(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح المفصل لابن يعيش القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح المفصل للزمخشري
المؤلف: يعيش بن علي بن يعيش ابن أبي السرايا محمد بن علي، أبو البقاء، موفق الدين الأسدي الموصلي، المعروف بابن يعيش وبابن الصانع (ت 643هـ)
قدم له: الدكتور إميل بديع يعقوب
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الأجزاء: 6 (5 وجزء للفهارس)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 شوّال 1435
ইবনে ইয়াঈশ কৃত শারহুল মুফাসসাল বিভাগ: নাহু ও সরফ
কিতাব: যামাখশারী কৃত শারহুল মুফাসসাল
লেখক: ইয়াঈশ বিন আলী বিন ইয়াঈশ ইবনে আবিল সারায়া মুহাম্মদ বিন আলী, আবু আল-বাকা, মুওয়াফফাকুদ্দীন আল-আসাদী আল-মাওসিলী, যিনি ইবনে ইয়াঈশ এবং ইবনে আস-সানি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৪৩ হি.)
উপস্থাপনায়: ডক্টর এমিল বাদি ইয়াকুব
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হি. - ২০০১ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ৬ (৫ এবং ১ খণ্ড নির্ঘণ্টের জন্য)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ শাওয়াল ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح المفصل للزمخشري
تأليف
موفّق الدين أبي البقاء يعيش بن علي بن يعيش الموصلي
المتوفى سنة 643هـ
قدّم له ووضع هوامشه وفهارسه
الدكتور إميل بديع يعقوب
الجزء الأول
منشورات
محمد على بيضون
لنشر كتب السنة والجماعة
دار الكتب العلمية
بيروت - لبنان
যামাখশারী রচিত আল-মুফাসসাল-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ
রচনায়
মুওয়াফফাকুদ্দিন আবুল বাকা ইয়ায়িশ বিন আলী বিন ইয়ায়িশ আল-মাওসিলি
মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরী
উপোদঘাটন, টীকা ও নির্ঘণ্ট প্রণয়নে
ডক্টর এমিল বাদি' ইয়াকুব
প্রথম খণ্ড
প্রকাশনায়
মুহাম্মদ আলী বায়দুন
সুন্নাহ ও জামাআতের গ্রন্থসমূহ প্রকাশের নিমিত্তে
দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ
বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ২)
دار الكتب العلمية
جميع الحقوق محفوظة
جميع حقوق الملكية الادبية والفنيه محفوظة لدار الكتب العلمية بيروت - لبنان
ويحظر طبع أو تصوير أو ترجمة أو إعادة تنضيد الكتاب كاملاً أو مجزأ أو تسجيله على أشرطة كاسيت أو إدخاله على الكمبيوتر أو برمجته على اسطوانات ضوئية إلا بموافقة الناشر خطيًّا.
الطَبعَة الأوْلى
1422هـ - 2001م
ــ
دار الكتب العلمية
بيروت- لبنان
رمل الظريف. شارع البحتري، بناية ملكارت
هاتف وفاكس: 364398 - 366135 - 378542 (9611)
صندوق بريد:1109424 بيروت- لبنان
দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
লেবাননের বৈরুতস্থ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ-এর জন্য সকল সাহিত্যিক ও শৈল্পিক মালিকানা স্বত্ব সংরক্ষিত
প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই গ্রন্থের সম্পূর্ণ বা আংশিক মুদ্রণ, অনুলিপি, অনুবাদ, পুনরায় বিন্যাস, ক্যাসেট ফিতায় ধারণ, কম্পিউটারে তথ্য ভুক্তি বা অপটিক্যাল ডিস্কে প্রোগ্রাম করা নিষিদ্ধ।
প্রথম সংস্করণ
১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
--
দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ
বৈরুত- লেবানন
রামল আজ-জারিফ। বুহতারি সড়ক, মেলকার্ট ভবন
ফোন ও ফ্যাক্স: ৩৬৪৩৯৮ - ৩৬৬১৩৫ - ৩৭৮৫৪২ (৯৬১১)
ডাকবক্স: ১১০৯৪২৪ বৈরুত- লেবানন
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ৩)
القسم الأولترجمة الزمخشري (صاحب "المفصّل")وترجمة ابن يعيش (صاحب الشرح)
প্রথম অংশআল-জামাখশারীর জীবনী ("আল-মুফাসসাল" গ্রন্থের রচয়িতা)এবং ইবনে ইয়াঈশ-এর জীবনী (ব্যাখ্যাগ্রন্থের রচয়িতা)
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الفصل الأولترجمة الزمخشري (1)
1 - مصادر ترجمته ومراجعها (2):
- الأعلام: 7/ 178.
- إنباه الرواة: 3/ 265 - 272.
- إيضاح المكنون: 1/ 67؛ 2/ 86.
- البداية والنهاية: 12/ 235.
- بغية الوعاة: 2/ 279 - 280.
- تاج العروس: 11/ 448 - 451 (زمخشر).
- تاريخ آداب اللغة العربية: 3/ 46 - 48.
- تاريخ الأدب العربي لكارل بروكلمان: 5/ 215 - 238.
- تاريخ الإِسلام (وفيات 521 - 540 هـ). ص 486 - 490.
- دائرة المعارف الإِسلامية: 10/ 403 - 410.
- روضات الجنات: ص 211 - 214.
- (كتاب) الزمخشري لأحمد محمَّد الحوفيّ.
- سير أعلام النبلاء: 20/ 151 - 156.
- شذرات الذهب: 4/ 118 - 121.
- ذوات الوفيات: 4/ 183.
- الكامل في التاريخ: 11/ 97.
- كشف الظنون ص 117، 164، 185، 616، 781، 791، 831، 832، 895، 915، 1009، 1022، 1056، 1082، 1085، 1206، 1217، 1326، 1398، 1407، 1427، 1475، 1539، 1584، 1607، 1674، 1675، 1734، 1774، 1791، 1798، 1837، 1877، 1890، 1955، 1978.
- لسان الميزان: 6/ 4.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদআল-জামাকশারীর জীবনী (১)
১ - তাঁর জীবনীর উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহ (২):
- আল-আ'লাম: ৭/ ১৭৮।
- ইনবাহুর রুওয়াত: ৩/ ২৬৫ - ২৭২।
- ইদাহুল মাকনুন: ১/ ৬৭; ২/ ৮৬।
- আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১২/ ২৩৫।
- বুগয়াতুল উয়াত: ২/ ২৭৯ - ২৮০।
- তাজুল আরুস: ১১/ ৪৪৮ - ৪৫১ (জামাকশার)।
- তারিখু আদাবিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ: ৩/ ৪৬ - ৪৮।
- কার্ল ব্রুকলম্যানের তারিখুল আদাবিল আরাবি: ৫/ ২১৫ - ২৩৮।
- তারিখুল ইসলাম (৫২১ - ৫৪০ হিজরির ওফাত)। পৃষ্ঠা ৪৮৬ - ৪৯০।
- দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ: ১০/ ৪০৩ - ৪১০।
- রওদাতুল জান্নাত: পৃষ্ঠা ২১১ - ২১৪।
- আহমদ মুহাম্মদ আল-হুফী রচিত 'আল-জামাকশারী' (গ্রন্থ)।
- সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ২০/ ১৫১ - ১৫৬।
- শাজারাতুজ জাহাব: ৪/ ১১৮ - ১২১।
- ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত: ৪/ ১৮৩।
- আল-কামিল ফিত তারিখ: ১১/ ৯৭।
- কাশফুজ জুনুন: পৃষ্ঠা ১১৭, ১৬৪, ১৮৫, ৬১৬, ৭৮১, ৭৯১, ৮৩১, ৮৩২, ৮৯৫, ৯১৫, ১০০৯, ১০২২, ১০৫৬, ১০৮২, ১০৮৫, ১২০৬, ১২১৭, ১৩২৬, ১৩৯৮, ১৪০৭, ১৪২৭, ১৪৭৫, ১৫৩৯, ১৫৮৪, ১৬০৭, ১৬৭৪, ১৬৭৫, ১৭৩৪, ১৭৭৪, ১৭৯১, ১৭৯৮, ১৮৩৭, ১৮৭৭, ১৮৯০, ১৯৫৫, ১৯৭৮।
- লিসানুল মিজান: ৬/ ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ৬)
- مجلة "المجمع العلميّ العربي: 5/ 135.
- المختصر في أخبار البشر: 3/ 17.
- مرآة الجنان: 3/ 269 - 271.
- معجم الأدباء: 19/ 126 - 135.
معجم البلدان: 3/ 147 (زمخشر).
- معجم اللغويين العرب: 2/ 263.
- معجم المؤلفين: 12/ 186 - 187.
- معجم المطبوعات العربية والمعربة ص 973.
- مفتاح السعادة: 1/ 429 - 430.
- المنتظم في تاريخ الأمم والملوك: 18/ 37 - 38.
- النجوم الزاهرة: 5/ 274.
- نزهة الألباء: ص 469 - 478.
- هدية العارفين: 2/ 402، 403.
- وفيات الأعيان: 5/ 168 - 174 (1).
2 - اسمه، وكنيته، ولقبه، وحياته:هو محمود بن عمر بن محمَّد بن أحمد (2)، أبو القاسم، جار الله، الزمخشري. ولد يوم الأربعاء في السابع والعشرين من رجب سنة 467 هـ /1074م (3) في قرية تُدعى "زمخشر" القريبة جدًّاا من خوارزم، حتى إنها دخلت في جملة المدينة عندما كثرت العمارة في هذه الأخيرة (4). ومن هنا نسبته الزمشخريّ، أمّا "جار الله" فلقب لقَّب نفسه به لأنّه جاور بمكة زمنًا، فصار هذا اللقب علمًا عليه (5)، وأمّا "فخر خوارزم" (6) فلقب آخر لقّبه الناسُ به بعد أن قصدوه للانتفاع بعلمه.
--------------------------------------------
- 'আরবি সায়েন্টিফিক একাডেমি' সাময়িকী: ৫/ ১৩৫।
- আল-মুখতাসার ফি আখবারিল বাশার: ৩/ ১৭।
- মিরাতুল জিনান: ৩/ ২৬৯ - ২৭১।
- মুজামুল উদাবা: ১৯/ ১২৬ - ১৩৫।
মুজামুল বুলদান: ৩/ ১৪৭ (যামাখশার)।
- মুজামুল লুগাবিয়্যিনাল আরব: ২/ ২৬৩।
- মুজামুল মুআল্লিফিন: ১২/ ১৮৬ - ১৮৭।
- মুজামুল মাতবুআতিল আরাবিয়্যাহ ওয়াল মুআরাবাহ, পৃষ্ঠা ৯৭৩।
- মিফতাহুস সাআদাহ: ১/ ৪২৯ - ৪৩০।
- আল-মুনতাজাম ফি তারিখিল উমাম ওয়াল মুলুক: ১৮/ ৩৭ - ৩৮।
- আন-নুজুমুজ জাহিরাহ: ৫/ ২৭৪।
- নুযহাতুল আলিব্বা: পৃষ্ঠা ৪৬৯ - ৪৭৮।
- হাদিয়্যাতুল আরিফিন: ২/ ৪০২, ৪০৩।
- ওয়াফায়াতুল আইয়ান: ৫/ ১৬৮ - ১৭৪ (১)।
২ - তাঁর নাম, উপনাম, উপাধি এবং জীবন:তিনি হলেন মাহমুদ বিন উমর বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ (২), আবুল কাসিম, জারুল্লাহ, আয-যামাখশারী। তিনি ৪৬৭ হিজরি সনের ২৭শে রজব / ১০৭৪ খ্রিস্টাব্দ (৩) বুধবার দিন "যামাখশার" নামক একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, যা খাওয়ারিযমের অতি নিকটবর্তী ছিল; এমনকি পরবর্তীকালে যখন খাওয়ারিযমের নির্মাণশৈলী ও জনবসতি বৃদ্ধি পায়, তখন এটি শহরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় (৪)। এখান থেকেই তাঁর নিসবাত বা সম্বন্ধসূচক নাম হয়েছে "আয-যামাখশারী"। আর "জারুল্লাহ" হলো এমন একটি উপাধি যা তিনি নিজেই নিজের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন, কারণ তিনি দীর্ঘকাল মক্কায় অবস্থান (জিওয়ার) করেছিলেন। ফলে এই উপাধিটিই তাঁর প্রধান পরিচিতি হয়ে দাঁড়ায় (৫)। আর "ফাখরে খাওয়ারিযম" (৬) হলো অন্য একটি উপাধি যা মানুষ তাঁকে প্রদান করেছিল, যখন তারা তাঁর জ্ঞান থেকে উপকৃত হওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে আসত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ৭)
نشأ الزمخشريّ بزمخشر، ودرس بها، ثمّ رحل إلى بخارى لطلب العلم (1)، ثم إلى خراسان حيث اتصل ببعض رجال الدولة السلجوقيّة ومدحهم (2)، ثمّ إلى أصفهان حيث مدح ملكها محمَّد بن أبي الفتح ملكشاه (3)، ثمّ إلى بغداد حيث ناظر بها وسمع من علمائها (4)، فإلى مكة حيث اتصل بأميرها أبي الحسن علي بن حمزة بن وهّاس الشريف الحسنيّ، وكان ذا فضل غزير، وله تصانيف مفيدة وقريحة في النظم والنثر مجيدة (5)، فتبادلا المديح شعرًا (6).
وفي أيام مقامه بالحجاز زار همدان، ومدح آل زرير (7)، ثم طوَّف في بلاد العرب، وزار تربة، وهي وادٍ على مسيرة أربع ليالي من الطائف، يقول: "وطئتُ كلّ تربة في أرض العرب، فوجدت تربة أطيب الترب" (8).
وبعد إقامته مدة بمكة، شاقه وطنه، فعاد إليه، لكنّه سرعان ما حنّ إلى مكة، فعاد إليها، فقيل له: "قد زجَّيتَ أكثر عمرك هناك، فما الموجب"؟ فقال: "القلب الذي لا أجده ثَمَّ أجده ها هنا" (9). وفي أثناء عودته إلى مكة عرّج على الشام، ومدح تاج الملوك بوري طفتكين، صاحب دمشق (10).
وفي مكة لقي من ابن وهّاس ما كان يلقاه من قبل من حفاوة وتعظيم، وكان ابن وهّاس يوافقه في مذهبه، فشجعه على تأليف كتابه "الكشاف" (11).
وبعد مكّة عاد إلى وطنه ثانية، معرجًا على بغداد سنة 533 هـ (12)، وبقي في خوارزم إلى أن أتته المنيّة ليلة عرفة سنة 538 هـ/ 1134م بجرجانيّة، وهي قصبة خوارزم على شاطئ نهر جيحون (13). وقد رثاه بعضهم بأبيات، من جملتها [من البسيط]:
فأرضُ مكَّةَ تذري الدمعَ مقلتُها
… حزنًا لفرقةِ جار الله محمودِ (14)
وروي أنّه أوصى أن تُكتب على قبره الأبيات التالية [من الكامل]:
يا مَنْ يرى مَدَّ البعوضِ جناحَها
… في ظلمةِ الليلِ البهيمِ الأليلِ
--------------------------------------------
যামাখশারী যামাখশারে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই পড়াশোনা করেন। তারপর ইলম অন্বেষণের জন্য তিনি বুখারায় গমন করেন (১)। এরপর তিনি খুরাসানে যান, যেখানে তিনি সেলজুক রাষ্ট্রের কিছু উচ্চপদস্থ ব্যক্তির সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁদের প্রশংসা করেন (২)। এরপর তিনি ইসফাহানে যান এবং সেখানকার রাজা মুহাম্মদ ইবন আবিল ফাতহ মালিকশাহের প্রশংসা করেন (৩)। এরপর তিনি বাগদাদে যান, সেখানে তিনি বিতর্কে লিপ্ত হন এবং সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন (৪)। অতঃপর তিনি মক্কায় গমন করেন এবং সেখানকার আমির আবুল হাসান আলী ইবন হামযাহ ইবন ওয়াহহাস আশ-শরীফ আল-হাসানীর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন। আমির অত্যন্ত গুণী ব্যক্তি ছিলেন এবং গদ্য ও পদ্য উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর চমৎকার লেখনী ও প্রতিভা ছিল (৫)। তাঁরা উভয়ে কবিতার মাধ্যমে একে অপরের প্রশংসা বিনিময় করেন (৬)।
হিজাজে অবস্থানকালে তিনি হামাদান সফর করেন এবং আল-যুরেইর পরিবারের প্রশংসা করেন (৭)। এরপর তিনি আরব দেশগুলোতে ভ্রমণ করেন এবং 'তুরাবাহ' পরিদর্শন করেন, যা তায়েফ থেকে চার রাতের দূরত্বে অবস্থিত একটি উপত্যকা। তিনি বলেন: "আমি আরব ভূখণ্ডের প্রতিটি মাটি মাড়িয়েছি, কিন্তু তুরাবাহর মাটিকে আমি সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মাটি হিসেবে পেয়েছি" (৮)।
মক্কায় কিছুদিন অবস্থানের পর তিনি স্বদেশের প্রতি টান অনুভব করেন এবং সেখানে ফিরে যান। কিন্তু শীঘ্রই তিনি পুনরায় মক্কার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন এবং সেখানে ফিরে আসেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "আপনি আপনার জীবনের অধিকাংশ সময় সেখানে কাটিয়ে দিলেন, এর কারণ কী?" তিনি উত্তরে বলেন: "যে হৃদয়ের দেখা সেখানে পাই না, তাকে এখানে খুঁজে পাই" (৯)। মক্কায় ফেরার পথে তিনি সিরিয়া হয়ে যান এবং দামেস্কের অধিপতি তাজুল মুলুক বুরি তুঘতেকিনের প্রশংসা করেন (১০)।
মক্কায় তিনি ইবন ওয়াহহাসের পক্ষ থেকে আগের মতোই আতিথেয়তা ও সম্মান লাভ করেন। ইবন ওয়াহহাস তাঁর মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, তাই তিনি তাঁকে তাঁর গ্রন্থ 'আল-কাশশাফ' রচনার জন্য উৎসাহিত করেন (১১)।
মক্কা থেকে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো স্বদেশে ফিরে যান এবং ৫৩৩ হিজরিতে বাগদাদ হয়ে পথ অতিক্রম করেন (১২)। এরপর তিনি খোয়ারিজমে অবস্থান করেন এবং ৫৩৮ হিজরি মোতাবেক ১১৪৪ খ্রিস্টাব্দের আরাফার রাতে জুরজানিয়া নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন। এটি জেইহুন নদীর তীরে অবস্থিত খোয়ারিজমের প্রধান শহর (১৩)। কেউ কেউ তাঁর স্মরণে কিছু শোকগাঁথা রচনা করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো [বাসিত ছন্দে]:
মক্কার ভূমি তার নয়ন থেকে অশ্রু ঝরাচ্ছে
… জারুল্লাহ মাহমুদের বিচ্ছেদে শোকাতুর হয়ে (১৪)।
বর্ণিত আছে যে, তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁর কবরের ওপর নিম্নোক্ত কবিতাটি লেখা হয় [কামিল ছন্দে]:
হে সেই সত্তা, যিনি মশার ডানা বিস্তার করা দেখতে পান
… ঘুটঘুটে অন্ধকার রজনীর আঁধারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ويرى عروقَ نياطِها في نحرها
… والمخ في تلك العظامِ النُّخَّل
اغْفِرْ لِعَبْدٍ تابَ من فرطاتِه
… ما كانَ منه في الزمانِ الأولِ (1)
3 - أساتذته:تتلمذ الزمخشريّ على علماء عصره، ولعلّ أعظمهم أثرًا في نفسه أبو مضر محمود بن جرير الضبّيّ الأصفهاني (2)، وكان يلقب بفريد العصر ووحيد الدهر في علم اللغة والنحو، فدرس عليه النحو الأدب، وكان الزمخشريّ يحب أستاذه أبا مضر، فلما توفي سنة 507 هـ/ 1113م رثاه بقوله [من الطويل]:
وقائلةٍ: ما هذه الدررُ التي
… تساقطُ من عينيكَ سمطينِ سمطينِ
فقلتُ لها: الدرّ الذي كان قد حشا
… أبو مضرٍ أذُني تساقطَ من عيني (3)
وأخذ الأدب أيضًا عن أبي علي الحسن بن المظفر النيسابوري (4). وسمع الحديث من شيخ الإِسلام أبي منصور نصر الحارثيّ، ومن أبي سعد الشقّانيّ (5)، ومن أبي الخطاب بن البطر (6).
وقرأ على أبي منصور بن الجواليقي بعض كتب اللغة من فواتحها مستجيزًا لها (7).
وقرأ في مكة على عبد الله بن طلبة اليابري كتاب سيبويه وشرح رسالة ابن أبي زيد (8).
4 - تلامذته:تتلمذ على الزمخشريّ كثيرون. قال القفطيّ: "ما دخل بلدًا إلَاّ واجتمعوا عليه وتتلمذوا له، واستفادوا منه، وكان علّامة الأدب، ونسّابة العرب، أقام بخوارزم تُضرب إليه أكباد الإبل، وتحطّ بفنائه رحال الرجال، وتُحدى باسمه مطايا الآمال" (9).
ومن تلامذته بزمخشر أبو عمرو عامر بن الحسن السمار، وبطبرستان أبو المحاسن إسماعيل بن عبد الله الطويلي، وبأبيورد أبو المحاسن عبد الرحيم بن عبد الله البزاز، وبسمرقند أبو سعد أحمد بن محمود الشاتي، وبخوارزم أبو طاهر سامان بن عبد الملك الفقيه، والموفق بن أحمد بن أبي سعيد المعروف بأخطب خوارزم (10).
--------------------------------------------
সে তার গ্রীবার ধমনীগুলো দেখতে পায়
… এবং সেই জীর্ণ হাড়ের ভেতরের মজ্জাও।
সেই বান্দাকে ক্ষমা করুন যে তার ভুলত্রুটি থেকে তওবা করেছে
… যা তার পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী সময়ে প্রকাশ পেয়েছিল (১)।
৩ - তাঁর শিক্ষকগণ:জামাখশারি তাঁর যুগের আলেমদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। সম্ভবত তাঁর জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিলেন আবু মুদার মাহমুদ ইবনে জারির আদ-দাব্বি আল-আসফাহানি (২)। তাঁকে ভাষাতত্ত্ব ও ব্যাকরণ শাস্ত্রে 'যুগের অদ্বিতীয়' ও 'কালের একক' উপাধি দেওয়া হতো। তিনি তাঁর কাছে ব্যাকরণ ও সাহিত্য অধ্যায়ন করেন। জামাখশারি তাঁর উস্তাদ আবু মুদারকে খুব ভালোবাসতেন। যখন তিনি ৫০৭ হিজরি/১১১৩ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি দীর্ঘ ছন্দে তাঁর শোকগাথা পাঠ করেন:
এক নারী জিজ্ঞেস করল: এই মুক্তোগুলো কী
… যা তোমার দুচোখ থেকে জোড়ায় জোড়ায় ঝরছে?
আমি তাকে বললাম: সেই মুক্তা যা আবু মুদার আমার কানে পূর্ণ করেছিলেন
… আজ তা আমার চোখ দিয়ে ঝরে পড়ছে (৩)।
তিনি আবু আলি আল-হাসান ইবনুল মুজাফফর আন-নাইসাবুরির (৪) কাছ থেকেও সাহিত্য শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি শাইখুল ইসলাম আবু মনসুর নাসর আল-হারিসি, আবু সাদ আশ-শাক্কানি (৫) এবং আবু আল-খাত্তাব ইবনুল বাতির (৬) নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।
তিনি আবু মনসুর ইবনুল জাওয়ালিকির নিকট ভাষাতত্ত্বের কিছু কিতাবের শুরু থেকে পাঠ করেন এবং সেগুলোর জন্য অনুমতি (ইজাজত) গ্রহণ করেন (৭)।
মক্কায় তিনি আবদুল্লাহ ইবনে তালাবা আল-ইয়াবরির নিকট সিবাওয়াইহ-এর কিতাব এবং ইবনে আবি জায়েদের রিসালার ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করেন (৮)।
৪ - তাঁর ছাত্রগণ:জামাখশারির নিকট বহু ছাত্র শিক্ষা লাভ করেছেন। আল-কিফতি বলেন: "তিনি যে শহরেই প্রবেশ করেছেন, মানুষ তাঁর চারপাশে সমবেত হয়েছে এবং তাঁর ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছে। তাঁরা তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন। তিনি ছিলেন সাহিত্যের বড় পণ্ডিত এবং আরবদের বংশলতিকা বিশেষজ্ঞ। তিনি খাওয়ারিজমে অবস্থানকালে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ উটে চড়ে তাঁর কাছে ছুটে আসত, তাঁর আঙিনায় পর্যটকদের ভিড় জমত এবং তাঁর নামের প্রত্যাশায় কাফেলাগুলো পরিচালিত হতো" (৯)।
জামাখশারে তাঁর ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন আবু আমর আমির ইবনুল হাসান আস-সাম্মার; তাবারিস্তানে আবু আল-মাহাসিন ইসমাইল ইবনে আবদুল্লাহ আত-তুবাইলি; আবিওয়ার্দে আবু আল-মাহাসিন আবদুর রহিম ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাযযায; সমরকন্দে আবু সাদ আহমদ ইবনে মাহমুদ আশ-শাতি; খাওয়ারিজমে আবু তাহির সামান ইবনে আবদুল মালিক আল-ফকিহ এবং আল-মুওয়াফফাক ইবনে আহমদ ইবনে আবি সাঈদ, যিনি আখতাবু খাওয়ারিজম নামে পরিচিত (১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وتتلمذ عليه أيضًا محمَّد بن أبي القاسم بايجوك، أبو الفضل الخوارزمي الآدمي الملقب زين المشايخ، النحويّ الأديب (ت 562 هـ/ 1166 م) (1)، وأبو يوسف يعقوب بن علي بن محمَّد بن جعفر البلخي، أحد الأئمة في النحو والأدب (2)، وعلي بن عيسى بن حمزة بن وهاس، أمير مكة (3)، وزينب بنت الشَّعريّ التي أجازت ابن خلكان (4). وكتب إليه الحافظ أبو الطاهر أحمد بن محمَّد السلفي يستجيزه (5)؛ وأما الشريف السيد الفاضل الكامل أبو الحسن علي بن عيسى بن حمزة الحسني فقد أخذ عن الزمخشريّ، وأخذ الزمخشريّ عنه (6)، وقيل: قرأ السيد الفاضل علي الزمخشريّ، وبرَّز عليه (7).
5 - شخصيَّته:لم تذكر لنا كتب التراجم من صفاته الجسديّة سوى أنّه كان أعرج يمشي في رجل من خشب، وروي أنّه لما كان ببغداد سأله أحمد بن علي بن محمَّد، أبو الحسن الدامغاني (ت 540 هـ/ 1145 م) "عن سبب قطعها، فقال: دعاء الوالدة، وذلك أنني في صباي أمسكت عصفورًا، وربطته بخيط في رجله، وانفلت من يدي، فأدركته، وقد دخل في خرق، فجذبته، فأنقطعت رجله في الخيط، فتألّمت أمّي لذلك، وقالت: قطع الله رجل الأبعد كما قطع رجله، فلمّا وصلت إلى سن الطلب، رحلتُ إلى بُخارى لطلب العلم، فسقطت عن الدابة، فانكسرت الرجل، وعملتُ عملاً أوجب قطهما" (8). وكان، إذا مشى، ألقى عليها ثيابه الطوال، فيظنّ من يراه أنّه أعرج (9). وكان بيده محضر فيه شهادة خَلْق كثير ممن اطلعوا على حقيقة ذلك خوفُ امن أن يظن من لم يعلم صورة الحال أنها قُطعت لريبة (10).
ولعلّ أبرز معالم شخصيّته النفسيّة شغفه بالعلم، إذ أكثر من الرحلة في طلبه، ولم يزل يطلبه حتى في سنّ السادسة والستين، فقد ذكر القفطيّ أنه رآه عند أبي منصور بن الجواليقي سنة 533 هـ مرتين قارئًا عليه بعض كتب اللغة من فواتحها، ومستجيزًا لها (11).
--------------------------------------------
তাঁর কাছে আরও ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছেন মুহাম্মদ বিন আবিল কাসিম বায়জুক, আবুল ফজল আল-খাওয়ারিজমি আল-আদামি, যাঁর উপাধি যয়নুল মাশাইখ, তিনি ছিলেন একজন ব্যাকরণবিদ ও সাহিত্যিক (মৃত্যু ৫৬২ হি./ ১১৬৬ খ্রি.) (১); এবং আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-বালখি, যিনি ব্যাকরণ ও সাহিত্যের অন্যতম ইমাম ছিলেন (২); এবং আলী বিন ঈসা বিন হামজা বিন ওয়াহহাস, মক্কার আমির (৩); এবং যায়নাব বিনতুশ শারি, যিনি ইবনে খাল্লিকানকে ইজাজত প্রদান করেছিলেন (৪)। হাফেজ আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সিলাফি তাঁর কাছে ইজাজত চেয়ে পত্র লিখেছিলেন (৫); আর সম্মানিত ব্যক্তিত্ব সাইয়িদ ফাজেল কামিল আবুল হাসান আলী বিন ঈসা বিন হামজা আল-হাসানির বিষয় হলো, তিনি যামাখশারি থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং যামাখশারিও তাঁর কাছ থেকে অর্জন করেছেন (৬)। বলা হয়ে থাকে যে, সাইয়িদ ফাজেল আলী যামাখশারির কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন (৭)।
৫ - তাঁর ব্যক্তিত্ব:জীবনী গ্রন্থসমূহ তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কেবল এতটুকু উল্লেখ করেছে যে, তিনি খোঁড়া ছিলেন এবং কাঠের পায়ের সাহায্যে হাঁটতেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন বাগদাদে ছিলেন, তখন আবু হাসান আদ-দামেগানি আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ (মৃত্যু ৫৪০ হি./ ১১৪৫ খ্রি.) তাঁকে "পা কাটার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: মায়ের অভিশাপ। তা এভাবে যে, শৈশবে আমি একটি চড়ুই পাখি ধরেছিলাম এবং তার পায়ে সুতো বেঁধেছিলাম। সেটি আমার হাত থেকে ফসকে গিয়ে একটি গর্তে ঢুকে পড়ে। আমি যখন সেটিকে জোরে টেনে বের করি, তখন সুতোর টানে পাখিটির পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে আমার মা অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং বললেন: আল্লাহ যেন এই দুর্ভাগার পা-ও তেমনি বিচ্ছিন্ন করে দেন যেমন সে এর পা বিচ্ছিন্ন করেছে। অতঃপর যখন আমি জ্ঞান অন্বেষণের বয়সে উপনীত হলাম, ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে বুখারার দিকে যাত্রা করলাম। পথে বাহন থেকে পড়ে গেলে আমার পা ভেঙে যায় এবং এমন জখম হয় যার ফলে পা কেটে ফেলা অনিবার্য হয়ে পড়ে" (৮)। তিনি যখন হাঁটতেন, তখন তাঁর লম্বা পোশাক পায়ের ওপর এমনভাবে ঝুলিয়ে দিতেন যে, যে কেউ দেখলে তাঁকে কেবল খোঁড়া মনে করত (৯)। তাঁর কাছে অনেক লোকের সাক্ষ্য সম্বলিত একটি সত্যায়নপত্র ছিল যারা প্রকৃত ঘটনা অবগত ছিলেন। এটি তিনি এই ভয়ে রাখতেন যাতে বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞাত কেউ মনে না করে যে কোনো অপরাধমূলক কাজের শাস্তিস্বরূপ তাঁর পা কাটা হয়েছে (১০)।
তাঁর মানসিক ব্যক্তিত্বের সম্ভবত সবচেয়ে উজ্জ্বল দিকটি ছিল ইলমের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ। কেননা তিনি ইলম অর্জনের জন্য প্রচুর সফর করেছেন এবং ৬৬ বছর বয়সেও তিনি ইলম অন্বেষণ করা ছাড়েননি। আল-কিফতি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁকে ৫৩৩ হিজরীতে আবু মনসুর বিন আল-জাওয়ালিকির কাছে দুবার দেখেছেন, সেখানে তিনি তাঁর কাছে ভাষার কতিপয় কিতাব শুরু থেকে পড়ছিলেন এবং সেগুলোর জন্য ইজাজত প্রার্থনা করছিলেন (১১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وبفضل جهده الكبير في تحصيل العلم أصبح الزمخشريّ متقنًا للغة الفارسيّة، عالمًا في اللغة، والنحو، والعروض، والأدب، والبلاغة، والتفسير، والقراءات، والحديث، والفقه، وعلم الكلام، والمنطق.
وكان الزمخشريّ شاعرًا له ديوان، ومن مليح شعره قوله [من الطويل]:
أقولُ لِظَبْيٍ مَرّ بي وَهْو راتِعٌ
… أَأَنْتَ أخو ليلى؟ فقال: يُقالُ
فقلتُ: وفي حكمِ الصبابةِ والهوى
… يقال: أخو ليلى؟ فقال: يُقالُ
فقُلتُ: وفي ظِلِّ الأراكةِ والحمى
… يقال: ويُسْتَسْقى؟ فقال: يقالُ (1)
وقد افتخر بعلومه، فقال [من الطويل]:
ترانيَ في عِلْمِ المُنَزَّلِ عالمًا
… وما أنا في علم الأحاديثِ راسفا
فللسنةِ البيضاءِ فيَّ مناجحٌ
… ويبغي كتاب الله منّي المعارفا
وما أنا من علم الدياناتِ عاطلاً
… فأحْسَنُ حَلْي لم يزلْ لي شانفا
وما للغاتِ العربِ مثْلي مُقَوِّم
… أبى كلُّ ندبٍ متقن أن يخالفا
وبي يستفيد النحو من أن يسوسه
… نُهّى لم يجدْها الذائقون حصائفا
وعلما المعاني والبيانِ كِلاهما
… أزفُّ إلى الخطاب منه وصايفا
وعلم القوافي والأعاريضِ شاهِدُ
… بِفُسْحَةِ خطوي فيه إذ كنتُ زاحفا
أقَرّتْ بيَ الآدابُ أصلاً لها ومَن
… رأى مشرفيّاتٍ جَحَدْنَ المشارفا
وديوانُ منظومي يُريك بدائعًا
… وديوانُ مَنْثوري يُريك طرائفا (2)
وكان الزمخشريّ على مذهب المعتزلة مجاهرًا به حنفيًّا (3) "حتى نقل عنه أنه كان إذا قصد صاحبًا له، واستأذن عليه في الدخول، يقول لمن يأخذ له الإذن: قلْ له: أبو القاسم المعتزليّ بالباب. وأوّل ما صنَّف كتاب "الكشّاف" كتب استفتاح الخطبة: "الحمد لله الذي خلق القرآن"، فيقال: إنّه قيل له: متى تركته على هذه الهيئة، هجره الناس، ولا يرغب أحد فيه، فغيَّره بقوله: "الحمد لله الذي جعل القرآن"، و"جعل" عندهم [أي: عند المعتزلة، بمعنى "خلق" (4).
--------------------------------------------
জ্ঞান অর্জনে তাঁর ব্যাপক প্রচেষ্টার বদৌলতে যামাখশারী ফারসি ভাষায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ), আরুজ (ছন্দতত্ত্ব), আদব (সাহিত্য), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), তাফসীর, কিরাআত, হাদীস, ফিকহ, ইলমুল কালাম (ধর্মতত্ত্ব) ও যুক্তিবিদ্যায় বিজ্ঞ পন্ডিতে পরিণত হন।
যামাখশারী একজন কবিও ছিলেন এবং তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ (দিওয়ান) রয়েছে। তাঁর চমৎকার কাব্যসমূহের মধ্যে রয়েছে [তাবীল ছন্দে]:
আমি চরে বেড়ানো এক হরিণশাবককে বললাম, যে আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল
… তুমি কি লায়লার ভাই? সে বলল: লোকে এমনটিই বলে।
আমি বললাম: অনুরাগ ও প্রেমের বিচারেও কি
… বলা হয় যে, তুমি লায়লার ভাই? সে বলল: লোকে এমনটিই বলে।
আমি বললাম: আরাক বৃক্ষ ও সংরক্ষিত চারণভূমির ছায়াতলে কি
… বলা হয় এবং বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়? সে বলল: লোকে এমনটিই বলে। (১)
তিনি তাঁর অর্জিত জ্ঞান নিয়ে গর্ব করে বলেছেন [তাবীল ছন্দে]:
তুমি আমাকে অবতীর্ণ কিতাবের (কুরআন) জ্ঞানে বিজ্ঞ হিসেবে দেখতে পাবে
… আর হাদীস শাস্ত্রেও আমি কুণ্ঠিত নই।
আমার মধ্যে উজ্জ্বল সুন্নাহর সাফল্য রয়েছে
… এবং আল্লাহর কিতাব আমার কাছ থেকে গূঢ় তত্ত্বসমূহ প্রত্যাশা করে।
আমি ধর্মতত্ত্বের জ্ঞানশূন্য নই
… বরং সর্বোত্তম অলঙ্কার সর্বদা আমার কর্ণশোভা হয়ে আছে।
আরবি ভাষাসমূহের ক্ষেত্রে আমার মতো কোনো সংশোধনকারী নেই
… কোনো দক্ষ ও বিজ্ঞ ব্যক্তিই এর বিরোধিতা করতে সক্ষম নয়।
আমার মাধ্যমেই নাহু শাস্ত্র এমন শাসনকর্তা লাভ করে
… এবং এমন প্রজ্ঞা অর্জন করে, যা রসগ্রাহীরা অন্য কোথাও খুঁজে পায়নি।
মাআনি ও বায়ান—উভয় শাস্ত্র থেকেই আমি
… সম্বোধনকারীর কাছে অনুপম দাসীদের মতো উপস্থাপন করি।
কাফিয়া ও আরুজ শাস্ত্র সাক্ষী দেয়
… আমার সুপ্রশস্ত পদচারণার, যখন আমি তাতে ধাবমান ছিলাম।
সাহিত্য আমাকে তার মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকার করেছে; আর যে ব্যক্তি
… মাশরাফী তলোয়ার দেখেছে, সে কি আর সাধারণ তলোয়ারকে শ্রেষ্ঠ বলে মানবে?
আমার কাব্যের দিওয়ান তোমাকে অভিনব সৌন্দর্য দেখাবে
… এবং আমার গদ্যের দিওয়ান তোমাকে দুর্লভ চমৎকারিত্ব প্রদর্শন করবে। (২)
যামাখশারী মুতাজিলা মতবাদের অনুসারী ছিলেন এবং প্রকাশ্যেই তা ব্যক্ত করতেন, আর ফিকহী মাযহাব অনুযায়ী তিনি ছিলেন হানাফী। (৩) "এমনকি তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন কোনো বন্ধুর সাথে দেখা করতে যেতেন এবং প্রবেশের অনুমতি চাইতেন, তখন অনুমতি প্রার্থনাকারীকে বলতেন: তাকে বলো, আবুল কাসিম মুতাজিলি দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। তিনি যখন প্রথম 'আল-কাশশাফ' গ্রন্থটি রচনা করেন, তখন ভূমিকার শুরুতে লিখেছিলেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি কুরআন সৃষ্টি করেছেন।" বলা হয় যে, তাঁকে বলা হয়েছিল: আপনি যদি একে এই অবস্থায় রেখে দেন, তবে মানুষ এটি বর্জন করবে এবং কেউ এর প্রতি আগ্রহী হবে না। ফলে তিনি তা পরিবর্তন করে লিখলেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি কুরআনকে করেছেন (জায়ালা)।" আর তাদের (অর্থাৎ মুতাজিলাদের) মতে 'জায়ালা' অর্থ হলো 'খালাকা' (সৃষ্টি করা)। (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وعاش الزمخشريّ حياته أعزب (1)، تقيًا متديّنًا (2)، أبيّ النفس (3)، طموحًا (4)، متواضعًا، لطيف المعاملة، ظريف المجاملة (5)، قاسيًا على مخالفيه من المعتزلة والمتصوّفة (6)، محبًا للعربية وأهلها، منافحًا عنهما في وجه الشعوبيَّة التي بلغت أشدّها في عصره. قال في مقدمة كتابه "المفصّل": "الله أحمد على أن جعلني من علماء العربيّة، وجبلني على الغضب للعرب والعصبيّة، وأبى لي أن أنفرد من صميم أنصارهم وأمتاز، وأنضوي إلى لفيف الشعوبية وأنحاز، وعصمني من مذهبهم الذي لم يُجدِ عليهم إلًّا الرشق بألسنة اللاعنين، والمشق (7) بأسنّة الطاعنين". وقد جَهرَ بتفضيل العرب على العجم، فقال: "العرب نبع (8) صلب المعاجم، والغَرَب (9) مَثَل للأعاجم" (10)، وقال: "فرقك بين الرُّطب والعجم (11) هو الفرق بين العرب والعجم" (12).
6 - مؤلفاته:ألّف الزمخشريّ في العلوم الدينيّة ورجالها، واللغة، والنحو، والعروض، والأدب، وفيما يلي قائمة بمؤلفاته مرتبة ترتيبًا ألفبائيًا (13):
- الأجناس (14).
- الأحاجي النحوية، وهو كتاب "المحاجاة
… " الآتي ذكره.
- أساس البلاغة؛ معجم لغويّ يهتمّ بالاستعارة والمجاز، وهو أوّل معجم عربيّ مرتب حسب أوائل الأصول بحسب الترتيب الألفبائي (15).
--------------------------------------------
জামাখশারি তার জীবন অবিবাহিত (১), খোদাভীরু ও ধর্মপ্রাণ (২), আত্মমর্যাদাবান (৩), উচ্চাকাঙ্ক্ষী (৪), বিনয়ী, আচরণে নম্র ও শিষ্টাচারে চমৎকার (৫) হিসেবে অতিবাহিত করেছেন। তিনি তার সমসাময়িক মুতাযিলা ও সুফিদের মধ্য হতে যারা তার মতের বিরোধী ছিল, তাদের প্রতি কঠোর ছিলেন (৬)। তিনি আরবি ভাষা ও এর ধারক-বাহকদের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং তার যুগে চরম শিখরে পৌঁছানো শুউবিয়্যাহ (আরব-বিদ্বেষী গোষ্ঠী)-র বিরুদ্ধে তাদের পক্ষাবলম্বন করে প্রতিরক্ষা করেছেন। তিনি তার "আল-মুফাসসাল" গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "আমি আল্লাহর প্রশংসা করি এ কারণে যে, তিনি আমাকে আরবি ভাষার আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আরবদের প্রতি অনুরাগ ও পক্ষাবলম্বনের স্বভাব আমার প্রকৃতিতে গেঁথে দিয়েছেন। তিনি আমার জন্য এটি অপছন্দ করেছেন যে আমি তাদের (আরবদের) একনিষ্ঠ সাহায্যকারীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব কিংবা ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করব, অথবা শুউবিয়্যাহ-র দলের সাথে যুক্ত হয়ে তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ব। তিনি আমাকে তাদের মতবাদ থেকে রক্ষা করেছেন, যা লানতকারীদের জিহ্বার তীরের আঘাত এবং বিদ্ধকারীদের বর্শার দ্রুত আঘাত (৭) ছাড়া তাদের আর কিছুই বৃদ্ধি করেনি।" তিনি অনারবদের ওপর আরবদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন: "আরবরা হলো শক্ত বৃক্ষের (৮) মতো যা পরীক্ষা করা কঠিন, আর 'গারাব' বা দুর্বল গাছ (৯) হলো অনারবদের উদাহরণ" (১০)। তিনি আরও বলেছেন: "পাকা তাজা খেজুর ও বিচির (১১) মধ্যে তোমার যে পার্থক্য, তা-ই হলো আরব ও অনারবদের মধ্যকার পার্থক্য" (১২)।
৬ - তাঁর রচনাবলি:জামাখশারি ধর্মীয় বিজ্ঞান ও এর মনীষীগণ, ভাষাতত্ত্ব, ব্যাকরণ, ছন্দশাস্ত্র এবং সাহিত্যের ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন। নিচে তাঁর রচনাবলির একটি বর্ণানুক্রমিক তালিকা দেওয়া হলো (১৩):
- আল-আজনাস (১৪)।
- আল-আহাজি আন-নাহউইয়্যাহ; এটি মূলত "আল-মুহাজাত..." নামক গ্রন্থ যা সামনে উল্লেখ করা হবে।
- আসাসুল বালাগাহ; এটি একটি ভাষাতাত্ত্বিক অভিধান যা রূপক ও অলংকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এটিই প্রথম আরবি অভিধান যা মূল অক্ষরের আদ্যক্ষর অনুযায়ী বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হয়েছে (১৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ১২)
- الأسماء (1).
- أطواق الذهب أو النصائح الصغار، وهو مئة مقالة في المواعظ والنصائح والحكم (2).
- أعجب العجب في شرح لاميّة العرب (3).
- الأمالي في كل فنّ (4).
- الأمكنة والجبال والمياه والبقاع المشهورة في أشعار العرب (5).
- الأنموذج، في النحو، وهو مقتضب من المفصّل (6).
- تسلية الضرير (7).
- جواهر اللغة (8).
- حاشية على المفصّل (9)، ولعله "شرح بعض مشكلات المفصّل" الآتي ذكره.
- خصائص العشرة الكرام البررة (10).
- الدرّ الدائر المنتخب في كنايات واستعارات وتشبيهات العرب (11).
- ديوان التمثيل (12).
--------------------------------------------
- আল-আসমা (নামসমূহ) (১)।
- আতওয়াকুজ জাহাব বা আন-নাসাইহুস সিগার, এটি ওয়াজ, নসিহত ও হিকমত বিষয়ক একশত প্রবন্ধের সংকলন (২)।
- আজাবুল আজাব ফি শারহি লামিয়াতিল আরব (৩)।
- আল-আমালি ফি কুল্লি ফান (৪)।
- আল-আমকিনা ওয়াল জিবাল ওয়াল মিয়াহ ওয়াল বিকাউল মাশহুরা ফি আশআরিল আরব (৫)।
- আল-উনমুজাজ, নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে, এটি আল-মুফাসসাল-এর সংক্ষিপ্ত রূপ (৬)।
- তাসলিয়াতুদ দরির (৭)।
- জাওয়াহিরুল লুগাহ (৮)।
- হাশিয়া আলাল মুফাসসাল (৯), সম্ভবত এটি পরবর্তীতে উল্লিখিত "শারহু বা'দি মুশকিলাতিল মুফাসসাল"।
- খাসাইসুল আশারাতিল কিরামিল বারারা (১০)।
- আদ-দুররুদ দাইরুল মুনতাখাব ফি কিনায়াত ওয়া ইসতিআরাত ওয়া তাশবিহাতিল আরব (১১)।
- দিওয়ানুত তামসিল (১২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
- ديوان خطب (1).
- ديوان الرسائل (2).
- ديوان شعر (3).
- الرائض في الفرائض (4).
- رؤوس المسائل، في الفقه (5).
- ربيع الأبرار ونصوص الأخبار: مختارات شتى من الأدب والتاريخ والعلوم (6).
- رسالة الأسرار (7).
- رسالة التصرفات (8).
- رسالة في كلمة الشهادة (9).
- رسالة في المجاز والاستعارة (10).
- رسالة المسأمة (11).
- الرسالة الناصحة (12).
- سوائر الأمثال (13).
- شافي العيّ من كلام الشافعي (14).
- شرح أبيات كتاب سيبويه (15).
--------------------------------------------
- খুতবা সংকলন (১)।
- পত্রাবলি সংকলন (২)।
- কাব্য সংকলন (৩)।
- আর-রাইদ ফিল ফারাইদ (উত্তরাধিকার আইন বিষয়ক গ্রন্থ) (৪)।
- রুউসুল মাসাইল, ফিকহ শাস্ত্র বিষয়ক (৫)।
- রাবিউল আবরার ওয়া নুসুসুল আখবার: সাহিত্য, ইতিহাস ও বিজ্ঞানের বিবিধ সংকলন (৬)।
- রিসালাতুল আসরার (৭)।
- রিসালাতুত তাসাররুফাত (৮)।
- কালিমায়ে শাহাদাত বিষয়ক একটি রিসালাহ (৯)।
- রূপক ও অলংকার শাস্ত্র (মাজায ও ইসতিআরা) বিষয়ক রিসালাহ (১০)।
- রিসালাতুল মাসআমা (১১)।
- আর-রিসালাহ আন-নাসিহা (উপদেশমূলক পত্র) (১২)।
- সাওয়াইরুল আমসাল (প্রচলিত প্রবাদসমূহ) (১৩)।
- শাফিল আইয়ি মিন কালামিশ শাফিঈ (ইমাম শাফিঈর বাণী থেকে অক্ষমতার নিরাময়) (১৪)।
- শারহু আবইয়াতি কিতাবি সিবওয়াইহ (সিবওয়াইহ-র কিতাবের পদ্যাংশের ব্যাখ্যা) (১৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
- شرح بعض مشكلات المفصّل (1).
- شرح المقامات: شرح لمقاماته التي سيأتي ذكرها (2).
- شقائق النعمان في حقائق النعمان (في مناقب أبي حنيفة) (3).
- صميم العربية (4).
- ضالة الناشد والرائض في علم الفرائض (5).
- عقل الكل (6).
- الفائق في غريب الحديث (7).
- القسطاط في العروض (8).
- القصيدة البعوضيّة (9)، وفيها ثناء على الله ورسوله في خاتمة وصف بعوضة.
- قصيدة في سؤال الغزالي عن جلوس الله على العرش وقصور المعرفة البشرية (10).
- الكشاف عن حقائق غوامض التنزيل وعيون الأقاويل في وجوه التأويل (11)، وهو تفسير للقرآن الكريم.
- الكشف في القراءات (12).
- الكلم النوابغ. انظر نوابغ الكلم.
- متشابه أسامي الرواة (13).
--------------------------------------------
- শারহু বা’দি মুশকিলাতিল মুফাসসাল (১)।
- শারহুল মাকামাত: তাঁর মাকামাতসমূহের ব্যাখ্যা যার উল্লেখ সামনে আসবে (২)।
- শাকাইকুন নু’মান ফি হাকাইকিন নু’মান (আবু হানিফার গুণাবলি বর্ণনায়) (৩)।
- সামিমুল আরাবিয়্যাহ (৪)।
- দ্বালাতুন নাশিদ ওয়ার রায়িদ ফি ইলমিল ফরাইদ (৫)।
- আকলুল কুল (৬)।
- আল-ফাইক ফি গারিবিল হাদিস (৭)।
- আল-কিসতাত ফিল আরুজ (৮)।
- আল-কাসিদাতুল বাউজিয়্যাহ (৯), এতে একটি মশার বর্ণনার শেষে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রশংসা রয়েছে।
- আরশের উপর আল্লাহর বসা এবং মানবীয় জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা বিষয়ে ইমাম গাজালির প্রশ্নের প্রেক্ষিতে একটি কাসিদা (১০)।
- আল-কাশশাফ আন হাকাইকি গাওয়ামিদিত তানজিল ওয়া উয়ুনিল আকাউয়িল ফি উজুদিত তাবিল (১১), এটি পবিত্র কুরআনের একটি তাফসির।
- আল-কাশফ ফিল কিরাআত (১২)।
- আল-কালিমুন নাওয়াবিগ। দেখুন নাওয়াবিগুল কালিম।
- মুতাশাবিহু আসামিইর রুওয়াত (১৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
- مختصر الموافقة بين أهل البيت والصحابة (1)، والأصل لأبي سعيد الرازي إسماعيل.
- المستقصى في أمثال العرب (2)، وهو معجم للأمثال العربية مرتَّب على حروف الهجاء.
- معجم الحدود في الفقه (3).
- المفرد والمؤلف في النحو (4).
- المفصّل، وسيأتي الحديث عنه بالتفصيل.
- المقامات؛ خمسون مقامة في النصح والإرشاد، ولكل منها عنوان، يصدرها بقوله: "يا أبا القاسم"، مخاطبًا نفسه. وقد شرحها بنفسه.
- مقدمة الأدب، وهو معجم عربي فارسي، وأكمله فيما بعد بجزء تركي (5).
- المنهاج، في الأصول (6).
- نزهة المتأنس ونهزة المقتبس (7).
- النصائح الصغار (8)، وهو كتاب "أطواق الذهب نفسه".
- النصائح الكبار (9)، وهو كتاب المقامات نفسه.
- نكت الأعراب في غريب الإعراب، وهو في غريب إعراب القرآن الكريم (10).
نوابغ الكلم (11): حِكَم قصار.
7 - أقوال العلماء فيه:أجمع العلماء على الثناء على الزمخشريّ، ومدحه بسعة العلم، وكثرة
--------------------------------------------
- আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে মিল ও ঐকমত্যের সংক্ষিপ্তসার (১), এবং এর মূল রচয়িতা হলেন আবু সাঈদ ইসমাইল আল-রাজি।
- আল-মুসতাকসা ফি আমসালিল আরব (২), এটি আরবি প্রবাদের একটি অভিধান যা বর্ণানুক্রমে সাজানো হয়েছে।
- মু'জামুল হুদুদ ফিল ফিকহ (৩)।
- আল-মুফরাদ ওয়াল মুআল্লাফ ফিন নাহু (৪)।
- আল-মুফাসসাল, এর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।
- আল-মাকামাত; নসিহত ও নির্দেশনামূলক পঞ্চাশটি মাকামা, যার প্রত্যেকটির একটি শিরোনাম রয়েছে। তিনি নিজেকে সম্বোধন করে "হে আবুল কাসিম" বলে প্রতিটি শুরু করেছেন। তিনি নিজেই এর ব্যাখ্যা লিখেছেন।
- মুকাদ্দিমাতুল আদাব, এটি একটি আরবি-ফারসি অভিধান এবং পরবর্তীতে তিনি তুর্কি ভাষার একটি অংশ যোগ করে এটি সম্পন্ন করেন (৫)।
- আল-মিনহাজ, উসুল শাস্ত্রের উপর (৬)।
- নুজহাতুল মুতাআন্নিস ওয়া নাহজাতুল মুক্তাবিস (৭)।
- আন-নাসায়িহ আস-সিগার (৮), যা মূলত "আতওয়াকুজ জাহাব" কিতাবটিই।
- আন-নাসায়িহ আল-কিবার (৯), যা মূলত "আল-মাকামাত" কিতাবটিই।
- নুকাতুল আ'রাব ফি গারিবিল ই'রাব, এটি পবিত্র কুরআনের দুর্লভ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের উপর রচিত (১০)।
নাওয়াবিগুল কালিম (১১): সংক্ষিপ্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী।
৭ - তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের উক্তি:ওলামায়ে কেরাম যামাখশারীর প্রশংসা এবং তাঁর ইলমের গভীরতা ও প্রাচুর্যের বর্ণনায় একমত হয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الفضل، والتفنّن في العلوم، وقد لقّبوه بـ"فخر خوارزم" كما سبق القول.
قال السيوطيّ: "كان واسع العلم، كثير الفضل، غايةً في الذكاء وجودة القريحة، متفننًا في كل علم" (1).
وقال ابن خلكان: "الإِمام الكبير في التفسير والحديث والنحو واللغة وعلم البيان. كان إمام عصره من غير مدافع تشدّ إليه الرحال في فنونه" (2).
وقال القفطيّ: "وكان رحمه الله ممّن يضرب به المثل في علم الأدب والنحو واللغة
… وما دخل بلدًا إلّا واجتمعوا عليه وتلمذوا له، واستفادوا منه. وكان علاّمة ونسّابة العرب، أقام بخوارزم تُضرب إليه أكباد الإبل، وتحطّ بفنائه رحال الرجال، وتُحدى باسمه مطايا الآمال" (3). وقال في مكان آخر: "وكان الزمخشريّ أعلم فضلاء العجم بالعربية في زمانه، وأكثرهم أنسًا واطلاعًا على كتبها، وبه ختم فضلاؤهم" (4).
وقال ياقوت الحموي: "كان إمامًا في التفسير والنحو واللغة والأدب، واسع العلم، كبير الفضل، متفننًا في علوم شتَّى" (5).
وقال الشريف السيد الفاضل الكامل أبو الحسن علي بن عيسى بن حمزة الحسنيّ [من الطويل]:
جميعُ قرى الدنيا سوى القريةِ التي
… تبوَّأها دارًا فداءُ زمَخْشَرا
وأَحْرِ بأَنْ تُزْهى زمَخْشَرُ بامْرِىءِ
… إذا عُدَّ في أُسْدِ الشَّرى زَمَخَ الشَّرَى (6)
وقال محمَّد طيب المكي صاحب "الوشاح الحامدي المفصّل على مخدرات المفصّل": "أستاذ الدنيا، فخر خوارزم، جار الله، العلامة أبو القاسم محمود الزمخشريّ، من أكابر الأمّة، وقد ألقت العلومُ إليه أطراف الأزِمّة، واتفقت على إطرائه الألسنة، وتشرَّفت بمكانه وزمانه الأمكنة والأزمنة" (7).
8 - كتاب المفصّل (8):
شرع الزمخشريّ في تأليف هذا الكتاب يوم الأحد في غرّة رمضان سنة 513 هـ/
--------------------------------------------
শ্রেষ্ঠত্ব এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি; ইতিপূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে, তারা তাঁকে 'খাওয়ারিজমের গৌরব' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
আস-সুয়ূতী বলেছেন: "তিনি ছিলেন অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী, অতীব গুণী, অত্যন্ত প্রখর মেধা ও উন্নত স্বভাবজাত প্রতিভার অধিকারী এবং প্রতিটি শাস্ত্রে পারদর্শী।" (১)।
ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: "তাফসীর, হাদীস, নাহু, লুগাত এবং ইলমুল বয়ানে তিনি ছিলেন এক মহান ইমাম। তিনি ছিলেন নিজ যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইমাম, যাঁর নিকট তাঁর বিষয়সমূহে জ্ঞান আহরণের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে কাফেলা ছুটে আসত।" (২)।
আল-কিফতী বলেছেন: "তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আদব, নাহু ও লুগাত শাস্ত্রে প্রবাদপুরুষ ছিলেন... তিনি যে শহরেই প্রবেশ করেছেন, সেখানেই মানুষ তাঁর কাছে সমবেত হয়েছে, তাঁর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছে এবং তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন মহান আল্লামা এবং আরবদের বংশলতিকা বিশেষজ্ঞ। তিনি খাওয়ারিজমে অবস্থান করতেন এবং তাঁর কাছে পৌঁছানোর জন্য উটের পিঠে চড়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া হতো, তাঁর আঙিনায় জ্ঞানপিপাসুদের কাফেলা ভিড় জমাত এবং তাঁর নাম নিয়েই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের উটগুলো পরিচালিত হতো।" (৩)। তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: "আয-যামাখশারী ছিলেন তাঁর সময়ের অনারব গুণীজনদের মধ্যে আরবি ভাষায় সবচেয়ে বেশি পারদর্শী এবং আরবি কিতাবসমূহের সাথে সর্বাধিক পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ। তাঁদের গুণীজনদের ধারা তাঁর মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়েছে।" (৪)।
ইয়াকুত আল-হামাবী বলেছেন: "তিনি তাফসীর, নাহু, লুগাত ও আদব শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন; তিনি ছিলেন অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, অত্যন্ত গুণী এবং নানাবিধ শাস্ত্রে পারদর্শী।" (৫)।
আশ-শরীফ আস-সাইয়্যিদ আল-ফাদিল আল-কামিল আবুল হাসান আলী ইবনে ঈসা ইবনে হামযাহ আল-হাসানী বলেন [তবীল ছন্দ]:
দুনিয়ার সমস্ত জনপদই যামাখশারের জন্য উৎসর্গ হোক, কেবল সেই জনপদটি ছাড়া
… যেটিকে তিনি নিজের আবাসস্থল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
যামাখশার এমন এক ব্যক্তির জন্য গর্বিত হওয়ারই যোগ্য,
… যাকে যখন শরার (বনের) সিংহদের মধ্যে গণনা করা হয়, তখন সেই শরা গর্ববোধ করে। (৬)
‘আল-উইশাহ আল-হামিদী আল-মুফাসসাল আলা মুখাদ্দারাতিল মুফাসসাল’ গ্রন্থের প্রণেতা মুহাম্মদ তায়্যিব আল-মাক্কী বলেছেন: "বিশ্বের উস্তাদ, খাওয়ারিজমের গৌরব, জারুল্লাহ, আল্লামা আবুল কাসিম মাহমুদ আয-যামাখশারী এই উম্মতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। জ্ঞানসমূহ তাঁর নিকট নিজেদের নিয়ন্ত্রণভার সপে দিয়েছে, সকল জবান তাঁর প্রশংসায় একমত হয়েছে এবং তাঁর অবস্থানের কারণে স্থান ও কালসমূহ সম্মানিত হয়েছে।" (৭)।
৮ - কিতাবুল মুফাসসাল (৮):
আয-যামাখশারী ৫১৩ হিজরী সনের ১লা রমজান রবিবার এই কিতাবটি রচনা শুরু করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
1119 م؛ وفرغ منه في غرّة المحرم سنة 515 هـ / 1121 م (1).
والذي دفعه إلى وضع هذا الكتاب "ما بالمسلمين من الأرب إلى معرفة كلام العرب، وما به من الشفقة والحدب على أشياعه من حفدة الأدب لإنشاء كتاب في الإعراب محيط بكافّة الأبواب (2)، مرتب ترتييًا يبلغ بهم الأمد البعيد بأقرب السعي، ويملأ سجالهم بأهون السقي" (3).
وقد قسّم كتابه إلى أربعة أقسام:
أ- القسم الأول: في الأسماء.
ب- القسم الثاني: في الأفعال.
ج- القسم الثالث: في الحروف.
د- القسم الرابع: في المشترك بين الأسماء والأفعال والحروف.
أمّا منهجه في تناول موضوعات فصوله، فقد اتَّسم بما يلي:
أ- الاستناد إلى الآيات القرآنيّة في عرض القواعد النحويّة، وإلى بعض القراءات القرآنيّة.
ب- الاستشهاد بالحديث النبوي الشريف، فكان الزمخشريّ، بهذا الأمر، مخالفًا بعض النحويِّين الذين لم يجيزوا الاستشهاد بالحديث بحجّة أنّه قد يُروى بمعناه لا بلفظه (4).
--------------------------------------------
১১১৯ খ্রিস্টাব্দ; এবং তিনি এটি সম্পন্ন করেন ৫১৫ হিজরির পহেলা মহররম / ১১২১ খ্রিস্টাব্দে (১)।
এবং যে বিষয়টি তাকে এই গ্রন্থটি রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো "আরবি ভাষা সম্পর্কে জানার জন্য মুসলমানদের আকাঙ্ক্ষা, এবং সাহিত্যের উত্তরসূরি তার অনুসারীদের প্রতি তার মমতা ও ভালোবাসা, যাতে ই’রাব (ব্যাকরণ) বিষয়ে এমন একটি গ্রন্থ রচনা করা যায় যা সমস্ত অধ্যায়কে পরিবেষ্টন করবে (২), এমন বিন্যাসে সুসজ্জিত যা তাদের নিকটতম প্রচেষ্টায় দূরতম লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে এবং অত্যন্ত সহজ পন্থায় তাদের জ্ঞানভাণ্ডার পূর্ণ করবে" (৩)।
এবং তিনি তার গ্রন্থটিকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:
ক- প্রথম ভাগ: বিশেষ্য প্রসঙ্গে।
খ- দ্বিতীয় ভাগ: ক্রিয়া প্রসঙ্গে।
গ- তৃতীয় ভাগ: অব্যয় প্রসঙ্গে।
ঘ- চতুর্থ ভাগ: বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়ের মধ্যকার সাধারণ বিষয়াদি প্রসঙ্গে।
এর অধ্যায়গুলোর বিষয়বস্তু আলোচনার ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল:
ক- নাহবি (ব্যাকরণিক) নিয়মাবলী বর্ণনায় কুরআনের আয়াতের ওপর এবং কুরআনের কিছু কিরাআতের ওপর নির্ভর করা।
খ- হাদিসে নববি শরিফ থেকে প্রমাণ পেশ করা; যামাখশারি এই ক্ষেত্রে সেই সকল ব্যাকরণবিদের বিরোধিতা করেছেন যারা হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করাকে বৈধ মনে করতেন না, এই যুক্তিতে যে হাদিস হয়তো শব্দের পরিবর্তে অর্থগতভাবে বর্ণিত হয়েছে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ج- الإكثار من الاستشهاد بالشواهد الشعريّة التي بلغت واحدًا وأربعين وأربعمئة، وقد كرَّر بعضها.
د- الاستشهاد بالأمثال والأقوال العربية، ولكن بنسبة تقلّ كثيرًا عن استشهاده بالآيات القرآنية والشواهد الشعريّة.
وهو، في تناوله المسائل النحوية، بصريّ المذهب عمومًا مع اعتماد كبير على سيبويه ومتابعة لآرائه. ومن ذلك متابعته له في أنّ الفعل الثاني هو العامل في باب التنازع (1)، وأن "زيدًا" في قولك: "هل زيد قام؟ " فاعل لفعل محذوف يُفسره الفعل المذكور، لا مبتدأ كما ذهب الكوفيون (2)، وأن متلوّ "لولا" في نحو: "لولا عليّ لسافرت" مبتدأ خبره محذوف، وفي أن خبر "إن" وأخواتها مرفوع بهذه الحروف بما كان مرتفعًا به قبل دخول "إنّ" كما زعم الكوفيّون (3)، وفي أنّ الناصب للمنادى ما ينوب عنه حرف النداء، مثل "أريد"، و"أدعو" (4). وهذا الالتزام للمذهب البصري جعله يعبر عن نفسه وعن البصرين بضمير المتكلمين، يقول مثلاً، في فصل لام الابتداء: "ويجوز عندنا" "إنّ "زيدًا لسوف يقوم" ولا يجوِّزه الكوفيّون" (5)؛ كما أنّه يشير أحيانا إلى البصريين بأنهم أصحابه (6).
ومع هذا الالتزام، نراه يختار أحيانًا رأي الكوفيّين، فقد وافقهم في زيادة الفعل "حدَّث" على الأفعال المتعدِّية إلى ثلاثة مفاعيل، كقول الحارث بن حلِّزة اليشكريّ [من الخفيف]:
إنْ منَعْتُم ما تُسْألون فَمَن حُدْ
… دثْتُموهُ لهُ علينا العلاء (7)
وفي أن يكون البدل والمبدل منه نكرة (8)، كما في الآية: {مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ زَيْتُونَةٍ} (9)، وفي فصل حرف التعليل "أي" قال: "اختلف النحويون في إعراب "ما" في "فيمه" و"عمه" و"لمه"، فهي عند البصريّين مجرورة، وعند الكوفيّين منصوبة بفعل مضمر، كأنك قلت: "كي تفعل ماذا"، وما أرى هذا القول بعيدًا عن الصواب" (10).
وقد يختار بعض آراء أصحاب المدرسة البغدادية، كموافقته مثلاً أبا عليّ الفارسيّ في أنّ "ما" في مثل "نعمّا محمَّد" نكرة تامّة منصوبة على التمييز (11).
وإلى جانب اختياراته الكوفيّة والبغداديّة نراه أحيانًا ينفرد بآراء، ومنها ذهابه
--------------------------------------------
গ- কাব্যিক প্রমাণের (শাওয়াহিদ) উদ্ধৃতির আধিক্য, যা চারশত একচল্লিশটি পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং তিনি এর কিছু পুনরাবৃত্তিও করেছেন।
ঘ- আরবি প্রবাদ ও প্রবচনের উদ্ধৃতি প্রদান, তবে তা কুরআনের আয়াত ও কাব্যিক প্রমাণের উদ্ধৃতির তুলনায় অনেক কম অনুপাতে।
তিনি তার নাহু (ব্যাকরণ) সংক্রান্ত মাসয়ালাগুলো আলোচনার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে বসরী মাযহাবের অনুসারী, যেখানে সিবওয়াইহ-এর ওপর ব্যাপক নির্ভরতা এবং তাঁর মতামতের অনুসরণ পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে 'বাবুত তানাযু' (বিরোধপূর্ণ ক্ষেত্র) এর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ফেল (ক্রিয়া) টি আমিল (প্রভাবক) হওয়ার বিষয়ে তাঁকে অনুসরণ করা (১), এবং আপনার উক্তি: "হাল যায়দুন ক্বামা?" (যায়দ কি দাঁড়িয়েছে?)-তে "যায়দান" শব্দটি একটি উহ্য ফেলের ফায়েল (কর্তা), যা উল্লেখিত ফেলটি দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে; এটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য) নয়, যেমনটি কূফীগণ মনে করেন (২)। আরও রয়েছে "লাওলা আলীউন লাসাফারতু" (আলী না থাকলে আমি সফর করতাম) এর মতো বাক্যে "লাওলা"-র পরবর্তী শব্দটি মুবতাদা যার খবর উহ্য থাকে; এবং 'ইন্না' ও তার সমগোত্রীয় হরফগুলোর খবর (সংবাদ) এই হরফগুলো দ্বারাই মারফু (পেশযুক্ত) হয়, যা 'ইন্না' প্রবেশের পূর্বেও মারফু ছিল, যেমনটি কূফীগণ দাবি করেছেন (৩); এবং মুনাদা (যাকে ডাকা হয়)-কে নাসব (যবর) প্রদানকারী হলো সেই শব্দ যার স্থলাভিষিক্ত হরফে নিদা (আহ্বানসূচক অব্যয়) হয়েছে, যেমন: "উরীদু" (আমি চাই) এবং "আদ'উ" (আমি ডাকছি) (৪)। বসরী মাযহাবের প্রতি এই আনুগত্য তাকে নিজের এবং বসরীদের পক্ষ থেকে উত্তম পুরুষ বহুবচনের সর্বনাম (আমরা) ব্যবহার করে মত প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, 'লামুল ইবতিদা' অধ্যায়ে তিনি বলেন: "আমাদের মতে 'ইন্না যায়দান লাসাওফা ইয়াক্বূমু' জায়েয (বৈধ), কিন্তু কূফীগণ একে জায়েয মনে করেন না" (৫); তেমনিভাবে তিনি মাঝে মাঝে বসরীদেরকে তাঁর 'সাথী' হিসেবেও উল্লেখ করেন (৬)।
এই আনুগত্য সত্ত্বেও, আমরা তাঁকে মাঝে মাঝে কূফীদের মতামত গ্রহণ করতে দেখি। তিনি তিনটি মাফঊল (কর্ম) গ্রহণকারী ফেলসমূহের তালিকায় "হাদ্দাসা" ফেলটিকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত হয়েছেন, যেমন হারিস ইবনে হিল্লিজা আল-ইয়াশকারীর উক্তি [খাফীফ ছন্দে]:
যদি তোমরা প্রার্থিত বস্তু প্রদানে বাধা দাও, তবে তোমাদেরকে যার বিষয়ে জানানো হয়েছে, আমাদের ওপর তার শ্রেষ্ঠত্ব কোথায়?
… (৭)
এবং বাদাল ও মুবদাল মিনহু উভয়ই নাকেরা (অনির্দিষ্ট) হওয়ার বিষয়ে (৮), যেমন আয়াতের ক্ষেত্রে: {একটি বরকতময় বৃক্ষ যয়তুন থেকে} (৯)। এবং কারণ দর্শানো অব্যয় "আই" পরিচ্ছেদে তিনি বলেন: "নাহুবিদগণ 'ফী-মা', 'আম্মা' এবং 'লি-মা' শব্দগুলোতে 'মা'-এর ই'রাব (কারক চিহ্ন) নিয়ে মতভেদ করেছেন। বসরীদের মতে এটি মাজরুর (জেরযুক্ত), আর কূফীদের মতে এটি একটি উহ্য ফেল দ্বারা মানসূব (যবরযুক্ত), যেন আপনি বলছেন: 'যাতে তুমি কী করতে পার'। আমি এই মতটিকে সঠিকতা থেকে দূরে মনে করি না" (১০)।
আবার কখনও তিনি বাগদাদী ঘরানার আলেমদের কিছু মতামত বেছে নেন, যেমন আবু আলী আল-ফারিসীর সাথে একমত হয়ে তিনি মনে করেন যে, "নিইম্মা মুহাম্মাদুন"-এর মতো বাক্যে "মা" শব্দটি 'নাকেরা তাম্মাহ' (পূর্ণ অনির্দিষ্ট শব্দ) এবং তামীয হিসেবে মানসূব (১১)।
কূফী এবং বাগদাদী মতামত গ্রহণের পাশাপাশি আমরা তাঁকে কখনও কখনও কিছু একক মত পোষণ করতে দেখি, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই অভিমত যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إلى أنّ رافع الخبر هو الابتداء فقط (1)، وإلى أنّ "لن" تفيد تأكيد النفي (2).
أمّا أسلوب "المفصّل" فقد أراد الزمخشريّ كما يقول في مقدمة هذا الكتاب أن يتصف بالإيجاز غير المُخِلّ والتلخيص غير الممِلّ، لكنه، كما يقول ابن يعيش في مقدمة شرحه لهذا الكتاب، اشتمل "على ضروب منها لفظ أغربت عبارته فأشكل، ولفظ تتجاذبه معانٍ، فهو مجمل، ومنها ما هو بادٍ للأفهام إلّا أنّه خالٍ من الدليل مهمل".
ولهذا السبب كَثر شُرّاح الكتاب.
وكان للمفصّل أهمّيَة كبيرة لدى العلماء، فأقبلوا عليه ثناءً وشرحًا، ونظمًا، واختصارًا، وردًّا على أخطائه (3).
ومن الذين أثنوا عليه ابن يعيش، فقد قال في مقدمة كتابه "شرح المفصّل": إنّه كتاب جليل القدر، نابه الذكر، جمعت فصوله أصول علم النحو، وأوجز لفظه، فتيسَّر على الطالب تحصيله. ووصفه حاجي خليفة بأنه كتاب "عظيم القدر" (4).
وقال فيه الشاعر [من الطويل]:
إذا ما أردتَ النحو هاك محصَّلا
… عليكَ من الكتبِ الحسانِ مُفَصَّلا (5)
وقال الآخر [من الطويل]:
مفصَّلُ جارِ الله في الحسنِ غايةٌ
… وألفاظُهُ فيه كدُرٍّ مُفَصَّلِ
ولولا التُقى قلت: المفصَّلُ مُحْجِرٌ
… كآيٍ طوالٍ من طوالِ المفصَّلِ (6)
ومن الذين شرحوه (7):
- أحمد بن أبي بكر الحلواني (ت 620 هـ / 1223 م) (8).
- أحمد بن محمَّد المقدسي القاضي (ت 638 هـ / 1240 م) (9).
--------------------------------------------
এই অভিমতের দিকে যে, 'খবর'-কে রফ প্রদানকারী কেবল 'ইবতিদা' (১), এবং এই অভিমতের দিকে যে, 'লান' শব্দটি না-বোধক অর্থকে দৃঢ় করার জন্য আসে (২)।
পক্ষান্তরে "আল-মুফাসসাল"-এর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যামাখশারী এই কিতাবের ভূমিকায় যেমনটি বলেছেন যে, তিনি একে এমন সংক্ষিপ্ততায় বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করতে চেয়েছেন যা অর্থের কোনো ক্ষতি করবে না এবং এমন সারসংক্ষেপে যা বিরক্তির উদ্রেক করবে না। তবে ইবনে ইয়াঈশ এই কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকায় যেমনটি বলেছেন যে, এতে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যার মধ্যে কিছু শব্দ রয়েছে যার প্রকাশভঙ্গি অদ্ভুত হওয়ায় তা অস্পষ্ট হয়ে গেছে, এবং এমন শব্দ রয়েছে যা বহুমুখী অর্থের সম্ভাবনা রাখে ফলে তা 'মুজমাল' (অস্পষ্ট), আবার এমন কিছু রয়েছে যা বোধগম্য হলেও দলীল বর্জিত হওয়ায় তা 'মুহমাল' (পরিত্যক্ত)।
আর এই কারণেই কিতাবটির ব্যাখ্যাকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আলেমদের নিকট "আল-মুফাসসাল"-এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম, ফলে তাঁরা এর প্রশংসা, ব্যাখ্যা, কাব্যরূপ দান, সংক্ষিপ্তকরণ এবং এর ভুলসমূহ খণ্ডনের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন (৩)।
যারা এর প্রশংসা করেছেন তাদের মধ্যে ইবনে ইয়াঈশ অন্যতম। তিনি তার "শারহুল মুফাসসাল" কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন: এটি এক সুমহান কিতাব, যার খ্যাতি সুবিদিত। এর পরিচ্ছেদগুলো নাহু শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহকে একত্রিত করেছে এবং এর শব্দচয়ন সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, ফলে শিক্ষার্থীর জন্য এটি অর্জন করা সহজ হয়েছে। হাজি খলিফা একে "মহান মর্যাদাপূর্ণ" কিতাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন (৪)।
কবি এই কিতাব সম্পর্কে (তাবীল ছন্দে) বলেছেন:
যদি তুমি সংগৃহীত নাহু বিদ্যা পেতে চাও, তবে তোমার জন্য সুন্দর কিতাবসমূহের মধ্য হতে 'মুফাসসাল' আবশ্যিক (৫)
অন্য একজন (তাবীল ছন্দে) বলেছেন:
জারুল্লাহর 'মুফাসসাল' সৌন্দর্যের চূড়ান্ত শিখরে, আর এর শব্দগুলো যেন পৃথক পৃথক মুক্তোর মতো।
যদি খোদাভীতি অন্তরায় না হতো, তবে আমি বলতাম: 'মুফাসসাল' যেন একটি মুজিযা, যেমনটি কুরআনুল কারীমের 'মুফাসসাল' অংশের দীর্ঘ আয়াতসমূহ (৬)
যারা এর ব্যাখ্যা করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য (৭):
- আহমাদ বিন আবি বকর আল-হালওয়ানি (মৃত্যু ৬২০ হিজরী / ১২২৩ খ্রিষ্টাব্দ) (৮)।
- আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-মাকদিসি আল-কাদি (মৃত্যু ৬৩৮ হিজরী / ১২৪০ খ্রিষ্টাব্দ) (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ২০)
- أحمد بن محمود بن قاسم الجندي الأندلسي، من علماء القرن الثامن الهجري، وسمّى شرحه "الإقليد" (1).
- بدر الدين أبو فارس النعساني الحلبي (2).
- أبو البقاء العكبري، عبد الله بن الحسين (538 هـ / 1143 م -616 هـ / 1219 م)، وسمّى شرحه "المحصّل" (3).
- ابن الحاجب عثمان بن عمر (570 هـ / 1174 م- 646 هـ / 1249 م)، وسمّى شرحه "الإيضاح" (4).
- حسين بن علي السغناقي (ت 710 هـ/ 1310 م)، وسمّى شرحه "الموصل" (5).
- الخوارزمي، أبو محمَّد مجد الدين القاسم بن الحسين (555 هـ/ 1160 م- 617 هـ / 1220 م)، وسمّى شرحه "التخمير" (6)، وهو في ثلاثة مجلدات، وله شرح له آخر وسيط، وثالث مختصر (7).
- الرازي، فخر الدين محمَّد بن عمر (544 هـ / 1150 م- 606 هـ/ 1210 م) (8).
- السخاوي، أبو الحسن علي بن محمَّد بن عبد الصمد (558 هـ / 1163 م- 643 هـ/ 1245 م)، وسمّى شرحه "المفضل" (9). وللسخاوي أيضًا كتاب آخر في شرح تصريفه سماه "سفر السعادة وسفير الإفادة" (10).
- عبد الواحد بن عبد الكريم الأنصاري (
… - 651 هـ/ 1253 م)، وسمّى شرحه "المفضّل " (11).
--------------------------------------------
আহমাদ বিন মাহমুদ বিন কাসিম আল-জুনদি আল-আন্দালুসি, অষ্টম হিজরি শতাব্দীর আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি তাঁর শারহের নাম রেখেছেন "আল-ইকলিদ" (১)।
- বদরুদ্দিন আবু ফারিস আন-না'সানি আল-হালাবি (২)।
- আবুল বাকা আল-উকবারি, আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন (৫৩৮ হি. / ১১৪৩ খ্রি. - ৬১৬ হি. / ১২১৯ খ্রি.), তিনি তাঁর শারহের নাম রেখেছেন "আল-মুহাসসিল" (৩)।
- ইবনুল হাজিব উসমান বিন উমর (৫৭০ হি. / ১১৭৪ খ্রি.- ৬৪৬ হি. / ১২৪৯ খ্রি.), তিনি তাঁর শারহের নাম রেখেছেন "আল-ইজাহ" (৪)।
- হুসাইন বিন আলি আস-সিগনাকি (মৃত্যু ৭১০ হি./ ১৩১০ খ্রি.), তিনি তাঁর শারহের নাম রেখেছেন "আল-মুসিল" (৫)।
- আল-খাওয়ারিজমি, আবু মুহাম্মদ মাজদুদ্দিন আল-কাসিম বিন আল-হুসাইন (৫৫৫ হি./ ১১৬০ খ্রি.- ৬১৭ হি. / ১২২০ খ্রি.), তিনি তাঁর শারহের নাম রেখেছেন "আত-তাখমির" (৬), এটি তিন খণ্ডে সমাপ্ত, এবং তাঁর অন্য একটি মধ্যম মানের এবং তৃতীয় একটি সংক্ষিপ্ত শারহ রয়েছে (৭)।
- আর-রাজি, ফখরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন উমর (৫৪৪ হি. / ১১৫০ খ্রি.- ৬০৬ হি./ ১২১০ খ্রি.) (৮)।
- আস-সাখাভি, আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুস সামাদ (৫৫8 হি. / ১১৬৩ খ্রি.- ৬৪৩ হি./ ১২৪৫ খ্রি.), তিনি তাঁর শারহের নাম রেখেছেন "আল-মুফাদদাল" (৯)। সাখাভির আরও একটি গ্রন্থ রয়েছে তাঁর তাসরিফের শারহ হিসেবে যার নাম তিনি রেখেছেন "সাফারুস সা'আদাহ ওয়া সাফিরুল ইফাদাহ" (১০)।
- আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল কারিম আল-আনসারি (
... - ৬৫১ হি./ ১২৫৩ খ্রি.), তিনি তাঁর শারহের নাম রেখেছেন "আল-মুফাদদাল" (১১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ২১)
- علي بن عمر بن الخليل بن عمر المعروف بالفخر الاسفندري (ت 698 هـ / 1299 م)، وسمّى شرحه "كتاب المقتبس في توضيح ما التبس" (1).
- ابن عمرون، محمَّد بن محمَّد الحلبي (ت 649 هـ / 1251 م) (2).
- القاسم بن أحمد اللورقي الأندلسيّ، علم الدين (ت 661 هـ/ 1262 م)، وسمّى شرحه "الموصّل" (3).
- القفطيّ، الوزير جمال الدين علي بن يوسف (ت 646 هـ/ 1248 م) (4).
- ابن مالك، محمَّد بن عبد الله (600 هـ (1203 م- 672 هـ / 1274 م) وسمّى كتابه "ذكر أبنية الأسماء الموجودة في المفصّل" (5).
- محمَّد بن سعد المروزي، وسمّى شرحه "المحصل" (6).
- محمَّد طيب المكيّ الهندي، وسمّى شرحه "الوشاح الحامديّ المفصّل على مخدرات المفصّل" (7).
- محمَّد بن محمَّد الخطيب (8).
- المرادي، بدر الدين حسن بن قاسم (ت 749 هـ/ 1348 م) (9).
- مظهر الدين الشريف الرضيّ محمَّد، وسمّى شرحه "المكمل" (10).
- المهدي لدين الله أحمد بن يحيى المرتضى (775 هـ/1373 م-840 هـ/ 1437 م)، وسمّى شرحه "التاج المكلل" (11).
- ابن النجار البغدادي، أبو عبد الله محمَّد بن محمود (572 هـ / 1183 م - 643 هـ/1245م) (12).
--------------------------------------------
- আলী বিন উমর বিন আল-খলীল বিন উমর, যিনি আল-ফাখর আল-ইসফানদারী (মৃত্যু ৬৯৮ হি. / ১২৯৯ খ্রি.) নামে পরিচিত, এবং তিনি তার শারাহর (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) নামকরণ করেছেন "কিতাব আল-মুকতাবাস ফী তাওদীহ মা আলতাবাস" (১)।
- ইবনে উমরুন, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-হালাবী (মৃত্যু ৬৪৯ হি. / ১২৫১ খ্রি.) (২)।
- আল-কাসিম বিন আহমাদ আল-লাওরাকী আল-আন্দালুসী, আলামুদ্দীন (মৃত্যু ৬৬১ হি. / ১২৬২ খ্রি.), এবং তিনি তার শারাহর নাম দিয়েছেন "আল-মাওসিল" (৩)।
- আল-কিফতী, উজির জামালুদ্দীন আলী বিন ইউসুফ (মৃত্যু ৬৪৬ হি. / ১২৪৮ খ্রি.) (৪)।
- ইবনে মালিক, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ (৬০০ হি. / ১২০৩ খ্রি. - ৬৭২ হি. / ১২৭৪ খ্রি.) এবং তিনি তার বইয়ের নাম দিয়েছেন "ধিকর আবনিয়াহ আল-আসমা আল-মাওজুদাহ ফিল মুফাসসাল" (৫)।
- মুহাম্মদ বিন সাদ আল-মারওয়াযী, এবং তিনি তার শারাহর নাম রেখেছেন "আল-মুহাসসিল" (৬)।
- মুহাম্মদ তাইয়্যেব আল-মাক্কী আল-হিন্দী, এবং তিনি তার শারাহর নাম দিয়েছেন "আল-উশহ আল-হামিদী আল-মুফাসসাল আলা মুখাদ্দারাত আল-মুফাসসাল" (৭)।
- মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-খতীব (৮)।
- আল-মুরাদী, বদরুদ্দীন হাসান বিন কাসিম (মৃত্যু ৭৪৯ হি. / ১৩৪৮ খ্রি.) (৯)।
- মাযহারুদ্দীন আশ-শরীফ আর-রাদী মুহাম্মদ, এবং তিনি তার শারাহর নাম রেখেছেন "আল-মুকাম্মিল" (১০)।
- আল-মাহদী লিদীনিল্লাহ আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল-মুরতাদা (৭৭৫ হি. / ১৩৭৩ খ্রি. - ৮৪০ হি. / ১৪৩৭ খ্রি.), এবং তিনি তার শারাহর নাম দিয়েছেন "আত-তাজ আল-মুকাল্লাল" (১১)।
- ইবনে আল-নাজ্জার আল-বাগদাদী, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাহমুদ (৫৭২ হি. / ১১৮৩ খ্রি. - ৬৪৩ হি. / ১২৪৫ খ্রি.) (১২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ২২)
- يحيى بن حمزة بن السيد المرتضى ابن رسول الله (669 هـ / 1270 م - 745 هـ/ 1344 م)، وسمّى شرحه "المحصل لكشف أسرار المفصّل" (1).
- ابن يعيش، موفق الدين يعيش بن علي (553 هـ / 1161 م- 643 هـ / 1245 م)، وهو الشرح الذي سنتناوله بالتفصيل بعد قليل.
- أبو يوسف، منتجب الدين يعقوب الهمداني (ت 643 هـ / 1245 م) (2).
- شروحات أخرى له ولشواهده لمجاهيل (3).
- وشرح أبياته أبو البركات مبارك بن أحمد المعروف بابن المستوفي (ت 638 هـ / 1240 م)، وسمّى شرحه "إثبات المحصل في نسبة أبيات المفصّل"، ورضي الدين حسن بن محمَّد الصغاني (577 هـ / 1181 - 650 هـ / 1252 م)؛ وعبد الظاهر بن بشران (أونشوان) (649 هـ/ 1251 م) (4)؛ وفخر الدين الخوارزميّ (5).
ونظمه أبو نصر فتح بن موسى الخضراوي القصري (ت 663 هـ/ 1264 م)؛ وأبو شامة عبد الرحمن بن إسماعيل الدمشقي (ت 665 هـ / 1266 م) (6). واختصره الشيخ عبد الكريم بن عطاء الله الإسكندراني (ت 612 هـ / 1215 م)، وشمس الدين محمَّد بن يوسف القونوي (ت 788 هـ/ 1386 م) (7).
وصنف أبو الحجّاج يوسف بن معزوز القيسي الأندلسيّ (ت 625 هـ / 1227 م) في الردّ على المفصّل كتابًا سماه "كتاب التنبيه على أغلاط الزمخشريّ في المفصّل وما خالف فيه سيبويه" (8).
…--------------------------------------------
ইয়াহইয়া বিন হামযাহ বিন আস-সায়্যিদ আল-মুরতাদা ইবনে রাসূলুল্লাহ (৬৬৯ হি. / ১২৭০ খ্রি. - ৭৪৫ হি. / ১৩৪৪ খ্রি.), এবং তিনি তার শারহ-এর নাম দিয়েছেন "আল-মুহাসসিল লি-কাশফি আসরারিল মুফাসসাল" (১)।
- ইবনে ইয়াইশ, মুওয়াফফাকুদ্দীন ইয়াইশ বিন আলী (৫৫৩ হি. / ১১৬১ খ্রি. - ৬৪৩ হি. / ১২৪৫ খ্রি.), এবং এটিই সেই শারহ যা নিয়ে আমরা অল্প কিছুক্ষণ পরেই বিস্তারিত আলোচনা করব।
- আবু ইউসুফ, মুনতাজাবুদ্দীন ইয়াকুব আল-হামদানি (মৃত্যু ৬৪৩ হি. / ১২৪৫ খ্রি.) (২)।
- এর জন্য এবং এর কাব্যিক উপমাগুলোর (শাওয়াহিদ) জন্য অজ্ঞাত লেখকদের অন্যান্য শারহসমূহ (৩)।
- আর এর শ্লোকগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন আবুল বারাকাত মুবারক বিন আহমাদ, যিনি ইবনুল মুসতাওফি (মৃত্যু ৬৩৮ হি. / ১২৪০ খ্রি.) নামে পরিচিত, এবং তিনি তার শারহ-এর নাম দিয়েছেন "ইসবাতুল মুহাসসিল ফি নিসবাতি আবিয়াতিল মুফাসসাল"; এবং রযিউদ্দীন হাসান বিন মুহাম্মাদ আস-সাগানি (৫৭৭ হি. / ১১৮১ - ৬৫০ হি. / ১২৫২ খ্রি.); এবং আবদুল জহির বিন বিশরান (আওনাশওয়ান) (৬৪৯ হি. / ১২৫১ খ্রি.) (৪); এবং ফাখরুদ্দীন আল-খাওয়ারিজমি (৫)।
আর এটিকে কাব্যরূপ দিয়েছেন আবু নাসর ফাতহ বিন মুসা আল-খাদরাওয়ি আল-কাসরি (মৃত্যু ৬৬৩ হি. / ১২৬৪ খ্রি.); এবং আবু শামাহ আবদুর রহমান বিন ইসমাইল আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৬৬৫ হি. / ১২৬৬ খ্রি.) (৬)। আর এটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন শেখ আবদুল কারিম বিন আতাউল্লাহ আল-ইসকানদারি (মৃত্যু ৬১২ হি. / ১২১৫ খ্রি.), এবং শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-কুনাওয়ি (মৃত্যু ৭৮৮ হি. / ১৩৮৬ খ্রি.) (৭)।
আর আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন মা'যূয আল-কাইসি আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৬২৫ হি. / ১২২৭ খ্রি.) মুফাসসাল-এর খণ্ডনে একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন "কিতাবুত তানবিহ আলা আগলাতিয যামাখশারি ফিল মুফাসসাল ওয়া মা খালাফা ফিহি সীবওয়াইহ" (৮)।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الثانيترجمة ابن يعيش
1 - مصادر ترجمته ومراجعها:- الأعلام 8/ 206.
- إنباه الرواة 4/ 45 - 50.
- بغية الوعاة 2/ 351 - 352.
- تاريخ الأدب العربي لكارل بروكلمان 5/ 274 - 275.
- دائرة المعارف 3/ 281.
- دائرة المعارف الإِسلامية 1/ 303 - 304.
- شذرات الذهب 5/ 228 - 229.
- كشف الظنون ص 412، 1175.
- المختصر في أخبار البشر 3/ 183.
- المدارس النحوية ص 280 - 281.
- معجم المؤلفين 14/ 256.
- معجم المطبوعات العربية والمعرّبة ص 288.
- المعجم المفصّل في اللغويين العرب 2/ 355.
- مفتاح السعادة 1/ 158 - 159.
- هدية العارفين 2/ 548.
- وفيات الأعيان 7/ 46 - 53.
2 - ترجمته:أبو البقاء يعيش بن علي بن يعيش بن أبي السرايا بن محمَّد، الموصليّ الأصل، الحلبيّ المولد والمنشأ، الملقب موفق الدين النحوي، والمعروف بـ"ابن الصائغ" (1): نحويّ لغويّ.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদইবনে ইয়াঈশের জীবনী
১ - তাঁর জীবনীর উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহ:- আল-আ’লাম ৮/ ২০৬।
- ইনবাহুর রুওয়াত ৪/ ৪৫ - ৫০।
- বুগইয়াতুল উয়াত ২/ ৩৫১ - ৩৫২।
- কার্ল ব্রোকলম্যান রচিত আরবি সাহিত্যের ইতিহাস ৫/ ২৭৪ - ২৭৫।
- দাইরাতুল মাআরিফ (বিশ্বকোষ) ৩/ ২৮১।
- ইসলামি বিশ্বকোষ ১/ ৩০৩ - ৩০৪।
- শাযারাতুয যাহাব ৫/ ২২৮ - ২২৯।
- কাশফুয যুনুন পৃষ্ঠা ৪১২, ১১৭৫।
- আল-মুখতাসার ফি আখবারিল বাশার ৩/ ১৮৩।
- আল-মাদারিসুন নাহউইয়াহ পৃষ্ঠা ২৮০ - ২৮১।
- মু’জামুল মুআল্লিফীন ১৪/ ২৫৬।
- মু’জামুল মাতবু’আত আল-আরাবিয়্যাহ ওয়াল মু’আররাবাহ পৃষ্ঠা ২৮৮।
- আল-মু’জামুল মুফাসসাল ফিল লুগাউয়িয়্যিনাল আরব ২/ ৩৫৫।
- মিফতাহুস সা’আদাহ ১/ ১৫৮ - ১৫৯।
- হাদিয়াতুল আরিফীন ২/ ৫৪৮।
- ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান ৭/ ৪৬ - ৫৩।
২ - তাঁর জীবনী:আবুল বাকা ইয়াঈশ বিন আলী বিন ইয়াঈশ বিন আবিস সারায়া বিন মুহাম্মদ; মূলে তিনি মসুলী, জন্ম ও বেড়ে ওঠা হালাবে। তাঁর উপাধি মুয়াফফাকুদ্দীন আন-নাহবী, এবং তিনি "ইবনুস সায়িগ" নামে পরিচিত (১): তিনি একজন ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদ ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ولد ابن يعيش في الثالث من رمضان عام 553 هـ (= 28 سبتمبر سنة 1158 م).
رحل من حلب في صدر عمره قاصدًا بغداد ليحضر مجلس أبي البركات عبد الرحمن بن محمَّد، المعروف بابن الأنباري، ومجالس غيره من علماء بغداد آنذاك. فلما وصل إلى الموصل، بلغه خبر وفاته، فأقام بالموصل مدّة مديدة يدرس الحديث، ثمّ عاد إلى حلب، ووقف حياته على التدريس، فانتفع به خلق كثير من أهل حلب وغيرها، حتى إن الرؤساء الذين كانوا بحلب ذلك الزمان كانوا تلامذته.
توفي ابن يعيش في حلب في الخامس والعشرين من جمادى الأولى سنة 643 هـ (= 18 أكتوبر سنة 1245 م)، ودفن فيها في المقام المنسوب إلى إبراهيم الخليل.
3 - أساتذته:قرأ ابن يعيش النحو على أبي السخاء فتيان الحلبي، وأبي العباس المغربي النيروزيّ، وسمع الحديث على أبي الفضل عبد الله بن أحمد الخطيب الطوسي بالموصل، وعلى أبي محمَّد عبد الله بن عمر بن سويدة التكريتي، وبحلب على أبي الفرج يحيى بن محمود الثقفي، والقاضي أبي الحسن أحمد بن محمَّد بن نصر بن صغير القيسراني، وبدمشق على تاج الدين الكندي (1).
4 - مؤلفاته:يبدو أنّ ابن يعيش لم يكن غزير الإنتاج، إذ لم تذكر لنا مصادر ترجمته سوى المؤلفات التالية:
1 - شرح المفصّل.
2 - شرح التصريف الملوكي (2).
3 - أجوبة على مسائل نحوية لأبي نصر الدمشقي (3)
4 - تفسير المنتهى من بيان إعراب القرآن (4).
5 - كتاب في القراءات (5).
--------------------------------------------
ইবনে ইয়াঈশ ৫৫৩ হিজরির ৩রা রমজান (অর্থাৎ ১১৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২৮শে সেপ্টেম্বর) জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি তাঁর জীবনের প্রথম ভাগে ইবনে আল-আম্বারি নামে পরিচিত আবুল বারাকাত আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদের এবং তৎকালীন বাগদাদের অন্যান্য আলেমদের মজলিসে উপস্থিত হওয়ার উদ্দেশ্যে আলেপ্পো থেকে বাগদাদের পথে যাত্রা করেন। যখন তিনি মসুলে পৌঁছালেন, তখন তাঁর (ইবনে আল-আম্বারি) মৃত্যুর সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছল। এরপর তিনি দীর্ঘকাল মসুলে অবস্থান করে হাদিস চর্চা করেন। পরবর্তীতে তিনি পুনরায় আলেপ্পোতে ফিরে আসেন এবং নিজের জীবনকে শিক্ষকতায় উৎসর্গ করেন। আলেপ্পো ও অন্যান্য স্থানের অসংখ্য মানুষ তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে, এমনকি সে সময়ে আলেপ্পোর নেতৃবৃন্দও তাঁর ছাত্র ছিলেন।
ইবনে ইয়াঈশ ৬৪৩ হিজরির ২৫শে জুমাদাল উলা (অর্থাৎ ১২৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই অক্টোবর) আলেপ্পোতে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই ইব্রাহিম আল-খালিলের সাথে সম্পৃক্ত স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
৩ - তাঁর শিক্ষকগণ:ইবনে ইয়াঈশ আবুস সাখা ফিতইয়ান আল-হালাবি এবং আবুল আব্বাস আল-মাগরিবি আন-নাইরুজি-এর কাছে নাহু (আরবি ব্যাকরণ) পাঠ করেন। তিনি মসুলে আবুল ফজল আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-খাতিব আত-তুসি এবং আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে সুওয়াইদা আত-তিকরিতি-এর কাছে হাদিস শ্রবণ করেন। আলেপ্পোতে আবুল ফারাজ ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফি ও কাজি আবুল হাসান আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নাসর ইবনে সাগির আল-কায়সারানি এবং দামেস্কে তাজউদ্দীন আল-কিন্দি-এর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন (১)।
৪ - তাঁর রচনাবলি:প্রতীয়মান হয় যে ইবনে ইয়াঈশ খুব বেশি গ্রন্থ রচনা করেননি, কারণ তাঁর জীবনীগ্রন্থসমূহে কেবল নিচের গ্রন্থগুলোর কথা উল্লেখ পাওয়া যায়:
১ - শারহুল মুফাসসাল।
২ - শারহুত তাসরিফ আল-মুলুকি (২)।
৩ - আবু নাসর আদ-দিমাশকির নাহু বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরসমূহ (৩)
৪ - তাফসিরুল মুনতাহা মিন বায়ান ই'রাবিল কুরআন (৪)।
৫ - কিরাআত বিষয়ক একটি গ্রন্থ (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
5 - أقوال العلماء فيه:لم يذكره الذين ترجموا له إلَّا بالمدح والثناء على علمه وفضله. قال عنه الوزير جمال الدين أبو الحسن علي بن يوسف القفطيّ (ت 146 هـ / 1248 م)، وكان معاصره وساكنًا في جواره: "لو أنصفتُه ما أجريتُه في حلبة النحاة، ولو أنّ النحو قنطرة الآداب، لنزَّهته عن مشاركة من قصَدَه ونحّاه، فإنّني إنْ وصفتُه بالنحو فهو أديب، أو بالبلاغة فهو خطيب، أو بالعدالة فهو أبو ذرّها، أو بالمعاني فهو مكنون دُرّها، أو بجميع الفضائل فهو حالب دَرِّها. إمام إذا قاسَ قطع، وإذا تربَّعَ رَبْع الأدب بَرعَ، وإن سُئِل بَيَّن المُشكِل، وإن اسْتُفسِر فَصَّل المُجْمل. تصدَّر في زاوية أبي علي [الفارسيّ]، وجَلَّى للطلبة غامضَ كلامه، وما تعبيرُ كلِّ متصدِّر جليّ" (1). وقال معاصره ابن خلِّكان (أبو العباس شمس الدين أحمد محمَّد (ت 681 هـ / 1282 م): "
… ولما وصلت إلى حلب لأجل الاشتغال بالعلم الشريف، وكان دخولي إليها يوم الثلاثاء مستهلّ ذي القعدة سنة ست وعشرين وستمائة (=20 أيلول سنة 1229 م)، وهي إذ ذاك أم البلاد، مشحونة بالعلماء والمشتغلين. وكان الشيخ موفّق الدين المذكور شيخ الجماعة في الأدب، لم يكن فيهم مثله، فشرعت في القراءة عليه. وكان يُقرىء بجامعها في المقصورة الشماليّة بعد العصر، وبين الصلاتين بالمدرسة الرواحية، وكان عنده جماعة قد تنبّهوا وتميَّزوا به، وهم ملازمون مجلسه لا يفارقونه في وقت الإقراء. وابتدأت بكتاب "اللمع" لابن جني، فقرأت عليه معظمه مع سماعي لدروس الجماعة الحاضرين، وذلك في أواخر سنة سبع وعشرين، وما أتممته إلَّا على غيره لعذر اقتضى ذلك.
وكان حسن التفهيم، لطيف الكلام، طويل الروح على المبتدىء والمنتهي. وكان خفيف الروح، ظريف الشمائل، كثير المجون، مع سكينة ووقار" (2).
وقال عنه السيوطي (جمال الدين عبد الرحمن بن الكمال (ت 911 هـ / 1505 م): "وكان من بار أئمّة العربية، ماهرًا في النحو والتصنيف. قدِمَ دمشق، وجالس الكنديّ، وتصدّر بحلَب للإقراء زمانًا، وطال عمرُه، وشاع ذكرُه، وغالبَ فضلاء حلب تلامذتُه" (3).
6 - كتابه "شرح المفصَّل":
تقدّم القول في الفصل السابق أنّ نحويين عديدين تناولوا "المفصّل" شرحًا، ونظمًا،
--------------------------------------------
৫ - তাঁর সম্পর্কে আলিমগণের অভিমত:যাঁরা তাঁর জীবনী লিখেছেন, তাঁরা তাঁর ইলম ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা ও স্তুতি ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করেননি। উজির জামালুদ্দিন আবুল হাসান আলি ইবনে ইউসুফ আল-কিফতি (মৃত্যু: ১৪৬ হি. / ১২৪৮ খ্রি.), যিনি তাঁর সমসাময়িক এবং প্রতিবেশী ছিলেন, তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "আমি যদি তাঁর প্রতি সুবিচার করতাম, তবে তাঁকে কেবল ব্যাকরণবিদদের কাতারে শামিল করতাম না। যদিও ব্যাকরণ সাহিত্যের সেতু স্বরূপ, তবুও আমি তাঁকে সেই সব ব্যক্তিদের সাথে অংশীদার হওয়া থেকে পবিত্র রাখতাম যারা কেবল ব্যাকরণকেই উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে। কারণ আমি যদি তাঁকে ব্যাকরণবিদ হিসেবে বর্ণনা করি, তবে তিনি একজন সাহিত্যিক; যদি অলঙ্কারবিদ হিসেবে বর্ণনা করি, তবে তিনি একজন সুবক্তা; যদি ন্যায়পরায়ণতার কথা বলি, তবে তিনি এই গুণের আবু যার; যদি অর্থগত সূক্ষ্মতার কথা বলি, তবে তিনি এর লুকানো মুক্তো; আর যদি সকল শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলি, তবে তিনি তার পূর্ণতার অধিকারী। তিনি এমন এক ইমাম যে, যখন যুক্তি প্রদান করেন তখন তা চূড়ান্ত করেন, আর যখন সাহিত্যের আসনে আসীন হন তখন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। যদি তাঁকে কোনো জটিল বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তিনি তা স্পষ্ট করে দেন; আর যদি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়, তবে তিনি সংক্ষিপ্ত বিষয়কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন। তিনি আবু আলি [আল-ফারিসি]-র পাঠচক্রে প্রধান আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং ছাত্রদের জন্য তাঁর জটিল বক্তব্যগুলোকে প্রাঞ্জল করে তুলতেন। আর প্রত্যেক প্রধান আসনধারী ব্যক্তির ব্যাখ্যা তো এমন স্পষ্ট হয় না।" (১)। তাঁর সমসাময়িক ইবনে খাল্লিকান (আবু আব্বাস শামসুদ্দিন আহমাদ মুহাম্মদ (মৃত্যু: ৬৮১ হি. / ১২৮২ খ্রি.) বলেছেন: "
… যখন আমি উচ্চতর ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে হালাবে পৌঁছালাম—আর সেখানে আমার প্রবেশ ছিল ৬২৬ হিজরির যিলকদ মাসের পহেলা মঙ্গলবার (=২০ সেপ্টেম্বর ১২২৯ খ্রি.)—তখন তা ছিল বড় শহরগুলোর অন্যতম এবং আলিম ও শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিপূর্ণ। উল্লিখিত শায়খ মুওয়াফফাকুদ্দিন ছিলেন সাহিত্যের ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় শায়খ; তাঁদের মধ্যে তাঁর মতো আর কেউ ছিল না। তাই আমি তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ শুরু করলাম। তিনি আসরের পর জামে মসজিদের উত্তর দিকের মাকসুরায় এবং দুই সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে মাদরাসা রাওয়াহিয়্যাহ-তে পাঠদান করতেন। তাঁর নিকট একদল ছাত্র ছিল যারা অত্যন্ত মেধাবী ও বিশিষ্ট হয়ে উঠেছিল এবং তারা পাঠদানের সময় তাঁর মজলিসে সার্বক্ষণিক লেগে থাকত। আমি ইবনে জিন্নি-র 'আল-লুম' কিতাবটি দিয়ে শুরু করলাম এবং উপস্থিত ছাত্রদের পাঠ শোনার পাশাপাশি এর অধিকাংশ তাঁর নিকট পাঠ করলাম। এটি ছিল ৬২৭ হিজরির শেষদিকের ঘটনা। তবে একটি বিশেষ কারণে অন্য কারো নিকট এটি সমাপ্ত করতে হয়েছিল।
তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিতেন, তাঁর কথা ছিল অত্যন্ত প্রাঞ্জল এবং শিক্ষানবিশ ও উচ্চতর পর্যায়ের—উভয় স্তরের ছাত্রদের প্রতিই তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল। তিনি প্রাণবন্ত ও সুন্দর স্বভাবের অধিকারী ছিলেন এবং গাম্ভীর্য ও মর্যাদার পাশাপাশি অনেক রসিকও ছিলেন।" (২)।
সুয়ূতী (জামালুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনুল কামাল (মৃত্যু: ৯১১ হি. / ১৫০৫ খ্রি.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ছিলেন আরবি ভাষার শ্রেষ্ঠ ইমামদের অন্তর্ভুক্ত এবং ব্যাকরণ ও গ্রন্থ রচনায় অত্যন্ত পারদর্শী। তিনি দামেস্কে আগমন করেন এবং আল-কিন্দি-র মজলিসে বসেন। দীর্ঘকাল হালাবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করেন। তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। হালাবের অধিকাংশ পণ্ডিত ব্যক্তিই ছিলেন তাঁর ছাত্র।" (৩)।
৬ - তাঁর গ্রন্থ "শারহুল মুফাসসাল":
পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, অনেক ব্যাকরণবিদ "আল-মুফাসসাল"-এর ব্যাখ্যা ও কাব্যরূপ প্রদান করেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
واختصارًا، وردًّا عليه وتصحيحًا لأخطائه، لكنّ شرح ابن يعيش انفرد بالشهرة بين العلماء، وذلك أن الشارح أقبل على المفصَّل، كما يقول في مقدمة شرحه، وهو في سن السبعين، بعد أن نضج علمًا، وترسّخت قدمه في النحو والصرف، وأصبح خبيرًا بمذاهب البصريين والكوفيين والبغداديين.
أمّا سبب تخصيصه كتاب "المفصّل" بالشرح دون غيره من كتب النحاة، فلأنّ هذا الكتاب، كما يذكر في مقدمة شرحه، جليل القدر نابه الذكر إلَّا أن فيه ألفاظًا أشكلت، وعبارات مجملة، ومعانٍ خالية من الدليل. قال: "لما كان الكتاب الموسوم بـ"المفصّل" من تأليف الإِمام العلّامة أبي القاسم محمود بن عمر الزمخشريّ، رحمه الله، جليلاً قدره، نابهًا ذكرُه، قد جمعت أصولَ هذا العلم فصولُه، وأوجز لفظه، فتيسَّر على الطالب تحصيله، إلَّا أنّه مشتمل على ضروب، منها أغربت عبارته فأشكل، ولفظ تتجاذبه معانٍ، فهو مجمل. ومنها ما هو بادٍ للأفهام، إلَّا أنّه خالٍ من الدليل مهمل، استخرت الله تعالى في إملاء كتاب أشرح فيه مشكله، وأوضح مجمله، وأُتبع كلّ حكم منه حججَه وعِلَله. ولا أَدّعي أنه، رحمه الله، أحل بذلك تقصيرًا عما أتيت به في هذا الكتاب، إذ من المعلوم أن من كان قادرًا على بلاغة الإيجاز كان قادرًا على بلاغة الإطناب".
ويتلخص منهج ابن يعيش في شرحه في أنه تابعَ الزمخشريّ في مفصَّله فصلاً فصلاً، وفقرةً فقرةً، وعبارةً عبارة من أوّل الكتاب إلى آخره. فكان يُثبت كلام الزمخشريّ بحسب تقسيمات الزمخشريّ نفسه لهذا الكلام، ثم يُتبعه بالشرح والتفصيل، والنقد، متوسِّعًا في شرحه، عارضًا لآراء النحويين المختلفة في المسألة الواحدة، حتى جاء شرحه أشبه بدائرة معارف لآراء النحاة على اختلاف مدارسهم، "حتى كأنّه لم يترك مصنفًا لعَلَم من أعلامهم إلَّا استوعبه، وتمثَّل كل ما فيه من آراءه تمثُّلاً منقطع النظير" (1).
والقارئ لهذا الشرح يظهر له منذ الصفحات الأولى شدّة حماسة ابن يعيش للبصريين، وانتصاره لهم، وهو يسمّيهم "أصحابه" (2)، موهنًا آراء الكوفيين ومن وافقهم، مكثِرًا من الاستشهاد بسيبويه حتى كاد أن يستنفد آراء. وهو دائم التأييد له، فإن وجد أنْ رأيًا من آرائه سيبويه لا يوافقه، وهذا نادر، ذهب إلى أن هذا الرأي هو"الظاهر" من كلام سيبويه (3). وقد انتصر لرأي البصريين في أن "الاسم" مشتق من "السمو" لا من "السمة" كما قال الكوفيّون (4)، وفي أن فاعل "ضربني" في قولك: "ضربني وضربت
--------------------------------------------
সংক্ষেপে, তার প্রতি উত্তর এবং তার ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্যে; তবে ইবনে ইয়ায়িশের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি আলেমদের মাঝে অনন্য খ্যাতি লাভ করেছে। এর কারণ হলো, ব্যাখ্যাকার সত্তর বছর বয়সে 'আল-মুফাসসাল' গ্রন্থের ব্যাখ্যার কাজ শুরু করেন, যেমনটি তিনি তাঁর ব্যাখ্যার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। তখন তিনি ইলমের ক্ষেত্রে পরিপক্বতা অর্জন করেছিলেন, নাহু (ব্যাকরণ) ও সরফ (রূপতত্ত্ব) শাস্ত্রে তাঁর পা সুদৃঢ় হয়েছিল এবং তিনি বসরাবাসী, কুফাবাসী ও বাগদাদবাসীদের মাযহাব বা মতবাদ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছিলেন।
অন্য কোনো নাহুবিদদের কিতাব ছেড়ে বিশেষভাবে 'আল-মুফাসসাল' কিতাবটির ব্যাখ্যা করার কারণ সম্পর্কে তিনি তাঁর ভূমিকার শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, এটি একটি সুমহান মর্যাদাসম্পন্ন ও সুপরিচিত কিতাব। তবে এতে এমন কিছু শব্দ ছিল যা জটিলতা সৃষ্টি করে, কিছু বাক্য ছিল সংক্ষিপ্ত এবং কিছু অর্থ ছিল দলিলহীন। তিনি বলেন: "ইমাম আল্লামা আবুল কাসিম মাহমুদ বিন উমর আল-জামাশারি (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক রচিত 'আল-মুফাসসাল' নামক কিতাবটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ হওয়ায়, এবং এর অধ্যায়গুলো এই শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহকে একত্রিত করায় এবং এর শব্দ চয়ন সংক্ষিপ্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য এটি আয়ত্ত করা সহজ হয়েছিল। তবে এতে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল যেগুলোর বর্ণনা অদ্ভুত হওয়ার কারণে তা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছিল এবং এমন কিছু শব্দ ছিল যা একাধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখায় তা সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আবার কিছু বিষয় বোধগম্য হলেও তা দলিলবিহীন বা অবহেলিত ছিল। তাই আমি আল্লাহ তাআলার নিকট ইস্তিখারা করলাম এমন একটি কিতাব রচনার জন্য, যেখানে আমি এর অস্পষ্টতা ব্যাখ্যা করব, সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করব এবং প্রতিটি বিধানের সাথে এর দলিল ও কারণসমূহ উল্লেখ করব। আমি এটা দাবি করি না যে, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এতে এমন কোনো ঘাটতি রেখেছেন যা আমি এই কিতাবে পূর্ণ করেছি; কারণ এটি সুপরিচিত যে, যিনি সংক্ষেপনের অলঙ্কারশাস্ত্রে (বালাগাত) পারদর্শী, তিনি বিস্তারিত বর্ণনার অলঙ্কারশাস্ত্রেও পারদর্শী।"
ইবনে ইয়ায়িশের ব্যাখ্যা প্রদানের পদ্ধতি সংক্ষেপে হলো এই যে, তিনি জামাশারির 'মুফাসসাল' গ্রন্থের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি অধ্যায়, অনুচ্ছেদ এবং বাক্য অনুসরণ করেছেন। তিনি জামাশারির কথাগুলোকে তাঁর নিজের করা বিভাজন অনুযায়ীই স্থাপন করতেন, তারপর সেটির ব্যাখ্যা, বিস্তারিত আলোচনা ও সমালোচনা করতেন। তিনি তাঁর ব্যাখ্যায় ব্যাপকতা আনতেন এবং একটি মাসআলা বা বিষয়ে বিভিন্ন নাহুবিদদের মতামতের অবতারণা করতেন। ফলে তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি বিভিন্ন ঘরানার নাহুবিদদের মতামতের একটি বিশ্বকোষের রূপ পরিগ্রহ করেছে, "এমনকি মনে হয় যেন তিনি তাঁদের মধ্যকার কোনো প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বের কোনো রচনাই বাদ দেননি যা তিনি আত্মস্থ করেননি এবং তাতে বর্ণিত সমস্ত মতামতকে এক অতুলনীয়ভাবে উপস্থাপন করেছেন" (১)।
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির পাঠকের কাছে প্রথম পৃষ্ঠাগুলো থেকেই ইবনে ইয়ায়িশের বসরাবাসীদের (বসরিয়ীন) প্রতি প্রবল উৎসাহ ও তাদের পক্ষাবলম্বন প্রকাশ পায়। তিনি তাদের "তাঁর সাথী" (২) বলে অভিহিত করেন এবং কুফাবাসী ও তাদের সমর্থকদের মতামতকে দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি সিবওয়াইহ-এর উক্তি থেকে অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি পেশ করেন, এমনকি মনে হয় যেন তিনি তাঁর সকল মতামত নিঃশেষ করে ফেলেছেন। তিনি সবসময় তাঁর (সিবওয়াইহ-এর) সমর্থন করতেন; যদি কখনো দেখা যেত যে সিবওয়াইহ-এর কোনো একটি মতামতের সাথে তিনি একমত হতে পারছেন না—যা অত্যন্ত বিরল—তবে তিনি বলতেন যে এই মতামতটি সিবওয়াইহ-এর বক্তব্যের "বাহ্যিক দিক" (৩)। তিনি বসরাবাসীদের এই মতের সমর্থন করেছেন যে, 'ইসম' (নাম) শব্দটি 'সুমুউ' (উচ্চতা) থেকে উদ্ভূত, কুফাবাসীদের দাবি অনুযায়ী 'সিমা' (চিহ্ন) থেকে নয় (৪)। এবং "দারাবানি ওয়া দারাবতু" (সে আমাকে প্রহার করেছে এবং আমি প্রহার করেছি) বাক্যে "দারাবানি"-এর ফায়িল বা কর্তার ক্ষেত্রে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
زيدًا" مُضْمَر دلّ عليه مفعول "ضربت"، وليس كما قال الكسائي إنه لا فاعل له (1)؛ وفي أنّ عامل الرفع في المبتدأ هو الابتداء لا الخبر كما ذهب إليه الكوفيون (2)، كذلك ضعَّف رأي هؤلاء في أن الاسم الواقع بعد "لولا" يرتفع بها لنيابتها عن الفعل (3)، كما ضعَّف رأيهم في أنّ "إنّ" وأخواتها لا تعمل الرفع في الخبر، وإنما هو مرفوع على حاله قبل دخول"إنّ" وصواحبها (4).
ولكن تعصّبه للبصريين لم يمنعه من استحسان بعض آراء الكوفيّين، وذلك في أحيانٍ قليلة، كاستحسانه تخريجهم لقراءة: {إِنْ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ} (5) على أنّ "إنْ" نافية، واللام بمعنى "إلَّا"، والتقدير: ما هذان إلَّا ساحران (6)، وجوَّز رأي الكوفيّين في صرف ما لا ينصرف في الضرورة الشعريَّة (7)، واستحسن رأي أبي علي الفارسيّ في أنّ المعطوف في مثل "قام محمَّد وعُمَر" معمول لفعل محذوف من جنس الفعل الأول (8)، وفي أنّ اللام الداخلة أو اللازمة مع "إن" الملغاة فارقة بينها وبين "إن" النافية (9).
وهو في شرحه يستشهد بالكثير من الآيات القرآنية (10)، والقراءات، والشواهد الشعرية (11)، كما استشهد بالأحاديث النبويّة (12)، والأمثال (13)، والأقوال (14).
وكان يشرح ما يجده صعبًا من الألفاظ، وينسب الأبيات الشعرية التي لم ينسبها الزمخشريّ، ويُبَيِّن مواضع الاستشهاد فيها، إلى عرض آراء مختلفة في المسألة الواحدة، ثمّ مناقشتها.
وفي الجملة، جاء الشرح محقّقًا غايته، مستوفيًا شروطه، حتى قال ابن خلّكان: "ليس في جملة الشروح مثله" (15)، وقال القفطيّ: "وصل به ما فَصَّله، وفرَّق على المستفيدين ما أجمله، واستقى له من ركيّة القوم ما جُمَّ له، وشرَّفه بعنايته وإعانته، فنوَّه
--------------------------------------------
"যাইদান" হলো ঊহ্য, যা "দারাবতু" এর কর্মপদ (মাফউল) দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। কিসাঈর মতানুসারে এটি এমন নয় যে এর কোনো কর্তা (ফায়েল) নেই (১); মুবতাদার ক্ষেত্রে রফ-দানকারী আমেল হলো ইবতিদা (প্রারম্ভিকতা), খবর নয়; যা কূফীবাসীদের অভিমত ছিল (২)। একইভাবে তিনি তাদের এই মতকেও দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন যে, "লাওলা" এর পরে অবস্থিত বিশেষ্য (ইসম) পদটি রফ প্রাপ্ত হয় কারণ সেটি ক্রিয়ার (ফেল) স্থলাভিষিক্ত হয় (৩)। যেমনটি তিনি তাদের এই মতকেও দুর্বল বলেছেন যে, "ইন্না" এবং তার সমগোত্রীয় হরফগুলো খবরের মধ্যে রফের আমল করে না, বরং সেটি "ইন্না" ও তার সঙ্গীরা প্রবেশ করার পূর্বের অবস্থায় রফ প্রাপ্ত থাকে (৪)।
কিন্তু বসরীবাসীদের প্রতি তাঁর এই পক্ষপাতিত্ব তাঁকে কূফীবাসীদের কিছু অভিমত পছন্দ করা থেকে বিরত রাখেনি, যদিও তা খুব অল্প ক্ষেত্রেই হয়েছে। যেমন: "নিশ্চয়ই এই দুইজন জাদুকর" (৫) আয়াতের কেরাআতের ক্ষেত্রে তাদের ব্যাখ্যাকে তিনি উত্তম বলেছেন যে, এখানে "ইন" হলো নাফিয়াহ (নাবোধক) এবং "লাম" হলো "ব্যতীত" (ইল্লা) অর্থে; আর এর প্রাক্কলিত অর্থ হলো: "এই দুজন জাদুকর ব্যতীত আর কেউ নয়" (৬)। এছাড়া তিনি কাব্যিক প্রয়োজনে গাইরে মুনসারিফ (অপরিবর্তনীয়) শব্দকে মুনসারিফ (পরিবর্তনশীল) হিসেবে পড়ার কূফী মতটিকে বৈধ বলেছেন (৭)। তিনি আবু আলী আল-ফারিসীর এই মতটিকেও পছন্দ করেছেন যে, "মুহাম্মদ ও ওমর দাঁড়িয়েছে" এর মতো বাক্যে মা'তুফ (সংযুক্ত পদ) হলো প্রথম ক্রিয়ার সমজাতীয় একটি ঊহ্য ক্রিয়ার মা'মুল (৮)। এবং বাতিলকৃত (আল-মুলগাহ) "ইন" এর সাথে যুক্ত হওয়া বা আবশ্যকীয় "লাম" তাকে নাফিয়াহ "ইন" থেকে পৃথক করে (৯)।
তিনি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে প্রচুর পরিমাণে কুরআনের আয়াত (১০), কেরাআত, কাব্যিক উদ্ধৃতি (১১), রাসুলুল্লাহর হাদিস (১২), প্রবাদ-প্রবচন (১৩) এবং মনিষীদের উক্তি (১৪) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
তিনি কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করতেন এবং যামাখশারী যেসকল কাব্যাংশের কবির নাম উল্লেখ করেননি সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট কবির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতেন। তিনি দলিল পেশ করার স্থানগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতেন এবং একটি বিষয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতেন।
মোটের ওপর, এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি তার উদ্দেশ্য অর্জনে সফল হয়েছে এবং এর শর্তসমূহ পূর্ণ করেছে। এমনকি ইবনুল খাল্লিকান বলেছেন: "যাবতীয় ব্যাখ্যাগ্রন্থের মধ্যে এর কোনো সমতুল্য নেই" (১৫)। আল-কিফতী বলেছেন: "তিনি এর মাধ্যমে বিস্তারিত বিষয়গুলোকে যুক্ত করেছেন, সারসংক্ষেপগুলোকে জ্ঞানান্বেষীদের মাঝে বণ্টন করেছেন এবং এই জ্ঞানীদের গভীর কূপ থেকে পর্যাপ্ত জ্ঞান আহরণ করেছেন। তিনি নিজ যত্ন ও সহযোগিতার মাধ্যমে এটিকে সম্মানিত করেছেন এবং এর সুখ্যাতি ছড়িয়েছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بذكْره وجَمَّلَه، وبسط فيه القول بَسْطًا أعيا الشارحين، وأظهر من عُونه وعُيونه ما فتح به بابًا للمادحين" (1).
7 - عملي في الكتاب:طبع "شرح المفصل" للمرّة الأولى في ليبزغ في ألمانيا سنة 1882 م، بتحقيق المستشرق الألماني الدكتور جوستاف ياهن (Dr. G. John) في 1552 صفحة من القطع الكبير مع مقدّمة بالألمانية في ست عشرة صفحة. وتتميز هذه الطبعة بضبط المتن وتحريك الأبيات الشعريَّة، إلا أنه يشوبها الكثير من الأخطاء الطباعية وغيرها. وقد أشارت إلى بعض هذه الأخطاء في ذيلين للتصحيحات (ص 904 - 910، وص 1497 - 1499). وهي خالية من الهوامش، والمقارنات بين النسخ، ولعلّها استندت إلى نسخة واحدة للكتاب.
وأعادت إدارةُ الطباعة المنيريّة في مصر طباعةَ هذا الكتاب في عشرة أجزاء من القطع الكبير، وكتبت في صفحة عنوانه: "صُحِّح وعُلِّق عليه حواشٍ نفيسة بعد مراجعته على أصول خطَّيَّة بمعرفة مشيخة الأزهر المعمور".
والمقارِن بين الطبعتين يجد أنّ طبعة ليبزغ أفضل ضبْطًا، وأوضح متنًا، والتصحيح الذي أشارت إليه الطبعة المصرية لا يتبين له، بل الواضح أن الأخطاء هي هي، حتّى إنّ محقق الطبعة المصرية لم يستفِد من ذيلي التصحيحات المرفقين بطبعة ليبزغ، وعليه، تكون الأخطاء في الطبعة المصرية أكثر. أمّا الحواشي فتقتصر على التعليق على الشواهد الشعرية شرحًا ونسبةً وتبيان مواضع الشواهد فيها.
وأما "الأصول الخطيَّة" المذكورة- كما تقدّم- في صفحة عنوان الكتاب، فلا نعرف عنها شيئًا، وفي الجزء الأول إشارات قليلة جدًّا إلى بعض نسخ الكتاب (2)، أمّا الأجزاء الأخرى فتخلو من هذه الإشارات.
وفي السنة 1988 م وضع الدكتور عبد الحسين المبارك، أستاذ الدراسات اللغويّة بجامعة البصرة، الفهارس الفنية لهذه الطبعهَ (3)، وكذلك فعل عاصم بهجة البيطار سنة1990م (4).
--------------------------------------------
তার স্মরণের মাধ্যমে এবং একে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন। এতে তিনি আলোচনার এমন দীর্ঘ বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন যা ব্যাখ্যাকারীদের ক্লান্ত করে দিয়েছে, আর এর সাহায্য ও সারনির্যাস থেকে এমন কিছু প্রকাশ করেছেন যা স্তুতিবাদকদের জন্য এক দ্বার উন্মোচন করেছে" (১)।
৭ - এই কিতাবে আমার কাজ:"শারহুল মুফাসসাল" কিতাবটি প্রথমবার ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির লাইপজিগে মুদ্রিত হয়। এটি সম্পাদনা করেন জার্মান প্রাচ্যবিদ ডক্টর গুস্তাভ ইয়াহন (Dr. G. John)। কিতাবটি বড় আকারের ১৫৫২ পৃষ্ঠার ছিল এবং সাথে জার্মান ভাষায় ষোলো পৃষ্ঠার একটি ভূমিকা ছিল। এই সংস্করণটি মূল পাঠের বিশুদ্ধতা এবং কাব্যিক পঙক্তিগুলোতে হরকত প্রদানের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, তবে এতে প্রচুর মুদ্রণজনিত ও অন্যান্য ভুলত্রুটি বিদ্যমান ছিল। সংশোধনী সংক্রান্ত দুটি পরিশিষ্টে (পৃষ্ঠা ৯০৪ - ৯১০ এবং পৃষ্ঠা ১৪৯৭ - ১৪৯৯) এই ভুলগুলোর কয়েকটির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সংস্করণটি পাদটীকা এবং পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার তুলনামূলক আলোচনা থেকে মুক্ত, সম্ভবত এটি কিতাবটির একটি মাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল।
মিসরের ইদারাতুত তিবায়াহ আল-মুনীরিয়্যাহ এই কিতাবটি বড় আকারের দশ খণ্ডে পুনরায় মুদ্রণ করে এবং এর শিরোনাম পৃষ্ঠায় লিখেছিল: "সম্মানিত আল-আযহারের শায়খদের তত্ত্বাবধানে পাণ্ডুলিপিগত মূল পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখার পর এটি সংশোধন করা হয়েছে এবং এতে মূল্যবান টীকা সংযোজন করা হয়েছে।"
যে ব্যক্তি উভয় সংস্করণের মধ্যে তুলনা করবে সে দেখতে পাবে যে লাইপজিগ সংস্করণটি অধিকতর নির্ভুল এবং এর মূল পাঠ আরও স্পষ্ট। মিসরীয় সংস্করণে যে সংশোধনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা পরিলক্ষিত হয় না, বরং এটি স্পষ্ট যে ভুলগুলো আগের মতোই রয়ে গেছে। এমনকি মিসরীয় সংস্করণের সম্পাদক লাইপজিগ সংস্করণের সাথে যুক্ত সংশোধনী তালিকা দুটি থেকেও উপকৃত হননি, ফলে মিসরীয় সংস্করণে ভুলের পরিমাণ আরও বেশি। আর পাদটীকাগুলো কেবল কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের ব্যাখ্যা, সেগুলোর উৎস এবং উদ্ধৃতির স্থান বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
আর কিতাবের শিরোনাম পৃষ্ঠায় উল্লিখিত "পাণ্ডুলিপিগত মূল পাঠ" সম্পর্কে—যেমনটি আগে বলা হয়েছে—আমরা কিছুই জানি না। প্রথম খণ্ডে কিতাবটির কিছু পাণ্ডুলিপির প্রতি খুব সামান্য ইঙ্গিত রয়েছে (২), কিন্তু অন্যান্য খণ্ডগুলো এ ধরনের ইঙ্গিত থেকে মুক্ত।
১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে বসরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক ডক্টর আব্দুল হুসাইন আল-মুবারক এই সংস্করণের জন্য শাস্ত্রীয় সূচিপত্র তৈরি করেন (৩), এবং ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে আসিম বাহজাত আল-বিতারও অনুরূপ কাজ করেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وجئت أخدم هذا الكتاب عن طريق:
أ- هذه المقدمة المسهبة في حياة الزمخشريّ ومؤلَّفاته ومنهجه النحويّ.
ب- ضبط متن الكتاب سواء بالحركات أم بعلامات الترقيم المناسبة.
ج- تخريج الآيات القرآنية والأحاديث النبوية الشريفة، والشواهد الشعرية والأمثال العربيّة مع اعتناء خاص بالشواهد الشعريّة من حيث تعيين بحورها وشعرائها ومصادرها ومعانيها وإعرابها ومواطن الاستشهاد فيها.
د- بعض التعليقات والتصحيحات والاستدراكات مع الحرص على عدم إثقال المتن بكثرة الحواشي.
هـ - وضع عناوين لفِقَر الكتاب، وذلك بهدف تبسيط العَرْض، وسهولة التناول.
و- الفهارس المختلفة التي أثبتّها في نهاية الكتاب.
وبعد، عسى أن يكون عملي مفيدًا للغتي العربيّة التي أحبّ ولأهلها، وأن أكون قد وفقت فيه، وإلّا فحسبي أنَّني حاولت، والله أسأل أن يلهمني السَّداد والرشاد في القول والعمل، إنّه المستعان، وعليه أتوكَّل.
د. إميل بديع يعقوب
كفر عقا الكورة- لبنان الشمالي
আর আমি এই কিতাবটির খিদমত করতে এগিয়ে এসেছি নিম্নোক্ত উপায়ে:
ক- যামাখশারীর জীবন, তাঁর রচনাবলি এবং তাঁর নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ক মানহাজ (পদ্ধতি) সম্পর্কে এই দীর্ঘ ভূমিকা।
খ- হরকত (স্বরচিহ্ন) প্রদান অথবা যথাযথ বিরামচিহ্নের মাধ্যমে কিতাবটির মূল পাঠ (মতন) বিন্যস্তকরণ।
গ- কুরআনের আয়াত, নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস, কাব্যিক প্রমাণাদি এবং আরবি প্রবাদগুলোর তাখরিজ (উৎস নির্দেশ), যেখানে কাব্যিক প্রমাণগুলোর ক্ষেত্রে সেগুলোর ছন্দ, কবি, উৎস, অর্থ, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ এবং তাতে উদ্ধৃতির স্থান নির্ধারণের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ঘ- কিছু টীকা, সংশোধন ও পরিমার্জন, যেখানে অধিক পাদটীকার ভারে মূল পাঠ যেন ভারী না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে।
ঙ- কিতাবের অনুচ্ছেদগুলোর জন্য শিরোনাম নির্ধারণ, যার লক্ষ্য হলো উপস্থাপনা সহজ করা এবং সহজে তা আয়ত্ত করা।
চ- কিতাবের শেষে আমি যে সকল বিভিন্ন সূচিপত্র যুক্ত করেছি।
অতঃপর, আশা করি আমার এই কাজ আমার প্রিয় আরবি ভাষা এবং এর ধারক-বাহকদের জন্য উপকারী হবে এবং আমি এতে সফল হতে পারব; নতুবা আমার আন্তরিক প্রচেষ্টাই আমার জন্য যথেষ্ট। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে কথা ও কাজে সঠিকতা ও হিদায়াত দান করেন। তিনিই সাহায্যস্থল এবং তাঁর ওপরই আমি ভরসা করি।
ড. ইমিল বদি ইয়াকুব
কাফর আক্কা, আল-কুরা— উত্তর লেবানন
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুফাসসাল লি-ইবনি ইয়ায়িশ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
صفحة العنوان من طبعة ليبزغ
লাইপজিগ সংস্করণের শিরোনাম পাতা