(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: -)
تعدد الزوجات بين حقائق التنزيل وافتراءات التضليل (محمود محمد غريب)
القسم: كتب عامة
الكتاب: تعدد الزوجات بين حقائق التنزيل وافتراءات التضليل
المؤلف: محمود محمد غريب
الناشر: دار القلم للتراث - القاهرة
الطبعة: الثانية، 1423 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 47
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বহুবিবাহ: ওহীর বাস্তবতা এবং বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের মাঝে (মাহমুদ মুহাম্মদ গারিব)
বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: বহুবিবাহ: ওহীর বাস্তবতা এবং বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের মাঝে
লেখক: মাহমুদ মুহাম্মদ গারিব
প্রকাশক: দার আল-কালাম লিত-তুরাথ - কায়রো
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪২৩ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيمالكتاب: تعدُّد الزوجات بين حقائق التنزيل وافتراءات التضليلالمؤلف: العلامة الشيخ / محمود غريبالناشر: دار القلم للتراث - القاهرةالطبعة: الثانية، 1423 هـ - 2004 م[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।গ্রন্থ: বহুবিবাহ: ওহীর বাস্তবতা এবং বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের মাঝেলেখক: আল্লামা শায়খ মাহমুদ গারিবপ্রকাশক: দারুল কালাম লিত-তুরাস - কায়রোসংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]আল্লাহ তাআলা এর লেখককে এবং যিনি এর লিখন ব্যয় বহন করেছেন, তাদেরকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ৩)
من الأدب الرمزيقال حيران بن الأضعف:عجبت من صديقي. ظلَّ يُصرُّ على عدم الزواج ويرفضه بشدة،فلما تزوج عدد الزوجات!!فماذا وجد صديقي في الزواج حتى عدَّد الزوجات؟ !!
রূপক সাহিত্য থেকেহায়রান ইবনুল আদ’আফ বললেন:আমি আমার বন্ধুর বিষয়ে বিস্মিত হলাম। সে বিয়ে না করার ব্যাপারে অনড় ছিল এবং তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করত,অতঃপর যখন সে বিয়ে করল, তখন সে বহুবিবাহ করল!!বিয়েতে আমার বন্ধু এমন কী খুঁজে পেল যে সে একাধিক বিয়ে করল? !!
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله وكفى، وسلام على عباده الذين اصطفى، وسلام على النبي المصطفى.ثم أما بعد. . .فقد شهدت أسواق الفكر المعاصر أعمالاً فكريةً أصيلةً لكُتَّابٍ (صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ) ، جمعوا بين العمق في الفكرة والجمال في العرض وحسن البيان. (مِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ) ، بل أكثرهم - نسأل الله أن يعوِّض عنهم خيراً.وأن يبارك في (مَنْ يَنْتَظِرُ) .وظهر في أسواق الفكر أعمال ورجال نحسن الظن بهم جدوا وسهروا لتقريب كتب التراث "الأمهات" للقارئ، وهو عمل مشكور إذا أحسنوا تجريده من الإطالة، والإسرائيليات وما مضى عصر صلاحيته. ولا يمثل ضرورة فكرية مما قيل عنه: علم لا ينفع والجهل به لا يضر - في عصرنا.بقي صنف أخيرٌ أجاد تحريفَ الحقِّ والزيغَ به إلى ساحة الإضلال، والإضلال - كما تعلم - يأتي بعد تمكن الضلال.ومرحلتهم هذه تأتي بعد سقوط مرحلة الغزو الصليبي العسكري بعد مرحلة الغزو الفكري عن طريق المستشرقين.لقد فشلت مرحلة المستشرقين لعدم ثقة المسلم في كلامهم مهما حاولوا إظهار الحياديَّة وادعاء الموضوعيَّة.فاختاروا من أبناء البلاد من يحمل عقلاً علمياً كبيراً ويسَّروا له الطريق للمؤهلات العليا، والضوء الإعلامي، والتمكين في الأراضي.اختاروهم ليتمِّموا المسيرة. وينشروا دين الهوى، ويفسدوا دين الحق.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট। তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক এবং মনোনীত নবী (সা.)-এর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।অতঃপর...সমকালীন চিন্তাজগৎ এমন কিছু লেখকের মৌলিক বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সাক্ষী হয়েছে, যারা আল্লাহর সাথে করা অঙ্গীকারে সত্যনিষ্ঠ প্রমাণিত হয়েছেন। তারা চিন্তার গভীরতা, উপস্থাপনার সৌন্দর্য এবং চমৎকার বাচনভঙ্গির সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ ইন্তেকাল করেছেন, বরং তাদের অধিকাংশেরই প্রস্থান ঘটেছে—আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের উত্তম বিনিময় দান করেন।এবং যারা প্রতীক্ষারত আছেন আল্লাহ যেন তাদের মাঝে বরকত দান করেন।চিন্তার বাজারে এমন কিছু কর্ম ও ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে যাদের সম্পর্কে আমরা সুধারণা পোষণ করি; তারা পাঠকদের নিকট ঐতিহ্যের মৌলিক গ্রন্থসমূহ (الأمهات) সহজবোধ্য করার জন্য কঠোর পরিশ্রম ও বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত করেছেন। এটি একটি প্রশংসনীয় কাজ যদি তারা সফলভাবে এই কাজগুলোকে দীর্ঘসূত্রিতা, ইসরাইলি বর্ণনা (الإسرائيليات) এবং যেগুলোর উপযোগিতার সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে তা থেকে মুক্ত করতে পারেন। এটি বর্তমান যুগে এমন কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক আবশ্যকতা তৈরি করে না যার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে: এমন জ্ঞান যা কোনো উপকারে আসে না এবং যার অজ্ঞতা কোনো ক্ষতি করে না।পরিশেষে একটি শ্রেণি অবশিষ্ট থাকে যারা সত্যকে বিকৃত করতে এবং একে বিভ্রান্তির পথে নিয়ে যেতে পারদর্শী; আর পথভ্রষ্ট করা—যেমনটি আপনি জানেন—ভ্রান্তি গেড়ে বসার পরেই আসে।তাদের এই পর্যায়টি এসেছে সামরিক ক্রুসেড আগ্রাসনের পতনের পর এবং প্রাচ্যবিদদের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের পর্যায়ের পর।প্রাচ্যবিদদের পর্যায়টি ব্যর্থ হয়েছে কারণ মুসলিমরা তাদের কথায় আস্থা রাখেনি, যদিও তারা নিরপেক্ষতা প্রদর্শন এবং বস্তুনিষ্ঠতার দাবি করার যথেষ্ট চেষ্টা করেছিল।তাই তারা এই ভূখণ্ডের সন্তানদের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তিদের বেছে নিয়েছে যাদের বিশাল বৈজ্ঞানিক মেধা রয়েছে এবং তাদের জন্য উচ্চতর যোগ্যতা অর্জন, প্রচারমাধ্যমের আলো এবং জমিনে প্রভাব বিস্তারের পথ সুগম করে দিয়েছে।তারা এদের নির্বাচন করেছে যেন এই ধারা অব্যাহত থাকে, প্রবৃত্তি পূজার ধর্ম প্রচার করে এবং সত্য দ্বীনকে কলুষিত করে।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ৫)
وسادتهم وقادتهم من ورائهم يسهرون، تفرَّغوا للدفاع عنهم باسم حريَّة الرأي.يقولون: ألم يكفل الإسلام حريَّة الرأي؟ وحرية الاعتقاد؟لماذا يحاول علماء الإسلام إغلاقَ باب الحق عليهم. وحدهم؟ألم يختلف قديما المعتزلة مع أهل السنة؟ وتحمَّل الإسلامُ وأئمَّتُه تكاليفَ المعركة، ولم يحكم بكفر أحد من الطرفين.وفي عصرنا ألم يختلف السلفية مع المتصوفة وتحمَّل الإسلامُ، ووسع الطائفتين؟فلماذا لا تقبلون أفكار العَلْمانيين كما قبلتم من قبل أفكار الغزالي وابن رشد والفلاسفة؟كلام طويل خلاصته إن أسواق البهائم تعرض فيها الغزلان والخنازير، فلا يصح باسم الإسلام أن تُغلقوا الأسواق أمام الغزلان ولا الخنازير.وبعد:فهذه رسالة صغيرة في موضوع كبير. كثر فيه الرأي والرأي الآخر.وهو موضوع "تعدد الزوجات بين حقائق التنزيل وافتراءات التضليل".وقد حاولتُ أن أدافع عن حقائق الإسلام من غير أن أدعو إلى تعدُّد الزوجات الذي أدافع عنه. ولا أن أرغِّب فيه واكتفيتُ بالفطرة.فالإسلام أباح التعدُّد ولم يأمر به.واللَّهَ أسألُ أن يمتعنا بالحق، ويجعلنا من جنوده وأنصاره. إنه المستعان.محمود غريبسلطنة عمان - صلالةص ب: 593ليلة النصف من شعبان المبارك 1423 هـ
তাদের অধিপতি ও নেতৃবৃন্দ তাদের পশ্চাতে থেকে রাত জাগছেন; তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে তাদের প্রতিরক্ষায় আত্মনিয়োগ করেছেন।তারা বলে: ইসলাম কি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিশ্বাসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেনি?কেন ইসলামের আলিমগণ কেবল তাদের জন্য সত্যের দ্বার রুদ্ধ করার চেষ্টা করছেন?অতীতে কি মুতাজিলাগণ আহলে সুন্নতের সাথে দ্বিমত পোষণ করেনি? ইসলাম ও তার ইমামগণ সেই সংগ্রামের ধকল সহ্য করেছেন এবং কোনো পক্ষকেই কাফির সাব্যস্ত করার ফয়সালা দেননি।আমাদের বর্তমান যুগে কি সালাফিগণ সুফিদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেননি? এবং ইসলাম কি তা সহ্য করেনি এবং উভয় দলকেই স্থান দেয়নি?তবে আপনারা কেন সেক্যুলারবাদীদের চিন্তাধারা গ্রহণ করছেন না, যেভাবে আপনারা ইতিপূর্বে গাযালি, ইবনে রুশদ এবং দার্শনিকদের চিন্তাধারা গ্রহণ করেছিলেন?এটি একটি দীর্ঘ আলোচনা যার সারমর্ম হলো—পশুর বাজারে হরিণ এবং শুকর উভয়ই প্রদর্শিত হয়; সুতরাং ইসলামের নামে হরিণ বা শুকর কোনোটির জন্যই বাজার বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন নয়।অতঃপর:এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ক্ষুদ্র একটি পুস্তিকা, যে বিষয়ে বহু মত ও পাল্টা মত রয়েছে।আর তা হলো "ওহীর ধ্রুব সত্য এবং বিভ্রান্তিকর অপবাদের প্রেক্ষাপটে বহুবিবাহ" বিষয়ক।আমি বহুবিবাহের যে যৌক্তিকতা রক্ষা করছি, সেটির প্রতি সরাসরি আহ্বান জানানো বা প্রলুব্ধ না করেই ইসলামের মৌলিক সত্যসমূহকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি এবং বিষয়টিকে স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।কেননা ইসলাম বহুবিবাহকে বৈধ করেছে কিন্তু তা অপরিহার্য করেনি।আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সত্যের দ্বারা ধন্য করেন এবং আমাদের তাঁর দ্বীনের সৈনিক ও সাহায্যকারী হিসেবে কবুল করেন। তিনিই একমাত্র সাহায্যস্থল।মাহমুদ গরিবওমান সালতানাত - সালালাহপোস্ট বক্স: ৫৯৩১৪২৩ হিজরির বরকতময় শাবান মাসের ১৫ তারিখ রাত
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ৬)
تعدد الزوجات في الشرائع السابقة* تعدُّد الزوجات تشريع قديم أباحته كل الشرائع السابقة على الإسلام.يقول نيوفلد في كتابه "قوانين الزواج عند العبرانيين الأقدمين" يقول:"إن التلمود والتوراة معاً قد أباحا تعدُّد الزوجات على الإطلاق وإن كان بعض الربانيين ينصحون بالقصد من تعدُّد الزوجات".* ثم جاءت المسيحية ولم تتوسع في في الجوانب الاجتماعية، وإنما اكتفت بالتشريعات السابقة في هذا الشأن لأن السيد المسيح قال:ما جئت لأنقض الناموس. فبقيت شريعةُ التوراةِ المبيحة للتعدُّد شريعةً للدين الجديد (1) .* ثم جاء الإسلامُ فلم ينشئ تعدُّد الزوجات ولكنه قيَّده، وأصلح ما دخل فيه من فساد بسبب الفوضى، وجعله حسب الضرورات، فلم يحرم الإسلام أمراً تدعو إليه الضرورة، ويجوز أن تكون إباحته خيراً من تحريمه في بعض الظروف الأُسْريَّة، وبعض الظروف الاجتماعيَّة العامة (2) .مدخل ومناقشة:زيادة عدد النساء، ومتوسط، بسبب تعرض الرجال - عادة للحروب ومشكلات العيش، وتكاليف الحياة، هو السبب في إباحة تعدُّد الزوجات.ونحن جميعا نعلم أن الإسلام لم يبح لأحد أن يرغم المرأة على الزواج من رجل له زوجة أو أكثر، فهي التي تختار، سواء كانت بكراً أم ثيِّباً.ومن ناحية الزوجة الأولى لا يستطيع أحدٌ إرغامَها على البقاء - إن شاءت عاشت،
--------------------------------------------
(1) (المرأة في القرآن / عباس محمود العقاد. ص: 75)(2) (إنجيل متى إصحاح. 17)
পূর্ববর্তী শরিয়তসমূহে বহুবিবাহ* বহুবিবাহ একটি প্রাচীন আইনি বিধান, যা ইসলামের পূর্ববর্তী সকল শরিয়ত বৈধ ঘোষণা করেছিল।নিউফেল্ড তার "প্রাচীন হিব্রুদের বৈবাহিক আইন" গ্রন্থে বলেন:"তালমুদ এবং তাওরাত উভয়ই বহুবিবাহকে নিঃশর্তভাবে বৈধতা দিয়েছে, যদিও কোনো কোনো রাবাই বহুবিবাহের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধের পরামর্শ দিয়েছেন।"* এরপর খ্রিস্টধর্মের আবির্ভাব ঘটে এবং এটি সামাজিক দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেনি, বরং এই বিষয়ে পূর্ববর্তী বিধানগুলোর ওপরই নির্ভর করেছে; কারণ যিশু খ্রিস্ট বলেছিলেন:আমি বিধান ধ্বংস করতে আসিনি। ফলে তাওরাতের শরিয়ত—যা বহুবিবাহকে বৈধ করেছিল—তা এই নতুন ধর্মেরও বিধান হিসেবে বহাল থাকে (১)।* অতঃপর ইসলাম আগমন করে। ইসলাম বহুবিবাহ প্রথার উদ্ভব ঘটায়নি বরং একে সীমাবদ্ধ করেছে এবং বিশৃঙ্খলার কারণে এতে যেসব অনিয়ম প্রবেশ করেছিল তা সংস্কার করেছে। ইসলাম একে প্রয়োজনের নিরিখে নির্ধারণ করেছে; ফলে ইসলাম এমন কোনো বিষয়কে হারাম করেনি যার আবশ্যকতা রয়েছে। কোনো কোনো পারিবারিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ সামাজিক প্রেক্ষাপটে বহুবিবাহের বৈধতা একে নিষিদ্ধ করার চেয়ে অধিক কল্যাণকর হতে পারে (২)।ভূমিকা ও আলোচনা:পুরুষদের সাধারণত যুদ্ধবিগ্রহ ও জীবনসংগ্রামের প্রতিকূলতা এবং জীবনধারণের ব্যয়নির্বাহের ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়, যার ফলে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পুরুষের গড় আয়ু কমে যায়; মূলত এটাই বহুবিবাহের বৈধতার কারণ।আমরা সকলেই অবগত যে, ইসলাম কাউকে কোনো নারীকে এমন পুরুষের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য করার অনুমতি দেয়নি যার এক বা একাধিক স্ত্রী রয়েছে। এক্ষেত্রে নারী নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, সে কুমারী হোক বা অকুমারী।আর প্রথম স্ত্রীর ক্ষেত্রেও, কেউ তাকে বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য করতে পারবে না—সে চাইলে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করতে পারে,
--------------------------------------------
(১) (আল-মারআ ফিল কুরআন / আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ। পৃষ্ঠা: ৭৫)(২) (মথি লিখিত সুসমাচার, অধ্যায়: ১৭)
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ৭)
وإن شاءت طلبت الخلع، وربما كانت الزوجة الأولى هي السبب في الزواج عليها. كما ستعرف.لعُقْمٍ، أو مرضٍ، أو سفرٍ طويلٍ للعمل، أو للدراسة، وبعض الناس لا يقوى على تحمُّل مثل هذا بغير زوجة، وقد يكون التعدُّد لمصلحتها.لمصلحتها فعلاً، فقد يطلق الرجل زوجته ويتزوج غيرها، ثم يرى أن يعيدها لعصمته صيانةً لأولاده، وحفظاً لهم، أليس من الأفضل أن يراجعها؟ !وأيُّ ذنب للزوجة الجديدة حتى يطلقها؟ فالله يشرِّع لعباده وهو أعلم بما يصلحهم (وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ) .حوار هادئ:قال لي صديقي: إن تعدُّد الزوجات يسبب المعاداة بين بني العائلات - يعني أبناء الرجل من زوجات متعددات.قلتُ له: سوء التربية ممكن أن يجعل الأشقاء في خلاف وشقاق.والتربية على الحب تقرِّب بين من لا نسب بينهم (1)قال: هل نترك المجتمع لظروف التربية؟لا بدَّ من تشريع يضبط من لا ينضبط بالحبِّ والقيم الأخلاقية.قلتُ له: هل تريد قانونا يمنع المرأة التي مات زوجها من الزواج مخافة أن تنجب فيحدث صراع بين أولادها من الزوج الأول والجديد؟
--------------------------------------------
(1) أنا أسطر هذه السطور نشرت الصحف المصرية أن أمين شرطة بالزقازيق أطلق النار على إخوته وأخواته وأمِّه.فهل هذه الجريمة التي اهتزَّ لها القلب بسبب تعدُّد الزوجات؟ ؟ !!!.
এবং তিনি চাইলে খুলা (خلع) এর আবেদন করতে পারেন, আর সম্ভবত প্রথম স্ত্রী নিজেই তার উপর পুনরায় বিয়ে করার কারণ হতে পারেন, যা আপনি পরে জানতে পারবেন।বন্ধ্যাত্ব, অসুস্থতা, কিংবা কর্মস্থল বা পড়াশোনার জন্য দীর্ঘ সফরের কারণে এমনটি হতে পারে; আর কিছু মানুষ স্ত্রী ছাড়া এমন পরিস্থিতি সহ্য করার শক্তি রাখে না। এক্ষেত্রে বহুবিবাহ (تعدد) সম্ভবত স্ত্রীর কল্যাণেই হতে পারে।প্রকৃতপক্ষে এটি তার কল্যাণের জন্যই; কোনো ব্যক্তি হয়তো তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করে, তারপর সন্তানদের দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কথা চিন্তা করে পুনরায় তাকে তার বিবাহাধীনে ফিরিয়ে আনা সমীচীন মনে করে। তাকে ফিরিয়ে নেওয়া (مراجعة) কি উত্তম নয়? !আর নতুন স্ত্রীরই বা কী অপরাধ যে তাকে তালাক দিতে হবে? আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য বিধান প্রণয়ন করেন এবং তিনি তাদের জন্য কোনটি কল্যাণকর তা সবচেয়ে ভালো জানেন। (আর আল্লাহ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না)।একটি শান্ত সংলাপ:আমার এক বন্ধু আমাকে বললেন: বহুবিবাহ (تعدد الزوجات) পরিবারের সন্তানদের মাঝে—অর্থাৎ বিভিন্ন স্ত্রীর গর্ভজাত এক পিতার সন্তানদের মাঝে—শত্রুতার সৃষ্টি করে।আমি তাকে বললাম: ত্রুটিপূর্ণ লালন-পালন সহোদর ভাইদের মাঝেও বিরোধ ও বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে।আর ভালোবাসার মাধ্যমে গড়ে তোলা লালন-পালন তাদের মাঝেও নৈকট্য তৈরি করে যাদের মাঝে কোনো বংশীয় সম্পর্ক নেই (১)তিনি বললেন: আমরা কি সমাজকে শুধু লালন-পালনের পরিস্থিতির ওপর ছেড়ে দেব?এমন একটি বিধান আবশ্যক যা তাদের নিয়ন্ত্রণ করবে যারা ভালোবাসা ও নৈতিক মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না।আমি তাকে বললাম: আপনি কি এমন কোনো আইন চান যা কোনো বিধবা নারীকে পুনরায় বিবাহ করা থেকে বিরত রাখবে এই ভয়ে যে, সে সন্তান জন্ম দিলে প্রথম ও দ্বিতীয় স্বামীর সন্তানদের মাঝে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে?
--------------------------------------------
(১) আমি যখন এই পঙক্তিগুলো লিখছি, তখন মিশরের সংবাদপত্রগুলো সংবাদ প্রকাশ করেছে যে, জাকাজিকের একজন পুলিশ কর্মকর্তা তার ভাই-বোন এবং মায়ের ওপর গুলি চালিয়েছে।তবে কি এই অপরাধ, যা হৃদয়কে কাঁপিয়ে দিয়েছে, তা কি বহুবিবাহের (تعدد الزوجات) কারণে হয়েছে? ? !!!.
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ৮)
وهل تريد قانونا يمنع الرجل الذي ماتت زوجته أو طلقها حرمان الزواج بامرأة جديدة تنجب له أولاداً أبوهم واحد وأمهاتهم مختلفات؟قال: ولكن القرآن اشترط لجواز التعدُّد القدرة على العدل بينهن، (فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً) .وأثبت القرآن عدم قدرتنا على العدل بين النساء (وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ) .فالمعنى المستفاد من الآيتين هو منع التعدد.أظنُّك من الأدب والإيمان بحيث لا تدعي أنك أعمق فهماً. للإسلام من أبي بكر وعمر وعثمان وخالد وكبار السلف رضي الله عنهم فقد عدَّدوا الزوجات في حضور النبي صلى الله عليه وسلم ولم ينههم.وسكوته صلى الله عليه وسلم إقرارٌ، وإقرارُه تشريعٌ.قالوا: يمكن للقانون أن يمنع التعدُّد على الأقل في أيام السِّلْم احتراما للمرأة ومشاعرها.قلتُ: على رأيك هذا القانون سيحول بين المرأة التي ترغب أن تكون زوجة ثانية وبين تحقيق رغبتها. فهل المنع لصالح المرأة أم لعذابها؟إن الزوجة الأولى قد تكون عقيماً. أو مريضة أو مسافرة سفرا طويلاً.فمن الخير لها أن تبقى زوجة بدلاً من طلاقها. ومع ذلك الخيارُ لها.والمرأة تكون معطلة عن الحياة الزوجية أيام الحيض، وقد تصل إلى عشرة أيام في الشهر، وتحرم على زوجها أيام الولادة والنفاس، وقد تصل إلى شهرين.
আপনি কি এমন একটি আইন চান যা সেই ব্যক্তিকে বাধা দেবে যার স্ত্রী মারা গেছে কিংবা যাকে সে তালাক দিয়েছে, এমন একজন নতুন নারীকে বিবাহ করা হতে যে তাকে এমন সন্তান দান করবে যাদের পিতা এক কিন্তু মাতা ভিন্ন?তিনি বললেন: কিন্তু কুরআন বহুবিবাহের বৈধতার জন্য তাদের মধ্যে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার করার সক্ষমতাকে শর্ত করে দিয়েছে, (অতঃপর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনই)।আর কুরআন নারীদের মধ্যে ইনসাফ করার ব্যাপারে আমাদের অক্ষমতাকে সাব্যস্ত করেছে (আর তোমরা কক্ষনো নারীদের মধ্যে ইনসাফ করতে পারবে না, যদিও তোমরা তা প্রবলভাবে আকাঙ্ক্ষা করো)।সুতরাং এই আয়াতদ্বয় থেকে উপলব্ধ অর্থ হলো বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ।আমি মনে করি আপনি শিষ্টাচার ও ঈমানের এমন স্তরে আছেন যে, আপনি দাবি করবেন না যে আপনি ইসলাম সম্পর্কে আবু বকর, উমর, উসমান, খালিদ এবং মহান পূর্বসূরি (السلف) -আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন- অপেক্ষা অধিক গভীর প্রজ্ঞা রাখেন; কেননা তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতেই বহুবিবাহ করেছেন এবং তিনি তাঁদেরকে তা থেকে বারণ করেননি।আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নীরবতা হলো মৌন সম্মতি (إقرار), আর তাঁর মৌন সম্মতি (إقرار) হলো শরীয়তের বিধান।তারা বলল: আইন অন্তত শান্তির সময়ে নারী ও তার অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করতে পারে।আমি বললাম: আপনার এই মতানুসারে, উক্ত আইনটি সেই নারীর পথে অন্তরায় হবে যে দ্বিতীয় স্ত্রী হতে ইচ্ছুক এবং তার আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাধা সৃষ্টি করবে। তাহলে এই নিষেধাজ্ঞা কি নারীর কল্যাণের জন্য নাকি তাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য?নিশ্চয়ই প্রথম স্ত্রী বন্ধ্যা হতে পারে, অথবা অসুস্থ হতে পারে কিংবা দীর্ঘ প্রবাসে থাকতে পারে।এমতাবস্থায় তাকে তালাক দেওয়ার পরিবর্তে স্ত্রী হিসেবে রেখে দেওয়াই তার জন্য কল্যাণকর। তদুপরি, এই পছন্দ বা ইখতিয়ার তার নিজেরই।আর একজন নারী ঋতুস্রাব বা মাসিকের দিনগুলোতে দাম্পত্য জীবন হতে বিরত থাকে, যা মাসে দশ দিন পর্যন্ত হতে পারে এবং সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব বা নিফাস-এর দিনগুলোতে সে তার স্বামীর জন্য নিষিদ্ধ থাকে, যা দুই মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ৯)
وبعض الرجال لا يقوى على تحمل هذا.* وقد يطلّق الزوج زوجته ويتزوج غيرها، ثم يرى أن يعيدها لعصمته رعاية لأولاده، أو حبًّا فيها، فتعددّ الزوجات يقلل من الطلاق. لمثل الزوجة الجديدة. إذا رغب في العودة لزوجته الأولى.* وفي أعقاب الحروب يجب أن يكون التعدُّد حلًّا لمشكلة أرامل الشهداء ولنا في رسول الله أسوة حسنة.فأكثر الأمهات المؤمنين من أرامل الشهداء.وقد يموت أخوهُ ويترك يتامى وزوجة أرملة هي أم اليتامى.لا يستطيع أن يشرف على تربية أولاد أخيه. ولا يمكن التردد على بيته حذراً من الفتنة، أو من كلام الناس.فليعقد على أرملة أخيه من باب "ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب" ورعاية أطفال أخيه واجب. وأسباب أخرى كثيرة، والأيام حبالى يلدن كل عجيب.أما فهم الآيتين فسوف نحاول فهمها بشي من التفصيل في حواري مع الدكتور مراد هوفمان الألماني، والمهندس محمد شحرور - إن شاء الله.* * *هل تعدُّد الزوجات يمثل ظاهرة في بلادنا؟تقول الأرقام - وهي - إن لم تكن حسابية فهي بلاغية تقول: إن عدد الذين يجمعون أكثر من زوجة واحدة لا يزيد عن 4%. ولا تكاد تذكر نسبة الذين يجمعون ثلاثة أو أربعة. وتقل النسبة كلما انتشر التعليم.
অনেক পুরুষের পক্ষে এটি সহ্য করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।* অনেক সময় স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করেন, অতঃপর সন্তানদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে কিংবা স্ত্রীর প্রতি অনুরাগের কারণে তাকে পুনরায় নিজের দাম্পত্যাধীনে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এমতাবস্থায় বহুবিবাহ তালাকের প্রবণতা হ্রাস করে। এটি নতুন স্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, যখন স্বামী তার প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেন।* যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে শহীদদের বিধবা স্ত্রীদের সমস্যা সমাধানে বহুবিবাহ একটি সমাধান হওয়া আবশ্যক; আর আল্লাহর রাসূলের মাঝে আমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।কেননা উম্মাহাতুল মুমিনিনের অধিকাংশ ছিলেন শহীদদের বিধবা স্ত্রী।কখনো কারো ভাই মারা যান এবং এতিম সন্তান ও তাদের মা হিসেবে একজন বিধবা স্ত্রীকে রেখে যান।এমতাবস্থায় তিনি তার ভ্রাতুষ্পুত্রদের লালন-পালনের তদারকি করতে পারেন না। আবার ফিতনা (فتنة) কিংবা লোকলজ্জার ভয়ে সেই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করাও সম্ভব হয় না।তাই তিনি যেন "যে বিষয় ব্যতীত ওয়াজিব (واجب) সম্পন্ন হয় না, সেই বিষয়ও ওয়াজিব (واجب)"—এই মূলনীতির আলোকে এবং ভাইয়ের সন্তানদের দেখাশোনা করা ওয়াজিব (واجب) হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তার ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীকে বিবাহ করেন। এছাড়া আরও অনেক কারণ রয়েছে; আর সময় প্রসূতিসম—তা প্রতিনিয়ত বিস্ময়কর সব পরিস্থিতির জন্ম দেয়।আয়াত দুটির ব্যাখ্যার বিষয়ে আমরা জার্মান নাগরিক ডক্টর মুরাদ হফম্যান এবং প্রকৌশলী মুহাম্মদ শাহরুর-এর সাথে আমার সংলাপে বিস্তারিতভাবে বোঝার চেষ্টা করব—ইনশাআল্লাহ।* * *বহুবিবাহ কি আমাদের দেশে একটি সামাজিক প্রপঞ্চ হিসেবে পরিগণিত?পরিসংখ্যান বলছে—যা গাণিতিক না হলেও অন্তত আলঙ্কারিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ—একাধিক স্ত্রী গ্রহণকারী ব্যক্তির সংখ্যা ৪ শতাংশের বেশি নয়। তিন বা চারজন স্ত্রী গ্রহণকারীর হার তো উল্লেখ করার মতোও নয়। আর শিক্ষার প্রসার বাড়ার সাথে সাথে এই হার ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ১০)
فالتعليم المتوسط حوالي 2.8% بينما تقل هذه النسبة لمن أتم التعليم العالي فتصبح 1.4% ومن درس بعد الجامعة فالنسبة تصل إلى ثلاثة في الألف.ومما يجب أن نذكره أن أولاد الزنا يكثرون في البلاد التي تُحرّم تعدُّد الزوجات. وفي مجلة حضارة الإسلام الجزء الثاني ص 365 عام 1961 إحصائية لأولاد الزنا ففي فرنسا بلغ عدد أولاد الزنا 30 في الألف، وفي بروكسل 60 في الألف. وفي السويد يولد طفل غير شرعي بين كل عشرة أطفال. وفي أمريكا ولد مائتان وعشرون ألف طفل غير شرعي عام 1959. يعني 52 في الألف.فمن حجر على تعدُّد الزوجات بقوة القانون لم يستطع أن يحجر على أسواق الخليلات الرخيصات.وفي بلد قُبض على رجل وقدم للقضاء بتهمة تعدُّد الزوجات. فأثبت محاميه أن موكله لم يُعدِّد إنه يزني. فبرّأه القضاء.برأه لأن القانون الفرنسي المعمول به في بعض البلاد العربية لا يعاقب على الزنا ولا يحرمه إلا إذا خانت زوجها أو أخذت أجراً على الزنا. فإذا انتفى شرط الزواج أو كانت تزنى بدون أجر فلا جريمة ولا عقاب.حتى لو كانت متزوجة فالحق لزوجها. إن شاء طلب معاقبتها بتهمة الخيانة الزوجية. وإن شاء عفا عنها. وبعض بلاد محمد صلى الله عليه وسلم تحتكم لهذا القانون.ونسأل:الزوجة الواحدة مسؤولية كبيرة وحمل على الرجل ثقيل.فما بال بعض الناس يعدِّد الزوجات؟
মাধ্যমিক শিক্ষা প্রায় ২.৮%, যেখানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্নকারীদের ক্ষেত্রে এই হার কমে দাঁড়ায় ১.৪%, আর যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী পড়াশোনা করেছেন তাদের ক্ষেত্রে এই হার হাজারে তিনজনে পৌঁছায়।আর যা উল্লেখ করা আবশ্যক তা হলো, জারজ সন্তানদের আধিক্য সেইসব দেশে বেশি যেখানে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ। 'হাজারাতুল ইসলাম' সাময়িকীর ১৯৬১ সালের দ্বিতীয় খণ্ডের ৩৬৫ পৃষ্ঠায় জারজ সন্তানদের একটি পরিসংখ্যান রয়েছে; ফ্রান্সে জারজ সন্তানের সংখ্যা হাজারে ৩০ জন এবং ব্রাসেলসে হাজারে ৬০ জন। সুইডেনে প্রতি দশটি শিশুর মধ্যে একটি অবৈধ সন্তান জন্ম নেয়। আমেরিকায় ১৯৫৯ সালে দুই লক্ষ বিশ হাজার অবৈধ সন্তান জন্মেছিল, যা হাজারে ৫২ জন।সুতরাং যারা আইনের জোরে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করেছে, তারা সস্তা উপপত্নীদের বাজার বন্ধ করতে পারেনি।একটি দেশে জনৈক ব্যক্তিকে বহুবিবাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলো। তার আইনজীবী প্রমাণ করলেন যে তার মক্কেল বহুবিবাহ করেনি, বরং সে ব্যভিচার করছে। ফলে আদালত তাকে খালাস দিয়ে দিল।তাকে খালাস দেওয়া হলো কারণ কিছু আরব দেশে প্রচলিত ফরাসি আইন ব্যভিচারের জন্য শাস্তি দেয় না এবং একে নিষিদ্ধও মনে করে না, যতক্ষণ না কোনো নারী তার স্বামীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে অথবা ব্যভিচারের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করে। সুতরাং যদি বিবাহের শর্ত না থাকে অথবা সে বিনিময় ছাড়া ব্যভিচার করে, তবে কোনো অপরাধ নেই এবং কোনো শাস্তিও নেই।এমনকি সে বিবাহিত হলেও অধিকার তার স্বামীর। সে চাইলে দাম্পত্য বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে তার শাস্তির দাবি করতে পারে, আর চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিতে পারে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসারীদের কোনো কোনো দেশ বর্তমানে এই আইন অনুযায়ী বিচার পরিচালনা করছে।আমরা প্রশ্ন করি:একজন স্ত্রীই তো বড় দায়িত্ব এবং পুরুষের জন্য এক ভারী বোঝা।তাহলে কেন কিছু মানুষ বহুবিবাহ করে?
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
لابد من سرٍّ في الموضوع لا يعرفه الذين يعارضون تعدُّد الزوجات. والذين لم يدخلوا تجربة التعدُّد قالوا: إنها لإشباع الشهوة.يقول أستاذي الإمام محمد أبو زهرة: وهبْ أن التعدُّد شُرع لتنظيم هذه الشهوة، فإن القضية منتهية بلا ريب إلى الموازنة بين زواج وسفاح، أي الطريقين أهدى سبيلاً؟ !!* إن الذين يُحرمون تعدُّد الزوجات يبيحون نظام الخليلات في جرأة ووقاحة. {فَأَيُّ الْفَرِيقَيْنِ أَحَقُّ بِالْأَمْنِ} أن تعيش المرأة مع نصف رجل، يتحملها إذا أصابها الشيب، وانصرف عنها الأخلاء، أم أن تعيش حياتها مدلَّلة يُقبلون يدها على المساهر الليلية، حتى نودع شبابها فينصرفون عنها؟* وهل تعيش الخليلة وحدها أو يُعدد الرجل الخليلات؟لا أعرف قانون بلد منع تعدُّد الزوجات ومنع تعدُّد الخليلات فإذا أباحوا تعدُّد الخليلات فتعدد الزوجات أولى وأطهر.الإسلام قيد التعدُّد:التشريعات السابقة على الإسلام أباحت تعدُّد الزوجات. حتى الأنبياء منهم عدَّدوا الزوجات. والتوراة التي بين يدينا تخبر أن دواد عليه السلام تزوج ثلاثمائة حرة....وفي الجزيرة العربية عدَّد الرجال الزوجات قبل الإسلام من غير تقيد بعددٍ.فالإسلام قيد المباح من ناحية العدد ،
এই বিষয়ের পেছনে অবশ্যই এমন কোনো নিগূঢ় রহস্য রয়েছে যা বহুবিবাহের (تعدد الزوجات) বিরোধিতাকারীরা জানে না। আর যারা বহুবিবাহের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়নি তারা বলে: এটি কেবল কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য।আমার উস্তাদ ইমাম মুহাম্মদ আবু জাহরা বলেন: ধরে নেওয়া যাক, এই কামপ্রবৃত্তিকে সুশৃঙ্খল করার জন্যই বহুবিবাহকে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, তবুও বিষয়টি নিঃসন্দেহে বিবাহ এবং ব্যভিচারের (سفاح) মধ্যবর্তী তুলনামূলক পর্যালোচনায় গিয়ে ঠেকে; এই দুই পথের মধ্যে কোনটি অধিকতর সঠিক পথ? !!* নিশ্চয় যারা বহুবিবাহকে হারাম করে, তারা চরম ধৃষ্টতা ও নির্লজ্জতার সাথে উপপত্নী (الخليلات) প্রথাকে বৈধ করে নেয়। {অতএব এই দুই দলের মধ্যে কার নিরাপত্তা লাভের অধিকার বেশি?} একজন নারী কি একজন অর্ধ-পুরুষের সাথে বসবাস করবে, যে তার বার্ধক্যের ভার বহন করবে যখন তার বন্ধুরা তাকে ছেড়ে চলে যাবে? নাকি সে আমোদ-প্রমোদে আদুরে জীবন যাপন করবে যেখানে নৈশকালীন আড্ডায় তার হাতে চুম্বন করা হবে, যতক্ষণ না তার যৌবন বিদায় নেয় এবং তারা তাকে ত্যাগ করে চলে যায়?* আর উপপত্নী কি একাই থাকে, নাকি পুরুষরা একাধিক উপপত্নী (الخليلات) গ্রহণ করে?আমি এমন কোনো দেশের আইন জানি না যা বহুবিবাহকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি একাধিক উপপত্নী রাখাকেও নিষিদ্ধ করেছে। সুতরাং যদি তারা একাধিক উপপত্নী রাখাকে বৈধ করে, তবে বহুবিবাহ (تعدد الزوجات) গ্রহণ করাই অধিকতর শ্রেয় এবং পবিত্রতর।ইসলাম বহুবিবাহকে সীমিত করেছে:ইসলামের পূর্ববর্তী বিধানসমূহ বহুবিবাহকে (تعدد الزوجات) বৈধ করেছিল। এমনকি নবীদের মধ্যেও অনেকে বহুবিবাহ করেছেন। আমাদের নিকট বিদ্যমান তাওরাত আমাদের জানায় যে, দাউদ আলাইহিস সালাম তিনশত স্বাধীন নারীকে বিবাহ করেছিলেন...আরব উপদ্বীপেও ইসলামের পূর্বে পুরুষরা কোনো সংখ্যার সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বহুবিবাহ করত।অতঃপর ইসলাম সংখ্যার দিক থেকে এই বৈধ (مباح) বিষয়টিকে সীমিত করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقيده من ناحية الواجبات التي فرضها على الزوج وحسب أنه لا يبيت حيث يريد: ولكن حيث يريد له الواجب.وليس له خيار في الإنفاق فهو ملزم ديانة وقضاء على الإنفاق على من يتزوج بهن. وإذا كان القاضي لابد أن يكون منصفاً. وإذا كان الإنصاف أن يعطي كل خصم نصفه. فالزوج مطالب بالإنصاف بين الزوجات."يأتي يوم على القاضي العادل يودُّ لو لم يحكم بين اثنين في تمرة"القاضي العادل.والتركة تمرة.والنساء أقدر على إمالة القلوب من كل تمر الدنيا بل وذهبها.من هنا خفف الله عنا فلم يطلب العدل المطلق بين الزوجات. فقد اعتذر النبي صلى الله عليه وسلم لربه عن المطلق "اللهم هذا قسمي فيما أملك فلا تؤاخذني فيما تملك ولا أملك"واكتفى القرآن بالعدل النسبي: {فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ} وإذا عجز المسلم عن العدل بينه وبين الزوجات الأربعة فليتزوج من يقدر على العدل بينهن.وواحدة أفضل.وإذا عجز عن العدل بين نفسه وبين زوجة واحدة فالأفضل عدم الزواج {فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً}
আর তিনি তাকে সেই সকল আবশ্যকীয় কর্তব্যের (واجب) দিক থেকে সীমাবদ্ধ করেছেন যা তিনি স্বামীর ওপর অর্পণ করেছেন। বিষয়টি এমন যে, সে যেখানে ইচ্ছা সেখানে রাত যাপন করতে পারবে না; বরং যেখানে থাকা তার জন্য শরয়ি দায়িত্ব (واجب), সেখানেই তাকে থাকতে হবে।ভরণ-পোষণ প্রদানের ক্ষেত্রেও তার কোনো ইখতিয়ার নেই; বরং সে যাদের বিবাহ করেছে তাদের ভরণ-পোষণ প্রদানে ধর্মীয় (ديانة) ও আইনগত (قضاء) দিক থেকে সে দায়বদ্ধ। আর বিচারককে (قاضي) অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ হতে হয়। ইনসাফ বা ন্যায়বিচার যদি হয় প্রতিটি পক্ষকে তার প্রাপ্য পূর্ণরূপে প্রদান করা, তবে স্বামীও স্ত্রীদের মাঝে ইনসাফ করতে আদিষ্ট।"ন্যায়পরায়ণ বিচারকের (قاضي) ওপর এমন একদিন আসবে, যেদিন তিনি এই আকাঙ্ক্ষা করবেন যে, যদি তিনি একটি খেজুরের বিষয়েও দুই ব্যক্তির মাঝে বিচার না করতেন!"ন্যায়পরায়ণ বিচারক (قاضي)।আর বিচার্য বিষয় বা মিরাস হলো একটি খেজুর।অথচ নারী জাতি পৃথিবীর সমস্ত খেজুর, এমনকি স্বর্ণের চেয়েও অধিক অন্তরকে বিগলিত বা বিচ্যুত করার ক্ষমতা রাখে।এ কারণেই আল্লাহ আমাদের ওপর ভার লাঘব করেছেন এবং স্ত্রীদের মাঝে নিরঙ্কুশ বা পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ দাবি করেননি। নবী (সা.) পূর্ণাঙ্গ ইনসাফের বিষয়ে তাঁর রবের কাছে ওজর পেশ করে বলতেন: "হে আল্লাহ, এটি আমার বণ্টন যা আমার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে; অতএব যা আপনার অধিকারে রয়েছে কিন্তু আমার সাধ্যের বাইরে, সে বিষয়ে আমাকে পাকড়াও করবেন না।"কুরআন কেবল আপেক্ষিক ইনসাফেই সন্তুষ্ট হয়েছে: "সুতরাং তোমরা কোনো একজনের দিকে পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না এবং অপরজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখো না।" আর যদি কোনো মুসলিম নিজের ও চারজন স্ত্রীর মাঝে ইনসাফ করতে অক্ষম হয়, তবে সে যেন ততজনকেই বিবাহ করে যাদের মাঝে সে ইনসাফ করতে সক্ষম।আর একজনই উত্তম।এমনকি যদি সে নিজের এবং একজন স্ত্রীর মাঝেও ইনসাফ করতে অক্ষম হয়, তবে বিবাহ না করাই শ্রেয়। "তবে তোমরা নারীদের মধ্য থেকে তোমাদের পছন্দমত দুই, তিন অথবা চারজনকে বিবাহ করো। কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে ইনসাফ করতে পারবে না, তবে একজনকে (বিবাহ করো)।"
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قال علماؤنا: من خاف على نفسه من الزنا إذا لم يتزوج، وخاف على المرأة من الظلم إذا تزوج فالأفضل عدم الزواج.لأن الفاحشة يمكن دفعها بالصوم وزيادة نصيب النفس من مخافة الله. ولا يمكن إصلاح ظلم المرأة - كما قلت.(اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى) :وأهم ميادين العدل الذي أوجبه الله العدل في القسمة بين الزوجات، بما تيعلق بالمبيت. طلباً للأنس النفسي، وهو غاية من غايات الزواج، بل من أهمها.ولا علاقة بين المبيت وبين المعاشرة الزوجية. لجواز امتناع المعاشرة من إحدى الزوجات لعذر شرعي، أو عادي. كالحيض والنفاس أو لمرض خلقي أو طارئ، لأن المبيت للمؤانسة. والله سبحانه وتعالى يقول {وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً} وللسكنى النفسية {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا}والسكنى النفسية لا تتحق مع الفرقة المتعمدة في السكن والفراش.* وللزوج أن يتخذ مسكناً مستقلاً له يقيم فيه وحده. ولكن ليس له أن يجعل سكنه الدائم في بيت إحدى زوجاته، لأنه بذلك سوف يحْرِمُ الأخريات من حقِّ القِسْمة.* وأفتى العلماء أن للزوجة الجديدة في أول الزواج ثلاثة أيام إذا كانت ثيِّباً، وسبعة أيام إن كانت بكراً، ثم يرجع إلى القسمة العادلة بين الزوجات.
আমাদের আলেমগণ বলেছেন: যে ব্যক্তি বিবাহ না করলে নিজের ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে, আবার বিবাহ করলে স্ত্রীর ওপর জুলুম করার ভয় পায়, তবে তার জন্য বিবাহ না করাই উত্তম।কারণ রোজা রাখা এবং অন্তরে আল্লাহর ভয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অশ্লীলতা (فاحشة) প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু স্ত্রীর ওপর কৃত জুলুম সংশোধন করা সম্ভব নয়—যেমনটি আমি বলেছি।(তোমরা ন্যায়বিচার করো, তা তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী) :আল্লাহ তাআলা যে ন্যায়বিচার (عدل) ওয়াজিব করেছেন, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো স্ত্রীদের মাঝে রাত্রি যাপনের ক্ষেত্রে সমতা (قسمة) বজায় রাখা। এটি মানসিক প্রশান্তি অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয়, যা বিবাহের অন্যতম লক্ষ্য, বরং অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।রাত্রি যাপন এবং দাম্পত্য মিলনের মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই। কারণ কোনো শারঈ (شرعي) বা সাধারণ ওজরের কারণে কোনো এক স্ত্রীর সাথে মিলন থেকে বিরত থাকা জায়েজ (جواز)। যেমন: ঋতুস্রাব (حيض), নিফাস (نفাস) কিংবা জন্মগত বা আকস্মিক কোনো অসুস্থতা; কেননা রাত্রি যাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক সান্নিধ্য। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেন: {এবং তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া} এবং মানসিক প্রশান্তির বিষয়ে বলেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো এই যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো}।আর বাসস্থান ও শয্যার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখলে এই মানসিক প্রশান্তি অর্জিত হয় না।* স্বামীর জন্য নিজের একটি স্বতন্ত্র বাসস্থান রাখার অধিকার রয়েছে যেখানে সে একাকী অবস্থান করবে। কিন্তু তার জন্য কোনো এক স্ত্রীর ঘরে স্থায়ীভাবে বসবাস করা জায়েজ নয়, কারণ এর ফলে সে অন্য স্ত্রীদের সমতার (قسمة) অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।* আলেমগণ ফতোয়া (أفتى) দিয়েছেন যে, বিবাহের শুরুতে নতুন স্ত্রীর জন্য তিন দিন সময় বরাদ্দ থাকবে যদি সে ইতিপূর্বে বিবাহিতা (ثيب) হয়, আর যদি সে কুমারী (بكر) হয় তবে সাত দিন; এরপর পুনরায় স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়সংগত সমতা (قسمة) বজায় রাখার নিয়মে ফিরে যেতে হবে।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولم يقل أبو حنيفة بذلك، وقال: إن مكث عند الزوجة الجديدة أياما فلا بدَّ أن يبيت مثلها عند زوجاته.وللزوجة أن تتنازل عن ليلتها للزوجة الأخرى، فقد تنازلت أم المؤمنين "سودة بنت زمعة" عن ليلتها لعائشة رضي الله عنهما لمَّا كبرت "سودة" والحديث في البخاري وطبقات ابن سعد.وفي مثل هذا التنازل يُشترط قبولُ الزوج لهذا التنازل، ولا يشترط قبول الموهوب لها.وسبب ضرورة قبول الزوج أنه قد يفهم تنازلها على أنه نوع من الفرار منه، فهو يكره هذا لحبِّه وحاجته إليها.أما عدم اشتراط قبول الموهوب لها؛ فلأنَّ الزوج يمارس حقَّه معها، فلا يحتاج لإذنها وموافقتها.* وفي صحبة السفر كان النبي صلى الله عليه وسلم يجري القرعة بين نسائه.وإذا كان السفر لا يصلح فيه زوجة بعينها كان تسافر للعلاج، أو يختارها لعلمها بدقاق اللغة في البلاد التي يسافر إليها. أو لأسباب أخرى فلا مانع من السفر بها بدون قرعة.العرض المادي هل يُسقط القسمة؟الإسلام جعل موضوع العدل في القسمة موضوع عدل بين الناس. ومخالفة حاكم جائر {وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ} وكثيراً ما استخدم القرآن كلمة العدل في موضوع النساء.
ইমাম আবু হানিফা এ মত পোষণ করেননি, বরং তিনি বলেছেন: স্বামী যদি নতুন স্ত্রীর নিকট কয়েক দিন অবস্থান করেন, তবে অন্যান্য স্ত্রীদের নিকটও সমপরিমাণ রাত যাপন করা আবশ্যক।স্ত্রীর জন্য তার নির্ধারিত রাত অন্য স্ত্রীর অনুকূলে ছেড়ে দেওয়ার অধিকার রয়েছে। উম্মুল মুমিনিন "সওদা বিনতে জামআ" যখন বৃদ্ধা হয়ে গিয়েছিলেন, তখন তিনি তাঁর নির্ধারিত রাত আয়েশা (রা.)-এর অনুকূলে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এই হাদিসটি বুখারি এবং তাবাকাত ইবনে সাদ-এ বর্ণিত হয়েছে।এরূপ অধিকার ত্যাগের ক্ষেত্রে স্বামীর সম্মতি থাকা শর্ত (شرط), তবে যার অনুকূলে ছাড় দেওয়া হয়েছে তার সম্মতির শর্ত (شرط) নেই।স্বামীর সম্মতির প্রয়োজনীয়তার কারণ হলো, স্ত্রীর এই ছাড় দেওয়াকে তিনি হয়তো নিজের থেকে বিমুখতা হিসেবে গণ্য করতে পারেন; অথচ স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও অনুরাগের কারণে তিনি এটি অপছন্দ করেন।আর যার অনুকূলে ছাড় দেওয়া হয়েছে তার সম্মতির শর্ত (شرط) না থাকার কারণ হলো, স্বামী তার সাথেই নিজের অধিকার প্রয়োগ করছেন, তাই এক্ষেত্রে তাঁর অনুমতি বা সম্মতির প্রয়োজন পড়ে না।* সফরসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে লটারি (قرعة) করতেন।সফরের ধরণ যদি এমন হয় যেখানে কোনো নির্দিষ্ট স্ত্রী ব্যতীত অন্য কেউ উপযুক্ত নন, যেমন চিকিৎসার প্রয়োজনে সফর করা, কিংবা যে দেশে সফর করা হচ্ছে সেখানকার ভাষার সূক্ষ্ম বিষয়ে পারদর্শিতার কারণে কাউকে পছন্দ করা, অথবা অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে—তবে লটারি (قرعة) ছাড়াই তাঁকে সফরসঙ্গী করতে কোনো বাধা নেই।আর্থিক সুবিধা কি পালাবণ্টন (قسمة) রহিত করে?ইসলাম পালাবণ্টনের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের বিষয়টিকে মানুষের মধ্যে ইনসাফ কায়েমের পর্যায়ভুক্ত করেছে এবং জালিম শাসকের আচরণের বিপরীত হিসেবে গণ্য করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়ের সাথে বিচার করবে}। কুরআন মাজিদে নারীদের প্রসঙ্গে ন্যায়বিচার শব্দটি বারবার ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
* فهل يجوز للرجل أن يدفع الظلم من نفسه في موضوع المبيت.... لصاحبة الحق؟* وهل يجوز لزوجة أن تدفع لزوجها ليعطيها ليالي أكثر من الزوجات الأخريات؟* أو تعطي ضرتها من المال ما تشتري حقها في المبيت؟الجواب الأول: إذا أعطيت المرأة مالاً لزوجها لتحصل على حقوق الزوجات الأخريات فهي تدفع رشوة، وتعينه على الظلم.المساواة في غير القسمة:قرأت أكثر ما وقع تحت يدي من كتب الفقه في موضوع ضوابط المساواة بين الزوجتين أو مجموع الزوجات ولم أسترح لأكثر ما قرأت من اجتهاد … لاختلاف العصر مما يتبعه. من تغير - فبعض المذاهب كالحنابلة والمالكية يؤيد صعوبة التسوية بين الزوجات في النفقة. فبعض الزوجات ذات أولاد، وبعضهن شابة لها متطلبات أكثر وبعضهن مرضى يلزمهن نفقات العلاج، أو طالبة يلزمها ما يلزم زميلاتها من تكاليف الدراسة. ومن تعيش في الريف لا يلزمها ما يلزم ساكنة المدينة.فهل يكون العدل المطلوب هو المساواة بينهن في توزيع الراتب؟ أم المراد بالعدل عدم الجور؟أعني لكل حسب حاجتها.
* কোনো ব্যক্তির জন্য কি নিজের ওপর থেকে অবিচার প্রতিহত করা বৈধ হবে রাত্রি যাপনের পালার বিষয়ে... যা মূল অধিকারপ্রাপক স্ত্রীর পাওনা?* আর কোনো স্ত্রীর জন্য কি তার স্বামীকে অর্থ প্রদান করা বৈধ হবে যাতে স্বামী তাকে অন্য স্ত্রীদের তুলনায় অধিক রাত প্রদান করে?* অথবা সে কি তার সতীনকে এমন অর্থ প্রদান করতে পারে যার বিনিময়ে সে তার রাত্রি যাপনের অধিকারটি ক্রয় করে নেবে?প্রথম উত্তর: যদি কোনো নারী তার স্বামীকে অর্থ প্রদান করে অন্য স্ত্রীদের পালার অধিকার লাভ করার জন্য, তবে সে ঘুষ প্রদান করছে এবং তাকে অবিচারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে।পালা বণ্টন ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে সমতা:আমি দুই স্ত্রী বা একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা রক্ষার নীতিমালা সংক্রান্ত ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহের মধ্যে যা কিছু আমার হস্তগত হয়েছে তার অধিকাংশ পাঠ করেছি। তবে আমি যে সকল ইজতিহাদ বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত পাঠ করেছি তার অধিকাংশের ব্যাপারে আমি স্বস্তি বোধ করতে পারিনি … যুগের পার্থক্যের কারণে এবং তৎসংশ্লিষ্ট পরিবর্তনের ফলে। কিছু মাযহাব, যেমন হাম্বলি ও মালিকি মাযহাব, স্ত্রীদের মধ্যে ভরণপোষণের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষার বিষয়টিকে কঠিন বলে মনে করে। কারণ কোনো কোনো স্ত্রীর সন্তান থাকে, কেউ তরুণী হওয়ায় তার প্রয়োজনীয়তা বেশি থাকে, কেউ অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসার ব্যয়ের প্রয়োজন হয়, অথবা কেউ শিক্ষার্থী হওয়ায় তার সহপাঠীদের ন্যায় পড়াশোনার খরচ প্রয়োজন হয়। আবার যে পল্লী অঞ্চলে বাস করে, তার প্রয়োজন শহরের বাসিন্দার প্রয়োজনের মতো নয়।তবে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার কি বেতন বণ্টনের ক্ষেত্রে তাদের মাঝে হুবহু সমতা রক্ষা করা? নাকি ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য হলো অবিচার না করা?অর্থাৎ প্রত্যেকের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রদান করা।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ودعاؤنا للزوج بعد ذلك أن يكون الله معه فقد حمَّل نفسه كثيراً.وهو وحده يدفع الثمن.وفي مذهب الأحناف خلاف بين الواجب عليه نحوهنَّ.ففي "بدائع الصنائع" يجب عليه أن يعدل بينهن في المأكل والمشرب والملبس والسكن.بينما يرى الفقيه الحنفي ابن عابدين أن إحداهما قد تكون غنية والأخرى فقيرة فلا يلزم المساواة بينهما مطلقا في النفقة.قال: وعليه الفتوى.والذي أرتاح له أن مسألة النفقات تختلف من زوجة إلى زوجة أخرى في عصرنا - في غير الضروريات والحاجيات، فالزوجة التي تعيش في الريف لا يلزمها كل ما يلزم نساء المدينة، كما ذكرنا. وللمريضة والطالبة وأم الأولاد نصيبها.فليحاول أن يبرئ ذمته. والله في عونه.والمساواة في كتب فقه الأصول تنصُّ على فروق مادية سهلة، كحفنة من القمح أو مثلها من الشعير أو قطف عنب.ومعلوم أن هذا هو الحدُّ الأدنى.ولا نهمل حالة الزوج الذي يقوم بهذا الحِمْلِ وحده، ونساء النبي صلى الله عليه وسلم كان منهن بنات ملوك، وبنات شيوخ عشائر، كالسيدة "صفية بنت حيي بن أخطب" - ملك اليهود -، والسيدة "جويرية بنت سيد بني المصطلق"، و "أم حبيبة بنت أبي سفيان" - بنات ملوك وقادة، ومع ذلك كن يعشن في عيشة واحدة متقاربة.وقد ناقش الدكتور "أحمد علي طه ريَّان" الموضوع مناقشة واسعة في كتابه "تعدد الزوجات" وناقشتُه من قبل في "زواج النبي صلى الله عليه وسلم 1973 م " مع طلاب جامعة القاهرة.
এর পরে স্বামীর জন্য আমাদের দোয়া এই যে, আল্লাহ তাঁর সহায় হোন; কেননা তিনি নিজের ওপর বিশাল দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন।আর এর মূল্য তাঁকেই একা চুকাতে হয়।স্ত্রীদের প্রতি স্বামীর আবশ্যিক (واجب) দায়িত্বসমূহের ক্ষেত্রে হানাফি মাজহাবে মতভেদ রয়েছে।"বাদায়েউস সানায়ে" গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, আহার, পানীয়, পোশাক এবং বাসস্থানের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে সমতা বজায় রাখা স্বামীর জন্য অপরিহার্য (واجب)।পক্ষান্তরে হানাফি ফকিহ ইবনে আবিদিন মনে করেন যে, স্ত্রীদের মধ্যে কেউ ধনী এবং কেউ দরিদ্র হতে পারে, তাই ভরণপোষণের (نفقة) ক্ষেত্রে তাঁদের মাঝে ঢালাওভাবে সমতা রক্ষা করা আবশ্যক নয়।তিনি বলেন: আর এর ওপরই ফতোয়া (فتوى) প্রদান করা হয়।আমি যে মতটির প্রতি আশ্বস্ত বোধ করি তা হলো, বর্তমান যুগে ভরণপোষণের (نفقة) বিষয়টি এক স্ত্রী থেকে অন্য স্ত্রীর ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে—মৌলিক প্রয়োজনীয় (ضروريات) ও সাধারণ দরকারি (حاجيات) বিষয়গুলো ব্যতিরেকে। যেমন আমরা উল্লেখ করেছি, গ্রাম্য পরিবেশে বসবাসরত স্ত্রীর জন্য শহরের নারীদের মতো সবকিছুর প্রয়োজন হয় না। তদ্রূপ অসুস্থ স্ত্রী, শিক্ষার্থী স্ত্রী এবং সন্তানদের জননীর ক্ষেত্রেও তাঁদের নিজ নিজ প্রাপ্য রয়েছে।সুতরাং তাঁর উচিত নিজ দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা। আল্লাহ তাঁর সহায় হোন।ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে সমতা বলতে সাধারণ কিছু বৈষয়িক পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে, যেমন এক মুষ্টি গম বা সমপরিমাণ যব অথবা এক থোকা আঙুর।এবং এটি সুপরিচিত যে, এটিই হচ্ছে সর্বনিম্ন সীমা।আমরা সেই স্বামীর অবস্থাকে উপেক্ষা করতে পারি না যিনি একাই এই বোঝা বহন করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের মধ্যে কেউ ছিলেন রাজকন্যা, আবার কেউ ছিলেন গোত্রপ্রধানের কন্যা। যেমন—ইয়াহুদি রাজকন্যা সায়্যিদাহ "সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই ইবনে আখতাব", বনু মুস্তালিক গোত্রপতির কন্যা সায়্যিদাহ "জুওয়াইরিয়াহ বিনতে হারিস" এবং "উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান"—তাঁরা রাজা ও নেতাদের কন্যা হওয়া সত্ত্বেও প্রায় একই ধরনের জীবনযাপন করতেন।ডক্টর "আহমদ আলী ত্বহা রায়য়ান" তাঁর "তাআদ্দুদুজ যাওজাত" গ্রন্থে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং আমি নিজেও ১৯৭৩ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে "যাওয়াজুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" শীর্ষক আলোচনায় এটি নিয়ে পর্যালোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
متاعب التعدُّد وموضوع الغيرة:لو كانت متاعب التعدُّد للزوجات تقف عند ضرورة أن ينام حيث يفرض عليه الواجب، ويلتزم بينهما في النفقة على ما بينا. ربما هان الأمر.ولكن المطلوب أبعد من كل هذا وأشدُّ.موضوع الكلمة يحاسب عليها، وبشاشة الوجه،وأفعال الغيرة. وما أدراك ما الغيرة؟لقد سيطرن حتى على أمهات المؤمنين، مع أن القرآن الكريم قال عنهن: {يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ}وسبب شدة غيرتهن أن الرجل كلما كان عظيماً كلما زادت غَيرةُ الزوجات عليه، فكيف إذا كان الزوج هو النبي صلى الله عليه وسلم الذي جمع الله فيه محاسن الأمة ليكون قدوة لها في كل كمال.لقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يربي نساءَه، ويُعِدُّهنَّ لأمر عظيم.عندما دخلت هالة - أخت السيدة خديجة رضي الله عنها على النبي صلى الله عليه وسلم فبش لها وقال: اللَّهُمَّ هَالَةَ قَالَتْ عَائِشَةُ فَغِرْتُ فَقُلْتُ مَا تَذْكُرُ مِنْ عَجُوزٍ مِنْ عَجَائِزِ قُرَيْشٍ حَمْرَاءِ الشِّدْقَيْنِ هَلَكَتْ فِي الدَّهْرِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ خَيْرًا مِنْهَا"في مسن الإمام أحمد رحمه الله عن عَائِشَةَ قَالَتْ:"كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا ذَكَرَ خَدِيجَةَ أَثْنَى عَلَيْهَا فَأَحْسَنَ الثَّنَاءَ قَالَتْ فَغِرْتُ يَوْمًا فَقُلْتُ مَا أَكْثَرَ مَا تَذْكُرُهَا حَمْرَاءَ الشِّدْقِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ عز وجل بِهَا خَيْرًا مِنْهَا قَالَ مَا أَبْدَلَنِي اللَّهُ عز وجل خَيْرًا مِنْهَا قَدْ آمَنَتْ بِي إِذْ كَفَرَ بِي النَّاسُ وَصَدَّقَتْنِي إِذْ كَذَّبَنِي النَّاسُ وَوَاسَتْنِي بِمَالِهَا إِذْ حَرَمَنِي النَّاسُ وَرَزَقَنِي اللَّهُ عز وجل وَلَدَهَا إِذْ حَرَمَنِي أَوْلَادَ النِّسَاءِ".لقد غارت عائشة من خديجة رضي الله عنها بعد موتها لكثرة وفاء النبي صلى الله عليه وسلم لها.والوفاء من أخلاق الدين.
বহুবিবাহের প্রতিকূলতা ও ঈর্ষার প্রসঙ্গ:যদি বহুবিবাহের প্রতিকূলতা কেবল সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকতো যেখানে কর্তব্যের খাতিরে তাঁকে রাত্রিযাপন করতে হয় এবং আমাদের বর্ণিত ভরণপোষণের বিষয়ে তাঁদের মাঝে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হয়, তবে হয়তো বিষয়টি সহজ হতো।কিন্তু দাবিকৃত বিষয়টি এর চেয়েও সুদূরপ্রসারী এবং অধিক কঠিন।ব্যবহৃত শব্দের হিসাব রাখা এবং হাসোজ্জ্বল মুখমণ্ডল বজায় রাখা,আর ঈর্ষাপ্রসূত কর্মকাণ্ড। আপনি কি জানেন ঈর্ষা কী?এটি এমনকি উম্মাহাতুল মুমিনীনগণের ওপরও প্রভাব বিস্তার করেছিল, যদিও পবিত্র কুরআন তাঁদের সম্পর্কে বলেছে: {হে নবীর পত্নীগণ! তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও}।তাঁদের প্রবল ঈর্ষার কারণ হলো, পুরুষ যত বেশি মহান হন, তাঁর প্রতি স্ত্রীদের ঈর্ষাও তত বৃদ্ধি পায়। তাহলে বিষয়টি কেমন হবে যদি স্বামী স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হন, যাঁর মধ্যে আল্লাহ এই উম্মতের যাবতীয় কল্যাণ ও সৌন্দর্য একত্রিত করেছেন যেন তিনি প্রতিটি পূর্ণতার ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য আদর্শ হতে পারেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পত্নীদের গড়ে তুলছিলেন এবং তাঁদের এক মহান কাজের জন্য প্রস্তুত করছিলেন।যখন সায়্যিদা খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার বোন হলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তখন তিনি তাঁর আগমনে আনন্দিত হলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! এ তো হলা"। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তখন আমি ঈর্ষান্বিত হলাম এবং বললাম: "আপনি কুরাইশের বৃদ্ধাদের মধ্য থেকে এক রক্তিম গণ্ডবিশিষ্ট বৃদ্ধার কথা কেন স্মরণ করছেন যিনি কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছেন? অথচ আল্লাহ আপনাকে তাঁর চেয়ে উত্তম বিনিময় দান করেছেন।"ইমাম আহমাদ রহমতুল্লাহি আলাইহির মুসনাদ গ্রন্থে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই খাদিজার কথা স্মরণ করতেন, তখন অত্যন্ত সুন্দরভাবে তাঁর প্রশংসা করতেন। আয়েশা বলেন, একদিন আমি ঈর্ষান্বিত হয়ে বললাম, আপনি কতই না বেশি সেই রক্তিম গণ্ডবিশিষ্টার কথা স্মরণ করেন, অথচ মহান আল্লাহ আপনাকে তাঁর পরিবর্তে উত্তম দান করেছেন। তিনি বললেন, 'আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়ে উত্তম বিনিময় দান করেননি। তিনি আমার ওপর ঈমান এনেছিলেন যখন মানুষ আমাকে অস্বীকার করেছিল, তিনি আমাকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন যখন মানুষ আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, তিনি তাঁর সম্পদ দিয়ে আমাকে সহায়তা করেছিলেন যখন মানুষ আমাকে বঞ্চিত করেছিল এবং আল্লাহ আমাকে তাঁর গর্ভেই সন্তান দান করেছেন অথচ অন্য স্ত্রীদের ক্ষেত্রে আমাকে সন্তান দান করেননি'।"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অত্যধিক বিশ্বস্ততার কারণে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার মৃত্যুর পরেও তাঁর প্রতি ঈর্ষা বোধ করতেন।আর বিশ্বস্ততা দ্বীনি চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قالت عائشة: ما غرت على امرأة لرسول الله صلى الله عليه وسلم ما غرت على خديجة لكثرة ذكر النبي لها، وثنائه عليها.ولا ننسى سِنَّ السيدة عائشة في هذه الأيام، وشعورها بل ويقينها بحب النبي صلى الله عليه وسلم لها. حبًّا جعله يعتذر لله - سبحانه - عنه."الله هذا قسمي فيما أملك فلا تؤاخذني فيما تملك ولا أملك"الغَيرةُ دليلٌ على الحبِّولكن تجاوز الحد فيها يُعسر الحياة معها. وهذه من مشكلات التعدد.ومن قصص الغيرة وعلاج النبي صلى الله عليه وسلم لها:ما رواه البخاري عَنْ أَنَسٍ قَالَ:كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ بَعْضِ نِسَائِهِ فَأَرْسَلَتْ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ بِصَحْفَةٍ فِيهَا طَعَامٌ فَضَرَبَتْ الَّتِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِهَا يَدَ الْخَادِمِ فَسَقَطَتْ الصَّحْفَةُ فَانْفَلَقَتْ فَجَمَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِلَقَ الصَّحْفَةِ ثُمَّ جَعَلَ يَجْمَعُ فِيهَا الطَّعَامَ الَّذِي كَانَ فِي الصَّحْفَةِ وَيَقُولُ غَارَتْ أُمُّكُمْ ثُمَّ حَبَسَ الْخَادِمَ حَتَّى أُتِيَ بِصَحْفَةٍ مِنْ عِنْدِ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا فَدَفَعَ الصَّحْفَةَ الصَّحِيحَةَ إِلَى الَّتِي كُسِرَتْ صَحْفَتُهَا وَأَمْسَكَ الْمَكْسُورَةَ فِي بَيْتِ الَّتِي كَسَرَتْ".وقصص كثير كان يحدث في بيت النبي صلى الله عليه وسلمبسبب الغيرة.والنبي صلى الله عليه وسلم يصبر ويعالج ويقدر لهن الدافع على فعلهن. ولقد كان النبي صلى الله عليه وسلم غيوراً وكان الزبير رضي الله عنه معروفاُ بالغيرة، وكان عمر بن الخطاب رضي الله عنه مفرطاً ولكن الله أكثر غيرة من النبي"
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো স্ত্রীর প্রতি আমি কখনো ততটা ঈর্ষা পোষণ করিনি, যতটা খাদিজা (রা.)-এর প্রতি করেছি; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা অত্যধিক পরিমাণে স্মরণ করতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন।আমরা সেই দিনগুলোতে সায়্যিদা আয়েশা (রা.)-এর বয়স এবং তাঁর প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালোবাসার ব্যাপারে তাঁর অনুভূতি, এমনকি দৃঢ় বিশ্বাসের কথা বিস্মৃত হই না। এমন এক ভালোবাসা, যা তাঁকে (নবীকে) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট ওজর পেশ করতে বাধ্য করেছিল।"হে আল্লাহ! এটি আমার বণ্টন যা আমার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে; সুতরাং যা আপনার নিয়ন্ত্রণে কিন্তু আমার সাধ্যে নেই, সে বিষয়ে আমাকে পাকড়াও করবেন না।"ঈর্ষা ভালোবাসারই প্রমাণতবে এতে সীমা লঙ্ঘন করা দাম্পত্য জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। আর এটি বহুবিবাহের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি সমস্যা।ঈর্ষার কিছু ঘটনা এবং সে বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমাধানের পদ্ধতি নিম্নরূপ:বুখারি যা বর্ণনা করেছেন (رواه), আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জনৈক স্ত্রীর ঘরে অবস্থান করছিলেন। তখন উম্মুল মুমিনীনগণের মধ্য থেকে অন্য একজন একটি পাত্রে কিছু খাবার পাঠিয়ে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার ঘরে অবস্থান করছিলেন, তিনি খাদেমের হাতে আঘাত করলেন, ফলে পাত্রটি পড়ে গিয়ে ভেঙে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের ভাঙা অংশগুলো একত্র করলেন এবং তাতে খাবারগুলো জমা করতে থাকলেন। তিনি বলছিলেন: "তোমাদের মা ঈর্ষা বোধ করেছেন।" এরপর তিনি খাদেমকে অপেক্ষা করতে বললেন, যতক্ষণ না সেই স্ত্রীর (যার ঘরে তিনি অবস্থান করছিলেন) পক্ষ থেকে একটি পাত্র আনা হলো। এরপর তিনি অক্ষত পাত্রটি তাকে প্রদান করলেন যার পাত্রটি ভেঙে গিয়েছিল এবং ভাঙা পাত্রটি সেই স্ত্রীর ঘরেই রেখে দিলেন যিনি সেটি ভেঙেছিলেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে এমন অনেক ঘটনাই ঘটত—ঈর্ষার কারণে।কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধৈর্য ধারণ করতেন, সমস্যার সমাধান করতেন এবং তাঁদের আচরণের অন্তর্নিহিত আবেগকে বিবেচনা করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ছিলেন এবং জুবায়ের (রা.) তাঁর আত্মমর্যাদাবোধের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর আত্মমর্যাদাবোধ ছিল অত্যন্ত প্রবল; কিন্তু আল্লাহ তাআলা নবী অপেক্ষা অধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إن الله عز وجل يغار، وإن المؤمن يغار، وغيرة الله أن يأتي المؤمن ما حرم الله عليه.وبعد: إن الإسلام عندما شرع تعدُّد الزوجات أكد بذلك عالمية الدعوة لأنه وضع حلولاً لكل البشر مع تعدُّد أحوالهم الفردية والاجتماعية في السلم وفي الحرب. والرخاء والكرب.والإسلام حدد عدد الزوجات وكان قبل الإسلام متروكاً لقدرة الرجل - كما قلت.وأوجب على الرجل حقوقاً تنظِّمُ الأسرة في المبيت والنفقة حتى الكلمة ينطق بها الرجل والابتسامة يبتسمها. اشترط الإسلام العدل النسبي بين الزوجات - كما سبق أن قلتُ.التعدد حل لمشلكة طبيعية:لو كان عدد النساء وعدد الرجال متساويين لتزوج كل رجل بامرأة واحدة.ولو كان عدد النساء يزيد عن عدد الرجال؟فللمناقشة أحد حلول ثلاثة:يتزوج كل رجل بامرأة واحدة والباقيات يعشن راهباتٍ أو خليلاتٍ - متسولات جنسيًّا.أو يعشن طاقاتٍ معطلاتٍ.أو يشترك كل مجموعة منهن في رجل واحد.
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন, এবং মুমিনও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন। আর আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধ হলো, মুমিন ব্যক্তি সেই কাজ করা যা আল্লাহ তার জন্য নিষিদ্ধ (حرام) করেছেন।অতঃপর: ইসলাম যখন বহুবিবাহের বিধান প্রবর্তন করেছে, তখন এর মাধ্যমে দাওয়াতের বিশ্বজনীনতাকে নিশ্চিত করেছে; কারণ এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক অবস্থার বৈচিত্র্য সত্ত্বেও—তা শান্তি ও যুদ্ধ এবং সচ্ছলতা ও সংকটের সময় হোক না কেন—সকলের জন্য সমাধান পেশ করেছে।আর ইসলাম স্ত্রীদের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে, অথচ ইসলামের পূর্বে এটি পুরুষের সক্ষমতার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল—যেমনটি আমি বলেছি।এবং এটি পুরুষের ওপর এমন কিছু অধিকার অপরিহার্য (واجب) করেছে যা পরিবারকে সুশৃঙ্খল করে—রাত্রিযাপন ও ভরণপোষণের ক্ষেত্রে, এমনকি পুরুষের উচ্চারিত শব্দ এবং তার স্মিত হাসির ক্ষেত্রেও। ইসলাম স্ত্রীদের মধ্যে আপেক্ষিক ন্যায়বিচারের শর্তারোপ করেছে—যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি।বহুবিবাহ একটি প্রাকৃতিক সমস্যার সমাধান:যদি নারী ও পুরুষের সংখ্যা সমান হতো, তবে প্রত্যেক পুরুষ একজন নারীকেই বিবাহ করত।আর যদি নারীর সংখ্যা পুরুষের সংখ্যার চেয়ে বৃদ্ধি পায়?তবে আলোচনার জন্য তিনটি সমাধানের যেকোনো একটি বিদ্যমান থাকে:প্রত্যেক পুরুষ একজন নারীকে বিবাহ করবে এবং অবশিষ্ট নারীরা সন্ন্যাসিনী হিসেবে অথবা উপপত্নী—যৌন ভিক্ষুক হিসেবে জীবন কাটাবে।অথবা তারা অব্যবহৃত শক্তি হিসেবে পড়ে থাকবে।অথবা তাদের একটি করে দল একজন পুরুষের অধীনে অংশীদার হবে।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
من باب "ما لايدرك كله لا يترك كله"مشكلة واقعية تحتاج لحل عملي.ولغة الأرقام تؤكد هذه المشكلة - تؤكد زيادة عدد النساء، وإليك بعض الإحصائيات.نقلاً عن إدارة التعبئة بمصر العربية:المحافظة..... عدد الذكور..... عدد الإناثكفر الشيخ.... 483 ألف.... 490 ألفبني سويف.... 422 ألف … 437 ألفأسوان.... 189 ألف.... 196 ألف امرأةوعلى القارئ أن يذكر أن عام 1960 عام سلم.وطبيعي أن تختلف الإحصائية بعد 1967 بعد النكسة.فأين؟. وماذا يفعل العدد الزائد من النساء؟1- راهبات أو خليلات؟2- أو تشترك مع غيرها في رجل في الحلال؟إن نصف رجل في الحلال أو ربع رجل أفضل.دع الله يُشرِّع لعباده، فهو أعلم بمصلحتهم.
"যা পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব নয়, তা সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত নয়" - এই মূলনীতি অনুযায়ীএটি একটি বাস্তব সমস্যা যার জন্য ব্যবহারিক সমাধান প্রয়োজন।আর পরিসংখ্যানের ভাষা এই সমস্যাটিকে নিশ্চিত করে—এটি নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে সুনিশ্চিত করে, আর আপনার জন্য এখানে কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো।আরব মিসরের জনশুমারি ও সংহতি বিভাগ থেকে সংগৃহীত:প্রদেশ..... পুরুষের সংখ্যা..... নারীর সংখ্যাকাফরুশ শাইখ.... ৪ লক্ষ ৮৩ হাজার.... ৪ লক্ষ ৯০ হাজারবানি সুওয়াইফ.... ৪ লক্ষ ২২ হাজার … ৪ লক্ষ ৩৭ হাজারআসওয়ান.... ১ লক্ষ ৮৯ হাজার.... ১ লক্ষ ৯৬ হাজার নারীআর পাঠকদের মনে রাখা উচিত যে, ১৯৬০ সাল ছিল একটি শান্তিপূর্ণ বছর।আর ১৯৬৭ সালের বিপর্যয়ের পর পরিসংখ্যান পরিবর্তিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।তাহলে অতিরিক্ত সংখ্যক নারীরা কোথায় যাবে? এবং তারা কী করবে?১- সন্ন্যাসিনী হবে নাকি উপপত্নী?২- অথবা তারা কি হালাল পন্থায় অন্য কোনো নারীর সাথে এক পুরুষের অধীনে অংশীদার হবে?নিশ্চয়ই হালাল উপায়ে একজন পুরুষের অর্ধেক বা এক-চতুর্থাংশ হওয়াও অধিক উত্তম।আল্লাহকে তাঁর বান্দাদের জন্য বিধান প্রণয়ন করতে দিন, কারণ তিনি তাদের কল্যাণ সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
وفي الحديث الصحيح الذي رواه البخاري عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍقَالَ لَأُحَدِّثَنَّكُمْ حَدِيثًا لَا يُحَدِّثُكُمْ أَحَدٌ بَعْدِي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " "مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يَقِلَّ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَيَظْهَرَ الزِّنَا وَتَكْثُرَ النِّسَاءُ وَيَقِلَّ الرِّجَالُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةً الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ".ولعل هذا بسبب الحروب التي أخبر النبي صلى الله عليه وسلم عنها في نبواءته.روى مسلم في صحيحه: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " "لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَحْسِرَ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ يَقْتَتِلُ النَّاسُ عَلَيْهِ فَيُقْتَلُ مِنْ كُلِّ مِائَةٍ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ وَيَقُولُ كُلُّ رَجُلٍ مِنْهُمْ لَعَلِّي أَكُونُ أَنَا الَّذِي أَنْجُو"وعالمية الشريعة الإسلامية تفرض صلاحيتها لكل الظروف، في السلم والحرب. والإسلام لم يفرض تعدُّد الزوجات، ولكنه أباحه.والإسلام لم يبتدع تعدُّد الزوجات، لأنه سابق عليه في الأديان السماوية وفي الجزيرة العربية. ولكنه حدده بأربع زوجات.واشترط الإسلام - كما سبق - قدرة الرجل على العدل وإن كان نسبياً. وقدرته على الإنفاق.وجعل للزوجة الأولى أن تجعل من شروط زوجها ألا يتزوج عليها.فإن خالف الشرط فلها أن تطلب الطلاق. فأي مشكلة والأمر في البقاء والطلاق بيدها؟!قال معارضو التعدُّد:إن التعدُّد يهدم قاعدة مساواة المرأة بالرجل.قلنا: إن الله علم أنَّ المرأة لا تصلح إلا لزوج واحد، حتى يثبت نسب ولدها من أبيه. وحتى يتحمل مسؤولية التربية.
এবং সহিহ (صحيح) হাদিসে যা বুখারি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেনতিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে অবশ্যই এমন একটি হাদিস বর্ণনা করব যা আমার পরে তোমাদের কাছে আর কেউ বর্ণনা করবে না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "কেয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, জ্ঞান হ্রাস পাবে, মূর্খতা প্রকাশ পাবে, ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে, নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং পুরুষের সংখ্যা হ্রাস পাবে, এমনকি পঞ্চাশজন নারীর জন্য মাত্র একজন তত্ত্বাবধায়ক থাকবে।"সম্ভবত এটি সেই যুদ্ধসমূহের কারণে হবে যে সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীতে সংবাদ দিয়েছেন।মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আবু হুরায়রা থেকেযে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ততক্ষণ পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ফোরাত নদী থেকে একটি স্বর্ণের পাহাড় উন্মোচিত হবে। মানুষ তা নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং প্রতি একশ জনের মধ্যে নিরানব্বই জনই নিহত হবে। তাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তি বলবে, 'সম্ভবত আমিই হব সেই ব্যক্তি যে মুক্তি পাবে'।"ইসলামি শরিয়তের বিশ্বজনীনতা শান্তি ও যুদ্ধ—উভয় পরিস্থিতিতেই এর উপযোগিতা নিশ্চিত করে। আর ইসলাম বহুবিবাহকে বাধ্যতামূলক করেনি, বরং একে বৈধ ঘোষণা করেছে।ইসলাম বহুবিবাহ প্রথার উদ্ভাবন করেনি, কারণ এটি আসমানি ধর্মসমূহে এবং আরব উপদ্বীপে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল। তবে ইসলাম একে চারজন স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে।আর ইসলাম শর্তারোপ করেছে—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—পুরুষের ন্যায়বিচার করার সক্ষমতার ওপর, যদিও তা আপেক্ষিক হয় এবং তার ভরণপোষণ প্রদানের সক্ষমতার ওপর।এবং ইসলাম প্রথম স্ত্রীর জন্য এই অধিকার রেখেছে যে সে তার স্বামীর ওপর শর্তারোপ করতে পারবে যেন স্বামী তার বর্তমানে অন্য কোনো বিবাহ না করে।যদি স্বামী সেই শর্ত ভঙ্গ করে তবে স্ত্রীর তালাক চাওয়ার অধিকার থাকবে। তাহলে সমস্যা কোথায় যখন দাম্পত্য বজায় রাখা এবং তালাকের বিষয়টি তার নিজের হাতেই ন্যস্ত?!বহুবিবাহের বিরোধীরা বলেন:নিশ্চয়ই বহুবিবাহ নারী ও পুরুষের সমতার মূলনীতিকে ধ্বংস করে।আমরা বলি: নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন যে নারী কেবল একজন স্বামীর জন্যই উপযুক্ত, যাতে তার সন্তানের বংশপরিচয় পিতার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় এবং যাতে পিতা লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
من هنا لم تعدُّد الزوجة الأزواج.قال لي أحدهم: لماذا لم تعدُّد المرأة الأزواج كما يعدد الرجل الزوجات؟فقلت له: إذا تزوج الرجل بأربعة فكم يمكن أن يرزق من الأولاد؟قال: أربعة.قلت: وإذا تزوجت المرأة أربعة رجال فكم يمكن أن ترزق في العام؟قال: حمل وحد. ثم ضحك.يقول الأستاذ العقاد:"إن طبيعة الرجل أو الذكر عامة إذا أدى مطلب النوع مرة أن يؤدي بعده مرات بلا عائق من التركيب أو التكوين.وليس هذا في حال الأنثى بميسور على وجه من الوجوه"الدكتور مراد هوفمان وموضوع تعدُّد الزوجات.أسلم. وعمل سفيراً لألمانيا في المغرب وكتب عن الإسلام.ولكن البيئة التي ظهر فيها غير إسلامية. واللغة التي يتكلم بعا غير عربية.فإن أخطأ فَهْمَ آية قرآنية، أو عادة من عادات العرب فله عذره.قال: والشروط التي تبيح التعدُّد للزوجات في أغلب الأوقات تجعل التعدُّد في عصرنا مستحيلاً.ثم ذكر الآيتين {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً}والآية الثانية {وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ}
এ কারণেই স্ত্রীর একাধিক স্বামী গ্রহণের অবকাশ নেই।জনৈক ব্যক্তি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: পুরুষ যেভাবে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করে, নারী কেন সেভাবে একাধিক স্বামী গ্রহণ করতে পারে না?আমি তাকে বললাম: একজন পুরুষ যদি চারজন নারীকে বিবাহ করে, তবে সে কতজন সন্তান লাভ করতে পারে?তিনি বললেন: চারজন।আমি বললাম: আর নারী যদি চারজন পুরুষকে বিবাহ করে, তবে সে বছরে কতজন সন্তান লাভ করতে পারে?তিনি বললেন: মাত্র একটি গর্ভধারণ। এরপর তিনি হাসলেন।উস্তাদ আল-আক্কাদ বলেন:"সাধারণত পুরুষ বা পুংলিঙ্গের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলো, যদি সে প্রজাতিগত চাহিদা একবার পূরণ করে, তবে দৈহিক গঠন বা শারীরিক কাঠামোর কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সে তা বারবার সম্পাদন করতে পারে।কিন্তু কোনোভাবেই নারীর ক্ষেত্রে এটি সম্ভব নয়।"ডক্টর মুরাদ হফম্যান এবং বহুবিবাহের প্রসঙ্গ।তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মরক্কোয় জার্মানির রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইসলাম সম্পর্কে লেখালেখি করেছেন।তবে তিনি যে পরিবেশে বড় হয়েছেন তা ইসলামি ছিল না এবং তিনি যে ভাষায় কথা বলেন তা আরবি নয়।সুতরাং তিনি যদি কুরআনের কোনো আয়াতের মর্মার্থ বা আরবদের কোনো প্রথা বুঝতে ভুল করেন, তবে তার জন্য ওজর বা সঙ্গত কারণ রয়েছে।তিনি বলেন: অধিকাংশ সময়ে বহুবিবাহ বৈধ হওয়ার যে সকল শর্তাবলী রয়েছে, তা বর্তমান যুগে বহুবিবাহকে অসম্ভব করে তোলে।এরপর তিনি দুটি আয়াত উল্লেখ করেন, (যার একটি হলো): "যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে ন্যায়বিচার (عدل) করতে পারবে না, তবে একজনকে (বিবাহ করো)।"এবং দ্বিতীয় আয়াতটি হলো: "আর তোমরা যতই চেষ্টা করো না কেন, তোমাদের স্ত্রীদের মাঝে ন্যায়বিচার (عدل) প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وأخذ من ظاهر الآيتين صعوبة التعدد. وإن كان لم يمنعه ولم يحرمه.واشترط الدكتور مراد هوفمان في إباحة التعدُّد أو يوجد يتامى كأبناء أخيه الذي مات فيتزوج من أرملة أخيه لكي يرعى اليتامى هذا هو رأيه بإيجاز.وبناء على أخذه بظاهر الآيتين بدون تعمق في فهمها أخطأ الحكم على حكام المسلمين وخلفاء الإسلام فقال: تعدُّد الزوجات في بيوت الأمراء والخلفاء لا يقبله القرآن أو يجيزه وهو أمر تلقائي عفوي غير منطقي وغير إنساني.وسبب خطأ الدكتور "هوفمان" في الحكم هو خطؤه في فهم العدل المطلوب. ظنُّه العدل المطلق.وهو العدل النسبي - الذي تكلمت عنه. وهو تحريم الميل كل الميل لزوجة مما ينشأ عنه أن تكون الثانية كالمعلقة لا هي زوجة فتتمتع بحقوقها الشرعية ولا هي مطلقة فتبحث عن زوج:{وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ}جاء في معنى الآية الكريمة: {وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ}كمال العدل.لأن أمر النساء يغالب النفس. لأن الله جعل حُسن المرأة وخلقها مؤثران أشد التأثير على الرجل.{فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ} أي لا يفرط أحدكم بإظهار الميل إلى إحداهن أشد الميل حتى يسيء الأخرى بحيث تصير الأخرى كالمعلقة.
আয়াতদ্বয়ের বাহ্যিক অর্থ থেকে তিনি বহুবিবাহের (تعدد) কঠিন বিষয়টি গ্রহণ করেছেন, যদিও তিনি একে নিষেধ বা হারাম (حرام) করেননি।ডক্টর মুরাদ হফম্যান বহুবিবাহের (تعدد) বৈধতার জন্য শর্ত দিয়েছেন যে, এতিম থাকতে হবে—যেমন তাঁর মৃত ভাইয়ের সন্তানরা—যাতে তিনি তাঁর ভাইয়ের বিধবাকে বিয়ে করে এতিমদের লালন-পালন করতে পারেন; এটিই হলো সংক্ষেপে তাঁর অভিমত।আয়াতদ্বয়ের মর্মার্থ গভীরভাবে অনুধাবন না করে কেবল বাহ্যিক অর্থ গ্রহণের ওপর ভিত্তি করে তিনি মুসলিম শাসক ও ইসলামের খলিফাদের ওপর বিধান প্রদানে ভুল করেছেন। তিনি বলেছেন: আমির ও খলিফাদের প্রাসাদে বহুবিবাহ (تعدد الزوجات) কোরআন গ্রহণ করে না বা এর অনুমতি দেয় না; আর এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ও অনিচ্ছাকৃত বিষয় যা অযৌক্তিক ও অমানবিক।ডক্টর "হফম্যানের" বিধানগত ভুলের কারণ হলো কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার (عدل) বুঝতে তাঁর ভুল। তিনি একে পরম ন্যায়বিচার (عدل مطلق) বলে মনে করেছেন।অথচ তা হলো আপেক্ষিক ন্যায়বিচার (عدل نسبي)—যা নিয়ে আমি আলোচনা করেছি। আর তা হলো এক স্ত্রীর প্রতি সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়াকে নিষিদ্ধ করা, যার ফলে অন্য স্ত্রী ঝুলে থাকা নারীর (معلقة) মতো হয়ে যায়; সে না স্ত্রী হিসেবে তার শরয়ি (شرعي) অধিকার ভোগ করতে পারে, আর না তালাকপ্রাপ্তা (مطلقة) হিসেবে নতুন স্বামী খুঁজতে পারে:“আর তোমরা যতই আকাঙ্ক্ষা করো না কেন, তোমাদের পক্ষে স্ত্রীদের মধ্যে পুরোপুরি ন্যায়বিচার (عدل) করা সম্ভব নয়। অতএব তোমরা কোনো একজনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড়ো না, যাতে অন্যজনকে ঝুলে থাকা নারীর (معلقة) মতো অবস্থায় রেখে দাও।”এই মহিমান্বিত আয়াতের মর্মার্থে এসেছে: “আর তোমরা স্ত্রীদের মধ্যে পুরোপুরি ন্যায়বিচার (عدل) করতে সক্ষম হবে না।”অর্থাৎ ন্যায়বিচারের (عدل) পূর্ণতা।কারণ নারীদের বিষয়টি প্রবৃত্তির ওপর প্রভাব বিস্তার করে। কেননা আল্লাহ নারীর সৌন্দর্য ও চরিত্রকে পুরুষের ওপর অত্যন্ত প্রভাবশালী করেছেন।“অতএব তোমরা কোনো একজনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড়ো না” অর্থাৎ তোমাদের কেউ যেন একজনের প্রতি অনুরাগের আতিশয্য প্রকাশে বাড়াবাড়ি না করে যাতে অন্যজনের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়, যার ফলে অন্যজন ঝুলে থাকা নারীর (معلقة) মতো হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
{كَالْمُعَلَّقَةِ} هي المرأة التي يهجرها زوجها جهرا طويلاً فلا هي مطلقة ولا هي زوجة.وقد قالت أمُّ زرع: "زَوْجِي الْعَشَنَّقُ إِنْ أَنْطِقْ أُطَلَّقْ وَإِنْ أَسْكُتْ أُعَلَّقْ".وقد دلَّت الآية الكريمة على أن المحبة أمر قهري، وأن للتعلق بالمرأة أسباباً توجبه قد لا تتوفر في بعض النساء، فلا يتكلف الزوج بما ليس في وسعه من الحب والاستحسان. ولكن من الحب حظاً هو اختياري وهي تحمل ما لا يلائمه من خلقها"فالدكتور "هوفمان" قليل المعارف باللغة التي يحتاجها الدارس لمقاصد القرآن. ومع ذلك فالدكتور منصف حاول بيان بعض الحالات التي تأتي على الرجل عادة فتكثر الأرامل.ومثل رغبة بعض النساء في تزويج زوجها من امرأة معينة لتدرب أولادها على حبهم لأنها مريضة وستموت، وذكر من الأسباب رغبة بعض النساء من الزواج من رجل معين. وليته طبق هذا الكلام على بيوت الخلفاء.والدكتور "مراد هوفمان" له عذره - كما قلت - لأنه نشأ وترعرع في ألمانيا فمعرفته بالإسلام وبتاريخه ومجتمعه معرفة محدودة.أما الدكتور المهندس شحرور فلا عذر له في بلد عربي له حضارات العربية والإسلامية العريقة.والجهود التي بذلها في كتابه جهود كبيرة. كبيرة فعلاً. لأنه يريد بهذه الجهود نقل حقائق تفوق الجبال الراسيات، نقلها إلى بركة من الأوهام.والأصابع الكليلة لا تقوى على نقل الجبال الراسيات وأنفاس المرضى المصرورين لا تستطيع أن تطفئ ضوء الشمس.كنت أريد أن أجمع دراستي لكتابه "الكتاب والقرآن 820 صحيفة" لأخرجها في كتاب مستقل. ولكنني رأيت أن أنقل هنا بعض ما يتعلق بموضوع الأُسْرة والمرأة ليعلم القارئ المسلم ماذا يراد بالإسلام باسم حريَّة الفكر؟
{ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা (المعلقة)}-এর ন্যায়; তিনি সেই নারী যাঁকে তাঁর স্বামী প্রকাশ্যভাবে দীর্ঘকাল বর্জন করে রেখেছেন, ফলে তিনি তালাকপ্রাপ্তাও নন আবার স্ত্রী হিসেবেও (পুরোপুরি) গণ্য নন।উম্মে যার' বলেছিলেন: "আমার স্বামী অত্যন্ত দীর্ঘদেহী; আমি কথা বললে তালাকপ্রাপ্ত হব, আর চুপ থাকলে আমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় (أعلق) রাখা হবে।"এই মহিমান্বিত আয়াতটি নির্দেশ করেছে যে, ভালোবাসা একটি অনিচ্ছাধীন বিষয় এবং কোনো নারীর প্রতি আসক্তির এমন কিছু কারণ থাকে যা তা অপরিহার্য করে তোলে, যা হয়তো সকল নারীর ক্ষেত্রে বিদ্যমান থাকে না। তাই স্বামীর ওপর এমন ভালোবাসা বা পছন্দনীয়তার বোঝা চাপানো উচিত নয় যা তার সাধ্যের বাইরে। তবে ভালোবাসার একটি অংশ ঐচ্ছিক, যেখানে সে তার স্ত্রীর স্বভাবের কিছু অপছন্দনীয় দিক ধৈর্য ধরে মানিয়ে নেয়।সুতরাং ডক্টর "হফম্যান"-এর সেই ভাষার ওপর জ্ঞান খুবই সামান্য, যা কুরআনের উদ্দেশ্যসমূহ গবেষণাকারীর জন্য প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও, ডক্টর একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি যিনি সাধারণত পুরুষদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে এমন কিছু অবস্থা বর্ণনা করার চেষ্টা করেছেন যেখানে বিধবাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।যেমন কোনো কোনো নারীর নিজের স্বামীকে নির্দিষ্ট কোনো মহিলার সাথে বিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা, যাতে তিনি তাঁর সন্তানদের তাদের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দিতে পারেন; কেননা তিনি অসুস্থ এবং অচিরেই মৃত্যুবরণ করবেন। তিনি এর কারণ হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো পুরুষকে বিবাহ করার জন্য কিছু নারীর আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেছেন। আফসোস! তিনি যদি এই কথাগুলো খলিফাদের প্রাসাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতেন।ডক্টর "মুরাদ হফম্যান"-এর ওজর রয়েছে—যেমনটি আমি বলেছি—কেননা তিনি জার্মানিতে লালিত-পালিত ও বড় হয়েছেন। ফলে ইসলাম, এর ইতিহাস এবং সমাজ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত।পক্ষান্তরে, প্রকৌশলী ডক্টর শাহরুরের কোনো ওজর থাকতে পারে না, কারণ তিনি এমন এক আরব দেশে বসবাস করেন যেখানে সুপ্রাচীন আরবি ও ইসলামি সভ্যতা বিদ্যমান।তিনি তাঁর গ্রন্থে যে শ্রম ব্যয় করেছেন তা বিশাল। সত্যিই বিশাল। কেননা তিনি এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে এমন সব সত্যকে সরিয়ে নিতে চান যা অটল পাহাড়ের চেয়েও ভারী, আর সেগুলোকে তিনি স্থানান্তরিত করতে চান এক ভ্রান্তির জলাশয়ে।অথচ ক্লান্ত আঙ্গুলগুলো অটল পাহাড় সরানোর ক্ষমতা রাখে না এবং বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘশ্বাস সূর্যের আলোকে নির্বাপিত করতে পারে না।আমি তাঁর ৮২০ পৃষ্ঠার গ্রন্থ "আল-কিতাব ওয়াল কুরআন"-এর ওপর করা আমার গবেষণাটি একটি স্বতন্ত্র বই হিসেবে প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি এখানে পরিবার ও নারী সংক্রান্ত কিছু বিষয় উদ্ধৃত করা সমীচীন মনে করেছি, যাতে মুসলিম পাঠক জানতে পারেন যে, চিন্তার স্বাধীনতার নামে ইসলামের নামে কী উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাওয়া হচ্ছে?
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأوجز هذه السطور عن منهج د / شحرور في كتابه ليعلم القارئ المسلم أن جهوداً كبيرة تبذل لصرف المسلم عن حقائق الإسلام.وتشويه صورته الناصعة.كانت هذه الجهود تبذل على يد علماء الاستشراق، وتنقل عن طريق الترجمة إلى بلادنا، هذا فيما بعد الحروب الصليبية لكن القائمين على أمر الغزو الفكري لبلاد محمد صلى الله عليه وسلم وجدوا أن القارئ والدارس لا يطمئن لكثير مما يقرأ. مهما حاول الكاتب - غير المسلم - أن يدعي الحياديَّة والموضوعية في البحث.من أجل ذلك حاولوا صنع بعض العقول المنتسبة للعربية والإسلام لتقوم بهذه المهمة. فهناك يسمع ما تقول. واستعدوا غزوهم لبلادنا واستعمارهم لكثير منها في تربية هذا الجيل على ما أريد منه، بعد نجاحهم في اختياره.ونقلوا بعضهم إلى بلاد الشرق والغرب لتعميق هذه المهمة.وتشكيل عقولهم وقلوبهم.لا أذكر أسماءهم. فليس هذا موضوعي.ولكن أذكر غزوهم لبلادنا بالقوانين الوضعية التي أدخلوها لإبعاد الشريعة الإسلامية عن الحكم. بل وعن القضاة عامة. ولم يمض على إدخالها سوى قرن واحد حتى أصبحت قوانينهم هي المصدر الأول للتشريع في بلادنا، أو حتى في أكثرها. وأصبح بعض حملتها من أبناء البلاد - ينظرون للشريعة الإسلامية نظرة التراث الذي أتم دوره في غياب القوانين الوضعية. ويجب أن تحال الشريعة للتقاعد. وكما حدث منذ قرن في القوانين الشرعية، وتكوين عقول تؤمن وتدافع وتعمق القوانين المستورده حتى لم يبق - في بعض البلاد المسلمة من الشريعة الإسلامية سوى "الأحوال الشخصية والميراث".حاولوا بعد ذلك صنع عقول من أبناء البلاد والمنتسبين للإسلام لغسل عقول الأجيال مما بقى من العقيدة والحضارة الإسلامية والأخلاق الإسلامية.
ড. শাহরুরের কিতাবে বর্ণিত তাঁর কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে আমি এই সংক্ষিপ্ত পঙ্ক্তিগুলো লিখছি যাতে মুসলিম পাঠক জানতে পারেন যে, একজন মুসলিমকে ইসলামের প্রকৃত সত্য থেকে বিচ্যুত করার জন্য কত বিশাল প্রচেষ্টা ব্যয় করা হচ্ছে।এবং এর উজ্জ্বল ভাবমূর্তিকে বিকৃত করার চেষ্টা চলছে।এই প্রচেষ্টাগুলো প্রাচ্যতত্ত্ববিদ পণ্ডিতদের (علماء الاستشراق) মাধ্যমে চালানো হতো এবং ক্রুসেড পরবর্তী সময়ে অনুবাদের মাধ্যমে আমাদের দেশগুলোতে স্থানান্তরিত হতো। তবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভূখণ্ডে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের (الغزو الفكري) দায়িত্বশীলরা দেখতে পেলেন যে, পাঠক ও গবেষক যা পড়েন তার অনেক কিছুর প্রতিই আশ্বস্ত হতে পারেন না; একজন অমুসলিম লেখক গবেষণায় নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতার যত বড় দাবিই করুন না কেন।এই উদ্দেশ্যেই তারা আরবী ভাষা ও ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত এমন কিছু চিন্তাবিদ তৈরির চেষ্টা করেছে যারা এই কাজটি আঞ্জাম দেবে। সেখানে তারা তাই শোনে যা তাদের বলা হয়। তারা আমাদের দেশগুলোতে তাদের আগ্রাসন ও উপনিবেশ স্থাপনের সময় থেকেই এই প্রজন্মকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং তাদের যথাযথ নির্বাচনের পর তা বাস্তবায়ন করেছে।তারা তাদের অনেককে এই দায়িত্ব আরও গভীরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে স্থানান্তরিত করেছে।এবং তাদের মন ও মনন গঠন করেছে।আমি তাদের নাম উল্লেখ করছি না, কারণ এটি আমার বর্তমান বিষয় নয়।তবে আমি আমাদের দেশগুলোতে মানবরচিত আইনের (القوانين الوضعية) মাধ্যমে তাদের সেই আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করছি, যা তারা শাসনব্যবস্থা থেকে, এমনকি সামগ্রিকভাবে বিচারব্যবস্থা থেকে ইসলামী শরীয়াহকে (الشريعة الإسلامية) দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুপ্রবেশ করিয়েছিল। এই আইনগুলো প্রবর্তনের পর মাত্র এক শতাব্দীও অতিবাহিত হয়নি, এরই মধ্যে তাদের আইনগুলো আমাদের দেশে—অথবা অধিকাংশ দেশে—আইন প্রণয়নের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। এমনকি এদেশের সন্তানদের মধ্যে যারা এই আইনের ধারক-বাহক, তাদের কেউ কেউ ইসলামী শরীয়াহকে (الشريعة الإسلامية) এমন এক ঐতিহ্যের (التراث) দৃষ্টিতে দেখেন যা মানবরচিত আইনের (القوانين الوضعية) অনুপস্থিতিতে তার ভূমিকা পালন শেষ করেছে। তাদের মতে, এখন শরীয়াহকে অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। এক শতাব্দী পূর্বে আইনি ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল এবং এমন এক চিন্তাধারা গঠন করা হয়েছিল যা আমদানিকৃত আইনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সেগুলোর প্রতিরক্ষা করে এবং তা সুদৃঢ় করে; যার ফলে কিছু মুসলিম দেশে ইসলামী শরীয়াহর (الشريعة الإسلامية) কেবল "পারিবারিক আইন (الأحوال الشخصية) ও উত্তরাধিকার (الميراث)" ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।তারা এরপর এদেশের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত এমন কিছু চিন্তাবিদ তৈরির চেষ্টা করেছে যারা প্রজন্মের মস্তিষ্ক থেকে অবশিষ্ট ইসলামী আকিদা (العقيدة), ইসলামী সভ্যতা ও ইসলামী নৈতিকতাকে ধুয়ে মুছে ফেলার কাজ করবে।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فجنَّدوا لنفس الأمر مجموعة من أذكياء الشباب المنتسب للإسلام أصحاب القدرة على البيان، وصنعوا لهم مجداً علمياً زائفاً، ومؤهلات عالية، وسخَّروا لهم كل وسائل الإعلام في العالم، حتى يقوموا بما أعدُّوهم له من طعن الإسلام وتشوية صورته من الداخل.وأقلُّ سهام الداخل دامية وربما قاتله.والآن مع المهندس الدكتور محمد شحرور وكتابه "الكتاب والقرآن"وما يتعلق بموضوعنا فقط من هذا الكتاب.* منهجه في الكتاب:أولاً: يستخدم الدكتور منهج كل إخوانه من العَلْمانيين - بفتح العين - في محاولة خداع الشباب باسم حريَّة الفكر.فهم يرجعون إلى كتب اللغة العربية وينقلون المعنى اللغوي للكلمة القرآنية، ليصرفوا الناس عن المعاني الشرعية للكلمة.المعاني التي جاء بها الإسلام، وجاهد النبي من أجلها. وجمع الناس عليها. ومعلوم أن كل كلمة أو مصطلح إسلامي له معنى لغوي ثم أحدث القرآن له معنى شرعي. كالصلاة مثلاً معناها اللغوي الدعاء، ثم استحدث الإسلام بها المعنى المعروف.والزكاة. معناها اللغوي النماء والزيادة.والحج معناه اللغوي القصد إلى أي مكان عظيم.ثم استخدم الإسلام هذه الألفاظ في معانيها الإسلامية.فإذا حاول العلمانيون تفسير القرآن الكريم بالمعاني اللغوية السابقة على الاستعمال الإسلامي فهذه انتكاسه فكرية.وهدم لما أحدثه الإسلام من معاني.
তারা এই একই উদ্দেশ্যে ইসলামপন্থী তরুণদের মধ্য থেকে বাগ্মীতাসম্পন্ন একদল বুদ্ধিমান তরুণকে একত্রিত করেছে; তাদের জন্য তারা তৈরি করেছে এক কৃত্রিম ইলমি মর্যাদা ও উচ্চতর যোগ্যতা এবং তাদের আয়ত্তে এনে দিয়েছে বিশ্বের সকল গণমাধ্যম, যাতে তারা ইসলামের ওপর আক্রমণ করতে পারে এবং ভেতর থেকে ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে, যার জন্য তাদের প্রস্তুত করা হয়েছে।আর অভ্যন্তরীণ শত্রু কর্তৃক নিক্ষিপ্ত ক্ষুদ্রতম তীরও রক্তক্ষয়ী এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হয়ে থাকে।এখন আমরা প্রকৌশলী ডক্টর মুহাম্মদ শাহরুর এবং তাঁর রচিত 'আল-কিতাব ওয়াল কুরআন' গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করব।এবং এই গ্রন্থ থেকে কেবল আমাদের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশটুকু নিয়ে আলোচনা করা হবে।* গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি (منهج):প্রথমত: ডক্টর (শাহরুর) চিন্তার স্বাধীনতার নামে তরুণদের প্রতারিত করার চেষ্টায় তাঁর সকল ধর্মনিরপেক্ষ (عَلْماني) ভ্রাতৃবৃন্দের অনুসৃত পদ্ধতি (منهج) ব্যবহার করেছেন।তারা আরবি ভাষার অভিধানসমূহের শরণাপন্ন হয় এবং কুরআনের শব্দাবলির আভিধানিক অর্থ (المعنى اللغوي) বর্ণনা করে, যাতে তারা মানুষকে শব্দটির শরয়ি অর্থ (المعنى الشرعي) থেকে বিচ্যুত করতে পারে।সেই সকল অর্থ যা ইসলাম নিয়ে এসেছে, যার জন্য নবী (সা.) জিহাদ করেছেন এবং মানুষকে যার ওপর ঐক্যবদ্ধ করেছেন। এটি সর্বজনবিদিত যে, প্রতিটি ইসলামি শব্দ বা পরিভাষার (مصطلح) একটি আভিধানিক অর্থ থাকে এবং পরবর্তীতে কুরআন সেটিকে একটি শরয়ি অর্থ (المعنى الشرعي) প্রদান করেছে। যেমন সালাত, এর আভিধানিক অর্থ হলো দুআ বা প্রার্থনা, অতঃপর ইসলাম একে সুপরিচিত বিশেষ অর্থে রূপান্তর করেছে।এবং জাকাত; এর আভিধানিক অর্থ হলো বৃদ্ধি ও প্রাচুর্য।আর হজের আভিধানিক অর্থ হলো কোনো মহান স্থানের সংকল্প করা।এরপর ইসলাম এই শব্দগুলোকে তাদের ইসলামি অর্থে ব্যবহার করেছে।সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা (العلمانيون) যদি ইসলামি ব্যবহারের পূর্ববর্তী আভিধানিক অর্থের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের তাফসির করার চেষ্টা চালায়, তবে তা হবে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক পশ্চাৎগামিতা (انتكاسة فكرية)।এবং ইসলাম প্রদত্ত অর্থসমূহের বিলোপ সাধন।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وتجريد الساحة من المفاهيم الإسلامية:ويظهر هنا جيداً في كلمة "الشريعة" بالذات. فكتب اللغة تقول: الشريعة هي شرعة الماء. التي تطلق عليها اللهجة المصرية اسم "ترعة" أي مجرى الماء. ثم استعير اسم الشريعة من مجرى الماء واستعمل للطريقة الإلهية. تشبيها بتشريعة الماء.ووجه الشبه - كما قال الراغب الاصفهاني:المنافع في المعنيين - من ريّ وتطهير.وأصبحت كلمة الشريعة بمعناها الإسلامي الجديد تعني أحكام الله … هداية للناس، ومنهج تربية لهم، وحاكمه لحكامهم {ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا}ومعلوم أن بعد الإسلام لا يمكن أن نرجع إلى المعنى اللغوي ونهمل المعاني الشرعية {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا}فمنذ العهد المكي والقرآن يستخدم كلمة الشريعة بثوبها الجديد ومعناها الإسلامي.واستمر الاستخدام القرآني للكلمة حتى آخر العهد المدني عندما نزلت سورة المائدة آية 18 - التي ذكرناها وسوف تبقى.وقد فهم المشركون في مكة المقصود من كلمة الشريعة بمعناها الجديد.فلم يقل أحد منهم للنبي صلى الله عليه وسلم أين الشرعة التي جعلك الله عليها. لتحول مكة إلى وادٍ ذي زرع.
এবং ইসলামী ধারণাগুলো থেকে অঙ্গনকে বিমুক্ত করা: আর এটি বিশেষ করে "শরীয়াহ" (شريعة) শব্দটির ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। অভিধানগ্রন্থসমূহ বলে: শরীয়াহ হলো পানির ঘাট বা উৎস। মিশরীয় উপভাষায় একে "তুরআ" অর্থাৎ জলপ্রবাহ বা খাল বলা হয়। অতঃপর পানির নহর বা উৎস থেকে শরীয়াহ নামটি রূপকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঐশী জীবনবিধানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, যা পানির নহরের সাথে সাদৃশ্যের কারণে। আর রাغب আল-ইসফাহানী যেমনটি বলেছেন, সাদৃশ্যের দিকটি হলো: উভয় অর্থেই নিহিত উপকারিতা—তৃষ্ণা নিবারণ এবং পবিত্রতা অর্জন। আর শরীয়াহ (شريعة) শব্দটি তার নতুন ইসলামী অর্থে আল্লাহর বিধানসমূহকে বুঝাতে শুরু করেছে … যা মানুষের জন্য হিদায়াত, তাদের জীবন গঠনের পাথেয় এবং তাদের শাসকদের জন্য দিকনির্দেশক। {অতঃপর আমি আপনাকে দ্বীনের এক বিশেষ শরীয়তের (شريعة) ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, সুতরাং আপনি তার অনুসরণ করুন।} আর এটি সুবিদিত যে, ইসলামের আবির্ভাবের পর আমরা কেবল আভিধানিক অর্থের দিকে ফিরে যেতে পারি না এবং শরীয়তসম্মত (شرعي) অর্থগুলোকে উপেক্ষা করতে পারি না। {আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরীয়ত (شرعة) ও স্পষ্ট পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি।} সুতরাং মক্কী যুগ থেকেই কুরআন শরীয়াহ (شريعة) শব্দটিকে তার নতুন অবয়ব এবং ইসলামী অর্থে ব্যবহার করছে। কুরআনের এই পরিভাষা ব্যবহারের ধারা মাদানী যুগের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল, যখন সূরা আল-মায়িদার ১৮ নম্বর আয়াতটি অবতীর্ণ হয়—যা আমরা উল্লেখ করেছি এবং তা অপরিবর্তিত থাকবে। আর মক্কার মুশরিকরা শরীয়াহ (شريعة) শব্দের এই নতুন উদ্দেশ্য বা অর্থটি উপলব্ধি করতে পেরেছিল। তাই তাদের কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই প্রশ্ন করেনি যে, সেই পানির নহর (شرعة) কোথায় যা আল্লাহ আপনার জন্য নির্ধারণ করেছেন, যাতে মক্কা একটি শস্যশ্যামল উপত্যকায় রূপান্তরিত হয়।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ما دامت الشرعة هي مجرى الماء.لم يقل أحد هذا. فالعلمانين عندما يحاولون النكسة الفكرية بتفسير القرآن بالمعاني اللغوية فقط يريدون صرف الدعاة عن المطالبة بتحكيم الشريعة الإسلامية الغراء لأنهم يريدون حكماً بدون دين، واقتصاد بدون دين، وتربية بدون دين، حتى الأخلاق يريدون تجريدها من الدين فهم يدَّعون أن ما حكم به النبي صلى الله عليه وسلم هو قضاء ناسب عصره.وليس في الإسلام شيء اسمه الشريعة الإسلامية بمعنى الحكم الإلهي الممتد من القرآن والسنة. هذا هو منهج العَلْمانيين.وهو المنهج الذي اتبعه المهندس الدكتور شحرور كما سنبينه - إن شاء الله. يريدون إلغاء الدين من الحياة.نماذج من كتاب دكتور شحرور:فمثلاً وهو يتكلم عن العورة.يبدأ بقوله: العورة ليس لها علاقة بالحلال والحرام لا من قريب ولا من بعيد. (هذا هو الجانب الشرعي) في تصوره.وينتقل إلى كتب المفردات اللغوية وينقل معنى العورة فيقول: العورة بالمعنى العربي هي "ما يستحي المرء من إظهاره"هذا ما أجمع عليه أئمة اللسان العربي في معنى العورة.ثم يستشهد بحديث الرسول صلى الله عليه وسلم:"من ستر على مؤمن عورته ستر الله عورته"ولا يفوته أن يذكر الآيات والأحاديث التي استخدمت كلمة العورة لغوياً.أما المعنى الشرعي للعورة - للرجل أو للأنثى
যেহেতু শরীয়ত (الشرعة) হলো পানির প্রবাহস্থল।কেউ এমন কথা বলেনি। ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা যখন শুধুমাত্র ভাষাগত অর্থের মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা করার দ্বারা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয় ঘটানোর চেষ্টা করে, তখন তারা মূলত দাঈদের (دعاة) এই দাবি থেকে বিমুখ করতে চায় যে, তারা যেন সুমহান ইসলামি শরীয়ত (الشريعة الإسلامية) প্রতিষ্ঠার দাবি না করে। কারণ তারা ধর্মহীন শাসনব্যবস্থা, ধর্মহীন অর্থনীতি এবং ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্থা চায়; এমনকি তারা নৈতিকতাকেও ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। তারা দাবি করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে ফয়সালা করেছেন, তা ছিল কেবল তাঁর সময়ের উপযোগী একটি বিচারিক সিদ্ধান্ত (قضاء)।আর ইসলামের মধ্যে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে উৎসারিত খোদায়ী বিধান (الحكم الإلهي) হিসেবে ইসলামি শরীয়ত (الشريعة الإسلامية) বলতে কিছু নেই। এটিই হলো ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের কর্মপন্থা (منهج)।এটিই সেই কর্মপন্থা (المنهج), যা প্রকৌশলী ডক্টর শাহরুর অনুসরণ করেছেন, যা আমরা ইনশাআল্লাহ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করব। তারা জীবন থেকে ধর্মকে বিলুপ্ত করতে চায়।ডক্টর শাহরুরের বই থেকে কিছু নমুনা:উদাহরণস্বরূপ, যখন তিনি আওরাত (العورة) সম্পর্কে আলোচনা করেন।তিনি এই কথা দিয়ে শুরু করেন: আওরাতের (العورة) সাথে হালাল ও হারামের দূর-দূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। এটিই তার ধারণায় শরয়ি দিক (الجانب الشرعي)।অতঃপর তিনি আভিধানিক শব্দকোষের দিকে ফিরে যান এবং আওরাতের (العورة) অর্থ উদ্ধৃত করে বলেন: আরবি অর্থ অনুযায়ী আওরাত (العورة) হলো— "মানুষ যা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করে"৷আওরাতের (العورة) অর্থের ব্যাপারে এটিই আরবি ভাষাবিদ ইমামগণের সর্বসম্মত অভিমত (أجمع)।এরপর তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস থেকে দলিল পেশ করেন:"যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের গোপনীয়তা (عورته) ঢেকে রাখবে, আল্লাহ তার গোপনীয়তা (عورته) ঢেকে রাখবেন"তিনি সেই সমস্ত আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করতেও ভোলেননি যেগুলোতে আওরাত (العورة) শব্দটি আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।পক্ষান্তরে, পুরুষ অথবা নারীর জন্য আওরাতের (العورة) শরয়ি অর্থ (المعنى الشرعي) হলো—
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يقول: هو كلام مردود. ص 612 وكما قال من قبل: ليس له علاقة بالحلال والحرام.ويقسم جسم المرأة إلى قسمين.الأول (جيوب) ويعني بها الفرج وإست المرأة، وتحت الثديين.والثاني بقية جسدها.ويقول: إن الله منع المرأة المؤمنة من العمل والسعي بشكل يظهر جيبها - فرجها وإستها وتحت ثدييها - كأن تقوم برقصات تظهر فيها هذه الجيوب أو بعضها. بشكل إرادي.ونلاحظ أنه راعى اليسر على الراقصات فقال: ظهور الجيوب بشكل إرادي. أما إذا غلبها الفن فظهر ما ظهر منها بشكل غير إرادي فالدكتور يُوسِّع دائرة العفو من أجل الفن.ثم يقول: الله - سبحانه - قد حرم على المرأة التعرية والبغاء.وأما بقية المهن فيمكن للمرأة أن تمارسها دون حرج أو خوف،وذلك حسب الظروف الاجتماعية.وفي صفحة 614 يقول: إن قوله تعالى: {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} يقول: هذه الآية للتعليم وليست للتشريع.لست أدري ما هي آيات التعليم وما هي آيات التشريع؟ !!أما النساء اللاتي لا يرجون نكاحاً. ويفسرهن بالمريضات فلا مانع عنده من خلع ثيابهن لحمامات الشمس، والمساجات أمام من يقوم بمساعدتها.ثم يذكر قوله تعالى: {وَأَنْ يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَهُنَّ} صـ 616
তিনি বলেন: এটি একটি প্রত্যাখ্যাত (مردود) কথা। পৃষ্ঠা ৬১২। এবং যেমনটি তিনি ইতিপূর্বে বলেছেন: এর সাথে হালাল ও হারামের কোনো সম্পর্ক নেই।এবং তিনি নারীর দেহকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন।প্রথমটি হলো 'জিয়ুব' (جيوب), যা দ্বারা তিনি নারীর যৌনাঙ্গ, মলদ্বার এবং স্তনের নিচের অংশকে বুঝিয়েছেন।এবং দ্বিতীয়টি হলো তার দেহের অবশিষ্ট অংশ।তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিন নারীকে এমনভাবে কাজ বা ছোটাছুটি করতে নিষেধ করেছেন যাতে তার শরীরের ভাঁজ বা জিয়ুব (جيوب)—যথা: যৌনাঙ্গ, মলদ্বার এবং স্তনের নিচ—প্রকাশ পায়। যেমন: স্বেচ্ছায় এমন কোনো নৃত্য করা যাতে এই ভাঁজগুলো বা তার কোনো অংশ দৃশ্যমান হয়।আমরা লক্ষ্য করি যে, তিনি নর্তকীদের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, তাই তিনি বলেছেন: এই ভাঁজগুলো দৃশ্যমান হওয়াটা হতে হবে স্বেচ্ছায়। কিন্তু যদি শিল্পের আতিশয্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো অংশ প্রকাশ পেয়ে যায়, তবে ডাক্তার সাহেব শিল্পের খাতিরে ক্ষমার পরিধি প্রশস্ত করে দেন।অতঃপর তিনি বলেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নারীর জন্য নগ্নতা ও ব্যভিচার হারাম করেছেন।আর অন্যান্য পেশার ক্ষেত্রে নারী কোনো প্রকার সংকীর্ণতা বা ভয় ছাড়াই তা পালন করতে পারে,এবং তা সামাজিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।এবং ৬১৪ পৃষ্ঠায় তিনি বলেন: মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যেন তাদের জিলবাবের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়}, এই আয়াতটি সম্পর্কে তিনি বলেন: এই আয়াতটি শিক্ষার জন্য, বিধান প্রদানের (تشريع) জন্য নয়।আমি জানি না শিক্ষামূলক আয়াত এবং বিধানমূলক আয়াত (آيات التشريع) বলতে কী বোঝানো হয়েছে?!!আর যেসব নারী বিয়ের আশা রাখে না—যাদেরকে তিনি অসুস্থ নারী হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন—তাদের জন্য রোদ পোহানো এবং সহায়তাকারীর সামনে ম্যাসাজ নেওয়ার জন্য পোশাক খুলে ফেলতে তার কাছে কোনো বাধা নেই।অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর বাণী উল্লেখ করেন: {আর যদি তারা পবিত্রতা অবলম্বন করে তবে তা তাদের জন্য উত্তম}। পৃষ্ঠা ৬১৬।
(খণ্ড: ১)
তাআদ্দুদুয যাউজাত বাইনা হাকাইকিত তানযীল ওয়া ইফতিরায়াতিত তাদলীল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
هكذا يظهر لنا خطر المنهج العَلْماني في تفسير القرآن باللغة العربية فقط بعيداً عن التفسير بالمأثور وبمصطلحات فقهاء الأمة.لقد وصلت جرأة المهندس شحرور عندما يدعي أنه يصحح أخطاء تفسير العلماء المسلمين لقوله تعالى: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا}أن يُقسِّم - كما سبق أن ذكرتُ - جسم إلى جيوب وغير جيوب.ويعتبر الجيوب - الفرج والإست وتحت الثديين زينة باطنة.لا يجوز للمرأة أن تتعمد ظهورها.وما عدا ذلك وهو كل جسدها زينة ظاهرة كالشعر والبطن والظهر والفخذين ثم يقول: والله - سبحانه - قد خلق الرجلَ والمرأةَ عُراةً دون ملابس ص 606.* * *مفهوم العورة في السنة:إن العَلْمانيين يريدون عزل الأمة عن شرع الله. إن العورة في الإسلام - كما يقول صاحب "مدارج السالكين":"ومن المحرمات النظر إلى العوارت.وهي قسمان:عورة وراء الثياب.وعورة وراء الأبواب.وقد وصل حرص الإسلام على صيانة العورات إلى وراء الأبواب -وهي الأخف من العورتين - أن من نظر في العورة التي وراء الأبواب فرماه صاحب العورة ففقأ عينه لم يكن عليه شيء، وذهبت عينه هدراً بنص حديث الرسول صلى الله عليه وسلم المتفق
এভাবেই আমাদের নিকট কেবল আরবি ভাষার মাধ্যমে কুরআনের তাফসীর করার ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষ পদ্ধতির বিপদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে বর্ণনাভিত্তিক তাফসীর (التفسير بالمأثور) এবং উম্মতের ফকীহগণের পারিভাষিক অর্থসমূহকে উপেক্ষা করা হয়।প্রকৌশলী শাহরুর-এর ধৃষ্টতা এ পর্যন্ত পৌঁছেছে যে, তিনি মহান আল্লাহর বাণী: "তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত" - এর ব্যাখ্যায় মুসলিম আলেমদের ভুল সংশোধন করছেন বলে দাবি করেন।তিনি—যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি—শরীরকে 'জিয়ুব' (ভাজ বা খাঁজযুক্ত অংশ) এবং 'জিয়ুব' নয় এমন অংশে বিভক্ত করেছেন।তিনি 'জিয়ুব' বলতে লজ্জাস্থান, মলদ্বার এবং স্তনের নিচের অংশকে অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য হিসেবে গণ্য করেন।যা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করা নারীর জন্য বৈধ নয়।আর এ ছাড়া শরীরের বাকি সব অংশ যেমন চুল, পেট, পিঠ এবং উরু-কে তিনি প্রকাশ্য সৌন্দর্য হিসেবে মনে করেন। এরপর তিনি বলেন: "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা পুরুষ ও নারীকে পোশাকহীন নগ্ন অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন" (পৃষ্ঠা ৬০৬)।* * *সুন্নাহর আলোকে আওরাত (عورة)-এর ধারণা:নিশ্চয়ই ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা উম্মতকে আল্লাহর শরীয়ত থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। ইসলামে আওরাত (عورة)—যেমনটি 'মাদারিজুস সালিকীন' গ্রন্থের লেখক বলেন:"নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আওরাত (عورة)-এর দিকে তাকানো।আর এটি দুই প্রকার:পোশাকের অন্তরালের আওরাত (عورة)।এবং দরজার অন্তরালের আওরাত (عورة)।আওরাত (عورة) হেফাজতের বিষয়ে ইসলামের গুরুত্ব প্রদান এমনকি দরজার অন্তরাল পর্যন্ত পৌঁছেছে—যা দুই প্রকার আওরাতের মধ্যে তুলনামূলক হালকা—যে ব্যক্তি দরজার অন্তরালে থাকা আওরাত (عورة)-এর দিকে তাকালো এবং সেই আওরাতের অধিকারী (গৃহস্বামী) তার দিকে কিছু ছুড়ে মেরে তার চোখ উপড়ে ফেলল, তবে তার ওপর কোনো দায় থাকবে না এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী ওই চোখটি বৃথাই যাবে।