(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: -)
مسائل حرب الكرماني من أول كتاب الصلاة - ت الغامدي   (حرب الكرماني)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: مسائل حرب الكرماني من أول كتاب الصلاة إلى باب الإمام يُحْدِث فيقدّم من سبقه بركعة دراسة وتحقيق

المؤلف: أبو محمد حرب بن إسماعيل بن خلف الكرماني (ت 280 هـ)

المحقق: أحمد بن علي الغامدي

رسالة: ماجستير للباحث أحمد بن علي الغامدي، قسم الفقه وأصوله بجامعة الملك عبد العزيز بجدة، بإشراف د. فيصل بن سعيد بالعمش

عام النشر: 1433 هـ - 2012 م

عدد الصفحات: 306

[ترقيم الكتاب موافق للرسالة المطبوعة]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 شعبان 1435

হারব আল-কিরমানির মাসায়েল - সালাত অধ্যায়ের শুরু থেকে - তাহকিকে আল-গামিদীয়   (হারব আল-কিরমানি)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


বই: হারব আল-কিরমানির মাসায়েল, সালাত অধ্যায়ের শুরু থেকে ইমামের অযু নষ্ট হওয়া এবং তার স্থলে এমন কাউকে স্থলাভিষিক্ত করা যার এক রাকাত আগে অতিবাহিত হয়েছে অধ্যায় পর্যন্ত: অধ্যয়ন ও তাহকিক

লেখক: আবু মুহাম্মদ হারব ইবনে ইসমাইল ইবনে খালাফ আল-কিরমানি (মৃত্যু ২৮০ হিজরি)

তাহকিককারী: আহমদ বিন আলী আল-গামিদীয়

থিসিস: গবেষক আহমদ বিন আলী আল-গামিদীয়ের মাস্টার্স থিসিস, জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিকহ ও উসূলে ফিকহ বিভাগ, তত্ত্বাবধানে ড. ফয়সাল বিন সাঈদ বালামশ

প্রকাশকাল: ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত থিসিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ শাবান ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ২)
كتاب الصلاة

 

‌‌[1] باب تسويةِ الأصابع في افتتاحِ الصَّلاة [247]

1 - سألتُ أبا عبد الله أحمد بن حنبل (1) قلتُ: حديث سعيد بن سمْعان عن أبي هريرة (2) عن النبي صلى الله عليه وسلم: (كان إذا افتتح الصلاة نَشَر (3) أصابعَه) (4) كيف نَشْرُ الأصابع وتفريجُها؟

--------------------------------------------

(1) أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني المروزي، نزيل بغداد، أبو عبد الله، أحد الأئمة، ثقةٌ حافظٌ فقيهٌ حجةٌ، وهو رأس الطبقة العاشرة، مات سنة إحدى وأربعين، وله سبعٌ وسبعون سنةً. ع. ينظر أحمد ابن علي بن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، تحقيق: محمد عوّامة، (لبنان: دار ابن حزم، 1420 هـ)، 96.

(2) سنده:

1 - سعيد بن سمعان الأنصاري، الزُرَقِي، مولاهم المدني، ثقةٌ، لم يصب الأزدي في تضعيفه، من الثالثة. ر د ت س. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 2331.

2 - أبو هريرة: عبد الرحمن بن صخر الدوسي، حافظ الصحابة، مات سنة سبعٍ، وقيل: سنة ثمانٍ، وقيل: تسعٍ وخمسين، وهو ابن ثمانٍ وسبعين سنةً. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 8426.

(3) النشر: ضد الطي، وهو بمعنى المد في هذا الموضع، واختاره صراحةً الإمام أحمد.

ينظر: مادة (نشر) ، أحمد بن زكريا بن فارس، معجم مقاييس اللغة، تحقيق: عبد السلام محمد هارون، ط 2، 5 (بيروت: دارالجيل، 1420 هـ)، 430، مجد الدين أبو السعادات المبارك بن محمد بن الأثير، النهاية في غريب الحديث والأثر، تحقيق: طاهر أحمد الزاوي، محمود محمد الطناحي، 5 (بيروت: المكتبة العلمية، 1399 هـ)، 54، محمد بن مكرم بن منظور، لسان العرب، ط 1، 5 (بيروت: دارصادر)، 208، تقي الدين أبوالعباس أحمد بن عبد الحليم بن تيمية، شرح العمدة كتاب صفة الصلاة، تحقيق: عبد العزيز بن أحمد المشيقح، ط 1، (الرياض: دار العاصمة، 1429 هـ)، 58.

(4) رواه محمد بن عيسى بن سَوْرة الترمذي، سنن الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وإبراهيم عطوة عوض، ط 2، 2 (مصر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي، 1395 هـ) ، ح 239، أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، بابٌ في نشر الأصابع عند التكبير، 5.

وقد توقف الإمام أحمد في صحة هذا الحديث كما في مسائل أبي داود، وشرح العمدة لابن تيمية، وضعفه الإمام الترمذي ونقل تضعيف الدارمي له، وقال أبو حاتم: "إنما روى على هذا اللفظ "نشر أصابعه" يحيى بن يمان، ووهِم، وهذا باطلٌ"، وقال ابن حجر: "يحيى بن يَمَان العِجْلي، الكوفي يخطئ كثيرًا وقد تغيّر، من كبار التاسعة، مات سنة تسعٍ وثمانين. بخ م 4"، وضعف الحديث الإمام البغوي، وصحح الحديث الشيخ أحمد شاكر في تعليقه على سنن الترمذي، وذلك لوجود متابعٍ ليحى بن اليمان في لفظ "نشر أصابعه" ولأن الراجح أن معنى النشر: المد.

والحديث رواه، سليمان بن الأشعث بن إسحاق السِّجِسْتاني، سنن أبي داود، تحقيق: محمد محيي الدين عبدالحميد، 1 (بيروت: المكتبة العصرية) ، ح 753، كتاب الصلاة، باب من لم يذكر الرفع عند الركوع، 200، والترمذي، سنن الترمذي، مرجع سابق، ح 240، أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، بابٌ في نشر الأصابع عند التكبير، 2/ 6، وأحمد بن شعيب بن علي النسائي الخراساني، سنن النسائي، تحقيق: عبدالفتاح أبوغدة، ط 2، 2 (حلب: مكتب المطبوعات الإسلامية، 1406 هـ)، ح 883، كتاب الافتتاح، رفع اليدين مدًا، 124، عن أبي هريرة ، بلفظٍ آخر: (أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا دخل في الصلاة رفع يديه مدًا). قال أبو حاتم: "كذا رواه الثقات من أصحاب ابن أبي ذئب".

ينظر: سليمان بن الأشعث بن إسحاق السِّجِسْتاني، مسائل الإمام أحمد بن حنبل ، تحقيق: طارق بن عوض الله ابن محمد ، (القاهرة: مكتبة ابن تيمية، 1420 هـ)، 1854، الترمذي، سنن الترمذي، مرجع سابق، 2/ 6، الرازي: عبد الرحمن بن أبي حاتم، العلل لابن أبي حاتم، تحقيق: فريق من الباحثين بإشراف وعناية د. سعد بن عبد الله الحميد ود. خالد بن عبد الرحمن الجريسي، ط 1، 1 (مطابع الحميضي، 1427 هـ)، 98، 161 - 162، الحسين بن مسعود البغوي، شرح السنة، تحقيق: شعيب الأرناؤوط، وزهير الشاويش، ط 2، 3 (دمشق، بيروت: المكتب الإسلامي، 1403 هـ)، 29، ابن تيمية، شرح العمدة، مرجع سابق، 58، ابن حجر، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 767، محمد ناصر الدين بن الحاج الألباني، أصل صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم، ط 1، 1 (الرياض: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، 1427 هـ)، 199 - 201.
নামাজের অধ্যায়

 

‌‌[১] নামাজের প্রারম্ভে আঙুলসমূহ সোজা রাখার পরিচ্ছেদ [২৪৭]

১ - আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বল (১)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: আবু হুরায়রা (২) থেকে সাঈদ ইবনে সামআনের বর্ণিত হাদিস যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: (যখন তিনি নামাজ শুরু করতেন, তখন তাঁর আঙুলসমূহ প্রসারিত (৩) রাখতেন (৪))—আঙুল প্রসারণ এবং সেগুলোকে ফাঁকা রাখার পদ্ধতি কেমন?

--------------------------------------------

(১) আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল ইবনে হিলাল ইবনে আসাদ আশ-শাইবানী আল-মারওয়াযী, বাগদাদের অধিবাসী, আবু আব্দুল্লাহ, ইমামগণের অন্যতম, নির্ভরযোগ্য, হাফেজ, ফকিহ এবং হুজ্জাহ (দলিল), তিনি দশম স্তরের প্রধান, ২৪১ হিজরিতে সাতাত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: আহমাদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, তাহকীক: মুহাম্মাদ আওয়ামা, (লেবানন: দারু ইবনিল হাযম, ১৪২০ হিজরি), ৯৬।

(২) এর সনদ:

১ - সাঈদ ইবনে সামআন আল-আনসারী, আয-যুরাকী, তাদের আযাদকৃত দাস, মাদানি, নির্ভরযোগ্য, আল-আযদি তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করে সঠিক করেননি, তিনি তৃতীয় স্তরের। র, দ, ত, স। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ২৩৩১।

২ - আবু হুরায়রা: আব্দুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দাওসী, সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হাফেজ, ৫৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ৫৮ বা ৫৯ হিজরিতে, তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৮ বছর। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৮৪২৬।

(৩) আন-নাশ্‌র: ভাঁজ করার বিপরীত, যা এই স্থানে লম্বা করে রাখা বা প্রসারিত করার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ইমাম আহমাদ স্পষ্টভাবে এটিই গ্রহণ করেছেন।

দ্রষ্টব্য: (নাশ্‌র) শব্দমূল, আহমাদ ইবনে যাকারিয়া ইবনে ফারিস, মুজামু মাকায়িসিল লুগাহ, তাহকীক: আব্দুস সালাম মুহাম্মাদ হারুন, ২য় সংস্করণ, খণ্ড ৫ (বৈরুত: দারুল জীল, ১৪২০ হিজরি), ৪৩০; মাজদুদ্দীন আবুল সাআদাত আল-মুবারক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আসীর, আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীসি ওয়াল আসার, তাহকীক: তাহির আহমাদ আয-যাভী, মাহমুদ মুহাম্মাদ আত-তানাহি, খণ্ড ৫ (বৈরুত: আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ, ১৩৯৯ হিজরি), ৫৪; মুহাম্মাদ ইবনে মাকররাম ইবনে মানযুর, লিসানুল আরব, ১ম সংস্করণ, খণ্ড ৫ (বৈরুত: দারু সাদির), ২০৮; তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ, শারহুল উমদাহ কিতাবু সিফাতিস সালাহ, তাহকীক: আব্দুল আযীয ইবনে আহমাদ আল-মুশাইকিহ, ১ম সংস্করণ, (রিয়াদ: দারুল আসিমাহ, ১৪২৯ হিজরি), ৫৮।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ আত-তিরমিযী, সুনানে তিরমিযী, তাহকীক ও তালীক: আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির, মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী এবং ইবরাহিম আতওয়াহ আওয়াদ, ২য় সংস্করণ, খণ্ড ২ (মিশর: শারিকাতু মাকতাবাতি ওয়া মাতবাআতি মুস্তফা আল-বাবী আল-হালাবী, ১৩৯৫ হিজরি), হাদিস নং ২৩৯, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত নামাজের অধ্যায়সমূহ, তাকবীরের সময় আঙুলসমূহ প্রসারিত রাখা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, ৫।

ইমাম আহমাদ এই হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন যেমনটি মাসায়িলে আবু দাউদ এবং ইবনে তাইমিয়্যাহর শারহুল উমদাহ-তে রয়েছে; ইমাম তিরমিযী এটিকে দুর্বল বলেছেন এবং আদ-দারিমী কর্তৃক এটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করার কথা উল্লেখ করেছেন। আবু হাতিম বলেছেন: "কেবল ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামান 'তাঁর আঙুলসমূহ প্রসারিত করতেন' শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ভুল করেছেন, এটি বাতিল।" ইবনে হাজার বলেছেন: "ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামান আল-ইজলী আল-কুফী অনেক ভুল করতেন এবং তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল, তিনি নবম স্তরের বড়দের অন্তর্ভুক্ত, ১৮৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।" ইমাম বাগাবীও হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। তবে শেখ আহমাদ শাকির সুনানে তিরমিযীর টিকায় হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন, কারণ 'আঙুল প্রসারিত করা' শব্দে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামানের একজন অনুসরণকারী (মুতাবি') পাওয়া যায় এবং অগ্রগণ্য মত হলো প্রসারণের অর্থ হলো সোজা রাখা।

হাদিসটি আরও বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনুল আশআস ইবনে ইসহাক আস-সিজিস্তানী, সুনানে আবু দাউদ, তাহকীক: মুহাম্মাদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামীদ, খণ্ড ১ (বৈরুত: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ), হাদিস নং ৭৫৩, নামাজের অধ্যায়, রুকুর সময় হাত না তোলার পরিচ্ছেদ, ২০০; এবং তিরমিযী, সুনানে তিরমিযী, পূর্বোক্ত উৎস, হাদিস নং ২৪০, অধ্যায়: তাকবীরের সময় আঙুলসমূহ প্রসারিত রাখা, ২/৬; এবং আহমাদ ইবনে শুয়াইব ইবনে আলী আন-নাসায়ী আল-খুরাসানী, সুনানে নাসায়ী, তাহকীক: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ, ২য় সংস্করণ, খণ্ড ২ (হালাব: মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যাহ, ১৪০৬ হিজরি), হাদিস নং ৮৮৩, প্রারম্ভিক অধ্যায়, হাত প্রসারিত করে তোলা, ১২৪; আবু হুরায়রা থেকে ভিন্ন শব্দে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজ শুরু করতেন তখন তাঁর হাত দুটি প্রসারিত অবস্থায় তুলতেন)। আবু হাতিম বলেন: "ইবনে আবি যি'ব এর নির্ভরযোগ্য সাথীরা এভাবেই বর্ণনা করেছেন।"

দ্রষ্টব্য: সুলাইমান ইবনুল আশআস ইবনে ইসহাক আস-সিজিস্তানী, মাসায়িলে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, তাহকীক: তারিক ইবনে আওয়াদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ, (কায়রো: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১৪২০ হিজরি), ১৮৫৪; তিরমিযী, সুনানে তিরমিযী, পূর্বোক্ত উৎস, ২/৬; আর-রাযী: আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম, আল-ইলাল লি-ইবনি আবি হাতিম, তাহকীক: ড. সা’দ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ ও ড. খালিদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুরাইসী এর তত্ত্বাবধানে গবেষক দল, ১ম সংস্করণ, খণ্ড ১ (মাতাবিউল হুমাইদী, ১৪২৭ হিজরি), ৯৮, ১৬১ - ১৬২; হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ, তাহকীক: শুআইব আল-আরনাউত এবং যুহাইর আশ-শাভীশ, ২য় সংস্করণ, খণ্ড ৩ (দামেস্ক, বৈরুত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, ১৪০৩ হিজরি), ২৯; ইবনে তাইমিয়্যাহ, শারহুল উমদাহ, পূর্বোক্ত উৎস, ৫৮; ইবনে হাজার, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৭৬৭; মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন ইবনুল হাজ আল-আলবানী, আসলু সিফাতি সালাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ১ম সংস্করণ, খণ্ড ১ (রিয়াদ: মাকতাবাতুল মাআরিফ লিন-নাশর ওয়াত-তাওযী, ১৪২৭ হিজরি), ১৯৯ - ২০১।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ৩)
قلتُ لأحمد: فإنَّ علي بن عبد الله (1) قال: هو تسويةُ الأصابع وضمُّها (2). فسَكَت. كأنه رضيَهُ (3).

--------------------------------------------

(1) هو علي بن عبد الله بن جعفر بن نجيح السعدي مولاهم، أبو الحسن البصري، المعروف بابن المديني، ثقةٌ ثبتٌ إمامٌ، أعلم أهل عصره بالحديث وعلله ، من العاشرة ، مات سنة أربعٍ وثلاثين على الصحيح. خ د ت س فق. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 4760.

(2) ينظر: ابن تيمية، شرح العمدة، مرجع سابق، 58.

(3) اختلفت الرواية عن الإمام أحمد رحمه الله في كيفية وضع الأصابع حال رفع اليدين، فنقل عنه روايتان:

الأولى: يمدّ أصابعه ويضم بعضها إلى بعضٍ، ولا يفرقها حال الرفع. وهذا ظاهر رواية حرب، وهي الرواية الأخيرة التي رجع إليها الإمام أحمد كما نص على ذلك شيخ الاسلام ابن تيمية، وابن القيم، قال المرداوي: "هذا المذهب، وعليه الأصحاب"، وعلى هذا المذهب عند المتأخرين.

الثانية: يُفَرِّقها، قال ابن القيم: "وقال أبو داود: سمعت أحمد بن حنبل سُئِل: تذهب إلى نشر الأصابع إذا كبَّرت؟ قال: لا. قال أبو حفص: لعل أبا عبد الله أراد بالنشر الذي لم يذهب إليه التفريق الذي كان يقول به أولًا، والنشر الذي ذهب إليه آخرًا هو مَدُّ اليدين. وقد قال صالح: سألتُ أبي عن رفع اليدين في التكبيرة الأولى؟ فقال: يا بُنَيَّ كنتُ أذهبُ إلى حديث أبي هريرة، كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا كبَّر نشر أصابعه، فظننت أنه التفريقُ، فكنت أفرِّقُ أصابعي، فسألت أهلَ العربية فقالوا: [هذا هو التفريق وليس النشر، وضم أصابعه وقال: قالوا: هذا] هو الضمُّ، وهذا النشر: ومد أبي أصابِعَهُ مدًّا مضمومةً، وهذا التفريق: وفرق بين أصابعه" [ما بين القوسين زيادة من شرح العمدة لابن تيمية].

ينظر: أبو داود السجستاني، مسائل الإمام أحمد بن حنبل، مرجع سابق، 212، 1854، محمد بن محمد بن الحسين الشهير بالقاضي أبي الحسين، التمام لماصح في الروايتين والثلاث والأربع عن الإمام، تحقيق: عبدالله الطيار وعبد العزيز بن محمد المد الله، ط 1، 1 (الرياض: دارالعاصمة، 1414 هـ) 150، عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة المقدسي، المغني، تحقيق: د. عبد الله بن عبد المحسن التركي، ود. عبدالفتاح بن محمد الحلو، ط 2، 2 (القاهرة: هجر، 1412 هـ)، 138، الحراني، عبد السلام بن عبد الله ، المجد ابن تيمية، المحرر في الفقه ومعه النكت لابن مفلح، ط 1، 1 (بيروت: مؤسسة الرسالة، 1428 هـ)، 107، عبد الرحمن بن محمد ابن أحمد بن قدامة المقدسي، الشرح الكبير على متن المقنع ، تحقيق: د. عبد الله بن عبد المحسن التركي، 3 (الرياض: دار عالم الكتب، 1419 هـ)، 417، ابن تيمية، شرح العمدة، مرجع سابق، 58، محمد بن أبي بكر ابن قيم الجوزية، بدائع الفوائد، ط 1، تحقيق: علي العمران ، 3 (مكة المكرمة: دار عالم الفوائد، 1425 هـ)، 975، علاء الدين أبو الحسن المرداوي، الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف ، تحقيق: د. عبد الله بن عبدالمحسن التركي ، 3 (الرياض: دار عالم الكتب، 1419 هـ)، 417، منصور بن يونس بن صلاح الدين البهوتي، دقائق أولي النهى لشرح المنتهى، تحقيق: د. عبد الله بن عبد المحسن التركي، ط 2، 1 (بيروت: مؤسسة الرسالة، 1426 هـ)، 357، منصور بن يونس بن صلاح الدين البهوتي، كشاف القناع عن متن الإقناع، ط 1، تحقيق: لجنة متخصصة في وزارة العدل، 2 (الرياض: وزارة العدل، 1422 هـ)، 290.
আমি আহমাদকে বললাম: নিশ্চয়ই আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (১) বলেছেন: এটি হলো আঙ্গুলগুলো সমান রাখা এবং সেগুলো একত্রিত করে রাখা (২)। তখন তিনি নীরব থাকলেন। মনে হলো তিনি এতে সন্তুষ্ট হয়েছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে নাজিহ আস-সাদি, তাদের আযাদকৃত দাস, আবুল হাসান আল-বাসরি, যিনি ইবনুল মাদিনী নামে পরিচিত; তিনি বিশ্বস্ত, সুদৃঢ় ও ইমাম এবং স্বীয় যুগের মানুষের মধ্যে হাদীস ও এর ত্রুটি (ইল্লত) সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত ছিলেন। তিনি দশম স্তরের অন্তর্ভুক্ত, বিশুদ্ধ মতানুসারে ২৩৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। (বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরিবুত তাহযিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪৭৬০।

(২) দেখুন: ইবনে তাইমিয়া, শারহুল উমদাহ, পূর্বোক্ত সূত্র, ৫৮।

(৩) হাত তোলার সময় আঙ্গুল স্থাপনের পদ্ধতি সম্পর্কে ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে। তাঁর থেকে দুটি বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে:

প্রথমটি: তিনি তাঁর আঙ্গুলগুলো প্রসারিত করবেন এবং একে অপরের সাথে মিলিয়ে রাখবেন, হাত তোলার সময় সেগুলো আলাদা করবেন না। এটি হারবের বর্ণনার প্রকাশ্য রূপ এবং এটিই ইমাম আহমাদ বর্ণিত সর্বশেষ মত যা তিনি পরবর্তীতে গ্রহণ করেছিলেন, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কায়্যিম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আল-মারদাভী বলেন: "এটিই (মাযহাবের স্বীকৃত) পথ এবং এর উপরেই মাযহাবের অনুসারীগণ রয়েছেন।" পরবর্তী যুগের আলেমগণের নিকট এই মতটিই মাযহাব হিসেবে গণ্য।

দ্বিতীয়টি: তিনি আঙ্গুলগুলো আলাদা রাখবেন। ইবনুল কায়্যিম বলেন: "আবু দাউদ বলেছেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আপনি কি তাকবীরের সময় আঙ্গুলগুলো ছড়িয়ে রাখার (নাশরা) পক্ষে? তিনি বললেন: না। আবু হাফস বলেন: সম্ভবত আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) 'ছড়িয়ে রাখা' (নাশরা) বলতে সেই পৃথক রাখা (তাফরিক) উদ্দেশ্য নিয়েছেন যা তিনি শুরুতে বলতেন। আর যে 'ছড়িয়ে রাখা' (নাশরা) মতটি তিনি শেষে গ্রহণ করেছেন তা হলো হাত প্রসারিত রাখা। সালিহ বর্ণনা করেছেন: আমি আমার পিতাকে প্রথম তাকবীরে হাত তোলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: হে বৎস! আমি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসের দিকে যেতাম যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাকবীর দিতেন তখন তাঁর আঙ্গুলগুলো ছড়িয়ে (নাশরা) রাখতেন। ফলে আমি মনে করেছিলাম এর অর্থ হলো আঙ্গুলগুলো আলাদা করে রাখা (তাফরিক), তাই আমি আমার আঙ্গুলগুলো আলাদা রাখতাম। এরপর আমি আরবী ভাষাবিদদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বললেন: [এটি হলো তাফরিক (পৃথক করা), নাশরা নয়। তিনি আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে নিলেন এবং বললেন: তারা বলেছিল: এটি] হলো একত্রিত রাখা (দ্বম্ম), আর এটি হলো নাশরা (ছড়িয়ে রাখা)। তখন আমার পিতা তাঁর আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে সোজা করে প্রসারিত করলেন এবং বললেন: আর এটি হলো তাফরিক (পৃথক করা)—এই বলে তিনি তাঁর আঙ্গুলগুলোর মাঝে ফাঁক করলেন।" [বন্ধনীভুক্ত অংশটি ইবনে তাইমিয়ার শারহুল উমদাহ থেকে অতিরিক্ত সংযোজিত]।

দেখুন: আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, মাসাইলুল ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, পূর্বোক্ত সূত্র, ২১২, ১৮৫৪; মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন যিনি কাজী আবু ইয়ালা নামে পরিচিত, আত-তামাম লিমা সাহহা ফির রিওয়ায়াতাইন ওয়াস সালাসা ওয়াল আরবা' আনিল ইমাম, তাহকিক: আব্দুল্লাহ আত-তাইয়্যার ও আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-মুদাল্লাহ, ১ম সংস্করণ, ১ম খণ্ড (রিয়াদ: দারুল আসিমাহ, ১৪১৪ হিজরী) ১৫০; আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসি, আল-মুগনি, তাহকিক: ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি এবং ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন মুহাম্মদ আল-হুলু, ২য় সংস্করণ, ২য় খণ্ড (কায়রো: হাজার, ১৪১২ হিজরী), ১৩৮; আল-হাররানি, আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ, আল-মাজদ ইবনে তাইমিয়া, আল-মুহাররার ফিল ফিকহ এবং এর সাথে ইবনে মুফলিহ রচিত আন-নুকাত, ১ম সংস্করণ, ১ম খণ্ড (বৈরুত: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪২৮ হিজরী), ১০৭; আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসি, আশ-শারহুল কাবীর আলা মাতনিল মুকনি, তাহকিক: ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি, ৩য় খণ্ড (রিয়াদ: দারু আলামিল কুতুব, ১৪১৯ হিজরী), ৪১৭; ইবনে তাইমিয়া, শারহুল উমদাহ, পূর্বোক্ত সূত্র, ৫৮; মুহাম্মদ বিন আবি বকর ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়া, বাদাইউল ফাওয়াইদ, ১ম সংস্করণ, তাহকিক: আলী আল-উমরান, ৩য় খণ্ড (মক্কা মুকাররমা: দারু আলামিল ফাওয়াইদ, ১৪২৫ হিজরী), ৯৭৫; আলাউদ্দিন আবু আল-হাসান আল-মারদাভী, আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ, তাহকিক: ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি, ৩য় খণ্ড (রিয়াদ: দারু আলামিল কুতুব, ১৪১৯ হিজরী), ৪১৭; মনসুর বিন ইউনুস বিন সালাহউদ্দিন আল-বাহুতি, দাকাইকু উলি ন্নুহা লি-শারহিল মুনতাহা, তাহকিক: ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি, ২য় সংস্করণ, ১ম খণ্ড (বৈরুত: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪২৬ হিজরী), ৩৫৭; মনসুর বিন ইউনুস বিন সালাহউদ্দিন আল-বাহুতি, কাশশাফুল কিনা আন মাতনিল ইকনাহ, ১ম সংস্করণ, তাহকিক: বিচার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কমিটি, ২য় খণ্ড (রিয়াদ: বিচার মন্ত্রণালয়, ১৪২২ হিজরী), ২৯০।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ৪)
2 - وسألتُ إسحاقَ بن إبراهيم بن مَخْلد الحنظلي (1) قلتُ: حديثُ سعيد بن سمْعان عن أبي هُريرة رضي الله عنه (أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا افتتح الصلاة نَشَر أصابعه) كيف نَشْرُ الأصابع؟ فَقَبَضَ أصابعه ثم سوَّاها وقد ضمَّها. قلتُ لإسحاق: فإنْ رفع يديه ولم ينْشُر الأصابع قد ضمَّها؟ فرآه ناقصًا.

3 - وسألت عليَّ بن عبد الله قلت: يفتح الرجل أصابعَه إذا رفعَ يَديه؟ قال: لا. ولكن يضم أصابعَه ويُسَوِّيها ولا يُفرِّجُها. قلتُ: فحديثُ سعيد بن سمْعان عن أبي هريرة؟ فقال: النَّشر أنْ

يسوِّيَها ليس أن يفتحها. قال علي: وقد كنتُ قديمًا أرى أنه الفتح، حتى لقيتُ بعضَ أصحاب الحديث فأخبرني. فعلمتُ أنه كما قال: التسويةُ والضَّم.

--------------------------------------------

(1) إسحاق بن إبراهيم بن مخلد بن راهويه الحنظلي، أبو محمد المروزي، ثقةٌ حافظٌ مجتهدٌ، قرين أحمد بن حنبل، ذكر أبو داود أنه تغيّر قبل موته بيسيرٍ، مات سنة ثمانٍ وثلاثين ، وله اثنتان وسبعون. خ م د ت س. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 332.
২ - আমি ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন মাখলাদ আল-হানজালি (১)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি বললাম: সাঈদ বিন সামআন কর্তৃক আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীস—(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন তখন তিনি তাঁর আঙ্গুলগুলো প্রসারিত করতেন)—আঙ্গুল প্রসারিত করা বলতে কী বোঝায়? তখন তিনি তাঁর আঙ্গুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করলেন এবং এরপর সেগুলো সোজা করলেন ও মিলিয়ে রাখলেন। আমি ইসহাককে বললাম: যদি কেউ হাত উত্তোলন করে এবং আঙ্গুলগুলো (ফাঁকা করে) প্রসারিত না করে বরং তা মিলিয়ে রাখে? তিনি সেটিকে অপূর্ণাঙ্গ মনে করলেন।

৩ - আমি আলী বিন আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি বললাম: কোনো ব্যক্তি যখন হাত উত্তোলন করবে তখন কি সে তার আঙ্গুলগুলো ফাঁকা রাখবে? তিনি বললেন: না। বরং সে তার আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখবে এবং সোজা রাখবে, সেগুলো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করবে না। আমি বললাম: তবে সাঈদ বিন সামআন কর্তৃক বর্ণিত আবু হুরায়রা-র হাদীসটির ব্যাখ্যা কী? তিনি বললেন: 'প্রসারিত করা' বলতে বোঝায় আঙ্গুলগুলো সোজা রাখা, ফাঁকা করে রাখা নয়। আলী বললেন: ইতিপূর্বে আমি মনে করতাম যে এর অর্থ হলো ফাঁকা করে রাখা, যতক্ষণ না আমি কয়েকজন হাদীস বিশারদের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁরা আমাকে অবহিত করলেন। তখন আমি জানতে পারলাম যে বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন: (আঙ্গুলগুলো) সোজা করা এবং মিলিয়ে রাখা।

--------------------------------------------

(১) ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন মাখলাদ বিন রাহওয়াইহ আল-হানজালি, আবু মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), হাফিজ ও মুজতাহিদ এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের সমসাময়িক। আবু দাউদ উল্লেখ করেছেন যে, মৃত্যুর কিছুকাল আগে তাঁর স্মৃতিশক্তির কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছিল। তিনি দুইশত আটত্রিশ হিজরিতে বাহাত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। (বর্ণনায়: বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ)। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৩৩২।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[2] باب حَدِّ رَفْع اليدين في الافتتاح

4 - سألتُ أحمد بن حنبل قلتُ: إلى أين يرفع يديه: عَنيتُ في الافتتاح؟

قال: قد رُوي عن ابن عمر (1) عن النبي صلى الله عليه وسلم: (أنَّه رفع إلى المَنكِبين) (2).

وقال أحمد: ارفع إلى فروع الأُذنين (3). يذهب إلى حديث مالك بن الحُويرث (4) (5).

قلتُ: فيُجاوز بهما شحمة أُذنيه؟ قال: أرجو أن يُجزئ. (6)

--------------------------------------------

(1) عبد الله بن عمر بن الخطاب العدوي أبو عبد الرحمن، أحد المكثرين من الصحابة، والعبادلة، وكان من أشد الناس اتباعًا للأثر، مات سنة ثلاثٍ وسبعين، في آخرها، أو أول التي تليها. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3490.

(2) رواه البخاري، صحيح البخاري، مرجع سابق، ح 735، 736، 738، كتاب الأذان، باب رفع اليدين في التكبيرة الأولى مع الافتتاح سواء، 148، ومسلم، صحيح مسلم، مرجع سابق، ح 390، كتاب الصلاة، باب استحباب رفع اليدين حذو المنكبين مع تكبيرة الإحرام، 1/ 292.

ولفظ الحديث عند البخاري: (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يرفع يديه حذو منكبيه إذا افتتح الصلاة، وإذا كبر للركوع، وإذا رفع رأسه من الركوع رفعهما كذلك أيضا ، وقال: سمع الله لمن حمده ربنا ولك الحمد، وكان لا يفعل ذلك في السجود).

(3) فروع أذنيه: أي أعاليهما وفرع كل شيء: أعلاه.

ينظر: مادة (فرع) ابن الأثير، النهاية في غريب الحديث، مرجع سابق، 3/ 436، محيي الدين يحيى بن شرف النووي، المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، ط 2، 4 (بيروت: دار إحياء التراث العربي، 1392 هـ)، 95.

(4) نقل هذه المسألة عن حرب ابن القيم في كتاب رفع اليدين.

ينظر: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن قيم الجوزية، رفع اليدين في الصلاة، ط 1 ، تحقيق: علي العمران ، (مكة المكرمة: دار عالم الفوائد، 1431 هـ)، 286.

(5) رواه مسلم، صحيح مسلم، مرجع سابق، ح 391، كتاب الصلاة، باب استحباب رفع اليدين حذو المنكبين مع تكبيرة الإحرام، 1/ 293، ولفظه: (أن مالك بن الحويرث رأى نبي الله صلى الله عليه وسلم يرفع يديه حتى يحاذي بهما فروع أذنيه).

ومالك بن الحويرث - بالتصغير - أبو سليمان الليثي، صحابي، نزل البصرة، مات سنة أربعٍ وسبعين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6433.

(6) اختلفت الرواية عن الإمام أحمد رحمه الله في حَدِّ رَفْع اليدين في الصلاة فنُقل عنه أربع روايات:

الأولى: أنه يرفع يديه إلى حذو منكبيه. وهذه الرواية نقلها الكوسج، ونقلها القاضي أبو يعلى عن الجماعة، وعن الأثرم، ونقلها ابن القيم عن صالح، وابن هانئ، وذكر صاحب المبدع أن هذه الرواية اختارها الأكثر وإليها ميل الإمام أحمد لكثرة من روى ذلك من الصحابة عن النبي صلى الله عليه وسلم ولقربهم منه. وعليها المذهب عند المتأخرين.

الثانية: أنه يرفع يديه إلى فروع أذنيه. وهذه الرواية نقلها أبو داود، ونقلها القاضي أبو يعلى عن أبي الحارث الصائغ، ونقلها ابن القيم عن الفضل بن زياد.

الثالثة: مخيرٌ بين رفعهما إلى حذو منكبيه، أو إلى فروع أذنيه. كما في مسائل حرب (23)، ونقلها ابن القيم عن أبي طالب، قال ابن مفلح: "وهي أشهر".

الرابعة: يرفع يديه إلى صدره.

ينظر: إسحاق بن منصور المروزي الكوسج، مسائل الإمام أحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه، ط 1 ، تحقيق: محمد عبد الله الزاحم ،المدينة المنورة 1412 هـ، دار المنار ،187، أبو داود، مسائل الإمام أحمد بن حنبل، مرجع سابق، 234، محمد بن الحسين الفراء: القاضي أبو يعلى، المسائل الفقهية من كتاب الروايتين والوجهين، تحقيق: عبد الكريم اللاحم، 1 (الرياض: مكتبة المعارف، 1405 هـ)، 114 - 115، ابن قدامة المقدسي، المغني، مرجع سابق، 2/ 136، ابن تيمية، شرح العمدة، مرجع سابق، 48، ابن القيم، رفع اليدين، مرجع سابق، 284 - 292، ابن مفلح المقدسي، الفروع ، مرجع سابق، 2/ 167، شمس الدين محمد بن عبد الله المصري الزركشي، شرح الزركشي على مختصر الخرقي، تحقيق: د. عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين، 1 (طبع على نفقة عبد العزيز الجميح)، 540، إبراهيم بن محمد بن مفلح المقدسي، المبدع في شرح المقنع، 1 (بيروت: المكتب الإسلامي، 1980 م)، 431، علاء الدين أبو الحسن علي المرداوي، الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف ، تحقيق: عبد الله التركي ، 3 (الرياض: دار عالم الكتب، 1419 هـ) 418، البهوتي، دقائق أولي النهى، مرجع سابق، 1/ 375، البهوتي، كشاف القناع، مرجع سابق، 2/ 291.

فائدة: اختلف الأصحاب بماذا تحصل المحاذاة على وجهين:

الوجه الأول: أنها تحصل بطرف اليد وهو رؤوس الأصابع. واختار هذه الرواية القاضي أبو يعلى والموفق ابن قدامة.

الوجه الثاني: أنها تحصل بتوسط اليد وهو أصول الأصابع عن الكف، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "وهذا الصحيح المنصوص عن أحمد وقد سأله أبو الحارث: إلى أين يرفع يديه؟ قال: يرفعهما إلى فروع أذنيه. وقال: الذي أختار أن يجاوز بهما أذنيه. قال: ورأيت أبا عبد الله إذا افتتح الصلاة رفع يديه حتى يجاوز بهما أذنيه، فقد نص صريحًا إذا قلنا: يرفعهما إلى أذنيه على مجاوزة الأذنين، ومعلوم أنه لا يجاوزهما بكفه، لأن ذلك لم يقله أحد، فعلم أنه جاوزهما برؤوس الأصابع … ".

ينظر: أبو يعلى، الروايتين والوجهين، مرجع سابق، 1/ 114، ابن قدامة المقدسي، المغني، مرجع سابق، 2/ 137، ابن تيمية، شرح العمدة، مرجع سابق، 53 - 56، ابن القيم، بدائع الفوائد، مرجع سابق، 3/ 975 و 980، ابن مفلح، الفروع، مرجع سابق، 2/ 168، المرداوي، الإنصاف، مرجع سابق، 3/ 420.
[২] নামায শুরুর সময় হাত তোলার সীমানা বিষয়ক অধ্যায়

৪ - আমি আহমাদ বিন হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি বললাম: তিনি (নামাযী) কতটুকু পর্যন্ত হাত তুলবেন? অর্থাৎ নামায শুরুর প্রাক্কালে।

তিনি বললেন: ইবনে উমর (১) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (২): (দুই কাঁধ বরাবর হাত তুলতেন)।

আহমাদ বলেন: কানের লতি পর্যন্ত হাত তোলো (৩)। তিনি মালিক ইবনে আল-হুওয়াইরিস (৪) (৫) বর্ণিত হাদীসের মত গ্রহণ করেছেন।

আমি বললাম: তাহলে কি তিনি তার কানের লতি অতিক্রম করবেন? তিনি বললেন: আমি আশা করি এটি যথেষ্ট হবে। (৬)

--------------------------------------------

(১) আব্দুল্লাহ বিন উমর ইবনুল খাত্তাব আল-আদাবী আবু আব্দুর রহমান, অন্যতম বিশিষ্ট সাহাবী এবং 'আবাদিলাহ' (আব্দুল্লাহ নামীয় সাহাবীগণ)-দের একজন। তিনি সুন্নাহ অনুসরণে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি ৭৩ হিজরির শেষে অথবা পরবর্তী বছরের শুরুতে ইন্তেকাল করেন। (দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহযিব, প্রাগুক্ত, ৩৪৯০)।

(২) বুখারী বর্ণনা করেছেন, সহীহ বুখারী, প্রাগুক্ত, হা. ৭৩৫, ৭৩৬, ৭৩৮, কিতাবুল আযান, নামায শুরুর প্রাক্কালে প্রথম তাকবীরের সময় হাত তোলা বিষয়ক অধ্যায়, ১৪৮; এবং মুসলিম, সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, হা. ৩৯০, কিতাবুস সালাত, তাকবীরে তাহরীমার সময় দুই কাঁধ বরাবর হাত তোলা মুস্তাহাব হওয়া বিষয়ক অধ্যায়, ১/২৯২।

বুখারীর শব্দ হলো: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শুরু করতেন তখন কাঁধ বরাবর হাত তুলতেন, যখন রুকুর জন্য তাকবীর দিতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখনও একইভাবে হাত তুলতেন এবং বলতেন: আল্লাহ তার প্রশংসা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে, হে আমাদের রব, সমস্ত প্রশংসা আপনারই। তিনি সিজদায় এমনটি করতেন না)।

(৩) কানের লতি (ফুরূ'উ উযুনাইহি): অর্থাৎ কানের উপরিভাগ। কোনো কিছুর 'ফুরূ' মানে তার উপরিভাগ।

দেখুন: 'ফারা'আ' শব্দ, ইবনুল আসির, আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস, প্রাগুক্ত, ৩/৪৩৬; মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া বিন শরাফ আন-নববী, আল-মিনহাজ শারহ সহীহ মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ, ২য় সংস্করণ, ৪ (বৈরুত: দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, ১৩৯২ হি.), ৯৫।

(৪) এই মাসআলাটি হারব থেকে ইবনুল কাইয়্যিম 'রাফউল ইয়াদাইন' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

দেখুন: মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ, রাফউল ইয়াদাইন ফিস সালাত, ১ম সংস্করণ, সম্পাদনা: আলী আল-উমরান, (মক্কা মুকাররমা: দারু আলমিল ফাওয়াইদ, ১৪৩১ হি.), ২৮৬।

(৫) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, হা. ৩৯১, কিতাবুস সালাত, তাকবীরে তাহরীমার সময় দুই কাঁধ বরাবর হাত তোলা মুস্তাহাব হওয়া বিষয়ক অধ্যায়, ১/২৯৩, এর শব্দ হলো: (মালিক বিন আল-হুওয়াইরিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন যে, তিনি কানের উপরিভাগ বরাবর হাত তুলতেন)।

মালিক বিন আল-হুওয়াইরিস -তাসগির সহকারে- আবু সুলাইমান আল-লাইসি, একজন সাহাবী, বসরায় বসতি স্থাপন করেন, ৭৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। (দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহযিব, প্রাগুক্ত, ৬৪৩৩)।

(৬) নামাযে হাত তোলার সীমানা সম্পর্কে ইমাম আহমাদ (রহ.) থেকে বর্ণিত বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে। তাঁর থেকে চারটি বর্ণনা পাওয়া যায়:

প্রথম: তিনি দুই কাঁধ বরাবর হাত তুলবেন। এই বর্ণনাটি আল-কাউসাজ বর্ণনা করেছেন, কাযী আবু ইয়ালা জামায়াতের পক্ষ থেকে এবং আল-আছরাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, ইবনুল কাইয়্যিম এটি সালেহ এবং ইবনে হানি থেকে বর্ণনা করেছেন। 'আল-মুবদি'র লেখক উল্লেখ করেছেন যে, অধিকাংশ আলেম এই বর্ণনাটি গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম আহমাদও এটির দিকে ঝুঁকেছেন কারণ অনেক সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তারা তাঁর নিকটবর্তী ছিলেন। পরবর্তী ফকীহদের নিকট মাযহাবের ফয়সালা এটাই।

দ্বিতীয়: তিনি দুই কানের উপরিভাগ পর্যন্ত হাত তুলবেন। এই বর্ণনাটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, কাযী আবু ইয়ালা এটি আবুল হারিস আস-সায়িগ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল কাইয়্যিম ফাদল বিন যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয়: দুই কাঁধ বরাবর অথবা কানের উপরিভাগ পর্যন্ত হাত তোলার ব্যাপারে ইখতিয়ার রয়েছে। যেমনটি হারবের মাসায়েল (২৩)-এ রয়েছে, ইবনুল কাইয়্যিম আবু তালিব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মুফলিহ বলেছেন: "এটি অধিক প্রসিদ্ধ"।

চতুর্থ: বুক পর্যন্ত হাত তুলবেন।

দেখুন: ইসহাক বিন মানসুর আল-মারওয়াযি আল-কাউসাজ, মাসায়েলুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ওয়া ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, ১ম সংস্করণ, সম্পাদনা: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আয-যাহিম, মদীনা মুনাওয়ারা ১৪১২ হি., দারুল মানার, ১৮৭; আবু দাউদ, মাসায়েলুল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, প্রাগুক্ত, ২৩৪; মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-ফাররা: কাযী আবু ইয়ালা, আল-মাসায়েল আল-ফিকহিয়্যাহ মিন কিতাবির রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন, সম্পাদনা: আব্দুল কারীম আল-লাহিম, ১ (রিয়াদ: মাকতাবাতুল মাআরিফ, ১৪০৫ হি.), ১১৪ - ১১৫; ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি, আল-মুগনি, প্রাগুক্ত, ২/১৩৬; ইবনে তাইমিয়্যাহ, শারহুল উমদাহ, প্রাগুক্ত, ৪৮; ইবনুল কাইয়্যিম, রাফউল ইয়াদাইন, প্রাগুক্ত, ২৮৪ - ২৯২; ইবনে মুফলিহ আল-মাকদিসি, আল-ফুরু, প্রাগুক্ত, ২/১৬৭; শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মিসরি আয-যারকাশি, শারহুয যারকাশি আলা মুখতাসারিল খিরাকি, সম্পাদনা: ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন, ১ (আব্দুল আজিজ আল-জুমাইহের ব্যয়ে মুদ্রিত), ৫৪০; ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন মুফলিহ আল-মাকদিসি, আল-মুবদি ফি শারহিল মুকনি, ১ (বৈরুত: আল-মাকতাবুল ইসলামি, ১৯৮০ খ্রি.), ৪৩১; আলাউদ্দিন আবু হাসান আলী আল-মারদাওয়ি, আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ, সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আত-তুর্কি, ৩ (রিয়াদ: দারু আলমিল কুতুব, ১৪১৯ হি.) ৪১৮; আল-বাহুতি, দাকায়িকু উলিন নুহা, প্রাগুক্ত, ১/৩৭৫; আল-বাহুতি, কাশশাফুল কিনা, প্রাগুক্ত, ২/২৯১।

শিক্ষণীয় বিষয়: সীমানা বরাবর হওয়া বলতে কী বোঝায় সে বিষয়ে ইমামের অনুসারীদের মধ্যে দুটি মত রয়েছে:

প্রথম মত: হাত বা আঙ্গুলের অগ্রভাগ দ্বারা এই সীমানা অর্জিত হবে। এই মতটি কাযী আবু ইয়ালা এবং মুয়াফফাক ইবনে কুদামা পছন্দ করেছেন।

দ্বিতীয় মত: এটি হাতের তালুর সংযোগস্থল বা আঙ্গুলের মূল অংশ বরাবর হওয়ার মাধ্যমে অর্জিত হবে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "আহমাদ থেকে বর্ণিত এটিই সঠিক মত। আবু হারিস তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: তিনি কতটুকু পর্যন্ত হাত তুলবেন? তিনি বলেছিলেন: কানের উপরিভাগ পর্যন্ত তুলবেন। তিনি আরও বলেন: আমার পছন্দ হলো তিনি যেন কান অতিক্রম করেন। তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমাদ) দেখেছি যখন তিনি নামায শুরু করতেন তখন তিনি কান অতিক্রম না করা পর্যন্ত হাত তুলতেন। সুতরাং এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আমরা যখন বলি কান পর্যন্ত তুলবেন, তখন কান অতিক্রম করা উদ্দেশ্য। আর এটি জানা কথা যে, তিনি হাতের তালু দিয়ে কান অতিক্রম করবেন না, কারণ কেউ এমন কথা বলেননি। ফলে বোঝা গেল যে, তিনি আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে কান অতিক্রম করতেন … "।

দেখুন: আবু ইয়ালা, আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন, প্রাগুক্ত, ১/১১৪; ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি, আল-মুগনি, প্রাগুক্ত, ২/১৩৭; ইবনে তাইমিয়্যাহ, শারহুল উমদাহ, প্রাগুক্ত, ৫৩ - ৫৬; ইবনুল কাইয়্যিম, বাদা'ইউল ফাওয়াইদ, প্রাগুক্ত, ৩/৯৭৫ ও ৯৮০; ইবনে মুফলিহ, আল-ফুরু, প্রাগুক্ত, ২/১৬৮; আল-মারদাওয়ি, আল-ইনসাফ, প্রাগুক্ত, ৩/৪২০।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ৭)
5 - وسُئل إسحاق عن الرجل [148] يُجاوز بيديه أُذنيه عند افتتاح الصلاة؟ فكرههُ، وقال: أخبرنا جرير عن مُغيرة عن إبراهيم (1) قال: "كانوا يكرهُون أن يُجاوزوا باليدين الأُذنين" (2). وكره أبو يعقوبَ (3) ذلك.

6 - وسمعتُ إسحاق - مَرَّةً أخرى - في حديث النبي صلى الله عليه وسلم: (أنَّه رفع يديه حَذْو (4) أُذنيه) يَعني: قُبال أُذنيه مقابلهما، ليس أنْ يردَّهما حتى يُلزقهما بمنكبيه أو بأُذنيه، إنما هو قُبالة الأُذنين. (5)

7 - وسمعتُ إسحاق - أيضًا - يقول: "إذا كبَّر رفع يديه حَذْوَ منكبيه ثم يكبّر، فإن رفعهما إلى أُذنيه فجائز، وحذو المنكبين أصحُّ وأكثر (6)، فإن نسي أن يرفعهما وقد كبَّر أجزأه إن شاء الله تعالى" (7).

--------------------------------------------

(1) سنده:

1 - جرير بن عبد الحميد بن قُرْط الضبّي، الكوفي، نزيل الري وقاضيها، ثقةٌ، صحيح الكتاب، قيل: كان في آخر عمره يَهِمُ من حفظه. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 916.

2 - المغيرة بن مِقْسَم الضبّي مولاهم ، ثقةٌ متقنٌ ، إلا أنه كان يدلّس ولا سيما عن إبراهيم، من السادسة، مات سنة ستٍ وثلاثين على الصحيح. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6851.

3 - إبراهيم بن يزيد النخعي، أبو عمران الكوفي الفقيه، ثقة إلا أنه يرسل كثيرًا، من الخامسة، مات سنة ستٍ وتسعين، وهو ابن خمسين أو نحوها. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 270.

(2) رواه أبو بكرعبد الله بن محمد الكوفي المشهور بابن أبي شيبة، المصنف في الأحاديث والآثار، تحقيق: كمال يوسف الحوت، ط 1، 1 (الرياض: مكتبة الرشد، 1409 هـ)، ح 2415، كتاب الصلاة، إلى أين يبلغ بيديه، 211، من طريق جرير عن مغيرة عن إبراهيم بلفظ: "لا تجاوز باليدين الأذنين في الصلاة".

(3) أبو يعقوب: هو إسحاق بن راهويه.

(4) الحديث سبق في المسألة رقم (4). وحذو أذنيه: الحذو والحَذّاء. الإزاء والمقابل: أي إنها محاذية لأذنيه.

ينظر: مادة (حذا). ابن الأثير، النهاية في غريب الحديث، مرجع سابق، 1/ 358، ابن منظور، لسان العرب، مرجع سابق، 14/ 170، العيني، عمدة القاري، 5 (بيروت: دار إحياء التراث العربي)، 271.

(5) ينظر: الكوسج، مرجع سابق، 187، 475، محمد بن إبراهيم بن المنذر النيسابوري، الأوسط من السنن والإجماع والاختلاف، تحقيق: إبراهيم الشيخ، وأيمن السيد عبد الفتاح، 3 (الفيوم: دار الفلاح، 1430 هـ)، 214، ابن قدامة المقدسي، المغني، مرجع سابق، 2/ 137.

(6) ينظر: ابن القيم، رفع اليدين، مرجع سابق، 290.

(7) نقل الاتفاق على استحباب رفع اليدين عند تكبيرة الإحرام: ابن المنذر، وابن قدامة، والنووي، وإبراهيم ابن مفلح، وخالف في ذلك: الأوزاعي في روايةٍ، والحميدي، وأبو بكر ابن أبي شيبة، وأحمد بن سيار المروزي الشافعي، وداود بن علي، وابن خزيمة، وابن حزم، وذهبوا إلى أن رفع اليدين فرضٌ لا تجزئ الصلاة إلا به.

ينظر: محمد بن إبراهيم بن المنذر، الإشراف على مذاهب العلماء، تحقيق: أبوحماد الأنصاري، 2 (رأس الخيمة: مكتبة مكة الثقافية) 27، علي بن حزم الظاهري، المحلى ، تحقيق: لجنة إحياء التراث العربي، 3 (بيروت: دارالآفاق الجديدة)، 234 ، يوسف بن عبد البر النمري، التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد، تحقيق: مصطفى العلوي ، محمد البكري، 9 (المغرب: وزارة عموم الأوقاف والشؤون الإسلامية، 1387 هـ)، 225، يوسف بن عبد البر النمري، الاستذكار الجامع لمذاهب فقهاء الأمصار تحقيق: سالم عطا- محمد معوض، ط 1، 4 (بيروت: دار الكتب العلمية، 2000 م)، 103، 107، ، محيي الدين يحيى بن شرف النووي، المجموع شرح المهذب، 3 (بيروت: دارالفكر، 1997 م)،251، ابن قدامة المقدسي، المغني، مرجع سابق، 2/ 136، عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي، فتح الباري في شرح صحيح البخاري، تحقيق: طارق عوض الله، ط 2، 4 (الدمام: دار ابن الجوزي، 1422 هـ)، 296 - 297، إبراهيم بن مفلح، المبدع، مرجع سابق، 1/ 430.
৫ - ইসহাককে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে সালাত শুরুর সময় হাত কান অতিক্রম করে ফেলে? তিনি একে অপছন্দ করলেন এবং বললেন: জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুগীরাহ থেকে, তিনি ইব্রাহীম (১) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "তারা (সালাফ) দুই হাত কানের উপরে নিয়ে যাওয়া অপছন্দ করতেন" (২)। আবু ইয়াকুবও (৩) একে অপছন্দ করতেন।

৬ - আমি ইসহাককে অন্য এক সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস: (তিনি তার দুই হাত কানের বরাবর (৪) তুলতেন) এর ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি যে, এর অর্থ হলো: কানের সমান্তরালে বা মুখোমুখি, এমন নয় যে সেগুলোকে পিছিয়ে কাঁধের সাথে বা কানের সাথে লাগিয়ে দেবে, বরং তা কেবল কানের মুখোমুখি হবে। (৫)

৭ - আমি ইসহাককে আরও বলতে শুনেছি: "যখন সে তাকবীর দিবে, তার দুই হাত কাঁধ বরাবর তুলবে এরপর তাকবীর দিবে। যদি সে হাত কান পর্যন্ত তোলে তবে তাও জায়েজ, তবে কাঁধ বরাবর তোলা অধিক বিশুদ্ধ ও অধিক প্রচলিত (৬)। আর যদি সে হাত তোলা ভুলে যায় কিন্তু তাকবীর দিয়ে ফেলে, তবে ইনশাআল্লাহ তা যথেষ্ট হবে" (৭)।

--------------------------------------------

(১) তার সনদ:

১ - জারীর বিন আব্দুল হামীদ বিন কুর্ত আদ-দাব্বী, আল-কূফী, রাই নগরীতে বসবাসকারী এবং সেখানকার কাজী, বিশ্বস্ত, তার কিতাব সঠিক, বলা হয়েছে: শেষ বয়সে তিনি তার মুখস্থ শক্তি থেকে ভ্রম করতেন। ছয় কিতাবের রাবী। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহজীব, প্রাগুক্ত, ৯১৬।

২ - মুগীরাহ বিন মিকসাম আদ-দাব্বী, তাদের আযাদকৃত দাস, বিশ্বস্ত ও অত্যন্ত নিপুণ, তবে তিনি তাদলীস করতেন বিশেষ করে ইব্রাহীম থেকে, ষষ্ঠ স্তরের রাবী, সঠিক মতানুসারে ১৩৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। ছয় কিতাবের রাবী। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহজীব, প্রাগুক্ত, ৬৮৫১।

৩ - ইব্রাহীম বিন ইয়াযীদ আন-নাখায়ী, আবু ইমরান আল-কূফী আল-ফকীহ, বিশ্বস্ত, তবে তিনি অধিক ইরসাল (মুরসাল বর্ণনা) করতেন, পঞ্চম স্তরের রাবী, ৯৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার বয়স ছিল প্রায় পঞ্চাশ বছর। ছয় কিতাবের রাবী। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহজীব, প্রাগুক্ত, ২৭০।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-কূফী, যিনি ইবনে আবী শাইবাহ নামে পরিচিত, আল-মুসান্নাফ ফিল আহাদীস ওয়াল আসার, তাহকীক: কামাল ইউসুফ আল-হূত, ১ম সংস্করণ, খণ্ড ১ (রিয়াদ: মাকতাবাতুর রুশদ, ১৪০৯ হি.), হাদীস নং ২৪১৫, কিতাবুস সালাত, 'হাত কতটুকু পর্যন্ত পৌঁছাবে' অধ্যায়, পৃষ্ঠা ২১১, জারীরের সূত্রে মুগীরাহ থেকে তিনি ইব্রাহীম থেকে এই শব্দে: "সালাতে দুই হাত কান অতিক্রম করবে না"।

(৩) আবু ইয়াকুব: তিনি হলেন ইসহাক বিন রাহওয়াইহ।

(৪) হাদীসটি পূর্বে ৪ নম্বর মাসআলায় অতিক্রান্ত হয়েছে। 'হাযওয়া উদুনাইহি': আল-হাযউ এবং আল-হাযযা। অর্থ হলো মুখোমুখি বা বরাবর: অর্থাৎ তা তার দুই কানের সমান্তরালে হওয়া।

দেখুন: শব্দমূল (হাযা)। ইবনুল আসীর, আন-নিহায়া ফী গারীবিল হাদীস, প্রাগুক্ত, ১/৩৫৮; ইবনে মানযুর, লিসানুল আরব, প্রাগুক্ত, ১৪/১৭০; আল-আইনী, উমদাতুল কারী, খণ্ড ৫ (বৈরুত: দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবী), পৃষ্ঠা ২৭১।

(৫) দেখুন: আল-কাওসাজ, প্রাগুক্ত, ১৮৭, ৪৭৫; মুহাম্মদ বিন ইব্রাহীম বিন আল-মুনযির আন-নিসাবুরী, আল-আওসাত মিনাস সুনান ওয়াল ইজমা ওয়াল ইখতিলাফ, তাহকীক: ইব্রাহীম আশ-শায়খ এবং আয়মান আস-সায়েদ আব্দুল ফাত্তাহ, খণ্ড ৩ (ফাইয়ুম: দারুল ফালাহ, ১৪৩০ হি.), পৃষ্ঠা ২১৪; ইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসী, আল-মুগনী, প্রাগুক্ত, ২/১৩৭।

(৬) দেখুন: ইবনুল কায়্যিম, রাফউল ইয়াদাইন, প্রাগুক্ত, ২৯০।

(৭) তাকবীরে ইহরামের সময় দুই হাত তোলা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে ইজমা বা ঐকমত্য নকল করেছেন: ইবনুল মুনযির, ইবনে কুদামাহ, আন-নাবাবী এবং ইবনে মুফলিহ। তবে এক বর্ণনায় আল-আওযায়ী এবং আল-হুমাইদী, আবু বকর ইবনে আবী শাইবাহ, আহমাদ বিন সাইয়ার আল-মারওয়াযী আশ-শাফেয়ী, দাউদ বিন আলী, ইবনে খুযাইমাহ এবং ইবনে হাযম এর বিরোধিতা করেছেন; তারা মনে করেন যে হাত তোলা ফরজ, এটি ছাড়া সালাত জায়েজ হবে না।

দেখুন: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহীম বিন আল-মুনযির, আল-ইশরাফ আলা মাযাহিবিল উলামা, তাহকীক: আবু হাম্মাদ আল-আনসারী, খণ্ড ২ (রাস আল-খাইমাহ: মাকতাবাতু মক্কা আস-সাকাফিয়্যাহ), পৃষ্ঠা ২৭; আলী বিন হাযম আজ-জাহিরী, আল-মুহাল্লা, তাহকীক: লাজনাতু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবী, খণ্ড ৩ (বৈরুত: দারুল আফাক আল-জাদীদাহ), পৃষ্ঠা ২৩৪; ইউসুফ বিন আব্দুল বার আন-নামরী, আত-তামহীদ লিমা ফিল মুওয়াত্তা মিনাল মাআনী ওয়াল আসানীদ, তাহকীক: মুস্তফা আল-আলাওয়ী, মুহাম্মদ আল-বাকরী, খণ্ড ৯ (মরক্কো: ওযারাতু উমুমিল আওকাফ ওয়াশ শুউনিল ইসলামিয়্যাহ, ১৩৮৭ হি.), পৃষ্ঠা ২২৫; ইউসুফ বিন আব্দুল বার আন-নামরী, আল-ইস্তযকার আল-জামে লি-মাযাহিব ফু কাহাউল আমসার, তাহকীক: সালিম আতা - মুহাম্মদ মুআওয়াদ, ১ম সংস্করণ, খণ্ড ৪ (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ২০০০ খ্রি.), পৃষ্ঠা ১০৩, ১০৭; মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া বিন শারাফ আন-নাবাবী, আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব, খণ্ড ৩ (বৈরুত: দারুল ফিকর, ১৯৯৭ খ্রি.), পৃষ্ঠা ২৫১; ইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসী, আল-মুগনী, প্রাগুক্ত, ২/১৩৬; আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন রাজাব আল-হানবালী, ফাতহুল বারী ফী শারহি সহীহিল বুখারী, তাহকীক: তারিক ইওয়াদুল্লাহ, ২য় সংস্করণ, খণ্ড ৪ (দাম্মাম: দারু ইবনিল জাওযী, ১৪২২ হি.), পৃষ্ঠা ২৯৬ - ২৯৭; ইব্রাহীম বিন মুফলিহ, আল-মুবদি, প্রাগুক্ত, ১/৪৩০।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ৮)
8 - وسمعتُ إسحاق مرَّة أُخرى يقول: "إذا افتتحت الصلاة فقُل: اللهُ أكبر، وارفعْ يديك حذو منكبيك".

9 - سألتُ علي بن عبد الله (1) قلتُ: رَفْع اليدين في الصلاة إلى أي موضع؟ قال: إلى المنكبين. فذَهَب إلى حديث سالم بن عبد الله (2)، عن أبيه (3).

10 - قال علي: وحدثنا سفيان قال: حدثنا إسماعيل بن محمد بن سعد قال: سمعتُ عبد الرحمن الأعرج يقول: سمعتُ أبا هريرة (4) يقول: ((منكم من يقول هكذا ورفع يديه إلى ثدييه، ومنكم

--------------------------------------------

(1) علي بن عبد الله المديني: ثقة. تقدمت ترجمته في المسألة (1).

(2) تقدم تخريج الحديث في التعليق على المسألة (4).

وسالم هو سالم بن عبد الله بن عمر بن الخطاب، أبو عمر، أحد الفقهاء السبعة، وكان ثبتًا عابدًا فاضلًا، من كبار الثالثة. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 2176.

(3) ينظر قول ابن المديني في: ابن القيم، رفع اليدين، مرجع سابق، 290.

(4) سنده:

1 - سفيان بن عيينة بن أبي عمران: ميمون الهلالي، أبو محمد الكوفي، ثم المكي، ثقةٌ حافظٌ فقيهٌ، إمامٌ حجةٌ، إلا أنه تغيّر حفظه بأَخَرَةٍ وكان ربما دلّس لكن عن الثقات، مات في رجب سنة ثمانٍ وتسعين وله إحدى وتسعون سنةً. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 2451.

2 - إسماعيل بن محمد بن سعد بن أبي وقاص الزُّهري، المدني، أبو محمد، ثقةٌ حجةٌ، من الرابعة، مات سنة أربعٍ وثلاثين. خ م د ت س. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 479.

4 - عبد الرحمن بن هُرْمُز الأعرج، أبو داود المدني، مولى ربيعة بن الحارث، ثقةٌ ثبْتٌ عالمٌ، من الثالثة، مات سنة سبع عشرة. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 4033.

5 - أبوهريرة رضي الله عنه: تقدمت ترجمته في المسألة رقم (1).
৮ - এবং আমি ইসহাককে আরও একবার বলতে শুনেছি: "যখন তুমি সালাত শুরু করবে তখন বলবে: আল্লাহু আকবার, এবং তোমার হাত দুটিকে তোমার কাঁধ বরাবর উঠাবে।"

৯ - আমি আলী বিন আবদুল্লাহকে (১) জিজ্ঞাসা করলাম: সালাতে হাত উঠানো কোন স্থান পর্যন্ত? তিনি বললেন: কাঁধ পর্যন্ত। অতঃপর তিনি সালেম বিন আবদুল্লাহর (২) হাদিসের দিকে গিয়েছেন, যা তিনি তাঁর পিতা (৩) থেকে বর্ণনা করেছেন।

১০ - আলী বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন সা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুর রহমান আল-আরাজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে (৪) বলতে শুনেছি: "তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এইভাবে বলে—এবং তিনি তাঁর হাত দুটিকে তাঁর বুক পর্যন্ত উঠালেন—এবং তোমাদের মধ্যে কেউ..."

--------------------------------------------

(১) আলী বিন আবদুল্লাহ আল-মাদিনী: নির্ভরযোগ্য। ১ নং মাসআলায় তাঁর জীবনী অতিবাহিত হয়েছে।

(২) ৪ নং মাসআলার টিকায় হাদিসের তাখরিজ অতিবাহিত হয়েছে।

সালেম হলেন সালেম বিন আবদুল্লাহ বিন ওমর বিন আল-খাত্তাব, আবু ওমর, সাত ফকিহর একজন। তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, ইবাদতকারী ও গুণী ব্যক্তি ছিলেন; তৃতীয় স্তরের প্রবীণদের অন্তর্ভুক্ত। 'আইন'। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ২১৭৬।

(৩) ইবনুল মাদিনীর উক্তিটি দ্রষ্টব্য: ইবনুল কাইয়্যিম, রাফউল ইয়াদাইন, পূর্বোক্ত সূত্র, ২৯০।

(৪) তাঁর সনদ:

১ - সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ বিন আবি ইমরান: মায়মুন আল-হিলালি, আবু মুহাম্মদ আল-কুফি, অতঃপর আল-মাক্কি; নির্ভরযোগ্য, হাফিজ, ফকিহ, ইমাম ও হুজ্জাত। তবে শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিশক্তি কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছিল এবং তিনি মাঝেমধ্যে তাদলীস করতেন, তবে তা কেবল নির্ভরযোগ্যদের থেকেই করতেন। তিনি ১৯৮ হিজরীর রজব মাসে ৯১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। 'আইন'। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ২৪৫১।

২ - ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস আয-যুহরি, আল-মাদানি, আবু মুহাম্মদ; নির্ভরযোগ্য ও হুজ্জাত, চতুর্থ স্তরের অন্তর্ভুক্ত, ১৩৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। খু, ম, দ, ত, স। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪৭৯।

৪ - আবদুর রহমান বিন হুরমুয আল-আরাজ, আবু দাউদ আল-মাদানি, রাবিয়া বিন আল-হারিসের মুক্তদাসা; নির্ভরযোগ্য, অত্যন্ত সুদৃঢ় ও আলেম; তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত, ১১৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। 'আইন'। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪০৩৩।

৫ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু: ১ নং মাসআলায় তাঁর জীবনী অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ৯)
من يقول هكذا ورفع يديه إلى أذنيه، ومنكم من يقول هكذا ورفع يديه إلى منكبيه، ورفع بها صوته)). (1) قال سُفيان: يقول كأن هذا أعدله.

11 - حدثنا هشام بنُ عمّارقال: حدثنا ابن عيَّاش قال حدثنا صالح بن كَيْسان عن الأعرج عن أبي هريرة (2) رضي الله عنه قال: (كان رسول الله [249]صلى الله عليه وسلم يرفَعُ يَديه حذو منكبيه [حين يُكبِّر وحين يفتتح الصلاة] (3) وحين يركع وحين يسجد وحين يقوم للفَصْل من الركعتين) (4).

--------------------------------------------

(1) رواه ابن أبي شيبة، المصنف، مرجع سابق، ح 2422، كتاب الصلاة، إلى أين يبلغ بيديه، 1/ 212، من طريق سفيان بن عيينة، عن إسماعيل بن محمد، عن الأعرج، قال: سمعت أبا هريرة يقول: ((منكم من يقول هكذا، ورفع سفيان يديه حتى تجاوز بهما رأسه، ومنكم من يقول هكذا، ووضع يديه عند بطنه، ومنكم من يقول هكذا، يعني: حذو منكبيه)).

(2) سنده:

1 - هشام بن عمار بن نُصير السُّلمي، الدمشقي، صدوقٌ مقرئٌ، كبِر فصار يتلقّن فحديثه القديم أصح، مات سنة خمسٍ وأربعين على الصحيح. خ 4. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 7303.

2 - إسماعيل بن عَيّاش بن سُلَيْم العَنْسي، أبو عُتبة الحِمْصي، صدوقٌ في روايته عن أهل بلده مُخَلِّطٌ في غيرهم، من الثامنة. ي 4. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 473.

3 - صالح بن كَيسان المدني، أبو محمد، أو أبو الحارث، مؤدِّب ولد عمر بن عبد العزيز، ثقةٌ ثبتٌ فقيهٌ، من الرابعة، مات بعد سنة ثلاثين، أو بعد الأربعين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 2884.

(3) الحديث رواه أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني، مسند الإمام أحمد، المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون، إشراف: د. عبد الله بن عبد المحسن التركي، ط 1، 10 (مؤسسة الرسالة، 1421 هـ)، ح 6163، 305، بلفظ: (حين يكبر، ويفتتح الصلاة)، ومحمد بن يزيد بن ماجه القزويني، سنن ابن ماجه، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، 1 (بيروت: دار الفكر)، ح 860، كتاب إقامة الصلاة، باب رفع اليدين إذا ركع، 279 بلفظ: (حين يفتتح الصلاة).

(4) رواه أحمد ، مسند الإمام أحمد، مرجع سابق، ح 6163، 10/ 305، وابن ماجه، سنن ابن ماجه، مرجع سابق، ح 860، كتاب إقامة الصلاة، باب رفع اليدين إذا ركع، 1/ 279 من طريق إسماعيل بن عياش دون قوله: "وحين يقوم للفَصْل من الركعتين".

ورواه البخاري في رفع اليدين، مرجع سابق، ح 110، 114، من طريق إسماعيل بن عياش إلى قوله"حين يركع".

قال ابن رجب: "وإسماعيل بن عياش، سيء الحفظ لحديث الحجازيين، وقد خالفه ابن إسحاق، فرواه عن عبدالرحمن الأعرج، عن أبي هريرة - موقوفًا - قاله الإمام أحمد وغيره، وقال الدارقطني في علله: اختلف على إسماعيل بن عياش في لفظه، فذكرت عنه طائفةٌ الرفع عندَ الافتتاح والركوع والسجود، وذكرت طائفةٌ عنه الرفع عند الافتتاح والركوع والرفع منه، قال: وهو أشبه بالصواب"، وقد ضعف الحديث البوصيري، وصححه ابن القيم والألباني بمجموع طرقه.

ينظر: أبوالحسن علي بن عمر بن أحمد الدارقطني، العلل الواردة في الأحاديث النبوية، تحقيق وتخريج: محفوظ الرحمن زين الله السلفي، 10 (الرياض: دار طيبة، الدمام: دار ابن الجوزي، 1405 هـ)، 288 - 290، ابن القيم، رفع اليدين، مرجع سابق، 16، 17، 219 - 222، الزيلعي، نصب الراية لأحاديث الهداية، تحقيق: محمد يوسف البنوري، 1 (مصر: دارالحديث، 1357 هـ)، 414، ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 327، ابن حجر العسقلاني، الدراية في تخريج أحاديث الهداية، تحقيق: عبد الله هاشم اليماني، 1 (بيروت: دار المعرفة)، 1/ 153، أحمد بن أبي بكر البوصيري، مصباح الزجاجة في زوائد ابن ماجه تحقيق: محمد المنتقى الكشناوي، ط 2، 1 (بيروت: دارالعربية، 1403 هـ)، 107، محمد بن يزيد بن ماجه القزويني، سنن ابن ماجه مع أحكام الألباني، اعتنى به: مشهور بن حسن سلمان، ط 1، (الرياض: مكتب المعارف) ، 159.
কেউ এভাবে বলে এবং তিনি কান পর্যন্ত তাঁর হাত উঠালেন, আর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এভাবে বলে এবং তিনি কাঁধ পর্যন্ত তাঁর হাত উঠালেন, আর তিনি এর মাধ্যমে নিজের কণ্ঠস্বর উঁচু করলেন। (১) সুফিয়ান বলেন: তিনি বলছেন যেন এটিই তার কাছে অধিক ভারসাম্যপূর্ণ।

১১ - হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালেহ ইবনে কায়সান আমাদের নিকট আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (২) রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ [২৪৯] সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাকবীর দিতেন এবং যখন সালাত শুরু করতেন তখন কাঁধ বরাবর হাত উঠাতেন, এবং যখন রুকু করতেন, যখন সিজদাহ করতেন এবং যখন দুই রাকাত শেষ করে (তৃতীয় রাকাতের জন্য) দাঁড়াতেন তখনও হাত উঠাতেন) (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি শায়বা এটি বর্ণনা করেছেন, আল-মুসান্নাফ, পূর্বোক্ত সূত্র, হাদীস নং ২৪২২, কিতাবুস সালাত, হাত কতটুকু পর্যন্ত পৌঁছাবে, ১/ ২১২, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা-এর সূত্রে, তিনি ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি: "তোমাদের মধ্যে কেউ এভাবে বলে, আর সুফিয়ান হাত দুটিকে এমনভাবে উঠালেন যে তা মাথার উপরে চলে গেল। তোমাদের মধ্যে কেউ এভাবে বলে এবং হাত দুটিকে পেটের কাছে রাখলেন। আর তোমাদের মধ্যে কেউ এভাবে বলে অর্থাৎ কাঁধ বরাবর।"

(২) তাঁর সনদ:

১ - হিশাম ইবনে আম্মার ইবনে নুসাইর আস-সুলামি, আদ-দামিশকি, সত্যবাদী ও কারী, বৃদ্ধ বয়সে তাঁর মুখস্থ শক্তিতে কিছুটা ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তাই তাঁর প্রাচীন (আগের) হাদীসসমূহ অধিক সহীহ। তিনি সঠিক বর্ণনা মতে ২৪৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। (বুখারী, ৪)। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৭৩০৩।

২ - ইসমাইল ইবনে আইয়াশ ইবনে সুলাইম আল-আনসি, আবু উতবা আল-হিমসি, নিজ এলাকার লোকদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে সত্যবাদী, তবে অন্যদের ক্ষেত্রে মিশ্রণকারী (দুর্বল), অষ্টম স্তরের। (ইবনে মাজাহ, ৪)। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪৭৩।

৩ - সালেহ ইবনে কায়সান আল-মাদানি, আবু মুহাম্মদ বা আবু আল-হারিস, উমর ইবনে আবদুল আযীযের সন্তানদের শিক্ষক, নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ় ও ফকীহ, চতুর্থ স্তরের। তিনি ১৩০ হিজরীর পরে বা ১৪০ হিজরীর পরে মৃত্যুবরণ করেন। (ছয় কিতাব)। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ২৮৮৪।

(৩) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানী, মুসনাদে ইমাম আহমদ, মুহাক্কিক: শুয়াইব আরনাউত - আদিল মুরশিদ এবং অন্যান্যগণ, তত্ত্বাবধানে: ড. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি, ১ম সংস্করণ, ১০ (মুআসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪২১ হি.), হাদীস নং ৬১৬৩, ৩০৫ পৃষ্ঠায়, শব্দগুলো হলো: (যখন তাকবীর দিতেন এবং সালাত শুরু করতেন)। এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ আল-কাযভীনি, সুনানে ইবনে মাজাহ, তাহকীক: মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী, ১ (বৈরুত: দারুল ফিকর), হাদীস নং ৮৬০, কিতাবুত ইকামাতুস সালাত, অধ্যায়: রুকু করার সময় হাত উঠানো, ২৭৯ পৃষ্ঠায় শব্দগুলো হলো: (যখন সালাত শুরু করতেন)।

(৪) আহমদ বর্ণনা করেছেন, মুসনাদে ইমাম আহমদ, পূর্বোক্ত সূত্র, হাদীস নং ৬১৬৩, ১০/ ৩০৫; এবং ইবনে মাজাহ, সুনানে ইবনে মাজাহ, পূর্বোক্ত সূত্র, হাদীস নং ৮৬০, কিতাবুত ইকামাতুস সালাত, অধ্যায়: রুকু করার সময় হাত উঠানো, ১/ ২৭৯, ইসমাইল ইবনে আইয়াশের সূত্রে, তবে সেখানে "যখন দুই রাকাত শেষ করে দাঁড়াতেন" কথাটি নেই।

এবং ইমাম বুখারী এটি 'রাফউল ইয়াদাইন' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, পূর্বোক্ত সূত্র, হাদীস নং ১১০, ১১৪, ইসমাইল ইবনে আইয়াশের সূত্রে "যখন রুকু করতেন" কথাটি পর্যন্ত।

ইবনে রাজাব বলেন: "ইসমাইল ইবনে আইয়াশ হিজাযী বর্ণনাকারীদের হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী। ইবনে ইসহাক তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি আব্দুর রহমান আরাজ থেকে আবু হুরায়রা পর্যন্ত এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন - ইমাম আহমদ ও অন্যান্যরা এটিই বলেছেন। দারাকুতনী তাঁর 'ইলাল' গ্রন্থে বলেন: ইসমাইল ইবনে আইয়াশের বর্ণনার শব্দের ক্ষেত্রে মতভেদ হয়েছে। একদল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছে শুরু করার সময়, রুকুর সময় ও সিজদার সময় হাত তোলার কথা। আর একদল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছে শুরু করার সময়, রুকুর সময় ও রুকু থেকে মাথা তোলার সময় হাত তোলার কথা। তিনি বলেন: এটিই সত্যের কাছাকাছি।" আল-বুসিরি হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন এবং ইবনে কাইয়্যিম ও আলবানী তাঁর সমস্ত সূত্রের সমন্বয়ে এটিকে সহীহ বলেছেন।

দ্রষ্টব্য: আবুল হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে আহমদ আদ-দারাকুতনী, আল-ইলালুল ওয়ারিদাহ ফিল আহাদীসিন নাবাউইয়্যাহ, তাহকীক ও তাখরীজ: মাহফুজুর রহমান যয়নুল্লাহ আস-সালাফী, ১০ (রিয়াদ: দারু তাইয়্যেবা, দাম্মাম: দারু ইবনিল জাওযী, ১৪০৫ হি.), ২৮৮ - ২৯০; ইবনুল কাইয়্যিম, রাফউল ইয়াদাইন, পূর্বোক্ত সূত্র, ১৬, ১৭, ২১৯ - ২২২; যাইলায়ী, নাসবুর রাইয়াহ লি-আহাদীসিল হিদায়াহ, তাহকীক: মুহাম্মদ ইউসুফ আল-বিন্নুরী, ১ (মিশর: দারুল হাদীস, ১৩৫৭ হি.), ৪১৪; ইবনে রাজাব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/ ৩২৭; ইবনে হাজার আসকালানী, আদ-দিরাইয়াহ ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়াহ, তাহকীক: আব্দুল্লাহ হাশেম আল-ইয়ামানী, ১ (বৈরুত: দারুল মা’রিফাহ), ১/ ১৫৩; আহমদ ইবনে আবু বকর আল-বুসিরি, মিসবাহুজ জুজাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ, ২য় সংস্করণ, ১ (বৈরুত: দারুল আরাবিয়্যাহ, ১৪০৩ হি.), ১০৭; মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ আল-কাযভীনি, সুনানে ইবনে মাজাহ মা’আ আহকামিল আলবানী, তত্ত্বাবধানে: মশহুর ইবনে হাসান সালমান, ১ম সংস্করণ, (রিয়াদ: মাকতাবাতুল মা’আরিফ), ১৫৯।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ১০)
12 - سمعْتُ إسحاق مرةً أخرى يقول: "إذا افتتح الرجلُ الصلاةَ رفع يَديه حَذْو منكبيه ثم يُكبّر، فإذا ركع رفع يديه حذو منكبيه، وإذا رفع رأسه من الركوع رفع يديه كذلك أيضًا،

وقال: سمع اللهُ لمن حمده، ولا يفعل ذلك في السُّجود، سنةٌ ماضيةٌ عن النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه". (1)

13 - وسمعتُ إسحاق أيضًا يقول: إذا كبَّرت فلا تُجاوز بإبهاميك أُذنيك، فإنه بلغنا أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كانت تُرى إبهاماه قريبًا من أُذنيه (2).

والذي نَعْتمدُ عليه: حَذْو المنكبين لا نُجَاوز بهما، وإنما يُراد بالأذنين أو المنكبين علامةً لمُنتهى اليدين ، ولا يُراد بذلك أنْ يُلزقَ يديه بأُذنيه أو مَنكِبيه".

--------------------------------------------

(1) ينظر: الكوسج، مرجع سابق، 187، 475، ابن المنذر، الأوسط، مرجع سابق، 3/ 304.

(2) رواه أحمد، مسند الإمام أحمد، مرجع سابق، ح 18702، 30/ 631، والنسائي، سنن النسائي، مرجع سابق، ح 1102، كتاب التطبيق، باب مكان اليدين من السجود، 2/ 211، ولفظه عند النسائي من حديث وائل بن حجر قال: (قدمت المدينة فقلت: لأنظرن إلى صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكبر ورفع يديه حتى رأيت إبهاميه قريبا من أذنيه). وصححه الألباني.

ينظر: أحمد بن شعيب بن علي النسائي الخراساني، سنن النسائي مع أحكام الألباني، اعتنى به: مشهور بن حسن سلمان، ط 1، (الرياض: مكتب المعارف) ، 179.
১২ - আমি ইসহাককে আরও একবার বলতে শুনেছি: "যখন কোনো ব্যক্তি সালাত শুরু করবে, সে তার দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাবে এবং অতঃপর তাকবীর বলবে। এরপর যখন রুকু করবে, তখন সে তার দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাবে। আর যখন রুকু থেকে তার মাথা উঠাবে, তখনও একইভাবে হাত উঠাবে এবং বলবে: 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' (আল্লাহ তাঁর প্রশংসা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে)। তবে সিজদাহ করার সময় এমনটি করবে না। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের থেকে চলে আসা একটি সুন্নাত।" (১)

১৩ - আমি ইসহাককে আরও বলতে শুনেছি: "যখন তুমি তাকবীর বলবে, তখন তোমার দুই বৃদ্ধাঙ্গুলিকে তোমার দুই কানের সীমা অতিক্রম করাবে না। কেননা আমাদের কাছে এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি তাঁর দুই কানের নিকটবর্তী দেখা যেত (২)।

আর আমরা যার ওপর নির্ভর করি তা হলো: কাঁধ বরাবর হাত উঠানো, আমরা হাতকে এর চেয়ে বেশি অতিক্রম করাব না। মূলত কান বা কাঁধের কথা দ্বারা হাতের সীমানার একটি চিহ্ন বোঝানো হয়েছে; এর উদ্দেশ্য এটি নয় যে, সে তার দুই হাত তার কানের সাথে বা কাঁধের সাথে লাগিয়ে ফেলবে।"

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কাউসাজ, পূর্বোক্ত সূত্র, ১৮৭, ৪৭৫; ইবনুল মুনযির, আল-আওসাত, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩/৩০৪।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, মুসনাদে ইমাম আহমাদ, পূর্বোক্ত সূত্র, হা. ১৮৭০২, ৩০/৬৩১; এবং নাসাঈ, সুনানে নাসাঈ, পূর্বোক্ত সূত্র, হা. ১১০২, কিতাবুত তাতবিক, অধ্যায়: সিজদাহ করার সময় দুই হাতের স্থান, ২/২১১। নাসাঈর শব্দগুলো এসেছে ওয়ায়েল ইবনে হুজর-এর হাদীস থেকে, তিনি বলেন: (আমি মদিনায় আসলাম এবং মনে মনে বললাম: আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত লক্ষ্য করব। অতঃপর তিনি তাকবীর বললেন এবং তাঁর দুই হাত উঠালেন, এমনকি আমি তাঁর দুই বৃদ্ধাঙ্গুলিকে তাঁর দুই কানের নিকটবর্তী দেখতে পেলাম)। আলবানী একে সহীহ বলেছেন।

দেখুন: আহমাদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী আন-নাসাঈ আল-খুরাসানী, সুনানে নাসাঈ সাথে আলবানীর তাহকীক, সংকলন: মাশহুর বিন হাসান সালমান, ১ম সংস্করণ, (রিয়াদ: মাকতাবাতুল মা'আরিফ), ১৭৯।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ১১)
14 - حدثنا عمرو بن عثمان، قال: حدثنا بقيّة بن الوليد قال: حدثني عُتبة بن أبي حكيم قال: حدثني [عبد الله بن عيسى] (1) عن العبّاس بن سهل الساعدي عن أبي حُميد الساعدي (2) قال:

(كان رسولُ الله صلى الله عليه وسلم إذا قام إلى الصلاة كبَّر ورفع يديه حذوَ وجهه، وإذا كبَّر للركوع فعل مثلَ ذلك، وإذا قال سمعَ اللهُ لمن حمدَه فعل مثل ذلك، وقال: ربَّنا لك الحمد). (3)

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل والمطبوع ص 90، ولعل الصواب: عيسى بن عبد الله، كما في شرح معاني الآثار للطحاوي. وروى أبو داود، سنن أبي داود، مرجع سابق، ح 735، كتاب الصلاة، باب افتتاح الصلاة، 1/ 196، حديثًا آخر بلفظٍ آخر بنفس السند، ثم قال أبو داود: " … أُراه ذكر عيسى بن عبد الله، أنه سمعه من عباس بن سهل، قال: حضرت أبا حميد الساعدي ".

ينظر: أبو داود ، سنن أبي داود ، مرجع سابق ، 1/ 195 ، 253 ،196 ، الطحاوي، شرح معاني الآثار، تحقيق: محمد النجار، ط 1، 1 (بيروت: دارالكتب العلمية، 1399 هـ)، 196 و 260، ابن أبي حاتم، العلل، مرجع سابق، 2/ 389 ، 390، المزي، تهذيب الكمال في أسماء الرجال، مرجع سابق، 4635، 22/ 624.

(2) سنده:

1 - عمرو بن عثمان بن سعيد بن كثير بن دينار القرشي، أبو حفص الحمصي، مولى بنى أمية، صدوقٌ، من العاشرة، مات سنة خمسين ومائتين. د س ق. ينظر ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 5073.

2 - بقيّة بن الوليد بن صائد بن كعب بن حريز الكَلاعي الحميري الميتمى، أبو يُحْمِد الحمصي، صدوق كثير التدليس عن الضعفاء، من الثامنة، مات سنة سبعٍ وتسعين، وله سبعٌ وثمانون. خت م 4. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 734.

3 - عتبة بن أبى حكيم الهمداني، أبو العباس الشامي الأردني الطبراني، صدوقٌ يخطئ كثيرًا، من السادسة، مات بصُور بعد الأربعين. عخ 4. ينظر ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 4427.

4 - عيسى بن عبد الله بن مالك الدار بن عياض العمرى مولاهم، وقيل فيه عبد الله بن عيسى (وهو وهم)، مقبولٌ، من السادسة. د س ق. ينظر: المزي، تهذيب الكمال، مرجع سابق، 4635، 22/ 624 ، ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 5304،

5 - عباس بن سهل بن سعد الأنصاري الساعدي، ثقةٌ، من الرابعة، مات في حدود العشرين، وقيل: قبل ذلك. خ م د ت ق. ينظر ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3170.

6 - أبو حميد الساعدي الأنصاري، اسمه المنذر بن سعد بن المنذر، أو ابن مالك، وقيل: اسمه عبد الرحمن، وقيل: عمرو، صحابيٌ مشهورٌ شهد أحدًا وما بعدها، وعاش إلى أول خلافة يزيد، سنة ستين. ع. ينظر ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 8065.

(3) رواه الطحاوي في شرح معاني الآثار، مرجع سابق، ح 1545، 1548، كتاب الصلاة، باب صفة الجلوس في الصلاة كيف هو؟، 1/ 260، بنحوه ، من طريق العباس بن سهل الساعدي.
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উতবাহ ইবন আবি হাকিম, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন [আব্দুল্লাহ ইবন ঈসা] (১), তিনি আব্বাস ইবন সাহল আস-সাঈদী থেকে, তিনি আবু হুমাইদ আস-সাঈদী (২) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলতেন এবং তাঁর দুই হাত তাঁর চেহারা বরাবর উত্তোলন করতেন। আর যখন রুকুর জন্য তাকবীর বলতেন, তখনও অনুরূপ করতেন। আর যখন 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলতেন, তখনও অনুরূপ করতেন এবং বলতেন: 'রব্বানা লাকাল হামদ' (হে আমাদের রব, সকল প্রশংসা আপনারই))। (৩)

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপি এবং মুদ্রিত কপি পৃষ্ঠা ৯০-এ এভাবেই রয়েছে। সম্ভবত সঠিক পাঠ হবে: ঈসা ইবন আব্দুল্লাহ, যেমনটি ইমাম তহাবীর ‘শারহু মাআনী আল-আসার’ গ্রন্থে এসেছে। আর আবু দাউদ (সুনানে আবু দাউদ, পূর্বোক্ত সূত্র, হা. ৭৩৫, সালাত অধ্যায়, সালাত শুরু করার পরিচ্ছেদ, ১/ ১৯৬) একই সনদে ভিন্ন শব্দে আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আবু দাউদ বলেন: "...আমি মনে করি তিনি ঈসা ইবন আব্দুল্লাহর কথা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তা আব্বাস ইবন সাহল থেকে শুনেছেন, তিনি (আব্বাস) বলেন: আমি আবু হুমাইদ আস-সাঈদীর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম"৷

দ্রষ্টব্য: আবু দাউদ, সুনানে আবু দাউদ, পূর্বোক্ত সূত্র, ১/ ১৯৫, ২৫৩, ১৯৬; তহাবী, শারহু মাআনী আল-আসার, তাহকীক: মুহাম্মদ আন-নাজ্জার, ১ম সংস্করণ, খণ্ড ১ (বৈরুত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৩৯৯ হি.), ১৯৬ ও ২৬০; ইবন আবি হাতিম, আল-ইলাল, পূর্বোক্ত সূত্র, ২/ ৩৮৯, ৩৯০; মিযযী, তাহযীবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪৬৩৫, ২২/ ৬২৪।

(২) তাঁর সনদ:

১ - আমর ইবন উসমান ইবন সাঈদ ইবন কাসীর ইবন দীনার আল-কুরাশী, আবু হাফস আল-হিমসী, বনু উমাইয়ার আযাদকৃত দাস, সাদুক (সত্যবাদী), দশম স্তরের রাবী, মৃত্যুবরণ করেন ২৫০ হিজরীতে। (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)। দ্রষ্টব্য: ইবন হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৫০৭৩।

২ - বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ ইবন সায়িদ ইবন কাব ইবন হারীয আল-কালাঈ আল-হিময়ারী আল-মায়তামি, আবু ইউহমিদ আল-হিমসী, সাদুক (সত্যবাদী), তবে তিনি দুর্বল রাবীদের থেকে প্রচুর তাদলীস করেন, অষ্টম স্তরের রাবী, মৃত্যুবরণ করেন ১৯৭ হিজরীতে, সাতাশি বছর বয়সে। (বুখারী তালীকান, মুসলিম, সুনানে আরবাআ)। দ্রষ্টব্য: ইবন হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৭৩৪।

৩ - উতবাহ ইবন আবি হাকিম আল-হামদানী, আবু আব্বাস আশ-শামী আল-উর্দুনী আত-তাবারানী, সাদুক (সত্যবাদী), তবে প্রচুর ভুল করতেন, ষষ্ঠ স্তরের রাবী, চল্লিশ হিজরীর পর সূর শহরে মৃত্যুবরণ করেন। (বুখারী খালাকু আফআলিল ইবাদ, সুনানে আরবাআ)। দ্রষ্টব্য: ইবন হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪৪২৭।

৪ - ঈসা ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মালিক আদ-দার ইবন ইয়াদ আল-উমারী, তাদের আযাদকৃত দাস। তাঁর সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবন ঈসাও বলা হয়েছে (যা একটি বিভ্রম), তিনি মাকবুল (গ্রহণযোগ্য), ষষ্ঠ স্তরের রাবী। (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)। দ্রষ্টব্য: মিযযী, তাহযীবুল কামাল, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪৬৩৫, ২২/ ৬২৪; ইবন হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৫৩০৪।

৫ - আব্বাস ইবন সাহল ইবন সাদ আল-আনসারী আস-সাঈদী, সিকাহ (নির্ভরযোগ্য), চতুর্থ স্তরের রাবী, ১২০ হিজরীর কাছাকাছি সময়ে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ বলেছেন তার আগে। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)। দ্রষ্টব্য: ইবন হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩১৭০।

৬ - আবু হুমাইদ আস-সাঈদী আল-আনসারী, তাঁর নাম মুনযির ইবন সাদ ইবন মুনযির অথবা ইবন মালিক। বলা হয় তাঁর নাম আব্দুর রহমান, আবার বলা হয় আমর। তিনি একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী, যিনি উহুদ এবং পরবর্তী যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ইয়াযীদের খিলাফতের শুরুর দিকে ৬০ হিজরী পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। (ছয় কিতাবের রাবী)। দ্রষ্টব্য: ইবন হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৮০৬৫।

(৩) এটি ইমাম তহাবী বর্ণনা করেছেন ‘শারহু মাআনী আল-আসার’ গ্রন্থে, পূর্বোক্ত সূত্র, হা. ১৫৪৫, ১৫৪৮, সালাত অধ্যায়, সালাতে বসার পদ্ধতি কেমন হবে? পরিচ্ছেদ, ১/ ২৬০, অনুরূপ অর্থে, আব্বাস ইবন সাহল আস-সাঈদীর সূত্রে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌[3] باب التكبير قبلَ رَفْع اليدين

15 - وسألتُ أحمد بن حنبل قلت: التكبير قبل أو رفع اليدين؟ قال: رفع اليدين مع التكبير (1).

16 - وسمْعتُ إسحاق يقول: "إنْ رَفَع يديه مع التكبير أجزأه ذلك [250] ويرفعُ يديه ثم يكبّر أحبُّ إلينا (2)، ووائلُ الحَضْرمي (3) يُحدِّث عن النبي صلى الله عليه وسلم: (رَفع يديه مع التكبيرة) (4)، فإنْ فعل كذلك أجزأه".

17 - وسألت علي بن عبد الله قلتُ: التكبير قبل أو رفعُ اليد؟ قال: هما معًا سواء، إذا كبَّرت رفعت يديك (5).

--------------------------------------------

(1) نقل هذه الرواية عن حرب ابن تيمية في شرح العمدة.

وقد اختلفت الرواية عن الإمام أحمد رحمه الله متى يرفع يديه إذا كبر للإحرام ومتى يرسلهما؟ على روايتين:

الأولى: يبتدئ الرفع حين ابتداء التكبير، وينهيه مع انتهائه، ولا يسبق أحدهما الآخر، فلا يرسل يديه قبل أن يقضي التكبير، ولا يثبتهما حتى يقضي التكبير، وذلك لأن الرفع لا يدخل فيه الوضع والإرسال، وهذا هو المنصوص عن أحمد، قال ابن تيمية: " وهو ظاهر رواية حرب "، وقال المرداوي: "هذا المذهب، وعليه جماهير الأصحاب"، وعلى هذه الرواية المذهب عند المتأخرين.

الثانية: يرفع يديه ثم يكبر ثم يحط يديه.

ينظر: ابن قدامة المقدسي، المغني، مرجع سابق، 2/ 138، عبد الرحمن بن محمد المقدسي، الشرح الكبير، مرجع سابق، 3/ 420، ابن تيمية، شرح العمدة، مرجع سابق، 59 - 62، ابن القيم، رفع اليدين، مرجع سابق، 281 - 284، ابن مفلح، الفروع، مرجع سابق، 2/ 167، ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 298، المرداوي، الإنصاف، مرجع سابق، 3/ 417، البهوتي، دقائق أولي النهى، مرجع سابق، 1/ 375 - 376، البهوتي، كشاف القناع، مرجع سابق، 2/ 290.

(2) نقل نحوها ابن القيم في رفع اليدين، مرجع سابق، 283، ونقلها ابن رجب في فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 299.

(3) وائل بن حُجْر بن سعد بن مسروق الحضرمي، صحابيٌ جليلٌ، وكان من ملوك اليمن، ثم سكن الكوفة، ومات في ولاية معاوية. ر م 4. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 7393.

(4) سيأتي تخريج الحديث في المسألة (18).

(5) ينظر: ابن القيم، رفع اليدين، مرجع سابق، 282، ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 298.
‌[৩] অনুচ্ছেদ: হাত উঠানোর পূর্বে তাকবীর বলা

১৫ - আমি আহমাদ বিন হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি বললাম: তাকবীর আগে নাকি হাত উঠানো আগে? তিনি বললেন: তাকবীরের সাথে হাত উঠানো (১)।

১৬ - এবং আমি ইসহাককে বলতে শুনেছি: "যদি কেউ তাকবীরের সাথে হাত উঠায় তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে [২৫০] এবং হাত উঠিয়ে তারপর তাকবীর বলা আমাদের নিকট অধিক পছন্দনীয় (২)। আর ওয়াইল আল-হাদরামি (৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: (তিনি তাকবীরের সাথে হাত উঠিয়েছেন) (৪), সুতরাং যদি কেউ এরূপ করে তাও তার জন্য যথেষ্ট হবে।"

১৭ - এবং আমি আলী বিন আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি বললাম: তাকবীর আগে নাকি হাত উঠানো আগে? তিনি বললেন: উভয়টিই সমান, যখন আপনি তাকবীর দিবেন তখন হাত উঠাবেন (৫)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ শারহুল উমদাহ-তে হারব থেকে এই বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন।

ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাকবীরে তাহরীমার সময় কখন হাত উঠাবেন এবং কখন তা ছেড়ে দিবেন—এ বিষয়ে বর্ণিত বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে, যা দুটি বর্ণনায় বিভক্ত:

প্রথমটি: তাকবীর শুরুর সাথে সাথে হাত উঠানো শুরু করবেন এবং তাকবীর শেষ করার সাথে সাথে তা শেষ করবেন, একটি অন্যটির আগে হবে না। সুতরাং তাকবীর শেষ করার আগে হাত ছেড়ে দিবেন না এবং তাকবীর শেষ না করা পর্যন্ত তা স্থির করবেন না; কারণ হাত উঠানোর ক্রিয়াটির মধ্যে হাত রাখা বা ছেড়ে দেওয়া অন্তর্ভুক্ত নয়। এটিই আহমাদ থেকে বর্ণিত ভাষ্য। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "এটি হারব-এর বর্ণনার বাহ্যিক দিক।" মারদাওয়ী বলেন: "এটিই মাযহাব এবং এর ওপরই অধিকাংশ সাথীগণ রয়েছেন।" পরবর্তী ফকীহগণের নিকট এই বর্ণনাটিই মাযহাব হিসেবে গৃহীত।

দ্বিতীয়টি: তিনি হাত উঠাবেন, তারপর তাকবীর বলবেন, তারপর হাত নামাবেন।

দেখুন: ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি, আল-মুগনি, পূর্বোক্ত সূত্র, ২/১৩৮; আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-মাকদিসি, আশ-শারহুল কাবীর, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩/৪২০; ইবনে তাইমিয়্যাহ, শারহুল উমদাহ, পূর্বোক্ত সূত্র, ৫৯-৬২; ইবনুল কাইয়্যিম, রাফউল ইয়াদাইন, পূর্বোক্ত সূত্র, ২৮১-২৮৪; ইবনে মুফলিহ, আল-ফুরু, পূর্বোক্ত সূত্র, ২/১৬৭; ইবনে রাজাব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/২৯৮; মারদাওয়ী, আল-ইনসাফ, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩/৪১৭; আল-বুহুতি, দাকাইকু উলি নুহা, পূর্বোক্ত সূত্র, ১/৩৭৫-৩৭৬; আল-বুহুতি, কাশশাফুল কিনা, পূর্বোক্ত সূত্র, ২/২৯০।

(২) ইবনুল কাইয়্যিম 'রাফউল ইয়াদাইন'-এ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, পূর্বোক্ত সূত্র, ২৮৩; এবং ইবনে রাজাব এটি 'ফাতহুল বারী'-তে উদ্ধৃত করেছেন, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/২৯৯।

(৩) ওয়াইল বিন হুজর বিন সাদ বিন মাসরুক আল-হাদরামি, একজন মহান সাহাবী। তিনি ইয়ামেনের রাজাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, অতঃপর কুফায় বসবাস করেন এবং মুয়াবিয়ার শাসনামলে ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আসকালানি, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৭৩৯৩।

(৪) হাদিসের তাখরীজ ১৮ নং মাসআলায় আসবে।

(৫) দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিম, রাফউল ইয়াদাইন, পূর্বোক্ত সূত্র, ২৮২; ইবনে রাজাব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/২৯৮।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ১৪)
18 - حدَّثنا أبو عبد الله أحمد بن حنبل قال: حدثنا يحيى بن سَعيد عن شُعبة، قال: أخبرني عمرو بن مُرَّة عن أبي البَخْتَري عن عبد الرحمن اليَحْصُبي عن وائل الحَضْرمي (1): (أنَّه صلَّى مع النبي صلى الله عليه وسلم فكان يرفَعُ يديْه مع التكبيرة). (2)

--------------------------------------------

(1) سنده:

1 - يحيى بن سعيد بن فَرُّوْخ التميمي، أبو سعيد القطّان، البصري، ثقةٌ متقنٌ حافظٌ إمامٌ قدوةٌ، من كبار التاسعة، مات سنة ثمانٍ وتسعين، وله ثمانٍ وسبعون. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 7557.

2 - شعبة بن الحجاج بن الورد العَتَكي، مولاهم، أبو بِسطام الواسطي، ثم البصري، ثقةٌ حافظٌ متقنٌ، كان الثوري يقول: هو أمير المؤمنين في الحديث ، من السابعة، مات سنة ستين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 2790.

3 - عمرو بن مُرَّة بن عبد الله بن طارق الجَمَلي، أبو عبد الله الكوفي، الأعمى، ثقةٌ عابدٌ ، كان لا يدلّس ، من الخامسة، مات سنة ثماني عشرة ومائة، وقيل: قبلها. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 5112.

4 - سعيد بن فيروز أبو البَخْتَري، ابن أبي عمران الطائي مولاهم، الكوفي، ثقةٌ ثبتٌ فيه تشيعٌ قليلٌ، كثير الإرسال، من الثالثة ، مات سنة ثلاثٍ وثمانين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 2380.

5 - عبد الرحمن اليحصبي الكوفي، ذكره ابن حبان في كتابه الثقات، وقال في الإكمال لرجال أحمد: "عبد الرحمن بن اليحصبي الكوفي عن وائل بن حجر، وعنه أبو البختري الطائي وعبد الأعلى بن عامر الثعلبي، ذكره ابن حبان في الثقات"، وقال مثله ابن حجر في تعجيل المنفعة.

ينظر: محمد بن حبان البستي، الثقات، تحقيق: شرف الدين أحمد، ط 1، (دارالفكر، 1395 هـ)، 4076، محمد ابن علي الحسيني، الإكمال في ذكر من له رواية في مسند الإمام أحمد من الرجال سوى من ذكر في تهذيب الكمال، حققه: د عبد المعطي أمين قلعجي، منشورات جامعة الدراسات الإسلامية، (كراتشي - باكستان)، 535، ابن حجر العسقلاني، تعجيل المنفعة بزوائد رجال الأئمة الأربعة، تحقيق: إكرام الله إمداد الحق، ط 1، (بيروت: دارالكتاب العربي)، 651.

(2) رواه أحمد في مسند الإمام أحمد، مرجع سابق، ح 18848، 31/ 141، من طريق شعبة ، ورواه أحمد أيضًا من حديث وائل ، ح 18852 ، 31/ 144 ، وأبو داود ، سنن أبي داود ، مرجع سابق ، كتاب الصلاة ، باب رفع اليدين في الصلاة ، ح 725 ، والحديث صححه الألباني في ، سنن أبي داود مع أحكام الألباني، 117 ، وقال محققو المسند: "حديث صحيح، وهذا إسناد ضعيف لجهالة حال عبد الرحمن بن اليحصبي، فهو من رجال التعجيل، ولم يذكروا في الرواة عنه غير اثنين، ولم يُؤْثَر توثيقه عن غير ابن حبان ".
১৮ - আমাদের কাছে আবু আবদুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ শু'বাহ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আমর বিন মুররাহ আবুল বাখতারী থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আব্দুর রহমান আল-ইয়াহসুবি থেকে, তিনি ওয়ায়েল আল-হাদরামি (১) থেকে বর্ণনা করেন যে: (তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেছেন এবং তিনি তাকবীরের সাথে তাঁর দুই হাত তুলতেন)। (২)

--------------------------------------------

(১) তাঁর সনদ:

১ - ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বিন ফাররুখ আত-তামিমী, আবু সাঈদ আল-কাত্তান, আল-বসরী; তিনি নির্ভরযোগ্য, অত্যন্ত পারদর্শী, হাফিয, অনুসরণীয় ইমাম, নবম স্তরের বড়দের অন্তর্ভুক্ত; তিনি ৯৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৮ বছর। ع (ছয় ইমাম)। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৭৫৫৭।

২ - শু'বাহ বিন হাজ্জাজ বিন আল-ওয়ারদ আল-আতাকী, তাদের আযাদকৃত গোলাম, আবু বিসতাম আল-ওয়াসিতী, অতঃপর আল-বসরী; তিনি নির্ভরযোগ্য হাফিয ও পারদর্শী ছিলেন। আস-সাওরী বলতেন: তিনি হাদীস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন। তিনি সপ্তম স্তরের অন্তর্ভুক্ত, ১৬০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। ع (ছয় ইমাম)। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ২৭৯০।

৩ - আমর বিন মুররাহ বিন আবদুল্লাহ বিন তারিক আল-জামালী, আবু আবদুল্লাহ আল-কূফী, দৃষ্টিহীন; তিনি নির্ভরযোগ্য ইবাদতকারী এবং তিনি তাদলীস করতেন না। তিনি পঞ্চম স্তরের অন্তর্ভুক্ত, ১১৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, কারো মতে তার আগে। ع (ছয় ইমাম)। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৫১১২।

৪ - সাঈদ বিন ফিরোজ আবু আল-বাখতারী, ইবনে আবি ইমরান আত-তাঈ তাদের আযাদকৃত গোলাম, আল-কূফী; তিনি নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, তাঁর মাঝে সামান্য শিয়া ভাব ছিল, তিনি প্রচুর পরিমাণে ইরসাল (সনদ বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা) করতেন। তিনি তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত, ৮৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। ع (ছয় ইমাম)। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ২৩৮০।

৫ - আব্দুর রহমান আল-ইয়াহসুবি আল-কূফী; ইবনে হিব্বান তাঁকে তাঁর 'আস-সিকাত' কিতাবে উল্লেখ করেছেন। আহমাদ ইবনে হাম্বলের বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থ 'আল-ইকমাল'-এ বলা হয়েছে: "আব্দুর রহমান বিন ইয়াহসুবি আল-কূফী ওয়ায়েল বিন হুজর থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তাঁর থেকে আবু আল-বাখতারী আত-তাঈ ও আব্দুল আলা বিন আমির আস-সা’লাবী বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের (সিকাত) মধ্যে উল্লেখ করেছেন।" ইবনে হাজারও 'তাজীলুল মানফায়াহ' গ্রন্থে অনুরূপ কথা বলেছেন।

দ্রষ্টব্য: মুহাম্মদ বিন হিব্বান আল-বুসতী, আস-সিকাত, সম্পাদনা: শরফুদ্দিন আহমদ, ১ম সংস্করণ, (দার আল-ফিকর, ১৩৯৫ হি.), ৪০৭৬; মুহাম্মদ বিন আলী আল-হুসাইনী, আল-ইকমাল ফি যিকরি মান লাহু রিওয়ায়াতুন ফী মুসনাদিল ইমাম আহমাদ মিনাল রিজাল সিওয়া মান যুকিরা ফী তাহযীবিল কামাল, সম্পাদনা: ড. আব্দুল মু'তী আমীন কালা’জী, জামিআতুদ দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাহ পাবলিকেশন্স, (করাচি - পাকিস্তান), ৫৩৫; ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাজীলুল মানফায়াহ বি-যাওয়াইদি রিজালিল আইম্মাতিল আরবা'আহ, সম্পাদনা: ইকরামুলাহ ইমদাদুল হক, ১ম সংস্করণ, (বৈরুত: দারুল কিতাব আল-আরাবী), ৬৫১।

(২) আহমাদ এটি 'মুসনাদে আহমাদ'-এ বর্ণনা করেছেন, পূর্বোক্ত উৎস, হাদীস নং ১৮৮৪৮, ৩১/১৪১, শু'বাহ এর সূত্রে। আহমাদ এটি ওয়ায়েলের হাদীস থেকেও বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ১৮৮৫২, ৩১/১৪৪। আবু দাউদও এটি বর্ণনা করেছেন, 'সুনানে আবু দাউদ', পূর্বোক্ত উৎস, কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: সালাতে দুই হাত তোলা, হাদীস নং ৭২৫। আলবানী 'সুনানে আবু দাউদ মা’আ আহকামিল আলবানী' গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, ১১৭। মুসনাদের গবেষকগণ বলেছেন: "এটি সহীহ হাদীস, তবে এই সনদটি দুর্বল আব্দুর রহমান বিন ইয়াহসুবির অবস্থা অজ্ঞাত হওয়ার কারণে। তিনি 'তাজীল'-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর থেকে দুইজনের বেশি কেউ বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ করেননি। এছাড়া ইবনে হিব্বান ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে তাঁর নির্ভরযোগ্যতার (তাওসীক) কথা উল্লেখ করা হয়নি।"
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ১৫)
19 - حدثنا محمد بن الوزير قال: حدثنا الوليدُ بن مُسلم قال: قال أبو عمرو أخبرني إسحاق بنُ عبد الله بن أبي طلحة عن أنس بن مالك (1): (أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم كان يرفعهُما مع التكبير). (2)

--------------------------------------------

(1) سنده:

1 - محمد بن الوزير بن الحكم السلمي، الدمشقي، ثقة، من صغار العاشرة، مات سنة خمسين. د. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6369.

2 - الوليد بن مسلم القرشي مولاهم، أبو العباس الدمشقي، ثقةٌ، لكنه كثير التدليس والتسوية، من الثامنة، مات آخر سنة أربع - أو أول سنة خمس - وتسعين 4. وقال عنه ابن عبد الهادي: " يدلّس عن الضعفاء، فإذا قال: ثنا الأوزاعي- أو غيره- أو أنا فهو حجَّةٌ "، وقال الذهبي عنه: " الرجل مدلّس فلا يحتج به إلا إذا صرح بالسماع " ، وقال في الميزان: "إذا قال الوليد عن ابن جريج أو عن الأوزاعي فليس بمعتمد، لأنه يدلّس عن كذابين، فإذا قال: حدثنا فهو حجة"، وقال ابن حجر: " والوليد يدلّس ويسوِّي، فلا يقبل من حديثه إلا ما صرح فيه بالتحديث له ولشيخه".

ينظر: شمس الدين محمد بن أحمد بن عبد الهادي الحنبلي، تنقيح التحقيق في أحاديث التعليق، تحقيق: سامي بن محمد بن جاد الله وعبد العزيز بن ناصر الخباني، ط 1، 1 (الرياض: أضواء السلف، 1428 هـ)، 340، شمس الدين أبو عبد الله محمد الذهبي، تذكرة الحفاظ، 1 (بيروت: دار الكتب العلمية، 1419 هـ)، 304، شمس الدين أبوعبد الله محمد الذهبي، ميزان الاعتدال في نقد الرجال، تحقيق: علي محمد معوض وعادل أحمد عبد الموجود، ط 1، 7 (بيروت: دارالكتب العلمية، 1995 م)، 141، ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 7456، أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، جزء فيه الجواب عن حال الحديث المشهور " ماء زمزم لما شرب له "، تحقيق: سائد بكداش ، (بيروت - لبنان: دارالبشائرالإسلامية)، 264.

3 - عبد الرحمن بن عمرو بن أبي عمرو الأوزاعي، أبو عمرو الفقيه، ثقةٌ جليلٌ، من السابعة، مات سنة سبعٍ وخمسين. ع ". ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3967.

4 - إسحاق بن عبد الله بن أبى طلحة الأنصاري، المدني، أبو يحيى ثقةٌ حجةٌ، من الرابعة، مات سنة اثنتين وثلاثين، وقيل: بعدها. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 367.

5 - أنس بن مالك بن النضر الأنصاري، الخزرجي، خدم رسول الله صلى الله عليه وسلم عشر سنين، مات سنة اثنتين، وقيل: ثلاثٍ وتسعين، وقد جاوز المائة ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 565.

(2) رواه الطبراني بنحوه في ، المعجم الأوسط ، ح 9257 ، من حديث أنس رضي الله عنه ، 9/ 105.

وقد نقل هذا الحديث عن حرب بدون سنده ابن القيم، ونقل الحديث بسنده كاملًا ابن رجب ، وذكر أن الإمام أحمد استنكر هذا الحديث، وقد أعلَّ ابن رجب هذا الحديث بأنه قد روي مرسلًا، وبأن الوليد بن مسلم لم يسمعه من الأوزاعي بل دلّسه عنه.

ينظر: ابن القيم، رفع اليدين، مرجع سابق، 284، ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 298 - 300.
১৯ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আল-ওয়াজির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আমর বলেছেন, আমাকে ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা আনাস বিন মালিক (১) থেকে সংবাদ দিয়েছেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরের সাথে হাত দুটি উঠাতেন)। (২)

--------------------------------------------

(১) তার সনদ:

১ - মুহাম্মাদ বিন আল-ওয়াজির বিন আল-হাকাম আস-সুলামি, আদ-দিমাশকি, নির্ভরযোগ্য, দশম স্তরের ছোটদের অন্তর্ভুক্ত, মৃত্যু ২৫০ হিজরী। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত উৎস, ৬৩৬৯।

২ - আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম আল-কুরাশি, তাদের মুক্ত করা গোলাম, আবু আল-আব্বাস আদ-দিমাশকি, নির্ভরযোগ্য, তবে তিনি অনেক তাদালিস এবং তাসবিয়াহ করতেন, অষ্টম স্তরের, মৃত্যু ১৯৪ হিজরীর শেষে অথবা ১৯৫ হিজরীর শুরুতে। তার সম্পর্কে ইবনে আব্দুল হাদি বলেছেন: "তিনি দুর্বলদের থেকে তাদালিস করেন, সুতরাং যখন তিনি বলেন: 'আমাদের নিকট আওজায়ি বর্ণনা করেছেন' - অথবা অন্য কেউ - অথবা 'আমাকে সংবাদ দিয়েছেন', তখন তা দলিলযোগ্য।" আয-যাহাবি তার সম্পর্কে বলেছেন: "ব্যক্তিটি মুদাল্লিস, তাই যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি সরাসরি শোনার কথা স্পষ্ট না করেন ততক্ষণ তার বর্ণনা দিয়ে দলিল পেশ করা যাবে না।" মিজানুল ইতিদাল গ্রন্থে তিনি বলেছেন: "যখন আল-ওয়ালিদ 'ইবনে জুরাইজ থেকে' অথবা 'আওজায়ি থেকে' বলেন তখন তা নির্ভরযোগ্য নয়, কারণ তিনি মিথ্যুকদের থেকে তাদালিস করেন; আর যখন তিনি বলেন 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' তখন তা দলিলযোগ্য।" ইবনে হাজার বলেছেন: "আল-ওয়ালিদ তাদালিস এবং তাসবিয়াহ করেন, তাই তার হাদিস কবুল করা হবে না যদি না তিনি নিজের এবং তার শায়খের সরাসরি শোনার বিষয়টি স্পষ্ট করেন।"

দেখুন: শামস উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদি আল-হাম্বলি, তানকিহুত তাহকিক ফি আহাদিসিত তালিফ, তাহকিক: সামি বিন মুহাম্মাদ বিন জাদুল্লাহ ও আব্দুল আজিজ বিন নাসির আল-খুবানি, ১ম সংস্করণ, খণ্ড ১ (রিয়াদ: আদওয়াউস সালাফ, ১৪২৮ হিজরী), ৩৪০; শামস উদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ আয-যাহাবি, তাযকিরাতুল হুফফাজ, খণ্ড ১ (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪১৯ হিজরী), ৩০৪; শামস উদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ আয-যাহাবি, মিজানুল ইতিদাল ফি নাকদির রিজাল, তাহকিক: আলী মুহাম্মাদ মুয়াওয়াজ ও আদিল আহমদ আব্দুল মাওজুদ, ১ম সংস্করণ, খণ্ড ৭ (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৯৯৫), ১৪১; ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত উৎস, ৭৪৫৬; আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি, জুযউ ফিহিল জাওয়াব আন হালিল হাদিসিল মাশহুর "মাউ যামযাম লিমা শুরিবা লাহু", তাহকিক: সাইদ বাকদাশ, (বৈরুত - লেবানন: দারুল বাশাইরিল ইসলামিয়্যাহ), ২৬৪।

৩ - আব্দুর রহমান বিন আমর বিন আবি আমর আল-আওজায়ি, আবু আমর আল-ফকিহ, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও মহিমান্বিত, সপ্তম স্তরের, মৃত্যু ১৫৭ হিজরী। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত উৎস, ৩৯৬৭।

৪ - ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা আল-আনসারি, আল-মাদানি, আবু ইয়াহইয়া, নির্ভরযোগ্য ও দলিলযোগ্য, চতুর্থ স্তরের, মৃত্যু ১৩২ হিজরী, মতান্তরে তার পরে। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত উৎস, ৩৬৭।

৫ - আনাস বিন মালিক বিন আন-নাজর আল-আনসারি, আল-খাজরাজি, দশ বছর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করেছেন, মৃত্যু ৯২ হিজরী, মতান্তরে ৯৩ হিজরী, তিনি একশ বছর অতিক্রম করেছিলেন। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত উৎস, ৫৬৫।

(২) আত-তাবারানি আল-মু'জামুল আওসাত-এ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৯২৫৭, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে, খণ্ড ৯/১০৫।

ইবনুল কাইয়্যিম হারব থেকে এই হাদিসটি সনদ ছাড়াই উদ্ধৃত করেছেন, আর ইবনে রাজাব পূর্ণ সনদসহ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইমাম আহমাদ এই হাদিসটিকে মুনকার বা অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। ইবনে রাজাব এই হাদিসটির ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে এটি মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে এবং আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম এটি আল-আওজায়ি থেকে সরাসরি শুনেননি বরং তার থেকে তাদালিস করেছেন।

দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিম, রাফউল ইয়াদাইন, পূর্বোক্ত উৎস, ২৮৪; ইবনে রাজাব, ফাতহুল বারি, পূর্বোক্ত উৎস, ৪/২৯৮-৩০০।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ১৬)
20 - حدثنا إسحاق قال: أبَنا جَرير عن محمد بن إسحاق عن محمد بن عمرو بن عطاء عن محمد بن عبد الرحمن بن ثَوْبان عن أبي هريرة رضي الله عنه (1) ، قال: (ما رأيتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم قام إلى الصلاة قط إلاّ شهر (2) بيديه إلى السماء قبل أن يُكبّر، ثم يُكبر). (3)

21 - حدّثنا محمد بن الوزير قال: حدثنا الوليدُ بن مُسلم قال أخبرني ابن جُرَيج قال: ((سألتُ نافعًا (4) ، فقلت: أكان ابنُ عمر إذا كبَّر بالصلاة يرفع رأسه ووجْهَه [قِبَل السماء؟ فقال: نعم،

 

قليلًا)) (5).

--------------------------------------------

(1) سنده:

1 - جرير بن عبد الحميد بن قُرْط الضبّي، ثقة. تقدمت ترجمته في المسألة (5).

2 - محمد بن إسحاق بن يسار، أبو بكر المطلبي، مولاهم، المدني، نزيل العراق ، إمام المغازي، صدوقٌ يدلّس، ورمي بالتشيّع والقدر، من صغار الخامسة، مات سنة خمسين ومائة، ويقال: بعدها. خت م 4. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 5725.

3 - محمد بن عمرو بن عطاء القرشي، المدني، ثقة، من الثالثة، مات في حدود العشرين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6187.

4 - محمد بن عبد الرحمن بن ثوبان القرشي العامري، أبو عبد الله المدني ثقة، من الثالثة. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6068.

5 - أبو هريرة رضي الله عنه: تقدمت ترجمته في المسألة (1).

(2) شهر: أي رفع يديه. قال ابن رجب في الفتح:" وقد حمل بعضهم هذا على أن هذا الرفع كان للدعاء قبل الصلاة.

ينظر: مادة (شهر) الخليل بن أحمد الفراهيدي، كتاب العين، تحقيق: مهدي المخزومي وإبراهيم السامرائي، 3 (دار ومكتبة الهلال)، 400، ابن فارس، معجم مقاييس اللغة، 3/ 222، ابن رجب، فتح الباري، 4/ 300 - 301.

فائدة: قال ابن رجب: " وقد نقل المَرُّوذيّ عن الإمام أحمد، أنه كان إذا أخذ المؤذن في الإقامة رفع يديه ودعا ". ينظر: ابن رجب، الفتح، مرجع سابق، 3/ 457 ، 4/ 300.

(3) رواه البيهقي، سنن البيهقي الكبرى، تحقيق: محمد عبدالقادرعطا، 2 (مكة المكرمة: دارالباز، 1414 هـ)، ح 2320، كتاب الصلاة، باب كيفية رفع اليدين في افتتاح الصلاة، 42، من طريق محمد بن إسحاق.

(4) سنده:

1 - عبد الملك بن عبد العزيز بن جريج الأموي مولاهم، المكي، ثقةٌ فقيهٌ فاضلٌ، وكان يدلّس ويرسل، من السادسة، مات سنة خمسين، أو بعدها. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 4193.

2 - نافع، أبو عبد الله المدني، مولى ابن عمر، ثقةٌ ثبتٌ، فقيهٌ مشهورٌ، من الثالثة، مات سنة سبع عشره ومائة، أو بعد ذلك. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 7086.

(5) رواه عبد الرزّاق بن همام الصنعاني، المصنف، ط 2، تحقيق: حبيب الرحمن الأعظمي، 2 (بيروت: المكتب الإسلامي، 1403 هـ)، ح 2516، كتاب الصلاة، باب تكبيرة الافتتاح ورفع اليدين، 67، من طريق ابن جريج، وصحح إسناده الحافظ ابن رجب.

ينظر: ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 301.
২০ - ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন সাওবান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন (১), তিনি বলেন: (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখনই সালাতের জন্য দাঁড়াতে দেখেছি, তিনি তাকবীর দেওয়ার আগে তাঁর দুই হাত আসমানের দিকে তুলতেন, অতঃপর তাকবীর দিতেন)। (৩)

২১ - মুহাম্মাদ বিন আল-ওয়াযীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়ালীদ বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে জুরায়জ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ((আমি নাফি'কে জিজ্ঞাসা করলাম (৪), আমি বললাম: ইবনে উমর যখন সালাতের জন্য তাকবীর দিতেন, তখন কি তিনি তাঁর মাথা ও মুখমণ্ডল [আসমানের দিকে] তুলতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ,

 

সামান্য)) (৫)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর সনদ:

১ - জারীর বিন আব্দুল হামীদ বিন কুর্ত আদ-দাব্বী, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। তাঁর জীবনী ৫ নং মাসআলায় গত হয়েছে।

২ - মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার, আবু বকর আল-মুত্তালিবি, তাঁদের মুক্তদাস, মাদানী, ইরাকে বসবাসকারী, মাগাযী শাস্ত্রের ইমাম, সত্যবাদী তবে তাদলীস করেন, এবং তাঁর দিকে শিয়া মতবাদ ও কাদরীয়া মতবাদের সম্বন্ধ করা হয়েছে, তিনি পঞ্চম স্তরের ছোটদের অন্তর্ভুক্ত, একশ পঞ্চাশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, বলা হয় তার পরেও। খত ম ৪। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৫৭২৫।

৩ - মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা আল-কুরাশী, মাদানী, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত, বিশ হিজরীর কাছাকাছি সময়ে মৃত্যুবরণ করেন। আইন। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৬১৮৭।

৪ - মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন সাওবান আল-কুরাশী আল-আমিরী, আবু আব্দুল্লাহ মাদানী, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। আইন। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৬০৬৮।

৫ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু): তাঁর জীবনী ১ নং মাসআলায় গত হয়েছে।

(২) শাহার (شهر): অর্থাৎ হাত তোলা। ইবনে রাজব 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে বলেছেন: "কেউ কেউ এটাকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই হাত তোলা ছিল সালাতের আগের দোয়ার জন্য।"

দেখুন: 'শাহার' (شهر) মূলধাতু, আল-খালীল বিন আহমাদ আল-ফারাহীদী, কিতাবুল আইন, তাহকীক: মাহদী আল-মাখযূমী ও ইবরাহীম আস-সামাররায়ী, ৩ (দার ওয়া মাকতাবাতুল হিলাল), ৪০০; ইবনে ফারিস, মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ, ৩/২২২; ইবনে রাজব, ফাতহুল বারী, ৪/৩০০-৩০১।

ফায়দা: ইবনে রাজব বলেছেন: "আল-মাররূযী ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুয়াজ্জিন যখন ইকামত শুরু করতেন, তখন তিনি তাঁর দুই হাত তুলতেন এবং দোয়া করতেন।" দেখুন: ইবনে রাজব, আল-ফাতহ, পূর্বোক্ত উৎস, ৩/৪৫৭, ৪/৩০০।

(৩) বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন, সুনানুল বায়হাকী আল-কুবরা, তাহকীক: মুহাম্মাদ আব্দুল কাদির আতা, ২ (মক্কা মুকাররমা: দারুল বায, ১৪১৪ হি.), হাদিস ২৩২০, কিতাবুস সালাত, সালাত শুরুর সময় দুই হাত তোলার পদ্ধতি অধ্যায়, ৪২, মুহাম্মাদ বিন ইসহাকের সূত্র ধরে।

(৪) তাঁর সনদ:

১ - আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আযীয বিন জুরায়জ আল-উমাবী, তাঁদের মুক্তদাস, মক্কী, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), ফকীহ ও ফাযেল, তিনি তাদলীস ও ইরসাল করতেন, ষষ্ঠ স্তরের অন্তর্ভুক্ত, একশ পঞ্চাশ হিজরীতে বা তার পরে মৃত্যুবরণ করেন। আইন। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৪১৯৩।

২ - নাফি', আবু আব্দুল্লাহ মাদানী, ইবনে উমরের মুক্তদাস, নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় (সিকাহ সাবত), প্রখ্যাত ফকীহ, তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত, একশ সতেরো হিজরীতে বা তার পরে মৃত্যুবরণ করেন। আইন। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৭০৮৬।

(৫) আব্দুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম আস-সান'আনী এটি বর্ণনা করেছেন, আল-মুসান্নাফ, ২য় সংস্করণ, তাহকীক: হাবীবুর রহমান আল-আযমী, ২ (বৈরুত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, ১৪০৩ হি.), হাদিস ২৫১৬, কিতাবুস সালাত, তাকবীরে ইফতিতাহ ও হাত তোলা অধ্যায়, ৬৭, ইবনে জুরায়জের সূত্র ধরে, এবং হাফিয ইবনে রাজব এর সনদকে সহীহ বলেছেন।

দেখুন: ইবনে রাজব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত উৎস, ৪/৩০১।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ১৭)
22 - حدثنا محمد بن الوزير قال: حدثنا الوليد بن مسلم قال: أخبرني ابن جُرَيج قال: ((أخبرني ابن سابط (1)، أنّ وجْه الصلاة (2): أن يكبر الرجل بيديه، ووجهه،] (3) وفِيهِ، ويرفع رأسه وفاه شيئًا حين يبتدئ، وحين يرفعُ رأسه)) (4).

--------------------------------------------

(1) سنده:

1 - عبد الرحمن بن سابط ، ويقال: ابن عبد الله بن سابط ، وهو الصحيح، المكي، ثقةٌ، كثير الإرسال، من الثالثة، مات سنة ثماني عشرة. م د ت سي ق. ينظر: ابن حجر، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3867.

(2) في الفتح لابن رجب: "وجه التكبير".

ينظر: ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 301.

(3) ما بين المعقوفين إضافةٌ نقلتها من مصنف عبد الرزّاق، وقد ذكرها الحافظ ابن رجب في فتح الباري عن مسائل حرب.

ينظر: ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 301.

(4) رواه عبد الرزّاق، مصنف عبد الرزّاق، مرجع سابق، ح 2515، كتاب الصلاة، باب تكبيرة الافتتاح ورفع اليدين، 2/ 67، من طريق ابن جريج به.
২২ - মুহাম্মদ ইবনে আল-ওয়াজীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ ইবনুল মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ((ইবনে সাবিত (১) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নামাজের পদ্ধতি (২) হলো: ব্যক্তি তার হাত ও চেহারার মাধ্যমে তাকবীর দিবে, [এবং তার মুখের মাধ্যমে] (৩), আর সে যখন (নামাজ) শুরু করবে এবং যখন তার মাথা উঠাবে, তখন সে তার মাথা ও মুখ সামান্য উপরে তুলবে)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর সনদ:

১ - আবদুর রহমান ইবনে সাবিত, তাঁকে ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাবিতও বলা হয়, এবং এটিই সঠিক; তিনি মক্কী, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), প্রচুর ইরসালকারী, তৃতীয় স্তরের রাবী, ১৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। ম, দ, ত, সি, ক। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৩৮৬৭।

(২) ইবনে রজবের ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে রয়েছে: "তাকবীরের পদ্ধতি"।

দ্রষ্টব্য: ইবনে রজব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত উৎস, ৪/৩০১।

(৩) বন্ধনীভুক্ত অংশটি একটি সংযোজন যা আমি ‘মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক’ থেকে উদ্ধৃত করেছি; হাফেজ ইবনে রজব তাঁর ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে হারবের ‘মাসায়েল’ থেকে এটি উল্লেখ করেছেন।

দ্রষ্টব্য: ইবনে রজব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত উৎস, ৪/৩০১।

(৪) এটি আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, পূর্বোক্ত উৎস, হাদিস নং ২৫১৫, সালাত অধ্যায়, তাকবীরে ইফতিতাহ ও হাত তোলার পরিচ্ছেদ, ২/৬৭, ইবনে জুরাইজের সূত্রে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌[4] باب رَفع اليدين (1)

--------------------------------------------

(1) لا تختلف الرواية عن الإمام أحمد رحمه الله في مشروعية رفع اليدين عند تكبيرة الافتتاح وعند الركوع وعند الرفع منه، وقد نقل ذلك عنه صالح وعبد الله ابني الإمام أحمد، والكوسج، وأبو داود، وابن هانئ، والبغوي، ونقلها عن حنبل الكلوذاني في الانتصار، وابن أبي يعلى في الطبقات، ونقل ابن عبد البر في التمهيد عن الأثرم مشروعية رفع اليدين عند الركوع وعند الرفع منه.

قال في المغني: " لا نعلم خلافًا في استحباب رفع اليدين عند افتتاح الصلاة"، وقال في التمام: "لا تختلف الرواية في أنه يرفع يديه في تكبير الركوع والرفع منه ".

فائدة: اختلفت الرواية في صفة رفع اليدين عند الرفع من الركوع:

فأما صفة رفع اليدين عند الرفع من الركوع في حق - الإمام والمنفرد - فهي على روايتين:

الأولى: أنه يرفعهما بعد الرفع من الركوع حين استقراره قائمًا، واختار هذه الرواية أبو بكر الخلال والقاضي أبو يعلى.

الثانية: يرفع يديه مع رفع رأسه، قبل أن يستتم قائمًا، عند قول سمع الله لمن حمده. قال المرداوي: "وهو المذهب، وهو ظاهر كلام جمهور الأصحاب". وعليها المذهب عند المتأخرين

وأما صفة الرفع في حق المأموم فقال ابن قدامة: "ولا تختلف الرواية في أن المأموم يبتدئ الرفع عند رفع رأسه، لأنه ليس في حقه ذكرٌ بعد الاعتدال، والرفع إنما جُعِلَ هيئةً للذكر، بخلاف الإمام".

ينظر: الكوسج، مرجع سابق، 187، صالح بن أحمد بن حنبل الشيباني، مسائل الإمام أحمد بن حنبل ، ط 1 ، تحقيق: فضل الرحمن دين محمد ، (دلهي: الدار العلمية،1408 هـ)، 694، أبو داود السجستاني، مسائل الإمام أحمد بن حنبل، مرجع سابق، 234 - 235، إسحاق بن إبراهيم بن هانئ النيسابوري، مسائل الإمام أحمد بن حنبل ، ط 3 ، تحقيق: أحمد بن سالم المصري، (المنصورة: دار التأصيل، 1429 هـ)، 240، عبد الله بن أحمد، مسائل الإمام أحمد بن حنبل ، مرجع سابق، 318 - 321، عبد الله بن محمد ، أبو القاسم البغوي، جزء في مسائل عن أبي عبد الله أحمد بن حنبل، تحقيق: أبي عبد الله محمود بن محمد الحداد، ط 1، (الرياض: دارالعاصمة، 1407 هـ)، 1 ، ابن عبدالبر، التمهيد، مرجع سابق، 9/ 224، محفوظ بن أحمد بن الحسن الكلوذاني، الانتصار في المسائل الكبار، تحقيق: د. عوض بن رجاء العوفي، 2 (الرياض: العبيكان، 1413 هـ)، 248، ابن أبي يعلى، التمام، مرجع سابق، 1/ 151، ابن أبي يعلى، طبقات الحنابلة، 2/ 154، ابن قدامة المقدسي، المغني، مرجع سابق، 2/ 136، 171، 184، عبد الرحمن بن محمد المقدسي، الشرح الكبير، مرجع سابق، 3/ 417، 473، 485، ابن القيم، رفع اليدين، مرجع سابق، 274، 275، ابن مفلح، الفروع، مرجع سابق، 2/ 167، 195، 197، ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 307، المرداوي، الإنصاف، مرجع سابق، 3/ 417 و 473 و 485، البهوتي، دقائق أولي النهى، مرجع سابق، 1/ 375 و 391 و 395، البهوتي، كشاف القناع، مرجع سابق، 2/ 289 و 326 و 333،، مصطفى بن سعد بن عبده الرحيباني، مطالب أولي النهى في شرح غاية المنتهى، ط 2، 1 (بيروت: المكتب الإسلامي، 1415 هـ)، 442.
[৪] হাত তোলার অধ্যায় (১)

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে নামাযের শুরুতে তাকবীরে তাহরীমা, রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় হাত তোলার (রাফউল ইয়াদাইন) বিধিবদ্ধতা সম্পর্কে বর্ণনায় কোনো ভিন্নতা নেই। এটি তাঁর থেকে ইমাম আহমাদের দুই পুত্র সালিহ ও আবদুল্লাহ, আল-কাউসাজ, আবু দাউদ, ইবনু হানি এবং আল-বাগাওয়ী বর্ণনা করেছেন। আর হানবাল থেকে আল-কালুযানি 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থে এবং ইবনু আবী ইয়ালা 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনু আবদিল বার 'আত-তামহীদ' গ্রন্থে আল-আছরাম থেকে রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় হাত তোলার বিধিবদ্ধতা বর্ণনা করেছেন।

তিনি 'আল-মুগনী' গ্রন্থে বলেছেন: "নামায শুরুর সময় হাত তোলার মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে আমরা কোনো মতভেদ জানি না।" আর 'আত-তামাম' গ্রন্থে বলেছেন: "রুকুর তাকবীরে এবং তা থেকে ওঠার সময় হাত তোলার বিষয়ে (ইমাম আহমাদ থেকে আগত) বর্ণনায় কোনো ভিন্নতা নেই।"

ফায়দা: রুকু থেকে ওঠার সময় হাত তোলার পদ্ধতির ব্যাপারে বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে:

ইমাম এবং একাকী নামায আদায়কারীর ক্ষেত্রে রুকু থেকে ওঠার সময় হাত তোলার পদ্ধতি সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে:

প্রথমটি: রুকু থেকে ওঠার পর যখন সে সোজা হয়ে দাঁড়াবে, তখন হাত তুলবে। আবু বকর আল-খাল্লাল এবং কাযী আবু ইয়ালা এই বর্ণনাটি পছন্দ করেছেন।

দ্বিতীয়টি: সোজা হয়ে দাঁড়ানোর আগে, মাথা তোলার সাথে সাথে হাত তুলবে যখন 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবে। আল-মারদাওয়ী বলেন: "এটিই মাযহাব এবং এটিই অধিকাংশ অনুসারীদের (হাম্বলী ফকীহদের) বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ।" পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট মাযহাব হিসেবে এটিই স্বীকৃত।

আর মুক্তাদীর হাত তোলার পদ্ধতির ব্যাপারে ইবনু কুদামা বলেছেন: "মুক্তাদী তার মাথা তোলার সময় হাত তোলা শুরু করবে এ বিষয়ে বর্ণনায় কোনো মতভেদ নেই। কারণ তার ক্ষেত্রে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর কোনো যিকর নেই, আর হাত তোলা মূলত যিকরের একটি অনুষঙ্গ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা ইমামের অবস্থার বিপরীত।"

দ্রষ্টব্য: আল-কাউসাজ, পূর্বোক্ত সূত্র, ১৮৭; সালিহ বিন আহমাদ বিন হানবাল আশ-শায়বানী, মাসায়িল আল-ইমাম আহমাদ বিন হানবাল, ১ম সংস্করণ, তাহকীক: ফজলুর রহমান দ্বীন মুহাম্মদ, (দিল্লি: আদ-দারুল ইলমিয়্যাহ, ১৪০৮ হি.), ৬৯৪; আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, মাসায়িল আল-ইমাম আহমাদ বিন হানবাল, পূর্বোক্ত সূত্র, ২৩৪ - ২৩৫; ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন হানি আন-নিশাপুরী, মাসায়িল আল-ইমাম আহমাদ বিন হানবাল, ৩য় সংস্করণ, তাহকীক: আহমাদ বিন সালিম আল-মিসরি, (মানসুরা: দারুত তাসীল, ১৪২৯ হি.), ২৪০; আবদুল্লাহ বিন আহমাদ, মাসায়িল আল-ইমাম আহমাদ বিন হানবাল, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩১৮ - ৩২১; আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আবু আল-কাসিম আল-বাগাওয়ী, জুজউ ফি মাসায়িল আন আবি আবদুল্লাহ আহমাদ বিন হানবাল, তাহকীক: আবু আবদুল্লাহ মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-হাদ্দাদ, ১ম সংস্করণ, (রিয়াদ: দারুল আসিমাহ, ১৪০৭ হি.), ১; ইবনু আবদিল বার, আত-তামহীদ, পূর্বোক্ত সূত্র, ৯/ ২২৪; মাহফুজ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান আল-কালুযানি, আল-ইনতিসার ফিল মাসায়িল আল-কিবার, তাহকীক: ড. আওয়াদ বিন রাজা আল-আওফী, ২ (রিয়াদ: আল-উবাইকান, ১৪১৩ হি.), ২৪৮; ইবনু আবী ইয়ালা, আত-তামাম, পূর্বোক্ত সূত্র, ১/ ১৫১; ইবনু আবী ইয়ালা, তাবাকাতুল হানাবিলা, ২/ ১৫৪; ইবনু কুদামা আল-মাকদিসি, আল-মুগনী, পূর্বোক্ত সূত্র, ২/ ১৩৬, ১৭১, ১৮৪; আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-মাকদিসি, আশ-শারহুল কাবীর, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩/ ৪১৭, ৪৭৩, ৪৮৫; ইবনুল কায়্যিম, রাফউল ইয়াদাইন, পূর্বোক্ত সূত্র, ২৭৪, ২৭৫; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরু, পূর্বোক্ত সূত্র, ২/ ১৬৭, ১৯৫, ১৯৭; ইবনু রজব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/ ৩০৭; আল-মারদাওয়ী, আল-ইনসাফ, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩/ ৪১৭ ও ৪৭৩ ও ৪৮৫; আল-বাহুতী, দাকায়িকু উলিন নুহা, পূর্বোক্ত সূত্র, ১/ ৩৭৫ ও ৩৯১ ও ৩৯৫; আল-বাহুতী, কাশশাফুল কিনা, পূর্বোক্ত সূত্র, ২/ ২৮৯ ও ৩২৬ ও ৩৩৩; মুস্তফা বিন সাদ বিন আবদুহুর রুহাইবানি, মাতালিবু উলিন নুহা ফি শারহি গায়াতিল মুনতাহা, ২য় সংস্করণ, ১ (বৈরুত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, ১৪১৫ হি.), ৪৪২।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ১৯)
23 - رأيتُ أبا عبد الله بن حنبل: يرفعُ يديه في الصلاة إذا افتتح الصلاة [251] وإذا ركع، وإذا قال سمع الله لمن حَمده، وربَّما رأيته يرفع يديه إلى فروع أُذنيه، ورُبَّما رَفَعهما إلى مَنكبيه، وربَّما رفعهما إلى صدره، رأيتُ الأمر عندَه واسعًا. (1)

24 - قلتُ لإسحاق: فإن ترك الرَّفع متعمّدًا. قال: في الركوع هو جائزُ الصلاة، ترك

سنّةً (2).

قلتُ: هو ناقصُ الصلاة. قال: يَجوز أن أقول: كان سفيان الثَّوري ناقص الصلاة (3)؟

25 - حدَّثنا أحمد بن حنبل قال: حدثنا هاشم بن القاسم قال أبَنا الرَّبيعُ بن صَبيح (4) قال:

--------------------------------------------

(1) نقلها عن حرب ابن رجب في فتح الباري ، ونقل ابن القيم في رفع اليدين نحو هذه الرواية عن أبي طالب، وقد سبق في المسألة رقم (4) ذكر الروايات عن الإمام أحمد في حدّ رفع اليدين في الصلاة.

ينظر: ابن القيم، رفع اليدين، مرجع سابق، 286، ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 313.

(2) قال الحافظ ابن رجب: "ونقل حرب، عن إسحاق ما يدل على بطلان الصلاة بترك الرفع عند تكبيرة الإحرام، وأنه واجب". ينظر: ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 297.

(3) يرى سفيان الثوري أن رفع اليدين لا يشرع إلا في تكبيرة الإحرام.

ينظر لقول سفيان: البغوي، شرح السنة، مرجع سابق، 3/ 24، ابن قدامة المقدسي، المغني، مرجع سابق، 2/ 172، النووي، المجموع شرح المهذب، مرجع سابق، 3/ 357، ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 297. وسفيان الثوري هو سفيان بن سعيد بن مسروق الثوري، أبو عبد الله الكوفي ، ثقةٌ حافظٌ فقيهٌ عابدٌ، إمامٌ حجةٌ، من رؤوس الطبقة السابعة، وكان ربما دلّس، مات سنة إحدى وستين، وله أربعٌ وستون. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 2445.

(4) سنده:

1 - هاشم بن القاسم بن مسلم الليثي مولاهم، أبو النضر، مشهورٌ بكنيته، ولقبه قَيصر ، ثقةٌ ثبتٌ، من التاسعة، مات سنة سبعٍ ومائتين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 7256.

2 - الربيع بن صَبِيح، السعدي، البصري ، صدوقٌ سيء الحفظ ، من السابعة، مات سنة ستين. خت ت ق. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 1895.
২৩ - আমি আবু আব্দুল্লাহ বিন হাম্বলকে দেখেছি: তিনি নামাজ শুরু করার সময় [২৫১], রুকু করার সময় এবং যখন 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলতেন তখন নামাজে তাঁর দুই হাত উঠাতেন। কখনো কখনো আমি তাঁকে তাঁর কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠাতে দেখেছি, কখনো তাঁর কাঁধ পর্যন্ত এবং কখনো তাঁর বুক পর্যন্ত হাত উঠাতে দেখেছি। আমি দেখেছি যে, বিষয়টি তাঁর কাছে প্রশস্ত (শিথিল) ছিল। (১)

২৪ - আমি ইসহাককে বললাম: যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে হাত উঠানো ছেড়ে দেয়? তিনি বললেন: রুকুর ক্ষেত্রে তার নামাজ বৈধ, সে একটি সুন্নাহ ছেড়ে দিয়েছে (২)।

আমি বললাম: তার নামাজ অপূর্ণাঙ্গ। তিনি বললেন: আমি কি এটা বলতে পারি যে, সুফিয়ান আস-সাওরী অপূর্ণাঙ্গ নামাজী ছিলেন (৩)?

২৫ - আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাশেম বিন আল-কাসেম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আর-রাবী বিন সাবিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (৪) তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) এটি হারব থেকে ইবনে রজব 'ফাতহুল বারী'তে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে কায়্যিম 'রাফউল ইয়াদাইন'-এ আবু তালিবের সূত্রে এই বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর নামাজের মধ্যে হাত উঠানোর সীমা সম্পর্কে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাসমূহ ইতিপূর্বে ৪ নম্বর মাসয়ালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

দেখুন: ইবনে কায়্যিম, রাফউল ইয়াদাইন, পূর্বোক্ত উৎস, ২৮৬; ইবনে রজব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত উৎস, ৪/ ৩১৩।

(২) হাফেজ ইবনে রজব বলেন: "হারব ইসহাক থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা ইহরামের তাকবীরের সময় হাত উঠানো ছেড়ে দিলে নামাজ বাতিল হওয়ার প্রমাণ দেয় এবং এটি ওয়াজিব।" দেখুন: ইবনে রজব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত উৎস, ৪/ ২৯৭।

(৩) সুফিয়ান আস-সাওরী মনে করেন যে, ইহরামের তাকবীর ব্যতীত হাত উঠানো শরীয়তসম্মত নয়।

সুফিয়ানের মতামতের জন্য দেখুন: আল-বাগাভী, শারহুস সুন্নাহ, পূর্বোক্ত উৎস, ৩/ ২৪; ইবনে কুদামা আল-মাকদিসী, আল-মুগনী, পূর্বোক্ত উৎস, ২/ ১৭২; আন-নাবাবী, আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব, পূর্বোক্ত উৎস, ৩/ ৩৫৭; ইবনে রজব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত উৎস, ৪/ ২৯৭। আর সুফিয়ান আস-সাওরী হলেন সুফিয়ান বিন সাঈদ বিন মাসরুক আস-সাওরী, আবু আব্দুল্লাহ আল-কুফী; তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), হাফেজ, ফকীহ, আবিদ, ইমাম এবং হুজ্জাত (দলিলস্বরূপ), সপ্তম তবকার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি কখনো কখনো তাদলীস করতেন, ১৬১ হিজরীতে ৬৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। আইন। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ২৪৪৫।

(৪) তাঁর সনদ:

১ - হাশেম বিন আল-কাসেম বিন মুসলিম আল-লাইসী, তাদের মুক্তদাস, আবু আন-নাদর; তিনি তাঁর উপনামে প্রসিদ্ধ এবং তাঁর উপাধি কায়সার; নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), সুদৃঢ় (সাবত), নবম তবকার অন্তর্ভুক্ত, ২০৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। আইন। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৭২৫৬।

২ - আর-রাবী বিন সাবিহ, আস-সাদী, আল-বাসরী; সত্যবাদী (সাদুক) কিন্তু মুখস্থ শক্তিতে দুর্বল, সপ্তম তবকার অন্তর্ভুক্ত, ১৬০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। খত, ত, ক। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ১৮৯৫।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ২০)
((رأيتُ الحسن (1)، وابن سيرين (2)، وعطاء (3)، وطاووسًا (4)، ومجاهدًا (5)، ونافعًا (6) ، وقَتادة (7)، وابن أبي نَجيح (8)، والحسن بن مُسلم (9): إذا دَخلوا في الصلاة كبَّروا ورفَعُوا أيديَهم، وإذا كبروا للركوع رفعوا أيديهم. غير أن أهل الحجاز كانوا يرفعون أيديهم إذا قامُوا من الركعتين من الفريضة ، وكانوا يَقَعُون (10) على أعقابهم)) (11).

--------------------------------------------

(1) الحسن بن أبي الحسن البصري، واسم أبيه: يسار، الأنصاري مولاهم، ثقةٌ فقيهٌ فاضلٌ مشهورٌ، وكان يرسل كثيراٌ ويدلّس ، هو رأس أهل الطبقة الثالثة، مات سنة عشر ومائةٍ، وقد قارب التسعين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 1227.

(2) محمد بن سيرين الأنصاري، البصري، ثقةٌ ثبتٌ عابدٌ كبير القدر، كان لا يرى الرواية بالمعنى، من الثالثة، مات سنة عشرٍ ومائة. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 5947.

(3) عطاء بن أبي رَبَاح، واسم أبي رباح: أسلم، القرشي مولاهم، المكي، ثقةٌ فقيهٌ فاضلٌ، لكنه كثير الإرسال، من الثالثة، مات سنة أربع عشرة، على المشهور، وقيل: إنه تغيّر بَأَخَرة، ولم يكثر ذلك منه. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 4591.

(4) طاووس بن كَيسان اليماني، الحِميري مولاهم، الفارسي، يقال: اسمه ذكوان، وطاووس لقبٌ، ثقةٌ فقيهٌ فاضلٌ، من الثالثة، مات سنة ستٍ ومائة، وقيل: بعد ذلك. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3009.

(5) مجاهد بن جَبْر، أبو الحجاج المخزومي مولاهم، المكي، ثقةٌ، إمامٌ في التفسير وفي العلم، من الثالثة، مات سنة إحدى - أو اثنتين، أو ثلاث، أو أربع - ومائة، وله ثلاثٌ وثمانون. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6481.

(6) نافع المدني: ثقةٌ. تقدمت ترجمته في المسألة (21).

(7) قَتَادة بن دِعَامة بن قَتَادة السَّدوسي، أبو الخطاب البَصري، ثقةٌ ثبتٌ، يقال: وُلِدَ أكْمه، وهو رأس الطبقة الرابعة، مات سنة بضع عشرة. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 5518.

(8) عبد الله بن أبي نَجِيح: يسار المكي، الثقفي مولاهم، ثقةٌ، رمي بالقدر، وربما دلّس، من السادسة، مات سنة إحدى وثلاثين، أو بعدها. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3662.

(9) الحسن بن مسلم بن يَنّاق، المكي، ثقةٌ، من الخامسة، ومات قديمًا بعد المائة بقليلٍ. خ م د س ق. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 1286.

(10) كذا ضبطت كلمة:" يَقَعُون " ، في الأصل ،والعقب: مُؤَخَّرُ القَدَمِ. ووطِئوا عَقِبَ فلانٍ: مَشَوْا في أَثَره، والمعنى - والله أعلم - أنهم كانوا يتبعون آثار أهل الحجاز. ينظر: مادة (عقب) ابن منظور، لسان العرب، مرجع سابق، 1/ 613، محمد بن عبد الرزّاق الزَّبيدي، تاج العروس من جواهر القاموس، تحقيق: مجموعة من المحققين، 3 (دارالهداية)، 396 و 417 ، ويحتمل أن ضبطها: يُقْعُون. وسيأتي تفسير الإقعاء في ص 238.

(11) رواه الأثرم من طريق أحمد بن حنبل كما عند ابن عبدالبر، التمهيد، مرجع سابق، 5/ 5، بلفظ: "يرفعون أيديهم عند الركوع وعند الرفع منه" والبخاري في رفع اليدين، مرجع سابق، ح 120، 118، من طريق عبد الرحمن بن مهدي عن الربيع بن صبيح بلفظ: ((قال: رأيت محمدًا، والحسن، وأبا نضرة، والقاسم بن محمد، وعطاء، وطاووسًا، ومجاهدًا، والحسن بن مسلم، ونافعًا، وابن أبي نجيح: إذا افتتحوا الصلاة رفعوا أيديهم، وإذا ركعوا، وإذا رفعوا رؤوسهم من الركوع)) قال البخاري: "وهؤلاء أهل مكة وأهل المدينة وأهل اليمن وأهل العراق وقد تواطئوا على رفع الأيدي". ينظر: ابن المنذر، الأوسط، مرجع سابق، 3/ 302 ، ابن القيم، رفع اليدين، مرجع سابق، 33.

فائدة: قال البيهقي: "سمعت الحاكم أبا عبد الله يقول: لا نعلم سنةً اتفق على روايتها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الخلفاء الأربعة ثم العشرة الذين شهد لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بالجنة ممن بعدهم من أكابر الصحابة على تفرقهم في البلاد غير هذه السنة - يعني [رفع اليدين عند الافتتاح والركوع والرفع منه]-، قال البيهقي: وهو كما قال أستاذنا أبو عبد الله رضي الله عنه ".

ينظر: أحمد بن فرج الإشبيلي، مختصر خلافيات البيهقي، تحقيق: د. ذياب عبدالكريم، ط 1، 2 (الرياض: مكتبة الرشد، 1417 هـ)، 72، سراج الدين عمر بن الملقن، البدر المنير في تخريج الأحاديث والآثارالواقعة في الشرح الكبير، المحقق: مجموعة من الحققين، ط 1، 3 (الرياض: دارالهجرة للنشروالتوزيع، 1425 هـ) 475.
((আমি হাসান (১), ইবনে সিরীন (২), আতা (৩), তাউস (৪), মুজাহিদ (৫), নাফে (৬), কাতাদাহ (৭), ইবনে আবি নাজিহ (৮) এবং হাসান বিন মুসলিম (৯)-কে দেখেছি: যখন তাঁরা সালাতে প্রবেশ করতেন, তখন তাকবীর দিতেন ও হাত তুলতেন এবং যখন রুকুর জন্য তাকবীর দিতেন, তখনও হাত তুলতেন। তবে হিজাযের অধিবাসীগণ ফরয সালাতের দুই রাকাত থেকে দাঁড়িয়ে হাত তুলতেন এবং তাঁরা তাঁদের (সালাফদের) পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন (১০)) (১১)।

--------------------------------------------

(১) হাসান বিন আবিল হাসান আল-বাসরী, তাঁর পিতার নাম: ইয়াসার, আনসারীদের মুক্তদাস, নির্ভরযোগ্য, ফকীহ, ফাযিল ও প্রসিদ্ধ। তিনি অধিক পরিমাণে ইরসাল ও তাদলীস করতেন। তিনি তৃতীয় স্তরের প্রধান ছিলেন। ১১০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স নব্বইয়ের কাছাকাছি ছিল। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ১২২৭।

(২) মুহাম্মদ বিন সিরীন আল-আনসারী, আল-বাসরী, নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদতগুজার। তিনি অর্থের মাধ্যমে হাদীস বর্ণনা করা (রেওয়ায়েত বিল মানা) পছন্দ করতেন না। তিনি তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। ১১০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৫৯৪৭।

(৩) আতা বিন আবি রাবাহ, তাঁর পিতার নাম: আসলাম, কুরাইশদের মুক্তদাস, মক্কী, নির্ভরযোগ্য, ফকীহ ও ফাযিল। তবে তিনি অধিক পরিমাণে ইরসাল করতেন। তিনি তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী ১১৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। বলা হয় যে শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতি কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছিল, তবে তা খুব বেশি ছিল না। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৪৫৯১।

(৪) তাউস বিন কায়সান আল-ইয়ামানী, আল-হিমইয়ারী গোত্রের মুক্তদাস, পারস্য বংশোদ্ভূত। বলা হয়: তাঁর নাম ছিল যাকওয়ান এবং তাউস তাঁর উপাধি। তিনি নির্ভরযোগ্য, ফকীহ ও ফাযিল। তিনি তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। ১০৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে এর পরে। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৩০০৯।

(৫) মুজাহিদ বিন জাবর, আবুল হাজ্জাজ আল-মাখযূমী গোত্রের মুক্তদাস, মক্কী, নির্ভরযোগ্য, তাফসীর ও ইলমের ইমাম। তিনি তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। ১০১, ১০২, ১০৩ বা ১০৪ হিজরীতে তিরাশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৬৪৮১।

(৬) নাফে আল-মাদানী: নির্ভরযোগ্য। (২১) নং মাসআলায় তাঁর জীবনী আলোচিত হয়েছে।

(৭) কাতাদাহ বিন দিয়ামাহ বিন কাতাদাহ আস-সাদূসী, আবুল খাত্তাব আল-বাসরী, নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়। বলা হয়: তিনি জন্মান্ধ ছিলেন। তিনি চতুর্থ স্তরের প্রধান ছিলেন। ১১০ হিজরীর কিছু পরে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৫৫১৮।

(৮) আব্দুল্লাহ বিন আবি নাজিহ: ইয়াসার আল-মক্কী, আস-সাকাফী গোত্রের মুক্তদাস, নির্ভরযোগ্য। তাঁর বিরুদ্ধে কাদারিয়া মতবাদের অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং তিনি সম্ভবত তাদলীস করতেন। তিনি ষষ্ঠ স্তরের অন্তর্ভুক্ত। ১৩১ হিজরীতে বা তার পরে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ৩৬৬২।

(৯) হাসান বিন মুসলিম বিন ইয়ান্নাক, মক্কী, নির্ভরযোগ্য। তিনি পঞ্চম স্তরের অন্তর্ভুক্ত। হিজরী ১০০ সালের কিছু পরেই মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত উৎস, ১২৮৬।

(10) মূল পাণ্ডুলিপিতে "য়াকউন" শব্দটি এভাবেই হরকত দেওয়া হয়েছে। "আকিব" শব্দের অর্থ: পায়ের পিছনের অংশ বা গোড়ালি। "তারা অমুকের গোড়ালি মাড়িয়েছে" অর্থাৎ তারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। এর অর্থ হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—তারা হিজাযের অধিবাসীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন। দেখুন: ইবনে মানযুর, লিসানুল আরব, (عقب) অধ্যায়, পূর্বোক্ত উৎস, ১/৬১৩; মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাজ্জাক আয-যাবয়ীদী, তাজুল আরূস মিন জাওয়াহিরিল কামূস, একদল গবেষক দ্বারা সম্পাদিত, ৩ (দারুল হিদায়াহ), ৩৯৬ ও ৪১৭। এর পাঠ "য়ুকউন" (ইকআ করা) হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ২৩৮ পৃষ্ঠায় "ইকআ" এর ব্যাখ্যা আসবে।

(১১) এটি আল-আসরাম বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন হাম্বলের সূত্রে, যেমনটি ইবনে আব্দুল বার উল্লেখ করেছেন, আত-তামহীদ, পূর্বোক্ত উৎস, ৫/৫। এর শব্দগুলো হলো: "তারা রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে উঠার সময় হাত তুলতেন"। ইমাম বুখারী তাঁর "রাফউল ইয়াদাইন" গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, পূর্বোক্ত উৎস, হাদীস নং ১২০, ১১৮, আব্দুর রহমান বিন মাহদী সূত্রে রাবী বিন সবিহ থেকে। সেখানে শব্দগুলো হলো: ((তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ, হাসান, আবু নাযরাহ, কাসেম বিন মুহাম্মদ, আতা, তাউস, মুজাহিদ, হাসান বিন মুসলিম, নাফে এবং ইবনে আবি নাজিহকে দেখেছি: যখন তারা সালাত শুরু করতেন তখন হাত তুলতেন, যখন রুকু করতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখনও হাত তুলতেন))। ইমাম বুখারী বলেন: "এরা মক্কা, মদীনা, ইয়ামেন এবং ইরাকের অধিবাসী এবং তারা হাত তোলার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।" দেখুন: ইবনে মুনযির, আল-আওসাত, পূর্বোক্ত উৎস, ৩/৩০২; ইবনে কায়্যিম, রাফউল ইয়াদাইন, পূর্বোক্ত উৎস, ৩৩।

ফায়দা: ইমাম বায়হাকী বলেন: "আমি হাকিম আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: আমাদের জানা মতে এমন কোনো সুন্নাহ নেই যার বর্ণনার ক্ষেত্রে চার খলীফা, অতঃপর জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী বড় বড় সাহাবীরা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও ঐক্যমত পোষণ করেছেন এই সুন্নাহটি ছাড়া—অর্থাৎ [সালাত শুরু করার সময়, রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময় হাত তোলা]-। বায়হাকী বলেন: আমাদের উস্তাদ আবু আব্দুল্লাহ যেমনটি বলেছেন বিষয়টি তেমনই।"

দেখুন: আহমাদ বিন ফারাজ আল-ইশবিলী, মুখতাসার খিলাফিয়াতিল বায়হাকী, ড. যিয়াব আব্দুল কারীম সম্পাদিত, ১ম সংস্করণ, ২ (রিয়াদ: মাকতাবাতুর রুশদ, ১৪১৭ হিজরী), ৭২; সিরাজুদ্দীন উমর ইবনুল মুলাক্কিন, আল-বদরুল মুনীর ফি তাখরীজিল আহাদীস ওয়াল আসার আল-ওয়াকিয়া ফিশ শারহিল কবীর, একদল গবেষক দ্বারা সম্পাদিত, ১ম সংস্করণ, ৩ (রিয়াদ: দারুল হিজরাহ, ১৪২৫ হিজরী), ৪৭৫।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ২১)
26 - حدَّثنا محمد بن أبي حَزْم قال: حدثنا محمد بن بكر قال: أبَنا ابن جُرَيج قال: قلتُ لعطاءٍ (1): أرأيت لو نسيتُ أن أُكبِّر بيدَي في بعض ذلك، أُعيد الصلاة؟ قال: لا (2).

27 - حدثنا أبو بكر الحُمَيْدي (3) قال: حدثنا سُفيان قال: حدثنا إسماعيلُ بن محمد قال: أخبرني عبدُ الرحمن الأعرج قال: سمعتُ أبا هريرة رضي الله عنه يقول: ((منكم من يقول هكذا -

واشار سفيانُ

--------------------------------------------

(1) سنده:

1 - محمد بن يحيى بن أبي حَزْم، البصري، صدوقٌ، من العاشرة، مات سنة ثلاثٍ وخمسين. م د ت س. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6382.

2 - محمد بن بكر بن عثمان البُرْساني، أبو عثمان البصري، صدوقٌ قد يخطئ، من التاسعة، مات سنة أربعٍ ومائتين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 5760.

3 - عبد الملك بن جريج: ثقةٌ، يدلّس ويرسل. تقدمت ترجمته في المسألة (21).

(2) رواه عبد الرزّاق، مصنف عبد الرزّاق، مرجع سابق، ح 2536، كتاب الصلاة، باب تكبيرة الافتتاح ورفع اليدين، 2/ 71 ،من طريق ابن جريج.

(3) عبد الله بن الزبير بن عيسى القرشي الأسدي الحُمَيدي، المكي، أبو بكر، ثقةٌ حافظٌ فقيهٌ ، من العاشرة ، مات بمكة، سنة تسع عشرة، وقيل: بعدها خ م د ت س فق. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3320.
২৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আবি হাযম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন বকর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আতাকে (১) বললাম: ‘আপনার অভিমত কী, যদি আমি এর কোনো অংশে আমার দুই হাত তুলে তাকবির দিতে ভুলে যাই, তবে কি আমি নামাজ পুনরায় পড়ব?’ তিনি বললেন: ‘না’ (২)।

২৭ - আমাদের নিকট আবু বকর আল-হুমাইদি (৩) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান আল-আরাজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: "তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এভাবে বলে -"

এবং সুফিয়ান ইশারা করলেন।

--------------------------------------------

(১) এর সনদ:

১ - মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবি হাযম, আল-বাসরি, সদুক (সত্যবাদী), দশম স্তরের রাবি, তিনি (হিজরি) তিপ্পান্ন সালে মৃত্যুবরণ করেন। মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৬৩৮২।

২ - মুহাম্মদ বিন বকর বিন উসমান আল-বুরসানি, আবু উসমান আল-বাসরি, সদুক (সত্যবাদী) তবে কখনো ভুল করেন, নবম স্তরের রাবি, তিনি দুইশত চার হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। কুতুবে সিত্তাহ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৫৭৬০।

৩ - আব্দুল মালিক বিন জুরাইজ: সিকাহ (নির্ভরযোগ্য), তবে তিনি 'তাদলিস' ও 'ইরসাল' করেন। ২১ নং মাসআলায় তাঁর জীবনী আলোচিত হয়েছে।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, পূর্বোক্ত সূত্র, হাদিস নং ২৫৩৬, নামাজ অধ্যায়, প্রারম্ভিক তাকবির ও হাত তোলার পরিচ্ছেদ, ২/৭১, ইবনে জুরাইজের সূত্রে।

(৩) আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর বিন ঈসা আল-কুরাশি আল-আসাদি আল-হুমাইদি, আল-মাক্কি, আবু বকর, সিকাহ (নির্ভরযোগ্য), হাফিজ, ফকিহ, দশম স্তরের রাবি, তিনি মক্কায় দুইশত উনিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে এর পরে। বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩৩২০।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ২২)
بيده نحو سُرَّته - ومنكم من يقول هكذا - ومَدَّ أبو هريرة صوته بها هكذا - وأشار إلى منكبيه كأنَّه أحبُّها إليه)) (1).

28 - سمعتُ أحمد يقول: أنا أُصلِّي خلفَ من لا يَرفع يديه في الصلاة، [252] قال: والرَّفعُ أحبُّ إلي وأصحّ (2).

29 - قال: ويُروى أنَّ مَن رفع فله بكل إشارةٍ كذا وكذا حسنة.

30 - حدثنا أحمد قال: حدثنا يحيى بن أيوب قال: أبَنا ابن لَهِيعة عن عبد الله بن هُبيرة قال: أخبرني أبو المصعَب المعَافري عن عقبة بن عامر الجُهني (3) قال: ((لك بكل إشارةٍ تُشيرُها في الصلاة عشْرُ حسناتٍ بكُل إِصبعٍ حَسَنةٍ)) (4).

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه وترجمة رجاله في المسألة (10).

(2) نقله عن حرب: ابن رجب في فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 308.

(3) سنده:

1 - يحيى بن أيوب المَقابِري، البغدادي العابد، ثقةٌ، من العاشرة، مات سنة أربعٍ وثلاثين ،وله سبعٌ وسبعون. عخ م د عس. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 7512.

2 - عبد الله بن لَهِيعة بن عقبة الحضرمي، أبو عبد الرحمن المصري، القاضي، صدوقٌ، من السابعة ،خلط بعد احتراق كتبه، ورواية ابن المبارك وابن وهب عنه أعدل من غيرهما، وله في مسلم بعض شيءٍ مقرونٌ، مات سنة أربعٍ وسبعين، وقد ناف على الثمانين. م د ت ق. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3563.

3 - عبد الله بن هُبَيْرة بن أسعد السَّبَئي، الحضرمي، أبو هبيرة المصري، ثقةٌ، من الثالثة، مات سنة ستٍ وعشرين، وله خمسٌ وثمانون. م 4. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3678.

4 - مِشْرَح بن هاعان المَعَافِري، المصري، أبو مصعب، مقبولٌ، من الرابعة، مات سنة ثمانٍ وعشرين. عخ د ت ق. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6679.

5 - عقبة بن عامر الجهني، صحابيٌ مشهورٌ، اختلف في كنيته على سبعة أقوالٍ، أشهرها أنه أبو حمَّاد، ولي إمرة مصر لمعاوية ثلاث سنين، وكان فقيهًا فاضلًا، مات في قرب الستين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 4641.

(4) رواه بنحوه أحمد في ، صالح بن أحمد، مسائل الإمام أحمد، مرجع سابق، 1575، وسليمان بن أحمد بن أيوب الطبراني، المعجم الكبير، تحقيق: حمدي بن عبدالمجيد السلفي، ط 2، 17 (الموصل: مكتبة الزهراء، 1404 هـ)، ح 819، 297.

وحسن إسناده الهيثمي في مجمع الزوائد، وقال الألباني في السلسلة الصحيحة عن رواية الطبراني "إنها في حكم المرفوع كما هو ظاهر، لأنه لا يقال بمجرد الرأي".

ينظر: ابن هانئ، مسائل الإمام أحمد، مرجع سابق، 240 ،عبد الله بن أحمد، مسائل الإمام أحمد بن حنبل، مرجع سابق، 323 ،،علي بن أبي بكر الهيثمي، مجمع الزوائد ومنبع الفوائد، 2 (القاهرة ، بيروت: دارالريان للتراث، دارالكتاب العربي، 1407 هـ)، 103، الألباني، سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها، (الرياض: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، 1422 هـ)، ح 3286.
(হাত দিয়ে) তার নাভির দিকে - এবং আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন বলেন - আর আবু হুরায়রা এটি বলে তার আওয়াজ দীর্ঘ করলেন - এবং তিনি তার দুই কাঁধের দিকে ইশারা করলেন, যেন এটিই ছিল তার কাছে অধিক প্রিয়)) (১)।

২৮ - আমি আহমদকে বলতে শুনেছি: আমি এমন ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করি যে সালাতে হাত উত্তোলন (রাফউল ইয়াদাইন) করে না, [২৫২] তিনি বলেন: তবে হাত উত্তোলন করা আমার নিকট অধিক প্রিয় এবং অধিক বিশুদ্ধ (২)।

২৯ - তিনি বলেন: বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি হাত উত্তোলন করে, তার জন্য প্রতিটি ইশারার বিনিময়ে এত এত নেকি রয়েছে।

৩০ - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে লাহিয়া বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে হুবাইরা থেকে, তিনি বলেন: আমাকে আবুল মুসআব আল-মুয়াফিরি উকবা ইবনে আমির আল-জুহানি (৩) থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ((সালাতে তুমি যে প্রতিটি ইশারা করো, তার বিনিময়ে তোমার জন্য দশটি নেকি রয়েছে, প্রতিটি আঙুলের বিনিময়ে একটি করে নেকি)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইতিপূর্বে মাসয়ালা (১০) এ এর তাখরিজ এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে।

(২) একে হারব থেকে উদ্ধৃত করেছেন: ইবনে রজব তার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/৩০৮।

(৩) তার সনদ:

১ - ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আল-মাকাবেরি, বাগদাদী, ইবাদতগুজার, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), দশম স্তরের, তিনি দুইশ চৌত্রিশ হিজরিতে সাতাত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আল-বুখারি (জুযউল কিরাআত), মুসলিম, আবু দাউদ, আন-নাসায়ি (আস-সুনান আল-কুবরা)। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৭৫১২।

২ - আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া ইবনে উকবা আল-হাদরামি, আবু আব্দুর রহমান আল-মিসরি, বিচারক, সত্যবাদী (সাদুক), সপ্তম স্তরের, তার কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ার পর তিনি স্মৃতিবিভ্রাট (সংমিশ্রণ) ঘটাতেন, ইবনুল মুবারক ও ইবনে ওয়াহাব-এর তার থেকে বর্ণিত বর্ণনা অন্যের তুলনায় অধিক সঠিক, মুসলিমে তার কিছু বর্ণনা অন্যান্য বর্ণনার সাথে সমর্থিত হিসেবে রয়েছে, তিনি একশ চুয়াত্তর হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, তার বয়স আশির উপরে হয়েছিল। মুসলিম, আবু দাউদ, আত-তিরমিজি, ইবনে মাজাহ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩৫6৩।

৩ - আব্দুল্লাহ ইবনে হুবাইরা ইবনে আসআদ আস-সাবাঈ, আল-হাদরামি, আবু হুবাইরা আল-মিসরি, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তৃতীয় স্তরের, তিনি একশ ছাব্বিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, তার বয়স ছিল পঁচাশি বছর। মুসলিম এবং চার সুনান গ্রন্থ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩৬৭৮।

৪ - মিশরাহ ইবনে হাআন আল-মুয়াফিরি, আল-মিসরি, আবু মুসআব, গ্রহণযোগ্য (মাকবুল), চতুর্থ স্তরের, তিনি একশ আটাশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। আল-বুখারি (জুযউল কিরাআত), আবু দাউদ, আত-তিরমিজি, ইবনে মাজাহ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৬৬৭৯।

৫ - উকবা ইবনে আমির আল-জুহানি, প্রসিদ্ধ সাহাবী, তার উপনাম নিয়ে সাতটি মত রয়েছে, এর মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ হলো তিনি আবু হাম্মাদ, তিনি মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে তিন বছর মিশরের শাসনভার পরিচালনা করেন, তিনি বিজ্ঞ ফকিহ ও গুণী ব্যক্তি ছিলেন, ষাট হিজরির কাছাকাছি ইন্তেকাল করেন। কুতুবে সিত্তা। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪৬৪১।

(৪) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন আহমদ; সালিহ ইবনে আহমদ, মাসাইলুল ইমাম আহমদ, পূর্বোক্ত সূত্র, ১৫৭৫; সুলাইমান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব আত-তাবারানি, আল-মুজামুল কবির, তাহকিক: হামদি বিন আব্দুল মাজিদ আস-সালাফি, ২য় সংস্করণ, খণ্ড ১৭ (মসুল: মাকতাবাতুজ জাহরা, ১৪০৪ হি.), হাদিস ৮১৯, ২৯৭।

এবং আল-হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থে এর সনদকে হাসান বলেছেন, আর আলবানি 'আস-সিলসিলাতুস সহিহা' গ্রন্থে তাবারানির বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন, "এটি মারফু হাদিসের হুকুম রাখে যেমনটি স্পষ্ট, কারণ এটি নিছক মতামতের ভিত্তিতে বলা সম্ভব নয়"।

দেখুন: ইবনে হানি, মাসাইলুল ইমাম আহমদ, পূর্বোক্ত সূত্র, ২৪০; আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ, মাসাইলুল ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩২৩; আলী ইবনে আবু বকর আল-হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ, খণ্ড ২ (কায়রো, বৈরুত: দারুর রাইয়ান লিত তুরাস, দারুল কিতাব আল-আরাবি, ১৪০৭ হি.), ১০৩; আলবানি, সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহিহা ওয়া শাইউন মিন ফিকহিহা ওয়া ফাওয়াইদিহা, (রিয়াদ: মাকতাবাতুল মাআরিফ লিন নাশর ওয়াত তাওজি, ১৪২২ হি.), হাদিস ৩২৮৬।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ২৩)
31 - حدثنا أحمدُ بن نصْر قال: حدثنا علي بن الحسن قال: قال ابنُ المُبارك: قلت لابن لَهِيعة (1): ما يعني بكل إشارةٍ؟ قال: إذا افتَتح الصلاة رفع يديه، وإذا ركع رفع يديه، وإذا رفع رأسه من الركوع رفع يديه.

قال أحمدُ بن نَصْرٍ: عددتُ هذا، فإذا هو يُكتب له في خمس صلوات أربعةُ آلاف حسنةٍ غيرَ مائة حسنة (2).

--------------------------------------------

(1) سنده:

1 - أحمد بن نصر بن زياد النيسابوري، الزاهد المقرئ، أبو عبد الله، ثقةٌ فقيهٌ حافظٌ، من الحادية عشرة، مات سنة خمسٍ وأربعين. ت س. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 117.

2 - علي بن الحسن بن شقيق، أبو عبد الرحمن المروزي ، ثقةٌ حافظٌ، من كبار العاشرة، مات سنة خمس عشرة، وقيل: قبل ذلك. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 4706.

3 - عبد الله بن المبارك المروزي، مولى بني حنظلة، ثقةٌ ثبتٌ فقيهٌ عالمٌ جوادٌ مجاهدٌ، جُمعت فيه خصال الخير، من الثامنة، مات سنة إحدى وثمانين، وله ثلاثٌ وستون. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3570.

(2) مجموع التكبيرات التي ترفع فيها الأيدي في الصلوات الخمس عند الافتتاح والركوع والرفع منه (39) تكبيرة، وإذا ضرب ذلك في عدد أصابع اليدين فسيكون المجموع (390)، وإذا ضرب ذلك في أقلَّ ما يحصل به مضاعفة العمل وهو الحسنة بعشر أمثالها فسيكون المجموع (3900)، والله يضاعف لمن يشاء.
৩১ - আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে নাসর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে আলী ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনুল মুবারক বলেছেন: আমি ইবনে লাহিয়াকে (১) বললাম: প্রতিটি ইশারার অর্থ কী? তিনি বললেন: যখন তিনি সালাত শুরু করতেন তখন তাঁর দুই হাত উঠাতেন, যখন রুকু করতেন তখন তাঁর দুই হাত উঠাতেন, এবং যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখন তাঁর দুই হাত উঠাতেন।

আহমাদ ইবনে নাসর বলেন: আমি এটি গণনা করেছি, দেখা গেল পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে তার জন্য চার হাজার থেকে একশ কম নেকি (২) লেখা হয়।

--------------------------------------------

(১) এর সনদ:

১ - আহমাদ ইবনে নাসর ইবনে যিয়াদ আন-নিশাপুরি, যাহিদ মুকরি, আবু আব্দুল্লাহ, নির্ভরযোগ্য ফকিহ হাফেজ, একাদশ স্তরের, তিনি দুইশ পঁয়তাল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিরমিযি ও নাসায়ি। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহযিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ১১৭।

২ - আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকিক, আবু আব্দুর রহমান আল-মারওয়াযি, নির্ভরযোগ্য হাফেজ, দশম স্তরের বড়দের অন্তর্ভুক্ত, তিনি দুইশ পনেরো হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ কেউ বলেন তার আগে। কুতুবে সিত্তা। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহযিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪৭০৬।

৩ - আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযি, বনু হানযালার মুক্তদাস, নির্ভরযোগ্য সুপ্রতিষ্ঠিত ফকিহ আলেম দানশীল মুজাহিদ, যার মধ্যে কল্যাণের সকল গুণাবলী একত্রিত হয়েছে, অষ্টম স্তরের, তিনি একশ একাশি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর। কুতুবে সিত্তা। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহযিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩৫৭০।

(২) পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে শুরু করার সময়, রুকু করার সময় এবং রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময় হাত উঠানো হয় এমন তাকবিরের মোট সংখ্যা (৩৯) টি। যদি এই সংখ্যাকে দুই হাতের আঙুলের সংখ্যা দিয়ে গুণ করা হয় তবে তার মোট সংখ্যা হবে (৩৯০), আর যদি একে আমল বর্ধিত হওয়ার ন্যূনতম পরিমাণ অর্থাৎ প্রতিটি নেকির দশ গুণ সওয়াব দিয়ে গুণ করা হয় তবে তার মোট সংখ্যা হবে (৩৯০০); আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরও বহু গুণ বাড়িয়ে দেন।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌[5] باب إلى أين ترفعُ المرأة يَديْها؟

32 - سُئل أحمدُ بن حنبل: كيف ترفع المرأة يديها في الصلاة؟ فسكت. كأنه لم يحب أن يجيب فيها (1). قيل له: حديث عبد ربِّه بن زيتون عن أم الدرداء (2)؟

قال: رواه ابن عَيّاش (3). قيل: نعم؟ فسكت.

--------------------------------------------

(1) اختلفت الرواية عن الإمام أحمد في حكم رفع المرأة يديها في الصلاة على خمس روايات:

الأولى: يسن لها رفع يديها. قال في الإنصاف:" وهو المذهب ". وعلى هذا المذهب عند المتأخرين.

الثانية: لا يسن. نقلها أحمد بن حسين بن حسان كما في رفع اليدين لابن القيم.

الثالثة: ترفعهما قليلًا. نقلها حنبل كما في رفع اليدين لابن القيم.

الرابعة: يجوز.

الخامسة: يكره. وقال في المستوعِب: " وهل يسن لهل رفع اليدين؟ توقف أحمد ".

ينظر: ابن أبي يعلى ، التمام، مرجع سابق، 1/ 154 ، محمد بن عبد الله السامرّي، المستوعِب، ط 1، 2 (الرياض: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، 1413 هـ) 178 ، ابن قدامة المقدسي، المغني، مرجع سابق، 2/ 139 ، عبد الرحمن بن محمد المقدسي، الشرح الكبير، مرجع سابق، 3/ 586 ، ابن مفلح، الفروع، مرجع سابق، 2/ 222، الزركشي، شرح الزركشي، مرجع سابق، 1/ 596 ، ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 314 ، إبراهيم بن مفلح، المبدع، مرجع سابق، 1/ 474 ، المرداوي، الإنصاف، مرجع سابق، 3/ 588 ، البهوتي، دقائق أولي النهى، مرجع سابق، 1/ 414 ، البهوتي، كشاف القناع، 2/ 384.

(2) روى ابن أبي شيبة، المصنف، مرجع سابق، ح 2470، كتاب الصلاة، في المرأة إذا افتتحت الصلاة إلى أين ترفع يديها؟ ، 1/ 216، والبخاري في التاريخ الكبير، 6 (حيدر آباد - الدكن دائرة المعارف العثمانية)، ح 1765، 77، وفي: رفع اليدين، مرجع سابق، ح 50، 51، ص 66، من طريق إسماعيل بن عياش، عن عبد ربه بن زيتون، قال: ((رأيت أم الدرداء، ترفع يديها حذو منكبيها حين تفتتح الصلاة ، وحين تركع، وإذا قال الإمام: سمع الله لمن حمده، رفعت يديها، وقالت: اللهم ربنا لك الحمد)) وهذا لفظ البخاري في " رفع اليدين ".

(3) سنده:

1 - إسماعيل بن عَيّاش العَنْسي، الحِمْصي: صدوقٌ في روايته عن أهل بلده مُخَلِّطٌ في غيرهم. تقدمت ترجمته في المسألة (11).

2 - عبد ربه بن سليمان بن عمير بن زيتون الدمشقي، مقبولٌ، من السادسة. ي. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3787.

3 - أم الدرداء زوج أبي الدرداء اسمها هُجيمة ، وقيل: جُهيمة الأوصابية الدمشقية، وهي الصغرى، ثقةٌ فقيهةٌ، من الثالثة، ماتت سنة إحدى وثمانين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 8728.
[৫] অধ্যায়: নারী তার দুই হাত কতটুকু পর্যন্ত তুলবে?

৩২ - আহমাদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞেস করা হলো: নারী সালাতে কীভাবে তার দুই হাত তুলবে? তিনি চুপ থাকলেন। যেন তিনি এ বিষয়ে উত্তর দিতে পছন্দ করেননি (১)। তাঁকে বলা হলো: উম্মুদ দারদা থেকে বর্ণিত আবদ রাব্বিহি ইবনে যাইতুনের হাদিসটির ব্যাপারে কী বলেন (২)?

তিনি বললেন: এটি ইবনে আয়্যাশ বর্ণনা করেছেন (৩)। বলা হলো: হ্যাঁ? তিনি চুপ থাকলেন।

--------------------------------------------

(১) সালাতে নারীর হাত তোলার বিধান সম্পর্কে ইমাম আহমাদ থেকে পাঁচটি বর্ণনা পাওয়া যায়:

প্রথম: তার জন্য হাত তোলা সুন্নাত। 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এটিই মাযহাব (প্রধান মত)"। পরবর্তী যুগের আলিমগণ এই মতের ওপর রয়েছেন।

দ্বিতীয়: সুন্নাত নয়। আহমাদ ইবনে হুসাইন ইবনে হাসসান এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইবনুল কায়্যিমের 'রাফউল ইয়াদাইন' গ্রন্থে রয়েছে।

তৃতীয়: সামান্য পরিমাণ হাত তুলবে। হাম্বল এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইবনুল কায়্যিমের 'রাফউল ইয়াদাইন' গ্রন্থে রয়েছে।

চতুর্থ: এটি বৈধ।

পঞ্চম: এটি মাকরুহ। 'আল-মুস্তাউবিব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "নারীর জন্য হাত তোলা কি সুন্নাত? আহমাদ এ বিষয়ে নিরুত্তর থেকেছেন"।

দ্রষ্টব্য: ইবনে আবি ইয়ালা, আল-তামাম, পূর্বোক্ত সূত্র, ১/ ১৫৪; মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সামারি, আল-মুস্তাউবিব, প্রথম সংস্করণ, ২ (রিয়াদ: মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং, ১৪১৩ হিজরি) ১৭৮; ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি, আল-মুগনি, পূর্বোক্ত সূত্র, ২/ ১৩৯; আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মাকদিসি, আশ-শারহুল কাবীর, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩/ ৫৮৬; ইবনে মুফলিহ, আল-ফুরু, পূর্বোক্ত সূত্র, ২/ ২২২; আজ-জারকাশি, শারহুয জারকাশি, পূর্বোক্ত সূত্র, ১/ ৫৯৬; ইবনে রজব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/ ৩১৪; ইব্রাহিম ইবনে মুফলিহ, আল-মুবদি, পূর্বোক্ত সূত্র, ১/ ৪৭৪; আল-মারদাউয়ি, আল-ইনসাফ, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩/ ৫৮৮; আল-বাহুতি, দাকায়িকু উলিন নুহা, পূর্বোক্ত সূত্র, ১/ ৪১৪; আল-বাহুতি, কাশশাফুল কিনা, ২/ ৩৮৪।

(২) ইবনে আবি শায়বা বর্ণনা করেছেন, আল-মুসান্নাফ, পূর্বোক্ত সূত্র, হাদিস নং ২৪৭০, সালাত অধ্যায়, নারী যখন সালাত শুরু করবে তখন হাত কতটুকু পর্যন্ত তুলবে?, ১/ ২১৬; এবং বুখারি, আত-তারিখুল কাবীর, ৬ (হায়দারাবাদ - দাক্ষিণাত্য দায়িরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া), হাদিস নং ১৭৬৫, ৭৭; এবং 'রাফউল ইয়াদাইন' গ্রন্থে, পূর্বোক্ত সূত্র, হাদিস নং ৫০, ৫১, পৃষ্ঠা ৬৬, ইসমাইল ইবনে আয়্যাশের সূত্রে, তিনি আবদ রাব্বিহি ইবনে যাইতুন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি উম্মুদ দারদাকে দেখেছি, তিনি যখন সালাত শুরু করতেন তখন কাঁধ বরাবর হাত তুলতেন, আবার যখন রুকু করতেন এবং যখন ইমাম 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলতেন, তিনি হাত তুলতেন এবং বলতেন: হে আল্লাহ, আমাদের রব, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা।" এটি বুখারির 'রাফউল ইয়াদাইন' গ্রন্থের শব্দমালা।

(৩) এর সনদ:

১ - ইসমাইল ইবনে আয়্যাশ আল-আনসি, আল-হিমসি: নিজ শহরের অধিবাসীদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি সত্যবাদী, তবে অন্যদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে সংমিশ্রণকারী। ১১ নং মাসআলায় তাঁর জীবনী উল্লেখ করা হয়েছে।

২ - আবদ রাব্বিহি ইবনে সুলাইমান ইবনে উমাইর ইবনে যাইতুন আদ-দিমাশকি, গ্রহণযোগ্য, ষষ্ঠ স্তরের বর্ণনাকারী। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩৭৮৭।

৩ - উম্মুদ দারদা, আবু দারদার স্ত্রী, তাঁর নাম হুজাইমা, মতান্তরে জুহাইমা আল-আউসাবি আল-দিমাশকি, তিনি উম্মুদ দারদা কনিষ্ঠা, নির্ভরযোগ্য ফকিহা, তৃতীয় স্তরের বর্ণনাকারী, তিনি একাশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৮৭২৮।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ২৫)
33 - وسألت إسحاق: قلتُ: المرأةُ كيف ترفع يديها في الصلاة؟ قال: ترفعهما إلى الثدي (1).

قلتُ: وترفع يدَيها إذا ركعت وإذا رفعت رأسها من الركوع؟ قال: نعم شديدًا.

34 - حدثنا يحي بنُ عثمان قال: حدثنا محمد بن كثير (2) قال: سُئل الأوزاعي عن المرأة ترفع يَديها في افتتاح الصلاة كما يرفعُ الرجل؟ قال: نعم. قلتُ: إلى أين ترفع؟ قال: هكذا، وجاوز بأطراف أصابعه منكبيه (3).

35 - حدثنا محمود بن [خالد] (4) قال: حدثنا عمر بنُ عبد الواحد [253] قال: سُئل الأوزاعي (5) عن المرأة ترفعُ يديها في (6) التكبير في الصلاة وأين تضعهما عند الركوع،

وهل

--------------------------------------------

(1) ينظر: ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 314.

(2) سنده:

1 - يحيى بن عثمان بن سعيد بن كثير بن دينار القرشي، الحمصي، صدوقٌ عابدٌ، من العاشرة، مات سنة خمسٍ وخمسين. د س ق. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 7604.

2 - محمد بن كثير بن أبي عطاء الثقفي، الصنعاني، أبو يوسف ، صدوقٌ كثير الغلط، من صغار التاسعة، مات سنة بضع عشرة. د ت س. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6251.

(3) لم أقف عليه. وقد روى ابن أبي شيبة، المصنف، مرجع سابق، ح 2472، كتاب الصلاة، في المرأة إذا افتتحت الصلاة إلى أين ترفع يديها؟، 1/ 216، من طريق الأوزاعي، عن الزهري، قال: ((ترفع يديها حذو منكبيها)). وينظر لقول الأوزاعي في سنية رفع المرأة يديها: ابن القيم، رفع اليدين، مرجع سابق، 295، ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 314.

(4) في الأصل: (خلف)، ولعل الصواب: خالد. وذلك لأنه ممن روى عن عمر بن عبدالواحد ، ولأنني لم أقف على أنّ من شيوخ حرب: محمود بن خلف ، والذي عثرت عليه من شيوخ حرب هو: محمود بن خالد. وفي الجزء الذي حققه الدكتور: فايز حابس. في المسألة رقم ، 163 ، قال حرب: حدثنا محمود بن خالد، قال: حدثنا عمر بنُ عبد الواحد، يقول: سمعت الأوزاعي … ينظر: حرب الكرماني، مسائل حرب ، مرجع سابق،1/ 262

(5) سنده:

1 - محمود بن خالد السُّلمي، أبو علي الدمشقي، ثقةٌ، من صغار العاشرة ، مات سنة سبعٍ وأربعين، وله ثلاثٌ وسبعون. د س ق. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6510.

2 - عمر بن عبد الواحد بن قيس السُّلمي، الدمشقي، ثقةٌ، من التاسعة، مات سنة مائتين، وقيل: بعدها. د س ق. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 4943.

3 - الأوزاعي: ثقةٌ. تقدمت ترجمته في المسألة (19).

(6) في الأصل تكرارٌ لنصٍ في المسألة السابقة وهو: "افتتاح الصلاة كما يرفعُ الرجل، قال: نعم. قلتُ: إلى أين ترفع؟ قال: هكذا"وقد أشار الناسخ إلى ذلك.
৩৩ - এবং আমি ইসহাককে জিজ্ঞাসা করলাম: আমি বললাম: নারী সালাতে কীভাবে তার দুই হাত তুলবে? তিনি বললেন: সে তার দুই হাত বুক পর্যন্ত তুলবে (১)।

আমি বললাম: সে কি রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময়ও হাত তুলবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, জোরালোভাবে।

৩৪ - ইয়াহইয়া ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে কাসির (২) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আওযায়ীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—নারী কি সালাত শুরুর সময় পুরুষের মতোই হাত তুলবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: কতটুকু পর্যন্ত তুলবে? তিনি বললেন: এভাবে; এবং তিনি তার আঙুলের অগ্রভাগ দিয়ে কাঁধ অতিক্রম করালেন (৩)।

৩৫ - মাহমুদ ইবনে [খালিদ] (৪) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন [২৫৩], তিনি বলেছেন: আওযায়ীকে (৫) জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—নারী সালাতে (৬) তাকবিরের সময় হাত তোলা এবং রুকুর সময় হাত কোথায় রাখা সম্পর্কে,

এবং কি

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে রজব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/৩১৪।

(২) তার সনদ:

১ - ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সাঈদ ইবনে কাসির ইবনে দীনার আল-কুরাশি, আল-হিমসি, সত্যবাদী ইবাদতকারী, দশম স্তরের, মৃত্যু ২৫৫ হিজরি সনে। আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৭৬০৪।

২ - মুহাম্মাদ ইবনে কাসির ইবনে আবি আতা আস-সাকাফি, আস-সানআনি, আবু ইউসুফ, সত্যবাদী কিন্তু প্রচুর ভুলকারী, নবম স্তরের ছোটদের অন্তর্ভুক্ত, মৃত্যু দুইশ দশের কিছু পরে। আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৬২৫১।

(৩) আমি এটি খুঁজে পাইনি। তবে ইবনে আবি শায়বা তার আল-মুসান্নাফ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, পূর্বোক্ত সূত্র, হাদিস নং ২৪৭২, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: নারী সালাত শুরু করলে হাত কতটুকু তুলবে?, ১/২১৬, আওযায়ীর সূত্রে, জুহরি থেকে, তিনি বলেন: ((সে তার দুই হাত কাঁধ বরাবর তুলবে))। নারীর হাত তোলার সুন্নাত হওয়ার বিষয়ে আওযায়ীর উক্তি সম্পর্কে আরও দেখুন: ইবনুল কায়্যিম, রাফউল ইয়াদাইন, পূর্বোক্ত সূত্র, ২৯৫; ইবনে রজব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/৩১৪।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে আছে: (খালাফ), সম্ভবত সঠিক হলো: খালিদ। কারণ তিনিই উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হারবের শিক্ষকদের মধ্যে মাহমুদ ইবনে খালাফ বলে কাউকে আমি পাইনি; বরং হারবের যে শিক্ষকের সন্ধান পেয়েছি তিনি হলেন মাহমুদ ইবনে খালিদ। ডক্টর ফায়েয হাবিস কর্তৃক সম্পাদিত অংশে ১৬৩ নম্বর মাসআলায় হারব বলেন: মাহমুদ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আওযায়ীকে বলতে শুনেছি... দেখুন: হারব আল-কিরমানি, মাসাইলু হারব, পূর্বোক্ত সূত্র, ১/২৬২।

(৫) তার সনদ:

১ - মাহমুদ ইবনে খালিদ আস-সুলামি, আবু আলী আদ-দিমাশকি, নির্ভরযোগ্য, দশম স্তরের ছোটদের অন্তর্ভুক্ত, মৃত্যু ২৪৭ হিজরি সনে, তিয়াত্তর বছর বয়সে। আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৬৫১০।

২ - উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে কায়স আস-সুলামি, আদ-দিমাশকি, নির্ভরযোগ্য, নবম স্তরের, মৃত্যু ২০০ হিজরি সনে, কারো মতে তার পরে। আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪৯৪৩।

৩ - আওযায়ী: নির্ভরযোগ্য। তার জীবনী ১৯ নম্বর মাসআলায় গত হয়েছে।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে পূর্ববর্তী মাসআলার একটি পাঠ পুনরাবৃত্তি হয়েছে, যা হলো: "সালাত শুরু করার সময় যেভাবে পুরুষ হাত তোলে, তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: সে কতটুকু তুলবে? তিনি বললেন: এভাবে।" পাণ্ডুলিপি লেখক সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ২৬)
تضرب يمينَها على شمالها؟ فقال: رفعُ اليدين عند التكبير ووضع اليدين عند الركوع سُنَّة، ومن شاء وضع يمينَه على شماله عند قُنوته (1)، ومن شاء تركه. (2)

36 - حدثنا محمد بن يحيى قال: حدثنا يحيى بن مَيْمون قال: حدثنا عاصم الأحول (3) قال: ((رأيت حفصة بنت سيرين تُصَلِّي، فإذا ركعت رفعت يَدَيْها عند ثَدْيَيْها)) (4).

37 - حدثنا محمد بن إسماعيل قال: حدثنا خالد بن حيَّان قال: حدثنا عيسى بن كثير قال: سألتُ حمادًا (5) عن المرأة إذا استفتحت الصلاة؟ قال: ترفع يديها إلى ثدْيَيْها (6).

 

‌‌[6] باب تكبيرة الافتتاح

--------------------------------------------

(1) أي عند قيامه في الصلاة. قال الجوهري: "القُنوتُ: الطاعة. هذا هو الأصل، ومنه قوله تعالى: [وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ] سورة الأحزاب: الآية 35. ثم سُمِّي القيام في الصلاة قنوتًا". ينظر: إسماعيل بن حماد الجوهري، الصحاح تاج اللغة وصحاح العربية، ط 4، تحقيق: أحمد عبد الغفور عطار، 1 (بيروت: دار العلم للملايين، 1407 هـ)، مادة (قنت)، 261.

(2) لم أقف عليه. وينظر لقول الأوزاعي في التخيير بين وضع اليمين على الشمال في القيام أو ترك ذلك: النووي، المجموع شرح المهذب، مرجع سابق، 3/ 258، ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 334، العيني، عمدة القاري، مرجع سابق، 5/ 279.

(3) سنده:

1 - محمد بن يحيى بن أبي حَزْم: صدوقٌ. تقدمت ترجمته في المسألة (26).

2 - يحيى بن ميمون بن عطاء القرشي، أبو أيوب التمّار، البصري، نزيل بغداد. متروكٌ، من الثامنة، مات في حدود التسعين. د. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 7656.

3 - عاصم بن سليمان الأحول، أبو عبد الرحمن البصري، ثقة، من الرابعة، مات بعد سنة أربعين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3060.

(4) رواه ابن أبي شيبة، المصنف، مرجع سابق، ح 2475، كتاب الصلاة، في المرأة إذا افتتحت الصلاة إلى أين ترفع يديها؟، 1/ 216، من طريق يحيى بن مَيْمون به.

(5) سنده:

1 - محمد بن إسماعيل بن أبي سَمِينَة، ثقةٌ، من العاشرة، مات سنة ثلاثين. خ د. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 5733.

2 - خالد بن حيان الرَّقي، أبو يزيد الكندي مولاهم، الخرَّاز، صدوقٌ يخطئ، من الثامنة، مات سنة إحدى وتسعين، ولم يستكمل السبعين. ق. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 1622.

3 - عيسى بن كثير الأسدي الرَّقي، عدّه المزي من شيوخ خالد بن حيان، ولم أجد له ترجمةً.

ينظر: المزي، تهذيب الكمال، مرجع سابق، 8/ 43.

4 - حماد بن أبي سليمان مسلم الأشعري، مولاهم، أبو إسماعيل الكوفي، فقيهٌ صدوقٌ له أوهامٌ، من الخامسة، ورمي بالإرجاء، مات سنة عشرين أو قبلها. بخ م 4. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 1500.

(6) رواه ابن أبي شيبة، المصنف، مرجع سابق، ح 2473، كتاب الصلاة، في المرأة إذا افتتحت الصلاة إلى أين ترفع يديها؟، 1/ 216، من طريق خالد بن حيان به.
সে কি তার ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখবে? তিনি বললেন: তাকবীরের সময় হাত তোলা এবং রুকুর সময় হাত রাখা সুন্নাহ। আর যে চায় সে তার কুনুতের সময় (১) তার ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখবে, আর যে চায় সে তা ছেড়ে দেবে। (২)

৩৬ - মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাইমুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসিম আল-আহওয়াল (৩) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি হাফসা বিনতে সিরিনকে সালাত আদায় করতে দেখেছি, তিনি যখন রুকু করতেন তখন তাঁর স্তনদ্বয় পর্যন্ত তাঁর হাত দুটি উঠাতেন।" (৪)।

৩৭ - মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে হাইয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে কাসির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাম্মাদকে (৫) সেই নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে সালাত শুরু করছে? তিনি বললেন: সে তার স্তনদ্বয় পর্যন্ত তার হাত দুটি উঠাবে (৬)।

 

‌‌[৬] অনুচ্ছেদ: তাকবীরে ইফতিতাহ (সালাত শুরুর তাকবীর)

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ সালাতে তার দণ্ডায়মান অবস্থায়। জাওহারী বলেছেন: "কুনুত হলো আনুগত্য। এটিই মূল অর্থ, আর এ থেকেই আল্লাহর বাণী: [এবং আনুগত্যশীল পুরুষ ও আনুগত্যশীল নারীগণ] সূরা আল-আহযাব: আয়াত ৩৫। পরবর্তীতে সালাতে দাঁড়িয়ে থাকাকে কুনুত হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।" দেখুন: ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ আল-জাওহারী, আস-সিহাহ তাজুল লুগাহ ওয়া সিহাহুল আরাবিয়্যাহ, ৪র্থ সংস্করণ, তাহকীক: আহমদ আব্দুল গফুর আত্তার, ১ (বৈরুত: দারুল ইলম লিল-মালাঈন, ১৪০৭ হিজরি), শব্দমূল (কুনুত), ২৬১।

(২) আমি এর উৎস খুঁজে পাইনি। কিয়ামের অবস্থায় ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখা বা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ইমাম আওযায়ীর পছন্দের অবকাশ দেওয়ার মতামতের জন্য দেখুন: নববী, আল-মাজমু' শারহুল মুহাযযাব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩/২৫৮; ইবনে রাজাব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/৩৩৪; আইনী, উমদাতুল কারী, পূর্বোক্ত সূত্র, ৫/২৭৯।

(৩) তাঁর সনদ:

১ - মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবি হাযম: সাদুক (সত্যবাদী)। মাসআলা নং (২৬)-এ তাঁর জীবনী অতিক্রান্ত হয়েছে।

২ - ইয়াহইয়া ইবনে মাইমুন ইবনে আতা আল-কুরাশি, আবু আইয়ুব আত-তাম্মার, আল-বাসরি, বাগদাদের অধিবাসী। তিনি মাতরুক (পরিত্যক্ত), অষ্টম স্তরের বর্ণনাকারী, নব্বই হিজরির দিকে মৃত্যুবরণ করেন। আবু দাউদ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৭৬৫৬।

৩ - আসিম ইবনে সুলাইমান আল-আহওয়াল, আবু আব্দুর রহমান আল-বাসরি, সিকাহ (নির্ভরযোগ্য), চতুর্থ স্তরের বর্ণনাকারী, চল্লিশ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন। জামা'আ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩০৬০।

(৪) ইবনে আবি শায়বা এটি বর্ণনা করেছেন, আল-মুসান্নাফ, পূর্বোক্ত সূত্র, হা. ২৪৭৫, সালাত অধ্যায়, নারী যখন সালাত শুরু করবে তখন কতটুকু হাত উঠাবে অনুচ্ছেদ, ১/২১৬, ইয়াহইয়া ইবনে মাইমুনের সূত্রে।

(৫) তাঁর সনদ:

১ - মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে আবি সামিনাহ, সিকাহ (নির্ভরযোগ্য), দশম স্তরের বর্ণনাকারী, ত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। বুখারি, আবু দাউদ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৫৭৩৩।

২ - খালিদ ইবনে হাইয়ান আল-রাক্কি, আবু ইয়াযিদ আল-কিন্দি তাদের মাওলা, আল-খাররায, সাদুক তবে ভুল করেন, অষ্টম স্তরের বর্ণনাকারী, একানব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং সত্তর বছর পূর্ণ করেননি। ইবনে মাজাহ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ১৬২২।

৩ - ঈসা ইবনে কাসির আল-আসাদি আল-রাক্কি, আল-মিযযি তাঁকে খালিদ ইবনে হাইয়ানের উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তবে আমি তাঁর জীবনী খুঁজে পাইনি।

দেখুন: আল-মিযযি, তাহযীবুল কামাল, পূর্বোক্ত সূত্র, ৮/৪৩।

৪ - হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান মুসলিম আল-আশআরি, তাদের মাওলা, আবু ইসমাইল আল-কুফি, ফকিহ, সাদুক তবে তাঁর ভ্রান্তি রয়েছে, পঞ্চম স্তরের বর্ণনাকারী, তাঁর বিরুদ্ধে ইরজা-র অভিযোগ রয়েছে, একশ বিশ হিজরিতে বা তার পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। বুখারি, মুসলিম, চার সুনান গ্রন্থকার। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরীবুত তাহযীব, পূর্বোক্ত সূত্র, ১৫০০।

(৬) ইবনে আবি শায়বা এটি বর্ণনা করেছেন, আল-মুসান্নাফ, পূর্বোক্ত সূত্র, হা. ২৪৭৩, সালাত অধ্যায়, নারী যখন সালাত শুরু করবে তখন কতটুকু হাত উঠাবে অনুচ্ছেদ, ১/২১৬, খালিদ ইবনে হাইয়ানের সূত্রে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ২৭)
38 - سمعتُ إسحاق بن إبراهيم يقول: "إذا افتتحْتَ الصلاة فقُل: الله أكبر وارفع يديك حَذْوَ منكبيك، ولا تفتتح بغيرها. وأخطأ من قال: الله أَجلّ ، الله أعظم، أنه يجُزئه، وهكذا ما ابتدعه أصحابُ الرأي، وفيما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (تحريم الصلاة التكبير) كفايةٌ " (1).

39 - حدثنا يحيى بن عبد الحميد قال: حدثنا أبو معاوية عن أبي سفيان طَريف السَّعْدي عن أبي نَضْرة عن أبي سعيد الخُدري (2) قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (مِفتاح الصلاة الطهور وتحريمُها التكبير وتحليلُها التسليم) (3).

--------------------------------------------

(1) ينظر لقول إسحاق وأصحاب الرأي: ابن أبي شيبة، المصنف، مرجع سابق، 1/ 215، الترمذي، سنن الترمذي، مرجع سابق، 2/ 4، ابن المنذر، الأوسط، مرجع سابق، 3/ 218 - 219، ابن المنذر، الإشراف، مرجع سابق، 2/ 7، ابن عبدالبر، الاستذكار، مرجع سابق، 1/ 422، البغوي، شرح السنة، مرجع سابق، 3/ 18، علاءالدين الكاساني، بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع، ط 2، 1 (بيروت: دارالكتاب العربي، 1982 م)، 130، زين الدين إبراهيم بن نجيم الحنفي، البحر الرائق شرح كنز الدقائق، ط 2، 1 (بيروت: دارالمعرفة)، 323.

(2) سنده:

1 - يحيى بن عبد الحميد بن عبد الرحمن بن بَشْمين الحِمّاني، الكوفي، حافظٌ إلا أنهم اتهموه بسرقة الحديث، من صغار التاسعة، مات سنة ثمانٍ وعشرين. م. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 7591.

2 - محمد بن خَازِم، أبو معاوية الضّرير، الكوفي، ثقةٌ، أحفظ الناس لحديث الأعمش، وقد يهم في حديث غيره، من كبار التاسعة. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 5841.

3 - طريف بن شهاب أو ابن سعد السعدي، أبو سفيان البصري الأشل، ويقال له الأعسم، ضعيفٌ، من السادسة. ت ق. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 3013.

4 - المنذر بن مالك بن قُطَعة العبدي العَوَقي، البصري، أبو نضْرة، مشهورٌ بكنيته، ثقةٌ، من الثالثة، مات سنة ثمانٍ - أو تسعٍ - ومائة. خت م 4. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6890.

5 - سعد بن مالك بن سنان بن عبيد الأنصاري، أبو سعيد الخدري، له ولأبيه صحبةٌ، واسْتُصْغِرَ بأحد، ثم شهد ما بعدها، وروى الكثير، مات بالمدينة سنة ثلاثٍ - أو أربعٍ - أو خمسٍ- وستين، وقيل: سنة أربعٍ وسبعين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 2253.

(3) رواه الترمذي، سنن الترمذي، مرجع سابق، ح 238، أبواب الطهارة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، باب ما جاء أن مفتاح الصلاة الطهور، 2/ 463، وابن ماجه، سنن ابن ماجه، مرجع سابق، ح 276، كتاب الطهارة وسننها، باب مفتاح الصلاة الطهور، 1/ 101، من طريق أبي سفيان طريف السعدي به.

ورواه أحمد في مسند الإمام أحمد، مرجع سابق، ح 1006، 2/ 292، وأبو داود، سنن أبي داود، مرجع سابق، ح 61، كتاب الطهارة، باب فرض الوضوء، 1/ 16، والترمذي، سنن الترمذي، مرجع سابق، ح 3، أبواب الطهارة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، باب ما جاء أن مفتاح الصلاة الطهور، 1/ 8، وابن ماجه، سنن ابن ماجه، مرجع سابق ح 275، كتاب الطهارة وسننها، باب مفتاح الصلاة الطهور، 1/ 101، من حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه.

قال الترمذي: "وحديث علي بن أبي طالب أجود إسنادًا وأصح من حديث أبي سعيد"، وحسن البغوي حديث علي، وأعلَّ الزيلعي حديث أبي سعيد بأبي سفيان، وصحح الألباني الحديث بمجموع طرقه.

ينظر: البغوي، شرح السنة، مرجع سابق، 3/ 17، الزيلعي، نصب الراية، مرجع سابق، 1/ 363، الألباني، أصل صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم، مرجع سابق، 1/ 184 - 186.
৩৮ - আমি ইসহাক ইবন ইব্রাহীমকে বলতে শুনেছি: "যখন তুমি সালাত শুরু করবে তখন বলো: 'আল্লাহু আকবার' এবং তোমার হাত দুটি কাঁধ বরাবর তোলো, আর এটি ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে শুরু করো না। আর যারা বলে: 'আল্লাহু আজাল্ল' (আল্লাহ অতি সম্মানিত), 'আল্লাহু আ'জম' (আল্লাহ অতি মহান) বললে চলবে—তারা ভুল করেছে। আর রায়-পন্থীরা (আসহাবুর রায়) যা উদ্ভাবন করেছে তাও ভুল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন—'সালাতের তাহরীম (নিষিদ্ধতা) হচ্ছে তাকবীর'—সেটিই যথেষ্ট।" (১)।

৩৯ - ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল হামীদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুআবিয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু সুফিয়ান তরীফ আস-সা'দী থেকে, তিনি আবু নাদরা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (২) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (সালাতের চাবি হলো পবিত্রতা, তার তাহরীম হলো তাকবীর এবং তার তাহলীল হলো তাসলিম) (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইসহাক এবং আসহাবুর রায়ের উক্তির জন্য দেখুন: ইবন আবি শায়বা, আল-মুসান্নাফ, প্রাগুক্ত, ১/ ২১৫; তিরমিযী, সুনানুত তিরমিযী, প্রাগুক্ত, ২/ ৪; ইবনুল মুনযির, আল-আওসাত, প্রাগুক্ত, ৩/ ২১৮ - ২১৯; ইবনুল মুনযির, আল-ইশরাফ, প্রাগুক্ত, ২/ ৭; ইবন আব্দুল বারর, আল-ইস্তিযকার, প্রাগুক্ত, ১/ ৪২২; বাগাভী, শারহুস সুন্নাহ, প্রাগুক্ত, ৩/ ১৮; আলাউদ্দীন কাসানী, বাদাউস সানা-ই ফি তারতিবিশ শারাই, ২য় মুদ্রণ, খণ্ড ১ (বৈরুত: দারুল কিতাব আল-আরাবি, ১৯৮২ খ্রি.), ১৩০; যাইনুদ্দীন ইব্রাহীম ইবন নুজাইম আল-হানাফী, আল-বাহরুর রা-ইক শারহু কানযিদ দাকাইক, ২য় মুদ্রণ, খণ্ড ১ (বৈরুত: দারুল মা'রিফাহ), ৩২৩।

(২) তার সনদ:

১ - ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল হামীদ ইবন আব্দুল রহমান ইবন বাশমীন আল-হিম্মানী, আল-কূফী, হাফিয, তবে তারা তাকে হাদিস চুরির দায়ে অভিযুক্ত করেছেন, নবম স্তরের ছোটদের অন্তর্ভুক্ত, ২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (মুসলিম)। দেখুন: ইবন হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, প্রাগুক্ত, ৭৫৯১।

২ - মুহাম্মদ ইবন খাযিম, আবু মুআবিয়া আদ-দারীর, আল-কূফী, সিকাহ (নির্ভরযোগ্য), আমাশের হাদিসের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাফিয, অন্যের হাদিসের ক্ষেত্রে কখনও ভুল করেন, নবম স্তরের বড়দের অন্তর্ভুক্ত। (আল-জামায়াহ)। দেখুন: ইবন হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, প্রাগুক্ত, ৫৮৪১।

৩ - তরীফ ইবন শিহাব অথবা ইবন সা'দ আস-সা'দী, আবু সুফিয়ান আল-বাসরী আল-আশাল, তাকে আল-আসামও বলা হয়, যঈফ (দুর্বল), ষষ্ঠ স্তরের অন্তর্ভুক্ত। (তিরমিযী, ইবন মাজাহ)। দেখুন: ইবন হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, প্রাগুক্ত, ৩০১৩।

৪ - আল-মুনযির ইবন মালিক ইবন কুতআ আল-আবদী আল-আওয়াকী, আল-বাসরী, আবু নাদরা, তার উপনামেই প্রসিদ্ধ, সিকাহ (নির্ভরযোগ্য), তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত, ১০৮ বা ১০৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (বুখারী তালীকান, মুসলিম, আসহাবু সুনানিল আরবা'আ)। দেখুন: ইবন হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, প্রাগুক্ত, ৬৮৯০।

৫ - সা'দ ইবন মালিক ইবন সিনান ইবন উবাইদ আল-আনসারী, আবু সাঈদ আল-খুদরী, তিনি এবং তার পিতা সাহাবী ছিলেন, উহুদ যুদ্ধে তাকে ছোট মনে করা হয়েছিল, এরপর পরবর্তীগুলোতে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন। মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন ৬৩, ৬৪ বা ৬৫ হিজরিতে; মতান্তরে ৭৪ হিজরিতে। (আল-জামায়াহ)। দেখুন: ইবন হাজার আল-আসকালানী, তাকরীবুত তাহযীব, প্রাগুক্ত, ২২৫৩।

(৩) তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন, সুনানুত তিরমিযী, প্রাগুক্ত, হা/ ২৩৮, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত পবিত্রতা অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: সালাতের চাবি হলো পবিত্রতা—এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, ২/ ৪৬৩; এবং ইবন মাজাহ, সুনান ইবন মাজাহ, প্রাগুক্ত, হা/ ২৭৬, পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ কিতাব, অনুচ্ছেদ: সালাতের চাবি হলো পবিত্রতা, ১/ ১০১, আবু সুফিয়ান তরীফ আস-সা'দী সূত্রে।

এবং আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন মুসনাদে ইমাম আহমাদ-এ, প্রাগুক্ত, হা/ ১০০৬, ২/ ২৯২; এবং আবু দাউদ, সুনান আবু দাউদ, প্রাগুক্ত, হা/ ৬১, পবিত্রতা কিতাব, অনুচ্ছেদ: ওযুর ফরযসমূহ, ১/ ১৬; এবং তিরমিযী, সুনানুত তিরমিযী, প্রাগুক্ত, হা/ ৩, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত পবিত্রতা অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: সালাতের চাবি হলো পবিত্রতা—এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, ১/ ৮; এবং ইবন মাজাহ, সুনান ইবন মাজাহ, প্রাগুক্ত হা/ ২৭৫, পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ কিতাব, অনুচ্ছেদ: সালাতের চাবি হলো পবিত্রতা, ১/ ১০১, আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস থেকে।

তিরমিযী বলেন: "আলী ইবন আবি তালিবের হাদিসটি আবু সাঈদের হাদিসের চেয়ে অধিক উত্তম সনদ সম্পন্ন ও অধিক সহীহ।" বাগাভী আলীর হাদিসটিকে হাসান বলেছেন, আর যাইলায়ী আবু সাঈদের হাদিসটিকে আবু সুফিয়ানের কারণে যঈফ বলেছেন, এবং আলবানী হাদিসটিকে তার সকল সূত্রের সমষ্টিতে সহীহ বলেছেন।

দেখুন: বাগাভী, শারহুস সুন্নাহ, প্রাগুক্ত, ৩/ ১৭; যাইলায়ী, নাসবুর রাইয়াহ, প্রাগুক্ত, ১/ ৩৬৩; আলবানী, আসল সিফাত সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, প্রাগুক্ত, ১/ ১৮৪ - ১৮৬।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌[7] باب الرجل يكبِّر بتكبيرة الافتتاح قبل الإمام [254]

40 - قلتُ لأحمد بن حنبل: الرجل يكبّر بتكبيرة الافتتاح قَبل الإمام؟ قال: هذا ليس مع الإمام. قلتُ: يُعيد الصلاة؟ قال: نعم (1).

41 - حدثنا أحمد بن نصر قال: حدثنا حِبَّان بن موسى عن سُفيان بن (2) عبد الملك عن عبد الله بن المبارك (3): أنه كان لا يرى صلاته تامةً إذا فرغ من التكبيرة الأولى مع الإمام سواء. (4)

--------------------------------------------

(1) المسألة بحروفها في مسائل صالح بن الإمام أحمد.

ينظر: صالح بن أحمد، مسائل الإمام أحمد، مرجع سابق، 480.

وقد اختلفت الرواية عن الإمام أحمد في حكم تكبير المأموم للافتتاح قبل الإمام أو معه على روايتين:

الأولى: لا يعتد بتكبيره، وتبطل صلاته ويعيدها، نقلها حرب، وصالح، ونقلها عن عبد الله ابن القيم في بدائع الفوائد، قال المرداوي: "على الصحيح من المذهب مطلقًا"، وعليها المذهب عند المتأخرين. قال في بدا ئع الفوائد: "إنما أمره بالإعادة، ولم يجعله منفردًا بالصلاة لأنه نوى الائتمام بمن ليس بإمامٍ، لأنه إذا كبر قبله فليس بإمامٍ له، ولم تصح صلاة الانفراد، لأن النيه قد بطلت".

الثانية: يعتد بها إن كان سهوًا.

ينظر: صالح بن أحمد، مسائل الإمام أحمد، مرجع سابق، 480، ابن أبي يعلى، طبقات الحنابلة، مرجع سابق، 2/ 441، السامري، المستوعِب، مرجع سابق، 2/ 316، ابن قدامة المقدسي، المغني، مرجع سابق، 2/ 131، عبد الرحمن بن محمد المقدسي، الشرح الكبير، مرجع سابق، 3/ 416، ابن القيم، بدائع الفوائد، مرجع سابق، 4/ 1447، ابن مفلح، الفروع، مرجع سابق، 2/ 445، إبراهيم بن مفلح، المبدع، مرجع سابق، 2/ 45، المرداوي، الإنصاف، مرجع سابق، 4/ 322، محمد بن أحمد بن النجار الفتوحي، معونة أولي النهى شرح المنتهى، تحقيق: عبد الملك بن عبد الله بن دهيش، ط 3،2 (بيروت: دار خضر، 1419 هـ)، 345، البهوتي، دقائق أولي النهى، مرجع سابق، 1/ 546، البهوتي، كشاف القناع، مرجع سابق، 3/ 175.

(2) في الأصل: عن. ولعل المثبت هو الصواب.

(3) سنده:

1 - أحمد بن نصر بن زياد النيسابوري: ثقة. تقدمت ترجمته في المسألة (31).

2 - حِبَّان بن موسى بن سَوّار السُّلمي، أبو محمد المروزي، ثقةٌ، من العاشرة، مات سنة ثلاثٍ وثلاثين. خ م ت س. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 1077.

3 - سفيان بن عبد الملك المروزي، من كبار أصحاب ابن المبارك، ثقةٌ، من قدماء العاشرة، مات قبل المائتين. م د ت. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 2448.

4 - عبد الله بن المبارك: ثقة. تقدمت ترجمته في المسألة (31).

(4) لم أقف عليه. وقال الحافظ ابن رجب: "فإذا كبر معه [أي المأموم مع الإمام] لم تنعقد صلاة المأموم عند ابن المبارك والشافعي وأحمد، وهو قول مالك وأبي يوسف".

ينظر: ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 161.
[৭] অনুচ্ছেদ: ইমামের আগে তাকবিরে তাহরিমা বলা ব্যক্তি সম্পর্কে [২৫৪]

৪০ - আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বললাম: এক ব্যক্তি ইমামের আগে তাকবিরে তাহরিমা বলে ফেলেছে? তিনি বললেন: এটি ইমামের সাথে (সালাত আদায় করা) হলো না। আমি বললাম: সে কি সালাত পুনরায় আদায় করবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ (১)।

৪১ - আহমাদ ইবনে নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিব্বান ইবনে মুসা আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে আব্দুল মালিক থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি তার সালাত পূর্ণ মনে করতেন না যখন তিনি ইমামের সাথে সমানভাবে প্রথম তাকবির শেষ করতেন। (৪)

--------------------------------------------

(১) এই মাসআলাটি হুবহু ইমাম আহমাদের পুত্র সালিহ-এর 'মাসাইল'-এ রয়েছে।

দেখুন: সালিহ ইবনে আহমাদ, মাসাইলুল ইমাম আহমাদ, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪৮০।

ইমাম আহমাদ থেকে ইমামের আগে বা সাথে মুক্তাদির উদ্বোধনী তাকবির (তাকবিরে তাহরিমা) বলার বিধান সম্পর্কে দুটি বর্ণনা পাওয়া যায়:

প্রথমটি: তার তাকবির গণ্য হবে না, তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে এবং সে তা পুনরায় আদায় করবে। এটি বর্ণনা করেছেন হারব এবং সালিহ। ইবনুল কাইয়্যিম 'বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ'-এ এটি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-মারদাউয়ি বলেছেন: "মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটিই নিঃশর্তভাবে সঠিক", এবং পরবর্তী যুগের আলিমদের নিকট এটিই মাযহাবের সিদ্ধান্ত। 'বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ'-এ বলা হয়েছে: "তাকে পুনরায় সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার সালাতকে একাকী সালাত হিসেবে গণ্য করা হয়নি, কারণ সে এমন একজনের ইক্তিদার নিয়ত করেছে যে (তখনও) ইমাম নয়। কেননা সে যদি তার আগে তাকবির বলে, তবে সে ব্যক্তি তার জন্য ইমাম থাকে না, আর একাকী সালাতও সহিহ হয়নি কারণ নিয়ত বাতিল হয়ে গেছে।"

দ্বিতীয়টি: ভুলবশত হলে তা গণ্য হবে।

দেখুন: সালিহ ইবনে আহমাদ, মাসাইলুল ইমাম আহমাদ, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪৮০; ইবনু আবী ইয়া'লা, তাবাকাতুল হানাবিলা, পূর্বোক্ত সূত্র, ২/৪৪১; আস-সামিরি, আল-মুস্তাওয়িব, পূর্বোক্ত সূত্র, ২/৩১৬; ইবনু কুদামা আল-মাকদিসি, আল-মুগনি, পূর্বোক্ত সূত্র, ২/১৩১; আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মাকদিসি, আশ-শারহুল কাবীর, পূর্বোক্ত সূত্র, ৩/৪১৬; ইবনুল কাইয়্যিম, বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/১৪৪৭; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরু', পূর্বোক্ত সূত্র, ২/৪৪৫; ইব্রাহিম ইবনে মুফলিহ, আল-মুবদি', পূর্বোক্ত সূত্র, ২/৪৫; আল-মারদাউয়ি, আল-ইনসাফ, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/৩২২; মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে নাজ্জার আল-ফুতুহি, মাউনা উলি আন-নুহা শারহুল মুনতাহা, তাহকিক: আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে দাহিশ, সংস্করণ ৩, ২ (বৈরুত: দারু খদর, ১৪১৯ হিজরি), ৩৪৫; আল-বাহুতি, দাকায়িক উলি আন-নুহা, পূর্বোক্ত সূত্র, ১/৫৪৬; আল-বাহুতি, কাশশাফুল কিনা', পূর্বোক্ত সূত্র, ৩/১৭৫।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'থেকে' (আন)। সম্ভবত যা পাঠে বসানো হয়েছে সেটিই সঠিক।

(৩) এর সনদ:

১ - আহমাদ ইবনে নাসর ইবনে যিয়াদ আন-নিসাবুরি: তিনি সিকাহ (নির্ভরযোগ্য)। মাসআলা (৩১)-এ তার জীবনী অতিক্রান্ত হয়েছে।

২ - হিব্বান ইবনে মুসা ইবনে সাউওয়ার আস-সুলামি, আবু মুহাম্মদ আল-মারওয়াযি, তিনি সিকাহ, দশম স্তরের রাবি, মৃত্যু ২৩৩ হিজরি। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি, নাসায়ি)। দেখুন: ইবনু হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহযিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ১০৭৭।

৩ - সুফিয়ান ইবনে আব্দুল মালিক আল-মারওয়াযি, ইবনুল মুবারকের বিশিষ্ট অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি সিকাহ, দশম স্তরের প্রাচীন রাবিদের একজন, মৃত্যু ২০০ হিজরির পূর্বে। (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি)। দেখুন: ইবনু হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহযিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ২৪৪৮।

৪ - আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক: তিনি সিকাহ। মাসআলা (৩১)-এ তার জীবনী অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) আমি এটি খুঁজে পাইনি। তবে হাফিজ ইবনে রাজাব বলেছেন: "যখন সে (মুক্তাদি) ইমামের সাথে তাকবির বলে, তখন ইবনুল মুবারক, শাফিঈ এবং আহমাদ-এর নিকট মুক্তাদির সালাত শুরু হবে না। এটি মালিক এবং আবু ইউসুফেরও অভিমত।"

দেখুন: ইবনে রাজাব, ফাতহুল বারী, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/১৬১।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ৩০)
42 - حدثنا أبو بكر أحمد بن محمد قال: حدثنا عَارِم قال: حدثنا خالدُ بن الحارث قال: سمعتُ عُبيد الله بن الحسن (1) سُئل عن الإمام يُكبِّر متى يُكبّر من خلْفه؟ قال: إذا نَغَم (2) بالتكبيرة كبَّروا (3).

--------------------------------------------

(1) سنده:

1 - أحمد بن محمد بن المعلَّى الأَدَمي البصري، أبو بكر، صدوقٌ، من الحادية عشرة. قد. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 98.

2 - محمد بن الفضل السَّدوسي، أبو النعمان البصري، لقبه عَارِم، ثقةٌ ثبتٌ ، تغيّر في آخر عمره، من صغار التاسعة، مات سنة ثلاثٍ -أو أربعٍ - وعشرين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6226.

3 - خالد بن الحارث بن عُبَيد بن سُلَيم الهُجَيمي، أبو عثمان البصري، ثقةٌ ثبتٌ، من الثامنة، مات سنة ستٍ وثمانين، ومولده سنة عشرين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 1619.

4 - عبيد الله بن الحسن بن الحصين بن أبي الحرّ العَنْبَري، البصري، قاضيها، ثقةٌ فقيهٌ ، من السابعة، مات سنة ثمانٍ وستين. م خد. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 4283.

(2) النَّغَمُ: مُحَرَّكَةً، وتُسَكَّنُ: الكَلَامُ الخَفِيُّ.

ينظر: مادة: (نغم) ، الفيروزآبادي، القاموس المحيط، مرجع سابق، 1502.

(3) لم أقف عليه ، وقد نقل ابن عبد البر عن عبيد الله بن الحسين: أنه يرى أن يكبر المأموم مع تكبير الإمام.

ينظر: ابن عبدالبر، التمهيد، مرجع سابق، 9/ 187، ابن عبدالبر، الاستذكار، مرجع سابق، 1/ 420.
42 - আমাদের কাছে আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আরিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে খালিদ বিন আল-হারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উবায়দুল্লাহ বিন আল-হাসানকে বলতে শুনেছি, তাঁকে ইমামের তাকবির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তাঁর পেছনের লোকেরা কখন তাকবির দিবে? তিনি বললেন: যখন তিনি (ইমাম) তাকবিরের আওয়াজ করবেন, তখন তারা তাকবির দিবে।

--------------------------------------------

(১) তাঁর সনদ:

1 - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুআল্লা আল-আদামি আল-বাসরি, আবু বকর, সদুক (সত্যবাদী), একাদশ স্তরের। কাদ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৯৮।

2 - মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল আস-সাদুসি, আবুুন নুমান আল-বাসরি, তাঁর উপাধি আরিম, সিকা সাবত (নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী), জীবনের শেষ দিকে তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল, নবম স্তরের ছোটদের অন্তর্ভুক্ত, ২২৩ অথবা ২২৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আইন। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, 6226।

3 - খালিদ বিন আল-হারিস বিন উবাইদ বিন সুলাইম আল-হুজাইমি, আবু উসমান আল-বাসরি, সিকা সাবত (নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়), অষ্টম স্তরের, ১৮৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর জন্ম ১২০ হিজরিতে। আইন। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, 1619।

4 - উবায়দুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন বিন আবিল হুর আল-আনবারি, আল-বাসরি, সেখানকার বিচারক, সিকা ফকিহ (নির্ভরযোগ্য ও আইনজ্ঞ), সপ্তম স্তরের, ১৬৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। মীম খদ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, 4283।

(2) আন-নাগামু: হরকতযুক্ত অথবা সুকুনযুক্ত (নাগম); এর অর্থ হলো মৃদু স্বরে কথা বলা।

দেখুন: শব্দমূল: (নুন-গাইন-মিম), আল-ফিরুজাবাদি, আল-কামুস আল-মুহিত, পূর্বোক্ত সূত্র, 1502।

(3) আমি এটি (অন্য কোথাও) খুঁজে পাইনি, তবে ইবনে আবদিল বার উবায়দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি মনে করতেন মুক্তাদি ইমামের তাকবিরের সাথেই তাকবির দিবে।

দেখুন: ইবনে আবদিল বার, আত-তামহিদ, পূর্বোক্ত সূত্র, 9/ 187, ইবনে আবদিল বার, আল-ইস্তিজকার, পূর্বোক্ত সূত্র, 1/ 420।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌[8] باب الجهر بالتكبير خَلْف الإمام

43 - سألتُ إسحاق عن الرجل يجهر بالتكبير خَلْف الإمام؟ قال: السنَّة الجهر بالتكبير خَلْف الإمام، وقال: يجهرُ عقيب تكبيرة الإحرام.

44 - حدثنا ابنُ أبي حَزْم قال: حدثنا بشر بن عمر قال: حدثنا ابن لَهِيعة قال: حدثنا عياضُ بن عبد الله أن ابن عمر (1) قال: ((لكل شيءٍ زينةٌ، وزينةُ الصلاة التكبير ورفع الأيدي في الصلاة)) (2).

--------------------------------------------

(1) سنده:

1 - محمد بن أبي حزم: صدوق. تقدمت ترجمته في المسألة (26).

2 - بشر بن عمر بن الحكم الزَّهْراني، أبو محمد البصري، ثقةٌ، من التاسعة، مات سنة سبعٍ وقيل - تسعٍ - ومائتين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 698.

3 - عبد الله بن لهيعة: صدوقٌ، خلط بعد احتراق كتبه ورواية ابن المبارك وابن وهب عنه أعدل من غيرهما. تقدمت ترجمته في المسألة (30).

4 - عياض بن عبد الله بن عبد الرحمن الفِهْري، المدني، نزيل مصر، فيه لينٌ، من السابعة. م د س ق. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 5278.

5 - عبد الله بن عمر رضي الله عنهما. تقدمت ترجمته في المسألة (4).

(2) رواه الأثرم من طريق عياض بن عبد الله، كما نقله ابن عبد البر في التمهيد، مرجع سابق، 9/ 225.
[৮] ইমামের পেছনে উচ্চস্বরে তাকবীর বলা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

৪৩ - আমি ইসহাককে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে ইমামের পেছনে উচ্চস্বরে তাকবীর বলে? তিনি বললেন: ইমামের পেছনে উচ্চস্বরে তাকবীর বলা সুন্নাহ। তিনি আরও বললেন: তাকবীরে তাহরীমার ঠিক পরেই উচ্চস্বরে তাকবীর বলবে।

৪৪ - আমাদের নিকট ইবন আবি হাযম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বিশর ইবন উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবন লাহীআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াদ ইবন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, ইবন উমর (১) বলেছেন: "প্রত্যেক বস্তুরই সৌন্দর্য থাকে, আর সালাতের সৌন্দর্য হলো তাকবীর বলা এবং সালাতে হাত উঠানো।" (২)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর সানাদ:

১ - মুহাম্মদ ইবন আবি হাযম: সাদুক (সত্যবাদী)। পূর্বে মাসআলা (২৬)-তে তাঁর জীবনী অতিক্রান্ত হয়েছে।

২ - বিশর ইবন উমর ইবনুল হাকাম আয-যাহরানি, আবু মুহাম্মদ আল-বাসরি, সিকাহ (নির্ভরযোগ্য), নবম তবকার বর্ণনাকারী, তিনি ২০৭ হিজরি মতান্তরে ২০৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ‘আইন’। দ্রষ্টব্য: ইবন হাজার আসকালানি, তাকরিবুত তাহযিব, প্রাগুক্ত উৎস, ৬৯৮।

৩ - আব্দুল্লাহ ইবন লাহীআহ: সাদুক (সত্যবাদী), তাঁর কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ার পর তিনি সংমিশ্রণ বা স্মৃতিবিভ্রম করতেন; ইবনুল মুবারক ও ইবন ওয়াহব-এর তাঁর থেকে বর্ণিত রেওয়ায়াত অন্যদের তুলনায় অধিকতর ভারসাম্যপূর্ণ। পূর্বে মাসআলা (৩০)-তে তাঁর জীবনী অতিক্রান্ত হয়েছে।

৪ - ইয়াদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান আল-ফিহরি, আল-মাদানি, মিশরের অধিবাসী, তাঁর বর্ণনায় কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে, সপ্তম তবকার বর্ণনাকারী। ‘মিম, দাল, সিন, কাফ’। দ্রষ্টব্য: ইবন হাজার আসকালানি, তাকরিবুত তাহযিব, প্রাগুক্ত উৎস, ৫২৭৮।

৫ - আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)। পূর্বে মাসআলা (৪)-তে তাঁর জীবনী অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) এটি আল-আছরাম ইয়াদ ইবন আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইবন আব্দুল বারর ‘আত-তামহীদ’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন, প্রাগুক্ত উৎস, ৯/ ২২৫।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌[9] باب من نَسي تكبيرة الافتتاح

45 - سألتُ أحمد بن حنبل قلتُ: رجلٌ نسي تكبيرةَ الافتتاح حتى إذا فرغ من الصلاة؟ قال: هذا ليس في صلاةٍ، يُعيد الصلاة (1).

46 - وسألتُ أحمد مرَّةً أُخرى قلتُ: مَن نسي تكبيرةً من الصلاة من الركوع أو السجود؟ قال: يسجُد سجدتي السهو (2). قلتُ: فإنْ نسي تكبيرةَ الافتتاح؟ قال: هذا ليس في صلاة (3).

--------------------------------------------

(1) لا تختلف الرواية عن الإمام أحمد رحمه الله أن من نسي تكبيرة الافتتاح فإنه يعيد الصلاة، نص

على ذلك في رواية حرب، والكوسج، وأبي داود، وابن هانئ.

وتكبيرة الإحرام ركنٌ من أركان الصلاة عند الحنابلة بلا نزاع، فلا تسقط في عمدٍ ولا في سهوٍ.

ينظر: الكوسج، مرجع سابق، 188، أبو داود السجستاني، مسائل الإمام أحمد بن حنبل، مرجع سابق، 313، ابن هانئ، مسائل الإمام أحمد، مرجع سابق، 233، ابن قدامة المقدسي، المغني، مرجع سابق، 2/ 128 ، عبد الرحمن بن محمد المقدسي، الشرح الكبير، مرجع سابق، 3/ 409، ابن مفلح، الفروع، مرجع سابق، 2/ 245، الزركشي، شرح الزركشي، مرجع سابق، 2/ 3، إبراهيم بن مفلح، المبدع، مرجع سابق، 1/ 494، 3/ 665، ابن النجار، معونة أولي النهى، مرجع سابق، 2/ 201 ، البهوتي، دقائق أولي النهى، مرجع سابق، 1/ 443، البهوتي، كشاف القناع، مرجع سابق، 2/ 449.

(2) اختلفت الرواية عن الإمام أحمد رحمه الله في حكم التكبير في الصلاة - غير تكبيرة الإحرام وغير تكبيرة الركوع للمسبوق الذي أدرك إمامه راكعًا - على أربع روايات:

الأولى: أنها واجبة، وهذا الأصح في المذهب وعليه المتأخرين، فتبطل الصلاة بتركه عمدًا ويجب سجود السهو إذا تركه المصلي نسيانًا، وهذا ظاهر رواية الكوسج وابن هانئ، وهو من المفردات.

الثانية: أنها ركنٌ لا تسقط بالسهو كتكبيرة الافتتاح.

الثالثة: أنها واجبةٌ في حق المأموم، ركنٌ في حق غيره.

الرابعة: أنها سنةٌ.

ينظر: الكوسج، مرجع سابق، 190، ابن هانئ، مسائل الإمام أحمد، مرجع سابق، 243، ابن قدامة المقدسي، المغني، مرجع سابق، 2/ 385، عبد الرحمن بن محمد المقدسي، الشرح الكبير، مرجع سابق، 3/ 670، 676، ابن مفلح، الفروع، مرجع سابق، 2/ 248، 249، الزركشي، شرح الزركشي، مرجع سابق، 2/ 5، إبراهيم بن مفلح، المبدع، مرجع سابق، 1/ 496، المرداوي، الإنصاف، مرجع سابق، 3/ 670، ابن النجار، معونة أولي النهى، مرجع سابق، 2/ 205، البهوتي، دقائق أولي النهى، مرجع سابق، 1/ 446، البهوتي، كشاف القناع، مرجع سابق، 2/ 453، 454، منصور بن يونس بن صلاح الدين البهوتي، المنح الشافيات بشرح مفردات الإمام أحمد، تحقيق: أ. د. عبد الله بن محمد المطلق، 1 (الرياض: دار كنوز إشبيليا، 1427 هـ)، 220.

(3) ينظر التعليق على المسألة (45).
‌‌[৯] অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তাকবিরে ইফতিতাহ ভুলে যায়

৪৫ - আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করলাম: এক ব্যক্তি সালাত শেষ করা পর্যন্ত তাকবিরে ইফতিতাহ ভুলে গিয়েছিল? তিনি বললেন: সে সালাতের মধ্যে নেই, সে পুনরায় সালাত আদায় করবে (১)।

৪৬ - আমি আহমদকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম: যে ব্যক্তি সালাতের রুকু বা সিজদার কোনো তাকবির ভুলে যায়? তিনি বললেন: সে সাহু সিজদা প্রদান করবে (২)। আমি বললাম: যদি সে তাকবিরে ইফতিতাহ ভুলে যায়? তিনি বললেন: সে সালাতের মধ্যে নেই (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমদ (রহ.) থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, যে ব্যক্তি তাকবিরে ইফতিতাহ ভুলে যায়, সে সালাত পুনরায় আদায় করবে। হারব, আল-কাউসাজ, আবু দাউদ এবং ইবনুল হানি-এর রেওয়ায়েতে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

হাম্বলি মাজহাবে তাকবিরে ইহরাম কোনো মতভেদ ছাড়াই সালাতের অন্যতম রুকন; সুতরাং ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা ভুলবশত, এটি বাদ পড়লে চলে না।

দ্রষ্টব্য: আল-কাউসাজ, প্রাগুক্ত, ১৮৮; আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, মাসাইলুল ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, প্রাগুক্ত, ৩১৩; ইবনুল হানি, মাসাইলুল ইমাম আহমদ, প্রাগুক্ত, ২৩৩; ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি, আল-মুগনি, প্রাগুক্ত, ২/১২৮; আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মাকদিসি, আশ-শারহুল কাবির, প্রাগুক্ত, ৩/৪০৯; ইবনে মুফলিহ, আল-ফুরু, প্রাগুক্ত, ২/২৪৫; আজ-জারকাশি, শারহু আজ-জারকাশি, প্রাগুক্ত, ২/৩; ইব্রাহিম ইবনে মুফলিহ, আল-মুবদি, প্রাগুক্ত, ১/৪৯৪, ৩/৬৬৫; ইবনুন নাজ্জার, মাউনা উলি আন-নুহা, প্রাগুক্ত, ২/২০১; আল-বাহুতি, দাকায়িকু উলি আন-নুহা, প্রাগুক্ত, ১/৪৪৩; আল-বাহুতি, কাশশাফুল কিনা, প্রাগুক্ত, ২/৪৪৯।

(২) সালাতের তাকবিরসমূহের হুকুমের ক্ষেত্রে -তাকবিরে ইহরাম এবং রুকুতে থাকা ইমামকে পাওয়া মাসবুকের রুকুতে যাওয়ার তাকবির ব্যতীত- ইমাম আহমদ (রহ.) থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহে চারটি অভিমত রয়েছে:

প্রথম: এগুলো ওয়াজিব। এটি মাজহাবের অধিক বিশুদ্ধ মত এবং পরবর্তী ফকিহগণ এর ওপরই রয়েছেন। সুতরাং ইচ্ছাকৃতভাবে তা ছেড়ে দিলে সালাত বাতিল হয়ে যাবে এবং ভুলবশত ছেড়ে দিলে সাহু সিজদা প্রদান করা ওয়াজিব হবে। আল-কাউসাজ ও ইবনুল হানির রেওয়ায়েতে এটিই প্রকাশ্য এবং এটি মাজহাবের একক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয়: এটি রুকন, যা তাকবিরে ইফতিতাহের মতোই ভুলবশত ছেড়ে দিলেও মাফ হয় না।

তৃতীয়: এটি মুক্তাদির ক্ষেত্রে ওয়াজিব এবং অন্যদের ক্ষেত্রে রুকন।

চতুর্থ: এটি সুন্নত।

দ্রষ্টব্য: আল-কাউসাজ, প্রাগুক্ত, ১৯০; ইবনুল হানি, মাসাইলুল ইমাম আহমদ, প্রাগুক্ত, ২৪৩; ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি, আল-মুগনি, প্রাগুক্ত, ২/৩৮৫; আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মাকদিসি, আশ-শারহুল কাবির, প্রাগুক্ত, ৩/৬৭০, ৬৭৬; ইবনে মুফলিহ, আল-ফুরু, প্রাগুক্ত, ২/২৪৮, ২৪৯; আজ-জারকাশি, শারহু আজ-জারকাশি, প্রাগুক্ত, ২/৫; ইব্রাহিম ইবনে মুফলিহ, আল-মুবদি, প্রাগুক্ত, ১/৪৯৬; আল-মারদাউয়ি, আল-ইনসাফ, প্রাগুক্ত, ৩/৬৭০; ইবনুন নাজ্জার, মাউনা উলি আন-নুহা, প্রাগুক্ত, ২/২০৫; আল-বাহুতি, দাকায়িকু উলি আন-নুহা, প্রাগুক্ত, ১/৪৪৬; আল-বাহুতি, কাশশাফুল কিনা, প্রাগুক্ত, ২/৪৫৩, ৪৫৪; মানসুর ইবনে ইউনুস ইবনে সালাহউদ্দিন আল-বাহুতি, আল-মিনাহুশ শাফিয়াত বি-শারহি মুফরাদাতি ইমাম আহমদ, তাহকিক: আ. দ. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুতলাক, ১ (রিয়াদ: দারু কুনুজি ইশবিলিয়া, ১৪২৭ হিজরি), ২২০।

(৩) ৪৫ নং মাসআলার টিকা দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু হারবিল কিরমানি মিন আউয়ালি কিতাবিস সালাহ - ত আল-গামিদি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
47 - حدثنا أبو عبد الله محمد بن الوزير الدِّمشقي قال: ثنا الوليد بنُ مسلم قال: قال لي يُونس بن يزيد أنَّ [255] ابن شهاب أخبره عن سعيد بن المسيّب (1): ((فيمن نسي تكبيرة الاستفتاح أنَّه يُعيد)) (2).

48 - قال: الوليد: وأخبرني ابنُ لهَيعه عن بُكير بن عبد الله بن الأشج (3) قال: " مَن نسي تكبيرةَ الاستفتاح أعاد الصلاة " (4).

--------------------------------------------

(1) سنده:

1 - محمد بن الوزير الدِّمشقي: ثقة. تقدمت ترجمته في المسألة 19.

2 - الوليد بنُ مسلم: ثقة، لكنه كثير التدليس والتسوية. تقدمت ترجمته في المسألة 19.

3 - عبد الرحمن بن عمرو بن أبي عمرو الأوزاعي: ثقة. تقدمت ترجمته في المسألة 19.

4 - يونس بن يزيد بن أبي النِّجَاد الأَيْلي، أبو يزيد مولى آل أبي سفيان، ثقةٌ إلا أن في روايته عن الزهري وهمًا قليلًا، وفي غير الزهري خطأٌ، من كبار السابعة، مات سنة تسعٍ وخمسين على الصحيح، وقيل: سنة ستين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 7919.

5 - محمد بن مسلم الزهري، أبو بكر، الفقيه الحافظ متفق على جلالته وإتقانه، وهو من رؤوس الطبقة الرابعة، مات سنة خمسٍ وعشرين، وقيل: قبل ذلك بسنةٍ أو سنتين. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 6296.

6 - سعيد بن المسيّب بن حَزْن القرشي، أحد العلماء الأثبات الفقهاء الكبار، من كبار الثانية، اتفقوا على أن مرسلاته أصحُّ المراسيل ، مات بعد التسعين ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 2396.

(2) لم أقف عليه. وقد نقله ابن رجب عنه في فتح الباري، وانظر المسألة (56) والتعليق عليها.

ينظر: ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 286.

(3) سنده:

1 - عبد الله بن لهيعة: صدوقٌ، خلط بعد احتراق كتبه ورواية ابن المبارك وابن وهب عنه أعدل من غيرهما. تقدمت ترجمته في المسألة (30).

2 - بكير بن عبد الله بن الأشج المدني، نزيل مصر، ثقةٌ، من الخامسة، مات سنة عشرين، وقيل: بعدها. ع. ينظر: ابن حجر العسقلاني، تقريب التهذيب، مرجع سابق، 760.

(4) لم أقف عليه. وقد نقله ابن رجب عنه في فتح الباري.

ينظر: ابن رجب، فتح الباري، مرجع سابق، 4/ 286.
47 - আমাদের কাছে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আল-ওয়াজির আল-দিমাশকি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ বলেছেন যে, [255] ইবনে শিহাব তাকে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে সংবাদ দিয়েছেন: ((যে ব্যক্তি তাকবিরে ইস্তিফতাহ (উদ্বোধনী তাকবির) ভুলে যায়, সে যেন সালাত পুনরায় আদায় করে))।

48 - তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ: এবং আমাকে ইবনে লাহিয়াহ বুকাইর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-আশাজ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি তাকবিরে ইস্তিফতাহ ভুলে যায়, সে সালাত পুনরায় আদায় করবে" ।

--------------------------------------------

(১) তাঁর সনদ:

১ - মুহাম্মদ ইবনে আল-ওয়াজির আল-দিমাশকি: বিশ্বস্ত। ১৯ নম্বর মাসআলায় তাঁর জীবনী অতিক্রান্ত হয়েছে।

২ - আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম: বিশ্বস্ত, তবে তিনি প্রচুর তাদলিস ও তাসউয়িয়া (সনদে কারচুপি) করতেন। ১৯ নম্বর মাসআলায় তাঁর জীবনী অতিক্রান্ত হয়েছে।

৩ - আবদুর রহমান ইবনে আমর ইবনে আবি আমর আল-আওজাই: বিশ্বস্ত। ১৯ নম্বর মাসআলায় তাঁর জীবনী অতিক্রান্ত হয়েছে।

৪ - ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আবি আল-নিজাত আল-আইলি, আবু ইয়াজিদ, আল-আবি সুফিয়ান পরিবারের আযাদকৃত গোলাম, বিশ্বস্ত; তবে যুহরি থেকে তাঁর বর্ণনায় সামান্য বিভ্রান্তি রয়েছে এবং যুহরি ব্যতীত অন্যদের বর্ণনায় ভুল রয়েছে। তিনি সপ্তম স্তরের প্রবীণ রাবীদের একজন, সঠিক মতানুসারে তিনি ৫৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ কেউ বলেছেন ৬০ হিজরিতে। আসহাবে সিত্তাহ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৭৯১৯।

৫ - মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আল-যুহরি, আবু বকর, ফকিহ ও হাফেজ, তাঁর মর্যাদা ও নিপুণতার বিষয়ে সকলে একমত। তিনি চতুর্থ স্তরের শীর্ষস্থানীয়দের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ১২৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ কেউ বলেছেন এর এক বা দুই বছর আগে। আসহাবে সিত্তাহ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৬২৯৬।

৬ - সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ইবনে হাযন আল-কুরাশি, অন্যতম নির্ভরযোগ্য আলেম ও মহান ফকিহ, দ্বিতীয় স্তরের প্রবীণদের অন্তর্ভুক্ত। এই মর্মে ঐকমত্য রয়েছে যে, তাঁর মুরসাল বর্ণনাগুলো মুরসালসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ। তিনি ৯০ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন। আসহাবে সিত্তাহ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ২৩৯৬।

(২) আমি এটি খুঁজে পাইনি। তবে ইবনে রাজাব ফাতহুল বারিতে তাঁর পক্ষ থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। মাসআলা (৫৬) এবং এর ওপর টীকা দেখুন।

দেখুন: ইবনে রাজাব, ফাতহুল বারি, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/ ২৮৬।

(৩) তাঁর সনদ:

১ - আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়াহ: সত্যবাদী, তাঁর কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ার পর তিনি সংমিশ্রণ (বর্ণনায় গোলমাল) ঘটিয়েছেন। তাঁর থেকে ইবনুল মুবারক এবং ইবনে ওয়াহবের বর্ণনা অন্যদের তুলনায় অধিকতর ভারসাম্যপূর্ণ। ৩০ নম্বর মাসআলায় তাঁর জীবনী অতিক্রান্ত হয়েছে।

২ - বুকাইর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-আশাজ আল-মাদানি, মিশরের অধিবাসী, বিশ্বস্ত, পঞ্চম স্তরের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ১২০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ কেউ বলেছেন এর পরে। আসহাবে সিত্তাহ। দেখুন: ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাকরিবুত তাহজিব, পূর্বোক্ত সূত্র, ৭৬০।

(৪) আমি এটি খুঁজে পাইনি। ইবনে রাজাব ফাতহুল বারিতে তাঁর পক্ষ থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

দেখুন: ইবনে রাজাব, ফাতহুল বারি, পূর্বোক্ত সূত্র, ৪/ ২৮৬।