(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: -)
منهج الإمام الدارقطني في نقد الحديث في كتاب العلل القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: مَنْهجُ الإمَامِ الدَّارَقطنِي في نقدِ الحديث في كِتَابِ العِلَّل
المؤلف: أبو عبد الرحمن، يوسف بن جودة يس يوسف الداودي
الناشر: دار المحدثين للبحث العلمي والترجمة والنشر
الطبعة: الأولى، 2011 م - 1432 م
عدد الصفحات: 421
أصل هذا الكتاب: رسالة ماجستير
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 ربيع الآخر 1436
ইলাল গ্রন্থে হাদিস সমালোচনায় ইমাম দারা কুতনী রহ.-এর মানহাজ বিভাগ: হাদিসের ত্রুটিসমূহ এবং হাদিস বিষয়ক প্রশ্নাবলী
কিতাব: ইলাল গ্রন্থে হাদিস সমালোচনায় ইমাম দারা কুতনী রহ.-এর মানহাজ
লেখক: আবু আব্দুর রহমান, ইউসুফ বিন জাওদাহ ইয়াসিন ইউসুফ আদ-দাউদী
প্রকাশক: দারুল মুহাদ্দিসিন বৈজ্ঞানিক গবেষণা, অনুবাদ এবং প্রকাশনী
সংস্করণ: প্রথম, ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ - ১৪৩২ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২১
মূল কিতাবটি: একটি মাস্টার্স থিসিস
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো কিতাবের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ২)
مَنْهجُ الإمَامِ الدَّارَقطنِي
في نقدِ الحديث في كِتَابِ العِلَّل
تأليف
أبي عبد الرحمن يوسف بن جودة الدَّاودي
ইমাম আদ-দারা কুতনীর মানহাজ
‘কিতাবুল ইলাল’-এ হাদিস সমালোচনায়
রচনা করেছেন
আবু আব্দুর রহমান ইউসুফ ইবনে জাওদাহ আদ-দাউদী
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ৫)
الإهداءأهدي هذا العمل إلى أغلى من أحب في حياتي، إلى من كانا سبباً في وجودي، وربَّياني، وركبا كل سهل وصعب من أجلي، وسهرا على تعليمي ورعايتي صغيراً، وأرى بركة دعائهما كبيراً،
إلى والديَّ الكريمين:
إلى أبي وأمي رحمهما الله وأدخلهما فسيح جناته، فإنَّه سبحانه ولى ذلك والقادر عليه وهو نعم المولى، ونعم النَّصير.
উৎসর্গআমি এই কাজটিকে আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয়জনদের প্রতি উৎসর্গ করছি; যারা আমার অস্তিত্বের কারণ ছিলেন, আমাকে লালন-পালন করেছেন, আমার জন্য প্রতিটি সহজ ও কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছেন এবং শৈশবে আমার শিক্ষা ও পরিচর্যায় নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন, আর প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় আমি তাঁদের দোয়ার বরকত প্রত্যক্ষ করছি।
আমার সম্মানিত পিতা-মাতার প্রতি:
আমার পিতা ও মাতার প্রতি, আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন এবং তাঁদেরকে জান্নাতের সুপ্রশস্ত উদ্যানে প্রবেশ করান; কেননা তিনি পবিত্র ও মহান, তিনিই এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান, আর তিনিই শ্রেষ্ঠ অভিভাবক ও শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةإنَّ الحمد لله نَحْمَدُهُ ونستعينُهُ ونستغفرُهُ، ونعوذُ باللهِ مِنْ شرورِ أنفِسِنَا وَمِنْ سيئاتِ أعمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضلِلْ فَلا هَادِي لَهُ، وَأشْهَدُ أنْ لا إلهَ إلا الله وَحَدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، وأَشْهَدُ أنَّ مُحَمَداً عبْدهُ ورسولُهُ، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (1)، {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَآءَلونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (2)، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} (3).
فالحمدُ للهِ ربِّ العَالمين، والصلاةُ والسلامُ على أشرفِ المرسلين، وإمامِ المتقين، سيدنا محمدٍ وعلى وآله وصحبهِ أجمعين، أحمدُهُ سبحانَهُ علي جميلِ لُطْفِهِ وعظيمِ إكرامِهِ، الموفقُ عبادَهُ لِجَميعِ الخيراتِ في السراءِ والضراءِ، والحمدُ للهِ كَما يَنبغِي لِجَلالِ وَجْهِهِ وَعَظِيمِ سُلطَانِهِ القَائلُ سُبْحَانَهُ: {أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُ} (4)، فَهَو سُبحَانَهُ وَحْدَهُ الذي هَدَي وَعَلَّمَ، وَتَفَضَّلَ وَتَكَرَّمَ، وَأَسْبَغَ عَلينَا النِّعَمَ، وَحَفِظَنَا بِرُكْنِهِ الذي لا يُرَامُ، وكَلأنَا بِعزهِ الذي لا يُضَامُ، وأنارَ لنَا السبيلَ وَهَدَانَا إلي الدليلِ.
أما بعد:
فإنَّهُ من أهمِ العلومِ التي امتاز بها المسلمونَ عن غَيرهِم مِنَ الأممِ، نَقدُ الأخْبارِ وتَقويم التاريخِ، ولقدْ بَرَزَ النُّقادُ والعلماءُ في أولِ عَصرِ تدوين السُنَّةِ الشريفةِ، فَقَامَ جَهابِذَةُ هَذَا العِلْمِ ونقدوا الآثارَ والأخبارَ، وبَذَلُوا في ذلكَ كُلَّ غَالٍ ونفيسٍ، فقاموا ببيانِ مراتبِ الأحاديثِ، والتفريقِ بين الغثِ والثمينِ، وتوضيحِ ما التبسَ منها على النَّاس، وتفنيدِ الباطلِ منها وبيانِ زيفِهِ.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} (১), {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং সতর্ক থাকো আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন} (২), {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল} (৩)।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং মুত্তাকীদের ইমাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীদের ওপর। আমি সেই পবিত্র সত্তার প্রশংসা করছি তাঁর সুন্দর অনুগ্রহ ও মহান করুণার জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের সুসময় ও দুঃসময়—উভয় অবস্থায় সকল কল্যাণের তাওফিক দান করেন। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যেমনটি তাঁর চেহারার মাহাত্ম্য ও তাঁর রাজত্বের মহত্ত্বের জন্য শোভনীয়, যিনি বলেছেন: {আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন?} (৪)। তিনিই সেই পবিত্র সত্তা যিনি এককভাবে হিদায়াত দিয়েছেন ও শিক্ষা দিয়েছেন, অনুগ্রহ ও দয়া করেছেন, এবং আমাদের ওপর নেয়ামত পূর্ণ করেছেন। তিনি আমাদের তাঁর এমন শক্তিশালী আশ্রয়ে রক্ষা করেছেন যা অপরাজেয় এবং তাঁর এমন মর্যাদা দিয়ে বেষ্টন করে রেখেছেন যা লাঞ্ছিত হয় না। তিনি আমাদের জন্য পথ আলোকিত করেছেন এবং প্রমাণের দিকে পথপ্রদর্শন করেছেন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সেই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ইলমের মধ্যে অন্যতম, যার মাধ্যমে মুসলিমরা অন্য সকল জাতি থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, তা হলো সংবাদের সমালোচনা ও ইতিহাসের মূল্যায়ন। সুন্নাহ সংকলনের প্রাথমিক যুগে মহান সমালোচক ও উলামাগণ আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। এই ইলমের বিশেষজ্ঞগণ উঠে দাঁড়িয়েছেন এবং বর্ণনা ও সংবাদসমূহের সমালোচনা করেছেন। তাঁরা এর জন্য মূল্যবান সবকিছু উৎসর্গ করেছেন। তাঁরা হাদীসের স্তরসমূহ বর্ণনা করেছেন, অসার ও সারগর্ভ বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, মানুষের কাছে অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন এবং বাতিল বিষয়সমূহ খণ্ডন করে সেগুলোর অসারতা প্রমাণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ৭)
فَكانَ عِلْمُ عِلَلِ الحديثِ مِنْ أَدَقِّ العُلومِ، وَأعْمَقِهَا ضَرباً، وأَنْفَعِهَا في تَحْقِيقِ المسَائلِ والأحكامِ الشرعيةِ التي عَليهَا مَدَارُ الدِّينِ، وكنتُ منذُ نعومةِ أظفاري أنظُرُ لهؤلاءِ النُّقاد فَأرى جِبَالاً مِنَ العلمِ والفِهْمِ، والحكْمَةِ والنزَاهَةِ في الحكمِ، واستقامةِ المنهجِ، وكنتُ دائماً أسألُ نفسي كيف وصَلَ هؤلاءِ القومُ لمثلِ هَذَا المستوى الرفيعِ من الإتقانِ والدقةِ والأمانةِ في الأحكامِ والأقوالِ التي قَلَّمَا يتصف بها كثيرٌ مِنَ النَّاسِ، كَما قالَ رسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: (إِنَّمَا النَّاسُ كَالإبِلِ الْمِائَةِ لا تَكَادُ تَجِدُ فِيهَا رَاحِلَةً) (1).
وبعد أن مرتْ أعوامٌ عديدة من حُضُورِي لمجالسِ العلمِ وِمُدَارسةِ العلومِ على يد المشايخِ والعلماء المعتَبرينَ، تَبيَّنَ لِي أَنَّ هؤلاءِ القومَ رَضُوا من دُنياهُم بالقليلِ، وبذلوا الْمُهجَ، والجهدَ والوقتَ والمالَ في سبيلِ نصرةِ هذا الدين ورفعتِهِ، فَكانَ الجزاءُ من جنس العمل، فأثَابَهُم اللهُ بذلك سِعةَ الحفظِ، ودِقَّةَ الفهمِ، والتوفيقَ والسدادَ في أقوالهِم وأعمالهِم، فنفع الله بهم العبادَ في مشارقِ الأرضِ ومَغَارِبِهَا، واستنارت بهم العُقولُ، وارتوت مِن فيضِ عُلومِهِم القلوبُ، وأذعنتْ من عُمقِ إخْلاصِهِم الصدور، فسَارَ بِفَضْلِهِم الرُّكبانُ، وتعطرتْ بجميلِ شَذَاهُم الأكوان، واستقامت بعبيرِ فيحهِم الأركان، فكان مَثَلُهُم كالبستانِ الذي ملئ بالزهورِ والورودِ والريحانِ، فلا تفتأُ إلا أنْ تجدَ الفَيْحَ الجميلَ، والثمرَ العليلَ، فلمَّا رأيتُ ذلك تعلَّقَ قلبي بهؤلاءِ القومِ، وبما أفاضُوا بهِ من العلومِ ولاسيما علمُ عللَ الحديثِ، وكان كتابُ العللِ للدارقطنيِّ من أكبرِ المصنفاتِ في علمِ نقدِ الأخبار والآثار، وقد وضع فيه الإمامُ الدارقطنيُّ خُلاصَةَ عِلْمِهِ، وأبان العللَ بأسلوبٍ يُجَلِّي العلةَ ويُبرِزُهَا، ويمتازُ كذلكَ عن بقيةِ الكُتبِ المطبوعةِ في هذا الفنِ، ويزيدُ عليها سعةً وشمولاً واستيعاباً وتنظيماً، وقد ذكرَه أجلةُ العلماءِ الكبارِ بأجملِ الثناءِ، ثم ما كان من مكانةِ الإمامِ الدارقطنيِّ في نقدِ الحديثِ، فهُو من كبارِ أئمةِ الحديثِ والنَّقدِ وكان مما دفعني كذلكَ للبحثِ في منهجِ الإمامِ الدارقطنيِّ في كتابهِ العلل، قلةُ الأبحاثِ العلميةِ فيه، والدراساتُ التحليليةُ التي اهتمت بمناهجِ أئمَّةِ النَّقدِ في مُصَنَّفَاتِهِم
--------------------------------------------
হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান (ইলমুল ইলাল) ছিল সূক্ষ্মতম জ্ঞানসমূহের অন্যতম এবং এর গভীরতা অত্যন্ত ব্যাপক। শরয়ি মাসয়ালা ও বিধি-বিধান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত উপকারী, কেননা এর ওপরই দ্বীনের আবর্তন। আমি শৈশব থেকেই এই হাদিস সমালোচক ইমামগণের (নাক্বিদগণ) দিকে তাকালে ইলম, প্রজ্ঞা, হিকমত, বিচারে নিরপেক্ষতা এবং মানহাজের দৃঢ়তার এক একটি পাহাড় দেখতে পেতাম। আমি সর্বদা নিজেকে প্রশ্ন করতাম, এই ব্যক্তিবর্গ কীভাবে বিচার ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন উচ্চতর স্তরের নিখুঁততা, সূক্ষ্মতা এবং আমানতদারি অর্জন করলেন যা খুব কম মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মানুষ যেন একশ উটের মতো, যার মধ্যে একটিও সওয়ারিযোগ্য উট পাওয়া দুষ্কর।" (১)
দীর্ঘদিন ইলমি মজলিসে উপস্থিতি এবং বিজ্ঞ মাশায়েখ ও নির্ভরযোগ্য ওলামায়ে কেরামের নিকট ইলম চর্চার পর আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ব্যক্তিবর্গ তাঁদের দুনিয়া থেকে সামান্যতেই তুষ্ট ছিলেন। তাঁরা এই দ্বীনের বিজয় ও শ্রেষ্ঠত্বের পথে তাঁদের প্রাণ, প্রচেষ্টা, সময় ও সম্পদ উৎসর্গ করেছেন। ফলে তাঁদের প্রতিদানও হয়েছে কর্মের অনুরূপ। আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময়ে তাঁদের স্মৃতিশক্তির প্রশস্ততা, বোধশক্তির সূক্ষ্মতা এবং তাঁদের কথা ও কাজে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করেছেন। ফলে আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সকল বান্দার উপকার সাধন করেছেন। তাঁদের মাধ্যমে মানুষের বিবেক আলোকিত হয়েছে, তাঁদের ইলমের প্রবাহে অন্তরসমূহ সিক্ত হয়েছে এবং তাঁদের ইখলাসের গভীরতায় মানুষের হৃদয়গুলো বশীভূত হয়েছে। তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে জ্ঞানপিপাসুরা তাঁদের পানে ছুটে গিয়েছেন, তাঁদের সুঘ্রাণে জগত সুবাসিত হয়েছে এবং তাঁদের জ্ঞানের সৌরভে ইসলামের স্তম্ভসমূহ সুদৃঢ় হয়েছে। তাঁদের দৃষ্টান্ত যেন সেই বাগানের মতো যা ফুল ও সুগন্ধি বৃক্ষে পরিপূর্ণ, যেখানে গেলেই আপনি চমৎকার সুঘ্রাণ এবং সুস্বাদু ফল লাভ করবেন। যখন আমি বিষয়টি অনুধাবন করলাম, তখন আমার অন্তর এই মহামনীষীদের প্রতি এবং তাঁদের বর্ণিত ইলমের প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠল, বিশেষ করে হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞানের (ইলমুল ইলাল) প্রতি। আর ইমাম দারাকুতনির 'আল-ইলাল' কিতাবটি ছিল হাদিস ও আছার সমালোচনার ইলমে রচিত অন্যতম বৃহত্তম সংকলন। ইমাম দারাকুতনি এতে তাঁর অর্জিত ইলমের সারনির্যাস পেশ করেছেন এবং হাদিসের ত্রুটিগুলো এমন এক পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন যা ত্রুটির বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। এই কিতাবটি এ বিষয়ে মুদ্রিত অন্যান্য কিতাবের তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং এটি ব্যাপকতা, পূর্ণাঙ্গতা ও বিন্যাসের দিক থেকে অনন্য। বড় বড় বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম এই কিতাবটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এছাড়া হাদিস সমালোচনায় ইমাম দারাকুতনির সুউচ্চ মর্যাদা তো রয়েছেই, কেননা তিনি হাদিস ও সমালোচনার শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান ইমাম। এছাড়া ইমাম দারাকুতনির 'আল-ইলাল' কিতাবে বর্ণিত তাঁর মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি নিয়ে গবেষণার প্রতি আমাকে যা অনুপ্রাণিত করেছে তা হলো—এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বল্পতা এবং সেই সকল বিশ্লেষণধর্মী গবেষণার অভাব যা সমালোচক ইমামগণের নিজস্ব সংকলনগুলোতে তাঁদের অনুসৃত মানহাজ নিয়ে আলোচনা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ৮)
العللَ، وعلى الرغمِ من مكانةِ الدارقطنيِّ وكتابِهِ العلل، لم يحظَ الدارقطنيُّ بدراسةٍ تحليليةٍ علميةٍ لمنهجهِ في التعليلِ مِنْ قبل، ولخفاءِ عِللِ
الأحاديثِ على كثيرٍ من النَّاسِ خاصةً أهل العلم، حتى صارَ من أغْمضِ أنواع العلوم وأدقها مسلكًا، ولا يقومُ بِهِ إلا مَنْ منحَهُ اللهُ فَهْمًا وإطلاعًا، وإدراكًا لمراتب الرواة، ومعرفةً ثاقبةً لاختلافِ المرويَّاتِ والرِّجالِ.
فكُلُّ هذهِ الأسبابِ وغَيرِهَا قد حجبت أنوار تلك الكنوز والدُّرر الثمينة، وقللت من الانتفاع بها، فرأيتُ أن أُساهِمَ في تذليلِ تلكَ العقباتِ أمامَ طلابِ العلمِ والباحثينَ لفهِمِ مقاصدِ أئمةِ النَّقدِ ومدلولاتِ ألفَاظِهِم في العللِ والرجالِ، والاستفادةِ بأقوالهِم وأحكَامِهِم لتصحيحِ الأحكامِ، وترجيحِ الأقوالِ، وبالأخصِ لمعرفةِ الطريقةِ التي كان يَسلُكَهَا الدارقطنيُّ ومدلولِ ألفاظِهِ في التعليلِ، ليكونَ الباحثُ على بصيرةٍ مِنهَا، وفتحُ البابِ لدراسةِ بقيةِ مناهجِ أئمةِ النَّقدِ.
ولا يَشُكُّ مُشْتَغلٌ بهذا الفنِ فضلاً عن بارعٍ فيهِ، بأنَّ معرفةَ عللَ الحديثِ، وأحوالَ الرجالِ، وفِهْمَ مَقَاصِد وألفاظِ أئمة النَّقدِ، بمثابةِ الرأسِ مِنَ الجسدِ في علمِ الحديثِ، وبالنسبةِ لطلبة العلم والباحثين، تعتبر من أهمِ المباحث التي تساعدهُم في التحققِ من صحة الحديث، وبالتالي صحةِ الاستنباطِ، وصحةِ البرهنةِ على الراجحِ من الأقوالِ، لذا كانت دراسةُ منهج الإمام الدارقطني في كتابه العلل من أنفع المباحث التي دُرِستْ في هذا المضمار بفضل الله عز وجل، لإفصاحِها عن غُررٍ عزيزة، وفوائد جليلة لا تكاد تجدها في غيرها، وقد وفِّقتُ بفضل الله تعالى لبيان جانبٍ عظيمٍ من هذه الدرر والفوائد.
أهداف البحث:وقد استعرضتُ في هذهِ الدراسةِ جانباً هاماً من أحكامِ الدارقطنيِّ على الأحاديثِ المعلولةِ مثلُ الاضطرابِ، أو التصحيفِ، أو الإدراج، أو النَّكارةِ أو الشذوذِ وغيرها، فقد يكون الحديث مروياً بالمعنى الخطأ عن الثقات - الذين عليهم العمدةُ في المرويَّاتِ مما يوهم صِحتَهُ - فيُحكمُ عليهِ بالصحةِ، ويعتبرُ دليلاً لحكمٍ شرعي، وليس هُو بصحيح بل هو ضعيفٌ معلولٌ، وقد ضربت أمثلةً كثيرة في هذه الدراسة تدل على ما ذكرتُ آنفاً.
ইলাল (হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি), এবং আদ-দারা কুতনী ও তাঁর রচিত 'আল-ইলাল' গ্রন্থের সুউচ্চ মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও, ইতিপূর্বে আদ-দারা কুতনীর হাদিসের ত্রুটি নির্ণয় (তা'লীল) পদ্ধতির ওপর কোনো বৈজ্ঞানিক ও বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা সম্পন্ন হয়নি। আর যেহেতু সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি অনেক আহলে ইলমের কাছেও হাদিসের 'ইলাল' বা গোপন ত্রুটিসমূহ অস্পষ্ট, তাই এটি উলূমে হাদিসের (হাদিস বিজ্ঞানের) অন্যতম একটি জটিল ও সূক্ষ্মতম বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা যাকে বিশেষ বোধশক্তি, ব্যাপক জানাশোনা, বর্ণনাকারীদের স্তর সম্পর্কে সঠিক ধারণা এবং হাদিস ও বর্ণনাকারীদের মধ্যকার বিভিন্নমুখী মতপার্থক্য শনাক্ত করার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দান করেছেন, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এই ইলম নিয়ে কাজ করতে পারেন না।
এই সমস্ত কারণ এবং আরও অনেক কিছু মূলত সেই জ্ঞানভাণ্ডার ও মূল্যবান মণিমুক্তার নূরের বিচ্ছুরণকে আড়াল করে রেখেছিল এবং সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগকে সংকুচিত করে ফেলেছিল। তাই আমি ইলম অন্বেষী ও গবেষকদের সম্মুখে সেই সকল বাধা সহজ করতে অবদান রাখার সংকল্প করলাম, যাতে তাঁরা হাদিস সমালোচক ইমামগণের উদ্দেশ্য এবং 'ইলাল' ও 'রিজাল' (বর্ণনাকারী) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁদের ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর অর্থ বুঝতে পারেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদান ও বিভিন্ন মতামতের মধ্যে প্রাধান্য নির্ণয়ে তাঁদের বক্তব্য ও হুকুমসমূহ থেকে উপকৃত হতে পারেন। বিশেষত আদ-দারা কুতনী যে পথ অবলম্বন করতেন এবং তাঁর ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর অর্থ জানার ক্ষেত্রে, যাতে গবেষকগণ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন এবং অন্যান্য হাদিস সমালোচক ইমামগণের অনুসৃত পদ্ধতিগুলো নিয়ে গবেষণার পথ উন্মোচিত হয়।
এই শাস্ত্রে নিয়োজিত সামান্য জ্ঞানধারী ব্যক্তি তো বটেই, এমনকি বিশেষ পারদর্শী কোনো ব্যক্তির মনেও এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাদিসের 'ইলাল' (নিগূঢ় ত্রুটি), বর্ণনাকারীদের অবস্থা এবং হাদিস সমালোচকদের উদ্দেশ্য ও তাঁদের ব্যবহৃত পরিভাষা বুঝতে পারা হাদিস বিজ্ঞানে দেহের মস্তক সদৃশ। আর তালিবুল ইলম ও গবেষকদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পাঠ যা তাঁদের হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে সহায়তা করে; ফলে এর মাধ্যমে মাসআলা উদ্ভাবন ও দালিলিকভাবে অগ্রগণ্য মত সাব্যস্ত করা সঠিক হয়। তাই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার অনুগ্রহে ইমাম আদ-দারা কুতনীর 'আল-ইলাল' কিতাবে বর্ণিত তাঁর কর্মপদ্ধতির ওপর এই গবেষণাটি এই ময়দানে সম্পন্ন হওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপকারী কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে। কারণ এটি এমন কিছু দুর্লভ মণি-মুক্তা ও মহান ফায়দা প্রকাশ করেছে যা সচরাচর অন্য কোথাও মেলে না। আল্লাহর শুকরিয়া যে, আমি সেই অমূল্য রত্ন ও উপকারের এক মহান দিক উন্মোচনে সক্ষম হয়েছি।
গবেষণার লক্ষ্যসমূহ:আমি এই গবেষণায় ত্রুটিপূর্ণ (মালুল) হাদিসসমূহের ওপর ইমাম আদ-দারা কুতনীর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করেছি, যেমন: ইদতিরাব (বিশৃঙ্খলা), তাশহীফ (শব্দ বিভ্রাট), ইদরাজ (অনুপ্রবেশ), নাকারাহ (অপরিচিতি) কিংবা শুযূয (বিচ্যুতি) ইত্যাদি। অনেক সময় হাদিস নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (যাদের ওপর বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয়) মাধ্যমে ভুল অর্থে বর্ণিত হয়, যা হাদিসটিকে সহিহ হওয়ার ভ্রম সৃষ্টি করে। ফলে একে সহিহ গণ্য করে কোনো শরয়ি বিধানের দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়, অথচ সেটি আসলে সহিহ নয় বরং যঈফ ও মালুল (ত্রুটিযুক্ত)। আমি এই গবেষণায় এমন অনেক উদাহরণ পেশ করেছি যা উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলোকে প্রমাণ করে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ৯)
وما هذا البحثُ إلا محاولةً للكشفِ عَنْ منهجِ الإمامِ الدارقطنيِّ، ومعرفةِ الطريقةِ التي كان يَسْلُكَهَا في نقدِهِ للأحاديثِ والآثارِ، ودراسةِ وجوهِ نقدهِ للأخبارِ وتعليلِهَا أو ترجِيحِهَا عن طريقِ السندِ والمتنِ، دراسةً تحليليةً تطبيقيةً لكيفيةِ نَقْد أهلِ الحديثِ للسندِ والمتنِ بخلافِ طريقةِ الملاحدةِ من المستشرقينَ وغَيرهِم، ثم تحليلُ وشرحُ بعض أوجه تعليله للأحاديثِ في سياقِ فهمِهِ لمعاييرِ النَّقدِ، ودراسةِ مصطلحاتِ وألفاظِ الإمامِ الدارقطنيِّ، وأئمةِ النُّقاد والمقارنة بينهم، وفهمُ مقاصدُ عباراتهِم في نَقْدِ الحديثِ، ومعرفةُ معاييرِ الإمامِ الدارقطنيِّ في التعليلِ، وهَلْ هِي مُطَّرِدَةٌ أم لا؟، ومعرفةُ الاتفاقِ أو الاختلافِ بينَهُ وبين النُّقادِ المتقدمينَ.
منهج البحث:ولقد سلكتُ في هذا البحثِ عِدةَ محاورٍ لتكوينِ أصلِ هذهِ الدراسةِ، سأجملها فيما يلي:
- الأخذُ في الاعتبارِ مجموعةً من أحكامِ وأقوالِ الإمامِ الدارقطنيِّ في العللِ، ودراستِهَا دراسةً تفصيليةً، ومعرفةُ المقاييسِ التي كانَ ينتهجُهَا الإمامُ الدارقطنيِّ.
- التحققُ من نصوصِهِ وألفاظِهِ في التعليلِ من أصولِ كتبِهِ، أو من النقلِ الموثوقِ بِهِ.
- شرحُ وتحليلُ ألفاظهِ في التعليلِ والترجيحِ، وذلك تبعاً للمعاييرِ والضوابطِ التي كان يسيرُ عليهَا في الحكمِ على الحديثِ بالتعليلِ أو بالترجيحِ.
- بيانُ وجْهُ تَعليلِ أو ترجيحِ الدارقطنيِّ للحديثِ، وذِكرُ الأسبابِ التي جعلته يحكمُ بذلكَ، مع التعليقِ أو مناقشةِ ما ذهبَ إليهِ من الأحكامِ.
- ضَربُ الأمثلةِ من أَوجُهِ انتقاد الدارقطنيِّ للأحاديثِ، واستخراجُ البراهينِ والحججِ التي استندَ عليهَا في التعليلِ أو الترجيحِ.
- الاستشهادُ بقولِ الإمامِ الدارقطنيِّ في غيرِ كتابِ العللِ مِثلُ السؤالاتِ وغيرِهَا لبيانِ برهانِ أو حجةِ ما ذهب إليه في كتابهِ العللَ.
- إجراءُ مقارنةٍ بينَهُ وبين غيرِهِ من أئمةِ العللِ لتمييزِ منهجِهِ، واستخراجُ ضوابِطِهِ، وذكرُ معاني ألفاظِ التعليلِ والترجيحِ لمعرفةِ مرادِهِ وما ذَهبَ إليهِ
এই গবেষণাটি ইমাম আদ-দারাকুতনীর পদ্ধতি (মানহাজ) উন্মোচন করার এবং হাদীস ও আছার পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তিনি যে পথ অনুসরণ করতেন তা জানার একটি প্রচেষ্টা মাত্র। এতে সনদ ও মতনের মাধ্যমে সংবাদের সমালোচনা, ত্রুটি নির্ণয় বা প্রাধান্য প্রদানের বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি ফলিত বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন করা হয়েছে। এটি নাস্তিক প্রাচ্যবিদ ও অন্যদের পদ্ধতির বিপরীত হাদীস বিশারদদের (আহলুল হাদীস) সনদ ও মতন পর্যালোচনার একটি পদ্ধতিগত অধ্যয়ন। এরপর তাঁর সমালোচনার মানদণ্ড বোঝার প্রেক্ষাপটে হাদীসের ত্রুটি নির্ণয়ের কিছু দিকের বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। সেই সাথে ইমাম আদ-দারাকুতনী ও অন্যান্য সমালোচক ইমামদের পরিভাষা ও শব্দাবলি অধ্যয়ন এবং তাঁদের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে, যাতে হাদীস পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্যের উদ্দেশ্য বোঝা যায় এবং ত্রুটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ইমাম আদ-দারাকুতনীর মানদণ্ডগুলো জানা যায়—সেগুলো কি সর্বদা একরূপ ছিল নাকি নয়? এবং পূর্ববর্তী সমালোচক ইমামদের সাথে তাঁর ঐকমত্য বা পার্থক্যের জায়গাগুলো চিহ্নিত করা।
গবেষণার পদ্ধতি:এই গবেষণার মূল কাঠামো তৈরির জন্য আমি কয়েকটি বিষয়ের অনুসরণ করেছি, যা নিম্নে সংক্ষেপে উপস্থাপন করছি:
- 'ইলাল' গ্রন্থে ইমাম আদ-দারাকুতনীর একগুচ্ছ বিচার ও বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া, সেগুলো বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করা এবং ইমাম আদ-দারাকুতনী যে মানদণ্ডগুলো অনুসরণ করতেন তা জানা।
- তাঁর মূল গ্রন্থসমূহ অথবা নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে ত্রুটি নির্ণয় সংক্রান্ত তাঁর পাঠ্য ও শব্দাবলি যাচাই করা।
- ত্রুটি নির্ণয় ও প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর শব্দাবলির ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা; এটি করা হবে হাদীসের ত্রুটি নির্ণয় বা প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি যে মানদণ্ড ও নীতিমালা অনুসরণ করতেন সেই অনুযায়ী।
- ইমাম আদ-দারাকুতনী কর্তৃক হাদীসের ত্রুটি নির্ণয় বা প্রাধান্য প্রদানের দিকটি স্পষ্ট করা এবং যে সব কারণে তিনি এই রায় দিয়েছেন তা উল্লেখ করা, সেই সাথে তাঁর প্রদত্ত বিচারসমূহের ওপর টীকা প্রদান বা আলোচনা করা।
- হাদীসসমূহের ওপর ইমাম আদ-দারাকুতনীর আপত্তির বিভিন্ন দিক থেকে উদাহরণ পেশ করা এবং ত্রুটি নির্ণয় বা প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি যেসব প্রমাণ ও যুক্তির ওপর নির্ভর করেছেন তা বের করে আনা।
- ইমাম আদ-দারাকুতনীর 'আল-ইলাল' গ্রন্থে গৃহীত মতের পক্ষে প্রমাণ বা যুক্তি প্রদর্শনের জন্য তাঁর অন্য গ্রন্থসমূহ যেমন 'সুআলাত' ইত্যাদি থেকে তাঁর উক্তি উদ্ধৃত করা।
- তাঁর পদ্ধতিকে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করার জন্য তাঁর এবং 'ইলমে ইলাল'-এর অন্যান্য ইমামদের মধ্যে তুলনা করা, তাঁর মূলনীতিসমূহ বের করা এবং তাঁর উদ্দেশ্য ও অভিমত জানার জন্য ত্রুটি নির্ণয় ও প্রাধান্য প্রদানের শব্দাবলির অর্থ উল্লেখ করা।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ১০)
- بيانُ العلةِ المصرحِ بها أو المشارِ إليهَا عند غموضِ العلةِ، وشرحُ مرادُ الإمامِ الدارقطنيِّ فيها، ومناقشةُ ذلكَ.
- بيانُ منهجُ الدارقطنيِّ في قرائنِ التعليلِ والترجيحِ بين المرويَّاتِ، والمقارنةُ بينَه وبين من سبقَهَ من أئمةِ نقدِ الحديثِ.
- لم ألتزمْ تعريفَ كُلِّ الأعلامِ الواردِ ذِكرهُم في البحثِ، حيثُ إنَّ الهدفَ معرفةُ منهجُ الدارقطنيِّ في النقدِ، لذلكَ اقتصرت على التراجمِ التي عليهَا مَدَارِ العللِ في الحديثِ المذكورِ.
- تخريجُ الأحاديثِ والآثارِ، وبيانُ وجْهُ المعلولِ في المرويَّاتِ، أو الراجح منها للاحتراز من الخلط بين مرويَّات الحديث الواحد فيُعلَّل كله.
- نقلُ كلامِ أهلِّ النقدِ في الرجالِ توثيقاً وتجريحاً، ومناقشةُ ذلكَ.
خطة البحث:فجاءتْ الرسالةُ علي مقدمةٍ وتمهيدٍ وأربعةِ أبوابٍ وخاتمةٍ وفهارسٍ علميةٍ.
فالمقدمةُ: وفيها أهميةُ البحثِ، وأسبابُ اختيارُهُ، ومنهجُ البحثِ والصعوباتُ التي واجهتني فيه.
والتمهيد: ويشتمل على: تعريفِ العلةِ لغةً واصطلاحاً، وتعريفِ معنى النقدِ لغةً واصطلاحاً، وبيانِ مشروعيةِ النقدِ والتعليلِ، وأهميةُ بيانُ علة الأحاديث والأخبار.
الباب الأول: الإمام الدارقطني وكتابه العلل.
وفيه فصلان.
الفصل الأول: ترجمة موجزة للإمام الدارقطني رحمه الله.
وفيه: سبعة مباحث.
- সুস্পষ্টভাবে উল্লেখকৃত ইল্লত (ত্রুটি) বর্ণনা করা অথবা ইল্লত অস্পষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে সেটির প্রতি ইঙ্গিত করা এবং তাতে ইমাম দারা কুতনী-র উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা ও তা নিয়ে আলোচনা করা।
- ইল্লত নির্ণয় ও বর্ণনাগুলোর মধ্যে প্রাধান্য দেওয়ার মানদণ্ডসমূহের ক্ষেত্রে দারা কুতনী-র মূলনীতি বর্ণনা করা এবং তাঁর ও তাঁর পূর্ববর্তী হাদীস সমালোচক ইমামগণের মধ্যে তুলনা করা।
- আমি গবেষণায় উল্লিখিত সকল ব্যক্তির পরিচয় প্রদান আবশ্যক মনে করিনি, যেহেতু মূল উদ্দেশ্য হলো হাদীস পর্যালোচনায় দারা কুতনী-র মূলনীতি জানা; তাই আমি কেবল সেইসব জীবনীগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি যাদেরকে কেন্দ্র করে আলোচিত হাদীসটির ইল্লত আবর্তিত হয়েছে।
- হাদীস ও আসারসমূহের তাখরীজ করা, বর্ণনাগুলোর মধ্যে ত্রুটিযুক্ত হওয়ার দিকটি বর্ণনা করা অথবা সেগুলোর মধ্যে যেটি সঠিক তা স্পষ্ট করা, যাতে একই হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে সংমিশ্রণ না ঘটে এবং পুরো হাদীসটিকেই ত্রুটিযুক্ত মনে না করা হয়।
- রাবীদের নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতা বিষয়ে হাদীস সমালোচকগণের বক্তব্য উদ্ধৃত করা এবং তা নিয়ে আলোচনা করা।
গবেষণার পরিকল্পনা:গবেষণাপত্রটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, চারটি অধ্যায়, একটি উপসংহার এবং ইলমী নির্ঘণ্টের (সূচিপত্র) সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে।
ভূমিকা: এতে রয়েছে গবেষণার গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণসমূহ, গবেষণার পদ্ধতি এবং এতে আমি যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি।
উপক্রমণিকা: এটি অন্তর্ভুক্ত করে: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ইল্লতের পরিচয়, আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সমালোচনার (নকদ) পরিচয়, সমালোচনা ও ত্রুটি (ইল্লত) নির্ণয়ের বৈধতার বর্ণনা এবং হাদীস ও সংবাদের ত্রুটি বর্ণনার গুরুত্ব।
প্রথম অধ্যায়: ইমাম দারা কুতনী ও তাঁর কিতাব আল-ইলাল।
এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম দারা কুতনী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী।
এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الثاني: التعريف بكتاب العلل للإمام الدارقطني.
علل الدارقطني (العلل الواردة في الأحاديث النبوية).
وفيه: ستةُ مباحث.
الباب الثاني: مفهوم العلة وأجناسها وألفاظها عند الإمام الدارقطني:
وفيه فصلان.
الفصل الأول: مفهوم العلة عند الإمام الدارقطني.
وفيه مبحثان.
الفصل الثاني: أجناس العلل الخفية والظاهرة في الإسناد والمتون.
وفيه: أربعة مباحث.
الباب الثالث: ألفاظ التعليل ومدلولاتها عند الإمام الدارقطني.
وفيه ثلاثة فصول.
الفصل الأول: الألفاظ الدالة على ضعف الخبر أو عدم ثبوته.
وفيه مبحثان.
الفصل الثاني: الألفاظ الدالة على الخطأ والوهم والاختلاف.
وفيه مبحثان.
الفصل الثالث: الألفاظ الدالة على الغرابة والتفرد والترجيح.
وفيه مبحثان.
الباب الرابع: قرائن التعليل والترجيح عند الإمام الدارقطني.
وفيه فصلان.
الفصل الأول: قرائن التعليل عند الإمام الدارقطني.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম দারাকুতনী-র কিতাবুল ইলাল-এর পরিচিতি।
ইলালুদ দারাকুতনী (নবীজির হাদিসসমূহের মধ্যে বিদ্যমান ত্রুটিসমূহ)।
এতে রয়েছে: ছয়টি অনুচ্ছেদ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইমাম দারাকুতনীর নিকট 'ইল্লাত'-এর ধারণা, প্রকারভেদ এবং পরিভাষা:
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম দারাকুতনীর নিকট 'ইল্লাত'-এর ধারণা।
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সনদ ও মতনের মধ্যে সূক্ষ্ম ও প্রকাশ্য ত্রুটিসমূহের (ইল্লাত) প্রকারভেদ।
এতে রয়েছে: চারটি অনুচ্ছেদ।
তৃতীয় অধ্যায়: ইমাম দারাকুতনীর নিকট ত্রুটি বর্ণনার (তালীলের) শব্দাবলী এবং সেগুলোর তাৎপর্য।
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: সংবাদের (হাদিসের) দুর্বলতা অথবা তা সাব্যস্ত না হওয়ার প্রমাণবাহী শব্দাবলী।
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ভুল, ভ্রান্তি এবং মতভেদের প্রমাণবাহী শব্দাবলী।
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গারাবাত (অপূর্বতা), তাফাররুদ (একক বর্ণনা) এবং অগ্রাধিকারের (তারজীহ) প্রমাণবাহী শব্দাবলী।
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়: ইমাম দারাকুতনীর নিকট ত্রুটি চিহ্নিতকরণ এবং অগ্রাধিকার প্রদানের আলামতসমূহ।
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম দারাকুতনীর নিকট ত্রুটি চিহ্নিতকরণের আলামতসমূহ।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ১২)
وفيه ثلاثةُ مباحث.
الفصل الثاني: المتابعات والقرائن وأثرهما في الترجيح عند الإمام الدارقطني.
وفيه مبحثان.
الخاتمة: وفيها أهم نتائج البحث والتوصيات.
الفهارس العلمية.
عقبات البحث:وقد لاقيتُ بعضُ الصعوباتِ في أثناءِ دراستي لهذا البحثِ، وربما راجعتُ من أجل معلومة لا تتجاوز سطراً أو سطرين عشرات الكتب للتحقق منها، فإنَّه مما لا ريب فيه أن دراسة منهج نقد الأخبار سنداً ومتناً لعالمٍ، أو ناقدٍ مكثر مثلَ الإمام الدارقطني من الأمور الصعبة بمكان، والتي تحتاج إلى جهدٍ في سبرِ ودراسةِ أقوالِهِ وأحكامِهِ في تعليلِ الأحاديثِ والآثارِ، ودراستِهَا دراسةً تحليليةً لمعرفةِ المعاييرِ التي كان يقيسُ عليهَا أحكَامَهُ، ودراسةِ الأقوالِ التي قَدْ تَخْرُجُ عَنْ نِطَاقِ منهجِهِ، ويمكنُ إجمالُ هذهِ الصِّعَابِ كالآتي:
- غموض إجابات السؤالات في بعض الأحيان، فإنَّ النُّقاد غالباً ما يشيرون إلى العلل ولا يصرحون بالقرائن أو بالأسباب التي جعلتهم يحكمون عليها.
- تحقيق نصوص وألفاظ الأحاديث والآثار التي في السؤالات وكتب العلل، فإنَّ النُّقادَ غالباً ما يشيرون إلى العلة في الخبر، ولا يأتون بنص الحديث أو الأثر مما يزيد من وقت البحث عن أصول الأخبار، والنقل الموثوق منها.
- ذَكَرَ الدارقطني في إجابات السؤالات أوجهاً كثيرةً للحديثِ، وغالبها جانب لا يستهان به إما عن طريق شُيوخِهِ، أو من المصادر التي لا توجد أصلاً، مما جعلني اعتمد بعض السؤالات التي يمكن التحقق منها، وترك السؤالات التي بها أوجهاً كثيرةً ليست في دواوين السنة المشتهرة.
এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইমাম দারা কুতনীর নিকট মুতাবাআত ও কারাইন এবং প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে এ দুটির প্রভাব।
এবং এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
উপসংহার: এবং এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও সুপারিশসমূহ রয়েছে।
তাত্ত্বিক নির্ঘণ্টসমূহ।
গবেষণার অন্তরায়সমূহ:এই গবেষণা অধ্যয়নের সময় আমি বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। হয়তো এক বা দুই লাইনের বেশি নয় এমন একটি তথ্য যাচাই করার জন্য আমাকে কয়েক ডজন কিতাব দেখতে হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম দারা কুতনীর মতো একজন আলেম বা বিজ্ঞ সমালোচকের সনদ ও মতনের আলোকে বর্ণনা যাচাই-বাছাইয়ের পদ্ধতি অধ্যয়ন করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। হাদীস ও আসারসমূহের ত্রুটি (ইল্লাত) বর্ণনায় তাঁর বক্তব্য ও হুকুমসমূহ গভীরভাবে খতিয়ে দেখা ও অধ্যয়ন করার জন্য যথেষ্ট প্রচেষ্টার প্রয়োজন। তিনি কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে তাঁর ফয়সালাগুলো প্রদান করতেন তা জানার জন্য সেগুলো বিশ্লেষণমূলক অধ্যয়ন করা এবং তাঁর সাধারণ মানহাজ বা পদ্ধতির বাইরে যেতে পারে এমন বক্তব্যগুলো নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। এই সমস্যাগুলোকে সংক্ষেপে নিম্নোক্তভাবে তুলে ধরা যেতে পারে:
- অনেক সময় প্রশ্নের উত্তরগুলোতে অস্পষ্টতা থাকা; কারণ সমালোচকগণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইল্লাত বা ত্রুটিসমূহের দিকে ইঙ্গিত করেন, কিন্তু যেসব সূত্র (কারাইন) বা কারণের ভিত্তিতে তাঁরা সিদ্ধান্ত দেন তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন না।
- প্রশ্নাবলি ও ইলাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বর্ণিত হাদীস ও আসারসমূহের পাঠ (নস) ও শব্দাবলি তাহকীক করা; কারণ সমালোচকগণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে খবরের (বর্ণনার) ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করেন কিন্তু হাদীস বা আসারের মূল পাঠ উল্লেখ করেন না। ফলে বর্ণনার মূল উৎস এবং নির্ভরযোগ্য উদ্ধৃতি খুঁজে বের করার কাজে সময়ের ব্যাপ্তি বেড়ে যায়।
- ইমাম দারা কুতনী প্রশ্নের উত্তরগুলোতে একটি হাদীসের অনেকগুলো সূত্র বা দিক (উজূহ) উল্লেখ করেছেন, যার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হয় তাঁর উস্তাদদের মাধ্যমে প্রাপ্ত অথবা এমন সব উৎস থেকে এসেছে যা বর্তমানে বিদ্যমান নেই। একারণে আমি যাচাই করা সম্ভব এমন কিছু প্রশ্নের ওপর নির্ভর করেছি এবং অনেকগুলো দিক সম্বলিত এমন প্রশ্নগুলো পরিহার করেছি যা প্রসিদ্ধ সুন্নাহ গ্রন্থসমূহে (দাওয়াউইনুস সুন্নাহ) নেই।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
- ذَكَرَ الدارقطنيُّ والنُّقادُ في مواضعٍ ليست بقليلةٍ أعلاماً بمجردِ كُنَاهُم، وقد يُسَمَّى بهذه الكُنية عدد لا بأس به من الرواة، مما يجعل الباحث يبذل كثيراً من التحقيق والتفتيش لتحديد أي الرواة المقصود به في نص الإمام.
- قد يُوحِي نص الناقد بأنَّ هناك حديث أو أثر يعارض الحديث المذكور في السؤال، ولا يصرح به أو حتى يشير إليه، مما يجعل تحقيق المسألة من الصعوبة بمكان ولكن تُفْتَح بفضل الله عز وجل.
- دراسة الأدلة والبراهين التي جعلت الناقد يحكم بالعلة على الحديث سواء كان ذلك من جهة الإسناد أو المتن، ومعرفة الراجح من المرجوح.
- ومن أصعب المهمات الترجيح بين الأوجه المعلة في الخبر الواحد عند وجود علة الاضطراب، لكثرة الوجوه المختلف فيها، ومعرفة البراهين التي استند إليها الدارقطني في ترجيحه لوجهٍ على غيره.
- جمع أقوال أهل النقد ومقارنة أقوالهم بأقوال الدارقطني في انتقاده للأخبار وبيان حجة الدارقطني عند الاختلاف إن وجدت ومناقشة ذلك.
- الترجيح بين أقوال أئمة النقد في الرجال عند الاختلاف في التوثيق والتجريح وذكر البراهين والحجج التي استندتُ إليها.
ولقد أفدت من بعض الدراسات العلمية التي بُحِثَت حول مصنفات الدارقطني، وكذلك استفدت من بعض كُتب العلماء المعاصرين مثل كُتب العلامة المعلمي اليمني، وكُتب العلامة أحمد محمد شاكر، وكُتب شيخنا العلامة محمد عمرو بن عبداللطيف، وقد استفدت كثيراً من مقدمة تحقيق الدكتور محفوظ الرحمن زين الله رحمه الله لكتاب علل الدارقطني، وغَيرِهِم.
ولا يسعني في هذا المقام إلا أن أُقَدِمُ شُكْرِي وَامتِنَانِي إِلِى كُل من قَدَّمَ لِي عَوْنَاً مِنْ الأَسَاتِذَةِ وَالأخْوةِ الكرام فِي إِخْرَاجِ هَذِهِ الدِّرَاسَةِ، وأخص بالذكر: فضيلة الدكتور الشيخ يوسف بن عبدالرحمن المرعشلي - حفظه الله - عضو هيئة التدريس بالجامعة، والمشرف على رسالة الماجستير، فقد نصح فأخلص، وأرشد فأصاب، وأشرف فعلّمَ وأفاد ولم يدخر وسعاً في تقويم
- ইমাম দারাকুতনী এবং সমালোচকগণ অনেকগুলো স্থানে কেবল উপনাম বা কুনিয়ার মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেছেন, অথচ এই কুনিয়ায় বেশ অনেক বর্ণনাকারী থাকতে পারেন। এটি গবেষকের জন্য ইমামের বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোন বর্ণনাকারীকে বোঝানো হয়েছে তা নির্ধারণ করতে অনেক অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই আবশ্যক করে তোলে।
- সমালোচকের বক্তব্য এমন ইঙ্গিত দিতে পারে যে, প্রশ্নে উল্লেখিত হাদিসের বিপরীতে কোনো হাদিস বা আসার রয়েছে, যা তিনি স্পষ্টভাবে বলেননি এমনকি তার দিকে ইঙ্গিতও দেননি। এটি বিষয়টি গবেষণাকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে, তবে মহান আল্লাহর অনুগ্রহে এর জট খুলে যায়।
- সেই সব প্রমাণ ও যুক্তিগুলো অধ্যয়ন করা যার ভিত্তিতে সমালোচক হাদিসটিকে সনদ বা মতন (মূল পাঠ)—উভয় দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ (ইল্লাত) সাব্যস্ত করেছেন এবং অগ্রগণ্য (রাজীহ) ও বর্জনীয় (মারজুহ) বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা।
- কোনো খবরে যখন ‘ইযতিরাব’ (অসংগতি) জনিত ত্রুটি থাকে, তখন তার বিভিন্ন ত্রুটিপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। ইমাম দারাকুতনী একটি দিককে অন্যটির ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে যে দলিলের ওপর নির্ভর করেছেন তা চিহ্নিত করা।
- সমালোচকদের বক্তব্যগুলো সংগ্রহ করা এবং বর্ণনা সমালোচনার ক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্যের সাথে ইমাম দারাকুতনীর বক্তব্যের তুলনা করা এবং মতভেদের ক্ষেত্রে ইমাম দারাকুতনীর দলিল (যদি থাকে) ব্যাখ্যা ও আলোচনা করা।
- বর্ণনাকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা (তাওসিক) এবং ত্রুটি বর্ণনার (তাজরিহ) ক্ষেত্রে সমালোচনা শাস্ত্রের ইমামদের বক্তব্যের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা এবং আমি যে সকল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেছি তা উল্লেখ করা।
আমি ইমাম দারাকুতনীর রচনাবলির ওপর কৃত কিছু গবেষণা থেকে উপকৃত হয়েছি, পাশাপাশি সমসাময়িক আলেমদের কিতাব যেমন আল্লামা মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি, আল্লামা আহমাদ মুহাম্মদ শাকির এবং আমাদের শাইখ আল্লামা মুহাম্মদ আমর বিন আব্দুল লতিফের কিতাব থেকেও উপকৃত হয়েছি। বিশেষ করে ডক্টর মাহফুজুর রহমান জয়নুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ) সম্পাদিত ‘ইলালুদ দারাকুতনী’ কিতাবের ভূমিকা এবং অন্যদের থেকে আমি প্রচুর ফায়দা পেয়েছি।
এই পর্যায়ে আমি আমার সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করছি যারা এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে আমাকে সাহায্য করেছেন। বিশেষভাবে উল্লেখ করছি ডক্টর শাইখ ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান আল-মারআশলী - হাফিজাহুল্লাহ - এর নাম, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং আমার এই মাস্টার্স থিসিসের তত্ত্বাবধায়ক। তিনি একনিষ্ঠভাবে নসিহত করেছেন, সঠিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন ও উপকৃত করেছেন। তিনি এই গবেষণার সংশোধন ও পরিমার্জনের ক্ষেত্রে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الرسالة وتسديد الأخطاء، فجزاه الله عني خير الجزاء، وإلى الأساتذة الكرام أعضاء لجنة المناقشة على تكرمهم بقبول مناقشة هذا البحث وتقويمه،
… كما أرفع جزيلَ الشكرِ والعرفانِ إلى كلٍّ من: فضيلة الدكتور الشيخ محمد رشيد قباني - حفظه الله - مفتي الجمهورية، ورئيس الجامعة، وفضيلة الدكتور الشيخ أنس طبَّارة - حفظه الله - عميد كلية الشريعة بالجامعة، وفضيلة الدكتور الشيخ علي الطويل - حفظه الله - أمين سر كلية الشريعة بالجامعة، على كل ما قدَّموه لي من مساعدات في اعتماد هذا البحث الجليل، وتذليل الصعاب، اللهم اجعله في موازين حسناتهم، يوم لا ينفع المرء إلا ما قدم من عمل، فهو ولي ذلك والقادر عليه سبحانه.
كما أتوجه بشكري العميق، وامتناني العظيم لشيوخي الأفاضل الذين كان لهم الفضل علىَّ- بعد الله عز وجل في معرفة علم الحديث وأخص بالذكر: فضيلة الشيخ محمد عمرو بن عبداللطيف رحمه الله وأدخله فسيح جناته -، فإنَّه كان من كبار علماء الحديث في أرض الكنانة، وكذلك فضيلة الشيخ حجازي أبو إسحاق الحويني - حفظه الله -، فقد أفدت كثيراً من أبحاثهما في علوم الحديث، فجزاهم الله عني خير الجزاء.
وكما أتوجه بخالص الشكر إلى كُلِّ من قدم لي يد العون والمساعدة من قريب أو بعيد، وجزاهم الله عني كل خير، وجعل ذلك في موازين حسناتهم يوم القيامة، والله ولي التوفيق.
وآخر دعوانَا أنِ الحمد لله ربِّ العَالمين، وصَلَّي اللهُ علي النَّبيِّ الأمِّيِّ الذي علَّمَ البشريةَ صلاةً كلما ذَكَرَهُ الذَّاكِرونَ، وغفلَ عَن ذِكْرهِ الغَافِلُونَ، فإنِّي أسأل الله العلي القدير بأسمائه الحسني، وصفاته العلي، وبأني أشهد أن لا إله إلا هو الأحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفواً أحد أن يتقبل مني هذا البحث، وأن ينفع به المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها، وأسأله العفو والمغفرة عن تقصيري وعن زلَاّتي، فإنه هو الغفور الرحيم، وأسأله أن يجعل عملي هذا ابتغاء وجهه سبحانه، وأن يجعله ذُخْراً لي يوم الدين، يوم لا ينفع مالٌ ولا بنون إلا من أتى الله بقلبٍ سليم، وإنني سائلٌ أخاً انتفع به أن يدعو الله لي ولوالدي ولمشايخنا ولمن لهم فضلٌ علىَّ، وللمسلمين كافة فهو خير مسئول وبالإجابة جدير ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
রিসালাহ (গবেষণা পত্র) এবং ভুল সংশোধন, আল্লাহ তাকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। এবং সম্মানিত উস্তাদবৃন্দ যারা এই গবেষণাটি পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মহান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি,
… আমি আরও গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি: সম্মানিত ডক্টর শায়খ মুহাম্মদ রশিদ কাব্বানি—আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন—প্রজাতন্ত্রের মুফতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান; সম্মানিত ডক্টর শায়খ আনাস তব্বারা—আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন—বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীআহ অনুষদের ডিন; এবং সম্মানিত ডক্টর শায়খ আলি আত-তওয়ীল—আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন—বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীআহ অনুষদের সেক্রেটারি; এই মহান গবেষণার অনুমোদন এবং প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে তারা আমাকে যে সহযোগিতা করেছেন তার জন্য। হে আল্লাহ, একে তাদের নেক আমলের পাল্লায় জমা করুন, সেই দিন যেদিন মানুষের নিজের কৃত আমল ছাড়া আর কিছু উপকারে আসবে না। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান, তিনি পবিত্র।
সেই সাথে আমি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা ও অসীম বিনয় জানাচ্ছি আমার সম্মানিত শায়খদের প্রতি, যারা—আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পর—হাদিস শাস্ত্র শিখতে আমার ওপর অনেক অনুগ্রহ করেছেন। আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি: ফজিলাতুশ শায়খ মুহাম্মদ আমর ইবনে আব্দুল লতিফ—আল্লাহ তাকে দয়া করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন—যিনি কিনানা ভূমির (মিসরের) বড় হাদিস বিশারদদের একজন ছিলেন। এবং ফজিলাতুশ শায়খ হিজাযি আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনি—আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন—যাদের দুজনের হাদিস শাস্ত্রীয় গবেষণা থেকে আমি অনেক উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তাদের আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
একইভাবে আমি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তাদের প্রতি যারা আমাকে নিকট থেকে বা দূর থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাদের আমার পক্ষ থেকে কল্যাণ দান করুন এবং কিয়ামতের দিন তাদের নেক আমলের পাল্লায় একে যুক্ত করুন। আর আল্লাহই তাওফিক দানকারী।
এবং আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক সেই উম্মি নবীর ওপর যিনি মানবজাতিকে শিক্ষা দিয়েছেন; এমন সালাত যা বর্ষিত হতে থাকবে যতক্ষণ স্মরণকারীরা তাকে স্মরণ করবে এবং গাফেলরা তাকে স্মরণ করতে গাফলতি করবে। আমি সুউচ্চ ও মহাক্ষমতাধর আল্লাহর কাছে তাঁর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির মাধ্যমে এবং এই সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রার্থনা করছি যে—তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই—তিনি যেন আমার এই গবেষণা কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মুসলিমদের উপকৃত করেন। আমি তাঁর কাছে আমার ত্রুটি ও পদস্খলনের জন্য ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াময়। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর চেহারার কামনায় কবুল করেন, তিনি পবিত্র; এবং একে কিয়ামতের দিনের পাথেয় হিসেবে কবুল করেন, সেই দিন যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে-ই মুক্তি পাবে যে আল্লাহর কাছে সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। আমি সেই ভাইয়ের কাছে আবেদন করছি যে এই গবেষণা দ্বারা উপকৃত হবে, সে যেন আমার জন্য, আমার পিতামাতার জন্য, আমাদের উস্তাদদের জন্য এবং আমার ওপর যাদের অবদান আছে তাদের জন্য এবং সমস্ত মুসলিমের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে। কেননা তিনি সর্বোত্তম আবেদন গ্রহণকারী এবং দোয়া কবুলের যোগ্য। আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تمهيدويشتمل على:
تعريف العلة لغةً واصطلاحاً والعلاقة بينهما، وتعريف معنى النقد لغة واصطلاحاً، وبيان مشروعية النقد والتعليل، وأهمية بيان علة الأحاديث.
تعريف العلة لغة واصطلاحاً:
العلة في اللغة:والعلة في اللغة المرض قال الجوهري "لا أعلَّكَ الله " (1)، أي لا أصابك الله بعلة أو مرض، ويقول أهل الحديث: " أعلَّه فلان " وقياسه "مُعلٌّ" وهو المشهور، وقال بعضهم معلولٌ، وقد اختلف أهل اللغة فيما هو القياس في تسمية الحديث المعلَّ بعلة: هل هو مُعلٌّ، أم معلول، أم معلَّل؟ فذهب جمعٌ من أئمة اللغة إلى أن القياس أن يقال: "مُعَلُّ" لأنه اسم المفعول من الفعل " أَعَلَّ " (2).
وأما لفظة " معلول ": فقد اختلف أهل اللغة في جوازه ومنعه فذهب قوم إلى أن أصلها " عَلَّهُ، يَعُلُّهُ، ويَعِلُّهُ " أي يسقيه المرة بعد المرة، ويقال عَلَّت الإبل تَعِلُّ وتعُلُّ إذا شربت الشَّربَةَ الثانية، وقال ابن الصلاح: " ويسميه أهل الحديث المعلول، وذلك منهم ومن الفقهاء في قولهم في باب القياس العلة والمعلول مرذولٌ عند أهل العربية واللغة " (3).
… وقال النووي: " ويسمونه
--------------------------------------------
ভূমিকাএতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে ইল্লাত-এর সংজ্ঞা এবং উভয়ের মধ্যকার সম্পর্ক, শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে নাকদ (সমালোচনা)-এর সংজ্ঞার বর্ণনা, নাকদ ও তা'লীল (ত্রুটি অন্বেষণ)-এর শরয়ি বিধানের বর্ণনা এবং হাদীসের ইল্লাত (ত্রুটি) স্পষ্ট করার গুরুত্ব।
শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে ইল্লাত-এর সংজ্ঞা:
ভাষাগত অর্থে ইল্লাত:আভিধানিক অর্থে 'ইল্লাত' হলো রোগ। আল-জাওহারী বলেন: "আল্লাহ তোমাকে রোগাক্রান্ত না করুন" (১), অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে কোনো ইল্লাত বা ব্যাধিতে আক্রান্ত না করুন। হাদীস বিশারদগণ বলেন: "অমুক ব্যক্তি এটিকে ত্রুটিযুক্ত (আ'আল্লাহু) করেছেন" এবং ভাষাতাত্ত্বিক নিয়ম অনুযায়ী এর রূপান্তর হলো "মু'আল", যা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। কেউ কেউ একে "মা'লুল" বলেছেন। ত্রুটিযুক্ত হাদীস নামকরণের ক্ষেত্রে ভাষাবিদগণ ব্যাকরণগত বিশুদ্ধ পদ্ধতির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন: এটি কি "মু'আল", নাকি "মা'লুল", নাকি "মু'আল্লাল"? একদল ভাষাবিদ ইমামের মতে বিশুদ্ধ ভাষাতাত্ত্বিক নিয়ম হলো একে "মু'আল" বলা, কারণ এটি "আ'আল্লা" ক্রিয়া থেকে গঠিত 'ইসমুল মাফউল' বা কর্মবাচক বিশেষ্য (২)।
আর "মা'লুল" শব্দের ব্যবহারের বিষয়ে ভাষাবিদগণ এর বৈধতা ও অবৈধতা নিয়ে মতভেদ করেছেন। একদল মনে করেন এর মূল হলো "আল্লা, ইয়াউল্লুহু, ওয়া ইয়াইল্লুহু", যার অর্থ হলো বারবার পান করানো। বলা হয়ে থাকে, উট দ্বিতীয়বার পানি পান করলে তাকে "আল্লাতিল ইবিল" বলা হয়। ইবনুস সালাহ বলেন: "হাদীস বিশারদগণ একে 'মা'লুল' বলে অভিহিত করেন। তাদের এবং ফকীহগণের পক্ষ থেকে কিয়াসের অধ্যায়ে 'ইল্লাত ও মা'লুল' পরিভাষা ব্যবহার করা আরবী ভাষা ও ব্যাকরণবিদদের নিকট নিকৃষ্ট হিসেবে গণ্য" (৩)।
… এবং ইমাম নববী বলেন: "তারা একে নাম দিয়েছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المعلول وهو لحنٌ " (1) ونظم الحافظ العراقي (2) كلام ابن الصلاح في ألفيته فقال:
وَسَمِّ ما بعلَّةٍ مَشْمولُ
… مُعَلّلاً ولا تقل مَعْلُولُ.
وأما لفظة معلَّل: بمعنى علَّله بالشيء، إذا ألهاه وشغَله به، ومنه تعليل الصبي بالطعام، قال السخاوي: أن استعمال لفظ معلَّل على سبيل الاستعارة (3).
قلتُ: والراجح أن كل هذه الألفاظ صحيحة لأن لها أصولاً ثابتة في العربية فقد ذكر ابن فارس إن لكلمة علَّ أصولاً ثلاثة صحيحة: الأول: الضعف، والثاني: التكرار، والثالث: العائق (4). (4)
فأما الأول: فبمعنى المرض والضعف، كما يقال علًّ المريض يَعُلُّ علَّةً، وأعلَّهُ الله تعالى فهو مُعَلٌّ، وأما الثاني: فهو " العَلَلُ " والمراد به التكرار، من سقاه الشربة الثانية، وأما الثالث: " معلَّل " بلامين فبمعنى العائق من قولك أعاقه وشغله، أي علله بالشيء ألهاه وشغله به، فصحت جميع الألفاظ من جهة اللغة.
وقال ابن سِيدَه في المحكم والمحيط مؤيداً قول المحدثين: " ذهب إليه سيبويه، من قولهم مجنون ومسلول، من أَنَّهُ جاء على جَنَنتُه وسَللْته، وإن لم يستعملا في الكلام، استغنى عنهما بأفْعلْت، قال: " ولذا قالوا: جُنَّ وسُلَّ، فإنما يقولون: جُعل فيه الجنون والسُّلَّ، كما قالوا:
--------------------------------------------
"মা'লুল" এবং এটি একটি ভাষাগত ভুল" (১) এবং হাফেজ ইরাকি (২) তার আলফিয়াতে ইবনুল সালাহর বক্তব্যকে পদ্যাকারে বর্ণনা করেছেন এভাবে:
যাতে কোনো ত্রুটি (ইল্লত) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাকে 'মু'আল্লাল' নাম দাও
… 'মু'আল্লাল' বলো, 'মা'লুল' বলো না।
আর 'মু'আল্লাল' শব্দটির অর্থ হলো: তাকে কোনো কিছুর মাধ্যমে ব্যস্ত রাখা, যখন সে তাকে তা দিয়ে ভুলিয়ে রাখে ও মগ্ন রাখে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো শিশুকে খাবার দিয়ে ভুলিয়ে রাখা। সাখাভি বলেছেন: 'মু'আল্লাল' শব্দের ব্যবহারটি রূপক অর্থে (৩)।
আমি বলি: অধিকতর সঠিক মত হলো এই সকল শব্দই সঠিক, কারণ আরবি ভাষায় এগুলোর সুপ্রতিষ্ঠিত মূল ভিত্তি রয়েছে। ইবনে ফারিস উল্লেখ করেছেন যে, 'আল্লা' (علَّ) শব্দের তিনটি সহিহ মূল ভিত্তি রয়েছে: প্রথমটি: দুর্বলতা, দ্বিতীয়টি: পুনরাবৃত্তি এবং তৃতীয়টি: বাধা (৪)।
প্রথমটি: অসুস্থতা ও দুর্বলতা অর্থে, যেমন বলা হয় রোগী অসুস্থ হয়েছে, সে অসুস্থ হয়। আর মহান আল্লাহ তাকে অসুস্থ করেছেন, ফলে সে অসুস্থ। দ্বিতীয়টি: 'আল-আলাল', এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পুনরাবৃত্তি, যেমন কাউকে দ্বিতীয়বার পান করানো। আর তৃতীয়টি: দুই 'লাম' বিশিষ্ট 'মু'আল্লাল', এটি বাধা প্রদান অর্থে, যেমন আপনার কথা- সে তাকে বাধা দিয়েছে ও ব্যস্ত রেখেছে। অর্থাৎ কোনো কিছু দিয়ে তাকে ভুলিয়ে রেখেছে ও মগ্ন রেখেছে। সুতরাং ভাষাগত দিক থেকে সকল শব্দই সঠিক।
ইবনে সিদাহ 'আল-মুহকাম ওয়াল মুহিত' গ্রন্থে মুহাদ্দিসগণের মতকে সমর্থন করে বলেছেন: "সিবাওয়াইহ এই মতের দিকে গিয়েছেন 'মাজনুন' ও 'মাসলুল' শব্দদ্বয়ের ব্যবহারের ক্ষেত্রে, যা 'জানানতুহু' ও 'সালালতুহু' থেকে এসেছে, যদিও সেগুলো কথাবার্তায় ব্যবহৃত হয় না এবং 'আফ'আলতু' ওজনের মাধ্যমে এগুলোর প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা হয়। তিনি বলেন: এ কারণেই তারা বলেন: 'জুন্না' ও 'সুল্লা'। তারা মূলত বলেন যে, তার মধ্যে উন্মাদনা ও ক্ষয়রোগ সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি তারা বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
حُزِنَ وفُسِل " (1).
وقد ورد لفظ " معلول " على ألسنة كثير من المحدثين المتقدمين كالبخاري والترمذي والحاكم والدراقطني وابن عدي وابن عبد البر والبيهقي وغيرهم (2)، واستعمله المتأخرون كذلك مثل الحافظ ابن حجر وسمى كتاباً له: "الزهر المطلول في الخبر المعلول" وهو من الكتب المفقودة كما ذكره العلامة أحمد شاكر (3)، واستعمله السخاوي أيضاً وغيرهم (4).
قلتُ: فخلاصة الأمر أن لفظة " معلول " صحيحة في اللغة ولاسيما أنَّ لها أصل، ولا شك أن المحدثين كانوا أيضاً مُتَمرِّسين في اللغة، فهم أولى الناس باستعمال الصحيح من اللغة، واستعمالهم هذه اللفظة في الحكم على الحديث الذي طرأت عليه العلة دليل صحة هذا اللفظ عندهم والله أعلم.
العلة في الاصطلاح:قال أبو عبد الله الحاكم النيسابوري: " وإنِّما يُعلَّلُ الحديث من أوجه ليس للجرح فيها مدخل، إنَّ حديث المجروح ساقط واهٍ، وعلة الحديث تكثر في أحاديث الثقات أن يحدثوا بحديث له علةٌ فيخفى عليهم علمه فيصير الحديث معلولاً " (5).
وتابعه على ذلك الحافظ أبو عمرو بن الصلاح في مقدمته فقال: " فالحديث المعلَّل هو: الحديث الذي أُطلع فيه على علة تقدح في صحته، مع أن الظاهر السلامة منها، ويتطرق ذلك
--------------------------------------------
‘হুজিনা ওয়া ফুসিলা’ (১)।
আর ‘মা’লুল’ শব্দটি পূর্ববর্তী অনেক মুহাদ্দিসের মুখে উচ্চারিত হয়েছে, যেমন: বুখারী, তিরমিযী, হাকেম, দারা কুতনী, ইবনু আদী, ইবনু আব্দিল বারর, বায়হাকী এবং অন্যান্যরা (২)। পরবর্তীগণও এটি একইভাবে ব্যবহার করেছেন, যেমন হাফিয ইবনু হাজার; তিনি তাঁর একটি বইয়ের নামকরণ করেছেন: ‘আয-যাহরুল মাতলুল ফিল খবরিল মা’লুল’। আল্লামা আহমাদ শাকির যেমন উল্লেখ করেছেন, এটি একটি হারিয়ে যাওয়া বই (৩)। সাখাভী এবং অন্যান্যরাও এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন (৪)।
আমি বলছি: সারকথা হলো, ‘মা’লুল’ শব্দটি ভাষাগতভাবে শুদ্ধ, বিশেষ করে যেহেতু এর একটি মূল ভিত্তি রয়েছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মুহাদ্দিসগণ ভাষাশাস্ত্রেও পারদর্শী ছিলেন, তাই ভাষার সঠিক প্রয়োগে তারাই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অগ্রগণ্য। যে হাদিসে ‘ইল্লাত’ বা ত্রুটি প্রকাশ পেয়েছে তার হুকুম বর্ণনায় তাদের এই শব্দের ব্যবহার তাদের নিকট এই শব্দটির শুদ্ধতারই প্রমাণ। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
পারিভাষিক সংজ্ঞায় ইল্লাত:আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকেম আন-নিশাপুরী বলেন: “হাদিসকে মূলত এমন সব দিক থেকে ত্রুটিযুক্ত (মা’লুল) সাব্যস্ত করা হয় যেখানে জারহ বা বর্ণনাকারীর সমালোচনার কোনো অবকাশ নেই। কেননা সমালোচিত বর্ণনাকারীর হাদিস তো পরিত্যক্ত ও দুর্বল; আর হাদিসের ইল্লাত বা সুক্ষ্ম ত্রুটি মূলত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় অধিক মাত্রায় ঘটে থাকে; তারা এমন হাদিস বর্ণনা করেন যাতে কোনো সুক্ষ্ম ত্রুটি থাকে অথচ সেই ত্রুটির জ্ঞান তাদের কাছে গোপন থেকে যায়, ফলে হাদিসটি মা’লুল বা ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়ে” (৫)।
হাফিয আবু আমর ইবনুস সালাহ তাঁর মুকাদ্দিমায় হাকেমের অনুসরণ করে বলেছেন: “সুতরাং মু’আল্লাল (ত্রুটিযুক্ত) হাদিস হলো সেই হাদিস, যাতে এমন কোনো ত্রুটি উদ্ঘাটিত হয়েছে যা হাদিসটির বিশুদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যদিও বাহ্যিকভাবে তা ত্রুটিমুক্ত মনে হয়। আর এই ত্রুটি দেখা দেয়...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
إلى الإسناد الذي رجاله ثقات، الجامع شرط الصحة من حيث الظاهر " (1).
وقد انتقد غير واحد تعريف ابن الصلاح، ومنهم الدكتور عبدالله بن محمد دمفو فقال: " لكن تعريفه هذا لم يُدخل العلل التي قد تطرأ على متن الحديث دون إسناده " (2).
قلتُ: وليس هذا بصحيح حيث إن لفظ ابن الصلاح: " أُطلع فيه على علة " تشمل علة الإسناد والمتن معاً، وأما قوله: " ويتطرق ذلك إلى الإسناد "، فهو توضيح لقوله: " مع أنَّ الظاهر السلامة منها "، ولذا لا يوجد في تعريف ابن الصلاح أي ملحظ، فهو في نظري مستقيم.
وذكر العلامة الشيخ زكريا الأنصاري تعريف العلة عن الحافظ ابن حجر العسقلاني فقال: " هو خبر ظاهره السلامة أُطلع فيه بعد التفتيش على قادح " (3)، وتابعه الحافظ السخاوي على ذلك (4).
وقد توسع بعض المحدثين في تعريف العلة في الاصطلاح على غير ذلك فأدخل بعضهم العلل الظاهرة ولم يشترطوا أن تكون العلة خفية، كالانقطاع في الإسناد، والإرسال، والإعضال والتدليس والاضطراب، كل ذلك يُعد عندهم علة كابن وضاح، وابن حزم، وابن العربي، وأبي علي الصدفي وأبي علي الغساني، وأبي محمد الرشاطي، وعبد الحق الإشبيلي، وابن القطان الفاسي وغيرهم (5).
--------------------------------------------
সেই সনদের প্রতি যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং যা বাহ্যিকভাবে সহীহ হওয়ার শর্তাবলী পূরণ করে (১)।
একাধিক বিজ্ঞজন ইবনে আস-সালাহ-এর সংজ্ঞার সমালোচনা করেছেন, তাদের মধ্যে ডক্টর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ দামফু রয়েছেন। তিনি বলেন: "তবে তার এই সংজ্ঞাটি হাদীসের মতনে (মূল পাঠে) ঘটতে পারে এমন ত্রুটিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেনি যা তার সনদে প্রকাশ পায় না" (২)।
আমি (লেখক) বলছি: এটি সঠিক নয়, কেননা ইবনে আস-সালাহ-এর এই অভিব্যক্তি: "যাতে একটি ত্রুটি আবিষ্কৃত হয়েছে" সনদ এবং মতন উভয়ের ত্রুটিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর তার কথা: "এবং তা সনদে ঘটে থাকে", এটি তার এই কথার স্পষ্টীকরণ: "যদিও বাহ্যিকভাবে তা থেকে মুক্ত মনে হয়"। অতএব, ইবনে আস-সালাহ-এর সংজ্ঞায় কোনো ত্রুটি নেই, বরং আমার দৃষ্টিতে তা সঠিক।
আল্লামা শাইখ যাকারিয়া আল-আনসারী হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী থেকে ‘ইল্লাত’-এর সংজ্ঞা উল্লেখ করে বলেন: "এটি এমন একটি বর্ণনা যার বাহ্যিক দিকটি ত্রুটিমুক্ত মনে হয়, কিন্তু অনুসন্ধানের পর তাতে ক্ষতিকর কোনো দোষ ধরা পড়ে" (৩), এবং হাফিজ আস-সাখাবীও এক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন (৪)।
কোনো কোনো মুহাদ্দিস পারিভাষিক দিক থেকে 'ইল্লাত'-এর সংজ্ঞায় আরও প্রশস্ততা এনেছেন এবং এতে বাহ্যিক ত্রুটিগুলোকেও দাখিল করেছেন। তারা ইল্লাত গোপন হওয়াকে শর্ত করেননি, যেমন সনদে বিচ্ছিন্নতা (ইনকিতা), ইরসাল, ই'দাল, তাদলীস এবং ইজতিরাব। ইবনে ওয়াদ্দাহ, ইবনে হাযম, ইবনে আল-আরাবী, আবু আলী আস-সাদাফী, আবু আলী আল-গাসসানী, আবু মুহাম্মদ আর-রাশাতী, আব্দুল হক আল-ইশবীলী, ইবনে আল-কাত্তান আল-ফাসী এবং অন্যদের নিকট এই সবগুলিই 'ইল্লাত' হিসেবে গণ্য (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ملخص الخلاف في تعريف العلة في الاصطلاح:القول الأول: أنَّ العلة عبارة عن أسباب خفية غامضة قادحة في صحة الحديث، سواء كانت في السند أو في المتن وليس منها ما يقدح في ظاهر الإسناد من جرح في الراوي أو انقطاع في السند أو غيره، وهو قول الحاكم أبي عبدالله النيسابوري وابن الصلاح، والحافظ العراقي ومن تبعهم من أهل المشرق.
القول الثاني: أنَّ العلة هي كل ما يقدح في الخبر سواء كان خفياً غامضاً أو ظاهراً كالانقطاع أو التدليس أو الجرح في الراوي أو ما شابه ذلك، وهو قول ابن حزم، وعبدالحق الإشبيلي، وأبي علي الغساني وابن العربي المالكي، وعامة المغاربة.
والمختار من تعريف العلة في الاصطلاح:
وهو القول الأول أي: أنها سبب خفي غامض يقدح في الحديث، وإن كان الظاهر السلامة منه، وهو يدل علي وهم الراوي في روايته، سواء كان الوهم يتعلق بالإسناد أو بالمتن، ويُعلم هذا السبب بجمع الطرق، كما قال ابن المديني: " الباب إذا لم تجمع طرقه لم يتبين خطؤه " (1).
العلاقة بين المدلول اللغوي والاصطلاحي:تكون العلاقة بينهما على ثلاثة أوجه:
الوجه الأول: وتكون العلة فيه بلفظ " مُعَلٌّ " بمعنى الضعف أو المرض، ووجه مناسبته للمعنى الاصطلاحي أن العلة إذا طرأت على الحديث الذي ظاهره الصحة أعلته فصار ضعيفاً أو مريضاً.
--------------------------------------------
পারিভাষিক সংজ্ঞায় ‘ইল্লাত’ (ত্রুটি) সংক্রান্ত মতভেদের সারসংক্ষেপ:প্রথম মত: ইল্লাত হলো এমন কিছু গোপন ও অস্পষ্ট কারণ যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ণ করে, চাই তা সনদে (সূত্র) হোক বা মতনে (মূল পাঠ)। তবে বর্ণনাকারীর ত্রুটি (জারহ) বা সনদের বিচ্ছিন্নতা (ইনকিতা) অথবা এমন অন্য কিছু যা বাহ্যিক সনদের গ্রহণযোগ্যতাকে নষ্ট করে, তা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি আল-হাকীম আবু আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরি, ইবনুস সালাহ, আল-হাফিজ আল-ইরাকি এবং প্রাচ্যের যে সকল আলেম তাদের অনুসরণ করেছেন, তাদের অভিমত।
দ্বিতীয় মত: ইল্লাত হলো এমন সবকিছু যা বর্ণনার সত্যতাকে ক্ষুণ্ণ করে, চাই তা গোপন ও অস্পষ্ট হোক কিংবা বাহ্যিক—যেমন সনদের বিচ্ছিন্নতা, তাদলিস (বর্ণনাকারীর নাম গোপন করা), বর্ণনাকারীর প্রতি সমালোচনা বা এই জাতীয় কিছু। এটি ইবনে হাজম, আব্দুল হক আল-ইশবিলি, আবু আলী আল-গাসসানি, ইবনুল আরাবি আল-মালিকি এবং মাগরিবী (মরক্কো অঞ্চলের) অধিকাংশ আলেমদের অভিমত।
ইল্লাত-এর পারিভাষিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে পছন্দনীয় মত:
আর তা হলো প্রথম মতটি। অর্থাৎ: এটি এমন একটি গোপন ও অস্পষ্ট কারণ যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ণ করে, যদিও বাহ্যিকভাবে তা দোষমুক্ত মনে হয়। এটি বর্ণনাকারীর বর্ণনায় কোনো বিভ্রম বা ভুলের পরিচায়ক, চাই সেই বিভ্রমটি সনদের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক বা মতনের সাথে। আর হাদিসের সকল সূত্র একত্রিত করার মাধ্যমেই এই কারণটি সম্পর্কে জানা যায়। যেমন ইবনুল মাদিনি বলেছেন: "কোনো বিষয়ের সকল সূত্র যখন একত্রিত করা না হয়, তখন তার ভুলগুলো স্পষ্ট হয় না" (১)।
শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থের মধ্যকার সম্পর্ক:উভয় অর্থের মধ্যকার সম্পর্ক তিন প্রকার হতে পারে:
প্রথম প্রকার: এখানে ‘ইল্লাত’ শব্দটি ‘মুআল্ল’ (ত্রুটিযুক্ত) শব্দ হতে নির্গত, যার অর্থ হলো দুর্বলতা বা রোগ। পারিভাষিক অর্থের সাথে এর সামঞ্জস্যের বিষয়টি হলো এই যে, যখন বাহ্যিকভাবে বিশুদ্ধ কোনো হাদিসে কোনো ‘ইল্লাত’ বা ত্রুটি প্রকাশ পায়, তখন তা হাদিসটিকে দোষযুক্ত করে দেয়, ফলে সেটি দুর্বল বা রুগ্ন বর্ণনায় পরিণত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ২০)
الوجه الثاني: وتكون العلة فيه بلفظ " العَلَلُ " بزيادة لام، بمعنى التكرار ووجه مناسبته للمعنى الاصطلاحي أن العلة تنشأ من إعادة النظر في الحديث مرة بعد مرة ليتبين علته، على ما ذكره بعضهم من لفظة " بعد التفتيش ".
الوجه الثالث: وتكون العلة فيه بلفظ " عَلَّلهُ " بمعنى ألهاه وشغله بالشئ ووجه مناسبته للمعنى الاصطلاحي أن الحديث المعلل هو الحديث الذي عاقته العلة وشغلته فلم يعد صالحاً للعمل به.
تعريف معنى النقد لغة واصطلاحاً:
والنقد في اللغة أصله تمييز الدراهم وإخراج الزيف منها، ومنه تسمية النقود، قال صاحب لسان العرب: " النقْدُ خلافُ النَّسيئة والنقْدُ والتّنْقادُ تمييزُ الدراهِم وإِخراجُ الزَّيْفِ منها، وقد أَنشد سيبويه:
تَنْفِي يَداها الحَصَى في كلِّ هاجِرةٍ
… نَفْيَ الدَّنانِيرِ تَنْقادُ الصَّيارِيفِ (1).
وقال الجوهري: " نَقَدْتُهُ الدراهمَ، ونَقَدْتُ له الدراهمَ، أي أعطيته، فانْتَقَدَها، أي قبضها. ونَقَدْتُ الدراهم وانْتَقَدْتُها، إذا أخرجتَ منها الزَيْفَ. والدرهم نَقْدٌ، أي وازِنٌ جيِّدٌ. وناقَدْتُ فلاناً، إذا ناقشته في الأمر " (2).وقال صاحب المحيط في اللغة: " النَّقْدُ: تَمْيِيزُ الدَّرَاهِم. وأخْذُها الانْتِقادُ " (3).
وقال صاحب تاج العروس: " النَّقْدُ: الجَيِّدُ الوازِنُ من الدَّراهِمِ. ودِرْهمٌ نَقْدٌ. ونُقُودٌ جِيادٌ من المجاز، النَّقْدُ: اخْتِلاسُ النَّظَرِ نَحْوَ الشيْءِ وقد نَقَدَ الرجُلُ الشيْءَ بنَظَرِه ينْقُده نَقْداً ونَقْد " (4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় দিক: এতে 'ইল্লাহ' শব্দটি অতিরিক্ত 'লাম' যোগে 'আল-আলাল' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ পুনরাবৃত্তি। পারিভাষিক অর্থের সাথে এর সামঞ্জস্যের দিকটি হলো— হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাহ) স্পষ্ট করার জন্য বারবার হাদিসটি পর্যালোচনা করার মাধ্যমে তা উদ্ভূত হয়, যেমনটি কেউ কেউ "অনুসন্ধানের পর" শব্দ দ্বারা উল্লেখ করেছেন।
তৃতীয় দিক: এতে 'ইল্লাহ' শব্দটি 'আল্লালাহু' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ তাকে কোনো কিছু দিয়ে ভুলিয়ে রাখা বা ব্যস্ত রাখা। পারিভাষিক অর্থের সাথে এর সামঞ্জস্যের দিকটি হলো— 'মুআল্লাল' (ত্রুটিযুক্ত) হাদিস হলো এমন হাদিস যাকে ত্রুটি (ইল্লাহ) বাধাগ্রস্ত করেছে এবং ব্যস্ত রেখেছে, ফলে তা আমল করার যোগ্য থাকেনি।
আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে 'নাকদ' (সমালোচনা/পরখ করা)-এর সংজ্ঞা:
অভিধানে 'নাকদ'-এর মূল অর্থ হলো দিরহাম (মুদ্রা) পরখ করা এবং তা থেকে জাল বা খুদযুক্ত মুদ্রা পৃথক করা। এ থেকেই 'নুকুদে'র (মুদ্রা) নামকরণ হয়েছে। লিসানুল আরব-এর লেখক বলেন: "নাকদ হলো 'নাসিআহ' (বাকিতে লেনদেন)-এর বিপরীত। নাকদ এবং তানকাদ হলো দিরহামসমূহ পরখ করা এবং তা থেকে জাল মুদ্রা বের করে আনা। সিবওয়াইহি পাঠ করেছেন:
তার (উটনী) দুহাত প্রতিটি তপ্ত দুপুরে পাথরকণাগুলোকে সরিয়ে দেয়... যেমন মুদ্রা বিশারদগণ দিনারগুলো পরখ করে জাল মুদ্রা সরিয়ে দেন। (১)।
জাওহারি বলেন: "আমি তাকে দিরহামসমূহ 'নাকাদতু' (নগদ প্রদান) করলাম, অর্থাৎ তাকে দিলাম। সে সেগুলো 'ইনতাকাদাহা' (গ্রহণ) করল। আমি দিরহামগুলো 'নাকাদতু' বা 'ইনতাকাদতু' করলাম— যখন তুমি তা থেকে জাল মুদ্রা বের করলে। আর দিরহাম যখন 'নাকদ' হয়, তখন তার অর্থ হলো তা ওজনে সঠিক ও উৎকৃষ্ট। আর আমি অমুকের সাথে 'না কাদতু' করলাম, অর্থাৎ যখন আমি কোনো বিষয়ে তার সাথে সূক্ষ্ম আলোচনা করলাম।" (২)। আল-মুহিত ফিল লুগাহ-এর লেখক বলেন: "নাকদ হলো দিরহামসমূহ পরখ করা। আর তা গ্রহণ করা হলো ইনতিকাদ।" (৩)।
তাজুল আরুস-এর লেখক বলেন: "নাকদ হলো মুদ্রার মধ্যে উৎকৃষ্ট ও সঠিক ওজনের মুদ্রা। বলা হয় দিরহামুন নাকদ। আর নুকুদে জিয়াদ (উৎকৃষ্ট মুদ্রা) রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। নাকদ হলো কোনো কিছুর দিকে আড়চোখে তাকানো। আর যখন কোনো ব্যক্তি তার দৃষ্টি দিয়ে কোনো কিছু পরখ করে, তখন তাকে 'নাকাদা' বলা হয়।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال ابن فارس: " (نقد) النون والقاف والدال أصلٌ صحيح يدلُّ على إبراز شيءٍ وبُروزه ومن الباب نَقْد الدِّرهم، وذلك أن يُكشَف عن حالِهِ في جَودته أو غير ذلك. ودرهمٌ نَقْدٌ: وازِنٌ جيّد، كأنَّه قد كُشِف عن حاله فعُلم " (1)، فالنقد كما تبين هو إخراج وتمييز الجيد من الرديء لغة، وهو موافق لمصطلح المحدثين: أي تمييز الحديث الصحيح من الضعيف، وتمييز الأخبار من وجهتين: الأولى من جهة رواته توثيقاً وتجريحاً، والثانية من جهة المروي وهو متن الحديث إقراراً بصلاحيته أو تعليله.
بيان مشروعية النقد والتعليل:
أخرج البخاري ومسلم عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها: ((أَنَّ رَجُلاً اسْتَاذَنَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَآهُ قَالَ بِئْسَ أَخُو الْعَشِيرَةِ وَبِئْسَ ابْنُ الْعَشِيرَةِ فَلَمَّا جَلَسَ تَطَلَّقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي وَجْهِهِ وَانْبَسَطَ إِلَيْهِ فَلَمَّا انْطَلَقَ الرَّجُلُ قَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ حِينَ رَأَيْتَ الرَّجُلَ قُلْتَ لَهُ كَذَا وَكَذَا ثُمَّ تَطَلَّقْتَ فِي وَجْهِهِ وَانْبَسَطْتَ إِلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا عَائِشَةُ مَتَى عَهِدْتِنِي فَحَّاشًا إِنَّ شَرَّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتِّقَاءَ شَرِّهِ)) (2).
قال الخطيب البغدادي: " ففي قول النبي صلى الله عليه وسلم للرجل: ((بئس رجل العشيرة))، دليل على أن إخبار المخبر بما يكون في الرجل من العيب على ما يوجبه العلم والدين من النصيحة للسائل ليس بغيبة، إذ لو كان ذلك غيبة لما أطلقه النبي صلى الله عليه وسلم، وإنما أراد عليه السلام بما ذكر فيه، والله
--------------------------------------------
ইবনে ফারিস বলেছেন: "(নাকদ) নূন, কাফ এবং দাল একটি সঠিক মূল ধাতু যা কোনো কিছুকে প্রকাশ করা এবং ফুটিয়ে তোলার অর্থ নির্দেশ করে। দিরহামের 'নাকদ' (পরখ করা) এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত, যার অর্থ হলো এর গুণগত মান বা অন্য কোনো অবস্থা উন্মোচন করা। 'দিরহামুন নাকদুন' বলতে সেই দিরহামকে বোঝায় যা ওজনে সঠিক ও উন্নতমানের, যেন এর অবস্থা উন্মোচিত হয়েছে ফলে তা জানা গেছে" (১)। সুতরাং 'নাকদ' বা সমালোচনা যেমনটি স্পষ্ট হয়েছে, আভিধানিক অর্থে তা হলো মন্দ থেকে ভালোকে বের করা ও পৃথক করা। এটি মুহাদ্দিসগণের পারিভাষিক অর্থের সাথেও সংগতিপূর্ণ: অর্থাৎ যঈফ হাদীস থেকে সহীহ হাদীসকে পৃথক করা এবং খবর বা সংবাদসমূহকে দুটি দিক থেকে পৃথক করা: প্রথমত বর্ণনাকারীদের দিক থেকে (তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের নিরিখে), এবং দ্বিতীয়ত বর্ণিত বিষয়ের দিক থেকে—যা হলো হাদীসের মতন (মূল পাঠ)—এর সঠিকতা বা ত্রুটি চিহ্নিত করার মাধ্যমে।
সমালোচনা ও ত্রুটি অন্বেষণের বৈধতার বর্ণনা:
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন: ((এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসার অনুমতি চাইল। তিনি যখন তাকে দেখলেন, বললেন: "সে তার গোত্রের কতই না মন্দ ভাই এবং কতই না মন্দ সন্তান।" এরপর যখন সে বসল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে কথা বললেন এবং সহজভাবে মিশলেন। লোকটি চলে যাওয়ার পর আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যখন লোকটিকে দেখলেন তখন তার সম্পর্কে এমন এমন কথা বললেন, আবার তার সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে কথা বললেন এবং সহজভাবে মিশলেন? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আয়েশা! তুমি কখন আমাকে অশ্লীলভাষী পেয়েছ? কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক থেকে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে, যাকে মানুষ তার অনিষ্টের ভয়ে বর্জন করে।")) (২)।
খতীব আল-বাগদাদী বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই ব্যক্তির প্রতি উক্তি—'গোত্রের কতই না মন্দ লোক'—এর মধ্যে এই মর্মে দলিল রয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যখন জ্ঞান ও দ্বীনের চাহিদাহুযায়ী প্রশ্নকারীর জন্য নসিহত বা সদুপদেশ হিসেবে হয়, তখন তা গীবত বা পরনিন্দা নয়। কারণ এটি যদি গীবত হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বলতেন না। তিনি এর মাধ্যমে যা বুঝাতে চেয়েছেন তা হলো, আর আল্লাহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ২২)
أعلم، أن يبين للناس الحالة المذمومة منه وهي الفحش فيجتنبوها، لا أنه أراد الطعن عليه والثلب له، وكذلك أئمتنا في العلم بهذه الصناعة، إنمَّا أطلقوا الجرح فيمن ليس بعدل لئلا يتغطى أمره على من لا يخبره، فيظنّه من أهل العدالة فيحتج بخبره، والإخبار عن حقيقة الأمر إذا كان على الوجه الذي ذكرناه لا يكون غيبة " (1).
وأخرج الإمام مسلم في صحيحه: ((عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ طَلَّقَهَا الْبَتَّةَ وَهُوَ غَائِبٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا وَكِيلُهُ بِشَعِيرٍ فَسَخِطَتْهُ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا لَكِ عَلَيْنَا مِنْ شَيْءٍ فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لَيْسَ لَكِ عَلَيْهِ نَفَقَةٌ فَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ قَالَ تِلْكِ امْرَأَةٌ يَغْشَاهَا أَصْحَابِي اعْتَدِّي عِنْدَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى تَضَعِينَ ثِيَابَكِ فَإِذَا حَلَلْتِ فَآذِنِينِي قَالَتْ فَلَمَّا حَلَلْتُ ذَكَرْتُ لَهُ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ وَأَبَا جَهْمٍ خَطَبَانِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَلَا يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لَا مَالَ لَهُ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ فَكَرِهْتُهُ ثُمَّ قَالَ انْكِحِي أُسَامَةَ فَنَكَحْتُهُ فَجَعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا وَاغْتَبَطْتُ)) (2).
وقال الخطيب البغدادي: " في هذا الخبر دلالة على أن إجازة الجرح للضعفاء من جهة النصيحة لتُجتنب الرواية عنهم، وليعدل عن الاحتجاج بأخبارهم، لأنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم لما ذكر في أبي جهم: أنه لا يضع عصاه عن عاتقه وأخبر عن معاوية أنَّه صعلوك لا مال له، عند مشورة استشير فيها، لا تتعدى المستشير كان ذكر العيوب الكامنة في بعض نقلة السنن التي يؤدي السكوت عن إظهارها عنهم وكشفها عليهم إلى تحريم الحلال وتحليل الحرام، وإلى الفساد في شريعة الإسلام، أولى بالجواز وأحق بالإظهار وأما الغيبة التي نهى الله تعالى عنها بقوله عز وجل: {وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا} (3) (3) وزجر رسول الله صلى الله عليه وسلم عنها بقوله:
--------------------------------------------
জেনে রেখো, তিনি মানুষের সামনে তার নিন্দনীয় অবস্থা অর্থাৎ তার অশ্লীলতা বর্ণনা করেছেন যাতে তারা তা থেকে বেঁচে থাকে; তার উদ্দেশ্য তার প্রতি বিদ্রূপ করা বা তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা ছিল না। একইভাবে এই শাস্ত্রের জ্ঞানে আমাদের ইমামগণও কেবল তাদের ক্ষেত্রেই সমালোচনার (জারহ) শব্দ প্রয়োগ করেছেন যারা ন্যায়পরায়ণ (আদিল) নন, যাতে করে যে ব্যক্তি তার অবস্থা সম্পর্কে জানে না তার কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট না থেকে যায় এবং সে তাকে ন্যায়পরায়ণ মনে করে তার বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ না করে। আর কোনো বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা যদি আমাদের বর্ণিত পদ্ধতিতে হয়, তবে তা গীবত (পরনিন্দা) হিসেবে গণ্য হবে না (১)।
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: ((ফাতেমা বিনতে কাইস রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, আবু আমর ইবনে হাফস তাঁকে একেবারে (তিন তালাক) তালাক দিলেন যখন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে ফাতেমার কাছে কিছু যব পাঠালেন, কিন্তু ফাতেমা তাতে অসন্তুষ্ট হলেন। তখন প্রতিনিধি বললেন, 'আল্লাহর কসম, আমাদের ওপর আপনার কোনো পাওনা নেই।' এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, 'তাঁর ওপর তোমার কোনো খোরপোষ নেই।' অতঃপর তিনি তাকে উম্মে শারীকের বাড়িতে ইদ্দত পালন করার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, 'তিনি এমন এক নারী যার কাছে আমার সাহাবীদের আনাগোনা বেশি। তুমি বরং ইবনে উম্মে মাকতূমের কাছে ইদ্দত পালন করো, কারণ সে একজন অন্ধ মানুষ, সেখানে তুমি তোমার পোশাক খুলে রাখতে পারবে। যখন তোমার ইদ্দত শেষ হবে, তখন আমাকে জানিও।' ফাতেমা বলেন, 'যখন আমার ইদ্দত শেষ হলো, তখন আমি তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম যে, মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান এবং আবু জাহম আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'আবু জাহমের ব্যাপারে কথা হলো, সে তার কাঁধ থেকে লাঠি নামায় না (অর্থাৎ সে স্ত্রীকে প্রহার করে), আর মুয়াবিয়া হলো একজন নিঃস্ব মানুষ যার কোনো সম্পদ নেই। তুমি উসামা ইবনে যায়েদকে বিয়ে করো।' কিন্তু আমি তাকে অপছন্দ করলাম। তিনি পুনরায় বললেন, 'তুমি উসামাকে বিয়ে করো।' তখন আমি তাকে বিয়ে করলাম এবং আল্লাহ তাতে প্রভূত কল্যাণ দান করলেন এবং আমি ঈর্ষণীয় সুখ লাভ করলাম)) (২)।
খতীব আল-বাগদাদী বলেন: "এই সংবাদের মধ্যে এই মর্মে দলিল রয়েছে যে, দুর্বল বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (জারহ) করার অনুমতি নসিহতের খাতিরে দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ বর্জন করা হয় এবং তাদের সংবাদের মাধ্যমে দলিল পেশ করা থেকে বিরত থাকা যায়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আবু জাহমের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন যে সে তার কাঁধ থেকে লাঠি নামায় না, এবং মুয়াবিয়ার ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন যে সে একজন নিঃস্ব মানুষ যার কোনো সম্পদ নেই—অথচ এটি ছিল একটি পরামর্শের ক্ষেত্রে যেখানে পরামর্শদাতা এবং পরামর্শপ্রার্থী ছাড়া অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা ছিল না—সেহেতু সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের মধ্যে বিদ্যমান ত্রুটিসমূহ বর্ণনা করা অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত এবং প্রকাশ করা অধিক জরুরি। কারণ এসব বর্ণনাকারীর দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা বা তা প্রকাশ না করা হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল করার দিকে ধাবিত করতে পারে এবং ইসলামের শরীয়তের মধ্যে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আর যে গীবত বা পরনিন্দা থেকে আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে নিষেধ করেছেন: {তোমরা একে অপরের গীবত করো না} (৩) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সতর্ক করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
((يَا مَعْشَرَ مَنْ آمَنَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يَدْخُلِ الإِيمَانُ قَلْبَهُ لَا تَغْتَابُوا الْمُسْلِمِينَ وَلَا تَتَّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ)) (1)، فهي ذكر الرجل عيوب أخيه يقصد بها الوضع منه والتنقيص له والإزراء به فيما لا يعود إلى حكم النصيحة، وإيجاب الديانة من التحذير عن ائتمان الخائن وقبول خبر الفاسق واستماع شهادة الكاذب " (2)
وقال الإمام مسلم في مقدمة الصحيح كلاماً غاية في الإتقان، وضَّح فيه مشروعية النقد عند علماء الحديث والأثر فقال: " وأشباه ما ذكرنا من كلام أهل العلم في متهمي رواة الحديث وإخْبارِهم عن معايبهم كثير يطول الكتاب بذكره على استقصائه وفيما ذكرنا كفاية لمن تفهم، وعقل مذهب القوم فيما قالوا من ذلك وبينوا وإنما ألزموا أنفسهم الكشف عن معايب رواة الحديث وناقلي الأخبار وأفتوا بذلك حين سئلوا لما فيه من عظيم الخطر إذ الأخبار في أمر الدين إنما تأتي بتحليل أو تحريم أو أمر أو نهي أو ترغيب أو ترهيب فإذا كان الراوي لها ليس بمعدن للصدق والأمانة ثم أقدم على الرواية عنه من قد عرفه ولم يبين ما فيه لغيره ممن جهل معرفته كان آثما بفعله ذلك غاشا لعوام المسلمين " (3).
وقال الحافظ ابن رجب الحنبلي: " وذكر ابن المبارك رجلاً فقال: " يكذبُ "، فقال له رجل: يا أبا عبدالرحمن " تغتاب! "، قال " اسكت "، إذا لم نبين كيف يعرف الحق من الباطل؟ " (4).
وقال أيضاً: " روي عن ابن عُليَّةَ أنَّه قال في الجرح إن هذا أمانة ليس بغيبة "، وروى أحمد بن مروان المالكي حدثنا عبدالله بن أحمد بن حنبل قال: جاء أبو تراب النخشبي إلي أبي فجعل أبي يقول: " فلان ضعيف وفلان ثقة "، فقال أبو تراب: " يا شيخ لا تغتب العلماء " قال: فالتفت
--------------------------------------------
((হে ঐ সকল লোক, যারা মুখে ঈমান এনেছ কিন্তু ঈমান যাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলিমদের গিবত করো না এবং তাদের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করো না)) (১); এটি হলো কোনো ব্যক্তির তার ভাইয়ের দোষ-ত্রুটি এমনভাবে উল্লেখ করা যার উদ্দেশ্য হলো তাকে হেয় করা, তাকে খাটো করা এবং তাকে লাঞ্ছিত করা, যা নসিহত বা উপদেশের সংজ্ঞায় পড়ে না। বরং দ্বীনি আবশ্যকতা যেমন খিয়ানতকারীকে বিশ্বাস করার ব্যাপারে সতর্ক করা, ফাসিকের সংবাদ গ্রহণ করা এবং মিথ্যাবাদীর সাক্ষ্য শোনার ব্যাপারে সাবধান করার পর্যায়ভুক্ত বিষয় এটি নয়। (২)
ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় অত্যন্ত নিপুণ কিছু কথা বলেছেন, যেখানে তিনি হাদিস ও আছারের আলেমদের নিকট সমালোচনার বৈধতা স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন: "অভিযুক্ত হাদিস বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে এবং তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনার বিষয়ে ইলমের অধিকারীদের (আলেমদের) আমরা যা উল্লেখ করেছি, এই জাতীয় কথা অনেক রয়েছে যা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে গেলে কিতাব দীর্ঘ হয়ে যাবে। আর যা আমরা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট ঐ ব্যক্তির জন্য যে বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছে এবং এই জামাত (মুহাদ্দিসগণ) যা বলেছেন ও স্পষ্ট করেছেন সে সম্পর্কে তাদের কর্মপন্থা বুঝতে পেরেছে। তারা হাদিস বর্ণনাকারী ও সংবাদ বহনকারীদের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করাকে নিজেদের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছেন এবং যখন এ বিষয়ে তাদের নিকট জানতে চাওয়া হয়েছে তখন তারা ফতোয়া দিয়েছেন। কারণ এতে রয়েছে মহা আশঙ্কা; কেননা দ্বীনি বিষয়ের সংবাদসমূহ মূলত হালাল-হারাম, আদেশ-নিষেধ কিংবা উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শনের বার্তা নিয়ে আসে। সুতরাং এই সংবাদের বর্ণনাকারী যদি সততা ও আমানতদারিতার আধার না হয়, আর যে ব্যক্তি তার অবস্থা সম্পর্কে জানে সে যদি তার কাছ থেকে বর্ণনা করে এবং তার প্রকৃত অবস্থা সেই ব্যক্তির কাছে প্রকাশ না করে যে তা জানে না, তবে সে তার এই কাজের কারণে গুনাহগার হবে এবং সাধারণ মুসলিমদের সাথে প্রতারণাকারী হিসেবে গণ্য হবে।" (৩)।
হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলি বলেন: "ইবনুল মুবারক এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বললেন: 'সে মিথ্যা বলে।' তখন এক লোক তাকে বলল: হে আবু আবদুর রহমান, আপনি কি 'গিবত করছেন!' তিনি বললেন: 'চুপ করো, আমরা যদি (সত্য) স্পষ্ট না করি তবে হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য কীভাবে করা যাবে?'" (৪)।
তিনি আরও বলেন: "ইবনে উলাইয়্যাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি জারহ (সমালোচনা) সম্পর্কে বলেছেন: এটি আমানত রক্ষা করা, গিবত নয়।" এবং আহমদ বিন মারওয়ান আল-মালিকি বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু তুরাব আন-নাখশাবি আমার পিতার কাছে আসলেন, তখন আমার পিতা বলতে শুরু করলেন: "অমুক দুর্বল এবং অমুক নির্ভরযোগ্য।" তখন আবু তুরাব বললেন: "হে শায়খ, ওলামাদের গিবত করবেন না।" তিনি (ইমাম আহমদ) তখন ফিরে তাকালেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أبي إليه قال: " ويحك! هذا نصيحة، ليس هذا غيبة " (1).
أهمية بيان علة الأحاديث والأخبار:إنَّ علم نقد الأخبار سنداً ومتناً يعتبر من أهم العلوم التي ساهمت في تقويم تاريخ الإسلام، والبحث في أوجه نقد الأحاديث وتعليلها من أهم المعارف والمباحث التي تُدرس في علم نقد الأخبار والمرويَّات، حيث أنها تكسب الباحث الخبرة والمعرفة، للتمييز بين الصحيح والضعيف، والتي تُؤهِّلهُ للحكم عليها ومدى صلاحيتها للاستشهاد بها في الأقوال والأعمال والأحكام الشرعية، ولخفاء علل الأحاديث على كثير من الناس إلا حذاق هذا الفن، حتى صار من أغمض أنواع الحديث وأدقها مسلكا، ولا يقوم به إلا من منحه الله فهما وإطلاعا وإدراكا لمراتب الرواة ومعرفة ثاقبة لاختلاف المرويَّات، لذا قام جهابذة النقاد من المحدثين ببيان علل الأحاديث من اضطراب، أو تصحيف، أو إدارج، أو نكارة أو شذوذ وغيرها، ليسُدُّوا هذه الثغرة عن الأمة، وقد يكون الحديث مروياً بالمعنى الخطأ عن الثقات - الذين عليهم العمدة في المرويَّات مما يوهم صحته - فيُحكم به، ويعتبر دليلاً لحكم شرعي وليس هو بصحيح بل هو ضعيف معلول.
فعلى سبيل المثال:
قال عبدالله بن أحمد بن حنبل: " سألتُ أبي عن حديث عبدالرحمن بن مهدي عن زائدة عن موسى بن أبي عائشة عن عبيد الله بن عبدالله قال: ((دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ أَخْبِرِيني بِمَرَضِ رسُول اللهِ صَلَّي اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ فوصفت له حتى بلغت أنَّ رسول الله صَلَّي اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ وَجَدَ خِفْةً فَخَرَجَ يُهَادَى بَينَ رَجُلَينِ، وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَصَلَّى النَّبي صَلَّي اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ خَلْفَ أَبي بَكْرٍ قَاعِدَاً وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي)) فقال أبي: " أخطأ عبدالرحمن في هذا الموضع، أو يكون زائدة أخطأ لعبدالرحمن، حدثني أبي قال: حدثنا عبدالصمد بن عبدالوارث، ومعاوية بن عمرو وخالفا عبدالرحمن
--------------------------------------------
আমার পিতা তাকে বললেন: "আফসোস তোমার জন্য! এটি তো নসিহত (উপদেশ), এটি গীবত (পরনিন্দা) নয়।" (১)।
হাদিস ও সংবাদের ত্রুটি (ইলাল) বর্ণনার গুরুত্ব:নিশ্চয়ই সনদ (সূত্র) ও মতন (মূল পাঠ) ভিত্তিক সংবাদ সমালোচনার জ্ঞান ইসলামের ইতিহাস সংস্কারে অবদান রাখা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান হিসেবে বিবেচিত। হাদিস সমালোচনার দিকগুলো অনুসন্ধান এবং এর ত্রুটিসমূহ চিহ্নিত করা হলো সংবাদ ও বর্ণনা সমালোচনা বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও আলোচনার বিষয়। কেননা এটি গবেষককে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান দান করে, যার মাধ্যমে তিনি সহিহ (সঠিক) ও জয়িফ (দুর্বল) হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন। এটি তাকে হাদিসের ওপর হুকুম দেওয়ার এবং কথা, কাজ ও শরিয়তের বিধানের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে ব্যবহারের যোগ্যতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্য যোগায়। আর এই শিল্পের দক্ষ পণ্ডিতগণ ব্যতীত অধিকাংশ মানুষের কাছে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিগুলো গোপন থাকার কারণে, এটি হাদিস বিজ্ঞানের সবচেয়ে অস্পষ্ট এবং সূক্ষ্মতম শাখায় পরিণত হয়েছে। আল্লাহ যাকে প্রখর বুঝশক্তি, ব্যাপক অধ্যয়ন, বর্ণনাকারীদের মর্যাদাগত স্তর সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি এবং বর্ণনার ভিন্নতা সম্পর্কে তীক্ষ্ণ জ্ঞান দান করেছেন, তিনি ছাড়া আর কেউ এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এই কারণে হাদিস বিশারদগণের মধ্য থেকে দক্ষ সমালোচকগণ হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ যেমন- ইজতিরাব (অস্থিরতা), তাসহিফ (বর্ণগত পরিবর্তন), ইদরাজ (অনুপ্রবেশ), নাকারাহ (অপরিচিতি) বা শায (ব্যতিক্রমতা) ইত্যাদি বর্ণনা করেছেন, যাতে উম্মাহর এই শূন্যতা পূরণ করা যায়। কখনও কখনও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের—যাদের বর্ণনার ওপর নির্ভর করা হয়—কাছ থেকে ভুল অর্থে হাদিস বর্ণিত হতে পারে, যা এর বিশুদ্ধতার বিভ্রম সৃষ্টি করে। ফলে একে সঠিক হিসেবে গণ্য করে শরিয়তের বিধানের দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়, অথচ তা বিশুদ্ধ নয় বরং তা দুর্বল ও ত্রুটিযুক্ত (মা'লুল)।
উদাহরণস্বরূপ:
আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: "আমি আমার পিতাকে আবদুর রহমান ইবনে মাহদি থেকে বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, যিনি যায়িদাহ থেকে, তিনি মুসা ইবনে আবি আইশা থেকে এবং তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ((আমি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এর নিকট প্রবেশ করলাম এবং বললাম, আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতা সম্পর্কে বলুন। অতঃপর তিনি তাঁর বর্ণনা দিলেন যতক্ষণ না এ পর্যন্ত পৌঁছালেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা সুস্থতা বোধ করলেন এবং দুই ব্যক্তির কাঁধে ভর দিয়ে বের হলেন, তখন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মানুষকে নিয়ে সালাত পড়ছিলেন। অতঃপর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরের পেছনে বসে সালাত আদায় করলেন আর আবু বকর দাঁড়িয়ে মানুষকে সালাত পড়াচ্ছিলেন।))" অতঃপর আমার পিতা বললেন: "আবদুর রহমান এই স্থানে ভুল করেছেন, অথবা যায়িদাহ আবদুর রহমানের কাছে (বর্ণনা করতে) ভুল করেছেন। আমার পিতা আমাকে বলেছেন: আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস এবং মুয়াবিয়া ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং তারা উভয়ে আবদুর রহমানের বিরোধিতা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والصواب ما قال عبدالصمد ومعاوية " (1).
قلتُ: ووجه ما أشار إليه الإمام أحمد من الخطأ: أن وكيعاً أو زائدة جعل النَّبي صَلَّي اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ يصلي خلف أبي بكر والصواب أنه صلى إلى جنبه، وائتمَّ أبو بكر رضى الله عنه بالنَّبي صَلَّي اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ، والنَّاس يأتمون بأبي بكر وقد رجح الإمام أحمد رواية عبدالصمد بن عبدالوارث ورواية معاوية بن عمرو على رواية عبدالرحمن بن مهدي عن زائدة. وقد أخرجه على الصواب الإمام البخاري في صحيحه قال: حدثنا أحمد بن يونس قال حدثنا زائدة عن موسى بن أبي عائشة عن عبدالله بن عتبة قال: ((دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ: أَخْبِرِيني بِمَرَضِ رسُول اللهِ صَلَّي اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ
… فَأجْلَسَاهُ إِلِي جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ فَجَعَلَ أَبَو بَكْرٍ يُصَلِّي وَهُو يَاتَمُ بِصَلاةِ النَّبي صَلَّي اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ، وَالنَّاس بِصَلاّةِ أَبِي بَكْرٍ وَالنَّبي صَلَّي اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ قَاعِدَاً)) (2). وأسند فيها روايتي عبدالصمد بن عبدالوارث ومعاوية بن عمرو ، وهو الصحيح الراجح.
ومثال آخر: قال الإمام الترمذي في العلل الكبير: " حدثنا محمود بن غيلان، ومحمد ابن رافع، قالا: حدثنا عبدالرزاق، عن معمر، عن يحيى بن أبي كثير، عن إبراهيم بن عبد الله بن قارظ عن السائب بن يزيد عن رافع بن خديج، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ)). سألت محمدا - يعني البخاري - عن هذا الحديث فقال: " هو غير محفوظ، وسألت إسحاق بن منصور عنه فأبى أن يحدث به عن عبدالرزاق، وقال: هو غلط، قلت له: ما علته؟ قال: روى عنه هشام الدستوائي، عن يحيى بن أبي كثير، عن إبراهيم بن عبدالله بن قارظ، عن السائب بن يزيد، عن رافع ابن خديج، عن النبَّي صلى الله عليه وسلم قال: ((كَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيثٌ، وَمَهْرُ
--------------------------------------------
এবং সঠিক হলো তা-ই যা আবদুস সামাদ এবং মুয়াবিয়া বলেছেন (১)।
আমি বলছি: ইমাম আহমাদ যে ভুলটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন তার ধরণ হলো: ওয়াকি' অথবা যায়িদাহ বর্ণনা করেছেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকরের পিছনে সালাত আদায় করেছেন, অথচ সঠিক হলো তিনি তাঁর পাশে সালাত আদায় করেছেন। আর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করেছিলেন এবং লোকেরা আবু বকরের অনুসরণ করছিল। ইমাম আহমাদ আবদুর রহমান বিন মাহদী সূত্রে যায়িদাহর বর্ণনার বিপরীতে আবদুস সামাদ বিন আবদুল ওয়ারিস এবং মুয়াবিয়া বিন আমরের বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আহমাদ বিন ইউনুস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যায়িদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মূসা বিন আবু আইশা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উতবা থেকে, তিনি বলেন: ((আমি আয়েশার নিকট প্রবেশ করলাম এবং বললাম: আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসুস্থতা সম্পর্কে বলুন... অতঃপর তাঁরা তাঁকে আবু বকরের পাশে বসিয়ে দিলেন, তখন আবু বকর সালাত আদায় করছিলেন এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাতের অনুসরণ করছিলেন, আর মানুষ আবু বকরের সালাতের অনুসরণ করছিল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসা অবস্থায় ছিলেন)) (২)। এবং তিনি এতে আবদুস সামাদ বিন আবদুল ওয়ারিস এবং মুয়াবিয়া বিন আমরের বর্ণনা দুটি সনদসহ উল্লেখ করেছেন, আর এটিই সঠিক ও অগ্রগণ্য।
আরেকটি উদাহরণ: ইমাম তিরমিযী ‘আল-ইলালুল কাবীর’-এ বলেছেন: "মাহমুদ বিন গাইলান এবং মুহাম্মাদ ইবনে রাফে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মামার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর থেকে, তিনি ইবরাহীম বিন আবদুল্লাহ বিন কারিজ থেকে, তিনি সায়িব বিন ইয়াযিদ থেকে, তিনি রাফে বিন খাদীজ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: ((শিঙা দানকারী এবং যার শিঙা লাগানো হয়েছে উভয়েরই রোজা ভেঙে গেছে))। আমি মুহাম্মাদকে—অর্থাৎ বুখারীকে—এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: "এটি সংরক্ষিত (মাহফুজ) নয়।" আর আমি ইসহাক বিন মানসুরকে এটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে এটি বর্ণনা করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন: "এটি ভুল।" আমি তাঁকে বললাম: "এর ত্রুটি (ইল্লত) কী?" তিনি বললেন: "হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ী তাঁর (ইয়াহইয়া) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর থেকে, তিনি ইবরাহীম বিন আবদুল্লাহ বিন কারিজ থেকে, তিনি সায়িব বিন ইয়াযিদ থেকে, তিনি রাফে ইবনে খাদীজ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: ((শিঙা দানকারীর উপার্জন অপবিত্র, এবং পারিশ্রমিক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
البَغِي خَبِيثٌ، وَثَمَنُ الْكَلْبِ خَبِيثٌ)) (1)
قلتُ: ووجه علة هذا الحديث أنهم اختلفوا على إسناده، فأدخل بعضهم حديث: ((كسب الحجام خبيث، ومهر البغي خبيث، وثمن الكلب خبيث)) في حديث ((أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ))، وكان الوهم فيه من معمر بن راشد، وهو ثقة ثبت حيث خالف فيه جمع من الثقات.
قال الحافظ البيهقي في السنن: " وخالفهم معمر بن راشد فرواه عن يحيى بن أبي كثير عن إبراهيم بن عبدالله بن قارظ عن السائب بن يزيد عن رافع بن خديج قال: قال رسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم: ((أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ)) (2).
فظهر الوهم في هذا السند إلا أن الحديث ثابت من أوجه وأسانيد أخرى لم تسلم من العلة فقد أعلّوهُ بالإرسال كما أشار إليه الحافظ البيهقي (3)، حيث رواه بعضهم مرسلاً وبعضهم موصولاً.
ومثال آخر: قال الحافظ ابن حجر العسقلاني في النكت: " ومن الأحاديث التى رواها بعض الرواة بالمعنى الذى وقع له، وحصل من ذلك الغلط لبعض الفقهاء بسببه: ما رواه العلاء بن عبدالرحمن] بن يعقوب الحرقى [، عن أبيه عن أبي هريرة رضى الله عنه قال: أنَّ النَّبي صلى الله عليه وسلم قال: ((كُلُّ صَلَاةٍ لَا يُقْرَأُ فِيهَا بِأمِّ الْكِتَابِ فَهِىَ خِدَاجٌ
…))، ورواه عنه سفيان بن عيينه ، وإسماعيل بن جعفر ، وروح بن القاسم ، وعبدالعزيز الدراوردي ، وطائفة من أصحابه ، وهكذا رواه عنه شعبة في رواية من حفاظ أصحابه وجمهورهم، وانفرد وهب بن جرير عن شعبة بلفظ: ((لا
--------------------------------------------
ব্যভিচারিণীর উপার্জন অপবিত্র এবং কুকুরের মূল্য অপবিত্র। (১)
আমি বলি: এই হাদিসের ত্রুটির (ইল্লাত) কারণ হলো যে তারা এর সনদের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। ফলে তাদের কেউ কেউ ‘নাপিতের উপার্জন অপবিত্র, ব্যভিচারিণীর পারিশ্রমিক অপবিত্র এবং কুকুরের মূল্য অপবিত্র’ হাদিসটিকে ‘সিঙাদানকারী এবং যার সিঙা দেওয়া হয়েছে উভয়েই রোজা ভঙ্গ করেছে’ হাদিসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছেন। আর এতে ভ্রমটি হয়েছে মা’মার ইবনে রাশিদ থেকে, অথচ তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী ছিলেন; কিন্তু তিনি এখানে একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেছেন।
হাফেজ বায়হাকী আস-সুনান গ্রন্থে বলেন: "মা’মার ইবনে রাশিদ তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি এটি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কারিজ থেকে, তিনি সায়েব ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি রাফে ইবনে খাদিজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'সিঙাদানকারী এবং যার সিঙা দেওয়া হয়েছে উভয়েই রোজা ভঙ্গ করেছে'।" (২)
সুতরাং এই সনদে ভ্রমটি স্পষ্ট হয়ে যায়, তবে হাদিসটি অন্যান্য সূত্র ও সনদ থেকে সাব্যস্ত রয়েছে যেগুলো ত্রুটিমুক্ত নয়। কেননা তারা একে ‘ইরসাল’ (মুরসাল হওয়া) দ্বারা ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন, যেমনটি হাফেজ বায়হাকী ইঙ্গিত করেছেন (৩), যেখানে বর্ণনাকারীদের কেউ কেউ এটি মুরসাল হিসেবে এবং কেউ কেউ এটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্য একটি উদাহরণ: হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী আন-নুকাতে বলেন: "আর সেই সকল হাদিসের মধ্যে একটি—যা কোনো কোনো বর্ণনাকারী নিজের বুঝ অনুযায়ী অর্থগতভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর ফলে কোনো কোনো ফকিহ এর কারণে ভুলের শিকার হয়েছেন—তা হলো সেই হাদিস যা আলা ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াকুব আল-হুরকি তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'প্রতিটি সালাত যাতে উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) পাঠ করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ...'।" আর তার থেকে এটি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, ইসমাইল ইবনে জাফর, রাওহ ইবনে কাসিম, আবদুল আজিজ আদ-দারাওয়ার্দি এবং তার একদল সঙ্গী বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে শু’বা থেকেও তার নির্ভরযোগ্য হাফেজ সঙ্গীগণ এবং তাদের অধিকাংশ এটি বর্ণনা করেছেন। তবে ওহাব ইবনে জারির শু’বা থেকে এককভাবে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تُجْزِئُ صَلَاة لَا يُقْرَأُ فِيهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ)) (1)،
حتى زعم بعضهم أن الرواية مفسرة للخداج الذي في الحديث وأنه عدم الإجزاء، وهذا لا يتأتًّى إلا لو كان مخرج الحديث مختلفاً، فأما والسند واحد متحد فلا ريب في أنَّه حديث واحد اختلف لفظه، فتكون رواية وهب بن جرير شاذة بالنسبة إلى ألفاظ بقية الرواة، لاتفاقهم دونه على اللفظ الأول ولأنَّه يبعد كلَّ البعد أن يكون أبو هريرة رضي الله عنه سمعه باللفظين، ثم نقل عنه ذلك، فلم يذكره العلاء لأحد من رواته _ على كثرتهم _ إلا لشعبة، ثمَّ لم يذكره شعبة لأحدٍ من رواته _ على كثرتهم _ إلا لوهب بن جرير " (2).
قلتُ: ذكر الحافظ البيهقي في السنن الكبري (3)، وتبعه الحافظ في النكت (4)
… بلفظ: ((كُلُّ صَلَاةٍ لَا يُقْرَأُ فِيهَا بِأمِّ الْكِتَابِ فَهِىَ خِدَاجٌ))، وعزوا الحديث للإمام مسلم
… في صحيحه، وهو وهم منهما رحمهما الله، ولكن ورد هذا اللفظ عند الإمام أحمد في المسند (5)، وكذلك في السنن لابن ماجة (6) من حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده، ولكن الحديث عند الإمام مسلم بلفظ: ((مَنْ صَلَّى صَلَاةً لَمْ يَقْرَا فِيهَا بِأُمِّ القُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ))، من حديث سفيان بن عيينة
--------------------------------------------
"যে সালাতে ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করা হয় না তা যথেষ্ট হবে না" (১),
এমনকি তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এই বর্ণনাটি হাদিসে বর্ণিত 'খিদাজ' (ত্রুটিপূর্ণ) শব্দের ব্যাখ্যা স্বরূপ এবং এর অর্থ হলো সালাত যথেষ্ট না হওয়া। এটি কেবল তখনই সম্ভব হতো যদি হাদিসটির উৎস (মাখরাজ) ভিন্ন হতো। কিন্তু যেহেতু সনদ বা সূত্র অভিন্ন ও এক, তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি মূলত একটিই হাদিস যার শব্দে ভিন্নতা এসেছে। সুতরাং ওহাব ইবনে জারীরের বর্ণনাটি অন্যান্য রাবীদের শব্দের তুলনায় 'শায' (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে গণ্য হবে; কারণ তারা তাকে বাদ দিয়ে প্রথম শব্দের ওপর একমত হয়েছেন। তাছাড়া এটি অত্যন্ত অসম্ভব যে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হাদিসটি উভয় শব্দে শুনেছিলেন এবং তারপর তা বর্ণনা করেছিলেন, অথচ আল-আলা তাঁর অসংখ্য রাবীদের মধ্যে কেবল শু'বাকে এটি বলেছেন এবং শু'বা তাঁর অসংখ্য রাবীদের মধ্যে কেবল ওহাব ইবনে জারীরকে এটি বলেছেন। (২)।
আমি বলব: হাফেজ বায়হাকী 'আস-সুনানুল কুবরা'তে (৩) এটি উল্লেখ করেছেন এবং হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আন-নুকাত'-এ (৪) তাঁর অনুসরণ করেছেন... এই শব্দে: "প্রত্যেক সালাত যাতে উম্মুল কিতাব পাঠ করা হয় না, তা ত্রুটিপূর্ণ।" এবং তাঁরা হাদিসটিকে ইমাম মুসলিমের দিকে তাঁর সহীহ গ্রন্থে নিসবত করেছেন, যা তাঁদের উভয়ের পক্ষ থেকে একটি ভ্রম (ওয়াহম), আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন। তবে এই শব্দটি ইমাম আহমদের 'মুসনাদ' (৫) এবং ইবনে মাজাহর 'সুনান'-এ (৬) আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে। কিন্তু ইমাম মুসলিমের নিকট হাদিসটি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহর বর্ণনায় এই শব্দে এসেছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো সালাত আদায় করল যাতে উম্মুল কুরআন পাঠ করল না, তবে তা ত্রুটিপূর্ণ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
عن العلاء عن أبيه عن أبي هريرة (1)
ومعلوم أن ترجمة عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده فيها كلام من أهل العلم، فقد ذكر خلاصة ذلك العلامة أحمد شاكر كلاماً غاية في التحقيق والإتقان فقال: " فقد اختلف كثيراً في الاحتجاج برواية عمرو عن أبيه عن جده أما عمرو فإنه ثقة من غير خلاف، ولكن أعلَّ بعضهم روايته عن أبيه عن جده بأن الظاهر أن المراد جد عمرو وهو محمد بن عبدالله بن عمرو فتكون أحاديثه مرسلة، ولذلك ذهب الدارقطني إلى التفصيل، ففرق بين أن يفصح بجده أنَّه " عبدالله " فيحتج به، أو لا يفصح فلا يحتج به، وكذلك إن قال: " عن أبيه عن جده سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم " أو نحو هذا مما يدل على أن المراد الصحابي فيحتج به وإلا فلا ".
وذهب ابن حبان إلى تفصيل آخر: وهو أنه إن استوعب ذكر آبائه في الرواية احتج به وإن اقتصر على قوله: " عن أبيه عن جده " لم يحتج به. وقد أخرج في صحيحه حديثاً واحداً هكذا: " عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن محمد بن عبدالله بن عمرو عن أبيه مرفوعاً: ((ألَا أُحَدِثُكُمْ بِأَحَبكُمْ إلىَّ وَأَقْرَبِكُمْ مِنِّي مَجْلِسَاً يَوْمَ القِيَامَةِ)) (2)، الحديث. قال الحافظ العلائي: " ما جاء فيه التصريح برواية محمد عن أبيه في السند فهو شاذ نادر، وقال ابن حبان في الاحتجاج لرأيه برد رواية عمرو عن أبيه عن جده: إن أراد جده عبدالله فشعيب لم يلقه، فيكون منقطعاً، وإن أراد محمداً فلا صحبة له فيكون مرسلاً.
… قال الذهبي في الميزان: " هذا لا شئ، لأن شعيباً ثبت سماعه من عبدالله، وهو الذي رباه حتى قيل: إن محمداً مات في حياة أبيه عبدالله، وكفل شعيباً جده عبدالله، إذا قال عن أبيه عن جده، فإنما يريد بالضمير فيه " جده " إنه عائد إلى شعيب، وصح أيضاً أن شعيب سمع من معاوية وقد مات معاوية قبل عبدالله بن عمرو بسنوات، فلا ينكر له السماع من جده سيما وهو الذي رباه وكفله "، والتحقيق أن رواية عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده من أصح الأسانيد كما قلنا آنفاً، قال البخاري: " رأيت أحمد بن حنبل
--------------------------------------------
আল-আলা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে (১)
আর এটা সুবিদিত যে, আমর ইবনে শুআইব-এর তার পিতা ও তার দাদা থেকে বর্ণিত বর্ণনাপরম্পরা নিয়ে বিজ্ঞ আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। আল্লামা আহমাদ শাকির এ বিষয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিপুণ একটি সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমর-এর তার পিতা ও তার দাদা থেকে বর্ণনার মাধ্যমে দলিল গ্রহণের বিষয়ে প্রচুর মতভেদ রয়েছে। আমরের ক্ষেত্রে তিনি কোনো দ্বিমত ছাড়াই নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। তবে কেউ কেউ তার পিতা ও তার দাদা থেকে বর্ণিত হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত মনে করেছেন এই যুক্তিতে যে, বাহ্যত এখানে ‘দাদা’ বলতে আমরের নিজের দাদাকে বোঝানো হয়েছে, যিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর; সেক্ষেত্রে তার হাদিসগুলো ‘মুরসাল’ হবে। একারণেই ইমাম দারাকুতনী বিস্তারিত ব্যাখ্যার দিকে গিয়েছেন। তিনি পার্থক্য করেছেন এভাবে যে—যদি দাদার নাম স্পষ্ট করে ‘আব্দুল্লাহ’ উল্লেখ করা হয়, তবে তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে; আর যদি স্পষ্ট না করা হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। অনুরূপভাবে যদি তিনি বলেন: ‘তার পিতা থেকে, তার দাদা থেকে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি...’ অথবা এই জাতীয় শব্দ ব্যবহার করেন যা দ্বারা কোনো সাহাবীকে বোঝানো উদ্দেশ্য হয়, তবে তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য, অন্যথায় নয়।"
ইবনে হিব্বান অন্য একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যার দিকে গিয়েছেন। আর তা হলো—যদি বর্ণনায় তার পিতৃপুরুষদের সবার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, তবে তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হবে। আর যদি কেবল ‘তার পিতা থেকে, তার দাদা থেকে’ বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। তিনি তার সহীহ গ্রন্থে একটি হাদিস এভাবেই উদ্ধৃত করেছেন: "আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: ((আমি কি তোমাদের জানাব না কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে কে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং অবস্থানের দিক থেকে সবচেয়ে কাছে হবে?)) (২), হাদিস। হাফেজ আল-আলাঈ বলেন: "সনদে মুহাম্মদ-এর তার পিতা থেকে বর্ণনার বিষয়টি যেখানে স্পষ্টভাবে এসেছে, তা বিরল (শায)।" আর ইবনে হিব্বান, আমর-এর তার পিতা ও দাদা থেকে বর্ণিত হাদিস প্রত্যাখ্যান করার স্বপক্ষে দলিল হিসেবে বলেন: "যদি তিনি তার দাদা আব্দুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে শুআইব তো তার সাথে সাক্ষাৎ করেননি, ফলে এটি ‘মুনকাতি’ (বিচ্ছিন্ন সনদ) হবে। আর যদি তিনি মুহাম্মদকে উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে তিনি তো সাহাবী ছিলেন না, ফলে এটি ‘মুরসাল’ হবে।
… ইমাম আয-যাহাবী ‘আল-মিযান’ গ্রন্থে বলেন: "এর কোনো ভিত্তি নেই। কারণ শুআইব-এর আব্দুল্লাহ থেকে শোনার বিষয়টি প্রমাণিত। তিনিই তাকে লালন-পালন করেছিলেন, এমনকি বলা হয় যে মুহাম্মদ তার পিতা আব্দুল্লাহর জীবিত থাকাবস্থায় মারা গিয়েছিলেন এবং আব্দুল্লাহ তার নাতি শুআইবকে নিজের তত্ত্বাবধানে নিয়েছিলেন। যখন তিনি ‘তার পিতা থেকে, তার দাদা থেকে’ বলেন, তখন এর ‘দাদা’ সর্বনামটি শুআইবের দিকেই ফেরে। এটিও প্রমাণিত যে, শুআইব মুয়াবিয়া (রা.) থেকে শুনেছেন, অথচ মুয়াবিয়া (রা.) আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের কয়েক বছর আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন। সুতরাং তার দাদার কাছ থেকে শোনাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই, বিশেষ করে তিনিই যখন তাকে লালন-পালন ও তত্ত্বাবধান করেছিলেন।" আর সঠিক বিশ্লেষণ হলো—আমর ইবনে শুআইব-এর তার পিতা ও তার দাদা থেকে বর্ণনাটি অন্যতম বিশুদ্ধ সনদ, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে বলেছি। ইমাম বুখারী বলেছেন: "আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে দেখেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وعلي بن المديني وإسحاق بن رَاهَويه وأبا عبيد وعامة أصحابنا يحتجون بحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده ما تركه أحدٌ من المسلمين. قال البخاري: " من الناس بعدهم؟!. وروى الحسن بن سفيان عن إسحاق بن رَاهَويَهْ قال: " إذا كان الراوي عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده ثقة، فهو كأيوب عن نافع عن ابن عمر".
قال النَّووي: " وهذا التشبيه نهاية في الجلالة من مثل إسحاق " (1).
مما سبق يتبين لنا أن لنقد الأحاديث أهمية كبرى لمعرفة الغث من الثمين منها، وتمييز الصحيح الراجح من الأحكام الشرعية التي عليها مدار الدين، وإحقاق الحق وإبطال الباطل، وثمة فرق شاسع، وبون عظيم، بين نقد علماء الحديث للأخبار والمرويَّات، وبين أولئك المستشرقين الذين لم يكن لهم هم إلا الطعن في هذه الأخبار والآثار، لتأسيس منهج جديد مخالف لأصول أهل العلم وجهابذة هذا الفن ليكون ذريعة لمن في قلوبهم مرض ليسيروا خلفهم، وينتهجوا مناهجهم، للتشكيك في دين الله، وضرب المصدر الثاني في الإسلام، وفي هذا ما فيه من تنكب الأفهام، والانتكاس عن الجادة، والتسور على الكبار، لكن هيهات هيهات، وشتان بين الثرى والثريا، فإن الله عز وجل حفظ الدين بقوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (2)، والقرآن ذكرٌ قد دلت عليه آيات كثيرة منها قوله: {وَهَذَا ذِكْرٌ مُّبَارَكٌ أَنزَلْنَاهُ أَفَأَنتُمْ لَهُ مُنكِرُونَ} (3) والسنة والأحاديث النبوية الشريفة ذكر كذلك فقد قال الله عز وجل: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (4)، فحفظ الله القرآن والسنة معاً إلى قيام الساعة، ولن ينال هؤلاء من القُرآنِ ولا من السُّنةِ الشريفةِ أبداً، والله سبحانه وتعالى الموفق، فله الحمد والمنَّة.
--------------------------------------------
আলী বিন আল-মাদিনী, ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ, আবু উবায়েদ এবং আমাদের সাধারণ সাথীবর্গ আমর বিন শুআইব-এর তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেন, যা মুসলিমদের কেউ বর্জন করেননি। বুখারী বলেছেন: "তাদের পরে আর কে আছে?!"। হাসান বিন সুফিয়ান ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যদি আমর বিন শুআইব-তাঁর পিতা- তাঁর দাদা থেকে বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য হন, তবে তা আইয়ুব-নাফি-ইবনে উমর-এর বর্ণনার মতোই।"
নববী বলেছেন: "ইসহাকের মতো ইমামের পক্ষ থেকে এই তুলনাটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাপূর্ণ" (১)।
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, হাদিস সমালোচনার গুরুত্ব অপরিসীম, যাতে অসার থেকে সারবস্তুকে চেনা যায় এবং দ্বীনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত শরয়ী বিধানগুলোর মধ্য থেকে সঠিক ও অগ্রগণ্য হাদিসসমূহকে পৃথক করা যায়। এর মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়। হাদিস বিশারদগণের হাদিস ও বর্ণনা যাচাই করার পদ্ধতির সাথে ঐসব প্রাচ্যবিদদের পদ্ধতির মাঝে এক বিশাল ব্যবধান ও সুগভীর পার্থক্য বিদ্যমান, যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো এই সকল বর্ণনা ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হানা। তারা এমন এক নতুন পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় যা ইলম ও এই শাস্ত্রের মহাজ্ঞানী পণ্ডিতগণের মূলনীতির পরিপন্থী। যাতে করে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা তাদের অনুসরণ করার এবং তাদের পথ অবলম্বন করার একটি অজুহাত পায় এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি সংশয় সৃষ্টি করা যায় এবং ইসলামের দ্বিতীয় উৎসকে আঘাত করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে সঠিক বুঝ-জ্ঞান থেকে বিচ্যুতি, সত্য পথ থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং বড়দের ওপর ধৃষ্টতা প্রদর্শন করা। কিন্তু তা অসম্ভব, সুদূরপরাহত! মাটির সাথে সুরাইয়া নক্ষত্রের যে ব্যবধান, তাদের এই হীন প্রচেষ্টার সাথে সত্যের ব্যবধান তেমনই। কারণ মহান আল্লাহ নিজেই দ্বীন সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছেন এই বলে: "নিশ্চয়ই আমি যিকির অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী" (২)। কুরআন হলো যিকির, যা অনেক আয়াত দ্বারা প্রমাণিত, যেমন তাঁর বাণী: "আর এটি একটি বরকতময় যিকির যা আমি অবতীর্ণ করেছি; তবে কি তোমরা একে অস্বীকারকারী?" (৩)। সুন্নাহ এবং হাদিসে নববীও অনুরূপভাবে যিকির; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে" (৪)। অতএব, আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত কুরআন ও সুন্নাহ উভয়কে একত্রে সংরক্ষণ করেছেন। তারা কখনোই কুরআন কিংবা সুন্নাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই তাওফিকদাতা, সুতরাং সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الباب الأولالإمام الدارقطني وكتابه العللوفيه فصلان:
الفصل الأول: ترجمة موجزة للإمام الدارقطني رحمه الله.
وفيه: سبعة مباحث.
المبحث الأول: اسمه ونسبه ومولده.
المبحث الثاني: نشأته وبداية طلبه للعلم.
المبحث الثالث: رحلاته العلمية وشيوخه وتلامذته.
المبحث الرابع: منزلته العلمية.
المبحث الخامس: وفاته.
المبحث السادس: آثاره العلمية.
المبحث السابع: دراسات علمية فيه وبعض مؤلفاته.
الفصل الثاني: التعريف بكتاب العلل للإمام الدارقطني.
علل الدارقطني (العلل الواردة في الأحاديث النبوية).
وفيه: ستُ مباحث.
المبحث الأول: اسم الكتاب ومؤلفه.
المبحث الثاني: قيمة الكتاب العلمية.
المبحث الثالث: محتوى الكتاب.
المبحث الرابع: مصادر الإمام الدارقطني في الكلام على العلل والرواة.
المبحث الخامس: الطريقة التي كان يسلكها الدارقطني في بيان العلل.
المبحث السادس: الأحاديث التي انتقدها الدارقطني في العلل على أحد الصحيحين.
প্রথম অধ্যায়ইমাম দারা কুতনী এবং তাঁর কিতাব 'আল-ইলাল'এবং এতে রয়েছে দুটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম দারা কুতনী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী।
এবং এতে রয়েছে: সাতটি অনুচ্ছেদ।
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশ পরিচয় এবং জন্ম।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা এবং ইলম অন্বেষণের সূচনা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি সফরসমূহ, তাঁর উস্তাদগণ এবং তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকাল।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি রচনাবলী।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: তাঁকে নিয়ে এবং তাঁর কিছু কিতাব নিয়ে ইলমি গবেষণা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম দারা কুতনীর 'কিতাবুল ইলাল'-এর পরিচিতি।
ইলালুদ দারা কুতনী (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহে বিদ্যমান ত্রুটিসমূহ)।
এবং এতে রয়েছে: ছয়টি অনুচ্ছেদ।
প্রথম অনুচ্ছেদ: কিতাবের নাম এবং এর রচয়িতা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কিতাবটির ইলমি গুরুত্ব ও মান।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কিতাবের বিষয়বস্তু।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ইলাল (হাদিসের ত্রুটি) এবং বর্ণনাকারীদের বিষয়ে আলোচনায় ইমাম দারা কুতনীর উৎসসমূহ।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: ইলাল বর্ণনায় দারা কুতনী যে পদ্ধতি অনুসরণ করতেন।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: দারা কুতনী তাঁর 'ইলাল' গ্রন্থে 'সহীহাইন' (বুখারি ও মুসলিম)-এর কোনো একটির ওপর যে সকল হাদিসের সমালোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الفصل الأولترجمة موجزة للإمام الدَّارَقُطْني رحمه الله (1).
المبحث الأول: اسمه ونسبه ومولده.
اسمه ونسبه: علي بن عمر بن أحمد بن مهدي بن مسعود بن النعمان بن دينار بن عبدالله، أبو الحسن الدَّارَقُطْني - بفتح الدال وبعد الألف راء مفتوحة، ثم قاف مضمومة وبعدها طاء مهملة ساكنة، ثم نون - الشافعي أمير المؤمنين في الحديث، نُسِبَ لدارقطن كانت محلة كبيرة ببغداد (2).
مولده: ولد في خمس من ذي القعدة سنة ست وثلاثمائة (306) هجرية في دار قطن ببغداد (3).
المبحث الثاني: نشأته وبداية طلبه للعلم.
طلب العلم منذ نعومة أظفاره، واهتم بالحديث روايةً ودرايةً، فبدأ يتردد على مجالس العلماء والمحدثين وعمره لم يتجاوز العشرة، قال الخطيب البغدادي: " حكى لنا يوسف القَوَّاس كنا نمر إلى البغوي، والدَّارَقُطْني صبي يمشي خلفنا، بيده رغيف وعليه كامخ (4)، فدخلنا إلى ابن منيع ومنعناه فقعد على الباب يبكي " (5).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদইমাম দারা কুতনী রহিমাহুল্লাহ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (১)।
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম।
নাম ও বংশপরিচয়: আলী ইবনে উমর ইবনে আহমদ ইবনে মাহদী ইবনে মাসউদ ইবনে নুমান ইবনে দীনার ইবনে আব্দুল্লাহ, আবুল হাসান আদ-দারা কুতনী - দাল বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং আলিফের পরে রা বর্ণে ফাতহা, এরপর ক্বাফ বর্ণে যাম্মাহ (পেশ) এবং এরপর মুহমালাহ ‘ত’ বর্ণে সাকিন, তারপর নূন - শাফেয়ী মাযহাব অনুসারী এবং হাদীস শাস্ত্রে আমীরুল মুমিনীন। দারা কুতন নামক স্থানের দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে দারা কুতনী বলা হয়, যা বাগদাদের একটি বড় এলাকা ছিল (২)।
জন্ম: তিনি ৩০৬ হিজরী সনের ৫ই যিলকদ বাগদাদের দারা কুতন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন (৩)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা ও ইলম অর্জনের সূচনা।
তিনি শৈশব থেকেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং হাদীস বর্ণনা ও তার সূক্ষ্ম জ্ঞান (দিরায়াহ) অর্জনে মনোনিবেশ করেন। বয়স দশ বছর পার হওয়ার আগেই তিনি উলামা ও মুহাদ্দিসদের মজলিসে যাতায়াত শুরু করেন। খতীব আল-বাগদাদী বলেন: "ইউসুফ আল-কাওয়াস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমরা আল-বাগভীর কাছে যেতাম, আর দারা কুতনী তখন বালক, আমাদের পেছনে পেছনে হাঁটতেন। তাঁর হাতে একটি রুটি থাকত এবং তাতে কামাখ (এক প্রকার সালুন) মাখানো থাকত (৪)। এরপর আমরা ইবনে মানী'-এর কাছে প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে বাধা দিলাম, ফলে তিনি দরজায় বসে কাঁদতে লাগলেন" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম আদ-দারা কুতনি ফী নাকদিল হাদীসি ফী কিতাবিল ইলাল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
حضر في بداية طلبه للعلم مجلس الإمام إسماعيل الصفار، فجلس ينسخ جزءاً كان معه وإسماعيل يملي فقال له بعض الحاضرين: لا يصح سماعك وأنت تنسخ، فقال الدَّارَقُطْني: فهمي للإملاء أحسن من فهمك وأحضر، ثم قال له ذلك الرجل: أتحفظ كم أملى حديثا؟، فقال: إنَّه أملى ثمانية عشر حديثاً إلى الآن، والحديث الأول منها عن فلان، ثم ساقها كلها بأسانيدها وألفاظها لم يخرم منها شيئاً، فتعجب الناس منه (1).
المبحث الثالث: رحلاته العلمية وشيوخه وتلامذته.
رحل الإمام الدَّارَقُطْني إلى الكوفة، والبصرة، وواسط، وتَنِّيس، كما ارتحل في كهولته إلى الشام ومصر، وخوزستان، وجاء إلى مكة حاجاً فاستفاد وأفاد، قال الحاكم: دخل الدارقطني الشام ومصر على كبر السن، وحج واستفاد وأفاد (2).
شيوخه: (3)
سمع أبو الحسن الدَّارَقُطْني من خلق كثير لا يحصون، والمشايخ الذين روى عنهم في كتاب العلل يربو عددهم على مائتين، منهم:
1 - إبراهيم بن أحمد بن الحسن القرميسيني (ت: 358 هـ).
2 - إبراهيم بن حماد بن إسحاق، أبو إسحاق الأزدي (ت 323 هـ).
--------------------------------------------
তিনি তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের শুরুতে ইমাম ইসমাইল আস-সাফফারের মজলিসে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি তাঁর সাথে থাকা একটি পাণ্ডুলিপি নকল করতে বসেন, আর ইসমাইল পাঠ বলে দিচ্ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে কেউ তাঁকে বললেন: "আপনি নকল করার সময় আপনার শ্রুতলিপি গ্রহণ সঠিক হবে না।" তখন আদ-দারা কুতনী বললেন: "পাঠ শোনার ক্ষেত্রে আমার উপলব্ধি আপনার উপলব্ধির চেয়ে উত্তম ও অধিক প্রখর।" তারপর সেই ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "তিনি কতটি হাদিস পাঠ করেছেন তা কি আপনার মুখস্থ আছে?" তিনি বললেন: "তিনি এখন পর্যন্ত আঠারোটি হাদিস পাঠ করেছেন, যার প্রথমটি অমুক থেকে বর্ণিত।" অতঃপর তিনি সবকটি হাদিস তাদের সনদ ও মূল পাঠসহ বর্ণনা করলেন এবং এর কোনো কিছুই বাদ পড়েনি। ফলে মানুষ তাঁর প্রতিভায় বিস্মিত হলো (১)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগত সফরসমূহ, তাঁর শিক্ষকগণ ও ছাত্রগণ।
ইমাম আদ-দারা কুতনী কুফা, বসরা, ওয়াসিত ও তিন্নিসে ভ্রমণ করেন। তেমনিভাবে প্রৌঢ় বয়সে তিনি শাম, মিসর ও খুজিস্তানে সফর করেন। তিনি হজ্জের উদ্দেশ্যে মক্কায় আসেন এবং সেখানে অন্যদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেন ও অন্যদের জ্ঞান দান করেন। আল-হাকিম বলেন: "আদ-দারা কুতনী বার্ধক্যে শাম ও মিসরে প্রবেশ করেন এবং হজ্জ করেন, আর জ্ঞান অর্জন ও দান করেন" (২)।
তাঁর শিক্ষকগণ: (৩)
আবু আল-হাসান আদ-দারা কুতনী অসংখ্য লোকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন যাদের গণনা করা সম্ভব নয়। আর 'কিতাবুল ইলাল'-এ তিনি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন, সেই শিক্ষকদের সংখ্যা দুইশতেরও বেশি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - ইবরাহিম বিন আহমদ বিন আল-হাসান আল-কিরমিসিনি (মৃত্যু: ৩৫৮ হিজরি)।
২ - ইবরাহিম বিন হাম্মাদ বিন ইসহাক, আবু ইসহাক আল-আযদি (মৃত্যু: ৩২৩ হিজরি)।
--------------------------------------------