(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: -)
الجامع الصحيح فيما كان على شرط الشيخين أو أحدهما ولم يخرجاه   (يوسف بن جودة الداودي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الجامع الصحيح فِيمَا كَانَ عَلى شَرطِ الشَيْخَيْنِ أو أحَدِهِمَا وَلم يُخَرِّجَاهُ

المؤلف: أبو عبد الرحمن، يوسف بن جودة يس يوسف الداودي

الناشر: دار قباء للطباعة - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 ربيع الآخر 1436

আল-জামি আস-সহীহ: যা দুই শায়খ অথবা তাঁদের যেকোনো একজনের শর্তানুসারে হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা তা সংকলন করেননি   (ইউসুফ বিন জুদাত আদ-দাউদী)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আল-জামি আস-সহীহ: যা দুই শায়খ অথবা তাঁদের যেকোনো একজনের শর্তানুসারে হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা তা সংকলন করেননি

লেখক: আবু আব্দুর রহমান, ইউসুফ বিন জুদাত ইয়াসীন ইউসুফ আদ-দাউদী

প্রকাশক: দার কুবাহ লিত-তিবাআহ - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ١)
الجامع الصحيح

فِيمَا كَانَ عَلى شَرطِ الشَيْخَيْنِ أو أحَدِهِمَا وَلم يُخَرِّجَاهُ

 

الجزء الأول

 

تَأليِف

أبي عَبْدِ الْرَّحمنِ يُوسُف بْنِ جُودَةَ الدَّاودى
আল-জামি আস-সহিহ

শাইখাইন বা তাঁদের কোনো একজনের শর্তানুযায়ী হাদিসসমূহ যা তাঁরা বর্ণনা করেননি

 

প্রথম খণ্ড

 

সংকলনে

আবু আবদুর রহমান ইউসুফ বিন জুদাহ আদ-দাউদি
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تمهيد

إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبْدهُ ورسولُهُ.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} … سورة آل عمران (102).

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} سورة النساء (1).

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} سورة الأحزاب (70، 71).

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة.

الحَمْدُ للهِ الذي خَلَقَ السمواتِ الأرْضَ وجَعَلَ الظُلمات والنور، ثم الذين كَفَرُوا بربهِم يعْدِلُون، فللهِ الحمد رَبِّ السموات وَرَبِّ الأرض رَبِّ العالمين، وله
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌উপক্রমণিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} … সূরা আলে ইমরান (১০২)।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়তার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} সূরা আন-নিসা (১)।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} সূরা আল-আহযাব (৭০, ৭১)।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা সত্য কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন। এরপরও যারা কুফরি করে তারা তাদের রবের সমকক্ষ নির্ধারণ করে। সুতরাং আল্লাহরই জন্য সমস্ত প্রশংসা, যিনি আসমানসমূহের রব, জমিনের রব এবং সৃষ্টিজগতের রব। এবং তাঁরই জন্য...
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ٤)
الكِبْرياءُ في السمواتِ والأرضِ وهو العزيزُ الحكيمُ، والحمد للهِ الذي له ما في السمواتِ وما في الأرضِ وله الحمد في الآخرة وهو الحكيم الخبير، أحمده سبحانه على جميل خيراته، وحُسن نعمه وآلائه، وفضل جُودِهِ وإحسانِهِ، فهو سبحانَهُ المتفضل على عباده ليل نهار، والمسبغُ عليهم بكل أنواع الخيرات، القائلُ سبحانه: {أليسَ اللهُ بكافٍ عبده}، وإن من أفضل النعم على العبد معرفة طريق الله عز وجل طريق النجاة في الحال والمآل، وأن يكون له نور يستنير به في ظلمات الضلال، وغواية الفساد، وعمايات الجهالة، ولا يَشكُ عاقل أنه نور العلم النافع، ولاسيما علم ما أُثر عن خير البرية محمدٍ صلى الله عليه وسلم المبعوث للناس كافة، وكفى بدعائه صلى الله عليه وسلم لمن حمل هذا العلم، فقد أخرج الإمام أحمد وأصحاب السنن من حديث جماعة من الصحابة منهم: زيد بن ثابت وأنس وعبد الله بن مسعود وأبى الدرداء وجبير بن مطعم، فأما حديث زيد بن ثابت فقد أخرجه جمع منهم أبو داود فقال: حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ مِنْ وَلَدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ *

فينبغي العناية بحفظ السنن لمن أهَّلَهُ الله عز وجل لذلك، رجاء نيل بركة دعاء النبي صلى الله عليه وسلم فهذا الحديث وغيرهُ كان الدافع لإخراج هذا الجامع جعله الله خالصاً لوجهه الكريم، وكان من الأسباب التي دفعتني إلى تصنيف هذا الجامع أن الأحاديث التي كانت تخُرَّج عن طريق الحاكم في المستدرك يُحكم
আসমান ও জমিনে সমস্ত গরিমা ও বড়ত্ব কেবল তাঁরই এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই এবং আখিরাতেও সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ। আমি তাঁর পবিত্রতা ও প্রশংসা করছি তাঁর সুন্দর দানসমূহ, উত্তম নিয়ামত ও অনুগ্রহ এবং তাঁর বদান্যতা ও ইহসানের জন্য। কেননা তিনি মহান সত্তা যিনি তাঁর বান্দাদের ওপর দিন-রাত অনুগ্রহকারী এবং তাদের প্রতি সর্বপ্রকার কল্যাণ বর্ষণকারী। মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন?"। আর বান্দার ওপর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো মহান আল্লাহর পথ চেনা, যা ইহকাল ও পরকালে মুক্তির পথ; এবং তার জন্য এমন এক নূর বা আলো থাকা যার মাধ্যমে সে পথভ্রষ্টতার অন্ধকার, ফাসাদের প্ররোচনা ও মূর্খতার অন্ধত্বে আলোকবর্তিকা লাভ করতে পারে। কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিই এতে সন্দেহ করবেন না যে, এটি হলো উপকারী ইলমের আলো, বিশেষ করে সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ সত্তা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত ইলম, যাঁকে সমস্ত মানুষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। আর এই ইলম ধারণকারীর জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়াই যথেষ্ট। ইমাম আহমাদ ও সুনান গ্রন্থকারগণ একদল সাহাবীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: যাইদ বিন সাবিত, আনাস, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ, আবু দারদা ও জুবাইর বিন মুতয়িম। যাইদ বিন সাবিতের হাদীসটি একদল ইমাম বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে আবু দাউদ বলেন: আমাদের নিকট মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি উমর বিন সুলাইমান—যিনি উমর বিন খাত্তাবের বংশধর—থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আবান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি যাইদ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি— "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদীস শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক ইলম বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে ইলম পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক ফকীহ বা সমঝদার, আবার অনেক ইলম বহনকারী নিজে ফকীহ নয়।" *

সুতরাং আল্লাহ তাআলা যাকে যোগ্য করেছেন তার উচিত সুন্নাহ সংরক্ষণের প্রতি যত্নবান হওয়া, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়ার বরকত লাভ করা যায়। এই হাদীস এবং অন্যান্য বিষয়ই এই সংকলনটি প্রকাশের মূল প্রেরণা ছিল; আল্লাহ এটিকে একমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন। এই সংকলনটি রচনার অন্যতম কারণ ছিল এই যে, আল-হাকেম কর্তৃক 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে যে হাদীসগুলো সংগৃহীত হতো সেগুলোর ওপর যে হুকুম বা সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ٥)
عليها بالصحة بمجرد موافقة الذهبي عليها، ولقد تتبعت ذلك فوجدتُ أوهاماً كثيرةً وعللاً حالت بين هذه الأحاديثِ وصحتها فضلاً عن أن تكون على شرط الشيخين، فسألتُ الله عز وجل أن يوفقني لفصل الأحاديث الصحيحة التي في المستدرك في جامع واحد لكي يستفيد منه من ليس له دراية، ولقد شَرَعْتُ في الفصل ودونت الصحيح في كراسةٍ لي إلا أنني وجدتُ نفسي لا أُصَحِّحُ إلا ما كان له أصل في كتب السُّنة الأخرى فغيرت طريقتي وجعلته جامعا لكل ما كان على شرط الشيخين أو أحدهما ولم يخرجاه إلا ما صرحتُ به أن أحد الشيخين قد خرَّجه، وكان من الأسباب القوية التي دفعتني إلى أن أُصنف هذا الجامع للأحاديث التي على شرط الشيخين قلة من جمع أو صنف أحاديث في هذا الباب من المتقدمين أو المتأخرين على السواء، وأشهر من عُرف بهذا هو الحافظ أبو عبد الله الحاكم النيسابوري وقد صنف المستدرك على الصحيحين، وقال رحمه الله: " وأنا أستعينُ الله على إخراج أحاديث رواتها ثقات قد احتج بمثلها الشيخان رضي الله عنهما أو أحدهما وهذا شرط الصحيح عند كافة فقهاء الإسلام " المستدرك (1/ 3).

وقال الحافظ زين الدين عبد الرحيم بن الحسين العراقي: " فقول الحاكم بمثلها أي بمثل رواتهما لاأنهم أنفسهم ويحتمل أن يراد بمثل تلك الأحاديث وفيه نظر، لكن الذي ذكره ابن الصلاح هو الذي فهمه ابن دقيق العيد من عمل الحاكم فإنه ينقل تصحيح الحاكم لحديث وأنه على شرط البخاري مثلاً ثم يعترض عليه بأن فيه فلاناً لم يخرج له البخاري وهكذا فعل الذهبي في مختصر المستدرك ولكن ظاهر كلام الحاكم المذكور مخالف لما فهموه عنه والله أعلم. " التقيد والإيضاح (30)
কেবল ইমাম যাহাবীর অনুমোদনের কারণে সেগুলোর বিশুদ্ধতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অথচ আমি বিষয়টি অনুসন্ধান করে তাতে অনেক ভ্রান্তি ও ত্রুটি খুঁজে পেয়েছি যা এই হাদীসগুলোর বিশুদ্ধ হওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে; এমনকি সেগুলো শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী হওয়া তো অনেক দূরের কথা। তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করেছি যেন তিনি আমাকে মুসতাদরাকের সহীহ হাদীসগুলোকে একটি সংকলনে পৃথক করার সামর্থ্য দান করেন, যাতে এ বিষয়ে যাদের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই তারা এ থেকে উপকৃত হতে পারে। আমি এই পৃথকীকরণের কাজ শুরু করেছিলাম এবং সহীহ হাদীসগুলো আমার একটি খাতায় লিপিবদ্ধ করেছিলাম; কিন্তু আমি দেখলাম যে আমি কেবল সেসব হাদীসই বিশুদ্ধ বলছি যেগুলোর ভিত্তি সুন্নাহর অন্যান্য কিতাবে বিদ্যমান। ফলে আমি আমার পদ্ধতি পরিবর্তন করলাম এবং একে এমন একটি সংকলন বানালাম যা শাইখাইন অথবা তাঁদের অন্তত একজনের শর্তানুযায়ী সকল হাদীসকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং যা তাঁরা বর্ণনা করেননি, তবে আমি যদি স্পষ্ট করে দেই যে শাইখাইনের কোনো একজন তা বর্ণনা করেছেন (সেটি স্বতন্ত্র)। শাইখাইনের শর্তানুযায়ী হাদীসগুলোর এই সংকলনটি রচনার পেছনে অন্যতম শক্তিশালী কারণ ছিল এই যে, পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আলেমদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক লোকই এই বিষয়ে হাদীস সংগ্রহ বা সংকলন করেছেন। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ব্যক্তিত্ব হলেন হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরী; তিনি 'আল-মুসতাদরাক আলাস সাহীহাইন' গ্রন্থটি সংকলন করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমি এমন সব হাদীস বের করার জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি যেগুলোর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং যাদের অনুরূপ বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে শাইখাইন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অথবা তাঁদের কেউ একজন দলিল গ্রহণ করেছেন। আর ইসলামের সকল ফকীহগণের নিকট এটিই সহীহ হাদীসের শর্ত।" মুসতাদরাক (১/৩)।

হাফিজ যায়নুদ্দীন আব্দুর রহীম ইবনুল হুসাইন আল-ইরাকী বলেছেন: "হাকিমের উক্তি—'তাদের মতো'—অর্থাৎ তাদের (শাইখাইনের) বর্ণনাকারীদের মতো, বর্ণনাকারীগণ স্বয়ং তাঁরা নন। আবার এমনও সম্ভাবনা আছে যে এর দ্বারা সেই হাদীসগুলোর মতো হাদীস বুঝানো হয়েছে, তবে এ বিষয়ে সংশয় রয়েছে। কিন্তু ইবনুস সালাহ যা উল্লেখ করেছেন, হাকিমের কর্মপদ্ধতি থেকে ইবনু দাকীক আল-ঈদ সেটিই বুঝেছেন। কারণ তিনি কোনো হাদীসের ব্যাপারে হাকিমের বিশুদ্ধায়নের উদ্ধৃতি দেন যে এটি উদাহরণস্বরূপ বুখারীর শর্তানুযায়ী, এরপর তিনি এর ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেন যে এতে অমুক ব্যক্তি রয়েছে যার থেকে বুখারী হাদীস গ্রহণ করেননি। ইমাম যাহাবীও 'মুখতাসারুল মুসতাদরাক'-এ এরূপই করেছেন। কিন্তু হাকিমের উল্লেখিত বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ তাদের বুঝের বিপরীত। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।" আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদাহ (৩০)
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ٦)
قلتُ: وهذا كلام فيه نظر، والصحيح ما فهمه ابن دقيق العيد والذهبي ومن تبعهم من الأئمة رحمهم الله ومقتضى كلامهم موافق لمراد الحاكم غير مخالف له لأنهم عرفوا ذلك من تصريح الحاكم نفسه عقب كل حديث فإنه كان يقول مثلاً " حديث على شرط الشيخين واحتجوا برواته جميعاً " أو ما شابه ذلك فصارت بالاستقراء عندهم شرطاً للحاكم وإنْ لم ينص عليها في المقدمة، وإنه رحمه الله لم ينقح كتابه لانقضاء أجله رحمة الله عليه، وأشار الحافظ ابن حجر رحمه الله إلى ذلك فقال:"إن الحاكم وقع له التَّساهل لأنه سوَّد الكتاب لينقّحَه فأعجلته المنية "

واختلفوا في الحكم على المستدرك فمنهم من غالى فزعم أنه لم يَرَ فيه حديثاً على شرط الشيخين ومنهم من تساهل فحكم بتصحيحه وهو تفريط ومنهم من توسط مثل أبي عمرو بن الصلاح فقال في علوم الحديث المسماة بمقدمة ابن الصلاح عنه: " أنه واسع الخَطو في شرح الصحيح، متساهل بالقضاء به، فالأولى أن يتوسط في أمره، فما لم نجد فيه تصحيحاً لغيره من الأئمة إن لم يكن من قبيل الصحيح، فهو من قبيل الحسن الذي يُحتجُّ به ويعمل به إلى أن تظهر فيه علة توجب ضعفه. " مقدمة ابن الصلاح مع الشرح (29).

قلتُ: وقع للذهبى أوهاماً أيضاً وذلك لأنه كان في بداية الطلب وربما وجد الباحث تناقضا بين كلام الذهبي في الميزان وموافقته في التعليق على المستدرك، وقد نقل الحافظ العراقى رحمه الله تعقب بعض من اختصر كلامه وهو، بدر الدين ابن جماعة فقال: "إنه يتتبع ويحكم عليه بما يليق بحاله من الحسن أو الصحة أو الضعف، وهذا هو الصواب". التقيد والإيضاح (30).
আমি বলি: এই বক্তব্যের মধ্যে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। সঠিক বিষয় হলো তা-ই যা ইবন দাকীক আল-ঈদ, আয-যাহাবী এবং তাঁদের অনুসারী ইমামগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) বুঝেছেন। তাঁদের বক্তব্যের সারমর্ম ইমাম হাকিমের উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ, বিরোধী নয়; কারণ তাঁরা প্রতিটি হাদীসের পরেই ইমাম হাকিমের নিজস্ব স্পষ্ট বক্তব্য থেকে তা অবগত হয়েছিলেন। যেমন তিনি বলতেন: "হাদীসটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী এবং তাঁরা এর সকল বর্ণনাকারীর মাধ্যমে দলীল গ্রহণ করেছেন" অথবা এই জাতীয় কথা। ফলে আরোহী পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁদের নিকট এটি ইমাম হাকিমের শর্ত হিসেবে পরিগণিত হয়েছে, যদিও তিনি তাঁর মুকাদ্দিমায় (ভূমিকা) স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেননি। আর তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) তাঁর হায়াত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে বইটি পরিমার্জন করতে পারেননি, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। হাফিয ইবন হাজার (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) সেদিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন: "ইমাম হাকিমের পক্ষ থেকে শিথিলতা প্রকাশ পেয়েছে কারণ তিনি বইটি পরিমার্জনের উদ্দেশ্যে খসড়া তৈরি করেছিলেন, কিন্তু মৃত্যু তাঁকে ত্বরান্বিত করেছে।"

আল-মুস্তাদরাক-এর হুকুম বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উলামাগণ মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ অতিশয়োক্তি করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, এতে তিনি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী কোনো হাদীস দেখেননি। আবার কেউ কেউ শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন এবং এর তাসহীহ তথা সহীহ হওয়ার রায় দিয়েছেন, যা মূলত অবহেলা। আর তাঁদের মধ্যে কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন, যেমন আবু আমর ইবনুস সালাহ। তিনি তাঁর উলূমুল হাদীস যা 'মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ' নামে প্রসিদ্ধ, তাতে এর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি সহীহের ব্যাখ্যায় দীর্ঘ পদক্ষেপ গ্রহণকারী এবং এর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারী। সুতরাং তাঁর বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই উত্তম। অতএব, যে হাদীসের ব্যাপারে আমরা অন্য কোনো ইমামের তাসহীহ বা সহীহ হওয়ার সত্যায়ন পাব না, সেটি যদি সহীহ পর্যায়ের না-ও হয়, তবে তা হাসান পর্যায়ের হবে, যার মাধ্যমে দলীল গ্রহণ করা যাবে এবং আমল করা যাবে, যতক্ষণ না তাতে এমন কোনো ত্রুটি প্রকাশ পায় যা একে যঈফ সাব্যস্ত করা আবশ্যক করে।" মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মাসাশ শারহ (২৯)।

আমি বলি: আয-যাহাবীর ক্ষেত্রেও কিছু ভ্রম ঘটেছে, আর তা এ কারণে যে তখন তিনি ইলম অর্জনের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিলেন। সম্ভবত গবেষক আয-যাহাবীর 'আল-মীযান' গ্রন্থের বক্তব্য এবং 'আল-মুস্তাদরাক'-এর টীকায় তাঁর সম্মতির মধ্যে বৈপরীত্য খুঁজে পেতে পারেন। হাফিয আল-ইরাকী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) তাঁর বক্তব্য সংক্ষেপকারী বদরুদ্দীন ইবন জামা'আহ-এর একটি সমালোচনা উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং এর অবস্থা অনুযায়ী হাসান, সহীহ বা যঈফ হওয়ার হুকুম প্রদান করা হবে, আর এটিই সঠিক পদ্ধতি।" আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈযাহ (৩০)।
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ٧)
وقال الحافظ أبو الفداء ابن كثير في اختصار علوم الحديث: " وقد قال الحافظ أبو عبد الله محمد بن يعقوب بن الأَخرَم قَلَّ ما يفوتُ البخاريَّ ومسلماً من الأحاديث الصحيحة، وقد ناقشه ابنُ الصلاح في ذلك، فإن الحاكم قد استدرك عليهما أحاديث كثيرة وإن كان في بعضها مَقَال، إلا أنه يصفو له شيء كثير.

قال الحافظ بن كثير: فيه نظر، فإنه يُلزمهما بإخراج أحاديث لا تلزمهما لضعف رُوَاتها عندهما أو لتعليلهما ذلك " اهـ الباعث الحثيث (36).

وقال أبو سعد المالينى:" طالعت كتاب المستدرك على الشيخين الذي صنفه الحاكم من أوله إلى آخره فلم أرى فيه حديثاً على شرطهما ". اهـ

فتعقبه الذهبي بقوله: " هذه مكابرة وغلو وليست رتبة أبى سعد أن يحكم بهذا بل في المستدرك شيء كثير على شرطهما وشيء كثير على شرط أحدهما ولعل مجموع ذلك ثلث الكتاب بل أقل، فإن في كثير من ذلك أحاديث في الظاهر على شرط أحدهما أو كليهما وفى الباطن لها علل خفية مؤثرة وقطعة من الكتاب إسنادها صالح وحسن وجيد، وذلك نحو ربعه وباقى الكتاب مناكير وعجائب وفى غضون ذلك أحاديث نحو المائة يشهد القلب ببطلانها (سيرأعلام النبلاء).

قلتُ: بل إن المتتبع الفاحص للمستدرك يجد أنه قد ملئ بالأسانيد المعلولة والتي كثر فيها المجاهيل وأسماء غير صحيحة في الأسانيد وقد ترجع إلى التصحيف والغلط في أصل الكتاب ولذلك لم أُعول عليه في شيء إلا ماله أصل عند أهل الحديث في السنن والمسانيد والأجزاء.

ولم أخرج لمن كان من رجالهم وضُعِّفوا في رجال مخصوصين مثل رواية جعفر بن أبى وحشية واسمه إياس عن مجاهد وحبيب بن سالم فإن شعبة كان يقول إنه لم
এবং হাফেজ আবু আল-ফিদা ইবনে কাসীর ‘ইখতিসার উলুমুল হাদিস’-এ বলেন: “হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন আল-আখরাম বলেছেন যে, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের নিকট সহীহ হাদিসের খুব সামান্য অংশই বাদ পড়েছে। ইবনুস সালাহ এ বিষয়ে তার সাথে পর্যালোচনা করেছেন। কারণ আল-হাকিম তাদের উভয়ের শর্তানুযায়ী অনেক হাদিস সংযোজন করেছেন, যদিও সেগুলোর কোনো কোনোটির ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে, তবে তাতে একটি বিশাল অংশ বিশুদ্ধ সাব্যস্ত হয়।”

হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন: “এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ তিনি (হাকিম) তাদের ওপর এমন হাদিস বের করা আবশ্যক করছেন যা তাদের জন্য আবশ্যক ছিল না, কারণ তাদের নিকট সেগুলোর বর্ণনাকারীরা দুর্বল অথবা তারা সেগুলোকে ত্রুটিযুক্ত মনে করেছেন।” - আল-বাইসুল হাসিস (৩৬)।

আবু সাদ আল-মালিনী বলেন: “আমি আল-হাকিম সংকলিত ‘আল-মুস্তাদরাক আলাশ শাইখাইন’ গ্রন্থটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করেছি, কিন্তু তাতে তাদের উভয়ের শর্তানুযায়ী কোনো হাদিস দেখিনি।”

আয-যাহাবী এর পিছু নিয়ে (জবাবে) বলেন: “এটি একগুঁয়েমি ও অতিরঞ্জন। আবু সাদের মর্যাদা এমন নয় যে তিনি এমন ফায়সালা দেবেন। বরং মুস্তাদরাকে তাদের উভয়ের শর্তানুযায়ী অনেক বর্ণনা রয়েছে এবং তাদের একজনের শর্তানুযায়ীও অনেক কিছু আছে। সম্ভবত এর সমষ্টি বইটির এক-তৃতীয়াংশ বা তারও কম। কারণ এর মধ্যে এমন অনেক হাদিস রয়েছে যা বাহ্যত তাদের একজনের বা উভয়ের শর্তানুযায়ী মনে হয়, কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে সেগুলোতে প্রভাবশালী গোপন ত্রুটি রয়েছে। কিতাবটির একটি অংশের সনদ গ্রহণযোগ্য, হাসান ও উত্তম; যা প্রায় এক-চতুর্থাংশ। আর কিতাবটির বাকি অংশ হলো মুনকার ও বিস্ময়কর বর্ণনা। এর মধ্যে প্রায় একশটির মতো হাদিস আছে যার অসারতার ব্যাপারে অন্তর সাক্ষ্য দেয়।” (সিয়ারু আলামিন নুবালা)।

আমি বলি: বরং মুস্তাদরাক গ্রন্থটি যে ব্যক্তি নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করবেন তিনি দেখতে পাবেন যে এটি ত্রুটিপূর্ণ সনদে পরিপূর্ণ, যেখানে অনেক অজ্ঞাত রাবী এবং সনদে ভুল নাম রয়েছে। এগুলো মূল কিতাবে লিখন-বিভ্রাট ও ভ্রান্তি থেকে উদ্ভূত হতে পারে। তাই আমি এর ওপর কোনো নির্ভর করিনি, কেবল সেইসব হাদিস ছাড়া হাদিস বিশারদদের নিকট সুনান, মাসানিদ ও আজযা গ্রন্থসমূহে যার ভিত্তি রয়েছে।

আর আমি এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ করিনি যারা তাদের বর্ণনাকারী হওয়া সত্ত্বেও নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে দুর্বল সাব্যস্ত হয়েছেন, যেমন মুজাহিদ ও হাবিব বিন সালিম থেকে জাফর বিন আবু ওয়াহশিয়ার বর্ণনা—তার নাম হলো ইয়াস। ইমাম শু’বাহ বলতেন যে তিনি তাদের থেকে কোনো কিছু শোনেননি।
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ٨)
يسمع منهما، وأشار الحافظ ابن حجر رحمه الله إلى فائدة جليلة في كلامه على المستدرك فقال: ووراء ذلك كله أن يُروى إسناد ملفًّق من رجالهما كسِمَاكٍ عن عكرمةَ عن ابن عباس، فسِمَاك على شرط مسلم، وعكرمةُ انفرد به البخاري. والحق أن هذا ليس على شرط واحد منهما. وأدق من هذا: أن يرويا عن أناس مخصوصين من غير حديث الذين ضُعِّفوا فيهم، فيجيء عنهم حديث من طريق من ضُعِّفوا فيه، برجال كلهم في الكتابين أو أحدهما، فنسبته أنه على شرط من خَرَّج له غلطٌ، كأن يقال: هُشيم عن الزهرى، فكلٌّ من هُشيم والزهرى أخرجا له، فهو على شرطهما. فيقال بل ليس على شرطِ واحدٍ منهما لأنهما إنما أخرجا عن هشيم من غير حديث الزهرى. فإنه ضُعِّف فيه، لأنه كان دخل إليه فأخذ عنه عشرين حديثاً، فلقيه صاحبٌ له وهو راجع فسأله رؤيتها، وكان ثَمّ ريحٌ شديدة فذهبت بالأوراق من يد الرجل فصار هشيم يحدث بما علق منها بذهنه ولم يكن أتقن حفظها فوهم في أشياء منها ضُعِّف في الزهري بسببها. وكذلكَ همَّامٌ ضعيف في ابن جريح مع أن كلاً منهما أخرجا لهما. لكن لم يخرجا له عن ابن جريج شيئاً. فعلى من يعزو إلى شرطهما أو شرط واحد منهما أن يَسُوقَ ذلك السند بنسق رواية من نُسب إلى شرطه، ولو في موضع من كتابه وكذا قال ابن الصلاح في شرح صحيح مسلم: " من حكم لشخص بمجرد رواية مسلم عنه في صحيحه بأنه من شرط الصحيح فقد غفل وأخطأ. بل ذلك متوقف على النظر في كيفية رواية مسلم عنه، وعلى أي وجه اعتمد ا. هـ تدريب الراوي (40).

তাঁদের থেকে শোনা হয়। হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-মুস্তাদরাক'-এর ওপর আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: "এর বাইরে আরেকটি বিষয় হলো এমন এক ‘তালফীক’ বা মিশ্রিত সনদ বর্ণনা করা যার বর্ণনাকারীগণ তাঁদের (বুখারি ও মুসলিম) উভয়ের কিতাবের লোক; যেমন: সিমাক, ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে। এখানে সিমাক হলেন মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী বর্ণনাকারী এবং ইকরিমাকে এককভাবে বুখারি গ্রহণ করেছেন। সত্য কথা হলো, এটি তাঁদের কারো শর্ত অনুযায়ীই নয়। এর চেয়েও সূক্ষ্ম বিষয় হলো: তাঁরা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন কিন্তু ঐসব ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেননি যাদের ব্যাপারে তাঁরা (ঐ নির্দিষ্ট বর্ণনাকারীকে) দুর্বল মনে করেন। এমতাবস্থায় যদি তাঁদের সম্পর্কে এমন কোনো সুত্রে হাদিস আসে যাদের বর্ণনায় তাঁদেরকে দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে, অথচ বর্ণনাকারীগণ সকলে উভয় কিতাবের বা যেকোনো একটির অন্তর্ভুক্ত—তবে সেটিকে তাঁদের শর্ত অনুযায়ী বলা ভুল হবে। যেমন বলা হয়: হুশাইম যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন। এখন হুশাইম এবং যুহরি উভয়ের থেকেই তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) হাদিস চয়ন করেছেন, তাই এটি তাঁদের শর্ত অনুযায়ী। কিন্তু বলা হবে যে, বরং এটি তাঁদের কারো শর্ত অনুযায়ীই নয়; কারণ তাঁরা হুশাইম থেকে যুহরির হাদিস ব্যতীত অন্য হাদিস গ্রহণ করেছেন। কেননা যুহরির বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁকে (হুশাইমকে) দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে। কারণ তিনি তাঁর (যুহরির) কাছে প্রবেশ করে তাঁর থেকে বিশটি হাদিস গ্রহণ করেছিলেন। ফেরার পথে তাঁর এক বন্ধুর সাথে দেখা হলে সে সেগুলো দেখতে চাইল। তখন প্রবল বাতাস বইছিল এবং লোকটির হাত থেকে পাতাগুলো উড়ে গেল। ফলে হুশাইম তাঁর স্মৃতিতে যা অবশিষ্ট ছিল তা থেকেই হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করেন। কিন্তু তিনি সেগুলো নিখুঁতভাবে মুখস্থ করতে পারেননি, ফলে তিনি তাতে কিছু ভুল করেন। এই কারণেই যুহরির হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁকে দুর্বল বলা হয়েছে। একইভাবে হাম্মাম ইবনে জুরাইজের বর্ণনায় দুর্বল, যদিও তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) উভয়ের থেকেই হাদিস নিয়েছেন। তবে তাঁরা ইবনে জুরাইজ থেকে তাঁর (হাম্মামের) কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি। সুতরাং যিনি কোনো হাদিসকে তাঁদের উভয়ের বা তাঁদের একজনের শর্ত অনুযায়ী বলে সম্বন্ধ করবেন, তাঁর উচিত সেই সনদটিকে এমন ধারায় উপস্থাপন করা যা তাঁদের শর্তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যদিও তা তাঁদের কিতাবের কোনো একটি স্থানে থাকে। অনুরুপভাবে ইবনেস সালাহ 'শারহ সহিহ মুসলিম'-এ বলেছেন: 'যে ব্যক্তি কোনো বর্ণনাকারীর ব্যাপারে কেবল মুসলিমের তাঁর সহিহ কিতাবে বর্ণনা করার কারণে এই রায় দেয় যে, সে সহিহ-এর শর্ত অনুযায়ী, সে প্রকৃতপক্ষে গাফেল ও ভুল করেছে। বরং এটি মুসলিম তাঁর থেকে কীভাবে বর্ণনা করেছেন এবং কোন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছেন তা দেখার ওপর নির্ভরশীল'।" সমাপ্ত। তাদরীবুর রাবী (৪০)।

(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ٩)
قلتُ: فكانت هذه الفائدة بمثابة رسم الطريق الصحيح لإثبات أن الحديث على شرط البخاري أو مسلم أو كليهما فأخذتُ بها فجعلت أسوق الحديث ثم أُتبع ذلك ببرهان الرواية فأسوق السند بنسق من نُسب إلى شرطه، ولو فى موضع من كتابه كما نبه عليه الحافظ رحمه الله، ومن ذكرته في موضع لا أذكره مرة أخرى لقصر الزمان، وكثرة الأعباء، وخشية الملل، وقد نظرت في التراجم والرجال فوجدت أن الأئمة أهل المعرفة بالعلل ودقائق الإسناد والمتن والذين صنفوا في عِلّلِ الحديث أمثال أحمد بن حنبل وعلى بن المدينى وأبى حاتم وابنه والترمذى والدارقطنى وابن حجر العسقلانى وغيرهم، أنهم تكلموا على رجال الشيخين على عدة أنواع منها:

1. رجال هم في الصحيحين أو أحدهما ولكن قد تكلم فيهم غير واحد من أئمة الجرح والتعديل، ولكن الشيخين قد انتقيا ما صح من أحاديثهم، أمثال بكر بن عمر المعافرى المصرى فإن كلام أهل العلم يدل على ضعفه وإن أخرج له البخاري ومسلم في صحيحيهما، ولاضير فإنهما لم يخرجا لهم إلا ماصح من الأحاديث كما ذكرت سالفاً، فضربت عن هذا الصنف صفحاً فلم أخرجه في جامعي.

2. وتراجم لم يخرج الشيخان شيء بنسقها على الرغم من أن رجالها من رجال الصحيحين أو أحدهما وهم من الثقات الأثبات ولكن قد ضُعّفوا في مَنْ رووا عنه وأمثال ذلك كثير، وأضرب لذلك مثلاً: قول ابن المديني في الطرق التي تأتى من قِبَلْ داود بن الحصين عن عكرمة أنها منكرة، على الرغم من أن داود بن الحصين وعكرمة من رجال الشيخين وقال أبو داود: " أحاديث داود بن الحصين
আমি বললাম: এই বিষয়টি বুখারী বা মুসলিম কিংবা উভয়ের শর্তানুসারে হাদীস প্রমাণের সঠিক পথ নির্ধারণের সমতুল্য ছিল। তাই আমি এটি গ্রহণ করেছি এবং হাদীস বর্ণনা করা শুরু করেছি, অতঃপর বর্ণনার প্রমাণাদি তার অনুগামী করেছি। আমি সনদকে এমন বিন্যাসে উপস্থাপন করি যা সেই শর্তের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হয়, যদিও তা তাঁর কিতাবের কোনো এক স্থানে থাকে, যেমনটি হাফিয (রহিমাহুল্লাহ) নির্দেশ করেছেন। আর যাকে আমি এক স্থানে উল্লেখ করেছি, সময়ের স্বল্পতা, কাজের আধিক্য এবং একঘেয়েমির আশঙ্কায় তাকে পুনরায় উল্লেখ করিনি। আমি জীবনী এবং রাবীদের বিষয়ে অনুসন্ধান করেছি এবং দেখেছি যে, ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) এবং সনদ ও মতনের সূক্ষ্ম বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ইমামগণ এবং যারা হাদীসের ইল্লত বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন—যেমন আহমাদ ইবনে হাম্বল, আলী ইবনুল মাদীনী, আবু হাতিম ও তাঁর পুত্র, তিরমিযী, দারাকুতনী, ইবনে হাজার আসকালানী ও অন্যান্যগণ—তাঁরা শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) রাবীদের বিষয়ে কয়েক প্রকারের আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১. এমন রাবীগণ যারা সহীহাইন অথবা এর কোনো একটিতে রয়েছেন, কিন্তু জারাহ ও তা’দীল (সমালোচনা ও গুণগান) শাস্ত্রের একাধিক ইমাম তাঁদের ব্যাপারে কথা বলেছেন। তবে শাইখাইন তাঁদের হাদীসসমূহ থেকে কেবল যা সহীহ তা-ই নির্বাচন করেছেন, যেমন বকর ইবনে উমর আল-মাআফিরী আল-মিসরী। কেননা আলিমগণের বক্তব্য তাঁর দুর্বলতার প্রমাণ দেয়, যদিও বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থে তাঁর বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। এতে কোনো ক্ষতি নেই, কারণ আমি পূর্বে যেমন উল্লেখ করেছি, তাঁরা তাঁদের থেকে শুধুমাত্র সহীহ হাদীসগুলোই গ্রহণ করেছেন। তাই আমি এই প্রকারটিকে বর্জন করেছি এবং আমার জামে গ্রন্থে তা অন্তর্ভুক্ত করিনি।

২. এমন সব জীবনী যাদের বিন্যাসে শাইখাইন কিছুই বর্ণনা করেননি, যদিও এর রাবীগণ সহীহাইন বা এর কোনো একটির রাবী এবং তাঁরা নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী। কিন্তু তাঁরা যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন, সেই নির্দিষ্ট বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে তাঁদের দুর্বল বলা হয়েছে এবং এ ধরণের উদাহরণ অনেক রয়েছে। আমি এর একটি উদাহরণ দিচ্ছি: ইবনুল মাদীনীর উক্তি—দাউদ ইবনুল হুসাইন থেকে ইকরিমার সূত্রে যে পথগুলো (সনদ) এসেছে সেগুলো মুনকার (অস্বীকৃত), যদিও দাউদ ইবনুল হুসাইন ও ইকরিমা উভয়েই শাইখাইনের রাবী। আবু দাউদ বলেছেন: "দাউদ ইবনুল হুসাইনের হাদীসসমূহ"
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ١٠)
عن شيوخه مستقيمة وأحاديثه عن عكرمة مناكير" أهـ.

ومثلاً: جعفر بن برقان من رجال مسلم إلا أنه ضعيف في روايته عن الزهري، فقد قال الإمام أحمد: لابأس به وفى حديث الزهري يخطئ، وقال يحيى بن معين: " ثقة ويضعف في حديث الزهري " اهـ.

وكذلك سماك عن عكرمة روايته مضطربة، فضلاً أن سماك بن حرب تغير بآخره فصار يتلقن.

3. ورجال خرج لهم البخاري ولم يكونوا على شرط مسلم والعكس مثل: على بن الجعد أعرض عنه مسلم وهو ثقة ثبت الرواية عنه لكونه قال: " مَنْ قال القرآن مخلوق لم أُعنِّفه "، وأخرج له البخاري وغيره، فلم أخرج إلا من كان على شرطهما أو شرط أحدهما رحمهم الله تعالى.

4. ورجال قد روى لهم الشيخان أو أحدُهُما ولكن قد تكلم فيه بعض أهل العلم مثل إبراهيم بن عبد الرحمن السَّكْسَكِىِّ قال الإمام أحمد: ضعيف، وقال القطان كان شعبة يضعفه، وقال النسائى: ليس بذاك القوى يكتب حديثه، وذكر الحاكم أن مسلم ترك إخراج حديثه، وضعفه الدارقطنى في سؤال الحاكم له لم ترك مسلم حديثه وعلى الرغم من ذلك فقد أخرج له البخاري حديثين حديث في التفسير: حديث عبدالله بن أبى أوفى وهذا أصل لكن له شاهد من حديث ابن مسعود والآخر من حديثه عن أبى بردة عن أبيه "إذا مرض العبد كتب الله له صالح ما كان يعمل" .. الحديث، وهذا لا يعنى أن الحديثين ضعفين فقد ثبتا من طرق أُخر علمها البخاري رحمه الله فأخرجه لسبب ظهر له. فلم أخرج مثل هذا فى جامعى. والله الموفق لا رب سواه.
তার উস্তাদদের থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ সঠিক, তবে ইকরিমাহ থেকে তার বর্ণিত হাদীসগুলো মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)। [উদ্ধৃতি সমাপ্ত]।

উদাহরণস্বরূপ: জাফর বিন বুরকান মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, তবে জুহরী থেকে তার বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি দুর্বল। ইমাম আহমাদ বলেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, তবে জুহরীর হাদীসে তিনি ভুল করেন।" ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে জুহরীর হাদীসে তাকে দুর্বল গণ্য করা হয়।" [উদ্ধৃতি সমাপ্ত]।

অনুরূপভাবে ইকরিমাহ থেকে সিমাকের বর্ণনা মুদতারিব (অসংলগ্ন), তাছাড়া সিমাক বিন হারব শেষ বয়সে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাকে যা শিখিয়ে দেওয়া হতো তিনি তাই গ্রহণ করতেন।

৩. এমন কিছু বর্ণনাকারী যাদের থেকে ইমাম বুখারী হাদীস বর্ণনা করেছেন কিন্তু তারা ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী ছিলেন না, এবং এর বিপরীতটিও ঘটেছে। যেমন: আলী বিন আল-জাদ; ইমাম মুসলিম তাকে এড়িয়ে গিয়েছেন অথচ তিনি নির্ভরযোগ্য ও বর্ণনায় সুদৃঢ়। এর কারণ হলো তিনি বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি কুরআনকে মাখলুক (সৃষ্ট) বলে আমি তাকে তিরস্কার করি না।" তবে ইমাম বুখারী ও অন্যরা তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। সুতরাং আমি কেবল তাদের থেকেই হাদীস বর্ণনা করেছি যারা তাদের উভয়ের অথবা তাদের অন্তত একজনের শর্তের উপর ছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন।

৪. এমন বর্ণনাকারী যাদের থেকে শায়খাইন অথবা তাদের একজন হাদীস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ইলমে হাদীসের কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ তাদের সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। যেমন: ইব্রাহীম বিন আব্দুর রহমান আস-সাকসাকী; ইমাম আহমাদ তাকে দুর্বল বলেছেন। আল-কাত্তান বলেন যে, শু'বাহ তাকে দুর্বল গণ্য করতেন। আন-নাসায়ী বলেন: "তিনি তেমন শক্তিশালী নন, তবে তার হাদীস লিখে রাখা যায়।" আল-হাকিম উল্লেখ করেছেন যে ইমাম মুসলিম তার হাদীস গ্রহণ করেননি। আল-হাকিম যখন ইমাম দারাকুতনীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে কেন ইমাম মুসলিম তার হাদীস গ্রহণ করেননি, তখন দারাকুতনী তাকে দুর্বল বলেছিলেন। তা সত্ত্বেও ইমাম বুখারী তার থেকে দুটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। একটি তাফসীর অধ্যায়ে: আব্দুল্লাহ বিন আবি আওফার হাদীস, এটি মূল হাদীস তবে ইবনে মাসউদের হাদীস থেকে এর একটি শাহেদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে। অন্যটি হলো আবু বুরদাহ কর্তৃক তার পিতার সূত্রে বর্ণিত: "যখন কোনো বান্দা অসুস্থ হয়, তখন আল্লাহ তার জন্য সেই পুণ্য লিখে রাখেন যা সে সুস্থ ও মুকিম অবস্থায় করত"... হাদীসটি। এর মানে এই নয় যে হাদীস দুটি দুর্বল, বরং এগুলো অন্য সূত্রে সাব্যস্ত যা ইমাম বুখারী রহ. জানতেন, ফলে তিনি তার নিকট প্রকাশ হওয়া কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে তা বর্ণনা করেছেন। অতএব আমি আমার জামে গ্রন্থে এ ধরণের বর্ণনা আনিনি। আল্লাহই তাওফীকদাতা, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ١١)
5. ومنهم رجال قد أُلبسوا على بعض ممن ليس لهم دراية ولا شرف الانتساب إلى هذا العلم الشريف فخلطوا بين المشتبه من الأسماء فوقعوا في تصحيح أحاديث الضعفاء أو العكس ظناً منهم وتخرصاً، ولكن الظن لايغنى من الحق شيئاً، ومثله ما رواه البخاري عن عكرمة بن خالد فظنوا أنه " ابن سلمة الضعيف، وقد يروق لجهال زماننا الطير بمثل هذا التخرص كل مطار، لكن كذبوا والله فإنه عكرمة بن خالد بن سعيد بن العاص الثقة من رجال الشيخين، غير ابن سلمة، وليس لأحد أن يتكلم في رواة الشيخين ولا فى أحاديث الشيخين وقد أطبقت الأمة على تصحيح كتابيهما، ولاشك أن إخراج البخاري أو مسلم لراوٍ في أصل الكتاب يكون توثيقاً لهم لاشتراط الصحة في كتابهما فلا يلتفتُ إلى غيرهِ ممن أوغل في عمايات الجهل ومستنقعات الفسق والفجور، نعوذ بالله من الخذلان.

ومن هذا القبيل كثير فبعدتُ كل البعد عن هذه الطرق وتلك الأحاديث، وسلكت بفضل الله عز وجل طريق الجادة في شرط الشيخين أو أحدهما ولم أضع فيه إلا ما صح وكان على شرط الشيخين أو أحدهما ولم يخرجاه أو خرجه أحدهما ولم يخرجه الآخر، وأما الأبواب الفقهية فقد سلكت طريق أمير المؤمنين في الحديث البخاري رحمه الله وقد أكرر الحديث لفائدة حديثية أو فقهية، والله المستعان وما توفيقى إلا بالله عليه توكلتُ وإليه مآب ولقد ضربتُ هنا أمثلة ليست على شرط كتابى ليعلم من له أهلية النظر ويكون عوناً له على التدبر، وهذا على سبيل المثال وليس للحصر وإلا فإنه كثير والله الموفق لا رب سواه.
5. এবং তাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা এমন কিছু লোকের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছে যাদের এই মহান ইলমের (হাদীস শাস্ত্র) প্রতি না আছে কোনো গভীর জ্ঞান, আর না আছে এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কোনো মর্যাদা। ফলে তারা সদৃশ নামগুলোর মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ফেলেছে এবং নিজেদের ধারণা ও অনুমানের বশবর্তী হয়ে দুর্বল হাদীসকে সহীহ সাব্যস্ত করা অথবা এর বিপরীত কাজ করার ভুল করেছে। অথচ সত্যের মোকাবিলায় অনুমান কোনো কাজেই আসে না। এর উদাহরণ হলো যা ইমাম বুখারী ইকরিমা ইবনে খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তারা তাকে দুর্বল বর্ণনাকারী ইবনে সালামাহ মনে করেছে। আমাদের যুগের মূর্খরা এই ধরনের অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সব দিকে আস্ফালন করতে পছন্দ করতে পারে; কিন্তু আল্লাহর কসম, তারা মিথ্যা বলেছে। কারণ তিনি হলেন ইকরিমা ইবনে খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনুল আস, যিনি দুই শায়খের (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য রাবী, ইবনে সালামাহ নন। আর দুই শায়খের বর্ণনাকারী বা তাঁদের হাদীস নিয়ে কথা বলার অধিকার কারো নেই, কারণ উম্মাহ তাঁদের কিতাবদ্বয়ের বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বুখারী বা মুসলিম তাঁদের কিতাবের মূল অংশে কোনো বর্ণনাকারীকে স্থান দেওয়া মানেই হলো তাঁকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করা, যেহেতু তাঁরা তাঁদের কিতাবে কেবল সহীহ হাদীস সংকলনের শর্তারোপ করেছেন। সুতরাং যারা অজ্ঞতার অন্ধকারে এবং পাপাচার ও অবাধ্যতার পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত হয়েছে, তাদের কথার দিকে ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। আমরা আল্লাহর কাছে লাঞ্ছনা ও অবজ্ঞা থেকে আশ্রয় চাই।

এই ধরনের দৃষ্টান্ত আরও অনেক রয়েছে, তাই আমি এই সকল পথ এবং ঐ সকল হাদীস থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে অবস্থান করেছি। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার অনুগ্রহে আমি দুই শায়খ বা তাঁদের কোনো একজনের শর্ত অনুযায়ী সঠিক পথ অনুসরণ করেছি। আমি এই গ্রন্থে কেবল সেই সকল হাদীসই অন্তর্ভুক্ত করেছি যা সহীহ এবং যা দুই শায়খ বা তাঁদের অন্তত একজনের শর্ত অনুযায়ী উত্তীর্ণ হয়েছে কিন্তু তাঁরা তা বর্ণনা করেননি, অথবা তাঁদের একজন বর্ণনা করেছেন আর অন্যজন করেননি। আর ফিকহী অধ্যায়গুলোর ক্ষেত্রে আমি হাদীস শাস্ত্রে আমীরুল মুমিনীন ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পথ অনুসরণ করেছি। অনেক সময় হাদীসতাত্ত্বিক বা ফিকহী কোনো বিশেষ উপকারের স্বার্থে আমি হাদীস পুনরাবৃত্তি করেছি। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি, আর আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর মাধ্যমেই সম্ভব; তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং তাঁর কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন। আমি এখানে এমন কিছু উদাহরণ পেশ করেছি যা আমার কিতাবের শর্ত অনুযায়ী নয়, যাতে বিচার-বিশ্লেষণে পারদর্শী ব্যক্তিরা তা জানতে পারেন এবং এটি তাঁদের গবেষণায় সহায়ক হয়। এটি কেবল উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে, সীমাবদ্ধ করার জন্য নয়; অন্যথায় এমন দৃষ্টান্ত অনেক। আল্লাহই তাওফীকদাতা, তিনি ছাড়া আর কোনো রব নেই।
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ١٢)
1 - قَالَ الإمامُ مالك رحمه الله في الموطأ من رواية يحيى:

وحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أسلم عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: {إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ فَتَمَضْمَضَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ فِيهِ وَإِذَا اسْتَنْثَرَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ أَنْفِهِ فَإِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ وَجْهِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَشْفَارِ عَيْنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ يَدَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ يَدَيْهِ فَإِذَا مَسَحَ بِرَاسِهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رَاسِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ أُذُنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رِجْلَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ رِجْلَيْهِ قَالَ ثُمَّ كَانَ مَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ وَصَلَاتُهُ نَافِلَةً لَهُ} *

الحديث صحيح وليس على شرط البخاري ولا مسلم

الحديث لم يخرجه البخاري ولا مسلم رحمهما الله، ورجال السند رجال البخاري ومسلم حيث روى البخاري عن مالك عن زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار بواسطة، في كتاب الإيمان حديث "كفر النساء بالعشير" وكذا روى بنفس الترجمة في كتاب الصلاة حديث " انخساف الشمس " وغير ما موضع في صحيحه، بل إن هذا السند أعلى وأصح، وكذا روى من طريق الترجمة مسلم في كتاب المساجد ومواضع الصلاة حديث " من أدرك ركعة من الصبح ".

ومواضع أُخر عن مالك عن زيد بن أسلم أما عبد الله الصُّنَابِحِيِّ وهو الأحمُسى مختلف في صحبته والصحيح أنه صحابى وذلك لأنه صرح بالسماع من النبي صلى الله عليه وسلم عند الإمام أحمد في المسند (4/ 351)، وابن أبى عاصمٍ في السنة برقم (739) حديث: " أنا فرطكم على الحوض ".
১ - ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) ইয়াহইয়ার বর্ণনা অনুযায়ী মুয়াত্তায় বলেছেন:

এবং তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে, তিনি যাইদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহী থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {যখন কোনো মুমিন বান্দা অজু করে এবং কুলি করে, তখন তার মুখ থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। যখন সে নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করে, তখন তার নাক থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। যখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার মুখমণ্ডল থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার চোখের পাতার নিচ থেকেও তা বের হয়ে যায়। যখন সে তার হাত দুটি ধৌত করে, তখন তার হাত থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার হাতের নখের নিচ থেকেও তা বের হয়ে যায়। যখন সে তার মাথা মাসাহ করে, তখন তার মাথা থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার কান থেকেও তা বের হয়ে যায়। যখন সে তার পা দুটি ধৌত করে, তখন তার পা থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার পায়ের নখের নিচ থেকেও তা বের হয়ে যায়। তিনি বলেন: অতঃপর তার মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া এবং তার সালাত আদায় করা তার জন্য অতিরিক্ত সাওয়াব হিসেবে গণ্য হয়।} *

হাদিসটি সহিহ, তবে এটি বুখারি বা মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী নয়।

হাদিসটি বুখারি বা মুসলিম (রহিমাহুমাল্লাহ) বর্ণনা করেননি, তবে সনদের বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারী। কেননা বুখারি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে মালিক থেকে, তিনি যাইদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে 'কিতাবুল ঈমান'-এ "স্বামীর অকৃতজ্ঞতা" সম্পর্কিত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তদ্রূপ তিনি একই সনদে 'কিতাবুস সালাত'-এ "সূর্যগ্রহণ" সম্পর্কিত হাদিস এবং তাঁর সহিহ গ্রন্থের আরও বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করেছেন। বরং এই সনদটি অধিকতর উচ্চাঙ্গের এবং অধিক সহিহ। একইভাবে মুসলিম এই সনদের মাধ্যমে 'কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিইস সালাত'-এ "যে ব্যক্তি ভোরের সালাতের এক রাকাত পেল" হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

এবং মালিক থেকে যাইদ ইবনে আসলামের সূত্রে আরও অনেক স্থানে বর্ণিত হয়েছে। আর আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহী—যিনি আল-আহমাসি—তার সাহাবী হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, তবে সঠিক মত হলো তিনি একজন সাহাবী। কেননা তিনি ইমাম আহমাদের মুসনাদ (৪/৩৫১) এবং ইবনে আবি আসিমের আস-সুন্নাহ (হাদিস নং ৭৩৯)-এ "আমি হাউজের পাড়ে তোমাদের অগ্রগামী থাকব" হাদিসটিতে সরাসরি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ١٣)
قال ابن معين " يشبه أن يكون له صحبة ". وقال يزيد بن هارون: " الصُّنَابِحِيِّ رجل من بجيلة من أحمس ". ونبه على ذلك العلامة الألباني رحمه الله وغفر له،

ونقل ابن الأثير في أًسد الغابة عن الترمذى رحمه الله أنه قال: أراد الصُّنَابِحِيِّ أن يأتى إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقبض النبي صلى الله عليه وسلم قبل أن يلقاه". اهـ (أًسد الغابة)

قلتُ: وقصد بذلك عبد الرحمن بن عُسيّلة بن عسّال وكنيته أبو عبد الله الصُّنَابِحِيِّ وهو الذي يروى عنه الكوفيون بخلاف السابق واسمه عبد الله يروى عنه المدنيون.

ونقل الحافظ ابن حجر عن يعقوب بن شيبة قال: إن الصُّنابيح الذين يذكرون وكأنهم سبعة والصحيح أنهم اثنان الأول: هو عبد الرحمن بن عُسيّلة بن عسّال وكنيته أبو عبد الله الصُّنَابِحِيِّ وليس عبد الله ومن سماه كذلك فقد أخطأ وهو المذكور آنفاً، والثانى: الصُّنَابِحِيِّ الاحمُسى فخلاصة الأمر أن الحديث صحيح ولم يحتج البخاري ولا مسلم بأى من الصُّنابيح في أصل صحيحيهما وإن كان الإمام مالك يحتج به، فتجنبت مثل هذا المنزلق والله الموفق لا رب سواه.

2 - قَالَ الإمامُ احمد رحمه الله في المسند:

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم {لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِطَعَّانٍ وَلَا بِلَعَّانٍ وَلَا الْفَاحِشِ الْبَذِيءِ} وَقَالَ ابْنُ سَابِقٍ مَرَّةً بِالطَّعَّانِ وَلا بِاللَّعَّانِ

الحديث صحيح وليس على شرط البخاري ولا مسلم
ইবনে মায়ীন বলেছেন, "তাঁর সাহাবী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।" এবং ইয়াজিদ ইবনে হারুন বলেছেন: "আস-সুনাবিহি বাজিলার আহমাস গোত্রের একজন ব্যক্তি।" আর আল্লামা আলবানী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন) এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন,

এবং ইবনুল আসীর 'উসদুল গাবাহ' গ্রন্থে তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আস-সুনাবিহি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসার ইচ্ছা করেছিলেন, কিন্তু তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার পূর্বেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেন।" সমাপ্ত (উসদুল গাবাহ)

আমি বলছি: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আবদুর রহমান ইবনে উসাইলা ইবনে আসসাল এবং তাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি। কুফাবাসীরা তাঁর থেকেই বর্ণনা করেন; যা পূর্ববর্তীদের থেকে ভিন্ন, যাঁর নাম আবদুল্লাহ এবং তাঁর থেকে মদিনাবাসীরা বর্ণনা করেন।

হাফিয ইবনে হাজার ইয়াকুব বিন শাইবা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আস-সুনাবিহ নামক ব্যক্তিবর্গ যাঁদের কথা উল্লেখ করা হয় তাঁদের সংখ্যা যেন সাতজন। তবে সঠিক হলো যে তাঁরা দুইজন। প্রথমজন হলেন: আবদুর রহমান ইবনে উসাইলা ইবনে আসসাল, তাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি, আবদুল্লাহ নয়; যাঁরা তাঁকে এই নামে অভিহিত করেছেন তাঁরা ভুল করেছেন এবং তিনিই ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছেন। দ্বিতীয়জন হলেন: আস-সুনাবিহি আল-আহমাসী। সারকথা হলো এই যে, হাদিসটি সহীহ। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম তাঁদের মূল 'সহীহ' গ্রন্থে কোনো 'সুনাবিহি'র মাধ্যমেই দলীল গ্রহণ করেননি, যদিও ইমাম মালিক তাঁর মাধ্যমে দলীল গ্রহণ করেছেন। তাই আমি এ ধরণের পদস্খলন এড়িয়ে চলেছি। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।

২ - ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'মুসনাদ'-এ বলেছেন:

মুহাম্মদ ইবনে সাবিক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসরাঈল থেকে, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {মুমিন ব্যক্তি খোঁটা দানকারী, অভিশাপ দানকারী, অশ্লীল কাজ বা কথা বলা ব্যক্তি এবং কটুভাষী হয় না।} ইবনে সাবিক একবার (শব্দটি) 'বিত-ত্বা-আনি ওয়া লা বিল-লা-আনি' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হাদিসটি সহীহ, তবে এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী নয়।
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ١٤)
الحديث لم يخرجه الشيخين رحمهما الله، ورجال السند رجال البخاري ومسلم، فقد أخرج البخاري عن إسرائيل بن يونس بن إسحاق السبيعى الهمدانى تسعةً وسبعينَ حديثاً، ولم يروى البخاري من طريق إسرائيل عن الأعمش عن إبراهيم عن علقمة عن عبد الله شيء إلا متابعتان لا ثالث لهما، الأولى في كتاب تفسير القرآن حديث {الحية التي خرجت من جحرها} والثانية متابعة أخرى في كتاب بدء الخلق مثله، وأخرج له مسلم خمسة عشر أحاديث ولم يحتج الإمام مسلم بإسرائيل عن الأعمش فيها بشئ، وقال العلامة الألباني رحمه الله في ظلال الجنة تخريج كتاب السنة لابن أبى عاصم رحمه الله ما نصه: " أخرجه أحمد (1/ 404_405) والترمذى (1/ 357) والحاكم وقال: " صحيح على شرط الشيخين " وأقره الذهبي وهو كما قال ".اهـ

قلتُ: وهذا كما لا يخفى عليك أن الأعمش مدلس وكون البخاري لم يخرج لإسرائيل عن الأعمش عن إبراهيم عن علقمة إلا على سبيل المتابعة ولم يخرج مسلم بهذه الترجمة حديث البته، فبعدت كل البعد عن هذا المسلك والله الموفق سبحانه.

 

3 - قَالَ الإمامُ أحمد رحمه الله في المسند:

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ عَنِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: {أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا وَخِيَارُكُمْ خِيَارُكُمْ لِنِسَائِكُمْ}
হাদিসটি শায়খাইন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) বর্ণনা করেননি, তবে সনদের বর্ণনাকারীরা বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারী। ইমাম বুখারি ইসরাঈল ইবনে ইউনুস ইবনে ইসহাক আস-সাবিঈ আল-হামদানি থেকে উনআশিটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। বুখারি ইসরাঈল-আ’মাশ-ইব্রাহিম-আলকামা-আবদুল্লাহ সূত্রে কেবল দুটি সমর্থনমূলক বর্ণনা (মুতাবায়াত) ছাড়া আর কিছুই বর্ণনা করেননি। প্রথমটি তাফসিরুল কুরআন অধ্যায়ে {গর্ত থেকে বের হওয়া সাপ} সম্পর্কিত হাদিস এবং দ্বিতীয়টি সৃষ্টিতত্ত্ব (বাদউল খালক) অধ্যায়ে অনুরূপ একটি সমর্থনমূলক বর্ণনা। ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে পনেরটি হাদিস বর্ণনা করেছেন কিন্তু ইমাম মুসলিম সেগুলোর কোনোটিতেই ইসরাঈল-আ’মাশ সূত্রটিকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেননি। আল্লামা আলবানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ইবনে আবি আসিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এর কিতাবুস সুন্নাহর তাহকিক ‘জিললুল জান্নাহ’-তে যা লিখেছেন তার পাঠ হলো: "এটি আহমাদ (১/ ৪০৪-৪০৫), তিরমিজি (১/ ৩৫৭) এবং হাকিম বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেছেন: 'এটি শায়খাইনের শর্তানুসারে সহিহ' এবং যাহাবি এর সাথে একমত পোষণ করেছেন আর বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, আ’মাশ একজন মুদাল্লিস। আর যেহেতু বুখারি ইসরাঈল-আ’মাশ-ইব্রাহিম-আলকামা সূত্রে কেবল সমর্থনমূলক বর্ণনা হিসেবেই হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং মুসলিম এই সূত্রে কোনো হাদিসই বর্ণনা করেননি, তাই এই পথটি (সহিহ হওয়ার দাবি) থেকে অনেক দূরে। মহান আল্লাহই তাওফিকদাতা।

 

৩ - ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মুসনাদ গ্রন্থে বলেন:

আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি বলেন যে আবু সালামাহ আমাদের নিকট আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: {মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ সেই ব্যক্তি যে চরিত্রে সবচেয়ে উত্তম, এবং তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম তারা যারা তাদের স্ত্রীদের নিকট উত্তম।}
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ١٥)
وقَالَ الإمامُ أبو داود رحمه الله في السُّنن:

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم {أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا} وروى الإمام احمد في المسند مثله قال:

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ حَدَّثَنِي ابْنُ عَجْلَانَ عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ به.

وأخرجه الحاكم وقال حديث صحيح على شرط مسلم

الحديث صحيح وليس على شرط مسلم

نعم أخرج مسلم في الصحيح من طريق محمد بن عمرو عن أبى سلمة عن أبى قتادة في كتاب الرؤيا حديث " كنت أرى الرؤيا أُعرى منها غير أنى لا أُزمل " وكذا من نفس الطريق عن فاطمة بنت قيس في كتاب الطلاق حديث " النفقة "

ورجال الحديث رجال الشيخان، ومحمد بن عمرو وهو بن علقمة أبو عبد الله، المدنى، الليثى، روى له مسلم في كتاب المساجد ومواضع الصلاة حديث: " لعنة الكفرة "، وكذا في كتاب الأضاحي حديث " الأضحية " ومواضع أُخر متابعات ولم يحتج به، ولم يحتج به البخاري أيضاً بل أخرج له ثلاث متابعات لا رابع لها الأولى في كتاب الآذان، والثانية في كتاب الاعتكاف، والثالثة في كتاب أحاديث الأنبياء، وذكر الحاكم رحمه الله: أن مسلم احتج به وأخرج الحديث في المستدرك (1/ 7) وقال: على شرط مسلم وقال الحافظ الذهبي رحمه الله لم يحتج مسلم بمحمد بن عمرو وذكر الحافظ ابن حجر رحمه الله في ترجمته: أن البخاري روى له مقروناً ومسلم في المتابعات، ولابن عدى رحمه الله كلام يشبه ذلك
ইমাম আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) আস-সুনান গ্রন্থে বলেছেন:

আহমাদ ইবন হানবাল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আমর থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হলো সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম।" এবং ইমাম আহমাদ আল-মুসনাদ গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবন আজলান আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-কাক্কা ইবন হাকিম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

এবং ইমাম হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ।

হাদিসটি সহিহ, তবে এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী নয়।

হ্যাঁ, ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে কিতাবুর রুয়া (স্বপ্ন অধ্যায়)-এ মুহাম্মদ ইবন আমরের সূত্রে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু কাতাদা থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: "আমি এমন স্বপ্ন দেখতাম যার কারণে আমি অসুস্থ হয়ে পড়তাম, তবে আমি চাদর আবৃত হতাম না।" অনুরূপভাবে একই সূত্রে কিতাবুত তালাক-এ ফাতিমা বিনত কায়েস থেকে ভরণপোষণ সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনা করেছেন।

এই হাদিসের বর্ণনাকারীগণ শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনাকারী। আর মুহাম্মদ ইবন আমর—যিনি ইবন আলকামা আবু আবদুল্লাহ আল-মাদানি আল-লাইসি—ইমাম মুসলিম তার থেকে কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত-এ কাফিরদের ওপর অভিশাপ সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে কিতাবুল আদাহি-তে কুরবানি সংক্রান্ত হাদিস এবং অন্যান্য স্থানে সমর্থনমূলক বর্ণনা হিসেবে এনেছেন, তবে তাকে একক দলিল হিসেবে গ্রহণ করেননি। ইমাম বুখারিও তাকে একক দলিল হিসেবে গ্রহণ করেননি, বরং তার থেকে মাত্র তিনটি সমর্থনমূলক বর্ণনা এনেছেন যার চতুর্থটি নেই: প্রথমটি কিতাবুল আযান-এ, দ্বিতীয়টি কিতাবুল ইতিকাফ-এ এবং তৃতীয়টি আম্বিয়াদের হাদিস অধ্যায়ে। ইমাম হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মুসলিম তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং তিনি আল-মুস্তাদরাক (১/৭) গ্রন্থে হাদিসটি এনে বলেছেন: এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ। কিন্তু হাফিজ যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন যে, ইমাম মুসলিম মুহাম্মদ ইবন আমরকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেননি। হাফিজ ইবন হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম বুখারি তার থেকে অন্য বর্ণনাকারীর সাথে যুক্ত করে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম তাকে সমর্থনমূলক বর্ণনায় এনেছেন। ইবন আদি (রহিমাহুল্লাহ)-এরও অনুরূপ বক্তব্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ١٦)
وذكر العلامة الألباني رحمه الله أن الشيخين لم يحتجا به، قلتُ: بل إن إسناد الحاكم في المستدرك معلول، والله الموفق سبحانه لا رب سواه، نعم محمد بن عمرو حسن الحديث ولكن للحديث متابعات وشواهد ترتقى به إلى درجة الصحة.

 

4 - وقَالَ الإمامُ الترمذى رحمه الله في السُّنن: (تفسير القرآن)

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أسلم عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم {لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ مَسَحَ ظَهْرَهُ فَسَقَطَ مِنْ ظَهْرِهِ كُلُّ نَسَمَةٍ هُوَ خَالِقُهَا مِنْ ذُرِّيَّتِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَجَعَلَ بَيْنَ عَيْنَيْ كُلِّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ وَبِيصًا مِنْ نُورٍ ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى آدَمَ فَقَالَ أَيْ رَبِّ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَ هَؤُلَاءِ ذُرِّيَّتُكَ فَرَأَى رَجُلًا مِنْهُمْ فَأَعْجَبَهُ وَبِيصُ مَا بَيْنَ عَيْنَيْهِ فَقَالَ أَيْ رَبِّ مَنْ هَذَا فَقَالَ هَذَا رَجُلٌ مِنْ آخِرِ الْأُمَمِ مِنْ ذُرِّيَّتِكَ يُقَالُ لَهُ دَاوُدُ فَقَالَ رَبِّ كَمْ جَعَلْتَ عُمْرَهُ قَالَ سِتِّينَ سَنَةً قَالَ أَيْ رَبِّ زِدْهُ مِنْ عُمْرِي أَرْبَعِينَ سَنَةً فَلَمَّا قُضِيَ عُمْرُ آدَمَ جَاءَهُ مَلَكُ الْمَوْتِ فَقَالَ أَوَلَمْ يَبْقَ مِنْ عُمْرِي أَرْبَعُونَ سَنَةً قَالَ أَوَلَمْ تُعْطِهَا ابْنَكَ دَاوُدَ قَالَ فَجَحَدَ آدَمُ فَجَحَدَتْ ذُرِّيَّتُهُ وَنُسِّيَ آدَمُ فَنُسِّيَتْ ذُرِّيَّتُهُ وَخَطِئَ آدَمُ فَخَطِئَتْ ذُرِّيَّتُهُ*. قَالَ أبو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم *

الحديث ليس على شرط مسلم
আল্লামা আলবানি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) উল্লেখ করেছেন যে, শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেননি। আমি বলছি: বরং মুস্তাদরাক গ্রন্থে হাকেমের সনদটি ত্রুটিযুক্ত, আর আল্লাহই তাওফিকদাতা, তিনি পবিত্র, তিনি ছাড়া কোনো রব নেই। হ্যাঁ, মুহাম্মদ বিন আমর হাসান পর্যায়ের বর্ণনাকারী, তবে হাদিসটির অন্যান্য সমর্থনমূলক বর্ণনা ও সাক্ষী রয়েছে যা একে সহিহ (বিশুদ্ধ) পর্যায়ে উন্নীত করে।

 

৪ - এবং ইমাম তিরমিজি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর সুনান গ্রন্থে বলেছেন: (কুরআনের তাফসির)

আবদ বিন হুমাইদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি আবু নুয়াইম থেকে, তিনি হিশাম বিন সাদ থেকে, তিনি জায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {যখন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি তাঁর পিঠে মাসহ করলেন (হাত বুলালেন), ফলে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে তিনি যত প্রাণ সৃষ্টি করবেন তারা সবাই তাঁর পিঠ থেকে বের হয়ে এল। তিনি তাদের প্রত্যেকের দুই চোখের মাঝখানে নূরের এক উজ্জ্বল দ্যুতি স্থাপন করলেন। অতঃপর তিনি তাদের আদমের সামনে পেশ করলেন। তখন আদম বললেন, হে রব! এরা কারা? তিনি বললেন, এরা তোমার বংশধর। তখন তিনি তাদের মধ্য থেকে একজন লোককে দেখলেন এবং তাঁর দুই চোখের মাঝখানের উজ্জ্বলতা তাঁকে মুগ্ধ করল। তিনি বললেন, হে রব! এ কে? তিনি বললেন, এ তোমার বংশধরদের শেষ উম্মতদের মধ্য থেকে একজন লোক, যাকে দাউদ বলা হয়। তিনি বললেন, হে রব! আপনি তার আয়ু কত নির্ধারণ করেছেন? তিনি বললেন, ষাট বছর। আদম বললেন, হে রব! আমার আয়ু থেকে চল্লিশ বছর বাড়িয়ে তাকে দিয়ে দিন। অতঃপর যখন আদমের আয়ু পূর্ণ হলো, তখন তাঁর কাছে মালাকুল মউত (মৃত্যুর ফেরেশতা) আসলেন। তিনি (আদম) বললেন, আমার আয়ুর কি আরও চল্লিশ বছর বাকি নেই? তিনি (ফেরেশতা) বললেন, আপনি কি তা আপনার পুত্র দাউদকে দান করেননি? নবিজি বললেন: এরপর আদম অস্বীকার করলেন, ফলে তাঁর বংশধরেরাও অস্বীকার করল; আদম ভুলে গেলেন, ফলে তাঁর বংশধরেরাও ভুলে গেল; এবং আদম ভুল করলেন, ফলে তাঁর বংশধরেরাও ভুল করল।}* আবু ঈসা বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহিহ এবং এটি আবু হুরায়রার সূত্রে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একাধিকভাবে বর্ণিত হয়েছে।*

হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী নয়।
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ١٧)
فقد أخرج مسلم في كتاب البر والصلة والآداب

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ زَيْدِ ابْنِ أسلم وَأَبِي حَازِمٍ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ اللَّعَّانِينَ لَا يَكُونُونَ شُهَدَاءَ وَلَا شُفَعَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ *

وأخرج مسلم في كتاب السلام:

وحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنْ كَانَ فَفِي الْمَرْأَةِ وَالْفَرَسِ وَالْمَسْكَنِ يَعْنِي الشُّؤْمَ وحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ (وهو أبو نعيم) حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ *

وعبد بن حميد هو عبد الحميد بن حميد الحافظ صاحب المسند وهو من رجال مسلم وذكر العلامة ابن منجويه أنه روى عن أبى نعيم في الوضوء، لكن ** هشام بن سعد ** مختلف في الاحتجاج به فقال الآجرى عن أبى داود: هو أثبت الناس في زيد ابن أسلم والحديث من رواية زيد ابن أسلم، وقال الحاكم أخرج له مسلم في الشواهد ثم أخرجه الحاكم في المستدرك وقال على شرط مسلم ووافقه الذهبي، وهذا كما لا يخفى كلام غيرُ مُسلَّمٌ بهِ، وقال أبو زرعة محله الصدق، وصحح الترمذى حديثه في السنن وقال الذهبي حسن الحديث.

وعلى الجانب الآخر ضعفه النسائى وقال أبو حاتم لا يحتج به وعن أحمد أنه لم يرضه كذلك.

قلتُ: والصحيح أنه حسن الحديث والذين ضعفوه بسبب رويات سمعوها منه، وكان فيها من الخطأ ما يوجب الضعف عندهم وقد أورد ابن عدى له بعض
ইমাম মুসলিম কিতাবুল বিরর ওয়াস সিলাহ ওয়াল আদাব-এ বর্ণনা করেছেন:

আবু বকর ইবনে আবি শায়বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুয়াবিয়া ইবনে হিশাম হিশাম ইবনে সাদ থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম এবং আবু হাযিম থেকে, তিনি উম্মুদ দারদা থেকে, তিনি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, "অভিশাপকারীরা কিয়ামতের দিন সাক্ষী বা সুপারিশকারী হতে পারবে না।"

এবং ইমাম মুসলিম কিতাবুস সালামে বর্ণনা করেছেন:

এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা ইবনে কানাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মালিক আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যদি অশুভ কিছু থেকে থাকে, তবে তা নারী, ঘোড়া এবং বাসস্থানে থাকে।" এবং আবু বকর ইবনে আবি শায়বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ফাদল ইবনে দুকাইন (যিনি আবু নুয়াইম) হিশাম ইবনে সাদ থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল ইবনে সাদ থেকে, নবী (সা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এবং আব্দ ইবনে হুমাইদ হলেন আব্দুল হামিদ ইবনে হুমাইদ আল-হাফিয, আল-মুসনাদ গ্রন্থের রচয়িতা এবং তিনি ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লামা ইবনে মানজুয়াই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি অজুর পরিচ্ছেদে আবু নুয়াইম থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে হিশাম ইবনে সাদ-কে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আল-আজুরি আবু দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: যায়েদ ইবনে আসলামের বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, আর এই হাদিসটি যায়েদ ইবনে আসলামের বর্ণনা থেকেই এসেছে। ইমাম হাকেম বলেছেন যে, ইমাম মুসলিম তার থেকে শাওয়াহিদে (সমর্থনমূলক বর্ণনায়) হাদিস গ্রহণ করেছেন। অতঃপর হাকেম এটি তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ, আর ইমাম যাহাবি তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। তবে এটি যেমনটি গোপন নয় যে, এই কথাটি সর্বজনস্বীকৃত নয়। আবু যুরআ বলেছেন যে তার অবস্থান হলো সত্যবাদিতার স্তরে। ইমাম তিরমিযী তার সুনানে তার হাদিসকে সহিহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবি একে হাসান হাদিস বলেছেন।

অন্যদিকে ইমাম নাসায়ি তাকে দুর্বল বলেছেন এবং আবু হাতিম বলেছেন যে তার দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না। ইমাম আহমাদ থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনিও তাকে অনুরূপভাবে পছন্দ করেননি।

আমি বলছি: সঠিক কথা হলো তিনি হাসান হাদিসের বর্ণনাকারী। যারা তাকে দুর্বল বলেছেন তারা তার থেকে শোনা কিছু বর্ণনার কারণে তা করেছেন, যাতে এমন কিছু ভুল ছিল যা তাদের নিকট তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করাকে আবশ্যক করেছিল। ইবনে আদি তার কিছু বর্ণনা উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: ١٨)
تلك الرويات لكن الذين حسنوا حديثه وكأنهم اطلعوا على جميع أحاديثه والله أعلم، والحديث له شواهد يرتقى بها للصحيح. فقد خرجه ابن أبى عاصم في السنة مختصراً برقم 206 بسند حسن، والله الموفق.

وأخيراً أسأل الله العفو والمغفرة عن تقصيري وعن زلاتى فإنه هو الغفور الرحيم وأسأله أن يجعل عملى ابتغاء وجهه سبحانه وأن يجعله ذخراً لى عند الميزان يوم لا ينفع مالٌ ولا بنون إلا من أتى الله بقلبٍ سليم، وإننى سائل أخاً انتفع به أن يدعو الله لى ولوالدى ولمن لهم فضلٌ علىَّ وللمسلين كافة فهو خير مسئول وبالإجابة جدير، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلى العظيم.

كتبه / أبو عبد الرحمن

يوسف بن جودة الدَّاودى

في 28 من ذو الحجة 1418 ـ

القاهرة
সেই বর্ণনাগুলো, তবে যারা তাঁর হাদীসকে হাসান বলেছেন তারা যেন তাঁর সকল হাদীস সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন। হাদীসটির এমন সব সাক্ষী (শাওয়াহিদ) রয়েছে যার মাধ্যমে এটি সহীহ স্তরে উন্নীত হয়। ইবনে আবি আসিম এটি 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে ২০৬ নম্বর ক্রমিকে হাসান সনদে সংক্ষেপে উদ্ধৃত করেছেন। আল্লাহই তাওফিকদাতা।

পরিশেষে আমি আল্লাহর কাছে আমার শিথিলতা ও পদস্খলনের জন্য ক্ষমা ও মাফ চাচ্ছি, কেননা নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই আমলকে কেবল তাঁর মহান চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং মিযানের পাল্লায় একে আমার জন্য পাথেয় করেন, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। আর আমি সেই ভাইয়ের নিকট আবেদন করছি যে এটি দ্বারা উপকৃত হবে, সে যেন আমার জন্য, আমার পিতামাতার জন্য, যাদের আমার ওপর অনুগ্রহ রয়েছে তাদের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে। কেননা তিনি শ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং দোয়া কবুলের যোগ্য। সুউচ্চ মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই।

লিখেছেন / আবু আবদুর রহমান

ইউসুফ বিন জুদাহ আদ-দাউদি

২৮শে যিলহজ ১৪১৮ হিজরী

কায়রো
(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ ফীমা কানা আলা শারতিশ শায়খাইনি আউ আহাদিহিমা ওয়া লাম ইউখরিজাহু (পৃষ্ঠা: -)
‌‌شبهات والرد عليها (*)

أعترض بعض الناس على الجامع الصحيح فقالوا: ليس ثَمَّ حديث على شرط البخاري أو مسلم، ولو كان هناك حديث على شرطيهما لأخرجاه في صحيحيهما ولكن إنما تركا هذه الأحاديث بسبب علل ظهرت لهذه الأحاديث.

الجواب: أصلح الله القائلين بهذا القول، وبصرهم ووفقهم لما فيه العلم النافع والعمل الصالح، والحق إن أصل هذه الشبهة تتكون من اعتراضين:

الأول: أنه ليس ثَمَّ حديث خارج أصول الصحيحين على شرطيهما.

الثاني: أنه لو كان هناك إسناد على شرط الشيخين أو أحدهما ولم يخرجاه دل ذلك على أن هذه الأحاديث معلولة عندهما.

المسألة الأولى: نقول بعون الله عز وجل أنه لا يشك من عنده أدنى خبرة بالحديث أن هناك أسانيد اتفقت مع شرط البخاري أو مسلم أو مع شرطيهما، ولم يخرجا هذه الأحاديث لعدة أمور منها على سبيل المثال:

1 - أن من شرط البخاري إثبات السماع للراوي عن شيخه، ولقد بين ذلك البخاري في تاريخه، فقد كان يُعل الرواية بمجرد عدم إثبات السماع، فهب أن رواية التي وقعت له لم يثبت فيها السماع فلا شك أنه لا يخرج مثل هذه الرواية، ثم تبين السماع من رواية وقعت لغيره فكان الحديث على شرطه ولم يخرجه في الصحيح.

 

2 - وأحياناً يُختلف في الحديث من حيث وصله وإرساله فيحكم البخاري مثلاً للواصل بشروط:

- أن يزيد عدد من وصله على من أرسله.

- أن يكون الواصل أحفظ ممن أرسله.

فلم يقع لهما إلا من طريق عدد قليل ممن وصله ، أو لم تظهر لهما قرينة تقوي الموصول على المرسل فلم يخرجاه ، ثم ثبت أن عدد من وصله كان أكثر ممن أرسله ، وظهرت القرينة التي تقوي الموصول على المرسل ، كحديث "لا نكاح إلا بولي " فقد أُختلف في وصله وإرساله ، فوصله إسرائيل عن أبي إسحاق عن أبي بردة عن أبيه ، ثم أرسله شعبة وسفيان الثوري عن أبي إسحاق عن أبي بردة ليس فيه عن أبيه ، ثم ظهر بالفعل أن جمع كبير وصله كما فعل إسرائيل ، وثبتت قرينة قويه على أن الحديث وصله أصح ، وهذه القرينة نقلها الإمام الترمذي رحمه الله في السنن بعد الحديث وذكر الخلاف ثم قال " ومن رواه موصولاً أصح ، لأنهم سمعوه في أوقات مختلفة ، وشعبه وسفيان إن كانا أحفظ وأثبت من جميع من رواه عن أبي إسحاق لكنهما سمعاه في وقت واحد " انتهى.

قلت: وثمَّ قرينة أخرى أن إسرائيل أثبت في أبي إسحاق من شعبة وسفيان على الراجح ، وهو قول عبدالرحمن بن مهدي رحمه الله ، ونقلها الإمام الدارقطني فقال " قال محمد بن مخلد: فقيل لعبد الرحمن - يعني ابن مهدى-: إن شعبة وسفيان يوافقانه على أبي بردة فقال: إسرائيل عن أبي إسحاق أحب إلي من سفيان وشعبة " انتهى.

3 - بما أن الحديث ربما كان معروف عند الشيخين أو أحدهما ، ولم يقع لهما بإسناد على شرطهما ووقع لغيرهما على شرطهما أو على شرط أحدهما وهو كثير في مسند الإمام أحمد وغيره من الأجزاء مثل السنة أو الأحاد والمثاني لإبن أبي عاصم وغيرهم.

 

4 - أن هذا القول غريب وغير مشهور عند جماهير المحدثين الذين قالوا بخلافه فقد صنف الإمام الحاكم المستدرك على الصحيحين وهو عين موضوع البحث وأقره على بعض أحاديثه الحافظ الذهبي وتابعه على ذلك جمع منهم إبن دقيق العيد ، وإبن الصلاح ، وإبن حجر العسقلاني ومن المعاصرين العلامة أحمد شاكر ، والعلامة الألباني.

والمسألة الثانية: أقول أن هذا القول مجرد تقليد ، وآفة العلم التقليد ، ولو أنهم إعترضوا بدليل علمي أو بحث مفيد لكنت أسعد الناس به ، ولكن مجرد الحكم بالتقليد ليس من شيم المحققين من طلبة العلم ، فإن الحكم على الشيء فرعٌ عن تصوره ، وأخيراً أنصح أخواني هؤلاء بما نصح به الإمام أحمد ، أبي الحسن.

فقد روى ابن الجوزي في " مناقب أحمد " (ص 178) بسنده إلى الميموني قال: قال لي أحمد بن حنبل: " يا أبا الحسن إياك أن تتكلم في مسألة ليس لك فيها إمام ". انتهى، فالسؤال الذي يطرح نفسه أين إمام هؤلاء في هذا القول؟ ، وأترك رد السؤال للقاريء المنصف.

--------------------------------------------

(*) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: هذا الموضوع ليس في المطبوع، وهو في أصل الملفات التي أرسلها لنا المؤلف حفظه الله
‌‌সংশয়সমূহ এবং সেগুলোর খণ্ডন (*)

কিছু লোক আল-জামেউস সহীহ-এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করে বলেছে: বুখারি বা মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী (তাদের কিতাবের বাইরে) কোনো হাদিস নেই। যদি তাদের শর্ত অনুযায়ী কোনো হাদিস থাকত, তবে তারা তা নিজ নিজ সহীহ গ্রন্থে সংকলন করতেন। কিন্তু তারা এই হাদিসগুলো বর্জন করেছেন কেবল সেগুলোতে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি প্রকাশ পাওয়ার কারণে।

উত্তর: আল্লাহ এই কথা যারা বলছেন তাদের সংশোধন করুন, তাদের অন্তর্দৃষ্টি দান করুন এবং সেই জ্ঞান ও আমলের তাওফিক দিন যা উপকারী। প্রকৃতপক্ষে এই সংশয়ের মূলে দুটি আপত্তি রয়েছে:

প্রথম: সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর মূল কিতাবদ্বয়ের বাইরে তাদের শর্তানুযায়ী কোনো হাদিস নেই।

দ্বিতীয়: যদি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা তাদের কোনো একজনের শর্ত অনুযায়ী কোনো সনদ থাকে এবং তারা তা সংকলন না করেন, তবে এটি তাদের নিকট হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত হওয়ার প্রমাণ।

প্রথম বিষয়: আমরা মহান আল্লাহর সাহায্যে বলছি যে, হাদিস শাস্ত্রে যার সামান্যতম অভিজ্ঞতা আছে তিনি এ বিষয়ে সন্দেহ করবেন না যে, এমন অনেক সনদ রয়েছে যা ইমাম বুখারি বা ইমাম মুসলিমের শর্তের সাথে অথবা উভয়ের শর্তের সাথে মিলে যায়, অথচ তারা বিভিন্ন কারণে সেই হাদিসগুলো সংকলন করেননি। উদাহরণস্বরূপ:

১ - ইমাম বুখারির একটি শর্ত হলো বর্ণনাকারী কর্তৃক তার উস্তাদ থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া। ইমাম বুখারি তার ইতিহাস গ্রন্থে এটি স্পষ্ট করেছেন। তিনি কেবল সরাসরি শোনার বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়ার কারণে বর্ণনাকে ত্রুটিযুক্ত গণ্য করতেন। ধরা যাক, তার নিকট যে বর্ণনাটি পৌঁছেছে তাতে সরাসরি শোনার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি, ফলে তিনি এমন বর্ণনা তার সহীহ গ্রন্থে আনবেন না এটাই স্বাভাবিক। পরবর্তীতে অন্য কারো নিকট এমন কোনো বর্ণনার মাধ্যমে শোনার বিষয়টি প্রমাণিত হলো যা ইমাম বুখারির শর্ত অনুযায়ী সঠিক, কিন্তু তিনি তা সহীহ গ্রন্থে উল্লেখ করেননি।

 

২ - কখনো কখনো হাদিসটি সংযুক্ত (মাওসুল) না বিচ্ছিন্ন (মুরসাল)—এ নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। এমতাবস্থায় ইমাম বুখারি সংযুক্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে কিছু শর্তারোপ করেন:

- যারা সংযুক্ত করেছেন তাদের সংখ্যা যেন বিচ্ছিন্ন বর্ণনাকারীদের চেয়ে বেশি হয়।

- সংযুক্ত বর্ণনাকারী যেন বিচ্ছিন্ন বর্ণনাকারীর চেয়ে অধিক মুখস্থশক্তির অধিকারী হন।

কখনো কখনো তাদের নিকট এমন বর্ণনাকারীদের সূত্রে হাদিসটি পৌঁছেছে যাদের সংখ্যা অল্প, অথবা মাওসুলকে মুরসালের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার মতো কোনো শক্ত প্রমাণ তাদের সামনে প্রকাশ পায়নি, ফলে তারা তা সংকলন করেননি। কিন্তু পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা এটি সংযুক্ত করেছেন তাদের সংখ্যা মুরসাল বর্ণনাকারীদের চেয়ে বেশি এবং মাওসুলকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো প্রমাণও প্রকাশ পেয়েছে। যেমন: "অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই" হাদিসটি। এটি সংযুক্ত ও বিচ্ছিন্ন হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইসরাঈল এটি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে—এভাবে সংযুক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবার শু'বা ও সুফিয়ান সাওরি এটি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন কিন্তু তাতে তার পিতার নাম উল্লেখ নেই, এরপর বাস্তবে প্রকাশ পেয়েছে যে, একটি বিশাল দল ইসরাঈলের মতোই এটি সংযুক্তভাবে বর্ণনা করেছেন। এবং এটি যে সংযুক্ত হওয়াই অধিক শুদ্ধ তার শক্তিশালী প্রমাণও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী (রহ.) তার সুনান গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করার পর এই প্রমাণটি বর্ণনা করেছেন এবং মতভেদ উল্লেখ করে বলেছেন: "যারা এটি সংযুক্তভাবে বর্ণনা করেছেন তাদেরটিই অধিক শুদ্ধ। কারণ তারা এটি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে শুনেছেন। আর শু'বা ও সুফিয়ান যদিও আবু ইসহাক থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে সবার চেয়ে বেশি হাফিয ও নির্ভরযোগ্য, তবুও তারা এটি একই সময়ে শুনেছেন।" (সমাপ্ত)

আমি বলছি: এখানে আরেকটি প্রমাণ হলো, অধিকতর সঠিক মতানুসারে ইসরাঈল আবু ইসহাকের বর্ণনার ক্ষেত্রে শু'বা ও সুফিয়ানের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। এটি আব্দুর রহমান বিন মাহদি (রহ.)-এর উক্তি। ইমাম দারাকুতনি এটি উদ্ধৃত করে বলেছেন: "মুহাম্মদ বিন মাখলাদ বলেছেন: আব্দুর রহমানকে—অর্থাৎ ইবনে মাহদিকে—বলা হলো যে, শু'বা ও সুফিয়ান তো আবু বুরদাহর বর্ণনার ক্ষেত্রে তার (ইসরাঈলের) সাথে একমত। তিনি বললেন: আবু ইসহাকের বর্ণনার ক্ষেত্রে ইসরাঈল আমার কাছে সুফিয়ান ও শু'বার চেয়ে বেশি প্রিয়।" (সমাপ্ত)

৩ - যেহেতু হাদিসটি শাইখাইন বা তাদের কোনো একজনের নিকট পরিচিত ছিল কিন্তু তাদের কাছে তাদের শর্ত অনুযায়ী সনদে পৌঁছেনি, অথচ অন্যদের নিকট তাদের শর্ত অনুযায়ী বা কোনো একজনের শর্ত অনুযায়ী পৌঁছেছে—এমন ঘটনা ইমাম আহমদের মুসনাদ এবং অন্যান্য কিতাব যেমন ইবনে আবি আসিমের আস-সুন্নাহ বা আল-আহাদ ওয়াল মাসানি ইত্যাদিতে প্রচুর রয়েছে।

 

৪ - এই দাবিটি অত্যন্ত অদ্ভুত এবং অধিকাংশ মুহাদ্দিসদের নিকট প্রসিদ্ধ নয়, যারা এর বিপরীত কথা বলেছেন। ইমাম হাকিম আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন গ্রন্থটি সংকলন করেছেন যা সরাসরি এই বিষয়ের ওপরই রচিত। হাফিয যাহাবি তার অনেক হাদিসের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন এবং ইবনে দাকীকুল ঈদ, ইবনে সালাহ, ইবনে হাজার আসকালানি এবং বর্তমান যুগের আল্লামা আহমদ শাকির ও আল্লামা আলবানীসহ এক জামাত আলেম তার অনুসরণ করেছেন।

দ্বিতীয় বিষয়: আমি বলব যে, এই কথাটি নিছক অন্ধ অনুকরণ, আর ইলমের ব্যাধি হলো অন্ধ অনুকরণ। তারা যদি কোনো বৈজ্ঞানিক দলিল বা ফলপ্রসূ গবেষণার মাধ্যমে আপত্তি তুলতেন তবে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম। কিন্তু কেবল অন্ধ অনুকরণের ভিত্তিতে ফয়সালা দেওয়া গবেষক ইলম অন্বেষণকারীদের স্বভাব নয়। কোনো বিষয় সম্পর্কে বিচার করা সেই বিষয়ের সঠিক উপলব্ধিরই একটি শাখা। সবশেষে আমি আমার এই ভাইদের সেই উপদেশই দেব যা ইমাম আহমদ আবু হাসানকে দিয়েছিলেন।

ইবনে জাওযী 'মানাকিবে আহমদ' (পৃষ্ঠা ১৭৮) গ্রন্থে তার সনদে আল-মাইমুনি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন হাম্বল আমাকে বলেছেন: "হে আবু হাসান! এমন কোনো বিষয়ে কথা বলা থেকে বেঁচে থাকো যে বিষয়ে তোমার কোনো ইমাম নেই।" (সমাপ্ত)। এখন প্রশ্ন জাগে, এই কথার ক্ষেত্রে তাদের ইমাম কে? আমি এই প্রশ্নের উত্তর ইনসাফগার পাঠকের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।

--------------------------------------------

(*) শামেলার সম্পাদক বলেছেন: এই বিষয়টি মুদ্রিত কপিতে নেই, এটি লেখকের পাঠানো মূল ফাইলের অন্তর্ভুক্ত।