(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: -)
إسبال الكلام على حديث ابن عباس في القيام   (أحمد الزومان)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: إسبال الكلام على حديث ابن عباس -رضي الله عنهما- في القيام

المؤلف: أبو عبد الرحمن أحمد بن عبد الرحمن الزومان

الناشر: دار اللؤلؤة - المنصورة، مصر

الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م

عدد الصفحات: 1010

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1445

ইবনে আব্বাসের কিয়াম সংক্রান্ত হাদিসের ওপর আলোচনার বিস্তার   (আহমাদ আল-জুমান)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই: ইবনে আব্বাসের -আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন- কিয়াম সংক্রান্ত হাদিসের ওপর আলোচনার বিস্তার

লেখক: আবু আব্দুর রহমান আহমাদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুমান

প্রকাশক: দারুল লু'লুআহ - মানসুরা، মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০১০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

حديث ابن عباس رضي الله عنهما في تهجده مع النبي صلى الله عليه وسلم رواه عنه أكثر من عشرين نفسًا ورواه عنهم الجم الغفير فاختلفت ألفاظه وتعارضت ولم يتفق الرواة إلا على أصل الصلاة فاختلفوا في وقت دخول ابن عباس رضي الله عنهما بيت النبي صلى الله عليه وسلم هل دخل مع النبي صلى الله عليه وسلم أو قبله؟ وبسبب قدومه هل قدم بسبب هدية العباس للنبي صلى الله عليه وسلم أو بهدية وموعدة النبي صلى الله عليه وسلم للعباس أو لينظر صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ وهل هو بطلب أبيه أو من قبل نفسه أو بدعوة النبي صلى الله عليه وسلم له بالنوم عنده؟ وهل صلى النبي صلى الله عليه وسلم راتبة العشاء ركعتين أو أربعًا؟ وهل نام مع النبي صلى الله عليه وسلم في نفس الحجرة أو في مكان آخر؟ ومتى استيقظ النبي صلى الله عليه وسلم للقيام؟ وفي عدد الآيات التي قرأها النبي صلى الله عليه وسلم من آخر سورة آل عمرآن؟ وفي عدد مرات القراءة. وفي صفة وضوء النبي صلى الله عليه وسلم. وفي موضع سواكه في الوضوء. وهل كان يستاك بين كل ركعتين؟ وهل فرق قيامه أم وصله؟ وكم صلى؟ وبكم أوتر؟ وفي ألفاظ دعاء النبي صلى الله عليه وسلم بالنور. وهل هو في الصلاة أو خارجها؟ وصلاته ركعتين بعد الوتر غير راتبة الفجر. وهل نام بعد التهجد أو بعد راتبة الفجر؟ وهل ابن عباس رضي الله عنهما هو الذي استيقظ أو أيقضته خالته ميمونة رضي الله عنها أو النبي صلى الله عليه وسلم. وهل أمسك بيده أو بعضده أو برأسه أو بذؤابته أو بأذنه حينما حوله إلى يمينه؟ وهل صلى مع النبي التهجد كله أو بعضه؟ أو لم يصل معه إلا راتبة الفجر؟ وغير ذلك من الاختلاف بين الثقات.

ومخالفة بعض الضعفاء أو تفردهم ببعض الزيادات كترحيب النبي صلى الله عليه وسلم بابن عباس رضي الله عنهما والدعاء له وخلع النبي صلى الله عليه وسلم ثيابه قبل النوم ونوم ابن عباس رضي الله عنهما في ناحية الحجرة ووضوء النبي صلى الله عليه وسلم من المخضب وتهجد النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد ووقوف ابن عباس رضي الله عنهما خلف النبي صلى الله عليه وسلم وعن يمينه ثم حوله إلى يساره وقراءة سور معينة في التهجد كالبقرة وآل عمرآن والسور التي قرأها النبي صلى الله عليه وسلم في وتره وفي راتبة الفجر والتسبيح في الركوع والسجود والدعاء بين السجدتين وتطويل أركان الصلاة وقنوت النبي صلى الله عليه وسلم آخر تهجده ودعاء القنوت الطويل وأنَّ ذلك كان في الشتاء وكان ابن عباس يومئذ ابن عشر سنين وأنَّ ميمونة رضي الله عنها كانت حائضًا فتوضأت وجلست تذكر الله وقول النبي صلى الله عليه وسلم لها «أَشَيْطَانُكِ أَقَامَكِ»؟
ভূমিকা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর তাহাজ্জুদ আদায় সংক্রান্ত হাদীসটি তাঁর থেকে বিশজনেরও বেশি ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের থেকে এক বিশাল জনসমষ্টি এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে এর শব্দাবলির মধ্যে ভিন্নতা ও বৈপরিত্য দেখা দিয়েছে এবং বর্ণনাকারীগণ নামাযের মূল বিষয়টি ব্যতীত অন্য কিছুতে একমত হতে পারেননি। তাঁরা ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে প্রবেশের সময় নিয়ে মতভেদ করেছেন—তিনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে প্রবেশ করেছিলেন নাকি তাঁর আগে? তাঁর আগমনের কারণ নিয়েও মতভেদ রয়েছে—তিনি কি আব্বাসের পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোনো উপহার দেওয়ার কারণে এসেছিলেন, নাকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে আব্বাসের জন্য কোনো উপহার বা প্রতিশ্রুতির কারণে, নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামায প্রত্যক্ষ করার জন্য? আর এটি কি তাঁর পিতার অনুরোধে ছিল, নাকি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে, নাকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নিজের কাছে ঘুমানোর দাওয়াত দিয়েছিলেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার সুন্নতে রাতেবা দুই রাকাত পড়েছিলেন নাকি চার রাকাত? তিনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে একই কক্ষে ঘুমিয়েছিলেন নাকি অন্য কোথাও? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবাদতের জন্য কখন জেগেছিলেন? তিনি সূরা আলে ইমরানের শেষ দিক থেকে কতগুলো আয়াত পাঠ করেছিলেন? এবং কতবার পাঠ করেছিলেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওযুর পদ্ধতি কেমন ছিল? ওযুর সময় তাঁর মেসওয়াক রাখার স্থান কোথায় ছিল? তিনি কি প্রতি দুই রাকাতের মাঝে মেসওয়াক করতেন? তিনি কি তাঁর কিয়াম (নামায) বিরতি দিয়ে আদায় করতেন নাকি একনাগাড়ে? তিনি কত রাকাত পড়েছিলেন এবং বিতর কত রাকাত পড়েছিলেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নূরের দুআর শব্দাবলি কী ছিল এবং তা কি নামাযের ভেতরে ছিল নাকি বাইরে? ফজরপূর্ব সুন্নতে রাতেবা ব্যতীত বিতরের পরের দুই রাকাত নামায; তিনি কি তাহাজ্জুদের পর ঘুমিয়েছিলেন নাকি ফজরের সুন্নতের পর? ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কি নিজেই জেগেছিলেন, নাকি তাঁর খালা মায়মুনা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জাগিয়েছিলেন? যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তাঁর ডান দিকে ঘুরিয়ে নিয়েছিলেন, তখন কি তিনি তাঁর হাত, নাকি বাহু, নাকি মাথা, নাকি চুলের ঝুটি, নাকি কান ধরেছিলেন? তিনি কি নবীর সাথে পুরো তাহাজ্জুদ পড়েছিলেন নাকি কিছু অংশ? নাকি তিনি কেবল ফজরের সুন্নতে রাতেবাটুকুই তাঁর সাথে পড়েছিলেন? এ ছাড়াও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মধ্যে আরও বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।

তদতিরিক্ত কিছু দুর্বল বর্ণনাকারীর ভিন্নমত অথবা কিছু অতিরিক্ত বর্ণনায় তাঁদের একক হয়ে যাওয়া, যেমন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে স্বাগত জানানো ও তাঁর জন্য দুআ করা, ঘুমানোর আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড় খোলা, ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর কামরার এক পাশে ঘুমানো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গামলা থেকে ওযু করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে তাহাজ্জুদ পড়া এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর দাঁড়ানো ও ডান দিকে থাকা, অতঃপর তাঁকে বাম দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া, তাহাজ্জুদে সূরা বাকারা ও আলে ইমরানের মতো নির্দিষ্ট সূরা পাঠ করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিতর ও ফজরের সুন্নতে যেসকল সূরা পাঠ করতেন, রুকু ও সিজদায় তাসবীহ পাঠ, দুই সিজদার মাঝে দুআ, নামাযের রুকনসমূহ দীর্ঘ করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাহাজ্জুদের শেষাংশে কুনুত পাঠ এবং দীর্ঘ কুনুতের দুআ, আর এই ঘটনাটি শীতকালের ছিল এবং ইবনে আব্বাসের বয়স তখন দশ বছর ছিল, আর মায়মুনা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ঋতুবতী ছিলেন এবং তিনি ওযু করে বসে আল্লাহর যিকির করছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাঁকে এ কথা বলা যে: «তোমার শয়তান কি তোমাকে জাগিয়ে তুলেছে?»।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد عني أهل العلم بجمع ألفاظ الحديث والجمع بينها قال أبو بكر بن خزيمة: قد خرجت ألفاظ خبر ابن عباس في كتاب الكبير(1) وجمع الشوكاني فوائد الحديث بجزء سماه: رفع الأساس لفوائد حديث ابن عباس(2).

فحديث ابن عباس رضي الله عنهما من الأحاديث المشكلة لكثرة التعارض بين رواياته الصحيحة وبعضها في الصحيحين أو أحدهما.

قال البزار: هذا الحديث قد روي عن ابن عباس بألفاظ مختلفة(3) روي عن ابن عباس من غير وجه بأسانيد مختلفة وباختلاف ألفاظ فذكرنا كل حديث في موضعه بلفظه(4). روي عن النبي صلى الله عليه وسلم من وجوه كثيرة في صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم برواية ابن عباس عنه وكل يذكر عن ابن عباس في روايته ما يجب أن يعاد الحديث من أجله(5).

وقال ابن عبد البر: رواه عن ابن عباس جماعة وفي ألفاظ الأحاديث عنهم من طرقهم اختلاف كثير(6).

في هذا الحديث عن ابن عباس اختلاف في ألفاظه كثير(7).

وسبب الإشكال -إضافة لكثرة الاختلاف في روايات الثقات- اختلافها اختلاف تعارض ولا يمكن الجمع بينها فلا بد من الترجيح.

قال ابن حجر: الحاصل أنَّ قصة مبيت ابن عباس رضي الله عنهما يغلب على الظن عدم تعددها فلهذا ينبغي الاعتناء بالجمع بين مختلف الروايات فيها ولا شك أنَّ الأخذ بما اتفق عليه الأكثر والأحفظ أولى مما خالفهم فيه من هو دونهم ولا سيما إن زاد أو نقص(8).

--------------------------------------------

(1) صحيح ابن خزيمة (2/ 150).

(2) انظر: ص: (954).

(3) مسند البزار (11/ 453).

(4) مسند البزار (11/ 282).

(5) مسند البزار (11/ 226).

(6) التمهيد (13/ 207).

(7) التمهيد (13/ 217).

(8) فتح الباري (2/ 484).
আলেমগণ হাদীসের শব্দসমূহ সংগ্রহ এবং সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। আবু বকর ইবনে খুযায়মাহ বলেছেন: আমি ইবনে আব্বাসের বর্ণনার শব্দসমূহ আমার 'কিতাবুল কাবীর'-এ সংকলন করেছি(১) এবং শাওকানী হাদীসটির বিশেষ দিকসমূহ একটি অংশে জমা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: 'রাফউল আসাস লি-ফাওয়াইদি হাদীসি ইবনি আব্বাস'(২)।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীসটি অত্যন্ত জটিল হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এর সহীহ বর্ণনাগুলোর মধ্যে প্রচুর বৈপরীত্য রয়েছে এবং এর কিছু অংশ বুখারী ও মুসলিম বা উভয়ের কোনো একটিতে বিদ্যমান রয়েছে।

বাযযার বলেছেন: এই হাদীসটি ইবনে আব্বাস থেকে বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে(৩)। ইবনে আব্বাস থেকে বিভিন্নভাবে ভিন্ন ভিন্ন সনদ ও ভিন্ন ভিন্ন শব্দে এটি বর্ণিত হয়েছে; তাই আমরা প্রতিটি হাদীস তার নিজ স্থানে নিজ শব্দে উল্লেখ করেছি(৪)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাযের পদ্ধতির বর্ণনায় ইবনে আব্বাসের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেকভাবে এটি বর্ণিত হয়েছে এবং প্রত্যেকেই ইবনে আব্বাস থেকে নিজ বর্ণনায় এমন বিষয় উল্লেখ করেছেন যার কারণে হাদীসটি পুনরায় উল্লেখ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে(৫)।

ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: ইবনে আব্বাস থেকে একদল রাবী এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাদের সূত্রের হাদীসগুলোর শব্দে প্রচুর মতভেদ রয়েছে(৬)।

ইবনে আব্বাসের বর্ণিত এই হাদীসটির শব্দে প্রচুর বৈচিত্র্য ও মতভেদ রয়েছে(৭)।

জটিলতার কারণ হলো—নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় প্রচুর মতভেদের পাশাপাশি—বর্ণনাগুলোর মধ্যকার বৈপরীত্য, যা সমন্বয় করা সম্ভব নয়; তাই এখানে অগ্রাধিকার (তারজীহ) প্রদান করা অপরিহার্য।

ইবনে হাজার বলেছেন: সারকথা হলো, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর রাত যাপনের ঘটনাটি একাধিকবার ঘটেনি বলেই প্রবল ধারণা হয়; তাই এর বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়ে মনোযোগী হওয়া উচিত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অধিকাংশ এবং অধিক নির্ভরযোগ্য স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারীদের ঐকমত্যের বিষয়টি গ্রহণ করা তাদের চেয়ে নিম্নস্তরের বর্ণনাকারীদের বিরোধিতার চেয়ে শ্রেয়, বিশেষ করে যদি তাতে শব্দগত বৃদ্ধি বা হ্রাস থাকে(৮)।

--------------------------------------------

(১) সহীহ ইবনে খুযায়মাহ (২/ ১৫০)।

(২) দেখুন: পৃষ্ঠা: (৯৫৪)।

(৩) মুসনাদুল বাযযার (১১/ ৪৫৩)।

(৪) মুসনাদুল বাযযার (১১/ ২৮২)।

(৫) মুসনাদুল বাযযার (১১/ ২২৬)।

(৬) আত-তামহীদ (১৩/ ২০৭)।

(৭) আত-তামহীদ (১৩/ ২১৭)।

(৮) ফাতহুল বারী (২/ ৪৮৪)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ৭)
وأشكل علي قديمًا نوم النبي صلى الله عليه وسلم أكثر من مرة أثناء تهجده. فبذلت وسعي في جمع طرق الحديث والحكم عليها وفق المنهج الذي جرى عليه أئمة الحديث ناقلًا ما وقفت عليه من أقوالهم في الحكم على الروايات. والترجيح بين الروايات الصحيحة المتعارضة في حال تعذر الجمع ويبقى هو اجتهادي فما كان من صواب فهو من الله وما كان من خطأ فلعله يشفع لي أنَّي بذلت وسعي في طلب الوصول للصواب. فعلت ذلك تشبهًا بأهل العلم فمن سنتهم إفراد حديث بالشرح(1).

وجعلت الكتاب أحد عشر بابًا الباب الأول روايات الحديث والباب الثاني دراسة الروايات المتعارضة ومن الباب الثالث إلى الباب العاشر المسائل العلمية الواردة في روايات الحديث والباب الحادي عشر فوائد الحديث.

وسميته إسبال الكلام على حديث ابن عباس في القيام(2).

تنبيه: ذكرت منهجي في البحث في مقدمة كتاب الطلاق السني والبدعي.

كتبه

أبو عبد الرحمن أحمد بن عبد الرحمن الزومان

القصيم/ بريدة

مساء الأربعاء 11/ 4/ 1440 هـ

ahmedalzoman@gmail.com

--------------------------------------------

(1) منهم ابن القاص له جزء في فوائد حديث أبي عمير والقاضي عياض ومحمد بن عبد الكريم القزويني الرافعي شرحا حديث أم زرع بجزء مستقل وصلاح الدين العلائي له نظم الفرائد لما تضمنه حديث ذي اليدين من الفوائد. وشيخ الإسلام ابن تيمية شرح حديث أبي ذر رضي الله عنه «يا عبادي إنِّي حرمت الظلم على نفسي» مطبوع ضمن مجموع الفتاوى (18/ 137 - 209) وكذلك شرحه الشوكاني في كتاب مطبوع سماه نثر الجوهر على حديث أبي ذر. وقد يسر الله لي شرح حديث جابر رضي الله عنه بكتاب مطبوع سميته: تذكير الناسك بفوائد أجمع أحاديث المناسك.

(2) من المجاز: قولهم: أسبل عليه، إذا أكثر كلامه عليه، مأخوذ من السَبَل، وهو: المطر يقال أسبل المطر والدمع إذا هطلا.

انظر: الزاهر (1/ 483) والنهاية في غريب الحديث (2/ 340) وتاج العروس (29/ 170).
অনেক আগে থেকেই তাহাজ্জুদ চলাকালীন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিকবার ঘুমানোর বিষয়টি আমার কাছে জটিল মনে হতো। তাই আমি হাদিসের বর্ণনাসমূহ সংগ্রহে এবং হাদিস বিশারদগণ যে পদ্ধতির ওপর চলেছেন সেই অনুযায়ী সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। বর্ণনাগুলোর ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আমি তাঁদের যে সকল বক্তব্যের নাগাল পেয়েছি তা উদ্ধৃত করেছি। আর বর্ণনাসমূহের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব না হলে বিরোধপূর্ণ সহিহ বর্ণনাগুলোর মাঝে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি আমার ইজতিহাদ (গবেষণা) হিসেবে গণ্য হবে। এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল হয়েছে সে ক্ষেত্রে সম্ভবত আমার সাধ্যমতো সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাই আমার জন্য সুপারিশকারী হবে। আমি জ্ঞানীদের অনুকরণে এটি করেছি, কারণ কোনো একক হাদিসের ব্যাখ্যা স্বতন্ত্রভাবে সংকলন করা তাঁদের একটি অনুসৃত রীতি(১)।

আমি এই গ্রন্থটিকে এগারোটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি। প্রথম অধ্যায়: হাদিসের বর্ণনাসমূহ; দ্বিতীয় অধ্যায়: বিরোধপূর্ণ বর্ণনাসমূহের পর্যালোচনা; এবং তৃতীয় অধ্যায় থেকে দশম অধ্যায় পর্যন্ত: হাদিসের বর্ণনাগুলোতে উল্লেখিত জ্ঞানগর্ভ মাসআলাসমূহ; আর একাদশ অধ্যায়: হাদিসের শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ।

আমি এর নাম দিয়েছি "ইবনে আব্বাসের কিয়াম বা রাতের সালাত সংক্রান্ত হাদিসের ওপর আলোচনার বিস্তৃতি"(২)।

সতর্কতা: আমি আমার গবেষণার পদ্ধতি "সুন্নতি ও বিদয়ি তালাক বিষয়ক গ্রন্থ"-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছি।

লিখেছেন

আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনে আবদুর রহমান আল-জুমান

কাসিম/ বুরাইদাহ

বুধবার সন্ধ্যা, ১১/ ৪/ ১৪৪০ হিজরি

ahmedalzoman@gmail.com

--------------------------------------------

(১) তাঁদের মধ্যে ইবনুল কাস রয়েছেন, আবু উমাইরের হাদিসের শিক্ষণীয় বিষয়ে তাঁর একটি পুস্তিকা রয়েছে। কাজী আইয়াজ এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম আল-কাযউইনি আর-রাফেয়ি "উম্মে যার"-এর হাদিসের পৃথক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। সালাহুদ্দিন আল-আলাই "যুল ইয়াদাইন"-এর হাদিসে বিদ্যমান শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ নিয়ে "নাযমুল ফারায়েদ" রচনা করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস "হে আমার বান্দাগণ! আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি" এর ব্যাখ্যা করেছেন যা "ফাতাওয়া সমগ্র" (১৮/ ১৩৭ - ২০৯) এর অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে শাওকানিও একটি মুদ্রিত গ্রন্থে এর ব্যাখ্যা করেছেন যার নাম দিয়েছেন "আবু যারের হাদিসের ওপর মণি-মুক্তার বিচ্ছুরণ"। আল্লাহ আমার জন্য জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের ব্যাখ্যা সহজ করেছেন যা একটি মুদ্রিত গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে এবং আমি তার নাম দিয়েছি: "হজের পূর্ণাঙ্গ হাদিসসমূহের শিক্ষার আলোকে হাজিদের জন্য স্মারক"।

(২) রূপক অর্থে: তাদের কথা "তার ওপর কথা ঢেলে দেওয়া", যখন কেউ কোনো বিষয়ে কথা বাড়িয়ে বলে। এটি "সাবাল" থেকে গৃহীত, যার অর্থ: বৃষ্টি। বলা হয়: বৃষ্টি ও চোখের পানি প্রচুর পরিমাণে ঝরলে "আসবালাল মাতারু ওয়া আদ-দামউ" (বৃষ্টি ও অশ্রু ঝরল)।

দেখুন: আল-যাহির (১/ ৪৮৩), আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস (২/ ৩৪০) এবং তাজুল আরুস (২৯/ ১৭০)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الباب الأول

روايات الحديث عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما
-

‌‌تمهيد

روى الحديث عن ابن عباس رضي الله عنهما جمع فرواه:

1: مولاه كريب بن أبي مسلم.

2: سعيد بن جبير.

3: عامر بن شراحيل الشعبي.

4: علي بن عبد الله بن عباس.

5: عطاء بن أبي رباح.

6: أبو المتوكل علي بن داود.

7: أبو نضرة المنذر بن مالك.

8: سُمَيْع مولى ابن عباس.

9: عكرمة بن خالد.

10: مِقْسَم بن بُجْرة.

11: حبيب بن أبي ثابت.

12: مجاهد بن جبر.

13: عبد المؤمن الأنصاري.

14: حُنِين مولى ابن عباس.

15: أبو العالية رُفِيع بن مهران.

16: معبد أو أبو معبد مولى ابن عباس.

17: إسحاق بن عبد الله بن الحارث.

18: طلحة بن نافع الإسكاف.

19: عمر بن أبي حفص.

20: نصر بن عمران الضبعي.

21: يحيى بن الجزار.

تنبيه: ترتيب الروايات حسب الصحة.
প্রথম অধ্যায়

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসের বর্ণনাগুলো
-

ভূমিকা

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে একদল রাবী হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তারা হলেন:

১: তাঁর মুক্তদাস কুরাইব ইবনে আবি মুসলিম।

২: সাঈদ ইবনে জুবায়ের।

৩: আমির ইবনে শারাহিল আশ-শা'বী।

৪: আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস।

৫: আতা ইবনে আবি রাবাহ।

৬: আবু আল-মুতাওয়াক্কিল আলী ইবনে দাউদ।

৭: আবু নাদরাহ আল-মুনজির ইবনে মালিক।

৮: সুমাই', ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস।

৯: ইকরিমা ইবনে খালিদ।

১০: মিকসাম ইবনে বুজরাহ।

১১: হাবিব ইবনে আবি সাবিত।

১২: মুজাহিদ ইবনে জাবর।

১৩: আবদুল মুমিন আল-আনসারী।

১৪: হুনাইন, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস।

১৫: আবুল আলিয়াহ রুফাই' ইবনে মিহরান।

১৬: মাবাদ অথবা আবু মাবাদ, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস।

১৭: ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-হারিস।

১৮: তালহা ইবনে নাফে আল-ইস্কাফ।

১৯: উমর ইবনে আবি হাফস।

২০: নাসর ইবনে উমরান আদ-দুবায়ী।

২১: ইয়াহইয়া ইবনে আল-জাজ্জার।

সতর্কবার্তা: বর্ণনাগুলোর বিন্যাস বিশুদ্ধতার ক্রমানুসারে।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الرواية الأولى

رواية كريب عن ابن عباس
رضي الله عنهما

الرواة عن كريب:

1: مخرمة بن سليمان. 2: سلمة بن كهيل. 3: بكير بن عبد الله الأشج. 4: شريك بن عبد الله. 5: عمرو بن دينار الأثرم. 6: سالم بن أبي الجعد. 7: حبيب بن أبي ثابت. 8: ابنه رِشْدِين. 9: يزيد بن أبي زياد الكوفي.

 

‌‌أولًا: رواية مخرمة بن سليمان عن كريب

الرواة عن مخرمة بن سليمان:

1: مالك. 2: عبد ربه بن سعيد. 3: عياض بن عبد الله. 4: الضحاك بن عثمان. 5: سعيد بن أبي هلال.

1: الإمام مالك (1/ 121) عن مخرمة بن سليمان عن كريب أنَّ عبد الله بن عباس رضي الله عنهما أخبره: «أنَّه بات(1) ليلة عند ميمونة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم، وهي خالته، قال: فاضطجعت في عرض الوسادة واضطجع رسول الله صلى الله عليه وسلم وأهله، في طولها. فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى إذا انتصف الليل، أو قبله بقليل، أو بعده بقليل، استيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجلس يمسح النوم عن وجهه بيده، ثم «قرأ العشر الآيات الخواتم من سورة آل عمران». ثم قام إلى شن(2) معلق فتوضأ منه، فأحسن وضوءه، ثم قام يصلي. قال ابن عباس رضي الله عنهما: فقمت فصنعت مثل ما صنع، ثم ذهبت فقمت إلى جنبه، فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده اليمنى على رأسي، وأخذ بأذني اليمنى يفتلها(3)، فصلى ركعتين.

--------------------------------------------

(1) بات دخل في الليل نام أو لم ينم كما في قوله تعالى: {وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا} [الفرقان: 64]. وبات في الحديث تامة فهي بمعنى نام وضمير المتكلم في محل رفع فاعل.

انظر: تهذيب اللغة (14/ 237) ولسان العرب (2/ 16) وتاج العروس (4/ 462).

(2) الشن والشنة: القربة الخلق. انظر: (ص: 734).

(3) يفتلها: أي يدلكها. والفتل لشحمة الأذن لرواية مسلم (185) (763).

انظر: أعلام الحديث (1/ 231) والكواكب الدراري (6/ 91) وإرشاد الساري (1/ 265) وحاشية السندي على ابن ماجه (1/ 412).
প্রথম বর্ণনা

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে কুরাইবের বর্ণনা

কুরাইব থেকে বর্ণনাকারীগণ:

১: মাখরামা বিন সুলাইমান। ২: সালামা বিন কুহাইল। ৩: বুকাইর বিন আব্দুল্লাহ আল-আশাজ। ৪: শারিক বিন আব্দুল্লাহ। ৫: আমর বিন দীনার আল-আছরাম। ৬: সালিম বিন আবিল জাদ। ৭: হাবিব বিন আবি ছাবিত। ৮: তাঁর পুত্র রুশদিন। ৯: ইয়াযিদ বিন আবি যিয়াদ আল-কুফি।

 

প্রথমত: কুরাইব থেকে মাখরামা বিন সুলাইমানের বর্ণনা

মাখরামা বিন সুলাইমান থেকে বর্ণনাকারীগণ:

১: মালিক। ২: আব্দ রাব্বিহি বিন সাঈদ। ৩: আইয়ায বিন আব্দুল্লাহ। ৪: আদ-দাহহাক বিন উসমান। ৫: সাঈদ বিন আবি হিলাল।

১: ইমাম মালিক (১/ ১২১), মাখরামা বিন সুলাইমান থেকে, তিনি কুরাইব থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন: «তিনি এক রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী মাইমুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে রাত কাটিয়েছিলেন(১), যিনি ছিলেন তাঁর খালা। তিনি বলেন: আমি বালিশের প্রস্থের দিকে শুলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর স্ত্রী সেটির দৈর্ঘ্যের দিকে শুলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়লেন। যখন মধ্যরাত হলো, অথবা তার কিছু আগে কিংবা কিছু পরে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জেগে উঠলেন। তিনি বসে তাঁর হাত দিয়ে মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। এরপর তিনি «সূরা আলে ইমরানের শেষ দশটি আয়াত পাঠ করলেন»। তারপর তিনি একটি ঝুলন্ত পুরাতন চামড়ার মশকের(২) দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তা থেকে উযু করলেন; তিনি খুব সুন্দরভাবে উযু সম্পন্ন করলেন। এরপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: আমিও উঠলাম এবং তিনি যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম। তারপর আমি গিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ডান হাত আমার মাথার ওপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে তা মলতে(৩) লাগলেন। এরপর তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন।

--------------------------------------------

(১) 'বাত' (بات) অর্থ হলো রাতের বেলা প্রবেশ করা, চাই সে ঘুমাক বা না ঘুমাক; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত কাটায়} [আল-ফুরকান: ৬৪]। আর হাদিসে 'বাত' শব্দটি পূর্ণক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ হলো ঘুমানো, এবং উত্তম পুরুষের সর্বনামটি এখানে কর্তাবাচক স্থলাভিষিক্ত।

দেখুন: তাহযিবুল লুগাহ (১৪/ ২৩৭), লিসানুল আরব (২/ ১৬) এবং তাজুল আরুস (৪/ ৪৬২)।

(২) আশ-শান (الشن) এবং আশ-শান্নাহ (الشنة) অর্থ হলো জরাজীর্ণ বা পুরাতন চামড়ার মশক। দেখুন: (পৃষ্ঠা: ৭৩৪)।

(৩) 'ইয়াফতিলুহা' (يفتلها) অর্থ হলো তা ঘষা বা মলা। কানের লতি মলার বিষয়টি মুসলিমের বর্ণনায় (১৮৫) (৭৬৩) এসেছে।

দেখুন: আলামুল হাদিস (১/ ২৩১), আল-কাওয়াকিবুদ দাফারি (৬/ ৯১), ইরশাদুস সারি (১/ ২৬৫) এবং ইবনে মাজাহ-এর ওপর হাশিয়াতুস সিন্দি (১/ ৪১২)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ১২)
ثم ركعتين. ثم ركعتين. ثم ركعتين. ثم ركعتين. ثم ركعتين. ثم أوتر ثم اضطجع، حتى أتاه المؤذن. فصلى ركعتين خفيفتين، ثم خرج فصلى الصبح».

ورواه أحمد (2165) (3362) حدثنا عبد الرحمن بن مهدي والبخاري في مواضع (183) حدثنا إسماعيل ح (1198) ح (4571) حدثنا علي بن عبد الله حدثنا عبد الله بن يوسف ومسلم (182) (763) حدثنا يحيى بن يحيى وأبو داود (1367) حدثنا القعنبي والنسائي (1620) أخبرنا محمد بن سلمة قال أنبأنا بن القاسم وابن ماجة (1363) حدثنا أبو بكر بن خلاد الباهلي، حدثنا معن بن عيسى يروونه عن مالك بن أنس به.

المشكل في هذه الرواية:

الأول: قوله: «بيده» ويأتي أنَّها المحفوظة عن مالك(1).

الثاني: في رواية مالك ذكر أربع عشرة ركعة من غير الوتر وبين أنَّ منها ركعتي الفجر فالركعات المذكورة اثنتا عشرة ركعة من غير الوتر وراتبة الفجر ويأتي - إن شاء الله - توجيه ذلك(2).

2: عبد ربه بن سعيد: رواه البخاري (698) حدثنا أحمد(3) ومسلم (184) (763) حدثنى هارون بن سعيد الأيلي قالا حدثنا ابن وهب حدثنا عمرو عن عبد ربه بن سعيد عن مخرمة بن سليمان عن كريب عن ابن عباس رضي الله عنهما: «أنَّه قال نمت عند ميمونة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم ورسول الله صلى الله عليه وسلم عندها تلك الليلة «فتوضأ رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم قام فصلى، فقمت عن يساره، فأخذني فجعلني عن يمينه، فصلى في تلك الليلة ثلاث عشرة ركعة، ثم نام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى نفخ(4)، وكان إذا نام نفخ، ثم أتاه المؤذن فخرج فصلى، ولم يتوضأ».

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 183).

(2) انظر: (ص: 204).

(3) قال الحافظ ابن حجر في الفتح (2/ 191) لم أره منسوبًا في شيء من الروايات لكن جزم أبو نعيم في المستخرج أنَّه ابن صالح وأخرجه من طريقه.

(4) نفخ: تنفس بصوت حتى يسمع منه صوت النفخ. انظر: مجمع بحار الأنوار (4/ 748).
এরপর দুই রাকাত। এরপর দুই রাকাত। এরপর দুই রাকাত। এরপর দুই রাকাত। এরপর দুই রাকাত। এরপর তিনি বিতর আদায় করলেন, তারপর শুয়ে পড়লেন, যতক্ষণ না মুয়াজ্জিন তাঁর নিকট এলেন। অতঃপর তিনি দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত সালাত আদায় করলেন, এরপর বেরিয়ে গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন।

এবং এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (২১৬৫) (৩৩৬২), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে মাহদী; এবং বুখারী একাধিক স্থানে (১৮৩), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল (হ) (১১৯৮) (হ) (৪৫৭১), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ; এবং মুসলিম (১৮২) (৭৬৩), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া; এবং আবু দাউদ (১৩৬৭), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কায়নাবী; এবং নাসায়ী (১৬২০), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল কাসিম; এবং ইবনে মাজাহ (১৩৬৩), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে খাল্লাদ আল-বাহিলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'ন ইবনে ঈসা; তারা সকলে এটি মালিক ইবনে আনাস থেকে তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন।

এই বর্ণনার সমস্যাযুক্ত বিষয়গুলো হলো:

প্রথমত: তাঁর উক্তি: «তাঁর হাত দিয়ে» এবং সামনে আসবে যে এটিই মালিক থেকে সংরক্ষিত বর্ণনা(১)।

দ্বিতীয়ত: মালিকের বর্ণনায় বিতর ছাড়া চৌদ্দ রাকাতের কথা উল্লেখ আছে এবং তিনি বর্ণনা করেছেন যে তার মধ্যে ফজরের দুই রাকাতও রয়েছে। সুতরাং উল্লিখিত রাকাতগুলো বিতর ও ফজরের সুন্নাত ব্যতিরেকে বারো রাকাত। ইনশাআল্লাহ, এর ব্যাখ্যা সামনে আসবে(২)।

২: আবদে রাব্বিহি ইবনে সাঈদ: এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৬৯৮), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ(৩) এবং মুসলিম (১৮৪) (৭৬৩), আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন ইবনে সাঈদ আল-আয়লী; তাঁরা উভয়ই বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে ওয়াহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর, তিনি আবদে রাব্বিহি ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি মাখরামাহ ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে: «তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী মায়মুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট রাত কাটালাম, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই রাতে তাঁর নিকট ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওজু করলেন, তারপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম, তখন তিনি আমাকে ধরে তাঁর ডান পাশে করে দিলেন। তিনি সেই রাতে তেরো রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে পড়লেন এমনকি তাঁর নাক ডাকার শব্দ শোনা গেল(৪), আর তিনি ঘুমালে নাক ডাকতেন। অতঃপর তাঁর নিকট মুয়াজ্জিন এলেন, তখন তিনি বেরিয়ে গিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং ওজু করলেন না»।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৮৩)।

(২) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২০৪)।

(৩) হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে (২/ ১৯১) বলেছেন: আমি কোনো বর্ণনাতেই তাঁর বংশপরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হতে দেখিনি, তবে আবু নুয়াইম আল-মুস্তাখরাজ গ্রন্থে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি হলেন ইবনে সালেহ এবং তিনি তাঁর সূত্রেই এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) নাফাক: উচ্চস্বরে শ্বাস নেওয়া যাতে ফুঁ দেওয়ার মতো শব্দ শোনা যায়। দেখুন: মাজমাউ বিহারিল আনোয়ার (৪/ ৭৪৮)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ১৩)
قال عمرو فحدثت به بكير بن الأشج فقال حدثنى كريب بذلك.

وعبد ربه بن سعيد بن قيس الأنصاري النجاري وثقه أحمد وابن معين والنسائي وابن سعد وقال ابن أبي حاتم عن أبيه لا بأس به قلتك يحتج بحديثه قال: هو حسن الحديث ثقة.

وابن وهب هو عبد الله. وعمرو هو ابن الحارث.

المشكل في هذه الرواية: في هذه الرواية النوم بعد راتبة الفجر وفي رواية مالك وعياض والضحاك وابن أبي هلال عن مخرمة عن كريب نوم النبي صلى الله عليه وسلم بعد الوتر وقبل راتبة الفجر وهو المحفوظ من رواية مخرمة بن سليمان ويأتي أنَّ المحفوظ نوم النبي صلى الله عليه وسلم بعد راتبة الفجر(1).

3: عياض بن عبد الله الفهري: رواه الطبراني في الكبير (11/ 422) حدثنا إسماعيل بن الحسن الخفاف المصري، ثنا أحمد بن صالح وأبو نعيم في مستخرجه على مسلم (1741) حدثنا محمد بن المظفر إملاء ثنا علي بن أحمد بن سليمان ثنا هارون بن سعيد الأيلي قالا ثنا عبد الله بن وهب عن عياض بن عبد الله عن مخرمة بن سليمان عن كريب عن ابن عباس رضي الله عنهما أنَّه قال: «بعثني أبي رضي الله عنه إلى النبي صلى الله عليه وسلم بهدية فأتيته وهو في بيت ميمونة رضي الله عنها فَرَقَّدَتْنِي على فضل وسادة فنام حتى إذا كان شطر الليل(2) قام فنظر في السماء ثم تلا آخر سورة آل عمران: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} حتى ختمها ثم عمد إلى شجب(3) من ماء معلق فتسوك وتوضأ فأسبغ الوضوء(4) ولم يهرق من الماء إلا قليلًا حتى حركني فقمت فتوضأت فقمت عن يساره فحولني عن يمينه فجعل يقرأ وهو يفتل أذني -يأتي قريبًا- فصلى عشر ركعات ثم أوتر ثم نام وكان إذا نام نفخ ثم أتاه بلال رضي الله عنه فأيقظه للصلاة فقام فركع ركعتين خفيفتين ثم خرج إلى الصلاة» ورواته ثقات.

محمد بن المظفر البزاز البغدادي قال الدارقطني ثقة مأمون وعلى بن أحمد ترجم له ابن يونس في تاريخه فقال: علي بن أحمد بن سليمان بن ربيعة المصري: يعرف بعلّان بن الصِّيقل … ثقة كثير الحديث … كان أحد كبراء عدول البلد وبقية رواته ثقات. عدا شيخ الطبراني فلم أقف له على ترجمة لكن تابعه الثقة.

ورواه مسلم (183) (763) حدثني محمد بن سلمة المرادي حدثنا عبد الله بن وهب عن عياض بن عبد الله الفهري عن مخرمة بن سليمان بهذا الإسناد وزاد: «ثم عمد إلى شجب من ماء فتسوك، وتوضأ،

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 251).

(2) الشطر: يطلق على نصف الشيء وعلى جزئه وإن لم يكن نصفًا توسعًا بالكلام واستكثارًا للقليل.

انظر: مشارق الأنوار (2/ 251) والقاموس المحيط ص: (415) والمصباح المنير (1/ 312) والمغرب في ترتيب المعرب: (250).

(3) الشَجْب: السقاء إذا بلى وصار شنًا ويقال سقاء شاجب أَي يابس مأخوذ من الشجب، وهو الهلاك. وهو الشن والقربة المذكور في بعض الروايات. والمشجب خشبات موثقة تنصب فتنشر عليها الثياب وغيرها.

انظر: الفائق في غريب الحديث (2/ 223) والنهاية في غريب الحديث والأثر (2/ 444) ولسان العرب (1/ 484) والمصباح المنير (1/ 305).

(4) إسباغ الوضوء: إكماله وإتمامه.

انظر: مشارق الأنوار (2/ 205) وتفسير غريب ما في الصحيحين ص: (430) ومختار الصحاح ص: (141) وتاج العروس (22/ 500).
আমর বলেছেন: আমি এটি বুকাইর ইবনুল আশজকে বর্ণনা করেছি, তখন তিনি বললেন: কুরাইব আমাকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং আবদুর রাব্বিহি বিন সাঈদ বিন কায়স আল-আনসারি আন-নাজ্জারি—আহমাদ, ইবনে মায়ীন, নাসাঈ এবং ইবনে সা’দ তাকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন। ইবনে আবি হাতিম তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এতে কোনো সমস্যা নেই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তার হাদিস কি দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে? তিনি বললেন: তিনি হাসানুল হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য।

এবং ইবনে ওয়াহাব হলেন আবদুল্লাহ। আর আমর হলেন ইবনুল হারিস।

এই বর্ণনার সমস্যাটি হলো: এই বর্ণনায় ফজরের সুন্নাত নামাজের পর ঘুমানোর কথা আছে, অথচ মালিক, ইয়াদ, দাহহাক এবং ইবনে আবি হিলাল কর্তৃক মাখরামা থেকে কুরাইবের সূত্রে বর্ণিত বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘুমানোর কথা এসেছে বিতর নামাজের পর এবং ফজরের সুন্নাত নামাজের আগে; আর এটিই মাখরামা বিন সুলাইমানের বর্ণনায় সংরক্ষিত (মাহফুজ)। সামনে আসবে যে, মাহফুজ (সংরক্ষিত) হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফজরের সুন্নাত নামাজের পর ঘুমানো(১)।

৩: ইয়াদ বিন আবদুল্লাহ আল-ফিহরি: তাবারানি এটি 'আল-মুজামুল কাবীর' (১১/৪২২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইসমাইল ইবনুল হাসান আল-খাফফাফ আল-মিসরি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন সালিহ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন; এবং আবু নুআইম মুসলিমের ওপর তার 'মুস্তাখরাজ' (১৭৪১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনুল মুজাফ্ফার ইমলা করে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আহমাদ বিন সুলাইমান আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন বিন সাঈদ আল-আইলি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়েই বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াদ বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি মাখরামা বিন সুলাইমান থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: «আমার পিতা রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে একটি উপহারসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পাঠালেন। আমি তাঁর কাছে গেলাম যখন তিনি মাইমুনা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে ছিলেন। তিনি (মাইমুনা) আমাকে একটি বাড়তি বালিশে শুইয়ে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমালেন, যখন রাতের অর্ধেক পার হলো(২), তিনি জেগে উঠলেন এবং আকাশের দিকে তাকালেন, অতঃপর সূরা আল-ইমরানের শেষ অংশ পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে...} শেষ পর্যন্ত। এরপর তিনি একটি ঝুলন্ত চামড়ার পাত্রের(৩) দিকে গেলেন এবং মেসওয়াক করলেন ও অজু করলেন; তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করলেন(৪) এবং খুব সামান্য পানি ঢাললেন। অতঃপর তিনি আমাকে নাড়া দিলেন, ফলে আমি জেগে উঠলাম এবং অজু করলাম। আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম, তিনি আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডান পাশে নিয়ে আসলেন। তিনি তিলাওয়াত করছিলেন এবং আমার কান মলে দিচ্ছিলেন—এটি সামনে আসবে—অতঃপর তিনি দশ রাকাত নামাজ পড়লেন, তারপর বিতর পড়লেন এবং ঘুমালেন। তিনি যখন ঘুমাতেন তখন নাক ডাকার শব্দ হতো। এরপর বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছে এসে তাঁকে নামাজের জন্য জাগ্রত করলেন। তখন তিনি উঠে হালকা করে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন, অতঃপর নামাজের জন্য বেরিয়ে গেলেন।» এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য।

মুহাম্মাদ ইবনুল মুজাফ্ফার আল-বাযযার আল-বাগদাদী সম্পর্কে দারা কুতনি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত। আলী বিন আহমাদ সম্পর্কে ইবনে ইউনুস তার ইতিহাস গ্রন্থে জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন: আলী বিন আহমাদ বিন সুলাইমান বিন রাবিআহ আল-মিসরি: তিনি আল্লান বিন আস-সাইকাল নামে পরিচিত... তিনি নির্ভরযোগ্য ও অধিক হাদিস বর্ণনাকারী... তিনি শহরের অন্যতম বিশিষ্ট ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন। অবশিষ্ট বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, শুধুমাত্র তাবারানির উস্তাদ ব্যতীত, যার জীবনী আমি খুঁজে পাইনি, তবে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তার অনুসরণ (তাবে) করেছেন।

এবং ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (১৮৩) (৭৬৩); মুহাম্মাদ বিন সালামাহ আল-মুরাদি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াদ বিন আবদুল্লাহ আল-ফিহরি থেকে, তিনি মাখরামা বিন সুলাইমান থেকে এই একই সনদে, এবং তাতে বর্ধিত অংশ হলো: «অতঃপর তিনি পানির পাত্রের দিকে গেলেন, মেসওয়াক করলেন এবং অজু করলেন,

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২৫১)।

(২) শাতর (অর্ধেক): শব্দটি কোনো জিনিসের অর্ধেকের ক্ষেত্রে এবং কিছু অংশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যদিও তা আক্ষরিকভাবে অর্ধেক না হয়। এটি কথার প্রসারের জন্য এবং অল্পকে বেশি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

দেখুন: মাশারিকুল আনওয়ার (২/ ২৫১), আল-কামুসুল মুহিত পৃষ্ঠা: (৪১৫), আল-মিসবাহুল মুনীর (১/ ৩১২) এবং আল-মুগরিব ফি তারতিবিল মুগরিব: (২৫০)।

(৩) আশ-শাজব: পানির চামড়ার পাত্র যখন পুরনো ও জীর্ণ হয়ে যায়। শুষ্ক চামড়ার পাত্রকেও 'সাক্কাউ সাজিব' বলা হয়, যা বিনাশ বা ধ্বংস (শাজব) থেকে উৎপন্ন। এটি দ্বারা জীর্ণ চামড়ার পাত্রই উদ্দেশ্য যা কিছু বর্ণনায় উল্লিখিত হয়েছে। আর 'মিশজাব' হলো কতগুলো শক্ত কাঠ যা দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং তার ওপর কাপড় ইত্যাদি ঝুলিয়ে রাখা হয়।

দেখুন: আল-ফাইক ফি গারিবিল হাদিস (২/ ২২৩), আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার (২/ ৪৪৪), লিসানুল আরব (১/ ৪৮৪) এবং আল-মিসবাহুল মুনীর (১/ ৩০৫)।

(৪) ইসবাবুল অজু: অজু পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথভাবে সম্পন্ন করা।

দেখুন: মাশারিকুল আনওয়ার (২/ ২০৫), তাফসিরু গারিব মা ফিস-সহিহাইন পৃষ্ঠা: (৪৩০), মুখতারুস সিহাহ পৃষ্ঠা: (১৪১) এবং তাজুল আরুস (২২/ ৫০০)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ১৪)
وأسبغ الوضوء، ولم يهرق من الماء إلا قليلًا، ثم حركني فقمت» وسائر الحديث نحو حديث مالك.

المشكل من ألفاظ في هذه الرواية:

الأول: إتيان ابن عباس رضي الله عنهما للنبي صلى الله عليه وسلم بسبب الهدية.

ويأتي أنَّ المحفوظ من رواية مخرمة بن سليمان رواية مالك في الموطأ من غير ذكر سبب النوم والله أعلم(1).

الثاني: النبي صلى الله عليه وسلم هو الذي أيقظ ابن عباس رضي الله عنهما لصلاة التهجد وهي رواية شاذة(2).

4: الضحاك بن عثمان: رواه مسلم (185) (763) حدثنا محمد بن رافع حدثنا ابن

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 160).

(2) انظر: (ص: 174).
এবং তিনি পরিপূর্ণভাবে ওযু করলেন, এবং সামান্য পরিমাণ ব্যতীত পানি ঢাললেন না, তারপর তিনি আমাকে নাড়া দিলেন ফলে আমি উঠে দাঁড়ালাম" এবং অবশিষ্ট হাদীস মালিকের হাদীসের অনুরূপ।

এই বর্ণনার শব্দাবলীর মধ্যকার জটিল বিষয়সমূহ:

প্রথমত: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপঢৌকনের কারণে এসেছিলেন।

আর সামনে আসছে যে, মাখরামা বিন সুলাইমানের বর্ণনা থেকে মুওয়াত্তায় ইমাম মালিকের বর্ণনাটিই সংরক্ষিত, যাতে ঘুমের কারণ উল্লেখ করা হয়নি এবং আল্লাহই ভালো জানেন(১)।

দ্বিতীয়ত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ই ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য জাগ্রত করেছিলেন এবং এটি একটি শায (ভিন্নতর/বিরল) বর্ণনা(২)।

৪: যাহহাক বিন উসমান: এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১৮৫) (৭৬৩), আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন রাফি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৬০)।

(২) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৭৪)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ১৫)
أبي فديك أخبرنا الضحاك عن مخرمة بن سليمان عن كريب مولى ابن عباس عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «بت ليلة عند خالتي ميمونة بنت الحارث رضي الله عنها فقلت لها إذا قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فأيقظيني فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقمت إلى جنبه الأيسر، فأخذ بيدي فجعلني من شقه الأيمن، فجعلت إذا أغفيت يأخذ بشحمة أذني(1)، قال: فصلى إحدى عشرة ركعة، ثم احتبى(2) حتى إنِّي لأسمع نَفَسَه راقدًا، فلما تبين له الفجر صلى ركعتين خفيفتين» وفي متنه شذوذ.

المشكل من ألفاظ هذه الرواية:

الأول: طلب ابن عباس رضي الله عنهما من خالته إيقاضه لصلاة التهجد وهي رواية شاذة والمحفوظ استيقاظ ابن عباس رضي الله عنهما(3).

الثاني: نوم النبي صلى الله عليه وسلم قبل صلاة راتبة الفجر محتبيًا وهي رواية شاذة والمحفوظ نوم النبي صلى الله عليه وسلم بعد راتبة الفجر مضطجعًا(4).

5: سعيد بن أبي هلال: رواه أبو داود (1364) (1366) حدثنا عبد الملك بن شعيب بن الليث بن سعد حدثني أبي والنسائي في الكبرى (399) وفي المجتبى (686) أخبرنا محمد بن عبد الله بن عبد الحكم عن شعيب قالا حدثنا الليث قال حدثنا خالد عن ابن أبي هلال عن مخرمة بن سليمان أنَّ كريبًا مولى ابن عباس رضي الله عنهما أخبره قال: سألت ابن عباس رضي الله عنهما قلت كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالليل قال: «بت عنده ليلة وهو عند ميمونة، رضي الله عنها فنام حتى إذا ذهب ثلث الليل - أو نصفه - استيقظ، فقام إلى شن فيه ماء، فتوضأ وتوضأت معه، ثم قام فقمت إلى جنبه

--------------------------------------------

(1) شحمة الأذن: ما لان من أَسفلها عند مُعَلَّق القُرط.

انظر: تفسير غريب ما في الصحيحين ص: (155) ولسان العرب (12/ 319) والمغرب في ترتيب المعرب ص: (245) وتاج العروس (32/ 456).

(2) الاحتباء: أن يضم الإنسان رجليه إلى بطنه يجمعهما - بحبل أو غيره - مع ظهره ويشده عليها وقد يكون الاحتباء باليدين.

انظر: غريب الحديث للخطابي (3/ 37) والنهاية في غريب الحديث (1/ 335) وتفسير غريب ما في الصحيحين ص: (217) ولسان العرب (14/ 161).

(3) انظر: (ص: 175).

(4) انظر: (ص: 257).
আবু ফুদাইক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যাহহাক থেকে, তিনি মাখরামা ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «আমি এক রাতে আমার খালা মাইমুনা বিনতুল হারিস (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে রাত কাটালাম। আমি তাঁকে বললাম, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতের জন্য দাঁড়াবেন তখন আমাকে জাগিয়ে দেবেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়ালেন। আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম, তখন তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডান পাশে নিয়ে আসলেন। আমি যখনই তন্দ্রাচ্ছন্ন হচ্ছিলাম, তিনি আমার কানের লতি(১) ধরছিলেন। তিনি বললেন: অতঃপর তিনি এগারো রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি ইহতিবা (দুই পা পেটের সাথে ঠেকিয়ে হাত বা কাপড় দিয়ে পিঠের সাথে বেঁধে বসা)(২) করলেন, এমনকি আমি ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। এরপর যখন তাঁর কাছে ফজর স্পষ্ট হলো, তিনি হালকাভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন» এবং এর মতনে (মূল পাঠে) শায (বিচ্ছিন্নতা/অসংগতি) রয়েছে।

এই বর্ণনার শব্দাবলীর মধ্যকার জটিল বিষয়সমূহ:

প্রথম: ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর তাঁর খালার কাছে তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য তাঁকে জাগিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা; এটি একটি শায (বিচ্ছিন্ন) বর্ণনা, আর মাহফুয (সুসংরক্ষিত/বিশুদ্ধ) বিষয় হলো ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিজ থেকেই জাগ্রত হওয়া(৩)।

দ্বিতীয়: ফজরের সুন্নাত সালাতের পূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইহতিবা অবস্থায় ঘুমানো; এটি একটি শায (বিচ্ছিন্ন) বর্ণনা, আর মাহফুয (সুসংরক্ষিত/বিশুদ্ধ) বিষয় হলো ফজরের সুন্নাত সালাতের পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাত হয়ে শুয়ে ঘুমানো(৪)।

৫: সাঈদ ইবনে আবি হিলাল: এটি আবু দাউদ (১৩৬৪) (১৩৬৬) বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল মালিক ইবনে শুআইব ইবনে লাইস ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং নাসাঈ আল-কুবরা (৩৯৯) ও আল-মুজতাবা (৬৮৬)-তে বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম শুআইব থেকে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন যে লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন খালিদ ইবনে আবি হিলাল আমাদের নিকট মাখরামা ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইব তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি বললাম: রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বললেন: «আমি এক রাতে তাঁর নিকট ছিলাম যখন তিনি মাইমুনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে ছিলেন। তিনি ঘুমালেন, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেক পার হলো, তিনি জাগ্রত হলেন। এরপর তিনি একটি ঝুলন্ত পানির পাত্রের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং ওযু করলেন, আমিও তাঁর সাথে ওযু করলাম। তারপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং আমি তাঁর পাশে দাঁড়ালাম...»

--------------------------------------------

(১) কানের লতি: কানের নিচের নরম অংশ যেখানে অলঙ্কার ঝোলানো হয়।

দেখুন: তাফসিরু গারিব মা ফিস-সাহীহাইন, পৃষ্ঠা: (১৫৫); লিসানুল আরব (১২/৩১৯); আল-মুগরিব ফি তারতিবিল মু'রিব, পৃষ্ঠা: (২৪৫) এবং তাজুল আরুস (৩২/৪৫৬)।

(২) ইহতিবা: কোনো ব্যক্তি তার দুই পা-কে পেটের সাথে মিলিয়ে—কাপড় বা অন্য কিছু দিয়ে—পিঠের সাথে একত্রে বেঁধে বসা; কখনও কখনও দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরেও ইহতিবা করা হয়।

দেখুন: গারিবুল হাদিস লিল-খাত্তাবি (৩/৩৭); আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস (১/৩৩৫); তাফসিরু গারিব মা ফিস-সাহীহাইন, পৃষ্ঠা: (২১৭) এবং লিসানুল আরব (১৪/১৬১)।

(৩) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৭৫)।

(৪) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২৫৭)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ১৬)
على يساره، فجعلني على يمينه، ثم وضع يده على رأسي كأنَّه يمس أذني كأنَّه يوقظني، فصلى ركعتين خفيفتين قد قرأ فيهما بأم القرآن في كل ركعة، ثم سلم، ثم صلى حتى صلى إحدى عشرة ركعة بالوتر، ثم نام، فأتاه بلال رضي الله عنه، فقال: الصلاة يا رسول الله، فقام، فركع ركعتين، ثم صلى للناس» رواته ثقات وفي متنه شذوذ. وخالد هو ابن يزيد الجمحي.

المشكل من ألفاظ هذه الرواية:

الأول: الشك في وقت قيام النبي صلى الله عليه وسلم للتهجد والمحفوظ قيام النبي صلى الله عليه وسلم نصف الليل(1).

الثاني: افتتاح القيام بركعتين خفيفتين وهي رواية شاذة فلم يحفظ عن النبي صلى الله عليه وسلم ذلك في حديث ابن عباس رضي الله عنهما(2).

الثالث: نوم النبي صلى الله عليه وسلم بعد الوتر والمحفوظ نومه بعد راتبة الفجر(3).

 

‌‌ثانيًا: رواية سلمة بن كهيل عن كريب

الرواة عن سلمة بن كهيل:

1: سفيان الثوري. 2: شعبة بن الحجاج. 3: سعيد بن مسروق. 4: عُقِيل بن خالد. 5: محمد بن إسحاق. 6: محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى.

1: سفيان الثوري: رواه البخاري (6316) حدثنا علي بن عبد الله ومسلم (181) (763) حدثني عبد الله بن هاشم بن حيان العبدي وأحمد (3184) قالوا حدثنا عبد الرحمن بن مهدي ورواه عبد الرزاق (3862) (4707) قالا حدثنا سفيان عن سلمة بن كهيل عن كريب عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «بت عند ميمونة رضي الله عنها، فقام النبي صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 198).

(2) انظر: (ص: 201).

(3) انظر: (ص: 251).
তাঁর বাম পাশে, অতঃপর তিনি আমাকে তাঁর ডান পাশে নিয়ে আসলেন। তারপর তিনি আমার মাথার ওপর তাঁর হাত রাখলেন, যেন তিনি আমার কান স্পর্শ করছেন এবং আমাকে জাগ্রত করছেন। এরপর তিনি সংক্ষেপে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, যাতে প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন। তারপর সালাম ফেরালেন। এরপর তিনি সালাত আদায় করতে থাকলেন এবং বিতরসহ এগারো রাকাত পড়লেন। তারপর তিনি ঘুমালেন। এরপর বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর কাছে এসে বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল, সালাতের সময় হয়েছে।' তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং দুই রাকাত (সুন্নাত) আদায় করলেন, এরপর মানুষের ইমামতি করলেন।" এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এর মতন বা পাঠে শায (বিচ্যুতি) রয়েছে। আর খালিদ হলেন ইবনে ইয়াযীদ আল-জুমাহি।

এই বর্ণনার শব্দাবলির সমস্যাযুক্ত দিকসমূহ:

প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাহাজ্জুদের জন্য দাঁড়ানোর সময় সম্পর্কে সন্দেহ; অথচ সংরক্ষিত বর্ণনা অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্যরাতে দাঁড়াতেন(১)।

দ্বিতীয়ত: দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত সালাতের মাধ্যমে কিয়াম (তাহাজ্জুদ) শুরু করা; এটি একটি শায (বিচ্যুত) বর্ণনা, কেননা ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমনটি সংরক্ষিত নেই(২)।

তৃতীয়ত: বিতরের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘুমানোর কথা উল্লেখ হওয়া; অথচ সংরক্ষিত বর্ণনা হলো তাঁর ফজর সালাতের সুন্নাতের পর ঘুমানো(৩)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: কুরাইব থেকে সালামাহ ইবনে কুহাইল-এর বর্ণনা

সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে বর্ণনাকারীগণ:

১: সুফিয়ান আস-সাওরী। ২: শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ। ৩: সাঈদ ইবনে মাসরুক। ৪: উকাইল ইবনে খালিদ। ৫: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক। ৬: মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা।

১: সুফিয়ান আস-সাওরী: এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৬৩১৬), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবদুল্লাহ; এবং মুসলিম (১৮১) (৭৬৩), আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে হাশেম ইবনে হাইয়্যান আল-আবদী; এবং আহমাদ (৩১৮৪), তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে মাহদী; এবং এটি বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক (৩৮৬২) (৪৭০৭), তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি মায়মুনা রাযিয়াল্লাহু আনহার নিকট রাত যাপন করেছিলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন..."

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৯৮)।

(২) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২০১)।

(৩) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২৫১)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ১৭)
فأتى حاجته، فغسل وجهه ويديه(1)، ثم نام، ثم قام، فأتى القربة فأطلق شناقها(2)، ثم توضأ وضوءًا بين وضوءين لم يكثر وقد أبلغ،(3) فصلى، فقمت فتَمَطِّيْت(4)، كراهية أن يرى أنِّي كنت أرتقبه، فتوضأت، فقام يصلي، فقمت عن يساره، فأخذ بأذني فأدارني عن يمينه، فتتامت صلاته ثلاث عشرة ركعة، منها ركعتا الفجر ثم اضطجع فنام حتى نفخ(5)، وكان إذا نام نفخ، فآذنه بلال رضي الله عنه بالصلاة، فصلى ولم يتوضأ، وكان يقول في دعائه: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ يَسَارِي نُورًا، وَفَوْقِي نُورًا، وَتَحْتِي نُورًا، وَأَمَامِي نُورًا، وَخَلْفِي نُورًا، وَاجْعَلْ لِي نُورًا».

قال كريب: وسبع في التابوت، فلقيت رجلًا من ولد العباس فحدثني بهن فذكر: «عصبي ولحمي ودمي وشعري وبشري» وذكر خصلتين.

--------------------------------------------

(1) قال النووي - في شرح مسلم (6/ 65) -: هذا الغسل للتنظيف والتنشيط للذكر.

وانظر: إكمال المعلم (3/ 118) وشرح أبي داود لابن رسلان (19/ 248).

وبوب عليه أبو داود: بابٌ في النوم على طهارة. والصحيح أنَّ تطهر النبي صلى الله عليه وسلم بعد الاستيقاظ الثاني. انظر: (ص: 135).

والعطف في قوله: «وجهه ويديه» لا يفيد الترتيب فالعطف بالواو لمطلق الجمع والمعهود من فعل النبي صلى الله عليه وسلم غسل الكفين أولًا لأنَّهما آلة التنظيف.

(2) الشِّنَاق: يطلق على السير الذي تعلق به القربة، وعلى الخيط الذي يشد به فمها. يقال شنق القربة وأشنقها إذا أوكأها، وإذا علقها. وقوله: «فأطلق شِنَاقها» أي حل الخيط الذي تربط به القربة ليتوضأ.

انظر: غريب الحديث لأبي عبيد (1/ 133) والفائق في غريب الحديث (2/ 263) والنهاية في غريب الحديث (2/ 506) ولسان العرب (10/ 188).

(3) بين وضوءين: وضوءًا خفيفًا ووضوءًا كاملًا جامعًا لجميع السنن.

أبلغ: أوصل الماء إلى المواضع التي يجب إيصال الماء إليها.

لم يكثر: اكتفى بأقل من الثلاث في الغسل فتكون مفسرة لقوله: بين وضوءين. ويحتمل لم يكثر من صب الماء.

انظر: الكواكب الدراري (22/ 131) وإرشاد الساري (9/ 183).

(4) تمطيت: التمطي التمدد وأصله الدال مددت وقيل أصله الطاء من المطا وهو الظهر وهذا قول الأصمعي وهو أظهر لأنَّ المتمطي يمد مطاه بتمطيه أي ظهره. فعلى هذا أصله تمطط فاستثقلوا الجمع بين الطاءات فقالوا: تمطى.

انظر: غريب الحديث لأبي عبيد (1/ 223) وغريب الحديث للخطابي (2/ 265) ومشارق الأنوار (1/ 378).

(5) انظر: (ص: 259).
তিনি তাঁর প্রয়োজন পূরণ করলেন (শৌচকার্য সম্পন্ন করলেন), অতঃপর তাঁর মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত করলেন(১), এরপর তিনি ঘুমান, তারপর জাগেন। এরপর তিনি মশক (পানির পাত্র) এর নিকট এসে এর বন্ধনী আলগা করলেন(২)। অতঃপর তিনি এমনভাবে অজু করলেন যা দুই ধরনের অজুর মধ্যবর্তী (খুব হালকাও নয় আবার খুব দীর্ঘও নয়), তিনি পানির ব্যবহার খুব বেশি করেননি অথচ অজুর অঙ্গগুলোতে পানি পরিপূর্ণভাবে পৌঁছে দিয়েছিলেন(৩)। এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন। আমি দাঁড়ালাম এবং আড়মোড়া ভাঙলাম (শরীর প্রসারিত করলাম)(৪) যাতে তিনি বুঝতে না পারেন যে আমি তাঁর ওপর নজর রাখছিলাম। অতঃপর আমি অজু করলাম। তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার কান ধরলেন এবং আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডান পাশে নিয়ে আসলেন। তাঁর মোট সালাত তেরো রাকাত পূর্ণ হলো, এর মধ্যে ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) অন্তর্ভুক্ত। তারপর তিনি কাত হয়ে শুয়ে পড়লেন এবং এমনকি নাসিকা গর্জন (নাক ডাকার শব্দ) হওয়া পর্যন্ত ঘুমালেন(৫)। আর তিনি যখন ঘুমাতেন তখন নাসিকা গর্জন করতেন। অতঃপর বেলাল (রা.) তাঁকে সালাতের কথা জানালেন। তিনি সালাত আদায় করলেন অথচ (নতুন করে) অজু করলেন না। তিনি তাঁর দোয়ায় বলতেন: «হে আল্লাহ! আমার হৃদয়ে নূর (আলো) দান করুন, আমার দৃষ্টিতে নূর দান করুন, আমার শ্রবণেন্দ্রিয়তে নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন, আমার বামে নূর দান করুন, আমার উপরে নূর দান করুন, আমার নিচে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন এবং আমার জন্য নূর সৃষ্টি করুন।»

কুরাইব বলেন: সিন্দুকের (স্মৃতির) মধ্যে আরও সাতটি বিষয় ছিল। পরে আব্বাসের বংশধরদের একজনের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি আমাকে সেগুলো বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন: «আমার স্নায়ু, আমার গোশত, আমার রক্ত, আমার চুল এবং আমার ত্বক» আর তিনি আরও দুটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ইমাম নববী - শরহে মুসলিমে (৬/ ৬৫) - বলেছেন: এই ধৌতকরণ ছিল পরিচ্ছন্নতার জন্য এবং জিকিরের প্রতি উদ্দীপনা তৈরির জন্য।

আরও দেখুন: ইকমালুল মুয়াল্লিম (৩/ ১১৮) এবং ইবনে রাসলানের শরহু আবি দাউদ (১৯/ ২৪৮)।

আবু দাউদ এর ওপর পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন: 'পবিত্র অবস্থায় ঘুমানো' অধ্যায়। সঠিক মত হলো দ্বিতীয়বার জাগ্রত হওয়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পবিত্রতা অর্জন করা। দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৩৫)।

'তাঁর মুখমণ্ডল ও হাত' বাক্যে সংযোজক অব্যয় 'ওয়া' (এবং) ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে না, বরং এটি কেবলমাত্র সমষ্টির জন্য ব্যবহৃত হয়। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চিরাচরিত অভ্যাস ছিল প্রথমে দুই কবজি ধৌত করা, কারণ সেগুলো হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম।

(২) শিনাক: এটি সেই চামড়ার ফিতা বা দড়িকে বলা হয় যার মাধ্যমে মশক ঝুলানো হয় এবং সেই সুতাকেও যার দ্বারা এর মুখ বাধা হয়। বলা হয় 'শানা কাল ক্বিরবাতা' বা 'আশনাক্বাহা' যখন এর মুখ বেঁধে দেওয়া হয় অথবা তা ঝুলিয়ে রাখা হয়। 'তিনি এর বন্ধনী আলগা করলেন' অর্থাৎ তিনি অজুর করার জন্য মশকটি যে সুতা দিয়ে বাধা ছিল তা খুলে দিলেন।

দেখুন: আবু উবাইদের গারীবুল হাদিস (১/ ১৩৩), আল-ফায়িক্ব ফী গারীবিল হাদিস (২/ ২৬৩), আন-নিহায়া ফী গারীবিল হাদিস (২/ ৫০৬) এবং লিসানুল আরব (১০/ ১৮৮)।

(৩) দুই অজুর মধ্যবর্তী: অর্থাৎ একটি হালকা অজু এবং একটি পরিপূর্ণ অজু যাতে সমস্ত সুন্নত পালিত হয়েছে—এই দুইয়ের মাঝামাঝি।

আবলারা: অজুর জন্য যেসব অঙ্গে পানি পৌঁছানো আবশ্যক সেখানে পানি পৌঁছে দিয়েছেন।

লাম ইউকসির: ধৌত করার ক্ষেত্রে তিনবারের কম করেছেন, যা 'দুই অজুর মধ্যবর্তী' কথার ব্যাখ্যা প্রদান করে। আবার এটি পানি ঢালার ক্ষেত্রে আধিক্য না করাকেও বোঝাতে পারে।

দেখুন: আল-কাওয়াকিবুদ দুরারি (২২/ ১৩১) এবং ইরশাদুস সারি (৯/ ১৮৩)।

(৪) তামাত্তয়তু: আড়মোড়া ভাঙা বা শরীর টানটান করা। এর মূল ধাতু হচ্ছে 'দাল' তথা 'মাদাদতু' (আমি প্রসারিত করেছি)। আবার কেউ বলেছেন এর মূল ধাতু হচ্ছে 'ত্ব' যা 'মাত্বা' (পিঠ) থেকে এসেছে। এটি আসমায়ীর মত এবং এটিই অধিক স্পষ্ট। কারণ আড়মোড়া ভাঙার সময় ব্যক্তি তার পিঠ প্রসারিত করে। সে হিসেবে এর মূল ছিল 'তামাত্তাত্বা', কিন্তু পর পর 'ত্ব' বর্ণের উচ্চারণ ভারী মনে হওয়ায় তারা একে 'তামাত্তয়্যা' বলেন।

দেখুন: আবু উবাইদের গারীবুল হাদিস (১/ ২২৩), খাত্তাবীর গারীবুল হাদিস (২/ ২৬৫) এবং মাশারিকুল আনোয়ার (১/ ৩৭৮)।

(৫) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২৫৯)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ১৮)
تنبيهان:

الأول: قوله «عَصَبِي وَلَحْمِي» هذه الزيادة لا تصح لجهالة الرجل المبهم وبعض الشراح يجعله علي بن عبد الله بن عباس(1) والزيادتان منكرتان(2).

الثاني: قوله: «منها ركعتا الفجر» في رواية عبد الرزاق وبقية الروايات لم تنص على ركعتي الفجر لكن يفهم من السياق أنَّها منها.

المشكل من ألفاظ هذه الرواية:

الأول: قوله: «فأتى حاجته، فغسل وجهه ويديه، ثم نام … توضأ وضوءًا بين وضوءين لم يكثر وقد أبلغ» وهو المحفوظ(3).

الثاني: قوله «فأخذ بأذني فأدارني عن يمينه» والمحفوظ أخذه بيده والأخذ بالأذن بعد الإدارة(4).

الثالث: قوله صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا … » يأتي بيان الثابت من ذلك(5).

الرابع: قوله: «فتتامت صلاته ثلاث عشرة ركعة، منها ركعتا الفجر ثم اضطجع فنام» المحفوظ قيام النبي صلى الله عليه وسلم بإحدى عشرة ركعة(6) ونومه بعد راتبة الفجر(7).

تنبيه: قال ابن عبد البر في التمهيد (13/ 215) حدثنا خلف بن القاسم قال حدثنا أحمد بن أسامة قال حدثنا أحمد بن محمد بن رشدين قال حدثنا أحمد بن صالح قال حدثنا عبد الرزاق قال حدثنا سفيان الثوري عن سلمة بن كهيل عن كريب عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «بت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فنام ثم قام فقضى حاجته ثم أخذ كفا من ماء فمسح به وجهه وكفيه ثم قام».

--------------------------------------------

(1) انظر: فتح الباري (1/ 334) وإرشاد الساري (9/ 184).

(2) انظر (ص: 227).

(3) انظر: (ص: 135).

(4) انظر: (ص: 186).

(5) انظر: (ص: 226).

(6) انظر: (ص: 236).

(7) انظر: (ص: 251).
দুটি সতর্কতা:

প্রথমটি: তাঁর উক্তি «আমার স্নায়ু এবং আমার মাংস»—এই বর্ধিত অংশটি সঠিক নয়, কারণ এতে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির নাম রয়েছে। কিছু ব্যাখ্যাকারী তাকে আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস(১) হিসেবে গণ্য করেছেন। আর এই বর্ধিত অংশ দুটিই মুনকার (অগ্রহণযোগ্য)(২)।

দ্বিতীয়টি: তাঁর উক্তি: «তার মধ্যে ফজরের দুই রাকাত অন্তর্ভুক্ত»—আব্দুর রাজ্জাকের বর্ণনায় এবং অন্যান্য বর্ণনায় ফজরের দুই রাকাতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, তবে প্রসঙ্গের দ্বারা বোঝা যায় যে এটি তার অন্তর্ভুক্ত।

এই বর্ণনার শব্দগুলোর মধ্যে জটিলতা:

প্রথমটি: তাঁর উক্তি: «অতঃপর তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে সাড়া দিলেন, তাঁর মুখমণ্ডল ও তাঁর দুই হাত ধৌত করলেন, এরপর ঘুমালেন … তিনি দুই ওযুর মধ্যবর্তী এক ধরণের ওযু করলেন, যা খুব বেশি (পানি ব্যবহার) ছিল না অথচ পরিপূর্ণ ছিল»—আর এটিই সংরক্ষিত (সহীহ)(৩)।

দ্বিতীয়টি: তাঁর উক্তি «অতঃপর তিনি আমার কান ধরলেন এবং আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডান পাশে আনলেন»—সংরক্ষিত হলো যে, তিনি তাঁর হাত দিয়ে ধরেছিলেন এবং কান ধরা হয়েছিল ঘুরিয়ে আনার পর(৪)।

তৃতীয়টি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি: «হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর (জ্যোতি) দান করুন …»—এ সম্পর্কে যা প্রমাণিত তা সামনে আসবে(৫)।

চতুর্থটি: তাঁর উক্তি: «অতঃপর তাঁর সালাত তেরো রাকাতে পূর্ণ হলো, যার মধ্যে ফজরের দুই রাকাত অন্তর্ভুক্ত ছিল, এরপর তিনি কাত হয়ে শুয়ে ঘুমালেন»—সংরক্ষিত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এগারো রাকাত কিয়াম (তাহাজ্জুদ)(৬) এবং ফজরের সুন্নতের পর তাঁর ঘুমানো(৭)।

সতর্কতা: ইবনে আব্দুল বার 'আত-তামহীদ' গ্রন্থে (১৩/২১৫) বলেছেন: আমাদের নিকট খালাফ বিন আল-কাসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ বিন উসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন রুশদীন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান আস-সাওরী বর্ণনা করেছেন সালামাহ বিন কুহাইল থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে রাত যাপন করলাম। তিনি ঘুমালেন, তারপর উঠলেন এবং তাঁর হাজত (প্রাকৃতিক প্রয়োজন) পূর্ণ করলেন। এরপর তিনি এক আঁজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল ও তাঁর দুই হাত মুছলেন, তারপর দাঁড়ালেন।»

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতহুল বারী (১/ ৩৩৪) এবং ইরশাদুস সারী (৯/ ১৮৪)।

(২) দেখুন (পৃষ্ঠা: ২২৭)।

(৩) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৩৫)।

(৪) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৮৬)।

(৫) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২২৬)।

(৬) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২৩৬)।

(৭) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২৫১)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال أحمد بن صالح روى هذا الحديث عن كريب نحو من ثمانية لم يقولوا ما قاله سلمة بن كهيل قال أبو عمر أفسده سلمة بن كهيل وقلب معناه.

وأحمد بن محمد بن الحجاج بن رشدين ضعفه شديد قال ابن أبي حاتم: سمعت منه بمصر، ولم أحدث عنه لما تكلموا فيه وقال ابن عدي: صاحب حديث كثير، أنكرت عليه أشياء، وهو ممكن يكتب حديثه مع ضعفه.

فهذه الرواية منكرة والحديث في مصنف عبد الرزاق (3862) (4707) بلفظ غسل كما تقدم (ص: 16) وكذلك رواه عن عبد الرزاق أحمد (2555) وإسحاق بن إبراهيم الدَّبَري عند الطبراني في الكبير (11/ 419) بلفظ الغسل.

من القائل فلقيت رجلًا؟

تقدم -قريبًا- قول كريب: وسبع في التابوت، فلقيت رجلًا من ولد العباس فحدثني بهن فذكر: ....

اختلف في قائل فلقيت رجلًا من ولد العباس رضي الله عنه … فقيل:

1: كريب(1): وهو ظاهر الكلام فلم يتقدم ذكر غيره.

2: سلمة بن كهيل(2): وهو خلاف سياق الكلام فلم يتقدم له ذكر لكن يقوي ذلك أمران:

الأول: كريب أخص في ابن عباس رضي الله عنهما من ابنه علي فيستبعد أن يروي كريب عن علي بن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما بخلاف سلمة بن كهيل فهو في رتبة تلاميذ علي بن عبد الله بن عباس.

الثاني: في رواية عقيل بن خالد عند مسلم - تأتي(3) - قال سلمة حدثنيها كريب فحفظت منها ثنتي عشرة ونسيت ما بقي.

--------------------------------------------

(1) انظر: إكمال المعلم (3/ 124) وفتح الباري (11/ 118) وإرشاد الساري (9/ 184).

(2) انظر: إكمال المعلم (3/ 124) والكواكب الدراري شرح البخاري (22/ 132) وشرح مسلم للنووي (6/ 66) والتوضيح لشرح الجامع الصحيح (29/ 214) وفتح الباري (11/ 118) وإرشاد الساري (9/ 184).

(3) انظر: (ص: 23).
আহমদ বিন সালিহ বলেন, কুরাইব থেকে এই হাদিসটি প্রায় আটজন বর্ণনা করেছেন, কিন্তু সালামাহ বিন কুহাইল যা বলেছেন তারা তা বলেননি। আবু উমর বলেন, সালামাহ বিন কুহাইল একে নষ্ট করেছেন এবং এর অর্থ বদলে দিয়েছেন।

এবং আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাজ্জাজ বিন রুশদীনের দুর্বলতা অত্যন্ত প্রবল। ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি মিসরে তাঁর থেকে শুনেছি, কিন্তু তাঁর সম্পর্কে মানুষ নেতিবাচক কথা বলায় আমি তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা করিনি। ইবনে আদি বলেন: তিনি অনেক হাদিসের অধিকারী, আমি তাঁর কিছু বিষয় প্রত্যাখ্যান করেছি, তবে দুর্বলতা সত্ত্বেও তাঁর হাদিস লিখে রাখা সম্ভব।

সুতরাং এই বর্ণনাটি মুনকার (পরিত্যক্ত)। আর আব্দুর রাজ্জাকের মুসান্নাফে (৩৮৬২) (৪৭০৭) হাদিসটি ‘ধৌত করা’ শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি পূর্বে (পৃষ্ঠা: ১৬) উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে আব্দুর রাজ্জাক থেকে আহমদ (২৫৫৫) এবং তাবারানির আল-মু’জামুল কাবীরে (১১/৪১৯) ইসহাক বিন ইব্রাহিম আদ-দাবারী এটি ‘ধৌত করা’ শব্দে বর্ণনা করেছেন।

‘অতঃপর আমি এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলাম’—এই উক্তিটি কার?

সম্প্রতি কুরাইবের উক্তিটি অতিক্রান্ত হয়েছে: “এবং সিন্দুকের মধ্যে সাতটি, অতঃপর আমি আব্বাসের বংশধরদের একজনের সাক্ষাৎ পেলাম এবং তিনি আমাকে সেগুলো বর্ণনা করলেন...।” এরপর তিনি উল্লেখ করেন: ....

‘অতঃপর আমি আল-আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধরদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলাম’—এই বক্তার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে … বলা হয়েছে:

১: কুরাইব(১): এটিই বক্তব্যের বাহ্যিক দিক, কারণ তিনি ছাড়া অন্য কারো উল্লেখ আগে আসেনি।

২: সালামাহ বিন কুহাইল(২): এটি প্রসঙ্গের বিপরীত, কারণ আগে তাঁর কথা উল্লেখ করা হয়নি; তবে দুটি বিষয় একে শক্তিশালী করে:

প্রথমত: কুরাইব ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ব্যাপারে তাঁর পুত্র আলীর চেয়ে বেশি বিশেষজ্ঞ ছিলেন, তাই কুরাইব কর্তৃক আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করা সুদূরপরাহত; পক্ষান্তরে সালামাহ বিন কুহাইল আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসের ছাত্রদের স্তরের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয়ত: মুসলিমের কিতাবে উকাইল বিন খালিদের বর্ণনায়—যা সামনে আসবে(৩)—সালামাহ বলেন: কুরাইব আমাকে এটি বর্ণনা করেছেন, এরপর আমি তার মধ্য থেকে বারোটি মুখস্থ করেছি এবং বাকিগুলো ভুলে গিয়েছি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইকমালুল মুয়াল্লিম (৩/১২৪), ফাতহুল বারী (১১/১১৮) এবং ইরশাদুল সারী (৯/১৮৪)।

(২) দেখুন: ইকমালুল মুয়াল্লিম (৩/১২৪), আল-কাওয়াকিব আদ-দারারি শরহুল বুখারি (২২/১৩২), নববীর শরহে মুসলিম (৬/৬৬), আত-তাওদিহ লি-শরহিল জামিউস সহিহ (২৯/২১৪), ফাতহুল বারী (১১/১১৮) এবং ইরশাদুল সারী (৯/১৮৪)।

(৩) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২৩)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ২০)
ففي هذه الرواية تصريح سلمة بن كهيل بنسيانه ويستبعد أن يحصل النسيان منهما والله أعلم.

المراد من قول كريب وسبع في التابوت:

أصل التابوت الأضلاع بما يحويه القلب وغيره، ويسمى كل ما يحتوي على شيء تابوتًا(1) واختلف بمراد كريب بالتابوت على أقوال:

الأول: الصندوق الذي تحفظ فيه الحوائج فالكلمات السبع محفوظة عندي في كتاب في التابوت(2).

الثاني: الأضلاع وما يحويه فهو وعاء القلب يقال لمن يحفظ العلم علمه في التابوت مستودع تشبيهًا بالتابوت الذي كالصندوق يحرز فيه المتاع أي وسبع في قلبي لكن نسيتها(3) هذا على أنَّ النسيان من كريب وليس من سلمة بن كهيل.

الثالث: البدن فبدن الإنسان كالتابوت للروح فالخصال السبع تتعلق بالبدن(4) وهذا الأقرب على القول بأنّ النسيان من سلمة بن كهيل وليس من كريب والله أعلم.

2: شعبة بن الحجاج: رواه أبو داود الطيالسي (2706) وأحمد (2563) حدثنا محمد بن جعفر ومسلم (187) (763) حدثنا محمد بن بشار حدثنا محمد بن جعفر وابن ماجه (508) حدثنا أبو بكر محمد بن خلاد الباهلي وابن خزيمة (127) نا يحيى بن حكيم، نا ابن عدي والطبراني في الكبير (11/ 420) حدثنا معاذ

--------------------------------------------

(1) انظر: المجموع المغيث في غريبي القرآن والحديث (1/ 214) ولسان العرب (2/ 17) وتاج العروس (2/ 78).

(2) انظر: مشارق الأنوار (1/ 118) والمجموع المغيث في غريبي القرآن والحديث (1/ 214) وفتح الباري (11/ 117).

(3) انظر: شرح مسلم للنووي (6/ 66) والنهاية في غريب الحديث (1/ 179) والكواكب الدراري شرح البخاري (22/ 132) والتوضيح لشرح الجامع الصحيح (29/ 214) وفتح الباري (11/ 117) ولسان العرب (2/ 17) وتاج العروس (2/ 78).

(4) انظر: مشارق الأنوار (1/ 118) والمفهم (3/ 395) والكواكب الدراري شرح البخاري (22/ 132).
সুতরাং এই বর্ণনায় সালামাহ ইবনে কুহাইল নিজের বিস্মৃতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, আর তাঁদের উভয়ের পক্ষ থেকে বিস্মৃতি ঘটা সুদূরপরাহত এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

কুরাইবের উক্তি ‘এবং সাতটি সিন্দুকে (তাবুতে)’ এর উদ্দেশ্য:

সিন্দুক বা তাবুতের মূল অর্থ হলো পাঁজরের হাড় এবং এর অভ্যন্তরে থাকা কলব ও অন্যান্য বিষয়াদি। কোনো কিছু ধারণকারী প্রতিটি বস্তুকে সিন্দুক বা তাবু বলা হয়(১)। কুরাইব ‘তাবুত’ দ্বারা কী বুঝিয়েছেন সে বিষয়ে একাধিক অভিমত রয়েছে:

প্রথম: এমন সিন্দুক যাতে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংরক্ষণ করা হয়। অর্থাৎ সাতটি শব্দ আমার নিকট সিন্দুকে সংরক্ষিত একটি কিতাবে রয়েছে(২)।

দ্বিতীয়: পাঁজরের হাড় এবং এর মধ্যকার বিষয়াদি, যা কলবের আধার। যার ইলম মুখস্থ থাকে তার সম্পর্কে বলা হয়—তার ইলম সিন্দুকে (সংরক্ষণাগারে) রয়েছে। এটি আসবাবপত্র রাখার সিন্দুকের সাথে সাদৃশ্য রেখে বলা হয়েছে। অর্থাৎ সাতটি আমার অন্তরে ছিল কিন্তু আমি তা ভুলে গিয়েছি(৩)। এটি ঐ ভিত্তির ওপর যে, বিস্মৃতি কুরাইবের পক্ষ থেকে হয়েছে, সালামাহ ইবনে কুহাইলের পক্ষ থেকে নয়।

তৃতীয়: শরীর। কেননা মানুষের শরীর হলো রুহের জন্য সিন্দুকসদৃশ। সুতরাং সাতটি বৈশিষ্ট্য শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট(৪)। সালামাহ ইবনে কুহাইলের পক্ষ থেকে বিস্মৃতি ঘটেছে, কুরাইবের পক্ষ থেকে নয়—এই মত অনুযায়ী এটিই অধিকতর সঠিক। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

২: শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ: এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ তায়ালিসি (২৭০৬), আহমাদ (২৫৬৩), আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে জাফর, এবং মুসলিম (১৮৭) (৭৬৩), আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে জাফর, এবং ইবনে মাজাহ (৫০৮), আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে খাল্লাদ আল-বাহিলি, এবং ইবনে খুজাইমা (১২৭), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে হাকিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আদি এবং তাবারানি আল-কাবিরে (১১/ ৪২০), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াজ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মাজমু আল-মুগিস ফি গারিবাইল কুরআনি ওয়াল হাদিস (১/ ২১৪), লিসানুল আরব (২/ ১৭) এবং তাজুল আরুস (২/ ৭৮)।

(২) দেখুন: মাশারিকুল আনওয়ার (১/ ১১৮), আল-মাজমু আল-মুগিস ফি গারিবাইল কুরআনি ওয়াল হাদিস (১/ ২১৪) এবং ফাতহুল বারি (১১/ ১১৭)।

(৩) দেখুন: শরহে মুসলিম লিন-নববী (৬/ ৬৬), আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস (১/ ১৭৯), আল-কাওয়াকিবুদ দিরারি শরহে বুখারি (২২/ ১৩২), আত-তাওদিহ লি-শারহিল জামিউস সহিহ (২৯/ ২১৪), ফাতহুল বারি (১১/ ১১৭), লিসানুল আরব (২/ ১৭) এবং তাজুল আরুস (২/ ৭৮)।

(৪) দেখুন: মাশারিকুল আনওয়ার (১/ ১১৮), আল-মুফহিম (৩/ ৩৯৫) এবং আল-কাওয়াকিবুদ দিরারি শরহে বুখারি (২২/ ১৩২)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ২১)
بن المثنى، ثنا مسدد، ثنا يحيى بن سعيد قالوا: حدثنا شعبة حدثنا سلمة بن كهيل عن كريب عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «بت في بيت خالتي ميمونة رضي الله عنها، فرقبت رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف يصلي، فقام فبال، ثم غسل وجهه وكفيه، ثم نام، ثم قام، فعمد إلى القربة فأطلق شناقها(1)، ثم صب في الجفنة، أو القصعة(2)، وأكبَّ(3) يده عليها، ثم توضأ وضوءًا حسنًا بين الوضوءين، ثم قام يصلي، فجئت فقمت عن يساره، فأخذني، فأقامني عن يمينه، فتكاملت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث عشرة ركعة، قال:، ثم نام حتى نفخ، وكنا نعرفه إذا نام بنفخه، ثم خرج إلى الصلاة فصلى، وجعل يقول في صلاته أو في سجوده: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي سَمْعِي نُورًا وَفِي بَصَرِي نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَعَنْ يَسَارِي نُورًا وَأَمَامِي نُورًا وَخَلْفِي نُورًا وَفَوْقِي نُورًا وَتَحْتِي نُورًا وَاجْعَلْنِي نُورًا» قال شعبة: أو قال: «اجْعَلْ لِي نَوَرًا».

تنبيهان:

الأول: في رواية مسلم وابن ماجه والطبراني قال سلمة فلقيت كريبًا فحدثني عن ابن عباس رضي الله عنهما.

الثاني: روايتا ابن ماجه وابن خزيمة مختصرتان.

ورواه مسلم (0) (763) حدثنى إسحاق بن منصور حدثنا النضر بن شميل أخبرنا شعبة حدثنا سلمة بن كهيل عن بكير عن كريب عن ابن عباس رضي الله عنهما. قال سلمة فلقيت كريبًا فقال قال ابن عباس رضي الله عنهما كنت عند خالتي ميمونة رضي الله عنها فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم ذكر بمثل حديث غندر. وقال: «وَاجْعَلْنِى نُورًا» ولم يشك.

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 17).

(2) انظر: (ص: 837)

(3) أكبَّ على الشيء أقبل عليه يفعله وألقاه وكببت الإناء إذا قلبته. «وأكب يده عليها» وضعها في الإناء يغترف منه.

انظر: غريب الحديث لابن قتيبة (1/ 483) ومشارق الأنوار (1/ 333) ومختار الصحاح ص: (265) ولسان العرب (1/ 695).

يأتي في رواية محمد بن إسحاق عن سلمة بن كهيل عن كريب بلفظ: «ثم استفرغ منها في إناء».
ইবনুল মুসান্না, মুসাদ্দাদ ও ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: শুবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামা ইবনে কুহাইল আমাদের নিকট কুরাইব থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি আমার খালা মাইমুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে রাত কাতিয়েছিলাম। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কীভাবে সালাত আদায় করেন তা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। তিনি উঠলেন এবং প্রস্রাব করলেন। এরপর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি ধৌত করলেন। তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। পুনরায় তিনি উঠলেন এবং একটি মশক বা চামড়ার পানির পাত্রের দিকে গেলেন এবং সেটির মুখবন্ধন খুলে দিলেন(১)। এরপর তিনি একটি বড় বা ছোট পাত্রে(২) পানি ঢাললেন এবং নিজের হাত সেটির ওপর রাখলেন(৩)। এরপর তিনি দুই ওযুর মাঝে (অর্থাৎ উত্তমরূপে মধ্যম পন্থায়) ওযু করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালেন। তখন আমি এসে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে ধরে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। এভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাত তেরো রাকাআতে পূর্ণ হলো। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি ঘুমালেন এমনকি তাঁর নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা গেল। তিনি যখন ঘুমাতেন, আমরা তাঁর নিঃশ্বাসের শব্দের মাধ্যমে তা বুঝতে পারতাম। এরপর তিনি সালাতের জন্য বের হলেন এবং সালাত আদায় করলেন। তিনি তাঁর সালাতে বা সাজদায় বলছিলেন: ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর বা আলো দান করুন, আমার শ্রবণেন্দ্রিয়ে আলো দান করুন, আমার দৃষ্টিতে আলো দান করুন, আমার ডানে আলো দান করুন, আমার বামে আলো দান করুন, আমার সামনে আলো দান করুন, আমার পেছনে আলো দান করুন, আমার উপরে আলো দান করুন এবং আমার নিচে আলো দান করুন এবং আমাকে নূরে পরিণত করুন।’ শুবা বলেন: অথবা তিনি বলেছিলেন: ‘আমার জন্য নূর বা আলো নির্ধারণ করুন’।»

দুটি সতর্কবার্তা:

প্রথমত: মুসলিম, ইবনে মাজাহ ও তাবারানির বর্ণনায় এসেছে যে, সালামা বলেন: অতঃপর আমি কুরাইবের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করলেন।

দ্বিতীয়ত: ইবনে মাজাহ ও ইবনে খুযাইমার বর্ণনা দুটি সংক্ষিপ্ত।

এবং এটি মুসলিম (০) (৭৬৩) বর্ণনা করেছেন: ইসহাক ইবনে মানসূর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাযর ইবনে শুমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুবা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সালামা ইবনে কুহাইল বুকাইর থেকে এবং তিনি কুরাইব থেকে ও তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন। সালামা বলেন: আমি কুরাইবের সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তখন তিনি বললেন যে, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: আমি আমার খালা মাইমুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে ছিলাম, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন। এরপর তিনি গুন্দারের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। আর তিনি বলেছেন: «এবং আমাকে নূরে পরিণত করুন» এবং এতে তিনি কোনো সন্দেহ করেননি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৭)।

(২) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ৮৩৭)।

(৩) কোনো জিনিসের দিকে ঝুঁকে পড়া মানে হলো সেটি করার জন্য সেটির দিকে অগ্রসর হওয়া এবং নিজেকে সেটির ওপর নিবিষ্ট করা। আর পাত্র উপুড় করা অর্থ হলো সেটি উল্টে দেওয়া। 'তিনি সেটির ওপর তাঁর হাত রাখলেন' অর্থ হলো তিনি পাত্রের ভেতর হাত রাখলেন তা থেকে পানি তোলার জন্য।

দেখুন: ইবনে কুতাইবার 'গারিবুল হাদিস' (১/৪৮৩), 'মাশারিকুল আনওয়ার' (১/৩৩৩), 'মুখতারুস সিহাহ' (পৃষ্ঠা: ২৬৫) এবং 'লিসানুল আরব' (১/৬৯৫)।

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে সালামা ইবনে কুহাইলের বর্ণনায় কুরাইব সূত্রে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: «অতঃপর তিনি তা থেকে একটি পাত্রে পানি ঢাললেন»।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ২২)
المشكل من ألفاظ هذه الرواية:

الأول: قوله: «ثم صب في الجفنة، أو القصعة» والمحفوظ الوضوء من القربة(1).

الثاني: الشك في قوله «وجعل يقول في صلاته أو في سجوده» والمحفوظ الدعاء في السجود(2).

3: سعيد بن مسروق: رواه بن أبي شيبة (2/ 491) حدثنا أبو الأحوص، عن سعيد بن مسروق، عن سلمة بن كهيل، عن أبي رشدين كريب مولى ابن عباس، عن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: «بت عند خالتي ميمونة رضي الله عنها، وبات رسول الله صلى الله عليه وسلم عندها، فرأيته قام من الليل قومة فصلى إمَّا إحدى عشرة ركعة وإما ثلاث عشرة ركعة» وإسناده صحيح.

ورواه ابن أبي شيبة (10/ 221) بنفس السند ولفظه: «بت عند خالتي ميمونة رضي الله عنها فسمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول في سجوده: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا، وَاجْعَلْ أَمَامِي نُورًا، وَاجْعَلْ خَلْفِي نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ تَحْتِي نُورًا، وَأَعْظِمْ لِي نُورًا».

وتابع ابن أبي شيبة هَنَّاد بن السَّرِي فرواه النسائي (1121) أخبرنا هَنَّاد بن السَّرِي، عن أبي الأحوص به ولفظه: «بت عند خالتي ميمونة بنت الحارث رضي الله عنها وبات رسول صلى الله عليه وسلم عندها، فرأيته قام لحاجته فأتى القربة فحل شناقها، ثم توضأ وضوءًا بين الوضوءين، ثم أتى فراشه فنام، ثم قام قومة أخرى فأتى القربة فحل شناقها، ثم توضأ وضوءًا هو الوضوء، ثم قام يصلي وكان يقول في سجوده: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ تَحْتِي نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَعَنْ يَسَارِي نُورًا وَاجْعَلْ أَمَامِي نُورًا وَاجْعَلْ خَلْفِي نُورًا وَأَعْظِمْ لِي نُورًا»، ثم نام حتى نفخ، فأتاه بلال رضي الله عنه فأيقظه للصلاة».

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 150).

(2) انظر: (ص: 228).
এই বর্ণনার শব্দাবলির মধ্যে সমস্যাযুক্ত বিষয়সমূহ:

প্রথম: তাঁর উক্তি: «অতঃপর তিনি গামলায় বা পেয়ালায় পানি ঢাললেন»; অথচ সংরক্ষিত বর্ণনা হলো মশক থেকে অজু করা(১)।

দ্বিতীয়: তাঁর উক্তি «তিনি তাঁর সালাতে বা সাজদাহতে বলতে লাগলেন»-এর মধ্যে সংশয়; অথচ সংরক্ষিত বর্ণনা হলো সাজদাহর মধ্যে দুআ করা(২)।

৩: সাঈদ ইবনে মাসরূক: এটি ইবনে আবি শাইবাহ (২/ ৪৯১) বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবুল আহওয়াস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে মাসরূক থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস আবু রুশদীন কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি আমার খালা মাইমুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে রাত কাটিয়েছিলাম, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও তাঁর নিকট রাত কাটিয়েছিলেন। আমি তাঁকে দেখলাম তিনি রাতের এক সময় উঠলেন এবং সালাত আদায় করলেন, হয় এগারো রাকাত অথবা তেরো রাকাত» এবং এর সনদ সহিহ।

আর ইবনে আবি শাইবাহ (১০/ ২২১) একই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দাবলি হলো: «আমি আমার খালা মাইমুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে রাত কাটিয়েছিলাম, অতঃপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর সাজদাহতে বলতে শুনলাম: «হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর দান করুন, আমার কানে নূর দান করুন, আমার চোখে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন, আমার নিচে নূর দান করুন এবং আমার জন্য নূরকে বাড়িয়ে দিন»।

আর হান্নাদ ইবনে সারী ইবনে আবি শাইবাহর অনুসরণ করেছেন এবং নাসাঈ (১১২১) এটি বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হান্নাদ ইবনে সারী, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে এই একই সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দাবলি হলো: «আমি আমার খালা মাইমুনা বিনতে হারিস (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে রাত কাটিয়েছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও তাঁর নিকট রাত কাটিয়েছিলেন। আমি তাঁকে দেখলাম তিনি তাঁর প্রয়োজনে উঠলেন এবং মশকের কাছে গিয়ে এর মুখ খুললেন, অতঃপর দুই ওজুর মধ্যবর্তী পর্যায়ের একটি ওজু করলেন। তারপর তিনি তাঁর বিছানায় এসে ঘুমিয়ে পড়লেন। এরপর তিনি আবারও উঠলেন এবং মশকের কাছে গিয়ে এর মুখ খুললেন, অতঃপর যথাযথভাবে ওজু করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাজদাহতে বলছিলেন: «হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর দান করুন, আমার কানে নূর দান করুন, আমার চোখে নূর দান করুন, আমার নিচে নূর দান করুন, আমার উপরে নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন, আমার বামে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন এবং আমার জন্য নূরকে বাড়িয়ে দিন», অতঃপর তিনি ঘুমালেন এমনকি তাঁর নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা গেল। এরপর বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর নিকট এসে তাঁকে সালাতের জন্য জাগিয়ে দিলেন»।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৫০)।

(২) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২২৮)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ২৩)
ورواه مسلم (188) (763) حدثنا أبو بكر بن أبى شيبة وهَنَّاد بن السَّرِي قالا حدثنا أبو الأحوص عن سعيد بن مسروق عن سلمة بن كهيل عن أبى رشدين مولى ابن عباس عن ابن عباس رضي الله عنهما قال بت عند خالتي ميمونة رضي الله عنها. واقتص الحديث ولم يذكر غسل الوجه والكفين غير أنَّه قال: «ثم أتى القربة فحل شناقها فتوضأ وضوءًا بين الوضوءين، ثم أتى فراشه فنام، ثم قام قومة أخرى، فأتى القربة فحل شناقها، ثم توضأ وضوءًا هو الوضوء، وقال: «أَعْظِمْ لِي نُورًا» ولم يذكر: «وَاجْعَلْنِي نُورًا».

وأحال على الرواية السابقة لمحمد بن بشار، عن محمد بن جعفر، عن شعبة، عن سلمة، عن كريب.

أبو الأحوص: هو سلام بن سليم.

المشكل من ألفاظ هذه الرواية:

الأول: قوله: «فتوضأ وضوءًا بين الوضوءين، ثم أتى فراشه فنام، … ثم توضأ وضوءًا هو الوضوء» والمحفوظ الوضوء في القومة الثانية(1).

الثاني: قوله: «فصلى إمَّا إحدى عشرة ركعة وإما ثلاث عشرة ركعة» والمحفوظ إحدى عشرة ركعة.

4: عُقِيل بن خالد: رواه مسلم (189) (763) حدثنى أبو الطاهر حدثنا ابن وهب عن عبد الرحمن بن سلمان الحجرى عن عُقِيل بن خالد أنَّ سلمة بن كهيل حدثه أنَّ كريبًا حدثه أنَّ ابن عباس، رضي الله عنهما بات ليلة عند رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى القربة، فسكب منها فتوضأ ولم يكثر من الماء، ولم يقصر في الوضوء وساق الحديث [رواية سعيد بن مسروق المتقدمة] وفيه قال: «ودعا رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلتئذ تسع عشرة كلمة، قال سلمة: حدثنيها كريب، فحفظت منها ثنتي عشرة، ونسيت ما بقي، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ لِي فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي لِسَانِي نُورًا وَفِي سَمْعِي نُورًا وَفِي بَصَرِي نُورًا وَمِنْ فَوْقِي نُورًا وَمِنْ تَحْتِي

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 148).
ইমাম মুসলিম (১৮৮) (৭৬৩) এটি বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ এবং হান্নাদ ইবনে সাররি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, আমাদের কাছে আবু আহওয়াস সাঈদ ইবনে মাসরুক থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস আবু রুশদীন থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র নিকট রাত কাটালাম। এরপর তিনি হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেন তবে মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় ধোয়ার কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু তিনি বলেছেন: "অতঃপর তিনি মশকের কাছে আসলেন এবং এর রশি খুললেন, এরপর এমনভাবে ওযু করলেন যা দুই ওযুর মাঝামাঝি ছিল। তারপর নিজ বিছানায় এসে ঘুমিয়ে পড়লেন। এরপর তিনি পুনরায় উঠলেন এবং মশকের কাছে গিয়ে এর রশি খুললেন। অতঃপর পূর্ণাঙ্গভাবে ওযু করলেন এবং বললেন: 'আমার জন্য নূরকে মহান করে দিন' কিন্তু 'আমাকে নূর বানিয়ে দিন' কথাটি উল্লেখ করেননি।"

এবং তিনি মুহাম্মদ ইবনে বাশশার থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি সালামাহ থেকে, তিনি কুরাইব থেকে বর্ণিত পূর্ববর্তী বর্ণনার দিকে নির্দেশ করেছেন।

আবু আহওয়াস: তিনি হলেন সালাম ইবনে সুলাইম।

এই বর্ণনার শব্দাবলির মধ্যকার জটিল বিষয়সমূহ:

প্রথমত: তাঁর উক্তি: "অতঃপর তিনি এমনভাবে ওযু করলেন যা দুই ওযুর মাঝামাঝি ছিল, তারপর নিজ বিছানায় এসে ঘুমিয়ে পড়লেন, … অতঃপর পূর্ণাঙ্গভাবে ওযু করলেন"। অথচ সংরক্ষিত (বিশুদ্ধ) মত হলো দ্বিতীয়বার উঠার সময়ের ওযু(১)।

দ্বিতীয়ত: তাঁর উক্তি: "অতঃপর তিনি হয় এগারো রাকাত অথবা তেরো রাকাত সালাত আদায় করলেন"। অথচ সংরক্ষিত (বিশুদ্ধ) মত হলো এগারো রাকাত।

৪: উকাইল ইবনে খালিদ: ইমাম মুসলিম (১৮৯) (৭৬৩) এটি বর্ণনা করেছেন। আমার কাছে আবু তাহের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইবনে ওয়াহাব আব্দুর রহমান ইবনে সালমান আল-হাজারি থেকে, তিনি উকাইল ইবনে খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সালামাহ ইবনে কুহাইল তাঁকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, কুরাইব তাঁকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রাত কাটিয়েছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের দিকে উঠলেন এবং তা থেকে পানি ঢাললেন। এরপর তিনি ওযু করলেন, যাতে পানির আধিক্য ছিল না আবার ওযুতে কোনো কমতিও ছিল না। এরপর তিনি হাদীসটি [সাঈদ ইবনে মাসরুকের পূর্ববর্তী বর্ণনা] বর্ণনা করেন। এতে তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই রাতে উনিশটি কালিমা (বাক্য) দিয়ে দোয়া করেছিলেন। সালামাহ বলেন: কুরাইব আমাকে সেগুলো বর্ণনা করেছেন, আমি তার মধ্যে বারোটি মুখস্থ রেখেছি এবং বাকিগুলো ভুলে গিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: 'হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দিন, আমার জিহবায় নূর দিন, আমার শ্রবণেন্দ্রিয়তে নূর দিন, আমার দৃষ্টিতে নূর দিন, আমার উপর থেকে নূর দিন এবং আমার নিচ থেকে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৪৮)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ২৪)
نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَعَنْ شِمَالِي نُورًا وَمِنْ بَيْنِ يَدَيَّ نُورًا وَمِنْ خَلْفِي نُورًا وَاجْعَلْ فِى نَفْسِي نُورًا وَأَعْظِمْ لِي نُورًا».

المشكل في هذه الرواية: قوله: «فحفظت منها ثنتي عشرة ونسيت ما بقي» يأتي بيان المحفوظ من ألفاظ الدعاء(1) وموضعه(2).

5: محمد بن إسحاق: رواه محمد بن نصر - مختصر قيام الليل ص: (105) - حدثنا عبيد الله بن سعد، ثنا عمي، ثنا أبي، عن ابن إسحاق، قال: حدثني عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل سلمة بن كهيل الحضرمي، ومحمد بن الوليد، كلاهما عن كريب، عن عبد الله بن عباس قال: بعثني أبي العباس رضي الله عنه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد العشاء الآخرة في حاجة له، فلما بلغته إياها قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أَيْ بُنَيَّ بِتْ عِنْدَنَا هَذِهِ اللَّيْلَةَ» وكان في بيت ميمونة رضي الله عنها فبت عندهما، فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم وميمونة رضي الله عنها في الحجرة وتوسدا وسادة لهما من أدم محشوة ليفًا(3)، وبت عليها معترضًا عند رأسيهما، فهب رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل فتعار(4) ببصره في السماء، ثم تلا هؤلاء الآيات من آل عمران: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} حتى انتهى إلى خمس آيات، ثم عاد لمضجعه فنام هويًا من الليل(5)، ثم ذهب فتعار ببصره في السماء فتلاهن، ثم قام إلى شن معلقة،(6)، ثم استفرغ منها في إناء، ثم توضأ الوضوء، ثم

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 226).

(2) انظر: (ص: 228).

(3) الليف: ما يغطي أصول (الكرب) عسبان النخل وهو قريب من الشبك بني اللون وسمي ليفًا لأنَّه يلاف منه أي يؤخذ منه. انظر: (ص: 842).

(4) تعار من الليل: هب من نومه واستيقظ وقيل لا يقال تعار إلا إذا كان مع استيقاظه صوت.

انظر: غريب الحديث لأبي عبيد (4/ 135) وأعلام الحديث (1/ 643) والنهاية في غريب الحديث والأثر (1/ 190) وتهذيب اللغة (1/ 76) ولسان العرب (4/ 92).

وقوله: «فتعار ببصره في السماء» أي فتعار فقام فنظر ببصره إلى السماء كما يأتي في رواية شريك عن كريب.

(5) الهوي: الحين الطويل من الزمان، وقيل: هو مختص بالليل يقال: مضى هوي من الليل وهزيع سمي بالمصدر لأنَّ الليل يهوي كل ساعة. انظر: المجموع المغيث (3/ 518) والنهاية في غريب الحديث والأثر (5/ 285) والفائق في غريب الحديث (4/ 119) ولسان العرب (15/ 372).

(6) انظر: (ص: 734).
নূর দান করুন, এবং আমার ডানে নূর, আমার বামে নূর, আমার সামনে নূর, আমার পেছনে নূর; আর আমার সত্তায় নূর দান করুন এবং আমার জন্য নূরকে সুমহান করুন।"

এই বর্ণনার জটিলতা হলো: তাঁর কথা: "আমি তার মধ্য থেকে বারোটি মুখস্থ রেখেছি এবং বাকিগুলো ভুলে গেছি" — দুআর শব্দাবলি থেকে যা সংরক্ষিত হয়েছে এবং তার প্রেক্ষিতের বর্ণনা সামনে আসবে(১)।

৫: মুহাম্মাদ বিন ইসহাক: এটি মুহাম্মাদ বিন নাসর বর্ণনা করেছেন — মুখতাসার কিয়ামুল লাইল পৃষ্ঠা: (১০৫) — উবাইদুল্লাহ বিন সা'দ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমার চাচা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: সালামাহ বিন কুহাইল আল-হাদরামি এবং মুহাম্মাদ বিন আল-ওয়ালিদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের সালাত সম্পর্কে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই কুরাইব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমার পিতা আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু আমাকে ইশার সালাতের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাঁর একটি প্রয়োজনে পাঠালেন। যখন আমি তাঁর কাছে পৌঁছলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: "হে প্রিয় বৎস! আজ রাতে আমাদের কাছেই থাক।" তিনি তখন মাইমুনা রাযিয়াল্লাহু আনহার ঘরে ছিলেন, তাই আমি তাঁদের নিকট রাত যাপন করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মাইমুনা রাযিয়াল্লাহু আনহা কক্ষের ভেতরে ঘুমালেন এবং তাঁরা চামড়ার তৈরি একটি বালিশ ব্যবহার করলেন যা খেজুরের আঁশ দিয়ে ভর্তি ছিল(৩), আর আমি তাঁদের মাথার কাছে আড়াআড়িভাবে শুয়ে রাত কাটালাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা জেগে উঠলেন এবং আকাশের দিকে দৃষ্টি দিলেন(৪), তারপর তিনি আলে-ইমরানের এই আয়াতগুলো পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টিতে...} শেষ পর্যন্ত পাঁচটি আয়াত। এরপর তিনি পুনরায় বিছানায় ফিরে আসলেন এবং রাতের দীর্ঘ সময় ঘুমালেন(৫), এরপর তিনি আবার উঠে আকাশের দিকে দৃষ্টি দিলেন এবং আয়াতগুলো পাঠ করলেন। তারপর তিনি ঝোলানো একটি মশক (পানির পাত্র)-এর দিকে গেলেন(৬), এরপর তা থেকে একটি পাত্রে পানি ঢাললেন এবং অযু করলেন, তারপর

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২২৬)।

(২) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২২৮)।

(৩) আল-লীফ: যা খেজুরের ডগার গোড়া আবৃত করে রাখে। এটি জালের মতো এবং বাদামী রঙের। একে লীফ বলা হয় কারণ এটি পেঁচিয়ে রাখা হয় বা সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয়। দেখুন: (পৃষ্ঠা: ৮৪২)।

(৪) রাতে 'তা'আররা': অর্থাৎ ঘুম থেকে জাগ্রত ও সচেতন হওয়া। বলা হয়ে থাকে যে, জেগে ওঠার সাথে সাথে আওয়াজ বা শব্দ না হলে তাকে 'তা'আররা' বলা হয় না।

দেখুন: আবু উবাইদের গারিবুল হাদীস (৪/১৩৫), আ'লামুল হাদীস (১/৬৪৩), আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদীস ওয়াল আসার (১/১৯০), তাহযীবুল লুগাহ (১/৭৬) এবং লিসানুল আরব (৪/৯২)।

আর তাঁর কথা: "আকাশের দিকে দৃষ্টি দিয়ে জেগে উঠলেন" অর্থাৎ তিনি জেগে উঠলেন এবং দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন, যেমনটি কুরাইব থেকে শুরাইক-এর বর্ণনায় সামনে আসবে।

(৫) আল-হাওয়ি: সময়ের দীর্ঘ মুহূর্ত। কেউ কেউ বলেন: এটি রাতের সাথে নির্দিষ্ট। বলা হয়: রাতের একটি দীর্ঘ প্রহর বা অংশ অতিবাহিত হয়েছে। একে মাসদার (ক্রিয়ামূল) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে কারণ রাত প্রতি মুহূর্তে অতিবাহিত হয় বা গড়িয়ে পড়ে। দেখুন: আল-মাজমুউল মুগীস (৩/৫১৮), আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদীস ওয়াল আসার (৫/২৮৫), আল-ফাইক ফি গারিবিল হাদীস (৪/১১৯) এবং লিসানুল আরব (১৫/৩৭২)।

(৬) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ৭৩৪)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ২৫)
أخذ بردًا له حضرميًا(1) فتوشحه(2)، ثم دخل البيت فقام يصلي، قال ابن عباس رضي الله عنهما: فقمت إلى الشن فاستفرغت منه، ثم توضأت كما رأيته توضأ، ثم دخلت عليه البيت فقمت عن يساره، فأدارني حتى جعلني عن يمينه، ثم وضع يده اليمنى على رأسي وأخذ بأذني اليمنى يفتلها(3)،، فجعل يمسح بها أذني، فعرفت أنَّه إنَّما صنع ذلك ليونسني بيده في ظلمة البيت، ثم صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث عشرة ركعة من الليل، وركعتين بعد طلوع الفجر قبل الصبح، ثم دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم دعاء، فقال لي سلمة: قد ذكر لي كريب دعاءه فلم أحفظ منه إلا اثنتي عشرة كلمة، قوله: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي لِسَانِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا، وَمِنْ فَوْقِي نُورًا، وَمِنْ تَحْتِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ شِمَالِي نُورًا، وَمِنْ بَيْنِ يَدَيَّ نُورًا، وَمِنْ خَلْفِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي نَفْسِي نُورًا، وَأَعْظِمْ لِي نُورًا» ثم اضطجع رسول الله صلى الله عليه وسلم على شقه الأيمن فقام وفي رواية: «ثم اضطجع فنام حتى نفخ، وكان إذا نام نفخ، فأتاه بلال رضي الله عنه فآذنه للصلاة، فقام فصلى ولم يتوضأ» ورواته ثقات عدا ابن إسحاق فهو صدوق.

عبيد الله بن سعد بن إبراهيم بن سعد بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف وعمه يعقوب بن إبراهيم.

المشكل من ألفاظ هذه الرواية:

الأول: قوله: «فلما بلغته إياها قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أَيْ بُنَيَّ بِتْ عِنْدَنَا هَذِهِ اللَّيْلَةَ» المحفوظ إرسال العباس رضي الله عنه ابنه عبد الله رضي الله عنه ليحفظ صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم(4).

--------------------------------------------

(1) البرد ثوب يعصب ثم يصبغ فيبقى ما لم يصبه الصبغ أبيض. وحضرميًا نسبة لحضرموت ويقال برد يماني. وهو الملحفة في رواية سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضي الله عنهما. انظر: مشارق الأنوار (1/ 83) والمحكم والمحيط الأعظم (1/ 451) ولسان العرب (1/ 604) والنظم المستعذب في تفسير غريب ألفاظ المهذب (1/ 113).

(2) التوشح بالبرد وغيره مثل التأبط والاضطباع وهو أن يدخل الثوب من تحت يده اليمنى فيلقيه على عاتقه الأيسر كما يفعله المحرم. انظر: تهذيب اللغة (5/ 95) والمحكم والمحيط الأعظم (3/ 469) ولسان العرب (2/ 633) والمصباح المنير (2/ 358).

(3) انظر: (ص: 11).

(4) انظر: (ص: 160).
তিনি একটি হাদরামি চাদর নিলেন(১) এবং তা দিয়ে ‘তাওয়াশশুহ’ (গায়ের এক পাশ দিয়ে পেঁচিয়ে নেওয়া) করলেন(২), তারপর ঘরে প্রবেশ করে সালাতে দাঁড়ালেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: আমি একটি পানির পাত্রের দিকে গেলাম এবং তা থেকে পানি ঢাললাম, এরপর আমি উনাকে যেভাবে ওযু করতে দেখেছি সেভাবেই ওযু করলাম। তারপর আমি উনার কাছে ঘরে প্রবেশ করলাম এবং উনার বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমাকে ঘুরিয়ে উনার ডান পাশে নিয়ে এলেন, এরপর তিনি উনার ডান হাত আমার মাথার ওপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে তা মলছিলেন(৩)। তিনি তা দিয়ে আমার কান মাসাহ করছিলেন। এতে আমি বুঝতে পারলাম যে, ঘরের অন্ধকারে উনার হাত দিয়ে আমাকে আশ্বস্ত করার জন্যই তিনি কেবল এমনটি করেছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে তেরো রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং ফজরের উদয়ের পর সকালের (ফরযের) আগে দুই রাকাত আদায় করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি দুআ করলেন। সালামাহ আমাকে বললেন: কুরায়ব আমার কাছে উনার দুআটি উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু আমি তা থেকে মাত্র বারোটি শব্দ মুখস্থ করতে পেরেছি, তা হলো: «হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দান করুন, আমার জিহ্বায় নূর দান করুন, আমার শ্রবণে নূর দান করুন, আমার দৃষ্টিতে নূর দান করুন, আমার ওপর থেকে নূর দান করুন, আমার নিচ থেকে নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন, আমার বামে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন, আমার অন্তরাত্মায় নূর দান করুন এবং আমার নূরকে বিশাল করুন» অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার ডান পার্শ্বে শুয়ে পড়লেন এবং পরে উঠলেন। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: «অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন এবং ঘুমালেন এমনকি শ্বাস ছাড়ার শব্দ শোনা গেল, আর তিনি যখন ঘুমাতেন তখন শ্বাস ছাড়ার শব্দ হতো। তারপর বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উনার কাছে এসে সালাতের সংবাদ দিলেন। তখন তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন এবং নতুন করে ওযু করেননি»। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, ইবনে ইসহাক ব্যতীত, তিনি সত্যবাদী।

উবায়দুল্লাহ বিন সা’দ বিন ইবরাহীম বিন সা’দ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ এবং উনার চাচা ইয়াকুব বিন ইবরাহীম।

এই বর্ণনার শব্দাবলির মধ্যে অস্পষ্টতা:

প্রথমত: উনার উক্তি: «যখন আমি তা উনার কাছে পৌঁছালাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: ‘হে বৎস! আজ রাত আমাদের কাছেই থাক’»। সংরক্ষিত বর্ণনা হলো আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উনার পুত্র আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে পাঠিয়েছিলেন যাতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত পর্যবেক্ষণ করতে পারেন(৪)।

--------------------------------------------

(১) ‘বুরদ’ হলো এমন কাপড় যা গিট দিয়ে বেঁধে রঙ করা হয়, ফলে যে অংশে রঙ লাগে না তা সাদা থেকে যায়। আর ‘হাদরামি’ হলো হাদরামাউতের সাথে সম্পর্কিত, একে ইয়ামানি চাদরও বলা হয়। সাঈদ ইবনে জুবায়ের কর্তৃক ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত বর্ণনায় এটি হলো ‘মিলহাফাহ’ (গায়ে জড়ানোর চাদর)। দেখুন: মাশারিগুল আনওয়ার (১/ ৮৩), আল-মুহকাম ওয়াল মুহিতুল আ’জম (১/ ৪৫১), লিসানুল আরব (১/ ৬০৪) এবং আন-নাযমুল মুসতা’যাব ফি তাফসিরি গারিব আলফাযিল মুহায্যাব (১/ ১১৩)।

(২) চাদর বা অন্য কিছু দিয়ে ‘তাওয়াশশুহ’ করা বগলতলে রাখা বা ইজতিবা করার মতো; আর তা হলো কাপড়টিকে ডান হাতের নিচ দিয়ে প্রবেশ করিয়ে বাম কাঁধের ওপর রাখা, যেমনটি ইহরামধারী ব্যক্তি করে থাকেন। দেখুন: তাহযিবুল লুগাহ (৫/ ৯৫), আল-মুহকাম ওয়াল মুহিতুল আ’জম (৩/ ৪৬৯), লিসানুল আরব (২/ ৬৩৩) এবং আল-মিসবাহুল মুনির (২/ ৩৫৮)।

(৩) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১১)।

(৪) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৬০)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ২৬)
الثاني: قوله: «أدم محشوة ليفًا» ليس محفوظًا(1).

الثالث: قوله: «ثم تلا هؤلاء الآيات من آل عمران: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} حتى انتهى إلى خمس آيات … فتلاهن» المحفوظ قراءة عشر آيات من آخر آل عمران(2).

الرابع: قوله: «ثم استفرغ منها في إناء ثم توضأ الوضوء» المحفوظ الوضوء من القربة(3).

الخامس: قوله: «ثم أخذ بردًا له حضرميًا فتوشحه» ليس محفوظًا(4).

السادس: قوله: «فعرفت أنَّه إنَّما صنع ذلك ليونسني بيده في ظلمة البيت» المحفوظ من مس الأذن بعد أن غفا(5).

السابع: قوله: «ثم صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث عشرة ركعة من الليل، وركعتين بعد طلوع الفجر قبل الصبح» المحفوظ صلاة ثلاث عشرة ركعة مع راتبة الفجر(6).

الثامن: قوله: «ذكر لي كريب دعاءه فلم أحفظ منه إلا اثنتي عشرة كلمة»(7).

التاسع: قوله: «ثم اضطجع رسول الله صلى الله عليه وسلم على شقه الأيمن» ويأتي أنَّ صفة الاضطجاع لم تحفظ(8).

6: محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى: رواه الطبراني في الكبير (11/ 419) حدثنا محمد بن عبد الله الحضرمي، ثنا محمد بن عمران بن أبي ليلى، حدثني أبي، عن ابن أبي ليلى، ح، وحدثنا عيسى بن محمد السمسار الواسطي، ثنا وهب

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 167).

(2) انظر: (ص: 138).

(3) انظر: (ص: 150).

(4) انظر: (ص: 200).

(5) انظر: (ص: 182).

(6) انظر: (ص: 202).

(7) انظر: (ص: 221).

(8) انظر: (ص: 258).
দ্বিতীয়ত: তাঁর কথা: «খেজুরের আঁশ ভর্তি চামড়া» এটি সংরক্ষিত নয়(১)।

তৃতীয়ত: তাঁর কথা: «অতঃপর তিনি আল-ইমরানের এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেন: {নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে...} এমনকি পাঁচটি আয়াত শেষ করা পর্যন্ত … অতঃপর তিনি সেগুলো পাঠ করলেন»। সংরক্ষিত বর্ণনা হলো আল-ইমরানের শেষ দিক থেকে দশটি আয়াত পাঠ করা(২)।

চতুর্থত: তাঁর কথা: «অতঃপর তিনি তা থেকে একটি পাত্রে ঢাললেন এবং অজু করলেন»। সংরক্ষিত বর্ণনা হলো মশক থেকে অজু করা(৩)।

পঞ্চমত: তাঁর কথা: «অতঃপর তিনি তাঁর একটি হাজরামি চাদর নিলেন এবং তা পরিধান করলেন» এটি সংরক্ষিত নয়(৪)।

ষষ্ঠত: তাঁর কথা: «আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি ঘরের অন্ধকারে তাঁর হাতের মাধ্যমে আমাকে স্বস্তি দেওয়ার জন্যই এটি করেছেন»। সংরক্ষিত বর্ণনা হলো তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়ার পর কান স্পর্শ করা সংক্রান্ত(৫)।

সপ্তমত: তাঁর কথা: «অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তেরো রাকাত নামাজ পড়লেন এবং ফজরের উদয়ের পর সকালের (ফরজ) নামাজের আগে দুই রাকাত পড়লেন»। সংরক্ষিত বর্ণনা হলো ফজরের সুন্নাতসহ তেরো রাকাত নামাজ পড়া(৬)।

অষ্টমত: তাঁর কথা: «কুরাইব আমার কাছে তাঁর দোয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আমি তা থেকে মাত্র বারোটি শব্দ মুখস্থ রাখতে পেরেছি»(৭)।

নবমত: তাঁর কথা: «অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান কাতে শয়ন করলেন»। সামনে আসবে যে, শয়ন করার এই পদ্ধতিটি সংরক্ষিত নয়(৮)।

৬: মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা: তাবারানি এটি ‘আল-কাবীর’ গ্রন্থে (১১/৪১৯) বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাজরামি, তিনি মুহাম্মাদ বিন ইমরান বিন আবি লায়লা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে। (অন্য সূত্রে) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন মুহাম্মাদ আস-সামসার আল-ওয়াসিতি, তিনি ওয়াহাব থেকে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৬৭)।

(২) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৩৮)।

(৩) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৫০)।

(৪) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২০০)।

(৫) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৮২)।

(৬) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২০২)।

(৭) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২২১)।

(৮) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২৫৮)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ২৭)
بن بقية، أنا خالد، عن ابن أبي ليلى، عن سلمة بن كهيل، عن كريب، عن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: «بت عند خالتي ميمونة بنت الحارث رضي الله عنها، زوج النبي صلى الله عليه وسلم، فقلت: لأحفظنَّ صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف يصنع، فجاء من المسجد فأتى ناحية الدار فقضى حاجته، ثم أتى القربة فأطلق شناقها(1) فغسل وجهه ويديه، ثم أخذ مضجعه فمكث ما شاء الله، ثم قام فأتى ناحية الدار، ثم أتى القربة فأطلق شناقها، ثم توضأ وضوءًا بين الوضوءين لم يكثر إهراقة الماء وقد أسبغ الوضوء، ثم أتى المسجد. قال: فصنعت كما صنع، ثم جئت فقمت عن يساره، فأخذ بيدي فمدها من خلفي فأقامني، عن يمينه وصلى ثمان ركعات وأوتر بثلاث، ثم صلى ركعتين، ثم قال: «اللهُمَّ اجْعَلْ لِي نُورًا فِي قَلْبِي، وَنُورًا فِي سَمْعِي، وَنُورًا فِي بَصَرِي، وَنُورًا فِي شَعْرِي، وَنُورًا فِي بَشَرِي، وَنُورًا فِي لَحْمِي، وَنُورًا فِي دَمِي، وَنُورًا مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَنُورًا مِنْ خَلْفِي، وَنُورًا عَنْ يَمِينِي، وَنُورًا عَنْ شِمَالِي، وَنُورًا مِنْ تَحْتِي، وَنُورًا مِنْ فَوْقِي، اللهُمَّ أَعْطِنِي نُورًا، وَاجْعَلْ لِي نُورًا، وَأَعْظِمْ لِي نُورًا» وإسناده ضعيف جدًا وفي متنه بعض النكارة.

محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى ضعيف، قال الحافظ ابن حجر: صدوق سيء الحفظ جدًا.

المشكل من ألفاظ هذه الرواية:

الأول: قوله: «ثم أتى المسجد» والمحفوظ صلاة النبي صلى الله عليه وسلم في بيته(2).

الثاني: قوله: «وَنُورًا فِي شَعْرِي، وَنُورًا فِي بَشَرِي، وَنُورًا فِي لَحْمِي، وَنُورًا فِي دَمِي» يأتي بيان الثابت(3).

الثالث: «صلى ثمان ركعات وأوتر بثلاث» يسلم من كل ركعتين وأوتر بواحدة(4).

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 17).

(2) انظر: (ص: 194).

(3) انظر: (ص: 226).

(4) انظر: (ص: 230).
ইবনে বাকিয়্যাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ, তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি আমার খালা মাইমুনা বিনতে আল-হারিস (রাযিয়াল্লাহু আনহা), যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিনী ছিলেন, তাঁর নিকট রাত কাটালাম। আমি মনে মনে বললাম: আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামায লক্ষ্য করব যে তিনি কীভাবে তা আদায় করেন। তিনি মসজিদ থেকে ফিরে এসে বাড়ির এক কোণে গেলেন এবং তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করলেন। অতঃপর তিনি একটি মশকের কাছে আসলেন এবং সেটির বাঁধন খুললেন(১), এরপর তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাত ধৌত করলেন। এরপর তিনি শয্যা গ্রহণ করলেন এবং আল্লাহ যতটুকু চাইলেন তিনি সেখানে অবস্থান করলেন। তারপর তিনি উঠলেন এবং বাড়ির এক কোণে গেলেন, এরপর মশকের কাছে এসে সেটির বাঁধন খুললেন। অতঃপর তিনি দুই ওযুর মাঝামাঝি ধরনের একটি ওযু করলেন, তিনি অতিরিক্ত পানি ব্যয় করেননি অথচ তিনি পূর্ণাঙ্গ ওযু সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর তিনি মসজিদের দিকে গেলেন। তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: তিনি যেরূপ করেছিলেন আমিও সেরূপ করলাম। এরপর আমি এসে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমার পিছন দিক দিয়ে টেনে আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। তিনি আট রাকাত নামায পড়লেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়লেন। তারপর তিনি দুই রাকাত নামায পড়লেন। এরপর তিনি বললেন: «হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দান করুন, আমার শ্রবণে নূর দান করুন, আমার দৃষ্টিতে নূর দান করুন, আমার চুলে নূর দান করুন, আমার চামড়ায় নূর দান করুন, আমার মাংসে নূর দান করুন, আমার রক্তে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পিছনে নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন, আমার বামে নূর দান করুন, আমার নিচে নূর দান করুন এবং আমার উপরে নূর দান করুন। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করুন, আমার জন্য নূর রাখুন এবং আমার নূরকে মহান করে দিন» এবং এর সূত্র অত্যন্ত দুর্বল এবং এর মূল পাঠে কিছু অসামঞ্জস্যতা রয়েছে।

মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা দুর্বল। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: তিনি সত্যবাদী কিন্তু তাঁর মুখস্থ শক্তি অত্যন্ত দুর্বল।

এই বর্ণনার শব্দাবলীর মধ্যকার সমস্যাসমূহ:

প্রথমত: তাঁর কথা: «এরপর তিনি মসজিদের দিকে গেলেন» অথচ সংরক্ষিত বর্ণনা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তাঁর নিজ বাড়িতে নামায পড়া(২)।

দ্বিতীয়ত: তাঁর কথা: «আমার চুলে নূর দান করুন, আমার চামড়ায় নূর দান করুন, আমার মাংসে নূর দান করুন, আমার রক্তে নূর দান করুন» যা প্রমাণিত তার বর্ণনা সামনে আসবে(৩)।

তৃতীয়ত: «আট রাকাত নামায পড়লেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়লেন» অর্থাৎ প্রতি দুই রাকাতে সালাম ফেরানো এবং এক রাকাত বিতর পড়া(৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৭)।

(২) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৯৪)।

(৩) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২২৬)।

(৪) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২৩০)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌ثالثًا: رواية بكير بن عبد الله عن كريب

الرواة عن بكير بن عبد الله:

1: عمرو بن الحارث. 2: سلمة بن كهيل.

1: عمرو بن الحارث: رواه البخاري (698) حدثنا أحمد ومسلم (184) (763) حدثنى هارون بن سعيد الأيلي قالا حدثنا ابن وهب حدثنا عمرو بن الحارث عن بكير الأشج عن كريب عن ابن عباس رضي الله عنهما. وتقدمت في رواية مخرمة بن سليمان عن كريب.

2: سلمة بن كهيل: رواه مسلم (187) (763) حدثني إسحاق بن منصورحدثنا النضر بن شميل أخبرنا وابن ماجه (508) حدثنا أبو بكر محمد بن خلاد الباهلي والطبراني في الكبير (11/ 420) حدثنا معاذ بن المثنى، ثنا مسدد، قالا ثنا يحيى بن سعيد قالا: حدثنا شعبة حدثنا سلمة بن كهيل عن بكير عن كريب عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: وتقدمت في رواية سلمة بن كهيل عن كريب.

 

‌‌رابعًا: رواية شريك بن عبد الله عن كريب:

الرواة عن شريك بن عبد الله:

1: محمد بن جعفر بن أبي كثير. 2: سليمان بن بلال.

1: محمد بن جعفر: رواه مسلم (190) (763) حدثني أبو بكر بن إسحاق والبخاري (4569) (7452) قالا حدثنا سعيد بن أبي مريم أخبرنا محمد بن جعفر قال أخبرني شريك بن عبد الله بن أبي نمر عن كريب عن ابن عباس قال: «بت في بيت ميمونة رضي الله عنها ليلة، والنبي صلى الله عليه وسلم عندها، لأنظر كيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالليل، فتحدث رسول الله صلى الله عليه وسلم مع أهله ساعة ثم رقد، فلما كان ثلث الليل الآخر، أو بعضه، قعد فنظر إلى السماء فقرأ: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} إلى قوله: {لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ} [آل عمران: 190] ثم قام فتوضأ واستن، ثم صلى إحدى عشرة ركعة، ثم أذن بلال رضي الله عنه بالصلاة، فصلى ركعتين، ثم خرج فصلى للناس الصبح».

في رواية البخاري (4569) «بت عند خالتي ميمونة رضي الله عنها، فتحدث رسول الله صلى الله عليه وسلم
তৃতীয়ত: কুরায়ব থেকে বুকায়র বিন আব্দুল্লাহর বর্ণনা

বুকায়র বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনাকারীগণ:

১: আমর বিন আল-হারিস। ২: সালামাহ বিন কুহাইল।

১: আমর বিন আল-হারিস: এটি বুখারী (৬৯৮) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আহমদ বর্ণনা করেছেন; এবং মুসলিম (১৮৪) (৭৬৩) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন বিন সাঈদ আল-আয়লী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের কাছে ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আমর বিন আল-হারিস বর্ণনা করেছেন বুকায়র আল-আশাজ থেকে, তিনি কুরায়ব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে। আর এটি পূর্বে কুরায়ব থেকে মাখরামা বিন সুলায়মানের বর্ণনায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

২: সালামাহ বিন কুহাইল: এটি মুসলিম (১৮৭) (৭৬৩) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে ইসহাক বিন মনসুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে নযর বিন শুমাইল সংবাদ দিয়েছেন; এবং ইবনে মাজাহ (৫০৮) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু বকর মুহাম্মদ বিন খাল্লাদ আল-বাহিলী বর্ণনা করেছেন; এবং তাবারানী আল-কাবীর গ্রন্থে (১১/ ৪২০) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুয়াজ বিন আল-মুসান্না বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের কাছে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের কাছে শু'বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সালামাহ বিন কুহাইল বর্ণনা করেছেন বুকায়র থেকে, তিনি কুরায়ব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে। তিনি বলেন: আর এটি পূর্বে কুরায়ব থেকে সালামাহ বিন কুহাইলের বর্ণনায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

 

চতুর্থত: কুরায়ব থেকে শারীক বিন আব্দুল্লাহর বর্ণনা:

শারীক বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনাকারীগণ:

১: মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আবি কাসীর। ২: সুলায়মান বিন বিলাল।

১: মুহাম্মদ বিন জাফর: এটি মুসলিম (১৯০) (৭৬৩) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে আবু বকর বিন ইসহাক বর্ণনা করেছেন; এবং বুখারী (৪৫৬৯) (৭৪৫২) বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের কাছে সাঈদ বিন আবি মারয়াম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন জাফর সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে শারীক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি নামির সংবাদ দিয়েছেন কুরায়ব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি এক রাতে মায়মুনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে রাত যাপন করলাম যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট ছিলেন, যাতে আমি দেখতে পারি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে কীভাবে সালাত আদায় করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরিবারের সাথে কিছুক্ষণ কথা বললেন এবং তারপর শুয়ে পড়লেন। যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বা তার কিছু অংশ বাকি থাকল, তখন তিনি উঠে বসলেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে...} শেষ পর্যন্ত {নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শন রয়েছে} [আল-ইমরান: ১৯০]। তারপর তিনি দাঁড়ালেন, অজু করলেন এবং মিসওয়াক করলেন। এরপর তিনি এগারো রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সালাতের আজান দিলেন, তখন তিনি দুই রাকাত (সুন্নত) সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি বের হলেন এবং লোকদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন।»

বুখারীর বর্ণনায় (৪৫৬৯) রয়েছে: «আমি আমার খালা মায়মুনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট রাত যাপন করলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কথা বললেন...»
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ২৯)
مع أهله ساعة، ثم رقد، فلما كان ثلث الليل الآخر، قعد فنظر إلى السماء، فقال: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ} ثم قام فتوضأ واستن فصلى إحدى عشرة ركعة»، ثم أذن بلال رضي الله عنه، «فصلى ركعتين ثم خرج فصلى الصبح».

تنبيه: رواية مسلم مختصرة.

محمد بن جعفر بن أبى كثير وثقه يحيى بن معين وابن حجر والذهبي وقال ابن المديني: معروف. وقال النسائي: صالح.

المشكل من ألفاظ هذه الرواية:

الأول: «لأنظر كيف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالليل» هذا هو المحفوظ في سبب نوم ابن عباس رضي الله عنهما(1).

الثاني: قوله: «فتحدث رسول الله صلى الله عليه وسلم مع أهله ساعة ثم رقد»(2).

الثالث: قوله: «فلما كان ثلث الليل الآخر، أو بعضه، قعد فنظر إلى السماء» المحفوظ القيام نصف الليل(3).

الرابع: قوله: «فقال: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ}» يأتي أنَّه قرأ عشر آيات(4).

2: سليمان بن بلال: رواه الطحاوي في شرح مشكل الآثار (5289) حدثنا إبراهيم بن أبي داود قال: حدثنا يحيى بن صالح الوحاظي قال: حدثنا سليمان بن بلال قال: حدثنا شريك بن أبي نمر أنَّ كريبًا مولى ابن عباس أخبره: أنَّه سمع ابن عباس رضي الله عنهما يقول: «بت ليلة عند رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما انصرف من العشاء الآخرة، انصرفت معه، فلما دخل البيت، ركع ركعتين خفيفتين، ركوعهما مثل سجودهما، وسجودهما مثل قيامهما، وذلك في الشتاء، ورسول الله صلى الله عليه وسلم في الحجرة،

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 160).

(2) انظر: (ص: 130).

(3) انظر: (ص: 198).

(4) انظر: (ص: 138).
তাঁর পরিবারের সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটালেন, তারপর ঘুমিয়ে পড়লেন। যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ হলো, তখন তিনি বসলেন এবং আকাশের দিকে তাকালেন, অতঃপর পাঠ করলেন: "নিশ্চয় আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।" এরপর তিনি দাঁড়ালেন, অজু করলেন এবং মিসওয়াক করলেন, অতঃপর এগারো রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আযান দিলেন, তখন তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর বেরিয়ে এসে ফজরের সালাত আদায় করলেন।

সতর্কতা: মুসলিমের বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত।

মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আবি কাসির: ইয়াহইয়া বিন মাঈন, ইবনে হাজার এবং আয-যাহাবি তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইবনুল মাদিনি বলেছেন: তিনি পরিচিত। আর আন-নাসায়ি বলেছেন: তিনি সৎ।

এই বর্ণনার শব্দাবলির মধ্য থেকে অস্পষ্ট বিষয়সমূহ:

প্রথম: "যাতে আমি দেখতে পাই রাতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত কেমন হয়"—ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সেখানে ঘুমানোর কারণ হিসেবে এটিই সংরক্ষিত বর্ণনা(১)।

দ্বিতীয়: তাঁর কথা: "অতঃপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারের সাথে কিছুক্ষণ কথা বললেন, তারপর ঘুমিয়ে পড়লেন"(২)।

তৃতীয়: তাঁর কথা: "যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অথবা তার কিছু অংশ হলো, তখন তিনি বসলেন এবং আকাশের দিকে তাকালেন"—সংরক্ষিত বর্ণনা হলো মধ্যরাতে জাগ্রত হওয়া(৩)।

চতুর্থ: তাঁর কথা: "অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: 'নিশ্চয় আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শন রয়েছে'"—সামনে আসবে যে তিনি দশটি আয়াত পাঠ করেছিলেন(৪)।

২: সুলাইমান বিন বিলাল: এটি আত-তহাবি 'শারহু মুশকিলিল আসার' (৫২৮৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন আবি দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন সালিহ আল-উহাজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুলাইমান বিন বিলাল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শারিক বিন আবি নামির বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইব তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন: তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেন: "আমি এক রাতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রাত যাপন করলাম। যখন তিনি এশার সালাত শেষ করলেন, আমি তাঁর সাথে ফিরে আসলাম। যখন তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন, তিনি সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, যার রুকু ছিল সাজদাহর মতো এবং সাজদাহ ছিল দাঁড়ানোর মতো। সেটি ছিল শীতকাল এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুজরার (কামরার) মধ্যে ছিলেন,

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৬০)।

(২) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৩০)।

(৩) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৯৮)।

(৪) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৩৮)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ৩০)
وأنا في البيت قال: فقلت: والله لأرمقنَّ الليلة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولأنظرنَّ كيف صلاته، قال: فاضطجع مكانه في مصلاه، حتى سمعت غطيطه قال: تَعَارَّ(1)، فقام، فنظر إلى السماء، وفكر، ثم قرأ الخمس الآيات من سورة آل عمران، ثم أخذ سواكًا، فاستن، ثم خرج، فقضى حاجته، ثم رجع إلى شن(2) معلقة، فصب على يده، ثم توضأ، ولم يوقظ أحدًا، ثم قام، فصلى ركعتين، ركوعهما مثل سجودهما، وسجودهما مثل قيامهما، قال: فأراه صلى مثل ما رقد قال: ثم اضطجع مكانه، فرقد، حتى سمعت غطيطه، ثم صنع ذلك خمس مرار، فصلى عشر ركعات، ثم أوتر بواحدة، وأتاه بلال رضي الله عنه، فآذنه بالصبح، فصلى ركعتي الفجر، ثم خرج إلى الصبح» ورواته محتج بهم وفي متنه شذوذ.

إبراهيم بن سليمان بن داود البَرَلُّسِي ترجم له الذهبي في السير فقال الإمام، الحافظ، المتقن، أبو إسحاق إبراهيم بن أبي داود سليمان بن داود الأسدي قال أبو أحمد الحاكم: سمعت ابن جوصا يقول: ذاكرت أبا إسحاق البَرَلُّسِيَّ وكان من أوعية الحديث. وقال ابن يونس: كان أحد الحفاظ المجودين الثقات الأثبات.

ويحيى بن صالح الوحاظي جهمي وثقه ابن معين وابن عدي والخليلي وقال الحاكم أبو أحمد: ليس بالحافظ عندهم. وسليمان بن بلال القرشي وثقه أحمد وابن معين وابن سعد وابن عدي.

وشريك بن عبد الله بن أبي نمر قال يحيى بن معين، والنسائي وابن الجارود: ليس به بأس. ووثقه محمد بن سعد وأبو داود وقال الحافظ ابن حجر: صدوق يخطاء.

المشكل من ألفاظ هذه الرواية:

الأول: قوله: «فلما دخل البيت، ركع ركعتين خفيفتين» المحفوظ أربع ركعات(3).

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 24).

(2) انظر: (ص: 11).

(3) انظر: (ص: 128).
আমি যখন ঘরে ছিলাম, তখন তিনি বললেন: আমি বললাম, আল্লাহর কসম, আজ রাতে আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পর্যবেক্ষণ করব এবং দেখব তাঁর সালাত কেমন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর সালাতের স্থানে শুয়ে পড়লেন, এমনকি আমি তাঁর নাসিকা গর্জন (নিদ্রার শব্দ) শুনতে পেলাম। তিনি বলেন: তিনি রাতের বেলা জাগ্রত হলেন(১), এরপর উঠে আকাশের দিকে তাকালেন এবং চিন্তা করলেন। তারপর সূরা আল-ইমরানের (শেষ) পাঁচটি আয়াত পাঠ করলেন। এরপর তিনি মিসওয়াক নিলেন এবং দাঁত মাজলেন। তারপর বের হয়ে হাজত পূর্ণ করলেন। এরপর একটি ঝুলন্ত পুরোনো মশকের(২) দিকে ফিরে এলেন এবং নিজের হাতের ওপর পানি ঢাললেন। অতঃপর তিনি অজু করলেন এবং কাউকে জাগালেন না। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, যার রুকু ছিল সিজদার মতো দীর্ঘ এবং সিজদা ছিল কিয়ামের মতো দীর্ঘ। তিনি বলেন: আমার মনে হলো তিনি যতটুকু সময় ঘুমিয়েছিলেন, ততটুকু সময় সালাত আদায় করেছেন। তিনি বলেন: এরপর তিনি স্বস্থানে শুয়ে পড়লেন এবং ঘুমালেন, এমনকি আমি তাঁর নাসিকা গর্জন শুনতে পেলাম। এভাবে তিনি পাঁচবার করলেন এবং দশ রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি এক রাকাত বিতর আদায় করলেন। এমতাবস্থায় বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর নিকট এলেন এবং তাঁকে সকালের (ফজরের) কথা জানালেন। তখন তিনি ফজরের দুই রাকাত (সুন্নাত) সালাত আদায় করলেন এবং এরপর ফজরের (ফরজ) সালাতের জন্য বের হলেন। এই বর্ণনার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এর মূল পাঠে 'শুজুজ' (অস্বাভাবিকতা) রয়েছে।

ইবরাহীম ইবনে সুলাইমান ইবনে দাউদ আল-বারাল্লুসী; আয-যাহাবী 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি ইমাম, হাফিজ, অত্যন্ত দক্ষ, আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে আবি দাউদ সুলাইমান ইবনে দাউদ আল-আসাদী। আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন: আমি ইবনে জাওসাকে বলতে শুনেছি: আমি আবু ইসহাক আল-বারাল্লুসীর সাথে হাদীস নিয়ে আলোচনা করেছি এবং তিনি ছিলেন ইলমে হাদীসের আধার। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি ছিলেন হাফিজদের অন্তর্ভুক্ত, অত্যন্ত নিপুণ, বিশ্বস্ত ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী।

ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ আল-উহাযী; তিনি জাহমী ছিলেন। ইবনে মাঈন, ইবনে আদি এবং আল-খালীলী তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেছেন: তাঁদের নিকট তিনি হাফিজ ছিলেন না। আর সুলাইমান ইবনে বিলাল আল-কুরাশী; আহমাদ, ইবনে মাঈন, ইবনে সাদ এবং ইবনে আদি তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

শারীক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি নামির; ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আন-নাসায়ী এবং ইবনুল জারুদ বলেছেন: তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই। মুহাম্মদ ইবনে সাদ এবং আবু দাউদ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার বলেছেন: তিনি সত্যবাদী, তবে ভুল করেন।

এই বর্ণনার শব্দগুলোর মধ্যে জটিলতা:

প্রথম: তাঁর কথা: "যখন তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন, তিনি দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত সালাত আদায় করলেন"; অথচ সংরক্ষিত (সঠিক) বর্ণনা হলো চার রাকাত(৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২৪)।

(২) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১১)।

(৩) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১২৮)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ৩১)
الثاني: قوله: «وذلك في الشتاء» لا يصح تحديده بالشتاء(1).

الثالث: قوله: «ورسول الله صلى الله عليه وسلم في الحجرة، وأنا في البيت» المحفوظ نوم ابن عباس رضي الله عنهما مع النبي صلى الله عليه وسلم في الحجرة(2).

الرابع: قوله: «ثم قرأ الخمس الآيات من سورة آل عمران» المحفوظ قراءة عشر آيات(3).

الخامس: قوله «ثم قام فصلى ركعتين ركوعهما مثل سجودهما، وسجودهما مثل قيامهما» ليس محفوظًا(4).

السادس: قوله: «ثم توضأ، ولم يوقظ أحدًا» هذا هو المحفوظ(5).

السابع: قوله: «ثم صنع ذلك خمس مرار» لا يصح(6).

 

‌‌خامسًا: رواية عمرو بن دينار عن كريب:

الرواة عن عمرو بن دينار:

1: سفيان بن عيينة. 2: داود بن عبد الرحمن العطار. 3: حاتم بن أبي صغيرة.

الأول: سفيان بن عيينة رواه عنه:

1: أحمد (1914) (1915) حدثني سفيان والبخاري (138) (859) حدثنا علي بن عبد الله، قال: حدثنا سفيان ومسلم (186) (763) حدثنا ابن أبي عمر ومحمد بن حاتم عن ابن عيينة - قال ابن أبى عمر حدثنا سفيان - عن عمرو بن دينار عن كريب مولى ابن عباس عن ابن عباس رضي الله عنهما «أنَّه بات عند خالته ميمونة رضي الله عنها، فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل، فتوضأ من شن معلق(7) وضوءًا خفيفًا، فقمت فصنعت مثل ما

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 200).

(2) انظر: (ص: 167).

(3) انظر: (ص: 138).

(4) انظر: (ص: 216).

(5) انظر: (ص: 148 - 155).

(6) انظر: (ص: 216).

(7) قوله: «شن معلق» وتقدم (ص: 24) في رواية محمد بن إسحاق «شن معلقة» فالتذكير باعتبار اللفظ والتأنيث باعتبار القربة. انظر: عمدة القاري (2/ 369).
দ্বিতীয়ত: তাঁর বক্তব্য: «আর তা ছিল শীতকালে» — শীতকাল হিসেবে একে নির্দিষ্ট করা সঠিক নয়(১)।

তৃতীয়ত: তাঁর বক্তব্য: «আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুজরায় (কক্ষে) ছিলেন, আর আমি ঘরে ছিলাম» — সংরক্ষিত বর্ণনা হলো ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে হুজরাতেই ঘুমিয়েছিলেন(২)।

চতুর্থত: তাঁর বক্তব্য: «অতঃপর তিনি সূরা আলে ইমরানের পাঁচটি আয়াত পাঠ করলেন» — সংরক্ষিত বর্ণনা হলো দশটি আয়াত পাঠ করা(৩)।

পঞ্চমত: তাঁর বক্তব্য: «অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, যার রুকু ছিল সিজদাহর মতো এবং সিজদাহ ছিল কিয়ামের মতো» — এটি সংরক্ষিত নয়(৪)।

ষষ্ঠত: তাঁর বক্তব্য: «অতঃপর তিনি অযু করলেন এবং কাউকে জাগালেন না» — এটিই সংরক্ষিত বর্ণনা(৫)।

সপ্তমত: তাঁর বক্তব্য: «অতঃপর তিনি এরূপ পাঁচবার করলেন» — এটি সঠিক নয়(৬)।

 

‌‌পঞ্চমত: কুরাইব থেকে আমর ইবনে দীনারের বর্ণনা:

আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণনাকারীগণ:

১: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ। ২: দাউদ ইবনে আবদুর রহমান আল-আত্তার। ৩: হাতিম ইবনে আবি সাগিরা।

প্রথমজন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন:

১: আহমাদ (১৯১৪) (১৯১৫) আমার নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন; এবং বুখারি (১৩৮) (৮৫৯) আমাদের নিকট আলী ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন; এবং মুসলিম (১৮৬) (৭৬৩) ইবনে উইয়াইনাহ থেকে ইবনে আবি ওমর ও মুহাম্মদ ইবনে হাতিম বর্ণনা করেছেন — ইবনে আবি ওমর বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন — আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, «তিনি তাঁর খালা মাইমুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট রাত যাপন করেছিলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে উঠলেন এবং ঝুলন্ত একটি চামড়ার পাত্র(৭) থেকে হালকাভাবে অযু করলেন। অতঃপর আমি উঠলাম এবং তিনি যা করেছিলেন তদ্রূপই করলাম...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২০০)।

(২) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৬৭)।

(৩) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৩৮)।

(৪) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২১৬)।

(৫) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৪৮ - ১৫৫)।

(৬) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ২১৬)।

(৭) তাঁর বক্তব্য: «ঝুলন্ত চামড়ার পাত্র (পুংলিঙ্গ শব্দে)»; ইতিপূর্বে (পৃষ্ঠা: ২৪) মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় «ঝুলন্ত চামড়ার পাত্র (স্ত্রীলিঙ্গ শব্দে)» শব্দবন্ধটি অতিবাহিত হয়েছে। এখানে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করা হয়েছে মূল শব্দের বিবেচনায় এবং স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহার করা হয়েছে পানির পাত্র (কিরবাহ) বুঝানোর খাতিরে। দেখুন: উমদাতুল কারি (২/ ৩৬৯)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ৩২)
صنع النبي صلى الله عليه وسلم، ثم جئت فقمت عن يساره، فأخلفني(1) فجعلني عن يمينه، فصلى، ثم اضطجع فنام حتى نفخ، ثم أتاه بلال رضي الله عنه فآذنه بالصلاة، فخرج فصلى الصبح ولم يتوضأ».

تنبيه: روايتا أحمد مختصرتان.

2: ابن جرير في تهذيب الآثار مسند ابن عباس رضي الله عنهما (264) حدثنا سفيان، قال: حدثنا ابن عيينة، عن عمرو، عن كريب، عن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: «دعا لي رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يزيدني علمًا وفهمًا» وإسناده ضعيف.

شيخ ابن جرير الظاهر أنَّه سفيان بن وكيع. وسفيان بن وكيع توسط فيه الحافظ ابن حجر فقال: كان صدوقًا إلا أنَّه ابتلي بورَّاقه فأدخل عليه ما ليس من حديثه فنصح فلم يقبل فسقط حديثه. فهذه الرواية منكرة والله أعلم.

الثاني: داود بن عبد الرحمن العطار: رواه البخاري (726) والترمذي (232) والنسائي (442) قالوا حدثنا قتيبة بن سعيد، قال: حدثنا داود بن عبد الرحمن العطار، عن عمرو بن دينار، عن كريب، مولى ابن عباس، عن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: «صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم ذات ليلة، فقمت عن يساره، فأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم برأسي من ورائي، فجعلني عن يمينه، فصلى ورقد، فجاءه المؤذن، فقام وصلى ولم يتوضأ».

الثالث: حاتم بن أبي صغيرة: رواه الحاكم (3/ 534) أخبرنا أبو عبد الله الصفار، ثنا إسماعيل بن إسحاق، وإبراهيم الحربي في غريب الحديث (3/ 1038) قالا ثنا مسدد بن مسرهد، ثنا يحيى بن سعيد وأحمد (3051) وابن أبي شيبة (12/ 111) قالا حدثنا عبد الله بن بكر، يرويانه عن حاتم بن أبي صغيرة، عن عمرو بن دينار، أنَّ كريبًا، أخبره عن ابن عباس رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم من آخر الليل، فصليت خلفه، فأخذ بيدي، فجرني، فجعلني حذاءه، فلما أقبل رسول الله

--------------------------------------------

(1) أي أداره من خلفه حتى لا يمر بين يديه. انظر: مطالع الأنوار (2/ 444) وإكمال المعلم (3/ 123) وشرح مسلم للنووي (6/ 70) ونخب الأفكار (5/ 191).
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা করেছিলেন, তারপর আমি এসে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমাকে পেছন থেকে ঘুরিয়ে(১) তাঁর ডান পাশে নিয়ে আসলেন। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন, তারপর কাত হয়ে শুয়ে পড়লেন এবং এমনকি তাঁর নিশ্বাসের শব্দ পাওয়া গেল (গভীর ঘুমের কারণে)। এরপর বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর নিকট এসে তাঁকে সালাতের সংবাদ দিলেন। তখন তিনি বের হলেন এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন অথচ নতুন করে অজু করলেন না।

সতর্কীকরণ: আহমদের বর্ণনা দুটি সংক্ষিপ্ত।

২: ইবনে জারীর 'তাহযীবুল আসার' গ্রন্থের 'মুসনাদ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)' অংশে (২৬৪) বর্ণনা করেছেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর থেকে, তিনি কুরায়ব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার জন্য দুআ করেছেন যেন আল্লাহ আমার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধি করে দেন।" তবে এর সানাদ (বর্ণনাসূত্র) দুর্বল।

ইবনে জারীরের শায়খ (শিক্ষক) স্পষ্টত সুফিয়ান বিন ওয়াকী'। আর সুফিয়ান বিন ওয়াকী'র ব্যাপারে হাফিজ ইবনে হাজার মধ্যপন্থী মন্তব্য করে বলেছেন: তিনি সত্যবাদী ছিলেন, তবে তিনি তাঁর নকলনবিশের (ওয়াররাক) মাধ্যমে পরীক্ষায় পতিত হয়েছিলেন; সে তাঁর হাদীসের মধ্যে এমন কিছু ঢুকিয়ে দিয়েছিল যা মূলত তাঁর হাদীস নয়। তাঁকে এ বিষয়ে উপদেশ দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি, ফলে তাঁর হাদীস পরিত্যক্ত হয়েছে। তাই এই বর্ণনাটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য), আর আল্লাহই ভালো জানেন।

দ্বিতীয়: দাউদ বিন আব্দুর রহমান আল-আত্তার: এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৭২৬), তিরমিযী (২৩২) ও নাসাঈ (৪৪২)। তাঁরা বলেছেন: কুতাইবা বিন সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ বিন আব্দুর রহমান আল-আত্তার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর বিন দীনার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরায়ব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি এক রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পেছন থেকে আমার মাথা ধরলেন এবং আমাকে তাঁর ডান পাশে নিয়ে আসলেন। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন এবং শুয়ে পড়লেন। এরপর মুয়াজ্জিন তাঁর নিকট আসলে তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন এবং নতুন করে অজু করলেন না।"

তৃতীয়: হাতিম বিন আবু সাগীরা: এটি বর্ণনা করেছেন হাকেম (৩/৫৩৪), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আস-সাফফার, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসমাঈল বিন ইসহাক। আর ইবরাহীম আল-হারবী 'গারীবুল হাদীস' (৩/১০৩৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ। আর আহমদ (৩০৫১) এবং ইবনে আবি শায়বাহ (১২/১১১) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ে এটি হাতিম বিন আবু সাগীরা থেকে, তিনি আমর বিন দীনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কুরায়ব তাঁকে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "আমি রাতের শেষ ভাগে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁর পেছনে সালাত আদায় করলাম। তখন তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে টেনে তাঁর বরাবর দাঁড় করালেন। এরপর যখন রাসূলুল্লাহ...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ তিনি তাঁকে পেছন দিক থেকে ঘুরিয়ে নিলেন যাতে তিনি তাঁর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম না করেন। দেখুন: মাতালিউল আনোয়ার (২/৪৪৪), ইকমালুল মুয়াল্লিম (৩/১২৩), ইমাম নববীর শারহু মুসলিম (৬/৭০) এবং নুখাবুল আফকার (৫/১৯১)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
صلى الله عليه وسلم على صلاته، خنست(1)، فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما انصرف قال لي: «مَا شَأْنِي أَجْعَلُكَ حِذَائِي فَتَخْنِسُ؟»، فقلت: يا رسول الله، أو ينبغي لأحد أن يصلي حذاءك، وأنت رسول الله الذي أعطاك الله؟ قال: فأعجبته، فدعا الله لي أن يزيدني علمًا وفهمًا قال: ثم «رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم نام حتى سمعته ينفخ، ثم أتاه بلال رضي الله عنه، فقال: يا رسول الله، الصلاة فقام فصلى، ما أعاد وضوءًا» ورواته ثقات.

وحاتم بن أبي صغيرة ثقة وثقه أحمد والبزار وأبو حاتم وأبو زرعة الرازيان وابن شاهين والعجلي وقال ابن سعد ثقة إن شاء الله وذكره البخاري في الكبير ولم يذكر فيه جرحًا ولا تعديلًا ولم يخرج له ولا مسلم من رواية عمرو بن دينار فالذي يظهر لي أنَّ هذه الرواية شاذة لمخالفة حاتم بن أبي صغيرة سفيان بن عيينة عن عمرو بن دينار وكذلك مخالفة بقية الرواة عن كريب وعن ابن عباس رضي الله عنهما والله أعلم.

قال الحاكم: حديث صحيح على شرط الشيخين، ولم يخرجاه بهذه السياقة.

أبو عبد الله الصفار هو محمد بن عبد الله الصفار.

تنبيه: رواية ابن أبي شيبة: «فدعا الله لي أن يزيدني علمًا وفهمًا».

ورواية إبراهيم الحربي: «أقامني حذاءه، فلما أقبل على صلاته انخنست».

المشكل من ألفاظ هذه الروايات:

الأول: قوله: «فلما أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم على صلاته، خنست» وقوله: «مَا شَأْنِي أَجْعَلُكَ حِذَائِي فَتَخْنِسُ؟» وقوله: «أوينبغي لأحد أن يصلي حذاءك، وأنت رسول الله الذي أعطاك الله؟» لا يصح(2).

الثاني: قوله: «فدعا الله لي أن يزيدني علمًا وفهمًا» لا يصح(3).

--------------------------------------------

(1) خَنَسْتُ: تأخرت. انظر: غريب الحديث للحربي (3/ 1039) والنهاية في غريب الحديث (2/ 83) وغريب الحديث لابن الجوزي (1/ 310) ولسان العرب (6/ 71).

(2) انظر: (ص: 181).

(3) انظر: (ص: 191).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সালাতে মনোনিবেশ করলেন, তখন আমি পেছনে সরে গেলাম(১)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন আমাকে বললেন: "আমার কী হলো যে আমি তোমাকে আমার পাশে দাঁড়া করাচ্ছি আর তুমি পেছনে সরে যাচ্ছ?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! কারও কি সাজে আপনার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা, অথচ আপনি আল্লাহর রাসূল যাকে আল্লাহ (এত মর্যাদা) দান করেছেন? বর্ণনাকারী বলেন: এতে তিনি সন্তুষ্ট হলেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর কাছে আমার জন্য দুআ করলেন যেন তিনি আমার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধি করে দেন। তিনি বলেন: এরপর "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘুমাতে দেখলাম এমনকি আমি তাঁর নাসিকাধ্বনি শুনতে পেলাম। অতঃপর বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সালাতের সময় হয়েছে। তখন তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন এবং নতুন করে অজু করলেন না।" এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

হাতম ইবনে আবি সাগীরা নির্ভরযোগ্য। আহমাদ, বাযযার, আবু হাতিম, আবু যুরআ আর-রাযিদ্বয়, ইবনে শাহীন এবং ইজলি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইবনে সাদ বলেছেন, ইনশাআল্লাহ তিনি নির্ভরযোগ্য। বুখারী তাঁর 'আল-কাবীর' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন কিন্তু সেখানে কোনো জরাহ (সমালোচনা) বা তাদীল (প্রশংসা) উল্লেখ করেননি। তিনি বা মুসলিম কেউই আমর ইবনে দীনারের বর্ণনা থেকে তাঁর কোনো হাদিস গ্রহণ করেননি। ফলে আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এই বর্ণনাটি শায (বিচ্ছিন্ন), কারণ হাতম ইবনে আবি সাগীরা আমর ইবনে দীনারের বর্ণনায় সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনার বিরোধিতা করেছেন। তদ্রূপ কুরাইব এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত অন্যান্য বর্ণনাকারীদেরও বিরোধিতা হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

হাকিম বলেন: হাদিসটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্ত অনুযায়ী সহিহ, তবে তাঁরা এই শব্দ বিন্যাসে এটি বর্ণনা করেননি।

আবু আব্দুল্লাহ আস-সাফফার হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সাফফার।

সতর্কবার্তা: ইবনে আবি শায়বার বর্ণনা হলো: "অতঃপর তিনি আল্লাহর কাছে আমার জন্য দুআ করলেন যেন তিনি আমার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধি করে দেন।"

ইব্রাহিম আল-হারবীর বর্ণনা হলো: "তিনি আমাকে তাঁর পাশে দাঁড় করালেন, অতঃপর যখন তিনি সালাতে মনোনিবেশ করলেন, আমি পেছনে সরে গেলাম।"

এই বর্ণনাসমূহের শব্দাবলীর মধ্যে সমস্যাযুক্ত বিষয়সমূহ:

প্রথম: তাঁর কথা: "যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে মনোনিবেশ করলেন, আমি পেছনে সরে গেলাম", এবং তাঁর কথা: "আমার কী হলো যে আমি তোমাকে আমার পাশে দাঁড়া করাচ্ছি আর তুমি পেছনে সরে যাচ্ছ?" এবং তাঁর কথা: "কারও কি সাজে আপনার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা, অথচ আপনি আল্লাহর রাসূল যাকে আল্লাহ (এত মর্যাদা) দান করেছেন?"—এগুলো সহিহ নয়(২)।

দ্বিতীয়: তাঁর কথা: "অতঃপর তিনি আল্লাহর কাছে আমার জন্য দুআ করলেন যেন তিনি আমার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধি করে দেন"—এটি সহিহ নয়(৩)।

--------------------------------------------

(১) খানাস্তু: আমি পেছনে সরে গেলাম। দেখুন: গারিবুল হাদিস-হারবী (৩/ ১০৩৯), আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস (২/ ৮৩), গারিবুল হাদিস-ইবনুল জাওজি (১/ ৩১০) এবং লিসানুল আরব (৬/ ৭১)।

(২) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৮১)।

(৩) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৯১)।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌سادسًا: رواية سالم بن أبي الجعد

رواه أحمد (2321) حدثنا عثمان بن محمد، قال: حدثنا جرير، عن الأعمش، عن سالم بن أبي الجعد، عن كريب، عن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: «قمت مع النبي صلى الله عليه وسلم، في الصلاة عن شماله فأقامني عن يمينه» ورواته ثقات.

وسالم بن أبي الجعد مدلس لكن ذكره ابن حجر في الطبقة الثانية ممن احتمل الأئمة تدليسهم.

المحفوظ عن الأعمش عن سميع مولى ابن عباس - ويأتي في الرواية الثامنة - لكن ممن الخطأ؟

فعثمان بن محمد هو ابن أبي شيبة قال عنه الحافظ ابن حجر: ثقة حافظ شهير وله أوهام.

وجرير بن عبد الحميد ساء حفظه بآخره والأعمش على جلالة قدره اضطرب في بعض روايات حديث ابن عباس رضي الله عنهما.

 

‌‌سابعًا: رواية حبيب بن أبي ثابت عن كريب

رواه أبو داود (1653) حدثنا محمد بن عبيد المحاربي والنسائي في الكبرى (1339) أخبرنا محمد بن إسماعيل بن سمرة الأحمسي، والبزار (5220) حدثنا علي بن المنذر قالوا: حدثنا ابن فضيل، عن الأعمش، عن حبيب، عن كريب، عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «بعثني أبي رضي الله عنه إلى النبي صلى الله عليه وسلم في إبل أعطاها إياه من إبل الصدقة فلما أتاه وكانت ليلة ميمونة وكانت ميمونة رضي الله عنها خالة ابن عباس رضي الله عنهما فأتى المسجد فصلى العشاء ثم جاء فطرح ثوبه(1) ثم دخل مع امرأته في ثيابها فأخذت

--------------------------------------------

(1) قال ابن رجب في فتح الباري (2/ 386) كل ما يلبس على البدن فهو ثوب، سواء كان شاملًا له أو لبعضه، وسواء كان مخيطًا أو غير مخيط، فالإزار ثوب، والقميص ثوب، والقباء ثوب، والسراويل ثوب، والتبان ثوب.

وقال ابن الملقن في شرح العمدة (6/ 33) الثوب لغة غير المخيط كالرداء والإزار ويطلق على المخيط كالقميص وغيره.
ষষ্ঠত: সালিম ইবনে আবিল জা'দ-এর বর্ণনা

আহমাদ (২৩২১) এটি বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জা'দ থেকে, তিনি কুরায়ব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাতে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম, তখন তিনি আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন» এবং এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।

সালিম ইবনে আবিল জা'দ একজন মুদাল্লিস (বর্ণনাকারীর নাম গোপনকারী), তবে ইবনে হাজার তাঁকে দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাদের তাদলীস (তথ্য গোপন করা) ইমামগণ গ্রহণ করেছেন।

আমাশ থেকে সংরক্ষিত (মাহফূয) বর্ণনাটি হলো ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস সামী' থেকে—যা অষ্টম বর্ণনায় আসবে—কিন্তু ভুলটি কার পক্ষ থেকে?

উসমান ইবনে মুহাম্মদ হলেন ইবনে আবি শাইবা; হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি বিশ্বস্ত, প্রসিদ্ধ হাফেজ এবং তাঁর কিছু ভুল রয়েছে।

জারীর ইবনে আব্দুল হামীদের স্মৃতিশক্তি শেষ বয়সে লোপ পেয়েছিল এবং আমাশ তাঁর উচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও ইবনে আব্বাসের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হাদিসের কিছু বর্ণনায় বিভ্রান্তিতে (ইযতিরাব) পড়েছেন।

 

‌‌সপ্তম: কুরায়ব থেকে হাবীব ইবনে আবী সাবিতের বর্ণনা

আবু দাউদ (১৬৫৩) এটি বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আল-মুহারিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; এবং নাসাঈ আল-কুবরাতে (১৩৩৯) বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে সামুরাহ আল-আহমাসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; এবং বাযযার (৫২২০) বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুনযির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তাঁরা বলেছেন: ইবনে ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি হাবীব থেকে, তিনি কুরায়ব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমার পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সাদাকার উট থেকে তাঁকে প্রদানকৃত উটগুলো নিয়ে পাঠালেন। যখন তিনি তাঁর নিকট আসলেন—এবং সেটি ছিল মায়মুনাহর রাত এবং মায়মুনাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন ইবনে আব্বাসের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) খালা—তখন তিনি মসজিদে এলেন এবং এশার সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি ফিরে আসলেন এবং তাঁর পোশাক খুলে রাখলেন(১), এরপর তিনি তাঁর স্ত্রীর সাথে তাঁর পোশাকে প্রবেশ করলেন, তারপর ধরলেন...

--------------------------------------------

(১) ইবনে রজব ফাতহুল বারীতে (২/ ৩৮৬) বলেছেন: শরীরে যা কিছু পরিধান করা হয় তাকেই 'সাওব' (পোশাক) বলা হয়, তা পুরো শরীর আবৃতকারী হোক বা শরীরের কিছু অংশের জন্য হোক, এবং তা সেলাই করা হোক বা সেলাইবিহীন হোক; সুতরাং লুঙ্গি একটি পোশাক, জামা একটি পোশাক, জুব্বা একটি পোশাক, পাজামা একটি পোশাক এবং জাঙ্গিয়াও একটি পোশাক।

ইবনে মুলক্কিন শারহুল উমদাহ-তে (৬/ ৩৩) বলেছেন: আভিধানিক অর্থে পোশাক (সাওব) হলো সেলাইবিহীন কাপড় যেমন চাদর ও লুঙ্গি, এবং এটি সেলাই করা কাপড় যেমন জামা ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) ইস্ববালুল কালাম আলা হাদীসি ইবনি আব্বাস ফিল কিয়াম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ثوبي فجعلت أطويه تحتي ثم اضطجعت عليه ثم قال لا أنام الليلة حتى أنظر إلى ما يصنع رسول الله صلى الله عليه وسلم فنام حتى نفخ حتى ذهب من الليل ما شاء الله أن يذهب ثم قام فخرج فبال ثم أتى سقاء موكأ فحل وكاءه ثم صب على يديه من الماء ثم وطئ على فم السقاء(1) فجعل يغسل يديه ثم توضأ حتى فرغ وأردت أن أقوم فأصب عليه فخفت أن يدع الليل من أجلي ثم قام يصلي فقمت ففعلت مثل الذي فعل ثم أتيته فقمت عن يساره فتناولني بيده فأقامني عن يمينه فصلى ثلاث عشرة ركعة ثم اضطجع حتى جاءه بلال رضي الله عنه فأذن بالصلاة فقام فصلى ركعتين قبل الفجر» ورواته ثقات.

لكن حبيب بن أبي ثابت اضطرب في متنه وإسناده وهذه الرواية شاذة.

وأشار إلى شذوذ هذه الرواية النسائي بقوله: خالفه سعيد بن جبير. والبزار بقوله: هذا الحديث لا نعلم أحدًا قال: عن حبيب، عن كريب، غير محمد بن فضيل. وقد خالفه الثوري وحصين، فقالا: عن محمد بن علي بن عبد الله بن عباس، عن أبيه، عن ابن عباس رضي الله عنهما.

وقال البزار: هذا الحديث لا نعلم أحدًا قال: عن حبيب، عن كريب، غير محمد بن فضيل. وقد خالفه الثوري وحصين، فقالا: عن محمد بن علي بن عبد الله بن عباس، عن أبيه، عن ابن عباس رضي الله عنهما.

وقال ابن رجب في الفتح (5/ 321) روايات الأعمش عن حبيب فيها منكرات؛ فإنَّ حبيب بن أبي ثابت إنَّما يروي هذا الحديث عن محمد بن علي بن عبد الله ابن عباس، عن أبيه، عن جده رضي الله عنه وقال (9/ 126) ذكر الإمام أحمد، أنَّ الأعمش وهم في إسناده. وكذلك أشار ابن عبد البر في التمهيد (13/ 216) إلى شذوذ هذه الرواية.

تنبيه: رواية أبي داود مختصرة: «بعثني أبي رضي الله عنه إلى النبي صلى الله عليه وسلم في إبل، أعطاها إياه من الصدقة».

--------------------------------------------

(1) حتى لا يهراق الماء.
আমার কাপড়, আমি সেটাকে ভাঁজ করে আমার নিচে রাখলাম, তারপর তার ওপর শুয়ে পড়লাম। অতঃপর তিনি বললেন, "আমি আজ রাতে ঘুমাব না যতক্ষণ না দেখি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কী করেন।" অতঃপর তিনি ঘুমালেন এমনকি নাক ডাকার শব্দ শোনা গেল, এভাবে রাতের যতটুকু সময় আল্লাহ চাইলেন অতিবাহিত হলো। তারপর তিনি উঠলেন এবং বাইরে গিয়ে পেশাব করলেন। এরপর একটি মুখবন্ধ চামড়ার মশক নিয়ে আসলেন এবং সেটির বন্ধনী খুললেন। তারপর নিজের দুই হাতে পানি ঢাললেন। এরপর তিনি মশকের মুখের ওপর পা রাখলেন(১) এবং দুই হাত ধুতে লাগলেন। এরপর ওজু করলেন এবং শেষ করলেন। আমি উঠতে চেয়েছিলাম যাতে তাঁর ওপর পানি ঢেলে দিই, কিন্তু ভয় পেলাম যে আমার কারণে হয়তো তিনি রাতের নামাজ ছেড়ে দেবেন। তারপর তিনি নামাজে দাঁড়ালেন, আমিও দাঁড়ালাম এবং তিনি যা যা করলেন আমিও তা-ই করলাম। তারপর আমি তাঁর কাছে এসে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম, তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমাকে ধরলেন এবং তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। তিনি তেরো রাকাত নামাজ পড়লেন, এরপর শুয়ে পড়লেন যতক্ষণ না বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এসে নামাজের আজান দিলেন। এরপর তিনি উঠলেন এবং ফজরের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন।" এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

কিন্তু হাবীব বিন আবি সাবিত এর মতন (মূল পাঠ) ও ইসনাদে (সূত্র) ইজতিরাব (অস্থিরতা) করেছেন এবং এই বর্ণনাটি শায।

নাসাঈ এই বর্ণনার শায হওয়ার দিকে ইশারা করেছেন তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে: "সাঈদ বিন জুবায়ের তাঁর বিরোধিতা করেছেন।" এবং বাযযার বলেছেন: "এই হাদিসটি মুহাম্মাদ বিন ফুযাইল ছাড়া আর কেউ হাবীব থেকে, তিনি কুরাইব থেকে—এভাবে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। অথচ সাওরী এবং হুসাইন তাঁর বিরোধিতা করেছেন; তাঁরা বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।"

এবং বাযযার বলেছেন: "এই হাদিসটি মুহাম্মাদ বিন ফুযাইল ছাড়া আর কেউ হাবীব থেকে, তিনি কুরাইব থেকে—এভাবে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। অথচ সাওরী এবং হুসাইন তাঁর বিরোধিতা করেছেন; তাঁরা বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।"

ইবনে রজব 'ফাতহ' গ্রন্থে (৫/৩২১) বলেছেন: হাবীব থেকে আমাশের বর্ণনাগুলোতে মুনকার (অগ্রহণযোগ্য বিষয়) রয়েছে; কেননা হাবীব বিন আবি সাবিত এই হাদিসটি কেবল মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং তিনি (৯/১২৬) বলেছেন: ইমাম আহমাদ উল্লেখ করেছেন যে, আমাশ এর ইসনাদে ভুল করেছেন। একইভাবে ইবনে আবদিল বার 'আত-তামহীদ' গ্রন্থে (১৩/২১৬) এই বর্ণনার শায হওয়ার প্রতি ইশারা করেছেন।

সতর্কবার্তা: আবু দাউদের বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত: "আমার পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে উটের বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পাঠিয়েছিলেন, যা তিনি তাঁকে সদকা থেকে দিয়েছিলেন।"

--------------------------------------------

(১) যাতে পানি গড়িয়ে না পড়ে।