(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: -)
آداب الحوار من خلال سيرة مصعب بن عمير رضي الله عنه   (عدنان الجابري)

القسم: كتب عامة


الكتاب: آداب الحوار من خلال سيرة مصعب بن عمير رضي الله عنه

المؤلف: عدنان بن سليمان بن مسعد الجابري

راجعه ودققه: فضيلة الدكتور/ عبد الحق بن حمادي الهواس

الناشر: دار الأوراق الثقافية

الطبعة: الأولى، 1435 هـ

عدد الصفحات: 29

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 ذو الحجة 1435

মুসআব ইবন উমায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী থেকে সংলাপের শিষ্টাচার   (আদনান আল-জাবেরি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: মুসআব ইবন উমায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী থেকে সংলাপের শিষ্টাচার

লেখক: আদনান বিন সুলাইমান বিন মাসআদ আল-জাবেরি

পরিমার্জন ও নিরীক্ষণ: ডক্টর/ আবদুল হক বিন হাম্মাদি আল-হাওয়াস

প্রকাশক: দার আল-আওরাক আল-সাকাফিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ যিলহজ্জ ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ১)
آداب الحوار

من خلال سيرة مصعب بن عمير رضي الله عنه

 

إعداد

عدنان بن سليمان بن مسعد الجابري

 

راجعه ودققه

فضيلة الدكتور/ عبدالحق بن حمادي الهواس

أستاذ اللغة العربية المشارك بالمعهد العالي للأئمة والخطباء بجامعة طيبة
সংলাপের শিষ্টাচার

মুসআব বিন উমায়ের (রা.)-এর জীবনীর আলোকে

 

উপস্থাপনায়

আদনান বিন সুলাইমান বিন মাসআদ আল-জাবেরি

 

পর্যালোচনা ও নিরীক্ষায়

ফযীলাতুশ শাইখ ড. আব্দুল হক বিন হাম্মাদি আল-হাওয়াস

তাইবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমাম ও খতিবদের জন্য উচ্চতর ইনস্টিটিউটের আরবি ভাষার সহযোগী অধ্যাপক
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تمهيد:

إن حياة الصحابي الجليل مصعب بن عمير رضي الله عنه مليئةً بالفوائد والدرر ، إلا أن هناك أسلوباً تربوياً قد يكون بارزاً في حياته رضي الله عنه ، ألا وهو: أسلوب الحوار ، ولعل القارئ لسيرته رضي الله عنه يلحظ ذلك؛ لذا رأى المؤلف إيراد آداب الحوار المتمثلة في مصعب بن عمير رضي الله عنه مختصرةً من البحث الذي أشرت إليه في مقدمة كتاب سيرة الصحابي الجليل مصعب بن عمير رضي الله عنه.

 

فالحوار من أهم أساليب التربية الإسلامية وأفضلها؛ ذلك لأنه يترك المجال للأطراف المتحاورة لإبداء وجهات النظر وتبادل الآراء وتلاقح الأفكار ، مما ينتج عنه تصحيح المفاهيم وحل المشكلات وتجاوز العقبات ، ومن ثم تسود المحبة والألفة بين أفراد المجتمع ، ومما يدل على أهميته كثرة استعماله في القرآن الكريم والسنة النبوية ، فهو فرصة كبيرة لدعوة الناس إلى الإسلام ، بل ويقضي على المشاكل والخلافات العالمية والأسرية ، أو يخفف منها.

وقبل الشروع في آداب الحوار عند مصعب بن عمير رضي الله عنه نتطرق إلى مفهوم الآداب والحوار في اللغة والاصطلاح.

 

‌‌فأما الآداب لغةً:

" الأَدَبُ: مَلَكَةٌ تَعْصِمُ مَنْ قَامَت بِهِ عمَّا يَشِينُه ، وهُوَ: استعمالُ مَا يُحْمَدُ قَوْلاً وفِعْلا" (1). وقيل " الأدب: عبارة عن معرفة ما يحترز به عن جميع أنواع الخطأ " (2).

--------------------------------------------

(1) محمد الحسيني: تاج العروس من جواهر القاموس ، 2/ 7.

(2) الجرجاني: كتاب التعريفات ، ص15.
‌‌উপক্রমণিকা:

নিশ্চয়ই মহান সাহাবি মুসআব বিন উমায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবন বহু শিক্ষা ও মনিমুক্তায় পরিপূর্ণ। তবে তাঁর জীবনে একটি শিক্ষামূলক পদ্ধতি বিশেষভাবে দৃশ্যমান হতে পারে, আর তা হলো: সংলাপ পদ্ধতি। সম্ভবত তাঁর জীবনী পাঠকারী এটি লক্ষ্য করবেন; তাই লেখক মহান সাহাবি মুসআব বিন উমায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী গ্রন্থের ভূমিকায় যে গবেষণার প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন, সেখান থেকে মুসআব বিন উমায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংলাপের শিষ্টাচারসমূহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা সমীচীন মনে করেছেন।

 

সংলাপ হলো ইসলামী শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি; কারণ এটি সংলাপে অংশগ্রহণকারী পক্ষসমূহকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ, মতবিনিময় এবং চিন্তার আদান-প্রদানের সুযোগ করে দেয়, যার ফলে ধারণাগুলোর সংশোধন ঘটে, সমস্যার সমাধান হয় এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো অতিক্রম করা সম্ভব হয়। এর ফলে সমাজের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বিরাজ করে। এর গুরুত্বের প্রমাণ হলো পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে এর প্রচুর ব্যবহার। এটি মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়ার একটি বড় সুযোগ, বরং এটি বৈশ্বিক ও পারিবারিক সমস্যা ও বিবাদ নিরসন করে অথবা তা লাঘব করে।

মুসআব বিন উমায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংলাপের শিষ্টাচারসমূহ আলোচনার পূর্বে আমরা ভাষাগত ও পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে আদব ও সংলাপের ধারণা নিয়ে আলোচনা করব।

 

‌‌ভাষাগতভাবে আদব:

"আদব হলো এমন এক যোগ্যতা যা এর অধিকারীকে ওই সকল বিষয় থেকে রক্ষা করে যা তাকে কলঙ্কিত করে; আর এটি হলো কথা ও কাজে প্রশংসনীয় বিষয়াবলি গ্রহণ করা" (১)। আরও বলা হয়েছে, "আদব হলো এমন এক জ্ঞান যার মাধ্যমে সকল প্রকার ভুল থেকে বেঁচে থাকা যায়" (২)।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ আল-হুসাইনি: তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরিল কামুস, ২/৭।

(২) আল-জুরজানি: কিতাবুত তারিফাত, পৃ. ১৫।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ৬)
والمقصود بالآداب: هي السمات التي يلتزم بها المحاور الناجح في أثناء عملية الحوار بأنواعها الثلاثة (العلمية ، النفسية ، اللفظية) قولاً وعملاً.

 

‌‌والحوار في اللغة:

"الحَوْرُ: الرُّجُوعُ عَنِ الشَّيْءِ وإِلى الشَّيْءِ " (1) ،وحاورت فلانا محاورة إِذا كلمك فأجبته (2). "وتَحاوَرُوا: تَراجَعُوا الكلامَ بينهمْ" (3).

وفي الاصطلاح:

هو: الطريقة التي يستعملها المحاور مع الطرف الآخر في موضوع محدد بهدف الوصول إلى الحق من خلال إقناعه وتصحيح خطئه ما أمكن.

--------------------------------------------

(1) ابن منظور: لسان العرب ، 4/ 217.

(2) محمد بن الحسن الأزدي: جمهرة اللغة ، 1/ 525.

(3) الفيروز آبادي: القاموس المحيط ، ص381.
শিষ্টাচার (آداب) বলতে উদ্দেশ্য হলো: সেই সকল বৈশিষ্ট্য যা একজন সফল আলোচক সংলাপ (حوار) প্রক্রিয়ার সময় এর তিনটি প্রকারের (জ্ঞানতাত্ত্বিক (علمية), মনস্তাত্ত্বিক (نفسية) ও মৌখিক (لفظية)) ক্ষেত্রে কথা ও কাজে মেনে চলেন।

 

‌‌শাব্দিক অর্থে সংলাপ (حوار):

"আল-হাওর (الحور): কোনো বিষয় থেকে ফিরে আসা এবং কোনো বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করা" (১), আর আপনি অমুকের সাথে মুহাওয়ারাহ (محاورة) করেছেন অর্থাৎ সে আপনার সাথে কথা বলেছে এবং আপনি তাকে উত্তর দিয়েছেন (২)। "তারা পরস্পর সংলাপ করেছে (تحاوروا): তারা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বিনিময় করেছে" (৩)।

পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحاً):

এটি হলো: এমন একটি পদ্ধতি যা একজন আলোচক অপর পক্ষের সাথে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সত্যে উপনীত হওয়ার লক্ষ্যে ব্যবহার করেন, যাতে তাকে আশ্বস্ত করার মাধ্যমে এবং তার ভুল সংশোধন করার মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব সত্যে পৌঁছানো যায়।

--------------------------------------------

(১) ইবনে মানজুর: লিসানুল আরব, ৪/ ২১৭।

(২) মুহাম্মদ বিন হাসান আল-আজদি: জামহারাতুল লুগাহ, ১/ ৫২৫।

(৩) আল-ফিরোজাবাদি: আল-কামুস আল-মুহিত, পৃ. ৩৮১।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفصل الأول: آداب الحوار النفسية عند مصعب بن عمير رضي الله عنه -:

تعتني الآداب النفسية للحوار بكل ما يعطي النفس ارتياحاً وهدوءاً، كتهيئة المكان ، واختيار الزمان المناسب ، وترفض كل ما يزعج النفس ويؤذيها ، كالغضب والتوتر والقلق.

ومن أهم تلك الآداب النفسية في الحوار والتي تمثلت في مصعب بن عمير رضي الله عنه ما يأتي (1):

أولاً: الإخلاص وصدق النيّة.

ثانياً: تهيئة الجو المناسب.

ثالثاً: الإنصاف والعدل.

رابعاً: الحلم والصبر.

خامساً: العزة والثبات على الحق.

سادساً: حسن الاستماع.

سابعاً: الجرأة والغضب لنصرة الحق.

فهذه الآداب جعلت من مصعب بن عمير رضي الله عنه محاوراً ناجحاً ، استطاع من خلالها ضبط مسيرة الحوار وتحقيق الهدف منه ، وهذا بيان لها كما يأتي:

--------------------------------------------

(1) يحيى بن محمد زمزمي: الحوار آدابه وضوابطه في ضوء الكتاب والسنة ، ص 116.
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসআব ইবন উমায়ের (রা.)-এর নিকট সংলাপের মনস্তাত্ত্বিক শিষ্টাচারসমূহ-:

সংলাপের মনস্তাত্ত্বিক শিষ্টাচারসমূহ এমন সব বিষয়ের প্রতি যত্নশীল থাকে যা আত্মাকে প্রশান্তি ও স্থিরতা দান করে, যেমন স্থান প্রস্তুত করা এবং উপযুক্ত সময় নির্বাচন করা; আর এটি এমন সব বিষয়কে বর্জন করে যা আত্মাকে বিরক্ত ও কষ্ট দেয়, যেমন রাগ, উত্তেজনা ও উদ্বেগ।

সংলাপের সেই সব গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক শিষ্টাচার যা মুসআব ইবন উমায়ের (রা.)-এর চরিত্রে ফুটে উঠেছিল, তা নিম্নরূপ (১):

প্রথমত: একনিষ্ঠতা (الإخلاص) এবং নিয়তের সততা (صدق النيّة)।

দ্বিতীয়ত: উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।

তৃতীয়ত: ইনসাফ (الإنصاف) এবং ন্যায়বিচার (العدل)।

চতুর্থত: সহিষ্ণুতা (الحلم) এবং ধৈর্য (الصبر)।

পঞ্চমত: মর্যাদা এবং সত্যের ওপর অবিচলতা (الثبات)।

ষষ্ঠত: মনোযোগ সহকারে শোনা (حسن الاستماع)।

সপ্তমত: সাহসিকতা এবং সত্যের সাহায্যের জন্য ক্রোধ।

এই শিষ্টাচারগুলো মুসআব ইবন উমায়ের (রা.)-কে একজন সফল আলোচক হিসেবে তৈরি করেছিল, যার মাধ্যমে তিনি সংলাপের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং এর উদ্দেশ্য হাসিল করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এগুলোর বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:

--------------------------------------------

(১) ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মাদ যামযামি: আল-হিওয়ার আদাবুহু ওয়া দাওয়া বিতুহু ফি দাউইল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ১১৬।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌أولاً: الإخلاص وصدق النيّة:

ترك مصعب بن عمير رضي الله عنه دين آبائه ، وما كان فيه من نعمة ودلال ، وتحمّل الأذى والتعذيب؛ كل ذلك من أجل دين الله عز وجل. وقد رأى فيه الرسول صلى الله عليه وسلم حبه الصادق لله ورسوله صلى الله عليه وسلم ، لذا قال عنه صلى الله عليه وسلم: «لقد رأيت هذا عند أبويه بمكة يكرمانه وينعمانه، وما فتى من فتيان قريش مثله ، ثم خرج من ذلك ابتغاءَ مرضاة الله ونصرة رسوله …» (1).

 

وكذلك لم يشغل بال مصعب بن عمير رضي الله عنه عندما أرسله النبي صلى الله عليه وسلم إلى أهل المدينة إلا نشر الإسلام بينهم وتعليمهم ، فلم ينظر إلى شيء من زينة الدنيا ، ولم يطلب من أحد شيئا ، رغم ما كان فيه من فقر وضعف، وهذا كله يدل على إخلاصه وصدق نيته ونزاهة نفسه.

 

‌‌ثانياً: تهيئة الجو المناسب:

إن الحوار الناجح يتطلب تهيئته قبل البدء فيه بعدة أمور ، تجعل منه حواراً هادفاً بنّاءً ، يؤتي ثماره المرجوة منه ، كاختيار المكان والزمان المناسبين ، والتعارف بين المتحاورين ، والجلوس للحوار.

لذا دخل مصعب بن عمير وأسعد بن زرارة رضي الله عنهما حائطاً من حوائط بني ظفر (2) ، عند بئر مرق (3) ، ومن هنا سيكون الحوار مهيئاً ، لما يحويه

--------------------------------------------

(1) الحاكم: المستدرك على الصحيحين ، كتاب الإيمان ، باب ذكر مصعب بن عمير العبدري رضي الله عنه ،3/ 728 ، رقم 6640.

(2) ابن هشام: مصدر سابق ، 1/ 435. وحوائط بني ظفر في الحرة الشرقية المعروفة بحرّة واقم (أي شرق المدينة). السمهودي: وفاء الوفاء بأخبار دار المصطفى ، 3/ 62.

(3) ابن هشام: السيرة النبوية ، 1/ 436. وبئر مرق قريبة من دار بني ظفر. السمهودي: وفاء الوفاء بأخبار دار المصطفى ، 4/ 23.
প্রথমত: ইখলাস ও নিয়তের সততা:

মুসআব ইবন উমায়ের (রা.) তাঁর পিতৃপুরুষদের ধর্ম এবং সেখানে তিনি যে সচ্ছলতা ও পরম আদরে ছিলেন তা পরিত্যাগ করেছিলেন এবং কষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করেছিলেন; এ সব কিছুই ছিল মহান আল্লাহর দ্বীনের খাতিরে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তাই তিনি (সা.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «আমি তাকে মক্কায় তার পিতামাতার নিকট দেখেছি, তারা তাকে সম্মান করত এবং পরম আদরে রাখত, কুরাইশ যুবকদের মধ্যে তার মতো আর কেউ ছিল না। অতঃপর সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর রাসুলের সাহায্যের উদ্দেশ্যে এসব ত্যাগ করে বেরিয়ে এসেছে...» (১)।

 

অনুরূপভাবে, নবী (সা.) যখন মুসআব ইবন উমায়ের (রা.)-কে মদিনাবাসীদের নিকট পাঠিয়েছিলেন, তখন তাদের মধ্যে ইসলাম প্রচার এবং শিক্ষা দান ব্যতীত অন্য কোনো চিন্তা তাঁর মনে স্থান পায়নি। তিনি দুনিয়ার কোনো চাকচিক্যের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি এবং চরম অভাব ও প্রতিকূল অবস্থা সত্ত্বেও কারও নিকট কিছু চাননি। এ সব কিছুই তাঁর ইখলাস, নিয়তের সততা এবং আত্মার পবিত্রতার প্রমাণ বহন করে।

 

দ্বিতীয়ত: উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা:

একটি সফল সংলাপ শুরু করার পূর্বে কিছু বিষয়ের মাধ্যমে তা প্রস্তুত করা প্রয়োজন, যা একে একটি উদ্দেশ্যমূলক ও গঠনমূলক সংলাপে পরিণত করে এবং এর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে আনে; যেমন: উপযুক্ত স্থান ও সময় নির্বাচন করা, আলাপকারীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় হওয়া এবং আলোচনার জন্য উপবেশন করা।

তাই মুসআব ইবন উমায়ের ও আস'আদ ইবন যুরারাহ (রা.) বনু জাফরের একটি বাগানে (২) প্রবেশ করেন, যা মারাক কূপের (৩) নিকট অবস্থিত ছিল। এখান থেকেই সংলাপের পরিবেশ প্রস্তুত হবে, কারণ এতে রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) হাকিম: আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন, কিতাবুল ঈমান, বাবু জিকরি মুসআব ইবন উমায়ের আল-আবদারি (রা.), ৩/৭২৮, নম্বর ৬৬৪০।

(২) ইবন হিশাম: পূর্বোক্ত উৎস, ১/৪৩৫। বনু জাফরের বাগানগুলো পূর্ব হাররায় অবস্থিত যা হাররাতু ওয়াকিম (অর্থাৎ মদিনার পূর্ব দিক) নামে পরিচিত। সামহুদি: ওয়াফাউল ওয়াফা বি আখবারি দারিল মুস্তাফা, ৩/৬২।

(৩) ইবন হিশাম: আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/৪৩৬। মারাক কূপ বনু জাফরের গৃহের নিকটবর্তী। সামহুদি: ওয়াফাউল ওয়াফা বি আখবারি দারিল মুস্তাফা, ৪/২৩।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ৯)
المكان من خضرة جميلة ، ومياه وفيرة ، تجلب الهدوء والروائح الزكية.

وعندما أخبر أسعد بن زرارة مصعب بن عمير رضي الله عنهما بقدوم أسيد بن الحضير رضي الله عنه قال له مصعب رضي الله عنه: "إن يجلس أكلمه " (1) ، فحرص مصعب بن عمير رضي الله عنه على هذا الأدب النفسي؛ لذلك كرره مرةً ثانية عندما وصل أسيد بن الحضير رضي الله عنه وقد كان في حالة غضب ومتشتّما، فقال له: أو تجلس فتسمع (2) ، فأراد من ذلك رضي الله عنه التغيير من حال الغضبان من الوقوف إلى الجلوس ، كما أن الوقوف يوحي إلى عدم الرضا بالحوار ، ويعطي صاحبه شيئاً من الأنفة والتعالي ، فيقوده ذلك إلى رفع الصوت واستعمال بعض الأقوال والأفعال التي تخل بالحوار وتعطل سيره ، وأما الجلوس فيعطي النفس شيئاً من الارتياح والاستقرار النفسي.

 

‌‌ثالثاً: الإنصاف والعدل:

إن العدل والإنصاف يعطيان الحوار ثقة ومتانة بين المتحاورين ، فمصعب بن عمير رضي الله عنه ضمّن ذلك في حواره مع سعد بن معاذ رضي الله عنه عندما أقبل عليه ، حيث قال له: " أوَ تقعد فتسمع؟ فإن رضيت أمراً ورغبت فيه قبلته ، وإن كرهته عزلنا عنك ما تكره ، قال سعد: أنصفت " (3) ، رغم أن مصعباً رضي الله عنه كان على الحق بمجيئه بالدين الإسلامي ، ولكن أراد أن يبين مدى تمسكه بالعدل ليرضى سعد بن معاذ رضي الله عنه ، مع حرصه الشديد على إقناعه بما جاء به.

--------------------------------------------

(1) ابن هشام: السيرة النبوية ، 1/ 435.

(2) المصدر السابق ، 1/ 435.

(3) المصدر السابق ، 1/ 435.
স্থানটি ছিল চমৎকার শ্যামলিমা ও প্রচুর জলরাশিবেষ্টিত, যা প্রশান্তি ও সুগন্ধ বয়ে আনছিল।

যখন আস'আদ ইবনে যুরারা মুস'আব ইবনে উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে উসাইদ ইবনে আল-হুদাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আগমন সম্পর্কে অবহিত করলেন, তখন মুস'আব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: "যদি তিনি বসেন, তবে আমি তাঁর সাথে কথা বলব" (১)। মুস'আব ইবনে উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই মনস্তাত্ত্বিক শিষ্টাচারের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন; তাই উসাইদ ইবনে আল-হুদাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন ক্রুদ্ধ ও কটুভাষী অবস্থায় সেখানে উপস্থিত হলেন, তখন তিনি আবারও সেই কথার পুনরাবৃত্তি করে বললেন: "আপনি কি বসবেন এবং শুনবেন?" (২)। এর মাধ্যমে তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাগান্বিত ব্যক্তির অবস্থাকে দণ্ডায়মান থেকে উপবিষ্ট অবস্থায় পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন; কেননা দণ্ডায়মান অবস্থা সংলাপের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে এবং ব্যক্তির মনে এক ধরণের দম্ভ ও ঔদ্ধত্যের উদ্রেক করে, যা তাকে উচ্চকণ্ঠে কথা বলতে এবং এমন কিছু উক্তি ও আচরণের দিকে ধাবিত করে যা সংলাপের শিষ্টাচার ক্ষুণ্ণ করে এবং এর স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। পক্ষান্তরে, উপবেশন মনের মধ্যে এক প্রকার স্বস্তি ও মানসিক স্থিরতা দান করে।

 

‌‌তৃতীয়ত: ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতা:

ন্যায়বিচার ও ইনসাফ সংলাপের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও দৃঢ়তা তৈরি করে। মুস'আব ইবনে উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন সা'দ ইবনে মু'আয (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর দিকে এগিয়ে এলেন, তখন তাঁর সাথে আলাপচারিতায় এই নীতির প্রতিফলন ঘটিয়েছিলেন। তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "আপনি কি বসবেন এবং শুনবেন? যদি কোনো বিষয় আপনার পছন্দ হয় এবং আপনি তাতে আগ্রহী হন, তবে তা গ্রহণ করবেন। আর যদি আপনি তা অপছন্দ করেন, তবে আমরা আপনার অপ্রিয় বিষয়টিকে আপনার থেকে দূরে সরিয়ে রাখব। সা'দ বললেন: আপনি ইনসাফ করেছেন" (৩)। যদিও মুস'আব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম ধর্ম নিয়ে আসার মাধ্যমে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তবুও তিনি সা'দ ইবনে মু'আয (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে সন্তুষ্ট করার জন্য ন্যায়পরায়ণতার প্রতি তাঁর অবিচলতা প্রদর্শন করতে চেয়েছিলেন, যদিও তাঁর আনীত বিষয়ের প্রতি তাঁকে আশ্বস্ত করার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত ব্যাকুল ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিশাম: আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ১/৪৩৫।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, ১/৪৩৫।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, ১/৪৩৫।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌رابعاً: الحلم والصبر:

كان مصعب بن عمير رضي الله عنه حليماً صبوراً ، فعندما أقبل عليه أسيد بن حضير رضي الله عنه وقف عليه متشتماً وزاجراً له ، وهدده وأمره باعتزال المكان ، وما كان من مصعب رضي الله عنه إلا أن تلطف معه وأشار إليه بالجلوس ليسمع منه (1) ، فما زجره وما انتقم لنفسه ولم يقابله بالمثل ، بل أحسن إليه بالكلام الليّن ، والمعاملة الحسنة؛ لأنه يعرف أن المقابلة بالمثل سيكون معولاً هداماً لسير عملية الحوار ، فيتوقف بذلك الحوار ، ويعجز عن تحقيق الهدف المنشود.

 

‌‌خامساً: العزة والثبات على الحق:

لا بد للمؤمن أن يعتز بدين الله ويثبت على الحق في جميع المواطن، ولا يرخص نفسه ولا يذلها ، يقول تعالى: {… وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ} (2).

فمصعب بن عمير رضي الله عنه أعز نفسه بهذا الدين ، وثبت على الحق ، فعندما علمت أمه بمقدمه أرسلت إليه وقالت: " يا عاق ، أتقدم بلدا أنا فيه لا تبدأ بي؟ فقال: ما كنت لأبدأَ بأحدٍ قبل رسول الله صلى الله عليه وسلم. ثم ذهب إلى أمه ، فقالت: إنك لعلى ما أنت عليه من الصَّبْأَةِ بعدُ! قال: أنا على دين رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الإسلام الذي رضي الله لنفسه ولرسوله … وجعلت تبكي ، فقال مصعب رضي الله عنه: يا أماه إني لكِ ناصحٌ عليك شفيقٌ ، فاشهدي أنه لا إله إلا الله وأن محمدًا عبده ورسوله " (3).

فلم يتوانَ مصعب بن عمير رضي الله عنه ولم يتردد بالبدء برسول الله صلى الله عليه وسلم ، لأنه يعلم

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ، 1/ 435.

(2) سورة المنافقون: آية (8).

(3) ابن سعد: الطبقات الكبرى ، 3/ 88.
‌‌চতুর্থ: সহিষ্ণুতা (الحلم) ও ধৈর্য (الصبر):

মুসআব ইবনে উমায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অত্যন্ত সহিষ্ণু (حليم) ও ধৈর্যশীল (صبور) ছিলেন। যখন উসাইদ বিন হুদাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) গালিগালাজ ও ধমক দিতে দিতে তাঁর দিকে এগিয়ে আসলেন এবং তাঁকে হুমকি দিলেন ও স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দিলেন, তখন মুসআব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কেবল তাঁর প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করলেন এবং তাঁর কথা শোনার জন্য তাঁকে বসার অনুরোধ করলেন (১)। তিনি তাঁকে ধমক দেননি এবং নিজের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশোধ নেননি কিংবা তাঁর সাথে অনুরূপ আচরণ করেননি। বরং তিনি কোমল কথা ও সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁর সাথে সদাচরণ করেছেন; কারণ তিনি জানতেন যে, অনুরূপ আচরণের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেওয়া সংলাপের প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াবে, ফলে আলোচনা বন্ধ হয়ে যাবে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে।

 

‌‌পঞ্চম: মর্যাদা (العزة) ও সত্যের (الحق) ওপর অটল থাকা (الثبات):

মুমিনের জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহর দ্বীনের (دين) মাধ্যমে মর্যাদাবান হওয়া এবং সকল পরিস্থিতিতে সত্যের (الحق) ওপর অটল (الثبات) থাকা। সে নিজেকে তুচ্ছ করবে না এবং লাঞ্ছিত করবে না। মহান আল্লাহ বলেন: {… আর মর্যাদা তো আল্লাহরই জন্য, এবং তাঁর রাসূলের ও মুমিনদের জন্য} (২)।

মুসআব ইবনে উমায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই দ্বীনের (دين) মাধ্যমেই নিজেকে সম্মানিত করেছিলেন এবং সত্যের (الحق) ওপর অটল (الثبات) ছিলেন। যখন তাঁর মা তাঁর আগমনের কথা জানলেন, তখন তাঁর নিকট লোক পাঠালেন এবং বললেন: "হে অবাধ্য! তুই এমন এক শহরে আসলি যেখানে আমি আছি, অথচ তুই আমার কাছে আসা দিয়ে শুরু করলি না?" তিনি বললেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগে আমি কারও কাছে যাওয়া শুরু করতে পারি না।" অতঃপর তিনি তাঁর মায়ের কাছে গেলেন। তখন তাঁর মা বললেন: "তুমি কি এখনও সেই ধর্মত্যাগের (الصباة) ওপরই অটল আছ?" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বীনের (دين) ওপর আছি এবং তা হলো ইসলাম, যা আল্লাহ তাঁর নিজের জন্য ও তাঁর রাসূলের জন্য পছন্দ করেছেন … এবং তিনি কাঁদতে লাগলেন। তখন মুসআব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে মা! আমি আপনার হিতাকাঙ্ক্ষী এবং আপনার প্রতি দয়াশীল, সুতরাং আপনি সাক্ষ্য দিন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল" (৩)।

মুসআব ইবনে উমায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দিয়ে শুরু করার ব্যাপারে কোনো দ্বিধা বা ইতস্তত করেননি, কারণ তিনি জানেন

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, ১/ ৪৩৫।

(২) সূরা আল-মুনাফিকুন: আয়াত (৮)।

(৩) ইবনে সাদ: আত-তাবাকাত আল-কুবরা, ৩/ ৮৮।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ১১)
أن حق رسول الله صلى الله عليه وسلم أعظم من حق أمه فثبت على ذلك ، ثم اعتز وافتخر بانتسابه إلى هذا الدين ، وأخيراً لم تؤثر فيه عاطفته تجاه أمه عندما بكت ، ولم يفكر في التراجع ، بل ازداد إصرارا على الثبات والعزة ، وأراد من أمه أن تُعِز نفسها وتعلو بذاتها بدخولها الإسلام ولكنها أبت ، ولله الأمر من قبل ومن بعد.

 

‌‌سادساً: حسن الاستماع:

إن الفن الحقيقي في الحديث يكمن في حسن الاستماع ، فسيجد المحاور قبولاً واحتراماً ، وإنصاتاً من مُحاوره إن أوجد ذلك من قبل.

ولقد كان مصعب بن عمير رضي الله عنه بارعاً في حسن الاستماع فقد أنصت لكلام أسيد بن حضير رضي الله عنه وهو واقفٌ عليه ومتشتماً ، بل ويبدو أنه رافعٌ لصوته ، فما قابل ذلك مصعبٌ رضي الله عنه إلا بحسن استماع وإنصات ، وعندما انتهى أسيدٌ رضي الله عنه من كلامه ، قال له مصعب رضي الله عنه: "أو تجلس فتسمع " (1) ، فكأن لسان حاله يقول: فكما أني سمعت كلامك بإنصات فاسمع مني بإنصات كذلك. ومن خبر أمه رضي الله عنه كان في حسن استماع لها ، مع أنها كانت تظهر له الكيد والعداوة ، بل وأرادت التحريض عليه من قبل قومها لتعذيبه (2) ، ومع هذا ما زال في حواره معها بحسن إنصات واستماع؛ لعلها تقتنع بكلامه فتدخل الإسلام.

 

سابعاً: الجرأة والغضب لنصرة الحق:

كما أن المحاور لا بد له من الحلم والصبر وعدم الغضب لنفسه ، فهو كذلك

--------------------------------------------

(1) ابن هشام: السيرة النبوية ، 1/ 435.

(2) ابن سعد: الطبقات الكبرى ، 3/ 88.
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অধিকার তাঁর মায়ের অধিকারের চেয়েও মহান, ফলে তিনি এর ওপর অটল থাকলেন। অতঃপর তিনি এই দ্বীনের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কারণে মর্যাদা ও গৌরব অনুভব করলেন। পরিশেষে, তাঁর মা যখন কাঁদলেন তখন তাঁর প্রতি মমতা তাঁকে প্রভাবিত করতে পারেনি এবং তিনি পিছু হটার চিন্তাও করেননি; বরং তিনি অবিচলতা ও মর্যাদাবোধের ওপর আরও দৃঢ় হলেন। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর মা ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে সম্মানিত করুন এবং নিজের সত্তাকে উচ্চমর্যাদায় নিয়ে যান, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন। আর সকল বিষয়ের ফয়সালা পূর্বাপর আল্লাহরই হাতে।

 

‌‌ষষ্ঠত: উত্তম শ্রবণ:

কথোপকথনের প্রকৃত শিল্প নিহিত রয়েছে মনোযোগ দিয়ে শোনার মধ্যে। একজন আলোচক যদি নিজে প্রথমে তা প্রদর্শন করেন, তবে তিনি তাঁর প্রতিপক্ষের নিকট থেকেও গ্রহণযোগ্যতা, সম্মান এবং মনোযোগ লাভ করবেন।

মুসআব ইবন উমায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উত্তম শ্রবণে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। তিনি উসাইদ ইবন হুদাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলেন যখন তিনি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে তিরস্কার করছিলেন, এমনকি তিনি উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন বলেও প্রতীয়মান হয়। মুসআব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কেবল উত্তম শ্রবণ ও মনোযোগের মাধ্যমেই এর মোকাবিলা করেছিলেন। যখন উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর কথা শেষ করলেন, তখন মুসআব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: "আপনি কি একটু বসে শুনবেন?" (১), যেন তাঁর অবস্থা বলছিল: আমি যেমন আপনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি, তেমনি আপনিও আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। মুসআব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মায়ের বিবরণ (خبر)-এর ক্ষেত্রেও দেখা যায় যে, তিনি তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, যদিও তাঁর মা তাঁর প্রতি শত্রুতা ও ষড়যন্ত্র প্রকাশ করতেন; এমনকি তিনি তাঁকে নির্যাতন করার জন্য নিজ গোত্রের লোকদের উসকে দিতে চেয়েছিলেন (২)। তা সত্ত্বেও তিনি মায়ের সাথে কথোপকথনের সময় মনোযোগ দিয়ে শোনা ও উত্তম শ্রবণের নীতি বজায় রেখেছিলেন; এই আশায় যে সম্ভবত তিনি তাঁর কথায় আশ্বস্ত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করবেন।

 

সপ্তমত: সত্যের জয়ে সাহসিকতা ও ক্রোধ প্রদর্শন:

একজন আলোচকের জন্য যেমন সহনশীলতা, ধৈর্য এবং নিজের জন্য রাগান্বিত না হওয়া আবশ্যক, তেমনি তিনি...

--------------------------------------------

(১) ইবন হিশাম: আস-সিরাহ আন-নাবাউয়্যাহ, ১/৪৩৫।

(২) ইবন সাদ: আত-তবাকাত আল-কুবরা, ৩/৮৮।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ১২)
لا بد أن تكون عنده جرأة في الحق والغضب له؛ لذا لم يكن من حال مصعب بن عمير رضي الله عنه إلا أن يتجرأ ويغضب لدين الله ، فعندما جاء إلى مكة قالت له أمه: " ما شكَرْتَ ما رَثَيْتُكَ (1) ، مرة بأرض الحبشة ومرة بيثرب ، فقال: أفرُّ بديني إن تفتنوني. فأرادت حبسه، فقال: لئن أنتِ حبستَنِي لأحرصن على قتل من يتعرض لي " (2) ، فقد غضب رضي الله عنه لدين الله حين أرادت أمه حبسه بتحريض قومها عليه ، وتجرأ إلى حد القتل لمن أراد أن يتعرض له ويريد صده عن دين الله.

--------------------------------------------

(1) من رَثَى لَهُ إذا رَقّ وتَوَجَّعَ. ابن منظور: لسان العرب ، 14/ 309.

(2) ابن سعد: الطبقات الكبرى ، 3/ 88.
সত্যের পক্ষে সাহস এবং এর মর্যাদাবোধে রাগান্বিত হওয়া আবশ্যক; এই কারণেই মুসআব ইবন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বৈশিষ্ট্য ছিল আল্লাহর দ্বীনের জন্য সাহস প্রদর্শন করা এবং রাগান্বিত হওয়া। তিনি যখন মক্কায় প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন তাঁর মা তাঁকে বললেন: "আমি তোমার জন্য যে দয়া ও মমতা (رثى) দেখিয়েছি, তুমি তার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করোনি; একবার হাবাশার ভূমিতে এবং অন্যবার ইয়াসরিবে।" তিনি প্রত্যুত্তরে বললেন: "তোমরা যদি আমাকে আমার দ্বীনের ব্যাপারে ফেতনা বা পরীক্ষার (فتنة) সম্মুখীন করো, তবে আমি আমার দ্বীন নিয়ে পলায়ন করব।" এরপর তাঁর মা তাঁকে বন্দি করার সংকল্প করলে তিনি বললেন: "যদি আপনি আমাকে বন্দি করেন, তবে যে ব্যক্তি আমার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে আমি তাকে হত্যা করার ব্যাপারে অবশ্যই সচেষ্ট থাকব।" মুসআব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর দ্বীনের স্বার্থে তখন রাগান্বিত হয়েছিলেন যখন তাঁর মা স্বগোত্রের লোকদের প্ররোচনায় তাঁকে বন্দি করতে চেয়েছিলেন। তিনি দ্বীনের পথে বাধাদানকারী এবং তাঁকে দ্বীন থেকে বিমুখ করতে চাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চরমতম সাহসিকতা প্রদর্শন করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) 'রাসা লাহু' (رثى له) তখনই বলা হয় যখন কেউ কোমল হয় এবং ব্যথিত হয়। ইবন মানযুর: লিসানুল আরব, ১৪/ ৩০৯।

(২) ইবন সাদ: আত-তবাকাতুল কুবরা, ৩/ ৮৮।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الثاني: آداب الحوار العلمية عند مصعب بن عمير رضي الله عنه -:

إن الآداب العلمية ينبغي أن يتأدب بها كل مسلم في جميع جوانب الحياة ، فهي مهمة للعالِم وطالب العلم وللمفكر والكاتب وكذلك المحاور، ومن تلك الآداب العلمية التي اتسمت في كيان مصعب بن عمير رضي الله عنه في حواراته ما يأتي (1):

 

‌‌أولاً: العلم.

ثانياً: التدرج والبدء بالأهم.

ثالثاً: الاستناد إلى الدليل.

رابعاً: الوضوح والبيان.

خامساً: الرد على الشبه بما يناسبها.

 

وإليك بياناً لهذه الآداب العلمية كما يأتي:

أولاً: العلم:

يشتمل العلم على ثلاثة ركائز مهمة ، وهي: العلم الشرعي ، والعلم بقضية الحوار ، والعلم بالشخص المقابل ومكانته العلمية.

لذا يجد القارئ أن مصعب بن عمير رضي الله عنه كان يحمل معه علماً شرعياً قد نهله من النبي صلى الله عليه وسلم ، عندما كان يتردد عليه سراً في دار الأرقم بن

--------------------------------------------

(1) يحيى بن محمد زمزمي: الحوار آدابه وضوابطه في ضوء الكتاب والسنة ، ص276.
দ্বিতীয় অধ্যায়: মুসআব ইবন উমায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুর জ্ঞানতাত্ত্বিক সংলাপের আদব বা শিষ্টাচারসমূহ-:

নিশ্চয়ই জ্ঞানতাত্ত্বিক শিষ্টাচারসমূহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রতিটি মুসলিমের পালন করা উচিত। এগুলো আলেম, ইলম অন্বেষী, চিন্তাবিদ, লেখক এবং সেইসাথে সংলাপকারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুসআব ইবন উমায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুর ব্যক্তিত্বে তাঁর সংলাপগুলোতে যে সকল জ্ঞানতাত্ত্বিক আদব পরিলক্ষিত হয়, তা নিম্নরূপ (১):

 

‌প্রথমত: ইলম (العلم).

দ্বিতীয়ত: পর্যায়ক্রমিক ধারা অনুসরণ এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে শুরু করা।

তৃতীয়ত: দলিলের (الدليل) ওপর ভিত্তি করা।

চতুর্থত: স্বচ্ছতা ও সুস্পষ্ট বর্ণনা।

পঞ্চমত: সংশয়সমূহের (الشبه) যথোপযুক্ত খণ্ডন।

 

এই জ্ঞানতাত্ত্বিক শিষ্টাচারসমূহের বর্ণনা নিচে তুলে ধরা হলো:

প্রথমত: ইলম (العلم):

ইলম (العلم) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, আর তা হলো: শরয়ি জ্ঞান, সংলাপের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান এবং প্রতিপক্ষ ব্যক্তি ও তাঁর ইলমী মর্যাদা সম্পর্কে জ্ঞান।

অতএব, পাঠক দেখতে পাবেন যে, মুসআব ইবন উমায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সাথে এমন শরয়ি জ্ঞান বহন করতেন যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অর্জন করেছিলেন, যখন তিনি দারুল আরকামে গোপনে তাঁর কাছে যাতায়াত করতেন...

--------------------------------------------

(১) ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ যামযামী: আল-হিওয়ার আদাবুহু ওয়া দাওয়া বিতুহু ফি দাউইল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ২৭৬।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
أبي الأرقم رضي الله عنه (1) ، فعندما أقبل أسيد بن حضير على مصعب بن عمير رضي الله عنهما ، أخذ مصعب رضي الله عنه يعلمه الإسلام ، ويقرأ عليه القرآن ، وكان من نتائج ذلك أن أسلم كل من أسيد بن حضير ، وسعد بن معاذ رضي الله عنهما ، وبإسلامهما أسلم خلقٌ كثير (2).

وكذلك عَلِم مصعب بن عمير رضي الله عنه بظروف الطرف الآخر وأحواله ، وذلك عندما قال له أسعد بن زرارة رضي الله عنه: " جاءك والله سيّد مَن وراءه مِن قومه إن يتبعك لا يتخلّف عنك منهم اثنان " (3).

 

‌‌ثانياً: التدرج والبدء بالأهم:

حرص مصعب بن عمير رضي الله عنه في حواره مع الانصار رضي الله عنهم على أن يبدأ بالأهم ، ويتدرج معهم في الدعوة إلى الله ، فعندما كان مصعب بن عمير ، وأسعد بن زرارة رضي الله عنهما جالسين جاءهما سعد بن معاذ رضي الله عنه فاستقبله مصعب بن عمير رضي الله عنه ثم "عرض عليه الإسلام وقرأ عليه القرآن ، قالا: فعرفنا والله في وجهه الإسلام قبل أن يتكلم لإشراقه وتسهّله، ثم قال لهما: كيف تصنعون إذا أنتم أسلمتم ودخلتم في هذا الدين؟ قالا: تغتسل فتطّهّر وتطهّر ثوبيك، ثم تشهد شهادة الحق، ثم تصلّي ركعتين " (4) ، ولعل مصعب بن عمير رضي الله عنه حين عرْضِه للإسلام بيّن محاسنه ورحمته وعدله ، وكذلك حرص على قراءة القرآن فهو أهم ما يُبدأُ به عند الدعوة إلى الله عز وجل ، ثم عندما أراد سعد بن معاذ رضي الله عنه الدخول

--------------------------------------------

(1) ابن سعد: الطبقات الكبرى ،3/ 117.

(2) ابن هشام: السيرة النبوية ، 1/ 435.

(3) المصدر السابق ، 1/ 435.

(4) المصدر السابق ، 1/ 435.
আবু আরকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) (১), অতঃপর যখন উসাইদ বিন হুদাইর মুসআব বিন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট আসলেন, তখন মুসআব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে ইসলাম শিক্ষা দিতে শুরু করলেন এবং তাঁর নিকট কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগলেন। এর ফলশ্রুতিতে উসাইদ বিন হুদাইর এবং সাদ বিন মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) উভয়েই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁদের ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে বহু মানুষ ইসলামে দাখিল হয় (২)।

অনুরূপভাবে মুসআব বিন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অপর পক্ষের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলেন; এটি তখন স্পষ্ট হয় যখন আসআদ বিন যুরারাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, আপনার নিকট এমন একজন নেতা এসেছেন যার পেছনে তাঁর পুরো কওম রয়েছে; তিনি যদি আপনাকে অনুসরণ করেন, তবে তাদের মধ্য থেকে দুইজন লোকও আপনার বিরুদ্ধাচরণ করবে না" (৩)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: পর্যায়ক্রমিক ধারা অবলম্বন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে শুরু করা:

মুসআব বিন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আনসারদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সাথে তাঁর কথোপকথনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে শুরু করতে এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। যখন মুসআব বিন উমাইর এবং আসআদ বিন যুরারাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) উপবিষ্ট ছিলেন, তখন সাদ বিন মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁদের নিকট আসলেন। মুসআব বিন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং অতঃপর "তাঁর নিকট ইসলাম পেশ করলেন ও কুরআন তিলাওয়াত করে শোনালেন। তাঁরা (রাবীগণ) বলেন: আল্লাহর কসম, তিনি কথা বলার পূর্বেই তাঁর চেহারার ঔজ্জ্বল্য ও প্রসন্নতা দেখে আমরা তাঁর মাঝে ইসলামের আভা চিনতে পেরেছিলাম। অতঃপর তিনি তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন: আপনারা যখন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং এই দ্বীনে প্রবেশ করেন তখন কী করেন? তাঁরা বললেন: আপনি গোসল করে পবিত্র হবেন এবং আপনার কাপড় দুটি পবিত্র করবেন, এরপর সত্যের সাক্ষ্য দেবেন, তারপর দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন" (৪)। সম্ভবত মুসআব বিন উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম পেশ করার সময় এর সৌন্দর্য, রহমত ও ন্যায়বিচার বর্ণনা করেছিলেন। একইভাবে তিনি কুরআন তিলাওয়াতের প্রতিও মনোযোগী ছিলেন, কারণ মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দিয়ে শুরু করা হয়। অতঃপর যখন সাদ বিন মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু) প্রবেশ করতে চাইলেন

--------------------------------------------

(১) ইবনে সাদ: আত-তাবাকাত আল-কুবরা, ৩/১১৭।

(২) ইবনে হিশাম: আস-সিরাহ আন-নাবাউইয়্যাহ, ১/৪৩৫।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, ১/৪৩৫।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, ১/৪৩৫।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
في الإسلام لم يأمره بالصيام أو الزكاة ، بل بدأ بما هو أهم ، من خلال التدرج بالاغتسال ، فالتطهر ، فالشهادة ، ثم الصلاة.

 

وأيضاً في حواره مع أمه ، حينما دعاها إلى الإسلام بدأ بدعوتها إلى النطق بالشهادتين فقال لها:"اشهدي أنه لا إله إلا الله وأن محمدًا عبده ورسوله " (1) ، فلم يبدأ بفروع الدين ، بل حرص على الأصل والأهم.

 

‌‌ثالثاً: الاستناد إلى الدليل:

إن المحاور الناجح مَن ثَبَّتَ كلامه وعلمه وآراءه بالدليل والبرهان، فقد ساق مصعب بن عمير رضي الله عنه في حواره حين عرض الإسلام ودعا إليه دليلاً يدعم العلم والدين الذي أُرسل من أجله ، ومن العجيب أنه رضي الله عنه لم يقرأ أي آية ، بل اختار ما يناسب الحال ، وهذا من ذكائه رضي الله عنه ، فعندما جاءه سعد بن معاذ رضي الله عنه قرأ عليه قول الله تعالى: {حم (1) وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ (2) إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ (3)} (2) ، يقول السعدي رحمه الله في تفسير هذه الآيات: " هذا قسم بالقرآن على القرآن، فأقسم بالكتاب المبين وأطلق، ولم يذكر المتعلق، ليدل على أنه مبين لكل ما يحتاج إليه العباد من أمور الدنيا والدين والآخرة. {إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا} هذا المقسم عليه، أنه جعل بأفصح اللغات وأوضحها وأبينها، وهذا من بيانه. وذكر الحكمة في ذلك ، فقال: {لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} ألفاظه ومعانيه لتيسرها وقربها من الأذهان " (3).

--------------------------------------------

(1) ابن سعد: الطبقات الكبرى ، 3/ 88.

(2) سورة الزخرف: آية (1 - 3). الهيثمي: مجمع الزوائد ومنبع الفوائد ، باب ابتداء أمر الأنصار … ، 6/ 41 ، رقم 9876.

(3) السعدي: تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان ، ص762.
ইসলামে তিনি তাকে রোজা বা যাকাতের আদেশ দেননি, বরং গোসল, এরপর পবিত্রতা অর্জন, এরপর সাক্ষ্য (الشهادة) এবং তারপর সালাতের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমিক ধারার মধ্য দিয়ে যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা দিয়ে শুরু করেছিলেন।

 

তদ্রূপ তাঁর মায়ের সাথে কথোপকথনের সময়ও, যখন তিনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন, তখন তিনি তাকে শাহাদাতাইন (الشهادتين) বা দুই সাক্ষ্যবাণী পাঠের দাওয়াত দিয়ে শুরু করেছিলেন। তিনি তাকে বলেছিলেন: "সাক্ষ্য দিন যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।" (১), সুতরাং তিনি দ্বীনের শাখা-প্রশাখা (فروع) দিয়ে শুরু করেননি, বরং মূলনীতি (الأصل) এবং যা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তার প্রতি যত্নশীল ছিলেন।

 

‌‌তৃতীয়ত: দলিলের (دليل) ওপর নির্ভর করা:

একজন সফল আলোচক তিনিই যিনি দলিল (دليل) ও প্রমাণের (برهان) মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য, জ্ঞান ও মতামতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। মুসআব ইবন উমায়ের (রা.) যখন ইসলামের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং এর দাওয়াত দিয়েছিলেন, তখন তিনি এমন দলিল (دليل) পেশ করেছিলেন যা সেই জ্ঞান ও দ্বীনকে সমর্থন করে যার জন্য তাঁকে পাঠানো হয়েছিল। এবং বিস্ময়কর বিষয় হলো তিনি (রা.) কোনো নির্দিষ্ট আয়াত পাঠ করেননি, বরং পরিস্থিতির সাথে যা মানানসই তা নির্বাচন করেছিলেন। এটি ছিল তাঁর (রা.) প্রখর বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। যখন সাদ ইবন মুআয (রা.) তাঁর কাছে আসলেন, তখন তিনি তাঁর সামনে মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলেন: {হা-মীম (১) শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের (২) নিশ্চয় আমি একে আরবি কোরআন করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পারো (৩)} (২)। সা’দী (রহ.) এই আয়াতগুলোর তাফসির (تفسير) প্রসঙ্গে বলেন: "এটি কোরআনের মাধ্যমে কোরআনেরই শপথ। তিনি সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ করেছেন এবং একে সাধারণ রেখেছেন, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট করেননি, যাতে এটি নির্দেশ করে যে, দুনিয়া, দ্বীন ও আখেরাতের বিষয়ে বান্দাদের যা কিছু প্রয়োজন তা এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে। {নিশ্চয় আমি একে আরবি কোরআন করেছি} এটি হলো সেই বিষয় যার ওপর শপথ করা হয়েছে—যে একে সর্বাধিক সাবলীল, স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়েছে, এবং এটি এর স্পষ্টতারই অংশ। এরপর এর পেছনের প্রজ্ঞা (حكمة) উল্লেখ করে তিনি বলেছেন: {যাতে তোমরা বুঝতে পারো} অর্থাৎ এর শব্দাবলি ও অর্থসমূহ যেন সহজেই বোধগম্য ও চিন্তার নিকটবর্তী হয়।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইবন সাদ: আত-তবাকাতুল কুবরা, ৩/ ৮৮।

(২) সূরা আয-যুখরুফ: আয়াত (১ - ৩)। হাইসামি: মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ, আনসারদের বিষয় শুরুর অধ্যায় (باب) ..., ৬/ ৪১, নম্বর ৯৮৭৬।

(৩) সা’দী: তায়সীরুল কারীমিল রাহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৭৬২।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌رابعاً: الوضوح والبيان:

لا شك أن مصعب بن عمير رضي الله عنه كان فصيح اللسان ، وهذا من طبيعة العرب في ذلك الزمان ، وفي بيانه رضي الله عنه كان دقيقاً في اختيار الدليل ، فيتضح لنا من خلال الآية السابقة أن مصعب بن عمير رضي الله عنه قد اختار ذلك الدليل؛ لأنه يعرف مدى فصاحة العرب وبلاغتهم، ومدى اهتمامهم باللغة العربية من خلال الرجز والشعر والنثر ، فتفتخر به القبائل وتتباهى به؛ لذلك أتى بهذا الدليل بما يناسب أحوالهم؛ وليعطي ما جاء به قوةً ومتانةً.

وقد كان رضي الله عنه يقتصد في كلامه ، ولا يطيل إلا للبيان والتوضيح كما فعل مع سعد بن معاذ رضي الله عنه عندما عرض عليه الإسلام (1) ، كما أنه لا يجادل ولا يكثر من الحشو في الكلام ، فقد قال لسعد رضي الله عنه: " أو تقعد فتسمع؟ فإن رضيت أمرا ورغبت فيه قبلته، وإن كرهته عزلنا عنك ما تكره " (2).

 

‌‌خامساً: الرد على الشبه بما يناسبها:

لقد كان مصعب بن عمير رضي الله عنه يواجه الشبه بكل قوة ، ولم يتوانَ ولم يتردد في الرد عليها ، ففي ذلك اليوم الذي رجع فيه إلى مكة ذهب إلى الرسول صلى الله عليه وسلم ، ثم جاء إلى أمه فقالت له: " إنك لعلى ما أنت عليه من الصَّبْأَةِ بعدُ! قال: أنا على دين رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الإسلام الذي رضي الله لنفسه ولرسوله " (3) ، فأرادت أمه من هذه الشبهة أن تُلبِّس على ابنها وتصده عن الدين الإسلامي ، فرد مصعبٌ رضي الله عنه

--------------------------------------------

(1) ابن هشام: السيرة النبوية ، 1/ 435.

(2) المصدر السابق.

(3) ابن سعد: الطبقات الكبرى ، 3/ 88.
‌চতুর্থ: স্পষ্টতা ও প্রাঞ্জলতা (البيان):

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসআব ইবনে উমাইর (রা.) অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাষী (فصيح اللسان) ছিলেন এবং এটি ছিল তৎকালীন আরবে প্রচলিত স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তাঁর বর্ণনার (بيان) ক্ষেত্রে তিনি দলীল নির্বাচনে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিলেন। পূর্বোক্ত আয়াতের মাধ্যমে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, মুসআব ইবনে উমাইর (রা.) সেই দলীলটিই নির্বাচন করেছিলেন; কারণ তিনি আরবদের ভাষাগত প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) গভীরতা এবং রাজায, কবিতা ও গদ্যের মাধ্যমে আরবি ভাষার প্রতি তাদের অনুরাগের বিষয়টি জানতেন, যা নিয়ে গোত্রগুলো গর্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করত। তাই তিনি তাদের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দলীল পেশ করেছিলেন, যাতে তাঁর আনীত বার্তার শক্তি ও দৃঢ়তা প্রকাশ পায়।

তিনি (রা.) কথা বলার ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখতেন এবং বর্ণনা (بيان) ও স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন ছাড়া কথা দীর্ঘ করতেন না, যেমনটি তিনি সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.)-এর সাথে করেছিলেন যখন তিনি তাঁর কাছে ইসলাম পেশ করেন (১)। এছাড়া তিনি বিতর্ক করতেন না এবং কথায় অনর্থক শব্দ (حشو) বৃদ্ধি করতেন না। তিনি সাদ (রা.)-কে বলেছিলেন: "আপনি কি একটু বসে শুনবেন? যদি আপনি বিষয়টি পছন্দ করেন এবং তা গ্রহণ করতে আগ্রহী হন, তবে আপনি তা গ্রহণ করবেন। আর যদি তা অপছন্দ করেন, তবে আমরা আপনার নিকট থেকে আপনার অপছন্দনীয় বিষয়টিকে দূরে সরিয়ে রাখব" (২)।

 

‌‌পঞ্চম: উপযুক্তভাবে সংশয়ের (شبه) নিরসন:

মুসআব ইবনে উমাইর (রা.) অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সংশয়গুলোর (شبه) মোকাবিলা করতেন এবং এর জবাবে বিন্দুমাত্র অলসতা বা দ্বিধা বোধ করতেন না। যেদিন তিনি মক্কায় প্রত্যাবর্তন করলেন, সেদিন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট গেলেন। এরপর তিনি তাঁর মায়ের কাছে আসলে তিনি তাঁকে বললেন: "তুমি কি এখনও সেই পৈতৃক ধর্মত্যাগের (الصبأة) ওপরই অটল আছ!" তিনি বললেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দ্বীনের ওপর অটল আছি এবং তা হলো ইসলাম, যা আল্লাহ তাঁর নিজের জন্য ও তাঁর রাসূলের জন্য মনোনীত করেছেন" (৩)। তাঁর মা এই সংশয়ের (شبهة) মাধ্যমে তাঁর পুত্রকে বিভ্রান্ত করতে এবং ইসলাম থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মুসআব (রা.) এর প্রত্যুত্তর দিলেন...

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিশাম: আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ১/ ৪৩৫।

(২) পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) ইবনে সাদ: আত-তাবাকাত আল-কুবরা, ৩/ ৮৮।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
مباشرةً وبكل قوة وثبات، فلم يكتفِ ويقول: أنا على دين رسول الله صلى الله عليه وسلم فحسب ، بل قال: الإسلام ، ثم زاد وقال: الذي رضي الله لنفسه ولرسوله ، وهذا من أعظم ما يدل على قوته وجرأته في الرد على الشبه وتفنيدها.
সরাসরি এবং পূর্ণ শক্তি ও অটলতার সাথে; তিনি কেবল এটুকু বলেই ক্ষান্ত হননি যে: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বীনের ওপর রয়েছি", বরং তিনি বললেন: "ইসলাম"। এরপর তিনি আরও যোগ করে বললেন: "যা আল্লাহ তাঁর নিজের জন্য এবং তাঁর রাসূলের জন্য পছন্দ করেছেন।" আর এটি সংশয়সমূহ নিরসন এবং তা খণ্ডন করার ক্ষেত্রে তাঁর শক্তি ও সাহসিকতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الفصل الثالث: آداب الحوار اللفظية عند مصعب بن عمير رضي الله عنه -:

إن الآداب اللفظية ينبغي أن تتوافر في المحاور؛ ليضمن سلامة الحوار وسيره باتزان ، ويضفي عليه الهدوء والاطمئنان ، فيقوده ذلك إلى تحقيق الأهداف بكل يسر وسهولة.

وقد توافرت آداب لفظية في حوارات مصعب بن عمير رضي الله عنه ، استطاع من خلالها أن يحقق ما يصبو إليه ، وهي كما يأتي (1):

أولاً: الكلمة الطيبة والعبارة المناسبة.

ثانياً: حسن العتاب.

ثالثاً: التذكير والوعظ.

رابعاً: أدب السؤال.

خامساً: الإعراض اللفظي.

سادساً: البعد عن التعميم (2).

فهذه الآداب اللفظية لها شأنها ومكانتها في الحوار ، فنبيّن كل واحدة منها على حدة ، ونشاهد مصعب بن عمير رضي الله عنه أنموذجاً تطبيقياً لها من خلال ما يأتي:

--------------------------------------------

(1) يحيى بن محمد زمزمي: الحوار آدابه وضوابطه في ضوء الكتاب والسنة ، ص 427.

(2) سعد عبدالله عاشور: ضوابط الحوار مع الآخر ، ص 101.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুসআব ইবন উমায়ের (রা.)-এর কথোপকথনের শাব্দিক শিষ্টাচার-:

একজন সংলাপকারীর মধ্যে শাব্দিক শিষ্টাচার বিদ্যমান থাকা বাঞ্ছনীয়; যাতে সংলাপে সুস্থতা ও ভারসাম্যপূর্ণ গতি নিশ্চিত হয় এবং এর মাধ্যমে সংলাপে প্রশান্তি ও স্থৈর্য সঞ্চার করা যায়, যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে পরিচালিত করে।

মুসআব ইবন উমায়ের (রা.)-এর সংলাপসমূহে এমন শাব্দিক শিষ্টাচার বিদ্যমান ছিল, যার মাধ্যমে তিনি তার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। সেগুলো নিম্নরূপ (১):

প্রথমত: উত্তম বাক্য ও যথাযথ অভিব্যক্তি।

দ্বিতীয়ত: সুন্দর অনুযোগ।

তৃতীয়ত: স্মরণ করানো ও উপদেশ প্রদান।

চতুর্থত: প্রশ্নের শিষ্টাচার।

পঞ্চমত: শাব্দিক উপেক্ষা।

ষষ্ঠত: ঢালাও সাধারণীকরণ পরিহার (২)।

সংলাপে এই শাব্দিক শিষ্টাচারসমূহের গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম। আমরা এগুলোর প্রত্যেকটি পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করব এবং নিম্নোক্ত আলোচনার মাধ্যমে মুসআব ইবন উমায়ের (রা.)-কে এগুলোর একটি প্রায়োগিক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রত্যক্ষ করব:

--------------------------------------------

(১) ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মাদ যামযামি: আল-হিওয়ার আদাবুহু ওয়া দাওয়াবিতুহু ফি দাউইল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা ৪২৭।

(২) সা’দ আব্দুল্লাহ আশুর: দাওয়াবিতুল হিওয়ার মাআল আখার, পৃষ্ঠা ১০১।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌أولاً: الكلمة الطيبة والعبارة المناسبة:

إذا تتبع القارئ حوارات مصعب بن عمير رضي الله عنه ، يجد حرصه على الكلمة الطيبة ، وانتقاء العبارات المناسبة ، رغم الذي يلاقيه من فحش القول. فعندما كان في المدينة ومعه أسعد بن زرارة رضي الله عنه ، جاءهما أسيد بن حضير رضي الله عنه " فوقف عليهما متشتّما، قال: ما جاء بكما إلينا تسفّهان ضعفاءنا؟ اعتزلانا إن كانت لكما بأنفسكما حاجة، فقال له مصعب: أو تجلس فتسمع " (1) ، فهذا أسيد بن حضير رضي الله عنه ، وقف على مصعب بن عمير رضي الله عنه يشتمه ويهدده ، فما قابل ذلك مصعبٌ رضي الله عنه إلا بكلمةٍ طيبةٍ وبأسلوبٍ حسنٍ ، فطلب منه الجلوس ليسمع منه ، وترفع عن الكلام الفاحش؛ لأنه يعلم أنه طريق لقطع الحوار.

ومع أمه لم يسمع منها إلا ألفاظاً سيئةً وأفعالاً مشينة ، ولكنه استمر على خلقه الراقي ، وطيبة نفسه ، فلاطف أمه واختار أفضل العبارات وأحسنها ، فكان مما دار بينهما " إنك لعلى ما أنت عليه من الصَّبْأَةِ بعدُ! … فأرادت حبسه، … فقال مصعب رضي الله عنه: يا أماه إني لكِ ناصحٌ عليك شفيقٌ " (2) ، فهذه الكلمة الطيبة والعبارات الرنانة لها وزنها ووقعها في القلب ، ولا بد أن يجني مصعبٌ رضي الله عنه من ورائها ثمرة.

 

‌‌ثانياً: حسن العتاب:

فكما يحرص المحاور على الكلمة الطيبة فهو كذلك يستعمل العتاب أحياناً ولا يكثر منه ، ويفضل استعمال العتاب في الحوارات الفردية ، كأن يكون بين الزوجين أو بين صديقين أو نحوهما ، وإلا تحول العتاب إلى توبيخ.

--------------------------------------------

(1) ابن هشام: السيرة النبوية ، 1/ 435.

(2) ابن سعد: الطبقات الكبرى ، 3/ 88.
‌‌প্রথমত: উত্তম কথা ও যথাযথ শব্দচয়ন:

পাঠক যদি মুসআব ইবন উমায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথোপকথনগুলো পর্যালোচনা করেন, তবে তিনি দেখতে পাবেন যে, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ কথা সহ্য করা সত্ত্বেও তিনি সর্বদা উত্তম কথা বলা এবং যথাযথ শব্দ চয়নের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। যখন তিনি মদিনায় ছিলেন এবং তাঁর সাথে আসআদ ইবন যুরারাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উপস্থিত ছিলেন, তখন উসাইদ ইবন হুদাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁদের নিকট আসলেন। "তিনি গালিগালাজ করতে করতে তাঁদের সামনে এসে দাঁড়ালেন এবং বললেন: তোমরা আমাদের এখানে কেন এসেছ? আমাদের দুর্বল লোকদের বোকা বানাচ্ছ? যদি তোমাদের নিজেদের প্রাণের মায়া থাকে তবে আমাদের থেকে দূরে থাকো। মুসআব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: আপনি কি একটু বসবেন এবং কথা শুনবেন?" (১)। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, উসাইদ ইবন হুদাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মুসআব ইবন উমায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে গালি দিচ্ছিলেন এবং হুমকি দিচ্ছিলেন, কিন্তু মুসআব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার বিপরীতে কেবল উত্তম কথা এবং সুন্দর আচরণের মাধ্যমেই সাড়া দিলেন। তিনি তাঁকে বসার এবং কথা শোনার অনুরোধ করলেন এবং অশালীন কথা বলা থেকে বিরত থাকলেন; কারণ তিনি জানতেন যে, এটি সংলাপের পথ রুদ্ধ করে দেওয়ার একটি মাধ্যম।

এমনকি নিজের মায়ের কাছ থেকেও তিনি কেবল মন্দ কথা এবং অশোভন আচরণই পেয়েছেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর উন্নত চরিত্র ও মনের উদারতা বজায় রেখেছেন। তিনি মায়ের সাথে নম্র ব্যবহার করেছেন এবং সর্বোত্তম ও সুন্দরতম শব্দ চয়ন করেছেন। তাঁদের মধ্যে সংঘটিত আলোচনার একাংশ ছিল এমন— "তুমি কি এখনও তোমার সেই পৈতৃক ধর্মত্যাগের (الصَّبْأَةِ) ওপর অটল আছ! … অতঃপর তিনি তাঁকে বন্দি করতে চাইলেন, … তখন মুসআব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে প্রিয় মা! আমি আপনার জন্য একজন হিতাকাঙ্ক্ষী ও সহমর্মী" (২)। এই যে কোমল কথা এবং হৃদয়গ্রাহী শব্দাবলি, এর একটি বিশেষ গুরুত্ব ও অন্তরের ওপর প্রভাব রয়েছে। মুসআব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে অবশ্যই এর সুফল লাভ করতে হতো।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: সুন্দর অনুযোগ:

একজন আলোচক যেভাবে সুন্দর কথা বলার ব্যাপারে আগ্রহী হন, তেমনিভাবে তিনি মাঝে মাঝে অনুযোগও করেন, তবে তিনি এতে বাড়াবাড়ি করেন না। ব্যক্তিগত পর্যায়ের আলোচনায় অনুযোগ করাকে অধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যেমন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিংবা দুই বন্ধুর মধ্যে বা এই জাতীয় ক্ষেত্রে; অন্যথায় সেই অনুযোগ কঠোর তিরস্কারে (توبيخ) রূপান্তরিত হতে পারে।

--------------------------------------------

(১) ইবন হিশাম: আস-সিরাহ আন-নববিয়্যাহ, ১/ ৪৩৫।

(২) ইবন সা'দ: আত-তাবাকাত আল-কুবরা, ৩/ ৮৮।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ২০)
فقد استعمل مصعب بن عمير رضي الله عنه العتاب في حواره مع أمه ، وإنما كان ذلك بأسلوبٍ لطيف ، بعد تهديد أمه له بالسجن والتعذيب ، ثم كان ذلك في حوارٍ فردي ، إذ قال لها: "لئن أنتِ حبستَنِي لأحرصن على قتل من يتعرض لي ، قالت: فاذهب لشأنك" (1) ، فهي أرادت حبسه كخطأ تكرر منها سابقاً ، ثم عاتبها بتلك الألفاظ ، فاستطاع رضي الله عنه تعديل ذلك الخطأ ، فقد تركته أمه ولم تتعرض له.

 

‌‌ثالثاً: التذكير والوعظ:

كان مصعبٌ رضي الله عنه يهتم بالوعظ والتذكير ، ويغتنم الفرص السانحة، والتي يتوقع فيها أن للوعظ أو التذكير أثراً في محاوره ، فعندما أرادت أمه صده عن الدين ، استعملت معه شتى الوسائل ، ولم تستطع إلى ذلك سبيلا ، " فجعلت تبكي ، فقال مصعب رضي الله عنه: يا أماه إني لكِ ناصحٌ عليك شفيقٌ ، فاشهدي أنه لا إله إلا الله وأن محمدًا عبده ورسوله ، قالت: والثوَاقِبِ (2) لا أدخل في دينك فيُزرى برأيي ، ويضعَّفَ عقلي " (3) ، فبكاء أمه كان مسلكاً للوعظ والتذكير ، فاغتنم ذلك مصعبٌ رضي الله عنه وذَكَّرها بالحق ووعظها بالدخول في الإسلام ، وإن لم يصل إلى ما يريد ، ولكنه أقام عليها الحجة ، وسَلِم مما كانت تريده من سجنٍ وتعذيب.

 

‌‌رابعاً: أدب السؤال:

يلزم المحاور الناجح التأدب في طرح السؤال ، وذلك في اختيار السؤال المناسب في الوقت المناسب ، مع مراعاة اختيار الألفاظ الحسنة ، ونبرة الصوت

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ، 3/ 88.

(2) الشهب المضيئة. الرازي: مختار الصحاح ، ص49.

(3) ابن سعد: الطبقات الكبرى ، 3/ 88.
মুসআব ইবনে উমায়ের (রা.) তাঁর মায়ের সাথে কথোপকথনে অনুযোগ প্রয়োগ করেছিলেন, তবে তা ছিল কোমল পদ্ধতিতে। এটি হয়েছিল তাঁর মা তাঁকে বন্দী করার ও নির্যাতনের হুমকি দেওয়ার পর। এরপর এটি ছিল ব্যক্তিগত কথোপকথনের অংশ, যেখানে তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "আপনি যদি আমাকে বন্দী করেন, তবে যারা আমার পথে বাধা দেবে আমি তাদের হত্যা করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব। মা বললেন: তবে তুমি তোমার পথে যাও।" (১) তাঁর মা পূর্বের পুনরাবৃত্তিমূলক ভুলের ন্যায় তাঁকে বন্দী করতে চেয়েছিলেন, তারপর তিনি এই শব্দগুলোর মাধ্যমে তাঁকে অনুযোগ করেছিলেন। ফলে তিনি (রা.) সেই ভুল সংশোধন করতে সক্ষম হন; তাঁর মা তাঁকে ছেড়ে দিলেন এবং কোনো বাধা দিলেন না।

 

‌‌তৃতীয়ত: স্মরণ করানো ও উপদেশ প্রদান:

মুসআব (রা.) উপদেশ প্রদান ও স্মারক আলোচনার প্রতি গুরুত্ব দিতেন এবং যথোপযুক্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করতেন, যেখানে তিনি আশা করতেন যে উপদেশ বা স্মারক আলোচনার প্রভাব তাঁর কথোপকথনকারীর ওপর পড়বে। যখন তাঁর মা তাঁকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে নিতে চাইলেন এবং বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করেও ব্যর্থ হলেন, তখন "মা কাঁদতে লাগলেন; মুসআব (রা.) বললেন: হে আম্মা! আমি আপনার কল্যাণকামী ও আপনার প্রতি দয়াপরবেশ, সুতরাং আপনি সাক্ষ্য দিন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। মা বললেন: উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির (الثواقب) শপথ! (২) আমি তোমার ধর্মে প্রবেশ করব না, অন্যথায় আমার বিচারবুদ্ধিকে তুচ্ছজ্ঞান করা হবে এবং আমার জ্ঞানকে দুর্বল (ضعيف) মনে করা হবে।" (৩) মায়ের ক্রন্দন ছিল উপদেশ ও স্মারক আলোচনার একটি পথ, মুসআব (রা.) সেই সুযোগ গ্রহণ করেন এবং তাঁকে সত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন ও ইসলামে প্রবেশের উপদেশ দেন। যদিও তিনি যা চেয়েছিলেন তা অর্জিত হয়নি, তবে তিনি তাঁর ওপর প্রমাণ (حجة) পেশ করেছিলেন এবং তাঁর মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী বন্দী হওয়া ও নির্যাতন থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

 

‌‌চতুর্থত: প্রশ্নের আদব:

একজন সফল আলোচকের জন্য প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে শিষ্টাচার বজায় রাখা আবশ্যক। আর তা হলো সঠিক সময়ে সঠিক প্রশ্ন নির্বাচন করা, সেই সাথে উত্তম শব্দ চয়ন ও কণ্ঠস্বরের প্রতি লক্ষ্য রাখা...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, ৩/ ৮৮।

(২) উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি। রাজি: মুখতারুস সিহাহ, পৃ. ৪৯।

(৩) ইবনে সাদ: আল-তাবাকাত আল-কুবরা, ৩/ ৮৮।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ২১)
الهادئة ، وتعبيرات الوجه الطلقة ، فالتزم مصعب بن عمير رضي الله عنه الأدب في السؤال مع أسيد بن حضير رضي الله عنه ، رغم الذي لاقاه من شتم وتهديد ، فاختار له من ألطف الأسئلة إذ قال له: " أوَ تجلسُ فتسمعُ؟ " (1) ، فكان أدباً لطيفاً يطلب منه الجلوس ليسمعه ما يريد ، فلم يتمالك أسيد رضي الله عنه أمام هذا الأدب الجم إلا أن استجاب له وجلس ليستمع لما يقوله ، مما يبين أهمية هذا الأدب وضرورة الالتزام به في أثناء الحوار.

 

‌‌خامساً: الإعراض اللفظي:

إن الإعراض قد يكون بالجسد أو بالعين أو بالوجه أو باللفظ ، ويستعمل المحاور هذا الأدب ، حين لا يُجدي الحوار ، ولا يُغني العتاب ، ويكون ذلك عند كثرة أخطاء الخصم وإصراره ، أو ارتكابه خطأً فادحاً قد يتضرر به المحاور.

ومصعب بن عمير رضي الله عنه أعرض عن أخيه أبي عزيز ، وذلك مقابل تأييده ووقوفه مع أمه عليه ، فعندما وقعت غزوة بدر وانتصر المسلمون ، وكان من بين الأسرى " أبو عزيز بن عمير، أسره أبو اليسر ، ثم اُقْتُرِعَ عليه فصار لمُحرِزِ بن نضلة، وأبو عزيز أخو مصعب بن عمير لأمه وأبيه. فقال مصعب لمُحْرِزٍ: اُشدُدْ يديك به، فإن له أُمّا بمكة كثيرة المال. فقال له أبو عزيز: هذه وصاتُك بي يا أخي؟ فقال مصعب: إنه أخي دونك! فبَعَثَتْ أُمّهُ فيه بأربعةِ آلافٍ، وذلك بعد أن سألت أغلى ما تُفَادِي به قريش، فقيل لها أربعةُ آلافٍ" (2) ، فكان أبو عزيز يكلم أخاه مصعباً رضي الله عنه فلا يجيبه ، فيعرض عنه مصعب بن عمير رضي الله عنه لفظاً ويجعل كلامه إلى محرزٍ رضي الله عنه ، وما ذاك إلا من شنيع ما لاقاه مصعبٌ رضي الله عنه منه ، ولما يعرف من عداوة أخيه له.

--------------------------------------------

(1) ابن هشام: السيرة النبوية ، 1/ 435.

(2) الواقدي: المغازي ، 1/ 144.
শান্ত মেজাজ এবং হাসোজ্জ্বল মুখচ্ছবি নিয়ে মুসআব ইবন উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু উসাইদ ইবন হুদাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে শিষ্টাচার বজায় রাখেন, যদিও তাকে গালিগালাজ ও হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত কোমলভাবে তাকে প্রশ্ন করেন: "আপনি কি বসে কিছু শুনবেন?" (১)। এটি ছিল এক চমৎকার শিষ্টাচার, যেখানে তিনি তাকে বসার এবং কথা শোনার অনুরোধ করেছিলেন। এই মহান শিষ্টাচারের সামনে উসাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি এবং তার কথা শোনার জন্য বসে পড়েন। এটি আলোচনার সময় শিষ্টাচার বজায় রাখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

 

‌‌পঞ্চম: বাচনিক উপেক্ষা:

নিশ্চয় উপেক্ষা বা বিমুখতা শারীরিক, দৃষ্টির মাধ্যমে, চেহারার মাধ্যমে অথবা বাচনিক হতে পারে। একজন আলোচক এই শিষ্টাচার তখনই প্রয়োগ করেন যখন আলোচনা আর ফলপ্রসূ হয় না এবং অনুযোগ কোনো কাজে আসে না। এটি তখন ঘটে যখন প্রতিপক্ষের ভুলের মাত্রা বেড়ে যায় এবং সে তাতে অবিচল থাকে, অথবা সে এমন কোনো মারাত্মক ভুল করে যাতে আলোচক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

মুসআব ইবন উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর ভাই আবু আজিজ থেকে বিমুখতা প্রদর্শন করেছিলেন, কারণ আবু আজিজ তাঁর মায়ের পক্ষ নিয়ে মুসআবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যখন বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হলো এবং মুসলিমরা বিজয় লাভ করলেন, বন্দীদের মধ্যে "আবু আজিজ ইবন উমাইরও ছিলেন। আবু আল-ইয়াসার তাকে বন্দী করেন, এরপর লটারির মাধ্যমে তিনি মুহরিজ ইবন নাদলাহ-এর ভাগে পড়েন। আবু আজিজ ছিলেন মুসআব ইবন উমাইরের সহোদর ভাই। তখন মুসআব মুহরিজকে বললেন: তাকে শক্ত করে বাঁধো, কারণ মক্কায় তার মা অনেক ধন-সম্পদের মালিক। আবু আজিজ তাকে বললেন: হে ভাই, এটাই কি আমার ব্যাপারে তোমার উপদেশ? মুসআব বললেন: তোমাকে ছেড়ে এই ব্যক্তিই (মুহরিজ) এখন আমার ভাই! পরবর্তীতে তাঁর মা চার হাজার দিরহাম মুক্তিপণ পাঠিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেন; কুরাইশদের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ মুক্তিপণের হার সম্পর্কে জিজ্ঞাসার পর তাকে জানানো হয়েছিল যে এটি চার হাজার দিরহাম" (২)। আবু আজিজ তাঁর ভাই মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে কথা বলতেন, কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দিতেন না। মুসআব ইবন উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু মৌখিকভাবে তাকে উপেক্ষা করতেন এবং মুহরিজ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে কথা বলতেন। এটি ছিল মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর থেকে যে চরম কষ্ট পেয়েছিলেন এবং তাঁর ভাইয়ের শত্রুতা সম্পর্কে অবগত থাকার কারণেই।

--------------------------------------------

(১) ইবন হিশাম: আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ১/ ৪৩৫।

(২) আল-ওয়াকিদি: আল-মাগাজি, ১/ ১৪৪।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌سادساً: البعد عن التعميم:

لقد كان مصعب بن عمير رضي الله عنه في حواره مع أمه ، ورغم محاولاته الجادة في إسلامها ، إلا أنها أبت ، بل أرادت حبسه والتضييق عليه ، فقال رضي الله عنه: " لئن أنتِ حبستِنِي لأحرصن على قتل من يتعرض لي " (1) ، فلم يعمم رضي الله عنه على قومه كلهم ، بل حدد في ذلك من يتعرض له ، إذ إن من الإنصاف أن تكون العقوبة والجزاء على المخطئ ، كما أن للمحسن الإحسان ، ومن التعدي والظلم تعميم الخطأ، وإنزاله على أناس لم يكن لهم في ذلك مشاركة ولا تأييد ، فلعل أمه اقتنعت بحسن أدب ابنها وإنصافه في حواره؛ لذلك قالت له: " فاذهب لشأنك " (2) ، وفي ذلك يقول المصطفى صلى الله عليه وسلم «إن أعظم الناس فرية لرجل هاجى رجلاً فهجا القبيلة بأسرها» (3) ، فهذا من تمام العدل الذي أمر الله به وحث عليه ، إذ كيف يخطئ فرد من الأفراد فيؤاخذ بخطئه مجتمع كامل.

--------------------------------------------

(1) ابن سعد: الطبقات الكبرى ، 3/ 88.

(2) المصدر السابق ، 3/ 88.

(3) ابن ماجه: سنن ابن ماجه ، كتاب الآداب ، باب ما كره من الشعِر ، 2/ 1237 ، رقم 3761. وصححه الألباني في السلسلة الصحيحة ، مكتبة المعارف ، الرياض ، ط1 ، 1415هـ ، 2/ 390 ، رقم 763.
ষষ্ঠত: সাধারণীকরণ পরিহার করা:

মুসয়াব ইবনে উমায়ের (রা.) তাঁর মায়ের সাথে আলোচনার সময় তাঁর ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি তা অস্বীকার করেন। বরং তিনি তাঁকে বন্দি ও তাঁর ওপর কঠোরতা আরোপ করতে চেয়েছিলেন। তখন তিনি (রা.) বললেন: "আপনি যদি আমাকে বন্দি করেন, তবে আমার ক্ষতি করতে চায় এমন ব্যক্তিকে হত্যা করতে আমি নিশ্চয়ই সচেষ্ট হব।" (১), সুতরাং তিনি (রা.) তাঁর সকল সম্প্রদায়ের ওপর বিষয়টিকে সাধারণীকরণ করেননি, বরং কেবল তাদেরই নির্দিষ্ট করেছেন যারা তাঁর ক্ষতি করতে চায়। কারণ ইনসাফ বা ন্যায়বিচার হলো কেবল অপরাধীকে তার অপরাধের শাস্তি ও প্রতিফল প্রদান করা, যেমন সদাচারী ব্যক্তির পাওনা হলো সদাচার। আর ভুলের সাধারণীকরণ করা এবং তা এমন লোকেদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাদের এতে কোনো অংশগ্রহণ বা সমর্থন ছিল না, তা সীমালঙ্ঘন ও জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। সম্ভবত তাঁর মা তাঁর ছেলের উত্তম শিষ্টাচার এবং সংলাপে ইনসাফের বিষয়ে আশ্বস্ত হয়েছিলেন; তাই তিনি তাকে বলেছিলেন: "তাহলে তুমি তোমার পথে যাও।" (২), এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় অপবাদকারী সেই ব্যক্তি, যে কোনো এক ব্যক্তির নিন্দা করতে গিয়ে পুরো গোত্রকে নিন্দা করে» (৩)। এটি সেই পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচারের অংশ যা আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন এবং উৎসাহিত করেছেন। কেননা কীভাবে কোনো একজন ব্যক্তি ভুল করলে তার অপরাধের জন্য একটি পুরো সমাজকে দায়ী করা যেতে পারে?

--------------------------------------------

(১) ইবনে সাদ: আত-তবাকাতুল কুবরা, ৩/৮৮।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, ৩/৮৮।

(৩) ইবনে মাজাহ: সুনান ইবনে মাজাহ, কিতাবুল আদাব, পরিচ্ছেদ: কবিতা থেকে যা অপছন্দ করা হয়েছে, ২/১২৩৭, নং ৩৭৬১। আলবানী এটিকে সিলসিলাতুস সহিহাহ-তে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন, মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ, ১ম প্রকাশ, ১৪১৫ হিজরি, ২/৩৯০, নং ৭৬৩।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفصل الرابع: الآثار التربوية للحوار من خلال سيرة مصعب بن عمير رضي الله عنه -:

في حياة مصعب بن عمير رضي الله عنه ، ظهرت آثار تربويةٌ كانت نتيجةً لتلك الجهود التي قام بها ، وذلك من خلال حواراته المختلفة والتي كانت ناجحة ومثمرة ، وما ذاك إلا لالتزامه وإتقانه لآداب الحوار المختلفة ، فهي كما يأتي (1):

 

‌‌أولاً: ظهور العلم.

ثانياً: تمييز الحق من الباطل.

ثالثاً: كف عدوان المبطلين والمعاندين.

رابعاً: توحيد الصفوف وجمع الكلمة.

خامساً: الثواب والأجر من الله سبحانه.

فهذه من الآثار التي يجنيها المحاور الناجح ، وقد ظفر بها مصعب بن عمير رضي الله عنه في حياته ، وهي كما يأتي:

أولاً: ظهور العلم:

في حوارات مصعب بن عمير رضي الله عنه ظهر العلم في المدينة حتى دخل أكثر دُورها ، فعندما نجح في حواره مع أسيد بن حضير ، وسعد بن معاذ رضي الله عنهم وأسلما ،

--------------------------------------------

(1) ينظر: الموصلي ، فتحي بن عبدالله: فقه الحوار مع المخالف في السنة النبوية ، الدار الأثرية ، عمّان ، ط1 ، 1428 هـ ، ص204 - 208.
চতুর্থ অধ্যায়: মুসআব ইবনে উমাইর (রা.)-এর জীবনী থেকে সংলাপের শিক্ষামূলক প্রভাবসমূহ-:

মুসআব ইবনে উমাইর (রা.)-এর জীবনে এমন কিছু শিক্ষামূলক প্রভাব প্রকাশ পেয়েছিল যা ছিল তাঁর পরিচালিত প্রচেষ্টার ফলাফল। এটি তাঁর বিভিন্ন সংলাপের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল, যা ছিল সফল ও ফলপ্রসূ। আর এটি সম্ভব হয়েছিল কেবল বিভিন্ন সংলাপ শিষ্টাচারের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও পারদর্শিতার কারণে; যা নিম্নরূপ (১):

 

প্রথমত: ইলমের (العلم) বহিঃপ্রকাশ।

দ্বিতীয়ত: সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ।

তৃতীয়ত: বাতিলপন্থীদের ও একগুঁয়েদের শত্রুতা দমন করা।

চতুর্থত: কাতারসমূহ ঐক্যবদ্ধ করা এবং সংহতি স্থাপন করা।

পঞ্চমত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট থেকে সওয়াব ও প্রতিদান লাভ।

এগুলো হলো সেই সব প্রভাব যা একজন সফল সংলাপকারী অর্জন করেন এবং মুসআব ইবনে উমাইর (রা.) তাঁর জীবনে এগুলো লাভ করেছিলেন; যা নিম্নরূপ:

প্রথমত: ইলমের (العلم) বহিঃপ্রকাশ:

মুসআব ইবনে উমাইর (রা.)-এর সংলাপগুলোর মাধ্যমে মদিনায় ইলম (العلم) এমনভাবে বিকশিত হয়েছিল যে তা মদিনার অধিকাংশ ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল। যখন তিনি উসাইদ ইবন হুদাইর এবং সাদ ইবন মুয়ায (রা.)-এর সাথে সংলাপে সফল হন এবং তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন,

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-মাউসিলি, ফাতহি বিন আব্দুল্লাহ: ফিকহুল হিওয়ার মা'আল মুখালিফ ফিস সুন্নাতিন নববিয়্যাহ, আদ-দারুল আসারিয়্যাহ, আম্মান, ১ম সংস্করণ, ১৪২৮ হিজরি, পৃ. ২০৪ - ২০৮।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
بدأوا في إظهار هذا الدين ونشره في المدينة وتعليم الناس أمور دينهم ،" قال ابن إسحاق: ورجع سعد ومصعب إلى منزل أسعد بن زرارة، فأقاما عنده يدعوان الناس إلى الإسلام حتى لم تبق دار من دور الأنصار إلا وفيها رجال ونساء مسلمون ومسلمات … " (1) ، فهذا أثرٌ عظيم في ظهور العلم ، بل وتجد في ذلك سرعةً وإقبالاً من الناس في حين ظهور الحق ، فعندما رجع مصعب بن عمير رضي الله عنه إلى مكة ذهب إلى النبي صلى الله عليه وسلم وأخبره بأمر الأنصار وسرعتهم في دخول الإسلام فسُرَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم بكل ما أخبره (2).

 

‌‌ثانياً: تمييز الحق من الباطل:

استطاع مصعب بن عمير رضي الله عنه أن يميّز بنفسه الحق من الباطل ، فترك دين آبائه ودخل الدين الإسلامي معلناً إسلامه ، ثم في حواراته المنهجية استطاع أن يبيِّن للطرف الآخر الحق ، وأن يجعله يميز الحق من الباطل الذي كان عليه ، فعندما جاءه أسيد بن حضير رضي الله عنه أخذ يكلمه عن الإسلام ، ويعلمه شيئاً من تعاليمه السمحة ، وقرأ عليه من القرآن ، فعرف بذلك أسيد بن حضير رضي الله عنه الحق ، فأشرق وجهه وتهلل ودخل الإسلام ، وكذا فعل مصعب بن عمير رضي الله عنه مع سعد بن معاذ رضي الله عنه فأسلم (3) ، فكان لمعرفتهم الحق أثرٌ كبيرٌ في دحض الباطل وأهله.

 

‌‌ثالثاً: كف عدوان المبطلين والمعاندين:

في حياة مصعب بن عمير رضي الله عنه وعندما أسلم لاقى ألواناً من التعذيب من

--------------------------------------------

(1) ابن هشام: السيرة النبوية ، 1/ 435.

(2) ابن سعد: الطبقات الكبرى ، 3/ 88.

(3) ابن هشام: السيرة النبوية ، 1/ 435.
তারা মদিনায় এই দ্বীন প্রকাশ ও প্রচার এবং মানুষকে তাদের দ্বীনের বিষয়গুলো শিক্ষা দিতে শুরু করেন।" ইবনে ইসহাক বলেন: "সা'দ ও মুসআব আস'আদ বিন যুরারাহর বাড়িতে ফিরে এলেন এবং সেখানে অবস্থান করে মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে থাকলেন। এমনকি আনসারদের এমন কোনো ঘর বাকি ছিল না যেখানে মুসলিম নর-নারী ছিল না … " (১), এটি ইলম বা জ্ঞান প্রকাশের ক্ষেত্রে এক মহান প্রভাব (أثر), বরং সত্য প্রকাশের সময় আপনি এতে মানুষের পক্ষ থেকে দ্রুত সাড়া ও আগ্রহ দেখতে পাবেন। যখন মুসআব বিন উমাইর (রা.) মক্কায় ফিরে এলেন, তিনি নবী (সা.)-এর নিকট গেলেন এবং তাঁকে আনসারদের অবস্থা ও তাদের দ্রুত ইসলাম গ্রহণের খবর দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর দেওয়া প্রতিটি সংবাদে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন (২)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ:

মুসআব বিন উমাইর (রা.) নিজে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হয়েছিলেন, ফলে তিনি তাঁর পিতৃপুরুষের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং প্রকাশ্যে নিজের ইসলাম ঘোষণা করেন। এরপর তাঁর পদ্ধতিগত আলোচনার মাধ্যমে তিনি অপর পক্ষকে সত্য সুস্পষ্ট করে বোঝাতে এবং তাকে সে যে মিথ্যার ওপর ছিল তা থেকে সত্যকে পৃথক করে চিনতে সক্ষম করে তুলতেন। যখন উসাইদ বিন হুদাইর (রা.) তাঁর নিকট এলেন, তিনি তাঁর সাথে ইসলাম সম্পর্কে কথা বলতে শুরু করলেন এবং তাঁকে ইসলামের কিছু সহজ-সরল শিক্ষা দিতে লাগলেন এবং তাঁর সামনে কুরআন তিলাওয়াত করলেন। এর মাধ্যমে উসাইদ বিন হুদাইর (রা.) সত্য চিনতে পারলেন, ফলে তাঁর চেহারা উজ্জ্বল ও প্রফুল্ল হয়ে উঠল এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। একইভাবে মুসআব বিন উমাইর (রা.) সা'দ বিন মুআয (রা.)-এর সাথেও আচরণ করলেন এবং তিনিও ইসলাম গ্রহণ করলেন (৩), ফলে তাদের সত্য উপলব্ধির বিষয়টি মিথ্যা ও মিথ্যাবাদীদের দমনে বিশাল প্রভাব (أثر) ফেলেছিল।

 

‌‌তৃতীয়ত: বাতিলপন্থী ও হঠকারীদের শত্রুতা প্রতিহত করা:

মুসআব বিন উমাইর (রা.)-এর জীবনে যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তিনি বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের সম্মুখীন হন

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিশাম: আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ১/ ৪৩৫।

(২) ইবনে সা'দ: আত-তাবাকাত আল-কুবরা, ৩/ ৮৮।

(৩) ইবনে হিশাম: আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ১/ ৪৩৫।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
أمه وقومه (1) ، حتى هاجر إلى الحبشة (2). فعندما جاء من المدينة إلى مكة أخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم بما جرى مع الأنصار (3) ، ثم ذهب إلى أمه فدار بينهما حوارٌ استطاع فيه رضي الله عنه أن يكف عدوان أمه وقومه ، فكان مما دار بينهما أن قالت له أمه: " إنك لعلى ما أنت عليه من الصَّبْأَةِ بعدُ! قال: أنا على دين رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الإسلام الذي رضي الله لنفسه ولرسوله. قالت: ما شكَرْتَ ما رَثَيْتُكَ (4) ، مرة بأرض الحبشة ومرة بيثرب ، فقال: أفرُّ بديني إن تفتنوني. فأرادت حبسه، فقال: لئن أنتِ حبستَنِي لأحرصن على قتل من يتعرض لي ، قالت: فاذهب لشأنك ، وجعلت تبكي " (5) ، فكانت الثقة والجرأة والأسلوب الحكيم سلاحاً استعمله مصعب بن عمير رضي الله عنه لكف الشر الذي كاد أن ينزل به.

 

‌‌رابعاً: توحيد الصفوف وجمع الكلمة:

ومما يعين على ذلك ، الحوار المنهجي الذي يجعل من المبادئ الإسلامية منهجيته ، وآدابه مسلكاً له إلى تحقيق الهدف؛ لذلك أثمرت حوارات مصعب بن عمير رضي الله عنه مع الأنصار ، فقد توحدت صفوفهم واجتمعت كلمتهم ، بعد أن كانت الحروب والصراعات قائمة بين الأوس والخزرج ، فقد دخلوا الإسلام وأصبحوا إخوةً مجتمعين (6) ، وكان مصعب بن عمير رضي الله عنه يصلي بهم ، وكان يسمى المقرئ

--------------------------------------------

(1) السهيلي: الروض الأنف في شرح السيرة النبوية ، 4/ 52.

(2) ابن اسحاق: سيرة ابن اسحاق ، ص 174.

(3) ابن سعد: الطبقات الكبرى ، 3/ 88.

(4) من رَثَى لَهُ إذا رَقّ وتَوَجَّعَ. ابن منظور: لسان العرب ، 14/ 309.

(5) ابن سعد: الطبقات الكبرى ، 3/ 88.

(6) ابن هشام: السيرة النبوية ، 1/ 435.
তাঁর মা ও তাঁর সম্প্রদায় (১), এমনকি তিনি আবিসিনিয়ায় (২) হিজরত করা পর্যন্ত। অতঃপর যখন তিনি মদিনা থেকে মক্কায় আসলেন, তখন আনসারদের সাথে যা যা ঘটেছিল (৩), সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবহিত করলেন। এরপর তিনি তাঁর মায়ের নিকট গেলেন এবং তাঁদের উভয়ের মাঝে একটি কথোপকথন হলো, যাতে তিনি (রা.) তাঁর মা ও তাঁর সম্প্রদায়ের শত্রুতাকে প্রতিহত করতে সক্ষম হন। তাঁদের কথোপকথনের একটি অংশ ছিল এই যে, তাঁর মা তাঁকে বললেন: "তুমি এখনও তোমার সেই ধর্মত্যাগী অবস্থার ওপরেই আছো! তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনের ওপর রয়েছি, আর তা হলো ইসলাম—যাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের জন্য এবং তাঁর রাসূলের জন্য মনোনীত করেছেন। মা বললেন: আমি তোমার প্রতি যে করুণা (৪) দেখিয়েছিলাম, তুমি তার কৃতজ্ঞতা আদায় করোনি; একবার আবিসিনিয়া ভূখণ্ডে এবং অন্যবার ইয়াসরিবে। তিনি বললেন: তোমরা যদি আমাকে দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করো, তবে আমি আমার দ্বীন নিয়ে পলায়ন করব। অতঃপর তিনি (মা) তাঁকে বন্দি করতে চাইলেন, তখন তিনি বললেন: যদি আপনি আমাকে বন্দি করেন, তবে আমার পথে বাধা দানকারীকে হত্যা করতে আমি অবশ্যই সচেষ্ট হব। মা বললেন: তবে তুমি তোমার কাজে যাও, এবং তিনি কাঁদতে লাগলেন" (৫)। সুতরাং আত্মবিশ্বাস, সাহসিকতা এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ কৌশল ছিল মুসআব ইবন উমায়ের (রা.)-এর ব্যবহৃত হাতিয়ার, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর ওপর আপতিত হতে যাওয়া অনিষ্টকে প্রতিহত করেছিলেন।

 

‌‌চতুর্থ: কাতারবদ্ধ হওয়া ও ঐকমত্য পোষণ করা:

আর এ ক্ষেত্রে যা সহায়ক হয় তা হলো পদ্ধতিগত সংলাপ, যা ইসলামি নীতিমালাকে এর কার্যপদ্ধতি এবং এর শিষ্টাচারকে লক্ষ্য অর্জনের পথ হিসেবে গ্রহণ করে। এজন্যই আনসারদের সাথে মুসআব ইবন উমায়ের (রা.)-এর আলোচনা সফল হয়েছিল; ফলে তাদের কাতারগুলো সুসংহত হয়েছিল এবং তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, অথচ এর আগে আউস ও খাজরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যে যুদ্ধ ও সংঘাত বিদ্যমান ছিল। অতঃপর তারা ইসলামে দীক্ষিত হন এবং সম্মিলিত ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হন (৬)। মুসআব ইবন উমায়ের (রা.) তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন এবং তাঁকে 'আল-মুকরি' (কুরআন শিক্ষক) বলা হতো।

--------------------------------------------

(১) আস-সুহাইলি: আর-রওদুল উনুফ ফি শারহিস সিরাতিন নাবাবিয়্যাহ, ৪/ ৫২।

(২) ইবনে ইসহাক: সিরাতে ইবনে ইসহাক, পৃ. ১৭৪।

(৩) ইবনে সাদ: আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৩/ ৮৮।

(৪) এটি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয় যে কারো প্রতি কোমল হয় এবং ব্যথিত হয়। ইবনে মঞ্জুর: লিসানুল আরব, ১৪/ ৩০৯।

(৫) ইবনে সাদ: আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৩/ ৮৮।

(৬) ইবনে হিশাম: আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/ ৪৩৫।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
بالمدينة (1) ، وبذلك أصبح الأنصار من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم ، وكانوا منطلقاً لغزوات الرسول صلى الله عليه وسلم ، فشع نور الإسلام من المدينة حتى بلغ أقاصي الأرض ، كل ذلك كان توفيقاً من الله وحده ، ثم جهود مصعب بن عمير رضي الله عنه في توحيد صفوفهم واجتماع كلمتهم من خلال حواراته البناءة والهادفة.

 

‌‌خامساً: الثواب والأجر من الله سبحانه:

من أعظم الأعمال التي ينال بها المسلم الثواب ، الدعوة إلى الله؛ لأن من دل على خير كان له أجر من عمل به ، قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إنَّ الدال على الخير كفاعله» (2) ، ومن الدعوة إلى الله أن يستعمل الداعية أسلوب الحوار؛ لأنه من أقوى الأساليب في استمرار الناس على الخير ، فإذا اقتنع الطرف الآخر بما تدعو إليه ، كان تمسكه به متين ، بل سيدعو إلى الحق الذي أتيت به ، وهذا ما حصل مع مصعب بن عمير رضي الله عنه ، فقد أسلم على يده خلق كثير من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم ، ففي حواره مع الأنصار أسلم أسيد بن حضير ، وسعد بن معاذ رضي الله عنهم ، وبإسلامهما أخذوا جميعاً يدعون إلى الله وينشرون الإسلام في المدينة حتى لا يكاد يخلو دار من مسلم (3).

هذا ما يسر الله عليه وأعان ، فما كان فيه من نقص وخطأ فمن نفسي ، وما كان فيه من صواب فمن الله وحده.

وصلى الله وسلم على سيدنا ونبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ، 1/ 434.

(2) الترمذي: سنن الترمذي ،كتاب أبواب العلم ، باب ما جاء الدال على الخير كفاعله ، 5/ 41 ، رقم 2670 ، قال الألباني: حسن صحيح.

(3) ابن هشام: السيرة النبوية ، 1/ 435.
মদিনায় (১), এর মাধ্যমেই আনসারগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত হলেন এবং তাঁরা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধাভিযানের সূচনাস্থল। ফলে মদিনা থেকে ইসলামের নূর বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত পৌঁছে গেল। এই সবকিছুই ছিল একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক, আর তাঁর পরেই ছিল মুসআব ইবনে উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুর গঠনমূলক ও উদ্দেশ্যমূলক সংলাপের মাধ্যমে তাঁদের কাতারগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার ও তাঁদের লক্ষ্যকে সুসংহত করার প্রচেষ্টা।

 

‌‌পঞ্চম: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে সওয়াব ও প্রতিদান:

মুসলিম যে সকল মহান আমলের মাধ্যমে সওয়াব অর্জন করে, তার মধ্যে অন্যতম হলো আল্লাহর দিকে আহ্বান; কারণ যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ প্রদর্শন করে, তার জন্য সেই আমলকারীর সমান প্রতিদান রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই কল্যাণের পথ প্রদর্শনকারী ব্যক্তি তা সম্পাদনকারীর সমতুল্য» (২)। আল্লাহর দিকে আহ্বানের অন্যতম দিক হলো দাঈ কর্তৃক সংলাপের পদ্ধতি ব্যবহার করা; কেননা মানুষকে কল্যাণের ওপর অবিচল রাখার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম শক্তিশালী পদ্ধতি। যখন অপর পক্ষ আপনার দাওয়াতের বিষয়ে আশ্বস্ত হবে, তখন তার সেই সত্যের ওপর অবিচলতা সুদৃঢ় হবে; বরং সে আপনার আনীত সত্যের দিকে মানুষকে আহ্বান করবে। আর এটিই মুসআব ইবনে উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ক্ষেত্রে ঘটেছিল; তাঁর হাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকে অসংখ্য মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আনসারদের সাথে তাঁর সংলাপের ফলে উসাইদ ইবনে হুদাইর এবং সাদ ইবনে মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহুম ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁদের ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা সকলেই আল্লাহর দিকে আহ্বান করতে শুরু করেন এবং মদিনায় ইসলাম প্রচার করতে থাকেন, যার ফলে প্রায় প্রতিটি ঘরই মুসলিমদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে (৩)।

আল্লাহ যা সহজ করে দিয়েছেন এবং সাহায্য করেছেন তা এখানেই সমাপ্ত। এতে যে সকল ত্রুটি ও বিচ্যুতি রয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে, আর যা সঠিক তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে।

আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, ১/ ৪৩৪।

(২) তিরমিজি: সুনান তিরমিজি, কিতাব আবওয়াবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: কল্যাণের পথ প্রদর্শনকারী ব্যক্তি সম্পাদনকারীর সমতুল্য হওয়া প্রসঙ্গে, ৫/ ৪১, হাদিস নং ২৬৭০; আলবানি একে হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) বলেছেন।

(৩) ইবনে হিশাম: আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/ ৪৩৫।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌قائمة المصادر والمراجع

1) الأزدي ، محمد بن الحسن: جمهرة اللغة ،المحقق/رمزي منير بعلبكي ، دار العلم للملايين ، بيروت ، ط1 ، 1987م.

2) الألباني ، محمد ناصر الدين: سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها ، مكتبة المعارف ، الرياض ، ط1 ، 1415هـ.

3) الترمذي ، محمد بن عيسى: سنن الترمذي ، تحقيق وتعليق / أحمد محمد شاكر ، محمد فؤاد عبدالباقي ، إبراهيم عطوة ، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي ، مصر ، ط2 ، 1395هـ.

4) الجرجاني ، علي بن محمد: كتاب التعريفات ، المحقق/ضبطه وصححه جماعة من العلماء بإشراف الناشر ، دار الكتب العلمية ، بيروت ، ط1 ، 1403هـ.

5) الحسيني ، محمد بن محمد: تاج العروس من جواهر القاموس، المحقق/مجموعة من المحققين ، دار الكتب العلمية ، بيروت ، ط1 ، 1428هـ.

6) الرازي ، زين الدين محمد بن أبي بكر: مختار الصحاح ،المحقق/يوسف الشيخ محمد ، المكتبة العصرية ، بيروت ، ط5 ، 1420هـ.

7) زمزمي ، يحيى بن محمد: الحوار آدابه وضوابطه في ضوء الكتاب والسنة ، دار التربية والتراث ، مكة المكرمة ، ط1 ،1414هـ.

8) السعدي ، عبدالرحمن بن ناصر: تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان ، المحقق/عبدالرحمن بن معلا اللويحق ، مؤسسة الرسالة ، بيروت ، ط1 ، 1420هـ.
উৎস ও তথ্যসূত্রের তালিকা

১) আযদি, মুহাম্মদ বিন আল-হাসান: জামহারাতুল লুগাহ, সম্পাদক/রামজি মুনির বা’লাবাকি, দারুল ইলম লিল-মালাঈন, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ।

২) আলবানী, মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন: সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা ওয়া শাইউন মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়ায়িদিহা, মাকতাবাতুল মা’আরিফ, রিয়াদ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৫ হিজরি।

৩) তিরমিজি, মুহাম্মদ বিন ঈসা: সুনান তিরমিজি, তাহকিক ও তা’লিক / আহমদ মুহাম্মদ শাকির, মুহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকি, ইবরাহিম আতওয়াহ, মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি লাইব্রেরি ও প্রিন্টিং কোম্পানি, মিসর, ২য় সংস্করণ, ১৩৯৫ হিজরি।

৪) জুরজানি, আলী বিন মুহাম্মদ: কিতাবুত তারিফাত, সম্পাদক/প্রকাশকের তত্ত্বাবধানে একদল আলেম কর্তৃক বিন্যস্ত ও সংশোধিত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪০৩ হিজরি।

৫) হুসাইনি, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ: তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরিল কামুস, সম্পাদক/একদল গবেষক, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪২৮ হিজরি।

৬) রাজি, জয়নুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর: মুখতারুস সিহাহ, সম্পাদক/ইউসুফ আল-শায়খ মুহাম্মদ, আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ, বৈরুত, ৫ সংস্করণ, ১৪২০ হিজরি।

৭) জামজামি, ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ: আল-হিওয়ার আদাবুহু ওয়া দাওয়াবিতুহু ফি দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস, মক্কা মুকাররমা, ১ম সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরি।

৮) সাদি, আবদুর রহমান বিন নাসির: তাইসিরুল কারিমির রহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, সম্পাদক/আবদুর রহমান বিন মুআল্লা আল-লুওয়াইহিক, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪২০ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
9) السمهودي ، علي بن عبدالله: وفاء الوفاء بأخبار دار المصطفى ، دار الكتب العلمية ، بيروت ، ط1 ، 1419هـ.

10) السهيلي ، عبدالرحمن بن عبدالله: الروض الأنف في شرح السيرة النبوية ، تحقيق / عمر عبدالسلام السلامي ، دار إحياء التراث العربي ، بيروت ، ط1 ، 1421هـ.

11) عاشور ، سعد عبدالله: ضوابط الحوار مع الآخر ، مجلة الجامعة الإسلامية - غزة - فلسطين ، سلسلة الدراسات الإسلامية ، المجلد السادس عشر ، العدد الأول ، يناير 2008 ، ص 96.

12) الفيروز آبادي ، محمد بن يعقوب: القاموس المحيط ، تحقيق/مكتب تحقيق التراث في مؤسسة الرسالة ، مؤسسة الرسالة ، بيروت ،ط8 ، 1426هـ.

13) ابن ماجه، محمد بن يزيد: سنن ابن ماجه ، دار الكتب العلمية ، بيروت ، ط1 ، 1419هـ.

14) المطلبي ، محمد بن اسحاق بن يسار: سيرة ابن اسحاق ، تحقيق / سهيل زكار ، دار الفكر ، بيروت ، ط1 ، 1398هـ.

15) المعافري ، عبدالملك بن هشام: السيرة النبوية لابن هشام ، تحقيق/ مصطفى السقا وآخران ، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده ، مصر ، ط2 ، 1375هـ.

16) ابن منظور ، محمد بن مكرم: لسان العرب ، دار صادر ، بيروت ، ط3 ، 1414هـ.
9) আস-সামহুদি, আলী বিন আবদুল্লাহ: ওয়াফাউল ওয়াফা বি আখবারি দারিল মুস্তফা, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪১৯ হিজরি।

10) আস-সুহাইলি, আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ: আর-রাওদুল উনুফ ফি শারহিস সিরাতিন নাবাবিয়্যাহ, সম্পাদনা: উমর আবদুস সালাম আস-সালামি, দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি।

11) আশুর, সাদ আবদুল্লাহ: দাওয়াবিতুল হিওয়ার মাআল আখার, মাজাল্লাতুল জামিআহ আল-ইসলামিয়্যাহ - গাজা - ফিলিস্তিন, ইসলামী গবেষণা সিরিজ, ১৬তম খণ্ড, ১ম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০০৮, পৃষ্ঠা ৯৬।

12) আল-ফাইরুযাবাদি, মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব: আল-কামুস আল-মুহিত, সম্পাদনা: মুআসসাসাতুর রিসালাহ-র ঐতিহ্য সম্পাদনা বিভাগ, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ৮ম সংস্করণ, ১৪২৬ হিজরি।

13) ইবনে মাজাহ, মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ: সুনান ইবনে মাজাহ, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪১৯ হিজরি।

14) আল-মুত্তালিবী, মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার: সিরাতে ইবনে ইসহাক, সম্পাদনা: সুহাইল যাক্কার, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৩৯৮ হিজরি।

15) আল-মুয়াফিরি, আবদুল মালিক বিন হিশাম: সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি ইবনি হিশাম, সম্পাদনা: মুস্তফা আস-সাক্কা ও অন্যান্য, শারিকাতু মাকতাবাহ ওয়া মাতবাআহ মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি ওয়া আওলাদুহু, মিশর, ২য় সংস্করণ, ১৩৭৫ হিজরি।

16) ইবনে মানযুর, মুহাম্মদ বিন মুকররাম: লিসানুল আরব, দারু সাদির, বৈরুত, ৩য় সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আদাবুল হিওয়ার মিন খিলালি সীরাতি মুসআব বিন উমাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
17) الموصلي ، فتحي بن عبدالله: فقه الحوار مع المخالف في السنة النبوية ، الدار الأثرية ، عمّان ، ط1 ، 1428 هـ.

18) النيسابوري ، الحاكم محمد بن عبدالله: المستدرك على الصحيحين ، تحقيق / مصطفى عبدالقادر عطا ، دار الكتب العلمية ، بيروت ، ط1 ، 1411هـ.

19) الهاشمي ، محمد بن سعد بن منيع: الطبقات الكبرى ، تحقيق / محمد عبدالقادر عطا ، دار الكتب العلمية ، بيروت ، ط1 ، 1410هـ.

20) الهيثمي ، أبو الحسن نور الدين: مجمع الزوائد ومنبع الفوائد ، المحقق/حسام الدين القدسي ، مكتبة القدسي ، القاهرة ، د. ط ، 1414هـ.

21) الواقدي ، محمد بن عمر: المغازي ، تحقيق/مارسدن جونس ، دار الأعلمي ، بيروت ، ط3 ، 1409هـ.
17) আল-মাওসিলি, ফাতহি বিন আব্দুল্লাহ: ফিকহুল হিওয়ার মা’আল মুখালিফ ফিস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, আদ-দারুল আসারিয়্যাহ, আম্মান, ১ম সংস্করণ, ১৪২৮ হিজরী।

18) আন-নিসাবুরি, আল-হাকিম মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ: আল-মুসতাদরাক আলাস সহীহাইন, সম্পাদনা: মোস্তফা আব্দুল কাদির আতা, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪১১ হিজরী।

19) আল-হাশেমি, মুহাম্মদ বিন সাদ বিন মানি': আত-তবকাতুল কুবরা, সম্পাদনা: মুহাম্মদ আব্দুল কাদির আতা, دار الكتب العلمية, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪১০ হিজরী।

20) আল-হায়সামি, আবুল হাসান নূরুদ্দিন: মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ, মুহাক্কিক: হুসামুদ্দিন আল-কুদ্সি, মাকতাবাতুল কুদ্সি, কায়রো, সংস্করণ বিহীন, ১৪১৪ হিজরী।

21) আল-ওয়াকিদি, মুহাম্মদ বিন উমর: আল-মাগাযি, সম্পাদনা: মার্সডেন জোনস, দারুল আ'লামি, বৈরুত, ৩য় সংস্করণ, ১৪০৯ হিজরী।