(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: -)
أوهام المحدثين الثقات القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: أوهام المحدثين الثقات
المؤلف: سعيد بن عبد القادر باشنفر
الناشر: دار ابن حزم، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1436 هـ - 2015 م
عدد الأجزاء: 11
أهداه للشاملة: المؤلف، جزاه الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 20 جُمادَى الأولى 1445
নির্ভরযোগ্য হাদিস বিশারদগণের ভুলসমূহ বিভাগ: হাদিসের ত্রুটি (ইলল) ও প্রশ্নাবলী
বই: নির্ভরযোগ্য হাদিস বিশারদগণের ভুলসমূহ
লেখক: সাঈদ বিন আব্দুল কাদির বাশানফার
প্রকাশক: দার ইবনে হাজম، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৬ হিজরি - ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১১
শামিলা লাইব্রেরিকে উপহার দিয়েছেন: লেখক، আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২০ জুমাদাল উলা ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فإن علم الحديث من أجل العلوم وأشرفها فهو المفسر للقرآن والمبين له قال الله تعالى: { .. وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ .. (44)} [النحل: 44]، وهو دليل العلماء فمنه يستنبطون الأحكام ويستدلون بهدي النبي صلى الله عليه وسلم وعمله وقوله.
وأصحاب الحديث باختلاف طبقاتهم من رواة وشيوخ وأئمة وحفاظ ونقادهم الذين حفظوا لهذه الأمة سنة نبيهم صلى الله عليه وسلم وهديه وسمته ومشاهده ومغازيه وما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم من أخبار وقصص الأمم السابقة وما سيكون بعده، ثم حفظوا بعد ذلك هدي أصحابه صلى الله عليه وسلم وأقوالهم وفتاويهم وفي مقدمتهم الخلفاء الراشدون الذين أوصى
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর অসংখ্য দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই হাদীস শাস্ত্র অন্যতম মহান ও শ্রেষ্ঠ বিদ্যা, কারণ তা কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানকারী ও এর বিশদ বিবরণ দানকারী। মহান আল্লাহ বলেন: “...এবং আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে...” [আন-নাহল: ৪৪]। আর এটিই আলিমদের পথপ্রদর্শক; এখান থেকেই তাঁরা বিধানসমূহ আহরণ করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হিদায়াত, তাঁর আমল ও বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন।
আর হাদীস শাস্ত্রের ধারকগণ—তাঁদের বিভিন্ন স্তর যেমন বর্ণনাকারী, শায়খ, ইমাম, হাফেজ এবং তাঁদের মধ্য থেকে সেই সকল সমালোচক—যাঁরা এই উম্মতের জন্য তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাত, তাঁর হিদায়াত, তাঁর আদর্শ, তাঁর প্রত্যক্ষ করা ঘটনাবলী ও যুদ্ধাভিযান এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদ ও কাহিনী এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে যা ঘটবে সে সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা যা সংবাদ দিয়েছেন, তা সংরক্ষণ করেছেন। অতঃপর তাঁরা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণের হিদায়াত, তাঁদের বাণী ও ফতোয়াসমূহও সংরক্ষণ করেছেন, যাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন খুলাফায়ে রাশেদীন যাঁদের সম্পর্কে তিনি অসিয়ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ৬)
رسول الله صلى الله عليه وسلم باتباعهم في قوله صلى الله عليه وسلم: «عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين».
مفهوم العلة والوهم:العلة في اللغة: المرض، واصطلاحاً: خبر ظاهرة السلامة، اطلع فيه بعد التفتيش على قادح
(1) وهذا القادح يشمل الإسناد والمتن.
والوهم: هو ما يخطئ فيه المرء وهو يظنه الصواب وتجد هذه اللفظة في كتب الرجال والعلل فيقولون: (في حديثه وهم) أي غلط أو (في حديثه أوهام)، ويقولون في نقد الراوي: (صدوق يَهِمُ) أو (له أوهام).
وإنما آثر المحدثون هذه اللفظة في التخطئة لأنها ألطف جرحاً وآدب نقداً من غيرها.
طريق معرفة العلة:جمع طرق الحديث، والنظر في اختلاف رواته، لأن جمع الروايات من حيث اتفاقها واختلافها هو مفتاح بيان الوهم واكتشافه.
قال يحيى بن معين: لو لم نكتب الحديث من خمسين وجهاً ما عرفناه
(2).
وقال ابن المبارك: إذا أردت أن يصح لك الحديث فاضرب بعضه ببعض
(3)، أي: قارن بين طرقه وألفاظه.
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এই বাণীতে তাদের অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন: «তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে।»
ইল্লাত (ত্রুটি) ও ওয়াহমের (ভ্রম) ধারণা:আভিধানিক অর্থে ইল্লাত হলো: রোগ। আর পরিভাষায়: এমন একটি বর্ণনা যা আপাতদৃষ্টিতে ত্রুটিমুক্ত মনে হয়, কিন্তু গভীরভাবে অনুসন্ধানের পর সেখানে এমন একটি ত্রুটির সন্ধান পাওয়া যায় যা হাদিসটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আর এই ত্রুটিটি সনদ ও মতন উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
ওয়াহম হলো: মানুষ যখন কোনো বিষয়ে ভুল করে অথচ সেটিকে সঠিক বলে মনে করে। রিজাল ও ইল্লাত বিষয়ক গ্রন্থাবলীতে আপনি এই শব্দটির প্রয়োগ দেখতে পাবেন; যেমন তারা বলেন: (তার হাদিসে ওয়াহম রয়েছে) অর্থাৎ ভুল, অথবা (তার হাদিসগুলোতে অনেক ওয়াহম রয়েছে)। বর্ণনাকারীর সমালোচনা করতে গিয়ে তারা বলেন: (তিনি সত্যবাদী তবে তিনি ওয়াহম করেন) অথবা (তার অনেক ওয়াহম রয়েছে)।
মুহাদ্দিসগণ ভুল চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এই শব্দটি নির্বাচন করেছেন কারণ এটি আঘাতের দিক থেকে অত্যন্ত কোমল এবং অন্য শব্দের তুলনায় সমালোচনায় অধিকতর শিষ্টাচারপূর্ণ।
ইল্লাত চেনার উপায়:হাদিসের সকল বর্ণনাসূত্র একত্রিত করা এবং বর্ণনাকারীদের মতভেদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া; কারণ বর্ণনাগুলোর মিল ও অমিল অনুযায়ী সেগুলোকে একত্রিত করাই হলো ওয়াহম বা ভ্রম স্পষ্ট করার ও তা উদ্ঘাটন করার চাবিকাঠি।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: যদি আমরা একটি হাদিস পঞ্চাশটি দিক থেকে না লিখতাম, তবে আমরা তা চিনতে পারতাম না।
ইবনুল মুবারক বলেছেন: যদি তুমি হাদিসকে সহিহ বা শুদ্ধ করতে চাও, তবে এর এক অংশকে অন্য অংশের সাথে মিলিয়ে দেখো। অর্থাৎ: এর বিভিন্ন সূত্র ও শব্দগুলোর মধ্যে তুলনা করো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ৭)
قال علي بن المديني: الباب إذا لم تجمع طرقه لم يتبين خطؤه
(1).
قال الخطيب: السبيل إلى معرفة علة الحديث أن يجمع طرقه وينظر في اختلاف رواته ويعتبر بمكانهم من الحفظ ومنزلتهم في الإتقان والضبط
(2).
وقد قال قبل هؤلاء كلهم أيوب السختياني حاثاً على كثرة السماع لتميز الروايات: إذا أردت أن تعرف خطأ معلمك فجالس غيره
(3).
أقسام العلة:العلة تقع في الإسناد وهو الأكثر، وقد تقع في المتن وهو كالتالي:
1 ما وقعت العلة فيه في الإسناد ولم تقدح فيه، كإبدال راو ثقة بمثله أو زيادة ذكر راو ثقة في الإسناد.
2 ما وقعت العلة فيه في الإسناد وقدحت فيه، كإبدال راو ضعيف براو ثقة أو يحذف من الإسناد أحد الضعفاء أو يدلسه ونحو ذلك فهذا يقدح في الإسناد والمتن معاً، إلا أن يجيء المتن من طرق أخرى غير معلولة.
3 ما وقعت العلة في المتن ولا تقدح فيه ولا في الإسناد لإختلاف ألفاظ المتن، أو قد تقدح في لفظة من المتن لا جميعه كأن تكون فيه لفظة شاذة أو منكرة، أو تكون اللفظة صحيحة لكن من غير
--------------------------------------------
আলী ইবনুল মাদীনী বলেন: কোনো বিষয় বা অধ্যায়ের সকল সূত্র যদি একত্রিত না করা হয়, তবে তার ভুল স্পষ্ট হয় না
(১).
খতীব বলেন: হাদীসের ইল্লাত (ত্রুটি) জানার পথ হলো এর সূত্রসমূহ একত্রিত করা এবং বর্ণনাকারীদের পারস্পরিক মতভেদগুলো পর্যবেক্ষণ করা এবং তাদের হিফয বা স্মৃতিশক্তির অবস্থান ও নির্ভুলতা ও সুদৃঢ় বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদা বিবেচনা করা
(২).
বর্ণনাগুলোকে পৃথক করার লক্ষ্যে এঁদের সবার আগে আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী অধিক শ্রবণের প্রতি উৎসাহিত করে বলেছিলেন: তুমি যদি তোমার শিক্ষকের ভুল জানতে চাও, তবে অন্যের নিকট বসো (উপদেশ গ্রহণ করো)
(৩).
ইল্লাতের প্রকারভেদ:ইল্লাত অধিকাংশ ক্ষেত্রে সনদে ঘটে, আবার কখনো মতনেও ঘটে; যা নিম্নরূপ:
১. যে ইল্লাত বা ত্রুটি সনদে ঘটে কিন্তু তাতে কোনো প্রভাব ফেলে না, যেমন একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর স্থলে তার সমপর্যায়ের অন্য একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীকে পরিবর্তন করা অথবা সনদে কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর নাম বৃদ্ধি করা।
২. যে ইল্লাত সনদে ঘটে এবং তাতে দোষ সৃষ্টি করে, যেমন একজন দুর্বল বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী দ্বারা পরিবর্তন করা অথবা সনদ থেকে কোনো দুর্বল বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া কিংবা তাদলীস করা এবং এই জাতীয় বিষয়; এটি সনদ ও মতন উভয়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করে, তবে মতনটি যদি অন্য কোনো ত্রুটিমুক্ত সূত্র থেকে বর্ণিত হয়ে থাকে তবে ভিন্ন কথা।
৩. যে ইল্লাত মতনে ঘটে কিন্তু মতনের শব্দের ভিন্নতার কারণে তা মতন বা সনদের কোনো ক্ষতি করে না; অথবা মতনের কোনো একটি শব্দে ত্রুটি সৃষ্টি করে কিন্তু সম্পূর্ণ মতনে নয়, যেমন তাতে কোনো শায (বিচ্ছিন্ন) বা মুনকার (অস্বীকৃত) শব্দ থাকা, অথবা শব্দটি সঠিক হওয়া সত্ত্বেও অন্য কোনো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ৮)
هذا الوجه كأن تكون وردت بإسناد آخر فأدرجها الراوي في هذا المتن.
4 ما وقعت العلة في المتن وقدحت فيه كاختصار أخل بالمعنى، أو رواية بالمعنى غيرته.
أقسام الوهم:قسمها الحافظ أبو الحجاج المزي إلى ثلاثة أقسام فقال: «الوهم يكون تارة في الحفظ وتارة في القول وتارة في الكتابة»
(1).
أسباب اختيار هذا الموضوع:أولاً: محبتي للحديث وأهله، فأردت أن أشارك في خدمة هذا العلم الشريف عسى الله أن يحشرني مع أهله.
ثانياً: في قراءتي لكتب الحديث والرجال ذكروا أن الإمام شعبة بن الحجاج كانت أوهامه في أسماء الرواة، فعقدت العزم على تتبع أوهامه فجعلت أتتبع ذلك من مظانه في كتب الحديث والعلل والشروح والتاريخ وغيرها، وكنت حريصاً أثناء ذلك في تدوين كل ما أجده من أوهام للمحدثين ثم بعد ذلك بدأت بفرز أوهام كل راو على حدة، بدأت بدراسة أوهام شعبة، فلما فرغت منها ودفعتها للصف استوقفني قول الإمام عثمان بن سعيد الدارمي من لم يجمع حديث شعبة وسفيان ومالك وحماد بن زيد وسفيان بن عيينة فهو مفلس في الحديث
(2).
وعلق عليه الذهبي بقوله: (وبلا ريب أن من جمع علم هؤلاء
--------------------------------------------
এই দিকটি এমন যে, এটি অন্য একটি সনদে বর্ণিত হয়েছে, অতঃপর রাবী এটিকে এই মতনের অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন।
৪. মতনের মধ্যে এমন কোনো ইল্লত (ত্রুটি) প্রকাশ পাওয়া যা তাতে দোষ সৃষ্টি করে, যেমন এমন সংক্ষিপ্তকরণ যা অর্থের ক্ষতিসাধন করে, অথবা এমন অর্থভিত্তিক বর্ণনা (রেওয়ায়েত বিল মা’না) যা অর্থকে পরিবর্তন করে ফেলে।
ওয়াহম-এর প্রকারভেদ:হাফেজ আবু হাজ্জাজ আল-মিযযি একে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। তিনি বলেন: «ওয়াহম কখনও হেফজ বা মুখস্থের ক্ষেত্রে হয়, কখনও কথার ক্ষেত্রে হয় এবং কখনও লেখার ক্ষেত্রে হয়»
(১).
এই বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ:প্রথমত: হাদিস এবং হাদিসবিদদের প্রতি আমার ভালোবাসা। তাই আমি এই মর্যাদাপূর্ণ ইলমের খিদমতে শরিক হতে চেয়েছি, যাতে আল্লাহ আমাকে তাদের সাথে হাশর করান।
দ্বিতীয়ত: হাদিস এবং রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহ অধ্যয়নকালে আমি লক্ষ্য করেছি যে, তারা উল্লেখ করেছেন ইমাম শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ-এর ওয়াহম বা ভুলভ্রান্তিগুলো মূলত রাবীদের নামের ক্ষেত্রে ছিল। তাই আমি তার ওয়াহমগুলো অনুসন্ধানের সংকল্প করি এবং হাদিস, ইলাল, শরাহ, ইতিহাস ইত্যাদি কিতাবের সম্ভাব্য উৎসসমূহ থেকে তা তালাশ করতে শুরু করি। এই সময়ে মুহাদ্দিসগণের যত ওয়াহম পেয়েছি, তা লিপিবদ্ধ করতে আমি সচেষ্ট ছিলাম। এরপর আমি প্রত্যেক রাবীর ওয়াহমগুলো পৃথকভাবে বিন্যস্ত করতে শুরু করি। আমি শু'বার ওয়াহমগুলো অধ্যয়নের মাধ্যমে কাজ শুরু করি। যখন আমি তা শেষ করলাম এবং কম্পোজের জন্য পাঠালাম, তখন ইমাম উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমীর এই কথাটি আমাকে ভাবিয়ে তুলল: "যে ব্যক্তি শু'বা, সুফিয়ান, মালেক, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ-এর হাদিস একত্রিত করেনি, সে হাদিসের ক্ষেত্রে নিঃস্ব"
(২).
আয-যাহাবী এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: (নিঃসন্দেহে যে ব্যক্তি এদের ইলম একত্রিত করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ৯)
الخمسة وأحاط بسائر حديثهم، وكتبه عالياً ونازلاً وفهم علله فقد أحاط بشطر السنَّة النبوية بل بأكثر من ذلك، وقد عدم في زماننا من ينهض بهذا وببعضه، فنسأل الله المغفرة)
(1).
فاستعنت بالله وعزمت على دراسة كل ما وقفت عليه من أوهام المحدثين الثقات من رجال الشيخين، ومما شجعني على هذا البحث مع صعوبته أنه لم يسبق إليه فيما أعلم
(2).
وحتى تعلم ثمرة هذا البحث قال ابن عدي في «الكامل» بعد أن ذكر حديثاً وهم فيه الإمام يحيى بن سعيد القطان: «لا يعرف ليحيى بن سعيد خطأ غيره، وليس الأمر كما قاله، فقد أوردت في بابه اثنا عشر حديثاً»
(3).
نعم، قد كانت هناك فكرة للإمام أبي زرعة الرازي في إخراج أوهام سفيان الثوري إلا أنها لم تعد الفكرة.
قال ابن حاتم: اعتل أبو زرعة الرازي فمضيت مع أبي لعيادته فسأله أبي عن سبب هذه العلة، فقال: بتُّ وأنا في عافية فوقع في نفسي أني إذا أصبحت أخرجت من الحديث ما أخطأ فيه الثوري، فلمّا أصبحت خرجت إلى الصلاة، وفي دربنا كلب ما نبحني قط ولا رأيته عدا على أحد، فعدا عليَّ وعقرني فحممت فوقع في نفسي أنَّ هذا عقوبة لما وضعت في نفسي، فأضربت عن ذلك الرأي
(4).
وعدَّ الإمام أحمد في مذاكرته مع علي بن المديني ثمانية عشر
--------------------------------------------
ঐ পাঁচজন এবং তাদের সকল হাদীস আয়ত্ত করেছেন, এবং উচ্চ ও নিম্ন উভয় সনদে তা লিপিবদ্ধ করেছেন এবং সেগুলোর ত্রুটিসমূহ (ইলল) অনুধাবন করেছেন, তবে তিনি সুন্নাহর অর্ধেক বরং তার চেয়েও বেশি আয়ত্ত করেছেন। আমাদের যামানায় এমন ব্যক্তি নেই বললেই চলে যিনি এই বিশাল দায়িত্ব বা এর কিয়দাংশ আঞ্জাম দিতে সক্ষম। অতএব আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি)
(১).
তাই আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলাম এবং শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনাকারীদের মধ্য হতে নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসগণের যে সকল ভুল (আওহাম) সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি, তার সবকিছুই অধ্যয়ন করার সংকল্প করলাম। এই গবেষণার কাঠিন্য থাকা সত্ত্বেও যা আমাকে উৎসাহিত করেছে তা হলো, আমার জানামতে ইতিপূর্বে কেউ এমন কাজ করেননি
(২).
আর এই গবেষণার গুরুত্ব বোঝার জন্য ইবনু আদি ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তানের একটি ভুলযুক্ত হাদীস উল্লেখ করার পর বলেছেন: “ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের এটি ব্যতীত আর কোনো ভুল জানা নেই; কিন্তু বিষয়টি তিনি যা বলেছেন তেমন নয়, বরং আমি তার অধ্যায়ে বারোটি হাদীস উল্লেখ করেছি”
(৩).
হ্যাঁ, ইমাম আবু যুরআ আর-রাযীর মাঝে সুফিয়ান সাওরির ভুলগুলো বের করার একটি চিন্তা এসেছিল, তবে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
ইবনু হাতিম বলেন: আবু যুরআ আর-রাযী অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি আমার পিতার সাথে তাকে দেখতে গেলাম। আমার পিতা তাকে এই অসুস্থতার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: “আমি সুস্থ অবস্থায় রাত অতিবাহিত করলাম, অতঃপর আমার মনে উদয় হলো যে, আমি যখন সকালে উপনীত হব তখন হাদীসের মধ্য হতে সাওরি যা কিছু ভুল করেছেন তা বের করব। যখন ভোর হলো তখন আমি সালাতের জন্য বের হলাম। আমাদের রাস্তায় একটি কুকুর ছিল যা কোনোদিন আমার দিকে ঘেউ ঘেউ করেনি এবং কাউকে আক্রমণ করতেও দেখিনি; কিন্তু সেটি আমাকে আক্রমণ করল এবং কামড়ে দিল। এতে আমি জ্বরে আক্রান্ত হলাম। তখন আমার মনে হলো যে, এটি আমার মনের সংকল্পের কারণে প্রাপ্ত শাস্তি। তাই আমি সেই মত ত্যাগ করলাম”
(৪).
এবং ইমাম আহমাদ আলী ইবনুল মাদিনীর সাথে এক আলোচনায় আঠারোটি গণনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهماً لسفيان بن عيينة على الزهري، ثم قال الإمام أحمد: ثم رجعت فنظرت فيما أخطأ فيه ابن عيينة يعني على الزهري فإذا هي أكثر من عشرين حديثاً
(1).
وذكر الخطيب عن مسعود بن ناصر السجزي أنه ذكر في تصانيف ابن حبان: علل أوهام المؤرخين، علل مناقب الزهري، علل حديث مالك، علل ما أسند أبو حنيفة، ما خالف فيه سفيان شعبة، وما خالف فيه شعبة سفيان
(2)، وللإمام مسلم كتاب أوهام المحدثين.
خطوات البحث:بدأت بالأئمة المكثرين الحفاظ المتقنين كشعبة، وسفيان الثوري، وسفيان بن عيينة، ومالك، ومعمر، والأوزاعي وحماد بن سلمة، وحماد بن زيد، وابن جريج، ووكيع، وعبد الرحمن بن مهدي، ويحيى القطان، وأبي معاوية، وعبد الرزاق، وألحقت معهم إمام المغازي محمد بن إسحاق وختمت بأبي داود الطيالسي، وهذا هو القسم الأول.
ثم أوردت أوهام الأئمة والثقات من رجال الشيخين المتفق عليهما حسب الطبقات مقلداً في ذلك الحافظ ابن حجر في تقريبه في الترتيب، فكان هناك واحداً في الطبقة الثانية وهو عبد الرحمن بن أبي ليلى فأوردت حديثه ضمن الطبقة الثالثة، ثم أوردت أحاديث بقية الطبقات حتى الطبقة الحادية عشر حسب ترتيب الأحرف الهجائية (إلا أني قدمت في حرف العين من اسمه عبد الله) وهذا هو القسم الثاني.
--------------------------------------------
সুফইয়ান ইবনে উয়ায়নাহর যুহরীর বর্ণনায় একটি ভুল; অতঃপর ইমাম আহমাদ বলেন: এরপর আমি পুনরায় ফিরে তাকালাম এবং যুহরীর বর্ণনায় ইবনে উয়ায়নাহর ভুলগুলো পর্যবেক্ষণ করলাম, তখন দেখলাম সেগুলো বিশটিরও বেশি হাদিস
(১).
আল-খাতীব মাসউদ ইবনে নাসির আল-সিজযী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে হিব্বানের গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখ করেছেন: ঐতিহাসিকদের ভুলের কারণসমূহ, যুহরীর ফযিলত সংক্রান্ত বর্ণনার ত্রুটিসমূহ, মালিকের হাদিসের ত্রুটিসমূহ, আবু হানিফা কর্তৃক বর্ণিত মুসনাদ হাদিসের ত্রুটিসমূহ, যেগুলোতে সুফইয়ান শু’বাহর বিরোধিতা করেছেন এবং যেগুলোতে শু’বাহ সুফইয়ানের বিরোধিতা করেছেন
(২), আর ইমাম মুসলিমের 'মুহাদ্দিসগণের ভুলসমূহ' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে।
গবেষণার ধাপসমূহ:আমি শুরু করেছি অধিক বর্ণনাকারী এবং দক্ষ হাফেয ইমামগণকে দিয়ে, যেমন—শু’বাহ, সুফইয়ান আস-সাওরী, সুফইয়ান ইবনে উয়ায়নাহ, মালিক, মা’মার, আওযায়ী, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, হাম্মাদ ইবনে যায়দ, ইবনে জুরাইজ, ওয়াকী, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, আবু মুয়াবিয়া এবং আবদুর রাজ্জাক। আমি তাদের সাথে মাগাযী শাস্ত্রের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসহাককে যুক্ত করেছি এবং আবু দাউদ আত-তায়ালিসীকে দিয়ে শেষ করেছি; আর এটি হলো প্রথম অংশ।
অতঃপর আমি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) কর্তৃক সর্বসম্মত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং ইমামগণের ভুলসমূহ স্তর অনুযায়ী উল্লেখ করেছি। এক্ষেত্রে আমি হাফেয ইবনে হাজারের ‘তাকরীব’ গ্রন্থের বিন্যাস অনুসরণ করেছি। দ্বিতীয় স্তরে একজন ছিলেন, তিনি হলেন আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা; তাই আমি তার হাদিসগুলো তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত করেছি। এরপর আমি বর্ণানুক্রমিকভাবে একাদশ স্তর পর্যন্ত বাকি স্তরের হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি (তবে 'আইন' বর্ণের ক্ষেত্রে যার নাম আবদুল্লাহ তাকে আগে রেখেছি)। এটি হলো দ্বিতীয় অংশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثم أوردت أوهام رجال الإمام البخاري ثم رجال الإمام مسلم حسب ترتيب الأحرف الهجائية دون اعتبار الطبقات، وهذا هو القسم الثالث.
ثم ختمت الكتاب بأوهام وقعت في كتب الأئمة أصحاب الكتب الستة وهذا هو القسم الرابع.
وقد قدمت لهؤلاء الثقات ترجمة يسيرة أغلبها من التهذيب وسير أعلام النبلاء والجرح والتعديل.
ولا شك أنَّ الوهم لا يسلم منه أحد إلا أنهم متفاوتون في ذلك. ذكر ابن عبد البر حديث سهو النبيِّ صلى الله عليه وسلم في الصلاة ثم قال: وفي هذا الحديث بيان أنَّ أحداً لا يسلم من الوهم والنسيان لأنه إذا اعترى ذلك الأنبياء فغيرهم بذلك أحرى
(1).
وقال الإمام مالك: مَنْ ذا الذي لا يخطاء
(2).
وقال مهنا للإمام أحمد: كان غندر يغلط؟ قال: أليس هو من الناس!
(3).
وقال: حنبل: سمعت أبا عبد الله يقول: ما رأيت أحداً أقل خطأ من يحيى بن سعيد يعني القطان وقد أخطأ في أحاديث.
قال أبو عبد الله: ومَن ذا يُعرى من الخطأ والتصحيف
(4).
--------------------------------------------
এরপর আমি ইমাম বুখারীর বর্ণনাকারীগণের এবং পরে ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীগণের অনিচ্ছাকৃত ভুলভ্রান্তিগুলো (ওয়াহাম) বর্ণানুক্রমিক সাজিয়ে উল্লেখ করেছি, কোনো স্তরের (তাবাকাত) বিবেচনা ছাড়াই, আর এটিই হলো তৃতীয় বিভাগ।
এরপর আমি গ্রন্থটি শেষ করেছি সেই সকল ভুলভ্রান্তি দিয়ে যা কুতুবে সিত্তার ইমামগণের কিতাবসমূহে সংঘটিত হয়েছে, আর এটিই হলো চতুর্থ বিভাগ।
আমি এই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী পেশ করেছি, যার অধিকাংশই আল-তাহজীব, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা এবং আল-জারহ ওয়াত তা'দীল থেকে নেওয়া হয়েছে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অনিচ্ছাকৃত ভুল থেকে কেউ নিরাপদ নয়, তবে তাঁদের মাঝে এই ক্ষেত্রে তারতম্য রয়েছে। ইবনে আবদিল বার সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিস্মৃতি (সাহু) সম্পর্কিত হাদীস উল্লেখ করার পর বলেন: এই হাদীসে এটি স্পষ্ট যে, কেউ অনিচ্ছাকৃত ভুল ও বিস্মৃতি থেকে মুক্ত নয়। কারণ যদি এটি নবীদের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে, তবে অন্যদের ক্ষেত্রে ঘটা আরও বেশি স্বাভাবিক
(১)।
ইমাম মালিক বলেছেন: এমন কে আছে যে ভুল করে না?
(২)।
মুহান্না ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞাসা করলেন: গুন্দার কি ভুল করতেন? তিনি বললেন: তিনি কি মানুষের অন্তর্ভুক্ত নন!
(৩)।
হাম্বাল বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ অর্থাৎ আল-কাত্তানের চেয়ে কম ভুল করতে কাউকে দেখিনি, অথচ তিনিও কিছু হাদীসে ভুল করেছেন।
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আর কে আছে যে ভুল এবং লেখ্য প্রমাদের (তাসহিফ) উর্ধ্বে?
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ১২)
بل قال يحيى بن معين: مَنْ لا يخطاء في الحديث فهو كذاب
(1).
وقال أيضاً: لست أعجب ممن يخطاء، إنما العجب ممن يحدِّث فيصيب
(2).
وقال الترمذي: وإنما يتفاضل أهل العلم بالحفظ والإتقان والتثبت عند السماع مع أنه لم يسلم من الخطأ والغلط كثير من الأئمة مع حفظهم
(3).
وليس الغرض من هذا البحث هو البحث عن أوهام الأئمة وأخطائهم، إذ لم يدَّع أحدٌ منهم العصمة وعدم الخطأ، بل المراد من معرفة هذه الأوهام، معرفة علتها وأثرها، وهل بُنِيَ حكم عليها وتبرئة شيخه أو تلميذه من الوهم إذ وقفت على بعض الأحاديث ينسب الوهم فيها إلى مَنْ هو بريء منه، ومعرفة الأتقن في بعض الشيوخ مما اختلف فيه بعض أهل العلم، والأهم من ذلك كله تنقية الأحاديث النبوية مما أُلحق بها من أوهام في المتن والسند، وغير ذلك من الفوائد العديدة التي سيجدها القاراء والباحث في هذا الكتاب. وسأذكر أمثلة لما تقدم:
روى الإمام البخاري في صحيحه (2934) قال: حدثنا عبد الله بن أبي شيبة، حدثنا جعفر بن عون، حدثنا سفيان عن أبي إسحاق، عن عمرو بن ميمون، عن عبد الله يعني ابن مسعود. وذكر حديثاً فيه
--------------------------------------------
এমনকি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: যে ব্যক্তি হাদিসের ক্ষেত্রে ভুল করে না, সে একজন চরম মিথ্যাবাদী
(১)।
তিনি আরও বলেছেন: আমি ঐ ব্যক্তির প্রতি বিস্মিত হই না যে ভুল করে, বরং বিস্ময় তো ঐ ব্যক্তির প্রতি যে হাদিস বর্ণনা করে আর তা সঠিক হয়
(২)।
ইমাম তিরমিযী বলেছেন: মূলত আলেমগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য হয় হেফয (স্মৃতিশক্তি), নিপুণতা এবং শ্রবণের সময় দৃঢ়তার ভিত্তিতে, যদিও অনেক ইমাম প্রখর স্মৃতিশক্তি থাকা সত্ত্বেও ভুল ও ভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকতে পারেননি
(৩)।
আর এই গবেষণার উদ্দেশ্য ইমামগণের ভুলভ্রান্তি বা বিভ্রম অনুসন্ধান করা নয়, কেননা তাঁদের কেউই নিজেদের নিষ্পাপ বা নির্ভুল হওয়ার দাবি করেননি। বরং এই বিভ্রমগুলো চিহ্নিত করার উদ্দেশ্য হলো এগুলোর কারণ ও প্রভাব জানা, এবং এর ওপর ভিত্তি করে কোনো বিধান প্রদান করা হয়েছে কি না তা যাচাই করা। পাশাপাশি উস্তাদ বা ছাত্রকে বিভ্রমের অপবাদ থেকে দায়মুক্ত করা, কারণ আমি এমন কিছু হাদিস পেয়েছি যেখানে বিভ্রমকে এমন কারো দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে যিনি মূলত তা থেকে মুক্ত। এছাড়া কোনো কোনো শায়খের ব্যাপারে আলেমদের মতবিরোধের ক্ষেত্রে কে অধিক নিপুণ তা জানা এবং এ সবকিছুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসসমূহকে মতন (মূল পাঠ) ও সনদ (সূত্র)-এর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হওয়া বিভ্রম থেকে পবিত্র করা। এ ছাড়াও আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে যা পাঠক ও গবেষক এই কিতাবে খুঁজে পাবেন। আমি যা উল্লেখ করেছি তার কিছু উদাহরণ নিচে তুলে ধরছি:
ইমাম বুখারী তাঁর সহিহ গ্রন্থে (২৯৩৪) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আবি শায়বা হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি জাফর ইবনে আওন থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি এমন একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যাতে রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فقال النبيُّ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهم عليك بقريش لأبي جهل بن هشام وعتبة بن ربيعة وشيبة بن ربيعة والوليد بن عتبة وأُبيّ بن خلف
… ». قال عبد الله: فلقد رأيتهم في قليب بدر قتلى.
ثم قال البخاري: وقال يوسف بن إسحاق عن أبي إسحاق أمية بن خلف وقال شعبة: أمية أو أُبيّ. والصحيح أمية. اه.
فظاهر قول الإمام البخاري أنَّ سفيان الثوري أخطأ في قوله (أُبي بن خلف) لكن الصحيح أنَّ الوهم ليس من سفيان، فقد رواه مسلم في صحيحه (1794) عن ابن أبي شيبة هذا بنفس إسناد البخاري فقال (أمية بن خلف)، وكذلك رواه زيد بن حباب وأبو الأحوص عن الثوري فسلم من الوهم، وكذلك رواه خمسة من الثقات عن جعفر بن عون. فبقي أن يكون الوهم من ابن أبي شيبة، لكن ذكرنا أنَّ مسلماً رواه عنه على الصحيح وكذلك هو في مصنفه ومسنده. فبقي أن يكون الوهم من الإمام البخاري، إلا أنه بذكره الخلاف عقب الحديث وأنَّ الصحيح هو أمية بن خلف يرجح أن يكون الوهم هو من أبي بكر بن أبي شيبة لما حدّث الإمام البخاري وإن كان في كتابه خلاف ذلك، وانظر «الفتح» (1/ 351). لذا أوردت هذا الحديث في باب أبي بكر بن أبي شيبة.
مثال آخر:
روى أبو داود (4578) عن عباس بن عبد العظيم، عن عبيد الله بن موسى، عن يوسف بن صهيب، عن عبد الله بن بريدة، عن أبيه أنَّ امرأة خذفت امرأة فأسقطت فرُفع ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعل في ولدها خمسمائة شاة ونهى يومئذ عن الخذف.
অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের পাকড়াও করুন; বিশেষ করে আবু জাহল ইবনে হিশাম, উতবা ইবনে রাবিআহ, শায়বা ইবনে রাবিআহ, ওয়ালিদ ইবনে উতবা এবং উবাই ইবনে খালাফকে
… »। আবদুল্লাহ বলেন: আমি তাদের বদরের কূপে নিহত অবস্থায় দেখেছি।
অতঃপর বুখারী বলেন: ইউসুফ ইবনে ইসহাক, আবু ইসহাক থেকে (বর্ণনা করেছেন) উমাইয়া ইবনে খালাফ। আর শু'বাহ বলেছেন: উমাইয়া অথবা উবাই। তবে সঠিক হলো উমাইয়া। (সমাপ্ত)।
ইমাম বুখারীর বক্তব্য থেকে বাহ্যত মনে হয় যে, সুফিয়ান সাওরী তাঁর (উবাই ইবনে খালাফ) বলার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। কিন্তু সঠিক হলো যে, বিভ্রান্তিটি সুফিয়ানের পক্ষ থেকে নয়। কারণ মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (১৭৯৪) এই ইবনে আবি শায়বা থেকেই বুখারীর হুবহু একই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে (উমাইয়া ইবনে খালাফ) বলেছেন। অনুরূপভাবে যায়দ ইবনে হুবাব এবং আবু আহওয়াস এটি সাওরী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তারা এ জাতীয় বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত ছিলেন। একইভাবে পাঁচজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এটি জাফর ইবনে আউন থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে অবশিষ্ট থাকে যে বিভ্রান্তিটি ইবনে আবি শায়বার পক্ষ থেকে হতে পারে, কিন্তু আমরা উল্লেখ করেছি যে মুসলিম তাঁর থেকে এটি সঠিক পাঠে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর 'মুসান্নাফ' ও 'মুসনাদ'-এও এটি এভাবেই রয়েছে। ফলে অবশিষ্ট থাকে যে বিভ্রান্তিটি হয়তো ইমাম বুখারীর পক্ষ থেকে হয়েছে। তবে তিনি হাদিসের পরপরই মতপার্থক্য উল্লেখ করায় এবং উমাইয়া ইবনে খালাফ-ই সঠিক বলে অভিমত দেওয়ায় এটিই জোরালো হয় যে, আবু বকর ইবনে আবি শায়বা যখন ইমাম বুখারীর কাছে হাদিসটি বর্ণনা করেছিলেন তখন হয়তো বিভ্রান্তিটি তাঁর পক্ষ থেকেই হয়েছিল, যদিও তাঁর কিতাবে এর বিপরীত রয়েছে। দেখুন: 'আল-ফাতহ' (১/৩৫১)। একারণেই আমি এই হাদিসটি আবু বকর ইবনে আবি শায়বার অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি।
অন্য একটি উদাহরণ:
আবু দাউদ (৪৫৭৮) আব্বাস ইবনে আবদুল আজিম থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে সুহাইব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক মহিলা অন্য এক মহিলার দিকে পাথর ছুঁড়ে মারল, ফলে তার গর্ভপাত হয়ে গেল। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উত্থাপন করা হলে তিনি তার সন্তানের বিনিময়ে পাঁচশ বকরি নির্ধারণ করেন এবং সেদিন তিনি পাথর ছুঁড়ে মারতে নিষেধ করেন।
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قال أبو داود: هكذا قال عباس وهو وهم. اه.
ظاهر قول أبي داود أنَّ عباس هو الواهم في قوله: (خمسمائة) والصحيح هو (مائة) لكن لم ينفرد به عباس بل تابعه ثقتان هما إبراهيم بن يعقوب بن إبراهيم وإبراهيم بن يونس بن محمد وحديثهما عند النسائي (8/ 146). وكذلك عبيد الله بن موسى تابعه أبو نعيم فرواه عن يوسف بن صهيب عن عبد الله بن بريدة مرسلاً فقال: (مائة). فسلم عباس وعبيد الله من الوهم فيكون الوهم إنما هو من يوسف بن صهيب وهو ثقة لكنه ليس على شرطنا وهو أن يكون من رجال الصحيح فلم أُخرِجه في كتابي هذا؛ وعلة وهمه أنَّ الشعبي كان يقول: الغرة خمسمائة درهم فوهم يوسف فقال: (خمسمائة شاة). والله أعلم.
حمل ابن خزيمة في صحيحه (2766) الوهم فيه على ابن عيينة، والصحيح أنَّ الوهم من عبد الجبار بن العلاء، فقد رواه الحميدي وعمرو الناقد وغيرهما عن سفيان على الوجه الصحيح، لذا أوردناه في باب عبد الجبار وليس سفيان كما قال ابن خزيمة.
حمل الألباني في كتابه «صفة صلاة النبيِّ صلى الله عليه وسلم» (3/ 901) في حديث رواه البيهقي (2/ 140) من طريق أحمد بن منصور الرمادي عن معمر عن قتادة، الوهم في هذا على معمر فقال: (وأخشى أن تكون هذه الرواية وهماً لأنه تفرد بها معمر دون أصحاب قتادة
… ).
قلت: رواه عبد الرزاق (3065) عن معمر مثل رواية الجماعة فسلم معمر من الوهم والحمل فيه على أحمد بن منصور أو من دونه في الإسناد وهم ليسوا على شرط كتابنا هذا فلم أخرجه فيه.
আবু দাউদ বলেন: আব্বাস এভাবেই বলেছেন এবং এটি একটি ভুল। সমাপ্ত।
আবু দাউদের বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ হলো যে, আব্বাস তার (পাঁচশ) বলার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন এবং সঠিক হলো (একশ), কিন্তু আব্বাস এতে একা নন, বরং তাকে দুইজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী অনুসরণ করেছেন, তারা হলেন ইব্রাহিম বিন ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম এবং ইব্রাহিম বিন ইউনুস বিন মুহাম্মদ, আর তাদের হাদিস আন-নাসায়ীতে (৮/১৪৬) রয়েছে। একইভাবে উবায়দুল্লাহ বিন মুসাকে আবু নুয়াইম অনুসরণ করেছেন, তিনি এটি ইউসুফ বিন সুহাইব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদা থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: (একশ)। সুতরাং আব্বাস ও উবায়দুল্লাহ ভুলের হাত থেকে বেঁচে গেছেন, ফলে ভুলটি কেবল ইউসুফ বিন সুহাইবের পক্ষ থেকেই হয়েছে, আর তিনি নির্ভরযোগ্য কিন্তু আমাদের শর্তানুযায়ী নন, যা হলো সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, তাই আমি আমার এই গ্রন্থে এটি সংকলন করিনি; আর তার ভুলের কারণ হলো যে, আশ-শা'বী বলতেন: গুররা হলো পাঁচশ দিরহাম, ফলে ইউসুফ ভুল করে বলেছেন: (পাঁচশ বকরি)। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
ইবনে খুজাইমা তার সহীহ গ্রন্থে (২৭৬৬) এর ভুলকে ইবনে উয়াইনার ওপর চাপিয়েছেন, কিন্তু সঠিক হলো যে ভুলটি আব্দুল জাব্বার বিন আল-আলা'র পক্ষ থেকে হয়েছে, কারণ আল-হুমাইদী, আমর আন-নাকিদ এবং অন্যরা সুফিয়ান থেকে এটি সঠিক উপায়ে বর্ণনা করেছেন, তাই আমরা এটি আব্দুল জাব্বারের অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি, সুফিয়ানের নয়, যেমনটি ইবনে খুজাইমা বলেছেন।
আলবানী তার ‘সিফাতু সালাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ গ্রন্থে (৩/৯০১), বায়হাকী (২/১৪০) বর্ণিত একটি হাদিসে যা আহমাদ বিন মানসুর আর-রামাদী থেকে মা'মার থেকে কাতাদাহর সূত্রে এসেছে, তাতে ভুলটি মা'মারের ওপর চাপিয়েছেন এবং বলেছেন: (আমি আশঙ্কা করছি যে এই বর্ণনাটি একটি ভুল, কারণ কাতাদাহর অন্যান্য সাথীদের বাদ দিয়ে মা'মার এটি বর্ণনায় একাকী হয়ে গেছেন
… )।
আমি বলছি: আব্দুর রাজ্জাক (৩০৬৫) মা'মার থেকে জামায়াতের বর্ণনার মতোই এটি বর্ণনা করেছেন, ফলে মা'মার ভুলের হাত থেকে বেঁচে গেছেন এবং ভুলটি আহমাদ বিন মানসুর বা সনদের তার নিচের স্তরের কারো ওপর বর্তায়, তারা আমাদের এই গ্রন্থের শর্তানুযায়ী নন, তাই আমি এটি এতে সংকলন করিনি।
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ابن جريج كان يروي حديثاً أحياناً على التوهم فرواه عنه هكذا يحيى القطان، وحمل البيهقي الوهم فيه على يحيى إذ خالفه غيره، لكن نقل الإمام أحمد عن يحيى أنه كان ينكره على ابن جريج ويراجعه فيه فيأبى؛ لذا أوردته في بابه وليس في باب يحيى القطان.
ذكر الدارقطني والبيهقي في حديث صلاة الفطر ركعتان والأضحى ركعتان والسفر ركعتان أنَّ أصحاب الثوري رووه عنه عن زبير عن ابن أبي ليلى عن عمر، ولم يجعلوا بينهما أحداً.
ورواه يحيى القطان عن الثوري فجعل بينهما رجلاً وذكروا حديثه. قلت: ليس هذا من يحيى إنما رواه عنه القواريري هكذا؛ لذا جعلته في باب القواريري ورواه غيره عن يحيى على الصواب.
وحمل الدارقطني الوهم في حديث على الليث بن سعد، والصحيح أنَّ الوهم إنما هو من الراوي عنه حجين بن المثنى إذ خالفه غيره من أصحاب الليث؛ لذا أوردناه في بابه وليس في باب الليث.
روى النسائي في «المجتبى» (8/ 276) وفي «الكبرى» (7946) (7947) حديثاً من طريق شعبة عن يعلى بن عطاء قال: سمعت أبا علقمة يحدِّث عن أبي هريرة عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم، فذكر الحديث
(1).
ثم قال: حدثنا أبو داود، قال: حدثنا أبو الوليد، قال: حدثنا أبو عوانة عن يعلى بن عطاء عن أبيه كذا قال عن أبي علقمة به.
--------------------------------------------
ইবন জুরাইজ কখনো কখনো ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে হাদীস বর্ণনা করতেন, তাই ইয়াহইয়া আল-কাত্তান তাঁর থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আল-বায়হাকী এই ভ্রান্তি ইয়াহইয়ার ওপর আরোপ করেছেন যেহেতু অন্যরা তাঁর বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু ইমাম আহমাদ ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবন জুরাইজের নিকট এটি অস্বীকার করতেন এবং এ ব্যাপারে তাঁর সাথে আলোচনা করতেন কিন্তু তিনি তা অগ্রাহ্য করতেন; তাই আমি এটি তাঁর অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি, ইয়াহইয়া আল-কাত্তানের অধ্যায়ে নয়।
আদ-দারা কুতনী এবং আল-বায়হাকী ঈদুল ফিতরের সালাত দুই রাকাত, ঈদুল আযহার সালাত দুই রাকাত এবং সফরের সালাত দুই রাকাত সম্পর্কিত হাদীসে উল্লেখ করেছেন যে, আস-সাওরীর সাথিগণ তাঁর থেকে, তিনি যুবাইর থেকে, তিনি ইবন আবী লায়লা থেকে এবং তিনি উমর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁরা তাঁদের মধ্যে অন্য কাউকে উল্লেখ করেননি।
আর ইয়াহইয়া আল-কাত্তান আস-সাওরী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে একজন ব্যক্তিকে রেখেছেন এবং তাঁরা তাঁর হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। আমি বলছি: এটি ইয়াহইয়ার পক্ষ থেকে নয় বরং আল-কাওয়ারীরী তাঁর থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন; তাই আমি এটি আল-কাওয়ারীরীর অধ্যায়ে রেখেছি, আর অন্যরা ইয়াহইয়া থেকে এটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন।
এবং আদ-দারা কুতনী একটি হাদীসের ভ্রান্তি আল-লায়স ইবন সা'দ-এর ওপর আরোপ করেছেন, অথচ সঠিক হলো যে ভ্রান্তিটি মূলত তাঁর বর্ণনাকারী হুজাইন ইবনুল মুসান্নার পক্ষ থেকে ছিল, যেহেতু আল-লায়সের অন্যান্য সাথিগণ তাঁর বিরোধিতা করেছেন; তাই আমরা এটি তাঁর অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি, আল-লায়সের অধ্যায়ে নয়।
আন-নাসাঈ তাঁর 'আল-মুজতাবা' (৮/ ২৭৬) এবং 'আল-কুবরা' (৭৯৪৬) (৭৯৪৭)-এ শু'বার সূত্রে ইয়ালা ইবন আতা থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আলকামা-কে আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, এরপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন
(১)।
অতঃপর তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আল-ওয়ালীদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আওয়ানা ইয়ালা ইবন আতা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে—এভাবেই তিনি আবু আলকামা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثم قال عقبه في «الكبرى»: هذا خطأ، والصواب يعلى بن عطاء عن أبي علقمة، أي ليس بينهما والد يعلى، فقد صرَّح بسماعه من أبي علقمة شعبة. وظاهره أنَّ الوهم من أبي عوانة وضاح اليشكري.
لكن أبا كامل الجحدري
(1) وعفان بن مسلم وبهز بن أسد
(2) قد رووه عن أبي عوانة كرواية شعبة، وقد أورده مسلم في صحيحه.
فسلم أبو عوانة من الوهم. فيكون الوهم ممن دونه في الإسناد ذلك أنَّ عبد بن حميد
(3) قد رواه عن أبي الوليد الطيالسي على الصحيح وأنَّ أبا عوانة الإسفرائيني
(4) قد رواه عن أبي داود الحراني على الصحيح فيكون الوهم ظاهره من الإمام النسائي، إلا أنه قد نبّه عليه فيكون الوهم من أبي داود الحراني لما حدَّث به النسائي، وهو ليس على شرط كتابنا فلم أورده في كتابي، والله أعلم.
معرفة الأتقن:أما معرفة الأتقن في بعض الشيوخ، فقد أظهر هذا البحث بعد سبر أحاديث المقدَّمين في الزهري أتقنهم وأعلمهم به خلافاً لما ذكره بعض أئمة الحديث ونقاده، فقد اختلف بعض أهل الحديث في الأتقن من أصحاب الزهري فقدَّم يحيى القطان ابن عيينة على معمر.
وقدَّم علي بن المديني ابن عيينة على مالك ومعمر ويونس.
--------------------------------------------
এরপর তিনি তাঁর 'আল-কুবরা' গ্রন্থে এর পশ্চাতে বলেছেন: এটি ভুল, আর সঠিক হলো আবু আলকামা থেকে ইয়ালা ইবনে আতা, অর্থাৎ তাদের মাঝে ইয়ালার পিতা নেই; কারণ শু'বা আবু আলকামা থেকে শোনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। বাহ্যত মনে হয় যে, এই ভুলটি আবু আওয়ানা ওয়াদ্দাহ আল-ইয়াশকারি থেকে হয়েছে।
কিন্তু আবু কামিল আল-জাহদারি
(১), আফফান ইবনে মুসলিম এবং বাহজ ইবনে আসাদ
(২) এটিকে আবু আওয়ানা থেকে শু'বার বর্ণনার মতোই বর্ণনা করেছেন, আর মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
ফলে আবু আওয়ানা ভুল থেকে মুক্ত হলেন। তাই ভুলটি সনদে তাঁর পরবর্তী কারো পক্ষ থেকে হয়েছে; কারণ আব্দ ইবনে হুমাইদ
(৩) এটিকে সহীহভাবে আবু আল-ওয়ালীদ আত-তায়ালিসি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আবু আওয়ানা আল-ইসফারাইনি
(৪) এটিকে সহীহভাবে আবু দাউদ আল-হাররানি থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে বাহ্যত ভুলটি ইমাম নাসাঈর মনে হতে পারে, তবে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন, তাই ভুলটি আবু দাউদ আল-হাররানির পক্ষ থেকে হতে পারে যখন তিনি নাসাঈর কাছে এটি বর্ণনা করেছিলেন; আর তিনি আমাদের কিতাবের শর্তানুযায়ী নন, তাই আমি একে আমার কিতাবে উল্লেখ করিনি, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
অধিকতর নির্ভুল বর্ণনাকারীর পরিচিতি:নির্দিষ্ট কিছু শায়খের ক্ষেত্রে অধিকতর নির্ভুল বর্ণনাকারীর পরিচিতি প্রসঙ্গে: যুহরি থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা অগ্রগণ্য তাদের হাদিসগুলো পর্যালোচনার পর এই গবেষণাটি তাদের মধ্যে কে অধিকতর নির্ভুল এবং কে তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী তা স্পষ্ট করেছে, যা হাদিসের কিছু ইমাম ও সমালোচকদের বক্তব্যের বিপরীত। যুহরির সাথীদের মধ্যে কে অধিকতর নির্ভুল সে বিষয়ে হাদিস বিশারদগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; ইয়াহইয়া আল-কাত্তান মা’মারের ওপর ইবনে উইয়াইনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
আলী ইবনে আল-মাদিনি মালিক, মা’মার এবং ইউনুসের ওপর ইবনে উইয়াইনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقدَّم أحمد بن حنبل مالك وابن عيينة في حديث الزهري في الاتقان، ويونس بن يزيد ومعمر في الكثرة.
وقدَّم أبو حاتم مالك وابن عيينة على أصحاب الزهري.
وقدَّم يحيى بن معين مالك ومعمر على ابن عيينة.
وقدَّم أحمد بن صالح المصري (وهو من أعرف الناس بحديث الزهري كما قال الإمام أحمد) يونس بن يزيد على جميع أصحاب الزهري
(1).
وبالنظر إلى ما وقفت عليه من أوهام هؤلاء الأئمة الأثبات مالك ومعمر وسفيان بن عيينة ويونس بن يزيد.
نجد أنَّ يونس يتقدم أصحاب الزهري في الاتقان والكثرة، فقد وهم سفيان على الزهري في عشرين حديثاً، كان القول فيها قول يونس في سبعة عشر حديثاً، ومعمر في ستة عشر حديثاً، ومالك في أحد عشر حديثاً.
ووهم معمر على الزهري في ثمانية عشر حديثاً كان القول فيها قول يونس في ستة عشر حديثاً وسفيان ومالك كلاهما في ستة أحاديث.
ووهم مالك على الزهري في ستة أحاديث كان القول فيها كلها ليونس، ومعمر في خمسة، وسفيان في حديثين.
ووهم يونس على الزهري في ثلاثة أحاديث كان القول فيها قول مالك ومعمر وسفيان في حديث واحد منها.
--------------------------------------------
আহমাদ বিন হাম্বল ইমাম যুহরীর হাদীসের ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতার বিচারে মালিক এবং ইবনে উইয়াইনাকে এবং বর্ণনার আধিক্যের বিচারে ইউনুস বিন ইয়াযীদ এবং মা'মারকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
আবু হাতিম ইমাম যুহরীর সকল ছাত্রদের ওপর মালিক এবং ইবনে উইয়াইনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
ইয়াহইয়া বিন মাঈন ইবনে উইয়াইনার ওপর মালিক এবং মা'মারকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
আহমাদ বিন সলিহ আল-মিসরী (যিনি ইমাম আহমাদের বর্ণনা অনুযায়ী যুহরীর হাদীস সম্পর্কে সর্বাধিক পারদর্শী ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন) ইমাম যুহরীর সকল ছাত্রদের ওপর ইউনুস বিন ইয়াযীদকে প্রাধান্য দিয়েছেন
(১)।
এই নির্ভরযোগ্য ইমামগণ—মালিক, মা'মার, সুফিয়ান বিন উইয়াইনা এবং ইউনুস বিন ইয়াযীদ—তাদের যে সকল ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি, সেগুলোর নিরিখে দেখা যায় যে:
ইউনুস সূক্ষ্মতা এবং বর্ণনার আধিক্যের ক্ষেত্রে যুহরীর অন্যান্য ছাত্রদের তুলনায় অগ্রগণ্য। সুফিয়ান ইমাম যুহরী থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশটি হাদীসে ভুল করেছেন, যার মধ্যে সতেরটি হাদীসে ইউনুসের বর্ণনা সঠিক ছিল, ষোলটিতে মা'মারের এবং এগারটিতে মালিকের।
আর মা'মার ইমাম যুহরী থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে আঠারোটি হাদীসে ভুল করেছেন, যার মধ্যে ষোলোটিতে ইউনুসের বর্ণনা সঠিক ছিল এবং সুফিয়ান ও মালিক উভয়ের বর্ণনা ছয়টি হাদীসে সঠিক ছিল।
ইমাম মালিক যুহরীর বর্ণনাতে ছয়টি হাদীসে ভুল করেছেন, যার সবকটিতেই ইউনুসের বর্ণনা সঠিক ছিল, পাঁচটিতে মা'মারের এবং দুইটিতে সুফিয়ানের।
আর ইউনুস ইমাম যুহরী থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে মাত্র তিনটি হাদীসে ভুল করেছেন, যার একটি হাদীসে মালিক, মা'মার ও সুফিয়ানের বর্ণনা সঠিক ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وذلك لكون يونس يكتب الحديث ولطول ملازمته للزهري فقد لازمه أربع عشرة سنة مع كونه دونهم في الحفظ والإتقان.
وانظر الخاتمة في الأحاديث التي خولف فيها سفيان الثوري وشعبة والمقارنة بينهما، فإنَّ شعبة قد خالفه في أحاديث بعضها لشيوخ من بلد سفيان كان القول فيها لشعبة خلاف ما ذكره يحيى القطان وغيره من أنه ما خالف أحد سفيان إلا كان القول قول سفيان حتى وإن كان شعبة.
كما أظهرت الدراسة أنَّ أوثق الناس في أبي إسحاق السبيعي هو شعبة وإن كان أبو إسحاق من بلد الثوري.
ومن فوائد هذا البحث أني وقفت على علل لأحاديث كثيرة لم يذكرها الدارقطني وابن أبي حاتم في كتابيهما وهما أوسع وأشمل مَنْ كتب في هذا الفن.
ففي كتاب شعبة هناك ثلاثة وعشرون حديثاً لم أقف عليها عندهما.
وفي كتاب الثوري هناك خمسة عشر حديثاً لم أقف عليها عندهما من أصل اثنين وثلاثين حديثاً في بابه.
وفي كتاب ابن عيينة هناك خمسة وثلاثون حديثاً لم أقف عليها عندهما من أصل ستة وستين حديثاً وهم فيها، مما يضفي على الكتاب أهمية ويجعل له مكاناً بين كتب العلل بحول الله وتوفيقه.
এর কারণ হলো ইউনুস হাদীস লিখে নিতেন এবং যুহরীর সাথে তাঁর দীর্ঘ সাহচর্য ছিল; কেননা তিনি তাঁর সাথে চৌদ্দ বছর অতিবাহিত করেছেন, যদিও হিফজ (স্মৃতিশক্তি) ও ইতকান (নির্ভুলতা)-এর ক্ষেত্রে তিনি তাঁদের তুলনায় পিছিয়ে ছিলেন।
আর সুফিয়ান আস-সাওরী এবং শু’বাহ যে হাদীসগুলোতে একে অপরের বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁদের উভয়ের মধ্যকার তুলনামূলক পর্যালোচনার জন্য উপসংহারটি দেখুন। কেননা শু’বাহ তাঁর (সাওরীর) সাথে এমন কিছু হাদীসে ভিন্নমত পোষণ করেছেন যেগুলোর কিছু শায়খ সুফিয়ানের দেশেরই ছিলেন, যেখানে শু’বাহর সিদ্ধান্তই সঠিক বিবেচিত হয়েছে। এটি ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এবং অন্যদের বর্ণনার বিপরীত, যারা বলেছিলেন যে, সুফিয়ানের সাথে কেউ ভিন্নমত পোষণ করলে সুফিয়ানের কথাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে, এমনকি তিনি শু’বাহ হলেও।
তদ্রূপ এই গবেষণাটি স্পষ্ট করেছে যে, আবু ইসহাক আস-সাবিঈর বর্ণনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হলেন শু’বাহ, যদিও আবু ইসহাক সাওরীর দেশের লোক ছিলেন।
এই গবেষণার অন্যতম উপকারিতা হলো আমি অনেক হাদীসের এমন সব ত্রুটি (ইলাল) সম্পর্কে অবগত হয়েছি যা দারাকুতনী এবং ইবনে আবি হাতিম তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ে উল্লেখ করেননি, অথচ তাঁরা এই শাস্ত্রের সবচেয়ে বিস্তৃত ও ব্যাপক লেখক।
শু’বাহর গ্রন্থে তেইশটি হাদীস রয়েছে যা আমি তাঁদের দুজনের কিতাবে পাইনি।
সাওরীর গ্রন্থে এ বিষয়ের মোট বত্রিশটি হাদীসের মধ্যে পনেরোটি হাদীস রয়েছে যা আমি তাঁদের কিতাবে পাইনি।
এবং ইবনে উইয়াইনাহর গ্রন্থে এ বিষয়ের মোট ছেষট্টিটি হাদীসের মধ্যে পঁয়ত্রিশটি হাদীস রয়েছে যা আমি তাঁদের নিকট পাইনি, যা এই গ্রন্থটির গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয় এবং আল্লাহর শক্তি ও তৌফিকে একে ‘ইলাল’ বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদার স্থানে আসীন করে।
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المصنفات في علم العلل:بما أنَّ علم العلل من أجلِّ العلوم التي لا يعرفها إلا جهابذة العلماء والنقاد وقد صُنِّفت فيه مصنفات عديدة أتى على ذكرها بعض المعاصرين في كتبهم، منها ما ذكره الدكتور محفوظ زين الله في مقدمة تحقيقه ل «علل الدارقطني»، والدكتور همام سعيد في مقدمة تحقيقه ل «شرح علل الترمذي»، والدكتور وصي الله عباس في مقدمة تحقيقه ل «العلل» للإمام أحمد برواية ابنه عبد الله، والدكتور عبد الكريم الوريكات في كتابه «الوهم في روايات مختلفي الأمصار»، والشيخ إبراهيم بن الصديق في كتابه «علم علل الحديث» من خلال كتابه «بيان الوهم والإيهام»، والدكتور سعد الحميد في تحقيقه كتاب «العلل لابن أبي حاتم»، والدكتور علي بن عبد الله الصياح في كتابه «جهود المحدِّثين في بيان علل الأحاديث».
وذكر بعضاً من هذه الدكتور ماهر الفحل في «الجامع في العلل والفوائد»، وزاد أن ذكر المصنفات الحديثة من تأليف وتحقيق وجمع لبعض المعاصرين، فيكتفي بما ذكره الأفاضل حيث لا مزيد عندي في هذا، لكن هنا أورد طريقة هذه المصنفات
(1):
الطريقة الأولى:وعليها كُتُب العلل الأولى وغالبها تساؤلات للأئمة دوَّنها أصحابهم تشمل طبقات الرواة ووفياتهم والجرح والتعديل، وذكر سماع راوٍ من شيخ أو نفي سماع حديثه أو بعض حديثه وبيان علل بعض
--------------------------------------------
ইলমুল ইলাল (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক বিদ্যা) বিষয়ক গ্রন্থাবলি:যেহেতু ইলমুল ইলাল এমন এক মহান শাস্ত্র যা কেবল প্রথিতযশা ও বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরাম এবং হাদীস সমালোচকগণই অবগত হতে পারেন, আর এই বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে যা সমসাময়িক কয়েকজন গবেষক তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ড. মাহফুজ জাইনুল্লাহ তাঁর 'ইলালুদ দারা কুতনী'র তাহকীকের ভূমিকার মধ্যে যা উল্লেখ করেছেন; ড. হাম্মাম সাঈদ তাঁর 'শরহু ইলালিত তিরমিযী'র তাহকীকের ভূমিকার মধ্যে যা উল্লেখ করেছেন; ড. ওয়াসিউল্লাহ আব্বাস ইমাম আহমদের ‘আল-ইলাল’ গ্রন্থের (তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনায়) তাহকীকের ভূমিকার মধ্যে যা উল্লেখ করেছেন; ড. আব্দুল করীম আল-ওয়ারিকাত তাঁর ‘আল-ওয়াহমু ফী রিওয়ায়াতি মুখতালিফীল আমসার’ নামক কিতাবে যা বর্ণনা করেছেন; শেখ ইব্রাহীম বিন আস-সিদ্দীক তাঁর ‘বয়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহাম’ কিতাবের মাধ্যমে তাঁর ‘ইলমু ইলালিল হাদীস’ নামক কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন; ড. সা’দ আল-হুমাইদ ‘ইলালু ইবনি আবি হাতিম’ গ্রন্থের তাহকীকের মধ্যে যা উল্লেখ করেছেন এবং ড. আলী বিন আব্দুল্লাহ আস-সাইয়্যাহ তাঁর ‘জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বয়ানি ইলালিল আহাদীস’ নামক কিতাবে যা আলোচনা করেছেন।
ড. মাহের আল-ফাহল তাঁর ‘আল-জামি’ ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়াইদ’ কিতাবে এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন এবং সাথে সাথে সমসাময়িক আলেমদের রচিত, সম্পাদিত ও সংকলিত আধুনিক গ্রন্থাবলির আলোচনাও যোগ করেছেন। সুতরাং সেই সম্মানিত বিদ্বানগণ যা উল্লেখ করেছেন তা-ই যথেষ্ট, কেননা এই বিষয়ে আমার কাছে অতিরিক্ত কিছু নেই; তবে আমি এখানে এই গ্রন্থাবলির বিন্যাস পদ্ধতি তুলে ধরছি
(১):
প্রথম পদ্ধতি:ইলমুল ইলালের প্রাথমিক গ্রন্থগুলো এই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং এগুলোর অধিকাংশই হলো ইমামগণের কাছে করা বিভিন্ন প্রশ্ন যা তাঁদের ছাত্ররা লিপিবদ্ধ করেছেন। এগুলোতে বর্ণনাকারীদের স্তর বিন্যাস, তাঁদের মৃত্যুসাল, জারহ ও তা’দীল (সমালোচনা ও গুণকীর্তন) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া এতে একজন বর্ণনাকারী তার উস্তাদ থেকে শুনেছেন কি না তা উল্লেখ করা, অথবা তাঁর বর্ণনা করা হাদীস বা হাদীসের অংশবিশেষ শোনার বিষয়টি অস্বীকার করা এবং কিছুর ত্রুটি বর্ণনা করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأحاديث والحكم على آخر. إضافة إلى كثير من الفوائد والنوادر في شتى مجال الفنون من أدب وتاريخ ولغة وغيرها.
من أمثلة هذه الكتب: كتب «العلل» المنقولة عن علي بن المديني ويحيى بن معين وأحمد بن حنبل.
الطريقة الثانية:كتب أصول التعليل وهي التي اعتنت ببيان أسباب قبول الروايات وردّها، وذكرت لذلك أمثلة لبعض الأحاديث، ومن أهمها:
1 كتاب «التمييز» للإمام مسلم صاحب «الصحيح».
2 كتاب «العلل الصغير» للإمام الترمذي.
الطريقة الثالثة: ترتيب الأحاديث المعلّة على الأبواب:ومن أهم هذه الكتب وأشهرها:
1 كتاب «علل الحديث» لابن أبي حاتم الرازي المتوفى سنة 327 هـ.
2 كتاب «العلل» لأبي عيسى الترمذي هو «العلل الكبير»، قال ابن رجب: (أوله مرتب وآخره غير مرتب). وقد رتبه أبو طالب القاضي على «أبواب الجامع».
3 «العلل» لأبي بكر أحمد بن محمد الخلال المتوفى سنة 311 هـ وهو في عدة مجلدات، وقد انتخب منه ابن قدامة، وطبع منه
হাদিসসমূহ এবং একটির ওপর অন্যটির হুকুম বর্ণনা। এর পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা ও অন্যান্য বিভিন্ন শাখার বহুমুখী উপকারিতা ও দুর্লভ তথ্যের সংযোজন।
এই জাতীয় কিতাবসমূহের উদাহরণ হলো: আলী ইবনুল মাদিনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত 'আল-ইলাল' বিষয়ক কিতাবসমূহ।
দ্বিতীয় পদ্ধতি:ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) শাস্ত্রের মূলনীতির কিতাবসমূহ: এগুলো হলো সেই সকল কিতাব যা বর্ণনা গ্রহণ ও বর্জনের কারণসমূহ ব্যাখ্যায় গুরুত্বারোপ করেছে এবং এর স্বপক্ষে কিছু হাদিসের উদাহরণ উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. 'সহিহ' গ্রন্থের লেখক ইমাম মুসলিমের কিতাব 'আত-তাময়িজ'।
২. ইমাম তিরমিযীর কিতাব 'আল-ইলালুস সাগির'।
তৃতীয় পদ্ধতি: অধ্যায় অনুযায়ী ত্রুটিযুক্ত হাদিসসমূহের বিন্যাস:এই ধরণের কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ হলো:
১. ৩২৭ হিজরীতে ইন্তেকালকারী ইবনে আবি হাতিম আর-রাজীর কিতাব 'ইলালুল হাদিস'।
২. আবু ঈসা তিরমিযীর কিতাব 'আল-ইলাল', যা 'আল-ইলালুল কাবীর' নামে পরিচিত। ইবনে রজব বলেন: (এর প্রথমাংশ সুবিন্যস্ত এবং শেষাংশ বিন্যস্ত নয়)। আবু তালিব আল-কাদি এটিকে 'জামে' এর অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন।
৩. ৩১১ হিজরীতে ইন্তেকালকারী আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-খল্লাল এর 'আল-ইলাল'। এটি কয়েক খণ্ডে রচিত; ইবনে কুদামা এটি থেকে নির্বাচন করেছেন এবং এর কিছু অংশ মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ২১)
الجزء العاشر والحادي عشر بتحقيق الأستاذ طارق بن عوض الله.
4 «العلل المتناهية في الأحاديث الواهية» لابن الجوزي المتوفى سنة 597 هـ، طبع في مجلدين.
الطريقة الرابعة: ترتيب الأحاديث المُعلّة على المسانيد:ومن أعظم وأبرز كتب هذه الطريقة كتاب «العلل الواردة في الأحاديث النبوية» للدارقطني المتوفى سنة 385 هـ.
ويعتبر هذا الكتاب أجمع كتاب في العلل وأنفعها حتى قيل: لم يؤلَّف مثله وأعجز مَنْ بعده أن يأتي بمثله.
الطريقة الخامسة: المسانيد المعللة:وهذه الطريقة بأن يجمع المصنف مسنداً على أسماء الصحابة، ثم يجمع من كل حديث طرقه واختلاف الرواة فيه.
قال أبو القاسم: عبيد الله بن أحمد الأزهري المتوفى سنة 435 هـ: سمعت الشيوخ يقولون: إنه لم يتمّ مسند معلل قط
(1).
ومنها:
1 «مسند يعقوب بن شيبة السدوسي البصري» المتوفى سنة 262 هـ، وهو مسند ضخم لم يكمل، قال الذهبي في ترجمة صاحبه: (صاحب المسند الكبير العديم النظير المعلل الذي تمَّ من مسانيده نحو من ثلاثين مجلداً، ولو كمل لجاء في مائة مجلد)
(2).
--------------------------------------------
দশম ও একাদশ খণ্ড, উস্তাদ তারিক বিন আওয়াদুল্লাহর তাহকীকসহ।
৪. ইবনুল জাওযী (মৃত্যু ৫৯৭ হি.) রচিত ‘আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ’, যা দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
চতুর্থ পদ্ধতি: মুসনাদসমূহের ক্রমানুসারে ত্রুটিযুক্ত (মুআল্লাল) হাদীসসমূহ বিন্যস্ত করা:এই পদ্ধতির সর্বাধিক মহান ও উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের একটি হলো আদ-দারা কুতনী (মৃত্যু ৩৮৫ হি.) রচিত ‘আল-ইলালুল ওয়ারিদাহ ফিল আহাদীসিন নববিয়্যাহ’ গ্রন্থটি।
এই গ্রন্থটি হাদীসের ত্রুটি (ইলাল) বিষয়ক সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও উপকারী গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত, এমনকি বলা হয়েছে যে: এর মতো দ্বিতীয় কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি এবং এটি পরবর্তী লেখকদের এর অনুরূপ কিছু রচনা করতে অক্ষম করে দিয়েছে।
পঞ্চম পদ্ধতি: ত্রুটি-বিশ্লেষণমূলক মুসনাদসমূহ (আল-মাসানিদুল মুআল্লালাহ):এই পদ্ধতিটি হলো—সংকলক সাহাবীদের নামের ক্রমানুসারে একটি মুসনাদ সংকলন করবেন, অতঃপর প্রতিটি হাদীসের বিভিন্ন সূত্র এবং তাতে বর্ণনাকারীদের মতভেদসমূহ একত্রিত করবেন।
আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ আল-আযহারী (মৃত্যু ৪৩৫ হি.) বলেন: আমি শায়খদের বলতে শুনেছি যে, কোনো ‘মুসনাদে মুআল্লাল’ (ত্রুটি-বিশ্লেষণমূলক মুসনাদ) কখনোই পূর্ণতা পায়নি
(১)।
তার মধ্যে রয়েছে:
১. ‘মুসনাদে ইয়াকুব বিন শাইবাহ আস-সাদুসী আল-বাসরী’ (মৃত্যু ২৬২ হি.), এটি একটি বিশালাকার মুসনাদ যা পূর্ণতা পায়নি। ইমাম আয-যাহাবী এই লেখকের জীবনীতে বলেছেন: (তিনি বিশালাকার, অতুলনীয় এবং ত্রুটি-বিশ্লেষণমূলক মুসনাদের প্রণেতা, যার মুসনাদসমূহ থেকে প্রায় ত্রিশটি খণ্ড সম্পন্ন হয়েছিল; যদি এটি পূর্ণ হতো তবে তা একশত খণ্ডে পৌঁছাত)
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ২২)
يقول الذهبي عن هذا المسند: (يخرج العالي والنازل ويذكر أولاً سيرة الصحابي مستوفاة ثم يذكر ما رواه ويوضح علل الأحاديث ويتكلم على الرجال ويجرح ويعدل بكلام مفيد عذب شافٍ بحيث أنَّ الناظر في مسنده لا يملّ منه).
ولم يوجد من هذا المسند إلا قطعة صغيرة منه من مسند الفاروق رضي الله عنه.
2 «المسند الكبير المعلل» (مسند البزار) المسمى ب «البحر الزخار» لأبي بكر أحمد بن عمرو البزار المتوفى سنة 292 هـ.
وقد طبع منه تسعة مجلدات بتحقيق الدكتور محفوظ الرحمن.
الطريقة السادسة: المؤلفات في علل أحاديث كتب مخصوصة:ومن أهمها ما تعرضت لبعض أحاديث الصحيحين منها:
1 «التتبع» للدارقطني.
2 جزء في علل أحاديث في كتاب «الصحيح» لمسلم لأبي الفضل محمد بن أبي الحسين بن عمار الشهيد.
3 جزء بيان أحاديث أودعها البخاري كتابه «الصحيح»، أيضاً للدارقطني وهو غير كتابه السابق.
ومنها ما تعرض لبيان علل كتاب مثل:
4 «بيان الوهم والإيهام الواقعين في كتاب الأحكام» لابن
আয-যাহাবী এই মুসনাদ সম্পর্কে বলেন: (তিনি এতে উচ্চ ও নিম্ন সনদের হাদিসগুলো উদ্ধৃত করেছেন এবং প্রথমে সাহাবীর বিস্তারিত জীবনী উল্লেখ করেছেন, তারপর তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন এবং হাদিসসমূহের ত্রুটিগুলো স্পষ্ট করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং উপকারী, সুমিষ্ট ও পর্যাপ্ত আলোচনার মাধ্যমে তাদের নির্ভরযোগ্যতা ও অযোগ্যতা (জারহ ও তা'দীল) বর্ণনা করেছেন, যাতে তার মুসনাদ পাঠকারী এতে বিরক্তি অনুভব না করে)।
এই মুসনাদটির আল-ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসনাদ থেকে কেবল একটি ছোট অংশ পাওয়া গেছে।
২. ‘আল-মুসনাদ আল-কাবীর আল-মুআল্লাল’ (মুসনাদুল বাজ্জার) যাকে ‘আল-বাহরুজ যাখখার’ বলা হয়, যা ২৯২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণকারী আবু বকর আহমদ ইবনে আমর আল-বাজ্জারের সংকলিত।
ডক্টর মাহফুজুর রহমানের সম্পাদনায় এর নয়টি খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে।
ষষ্ঠ পদ্ধতি: নির্দিষ্ট গ্রন্থসমূহের হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক গ্রন্থসমূহ:সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই গ্রন্থগুলো যা সহীহাইনের (বুখারি ও মুসলিম) কিছু হাদিসের বিষয়ে আলোচনা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১. আদ-দারা কুতনীর ‘আত-তাতাব্বু’।
২. মুসলিমের ‘সহীহ’ গ্রন্থের হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক একটি অংশ (জুয), যার রচয়িতা আবু আল-ফজল মুহাম্মদ ইবনে আবি আল-হুসাইন ইবনে আম্মার আশ-শাহীদ।
৩. বুখারি তার ‘সহীহ’ গ্রন্থে যে হাদিসগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছেন তার বর্ণনা বিষয়ক একটি অংশ (জুয), এটিও আদ-দারা কুতনীর এবং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাব থেকে ভিন্ন।
এবং সেগুলোর মধ্যে এমন কিতাবও রয়েছে যা কোনো গ্রন্থের ত্রুটিসমূহ বর্ণনা করেছে, যেমন:
৪. ইবনে (আল-কাত্তান)-এর ‘বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহহাম আল-ওয়াকিঈন ফি কিতাবিল আহকাম’।
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
القطان الفاسي المتوفى سنة 628 هـ تتبع فيه أحاديث كتاب «الأحكام» لعبد الحق الإشبيلي المتوفى سنة 581 هـ.
الطريقة السابعة: المؤلفات في علل حديث راوٍ ما:ومن أهمها:
1 «علل حديث ابن شهاب الزهري» لمحمد بن يحيى الذهلي المتوفى سنة 258 هـ.
2 «علل حديث الزهري» لابن حبان.
3 «علل حديث مالك» لابن حبان أيضاً.
الطريقة الثامنة: الكتب الجامعة لرواة أو راوٍ ما:وهي على قسمين: الأول الخاص بالضعفاء من الرواة، ومن أمثلتها:
1 «الكامل في معرفة ضعفاء المحدِّثين وعلل الحديث» لابن عدي المتوفى سنة 365 هـ.
2 «الضعفاء» للعقيلي.
وهذان الكتابان كما هو واضح من اسميهما خاصان بالضعفاء وذكر بعض ما يروونه من حديث وبيان علته أو نكارته.
وملحق بهما كتاب «المجروحين» لابن حبان.
আল-কাত্তান আল-ফাসি (মৃত্যু ৬২৮ হি.), এতে তিনি আবদুল হক আল-ইশবিলি (মৃত্যু ৫৮১ হি.)-এর 'আল-আহকাম' গ্রন্থের হাদিসগুলো অনুসরণ করেছেন।
সপ্তম পদ্ধতি: কোনো নির্দিষ্ট রাবির হাদিসের ইল্লাত (ত্রুটি) বিষয়ক সংকলনসমূহ:এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
১. মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-যুহলি (মৃত্যু ২৫৮ হি.) রচিত 'ইলালু হাদিসি ইবনু শিহাব আজ-জুহরি'।
২. ইবনে হিব্বান রচিত 'ইলালু হাদিসি আজ-জুহরি'।
৩. ইবনে হিব্বান রচিত 'ইলালু হাদিসি মালিক'।
অষ্টম পদ্ধতি: কোনো রাবি বা বর্ণনাকারীদের ওপর সংকলিত গ্রন্থসমূহ:এটি দুই প্রকার: প্রথম প্রকারটি দুর্বল বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট, যার উদাহরণ হলো:
১. ইবনে আদি (মৃত্যু ৩৬৫ হি.) রচিত 'আল-কামিল ফি মা'রিফাতি দুয়াফাইল মুহাদ্দিসিন ওয়া ইলালিল হাদিস'।
২. আল-উকাইলি রচিত 'আদ-দুয়াফা'।
এই গ্রন্থ দুটি, যেমনটি তাদের নাম থেকেই স্পষ্ট, দুর্বল বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট এবং তারা যেসব হাদিস বর্ণনা করেছেন তার মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করা এবং তার ত্রুটি বা অস্বীকৃতি (নাকারাত) স্পষ্ট করার জন্য রচিত।
এর সাথে ইবনে হিব্বানের 'আল-মাজরুহিন' গ্রন্থটিও সংযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والثاني الخاص بأحاديث الثقات، ومنها:
1 «الأحاديث التي خولف فيها مالك بن أنس» للإمام الدارقطني. وهو يذكر الأحاديث التي خولف فيها الإمام مالك سواء كان الحق والصواب معه أو مع مَنْ خالفه، أو كان الصواب مع كليهما.
2 كتابي هذا الخاص بأوهام الثقات من رجال الشيخين.
وهناك كتب أُلِّفت في فنون أخرى لكنها مليئة بذكر العلل منها:
1 كتب أُلِّفت للرواية، مثل: «سنن أبي داود»، و «سنن الترمذي»، و «سنن النسائي» خاصة «الكبير»، و «سنن البيهقي»، و «معجم الطبراني الأوسط» و «الصغير» فإنهما أصل في الحكم بالتفرد.
2 كتب أُلِّفت في التاريخ، مثل: «التاريخ الكبير» و «الأوسط» كلاهما للإمام البخاري، و «المعرفة والتاريخ» للفسوي، و «تاريخ أبي زرعة الرازي»، و «تاريخ بغداد» للخطيب، و «تاريخ دمشق» لابن عساكر.
3 كتب في شرح الحديث، مثل: «التمهيد» لابن عبد البر، و «فتح الباري» للحافظ ابن رجب، و «فتح الباري» للحافظ ابن حجر، وفيهم إعلالات كثيرة.
এবং দ্বিতীয়টি বিশ্বস্ত রাবিদের হাদিস সংক্রান্ত, যার মধ্যে রয়েছে:
১. ইমাম দারাকুতনী রচিত «আল-আহাদিসুল্লাতি খুলিফা ফিহা মালিক বিন আনাস»। এতে তিনি সেই সব হাদিস উল্লেখ করেছেন যেগুলোতে ইমাম মালিকের বিরোধিতা করা হয়েছে, চাই সত্য ও সঠিকতা তাঁর পক্ষে হোক অথবা যাঁরা তাঁর বিরোধিতা করেছেন তাঁদের পক্ষে হোক, কিংবা সঠিকতা উভয় পক্ষের সাথেই থাকুক।
২. শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর রাবিদের মধ্যে যাঁরা বিশ্বস্ত, তাঁদের ভুল-ভ্রান্তি বিষয়ক আমার এই গ্রন্থটি।
এছাড়াও অন্যান্য বিষয়ের উপর রচিত কিছু গ্রন্থ রয়েছে যেগুলো হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলল) বর্ণনায় ভরপুর, তার মধ্যে রয়েছে:
১. হাদিস বর্ণনার জন্য রচিত গ্রন্থসমূহ, যেমন: «সুনানে আবু দাউদ», «সুনানে তিরমিজি», «সুনানে নাসাঈ» বিশেষ করে «আল-কুবরা», «সুনানে বায়হাকি», «মুজামে তাবারানি আল-আওসাত» এবং «আস-সগির»; কেননা এই শেষোক্ত গ্রন্থদ্বয় একক বর্ণনা বা তাফাররুদ বিষয়ে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে মূল উৎস।
২. ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ, যেমন: ইমাম বুখারি রচিত «আত-তারিখুল কবির» ও «আল-আওসাত», ফাসাউয়ি রচিত «আল-মা'রিফাহ ওয়াত তারিখ», «তারিখে আবু যুরআ আর-রাজি», খতিব বাগদাদি রচিত «তারিখে বাগদাদ», এবং ইবনে আসাকির রচিত «তারিখে দামেস্ক»।
৩. হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, যেমন: ইবনে আব্দুল বার রচিত «আত-তামহিদ», হাফিজ ইবনে রজব রচিত «ফাতহুল বারি» এবং হাফিজ ইবনে হাজার রচিত «ফাতহুল বারি»; এই গ্রন্থগুলোতে প্রচুর পরিমাণে হাদিসের ত্রুটি বিশ্লেষণ (ই'লাল) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
منهجي في الكتاب:1 أذكر الحديث بسند رجاله رجال الصحيح غالباً إلى الراوي الذي حمل عليه الوهم.
2 أُخرِّج الحديث لمعرفة الرواة الذين تابعوا الراوي عن الشيخ الواهم وأبيِّن اختلافهم إذا حصل.
3 الحكم على الرواة وذلك من كتاب «التقريب» للحافظ ابن حجر. ولمّا كان كتابي هذا خاصاً برجال الشيخين فأكتفي بذكر الشيخين عمَّن سواهما من أصحاب الكتب الستة إذا كان الراوي من رجالهما.
4 الحرص على حشد أكبر قدر ممكن من أقوال الأئمة النقاد بنصِّها خاصة المتقدمين منهم لما في عباراتهم من جزالة وفائدة.
5 إذا كان الحديث في الصحيحين اكتفيت بذلك حتى لا تبلغ الحواشي ضعف حجم الكتاب، وإن كان في غيرهما ذكرت ما وقفت عليه من مصادر التخريج.
6 أذكر أحياناً علة الوهم، وإذا لم يتبين لي سبب وجيه للوهم لا أذكره وأغلب الأوهام من التحديث من غير كتاب اعتماداً على الحفظ.
7 اكتفيت بتراجم رجال إسناد الحديث، ولم أترجم لكل مَنْ ورد اسمه في البحث حتى لا يتضاعف حجم الكتاب.
8 إذا كان الحديث الذي وقع فيه الوهم له دلالة فقهية أو حديثية أذكر من استدل به مع أنه لا يصلح للاستدلال.
গ্রন্থে আমার অনুসৃত পদ্ধতি:১. আমি সাধারণত হাদিসটি এমন সনদে উল্লেখ করি যার বর্ণনাকারীগণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘সহিহ’ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, সেই বর্ণনাকারী পর্যন্ত যার ওপর ভ্রম (ওয়াহম) আপতিত হয়েছে।
২. আমি হাদিসটির তাখরিজ করি যাতে সেই বর্ণনাকারীদের চেনা যায় যারা ভ্রমকারী শাইখের সূত্রে উক্ত বর্ণনাকারীর অনুসরণ (মুতাবাহ) করেছেন এবং যদি তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ ঘটে থাকে তবে তা স্পষ্ট করি।
৩. বর্ণনাকারীদের অবস্থা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে হাফেজ ইবনে হাজারের ‘তাকরীব’ গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি। যেহেতু আমার এই গ্রন্থটি বিশেষত শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বর্ণনাকারীদের নিয়ে রচিত, তাই কোনো বর্ণনাকারী যদি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হন, তবে কুতুবে সিত্তাহর অন্যান্য সংকলকদের পরিবর্তে কেবল শাইখাইনের উল্লেখকেই যথেষ্ট মনে করেছি।
৪. সমালোচক ইমামদের, বিশেষ করে পূর্বসূরি ইমামদের বক্তব্যের অবিকল পাঠ যতটুকু সম্ভব অধিক সংখ্যায় সংকলন করার চেষ্টা করেছি, কারণ তাঁদের বাচনভঙ্গিতে রয়েছে গাম্ভীর্য ও অনেক উপকারিতা।
৫. হাদিসটি যদি সহিহাইন-এ থাকে, তবে আমি কেবল তা উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি যাতে টীকাগুলো গ্রন্থের মূল আয়তনের দ্বিগুণ না হয়ে যায়। আর যদি তা অন্য কোনো গ্রন্থে থাকে, তবে তাখরিজের যেসব উৎস আমি পেয়েছি তা উল্লেখ করেছি।
৬. আমি মাঝে মাঝে ভ্রমের কারণ উল্লেখ করি। আর যদি আমার কাছে ভ্রমের কোনো সঙ্গত কারণ স্পষ্ট না হয় তবে তা উল্লেখ করি না। অধিকাংশ ভ্রমই কিতাব ছাড়া কেবল স্মৃতির ওপর নির্ভর করে হাদিস বর্ণনা করার কারণে হয়ে থাকে।
৭. আমি কেবল হাদিসের সনদে বিদ্যমান বর্ণনাকারীদের জীবনী উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি; এই গবেষণায় আসা প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনী উল্লেখ করিনি যাতে গ্রন্থের কলেবর বহুগুণ বৃদ্ধি না পায়।
৮. যে হাদিসে ভ্রম ঘটেছে তার যদি কোনো ফিকহি বা হাদিসতাত্ত্বিক তাৎপর্য থাকে, তবে যারা একে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন তাঁদের কথা উল্লেখ করি, যদিও তা দলিল হিসেবে উপস্থাপনের যোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أسباب وقوع العلة (أو الوهم):إنَّ أوهام الثقات من أئمة وحفَّاظ لها أسباب كثيرة وهي كالتالي:
1 - النسيان:وهو من الأسباب الرئيسة في وقوع الوهم ولا يكاد يسلم منه إنسان، وقد قال ابن عبد البر تعقيباً على حديث سهو النبيِّ صلى الله عليه وسلم في الصلاة: في هذا الحديث بيان أنَّ أحداً لا يسلم من الوهم والنسيان؛ لأنه إذا اعترى ذلك الأنبياء فغيرهم بذلك أحرى.
وكان قتادة يُضرب به المثل في الحفظ، فقال يوماً محدِّثاً عن قوة حفظه: ما نسيت شيئاً. ثم قال لغلامه: ناولني نعلي. قال الغلام: نعلك في رجلك
(1).
وقد نسي عمر بن الخطاب رضي الله عنه حديث التيمم حتى ذاكره فيه عمار بن ياسر رضي الله عنهما.
وقد يكون النسيان من كبر السن والمرض أو قدم عهده بالحديث.
قيل لسفيان بن عيينة: أبو معاوية يحدِّث عنك بشيء لست تحفظه ووكيع يحدِّث عنك بشيء لست تحفظه. فقال: صدِّقهم، فإني كنت قبل اليوم أحفظ مني اليوم
(2).
--------------------------------------------
ত্রুটি (বা ভ্রম) ঘটার কারণসমূহ:ইমাম ও হাফিজগণের মতো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ভুলের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে, যা নিম্নরূপ:
১ - বিস্মৃতি:এটি ভ্রম ঘটার অন্যতম প্রধান কারণ এবং কোনো মানুষই এটি থেকে প্রায় মুক্ত নয়। ইবনে আবদিল বার সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভুল হওয়া সংক্রান্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: এই হাদীসে এ কথার বর্ণনা রয়েছে যে, কেউ-ই ভ্রম ও বিস্মৃতি থেকে নিরাপদ নয়; কেননা যদি এটি নবীদের ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে, তবে অন্যদের ক্ষেত্রে ঘটা আরও স্বাভাবিক।
কাতাদাহ (রহ.)-এর মুখস্থশক্তির উদাহরণ দেওয়া হতো। একদিন তিনি তাঁর মুখস্থশক্তির প্রখরতা সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন: "আমি কোনোদিন কিছুই ভুলিনি।" এরপর তিনি তাঁর গোলামকে বললেন: "আমাকে আমার জুতো জোড়া দাও।" গোলাম বলল: "জুতো তো আপনার পায়েই রয়েছে।"
(১)।
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তায়াম্মুমের হাদীস ভুলে গিয়েছিলেন, এমনকি আম্মার ইবনে ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তাঁকে তা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।
বার্ধক্য, অসুস্থতা অথবা হাদীস শ্রবণের দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার কারণেও বিস্মৃতি ঘটতে পারে।
সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহকে বলা হলো: "আবু মুয়াবিয়া আপনার পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করছেন যা আপনার স্মরণে নেই এবং ওয়াকিও আপনার পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করছেন যা আপনার স্মরণে নেই।" তিনি বললেন: "তাদের কথা সত্য বলে গ্রহণ করো, কারণ ইতিপূর্বে আমার মুখস্থশক্তি বর্তমানের চেয়ে বেশি প্রখর ছিল।"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال الأعمش: سمعت من أبي صالح ألف حديث ثم مرضت مرضة فنسيت بعضها.
بل إنَّ بعض المحدِّثين ربما حدَّث بالحديث ثم نسيه وأنكر أن يكون حدَّث به، وقد جمعت ذلك في رسالة «مَنْ حدَّث حديثاً ثم نسي»، منها أنَّ أبا هريرة رضي الله عنه حدَّث عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لا عدوى ولا طيرة ولا صفر ولا هامة»
(1). ثم أنكر أن يكون حدَّث به. قال أبو سلمة بن عبد الرحمن الراوي عن أبي هريرة: قد حدَّث به وما سمعت أبا هريرة نسي حديثاً غيره قط.
وروى الفضل بن حسن بن عمرو بن أمية الضمري عن أبيه، قال: تحدثت عند أبي هريرة بحديث فأنكره، فقلت: إني قد سمعته منك. قال: إن كنت سمعته مني فهو مكتوب عندي. فأخذ بيدي إلى بيته فأرانا كتباً كثيرة من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجد ذلك الحديث ..
(2).
وروى عمرو بن دينار عن أبي معبد مولى ابن عباس عن ابن عباس رضي الله عنه قال: ما كنا نعرف انقضاء صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا بالتكبير.
قال عمرو: فذكرت ذلك لأبي معبد فأنكره وقال: لم أحدِّثك به. قال عمرو: وقد أخبرنيه قبل ذلك
(3).
--------------------------------------------
এবং আমাশ বলেন: আমি আবু সালিহ থেকে এক হাজার হাদিস শুনেছি, এরপর আমি একবার অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং তাদের কিছু অংশ ভুলে যাই।
এমনকি কিছু হাদিস বিশারদ হয়তো কোনো হাদিস বর্ণনা করেছেন, এরপর তা ভুলে গিয়েছেন এবং তা বর্ণনা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন; আর আমি তা ‘মান হাদ্দাসা হাদিসান ছুম্মা নাসিয়া’ (যে ব্যক্তি কোনো হাদিস বর্ণনা করেছে অতঃপর তা ভুলে গিয়েছে) নামক পুস্তিকায় সংকলন করেছি। তার মধ্যে একটি হলো, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "কোনো সংক্রামক ব্যাধি নেই, কুলক্ষণ নেই, সফর মাসের অশুভত্ব নেই এবং প্যাঁচার অশুভত্ব নেই"
(১)। এরপর তিনি তা বর্ণনা করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনাকারী আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান বলেন: তিনি এটি বর্ণনা করেছিলেন এবং আমি আবু হুরায়রাকে এটি ছাড়া অন্য কোনো হাদিস কখনো ভুলতে শুনিনি।
এবং ফাদল ইবনুল হাসান ইবনে আমর ইবনে উমাইয়াহ আদ-দামরি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রার নিকট একটি হাদিস বর্ণনা করলাম কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। আমি বললাম: নিশ্চয়ই আমি এটি আপনার থেকে শুনেছি। তিনি বললেন: যদি তুমি এটি আমার কাছ থেকে শুনে থাকো তবে তা আমার কাছে লিখিত আছে। এরপর তিনি আমার হাত ধরে তার ঘরে নিয়ে গেলেন এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের অনেক পাণ্ডুলিপি আমাদের দেখালেন এবং সেখানে সেই হাদিসটি পাওয়া গেল...
(২)।
এবং আমর ইবনে দিনার ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস আবু মাবাদ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত শেষ হওয়া তাকবির ছাড়া বুঝতে পারতাম না।
আমর বলেন: আমি আবু মাবাদের কাছে এটি উল্লেখ করলে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং বলেন: আমি তোমাকে এটি বর্ণনা করিনি। আমর বলেন: অথচ তিনি এর আগে আমাকে তা সংবাদ দিয়েছিলেন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وحصل مثل ذلك للزهري والأعمش وابن عيينة والشافعي وأحمد بن حنبل حتى إنَّ الإمام الشافعي نهى تلميذه عن الحديث عن الأحياء. قال محمد بن عبد الله بن الحكم: كان الشافعي متحرياً فذاكرته يوماً بحديث وأنا غلام، فقال: مَنْ حدَّثك؟ فقلت له: أنت. قال: في أيِّ كتاب؟ قلت له: في كتاب كذا وكذا. فقال: ما حدَّثتك به من شيء فهو كما حدَّثتك وإياك والرواية عن الأحياء.
وفي رواية قال له: يا محمد، لا تحدِّث عن حيٍّ فإنَّ الحيَّ لا يؤمَن عليه النسيان.
وقد أنكرت أمّ المؤمنين عائشة على بعض الصحابة نسيانهم، وذلك أنها أمرت أن يمرّ بجنازة سعد بن أبي وقاص في المسجد فتصلِّي عليه، فأنكر الناس عليها ذلك، فقالت: ما أسرع (تعني ما نسي الناس)، ما صلَّى رسول الله صلى الله عليه وسلم على سهيل بن البيضاء إلا في المسجد
(1).
2 - الخطأ والزلل:فالإنسان معرَّض للخطأ والزلل والوهم لأنه بشر إلا أنه متفاوت بين الناس.
وحفّاظ الحديث أخطاؤهم في الحديث قليلة مقارنة بما حفظوه ورووه، إلا أنَّ خطأهم مع قلته وندرته تُعَدُّ عليهم.
قال الإمام الشعبي: والله لو أصبت تسعاً وتسعين مرة
--------------------------------------------
অনুরূপ বিষয় জুহরি, আমাশ, ইবনে উয়াইনাহ, শাফিঈ এবং আহমাদ বিন হাম্বালের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল, এমনকি ইমাম শাফিঈ তাঁর ছাত্রকে জীবিতদের থেকে হাদিস বর্ণনা করতে নিষেধ করেছিলেন। মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাকাম বলেন: শাফিঈ অত্যন্ত সতর্ক ও অনুসন্ধানপ্রিয় ছিলেন। আমি যখন কিশোর, তখন একদিন তাঁর কাছে একটি হাদিস নিয়ে আলোচনা করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমাকে এটি কে বলেছে? আমি বললাম: আপনি। তিনি বললেন: কোন কিতাবে? আমি বললাম: অমুক অমুক কিতাবে। তিনি বললেন: আমি তোমাকে যা কিছু বর্ণনা করেছি, তা তেমনই যেমন বর্ণনা করেছি, তবে জীবিতদের থেকে বর্ণনা করার ব্যাপারে সাবধান থেকো।
অন্য বর্ণনায় তিনি তাকে বলেছিলেন: হে মুহাম্মাদ, জীবিত ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করো না; কারণ জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিস্মৃতির (ভুলে যাওয়ার) আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকা যায় না।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা কিছু সাহাবীর বিস্মৃতির প্রতিবাদ করেছিলেন। ঘটনাটি হলো, তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসের জানাজা মসজিদের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় যাতে তিনি তার জানাজা পড়তে পারেন, কিন্তু মানুষ তার এই কাজের প্রতিবাদ করল। তখন তিনি বললেন: মানুষ কতই না দ্রুত ভুলে যায়! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুহাইল বিন আল-বায়দার জানাজা মসজিদেই পড়েছিলেন
(১)।
২ - ভুল ও বিচ্যুতি:মানুষ ভুল, বিচ্যুতি এবং বিভ্রান্তির সম্মুখীন হতে বাধ্য কারণ সে মানুষ; তবে মানুষের মাঝে এর মাত্রায় তারতম্য রয়েছে।
হাদিসের হাফেজদের ভুল তাদের মুখস্থ করা এবং বর্ণনা করা হাদিসের তুলনায় খুবই নগণ্য, তবে তাদের ভুল সামান্য এবং বিরল হওয়া সত্ত্বেও তা তাদের ত্রুটি হিসেবেই গণ্য করা হয়।
ইমাম শাবী বলেন: আল্লাহর কসম, যদি আমি নিরানব্বই বার সঠিক হই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأخطأت مرة لعدّوا عليَّ تلك الواحدة
(1).
قال الإمام مالك: ومَن ذا الذي لا يخطاء
(2).
وقال ابن معين: لست أعجب ممَّن يحدِّث ويخطاء، إنما العجب ممَّن يحدِّث فيصيب.
بل قال أيضاً: مَنْ لا يخطاء في الحديث فهو كذاب
(3).
وقال الترمذي: لم يسلم من الخطأ والغلط كثيرٌ من الأئمة مع حفظهم
(4).
وهو كما قال الترمذي، بل لم يسلم من الخطأ بعض الصحابة رضي الله عنهم وقد استدركت عائشة رضي الله عنها على بعضهم أحاديث ووهَّمتهم فيها، وقد جمع ذلك الزركشي في جزء أسماه «الإجابة لما استدركته عائشة على الصحابة»؛ لذا قال ابن المبارك: ومَن يسلم من الوهم، وقد وهَّمت عائشة جماعة من الصحابة في رواياتهم للحديث
(5).
3 - عدم كتابة الحديث حال سماعه:وذلك أنَّ كثيراً من المحدِّثين كانوا يكرهون الكتابة ويحضُّون تلاميذهم على الحفظ.
روى الإمام أحمد بسنده عن أبي نضرة قال: قلت لأبي سعيد (يعني الخدري) رضي الله عنه: إنك تحدثنا أحاديث عجيبة وإنا نخاف أن نزيد
--------------------------------------------
আর আমি যদি একবার ভুল করতাম, তবে তারা আমার বিরুদ্ধে সেই একটি ভুলকেই গণনা করত
(১)।
ইমাম মালিক বলেছেন: এমন কে আছে যে ভুল করে না
(২)।
ইবনে মায়ীন বলেছেন: আমি ওই ব্যক্তির বিষয়ে বিস্মিত হই না যে হাদীস বর্ণনা করে এবং ভুল করে, বরং বিস্ময় তো তার ব্যাপারে যে হাদীস বর্ণনা করে এবং সঠিক বলে।
বরং তিনি আরও বলেছেন: যে হাদীসের ক্ষেত্রে ভুল করে না, সে একজন মিথ্যাবাদী
(৩)।
তিরমিযী বলেছেন: অনেক ইমামই তাদের প্রখর স্মৃতিশক্তি থাকা সত্ত্বেও ভুল ও ভ্রান্তি থেকে নিরাপদ থাকতে পারেননি
(৪)।
আর বিষয়টি ঠিক তেমনই যেমন তিরমিযী বলেছেন, বরং এমনকি কিছু সাহাবীও (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ভুল থেকে মুক্ত ছিলেন না। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাদের কারো কারো বর্ণনার ওপর সংশোধন করেছেন এবং সেগুলোতে তাদের ভ্রমের কথা উল্লেখ করেছেন। আর যারকাশী এটিকে একটি পুস্তিকায় একত্রিত করেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘আল-ইজাবাহ লিমা ইস্তাদরাকাতহু আয়েশা আলাস সাহাবাহ’; এজন্য ইবনুল মুবারক বলেছেন: ভ্রম থেকে কে নিরাপদ থাকতে পারে, অথচ আয়েশা হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে একদল সাহাবীর ভ্রম নির্দেশ করেছেন
(৫)।
৩ - হাদীস শ্রবণের সময় তা লিখে না রাখা:এর কারণ হলো অনেক মুহাদ্দিসই লেখা অপছন্দ করতেন এবং তাদের ছাত্রদের মুখস্থ করার প্রতি উৎসাহিত করতেন।
ইমাম আহমাদ তাঁর সনদে আবু নাদরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদকে (অর্থাৎ আল-খুদরী) রাদিয়াল্লাহু আনহু বললাম: আপনি আমাদের কাছে বিস্ময়কর সব হাদীস বর্ণনা করেন এবং আমরা আশঙ্কা করি যে আমরা তাতে কোনো কিছু বাড়িয়ে ফেলব
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أو ننقص، فلو كتبنا؟ فقال: لن نكتبه ولن نجعله قرآناً، احفظوا كما حفظنا
(1).
وقال طاووس: كنا عند ابن عباس وسعيد بن جبير يكتب فقال له بعضهم: إنهم يكتبون. فقال: يكتبون. وكان أحسن مني خلقاً فقام
(2).
أي أنه كره فعلهم فامتنع عن التحديث حال كتابتهم لذا عمد كثير من أهل الحديث إلى عدم الكتابة عند شيوخهم بل يكتبونه إذا عادوا إلى بيوتهم.
قال أحمد بن حنبل: إنَّ سفيان الثوري يحدِّث بالكوفة ثلاثمائة حديث في اليوم من حفظه ولم يكن له كتاب فكان الحفّاظ يحفظون ثم يقومون فيكتبون
(3).
وقال الحميدي: ثنا سفيان قال: وسمعت عمرو بن دينار قال له رجل من أهل مكة: إنَّ سفيان بن عيينة إذا ذهب البيت يكتب عنك. فاستلقى عمرو على فراشه في المسجد فبكى فقال: أحرج بالله على كل مسلم يكتب عني شيئاً. وقال لي عمرو: يا غلام، أنا حين كنت مثلك لا أنسى شيئاً أسمعه
(4).
بل أنَّ بعض الحفّاظ ربما كتب الحديث بعد سماعه بشهور.
--------------------------------------------
অথবা আমরা কি তাতে কোনো ঘাটতি করব? আমরা যদি লিখে রাখতাম? তিনি বললেন: আমরা এটি লিখব না এবং একে কুরআন বানাব না। আমরা যেভাবে মুখস্থ করেছি তোমরাও সেভাবে মুখস্থ করো
(১).
তাউস বলেন: আমরা ইবনে আব্বাসের নিকট ছিলাম এবং সাঈদ ইবন জুবায়ের লিখছিলেন, তখন তাদের কেউ তাঁকে বলল: তারা লিখছে। তিনি বললেন: তারা কি লিখছে? তিনি আমার চেয়েও উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, এরপর তিনি উঠে গেলেন
(২).
অর্থাৎ তিনি তাদের এই কাজ অপছন্দ করেছিলেন, ফলে তারা লেখার সময় তিনি হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকলেন। এই কারণে অনেক হাদিস বিশারদ তাঁদের শায়খদের সামনে না লিখে বরং বাড়িতে ফিরে গিয়ে তা লিখতেন।
আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী কুফায় প্রতিদিন তাঁর স্মৃতি থেকে তিনশ হাদিস বর্ণনা করতেন এবং তাঁর নিকট কোনো কিতাব থাকত না। হাফেজগণ মুখস্থ করে নিতেন, এরপর উঠে গিয়ে তা লিখে ফেলতেন
(৩).
হুমায়দী বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমর বিন দীনারকে বলতে শুনেছি, মক্কার এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: সুফিয়ান বিন উইয়াইনা যখন বাড়ি যান তখন আপনার থেকে শুনে লিখে নেন। তখন আমর মসজিদে তাঁর বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং কাঁদতে লাগলেন। এরপর তিনি বললেন: আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে প্রত্যেক মুসলিমের ওপর এটি নিষিদ্ধ করছি যে, কেউ যেন আমার থেকে কিছু না লেখে। আমর আমাকে বললেন: হে বৎস, আমি যখন তোমার মতো ছিলাম তখন যা শুনতাম তার কিছুই ভুলতাম না
(৪).
এমনকি কোনো কোনো হাফেজ হাদিস শোনার কয়েক মাস পরেও হয়তো তা লিখতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال الإمام البخاري: رُبَّ حديث سمعته بالشام فكتبته بمصر ورُبَّ حديث سمعته بالبصرة فكتبته بخراسان.
وذلك لأن البخاري صنف كتابه «الجامع الصحيح» في رحلته، معتمداً على حافظته القوية وهو ممَّن يرى جواز الرواية بالمعنى لذا حصل له اختلاف في حديث أو حديثين.
فقد أورد في صحيحه
(1) قال: حدثنا محمد بن العلاء، حدثنا أبو أسامة عن بريد بن عبد الله، عن أبي بردة، عن أبي موسى رضي الله عنه عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم أنه قال: «مثل الذي يذكر ربَّه والذي لا يذكر ربَّه مثل الحي والميت».
وخالفه مسلم صاحب «الصحيح»
(2)، وأبو يعلى الموصلي
(3)، وإسحاق بن إبراهيم المنجنيقي
(4) فرووه عن محمد بن العلاء بهذا الإسناد فقالوا: «مثل البيت الذي يُذكر الله فيه والبيت الذي لا يُذكر الله فيه مثل الحي والميت».
وكذلك رواه جماعة عن أبي أسامة حماد بن أسامة بهذا اللفظ منهم: عبد الله بن براد
(5)، وأحمد بن عبد الحميد
(6)، وأبو سعيد
--------------------------------------------
ইমাম বুখারী বলেন: এমন অনেক হাদীস আছে যা আমি শাম দেশে (সিরিয়া) শুনেছি কিন্তু তা মিশরে লিখেছি, আবার এমন অনেক হাদীস আছে যা আমি বসরায় শুনেছি কিন্তু তা খোরাসানে লিখেছি।
আর এর কারণ হলো বুখারী তাঁর ভ্রমণকালেই তাঁর প্রখর স্মৃতির ওপর নির্ভর করে তাঁর গ্রন্থ «আল-জামি আস-সহীহ» সংকলন করেছিলেন। তিনি ঐ সকল আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা অর্থের ভিত্তিতে হাদীস বর্ণনা (রিওয়ায়াহ বিল-মানা) করা বৈধ মনে করতেন, তাই তাঁর বর্ণনায় একটি বা দুটি হাদীসের ক্ষেত্রে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
তিনি তাঁর সহীহ গ্রন্থে
(১) বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মাদ ইবনুল আলা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বুরাইদ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার রবের যিকির করে আর যে ব্যক্তি তার রবের যিকির করে না, তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃতের মতো»।
আর «সহীহ» গ্রন্থের সংকলক মুসলিম
(২), আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি
(৩) এবং ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম আল-মানজানিকী
(৪) তাঁর বিপরীতে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা মুহাম্মাদ ইবনুল আলা থেকে এই একই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: «যে ঘরে আল্লাহর যিকির করা হয় এবং যে ঘরে আল্লাহর যিকির করা হয় না, তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃতের মতো»।
অনুরূপভাবে একদল রাবী আবু উসামা হাম্মাদ ইবনে উসামা থেকে এই শব্দেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে বাররাদ
(৫), আহমদ ইবনে আব্দুল হামীদ
(৬) এবং আবু সাঈদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
عبد الله بن سعيد الأشج
(1)، ويوسف بن موسى القطان
(2)، وإبراهيم بن سعيد الجوهري
(3)، والقاسم بن زكريا، وموسى بن عبد الرحمن
(4)، والقاسم بن زكريا
(5)، وأبو عبيدة أحمد بن عبد الله بن أبي السفر
(6)، ومحمد بن سعيد الأصبهاني
(7).
قال ابن حجر: (انفراد البخاري باللفظ المذكور دون بقية أصحاب أبي كريب وأصحاب أبي أسامة يشعر بأنه رواه من حفظه أو تجوز في روايته بالمعنى).
لذا كان أهل الحديث إذا اختلفوا جعلوا كتاب مَنْ يكتب هو الحكم.
قال عبد الله بن المبارك: إذا اختلف الناس في حديث شعبة فكتاب غندر (يعني محمد بن جعفر) حكم بينهم.
فكانوا يقدِّمونه على مَنْ هو أحفظ وأعلم في شعبة، فقدَّمه علي ابن المديني على عبد الرحمن بن مهدي في شعبة.
قال أحمد بن حنبل: سمعت غندراً يقول: لزمت شعبة عشرين سنة وكنت إذا كتبت عنه عرضته عليه. قال أحمد: أحسبه من بلادته كان يفعل هذا.
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-আশাজ
(১), ইউসুফ ইবনে মুসা আল-কাত্তান
(২), ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারি
(৩), আল-কাসিম ইবনে জাকারিয়া, মুসা ইবনে আবদুর রহমান
(৪), আল-কাসিম ইবনে জাকারিয়া
(৫), আবু উবায়দাহ আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবিল সাফার
(৬) এবং মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-আস-বাহানি
(৭)।
ইবনে হাজার বলেন: (আবু কুরাইবের অন্যান্য ছাত্রগণ এবং আবু উসামার ছাত্রগণের বিপরীতে বুখারি কর্তৃক এককভাবে উল্লিখিত শব্দ ব্যবহার করা ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি তা তাঁর মুখস্থ স্মৃতি থেকে বর্ণনা করেছেন অথবা অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনার (রিওয়ায়াত বিল মা'না) ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছেন)।
তাই হাদিস বিশারদগণ যখন কোনো বিষয়ে মতভেদ করতেন, তখন যারা হাদিস লিখে রাখতেন তাদের পাণ্ডুলিপিকেই ফয়সালাকারী হিসেবে গণ্য করতেন।
আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেন: শু’বাহ-র হাদিস সম্পর্কে মানুষ যখন মতভেদ করে, তখন গুন্দারের (অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে জাফর) পাণ্ডুলিপি তাদের মাঝে বিচারকস্বরূপ।
ফলে তারা তাকে এমন ব্যক্তিদের উপরেও অগ্রাধিকার দিতেন যারা শু’বাহ-র হাদিস সম্পর্কে অধিক স্মৃতিমান ও জ্ঞানী ছিলেন; এমনকি আলি ইবনুল মাদিনি শু’বাহ-র হাদিসের ক্ষেত্রে আবদুর রহমান ইবনে মাহদির ওপর তাকে (গুন্দারকে) অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: আমি গুন্দারকে বলতে শুনেছি: আমি বিশ বছর শু’বাহ-র সান্নিধ্যে ছিলাম এবং যখনই আমি তাঁর থেকে কিছু লিখতাম, তখন তা যাচাইয়ের জন্য তাঁকে দেখাতাম। আহমাদ বলেন: আমার মনে হয় তার ধীরবুদ্ধির কারণেই সে এমনটা করত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওহামুল মুহাদ্দিসীনাস সিকাতি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقال ابن حجر: ثقة صحيح الكتاب إلا أنَّ فيه غفلة.
قلت: ومع هذا يقدِّمونه على غيره من الثقات الأثبات في شعبة لأنه كان يكتب عنه ويعرضه عليه.
وكذلك يونس بن يزيد إنما قدِّم في الزهري لكونه كان الزهري يملي عليه الحديث وقد استُقْصِيت أحاديث الثقات عن الزهري (مالك، ومعمر، وسفيان، ويونس) فإذا أكثرهم حديثاً عنه وأثبتهم فيه يونس كما تجده في خاتمة الأحاديث التي خولف فيها سفيان بن عيينة.
4 - التحديث من غير كتاب:قال الإمام أحمد ممتدحاً ومثنياً على الذي يحدِّث من كتاب: ما أقل سقطاً من ابن المبارك، كان رجلاً يحدِّث من كتاب ومَن حدِّث من كتاب لا يكاد له سقط كثير شيء، وكان وكيع يحدِّث من حفظه ولم يكن ينظر في كتاب وكان له سقط. كم يكون حفظ الرجل
(1).
وقال علي بن المديني: عهدي بأصحابنا وأحفظهم أحمد بن حنبل فلمّا احتاج أن يحدِّث لا يكاد يحدِّث إلا من كتاب
(2).
وقال أيضاً: قال لي أحمد: لا تحدثني إلا من كتاب
(3).
لذا قال الخطيب: الاحتياط للمحدِّث والأولى به أن يروي من كتابه ليسلم من الوهم والغلط ويكون جديراً بالبعد عن الزلل
(4).
--------------------------------------------
ইবনে হাজার বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সহিহ কিতাবের অধিকারী, তবে তার মধ্যে কিছুটা অসতর্কতা ছিল।
আমি বলছি: তা সত্ত্বেও তারা তাকে শু’বার ব্যাপারে অন্যান্য সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্যদের উপর প্রধান্য দেন, কারণ তিনি তার থেকে লিখতেন এবং তাকে তা পড়ে শোনাতেন।
একইভাবে ইউনুস বিন ইয়াযিদকে যুহুরীর বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, কারণ যুহুরী তাকে হাদিস ইমলা (শ্রুতলিপি) করাতেন। যুহুরী থেকে নির্ভরযোগ্যদের (মালিক, মা’মার, সুফিয়ান ও ইউনুস) হাদিসসমূহ যাচাই করা হয়েছে; দেখা গেছে তাদের মধ্যে যুহুরী থেকে অধিক হাদিস বর্ণনাকারী এবং সবচেয়ে সুদৃঢ় হলেন ইউনুস, যেমনটি আপনি সুফিয়ান বিন উয়াইনার বিপরীতে বর্ণিত হাদিসসমূহের শেষে পাবেন।
৪ - কিতাব ছাড়া হাদিস বর্ণনা করা:ইমাম আহমাদ কিতাব দেখে হাদিস বর্ণনাকারীর প্রশংসা ও গুণগান করে বলেন: ইবনুল মুবারকের স্খলন কতই না কম ছিল! তিনি এমন ব্যক্তি ছিলেন যিনি কিতাব দেখে হাদিস বর্ণনা করতেন, আর যে ব্যক্তি কিতাব দেখে হাদিস বর্ণনা করেন তার তেমন কোনো স্খলন বা ভুল থাকে না। পক্ষান্তরে ওয়াকি’ তার স্মৃতি থেকে বর্ণনা করতেন এবং কিতাবের দিকে তাকাতেন না, তাই তার ভুল হতো। একজন মানুষের মুখস্থ শক্তিই বা কতটুকু হতে পারে!
আলী ইবনুল মাদিনী বলেন: আমার জানামতে আমাদের সাথীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুখস্থকারী ছিলেন আহমাদ বিন হাম্বল; কিন্তু যখনই তার হাদিস বর্ণনা করার প্রয়োজন হতো, তিনি কিতাব ছাড়া খুব একটা বর্ণনা করতেন না।
তিনি আরও বলেন: আহমাদ আমাকে বলেছেন: তুমি আমার কাছে কিতাব ছাড়া হাদিস বর্ণনা করো না।
এই কারণে খতিব (বাগদাদী) বলেন: মুহাদ্দিসের জন্য সতর্কতা ও উত্তম পন্থা হলো তিনি যেন তার কিতাব থেকে বর্ণনা করেন, যাতে করে তিনি সংশয় ও ভুল থেকে মুক্ত থাকতে পারেন এবং স্খলন থেকে দূরে থাকার উপযোগী হন।
--------------------------------------------