(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: -)
سيرة السيدة عائشة أم المؤمنين القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: سيرة السيدة عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها
المؤلف: السيد سليمان الندوي الحسيني (ت 1373هـ)
عربه وحققه وخرج أحاديثه: محمد رحمة الله حافظ الندوي
الناشر: دار القلم
الطبعة: الأولى / 1424 هـ - 2003 م
عدد الأجزاء: 1
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
ملاحظة: يوجد تشطيب في وسط السطر 12 من الصفحة 61 من الكتاب المصور […]
تم إضافة النص المشطوب من كتاب "الدر الثمين من سيرة السيدة عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها" وهو مختصر لهذا الكتاب.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 رمضان 1435
উম্মুল মুমিনীন সায়্যিদাহ আয়েশার জীবনী বিভাগ: জীবনী ও জীবনবৃত্তান্ত
বই: উম্মুল মুমিনীন সায়্যিদাহ আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার জীবনী
লেখক: সায়্যিদ সুলাইমান নদভী আল-হুসাইনী (মৃত্যু ১৩৭৩ হিজরি)
আরবি অনুবাদ, সম্পাদনা ও হাদিস বিন্যাস: মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ হাফিজ নদভী
প্রকাশক: দারুল কলম
সংস্করণ: প্রথম / ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাজাইরি
দ্রষ্টব্য: মূল স্ক্যানকৃত বইয়ের ৬১ নম্বর পৃষ্ঠার ১২ নম্বর লাইনের মাঝখানে অস্পষ্টতা বা কর্তন রয়েছে […]
উক্ত কর্তিত অংশটি "আদ-দুররুস সামীন মিন সিরাতে সায়্যিদাহ আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা" নামক গ্রন্থ থেকে সংযোজন করা হয়েছে, যা এই মূল গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত সার।
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৯ রমজান ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٣)
سيرة السيدة
عائشة أم المؤمنين
رضي الله عنها
সাইয়্যেদাহ-র জীবনী
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٤)
طبعة دار القلم الأولى
1424 هـ - 2003 م
حقوق الطبع محفوظة
দারুল কলাম-এর প্রথম সংস্করণ
১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٥)
تقديمبقلمالأستاذ سعيد الأعظمي الندويالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد الأنبياء وإمام المرسلين: محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد: فإنني لا أكاد أنسى ذلك اليوم السعيد، الذي يرجع تاريخه إلى عام 1986 م، يوم حظيت بزيارة الأخ المفضال سعادة الأستاذ محمد علي دولة في مقره العلمي في جدة، بعد عودتي من أداء فريضة الحج من مكة المكرمة، وكانت معي زوجتي العزيزة (حفظها الله تعالى)، فرحب بنا الأستاذ الكريم، وأكرمنا بضيافة كريمة لم تكن تخلو من مبرة علمية، وهي أنه خلال هذا اللقاء وتبادل الآراء حول إحياء بعض المآثر العلمية التاريخية في الهند التي ألفت باللغة الأردية، وترجمتها إلى اللغة العربية، سألني عن كتاب ((سيرة السيدة عائشة"ض")) للعلامة السيد سليمان الندوي (ح)، وترجمته إلى اللغة العربية. وقد كان وعد مني بالقيام بهذا العمل، وفعلا بدأت ترجمة الكتاب إلى اللغة العربية، ولكنني واجهت مشكلة تخريج الأحاديث التي تتضمنها هذه السيرة الطيبة من مصادرها الأصلية، ذلك أنني لم أر من المناسب أن أترجم هذه الأحاديث التي شملت الكتاب بمفاهيمها الأردية دون إشارة إلى نصوصها العربية، فأسندت هذا العمل إلى أخي العزيز الأستاذ محمد رحمة الله الندوي، الذي كان طالبا في جامعة ندوة العلماء يوم ذاك، وطلبت منه تخريج الأحاديث من مصادرها، وقد وفق إلى ذلك بشكل جزئي لم يسعفني في تقديم عملية الترجمة، حتى توقفت عن الترجمة لبرهة من الوقت ريثما يتيسر لي عمل التخريج في فرصة مواتية.
উপস্থাপনালিখছেনঅধ্যাপক সাঈদ আল-আযমী নদভীসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবীদের সরদার এবং রাসূলদের ইমাম মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর, আর যারা নিষ্ঠার সাথে কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সবার ওপর।
অতঃপর: আমি সেই সৌভাগ্যময় দিনটির কথা ভুলতে পারি না, যার ইতিহাস ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দের দিকে ফিরে যায়। সেদিন আমি মক্কা মুকাররমা থেকে হজের ফরজ আদায় করে ফেরার পর জেদ্দায় শ্রদ্ধেয় ভ্রাতা মহামান্য অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী দাওলার জ্ঞানতাত্ত্বিক কার্যালয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাতের সৌভাগ্য লাভ করেছিলাম। আমার সাথে আমার প্রিয়তমা স্ত্রীও (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) ছিলেন। সেই সম্মানিত অধ্যাপক আমাদের সাদরে গ্রহণ করেন এবং অত্যন্ত উদার আতিথেয়তায় আমাদের আপ্যায়িত করেন, যা জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদানমুক্ত ছিল না। সেটি ছিল এই যে, এই সাক্ষাতের সময় এবং ভারতে উর্দু ভাষায় রচিত কিছু ঐতিহাসিক জ্ঞানতাত্ত্বিক কীর্তির পুনর্জাগরণ এবং সেগুলো আরবি ভাষায় অনুবাদ করার বিষয়ে মতবিনিময়কালে তিনি আমাকে আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী (রহ.)-এর গ্রন্থ ‘সীরাতে সায়্যিদাহ আয়েশা (রা.)’ এবং সেটির আরবি অনুবাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি এই কাজটি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং প্রকৃতপক্ষে বইটির আরবি অনুবাদ শুরুও করেছিলাম। কিন্তু আমি এই পবিত্র সীরাতের অন্তর্ভুক্ত হাদিসগুলোর মূল উৎস থেকে সূত্র নির্দেশ (তাখরিজ) করার সমস্যার সম্মুখীন হই। কারণ বইটিতে যে হাদিসগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেগুলোর আরবি মূলপাঠের প্রতি ইঙ্গিত না করে শুধুমাত্র উর্দু ভাবার্থের ওপর ভিত্তি করে অনুবাদ করা আমি সমীচীন মনে করিনি। তাই আমি এই কাজটি আমার প্রিয় ভাই উস্তাদ মুহাম্মাদ রহমতুল্লাহ নদভীকে অর্পণ করেছিলাম, যিনি সেই সময়ে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার ছাত্র ছিলেন। আমি তাকে মূল উৎসগুলো থেকে হাদিসের সূত্র নির্দেশ করার অনুরোধ করেছিলাম। তিনি আংশিকভাবে তাতে সফল হয়েছিলেন যা আমাকে অনুবাদ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পর্যাপ্ত সহায়তা করেনি, ফলে একটি উপযুক্ত সুযোগে সূত্র নির্দেশের কাজ সহজ না হওয়া পর্যন্ত আমি কিছু সময়ের জন্য অনুবাদ কাজ স্থগিত রাখি।
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٦)
ولكن شغلني أداء المسؤوليات العديدة والأعمال الرتيبة التي كنت مسؤولا عنها بحكم وظيفتي في جامعة ندوة العلماء ومجلة البعث الإسلامي.
وسافر الأخ العزيز محمد رحمة الله الندوي إلى الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة لتلقي المزيد من العلم وتقوية اللغة العربية التي كان قد تعلمها في ندوة العلماء، وكان مبرزا فيها بين زملائه، وهنالك بدا لي أن يتولى الأخ العزيز ترجمة هذا الكتاب إلى اللغة العربية، نظرا إلى أشغالي وأعمالي، وما حصل فيها من التأخير، ونحمد الله على ما وفقه لهذا العمل، واستكمال ترجمة الكتاب، وإعداده للطباعة ولو بشيء من التأخير، فقلت في نفسي: إن لم أتمكن من القيام بهذا العمل العلمي العظيم فقد وفق إليه أخ عزيز علي أثق فيه وأعتبره جديرا بأن يتحمل هذا العبء الثقيل، الذي لم أستطع أن أتحمله، فجزاه الله تعالى أحسن ما يجزي به عباده العاملين المخلصين، ويتقبل عمله، ويعم نفعه في الأوساط العلمية والدينية.
…أما الكتاب - وهو من تأليف العلامة السيد سليمان الندوي (ح) أحد كبار علماء ندوة العلماء وأستاذ سماحة العلامة الشيخ أبي الحسن علي الحسني الندوي (ح) - فإنه يتميز بالتحقيق العلمي والدراسة التاريخية لحياة أم المؤمنين السيدة عائشة (ض)، التي كانت مدرسة علمية عظيمة لكبار الصحابة (ض) الذين كانوا يستفيدون منها في جميع المسائل العلمية والقضايا الدينية، وكانوا يراجعونها في كثير من الأحكام الفقهية الدينية لأنها كانت ذات رسوخ وتفقه فيها.
ومن هنا كانت شخصية أم المؤمنين مصدرا كبيرا للعلم والدين وعلوم الكتاب والسنة، وكانت تتميز بالورع في بيان الآراء الذاتية، فكانت أمينة سر النبي صلى الله عليه وسلم في جميع جوانب الحياة، وحافظة لأحاديثه صلى الله عليه وسلم التي سمعتها وروتها.
لقد تحدث المؤلف الكريم (ح) عن حياة أم المؤمنين ومكانتها العلمية
কিন্তু জামিয়া নদওয়াতুল উলামা এবং মাজাল্লাতুল বা’সিল ইসলামীতে আমার পদের কারণে অর্পিত অসংখ্য দায়িত্ব ও রুটিনমাফিক কাজ সম্পাদনে আমি ব্যস্ত ছিলাম।
প্রিয় ভাই মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ নদওয়ী উচ্চশিক্ষা লাভ এবং নদওয়াতুল উলামায় রপ্ত করা আরবি ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন করেন; তিনি তাঁর সহপাঠীদের মধ্যে এই বিষয়ে অগ্রগণ্য ছিলেন। সেখানে আমার কাছে মনে হলো যে, আমার ব্যস্ততা ও কাজ এবং এর ফলে যে বিলম্ব হয়েছে তা বিবেচনা করে প্রিয় ভাই যেন এই বইটি আরবিতে অনুবাদ করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি যে তিনি তাঁকে এই কাজ সম্পন্ন করার, বইটির অনুবাদ সমাপ্ত করার এবং কিছুটা বিলম্ব হলেও তা মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করার তাওফিক দিয়েছেন। আমি মনে মনে বললাম: যদি আমি এই মহান ইলমি কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম না-ও হই, তবে আমার একজন প্রিয় ভাই এতে সফল হয়েছেন, যাঁকে আমি বিশ্বাস করি এবং এই গুরুভার বহনের যোগ্য মনে করি, যা আমি বহন করতে সক্ষম হইনি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন যা তিনি তাঁর একনিষ্ঠ ও কর্মঠ বান্দাদের প্রদান করেন, তাঁর কাজ কবুল করুন এবং ইলমি ও ধর্মীয় মহলে এর উপকারিতা ছড়িয়ে দিন।
…আর এই বইটি—যা নদওয়াতুল উলামার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আলেম এবং শাইখ আবুল হাসান আলী হাসানী নদওয়ী (রহ.)-এর উস্তাদ আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদওয়ী (রহ.) কর্তৃক রচিত—তা উম্মুল মুমিনীন সায়্যিদাহ আয়েশা (রাযি.)-এর জীবনের ওপর ইলমি তাহকীক ও ঐতিহাসিক পর্যালোচনার জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তিনি (আয়েশা রাযি.) ছিলেন বড় বড় সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.)-এর জন্য এক মহান ইলমি বিদ্যাপীঠ, যারা সমস্ত ইলমি মাসআলা ও ধর্মীয় বিষয়ে তাঁর থেকে উপকৃত হতেন এবং অনেক ধর্মীয় ফিকহি আহকামের ক্ষেত্রে তাঁর শরণাপন্ন হতেন; কারণ দ্বীনি ইলম ও ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ও বুৎপত্তি ছিল।
এখান থেকেই প্রমাণিত হয় যে, উম্মুল মুমিনীনের ব্যক্তিত্ব ছিল ইলম, দ্বীন এবং কিতাব ও সুন্নাহর উলূমের এক বিশাল উৎস। নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি তাকওয়া ও সতর্কতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপনীয় বিষয়ের আমানতদার এবং তাঁর থেকে শ্রবণ করা ও বর্ণিত হাদিসসমূহের হাফেয বা সংরক্ষক ছিলেন।
সম্মানিত লেখক (রহ.) উম্মুল মুমিনীনের জীবন এবং তাঁর ইলমি মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٧)
والحديثية والفقهية، وبصيرتها الدينية، وتوجيهاتها في المسائل والقضايا الحيوية، ولم يترك شيئا من تميزاتها وخصائصها، وما كانت تتمتع به من الرؤى الصالحة والنظرة العميقة في الشريعة الإسلامية، فضلا عما أودع الله فيها من البراعة العلمية والذكاء الخارق، والحب العميق الخالص لسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، والحرص الشديد على اتباعها، وعلى تطبيق الشريعة الإسلامية على حياة المسلمين فردية وجماعية، في جميع المجالات والمناحي.
وهناك مؤلفات عديدة حول حياة أم المؤمنين لا تنقصها الموضوعية والأصالة الدراسية، إلا أن لكل مؤلف منهجا خاصا في عرض الصور الحية، وأسلوبا متميزا للبيان الواضح، ولعل هذا الكتاب يفوق في بعض جوانبه كثيرا من الكتب التي صدرت وتصدر في المستقبل في هذا الموضوع.
وإنني إذ أهنئ المترجم العزيز والناشر الكريم على طبع هذا الكتاب الجليل في ثوب قشيب وأنيق؛ أرجو أن يتقبل الله من الجميع مجهوداتهم في إعداد هذا الكتاب وإصداره، ويجعله من الذخائر العلمية والدينية التي لها قيمة كبيرة في الدنيا والآخرة، والتي تعتبر زيادة قيمة في المكتبة الإسلامية.
ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العليم، وصلى الله تعالى على خير خلقه محمد وعلى آله وأزواجه وأصحابه وبارك وسلم.
لكنو 12/ 4 / 1423 هـ
24/ 6 / 2006 م
كتبه بيمينه
رئيس تحرير مجلة البعث الإسلامي
ومدير جامعة ندوة العلماء بلكنو الهند
হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রীয় বিষয়সমূহ, তাঁর ধর্মীয় অন্তর্দৃষ্টি, এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও সমস্যাবলিতে তাঁর দিকনির্দেশনা; তিনি (লেখক) তাঁর কোনো বিশেষত্ব ও বৈশিষ্ট্যই বাদ দেননি, এবং ইসলামী শরীআতে তাঁর যে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি ছিল তাও বর্ণনা করেছেন। অধিকন্তু আল্লাহ তাঁকে যে ইলমী পারদর্শিতা, অসাধারণ মেধা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতি গভীর ও একনিষ্ঠ ভালোবাসা, সুন্নাহ অনুসরণে তীব্র আগ্রহ এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে ও দিকে ইসলামী শরীআত প্রয়োগের প্রবল আকাঙ্ক্ষা দান করেছিলেন, তার সবই এখানে বিধৃত হয়েছে।
উম্মুল মু'মিনীনের জীবন নিয়ে এমন অনেক গ্রন্থ রয়েছে যাতে বস্তুনিষ্ঠতা ও গবেষণামূলক মৌলিকত্বের কোনো অভাব নেই। তবে প্রতিটি লেখকেরই জীবন্ত চিত্রায়নে নিজস্ব পদ্ধতি এবং সুস্পষ্ট বর্ণনায় স্বতন্ত্র শৈলী থাকে। সম্ভবত এই কিতাবটি কিছু দিক থেকে এই বিষয়ে অতীতে প্রকাশিত এবং ভবিষ্যতে প্রকাশিতব্য অনেক কিতাবকে ছাড়িয়ে যাবে।
আমি প্রিয় অনুবাদক ও সম্মানিত প্রকাশককে এই মহান কিতাবটি চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন অবয়বে প্রকাশের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি আশা করি যে, আল্লাহ এই কিতাবটি প্রস্তুত ও প্রকাশের ক্ষেত্রে সকলের প্রচেষ্টা কবুল করবেন এবং একে ইলমী ও দ্বীনী সঞ্চয় হিসেবে গ্রহণ করবেন, যার দুনিয়া ও আখিরাতে অনেক মূল্য রয়েছে এবং যা ইসলামী লাইব্রেরিতে একটি মূল্যবান সংযোজন হিসেবে গণ্য হবে।
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর পত্নীগণ এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর রহমত, বরকত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
লক্ষ্ণৌ ১২/ ০৪ / ১৪২৩ হিজরী
২৪/ ০৬ / ২০০৬ ঈসায়ী
স্বহস্তে লিখিত
প্রধান সম্পাদক, আল-বাসুল ইসলামী পত্রিকা
এবং পরিচালক, জামিয়া নদওয়াতুল উলামা, লক্ষ্ণৌ, ভারত
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المعربالحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، وبمنه وكرمه تكمل الأهداف والغايات، والصلاة والسلام على المبعوث بالهدى ودين الحق من فوق سبع سماوات، وعلى الأنبياء والمرسلين كافة، وعلى الأصحاب الغر المحجلين، وآل نبينا وأزواجه المطهرات.
وبعد: فإن أخص ما يبهر طالب العلم في سيرة أم المؤمنين عائشة (ض) هو علم زاخر كالبحر بعد غور، وتلاطم أمواج، وسعة آفاق، واختلاف ألوان، فما شاء امرؤ من تمكن في فقه أو حديث أو تفسير، أو علم بشريعة، أو آداب، أو شعر، أو أخبار، أو أنساب، أو مفاخر، أو طب، أو تاريخ، إلا هو واجد منه ما يدهشه عند هذه العبقرية الفذة، ولن يقضي عجبا من اضطلاعها بكل ذلك وهي لم تتجاوز بعد الثامنة عشرة من عمرها.
ومن هنا نوقن أن حياة أم المؤمنين بنت مجدا باذخا لتاريخ المرأة العلمي في الإسلام، بل إن عبقريتها وحدها كفيلة بملء تاريخ كامل، فلا نجد في عبقريات الرجال والنساء في تواريخ الأمم ما يداني مكانة أم المؤمنين (ض).
فمن هذا شأنها وهذه مكانتها وتلك درجتها وعظمتها كانت أحق وأجدر بأن تدرس حياتها، ويهتم بإبراز أهم خصائص شخصيتها، وذكر مناقبها وفضلها على الأمة الإسلامية جمعاء، بل هو دين في عنق الأمة يجب أن تقوم بأدائه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
অনুবাদকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সম্পন্ন হয় এবং যাঁর কৃপা ও মেহেরবানিতে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ পূর্ণতা লাভ করে। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সাত আসমানের উপর থেকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরিত রাসুলের ওপর, এবং সকল নবী ও রাসুলগণের ওপর, আর উজ্জ্বল জ্যোতির্ময় সাহাবায়ে কিরাম এবং আমাদের নবীর পরিবারবর্গ ও তাঁর পবিত্র সহধর্মিণীগণের ওপর।
অতপর: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর জীবনীতে একজন ইলম অন্বেষীকে যা সবচেয়ে বেশি বিমোহিত করে, তা হলো গভীরতা ও উত্তাল তরঙ্গে ভরা সমুদ্রের মতো তাঁর বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার, দিগন্তবিস্তৃত তাঁর জ্ঞানের পরিধি এবং এর নানামুখী বৈচিত্র্য। কোনো ব্যক্তি ফিকহ, হাদিস, তাফসির, শরীয়াহর জ্ঞান, আদব বা শিষ্টাচার, কবিতা, সংবাদ বা ইতিহাস, বংশলতিকা, গৌরবগাথা, চিকিৎসাশাস্ত্র কিংবা ইতিহাস—এর যে কোনো বিষয়ে পারদর্শিতা খুঁজতে গেলেই এই অসামান্য প্রতিভাধর নারীর কাছে এমন সব উপাদান খুঁজে পাবেন যা তাকে বিস্মিত করে তুলবে। আর কেউ তার এই বিস্ময় কাটিয়ে উঠতে পারবে না যে, তিনি এই সব কিছুতে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন অথচ তখনও তাঁর বয়স আঠারো বছরও অতিক্রম করেনি।
আর এখান থেকেই আমরা নিশ্চিত হই যে, উম্মুল মুমিনীনের জীবন ইসলামের ইতিহাসে নারীর জ্ঞানতাত্ত্বিক অগ্রযাত্রার এক সুউচ্চ গৌরবগাথা গড়ে দিয়েছে, বরং তাঁর একক প্রতিভাই একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট। জাতিসমূহের ইতিহাসে নারী বা পুরুষ কোনো প্রতিভাধর ব্যক্তির মধ্যেই আমরা উম্মুল মুমিনীন (রা.)-এর মর্যাদার সমকক্ষ কাউকে খুঁজে পাই না।
সুতরাং যাঁর শান ও মান এমন এবং মর্যাদা ও মহিমা এত সুউচ্চ, তাঁর জীবনী অধ্যায়ন করা এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটিয়ে তোলা এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ওপর তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব আলোচনা করা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও গুরুত্বপূর্ণ। বরং এটি উম্মাহর স্কন্ধে একটি ঋণ, যা আদায় করা তাদের জন্য অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وفي اعتقادي إن كتاب كبير علماء الهند في عصره وشيخ الندويين العلامة السيد سليمان الندوي (ح) أولى المحاولات من نوعها لأداء هذا الدين، وكشف الستار عن مكانة هذه العبقرية الفذة والشخصية العظيمة التي صنعت العظائم، كيف لا! وقد ظفرت بالرعاية التي هي خلاصة الكرامة التي هيأتها لبناتها حمية البداوة، وصقلتها مع الزمن شمائل الحضر ومآثر الشرف والسيادة.
وقد تبع الشيخ الندوي (ح) علماء (1) كتبوا عن سيرة وشخصية أم المؤمنين (ض) إلا أن كتاباتهم تأتي في إطار خاص، وتتناول جوانب معينة، ومعظمها لا يتجاوز سرد الوقائع والأحداث الواقعة في حياتها.
أما كتاب الشيخ الندوي فهو في رأيي بمثابة موسوعة علمية وحضارية وثقافية لعصر أم المؤمنين وحياتها، يبرز كل جانب من جوانب حياتها من العلم والفقه والاجتهاد والتوجيه والإرشاد، والاجتماع والسياسة، بالإضافة إلى تقديم نموذج مثالي للعشرة الزوجية المتكاملة، التي من حقها أن توصف بأنها حياة زوجية سعيدة، لأننا لا نعرف بين أزواج الهداة والعظماء من ظفرت بأسعد منها، أو كانت أرضى من أم المؤمنين عن حياتها.
ولما طلع هذا السفر العظيم (كتاب سيرة عائشة) على منصة العلم والأدب، الذي فاض به القلم السيال من صاحب القدم الراسخ والعقل الثاقب والفكر الناقد نسيج وحده الشيخ الندوي، كان ذلك منا منه على سائر الأوساط العلمية، وإضافة جديدة لذخائر المكتبة الأردية، وفضلا عظيما على
--------------------------------------------
আমার বিশ্বাস মতে, তাঁর সময়ের ভারতের শীর্ষস্থানীয় আলেম এবং নদভীগণের শায়খ আল্লামা সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী (হা.)-এর কিতাবটি এই ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে স্বীয় ধরণের প্রথম প্রচেষ্টা এবং এই অনন্য প্রতিভা ও মহান ব্যক্তিত্বের মর্যাদাকে উন্মোচন করার ক্ষেত্রেও প্রথম প্রয়াস, যিনি মহান সব কীর্তি গড়েছেন। কেনই বা নয়! তিনি এমন লালন-পালন ও তত্ত্বাবধান লাভে ধন্য হয়েছিলেন যা ছিল সেই মর্যাদার নির্যাস, যা মরুচারী আত্মমর্যাদাবোধ তার কন্যাদের জন্য তৈরি করেছিল এবং কালক্রমে নগরজীবনের শিষ্টাচার এবং আভিজাত্য ও নেতৃত্বের গৌরবগাথা যাকে আরও সুবিন্যস্ত ও পরিশীলিত করেছিল।
শায়খ নদভী (হা.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরবর্তীতে অনেক আলেম (১) উম্মুল মুমিনীন (রা.)-এর সীরাত ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে লিখেছেন, তবে তাঁদের রচনাবলি একটি বিশেষ কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং নির্দিষ্ট কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করে। এগুলোর অধিকাংশ তাঁর জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি ও পরিস্থিতির বর্ণনার বাইরে খুব একটা অগ্রসর হয়নি।
পক্ষান্তরে শায়খ নদভীর বইটি আমার দৃষ্টিতে উম্মুল মুমিনীন (রা.)-এর যুগ ও জীবনের ওপর একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক, সভ্যতাগত ও সাংস্কৃতিক বিশ্বকোষের সমতুল্য। এটি তাঁর জীবনের প্রতিটি দিক যেমন—ইলম, ফিকহ, ইজতিহাদ, দিকনির্দেশনা ও ইরশাদ এবং সমাজ ও রাজনীতিকে ফুটিয়ে তোলে। এর পাশাপাশি এটি একটি পূর্ণাঙ্গ দাম্পত্য জীবনের আদর্শ নমুনা পেশ করে, যাকে ‘সুখী দাম্পত্য জীবন’ হিসেবে অভিহিত করা যথার্থ। কারণ আমরা পথপ্রদর্শক ও মহান ব্যক্তিদের পত্নীদের মধ্যে এমন কাউকে জানি না যিনি তাঁর চেয়ে বেশি সুখী হতে পেরেছেন, কিংবা যিনি নিজের জীবনের ব্যাপারে উম্মুল মুমিনীনের চেয়ে বেশি সন্তুষ্ট ছিলেন।
যখন এই মহান গ্রন্থ (সীরাতে আয়েশা কিতাব) জ্ঞান ও সাহিত্যের মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করল—যা সুদৃঢ় পা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও পর্যালোচনামূলক চিন্তার অধিকারী অনন্য ব্যক্তিত্ব শায়খ নদভীর সাবলীল কলম থেকে নিঃসৃত হয়েছিল—তখন তা ছিল সমগ্র জ্ঞানতাত্ত্বিক মহলের প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে একটি বড় অনুগ্রহ এবং উর্দু লাইব্রেরির ভাণ্ডারে এক নতুন সংযোজন, এবং এক মহান অবদান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١١)
كل النساء المؤمنات اللاتي كن يتطلعن إلى سيرة عظيمة ترشدهن إلى الأسوة الفاضلة والقدوة المثالية.
وهل تجد المرأة المسلمة قدوة أعلى وأمثل وأفضل من قدوة أم المؤمنين عائشة الصديقة (ض) عبر التاريخ الإسلامي بأسره؟؟.
ظهر هذا الكتاب لكي ينفخ روحا جديدة في النساء المسلمات، فيجدن بغيتهن في سائر مجالات الحياة، ويقوم بإحياء تلك السنن الشريفة التي تناساها الناس على مر الأيام والعصور، ويذكر شقائق الرجال بتلك الدروس والعبر والسير التي ينبغي للمرأة المسلمة الاحتفاظ بها والعض عليها بالنواجذ. وفعلا كان هذا محاولة ناجحة، وخير اختيار من مؤلف قدير، كتب فأدى حق الكتابة، وأجاد وأفاد.
إلا أن هذه الدرة النادرة الثمينة والخدمة العلمية القيمة ظلت حبيسة اللغة الأردية، واقتصر نفعها على الناطقين بالأردية فحسب، وكانت الحاجة ماسة إلى نقل هذا التراث العلمي والكنز الثمين إلى لغات العالم كلها، وعلى رأسها اللغة العربية، لغة الكتاب والسنة، وذلك لكي يعم نفعه، ويشيع خيره في الجميع.
وبحمد الله وعونه وفضله علينا أننا اليوم نتشرف بنقل هذا السفر المبارك إلى اللغة العربية وخدمته الخدمة العلمية اللائقة، وبالتالي تقديمه إلى إخواننا العرب، علما أن فن الترجمة والتعريب من الفنون الصعبة التي قلما يتكلل فيه المترجم بالنجاح، إلا إذا كان عنده إلمام بروح الكتاب الذي يترجمه وبمقاصده، وإدراك بما له وما عليه، ودراية كاملة بالموضوع الذي يعالجه الكتاب.
وعلى هذا فهذه محاولة متواضعة وجهد علمي من طالب علم لا يملك الشيء الكثير من المران والممارسة في هذا الفن، إلا أنه قام به وشمر عن ساعد الجد متوكلا على الله الموفق والمعين، ومستجيبا لدعوة من لا ترد دعوته.
هذا وقد كان منهجي في ترجمة الكتاب وتحقيقه وتخريج أحاديثه حسب الخطة الآتية:
সকল মুমিন নারী, যারা এমন এক মহান জীবনচরিতের প্রত্যাশী ছিলেন যা তাদের এক অনন্য আদর্শ ও নিখুঁত অনুকরণীয় দৃষ্টান্তের পথ দেখাবে।
আর সমগ্র ইসলামী ইতিহাসের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় একজন মুসলিম নারী কি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা (রা.)-এর আদর্শের চেয়ে উচ্চতর, অধিকতর নিখুঁত ও শ্রেষ্ঠতর কোনো আদর্শ খুঁজে পাবে??
এই গ্রন্থটি মুসলিম নারীদের হৃদয়ে এক নতুন প্রাণ সঞ্চার করার লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে, যাতে তারা জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাদের অভীষ্ট লক্ষ্য খুঁজে পায়। এটি সেই সকল পবিত্র সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করে যা মানুষ মহাকালের আবর্তে বিস্মৃত হয়েছিল। এটি পুরুষদের সহোদরাদের (নারীদের) সেই সকল শিক্ষা, উপদেশ ও জীবনচরিতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যা একজন মুসলিম নারীর সংরক্ষণ করা এবং দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা উচিত। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল এক সফল প্রচেষ্টা এবং একজন সুদক্ষ লেখকের সর্বোত্তম নির্বাচন, যিনি কলম ধরে রচনার হক আদায় করেছেন এবং অত্যন্ত নিপুণতার সাথে কল্যাণ সাধন করেছেন।
তবে এই বিরল ও মূল্যবান রত্ন এবং এই উচ্চমানের জ্ঞানতাত্ত্বিক সেবাটি কেবল উর্দু ভাষার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং এর উপকারিতা শুধু উর্দুভাষীদের মধ্যেই নিহিত ছিল। অথচ এই ইলমি ঐতিহ্য ও অমূল্য রত্নভাণ্ডারকে বিশ্বের সকল ভাষায়, বিশেষত কুরআন ও সুন্নাহর ভাষা আরবিতে রূপান্তর করা ছিল সময়ের দাবি, যাতে এর উপকারিতা সর্বজনীন হয় এবং এর কল্যাণ সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।
আল্লাহর প্রশংসা, সাহায্য ও আমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহে আজ আমরা এই বরকতময় গ্রন্থটিকে আরবি ভাষায় স্থানান্তরিত করার এবং এর যথাযথ জ্ঞানতাত্ত্বিক খিদমত করার গৌরব অর্জন করছি; অতঃপর এটি আমাদের আরবি ভাইদের কাছে পেশ করছি। এটি সুনিশ্চিত যে, অনুবাদ ও আরবীকরণ শিল্পটি অত্যন্ত জটিল একটি বিষয়, যেখানে একজন অনুবাদক খুব কমই সফল হতে পারেন, যতক্ষণ না অনুদিত গ্রন্থের মূল মেজাজ ও লক্ষ্য সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা থাকে, এর গঠন ও প্রকৃতি সম্পর্কে উপলব্ধি থাকে এবং কিতাবটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান থাকে।
সেই নিরিখে, এটি একজন ত্বলিবুল ইলমের পক্ষ থেকে এক বিনম্র প্রচেষ্টা ও জ্ঞানতাত্ত্বিক শ্রম, যার এই শিল্পে খুব বেশি চর্চা ও অভিজ্ঞতা নেই। তা সত্ত্বেও তিনি তাওফীকদাতা ও সাহায্যকারী আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং যাঁর আহ্বান উপেক্ষা করার মতো নয় তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এই কাজে ব্রতী হয়েছেন।
এই গ্রন্থটির অনুবাদ, তাহকীক এবং হাদিস তাখরীজের ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٢)
1 - الترجمة الحرفية لكل ما تناوله المؤلف (ح) دون زيادة أو نقصان، إلا إذا مست الحاجة إلى شيء من ذلك.
2 - عزو الآيات القرآنية إلى السور وأرقام الآيات.
3 - نقل نصوص الحديث الشريف حرفيا من المصادر الأصلية.
4 - تخريج الأحاديث الواردة في الكتاب تخريجا علميا دقيقا بمراجعة الكتب الأصول في الحديث، والتزمت بذكر المصدر والكتاب الذي ورد فيه الحديث ورقم الحديث، وذلك إذا كان الحديث في الكتب التسعة أو أحدها، أما إذا كان الحديث في كتب السنن الأخرى والمسانيد والمعاجم والمجامع والمستدركات وغيرها فأعزوه إلى جزء الكتاب وصفحته وكذلك رقم الحديث، والباب الذي ورد فيه الحديث.
5 - الحكم على الحديث بالصحة أو الضعف في بعض الأماكن حيث تبين لي ذلك من خلال أقوال المحدثين وفي ضوء آراء علماء الفن.
6 - عدم الاقتصار على المصدر الذي أحال إليه المؤلف في الهامش أو استفاد منه، وإنما حاولت أن أراجع أغلب مظان الحديث، والمراجع المتوفرة.
7 - هناك مراجع أحال إليها المؤلف بصدد رواية أو حديث، لكن تلك الرواية ضعيفة بسند ذلك المرجع، فأشرت إلى من رواه بسند صحيح وذكرته إن اقتضت الحاجة، ثم أتبعته بما ذكره المؤلف.
8 - نقل الروايات التاريخية بنصوصها من مصادرها الأصلية، دون الاقتصار على مرجع واحد، إن وجد غيره.
9 - ذكر نصوص الأحاديث التي لم يتناولها المؤلف في صلب الكتاب وإنما أشار إليها فقط للاستدلال على شيء معين أو إثبات حكم خاص.
10 - التعليق على بعض المواضع من الكتاب مما دعت الحاجة إليه لتوضيح رأي أو إبداء وجهة خاصة.
11 - ذكر لمحة موجزة عن حياة المؤلف وآثاره العلمية ومآثره الخالدة، وكلمة عن كتاب ((سيرة عائشة)).
১ - লেখক (হাফিযাহুল্লাহ) যা কিছু আলোচনা করেছেন তার আক্ষরিক অনুবাদ করা হয়েছে কোনো সংযোজন বা বিয়োজন ছাড়া, তবে যদি কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয় তবে ভিন্ন কথা।
২ - কুরআনের আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরা ও আয়াত নম্বরের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
৩ - হাদীস শরীফের মূল পাঠসমূহ মূল উৎস থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হয়েছে।
৪ - হাদীসের মূল কিতাবসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে বইটিতে বর্ণিত হাদীসসমূহের সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক তাখরীজ (উৎসনির্দেশ) করা হয়েছে। হাদীসটি যদি কুতুবে তিসআ (নয়টি মূল হাদীস গ্রন্থ) বা তার কোনোটিতে থাকে, তবে আমি উৎস, সংশ্লিষ্ট অধ্যায় এবং হাদীস নম্বর উল্লেখ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি। আর যদি হাদীসটি অন্যান্য সুনান গ্রন্থ, মুসনাদ, মু'জাম, মাজমা', মুস্তাদরাক বা অন্য কোনো গ্রন্থে থাকে, তবে আমি কিতাবের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর এবং সেই সাথে হাদীস নম্বর ও সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ উল্লেখ করেছি।
৫ - কিছু কিছু স্থানে মুহাদ্দিসগণের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের পণ্ডিতদের মতামতের আলোকে হাদীসটি সহীহ নাকি যঈফ সে ব্যাপারে হুকুম প্রদান করা হয়েছে যেখানে বিষয়টি আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে।
৬ - লেখক টীকায় যে উৎসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন বা যেখান থেকে উপকৃত হয়েছেন কেবল সেখানেই সীমাবদ্ধ না থেকে বরং হাদীসটির সম্ভাব্য অধিকাংশ উৎস এবং বিদ্যমান রেফারেন্সসমূহ পর্যালোচনা করার চেষ্টা করেছি।
৭ - এমন কিছু রেফারেন্স রয়েছে যেগুলোর উদ্ধৃতি লেখক কোনো বর্ণনা বা হাদীসের ক্ষেত্রে দিয়েছেন, কিন্তু সেই রেফারেন্সের সনদ অনুযায়ী বর্ণনাটি যঈফ। এমতাবস্থায় কে এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন আমি তা নির্দেশ করেছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা উল্লেখ করেছি, অতঃপর লেখকের বক্তব্যকে তার অনুগামী করেছি।
৮ - ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলো তাদের মূল উৎস থেকে মূল পাঠসহ উদ্ধৃত করা হয়েছে, কেবল একটি রেফারেন্সের ওপর নির্ভর না করে যদি অন্য কোনো উৎস পাওয়া যায়।
৯ - সেই সকল হাদীসের মূল পাঠ উল্লেখ করা হয়েছে যা লেখক মূল গ্রন্থে পুরোপুরি উল্লেখ করেননি, বরং কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দলিল হিসেবে বা কোনো বিশেষ হুকুম প্রমাণের জন্য কেবল সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন।
১০ - বইটির বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী টীকা প্রদান করা হয়েছে কোনো মতকে স্পষ্ট করার জন্য অথবা বিশেষ কোনো দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করার জন্য।
১১ - লেখকের জীবন, তাঁর ইলমী অবদান ও চিরস্থায়ী কীর্তিসমূহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হয়েছে এবং "সীরাতে আয়েশা" কিতাবটি সম্পর্কে কিছু কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - عمل فهرس لموضرعات الكتاب.
13 - عمل فهرس للمصادر والمراجع التي استقيت منها في ترجمة وتحقيق هذا الكتاب.
وأخيرا أسأل الله العظيم رب العرش الكريم أن يتقبل مني هذا الجهد العلمي المتواضع، ويجعله خالصا لوجهه الكريم وينفع به، وأصلي وأسلم على رسولنا وحبيبنا محمد وعلى آله الطيبين الطاهرين، وعلى أزواجه أمهات المؤمنين، وعلى صحابته أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
الدوحة 26/ 1 /1423 هـ
كتبه
العبد الفقير إلى الله
محمد رحمة الله الندوي
১২ - গ্রন্থের বিষয়বস্তুর সূচিপত্র প্রস্তুত করা।
১৩ - এই গ্রন্থের অনুবাদ ও সম্পাদনায় (তাহকিক) ব্যবহৃত উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের একটি তালিকা প্রণয়ন করা।
পরিশেষে, আমি মহান আরশের রব মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই বিনম্র ইলমি প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং একে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন ও এর মাধ্যমে উপকার সাধন করেন। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি আমাদের রাসূল ও প্রিয়তম মুহাম্মাদ, তাঁর পবিত্র বংশধরগণ, মুমিনদের জননী তাঁর পত্নীবর্গ, তাঁর সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী সকলের ওপর।
দোহা ২৬/ ০১ /১৪২৩ হিজরি
এটি লিখেছেন
আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা
মুহাম্মাদ রহমতুল্লাহ নদভী
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٥)
لمحة موجزة عن حياة العلامةسليمان الندوي رحمه الله
اسمه ونسبه:هو العلامة الكبير، المفسر الشهير، الفقيه المحدث، المتكلم المؤرخ، الكاتب القدير، والنابغة في الإنشاء والأدب، سليمان بن أبي الحسن بن محمد شير المعروف بالحكيم محمدي بن عظمت علي بن وجيه الدين المعروف بالأميرجكن ..... ، ويصل نسبه إلى سيدنا علي بن أبي طالب (ض) (1).
وأمه هي السيدة قطب النساء بنت السيد حيدر حسين بن كاظم حسين بن خادم حسين .... ، ويصل نسبها كذلك إلى الإمام علي بن أبي طالب (ض) (2).
أسرته:يتحدر السيد الندوي من أسرة حسينية النسب، مشهورة بالتقوى والعلم، وينتهي إلى بيت كريم من بيوت الأشراف كثير المآثر والمفاخر، معروف بالعلم والأدب والفضل والإحسان.
مولده:ولد العلامة الندوي في قرية ديسنة من ولاية بيهار في الهند يوم الجمعة لسبع بقين من شهر صفر سنة اثنتين وثلاثمئة وألف من الهجرة، الموافق الثاني والعشرين من شهر تشرين الثاني نوفمبر سنة أربع وثمانين وثمانمئة وألف.
--------------------------------------------
আল্লামা সুলাইমান নদভী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনেরসংক্ষিপ্ত রূপরেখা
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন মহান আল্লামা, প্রখ্যাত মুফাসসির, ফকীহ, মুহাদ্দিস, কালাম শাস্ত্রবিদ ও ঐতিহাসিক, দক্ষ লেখক এবং রচনা ও সাহিত্যে অসামান্য প্রতিভাধর, সুলাইমান ইবন আবিল হাসান ইবন মুহাম্মদ শের—যিনি হাকীম মুহাম্মদী নামে পরিচিত—ইবন আজমত আলী ইবন ওয়াজিউদ্দীন—যিনি আমীরজকান নামে পরিচিত—..... এবং তাঁর বংশধারা আমাদের নেতা আলী ইবন আবি তালিব (রা.) পর্যন্ত পৌঁছেছে।
আর তাঁর মাতা হলেন সাইয়্যেদা কুতুবুন্নেসা বিনতে সাইয়্যেদ হায়দার হোসেন ইবন কাযিম হোসেন ইবন খাদেম হোসেন.... এবং তাঁর বংশধারাও একইভাবে ইমাম আলী ইবন আবি তালিব (রা.) পর্যন্ত পৌঁছেছে।
তাঁর পরিবার:সাইয়্যেদ নদভী এক হুসাইনী বংশজাত পরিবার থেকে এসেছেন, যা তাকওয়া ও ইলমের জন্য প্রসিদ্ধ। তাঁর বংশসূত্র আশরাফদের (অভিজাত) এমন এক মহৎ পরিবারে গিয়ে মিলেছে যা বহু গৌরবগাথা ও কীর্তিতে ভাস্বর এবং ইলম, আদব, শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহের জন্য সুপরিচিত।
তাঁর জন্ম:আল্লামা নদভী ভারতের বিহার প্রদেশের দিসনা গ্রামে হিজরী ১৩০২ সনের সফর মাসের সাত দিন অবশিষ্ট থাকতে জুমুয়াবার জন্মগ্রহণ করেন, যা ১৮৮৪ সালের ২২শে নভেম্বর তারিখের সাথে সংগতিপূর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٦)
نشأته:نشأ (ح) في بيئة علمية وأدبية، وجو من الصلاح والتقوى، كان أخوه أبو حبيب أحد كبار العاملين في مجال إصلاح المجتمع والدعوة إلى التوحيد والسنة، فكان العلامة الندوي يقرأ كتاب ((تقوية الإيمان)) على أخيه، وهو يشرحه، فنشأ السيد الندوي على عقيدة صافية لا تشوبها بدع أو خرافات، يقول (ح): ((كان هذا أول كتاب علمني طريق الحق تعليما ثبتت جذوره في قلبي)) (1).
طلبه للعلم:بدأ دراسته الابتدائية على علماء قريته، وقرأ على شقيقه الأكبر السيد أبي حبيب النقشبندي المتوفى عام 1927 م اللغة الفارسية وآدابها واللغة العربية وقواعد النحو والصرف، كما قرأ أشياء على والده، ثم سافر في عام 1898 م إلى قرية فلواري شريف بولاية بيهار، ومكث بها عاما، قرأ هناك على الشيخ محيي الدين المحبي الفلواروي، حيث نشأ فيه التذوق للأدب والشعر، وأخذ دروس المنطق من العلامة سليمان الفلواروي.
ثم رحل إلى المدرسة الإمدادية في دربنجه بولاية بيهار، قرأ هناك كتاب ((الهداية)) للمرغيناني في الفقه الحنفي على الشيخ مرتضى حسين الديوبندي، و ((شرح التهذيب)) في المنطق على الشيخ فدا حسين الآروي.
التحاقه بدار العلوم لندوة العلماء لكنو الهند:رحل العلامة الندوي إلى لكنو، والتحق بدار العلوم لندوة العلماء في عام 1901 م وبقي هناك خمس سنوات، حتى نال الشهادة سنة 1907 م، وكان من أهم مشايخه في ندوة العلماء:
1 - المفتي الكبير العلامة الشهير الشيخ الفاضل عبد اللطيف بن إسحاق الحنفي السنبهلي، المتوفى عام 1379 هـ، وقد قرأ عليه الشيخ الندوي كتب الفقه.
--------------------------------------------
তার বেড়ে ওঠা:(তিনি) একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক পরিবেশে এবং নেক আমল ও তাকওয়ার আবহে বেড়ে ওঠেন। তাঁর ভাই আবু হাবিব সমাজ সংস্কার এবং তাওহিদ ও সুন্নাহর দাওয়াতের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আল্লামা নদভী তাঁর ভাইয়ের কাছে ‘তাকভিয়াতুল ঈমান’ কিতাবটি পড়তেন এবং তিনি সেটি ব্যাখ্যা করতেন। ফলে সাইয়্যেদ নদভী এক স্বচ্ছ আকিদার ওপর গড়ে ওঠেন যাতে কোনো বিদআত বা কুসংস্কারের সংমিশ্রণ ছিল না। তিনি (হা.) বলেন: “এটিই ছিল প্রথম কিতাব যা আমাকে সত্যের পথ এমনভাবে শিখিয়েছিল যার শিকড় আমার হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল” (১)।
তাঁর জ্ঞানার্জন:তিনি তাঁর গ্রামের আলেমদের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। তিনি তাঁর বড় ভাই সাইয়্যেদ আবু হাবিব আন-নাকশবন্দি (মৃত্যু ১৯২৭ খ্রি.)-এর কাছে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য এবং আরবি ভাষা ও নাহু-সরফের নিয়মাবলি পাঠ করেন। এছাড়া তিনি তাঁর পিতার কাছেও কিছু বিষয়ে পাঠ গ্রহণ করেন। এরপর ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিহার রাজ্যের ফুলওয়ারি শরিফ গ্রামে যান এবং সেখানে এক বছর অবস্থান করেন। সেখানে তিনি শেখ মহিউদ্দিন আল-মুহিব্বি আল-ফুলওয়ারভির কাছে পড়াশোনা করেন, সেখানে তাঁর মাঝে সাহিত্য ও কবিতার প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হয়। তিনি আল্লামা সুলাইমান আল-ফুলওয়ারভির কাছ থেকে যুক্তিশাস্ত্রের পাঠ গ্রহণ করেন।
অতঃপর তিনি বিহার রাজ্যের দারভাঙ্গার মাদ্রাসা ইমদাদিয়াতে গমন করেন। সেখানে তিনি শেখ মুরতাজা হুসাইন দেওবন্দির কাছে হানাফি ফিকহের কিতাব মারগিনানি রচিত ‘আল-হিদায়া’ এবং শেখ ফিদা হুসাইন আল-আরভির কাছে যুক্তিশাস্ত্রের ‘শারহুত তাহজিব’ পাঠ করেন।
ভারতের লখনউস্থ দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় যোগদান:আল্লামা নদভী লখনউ সফর করেন এবং ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি পাঁচ বছর অবস্থান করেন এবং ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে সনদ লাভ করেন। নদওয়াতুল উলামায় তাঁর প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন:
১ - প্রখ্যাত বড় মুফতি, আল্লামা শেখ ফাজিল আব্দুল লতিফ বিন ইসহাক আল-হানাফি আস-সামভলি, মৃত্যু ১৩৭৯ হিজরি। শেখ নদভী তাঁর কাছে ফিকহশাস্ত্রের কিতাবসমূহ পাঠ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٧)
2 - الشيخ العالم الكبير المحدث حفيظ الله البندري، المتوفى عام 1362 هـ، وقد أخد السيد الندوي عنه الحديث الشريف، وشيئا في علم الهيئة.
3 - الشيخ العلامة محمد فاروق بن علي أكبر العباسي الجرياكوتي المتوفى عام 1327 هـ وقد أخذ عنه السيد الندوي المنطق والفلسفة والأدب العربي.
4 - العالم الصالح الشيخ الفاضل شبلي بن محمد علي الجيراجفوري، المتوفى سنة 1364 هـ.
5 - العلامة الكبير مؤرخ الهند الشهير المحدث الطبيب السيد عبد الحي بن فخر الدين الحسني المتوفى عام 1341 هـ، وقد قرأ عليه الشيخ الندوي مقامات الحريري.
6 - العلامة الجليل المؤرخ العظيم شبلي النعماني المتوفى سنة 1332 هـ، وأخذ عنه السيد الندوي الأدب العربي، وقرأ عليه دلائل الإعجاز، كما أخذ عنه علم الكلام، وتدرب عليه في الكتابة والتأليف والإنشاء والعناية بالسيرة النبوية.
أهم العلماء الذين أثروا في تكوينه العلمي والفكري:يدين السيد الندوي (ح) في تكوينه العلمي والفكري ودراساته الواسعة المتعمقة لعديد من الأئمة الأعلام الذين عرفوا بفكرهم الإسلامي الأصيل، ومذهبهم الفقهي الوسط وتبحرهم في علوم الكتاب والسنة والرجوع إليهما الرجوع المباشر، وكان من أبرزهم تأثيرا في عقل السيد الندوي وفكره ومنهجه في البحث والتحقيق ومذهبه في العقيدة والفقه:
1 - الإمام مالك بن أنس بن مالك بن أبي عامر الإمام الحافظ فقيه الأمة أبو عبد الله الأصبحي المدني، إمام دار الهجرة (93 - 179 هـ)، وقد كانت للسيد الندوي محبة خاصة بإمام دار الهجرة، وكان يفضل موطأه على الصحيحين، وقد حصلت له رواية الموطأ عن طريق يحيى بن يحيى الليثي
مسلسلا بالمالكية.
২ - মহান আলেম, বড় মুহাদ্দিস হাফিজুল্লাহ বান্দরি, যিনি ১৩৬২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সাইয়্যিদ নদভী তাঁর নিকট হতে হাদিসে শরিফ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেছেন।
৩ - আল্লামা মুহাম্মদ ফারুক বিন আলী আকবর আব্বাসি জারিয়াকুটি, যিনি ১৩২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সাইয়্যিদ নদভী তাঁর নিকট যুক্তিবিদ্যা, দর্শন ও আরবি সাহিত্য অধ্যয়ন করেছেন।
৪ - নেককার আলেম শেখ ফাযেল শিবলী বিন মুহাম্মদ আলী জয়রাজপুরী, যিনি ১৩৬৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
৫ - মহান আল্লামা, ভারতের প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক, মুহাদ্দিস ও চিকিৎসক সাইয়্যিদ আব্দুল হাই বিন ফখরুদ্দিন হাসানি, যিনি ১৩৪১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। শেখ নদভী তাঁর নিকট 'মাকামাতে হারিরি' পাঠ করেছেন।
৬ - সুমহান আল্লামা, মহান ঐতিহাসিক শিবলী নোমানী, যিনি ১৩৩২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সাইয়্যিদ নদভী তাঁর নিকট হতে আরবি সাহিত্য গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর কাছে 'দালাইলুল ইজায' পাঠ করেছেন। পাশাপাশি তাঁর নিকট ইলমে কালাম শিক্ষা করেছেন এবং লেখালেখি, গ্রন্থরচনা, রচনাশৈলী ও সীরাতে নববীর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের বিষয়ে তাঁর নিকট প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন।
তাঁর ইলমি ও বুদ্ধিবৃত্তিক গঠনে প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান আলেমগণ:সাইয়্যিদ নদভী (হা.) তাঁর ইলমি ও বুদ্ধিবৃত্তিক গঠন এবং গভীর ও ব্যাপক অধ্যয়নের জন্য এমন বহু বরেণ্য ইমামদের কাছে ঋণী, যারা তাঁদের বিশুদ্ধ ইসলামি চিন্তা, মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী ফিকহী মাযহাব এবং কিতাব ও সুন্নাহর গভীর পাণ্ডিত্য ও এই দুই মূল উৎসের দিকে সরাসরি প্রত্যাবর্তনের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। সাইয়্যিদ নদভীর জ্ঞান, চিন্তা, গবেষণা ও অনুসন্ধানের পদ্ধতি এবং আকিদা ও ফিকহের ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাবের ওপর যাঁদের প্রভাব ছিল সবচাইতে উজ্জ্বল, তাঁরা হলেন:
১ - ইমাম মালিক বিন আনাস বিন মালিক বিন আবি আমির; আল-ইমাম আল-হাফিয, উম্মতের ফকিহ, আবু আব্দুল্লাহ আল-আসবাহি আল-মাদানি, ইমামু দারিল হিজরাহ (৯৩ - ১৭৯ হিজরি)। ইমামু দারিল হিজরাহর প্রতি সাইয়্যিদ নদভীর বিশেষ ভালোবাসা ছিল। তিনি তাঁর রচিত 'মুয়াত্তা' গ্রন্থটিকে 'সহিহাইন' (বুখারি ও মুসলিম)-এর ওপর প্রাধান্য দিতেন। তিনি ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আল-লাইসির সূত্রে মালিকি ধারায় 'মুয়াত্তা'র মুসালসাল বর্ণনার সনদ লাভ করেছিলেন।
সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٨)
2 - الإمام تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية الحراني شيخ الإسلام، العلامة المحدث الفقيه المجتهد نادرة عصره (661 - 728).
3 - الإمام المحقق الأصولي الحافظ الفقيه صاحب الذهن الوقاد والقلم السيال شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن أيوب الزرعي الدمشقي المشهور بابن قيم الجوزية (691 - 751 هـ).
وقد نشأ السيد الندوي على الإعجاب بهذين العبقريين، واضطلع بدراسة كتبهما، وأخذ منهما كثيرا من آرائهما في كتابه ((سيرة النبي صلى الله عليه وسلم)) وغيره من المؤلفات.
4 - الإمام المحدث الفقيه الرحالة كوكب الديار الهندية شيخ الإسلام العالم المجتهد أحمد بن عبد الرحيم المعروف بولي الله الدهلوي (1114 - 1176 هـ).
5 - العلامة شبلي النعماني المتوفى 1332 هـ.
مكانته العلمية:
أولا - القرآن الكريم:كان العلامة الندوي دائم التدبر لكتاب الله تعالى إيمانا منه بأن ثمرة التلاوة التدبر والتذكر، وكان له اهتمام كبير باستنباط المسائل العقدية والفقهية والخلقية والسياسية، من آي القرآن الكريم، وشرح لطائفه الأدبية، وتحقيق مباحثه التاريخية، ويشهد على ذوقه هذا كتاب ((أرض القرآن))، والمجلدات الضخمة لكتاب ((سيرة النبي صلى الله عليه وسلم)) وخاصة المجلد الرابع والخامس منه، اللذين يعالجان منصب النبوة والعقائد والعبادات والأخلاق، من زاوية جديدة، ودراسة مقارنة، وسبب ذلك أن دراسته للغة العربية وآدابها، والبلاغة والمعاني وإعجاز القرآن كانت واسعة عميقة.
وإن الآيات القرآنية الشريفة التي استشهد بها في بحوثه ودراساته
২ - ইমাম তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী শাইখুল ইসলাম, আল্লামা মুহাদ্দিস ফকীহ মুজতাহিদ এবং তাঁর যুগের এক অনন্য বিস্ময় (৬৬১ - ৭২৮ হিজরি)।
৩ - ইমাম মুহাক্কিক উসূলবিদ হাফেজ ফকীহ প্রখর মেধা ও ক্ষুরধার কলমের অধিকারী শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আইয়ুব আয-যারয়ী আদ-দিমাশকী, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ নামে প্রসিদ্ধ (৬৯১ - ৭৫১ হিজরি)।
সাইয়্যেদ নদভী এই দুই মনীষীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে বেড়ে উঠেছেন, তাঁদের গ্রন্থাবলি অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেছেন এবং তাঁর ‘সীরাতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’ ও অন্যান্য কিতাবে তাঁদের অনেক মত ও চিন্তাধারা গ্রহণ করেছেন।
৪ - ইমাম মুহাদ্দিস ফকীহ পর্যটক হিন্দুস্তানের উজ্জ্বল নক্ষত্র শাইখুল ইসলাম আলিম মুজতাহিদ আহমদ ইবনে আব্দুর রহীম, যিনি শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী নামে পরিচিত (১১১৪ - ১১৭৬ হিজরি)।
৫ - আল্লামা শিবলী নুমানী, মৃত্যু ১৩৩২ হিজরি।
তাঁর জ্ঞানগত মর্যাদা:
প্রথমত - পবিত্র কুরআন:আল্লামা নদভী আল্লাহ তা’আলার কিতাব নিয়ে সর্বদা গভীর চিন্তা-গবেষণায় নিমগ্ন থাকতেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল যে, তিলাওয়াতের মূল ফল হলো গবেষণা ও উপদেশ গ্রহণ। পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ থেকে আকিদা, ফিকহ, চরিত্র ও রাজনীতি বিষয়ক মাসয়ালা উদ্ভাবন, এর সাহিত্যিক সূক্ষ্মতার ব্যাখ্যা এবং এর ঐতিহাসিক বিষয়াদির গবেষণায় তাঁর গভীর মনোনিবেশ ছিল। তাঁর এই রুচিবোধের প্রমাণ পাওয়া যায় ‘আরদুল কুরআন’ কিতাবে এবং ‘সীরাতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’ কিতাবের বিশাল খণ্ডগুলোতে, বিশেষ করে চতুর্থ ও পঞ্চম খণ্ডে, যেখানে নবুয়তের মর্যাদা, আকিদা, ইবাদত ও আখলাক নিয়ে এক নতুন আঙ্গিকে এবং তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে আলোচনা করা হয়েছে। এর কারণ ছিল আরবি ভাষা ও সাহিত্য, বালাগত (অলঙ্কারশাস্ত্র), ইলমুল মাআনি এবং কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অত্যন্ত ব্যাপক ও গভীর।
আর পবিত্র কুরআনের সেই আয়াতসমূহ, যেগুলোর মাধ্যমে তিনি তাঁর বিভিন্ন গবেষণা ও অধ্যয়নে দলিল পেশ করেছেন—
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الإسلامية إنما جاء بها مراعيا لموافقة مضمونها المناسة والمحل، طبق الأصل لما استعمله العرب قديما، وموافقة معاني كلماتها لما يستعمله العرب، وكان قد بذل جهدا لا يستهان به في معرفة مواضع استعمال الكلمات الواردة في القرآن الكريم، في العهد الذي نزل فيه، وفهمها وفق هذه الموضوعات المحددة.
هذا وقد كانت له دروس منتظمة في التفسير في دار المصنفين، كما كانت لديه خطة لتدوين المسائل القرآنية، وترتيبها وفق الأسلوب العصري، وكان يرغب في دراسة الآيات القرآنية والنظر فيها مع تطبيق المبادئ والتدين وسلامة العقل والفكر، وأن تفرد الآيات القرآنية المتعلقة بالقضايا والشؤون العقائدية والفقهية والاقتصادية.
ثانيا - الحديث الشريف:كان كثير الاشتغال بكتب الحديث والسنن والآثار، ومن حبه لها أنه كان دائم الحرص على اقتنائها في دار المصنفين، حتى أصبحت خزانة دار المصنفين حافلة بكتب الحديث ورجاله.
وقد ظهر امتياز العلامة الندوي في شرح أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم كذلك، فقد كان معنيا بأن يكون فهم الحديث الشريف في إطار العمل النبوي الشريف المشتمل على إدراك الجو الذي جاء فيه، ليكون تطبيقه على الحياة أوفق وأجدر.
وقد تصدى العلامة الندوي لمنكري السنة وفند شبهاتهم في مقالات، ومنها رسالته المشهورة ((تحقيق معنى السنة وبيان الحاجة إليها)).
كان (ح) متبعا لمذهب السلف في أن المصدر الأساسي للشريعة الإسلامية هو الكتاب والسنة، وأن رأي الناس يرد عليهم إذا عارض نصا من القرآن) أو الحديث، فلم يسلك مسلك التأويل للنصوص، بل كان منهجه هو اتباع الدليل أنى وجد، وحيثما صار.
তিনি ইসলামি বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যা প্রাচীন আরবদের ব্যবহারের হুবহু অনুসারী হয়ে স্থান ও পাত্রের সাথে বিষয়বস্তুর সামঞ্জস্য রক্ষা করে এবং যার শব্দের অর্থসমূহ আরবদের ব্যবহারের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। পবিত্র কুরআন যে যুগে অবতীর্ণ হয়েছিল, সেই যুগে এতে ব্যবহৃত শব্দাবলির ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলো উদঘাটন করতে এবং সেই নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সেগুলো উপলব্ধি করতে তিনি যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেছিলেন।
এছাড়া দারুল মুসান্নিফীনে তাঁর নিয়মিত তাফসীর পাঠদান চলত। পাশাপাশি কুরআনি বিষয়াবলি সংকলন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে সেগুলো বিন্যস্ত করার একটি পরিকল্পনাও তাঁর ছিল। তিনি মূলনীতি, ধর্মপরায়ণতা এবং সুস্থ বিবেক ও চিন্তার প্রয়োগ ঘটিয়ে কুরআনের আয়াতসমূহ অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা করার আকাঙ্ক্ষা রাখতেন। এছাড়া আকিদা, ফিকহ ও অর্থনীতি সংক্রান্ত বিষয়াবলির সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোকে পৃথকভাবে বিন্যস্ত করতে চেয়েছিলেন।
দ্বিতীয়ত - হাদিস শরিফ:তিনি হাদিস, সুনান এবং আসার (সাহাবিদের বাণী) বিষয়ক কিতাবসমূহের অধ্যয়নে অত্যন্ত মগ্ন থাকতেন। এগুলোর প্রতি তাঁর ভালোবাসার কারণে তিনি দারুল মুসান্নিফীনের জন্য সর্বদা এসব কিতাব সংগ্রহের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতেন, ফলে দারুল মুসান্নিফীনের গ্রন্থাগারটি হাদিস এবং রিজাল শাস্ত্রের কিতাবে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রেও আল্লামা নদভীর বিশেষ পারদর্শিতা প্রকাশ পেয়েছে। হাদিস শরিফের অনুধাবন যেন মহিমান্বিত নববী কর্মপদ্ধতির কাঠামোর মধ্যে হয়—যা হাদিস অবতীর্ণ হওয়ার পরিবেশ উপলব্ধিকে অন্তর্ভুক্ত করে—সে বিষয়ে তিনি মনোযোগী ছিলেন, যাতে জীবনব্যবস্থায় এর প্রয়োগ অধিকতর উপযোগী ও যথোপযুক্ত হয়।
আল্লামা নদভী সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের মোকাবিলা করেছেন এবং বিভিন্ন প্রবন্ধের মাধ্যমে তাদের সন্দেহসমূহ খণ্ডন করেছেন; যার মধ্যে তাঁর প্রসিদ্ধ পুস্তিকা "সুন্নাহর অর্থের অনুসন্ধান এবং এর প্রয়োজনীয়তার বর্ণনা" অন্যতম।
তিনি এই বিষয়ে সালাফদের মাযহাবের অনুসারী ছিলেন যে, ইসলামি শরিয়তের মূল উৎস হলো কিতাব ও সুন্নাহ, এবং মানুষের রায় বা অভিমত যদি কুরআন বা হাদিসের কোনো অকাট্য দলিলের (নস) পরিপন্থী হয় তবে তা বর্জনীয়। তিনি নস বা অকাট্য পাঠসমূহের ক্ষেত্রে অপব্যাখ্যার পথ অবলম্বন করেননি, বরং তাঁর পদ্ধতি ছিল দলিলের অনুসরণ করা, তা যেখানেই পাওয়া যাক এবং যেদিকেই ধাবিত করুক।
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
ثالثا - الفقه:كانت للسيد الندوي بصيرة فقهية تامة، وقد توفرت له وسائل تحقيق المذاهب والاجتهاد، لما آتاه الله من الملكة في معرفة اللغة العربية وآدابها، والعلم الواسع الدقيق بالقرآن الكريم وعلومه، والحديث النبوي الشريف، والناسخ والمنسوخ، والإلمام القوي الكامل بمصادر الفقه وأصوله وقواعده، ومذاهب الأئمة وآراء الفقهاء، ولذلك نرى أنه نشأ على مذهب أبي حنيفة (ح)، ولكن ظل ملازما لما اختط لنفسه من التحرر الفكري في الفقه من ربقة التمذب والتقليد والتعصب لقول عالم بعينه.
إنه (ح) لم ينطلق في فقهه من رأي محض أو هوى متبع أو تقليد أعمى وإنما انطلق من حجج وبراهين يعتمد عليها، وأصول يستند إليها، وأهمها الاعتصام بالكتاب والسنة، كما أنه (ح) يرى أن باب الاجتهاد مفتوح إلى قيام الساعة لمن تأهل له، يقول في مقدمة كتاب ((تراجم علماء أهل الحديث)): ((إني ملتزم للسنة ومتبع للتوحيد الخالص، أرى السنة دليلي، وباب الاجتهاد مفتوحا دائما للعلماء، ولا أرى الحق منحصرا في أحد من أئمة السلف)).
ويقول في إحدى خطبه: ((من مفاسد هذا العصر الجمود المشين على آراء الفقهاء المتآخرين وفتاواهم، كأنهم معصومون عن الخطأ والمزلات، وعدم الرجوع إلى المرجعين الأصيلين القرآن والسنة، واجتهادات أئمة السلف في البحث عن الحلول للمشاكل المدنية والقضايا الدينية، والقول بإغلاق باب الاجتهاد للأبد)). وكان (ح) يرى أن الحاجة ماسة إلى تدوين جديد للفقه الإسلامي، نظرا إلى تطور الأوضاع وتجدد القضايا والمستجدات.
رابعا - التاريخ:يقول الشيخ أبو الحسن علي الندوي (ح): ((إن السيد سليمان الندوي يستحق بدون مراء أن يعد أكبر مؤرخ وباحث في عصره، وإن كتبه ((خيام)) و ((الصلات بن الهند والعرب)) و ((الملاحة عند العرب)) و ((حياة الإمام مالك)) و (سيرة عائشة)) خير نموذج للكتابة في التاريخ، والبحث العلمي، وكتابه
তৃতীয়ত - ফিকহ:সাইয়্যেদ নদভীর পূর্ণাঙ্গ ফিকহী অন্তর্দৃষ্টি ছিল। মাযহাবসমূহ এবং ইজতিহাদ তাহকীক করার সব উপায়-উপকরণ তাঁর জন্য সহজলভ্য ছিল; কারণ আল্লাহ তাঁকে আরবী ভাষা ও সাহিত্যের বিশেষ যোগ্যতা এবং কুরআন কারীম ও এর উলূম, হাদীসে নববী শরীফ, নাসেখ ও মানসুখ সম্পর্কে বিস্তৃত ও সূক্ষ্ম জ্ঞান দান করেছিলেন। এছাড়া ফিকহের উৎসসমূহ, উসূলে ফিকহ ও এর মূলনীতি এবং ইমামগণের মাযহাব ও ফকীহদের মতামতের ওপর তাঁর প্রবল ও পূর্ণাঙ্গ দখল ছিল। এ কারণে আমরা দেখি যে, তিনি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাযহাবের ওপর বেড়ে উঠেছেন, কিন্তু ফিকহের ক্ষেত্রে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট আলেমের অন্ধ অনুকরণ ও গোঁড়ামির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত থেকে চিন্তাগত স্বাধীনতার যে পথ নিজের জন্য বেছে নিয়েছিলেন, তাতে সর্বদা অটল ছিলেন।
তিনি (রহ.) তাঁর ফিকহী অবস্থানে নিছক ব্যক্তিগত মত, প্রবৃত্তির অনুসরণ কিংবা অন্ধ তাকলীদের ওপর নির্ভর করতেন না; বরং তিনি নির্ভরযোগ্য প্রমাণাদি ও অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে এবং সুনির্দিষ্ট মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে পথ চলতেন। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। তিনি (রহ.) আরও মনে করতেন যে, যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত ইজতিহাদের দরজা উন্মুক্ত। 'তারাজিমু উলামাই আহলিল হাদীস' গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি বলেন: "আমি সুন্নাহর অনুসারী এবং বিশুদ্ধ তাওহীদের অনুগামী। আমি সুন্নাহকে আমার পথপ্রদর্শক মনে করি। উলামায়ে কেরামের জন্য ইজতিহাদের দরজা সর্বদা উন্মুক্ত এবং আমি মনে করি না যে সত্য কেবল কোনো একজন সালাফ ইমামের মাঝে সীমাবদ্ধ।"
তিনি তাঁর একটি ভাষণে বলেন: "বর্তমান যুগের অন্যতম অনিষ্ট হলো পরবর্তী যুগের ফকীহদের মতামত ও ফতোয়ার ওপর লজ্জাজনক স্থবিরতা, যেন তাঁরা ভুল ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত। নাগরিক সমস্যা ও দ্বীনি বিষয়ের সমাধান অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে মূল দুই উৎস কুরআন ও সুন্নাহ এবং সালাফ ইমামদের ইজতিহাদের দিকে ফিরে না আসা এবং ইজতিহাদের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করাও বর্তমানের বড় ফিতনা।" তিনি (রহ.) মনে করতেন যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং নিত্যনতুন সমস্যার উদ্ভবের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী ফিকহ নতুনভাবে সংকলন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
চতুর্থত - ইতিহাস:শায়খ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) বলেন: "সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী নিঃসন্দেহে তাঁর যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ইতিহাসবিদ ও গবেষক হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য। তাঁর রচিত 'খৈয়াম', 'আল-সিলাতু বাইনাল হিন্দ ওয়াল আরব', 'আল-মিলাহাতু ইনদাল আরব', 'হায়াতে ইমাম মালিক' এবং 'সীরাতে আয়েশা' ইতিহাস রচনা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এবং তাঁর কিতাব..."
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢١)
((أرض القرآن)) لا يزال كتابا فريدا لم ينسج على منواله في موضوعه، وهو ثروة، غية في المواد العلمية)) (1).
كان (ح) مرجعا لأساتذة التاريخ والمهتمين به في الهند، يزورونه ويراسلونه ويرجعون إلى آرائه وتحقيقاته، وكان يولي عناية تامة للصدق والأمانة التاريخية، فقلما تراه يتبع الأسلوب الشعري في مؤلفاته، وكان يحذر من إثارة مشاعر القارئ واللعب بعواطفه، مثلما كان يبذل من الجهد في البحث والتحقيق والنقد.
كما كان له اهتمام كبير بإخراج مصادر كتب التاريخ والتراجم إلى الناس، والواقع أن كل كتابة من كتابات السيد الندوي تحمل بحوثا وتحقيقات تاريخية نادرة وقيمة، اعترف بها العلماء والمتخضصون في علم التاريخ، وسلموا بإمامته وتقدمه في هذا الشأن.
خامسا - الفلسفة وعلم الكلام:كان (ح) ضليعا بالفلسفة وعلم الكلام، وخير دليل على ذلك كتاب ((سيرة النبي))، يقول العلامة أبو الحسن علي الندوي: ((وكان من منجزاته أيضا أنه حقق بالسيرة والتاريخ أهدافا لا تحقق إلا بعلم الكلام، فأسس علم كلام جديد يفوق علم الكلام القديم في التأثير على الذهن الجديد وإقناعه، وفي توثيق الثقة بالشخصية النبوية والشريعة الإسلامية، وهو أكثر سدادا للحياة العلمية المعاصرة)) (2).
سادسا - اللغة والأدب:كان (ح) متضلعا باللغات الأردية والعربية والفارسية، وتعلم اللغة الإنكليزية لكي يتسنى له الاستفادة من المصادر الأجنبية، وكذلك تعلم اللغة العبرية وشيئا من اللغة التركية والفرنسية.
--------------------------------------------
((আরদুল কুরআন)) এখনও একটি অনন্য গ্রন্থ হিসেবে রয়ে গেছে, যার বিষয়বস্তুর বিন্যাস ও শৈলীতে এর সমতুল্য কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। এটি একটি জ্ঞানভাণ্ডার এবং বৈজ্ঞানিক ও গবেষণামূলক উপাদানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ (১)।
তিনি (রহ.) ভারতে ইতিহাসের অধ্যাপক ও ইতিহাসানুরাগীদের নিকট একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, পত্রালাপ করতেন এবং তাঁর মতামত ও গবেষণার শরণাপন্ন হতেন। তিনি ঐতিহাসিক সত্যতা ও আমানতদারিতার প্রতি পূর্ণ গুরুত্বারোপ করতেন। তাঁর রচনাগুলোতে কাব্যিক শৈলীর অনুসরণ খুব কমই দেখা যায়। তিনি পাঠকের অনুভূতি জাগ্রত করা বা তাদের আবেগ নিয়ে খেলা করার ব্যাপারে সতর্ক থাকতেন, ঠিক যেমন তিনি অনুসন্ধান, গবেষণা ও সমালোচনার ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করতেন।
এছাড়াও ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থের মূল উৎসগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরার ব্যাপারে তাঁর ব্যাপক আগ্রহ ছিল। বাস্তবতা হলো, সাইয়্যেদ নদভীর প্রতিটি লেখাই বিরল ও মূল্যবান ঐতিহাসিক গবেষণা ও তথ্য বহন করে, যা ইতিহাসবিদ এবং এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ স্বীকার করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর ইমামত ও শ্রেষ্ঠত্বকে মেনে নিয়েছেন।
পঞ্চম - দর্শন ও ইলমুল কালাম:তিনি (রহ.) দর্শন ও ইলমুল কালামে সুপণ্ডিত ছিলেন। এর সর্বোত্তম প্রমাণ হলো ((সীরাতুন্নবী)) গ্রন্থটি। আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী বলেন: ((তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব এই যে, তিনি সীরাত ও ইতিহাসের মাধ্যমে এমন সব লক্ষ্য অর্জন করেছেন যা কেবল ইলমুল কালামের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। তিনি একটি নতুন ইলমুল কালামের ভিত্তি স্থাপন করেছেন যা আধুনিক মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত ও আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে প্রাচীন ইলমুল কালামকে ছাড়িয়ে গেছে এবং নববী ব্যক্তিত্ব ও ইসলামী শরীয়তের প্রতি আস্থা সুদৃঢ় করেছে। সমকালীন জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের জন্য এটি অত্যন্ত সঠিক ও কার্যকর।)) (২)।
ষষ্ঠ - ভাষা ও সাহিত্য:তিনি (রহ.) উর্দু, আরবি ও ফারসি ভাষায় দক্ষ ছিলেন। বিদেশি উৎসগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার লক্ষ্যে তিনি ইংরেজি ভাষা শিখেছিলেন। এছাড়াও তিনি হিব্রু ভাষা এবং তুর্কি ও ফরাসি ভাষার কিছু অংশ আয়ত্ত করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
يقول الأستاذ عبد الماجد الدريابادي: ((يعتقد الناس أن السيد الندوي عالم فريد، وبحاثة منقطع النظير، ويخضع العالم لإمامته في التاريخ، وتفرده في كتابة السيرة، ولكن قلما عرف الناس مكانته في الأدب والشعر والنقد، قلما علمه الناس كأديب منشئ وشاعر قدير)) (1) وها هو العلامة الندوي يحكي لنا قصة نشوء صلته باللغة العربية بقوله: ((تعلمت الأدب العربي على العلامة فاروق الجرياكوتي، والعلامة السيد عبد الحي الحسني، وكانا متبعين لأساليب المتأخرين، وكان من فضل العلامة شبلي أن قرأت عليه ((دلائل الإعجاز)) للجرجاني، فاطلعت على الكتابات الأدبية للمتقدمين، وقرأته بكل رغبة وشوق، وقلدته، واتجهت إلى الكتابة والخطابة بالعربية، وألهب كتابا ((ديوان الحماسة)) و ((نقد الشعر)) هذا الذوق عندي، وبدأت أقرض الشعر)) (2).
كان السيد الندوي مقدسا لدور اللغة العربية في توحيد المسلمين، يقول بمناسبة افتتاح مجلة الضياء: ((وبعد فللإسلام مزايا تفوت الإحصاء دررها، وتستغني عن الإنباء غررها، إحداها أنه دين وحدة الشعوب والأمم، ودين مواخاة البشر، والنصيحة لعامة المسلمين، ومن الوسائل التي اتخذها لتحقيق بغيته هذه، أن جعل للمؤمنين بقرآنه والخاضعين لسلطانه، على اختلاف ألسنتهم وبلدانهم، وجنسياتهم وألوانهم لغة خاصة، وهي لغة كتابه المنزال من السماء، يتفاهمون بها معاني القلوب، ويتعارفون هواجس الأفكار، ويخطب بعضهم بها مودة بعض، فهي على تقلب من الأحوال لغة عصبة الأمم الإسلامية، منذ قرون وأجيال)) (3).
هذا وللسيد الندوي (ح) شعر رائع في اللغة العربية، وقد نظم الشعر في موضوعات مختلفة، ويدل هذا الشعر على إرهاف حسه وحسن خياله، وحبه للفضائل والحكمة، وقد تجلت في شعره القوة والإجادة والتعبير الطبيعي
--------------------------------------------
অধ্যাপক আব্দুল মজিদ দরিয়াবাদী বলেন: ((মানুষ বিশ্বাস করে যে সৈয়দ নদভী একজন অনন্য আলেম এবং অতুলনীয় গবেষক, এবং ইতিহাস চর্চায় তাঁর ইমামতি ও সীরাত রচনায় তাঁর অনন্যতার সামনে বিশ্ব মস্তক অবনত করে। কিন্তু খুব কম লোকই সাহিত্য, কবিতা ও সমালোচনায় তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে জানত; খুব কম মানুষই তাঁকে একজন সৃজনশীল সাহিত্যিক এবং দক্ষ কবি হিসেবে চিনত)) (১)। আর এই যে আল্লামা নদভী আমাদের কাছে আরবি ভাষার সাথে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠার গল্প শোনাচ্ছেন এই বলে: ((আমি আল্লামা ফারুক চিরিয়াকোটি এবং আল্লামা সৈয়দ আব্দুল হাই হাসানী-র কাছে আরবি সাহিত্য শিখেছি, এবং তাঁরা উভয়েই পরবর্তী যুগের লেখকদের শৈলী অনুসরণ করতেন। আর এটি আল্লামা শিবলীর অনুগ্রহ ছিল যে আমি তাঁর কাছে জুরজানীর 'দালাইলুল ইজায' পড়েছি, ফলে আমি পূর্ববর্তী যুগের লেখকদের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে অবগত হই। আমি তা অত্যন্ত আগ্রহ ও উদ্দীপনার সাথে পড়েছি এবং তাঁর অনুকরণ করেছি। এরপর আমি আরবিতে লেখালেখি ও বক্তৃতার দিকে মনোনিবেশ করি। 'দিওয়ানুল হামাসাহ' এবং 'নকদুশ শি'র' (কবিতার সমালোচনা) বই দুটি আমার এই রুচিকে জাগ্রত করে এবং আমি কবিতা রচনা শুরু করি)) (২)।
সৈয়দ নদভী মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে আরবি ভাষার ভূমিকাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন। 'আল-জিয়া' পত্রিকার উদ্বোধন উপলক্ষে তিনি বলেন: ((পরিশেষে, ইসলামের এমন অসংখ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা গণনা করা অসম্ভব এবং এর গৌরব বর্ণনার প্রয়োজন পড়ে না। তার মধ্যে একটি হলো এটি বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর ঐক্যের দ্বীন, মানব ভ্রাতৃত্বের দ্বীন এবং সাধারণ মুসলমানদের জন্য হিতাকাঙ্ক্ষার দ্বীন। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইসলাম যে মাধ্যমগুলো গ্রহণ করেছে তার একটি হলো—কুরআনে বিশ্বাসী এবং এর শাসনের অনুগতদের জন্য তাদের ভাষা, দেশ, জাতীয়তা ও বর্ণ নির্বিশেষে একটি বিশেষ ভাষা নির্ধারণ করে দেওয়া। আর তা হলো আকাশ থেকে অবতীর্ণ তাঁর কিতাবের ভাষা, যার মাধ্যমে তারা অন্তরের ভাব বিনিময় করে এবং চিন্তার উদয় হওয়া বিষয়গুলো একে অপরের কাছে পরিচিত করে তোলে। এর মাধ্যমে তারা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে। সুতরাং বিচিত্র পরিস্থিতির পরিবর্তন সত্ত্বেও বহু শতাব্দী ও প্রজন্ম ধরে এটি হলো মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ভাষা)) (৩)।
তাছাড়া সৈয়দ নদভীর (হাফিযাহুল্লাহ) আরবি ভাষায় চমৎকার কিছু কবিতা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কবিতা রচনা করেছেন। এই কবিতাগুলো তাঁর সূক্ষ্ম অনুভূতি, সুন্দর কল্পনাশক্তি এবং সদ্গুণ ও হিকমতের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রমাণ দেয়। তাঁর কবিতায় শক্তি, পারদর্শিতা এবং স্বাভাবিক অভিব্যক্তির প্রকাশ ঘটেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الجميل، مع أن نظم الشعر العربي بأسلوب يتصف بالتعبير الطبيعي الجميل قلما يتأتى لرجل لم ينشأ في جو عربي، ولم يطل أو يتكرر اختلاطه برجال اللغة الأقحاح)) (1).
ومن شعره الرقيق الرائع وهو يصف الشمس عند غروبها:
كأنما الشفق الممتد في الأفق
… خمر معتقة شجت لمغتبق
خمر يعتقها في أعلى همالية
… شجت بماء غمام هامر غدق
كف الطبيعة تسقي الناس أكؤسها
… ويل لمن هذه الصهباء لم يذق (2)
أهم مؤلفاته:لقد أنتج قلم العلامة الندوي السيال كتابات ومؤلفات قيمة نافعة تتسم بأقصى درجة من البحث والتحقيق والنظر والتدقيق، وتنوء بالعصبة من العلماء والباحثين، وكما قال الشيخ أبو الحسن علي الندوي: ((وبالنظر إلى هذه المؤلفات القيمة يمكن أن يصدر الحكم بأن شخصا واحدا في بعض الظروف ينجز من أعمال علمية هائلة ما لا تستطيع الأكاديميات الكبيرة إنجازها)) (3) وفيما يأتي نسرد بعض أهم مؤلفات العلامة الندوي:
1 - ((أرض القرآن)) هذا الكتاب بمثابة مقدمة لكتاب ((سيرة النبي)) وهو في جزئين، وقد طبع في دار المصنفين، وهو كتاب فريد من نوعه، من أهم مزاياه دراسته لأوضاع العرب السياسية والتاريخية والحضارية في ضوء القرآن الكريم، مع الاستفادة من المصادر العبرية والإنكليزية، والمراجع الإسلامية والرومية واليونانية والاكتشافات الأثرية)) (4).
2 - حواشيه على المصحف الشريف: ((وهذه الحواشي تتعلق بذكر أعمدة السور وموضوعاتها الأساسية وربط الآيات بعضها ببعض)). ويشتغل
--------------------------------------------
সুন্দর, যদিও আরবী কবিতা রচনার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ও সুন্দর প্রকাশভঙ্গি এমন ব্যক্তির পক্ষে খুব কমই সম্ভব হয় যে আরবী পরিবেশে বেড়ে ওঠেনি এবং বিশুদ্ধ ভাষাবিদদের সাথে যার দীর্ঘকাল বা বারবার মেলামেশা ঘটেনি)) (১)।
সূর্যাস্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তাঁর কিছু কোমল ও চমৎকার কবিতা হলো:
দিগন্তে বিস্তৃত লাল আভা যেন এক পুরাতন শরাব
… যা সান্ধ্যকালীন পানকারীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে
হিমালয়ের উচ্চ শিখরে সংরক্ষিত পুরাতন শরাব
… যা বর্ষণমুখর মেঘের সুমিষ্ট বারিবিন্দু দ্বারা মিশ্রিত
প্রকৃতির হাত মানুষকে তার পানপাত্র পূর্ণ করে পান করাচ্ছে
… ধিক তার জন্য যে এই লাল শরাব আস্বাদন করেনি (২)
তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলি:আল্লামা নদভীর ক্ষুরধার কলম থেকে এমন সব মূল্যবান ও উপকারী লেখা ও গ্রন্থমালা সৃষ্টি হয়েছে যা সর্বোচ্চ পর্যায়ের গবেষণা, অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণ ও সূক্ষ্মতার বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত, এবং যা আলেম ও গবেষকদের একটি শক্তিশালী দলের পক্ষেও সম্পাদন করা দুঃসাধ্য। যেমনটি শেখ আবুল হাসান আলী নদভী বলেছেন: ((এই মূল্যবান গ্রন্থরাজির দিকে লক্ষ্য করলে এই সিদ্ধান্ত প্রদান করা যেতে পারে যে, একজন ব্যক্তি বিশেষ পরিস্থিতিতে এমন বিশাল জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন যা বড় বড় একাডেমিগুলোও আঞ্জাম দিতে সক্ষম হয় না)) (৩)। নিচে আল্লামা নদভীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের তালিকা দেওয়া হলো:
১ - ((আরদুল কুরআন)) এই গ্রন্থটি ((সীরাতুন্নবী)) গ্রন্থের ভূমিকা স্বরূপ এবং এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত। এটি দারুল মুসান্নিফীন থেকে মুদ্রিত হয়েছে। এটি তার স্বকীয়তায় এক অনন্য গ্রন্থ। এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পবিত্র কুরআনের আলোকে আরবদের রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক ও তামাদ্দুনিক অবস্থাসমূহ পর্যালোচনা করা, সেই সাথে হিব্রু ও ইংরেজি উৎস এবং ইসলামি, রোমান ও গ্রীক তথ্যসূত্র ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া)) (৪)।
২ - পবিত্র কুরআনের ওপর তাঁর টীকা বা পাদটীকা: ((এই পাদটীকাগুলো সূরার মূল স্তম্ভ, মৌলিক আলোচ্য বিষয় এবং আয়াতের পারস্পরিক সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট))। এবং কাজ চলছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
نجل العلامة الندوي في ترتيب هذه الحواشي وطباعتها وإخراجها في كتاب خاص. جزاه الله خيرا.
3 - ((سيرة النبي)): وهو في سبع مجلدات كبار، والمجلدان الأولان منها لشيخه العلامة شبلي النعماني، ثم أكمله العلامة الندوي بخمس مجلدات كبار، ومن مزايا هذا الكتاب العظيم أن العلامة الندوي ومع نطاق السيرة من سرد الأحداث وبيان الشمائل ووصف العادات إلى الرسالة المحمدية، والتعليمات النبوية والشريعة الإسلامية، وبحث شعبها المختلفة، وفعلا هو دائرة معارف الإسلام، وأكبر ميزة له أنه يعتمد على كنوز الكتاب والسنة، والكتاب شهادة على ما آتاه الله من فهم دقيق لمعاني كتاب الله، كأن آيات القرآن الكريم ودواوين السنة منشورة أمام عينيه)) (1).
4 - ((محاضرات مدراس)): مجموعة من محاضرات ألقاها العلامة الندوي في مدراس عام 1925 م، وتتناول دراسة تلك الجوانب من السيرة النبوية التي لم تلق عناية كبيرة، وهي مكانة النبي صلى الله عليه وسلم التاريخية، وشموله وكماله، وقد ترجمت إلى العربية ونشرت بعنوان: (الرسالة المحمدية).
5 - ((سيرة عائشة (ض))) وسنتحدث عنه بالتفصيل في مبحث خاص.
6 - ((حياة الإمام مالك (ح))) وهو عرض لحياة إمام دار الهجرة مالك بن أنس (ح) وصفاته وأخلاقه، ومكانته العالية في الفقه والحديث، ودراسة لكتابه الموطأ.
7 - ((رسالة الكون والتكليف)) في الفلسفة.
8 - ((حياة العلامة شبلي)) وهو عرض علمي شامل ودقيق لحياة شيخه العلامة شبلي النعماني، ومآثره وخدماته العلمية والدعوية.
9 - ((الصلات بين الهند والعرب)): مجموعة محاضرات ألقاها العلامة الندوي بدعوة من الأكاديمية الهندية بمدينة إله آباد، قام فيها بتذكير المسلمين
--------------------------------------------
আল্লামা নদভীর পুত্র এই টীকাগুলো বিন্যস্তকরণ, মুদ্রণ এবং একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করেছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
৩ - ((সীরাতুন নবী)): এটি সাতটি বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত। এর প্রথম দুই খণ্ড তাঁর উস্তাদ আল্লামা শিবলী নুমানীর রচিত, অতঃপর আল্লামা নদভী বাকি পাঁচটি বিশাল খণ্ড লিখে এটি সম্পন্ন করেন। এই মহান গ্রন্থটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লামা নদভী সীরাতের পরিধিকে নিছক ঘটনাবলি বর্ণনা, শামায়েল বা গুণাবলি বর্ণনা এবং অভ্যাসের বিবরণ থেকে মুহাম্মাদী রিসালাত, নববী শিক্ষা ও ইসলামী শরীয়ত এবং এর বিভিন্ন শাখার গবেষণায় উন্নীত করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি ইসলামের একটি বিশ্বকোষ। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানভাণ্ডারের ওপর নির্ভরশীল। গ্রন্থটি আল্লাহর কিতাবের মর্ম বুঝার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাঁকে যে সূক্ষ্ম বোধশক্তি দান করেছেন তার সাক্ষ্য দেয়; যেন পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ এবং সুন্নাহর সংকলনগুলো তাঁর চোখের সামনেই প্রসারিত ছিল (১)।
৪ - ((মুহাযারাত মাদরাস)): এটি আল্লামা নদভী কর্তৃক ১৯২৫ সালে মাদরাসে প্রদত্ত বক্তৃতামালার একটি সংকলন। এতে সীরাতে নববীর এমন সব দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যেগুলোর প্রতি তেমন একটা গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি; আর তা হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঐতিহাসিক অবস্থান এবং তাঁর দাওয়াতের ব্যাপকতা ও পূর্ণতা। এটি আরবিতে অনূদিত হয়েছে এবং (আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়াহ) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।
৫ - ((সীরাতে আয়েশা (রা.))): এই সম্পর্কে আমরা একটি বিশেষ পরিচ্ছেদে বিস্তারিত আলোচনা করব।
৬ - ((হায়াতে ইমাম মালিক (রহ.))): এটি দারুল হিজরাহর ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.)-এর জীবন, তাঁর গুণাবলি ও চরিত্র, ফিকহ ও হাদিসশাস্ত্রে তাঁর উচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর রচিত 'মুয়াত্তা' কিতাবটির একটি পর্যালোচনা।
৭ - ((রিসালাতুল কাওন ওয়াত তাকলীফ)): দর্শন বিষয়ক একটি গ্রন্থ।
৮ - ((হায়াতে আল্লামা শিবলী)): এটি তাঁর উস্তাদ আল্লামা শিবলী নুমানীর জীবন, তাঁর কীর্তিগাথা এবং ইলমী ও দাওয়াহ খিদমতের একটি বিস্তৃত ও নিখুঁত বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা।
৯ - ((আস-সিলাতু বাইনাল হিন্দ ওয়াল আরব)): এটি ইলাহাবাদ শহরের ইন্ডিয়ান একাডেমির আমন্ত্রণে আল্লামা নদভী কর্তৃক প্রদত্ত বক্তৃতামালার একটি সংকলন, যাতে তিনি মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
والهندوس بالعهود الذهبية التي كانت تربطهم فيها أواصر مختلفة وعلاقات متنوعة.
10 - ((الملاحة عند العرب)): مجموعة محاضرات عالج فيها موضع الملاحة عند العرب في الجاهلية والإسلام، ومعرفة العرب لبحار العالم ومؤلفاتهم فيها واكتشافاتهم البحرية.
11 - ((رسالة أهل السنة والجماعة))، مجموعة مقالات في تحقيق معنى أهل السنة والجماعة.
وفاته:بعد عمر حافل بأعمال علمية ودعوية ودينية، ومآثر خالدة وخدمات جليلة وافاه الأجل بباكستان في غرة ربيع الآخر عام 1373 هـ الموافق 22 من تشرين الثاني نوفمبر 1953 م، وحضر جنازته كبار العلماء وأعيان البلاد وسفراء الحكومات الإسلامية والعربية ودفن بجوار الشيخ شبير أحمد العثماني، رحمهما الله تعالى، وأمطر عليهما شآبيب رحمته (1).
…--------------------------------------------
এবং হিন্দুদের সাথে সেই স্বর্ণযুগের বিভিন্ন বন্ধন ও বৈচিত্র্যময় সম্পর্কের বিবরণ।
১০ - ((আরবদের নৌবিদ্যা)): এটি একটি বক্তৃতা সংকলন যেখানে তিনি জাহেলিয়াত ও ইসলামি যুগে আরবদের নৌচলাচলের অবস্থা, বিশ্ব সমুদ্র সম্পর্কে আরবদের জ্ঞান, এ বিষয়ে তাদের রচিত গ্রন্থাবলী এবং তাদের সামুদ্রিক আবিষ্কারসমূহ আলোচনা করেছেন।
১১ - ((আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের রিসালাহ)): আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অর্থের স্বরূপ নির্ধারণে একগুচ্ছ প্রবন্ধের সংকলন।
তাঁর ইন্তেকাল:ইলমি, দাওয়াতি ও ধর্মীয় কর্মতৎপরতা এবং চিরস্মরণীয় কীর্তি ও মহান খিদমতে পরিপূর্ণ এক দীর্ঘ জীবনের পর, ১৩৭৩ হিজরির ১লা রবিউস সানি মোতাবেক ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ২২শে নভেম্বর পাকিস্তানে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর জানাজায় শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ, দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ইসলামি ও আরব রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতগণ উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে শায়খ শাব্বির আহমদ উসমানীর পাশে সমাহিত করা হয়; আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন এবং তাঁদের ওপর তাঁর রহমতের বারিধারা বর্ষণ করুন (১)।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
كلمة عن كتابسيرة أم المؤمنين عائشةرضي الله عنهالقد بدأ العلامة الندوي في تأليف هذا الكتاب وكان طالبا في دار العلوم لندوة العلماء لكنو، ومديرا لتحرير صحيفة ((الندوة))، وقصة تأليفه ترجع إلى عام 1906 م حيث كتب العلامة الندوي إلى شيخه العلامة شبلي النعماني يطلعه على ما حدثته به نفسه، وخطر في باله من فكرة تأليف كتاب في سيرة عائشة (ض)، فشجعه الشيخ الجليل والمربي العظيم على التقدم في هذه الخطوة المباركة، وزوده ببعض المراجع والمصادر المتوفرة التي يمكن الاستفادة منها في تحقيق هذا الغرض العلمي الشريف، ثم فتح الله تعالى عليه، ونور له الطريق إلى البدء في هذا المشروع المبارك إلى أن نشر قطعة من هذا الكتاب في عام 1908 م في صحيفة ((الندوة))، ثم تأجل هذا المشروع لفترة غير يسيرة، ثم استهل تأليفه من جديد في عام 1914 م، حتى بزغ إلى نهاية مطافه في عام 1917 م.
كما أن أميرة بوفال (سلطان جهان بيكم) عنيت بهذا الكتاب عناية كبيرة، وألحت على العلامة الندوي أن يسرع في إتمامه، فلبى العلامة الندوي نداءها، وأخرج هذا التراث العلمي الثمين، والكنز الحضاري القديم بأسلوب رشيق جذاب وبمنهج علمي رصين ومتين.
أهمية هذا الكتاب:كانت ذخائر المكتبات الأردية حافلة وغنية بالكتب التي تتحدث عن عباقرة الرجال، والشخصيات العظام، الذين لعبوا دورا بارزا وملموسا في التاريخ الإسلامي وسجلتهم كتب التاريخ والسير بأحرف من الذهب، وكانوا من عداد الأحياء حتى بعد وفاتهم، وذلك نظرا إلى مآثرهم الخالدة،
একটি জীবনীগ্রন্থ প্রসঙ্গেউম্মুল মুমিনীন আয়েশারাদিয়াল্লাহু আনহাআল্লামা নদভী এই গ্রন্থটি রচনা শুরু করেন যখন তিনি লখনউয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার ছাত্র ছিলেন এবং 'আন-নদওয়া' পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এটি রচনার প্রেক্ষাপট ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের, যখন আল্লামা নদভী তাঁর উস্তাদ আল্লামা শিবলী নোমানীর কাছে পত্র লিখে নিজের মনের সুপ্ত বাসনার কথা ব্যক্ত করেন এবং আয়েশা (রা.)-এর জীবনী নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনার যে চিন্তা তাঁর অন্তরে উদিত হয়েছিল তা অবহিত করেন। অতঃপর সেই মহান শায়খ ও মহৎ মুরব্বি তাঁকে এই বরকতময় পদক্ষেপে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করেন এবং এই মহৎ ইলমি লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে এমন কিছু বিদ্যমান তথ্যসূত্র ও মূল উৎস সরবরাহ করেন। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য দ্বার উন্মোচন করেন এবং এই বরকতময় প্রকল্প শুরুর পথকে আলোকিত করেন, যার ফলে ১৯০৮ সালে 'আন-নদওয়া' পত্রিকায় এই বইটির একটি অংশ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় এই প্রকল্প স্থগিত থাকার পর ১৯১৪ সালে তিনি পুনরায় এর রচনা শুরু করেন এবং ১৯১৭ সালে তা সমাপ্তির চূড়ান্ত শিখরে উপনীত হয়।
তদ্রূপ ভোপালের শাহজাদী (সুলতান জাহান বেগম) এই গ্রন্থটির প্রতি গভীর মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন এবং আল্লামা নদভীকে এটি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তাগিদ দিয়েছিলেন। আল্লামা নদভী তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দেন এবং এই মূল্যবান ইলমি ঐতিহ্য ও প্রাচীন তামাদ্দুনিক সম্পদকে এক সাবলীল আকর্ষণীয় শৈলীতে এবং সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেন।
এই গ্রন্থের গুরুত্ব:উর্দু গ্রন্থাগারগুলোর ভাণ্ডার এমন সব গ্রন্থে পরিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ছিল যা মহান মণীষী ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বদের নিয়ে রচিত, যারা ইসলামি ইতিহাসে এক বিশিষ্ট ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করেছেন এবং ইতিহাস ও সীরাত গ্রন্থসমূহ যাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করেছে। তাদের অক্ষয় কীর্তির কারণে মৃত্যুর পরেও তারা জীবিতদের ন্যায় স্মরণীয় হয়ে আছেন।
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وخدماتهم الجليلة والعظيمة التي قاموا بها لصالح الإسلام والمسلمين، إلا أن هذه الخزائن ودور الكتب كان ينقصها كتاب يتحدث عن عبقرية فذة وشخصية رائدة من عبقريات الإسلام، تدين لها الأمة الإسلامية جمعاء، ولها من كبير وفضل عظيم على الصنفين معا صنف الرجال وصنف النساء، وصنف النساء بالذات، فإنهن كن يتطلعن بغاية من اللهفة وشدة الشوق إلى من تكون قدوة وأسوة للبنات والزوجات والأمهات والجدات في جميع مجالات الحياة، والتي يكون لها تأثير عظيم ودور مجيد في إرشادهن وتوجيههن والقضاء على الطقوس والتقاليد والعادات غير الإسلامية التي تطرقت إلى مجتمعاتهن، فلما قام العلامة الندوي بتأليف هذا الكتاب في سيرة سيدة عظيمة وعبقرية فذة من التاريخ الإسلامي ألا وهي ((أم المؤمنين عائشة الصديقة (ض)))، من هذا الكتاب ذلك الفراغ الذي كان بحاجة إلى من يسده، وظهرت هذه السيرة المباركة للعبقرية المباركة كالمرآة الحقيقية التي يمكن لكل امرأة مسلمة أن ترى صورتها الواقعية أمامها، ثم تطلع على أحوالها وبالتالي تفكر في إصلاحها وصبغ حياتها بالصبغة الإسلامية المتمثلة في حياة أم المؤمنين (ض).
مصادر الكتاب:يقول العلامة الندوي في مقدمة كتابه: ((إن عامة كتب التاريخ يمكن الاستفادة منها في كتابة تراجم عامة الناس، وتاريخهم، لكن الفترة التي نريد الكتابة عنها وعن وقائعها لا يتوفر تاريخها إلا في كتب الأحاديث، وكل ما تذخر به مكتباتنا الإسلامية من ذخائر كتب الحديث الشريف، إنها تاريخ عملي لحياة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم ولأمهات المؤمنين والصحابة الكرام (ض) أجمعين، وعلى هذا فجميع المصادر التي نستقي منها، وسائر المراجع التي نستند إليها في كتابة ((سيرة أم المؤمتين (ض)))، هي كتب الأحاديث لا غير، وقد استفدنا من كتب الجوامع والمسانيد والسنن عموما، وأحيانا احتجنا إلى كتب أسماء الرجال والطبقات، مثل (الطبقات الكبرى) لابن سعد، و (تذكرة الحفاظ) للذهبي، و (تهذيب التهذيب) للحافظ ابن حجر العسقلاني، وكذلك بعض كتب شروح الحديث مثل (فتح الباري)، و (إرشاد الساري) للقسطلاني على
ইসলাম ও মুসলিমদের কল্যাণে তাঁদের সুমহান ও গৌরবোজ্জ্বল খিদমত থাকা সত্ত্বেও, এই কিতাবভাণ্ডার ও গ্রন্থাগারগুলোতে ইসলামের এক অনন্য প্রতিভা ও অগ্রণী ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে রচিত কোনো কিতাবের অভাব ছিল, যাঁর কাছে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ঋণী। পুরুষ ও নারী—উভয় শ্রেণির ওপরই তাঁর সুমহান অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, বিশেষ করে নারী জাতির ওপর। কেননা তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কন্যা, স্ত্রী, জননী ও মাতামহী-পিতামহীদের জন্য এক উজ্জ্বল আদর্শ ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্তের প্রতীক্ষায় চরম আগ্রহ ও প্রবল আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছিল। এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যাঁর থাকবে তাঁদের পথপ্রদর্শন ও দিকনির্দেশনায় সুমহান প্রভাব ও গৌরবময় ভূমিকা এবং যা তাঁদের সমাজে অনুপ্রবেশকারী অনৈসলামিক আচার-অনুষ্ঠান, কুসংস্কার ও কুপ্রথাগুলো নির্মূল করবে। অতঃপর আল্লামা নদভী যখন ইসলামী ইতিহাসের এক মহীয়সী নারী ও অনন্য প্রতিভা অর্থাৎ ((উম্মুল মুমিনীন আয়িশা সিদ্দীকা (রা.)))-এর সীরাত সম্পর্কে এই কিতাবটি রচনা করলেন, তখন এই কিতাবটি সেই শূন্যস্থান পূরণ করল যা পূর্ণ করা প্রয়োজন ছিল। এই বরকতময় প্রতিভার এই বরকতময় সীরাতগ্রন্থটি একটি প্রকৃত দর্পণের মতো আত্মপ্রকাশ করল, যেখানে প্রত্যেক মুসলিম নারী নিজের বাস্তব প্রতিচ্ছবি নিজের সামনে দেখতে পারে, অতঃপর তার অবস্থার বিবরণ পেতে পারে এবং ফলস্বরূপ উম্মুল মুমিনীন (রা.)-এর জীবনে প্রতিফলিত ইসলামী রঙে নিজের জীবনকে রাঙানো ও সংশোধনের কথা চিন্তা করতে পারে।
কিতাবটির উৎসসমূহ:আল্লামা নদভী তাঁর কিতাবের ভূমিকায় বলেন: ((সাধারণ ইতিহাসের কিতাবগুলো থেকে সাধারণ মানুষের জীবনী ও ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে উপকার গ্রহণ করা সম্ভব, কিন্তু আমরা যে সময়কাল এবং এর ঘটনাবলী সম্পর্কে লিখতে চাই, তার ইতিহাস হাদীসের কিতাবসমূহ ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না। আমাদের ইসলামী পাঠাগারগুলো হাদীস শরীফের যে অমূল্য ভাণ্ডারে সমৃদ্ধ, তা মূলত আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), উম্মুল মুমিনীনগণ এবং সকল সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর জীবনের এক ব্যবহারিক ইতিহাস। এর ওপর ভিত্তি করে, ((উম্মুল মুমিনীন (রা.)-এর সীরাত)) রচনার ক্ষেত্রে আমরা যেসব উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং যেসব মূল গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি, তা হলো একমাত্র হাদীসের কিতাবসমূহ। আমরা সাধারণভাবে জামে, মাসানিদ ও সুনান গ্রন্থগুলো থেকে উপকৃত হয়েছি। কখনো কখনো আমাদের আসমাউর রিজাল ও তাবাকাত বিষয়ক কিতাবের প্রয়োজন হয়েছে, যেমন ইবনে সা'দের (আল-তাবাকাতুল কুবরা), যাহাবীর (তাযকিরাতুল হুফফায), হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানীর (তাহযীবুত তাহযীব) এবং তেমনিভাবে হাদীসের কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ যেমন (ফাতহুল বারী) এবং কাসতালানীর (ইরশাদুল সারী)-এর ওপর...
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
البخاري، وشرح النووي لصحيح مسلم، ولم أعتمد على شيء من عامة كتب التواريخ إلا فيما يتعلق بحادثة الجمل، فقد اعتمدت فيها على تاريخ الطبري، وذلك لتعذر وجود تفاصيل الحادث في كتب الأحاديث.
وأكثر الكتب الحديثية فائدة في إنجاز هذا العمل هو (صحيح البخاري) و (صحيح مسلم) و (سنن أبي داود) و (مسند الإمام أحمد بن حنبل)، ولقد درست هذه الكتب كلها حرفا حرفا واسقرأتها استقراء، ومعظم المعلومات القيمة عن أم المؤمنين (ض) استفدته من (مسند الإمام أحمد بن حنبل).
ومن نوادر مصادر هذا الكتاب كتاب الحاكم ((المستدرك على الصحيحين)) (1) وكتاب السيوطي ((عين الإصابة في استدراك عائشة على الصحابة)) (2).
…--------------------------------------------
বুখারি, এবং সহিহ মুসলিমের ওপর নববির ব্যাখ্যাগ্রন্থ; আর আমি সাধারণ ইতিহাসের বইসমূহের কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করিনি, কেবল জঙ্গে জামালের (উটের যুদ্ধ) ঘটনার ক্ষেত্র ছাড়া। এক্ষেত্রে আমি তারিখুত তাবারির ওপর নির্ভর করেছি, কারণ হাদিসের কিতাবসমূহে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া সম্ভব ছিল না।
আর এই কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে হাদিসের কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপকারী হয়েছে (সহিহ বুখারি), (সহিহ মুসলিম), (সুনানে আবু দাউদ) এবং (মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল)। আমি এই কিতাবগুলোর প্রতিটি অক্ষর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করেছি এবং গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি। উম্মুল মুমিনীন (রা.) সম্পর্কে অধিকাংশ মূল্যবান তথ্য আমি (মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল) থেকে লাভ করেছি।
আর এই কিতাবটির বিরল উৎসসমূহের মধ্যে রয়েছে হাকেমের কিতাব ((আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন)) (১) এবং সুয়ুতির কিতাব ((আইনুল ইসাবাহ ফি ইসতিদরাকি আইশা আলাস সাহাবাহ)) (২)।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
كلمة شكر وتقديرامتثالا لقول الله عز وجل: {لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ} [إبراهيم: 7]. وتصديقا لقول الصادق المصدوق الحبيب المصطفى صلى الله عليه وسلم ((من لا يشكر الناس لا يشكر الله)) (1) أرى من الواجب علي أن أتقدم بخالص شكري وتقديري إلى كل من ساعدني في النهوض بهذا العمل، وإنجازه وإبلاغه إلى نهاية المطاف، وعلى رأسهم سعادة الأستاذ محمد علي دولة صاحب دار القلم حفظه الله تعالى ورعاه، الذي تقدم مشكورا ومأجورا بتبني مشروع ترجمة كتاب ((سيرة عائشة)) فجزاه الله أحسن الجزاء وشكر مساعيه وتقبل منه خدماته، وجعلها في ميزان حسناته، فقد وجدته خلال اتصالاتي به أستاذا كريما، ومربيا جليلا محبا للعلم وطلابه، مهتما بأمورهم.
كما لا يفوتني بهذه المناسبة أن أشكر الأستاذين الكريمين المشفقين سعادة الدكتور سعيد الأعظمي مدير دار العلوم لندوة العلماء لكنو الهند، وسعادة الشيخ محمد قاسم المظفر فوري رئيس قسم الحديث بالمدرسة الرحمانية سوفول دربنجه بيهار الهند اللذين شرفاني دائما بتوجيهاتهما القيمة وإرشاداتهما الغالية التي نورت أمامي طريق التقدم والازدهار، فجزاهما الله تعالى أحسن الجزاء، وأحسن مثوبتهما في الدنيا والآخرة.
ثم أتقدم بالشكر والتقدير إلى كل من وجهني وقدم لي عونا أيا كان من الأساتذة والأصدقاء والزملاء، وأخص بالذكر منهم الأخ الفاضل محمد
--------------------------------------------
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতির বাণীমহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব" [ইবরাহীম: ৭]-এর আনুগত্যে এবং সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ প্রিয় নবী মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর সত্যায়নস্বরূপ যে, "যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না" (১); আমি আমার কর্তব্য মনে করছি যে, এই কাজটিকে এগিয়ে নিতে, সম্পন্ন করতে এবং শেষ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে যারা আমাকে সাহায্য করেছেন, তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তাদের শীর্ষে রয়েছেন মুহতারাম উস্তাদ মুহাম্মদ আলী দাওলাহ—দারুল কলামের স্বত্বাধিকারী, আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত করুন ও রক্ষণাবেক্ষণ করুন; যিনি অত্যন্ত বদান্যতার সাথে 'সীরাতে আয়েশা' গ্রন্থটির অনুবাদ প্রকল্প গ্রহণের দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন, তার প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করুন, তার খিদমত কবুল করুন এবং তা তার নেক আমলের পাল্লায় জমা করুন। তার সাথে যোগাযোগের সময় আমি তাকে একজন উদার উস্তাদ এবং ইলম ও তালিবে ইলমদের প্রতি স্নেহশীল ও তাদের বিষয়ে যত্নশীল একজন মহান মুরুব্বী হিসেবে পেয়েছি।
এ সুযোগে আমি আরও শুকরিয়া আদায় করছি দুই পরম শ্রদ্ধেয় ও হিতাকাঙ্ক্ষী উস্তাদ—ভারতের লাখনৌস্থ নদওয়াতুল উলামা দারুল উলুমের পরিচালক ড. সাঈদ আল-আযমী এবং ভারতের বিহারের দরভাঙ্গা জেলার সুপৌলস্থ মাদরাসা রহমানিয়ার হাদীস বিভাগের প্রধান শায়খ মুহাম্মদ কাসেম আল-মুজাফ্ফরপুরীর প্রতি। তারা সব সময় তাদের মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও অমূল্য পরামর্শ দিয়ে আমাকে ধন্য করেছেন, যা আমার সামনে উন্নতি ও অগ্রগতির পথকে আলোকিত করেছে। আল্লাহ তাআলা তাদের উভয়কে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সর্বোত্তম বিনিময় দান করুন।
অতঃপর আমি ঐ সকল উস্তাদ, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি যারা আমাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং যেকোনোভাবে সাহায্য করেছেন। তাদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে উল্লেখ করছি শ্রদ্ধেয় ভাই মুহাম্মদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
عبد الحي الندوي ونسيم أحمد عبد الوهاب المدني فجزاهما الله تعالى على حسن تعاونهما وشكر مساعيهما.
وأخيرا أختم هذه الكلمات بتقديم أسمى معاني الشكر والثناء وأخلص الحب والوفاء إلى أبوي الكريمين المحبين، وإلى زوجتي أم عائشة الذين حظيت من حبهم وعنايتهم دائما، وكان لهم فضل كبير في إنجاز هذا العمل، فجزاهم الله تعالى أحسن الجزاء، وبارك في أعمارهم، وأسبغ عليهم نعمة الصحة والعافية. إنه تعالى هو القريب المجيب.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله تعالى على خير خلقه محمد وآله وصحبه وأهل بيته أجمعين.
الدوحة 26/ 1 / 1423 هـ
15/ 3 / 2002 م
كتبه
العبد الفقير إلى الله
محمد رحمة الله الندوي
আব্দুল হাই নদভী এবং নাসিম আহমদ আব্দুল ওয়াহহাব আল-মাদানী, আল্লাহ তাআলা তাদের উত্তম সহযোগিতার জন্য প্রতিদান দিন এবং তাদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।
পরিশেষে, আমি আমার শ্রদ্ধেয় ও স্নেহময় পিতা-মাতা এবং আমার স্ত্রী উম্মে আয়িশার প্রতি সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা, প্রশংসা এবং অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে এই কথাগুলোর ইতি টানছি, যাদের ভালোবাসা ও যত্ন আমি সর্বদা লাভ করেছি এবং এই কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যাদের মহান অবদান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাদের দীর্ঘায়ু দান করুন এবং তাদেরকে সুস্থতা ও আফিয়াতের নেয়ামতে সিক্ত করুন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে ও প্রার্থনা কবুলকারী।
আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও আহলে বাইতের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
দোহা, ২৬/ ১/ ১৪২৩ হিজরী
১৫/ ৩/ ২০০২ ঈসায়ী
লিখেছেন
আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা
মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ নদভী
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٣١)
سيرة السيدة
عائشة أم المؤمنين
رضي الله عنها
تأليف
العلامة السيد سليمان الندوي
عربه وحققه وخرج أحاديثه
محمد رحمة الله حافظ الندوي
সাইয়্যিদার জীবনচরিত
আইশা মুমিনগণের জননী
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন
রচনায়
আল্লামা সাইয়্যিদ সুলায়মান নদভী
আরবি অনুবাদ, সম্পাদনা ও হাদিস বিন্যাস করেছেন
মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ হাফেজ নদভী
(খণ্ড: ১)
সীরাতুস সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، وعلى آله وأزواجه وأصحابه أجمعين (1).
…--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদারের ওপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সহধর্মিণীগণ ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর (১)।
…--------------------------------------------