্যমে সবল করার চেষ্টা করেছেন। এভাবে তিনি অন্য একটি হাদিসের ক্ষেত্রে নিজেরই ব্যক্ত করা সেই রাবির দুর্বলতার স্বীকৃতির বিরোধিতা করেছেন, যেমনটি আমি আমার 'সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দায়িফাহ' গ্রন্থের শুরুতে বর্ণনা করেছি। নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং সাধারণ মানুষের অনুবর্তিতা করতে গিয়ে তিনি সেখানে তার তিন ইমামের উক্তিগুলো উল্লেখ করেননি; কারণ সেগুলো তার এই পুস্তিকাকে গোড়া থেকেই সমূলে বিনাশ করে দিত (১)। তাই দেখা যায় আবু গুদ্দাহ এই মাসআলায় তাকেই অনুকরণ করেন। যদিও তিনি সিরিয়ার আলেপ্পোর এক মসজিদে দেওয়া এক খুতবায় তার তিন ইমামের বিরোধিতা করেছেন; আর এটি অবশ্যই সৌদি আরবে তার নিযুক্তির আগের কথা। আমি তার খুতবার একটি অডিও রেকর্ড সংগ্রহ করেছি, যেখানে তিনি তার এমন কিছু চিন্তা ও আকিদা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যা সালাফে সালেহীন এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী—যেমন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব ও অন্যান্যদের আকিদার পরিপন্থী। যেমন তার বিশ্বাস হলো—শিরক কেবল 'রুবুবিয়্যাত' (প্রভুত্ব) এর শিরকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই তার মতে, আল্লাহকে সরাসরি না ডেকে এবং তাঁর কাছে সরাসরি না চেয়ে নবী বা অলীর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে তাওয়াসসুল করা জায়েজ। আর যদি ভুলবশত কেউ চেয়েও ফেলে, তবে সেই আহ্বানকারীর এই বিশ্বাস থাকে না যে, ঐ ব্যক্তি (নবী বা অলী) কোনো কিছুর সমাধান করতে পারেন, কোনো কিছু দিতে বা বারণ করতে পারেন, অবনত বা উন্নত করতে পারেন কিংবা মহান আল্লাহর তকদিরে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারেন! সুতরাং তার মতে, আল্লাহকে ছেড়ে মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) করা শিরক নয়; কারণ সাহায্য প্রার্থনাকারী এটি বিশ্বাস করে না যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الميت يضر وينفع وإنما هو خطأ لفظي فقط! ومع ذلك لا يخجل الشيخ أبو غدة أن يصرح في كلماته (ص 36) بأنه يدين الله تعالى بعقيدة السلف رضي الله عنهم، وأنه يقول بتقسيم التوحيد إلى توحيد الألوهية وتوحيد الربوبية! وفاته القسم الثالث، وهو توحيد الصفات، ولعله عمدًا تركه. لأن الخلف وهو منهم لا يعرفون هذا النوع من التوحيد، ولو عرفوه لما نفوا كثيرًا من صفاته تعالى باسم التأويل كنفيهم استعلاءه على خلقه.
خطبة لأبي غدة في الطعن في السلفيينولا بد بهذه المناسبة من أن أسوق بعض خطبة الشيخ أبي غدة محررًا من شريط مسجل محفوظ عندي ومن شك فيه أسمعته إياه بصوته وحرارته فيها ليتبين للقارئ مبلغ عدائه لأهل التوحيد والدعاة للسنة وحقده عليهم وبغضه لهم، واتهامه إياهم بشتى التهم على طريقة شيخه الكوثري في ذلك بل وأسوأ منه. فهو في ذلك نسيج وحده!
اتهامه للسلفيين بتجهيل الأئمة وتصغير شأن العلماء والاجتهادقال بعد توطئة وجيزة في فضل الأئمة المجتهدين وتمسكهم بالسنة:
«نقول هذا لبيان ما يكون من بعض الناس، من تجهيل الأئمة، وتصغير شأن العلماء، وتسفيه بعض آرائهم ظنًّا منهم أنهم على صواب، وأنهم إذا كانوا قد شموا رائحة العلم فإنهم على يقين مما يعلمون وأنهم في قدرتهم أن يخطئوا العلماء ويجهلوا الأئمة، ويصغروا شأن الاجتهاد، ويهونوه على الناس حتى على أبسط الناس،
মৃত ব্যক্তি ক্ষতি বা উপকার করতে পারে, আর এটি কেবল একটি শাব্দিক ভুল মাত্র! তা সত্ত্বেও শায়খ আবু গুদ্দাহ তার বক্তব্যে (পৃ. ৩৬) এটি প্রকাশ করতে লজ্জিত হন না যে, তিনি মহান আল্লাহর প্রতি সালফে সালেহীনদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আকিদায় বিশ্বাসী এবং তিনি তাওহীদকে তাওহীদে উলুহিয়্যাহ ও তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার কথা বলেন। অথচ তিনি তৃতীয় ভাগ তথা তাওহীদে সিফাত বাদ দিয়ে গেছেন; সম্ভবত তিনি তা ইচ্ছাকৃতভাবেই ছেড়েছেন। কারণ খালাফ বা পরবর্তী প্রজন্মের আলেমগণ—যাদের অন্তর্ভুক্ত তিনি নিজেও—তাওহীদের এই প্রকারটি সম্পর্কে অবগত নন। যদি তারা এটি জানতেন, তবে 'তাউয়িল' বা ব্যাখ্যার নামে মহান আল্লাহর বহু গুণাবলীকে অস্বীকার করতেন না, যেমন তাঁর সৃষ্টির ঊর্ধ্বে থাকার (ইসতি'লা) বিষয়টি তারা অস্বীকার করেন।
সালাফীদের সমালোচনায় আবু গুদ্দাহর একটি ভাষণএই সুযোগে আমি শায়খ আবু গুদ্দাহর ভাষণের কিছু অংশ উদ্ধৃত করা আবশ্যক মনে করছি, যা আমার কাছে সংরক্ষিত একটি অডিও রেকর্ড থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। যার এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ রয়েছে, তাকে আমি তাঁর নিজের কণ্ঠস্বর এবং তাঁর বক্তব্যের তীব্রতাসহ তা শুনিয়ে দিতে পারি, যাতে পাঠকের কাছে তাওহীদে বিশ্বাসী এবং সুন্নাহর দিকে আহ্বানকারীদের প্রতি তাঁর চরম শত্রুতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণার স্বরূপ উন্মোচিত হয়। তিনি তাঁর উস্তাদ কাওসারীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে, বরং তাঁর চেয়েও জঘন্যভাবে তাদের ওপর বিভিন্ন অপবাদ আরোপ করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি অনন্য এক দৃষ্টান্ত!
সালাফীদের বিরুদ্ধে ইমামদের মূর্খ আখ্যা দেওয়া এবং আলেম ও ইজতিহাদের মর্যাদা খাটো করার অভিযোগমুজতাহিদ ইমামগণের মর্যাদা এবং সুন্নাহর প্রতি তাঁদের অবিচলতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর তিনি বলেন:
«আমরা এটি বলছি কিছু মানুষের কর্মকাণ্ড স্পষ্ট করার জন্য, যারা ইমামদের মূর্খ প্রতিপন্ন করে, আলেমদের মর্যাদা খাটো করে এবং তাঁদের কিছু মতামতকে বোকামি বলে গণ্য করে। তারা মনে করে যে তারাই সঠিক পথে আছে এবং জ্ঞানের কিঞ্চিৎ সুবাস পেয়েছে বলে তারা যা জানে সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত। তারা মনে করে যে আলেমদের ভুল ধরার, ইমামদের অজ্ঞ বলার এবং ইজতিহাদের গুরুত্বকে মানুষের কাছে—এমনকি সাধারণ মানুষের কাছেও—তুচ্ছ ও হালকা করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল নিকাব আম্মা ফী কালিমাতি আবী গুদ্দাহ মিনাল আবাতীল ওয়াল ইফতিরাআত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ولو كان محترفًا لا يدري حرفته بل لا يجيدها! يمكنه أن يقول: هذا حلال وهذا حرام بمجرد رأيه أو بمجرد أنه حفظ حديثًا أو حديثين، فهذا خطأ بين وانحراف عن الجادة. فالاجتهاد في هذه الأمة ما يحرزه فحول الناس ولا أذكياؤهم إلا إذا أحرزوا آلات الاجتهاد، هذه الآلات التي تكون مقدمة لتحصيل الاجتهاد (هنا محو من الشريط نحو سطر) من القرآن الكريم والحديث الشريف ومنها معرفة منافسات (كذا) العرب وأساليبهم، ومنها أيضًا فهم كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم على قواعد الإسلام الحنيف، كما فهمه الصحابة رضوان الله عليهم، أما من كان لديه شيء من المعرفة، وظن أنه يستطيع أن يتسلق قمة الاجتهاد، فهذا إنسان نائم، رأى نفسه أنه نائم أيضًا (! ) ومشى يجتهد في منامه الذي رآه في نومه (! ) فهو على ضعف وخطأ ما يدري قدره. لأن الاجتهاد يحتاج إلى ثقة بالغة من الفهم، ومعرفة تامة بالعلم وبآثار الفقهاء وأقوالهم، واجتهاد أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وأفعالهم، وأقوال رسول الله صلى الله عليه وسلم وكلام الله عز وجل، وما إلى ذلك من وسائل العلم التي قررها العلماء في موضعها.
عودة إلى اتهامهم بتصغير شأن العلماء والرمي باجتهاداتهم إلى الأرض، وبالغرور والجهلفلذلك يخطئ من خطأ العلماء أو صغر شأنهم. أو زعم أنه يستطيع أن يتسلط على هؤلاء الأئمة فيرمي باجتهاداتهم واحدًا واحدًا إلى الأرض. هذا منشؤه من الغرور والنقص في العلم، والجهل بقدر العلماء أيضًا، وذلك أن أولئك الناس جهلوا أشياء كثيرة، فوقعوا في أخطاء كثيرة.
এমনকি যদি সে কোনো পেশাজীবী হয় যে তার পেশা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখে না, বরং তাতে সে দক্ষও নয়, সে-ও যদি নিজের খেয়ালখুশি মতো অথবা মাত্র একটি বা দুটি হাদিস মুখস্থ থাকার কারণে এটি হালাল এবং এটি হারাম বলে দেয়, তবে তা স্পষ্ট ভুল এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি। কেননা এই উম্মতের মধ্যে ইজতিহাদ এমন কোনো বিষয় নয় যা সাধারণ মানুষ বা বুদ্ধিমানরা অর্জন করতে পারে, যতক্ষণ না তারা ইজতিহাদের সরঞ্জামসমূহ অর্জন করে। এই সরঞ্জামগুলো হলো ইজতিহাদ অর্জনের পূর্বশর্ত (এখানে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে প্রায় এক লাইন মুছে গেছে), যার মধ্যে রয়েছে পবিত্র কুরআন ও হাদিস শরিফের জ্ঞান, আরবদের বাকরীতি ও তাদের বর্ণনাশৈলী সম্পর্কে জ্ঞান, এবং সাহাবায়ে কিরাম (রা.) যেভাবে বুঝেছিলেন সেভাবে ইসলামের সুমহান মূলনীতির আলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মর্ম অনুধাবন করা। আর যার সামান্য কিছু জ্ঞান আছে এবং মনে করে যে সে ইজতিহাদের শিখরে আরোহণ করতে পারবে, সে তো এমন এক ঘুমন্ত ব্যক্তি যে নিজেকে স্বপ্নেও ঘুমন্ত অবস্থায় দেখেছে (!) এবং সেই ঘুমের ঘোরেই ইজতিহাদ করতে শুরু করেছে (!)। সে এমন এক দুর্বলতা ও ভুলের মধ্যে রয়েছে যার পরিমাণ সে নিজেও জানে না। কারণ ইজতিহাদের জন্য প্রয়োজন গভীর বোধশক্তি, ফুকাহাদের মতামত ও কর্মপন্থা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের ইজতিহাদ ও আমল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী এবং মহান আল্লাহর কালাম সম্পর্কে পূর্ণ প্রজ্ঞা। এছাড়াও ইলম বা জ্ঞানের আরও যেসব মাধ্যম উলামায়ে কিরাম তাদের নির্দিষ্ট স্থানে স্থির করেছেন, সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
উলামায়ে কিরামের মর্যাদাকে তুচ্ছজ্ঞান করা, তাঁদের ইজতিহাদকে প্রত্যাখ্যান করা এবং অহংকার ও মূর্খতার অভিযোগ প্রসঙ্গে পুনরায় আলোচনাতাই যে ব্যক্তি আলিমদের ভুল ধরে বা তাঁদের মর্যাদাকে খাটো করে, সে ভুল পথে আছে। অথবা যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে এই ইমামগণের ওপর কর্তৃত্ব করতে পারে এবং তাঁদের ইজতিহাদগুলোকে একে একে প্রত্যাখ্যান করতে পারে, তার এই আচরণের উৎস হলো অহংকার, জ্ঞানের অপূর্ণতা এবং আলিমদের প্রকৃত মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞতা। মূলত ওই সমস্ত লোক অনেক বিষয় সম্পর্কেই অজ্ঞ ছিল, ফলে তারা বহুবিধ ভুলের মধ্যে নিপতিত হয়েছে।