(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: -)
تذكير الأنام بسنن وآداب الصيام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: تذكير الأنام بسنن وآداب الصيام
المؤلف: سالم جمال الهنداوي
الناشر: دار الإمام الشافعي للطباعة والنشر
الطبعة: الأولى، 1435هـ - 2014مـ
عدد الصفحات: 146
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 ذو الحجة 1435
সিয়ামের সুন্নাতসমূহ ও আদব সম্পর্কে উম্মাহকে নসিহত বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: সিয়ামের সুন্নাতসমূহ ও আদব সম্পর্কে উম্মাহকে নসিহত
লেখক: সালেম জামাল আল-হিন্দাউই
প্রকাশক: দারুল ইমাম আশ-শাফিঈ লিত-তিবাআহ ওয়ান-নাশর
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৬
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ জিলহজ ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: -)
تذكير الأنام
بسنن وآداب الصيام
كتبه
سالم جمال الهنداوي
باحث في الشريعة الإسلامية
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
الطبعة الأولى
1435هـ / 2014مـ
دار الإمام الشافعي للطباعة والنشر
মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া
সাওমের সুন্নত ও আদবসমূহ প্রসঙ্গে
রচনায়
সালেম জামাল আল-হিন্দাওয়ী
ইসলামি শরিয়ত গবেষক
সর্বস্বত্ব গ্রন্থকার কর্তৃক সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩৫ হিজরি / ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
দার আল-ইমাম আল-শাফেয়ী মুদ্রণ ও প্রকাশনা
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله فاتح أبواب المقال، ومانح أسباب النوال، وملهم جواب السؤال، أحمده سبحانه وتعالى حمدًا يستغرق البكر والآصال، ويستوعب الأماكن ويضيء الزمن والأطلال.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ولا شبيه ولا مثال، رب السموات والأرض وما بينهما الكبير المتعال.
وأشهد أن سيدنا محمدًا عبده ورسوله جامع صفات الجلال والجمال، ومن أوتي فصل المقال صلى الله عليه وسلم، وعلى آله وصحبه فرسان الجلاد والجدال ما ارتفعت للعلماء راية تمحص عارض الشكوك والإشكال.
اللهم صلي على محمدٍ ما ذكره الذاكرون الأبرار، وصلي على محمدٍ ما تعاقب الليل والنهار، وصلي على محمدٍ وعلى المهاجرين والأنصار، وسلم تسليمًا كثيرًا.
أما بعد:
فإن الصيام هو أحد أركان الإسلام الخمسة ومبانيه العظام، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بُنِيَ الإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ» (1).
فيجب علينا أن نعرف حكمته التي شُرع من أجلها، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 183].
قال صاحب المنار رحمه الله: قوله: {لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} هذا تعليل لكتابة الصيام ببيان فائدته الكبرى وحكمته العليا، وهو أنه يعد نفس الصائم لتقوى الله تعالى بترك شهواته الطبيعية المباحة الميسورة؛ امتثالاً لأمره، واحتسابًا للأجر عنده، فتتربى بذلك إرادته على ملكة ترك الشهوات المحرمة والصبر عنها، فيكون اجتنابها أيسر عليه، وتقوى على النهوض
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আলোচনার দ্বার উন্মোচনকারী, অনুগ্রহের উপায় প্রদানকারী এবং প্রশ্নের উত্তরের অনুপ্রেরণাদাতা। আমি তাঁর পবিত্রতা ও প্রশংসা করছি এমন প্রশংসার মাধ্যমে যা প্রভাত ও গোধূলিকে পরিব্যাপ্ত করে, সকল স্থানকে শামিল করে এবং সময় ও লোকালয়কে আলোকিত করে।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো প্রকৃত উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, কোনো সাদৃশ্য নেই এবং কোনো উপমা নেই; তিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুইয়ের মাঝে যা কিছু আছে তার পালনকর্তা, মহান ও সুউচ্চ।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি মর্যাদা ও সৌন্দর্যের সকল গুণের আধার এবং যাকে দ্ব্যর্থহীন ভাষণ প্রদানের যোগ্যতা দান করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও রণক্ষেত্রের বীর সেনানী সাহাবীগণের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যতক্ষণ পর্যন্ত ওলামায়ে কেরামের এমন ঝাণ্ডা সমুন্নত থাকবে যা সংশয় ও অস্পষ্টতার মেঘমালাকে বিদূরিত করে।
হে আল্লাহ! মুহাম্মদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যতক্ষণ পুণ্যবান স্মরণকারীরা তাঁকে স্মরণ করতে থাকে। মুহাম্মদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যতক্ষণ রাত ও দিনের আবর্তন চলতে থাকে। মুহাম্মদের ওপর এবং মুহাজির ও আনসারগণের ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁদের প্রতি অফুরন্ত শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সিয়াম ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ ও এর মহান ভিত্তিগুলোর অন্যতম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের ওপর: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রকৃত উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা» (১)।
তাই আমাদের ওপর আবশ্যক যে, আমরা এর সেই হিকমত সম্পর্কে জানব যার উদ্দেশ্যে এটি প্রবর্তন করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} [বাকারা: ১৮৩]।
আল-মানার গ্রন্থের লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তাঁর বাণী: {যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} এটি সিয়ামের বিধানের কারণ বর্ণনা করে এর মহান উপকারিতা ও সর্বোচ্চ হিকমতটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে; আর তা হলো, এটি সিয়াম পালনকারীকে আল্লাহর নির্দেশ পালন এবং তাঁর নিকট প্রতিদানের আশায় তার সহজলভ্য বৈধ প্রাকৃতিক প্রবৃত্তিগুলো বর্জন করার মাধ্যমে আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের জন্য প্রস্তুত করে। এর ফলে তার ইচ্ছাশক্তি এমন এক অভ্যাসে গড়ে ওঠে যা তাকে হারাম প্রবৃত্তিগুলো বর্জন করতে ও তাতে ধৈর্য ধারণ করতে সাহায্য করে। ফলে সেই নিষিদ্ধ বিষয়গুলো পরিহার করা তার জন্য সহজতর হয় এবং সে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৩)
بالطاعات والمصالح والاصطبار عليها فيكون الثبات عليها أهون عليه؛ ولذلك قال صلى الله عليه وسلم: ««الصِّيَامُ نِصْفُ الصَّبْرِ» (1)، وهذا معنى دلالة «لعل» على الترجي، فالرجاء إنما يكون فيما وقعت أسبابه، وموضعه هنا المخاطبون لا المتكلم، ومن لم يصم بالنية وقصد القربة لا ترجى له هذه الملكة في التقوى، فليس الصيام في الإسلام لتعذيب النفس لذاته بل لتربيتها وتزكيتها (2).
وقال الإمام ابن القيم رحمه الله عن الصوم: «هو لجام المتقين، وجنة المحاربين، ورياضة الأبرار والمقربين، وهو لرب العالمين من بين سائر الأعمال، فإن الصائم لا يفعل شيئا، وإنما يترك شهوته وطعامه وشرابه من أجل معبوده، فهو ترك محبوبات النفس وتلذذاتها إيثارًا لمحبة الله ومرضاته، وهو سر بين العبد وربه لا يطلع عليه سواه، والعباد قد يطلعون منه على ترك المفطرات الظاهرة، وأما كونه ترك طعامه وشرابه وشهوته من أجل معبوده، فهو أمر لا يطلع عليه بشر، وذلك حقيقة الصوم.
وللصوم تأثير عجيب في حفظ الجوارح الظاهرة والقوى الباطنة، وحميتها عن التخليط الجالب لها المواد الفاسدة التي إذا استولت عليها أفسدتها، واستفراغ المواد الرديئة المانعة لها من صحتها، فالصوم يحفظ على القلب والجوارح صحتها، ويعيد إليها ما استلبته منها أيدي الشهوات، فهو من أكبر العون على التقوى، كما قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 183]،
--------------------------------------------
নেক আমল, জনকল্যাণমূলক কাজ এবং এগুলোর ওপর ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে সেগুলোর ওপর অটল থাকা সহজ হয়ে যায়; একারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সিয়াম হলো ধৈর্যের অর্ধেক» (১)। আর এটাই প্রত্যাশা (ترجي) অর্থে «লাআল্লা» (لعل) শব্দের তাৎপর্য। কারণ প্রত্যাশা (رجاء) কেবল তখনই করা যায় যখন তার উপযুক্ত কারণসমূহ বর্তমান থাকে। আর এখানে এর প্রয়োগস্থল হলো সম্বোধিত ব্যক্তিগণ, বক্তা নন। যে ব্যক্তি নিয়ত এবং নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য ছাড়া সিয়াম পালন করে, তার মধ্যে তাকওয়ার এই গুণ অর্জিত হওয়ার প্রত্যাশা করা যায় না। সুতরাং ইসলামে সিয়াম কেবল আত্মাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য নয়, বরং তার নৈতিক প্রশিক্ষণ ও আত্মশুদ্ধির (تزكية) জন্য (২)।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) সিয়াম সম্পর্কে বলেছেন: «এটি মুত্তাকীদের লাগাম, যোদ্ধাদের ঢাল এবং পুণ্যবান ও নৈকট্যপ্রাপ্তদের জন্য রিয়াজত বা অনুশীলন। অন্যান্য আমলের তুলনায় এটি রব্বুল আলামীনের জন্য বিশেষায়িত; কেননা সিয়াম পালনকারী বাহ্যিক কোনো কাজ সম্পাদন করে না, বরং সে তার মা’বুদের সন্তুষ্টির জন্য স্বীয় প্রবৃত্তি, খাদ্য ও পানীয় বর্জন করে। এটি বান্দা ও তার রবের মধ্যকার একটি গোপন রহস্য যা তিনি ছাড়া আর কেউ অবগত নয়। সাধারণ মানুষ কেবল পানাহার বর্জন করার বিষয়টিই দেখতে পায়; কিন্তু মা’বুদের সন্তুষ্টির জন্য তার এই খাদ্য, পানীয় ও প্রবৃত্তি বর্জন করার বিষয়টি কোনো মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়, আর এটাই হলো সিয়ামের প্রকৃত হাকিকত।
সিয়ামের একটি বিস্ময়কর প্রভাব রয়েছে বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অভ্যন্তরীণ শক্তি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এবং সেগুলোকে কলুষতা থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে, যা শরীরের ভেতর দূষিত পদার্থ সৃষ্টি করে। সিয়াম শরীরের সেই ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে বের করে দেয় যা সুস্থতার অন্তরায়। সুতরাং সিয়াম অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুস্থতা বজায় রাখে এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় যা কিছু হারিয়ে গিয়েছিল তা ফিরিয়ে আনে। এটি তাকওয়া অর্জনে সর্বশ্রেষ্ঠ সহায়ক, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।} [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৩],
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقال النبي: صلى الله عليه وسلم «الصَّوْمُ جُنَّةٌ» (1)، وأمر من اشتدت عليه شهوة النكاح ولا قدرة له عليه بالصيام، وجعله وجاء هذه الشهوة.
والمقصود: أن مصالح الصوم لما كانت مشهودة بالعقول السليمة والفطر المستقيمة، شرعه الله لعباده رحمة بهم، وإحسانًا إليهم وحمية لهم وجنة.
وكان هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه أكمل الهدي، وأعظم تحصيل للمقصود، وأسهله على النفوس» (2).
ويجب علينا: أن نعرف ونتعلم فقهه وسننه وآدابه وأسراره؛ حتى نحصل أجر الصائمين وجزاء المتقين، الذي أعده الله عز وجل لعباده الطائعين المخبتين.
عن أبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللَّهُ: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ
…» الحديث (3).
إن الصيام مدرسة عظيمة، يتعلم فيها المسلم كيف يعود نفسه على خصال الخير التي يحبها الله عز وجل ويرضاها.
ويعود لسانه: أن يكف ويمتنع عن قول الزور، والفحش من القول، وأن يُلجمه عن الغيبة والنميمة إِلجامًا، وأن يُرطب لسانه أثناء صومه بذكر الله تعالى وقراءة القرآن الكريم، وأن ينطق بالمعروف دائمًا، وإن سابه أحدٌ أو خاصمه أو قاتله لا يرد السيئة بمثلها، بل يقول: «إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ».
--------------------------------------------
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "রোজা ঢালস্বরূপ" (১), আর তিনি এমন ব্যক্তিকে রোজার নির্দেশ দিয়েছেন যার কামভাব তীব্র হয়েছে অথচ বিবাহের সামর্থ্য নেই, এবং তিনি রোজাকে এই লালসার প্রশমনকারী বানিয়েছেন।
মূল উদ্দেশ্য হলো: যেহেতু রোজার কল্যাণসমূহ সুস্থ বুদ্ধি ও সঠিক স্বভাব দ্বারা প্রমাণিত, তাই আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া হিসেবে, তাদের প্রতি অনুগ্রহ হিসেবে এবং তাদের জন্য সুরক্ষা ও ঢাল হিসেবে এটি বিধিবদ্ধ করেছেন।
রোজার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ ছিল সর্বোত্তম আদর্শ, যা ছিল উদ্দেশ্য অর্জনে সর্বাধিক সহায়ক এবং প্রবৃত্তির জন্য অত্যন্ত সহজসাধ্য (২)।
আর আমাদের জন্য আবশ্যক হলো: রোজার ফিকহ, সুন্নাহ, আদব ও এর নিগূঢ় রহস্যসমূহ জানা এবং শিক্ষা করা; যাতে আমরা রোজাদারদের পুণ্য এবং মুত্তাকীদের প্রতিদান লাভ করতে পারি, যা মহান আল্লাহ তাঁর অনুগত ও বিনীত বান্দাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা বলেছেন: বনী আদমের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, তবে রোজা ব্যতীত। কেননা তা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব …” হাদিস (৩)।
নিশ্চয়ই রোজা একটি মহান মাদ্রাসা, যেখানে একজন মুসলিম শিখতে পারে কীভাবে নিজেকে ওইসব উত্তম গুণাবলিতে অভ্যস্ত করতে হয় যা মহান আল্লাহ ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
এবং সে তার জিহ্বাকে অভ্যস্ত করে: মিথ্যা কথা ও অশ্লীল বাক্য থেকে বিরত থাকতে, আর গিবত ও চোগলখুরি থেকে জিহ্বাকে কঠোরভাবে সংযত রাখতে। সে যেন রোজার অবস্থায় আল্লাহর জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিজের জিহ্বাকে সিক্ত রাখে এবং সর্বদা ভালো কথা বলে। যদি কেউ তাকে গালি দেয়, তার সাথে ঝগড়া বা বিবাদে লিপ্ত হয়, তবে সে মন্দের জবাব মন্দ দিয়ে দেবে না, বরং বলবে: "আমি একজন রোজাদার ব্যক্তি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৫)
ويعود الصائم يده على فعل الخيرات، وإعطاء الصدقات وإيتاء الزكوات، فلا يستعملها إلا في الخير دائمًا، فيكون جوادًا كريمًا كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ويعود الصائم نفسه على الصيام عن الشهوات والملذات كما صامت عن المأكل والمشرب وكثير من المباحات أثناء الصيام.
ويعود الصائم نفسه على قراءة القرآن وختمه باستمرار كما اعتاد ذلك أثناء الصيام، وربما دعاه ذلك إلى حفظه وتعلم أحكام تلاوته، ويعود نفسه على القيام بين يدي الله تعالى في السحر يناجي ربه ساجدًا وقائمًا ومخبتًا؛ فيفوز بالخير والثواب العظيم.
إننا نحتاج حقيقة إلى هذه المدرسة كل عام، نجدد إيماننا، ونطهر نفوسنا، وننقي أبداننا، ونتقرب من الله عز وجل، فلله الحمد في الأولى والأخرة على شرعه الحكيم وكتابه المنير.
ولقد جمعت في هذه الرسالة جملة من السنن والآداب التي يحتاجها الصائم في شهر رمضان وفي غيره من الأيام المباركات، راجيًا من الله تعالى القبول والرضوان، وأسميتها: «تذكير الأنام بسنن وآداب الصيام»، وما كان لي ذلك إلا بتوفيقٍ من الله عز وجل.
ولقد اعتمدت على كثيرٍ من كتب علماء الإسلام -رحمهم الله تعالى- وعفا عنا وعنهم أجمعين، فأدعوا الله عز وجل السميع المجيب، اللطيف الخبير، أن ييسر لي ولغيري من أبناء المسلمين ما فيه خدمة الدين الحنيف، وأن يستعملنا دائمًا لنصرة الدين، وحمل لواء الشريعة الغراء ما حيينا إلى أن نلقى الله الكريم، إنه على كل شيء قدير، وهو حسبي ونعم الوكيل.
كتبه
سالم جمال الهنداوي
مصر - المنصورة
ت/ 01007530767
شهر رمضان المبارك 1433هـ - أغسطس 2012مـ
রোজা পালনকারী তার হাতকে কল্যাণকর কাজ সম্পাদন, দান-সদকা প্রদান এবং জাকাত আদায়ে অভ্যস্ত করে তোলে। ফলে সে হাতকে সর্বদা কেবল কল্যাণেই ব্যবহার করে এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মতো দানশীল ও মহানুভব হয়ে ওঠে।
রোজা পালনকারী নিজের নফসকে প্রবৃত্তি ও ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থাকতে অভ্যস্ত করে, ঠিক যেমন সে রোজার সময় পানাহার এবং অনেক বৈধ (مباح) বিষয় থেকে বিরত থেকেছে।
রোজা পালনকারী নিজেকে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও তা খতম করতে অভ্যস্ত করে, যেমনটি সে রোজার সময় অভ্যস্ত ছিল। সম্ভবত এটি তাকে কুরআন হিফজ এবং তিলাওয়াতের আহকাম বা নিয়মাবলি শিখতে উদ্বুদ্ধ করবে। সে নিজেকে শেষ রাতে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে ইবাদত করতে অভ্যস্ত করে, যেখানে সে সিজদাবনত, দণ্ডায়মান এবং বিনীত অবস্থায় তার রবের সাথে একান্তে কথা বলে; ফলে সে প্রভূত কল্যাণ ও মহান সওয়াব লাভে ধন্য হয়।
প্রকৃতপক্ষে প্রতি বছর আমাদের এই মাদরাসা বা বিদ্যাপীঠের প্রয়োজন হয়, যাতে আমরা আমাদের ঈমানকে নবায়ন করতে পারি, আমাদের নফসকে পবিত্র করতে পারি, আমাদের দেহকে পরিশুদ্ধ করতে পারি এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নৈকট্য লাভ করতে পারি। সুতরাং দুনিয়া ও আখিরাতে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ শরিয়ত এবং উজ্জ্বল কিতাবের ওপর।
আমি এই পুস্তিকায় বেশ কিছু সুন্নাত (سنن) ও শিষ্টাচার সংকলন করেছি যা রমজান মাসে এবং অন্যান্য বরকতময় দিনগুলোতে একজন রোজা পালনকারীর প্রয়োজন হয়। আমি মহান আল্লাহর নিকট এর কবুলিয়ত ও সন্তুষ্টি কামনা করছি। আমি এর নামকরণ করেছি: 'তাযকিরুল আনাম বিসুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম'। আর এটি কেবল আল্লাহর তাওফিকের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।
আমি ইসলামের ওলামায়ে কিরাম—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন এবং আমাদের ও তাঁদের সকলকে ক্ষমা করুন—তাঁদের অনেক কিতাবের ওপর নির্ভর করেছি। আমি সর্বশ্রোতা, কবুলকারী, অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিকট দোয়া করি যেন তিনি আমার জন্য এবং অন্যান্য মুসলিম সন্তানদের জন্য সত্য দ্বীনের খিদমত করা সহজ করে দেন। তিনি যেন আমাদের সর্বদা দ্বীনকে সাহায্য করার জন্য এবং যতদিন জীবিত থাকি ততদিন পর্যন্ত উজ্জ্বল শরিয়তের ঝান্ডা বহন করার তৌফিক দান করেন, যতক্ষণ না আমরা মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করি। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশীল। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।
লিখেছেন
সালেম জামাল আল-হিনদাভি
মিসর - মানসুরা
টেলিফোন/ ০১০০৭৫৩০৭৬৭
পবিত্র রমজান মাস ১৪৩৩ হিজরি - আগস্ট ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৬)
تمهيد
تعريف السنة
معنى السنة لغةً وشرعًا:السنة لغة: هي الطريقة المسلوكة، وأصلها من قولهم سننت الشيء بالمسن إذا أمررته عليه حتى يؤثر فيه سنًا أي: طريقًا، وقال الكسائي: معناها الدوام، فقولنا: سنة معناه الأمر بالإدامة، من قولهم: سننت الماء إذا واليت في صبه.
قال الخطابي: أصلها الطريقة المحمودة، فإذا أطلقت انصرفت إليها، وقد يستعمل في غيرها مقيدة كقوله: «مَنْ سَنَّ سُنَّةً سَيِّئَةً» (1).
وقيل: هي الطريقة المعتادة، سواءً كانت حسنة أو سيئة، كما في الحديث الصحيح: «من سن سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة ومن سن سنة سيئة كان عليه وزرها ووزر من عمل بها إلى يوم القيامة» (2).
وأما معناها شرعًا: أي: في اصطلاح أهل الشرع فهي: قول النبي صلى الله عليه وسلم وفعله وتقريره، وتطلق بالمعنى العام على الواجب وغيره في عرف أهل اللغة والحديث.
وأما في عرف أهل الفقه: فإنما يطلقونها على ما ليس بواجب، وتطلق على ما يقابل البدعة كقولهم: فلان من أهل السنة.
قال ابن فارس في «فقه اللغة العربية»: وكره العلماء قول من قال: سنة أبي بكر وعمر، وإنما يقال: سنة الله وسنة رسوله.
--------------------------------------------
ভূমিকাসুন্নাহর পরিচিতিঅভিধান ও শরয়ি পরিভাষায় সুন্নাহর অর্থ:সুন্নাহর আভিধানিক অর্থ: এটি হলো অনুসৃত পথ। এর মূল উৎস হলো আরবদের উক্তি "আমি শানপাথরের উপর কোনো বস্তু ঘষলাম", যখন আমি তার ওপর সেটি পরিচালনা করি যাতে তা একটি পথ বা চিহ্নের সৃষ্টি করে। কিসায়ি বলেন: এর অর্থ হলো স্থায়িত্ব। সুতরাং আমাদের কথা 'সুন্নাহ' অর্থ হলো কোনো কিছু স্থায়ী করার নির্দেশ; এটি তাদের উক্তি "আমি নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি ঢাললাম" থেকে গৃহীত।
খাত্তাবি বলেন: এর মূল অর্থ হলো প্রশংসনীয় পথ। সুতরাং যখন শব্দটি সাধারণভাবে প্রয়োগ করা হয়, তখন এটি সেই প্রশংসনীয় পথকেই বোঝায়। তবে কখনো কখনো এটি অন্য অর্থেও শর্তযুক্তভাবে ব্যবহৃত হয়, যেমন তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো মন্দ রীতির (سنة سيئة) প্রচলন করবে" (১)।
কেউ কেউ বলেছেন: এটি হলো প্রথাগত পদ্ধতি, চাই তা ভালো হোক বা মন্দ। যেমনটি সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো রীতির (سنة حسنة) প্রচলন করবে, তার জন্য রয়েছে এর সওয়াব এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এর ওপর আমল করবে তাদের সওয়াব। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ রীতির (سنة سيئة) প্রচলন করবে, তার ওপর বর্তাবে এর পাপ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এর ওপর আমল করবে তাদের পাপ" (২)।
আর শরয়ি পরিভাষায় এর অর্থ: অর্থাৎ শরয়ি বিশেষজ্ঞগণের পরিভাষায় এটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি (تقرير)। ভাষা ও হাদিস বিশেষজ্ঞদের নিকট পরিভাষাগতভাবে এটি ওয়াজিব (واجب) ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর সাধারণভাবে প্রযুক্ত হয়।
পক্ষান্তরে ফিকহবিদদের পরিভাষায়: তাঁরা এটি কেবল ওয়াজিব (واجب) নয় এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন। এছাড়া এটি বিদআতের (بدعة) বিপরীত অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন তাঁদের উক্তি: "অমুক ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত"।
ইবনে ফারিস তাঁর 'ফিকহু লুগাতিল আরাবিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন: ওলামায়ে কেরাম কারো এ কথা বলা অপছন্দ করেছেন যে, "আবু বকর ও উমরের সুন্নাহ"। বরং কেবল "আল্লাহর সুন্নাহ" ও "তাঁর রাসূলের সুন্নাহ" বলাই বিধেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৭)
ويجاب عن هذا:
بأن النبي صلى الله عليه وسلم قد قال في الحديث الصحيح: «عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي، وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ» (1)، ويمكن أن يقال: إنه صلى الله عليه وسلم أراد بالسنة هنا الطريقة.
وقيل في حدها اصطلاحًا:
هي ما يرجح جانب وجوده على جانب عدمه ترجيحًا ليس معه المنع من النقيض.
وقيل: هي ما واظب على فعله النبي صلى الله عليه وسلم مع ترك ما بلا عذر.
وقيل: هي في العبادات النافلة، وفي الأدلة ما صدر عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير القرآن من قول أو فعل أو تقرير (2).
الفرق بين المستحب والمسنونقال الشيخ ابن عثيمين رحمه الله: المستحب هو المسنون، وهو ما أمر به لا على وجه الإلزام بالفعل، فإن أمر به على وجه الإلزام كان واجبًا.
وحكم المستحب: أن يثاب فاعله امتثالاً ولا يعاقب تاركه، ولكنَّ ثوابَ المستحب أو المسنون أقل من ثواب الواجب، بالدليل الأثرى والنظري.
أما الدليل الأثري: فقوله تعالى في الحديث القدسي: «وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ» (3)، فصلاة ركعتين فريضة أحب إلى الله من صلاة ركعتين نافلة.
وأما الدليل النظري: فإن إيجاب الله للواجب يدل على أنه أوكد، وأنَّ المكلف محتاج إليه أكثر من احتياجه إلى النوافل.
--------------------------------------------
এর উত্তর হলো:
নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহিহ (صحيح) হাদিসে বলেছেন: «তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো, একে তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো» (১), এবং এটিও বলা সম্ভব যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এখানে সুন্নাহ দ্বারা পদ্ধতি বা পথ উদ্দেশ্য করেছেন।
পারিভাষিক সংজ্ঞায় এর সম্বন্ধে বলা হয়েছে:
এটি এমন বিষয় যার অস্তিত্বের দিকটি অনস্তিত্বের দিকের ওপর এমনভাবে প্রাধান্য পায়, যাতে তার বিপরীতে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকে না।
আবার বলা হয়েছে: এটি এমন বিষয় যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়মিতভাবে পালন করেছেন, তবে কোনো ওজর ছাড়াই কখনো কখনো তা বর্জন করেছেন।
আরও বলা হয়েছে: ইবাদতের ক্ষেত্রে এটি নফল (نافلة) ইবাদতসমূহ, আর দলীলের ক্ষেত্রে এটি হলো কুরআন ব্যতীত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা কিছু কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি (تقرير) হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে (২)।
মুস্তাহাব ও মাসনুনের মধ্যে পার্থক্যশেখ ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: মুস্তাহাবই হলো মাসনুন; আর তা হলো এমন বিষয় যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তবে পালনের ক্ষেত্রে তা আবশ্যকীয় করা হয়নি। যদি তা পালনের ক্ষেত্রে আবশ্যকীয়ভাবে নির্দেশ দেওয়া হতো, তবে তা ওয়াজিব (واجب) হতো।
মুস্তাহাবের বিধান হলো: নির্দেশ পালনার্থে এর সম্পাদনকারী সওয়াব লাভ করবেন এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হবেন না। তবে বর্ণনামূলক ও যুক্তিনির্ভর দলীলের ভিত্তিতে মুস্তাহাব বা মাসনুনের সওয়াব ওয়াজিব (واجب)-এর সওয়াবের চেয়ে কম।
বর্ণনামূলক দলীল হলো: হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহর বাণী: «আমার বান্দা আমার প্রতি সর্বাধিক প্রিয় যে আমলের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করে তা হলো যা আমি তার ওপর ফরজ (فرض) করেছি» (৩)। সুতরাং দুই রাকাত ফরজ (فرض) সালাত আল্লাহর কাছে দুই রাকাত নফল (نافلة) সালাতের চেয়ে বেশি প্রিয়।
আর যুক্তিনির্ভর দলীল হলো: আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বিষয়কে ওয়াজিব (واجب) করা প্রমাণ করে যে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং মুকাল্লাফ ব্যক্তির জন্য নফলের তুলনায় এর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৮)
وهل يفرَّق بين المستحب والمسنون؟
الجواب: فرق بعض العلماء بينهما بأن المستحب ما ثبت بقياس، والمسنون ما ثبت بسنة، أي بدليل.
ولكن الصحيح: أنه لا فرق والمسألة اصطلاحية، فعند الحنابلة لا فرق بينهما، فلا فرق بين أن نقول: يستحب أن يتوضأ ثلاثًا، وأن نقول: يسن أن يتوضأ ثلاثًا، وهذا مجرد اصطلاح، أي: لو أن أحدًا قال في مؤلف له: أنا إن عبَّرت بيسن فإنما أعبِّر عن ثابت بسنة، وإن عبرت بيستحب فإنما عبرت عن ثابت بقياس، ثم مشى على هذا الاصطلاح لم ينكر عليه (1).
--------------------------------------------
মুস্তাহাব (المستحب) ও মাসনুন (المسنون)-এর মধ্যে কি কোনো পার্থক্য করা হবে?
উত্তর: কোনো কোনো আলেম এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন এভাবে যে, মুস্তাহাব (المستحب) হলো যা কিয়াস (قياس) দ্বারা প্রমাণিত (ثابت), আর মাসনুন (المسنون) হলো যা সুন্নাহ (سنة) তথা দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত (ثابت)।
তবে সঠিক (الصحيح) মত হলো: এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং বিষয়টি পারিভাষিক (اصطلاحية)। হাম্বলিদের নিকট এ দুয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সুতরাং আমাদের এ কথা বলা যে ‘তিনবার অজু করা মুস্তাহাব (يستحب)’, আর এ কথা বলা যে ‘তিনবার অজু করা সুন্নাত (يسن)’—এ দুয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটি কেবল একটি পরিভাষা (اصطلاح) মাত্র। অর্থাৎ, যদি কেউ তার কোনো রচনায় বলেন: আমি যদি ‘সুন্নাত (يسن)’ শব্দ ব্যবহার করি তবে তা সুন্নাহ (سنة) দ্বারা প্রমাণিত (ثابت) বিষয়কে নির্দেশ করবে, আর যদি ‘মুস্তাহাব (يستحب)’ শব্দ ব্যবহার করি তবে তা কিয়াস (قياس) দ্বারা প্রমাণিত (ثابت) বিষয়কে নির্দেশ করবে—অতঃপর তিনি যদি এই পরিভাষা (اصطلاح) অনুযায়ী চলেন, তবে তার ওপর কোনো আপত্তি (ينكر عليه) করা হবে না (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৯)
প্রথম পরিচ্ছেদ
সিয়ামের সুন্নাতসমূহ
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الأول: سنن الصيامللصيام سنن حسنة كان يفعلها النبي صلى الله عليه وسلم ويحث أصحابه على المداومة عليها وفعلها، وكذلك له جملة من الآداب يستحب للمسلم أن يهتم بها، وأن يحافظ عليها رجاء الثواب والفضل من الله عز وجل.
فمن سنن الصيام:
1 - السحور:السَّحور: بالفتح اسم لما يُؤكل وقت السحر، والسُّحور: هو المصدر أو فعل الفاعل، وكلا الضبطين مناسب إذا ذُكر لفظ «الطعام»، أما إذا لم يُذكر فلا يصح إلا لفظ السَّحور بالفتح؛ لأن السَّحور هو الذي يُؤكل (1).
قال ابن المنذر رحمه الله: أجمع العلماء أن السحور مندوب إليه مستحب، ولا مأثم على من تركه، وحض أمته عليه السلام عليه؛ ليكون قوة لهم على صيامهم (2).
وعن أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً» (3).
قال الإمام النووي رحمه الله:
فيه الحث على السحور، وأجمع العلماء على استحبابه وأنه ليس بواجب، وأما البركة التي فيه فظاهرة؛ لأنه يقوي على الصيام، وينشط له، وتحصل بسببه الرغبة في الازدياد من الصيام؛ لخفة المشقة فيه على المتسحر، فهذا هو الصواب المعتمد في معناه.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সিয়ামের সুন্নাতসমূহ (سنن)সিয়ামের জন্য বেশ কিছু উত্তম সুন্নাত (سنن) রয়েছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করতেন এবং তাঁর সাহাবীদের তা নিয়মিত করার ও পালন করার উৎসাহ দিতেন। তদ্রূপ এর একগুচ্ছ আদব রয়েছে যা একজন মুসলিমের জন্য গুরুত্ব দেওয়া এবং সওয়াব ও মহান আল্লাহর অনুগ্রহের আশায় তা রক্ষা করা মুস্তাহাব (مستحب)।
সিয়ামের সুন্নাতসমূহের (سنن) মধ্যে রয়েছে:
১ - সাহরি (السحور):সাহুর (السَّحور): 'সীন' বর্ণে জবরসহ উচ্চারণ করলে তা ঐ খাদ্যদ্রব্যকে বোঝায় যা শেষ রাতে খাওয়া হয়। আর সুহুর (السُّحور): এটি হলো মূল উৎস বা কর্ম। শব্দটির সাথে যদি «খাবার» শব্দটি উল্লেখ থাকে তবে উভয় প্রকার উচ্চারণই সঠিক; তবে যদি খাবারের উল্লেখ না থাকে তবে জবর যোগে 'সাহুর' (السَّحور) বলাই সঠিক; কারণ সাহুর হলো যা খাওয়া হয় (১)।
ইবনুল মুনযির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে, সাহরি গ্রহণ করা পছন্দনীয় (مندوب) ও মুস্তাহাব (مستحب), আর যে ব্যক্তি এটি বর্জন করে তার কোনো গুনাহ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন যাতে এটি তাদের সিয়ামের জন্য শক্তির উৎস হয় (২)।
আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা সাহরি গ্রহণ করো, কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে» (৩)।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
এতে সাহরি খাওয়ার উৎসাহ রয়েছে। ওলামায়ে কেরাম এটি মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন এবং এটি আবশ্যক (واجب) নয়। আর এতে যে বরকত রয়েছে তা সুস্পষ্ট; কারণ এটি সিয়াম পালনে শক্তি যোগায়, মনে প্রফুল্লতা আনে এবং এর ফলে সিয়াম বৃদ্ধিতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়; কারণ সাহরি গ্রহণকারীর জন্য সিয়ামের কষ্ট লাঘব হয়। এর অর্থের ক্ষেত্রে এটিই সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقيل: لأنه يتضمن الاستيقاظ، والذكر، والدعاء في ذلك الوقت الشريف وقت تنزل الرحمة وقبول الدعاء والاستغفار، وربما توضأ صاحبه وصلى، أو أدام الاستيقاظ للذكر والدعاء والصلاة أو التأهب لها حتى يطلع الفجر (1).
وعَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ، صَاحِبِ الزِّيَادِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ، يُحَدِّثُ عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَسَحَّرُ، فَقَالَ: «إِنَّهَا بَرَكَةٌ أَعْطَاكُمُ اللَّهُ إِيَّاهَا فَلَا تَدَعُوهُ» (2).
وعَنْ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِ يكَرِبَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «عَلَيْكُمْ بِغَدَاءِ السُّحُورِ؛ فَإِنَّهُ هُوَ الْغَدَاءُ الْمُبَارَكُ» (3)، وسبب البركة: أنه يقوي الصائم، وينشطه، ويهون عليه الصيام.
وعَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الْمُتَسَحِّرِينَ» (4).
قال ابن حجر في «فتح الباري»: «السحور» هو بفتح السين وبضمها؛ لأن المراد بالبركة الأجر والثواب فيناسب الضم؛ لأنه مصدر بمعنى التسحر، أو البركة؛ لكونه يقوي على الصوم وينشط له ويخفف المشقة فيه فيناسب الفتح؛ لأنه ما يتسحر به.
وقيل: البركة ما يتضمن من الاستيقاظ والدعاء في السحر، والأولى أن البركة في السحور تحصل بجهات متعددة وهي: اتباع السنة، ومخالفة أهل الكتاب، والتقوي به على العبادة، والزيادة في النشاط، ومدافعة سوء الخلق الذي يثيره الجوع، والتسبب بالصدقة على من
--------------------------------------------
وقিল: এবং বলা হয়েছে: কারণ এতে ঐ মহিমান্বিত সময়ে—যখন রহমত নাজিল হয় এবং দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা কবুল হয়—জাগ্রত হওয়া, জিকির ও দোয়া করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সম্ভবত ব্যক্তিটি অজু করে সালাত আদায় করবেন, অথবা জিকির, দোয়া ও সালাতের জন্য কিংবা ফজরের উদয় পর্যন্ত তার প্রস্তুতির জন্য জাগ্রত থাকবেন (১)।
জিয়াদির সঙ্গী আব্দুল হামিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিসকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি সাহরি গ্রহণ করছিলেন। তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই এটি একটি বরকত যা আল্লাহ তোমাদের দান করেছেন, সুতরাং তোমরা এটি ত্যাগ করো না» (২)।
মিকদাম বিন মাদি কারিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «তোমরা সাহরির খাবার গ্রহণ করো; কারণ তা হলো বরকতময় খাবার» (৩)। আর বরকতের কারণ হলো: এটি রোজাদারকে শক্তিশালী ও সজীব করে এবং তার জন্য রোজা রাখাকে সহজতর করে।
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ সাহরি গ্রহণকারীদের জন্য রহমত ও দোয়া করেন» (৪)।
ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’-তে বলেছেন: ‘আস-সুহুর’ শব্দটি সীন বর্ণের ওপর ফাতহাহ ও দাম্মাহ উভয় যোগে পড়া যায়। কারণ বরকত দ্বারা যদি প্রতিদান ও সওয়াব উদ্দেশ্য হয় তবে দাম্মাহ উপযুক্ত; কারণ এটি ‘সাহরি গ্রহণ করা’ অর্থে ক্রিয়ামূল। অথবা বরকত দ্বারা যদি রোজা রাখার শক্তি অর্জন, সজীবতা এবং কষ্ট লাঘব উদ্দেশ্য হয় তবে ফাতহাহ উপযুক্ত; কারণ তখন এর অর্থ হয় যা দ্বারা সাহরি খাওয়া হয়।
এবং বলা হয়েছে: বরকত হলো শেষ রাতে জাগ্রত হওয়া এবং দোয়ার অন্তর্ভুক্ত থাকা। তবে উত্তম হলো এই যে, সাহরির বরকত বিভিন্ন দিক থেকে অর্জিত হয়, সেগুলো হলো: সুন্নাহর অনুসরণ, আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করা, ইবাদতের জন্য শক্তি অর্জন করা, কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করা এবং ক্ষুধার কারণে সৃষ্ট কটু আচরণ প্রতিরোধ করা এবং অভাবগ্রস্তদের সদকা করার কারণ হওয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১২)
يسأل إذ ذاك، أو يجتمع معه على الأكل والتسبب للذكر والدعاء وقت مظنة الإجابة، وتدارك نية الصوم لمن أغفلها قبل أن ينام.
قال ابن دقيق العيد: هذه البركة يجوز أن تعود إلى الأمور الأخروية؛ فإن إقامة السنة يوجب الأجر وزيادته، ويحتمل أن تعود إلى الأمور الدنيوية كقوة البدن على الصوم وتيسيره من غير إضرار بالصائم، قال: ومما يعلل به استحباب السحور المخالفة لأهل الكتاب؛ لأنه ممتنع عندهم، وهذا أحد الوجوه المقتضية للزيادة في الأجور الأخروية (1).
أكلةُ السحر فرق ما بين صيامنا وصيام أهل الكتاب:
عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «فَصْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ، أَكْلَةُ السَّحَرِ» (2).
قال الإمام النووي رحمه الله:
معناه: الفارق والمميز بين صيامنا وصيامهم السحور؛ فإنهم لا يتسحرون ونحن يستحب لنا السحور (3).
قال القرطبي: هذا الحديث يدل على أن السحور من خصائص هذه الأمة، ومما خفف به عنهم أكلة السحر (4).
وقال الإمام الخطابي رحمه الله:
معنى هذا الكلام: الحث على التسحر، وفيه الإعلام بأن هذا الدين يسر لا عسر فيه، وكان أهل الكتاب إذا ناموا بعد الإفطار لم يحل لهم معاودة الأكل والشرب، وعلى مثل ذلك كان
--------------------------------------------
সেই সময়ে (আল্লাহর নিকট) প্রার্থনা করা হয়, অথবা খাবারের জন্য একত্রিত হওয়া হয় এবং যিকির ও দোয়ার উপলক্ষ তৈরি করা হয় এমন এক সময়ে যখন দোয়া কবুল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া যে ব্যক্তি ঘুমানোর আগে সিয়ামের নিয়ত করতে ভুলে গিয়েছিল, তার জন্য তা সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়।
ইবনে দাকীক আল-ঈদ বলেন: এই বরকত পরকালীন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া সম্ভব; কারণ সুন্নাহ (سنة) পরিপালন সওয়াব লাভ ও তা বৃদ্ধির কারণ হয়ে থাকে। আবার এটি পার্থিব বিষয়ের সাথেও সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, যেমন সিয়াম পালনের জন্য শরীরের শক্তি অর্জন এবং রোজাদারের কোনো ক্ষতি ছাড়াই তা সহজতর হওয়া। তিনি বলেন: সাহরি মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার অন্যতম কারণ হলো আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করা; কারণ তাদের নিকট এটি নিষিদ্ধ। আর এটি পরকালীন সওয়াব বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ (১)।
সাহরির খাবার আমাদের এবং আহলে কিতাবদের সিয়ামের মধ্যকার পার্থক্যকারী:
আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমাদের সিয়াম এবং আহলে কিতাবদের সিয়ামের মধ্যকার পার্থক্য হলো সাহরির খাবার» (২)।
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
এর অর্থ হলো: আমাদের সিয়াম এবং তাদের সিয়ামের মধ্যে পার্থক্যকারী ও স্বাতন্ত্র্য সূচক বিষয়টি হলো সাহরি; কারণ তারা সাহরি খায় না, আর আমাদের জন্য সাহরি খাওয়া মুস্তাহাব (مستحب) (৩)।
কুরতুবী বলেন: এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, সাহরি এই উম্মতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, এবং সাহরির খাবারের মাধ্যমে তাদের ওপর বিধান সহজ করা হয়েছে (৪)।
ইমাম খাত্তাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
এই কথার অর্থ হলো: সাহরি গ্রহণে উৎসাহিত করা। এতে এই বার্তাও রয়েছে যে, এই দ্বীন সহজ, এতে কোনো কঠোরতা নেই। আহলে কিতাবরা ইফতারের পর ঘুমিয়ে পড়লে তাদের জন্য পুনরায় পানাহার বৈধ ছিল না, আর অনুরূপ বিধান ছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الأمر في أول الإسلام ثم نسخ الله عز وجل ذلك ورخص في الطعام والشراب إلى وقت الفجر بقوله: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ} [البقرة: 187] (1).
وقال الإمام الطحاوي رحمه الله:
فتأملنا هذا؛ لنقف على المعنى الذي أريد به ما هو، فوجدنا أهل الكتاب من شريعتهم أنهم إذا ناموا في ليلهم حرم عليهم بذلك في بقيته ما يحرم على الصائم، من إتيان النساء، ومن الأكل، ومن الشرب، إلى خروجهم من صوم غد تلك الليلة ، وكذلك كان أهل الإسلام في صدر الإسلام حتى نسخ الله ذلك بما نسخه من كتابه.
وعن معاذ بن جبل رضي الله عنه، قال: أحيلت الصلاة ثلاثة أحوال، والصيام ثلاثة أحوال فذكر أحوال الصلاة الثلاثة، ثم قال: وأما أحوال الصيام: فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قدم المدينة فصام من كل شهر ثلاثة أيام، وصام يوم عاشوراء فصامها كذا ستة عشر شهرًا أو سبعة عشر شهرًا، ثم أنزل الله: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ} [البقرة: 183] إلى قوله: {فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ} [البقرة:184]، وكان من شاء صام، ومن شاء أطعم مسكينًا وأجزأ ذلك عنه، حتى أنزل الله تعالى: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ} [البقرة: 185] إلى قوله: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} [البقرة: 185]، وإلى قوله: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} [البقرة: 185]، ففرضه الله وأثبت صيامه على الصحيح المقيم، ورخص فيه للمريض والمسافر، وثبت الإطعام للشيخ الذي لا يستطيع صيامه.
وكانوا يأكلون ويشربون ويأتون النساء، فإذا ناموا امتنعوا من ذلك، فجاء رجل يقال له صرمة قد ظل يومه يعمل، فجاء فصلى العشاء ووضع رأسه فنام قبل أن يطعم، فأصبح
--------------------------------------------
ইসলামের প্রাথমিক যুগে বিধানটি এমনই ছিল, অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তা রহিত (نسخ) করেন এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ফজর পর্যন্ত পানাহারের অনুমতি প্রদান করেন: {আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতো কালো সুতো থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়} [আল-বাকারাহ: ১৮৭] (১)।
ইমাম তহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
আমরা এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলাম; যাতে এর মাধ্যমে যা উদ্দেশ্য করা হয়েছে সেই মর্মার্থটি আমরা উপলব্ধি করতে পারি। আমরা দেখলাম যে, আহলে কিতাবদের শরিয়তে বিধান ছিল যে, তারা যদি রাতে ঘুমিয়ে পড়ত, তবে অবশিষ্ট রাতটুকুতে তাদের ওপর সেই কাজগুলো নিষিদ্ধ হয়ে যেত যা একজন রোজাদারের জন্য নিষিদ্ধ থাকে; যেমন- স্ত্রী সহবাস, পান ও আহার, যতক্ষণ না তারা সেই রাতের পরবর্তী দিনের রোজা সম্পন্ন করত। তেমনিভাবে ইসলামের শুরুর দিকে মুসলিমদের অবস্থাও এমনই ছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর কিতাবের মাধ্যমে যা রহিত (نسخ) করার তা রহিত (نسخ) করেছেন।
মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সালাতকে তিন পর্যায়ে পরিবর্তন করা হয়েছে এবং রোজা রাখাটিকেও তিন পর্যায়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। অতঃপর তিনি সালাতের তিনটি পর্যায়ের কথা উল্লেখ করলেন। এরপর বললেন: আর রোজার পর্যায়গুলো হলো— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন তিনি প্রতি মাসে তিন দিন এবং আশুরার দিন রোজা রাখতেন। এভাবে তিনি ১৬ বা ১৭ মাস রোজা রাখলেন। এরপর আল্লাহ নাযিল করলেন: {তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর} [আল-বাকারাহ: ১৮৩] থেকে আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {আর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো সৎ কাজ করবে, তবে তা তার জন্য কল্যাণকর হবে} [আল-বাকারাহ: ১৮৪]। তখন যার ইচ্ছা হতো রোজা রাখত এবং যার ইচ্ছা হতো একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়াত এবং তা তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হতো। অবশেষে আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে} [আল-বাকারাহ: ১৮৫] থেকে আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাস পায়, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে} [আল-বাকারাহ: ১৮৫], এবং এই বাণী পর্যন্ত: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কাঠিন্য চান না} [আল-বাকারাহ: ১৮৫]। অতঃপর আল্লাহ একে ফরজ (فرض) করলেন এবং সুস্থ (صحيح) ও মুকিম ব্যক্তির ওপর রোজা রাখা সাব্যস্ত করলেন, আর অসুস্থ ও মুসাফিরের জন্য অনুমতি প্রদান করলেন এবং ওই বৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য খাদ্য দান সাব্যস্ত করলেন যে রোজা রাখার সামর্থ্য রাখে না।
তারা পানাহার করত এবং স্ত্রীদের নিকট গমন করত, কিন্তু যখন তারা ঘুমিয়ে পড়ত, তখন এসব থেকে বিরত থাকত। এমতাবস্থায় সিরমাহ নামক এক ব্যক্তি আসলেন যিনি সারা দিন কাজ করেছিলেন। তিনি এসে ইশার সালাত আদায় করলেন এবং মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন আহার করার পূর্বেই, অতঃপর ভোর হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
صائمًا فرآه رسول الله صلى الله عليه وسلم من آخر النهار وقد أجهد فقال: «إني أراك قد أجهدت» فقال: يا رسول الله ظللت يومي أعمل فجئت صلاة العشاء فنمت قبل أن أطعم، وجاء عمر رضي الله عنه وقد أصاب من النساء، فنزلت هذا الآية: {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ} [البقرة: 187] إلى قوله: {مِنَ الْفَجْرِ} [البقرة: 187].
وقال أيضًا: فوقفنا بذلك على أن معنى ما روينا في حديث عمرو بن العاص هو أن صومنا جائز لنا أن نأكل في لياليه وإن كنا قد نمنا فيها، بخلاف صوم أهل الكتاب الذين إذا ناموا في ليالي صومهم لم يأكلوا فيه، حتى يمضي غد تلك الليلة (1).
--------------------------------------------
(তিনি) সিয়াম পালনরত ছিলেন, এমতাবস্থায় দিনের শেষভাগে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে দেখলেন যে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি বললেন: «আমি দেখছি যে তুমি পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছ।» তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি সারা দিন কাজ করেছি, অতঃপর এশার সালাত আদায় করতে আসলাম এবং আহার করার পূর্বেই ঘুমিয়ে পড়লাম। এদিকে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আসলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর স্ত্রীদের সাথে সংগত হয়েছিলেন। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস হালাল করা হয়েছে} [আল-বাকারা: ১৮৭] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {ফজর হওয়া পর্যন্ত} [আল-বাকারা: ১৮৭]।
তিনি আরও বলেন: এর মাধ্যমে আমরা এ বিষয়ের ওপর অবগত হলাম যে, আমর ইবনুল আস-এর বর্ণিত হাদিসে আমরা যা বর্ণনা করেছি তার অর্থ হলো—আমাদের সিয়াম এমন যে, এর রাতগুলোতে আমাদের জন্য পানাহার করা বৈধ যদিও আমরা তাতে ঘুমিয়ে পড়ি; যা আহলে কিতাবদের সিয়ামের বিপরীত। তারা যখন তাদের সিয়ামের রাতে ঘুমিয়ে পড়ত, তখন তারা সেই রাতে আর পানাহার করত না যতক্ষণ না সেই রাতের পরবর্তী দিনটি অতিবাহিত হতো (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن سنن الصيام:
2 - تأخير السحور:«ويسن تأخير السحور ما لم يقع في شكٍ في طلوع الفجر؛ لخبر: «لَا تَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْإِفْطَارَ، وَأَخَّرُوا السُّحُورَ» (1)
رواه الإمام أحمد؛ ولأنه أقرب إلى التقوي على العبادة،
--------------------------------------------
আর সিয়ামের সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো:
২ - সেহরি বিলম্বে গ্রহণ করা:«যতক্ষণ পর্যন্ত ফজর উদিত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ তৈরি না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সেহরি বিলম্ব করা সুন্নাত; কেননা বর্ণিত আছে: «আমার উম্মত ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের উপর থাকবে, যতক্ষণ তারা দ্রুত ইফতার করবে এবং সেহরি বিলম্বে করবে» (১)
ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন; আর এটি ইবাদতের জন্য শক্তি সঞ্চয়ের অধিক নিকটবর্তী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فإن شك في ذلك كأن تردد في بقاء الليل لم يسن التأخير بل الأفضل تركه؛ للخبر الصحيح: «دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ (1)» (2).
قال الإمام الشافعي رحمه الله: وأحب تعجيل الفطر وتأخير السحور؛ اتباعًا لرسول الله صلى الله عليه وسلم (3).
وقال الإمام النووي رحمه الله: قال أصحابنا: وإنما يستحب تأخير السحور مادام متيقنًا بقاء الليل، فمتى حصل شك فيه فالأفضل تركه (4).
وقال ابن حجر في «فتح الباري»: «قال بن عبد البر: أحاديث تعجيل الإفطار وتأخير السحور صحاح متواترة، وعند عبد الرزاق وغيره بإسناد صحيح عن عمرو بن ميمون الأودي قال: كان أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم أسرع الناس إفطارا وأبطأهم سحورًا» (5).
وعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ رضي الله عنه، حَدَّثَهُ: «أَنَّهُمْ تَسَحَّرُوا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ». قُلْتُ: كَمْ بَيْنَهُمَا؟ قَالَ: «قَدْرُ خَمْسِينَ أَوْ سِتِّينَ» يَعْنِي: آيَةً (6).
--------------------------------------------
যদি এই বিষয়ে সন্দেহ হয়, যেমন রাত অবশিষ্ট থাকার ব্যাপারে দ্বিধাবোধ হয়, তবে সাহরি বিলম্ব করা সুন্নত নয়, বরং তা বর্জন করাই উত্তম; সহিহ (صحيح) বর্ণনার কারণে: "যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে তা ছেড়ে দাও এবং যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না তার দিকে ধাবিত হও (১)" (২)।
ইমাম শাফেয়ি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমি দ্রুত ইফতার করা এবং সাহরি বিলম্ব করা পছন্দ করি; রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণে (৩)।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমাদের সাথীগণ বলেছেন: সাহরি বিলম্ব করা ততক্ষণই মুস্তাহাব যতক্ষণ রাত অবশিষ্ট থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকা যায়। কিন্তু যখনই এ ব্যাপারে সন্দেহ তৈরি হবে, তখন তা বর্জন করাই উত্তম (৪)।
ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারি’-তে বলেছেন: "ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: দ্রুত ইফতার এবং দেরিতে সাহরি করার হাদিসসমূহ সহিহ (صحاح) ও মুতাওয়াতির (متواترة)। আব্দুর রাজ্জাক ও অন্যদের নিকট সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) আমর ইবনে মায়মুন আল-আওদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ ছিলেন মানুষের মধ্যে দ্রুততম ইফতারকারী এবং বিলম্বিত সাহরি গ্রহণকারী" (৫)।
আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, যায়েদ ইবনে সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন: "তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাহরি খেয়েছেন, অতঃপর সালাতের জন্য দাঁড়িয়েছেন।" আমি জিজ্ঞেস করলাম: উভয়ের মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন: "পঞ্চাশ অথবা ষাটটি" অর্থাৎ: আয়াত (পরিমাণ) (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولفظُ مسلم: عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ رضي الله عنه، قَالَ: «تَسَحَّرْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلَاةِ». قُلْتُ: كَمْ كَانَ قَدْرُ مَا بَيْنَهُمَا؟ قَالَ: «خَمْسِينَ آيَةً» (1).
وقال ابن حجر في «فتح الباري»: «قال بن أبي جمرة: فيه إشارة إلى أن أوقاتهم كانت مستغرقة بالعبادة، وفيه تأخير السحور لكونه أبلغ في المقصود.
قال بن أبي جمرة: كان صلى الله عليه وسلم ينظر ما هو الأرفق بأمته فيفعله؛ لأنه لو لم يتسحر لاتبعوه فيشق على بعضهم، ولو تسحر في جوف الليل لشق أيضًا على بعضهم ممن يغلب عليه النوم فقد يفضي إلى ترك الصبح أو يحتاج إلى المجاهدة بالسهر، وقال: فيه أيضًا تقوية على الصيام لعموم الاحتياج إلى الطعام ولو ترك لشق على بعضهم، ولا سيما من كان صفراويًا فقد يغشى عليه فيفضي إلى الإفطار في رمضان.
قال: وفي الحديث تأنيس الفاضل أصحابه بالمؤاكلة، وجواز المشي بالليل للحاجة؛ لأن زيد ابن ثابت ما كان يبيت مع النبي صلى الله عليه وسلم، وفيه الاجتماع على السحور، وفيه حسن الأدب في العبارة؛ لقوله: «تسحرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم» ولم يقل نحن ورسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لما يشعر لفظ المعية بالتبعية» (2).
وعن زِرَّ بْنَ حُبَيْشٍ، قَالَ: «تَسَحَّرْتُ مَعَ حُذَيْفَةَ، ثُمَّ خَرَجْنَا إِلَى الصَّلَاةِ، فَلَمَّا أَتَيْنَا الْمَسْجِدَ صَلَّيْنَا رَكْعَتَيْنِ، وَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ وَلَيْسَ بَيْنَهُمَا إِلَّا هُنَيْهَةٌ» (3).
--------------------------------------------
মুসলিমের শব্দগুলো হলো: আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সাহরি খেয়েছিলাম, অতঃপর আমরা সালাতের জন্য দাঁড়ালাম।» আমি জিজ্ঞেস করলাম: «উভয়টির মাঝে ব্যবধান কতটুকু ছিল?» তিনি বললেন: «পঞ্চাশটি আয়াত (পাঠ করার সমপরিমাণ)» (১)।
ইবনে হাজার ফাতহুল বারী-তে বলেছেন: «ইবনে আবি জামরাহ বলেন: এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তাঁদের সময়গুলো ইবাদতে নিমগ্ন থাকত; আর এতে সাহরি বিলম্বিত করার বিষয় রয়েছে, কারণ তা (সাহরির) মূল উদ্দেশ্যের জন্য অধিক সহায়ক।
ইবনে আবি জামরাহ বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য যা অধিকতর সহজ হতো তা দেখতেন এবং সেটিই করতেন; কারণ তিনি যদি সাহরি না খেতেন, তবে তাঁরা (সাহাবাগণ) তাঁকে অনুসরণ করতেন, যা তাঁদের কারো কারো জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যেত। আবার তিনি যদি মধ্যরাতে সাহরি খেতেন, তবে তাও তাঁদের কারো কারো জন্য কষ্টসাধ্য হতো যাদের ওপর ঘুম প্রবল থাকে; কারণ তা ফজর বর্জন করার দিকে নিয়ে যেতে পারে অথবা রাত জেগে থাকার কষ্টের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি আরও বলেন: এতে রোজা রাখার জন্য শক্তি সঞ্চয়ও রয়েছে, কারণ খাবারের প্রয়োজনীয়তা সর্বজনীন; যদি সাহরি বর্জন করা হতো তবে তা কারো কারো জন্য কষ্টকর হতো, বিশেষ করে যাঁদের পিত্তপ্রকৃতির দৈহিক গঠন রয়েছে, তাঁরা মূর্ছা যেতে পারতেন যা রমজানে রোজা ভঙ্গের কারণ হতো।
তিনি বলেন: এই হাদিসে একজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির তাঁর সঙ্গীদের সাথে একত্রে আহারের মাধ্যমে হৃদ্যতা প্রকাশ এবং প্রয়োজনে রাতে চলাচলের বৈধতা প্রমাণিত হয়; কারণ জায়েদ ইবনে সাবিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে রাতযাপন করতেন না। এতে একত্রে সাহরি খাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। এছাড়া এতে শব্দ চয়নে চমৎকার আদব প্রকাশ পেয়েছে; কারণ তিনি বলেছেন: «আমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সাহরি খেয়েছিলাম», তিনি «আমরা এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)» বলেননি; কারণ 'সাথে' শব্দটি অনুগামী হওয়ার অর্থ প্রদান করে» (২)।
যিরর ইবনে হুবাইশ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি হুজাইফার সাথে সাহরি খেয়েছি, অতঃপর আমরা সালাতের উদ্দেশ্যে বের হলাম। যখন মসজিদে এলাম তখন আমরা দুই রাকাত সালাত পড়লাম এবং এরপরই সালাতের ইকামত দেওয়া হলো; উভয়ের মাঝে সামান্য সময় ছাড়া আর কোনো ব্যবধান ছিল না» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وروي عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه: أنه كان يقول لغلامه قنبر: ائتني بالغذاء المبارك، فيتسحر ويخرج فيؤذن ويصلي؛ ولأن في تعجيل الفطر وتأخير السحور قوة لجسده ومعونة لأداء عبادته (1).
تنبيه: ولا ينبغي لمؤخر السحور ومعجِّل الفطر أن يوقع فعلَه في مظنة التشكك، ودركُ اليقين في الطرفين أهمُّ من كل شيء (2).
التمر من أفضل ما يُتسحر به:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «نِعْمَ سَحُورُ الْمُؤْمِنِ التَّمْرُ» (3).
وفي التسحر به بركة عظيمة، وثوابًا كثيرًا، فيطلب تقديمه في السحور، وكذا في الفطور إن لم يوجد رطب، وإلا فهو أفضل في زمنه.
قال الطيبي: وإنما مدح التمر في هذا الوقت؛ لأن في نفس السحور ببركة وتخصيصه بالتمر بركة على بركة كما سبق: إذا أفطر أحدكم فليفطر على تمر فإنه بركة؛ ليكون المبدوء به والمنتهي إليه البركة (4).
وعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَسَحَّرُوا وَلَوْ بِجَرْعَةٍ مِنْ مَاءٍ» (5).
--------------------------------------------
আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি তাঁর ভৃত্য কানবারকে বলতেন, "আমার কাছে বরকতময় খাবার নিয়ে এসো।" অতঃপর তিনি সাহরি গ্রহণ করতেন এবং বের হয়ে আজান দিতেন ও সালাত আদায় করতেন। কারণ ইফতার ত্বরান্বিত করা এবং সাহরি বিলম্বিত করার মধ্যে শরীরের জন্য শক্তি এবং ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে সহায়তা রয়েছে (১)।
সতর্কবার্তা: সাহরি বিলম্বকারী এবং ইফতার ত্বরান্বিতকারীর জন্য উচিত নয় তার কাজকে সন্দেহের অবস্থায় ফেলা; বরং উভয় প্রান্তেই নিশ্চিত হওয়া অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (২)।
সাহরি করার জন্য খেজুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ খাদ্য:
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "মুমিনের কতই না চমৎকার সাহরি হলো খেজুর" (৩)।
এর মাধ্যমে সাহরি করার মধ্যে মহান বরকত এবং প্রচুর সওয়াব রয়েছে। তাই সাহরিতে এটি আগে গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়; অনুরূপভাবে ইফতারেও যদি তাজা খেজুর না পাওয়া যায়, অন্যথায় (মৌসুমের সময়) তাজা খেজুরই উত্তম।
আল-তিয়্যিবি বলেন: এই সময়ে খেজুরের প্রশংসা করা হয়েছে কারণ খোদ সাহরির মধ্যেই বরকত রয়েছে, আর একে খেজুরের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করা হলো বরকতের ওপর বরকত। যেমনটি আগে বর্ণিত হয়েছে: "তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, কারণ তাতে বরকত রয়েছে।" যাতে শুরু এবং শেষ উভয়ই বরকতময় হয় (৪)।
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা সাহরি করো, যদিও এক ঢোক পানি দিয়ে হয়" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال المناوي رحمه الله:
لأنه يحصل به الإعانة على الصوم بالخاصية، أو لأنه يحصل به النشاط ومدافعة سوء الخلق الذي يثيره العطش.
وقال: فإن البركة في الفعل باستعمال السنة لا في نفس الطعام (1).
--------------------------------------------
ইমাম আল-মুনাউয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
কেননা এর মাধ্যমে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে সিয়াম পালনে সহায়তা অর্জিত হয়, অথবা এর মাধ্যমে সজীবতা লাভ হয় এবং তৃষ্ণা থেকে উদ্ভূত মেজাজের রুক্ষতা প্রতিহত করা যায়।
তিনি আরও বলেছেন: নিশ্চয়ই বরকত নিহিত রয়েছে সুন্নাহ (سنة) অনুসরণের মাধ্যমে সম্পাদিত আমলের মধ্যে, কেবল খাদ্যের মাঝে নয় (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২০)
ومن سنن الصيام:
3 - تعجيل الفطرويًسن تعجيل الفطر، وذلك إذا تحقق وتيقن غروب الشمس.
قال الإمام الشافعي رحمه الله: «وأحب تعجيل الفطر وترك تأخيره، وإنما أكره تأخيره إذا عمد ذلك، كأنه يرى الفضل فيه» (1).
وعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ رضي الله عنه قَالَ: «لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ» (2).
قال ابن حجر في «فتح الباري»: «قال المهلب: والحكمة في ذلك أن لا يزاد في النهار من الليل؛ ولأنه أرفق بالصائم، وأقوى له على العبادة، واتفق العلماء على أن محل ذلك إذا تحقق غروب الشمس بالرؤية أو بإخبار عدلين، وكذا عدل واحد في الارجح (3).
وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ، عَجِّلُوا الْفِطْرَ؛ فَإِنَّ الْيَهُودَ يُؤَخِّرُونَ» (4).
وقال الإمام النووي رحمه الله: «فيه الحث على تعجيله بعد تحقق غروب الشمس، ومعناه: لا يزال أمر الأمة منتظمًا وهم بخير ما داموا محافظين على هذه السنة، وإذا أخروه كان ذلك علامة على فساد يقعون فيه» (5).
وقال الإمام السيوطي رحمه الله:
--------------------------------------------
সিয়ামের সুন্নতসমূহের মধ্যে রয়েছে:
৩ - ইফতার দ্রুত করাইফতার দ্রুত করা সুন্নত, আর তা তখনই যখন সূর্যাস্ত নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত ও সুনিশ্চিত হবে।
ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আমি ইফতার দ্রুত করা এবং তা বিলম্বিত করা বর্জন করা পছন্দ করি। আমি বিলম্বিত করাকে কেবল তখনই অপছন্দ করি যখন কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে তা করে, যেন সে মনে করছে এতে কোনো বিশেষ ফযিলত রয়েছে» (১)।
সাহল ইবনে সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মানুষ ততদিন কল্যাণের ওপর থাকবে, যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে» (২)।
ইবনে হাজার «ফাতহুল বারী» গ্রন্থে বলেন: «মুহাল্লাব বলেছেন: এর হিকমত হলো দিনে রাতের কোনো অংশ বৃদ্ধি না করা; আর এটি রোজাদারের জন্য অধিক সহজতর এবং ইবাদতের জন্য তাকে অধিক শক্তিশালীকারী। ওলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, ইফতারের সময় তখনই হবে যখন চাক্ষুষ দর্শনের মাধ্যমে অথবা দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির সংবাদের মাধ্যমে সূর্যাস্ত নিশ্চিত হবে; তেমনিভাবে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির মাধ্যমেও তা হতে পারে (৩)।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মানুষ ততদিন কল্যাণের ওপর থাকবে যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে। তোমরা দ্রুত ইফতার করো; কারণ ইহুদিরা বিলম্ব করে» (৪)।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «এতে সূর্যাস্ত নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত ইফতার করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এর অর্থ হলো: উম্মতের বিষয়াদি ততদিন সুশৃঙ্খল থাকবে এবং তারা কল্যাণে থাকবে যতদিন তারা এই সুন্নতের হেফাজত করবে। আর যখন তারা তা বিলম্বিত করবে, তখন তা তাদের মধ্যে কোনো বিপর্যয় ঘটার আলামত হিসেবে গণ্য হবে» (৫)।
ইমাম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২১)
«لا يزال الناس بخير ما عجلوا الفطر»؛ لما فيه من المحافظة على السنة، فإذا خالفوها إلى البدعة كان ذلك علامة على إفساد يقعون فيه (1).
وقال المناوي رحمه الله: «لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ» أي: ما داوموا على هذه السنة؛ لأن تعجيله بعد تيقن الغروب من سنن المرسلين، فمن حافظ عليه تخلق بأخلاقهم؛ ولأن فيه مخالفة أهل الكتاب في تأخيرهم إلى اشتباك النجوم وفي ملتنا شعار أهل البدع فمن خالفهم واتبع السنة لم يزل بخير، فإن أخر غير معتقد وجوب التأخير ولا ندبه فلا ضير فيه، كما قال الطيبي: أن متابعة الرسول صلى الله عليه وسلم هي الطريق المستقيم ومن تعوج عنها فقد ارتكب المعوج من الضلال ولو في العبادة» (2).
وقال ابن بطال رحمه الله: «قال المهلب: إنما حض عليه السلام على تعجيل الفطر؛ لئلا يزاد فى النهار ساعة من الليل فيكون ذلك زيادة فى فروض الله؛ ولأن ذلك أرفق بالصائم وأقوى له على الصيام، وقد روى محمد بن عمرو، عن أبى سلمة، عن أبى هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يزال الدين ظاهرًا ما عجل الناس الفطر؛ لأن اليهود يؤخرون». وقال عمرو بن ميمون الأودى: كان أصحاب محمد أسرع الناس فطرًا، وأبطأهم سحورًا. وقال سعيد بن المسيب: كتب عمر إلى أمراء الأجناد: لا تكونوا مسبوقين بفطركم، ولا منتظرين لصلاتكم اشتباك النجوم، وروى عبد الرزاق عن ابن جريج، قال: «سمعت عروة بن عياض يخبر عبد العزيز بن عبد الله أنه يؤمر أن يفطر قبل أن يصلى ولو على حسوة». وروى أيضًا عبد الرزاق عن صاحب له، عن عوف، عن أبى رجاء قال: «كنت أشهد ابن عباس عند الفطر فى رمضان، فكان يوضع له طعامه، ثم يأمر مراقبًا يراقب الشمس، فإذا قال: قد وجبت، قال: كلوا، ثم قال: كنا نفطر
--------------------------------------------
«মানুষ ততক্ষণ কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতক্ষণ তারা দ্রুত ইফতার করবে»; কারণ এর মধ্যে সুন্নাহর (سنة) রক্ষণাবেক্ষণ রয়েছে। সুতরাং তারা যখন সুন্নাহর বিরোধিতা করে বিদআতের (بدعة) দিকে ধাবিত হয়, তখন তা তাদের মধ্যে পতিত হওয়া বিপর্যয়ের লক্ষণ হিসেবে গণ্য হয় (১)।
আল-মুনাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «মানুষ ততক্ষণ কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতক্ষণ তারা দ্রুত ইফতার করবে» অর্থাৎ: যতক্ষণ তারা এই সুন্নাহর (سنة) ওপর অটল থাকবে; কারণ সূর্যাস্তের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত ইফতার করা রাসুলগণের সুন্নাহর (سنن) অন্তর্ভুক্ত। অতএব, যে ব্যক্তি এর রক্ষণাবেক্ষণ করল সে তাঁদের চরিত্রে চরিত্রবান হলো; আর কারণ এতে আহলে কিতাবদের বিরোধিতা রয়েছে যেহেতু তারা তারকারাজি স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করত এবং আমাদের শরীয়তে এটি বিদআতপন্থীদের (أهل البدع) পরিচায়ক। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের বিরোধিতা করল এবং সুন্নাহর (سنة) অনুসরণ করল সে কল্যাণের ওপরই রইল। আর যদি কেউ বিলম্ব করার বিষয়টিকে আবশ্যক (وجوب) বা পছন্দনীয় (ندبه) মনে না করে বিলম্ব করে, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। যেমন আল-তিবি বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণই হলো সঠিক পথ, আর যে ব্যক্তি তা থেকে বিচ্যুত হলো সে পথভ্রষ্টতার (ضلال) বক্র পথে লিপ্ত হলো, যদিও তা ইবাদতের ক্ষেত্রেও হয় (২)।
ইবনে বাত্তাল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «মুহাল্লাব বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্রুত ইফতার করার জন্য উৎসাহিত করেছেন; যাতে দিনের সাথে রাতের কোনো অংশ বৃদ্ধি না করা হয়, ফলে তা আল্লাহর নির্ধারিত ফরজসমূহের (فروض) মধ্যে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে; এছাড়া এটি রোজাদারের জন্য সহজতর এবং তাকে সিয়াম পালনে অধিক শক্তি যোগায়। মুহাম্মদ ইবনে আমর, আবু সালামা হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «দ্বীন (دين) ততক্ষণ বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ মানুষ দ্রুত ইফতার করবে; কারণ ইহুদিরা বিলম্ব করে»। আমর ইবনে মাইমুন আল-আওদি বলেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (أصحاب) সবার চেয়ে দ্রুত ইফতার করতেন এবং সবার শেষে সেহরি গ্রহণ করতেন। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেনাপতিদের নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন: ইফতারের ব্যাপারে তোমরা পিছিয়ে থেকো না এবং সালাতের জন্য তারকারাজি প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো না। আব্দুর রাজ্জাক ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি উরওয়াহ ইবনে ইয়াজকে আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহর নিকট সংবাদ দিতে শুনেছি যে, তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তিনি সালাত আদায়ের পূর্বেই ইফতার করেন, এমনকি তা এক ঢোক পানির বিনিময়ে হলেও»। আব্দুর রাজ্জাক তাঁর এক সাথীর মাধ্যমে আউফ থেকে এবং তিনি আবু রাজা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি রমজানে ইফতারের সময় ইবনে আব্বাসের নিকট উপস্থিত থাকতাম। তাঁর সামনে খাবার রাখা হতো, অতঃপর তিনি একজন পরিদর্শককে সূর্য পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দিতেন। যখন সে বলত: সূর্য অস্তমিত হয়েছে, তখন তিনি বলতেন: তোমরা খাও। এরপর বলতেন: আমরা এভাবেই ইফতার করতাম...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২)
قبل الصلاة»، وليس ما رواه مالك فى «الموطأ». عن ابن شهاب، عن حميد بن عبد الرحمن: «أن عمر وعثمان كانا يصليان المغرب حين ينظران إلى الليل الأسود قبل أن يفطرا، ويفطران بعد الصلاة»، بمخالف لما روى من تعجيل الفطر؛ لأنهما إنما كانا يراعيان أمر الصلاة، وكانا يعجلان الفطر بعدها من غير كثرة تنقل، لما جاء من تعجيل الفطر، ذكره الداودي (1).
وعَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ، عَلَى عَائِشَةَ رضي الله عنها فَقُلْنَا: «يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، رَجُلَانِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، أَحَدُهُمَا: يُعَجِّلُ الْإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلَاةَ، وَالْآخَرُ: يُؤَخِّرُ الْإِفْطَارَ وَيُؤَخِّرُ الصَّلَاةَ»، قَالَتْ: «أَيُّهُمَا الَّذِي يُعَجِّلُ الْإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلَاةَ؟». قَالَ: قُلْنَا: عَبْدُ اللهِ، يَعْنِي: ابْنَ مَسْعُودٍ. قَالَتْ: «كَذَلِكَ كَانَ يَصْنَعُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم»، زَادَ أَبُو كُرَيْبٍ: وَالْآخَرُ أَبُو مُوسَى (2).
وقال صاحب «مرقاة المفاتيح»: قال الطيبي: الأول عمل بالعزيمة والسنة، والثاني بالرخصة اهـ، وهذا بما يصح لو كان الاختلاف في الفعل فقط، أما إذا كان الخلاف قوليًا فيحمل على أن ابن مسعود اختار المبالغة في التعجيل وأبو موسى اختار عدم المبالغة فيه، وإلا فالرخصة متفق عليها عند الكل، والأحسن أن يحمل عمل ابن مسعود على السنة وعمل أبي موسى على بيان الجواز، كما سبق من عمل عمر وعثمان رضي الله عنهم أجمعين، وأما قول ابن حجر: وكان عذر أبي موسى أنه لم يبلغه فعل النبي صلى الله عليه وسلم فعذر بارد، والله أعلم (3).
--------------------------------------------
সালাতের আগে», এটি সেই বর্ণনা নয় যা মালেক তাঁর «মুওয়াত্তা» গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবনে শিহাব থেকে, তিনি হুমায়দ ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন: «উমর ও উসমান মাগরিবের সালাত আদায় করতেন যখন তাঁরা রাতের অন্ধকার দেখতে পেতেন, ইফতার করার পূর্বে; এবং তাঁরা সালাতের পর ইফতার করতেন», এটি ইফতার দ্রুত করার ব্যাপারে বর্ণিত বর্ণনার বিরোধী নয়; কেননা তাঁরা সালাতের বিষয়টি খেয়াল রাখতেন এবং এরপর কোনো অতিরিক্ত বিলম্ব না করে দ্রুত ইফতার করে নিতেন, কারণ ইফতার দ্রুত করার নির্দেশনা এসেছে, এটি দাউদি উল্লেখ করেছেন (১)।
আবু আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এবং মাসরুক আয়েশা (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করলাম এবং বললাম: «হে মুমিন জননী, মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে দুইজন ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁদের একজন: ইফতার দ্রুত করেন এবং সালাত দ্রুত আদায় করেন, আর অন্যজন: ইফতার বিলম্ব করেন এবং সালাত বিলম্ব করেন», তিনি জিজ্ঞেস করলেন: «কে ইফতার দ্রুত করেন এবং সালাত দ্রুত আদায় করেন?». তিনি বলেন, আমরা বললাম: আবদুল্লাহ, অর্থাৎ: ইবনে মাসউদ। তিনি বললেন: «রাসূলুল্লাহ (সা.) এভাবেই করতেন», আবু কুরাইব অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: আর অন্যজন ছিলেন আবু মুসা (২)।
«মিরকাতুল মাফাতিহ» গ্রন্থকার বলেছেন: তীবী বলেন: প্রথমটি দৃঢ়তা (عزيمة) এবং সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী আমল, আর দ্বিতীয়টি শিথিলতা (رخصة) অনুযায়ী। সমাপ্ত—এটি তখনই যথাযথ (صحيح) হতো যদি পার্থক্যটি কেবল কর্মগত হতো, কিন্তু যদি পার্থক্যটি বক্তব্য সংশ্লিষ্ট হয় তবে ধরে নেওয়া হবে যে ইবনে মাসউদ দ্রুত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করাকে পছন্দ করেছেন এবং আবু মুসা তাতে গুরুত্বারোপ না করাকে পছন্দ করেছেন, অন্যথায় শিথিলতা (رخصة) সকলের নিকটেই স্বীকৃত। আর সবচেয়ে উত্তম হলো ইবনে মাসউদের আমলকে সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গণ্য করা এবং আবু মুসার আমলকে বৈধতা (جواز) বর্ণনার ক্ষেত্রে গণ্য করা, যেমনটি ইতিপূর্বে উমর ও উসমান (রা.)-এর আমল থেকে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর ইবনে হাজারের বক্তব্য: আবু মুসার ওজর ছিল এই যে তাঁর নিকট রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমলের সংবাদ পৌঁছায়নি—এটি একটি দুর্বল ওজর, আল্লাহই ভালো জানেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن سنن الصيام:
4 - الفطر على رطبات، فإن لم يجد فعلى تمرات، فإن لم يجد فليفطر على ماء:ويسن للصائم أن يفطر على رطبات، فإن لم يجد فعلى تمرات، فإن لم يجد فليفطر على الماء؛ وذلك لحديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُفْطِرُ عَلَى رُطَبَاتٍ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ رُطَبَاتٌ، فَتَمَرَاتٌ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ تَمَرَاتٌ حَسَا حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ» (1).
وعن سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى تَمْرٍ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى الْمَاءِ؛ فَإِنَّهُ طَهُورٌ» (2).
قال الإمام الشوكاني رحمه الله: وإنما شرع الإفطار بالتمر؛ لأنه حلو، وكل حلو يقوي البصر الذي يضعف بالصوم، وهذا أحسن ما قيل في المناسبة وبيان وجه الحكمة. وقيل: لأن الحلو لا يوافق الإيمان ويرق القلب، وإذا كانت العلة كونه حلوًا، والحلو له ذلك التأثير فيلحق به الحلويات كلها، أما ما كان أشد منه حلاوة فبفحوى الخطاب، وما كان مساويًا له فبلحنه (3).
وقال الدهلوي رحمه الله: وفيه بيان الشكر على الحالات التي يستطيبها الإنسان بطبيعته أو عقله معًا، وفيه تأكيد الإخلاص في العمل والشكر على النعمة (4).
--------------------------------------------
রোযার সুন্নাতসমূহের মধ্যে রয়েছে:
৪ - তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করা, তা না পাওয়া গেলে শুকনো খেজুর দিয়ে, আর তাও না পাওয়া গেলে পানি দিয়ে ইফতার করা:রোযাদারের জন্য সুন্নাত হলো তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করা, তা না পাওয়া গেলে শুকনো খেজুর দিয়ে, আর তাও না পাওয়া গেলে পানি দিয়ে ইফতার করা; এর ভিত্তি হলো আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায়ের পূর্বে কয়েকটি তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না থাকত, তবে শুকনো খেজুর দিয়ে; আর শুকনো খেজুরও না থাকলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন» (১)।
সালমান ইবনে আমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। আর যদি তা না পায়, তবে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে; কেননা তা পবিত্র» (২)।
ইমাম শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: খেজুর দিয়ে ইফতার করা এজন্য বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যে, এটি মিষ্টি; আর প্রতিটি মিষ্টি জাতীয় বস্তু দৃষ্টিশক্তিকে শক্তিশালী করে যা রোযার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই প্রাসঙ্গিকতা এবং হিকমত বা তাৎপর্য বর্ণনার ক্ষেত্রে এটিই সর্বোত্তম বক্তব্য। আরও বলা হয়েছে: কারণ মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য ইমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং অন্তরকে নরম করে। যদি ইফতারের কারণ মিষ্টি হওয়া হয় এবং মিষ্টির এই প্রভাব থাকে, তবে সকল মিষ্টি জাতীয় দ্রব্যই এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যা খেজুরের চেয়ে বেশি মিষ্টি তা তো ভাষ্যের মর্মার্থ অনুযায়ী (فحوى الخطاب) এর অন্তর্ভুক্ত হবে, আর যা সমপর্যায়ের মিষ্টি তা ভাষ্যের ইঙ্গিত অনুযায়ী (لحن الخطاب) এর অন্তর্ভুক্ত হবে (৩)।
দেহলভি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এতে ওই অবস্থার ওপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বর্ণনা রয়েছে যা মানুষ তার প্রকৃতি বা বুদ্ধি দ্বারা একইভাবে উত্তম মনে করে। এতে আমলের একনিষ্ঠতা এবং নিআমতের ওপর শুকরিয়া আদায়ের গুরুত্বারোপ করা হয়েছে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال ابن القيم رحمه الله: وكان صلى الله عليه وسلم يحض على الفطر بالتمر، فإن لم يجد فعلى الماء، هذا من كمال شفقته على أمته ونصحهم، فإن إعطاء الطبيعة الشيء الحلو مع خلو المعدة أدعى إلى قبوله وانتفاع القوى به، ولا سيما القوة الباصرة، فإنها تقوى به، وحلاوة المدينة التمر، ومرباهم عليه، وهو عندهم قوت وأدم ورطبه فاكهة.
وأما الماء: فإن الكبد يحصل لها بالصوم نوع يبس، فإذا رطبت بالماء كمل انتفاعها بالغذاء بعده؛ ولهذا كان الأولى بالظمآن الجائع أن يبدأ قبل الأكل بشرب قليل من الماء، ثم يأكل بعده، هذا مع ما في التمر والماء من الخاصية التي لها تأثير في صلاح القلب لا يعلمها إلا أطباء القلوب.
وكان صلى الله عليه وسلم يفطر قبل أن يصلي، وكان فطره على رطبات إن وجدها، فإن لم يجدها فعلى تمرات، فإن لم يجد فعلى حسواتٍ من ماء (1).
--------------------------------------------
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুর দ্বারা ইফতার করার জন্য উৎসাহিত করতেন; আর খেজুর না পাওয়া গেলে পানি দ্বারা। এটি তাঁর উম্মতের প্রতি তাঁর মমতার পূর্ণতা ও হিতাকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। কেননা পাকস্থলী শূন্য থাকা অবস্থায় শরীরের প্রকৃতিকে মিষ্টি জাতীয় কিছু প্রদান করা হলে তা গ্রহণ করা এবং তদ্দ্বারা শারীরিক শক্তি, বিশেষত দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়া অধিক সহজ হয়। আর মদিনার প্রধান মিষ্টান্ন হলো খেজুর এবং তাদের লালন-পালনও এর ওপর ভিত্তি করেই; এটি তাদের নিকট প্রধান খাদ্য ও তরকারি হিসেবে গণ্য এবং এর তাজা ফল (রুতাব) হলো ফলমূলের ন্যায়।
আর পানির বিষয়টি হলো, রোজা রাখার কারণে কলিজায় এক প্রকার শুষ্কতা তৈরি হয়। সুতরাং তা যদি পানি দ্বারা সিক্ত করা হয়, তবে এর পরবর্তী খাদ্যের নির্যাস গ্রহণ করার যোগ্যতা পূর্ণতা পায়। এই কারণেই ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত ব্যক্তির জন্য সমীচীন হলো খাবারের আগে সামান্য পানি পান করে নেওয়া, অতঃপর আহার করা। এছাড়া খেজুর ও পানির মধ্যে এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার প্রভাব অন্তরের পরিশুদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকর, যা কেবল অন্তরের চিকিৎসকরাই অবগত।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায়ের পূর্বে ইফতার করতেন। তাঁর ইফতার হতো কয়েকটি তাজা খেজুরের মাধ্যমে যদি তা পাওয়া যেত। যদি তা না পাওয়া যেত তবে কয়েকটি শুকনো খেজুর দিয়ে। আর তাও না পাওয়া গেলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن سنن الصيام:
5 - النهي عن قول الزور، والعمل به، والجهل في الصوم:إن الصيام الذي أمرنا الله عز وجل به ليس صيامًا عن الطعام والشراب فقط، ولكنه صيام الجوارح كلها عن معصية الله عز وجل، وهذا هو مقصود الصيام وحقيقته، فالصائم لا يقول إلا خيرًا، ولا يغتاب ولا ينم ولا يسخر من أحدٍ.
قال ابن القيم-رحمه الله:
الصائم هو: الذي صامت جوارحه عن الآثام، ولسانه عن الكذب والفحش وقول الزور، وبطنه عن الطعام والشراب، وفرجه عن الرفث.
فإن تكلم لم يتكلم بما يجرح صومه، وإن فعل لم يفعل ما يفسد صومه، فيخرج كلامه كله نافعاً صالحاً، وكذلك أعماله فهي بمنزلة الرائحة التي يشمها من جالس حامل المسك، كذلك من جالس الصائم انتفع بمجالسته وأمن فيها من الزور والكذب والفجور والظلم، هذا هو الصوم المشروع لا مجرد الإمساك عن الطعام والشراب.
فالصوم هو صوم الجوارح عن الآثام، وصوم البطن عن الشراب والطعام، فكما أن الطعام والشراب يقطعه ويفسده فهكذا الآثام تقطع ثوابه وتفسد ثمرته، فتصيره بمنزلة من لم يصم (1).
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالعَمَلَ بِهِ، فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ» (2).
وفي لفظٍ: «مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ وَالْجَهْلَ، فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ بِأَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَلَا شَرَابَهُ» (3).
--------------------------------------------
সিয়ামের সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত:
৫ - রোজা অবস্থায় মিথ্যা কথা, মিথ্যা কাজ এবং মূর্খতা থেকে নিষেধ:মহান আল্লাহ আমাদের যে সিয়াম বা রোজা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন, তা কেবল পানাহার বর্জন করার নাম নয়; বরং এটি হলো আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বিরত রাখা। এটাই সিয়ামের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং হাকিকত। অতএব, রোজাদার কেবল কল্যাণকর কথাই বলবে এবং গিবত, চোগলখুরি কিংবা কাউকে নিয়ে উপহাস করবে না।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
প্রকৃত রোজাদার সেই, যার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুনাহ থেকে, জিহ্বা মিথ্যা, অশ্লীলতা ও মিথ্যাচার থেকে, পেট পানাহার থেকে এবং লজ্জাস্থান যৌন আচরণ থেকে বিরত থাকে।
সে যদি কথা বলে, তবে এমন কথা বলে না যা তার সিয়ামকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আর যদি কোনো কাজ করে, তবে এমন কাজ করে না যা তার সিয়ামকে নষ্ট করে। তার মুখ থেকে নির্গত প্রতিটি কথা হয় উপকারী ও নেক। একইভাবে তার আমলসমূহ সেই সুঘ্রাণের মতো, যা মৃগনাভি বহনকারীর সঙ্গীর নাকে এসে লাগে। তেমনিভাবে যে ব্যক্তি রোজাদারের কাছে বসে, সে তার মজলিশ থেকে উপকৃত হয় এবং সেখানে মিথ্যাচার, প্রতারণা, পাপাচার ও জুলুম থেকে নিরাপদ থাকে। এটিই হলো শরিয়তসম্মত সিয়াম, কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম সিয়াম নয়।
সুতরাং সিয়াম হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গুনাহ বর্জন এবং পেটের পানাহার বর্জন। যেভাবে পানাহার সিয়ামকে ভঙ্গ ও নষ্ট করে দেয়, তেমনিভাবে পাপাচার সিয়ামের সওয়াব মিটিয়ে দেয় এবং এর সুফল নষ্ট করে দেয়। ফলে এটি তাকে সেই ব্যক্তির স্তরে নামিয়ে দেয় যে আদতে সিয়াম পালনই করেনি (১)।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী কাজ করা বর্জন করল না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই" (২)।
অন্য একটি শব্দে এসেছে: "যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা, সে অনুযায়ী কাজ করা এবং মূর্খতা বর্জন করল না, তার খাদ্য ও পানীয় বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال ابن قدامة رحمه الله: ينبغي للصائم أن يحرس صومه عن الكذب والغيبة والشتم والمعاصي (1).
وقال ابن بطال رحمه الله: «قال المهلب: فيه دليل أن حكم الصيام الإمساك عن الرفث وقول الزور، كما يمسك عن الطعام والشراب، وإن لم يمسك عن ذلك فقد تنقص صيامه وتعرض لسخط ربه وترك قبوله منه.
وقال غيره: وليس معناه أن يؤمر بأن يدع صيامه إذا لم يدع قول الزور، وإنما معناه: التحذير من قول الزور، وهذا كقوله عليه السلام: «مَنْ بَاعَ الْخَمْرَ فَلْيُشَقِّصِ الْخَنَازِيرَ» (2)، يريد أي: يذبحها، ولم يأمره بشقصها، ولكنه على التحذير والتعظيم لإثم شارب الخمر، فكذلك حذر الصائم من قول الزور والعمل به ليتم أجر صيامه، فإن قيل: ما معنى قوله: «فليس لله حاجة» والله لا يحتاج إلى شئ؟ قيل معناه: فليس لله إرادة فى صيامه فوضع الحاجة موضع الإرادة (3).
وقال القاري رحمه الله: «من لم يدع» أي: يترك، «قول الزور» أي: الباطل وهو ما فيه إثم، والإضافة بيانية، وقال الطيبي: الزور الكذب والبهتان، أي: من لم يترك القول الباطل من قول الكفر وشهادة الزور والافتراء والغيبة والبهتان والقذف والسب والشتم واللعن وأمثالها مما يجب على الإنسان اجتنابها ويحرم عليه ارتكابها. «والعمل» بالنصب «به» أي: بالزور، يعني: الفواحش من
--------------------------------------------
ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: রোজা পালনকারীর উচিত তার রোজাকে মিথ্যা, গিবত, গালিগালাজ এবং পাপাচার থেকে রক্ষা করা (১)।
ইবনে বাত্তাল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «মুহাল্লাব বলেছেন: এতে প্রমাণ রয়েছে যে, রোজার বিধান হলো অশ্লীলতা এবং মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকা, যেমনভাবে পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়। আর যদি সে তা থেকে বিরত না থাকে, তবে তার রোজা ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায় এবং সে তার প্রতিপালকের অসন্তুষ্টির সম্মুখীন হয় এবং তার পক্ষ থেকে রোজা কবুল না হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আর অন্যান্যগণ বলেছেন: এর অর্থ এই নয় যে, তাকে রোজা ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হচ্ছে যদি সে মিথ্যা কথা বলা বর্জন না করে। বরং এর অর্থ হলো: মিথ্যা কথা বলা থেকে সতর্ক করা। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর মতো: «যে ব্যক্তি মদ বিক্রি করে সে যেন শূকর জবাই করে» (২); অর্থাৎ তিনি এটি জবাই করার কথা বুঝিয়েছেন, কিন্তু তাকে এটি জবাই করার নির্দেশ দেননি। বরং এটি মদ পানকারীর পাপের গুরুত্ব বোঝাতে এবং সতর্ক করার জন্য বলা হয়েছে। একইভাবে রোজা পালনকারীকে মিথ্যা বলা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে যেন তার রোজার সওয়াব পূর্ণ হয়। যদি প্রশ্ন করা হয়: «আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই» -এর অর্থ কী, অথচ আল্লাহ কোনো কিছুরই মুখাপেক্ষী নন? উত্তরে বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো সেই ব্যক্তির রোজার প্রতি আল্লাহর কোনো ইচ্ছা বা সন্তুষ্টি নেই; এখানে 'প্রয়োজন' শব্দটিকে 'ইচ্ছা'র স্থলে প্রয়োগ করা হয়েছে (৩)।
মোল্লা আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ত্যাগ করল না» অর্থাৎ বর্জন করল না, «মিথ্যা কথা» অর্থাৎ বাতিল কথা যা গুনাহের কাজ। আল্লামা তীবী বলেছেন: 'যূর' হলো মিথ্যা ও অপবাদ। অর্থাৎ যে ব্যক্তি কুফরি কথা, মিথ্যা সাক্ষ্য, অপবাদ, গিবত, তোহমত, ব্যভিচারের অপবাদ, গালিগালাজ ও অভিশাপের মতো বাতিল কথা বর্জন করল না, যা পরিহার করা মানুষের জন্য অপরিহার্য এবং লিপ্ত হওয়া হারাম। «এবং কাজ করা» নসব সহকারে «তার মাধ্যমে» অর্থাৎ মিথ্যার মাধ্যমে; এর অর্থ হলো অশ্লীল কাজসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الأعمال؛ لأنها في الإثم كالزور، وقال الطيبي: هو العمل بمقتضاه من الفواحش وما نهى الله عنه. «فليس لله حاجة» أي: التفات ومبالاة، وهو مجاز عن عدم القبول ينفي السبب وإرادة نفي المسبب. «في أن يدع» أي: يترك. «طعامه وشرابه» فإنهما مباحان في الجملة، فإذا تركهما وارتكب أمرًا حرامًا من أصله استحق المقت، وعدم قبول طاعته في الوقت، فإن المطلوب منه ترك المعاصي مطلقًا لا تركًا دون ترك، وكأن هذا مأخذ من قال: إن التوبة عن بعض المعاصي غير صحيحة، والصحيحة حصتها كما هو مقرر في محلها بناء على الفرق بين الصحة والقبول، فإنه لا يلزم من عدم القبول عدم الصحة بخلاف العكس، قال القاضي: المقصود من الصوم كسر الشهوة وتطويع الأمارة، فإذا لم يحصل منه ذلك لم يبال بصومه، ولم ينظر إليه نظر عناية، فعدم الحاجة عبارة عن عدم الالتفات والقبول، وكيف يلتفت إليه والحال أنه ترك ما يباح من غير زمان الصوم من الأكل والشرب وارتكب ما يحرم عليه في كل زمان؟ قال الطيبي: وفي الحديث دليل على أن الكذب والزور أصل الفواحش، ومعدن المناهي، بل قرين الشرك، قال تعالى: {(((((((((((((((الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ ((((((((} [الحج: 30]، وقد علم أن الشرك والزور مضاد للإخلاص، والصوم بالاختصاص فيرتفع بما يضاده، رواه البخاري.
وفي معناه: حديث الحاكم الذي صححه: «ليس الصيام من الأكل والشرب فقط إنما الصيام من اللغو والرفث».
ويؤخذ منه: أن يتأكد اجتناب المعاصي على الصائم كما قيل في الحج، لكن لا يبطل ثوابه من أصله بل كماله، فله ثواب الصوم وإثم المعصية، وأما ما نقله البيهقي عن الشافعي واختاره بعض أصحابه من أنه يبطل بذلك ثوابه من أصله فيحتاج إلى دليل معين، وعليل مبين، وأما قول ابن حجر: يتأكد على الصائم، أي: من حيث الصوم فلا ينافي كونه واجبًا من جهة أخرى أن يكف لسانه وسائر جوارحه من المباحات، وآكد من ذلك كف ما ذكر عن
কর্মসমূহ; কেননা পাপের দিক থেকে তা মিথ্যা সাক্ষ্যের (الزور) মতো। আল-তিবি রহ. বলেন: এটি হচ্ছে তার দাবি অনুযায়ী অশ্লীল কাজ এবং আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা করা। “আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই” অর্থাৎ: কোনো ভ্রুক্ষেপ বা গুরুত্ব নেই; আর এটি কবুল না হওয়া (عدم القبول) বোঝাতে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা মূলত কারণকে অস্বীকার করার মাধ্যমে ফলাফলকে অস্বীকার করারই নামান্তর। “বর্জন করার ক্ষেত্রে” অর্থাৎ: ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে। “তার পানাহারকে” কেননা এগুলো সামগ্রিকভাবে বৈধ (مباح)। সুতরাং সে যদি এগুলো বর্জন করে এবং মূলত একটি হারাম (حرام) কাজে লিপ্ত হয়, তবে সে আল্লাহর ক্রোধের এবং সেই সময়ের ইবাদত কবুল না হওয়ার (عدم قبول) উপযুক্ত হয়। কেননা তার নিকট কাম্য হচ্ছে সার্বিকভাবে গুনাহ বর্জন করা, আংশিক বর্জন নয়। আর যারা বলেন যে, কিছু গুনাহ থেকে তওবা করা সঠিক (صحيحة) নয়, এটি সম্ভবত তাদেরই গৃহীত দলিল। তবে বিশুদ্ধ মত হচ্ছে তওবা তার অংশ অনুযায়ী সঠিক (صحيحة), যেমনটি শুদ্ধতা (الصحة) ও কবুল হওয়ার (القبول) পার্থক্যের ভিত্তিতে স্বীয় স্থানে সাব্যস্ত হয়েছে। কারণ, কবুল না হওয়া (عدم القبول) থেকে শুদ্ধ না হওয়া (عدم الصحة) আবশ্যক হয় না, তবে এর উল্টোটা হতে পারে। কাজী বলেন: রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রবৃত্তির তাড়না দমন করা এবং কুপ্রবৃত্তিকে অনুগত করা। সুতরাং যদি রোজা দ্বারা তা অর্জিত না হয়, তবে সেই রোজার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হয় না এবং একে বিশেষ গুরুত্বের দৃষ্টিতে দেখা হয় না। অতএব, ‘প্রয়োজন না থাকা’ বলতে মনোযোগ না দেওয়া এবং কবুল না করাকে (القبول) বোঝানো হয়েছে। আর কীভাবে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে যখন অবস্থা এই যে, সে এমন কিছু বর্জন করেছে যা রোজার সময় ছাড়া অন্য সময়ে বৈধ (مباح) ছিল, অথচ সে এমন কাজে লিপ্ত হয়েছে যা সব সময়ের জন্য তার ওপর হারাম (يحرم)? আল-তিবি রহ. বলেন: এই হাদিসে প্রমাণ রয়েছে যে, মিথ্যা কথা ও মিথ্যা সাক্ষ্য (الزور) সকল অশ্লীলতার মূল এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর খনি, বরং এটি শিরকের সমতুল্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: {মূর্তিগুলোর অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক এবং মিথ্যা কথা (الزور) পরিহার কর} [হজ: ৩০]। আর এটি সুপরিজ্ঞাত যে, শিরক ও মিথ্যা সাক্ষ্য (الزور) ইখলাসের পরিপন্থী, আর রোজা বা সাওম হচ্ছে বিশেষত ইখলাসের ইবাদত; ফলে যা এর পরিপন্থী তা দ্বারা এর ফজিলত বিলুপ্ত হয়ে যায়। ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং একই অর্থে হাকেম কর্তৃক বর্ণিত হাদিসটি রয়েছে যাকে তিনি সহিহ (صححه) বলেছেন: “কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম রোজা নয়, বরং রোজা হলো অনর্থক কথা ও কাজ এবং অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা।”
আর এখান থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রোজাদারের জন্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা অধিক গুরুত্বের সাথে আবশ্যক যেমনটি হজের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। তবে এতে তার নেকি মূলত বাতিল হয়ে যায় না, বরং এর পূর্ণতা ক্ষুণ্ন হয়। সুতরাং সে রোজার সওয়াব পাবে এবং গুনাহের জন্য পাপী হবে। আর ইমাম বায়হাকি ইমাম শাফেয়ি থেকে যা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর কোনো কোনো অনুসারী যা পছন্দ করেছেন যে, এর দ্বারা নেকি মূলত বাতিল হয়ে যায়, তা প্রমাণের জন্য সুনির্দিষ্ট দলিল এবং সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন। আর ইবনে হাজারের উক্তি: ‘রোজাদারের জন্য তা অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, অর্থাৎ রোজার দৃষ্টিকোণ থেকে; সুতরাং এটি অন্য দিক থেকে ওয়াজিব (واجبًا) হওয়ার সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে, সে তার জিহ্বা ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বৈধ (المباحات) বিষয় থেকেও বিরত রাখবে এবং এর চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেগুলোকে বর্ণিত হারাম বিষয় থেকে বিরত রাখা।
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المعاصي بأسرها فغير صحيح؛ إذ الإجماع قائم على أن الكف عن المباحات غير واجب، بل قوله يكره له شم الرياحين والنظر إليها ولمسها محتاج إلى نهي وارد مقصود كما هو مقرر» (1).
وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قال: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ رضي الله عنه: «قَالَ اللَّهُ: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ، إِلَّا الصِّيَامَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ، وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَصْخَبْ
…» الحديث (2).
وقال صاحب «مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح»: «فلا يرفث» بالمثلثة وبتثليث الفاء قاله الزركشي والقسطلاني والعيني وكذلك في القاموس، والرفث: بفتح الراء والفاء يطلق ويراد به الجماع ومقدماته، ويطلق ويراد به الفحش، ويطلق ويراد به خطاب الرجل والمرأة فيما يتعلق بالجماع.
وقال كثير من العلماء: إن المراد به في هذا الحديث الفحش وردى الكلام وقبيحه. وقيل: يحتمل أن يكون النهي لما هو أعم من ذلك. «ولا يصخب» بالصاد المهملة والخاء المعجمة المفتوحة، أي: لا يصيح ولا يخاصم. وقيل: أي لا يرفع صوته بالهذيان، وفي رواية للشيخين: «ولا يجهل» مكان قوله: «ولا يصخب» أي: لا يفعل شيئًا من أفعال أهل الجهل كالصياح والسفه والسخرية ونحو ذلك، وفي رواية سعيد بن منصور ولا يجادل وهذا كله ممنوع على الإطلاق لكنه يتأكد بالصوم؛ ولذا قال القرطبي: لا يفهم من هذا إن غير يوم الصوم يباح فيه ما ذكر وإنما المراد إن المنع من ذلك يتأكد بالصوم» (3).
وعن عطاء قال: كانوا يكرهون فضول الكلام، وكانوا يعدون فضول الكلام ما عدا كتاب الله أن نقرأه أو أمرًا بمعروف، أو نهيًا عن منكر، أو أن تنطق في معيشتك بما لا بد لك منه.
--------------------------------------------
সমস্ত গুনাহের বিষয়টি সঠিক নয়; কেননা এই মর্মে ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, বৈধ (مباح) বিষয়সমূহ বর্জন করা ওয়াজিব নয়। বরং সুগন্ধি ঘ্রাণ নেওয়া, সেদিকে তাকানো এবং তা স্পর্শ করা মাকরুহ হওয়া সংক্রান্ত তার উক্তিটির স্বপক্ষে একটি নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন যেমনটি নির্ধারিত রয়েছে (১)।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: বনী আদমের প্রতিটি আমলই তার জন্য, কেবল সিয়াম ব্যতীত; নিশ্চয়ই তা আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। আর সিয়াম হলো ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কারো সিয়ামের দিন যেন সে অশ্লীল কথা না বলে এবং শোরগোল না করে
…" হাদিস (২)।
'মিরআতিল মাফাতিহ শারহু মিশকাতিল মাসাবিহ'-এর লেখক বলেন: ‘ফালা ইয়ারফুস’ শব্দটি ‘ছা’ বর্ণ দিয়ে এবং ‘ফা’ বর্ণটি তিন হরকতের যেকোনোটি দিয়ে পড়া যেতে পারে; এ কথা যারকাশি, কাসতালানি ও আইনি বলেছেন এবং কামুস অভিধানেও তদ্রূপ রয়েছে। আর ‘রাফাছ’ (ফাতহা যোগে) শব্দটি সহবাস ও এর পূর্ববর্তী কার্যাবলি অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার অশ্লীলতা অর্থেও ব্যবহৃত হয়, এবং সহবাস সংক্রান্ত বিষয়ে নারী-পুরুষের কথোপকথন অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
অনেক আলেম বলেছেন: এই হাদিসে এর দ্বারা অশ্লীলতা এবং মন্দ ও কদর্য কথা উদ্দেশ্য। আবার বলা হয়েছে: সম্ভবত এই নিষেধাজ্ঞাটি এর চেয়েও ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘ওয়া লা ইয়াসখাব’ (ص এবং ফাতহা যুক্ত خ দিয়ে) অর্থাৎ: সে যেন চিৎকার না করে এবং ঝগড়া না করে। কেউ কেউ বলেছেন: অর্থাৎ প্রলাপ বকার মাধ্যমে উচ্চৈঃস্বরে কথা না বলা। শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) এর একটি বর্ণনায় (رواية): ‘ওয়া লা ইয়াসখাব’-এর স্থলে ‘ওয়া লা ইয়াজহাল’ শব্দ এসেছে; অর্থাৎ মূর্খদের মতো কোনো কাজ করবে না যেমন চিৎকার করা, নির্বুদ্ধিতা প্রদর্শন করা, বিদ্রূপ করা ইত্যাদি। সাঈদ ইবনে মানসুরের বর্ণনায় (رواية) এসেছে: ‘সে যেন বিতর্ক না করে’। আর এ সব কিছুই সাধারণভাবে নিষিদ্ধ (ممنوع), তবে সিয়ামের কারণে তা আরও জোরালো হয়; এজন্যই কুরতুবি বলেছেন: ‘এ থেকে এমনটি বোঝা যাবে না যে, সিয়ামের দিন ব্যতীত অন্য সময়ে এসব করা বৈধ, বরং উদ্দেশ্য হলো সিয়ামের কারণে এই নিষেধাজ্ঞাটি আরও জোরালো হয়’ (৩)।
আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা অনর্থক কথাবার্তা অপছন্দ করতেন। তারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করা, সৎকাজের আদেশ দেওয়া, অসৎকাজে নিষেধ করা অথবা জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য বিষয় ছাড়া অন্য সব কথাকেই অনর্থক মনে করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকীরুল আনাম বি সুনানি ওয়া আদাবিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وعن عبد الله قال: إن الرجل يخرج من بيته ومعه دينه فيلقى الرجل إليه حاجة، فيقول له: إنك كيت إنك كيت يثني عليه، وعسى أن لا يحظى من حاجته بشيء، فيسخط الله عليه وما معه من دينه شيء (1).
وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ رضي الله عنه: «إِنَّ الصِّيَامَ لَيْسَ مِنَ الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ فَقَطْ، إِنَّمَا الصِّيَامُ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ
…» (2) الحديث.
وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ رضي الله عنه: «رُبَّ صَائِمٍ حَظُّهُ مِنْ صِيَامِهِ الْجُوعُ وَالْعَطَشُ، وَرُبَّ قَائِمٍ حَظُّهُ مِنْ قِيَامِهِ السَّهَرُ» (3).
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি তার দ্বীন সঙ্গে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়, অতঃপর সে এমন এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করে যার কাছে তার কোনো প্রয়োজন থাকে। তখন সে তার প্রশংসা করে বলে: আপনি এমন, আপনি তেমন—অথচ হতে পারে সে তার সেই প্রয়োজন থেকে কিছুই লাভ করতে পারল না, এমতাবস্থায় আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হন এবং তার দ্বীনের কিছুই তার সাথে অবশিষ্ট থাকে না (১)।
আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই সিয়াম কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং সিয়াম হলো অসার কাজ ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা...» (২) হাদিস।
আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «এমন অনেক সিয়াম পালনকারী আছে যার সিয়াম থেকে প্রাপ্তি কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা, আর এমন অনেক রাত জাগরণকারী আছে যার ইবাদতের জন্য রাত জাগরণ থেকে প্রাপ্তি কেবল অনিদ্রা» (৩)।
--------------------------------------------