(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
بذل النظر في الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: بذل النظر في الأصول
المؤلف: العلاء محمد بن عبد الحميد الأسمندي (552 هـ)
حققه وعلق عليه: الدكتور محمد زكي عبد البر
(أستاذ الشريعة الإسلامية والقانون المدني، بكليات الشريعة والقانوت بالجامعات العربية، ونائب رئيس محكمة النقض سابقا)
الناشر: مكتبة التراث - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 1992 م
عدد الصفحات: 708
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1440
বযলুন নজর ফীল উসুল বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
গ্রন্থ: বযলুন নজর ফীল উসুল
লেখক: আল-আলা মুহাম্মদ বিন আব্দুল হামিদ আল-আসমান্দি (৫৫২ হিজরি)
তাহকিক ও টীকা প্রদান করেছেন: ডক্টর মুহাম্মদ জাকি আব্দুল বার
(ইসলামি শরীয়াহ ও দেওয়ানি আইনের অধ্যাপক, আরব বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শরীয়াহ ও আইন অনুষদে, এবং ক্যাসেশন আদালতের প্রাক্তন সহ-সভাপতি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুত তুরাস - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭০৮
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ (অনুলিপিকারক সমিতি), বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আব্দুল্লাহ বিন তুর্কি আল-দাহয়ান চ্যারিটেবল এন্ডোমেন্ট)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
رب تمِّم
الحمد لله كما هو أهله ومستحقه. والصلاة على رسوله محمد وآله.
قال الإمام الأجل الكبير، الأستاذ شيخ الإسلام علاء الدين عالم علماء الشرق والصين، محمد بن عبد الحميد رحمه الله:
وبعد- فإني كنت جمعت "طريقة الخلاف" وأدرجت في أثناء مسائلها قدر ما يحتاج فيها من أصول الفقه على وجه الاقتصار والاقتصاد، ثم إن بعض الأعزة من أصحابي لم يقنع بذلك، وسألني أن أؤلف فيه جمعًا مفردًا، يأتي على جميع أبوابها، وأستوفى الكلام في كل باب منها، على الرسم المعهود في مثله- فأجبتهم إلى ذلك، وسألت الله تعالى التوفيق لإصابة الحق، والعصمة عن الخطأ، إنه على ذلك قدير.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে রব, সুসম্পন্ন করুন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যেমনটি তাঁর শান ও প্রাপ্য। এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি দরুদ ও সালাম।
মহান ও সুউচ্চ ইমাম, উস্তাদ, শাইখুল ইসলাম আলাউদ্দীন, পূর্ব ও চীন ভূখণ্ডের আলেমদের আলেম, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল হামিদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেছেন:
অতঃপর—আমি "তারিকাতুল খিলাফ" সংকলন করেছিলাম এবং এর মাসআলাসমূহের মধ্যে উসূলে ফিকহের যতটুকু প্রয়োজন ছিল, তা সংক্ষেপ ও পরিমিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। এরপর আমার সাথীদের মধ্যে কতিপয় প্রিয়জন এতে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না এবং তারা আমাকে এই বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করার অনুরোধ জানালেন, যা এর সকল অধ্যায়কে পরিবেষ্টন করবে এবং আমি যেন এর প্রতিটি অধ্যায়ে এই জাতীয় কিতাবের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করি। সুতরাং আমি তাদের সেই অনুরোধ গ্রহণ করলাম এবং সত্যে উপনীত হওয়ার তাওফিক ও ভুল থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলাম; নিশ্চয়ই তিনি এ বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫)
[المقدمة]
1 - باب - بيان وجوب العلم بأصول الفقه. وكيفية وجوبه.
أما وجوبه:
فلتعلق دفع أعلى المضار به، وهو العقاب في الآخرة.
بيانه: أن دفع العقاب في الآخرة إنما يحصل بالجري على قضايا الأحكام الشرعية. ولا حصول للعلم بالأحكام الشرعية إلا بالعلم بأصول الفقه. فصار العلم بأصول الفقه شيئًا لا مدفع للعقاب بدونه، وما هذا حاله، فهو واجب عقلًا وشرعًا.
وأما كيفية وجوبه:
فهو واجب على التعيين في حق من تعين لذلك وتصدى به لفتوى العوام وتقليدهم إياه: إما بتعيين النبي عليه السلام إياه، أو بتعيينه نفسه بالتصدي لذلك، لأن المقصود لا يحصل بدونه.
وفي حق العوام واجب على البدل، لأن المقصود يحصل بدونه، وهو تقليد العالم وإتباع فتواه.
2 - باب- ماهية أصول الفقه. وكيفية الاستدلال به. وما يتبع كيفية الاستدلال [بها]:
[ماهية أصول الفقه]:
فنتكلم أولًا في الفقه، وأصوله- لأن قولنا "أصول الفقه" مشتمل عليهما.
[ভূমিকা]১ - অধ্যায় - উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জনের আবশ্যকতা এবং তার আবশ্যকতার স্বরূপ বর্ণনা.
এর আবশ্যকতার বিষয়ে কথা হলো:
কারণ এর সাথে সর্বোচ্চ ক্ষতি প্রতিরোধের বিষয়টি জড়িত, আর তা হলো পরকালের শাস্তি।
এর ব্যাখ্যা হলো: পরকালের শাস্তি প্রতিরোধ কেবল শরঈ বিধানসমূহের প্রয়োগের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর উসূলুল ফিকহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ব্যতীত শরঈ বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয়। ফলে উসূলুল ফিকহের জ্ঞান এমন একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে যা ব্যতীত শাস্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; আর যার অবস্থা এমন, তা যুক্তি ও শরীয়ত উভয় বিচারেই আবশ্যক (ওয়াজিব)।
আর এর আবশ্যকতার পদ্ধতি হলো:
এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (ওয়াজিবুন আলাইন তায়ীন), যাকে এর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং যে সাধারণ মানুষের ফতোয়া প্রদান ও তাদের অনুসরণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে: হয় নবী আলাইহিস সালাম কর্তৃক তাকে নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে, অথবা নিজে সেই দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তা নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়ার কারণে। কেননা উদ্দিষ্ট লক্ষ্যটি তাকে ছাড়া অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়।
আর সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এটি বিকল্প হিসেবে আবশ্যক (ওয়াজিবুন আলাল বাদাল), কারণ উদ্দিষ্ট লক্ষ্যটি তা ছাড়াও অর্জিত হয়, আর তা হলো কোনো আলেমের অনুসরণ (তাকলীদ) করা এবং তার ফতোয়া মেনে চলা।
২ - অধ্যায় - উসূলুল ফিকহের স্বরূপ এবং এর মাধ্যমে দলিল পেশ করার পদ্ধতি। এবং দলিল পেশ করার পদ্ধতির অনুবর্তী বিষয়সমূহ:
[উসূলুল ফিকহের স্বরূপ]:
সুতরাং আমরা প্রথমে ফিকহ এবং এর মূলনীতি (উসূল) নিয়ে আলোচনা করব—কেননা আমাদের "উসূলুল ফিকহ" পরিভাষাটি এই উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬)
أما الفقه:
ففي اللغة عبارة عن الفهم والمعرفة- فقال الله تعالى: {لَاّ يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ قَوْلاً} أي لا يفهمون. وقال تعالى: {واحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي (27) يَفْقَهُوا قَوْلِي} أي يفهموا. ومنه قول القائل "فقهت كلامك" أي عرفت غرضك ومقصودك.
غير أنـ[ـه] في عرف الفقهاء يفيد جملة من العلوم بأحكام شرعية، وهي الأحكام المستفادة بالشرع، لا الأحكام المدركة بالعقل، فإن للأفعال: أحكامًا عقلية نحو: كون الفعل عرضًا ويفتقر إلى محل يقوم به، ومخالفًا للجوهر،
আর ফিকহ:
আভিধানিক অর্থে এটি বুঝ ও জ্ঞানকে বোঝায়—যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা প্রায় কোনো কথাই বুঝতে পারে না" অর্থাৎ তারা বোঝে না। তিনি আরও বলেছেন: "এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে" অর্থাৎ তারা বুঝতে পারে। এখান থেকেই কারো এই উক্তিটি এসেছে—"আমি তোমার কথা বুঝেছি" অর্থাৎ আমি তোমার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অনুধাবন করেছি।
তবে ফকিহগণের পরিভাষায় এটি শরয়ি বিধানসমূহের একগুচ্ছ জ্ঞানকে বোঝায়। আর এগুলো হচ্ছে শরিয়ত থেকে অর্জিত বিধানসমূহ, বুদ্ধি দ্বারা অনুধাবিত বিধানসমূহ নয়। কেননা কার্যাবলির কিছু যৌক্তিক বিধান রয়েছে, যেমন: কোনো কাজ বা ক্রিয়া 'আরায' (অস্থায়ী গুণ) হওয়া এবং তা এমন একটি আধারের মুখাপেক্ষী হওয়া যার ওপর তা প্রতিষ্ঠিত হবে, আর তা 'জাওহার' (মৌলিক সত্তা) এর বিপরীত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭)
وكونه كونًا وحركة وسكونًا ونحو ذلك. وأحكامًا شرعية من نحو: كونه حسنًا ومباحًا ومندوبًا وواجبًا وقبيحًا وحرامًا ومحظورًا ومكروهًا: فالحَسن هو المختص بحال يقتضي استحقاق المدح عليه. والمباح ما أزيل عنه الحظر والمنع ممن يتوقع منه ذلك. والمندوب ما بُعث المكلف عليه من غير إيجاب. والواجب هو المختص بحال يقتضي استحقاق الذم على الإخلال به. والقبيح هو المختص بحال يقتضي استحقاقه الذم عليه. والحرام هو المختص بحال يقتضي المنع منه والذم عليه. والمحظور ما منع عنه بالزجر لا بالحبس، فإن من قبض على يد غيره لا يقال "حظر عليه البطش". والمكروه ما الأولى أن لا يفعل- فالفقه عبارة عن معرفة هذه الأحكام دون العقلية.
এবং তাঁর অস্তিত্ব হওয়া, গতি ও স্থিতি এবং অনুরূপ বিষয়গুলো। এবং শরয়ি হুকুমসমূহ, যেমন: তা উত্তম, মুবাহ, মানদুব, ওয়াজিব, কাবিহ, হারাম, মাহজুর ও মাকরুহ হওয়া: হাসান (উত্তম) হলো যা এমন একটি অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট, যা তার উপর প্রশংসার দাবি রাখে। মুবাহ হলো তা, যা থেকে নিষেধাজ্ঞা ও বাধা দূর করা হয়েছে এমন কারো পক্ষ থেকে যার থেকে তা প্রত্যাশিত ছিল। মানদুব হলো যা করার জন্য মুকাল্লাফকে (শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে ওয়াজিব করা ছাড়াই। ওয়াজিব হলো যা এমন একটি অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট, যা তা পালনে ত্রুটি বা অবহেলার কারণে নিন্দার দাবি রাখে। কাবিহ (মন্দ) হলো যা এমন একটি অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট, যা তার উপর নিন্দার দাবি রাখে। হারাম হলো যা এমন একটি অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট, যা তা থেকে বিরত রাখা এবং তার ওপর নিন্দার দাবি রাখে। মাহজুর হলো যা ধমক বা সতর্কবাণীর মাধ্যমে নিষেধ করা হয়েছে, আটক করার মাধ্যমে নয়; কেননা কেউ যদি অন্য কারো হাত ধরে রাখে, তবে তাকে ‘আঘাত করতে মাহজুর করেছে’ বলা হয় না। মাকরুহ হলো তা, যা না করাই উত্তম—সুতরাং ফিকহ হলো এই সমস্ত হুকুমের পরিচিতি, আকলি (বুদ্ধিবৃত্তিক) বিষয়গুলোর নয়।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأما الأصل:
ففي اللغة عبارة عما يبتني عليه غيره ويتفرع عليه سواه، كأساس الجدار وساق الشجر ونحو ذلك.
فقولنا "أصول الفقه":
على موجب اللغة يفيد ما يتفرع عليه الفقه. وذلك يوجب أن يكون العلم بالله تعالى وبصفاته وبالنبوات من أصول الفقه، لما أن الفقه يتفرع عليه. غير أنـ[ـه] في عرف الفقهاء يفيد ما يؤدي إلى الفقه من الطرق. وذلك ضربان: دلالة وأمارة.
فالدلالة- هي التي النظر الصحيح فيها يفضي إلى العلم بالمدلول قطعًا، ككتاب الله تعالى والخبر المتواتر وإجماع الأمة.
والأمارة- هي التي النظر الصحيح فيها يفضي إلى غالب الظن، كخبر الواحد والقياس.
فالعلم الذي يوصلنا إلى الدلالة- هو الأمر الذي يوجب كون من قام به عالمًا. أعني يوجب التفرقة المعلومة بالضرورة بين المتيقن بالشيء المستبين له والجاهل به والشاكِّ فيه- على ما مرَّ في موضعه.
والظن- هو غلبة أحد التجويزين على الآخر في القلب والاعتقاد.
ثم كلامنا في طرق الفقه إنما يسمى كلامًا في أصول الفقه لو تكلمنا فيه
আর 'আসল' বা মূলের কথা যদি বলি:
ভাষাগতভাবে এটি এমন এক বিষয়কে বোঝায় যার ওপর অন্য কিছু প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যা থেকে অন্য কিছুর শাখা-প্রশাখা নির্গত হয়; যেমন দেয়ালের ভিত্তি, বৃক্ষের কাণ্ড এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।
সুতরাং আমাদের পরিভাষা "উসূলুল ফিকহ" বা ফিকহের মূলনীতিসমূহ:
ভাষার দাবি অনুযায়ী এটি এমন বিষয়কে বোঝায় যেখান থেকে ফিকহ বা ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের শাখা-প্রশাখা নির্গত হয়। আর এটি এই বিষয়টিকে আবশ্যক করে যে, মহান আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান, তাঁর গুণাবলী এবং নবুওয়াত সংক্রান্ত বিষয়সমূহও উসূলুল ফিকহের অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ ফিকহ এগুলোর ওপরই ভিত্তি করে শাখা হিসেবে নির্গত হয়। তবে ফকীহদের পরিভাষায় এটি সেই সকল পথ বা মাধ্যমকে বোঝায় যা ফিকহ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। আর তা দুই প্রকার: দালালাহ (অকাট্য প্রমাণ) এবং আমারাহ (ধারণাপ্রসূত চিহ্ন)।
দালালাহ (অকাট্য প্রমাণ) হলো এমন বিষয় যাতে সঠিক দৃষ্টিপাত বা গবেষণা করলে তা অকাট্যভাবে উদ্দিষ্ট বিষয়ের নিশ্চিত জ্ঞান দান করে; যেমন মহান আল্লাহর কিতাব, খবরে মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা) এবং উম্মতের ইজমা (ঐক্যমত)।
আর আমারাহ (ধারণাপ্রসূত চিহ্ন) হলো এমন বিষয় যাতে সঠিক দৃষ্টিপাত বা গবেষণা করলে তা প্রবল ধারণার স্তরে পৌঁছে দেয়; যেমন খবরে ওয়াহিদ (একক বর্ণনা) এবং কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা)।
সুতরাং যে জ্ঞান আমাদের অকাট্য প্রমাণের দিকে নিয়ে যায়, সেটি এমন বিষয় যা এর অধিকারীকে জ্ঞানীতে পরিণত করাকে আবশ্যক করে। অর্থাৎ এটি সেই পার্থক্য করাকে আবশ্যক করে যা এমন ব্যক্তির মধ্যে হওয়া জরুরি যে কোনো বিষয়ে নিশ্চিত এবং তার কাছে বিষয়টি সুস্পষ্ট, আর যে ওই বিষয়ে অজ্ঞ বা সন্দিহান—যেমনটি তার যথোপযুক্ত স্থানে গত হয়েছে।
আর 'যান' বা ধারণা হলো অন্তরে এবং বিশ্বাসে দুটি সম্ভাব্য বিষয়ের মধ্যে কোনো একটির অপরটির ওপর প্রাধান্য লাভ করা।
অতঃপর ফিকহের পথ বা পদ্ধতিসমূহ নিয়ে আমাদের আলোচনা তখনই উসূলুল ফিকহ সংক্রান্ত আলোচনা হিসেবে গণ্য হবে যদি আমরা সে সম্পর্কে আলোচনা করি—
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৯)
على الإجمال. والمعنيُّ بذلك أنها غير معينة، فإنَّا متى تكلَّمنا متى تكلَّمنا في أن الأمر للوجوب لا نشير إلى أمر معين. وكذا النهي، والقياس. فأما الدلالة المعيَّنة التي يتكلم فيها الفقهاء، نحو قوله عليه السلام: "الأعمال بالنيَّات" فالكلام فيه لا يكون كلامًا في أصول الفقه، وإن كان طريقًا إلى الفقه.
وأما كيفية الاستدلال بها:
فالمعنيُّ بها الشروط والمقدمات وترتيبها، التي معها يُستدل بالطرق على الفقه.
وأما ما يتبع كيفية الاستدلال بها:
[فـ] مما يلزم المجتهد من الحكم بكونه مخطئًا أو مصيبًا، لما أن ذلك يتبع استدلاله.
3 - باب- قسمة أصول الفقه:ولمَّا ثبت أن أصول الفقه طرق إلى الأحكام الشرعية، وكانت الأحكام تلزم المجتهد وغير المجتهد، فلا بدَّ أن يكون لهذا طريق، ولذلك طريق.
فطريق غير المجتهد -فتوى المجتهد، وذلك يوجب أن نتكلم في صفة المفتي والمستفتي، وما يدخل فيها من الأبواب- على ما سيجيء بيانه.
সাধারণভাবে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, সেগুলো অনির্দিষ্ট; কারণ যখন আমরা আলোচনা করি যে 'নির্দেশ' (আদেশ) আবশ্যকতার জন্য, তখন আমরা কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশের দিকে ইঙ্গিত করি না। তদ্রূপ নিষেধাজ্ঞা এবং কিয়াসও। তবে নির্দিষ্ট দলীলসমূহ যা নিয়ে ফকীহগণ আলোচনা করেন, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" - এ সম্পর্কে আলোচনা উসূলে ফিকহ-এর অন্তর্গত বিষয় নয়, যদিও তা ফিকহ অর্জনের একটি পথ।
আর সেগুলোর মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের পদ্ধতি:
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শর্তাবলি, ভূমিকা এবং সেগুলোর বিন্যাস, যার মাধ্যমে উক্ত পথসমূহ দ্বারা ফিকহ-এর ওপর দলিল পেশ করা হয়।
আর প্রমাণ উপস্থাপনের পদ্ধতির সাথে যা সংশ্লিষ্ট:
[তা হলো] মুজতাহিদের ভুল করা বা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার বিধানসমূহ যা তার ওপর প্রযোজ্য হয়; কেননা তা তার প্রমাণ উপস্থাপনের পদ্ধতির অনুবর্তী।
৩ - অধ্যায় - উসূলে ফিকহ-এর বিভাজন:যখন এটি প্রমাণিত হলো যে উসূলে ফিকহ হলো শরয়ী বিধানসমূহে পৌঁছানোর পথ, এবং বিধানসমূহ মুজতাহিদ ও মুজতাহিদ নন এমন ব্যক্তি উভয়ের জন্যই আবশ্যক, তাই অবশ্যই এর জন্য একটি পথ এবং ওর জন্য একটি পথ থাকতে হবে।
মুজতাহিদ নন এমন ব্যক্তির পথ হলো মুজতাহিদের ফতোয়া, আর এটি আবশ্যক করে যে আমরা মুফতি ও মুস্তাফতির (ফতোয়া প্রার্থী) বৈশিষ্ট্য এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অধ্যায়সমূহ নিয়ে আলোচনা করি—যেভাবে সামনে তার বর্ণনা আসবে।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১০)
وطريق المجتهد ضربان:
أحدهما- الرجوع إلى حكم العقل، لأنا متعبدون بالبقاء على حكم العقل إلى أن يرد الشرع بالنقل عنه. وذلك يوجب أن نتكلم في أن الحظر والإباحة ثابتان بقضية العقل، ليصح لنا التمسك بهما إلى أن يرد الشرع بالنقل عنهما.
فلذلك صار الكلام في الحظر والإباحة من أصول الفقه.
والآخر- ضربان: أفعال وأقوال.
فالأقوال- هو القول الصادر: من الله تعالى وهو الكتاب، ووجه الدلالة فيه أنه كلام حكيم غني لا يجوز عليه الكذب والهذيان والمغالطة. أو من الرسول وهو الخبر، ووجه الدلالة فيه: أنه كلام مخبر صادق مؤيَّد بالمعجزة لا يكذب فيما يؤدي عن الله تعالى ولا يقصر في تبليغ الرسالة. أو من الأمة وهو الإجماع، ووجه الدلالة فيه: أنه عقائد قوم لا يجتمعون على ضلال: عرف ذلك بكتاب الله وخبر رسوله.
والأفعال- هي الأقيسة والاجتهادات.
فهذه جملة أصول الفقه وأقسامها.
মুজতাহিদের পদ্ধতি দুই প্রকার:
প্রথমটি হলো- বিবেকের বিধানের (আকল) দিকে প্রত্যাবর্তন করা, কারণ যে পর্যন্ত না শরীয়ত তা থেকে পরিবর্তনের কোনো বর্ণনা (নকল) নিয়ে আসে, সে পর্যন্ত আমরা বিবেকের বিধানের ওপর অটল থাকতে আদিষ্ট। আর এটি এ বিষয়ে আলোচনা করা আবশ্যক করে দেয় যে, নিষিদ্ধতা (হাজর) ও বৈধতা (ইবাহাত) বিবেকের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সাব্যস্ত কি না, যাতে শরীয়ত তা থেকে পরিবর্তনের কোনো বর্ণনা প্রদান করার পূর্ব পর্যন্ত আমাদের জন্য ঐ দুটির ওপর অটল থাকা সঠিক হয়।
আর এ কারণেই নিষিদ্ধতা ও বৈধতা বিষয়ক আলোচনা উসূলে ফিকহের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এবং অপরটি হলো দুই প্রকার: কার্যাবলি ও বাণীসমূহ।
বাণীসমূহ হলো সেই কথা যা উৎসারিত হয়: আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এবং তা হলো কিতাব; এতে প্রমাণের দিকটি হলো যে, এটি এমন এক প্রজ্ঞাবান ও অভাবমুক্ত সত্তার কালাম যার ক্ষেত্রে মিথ্যা, প্রলাপ বা বিভ্রান্তি অসম্ভব। অথবা রাসুলের পক্ষ থেকে এবং তা হলো খবর; এতে প্রমাণের দিকটি হলো: এটি একজন সত্যবাদী সংবাদদাতার কথা যিনি মুজিযা দ্বারা সমর্থিত, তিনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যা পৌঁছান তাতে মিথ্যা বলেন না এবং রিসালাত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেন না। অথবা উম্মতের পক্ষ থেকে এবং তা হলো ইজমা; এতে প্রমাণের দিকটি হলো: এটি এমন এক জাতির আকিদাহ যারা ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় না; যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের বাণীর মাধ্যমে জানা গেছে।
আর কার্যাবলি হলো কিয়াস ও ইজতিহাদসমূহ।
এগুলোই হলো উসূলে ফিকহের সারসংক্ষেপ ও এর প্রকারভেদসমূহ।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১১)
فنبدأ بـ:
1كتاب الله تعالىإذ هو الأصل.
فيحتاج إلى: معرفة الحقيقة والمجاز، ليصح منا حمل كلام الله تعالى على الحقيقة إذا تجرد عن القرينة. وعلى المجاز إذا جامع القرينة.
وذلك يوجب أن نتكلم في حقيقة الكلام أولًا. لأن الحقيقة والمجاز من أقسام الكلام.
সুতরাং আমরা শুরু করছি:
১আল্লাহ তাআলার কিতাবকেননা এটিই মূল উৎস।
ফলে হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) ও মাজায (রূপক অর্থ) সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন, যাতে কোনো পারিপার্শ্বিক আলামত (কারিনাহ) না থাকলে আমরা আল্লাহ তাআলার কালামকে তার প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করতে পারি, আর আলামত (কারিনাহ) যুক্ত থাকলে রূপক অর্থে গ্রহণ করতে পারি।
আর এটি প্রথমে কালামের বা বাণীর প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করাকে অপরিহার্য করে দেয়; কারণ হাকিকত ও মাজায হলো কালামেরই প্রকারভেদ।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
4 - باب- حقيقة الكلام وأقسامه:اعلم أن اسم الكلام يقع على أمرين:
أحدهما- كلام النفس، وهو المعني الذي يقوم بالمتكلم، فيوجب كونه متكلمًا، وينافي الخرس والسكوت والآفة.
هذا هو حقيقة الكلام. وقد عرف ذلك في موضعه.
والتالي- هذه العبارات التي تقع دلالة على مراد المتكلم، وهو المراد هنا، وبه يتعلق غرض الكتاب.
وحدُّه ما انتظم من الحروف المسموعة المتميزة. وقد دخل في هذا الحدِّ جميع ما هو كلام كالحرفين فصاعدًا. وانفصل عما ليس بكلام: لأنه انفصل عما ليس بحروف، بذكر الحروف. وانفصل عن حروف الكتابة، لأنها ليست بمسموعة. وانفصل عن الحرف الواحد، لأنه لا يوجد فيه الانتظام. وانفصل عن أصوات كثير من البهائم والطير، لأنها ليست بمتميزة.
৪ - পরিচ্ছেদ: কালামের স্বরূপ এবং এর প্রকারভেদ:জেনে রাখুন যে, কালাম (কথা) শব্দটি দুটি বিষয়ের ওপর প্রযুক্ত হয়:
প্রথমটি হলো— কালামে নাফসি (মানস-বাক্য); এটি এমন একটি অর্থ যা বক্তার সত্তায় বিদ্যমান থাকে, যা তাকে ‘বক্তা’ হিসেবে সাব্যস্ত করে এবং যা মূকতা, নীরবতা ও বাক-প্রতিবন্ধকতার পরিপন্থী।
এটিই হলো কালামের প্রকৃত স্বরূপ। এর পরিচয় তার যথাযথ স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়টি হলো— সেই শব্দসমষ্টি যা বক্তার অভিপ্রায়ের পরিচায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে এটিই উদ্দিষ্ট এবং এই গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য এরই সাথে সংশ্লিষ্ট।
এর সংজ্ঞা হলো: যা সুশৃঙ্খল ও স্বতন্ত্র শ্রবণযোগ্য বর্ণমালার সমন্বয়ে গঠিত। এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেই সমস্ত বিষয় যা কালাম বা কথা হিসেবে গণ্য, যেমন দুই বা ততোধিক বর্ণ। আর যা কালাম নয় তা এই সংজ্ঞা থেকে পৃথক হয়ে গেছে; কারণ 'বর্ণমালা'র কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে যা বর্ণ নয় তা বাদ পড়েছে। আর এটি লিখিত বর্ণমালা থেকেও পৃথক হয়েছে, কারণ তা শ্রবণযোগ্য নয়। একক বর্ণ থেকেও এটি পৃথক হয়েছে, কারণ তাতে কোনো বিন্যাস বা সমন্বয় পাওয়া যায় না। আর এটি অধিকাংশ পশু-পাখির ডাক থেকেও পৃথক হয়েছে, কারণ সেগুলো (বর্ণ হিসেবে) স্বতন্ত্র বা সুস্পষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وبعضهم شرطوا في كون هذه الحروف كلامًا وقوع الاصطلاح عليها، حتى إن كل ما لم يصطلح على استعماله في المعنى لا يكون كلامًا- وهذا بعيد، لأن أهل اللغة قسموا الكلام إلى مهمل ومستعمل: فالمهمل ما لم يوضع لشيء، والمستعمل ما وضع ليُستعمل في معنى. فالأول لا يدخله الحقيقة والمجاز. والثاني يدخله الحقيقة والمجاز، فلا بد من بيانهما.
তাদের কেউ কেউ এই বর্ণমালাগুলো বাক্য হওয়ার জন্য সেগুলোর ওপর পরিভাষাগত ঐকমত্য থাকাকে শর্তারোপ করেছেন, এমনকি যার অর্থগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো পরিভাষা নেই তা বাক্য হবে না—আর এই মতটি অগ্রহণযোগ্য, কারণ ভাষাবিদগণ বাক্যকে 'মুহমাল' (অব্যবহৃত) ও 'মুস্তা'মাল' (ব্যবহৃত)—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: সুতরাং 'মুহমাল' হলো তা যা কোনো বিষয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়নি, আর 'মুস্তা'মাল' হলো তা যা কোনো অর্থ প্রকাশের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অতএব, প্রথমটির মধ্যে হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) ও মাজায (রূপক অর্থ)-এর অনুপ্রবেশ ঘটে না। আর দ্বিতীয়টির মধ্যে হাকিকত ও মাজাযের অনুপ্রবেশ ঘটে, তাই এই দুটির ব্যাখ্যা করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
1بابالحقيقة والمجازاعلم أن الحقيقة- هي ما أفيد بها ما وضعت له في أصل الاصطلاح الذي وقع فيه التخاطب.
وإنما حدَّدنا الحقيقة بهذا ليدخل فيه جميع أقسام الحقيقة، لأن الحقيقة قد تكون لغوية، وقد تكون عرفية، وقد تكون شرعية. فاللفظ إذا أفيد به معنى وضع له في اللغة فإنما يكون حقيقة في ذلك. [أي] لو كان الاسم في مخاطبات الناس يُستعمل بناء على مواضعه أهل اللغة. أما إذا كان الاسم في مخاطبات الناس يُستعمل بناء على مواضعة أهل الشرع، [فـ] لا يكون حقيقة في ذلك المعنى، بل في المعنى الثاني، وهو ما تواضع عليه أهل الشرع.
وأما المجاز- فهو ما أفيد به معنى مصطلحًا عليه، غير ما اصطلح عليه في أصل الاصطلاح الذي وقع التخاطب فيه.
وقيل: إن الحقيقة هي ما أُفيد بها ما وثَعت له، والمجاز غير ما وُضع له. وهذا غير صحيح، لأنه: يقتضي أن اسم الصلاة إذا استعمل في اصطلاح أهل الشرع وأريد به الدعاء، دون الأركان المعهودة، يكون حقيقة، لأنه أُفيد به ما وضع له في الجملة، أعني بمواضعة أهل اللغة، وليس كذلك.
১পরিচ্ছেদহাকিকত ও মাজাযজেনে রাখুন যে, হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) হলো তা, যার দ্বারা সেই অর্থ প্রদান করা হয় যার জন্য শব্দটি সেই মূল পরিভাষায় গঠিত হয়েছে যাতে কথোপকথনটি সংঘটিত হচ্ছে।
আমরা হাকিকতের সংজ্ঞা এভাবেই দিয়েছি যাতে এর সকল প্রকার এর অন্তর্ভুক্ত হয়; কেননা হাকিকত কখনও ভাষাগত হয়, কখনও প্রথাগত হয়, আবার কখনও শরয়ি হয়। সুতরাং কোনো শব্দের মাধ্যমে যদি এমন অর্থ প্রদান করা হয় যার জন্য এটি ভাষায় গঠিত হয়েছে, তবে সেটি কেবল সেই অর্থেই হাকিকত হবে। [অর্থাৎ] যদি মানুষের পারস্পরিক কথোপকথনে শব্দটি ভাষাবিদদের নির্ধারিত প্রয়োগের ভিত্তিতে ব্যবহৃত হয়। পক্ষান্তরে যদি মানুষের কথোপকথনে শব্দটি শরয়ি বিশেষজ্ঞদের পরিভাষার ভিত্তিতে ব্যবহৃত হয়, তবে তা প্রথমোক্ত (ভাষাগত) অর্থে হাকিকত হবে না, বরং দ্বিতীয় অর্থের ক্ষেত্রে হাকিকত হবে, যা শরয়ি বিশেষজ্ঞরা নির্ধারণ করেছেন।
আর মাজায (রূপক অর্থ) হলো এমন শব্দ যার মাধ্যমে কোনো পারিভাষিক অর্থ প্রদান করা হয়, যা সেই মূল পরিভাষার বহির্ভূত যাতে কথোপকথনটি সংঘটিত হচ্ছে।
বলা হয়ে থাকে যে: হাকিকত হলো তা যার দ্বারা নির্ধারিত অর্থ প্রদান করা হয়, আর মাজায হলো তা যা নির্ধারিত অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থ বোঝায়। এটি সঠিক নয়, কারণ: এর দাবি অনুযায়ী যদি শরয়ি পরিভাষায় ‘সালাত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় এবং এর দ্বারা প্রচলিত রুকনসমূহ ব্যতীত কেবল দোয়া উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, তবে সেটি হাকিকত হবে; কারণ এর মাধ্যমে সাধারণভাবে তার নির্ধারিত অর্থই (অর্থাৎ ভাষাবিদদের পরিভাষা অনুযায়ী) প্রদান করা হয়েছে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وبمقتضى أيضًا أن من أطلق اسم السماء على الأرض ودل على مراده فقد تجوز به، لأنه أُفيد به غير ما وضع له، وهذا بعيد.
وقال بعضهم: الحقيقة هي ما انتظم لفظه معناها من غير زيادة ولا نقصان ولا نقل عن موضوعه. والمجاز ما انتظم لفظه معنا، إما لزيادة أو نقصان أو نقل عن موضوعه. أما الذي لا ينتظم لفظه معناه لزيادة -[فـ] هو ما انتظمه إذا أسقطت الزيادة- مثاله قوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} والكاف هنا زائدة، فإذا أسقطناها صار الكلام منتظمًا معناه. وأما الذي لا ينتظم لفظه معناه لنقصان-[فـ] هو ما انتظمه إذا زيد في الكلام ما نقص عنه- مثاله قوله تعالى: {واسْأَلِ القَرْيَةَ} فإذا زدنا "الأهل" في الكلام صار الكلام منتظمًا معناه. ومثال النقل- قول القائل: "رأيت الأسد" وهو يعني به الشجاع -إلا أن هذا غير صحيح، لأن لاذي لا ينتظم لفظه معناه لزيادة أو نقصان ففيه نقل أيضًا، فلا معنى لجعلهما قسمين آخرين- بيانه: إن قوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} ظاهره يقتضي نفي مثل المثل، وذلك غير مراد، إنما المراد نفي المثل، فصار الكلام منقولًا عن معناه إلى معنى آخر. وكذلك قوله تعالى: {واسْأَلِ القَرْيَةَ} ظاهره يقتضي السؤال عن الحيطان
এ অনুযায়ী আরও বলা যায় যে, যদি কেউ 'আকাশ' নামটিকে 'পৃথিবীর' ওপর প্রয়োগ করে এবং তার মাধ্যমে নিজের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে, তবে সে এর মাধ্যমে রূপক ব্যবহার করল। কারণ এর দ্বারা এমন অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে যার জন্য শব্দটি মূলত গঠন করা হয়নি, আর এটি একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা।
এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: হাকীকাত (প্রকৃত অর্থ) হলো যার শব্দ তার অর্থকে কোনো পরিবর্ধন, পরিমার্জন বা তার মূল ব্যবহার থেকে পরিবর্তন ছাড়াই প্রকাশ করে। আর মাজায (রূপক অর্থ) হলো যার শব্দ তার অর্থকে পরিবর্ধন, পরিমার্জন বা তার মূল ব্যবহার থেকে পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশ করে। আর যেক্ষেত্রে পরিবর্ধনের কারণে শব্দের সাথে অর্থ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না—তা হলো যা পরিবর্ধিত অংশ বাদ দিলে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই।" এখানে 'কাফ' বর্ণটি অতিরিক্ত, সুতরাং যদি আমরা একে বাদ দেই, তবে বাক্যটি তার অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আর যেক্ষেত্রে ঘাটতির কারণে শব্দের সাথে অর্থ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না—তা হলো যা বাক্যে সেই ঘাটতিটুকু যোগ করলে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "গ্রামকে জিজ্ঞাসা করো।" যদি আমরা বাক্যে 'অধিবাসী' শব্দটি যোগ করি, তবে বাক্যটি তার অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আর স্থানান্তরের (নাকল) উদাহরণ হলো কারো এই উক্তি: "আমি একটি সিংহ দেখেছি", যখন সে এর দ্বারা কোনো সাহসী ব্যক্তিকে বোঝায়। তবে এটি সঠিক নয়, কারণ পরিবর্ধন বা পরিমার্জনের ফলে যে শব্দের সাথে তার অর্থ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না, সেখানেও স্থানান্তর বিদ্যমান থাকে। সুতরাং সেগুলোকে ভিন্ন দুটি বিভাগ হিসেবে গণ্য করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এর ব্যাখ্যা হলো: মহান আল্লাহর বাণী: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই" এর বাহ্যিক রূপ 'সদৃশের সদৃশ' হওয়াকে অস্বীকার করা দাবি করে, যা এখানে উদ্দেশ্য নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো 'সদৃশ' হওয়াকে অস্বীকার করা। ফলে বাক্যটি তার মূল অর্থ থেকে অন্য অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে। একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "গ্রামকে জিজ্ঞাসা করো" এর বাহ্যিক অর্থ দেয়ালসমূহকে জিজ্ঞাসা করা দাবি করে।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والجدران، وذلك غير مراد، إنما المراد هو السؤال عن الأهل، فصار الكلام منقولًا عن معناه إلى معنى آخر.
* * *
إذا عرفنا حدَّ الحقيقة والمجاز -[فـ] لا بد من بيان أقسامهما، فنقول:
الحقيقة تنقسم إلى ثلاثة أقسام: حقيقة لغوية، وحقيقة غرفية، وحقيقة شرعية. وكل ذلك داخل تحت الحدِّ الذي ذكرناه. لن اللفظ إذا أُفيد به معنى: إن أُفيد بمواضعة أهل اللغة سمَّيناه حقيقة لغوية، وإن أُفيد به بمواضعة أهل الشرع سمَّيناه حقيقة شرعية.
وكذلك المجاز، لأن المجاز قد يكون في اللغة، وقد يكون في العرف، وقد يكون في الشرع.
والله أعلم.
* * *
[أ- الحقيقة]
5 - باب في: إثبات الحقائق المشتركة:اعلم أنه يجوز أن يكون اللفظ الواحد موضوعًا للشيئين على سبيل الاشتراك، كما يجوز أن يكون موضوعًا للشيء الواحد على سبيل الانفراد- وهذا عند أكثر الناس.
وذهبت طائفة إلى منع جواز ذلك.
واستدلوا في ذلك بأن قالوا: إن الأسامي وضعت أعلامًا على المسميات وعلى المعاني ليمتاز البعض بها عن البعض، فيقع بها الإفهام. ولو كان اللفظ الواحد
এবং দেয়ালসমূহ। আর তা উদ্দিষ্ট নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা। ফলে কথাটি তার মূল অর্থ থেকে অন্য অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে।
* * *
যখন আমরা হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) এবং মাজাজ (রূপক অর্থ)-এর সংজ্ঞা জানলাম, তখন তাদের প্রকারভেদ বর্ণনা করা আবশ্যক। সুতরাং আমরা বলি:
হাকিকত তিন প্রকার: ভাষাগত হাকিকত, প্রথাগত হাকিকত এবং শরয়ী হাকিকত। আর এই সবগুলোই আমাদের উল্লিখিত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। কারণ কোনো শব্দ যখন কোনো অর্থ প্রকাশ করে: যদি তা ভাষা বিশেষজ্ঞদের পরিভাষা অনুযায়ী অর্থ প্রদান করে, তবে আমরা তাকে ভাষাগত হাকিকত বলি। আর যদি তা শরীয়ত বিশেষজ্ঞদের পরিভাষা অনুযায়ী অর্থ প্রদান করে, তবে তাকে আমরা শরয়ী হাকিকত বলি।
মাজাজও অনুরূপ; কেননা মাজাজ কখনো ভাষাগত হতে পারে, কখনো প্রথাগত হতে পারে এবং কখনো শরয়ী হতে পারে।
আর আল্লাহই ভালো জানেন।
* * *
[ক- হাকিকত]
৫ - পরিচ্ছেদ: মুশতারাক (যৌগিক অর্থবোধক) হাকিকতসমূহের সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে:জেনে রাখুন যে, একটি শব্দ মুশতারাক (অংশীদারিত্বের) ভিত্তিতে দুটি জিনিসের জন্য নির্ধারিত হওয়া জায়েজ, যেমনিভাবে একটি শব্দ এককভাবে একটি জিনিসের জন্য নির্ধারিত হওয়া জায়েজ—আর অধিকাংশ মানুষের মতে এটিই সঠিক।
একদল আলেম এর বৈধতাকে অস্বীকার করেছেন।
তারা এ ব্যাপারে দলিল পেশ করে বলেছেন: নামসমূহকে নামকরণকৃত বস্তু এবং অর্থসমূহের জন্য চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে একটির মাধ্যমে অপরটি থেকে পৃথক করা যায় এবং এর মাধ্যমে বোধগম্যতা অর্জিত হয়। আর যদি একটি শব্দ
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
موضوعًا للشيئين على سبيل الاشتراك لا يقع الإفهام بواحد منهما، وفيه نقض الغرض بالمواضعة.
لكنا نستدل على جواز ذلك، فنقول:
إن الإفهام على سبيل الإجمال قد يكون مقصود العقلاء، كما أن الإفهام على سبيل التفصيل مقصود العقلاء، فإن واحدًا منا قد يشاهد سوادًا فيريد أن يخبر غيره عمَّا شاهده على سبيل التفصيل، فيقول: "شاهدت سوادًا". وقد يريد أن يخبره على سبيل الإجمال فيقول: "شاهدت لونًا". ومتى جاز تعلق الغرض بكل واحد من الإهامين، جاز أن يضعوا اسمًا يطابق كل واحد من الإفهامين، ليكون كل واحد منهما وصلة إلى الغرض المطلوب منه. وفي هذا جواب عمَّا قالوه. وهذا دليل الجواز. والدليل على ثبوت ذلك -أن أهل اللغة قالوا في كتبهم: إن قولنا "شفق" من أسماء الأضداد وهو مشترك بين البياض والحمرة، وكذا اسم "القرء" من أسماء الأضداد، وهو مشترك بين الحيض والطهر- فدل [ـت] أقوالهم على ثبوت الأسماء المشتركة.
فإن قيل: ما أنكرتم أن "القرء" في الأصل موضوع لفائدة مخصوصة، ثم يقع ذلك في الحيض والطهر، لوجود تلك الفائدة. فإذن الاسم من الأسماء المشتقة لا من الأسماء المشتركة- قلنا: إنما يصار إلى هذا التكلف إذا لم يجز أن يكون اللفظ الواحد موضوعًا للشيئين على سبيل الاشتراك- أما إذا جاز ذلك، ونقل عن أهل اللغة أن هذه الأسامي مشتركة، [فـ] لا يصار إلى هذا التكلف، وقد دللنا على جواز ذلك، فلا يُصار إلى ما قلتم، لأنه قول لا دليل عليه.
একটি শব্দ যখন দুটি বস্তুর জন্য সমভাবে নির্ধারিত (মুশতারাক) হয়, তখন তার কোনো একটির মাধ্যমে পরিপূর্ণ বোধগম্যতা অর্জিত হয় না এবং এতে শব্দ নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
কিন্তু আমরা এর বৈধতার সপক্ষে প্রমাণ পেশ করছি, আমরা বলি:
সংক্ষিপ্তভাবে কোনো বিষয় বোঝানো অনেক সময় জ্ঞানীদের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, ঠিক যেমন বিস্তারিতভাবে বোঝানোও জ্ঞানীদের উদ্দেশ্য হয়। কেননা আমাদের মাঝে কেউ হয়তো কোনো একটি কালো বস্তু দেখল এবং সে যা দেখেছে তা বিস্তারিতভাবে অন্যকে জানাতে চাইল, তখন সে বলে: "আমি একটি কালো বস্তু দেখেছি"। আবার কখনো সে তাকে সংক্ষেপে সংবাদ দিতে চায়, তখন বলে: "আমি একটি রং দেখেছি"। যখন এই দুই প্রকারের বিবরণের প্রতিটির সাথেই উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট হওয়া বৈধ, তখন এমন কোনো নাম নির্ধারণ করাও বৈধ যা এই উভয় প্রকারের বোধগম্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যাতে তাদের প্রতিটিই উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর মাধ্যম হতে পারে। তারা যা বলেছে, এটি তার উত্তর। আর এটিই এর বৈধতার দলিল। এর বাস্তব অস্তিত্বের প্রমাণ হলো—ভাষাবিদগণ তাদের কিতাবসমূহে বলেছেন: আমাদের "শাফাক" শব্দটি বিপরীতার্থক শব্দাবলির অন্তর্ভুক্ত এবং এটি শুভ্রতা ও লালিমা উভয়ের মধ্যে সাধারণ বা মুশতারাক; অনুরূপভাবে "কুরু" শব্দটি বিপরীতার্থক শব্দাবলির অন্তর্ভুক্ত, যা ঋতুস্রাব ও পবিত্রতা—উভয় অবস্থাকেই বোঝায়। সুতরাং তাদের এই বক্তব্যসমূহ সমোচ্চারিত বহুমুখী (মুশতারাক) শব্দের অস্তিত্ব প্রমাণ করে।
যদি বলা হয়: আপনারা কেন এটি অস্বীকার করছেন যে, "কুরু" শব্দটি মূলত কোনো একটি বিশেষ উপযোগিতার জন্য নির্ধারিত হয়েছিল, অতঃপর সেই উপযোগিতাটি বিদ্যমান থাকার কারণে ঋতুস্রাব ও পবিত্রতা উভয় ক্ষেত্রেই তার প্রয়োগ ঘটেছে? এমতাবস্থায় এই শব্দটি ব্যুৎপন্ন (মুশতাক) শব্দের অন্তর্ভুক্ত হবে, সমোচ্চারিত (মুশতারাক) শব্দের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আমরা বলব: এই প্রকার কৃত্রিম ব্যাখ্যার আশ্রয় তখনই নেওয়া হতো যদি একটি শব্দ দুটি বিষয়ের জন্য সমভাবে সাব্যস্ত হওয়া অবৈধ হতো। কিন্তু যখন তা বৈধ এবং ভাষাবিদদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে এই নামগুলো সমোচ্চারিত বা মুশতারাক, তখন আর এই কৃত্রিম ব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া হবে না। আমরা যেহেতু এর বৈধতা প্রমাণ করেছি, তাই আপনাদের দাবির দিকে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ তা এমন এক কথা যার সপক্ষে কোনো দলিল নেই।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فيثبت بما ذكرنا جواز الأسماء المشتركة، وورود اللغة بها.
إلا أنه مع هذا خلاف الأصل، أعني أنه على خلاف قضية الدليل المقتضي لوضع الكلام.
وبيانه -أن الغرض من وضع الكلام والأسامي إفهام ما وضع له. هذا معلوم بالضرورة. فالاسم إذا كان مشتركًا بين شيئين: إما أن يكون موضوعًا لكل واحد منهما على التعيين والانفراد، أو يكون موضوعًا لأحدهما غير عين، أو يكون موضوعًا لأحدهما عينًا دون الآخر، أو يكون موضوعًا لهما على الجمع فكانا جميعًا مسمى واحدًا لهذا الاسم: لا وجه إلى الثاني لأنه لا قائل به، فإن أحدًا لم يقل بأن المطلقة مأمورة بالاعتداد بالحيض أو الطهر غير عين، ولأنه لو كان كذلك لكان، إذا أرايد به أحدهما عينًا، مجازًا فيه، وليس كذلك. ولا وجه إلى الثالث، لأنه لا قائل به أيضًا، ولأنه لو كان كذلك لكان يفهم عند إطلاقه أحدهما عينًا، ولما جاز استعماله في كل واحد منهما في حالين إلا بطريق المجاز، والأمر بخلافه. ولا وجه إلى الرابع، لأنه لا قائل به أيضًا: فإن أحدًا لم يقل إن المطلقة مأمورة بالاعتداد بهما على الجمع، ولأنه لو كان كذلك لكان يسبق إلى الفهم عند إطلاقه كلاهما، ولما جاز استعماله في أحدهما إلا على طريق المجاز، والأمر بخلافه. وإذا بطلت هذه الأقسام ثبت أنه موضوع لكل واحد منهما على التعيين والانفراد. فقضية الوضع أن يفيد إفهام ما وضع له، وأنه لا يفيد إفهام أحدهما إلا بقرينة، وكان مخالفًا لقضية الأصل.
6 - باب في: إثبات الحقائق العرفية:اعلم أن الحقيقة العرفية هي اللفظة المفيدة لمعناها، باصطلاح طارئ من أهل اللسان على ما مرَّ. وذلك نحو: اسم "الدابة"، فإنه في اللغة اسم لكل
সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করেছি তার দ্বারা সমরূপী নামসমূহের (সাধারণ শব্দ) বৈধতা এবং ভাষায় এর প্রয়োগ প্রমাণিত হলো।
তবে তা সত্ত্বেও এটি মূলনীতির পরিপন্থী, অর্থাৎ আমি বুঝাতে চাচ্ছি যে, এটি ভাষা গঠনের অপরিহার্য প্রমাণের পরিপন্থী।
এর ব্যাখ্যা হলো— ভাষা এবং নামসমূহ নির্ধারণ করার উদ্দেশ্য হলো যা বুঝানোর জন্য সেগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে তা উপলব্ধি করানো। এটি স্বতঃসিদ্ধভাবে জানা। সুতরাং একটি নাম যখন দুটি বিষয়ের মধ্যে সাধারণ হয়, তখন হয় সেটি তাদের প্রত্যেকের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্ধারিত হয়েছে; অথবা তাদের যে কোনো একটির জন্য অনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে; অথবা অন্যটিকে বাদ দিয়ে তাদের একটির জন্য সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে; অথবা উভয়ের জন্য একত্রে নির্ধারিত হয়েছে যাতে তারা উভয়ই এই নামের জন্য একটি একক নামকরণকৃত বস্তু হিসেবে গণ্য হয়। দ্বিতীয় সুরতটির কোনো অবকাশ নেই কারণ কেউ এমন কথা বলেননি। কেননা কেউই বলেননি যে, তালাকপ্রাপ্তা নারীকে অনির্দিষ্টভাবে মাসিক বা পবিত্রতা দ্বারা ইদ্দত পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; তাছাড়া যদি বিষয়টি এমন হতো, তবে যখন এর দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো একটিকে বুঝানো হতো তখন তা রূপক হিসেবে গণ্য হতো, অথচ বিষয়টি সেরূপ নয়। তৃতীয় সুরতটিরও কোনো অবকাশ নেই, কারণ কেউ এমন কথা বলেননি; আর যদি বিষয়টি এমন হতো তবে শব্দটির প্রয়োগের সময় কেবল একটি অর্থই সুনির্দিষ্টভাবে বুঝা যেত এবং রূপক পদ্ধতি ব্যতীত ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় উভয়টির জন্য এর ব্যবহার বৈধ হতো না, অথচ বাস্তবতা এর বিপরীত। চতুর্থ সুরতটিরও কোনো অবকাশ নেই, কারণ এটিও কেউ বলেননি। কেননা কেউই বলেননি যে, তালাকপ্রাপ্তা নারীকে মাসিক এবং পবিত্রতা উভয়টির সমন্বয়ে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; আর যদি বিষয়টি এমন হতো তবে শব্দটির প্রয়োগের সাথে সাথে উভয় অর্থই বুঝে আসত এবং রূপক পদ্ধতি ব্যতীত কোনো একটি অর্থে এর ব্যবহার বৈধ হতো না, অথচ বাস্তবতা এর বিপরীত। যখন এই প্রকারগুলো বাতিল হয়ে গেল, তখন প্রমাণিত হলো যে এটি তাদের প্রত্যেকের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্ধারিত হয়েছে। সুতরাং ভাষাগত নির্ধারণের দাবি হলো যা বুঝানোর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা উপলব্ধি করানো, এবং কোনো ইঙ্গিত ছাড়া এটি কেবল একটির অর্থ প্রদান করবে না; আর এটি মূলনীতির পরিপন্থী ছিল।
৬ - পরিচ্ছেদ: প্রথাগত বাস্তবতা (আল-হাকিকাহ আল-উরফিয়্যাহ) প্রমাণের বিষয়ে:জেনে রাখুন যে, প্রথাগত বাস্তবতা হলো এমন শব্দ যা সেই ভাষার লোকদের নবসৃষ্ট পরিভাষা অনুযায়ী তার অর্থ প্রদান করে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এর উদাহরণ হলো: "জীবজন্তু" (দাব্বাহ) নাম; কারণ আভিধানিক অর্থে এটি প্রত্যেক...
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২০)
ما يدبُّ على وجه الأرض، وفي العرف صار اسمًا للفرس أو الحمار. وكذلك اسم "الراوية": موضوع في اللغة للجمل، وفي العرف صار اسمًا للمَزادَة. وكذا اسم "الغائط": في اللغة موضوع للمكان المطمئن من الأرض، وفي العرف صار اسمًا للحدث المعتاد -حتى لا يفهم عند إطلاق هذه الأسامي إلا هذه المعاني.
فإن قيل: اسم "الدابة" في اللغة يفيد الفرس، لأنه اسم لكل ما يدبُّ على وجه الأرض، والفرس ممَّا يدب على وجه الأرض، فإذن لم يختلف فائدته الوضعية- قلنا: اسم "الدابة" في اللغة يفيد الفرس لاشتقاقه من الدبيب، وفي العرف يفيد الفرس لا على سبيل الاشتقاق من الدبيب، فإذن أفاد اللفظ في العرف معنى لم يكن أفاده في اللغة.
فإن قيل: أكثر ما في الباب أنهم استعملوا هذه الأسامي في هذه المعاني، ولم يجب كونها حقيقة منقولة إليها- قلنا: أمارة كون الاسم حقيقة في الشيء عرفًا أن يسبق إلى فهم السامع معنى [و] لم يسبق ذلك المغني في اللغة، وقد وجد ههنا: فاللفظ إذا صار مستعملًا في معنى بحيث يسبق إلى فهم السامع
যা ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করে, আর প্রচলিত ব্যবহারে (উর্ফ) এটি ঘোড়া বা গাধার নাম হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। অনুরূপভাবে 'রাবিয়াহ' শব্দটি: আভিধানিক অর্থে এটি উটের জন্য নির্ধারিত, কিন্তু প্রচলিত ব্যবহারে এটি বড় মশকের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তেমনি 'গায়েত' শব্দটি: আভিধানিক অর্থে এটি জমিনের নিচু জায়গার জন্য নির্ধারিত, কিন্তু প্রচলিত ব্যবহারে এটি স্বাভাবিক মলত্যাগের নাম হয়ে গেছে—যাতে এই নামগুলো উচ্চারণ করার সময় কেবল এই অর্থগুলোই বোঝা যায়।
যদি বলা হয়: 'দাব্বাহ' শব্দটি আভিধানিক দিক থেকেও ঘোড়াকেই বুঝায়, কারণ এটি ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী সবকিছুর নাম, আর ঘোড়াও ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত, ফলে এর আভিধানিক অর্থের কোনো পরিবর্তন হয়নি— আমরা বলব: 'দাব্বাহ' শব্দটি আভিধানিক অর্থে ঘোড়াকে বুঝায় 'দাবিব' (বিচরণ করা) থেকে ব্যুৎপত্তিগত কারণে, কিন্তু প্রচলিত ব্যবহারে এটি ঘোড়াকে বুঝায় 'দাবিব' থেকে ব্যুৎপত্তিগত কারণ ছাড়াই। সুতরাং, প্রচলিত ব্যবহারে শব্দটি এমন একটি অর্থ প্রদান করল যা আভিধানিক অর্থে প্রদান করেনি।
যদি বলা হয়: এই বিষয়ে বড়জোর এটুকুই বলা যায় যে, তারা এই নামগুলোকে এই অর্থগুলোতে ব্যবহার করেছেন, তবে এগুলো যে উক্ত অর্থের দিকে স্থানান্তরিত প্রকৃত অর্থ (হাকিকতে মানকুলাহ) হতে হবে এমন কোনো আবশ্যকতা নেই— আমরা বলব: কোনো নাম কোনো বিষয়ের জন্য প্রচলিত অর্থে প্রকৃত বা মৌলিক অর্থ (হাকিকত) হওয়ার আলামত হলো, শ্রোতার উপলব্ধিতে এমন একটি অর্থ আগে চলে আসা যা আভিধানিক অর্থে আগে আসত না; আর তা এখানে পাওয়া গেছে। কারণ শব্দটি যখন কোনো অর্থে এমনভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে যে তা শ্রোতার উপলব্ধিতে আগে চলে আসে...
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২১)
المعنى الثاني دون الأول كان حقيقة فيه منقولًا إليه، وإذا كان يتردد فهم السامع بين المعنى الأول والثاني، صار اللفظ حقيقة لهما على سبيل الاشتراك.
7 - باب في: إثبات الحقائق الشرعية:اعلم أن الحقيقة الشرعية هي اللفظة المفيدة لمعناها بمواضعة أهل الشرع- على ما مرَّ.
وقد دخل فيه ما وُضع له الاسم ابتداء، ودخل فيه أيضًا ما نقل الاسم عن غيره إليه.
فالأول- لا خلاف فيه.
والثاني- اختلفوا في جوازه:
ذهب الأكثرون إلى جواز ذلك.
وحكى عن بعضهم منع جوازه. وقالوا: إن اللفظ متى كان حقيقة في الشيء وسُلب عن معناه وعُوِّض غيره لانقلبت الحقيقة، وقلب الحقيقة لا يجوز.
لكنا نستدل على جواز ذلك، فنقول:
إن كون الاسم اسمًا للشيء ليس بواجب، بل هو تابع للاختيار- ألا ترى أن الاسم منتف عنه قبل المواضعة، وحالة المواضعة جائز أن يسمى الشيء باسم غيره، فيسمى السواد بياضًا والبياض سوادًا. ومتى كان تابعًا للاختيار، جاز أن يختار مختار سلب الاسم عن معنى ونقله إلى معنى آخر.
وقوله: بأن هذا قلب الحقيقة- قلنا: إن عنيت به خروج الاسم عن
দ্বিতীয় অর্থটি যদি প্রথমটির ব্যতিরেকে সেখানে স্থানান্তরিত হয়ে প্রকৃত অর্থ হিসেবে গণ্য হয়, আর যদি শ্রোতার বোধগম্যতা প্রথম ও দ্বিতীয় অর্থের মধ্যে দোদুল্যমান থাকে, তবে শব্দটি উভয়ের জন্য সম-অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রকৃত অর্থ হিসেবে সাব্যস্ত হবে।
৭ - পরিচ্ছেদ: শরয়ি হাকীকত বা পারিভাষিক অর্থ প্রমাণের বর্ণনা:জেনে রাখুন যে, শরয়ি হাকীকত হলো এমন শব্দ যা শরিয়ত প্রণেতাদের পরিভাষাগত ব্যবহারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করে—যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
এর অন্তর্ভুক্ত সেই বিষয়গুলোও যার জন্য নামটি আদিতে গঠন করা হয়েছিল, এবং এর অন্তর্ভুক্ত সেই বিষয়গুলোও যার প্রতি নামটি অন্য কোনো অর্থ থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে।
প্রথম প্রকারের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই।
আর দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে—এর বৈধতা নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন:
অধিকাংশ আলেম এটি বৈধ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
তাদের কারও কারও থেকে এর অবৈধতা বর্ণিত হয়েছে। তারা বলেন: কোনো শব্দ যখন কোনো বিষয়ের জন্য প্রকৃত অর্থ হিসেবে নির্ধারিত থাকে এবং এরপর তা থেকে সেই অর্থ বিলুপ্ত করে অন্য অর্থ প্রতিস্থাপন করা হয়, তখন প্রকৃত রূপ বা হাকীকত পরিবর্তিত হয়ে যায়; আর হাকীকত পরিবর্তন করা বৈধ নয়।
কিন্তু আমরা এর বৈধতার স্বপক্ষে দলিল পেশ করছি, আমরা বলি:
কোনো নাম কোনো বস্তুর জন্য নির্ধারিত হওয়া আবশ্যকীয় বিষয় নয়, বরং এটি ইচ্ছাধীন নির্বাচনের অনুসারী। আপনি কি দেখেন না যে, নামকরণের পূর্বে সেই নামটি ওই বস্তু থেকে অনুপস্থিত ছিল? আর নামকরণের সময় কোনো বস্তুকে অন্য নামে নামকরণ করাও বৈধ ছিল, ফলে কালোকে সাদা এবং সাদাকে কালো বলা যেত। আর যখন বিষয়টি নির্বাচনের ওপর নির্ভরশীল, তখন কোনো নির্বাচনকারীর পক্ষে কোনো অর্থ থেকে নাম বিলুপ্ত করা এবং তা অন্য অর্থে স্থানান্তরিত করা বৈধ।
আর তার কথা: "এটি হাকীকত বা প্রকৃত অবস্থার পরিবর্তন"—এর জবাবে আমরা বলি: আপনি যদি এর দ্বারা নামটিকে তার পূর্বের অর্থ থেকে বের করে আনা বুঝিয়ে থাকেন...
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২২)
أن يكون حقيقة في الشيء بعد أن كان حقيقة فيه وصيرورته حقيقة لشيء آخر، فذلك جائز، لأنه لا مانع للاختيار على ما مرَّ. وإن عنيت به شيئًا آخر، فنحن لا نعقل ذلك الشيء.
فإن قيل: لمَّا كان الله تعالى قادرًا على وضع اسم له ابتداء، فلا معنى لنقل الاسم من غيره إليه- قلنا: الشريعة جاءت بعبادات لم تكن معهودة بين أهل اللغة، فلا بد من وضع اسم لها، ليمتاز به عن غيرها، كما يجب ذلك في ولد يُولد للإنسان وآله يتخذها بعض الصناع. ومتى لم يكن من ذلك بدٌّ، فلا يمتنع أن تتعلق المصلحة بنقل الاسم من غيرها إليها، كما لا يمتنع أن تتعلق المصلحة بوضع اسم لها ابتداء، وإذا جاز ذلك جاز ورود الشر عبه- هذا دليل الجواز.
والدليل على ثبوت ذلك- أن اسم "الصلاة" في اللغة لم يكن موضوعًا لمجموع هذه الأفعال، ثم صار اسمًا له بالشرع، حتى لا يفهم عند إطلاقه سوى مجموع هذه الأفعال.
فإن قيل: ما أنكرتم أن "الصلاة" في الأصل موضوع للاتباع، ولهذا يسمون الطائر "مصليًا" لأنه يتبع السابق، فكذلك إنما سمى مجموع هذه الأفعال "صلاة" لأنها اتباع الإمام -فإذن لا تختلف فائدته الوضعية- قلنا: هذا يقتضي أن لا يسمى صلاة الإمام وصلاة المنفرد "صلاة" لأنه ليس فيها اتباع الإمام، ولكان يجب فيمن تكلم بهذه الصيغة أن يعني به الاتباع ويفهم السامع منه ذلك، ومعلوم أنه لا يخطر ببال السامع ولا ببال المتكلم عند إطلاق هذا الاسم إلا مجموع هذه الأفعال.
فإن قيل: ما أنكرتم أن الصلاة في اللغة عبارة عن الدعاء- قال القائل:
কোনো একটি বিষয়ে প্রকৃত অর্থ (হাকিকত) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তা থেকে পরিবর্তিত হয়ে অন্য বিষয়ের জন্য প্রকৃত অর্থে পরিণত হওয়া বৈধ; কেননা ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে সেই অনুযায়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আর যদি আপনি এর দ্বারা অন্য কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমরা সেই বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছি না।
যদি বলা হয়: যেহেতু মহান আল্লাহ প্রাথমিকভাবে কোনো কিছুর নাম প্রদানে সক্ষম, তাই অন্য কোনো বস্তু থেকে নাম স্থানান্তর করে এর প্রতি আরোপ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই— আমরা বলব: শরীয়ত এমন কিছু ইবাদত নিয়ে এসেছে যা ভাষাবিদদের নিকট পরিচিত ছিল না, ফলে সেগুলোকে অন্য বিষয় থেকে পৃথক করার জন্য একটি স্বতন্ত্র নাম নির্ধারণ করা আবশ্যক ছিল; যেমনটি মানুষের সন্তান জন্ম নিলে কিংবা কারিগররা কোনো সরঞ্জাম তৈরি করলে তার নামকরণ করা আবশ্যক হয়। আর যখন এটি অনিবার্য হয়ে পড়ে, তখন অন্য কোনো বস্তু থেকে নাম স্থানান্তর করার মধ্যে জনকল্যাণ নিহিত থাকা অসম্ভব নয়, ঠিক যেমন প্রাথমিকভাবে কোনো নতুন নাম নির্ধারণের মধ্যেও জনকল্যাণ নিহিত থাকা অসম্ভব নয়। আর যখন এটি সম্ভব, তখন শরীয়তে এর প্রয়োগ হওয়াও সম্ভব— এটিই হলো বৈধতার দলিল।
আর এটি বাস্তব প্রমাণিত হওয়ার দলিল হলো— ভাষাগতভাবে "সালাত" শব্দটি এই সামগ্রিক কার্যাবলীর (নামাজের রুকনসমূহ) জন্য নির্ধারিত ছিল না, পরবর্তীতে শরীয়তের মাধ্যমে এটি এর নাম হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, এমনকি বর্তমানে শব্দটির সাধারণ প্রয়োগে এই সামগ্রিক কার্যাবলী ব্যতীত অন্য কিছু বোঝায় না।
যদি বলা হয়: আপনারা এটি কীভাবে অস্বীকার করেন যে "সালাত" শব্দটি মূলত 'অনুসরণ' করার অর্থে নির্ধারিত? একারণেই আরবরা কোনো পাখিকে "মুসাল্লী" বলে থাকে কারণ সে তার অগ্রগামী পাখিকে অনুসরণ করে। ঠিক তেমনিভাবে এই সামগ্রিক কার্যাবলীকে "সালাত" নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে ইমামের অনুসরণ করা হয়— সুতরাং এর আভিধানিক মূল অর্থের কোনো পরিবর্তন হয়নি— আমরা বলব: এই যুক্তি অনুযায়ী ইমামের সালাত এবং একাকী নামাজ আদায়কারীর সালাতকে "সালাত" বলা যাবে না, কারণ তাতে ইমামের কোনো অনুসরণ নেই। তদুপরি, এই শব্দ প্রয়োগকারীর জন্য আবশ্যক হতো এর দ্বারা 'অনুসরণ' উদ্দেশ্য করা এবং শ্রোতার পক্ষেও তা-ই বোঝা; অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, এই শব্দটির প্রয়োগের সময় শ্রোতা বা বক্তা কারোর মনেই এই সামগ্রিক ইবাদত বা কার্যাবলী ব্যতীত অন্য কোনো অর্থের উদ্রেক হয় না।
যদি বলা হয়: আপনারা এটি কীভাবে অস্বীকার করেন যে ভাষাগতভাবে সালাত বলতে কেবল দোয়াকেই বোঝায়— যেমন জনৈক কবি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
"صَلَّى على دَنِّها وارتسمْ"، أي دعا عليه، وفي الشرع جعل علمًا على مجموع هذه الأفعال لأن فيها دعاء، فإذن لم يختلف فائدته الوضعية- قلنا: إن عنيتم بهذا الكلام أن اسم "الصلاة" واقع على مجموع هذه الأفعال، لأن فيها دعاء- فقد سلمتم ما نريده من نقل الاسم عن معنى إلى غيره، فبعد ذلك لا يضرنا أن تعللوا ذلك بما ذكرتم من العلة وهو أن فيه دعاء. وإن عنيتم به أن اسم "الصلاة" واقع على الدعاء من جملة هذه الأفعال دون مجموعها- فهذا باطل، لأن المفهوم من هذا الاسم عند الإطلاق مجموع هذه الأفعال لا البعض- ألا ترى أن قائلًا لو قال: "فلان في الصلاة" فُهم منه أنه في جزء منها، أي جزء كان، دعاء أو غ ير دعاء. ولو قال: "فلان خرج من الصلاة" يُفهم منه أنه فارق مجموع هذه الأفعال لا البعض. ولو كان الأمر كما ذكرتم، يجب أن قائلًا لو قال: "خرج نم الصلاة" يُفهم منه أنه فارق الدعاء، ولو عاد إلى الدعاء يستقيم أن يقال: "عاد إلى الصلاة" والأمر بخلافه. وكذا هذا في اسم الزكاة والحج وغيرهما- فدلَّ ذلك على ثبوت الحقائق الشرعية.
فإن قيل: نقل الاسم اللغوي عن معناه في الشرع يؤدي إلى الإغراء بالجهل والحمل على اعتقاد قبيح، وذلك لا يجوز- وبيانه: وهو أن الشرع إذا استعمل الاسم اللغوي في معنى، [فـ] لا بد أن يتعلق به حكم وتكليف، فالسامع إذا كان قد عرف كون الاسم حقيقة في شيء، يسبق إلى فهمه ذلك ويعتقد التكليف به، فإذا أراد الشرع غير ذلك [فإنه] يؤدي إلى ما ذكرنا من القبيح- قلنا: نحن، وإن جوزنا نقل الاسم في الشرع عن معناه إلى غيره،
"তিনি মদের পাত্রের উপর সালাত পাঠ করেছেন এবং চিহ্ন এঁকেছেন", অর্থাৎ তিনি সেটির জন্য দোয়া করেছেন। আর শরীয়তে একে এই কার্যাবলীর সমষ্টির জন্য নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, কারণ এতে দোয়া রয়েছে। অতএব, এর আভিধানিক উপযোগিতা পরিবর্তিত হয়নি—আমরা বলি: এই কথার দ্বারা যদি আপনারা এটি বুঝাতে চান যে 'সালাত' নামটি এই কার্যাবলীর সমষ্টির ওপর প্রযুক্ত হয় কারণ এতে দোয়া রয়েছে, তবে আপনারা আমরা যা চাই তা মেনে নিলেন—আর তা হলো নামকে এক অর্থ থেকে অন্য অর্থে স্থানান্তরিত করা। এরপর আপনারা যে কারণ উল্লেখ করেছেন যে এতে দোয়া রয়েছে, তার দ্বারা কারণ দর্শানো আমাদের জন্য কোনো ক্ষতি করবে না। আর যদি আপনারা এটি বুঝাতে চান যে 'সালাত' নামটি এই কার্যাবলীর সমষ্টির ওপর নয়, বরং কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত শুধুমাত্র দোয়ার ওপর প্রযুক্ত হয়—তবে এটি বাতিল। কারণ সাধারণভাবে এই নামটি দ্বারা এই কার্যাবলীর সমষ্টিকেই বুঝায়, এর কোনো অংশকে নয়—আপনি কি দেখেন না যে, কোনো ব্যক্তি যদি বলে: "অমুক সালাতে আছে", তবে এর দ্বারা বুঝা যায় যে সে এর কোনো একটি অংশে আছে, চাই সেই অংশ দোয়া হোক বা অন্য কিছু। আর যদি বলে: "অমুক সালাত থেকে বের হয়ে গিয়েছে", তবে এর দ্বারা বুঝা যায় যে সে কার্যাবলীর সমষ্টি ত্যাগ করেছে, কেবল কোনো অংশ নয়। যদি বিষয়টি আপনাদের কথামতো হতো, তবে কেউ যদি বলত: "সে সালাত থেকে বের হয়ে গিয়েছে", তখন এর দ্বারা বুঝা অবধারিত হতো যে সে দোয়া পরিত্যাগ করেছে। আর যদি সে পুনরায় দোয়ায় ফিরে আসত, তবে বলা সঠিক হতো যে: "সে সালাতে ফিরে এসেছে", অথচ বিষয়টি এর বিপরীত। জাকাত, হজ এবং অন্য নামগুলোর ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রূপ—যা শরয়ি হাকিকতসমূহ সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ দেয়।
যদি বলা হয়: শরীয়তে আভিধানিক নামকে তার মূল অর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়া অজ্ঞতার দিকে প্ররোচিত করা এবং একটি মন্দ বিশ্বাসের দিকে ধাবিত করার নামান্তর, আর এটি জায়েজ নয়—এর ব্যাখ্যা হলো: শরীয়ত যখন কোনো আভিধানিক নামকে কোনো অর্থে ব্যবহার করে, তখন অবশ্যই তার সাথে বিধান ও দায়বদ্ধতা যুক্ত থাকে। অতএব শ্রোতা যখন জানে যে নামটি কোনো একটি বিষয়ে প্রকৃত অর্থ প্রদান করে, তখন তার বোধগম্যতায় সেই অর্থটিই আগে আসে এবং সে সেটিকে পালনীয় হিসেবে বিশ্বাস করে। এমতাবস্থায় শরীয়ত যদি অন্য কিছু উদ্দেশ্য করে, তবে তা আমাদের বর্ণিত সেই ত্রুটিপূর্ণ বিষয়ের দিকেই নিয়ে যায়—আমরা বলি: যদিও আমরা শরীয়তে নামকে তার মূল অর্থ থেকে অন্য অর্থে স্থানান্তরিত করা বৈধ মনে করি,
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فإنما تجوزه بشرط إشعار سابق أو بيان مقارن وغير ذلك، فلا يؤدي إلى ما ذكرتم من الحمل على القبيح.
والله أعلم.
[ب- المجاز]
8 - باب في: إثبات المجاز في اللغة:ذهب الأكثرون إلى ثبوت ذلك.
وحكى عن بعضهم منع ثبوته.
واختلافهم في ذلك إما أن يكون اختلافًا في المعنى أو في العبارة.
أما الاختلاف في المعنى- فمن وجهين:
أحدهما- أن يقولوا: إن أهل اللغة ما استعملوا هذه الأسامي فيما نقول إنه مجاز فيه، كاسم الأسد في الشجاع واسم الحمار في البليد - وهذه مكابرة لا يرتكبها أحد.
والآخر- أن يقولوا إن أهل اللغة استعملوا اسم الحمار في البليد لكنهم قالوا إن اسم الحمار كما هو موضوع للبهيمة المخصوصة، فهو موضوع للبليد. وهو أيضًا بعيد، لأنا نعلم- كما نعلم باضطرار أن أهل اللغة استعملوا اسم الحمار في البلد- نعلم باضطرار أيضًا أنهم استعملوه في البليد تبعًا وتشبيهًا له بالبهيمة،
তবে এটি কেবল পূর্ববর্তী ইঙ্গিত অথবা সমসাময়িক বর্ণনা বা এ জাতীয় শর্তেই অনুমোদিত; ফলে এটি আপনাদের উল্লিখিত কোনো মন্দ অর্থে গ্রহণ করার দিকে ধাবিত করে না।
আর আল্লাহই ভালো জানেন।
[খ- আল-মাজায (রূপক)]৮ - পরিচ্ছেদ: ভাষায় রূপক (মাজায) সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে:অধিকাংশ আলেম এটি সাব্যস্ত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
আর তাদের কারো কারো থেকে এটি সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করার কথা বর্ণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে তাদের মতভেদ হয় অর্থের ক্ষেত্রে অথবা অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে।
অর্থের ক্ষেত্রে মতভেদটি দুই প্রকার:
প্রথমত- তারা বলবেন: ভাষাবিদগণ এই নামগুলোকে সেসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করেননি যেগুলোকে আমরা রূপক বা মাজায বলে থাকি; যেমন সাহসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'সিংহ' এবং নির্বোধের ক্ষেত্রে 'গাধা' শব্দের ব্যবহার—আর এটি এমন এক হঠকারিতা যা কেউ করে না।
দ্বিতীয়ত- তারা বলবেন যে, ভাষাবিদগণ নির্বোধের ক্ষেত্রে 'গাধা' শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তবে তারা বলেন যে, গাধা শব্দটি যেমন নির্দিষ্ট পশুর জন্য নির্ধারিত, তেমনি তা নির্বোধের জন্যও নির্ধারিত। এটিও যুক্তিগ্রাহ্য নয়; কারণ আমরা যেভাবে অকাট্যভাবে জানি যে ভাষাবিদগণ পশুর ক্ষেত্রে 'গাধা' শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তেমনি আমরা অকাট্যভাবে এটাও জানি যে, তারা শব্দটি নির্বোধের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন মূলত সেই পশুর অনুকরণে এবং তার সাথে সাদৃশ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأن استحقاق البليد هذا الاسم ليس كاستحقاق البهيمة، فالبهيمة تستحق هذا الاسم لكونه موضوعًا لها، والبليد يستحقه لأنه شابهها، فاستحق اسمها- دلَّ عليه أن قائلًا لو قال "رأيت حمارًا" فهم منه البهيمة المخصوصة دون البليد، ولو كان الاسم موضوعًا لهما لكان لا يسبق إلى فهم السامع عند الإطلاق أحدهما دون الآخر.
فإن قيل: لما كانت الحقائق تعم المسميات، فلماذا تجوزوا بها عن محالها- قلنا لوجوه:
منها -أن في المجاز من الفصاحة والمبالغة في الوصف ما ليس في الحقيقة- ألا ترى أنه متى وصفنا الرجل البليد بأنه حمار، كان أبلغ في الإبانة عن معنى البلادة، من وصفنا له بأنه بليد.
ومنها- أن المجاز قد يكون بضرب حذف، فيستعمل طلبًا للتخفيف.
ومنها- أن الطباع قد تنفر عن بعض المعاني، فيتجافى الناس عن التصريح بذلك، فيكنون عنه باسم غيره، كالحدث المكني عنه باسم الغائط.
وغير ذلك.
وأما الاختلاف في العبارة:
فبأن سلموا أن أهل اللغة استعملوا اسم الحمار في البليد وأن اسم الحمار غير موضوع للبليد، فاستحقاق البليد لهذا الاسم ليس كاستحقاق البهيمة. لكنهم قالوا: إذا عنى به البليد [فـ] لا نسميه مجازًا، بل نسميه مع القرينة حقيقة- فنقول لهم: لما سلمتم معنى المجاز، لم امتنعتم من تسميته مجازًا؟
আর নির্বোধ ব্যক্তির এই নামের (গাধা) অধিকারী হওয়া চতুষ্পদ জন্তুর অধিকারী হওয়ার মতো নয়। কেননা জন্তুটি এই নামের অধিকারী হওয়ার কারণ হলো শব্দটি মূলগতভাবে তার জন্যই নির্ধারিত, আর নির্বোধ ব্যক্তি এর অধিকারী হয়েছে কারণ সে তার সদৃশ হয়েছে, ফলে সে তার নামের যোগ্য হয়েছে। এর প্রমাণ হলো, যদি কোনো বক্তা বলে "আমি একটি গাধা দেখেছি", তবে এর দ্বারা নির্দিষ্ট জন্তুটিই বোঝা যাবে, নির্বোধ ব্যক্তি নয়। যদি শব্দটি উভয়ের জন্যই নির্ধারিত হতো, তবে সাধারণভাবে শব্দ প্রয়োগের সময় শ্রোতার উপলব্ধিতে একটির আগে অন্যটি আসত না।
যদি প্রশ্ন করা হয়: যেহেতু শব্দগুলোর প্রকৃত অর্থ তাদের নামধারী সত্তাগুলোকে ব্যাপৃত করে, তবে কেন তারা শব্দগুলোকে তাদের প্রকৃত ক্ষেত্র থেকে সরিয়ে রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন? আমরা বলব, এর কয়েকটি কারণ রয়েছে:
তন্মধ্যে একটি হলো—রূপক ব্যবহারের মধ্যে এমন অলঙ্কারিক সাবলীলতা এবং বর্ণনায় এমন জোরালো ভাব থাকে যা প্রকৃত অর্থে থাকে না। আপনি কি দেখেন না যে, আমরা যখন কোনো নির্বোধ ব্যক্তিকে 'গাধা' হিসেবে বর্ণনা করি, তখন তা তার নির্বুদ্ধিতার অর্থ প্রকাশে তাকে কেবল 'নির্বোধ' বলার চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ ও প্রভাবশালী হয়।
আরেকটি কারণ হলো—রূপক কখনো কখনো উহ্যকরণের মাধ্যমে হয়, যা মূলত বাক্য সংক্ষিপ্ত বা সহজ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।
আরও একটি কারণ হলো—মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি কিছু শব্দের অর্থ থেকে বিমুখ হতে পারে, ফলে মানুষ তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে এবং অন্য কোনো শব্দের মাধ্যমে তার ইঙ্গিত দেয়; যেমন মলত্যাগের বিষয়টিকে 'পায়খানা' বা নিচু ভূমির নাম দিয়ে রূপকার্থে ব্যক্ত করা হয়।
এবং এ ছাড়া আরও অনেক কারণ রয়েছে।
আর বর্ণনাভঙ্গির পার্থক্যের বিষয়ে বলা যায়:
তারা এটি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ভাষাবিদগণ 'গাধা' শব্দটি নির্বোধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন এবং এই শব্দটি নির্বোধ ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত নয়, ফলে নির্বোধ ব্যক্তির এই নামের অধিকার জন্তুর মতো নয়। তবে তারা বলেছেন: যখন এর দ্বারা নির্বোধ ব্যক্তিকে বোঝানো হবে, তখন আমরা তাকে 'রূপক' বলব না, বরং প্রাসঙ্গিক অনুষঙ্গসহ তাকে 'প্রকৃত অর্থ' হিসেবে গণ্য করব। আমরা তাদের বলি: যখন আপনারা রূপকের মূল বিষয়টি মেনেই নিলেন, তবে একে 'রূপক' হিসেবে নামকরণ করতে কেন অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন?
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فإن قالوا: لأن أهل اللغة لم يسموه بذلك- قلنا: أولًا -هذا ممنوع، فإن أهل اللغة قالوا في كتبهم: هذا الاسم حقيقة، وهذا الاسم مجاز. ثم إن لم يسمه أهل اللغة بذلك، لم يمتنع وضع اسم له، ليمتاز به [عن] غيره- ألا ترى أن أهل النحو سموا الضمَّة المخصوصة "رفعًا" والفتحة "نصبًا" وإن لم يسمه أهل اللغة بذلك، ولم يلحقهم بذلك عيب، بل حَسُنَ منهم ذلك، ليكون أداة لهم في ضبط لغتهم- فكذا هذا.
وقوله: إنَّا نسميه مع القرينة حقيقة- قلنا: هذا إن صح، فلا يمنع إطلاق اسم المجاز عليه على الانفراد. على أن وصف الكلام بأنه حقيقة أو مجاز راجع إلى اللفظ، والقرينة قد تكون شاهد حال أو غيره مما لا يكون فعلًا للمتكلم، فلا يجوز وضعه في الحقيقة والمجاز.
9 - باب في: حُسن دخول المجاز في كلام الله تعالى، وأن الله قد تكلم به:
ذهب الأكثرون إلى حُسن ذلك، وثبوته.
وذهب [بعض] أصحاب الظاهر إلى منع ثبوت ذلك.
والدلالة على صحة ما ذهبنا إليه أن الله تعالى أنزل القرآن بلغة العرب وخاطبنا به، فاقتضى إنزاله القرآن بلغة العرب أن يخاطبنا بمثل ما يخاطب به
যদি তারা বলে: কারণ ভাষাবিদরা একে এই নামে নামকরণ করেননি- আমরা বলব: প্রথমত- এটি অগ্রহণযোগ্য, কারণ ভাষাবিদরা তাদের কিতাবসমূহে বলেছেন: এই নামটি হাকীকত এবং এই নামটি মাজায। তারপর ভাষাবিদরা যদি একে এই নামে না-ও ডাকতেন, তবুও একে অন্যের থেকে পৃথক করার জন্য কোনো নাম নির্দিষ্ট করা নিষিদ্ধ হতো না- আপনি কি দেখেন না যে, ব্যাকরণবিদগণ বিশেষ দম্মাহকে "রাফ" এবং ফাতহাহকে "নাসব" হিসেবে নামকরণ করেছেন যদিও ভাষাবিদরা একে সেই নামে ডাকেননি? আর এর কারণে তাদের ওপর কোনো দোষ বর্তায়নি, বরং এটি তাদের পক্ষ থেকে সুন্দর কাজ হয়েছে, যাতে এটি তাদের ভাষা সুশৃঙ্খল করার ক্ষেত্রে তাদের জন্য একটি উপকরণ হতে পারে- এটিও ঠিক তেমনি।
আর তার কথা: আমরা অনুষঙ্গ বা কারীনাহর উপস্থিতিতে একে হাকীকত বলি- আমরা বলব: এটি যদি সঠিকও হয়, তবুও এটি স্বতন্ত্রভাবে একে মাজায বলার ক্ষেত্রে বাধা দেয় না। অধিকন্তু, কোনো বক্তব্য হাকীকত না কি মাজায হবে তার বিবরণ শব্দের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, অথচ কারীনাহ বা সূত্র অনেক সময় উপস্থিত পরিস্থিতি বা অন্য কিছু হতে পারে যা বক্তার কোনো কাজ নয়, সুতরাং হাকীকত ও মাজাযের সংজ্ঞায় একে অন্তর্ভুক্ত করা বৈধ নয়।
৯ - পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার কালামে মাজাযের অনুপ্রবেশের যৌক্তিকতা এবং আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে কথা বলেছেন এ প্রসঙ্গে:
অধিকাংশ আলিম এর সৌন্দর্য ও এর সাব্যস্ত হওয়ার মত পোষণ করেছেন।
আর জাহিরী মতাদর্শীদের কেউ কেউ এটি সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন।
আমরা যে মতটি গ্রহণ করেছি তার সঠিকতার প্রমাণ হলো, আল্লাহ তাআলা কুরআনকে আরবদের ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন এবং আমাদের সাথে সেই ভাষায় সম্বোধন করেছেন। সুতরাং আরবদের ভাষায় কুরআন নাযিল করার দাবিই হলো তিনি আমাদের সাথে সেই রীতিতেই সম্বোধন করবেন যে রীতিতে আরবরা একে অপরের সাথে সম্বোধন করে।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بعضهم بعضًا، ومعلوم أنه قد يقع في مخاطباتهم المجاز كما يقع فيها الحقيقة، فحَسُنَ من الله تعالى أن يتكلم بالمجاز أيضًا، إلا ما فيه تنفير، كالكلام السخيف الذي ينسب قائله إلى العِيِّ، ومعلوم أن المجاز ليس هذا سبيله، بل أكثر الفصاحة يظهر بالمجاز.
فإن قيل: المجاز لا ينبئ عن المراد بنفسه، فورود القرآن به يؤدي إلى الالتباس كما ذكرنا، وذلك لا يجوز على الله تعالى- قلنا: نحن لا تجوز التكلم بالمجاز إلا بقرينة، وعند وجود القرينة يزول الالتباس.
فإن قيل: إن التكلم بالمجاز يشعر بالعجز عن التكلم بالحقيقة، وذا لا يجوز على الله تعالى- قلنا: إنما يشعر بذلك لو لم يجز التكلم بالمجاز مع القدرة على التكلم بالحقيقة، فأما إذا جاز ذلك فلا، وقد دللنا على جواز ذلك، لما في المجاز من زيادة الفصاحة والمبالغة في الوصف والاختصار في الكلام، على ما بيَّنا.
فإن قيل: لو حَسُنَ من الله تعالى أني تكلم بالمجاز، لجاز أن يسمى الله تعالى متجوِّزًا ومستعيرصا- قلنا: إنما لا يجوز إطلاق اسم المتجوز على الله تعالى من ارتكاب الحرام ومباشرة القبيح، فإن اسم المتجوِّز في العرف مستعمل في ذلك، وكذا إطلاق اسم المستعير، [لا يجوز، لنه] يوهم ما لا يجوز على الله تعالى، وهو أن يستأذن غيره لينتفع بملكه، تعالى الله عن ذلك علوًّا كبيرًا.
هذا دليل الجواز.
একে অপরের সাথে কথা বলে থাকে, আর এটি সুপরিচিত যে তাদের কথোপকথনে রূপক (মাজায) ব্যবহৃত হয় যেভাবে আক্ষরিক অর্থ (হাকিকত) ব্যবহৃত হয়। সুতরাং মহান আল্লাহর জন্যও রূপকের মাধ্যমে কথা বলা সমীচীন হয়েছে, তবে এমন কিছু ছাড়া যা বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করে, যেমন অসার কথা যার বক্তাকে অক্ষমতার দিকে নিসবত করা হয়। আর এটি জানা কথা যে রূপকের পদ্ধতি এমন নয়, বরং অধিকাংশ প্রাঞ্জলতা রূপকের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়।
যদি বলা হয়: রূপক নিজে থেকে উদ্দিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে না, তাই কুরআনে এর ব্যবহার বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে যায় যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, আর মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে তা জায়েয নয়। আমরা বলি: আমরা কোনো সূত্র (কারিনাহ) ছাড়া রূপক ব্যবহারের অনুমতি দেই না, আর যখন সূত্র বিদ্যমান থাকে তখন বিভ্রান্তি দূর হয়ে যায়।
যদি বলা হয়: রূপকের মাধ্যমে কথা বলা আক্ষরিক অর্থে কথা বলতে অক্ষমতা প্রকাশ করে, আর মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে তা অসম্ভব। আমরা বলি: এটি কেবল তখনই অক্ষমতা প্রকাশ করত যদি আক্ষরিকভাবে কথা বলার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রূপক ব্যবহারের অনুমতি না থাকত। কিন্তু যখন তা জায়েয, তখন আর সেই অবকাশ থাকে না। আর আমরা এর বৈধতার প্রমাণ দিয়েছি, কারণ রূপকের মধ্যে রয়েছে অধিকতর প্রাঞ্জলতা, বর্ণনায় আধিক্য এবং বাক্যে সংক্ষিপ্ততা, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি।
যদি বলা হয়: মহান আল্লাহর জন্য রূপক ব্যবহার করা যদি সমীচীন হয়, তবে মহান আল্লাহকে 'মুতাজাউয়্যিজ' (রূপক ব্যবহারকারী) এবং 'মুসতাঈর' (উপমা গ্রহণকারী) বলা জায়েয হওয়ার কথা। আমরা বলি: মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে 'মুতাজাউয়্যিজ' নামটির প্রয়োগ জায়েয নয় হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া এবং কদর্য কাজের সরাসরি সংশ্রব রাখার অর্থ প্রদানের কারণে, কেননা প্রচলিত ভাষায় 'মুতাজাউয়্যিজ' শব্দটি সেই অর্থেই ব্যবহৃত হয়। অনুরূপভাবে 'মুসতাঈর' নামটির প্রয়োগও জায়েয নয়, কারণ এটি এমন ধারণার উদ্রেক করে যা মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব; আর তা হলো অন্যের মালিকানা থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য কারো অনুমতি প্রার্থনা করা। মহান আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
এটিই হলো বৈধতার দলিল।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والدليل على أن الله تعالى قد تكلم بالمجاز- قوله تعالى: {فَوَجَدَا فِيهَا جِداَرًا يُرِيدُ أَن يَنقَضَّ فَأَقَامَهُ}: أطلق اسم "المريد" على الجدار، وهذا مجاز من الكلام. وقوله تعالى: {وجَاءَ رَبُّكَ} وهذا مجاز أيضًا، إلى غير ذلك.
فإن قيل: ما أنكرتم أن هذه الأسامي في اللغة مجاز عن هذه المعاني، لكن لما استعملها الله تعالى فيها صارت منقولة إليها، وصارت حقيقة شرعية، كاسم الصلاة والحج وغيره- قلنا: لو كان الأمر كذلك لكان يسبق إلى أفهام أهل الشرع عند سماع هذه الألفاظ معانيها التي أرادها الله تعالى ولا يحتاج إلى القرينة، كما في اسم الصلاة والحج، ومعلوم أنه لا يسبق إلى أفهام أهل الشرع عند سماع هذه الألفاظ تلك المعاني إلا بقرينة، فعلم أنه مجاز فيها.
10 - باب في: ذكر ما يفصل بين الحقيقة والمجاز:اعلم أن الحقيقة تنفصل عن المجاز بحكم يختص كل واحد منهما.
فمن حكم الحقيقة أن تطرد في فائدتها على الحد الذي يفيدها، إما مطلقة أو مشروطة، إلا أن يمنع من ذلك مانع. مثال المطلقة: قولنا: "طويل":
আর মহান আল্লাহ যে রূপক ভাষায় (মাজায) কথা বলেছেন তার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তারা সেখানে একটি দেয়াল দেখতে পেল যা পড়ে যেতে চাচ্ছিল, তখন তিনি তা সোজা করে দিলেন": এখানে দেয়ালের ক্ষেত্রে "ইচ্ছাকারী" শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে, আর এটি বক্তব্যের একটি রূপক প্রয়োগ। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমার রব আসলেন", এটিও একটি রূপক, ইত্যাদি।
যদি বলা হয়: আপনারা এটি অস্বীকার করেন না যে, এই নামগুলো ভাষাগতভাবে এই অর্থগুলোর জন্য রূপক, কিন্তু যখন মহান আল্লাহ এগুলোকে সেভাবে ব্যবহার করেছেন তখন সেগুলো সেই অর্থে স্থানান্তরিত হয়ে শরয়ি হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) হয়ে গিয়েছে, যেমন সালাত এবং হজ ইত্যাদির নাম— আমরা বলব: বিষয়টি যদি এমন হতো তবে শরয়ি জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিদের কানে যখন এই শব্দগুলো আসত তখন কোনো সূত্র (কারিনা) ছাড়াই আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যকৃত অর্থটিই প্রথমে তাদের বুঝে আসত, যেমনটা সালাত ও হজের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, শরয়ি জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিদের কানে এই শব্দগুলো পড়লে কোনো সূত্র ছাড়া সেই অর্থগুলো বুঝে আসে না। সুতরাং বুঝা গেল যে এটি রূপক।
১০ - পরিচ্ছেদ: হাকিকত এবং মাজায-এর মধ্যে পার্থক্যকারী বিষয়সমূহের আলোচনা:জেনে রাখুন যে, হাকিকত মাজায থেকে এমন বিধান দ্বারা পৃথক হয় যা তাদের প্রত্যেকের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
হাকিকতের একটি বিধান হলো—যে পরিসীমায় তা অর্থ প্রদান করে তাতে তার উপযোগিতা অবিচ্ছিন্নভাবে বা নিয়মিতভাবে বজায় থাকে, চাই তা নিরঙ্কুশ হোক বা শর্তযুক্ত, যদি না কোনো বাধা তা প্রতিহত করে। নিরঙ্কুশের উদাহরণ: আমাদের বলা: "লম্বা":
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يفيد ما اختص بالطول أي جسم كان. ومثال المشروطة: قولنا "أبلق" يفيد ما اجتمع فيه السواد والبياض بعد أن كان في الخيل خاصة.
وأما المجاز فلا يجب اطراده- ألا ترى أن وصفنا الرجل الطويل بأنه نخلة: لما كان بطريق المجاز، لا يجب اطراده، حتى لا يسمى ما عدا الرجل من الأجسام الطوال نخلة.
ثم الحقيقة إنما يجوز اطرادها دون المجاز لوجهين:
أحدهما- أن واضع اللغة غنما وضع الاسم لما شاهده من المعاني. فلو قلنا لا يجب اطراده لانقطعت اللغة، وهذا لا يجوز، ولا كذلك المجاز. لأن الحقائق مستوعبة للمسميات، فلا يلزم من نفي اطراد المجاز انقطاع اللغة.
والثاني- أنا نعلم أن أهل اللغة إنما وضعوا اسم "الطويل" لما شاهدوه من الجسم، لاختصاصه بالطول. وكل جسم حصل فيه الطول يجب اطراد الاسم فيه- هذا معنى قولنا: إن القياس يجري في الحقائق، ولا كذلك المجاز، لن أهل اللغة ما وصفوا الرجل الطويل بأنه نخلة لاختصاصه بالطول فقط، بل لشدة اهتمامهم به، فدعاهم شدة اهتمامهم بذلك إلى المبالغة في وصفه بالتشبيه بغيره، ولا يجب تحقيق ذلك في كل طويل.
فإن قيل: أليس أن المجاز يطرد في نوعه حتى يسمى كل رجل طويل "نخلة"- قلنا: إن عنيت باطراد المجاز هذا، فلا نأبى ذلك، وإنما نعني بنفي
এটি যে কোনো বস্তুর ক্ষেত্রেই দৈর্ঘ্যের বিশেষত্বকে বুঝায়। আর শর্তযুক্ত সংজ্ঞার উদাহরণ হলো: আমাদের কথা "চিতি" (আবলাক), যা কালো ও সাদার সংমিশ্রণকে বুঝায়, যা একসময় বিশেষভাবে কেবল ঘোড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো।
আর রূপক অর্থের (মাজায) ক্ষেত্রে এর ধারাবাহিকতা বা ব্যাপক প্রয়োগ অপরিহার্য নয়—আপনি কি দেখেন না যে, আমরা একজন লম্বা মানুষকে "খেজুর গাছ" বলে অভিহিত করি? যেহেতু এটি রূপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি নয়, যার ফলে মানুষ ছাড়া অন্যান্য লম্বা বস্তুকে "খেজুর গাছ" বলা হয় না।
অতঃপর, রূপক বাদ দিয়ে কেবল আক্ষরিক অর্থের (হাকীকত) ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকতা বৈধ হওয়ার দুটি কারণ রয়েছে:
প্রথমত: ভাষা প্রণেতা মূলত অর্থসমূহ পর্যবেক্ষণ করেই নাম নির্ধারণ করেছেন। এখন আমরা যদি বলি যে এর ধারাবাহিকতা জরুরি নয়, তবে ভাষা বিলুপ্ত বা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা অনুমোদিত নয়। কিন্তু রূপক অর্থের বিষয়টি এমন নয়। কারণ আক্ষরিক অর্থসমূহ নামধারী বস্তুসমূহকে পরিবেষ্টন করে রাখে, ফলে রূপক অর্থের ধারাবাহিকতা অস্বীকার করলে ভাষা বিলুপ্ত হওয়া আবশ্যক হয় না।
দ্বিতীয়ত: আমরা জানি যে, ভাষাবিদগণ "লম্বা" শব্দটি কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে তার দৈর্ঘ্যের বিশেষত্বের কারণেই নির্ধারণ করেছেন। আর যে কোনো বস্তুর মধ্যেই যখন দৈর্ঘ্য পাওয়া যাবে, তখন সেখানে এই নামের ধারাবাহিক প্রয়োগ অপরিহার্য হবে—এটাই আমাদের এই কথার অর্থ যে: আক্ষরিক অর্থের ক্ষেত্রে কিয়াস (অনুমান) কার্যকর হয়, কিন্তু রূপক অর্থের ক্ষেত্রে নয়। কারণ ভাষাবিদগণ লম্বা মানুষকে কেবল দৈর্ঘ্যের আধিক্যের কারণেই "খেজুর গাছ" বলেননি, বরং তার প্রতি তাদের অতিশয় গুরুত্বের কারণে বলেছেন। সেই বিশেষ গুরুত্বই তাদেরকে অন্য কিছুর সাথে সাদৃশ্য প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনায় অতিরঞ্জন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আর প্রত্যেক লম্বা বস্তুর ক্ষেত্রেই এমনটি হওয়া আবশ্যক নয়।
যদি বলা হয়: "রূপক কি তার নিজ শ্রেণিতে ধারাবাহিকভাবে প্রযোজ্য নয়, এমনকি প্রত্যেক লম্বা মানুষকেই কি 'খেজুর গাছ' বলা হবে না?"—আমরা বলব: আপনি যদি রূপক অর্থের ধারাবাহিকতা বলতে এটিই বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমরা তা অস্বীকার করি না। বরং আমরা ধারাবাহিকতা অস্বীকার করার মাধ্যমে যা বুঝাতে চেয়েছি তা হলো...
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
اطراد المجاز أن يقر في نوعه ولا يتعداه، ولهذا لا يسمي كل طويل ((نخلة))، ولا كذلك الحقيقة: فإن أهل اللغة متى سموا الرجل الذي حصل فيه السواد
أسود، بطريق الحقيقة يجب اطراده، حتى يسمي كل الأجسام التي حصل فيها السواد ((سودا)).
ومما يفصل به بين الحقيقة والمجاز أنه إذا كان يسبق إلى فهم السامع عند سماع اللفظ معني من المعاني دون القرينة، كان حقيقة فيه. وإذا كان لا يسبق إلى فهمه عند سماع اللفظ معنى إلا بقرينة كان مجازة فيه. وإنما كان كذلك، لأن السامع لولا أنه اضطر في أن الواضعين وضعوا الاسم بذلك المعنى، لكان لا يسبق إلى فهمه ذلك المعنى دون غيره، ومن حكم الحقيقة أن يحمل اللفظ على حقيقته ولا يعدل إلى المجاز إلا بقرينة صارفة، لأن الواضع إنما وضع الاسم لمعنى يتوسل به إلى غرضه بالإبانة عن ذلك، فلو لم يحمل عليه بغير قرينة بطل كونه دلالة على الغرض [و] وسيلة إلى المراد بنفسه، وفيه نقض / الغرض بالمواضعة - والله أعلم.
11 - باب - بيان طريق المجاز ووجوهه:نعنى بطريق المجاز الأمر المصحح للمجاز والمحسن للتكلم به. وذلك هو الاختصاص بين المستعار له والمستعار عنه، أعني اختصاصا لأجله يُعرف المستعار له من المستعار منه، ودلالة ذلك من وجهين:
أحدهما - أن الفصاحة والبلاغة غرض مطلوب في المجاز، فإنا وجدنا أهل اللغة استعملوا المجاز في أشعارهم وخطبهم ومحاوراتهم لتحقيق معنى البلاغة والفصاحة، ومعنى البلاغة والفصاحة يحصل بتعريف الشيء باسم غيره.
রূপকের (মাজায) ধারাবাহিকতা হলো তা স্বজাতীয় প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং তা অতিক্রম করে না। এই কারণেই প্রতিটি দীর্ঘ বস্তুকে 'খেজুর গাছ' বলা হয় না। কিন্তু হাকীকত বা প্রকৃত অর্থের বিষয়টি এমন নয়: কারণ ভাষাবিদগণ যখন কোনো ব্যক্তিকে তার মধ্যে বিদ্যমান কালো বর্ণের কারণে প্রকৃত অর্থে 'কালো' বলে অভিহিত করেন, তখন তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা আবশ্যক হয়ে পড়ে, ফলে যে সকল বস্তুর মধ্যে কালো বর্ণ পাওয়া যায় তাদের সকলকেই 'কালো' বলা হয়।
হাকীকত ও মাজাযের মধ্যে পার্থক্যকারী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, যখন কোনো শব্দ শোনার পর কোনো ইঙ্গিত (কারীনা) ছাড়াই শ্রোতার মনে কোনো একটি অর্থ প্রথমে উদয় হয়, তখন শব্দটি সেই অর্থের জন্য হাকীকত হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি কোনো ইঙ্গিত ছাড়া শব্দ শোনার পর কোনো অর্থ বুঝে না আসে, তবে তা ঐ শব্দের জন্য মাজায বা রূপক হিসেবে গণ্য হয়। বিষয়টি এমন হওয়ার কারণ হলো, যদি শ্রোতা এই বিষয়ে নিশ্চিত না হতো যে ভাষাপ্রণেতাগণ শব্দটিকে এই অর্থের জন্যই নির্দিষ্ট করেছেন, তবে অন্য কোনো অর্থ ব্যতিরেকে কেবল এই অর্থটিই তার মনে প্রথমে আসত না। হাকীকতের বিধান হলো শব্দকে তার প্রকৃত অর্থেই গ্রহণ করা হবে এবং কোনো বিমুখকারী ইঙ্গিত (কারীনা সারেফা) ছাড়া রূপকের দিকে যাওয়া যাবে না। কারণ ভাষাপ্রণেতা শব্দটিকে একটি নির্দিষ্ট অর্থের জন্যই নির্ধারণ করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে তিনি তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার মাধ্যম হিসেবে একে ব্যবহার করতে পারেন। সুতরাং যদি কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই একে প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করা না হয়, তবে উদ্দেশ্য জ্ঞাপন করার ক্ষেত্রে শব্দটির নিজস্ব সক্ষমতা বা কাঙ্ক্ষিত অর্থে পৌঁছানোর মাধ্যম হওয়ার বিষয়টি বাতিল হয়ে যাবে। আর এতে ভাষাগত সংজ্ঞায়নের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
১১ - অধ্যায় - মাজাযের পদ্ধতি ও এর প্রকারসমূহের বর্ণনা:মাজাযের পদ্ধতি বলতে আমরা সেই বিষয়কে বুঝাই যা মাজায হওয়াকে শুদ্ধ করে এবং এর মাধ্যমে কথা বলাকে সুন্দর করে তোলে। আর তা হলো মুস্তা'আর লাহূ (যার জন্য ধার করা হয়েছে) এবং মুস্তা'আর আনহু (যার থেকে ধার করা হয়েছে)-এর মধ্যকার বিশেষ সম্পর্ক। অর্থাৎ এমন এক বিশেষত্ব যার কারণে মূল উৎস থেকে রূপক অর্থটিকে চেনা যায়। এর প্রমাণ দুই প্রকার:
প্রথমত - মাজাযের ক্ষেত্রে সাবলীলতা (ফাসাহাত) ও অলঙ্কারিতা (বালাগাত) হলো কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য। আমরা দেখতে পাই যে, ভাষাবিদগণ তাঁদের কবিতা, ভাষণ এবং কথোপকথনে অলঙ্কারিতা ও সাবলীলতার অর্থ ফুটিয়ে তোলার জন্য মাজায বা রূপক ব্যবহার করেছেন। আর অলঙ্কারিতা ও সাবলীলতার বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় কোনো বস্তুকে অন্য কোনো নামের মাধ্যমে পরিচয় করানোর দ্বারা।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وقد يحتاج إلى ذلك للمبالغة في الوصف، أو للاختصار في الكلام، أو للتحاشي عن التصريح بذكر المستعار له، لما فيه من كراهة الطبع، كما ذكرنا من قبل، وكان تعريف الشيء بذكر غيره بطريق المجاز من وجوه الفصاحة، إلا أنه كل شيء يذكر، لا يعرف به غيره، إذا لم يكن بينهما ضرب اتصال ونوع اختصاص معرِّف. ولهذا لا يحسن إطلاق اسم السماء على الأرض واسم الأرض على السماء. فإذا كان بين الشيئين هذا النوع من الاتصال والاختصاص حَسُنَ استعمال اسم احدهما في الآخر مجازًا، فثبت أن الاختصاص المعرِّف طريقُ المجاز، إلا أن لذلك وجوهًا: منها- المشابهة في المعنى الخاص، كما في الأسد مع الشجاع، والحمار مع البليد. ومنها- المجاورة كما في قولنا: جرى النهر، وسال الميزاب. ومنها- السببية، والمسببية، وغير ذلك.
والوجه الثاني- أن للمجاز وجوهًا كثيرة مختلفة الصور اتفقت في الاشتمال على ما ذكرنا من الاتصال والاختصاص، وذلك يدل على أن المصحح للمجاز في الكل هذا. بيان ذلك -أن المجاز قد يكون للمشابهة بين الشيئين. وقد يكون للمجاورة بينهما كما ذكرنا. وقد يكون لأجل السببية والمسببية، فإن اسم السبب قد يُستعار للمسبّب، كما في قوله تعالى: {يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرارًا} أي المطر. ويقال: سقط السماء أي المطر. وقد يستعمل اسم المسبب للسبب كقوله تعالى: {إنِّي أَرَانِي أَعْصِرُ خَمْرًا}. وقال تعالى: {فَلْيَضْحَكُوا قَلِيلاً ولْيَبْكُوا كَثِيرًا}: المراد به قلة السرور وكثرة الحزن، لأنهما مسببان
বর্ণনার অতিরঞ্জনের জন্য, অথবা কথার সংক্ষেপণের জন্য, কিংবা যার জন্য রূপক ব্যবহৃত হচ্ছে তার নাম সরাসরি উল্লেখ করা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য এর প্রয়োজন হতে পারে; কারণ তা স্বভাববিরুদ্ধ হতে পারে, যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। কোনো জিনিসকে রূপক পন্থায় অন্য কিছুর মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা সাবলীলতার অন্যতম দিক, তবে উল্লিখিত প্রতিটি জিনিস দিয়ে অন্য কিছুকে চেনা যায় না, যদি তাদের মধ্যে কোনো প্রকার সংযোগ বা নির্দিষ্ট পরিচিতিমূলক বৈশিষ্ট্য না থাকে। এই কারণেই পৃথিবীকে আকাশ বলা বা আকাশকে পৃথিবী বলা সমীচীন নয়। যখন দুটি জিনিসের মধ্যে এ ধরনের সংযোগ ও বৈশিষ্ট্য থাকে, তখন একটির নাম অন্যটির জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহার করা সুন্দর হয়। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, পরিচিতিমূলক বৈশিষ্ট্যই হলো রূপকের পথ। তবে এর কয়েকটি দিক রয়েছে: এর মধ্যে একটি হলো—বিশেষ অর্থের সাদৃশ্য, যেমন সাহসীর ক্ষেত্রে সিংহ এবং নির্বোধের ক্ষেত্রে গাধা। অন্যটি হলো—পারস্পরিক নৈকট্য, যেমন আমাদের কথা: 'নদী প্রবাহিত হচ্ছে' এবং 'পরনালি বইছে'। আরও রয়েছে—কারণ ও কার্যের সম্পর্ক এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
দ্বিতীয় দিকটি হলো—রূপকের অনেক বিচিত্র রূপ রয়েছে যা আমাদের উল্লিখিত সংযোগ ও বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে একমত। এটি প্রমাণ করে যে, সবক্ষেত্রেই রূপককে সঠিককারী বিষয় হলো এটিই। এর ব্যাখ্যা হলো—কখনো দুটি জিনিসের মধ্যে সাদৃশ্যের কারণে রূপক হয়। আবার কখনো তাদের মধ্যে নৈকট্যের কারণে হয়, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আবার কখনো কারণ ও কার্যের সম্পর্কের কারণেও হয়। কেননা কারণের নাম কার্যের জন্য রূপক হিসেবে ধার নেওয়া হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি তোমাদের উপর আকাশকে প্রচুর বর্ষণকারী হিসেবে পাঠাবেন", অর্থাৎ বৃষ্টি। এবং বলা হয়: 'আকাশ পতিত হয়েছে', অর্থাৎ বৃষ্টি। কখনো আবার কার্যের নাম কারণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আমি স্বপ্নে নিজেকে মদ নিংড়াতে দেখেছি"। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "অতএব তারা যেন সামান্য হাসে এবং অধিক কাঁদে"; এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সামান্য আনন্দ এবং অধিক দুঃখ, কারণ হাসি ও কান্না হলো এ দুটির কার্য।
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
للسرور والحزن. وقوله تعالى: {وامْرَأَتُهُ قَائِمَةٌ فَضَحِكَتْ} أي تعجبت، لأن الضحك مسبب التعجب. وقد يطلق اسم المدلول على الدليل [فـ] يقال: "سمعت علم فلان" أي عبارته الدالة على علمه. وقد يطلق اسم الآلة على الفعل كما في قوله تعالى: {بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُّبِينٍ}. وقد يطلق اسم الفاعل على الفعل والمصدر كقوله: "لحقته لائمة" أي ملامة ولوم. وقد يطلق اسم الفاعل على المفعول كقوله تعالى: {فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ} أي مرضية. وقد يطلق اسم الفعل على المفعول كقولهم: "هذا الدرهم ضرب فلان" و"هذا الثوب نسج فلان". وقد يطلق اسم المكان على المتمكن فيه بطريق الحذف، كقوله تعالى: {واسْأَلِ القَرْيَةَ}. وقد يطلق اسم الشيء على ضده المختص بكونه ضدًّا له، كما يقال للديغ سليم وللأعمى بصير. وقد يطلق اسم بعض الشيء على كله كقوله تعالى: {فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ}. ويقال: "فلان يملك كذا رأسًا من الغنم"- فثبت أن المجاز يستعمل في وجوه كثيرة مختلفة الصور، مع اتفاقها في نوع اختصاص معرَّف، فعلم أنه المصحح للمجاز في الكل.
فإن قيل: ما أنكرتم أن استعمال المجاز ليس له طريق معين، بل هو تابع للاختيار، فكل من اختار استعمال شيء في غيره، يصح منه ذلك- ألا ترى أن الله تعالى أطلق اسم المريد على الجدار بقوله تعالى: {جِداَرًا يُرِيدُ أَن
আনন্দ ও দুঃখের জন্য। মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাঁর স্ত্রী দাঁড়িয়ে ছিলেন, অতঃপর তিনি হাসলেন} অর্থাৎ তিনি বিস্মিত হলেন, কারণ হাসি বিস্ময় থেকে উদ্ভূত হয়। কখনও কখনও যা নির্দেশিত হয়েছে তার নাম নির্দেশকের ওপর প্রয়োগ করা হয়; যেমন বলা হয়: “আমি অমুকের জ্ঞান শুনেছি”, অর্থাৎ তার জ্ঞানকে নির্দেশকারী তার বক্তব্য আমি শুনেছি। কখনও কখনও উপকরণের নাম ক্রিয়ার ওপর প্রয়োগ করা হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়}। কখনও কখনও কর্তৃবাচ্যের নাম ক্রিয়া ও ক্রিয়ামূলের ওপর প্রয়োগ করা হয়, যেমন বলা হয়: “তাকে তিরস্কারকারী আঁকড়ে ধরেছে” অর্থাৎ ভর্ৎসনা ও তিরস্কার। কখনও কখনও কর্তৃবাচ্যের নাম কর্মবাচ্যের ওপর প্রয়োগ করা হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সন্তোষজনক জীবন যাপনে}, অর্থাৎ যা পছন্দ করা হয়েছে। আবার কখনও ক্রিয়ার নাম কর্মবাচ্যের ওপর প্রয়োগ করা হয়, যেমন তাদের কথা: “এই দিরহামটি অমুকের মুদ্রণ” এবং “এই কাপড়টি অমুকের বয়ন”। কখনও কখনও কোনো শব্দ উহ্য রাখার মাধ্যমে স্থানের নাম সেখানে অবস্থানকারীর ওপর প্রয়োগ করা হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর জনপদকে জিজ্ঞাসা করো}। কখনও কখনও কোনো জিনিসের নাম তার বিশেষ বিপরীত গুণের কারণে তার বিপরীতে প্রয়োগ করা হয়, যেমন দংশিত ব্যক্তিকে ‘সুস্থ’ এবং অন্ধ ব্যক্তিকে ‘চক্ষুষ্মান’ বলা হয়। কখনও কখনও কোনো বস্তুর অংশের নাম তার পূর্ণ সত্তার ওপর প্রয়োগ করা হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর একটি ঘাড় মুক্ত করা}। এবং বলা হয়: “অমুক ব্যক্তির পালের এতটি মেষের মাথা রয়েছে”— সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, রূপক (মাজায) বিভিন্ন আঙ্গিকে ও বহুবিধ পন্থায় ব্যবহৃত হয়, যদিও সেগুলো একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞায়িত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একমত। ফলে এটি জানা গেল যে, এটিই সর্বক্ষেত্রে রূপকের ব্যবহারের বৈধতা প্রদানকারী।
যদি বলা হয়: আপনি কেন অস্বীকার করছেন যে রূপকের ব্যবহারের কোনো নির্দিষ্ট পথ নেই, বরং এটি ইচ্ছাধীন? সুতরাং যে কেউ কোনো কিছুকে অন্য অর্থে ব্যবহার করতে পছন্দ করলে তার পক্ষ থেকে তা শুদ্ধ হবে— আপনি কি দেখেন না যে, আল্লাহ তাআলা দেয়ালের ওপর ‘ইচ্ছাকারী’ নাম প্রয়োগ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {একটি দেয়াল, যা চাইছিল যে...
(খণ্ড: ১)
বাযলুন নাযার ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
يَنقَضَّ} وأي اختصاص بين المريد والجدار- قلنا: الدليل على اشتراط ما ذكرنا من الاختصاص المعرِّف للمجاز أنَّ فهم الشيء باسم غيره لا يحصل. وأما ما ذكر من المثال- قلنا: هذا إطلاق اسم المريد على الجدار الذي قرب سقوطه وانهدامه، وبينه وبين المريد اختصاص مشابهة، لأن الإرادة هو المعنى الذي يوجب تخصيص الشيء بالوجود، والجدار الواهي المائل قرب سقوط، وأوجب ذلك اختصاص سقوطه وانهدامه بالوجود، فكأنه أراد انقضاض نفسه وانهدامه، فجاز استعمال المجاز فيه.
فإن قيل: من جملة وجوه المجاز المشابهة في المعنى الخاص كما ذكرتم، فهل يشترط في هذا الوجه شرط آخر وراء نفس المشابهة، وهو أن يكون المعنى في المستعار منه أبلغ حتى يصح المجاز؟ قلنا: نعم فيه شرائط: بعضها شرط صحة المجاز، وبعضها شرط كمال الفصاحة فيه:
أما الأول- فمن شروطه أن يكون المعنى خاصًا في المستعار منه أعني أنه يوجد فيه، وعلى الحد الذي يوجد فيه لا يوجد في غيره، كالشجاعة في الأسد.
ومن شرطه- أن يكون المعنى في المستعار منه ظاهرًا، كالشجاعة في الأسد، لا كالبَخَر فيه.
وأما كون المعنى في المستعار منه أبلغ - فهو شرط كمال الفصاحة والبلاغة، كما في الأسد مع الشجاع، والحمار مع البليد، لا شرط نفس الاستعارة، لما مر ان معنى المجاز والمطلوب منه قد يحصل بدونه، لما مر من الوجوه.
والله تعالى أعلم.
{ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়} এবং ইচ্ছাকারী ও দেয়ালের মধ্যে কী বিশেষ সম্পর্ক আছে? আমরা বলি: রূপক (মাজায) নির্ধারণকারী যে বিশেষ সম্পর্কের শর্ত আমরা উল্লেখ করেছি তার প্রমাণ হলো, এক বস্তুর নাম দিয়ে অন্য বস্তুকে বুঝা সম্ভব হতো না। আর যে উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে—আমরা বলি: এটি ‘ইচ্ছাকারী’ নামটিকে এমন একটি দেয়ালের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যা ভেঙে পড়া ও ধসে যাওয়ার নিকটবর্তী হয়েছে। আর দেয়াল ও ইচ্ছাকারীর মধ্যে সাদৃশ্যের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। কারণ ইচ্ছা হলো এমন একটি অর্থ যা কোনো বিষয়কে অস্তিত্বের সাথে নির্দিষ্ট করে দেয়। আর জীর্ণ ও হেলে পড়া দেয়ালটি পতনের নিকটবর্তী হয়েছে, আর তা তার পতন ও ধ্বংসকে অস্তিত্বের সাথে নির্দিষ্ট করাকে আবশ্যক করেছে। ফলে বিষয়টি এমন যেন দেয়ালটি নিজেই নিজের ভেঙে পড়া ও ধসে যাওয়াকে চেয়েছে। তাই এখানে রূপক বা মাজায ব্যবহার করা বৈধ হয়েছে।
যদি প্রশ্ন করা হয়: রূপকের প্রকারভেদের মধ্যে একটি হলো বিশেষ অর্থের সাদৃশ্য যেমনটি আপনারা উল্লেখ করেছেন। তবে এই ক্ষেত্রে কি খোদ সাদৃশ্য ছাড়াও অন্য কোনো শর্ত আছে—অর্থাৎ রূপকটি সঠিক হওয়ার জন্য কি যার থেকে শব্দটি ধার করা হয়েছে (মুস্তায়ার মিনহু) তার মধ্যে অর্থটি অধিকতর প্রবল (আবলার্গ) হওয়া আবশ্যক? আমরা বলি: হ্যাঁ, এতে কিছু শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে কিছু রূপক সঠিক হওয়ার শর্ত, আর কিছু এতে ভাষাগত সাবলীলতার (ফাসাহাত) শর্ত:
প্রথমটির ক্ষেত্রে—এর একটি শর্ত হলো অর্থটি যার থেকে ধার করা হয়েছে তার মধ্যে সুনির্দিষ্ট হতে হবে। অর্থাৎ এটি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে এবং এটি তার মধ্যে যে মাত্রায় বিদ্যমান, অন্য কারো মধ্যে সে মাত্রায় থাকবে না। যেমন সিংহের মধ্যে সাহসিকতা।
এর আরেকটি শর্ত হলো—যার থেকে ধার করা হয়েছে তার মধ্যে অর্থটি প্রকাশ্য বা সুস্পষ্ট হতে হবে, যেমন সিংহের মধ্যে সাহসিকতা; তার মুখের দুর্গন্ধের মতো (অস্পষ্ট বিষয়) নয়।
আর যার থেকে ধার করা হয়েছে তার মধ্যে অর্থটি অধিকতর প্রবল হওয়া—এটি হলো ভাষাগত সাবলীলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় (বালাগাত) পূর্ণতার শর্ত। যেমন সাহসীর ক্ষেত্রে সিংহ এবং নির্বোধের ক্ষেত্রে গাধা ব্যবহার করা। এটি খোদ রূপক বা ইস্তিআরার শর্ত নয়। কারণ ইতিপূর্বে যেমনটি অতিক্রান্ত হয়েছে যে, রূপকের অর্থ ও এর উদ্দেশ্য তা ছাড়াও অর্জিত হতে পারে, যার কারণসমূহ আগে বর্ণিত হয়েছে।
আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।