(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: -)
إيضاح المسالك إلى قواعد الإمام مالك - ت الغرياني القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: إيضاح المسالك إلى قواعد الإمام أبي عبد الله مالك
المؤلف: أحمد بن يحيى الونشريسي (ت 914 هـ)
دراسة وتحقيق: الصادق بن عبد الرحمن الغرياني
الناشر: دار ابن حزم للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م
عدد الصفحات: 182
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1440
ইজাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়েদিল ইমাম মালিক - সম্পাদনায় আল-গুরয়ানি বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতি
গ্রন্থ: ইজাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়েদিল ইমাম আবি আব্দুল্লাহ মালিক
লেখক: আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারিসি (মৃত্যু ৯১৪ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: আস-সাদিক বিন আব্দুর রহমান আল-গুরয়ানি
প্রকাশনী: দার ইবনে হাজম লি আল-তিবাআ ওয়াল নাশর ওয়াল তাওজি, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮২
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাজ আন-নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আওকাফ আব্দুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দুহায়ান খায়রিয়্যাহ)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلي الله على سيدنا ومولانا محمد، وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً.
يقول العبد المستغفر الفقير المسكين، المستمسك بعروة الله الوثقى، وحبله المتين، أحمد بن يحيى بن محمد بن عبد الواحد بن علي الونشريسي، وفقه الله، وخار له، وأنجح قصده وأمله.
الحمد لله الذي أعلى دين الهدى والحق على كل الدين، الحكم العدل العلي المبين، والصلاة والسلام الأكملان على سيدنا ومولانا محمد النبي المهيمن الأمين، خاتم الأنبياء والمرسلين، وسيد الأمة وكافة الخلق أجمعين، وعلى آله وأزواجه، وذريته المقربين الأكرمين، وأصحابه وحزبه وعترته وعشيرته الأقربين صلاةً وسلاماً نجدهما يوم الدين.
وبعد:
فإنك سألتني أيها الفاضل الشريف، الرفيع القدر الأعلى المُنيف، وصل الله سعدك ويمّن قصدك، وحرس كنفك، وأعز الأثيل شرفك وأجمل بمنِّه صونك وأحسن على ملازمته من التحصيل عوني وعونك، أن أجمع لك تلخيصاً مهذب الفصول، مُحكم المباني والأصول، يسهل عليك أمره ويخف على الأسماع والقلوب ذكره، فكلفتني من ذلك عقبة، لا يقطعها
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আল্লাহ আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর রহমত ও পূর্ণ শান্তি বর্ষণ করুন।
ক্ষমাপ্রার্থী, নিঃস্ব ও মিসকিন বান্দা, আল্লাহর সুদৃঢ় ও মজবুত রজ্জুকে আঁকড়ে ধারণকারী আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলী আল-ওয়ানশারিসি—আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন, তার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন এবং তার উদ্দেশ্য ও আশা সফল করুন—বলছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি হিদায়াত ও সত্যের দীনকে অন্য সকল ধর্মের ওপর উচ্চমর্যাদা দান করেছেন; যিনি সুমহান ও সুস্পষ্ট ন্যায়বিচারক। আর আমাদের নেতা ও অভিভাবক, বিশ্বস্ত ও আমানতদার নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পূর্ণতম রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, যিনি আম্বিয়া ও রাসূলগণের (مرسلين) মোহর, এবং এই উম্মত ও সমগ্র সৃষ্টির নেতা। আরও রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ, পবিত্র স্ত্রীগণ, তাঁর সম্মানিত নৈকট্যপ্রাপ্ত বংশধর এবং তাঁর সাহাবী, দলভুক্ত ব্যক্তিবর্গ, পরিজন ও নিকটাত্মীয়দের ওপর—এমন রহমত ও শান্তি যা আমরা কিয়ামতের দিন লাভ করব।
অতঃপর:
হে ফাযেল, শরীফ এবং উচ্চ ও সুমহান মর্যাদার অধিকারী! আল্লাহ আপনার সৌভাগ্য বৃদ্ধি করুন, আপনার উদ্দেশ্য সফল করুন, আপনার আশ্রয়কে রক্ষা করুন, আপনার আভিজাত্যকে সম্মানিত করুন, তাঁর অনুগ্রহে আপনার মর্যাদাকে সুন্দর রাখুন এবং জ্ঞান অর্জনের এই প্রচেষ্টায় আমাকে ও আপনাকে সর্বোত্তম সাহায্য দান করুন। আপনি আমার কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন আমি আপনার জন্য পরিচ্ছেদসমূহে সুবিন্যস্ত এবং সুসংহত কাঠামো ও মূলনীতিসমূহ (أصول) সংবলিত একটি সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করি, যা আয়ত্ত করা আপনার জন্য সহজ হবে এবং যা শ্রবণ করা ও মনে রাখা সাবলীল হবে। আপনি আমাকে এমন এক কঠিন কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন যা সহজে অতিক্রম করা যায় না।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
بازل، فكيف بمن كان عن سنّه نازل، وإذ صادفت الوقت في تساقم بال، وتمانع أحوال، وتعذر آمال، وملازمة أفكار، وتوفر أنكاد، تُذهب الرأي السديد، أو تكاد، إلى الله منها الشكوى، والمفزع، فعساه يجيب الدعاء ويسمع، (أمن يجيب المضطر إذا دعاه ويكشف السوء) إذا استدعاه، لا إله إلا هو ربي، عليه توكلت، وهو حسبي.
لكن المسارعة إلى مرضاة شرفك، الواضح الجبين، من الحق الواجب المتحتم المبين.
فجمعتُ لك في هذا النَّزر الذي سمح به الفكر الموزَّع، والقلب الكسير المجزَّع، مُعتمداً في قبوله وملاحظته بعين الرضى والإغضاء، وسلوك السنن الأجمل الأرضي، على جميل أوصافك، وحسن إنصافك. وسمَّيته بإيضاح المسالك، إلى قواعد الإمام أبي عبد الله مالك.
ومن الله أسأل المثوبة عليه، والتوفيق للأعمال الصالحة التي تُقرِّب إليه، وهو المسؤول أن يجعلنا ممن أحبَّ في ذاته وودَّ، وعقد على المصافاة في مرضاته وشدَّ، وسعى في كون صلته طاعة لله وجدَّ، لا إله إلا هو السميع البصير، (فنعم المولى ونعم النصير).
قاعدة (1)الغالب هل هو كالمحقق، أم لاوعليه سؤر ما عادته استعمال النجاسة، ولباس الكافر وغير المصلي، ومن أدرك الصيد منفوذ المقاتل، وظن أنه المقصود، أو اشترك
প্রবীণ; তবে তার চেয়ে বয়সে নবীনের অবস্থা কেমন হবে? আর যখন এই সময়টি মিলেছে মানসিক অবসাদ, প্রতিকূল পরিস্থিতি, অপূর্ণ আশা, নিরন্তর দুশ্চিন্তা এবং পুঞ্জীভূত কষ্টের সাথে, যা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে অপসারিত করে অথবা প্রায় বিলুপ্ত করে দেয়। আল্লাহর কাছেই এই বিষয়ে ফরিয়াদ এবং তিনিই আশ্রয়স্থল; সম্ভবত তিনি দোয়া কবুল করবেন এবং শুনবেন, (বলো তো, কে আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং কষ্ট দূর করেন?) যখন সে তাঁকে ডাকে। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি আমার প্রতিপালক, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট।
তবে আপনার উজ্জ্বল ললাটবিশিষ্ট মহত্ত্বের সন্তুষ্টির পথে ধাবিত হওয়া একটি অনিবার্য ও সুস্পষ্ট কর্তব্য।
সুতরাং বিক্ষিপ্ত চিন্তা এবং ভগ্ন ও বিচলিত হৃদয়ে যতটুকু সম্ভব হয়েছে, তা আপনার জন্য এই স্বল্প পরিসরে সংকলন করেছি। এটি গ্রহণ এবং সন্তুষ্টি ও ক্ষমার দৃষ্টিতে পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আপনার মহৎ গুণাবলি ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর এবং সর্বোত্তম ও সন্তোষজনক পন্থা অবলম্বনের ওপর ভরসা রেখেছি। আমি এর নামকরণ করেছি: ইজাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমাম আবি আবদিল্লাহ মালিক।
আমি আল্লাহর কাছে এর বিনিময় প্রার্থনা করছি এবং এমন নেক আমলের তাওফিক কামনা করছি যা তাঁর নৈকট্য দান করে। তাঁরই কাছে প্রার্থনা যেন তিনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদেরকে তিনি তাঁর সত্তার খাতিরে ভালোবেসেছেন ও বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যারা তাঁর সন্তুষ্টির নিমিত্তে একনিষ্ঠতার অঙ্গীকার করেছে এবং আপন সম্পর্ককে আল্লাহর আনুগত্যে পরিণত করতে সচেষ্ট ও যত্নবান হয়েছে। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, (তিনি কতই না চমৎকার অভিভাবক এবং কতই না চমৎকার সাহায্যকারী)।
নীতি (১)প্রবল ধারণা (الغالب) কি নিশ্চিতের (المحقق) সমতুল্য, নাকি নয়?আর এর ওপর ভিত্তি করে [নির্ধারিত হয়] ঐ প্রাণীর উচ্ছিষ্টের (سؤر) বিধান যার অভ্যাস হলো অপবিত্রতা (نجاسة) ব্যবহার করা, এবং কাফির ও বেনামাজির পোশাকের বিধান, আর যে ব্যক্তি শিকারকে এমন অবস্থায় পায় যার প্রাণঘাতী অঙ্গসমূহ জখমপ্রাপ্ত হয়েছে, এবং ধারণা করে যে এটিই তার লক্ষ্য ছিল, অথবা শিকারে অংশগ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
مع معلم، وظن أن المعلم هو القاتل، ومن علَّق الطلاق بالحيض أو الحمل في التنجيز والتأخير.
قاعدة (2)المعدوم شرعاً، هل هو كالمعدوم حسًّا، أم لاوعليه إذا تجاوز الرعاف الأنامل العليا، هل يُعتبر في الزائد قدر الدرهم، أو أكثر، أم لا، وإذا فقد الحاضر الماء، وقلنا ليس من أهل التيمم، وقال التونسي: يجري على حكم من لم يجد ماء ولا تراباً، وإذا قتل مُحرم صيداً فهو ميتة، خلافاً للشافعي، وإذا حلف ليطأنها، فوطئها حائضاً أو ليتزوجن، فتزوج تزويجاً فاسداً، أو ليبيعنَّ العبد أو الأمة، فباعهما بيعاً فاسداً، أو أُلفيت حاملاً، أو حلف ليأكلن هذا الطعام، ففسد، ثم أكله، أو حلف على فعل معصية، من قتل، أو شرب، ثم تجرَّأ وفعله، وغذا جار في القسم، فلا يُحاسب، ويبتدئ، واستقرأ اللخمي خلافاً، ولا يُحلل وطء الحائط، ولا يُحصن، ولا يوجب رجعة، ولا يكون فيئةً خلافاً لعبد الملك، وعليه عدم انتقال ضمان المشتري فاسداً إلى المشتري، ولو فات المبيع بيده كوديعة عنده. وعكس هذه القاعدة.
একজন শিক্ষকের সাথে, এবং তিনি মনে করেছিলেন যে শিক্ষকই হত্যাকারী; এবং যে ব্যক্তি তালাককে ঋতুস্রাব বা গর্ভাবস্থার সাথে অবিলম্বে কার্যকর করা বা বিলম্বিত করার শর্তের সাথে স্থগিত রেখেছেন।
নীতি (২)শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে যা অবিদ্যমান, তা কি বাহ্যিকভাবে অবিদ্যমান বস্তুর মতো হবে কি না?এর ওপর ভিত্তি করে, যখন নাক দিয়ে রক্ত পড়া আঙুলের অগ্রভাগ অতিক্রম করে, তখন অতিরিক্ত রক্ত কি দিরহামের সমপরিমাণ বা তার বেশি হিসেবে গণ্য হবে কি না; এবং যদি উপস্থিত কোনো ব্যক্তি পানি না পায় এবং আমরা বলি যে সে তায়াম্মুমের উপযুক্ত নয়; এ প্রসঙ্গে তিউনিসি বলেছেন: সে ওই ব্যক্তির হুকুমে গণ্য হবে যে পানি বা মাটি কিছুই পায়নি। আর যদি এহরামরত ব্যক্তি কোনো শিকার করা প্রাণী হত্যা করে, তবে তা মৃত প্রাণী হিসেবে গণ্য হবে, যা শাফেয়ির মতের পরিপন্থী। আর যদি কেউ শপথ করে যে সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে, অতঃপর সে ঋতুবতী অবস্থায় সহবাস করল; কিংবা শপথ করল যে সে বিবাহ করবে, অতঃপর সে ফাসেদ বা ত্রুটিপূর্ণ বিবাহ করল; অথবা শপথ করল যে সে দাস বা দাসীকে বিক্রয় করবে, অতঃপর সে তাদের ত্রুটিপূর্ণভাবে বিক্রয় করল; অথবা স্ত্রীকে গর্ভবতী পাওয়া গেল; কিংবা শপথ করল যে সে এই খাবারটি খাবে, অতঃপর তা নষ্ট হয়ে গেল এবং এরপর সে তা খেল; অথবা কোনো পাপে লিপ্ত হওয়ার শপথ করল, যেমন হত্যা বা মদ্যপান, অতঃপর সে দুঃসাহস দেখিয়ে তা করল; আর যদি সে পালা বণ্টনের ক্ষেত্রে অবিচার করে, তবে তার কোনো হিসাব নেওয়া হবে না এবং সে পুনরায় শুরু করবে, এ ব্যাপারে লাখমি ভিন্নমতের উল্লেখ করেছেন। আর ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করা তাকে (অন্য স্বামীর জন্য) হালাল করে না, তা ইহসান বা চারিত্রিক পবিত্রতা সাব্যস্ত করে না, তা রাজআত বা তালাক প্রত্যাহারের কারণ হয় না এবং তা ‘ফাইয়া’ বা দাম্পত্যে প্রত্যাবর্তন হিসেবে গণ্য হয় না, যা আব্দুল মালিকের মতের পরিপন্থী। এর ওপর ভিত্তি করে, ফাসেদ বা ত্রুটিপূর্ণভাবে ক্রয়কারীর দায়বদ্ধতা পরবর্তী ক্রেতার কাছে স্থানান্তরিত হয় না, যদিও বিক্রীত বস্তু তার কাছে আমানত হিসেবে থাকা অবস্থায় নষ্ট হয়ে যায়। এবং এই মূলনীতির বিপরীত দিকটিও বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
قاعدة (3)الموجود شرعاً، هل هو كالموجود حقيقة، أم لاوعليه إذا صلى الإمام الراتب وحده، هل لا يعيد ولا يُجمع في مسجده لتلك الصلاة، أم لا. وصرف ما في الذمة. ثالثها، المشهور إن حل أو كان حالاً جاز.
قاعدة (4)انقلاب الأعيان، هل له تأثير في الأحكام، أم لاوعليه الخمر إذا تخلل، أو تحجر، ورماد الميتة والمزبلة ولبن الجلالة، وبيضها، وعرقها، وبولها، ولحمها، وعرق السكران، ولبن المرأة الشاربة، والزرع والبقول تُسقى بماء نَجِس، وعسل النحل الآكلة للعسل المنجوس، وقطرة الحمام، وهي كثيرة جداً.
قاعدة (5)المخالط المغلوب، هل تنقلب عينه إلى عين الذي خالطه أو لاتنقلب، وإنما خفي عن الحسّ فقطوعليه الخلاف في مُخالطة النجاسة بقليل (الماء) أو بكثير الطعام
নীতি (قاعدة) (৩)শরিয়তসম্মতভাবে বিদ্যমান (الموجود شرعاً) কোনো বিষয় কি প্রকৃতপক্ষে বিদ্যমান (الموجود حقيقة) বিষয়ের মতো গণ্য হবে, নাকি হবে না?এর ওপর ভিত্তি করে মাসআলা হলো: নির্ধারিত ইমাম (الإمام الراتب) যদি একাকী সালাত আদায় করেন, তবে কি সেই সালাতের জন্য তাঁর মসজিদে পুনরায় সালাত আদায় করা যাবে না এবং জামাতও করা যাবে না, নাকি যাবে? এবং জিম্মায় থাকা দায় পরিশোধের বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত। তৃতীয় অভিমত—যা প্রসিদ্ধ (المشهور)—হলো, যদি তা হালাল হয় অথবা তাৎক্ষণিক হয় তবে তা বৈধ (جائز)।
নীতি (قاعدة) (৪)বস্তুর রূপান্তর (انقلاب الأعيان) কি বিধানের (الأحكام) ওপর প্রভাব ফেলে, নাকি ফেলে না?এর শাখা মাসআলা হলো: মদ যদি সিরকায় রূপান্তরিত হয় অথবা পাথরীভূত হয়ে যায়; মৃত প্রাণীর ছাই ও ময়লা-আবর্জনা; নাপাকি ভক্ষণকারী পশুর (الجلالة) দুধ, ডিম, ঘাম, মূত্র ও গোশত; মদ্যপ ব্যক্তির ঘাম; মদ পানকারী নারীর দুধ; অপবিত্র (نجس) পানি দ্বারা সেচকৃত শস্য ও শাকসবজি; অপবিত্র মধু ভক্ষণকারী মৌমাছির মধু; এবং গোসলখানার পানির ফোঁটা—এরূপ উদাহরণ অনেক।
নীতি (قاعدة) (৫)পর্যুদস্ত মিশ্রিত বস্তু (المخالط المغلوب) কি তার সত্তা পরিবর্তন করে সেই বস্তুর সত্তায় রূপান্তরিত হয় যার সাথে সেটি মিশ্রিত হয়েছে, নাকি হয় না?তা রূপান্তরিত হয়, তবে তা কেবল ইন্দ্রিয়ের অগোচরে থাকে।এর ওপর ভিত্তি করে অল্প পরিমাণ (পানির) সাথে অথবা অধিক পরিমাণ খাদ্যের সাথে অপবিত্রতা (النجاسة) মিশ্রিত হওয়ার মাসআলায় মতভেদ (الخلاف) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
المائع، وبالأول قال أبو حنيفة، وبالثاني قال الشافعي رضي الله عنهما.
وعليه الخلاف أيضاً في اللبن المخلوط بغيره، إذا كان اللبن مغلوباً، وغيره غالباً.
ومذهب ابن القاسم وأبي حنيفة لغوه، وعدم انتشار الحرمة به ومذهب أشهب والشافعي اعتباره، ونشر الحرمة به.
قاعدة (6)العلة إذا زالت هل يزول الحكم بزوالها، أم لاوعليه الخلاف إذا زال تغير النجاسة، وصحة النكاح بصحة الناكح في المرض قبل الفسخ، ولزوم النزول بعد الراحة، في ركوب الهدي، وإباحة الشبع أو الاقتصار على سد الرمق في المضطر لأكل الميتة، وإذا باع الشقص الذي يستشفع به، وإذا عتق العبدُ قبل أن تختار، وإذا طُلق على الزوج بجنون أو جذام، أو برص ثم برئ في العدة، وإذا شرط لزوجته إن غاب عنها أزيد من ستة أشهر فأمرها بيدها، فغاب ثمانية أشهر، فلم
তরল পদার্থ (المائع); প্রথম মতটি ইমাম আবু হানিফা পোষণ করেছেন এবং দ্বিতীয় মতটি ইমাম শাফেয়ি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পোষণ করেছেন।
আর এর ভিত্তিতে অন্য কিছুর সাথে মিশ্রিত দুধের ক্ষেত্রেও মতপার্থক্য রয়েছে, যখন দুধের পরিমাণ কম থাকে (مغلوباً) এবং অন্য উপাদানটি বেশি থাকে (غالباً)।
ইবনে কাসিম ও ইমাম আবু হানিফার মাযহাব হলো এটি অকার্যকর (لغو) বলে গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমে বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা (الحرمة) কার্যকর হবে না। আর আশহাব ও ইমাম শাফেয়ির মাযহাব হলো এটি ধর্তব্য (اعتبار) হবে এবং এর মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা (الحرمة) কার্যকর হবে।
মূলনীতি (قاعدة) (৬)কারণ (العلة) যদি অপসারিত হয়, তবে সেই কারণ অপসারিত হওয়ার ফলে বিধান (الحكم) কি অপসারিত হবে, নাকি হবে না?আর এর ভিত্তিতেই মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে যখন অপবিত্রতার (النجاسة) পরিবর্তন অপসারিত হয়; এবং বিবাহ বিচ্ছেদের (الفسخ) পূর্বে অসুস্থ ব্যক্তির সুস্থতার মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা (صحة النكاح) সংক্রান্ত বিষয়ে; এবং হাদির (الهدي) পশুতে আরোহণের ক্ষেত্রে বিশ্রামের পর অবতরণের আবশ্যকতা প্রসঙ্গে; এবং মৃত প্রাণী (الميتة) ভক্ষণে নিরুপায় ব্যক্তির জন্য পেট ভরে খাওয়ার বৈধতা (إباحة) অথবা কেবল প্রাণ বাঁচানোর মতো ন্যূনতম আহারে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়ে; এবং যখন এমন অংশ (الشقص) বিক্রি করে দেওয়া হয় যার মাধ্যমে প্রাধিকার বা শুফআ (يستشفع به) দাবি করা হয়েছিল; এবং যখন স্ত্রী (পছন্দের সুযোগ পাওয়ার) পূর্বেই দাসটি মুক্ত (عتق) হয়ে যায়; এবং যদি পাগলামি, কুষ্ঠ (جذام), বা ধবল (برص) রোগের কারণে স্বামীর ওপর বিচ্ছেদ কার্যকর করা হয় এবং ইদ্দত চলাকালীন সে সুস্থ হয়ে যায়; এবং যদি কেউ তার স্ত্রীর জন্য শর্ত দেয় যে, সে যদি ছয় মাসের বেশি অনুপস্থিত থাকে তবে স্ত্রীর বিষয়টি তার নিজের হাতে থাকবে (তালাকের অধিকার), অতঃপর সে আট মাস অনুপস্থিত থাকল, এমতাবস্থায় সে...
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৬০)
تُقض حتى قدم، وإذا أحضر ضامن الوجه مضمونه بعد الحكم وقبل الغُرم، وإذا بتَّل في مرضه تبرُّعاً ثم صح، وإذا لم يعلم السيد بنكاح عبده حتى باعه، أو الزوج بتبرع زوجته بأكثر من الثلث، حتى تأيمت، وغير ذلك.
تنبيه:
لم يختلفوا إذا زال العيب قبل الرد ألا ردَّ، كما لم يختلفوا، إذا بطلت رائحة الطيب، أنه لا يباح بعد الإحرام، لأن حكم المنع قد ثبت فيه، والأصل استصحابه، وليس من هذا الأصل نكاح المُحرم، والموافق لنداء الجمعة، لأن المنع فيهما لنفس الإحرام والوقت، لا لأمر بأن عدمه، قاله ابن رشد.
وانظر إذا تحمل الأب بالصداق عن ابنه في مرضه وفرَّعنا على أحد قولي مالك بفساد النكاح، ثم صح الأب، هل يجري فيه من الخلاف ما في نكاح المريض إذا صح، أو لا. في ذلك نظر واضطراب.
قاعدة (7)الظن هل يُنقضُ بالظن، أم لاوعليه تغير الاجتهاد في الأواني والثياب والقِيلة (والحكم) والفتوى.
যতক্ষণ না উপস্থিত করা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তা নিষ্পত্তি হয় না; আর যখন চেহারার জামিনদার (ضامن الوجه) বিচারিক রায়ের পর এবং দণ্ড প্রদানের আগে দায়বদ্ধ ব্যক্তিকে হাজির করে; আর যদি কেউ তার অসুস্থ অবস্থায় স্বেচ্ছায় দান (تبرع) করে এবং পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে যায়; আর যদি মনিব তার দাসের বিবাহ সম্পর্কে অবগত না হয় যতক্ষণ না সে তাকে বিক্রি করে দেয়, অথবা স্বামী তার স্ত্রীর এক-তৃতীয়াংশের অধিক দান করার বিষয়টি জানতে না পারে যতক্ষণ না তাদের বৈবাহিক বিচ্ছেদ (تأيمت) ঘটে; এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
সতর্কবার্তা:
আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যদি পণ্য ফেরত দেওয়ার আগেই ত্রুটি (عيب) দূর হয়ে যায়, তবে তা আর ফেরতযোগ্য নয়। যেমন তারা এ বিষয়েও একমত হয়েছেন যে, যদি সুগন্ধির ঘ্রাণ নিঃশেষ হয়ে যায়, তবুও ইহরামের পর তা ব্যবহার করা বৈধ নয়; কারণ নিষেধাজ্ঞার বিধান তাতে সাব্যস্ত হয়ে গেছে এবং মূলনীতি হলো বিদ্যমান অবস্থার স্থায়িত্ব (استصحاب) বজায় রাখা। ইহরাম গ্রহণকারীর বিবাহ এবং জুমার আজানের সাথে সময়ের সাদৃশ্য হওয়া এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ এ দুটির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মূলত ইহরাম এবং সময়ের নিজস্ব সত্তার কারণে, এমন কোনো বিষয়ের জন্য নয় যা বিলুপ্ত হয়ে যায়। ইবনে রুশদ এটি বর্ণনা করেছেন।
আর লক্ষ্য করুন, যদি পিতা তার অসুস্থ অবস্থায় পুত্রের মোহরানার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আমরা ইমাম মালিকের দুটি মতের একটি অনুযায়ী বিবাহের অসারতার (فساد) ওপর ভিত্তি করে শাখা মাসয়ালা বের করি, অতঃপর পিতা সুস্থ হয়ে যান, তবে এক্ষেত্রে অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার পর তার বিবাহের ক্ষেত্রে যে মতভেদ রয়েছে তা কি কার্যকর হবে, নাকি হবে না। এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ এবং অস্পষ্টতা রয়েছে।
মূলনীতি (قاعدة) (৭)প্রবল ধারণা (الظن) কি অন্য কোনো প্রবল ধারণার (الظن) মাধ্যমে খণ্ডন করা যায় কি না?এর ওপর ভিত্তি করেই পাত্র, পোশাক, কিবলা (القبلة) (ও বিচারিক রায়) এবং ফতোয়ার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিবর্তন হওয়া নির্ভর করে।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৬১)
تنبيهان:
الأول: قال ابن الحاجب في مختصر منتهى السول والأمل: لا يُنقض الحكم في الاجتهاديات، منه، ولا من غيره باتفاق، للتسلسل، فتفوت مصلحة نصب الحاكم، وفي مختصره الفقهي: فلو حكم قصداً فظهر أن غيره أصوب فقال ابن القاسم يفسخ الأول، وقال ابن الماجشون وسحنون: لا يجوز فسخه، وصوبه الأئمة.
فتأمل ما يكون جواباً عن معارضة نقلية.
الثاني: حكم الحاكم ينقض في أربعة أشياء:
إذا خالف الإجماع أو القواعد، أو القياس الجليَّ، أو النص الصريح.
قاعدة (8)الواجب الاجتهاد، أو الإصابةوعليه الخطأ في القِيلة، ومساكين الزكاة، والكفارة، وجزاء الصيد، وفدية الأذى وخطأ الخارص، ومن ظن فراغ الإمام بعد غسل دم الرعاف فأتم مكانه، ثم أخطأ ظنه، ومن تحرى صلاة الإمام وذبحه، ثم تبين الخطأ، هل يجزيه ذبحه، أم لا.
দুটি বিশেষ সতর্কবার্তা:
প্রথমটি: ইবনে হাজিব তাঁর ‘মুখতাসার মুনতাহাস সূল ওয়াল আমাল’ গ্রন্থে বলেছেন: ইজতিহাদলব্ধ (الاجتهاديات) বিষয়সমূহে সংশ্লিষ্ট বিচারক বা অন্য কারো পক্ষ থেকে সর্বসম্মতিক্রমে ফয়সালা বাতিল করা যাবে না; যাতে করে অন্তহীন অনুক্রম (التسلسل) সৃষ্টি না হয়, নতুবা বিচারক নিয়োগের কল্যাণই ব্যাহত হবে। এবং তাঁর ফিকহী ‘মুখতাসার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: যদি বিচারক ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো রায় দেন এবং পরবর্তীতে প্রতীয়মান হয় যে অন্য কোনো মতই অধিক সঠিক, তবে ইবনুল কাসিম বলেছেন যে প্রথম রায়টি বাতিল করা হবে। পক্ষান্তরে ইবনুল মাজিশুন ও সাহনুন বলেছেন: এটি বাতিল করা বৈধ নয়, এবং ইমামগণ একেই সঠিক (صوبه) সাব্যস্ত করেছেন।
অতএব, কোনো বর্ণনাগত বিরোধের (معارضة نقلية) ক্ষেত্রে সমাধান কী হবে তা নিয়ে চিন্তা করো।
দ্বিতীয়টি: বিচারকের রায় চারটি ক্ষেত্রে বাতিল করা হয়:
যখন তা ইজমা (الإجماع), মৌলিক নিয়মাবলি (القواعد), সুস্পষ্ট কিয়াস (القياس الجلي) অথবা অকাট্য নস (النص الصريح)-এর পরিপন্থী হয়।
কায়েদা (৮)ওয়াজিব হলো ইজতিহাদ (الاجتهاد) করা অথবা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া (الإصابة)এর ওপর ভিত্তি করেই কেবলা (القيلة) নির্ধারণের ভুল, জাকাত গ্রহণকারী মিসকিন, কাফফারা, শিকারের বিনিময়, শারীরিক কষ্টের ফিদিয়া এবং ফলের পরিমাপকারীর (الخارص) ভুলের বিধান নির্ধারিত হয়। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি ধারণা করেছে যে নাক থেকে রক্তক্ষরণ (الرعاف) ধোয়ার পর ইমাম নামাজ শেষ করেছেন, ফলে সে নিজ স্থানে নামাজ পূর্ণ করল এবং পরবর্তীতে তার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো; এবং যে ব্যক্তি ইমামের নামাজ ও জবেহ করার সময় সম্পর্কে অনুসন্ধান (تحرى) করল এবং পরবর্তীতে ভুল প্রকাশিত হলো—সেক্ষেত্রে তার জবেহ করা কি যথেষ্ট (يجزيه) হবে কি না।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৬২)
تنبيه:
قيد الشيوخ الخلاف في مسألة الزكاة، فيما إذا ظهر أن آخذها غير مستحق، كالغني والعبد والكافر، بما إذا كان دافعها لهم ربها، وأما إن كان المتولي لدفعها لكل واحد من هؤلاء الإمام، فإنها تجزي، ولا غُرم عليه ولا على ربها، لأنها محل اجتهاد، واجتهاده ماضٍ نافذ.
قاعدة (9)الحكم بما ظاهره الصواب والحق، وباطنه خطأ وباطلهل يُغلب حكم الظاهر على حكم الباطن، فتنفذ الأحكام
أو يغلب حكم الباطن على حكم الظاهر، فتردُ الأحكام
وعليه ما ذكره في استحقاق المدونة، في الموصى ينكشف أنه مملوك بعد نفوذ وصاياه، وحُكم بِرقه، ومن حكم بموته؛ فجاء حياً، أو حكم بشهادة من اعتقد أنه عدل، ثم ثبت بعد الحكم أنه كان مجرماً، هل يُنقض الحكم أم لا؟
وإذا باع القاضي سلع رجل غائب في دين قضاه لمن أثبت الدين على الغائب، فأثبت أنه قد قضى الدين، هل يأخذ سلعه بغير ثمن، أو بثمن. وسيأتي من فروع هذه القاعدة مزيد بيان إن شاء الله تعالى.
* * *
قاعدة (10)النسيان الطارئ، هل هو كالأصلي، أم لاوعليه: لو رأى نجاسة في الصلاة، ثم نسيها، وإذا ذكر الموالاة، ثمَّ نسيها ومن أُمر أن يُعيد في الوقت، فنسي بعد أن ذكر.
সতর্কীকরণ:
শায়খগণ জাকাতের মাসআলায় বিদ্যমান মতপার্থক্যকে সেই পরিস্থিতির সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন, যখন এটি প্রকাশ পায় যে গ্রহীতা জাকাত পাওয়ার অযোগ্য (غير مستحق), যেমন—ধনী, ক্রীতদাস বা অবিশ্বাসী। এটি কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন জাকাতদাতা স্বয়ং তাদের জাকাত প্রদান করেন। কিন্তু যদি এই ব্যক্তিদের প্রত্যেককে জাকাত প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইমাম বা শাসক হন, তবে তা যথেষ্ট (تجزي) হবে এবং তার ওপর বা সম্পদের মালিকের ওপর কোনো জরিমানা (غُرم) বর্তাবে না। কারণ এটি ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর ক্ষেত্র এবং তার ইজতিহাদ (اجتهاد) কার্যকর ও বলবৎ।
কায়েদা (৯)এমন বিষয়ের মাধ্যমে ফয়সালা করা যার প্রকাশ্য (ظاهر) দিকটি সঠিক ও সত্য, কিন্তু অভ্যন্তরীণ (باطن) দিকটি ভুল ও বাতিলপ্রকাশ্য (ظاهر) হুকুম কি অভ্যন্তরীণ (باطن) হুকুমের ওপর প্রাধান্য পাবে, ফলে রায়সমূহ কার্যকর হবে? অথবা অভ্যন্তরীণ (باطن) হুকুম কি প্রকাশ্য (ظاهر) হুকুমের ওপর প্রাধান্য পাবে, ফলে রায়সমূহ বাতিল হয়ে যাবে? এর ওপর ভিত্তি করেই মুদাওওয়ানার ইসতিহকাক অধ্যায়ে যা উল্লেখ করা হয়েছে—এমন অসিয়তকারী সম্পর্কে যার অসিয়ত কার্যকর হওয়ার পর প্রকাশ পায় যে সে একজন ক্রীতদাস এবং তার দাসত্বের ফয়সালা হয়; অথবা যার মৃত্যুর ফয়সালা দেওয়া হয়েছিল কিন্তু পরে সে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসে; অথবা এমন ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ফয়সালা দেওয়া হলো যাকে ন্যায়পরায়ণ (عدل) মনে করা হয়েছিল, কিন্তু ফয়সালার পর প্রমাণিত হলো যে সে একজন অপরাধী (مجرم); এক্ষেত্রে ফয়সালা কি বাতিল হবে নাকি হবে না? আর যদি বিচারক কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তির পণ্য বা আসবাবপত্র সেই ঋণ পরিশোধের জন্য বিক্রি করে দেন যা ওই অনুপস্থিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছিল, এরপর প্রমাণিত হলো যে সে আগেই ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছে; তবে কি সে তার পণ্য মূল্য ছাড়াই ফেরত পাবে নাকি মূল্যের বিনিময়ে পাবে? এই কায়েদার শাখা-প্রশাখা থেকে ইনশাআল্লাহ সামনে আরও বিস্তারিত বর্ণনা আসবে।
* * *
কায়েদা (১০)আকস্মিক বিস্মৃতি (النسيان الطارئ) কি মৌলিক বিস্মৃতির (الأصلي) ন্যায়, নাকি নয়?এর ওপর ভিত্তি করে মাসআলা হলো: যদি কেউ নামাজের মধ্যে অপবিত্রতা (نجاسة) দেখে এবং পরে তা ভুলে যায়; আর যখন ধারাবাহিকতা (الموالاة) বজায় রাখার কথা স্মরণ হয় এবং পরে তা পুনরায় ভুলে যায়; আর যাকে ওয়াক্তের মধ্যে পুনরায় নামাজ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং স্মরণ করার পর সে পুনরায় ভুলে গেল।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
قاعدة (11)كل مجتهد في الفروع الظنية مصيب، أو المصيب واحد لا بعينهاختلفوا فيه. ومن ثم أجمعوا على إجزاء صلاة المالكي خلف الشافعي، وبالعكس، وإن اختلفا في مسح الرأس، وغيره من الفروع.
تنبيه:
قد تقرر مذهباً أنه لا يجوز تقليد أحد المجتهدين للآخر، في مسألة القِبلة والأواني، وجاز ذلك في أكثر المسائل الفرعية.
قيل إن الشافعي، رحمه الله تعالى، سُئل عن هذه المسألة، فقيل له: لِمَ جاز أن يُصليَ المالكيُّ خلف الشافعي، وبالعكس وإن اختلفا في كثير من المسائل والفروع، ولم يجز لكل واحد من المجتهدين في الكعبة والأواني أن يصلي خلف المجتهد الآخر. فسكت ولم يُجب على ذلك.
وأجاب الشيخ عز الدين بن عبد السلام - رحمه الله تعالى- عن ذلك: بأن قال: الجماعة للصلاة مطلوبة للشارع، فلو قلنا بالامتناع من الائتمام خلف من يخالف في المذهب، لأدى إلى تعطيل الجماعات، إلا في حالة القلة، أو قلة الجماعات.
وإذا منعنا من ذلك في القِبلة، ونحوها، لم يَخِلَّ ذلك بالجماعة كبير خلل، لِندرة وقوع هذه المسائل، وكثرة وقوع الخلاف في مسائل الفروع. وهو جانب حسن.
কায়েদা (১১)অনুমানপ্রসূত (ظني) ফিকহী শাখাগুলোতে (فروع) প্রত্যেক গবেষণাকারী (مجتهد) সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত (مصيب), অথবা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত (مصيب) ব্যক্তি একজনই, তবে তিনি সুনির্দিষ্ট নন।আলেমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। অতঃপর তারা এ বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে (إجماع) উপনীত হয়েছেন যে, শাফেয়ী ইমামের পেছনে মালেকী ব্যক্তির সালাত এবং এর বিপরীতটা বৈধ, যদিও তারা মাথা মাসেহ করা এবং অন্যান্য ফিকহী শাখা (فروع) সম্পর্কে ভিন্ন মত পোষণ করেন।
সতর্কীকরণ:
মাযহাবে (مذهب) এটি স্থিরীকৃত হয়েছে যে, কিবলা এবং পাত্রের মাসআলার ক্ষেত্রে একজন গবেষণাকারীর (مجتهد) পক্ষে অন্য গবেষণাকারীর (مجتهد) অনুসরণ (تقليد) করা জায়েজ নয়; তবে অধিকাংশ ফিকহী শাখা (فروع) সংশ্লিষ্ট মাসআলায় তা জায়েজ।
বলা হয়ে থাকে যে, ইমাম শাফেয়ী (রহমাতুল্লাহি তাআলা)-কে এই মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তাঁকে বলা হয়েছিল: কেন মালেকী মাযহাবের অনুসারীর জন্য শাফেয়ী ইমামের পেছনে সালাত পড়া জায়েজ এবং এর বিপরীতটাও জায়েজ—যদিও তারা অনেক মাসআলা ও ফিকহী শাখায় (فروع) মতভেদ করেন—অথচ কাবার দিক নির্ণয় এবং পাত্রের বিষয়ে প্রত্যেক গবেষণাকারীর (مجتهد) জন্য অন্য গবেষণাকারীর (مجتهد) পেছনে সালাত পড়া জায়েজ নয়? তখন তিনি চুপ থাকলেন এবং এর কোনো উত্তর দিলেন না।
শাইখ ইযযুদ্দীন বিন আব্দুস সালাম (রহমাতুল্লাহি তাআলা) এর উত্তর দিয়ে বলেছেন: শরীয়ত প্রণেতার নিকট জামায়াতে সালাত কাম্য। যদি আমরা ভিন্ন মাযহাবের (مذهب) অনুসারী ইমামের পেছনে ইকতিদা করতে নিষেধ করি, তবে তা জামায়াতগুলো অচল হওয়ার দিকে নিয়ে যাবে, অল্প কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত।
আর আমরা যদি কিবলা ও অনুরূপ বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি নিষেধ করি, তবে তা জামায়াতের শৃঙ্খলায় বড় কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না; কারণ এই মাসআলাগুলো ঘটার সম্ভাবনা বিরল, পক্ষান্তরে ফিকহী শাখা (فروع) সংশ্লিষ্ট মাসআলাগুলোতে মতভেদ ঘটার হার অনেক বেশি। আর এটি একটি উত্তম দৃষ্টিভঙ্গি।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
قال القاضي أبو الدعائم سند بن عنان المصري: إنما صحت صلاة أرباب المذاهب بعضهم خلف بعض، لاعتقادهم أنهم يفعلون ما اختلفوا فيه، فالشافعي مثلاً، وإن لم يوجب إلا شعرة واحدة من مسح الرأس، فإنه يمسح المجموع، وكذلك الحنفي، وإن لم يوجب الفاتحة إلا في ركعة.
قال: ولذا قال ابن القاسم: لو علمت أن أحداً يترك القراءة في الأخيرتين، ما صليت وراءه.
فائدة:
قال الشيخ العلامة الضابط الرحال، أبو عبد الله، محمد بن رُشيد، بضم الراء وفتح الشين المعجمة – في رحلته- وهو كتاب حسن غزير النَّفع، جليل الفوائد-: لقيت الشيخ تقي الدين، ابن دقيق العيد- أول يوم رأيته بالمدرسة الصالحية. دخلها لحاجة عرضت له فسلَّمت عليه وهو قائم. وقد حفَّ به جمع من طلاب العلم، وعُرضت عليه ورقة سُئل فيها عن البسملة في قراءة فاتحة الكتاب في الصلاة، وكان السائل فيما ظننته مالكياً، فمال الشيخ في جوابه إلى قراءتها للمالكي خروجاً من الخلاف في إبطال الصلاة بتركها، وصحتها مع قراءتها- فقلت: يا سيدي، أذكر في المسألة ما يشهد لاختياركم، فقال: وما هو؟ فقلت: ذكر أبو حفص- وأردت أن أقول- الميانشي، فغلِطت وقلت. ابن شاهين – أنه قال: صلَّيت خلف الإمام
কাজী আবু আদ-দাআইম সানাদ ইবনে আনান আল-মিসরি বলেছেন: বিভিন্ন মাযহাবের ইমামগণের একে অপরের পেছনে সালাত আদায় করা কেবল একারণেই সহিহ (صحيح) হয়েছে যে, তাঁদের বিশ্বাস ছিল তাঁরা ঐসব কাজও পালন করেন যেগুলোতে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ শাফিয়ি মাযহাবের অনুসারী, যদিও তিনি মাথা মাসাহ করার ক্ষেত্রে কেবল একটি চুল মাসাহ করা ওয়াজিব মনে করেন, তবুও তিনি পুরো মাথা মাসাহ করেন। অনুরূপভাবে হানাফি মাযহাবের অনুসারী, যদিও তিনি কেবল এক রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব মনে করেন।
তিনি বলেন: আর একারণেই ইবনুল কাসিম বলেছেন: যদি আমি জানতাম যে কেউ (সালাতের) শেষ দুই রাকাতে কিরাত পড়া বর্জন করে, তবে আমি তার পেছনে সালাত আদায় করতাম না।
ফায়দা:
শাইখ, আল্লামা, সুনিপুণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (ضابط) ও প্রখ্যাত পর্যটক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে রুশাইদ—রা-বর্ণে পেশ এবং শিন-বর্ণে জবরসহ—তাঁর 'রিহলা' গ্রন্থে বলেছেন—যা একটি উত্তম (حسن), অত্যন্ত উপকারী এবং সুমহান ফায়দা সম্বলিত কিতাব—: আমি শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে দাকিক আল-ইদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, যেদিন আমি তাঁকে প্রথম সালিহিয়া মাদরাসায় দেখেছিলাম। তিনি তাঁর এক প্রয়োজনে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন এবং আমি তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সালাম দিলাম। সে সময় জ্ঞানান্বেষী শিক্ষার্থীদের একটি দল তাঁকে ঘিরে ছিল। তাঁর নিকট একটি চিরকুট পেশ করা হলো যাতে সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের সময় বিসমিল্লাহ পড়ার বিধান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমার ধারণা অনুযায়ী প্রশ্নকারী ছিলেন মালিকি মাযহাবের অনুসারী। শাইখ তাঁর জবাবে মালিকি মাযহাবের অনুসারীদের জন্য বিসমিল্লাহ পাঠ করার দিকেই মত প্রকাশ করলেন, যাতে এটি বর্জনের ফলে সালাত বাতিল হওয়া সংক্রান্ত মতবিরোধ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় এবং পাঠ করার মাধ্যমে সালাত সহিহ (صحيح) হওয়া নিশ্চিত হয়। তখন আমি বললাম: হে আমার সাইয়্যিদ, আমি এই মাসআলায় এমন একটি বিষয় জানি যা আপনার পছন্দের মতের সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। তিনি বললেন: তা কী? আমি বললাম: আবু হাফস উল্লেখ করেছেন—আমি বলতে চেয়েছিলাম আল-মিয়ানশি, কিন্তু ভুলবশত বলে ফেললাম ইবনে শাহিন—যে তিনি বলেছেন: আমি ইমামের পেছনে সালাত আদায় করেছি...
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
أبي عبد الله المازري، فسمعته يقرأ بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله رب العالمين، ولما خلوت به قلت له: يا سيدي سمعتك تقرأ في صلاة الفريضة كذا، فقال: أو قد تفطنت لذلك، فقلت له: يا سيدي أنت اليوم إمام في مذهب مالك، ولا بد أن تخبرني فقال لي: اسمع يا عمر: قولٌ واحد في مذهب مالك أن من قرأ بسم الله الرحمن الرحيم في الفريضة لا تبطل صلاته، وقول واحد في مذهب الشافعي أن من لم يقرأ بسم الله الرحمن الرحيم بطلت صلاته، فأنا أفعل ما لا تبطل به صلاتي في مذهب إمامي وتبطل بتركه في مذهب غيره، لكي أخرج من الخلاف. فتركني شيخنا – رضي الله عنه حتى استوفيت الحكاية وهو مصغ لذلك، فلما قطعت كلامي قال: هذا حسن، إلا أن التاريخ يأبى ما ذكرت، فإن ابن شاهين لم يلق المازري، فقلت إنما أردت الميانشي فقال: الآن صح ما ذكرته. انتهى.
تنبيه:
ظاهر هذه الحكاية، يدل على أن التقليد لا يرفع الخلاف، وهو خلاف ما صرح به شهاب الدين، في قواعده، وابن عبد السلام في شرحه وذكر حافظ المغرب، القاضي أبو الفضل راشد- في بعض ما قيَّد في المسألة – قولين:
আবু আবদুল্লাহ আল-মাজিরি থেকে বর্ণিত, আমি তাঁকে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' পড়তে শুনলাম। যখন আমি তাঁর সাথে একান্তে বসার সুযোগ পেলাম, তখন তাঁকে বললাম: হে আমার মহোদয়, আমি আপনাকে ফরজ নামাজে এরূপ পড়তে শুনলাম। তিনি বললেন: তুমি কি বিষয়টি লক্ষ্য করেছ? আমি বললাম: হে জনাব, আপনি বর্তমানে মালেকি মাজহাবের একজন ইমাম, তাই অবশ্যই আপনাকে আমাকে এর কারণ জানাতে হবে। তিনি আমাকে বললেন: শোনো হে ওমর, মালেকি মাজহাবে একটি অভিমত রয়েছে যে, যে ব্যক্তি ফরজ নামাজে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পড়বে তার নামাজ বাতিল হবে না। আবার শাফেয়ি মাজহাবে একটি অভিমত রয়েছে যে, যে ব্যক্তি 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পড়বে না তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। তাই আমি এমনটি করি যাতে আমার ইমামের মাজহাব অনুযায়ী আমার নামাজ বাতিল না হয় এবং অন্য মাজহাব অনুযায়ী যা বর্জন করলে নামাজ বাতিল হয়ে যায় তাও পালন করা হয়, যাতে আমি মতভেদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। আমাদের শায়খ—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—আমাকে কথা বলার সুযোগ দিলেন যতক্ষণ না আমি পূর্ণ কাহিনীটি বর্ণনা করি এবং তিনি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তা শুনছিলেন। যখন আমি আমার কথা শেষ করলাম, তিনি বললেন: এটি চমৎকার, তবে ইতিহাস তোমার বর্ণিত বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করে। কেননা ইবনে শাহিন আল-মাজিরির সাক্ষাত পাননি। আমি বললাম: আমি আসলে আল-মায়ানশিকে উদ্দেশ্য করেছি। তখন তিনি বললেন: এখন তোমার বর্ণনাটি সঠিক (صحيح) হয়েছে। সমাপ্ত।
সতর্কবার্তা:
এই কাহিনীর বাহ্যিক রূপ একথাই নির্দেশ করে যে, তাকলিদ মতভেদ দূর করে না। এটি শিহাবুদ্দিন তাঁর কাওয়ায়েদ গ্রন্থে এবং ইবনে আবদুস সালাম তাঁর শারহ গ্রন্থে যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তার বিপরীত। মাগরিবের হাফেজ (حافظ), কাজি আবুল ফজল রাশিদ—এই মাসআলা সম্পর্কে তিনি যা লিপিবদ্ধ করেছেন তার কোনো কোনো স্থানে—দুটি অভিমত উল্লেখ করেছেন:
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
أحدهما: أن أحد الخصمين إذا التزم قول مالك في نفي حكم، أو إثباته، أو في نفي ضمان عن أحد الخصمين، وثبوته على الآخر- وفي الحادثة قولان-: إن تراضيهما بذلك كقول مجمع عليه، قد التزماه، وليس لأحدهما نزوع عن ذلك.
والثاني: إن الخلاف لا يرفعه من ذلك إلا الحاكم، إذا نازع أحدهما، وعزاه إلى محمد بن عمر بن لبابة.
وما للمتيطي في النكاح والسلم، وغير موضع من هذا النمط معلوم.
والقول بمراعاة الخلاف، قد عابه جماعة من الفقهاء، ومنهم اللخمي وعياض وغيرهما من المحققين، حتى قال عياض: القول بمراعاة الخلاف لا يعضده القياس.
وللشيخ المحقق أبي عبد الله بن عرفة – رحمه الله في القول بمراعاة الخلاف جواب كبير، يطول بنا جلبه.
وأجاب الشيخ شهاب الدين – رحمه الله – عن مسألة الشافعي، بجواب ينبني على قاعدة وهي: أن قضاء القاضي متى خالف إجماعاً
প্রথমত: বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের কোনো একজন যদি কোনো বিধানের অস্বীকৃতি বা স্বীকৃতিতে, অথবা কোনো এক পক্ষের দায়মুক্তি কিংবা অন্য পক্ষের ওপর দায় সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের কোনো মতকে মেনে নেয়—অথচ উক্ত বিষয়ে দুটি ভিন্ন মত রয়েছে—তবে তাদের উভয়ের এই বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটি একটি ঐকমত্যপূর্ণ (مجمع عليه) সিদ্ধান্তের মতোই গণ্য হবে যা তারা স্বীকার করে নিয়েছেন; এবং তাদের কারোরই এর থেকে ফিরে আসার সুযোগ নেই।
দ্বিতীয়ত: যদি তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তবে বিচারক (حاكم) ব্যতীত অন্য কেউ এই মতভেদ (خلاف) নিরসন করতে পারবেন না। তিনি এই অভিমতটিকে মুহাম্মদ বিন উমর বিন লুবাবাহ-এর প্রতি সম্বন্ধ করেছেন।
বিবাহ, অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে আল-মুতাইতির যে বর্ণনাগুলো রয়েছে তা সুপরিচিত।
মতভেদের প্রতি গুরুত্বারোপ (مراعاة الخلاف) সংক্রান্ত অভিমতটিকে একদল ফকিহ (فقهاء) ত্রুটিযুক্ত বলেছেন। তাদের মধ্যে আল-লাখমী, ইয়ায এবং অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের গবেষকগণ (محققين) রয়েছেন। এমনকি ইয়ায বলেছেন: মতভেদের প্রতি গুরুত্বারোপ (مراعاة الخلاف)-এর সপক্ষে কিয়াস (قياس) বা পদ্ধতিগত অনুমানের কোনো সমর্থন নেই।
গবেষক শায়খ আবু আব্দুল্লাহ বিন আরাফাহ—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—মতভেদের প্রতি গুরুত্বারোপ (مراعاة الخلاف) প্রসঙ্গে একটি দীর্ঘ জবাব দিয়েছেন, যা এখানে বিস্তারিত উল্লেখ করা আমাদের জন্য দীর্ঘসাধ্য হবে।
শায়খ শিহাবুদ্দীন—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—ইমাম শাফি’য়ীর একটি মাসআলা সম্পর্কে এমন একটি মূলনীতি (قاعدة)-র ওপর ভিত্তি করে জবাব দিয়েছেন যা হলো: বিচারকের ফয়সালা যখনই কোনো ঐকমত্য (إجماع)-এর পরিপন্থী হবে...
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
أو قياساً جلياً، أو نصاً صريحاً، أو القواعد، فإنا ننقضه كما سلف تقريره. وإذا كنا لا نقر حكماً تأكد بقضاء القاضي، فأولى ألا نقره إذا لم يتأكد، فعلى هذا، لا يجوز التقليد في حكم هو بهذه المثابة، لأنا لا نقره شرعاً، وما ليس بشرع لا يجوز التقليد فيه، فعلى هذه القاعدة، كل من اعتقدنا أنه خالف الإجماع لا يجوز تقليده، فإذا كانت القاعدة هذه، حصل الفرق باعتبارها. وبيانه بذكر أربع مسائل. تأمل تمامه في الفرق السادس والسبعين.
تنبيه:
قد نظم بعض النبلاء المواضع الأربعة، التي ينقض فيها حكم الحاكم قال: (بسيط)
إذا قضى حاكم يوماً بأربعة
… فالحكم منتقض من بعد إبرام
خلاف نص، وإجماع وقاعدة
… ثم قياس جليّ، دون إبهام
قاعدة (12)العصيان هل ينافي الترخيص، أم لاوعليه (تيمم) العاصي بسفره، وقصره وفِطره، وتناوله الميتة، ومسح المحرم العاصي بلِبسه.
অথবা সুস্পষ্ট অনুমান (قياساً جلياً), অথবা দ্ব্যর্থহীন পাঠ (نصاً صريحاً), অথবা মূলনীতিসমূহের (القواعد) পরিপন্থী হয়, তবে আমরা তা নাকচ করব, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর যখন আমরা বিচারকের রায়ের মাধ্যমে সুনিশ্চিত হওয়া কোনো বিধানকেও স্বীকৃতি দেই না, তখন যা সুনিশ্চিত নয় তা স্বীকৃতি না দেওয়া আরও অগ্রগণ্য। অতএব, এই পর্যায়ের কোনো বিধানে তাকলিদ করা বৈধ নয়; কারণ আমরা একে শরয়িভাবে গ্রহণ করি না। আর যা শরিয়তসম্মত নয়, তাতে তাকলিদ করা জায়েজ নয়। এই মূলনীতি অনুযায়ী, যার সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস হবে যে সে সর্বসম্মত মতৈক্য (الإجماع) লঙ্ঘন করেছে, তার তাকলিদ করা বৈধ নয়। যখন মূলনীতিটি এমন হলো, তখন এর ভিত্তিতেই পার্থক্য প্রতীয়মান হয়। চারটি মাসআলা আলোচনার মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো। এর পূর্ণাঙ্গ রূপ ৭৬তম পার্থক্যের আলোচনায় লক্ষ্য করুন।
সতর্কীকরণ:
কোনো কোনো বিদগ্ধ পণ্ডিত ঐ চারটি ক্ষেত্রকে কাব্যাকারে বিন্যস্ত করেছেন যেখানে বিচারকের রায় বাতিল হয়ে যায়। তিনি বলেন: (বাসিত ছন্দ)
যদি কোনো বিচারক কখনো চারটি বিষয়ের বিপরীতে রায় প্রদান করেন
… তবে সেই রায় সুদৃঢ়ভাবে বলবৎ হওয়ার পর পুনরায় বাতিল হয়ে যাবে।
সেগুলো হলো: পাঠ (نص), সর্বসম্মত মতৈক্য (إجماع) ও মূলনীতির (قاعدة) পরিপন্থী হওয়া
… এবং অস্পষ্টতাহীন সুস্পষ্ট অনুমানের (قياس جليّ) বিপরীত হওয়া।
মূলনীতি (১২)অবাধ্যতা কি শরয়ি শিথিলতার (الترخيص) পরিপন্থী, নাকি নয়?এর ওপর ভিত্তি করেই পাপাচারপূর্ণ সফরের ক্ষেত্রে ব্যক্তির তায়াম্মুম (تيمم), নামাজের কসর (قصر) ও রোজা ভঙ্গ (فطر) করা, মৃত পশু ভক্ষণ করা এবং নিষিদ্ধ পোশাক পরিধানের মাধ্যমে পাপাচারী মুহরিমের মাসেহ (مسح) করার বিষয়গুলো নির্ধারিত হয়।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
قاعدة (13)الدوام على الشيء، هل هو كالابتداء، أم لاوعليه خلاف القابسي وابن أبي زيد، فيمن أحدث قبل تمام غسله، ثمَّ غسل ما مر من أعضاء وضوئه، ولم يجدد نية، وإذا حلف لا دخل الدار وهو فهي، أو لا ركب الدابة وهو عليها، أو لا لبِس الثوب وهو لابسه، أو اقتدى مريض بمثله، فصحَّ المقتدي، أو قال: إذا حملت فأنت طالق، وهي حامل، أو فاته الوقوف بعرفة، بخطأ في العدد، أو مرض، أو عدم دليل، أو رفيق، أو مركوب. فأراد التحلل بأفعال العمرة، فتراخى إلى أشهر الحج من قابل، فإنه لا يتحلل، فإن تحلل، فقال ابن القاسم: يمضي، وقال أيضاً: لا يمضي تحلله، وهما على القاعدة:
فعلى أن الدوام كالابتداء، فلا يمضي تحلله، وعلى أن لا، فيمضي أو اشترى زوج أمه، أو زوج أبيه.
ولزوم النزول عن الهدي، بعد الراحة، ووجود الطول بعد نكاح الأمة، والماء بعد التيمم، والإحرام بعد الصيد.
وكالحدث، فلا يبنى عند الجمهور، (والخبث)، في قول المالكية المشهور. وضمان المغصوب، هل يُضمن بأرفع القيم، كما يقوله ابن وهب
নীতি (১৩)কোনো বিষয়ের স্থায়িত্ব কি তা আরম্ভ করার সমতুল্য, নাকি নয়?এর ওপর ভিত্তি করেই আল-কাবেসি এবং ইবনে আবি যায়িদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যে তার গোসল পূর্ণ হওয়ার আগে অপবিত্রতা (حدث) অর্জন করেছে, অতঃপর সে অজুর অতিক্রান্ত অঙ্গসমূহ ধৌত করল কিন্তু নতুন করে নিয়ত (نية) করল না। আর যখন সে কসম করে যে সে ঘরে প্রবেশ করবে না অথচ সে তার ভেতরেই আছে, অথবা পশুর পিঠে চড়বে না অথচ সে তার ওপরেই আসীন, অথবা কাপড় পরিধান করবে না অথচ সে তা পরিহিত অবস্থায় আছে। অথবা কোনো অসুস্থ ব্যক্তি তার অনুরূপ অন্য কোনো অসুস্থ ব্যক্তির অনুসরণ (اقتداء) করল, অতঃপর মুক্তাদি সুস্থ হয়ে গেল। অথবা বলল: “যদি তুমি গর্ভবতী হও তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা”, অথচ সে গর্ভবতী। অথবা গণনার ভুল, অসুস্থতা, প্রমাণের অভাব, সঙ্গী না থাকা কিংবা বাহনের অভাবে কারও আরাফাতের অবস্থান ছুটে গেল; এমতাবস্থায় সে ওমরাহর কার্যাবলীর মাধ্যমে ইহরাম থেকে হালাল (تحلل) হতে চাইল, কিন্তু সে আগামী বছরের হজের মাসগুলো পর্যন্ত বিলম্ব করল, তবে সে হালাল হতে পারবে না। আর যদি সে হালাল হয়ে যায়, তবে ইবনে কাসিম বলেন: তা কার্যকর হবে; আবার তিনিও বলেছেন: তার হালাল হওয়া কার্যকর হবে না। এই দুটি অভিমত উক্ত মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত:
যাঁদের মতে স্থায়িত্ব হলো আরম্ভ করার সমতুল্য, তাঁদের মতে তার হালাল (تحلل) হওয়া কার্যকর হবে না। আর যাঁদের মতে তা নয়, তাঁদের মতে তা কার্যকর হবে। অথবা কেউ তার মায়ের স্বামী বা পিতার স্ত্রীকে ক্রয় করল।
এবং বিশ্রামের পর হাদির পশু থেকে নামা আবশ্যক হওয়া, দাসী বিবাহের পর সচ্ছলতা লাভ করা, তায়াম্মুমের পর পানি পাওয়া এবং শিকারের পর ইহরাম করা।
আর অপবিত্রতার (حدث) মতো হওয়ার কারণে সংখ্যাগুরু (جمهور) ফকিহদের মতে পূর্ববর্তী কার্যের ওপর ভিত্তি করা (بناء) যাবে না, এবং (নাপাকি (خبث))-এর ক্ষেত্রেও মালেকি মাজহাবের প্রসিদ্ধ (مشهور) অভিমত অনুযায়ী এটিই নিয়ম। এছাড়া জবরদখলকৃত বস্তুর ক্ষতিপূরণ কি সর্বোচ্চ মূল্যে দিতে হবে, যেমনটি ইবনে ওয়াহাব বলেছেন?
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
وأشهب وابن الماجشون، بناء على أنه في كل حين كالمبتدأ للغصب، فهو ضامن في كل وقت ضماناً جديداً، أو إنما يضمن يوم الغصب، كما يقوله المشهور، بناء على أن الدوام ليس كالابتداء.
ومن أسلم وتحته مجوسية، أو أمة كتابية.
تنبيه:
لم يجعلوا الدوام كالإنشاء، في البناء في الرعاف لأنه رخصة، ولا في طروِّ اليسر بعد صوم أيام من كفارة الظهار، وجعلوها كالإنشاء فيمن ألقت الريح الطيب عليه، وتراخى في إزالته وهو محرم، وفي من (رأى) مصحفاً في نجاسة، ولم يرفعه مختاراً - في أنه ردة، وانظر، إذا أخذ العبد الزكاة، ولم تزل بيده إلى أن عتق، وبقيت عنده بعد العتق، هل تجزيه، بناء على أن الدوام كالابتداء، أو لا. وإذا عجَّل الزكاة قبل الحول بكثير، وبقيت إلى حلول الحول، وقالوا في الفقير يأخذها أنه لا يردُّها، نظراً إلى أن الدوام ليس كالابتداء، وقالوا في الغارم يأخذها لقضاء دينه، ثم يستغني قبل أدائه إشكال. قال اللخمي. ولو قيل تنزع منه لكان له وجه.
قاعدة (14)الأصغر هل يندرج في الأكبر، أو لاوعليه إجزاء غسل الرأس عن مسحه، والغسل عن الوضوء، وإخراج بعير عن خمسة أبعرة، واندراج عهدة الثلاث في السنة، والعمرة في الحج
এবং আশহাব ও ইবনুল মাজিশুন (এর মতানুসারে), এই ভিত্তির ওপর যে, এটি প্রতি মুহূর্তেই জবরদখল (غصب)-এর প্রারম্ভের ন্যায়, তাই সে প্রতি সময়েই নতুনভাবে দায়বদ্ধ (ضامن) হবে; অথবা সে কেবল জবরদখল করার দিনের জন্যই দায়বদ্ধ হবে, যেমনটি প্রসিদ্ধ (المشهور) মতানুসারে বলা হয়, এই ভিত্তির ওপর যে, স্থায়িত্ব (الدوام) প্রারম্ভের (الابتداء) ন্যায় নয়।
এবং সেই ব্যক্তি যে ইসলাম গ্রহণ করেছে অথচ তার বিবাহাধীনে কোনো অগ্নিপূজক (مجوسية) নারী অথবা আহলে কিতাব দাসী (أمة كتابية) রয়েছে।
সতর্কতা (تنبيه):
তারা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার (الرعاف) কারণে নামাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়িত্বকে প্রারম্ভ বা নতুনভাবে শুরু (الإنشاء) করার মতো গণ্য করেননি, কারণ এটি একটি সহজ বিধান (رخصة); তেমনি যিহারের কাফফারা (كفارة الظهار)-এর রোজা রাখার কয়েক দিন পর সচ্ছলতা ফিরে আসার ক্ষেত্রেও নয়। তবে তারা একে নতুনভাবে শুরু (الإنشاء) করার মতো গণ্য করেছেন সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যার ওপর বাতাস সুগন্ধি (الطيب) বয়ে এনেছে এবং সে ইহরাম অবস্থায় (محرم) থাকা সত্ত্বেও তা দূর করতে বিলম্ব করেছে। আর সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও যে নাপাকির (نجاسة) মধ্যে পবিত্র কুরআন (مصحف) দেখেছে এবং স্বেচ্ছায় তা সরিয়ে নেয়নি—এটিকে ধর্মত্যাগ (ردة) হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে। আরও দেখুন, যদি কোনো দাস জাকাত গ্রহণ করে এবং স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত তা তার হস্তগত থাকে এবং স্বাধীন হওয়ার পরও তা তার নিকট থেকে যায়, তবে কি তা তার জন্য যথেষ্ট (تجزيه) হবে? এটি কি স্থায়িত্ব (الدوام) প্রারম্ভের (الابتداء) ন্যায় হওয়ার ভিত্তির ওপর হবে নাকি নয়? আর যদি কেউ বছর পূর্ণ হওয়ার (الحول) অনেক আগেই অগ্রিম জাকাত প্রদান করে এবং তা বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকে; দরিদ্র (الفقير) ব্যক্তি তা গ্রহণ করার পর সে তা ফেরত দেবে না বলে ফকিহগণ অভিমত দিয়েছেন, এই বিবেচনায় যে, স্থায়িত্ব (الدوام) প্রারম্ভের (الابتداء) ন্যায় নয়। আর ঋণগ্রস্ত (الغارم) ব্যক্তি যে ঋণ পরিশোধের জন্য জাকাত গ্রহণ করেছে, অতঃপর তা আদায়ের পূর্বেই সম্পদশালী হয়ে গেল—এ বিষয়ে অস্পষ্টতা (إشكال) রয়েছে। আল-লাখমি বলেছেন, যদি বলা হয় যে এটি তার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে, তবে সেটিরও যৌক্তিক দিক রয়েছে।
নীতিমালা (১৪)ক্ষুদ্রতর বিষয়টি কি বৃহত্তর বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত (يندرج) হবে, নাকি হবে নাএর ওপর ভিত্তি করেই মাথা ধোয়ার মাধ্যমে তা মাসেহ (مسحه) করা যথেষ্ট হওয়া, গোসলের মাধ্যমে ওজু (الوضوء) সম্পন্ন হওয়া, পাঁচটি উটের পরিবর্তে একটি উট প্রদান করা, বছরের (السنة) মধ্যে তিন দিনের দায়বদ্ধতা (عهدة) অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং হজের মধ্যে ওমরার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাসয়ালাগুলো আবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৭০)
للقارن، ودية الأعضاء في النفس، ومن لزمته حدود وقتل، ومن شفع الإقامة غلطاً.
قال المازري عن بعض أصحابنا وعزاه ابن يونس لأصبغ، بالإجزاء، والمشهور، لا، وإذا أبان الرأس في الذبح، أو أخرج زكاة الفطر بالمد الأكبر.
تنبيه:
وليس من هذه المسائل من فرضه التيمم، فتجشم المشقة واغتسل بالماء، ولا من فرضه الفطر فصام، ولا من فرضه الإيماء فسجد على الجبهة، خلافاً لبعض الأئمة، واعتل بأنه كان منهياً عن ذلك، والمنهي عنه لا يجزي عن المأمور.
قاعدة (15)ما قرب من الشيء، هل له حكمه، أم لاوعليه العفو عما قرب من محل الاستجمار، وتقدم العقد على الإذن بالزمن اليسير، ولزوم طلاق المراهق، وحده، وقتله، واعتبار إسلامه وإسهامه، وصحة إنكاحه وليته لقربه من البلوغ، وتسلف أحد المصطرفين، بخلاف تسلفهما معاً، لطول الأمر فيه غالباً، وتقديم الزكاة قبل الحول بيسير، والنية قبل محلها في الوضوء والصلاة بيسير، (وفوت) (المبيع)
ক্বিরান হজ্জ পালনকারীর (للقارن) জন্য, এবং জানের বিনিময়ে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রক্তপণ (دية), আর যার ওপর দণ্ডবিধি (حدود) কার্যকর হয়েছে এবং তাকে হত্যা করা হয়েছে, এবং যে ব্যক্তি ভুলবশত ইকামতের বাক্যগুলোকে জোড়ায় জোড়ায় (شفع) বলেছে।
আল-মাযিরি আমাদের কতিপয় সাথী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে ইউনুস এটি আসবাগের দিকে সম্বন্ধ করেছেন যে, এটি পর্যাপ্ত (الإجزاء) হবে। তবে প্রসিদ্ধ (المشهور) মত হলো, না। আর যখন যবেহ করার (الذبح) সময় মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়, অথবা বড় মুদ (المد الأكبر) এর মাপে ফিতরা (زكاة الفطر) আদায় করা হয়।
সতর্কীকরণ:
আর এই মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত সে নয় যার ওপর তায়াম্মুম (التيمم) ফরজ ছিল, কিন্তু সে কষ্ট সহ্য করে পানি দিয়ে গোসল করেছে; কিংবা যার ওপর রোজা না রাখা ফরজ ছিল কিন্তু সে রোজা রেখেছে; কিংবা যার ওপর ইশারা (الإيماء) করা ফরজ ছিল কিন্তু সে কপালে সেজদা করেছে—যা কিছু ইমামের মতের পরিপন্থী। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, তাকে তা করতে নিষেধ করা হয়েছিল, আর যা নিষিদ্ধ (المنهي عنه) তা আদিষ্ট বিষয়ের পরিবর্তে পর্যাপ্ত (يجزي) হয় না।
নীতিমালা (১৫)কোনো জিনিসের নিকটবর্তী যা, তার বিধান কি ওই জিনিসের মতোই হবে, নাকি হবে না?এর ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত বিষয়গুলো হলো: ইসতিজমরের (الاستجمار) স্থান থেকে নিকটবর্তী অংশের ক্ষেত্রে ক্ষমা, অনুমতির সামান্য সময় পূর্বে আকদ (العقد) সম্পন্ন হওয়া, এবং বয়ঃসন্ধির নিকটবর্তী (المراهق) কিশোরের তালাক কার্যকর হওয়া, তার ওপর দণ্ডবিধি (حد) প্রয়োগ ও তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান, তার ইসলাম গ্রহণ ও গনিমতের হিস্যা (إسهامه) পাওয়া ধর্তব্য হওয়া এবং বালেগ হওয়ার নিকটবর্তী হওয়ায় তার অভিভাবকত্বের অধীন নারীর বিবাহ প্রদান সঠিক (صحة) হওয়া; এছাড়া মুদ্রা বিনিময়কারীদের একজনের পক্ষ থেকে অগ্রিম গ্রহণ (تسلف) করা (বিপরীতভাবে উভয়ের পক্ষ থেকে অগ্রিম গ্রহণ বৈধ নয়, কারণ এতে সাধারণত দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার থাকে), বর্ষপূর্তির (الحول) সামান্য আগে জাকাত প্রদান করা, ওজু (الوضوء) ও সালাতের (الصلاة) নির্ধারিত সময়ের সামান্য পূর্বে নিয়ত (النية) করা এবং বিক্রিত বস্তুর (المبيع) হাতছাড়া হওয়া (وفوت)।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৭১)
بالثنيا والعهدة والخيار بعد زمنها بيسير، وتعدي المكتري المسافة بالشيء اليسير، وإذا أرسل بقرب الحرم على صيد فقتله قبل أن يدخل الحرم. وتأخير رأس مال السلَّم اليومين والثلاثة، والمعيَّنِ إليها. والمكتري يدعي دفع الكراء بعد انقضاء الوجيبة بيسير. والشريك في الزرع، يدعي الدفع لشريكه بعد رفع الصوبة بيسير، والصانع يدعي بقرب دفع المصنوع إلى ربه كاليومين، ونحوهما – أنه لم يقبض الأجرة. والوكيل يدعي الدفع لموكله بحدثان الوكالة.
والوصي يدعي الدفع للوارث بعد الإطلاق بالزمن اليسير. وإذا سلَّم الوكيل السلعة للموكل، ثم زعم بالقرب من زمن تسليم السلعة للموكل أنه زاد فيها زيادة تلزم الآمر، فإنه يُقبل منه، وإن ادعاه بعد طول لم يُقبل منه، وإذا زاد الوكيل في الثمن زيادة يسيرة فإنه لازم للآمر، بخلاف إذا نقص اليسير من الثمن في البيع.
والفرق أن الشراء لا يتأتى غالباً بما يجده الآمر، حتى لا يزيد الوكيل عليه شيئاً، وغرضه تحصيل المشتري، ولا يحصل إلا بتمكين الوكيل من زيادة يسيرة، بخلاف البيع، فإنه لا يلزم الموكل، لكونه يتأتى بما حد له، أو يرد على الموكل ما وكله على بيعه، وقيل النقصان اليسير من الثمن كالزيادة فيه. وإذا ابتاع الوكيل سلعة معيبة عيباً خفيفاً يغتفر مثله، فالشراء لازم لموكله إذا كان نظراً وفرصة، ويحط عن الشفيع ما حط على المبتاع،
ব্যতিক্রম (ثنيا), দায়বদ্ধতা (عهدة) এবং নির্বাচনের অধিকার (خيار)-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার সামান্য (يسير) সময় পর; এবং ভাড়াটে কর্তৃক সামান্য (يسير) দূরত্ব অতিক্রম করার ক্ষেত্রে; এবং যদি কেউ হারামের সন্নিকটে শিকারের উদ্দেশ্যে কিছু পাঠায় এবং তা হারামে প্রবেশের পূর্বেই শিকারটিকে হত্যা করে। এবং সালাম (سلم) বা অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়ের মূলধন দুই বা তিন দিন বিলম্ব করা, এবং নির্দিষ্ট বস্তুর ক্ষেত্রেও অনুরূপ সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা। এবং ভাড়াটে যদি ভাড়া প্রদানের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার সামান্য (يسير) সময় পর ভাড়া পরিশোধের দাবি করে। এবং শস্যের অংশীদার যদি ফসল মাড়াইয়ের স্তূপ (صوبة) সরানোর সামান্য (يسير) সময় পর তার অংশীদারকে পাওনা পরিশোধের দাবি করে; এবং কারিগর যদি পণ্যটি তার মালিকের নিকট হস্তান্তরের কাছাকাছি সময়ে—যেমন দুই দিন বা তার কাছাকাছি সময়—দাবি করে যে সে পারিশ্রমিক গ্রহণ করেনি। এবং প্রতিনিধি (وكيل) যদি প্রতিনিধিত্ব (وكالة) শুরু হওয়ার পরপরই তার মক্কেলকে পাওনা পরিশোধের দাবি করে।
এবং অছি (وصي) যদি দায়িত্বমুক্তির সামান্য (يسير) সময় পর উত্তরাধিকারীকে পাওনা পরিশোধের দাবি করে। যদি প্রতিনিধি (وكيل) মক্কেলের নিকট পণ্য হস্তান্তর করে এবং হস্তান্তরের কাছাকাছি সময়ে দাবি করে যে, সে এতে অতিরিক্ত কিছু ব্যয় করেছে যা আদেশদাতার (آمر) জন্য আবশ্যক, তবে তা তার পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হবে; কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর দাবি করলে তা গ্রহণ করা হবে না। আর প্রতিনিধি (وكيل) যদি মূল্যে সামান্য (يسير) বৃদ্ধি করে তবে তা আদেশদাতার জন্য আবশ্যক হবে, কিন্তু বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মূল্য সামান্য হ্রাস করা এর ব্যতিক্রম।
এর পার্থক্য এই যে, ক্রয় করা সাধারণত আদেশদাতার নির্ধারিত মূল্যে সম্ভব হয় না, ফলে প্রতিনিধির পক্ষে তাতে সামান্য (يسير) কিছু বৃদ্ধি না করে উপায় থাকে না; কারণ তার মূল উদ্দেশ্য হলো কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি সংগ্রহ করা, যা প্রতিনিধির সামান্য (يسير) মূল্য বৃদ্ধি ব্যতিরেকে অর্জিত হয় না। পক্ষান্তরে বিক্রয়ের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ সেখানে মূল্য কমানো মক্কেলের ওপর আবশ্যক হয় না, কেননা তা নির্ধারিত মূল্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, অথবা সে মক্কেলের নিকট বিক্রয়ের জন্য প্রদত্ত পণ্যটি ফেরত দিতে পারে। বলা হয়ে থাকে যে, মূল্যের সামান্য (يسير) হ্রাস করা সামান্য বৃদ্ধির মতোই। আর প্রতিনিধি (وكيل) যদি সামান্য ত্রুটিযুক্ত কোনো পণ্য ক্রয় করে—যে ধরনের ত্রুটি সাধারণত ক্ষমার যোগ্য—তবে সেই ক্রয় মক্কেলের জন্য আবশ্যক হবে যদি তাতে মক্কেলের কল্যাণ ও সুযোগ নিহিত থাকে। এবং অগ্রক্রয়াধিকারীর (شفيع) মূল্য থেকে ততটুকুই কমানো হবে যতটুকু ক্রেতার (مبتاع) জন্য কমানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৭২)
إذا كان يشبه حطيطه البيع. واستحقاق اليسير من المقوّم لا يوجب الفسخ، بخلاف الكثير. ويغتفر قطع اليسير من ذنب الأضحية، وأذنها، وإذا صالح على الإنكار، ثم استُحقَّ ما أخذ المدعي بقرب الصلح، فإنه ينقض، ويرجع على دعواه، وإن طال رجع بقيمته إن كان مقوماً، ويمثله إن كان مثلياً. والمرأة تعطي لزوجها مالاً على أن لا يتزوج عليها، أو على أن لا يطلقها، ثم يتزوج، أو يطلقها بالقرب.
قاعدة (16)الأمر هل يقتضي التكرار، أم لاوعليه إذا تعدد الولوغ، هل يتعدد الغسل بتعدده أم لا، وإذا تعدد المؤذنون، هل تتعدد الحكاية بتعددهم أم لا. والمشهور فيهما نفي التعدد. وإذا تكرر دخول المسجد، وقراءة السجدة.
قاعدة (17)إذا تعارض الأصل والغالب،
هل يؤخذ بالأصل، أو الغالب، فيه قولان:
وعليه في المذهب فروع ومسائل، منها الخلاف بين مالك وابن حبيب في دعوى المبتاع الجهل بالعيب الظاهر، فمالك قبل دعوته المبتاع بيمين، وابن حبيب والموثقون لم يقبلوها إذا كان العيب في موضع ظاهر لا يخفى غالباً.
যদি এটি বিক্রয়মূল্যের হ্রাসের সদৃশ হয়। আর মূল্যনির্ধারণযোগ্য (مقوّم) বস্তুর সামান্য অংশের হকদার হওয়া চুক্তি বাতিলের আবশ্যকতা তৈরি করে না, যা অধিক পরিমাণের ক্ষেত্রে ভিন্ন। কোরবানির পশুর লেজ বা কানের সামান্য অংশ বিচ্যুত হওয়া ক্ষমাযোগ্য। আর যদি অস্বীকৃতির ভিত্তিতে আপস করা হয়, অতঃপর যা দাবিদার গ্রহণ করেছে তা আপসের নিকটবর্তী সময়ে পাওনা হিসেবে সাব্যস্ত হয়, তবে তা বাতিল হয়ে যাবে এবং সে তার পূর্ব দাবির দিকে ফিরে যাবে। আর যদি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়, তবে বস্তুটি মূল্যনির্ধারণযোগ্য (مقوّم) হলে তার মূল্য এবং সমজাতীয় (مثلي) হলে তার অনুরূপ ফিরিয়ে দেবে। আর কোনো নারী তার স্বামীকে এই শর্তে অর্থ প্রদান করে যে, সে আর বিবাহ করবে না অথবা তাকে তালাক দেবে না, অতঃপর সে বিবাহ করে অথবা নিকটবর্তী সময়ে তাকে তালাক দেয়।
নীতিমালা (১৬)আদেশ কি পুনরাবৃত্তি (التكرار) দাবি করে, নাকি করে না?এর ভিত্তিতে, যদি (কুকুরের) লেহন একাধিকবার হয়, তবে সেই সংখ্যার কারণে ধৌত করাও একাধিকবার হবে কি না? আর যদি মুয়াজ্জিন একাধিক হয়, তবে আযানের উত্তর প্রদান (الحكاية) কি তাদের সংখ্যার কারণে একাধিক হবে কি না? এই উভয় মাসআলায় প্রসিদ্ধ (مشهور) অভিমত হলো একাধিক না হওয়া। আর যখন বারবার মসজিদে প্রবেশ করা হয় এবং সিজদাহর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়।
নীতিমালা (১৭)যখন মূল অবস্থা (الأصل) এবং প্রবল অবস্থা (الغالب) পরস্পর বিরোধী হয়،
তখন কি মূল অবস্থা (الأصل) গ্রহণ করা হবে নাকি প্রবল অবস্থা (الغالب)? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:
এর ভিত্তিতে মাযহাবে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা ও মাসআলা রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো ক্রেতার প্রকাশ্য ত্রুটি সম্পর্কে অজ্ঞতা দাবির বিষয়ে ইমাম মালিক এবং ইবনে হাবিবের মধ্যকার মতভেদ। ইমাম মালিক শপথের মাধ্যমে ক্রেতার দাবি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু ইবনে হাবিব এবং প্রামাণ্য দলিল লেখকগণ তা গ্রহণ করেননি যখন ত্রুটিটি এমন কোনো প্রকাশ্য স্থানে থাকে যা সাধারণত (غالباً) গোপন থাকে না।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
تنبيه:
قال القرافي: هذا ليس على إطلاقه، بل اجتمعت الأمة على اعتبار الأصل، وإلغاء الغالب، في دعوى الدين ونحوه، فإن القول قول المدعى عليه، وإن كان الطالب أصلح الناس، وأتقاهم لله، ومن الغالب عليه أن لا يدعي إلا ماله، فهذا الغالب ملغي إجماعاً، واتفق الناس على تقديم الغالب، وإلغاء الأصل في البينة إذا شهدت، فإن الغالب صدقها، والأصل براءة ذمة المشهود عليه، وألغي الأصل ها هنا بالإجماع، عكس الأول، فليس الخلاف على الإطلاق.
قاعدة (18)كل عضو غسل هل يرتفع حدثه، أو لا، إلا بالكمال والفراغوعليه تفريق النية على الأعضاء، ولِبس أحد الخفين، قبل غسل الخرى، عند قوم.
تنبيهات:
الأول: استشكل ابن راشد تصوير مسألة تفريق النية، على الأعضاء، وذكر عن بعض أشياخه أنه كان ينكر القاعدة التي بني عليها خلافُ المسألة، ويقول: لا أصل لها.
ابن عبد السلام: ولا معنى لإنكاره له، بعد نقل جماعة كثيرة المسائلَ الدالة عليه.
সতর্কতা:
ইমাম কারাফি বলেছেন: এটি নিরঙ্কুশ নয়, বরং ঋণ বা অনুরূপ দাবির ক্ষেত্রে মূল অবস্থাকে (الأصل) ধর্তব্য গণ্য করা এবং প্রবলতাকে (الغالب) অগ্রাহ্য করার ওপর উম্মাহ একমত হয়েছে। কেননা এক্ষেত্রে বক্তব্য কেবল বিবাদীরই (যার বিরুদ্ধে দাবি করা হয়েছে) ধর্তব্য হবে, যদিও দাবিদার ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সৎ ও আল্লাহভীরু হয়ে থাকেন এবং যার ব্যাপারে প্রবল ধারণা (الغالب) এই যে, তিনি নিজের হক ছাড়া অন্য কিছু দাবি করবেন না। সুতরাং এই প্রবলতাকে (الغالب) সর্বসম্মতিক্রমে (إجماعاً) বাতিল গণ্য করা হয়েছে। আবার সাক্ষ্য-প্রমাণ (البينة) যখন সাক্ষ্য দেয়, তখন মানুষ প্রবলতাকে (الغالب) প্রাধান্য দিতে এবং মূল অবস্থাকে (الأصل) বর্জন করতে একমত হয়েছে। কারণ সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে প্রবল সম্ভাবনা (الغالب) হলো তার সত্যতা, আর মূল অবস্থা (الأصل) হলো বিবাদীর দায়মুক্তি। এখানে সর্বসম্মতিক্রমে (إجماعاً) মূল অবস্থাকে (الأصل) অগ্রাহ্য করা হয়েছে, যা প্রথম বিষয়ের বিপরীত। সুতরাং এই মতভেদ নিরঙ্কুশ নয়।
কায়দাহ (১৮)ধৌত করা প্রতিটি অঙ্গের অপবিত্রতা (حدث) কি দূর হয়ে যায়, নাকি পূর্ণতা ও সমাপ্তি ছাড়া তা দূর হয় না?আর এর ওপর ভিত্তি করেই একদল আলিমের মতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রে নিয়ত (النية) পৃথক করা এবং অপরটি ধৌত করার পূর্বে চামড়ার মোজা (الخفين) দুটির একটি পরিধান করার মাসআলাটি আবর্তিত হয়।
সতর্কীকরণসমূহ:
প্রথম: ইবনে রাশিদ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রে নিয়ত (النية) পৃথক করার মাসআলাটির চিত্রায়নে জটিলতা অনুভব করেছেন এবং তাঁর কোনো কোনো উস্তাদ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সেই কায়দাহটিই অস্বীকার করতেন যার ওপর ভিত্তি করে মাসআলাটির মতভেদ গড়ে উঠেছে এবং তিনি বলতেন: এর কোনো ভিত্তি (لا أصل لها) নেই।
ইবনে আবদুস সালাম বলেন: একটি বৃহৎ জামাত এই মাসআলার সপক্ষে প্রমাণাদি বর্ণনা করার পর তাঁর এই অস্বীকৃতির কোনো অর্থ হয় না।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
أبو عمران: وما زال الحذاق من الشيوخ، يبنون عليه، وتظهر فائدته في مسائل، وذلك كاف في ثبوت الخلاف في مثله، وكثير من الأصول في المذهب، لا تجد الخلاف منصوصاً، في أصلها، مع كونهم يذكرون الخلاف، ويبنون عليه، وذلك: مثل قولهم في عقد الخيار، هل هو مخل، حتى ينعقد، أو بالعكس.
الثاني: أنكر ابن العربي وجود القول بأن كل عضو يطهر بانفراده، قال: وإنما تقول الشافعية، وهو مع ذلك أصل فاسد، فإنه يلزم عليه أن يجوز مسّ المصحف لمن غسل وجهه ويديه، وهو خلاف الإجماع.
وأجاب ابن عرفة- رحمه الله بأنه لا يلزم، لأنا وإن قلنا بأن كل عضو يطهر بانفراده، فإنا إنما نعرف ذلك بإكمال الوضوء، فإتمام الوضوء كاشف بأن العضو قد طهر، ولا يُمس المصحف قبل تبين الكاشف.
قال بعض حذاق تلامذته: ولا يخفى عليك ما في الجواب من التكلف، ثم هو غير سديد، فإن القائل بذلك يرى أن العضو بنفس الفراغ منه طهر، دون انتظار شيء، ولذا أجروا عليه صحة تفريق النية على الأعضاء.
واحتجوا له بحديث: (إذا توضأ العبد، فغسل وجهه، خرجت الخطايا من وجهه
… ) الحديث إلى آخره.
قالوا لأن خروج الخطايا من العضو، إنما يكون بعد طهارته في نفسه
আবু ইমরান: প্রাজ্ঞ উস্তাদগণ (الشيوخ) নিরবচ্ছিন্নভাবে এর ওপর ভিত্তি স্থাপন করে চলেছেন এবং বিভিন্ন মাসআলা (مسائل)-য় এর উপযোগিতা প্রকাশ পায়। এ ধরণের বিষয়ে মতভেদ (الخلاف) সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট। মাযহাবের অনেক মূলনীতি (الأصول)-র ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তার মূলে স্পষ্টভাবে মতভেদ (الخلاف) বর্ণিত নেই, যদিও তাঁরা মতভেদ (الخلاف) উল্লেখ করেন এবং তার ওপর ভিত্তি করেন। উদাহরণস্বরূপ: ইখতিয়ারের চুক্তিতে (عقد الخيار) তাঁদের বক্তব্য—এটি কি সম্পন্ন হতে বাধা প্রদান করে, নাকি এর বিপরীত?
দ্বিতীয়ত: ইবনুল আরাবি এই অভিমতের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন যে, প্রতিটি অঙ্গ পৃথকভাবে পবিত্র হয়। তিনি বলেছেন: এটি মূলত শাফেয়ীদের বক্তব্য, তবে তা সত্ত্বেও এটি একটি অসার মূলনীতি (أصل فاسد)। কারণ এর ফলে এমনটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, যে ব্যক্তি কেবল তার মুখমণ্ডল ও দুই হাত ধৌত করেছে, তার জন্য মুসহাফ স্পর্শ করা জায়েয হয়ে যাবে, যা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (الإجماع) পরিপন্থী।
ইবনে আরাফা (রহিমাহুল্লাহ) উত্তর দিয়েছেন যে, এটি আবশ্যক হয় না। কারণ যদিও আমরা বলি যে প্রতিটি অঙ্গ পৃথকভাবে পবিত্র হয়, তবুও আমরা তা ওযু পূর্ণ করার মাধ্যমেই জানতে পারি। সুতরাং ওযু সম্পন্ন হওয়া এই বিষয়ের পরিচায়ক যে অঙ্গটি পবিত্র হয়েছে। আর এই পরিচায়ক স্পষ্ট হওয়ার পূর্বে মুসহাফ স্পর্শ করা যাবে না।
তাঁর প্রাজ্ঞ ছাত্রদের কেউ কেউ বলেছেন: এই উত্তরের মধ্যে যে কৃত্রিমতা রয়েছে তা আপনার নিকট অস্পষ্ট নয়। অধিকন্তু, এটি সঠিক নয়; কারণ যিনি এই মত পোষণ করেন, তিনি মনে করেন যে অঙ্গটি ধৌত করা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তা পবিত্র হয়ে যায়, অন্য কিছুর জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন হয় না। এই কারণেই তাঁরা প্রতিটি অঙ্গের জন্য পৃথকভাবে নিয়ত (النية) করার বৈধতার বিষয়টি এর ওপর প্রয়োগ করেছেন।
তাঁরা এর সপক্ষে এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন (احتجوا): "যখন কোনো বান্দা ওযু করে এবং তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার মুখমণ্ডল থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়
… " হাদিসটি শেষ পর্যন্ত।
তাঁরা বলেছেন, কারণ কোনো অঙ্গ থেকে গুনাহ বের হওয়া কেবল তখনই সম্ভব যখন সেই অঙ্গটি নিজেই পবিত্র হয়।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
دون نظر إلى شيء، ويلزم على ما ذكر أن لا يصدق أن الخطايا خرجت بغسل الوجه.
قال: وأبين من جوابه، أن المشترط من مس المصحف طهارة الشخص، لا طهارة العضو، لقوله تعالى: (لا يمسه إلا المطهرون)، فالعضو قد طهر بالفراغ منه، ولا يمس المصحف حتى يطهر الشخص، وبنحو هذا أجاب ابن عطية، وشهاب الدين، والله أعلم.
الثالث: استبعد ابن عبد السلام القول، بأنَّ الحدث لا يرتفع إلا بالإكمال.
قال: وهذا يوجب أن بقية الأعضاء لا حدث عليها، حتى إنه يجوز للمحدث أن يمس المصحف بغير أعضاء الوضوء، إذ الحدث وارتفاعه إنما يكون فيها وعنها.
وألزم عليه أيضاً عدم تأثير الحدث في الطهارة إلا بعد الفراغ منها لأنه إذا لم تحصل الطهارة فلا معنى لنقضها، فإذا من توضأ ثم بال بعد غسل الرجل اليمنى لم يلزمه غير غسل الرجل اليسرى، وذلك شيء لا يقال به.
قاعدة (19)الشيء إذا اتصل بغيره هل يعطى له حكم مباديه أو حكم محاديهوعليه الخلاف في وجوب غسل ما طال من اللحية والأظفار وشعر الرأس، ونجاسة أعلى القرن والسن والظلف والظفر وناب الفيل، ومسح
কোনো বিষয়ের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে; এবং যা উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে এটি অনিবার্য হয়ে পড়ে যে, মুখমণ্ডল ধৌত করার মাধ্যমে পাপসমূহ মোচন হওয়ার বিষয়টি সত্য বলে গণ্য হবে না।
তিনি বলেন: তাঁর উত্তরের চেয়েও স্পষ্টতর হলো যে, মুসহাফ স্পর্শ করার জন্য শর্ত হলো ব্যক্তির পবিত্রতা, কেবল নির্দিষ্ট অঙ্গের পবিত্রতা নয়; কেননা মহান আল্লাহর বাণী হলো: (পবিত্রগণ ব্যতীত কেউ তা স্পর্শ করবে না)। সুতরাং সংশ্লিষ্ট অঙ্গটি ধোয়ার কাজ সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে পবিত্র হয়ে গেছে সত্য, কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তি পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন না করছে, ততক্ষণ সে মুসহাফ স্পর্শ করবে না। ইবনে আতিয়্যাহ এবং শিহাবুদ্দিন অনুরূপ উত্তর দিয়েছেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তৃতীয়ত: ইবনে আবদুস সালাম এই মতটিকে সুদূরপরাহত মনে করেছেন যে, অপবিত্রতা (حدث) পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন হওয়া ব্যতীত দূরীভূত হয় না।
তিনি বলেন: এটি এ কথাকে আবশ্যক করে যে, বাকি অঙ্গগুলোতে কোনো অপবিত্রতা (حدث) নেই; এমনকি একজন অপবিত্র ব্যক্তির (محدث) জন্য ওজুর অঙ্গ ব্যতীত অন্য অঙ্গ দিয়ে মুসহাফ স্পর্শ করা বৈধ হওয়া উচিত, যেহেতু অপবিত্রতা (حدث) এবং তা দূরীভূত হওয়া কেবল ওজুর অঙ্গগুলোর সাথেই সংশ্লিষ্ট।
এর ওপর আরও এ বিষয়টি আপত্তিকর হিসেবে আপতিত হয় যে, পবিত্রতা অর্জনের কাজ শেষ হওয়ার আগে অপবিত্রতা (حدث) তাতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ যদি পবিত্রতাই অর্জিত না হয়, তবে তা ভঙ্গ হওয়ারও কোনো অর্থ থাকে না। সুতরাং, যে ব্যক্তি ওজু করার সময় ডান পা ধোয়ার পর প্রস্রাব করল, তার জন্য বাম পা ধোয়া ছাড়া আর কিছুই আবশ্যক হবে না—অথচ এটি এমন কথা যা কেউ বলে না।
১৯তম নীতিমালা (قاعدة)একটি বস্তু যখন অন্য কিছুর সাথে যুক্ত হয়, তখন কি তাকে তার মূল উৎসের বিধান প্রদান করা হবে নাকি যা তার সাথে লেগে আছে তার বিধান প্রদান করা হবে?আর এর ওপর ভিত্তি করেই লম্বা হয়ে যাওয়া দাড়ি, নখ এবং মাথার চুল ধোয়ার আবশ্যকতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; এবং শিং-এর উপরিভাগ, দাঁত, খুর, নখ ও হাতির দাঁতের অপবিত্রতা (نجاسة) এবং মাসেহ (مسح) করার বিধানের ক্ষেত্রেও।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
باطن الأذنين لأنهما في أصلهما كالوردة، وميتة ما تطول حياته في البر من البحر. والملح يذوب في الماء، وشجرة الحرم يصادما على غصنها الذي في الحل، وفي عكسه يجب الجزاء باتفاق.
قاعدة (20)من جرى له سبب يقتضي المطالبة بالتمليك،
هل يُعطى حكمَ من ملك، أم لا، وهو المعبَّر عنه
بمن ملك أن يملك هل يُعدُّ مالكاً أو لا
وعليه فروع. كمن يقبل التداوي أو يقدر على التسري في الإسلاس. ومن وُهِب له الماء وقد تيمم، (وكذا) أخذُ الزكاة لمن لا مال له، ويقدر على التكسب، أو أُجري عليه نفقة، والمشهور عدم اشتراط القدرة في جواز أخذها. ومن ابتاع عشرة ثياب فاستُحق منها ثمانيةٌ، فأراد أن يتمسك المشتري بالاثنين الباقيين منها، فإنه منع ذلك في المدونة، وأجازه في واضحة ابن حبيب.
والخلاف فيها على من ملك أن يملك هل يُعد مالكاً، (أو لا يُعد)، إذا اختار أحد الوجهين اللذين خُير بينهما، فإن تمسك بالثوبين الباقيين عبد علمه بمقدار ما ينوبهما من الثمن جاز باتفاق القولين.
ومن سرق من الغنيمة قبل القسم، وكذلك عالمُ القراض، وُجد في
কানের অভ্যন্তরীণ ভাগ, কারণ তা তাদের মূলগত অবস্থায় গোলাপের ন্যায়; এবং ঐ সকল জলজ প্রাণীর মৃতদেহ (ميتة) যা স্থলেও দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে সক্ষম। পানিতে দ্রবীভূত লবণ। হারামের বৃক্ষ যার হিল (الحل) বা হারাম বহির্ভূত এলাকার দিকে ঝুলে থাকা ডালে শিকার করা হয়; এবং এর বিপরীত অবস্থায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে (باتفاق) বিনিময় (الجزاء) প্রদান করা ওয়াজিব।
নীতি (قاعدة) (২০): যার ক্ষেত্রে এমন কোনো কারণ সাব্যস্ত হয়েছে যা মালিকানা প্রদান (تمليك) দাবি করার অধিকার প্রদান করে،
তাকে কি ঐ ব্যক্তির হুকুম প্রদান করা হবে যে মালিক হয়ে গেছে, নাকি হবে না? একে এভাবে ব্যক্ত করা হয় যে—যে ব্যক্তি মালিক হওয়ার সামর্থ্য রাখে সে কি মালিক হিসেবে গণ্য হবে নাকি হবে না?
এবং এর ওপর অনেক শাখা-মাসআলা (فروع) নির্ভরশীল। যেমন: যে ব্যক্তি চিকিৎসা গ্রহণে সক্ষম অথবা দেউলিয়া (إفلاس) অবস্থায় দাসী রাখার সামর্থ্য রাখে। যাকে পানি দান করা হয়েছে অথচ সে তায়াম্মুম (تيمم) করেছে। (অনুরূপভাবে) যার কোনো সম্পদ নেই কিন্তু উপার্জনের সক্ষমতা রাখে, অথবা যার জন্য নাফাকাহ (نفقة) বরাদ্দ আছে, তার যাকাত (زكاة) গ্রহণ করার বিষয়টি; এক্ষেত্রে মাশহুর (المشهور) মতানুযায়ী যাকাত বৈধ হওয়ার জন্য উপার্জনের সক্ষমতাকে শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয় না। আর যে ব্যক্তি দশটি কাপড় ক্রয় করেছে যার মধ্য হতে আটটির ওপর অন্যের অধিকার সাব্যস্ত হয়েছে, এমতাবস্থায় ক্রেতা অবশিষ্ট দুটি কাপড় নিজের কাছে রেখে দিতে চেয়েছে; আল-মুদাওওয়ানা গ্রন্থে একে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ইবন হাবিবের ওয়াজিহা গ্রন্থে একে জায়েজ বলা হয়েছে।
এক্ষেত্রে মতপার্থক্যটি এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে যে—যে ব্যক্তি মালিক হওয়ার সামর্থ্য রাখে সে কি মালিক হিসেবে গণ্য হবে (নাকি গণ্য হবে না), যখন সে তাকে দেওয়া দুটি ইখতিয়ারের মধ্য হতে একটিকে বেছে নেয়। যদি সে অবশিষ্ট দুটি কাপড় নিজের কাছে রেখে দেয় এবং সেটির মূল্যের আনুপাতিক অংশ জানার পর তা গ্রহণ করে, তবে উভয় মতেই তা বৈধ হবে।
এবং বন্টনের পূর্বে গনিমত (غنيمة) থেকে যে চুরি করেছে, অনুরূপভাবে কিরাদ (قراض) সম্পর্কে অবগত ব্যক্তি, যাকে পাওয়া যায়...
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
حقه سببٌ يقتضي المطالبة بالقسمة، وإعطائه نصيبه من الربح، فهل يُعد مالكاً بالظهور، أو لا يملك إلا بالقسمة، وهو المشهور، قولان في المذهب، وكذلك إذا باع أحدُ الشريكين، تحقق للشريك سبب يقتضي المطالبة بأن يملك القص المبيع بالشفعة.
قال القرافي ولم أر خلافاً في أنه غير مالك.
تنبيه:
قال ابن راشد: وكان شيخنا القرافي يُنكر هذه القاعدة ويقول أرأيت من كانت عنده خمر، وهو يقدر على شربها، وكذلك السرقة.
قال في الفرق الحادي والعشرين والمائة: وبيان بطلانها: أن الإنسان ملك أن يملك أربعين شاة، فهل يتخيل أحد أن يُعدّ مالكاً قبل شرائها حتى تجب عليه الزكاة على أحد القولين، وإذا كان الآن قادراً على أن يتزوج، فهل يجري في وجوب الصداق والنفقة عليه قولان قبل أن يخطب المرأة، ولأنه ملك أن يملك خادماً ودابة، فهل يقول أحد إنه يُعد مالكاً لهما الآن، فتجب عليه نفقتهما على قول من الأقوال الشاذة أو الجادة بل هذا لا يتخيله من عنده أدنى مسكة من العقل والفقه، وكذلك الإنسان ملك أن يشتري أقاربه، فهل يعد أحد من الفقهاء مالكاً لقريبه، فيعتق عليه قبل شرائه على أحد القولين في هذه القاعدة، على زعم من اعتقدها، بل هذا كله باطل بالضرورة، ولا يمكن أن يُجعل هذا من قواعد الشريعة البتة، بل القاعدة التي يُمكن أن تُجعل قاعدة شرعية، ويجري الخلاف في بعض فروعها، لا في كلها: أن من جرى له سبب يقتضي المطالبة بالتمليك، هل يُعطى حكم من ملك، أم لا. انتهى.
তাঁর অধিকার এমন একটি কারণ যা বণ্টন (القسمة) দাবি করার এবং লভ্যাংশ থেকে তাঁর অংশ প্রদানের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। এমতাবস্থায় তিনি কি লভ্যাংশ প্রকাশ পাওয়ার মাধ্যমেই মালিক (مالكاً) হিসেবে গণ্য হবেন, নাকি বণ্টন (القسمة) ছাড়া মালিকানা সাব্যস্ত হবে না? দ্বিতীয় মতটিই প্রসিদ্ধ (المشهور)। এ বিষয়ে মাযহাবে দুটি অভিমত (قولان) রয়েছে। অনুরূপভাবে, যখন অংশীদারদের একজন কোনো কিছু বিক্রি করেন, তখন অপর অংশীদারের জন্য এমন এক কারণ সাব্যস্ত হয় যা তাকে অগ্রক্রয়াধিকারের (الشفعة) মাধ্যমে বিক্রিত অংশটির মালিকানা দাবি করতে উদ্বুদ্ধ করে।
আল-কারাফি বলেছেন: "তিনি যে মালিক (مالك) নন, এ ব্যাপারে আমি কোনো মতভেদ দেখিনি।"
সতর্কীকরণ (تنبيه):
ইবনে রাশিদ বলেন: আমাদের শায়খ আল-কারাফি এই মূলনীতিটি (القاعدة) অস্বীকার করতেন এবং বলতেন—আপনারা কি তাকে দেখেছেন যার কাছে মদ রয়েছে এবং সে তা পান করার সামর্থ্য রাখে? তদ্রূপ চুরির বিষয়টিও।
তিনি একশত একুশতম পার্থক্যে (الفرق) বলেছেন: "এর অসারতা বর্ণনায় বলা যায় যে, একজন মানুষ চল্লিশটি ছাগলের মালিক (يملك) হওয়ার সক্ষমতা রাখে, এখন কেউ কি কল্পনা করতে পারে যে সে ছাগলগুলো ক্রয়ের আগেই মালিক (مالكاً) হিসেবে গণ্য হবে, এমনকি দুটি মতের (القولين) কোনো একটি অনুযায়ী তার ওপর জাকাত (الزكاة) ফরজ হয়ে যাবে? আর সে যদি এখন বিবাহ করতে সক্ষম হয়, তবে কি কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়ার আগেই তার ওপর মোহর (الصداق) এবং ভরণপোষণ (النفقة) ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দুটি মত (قولان) প্রযোজ্য হবে? কারণ সে একজন খাদেম (خادماً) বা চতুষ্পদ জন্তুর (دابة) মালিক (يملك) হওয়ার ক্ষমতা রাখে, তবে কি কেউ বলবে যে সে বর্তমানেই এগুলোর মালিক (مالكاً) হিসেবে গণ্য হবে, যার ফলে কোনো বিরল (الشاذة) বা প্রচলিত মত অনুযায়ী এগুলোর ভরণপোষণ তার ওপর ওয়াজিব হবে? বরং যার সামান্যতম বুদ্ধি ও ফিকহ (الفقه) বোধ আছে, সেও এটি কল্পনা করবে না। অনুরূপভাবে, কোনো ব্যক্তি তার নিকটাত্মীয়দের ক্রয় করার সামর্থ্য রাখে, তবে কি ফকিহগণের (الفقهاء) মধ্যে কেউ তাকে তার নিকটাত্মীয়ের মালিক (مالكاً) গণ্য করবেন, ফলে যারা এই নীতিতে বিশ্বাসী তাদের দাবি অনুযায়ী দুটি মতের একটির ভিত্তিতে ক্রয়ের আগেই কি সেই আত্মীয় তার পক্ষ থেকে মুক্ত (فيعتق) হয়ে যাবে? বরং এ সবই নিশ্চিতভাবে বাতিল (باطل)। একে কোনোভাবেই শরীয়তের মূলনীতিসমূহের (قواعد الشريعة) অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। বরং যে নীতিটিকে একটি শরয়ী মূলনীতি (قاعدة شرعية) হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এবং যার সব ক্ষেত্রে নয় বরং কিছু শাখাগত মাসআলায় (فروعها) মতভেদ পরিলক্ষিত হয়, তা হলো: যার অনুকূলে মালিকানা (التمليك) দাবি করার মতো কোনো কারণ তৈরি হয়েছে, তাকে কি মালিক (ملك) হওয়া ব্যক্তির বিধান (حكم) প্রদান করা হবে নাকি হবে না।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
تنبيه:
لم يجعلوا من فروع القاعدة جبر الغرماء المفلس على انتزاع مال مُدبره، ومستولدته، ومعتقه إلى أجل، وما وُهب لولده، وإن ملك انتزاع ذلك واعتصاره، لأن الغرماء لم يعاملوه على أن يُلزموه انتزاع ذلك، كما لا يُلزموه قبول ما بُذل له من المعروف كسلفٍ ووصية وهبة وصدقة، وكذلك لم يختلف المذهب فيمن قال لعبده: أنت حر إن شئت، أن له أن يرق نفسه، ولا يختار الحرية.
قاعدة (21)الشك في الشرط مانع من ترتب المشروطومن ثم وجوب الوضوء على من تيقن الطهارة وشك في الحدث، وامتنع القصاص من الأب في قتل ابنه.
قاعدة (22)الشك في المانع لا أثر لهومن ثم لم يلزم الطلاق، والعتاق، والظهار، وحرمة الرضاع بالشك.
সতর্কতা:
তারা (ফকিহগণ) এই মূলনীতির শাখা হিসেবে দেউলিয়া ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে তার মুদাব্বার (মৃত্যুর পর মুক্ত হবে এমন দাস), উম্মু ওয়ালাদ এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের পর মুক্ত হবে এমন দাসের সম্পদ জোরপূর্বক গ্রহণে বাধ্য করাকে অন্তর্ভুক্ত করেননি; তেমনিভাবে তার সন্তানকে যা দান করা হয়েছে তাও এর অন্তর্ভুক্ত নয়। যদিও উক্ত দেউলিয়া ব্যক্তি তা জোরপূর্বক গ্রহণ বা ফেরত নেওয়ার মালিকানা রাখে, তথাপি পাওনাদারগণ তাকে তা করতে বাধ্য করতে পারবে না। কারণ পাওনাদারগণ তার সাথে এই শর্তে লেনদেন করেনি যে, তারা তাকে এসব সম্পদ গ্রহণে বাধ্য করবে। যেমন তাকে সদয় হয়ে প্রদানকৃত কোনো ঋণ, অসিয়ত, হেবা কিংবা সদকা গ্রহণেও তাকে বাধ্য করা যায় না। অনুরূপভাবে মাযহাবের মধ্যে সেই ব্যক্তির ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে তার দাসকে বলেছে: "তুমি চাইলে মুক্ত," এক্ষেত্রে ওই দাসের অধিকার রয়েছে নিজের দাসত্ব বজায় রাখার এবং মুক্তি বেছে না নেওয়ার।
কায়দা (২১)শর্তের ব্যাপারে সন্দেহ হওয়া শর্তযুক্ত বিষয় (مشروط) সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক (مانع)আর এখান থেকেই প্রমাণিত হয়—যে ব্যক্তি পবিত্রতার বিষয়ে নিশ্চিত কিন্তু অশুচিতার (حدث) ব্যাপারে সন্দিহান, তার ওপর অজু ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি এবং নিজের সন্তানকে হত্যার দায়ে পিতার ওপর কিসাস প্রয়োগ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি।
কায়দা (২২)প্রতিবন্ধকের (مانع) ব্যাপারে সন্দেহের কোনো প্রভাব নেইআর এ কারণেই সন্দেহবশত তালাক, দাসমুক্তি, যিহার এবং দুগ্ধপানজনিত বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা (হারাম হওয়া) সাব্যস্ত হয় না।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
قاعدة (23)التقدير بأولى المشتركتين، أو الأخيرةوعليه إذا قدم المسافر، أو طهرت الحائض لأربع قبل الفجر.
قاعدة (24)نية عدد الركعات هل تعتبر، أم لاوعليه لو نوى القصر فأتم، وعكسه، ومن ظن الظهر جمعةً، وعكسه.
قاعدة (25)نية الأداء هل تنوب عن نية القضاء، وعكسه، أم لاوعلى الأول: مسألة الأسير إذا التبست عليه الشهور، فصام شعبان يعتقد أنه رمضان، هل يجزي شعبان السنة الثانية عن رمضان السنة الأولى، أم لا، ومن استيقظ بعد طلوع الشمس ولم يعلم بطلوعها فصلى الصبح أداء، ثم تبين له الطلوع، وعلى الثاني من صام رمضان عن رمضان.
تنبيه:
حكى بعض الشيوخ أن نية الأداء والقضاء في الصلاة لا تُشترط اتفاقاً، فإذا نوى القضاء في الأداء أو العكس ففي البطلان قولان.
নীতি (قاعدة) (২৩)দুইটি অংশীদারী সময়ের প্রথমটি অথবা শেষটি দ্বারা নির্ধারণ করাএর ওপর ভিত্তি করে, যদি কোনো মুসাফির (مسافر) আগমন করে অথবা কোনো ঋতুমতী নারী ফজরের চার (সময় একক) পূর্বে পবিত্র (طهرت) হয়।
নীতি (قاعدة) (২৪)রাকাতের সংখ্যার নিয়ত (نية) করা কি ধর্তব্য হবে কি না?এর ওপর ভিত্তি করে, যদি কেউ কসর (قصر)-এর নিয়ত করে পূর্ণ (أتم) সালাত আদায় করে এবং এর বিপরীত ক্ষেত্রে; আর যে ব্যক্তি জোহরকে জুমা মনে করেছে এবং এর বিপরীত ক্ষেত্রে।
নীতি (قاعدة) (২৫)আদায় (أداء)-এর নিয়ত কি কাজা (قضاء)-এর নিয়তের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং এর বিপরীত ক্ষেত্রে, নাকি হবে না?প্রথম মতানুসারে: সেই বন্দীর মাসয়ালা যার নিকট মাসসমূহ অস্পষ্ট হয়ে গেছে, ফলে সে রমজান মনে করে শাবান মাসে রোজা রেখেছে; তবে দ্বিতীয় বছরের শাবান কি প্রথম বছরের রমজানের পক্ষ থেকে যথেষ্ট (يجزي) হবে কি না? আর যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পর জাগ্রত হয়েছে এবং সূর্যোদয় সম্পর্কে অবগত ছিল না, ফলে সে ফজরের সালাত আদায় (أداء) হিসেবে পড়েছে, অতঃপর তার নিকট সূর্যোদয়ের বিষয়টি প্রকাশ পেল। আর দ্বিতীয় মতানুসারে, যে ব্যক্তি রমজানের পরিবর্তে রমজানের রোজা রেখেছে।
সতর্কীকরণ:
কোনো কোনো শায়খ বর্ণনা করেছেন যে, সালাতে আদায় (أداء) এবং কাজা (قضاء)-এর নিয়ত করা সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاقاً) শর্ত নয়। সুতরাং যদি কেউ আদায়ের স্থলে কাজা বা এর বিপরীতে নিয়ত করে, তবে তা বাতিল (بطلان) হওয়া প্রসঙ্গে দুটি মত (قولان) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৮০)
قاعدة (26)الشك في النقصان كتحققهومن ثم لو شك أصلي ثلاثاً أو أربعاً، أتى برابعة، أو شك في بعض أشواط الطواف أو السعي، أو شك هل أتى بالثالثة في الوضوء أو لا، وفيها بين الشيوخ تنازع وهل ظن الكمال كذلك أو لا، قولان.
وهي قاعدة الذمة إذا عمرت بيقين فلا تبرأ إلا بيقين.
قاعدة (27)الذمة إذا عمرت بيقين، فلا تبرأ إلا بيقينومنها الشك في إخراج ما عليه من الزكاة، والكفارة، والهدي، وقضاء رمضان، والواجب غير المعين، بخلاف المعين على المشهور، ومن شك في قضاء ما عليه من الدين، في تحليف ربه إذ ذلك قولان، وعكس هذه القاعدة.
قاعدة (28)الشك في الزيادة كتحققهاومنها الشك في حصول التفاضل في عقود الربا، والشك في عدد
মূলনীতি (২৬)কম হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ হওয়া সেটিকে নিশ্চিত হওয়ার সমতুল্য গণ্য করাএর ভিত্তিতে কেউ যদি তিন রাকাত নাকি চার রাকাত পড়েছে সে বিষয়ে সন্দেহ করে, তবে সে চতুর্থ রাকাত আদায় করবে। অথবা যদি তাওয়াফ বা সাঈর কোনো চক্করের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ করে, কিংবা ওজু করার সময় অঙ্গটি তৃতীয়বার ধৌত করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ করে (তবে তাকে তা সম্পন্ন করতে হবে)। এ বিষয়ে শায়খদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আর কাজ পূর্ণ হওয়ার প্রবল ধারণা কি নিশ্চিত হওয়ার মতোই গণ্য হবে কি না, এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।
এটি মূলত সেই মূলনীতি যে—দায় যখন নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হয়, তখন নিশ্চিত হওয়া ছাড়া তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।
মূলনীতি (২৭)দায় যখন নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হয়, তখন নিশ্চিত হওয়া ছাড়া তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় নাএর অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ হলো—নিজের উপর ওয়াজিব হওয়া জাকাত, কাফফারা, হাদি (কুরবানির পশু), রমজানের কাজা এবং অনির্ধারিত ওয়াজিব আদায়ের ব্যাপারে সন্দেহ হওয়া। তবে প্রসিদ্ধ (مشهور) মত অনুযায়ী নির্ধারিত ওয়াজিবের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। আর কেউ যদি নিজের কোনো ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে, তবে পাওনাদারকে শপথ করানোর বিষয়ে দুটি মত রয়েছে, যা এই মূলনীতির বিপরীত।
মূলনীতি (২৮)অতিরিক্ত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ হওয়া সেটিকে নিশ্চিত হওয়ার সমতুল্য গণ্য করাএর অন্তর্ভুক্ত হলো—সুদি চুক্তিতে কমবেশি বা তারতম্য হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ হওয়া এবং সংখ্যার ক্ষেত্রে সন্দেহ হওয়া...
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৮১)
الطلاق، ومذهب الكتاب لزوم الثلاث، وقيل واحدة رجعية، بناء على أنه تحقق التحريم، وحِل الرجعة مشكوك، أو تحقق ملك الثلاث، وسقوط اثنين مشكوك.
قاعدة (29)التخيير في الجملة، هل يقتضي التخيير في الأبعاض، أم لاوعليه تبعيض الكفارة، وإذا افتتح النفل قائماً ثم شاء الجلوس، وفيها قولان، لابن القاسم وأشهب، بخلاف العكس.
قاعدة (30)كل جزء من الصلاة قائم بنفسه أو صحة أولها متوقفة على صحة آخرهااختلفوا فيه.
والأول قول الشافعي رضي الله عنه، وعليه طرو العتق في الصلاة
তালাক, এবং কিতাবের মাযহাব অনুযায়ী তিন তালাক কার্যকর হওয়া আবশ্যক; আর বলা হয়েছে যে এটি একটি রাজয়ি (رجعية) তালাক। এর ভিত্তি হলো যে, হারাম হওয়া নিশ্চিত হয়েছে, কিন্তু পুনরায় ফিরে পাওয়ার বৈধতা (حِل الرجعة) সন্দেহযুক্ত; অথবা তিনের মালিকানা নিশ্চিত হয়েছে, আর দুইটির পতন হওয়া সন্দেহযুক্ত।
কায়দা (قاعدة) (২৯)সামগ্রিকভাবে ইখতিয়ার (التخيير) থাকা কি প্রতিটি অংশের ক্ষেত্রেও ইখতিয়ার থাকাকে আবশ্যক করে, নাকি করে না?এর ওপর ভিত্তি করেই কাফফারার (الكفارة) বিভাজন সাব্যস্ত হয়। যখন কেউ দাঁড়িয়ে নফল নামাজ শুরু করে এরপর বসে পড়ার ইচ্ছা করে, তখন এতে ইবনে কাসিম ও আশহাবের দুটি অভিমত রয়েছে, তবে এর বিপরীত অবস্থার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন।
কায়দা (قاعدة) (৩০)নামাজের প্রতিটি অংশ কি স্বতন্ত্রভাবে বিদ্যমান, নাকি নামাজের প্রথমাংশের বিশুদ্ধতা (صحة) শেষাংশের বিশুদ্ধতার ওপর নির্ভরশীল?এ বিষয়ে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন।
প্রথমটি হলো ইমাম শাফেয়ী (রা.)-এর অভিমত, এবং নামাজের মধ্যে দাসের মুক্তি (العتق) ঘটে যাওয়ার বিষয়টি এরই ওপর ভিত্তি করে।
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৮২)
لمنكشفة الرأس، والنجاسة على المصلي، وأمكن الستر، أو النزع بسرعة، هل تقطع أو لا، وكذلك العريان يجد ثوباً، وأما لو بلغها العتق في الصلاة فقولان أيضاً على حكم النسخ، هل يلزم بالوقوع أو بالبلاغ. وعليه تصرف الوكيل والقاضي وإمام الجمعة، وستأتي.
قاعدة (31)الترك هل هو كالفعل أم لاوعليه فروع، كمن مر بصيد وقد رماه آخر، فأمكنته الذكاة وتركه حتى مات، هل يضمن المار أم لا، ومن قدر على تخليص نفس أو مال ولو بشهادة، أو وثيقة، أو مواساة واجبة، كالشربة، والخيط للجائفة، وإرسال فصل الماء، وإعظاء ما يُقيمُ به حائطه من عمد وآجُر، والولي القريب إذا رُجع عليه بصداق المرأة لعيبها، فأُلفي فقيراً، ففي إغرامها إياه قولان، وما إذا ترك المرتهن كراء الدار ولم يُكرها حتى حل الأجل، ولكرائها خطب وبال، وما إذا عطل الوصي ربع اليتيم عن الكراء مع إمكانه، أو ترك جنات محجورٍ وكرومه وأرضه حتى تبورت ويبست، وما إذا
অনাবৃত মস্তক বিশিষ্ট মহিলা, এবং নামাজরত ব্যক্তির শরীরে নাপাকি থাকা এবং দ্রুত তা ঢেকে ফেলা বা অপসারণ করা সম্ভব হওয়া; সেক্ষেত্রে নামাজ কি বিচ্ছিন্ন (قطع) হবে কি না? তদ্রূপ বিবস্ত্র ব্যক্তি যদি কাপড় খুঁজে পায়। আর যদি নামাজের মধ্যে কোনো দাসীর মুক্তি (عتق) সংবাদ পৌঁছে, তবে রহিতকরণ (نسخ)-এর বিধানের ন্যায় এখানেও দুটি অভিমত রয়েছে; তা কি ঘটনা ঘটার সাথে সাথে বাধ্যতামূলক হবে নাকি সংবাদ পৌঁছানোর পর? এর ওপর ভিত্তি করেই প্রতিনিধি (وكيل), বিচারক (قاضي) এবং জুমার ইমামের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা সামনে আসবে।
নীতিমালা (৩১)বর্জন (الترك) কি কর্ম (الفعل)-এর ন্যায় কি না?এর ওপর ভিত্তি করে অনেক শাখা-বিধান (فروع) রয়েছে। যেমন: যে ব্যক্তি এমন কোনো শিকারের পাশ দিয়ে অতিক্রম করল যা অন্য কেউ জখম করেছে এবং তার পক্ষে জবেহ (ذكاة) করা সম্ভব ছিল কিন্তু সে তা বর্জন (ترك) করল যতক্ষণ না তা মারা গেল; এমতাবস্থায় সে পথচারী কি জামিন (ضمان) হবে নাকি হবে না? এবং যে ব্যক্তি কোনো প্রাণ বা সম্পদ রক্ষা করতে সক্ষম, যদিও তা সাক্ষ্য (شهادة), দলিল (وثيقة) বা ওয়াজিব সহযোগিতা (مواساة واجبة)—যেমন পানীয়, জাইফা (جائفة) তথা শরীরের গভীর ক্ষতের জন্য সুতা, উদ্বৃত্ত পানি সরবরাহ এবং দেয়াল খাড়া করার জন্য খুঁটি ও ইটের মতো প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে হয়। এবং নিকটবর্তী অভিভাবক (ولي), যদি নারীর ত্রুটির কারণে মোহরানা ফেরতের জন্য তার শরণাপন্ন হওয়া হয় এবং তাকে দরিদ্র পাওয়া যায়; তবে তাকে জরিমানা করার ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে। তদ্রূপ যদি বন্ধকগ্রহীতা (مرتهن) ঘরটি ভাড়ায় না দিয়ে ফেলে রাখে যতক্ষণ না সময়সীমা পার হয়ে যায়, অথচ এর ভাড়ার বিশেষ গুরুত্ব ছিল। এবং যদি অসি (وصي) বা তত্ত্বাবধায়ক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এতিমের স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া না দিয়ে ফেলে রাখে, অথবা কোনো সীমাবদ্ধ (محجور) ব্যক্তির বাগান, আঙুর খেত ও জমি বর্জন (ترك) করে যার ফলে তা অনাবাদি ও শুষ্ক হয়ে যায়। এবং যদি...
(খণ্ড: ১)
ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমামি মালিক - ত আল-গারইয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
دُفعت إليه دابة وعلفها، وقيل اعلفها واسقها حتى أرجع من سفري، فتركها بلا علف حتى ماتت، فهل يضمن أم لا. قال ابن سهل: نعم، وفي نوادر الشيخ، لا، وقد تجري على الغرور القولي.
وانظر مسألة السجان والقيد والقفص والسارق والدواب في اللفطة.
تنبيه:
ولا يختلف في وجوب الضمان إذا قطع له وثيقة بحق قد ثبت، وأما إذا لم تثبت الوثيقة فلا يغرم سوى قيمة الرق، قاله الشيوخ، ودون تلك المسائل أن يقتل شاهدي الحق، ولذلك احتُمل دخول الخلاف، فيكون متعدياً على السبب، فيضعف الضمان، وهو جارٍ على قاعدة التعدي على السبب.
قاعدة (32)التعدي على السبب هل هو كالتعدي على المسبب، أو لاوعليها في المذهب مسائل.
একটি পশু এবং সেটির খাদ্য তার কাছে হস্তান্তর করা হলো এবং তাকে বলা হলো: "আমি সফর থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত একে খাদ্য ও পানীয় প্রদান করো।" অতঃপর সে কোনো খাদ্য না দিয়েই পশুটিকে ফেলে রাখল এবং শেষ পর্যন্ত সেটি মারা গেল। এমতাবস্থায় সে কি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে কি না? ইবনে সাহল বলেছেন: হ্যাঁ। আর শেখ-এর নাওয়াদির গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: না। আর এটি মৌখিক প্রতারণার বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
আর কারারক্ষী, শিকল, খাঁচা, চোর এবং কুড়িয়ে পাওয়া মালের অন্তর্ভুক্ত পশুর মাসআলাটি দেখে নিন।
সতর্কীকরণ:
যদি সুপ্রতিষ্ঠিত কোনো অধিকারের দলিল কেউ বিনষ্ট করে ফেলে, তবে ক্ষতিপূরণ প্রদান ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু যদি দলিলটি সাব্যস্ত না থাকে, তবে চর্মকাগজের মূল্য ব্যতীত অন্য কোনো জরিমানা দিতে হবে না—এ কথা মাশায়েখগণ বলেছেন। আর এই মাসআলাগুলোর নিচে রয়েছে সত্যের সাক্ষীদের হত্যা করার বিষয়টি। এজন্য সেখানে মতভেদ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি 'কারণ'-এর ওপর সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবে গণ্য হবে, ফলে দায়বদ্ধতা দুর্বল (ضعيف) হয়ে পড়বে। আর এটি 'কারণের ওপর সীমালঙ্ঘন' বিষয়ক নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত।
নীতিমালা (৩২)কারণের ওপর সীমালঙ্ঘন করা কি কারণের ফলে সৃষ্ট বিষয়ের ওপর সীমালঙ্ঘনের সমতুল্য, নাকি নয়?আর মাযহাবের মধ্যে এর ওপর ভিত্তি করে অনেক মাসআলা রয়েছে।