(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
النبذة العثيمينية في مصطلح الحديث (حازم خنفر)
القسم: علوم الحديث
الكتاب: النبذة العثيمينية في مصطلح الحديث - سِلْسِلَةُ مُتُونِ الكُتُبِ وَمُخْتَصَرَاتِهَا (2)
المؤلف: حازم خنفر
عدد الأجزاء: 1
[الكتاب غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 صفر 1440
আন-নুবজাতুল উসাইমিনিয়্যাহ ফি মুসতালাহিল হাদিস (হাযেম খানফার)
বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: আন-নুবজাতুল উসাইমিনিয়্যাহ ফি মুসতালাহিল হাদিস - কিতাবসমূহের মূলপাঠ ও সংক্ষিপ্তসার সিরিজ (২)
লেখক: হাযেম খানফার
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থটি মুদ্রিত নয়]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ সফর ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১)
سِلْسِلَةُ مُتُونِ الكُتُبِ وَمُخْتَصَرَاتِهَا (2) النُّبْذَةُ العُثيْمِينِيَّةفِيمُصْطَلَحِ الحَدِيثِ إعْدَادحَازِم خَنْفَر
মূল গ্রন্থাবলি ও সেগুলোর সংক্ষিপ্তসার-ধারাবাহিকতা (২) আন-নুবজাতুল উসাইমিনিয়্যাহ (উসাইমিনিয়া সংক্ষিপ্তসার)প্রসঙ্গেহাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) প্রস্তুতকরণেহাজেম খানফার
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২)
حُقُوقُ الطَّبْعِ مَبْذُولَةٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ
মুদ্রণ ও প্রকাশনার অধিকার প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অবারিত।
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩)
تَمْهِيدالحَمْدُ للهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ، وَعَلَى آلِهِ، وَصَحْبِهِ، وَمَنْ وَالَاهُ.أَمَّا بَعْدُ:فَهَذَا المَتْنُ الثَّانِي مِنْ سِلْسِلَتِي الَّتِي سَمَّيْتُهَا: (سِلْسَلَةَ مُتُونِ الكُتُبِ وَمُخْتَصَرَاتِهَا)، وَأَرَدْتُ بِهَا: صِياغَةَ مَتُونٍ وَمُخْتَصَرَاتٍ لِلْعُلُومِ المُخْتَلِفَةِ، وَذَلِكَ اسْتِنَادًا إِلَى كُتُبِ بَعْضِ أَهْلِ العِلْمِ مِمَّنْ تَمَّيَزَتْ مُؤَلَّفَاتُهُمْ فِي فَنٍّ مِنَ الفُنُونِ بِتَقْرِيبِ المَسَائِلِ وَسُهُولَةِ العِبَارَةِ، أَوْ مِمَّنْ حَظِيَ عِلْمُهُمْ بِثِقَةِ طُلَّابِ العِلْمِ، فَأَسْتَخْرِجُ مِنْهَا مَا يَصْلُحُ أَنْ يَكُونَ مَتْنًا أَوْ مُخْتَصَرًا لِلْكِتَابِ المُنْتَقَى؛ لِيَكُونَ عَوْنًا لِلطَّالِبِ لِفَهْمِ أَصْلِ مَادَّةِ الكِتَابِ وَحِفْظِهَا.وَثَنَّيْتُ هَذِهِ السِّلْسِلَةَ بِكِتَابِ التِّعْلَامَةِ مُحَمَّد بْنِ صَالِح العُثَيْمِين: (مُصْطَلَح الحَدِيثِ)، فَاسْتَخْرَجْتُ مِنْ مَسَائِلِهِ مَتْنًا يَكُونُ عُمْدَةً لِطَالِبِ هَذَا الفَنِّ.فَأَسْأَلُ اللهَ أَنْ يَنْفَعَ بِهِ، وَأَنْ يَجْعَلَ لَهُ القَبُولَ، وَأَنْ لَا يَحْرِمَنَا أَجْرَ إِعْدَادِهِ، إِنَّهُ سَمِيعٌ مُجِيبٌ. حَازِم خَنْفَر3/ 2/2016 م24/ 4/1437 هـ
উপক্রমণিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁর আনুগত্য করেছেন তাদের ওপর।অতঃপর:এটি আমার সিরিজের দ্বিতীয় মূলপাঠ (متن), যেটির নামকরণ আমি করেছি: (সিলসিলাতু মুতুনিল কুতুবি ওয়া মুখতাসারাতিহা)। এর মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো: বিভিন্ন শাস্ত্রের জন্য মূলপাঠ (متن) ও সংক্ষিপ্তসার (مختصر) প্রণয়ন করা। আর তা এমন সব আলেমদের কিতাবসমূহের ওপর ভিত্তি করে যাদের রচনা কোনো একটি বিশেষ শাস্ত্রে মাসআলাসমূহের সহজ উপস্থাপন ও প্রাঞ্জল ভাষার কারণে অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে, অথবা যাদের ইলম জ্ঞানান্বেষীদের নিকট নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) অর্জন করেছে। অতঃপর আমি সেগুলো থেকে এমন বিষয় চয়ন করি যা নির্বাচিত কিতাবটির জন্য মূলপাঠ (متن) বা সংক্ষিপ্তসার (مختصر) হওয়ার উপযোগী; যাতে এটি শিক্ষার্থীর জন্য কিতাবটির মূল বিষয়বস্তু অনুধাবন ও সংরক্ষণে সহায়ক হয়।এই সিরিজের দ্বিতীয় গ্রন্থ হিসেবে আমি বরেণ্য আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীনের কিতাব: (মুসতালাহুল হাদিস) নির্বাচন করেছি। অতঃপর এর মাসআলাগুলো থেকে একটি মূলপাঠ (متن) চয়ন করেছি যা এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য একটি প্রধান অবলম্বন হতে পারে।আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে উপকার দান করেন, একে কবুল করেন এবং এর প্রস্তুতির সওয়াব থেকে আমাদের বঞ্চিত না করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, কবুলকারী। হাজেম খানফার৩/ ২/ ২০১৬ খ্রি.২৪/ ৪/ ১৪৩৭ হি.
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৫)
تَعْرِيفَاتٌ فِي مُصْطَلَحِ الحَدِيثِعِلْمُ مُصْطَلَحِ الحَدِيثِ: يُعْرَفُ بِهِ حَالُ الرَّاوِي وَالمَرْوِيِّ مِنْ حَيْثُ القَبُولُ وَالرَّدُّ.وَالحَدِيثُ: مَا أُضِيفُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَوْلٍ، أَوْ فِعْلٍ، أَوْ تَقْرِيرٍ، أَوْ وَصْفٍ.وَالخَبَرُ: بِمَعْنَى الحَدِيثِ.وَالأَثَرُ: مَا أُضِيفَ إِلَى الصَّحَابِيِّ أَوِ التَّابِعِيِّ.وَالحَدِيثُ القُدْسِيُّ: مَا رَوَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ رَبِّهِ - تَعَالَى -. الخَبَرُ بِاعْتِبَارِ النَّقْلِوَيَنْقَسِمُ الخَبَرُ بِاعْتِبَارِ طُرُقِ نَقْلِهِ إِلَيْنَا إِلَى قِسْمَيْنِ: مُتَوَاتِرٍ وَآحَادٍ.أَمَّا المُتَوَاتِرُ: فَهُوَ مَا رَوَاهُ جَمَاعَةٌ يَسْتَحِيلُ فِي العَادَةِ أَنْ يَتَوَاطَؤُوا عَلَى الكَذِبِ، وَأَسْنَدُوهُ إِلَى شَيْءٍ مَحْسُوسٍ.وَمِنْهُ: 1 - مُتَوَاتِرٌ لَفْظًا وَمَعْنًى، 2 - وَمُتَوَاتِرٌ مَعْنًى فَقَطْ.1 - فَالمُتَوَاتِرُ لَفْظًا وَمَعْنًى: مَا اتَّفَقَ الرُّوَاةُ فِيهِ عَلَى لَفْظِهِ وَمَعْنَاهُ.2 - وَالمُتَوَاتِرُ مَعْنًى: مَا اتَّفَقَ فِيهِ الرُّوَاةُ عَلَى مَعْنًى كُلِّيٍّ، وَانْفَرَدَ كُلُّ حَدِيثٍ بِلَفْظِهِ الخَاصِّ.وَالمُتَوَاتِرُ - بِقِسْمَيْهِ - يُفِيدُ: العِلْمَ، وَالعَمَلَ.وَأَمَّا الآحَادُ: فَهُوَ مَا سِوَى المُتَوَاتِرِ.وَتَنْقَسِمُ الآحادُ بِاعْتِبَارِ الطُّرُقِ إِلَى ثَلَاثَةِ أَقْسَامٍ: مَشْهُورٍ، وَعَزِيزٍ، وَغَرِيبٍ.1 - فَالمَشْهُورُ: مَا رَوَاهُ ثَلَاثَةٌ فَأَكْثَرُ، وَلَمْ يَبْلُغْ حَدَّ التَّوَاتُرِ.2 - وَالعَزِيزُ: مَا رَوَاهُ اثْنَانِ فَقَطْ.3 - وَالغَرِيبُ: مَا رَوَاهُ وَاحِدٌ فَقَطْ.وَتَنْقَسِمُ الآحَادُ بِاعْتِبَارِ الرُّتْبَةِ إِلَى خَمْسَةِ أَقْسَامٍ: صَحِيحٌ لِذَاتِهِ، وَلِغَيْرِهِ، وَحَسَنٌ
হাদিস পরিভাষার কতিপয় সংজ্ঞাহাদিস পরিভাষা বিদ্যা (علم مصطلح الحديث): এর মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য (القبول) ও বর্জনীয় (الرد) হওয়ার দিক থেকে বর্ণনাকারী (الراوي) ও বর্ণিত বিষয়ের (المروي) অবস্থা জানা যায়।আর হাদিস হলো: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়; চাই তা কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقرير) বা গুণগত বৈশিষ্ট্য হোক।আর সংবাদ (الخبر): হাদিস অর্থেই ব্যবহৃত হয়।আর আসর (الأثر): যা সাহাবী (الصحابي) বা তাবিঈর (التابعي) দিকে সম্বন্ধ করা হয়।আর হাদিসে কুদসি: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান প্রতিপালক হতে বর্ণনা করেছেন। বর্ণনা পরম্পরার বিচারে সংবাদ (الخبر)আমাদের নিকট পৌঁছানোর সূত্রের (طرق) বিচারে সংবাদ (الخبر) দুই ভাগে বিভক্ত: মুতাওয়াতির (متواتر) ও আহাদ (آحاد)।মুতাওয়াতির (متواتر) হলো: যা এমন একদল লোক বর্ণনা করেছেন যাদের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব এবং তাঁরা বর্ণনাটিকে কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের দিকে সম্বন্ধ করেছেন।এর মধ্যে রয়েছে: ১. শাব্দিক ও অর্থগত মুতাওয়াতির (متواتر لفظا ومعنى), ২. এবং শুধুমাত্র অর্থগত মুতাওয়াতির (متواتر معنى)।1 - শাব্দিক ও অর্থগত মুতাওয়াতির (متواتر لفظا ومعنى): বর্ণনাকারীরা যাতে এর শব্দ ও অর্থ উভয় বিষয়ে একমত হয়েছেন।2 - আর অর্থগত মুতাওয়াতির (متواتر معنى): বর্ণনাকারীরা যাতে একটি সামগ্রিক অর্থের ওপর একমত হয়েছেন, তবে প্রতিটি হাদিস তার নিজস্ব পৃথক শব্দে বর্ণিত হয়েছে।মুতাওয়াতির (متواتر) -উভয় প্রকারই- সুনিশ্চিত জ্ঞান (العلم) ও আমল (العمل) প্রদান করে।আর আহাদ (آحاد) হলো: যা মুতাওয়াতির (متواتر) ব্যতিরেকে অন্য সব।সূত্রের (طرق) বিচারে আহাদ (آحاد) তিন ভাগে বিভক্ত: মাশহুর (مشهور), আযীয (عزيز) ও গরীব (غريب)।1 - মাশহুর (مشهور): যা তিনজন বা তার বেশি বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, তবে তা মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছায়নি।2 - আযীয (عزيز): যা শুধুমাত্র দুইজন বর্ণনা করেছেন।3 - গরীব (غريب): যা শুধুমাত্র একজন বর্ণনা করেছেন।মর্যাদাগত স্তরের (الرتبة) বিচারে আহাদ (آحاد) পাঁচ ভাগে বিভক্ত: সহিহ লি-যাতিহি (صحيح لذاته), সহিহ লি-গয়রিহি (صحيح لغيره), হাসান (حسن)...
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬)
لِذَاتِهِ، وَلِغَيْرِهِ، وَضَعِيفٌ.1 - فَالصَّحِيحُ لِذَاتِهِ: مَا رَوَاهُ عَدْلٌ تَامُّ الضَّبْطِ بِسَنَدٍ مُتَّصِلٍ وَسَلِمَ مِنَ الشُّذُوذِ وَالعِلَّةِ القَادِحَةِ.2 - وَالصَّحِيحُ لِغَيْرِهِ: الحَسَنُ لِذَاتِهِ إِذَا تَعَدَّدَتْ طُرُقُهُ.3 - وَالحَسَنُ لِذَاتِهِ: مَا رَوَاهُ عَدْلٌ خَفِيفُ الضَّبْطِ بِسَنَدٍ مُتَّصِلٍ وَسَلِمَ مِنَ الشُّذُوذِ وَالعِلَّةِ القَادِحَةِ.4 - وَالحَسَنُ لِغَيْرِهِ: الضَّعِيفُ إِذَا تَعَدَّدَتْ طُرُقُهُ عَلَى وَجْهٍ يَجْبُرُ بَعْضُهَا بَعْضًا؛ بِحَيْثُ لَا يَكُونُ فِيهَا كَذَّابٌ، وَلَا مُتَّهَمٌ بِالكَذِبِ.5 - وَالضَّعِيفُ: مَا خَلَا عَنْ شُرُوطِ الصَّحِيحِ وَالحَسَنِ.وَتُفِيدُ أَخْبَارُ الآحَادِ - سِوَى الضَّعِيفِ -: الظَّنَّ، وَالعَمَلَ.أَمَّا الضَّعِيفُ فَلَا يُفِيدُ الظَّنَّ وَلَا العَمَلَ. فَصْلٌوَإِذَا وُصِفَ حَدِيثٌ بِأَنَّهُ صَحِيحٌ حَسَنٌ:1 - فَإِنْ كَانَ لِلْحَدِيثِ طَرِيقَانِ: فَمَعْنَى ذَلِكَ أَنَّ أَحَدَ الطَّرِيقَيْنِ صَحِيحٌ، وَالثَّانِيَ حَسَنٌ.2 - وَإِنْ كَانَ لِلْحَدِيثِ طَرِيقٌ وَاحِدٌ فَمَعْنَاهُ التَّرَدُّدُ. الحَدِيثُ مُنْقَطِعُ السَّنَدِوَيَنْقَسِمُ الحَدِيثُ مُنقَطِعُ السَّنَدِ إِلَى: مُرْسَلٍ، وَمُعَلَّقٍ، وَمُعْضَلٍ، وَمُنْقَطِعٍ.1 - فَالمُرْسَلُ: مَا رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: صَحَابِيٌّ لَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ، أَوْ تَابِعِيٌّ.2 - وَالمُعَلَّقُ: مَا حُذِفَ أَوَّلُ إِسْنَادِهِ - وَقَدْ يُرَادُ بِهِ: مَا حُذِفَ جَمِيعُ إِسْنَادِهِ -.3 - وَالمُعْضَلُ: مَا حُذِفَ مِنْ أَثْنَاءِ سَنَدِهِ رَاوِيَانِ فَأكَثْرُ، عَلَى التَّوَالِي.4 - وَالمُنْقَطِعُ: مَا حُذِفَ مِنْ أَثْنَاءِ سَنَدِهِ رَاوٍ وَاحِدٌ أَوْ رَاوِيَانِ فَأَكْثَرُ، لَا عَلَى التَّوَالِي.وَقَدْ يُرَادُ بِالمُنْقَطِعِ: كُلُّ مَا لَمْ يَتَّصِلْ سَنَدُهُ، فَيَشْمَلُ الأَقْسَامَ الأَرْبَعَةَ كُلَّهَا.وَمُنْقَطِعُ السَّنَدِ بِجَمِيعِ أَقْسَامِهِ: مَرْدُودٌ؛ سِوَى:
নিজ সত্তায় (لذاته), অন্যের কারণে (لغيره) এবং দুর্বল (ضعيف)।1 - সহিহ লি-যাতিহি (الصحيح لذاته): যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (تام الضبط) বর্ণনাকারী একটি নিরবচ্ছিন্ন সনদ (سند متصل) দ্বারা বর্ণনা করেছেন যা বিচ্যুতি (شذوذ) এবং ক্ষতিকর ত্রুটি (علة قادحة) থেকে মুক্ত।2 - সহিহ লি-গাইরিহি (الصحيح لغيره): হাসান লি-যাতিহি (الحسن لذاته) যখন তার একাধিক সূত্র বা পথ থাকে।3 - হাসান লি-যাতিহি (الحسن لذاته): যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও শিথিল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (خفيف الضبط) বর্ণনাকারী একটি নিরবচ্ছিন্ন সনদ (سند متصل) দ্বারা বর্ণনা করেছেন যা বিচ্যুতি (شذوذ) এবং ক্ষতিকর ত্রুটি (علة قادحة) থেকে মুক্ত।4 - হাসান লি-গাইরিহি (الحسن لغيره): দুর্বল (ضعيف) হাদিস যখন তার একাধিক সূত্র বা পথ এমনভাবে পাওয়া যায় যা একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করে; যাতে কোনো চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) অথবা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) ব্যক্তি না থাকে।5 - দুর্বল (ضعيف): যা সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن) হাদিসের শর্তাবলি থেকে শূন্য।দুর্বল (ضعيف) ব্যতীত অন্যান্য একক বর্ণনা (أخبار الآحاد) প্রদান করে: প্রবল ধারণা (الظن) এবং আমল (العمل)।পক্ষান্তরে দুর্বল (ضعيف) হাদিস প্রবল ধারণা (الظن) কিংবা আমল (العمل) কোনোটিরই ফায়দা দেয় না। অনুচ্ছেদযদি কোনো হাদিসকে সহিহ হাসান (صحيح حسن) বলে অভিহিত করা হয়:1 - তবে হাদিসটির যদি দুটি সূত্র থাকে: তার অর্থ হলো একটি সূত্র সহিহ (صحيح) এবং দ্বিতীয়টি হাসান (حسن)।2 - আর যদি হাদিসটির একটিমাত্র সূত্র থাকে, তবে তার অর্থ হলো (সনদের মান বিচারে) দ্বিধা (تردد)। বিচ্ছিন্ন সনদযুক্ত হাদিসবিচ্ছিন্ন সনদ (منقطع السند) যুক্ত হাদিস চার ভাগে বিভক্ত: মুরসাল (مرسل), মুআল্লাক (معلق), মুদাল (معضل) এবং মুনকাতি (منقطع)।1 - মুরসাল (مرسل): যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত উন্নীত করেছেন এমন কোনো সাহাবী (صحابي) যিনি তাঁর থেকে সরাসরি শোনেননি, অথবা কোনো তাবেয়ি (تابعي)।2 - মুআল্লাক (معلق): যার সনদের (إسناد) শুরু থেকে কোনো বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে—কখনও এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যার পুরো সনদটিই (إسناد) বাদ দেওয়া হয়েছে।3 - মুদাল (معضل): যার সনদের (سند) মধ্য থেকে ধারাবাহিকভাবে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারীকে (রাবি) বাদ দেওয়া হয়েছে।4 - মুনকাতি (منقطع): যার সনদের (سند) মধ্য থেকে একজন বর্ণনাকারী (রাবি) অথবা একাধিক বর্ণনাকারী (রাবি) অ-ধারাবাহিকভাবে বাদ পড়েছে।কখনও মুনকাতি (منقطع) দ্বারা উদ্দেশ্য হয়: যে সনদের ধারাবাহিকতা নিরবচ্ছিন্ন নয়, সেক্ষেত্রে এটি উপরের চারটি প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে।বিচ্ছিন্ন সনদের (منقطع السند) সকল প্রকারই হলো: প্রত্যাখ্যাত (مردود); কেবল নিচেরগুলো ব্যতীত:
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭)
- مُرْسَلِ الصَّحَابِيِّ.- وَمُرْسَلِ كِبَارِ التَّابِعِينَ إِذَا عَضَدَهُ: مُرْسَلٌ آخَرُ، أَوْ عَمَلُ صَحَابِيٍّ، أَوْ قِيَاسٌ.- وَالمعَلَّقِ إِذَا كَانَ بِصِيغَةِ الجَزْمِ فِي كِتَابٍ اُلْتُزِمَتْ صِحَّتُهُ.4 - وَمَا جَاءَ مُتَّصِلًا مِنْ طَرِيقٍ آخَرَ، وَتَمَّتْ فِيهِ شُرُوطُ القَبُولِ. التَّدْلِيسُوَالتَّدْلِيسُ: سِيَاقُ الحَدِيثِ بِسَنَدٍ يُوهِمُ أَنَّهُ أَعْلَى مِمَّا كَانَ عَلَيْهِ فِي الوَاقِعِ.وَيَنْقَسِمُ إِلَى: تَدْلِيسِ إِسْنَادٍ، وَتَدْلِيسِ شُيُوخٍ.1 - فَتَدْلِيسُ الإِسْنَادِ: أَنْ يَرْوِيَ عَمَّنْ لَقِيَهُ مَا لَمْ يَسْمَعْهُ مِنْ قَوْلِهِ أَوْ يَرَهُ مِنْ فِعْلِهِ، بِلَفْظٍ يُوهِمُ أَنَّهُ سَمِعَهُ أَوْ رَآهُ.2 - وَتَدْلِيسُ الشُّيُوخِ: أَنْ يُسَمِّيَ الرَّاوِي شَيْخَهُ، أَوْ يَصِفَهُ بِغَيْرِ مَا اشْتَهَرَ بِهِ، فَيُوهِمُ أَنَّهُ غَيْرُهُ.وَحَدِيثُ المُدَلِّسِ غَيْرُ مَقْبُولٍ؛ إِلَّا أَنْ يَكُونَ ثِقَةً، وَيُصَرِّحَ بِأَخْذِهِ مُبَاشَرَةً عَمَّنْ رَوَى عَنْهُ. المُضْطَرِبُوَالمُضْطَرِبُ: مَا اخْتَلَفَ الرُّوَاةُ فِي سَنَدِهِ أَوْ مَتْنِهِ، وَتَعَذَّرَ الجَمْعُ وَالتَّرْجِيحُ.فَإِنْ أَمْكَنَ الجَمْعُ: وَجَبَ، وَانْتَفَى الاضْطِرَابُ.وَإِنْ أَمْكَنَ التَّرْجِيحُ: عُمِلَ بِالرَّاجِحِ، وَانْتَفَى الاضْطِرَابُ.وَالمُضْطَرِبُ: ضَعِيفٌ، لَا يُحْتَجُّ بِهِ، إِلَّا إِذَا كَانَ الاضْطِرَابُ لَا يَرْجِعُ إِلَى أَصْلِ الحَدِيثِ.وَكَذَلِكَ لَا يُوجِبُ الاضْطِرَابَ: مَا يَقَعُ مِنَ الاخْتِلَافِ فِي اسْمِ الرَّاوِي أَوْ كُنْيَتِهِ - أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ - مَعَ الاتِّفَاقِ عَلَى عَيْنِهِ. الإِدْرَاجُ فِي المَتْنِوَالإِدْرَاجُ فِي المَتْنِ: أَنْ يُدْخِلَ أَحَدُ الرُّوَاةِ فِي الحَدِيثِ كَلَامًا مِنْ عِنْدِهِ بِدُونِ بَيَانٍ؛ إِمَّا: تَفْسِيرًا لِكَلِمَةٍ، أَوِ اسْتِنْبَاطًا لِحُكْمٍ، أَوْ بَيَانًا لِحِكْمَةٍ.
- সাহাবীর মুরসাল (مرسل الصحابي)।- এবং প্রবীণ তাবেয়ীদের মুরসাল (مرسل كبار التابعين), যখন তা সমর্থিত হয়: অন্য কোনো মুরসাল (مرسل) দ্বারা, অথবা কোনো সাহাবীর আমল দ্বারা, কিংবা কিয়াস (قياس) দ্বারা।- এবং মুআল্লাক (معلق) হাদিস, যখন তা দৃঢ়তাজ্ঞাপক শব্দে (بصيغة الجزم) এমন কোনো কিতাবে বর্ণিত হয় যাতে কেবল সহিহ হাদিস সংকলনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।4 - এবং যা অন্য কোনো সূত্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে (متصلا) বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে গ্রহণযোগ্যতার (القبول) শর্তাবলি পূর্ণ হয়েছে। তাদলিস (التدليس)তাদলিস (التدليس) হলো: হাদিসের এমন একটি সনদ বর্ণনা করা যা বাস্তবতার তুলনায় উচ্চতর হওয়ার বিভ্রম সৃষ্টি করে।এটি দুই ভাগে বিভক্ত: সনদের তাদলিস (تدليس إسناد) এবং উস্তাদদের তাদলিস (تدليس شيوخ)।1 - সনদের তাদলিস (تدليس الإسناد) হলো: রাবি যার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তার থেকে এমন কিছু বর্ণনা করা যা তিনি তার থেকে সরাসরি শোনেননি বা দেখেননি, তবে এমন শব্দ ব্যবহার করা যা শোনার বা দেখার বিভ্রম সৃষ্টি করে।2 - উস্তাদদের তাদলিস (تدليس الشيوخ) হলো: রাবি তার উস্তাদের এমন নাম উল্লেখ করা বা এমন বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা যার দ্বারা তিনি প্রসিদ্ধ নন, ফলে তিনি অন্য কেউ হওয়ার বিভ্রম তৈরি হয়।এবং মুদাল্লিস (مدلس) ব্যক্তির হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়; তবে যদি তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন এবং যার থেকে বর্ণনা করছেন তার থেকে সরাসরি গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন। মুদতারিব (المضطرب)মুদতারিব (المضطرب) হলো: যার সনদ (سند) অথবা মতন (متن)-এ রাবিগণ ভিন্নতা করেছেন এবং যেখানে সমন্বয় সাধন (الجمع) ও প্রাধান্য প্রদান (الترجيح) অসম্ভব হয়ে পড়েছে।যদি সমন্বয় সাধন (الجمع) করা সম্ভব হয়: তবে তা করা ওয়াজিব এবং ইদতিরাব (اضطراب) দূরীভূত হয়।আর যদি প্রাধান্য প্রদান (الترجيح) সম্ভব হয়: তবে প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الراجح) মত অনুযায়ী আমল করা হবে এবং ইদতিরাব (اضطراب) দূরীভূত হবে।মুদতারিব (المضطرب) হাদিস দুর্বল (ضعيف), যা দলিল হিসেবে গণ্য নয়; তবে যদি ইদতিরাব (اضطراب) হাদিসের মূল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়।অনুরূপভাবে, রাবির নাম বা উপনাম বা এই জাতীয় বিষয়ে ভিন্নতা (الاختلاف) ইদতিরাব (اضطراب) সৃষ্টি করে না যদি রাবি নির্দিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে সুনিশ্চিত হওয়া যায়। মতনের মধ্যে ইদরাজ (الإدراج في المتن)মতনের মধ্যে ইদরাজ (الإدراج في المتن) হলো: কোনো রাবি কর্তৃক হাদিসের ভেতরে নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রবেশ করানো; তা হতে পারে কোনো শব্দের ব্যাখ্যা (تفسير) হিসেবে, অথবা কোনো বিধান আহরণ (استنباط) কিংবা কোনো হিকমত (حكمة) বর্ণনার উদ্দেশ্যে।
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَيَكُونُ فِي: أَوَّلِ الحَدِيثِ، وَوَسَطِهِ، وَآخِرِهِ.وَلَا يُحْكَمُ بِهِ إِلَّا بِدَلِيلٍ؛ إِمَّا مِنْ كَلَامِ الرَّاوِي، أَوْ مِنْ كَلَامِ أَحَدِ الأَئِمَّةِ المُعْتَبَرِينَ، أَوْ مِنَ الكَلَامِ المُدْرَجِ بِحَيْثُ يَسْتَحِيلُ أَنْ يَقُولَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم. الزِّيَادَةُ فِي الحَدِيثِوَالزِّيَادَةُ فِي الحَدِيثِ: أَنْ يُضِيفَ أَحَدُ الرُّوَاةِ إِلَى الحَدِيثِ مَا لَيْسَ مِنْهُ.وَتَنْقَسِمُ إِلَى قِسْمَيْنِ:1 - أَنْ تَكُونَ مِنْ قَبِيلِ الإِدْرَاجِ.2 - وَأَنْ يَأْتِيَ بِهَا بَعْضُ الرُّوَاةِ عَلَى أَنَّهَا مِنَ الحَدِيثِ نَفْسِهِ.فَإِنْ كَانَتْ مِنْ غَيْرِ ثِقَةٍ: لَمْ تُقْبَلْ.وَإِنْ كَانَتْ مِنْ ثِقَةٍ: فَإِنْ كَانَتْ مُنَافِيَةً لِرِوَايَةِ غَيْرِهِ مِمَّنْ هُوَ أَكْثَرُ مِنْهُ أَوْ أَوْثَقُ: لَمْ تُقْبَلْ، وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ مُنَافِيَةٍ لِرِوَايَةِ غَيْرِهِ: قُبِلَتْ. اخْتِصَارُ الحَدِيثِوَاخْتِصَارُ الحَدِيثِ: أَنْ يَحْذِفَ رَاوِيهِ أَوْ نَاقِلُهُ شَيْئًا مِنْهُ.وَلَا يَجُوزُ إِلَّا بِشُروطٍ خَمْسَةٍ:الأَوَّلُ: أَنْ لَا يَخِلَّ بِمَعْنَى الحَدِيثِ.وَالثَّانِي: أَنْ لَا يَحْذِفَ مَا جَاءَ الحَدِيثُ مِنْ أَجْلِهِ.وَالثَّالِثُ: أَنْ لَا يَكُونَ وَارِدًا لِبَيَانِ صِفَةِ عِبَادَةٍ - قَوْلِيَّةٍ أَوْ فِعْلِيَّةٍ -.وَالرَّابِعُ: أَنْ يَكُونَ مِنْ عَالِمٍ بِمَدْلُولَاتِ الأَلْفَاظِ.وَالخَامِسُ: أَنْ لَا يَكُونَ الرَّاوِي مَحَلًّا لِلتُّهْمَةِ. رِوَايَةُ الحَدِيثِ بِالمَعْنَىوَرِوَايَةُ الحَدِيثِ بِالمَعْنَى: نَقْلُهُ بِلَفْظٍ غَيْرِ لَفْظِ المَرْوِيِّ عَنْهُ.وَلَا تَجُوزُ إِلَّا بِشُرُوطٍ ثَلَاثَةٍ:1 - أَنْ تَكُونَ مِنْ عَارِفٍ بِمَعْنَاهُ؛ مِنْ حَيْثُ اللُّغَةُ، وَمِنْ حَيْثُ مُرَادُ المَرْوِيِّ عَنْهُ.2 - وَأَنْ تَدْعُوَ الضَّرُورَةُ إِلَيْهَا.
এটি হাদিসের শুরুতে, মাঝে এবং শেষে হয়ে থাকে।এর ওপর ততক্ষণ হুকুম প্রদান করা যাবে না যতক্ষণ না কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়; তা বর্ণনাকারীর বক্তব্য থেকে হোক, অথবা কোনো গ্রহণযোগ্য ইমামের বক্তব্য থেকে হোক, কিংবা এমন কোনো অনুপ্রবেশকৃত (مدرج) কথা থেকে হোক যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে বলা অসম্ভব। হাদিসে অতিরিক্ত অংশ (الزيادة في الحديث)হাদিসে অতিরিক্ত অংশ (الزيادة في الحديث) হলো: কোনো বর্ণনাকারী কর্তৃক হাদিসের মধ্যে এমন কিছু যুক্ত করা যা তার অংশ নয়।এটি দুই ভাগে বিভক্ত:1 - তা অনুপ্রবেশের (الإدراج) পর্যায়ভুক্ত হওয়া।2 - কোনো বর্ণনাকারী একে মূল হাদিসের অংশ হিসেবেই উল্লেখ করা।যদি তা অনির্ভরযোগ্য (غير ثقة) বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।আর যদি তা নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে হয়: তবে তা যদি এমন বর্ণনাকারীদের বর্ণনার পরিপন্থী হয় যারা তার চেয়ে সংখ্যায় বেশি অথবা অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق), তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আর যদি অন্য কারো বর্ণনার পরিপন্থী না হয়, তবে তা গৃহীত হবে। হাদিস সংক্ষেপকরণ (اختصار الحديث)হাদিস সংক্ষেপকরণ (اختصار الحديث) হলো: এর বর্ণনাকারী বা নকলকারী তা থেকে কোনো অংশ বাদ দেওয়া।এটি পাঁচটি শর্ত ছাড়া বৈধ নয়:প্রথম: হাদিসের অর্থে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।দ্বিতীয়: হাদিসটি যে উদ্দেশ্যে বর্ণিত হয়েছে, সেই মূল অংশটি যেন বাদ না দেওয়া হয়।তৃতীয়: হাদিসটি কোনো ইবাদতের বিবরণ—তা কথা বা কাজ যাই হোক—প্রকাশের জন্য বর্ণিত না হওয়া।চতুর্থ: এটি শব্দের অর্থগত তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত কোনো আলেম দ্বারা হওয়া।পঞ্চম: বর্ণনাকারী যেন অভিযুক্ত হওয়ার (محل للتهمة) পাত্র না হন। অর্থগতভাবে হাদিস বর্ণনা (رواية الحديث بالمعنى)অর্থগতভাবে হাদিস বর্ণনা (رواية الحديث بالمعنى) হলো: যার নিকট থেকে বর্ণিত হয়েছে তার মূল শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দে তা বর্ণনা করা।এটি তিনটি শর্ত ছাড়া বৈধ নয়:1 - এটি এমন ব্যক্তির মাধ্যমে হতে হবে যিনি ভাষার দিক থেকে এবং যার নিকট থেকে বর্ণিত হয়েছে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত।2 - এর পেছনে বিশেষ প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান থাকা।
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৯)
3 - وَأَنْ لَا يَكُونَ اللَّفْظُ مُتَعَبَّدًا بِهِ. المَوْضُوعُوَالمَوْضُوعُ: الحَدِيثُ المَكْذُوبُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.وَهُوَ مَرْدُودٌ، وَلَا يَجُوزُ ذِكْرُهُ إِلَّا مَقْرُونًا بِبَيَانِ وَضْعِهِ.وَيُعْرَفُ بِأُمُورٍ؛ مِنْهَا:1 - إِقْرَارُ الوَاضِعِ بِهِ.2 - وَمُخَالَفَةُ الحَدِيثِ لِلْعَقْلِ.3 - وَمُخَالَفَتُهُ لِلْمَعْلُومِ بِالضُّرُورَةِ مِنَ الدِّينِ. الجَرْحُوَالجَرْحُ: هُوَ أَنْ يُذْكَرَ الرَّاوِي بِمَا يُوجِبُ رَدَّ رِوَايَتِهِ مِنْ: إِثْبَاتِ صِفَةِ رَدٍّ، أَوْ نَفْيِ صِفَةِ قَبُولٍ.وَيَنْقَسِمُ إِلَى قِسْمَيْنِ: مُطْلَقٍ، وَمُقَيَّدٍ.1 - فَالمُطْلَقُ: أَنْ يُذْكَرَ الرَّاوِي بِالجَرْحِ بِدُونِ تَقْيِيدٍ، فَيَكُونَ قَادِحًا فِيهِ بِكُلِّحَالٍ.2 - وَالمُقَيَّدُ: أَنْ يُذْكَرَ الرَّاوِي بِالجَرْحِ بِالنِّسْبَةِ لِشَيْءٍ مُعَيَّنٍ؛ مِنْ شَيْخٍ أَوْ طَائِفَةٍ - أَوْ نَحْوِ ذِلَكِ -، فَيَكُونَ قَادِحًا فِيهِ بِالنِّسْبَةِ إِلَى ذَلِكَ الشَّيْءِ المُعَيَّنِ دُونَ غَيْرِهِ.وَلِلْجَرْحِ مَرَاتِبُ:- أَعْلَاهَا: مَا دَلَّ عَلَى بُلُوغِ الغَايَةِ فِيهِ؛ مِثْلُ: (أَكْذَبِ النَّاسِ) أَوْ (رُكْنِ الكَذِبِ).- ثُمَّ مَا دَلَّ عَلَى المُبَالَغَةِ؛ مِثْلُ: (كَذَّابٍ)، وَ (وَضَّاعٍ)، وَ (دَجَّالٍ).- وَأَسْهَلُهَا: (لَيِّنٌ)، أَوْ (سَيِّئُ الحِفْظِ)، أَوْ (فِيهِ مَقَالٌ).وَبَيْن ذَلِكَ مَرَاتِبُ مَعْلُومَةٌ.وَيُشْتَرَطُ لِقَبُولِ الجَرْحِ شُرُوطٌ خَمْسَةٌ:1 - أَنْ يَكُونَ مِنْ عَدْلٍ.2 - وَأَنْ يَكُونَ مِنْ مُتَيَقِّظٍ.
৩ - এবং শব্দগুলো যেন ইবাদত হিসেবে পঠিতব্য (متعبداً) না হয়। জাল (الموضوع)জাল (الموضوع) হলো: সেই হাদিস যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যাভাবে আরোপ করা হয়েছে।এটি প্রত্যাখ্যাত (مردود), এবং এর জালিয়াতি (وضعه) বর্ণনা করা ব্যতীত তা উল্লেখ করা বৈধ নয়।এটি কতিপয় বিষয়ের মাধ্যমে জানা যায়; তার মধ্যে রয়েছে:১ - জালকারীর (الواضع) স্বীকৃতি।২ - হাদিসটি বিবেকের পরিপন্থী হওয়া।৩ - দ্বীনের অকাট্যভাবে প্রমাণিত (المعلوم بالضرورة) বিষয়ের পরিপন্থী হওয়া। সমালোচনা (الجرح)সমালোচনা (الجرح) হলো: বর্ণনাকারীর (الراوي) এমন ত্রুটি উল্লেখ করা যা তার বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক করে দেয়; চাই তা কোনো নেতিবাচক গুণ (صفة رد) সাব্যস্ত করার মাধ্যমে হোক কিংবা গ্রহণযোগ্যতার কোনো গুণ (صفة قبول) অস্বীকার করার মাধ্যমে হোক।এটি দুই ভাগে বিভক্ত: নিরঙ্কুশ (مطلق) ও আপেক্ষিক (مقيد)।১ - নিরঙ্কুশ (المطلق): বর্ণনাকারীকে কোনো শর্ত ছাড়াই সমালোচিত (الجرح) হিসেবে উল্লেখ করা, ফলে তা সকল অবস্থায় তার গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণকারী হিসেবে গণ্য হয়।২ - আপেক্ষিক (المقيد): বর্ণনাকারীকে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের প্রেক্ষিতে সমালোচিত (الجرح) হিসেবে উল্লেখ করা; যেমন কোনো নির্দিষ্ট উস্তাদ (شيخ) বা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী - অথবা এই জাতীয় কিছুর প্রেক্ষিতে। এক্ষেত্রে সেই নির্দিষ্ট বিষয়টি ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে তা তার গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণকারী হয় না।সমালোচনার (الجرح) বিভিন্ন স্তর রয়েছে:- সর্বোচ্চ স্তর: যা সমালোচনার চূড়ান্ত পর্যায় নির্দেশ করে; যেমন: 'মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী' (أكذب الناس) অথবা 'মিথ্যার স্তম্ভ' (ركن الكذب)।- অতঃপর যা অতিশয়োক্তি নির্দেশ করে; যেমন: 'চরম মিথ্যাবাদী' (كذاب), 'জালকারী' (وضاع) এবং 'প্রতারক' (دجال)।- এবং সবচেয়ে হালকা স্তর: 'শিথিল' (لين), অথবা 'স্মৃতিশক্তি দুর্বল' (سيئ الحفظ), অথবা 'তার ব্যাপারে কথা আছে' (فيه مقال)।আর এগুলোর মাঝে আরও কিছু পরিচিত স্তর রয়েছে।সমালোচনা (الجرح) গ্রহণের জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে:১ - সমালোচনাকারীকে ন্যায়পরায়ণ (عدল) হতে হবে।২ - তাকে সচেতন (متيقظ) হতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১০)
3 - وَأَنْ يَكُونَ مِنْ عَارِفٍ بِأَسْبَابِهِ.4 - وَأَنْ يُبَيِّنَ سَبَبَ الجَرْحِ.5 - وَأَنْ لَا يَكُونَ وَاقِعًا عَلَى مَنْ تَوَاتَرَتْ عَدَالَتُهُ، وَاشْتَهَرَتْ إِمَامَتُهُ. التَّعْدِيلُوَالتَّعْدِيلُ: أَنْ يُذْكَرَ الرَّاوِي بِمَا يُوجِبُ قَبُولَ رِوَايَتِهِ؛ مِنْ: إِثْبَاتِ صِفَةِ قَبُولٍ، أَوْ نَفْيِ صِفَةِ رَدٍّ.وَيَنْقَسِمُ إِلَى قِسْمَيْنِ: مُطْلَقٍ، وَمُقَيَّدٍ.1 - فَالمُطْلَقُ: أَنْ يُذْكَرَ الرَّاوِي بِالتَّعْدِيلِ بِدُونِ تَقْيِيدٍ؛ فَيَكُونَ تَوْثِيقًا لَهُ بِكُلِّحَالٍ.2 - وَالمُقَيَّدُ: أَنْ يُذْكَرَ الرَّاوِي بِالتَّعْدِيلِ بِالنِّسْبَةِ لِشَيْءٍ مُعَيَّنٍ؛ مِنْ شَيْخٍ أَوْ طَائِفَةٍ - أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ -؛ فَيَكُونَ تَوْثِيقًا لَهُ بِالنِّسْبَةِ إِلَى ذَلِكَ الشَّيْءِ المُعَيَّنِ دُونَ غَيْرِهِ.وَلِلتَّعْدِيلِ مَرَاتِبُ:- أَعْلَاهَا: مَا دَلَّ عَلَى بُلُوغِ الغَايَةِ فِيهِ؛ مِثْلُ: (أَوْثَقِ النَّاسِ)، أَوْ (إِلَيْهِ المُنْتَهَى فِي التَّثَبُّتِ).- ثُمَّ مَا تَأَكَّدَ بِصِفَةٍ أَوْ صِفَتَيْنِ؛ مِثْلُ: (ثِقَةٌ ثِقَةٌ)، أَوْ (ثِقَةٌ ثَبْتٌ) - أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ -.- وَأَدْنَاهَا: مَا أَشْعَرَ بِالقُرْبِ مِنْ أَسْهَلِ الجَرْحِ؛ مِثْلُ: (صَالِحٍ)، أَوْ (مُقَارِبٍ)، أَوْ (يُرْوَى حَدِيثُهُ) - أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ -.وَبَيْنَ هَذَا مَرَاتِبُ مَعْلُومَةٌ.وَيُشْتَرَطُ لِقَبُولِ التَّعْدِيلِ شُرُوطٌ أَرْبَعَةٌ:1 - أَنْ يَكُونَ مِنْ عَدْلٍ.2 - وَأَنْ يَكُونَ مِنْ مُتَيَقِّظٍ.3 - وَأَنْ يَكُونَ مِنْ عَارِفٍ بِأَسْبَابِهِ.4 - وَأَنْ لَا يَكُونَ وَاقِعًا عَلَى مَنِ اشْتَهَرَ بِمَا يُوجِبُ رَدَّ رِوَايَتِهِ؛ مِنْ كَذِبٍ أَوْ فِسْقٍ ظَاهِرٍ - أَوْ غَيْرِهِمَا -.
৩ - এবং তা এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হতে হবে যিনি এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত।৪ - এবং জারহ (الجرح) এর কারণ বর্ণনা করতে হবে।৫ - এবং এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা প্রযুক্ত হবে না যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) অকাট্যভাবে প্রমাণিত (تواترت) এবং যার ইমামত বা নেতৃত্ব সুপ্রসিদ্ধ। তা'দীল (التعديل)আর তা'দীল (التعديل) হলো: বর্ণনাকারী (الراوي) সম্পর্কে এমন বিষয়ের উল্লেখ করা যা তার বর্ণনা গ্রহণের আবশ্যকতা তৈরি করে; যেমন: গ্রহণের গুণাবলি সাব্যস্ত করা অথবা প্রত্যাখ্যানের গুণাবলি নাকচ করার মাধ্যমে।এটি দুই ভাগে বিভক্ত: নিরঙ্কুশ (مطلق) এবং শর্তযুক্ত (مقيد)।১ - নিরঙ্কুশ (المطلق) হলো: বর্ণনাকারীর তা'দীল (التعديل) কোনো শর্ত ছাড়াই উল্লেখ করা; ফলে এটি সব অবস্থাতেই তার নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق) হিসেবে গণ্য হবে।হাল।২ - শর্তযুক্ত (المقيد) হলো: বর্ণনাকারীর তা'দীল (التعديل) নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের প্রেক্ষিতে উল্লেখ করা; যেমন কোনো নির্দিষ্ট উস্তাদ বা নির্দিষ্ট কোনো দলের বর্ণনার ক্ষেত্রে—অথবা এই জাতীয় কিছুর ক্ষেত্রে—; ফলে এটি শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রেক্ষিতেই তার নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق) হিসেবে গণ্য হবে, অন্য বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়।তা'দীল (التعديل) এর বিভিন্ন স্তর রয়েছে:- সর্বোচ্চ স্তর: যা এ বিষয়ে পূর্ণতার চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রমাণ দেয়; যেমন: "মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য (أوثق الناس)", অথবা "সতর্কতার চূড়ান্ত পর্যায়ে (إليه المنتهى في التثبت)"।- এরপর যা এক বা একাধিক গুণ দ্বারা জোরালো করা হয়েছে; যেমন: "নির্ভরযোগ্য নির্ভরযোগ্য (ثقة ثقة)", অথবা "নির্ভরযোগ্য দৃঢ় (ثقة ثبت)"—অথবা এই জাতীয় শব্দাবলি—।- এবং সর্বনিম্ন স্তর: যা জারহ (الجرح) এর সহজতম স্তরের নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়; যেমন: "সৎ (صالح)", অথবা "কাছাকাছি (مقارب)", অথবা "তার হাদিস বর্ণনা করা যায় (يروى حديثه)"—অথবা এই জাতীয় শব্দাবলি—।আর এর মাঝে আরও কিছু স্তর রয়েছে যা সুবিদিত।তা'দীল (التعديل) কবুল হওয়ার জন্য চারটি শর্ত রয়েছে:১ - তা একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির পক্ষ থেকে হতে হবে।২ - এবং তা একজন সচেতন বা সতর্ক (متيقظ) ব্যক্তির পক্ষ থেকে হতে হবে।৩ - এবং তা এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হতে হবে যিনি এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত।৪ - এবং তা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হবে না যিনি তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণসমূহের জন্য প্রসিদ্ধ; যেমন মিথ্যা (كذب) অথবা প্রকাশ্য পাপাচার (فسق ظاهر)—অথবা এ দুটি ছাড়া অন্য কোনো কারণে।
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১১)
تَعَارُضُ الجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِوَقَدْ يَتَعَارَضُ الجَرْحُ وَالتَّعْدِيلُ، وَهُوَ: أَنْ يُذْكَرَ الرَّاوِي بِمَا يُوجِبُ رَدَّ رِوَايَتِهِ، وَبِمَا يُوجِبُ قَبُولَهَا.وَلَهُ أَحْوَالٌ أَرْبَعٌ:الأُولَى: أَنْ يَكُونَا مُبْهَمَيْنِ.فَإِنْ قُلْنَا بِعَدَمِ قَبُولِ الجَرْحِ المُبْهَمِ: أُخِذَ بِالتَّعْدِيلِ.وَإِنْ قُلْنَا بِقَبُولِهِ - وَهُوَ الرَّاجِحُ -: حَصَلَ التَّعَارُضُ، فَيُؤْخَذُ بِالأَرْجَحِ مِنْهُمَا؛ إِمَّا فِي عَدَالَةِ قَائِلِهِ، أَوْ فِي مَعْرِفَتِهِ بِحَالِ الشَّخْصِ، أَوْ بِأَسْبَابِ الجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ، أَوْ فِي كَثْرَةِ العَدَدِ.وَالثَّانِيَةُ: أَنْ يَكُونَا مُفَسَّرَيْنِ: فَيُؤْخَذُ بِالجَرْحِ.وَالثَّالِثَةُ: أَنْ يَكُونَ التَّعْدِيلُ مُبْهَمًا وَالجَرْحُ مُفَسَّرًا: فَيُؤْخَذُ بِالجَرْحِ.وَالرَّابِعَةُ: أَنْ يَكُونَ الجَرْحُ مُبْهَمًا وَالتَّعْدِيلُ مُفَسَّرًا: فَيُؤْخَذُ بِالتَّعْدِيلِ. أَقْسَامُ الخَبَرِ بِاعْتِبَارِ الإِضَافَةِوَيَنْقَسِمُ الخَبَرُ بِاعْتِبَارِ مَنْ يُضَافُ إِلَيْهِ إِلَى: مَرْفُوعٍ، وَمَوْقُوفٍ، وَمَقْطُوعٍ.1 - فَالمَرْفُوعُ: مَا أُضِيفَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.وَيَنْقَسِمُ إِلَى: مَرْفُوعٍ صَرِيحًا، وَمَرْفُوعٍ حُكْمًا.فَالمَرْفُوعُ صَرِيحًا: مَا أُضِيفَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَفْسِهِ مِنْ: قَوْلٍ، أَوْ فِعْلٍ، أَوْ تَقْرِيرٍ، أَوْ وَصْفٍ فِي خُلُقِهِ أَوْ خِلْقَتِهِ.وَالمَرْفُوعُ حُكْمًا: مَا كَانَ لَهُ حُكْمُ المُضَافِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ أَنْوَاعٌ:الأَوَّلُ: قَوْلُ الصَّحَابِيِّ إِذَا لَمْ يُمْكِنْ أَنْ يَكُونَ مِنْ قَبِيلِ الرَّأْيِ وَلَمْ يَكُنْ تَفْسِيرًا، وَلَا مَعْرُوفًا قَائِلُهُ بِالأَخْذِ عَنِ الإِسْرَائِيلِيَّاتِ.وَالثَّانِي: فِعْلُ الصَّحَابِيِّ إِذَا لَمْ يُمْكِنْ أَنْ يَكُونَ مِنْ قَبِيلِ الرَّأْيِ.وَالثَّالِثُ: أَنْ يُضِيفَ الصَّحَابِيُّ شَيْئًا إِلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يُذْكَرْ أَنَّهُ عَلِمَ بِهِ.وَالرَّابِعُ: أَنْ يَقُولَ الصَّحَابِيُّ عَنْ شَيْءٍ بِأَنَّهُ مِنَ السُّنَّةِ.
সমালোচনা (الجرح) ও প্রশংসা (التعدিল) এর পারস্পরিক বিরোধকখনও কখনও সমালোচনা (الجرح) ও প্রশংসা (التعدিল) এর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। আর তা হলো: বর্ণনাকারী সম্পর্কে এমন কিছু উল্লেখ করা যা তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করাকে আবশ্যক করে, আবার এমন কিছুও উল্লেখ করা যা তার বর্ণনা গ্রহণ করাকে আবশ্যক করে।এর চারটি অবস্থা রয়েছে:প্রথমত: উভয়ই অস্পষ্ট (مبهم) হওয়া।যদি আমরা অস্পষ্ট (مبهم) সমালোচনা (الجرح) গ্রহণ না করার কথা বলি, তবে প্রশংসাকে (التعديل) গ্রহণ করা হবে।আর যদি আমরা তা গ্রহণ করার কথা বলি—যা বিশুদ্ধতর (الراجح) মত—তবে বিরোধ সৃষ্টি হবে। এমতাবস্থায় উভয়ের মধ্যে যেটি অধিকতর শক্তিশালী (الأرجح), তা গ্রহণ করা হবে; চাই তা প্রবক্তার ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) দিক থেকে হোক, অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে তার জ্ঞানের কারণে হোক, অথবা সমালোচনা (الجرح) ও প্রশংসা (التعديل) এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবগতির কারণে হোক, কিংবা বর্ণনাকারীদের সংখ্যার আধিক্যের কারণে হোক।দ্বিতীয়ত: উভয়ই ব্যাখ্যাত (مفسر) হওয়া: এমতাবস্থায় সমালোচনাকেই (الجرح) গ্রহণ করা হবে।তৃতীয়ত: প্রশংসা (التعديل) অস্পষ্ট (مبهم) এবং সমালোচনা (الجرح) ব্যাখ্যাত (مفسر) হওয়া: এমতাবস্থায় সমালোচনাকেই (الجرح) গ্রহণ করা হবে।চতুর্থত: সমালোচনা (الجرح) অস্পষ্ট (مبهم) এবং প্রশংসা (التعديل) ব্যাখ্যাত (مفسر) হওয়া: এমতাবস্থায় প্রশংসাকেই (التعديل) গ্রহণ করা হবে। সম্পৃক্ততার বিচারে সংবাদের (خبر) প্রকারভেদযার দিকে সংবাদটি (خبر) সম্পৃক্ত করা হয়েছে তার ভিত্তিতে সংবাদটি মারফু (مرفوع), মাওকুফ (موقوف) এবং মাকতু (مقطوع) এই তিন ভাগে বিভক্ত।1 - মারফু (مرفوع): যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।এটি স্পষ্ট মারফু (مرفوع صريحا) এবং হুকুমি মারফু (مرفوع حكما)—এই দুই ভাগে বিভক্ত।স্পষ্ট মারফু (مرفوع صريحا): যা স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজের কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقرير) অথবা তাঁর চরিত্রগত বা সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পৃক্ত।হুকুমি মারফু (مرفوع حكما): যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্পৃক্ত বিষয়ের পর্যায়ভুক্ত, আর এটি কয়েক প্রকার:প্রথম: সাহাবীর এমন বক্তব্য যা ব্যক্তিগত রায়ের (رأي) পর্যায়ভুক্ত হওয়া সম্ভব নয়, তা কোনো ব্যাখ্যা (تفسير) নয় এবং সেই প্রবক্তা ইসরাঈলিয়াত (الإسرائيليات) থেকে তথ্য গ্রহণের জন্য পরিচিত নন।দ্বিতীয়: সাহাবীর এমন কাজ যা ব্যক্তিগত রায়ের (رأي) পর্যায়ভুক্ত হওয়া সম্ভব নয়।তৃতীয়: সাহাবী কর্তৃক কোনো বিষয়কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের সাথে সম্পৃক্ত করা, যদিও নবীজি তা জানতে পেরেছিলেন কি না তা উল্লেখ করা হয়নি।চতুর্থ: সাহাবী কোনো বিষয় সম্পর্কে এটি সুন্নাহর (السنة) অন্তর্ভুক্ত বলে অভিহিত করা।
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১২)
فَإنْ قَالَهُ تَابِعِيٌّ فَقِيلَ: مَرْفُوعٌ، وَقِيلَ: مَوْقُوفٌ.وَالخَامِسُ: قَوْلُ الصَّحَابِيِّ: (أُمِرْنَا)، أَوْ (نُهِينَا)، أَوْ (أُمِرَ النَّاسُ) وَنَحْوُهُ.وَالسَّادِسُ: أَنْ يَحْكُمَ الصَّحَابِيُّ عَلَى شَيْءٍ بِأَنَّهُ مَعْصِيَةٌ، وَكَذَا لَوْ حَكَمَ الصَّحَابِيُّ عَلَى شَيْءٍ بِأَنَّهُ طَاعَةٌ.وَالسَّابِعُ: قَوْلُهُمْ عَنِ الصَّحَابِيِّ: (رَفَعَ الحَدِيثَ) أَوْ (رِوَايَةً).وَكَذَلِكَ لَوْ قَالُوا عَنِ الصَّحَابِيِّ: (يَأْثُرُ الحَدِيثَ)، أَوْ (يَنْمِيهِ)، أَوْ (يَبْلُغُ بِهِ) وَنَحْوَهُ.2 - وَالمَوْقُوفُ: مَا أُضِيفَ إِلَى الصَّحَابِيِّ، وَلَمْ يَثْبُتْ لَهُ حُكْمُ الرَّفْعِ.3 - وَالمَقْطُوعُ: مَا أُضِيفَ إِلَى التَّابِعِيِّ فَمَنْ بَعْدَهُ. الصَّحَابِيُّوَالصَّحَابِيُّ: مَنِ اجْتَمَعَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ رَآهُ، مُؤْمِنًا بِهِ، وَمَاتَ عَلَى ذَلِكَ.وَكُلُّ الصَّحَابَةِ ثِقَاتٌ ذَوُو عَدْلٍ، تُقْبَلُ رِوَايَةُ الوَاحِدِ مِنْهُمْ وَإِنْ كَانَ مَجْهُولًا.وَآخِرُهُمْ موتًا: عَامِرُ بْنُ وَاثِلَةَ اللَّيْثِيُّ، مَاتَ بِمَكَّةَ، سَنَةَ (110) مِنَ الهِجْرَةِ.وَلَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ أَحَدٌ بَعْدَ سَنَةِ عَشْرٍ وَمِئَةٍ.وَفَائِدَةُ مَعْرِفَةِ آخِرِ الصَّحَابَةِ مَوْتًا: أَمْرَانِ:الأَوَّلُ: أَنَّ مَنْ تَأَخَّرَ مَوْتُهُ عَنْ هَذِهِ الغَايَةِ: لَمْ تُقْبَلْ مِنْهُ دَعْوَى الصُّحْبَةِ.وَالثَّانِي: أَنَّ مَنْ لَمْ يُدْرِكِ التَّمْيِيزَ قَبْلَ هَذِهِ الغَايَةِ: فَحَدِيثُهُ عَنِ الصَّحَابَةِ مُنْقَطِعٌ. المُخَضْرَمُوَالمُخَضْرَمُ: مَنْ آمَنَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حَيَاتِهِ، وَلَمْ يَجْتَمِعْ بِهِ.وهُمْ طَبَقَةٌ مُسْتَقِلَّةٌ بَيْنَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ، وَقِيلَ: بَلْ هُمْ مِنْ كِبَارِ التَّابِعِينَ.وَحَدِيثُ المُخَضْرَمِ مِنْ قَبِيلِ مُرْسَلِ التَّابِعِيِّ؛ فَهُوَ مُنْقَطِعٌ، وَفِي قَبُولِهِ مَا فِي قَبُولِ مُرْسَلِ التَّابِعِيِّ مِنَ الخِلَافِ. التَّابِعِيُّوَالتَّابِعِيُّ: مَنِ اجْتَمَعَ بِالصَّحَابِيِّ، مُؤْمِنًا بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَمَاتَ عَلَى ذَلِكَ.
যদি কোনো তাবেয়ি (تابعي) এটি বলেন, তবে একে মারফু (مرفوع) বলা হয়েছে, আবার কেউ একে মাওকুফ (موقوف) বলেছেন।পঞ্চম: সাহাবির (صحابي) কথা: (আমাদের আদেশ করা হয়েছে), অথবা (আমাদের নিষেধ করা হয়েছে), অথবা (লোকদের আদেশ করা হয়েছে) এবং এই জাতীয় শব্দ।ষষ্ঠ: সাহাবি (صحابي) কর্তৃক কোনো বিষয়কে পাপ হিসেবে হুকুম প্রদান করা, একইভাবে সাহাবি (صحابي) যদি কোনো বিষয়কে আনুগত্য (ইবাদত) হিসেবে হুকুম দেন।সপ্তম: সাহাবি (صحابي) সম্পর্কে অন্যদের এই উক্তি: (তিনি হাদিসটিকে মারফু করেছেন—رفع الحديث) অথবা (এটি একটি বর্ণনা—رواية)।একইভাবে যদি সাহাবি (صحابي) সম্পর্কে তারা বলেন: (তিনি হাদিসটি বর্ণনা করেন—يأثر الحديث), অথবা (তিনি এটি পৌঁছে দেন—ينميه), অথবা (তিনি এর মাধ্যমে নবী পর্যন্ত পৌঁছান—يبلغ به) এবং এই জাতীয় শব্দ।2 - আর মাওকুফ (الموقوف) হলো: যা সাহাবির (صحابي) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং যার জন্য মারফু (الرفع) হওয়ার হুকুম সাব্যস্ত হয়নি।3 - আর মাকতু (المقطوع) হলো: যা তাবেয়ি (تابعي) অথবা তাঁর পরবর্তী স্তরের কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। সাহাবি (صحابي)আর সাহাবি (صحابي) হলেন: যিনি নবী (সা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন, তাঁর প্রতি ঈমান থাকা অবস্থায় এবং ওই ঈমানের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন।সকল সাহাবিই (صحابة) নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও ন্যায়পরায়ণ (ذوو عدল), তাঁদের মধ্য থেকে একজনের বর্ণনাও গ্রহণযোগ্য হবে যদিও তিনি অপরিচিত (مجهول) হন।তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী হলেন: আমির ইবনে ওয়াসিলা আল-লাইসি, তিনি মক্কায় ১১০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।১১০ হিজরি সনের পর তাঁদের কেউ আর অবশিষ্ট ছিলেন না।সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী সাহাবি (صحابي) সম্পর্কে জানার উপকারিতা দুটি:প্রথম: যাঁর মৃত্যু এই সময়সীমার পরে হয়েছে, তাঁর সাহাবি (صحبة) হওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।দ্বিতীয়: যে ব্যক্তি এই সময়সীমার আগে সমঝদার হওয়ার বয়স লাভ করেনি, সাহাবিদের (صحابة) থেকে বর্ণিত তার হাদিস বিচ্ছিন্ন (منقطع)। মুখাজরাম (المخضرم)আর মুখাজরাম (المخضرم) হলেন: যিনি নবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় ঈমান এনেছেন কিন্তু তাঁর সাথে সাক্ষাৎ লাভ করেননি।তাঁরা সাহাবি (صحابة) ও তাবেয়িদের (تابعين) মধ্যবর্তী একটি স্বতন্ত্র স্তর, তবে কেউ কেউ বলেছেন: বরং তাঁরা বড় তাবেয়িদের (كبار التابعين) অন্তর্ভুক্ত।মুখাজরামের হাদিস তাবেয়ির মুরসাল (مرسل) পর্যায়ের; সুতরাং তা বিচ্ছিন্ন (منقطع)। আর এটি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাবেয়ির মুরসাল (مرسل) হাদিস গ্রহণের ন্যায় মতভেদ রয়েছে। তাবেয়ি (تابعي)আর তাবেয়ি (تابعي) হলেন: যিনি নবী (সা.)-এর প্রতি ঈমান থাকা অবস্থায় সাহাবির (صحابي) সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং ওই ঈমানের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الإِسْنَادُوَالإِسْنَادُ: رُوَاةُ الحَدِيثِ الَّذِينَ نَقَلُوهُ إِلَيْنَا.وَيَنْقَسِمُ إِلَى: عَالٍ وَنَازِلٍ.فَالعَالِي: مَا كَانَ أَقْرَبَ إِلَى الصِّحَّةِ، وَالنَّازِلُ عَكْسُهُ.وَالعُلُوُّ نَوْعَانِ: عُلُوُّ صِفَةٍ، وَعُلُوُّ عَدَدٍ.1 - فَعُلُوُّ الصِّفَةِ: أَنْ يَكُونَ الرُّوَاةُ أَقْوَى فِي الضَّبْطِ أَوِ العَدَالَةِ مِنَ الرُّوَاةِ فِي إِسْنَادٍ آخَرَ.2 - وَعُلُوُّ العَدَدِ: أَنْ يَقِلَّ عَدَدُ الرُّوَاةِ فِي إِسْنَادٍ بِالنِّسْبَةِ إِلَى إِسْنَادٍ آخَرَ.وَالنُّزُولُ يُقَابِلُ العُلُوَّ، فَيَكُونُ نَوْعَيْنِ: نُزُولَ صِفَةٍ، وَنُزُولَ عَدَدٍ.1 - فَنُزُولُ الصِّفَةِ: أَنْ يَكُونَ الرُّوَاةُ أَضْعَفَ فِي الضَّبْطِ أَوِ العَدَالَةِ مِنَ الرُّوَاةِ فِي إِسْنَادٍ آخَرَ.2 - وَنُزُولُ العَدَدِ: أَنْ يَكْثُرَ عَدَدُ الرُّوَاةِ فِي إِسْنَادٍ بِالنِّسْبَةِ إِلَى إِسْنَادٍ آخَرَ.وَقَدْ يَجْتَمِعُ النَّوْعَانِ - عُلُوُّ الصِّفَةِ وَعُلُوُّ العَدَدِ - فِي إِسْنَادٍ وَاحِدٍ، فَيَكُونُ عَالِيًا مِنْ حَيْثُ الصِّفَةُ، وَمِنْ حَيْثُ العَدَدُ.وَقَدْ يُوجَدُ أَحَدُهُمَا دُونَ الآخَرِ، فَيَكُونُ الإِسْنَادُ عَالِيًا مِنْ حَيْثُ الصِّفَةُ، نَازِلًا مِنْ حَيْثُ العَدَدُ، أَوْ بِالعَكْسِ.وَفَائِدَةُ مَعْرِفَةِ العُلُوِّ وَالنُّزُولِ: الحُكْمُ بِالتَّرْجِيحِ لِلْعَالِي عِنْدَ التَّعَارُضِ. المُسَلْسَلُوَالمُسَلْسَلُ: مَا اتَّفَقَ الرُّوَاةُ فِيهِ عَلَى شَيْءٍ وَاحِدٍ، فِيمَا يَتَعَلَّقُ بِالرَّاوِي أَوِ الرِّوَايَةِ.وَفَائِدَتُهُ: بَيَانُ ضَبْطِ الرُّوَاةِ فِي أَخْذِ بَعْضِهِمْ مِنْ بَعْضٍ، وَعِنَايَةُ كُلِّ وَاحِدٍ بِاتِّبَاعِ مَنْ قَبْلَهُ. تَحَمُّلُ الحَدِيثِوَتَحَمُّلُ الحَدِيثِ: أَخْذُهُ عَمَّنْ حَدَّثَ بِهِ عَنْهُ.وَشُرُوطُهُ ثَلَاثَةٌ: التَّمْيِيزُ، وَالعَقْلُ، وَالسَّلَامَةُ مِنَ المَوَانِعِ.
সনদ বা ইসনাদ (الإسناد)আর সনদ (الإسناد) হলো: হাদিসের বর্ণনাকারীগণ (الرواة) যারা তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন।আর এটি উচ্চ (عالي) এবং নিম্ন (نازل)—এই দুই ভাগে বিভক্ত।উচ্চ (عالي) হলো: যা সহিহ বা সঠিক হওয়ার (الصحة) অধিক নিকটবর্তী, আর নিম্ন (نازل) হলো তার বিপরীত।আর উচ্চতা (العلو) দুই প্রকার: গুণগত উচ্চতা (علو صفة) এবং সংখ্যাগত উচ্চতা (علو عدد)।১ - গুণগত উচ্চতা (علو صفة): তা হলো অন্য কোনো সনদের বর্ণনাকারীদের তুলনায় এই সনদের বর্ণনাকারীগণ মুখস্থশক্তি ও নির্ভুলতা (الضبط) অথবা ন্যায়পরায়ণতায় (العدالة) অধিক শক্তিশালী হওয়া।২ - সংখ্যাগত উচ্চতা (علو عدد): তা হলো অন্য কোনো সনদের তুলনায় একটি সনদে বর্ণনাকারীদের সংখ্যা কম হওয়া।আর নিম্নগামিতা (النزول) হলো উচ্চতার বিপরীত, যা দুই প্রকার: গুণগত নিম্নগামিতা (نزول صفة) এবং সংখ্যাগত নিম্নগামিতা (نزول عدد)।১ - গুণগত নিম্নগামিতা (نزول صفة): তা হলো অন্য কোনো সনদের বর্ণনাকারীদের তুলনায় এই সনদের বর্ণনাকারীগণ মুখস্থশক্তি ও নির্ভুলতা (الضبط) অথবা ন্যায়পরায়ণতায় (العدالة) অধিক দুর্বল হওয়া।২ - সংখ্যাগত নিম্নগামিতা (نزول عدد): তা হলো অন্য কোনো সনদের তুলনায় একটি সনদে বর্ণনাকারীদের সংখ্যা বেশি হওয়া।কখনো কখনো একই সনদে উভয় প্রকার—গুণগত উচ্চতা (علو صفة) ও সংখ্যাগত উচ্চতা (علو عدد)—একত্রে পাওয়া যায়। ফলে সনদটি গুণগত দিক থেকে এবং সংখ্যাগত দিক থেকেও উচ্চ (عالي) হয়ে থাকে।আবার কখনো কখনো অন্যটি ব্যতীত কেবল একটি পাওয়া যায়। তখন সনদটি গুণের দিক থেকে উচ্চ (عالي) হলেও সংখ্যার দিক থেকে নিম্ন (نازل) হয়, অথবা এর বিপরীত ঘটে।উচ্চ (العلو) ও নিম্ন (النزول) সনদ সম্পর্কে জানার উপকারিতা হলো: বর্ণনার মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিলে উচ্চ (العالي) সনদকে প্রাধান্য (الترجيح) দেওয়ার বিধান প্রদান করা। মুসালসাল (المسلسل)আর মুসালসাল (المسلسل) হলো: যাতে বর্ণনাকারীগণ (الرواة) বর্ণনাকারী বা বর্ণনা সংক্রান্ত কোনো একটি বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেন।এর উপকারিতা হলো: একে অপরের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের (الرواة) প্রখর স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতার (الضبط) বর্ণনা এবং পূর্ববর্তীদের অনুসরণের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের বিশেষ যত্নের বহিঃপ্রকাশ। হাদিস গ্রহণ (تحمل الحديث)আর হাদিস গ্রহণ (تحمل الحديث) হলো: যার নিকট থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে তার থেকে তা গ্রহণ করা।এর শর্তাবলি তিনটি: পার্থক্য করার ক্ষমতা (التمييز), সুস্থ বিবেক (العقل) এবং প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত থাকা।
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَأَنْوَاعُهُ كَثِيرَةٌ؛ فَمِنْهَا:1 - السَّمَاعُ مِنْ لَفْظِ الشَّيْخِ، وَأَرْفَعُهُ: مَا يَقَعُ إِمْلَاءً.2 - وَالقِرَاءَةُ عَلَى الشَّيْخِ، وَيُسَمَّى: (العَرْضَ).3 - وَالإِجَازَةُ، وَهِيَ: أَنْ يَأْذَنَ الشَّيْخُ بِالرِّوَايَةِ عَنْهُ؛ سَوَاءٌ أَذِنَ لَهُ لَفْظًا أَوْ كِتَابَةً.وَيُشْتَرَطُ لِصِحَّتِهَا ثَلاثَةُ شُرُوطٍ:الأَوَّلُ: أَنْ يَكُونَ المُجَازُ بِهِ مَعْلُومًا؛ إِمَّا بِالتَّعْيِينِ أَوِ التَّعْمِيمِ.فَإِنْ كَانَ المُجَازُ بِهِ مُبْهَمًا: لَمْ تَصِحَّ الرِّوَايَةُ بِهَا.وَالثَّانِي: أَنْ يَكُونَ المُجَازُ لَهُ مَوْجُودًا.وَالثَّالِثُ: أَنْ يَكُونَ المُجَازُ لَهُ مُعَيَّنًا بِشَخْصِهِ أَوْ بِوَصْفِهِ.فَإِنْ كَانَ عَامًّا: لَمْ تَصِحَّ الإِجَازَةُ.وَقِيلَ: تَصِحُّ لِلْمَعْدُومِ، وَغَيْرِ المُعَيَّنِ - وَاللهُ أَعْلَمُ -. أَدَاءُ الحَدِيثِوَأَدَاءُ الحَدِيثِ: إِبْلَاغُهُ إِلَى الغَيْرِ.وَلِقَبُولِ الأَدَاءِ شُرُوطٌ؛ مِنْهَا: العَقْلُ، وَالبُلُوغُ، وَالإِسْلَامُ، وَالعَدَالَةُ، وَالسَّلَامَةُ مِنَ المَوَانِعِ.وَصِيَغُ الأَدَاءِ: مَا يُؤَدَّى بِهَا الحَدِيثُ.وَلَهَا مَرَاتِبُ:الأُولَى: (سَمِعْتُ)، وَ (حَدَّثَنِي): إِذَا سَمِعَ وَحْدَهُ مِنَ الشَّيْخِ، فَإِنْ كَانَ مَعَهُ غَيْرُهُ؛ قَالَ: (سَمِعْنَا)، وَ (حَدَّثَنَا).وَالثَّانِيَةُ: (قَرَأْتُ عَلَيْهِ)، وَ (أَخْبَرَنِي قِرَاءَةً عَلَيْهِ)، وَ (أَخْبَرَنِي): إِذَا قَرَأَ عَلَى الشَّيْخِ.وَالثَّالِثَةُ: (قُرِئَ عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ)، وَ (قَرَأْنَا عَلَيْهِ)، وَ (أَخْبَرَنَا): إِذَا قُرِئَ عَلَى الشَّيْخِ وَهُوَ يَسْمَعُ.وَالرَّابِعَةُ: (أَخْبَرَنِي إِجَازَةً)، وَ (حَدَّثَنِي إِجَازَةً)، وَ (أَنْبَأَنِي)، وَ (عَنْ فُلَانٍ): إِذَا رَوَى عَنْهُ بِالإِجَازَةِ.
এর প্রকারভেদ অনেক; সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:1 - শায়খের মুখনিঃসৃত শব্দ থেকে শ্রবণ (السماع), আর এর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর হলো: যা শ্রুতলিখন (إملاء) এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।2 - শায়খের নিকট পাঠ করা (القراءة), একে বলা হয়: উপস্থাপন (العرض)।3 - অনুমতি প্রদান (الإجازة), আর তা হলো: শায়খ কর্তৃক তার থেকে বর্ণনা (الرواية) করার অনুমতি প্রদান করা; চাই তিনি মৌখিকভাবে অনুমতি দেন অথবা লিখিতভাবে।এর শুদ্ধতার (صحة) জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে:প্রথমত: যে বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তা জ্ঞাত হতে হবে; চাই তা নির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে হোক কিংবা ব্যাপকতার ভিত্তিতে।যদি অনুমতিপ্রাপ্ত বিষয়টি অস্পষ্ট (مبهم) হয়, তবে তার মাধ্যমে বর্ণনা (الرواية) শুদ্ধ (صحة) হবে না।দ্বিতীয়ত: যাকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তাকে বিদ্যমান থাকতে হবে।তৃতীয়ত: যাকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তাকে ব্যক্তিগতভাবে অথবা গুণাগুণের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট হতে হবে।যদি তা সাধারণ (عام) হয়, তবে অনুমতি প্রদান (الإجازة) শুদ্ধ (صحة) হবে না।বলা হয়ে থাকে: অবিদ্যমান (معدوم) এবং অনির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্যেও তা শুদ্ধ (صحة) হবে - আল্লাহই ভালো জানেন। হাদিস বর্ণনা (أداء الحديث)হাদিস বর্ণনা (أداء الحديث) হলো: অন্যের নিকট তা পৌঁছে দেওয়া।বর্ণনা (الأداء) গ্রহণের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে; তন্মধ্যে রয়েছে: আকল বা বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, ইসলাম গ্রহণ করা, ন্যায়নিষ্ঠতা (العدالة) এবং বর্ণনার প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত থাকা।বর্ণনার শব্দাবলি (صيغ الأداء): যার মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করা হয়।এর বিভিন্ন স্তর (مراتب) রয়েছে:প্রথম স্তর: 'আমি শুনেছি' (سمعت), এবং 'তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثني): যখন সে একাকী শায়খের নিকট থেকে শ্রবণ করে। আর যদি তার সাথে অন্য কেউ থাকে, তবে সে বলবে: 'আমরা শুনেছি' (سمعنا), এবং 'তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثنا)।দ্বিতীয় স্তর: 'আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি' (قرأت عليه), 'আমি তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرني قراءة عليه), এবং 'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرني): যখন সে নিজে শায়খের নিকট পাঠ করে।তৃতীয় স্তর: 'তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি শুনছিলাম' (قرئ عليه وأنا أسمع), 'আমরা তাঁর নিকট পাঠ করেছি' (قرأنا عليه), এবং 'তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرنا): যখন শায়খের নিকট পাঠ করা হয় এবং তিনি তা শ্রবণ করেন।চতুর্থ স্তর: 'তিনি আমাকে অনুমতির মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرني إجازة), 'তিনি আমাকে অনুমতির মাধ্যমে হাদীস বর্ণনা করেছেন' (حدثني إجازة), 'তিনি আমাকে অবহিত করেছেন' (أنبأني), এবং 'অমুক থেকে বর্ণিত' (عن فلان): যখন সে তাঁর থেকে অনুমতির (الإجازة) মাধ্যমে বর্ণনা (روى) করে।
(খণ্ড: ১)
আন-নুবজাতুল উছায়মীনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وهَذَا عِنْدَ المُتَأَخِّرِينَ، أَمَّا المُتَقَدِّمُونَ فَيَرَوْنَ أَنَّ (حَدَّثَنِي) وَ (أَخْبَرَنِي) وَ (أَنْبَأَنِي) بِمَعْنًى وَاحِدٍ، يُؤَدِّي بِهَا مَنْ سَمِعَ مِنَ الشَّيْخِ.وَبَقِيَ صِيَغٌ أُخْرَى تَرَكْنَاهَا؛ حَيْثُ لَمْ نَتَعَرَّضْ لِأَنْوَاعِ التَّحَمُّلِ بِهَا. آدَابُ العَالِمِ وَالمُتَعَلِّمِوَلِكُلٍّ مِنَ العَالِمِ وَالمُتَعَلِّمَ آدَابٌ يَنْبَغِي مُرَاعَاتُهَا؛ مِنْهَا مَا هُوَ مُشْتَرَكٌ بَيْنَهُمَا، وَمِنْهَا مَا هُوَ مُخْتَصٌّ بِأَحَدِهِمَا.فَمِنَ الآدَابِ المُشْتَرَكَةِ:1 - إِخْلَاصُ النِّيَّةِ للهِ.2 - وَالعَمَلُ بِمَا عَلِمَ.3 - وَالتَّخَلُّقُ بِالأَخْلَاقِ الفَاضِلَةِ.4 - وَاجْتِنَابُ الأَخْلَاقِ السَّافِلَةِ.وَمِنَ الآدَابِ المُخْتَصَّةِ بِالمُعَلِّمِ:1 - الحِرْصُ عَلَى نَشْرِ العِلْمِ بِجَمِيعِ الوَسَائِلِ.2 - وَالصَّبْرُ عَلَى أَذَى المُتَعَلِّمِينَ وَسُوءِ مُعَامَلَتِهِمْ لَهُ.3 - وَأَنْ يَمْثُلَ أَمَامَ الطَّلَبَةِ بِمَا يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ عَلَيْهِ مِنْ دِينٍ وَخُلُقٍ.4 - وَأَنْ يَسْلُكَ أَقْرَبَ الطُّرُقِ فِي إِيصَالِ العِلْمِ إِلَى تَلَامِيذِهِ، وَمَنْعِ مَا يَحُولُ دُونَ ذَلِكَ.وَمِنَ الآدَابِ المُخْتَصَّةِ بِالمُتَعَلِّمِ:1 - بَذْلُ الجُهْدِ فِي إِدْرَاكِ العِلْمِ.2 - وَالبَدْءُ بِالأَهَمِّ فَالأَهَمِّ فِيمَا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ مِنَ العِلْمِ فِي أُمُورِ دِينِهِ وَدُنْيَاهُ.3 - وَالتَّوَاضُعُ فِي طَلَبِ العِلْمِ.4 - وَتَوْقِيرُ المُعَلِّمِ، وَاحْتِرَامُهُ بِمَا يَلِيقُ بِهِ.5 - وَالحِرْصُ عَلَى المُذَاكَرَةِ.
এটি পরবর্তী যুগের আলিমদের (المتأخرون) নিকট পরিভাষা; তবে পূর্ববর্তী আলিমগণ (المتقدمون) মনে করেন যে, 'তিনি আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন' (حدثني), 'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرني) এবং 'তিনি আমাকে অবহিত করেছেন' (أنبأني) একই অর্থবোধক। যিনি শাইখের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণ করেছেন, তিনি এই শব্দগুলো ব্যবহার করে হাদিস বর্ণনা করবেন।এছাড়াও আরও কিছু শব্দসমষ্টি (صيغ) অবশিষ্ট রয়েছে যা আমরা ছেড়ে দিয়েছি; যেহেতু আমরা সেগুলো সংশ্লিষ্ট ইলম গ্রহণের পদ্ধতিসমূহ (أنواع التحمل) নিয়ে আলোচনা করিনি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর আদবসমূহশিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রত্যেকেরই কিছু আদব রয়েছে যা পালন করা উচিত; এর মধ্যে কিছু বিষয় উভয়ের জন্য সাধারণ বা যৌথ, আর কিছু বিষয় কোনো একজনের জন্য নির্দিষ্ট।যৌথ আদবগুলোর মধ্যে রয়েছে:1 - আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়ত বিশুদ্ধ করা।2 - অর্জিত ইলম অনুযায়ী আমল করা।3 - উত্তম চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া।4 - হীন স্বভাব বর্জন করা।শিক্ষকের জন্য নির্দিষ্ট আদবগুলোর মধ্যে রয়েছে:1 - সকল উপায়ে ইলম প্রচারের ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া।2 - শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আসা কষ্ট ও তাদের কুরুচিপূর্ণ আচরণের ওপর ধৈর্য ধারণ করা।3 - শিক্ষার্থীদের সামনে দ্বীনদারি ও নৈতিকতার এমন আদর্শে উপস্থিত হওয়া যা একজন শিক্ষকের জন্য বাঞ্ছনীয়।4 - ছাত্রদের নিকট ইলম পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিকটতম পথ অবলম্বন করা এবং এর প্রতিবন্ধক বিষয়সমূহ দূর করা।শিক্ষার্থীর জন্য নির্দিষ্ট আদবগুলোর মধ্যে রয়েছে:1 - ইলম অর্জনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা।2 - দ্বীন ও দুনিয়ার প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহের মধ্যে ক্রমান্বয়ে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে ইলম শিক্ষা শুরু করা।3 - ইলম অন্বেষণে বিনয়ী হওয়া।4 - শিক্ষকের প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করা।5 - নিয়মিত পাঠ পর্যালোচনার (مذاكرة) প্রতি যত্নশীল হওয়া।