(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: -)
شرح تحفة أهل الطلب في تجريد أصول قواعد ابن رجب القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: شرح تحفة أهل الطلب في تجريد أصول قواعد ابن رجب
المؤلف: عبد الكريم بن محمد اللاحم
الناشر: دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثانية، 1431 هـ - 2010 م
عدد الصفحات: 536
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 ربيع الأول 1440
ইবনে রজবের ফিকহী মূলনীতিমালার সারসংক্ষেপ: তুহফাতু আহলিত তালাবের ব্যাখ্যা বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ
বই: ইবনে রজবের ফিকহী মূলনীতিমালার সারসংক্ষেপ: তুহফাতু আহলিত তালাবের ব্যাখ্যা
লেখক: আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ আল-লাহিম
প্রকাশক: দার কুনুজ ইশবিলিয়া পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজত্ব
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৩১ হিজরী - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: -)
شرح تحفة أهل الطلب في تجريد أصول قواعد ابن رجب
تأليف
أ. د. عبد الكريم بن محمد اللاحم
ইবনে রজবের মূলনীতিমালার সারসংক্ষেপ বিষয়ক 'তুহফাতু আহলিত তালাব'-এর ব্যাখ্যা
রচনা
প্রফেসর ড. আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ আল-লাহিম
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ৩)
شَرْحُ تُحْفَةِ أهْلِ الطَّلبِ فِي تَجْرِيد أصُولِ قَوَاعِد ابنِ رَجَب
ইবনে রজবের বিধিমালার মূলনীতিসমূহের সারসংক্ষেপ সংক্রান্ত জ্ঞানান্বেষীদের উপঢৌকনের ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ৪)
(ح) دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع، 1427 هـ
فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر
اللاحم، عبد الكريم بن محمد
شرح تحفة أهل الطلب في تجريد أصول قواعد ابن رجب / عبد الكريم بن محمد اللاحم - الرياض، 1427 هـ
591 ص؛ 17 × 24 سم
ردمك: 6 - 33 - 701 - 9960
1 - القواعد الفقهية
2 - الفقه الحنبلي
أ - العنوان
ديوي 251.6
… 318/ 1427 هـ
رقم الايداع: 318/ 1427 هـ
ردمك: 6 - 33 - 701 - 9960
جميع حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى
1427 هـ - 2006 م
الطبعة الثانية
1431 هـ - 2010 م
دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع
المملكة العربية السعودية
ص. ب: 27261 - الرياض 11417 - هاتف: 4742458 - 4773959 - 4794354 - فاكس: 4787140
E-mail: eshbelia@hotmail.com
(সি) দার কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনী ও পরিবেশনী, ১৪২৭ হিজরি
কিং ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের প্রকাশনা-পূর্ব সূচিপত্র
আল-লাহিম, আব্দুল করিম বিন মুহাম্মদ
শরহ তুহফাত আহলিত তালাব ফি তাজরিদ উসুল কাওয়াইদ ইবনু রাজাব / আব্দুল করিম বিন মুহাম্মদ আল-লাহিম - রিয়াদ, ১৪২৭ হিজরি
৫৯১ পৃষ্ঠা; ১৭ × ২৪ সেমি
আইএসবিএন: ৬ - ৩৩ - ৭০১ - ৯৯৬০
১ - ফিকহি মূলনীতিসমূহ
২ - হাম্বলি ফিকহ
ক - শিরোনাম
ডিউই ২৫১.৬
… ৩১৮/ ১৪২৭ হিজরি
জমাদান নম্বর: ৩১৮/ ১৪২৭ হিজরি
আইএসবিএন: ৬ - ৩৩ - ৭০১ - ৯৯৬০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
দ্বিতীয় সংস্করণ
১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
দার কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনী ও পরিবেশনী
সৌদি আরব রাজতন্ত্র
পো. বক্স: ২৭২৬১ - রিয়াদ ১১৪১৭ - টেলিফোন: ৪৭৪২৪৫৮ - ৪৭৭৩৯৫৯ - ৪৭৯৪৩৫৪ - ফ্যাক্স: ৪৭৮৭১৪০
ই-মেইল: eshbelia@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد للَّه رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، وخاتم النبيين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن اهتدى بهداه واتبع سنته إلى يوم الدين.
أما بعد:
فإن علم القواعد الفقهية من أهم العلوم للفقيه، تضبط له المسائل، وتجمع شتاتها، وتقرب بعيدها، وهي كالميزان للمسائل، تعرض عليه، وتوزن به. فعندما تعرض المسألة على القاضي أو المفتي، يعرضها على هذه القواعد، ويطبقها عليها، ويعرف حكمها بها. ولذا فقد اعتنى الفقهاء رحمهم الله بهذا العلم، وخصوه بالتأليف، ومما أُلّف فيه قواعد ابن رجب رحمه الله، المسمى: تقرير القواعد وتحرير الفوائد، وقد تناولها العلماء وطلاب العلم بالتحقيق، والدراسة، والتدريس.
ومن هؤلاء فضيلة الشيخ العلامة عبد الرحمن بن ناصر السعدي رحمه الله بكتابه (تحفة أهل الطلب في تجريد أصول قواعد ابن رجب) الذي حققه وعلق عليه فضيلة الدكتور خالد بن علي المشيقح، الأستاذ بقسم الفقه بفرع جامعة الإمام بالقصيم سابقًا، وعضو هيئة التدريس بجامعة القصيم بعد ذلك.
وكان من فضل اللَّه أن اشتركت في دراسته مع بعض الزملاء الأفاضل، وقد بدا لنا أثناء هذه الدراسة أن الكتاب بحاجة إلى شرح يوضح ما تتضمنه كل قاعدة من القواعد الجزئية، والتمثيل لها بما يوضحها؛ حيث إن ابن رجب رحمه الله كثيرًا ما يورد القاعدة بصيغة الاستفهام، ويجمع عددًا من القواعد تحت القاعدة الواحدة ثم يسوق جملة من الفروع دون أن يربطها بما تتعلق به من جزئياتها، أو يبين وجه ارتباطها بها، كما سيتبين ذلك -إن شاء اللَّه- من هذا الشرح.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার, নবীগণের সমাপ্তিকারী, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সকল সাথীবর্গ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েত গ্রহণ করেছেন ও তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই ফিকহী মূলনীতি (কাওয়াইদ ফিকহিয়্যাহ)-এর ইলম ফকীহদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্ঞান। এটি মাসআলাগুলোকে সুবিন্যস্ত করে, বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করে এবং দূরবর্তী বিষয়গুলোকে নিকটে নিয়ে আসে। এটি মাসআলাসমূহের জন্য দাঁড়িপাল্লার মতো, যা এর ওপর পেশ করা হয় এবং এর দ্বারা ওজন করা হয়। ফলে যখন কোনো মাসআলা কোনো বিচারক বা মুফতির নিকট পেশ করা হয়, তখন তিনি সেটিকে এই মূলনীতিসমূহের ওপর পেশ করেন, সেখানে প্রয়োগ করেন এবং এর মাধ্যমে তার বিধান জানতে পারেন। আর এ কারণেই ফকীহগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) এই ইলমের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এর ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। আর এ বিষয়ে যা কিছু রচিত হয়েছে তার মধ্যে ইবনে রজব (রহ.)-এর মূলনীতিমালা বিষয়ক গ্রন্থটি অন্যতম, যার নাম হলো: 'তাকরিরুল কাওয়াইদ ওয়া তাহরিরুল ফাওয়ায়িদ'। আলেম সমাজ এবং ইলম অন্বেষণকারীগণ এটি গবেষণা, অধ্যয়ন এবং পাঠদানের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফযীলাতুশ শাইখ আল্লামা আব্দুর রহমান ইবনে নাসির আস-সা'দী (রহ.), তাঁর রচিত কিতাব 'তুহফাতু আহলিত তালাব ফী তাজরীদি উসূলি কাওয়াইদি ইবনি রজব'-এর মাধ্যমে; যা তাহকীক ও টীকা প্রদান করেছেন ফযীলাতুদ ডক্টর খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ, যিনি ইতিপূর্বে আল-ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাসিম শাখার ফিকহ বিভাগের অধ্যাপক এবং পরবর্তীতে কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদের সদস্য ছিলেন।
আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল যে, আমি আমার কতিপয় সম্মানিত সহকর্মীর সাথে এটি অধ্যয়নে শরিক হয়েছিলাম। এই অধ্যয়ন চলাকালীন আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, কিতাবটির একটি ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে, যা প্রতিটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত উপ-মূলনীতিগুলোকে স্পষ্ট করবে এবং উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে তা আরও পরিষ্কার করবে। কেননা ইবনে রজব (রহ.) প্রায়শই মূলনীতিগুলোকে প্রশ্নবোধক বাক্যের মাধ্যমে পেশ করেন এবং একটি মূলনীতির অধীনে বেশ কিছু মূলনীতিকে একত্রিত করেন, অতঃপর সেগুলোর প্রাসঙ্গিক উপ-বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্ক স্থাপন না করেই অথবা সম্পর্কের ধরন স্পষ্ট না করেই একগুচ্ছ শাখা-মাসআলা উল্লেখ করেন; যা ইনশাআল্লাহ এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ৬)
لذا فقد أشار عليَّ بعض الزملاء بأن أقوم بهذا الشرح، مشاركة في خدمة الكتاب، وتيسيره على المستفيدين منه، والمحتاجين إليه.
وبعد تردد أقدمت على القيام به، مع أنني لست من أهل هذا الميدان.
وقد يسَّر اللَّه هذا الشرح الذي أقدمه للقراء على ما فيه من نقص، وما يشتمل عليه من ملاحظات، تعجيلًا للفائدة، ورجاء الاستفادة مما تفضل به قراء الكتاب من توجيهات، وملاحظات في الطبعة القادمة، إن قدر ذلك.
وكان منهجي في هذا الشرح كما يلي:
أولًا: تحرير القواعد الجزئية التي تتضمنها القاعدة.
ثانيًا: إيراد أمثلة لكل قاعدة من هذه القواعد، وغالبًا ما تكون من الفروع التي يوردها ابن رجب رحمه الله، وقد أورد أمثلة من غيرها من الواقع وهو قليل، ولم أتوسع في الأمثلة؛ لأن المقصود توضيح القاعدة، فأكتفي بما يوضحها؛ تفاديا للإطالة التي قد تحدث السآمة وتورث الملل، ومن أراد التزود فبإمكانه أن يرجع إلى الأصل أو غيره من كتب القواعد والفروع.
ثالثًا: قد يكون من ضمن القواعد الجزئية التي تذكر تحت القاعدة غير موجود في كتاب التحفة، ولكنه موجود فى القاعدة في الأصل.
رابعًا: توثيق الأصل، وبيان معاني الكلمات التي تحتاج إلى بيان فيه.
خامسًا: تخريج الأحاديث والآثار.
سادسًا: جعلت التوثيق للقواعد دون الأمثلة؛ تفاديًا للتكرار، وذلك أن القواعد تتضمن الأمثلة غالبًا، فيكون توثيقهما واحدًا.
سابعًا: قد لا يكون محل الإحالة في التوثيق نصًّا في الموضوع، ولكن يمكن أخذه منه؛ وذلك أن وجود الموثق بنصه قليل.
তাই আমার কিছু সহকর্মী আমাকে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি প্রস্তুত করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে এই কিতাবটির খিদমতে অংশগ্রহণ করা যায় এবং যারা এটি থেকে উপকৃত হতে চান ও যাদের এটি প্রয়োজন, তাদের জন্য এটি সহজতর হয়।
কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বের পর আমি এটি সম্পাদনে অগ্রসর হয়েছি, যদিও আমি এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ নই।
আল্লাহ এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে সহজ করে দিয়েছেন যা আমি পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করছি; এতে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও আমি দ্রুত উপকারের আশায় এবং আল্লাহ চাইলে পরবর্তী সংস্করণে পাঠকদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার আশায় এটি পেশ করছি।
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে আমার অনুসৃত পদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:
প্রথমত: মূল মূলনীতির অন্তর্গত উপ-নীতিসমূহ বিশ্লেষণ করা।
দ্বিতীয়ত: এই নিয়মগুলোর প্রত্যেকটির জন্য উদাহরণ পেশ করা; যার অধিকাংশ ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক বর্ণিত শাখা-মাসআলাসমূহ থেকে নেওয়া হয়েছে। বাস্তব জীবনের কিছু উদাহরণও কদাচিৎ উল্লেখ করেছি। আমি উদাহরণের ব্যাপ্তি ঘটাইনি; কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো নিয়মটি স্পষ্ট করা। তাই আমি যতটুকু স্পষ্ট করার জন্য প্রয়োজন ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি, যাতে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করা যায় যা ক্লান্তি ও বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে। আর যে ব্যক্তি আরও বিস্তারিত জানতে চান, তিনি মূল কিতাব অথবা কাওয়াইদ ও ফুরু’র অন্যান্য কিতাবসমূহের দিকে ফিরে যেতে পারেন।
তৃতীয়ত: মূলনীতির অধীনে উল্লিখিত কিছু উপ-নীতি হয়তো ‘তুহফাহ’ কিতাবে নেই, তবে তা মূল কিতাবের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চতুর্থত: মূল পাঠের উদ্ধৃতি প্রদান এবং যেসব শব্দের অর্থ ব্যাখ্যার প্রয়োজন, তা বর্ণনা করা।
পঞ্চমত: হাদিস ও আসারসমূহের তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করা।
ষষ্ঠত: পুনরাবৃত্তি এড়ানোর জন্য আমি উদাহরণের পরিবর্তে কেবল মূলনীতিসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি; কারণ নিয়মগুলো সাধারণত উদাহরণকেও শামিল করে, ফলে উভয়ের উদ্ধৃতি একই হয়ে থাকে।
সপ্তমত: উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দেশিত স্থানটি হয়তো সরাসরি আলোচ্য বিষয়ের শব্দে শব্দে মিলবে না, তবে তা থেকে বিষয়টি আহরণ করা সম্ভব; কেননা হুবহু শব্দসহ উদ্ধৃতি পাওয়া দুর্লভ।
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ৭)
ثامنًا: لم أترجم لمؤلف الأصل، ولا لمؤلف التحفة رحمهما اللَّه؛ لأن ذلك تكرار مع الترجمة لهما في الكتابين المذكورين وغيرهما؛ ولأن ذلك ليس من أهداف هذا الشرح.
تاسعًا: لم أتعرض للتعريف بالكتابين؛ لما ذكر في رقم (8).
عاشرًا: جعلت قائمة أبجدية بالمراجع التي رجعت إليها.
حادي عشر: جعلت فهرسًا موضوعيًا للكتاب، يتضمن الموضوع، ورقم الصفحة، والقاعدة التي ورد الموضوع فيها.
وباللَّه التوفيق.
وصلى اللَّه وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين
المؤلف
অষ্টম: আমি মূল গ্রন্থের লেখক এবং ‘আত-তুহফাহ’ গ্রন্থের লেখকের জীবনী উল্লেখ করিনি (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন); কারণ তা উল্লেখিত কিতাবদ্বয় ও অন্যান্য গ্রন্থে তাঁদের জীবনীর পুনরাবৃত্তি মাত্র এবং তা এই ব্যাখ্যার লক্ষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।
নবম: ৮ নং-এ বর্ণিত কারণের প্রেক্ষিতে আমি কিতাবদ্বয়ের পরিচিতি প্রদান করা থেকে বিরত থেকেছি।
দশম: আমি যেসকল সূত্রের সাহায্য গ্রহণ করেছি, সেগুলোর একটি বর্ণানুক্রমিক তালিকা তৈরি করেছি।
একাদশ: আমি বইটির জন্য একটি বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি, যাতে বিষয়বস্তু, পৃষ্ঠা নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়টি যে মূলনীতির অধীনে এসেছে তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক বা সাফল্য প্রার্থনা করছি।
আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।
লেখক
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ৯)
القاعدة الأولى
الماء الجاري هل هو كالراكد، أو كل جرية منه لها حكم الماء المنفرد؟ فيه خلاف في المذهب، ينبني عليه مسائل.
الشرح:
البحث في هذه القاعدة في مواضع:
1 - بيان معاني الكلمات.
2 - معنى القاعدة.
3 - أمثلة القاعدة.
الموضع الأول: بيان معاني الكلمات:الماء الجاري: عكس الراكد، وهو الذي يمر بالشيء ويتجاوزه. كالسواقي، والأنهار.
الماء الراكد: هو المستقر في موضعه لا يتجاوزه. كماء البرك والآبار، والخزانات.
الجرية (1) هي المرة من الجري، وهي الدفعة من الماء، قبل الشيء وبعده وبجوانبه في مجراه، مما يتغير بذلك الشيء لو خالفه.
أو: هي الدفعة من الماء المحيطة بالشيء فيه، وتتغير به لو خالفه.
الموضع الثاني: معنى القاعدة:معنى القاعدة: أن الماء الجاري يعتبر مجموعه كالماء الراكد، على قول (2) فإن كان كثيرًا أخذ حكم الكثير، وإن كان قليلًا كان له حكم القليل.
--------------------------------------------
প্রথম নীতি
প্রবাহিত পানি কি স্থির পানির মতো, নাকি এর প্রতিটি প্রবাহের একক পৃথক পানির বিধান রাখে? এ বিষয়ে মাযহাবে মতভেদ রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন মাসআলা উদ্ভূত হয়।
ব্যাখ্যা:
এই নীতিটির আলোচনা কয়েকটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে:
১ - শব্দসমূহের অর্থ স্পষ্টীকরণ।
২ - নীতিটির অর্থ।
৩ - নীতিটির উদাহরণ।
প্রথম বিষয়: শব্দসমূহের অর্থ স্পষ্টীকরণ:প্রবাহিত পানি: এটি স্থির পানির বিপরীত; আর তা হলো এমন পানি যা কোনো বস্তুর ওপর দিয়ে বয়ে যায় এবং তা অতিক্রম করে চলে যায়। যেমন- নালা ও নদীসমূহ।
স্থির পানি: এটি স্বস্থানে অবস্থান করে এবং সেখান থেকে সরে যায় না। যেমন- পুকুর, কূপ এবং জলাধারের পানি।
প্রবাহ (১) হলো প্রবাহের একটি একক বা পশলা। এটি হলো পানির সেই অংশ যা তার গতিপথে কোনো বস্তুর আগে, পরে এবং পাশে থাকে, যা ঐ বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত হতে পারে যদি বস্তুটি পানির গুণের বিপরীত হয়।
অথবা: এটি হলো পানির ঐ পশলা যা এর মধ্যকার কোনো বস্তুকে পরিবেষ্টন করে থাকে এবং বস্তুটি বিপরীত গুণসম্পন্ন হলে তার দ্বারা সেটি পরিবর্তিত হয়।
দ্বিতীয় বিষয়: নীতিটির অর্থ:নীতিটির অর্থ হলো: একটি মত (২) অনুযায়ী, প্রবাহিত পানিকে তার সামগ্রিকতায় স্থির পানির ন্যায় বিবেচনা করা হবে। সুতরাং যদি তা পরিমাণে বেশি হয় তবে বেশি পানির বিধান গ্রহণ করবে, আর যদি পরিমাণে কম হয় তবে তা কম পানির বিধান লাভ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ১০)
والقول الآخر: أن لكل جرية حكم نفسها (1)، فإذا بلغت حد الكثير أخذت حكمه، وإن لم تبلغ حد الكثير كان لها حكم القليل، وسيتضح ذلك بالأمثلة.
الموضوع الثالث: الأمثلة:من أمثلة هذه القاعدة ما يأتي:
1 - إذا وقع في الماء الجاري نجاسة فلم تغيره. وفيه ثلاثة مطالب:
(أ) حكم الماء على الاعتبارين.
(ب) الفرق بين الاعتبارين.
(ج) الراجح من الاعتبارين.
المطلب الأول: حكم الماء:وفيه فرعان:
1 - حكم الماء على الاعتبار الأول.
2 - حكم الماء على الاعتبار الثاني.
الفرع الأول: حكم الماء على الاعتبار الأول:الماء على هذا الاعتبار له حالتان:
الحالة الأول: أن يكون مجموعه كثيرًا، وفي هذه الحالة لا تؤثر فيه النجاسة، ولو كانت كل جرية تمر بالنجاسة لا تبلغ حد الكثير (2).
الحالة الثانية: أن يكون مجموع الماء لا يبلغ حد الكثير، وفي هذه الحالة تؤثر النجاسة فيه (3).
--------------------------------------------
এবং অপর মতটি হলো: প্রতিটি প্রবাহের নিজস্ব বিধান রয়েছে (১), সুতরাং যখন তা 'অধিক' হওয়ার সীমায় পৌঁছাবে, তখন তা সেটিরই বিধান গ্রহণ করবে; আর যদি তা 'অধিক' হওয়ার সীমায় না পৌঁছায়, তবে তার বিধান হবে 'অল্প' পানির বিধানের মতো। আর উদাহরণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হবে।
তৃতীয় বিষয়: উদাহরণসমূহ:এই মূলনীতির উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:
১ - প্রবাহিত পানিতে যদি নাপাকি পড়ে এবং তা পানির কোনো পরিবর্তন না ঘটায়। এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(ক) উভয় বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান।
(খ) উভয় বিবেচনার মধ্যকার পার্থক্য।
(গ) উভয় বিবেচনার মধ্যে অগ্রগণ্য মত।
প্রথম পরিচ্ছেদ: পানির বিধান:এতে দুটি উপ-বিভাগ রয়েছে:
১ - প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান।
২ - দ্বিতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান।
প্রথম উপ-বিভাগ: প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান:এই বিবেচনার ভিত্তিতে পানির দুটি অবস্থা রয়েছে:
প্রথম অবস্থা: পানির সমষ্টি যদি 'অধিক' হয়, এমতাবস্থায় তাতে নাপাকি কোনো প্রভাব ফেলবে না; যদিও নাপাকির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রতিটি প্রবাহ 'অধিক' হওয়ার সীমায় না পৌঁছায় (২)।
দ্বিতীয় অবস্থা: পানির সমষ্টি যদি 'অধিক' হওয়ার সীমায় না পৌঁছায়, এমতাবস্থায় তাতে নাপাকি প্রভাব ফেলবে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفرع الثاني: حكم الماء على الاعتبار الثاني:الماء على هذا الاعتبار له حالتان باعتبار الجرية التي تمر بالنجاسة.
الحالة الأول: أن تكون الجرية التي تمر بالنجاسة تبلغ حد الكثير، وفي هذه الحالة لا تؤثر فيه النجاسة (1).
الحالة الثانية: أن تكون الجرية التي تمر بالنجاسة لا تبلغ حد الكثير، وفي هذه الحالة تؤثر النجاسة فيه، ولو كان مجموعه كثيرًا (2).
المطلب الثاني: الفرق بين الاعتبارين:يظهر الفرق بين الاعتبارين فيما إذا بلغ مجموع الماء حد الكثير، وكانت الجرية لا تبلغ حد الكثير.
فعلى الاعتبار الأول لا تؤثر فيه النجاسة (3).
وعلى الاعتبار الثاني يتأثر بها (4).
المطلب الثالث: الراجح من الاعتبارين:الراجح -واللَّه أعلم- هو الاعتبار الثاني، اعتبار الجرية؛ لأن الجرية لا تدفع النجاسة عن نفسها، فتتنجس، فيكون ما تجمع من الجريات التي تمر بالنجاسة نجسًا، كالماء المتجمع من متنجس.
2 - إذا غُمِس في الماء الجاري إناء متنجس، فمر عليه سبع جريات من غير أن يخرج من الماء، على اعتبار هذا العدد في إزالة النجاسة.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় শাখা: দ্বিতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান:এই বিবেচনার ভিত্তিতে, নাপাকির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবাহের বিচারে পানির দুটি অবস্থা রয়েছে।
প্রথম অবস্থা: নাপাকির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবাহটি যদি 'বেশি' হওয়ার সীমায় পৌঁছায়, তবে এমতাবস্থায় নাপাকি তাতে কোনো প্রভাব ফেলে না (১)।
দ্বিতীয় অবস্থা: নাপাকির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবাহটি যদি 'বেশি' হওয়ার সীমায় না পৌঁছায়, তবে এমতাবস্থায় নাপাকি তাতে প্রভাব ফেলে, যদিও পানির মোট পরিমাণ অনেক বেশি হয় (২)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দুই বিবেচনার মধ্যে পার্থক্য:দুই বিবেচনার মধ্যে পার্থক্য তখন প্রকাশ পায় যখন পানির মোট পরিমাণ 'বেশি' হওয়ার সীমায় পৌঁছায়, কিন্তু (নাপাকির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নির্দিষ্ট) প্রবাহটি 'বেশি' হওয়ার সীমায় পৌঁছায় না।
এমতাবস্থায় প্রথম বিবেচনা অনুযায়ী নাপাকি তাতে কোনো প্রভাব ফেলে না (৩)।
আর দ্বিতীয় বিবেচনা অনুযায়ী সেটি নাপাক হয়ে যায় (৪)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দুই বিবেচনার মধ্যে অগ্রগণ্য মত:অগ্রগণ্য মত -আর আল্লাহই ভালো জানেন- হলো দ্বিতীয় বিবেচনাটি, অর্থাৎ প্রবাহের বিষয়টি বিবেচনা করা; কারণ প্রবাহটি নিজের থেকে নাপাকি দূর করতে সক্ষম হয় না, ফলে তা নাপাক হয়ে যায়। এমতাবস্থায় নাপাকির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবাহগুলোর সমষ্টি নাপাক বলে গণ্য হবে, যেমনটি কোনো নাপাক বস্তু থেকে নির্গত পানির সমষ্টি নাপাক হয়।
২ - যদি প্রবাহিত পানিতে কোনো নাপাক পাত্র ডুবানো হয়, এবং পানি থেকে বের করা ছাড়াই তার ওপর দিয়ে সাতটি প্রবাহ বয়ে যায়, তবে নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটিই বিবেচ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ১২)
وفيه أربعة مطالب:
1 - حكم الماء على الاعتبارين.
2 - الفرق بين الاعتبارين.
3 - طهارة الإناء على الاعتبارين. (*)
4 - الراجح من الاعتبارين.
المطلب الأول: حكم الماء على الاعتبارين:وقد تقدم ذلك في المثال الأول.
المطلب الثاني: الفرق بين الاعتبارين:وفيه ثلاثة فروع:
1 - الفرق بين الاعتبارين بالنسبة للماء.
2 - الفرق بين الاعتبارين بالنسبة لعدد الغسلات.
3 - الفرق بين الاعتبارين بالنسبة لطهارة الإناء.
الفرع الأول: الفرق بين الاعتبارين بالنسبة للماء، وقد تقدم في المثال الأول.
الفرع الثاني: الفرق بين الاعتبارين بالنسبة لعدد الغسلات.
وفيه أمران:
1 - عدد الغسلات على الاعتبار الأول.
2 - عدد الغسلات بالنسبة للاعتبار الثاني.
الأمر الأول: عدد الغسلات على الاعتبار الأول.
على الاعتبار الأول: يعتبر بقاء الإناء في الماء غسلة واحدة حتى يخرج ويعاد، فكلما أخرج وأعيد اعتبر غسلة (1).
--------------------------------------------
এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
১ - উভয় বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান।
২ - উভয় বিবেচনার মধ্যে পার্থক্য।
৩ - উভয় বিবেচনার ভিত্তিতে পাত্রের পবিত্রতা। (*)
৪ - উভয় বিবেচনার মধ্যে অগ্রগণ্য মতটি।
প্রথম অনুচ্ছেদ: উভয় বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান:এবং প্রথম উদাহরণে তা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উভয় বিবেচনার মধ্যে পার্থক্য:এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১ - পানির নিরিখে উভয় বিবেচনার মধ্যে পার্থক্য।
২ - ধৌত করার সংখ্যার নিরিখে উভয় বিবেচনার মধ্যে পার্থক্য।
৩ - পাত্রের পবিত্রতার নিরিখে উভয় বিবেচনার মধ্যে পার্থক্য।
প্রথম পরিচ্ছেদ: পানির নিরিখে উভয় বিবেচনার মধ্যে পার্থক্য, এবং তা প্রথম উদাহরণে অতিবাহিত হয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ধৌত করার সংখ্যার নিরিখে উভয় বিবেচনার মধ্যে পার্থক্য।
এতে দুটি বিষয় রয়েছে:
১ - প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে ধৌত করার সংখ্যা।
২ - দ্বিতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে ধৌত করার সংখ্যা।
প্রথম বিষয়: প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে ধৌত করার সংখ্যা।
প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে: পাত্রটিকে পানিতে ডুবিয়ে রাখাকে একবার ধৌত করা হিসেবে গণ্য করা হয় যতক্ষণ না তা বের করা হয় এবং পুনরায় ডোবানো হয়। ফলে যতবারই তা বের করা হবে এবং পুনরায় ডুবানো হবে, ততবারই তা একবার ধৌত করা হিসেবে গণ্য হবে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الأمر الثاني: عدد الغسلات على الاعتبار الثاني.
على الاعتبار الثاني: تعتبر كل جرية غسلة ولو لم يخرج الإناء من الماء (1).
الفرع الثالث: الفرق بين الاعتبارين في طهارة الإناء.
يظهر الفرق بين الاعتبارين في طهارة الإناء فيما إذا مر عليه في الماء سبع جريات من غير أن يخرج منه، على القول باعتبار العدد في إزالة النجاسة.
فعلى الاعتبار الأول، اعتبار الجاري كالراكد، لا يطهر الإناء لعدم وجود العدد المعتبر، إذ يشترط لتمام الغسلة على هذا الاعتبار انفصال الإناء عن الماء وذلك لم يحصل ما دام الإناء لم يخرج من الماء.
وعلى الاعتبار الثاني يطهر ولو لم يخرج من الماء؛ لأن كل جرية تعتبر غسلة، وبذلك يحصل العدد المعتبر.
المطلب الرابع: الراجح من الاعتبارين:وقد تقدم ذلك في المثال الأول.
3 - إذا انغمس من عليه حدث أصغر في الماء الجاري، ومر عليه أربع جريات دون أن يخرج.
وفيه أربعة مطالب:
1 - ارتفاع الحدث على الاعتبارين.
2 - حكم الماء على الاعتبارين.
3 - الفرق بين الاعتبارين. (*)
4 - الراجح من الاعتبارين.
المطلب الأول: ارتفاع الحدث على الاعتبارين:وفيه فرعان:
--------------------------------------------
দ্বিতীয় বিষয়: দ্বিতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে ধৌত করার সংখ্যা।
দ্বিতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে: প্রতিটি প্রবাহকে একটি ধৌতকরণ হিসেবে গণ্য করা হবে, যদিও পাত্রটি পানি থেকে বের করা না হয় (১)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পাত্র পবিত্র করার ক্ষেত্রে উভয় বিবেচনার মধ্যে পার্থক্য।
নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে ধৌত করার সংখ্যা বিবেচনার মতানুসারে, পাত্রটি পানি থেকে বের না করে যদি তার ওপর দিয়ে সাতটি প্রবাহ অতিবাহিত হয়, তবে পাত্র পবিত্র হওয়ার ক্ষেত্রে উভয় বিবেচনার মধ্যে পার্থক্য প্রকাশ পায়।
প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে, অর্থাৎ বহমান পানিকে স্থির পানির মতো গণ্য করলে, পাত্রটি পবিত্র হবে না। কারণ কাঙ্ক্ষিত সংখ্যা অর্জিত হয়নি; যেহেতু এই বিবেচনায় একটি ধৌতকরণ পূর্ণ হওয়ার জন্য পাত্রটি পানি থেকে পৃথক হওয়া শর্ত, যা পাত্রটি পানি থেকে বের না করা পর্যন্ত অর্জিত হয় না।
আর দ্বিতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে, পানি থেকে বের না করলেও তা পবিত্র হয়ে যাবে; কারণ প্রতিটি প্রবাহকে একটি ধৌতকরণ হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যা অর্জিত হয়।
চতুর্থ আলোচনা: উভয় বিবেচনার মধ্যে অগ্রগণ্য মত:এটি ইতিপূর্বে প্রথম উদাহরণে অতিবাহিত হয়েছে।
৩ - যার ছোট নাপাকি রয়েছে সে যদি বহমান পানিতে ডুব দেয় এবং পানি থেকে বের হওয়ার আগেই তার ওপর দিয়ে চারটি প্রবাহ অতিবাহিত হয়।
এতে চারটি আলোচনা রয়েছে:
১ - উভয় বিবেচনার ভিত্তিতে নাপাকি দূর হওয়া।
২ - উভয় বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান।
৩ - উভয় বিবেচনার মধ্যে পার্থক্য। (*)
৪ - উভয় বিবেচনার মধ্যে অগ্রগণ্য মত।
প্রথম আলোচনা: উভয় বিবেচনার ভিত্তিতে নাপাকি দূর হওয়া:এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
1 - ارتفاع الحدث على الاعتبار الأول.
2 - ارتفاع الحدث على الاعتبار الثاني.
الفرع الأول: ارتفاع الحدث على الاعتبار الأول:إذا اعتبر الماء الجاري كالراكد، وهو الاعتبار الأول، فإن الحدث الأصغر لا يرتفع بالانغماس فيه، ولو مر عليه أربع جريات فأكثر (1)؛ لأن الماء الجاري إذا اعتبر كالراكد لم يحصل بالانغماس فيه مرة واحدة إلا غسل الوجه دون سائر الأعضاء لمراعاة الترتيب.
الفرع الثاني: ارتفاع الحدث على الاعتبار الثاني:إذا اعتبر لكل جرية من الماء الجاري حكم نفسها فإن الحدث الأصغر يرتفع إذا مر على المنغمس فيه مع النية أربع جريات، ولو لم يخرج بينها (2)؛ وذلك أنه يحصل بالجرية الأول غسل الوجه، وبالثانية غسل اليدين، وبالثالثة مسح الرأس والأذنين، وبالرابعة غسل الرجلين.
وبذلك يحصل الترتيب المعتبر في الطهارة من الحدث الأصغر.
المطلب الثاني: حكم الماء على الاعتبارين:وفيه فرعان:
1 - حكم الماء على الاعتبار الأول.
2 - حكم الماء على الاعتبار الثاني.
الفرع الأول: حكم الماء على الاعتبار الأول:إذا اعتبر الماء الجاري كالراكد لم يكن الماء مستعملًا بالانغماس فيه على الوجه المذكور؛ لأن الحدث لم يرتفع به على نحو ما تقدم.
--------------------------------------------
১ - প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে অপবিত্রতা দূরীভূত হওয়া।
২ - দ্বিতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে অপবিত্রতা দূরীভূত হওয়া।
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে অপবিত্রতা দূরীভূত হওয়া:যদি প্রবাহিত পানিকে স্থির পানির মতো বিবেচনা করা হয়—যা হলো প্রথম দৃষ্টিভঙ্গি—তবে তাতে ডুব দেওয়ার মাধ্যমে ছোট অপবিত্রতা (হাদাছে আসগর) দূর হবে না, যদিও তার উপর দিয়ে চার বা ততোধিক প্রবাহ অতিবাহিত হয় (১); কারণ প্রবাহিত পানিকে যখন স্থির পানির মতো গণ্য করা হয়, তখন তাতে একবার নিমজ্জনের মাধ্যমে ধারাবাহিকতা (তারতীব) বজায় রাখার খাতিরে কেবল মুখমণ্ডল ধৌত হওয়া সম্পন্ন হয়, অন্যান্য অঙ্গ নয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে অপবিত্রতা দূরীভূত হওয়া:যদি প্রবাহিত পানির প্রতিটি প্রবাহকে স্বতন্ত্র হুকুমের অধিকারী বিবেচনা করা হয়, তবে নিয়তসহ তাতে নিমজ্জিত ব্যক্তির ওপর দিয়ে চারটি প্রবাহ অতিবাহিত হলে ছোট অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে, যদিও সে এর মাঝে পানি থেকে বের না হয় (২); আর তা একারণে যে, প্রথম প্রবাহের মাধ্যমে মুখমণ্ডল ধৌত হওয়া, দ্বিতীয়টির মাধ্যমে দুই হাত ধৌত হওয়া, তৃতীয়টির মাধ্যমে মাথা ও দুই কান মাসেহ করা এবং চতুর্থটির মাধ্যমে দুই পা ধৌত হওয়া সম্পন্ন হয়।
আর এর মাধ্যমেই ছোট অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে যে ধারাবাহিকতা (তারতীব) আবশ্যক, তা সম্পন্ন হয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উভয় বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান:এতে দুটি শাখা রয়েছে:
১ - প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান।
২ - দ্বিতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান।
প্রথম শাখা: প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান:যদি প্রবাহিত পানিকে স্থির পানির মতো বিবেচনা করা হয়, তবে উল্লিখিত পদ্ধতিতে তাতে নিমজ্জনের ফলে পানিটি 'ব্যবহৃত' (মুস্তা’মাল) বলে গণ্য হবে না; কারণ ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী এর মাধ্যমে অপবিত্রতা দূরীভূত হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفرع الثاني: حكم الماء على الاعتبار الثاني:إذا اعتبر لكل جرية من الماء الجاري حكم نفسها على الوجه المتقدم كان الماء بالانغماس فيه على الوجه المذكور مستعملًا؛ لأن الحدث قد ارتفع بذلك الانغماس، كما تقدم بيان ذلك، وهل ينسلب الطهورية؟ يختلف ذلك حسب قلة الماء وكثرته.
المطلب الرابع: الراجح من الاعتبارين:وقد تقدم بيان ذلك في المثال الأول.
* * *
القاعدة الثانية
شعر الحيوان في حكم المنفصل عنه، لا في حكم المتصل، وكذلك الظفر. هذا هو جادة المذهب، ويتفرع على ذلك مسائل.
الشرح:
البحث في هذه القاعدة في ثلاثة مواضع:
1 - بيان الضابط لأجزاء الحيوان التي هي في حكم المنفصل منه.
2 - حكم هذه الأجزاء طهارة ونجاسة.
3 - المسائل المتفرعة على هذه القاعدة.
الموضع الأول: ضابط أجزاء الحيوان التي تكون في حكم المنفصل منه:الضابط لأجزاء الحيوان التي تكون في حكم المنفصل منه، هو كل ما لا تحِلّه الحياة، كالشعر، والصوف، والريش، وزائد الأظفار والقرون، ونحو ذلك.
দ্বিতীয় শাখা: দ্বিতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে পানির বিধান:যদি বহমান পানির প্রতিটি প্রবাহের জন্য পূর্বোক্ত পদ্ধতিতে তার নিজস্ব বিধান বিবেচনা করা হয়, তবে উল্লিখিত পদ্ধতিতে তাতে অবগাহন করার কারণে পানিটি ব্যবহৃত বলে গণ্য হবে; কারণ সেই অবগাহনের মাধ্যমে অশুচিতা দূরীভূত হয়েছে, যেমনটি এর আগে বর্ণনা করা হয়েছে। আর এর পবিত্রকারী গুণ কি অপসারিত হবে? পানির স্বল্পতা ও আধিক্য অনুযায়ী এ বিষয়ে ভিন্নতা রয়েছে।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: উভয় বিবেচনার মধ্যে অগ্রগণ্য মতটি:প্রথম উদাহরণে এর বর্ণনা ইতিপূর্বে প্রদান করা হয়েছে।
* * *
দ্বিতীয় নীতি
প্রাণীর লোম তার থেকে বিচ্ছিন্ন অংশের বিধানে গণ্য হবে, সংযুক্ত অংশের বিধানে নয়; নখও তদ্রূপ। এটিই মাযহাবের মূল ধারা, এবং এর ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন মাসআলা বা বিধান উদ্ভূত হয়।
ব্যাখ্যা:
এই নীতির আলোচনা তিনটি স্থানে বিভক্ত:
১ - প্রাণীর সেই সমস্ত অংশের মানদণ্ড বর্ণনা করা যা তার থেকে বিচ্ছিন্ন অংশের বিধানে গণ্য হয়।
২ - পবিত্রতা ও অপবিত্রতার বিচারে এই অংশগুলোর বিধান।
৩ - এই নীতি থেকে উদ্ভূত মাসআলা বা বিষয়সমূহ।
প্রথম স্থান: প্রাণীর সেই সমস্ত অংশের মানদণ্ড যা তার থেকে বিচ্ছিন্ন অংশের বিধানে গণ্য হয়:প্রাণীর সেই সকল অংশের মানদণ্ড যা তার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিধানে গণ্য হয়, তা হলো এমন প্রতিটি জিনিস যার মধ্যে জীবন সঞ্চারিত হয় না; যেমন—লোম, পশম, পালক এবং অতিরিক্ত নখ ও শিং ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الموضع الثاني: حكم ما لا تَحِلّه الحياة من الحيوان طهارة ونجاسة:ما لا تَحِلّه الحياة من الحيوان طهارة ونجاسة حكمه حكم الحيوان الذي انفصل منه؛ وإن كان الحيوان الذي انفصل منه طاهرًا، فتلك الأجزاء طاهرة، وإن كان ذلك الحيوان نجسًا، فتلك الأجزاء نجسة، فشعر بهيمة الأنعام طاهر، وشعر الحمر الأهلية والخنزير نجس.
الموضع الثالث: المسائل المتفرعة على هذه القاعدة:المسائل المتفرعة على هذه القاعدة كثيرة؛ ومنها ما يأتي:
1 - عدم انتقاض الوضوء بمس شعر المرأة بشهوة (1)؛ لأنه في حكم المنفصل، ومس المنفصل لا ينقض الوضوء، فكذلك المتصل.
2 - عدم نجاسة الشعر بالموت، إذا كان من حيوان طاهر في الحياة (2)؛ لأنه في حكم المنفصل منه، فلم يؤثر فيه الموت كالمنفصل منه.
3 - عدم نجاسة الشعر بالانفصال عن الحيوان إن كان الحيوان طاهرًا في الحياة (3)؛ لأنه لا تحله الحياة كالمنفصل، فلم يؤثر فيه الفصل.
4 - عدم وقوع الطلاق المضاف إلى الشعر (4)، كقول الرجل لامرأته: شعرك طالق؛ لأن الطلاق لا يقع بإضافته إلى المنفصل، فكذلك المتصل.
5 - عدم وقوع العتق بإضافته إلى الشعر (5)، كقول السيد لعبده: شعرك حر، لما تقدم في أربعة.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় স্থান: প্রাণীর যে সকল অংশে জীবন থাকে না, সেগুলোর পবিত্রতা ও অপবিত্রতার বিধান:প্রাণীর যে সকল অংশে জীবন সঞ্চারিত হয় না, সেগুলোর পবিত্রতা ও অপবিত্রতার বিধান হলো সেই প্রাণীর অনুরূপ যা থেকে তা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। যদি মূল প্রাণীটি পবিত্র হয়, তবে সেই অংশগুলোও পবিত্র। আর যদি সেই প্রাণীটি অপবিত্র হয়, তবে সেই অংশগুলোও অপবিত্র। সুতরাং গবাদি পশুর চুল বা পশম পবিত্র, আর গৃহপালিত গাধা এবং শূকরের চুল অপবিত্র।
তৃতীয় স্থান: এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে উৎসারিত মাসআলাসমূহ:এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে উৎসারিত মাসআলাসমূহ অনেক; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - কামোদ্দীপনার সাথে নারীর চুল স্পর্শ করলে অজু নষ্ট না হওয়া (১); কারণ এটি বিচ্ছিন্ন অংশের হুকুমে পড়ে, আর বিচ্ছিন্ন অংশ স্পর্শ করলে অজু নষ্ট হয় না, তাই সংযুক্ত চুলের ক্ষেত্রেও একই বিধান।
২ - মৃত্যুর কারণে চুল অপবিত্র না হওয়া, যদি তা এমন প্রাণীর হয় যা জীবিতাবস্থায় পবিত্র ছিল (২); কারণ এটি প্রাণী থেকে বিচ্ছিন্ন অংশের হুকুমে থাকে, ফলে বিচ্ছিন্ন অংশের মতো এতেও মৃত্যু কোনো প্রভাব ফেলে না।
৩ - জীবিতাবস্থায় প্রাণীটি পবিত্র হলে তা থেকে চুল বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে তা অপবিত্র না হওয়া (৩); কারণ এতে জীবন সঞ্চারিত হয় না যেমনটি বিচ্ছিন্ন জিনিসের ক্ষেত্রে হয়, তাই বিচ্ছিন্নকরণ এতে কোনো প্রভাব ফেলে না।
৪ - চুলের সাথে সম্পৃক্ত করে তালাক দিলে তা কার্যকর না হওয়া (৪); যেমন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল: ‘তোমার চুল তালাকপ্রাপ্ত’; কারণ তালাক বিচ্ছিন্ন অংশের সাথে সম্পৃক্ত করলে কার্যকর হয় না, তেমনিভাবে সংযুক্ত চুলের ক্ষেত্রেও একই কথা।
৫ - চুলের সাথে সম্পৃক্ত করে দাসমুক্তি করলে তা কার্যকর না হওয়া (৫); যেমন মালিক তার দাসকে বলল: ‘তোমার চুল আযাদ বা মুক্ত’, যা চার নম্বর মাসআলায় বর্ণিত কারণের ভিত্তিতে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
6 - عدم ثبوت الظهار المضاف إلى الشعر (1)، كتشبيه الرجل شعر زوجته بمن تحرم عليه لما في أربعة.
* * *
القاعدة الثالثة
من وجبت عليه عبادة، فأتى بما لو اقتصر على ما دونه لأجزأه.
هل يوصف الكل بالوجوب، أو قدر الإجزاء منه؟ .
إن كانت الزيادة متميزة منفصلة فلا إشكال في أنها نفل بانفرادها، كإخراج صاعين منفردين في الفطرة ونحوها.
وأما إن لم تكن متميزة، ففيه وجهان مذكوران في أصول الفقه، وينبني عليها مسائل.
الشرح:
البحث في هذه القاعدة في ثلاثة مواضع:
1 - تحرير القاعدة.
2 - أمثلة القاعدة.
3 - وصف الزيادة على الواجب.
الموضع الأول: تحرير القاعدة:معنى هذه القاعدة: أن الزيادة على الواجب لا توصف بالوجوب (2)، وقيل: إن كانت متصلة غير متميزة وصفت به، وإلا فلا (3).
--------------------------------------------
৬ - চুলের সাথে সম্পৃক্ত যিহার সাব্যস্ত না হওয়া (১), যেমন কোনো ব্যক্তির তার স্ত্রীর চুলকে এমন কারো সাথে তুলনা করা যে তার জন্য হারাম, কারণ যা চারটিতে বর্ণিত হয়েছে।
* * *
তৃতীয় নিয়ম
যার ওপর কোনো ইবাদত ওয়াজিব হয়েছে, অতঃপর সে এমন কিছু আদায় করেছে যে, সে যদি এর চেয়ে কমের ওপর সীমাবদ্ধ থাকত তবেও তা তার জন্য যথেষ্ট হতো।
পুরো কাজটিকে কি ওয়াজিব হিসেবে অভিহিত করা হবে, নাকি কেবল যতটুকু করলে যথেষ্ট হতো ততটুকুকে?।
যদি অতিরিক্ত অংশটুকু পৃথক ও বিচ্ছিন্ন হয়, তবে সেটি স্বতন্ত্রভাবে নফল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই, যেমন ফিতরার ক্ষেত্রে পৃথকভাবে দুই সা' প্রদান করা এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ।
আর যদি তা পৃথক না হয়, তবে এই বিষয়ে উসূলে ফিকহে দুটি মত বর্ণিত হয়েছে এবং এর ওপর বিভিন্ন মাসআলা আবর্তিত হয়।
ব্যাখ্যা:
এই নিয়মের আলোচনা তিনটি বিষয়ে বিভক্ত:
১ - নিয়মের বিশ্লেষণ।
২ - নিয়মের উদাহরণসমূহ।
৩ - ওয়াজিবের অতিরিক্ত অংশের বর্ণনা।
প্রথম বিষয়: নিয়মের বিশ্লেষণ:এই নিয়মের অর্থ হলো: ওয়াজিবের অতিরিক্ত অংশকে ওয়াজিব হিসেবে অভিহিত করা হবে না (২); আর বলা হয়েছে: যদি তা সংযুক্ত এবং পৃথক করার অযোগ্য হয় তবে তাকে ওয়াজিব বলা হবে, অন্যথায় নয় (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الموضع الثاني: أمثلة القاعدة:وفيه مبحثان:
1 - أمثلة الزيادة المتميزة.
2 - أمثلة الزيادة غير المتميزة.
المبحث الأول: أمثلة الزيادة المتميزة:من أمثلة الزيادة المتميزة ما يأتي:
1 - التسبيحات الزائدة عن التسبيحة الواحدة في الركوع والسجود.
2 - ما زاد عن الصاع في الفطرة، إذا كان الزائد مستقلًا عن الصاع الواجب.
3 - إخراج شاتين دفعة واحدة عن أربعين شاة في الزكاة.
4 - ما زاد عن الغسلة الواحدة في الوضوء.
المبحث الثاني: أمثلة الزيادة غير المتميزة:من أمثلة الزيادة غير المتميزة ما يأتي:
1 - ذبح بدنة عن الشاة في دم التمتع أو القران أو فدية الأذى وفعل المحظور.
2 - إخراج بدنة عن خمس من الإبل، بدلًا من الشاة.
3 - ذبح بدنة عن الشاة المنذورة.
الموضع الثالث: وصف الزيادة عن الواجب:وفيه مبحثان:
1 - إذا كانت الزيادة متميزة.
2 - إذا كانت الزيادة غير متميزة.
المبحث الأول: وصف الزيادة المتميزة:إذا كانت الزيادة متميزة فلا إشكال في أنها نفل (1)؛ لأن الواجب يحصل بما قبل الزيادة، وتبرأ به الذمة، فلا يعود الوجوب، ولا تنشغل الذمة به مرة أخرى.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় বিষয়: মূলনীতির উদাহরণসমূহ:এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
১ - স্বতন্ত্র অতিরিক্তের উদাহরণসমূহ।
২ - অ-স্বতন্ত্র অতিরিক্তের উদাহরণসমূহ।
প্রথম অনুচ্ছেদ: স্বতন্ত্র অতিরিক্তের উদাহরণসমূহ:স্বতন্ত্র অতিরিক্তের উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - রুকু ও সিজদায় এক তাসবিহের অতিরিক্ত তাসবিহসমূহ।
২ - ফিতরার ক্ষেত্রে এক সা'-এর অতিরিক্ত অংশ, যদি অতিরিক্ত অংশটি ওয়াজিব সা' থেকে স্বতন্ত্র হয়।
৩ - জাকাতের ক্ষেত্রে চল্লিশটি ছাগলের বিপরীতে একবারে দুটি ছাগল প্রদান করা।
৪ - অজুর ক্ষেত্রে একবার ধোয়ার অতিরিক্ত ধোয়া।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অ-স্বতন্ত্র অতিরিক্তের উদাহরণসমূহ:অ-স্বতন্ত্র অতিরিক্তের উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - তামাত্তু বা কিরান হজের কুরবানি (দম) অথবা কষ্ট লাঘবের ফিদয়া ও নিষিদ্ধ কাজ করার দণ্ড হিসেবে ছাগলের পরিবর্তে একটি উট জবাই করা।
২ - পাঁচটি উটের জাকাত হিসেবে ছাগলের পরিবর্তে একটি উট প্রদান করা।
৩ - মানত করা ছাগলের পরিবর্তে একটি উট জবাই করা।
তৃতীয় বিষয়: ওয়াজিবের অতিরিক্তের বিবরণ:এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
১ - যখন অতিরিক্তটি স্বতন্ত্র হয়।
২ - যখন অতিরিক্তটি অ-স্বতন্ত্র হয়।
প্রথম অনুচ্ছেদ: স্বতন্ত্র অতিরিক্তের বিবরণ:অতিরিক্তটি যদি স্বতন্ত্র হয়, তবে এটি যে নফল (১) সে বিষয়ে কোনো সংশয় নেই; কারণ অতিরিক্তের পূর্বেই ওয়াজিব অর্জিত হয়ে যায় এবং এর মাধ্যমে ব্যক্তি দায়মুক্ত হয়। ফলে ওয়াজিব পুনরায় ফিরে আসে না এবং দায়বদ্ধতা দ্বিতীয়বার এতে নিবিষ্ট হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الثاني: إذا كانت الزيادة غير متميزة.
وفيه مطلبان:
1 - الخلاف فيه.
2 - ما يترتب على الخلاف.
المطلب الأول: الخلاف فيه:اختلف في وصف الزيادة على الواجب غير المتميزة بالوجوب على قولين.
القول الأول: أن الزيادة نفل (1)؛ لأن الزائد على الواجب غير مطلوب من الشارع على سبيل الوجوب، فلا يكون واجبًا.
ويمكن أن يستدل لهذا القول بأخذ صاحب المال الجبران من عامل الصدقة إذا أخذ سنًا أعلى؛ لأنه لو كان الكل واجبًا لما جاز أخذ الجبران؛ لأن الزائد خرج عن الملك، فلا يجوز أخذ عوضه (2).
وبإجزاء السبع من البدنة عن الواحد حين الاشتراك فيها، فإنه إذا جاز أن تتبعض البدنة حين الاشتراك بحسب الأفراد، جاز أن تتبعض حين الاشتراك بحسب المراد منها.
القول الثاني: أن الكل واجب؛ لأنه لا يمكن تمييز الواجب عن غيره، فيكون كله واجبًا.
والراجح -واللَّه أعلم- أن الزيادة على الواجب نفل، لأن كون الواجب غير متميز لا يمنع أن يكون الزائد نفلًا، كما لو اشترك في البدنة من يريد الهدي، ومن يريد الأضحية، ومن يريد اللحم (3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যদি অতিরিক্ত অংশটি পৃথকযোগ্য না হয়.
এতে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
১ - এই বিষয়ে মতপার্থক্য।
২ - মতপার্থক্যের ফলাফল।
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: এই বিষয়ে মতপার্থক্য:ওয়াজিবের (আবশ্যকীয় বিধানের) উপর এমন অতিরিক্ত অংশ যা পৃথকযোগ্য নয়, তার বিধান নিয়ে দুটি মত রয়েছে।
প্রথম মত: অতিরিক্ত অংশটি নফল (ঐচ্ছিক) (১); কেননা ওয়াজিবের অতিরিক্ত অংশটি শরিয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে ওয়াজিব হিসেবে দাবি করা হয়নি, সুতরাং তা ওয়াজিব হবে না।
এই মতের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে জাকাত আদায়কারী যদি নির্ধারিত বয়সের চেয়ে বড় (উন্নত) প্রাণী গ্রহণ করেন, তবে সম্পদের মালিকের তার অতিরিক্ত অংশের বিনিময় (ক্ষতিপূরণ) গ্রহণ করাকে পেশ করা যেতে পারে; কেননা পুরোটিই যদি ওয়াজিব হতো, তবে বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ হতো না; কারণ অতিরিক্ত অংশটি তখন মালিকানা থেকে বেরিয়ে যেত, আর সেক্ষেত্রে তার বিনিময় গ্রহণ করা জায়েজ হতো না (২)।
তদুপরি, বড় কোরবানির পশুর এক-সপ্তমাংশ একজনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হওয়া যখন তাতে অংশীদারিত্ব থাকে; কেননা যদি অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে ব্যক্তিদের সংখ্যার হিসেবে একটি পশুকে ভাগ করা জায়েজ হয়, তবে উদ্দেশ্যের ভিন্নতার ভিত্তিতেও তাকে ভাগ করা জায়েজ হবে।
দ্বিতীয় মত: পুরোটিই ওয়াজিব; কেননা ওয়াজিব অংশকে অন্য অংশ থেকে পৃথক করা সম্ভব নয়, তাই পুরোটিই ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হবে।
এবং অগ্রগণ্য মত—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—হলো, ওয়াজিবের উপর অতিরিক্ত অংশটি নফল; কেননা ওয়াজিব পৃথকযোগ্য না হওয়াটা অতিরিক্ত অংশটি নফল হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়, যেমনটি কোনো বড় কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে যেখানে হাদি (হজের কোরবানি), উধহিয়াহ (সাধারণ কোরবানি) এবং কেবল গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্য পোষণকারীরা অংশীদার হয় (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ২০)
المطلب الثاني: ما يترتب على الخلاف:ما يترتب على الخلاف يختلف بحسب الأمثلة، ومن ذلك ما يأتي:
1 - إذا أخرجت الإبل عن الشياه فيما دون الخمس والعشرين.
فعلى القول بأن الزيادة على الواجب واجب لا يجزئ البعير إلا عن شاة واحدة، فيجب عن العشرين أربعة أبعرة.
وعلى القول بأن الزيادة نفل يجزئ عما دون الخمس والعشرين بعير واحد.
وهذا هو الأقرب؛ لأنه إذا أجزأ البعير عن خمسة وعشرين بعيرًا أجزأ عما دون ذلك من باب أولى.
2 - إذا ذبح عن الشاة بدنة.
فعلى القول الأول: يكون الواجب سبعها، ويجوز بيع الباقي والتصرف فيه بأي وجه من وجوه التصرف.
وعلى القول الثاني: تجب كلها ويلزم صرفها مصرف الشاة التي ذبحت عنها.
3 - إذا أدرك المسبوق الإمام في الركوع بعد التسبيح الواجب، وقيل: إنه لا يصح اقتداء المفترض بالمتنفل.
فعلى القول الأول: لا يكون مدركًا للركعة؛ لأنه أدرك الإمام في الجزء الواقع نفلًا.
وعلى القول الثاني: -أن الكل واجب- يكون مدركًا للركعة؛ لأنه لم يقتد بمتنفل.
4 - إذا حلف لا يزيد على الواجب، فأخرج بدنة عن خمس من الإبل.
فعلى أن الزيادة على الواجب نفل يحنث؛ لأنه زاد على الواجب.
وعلى القول: بأن الزيادة واجبة لا يحنث؛ لأنه لم يزد على الواجب.
* * *
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মতভিন্নতার প্রভাব বা ফলাফল:মতভিন্নতার ফলে যা অর্জিত হয় তা উদাহরণের ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে, এর মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য:
১ - যখন পঁচিশটির কম উটের জাকাতের ক্ষেত্রে ভেড়া বা বকরীর পরিবর্তে উট প্রদান করা হয়।
এই মত অনুযায়ী যে, ওয়াজিবের অতিরিক্ত অংশও ওয়াজিব, সেক্ষেত্রে একটি উট কেবল একটি ভেড়া বা বকরীর পক্ষ থেকেই যথেষ্ট হবে। ফলে বিশটি উটের জাকাত হিসেবে চারটি উট প্রদান করা ওয়াজিব হয়ে পড়বে।
আর এই মত অনুযায়ী যে, অতিরিক্ত অংশ নফল, সেক্ষেত্রে পঁচিশটির কম সংখ্যক উটের জন্য একটি উট প্রদান করাই যথেষ্ট হবে।
আর এটিই অধিকতর সঠিক; কারণ উট যদি পঁচিশটি উটের জাকাত হিসেবে যথেষ্ট হতে পারে, তবে এর চেয়ে কম সংখ্যার ক্ষেত্রে তা আরও জোরালোভাবে যথেষ্ট হবে।
২ - যখন ভেড়া বা বকরীর পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ উট বা গরু জবেহ করা হয়।
প্রথম মত অনুযায়ী: সেই পশুর এক-সপ্তমাংশ ওয়াজিব বলে গণ্য হবে এবং অবশিষ্ট অংশ বিক্রি করা বা যেকোনো পন্থায় তা ব্যবহার করা বৈধ হবে।
দ্বিতীয় মত অনুযায়ী: সম্পূর্ণ পশুটিই ওয়াজিব হয়ে যাবে এবং যে ভেড়া বা বকরীর পরিবর্তে এটি জবেহ করা হয়েছে, সেই ভেড়া বা বকরীর অনুরূপ খাতেই এটি ব্যয় করা আবশ্যক হবে।
৩ - যদি মাসবুক ব্যক্তি ইমামকে রুকুতে এমন অবস্থায় পায় যখন ইমামের ওয়াজিব তাসবিহ সম্পন্ন হয়ে গেছে, এবং এই মত গ্রহণ করা হয় যে: নফল আদায়কারীর পেছনে ফরজ আদায়কারীর ইকতিদা করা শুদ্ধ নয়।
প্রথম মত অনুযায়ী: সে রাকাতটি পেয়েছে বলে গণ্য হবে না; কারণ সে ইমামকে রুকুর এমন অংশে পেয়েছে যা নফল হিসেবে গণ্য।
দ্বিতীয় মত অনুযায়ী—অর্থাৎ পুরো রুকুটিই ওয়াজিব—সে রাকাতটি পেয়েছে বলে গণ্য হবে; কারণ সে মূলত নফল আদায়কারীর ইকতিদা করেনি।
৪ - যদি কেউ কসম করে যে সে ওয়াজিবের অতিরিক্ত কিছু করবে না, অতঃপর পাঁচটি উটের জাকাত হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ উট প্রদান করে।
এই মত অনুযায়ী যে, ওয়াজিবের অতিরিক্ত অংশ নফল, তবে তার কসম ভঙ্গ হবে; কারণ সে ওয়াজিবের অতিরিক্ত প্রদান করেছে।
আর এই মত অনুযায়ী যে, অতিরিক্ত অংশও ওয়াজিব, তবে তার কসম ভঙ্গ হবে না; কারণ সে ওয়াজিবের অতিরিক্ত কিছু করেনি।
* * *
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ২১)
القاعدة الرابعة
العبادات كلها -سواء كانت بدنية، أو مالية، أو مركبة منهما- لا يجوز تقديمها على سبب وجوبها، ويجوز تقديمها بعد سبب الوجوب، وقبل الوجوب، أو قبل شرط الوجوب. ويتفرع على ذلك مسائل كثيرة.
الشرح:
البحث في هذه القاعدة في ثلاثة مواضع:
1 - تحرير القاعدة.
2 - أمثلة القاعدة.
3 - حكم الفعل.
الموضع الأول: تحرير القاعدة:تضمنت هذه القاعدة قاعدتين.
القاعدة الأولى: فعل العبادة قبل وجود سبب وجوبها لا يصح (1).
القاعدة الثانية: فعل العبادة بعد وجود سبب وجوبها صحيح، ولو كان قبل وجوبها، أو قبل شرط وجوبها (2).
الموضع الثاني: أمثلة القاعدة:وفيه مبحثان:
1 - أمثلة تقديم العبادة على سبب وجوبها.
--------------------------------------------
চতুর্থ নিয়ম
সকল ইবাদত—তা শারীরিক হোক, আর্থিক হোক বা উভয়টির সংমিশ্রণ হোক—তা ওয়াজিব হওয়ার কারণ (সাবাব) সংঘটিত হওয়ার পূর্বে সম্পাদন করা বৈধ নয়। তবে ওয়াজিব হওয়ার কারণ বিদ্যমান হওয়ার পর, কিন্তু ওয়াজিব হওয়ার পূর্বে অথবা ওয়াজিব হওয়ার শর্তের পূর্বে তা সম্পাদন করা বৈধ। এর থেকে বহু মাসআলা উদ্ভূত হয়।
ব্যাখ্যা:
এই নিয়মের আলোচনা তিনটি বিষয়ে বিন্যস্ত:
১ - নিয়মের বিশ্লেষণ।
২ - নিয়মের উদাহরণ।
৩ - কাজের বিধান।
প্রথম বিষয়: নিয়মের বিশ্লেষণ:এই নিয়মটি দুটি মূলনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
প্রথম মূলনীতি: ওয়াজিব হওয়ার কারণ বিদ্যমান হওয়ার পূর্বে ইবাদত সম্পাদন করা শুদ্ধ নয় (১)।
দ্বিতীয় মূলনীতি: ওয়াজিব হওয়ার কারণ বিদ্যমান হওয়ার পর ইবাদত সম্পাদন করা শুদ্ধ, যদিও তা ওয়াজিব হওয়ার পূর্বে কিংবা ওয়াজিব হওয়ার শর্তের পূর্বে হয় (২)।
দ্বিতীয় বিষয়: নিয়মের উদাহরণ:এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১ - ওয়াজিব হওয়ার কারণের পূর্বে ইবাদত অগ্রিম সম্পাদনের উদাহরণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ২২)
2 - أمثلة تقديم العبادة على شرط وجوبها.
المبحث الأول: أمثلة تقديم العبادة على سبب وجوبها:من أمثلة ذلك ما يأتي:
1 - تقديم زكاة المال قبل اكتمال النصاب.
2 - تقديم فدية فعل المحظور في الحج على فعل المحظور.
3 - تقديم فدية الأذى في الحج قبل وجود الأذى.
4 - تقديم كفارة اليمين قبل عقد اليمين.
5 - تقديم كفارة الظهار قبل وجود الظهار.
المبحث الثاني: أمثلة تقديم العبادة على شرط وجوبها بعد وجود سبب وجوبها:من أمثلة ذلك ما يأتي:
1 - تقديم زكاة المال بعد اكتمال النصاب، وقبل الحول.
2 - تقديم فدية الأذى بعد وجود الأذى، وقبل إزالة الأذى.
3 - تقديم كفارة اليمين بعد عقد اليمين، وقبل الحنث.
4 - تقديم كفارة الظهار بعد الظهار، وقبل العود.
الموضع الثالث: حكم العبادة:وفيه مبحثان:
1 - حكم العبادة حال تقديمها على سبب الوجوب.
2 - حكم العبادة حال تقديمها على شرط الوجوب.
المبحث الأول: حكم العبادة حال تقديمها على سبب الوجوب:إذا قدمت العبادة على سبب وجوبها لم تصح (1)؛ لأن الذمة لم تنشغل بالعبادة حتى تبرأ بفعلها.
--------------------------------------------
২ - ইবাদত ওয়াজিব হওয়ার শর্তের পূর্বে তা আদায় করার উদাহরণসমূহ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবাদত ওয়াজিব হওয়ার কারণ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তা আদায়ের উদাহরণসমূহ:এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:
১ - নিসাব পূর্ণ হওয়ার পূর্বে সম্পদের যাকাত প্রদান করা।
২ - হজ্জের নিষিদ্ধ কাজ করার পূর্বেই উক্ত নিষিদ্ধ কাজ করার ফিদয়া প্রদান করা।
৩ - হজ্জে কষ্টদায়ক অবস্থা তৈরি হওয়ার পূর্বেই কষ্টের ফিদয়া প্রদান করা।
৪ - শপথ করার পূর্বেই শপথের কাফফারা প্রদান করা।
৫ - জিহার করার পূর্বেই জিহারের কাফফারা প্রদান করা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদত ওয়াজিব হওয়ার কারণ সংঘটিত হওয়ার পর কিন্তু ওয়াজিব হওয়ার শর্ত পূর্ণ হওয়ার পূর্বে ইবাদত আদায়ের উদাহরণসমূহ:এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:
১ - নিসাব পূর্ণ হওয়ার পর কিন্তু বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই সম্পদের যাকাত প্রদান করা।
২ - কষ্টদায়ক কারণটি সংঘটিত হওয়ার পর কিন্তু কষ্ট দূর করার পূর্বেই ফিদয়া প্রদান করা।
৩ - শপথ করার পর কিন্তু শপথ ভঙ্গ করার পূর্বেই কাফফারা প্রদান করা।
৪ - জিহার করার পর কিন্তু পুনরায় দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের পূর্বেই কাফফারা প্রদান করা।
তৃতীয় স্থান: ইবাদতের বিধান:এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১ - ওয়াজিব হওয়ার কারণের পূর্বে ইবাদত আদায়ের বিধান।
২ - ওয়াজিব হওয়ার শর্তের পূর্বে ইবাদত আদায়ের বিধান।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ওয়াজিব হওয়ার কারণের পূর্বে ইবাদত আদায়ের বিধান:ইবাদত যদি ওয়াজিব হওয়ার কারণ সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই আদায় করা হয়, তবে তা শুদ্ধ হবে না (১); কেননা ইবাদতের মাধ্যমে দায়মুক্ত হওয়ার জন্য যে দায়বদ্ধতা বা জিম্মার প্রয়োজন, তা তখনো সৃষ্টি হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثاني: حكم العبادة حال تقديمها على شرط وجوبها بعد انعقاد سبب الوجوب:تقديم العبادة على شرط وجوبها بعد انعقاد سبب الوجوب. صحيح (1)؛ لحديث كعب بن عجرة، وفيه: "انسك شاة واحلق رأسك" (2) حيث إن ظاهره تقديم الفدية على فعل المحظور
* * *
القاعدة الخامسة
من عجل عبادة قبل وقت الوجوب، ثم جاء وقت الوجوب وقد تغير الحال بحيث لو فعل المعجل في وقت الوجوب لم يجزئه، فهل يجزئه أو لا؟
هذا على قسمين:
أحدهما: أن يتبين الخلل في نفس العبادة، بأن يظهر وقت الوجوب أن الواجب غير المعجل، ولذلك صور.
والقسم الثاني: أن يتبين الخلل في شرط العبادة المعجلة، فالصحيح أنه يجزئه، ويتفرع عليه مسائل.
الشرح:
البحث في هذه القاعدة في ثلاثة مواضع:
1 - تحربر القاعدة.
2 - أمثلة القاعدة.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ওয়াজিব হওয়ার কারণ সাব্যস্ত হওয়ার পর ওয়াজিব হওয়ার শর্ত পূরণ হওয়ার পূর্বে ইবাদত আদায় করার বিধান:ওয়াজিব হওয়ার কারণ সাব্যস্ত হওয়ার পর ওয়াজিব হওয়ার শর্তের পূর্বে ইবাদত অগ্রিম আদায় করা সহীহ (১); কাব ইবনে উজরাহ (রাযি.)-এর হাদীসের কারণে, যেখানে বর্ণিত হয়েছে: "একটি বকরি যবাই করো এবং তোমার মাথা মুণ্ডন করো" (২), কেননা এর প্রকাশ্য অর্থ হলো নিষিদ্ধ কাজ করার পূর্বেই ফিদিয়া প্রদান করা।
* * *
পঞ্চম নিয়ম
যে ব্যক্তি ওয়াজিব হওয়ার সময়ের পূর্বে কোনো ইবাদত অগ্রিম আদায় করল, অতঃপর ওয়াজিব হওয়ার সময় উপস্থিত হলো এবং অবস্থা এমনভাবে পরিবর্তিত হলো যে, অগ্রিম আদায়কৃত ইবাদতটি যদি ওয়াজিব হওয়ার সময়ে করা হতো তবে তা যথেষ্ট হতো না, তবে তা কি তার জন্য যথেষ্ট হবে কি না?
এটি দুই প্রকার:
প্রথমত: স্বয়ং ইবাদতের মধ্যেই ত্রুটি প্রকাশ পাওয়া, অর্থাৎ ওয়াজিব হওয়ার সময় এটি স্পষ্ট হওয়া যে ওয়াজিব বিষয়টি অগ্রিম আদায়কৃত বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন ছিল। এর বিভিন্ন রূপ রয়েছে।
দ্বিতীয় প্রকার: অগ্রিম আদায়কৃত ইবাদতের শর্তে ত্রুটি প্রকাশ পাওয়া। এক্ষেত্রে সঠিক মত হলো যে, তা যথেষ্ট হবে এবং এ থেকে অনেক মাসআলা নির্গত হয়।
ব্যাখ্যা:
এই নিয়মের আলোচনা তিনটি ক্ষেত্রে করা হয়েছে:
১ - নিয়মের বিশ্লেষণ।
২ - নিয়মের উদাহরণসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
3 - حكم العبادة المعجلة.
الموضع الأول: تحرير القاعدة:المراد بهذه القاعدة: أن تغير الحال بعد فعل العبادة لا يؤثر في صحتها وإجزائها (1). وقيل: بلى (2).
الموضع الثاني: أمثلة القاعدة:وفيه مبحثان:
1 - أمثلة ما إذا تبين الخلل في نفس العبادة.
2 - أمثلة ما إذا تبين الخلل في شرط العبادة.
المبحث الأول: أمثلة ما إذا تبين الخلل في العبادة نفسها:من أمثلة ذلك ما يأتي:
1 - من كفّر بالصوم قبل الحنث، وكان حين الصيام لا يقدر على الرقبة، ولا على الإطعام، ولما حنث كان قادرًا.
3 - إذا صلى الصبي ثم بلغ في الوقت بعدما صلى، فإن صلاته قبل بلوغه نفل، وهي لا تجزئ عنه حين بلوغه.
المبحث الثاني: أمثلة ما إذا تبين الخلل في شرط العبادة:من أمثلة ذلك ما يأتي:
1 - إذا صلى العصر من يباح له الجمع في وقت الظهر بالتيمم، لعجزه عن استعمال الماء، فلما دخل وقت العصر كان قادرًا على استعماله.
فإن صلاة العصر لا تصح بالتيمم وقت وجوبها في غير الجمع؛ للقدرة على استعمال الماء، فكان الخلل في شرط العبادة، وهو الطهارة بالماء للقادر عليه.
--------------------------------------------
৩ - আগে সম্পাদিত ইবাদতের বিধান।
প্রথম বিষয়: মূলনীতির বিশ্লেষণ:এই মূলনীতির উদ্দেশ্য হলো: ইবাদত সম্পন্ন করার পর অবস্থার পরিবর্তন তার শুদ্ধতা এবং যথেষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না (১)। এবং বলা হয়েছে: হ্যাঁ, প্রভাব ফেলে (২)।
দ্বিতীয় বিষয়: মূলনীতির উদাহরণসমূহ:এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১ - ইবাদতের মূল সত্তায় ত্রুটি প্রকাশ পাওয়ার উদাহরণসমূহ।
২ - ইবাদতের শর্তে ত্রুটি প্রকাশ পাওয়ার উদাহরণসমূহ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবাদতের মূল সত্তায় ত্রুটি প্রকাশ পাওয়ার উদাহরণসমূহ:এর উদাহরণগুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:
১ - যে ব্যক্তি শপথ ভঙ্গের আগেই রোজা রাখার মাধ্যমে কাফফারা আদায় করল, অথচ রোজা রাখার সময় সে দাস মুক্তি বা অন্নদানের সামর্থ্য রাখত না; অতঃপর যখন সে শপথ ভঙ্গ করল, তখন সে এগুলোতে সক্ষম হলো।
৩ - কোনো শিশু যদি সালাত আদায় করে, অতঃপর সালাত আদায়ের পর ওয়াক্ত থাকাকালীনই সে বালেগ হয়, তবে বালেগ হওয়ার পূর্বের সালাতটি নফল হিসেবে গণ্য হবে এবং বালেগ হওয়ার পর তা তার জন্য (ফরজ হিসেবে) যথেষ্ট হবে না।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদতের শর্তে ত্রুটি প্রকাশ পাওয়ার উদাহরণসমূহ:এর উদাহরণগুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:
১ - যাকে পানি ব্যবহারে অক্ষমতার কারণে জোহরের ওয়াক্তে তায়াম্মুমের মাধ্যমে (জোহরের সাথে) আসর জমা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, অতঃপর যখন আসরের ওয়াক্ত প্রবেশ করল, তখন সে পানি ব্যবহারে সক্ষম হলো।
নিশ্চয়ই আসরের সালাত তার ওয়াজিব হওয়ার ওয়াক্তে তায়াম্মুমের মাধ্যমে সহীহ হবে না (জমা ছাড়া অন্য অবস্থায়); কারণ সে তখন পানি ব্যবহারে সক্ষম। ফলে ইবাদতের শর্তে ত্রুটি দেখা দিল, আর তা হলো সক্ষম ব্যক্তির জন্য পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - إذا عجل الزكاة إلى فقير مسلم، وعند تمام الحول -وهو وقت وجوب الزكاة- كان قد استغنى بغير الزكاة التي أخذها، فقد تبين الخلل في شرط إجزاء الزكاة عند وجوبها، حيث استغنى من دفعت له، فلا يجزئ دفعها إليه لو كان وقت الدفع في تلك الحال.
3 - إذا جمع بين الصلاتين من يجوز له الجمع في وقت الأول، ثم زال مبيح الجمع قبل دخول وقت الثانية، فإنه تبين حين زوال المبيح أن شرط صحة الصلاة -وهو دخول الوقت- غير موجود، فكانت صلاته المجموعة لا تجزئ لو صلاها بعد زوال المبيح للجمع؛ للخلل بشرطها، وهو دخول الوقت.
الموضع الثالث: حكم العبادة المعجلة:وفيه مبحثان:
1 - حكم العبادة المعجلة إذا تبيَّن الخلل في العبادة نفسها.
2 - حكم العبادة المعجلة إذا تبيَّن الخلل في شرط العبادة لا في العبادة نفسها.
المبحث الأول: حكم العبادة المعجلة إذا تبين الخلل في العبادة نفسها:إذا تبين الخلل في العبادة فقد اختلف في إجزائها على قولين:
القول الأول: أنها تجزئ (1) فلا تلزم إعادتها؛ لأن ما وقع هو المطلوب وقت الفعل، وقد برئت به الذمة فلا تشغل مرة أخرى.
القول الثاني: أنها لا تجزئ، وتلزم إعادتها على الوجه المطلوب حين الوجوب (2)؛ لأنه تبين وقت الوجوب أن الواجب غير ما سبق فعله، فلا يجزئ.
والأول أظهر.
--------------------------------------------
২ - যদি কোনো মুসলিম দরিদ্র ব্যক্তিকে অগ্রিম জাকাত প্রদান করা হয় এবং বর্ষপূর্তির সময়—যা জাকাত ওয়াজিব হওয়ার সময়—সে ব্যক্তি ঐ জাকাত ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে অভাবমুক্ত হয়ে যায়, তবে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার সময় তা যথেষ্ট হওয়ার শর্তে ত্রুটি প্রকাশ পেল। যেহেতু যাকে জাকাত প্রদান করা হয়েছিল সে অভাবমুক্ত হয়ে গেছে, তাই সেই অবস্থায় তাকে জাকাত প্রদান করলে তা যথেষ্ট হতো না।
৩ - যার জন্য দুই নামাজ একত্রে পড়ার অনুমতি আছে সে যদি প্রথম নামাজের ওয়াক্তে দুই নামাজ জমা করে পড়ে ফেলে, অতঃপর জমা করার বৈধ কারণটি দ্বিতীয় ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে দূর হয়ে যায়, তবে সেই কারণটি দূর হওয়ার সময় এটি স্পষ্ট হলো যে, সালাত সহীহ হওয়ার শর্ত—যা ওয়াক্ত প্রবেশ করা—বিদ্যমান নেই। ফলে তার জমা করা সালাতটি যথেষ্ট হবে না যদি সে জমা করার কারণ চলে যাওয়ার পর তা পড়ত; কারণ এর শর্তে ত্রুটি রয়েছে, আর তা হলো ওয়াক্ত প্রবেশ করা।
তৃতীয় স্থান: অগ্রিম আদায়কৃত ইবাদতের বিধান:এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১ - অগ্রিম আদায়কৃত ইবাদতের বিধান যখন স্বয়ং ইবাদতেই ত্রুটি প্রকাশ পায়।
২ - অগ্রিম আদায়কৃত ইবাদতের বিধান যখন ইবাদতের শর্তে ত্রুটি প্রকাশ পায়, স্বয়ং ইবাদতে নয়।
প্রথম পরিচ্ছেদ: অগ্রিম আদায়কৃত ইবাদতের বিধান যখন স্বয়ং ইবাদতেই ত্রুটি প্রকাশ পায়:যখন ইবাদতে ত্রুটি প্রকাশ পায়, তখন তা যথেষ্ট হওয়ার ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে:
প্রথম মত: এটি যথেষ্ট হবে (১) এবং তা পুনরায় আদায় করা আবশ্যক নয়; কারণ যা সংঘটিত হয়েছে তা কর্মের সময়ের কাম্য বিষয় ছিল এবং এর মাধ্যমে জিম্মাদারি মুক্ত হয়েছে, তাই পুনরায় তা পালন করার বাধ্যবাধকতা নেই।
দ্বিতীয় মত: এটি যথেষ্ট হবে না এবং ওয়াজিব হওয়ার সময়ে কাঙ্ক্ষিত পদ্ধতিতে তা পুনরায় আদায় করা আবশ্যক (২); কারণ ওয়াজিব হওয়ার সময় এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ওয়াজিব বিষয়টি পূর্বে যা করা হয়েছে তা নয়, তাই এটি যথেষ্ট হবে না।
আর প্রথম মতটিই অধিকতর সুস্পষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المبحث الثاني: حكم العبادة المعجلة إذا تبين الخلل في شرط العبادة، وليس في العبادة نفسها:إذا تبين الخلل في شرط العبادة وليس في العبادة نفسها، فإن العبادة تجزئ (1) ولا يلزم إعادتها، كما إذا كان الخلل في العبادة نفسها، وأولى؛ لأن العبادة المعجلة هي المطلوب وقت الفعل، فتبرأ بها الذمة، فيصادف وقت الوجوب ذمة بريئة من تلك العبادة.
وقيل: لا تجزئ (2) ويلزم إعادتها؛ لأن العبادة المعجلة لو فعلت وقت الوجوب لم تجزئ، فكذلك قبله.
والقول الأول أظهر.
* * *
القاعدة السادسة
إذا فعل العبادة في وقت وجوبها يظن أنها هي الواجبة عليه، ثم تبين في آخره أن الواجب كان غيرها، فإنه مجزئه، ولذلك صور.
ويلتحق بهذه القاعدة، ما إذا خفي عليه الاطلاع على خلل الشرط ثم تبين، فإنه يغتفر في الأصح.
الشرح:
البحث في هذه القاعدة في ثلاثة مواضع:
1 - تحرير القاعدة.
2 - أمثلة القاعدة.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদতের শর্তে ত্রুটি প্রকাশ পেলে অগ্রিম কৃত ইবাদতের বিধান, তবে ইবাদতের মূল সত্তায় ত্রুটি না থাকলে:যদি ইবাদতের শর্তে ত্রুটি প্রকাশ পায় এবং খোদ ইবাদতে কোনো ত্রুটি না থাকে, তবে সেই ইবাদত যথেষ্ট হবে (১) এবং তা পুনরায় আদায় করা আবশ্যক নয়, যেমনটি ইবাদতের মূল সত্তায় ত্রুটি থাকলে পুনরায় আদায় করতে হতো; বরং এটি আরও বেশি অগ্রগণ্য। কারণ অগ্রিম সম্পাদিত ইবাদতটি কর্মের সময়ে কাঙ্ক্ষিত ছিল, যার মাধ্যমে দায়মুক্তি ঘটে। ফলে ওয়াজিব হওয়ার সময়টি উক্ত ইবাদতের দায়মুক্ত অবস্থায় অতিবাহিত হয়।
বলা হয়েছে: তা যথেষ্ট হবে না (২) এবং পুনরায় আদায় করা আবশ্যক; কারণ অগ্রিম সম্পাদিত ইবাদতটি যদি ওয়াজিব হওয়ার সময়ে (সেই ত্রুটিসহ) করা হতো তবে তা যথেষ্ট হতো না, সুতরাং ওয়াজিব হওয়ার পূর্বের ক্ষেত্রেও একই বিধান হবে।
আর প্রথম মতটিই অধিকতর সুস্পষ্ট।
* * *
ষষ্ঠ নীতি (কায়েদা)
যদি কেউ কোনো ইবাদত তার ওয়াজিব হওয়ার সময়ে এই ধারণা করে আদায় করে যে এটিই তার ওপর ওয়াজিব, অতঃপর শেষ পর্যায়ে প্রকাশ পায় যে প্রকৃত ওয়াজিব ছিল অন্য কিছু, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে; আর এর বিভিন্ন চিত্র রয়েছে।
এই নীতির অন্তর্ভুক্ত হবে সেই বিষয়ও, যেখানে শর্তের ত্রুটি সম্পর্কে অবগত হওয়া তার নিকট গোপন ছিল এবং পরে তা প্রকাশ পেয়েছে; বিশুদ্ধতর মতানুযায়ী এটি মার্জনীয়।
ব্যাখ্যা:
এই নীতির আলোচনা তিনটি বিষয়ের ওপর আবর্তিত:
১ - নীতির বিশ্লেষণ।
২ - নীতির উদাহরণসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
3 - حكم العبادة.
الموضع الأول: تحرير القاعدة:تضمنت هذه القاعدة قاعدتين:
القاعدة الأولى: إذا تبين بعد الفراغ من العبادة أن الواجب كان غير ما فعل أجزأت (1).
القاعدة الثانية: إذا فعلت العبادة حال خلل في شرطها؛ لخفاء ذلك الخلل، ثم تبين ذلك الخلل بعد الفراغ منها، فإنها تجزئ (2). وقيل: لا (3).
الموضع الثاني: أمثلة القاعدة:وفيه مبحثان:
1 - أمثلة القاعدة الأولى.
2 - أمثلة القاعدة الثانية.
المبحث الأول: أمثلة القاعدة الأولى:من أمثلة هذه القاعدة ما يأتي:
1 - إذا أناب العاجز عن الحج عجزًا لا يرجى برؤه عادة، ثم برئ بعد حج النائب.
2 - إذا كفر العاجز عن الإطعام بالصيام، ثم قدر على الإطعام.
3 - من صلى الظهر من يعذر بترك الجمعة، ثم زال عذره قبل صلاة الجمعة.
المبحث الثاني: أمثلة القاعدة الثانية:من أمثلة هذه القاعدة ما يأتي:
--------------------------------------------
৩ - ইবাদতের বিধান।
প্রথম স্থান: নীতিমালার বিশ্লেষণ:এই নীতিমালাটি দুটি মূলনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম মূলনীতি: যদি ইবাদত সম্পন্ন করার পর স্পষ্ট হয় যে, যা করা হয়েছে ওয়াজিব বা কর্তব্য আসলে তা থেকে ভিন্ন কিছু ছিল, তবে তা যথেষ্ট বলে গণ্য হবে (১)।
দ্বিতীয় মূলনীতি: যদি কোনো ইবাদত তার কোনো শর্তে ত্রুটি থাকা অবস্থায় সম্পাদন করা হয় এবং সেই ত্রুটিটি গোপন থাকার কারণে এমনটি ঘটে, অতঃপর ইবাদত শেষ করার পর সেই ত্রুটিটি ধরা পড়ে, তবে তা যথেষ্ট হবে (২)। আবার বলা হয়েছে: না, যথেষ্ট হবে না (৩)।
দ্বিতীয় স্থান: নীতিমালার উদাহরণসমূহ:আর এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১ - প্রথম মূলনীতির উদাহরণসমূহ।
২ - দ্বিতীয় মূলনীতির উদাহরণসমূহ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রথম মূলনীতির উদাহরণসমূহ:এই মূলনীতির উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:
১ - হজ্জ পালনে অক্ষম কোনো ব্যক্তি যদি এমন অক্ষমতার কারণে (যা থেকে সুস্থ হওয়ার আশা সাধারণত করা হয় না) তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায়ের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করে, অতঃপর প্রতিনিধির হজ্জ সম্পন্ন করার পর সে ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যায়।
২ - খাদ্য দানে অক্ষম ব্যক্তি যদি সিয়ামের মাধ্যমে কাফফারা আদায় করে, অতঃপর সে খাদ্য দানে সক্ষম হয়।
৩ - জুমুআ বর্জনের ওজর (অজুহাত) আছে এমন ব্যক্তি যদি যোহরের নামায পড়ে নেয়, অতঃপর জুমুআর নামায শেষ হওয়ার আগেই তার ওজর দূর হয়ে যায়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় মূলনীতির উদাহরণসমূহ:এই মূলনীতির উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
1 - أداء الزكاة إلى الغني ظنًّا أنه فقير، إذا بأن غنيًا.
2 - صلاة المسافر إلى غير القبلة بعد الاجتهاد في تحديدها، إذا تبين الخطأ بعد الفراغ منها.
3 - إذا صلى عادم الماء بعد الاجتهاد في طلبه، ثم بأن أنه قادر عليه.
الموضع الثالث: حكم العبادة:وفيه مبحثان:
1 - حكم العبادة التي تبين أن الواجب كان غيرها.
2 - حكم العبادة التي خفى الخلل في شرطها.
المبحث الأول: حكم العبادة التي تبين أن الواجب كان غيرها:إذا فعلت العبادة ظنًّا أنها الواجبة، ثم تبين أن الواجب كان غيرها، فإنها تجزئ، ولا تلزم إعادتها (1).
المبحث الثاني: حكم العبادة التي خفى الخلل في شرطها:وفيه فرعان:
1 - إذا كان الخفاء بعد بذل الجهد في استكشافه.
2 - إذا كان الخفاء بسبب التقصير في استكشاف الخطأ.
الفرع الأول: إذا كان الخفاء بعد بذل الجهد في استكشافه وفيه أمران:
1 - مثال هذا الفرع.
2 - حكم العبادة.
الأمر الأول: مثال هذا الفرع.
من أمثلة خفاء الشرط ما يأتي:
--------------------------------------------
১ - ধনী ব্যক্তিকে ফকির মনে করে যাকাত প্রদান করা, যদি পরে প্রকাশ পায় যে সে ধনী ছিল।
২ - কিবলা নির্ধারণে ইজতিহাদের পর মুসাফিরের অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা, যদি সালাত শেষ করার পর ভুলটি প্রকাশ পায়।
৩ - পানি না পাওয়া ব্যক্তি পানি খোঁজার জন্য ইজতিহাদ করার পর সালাত আদায় করলে, অতঃপর যদি প্রকাশ পায় যে সে পানি ব্যবহারে সক্ষম ছিল।
তৃতীয় স্থান: ইবাদতের বিধান:আর এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১ - এমন ইবাদতের বিধান যা পালন করার পর প্রকাশ পেয়েছে যে ওয়াজিব ছিল অন্যটি।
২ - এমন ইবাদতের বিধান যার শর্তে বিদ্যমান ত্রুটি গোপন ছিল।
প্রথম পরিচ্ছেদ: এমন ইবাদতের বিধান যা পালন করার পর প্রকাশ পেয়েছে যে ওয়াজিব ছিল অন্যটি:যদি কোনো ইবাদত সেটিই ওয়াজিব মনে করে পালন করা হয়, অতঃপর প্রকাশ পায় যে ওয়াজিব ছিল অন্যটি, তবে তা যথেষ্ট হয়ে যাবে এবং তা পুনরায় আদায় করা আবশ্যক হবে না (১)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এমন ইবাদতের বিধান যার শর্তে বিদ্যমান ত্রুটি গোপন ছিল:আর এতে দুটি শাখা রয়েছে:
১ - যদি ত্রুটি অনুসন্ধানে যথাসাধ্য প্রচেষ্টার পর তা গোপন থেকে থাকে।
২ - যদি ভুল অনুসন্ধানে অবহেলার কারণে তা গোপন থেকে থাকে।
প্রথম শাখা: যদি ত্রুটি অনুসন্ধানে যথাসাধ্য প্রচেষ্টার পর তা গোপন থেকে থাকে, আর এতে দুটি বিষয় রয়েছে:
১ - এই শাখার উদাহরণ।
২ - ইবাদতের বিধান।
প্রথম বিষয়: এই শাখার উদাহরণ।
শর্ত গোপন থাকার উদাহরণসমূহ নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
1 - من أدى الزكاة إلى غني يظنه فقيرًا بعد السؤال عن حاله، والتحري عنه، فلم يظهر غناه.
2 - إذا صلى المسافر بالتيمم، مع وجود ماء خفيّ المعالم بقربه بعد البحث عنه.
الأمر الثاني: حكم العبادة.
إذ تبين الخلل في شرط العبادة بعد فعلها، وكان خفاء الخلل بعد بذل الجهد في استكشافه، فهي مجزئة ولا تلزم إعادتها (1).
الفرع الثاني: إذا كان خفاء الخلل بسبب التقصير وفيه أمران:
1 - مثال هذا الفرع.
2 - حكم العبادة.
الأمر الأول: مثال هذا الفرع.
من أمثلة خفاء الخلل في شرط العبادة بسبب التقصير ما يأتي:
1 - إذا صلى المسافر بالتيمم يظن عدم الماء وهو معه قد نسيه، ولم يفتش عنه.
2 - إذا صلى المسافر إلى غير القبلة، دون أن يجتهد في معرفتها، ولو فعل لأمكنه ذلك.
الأمر الثاني: حكم العبادة:
إذا فعلت العبادة حال خلل في شرطها لخفاء ذلك الخلل، وكان سبب خفاء الخلل التقصير في اكتشافه، فهي غير صحيحة وتجب إعادتها (2).
* * *
--------------------------------------------
১ - যে ব্যক্তি কারো অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা এবং খোঁজখবর নেওয়ার পর এমন এক ধনী ব্যক্তিকে জাকাত প্রদান করেছে যাকে সে দরিদ্র মনে করেছিল, কিন্তু তার ধনবান হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়নি।
২ - যখন একজন মুসাফির তালাশ করার পরও তার সন্নিকটে থাকা দৃষ্টির অগোচর পানির উপস্থিতিতে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করে।
দ্বিতীয় বিষয়: ইবাদতের বিধান।
ইবাদত করার পর যদি তার শর্তের মধ্যে কোনো ত্রুটি প্রকাশ পায় এবং সেই ত্রুটিটি খুঁজে বের করার প্রচেষ্টার পরও তা গোপন থেকে থাকে, তবে তা যথেষ্ট হবে এবং তা পুনরায় আদায় করা আবশ্যক হবে না (১)।
দ্বিতীয় শাখা: যদি ত্রুটি গোপন থাকার কারণ অবহেলা হয় এবং এতে দুটি বিষয় রয়েছে:
১ - এই শাখার উদাহরণ।
২ - ইবাদতের বিধান।
প্রথম বিষয়: এই শাখার উদাহরণ।
অবহেলার কারণে ইবাদতের শর্তে ত্রুটি গোপন থাকার উদাহরণগুলো নিম্নরূপ:
১ - যখন একজন মুসাফির পানি নেই মনে করে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করে, অথচ পানি তার সাথেই ছিল কিন্তু সে তা ভুলে গিয়েছিল এবং তা অনুসন্ধান করেনি।
২ - যখন একজন মুসাফির কিবলা নির্ধারণের চেষ্টা না করেই কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করে, অথচ সে চেষ্টা করলে তা সম্ভব হতো।
দ্বিতীয় বিষয়: ইবাদতের বিধান:
যদি ইবাদতের শর্তের মধ্যে ত্রুটি থাকা অবস্থায় তা পালন করা হয় এই কারণে যে ত্রুটিটি গোপন ছিল, আর সেই ত্রুটি গোপন থাকার কারণ হয় তা উদঘাটনে অবহেলা করা, তবে তা সঠিক হবে না এবং তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব (২)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু তুহফাতি আহলিত তলাবি ফী তাজরীদি উসুলি কাওয়াইদি ইবনি রজব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
القاعدة السابعة
من تلبس بعبادة، ثم وجد قبل فراغها ما لو كان واجدًا له قبل الشروع لكان هو الواجب دون ما تلبس به، هل يلزمه الانتفال اليه أو يمضي ويجزئه؟ .
هذا على ضربين:
أحدهما: أن يكون المتلبس به رخصة عامة شرعت تيسرًا على المكلف وتسهيلًا عليه، مع إمكان إتيانه بالأصل، على ضرب من المشقة والتكلف، فهذا لا يجب عليه الانتقال منه بوجود الأصل، كالمتمتع إذا عدم الهدي، فإنه رخص له في الصيام رخصة عامة، حتى لو قدر على الشراء بثمن في ذمته وهو موسر في بلده لم يلزمه.
الضرب الثاني: أن يكون المتلبس به إنما شرع ضرورة للعجز عن الأصل، وتعذره بالكلية، فهذا يلزمه الانتفال إلى الأصل عند القدرة عليه، ولو أثناء التلبس بالبدل، كالعدَّة بالأشهر، فإنها لا تعتبر بحال مع القدرة على الاعتداد بالحيض، ولهذا تؤمر من ارتفع حيضها لعارض معلوم أن تنتظر زواله، ولو طالت المدة، وإنما جُوِّز لمن ارتفع حيضها وهي لا تدري ما رفعه أن تعتد بالأشهر؛ لأن حيضها غير معلوم، ولا مظنون عوده، وسواء كانت هذه المعتدة مكلفة قبل هذا بالاعتداد بالحيض، كمن ارتفع حيضها لا تلري ما رفعه فاعتدت بالأشهر ثم حاضت في أثنائها. أو لم تكن مكلفة به، كالصغيرة إذا خاضت في أثناء العدة بالأشهر.
وها هنا مسائل كثيرة مترددة بين الضربين.
الشرح:
البحث في هذه القاعدة في ثلاثة مواضع:
1 - تحرير القاعدة.
2 - أمثلة القاعدة.
সপ্তম মূলনীতি
যে ব্যক্তি কোনো ইবাদতে লিপ্ত হলো, অতঃপর তা শেষ করার পূর্বেই এমন কিছুর সন্ধান পেল যা শুরু করার আগে পাওয়া গেলে সেটিই ওয়াজিব হতো, যেটিতে সে লিপ্ত হয়েছে সেটি নয়; এমতাবস্থায় তার জন্য কি সেটির দিকে স্থানান্তরিত হওয়া আবশ্যক, নাকি সে তা চালিয়ে যাবে এবং সেটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে? .
এটি দুই প্রকারের:
প্রথমটি: যা শুরু করা হয়েছে তা একটি সাধারণ শিথিলতা হিসেবে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যাতে মুকাল্লাফের জন্য বিষয়টি সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, অথচ কষ্ট ও শ্রম স্বীকার করে মূল বিধানটি পালন করাও সম্ভব ছিল। এক্ষেত্রে মূল বিধানটি পাওয়ার কারণে সেটির দিকে ফিরে যাওয়া তার ওপর আবশ্যক নয়। যেমন: মুতামাত্তি হজ পালনকারী যদি কুরবানীর পশুর অভাব বোধ করে, তবে তার জন্য রোজা রাখা একটি সাধারণ শিথিলতা হিসেবে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি সে যদি বাকিতে কেনার সামর্থ্য রাখে এবং নিজ দেশে সে সচ্ছলও হয়, তবুও (পশু ক্রয় করা) তার ওপর আবশ্যক হবে না।
দ্বিতীয় প্রকার: যা শুরু করা হয়েছে তা মূল বিধান পালনে অক্ষমতা এবং তা সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব হওয়ার কারণে কেবল অনন্যোপায় হয়ে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় মূল বিধানটি পালনের সক্ষমতা হওয়া মাত্রই সেটির দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক, এমনকি তা বিকল্প পদ্ধতিতে লিপ্ত থাকা অবস্থাতেই হোক না কেন। যেমন: মাস হিসেবে ইদ্দত পালন করা; কেননা ঋতুস্রাবের মাধ্যমে ইদ্দত পালনে সক্ষম থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই মাস গণনার ইদ্দত ধর্তব্য হবে না। এই কারণেই যার ঋতুস্রাব কোনো জানা কারণে বন্ধ হয়ে গেছে, তাকে সেই কারণ দূর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যদিও সময় দীর্ঘ হয়। আর যার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেছে এবং সে কারণ জানে না, কেবল তার জন্যই মাস হিসেবে ইদ্দত পালন করা বৈধ করা হয়েছে; কারণ তার ঋতুস্রাব নির্দিষ্ট নয় এবং তা ফিরে আসার সম্ভাবনাও নেই। এক্ষেত্রে ইদ্দত পালনকারী মহিলাটি আগে ঋতুস্রাবের মাধ্যমে ইদ্দত পালনের আদিষ্ট ছিল কিনা তা সমান; যেমন যার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়েছে এবং সে কারণ জানে না, ফলে সে মাস হিসেবে ইদ্দত শুরু করল, অতঃপর মাঝপথে তার ঋতুস্রাব শুরু হলো। অথবা সে এর আদিষ্ট ছিল না, যেমন নাবালিকা যদি মাস হিসেবে ইদ্দত পালনকালীন সময়ে ঋতুস্রাবগ্রস্ত হয়।
আর এখানে এমন অনেক মাসআলা রয়েছে যা এই দুই প্রকারের মাঝে দোলাচলপূর্ণ।
ব্যাখ্যা:
এই মূলনীতি নিয়ে আলোচনা তিনটি বিষয়ে হবে:
১ - মূলনীতির বিশ্লেষণ।
২ - মূলনীতির উদাহরণসমূহ।