(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: -)
المساعد على تسهيل الفوائد القسم: النحو والصرف
الكتاب: المساعد على تسهيل الفوائد
المؤلف: بهاء الدين بن عقيل
المحقق: د. محمد كامل بركات
الناشر: جامعة أم القرى (دار الفكر، دمشق - دار المدني، جدة)
الطبعة: الأولى، (1400 - 1405 هـ)
عدد الأجزاء: 4
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1440
আল-মুসাঈদ আলা তাসতহিলিল ফাওয়ায়েদ বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: আল-মুসাঈদ আলা তাসতহিলিল ফাওয়ায়েদ
লেখক: বাহাউদ্দীন ইবনে আকীল
সম্পাদক: ড. মুহাম্মদ কামিল বারাকাত
প্রকাশক: উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় (দারুল ফিকর, দামেস্ক - দারুল মাদানি, জেদ্দা)
সংস্করণ: প্রথম, (১৪০০ - ১৪০৫ হিজরি)
খণ্ড সংখ্যা: ৪
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারী: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মার্কাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং সৌজন্যে (আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১)
المساعد على تسهيل الفوائد
للإمام بهاء الدين بن عقيل
تحقيق وتعليق/
د. محمد كامل بركات
তাসহিলুল ফাওয়াইদ সহজীকরণে সহায়ক গ্রন্থ
ইমাম বাহাউদ্দিন ইবনে আকীল প্রণীত
তাহকীক ও তালীক/
ড. মুহাম্মদ কামিল বারাকাত
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
اللهم سهل لنا التسهيل.
صلى الله على سيدنا ومولانا محمد وآله وصحبه وسلم تسليمًا.
قال الإمام العلامة، لسان المتكلمين، ورحلة الطالبين، عبد الله بهاء الدين بن عبد الرحمن بن عقيل. عليه رحمة الملك الجليل، آمين.
أما بعد حمد الله على نعمائه، والصلاة والسلام على خاتم أنبيائه محمد سيد المرسلين. وعلى آل محمد وصحبه والتابعين، فهذا تعليق مختصر، جمعته على «تسهيل الفوائد وتكميل المقاصد» للشيخ العلامة جمال الدين بن مالك. رحمه الله تعالى، يسهل اقتناص شرائده، ويعين على استخراج فوائده. ويتكفل بتكميل عوائده، وتوضيح مقاصده، ومزجته بأصله. حتى صار ككتاب واحد، ليكون هذا الكتاب على الحقيقة تسهيل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আল্লাহ, আমাদের জন্য এই সহজিকরণকে সহজ করে দিন।
আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও অফুরন্ত শান্তি বর্ষিত হোক।
ইমাম, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, বিতার্কিকদের কণ্ঠস্বর এবং জ্ঞানান্বেষীদের লক্ষ্যস্থল আবদুল্লাহ বাহাউদ্দিন বিন আবদুর রহমান বিন আকীল বলেন। মহান অধিপতির রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, আমীন।
অতঃপর, আল্লাহর নেয়ামতসমূহের জন্য তাঁর প্রশংসা এবং তাঁর নবীদের মোহর, রাসূলদের সর্দার মুহাম্মাদের ওপর দরুদ ও সালামের পর; এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সঙ্গী ও অনুসারীদের ওপরও (সালাম বর্ষিত হোক)। এটি একটি সংক্ষিপ্ত টীকা, যা আমি শায়খ আল্লামা জামালুদ্দিন বিন মালিক (রহ.)-এর ‘তাসহীলুল ফাওয়াইদ ওয়া তাকমীলুল মাকাসিদ’ গ্রন্থের ওপর সংকলন করেছি। এটি এর দুর্লভ বিষয়গুলোকে আয়ত্ত করা সহজ করে এবং এর উপকারিতাগুলো আহরণে সহায়তা করে। এটি এর সুফলগুলোর পূর্ণতা দান এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্ট করার দায়িত্ব নেয়। আমি একে মূল গ্রন্থের সাথে এমনভাবে মিশিয়ে দিয়েছি যে, এটি একটি মাত্র গ্রন্থের মতো হয়ে গেছে, যাতে এই বইটি প্রকৃতার্থেই একটি ‘সহজিকরণ’ হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২)
الفوائد، وجعلت بين الشرح والأصل هيئة دوارة لغرض الفصل. وإلى الله أرغب في أن يجعله بالنفع عائدًا، وعلى تسهيل الفوائد وتحصيل المقاصد مساعدًا.
فليقلب هذا الكتاب بعونه «بالمساعد على تسهيل الفوائد» وهأنا أبدأ ما ذكرت بخطبة التسهيل. معتمدًا على الله. فهو حسبي ونعم الوكيل.
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم
قال الشيخ الإمام العلامة جمال الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الله ابن مالك الطائي الجياني، مقيم دمشق، رحمه الله، حامدًا لله رب العالمين، ومصليًا على محمد خاتم النبيين، وعلى آله وصحابته أجمعين.
هذا كتاب في النحو، جعلته بعون الله مستوفيًا لأصوله، مستوليًا على أبوابه وفصوله، فسميته لذلك "تسهيل الفوائد وتكميل المقاصد" فهو جدير بأن يلبي دعوته الألباء، ويجتنب منابذته النجباء، ويعترف العارفون برشد المغزى بتحصيله، وتأتلف قلوبهم على تقديمه وتفضيله. فليثق متأمله ببلوغ أمله، وليتلق بالقبول ما يرد من قبله، وليكن لحسن الظن
উপকারিতাগুলো, এবং আমি ব্যাখ্যা ও মূল পাঠের মধ্যে পৃথক করার উদ্দেশ্যে একটি আবর্তনশীল বিন্যাস রেখেছি। আল্লাহর নিকট আমার প্রার্থনা, তিনি যেন একে কল্যাণকর করেন এবং 'তাসহিলুল ফাওয়াইদ' সহজতর করতে ও উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়ক বানান।
আল্লাহর সাহায্যে এই কিতাবটির নামকরণ করা হোক «আল-মুসায়েদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ»। এখন আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমার আলোচিত বিষয়সমূহ 'তাসহিল'-এর ভূমিকা দিয়ে শুরু করছি। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
শাইখ, ইমাম, আল্লামা জামালুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক আত-তাঈ আল-জাইয়্যানি, দামেস্কের অধিবাসী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), বিশ্বজগতের রব আল্লাহর প্রশংসা করে এবং নবীগণের মোহর মুহাম্মদের ওপর ও তাঁর পরিবার ও সকল সহচরদের ওপর দরুদ পাঠ করে বলেছেন:
এটি নাহু (আরবি ব্যাকরণ) বিষয়ক একটি কিতাব, যা আল্লাহর সাহায্যে আমি এর মূলনীতিগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে এবং এর অধ্যায় ও পরিচ্ছেদগুলোকে বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করে তৈরি করেছি। এ কারণেই আমি এর নাম দিয়েছি "তাসহিলুল ফাওয়াইদ ওয়া তাকমিলুল মাকাসিদ" (উপকারিতা সহজীকরণ এবং উদ্দেশ্যগুলোর পূর্ণতাদান)। এটি এই যোগ্যতাসম্পন্ন যে বুদ্ধিমানেরা এর আহ্বানে সাড়া দেবে, এবং শ্রেষ্ঠজনেরা এর বিরোধিতা বর্জন করবে, আর এর লক্ষ্যের সঠিকত্ব সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা এটি অর্জনের মাধ্যমে তা স্বীকার করে নেবে, এবং একে অগ্রাধিকার ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের অন্তরগুলো একতাবদ্ধ হবে। সুতরাং এর পাঠক যেন তার আশা পূরণের ব্যাপারে আশ্বস্ত থাকে এবং এর পক্ষ থেকে যা উপস্থাপিত হয় তা যেন গ্রহণ করে নেয়, আর যেন সে উত্তম ধারণার অধিকারী হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
آلفًا، ولدواعي الاستبعاد مخالفًا، فقلما حلي متحل بالاستبعاد إلا بالخيبة والإبعاد. وإذا كانت العلوم منحًا إلهية، ومواهب اختصاصية، فغير مستبعدٍ أن يدخر لبعض المتأخرين ما عسر على كثير من المتقدمين. أعاذنا الله من حسدٍ يسد باب الإنصاف، ويصد عن جميل الأوصاف، وألهمنا شكرًا يقتضي توالي الآلاء، ويقضي بانقضاء اللاواء، وهأنا ساع فيما انتدبت إليه، مستعينًا بالله عليه، ختم الله لي ولقارئيه بالحسنى، وختم لي ولهم الحظ الأوفى، في المقر الأسنى بمنه وكرمه.
সুপরিচিত হিসেবে এবং বর্জনের প্ররোচনার বিপরীতে; কেননা খুব কমই এমন হয়েছে যে, বর্জনের স্বভাব দ্বারা কেউ নিজেকে অলঙ্কৃত করেছে অথচ ব্যর্থতা ও দূরত্ব লাভ করেনি। আর যেহেতু জ্ঞানসমূহ হলো ঐশী দান এবং বিশেষ মেধা, তাই এটি অসম্ভব নয় যে, পরবর্তীকালের একদলের জন্য এমন কিছু গচ্ছিত রাখা হবে যা পূর্ববর্তী অনেকের নিকট দুঃসাধ্য ছিল। আল্লাহ আমাদের এমন হিংসা থেকে রক্ষা করুন যা ইনসাফের দ্বার রুদ্ধ করে দেয় এবং সুন্দর গুণাবলী থেকে বিমুখ করে। তিনি আমাদের এমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অনুপ্রেরণা দিন যা নেয়ামতের পারম্পর্য নিশ্চিত করে এবং দুঃখ-বিপদের পরিসমাপ্তি ঘটায়। আর আমি যা করতে আদিষ্ট হয়েছি তাতে সচেষ্ট হচ্ছি এবং আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ আমার এবং এর পাঠকদের জন্য কল্যাণের মাধ্যমে সমাপ্তি দান করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় সুউচ্চ আবাসে আমার ও তাদের জন্য সর্বোত্তম সৌভাগ্য নির্ধারণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
1 - باب شرح الكلمة والكلام وما يتعلق به(الكلمة لفظ) - هذا جنس مخرج للخط ونحوه، وهو أولى من "لفظةٍ" لوقوعه على كل ملفوظ به، حرفًا كان أو أكثر.
(مستقل) -أخرج به ما هو بعض اسم، كياء النسب نحو: زيدي، أو بعض فعل كألف ضارب، فكل من الياء والألف لفظ دال بالوضع وليس كلمة، لعدم استقلاله، لأنه جزء كلمة.
(دال بالوضع) -أخرج المهمل كديز ورفعج، مقلوب زيد وجعفر، فإنه يدل على صوت الناطق به دلالة عقلية لا وضعية.
(تحقيقًا أو تقديرًا) -كامرئ القيس، فمجموعة كلمة واحدة تحقيقًا، لأن المسمى به لا يدرك إلا بالجزءين، وهو كلمتان تقديرًا، لأنه مركب من مضاف ومضاف إليه. فتصدق الكلمة على المجموع حقيقة، وعلى كل من الجزءين مجازًا، وهو مجاز مستعمل عند النحاة بخلاف صدق الكلمة على الكلام نحو كلمة الإخلاص، وكلمة لبيد، فإنه مجاز مهمل عندهم.
(أو منوي معه كذلك) -منوي صفة لمحذوف، التقدير: الكلمة لفظ صفته ما ذكر، أو غير لفظٍ منوي مع اللفظ، وأشار بقوله "كذلك" إلى الدلالة والاستقلال المذكورين أولاً، وذلك كالفاعل المستكن في افعل أي أنت، فإنه
১ - শব্দ (কালিমা), বাক্য (কালাম) এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ(শব্দ হলো উচ্চারণ) - এটি এমন একটি সাধারণ পরিভাষা যা লিখন বা অনুরূপ বিষয়কে বহির্ভূত করে। এটি "একক উচ্চারণ" (লাফযাহ) বলার চেয়ে অধিক উত্তম; কারণ এটি প্রতিটি উচ্চারিত বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়, তা একটি অক্ষর হোক বা তার চেয়ে বেশি।
(স্বতন্ত্র) - এর মাধ্যমে এমন বিষয়কে বাদ দেওয়া হয়েছে যা কোনো বিশেষ্যের অংশ, যেমন সম্বন্ধসূচক 'ইয়া', যথা: 'যাইদি' (যাইদ সংশ্লিষ্ট); অথবা কোনো ক্রিয়ার অংশ, যেমন 'দারিব' শব্দের আলিফ। সুতরাং 'ইয়া' এবং 'আলিফ' এর প্রতিটিই পারিভাষিক সংস্থাপনে অর্থবোধক উচ্চারণ হলেও 'শব্দ' (কালিমা) নয়; কারণ এগুলোর স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নেই, বরং এগুলো শব্দের অংশমাত্র।
(পারিভাষিক সংস্থাপনে অর্থবোধক) - এর মাধ্যমে অর্থহীন শব্দকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যেমন 'দাইয' এবং 'রাফআয', যা যথাক্রমে 'যাইদ' এবং 'জাফর' এর বর্ণসমূহের বিপরীত বিন্যাস। কারণ এগুলো কেবল উচ্চারণকারীর কণ্ঠস্বরের ওপর যৌক্তিক প্রমাণ বহন করে, কিন্তু পারিভাষিক সংস্থাপনের ভিত্তিতে কোনো অর্থ প্রদান করে না।
(প্রকৃতপক্ষে অথবা অনুমিতভাবে) - যেমন 'ইমরুল কায়স'। এর সমষ্টি প্রকৃতপক্ষে একটি শব্দ, কারণ এই নামধারী ব্যক্তিকে উভয় অংশ ব্যতীত শনাক্ত করা যায় না। আবার এটি অনুমিতভাবে দুটি শব্দ, কারণ এটি সম্বন্ধপদ ও সম্বন্ধী (মুদাফ ও মুদাফ ইলাইহি) এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং পুরো সমষ্টির ওপর 'শব্দ' (কালিমা) শব্দটির প্রয়োগ প্রকৃত অর্থে সঠিক, এবং এর প্রতিটি অংশের ওপর এর প্রয়োগ রূপক অর্থে। এটি ব্যাকরণবিদদের নিকট ব্যবহৃত একটি রূপক। এটি দীর্ঘ বক্তব্যের ক্ষেত্রে 'কালিমা' বা 'শব্দ' ব্যবহারের মতো নয়, যেমন— 'কালিমায়ে ইখলাস' (তাওহীদের বাণী) অথবা 'লাবিদের কালিমা' (কবিতা); কারণ এটি তাদের নিকট একটি অপ্রচলিত রূপক।
(অথবা এর সাথে একইভাবে উহ্যরূপে অভিপ্রেত) - 'উহ্যরূপে অভিপ্রেত' শব্দটি এখানে একটি উহ্য বিষয়ের বিশেষণ। এর বিশ্লেষণ হলো: শব্দ হলো এমন উচ্চারণ যার বৈশিষ্ট্য পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, অথবা উচ্চারণের সাথে উহ্য থাকা অন্য কোনো বিষয়। লেখক "একইভাবে" কথাটি দ্বারা পূর্বে উল্লিখিত 'অর্থবোধকতা' ও 'স্বতন্ত্রতা'র দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এটি যেমন 'ইফআল' (তুমি করো) ক্রিয়ার মধ্যে লুকায়িত কর্তা, অর্থাৎ 'আনতা' (তুমি)। কারণ এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مستقل دال بالوضع، وهو لفظ لكنه منوي مع اللفظ، واحترز "كذلك" من الإعراب المقدر في "عصا" ونحوه فإنه منوي مع اللفظ ولكنه ليس كذلك، أي ليس بمستقل دال بالوضع، فلا يكون كلمة، بخلاف الفاعل المستكن في "افعل".
(وهي: اسم، وفعل، وحرف) -لأن الكلمة إن لم تكن ركنًا للإسناد فهي حرف، وإن كانت ركنًا له، فإن قبلته بطرفيه فهي اسم، وإلا فهي فعل.
(والكلام ما تضمن) -ما يصلح للواحد فأكثر، وخرج بقوله: "تضمن إسنادًا" الواحد كزيد.
(من الكلم) -بيان لجنس الكلام، وأنه ليس خطأ ولا رمزًا ولا إشارة، وإطلاق الكلام عليها مجاز.
(إسنادًا) -الإسناد تعليق خبرٍ بمخبرٍ عنه، نحو: زيد قائم، أو طلب بمطلوبٍ منه كاضرب.
(مفيدًا) -تحرز من نحو: السماء فوق الأرض.
(مقصودًا) -احترز من كلام النائم.
(لذاته) -احترز من المقصود لغيره، كالجملة الواقعة صلة نحو: جاء الذي وجهه حسن.
(فالاسم كلمة يسند ما لمعناها إلى نفسها) -نحو: زيد قائم، فقائم
স্বতন্ত্র ও প্রথাগতভাবে অর্থবোধক, আর এটি একটি শব্দ কিন্তু উচ্চারণের সাথে তা মনে মনে পরিকল্পিত। ‘একইভাবে’ কথাটির দ্বারা ‘আসা’ (লাঠি) ও এই জাতীয় শব্দের প্রচ্ছন্ন ইরাব থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে, কেননা তা উচ্চারণের সাথে মনে মনে কল্পনা করা হলেও এটি সেরকম নয়; অর্থাৎ এটি প্রথাগতভাবে অর্থবোধক কোনো স্বতন্ত্র শব্দ নয়, ফলে এটি ‘কালিমা’ হবে না; যা ‘ইফআল’ ক্রিয়ার মধ্যে লুকায়িত কর্তার বিপরীত।
(আর তা হলো: বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয়) -কারণ শব্দটি যদি অন্বয় বা ইসনাদের মূল ভিত্তি না হয় তবে তা অব্যয়, আর যদি তা এর মূল ভিত্তি হয়—তবে তা যদি উভয় পার্শ্বে (উদ্দেশ্য ও বিধেয় হিসেবে) অন্বয় গ্রহণ করতে সক্ষম হয় তবে তা বিশেষ্য, অন্যথায় তা ক্রিয়া।
(আর কালাম বা বাক্য হলো যা অন্তর্ভুক্ত করে) -যা এক বা একাধিকের জন্য উপযুক্ত, এবং তাঁর উক্তি ‘অন্বয় অন্তর্ভুক্ত করে’ দ্বারা একক শব্দ যেমন ‘যায়েদ’ বহির্ভূত হয়ে গেছে।
(কালিম বা শব্দসমষ্টি থেকে) -এটি কালামের শ্রেণির বর্ণনা, এবং এটি কোনো রেখা, সংকেত কিংবা ইশারা নয়, আর এগুলোর ওপর কালাম বা বাক্য শব্দের প্রয়োগ রূপক মাত্র।
(অন্বয় বা ইসনাদ) -ইসনাদ হলো কোনো সংবাদের সাথে সংবাদকৃত বিষয়কে সংশ্লিষ্ট করা, যেমন: যায়েদ দণ্ডায়মান, অথবা কোনো তলব বা দাবির সাথে যার কাছে দাবি করা হয়েছে তাকে সংশ্লিষ্ট করা যেমন: তুমি প্রহার করো।
(অর্থবোধক) -যেমন ‘আকাশ মাটির উপরে’—এ জাতীয় বাক্য থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে।
(উদ্দেশ্যমূলক) -ঘুমন্ত ব্যক্তির কথা থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে।
(সত্তাগতভাবে) -অন্য কোনো বিষয়ের জন্য উদ্দেশ্য হওয়া বাক্য থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে, যেমন সংযোজক বাক্য বা সিলাহ হিসেবে ব্যবহৃত বাক্য, যথা: সেই ব্যক্তি এসেছে যার চেহারা সুন্দর।
(সুতরাং বিশেষ্য এমন একটি শব্দ যার অর্থের বিষয়টি তার নিজের সত্তার সাথেই সম্বন্ধিত করা হয়) -যেমন: যায়েদ দণ্ডায়মান, এখানে ‘দণ্ডায়মান’...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
لمعنى زيد. وهو الشخص، وهو مسند إلى زيدٍ لأنه خبر عنه، فأسند الخبر الذي لمعنى زيد إلى لفظ زيدٍ.
(أو نظيرها) -كأسماء الأفعال، فأنها لا يسند ما لمعناها إلى نفسها، لأنها لا يخبر عنها، وهي مع ذلك أسماء، لأنها إن لم يسند ما لمعناها إلى نفسها أسند إلى نظيرها، فصه اسم لأنه يسند إلى نظيره وهو السكوت، فتقول: السكوت حسن.
(والفعل كلمة تسند) -خرج الحرف، فإنه لا يسند، أي لا يخبر به، وخرج أيضًا تاء الضمير فإنها كذلك.
(أبدًا) -خرج ما يسند من الأسماء وقتًا دون وقت، نحو: زيد القائم، والقائم زيد.
(قابلة لعلامة فرعية المسند إليه) -تحرز من أسماء الأفعال، فإنها تسند أبدًا وليست أفعالاً، لأنها لا تقبل علامة فرعية المسند إليه. والمراد بها: تاء التأنيث الساكنة وألف الضمير وواوه، فهيهات وبعد ملازمان للإسناد. وهيهات اسم وبعد فعل، لأن بعد يقبل العلامة المذكورة نحو: بعدت وبعدا وبعدوا، وهيهات لا يقبل ذلك.
(والحرف كلمة لا تقبل إسنادًا وضعيًا) -احترز من الإسناد اللفظي فإنه يقبله نحو: من حرف جر، وهل حرف استفهام.
(بنفسها ولا بنظير) -احترز من الأسماء الملازمة للنداء نحو، يا فل
যায়দ-এর অর্থের জন্য। আর তা হলো ব্যক্তিবিশেষ, যা যায়দ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, কারণ এটি তার সম্পর্কে সংবাদ (খবর)। সুতরাং যায়দ-এর অর্থের জন্য যে সংবাদ, তাকে যায়দ শব্দের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।
(অথবা তার সদৃশ) - যেমন আসমাউল আফআল (ক্রিয়া-বিশেষ্যসমূহ), কেননা এদের অর্থের বিষয়গুলো এদের নিজেদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় না, কারণ তাদের সম্পর্কে কোনো সংবাদ দেওয়া হয় না। তা সত্ত্বেও এগুলো ইসিম, কারণ যদি এদের অর্থের বিষয়গুলো এদের নিজেদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত না হয়, তবে তা তাদের সদৃশের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়। সুতরাং ‘সাহ’ একটি ইসিম, কারণ এটি তার সদৃশের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, আর তা হলো ‘সুকুত’ (চুপ থাকা)। তাই আপনি বলেন: ‘চুপ থাকা উত্তম’।
(আর ফেল হলো এমন শব্দ যা সম্বন্ধযুক্ত হয়) - এর মাধ্যমে হরফ (অব্যয়) বাদ পড়েছে, কারণ এটি সম্বন্ধযুক্ত হয় না, অর্থাৎ এর দ্বারা সংবাদ প্রদান করা হয় না। আর সর্বনামের ‘তা’ (তা-উয যমীর) ও বাদ পড়েছে, কারণ এটিও তদ্রূপ।
(সর্বদা) - এর মাধ্যমে ঐসব ইসিম বাদ পড়েছে যা কোনো এক সময় সম্বন্ধযুক্ত হয় এবং অন্য সময় হয় না। যেমন: ‘যায়েদ দণ্ডায়মান’ এবং ‘দণ্ডায়মান ব্যক্তিটি হলো যায়দ’।
(মুসনাদ ইলাইহ-এর শাখা চিহ্নের যোগ্য) - এর মাধ্যমে আসমাউল আফআল থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে, কারণ সেগুলো সর্বদা সম্বন্ধযুক্ত হয় কিন্তু সেগুলো ফেল নয়, কেননা সেগুলো মুসনাদ ইলাইহ-এর শাখা চিহ্ন গ্রহণ করে না। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সাকিনযুক্ত স্ত্রীবাচক ‘তা’, দ্বিবচনের ‘আলিফ’ এবং বহুবচনের ‘ওয়াও’। সুতরাং ‘হাইহাতা’ এবং ‘বাউদা’ উভয়ই সম্বন্ধের (ইসনাদ) জন্য অপরিহার্য। তবে ‘হাইহাতা’ হলো ইসিম এবং ‘বাউদা’ হলো ফেল, কারণ ‘বাউদা’ উল্লিখিত চিহ্নগুলো গ্রহণ করে, যেমন: ‘বাউদাত’, ‘বাউদা’ এবং ‘বাউদু’। কিন্তু ‘হাইহাতা’ তা গ্রহণ করে না।
(আর হরফ হলো এমন শব্দ যা পারিভাষিক গঠনগত কোনো সম্বন্ধ গ্রহণ করে না) - এর মাধ্যমে শাব্দিক সম্বন্ধ থেকে বিরত থাকা হয়েছে, কারণ হরফ তা গ্রহণ করে। যেমন: ‘মিন’ একটি হরফে জর, এবং ‘হাল’ একটি জিজ্ঞাসাবোধক হরফ।
(সরাসরি নিজে বা তার সদৃশ দ্বারাও নয়) - এর মাধ্যমে ঐসব ইসিম থেকে বিরত থাকা হয়েছে যা আহ্বানের জন্য নির্দিষ্ট, যেমন: ‘হে অমুক’।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
فإنها لا تقبل إسنادا وضعيًا بنفسها، لكن لها نظير يقبله، نحو: رجل، فتقول: في الدار رجل، والحرف لا نظير له يقبله.
(ويعتبر الاسم بندائه) -نحو: يا زيد.
(وتنوينه في غير روي) -احترز من تنوين الترنم نحو:
(1) "وقولي إن أصبت لقد أصابا"
فإنه لا يخص الاسم، وكذلك التنوين الغالي نحو:
(2) "وقاتم الأعماق خاوي المخترق"
ويأتي الكلام عليهما في فصل التنوين، ويقال: مكان قاتم الأعماق. أي مغبر النواحي، والخاوي الخالي، والمخترق الممر.
(وبتعريفه) -يشمل تعريف الإضافة نحو: غلام زيدٍ، وتعريف ال نحو: الرجل، وتعريف العلم نحو: زيد.
(وصلاحيته بلا تأويل لإخبار عنه أو إضافةٍ إليه) -نحو: زيد قائم، وغلام زيدٍ. واحترز مما يخبر عنه أو يضاف إليه بتأويل، فإنه لا يكون
কারণ এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের দ্বারা কোনো বিধেয়তা (ইসনাদ) গ্রহণ করে না, তবে এর এমন সদৃশ শব্দ রয়েছে যা তা গ্রহণ করে, যেমন: ব্যক্তি; তাই আপনি বলবেন: ঘরে একজন ব্যক্তি আছে। কিন্তু অব্যয়ের এমন কোনো সদৃশ শব্দ নেই যা তা গ্রহণ করতে পারে।
(এবং বিশেষ্য চেনা যায় তাকে সম্বোধন করার মাধ্যমে) -যেমন: হে যাইদ।
(এবং কবিতার অন্ত্যমিল ব্যতীত এতে তানভীন হওয়া) -এর মাধ্যমে সুরের তানভীন (তানভীনুত তারাননুম) থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, যেমন:
(১) “এবং আমার বক্তব্য—যদি আমি সঠিক বলে থাকি—তবে সে অবশ্যই সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছেছে”
কেননা এটি কেবল বিশেষ্যের সাথে নির্দিষ্ট নয়। তদ্রূপ তানভীনুল গালী (সীমালঙ্ঘনকারী তানভীন), যেমন:
(২) “এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন গভীর ভূখণ্ড যার পথসমূহ জনশূন্য”
তানভীনের পরিচ্ছেদে এ দুটি সম্পর্কে আলোচনা আসবে। আর ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন গভীর’ বিশিষ্ট স্থান বলা হয় ধূলিধূসরিত অঞ্চলকে; ‘খাওয়ী’ অর্থ শূন্য বা খালি এবং ‘মুখতারাক্ব’ অর্থ যাতায়াতের পথ।
(এবং এর নির্দিষ্টতা বা মারিফা হওয়ার মাধ্যমে) -এর অন্তর্ভুক্ত হলো সম্বন্ধের (ইদাফাত) মাধ্যমে নির্দিষ্ট হওয়া, যেমন: যাইদের গোলাম; আলিফ-লামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হওয়া, যেমন: ব্যক্তিটি; এবং নামবাচক বিশেষ্যের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হওয়া, যেমন: যাইদ।
(এবং কোনো রূপান্তর বা ব্যাখ্যা ছাড়াই কোনো সংবাদ প্রদানের ভিত্তি (মুসনাদ ইলাইহি) হওয়া অথবা তার দিকে সম্বন্ধ করার যোগ্যতা রাখা) -যেমন: যাইদ দণ্ডায়মান এবং যাইদের গোলাম। এর মাধ্যমে ঐসব বিষয় থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে যা ব্যাখ্যার মাধ্যমে সংবাদের বিষয় হয় অথবা যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়; কেননা তা তখন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
اسمًا نحو، (وأن تصوموا خير لكم) و (هذا يوم ينفع الصادقين صدقهم) أي: صومكم، ويوم نفع.
(أو عود ضمير عليه) -نحو: "مهما تأتنا به"، وما أحسن زيدًا.
(أو إبدال اسمٍ صريح منه) -نحو: كيف أنت؟ أصحيح أم سقيم؟
(وبالإخبار به مع مباشرة الفعل) -نحو: القتال إذا جاء زيد. فإذا اسم، لأن الإخبار بها ينفي الحرفية، ومباشرة الفعل ينفي الفعلية، فتعينت الاسمية.
(وبموافقة ثابت الاسمية في لفظٍ) - نحو وشكان بمعنى وشك أي قرب. فإنه موافق في اللفظ لسكران.
(أو معنى دون معارض) -كموافقة "قد" لحسب في قولك: قد زيد درهم. واحترز من واو "مع" فإنها موافقة لمع في المعنى نحو: سار زيد والنيل، أي: مع النيل، وليست اسمًا لأنه عارض هذه الموافقة أنها على حرف واحدٍ صدرًا، وما كان كذلك لا يكون اسمًا بل حرفًا كباء الجر، وإنما يقع ما كان من الأسماء على حرف واحدٍ آخرًا نحو تاء الضمير.
(وهو) -أي الاسم.
(لعين) -كزيدٍ ورجلٍ.
বিশেষ্য হিসেবে, যেমন: (আর তোমাদের রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর) এবং (এটি এমন একদিন যেদিন সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে) অর্থাৎ: তোমাদের রোজা এবং উপকারের দিন।
(অথবা তার দিকে সর্বনামের প্রত্যাবর্তন) -যেমন: "তুমি আমাদের কাছে যা-ই নিয়ে আসো", এবং জায়েদ কতই না সুন্দর!
(অথবা তা থেকে কোনো স্পষ্ট বিশেষ্য দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হওয়া) -যেমন: তুমি কেমন আছো? সুস্থ নাকি অসুস্থ?
(এবং সরাসরি ক্রিয়ার সাথে থাকা অবস্থায় তার দ্বারা সংবাদ প্রদান করা) -যেমন: যুদ্ধ যখন জায়েদ আসবে। এখানে 'যখন' (ইযা) একটি বিশেষ্য, কারণ সংবাদ প্রদান করা এর অব্যয় হওয়াকে নাকচ করে এবং সরাসরি ক্রিয়ার সাথে থাকা এর ক্রিয়া হওয়াকে নাকচ করে, ফলে এর বিশেষ্য হওয়া সুনির্ধারিত হয়।
(এবং শব্দগতভাবে কোনো প্রমাণিত বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্য থাকা) - যেমন 'ওয়াশকান' যা 'ওয়াশক' অর্থাৎ 'নিকটবর্তী হওয়া' অর্থে ব্যবহৃত। এটি শব্দগতভাবে 'সাকরান' শব্দের অনুরূপ।
(অথবা কোনো প্রতিবন্ধক ছাড়াই অর্থগত সাদৃশ্য থাকা) -যেমন তোমার বক্তব্য: "জায়েদের জন্য এক দিরহামই যথেষ্ট"-তে 'কাদ' শব্দটি 'যথেষ্ট' (হাসবু) এর সমার্থক হওয়া। আর 'সাথে' (মা) অর্থবোধক 'ওয়াও' থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এটি অর্থের দিক থেকে 'সাথে' এর সাথে সদৃশ, যেমন: "জায়েদ নীল নদের সাথে পথ চলল", অর্থাৎ: নীল নদের সাথে; তবে এটি বিশেষ্য নয়। কারণ এই সাদৃশ্যের বিপরীতে একটি প্রতিবন্ধক এই যে, এটি শব্দের শুরুতে একক বর্ণবিশিষ্ট, আর যা এরূপ হয় তা বিশেষ্য হয় না বরং অব্যয় হয় যেমন 'বা' হরফে জার। তবে বিশেষ্যসমূহের মধ্যে যা একক বর্ণবিশিষ্ট হয় তা শব্দের শেষে আসে, যেমন সর্বনামের 'তা'।
(এবং তা) -অর্থাৎ বিশেষ্য।
(সত্ত্বা নির্দেশক) -যেমন জায়েদ ও একজন ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
(أو معنى) كقيام وقعود.
(اسمًا) -كما مثل.
(أو وصفًا) -فصفة العين كقائم وقاعد، وصفة المعنى كجلي وخفي.
(ويعتبر الفعل بتاء التأنيث الساكنة) -نحو: نعمت وبئست. وقيدها بالساكنة احترازًا من المتحركة بحركة الإعراب، فإنها مختصة بالأسماء كمسلمة، أو بحركة البناء، فإنها تلحق الحرف كلات وربت وثمت.
(ونون التوكيد الشائع) -نحو: "لنخرجنك يا شعيب"، واحترز بالشائع من شذوذ لحاقها اسم الفعال كقوله، -أنشده ابن جنى:
(3) أريت إن جاءت به أملودا
… مرجلاً ويلبس البرودا
أقائلن أحضروا الشهودا؟
وأصل "اريت" أرأيت فحذفت همزة الماضي كما حذفت همزة المضارع، والمشهور في لغة العرب عدم حذف همزة الماضي، والأملود الناعم، يقال رجل أملود، وامرأة أملودة.
(ولزومه مع ياء المتكلم نون الوقاية) -نحو أكرمني، واحترز مما لا يلزم نون الوقاية مع الياء كاسم الفعل نحو: عليكني، وعليك بي.
(অথবা অর্থগত) যেমন দণ্ডায়মান হওয়া এবং উপবিষ্ট হওয়া।
(বিশেষ্য) - যেমনটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
(অথবা গুণ) - সুতরাং সত্তাগত গুণ যেমন দণ্ডায়মান এবং উপবিষ্ট, আর অর্থগত গুণ যেমন প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য।
(আর ক্রিয়াকে সাকিন যুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' দ্বারা চেনা যায়) - যেমন: নি’মাত এবং বি’সাত। তিনি একে সাকিন দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছেন এমন 'তা' থেকে বেঁচে থাকার জন্য যা ই’রাবের হরকতের কারণে সচল হয়, কারণ তা বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট যেমন 'মুসলিমাতুন'; অথবা যা বিন্যাসগত হরকতের কারণে সচল হয়, কারণ তা হরফের সাথে যুক্ত হয় যেমন 'লাতা', 'রুব্বাতা' এবং 'সুম্মাতা'।
(এবং বহুল প্রচলিত নুনে তাকিদ) - যেমন: "হে শুআইব, আমি অবশ্যই তোমাকে বের করে দেব", এবং তিনি 'বহুল প্রচলিত' কথাটি দ্বারা সেই বিরল ক্ষেত্র থেকে বেঁচেছেন যেখানে এটি ইসমে ফায়িলের সাথে যুক্ত হয়; যেমন কবির উক্তি—যা ইবনু জিন্নি পাঠ করেছেন:
(৩) তুমি কি দেখেছ যদি সে কোনো সুকোমল কিশোর নিয়ে আসে
… যার চুল আঁচড়ানো এবং সে চাদর পরিহিত।
সে কি বলবে, তোমরা সাক্ষী হাজির করো?
'আরাইতা' এর মূল ছিল 'আ-রাআইতা', অতঃপর মাঝির হামযাহ বিলুপ্ত করা হয়েছে যেভাবে মুদারির হামযাহ বিলুপ্ত করা হয়। আর আরবদের ভাষায় প্রসিদ্ধ রীতি হলো মাঝির হামযাহ বিলুপ্ত না করা। 'আমলুদ' অর্থ সুকোমল, বলা হয় সুকোমল পুরুষ এবং সুকোমল নারী।
(আর ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের সাথে নুনে বিকায়াহ আবশ্যক হওয়া) - যেমন 'আকরামানি', এবং তিনি এমন বিষয় থেকে বেঁচেছেন যেখানে ইয়া-এর সাথে নুনে বিকায়াহ আবশ্যক নয়, যেমন ইসমে ফে’ল। যেমন: 'আলাইকানি' এবং 'আলাইকা বি'।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
(وباتصاله بضمير الرفع البارز) -نحو ضربت. واحترز بالبارز من المستتر، فإنه لا يخص الفعل، بل يكون فيه وفي غيره نحو: زيد قائم، وزيد قام.
(وأقسامه) -أي الفعل.
(ماضٍ) نحو: ضرب.
(وأمر) -كاضرب.
(ومضارع) -كأضرب.
(فيميز الماضي التاء المذكورة) -يعني تاء التأنيث الساكنة نحو: قامت ونعمت.
(والأمر معناه، ونون التوكيد) -أي معنى الأمر نحو: اضربن، فإن دلت الكلمة على أمر ولم تقبل التوكيد فهي اسم كصه، وإن قبلت النون ولم تدل على الأمر فهي فعل مضارع نحو: هل تفعلن؟
(والمضارع افتتاحه بهمزةٍ للمتكلم مفردًا) -نحو: أقوم، واحترز من همزة لا تكون للمتكلم نحو: أكرم.
(أو بنون له عظيمًا) -كقول المعظم نفسه: نحن نفعل، واحترز من نون لا تكون للمتكلم نحو: نرجس الدواء إذا جعل فيه نرجسًا.
(أو مشاركًا) -كقول من معه غيره: نفعل.
(এবং দৃশ্যমান কর্তৃবাচক সর্বনামের সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে) - যেমন: আমি প্রহার করেছি। 'দৃশ্যমান' শব্দ দ্বারা 'উহ্য' থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, কারণ তা কেবল ক্রিয়ার সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং তা ক্রিয়া এবং ক্রিয়া ব্যতীত অন্য শব্দের মধ্যেও থাকে, যেমন: যায়েদ দণ্ডায়মান এবং যায়েদ দাঁড়িয়েছে।
(এবং এর প্রকারভেদসমূহ) - অর্থাৎ ক্রিয়ার প্রকারভেদসমূহ।
(অতীতকাল) যেমন: সে প্রহার করেছে।
(এবং আদেশসূচক ক্রিয়া) - যেমন: তুমি প্রহার করো।
(এবং বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল) - যেমন: আমি প্রহার করছি।
(অতীতকালকে ইতিপূর্বে উল্লিখিত 'তা' দ্বারা স্বতন্ত্র করা হয়) - অর্থাৎ সাকিনযুক্ত স্ত্রীবাচক 'তা', যেমন: সে (স্ত্রী) দাঁড়িয়েছে এবং সে (স্ত্রী) কতই না উত্তম।
(আর আদেশসূচক শব্দকে এর অর্থ এবং তাকিদ প্রদানকারী নুন দ্বারা চেনা যায়) - অর্থাৎ আদেশের অর্থ প্রদান করা, যেমন: তুমি অবশ্যই প্রহার করবে। যদি শব্দটি আদেশের অর্থ প্রদান করে কিন্তু তাকিদ প্রদানকারী 'নুন' গ্রহণ না করে, তবে তা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য, যেমন: চুপ করো। আর যদি শব্দটি 'নুন' গ্রহণ করে কিন্তু আদেশের অর্থ প্রকাশ না করে, তবে তা বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, যেমন: তুমি কি অবশ্যই করবে?
(এবং বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার শুরুতে একবচন উত্তম পুরুষের জন্য হামজা থাকে) - যেমন: আমি দণ্ডায়মান হচ্ছি। এখানে উত্তম পুরুষের জন্য নয় এমন হামজা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, যেমন: সে সম্মান করেছে।
(অথবা সম্মান প্রকাশের জন্য নুন ব্যবহার হয়) - যেমন নিজের মহত্ব প্রকাশকারীর উক্তি: আমরা করছি। এখানে উত্তম পুরুষের জন্য নয় এমন নুন থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, যেমন: সে ঔষধে নারগিস ফুল মিশ্রিত করল, যখন সে তাতে নারগিস ফুল দেয়।
(অথবা অংশীদারিত্ব বোঝাতে) - যেমন যার সাথে অন্য কেউ আছে তার উক্তি: আমরা করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
(أو بتاء للمخاطب) -نحو: أنت تفعل. واحترز من تاء لا تكون للمخاطب نحو: تعلم.
(مطلقًا) -أي مفردًا كان أو مثنى أو مجموعًا. نحو: أنت تقوم، وأنتما تقومان، وأنتم تقومون، مؤنثًا كان أو مذكرًا نحو: أنت تقومين، وأنتما تقومان، وأنتن تقمن.
(للغائبة) -نحو: هند تقوم.
(وللغائبتين) -الهندان تقومان.
(أو بياءٍ للمذكر الغائب) نحو: يقوم زيد، واحترز من ياء لا تكون للمذكر نحو: يرنأ الشيب إذا خضبه باليرنأ، وهو الحناء، ويقال: اليرنأ واليرنأ بالفتح والضم، مهموزين بلا مد، واليرناء بالضم ممدودًا.
وسألت فاطمة رضي الله عنها النبي صلى الله عليه وسلم عن اليرنأ فقال: ممن سمعت هذه الكلمة؟ قالت: من خنساء. قال: القتيبي: لا أعرف لهذه الكلمة في الأبنية مثلاً. وقولهم: يرنأ من غريب الأفعال.
(مطلقًا) -أي مفردًا كان نحو: زيد يقوم، أو مثنى نحو: الزيدان يقومان. أو مجموعًا نحو: الزيدون يقومون.
(والغائبات) نحو: الهندات يقمن.
(অথবা সম্বোধনের জন্য ‘তা’ যোগে) - যেমন: তুমি করছ। এবং এমন ‘তা’ থেকে সতর্ক থাকতে হবে যা সম্বোধনের জন্য নয়, যেমন: শিখছে বা শিখেছে।
(সার্বিকভাবে) - অর্থাৎ তা একবচন হোক বা দ্বিবচন হোক কিংবা বহুবচন হোক। যেমন: তুমি দণ্ডায়মান হচ্ছ, তোমরা দু’জন দণ্ডায়মান হচ্ছ, তোমরা সকলে দণ্ডায়মান হচ্ছ; তা স্ত্রীলিঙ্গ হোক বা পুংলিঙ্গ হোক, যেমন: তুমি (নারী) দণ্ডায়মান হচ্ছ, তোমরা দু’জন (নারী) দণ্ডায়মান হচ্ছ, তোমরা সকলে (নারী) দণ্ডায়মান হচ্ছ।
(অনুপস্থিত স্ত্রীলিঙ্গের জন্য) - যেমন: হিন্দ দণ্ডায়মান হচ্ছে।
(এবং অনুপস্থিত দুই স্ত্রীলিঙ্গের জন্য) - দুই হিন্দ দণ্ডায়মান হচ্ছে।
(অথবা অনুপস্থিত পুংলিঙ্গের জন্য ‘ইয়া’ যোগে) যেমন: যায়েদ দণ্ডায়মান হচ্ছে। এবং এমন ‘ইয়া’ থেকে সতর্ক থাকতে হবে যা পুংলিঙ্গের চিহ্ন নয়, যেমন: ‘ইয়ারনাউশ শাইব’ (পক্ক কেশ রঞ্জিত হওয়া) যখন সে তা ‘ইয়ারনা’ দ্বারা রঞ্জিত করে, আর তা হলো মেহেদী। এবং বলা হয়: ‘আল-ইয়ারনা’ এবং ‘আল-ইউরনা’ ফাতহা ও দাম্মা যোগে, উভয়টি দীর্ঘস্বর (মাদ্দ) ছাড়া হামযাযুক্ত; আর ‘আল-ইউরনাউ’ দাম্মা ও দীর্ঘস্বর যোগে।
ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ‘আল-ইয়ারনা’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি বললেন: তুমি এই শব্দটি কার কাছ থেকে শুনেছ? তিনি বললেন: খানসা থেকে। আল-কুতায়বী বলেন: শব্দ গঠনের কাঠামোর ক্ষেত্রে এই শব্দের কোনো সদৃশ আমার জানা নেই। আর তাদের উক্তি ‘ইয়ারনাউ’ বিরল ক্রিয়াগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
(সার্বিকভাবে) - অর্থাৎ তা একবচন হোক যেমন: যায়েদ দণ্ডায়মান হচ্ছে, অথবা দ্বিবচন হোক যেমন: দুই যায়েদ দণ্ডায়মান হচ্ছে, অথবা বহুবচন হোক যেমন: সকল যায়েদ দণ্ডায়মান হচ্ছে।
(এবং অনুপস্থিত স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচনের জন্য) যেমন: সকল হিন্দ দণ্ডায়মান হচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
(والأمر مستقبل أبدًا) -لأنه مطلوب منه حصول ما لم يحصل نحو: (يأيها المدثر. قم فأنذر) أو دوام ما حصل نحو: (يأيها النبي اتق الله).
(والمضارع صالح له) -أي للاستقبال.
(وللحال) -فإذا قلت: يقوم، احتمل الحال والاستقبال، وهذا مذهب الجمهور.
(ولو نفي بلا) -نحو: لا أضرب، وهذا مذهب الأخفش والمبرد.
(خلافًا لمن خصها بالمستقبل) -هم معظم المتأخرين. ومن وروده مع لا للحال قوله تعالى: (والله أخرجكم من بطون أمهاتكم لا تعلمون شيئًا).
(ويترجع الحال مع التجريد) -أي إذا تجرد المضارع عن القرائن المخلصة للاستقبال أو الحال كان حمله على الحال أرجح من حمله على الاستقبال.
(ويتعين) -أي الحال.
(عند الأكثر) -وهو الصحيح، وزعم بعضهم أنه لا يتعين، وهو ضعيف.
(بمصاحبة الآن) -نحو: أجيئك الآن.
(এবং আদেশবাচক ক্রিয়া সর্বদা ভবিষ্যৎ কাল জ্ঞাপক) -কারণ এর দ্বারা এমন কিছু অর্জিত হওয়া দাবি করা হয় যা ইতিপূর্বে অর্জিত হয়নি, যেমন: (হে চাদরাবৃত! উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন) অথবা যা অর্জিত হয়েছে তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা উদ্দেশ্য হয়, যেমন: (হে নবী! আপনি আল্লাহকে ভয় করতে থাকুন)।
(এবং বর্তমান-ভবিষ্যৎ কালবোধক ক্রিয়া এর জন্য উপযুক্ত) -অর্থাৎ ভবিষ্যতের জন্য।
(এবং বর্তমান কালের জন্যও) -সুতরাং আপনি যখন বলেন: ‘সে দাঁড়াচ্ছে বা দাঁড়াবে’, তখন তা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ—উভয় কালের সম্ভাবনা রাখে। আর এটিই জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের অভিমত।
(যদিও তা ‘লা’ অব্যয় দ্বারা না-বোধক করা হয়) -যেমন: ‘আমি প্রহার করছি না বা করব না’। এটি আখফাশ এবং মুবাররাদের অভিমত।
(তাদের ভিন্নমত যারা একে কেবল ভবিষ্যতের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন) -তারা হলেন পরবর্তী যুগের অধিকাংশ আলিম। ‘লা’ অব্যয় থাকা সত্ত্বেও বর্তমান কালের অর্থ প্রদানের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে নির্গত করেছেন এমতাবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না)।
(এবং কোনো অনুষঙ্গ না থাকলে বর্তমান কালই প্রাধান্য পায়) -অর্থাৎ বর্তমান-ভবিষ্যৎ কালবোধক ক্রিয়াটি যখন এমন সব অনুষঙ্গ থেকে মুক্ত থাকে যা একে সুনির্দিষ্টভাবে ভবিষ্যৎ বা বর্তমানের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়, তখন একে ভবিষ্যতের পরিবর্তে বর্তমান অর্থের ওপর প্রয়োগ করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।
(এবং এটি সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়) -অর্থাৎ বর্তমান কাল।
(অধিকাংশ আলিমের মতে) -আর এটিই সঠিক মত। তবে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এটি সুনির্দিষ্ট হয় না, যা একটি দুর্বল মত।
(‘এখন’ শব্দের সাহচর্যে) -যেমন: আমি এখন তোমার নিকট আসছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
(وما في معناه) -كالساعة والحين وآنفًا.
(وبلام الابتداء) -نحو، إن زيدًا ليقوم.
(ونفيه بليس) -نحو: ليس يقوم زيد.
(وما) -نحو: ما يقوم زيد.
(وإن) -نحو: إن يقوم زيد.
(ويتخلص للاستقبال) -أي المضارع.
(بظرف مستقبل) -نحو: أزورك إذا تزورني، فأزور مستقبل لعمله في إذا وهو ظرف مستقبل، وتزورني كذلك لإضافة إذا إليه.
(وبإسناده) -أي المضارع.
(إلى متوقع) -نحو:
(4) يهولك أن تموت وأنت ملغٍ
… لما فيه النجاة من العذاب
فيهول مستقبل لإسناده إلى أن تموت، وهو مستقبل، يقال: هاله الشيء يهوله هولاً أي أفزعه.
(وباقتضائه طلبًا) -نحو: "والوالدات يرضعن".
(এবং যা এর সমার্থবোধক) - যেমন এখন, এই মুহূর্তে এবং এইমাত্র।
(এবং লামে ইবতিদাহ-এর মাধ্যমে) - যেমন, নিশ্চয়ই জায়েদ অবশ্যই দাঁড়াচ্ছে।
(এবং 'লাইসা' দ্বারা একে না-বোধক করার মাধ্যমে) - যেমন: জায়েদ দাঁড়াচ্ছে না।
(এবং 'মা' দ্বারা) - যেমন: জায়েদ দাঁড়াচ্ছে না।
(এবং 'ইন' দ্বারা) - যেমন: জায়েদ দাঁড়াচ্ছে না।
(এবং এটি ভবিষ্যৎকালের জন্য নির্দিষ্ট হয়) - অর্থাৎ মুজারি।
(ভবিষ্যৎকালবোধক ক্রিয়াবিশেষণ বা জরফ-এর মাধ্যমে) - যেমন: আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব যদি তুমি আমার সাথে সাক্ষাৎ করো। এখানে 'আমি সাক্ষাৎ করব' শব্দটি ভবিষ্যৎকালবোধক, কারণ এটি 'যদি/যখন'-এর মধ্যে ক্রিয়া সম্পাদন করছে যা একটি ভবিষ্যৎকালবোধক জরফ। আর 'তুমি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে' শব্দটিও অনুরূপভাবে ভবিষ্যৎকালবোধক, কারণ 'যদি/যখন' শব্দটি এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে।
(এবং এর সম্বন্ধ করার মাধ্যমে) - অর্থাৎ মুজারিকে।
(প্রত্যাশিত কোনো বিষয়ের দিকে) - যেমন:
(৪) মৃত্যু তোমাকে আতঙ্কিত করে অথচ তুমি সেই বিষয়ে অবহেলা করছ... যাতে রয়েছে আজাব থেকে মুক্তি।
এখানে 'আতঙ্কিত করা' শব্দটি ভবিষ্যৎকালবোধক, কারণ এর সম্বন্ধ 'তোমার মৃত্যু হবে' এর দিকে করা হয়েছে, আর তা ভবিষ্যৎকাল। বলা হয়ে থাকে: কোনো কিছু তাকে আতঙ্কিত করেছে, এর অর্থ তাকে ভীত করেছে।
(এবং এর দ্বারা কোনো নির্দেশ বুঝানোর মাধ্যমে) - যেমন: "এবং মায়েরা তাদের সন্তানদের স্তন্যদান করবে"।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(أو وعدًا) -نحو: (يعذب من يشاء).
(وبمصاحبة ناصب) -أي ظاهرًا كان نحو: أريد أن أخرج، أو مقدرًا نحو: جئت لأقرأ.
(أو أداة ترج) -نحو: لعل الله يرحمنا.
(أو إشفاقٍ) -نحو لعل العدو يقدم. والفرق بين الرجاء والإشفاق أن المرجو محبوب والمشفق منه مكروه.
(أو مجازاةٍ) نحو: إن يقم زيد يقم عمرو.
(أولو المصدرية) -نحو: "يود أحدهم لو يعمر" -واحترز بالمصدرية من الامتناعية فإنها تصرف المضارع إلى المضي نحو: لو يقوم زيد لقام عمرو.
(أو نون توكيد) -أي ثقيلة كانت نحو: "لنخرجنك يا شعيب"، أو خفيفة نحو: "لنسفعا بالناصية".
(أو حرف تنفيس، وهو السين) -نحو سيقوم.
(أو سوف) -نحو: سوف أقوم.
(অথবা প্রতিশ্রুতি) -যেমন: (তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন)।
(এবং নসব প্রদানকারীর সাথে থাকাকালে) -অর্থাৎ তা প্রকাশ্য হোক যেমন: আমি বের হতে চাই, অথবা উহ্য হোক যেমন: আমি এসেছি যাতে আমি পড়তে পারি।
(অথবা আশা প্রকাশকারী অব্যয়ের সাথে) -যেমন: সম্ভবত আল্লাহ আমাদের প্রতি রহম করবেন।
(অথবা আশঙ্কার সাথে) -যেমন: সম্ভবত শত্রু আসবে। আর আশা ও আশঙ্কার মধ্যে পার্থক্য হলো, যার আশা করা হয় তা প্রিয় বস্তু আর যা থেকে আশঙ্কা করা হয় তা অপছন্দনীয় বস্তু।
(অথবা প্রতিদান বুঝালে) যেমন: যদি যায়েদ দাঁড়ায় তবে আমরও দাঁড়াবে।
(অথবা মাসদারি 'লাউ'-এর সাথে) -যেমন: "তাদের প্রত্যেকেই কামনা করে যদি তাকে দীর্ঘ জীবন দান করা হতো" -আর মাসদারি শব্দ দ্বারা ইমতিনাঈ (অসম্ভবতা জ্ঞাপক) 'লাউ' থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে, কেননা তা মুদারে কালকে মাদী কালের অর্থে পরিবর্তন করে দেয় যেমন: যদি যায়েদ দাঁড়াত তবে আমরও দাঁড়াত।
(অথবা তাকিদ বা গুরুত্বজ্ঞাপক 'নুন'-এর সাথে) -অর্থাৎ তা সাকীলাহ (ভারী) হোক যেমন: "হে শুয়াইব! আমি অবশ্যই তোমাকে বের করে দেব", অথবা খাফীফাহ (হালকা) হোক যেমন: "আমরা অবশ্যই তাকে কপালের চুলে ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাব"।
(অথবা হারফে তানফীস, যা হলো 'সীন') -যেমন: সে শীঘ্রই দাঁড়াবে।
(অথবা সাওফা) -যেমন: আমি অচিরেই দাঁড়াব।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(أو سف) -نحو: سف أقوم. حكاها الكوفيون.
(أو سو) -نحو: سو أقوم. حكاها الكسائي عن ناس من أهل الحجاز.
(أو سي) -نحو: سي أقوم. وهذه أغرب لغاتها، وحكاها صاحب المحكم.
(وينصرف إلى المضي) -أي المضارع.
(بلم) نحو: لم أضرب.
(ولما الجازمة) -نحو: لما يقم زيد، واحترز بالجازمة من التي بمعنى إلا فإنها لا تدخل إلا على ماض لفظًا مستقبلٍ معنى نحو: أنشدك الله لما فعلت، أي: ما أسألك إلا فعلك، ومن التي هي حرف وجوب لوجوب، فإنها لا تصحب إلا ماضيًا لفظًا ومعنى نحو: لما قام زيد قام عمرو. ولم يقيد لم بكونها جازمة لينبه على أنها تصرف المضارع إلى المضي وإن لم تجزمه كقوله:
(5) لولا فوارس كانوا حولهم صبرًا
… يوم الصليفاء لم يوفون بالجار
(ولو الشرطية غالبًا) -نحو: "ولو يؤاخذ الله الناس"، واحترز
(অথবা সাফ) -যেমন: সাফ আকুমু। কুফাবাসীগণ এটি বর্ণনা করেছেন।
(অথবা সাও) -যেমন: সাও আকুমু। আল-কিসায়ী হিজাজবাসীদের একদল থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(অথবা সাই) -যেমন: সাই আকুমু। এটি এর ভাষাগত রূপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিরল, আর আল-মুহকাম গ্রন্থের লেখক এটি বর্ণনা করেছেন।
(এবং তা অতীতকালের অর্থে পরিবর্তিত হয়ে যায়) -অর্থাৎ মুদারি বা বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল বাচক ক্রিয়া।
(লাম যোগে) যেমন: লাম আদরিব।
(এবং জযমদানকারী লাম্মা দ্বারা) -যেমন: লাম্মা ইয়াকুম যায়দুন। জযমদানকারী বলে তিনি সেই লাম্মা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন যা 'ব্যতীত' অর্থে ব্যবহৃত হয়; কেননা তা কেবল এমন শব্দের শুরুতে আসে যা শব্দগতভাবে অতীত কিন্তু অর্থগতভাবে ভবিষ্যৎকাল। যেমন: আমি তোমাকে আল্লাহর শপথ দিচ্ছি যে তুমি কেবল এটি করবে। আর (তিনি জযমদানকারী বলেছেন) সেই লাম্মা থেকেও বেঁচে থাকার জন্য যা এক বিষয়ের উপস্থিতির কারণে অন্য বিষয়ের উপস্থিত হওয়াকে বুঝায়, কারণ এটি কেবল শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে অতীতকালীন ক্রিয়ার সাথেই যুক্ত হয়। যেমন: যখন যায়েদ দাঁড়াল, তখন আমর দাঁড়াল। আর তিনি 'লাম'-কে জযমদানকারী হিসেবে সীমাবদ্ধ করেননি এটি বুঝাতে যে, এটি মুদারি-কে অতীতকালে রূপান্তরিত করে যদিও তা জযম না দেয়, যেমন কবির উক্তি:
(৫) যদি সেই অশ্বারোহীরা না থাকত যারা তাদের চারপাশে ধৈর্যশীল ছিল
… সালিফার যুদ্ধে তারা প্রতিবেশীর অঙ্গীকার রক্ষা করত না
(এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শর্তবাচক লাও দ্বারা) -যেমন: "আর যদি আল্লাহ মানুষকে পাকড়াও করতেন", আর তিনি সতর্কতা অবলম্বন করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بقوله: غالبًا من ورود الشرطية بمعنى إن فإنها تصرف المضارع حينئذ إلى الاستقبال نحو:
(6) لا يلفك الراجيك إلا مظهرا
… خلق الكرام ولو تكون عديما
(وإذ) -نحو: "وإذ تقول للذي أنعم الله عليه".
(وربما) -نحو:
ربما تكره النفوس من الأمر له فرجة كحل العقال.
(وقد في بعض المواضع) -قد كر بما في التقليل والصرف إلى المضي، فإن خلت من التقليل خلت غالبًا من الصرف إلى المضي، وتكون للتحقيق في نحو: "قد نعلم إنه ليحزنك الذي يقولون". وقد تخلو من التقليل وتصرف إلى المضي نحو: "قد نرى تقلب وجهك".
(وينصرف الماضي إلى الحال بالإنشاء) -نحو: بعت واشتريت وأعتقت، فهذه ماضية لفظًا حاضرة معنى، والإنشاء في اللغة مصدر أنشأ، وفي الاصطلاح عبارة عن إيقاع معنى بلفظ يقارنه في الوجود كإيقاع التزويج بزوجت، والتطليق بطلقت، والبيع والشراء ببعت واشتريت.
তাঁর উক্তি দ্বারা: অধিকাংশ ক্ষেত্রে যখন শর্তসূচক অব্যয় 'ইন' (যদি) অর্থে আসে, তখন এটি বর্তমান কালকে ভবিষ্যৎ কালের অর্থে রূপান্তরিত করে, যেমন:
(৬) তোমার প্রত্যাশী যেন তোমাকে কেবল উদার মহৎ ব্যক্তিদের চরিত্র প্রকাশকারী হিসেবেই পায়... যদিও তুমি নিঃস্ব হও।
(এবং 'ইয' [যখন]) - যেমন: "এবং যখন আপনি তাকে বলছিলেন যাকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন।"
(এবং 'রুব্বামা' [কখনও কখনও]) - যেমন:
কখনও কখনও মানুষ এমন বিষয়কে অপন্দ করে যার মুক্তি উটের বাঁধন খোলার মতোই সহজ।
(এবং কিছু স্থানে 'ক্বাদ') - 'ক্বাদ' শব্দটি কখনও কখনও স্বল্পতা এবং অতীত কালে রূপান্তরের ক্ষেত্রে 'রুব্বামা'র ন্যায় ব্যবহৃত হয়। যদি এটি স্বল্পতার অর্থ থেকে মুক্ত হয়, তবে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতীত কালে রূপান্তর হওয়া থেকেও মুক্ত থাকে এবং তখন তা নিশ্চিতকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন: "আমরা অবশ্যই জানি যে তারা যা বলে তা আপনাকে দুঃখিত করে।" আবার কখনও এটি স্বল্পতার অর্থ থেকে মুক্ত হয় এবং অতীত কালের অর্থে রূপান্তরিত হয়, যেমন: "আমরা অবশ্যই আপনার মুখমন্ডলের বারবার আকাশের দিকে ফেরা লক্ষ্য করছি।"
(এবং ইনশা বা সরাসরি কার্যকারিতার মাধ্যমে অতীত কাল বর্তমান কালের অর্থে রূপান্তরিত হয়) - যেমন: আমি বিক্রি করলাম, আমি ক্রয় করলাম এবং আমি মুক্ত করলাম। এগুলো শব্দে অতীত কাল হলেও অর্থে বর্তমান বা উপস্থিত কাল। 'ইনশা' আভিধানিকভাবে 'আনশাআ' শব্দের মাসদার বা ক্রিয়ামূল। আর পারিভাষিক পরিভাষায় এটি এমন এক শব্দের মাধ্যমে কোনো অর্থ কার্যকর করা যা উচ্চারণের সাথে সাথেই অস্তিত্ব লাভ করে; যেমন 'যাওয়াজতু' (আমি বিবাহ দিলাম) বলার মাধ্যমে বিবাহ কার্যকর হওয়া, 'তাল্লাক্বতু' (আমি তালাক দিলাম) বলার মাধ্যমে তালাক কার্যকর হওয়া এবং 'বা'তু' (আমি বিক্রি করলাম) ও 'ইশতারাইতু' (আমি ক্রয় করলাম) বলার মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(وإلى الاستقبال بالطلب) -نحو: غفر الله لزيد.
(والوعد) -نحو: "إنا أعطيناك الكوثر".
(وبالعطف على ما علم استقباله) -نحو: "يقدم قومه يوم القيامة فأوردهم النار".
(وبالنفي بلا) -نحو:
(7) ردوا فوالله لا ذدناكم أبدًا
… ما دام في مائنا ورد لنزال
(وإن) -نحو: "ولئن زالتا إن أمسكهما من أحدٍ من بعده".
(بعد القسم) -قيد في النفي بلا وإن.
(ويحتمل) أي الماضي.
(المضي والاستقبال بعد همزة التسوية) -نحو: سواء علي أقمت أم قعدت.
(وحرف التحضيض) -نحو: هلا ضربت زيدًا؟ إن أردت المضي كان
(প্রার্থনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ অর্থ প্রদানের জন্য) -যেমন: আল্লাহ জায়েদকে ক্ষমা করুন।
(প্রতিশ্রুতির জন্য) -যেমন: "নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি।"
(এমন শব্দের ওপর আতফ বা সংযুক্ত করার মাধ্যমে যার ভবিষ্যৎ হওয়া জানা আছে) -যেমন: "কিয়ামতের দিন সে তার সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে, অতঃপর সে তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।"
(’লা’ দ্বারা না-বোধক করার মাধ্যমে) -যেমন:
(৭) ফিরে যাও, আল্লাহর কসম, আমরা তোমাদের কখনোই হটিয়ে দেব না... যতক্ষণ আমাদের পানির ঘাটে যুদ্ধের জন্য অবতরণ অবশিষ্ট থাকবে।
(এবং ‘ইন’ দ্বারা) -যেমন: "যদি সেগুলো স্থানচ্যুত হয়, তবে তিনি ছাড়া আর কেউই সেগুলোকে ধরে রাখতে পারবে না।"
(কসমের পর) -এটি ‘লা’ এবং ‘ইন’ দ্বারা না-বোধক হওয়ার ক্ষেত্রে একটি শর্ত।
(আর তা সম্ভাবনা রাখে) অর্থাৎ অতীতকাল।
(হামজায়ে তাসবিয়াহ বা সমতাসূচক হামজার পর অতীত ও ভবিষ্যৎ উভয় অর্থ গ্রহণ) -যেমন: আমার নিকট সমান যে তুমি দণ্ডায়মান হলে নাকি উপবিষ্ট হলে।
(এবং তাহদিদ বা উৎসাহব্যঞ্জক অব্যয়ের পর) -যেমন: তুমি কেন জায়েদকে প্রহার করলে না? যদি তুমি অতীতকাল উদ্দেশ্য করো, তবে তা...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
توبيخًا، أو الاستقبال كان أمرًا، ومن الثاني قوله تعالى: "فلولا نفر من كل فرقةٍ منهم طائفة" أي لينفر.
(وكلما) -مثال المضي: "كلما جاء أمة رسولها كذبوه". ومثال الاستقبال: "كلما نضجت جلودهم".
(وحيث) -مثال المضي: "فأتوهن من حيث أمركم الله" ومثال الاستقبال: "ومن حيث خرجت".
(وبكونه صلةً) -مثال المضي: "الذين قال لهم الناس" ومثال الاستقبال: (إلا الذين تابوا من قبل أن تقدروا عليهم).
(أو صفة لنكرة عامة) -مثال المضي:
(8) رب رفدٍ هرقته ذلك اليو
… م وأسرى من معشر أقتال
ومثال الاستقبال: "نضر الله أمرًا سمع مقالتي فأداها كما سمعها" أي: يسمع مقالتي، لأنه ترغيب لمن أدرك حياته في حفظ ما يسمعه منه ويبلغه لأمته، والرفد أيضًا القدح الضخم، والأقتال جمع قتل وهو العدو، ومعنى نضر الله أمرأ نعمه.
তিরস্কারস্বরূপ, অথবা ভবিষ্যৎকাল নির্দেশের জন্য যা আদেশ হিসেবে এসেছে। দ্বিতীয়টির উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না," অর্থাৎ: যেন তারা বের হয়।
(এবং যখনই) - অতীতকালের উদাহরণ: "যখনই কোনো জাতির কাছে তাদের রাসূল এসেছেন, তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।" এবং ভবিষ্যৎকালের উদাহরণ: "যখনই তাদের চামড়া দগ্ধ হবে।"
(এবং যেখানেই) - অতীতকালের উদাহরণ: "অতঃপর তোমরা তাদের নিকট গমন করো যেখান থেকে আল্লাহ তোমাদের আদেশ করেছেন" এবং ভবিষ্যৎকালের উদাহরণ: "এবং যেখান থেকে আপনি বের হবেন।"
(এবং সংযোগকারী বাক্য হওয়ার মাধ্যমে) - অতীতকালের উদাহরণ: "যাদেরকে লোকেরা বলেছিল" এবং ভবিষ্যৎকালের উদাহরণ: (কিন্তু যারা তওবা করেছে তোমরা তাদের উপর সামর্থ্য লাভ করার পূর্বে)।
(অথবা সাধারণ অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের বিশেষণ হিসেবে) - অতীতকালের উদাহরণ:
(৮) কতই না বিশাল পানপাত্র আমি ঢেলেছি সেই দিন
… এবং শত্রু দলের বন্দীরা
এবং ভবিষ্যৎকালের উদাহরণ: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে যেভাবে সে শুনেছে" অর্থাৎ: যে আমার কথা শুনবে; কারণ এটি ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের জন্য উৎসাহিতকরণ যারা তাঁর জীবনকাল পেয়েছেন, যাতে তারা যা শুনছেন তা সংরক্ষণ করেন এবং তাঁর উম্মতের নিকট পৌঁছে দেন। আর 'রিফদ' শব্দের অর্থ বিশাল পানপাত্র, এবং 'আক্বতাল' হলো 'ক্বাতল' এর বহুবচন যার অর্থ শত্রু, আর 'আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে নাদদ্বারা করুন' এর অর্থ হলো তিনি তাকে নিআমত দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2 - باب إعراب الصحيح الآخريطلق الإعراب في اللغة على الإبانة، أعرب الرجل عن حاجته أبان عنها، وعلى التحسين، أعربت الشيء: حسنته، وعلى التغيير عربت معدة البعير تغيرت، وأعربها الله غيرها، وفي الاصطلاح على ما يلحق أواخر الكلمة المعربة من حركةٍ أو حرفٍ أو سكونٍ أو حذفٍ، كما ذكر المصنف، وزعم أنه مذهب المحققين، وذهب متأخرو المغاربة إلى أنه عبارة عن التغيير الذي في أواخر الكلم، وهو ظاهر قول سيبويه، واختيار الأعلم.
(الإعراب) -أي في الاصطلاح.
(ما جيء به لبيان مقتضى العامل من حركةٍ) -من بيان لما، والحركة هي الضمة نحو: جاء زيد، والفتحة نحو: رأيت زيدًا، والكسرة نحو: مررت بزيدٍ.
(أو حرفٍ) -هو الواو والألف والياء والنون، نحو: جاء أبوك والزيدان، ورأيت الزيدين يضربون.
(أو سكون) -نحو: لم يضرب.
(أو حذف) -نحو: لم يضربا.
২ - সহীহুল আখির এর ইরাব পরিচ্ছেদআভিধানিক অর্থে ইরাব শব্দটি সুস্পষ্ট করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; যেমন বলা হয়: ‘ব্যক্তিটি তার প্রয়োজন সুস্পষ্ট (ইরাব) করেছে’। এছাড়া এটি সৌন্দর্যমণ্ডিত করার অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন: ‘আমি বস্তুটিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছি’। এবং এটি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়; যেমন: ‘উটের পাকস্থলী পরিবর্তিত হয়েছে’, আর আল্লাহ তা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। আর পরিভাষায় ইরাব হলো সেই হরকত, হরফ, সুকুন অথবা হজফ যা মু'রাব শব্দের শেষে যুক্ত হয়, যেমনটি লেখক উল্লেখ করেছেন এবং তিনি দাবি করেছেন যে এটিই মুহাক্কিকগণের অভিমত। মাগরিবের পরবর্তী যুগের আলিমগণ মনে করেন যে, ইরাব হলো শব্দের শেষে সংঘটিত পরিবর্তন। এটিই সিবওয়াইহ-এর উক্তির বাহ্যিক অর্থ এবং আল-আ'লামের মনোনীত মত।
(ইরাব) -অর্থাৎ পরিভাষায়।
(যা আমিলের চাহিদা প্রকাশের জন্য হরকত স্বরূপ আনীত হয়) -এখানে 'মিন' বর্ণটি 'মা'-এর ব্যাখাস্বরূপ। আর হরকত হলো পেশ; যেমন: যা-আ যাইদুন, এবং জবর; যেমন: রাআয়তু যাইদান, এবং যের; যেমন: মারারতু বি-যাইদিন।
(অথবা হরফ) -তা হলো ওয়াও, আলিফ, ইয়া এবং নূন; যেমন: যা-আ আবূকা ও আয-যাইদানি, এবং রাআয়তুয যাইদাইনি ইয়াযরিবূনা।
(অথবা সুকুন) -যেমন: লাম ইয়াযরিব।
(অথবা হজফ) -যেমন: লাম ইয়াযরিবা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
(وهو) -أي الإعراب.
(في الاسم أصل) -وهذا مذهب البصريين، وذهب الكوفيون إلى أن الإعراب أصل في الأسماء وفي الأفعال، وقيل هو أصل في الفعل فرع في الاسم، حكاه في البسيط.
(لوجوب قبوله) -أي الاسم.
(بصيغةٍ واحدةٍ معاني مختلفةً) -وهي الفاعلية والمفعولية والإضافة نحو: قام زيد، ورأيت زيدًا، ومررت بزيدٍ.
(والفعل والحرف ليسا كذلك) -أي ليس كل واحد منهما يقبل بصيغةٍ واحدةٍ معاني مختلفة.
(فبنيا) -أي الفعل والحرف.
(إلا المضارع، فإنه شابه الاسم بجواز شبه ما وجب له فأعرب) وجه الشبه أن كلا منهما يعرض له بعد التركيب معانٍ تتعاقب على صيغةٍ واحدةٍ، ففي قولك: لا تأكل السمك وتشرب اللبن، يحتمل النهي عن الفعلين مطلقًا، وعن الجمع بينهما، والنهي عن الأول واستئناف الثاني، فيدل على كل معنى منها بإعراب، فعلى الأول تجزم الثاني كالأول، وعلى الثاني تنصبه، وعلى الثالث ترفعه، فيزول اللبس الذي عرض في الفعل بالإعراب، كما يزول اللبس الذي يعرض في الاسم بالإعراب نحو: ما أحسن زيدًا في التعجب، وما أحسن زيدٍ في الاستفهام، وما أحسن زيد في النفي، فلما كان الاسم والفعل شريكين في قبول المعاني بعد التركيب اشتركا في الإعراب.
(আর তা) -অর্থাৎ ই’রাব বা শব্দরূপ।
(বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এটিই মূল) -এটি বসরী পণ্ডিতদের অভিমত। কুফী পণ্ডিতগণ মনে করেন যে, ই’রাব বিশেষ্য ও ক্রিয়া উভয়ের মধ্যেই মূল। আবার বলা হয়েছে, এটি ক্রিয়ার ক্ষেত্রে মূল এবং বিশেষ্যের ক্ষেত্রে শাখা বা গৌণ; যা 'আল-বাসীত' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(কেননা এটি গ্রহণ করা আবশ্যক) -অর্থাৎ বিশেষ্য।
(একটিমাত্র রূপের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থ) -আর তা হলো কর্তাবাচকতা, কর্মবাচকতা এবং সম্বন্ধবাচকতা; যেমন: যায়েদ দাঁড়িয়েছে, আমি যায়েদকে দেখেছি এবং আমি যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি।
(ক্রিয়া ও অব্যয় তেমনটি নয়) -অর্থাৎ এদের কোনটিই একক রূপের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে না।
(তাই এ দুটি মাবনি বা অপরিবর্তনীয় হয়েছে) -অর্থাৎ ক্রিয়া ও অব্যয়।
(তবে মুদারি বা বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া ব্যতীত; কারণ এটি বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্য রাখে, যা তার জন্য আবশ্যক ছিল তার সদৃশ হওয়া জায়েজ হওয়ার কারণে, তাই একে মু’রাব বা রূপান্তরশীল করা হয়েছে) সাদৃশ্যের দিকটি হলো যে, বাক্য গঠনের পর উভয়ের ক্ষেত্রেই এমন কিছু অর্থের সম্ভাবনা তৈরি হয় যা একক রূপের ওপর পর্যায়ক্রমে আসতে থাকে। যেমন আপনার উক্তি: "মাছ খেয়ো না এবং দুধ পান করো না" -এর মধ্যে উভয় কাজ থেকেই সাধারণভাবে নিষেধ করা, উভয় কাজের একত্রিকরণ থেকে নিষেধ করা, অথবা প্রথমটি থেকে নিষেধ করে দ্বিতীয়টি নতুন বাক্য হিসেবে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় ই’রাবের মাধ্যমে প্রতিটি অর্থ পৃথকভাবে নির্দেশ করা হয়। প্রথম অর্থের ক্ষেত্রে আপনি প্রথমটির মতো দ্বিতীয় ক্রিয়াটিতেও জজম প্রদান করবেন। দ্বিতীয় অর্থের ক্ষেত্রে আপনি একে নসব দেবেন। আর তৃতীয় অর্থের ক্ষেত্রে রফ’ প্রদান করবেন। ফলে ই’রাবের মাধ্যমে ক্রিয়ার মধ্যে যে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল তা দূর হয়ে যায়, যেমনটি বিশেষ্যের মধ্যে ই’রাবের মাধ্যমে অস্পষ্টতা দূর হয়। যেমন: বিস্ময় প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘যায়েদ কতই না চমৎকার!’, জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে ‘যায়েদের কোন জিনিসটি সুন্দর?’, এবং না-বোধক অর্থে ‘যায়েদ ভালো কাজ করেনি’। অতএব, যখন বিশেষ্য এবং ক্রিয়া বাক্য গঠনের পর বিভিন্ন অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে অংশীদার হলো, তখন তারা ই’রাব বা শব্দরূপ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও পরস্পরের অংশীদার হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وإنما قال: بجواز، تنبيهًا على أن الشبه الذي لأجله أعرب المضارع ليس هو موجبًا للإعراب، لأنه كان يمكن إذا ألبس المضارع في بعض المواضع أن يزال اللبس بغير الإعراب، بخلاف الإلباس الذي في الاسم فإنه لا يمكن زواله بغير الإعراب، فلذلك وجب الإعراب للاسم وجاز الفعل.
وإنما قال: شبه ما وجب له، ولم يقل بجواز ما وجب له لأن المعاني التي أوجبت للاسم الإعراب ليست المعاني التي جوزت للفعل الإعراب، بل هذه شبه تلك، ووجه الشبه بينهما أنها معان تطرأ بعد التركيب كتلك.
(ما لم يتصل به نون توكيد أو إناث) -فإن اتصل به أحدهما بني نحو: هل تضربن يا زيد؟ ويا هندات هل تضربن؟ وإن لم يتصل به بل فصل فاصل نحو: هل تضربان يا زيدان؟ وهل تضربن يا زيدون؟ وهل تضربن يا هند، أعرب كالمجرد نحو: هل تضرب؟
(ويمنع إعراب الاسم مشابهة الحرف) -كشبهه له في الوضع نحو تاء ضربت، أو في تضمن معناه كأسماء الشرط والاستفهام نحو: متى ومهما، أو في نيابته عن الفعل وعدم تأثره كأسماء الأفعال، أو في افتقاره كالموصولات.
(بلا معارض) احترز من أي فإنها مشبهة للحرف سواء كانت شرطًا أم استفهامًا أم موصولة، لكن عارض هذه المشابهة لزومها للإضافة وكونها بمعنى بعض إن أضيفت إلى معرفة، وبمعنى كل إن أضيفت إلى نكرة، فغلبت مشابهتها المعرب على مشابهتها المبني، لكونها داعية إلى ما يستحقه الاسم بالأصالة وهو الإعراب.
তিনি কেবল ‘বৈধতা’ (জাওয়াজ) শব্দটি উল্লেখ করেছেন এটি সতর্ক করার জন্য যে, মুজারি ফেয়েল যে সাদৃশ্যের কারণে মু'রাব বা রূপান্তরযোগ্য হয়, তা ইরাব গ্রহণের জন্য কোনো অনিবার্য কারণ নয়। কেননা মুজারি ফেয়েলের কোনো কোনো ক্ষেত্রে যদি দ্ব্যর্থতা বা অস্পষ্টতা তৈরি হতো, তবে ইরাব ছাড়াও সেই অস্পষ্টতা দূর করা সম্ভব হতো। এর বিপরীতে ইসিমে যে অস্পষ্টতা তৈরি হয়, তা ইরাব ছাড়া দূর করা সম্ভব নয়। এই কারণেই ইসিমে ইরাব হওয়া আবশ্যক (ওয়াজিব) এবং ফেয়েলে তা বৈধ (জায়েজ) করা হয়েছে।
তিনি বলেছেন: ‘যার জন্য ইরাব আবশ্যক হয়েছে তার সদৃশ’, কিন্তু তিনি ‘যার জন্য ইরাব আবশ্যক হয়েছে তার বৈধতা’ বলেননি। কারণ ইসিমে ইরাবকে যা আবশ্যক করেছে সেই অর্থগুলো আর ফেয়েলে ইরাবকে যা বৈধ করেছে সেই অর্থগুলো এক নয়; বরং এগুলো সেগুলোর সদৃশ মাত্র। তাদের উভয়ের মাঝে সাদৃশ্যের দিক হলো, এগুলো এমন কিছু অর্থ যা বাক্যগঠনের (তারকিব) পর আপতিত হয়, যেমনটি সেই ইসিমের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
(যতক্ষণ না তার সাথে তাকিদসূচক নুন কিংবা স্ত্রীলিঙ্গবাচক নুন যুক্ত হয়) - যদি এই দুটির কোনো একটি তার সাথে সরাসরি যুক্ত হয়, তবে তা মাবনি (অপরিবর্তনীয়) হয়ে যায়। যেমন: হে জায়েদ, তুমি কি অবশ্যই প্রহার করবে? এবং হে হিন্দগণ, তোমরা কি প্রহার করবে? আর যদি এই নুন সরাসরি যুক্ত না হয়ে মাঝে কোনো ব্যবধানকারী থাকে, যেমন: হে দুই জায়েদ, তোমরা কি প্রহার করবে? এবং হে জায়েদগণ, তোমরা কি প্রহার করবে? এবং হে হিন্দা, তুমি কি প্রহার করবে? তবে তা নুনমুক্ত শব্দের ন্যায় মু'রাব হবে, যেমন: তুমি কি প্রহার করবে?
(আর হরফের সাথে সাদৃশ্য রাখা ইসিমের ইরাবকে বাধা প্রদান করে) - যেমন গঠনগত দিক থেকে হরফের সদৃশ হওয়া, যেমন ‘দারাবতু’ এর ‘তা’; অথবা হরফের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য, যেমন শর্তবাচক ও প্রশ্নবোধক ইসিমসমূহ যথা: ‘কখন’ (মাতা) ও ‘যা কিছুই’ (মাহমা); অথবা ফেয়েলের প্রতিনিধিত্ব করা এবং আমেল দ্বারা প্রভাবিত না হওয়ার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য, যেমন আসমাউল আফআল (ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য); অথবা মুখাপেক্ষী হওয়ার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য, যেমন আসমাউল মাওসুলাত (সংযোজক বিশেষ্য)।
(কোনো প্রতিবন্ধক ব্যতীত) - এর মাধ্যমে তিনি ‘আইয়্যু’ (أي) শব্দটিকে বাদ দিয়েছেন। কারণ এটি হরফের সদৃশ, চাই তা শর্তবাচক হোক, প্রশ্নবোধক হোক কিংবা মাওসুলা হোক। কিন্তু এই সাদৃশ্যের বিপরীতে একটি প্রতিবন্ধক বিদ্যমান, আর তা হলো এটি সর্বদা ইজাফাত (সম্বন্ধযুক্ত) হয়ে ব্যবহৃত হয় এবং নির্দিষ্ট বিশেষ্যের (মারেফা) দিকে ইজাফাত হলে এটি ‘কিছু’ অর্থ প্রদান করে আর অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকেরা) দিকে ইজাফাত হলে ‘সব’ অর্থ প্রদান করে। ফলে এর মু'রাব হওয়ার সাদৃশ্যটি মাবনি হওয়ার সাদৃশ্যের ওপর প্রবল হয়েছে, কারণ এটি সেই গুণের দিকে আহ্বান করে যা ইসিম মৌলিকভাবে পাওয়ার যোগ্য, আর তা হলো ইরাব।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
(والسلامة منها تمكن) -أي في مشابهة الحرف تثبت في مقام الأصالة، فلذا يتصرف في المتمكن بحركات أو حروف، بخلاف المبني فإنه فاقد لهذا التصرف.
والمتمكن قسمان: متمكن أمكن، وهو المنصرف، ومتمكن غير أمكن وهو غير المنصرف.
(وأنواع الإعراب رفع ونصب وجر وجزم) -فالإعراب جنس هذه أنواعه، فيدل على الرفع حركة نحو: جاء زيد، وحرف نحو: جاء الزيدان، وكذلك النصب والجر نحو: رأيت زيدًا أخاك، ومررت بزيدٍ أخيك، ويدل على الجزم حذف الحركة نحو لم يضرب، وحذف الحرف نحو: لم يضربا.
وقوله: وأنواع الإعراب أحسن من قول غيره: ألقاب الإعراب، لأن من حق اللقب أن يصدق على ما لقب به، وهذا ليس كذلك، إذ لا يقال: الإعراب رفع ولا الإعراب نصب، فلا تكون هذه ألقابًا له.
(وخص الجر بالاسم لأن عامله لا يستقل) -أي لأنه مفتقر إلى ما يتعلق به نحو: مررت بزيدٍ.
(فيحمل غيره عليه) -فلذلك فقد الجر من المضارع ولم يفقد منه النصب والرفع، لأن عامل كل منهما مستقل نحو: قام زيد، وضربت زيدًا، فقبل كل منهما أن يتفرع عليه عامل في الفعل.
(بخلاف الرفع والنصب) -أي فإن عامل كل منهما مستقل.
(এবং তা থেকে মুক্ত থাকাই হলো সক্ষমতা বা তামাক্কুন) - অর্থাৎ হরফ বা অব্যয়ের সাদৃশ্য থেকে মুক্ত থাকা মূল অবস্থার ওপর স্থির থাকে, একারণেই সক্ষম (মুতামাক্কিন) শব্দে হরকত বা হরফের মাধ্যমে পরিবর্তন সাধিত হয়; যা অপরিবর্তনীয় (মাবনী) শব্দের বিপরীত, কারণ তা এই পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে না।
আর সক্ষম শব্দ বা মুতামাক্কিন দুই প্রকার: মুতামাক্কিন আমকান, যা হলো পূর্ণ পরিবর্তনশীল (মুনসারিফ); এবং মুতামাক্কিন গায়রে আমকান, যা হলো আংশিক পরিবর্তনশীল (গায়রে মুনসারিফ)।
(আর ই'রাবের প্রকারসমূহ হলো রাফ্, নাসব, জার এবং জাযম) - সুতরাং ই'রাব হলো মূল শ্রেণী এবং এগুলো তার প্রকার। রাফ্-এর চিহ্ন হলো হরকত, যেমন: 'জা-আ যাইদুন' (যাইদ এসেছে); অথবা হরফ, যেমন: 'জা-আল যাইদানি' (দুই যাইদ এসেছে)। একইভাবে নাসব এবং জার-এর উদাহরণ হলো: 'রায়াইতু যাইদান আখাকা' (আমি তোমার ভাই যাইদকে দেখেছি) এবং 'মারারতু বিযাইদিন আখিকা' (আমি তোমার ভাই যাইদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছি)। আর জাযম-এর চিহ্ন হলো হরকত বিলুপ্ত হওয়া, যেমন: 'লাম ইয়াদরিব'; অথবা হরফ বিলুপ্ত হওয়া, যেমন: 'লাম ইয়াদরিবা'।
আর তাঁর বক্তব্য: "ই'রাবের প্রকারসমূহ" অন্যদের বক্তব্য "ই'রাবের উপাধিসমূহ" অপেক্ষা অধিক উত্তম। কারণ উপাধির দাবি হলো তা যার উপাধি দেওয়া হয়েছে তার ওপর হুবহু প্রযোজ্য হওয়া, কিন্তু এখানে বিষয়টি তেমন নয়। কেননা বলা হয় না যে: ই'রাবই হলো রাফ্, অথবা ই'রাবই হলো নাসব। সুতরাং এগুলো ই'রাবের উপাধি হতে পারে না।
(আর জার-কে বিশেষ্যের (ইসম) জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে কারণ এর আমেল বা কারক স্বতন্ত্র নয়) - অর্থাৎ যেহেতু তা অন্য কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার মুখাপেক্ষী, যেমন: 'মারারতু বিযাইদিন'।
(তাই অন্যকে এর ওপর কিয়াস করা হয়) - একারণেই ফে'লে মুদারে' থেকে জার বিলুপ্ত হয়েছে কিন্তু নাসব ও রাফ্ বিলুপ্ত হয়নি। কারণ নাসব ও রাফ্-এর প্রত্যেকটির কারক বা আমেল স্বতন্ত্র, যেমন: 'ক্বামা যাইদুন' এবং 'দারাবতু যাইদান'। ফলে এদের প্রত্যেকটিই ক্রিয়ার ক্ষেত্রে আমেল বা কারকের শাখা হওয়াকে গ্রহণ করেছে।
(রাফ্ এবং নাসব-এর বিষয়টি এর বিপরীত) - অর্থাৎ তাদের প্রত্যেকের কারক বা আমেল হলো স্বতন্ত্র।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(وخص الجزم بالفعل لكونه فيه كالعوض من الجر) فصار لكل واحد من صنفي المعرب ثلاثة أوجه من الإعراب، الرفع والنصب والجر للاسم والرفع والنصب والجزم للفعل.
(والإعراب بالحركة والسكون أصل، وينوب عنهما الحرف والحذف) -أي الإعراب بالحركة نحو: يقوم زيد، أصل للإعراب بالحرف نحو: الزيدان يضحكان، والإعراب بالسكون نحو: لم يضرب أصل للإعراب بالحذف نحو: لم يقوما، فلا يصار إلى الإعراب بحرفٍ إلا عند تعذر الحركة، ولا يصار إلى الإعراب بحذف إلا عند تعذر السكون.
(فارفع بضمة) -نحو: يقوم زيد.
(وانصب بفتحة) -نحو: لن أضرب زيدًا.
(وجر بكسرةٍ) -نحو: مررت بزيدٍ.
(واجزم بسكون) -نحو: لم أضرب.
(إلا في مواضع النيابة) -وستأتي مفصلة، فمنها من نابت فيه حركة عن حركةٍ كغير المنصرف جرا، وجمع المؤنث السالم نصبًا، ومنها ما ناب فيه حرف عن حركةٍ كالأسماء الستة والمثنى وجمع المذكر السالم، ومنها ما ناب فيه حذف عن السكون أو حركة كالأمثلة الخمسة جزمًا ونصبًا.
(وتنوب الفتحة عن الكسرة في جر ما لا ينصرف) -نحو: مررت بأحمد.
(إلا أن يضاف) -نحو: مررت بأحمدكم.
(জযমকে ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, কারণ এটি ক্রিয়ার ক্ষেত্রে জরের বিনিময়ের ন্যায়) ফলে রূপান্তরযোগ্য শব্দের দুই প্রকারের প্রতিটির জন্য তিন প্রকারের ই'রাব সাব্যস্ত হয়েছে; ইসমের জন্য রাফা, নাসব ও জর এবং ফে'লের জন্য রাফা, নাসব ও জযম।
(হরকত ও সুকুনের মাধ্যমে ই'রাব হওয়া মূল নীতি, আর অক্ষর ও বিলোপসাধন এই দুটির স্থলাভিষিক্ত হয়) -অর্থাৎ হরকতের মাধ্যমে ই'রাব হওয়া, যেমন: 'ইয়াকুমু যাইদুন' (যাইদ দাঁড়াচ্ছে), এটি অক্ষরের মাধ্যমে ই'রাব হওয়ার মূল রূপ, যেমন: 'আয-যাইদানি ইয়াদহাকানি' (দুই যাইদ হাসছে)। আর সুকুনের মাধ্যমে ই'রাব হওয়া, যেমন: 'লাম ইয়াদরিব' (সে প্রহার করেনি), এটি বিলোপসাধনের মাধ্যমে ই'রাব হওয়ার মূল রূপ, যেমন: 'লাম ইয়াকুমা' (তারা দুইজন দাঁড়ায়নি)। সুতরাং হরকত প্রদান অসম্ভব না হওয়া পর্যন্ত অক্ষরের মাধ্যমে ই'রাব করা যাবে না, এবং সুকুন প্রদান অসম্ভব না হওয়া পর্যন্ত বিলোপসাধনের মাধ্যমে ই'রাব করা যাবে না।
(সুতরাং পেশ দ্বারা রাফা প্রদান করো) -যেমন: 'ইয়াকুমু যাইদুন'।
(জবর দ্বারা নাসব প্রদান করো) -যেমন: 'লান আদরিবা যাইদান'।
(জের দ্বারা জর প্রদান করো) -যেমন: 'মারারতু বি-যাইদিন'।
(সুকুন দ্বারা জযম প্রদান করো) -যেমন: 'লাম আদরিব'।
(স্থলাভিষিক্ত হওয়ার স্থানগুলো ব্যতীত) -সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে। তার মধ্যে কিছু এমন যেখানে এক হরকত অন্য হরকতের স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন: গাইরে মুনসারিফ শব্দের জরের ক্ষেত্রে এবং জামা মুআন্নাস সালিমের নাসবের ক্ষেত্রে। কিছু এমন যেখানে হরকতের পরিবর্তে অক্ষর স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন: আসমায়ে সিত্তা, মুসান্না এবং জামা মুযাক্কার সালিমের ক্ষেত্রে। আর কিছু এমন যেখানে সুকুন বা হরকতের পরিবর্তে বিলোপসাধন স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন: জযম ও নাসবের ক্ষেত্রে আমসিলায়ে খামসাহ।
(এবং গাইরে মুনসারিফ শব্দের জরের ক্ষেত্রে জবর জেরের স্থলাভিষিক্ত হয়) -যেমন: 'মারারতু বি-আহমাদা'।
(যদি না সেটি সম্বন্ধযুক্ত বা ইদাফাত করা হয়) -যেমন: 'মারারতু বি-আহমাদিকুম'।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
(أو يصحب الألف واللام) -كالأحمر.
(أو بدلها) -أي بدل اللام، وإبدال لام التعريف ميمًا لغة حمير، ومن دخول "أم" على ما لا ينصرف وجره بالكسرة قوله:
(9) أإن شمت من نجدٍ بريقًا تألقا
… تكابد ليل امأرمد اعتاد أولقا
أراد: ليل الأرمد، وذكر صاحب المقرب أنها لغة طيء، يقال: شمت البرق أي نظرت إلى سحابته أين تمطر، وتألق البرق لمع، والأولق الجنون.
(والكسرة عن الفتحة في نصب أولات) -كقوله تعالى: "وإن كن أولات حمل" وإنما لم يجعلها من جمع المؤنث السالم لأنها لا مفرد لها من لفظها، قال أبو عبيدة: أولات واحدها ذات.
(والجمع بزيادة ألف وتاء) -كهندات وحمامات، وقيد بالزيادة احترازًا من أبياتٍ وقضاةٍ. فإن نصبهما بالفتحة كغيرهما من جموع التكسير.
(অথবা এটি আলিফ এবং লাম যুক্ত হবে) -যেমন আল-আহমার।
(অথবা এর স্থলাভিষিক্ত হওয়া) -অর্থাৎ লাম-এর স্থলাভিষিক্ত হওয়া। আর আলিফ-লাম-এর স্থলে মিম ব্যবহার করা হিমইয়ার গোত্রের ভাষা। এবং যে শব্দগুলো গাইরে মুনসারিফ তাতে 'আম' যুক্ত হওয়া এবং কাসরা যোগে যর হওয়ার উদাহরণ হলো কবির এই উক্তি:
(৯) তুমি কি নাজদ থেকে আসা বিদ্যুৎ চমক দেখেছো যা উদ্ভাসিত হয়েছে... তুমি চোখের পীড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির ন্যায় দীর্ঘ রাতের কষ্ট ভোগ করছো যে উন্মাদনায় আচ্ছন্ন।
তিনি উদ্দেশ্য করেছেন: লাইলুল আরমাদ (চক্ষুরোগীর রাত)। 'আল-মুর্কারিব' গ্রন্থের রচয়িতা উল্লেখ করেছেন যে এটি তাই গোত্রের ভাষা। বলা হয়: 'শামাতুল বারক' অর্থাৎ আমি মেঘমালার দিকে তাকিয়ে দেখেছি যে তা কোথায় বর্ষিত হবে। বিদ্যুতের 'তাআল্লুক' অর্থ হলো তা চমকানো, আর 'আওলাক' অর্থ হলো উন্মাদনা।
(এবং 'উলাত' শব্দের নসবের অবস্থায় ফাতহার পরিবর্তে কাসরা হওয়া) -যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর যদি তারা গর্ভবতী হয়"। একে জামে মুয়ান্নাস সালিম-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি কারণ এর মূল শব্দ থেকে কোনো একবচন নেই। আবু উবায়দাহ বলেছেন: 'উলাত' শব্দের একবচন হলো 'জাত'।
(এবং আলিফ ও তা-এর বৃদ্ধিতে গঠিত বহুবচন) -যেমন হিন্দাত এবং হাম্মামাত। 'বৃদ্ধি' শব্দটি যুক্ত করার মাধ্যমে 'আবিয়াত' এবং 'কুযাত' শব্দগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ এগুলোর নসব ফাতহা দ্বারা হয়, যেমনটি অন্যান্য জামে তাকসির-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
(وإن سمي به) -أي الجمع الذي بزيادة ألف وتاء كهندات علم رجل أو امرأة.
(فكذلك) -أي فينصب بالكسرة.
(والأعرف حينئذٍ) -أي حين إذ نصب بالكسرة.
(بقاء تنوينه) -نحو: رأيت هنداتٍ، وغير الأعرف حذف التنوين ونصبه بالكسرة نحو: هذا هندات، ورأيت هندات، ومررت بهندات.
(وقد يجعل كأرطاة علمًا) -أي فيعرب كغير المنصرف فيجر وينصب بالفتحة: نحو -هذا هندات، ورأيت هندات، ومررت بهندات.
(وتنوب الواو عن الضمة) -نحو: هذا أخو زيد.
(والألف عن الفتحة) -نحو: رأيت أخاه.
(والياء عن الكسرة) -نحو: مررت بأخيه.
(في ما أضيف إلى غير ياء المتكلم) -يشمل الظاهر والمضمر غير الياء، وأما المضاف إلى الياء كأبي وأخي فلا يعرب كذلك.
(من أب وأخ وحم) -نحو: هذا أبو زيد، ورأيت أباه، ومررت بأبيه، وهذا أخو زيدٍ، ورأيت أخاه، ومررت بأخيه، وهذا حمو زيدٍ، ورأيت حماه، ومررت بحميه.
(যদি এর দ্বারা নামকরণ করা হয়) -অর্থাৎ সেই বহুবচন যা আলিফ ও তা বৃদ্ধির মাধ্যমে গঠিত, যেমন 'হিন্দাত', যদি তা কোনো পুরুষ বা মহিলার নাম হয়।
(তবে তাও অনুরূপ হবে) -অর্থাৎ তা কাসরা (জের) দ্বারা মানসুব হবে।
(আর এমতাবস্থায় অধিক পরিচিত নিয়ম হলো) -অর্থাৎ যখন তা কাসরা দ্বারা মানসুব হয়।
(তার তানভীন অবশিষ্ট থাকা) -যেমন: 'আমি হিন্দাতদের দেখেছি' (রায়াইতু হিন্দাতিন)। আর অল্প পরিচিত নিয়ম হলো তানভীন বিলুপ্ত করা এবং কাসরা দ্বারা মানসুব করা, যেমন: 'এটি হিন্দাত' (হাযা হিন্দাতু), 'আমি হিন্দাতকে দেখেছি' (রায়াইতু হিন্দাতা), এবং 'আমি হিন্দাতের নিকট দিয়ে গিয়েছি' (মারারতু বি-হিন্দাতা)।
(কখনো কখনো একে 'আরতাহ' এর ন্যায় বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়) -অর্থাৎ এটি 'গাইরে মুনসারিফ' এর মতো ইরাব গ্রহণ করে; ফলে ফাতহা (জবর) দ্বারা মাজরুর ও মানসুব হয়। যেমন: 'এটি হিন্দাত' (হাযা হিন্দাতু), 'আমি হিন্দাতকে দেখেছি' (রায়াইতু হিন্দাতা), এবং 'আমি হিন্দাতের নিকট দিয়ে গিয়েছি' (মারারতু বি-হিন্দাতা)।
(এবং 'ওয়াও' যাম্মার স্থলাভিষিক্ত হয়) -যেমন: 'এটি যায়দ-এর ভাই' (হাযা আখু যায়দিন)।
(এবং 'আলিফ' ফাতহার স্থলাভিষিক্ত হয়) -যেমন: 'আমি তার ভাইকে দেখেছি' (রায়াইতু আখাহু)।
(এবং 'ইয়া' কাসরার স্থলাভিষিক্ত হয়) -যেমন: 'আমি তার ভাইয়ের নিকট দিয়ে গিয়েছি' (মারারতু বি-আখীহি)।
(সেইসব শব্দের ক্ষেত্রে যা ইয়া-এ মুতাকাল্লিম ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে মুদাফ বা সম্বন্ধযুক্ত হয়) -এটি প্রকাশ্য বিশেষ্য এবং ইয়া ব্যতীত সর্বনাম উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। তবে যা ইয়া-এর দিকে মুদাফ হয়, যেমন 'আবী' (আমার পিতা) এবং 'আখী' (আমার ভাই), তার ইরাব এমন হবে না।
(পিতা, ভাই এবং শ্বশুর শব্দগুলোর মধ্য থেকে) -যেমন: 'এটি যায়দ-এর পিতা', 'আমি তার পিতাকে দেখেছি', 'আমি তার পিতার নিকট দিয়ে গিয়েছি'; এবং 'এটি যায়দ-এর ভাই', 'আমি তার ভাইকে দেখেছি', 'আমি তার ভাইয়ের নিকট দিয়ে গিয়েছি'; এবং 'এটি যায়দ-এর শ্বশুর', 'আমি তার শ্বশুরকে দেখেছি', 'আমি তার শ্বশুরের নিকট দিয়ে গিয়েছি'।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(غير مماثل قروا وقرءا وخطا) -هذا قيد في حمٍ خاصة، فإذا ماثل شيئًا مما ذكر أعرب بالحركات نحو: هذا حموك وحُمؤك وحَمَؤُكَ.
(وفمٍ بلا ميمٍ) -نحو: هذا فو زيدٍ، ورأيت فاه، ونظرت إلى فيه فإن كان بميم أعرب بالحركات الظاهرة سواء أضيف أم لم يضف نحو: هذا فم، ورأيت فم زيد، ونظرت إلى فمه.
(وفي ذي بمعنى صاحب) -نحو: جاءني ذو مال، ورأيت ذا مال، ومررت بذي مالٍ.
واحترز "من ذو" الطائية فإنها مبنية في الأشهر نحو: جاء ذو قام، ورأيت ذو قام، ومررت بذو قام، وإنما أتى بفي في قوله: "وفي ذي" ليعلم أنه معطوف على المجرور بفي في قوله: "في ما أضيف. لا على المجرور بمن في قوله: من أبٍ، وفعل ذلك لأن "ذو" بمعنى صاحب لا تضاف إلى ضمير مطلقًا غائبًا كان أو مخاطبًا أو متكلمًا.
(والتزام نقص هن أعرف من إلحاقه بهن) -أي بأبٍ وما بعده. فعلى الأعرف يعرب بالحركات الظاهرة نحو: سترهن زيدٍ، وسترت هنه، وهو ساتر لهنه، وعلى غير الأعرف يرفع بالواو، وينصب بالألف، ويجر بالياء نحو: هنوه وهناه وهنيه.
(وقد تشدد نونه) -كقوله.
(উচ্চারণ, পঠন ও লিখনে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়) - এটি বিশেষভাবে 'হামুন' (নিকটাত্মীয়) শব্দের ক্ষেত্রে একটি শর্ত। সুতরাং যদি তা উল্লিখিত বিষয়গুলোর কোনোটির সদৃশ হয়, তবে হরকতের মাধ্যমে ইরাব হবে, যেমন: হাযা হামুকা, হুমউকা এবং হামাউকা।
(এবং 'মীম' মুক্ত 'ফামুন' শব্দ) - যেমন: এটি যায়ইদের মুখ (হাযা ফূ যাইদিন), আমি তার মুখ দেখেছি (রাআইতু ফাহু) এবং আমি তার মুখের দিকে তাকালাম (নাযারতু ইলা ফীহি)। আর যদি এটি 'মীম' যুক্ত থাকে, তবে তা প্রকাশ্য হরকতের মাধ্যমে ইরাব প্রাপ্ত হবে, চাই তা মুদাফ হোক বা না হোক, যেমন: হাযা ফামুন, আমি যায়ইদের মুখ দেখেছি (রাআইতু ফামা যাইদিন) এবং আমি তার মুখের দিকে তাকালাম (নাযারতু ইলা ফামিহি)।
(এবং 'সাহিব' বা অধিকারী অর্থবোধক 'যূ' শব্দে) - যেমন: আমার কাছে একজন সম্পদশালী এসেছে (জাআনী যূ মালিন), আমি একজন সম্পদশালীকে দেখেছি (রাআইতু যা মালিন) এবং আমি একজন সম্পদশালীর নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি (মারারতু বি-যী মালিন)।
এখানে 'ত্বায়্যি' গোত্রের 'যূ' থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, কারণ প্রসিদ্ধ মতানুসারে তা মাবনী (অপরিবর্তনীয়), যেমন: জাআ যূ ক্বামা, রাআইতু যূ ক্বামা, মারারতু বি-যূ ক্বামা। আর তিনি তাঁর "এবং যী-তে" উক্তির মধ্যে 'ফী' শব্দবন্ধটি এনেছেন যাতে এটি জানা যায় যে, তা "যা মুদাফ হয়েছে" উক্তির মধ্যে 'ফী' দ্বারা মাজরুর শব্দের ওপর সমম্বিত (আতফ) হয়েছে; "আবিন (পিতা) থেকে" উক্তির 'মিন' দ্বারা মাজরুর শব্দের ওপর নয়। আর তিনি এমনটি করেছেন কারণ 'অধিকারী' অর্থবোধক 'যূ' শব্দটি কখনোই কোনো সর্বনামের (দমীর) দিকে মুদাফ হয় না, চাই তা নাম পুরুষ (গায়িব), মধ্যম পুরুষ (মুখাতাব) কিংবা উত্তম পুরুষ (মুতাকাল্লিম) যাই হোক না কেন।
('হানুন' শব্দের ক্ষেত্রে 'নাক্বস' বা হ্রস্ব রূপ গ্রহণ করা একে 'আবু' এবং তার পরবর্তী শব্দগুলোর সাথে সংযুক্ত করার চেয়ে অধিক পরিচিত নিয়ম) - অর্থাৎ 'আবু' এবং তার পরবর্তী শব্দগুলোর ন্যায় গণ্য করা। সুতরাং অধিক পরিচিত নিয়ম অনুযায়ী তা প্রকাশ্য হরকতের মাধ্যমে ইরাব প্রাপ্ত হবে, যেমন: যায়ইদের গোপন বস্তুর আবরণ (সাতরু হানু যাইদিন), আমি তার গোপন বস্তু আবৃত করেছি (সাতারতু হানাহু) এবং সে তার নিজের গোপন বস্তু আবরণকারী (হুয়া সাতিরুন লি-হানিহি)। আর অপ্রসিদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী এটি ওয়াও দ্বারা রফা, আলিফ দ্বারা নাসব এবং ইয়া দ্বারা জার হবে, যেমন: হানুহু, হানাহু এবং হানিহি।
(এবং কখনো এর 'নূন' বর্ণটি তাশদীদযুক্ত হয়) - যেমন কবির উক্তি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(10) ألا ليت شعري هل أبيتن ليلةً
… وهنى جاذٍ بين لهزمتى هند؟
وهن كلمة كناية معناها، شيء، وهي هنا كناية عن الفرج.
(وخاء أخ) -نحو: هذا أخ.
(وباء أب) -نحو: هذا أب، حكاه الأزهري، وحكى أنه يقال: استأببت فلانًا ببائين أي اتخذته أبًا.
(وقد يقال أخو) -كقوله:
(11) ما المرء أخوك إن لم تلفه وزرًا
… عند الكريهة معوانًا على النوب
والوزر الملجأ.
(وقد يقصر حم وهما) -أي وأب وأخ، فيقال: أخاك وأباك وحماك رفعًا ونصبًا وجرًا كعصا.
(أو يلزمها النقص كيدٍ ودمٍ) -أي يلزم أبًا وأخًا وحمًا فتحذف لام
(১০) হায়, আমি যদি জানতাম আমি কি একটি রাত কাটাব
… যখন আমার 'ওয়াহন' হিন্দের দুই চোয়ালের মাঝখানে গুটিসুটি মেরে পড়ে থাকবে?
'ওয়াহন' একটি রূপক শব্দ যার অর্থ হলো—বস্তু; আর এখানে এটি যৌনাঙ্গের রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
('আখ' শব্দের 'খা') - যেমন: এ হলো এক ভাই।
('আব' শব্দের 'বা') - যেমন: এ হলো এক পিতা। আল-আযহারী এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, 'ইস্তাবাবতু' (দুটি 'বা' সহযোগে) অর্থাৎ আমি তাকে পিতা হিসেবে গ্রহণ করেছি।
(কখনও কখনও 'আখু' শব্দটিও ব্যবহৃত হয়) - যেমন কবির উক্তি:
(১১) কোনো ব্যক্তি তোমার ভাই নয় যদি না তুমি তাকে আশ্রয়স্থল হিসেবে পাও
… বিপদের সময় এবং সংকটে সাহায্যকারী হিসেবে।
'আল-ওয়িযর' অর্থ আশ্রয়স্থল।
('হাম' এবং এই দুটিকে কখনও কখনও সংক্ষিপ্ত করা হয়) - অর্থাৎ 'আব' এবং 'আখ' শব্দকে। তখন রফ, নাসব এবং জর—সব অবস্থায় 'আসা' (লাঠি) শব্দের ন্যায় 'আখাকা', 'আবাকা' এবং 'হামাকা' বলা হয়।
(অথবা সেগুলোতে 'ইয়াদ' (হাত) এবং 'দাম' (রক্ত) এর মতো বর্ণ বিলোপ আবশ্যক হয়) - অর্থাৎ 'আব', 'আখ' এবং 'হাম' শব্দের ক্ষেত্রে 'লাম' বা শেষ বর্ণটি বিলোপ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাঈদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الثلاثة كما حذفت لام يد ودم، وتعرب حينئذ بالحركات الظاهرة نحو:
هذا أبك، ورأيت أبك، ومررت بأبك، وكذا أخ وحم.
(وربما قصرا) -أي: يد ودم فيقال: يدا ودما رفعًا ونصبًا وجرًا كعصا.
(أو ضعف دم) -كقوله:
(12) أهان دمك فرغًا بعد عزته
… يا عمرو بغيك إصرارًا على الحسد
يقال: ذهب دمه فرغًا أي هدرًا لم يطلب به.
(وقد تثلث فاء فمٍ منقوصًا) -فيقال: هذا فم بضم الفاء وفتحها وكسرها.
(أو مقصورًا) فيقال: فما بضم الفاء وفتحها وكسرها.
(أو يضعف مفتوح الفاء) -نحو: هذا فم.
(أو مضمونها) -نحو: هذا فم.
(أو تتبع فاؤه حرف إعرابه في الحركات) -نحو: هذا فم، ورأيت فمًا، ونظرت إلى فمٍ.
তিনটির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম, যেভাবে ‘ইয়াদ’ (হাত) এবং ‘দাম’ (রক্ত) শব্দের ‘লাম’ (তৃতীয় মূলবর্ণ) বিলুপ্ত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় সেগুলোকে স্পষ্ট হরকতের মাধ্যমে ইরাব প্রদান করা হবে, যেমন:
এটি তোমার পিতা, আমি তোমার পিতাকে দেখেছি, এবং আমি তোমার পিতার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। অনুরূপভাবে ‘আখ’ (ভাই) এবং ‘হাম’ (নিকটাত্মীয়/শ্বশুর) শব্দের ক্ষেত্রেও একই বিধান।
(এবং কখনো কখনো সেগুলোকে মাকসূর করা হয়) - অর্থাৎ: ‘ইয়াদ’ এবং ‘দাম’ শব্দ দুটিকে। তখন রাফা, নাসব এবং জার—তিন অবস্থাতেই ‘আসা’ (লাঠি) শব্দের ন্যায় ‘ইয়াদা’ ও ‘দামা’ বলা হয়।
(অথবা ‘দাম’ শব্দের শেষ বর্ণকে দ্বিত্ব করা হয়) - যেমন কবির উক্তি:
(১২) হে আমর! হিংসার বশবর্তী হয়ে তোমার এই হঠকারিতা তোমার রক্তকে তার মর্যাদার পর নিরর্থক ও তুচ্ছ করে দিয়েছে...
বলা হয়: তার রক্ত বৃথা গেল, অর্থাৎ তা এমনভাবে নষ্ট হলো যার কোনো প্রতিশোধ বা দাবি করা হয়নি।
(এবং কখনো কখনো ‘ফাম’ (মুখ) শব্দটি যখন হরফ বিলুপ্ত অবস্থায় থাকে, তখন এর ‘ফা’ বর্ণে তিন প্রকার হরকতই পাঠ করা যায়) - তখন ‘ফা’ বর্ণে যম্মাহ, ফাতহাহ এবং কাসরাহ দিয়ে বলা হয়: এটি একটি মুখ।
(অথবা মাকসূর হিসেবে) তখন ‘ফা’ বর্ণে যম্মাহ, ফাতহাহ এবং কাসরাহ দিয়ে ‘ফামা’ বলা হয়।
(অথবা ‘ফা’ বর্ণে ফাতহাহ থাকা অবস্থায় শেষ বর্ণকে দ্বিত্ব করা হয়) - যেমন: এটি একটি মুখ।
(অথবা ‘ফা’ বর্ণে যম্মাহ থাকা অবস্থায়) - যেমন: এটি একটি মুখ।
(অথবা এর ‘ফা’ বর্ণটি ইরাবের বর্ণের হরকতকে অনুসরণ করে) - যেমন: এটি একটি মুখ, আমি একটি মুখ দেখেছি, এবং আমি একটি মুখের দিকে তাকিয়েছি।