(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: -)
المقدمة العثيمينية في أصول الفقه   (حازم خنفر)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: المقدمة العثيمينية في أصول الفقه - سِلْسِلَةُ مُتُونِ الكُتُبِ وَمُخْتَصَرَاتِهَا (1)

المؤلف: حازم خنفر

عدد الأجزاء: 1

[الكتاب غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 صفر 1440

আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমিনিয়্যাহ ফি উসুলিল ফিকহ   (হাজিম খানফার)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি


বই: আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমিনিয়্যাহ ফি উসুলিল ফিকহ - মূলগ্রন্থ ও সংক্ষিপ্তসার সিরিজ (১)

লেখক: হাজিম খানফার

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটি মুদ্রিত নয়]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ সফর ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১)
سِلْسِلَةُ مُتُونِ الكُتُبِ وَمُخْتَصَرَاتِهَا (1)

 

المُقَدّمَة العُثيْمِينِيَّة

فِي

أُصُولِ الفِقْه

 

إعْدَاد

حَازِم خَنْفَر
গ্রন্থসমূহের মূল পাঠ (متون) ও সেগুলোর সংক্ষিপ্তসারসমূহের ধারাবাহিক (১)

 

আল-মুক্বাদ্দিমাতুল উসাইমিনিয়্যাহ

বিষয়ে

উসূলুল ফিকহ (أصول الفقه)

 

প্রস্তুতকরণে

হাজেম খানফার
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২)
حُقُوقُ الطَّبْعِ مَبْذُولَةٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ

প্রকাশনা স্বত্ব প্রত্যেক মুসলিমের জন্য উন্মুক্ত।

(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تَمْهِيد

الحَمْدُ للهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ، وَعَلَى آلِهِ، وَصَحْبِهِ، وَمَنْ وَالَاهُ.

أَمَّا بَعْدُ:

فَهَذَا المَتْنُ الأَوَّلُ مِنْ سِلْسِلَتِي الَّتِي سَمَّيْتُهَا: (سِلْسَلَةَ مُتُونِ الكُتُبِ وَمُخْتَصَرَاتِهَا)، وَأَرَدْتُ بِهَا: صِياغَةَ مَتُونٍ وَمُخْتَصَرَاتٍ لِلْعُلُومِ المُخْتَلِفَةِ بِأُسْلُوبٍ عَصْرِيٍّ وَسَهْلٍ، وَذَلِكَ اعْتِمَادًا عَلَى بَعْضِ الكُتُبِ لِبَعْضِ أَهْلِ العِلْمِ المُعَاصِرِينَ، مِمَّنْ حَظِيَتْ كُتُبُهُمْ بِتَقْرِيبِ المَسَائِلِ وَسُهُولَةِ السَّبْكِ فِي العِبَارَةِ، أَوْ مِمَّنْ حَظِيَ عِلْمُهُمْ بِثِقَةِ طُلَّابِ العِلْمِ، فَأَسْتَخْرِجُ مِنْهَا مَا يَصْلُحُ أَنْ يَكُونَ مَتْنًا أَوْ مُخْتَصَرًا لِلْكِتَابِ المُنْتَقَى؛ لِيَكُونَ عَوْنًا لِلطَّالِبِ لِفَهْمِ أَصْلِ مَادَّةِ الكِتَابِ وَحِفْظِهَا.

وَابْتَدَأَتُ هَذِهِ السِّلْسِلَةَ بِكِتَابِ التِّعْلَامَةِ مُحَمَّد بْنِ صَالِح العُثَيْمِين: (الأُصُول مِنْ عِلْم الأُصُول)، فَاسْتَخْرَجْتُ مِنْ أُصُولِ مَسَائِلِهِ مَتْنًا يَكُونُ عُمْدَةً لِطَالِبِ هَذَا الفَنِّ وَأَسَاسًا وَرُكْنًا.

فَأَسْأَلُ اللهَ أَنْ يَنْفَعَ بِهِ، وَأَنْ يَجْعَلَ لَهُ القَبُولَ، وَأَنْ لَا يَحْرِمَنَا أَجْرَ إِعْدَادِهِ، إِنَّهُ سَمِيعٌ مُجِيبٌ.

 

حَازِم خَنْفَر

2/ 2/2016 م

23/ 4/1437 هـ
উপক্রমণিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবৃন্দ এবং যারা তাঁর আনুগত্য করেছেন তাঁদের ওপর।

অতঃপর:

এটি আমার সেই সিরিজের প্রথম মূলপাঠ (متن), যার নাম আমি রেখেছি: 'সিলসিলাতু মুতুনিল কুতুব ওয়া মুখতাসারাতিহা' (গ্রন্থসমূহের মূলপাঠ ও সারসংক্ষেপের ধারাবাহিক সিরিজ)। এর মাধ্যমে আমি বিভিন্ন শাস্ত্রের মূলপাঠ (متن) ও সারসংক্ষেপ (مختصر) আধুনিক ও সহজ পদ্ধতিতে প্রণয়ন করার ইচ্ছা করেছি। এটি করা হয়েছে বর্তমান যুগের এমন কিছু বিদগ্ধ আলেমের কিতাবের ওপর ভিত্তি করে, যাদের কিতাবসমূহ মাসআলাগুলোকে সহজবোধ্য করার জন্য এবং প্রাঞ্জল বর্ণনার কারণে সমাদৃত হয়েছে, অথবা যাদের ইলম তালিবে ইলমদের নিকট নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। ফলে আমি সেই নির্বাচিত কিতাবসমূহ থেকে এমন অংশ বের করেছি যা কিতাবটির মূলপাঠ (متن) অথবা সারসংক্ষেপ (مختصر) হওয়ার যোগ্য; যাতে এটি শিক্ষার্থীর জন্য কিতাবের মূল বিষয়বস্তু বুঝতে ও মুখস্থ করতে সহায়ক হয়।

আমি এই সিরিজটি শুরু করেছি প্রাজ্ঞ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীনের কিতাব: 'আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল' এর মাধ্যমে। আমি এর মৌলিক মাসআলাগুলো থেকে এমন একটি মূলপাঠ (متن) চয়ন করেছি যা এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য একটি নির্ভরস্থল, ভিত্তি ও স্তম্ভ হবে।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে উপকার দান করেন, একে কবুল করেন এবং এর প্রস্তুতির সওয়াব থেকে আমাদের বঞ্চিত না করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দোয়া কবুলকারী।

 

হাযেম খানফার

২/ ২/ ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ

২৩/ ৪/ ১৪৩৭ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تَعْرِيفُ أُصُولِ الفِقْهِ

أُصُولُ الفِقْهِ يُعَرَّفُ بِاعْتِبَارَيْنِ:

الأَوَّلُ: بِاعْتِبَارِ مُفْرَدَيْهِ:

فَالأُصُولُ: جَمْعُ (أَصْلٍ)، وَهُوَ مَا يُبْنَى عَلَيْهِ غَيْرُهُ.

وَالفِقْهُ: مَعْرِفَةُ‌‌ الأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ العَمَلِيَّةِ بِأَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ.

وَالثَّانِي: بِاعْتِبَارِ كَوْنِهِ لَقَبًا لِهَذَا الفَنِّ المُعَيَّنِ، فَيُعَرَّفُ بِأَنَّهُ: عِلْمٌ يَبْحَثُ عَنْ أَدِلَّةِ الفِقْهِ الإِجْمَالِيَّةِ، وَكَيْفِيَّةِ الاسْتِفَادَةِ مِنْهَا، وَحَالِ المُسْتَفِيدِ.

وَفَائِدَتُهُ: التَّمَكُّنُ مِنْ حُصُولِ قُدْرَةٍ يَسْتَطِيعُ بِهَا اسْتِخْرَاجَ الأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ مْنِ أَدِلَّتِهَا عَلَى أُسُسٍ سَلِيمَةٍ.

 

الأَحْكَامُ

وَالأَحْكَامُ: مَا اقْتَضَاهُ خِطَابُ الشَّرْعِ المُتَعَلِّقِ بِأَفْعَالِ المُكَلَّفِينَ؛ مِنْ طَلَبٍ أَوْ تَخْيِيرٍ أَوْ وَضْعٍ.

وَتَنْقَسِمُ إِلَى: تَكْلِيفِيَّةٍ وَوَضْعِيَّةٍ.

فَالتَّكْلِيفِيَّةُ: الوَاجِبُ، وَالمَنْدُوبُ، وَالمُحَرَّمُ، وَالمَكْرُوهُ، وَالمُبَاحُ.

1 - فَالوَاجِبُ: مَا أَمَرَ بِهِ الشَّارِعُ عَلَى وَجْهِ الإِلْزَامِ.

وَيُثَابُ فَاعِلُهُ امْتِثَالًا، وَيَسْتَحِقُّ العِقَابَ تَارِكُهُ.

وَيُسَمَّى: فَرْضًا، وَفَرِيضَةً، وَحَتْمًا، وَلَازِمًا.

2 - وَالمَنْدُوبُ: مَا أَمَرَ بِهِ الشَّارِعُ لَا عَلَى وَجْهِ الإِلْزَامِ.

وَيُثَابُ فَاعِلُهُ امْتِثَالًا، وَلَا يُعَاقَبُ تَارِكُهُ.

وَيُسَمَّى: سُنَّةً، وَمَسْنُونًا، وَمُسْتَحَبًّا، وَنَفْلًا.

3 - وَالمُحَرَّمُ: مَا نَهَى عَنْهُ الشَّارِعُ عَلَى وَجْهِ الإِلْزَامِ بِالتَّرْكِ.
‌‌উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)-এর সংজ্ঞা

উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)-কে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সংজ্ঞায়িত করা হয়:

প্রথমত: এর শব্দদ্বয়ের একক অর্থ বিবেচনায়:

উসুল (الأصول) হলো আসল (أصل)-এর বহুবচন, যা এমন এক মূল ভিত্তি যার ওপর অন্য কিছু দাঁড়িয়ে থাকে।

আর ফিকহ (الفقه) হলো: বিস্তারিত দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে শরীয়তের ব্যবহারিক বিধানাবলি (الأحكام) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

দ্বিতীয়ত: এই বিশেষ শাস্ত্রের পারিভাষিক নাম হিসেবে। এর সংজ্ঞা হলো: এমন এক বিজ্ঞান যা ফিকহ-এর সামগ্রিক দলীলসমূহ, সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং বিধান আহরণকারীর অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে।

এর উপকারিতা হলো: এমন এক যোগ্যতা অর্জন করা যার মাধ্যমে সঠিক মূলনীতির ভিত্তিতে দলীলসমূহ থেকে শরীয়তের বিধানাবলি (الأحكام) বের করা সম্ভব হয়।

 

বিধানাবলি (الأحكام)

বিধানাবলি (الأحكام) হলো: মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট শরীয়তের সেই সম্বোধন, যা কোনো কাজ করা বা না করার দাবি জানায়, অথবা তা করার বা না করার স্বাধীনতা প্রদান করে, কিংবা কোনো বিষয়কে কারণ বা শর্ত হিসেবে নির্ধারণ (وضع) করে।

এটি দুই ভাগে বিভক্ত: তাকলিফী বা দায়িত্বারোপকারী (تكليفية) এবং ওয়াদ'ঈ বা সংস্থাপক (وضعية)।

তাকলিফী (تكليفية) বিধানগুলো হলো: ওয়াজিব (الواجب), মানদুব (المندوب), হারাম (المحرم), মাকরূহ (المكروه) এবং মুবাহ (المباح)।

1 - ওয়াজিব (الواجب): যা শরীয়ত প্রণেতা বাধ্যতামূলকভাবে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর পালনকারী আনুগত্যের নিয়তে এটি সম্পন্ন করলে সওয়াব লাভ করবে এবং বর্জনকারী শাস্তির উপযুক্ত হবে।

একে ফরজ (فرض), ফরিদা (فريضة), হাতম (حتم) এবং লাযেম (لازم) বলা হয়।

2 - মানদুব (المندوب): যা শরীয়ত প্রণেতা নির্দেশ দিয়েছেন তবে তা বাধ্যতামূলকভাবে নয়।

এর পালনকারী আনুগত্যের নিয়তে এটি সম্পন্ন করলে সওয়াব লাভ করবে, কিন্তু বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হবে না।

একে সুন্নাত (سنة), মাসনুন (مسنون), মুস্তাহাব (مستحب) এবং নফল (نفل) বলা হয়।

3 - হারাম (المحرم): যা শরীয়ত প্রণেতা বাধ্যতামূলকভাবে বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وَيُثَابُ تَارِكُهُ امْتِثَالًا، وَيَسْتَحِقُّ العِقَابَ فَاعِلُهُ.

وَيُسَمَّى: مَحْظُورًا، أَوْ مَمْنُوعًا.

4 - وَالمَكْرُوهُ: مَا نَهَى عَنْهُ الشَّارِعُ لَا عَلَى وَجْهِ الإِلْزَامِ بِالتَّرْكِ.

وَيُثَابُ تَارِكُهُ امْتِثَالًا، وَلَا يُعَاقَبُ فَاعِلُهُ.

5 - وَالمُبَاحُ: مَا لَا يَتَعَلَّقُ بِهِ أَمْرٌ وَلَا نَهْيٌ لِذَاتِهِ.

وَالمُبَاحُ مَا دَامَ عَلَى وَصْفِ الإِبَاحَةِ فَإِنَّهُ لَا يَتَرَتَّبُ عَلَيْهِ ثَوَابٌ وَلَا عِقَابٌ.

وَيُسَمَّى: حَلَالًا، وَجَائِزًا.

وَالوَضْعِيَّةُ: مَا وَضَعَهُ الشَّارِعُ مِنْ أَمَارَاتٍ، لِثُبُوتٍ أَوِ انْتِفَاءٍ، أَوْ نُفُوذٍ أَوْ إِلْغَاءٍ.

وَمِنْهَا: الصِّحَّةُ، وَالفَسَادُ.

1 - فالصَّحِيحُ: مَا تَرَتَّبَتْ آثَارُ فِعْلِهِ عَلَيْهِ - عِبَادَةً كَانَ أَمْ عَقْدًا -.

وَلَا يَكُونُ الشَّيْءُ صَحِيحًا إِلَّا بِتَمَامِ شُرُوطِهِ وَانْتِفَاءِ مَوَانِعِهِ.

فَإِنْ فُقِدَ شَرْطٌ مِنَ الشُّرُوطِ، أَوْ وُجِدَ مَانِعٌ مِنَ المَوَانِعِ: امْتَنَعَتِ الصِّحَّةُ.

2 - وَالفَاسِدُ: مَا لَا تَتَرَتَّبُ آثَارُ فِعْلِهِ عَلَيْهِ - عِبَادَةً كَانَ أَمْ عَقْدًا -.

وَكُلُّ فَاسِدٍ مِنَ العِبَادَاتِ وَالعُقُودِ وَالشُّرُوطِ فَإِنَّهُ مُحَرَّمٌ.

وَالفَاسِدُ وَالبَاطِلُ بِمَعْنًى وَاحِدٍ؛ إِلَّا فِي: الإِحْرَامِ، وَالنِّكَاحِ.

 

‌‌العِلْمُ

وَالعِلْمُ: إِدْرَاكُ الشَّيْءِ عَلَى مَا هُوَ عَلَيْهِ إِدْرَاكًا جَازِمًا.

وَيَنْقَسِمُ إِلَى: ضَرُورِيٍّ، وَنَظَرِيٍّ.

1 - فَالضَّرُورِيُّ: مَا يَكُونُ إِدْرَاكُ المَعْلُومِ فِيهِ ضَرُورِيًّا مِنْ غَيْرِ نَظَرٍ وَلَا اسْتِدْلَالٍ.

2 - وَالنَّظَرِيُّ: مَا يَحْتَاجُ إِلَى نَظَرٍ وَاسْتِدْلَالٍ.

 

‌‌الكَلَامُ

وَالكَلَامُ: اللَّفْظُ المُفِيدُ.

وَأَقَلُّ مَا يَتَأَلَّفُ مِنْهُ الكَلَامُ: اسْمَانِ، أَوْ فِعْلٌ وَاسْمٌ.

وَوَاحِدُ الكَلَامِ: كَلِمَةٌ، وَهِيَ: اللَّفْظُ المَوْضُوعُ لِمَعْنًى مُفْرَدٍ.
এবং এর বর্জনকারী আনুগত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে সওয়াব লাভ করেন, আর সম্পাদনকারী শাস্তির যোগ্য হন।

আর একে নিষিদ্ধ (محظور) অথবা বর্জিত (ممنوع) বলা হয়।

4 - আর মাকরূহ (مكروه): বিধানদাতা যা বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন তবে তা বাধ্যতামূলকভাবে নয়।

এর বর্জনকারী আনুগত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে সওয়াব লাভ করেন, কিন্তু সম্পাদনকারী শাস্তিপ্রাপ্ত হন না।

5 - আর মুবাহ (مباح): যার সত্তার সাথে কোনো আদেশ বা নিষেধ সংশ্লিষ্ট নয়।

মুবাহ (مباح) যতক্ষণ পর্যন্ত বৈধতার বৈশিষ্ট্যের ওপর থাকে, ততক্ষণ তার ওপর কোনো সওয়াব বা শাস্তি বর্তায় না।

আর একে হালাল (حلال) ও বৈধ (جائز) বলা হয়।

আর প্রাসঙ্গিক বিধি (وضعية): যা বিধানদাতা কোনো কিছু সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়া, অথবা কার্যকর হওয়া বা বাতিল হওয়ার চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

তার মধ্যে রয়েছে: বিশুদ্ধতা (صحة) ও ত্রুটিপূর্ণতা (فساد)।

1 - সুতরাং সহিহ (صحيح) হলো: যার কর্মের প্রভাব তার ওপর কার্যকর হয়—তা ইবাদত হোক কিংবা চুক্তি।

কোনো বিষয় তার শর্তাবলি পূর্ণ হওয়া এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর হওয়া ব্যতীত সহিহ (صحيح) হয় না।

যদি শর্তাবলির মধ্য থেকে কোনো শর্ত অনুপস্থিত থাকে অথবা প্রতিবন্ধকগুলোর মধ্য থেকে কোনো প্রতিবন্ধক উপস্থিত থাকে, তবে তার বিশুদ্ধতা (صحة) রহিত হয়ে যায়।

2 - আর ফাসিদ (فاسد) হলো: যার কর্মের প্রভাব তার ওপর কার্যকর হয় না—তা ইবাদত হোক কিংবা চুক্তি।

ইবাদত, চুক্তি ও শর্তাবলির মধ্য হতে প্রত্যেক ফাসিদ (فاسد) বিষয়ই হারাম।

আর ফাসিদ (فاسد) ও বাতিল (باطل) একই অর্থবোধক; তবে ইহরাম ও নিকাহ-এর ক্ষেত্র ব্যতীত।

 

‌‌জ্ঞান

আর জ্ঞান হলো: কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থায় দৃঢ়ভাবে উপলব্ধি করা।

আর এটি দুই ভাগে বিভক্ত: অপরিহার্য (ضروري) ও চিন্তানির্ভর (نظري)।

1 - সুতরাং অপরিহার্য (ضروري): যাতে জ্ঞাত বিষয়টির উপলব্ধি কোনো চিন্তা বা প্রমাণ ছাড়াই আবশ্যকীয়ভাবে অর্জিত হয়।

2 - আর চিন্তানির্ভর (نظري): যা চিন্তা ও প্রমাণের মুখাপেক্ষী।

 

‌‌বাক্য

আর বাক্য হলো: অর্থবহ শব্দ।

আর বাক্য গঠিত হওয়ার সর্বনিম্ন পর্যায় হলো: দুটি বিশেষ্য, অথবা একটি ক্রিয়া ও একটি বিশেষ্য।

বাক্যের একক হলো: শব্দ (كلمة), আর তা হলো: এমন শব্দ যা একক অর্থের জন্য নির্ধারিত।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وَهِيَ: إِمَّا اسْمٌ، أَوْ فِعْلٌ، أَوْ حَرْفٌ.

1 - فَالاسْمُ: مَا دَلَّ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهِ مِنْ غَيْرِ إِشْعَارٍ بِزَمَنٍ.

2 - وَالفِعْلُ: مَا دَلَّ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهِ، وَأَشْعَرَ بِهَيْئَتِهِ بِأَحَدِ الأَزْمِنَةِ الثَّلَاثَةِ.

3 - وَالحَرْفُ: مَا دَلَّ عَلَى مَعْنًى فِي غَيْرِهِ.

وَيَنْقَسِمُ الكَلَامُ بِاعْتِبَارِ إِمْكَانِ وَصْفِهِ بِالصِّدْقِ وَعَدَمِهِ إلى: خَبَرٍ، وَإِنْشَاءٍ.

1 - فَالخَبَرُ: مَا يُمْكِنُ أَنْ يُوصَفَ بِالصِّدْقِ أَوِ الكَذِبِ لِذَاتِهِ.

2 - وَالإِنْشَاءُ: مَا لَا يُمْكِنُ أَنْ يُوصَفَ بِالصِّدْقِ وَالكَذِبِ.

وَيَنْقَسِمُ الكَلَامُ مِنْ حَيْثُ الاسْتِعْمَالُ إِلَى: حَقِيقَةٍ، وَمَجَازٍ.

1 - فَالحَقِيقَةُ: اللَّفْظُ المُسْتَعْمَلُ فِيمَا وُضِعَ لَهُ.

وَتَنْقَسِمُ إِلَى: لُغَوِيَّةٍ، وَشَرْعِيَّةٍ، وَعُرْفِيَّةٍ.

2 - وَالمَجَازُ: اللَّفْظُ المُسْتَعْمَلُ فِي غَيْرِ مَا وُضِعَ لَهُ.

وَلَا يَجُوزُ حَمْلُ اللَّفْظِ عَلَى مَجَازِهِ إِلَّا بِدَلِيلٍ صَحِيحٍ يَمْنَعُ مِنْ إِرَادَةِ الحَقِيقَةِ.

وَيُشْتَرَطُ لِصِحَّةِ اسْتِعْمَالِ اللَّفْظِ فِي مَجَازِهِ: وُجُودُ ارْتِبَاطٍ بَيْنَ المَعْنَى الحَقِيقِيِّ وَالمَجَازِيِّ لِيَصِحَّ التَّعْبِيرُ بِهِ عَنْهُ.

 

‌‌الأَمْرُ

وَالأَمْرُ: قَوْلٌ يَتَضَمَّنُ طَلَبَ الفِعْلِ عَلَى وَجْهِ الاسْتِعْلَاءِ.

وَصِيَغُ الأَمْرِ أَرْبَعٌ:

1 - فِعْلُ الأَمْرِ.

2 - وَاسْمُ فِعْلِ الأَمْرِ.

3 - وَالمَصْدَرُ النَّائِبُ عَنْ فِعْلِ الأَمْرِ.

4 - وَالمُضَارِعُ المَقْرُونُ بِلَامِ الأَمْرِ.

وَصِيغَةُ الأَمْرِ عِنْدَ الإِطْلَاقِ تَقْتَضِي: وُجُوبَ المَأْمُورِ بِهِ، وَالمُبَادَرَةَ بِفِعْلِهِ فَوْرًا.

وَقَدْ يَخْرُجُ الأَمْرُ عَنِ الوُجُوبِ وَالفَوْرِيَّةِ لِدَلِيلٍ يَقْتَضِي ذَلِكَ.

وَإِذَا تَوَقَّفَ فِعْلُ المَأْمُورِ بِهِ عَلَى شَيْءٍ: كَانَ ذَلِكَ الشَّيْءُ مَأْمُورًا بِهِ، فَإِنْ كَانَ وَاجِبًا
এবং সেগুলো হলো: হয় বিশেষ্য, অথবা ক্রিয়া, নতুবা অব্যয়।

1 - বিশেষ্য: যা কোনো সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া ছাড়াই সয়ংসম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।

2 - ক্রিয়া: যা সয়ংসম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে এবং এর কাঠামোর মাধ্যমে তিন কালের কোনো একটির নির্দেশনা দেয়।

3 - অব্যয়: যা অন্য শব্দের সাথে মিলিত হওয়া ব্যতীত পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।

বাক্য সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনার বিচারের দুই প্রকার: সংবাদ (خبر) এবং ইনশা (إنشاء)।

1 - সংবাদ (خبر): যাকে সয়ং তার সত্তার বিচারে সত্য বা মিথ্যা বলে অভিহিত করা সম্ভব।

2 - ইনশা (إنشاء): যাকে সত্য বা মিথ্যা বলে অভিহিত করা সম্ভব নয়।

ব্যবহারের দিক থেকে বাক্য দুই প্রকার: প্রকৃত (حقيقة) এবং রূপক (مجاز)।

1 - প্রকৃত (حقيقة): এমন শব্দ যা তার মূল নির্ধারিত অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে।

এটি তিন প্রকার: ভাষাগত, শরয়ি এবং প্রথাগত।

2 - রূপক (مجاز): এমন শব্দ যা তার মূল নির্ধারিত অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

কোনো শব্দকে তার রূপক (مجاز) অর্থে গ্রহণ করা বৈধ নয় যতক্ষণ না কোনো সঠিক (صحيح) প্রমাণ পাওয়া যায় যা প্রকৃত (حقيقة) অর্থ গ্রহণে বাধা দেয়।

শব্দকে রূপক (مجاز) অর্থে ব্যবহার বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত হলো: প্রকৃত (حقيقة) ও রূপক (مجاز) অর্থের মধ্যে এমন কোনো সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা যার ফলে সেই শব্দ দিয়ে এই অর্থ প্রকাশ করা সঠিক হয়।

 

‌‌নির্দেশ (الأمر)

নির্দেশ (الأمر): এমন বক্তব্য যা শ্রেষ্ঠত্বের সাথে কোনো কাজ করার দাবি অন্তর্ভুক্ত করে।

নির্দেশের রূপ (صيغة) চারটি:

1 - নির্দেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر)।

2 - নির্দেশসূচক ক্রিয়ার বিশেষ্য (اسم فعل الأمر)।

3 - নির্দেশসূচক ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত মাসদার (المصدر)।

4 - আমরের লাম যুক্ত মুদারে (المضارع)।

নির্দেশের রূপ (صيغة) যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি নির্দেশিত বিষয়টি আবশ্যিক (واجب) হওয়া এবং অবিলম্বে তা সম্পাদন করার দাবি রাখে।

ক্ষেত্রবিশেষে কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে নির্দেশটি আবশ্যকতা (وجوب) এবং অবিলম্বে সম্পাদনের পর্যায় থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

আর যদি কোনো নির্দেশিত কাজ সম্পন্ন করা অন্য কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, তবে সেই বিষয়টিও নির্দেশিত বলে গণ্য হবে; সুতরাং যদি তা আবশ্যিক (واجب) হয়
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৮)
كَانَ ذَلِكَ الشَّيْءُ وَاجِبًا، وَإِنْ كَانَ مَنْدُوبًا كَانَ ذَلِكَ الشَّيْءُ مَنْدُوبًا.

 

‌‌النَّهْيُ

وَالنَّهْيُ: قَوْلٌ يَتَضَمَّنُ طَلَبَ الكَفِّ عَلَى وَجْهِ الاسْتِعْلَاءِ بِصِيغَةٍ مَخْصُوصَةٍ؛ هِيَ المُضَارِعُ المَقْرُونُ بِـ (لَا) النَّاهِيَةِ.

وَصِيغَةُ النَّهْيِ عِنْدَ الإِطْلَاقِ: تَقْتَضِي تَحْرِيمَ المَنْهِيِّ عَنْهُ وَفَسَادَهُ.

وَقَدْ يَخْرُجُ النَّهْيُ عَنِ التَّحْرِيمِ إِلَى مَعَانٍ أُخْرَى لِدَلِيلٍ يَقْتَضِي ذَلِكَ.

 

‌‌فَصْلٌ

وَالَّذِي يَدْخُلُ فِي الخِطَابِ بِالأَمْرِ وَالنَّهْيِ: هُوَ المُكَلَّفُ، وَهُوَ البَالِغُ العَاقِلُ.

وَالتَّكْلِيفُ بِالأَمْرِ وَالنَّهْيِ شَامِلٌ لِلْمُسْلِمِينَ وَالكُفَّارِ، لَكِنَّ الكَافِرَ لَا يَصِحُّ مِنْهُ فِعْلُ المَأْمُورِ بِهِ حَالَ كُفْرِهِ.

وَلِلتَّكْلِيفِ مَوَانِعُ؛ مِنْهَا: الجَهْلُ، وَالنِّسْيَانُ، وَالإِكْرَاهُ.

 

‌‌العَامُّ

وَالعَامُّ: اللَّفْظُ المُسْتَغْرِقُ لِجَمِيعِ أَفْرَادِهِ بِلَا حَصْرٍ.

وَصِيَغُ العُمُومِ سَبْعٌ:

1 - مَا دَلَّ عَلَى العُمُومِ بِمَادَّتِهِ.

2 - وَأَسْمَاءُ الشَّرْطِ.

3 - وَأَسْمَاءُ الاسْتِفْهَامِ.

4 - وَالأَسْمَاءُ المَوْصُولَةُ.

5 - وَالنَّكِرَةُ فِي سِيَاقِ النَّفْيِ أَوِ النَّهْيِ أَوِ الشَّرْطِ أَوْ الاسْتِفْهَامِ الإِنْكَارِيِّ.

6 - وَالمُعَرَّفُ بِالإِضَافَةِ - مُفْرَدًا كَانَ أَمْ مَجْمُوعًا -.

7 - وَالمُعَرَّفُ بِـ (ال) الاسْتِغْرَاقِيَّةِ - مُفْرَدًا كَانَ أَمْ مَجْمُوعًا -.

وَأَمَّا المُعَرَّفُ بِـ (ال) العَهْدِيَّةِ فَإِنَّهُ بِحَسَبِ المَعْهُودِ؛ فَإِنْ كَانَ عَامًّا فَالمُعَرَّفُ عَامٌّ، وَإِنْ كَانَ خَاصًّا فَالمُعَرَّفُ خَاصٌّ.

وَيَجِبُ العَمَلُ بِعُمُومِ اللَّفْظِ العَامِّ حَتَّى يَثْبُتَ تَخْصِيصُهُ.
সেই বিষয়টি ওয়াজিব (واجب) হবে, আর যদি তা পছন্দনীয় (مندوب) হয় তবে সেই বিষয়টি পছন্দনীয় (مندوب) হবে।

 

‌নিষেধ (النهي)

আর নিষেধ (النهي) হলো এমন বক্তব্য যা শ্রেষ্ঠত্ব বা বড়ত্বের ভিত্তিতে বিরত থাকার দাবি অন্তর্ভুক্ত করে এবং যা একটি নির্দিষ্ট রূপের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়; সেটি হলো 'না' বোধক অব্যয় (لا الناهية) যুক্ত বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালবাচক ক্রিয়া (المضارع)।

আর নিষেধের (النهي) রূপটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা নিষিদ্ধ বিষয়টি হারাম (تحريم) হওয়া এবং তা বাতিল বা ত্রুটিপূর্ণ (فساد) হওয়াকে আবশ্যক করে।

তবে কোনো প্রমাণের (دليل) ভিত্তিতে হারাম (التحريم) হওয়ার অর্থ থেকে সরে গিয়ে তা অন্য অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে।

 

‌একটি অনুচ্ছেদ (فصل)

আদেশ ও নিষেধের সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি হলেন মুকাল্লাফ (المكلف) তথা শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি, আর তিনি হলেন প্রাপ্তবয়স্ক (البالغ) ও বুদ্ধিমান (العاقل)।

আদেশ ও নিষেধ পালনের বাধ্যবাধকতা (التكليف) মুসলিম ও কাফির উভয়ের জন্য প্রযোজ্য, তবে কাফির ব্যক্তি কুফরি অবস্থায় থাকাকালীন তার থেকে আদিষ্ট কাজ সঠিক (يصح) হিসেবে গণ্য হয় না।

আর বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা (موانع) রয়েছে; তন্মধ্যে রয়েছে: অজ্ঞতা (الجَهْلُ), বিস্মৃতি (النِّسْيَانُ) এবং জবরদস্তি (الإِكْرَاهُ)।

 

‌ব্যাপকবোধক (العام)

আর ব্যাপকবোধক (العام) শব্দ হলো এমন শব্দ যা তার অন্তর্ভুক্ত সকল একককে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই শামিল করে।

আর ব্যাপকতার (العموم) রূপসমূহ সাতটি:

1 - যা তার মৌলিক শব্দ দ্বারা ব্যাপকতা (العموم) প্রকাশ করে।

2 - শর্তবাচক বিশেষ্যসমূহ (أسماء الشرط)।

3 - প্রশ্নবোধক বিশেষ্যসমূহ (أسماء الاستفهام)।

4 - সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যসমূহ (الأسماء الموصولة)।

5 - না-বোধক (النفي), নিষেধ (النهي), শর্ত (الشرط) অথবা অস্বীকৃতিমূলক প্রশ্নের (الاستفهام الإنكاري) প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্টবাচক শব্দ (النكرة)।

6 - সম্বন্ধযুক্ত নির্দিষ্টবাচক শব্দ (المعرف بالإضافة) - তা একবচন (مفرد) হোক বা বহুবচন (مجموع) হোক।

7 - আভিধানিক অর্থ ব্যাপককারী আল (ال) যুক্ত শব্দ (المعرف بـ "ال" الاستغراقية) - তা একবচন (مفرد) হোক বা বহুবচন (مجموع) হোক।

তবে নির্দিষ্ট কোনো পরিচিত বিষয়ের জন্য ব্যবহৃত আল (ال) যুক্ত শব্দের (المعرف بـ "ال" العهدية) ক্ষেত্রে বিষয়টি পরিচিত বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে; যদি সেই পরিচিত বিষয়টি ব্যাপক (عام) হয় তবে শব্দটি ব্যাপক (عام) হবে, আর যদি তা নির্দিষ্ট (خاص) হয় তবে শব্দটি নির্দিষ্ট (خاص) হবে।

আর ব্যাপকবোধক (العام) শব্দের ব্যাপক অর্থ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব (يجب), যতক্ষণ না তার নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) প্রমাণিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وَإِذَا وَرَدَ العَامُّ عَلَى سَبَبٍ خَاصٍّ: وَجَبَ العَمَلُ بِعُمُومِهِ.

 

‌‌الخَاصُّ

وَالخَاصُّ: اللَّفْظُ الدَّالُّ عَلَى مَحْصُورٍ بِشَخْصٍ أَوْ عَدَدٍ.

وَدَلِيلُ التَّخْصِيصِ نَوْعَانِ: مُتَّصِلٌ وَمُنْفَصِلٌ.

فَالمُتَّصِلُ: مَا لَا يَسْتَقِلُّ بِنَفْسِهِ، وَمِنْهُ: الاسْتِثْنَاءُ، وَالشَّرْطُ، وَالصِّفَةُ.

وَالمُنْفَصِلُ: مَا يَسْتَقِلُّ بِنَفْسِهِ، وَهُوَ: الحِسُّ، وَالعَقْلُ، وَالشَّرْعُ.

 

‌‌المُطْلَقُ وَالمُقَيَّدُ

وَالمُطْلَقُ: مَا دَلَّ عَلَى الحَقِيقَةِ بِلَا قَيْدٍ.

وَالمُقَيَّدُ: مَا دَلَّ عَلَى الحَقِيقَةِ بِقَيْدٍ.

وَيَجِبُ العَمَلُ بِالمُطْلَقِ عَلَى إِطْلَاقِهِ إِلَّا بِدَلِيلٍ يَدُلُّ عَلَى تَقْيِيدِهِ.

وَإِذَا وَرَدَ نَصٌّ مُطْلَقٌ وَنَصٌّ مُقَيَّدٌ: وَجَبَ تَقْيِيدُ المُطْلَقِ بِهِ إِنْ كَانَ الحُكْمُ وَاحِدًا، وَإِلَّا عُمِلَ بِكُلِّ وَاحِدٍ عَلَى مَا وَرَدَ عَلَيْهِ مِنْ إِطْلَاقٍ أَوْ تَقْيِيدٍ.

 

‌‌المُجْمَلُ وَالمُبَيَّنُ

وَالمُجْمَلُ: مَا يَتَوَقَّفُ فَهْمُ المُرَادِ مِنْهُ عَلَى غَيْرِهِ؛ إِمَّا فِي: تَعْيِينِهِ، أَوْ بَيَانِ صِفَتِهِ، أَوْ مِقْدَارِهِ.

وَالمُبَيَّنُ: مَا يُفْهَمُ المُرَادُ مِنْهُ؛ إِمَّا بِـ: أَصْلِ الوَضْعِ، أَوْ بَعْدَ التَّبْيِينِ.

وَيَجِبُ عَلَى المُكَلَّفِ عَقْدُ العَزْمِ عَلَى العَمَلِ بِالمُجْمَلِ مَتَى حَصَلَ بَيَانُهُ.

 

‌‌الظَّاهِرُ وَالمُؤَوَّلُ

وَالظَّاهِرُ: مَا دَلَّ بِنَفْسِهِ عَلَى مَعْنًى رَاجِحٍ مَعَ احْتِمَالِ غَيْرِهِ.

وَالعَمَلُ بِهِ: وَاجِبٌ؛ إِلَّا بِدَلِيلٍ يَصْرِفُهُ عَنْ ظَاهِرِهِ.

وَالمُؤَوَّلُ: مَا حُمِلَ لَفْظُهُ عَلَى المَعْنَى المَرْجُوحِ.

وَالتَّأْوِيلُ قِسْمَانِ: صَحِيحٌ مَقْبُولٌ، وَفَاسِدٌ مَرْدُودٌ.

1 - فَالصَّحِيحُ: مَا دَلَّ عَلَيْهِ دَلِيلٌ صَحِيحٌ.

2 - وَالفَاسِدُ: مَا لَيْسَ عَلَيْهِ دَلِيلٌ صَحِيحٌ.
এবং যখন সাধারণ (العام) বিধান কোনো বিশেষ (خاص) প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়, তখন তার সাধারণ (العموم) অর্থ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব।

 

‌‌বিশেষ (الخاص)

বিশেষ (الخاص) হলো এমন শব্দ যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংখ্যাকে নির্দেশ করে।

বিশেষায়নের (التخصيص) দলীল দুই প্রকার: সংযুক্ত (متصل) এবং পৃথক (منفصل)।

সংযুক্ত (المتصل) হলো যা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; এর অন্তর্ভুক্ত হলো: ব্যতিক্রম (الاستثناء), শর্ত (الشرط) এবং গুণাবলি (الصفة)।

পৃথক (المنফصل) হলো যা স্বয়ংসম্পূর্ণ; আর তা হলো: ইন্দ্রিয়লব্ধ (الحس), যুক্তি (العقل) এবং শরয়ি বিধান (الشرع)।

 

‌‌শর্তহীন (المطلق) ও শর্তযুক্ত (المقيد)

শর্তহীন (المطلق) হলো যা কোনো শর্ত (قيد) ছাড়াই মূল বাস্তবতাকে নির্দেশ করে।

শর্তযুক্ত (المقيد) হলো যা কোনো শর্তের (قيد) মাধ্যমে মূল বাস্তবতাকে নির্দেশ করে।

শর্তহীন (المطلق) নসকে তার শর্তহীনতার (إطلاقه) ওপর ভিত্তি করেই আমল করা ওয়াজিব, যতক্ষণ না তাকে শর্তযুক্ত (تقييده) করার কোনো দলীল পাওয়া যায়।

যখন একটি শর্তহীন (مطلق) নস এবং একটি শর্তযুক্ত (مقيد) নস বর্ণিত হয়, তখন শর্তহীনকে (المطلق) শর্তযুক্ত হিসেবে গ্রহণ করা ওয়াজিব যদি বিধান বা হুকুম এক হয়; অন্যথায় প্রত্যেকটি তার নিজ নিজ শর্তহীনতা (إطلاق) বা শর্তযুক্ত (تقييد) অবস্থা অনুযায়ী আমলযোগ্য হবে।

 

‌‌অস্পষ্ট (المجمل) ও সুস্পষ্ট (المبين)

অস্পষ্ট (المجمل) হলো যার উদ্দেশ্য বোঝার বিষয়টি অন্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে; তা উদ্দেশ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে হোক, কিংবা তার স্বরূপ বা পরিমাণের বর্ণনার ক্ষেত্রে হোক।

সুস্পষ্ট (المبين) হলো যার উদ্দেশ্য বোঝা যায়; হয় তার মূল ভাষাগত গঠনের মাধ্যমে, অথবা ব্যাখ্যার (التبيين) পর।

অস্পষ্ট (المجمل) বিষয়ের ব্যাখ্যা আসার পর মুকাল্লাফের জন্য তার ওপর আমল করার দৃঢ় সংকল্প করা ওয়াজিব।

 

‌‌প্রকাশ্য (الظاهر) ও ব্যাখ্যাত (المؤول)

প্রকাশ্য (الظاهر) হলো যা অন্য কোনো অর্থের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি প্রবল (راجح) অর্থ নির্দেশ করে।

এর ওপর আমল করা ওয়াজিব; যদি না এমন কোনো দলীল থাকে যা একে তার বাহ্যিক (ظاهره) অর্থ থেকে সরিয়ে নেয়।

ব্যাখ্যাত (المؤول) হলো সেই শব্দ যাকে তার অপ্রধান বা দুর্বল (المرجوح) অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা বা তাবীল (التأويل) দুই প্রকার: সঠিক (صحيح) ও গ্রহণযোগ্য (مقبول), এবং ত্রুটিপূর্ণ (فاسد) ও বর্জনীয় (مردود)।

1 - সঠিক (الصحيح) হলো যার সপক্ষে সঠিক (صحيح) দলীল বিদ্যমান।

2 - ত্রুটিপূর্ণ (الفاسد) হলো যার সপক্ষে কোনো সঠিক (صحيح) দলীল নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌النَّسْخُ

وَالنَّسْخُ: رَفْعُ حُكْمِ دَلِيلٍ شَرْعِيٍّ أَوْ لَفْظِهِ بِدَلِيلٍ مِنَ الكِتَابِ وَالسُّنَّةِ.

وَالنَّسْخُ جَائِزٌ عَقْلًا، وَوَاقِعٌ شَرْعًا.

وَيَمْتَنِعُ النَّسْخُ فِي:

1 -‌‌ الأَخْبَارِ.

2 - وَالأَحْكَامِ الَّتِي تَكُونُ مَصْلَحَةً فِي كُلِّ زَمَانٍ وَمَكَانٍ.

وَيُشْتَرَطُ لِلنَّسْخِ فِيمَا يُمْكِنُ نَسْخُهُ شُرُوطٌ؛ مِنْهَا:

1 - تَعَذُّرُ الجَمْعِ بَيْنَ الدَّلِيلَيْنِ.

2 - وَالعِلْمُ بِتَأَخُّرِ النَّاسِخِ.

3 - وَثُبُوتُ النَّاسِخِ.

وَيَنْقَسِمُ النَّسْخُ بِاعْتِبَارِ النَّصِّ المَنْسُوخِ إِلَى ثَلَاثَةِ أَقْسَامٍ:

الأَوَّلُ: مَا نُسِخَ حُكْمُهُ وَبَقِيَ لَفْظُهُ.

وَالثَّانِي: مَا نُسِخَ لَفْظُهُ وَبَقِيَ حُكْمُهُ.

وَالثَّالِثُ: مَا نُسِخَ حُكْمُهُ وَلَفْظُهُ.

وَيَنْقَسِمُ النَّسْخُ بِاعْتِبَارِ النَّاسِخِ إِلَى أَرْبَعَةِ أَقْسَامٍ:

الأَوَّلُ: نَسْخُ القُرْآنِ بِالقُرْآنِ.

وَالثَّانِي: نَسْخُ القُرْآنِ بِالسُّنَّةِ.

وَالثَّالِثُ: نَسْخُ السُّنَّةِ بِالقُرْآنِ.

وَالرَّابِعُ: نَسْخُ السُّنَّةِ بِالسُّنَّةِ.

 

الأَخْبَارُ

وَالَخَبَرُ: مَا أُضِيفَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَوْلٍ أَوْ فِعْلٍ أَوْ تَقْرِيرٍ أَوْ وَصْفٍ.

وَيَنْقَسِمُ الخَبَرُ بِاعْتِبَارِ مَنْ يُضَافُ إِلَيْهِ إِلَى ثَلَاثَةِ أَقْسَامٍ: مَرْفُوعٌ، وَمَوْقُوفٌ، وَمَقْطُوعٌ.

1 - فَالمَرْفُوعُ: مَا أُضِيفَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَقِيقَةً أَوْ حُكْمًا -.
রহিতকরণ (النسخ)

রহিতকরণ (النسخ) হলো: কুরআন ও সুন্নাহর কোনো দলিলের মাধ্যমে অন্য কোনো শরয়ি দলিলের বিধান বা তার শব্দাবলি তুলে নেওয়া।

রহিতকরণ (النسخ) যৌক্তিকভাবে সম্ভব এবং শরয়িভাবে বাস্তবায়িত।

রহিতকরণ (النسخ) অসম্ভব যেসব ক্ষেত্রে:

1 -‌‌ সংবাদসমূহের (الأخبار) ক্ষেত্রে।

2 - এবং ঐ সকল বিধানের ক্ষেত্রে, যা সর্বকালে ও সর্বস্থানে জনকল্যাণকর।

রহিতকরণ সম্ভব এমন বিষয়ে রহিতকরণের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে; তার মধ্যে রয়েছে:

1 - দুই দলিলের মধ্যে সমন্বয় সাধন অসম্ভব হওয়া।

2 - রহিতকারী (الناسخ) দলিলটি পরবর্তী সময়ের হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া।

3 - রহিতকারী (الناسخ) দলিলটি প্রমাণিত হওয়া।

রহিত (المنسوخ) নসের বিচারে রহিতকরণ (النسخ) তিন প্রকার:

প্রথম: যার বিধান রহিত হয়েছে কিন্তু শব্দাবলি অবশিষ্ট আছে।

দ্বিতীয়: যার শব্দাবলি রহিত হয়েছে কিন্তু বিধান অবশিষ্ট আছে।

তৃতীয়: যার বিধান এবং শব্দাবলি উভয়ই রহিত হয়েছে।

রহিতকারী (الناسخ) দলিলের বিচারে রহিতকরণ (النسخ) চার প্রকার:

প্রথম: কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের রহিতকরণ (النسخ)।

দ্বিতীয়: সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের রহিতকরণ (النسخ)।

তৃতীয়: কুরআনের মাধ্যমে সুন্নাহর রহিতকরণ (النسخ)।

চতুর্থ: সুন্নাহর মাধ্যমে সুন্নাহর রহিতকরণ (النسخ)।

 

সংবাদসমূহ (الأخبار)

সংবাদ (الخبر): যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে কোনো কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقرير) অথবা গুণের মাধ্যমে সম্পৃক্ত করা হয়।

যাঁর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে সেই বিচারে সংবাদ (الخبر) তিন প্রকার: মারফু (مرفوع), মাওকুফ (موقوف) এবং মাকতু (مقطوع)।

1 - মারফু (مرفوع): যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে প্রকৃতপক্ষে বা হুকমান সম্পৃক্ত করা হয় -।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১১)
2 - وَالمَوْقُوفُ: مَا أُضِيفَ إِلَى الصَّحَابِيِّ وَلَمْ يَثْبُتْ لَهُ حُكْمُ الرَّفْعِ.

3 - وَالمَقْطُوعُ: مَا أُضِيفَ إِلَى التَّابِعِيِّ فَمَنْ بَعْدَهُ.

وَيَنْقَسِمُ الخَبَرُ بِاعْتِبَارِ طُرُقِهِ إِلَى: مُتَواتِرٍ وَآحَادٍ:

1 - فَالمُتَوَاتِرُ: مَا رَوَاهُ جَمَاعَةٌ، يَسْتَحِيلُ فِي العَادَةِ أَنْ يَتَوَاطَؤُوا عَلَى الكَذِبِ، وَأَسْنَدُوهُ إِلَى شَيْءٍ مَحْسُوسٍ.

2 - وَالآحَادُ: مَا سِوَى المُتَوَاتِرِ.

وَهُوَ مِنْ حَيْثُ الرُّتْبَةُ: ثَلَاثَةُ أَقْسَامٍ: صَحِيحٌ، وَحَسَنٌ، وَضَعِيفٌ.

1 - فَالصَّحِيحُ: مَا نَقَلَهُ عَدْلٌ تَامُّ الضَّبْطِ بِسَنَدٍ مُتَّصِلٍ، وَخَلَا مِنَ الشُّذُوذِ وَالعِلَّةِ القَادِحَةِ.

2 - وَالحَسَنُ: مَا نَقَلَهُ عَدَلٌ خَفِيفُ الضَّبْطِ بِسَنَدٍ مُتَّصِلٍ، وَخَلَا مِنَ الشُّذُوذِ وَالعِلَّةِ القَادِحَةِ.

3 - وَالضَّعِيفُ: مَا خَلَا مِنْ شَرْطِ الصَّحِيحِ وَالحَسَنِ.

وَكُلُّ هَذِهِ الأَقْسِامِ حُجَّةٌ سِوَى الضَّعِيفِ.

 

‌‌فَصْلٌ

وَلِلْحَدِيثِ: تَحَمُّلٌ، وَأَدَاءٌ.

فَالتَّحَمُّلُ: أَخْذُ الحَدِيثِ عَنِ الغَيْرِ.

وَالأَدَاءُ: إِبْلَاغُ الحَدِيثِ إِلَى الغَيْرِ.

وَلِلأَدَاءِ صِيَغٌ؛ مِنْهَا:

1 - (حَدَّثَنِي): لِمَنْ قَرَأَ عَلَيْهِ الشَّيْخُ.

2 - وَ (أَخْبَرَنِي): لِمَنْ قَرَأَ عَلَيْهِ الشَّيْخُ، أَوْ قَرَأَ هُوَ عَلَى الشَّيْخِ.

3 - وَ (أَخْبَرَنِي إِجَازَةً)، أَوْ (أَجَازَ لِي): لِمَنْ رَوَى بِالإِجَازَةِ دُونَ القِرَاءَةِ.

وَالإِجَازَةُ: إِذْنُهُ لِلتِّلْمِيذِ أَنْ يَرْوِيَ عَنْهُ مَا رَوَاهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ بِطَرِيقِ القِرَاءَةِ.

4 - وَالعَنْعَنَةُ، وَهِيَ: رِوَايَةُ الحَدِيثِ بِلَفْظِ: (عَنْ)، وَحُكْمُهَا: الاتِّصَالُ إِلَّا مِنْ مَعْرُوفٍ بِالتَّدْلِيسِ.
2 - আর মাউকুফ (المَوْقُوفُ) হলো: যা সাহাবির (الصَّحَابِيِّ) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং যাতে মারফু (الرَّفْعِ) হওয়ার বিধান সাব্যস্ত হয়নি।

3 - আর মাকতু (المَقْطُوعُ) হলো: যা তাবিঈ (التَّابِعِيِّ) অথবা তাঁর পরবর্তী স্তরের কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

আর বর্ণনা (الخَبَرُ) তার সূত্রের আধিক্যের বিবেচনায় মুতাওয়াতির (مُتَواتِرٍ) এবং আহাদ (آحَادٍ) এই দুই ভাগে বিভক্ত:

1 - মুতাওয়াতির (المُتَوَاتِرُ) হলো: যা এমন এক জনসমষ্টি বর্ণনা করেছেন, যাঁদের পক্ষে সাধারণত মিথ্যার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব এবং তাঁরা বর্ণনাটিকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোনো বিষয়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

2 - আর আহাদ (الآحَادُ) হলো: মুতাওয়াতির ব্যতীত অন্য সকল হাদিস।

আর এটি স্তরের দিক থেকে তিন প্রকার: সহিহ (صَحِيحٌ), হাসান (حَسَنٌ) এবং যয়িফ (ضَعِيفٌ)।

1 - সহিহ (الصَّحِيحُ) হলো: যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عَدْلٌ) ও পূর্ণ মুখস্থশক্তিসম্পন্ন (تَامُّ الضَّبْطِ) রাবি নিরবচ্ছিন্ন সনদের (بِسَنَدٍ مُتَّصِلٍ) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, যা শায (الشُّذُوذِ) ও ক্ষতিকর ত্রুটি (العِلَّةِ القَادِحَةِ) থেকে মুক্ত।

2 - আর হাসান (الحَسَنُ) হলো: যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عَدَلٌ) রাবি বর্ণনা করেছেন যাঁর মুখস্থশক্তি কিছুটা শিথিল (خَفِيفُ الضَّبْطِ), যা নিরবচ্ছিন্ন সনদের (بِسَنَدٍ مُتَّصِلٍ) মাধ্যমে বর্ণিত এবং শায (الشُّذُوذِ) ও ক্ষতিকর ত্রুটি (العِلَّةِ القَادِحَةِ) থেকে মুক্ত।

3 - আর যয়িফ (الضَّعِيفُ) হলো: যার মধ্যে সহিহ এবং হাসান হাদিসের শর্তাবলি বিদ্যমান নেই।

আর যয়িফ ছাড়া এই সকল প্রকারই দলিল (حُجَّةٌ) হিসেবে গণ্য।

 

‌‌পরিচ্ছেদ (فَصْلٌ)

আর হাদিসের ক্ষেত্রে রয়েছে: তাহাম্মুল (تَحَمُّلٌ) এবং আদা (أَدَاءٌ)।

তাহাম্মুল (تَحَمُّلٌ) হলো: অন্যের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করা।

আর আদা (أَدَاءٌ) হলো: অন্যের নিকট হাদিস পৌঁছে দেওয়া।

আর আদা বা হাদিস প্রদানের কিছু শব্দরীতি (صِيَغٌ) রয়েছে; তার মধ্যে:

1 - (হাদ্দাসানি) ‘حَدَّثَنِي’: ওই ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য যার নিকট শায়খ (الشَّيْخُ) পাঠ করেছেন।

2 - এবং (আখবারানি) ‘أَخْبَرَنِي’: ওই ব্যক্তির জন্য যার নিকট শায়খ পাঠ করেছেন অথবা যে ব্যক্তি নিজে শায়খের নিকট পাঠ করেছে।

3 - এবং (আখবারানি ইজাজাতান) ‘أَخْبَرَنِي إِجَازَةً’ অথবা (আজাযা লি) ‘أَجَازَ لِي’: ওই ব্যক্তির জন্য যে পাঠ করা ব্যতিরেকে ইজাজতের (الإِجَازَةِ) মাধ্যমে বর্ণনা করে।

আর ইজাজত (الإِجَازَةُ) হলো: শায়খ কর্তৃক ছাত্রকে তাঁর নিকট থেকে শ্রুত বা প্রাপ্ত হাদিসসমূহ বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করা, যদিও তা পাঠের মাধ্যমে না হয়।

4 - আর আন-আনাহ (العَنْعَنَةُ) হলো: ‘আন’ (عَنْ) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করা। এর বিধান হলো সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (الاتِّصَالُ), যতক্ষণ না তা তাদলিস (التَّدْلِيسِ) করার জন্য পরিচিত কোনো রাবির পক্ষ থেকে হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الإِجْمَاعُ

وَالإِجْمَاعُ: اتِّفَاقُ مُجْتَهِدِي هَذِهِ الأُمَّةِ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى حُكْمٍ شَرْعِيٍّ.

وَهُوَ حُجَّةٌ.

وَالإِجْمَاعُ نَوْعَانِ: قَطْعِيٌّ، وَظَنِّيٌّ.

1 - فَالقَطْعِيُّ: مَا يُعْلَمُ وُقُوعُهُ مِنَ الأُمَّةِ بِالضَّرُورَةِ.

2 - وَالظَّنِيُّ: مَا لَا يُعْلَمُ إِلَّا بِالتَّتَبُّعِ وَالاسْتِقْرَاءِ.

وَلِلإِجْمَاعِ شُرُوطٌ؛ مِنْهَا:

1 - أَنْ يَثْبُتَ بِطَرِيقٍ صَحِيحٍ.

2 - وَأَنْ لَا يَسْبِقَهُ خِلَافٌ مُسْتَقِرٌّ.

 

‌‌القِيَاسُ

وَالقِيَاسُ: تَسْوِيَةُ فَرْعٍ بِأَصْلٍ فِي حُكْمٍ لِعِلَّةٍ جَامِعَةٍ بَيْنَهُمَا.

وَيُعْتَبَرُ دَلِيلًا شَرْعِيًّا.

وَلِلْقِيَاسِ شُرُوطٌ؛ مِنْهَا:

1 - أَنْ لَا يُصَادِمَ دَلِيلًا أَقْوَى مِنْهُ.

2 - وَأَنْ يَكُونَ حُكْمُ الأَصْلِ ثَابِتًا بِنَصٍّ أَوْ إِجْمَاعٍ.

3 - وَأَنْ يَكُونَ لِحُكْمِ الأَصْلِ عِلَّةٌ مَعْلُومَةٌ.

4 - وَأَنْ تَكُونَ العِلَّةُ مُشْتَمِلَةً عَلَى مَعْنًى مُنَاسِبٍ لِلْحُكْمِ.

5 - وَأَنْ تَكُونَ العِلَّةُ مَوْجُودَةً فِي الفَرْعِ كَوُجُودِهَا فِي الأَصْلِ.

 

‌‌فَصْلٌ

وَيَنْقَسِمُ القِيَاسُ إِلَى: جَلِيٍّ، وَخَفِيٍّ.

1 - فَالجَلِيُّ: مَا ثَبَتَتْ عِلَّتُهُ بِنَصٍّ، أَوْ إِجْمَاعٍ، أَوْ كَانَ مَقْطُوعًا فِيهِ بِنَفْيِ الفَارِقِ بَيْنِ الأَصْلِ وَالفَرْعِ.

2 - وَالخَفِيُّ: مَا ثَبَتَتْ عِلَّتُهُ بِاسْتِنْبَاطٍ، وَلَمْ يُقْطَعْ فِيهِ بِنَفْيِ الفَارِقِ بَيْنِ الأَصْلِ وَالفَرْعِ.
ঐক্যমত (الإجماع)

আর ঐক্যমত (الإجماع) হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর এই উম্মতের মুজতাহিদগণের (مجتهدون) কোনো শরয়ি বিধানের ওপর একমত হওয়া।

আর এটি একটি দলিল (حجة)।

ঐক্যমত (الإجماع) দুই প্রকার: সুনিশ্চিত (قطعي) এবং ধারণাপ্রসূত (ظني)।

১ - সুনিশ্চিত (قطعي): যা উম্মতের পক্ষ থেকে সংঘটিত হওয়া অকাট্যভাবে (بالضرورة) জানা যায়।

২ - ধারণাপ্রসূত (ظني): যা নিবিড় অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার (الاستقراء) মাধ্যম ব্যতীত জানা যায় না।

ঐক্যমতের (الإجماع) কিছু শর্ত রয়েছে; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - তা যেন বিশুদ্ধ (صحيح) পদ্ধতিতে সাব্যস্ত হয়।

২ - এবং তার পূর্বে যেন কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত মতভেদ (خلاف) বিদ্যমান না থাকে।

 

সাদৃশ্যবিধান (القياس)

আর সাদৃশ্যবিধান (القياس) হলো: উভয়ের মধ্যবর্তী কোনো সাধারণ কারণের (علة) ভিত্তিতে কোনো শাখাকে (فرع) মূলের (أصل) বিধানের সমতুল্য করা।

এবং এটি একটি শরয়ি দলিল হিসেবে গণ্য হয়।

সাদৃশ্যবিধানের (القياس) কিছু শর্ত রয়েছে; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - তা যেন নিজের চেয়ে শক্তিশালী কোনো দলিলের (دليل) সাথে সাংঘর্ষিক না হয়।

২ - মূলের (الأصل) বিধান যেন কোনো অকাট্য পাঠ (نص) অথবা ঐক্যমতের (إجماع) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়।

৩ - মূলের (الأصل) বিধানের যেন কোনো জ্ঞাত কারণ (علة) থাকে।

৪ - আর কারণটি (العلة) যেন বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ বহন করে।

৫ - এবং কারণটি (العلة) যেন শাখায় (الفرع) ঠিক সেভাবেই বিদ্যমান থাকে যেমনটি মূলে (الأصل) বিদ্যমান।

 

পরিচ্ছেদ (فصل)

সাদৃশ্যবিধান (القيাস) দুই ভাগে বিভক্ত: সুস্পষ্ট (جلي) এবং অস্পষ্ট (خفي)।

১ - সুস্পষ্ট (جلي): যার কারণ (علة) কোনো অকাট্য পাঠ (نص) বা ঐক্যমতের (إجماع) মাধ্যমে প্রমাণিত, অথবা যেখানে মূল (أصل) ও শাখার (فرع) মধ্যে পার্থক্যের অনুপস্থিতি সুনিশ্চিত।

২ - অস্পষ্ট (خفي): যার কারণ (علة) গবেষণালব্ধ অনুমানের (استنباط) মাধ্যমে প্রমাণিত এবং যেখানে মূল (أصل) ও শাখার (فرع) মধ্যে পার্থক্যের অনুপস্থিতি সুনিশ্চিত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌التَّعَارُضُ

وَالتَّعَارُضُ: تَقَابُلُ الدَّلِيلَيْنِ؛ بِحَيْثُ يُخَالِفُ أَحَدُهُمَا الآخَرَ.

وَأَقْسَامُ التَّعَارُضِ أَرْبَعَةٌ:

الأَوَّلُ: أَنْ يَكُونَ بَيْنَ دَلِيلَيْنِ عَامَّيْنِ.

وَالثَّانِي: أَنْ يَكُونَ التَّعَارُضُ بَيْنَ خَاصَّيْنِ.

وَالثَّالِثُ: أَنْ يَكُونَ التَّعَارُضُ بَيْنَ عَامٍّ وَخَاصٍّ.

وَالرَّابِعُ: أَنْ يَكُونَ التَّعَارُضُ بَيْنَ نَصَّيْنِ: أَحَدُهُمَا أَعَمُّ مِنَ الآخَرِ مِنْ وَجْهٍ، وَأَخَصُّ مِنْ وَجْهٍ.

 

‌‌فَصْلٌ

وَإِذَا اتَّفَقَتِ الأَدِلَّةُ السَّابِقَةُ عَلَى حُكْمٍ، أَوِ انْفَرَدَ أَحَدُهُا مِنْ غَيْرٍ مُعَارِضٍ: وَجَبَ إِثْبَاتُهُ.

وَإِنْ تَعَارَضَتْ وَأَمْكَنَ الجَمْعُ: وَجَبَ الجَمْعُ.

وَإِنْ لَمْ يُمْكِنِ الجَمْعُ: عُمِلَ بِالنَّسْخِ إِنْ تَمَّتْ شُرُوطُهُ.

وَإِنْ لَمْ يُمْكِنِ النَّسْخُ: وَجَبَ التَّرْجِيحُ.

فَيُرَجَّحُ مِنَ الكِتَابِ وَالسُّنَّةِ:

- النَّصُّ عَلَى الظَّاهِرِ.

- وَالظَّاهِرُ عَلَى المُؤَوَّلِ.

- وَالمَنْطُوقُ عَلَى المَفْهُومِ.

- وَالمُثْبَتُ عَلَى النَّافِي.

- وَالنَّاقِلُ عَنِ الأَصْلِ عَلَى المُبْقِي عَلَيْهِ.

- وَالعَامُّ المَحْفُوظُ عَلَى غَيْرِ المَحْفُوظِ.

- وَمَا كَانَتَ صِفَاتُ القَبُولِ فِيهِ أَكْثَرَ عَلَى مَا دُونَهُ.

- وَصَاحِبُ القِصَّةِ عَلَى غَيْرِهِ.

- وَيُقَدَّمُ مِنَ الإِجْمَاعِ: القَطْعِيُّ عَلَى الظَّنِّيِّ.
বিরোধ (التعارض)

বিরোধ (التعارض) হলো: দুটি দলিলের (الدليلين) এমনভাবে মুখোমুখি হওয়া; যাতে তাদের একটি অন্যটির বিপরীত হয়।

বিরোধের (التعارض) প্রকারভেদ চারটি:

প্রথম: বিরোধটি দুটি সাধারণ (عامين) দলিলের মধ্যে হওয়া।

দ্বিতীয়: বিরোধটি দুটি বিশেষ (خاصين) দলিলের মধ্যে হওয়া।

তৃতীয়: বিরোধটি একটি সাধারণ (عام) এবং একটি বিশেষ (خاص) দলিলের মধ্যে হওয়া।

চতুর্থ: বিরোধটি দুটি নসের (نصين) মধ্যে হওয়া, যেখানে তাদের একটি অন্যটির তুলনায় একদিক থেকে ব্যাপকতর (أعم) এবং অন্যদিক থেকে সুনির্দিষ্টতর (أخص)।

 

‌পরিচ্ছেদ (فصل)

যদি পূর্বোক্ত দলিলসমূহ কোনো বিধানের ওপর একমত হয়, অথবা কোনো দলিল কোনো বিরোধ (معارض) ছাড়াই এককভাবে থাকে: তবে তা সাব্যস্ত করা ওয়াজিব।

আর যদি দলিলগুলোর মধ্যে বিরোধ (تعارضت) দেখা দেয় এবং সমন্বয় (الجمع) করা সম্ভব হয়: তবে সমন্বয় (الجمع) করা ওয়াজিব।

যদি সমন্বয় (الجمع) করা সম্ভব না হয়: তবে রহিতকরণের (النسخ) শর্তাবলি পূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে রহিতকরণ (النسخ) অনুযায়ী আমল করা হবে।

যদি রহিতকরণও (النسخ) সম্ভব না হয়: তবে প্রাধান্য (الترجيح) দেওয়া ওয়াজিব।

সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহের মধ্য থেকে প্রাধান্য (يرجح) দেওয়া হবে:

- আপাত অর্থের (الظاهر) ওপর সুস্পষ্ট বক্তব্যকে (النص)।

- ব্যাখ্যাত বা রূপক অর্থের (المؤول) ওপর আপাত অর্থকে (الظاهر)।

- ইঙ্গিতবাহী অর্থের (المفهوم) ওপর উচ্চারিত বা শব্দার্থগত বক্তব্যকে (المنطوق)।

- নেতিবাচক বা অস্বীকৃতিজ্ঞাপক (النافي) দলিলের ওপর ইতিবাচক বা স্বীকৃতিজ্ঞাপক (المثبت) দলিলকে।

- মূল অবস্থায় (المبقي عليه) বহাল রাখার চেয়ে মূল অবস্থা থেকে পরিবর্তনকারী (الناقل عن الأصل) দলিলকে।

- অসংরক্ষিত বা অসংকুচিত (غير المحفوظ) শব্দের চেয়ে সংরক্ষিত বা অপরিবর্তিত সাধারণ (العام المحفوظ) শব্দকে।

- যাতে গ্রহণযোগ্যতার গুণাবলি (صفات القبول) বেশি থাকে, তাকে তার চেয়ে কম গুণসম্পন্ন দলিলের ওপর।

- অন্যের তুলনায় ঘটনার সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির (صاحب القصة) বর্ণনাকে।

- ইজমার (الإجماع) মধ্য থেকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: ধারণাপ্রসূত বা সম্ভাব্য (الظني) ইজমার ওপর অকাট্য (القطعي) ইজমাকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
- وَيُقَدَّمُ مِنَ القِيَاسِ: الجَلِيُّ عَلَى الخَفِيِّ.

 

‌‌المُفْتِي والمُسْتَفْتِي

وَالمُفْتِي: هُوَ المُخْبِرُ عَنْ حُكْمٍ شَرْعِيٍّ.

وَالمُسْتَفْتِي: هُوَ السَّائِلُ عَنْ حُكْمٍ شَرْعِيٍّ.

وَيُشْتَرَطُ لِجَوَازِ الفَتْوَى شُرُوطٌ؛ مِنْهَا:

1 - أَنْ يَكُونَ المُفْتِي عَارِفًا بِالحُكْمِ - يَقِينًا، أَوْ ظَنًّا رَاجِحًا -.

2 - وَأَنْ يَتَصَوَّرَ السُّؤَالَ تَصَوُّرًا تَامًّا.

3 - وَأَنْ يَكُونَ هَادِئَ البَالِ.

وَيُشْتَرَطُ لِوُجُوبِ الفَتْوَى شُرُوطٌ؛ مِنْهَا:

1 - وُقُوعُ الحَادِثَةِ المَسْؤُولِ عَنْهَا.

2 - وَأَنْ لَا يُعْلَمَ مِنْ حَالِ السَّائِلِ أَنَّ قَصْدَهُ التَّعَنُّتُ، أَوْ تَتَبُّعُ الرُّخَصِ، أَوْ ضَرْبُ آرَاءِ العُلَمَاءِ بَعْضِهَا بِبَعْضٍ، أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ مِنَ المَقَاصِدِ السَّيِّئَةِ.

3 - وَأَنْ لَا يَتَرَتَّبَ عَلَى الفَتْوَى مَا هُوَ أَكْثَرُ مِنْهَا ضَرَرًا.

 

‌‌فَصْلٌ

وَيَلْزَمُ المُسْتَفْتِيَ أُمُورٌ:

الأَوَّلُ: أَنْ يُرِيدَ بِاسْتِفْتَائِهِ الحَقَّ وَالعَمَلَ بِهِ.

وَالثَّانِي: أَنْ لَا يَسْتَفْتِيَ إِلَّا مَنْ يَعْلَمُ - أَوْ يَغْلِبُ عَلَى ظَنِّهِ - أَنَّهُ أَهْلٌ لِلْفَتْوَى.

وَالثَّالِثُ: أَنْ يَصِفَ حَالَتَهُ وَصْفًا صَادِقًا دَقِيقًا.

وَالرَّابِعُ: أَنْ يَنْتَبِهَ لِمَا يَقُولُهُ المُفْتِي.

 

‌‌الاجْتِهَادُ

وَالاجْتِهَادُ: بَذْلُ الجُهْدِ لإِدْرَاكِ حُكْمٍ شَرْعِيٍّ.

وَالمُجْتَهِدُ: مَنْ بَذَلَ جُهْدَهُ لِذَلِكَ.

وَلِلاجْتِهَادِ شُرُوطٌ؛ مِنْهَا:

1 - أَنْ يَعْلَمَ مِنَ الأَدِلَّةِ الشَّرْعِيَّةِ مَا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ فِي اجْتِهَادِهِ.
আর কিয়াস (القيাস)-এর মধ্য থেকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: অস্পষ্ট বা প্রচ্ছন্নের (الخفي) ওপর সুস্পষ্টকে (الجلي)।

 

‌‌মুফতি (المفتي) ও মুস্তাফতি (المستفتي)

মুফতি (المفتي) হলেন তিনি, যিনি শরয়ি বিধান (حكم شرعي) সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেন।

মুস্তাফতি (المستفتي) হলেন তিনি, যিনি শরয়ি বিধান (حكم شرعي) সম্পর্কে প্রশ্ন করেন।

ফতোয়া (فتوى) প্রদানের বৈধতার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে; তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

1 - মুফতি (المفتي) বিধানটি সম্পর্কে পরিজ্ঞাত হবেন—তা নিশ্চিতভাবে (يقينا) হোক অথবা প্রবল ধারণার (ظنا راجحا) ভিত্তিতে হোক।

2 - প্রশ্নটি পূর্ণাঙ্গভাবে অনুধাবন করা।

3 - তিনি যেন শান্ত ও স্থিরচিত্ত হন।

ফতোয়া (فتوى) প্রদান ওয়াজিব হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে; তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

1 - যে ঘটনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে তা সংঘটিত হওয়া।

2 - প্রশ্নকারীর অবস্থা থেকে এটা জানা না থাকা যে, তার উদ্দেশ্য হলো হঠকারিতা করা, কিংবা সহজ সুযোগ অন্বেষণ (تتبع الرخص) করা, অথবা আলেমদের মতামতের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করা, কিংবা এ জাতীয় অন্য কোনো মন্দ উদ্দেশ্য।

3 - ফতোয়া প্রদানের ফলে এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হওয়া যা সেই সমস্যার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

মুস্তাফতির (المستفتي) ওপর কিছু বিষয় আবশ্যক:

প্রথমত: তার ফতোয়া কামনার মাধ্যমে সত্য জানা এবং তদনুযায়ী আমল করার সংকল্প থাকা।

দ্বিতীয়ত: এমন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো কাছে ফতোয়া না চাওয়া, যাকে তিনি ফতোয়া প্রদানের যোগ্য (أهل للفتوى) বলে জানেন অথবা তার প্রবল ধারণা (يغلب على ظنه) রয়েছে।

তৃতীয়ত: নিজের অবস্থা সত্যনিষ্ঠ ও নিখুঁতভাবে বর্ণনা করা।

চতুর্থত: মুফতি (المفتي) যা বলছেন সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা।

 

‌‌ইজতিহাদ (الاجتهاد)

ইজতিহাদ (الاجتهاد) হলো: শরয়ি বিধান (حكم شرعي) আহরণের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা।

মুজতাহিদ (المجتهد) হলেন তিনি, যিনি উক্ত উদ্দেশ্যে তার প্রচেষ্টা ব্যয় করেন।

ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর জন্য কিছু শর্ত রয়েছে; তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

1 - শরয়ি দলিলসমূহ (الأدلة الشرعية) থেকে ঐ পরিমাণ জ্ঞান রাখা, যা তার ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর জন্য প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল উসাইমীনিয়্যাহ ফী উসুলিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
2 - وَأَنْ يَعْرِفَ مَا يَتَعَلَّقُ بِصِحَّةِ الحَدِيثِ وَضَعْفِهِ.

3 - وَأَنْ يَعْرِفَ النَّاسِخَ وَالمَنْسُوخَ، وَمَوَاقِعَ الإِجْمَاعِ.

4 - وَأَنْ يَعْرِفَ مِنَ الأَدِلَّةِ مَا يَخْتَلِفُ بِهِ الحُكْمُ مِنْ تَخْصِيصٍ أَوْ تَقْيِيدٍ أَوْ نَحْوِهِ.

5 - وَأَنْ يَعْرِفَ مِنَ اللُّغَةِ وَأُصُولِ الفِقْهِ مَا يَتَعَلَّقُ بِدَلَالَاتِ الأَلْفَاظِ.

6 - وَأَنْ يَكُونَ عِنْدَهُ قُدْرَةٌ يَتَمَكَّنُ بِهَا مِنَ اسْتِنْبَاطِ الأَحْكَامِ مِنْ أَدِلَّتِهَا.

وَيَلْزَمُ المُجْتَهِدَ أَنْ يَبْذُلَ جُهْدَهُ فِي مَعْرِفَةِ الحَقِّ، ثُمَّ يَحْكُمَ بِمَا ظَهَرَ لَهُ، فَإِنْ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِنْ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ وَاحِدٌ.

وَإِنْ لَمْ يَظْهَرْ لَهُ الحُكْمُ: وَجَبَ عَلَيْهِ التَّوَقُّفُ، وَجَازَ‌‌ التَّقْلِيدُ حِينَئِذٍ لِلضَّرُورَةِ.

 

التَّقْلِيدُ

وَالتَّقْلِيدُ: اتِّبَاعُ مَنْ لَيْسَ قَوْلُهُ حُجَّةً.

وَيَكُونُ فِي مَوْضِعَيْنِ:

الأَوَّلُ: أَنْ يَكُونَ المُقَلِّدُ عَامِّيًّا.

وَالثَّانِي: أَنْ يَقَعَ لِلْمُجْتَهِدِ حَادِثَةٌ تَقْتَضِي الفَوْرِيَّةَ، وَلَا يَتَمَكَّنَ مِنَ النَّظَرِ فِيهَا.

وَالتَّقْلِيدُ نَوْعَانِ: عَامٌّ، وخَاصٌّ.

1 - فَالعَامُّ: أَنْ يَلْتَزِمَ مَذْهَبًا مُعَيَّنًا يَأْخُذُ بِرُخَصِهِ وَعَزَائِمِهِ فِي جَمِيعِ أُمُورِ دِينِهِ.

2 - وَالخَاصُّ: أَنْ يَأْخُذَ بِقَوْلٍ مُعَيَّنٍ فِي قَضِيَّةٍ مُعَيَّنَةٍ.
২ - এবং হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) সংক্রান্ত বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা।

৩ - এবং নাসিখ (ناسخ - রহিতকারী) ও মানসুখ (منسوখ - রহিত) এবং ইজমার (إجماع - সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত) ক্ষেত্রসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা।

৪ - এবং দলিলসমূহ থেকে সেসব বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান রাখা যার দ্বারা বিধান পরিবর্তিত হয়; যেমন: বিশেষায়ন (تخصيص), সীমাবদ্ধকরণ (تقييد) বা এই জাতীয় বিষয়াদি।

৫ - এবং ভাষা ও উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) থেকে শব্দার্থের বাচনিক নির্দেশিকা (دلالات الألفاظ) সংক্রান্ত বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা।

৬ - এবং তার মধ্যে এমন সক্ষমতা থাকতে হবে যার মাধ্যমে তিনি দলিলসমূহ থেকে বিধান উদ্ঘাটন (استنباط) করতে সমর্থ হন।

মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য আবশ্যক হলো সত্য অনুধাবনের জন্য তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা, অতঃপর তার নিকট যা স্পষ্ট হয় সে অনুযায়ী ফয়সালা করা। যদি তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন তবে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব, আর যদি তিনি ভুল করেন তবে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব।

আর যদি তার নিকট বিধানটি স্পষ্ট না হয়: তবে তার ওপর বিরত থাকা (توقف) আবশ্যক এবং তখন নিরুপায় অবস্থায় তাকলিদ (تقليد) করা জায়েজ।

 

তাকলিদ (تقليد)

তাকলিদ (تقليد) হলো: এমন ব্যক্তির অনুসরণ করা যার কথা স্বতন্ত্র দলিল (حجة) নয়।

এটি দুটি ক্ষেত্রে হয়ে থাকে:

প্রথমত: মুকাল্লিদ (مقلد) বা অনুসরণকারী যদি সাধারণ ব্যক্তি (عامي) হন।

দ্বিতীয়ত: মুজতাহিদের (مجتهদ) সামনে যদি এমন কোনো জরুরি বিষয় উপস্থিত হয় যা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের দাবি রাখে, অথচ তার পক্ষে তাতে গভীরভাবে গবেষণা (نظر) করা সম্ভব না হয়।

তাকলিদ (تقليد) দুই প্রকার: সাধারণ (عام) ও বিশেষ (خاص)।

১ - সাধারণ তাকলিদ: কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব (مذهب) অনুসরণ করা এবং দ্বীনের যাবতীয় বিষয়ে সেই মাযহাবের সহজতা (رخص) ও কঠোরতা (عزائم) উভয়কে গ্রহণ করা।

২ - বিশেষ তাকলিদ: কোনো সুনির্দিষ্ট মাসআলা বা বিষয়ে বিশেষ কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা।