(খণ্ড: ১) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: -)
الجامع الصحيح للسنن والمسانيد   (صهيب عبد الجبار)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الجامع الصحيح للسنن والمسانيد

المؤلف: صهيب عبد الجبار

عدد الأجزاء: 38

تاريخ النشر: 15 - 8 - 2014

[الكتاب غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1435

সুন্নাহ ও মাসানিদসমূহের বিশুদ্ধ সংকলন   (সুহাইব আব্দুল জব্বার)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: সুন্নাহ ও মাসানিদসমূহের বিশুদ্ধ সংকলন

লেখক: সুহাইব আব্দুল জব্বার

খণ্ড সংখ্যা: ৩৮

প্রকাশকাল: ১৫ - ৮ - ২০১৪

[গ্রন্থটি মুদ্রিত নয়]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ যিলকদ ১৪৩৫

(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ١)
(د حم) ، وَعَنْ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: (حَدَّثَنِي ذَلِكَ مِنْ قَوْلِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " فَهَلَّا تَرَكْتُمُوهُ " مَنْ شِئْتُمْ مِنْ رِجَالِ أَسْلَمَ مِمَّنْ لَا أَتَّهِمُ، قَالَ: وَلَمْ أَعْرِفْ هَذَا الْحَدِيثَ، قَالَ: فَجِئْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رضي الله عنهما فَقُلْتُ: إِنَّ رِجَالًا مِنْ أَسْلَمَ يُحَدِّثُونَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُمْ حِينَ ذَكَرُوا لَهُ جَزَعَ مَاعِزٍ مِنْ الْحِجَارَةِ حِينَ أَصَابَتْهُ: " أَلَا تَرَكْتُمُوهُ " ، وَمَا أَعْرِفُ الْحَدِيثَ، فَقَالَ: يَا ابْنَ أَخِي، أَنَا أَعْلَمُ النَّاسِ بِهَذَا الْحَدِيثِ، كُنْتُ فِيمَنْ رَجَمَ الرَّجُلَ، إِنَّا لَمَّا خَرَجْنَا بِهِ فَرَجَمْنَاهُ فَوَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ، صَرَخَ بِنَا: يَا قَوْمُ، رُدُّونِي إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ قَوْمِي قَتَلُونِي، وَغَرُّونِي (1) مِنْ نَفْسِي، وَأَخْبَرُونِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ قَاتِلِي (2) فَلَمْ نَنْزَعْ عَنْهُ (3) حَتَّى قَتَلْنَاهُ، فَلَمَّا رَجَعْنَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَخْبَرْنَاهُ، قَالَ: " فَهَلَّا تَرَكْتُمُوهُ وَجِئْتُمُونِي بِهِ؟) (4) (وَإِنَّمَا أَرَادَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَثَبَّتَ فِي أَمْرِهِ (5) ") (6) (فَأَمَّا لِتَرْكِ حَدٍّ فلَا (7) قَالَ: فَعَرَفْتُ وَجْهَ الْحَدِيثِ) (8).

--------------------------------------------

(1) أَيْ: خَدَعُونِي. عون المعبود - (ج 9 / ص 446)

(2) هَذَا بَيَانٌ وَتَفْسِيرٌ لِقَوْلِهِ قَتَلُونِي وَغَرُّونِي. عون المعبود - (ج 9 / ص 446)

(3) أَيْ: لَمْ نَنْتَهِ عَنْهُ. عون المعبود - (ج 9 / ص 446)

(4) (د) 4420 ، (حم) 15130

(5) يَعْنِي أَنَّ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا قَالَ كَذَلِكَ لِأَجْلِ الِاسْتِثْبَات وَالِاسْتِفْصَال ، فَإِنْ وَجَدَ شُبْهَة يَسْقُط بِهَا الْحَدّ أَسْقَطَهُ لِأَجْلِهَا وَإِنْ لَمْ يَجِد شُبْهَة كَذَلِكَ أَقَامَ عَلَيْهِ الْحَدّ، وَلَيْسَ الْمُرَاد أَنَّ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُمْ أَنْ يَدَعُوهُ، وَأَنَّ هَرَبَ الْمَحْدُود مِنْ الْحَدّ مِنْ جُمْلَة الْمُسْقِطَات، وَلِهَذَا قَالَ: فَهَلَّا تَرَكْتُمُوهُ وَجِئْتُمُونِي بِهِ. عون المعبود - (ج 9 / ص 446)

(6) (حم) 15130 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن.

(7) أَيْ: إِنَّمَا قَالَ صلى الله عليه وسلم فَهَلَّا تَرَكْتُمُوهُ إِلَخْ لِلِاسْتِثْبَاتِ وَأَمَّا قَوْله لِتَرْكِ الْحَدّ فَلَا. عون المعبود - (ج 9 / ص 446)

(8) (د) 4420 ، وحسنه الألباني في الإرواء تحت حديث: 2322
(আবু দাউদ, আহমদ), এবং হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে আমার নিকট এটি বর্ণিত হয়েছে যে: "তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না?" আসলাম গোত্রের এমন ব্যক্তিদের থেকে যাদের আমি (বর্ণনার ক্ষেত্রে) অভিযুক্ত করি না। তিনি বলেন: আমি এই হাদীসটি (বিস্তারিত) চিনতাম না। তিনি বলেন: অতঃপর আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর নিকট আসলাম এবং বললাম: আসলাম গোত্রের কিছু লোক বর্ণনা করছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন—যখন তারা তাঁর নিকট মাঈজের পাথরের আঘাতে অস্থির হয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন: "তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না?" অথচ আমি এই হাদীসটি জানি না। তখন তিনি বললেন: হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, আমি এই হাদীস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত। আমি সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যারা লোকটিকে পাথর নিক্ষেপ (রজম) করেছিল। যখন আমরা তাকে নিয়ে বের হলাম এবং তাকে পাথর নিক্ষেপ করলাম, তখন সে পাথরের আঘাত অনুভব করে আমাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলল: হে লোকসকল, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরিয়ে নিয়ে যাও, কারণ আমার কওম আমাকে মেরে ফেলেছে এবং তারা আমাকে আমার জীবনের ব্যাপারে ধোঁকা (১) দিয়েছে। তারা আমাকে জানিয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে হত্যা করবেন না (২)। কিন্তু আমরা তার থেকে বিরত থাকলাম না (৩) যতক্ষণ না তাকে হত্যা করলাম। অতঃপর যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে আসলাম এবং তাকে সংবাদ দিলাম, তখন তিনি বললেন: "তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না এবং তাকে আমার নিকট নিয়ে আসলে না?") (৪) (আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল চেয়েছিলেন তার বিষয়টি নিশ্চিত হতে (৫)) (৬) (তবে হদ বা নির্ধারিত শাস্তি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নয় (৭)। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আমি হাদীসটির উদ্দেশ্য বুঝতে পারলাম) (৮)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: তারা আমাকে প্রতারিত করেছে। 'আওনুল মাবুদ - (খণ্ড ৯ / পৃষ্ঠা ৪৪৬)

(২) এটি তাঁর উক্তি 'তারা আমাকে মেরে ফেলেছে এবং আমাকে ধোঁকা দিয়েছে' এর বর্ণনা ও ব্যাখ্যা। 'আওনুল মাবুদ - (খণ্ড ৯ / পৃষ্ঠা ৪৪৬)

(৩) অর্থাৎ: আমরা তার থেকে ক্ষান্ত হইনি। 'আওনুল মাবুদ - (খণ্ড ৯ / পৃষ্ঠা ৪৪৬)

(৪) আবু দাউদ ৪৪২০, আহমদ ১৫১৩০

(৫) অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া এবং বিস্তারিত জানার জন্যই এমনটি বলেছিলেন। সুতরাং যদি তিনি এমন কোনো সন্দেহ পেতেন যার মাধ্যমে হদ (শাস্তি) রহিত হয়, তবে তিনি এর কারণে তা রহিত করে দিতেন। আর যদি তেমন কোনো সন্দেহ না পেতেন, তবে তিনি তার ওপর হদ কায়েম করতেন। এর উদ্দেশ্য এটা নয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তাকে ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন, কিংবা হদ থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পলায়ন করা হদ রহিতকারী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর এই কারণেই তিনি বলেছিলেন: "তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না এবং তাকে আমার নিকট নিয়ে আসলে না?" 'আওনুল মাবুদ - (খণ্ড ৯ / পৃষ্ঠা ৪৪৬)

(৬) আহমদ ১৫১৩০, এবং শায়খ শুআইব আল-আরনাউত বলেছেন: এর সনদ হাসান (উত্তম)।

(৭) অর্থাৎ: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য 'কেন তাকে ছেড়ে দিলে না...' ইত্যাদি বলেছিলেন, আর হদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য নয়। 'আওনুল মাবুদ - (খণ্ড ৯ / পৃষ্ঠা ৪৪৬)

(৮) আবু দাউদ ৪৪২০, এবং আলবানী একে 'ইরওয়াউল গালীল' এর ২৩২২ নং হাদীসের অধীনে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٢)
(د حم) ، وَعَنْ نُعَيْمٍ بن هزَّالِ (أَنَّ هَزَّالًا رضي الله عنه كَانَ اسْتَأجَرَ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ، وَكَانَتْ لَهُ جَارِيَةٌ يُقَالُ لَهَا: فَاطِمَةُ، قَدْ أُمْلِكَتْ، وَكَانَتْ تَرْعَى غَنَمًا لَهُمْ، وَإِنَّ مَاعِزًا وَقَعَ عَلَيْهَا، فَأَخْبَرَ هَزَّالًا ، فَخَدَعَهُ فَقَالَ: انْطَلِقْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبِرْهُ) (1) (بِمَا صَنَعْتَ ، لَعَلَّهُ يَسْتَغْفِرُ لَكَ) (2) وفي رواية: (عَسَى أَنْ يَنْزِلَ فِيكَ قُرْآنٌ، " فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَ "، فَلَمَّا عَضَّتْهُ مَسُّ الْحِجَارَةِ انْطَلَقَ يَسْعَى، فَاسْتَقْبَلَهُ رَجُلٌ بِلَحْيِ جَزُورٍ أَوْ سَاقِ بَعِيرٍ فَضَرَبَهُ بِهِ فَصَرَعَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " وَيْلَكَ يَا هَزَّالُ، لَوْ كُنْتَ سَتَرْتَهُ بِثَوْبِكَ (3) كَانَ خَيْرًا لَكَ) (4) (مِمَّا صَنَعْتَ بِهِ ") (5)

--------------------------------------------

(1) (حم) 21941 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن.

(2) (د) 4419 ، (حم) 21940 ، (ش) 28767

(3) أَيْ: أَمَرْته بِالسَّتْرِ. عون المعبود - (ج 9 / ص 404)

(4) (حم) 21941 ، (د) 4377 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن.

(5) (حم) 21940 ، انظر الصَّحِيحَة: 3460، وهداية الرواة: 3500 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن.
(আবু দাউদ ও আহমাদ), এবং নুআইম ইবনে হায্যাল থেকে বর্ণিত (যে, হায্যাল রাযিয়াল্লাহু আনহু মায়েয ইবনে মালিককে মজুর হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। তাঁর ফাতিমা নাম্নী এক দাসী ছিল, যাকে বিবাহ দেওয়া হয়েছিল এবং সে তাদের বকরি চরাত। আর মায়েয তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলো। অতঃপর সে হায্যালকে তা জানাল। তখন তিনি তাকে কৌশল করে বললেন: তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে যাও এবং তাঁকে জানাও) (১) (তুমি যা করেছ সে বিষয়ে, সম্ভবত তিনি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন) (২) এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: (হয়তো তোমার ব্যাপারে কোনো কুরআন অবতীর্ণ হবে। "অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো।" যখন পাথরের আঘাত তাকে যন্ত্রণার্ত করল, তখন সে দৌড়ে পালাতে লাগল। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি উটের চোয়ালের হাড় অথবা উটের নলার হাড় নিয়ে তার সামনে এল এবং তা দিয়ে তাকে আঘাত করে ধরাশায়ী করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "হে হায্যাল, তোমার জন্য পরিতাপ! তুমি যদি তাকে তোমার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে (৩), তবে তা তোমার জন্য অধিক উত্তম হতো) (৪) (তার সাথে তুমি যা করেছ তার চেয়ে।") (৫)

--------------------------------------------

(১) (আহমাদ) ২১৯৪১, এবং শেখ শুআইব আল-আরনাউত বলেছেন: এর সনদ হাসান।

(২) (আবু দাউদ) ৪৪১৯, (আহমাদ) ২১৯৪০, (ইবনে আবি শায়বাহ) ২৮৭৬৭

(৩) অর্থাৎ: তুমি তাকে বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশ দিতে। 'আওনুল মাবুদ - (৯ম খণ্ড / ৪০৪ পৃষ্ঠা)

(৪) (আহমাদ) ২১৯৪১, (আবু দাউদ) ৪৩৭৭, এবং শেখ শুআইব আল-আরনাউত বলেছেন: এর সনদ হাসান।

(৫) (আহমাদ) ২১৯৪০, দেখুন আস-সহীহাহ: ৩৪৬০, এবং হিদায়াতুর রুওয়াত: ৩৫০০, এবং শেখ শুআইব আল-আরনাউত বলেছেন: এর সনদ হাসান।
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌اَلرُّجُوع فِي اَلْإِقْرَار بِالزِّنَا

(حم) ، وَبُرَيْدَةَ الْأَسْلَمِيِّ رضي الله عنه قَالَ: كُنَّا نَتَحَدَّثُ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَنَا: أَنَّ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ لَوْ جَلَسَ فِي رَحْلِهِ بَعْدَ اعْتِرَافِهِ ثَلَاثَ مِرَارٍ ، " لَمْ يَطْلُبْهُ " ، وَإِنَّمَا رَجَمَهُ عِنْدَ الرَّابِعَةِ. (1)

--------------------------------------------

(1) (حم) 22992 ، (د) 4434 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح.
ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার প্রসঙ্গে

(আহমাদ) ও বুরাইদাহ আল-আসলামী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতাম যে, মাঈয বিন মালিক যদি তিনবার স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর নিজ গৃহে অবস্থান করতেন, তবে তিনি (নবী) তাকে তলব করতেন না; তিনি কেবল চতুর্থবারের (স্বীকারোক্তির) পরই তাকে রজম করেছিলেন। (১)

--------------------------------------------

(১) (আহমাদ) ২২৯৯২, (আবু দাউদ) ৪৪৩৪, এবং শাইখ শুয়াইব আল-আরনাউত বলেছেন: সহীহ।
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌ثُبُوت اَلزِّنَا بِالْقَرَائِنِ

‌‌ثُبُوت اَلزِّنَا بِظُهُور اَلْحَمْل

(ط) ، مَالِكٌ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رضي الله عنه أُتِيَ بِامْرَأَةٍ قَدْ وَلَدَتْ فِي سِتَّةِ أَشْهُرٍ ، فَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُرْجَمَ ، فَقَالَ لَهُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه لَيْسَ ذَلِكَ عَلَيْهَا ، إِنَّ اللهَ تبارك وتعالى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ: {وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا} (1) ، وَقَالَ: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ} (2) فَالْحَمْلُ يَكُونُ سِتَّةَ أَشْهُرٍ ، فَلَا رَجْمَ عَلَيْهَا ، فَبَعَثَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فِي أَثَرِهَا فَوَجَدَهَا قَدْ رُجِمَتْ. (3)

--------------------------------------------

(1) [الأحقاف: 15]

(2) [البقرة: 233]

(3) (ط) 2384
পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে যিনা সাব্যস্ত হওয়া

গর্ভধারণ প্রকাশের মাধ্যমে যিনা সাব্যস্ত হওয়া

(মুয়াত্তা), ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত যে, তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর নিকট এমন এক নারীকে আনা হলো যে ছয় মাসে সন্তান প্রসব করেছে। তিনি তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) করার নির্দেশ দিলেন। তখন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) তাঁকে বললেন, "তার ওপর এটি প্রযোজ্য নয়। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন: {আর তার গর্ভধারণ ও স্তন্যপান ছাড়ানোর সময়কাল ত্রিশ মাস} (১), এবং তিনি আরও বলেছেন: {আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর স্তন্যপান করাবে, যদি কেউ স্তন্যদানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়} (২)। সুতরাং গর্ভকাল ছয় মাস হতে পারে, তাই তার ওপর রজম নেই।" অতঃপর উসমান ইবনে আফফান (রা.) তার পিছনে লোক পাঠালেন (তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য), কিন্তু গিয়ে দেখা গেল যে তাকে রজম করা হয়ে গেছে। (৩)

--------------------------------------------

(১) [আল-আহকাফ: ১৫]

(২) [আল-বাকারাহ: ২৩৩]

(৩) (মুয়াত্তা মালিক) ২৩৮৪
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٥)
(م د حم) ، وَعَنْ بُرَيْدَةَ الْأَسْلَمِيِّ رضي الله عنه قَالَ: (جَاءَتْ امْرَأَةٌ مِنْ غَامِدٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم) (1) (فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي قَدْ زَنَيْتُ فَطَهِّرْنِي ، " فَرَدَّهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم) (2) (وَقَالَ: وَيْحَكِ ارْجِعِي فَاسْتَغْفِرِي اللهَ وَتُوبِي إِلَيْهِ " ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ ، أَرَاكَ تُرِيدُ أَنْ تُرَدِّدَنِي كَمَا رَدَّدْتَ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ) (3) (فَوَاللهِ إِنِّي لَحُبْلَى) (4) (مِنْ الزِّنَى ، قَالَ: " أَنْتِ؟ " ، قَالَتْ: نَعَمْ) (5) (فَقَالَ لَهَا: " فَاذْهَبِي حَتَّى) (6) (تَضَعِي مَا فِي بَطْنِكِ " ، فَكَفَلَهَا رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ حَتَّى وَضَعَتْ ، ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: قَدْ وَضَعَتْ الْغَامِدِيَّةُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " إِذًا لَا نَرْجُمُهَا وَنَدَعُ وَلَدَهَا صَغِيرًا لَيْسَ لَهُ مَنْ يُرْضِعُهُ " ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ فَقَالَ: إِلَيَّ رَضَاعُهُ يَا نَبِيَّ اللهِ) (7) وفي رواية: (فَلَمَّا وَلَدَتْ أَتَتْهُ بِالصَّبِيِّ فِي خِرْقَةٍ ، فَقَالَتْ: هَذَا قَدْ وَلَدْتُهُ ، قَالَ: " اذْهَبِي فَأَرْضِعِيهِ حَتَّى تَفْطِمِيهِ " ، فَلَمَّا فَطَمَتْهُ أَتَتْهُ بِالصَّبِيِّ وَفِي يَدِهِ كِسْرَةُ خُبْزٍ ، فَقَالَتْ: هَذَا يَا نَبِيَّ اللهِ قَدْ فَطَمْتُهُ ، وَقَدْ أَكَلَ الطَّعَامَ ، " فَدَفَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الصَّبِيَّ إِلَى رَجُلٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ ، ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَحُفِرَ لَهَا إِلَى صَدْرِهَا) (8) وفي رواية: (فَحُفِرَ لَهَا إِلَى الثَّنْدُوَةِ) (9) (ثُمَّ أَمَرَ النَّاسَ أَنْ يَرْجُمُوهَا) (10) (فَكَانَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ رضي الله عنه فِيمَنْ يَرْجُمُهَا) (11) (فَرَمَى رَأسَهَا بِحَجَرٍ) (12) (فَوَقَعَتْ قَطْرَةٌ مِنْ دَمِهَا) (13) (عَلَى وَجْهِ خَالِدٍ ، فَسَبَّهَا ، " فَسَمِعَ نَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم سَبَّهُ إِيَّاهَا ، فَقَالَ: مَهْلًا يَا خَالِدُ ، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ تَابَهَا صَاحِبُ مَكْسٍ (14) لَغُفِرَ لَهُ ، ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَصَلَّى عَلَيْهَا ، وَدُفِنَتْ ") (15)

--------------------------------------------

(1) (م) 22 - (1695) ، (د) 4442

(2) (م) 23 - (1695) ، (د) 4442

(3) (م) 22 - (1695) ، (د) 4442

(4) (م) 23 - (1695) ، (د) 4442

(5) (م) 22 - (1695)

(6) (م) 23 - (1695)

(7) (م) 22 - (1695)

(8) (م) 23 - (1695) ، (د) 4442 ، (حم) 22999

(9) (د) 4443 ، والثَّنْدوة: موضع الثديين والمراد مستوى الصدر.

(10) (حم) 22999 ، (م) 23 - (1695)

(11) (د) 4442

(12) (م) 23 - (1695)

(13) (د) 4442

(14) مَكَسَ فِي الْبَيْعِ مَكْسًا أَيْ: نَقَصَ الثَّمَنَ ، وَالْمَكْسُ: الْجِبَايَةُ ، وَقَدْ غَلَبَ اسْتِعْمَالُ الْمَكْسِ فِيمَا يَأخُذُهُ أَعْوَانُ السُّلْطَانِ ظُلْمًا عِنْدَ الْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ ، قَالَ الشَّاعِرُ:

وَفِي كُلِّ أَسْوَاقِ الْعِرَاقِ إتَاوَةٌ … وَفِي كُلِّ مَا بَاعَ امْرُؤٌ مَكْسُ دِرْهَمِ.

(15) (م) 23 - (1695) ، (د) 4442 ، (حم) 22999 ، صححه الألباني في الإرواء: 2226
(মুসলিম, আবু দাউদ, আহমদ), এবং বুরাইদাহ আল-আসলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (গামিদিয়া গোত্রের এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন) (১) (তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি ব্যভিচার করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে পবিত্র করুন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ফিরিয়ে দিলেন) (২) (এবং বললেন: তোমার প্রতি আফসোস! ফিরে যাও এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো ও তাঁর কাছে তাওবা করো। মহিলাটি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে দেখছি যে, আপনি আমাকে সেভাবেই ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছেন যেভাবে আপনি মা’ইজ ইবনে মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন) (৩) (আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি গর্ভবতী) (৪) (ব্যভিচারের কারণে। তিনি বললেন: "তুমি?" মহিলা বললেন: হ্যাঁ) (৫) (অতঃপর তিনি তাকে বললেন: "তাহলে যাও যতক্ষণ না) (৬) (তুমি তোমার গর্ভস্থ সন্তান প্রসব করো।" অতঃপর আনসারদের এক ব্যক্তি তার দায়িত্ব নিলেন যতক্ষণ না তিনি সন্তান প্রসব করলেন। এরপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: গামিদিয়া মহিলা সন্তান প্রসব করেছে। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "এমতাবস্থায় আমরা তাকে রজম করব না এবং তার শিশুকে ছোট অবস্থায় এমনভাবে ছেড়ে দেব না যে তাকে দুধ পান করানোর কেউ নেই।" তখন আনসারদের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর নবী! তার দুধ পানের জিম্মাদারি আমার ওপর) (৭) অন্য এক বর্ণনায় আছে: (যখন তিনি সন্তান প্রসব করলেন, তখন শিশুকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে তাঁর কাছে নিয়ে আসলেন এবং বললেন: এই যে আমি একে প্রসব করেছি। তিনি বললেন: "যাও এবং একে দুধ পান করাও যতক্ষণ না তুমি এর দুধ ছাড়িয়ে দাও।" অতঃপর যখন তিনি তার দুধ ছাড়ালেন, তখন শিশুকে নিয়ে আসলেন যার হাতে এক টুকরো রুটি ছিল। তিনি বললেন: হে আল্লাহর নবী! এই যে আমি তার দুধ ছাড়িয়েছি এবং সে খাবার খেতে শুরু করেছে। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিশুটিকে মুসলমানদের এক ব্যক্তির নিকট সোপর্দ করলেন। এরপর মহিলার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তার জন্য বুক পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া হলো) (৮) অন্য এক বর্ণনায় আছে: (তার জন্য বুক পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া হলো) (৯) (অতঃপর তিনি লোকজনকে তাকে রজম করার নির্দেশ দিলেন) (১০) (খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদের মধ্যে ছিলেন যারা তাকে রজম করছিল) (১১) (তিনি একটি পাথর দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলেন) (১২) (তার রক্তের এক ফোঁটা ছিটকে পড়ল) (১৩) (খালিদের চেহারার ওপর, তখন তিনি তাকে গালি দিলেন। আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার প্রতি খালিদের গালি শুনলেন এবং বললেন: থামো হে খালিদ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! নিশ্চয় সে এমন এক তাওবা করেছে যে, যদি কোন অবৈধ কর আদায়কারীও (১৪) এমন তাওবা করত তবে তাকেও ক্ষমা করে দেওয়া হতো। এরপর তিনি তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তার জানাজার সালাত আদায় করলেন এবং তাকে দাফন করা হলো) (১৫)

--------------------------------------------

(১) (মুসলিম) ২২ - (১৬৯৫), (আবু দাউদ) ৪৪৪২

(২) (মুসলিম) ২৩ - (১৬৯৫), (আবু দাউদ) ৪৪৪২

(৩) (মুসলিম) ২২ - (১৬৯৫), (আবু দাউদ) ৪৪৪২

(৪) (মুসলিম) ২৩ - (১৬৯৫), (আবু দাউদ) ৪৪৪২

(৫) (মুসলিম) ২২ - (১৬৯৫)

(৬) (মুসলিম) ২৩ - (১৬৯৫)

(৭) (মুসলিম) ২২ - (১৬৯৫)

(৮) (মুসলিম) ২৩ - (১৬৯৫), (আবু দাউদ) ৪৪৪২, (আহমদ) ২২৯৯৯

(৯) (আবু দাউদ) ৪৪৪৩, আর 'আছ-ছান্দুয়াহ' হলো স্তনের স্থান এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বুকের সমপরিমাণ।

(১০) (আহমদ) ২২৯৯৯, (মুসলিম) ২৩ - (১৬৯৫)

(১১) (আবু দাউদ) ৪৪৪২

(১২) (মুসলিম) ২৩ - (১৬৯৫)

(১৩) (আবু দাউদ) ৪৪৪২

(১৪) ক্রয়-বিক্রয়ের সময় মূল্য কমিয়ে দেওয়াকে মাকস বলা হয়। আর মাকস হলো কর সংগ্রহ করা। প্রচলিত অর্থে সুলতানের সহযোগীরা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় জুলুম করে যা গ্রহণ করে থাকে তাকেই মাকস বলা হয়। জনৈক কবি বলেছেন:

ইরাকের প্রতিটি বাজারে কর রয়েছে ... এবং প্রতিটি ব্যক্তি যা বিক্রি করে তাতে এক দিরহাম কর দিতে হয়।

(১৫) (মুসলিম) ২৩ - (১৬৯৫), (আবু দাউদ) ৪৪৪২, (আহমদ) ২২৯৯৯, আলবানি একে ইরওয়াউল গালীল: ২২২৬-এ সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌حَدُّ الزِّنَا

‌‌حَدُّ الزَّانِي غَيْرِ الْمُحْصَن

قَالَ تَعَالَى: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِئَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأخُذْكُمْ بِهِمَا رَأفَةٌ فِي دِينِ اللهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ، وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} (1)

(ن) ، وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه " أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى فِيمَنْ زَنَى وَلَمْ يُحْصَنْ: أَنْ يُنْفَى عَامًا، مَعَ إِقَامَةِ الْحَدِّ عَلَيْهِ " (2)

--------------------------------------------

(1) [النور/2]

(2) (ن) 7237 ، (خ) 6444 ، (حم) 9845 ، (هق) 16749
ব্যভিচারের দণ্ডবিধি

অবিবাহিত ব্যভিচারীর দণ্ডবিধি

আল্লাহ তাআলা বলেন: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশত কশাঘাত করো। আল্লাহর বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে কোনো দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।} (১)

(নাসাঈ), আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফয়সালা দিয়েছেন যে ব্যভিচার করেছে কিন্তু সে বিবাহিত নয়: তাকে এক বছরের জন্য নির্বাসিত করা হবে, সাথে তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড কার্যকর করা হবে।" (২)

--------------------------------------------

(১) [আন-নূর/২]

(২) (নাসাঈ) ৭২৩৭, (বুখারী) ৬৪৪৪, (আহমাদ) ৯৮৪৫, (বায়হাকী) ১৬৭৪৯
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٧)
(خ) ، وَعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ رضي الله عنه قَالَ: (" سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَأمُرُ فِيمَنْ زَنَى وَلَمْ يُحْصَنْ) (1) (بِجَلْدِ مِائَةٍ ، وَتَغْرِيبِ عَامٍ ") (2)

--------------------------------------------

(1) (خ) 6443

(2) (خ) 2506 ، (ن) 7234 ، (طل) 1332 ، (هق) 16748
(বুখারী), যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ("আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সেই ব্যক্তির ব্যাপারে নির্দেশ দিতে শুনেছি যে ব্যভিচার করেছে এবং সে বিবাহিত ছিল না) (১) (একশত বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তরের।") (২)

--------------------------------------------

(১) (বুখারী) ৬৪৪৩

(২) (বুখারী) ২৫০৬, (নাসাঈ) ৭২৩৪, (ত্বয়াল্লানি) ১৩৩২, (বায়হাকী) ১৬৭৪৮
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٨)
(ط) ، وَعَنْ نَافِعٍ ، أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رضي الله عنه أُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ وَقَعَ عَلَى جَارِيَةٍ بِكْرٍ فَأَحْبَلَهَا ، ثُمَّ اعْتَرَفَ عَلَى نَفْسِهِ بِالزِّنَا ، وَلَمْ يَكُنْ أَحْصَنَ ، فَأَمَرَ بِهِ أَبُو بَكْرٍ فَجُلِدَ الْحَدَّ ، ثُمَّ نُفِيَ إِلَى فَدَكَ. (1)

--------------------------------------------

(1) (ط) 1509 ، (عب) 13311 ، (ش) 28796 ، (هق) 16752 ، إسناده صحيح.
(মুয়াত্তা), এবং নাফি থেকে বর্ণিত যে, সাফিয়্যাহ বিনতে আবি উবাইদ তাকে অবহিত করেছেন যে, আবু বকর সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর নিকট জনৈক ব্যক্তিকে আনা হলো যে এক কুমারী দাসীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল এবং তাকে গর্ভবতী করে ফেলেছিল। অতঃপর সে নিজের ব্যভিচারের কথা স্বীকার করল এবং সে বিবাহিত ছিল না। তখন আবু বকর (রা.) নির্দেশ প্রদান করলেন এবং তাকে নির্ধারিত দণ্ড (হদ) হিসেবে বেত্রাঘাত করা হলো, অতঃপর তাকে ফাদাকে নির্বাসিত করা হলো। (১)

--------------------------------------------

(১) (মুয়াত্তা) ১৫০৯, (মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক) ১৩৩১১, (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ) ২৮৭৯৬, (সুনান আল-বায়হাকি) ১৬৭৫২, এর সনদ সহীহ।
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٩)
(ت) ، وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما " أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ضَرَبَ وَغَرَّبَ ، وَأَنَّ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه ضَرَبَ وَغَرَّبَ ، وَأَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه ضَرَبَ وَغَرَّبَ " (1)

--------------------------------------------

(1) (ت) 1438 ، (ن) 7342، (ك) 8105 ، (هق) 16754 ، وصححه الألباني في الإرواء: 2344
(তিরমিযী), এবং ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, "নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কশাঘাত করেছেন এবং নির্বাসিত করেছেন, এবং আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কশাঘাত করেছেন ও নির্বাসিত করেছেন, এবং উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কশাঘাত করেছেন ও নির্বাসিত করেছেন।" (১)

--------------------------------------------

(১) (তিরমিযী) ১৪৩৮, (নাসাঈ) ৭৩৪২, (আল-হাকিম) ৮১০৫, (বায়হাকী) ১৬৭৫৪, এবং আলবানী একে আল-ইরওয়া গ্রন্থে সহীহ বলেছেন: ২৩৪৪
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ١٠)
(ط) ، وَعَنْ نَافِعٍ ، أَنَّ عَبْدًا كَانَ يَقُومُ عَلَى رَقِيقِ الْخُمُسِ ، وَأَنَّهُ اسْتَكْرَهَ جَارِيَةً مِنْ ذَلِكَ الرَّقِيقِ فَوَقَعَ بِهَا ، فَجَلَدَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَنَفَاهُ ، وَلَمْ يَجْلِدِ الْوَلِيدَةَ لأَنَّهُ اسْتَكْرَهَهَا. (1)

--------------------------------------------

(1) (ط) 2391
(ত), নাফে‘ থেকে বর্ণিত যে, একজন দাস খুমুসের (পঞ্চমাংশ লব্ধ সম্পদ) দাসদের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। সে সেই দাসীদের মধ্য থেকে এক দাসীকে বাধ্য করল এবং তার সাথে উপগত হলো। ফলে উমর ইবনুল খাত্তাব তাকে বেত্রাঘাত করলেন ও তাকে নির্বাসিত করলেন। তবে তিনি সেই দাসীটিকে বেত্রাঘাত করেননি, কারণ তাকে বাধ্য করা হয়েছিল। (১)

--------------------------------------------

(১) (ত) ২৩৯১
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌حَدُّ الزَّانِي الْمُحْصَن

(خ م س حم) ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: (قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فِي عُقْبِ ذِي الْحَجَّةِ ، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ عَجَّلْتُ الرَّوَاحَ حِينَ زَاغَتْ الشَّمْسُ ، فَوَجَدْتُ سَعِيدَ بْنَ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ رضي الله عنه جَالِسًا إِلَى رُكْنِ الْمِنْبَرِ ، فَجَلَسْتُ حَوْلَهُ تَمَسُّ رُكْبَتِي رُكْبَتَهُ ، فَلَمْ أَنْشَبْ أَنْ خَرَجَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ، فَلَمَّا رَأَيْتُهُ مُقْبِلًا قُلْتُ لِسَعِيدِ بْنِ زَيْدِ: لَيَقُولَنَّ الْعَشِيَّةَ مَقَالَةً لَمْ يَقُلْهَا مُنْذُ اسْتُخْلِفَ ، فَأَنْكَرَ عَلَيَّ وَقَالَ: مَا عَسَيْتَ أَنْ يَقُولَ مَا لَمْ يَقُلْ قَبْلَهُ (1)؟ ، فَجَلَسَ عُمَرُ عَلَى الْمِنْبَرِ ، فَلَمَّا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُونَ قَامَ فَأَثْنَى عَلَى اللهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ، ثُمَّ قَالَ: أَمَّا بَعْدُ ، فَإِنِّي قَائِلٌ لَكُمْ مَقَالَةً قَدْ قُدِّرَ لِي أَنْ أَقُولَهَا ، فَمَنْ عَقَلَهَا وَوَعَاهَا فَلْيُحَدِّثْ بِهَا حَيْثُ انْتَهَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ ، وَمَنْ خَشِيَ أَنْ لَا يَعْقِلَهَا فلَا أُحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَكْذِبَ عَلَيَّ) (2) (إِنَّ اللهَ بَعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِالْحَقِّ ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ (3) فَكَانَ مِمَّا أَنْزَلَ اللهُ: آيَةُ الرَّجْمِ:) (4) ({الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ إِذَا زَنَيَا فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ (5)}) (6) (فَقَرَأنَاهَا وَعَقَلْنَاهَا وَوَعَيْنَاهَا ، رَجَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم) (7) (وَرَجَمَ أَبُو بَكْرٍ ، وَرَجَمْتُ) (8) (وَايْمُ اللهِ (9) لَوْلَا أَنْ يَقُولَ النَّاسُ: زَادَ عُمَرُ فِي كِتَابِ اللهِ عز وجل لَكَتَبْتُهَا) (10) (فِي المُصْحَفِ) (11) (كَمَا أُنْزِلَتْ) (12) (فَأَخْشَى إِنْ طَالَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ) (13) (أَنْ تَجِيءَ أَقْوَامٌ فلَا يَجِدُونَهُ فِي كِتَابِ اللهِ) (14) فَـ (يَقُولَ قَائِلٌ: وَاللهِ مَا نَجِدُ آيَةَ الرَّجْمِ فِي كِتَابِ اللهِ) (15) وَ (لَا نَجِدُ حَدَّيْنِ فِي كِتَابِ اللهِ) (16) (وَإِنَّمَا فِي كِتَابِ اللهِ الْجَلْدُ) (17) (فَيَكْفُرُونَ بِهِ) (18) (فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ أَنْزَلَهَا اللهُ (19) وَإِنَّ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللهِ حَقٌّ (20) عَلَى مَنْ زَنَى إِذَا أُحْصِنَ (21) مِنْ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ ، إِذَا قَامَتْ الْبَيِّنَةُ ، أَوْ كَانَ الْحَبَلُ (22) أَوْ الِاعْتِرَافُ) (23)

--------------------------------------------

(1) أَرَادَ اِبْن عَبَّاس أَنْ يُنَبِّه سَعِيدًا مُعْتَمِدًا عَلَى مَا أَخْبَرَهُ بِهِ عَبْد الرَّحْمَن لِيَكُونَ عَلَى يَقَظَة فَيُلْقِيَ بَاله لِمَا يَقُولهُ عُمَر ، فَلَمْ يَقَع ذَلِكَ مِنْ سَعِيد مَوْقِعًا بَلْ أَنْكَرَهُ، لِأَنَّهُ لَمْ يَعْلَم بِمَا سَبَقَ لِعُمَر وَعَلَى بِنَاء أَنَّ الْأُمُور اِسْتَقَرَّتْ. فتح الباري (ج 19 / ص 257)

(2) (خ) 6442

(3) قَدَّمَ عُمَر هَذَا الْكَلَام قَبْل مَا أَرَادَ أَنْ يَقُولهُ تَوْطِئَة لَهُ لِيَتَيَقَّظ السَّامِع لِمَا يَقُول. فتح الباري (ج 19 / ص 257)

(4) (خ) 6442 ، (م) 15 - (1691)

(5) قَوْلُهُ: الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ ، يَعْنِي: الثَّيِّبَ وَالثَّيِّبَةَ ، فَارْجُمُوهُمَا أَلْبَتَّةَ.

(6) (جة) 2553 ، (ط) 1506 ، (حب) 4428 ، (ش) 28776 ، انظر الصحيحة: 2913

(7) (خ) 6442 ، (م) 15 - (1691) ، (حب) 414 ، (حم) 197

(8) (ت) 1431 ، (ش) 28779 ، (خ) 6441 ، (م) 15 - (1691)

(9) (وَايْمُ اللهِ) أي: وَاللهِ.

(10) (د) 4418 ، (ط) 1506 ، (حب) 413 ، (مش) 2057

(11) (ت) 1431

(12) (حم) 352 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.

(13) (خ) 6442 ، (م) 15 - (1691)

(14) (ت) 1431

(15) (خ) 6442 ، (م) 15 - (1691) ، (حم) 391

(16) (حم) 249 ، (ط) 1506 ، (هق) 16697 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح.

(17) (حم) 352 ، (ن) 7154 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.

(18) (ت) 1431

(19) أَيْ: فِي الْآيَة الْمَذْكُورَة الَّتِي نُسِخَتْ تِلَاوَتهَا وَبَقِيَ حُكْمُهَا، وَقَدْ وَقَعَ مَا خَشِيَهُ عُمَر أَيْضًا فَأَنْكَرَ الرَّجْم طَائِفَة مِنْ الْخَوَارِج أَوْ مُعْظَمهمْ وَبَعْض الْمُعْتَزِلَة، وَيَحْتَمِل أَنْ يَكُون اِسْتَنَدَ فِي ذَلِكَ إِلَى تَوْقِيف. فتح الباري (ج19ص 257)

(20) أَيْ: فِي قَوْله تَعَالَى {وَاللَّاتِي يَأتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِنْكُمْ فَإِنْ شَهِدُوا فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّى يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللهُ لَهُنَّ سَبِيلًا} [النساء/15] فَبَيَّنَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الْمُرَاد بِهِ رَجْم الثَّيِّب وَجَلْد الْبِكْر كَمَا تَقَدَّمَ التَّنْبِيه عَلَيْهِ فِي قِصَّة الْعَسِيف قَرِيبًا. فتح الباري (ج 19 / ص 257)

(21) أَيْ: كَانَ بَالِغًا عَاقِلًا قَدْ تَزَوَّجَ حُرَّة تَزْوِيجًا صَحِيحًا وَجَامَعَهَا. فتح الباري (ج 19 / ص 257)

(22) أَيْ: وُجِدَتْ الْمَرْأَة الْخَلِيَّة مِنْ زَوْج أَوْ سَيِّد حُبْلَى وَلَمْ تَذْكُر شُبْهَة وَلَا إِكْرَاه. فتح الباري (ج 19 / ص 257)

(23) (م) 15 - (1691) ، (خ) 6442 ، (ت) 1432 ، (حم) 391
বিবাহিত ব্যভিচারীর দণ্ডবিধি

(বুখারী, মুসলিম, নাসায়ী, আহমাদ), ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমরা জিলহজ মাসের শেষে মদিনায় এলাম। যখন জুমার দিন এল, সূর্য ঢলে পড়ার সাথে সাথেই আমি দ্রুত (মসজিদের দিকে) রওনা হলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মিম্বারের এক কোণে বসে আছেন। আমি তাঁর পাশে এমনভাবে বসলাম যে আমার হাঁটু তাঁর হাঁটুকে স্পর্শ করছিল। এরপর কিছুক্ষণ কাটতেই উমর ইবনে খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বেরিয়ে এলেন। তাঁকে আসতে দেখে আমি সাঈদ ইবনে যায়েদকে বললাম: আজ সন্ধ্যায় তিনি অবশ্যই এমন কিছু কথা বলবেন যা খলিফা হওয়ার পর থেকে তিনি আর কখনো বলেননি। তখন তিনি (সাঈদ) আমার কথাটি অপছন্দ করে বললেন: তিনি এমন কী বলবেন যা আগে কখনো বলেননি (১)? এরপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মিম্বারে বসলেন। যখন মুয়াজ্জিনদের আজান শেষ হলো, তখন তিনি দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন। এরপর বললেন: 'অতঃপর, আমি আপনাদের কাছে এমন একটি কথা বলতে যাচ্ছি যা বলা আমার জন্য নির্ধারিত ছিল। সুতরাং যে ব্যক্তি তা বুঝবে এবং স্মরণে রাখবে, সে যেন তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয় যেখানে তার বাহন তাকে নিয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি তা বুঝতে না পারার আশঙ্কা করবে, আমি কারো জন্য আমার নামে মিথ্যা বলা বৈধ করছি না (২)। আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সত্যসহ পাঠিয়েছেন এবং তাঁর ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন (৩)। আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছিলেন তার মধ্যে রজমের (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু) আয়াতও ছিল (৪): {বিবাহিত পুরুষ ও নারী যখন ব্যভিচার করবে, তখন তাদের অবশ্যই পাথর নিক্ষেপ করো (৫)} (৬)। আমরা সেই আয়াতটি পড়েছি, বুঝেছি এবং স্মরণে রেখেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রজম কার্যকর করেছেন (৭), এবং আবু বকরও রজম করেছেন, আর আমিও রজম করেছি (৮)। আল্লাহর কসম (৯), যদি মানুষ এমনটি বলার আশঙ্কা না থাকত যে, উমর মহান আল্লাহর কিতাবে অতিরিক্ত কিছু যোগ করেছেন, তবে আমি তা লিখে দিতাম (১০) মুসহাফের মধ্যে (১১) ঠিক যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল (১২)। আমি আশঙ্কা করি যে, যদি মানুষের ওপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয় (১৩), তবে এমন কিছু লোক আসবে যারা তা আল্লাহর কিতাবে খুঁজে পাবে না (১৪)। তখন কোনো বর্ণনাকারী বলবে: আল্লাহর কসম, আমরা আল্লাহর কিতাবে রজমের কোনো আয়াত খুঁজে পাচ্ছি না (১৫)। এবং আমরা আল্লাহর কিতাবে দুটি দণ্ডবিধি খুঁজে পাচ্ছি না (১৬), বরং আল্লাহর কিতাবে কেবল বেত্রাঘাতের কথাই আছে (১৭)। এর মাধ্যমে তারা সেই বিধানকে অস্বীকার করবে (১৮), ফলে আল্লাহ প্রেরিত একটি ফরজ বিধান ত্যাগের মাধ্যমে তারা পথভ্রষ্ট হবে (১৯)। অথচ আল্লাহর কিতাবে রজমের বিধান সত্য (২০), যে ব্যভিচার করেছে তার জন্য যদি সে মুহসান (বিবাহিত) হয় (২১), চাই সে পুরুষ হোক বা নারী, যখন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় অথবা গর্ভধারণ প্রকাশ পায় (২২) কিংবা স্বীকারোক্তি পাওয়া যায় (২৩)।)

--------------------------------------------

(১) ইবনে আব্বাস (রা.) আব্দুর রহমান (রা.)-এর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সাঈদকে সচেতন করতে চেয়েছিলেন যাতে তিনি উমরের কথার প্রতি মনোযোগী হন। সাঈদ তখন বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব দেননি বরং এটি অসম্ভব মনে করেছিলেন, কারণ উমরের পূর্বের কোনো বক্তব্য তাঁর জানা ছিল না এবং তিনি ভেবেছিলেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে। ফাতহুল বারী (খণ্ড ১৯ / পৃষ্ঠা ২৫৭)

(২) (বুখারী) ৬৪৪২

(৩) উমর (রা.) যা বলতে চেয়েছিলেন তার ভূমিকারূপে এই কথাটি বলেছিলেন যেন শ্রোতারা তাঁর বক্তব্যের প্রতি পূর্ণ সচেতন হয়। ফাতহুল বারী (খণ্ড ১৯ / পৃষ্ঠা ২৫৭)

(৪) (বুখারী) ৬৪৪২, (মুসলিম) ১৫ - (১৬৯১)

(৫) তাঁর উক্তি: 'শেখ ও শেখা' (বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা) অর্থ হলো বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিত নারী, অতএব তাদের অবশ্যই পাথর নিক্ষেপ করো।

(৬) (ইবনে মাজাহ) ২৫৫৩, (মুয়াত্তা মালেক) ১৫০৬, (ইবনে হিব্বান) ৪৪২৮, (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ) ২৮৭৭৬, দেখুন আস-সহীহাহ: ২৯১৩

(৭) (বুখারী) ৬৪৪২, (মুসলিম) ১৫ - (১৬৯১), (ইবনে হিব্বান) ৪১৪, (আহমাদ) ১৯৭

(৮) (তিরমিযী) ১৪৩১, (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ) ২৮৭৭৯, (বুখারী) ৬৪৪১, (মুসলিম) ১৫ - (১৬৯১)

(৯) (ওয়াইমুল্লাহ) অর্থ: আল্লাহর কসম।

(১০) (আবু দাউদ) ৪৪১৮, (মুয়াত্তা মালেক) ১৫০৬, (ইবনে হিব্বান) ৪১৩, (মিশকাত) ২০৫৭

(১১) (তিরমিযী) ১৪৩১

(১২) (আহমাদ) ৩৫২, শেখ শুয়াইব আল-আরনাউত বলেছেন: এর সনদ সহীহ।

(১৩) (বুখারী) ৬৪৪২, (মুসলিম) ১৫ - (১৬৯১)

(১৪) (তিরমিযী) ১৪৩১

(১৫) (বুখারী) ৬৪৪২, (মুসলিম) ১৫ - (১৬৯১), (আহমাদ) ৩৯১

(১৬) (আহমাদ) ২৪৯, (মুয়াত্তা মালেক) ১৫০৬, (বায়হাকী) ১৬৬৯৭, শেখ শুয়াইব আল-আরনাউত বলেছেন: এটি সহীহ।

(১৭) (আহমাদ) ৩৫২, (নাসায়ী) ৭১৫৪, শেখ শুয়াইব আল-আরনাউত বলেছেন: এর সনদ সহীহ।

(১৮) (তিরমিযী) ১৪৩১

(১৯) অর্থাৎ: উল্লিখিত সেই আয়াতে যার তেলাওয়াত রহিত হয়েছে কিন্তু হুকুম বহাল আছে। উমর (রা.) যা আশঙ্কা করেছিলেন তা বাস্তবেও ঘটেছে; খারিজিদের একটি দল বা তাদের অধিকাংশ এবং কিছু মুতাজিলা রজমের বিধান অস্বীকার করেছে। হতে পারে উমর (রা.) ওহীর মাধ্যমেই এই আশঙ্কার কথা জেনেছিলেন। ফাতহুল বারী (খণ্ড ১৯ / পৃষ্ঠা ২৫৭)

(২০) অর্থাৎ মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করো; যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে তাদের ঘরে অবরুদ্ধ রাখো যতক্ষণ না মৃত্যু তাদের গ্রাস করে অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ বের করে দেন} [নিসা: ১৫]। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এর অর্থ হলো বিবাহিতদের জন্য রজম এবং অবিবাহিতদের জন্য বেত্রাঘাত, যেমনটি ইতিপূর্বে আসীফের ঘটনায় ইঙ্গিত করা হয়েছে। ফাতহুল বারী (খণ্ড ১৯ / পৃষ্ঠা ২৫৭)

(২১) অর্থাৎ: যে বালেগ, বিবেকসম্পন্ন এবং কোনো স্বাধীন নারীকে বৈধভাবে বিবাহ করে তার সাথে সহবাস করেছে। ফাতহুল বারী (খণ্ড ১৯ / পৃষ্ঠা ২৫৭)

(২২) অর্থাৎ: স্বামী বা মালিকহীন কোনো নারী গর্ভবতী হয়েছে এবং সে কোনো সংশয় বা জবরদস্তির কথা উল্লেখ করেনি। ফাতহুল বারী (খণ্ড ১৯ / পৃষ্ঠা ২৫৭)

(২৩) (মুসলিম) ১৫ - (১৬৯১), (বুখারী) ৬৪৪২, (তিরমিযী) ১৪৩২, (আহমাদ) ৩৯১
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ١٢)
(حب طس) ، وَعَنْ زِرِّ بن حُبَيْشٍ قَالَ: (قَالَ لِي أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ رضي الله عنه: كَمْ تَعُدُّونَ سُورَةَ الْأَحْزَابِ؟ ، فَقُلْتُ: نَعُدُّهَا اثْنَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا وَسَبْعِينَ آيَةً) (1) (قَالَ أُبَيٌّ: وَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ ، إِنْ كَانَتْ لَتَعْدِلُ سُورَةَ الْبَقَرَةِ، وَلَقَدْ قَرَأنَا فِيهَا آيَةَ الرَّجْمِ: {الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ (2) نَكَالًا (3) مِنَ اللهِ، وَاللهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} ") (4)

--------------------------------------------

(1) (طس) 4352 ، (حم) 21245 ، (ن) 7150 ، (حب) 4429

(2) البَتَّة: اشتقاقُها من القَطْع، غير أَنه يُستعمل في كل أَمْرٍ يَمضي لَا رَجْعَةَ فيه ولا الْتِواء.

(3) النَّكَال: العقوبة التي امتُنِعَ عن فِعل ما جُعِلَت له جَزاءً.

(4) (حب) 4429 ، (حم) 21245 ، (عب) 5990 ، (ن) 7150 ، (طس) 4352 انظر الصَّحِيحَة تحت حديث: 2913
(ইবনে হিব্বান, তাবারানি আল-আওসাত), এবং যির ইবনে হুবাইশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেন: তোমরা সূরা আল-আহযাব কত আয়াত হিসেবে গণনা করো? আমি বললাম: আমরা একে বাহাত্তর বা তিয়াত্তর আয়াত হিসেবে গণনা করি) (১) (উবাই বললেন: যাঁর নামে শপথ করা হয় তাঁর শপথ, এটি অবশ্যই সূরা আল-বাকারার সমতুল্য ছিল, এবং আমরা এতে রজম বা পাথর নিক্ষেপ সংক্রান্ত আয়াত পাঠ করতাম: {বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিত নারী যখন ব্যভিচার করে, তখন তাদের উভয়কে অবশ্যই পাথর নিক্ষেপ করো (২); আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি (৩) হিসেবে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।}") (৪)

--------------------------------------------

(১) (তাবারানি আল-আওসাত) ৪৩৫২, (মুসনাদে আহমাদ) ২১২৪৫, (নাসাঈ) ৭১৫০, (ইবনে হিব্বান) ৪৪২৯।

(২) আল-বাত্তাহ: এর উৎপত্তি ‘বিচ্ছিন্ন করা’ থেকে, তবে এটি এমন প্রতিটি চূড়ান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা কার্যকর হয়ে গেছে এবং যাতে কোনো প্রত্যাবর্তন বা পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

(৩) আন-নাকাল: এমন শাস্তি যা ব্যক্তিকে সেই কাজ থেকে বিরত রাখে যার বিনিময়ে এই শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে।

(৪) (ইবনে হিব্বান) ৪৪২৯, (মুসনাদে আহমাদ) ২১২৪৫, (আবদুর রাজ্জাক) ৫৯৯০, (নাসাঈ) ৭১৫০, (তাবারানি আল-আওসাত) ৪৩৫২; আস-সাহীহাহ গ্রন্থের ২৯১৩ নং হাদিসের অধীনে দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ١٣)
(ط) ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ قَالَ: إِذَا نَكَحَ الْحُرُّ الْأَمَةَ فَمَسَّهَا فَقَدْ أَحْصَنَتْهُ. (1)

--------------------------------------------

(1) (ط) 1128
(ত), ইবনে শিহাব আয-যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন কোনো স্বাধীন ব্যক্তি কোনো দাসীকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সহবাস করে, তবে সে তাকে মুহসান করে দিল। (১)

--------------------------------------------

(১) (ত) ১১২৮
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌شَرْطُ الْإِحْصَانِ الدُّخُولُ فِي النِّكَاحِ الصَّحِيحِ عَلَى وَجْهٍ يُوجِبُ الْغُسْل

(خ د حم) ، وَفِي حَدِيثِ مَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ: (فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم) (1) (لَهُ: " لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ، أَوْ غَمَزْتَ (2) أَوْ نَظَرْتَ (3)؟ " ، قَالَ: لَا يَا رَسُولَ اللهِ ، قَالَ:) (4) (" فَبِمَنْ؟ " ، قَالَ: بِفُلَانَةَ ، قَالَ:) (5) (" أَنِكْتَهَا؟ - لَا يَكْنِي (6) - ") (7) (قَالَ: نَعَمْ) (8).

--------------------------------------------

(1) (د) 4422

(2) الْمُرَاد بِغَمَزْتَ بِيَدِك الْجَسّ أَوْ وَضْعهَا عَلَى عُضْو الْغَيْر، وَإِلَى ذَلِكَ الْإِشَارَة بِقَوْلِهِ " لَمَسْت " بَدَل " غَمَزْت " فتح الباري (ج 19 / ص 250)

(3) قَالَ: كَأَنَّهُ يَخَافُ أَنْ يَكُونَ لَا يَدْرِيَ مَا الزِّنَا. (حم) 3000 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.

(4) (خ) 6438 ، (د) 4422 ، (حم) 2129

(5) (حم) 21940 ، (د) 4419

(6) أَيْ: تَلَفَّظَ بِالْكَلِمَةِ الْمَذْكُورَة وَلَمْ يَكْنِ عَنْهَا بِلَفْظٍ آخَر. فتح الباري (ج 19 / ص 250)

(7) (خ) 6438 ، (حم) 2129 ، (د) 4419

(8) (د) 4427 ، (خ) 6438 ، (م) 20 - (1694)
ইহসান (বিবাহিত হওয়ার মর্যাদা) অর্জনের শর্ত হলো এমনভাবে সহীহ নিকাহর অন্তর্ভুক্ত হওয়া যা গোসল ওয়াজিব করে

(বুখারী, আবু দাউদ, আহমদ), মায়েয ইবন মালিকের হাদীসে বর্ণিত আছে: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (১) (তাকে বললেন: "সম্ভবত তুমি চুমু খেয়েছ, অথবা স্পর্শ করেছ (২) অথবা তাকিয়েছ (৩)?" তিনি বললেন: না, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন:) (৪) ("কার সাথে?" তিনি বললেন: অমুক মহিলার সাথে। তিনি বললেন:) (৫) ("তুমি কি তার সাথে সঙ্গম করেছ? - তিনি এখানে রূপক শব্দ ব্যবহার করেননি (৬) -") (৭) (তিনি বললেন: হ্যাঁ) (৮)।

--------------------------------------------

(১) (আবু দাউদ) ৪৪২২

(২) হাত দিয়ে টিপ দেওয়া বা শরীরের কোনো অঙ্গে হাত রাখাকেই 'গামাযতা' বলা হয়েছে। 'গামাযতা' শব্দের পরিবর্তে 'লামাসতা' (স্পর্শ করা) শব্দের ব্যবহার সেদিকেই ইঙ্গিত করে। ফাতহুল বারী (খণ্ড ১৯ / পৃষ্ঠা ২৫০)

(৩) তিনি বলেন: যেন তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে, সে হয়তো জানে না যিনা আসলে কী। (আহমদ) ৩০০০, এবং শায়খ শুআইব আল-আরনাউত বলেছেন: এর সনদ সহীহ।

(৪) (বুখারী) ৬৪৩৮, (আবু দাউদ) ৪৪২২, (আহমদ) ২১২৯

(৫) (আহমদ) ২১৯৪০, (আবু দাউদ) ৪৪১৯

(৬) অর্থাৎ: তিনি উল্লিখিত শব্দটি স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেছেন এবং অন্য কোনো শব্দের মাধ্যমে তা রূপকভাবে বা অস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি। ফাতহুল বারী (খণ্ড ১৯ / পৃষ্ঠা ২৫০)

(৭) (বুখারী) ৬৪৩৮, (আহমদ) ২১২৯, (আবু দাউদ) ৪৪১৯

(৮) (আবু দাউদ) ৪৪২৭, (বুখারী) ৬৪৩৮, (মুসলিম) ২০ - (১৬৯৪)
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌حَدُّ الزَّانِي الرَّقِيق

قَالَ تَعَالَى: {وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلًا أَنْ يَنْكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِنْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ وَاللهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِكُمْ بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ فَانْكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَآَتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنَاتٍ غَيْرَ مُسَافِحَاتٍ وَلَا مُتَّخِذَاتِ أَخْدَانٍ فَإِذَا أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ} (1)

(خ م د جة حم) ،وَعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: (" إِذَا زَنَتْ أَمَةُ أَحَدِكُمْ فَتَبَيَّنَ زِنَاهَا ، فَلْيَجْلِدْهَا الْحَدَّ) (2) (وَلَا يُعَيِّرْهَا (3)) (4) (ثُمَّ إِنْ زَنَتْ ، فَلْيَجْلِدْهَا الْحَدَّ) (5) (وَلَا يُعَيِّرْهَا) (6) (ثُمَّ إِنْ زَنَتْ الثَّالِثَةَ فَتَبَيَّنَ زِنَاهَا) (7) (فَلْيَجْلِدْهَا وَلَا يُعَيِّرْهَا) (8) وَ (لْيَبِعْهَا وَلَوْ بِحَبْلٍ مِنْ شَعَرٍ (9) ") (10)

وفي رواية: (" إِذَا زَنَتْ خَادِمُ أَحَدِكُمْ ، فَلْيَجْلِدْهَا وَلَا يُعَيِّرْهَا ، فَإِنْ عَادَتْ الثَّانِيَةَ ، فَلْيَجْلِدْهَا وَلَا يُعَيِّرْهَا ، فَإِنْ عَادَتْ الثَّالِثَةَ ، فَلْيَجْلِدْهَا وَلَا يُعَيِّرْهَا ، فَإِنْ عَادَتْ الرَّابِعَةَ ، فَلْيَجْلِدْهَا، وَلْيَبِعْهَا) (11) (وَلَوْ بِحَبْلٍ مِنْ شَعَرٍ ") (12)

وفي رواية: (" ثُمَّ بِيعُوهَا بَعْدَ الثَّالِثَةِ أَوْ الرَّابِعَةِ) (13) (وَلَوْ بِحَبْلٍ مِنْ شَعَرٍ ") (14) (قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: لَا أَدْرِي بَعْدَ الثَّالِثَةِ أَوْ الرَّابِعَةِ) (15).

--------------------------------------------

(1) [النساء/25]

(2) (خ) 2119 ، (م) 30 - (1703) ، (د) 4470 ، (حم) 7389

(3) التَّعْيِير: التَّوْبِيخ ، وَاللَّوْم ، وَالتَّثْرِيب ، وَالْمُرَاد: النَّهْي عَنْ التَّثْرِيب بَعْد الْجَلْد فَإِنَّهُ كَفَّارَة لِمَا اِرْتَكَبَتْهُ ، فَلَا يَجْمَعْ عَلَيْهَا الْعُقُوبَةَ بِالْحَدِّ وَالتَّعْيِير.

قَالَ النَّوَوِيّ: فِيهِ دَلِيل عَلَى أَنَّ السَّيِّدَ يُقِيمُ الْحَدَّ عَلَى عَبْدِه وَأَمَتِه ، وَهَذَا مَذْهَبنَا ، وَمَذْهَب مَالِك ، وَأَحْمَد ، وَجَمَاهِير الْعُلَمَاء مِنْ الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ فَمَنْ بَعْدهمْ. وَقَالَ أَبُو حَنِيفَة فِي طَائِفَة: لَيْسَ لَهُ ذَلِكَ، وَهَذَا الْحَدِيث صَرِيح فِي الدَّلَالَة لِلْجُمْهُورِ. عون المعبود (ج 9 / ص 488)

(4) (د) 4470 ، (حم) 8873 ، (خ) 2045 ، (م) 30 - (1703)

(5) (خ) 2119 ، (م) 30 - (1703) ، (حم) 8873

(6) (حم) 8873 ، (خ) 2045 ، (م) 30 - (1703) ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.

(7) (خ) 2119 ، (م) 30 - (1703)

(8) (حم) 8873 ، (خ) 6447 ، (م) 32 - (1703) ، (ت) 1440

(9) قَالَ النَّوَوِيّ: هَذَا الْبَيْعُ الْمَأمُور بِهِ مُسْتَحَبّ عِنْدنَا وَعِنْد الْجُمْهُور.

وَقَالَ دَاوُدُ وَأَهْلُ الظَّاهِر: هُوَ وَاجِب. عون المعبود - (ج 9 / ص 488)

(10) (خ) 2045 ، (م) 30 - (1703) ، (حم) 10410

(11) (حم) 9451 (م) 31 - (1703) ، (ت) 1440 ، (د) 4470 ، (جة) 2566 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.

(12) (حم) 8873 ، (د) 4471

(13) (خ) 2118 ، 2046 ، (جة) 2565 ، (حم) 16609

(14) (جة) 2565 ، (خ) 2417 ، (حم) 16609

(15) (خ) 6447 ، (م) 32 - (1703) ، (د) 4469
ক্রীতদাস ব্যভিচারীর দণ্ড

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুমিন নারীদের বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে যেন তোমাদের অধিকারভুক্ত মুমিন দাসীদের বিয়ে করে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। তোমরা একে অপরের অংশ। অতএব, তাদের অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে করো এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের মোহরানা প্রদান করো; তারা হবে সতী-সাধ্বী, ব্যভিচারিণী নয় এবং গোপনে উপপতি গ্রহণকারিণীও নয়। যখন তারা বিবাহিতা হবে, তখন যদি তারা ব্যভিচার করে, তবে তাদের দণ্ড হবে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক দণ্ডের সমান।} (১)

(বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ), যায়েদ বিন খালিদ আল-জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ("যখন তোমাদের কারো দাসী ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হয়, তখন সে যেন তাকে নির্ধারিত দণ্ড হিসেবে বেত্রাঘাত করে) (২) (এবং সে যেন তাকে ভর্ৎসনা না করে) (৩) (৪) (অতঃপর সে যদি পুনরায় ব্যভিচার করে, তবে সে যেন তাকে নির্ধারিত দণ্ড হিসেবে বেত্রাঘাত করে) (৫) (এবং সে যেন তাকে ভর্ৎসনা না করে) (৬) (তারপর সে যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হয়) (৭) (তবে সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে এবং ভর্ৎসনা না করে) (৮) এবং (সে যেন তাকে বিক্রি করে দেয়, যদিও তা একটি পশমের দড়ির বিনিময়ে হয়।") (১০)

অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ("যখন তোমাদের কারো খাদেম ব্যভিচার করে, সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে এবং ভর্ৎসনা না করে। যদি সে দ্বিতীয়বার ব্যভিচার করে, তবে সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে এবং ভর্ৎসনা না করে। যদি সে তৃতীয়বার ব্যভিচার করে, তবে সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে এবং ভর্ৎসনা না করে। যদি সে চতুর্থবার ব্যভিচার করে, তবে সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে এবং বিক্রি করে দেয়) (১১) (যদিও তা একটি পশমের দড়ির বিনিময়ে হয়।") (১২)

আরেক বর্ণনায় রয়েছে: ("অতঃপর তৃতীয় বা চতুর্থবারের পর তাকে বিক্রি করে দাও) (১৩) (যদিও তা পশমের দড়ির বিনিময়ে হয়।") (১৪) (ইবনে শিহাব বলেন: আমি জানি না এটি তৃতীয় নাকি চতুর্থবারের কথা বলা হয়েছে।) (১৫)।

--------------------------------------------

(১) [আন-নিসা/২৫]

(২) (বুখারি) ২১১৯, (মুসলিম) ৩০ - (১৭০৩), (আবু দাউদ) ৪৪৭০, (আহমাদ) ৭৩৮৯

(৩) আত-তাইয়ীর: এর অর্থ ভর্ৎসনা, নিন্দা ও তিরস্কার করা। উদ্দেশ্য হলো: বেত্রাঘাতের পর তাকে তিরস্কার করতে নিষেধ করা, কারণ এই দণ্ডই তার কৃতকর্মের কাফফারা স্বরূপ। সুতরাং তার ওপর দণ্ড এবং ভর্ৎসনা—উভয় শাস্তি একত্রিত করা যাবে না।

ইমাম নববী বলেন: এতে দলিল রয়েছে যে, মালিক তার গোলাম ও দাসীর ওপর হদ (নির্ধারিত দণ্ড) কায়েম করতে পারবে। এটিই আমাদের (শাফেয়ী) মাযহাব এবং ইমাম মালিক, আহমাদ এবং সাহাবী, তাবেয়ী ও তাঁদের পরবর্তী অধিকাংশ আলেমের মত। আবু হানিফা ও একদল আলেম বলেছেন: মালিকের সেই অধিকার নেই। তবে এই হাদিসটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামাদের মতের স্বপক্ষে সুস্পষ্ট দলিল। আউনুল মাবুদ (৯ম খণ্ড / পৃষ্ঠা ৪৮৮)

(৪) (আবু দাউদ) ৪৪৭০, (আহমাদ) ৮৮৭৩, (বুখারি) ২০৪৫, (মুসলিম) ৩০ - (১৭০৩)

(৫) (বুখারি) ২১১৯, (মুসলিম) ৩০ - (১৭০৩), (আহমাদ) ৮৮৭৩

(৬) (আহমাদ) ৮৮৭৩, (বুখারি) ২০৪৫, (মুসলিম) ৩০ - (১৭০৩), এবং শেখ শুয়াইব আল-আরনাউত বলেছেন: এর সানাদ সহীহ।

(৭) (বুখারি) ۲১১৯, (মুসলিম) ৩০ - (১৭০৩)

(৮) (আহমাদ) ৮৮৭৩, (বুখারি) ৬৪৪৭, (মুসলিম) ৩২ - (১৭০৩), (তিরমিজি) ১৪৪০

(৯) ইমাম নববী বলেন: বিক্রির এই নির্দেশ আমাদের এবং জমহুর ওলামাদের নিকট মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)।

দাউদ জাহেরি এবং জাহেরি সম্প্রদায়ের মতে এটি ওয়াজিব (আবশ্যিক)। আউনুল মাবুদ - (৯ম খণ্ড / পৃষ্ঠা ৪৮৮)

(১০) (বুখারি) ২০৪৫, (মুসলিম) ৩০ - (১৭০৩), (আহমাদ) ১০৪১০

(১১) (আহমাদ) ৯৪৫১ (মুসলিম) ৩১ - (১৭০৩), (তিরমিজি) ১৪৪০, (আবু দাউদ) ৪৪৭০, (ইবনে মাজাহ) ২৫৬৬, এবং শেখ শুয়াইব আল-আরনাউত বলেছেন: এর সানাদ সহীহ।

(১২) (আহমাদ) ৮৮৭৩, (আবু দাউদ) ৪৪৭১

(১৩) (বুখারি) ২১১৮, ২০৪৬, (ইবনে মাজাহ) ২৫৬৫, (আহমাদ) ১৬৬০৯

(১৪) (ইবনে মাজাহ) ২৫৬৫, (বুখারি) ২৪১৭, (আহমাদ) ১৬৬০৯

(১৫) (বুখারি) ৬৪৪৭, (মুসলিম) ৩২ - (১৭০৩), (আবু দাউদ) ৪৪৬৯
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ١٦)
(ط) ، وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ الْمَخْزُومِيَّ قَالَ: أَمَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فِي فِتْيَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ ، فَجَلَدْنَا وَلَائِدَ مِنْ وَلَائِدِ الْإِمَارَةِ ، خَمْسِينَ خَمْسِينَ فِي الزِّنَا. (1)

--------------------------------------------

(1) (ط) 1512 ، (هق) 16866 ، حسنه الألباني في الإرواء: 2345
(ত), এবং আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ ইবনে আবি রাবীআহ আল-মাখযুমী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে কুরাইশদের কিছু যুবকের সাথে নির্দেশ দিয়েছিলেন, অতঃপর আমরা ব্যভিচারের দায়ে প্রশাসনিক দাসীদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে পঞ্চাশটি করে বেত্রাঘাত করেছিলাম। (১)

--------------------------------------------

(১) (ত) ১৫১২, (হক) ১৬৮৬৬, আলবানী একে আল-ইরওয়া গ্রন্থে হাসান বলেছেন: ২৩৪৫
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌شُرُوطُ إِقَامَةِ حَدِّ الزِّنَا

‌‌كَوْنُ الزَّانِي مُكَلَّفًا

‌‌زِنَا الْمَجْنُون

(س د حم) ، وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: (أُتِيَ عُمَرُ رضي الله عنه بِمَجْنُونَةٍ قَدْ زَنَتْ ، فَاسْتَشَارَ فِيهَا أُنَاسًا (1) فَأَمَرَ بِهَا عُمَرُ أَنْ تُرْجَمَ ، فَمُرَّ بِهَا عَلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه فَقَالَ: مَا شَأنُ هَذِهِ؟ ، قَالُوا: مَجْنُونَةُ بَنِي فُلَانٍ زَنَتْ ، فَأَمَرَ بِهَا عُمَرُ أَنْ تُرْجَمَ ، قَالَ: فَقَالَ: ارْجِعُوا بِهَا ، ثُمَّ أَتَاهُ فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ، أَمَا عَلِمْتَ) (2) (أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " رُفِعَ الْقَلَمُ (3) عَنْ ثَلَاثٍ (4): عَنْ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنْ الصَّبِيِّ (5) حَتَّى يَحْتَلِمَ (6) وَعَنْ الْمَجْنُونِ (7) حَتَّى يَعْقِلَ (8)) (9) (أَوْ يُفِيقَ (10)؟ ") (11) (قَالَ: بَلَى ، قَالَ: فَمَا بَالُ هَذِهِ تُرْجَمُ (12)؟) (13) (إِنَّ هَذِهِ مَعْتُوهَةُ بَنِي فُلَانٍ (14)) (15) (قَالَ: لَا شَيْءَ ، قَالَ: فَأَرْسِلْهَا (16) فَأَرْسَلَهَا) (17) (قَالَ: فَجَعَلَ عُمَرُ يُكَبِّرُ (18)) (19).

--------------------------------------------

(1) أَيْ: طَلَبَ الْمَشُورَةَ فِي شَأنِ تِلْكَ الْمَجْنُونَةِ ، هَلْ تُرْجَمُ أَمْ لَا. عون4399

(2) (د) 4399

(3) هُو كِنَايَة عَنْ عَدَم كِتَابَة الْآثَام عَلَيْهِمْ فِي هَذِهِ الْأَحْوَال ، وَهُوَ لَا يُنَافِي ثُبُوتَ بَعْض الْأَحْكَام الدُّنْيَوِيَّة وَالْأُخْرَوِيَّة لَهُمْ فِي هَذِهِ الْأَحْوَال ، كَضَمَانِ الْمُتْلَفَات وَغَيْرِه ، فَهَذَا الْحَدِيث " رُفِعَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأ " مَعَ أَنَّ الْقَاتِلَ خَطَأٌ يَجِبُ عَلَيْهِ الْكَفَّارَة ، وَعَلَى الْعَاقِلَة الدِّيَة ، وَلِهَذَا ، الصَّحِيحُ أَنَّ الصَّغِيرَ يُثَابُ عَلَى الصَّلَاةِ وَغَيْرِهَا مِنْ الْأَعْمَال. شرح سنن النسائي - (6/ 156)

وحكى ابنُ الْعَرَبِيِّ أَنَّ بَعْضَ الْفُقَهَاءِ سُئِلَ عَنْ إِسْلَامِ الصَّبِيِّ ، فَقَالَ: لَا يَصِحُّ ، وَاسْتَدَلَّ بِهَذَا الْحَدِيثِ ، فَعُورِضَ بِأَنَّ الَّذِي ارْتَفَعَ عَنْهُ قَلَمُ الْمُؤَاخَذَةِ ، وَأَمَّا قَلَمُ الثَّوَابِ فَلَا ، لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم لِلْمَرْأَةِ لَمَّا سَأَلَتْهُ: (أَلِهَذَا حَجٌّ؟ ، قَالَ: نَعَمْ) ، وَلِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: (مُرُوهُمْ بِالصَّلَاةِ) ، فَإِذَا جَرَى لَهُ قَلَمُ الثَّوَابِ ، فَكَلِمَةُ الْإِسْلَامِ أَجَلُّ أَنْوَاعِ الثَّوَابِ ، فَكَيْفَ يُقَالُ: إِنَّهَا تَقَعُ لَغْوًا ، وَيُعْتَدُّ بِحَجِّهِ وَصَلَاتِهِ؟.عون4399

قَالَ الشَّوْكَانِيُّ: وَهَذَا فِي الصَّبِيِّ ظَاهِرٌ ، وَأَمَّا فِي الْمَجْنُونِ فَلَا تَتَّصِفُ أَفْعَالُهُ بِخَيْرٍ وَلَا شَرٍّ ، إذْ لَا قَصْدَ لَهُ، وَالْمَوْجُودُ مِنْهُ مِنْ صُوَرِ الْأَفْعَالِ لَا حُكْمَ لَهُ شَرْعًا، وَأَمَّا فِي النَّائِمِ فَفِيهِ بُعْدٌ؛ لِأَنَّ قَصْدَهُ مُنْتَفٍ أَيْضًا ، فَلَا حُكْمَ لِمَا صَدَرَ مِنْهُ مِنْ الْأَفْعَالِ حَالَ نَوْمِهِ. وَلِلنَّاسِ كَلَامٌ فِي تَكْلِيفِ الصَّبِيِّ بِجَمِيعِ الْأَحْكَامِ أَوْ بِبَعْضِهَا لَيْسَ هَذَا مَحَلَّ بَسْطِهِ ، وَكَذَلِكَ النَّائِمُ. نيل الأوطار - (2/ 24)

(4) أَيْ: ثلاثة أصناف من الناس.

(5) قَالَ السُّبْكِيُّ: الصَّبِيُّ: الْغُلَامُ.

وَقَالَ غَيْرُهُ: الْوَلَدُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ يُسَمَّى جَنِينًا ، فَإِذَا وُلِدَ فَصَبِيٌّ ، فَإِذَا فُطِمَ فَغُلَامٌ إِلَى سَبْعٍ ، ثُمَّ يَصِيرُ يَافِعًا إِلَى عَشْرٍ ، ثُمَّ حَزْوَرًا إِلَى خَمْسَ عَشْرَةَ.

وَالَّذِي يُقْطَعُ بِهِ أَنَّهُ يُسَمَّى صَبِيًّا فِي هَذِهِ الْأَحْوَالِ كُلِّهَا ، قَالَهُ السُّيُوطِيُّ. عون4398

(6) وفي رواية: (حَتَّى يَكْبُرَ) ، قَالَ السُّبْكِيُّ: لَيْسَ فِيهَا مِنَ الْبَيَانِ ، وَلَا فِي قَوْلِهِ (حَتَّى يَبْلُغَ) مَا فِي الرِّوَايَةِ الثَّالِثَةِ: (حَتَّى يَحْتَلِمَ) فَالتَّمَسُّكُ بِهَا أَوْلَى ، لِبَيَانِهَا وَصِحَّةِ سَنَدِهَا.

وَقَوْلُهُ: (حَتَّى يَبْلُغَ) مُطْلَقٌ ، وَالِاحْتِلَامُ مُقَيَّدٌ ، فَيُحْمَلُ عليه ، فإن الاحتلام بُلُوغٌ قَطْعًا وَعَدَمُ بُلُوغِ خَمْسَ عَشْرَةَ ، لَيْسَ بِبُلُوغٍ قَطْعًا. عون4398

وَاسْتُدِلَّ بِقَوْلِهِ: (حَتَّى يَحْتَلِمَ) عَلَى أَنَّهُ لَا يُؤَاخَذُ قَبْلَ ذَلِكَ.

وَاحْتَجَّ مَنْ قَالَ: يُؤَاخَذُ قَبْلَ ذَلِكَ بِالرِّدَّةِ.

وَكَذَا مَنْ قَالَ مِنَ الْمَالِكِيَّةِ: يُقَامُ الْحَدُّ عَلَى الْمُرَاهِقِ ، وَيُعْتَبَرُ طَلَاقُهُ ، لِقَوْلِهِ فِي الطَّرِيقِ الْأُخْرَى: (حَتَّى يَكْبُرَ) وَالْأُخْرَى: (حَتَّى يَشِبَّ).

وتعقَّبَه ابن الْعَرَبِيِّ بِأَنَّ الرِّوَايَةَ بِلَفْظِ (حَتَّى يَحْتَلِمَ) هِيَ الْعَلَامَةُ الْمُحَقَّقَةُ ، فَيَتَعَيَّنُ اعْتِبَارُهَا وَحَمْلُ بَاقِي الرِّوَايَاتِ عَلَيْهَا. عون4399

(7) قَالَ فِي التَّلْوِيحِ: الْجُنُونُ اخْتِلالُ الْقُوَّةِ الْمُمَيِّزَةِ بَيْنَ الأُمُورِ الْحَسَنَةِ وَالْقَبِيحَةِ الْمُدْرِكَةِ لِلْعَوَاقِبِ ، بِأَنْ لا تَظْهَرَ آثَارُهُ وَتَتَعَطَّلُ أَفْعَالُهَا ، إمَّا لِنُقْصَانٍ جُبِلَ عَلَيْهِ دِمَاغُهُ فِي أَصْلِ الْخِلْقَةِ ، وَإِمَّا لِخُرُوجِ مِزَاجِ الدِّمَاغِ عَنْ الاعْتِدَالِ بِسَبَبِ خَلْطٍ أَوْ آفَةٍ ، وَإِمَّا لاسْتِيلاءِ الشَّيْطَانِ عَلَيْهِ وَإِلْقَاءِ الْخَيَالاتِ الْفَاسِدَةِ إلَيْهِ ، بِحَيْثُ يَفْرَحُ وَيَفْزَعُ مِنْ غَيْرِ مَا يَصْلُحُ سَبَبًا. أ. هـ (ابن عابدين 3/ 243)

(8) أَيْ: إلى أن يرجع إليه تدبُّرُه وفهمه للأمور. ذخيرة (ج28ص352)

(9) (حم) 24738 ، (خم) ج8ص165 ، (س) 3432 ، (ت) 1423 ، (د) 4402 ، انظر صَحِيح الْجَامِع: 3512 ، المشكاة: 3287 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده جيد.

(10) وفي رواية لأبي داود: 4403 (زَادَ فِيهِ: وَالْخَرِفِ)

مِنَ الْخَرَفِ ، وَهُوَ: فَسَادُ الْعَقْلِ مِنَ الْكِبَرِ.

قَالَ السُّبْكِيُّ: يَقْتَضِي أَنَّهُ زَائِدٌ عَلَى الثَّلَاثَةِ ، وَهَذَا صَحِيحٌ ، وَالْمُرَادُ بِهِ: الشَّيْخُ الْكَبِيرُ الَّذِي زَالَ عَقْلُهُ مِنْ كِبَرٍ ، فَإِنَّ الشَّيْخَ الْكَبِيرَ قَدْ يَعْرِضُ لَهُ اخْتِلَاطُ عَقْلٍ يَمْنَعُهُ مِنَ التَّمْيِيزِ ، وَيُخْرِجُهُ عَنْ أَهْلِيَّةِ التَّكْلِيفِ ، وَلَا يُسَمَّى جُنُونًا ، لِأَنَّ الْجُنُونَ يَعْرِضُ مِنْ أَمْرَاضٍ سَوْدَاوِيَّةٍ ، وَيَقْبَلُ الْعِلَاجَ ، وَالْخَرَفُ بِخِلَافِ ذَلِكَ ، وَلِهَذَا لَمْ يَقُلْ فِي الْحَدِيثِ: حَتَّى يَعْقِلَ ، لِأَنَّ الْغَالِبَ أَنَّهُ لَا يَبْرَأُ مِنْهُ إِلَى الْمَوْتِ ، ولو بَرَأَ فِي بَعْضِ الْأَوْقَاتِ بِرُجُوعِ عَقْلِهِ ، تَعَلَّقَ بِهِ التَّكْلِيفُ فَسُكُوتُهُ عَنِ الْغَايَةِ فِيهِ لَا يَضُرُّ ، كَمَا سَكَتَ عَنْهَا فِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ فِي الْمَجْنُونِ ، وَهَذَا الْحَدِيثُ وَإِنْ كَانَ مُنْقَطِعًا ، لَكِنَّهُ فِي مَعْنَى الْمَجْنُونِ ، كَمَا أَنَّ الْمُغْمَى عَلَيْهِ فِي مَعْنَى النَّائِمِ ، فَلَا يَفُوتُ الْحَصْرُ بِذَلِكَ إِذَا نَظَرْنَا إِلَى الْمَعْنَى ، فَهُمْ فِي الصُّورَةِ خَمْسَةٌ: الصَّبِيُّ ، وَالنَّائِمُ ، وَالْمُغْمَى عَلَيْهِ ، وَالْمَجْنُونُ ، وَالْخَرِفُ ، وَفِي الْمَعْنَى ثَلَاثَةٌ. عون4403

(11) (س) 3432 ، (جة) 2041 ، (د) 4400

(12) أَيْ: مَعَ كَوْنِهَا مَجْنُونَةً. عون4399

(13) (د) 4399

(14) وَالْحَاصِلُ أَنَّ الْحَالَ مُشْتَبِهَةٌ وَالْحُدُودُ تُدْرَأُ بِالشُّبُهَاتِ. عون4402

(15) (د) 4402

(16) أَيْ: قَالَ عَلِيٌّ لِعُمَرَ رضي الله عنهما: أَطْلِقْ هَذِهِ المجنونة. عون4399

(17) (د) 4399 ، (حم) 1183 ، (ن) 7343 ، (خز) 1003 ، (حب) 143

(18) عَادَةُ الْعَرَبِ أَنَّهُمْ يُكَبِّرُونَ عَلَى أَمْرٍ عَظِيمٍ ، وَشَأنٍ فَخِيمٍ ، وَكَانَ عُمَرُ رضي الله عنه عَلِمَ عَدَمَ صَوَابِ رَأيِهِ ، وَظَنَّ عَلَى نَفْسِهِ وُقُوعَ الْخَطَأِ بِرَجْمِ الْمَرْأَةِ الْمَجْنُونَةِ إِنْ لَمْ يُرَاجِعْهُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه. عون4399

(19) (د) 4400 ، وصححه الألباني في الإرواء تحت حديث: 297
ব্যভিচারের দণ্ড (হদ্দ) কার্যকরের শর্তাবলি

ব্যভিচারী ব্যক্তি শরয়ি দায়বদ্ধতার (মুকাল্লাফ) অধিকারী হওয়া

অপ্রকৃতিস্থ বা পাগলের ব্যভিচার

(সুনানে আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমাদ), ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট জনৈক অপ্রকৃতিস্থ (পাগল) নারীকে আনা হলো যে ব্যভিচার করেছিল। তিনি তার ব্যাপারে লোকদের সাথে পরামর্শ করলেন (১), অতঃপর উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (রজম) প্রদানের নির্দেশ দিলেন। পথিমধ্যে আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে তার দেখা হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এই মহিলার বিষয়টি কী? তারা বলল: অমুক গোত্রের এই নারীটি পাগল, সে ব্যভিচার করেছে; তাই উমর তাকে রজম করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: তাকে ফিরিয়ে নিয়ে চলো। অতঃপর তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি কি জানেন না যে) (২) (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তিন শ্রেণির ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে (৩) (৪): ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, শিশু (৫) যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক (স্বপ্নদোষের মাধ্যমে) হয় (৬) এবং পাগল (৭) যতক্ষণ না সে সুস্থ মস্তিস্ক ফিরে পায় (৮)) (৯) (অথবা হুশ ফিরে পায় (১০)?") (১১) (উমর বললেন: হ্যাঁ জানি। আলী বললেন: তবে কেন একে রজম করা হচ্ছে (১২)?) (১৩) (সে তো অমুক গোত্রের এক অপ্রকৃতিস্থ নারী (১৪)) (১৫) (উমর বললেন: এতে কোনো দণ্ড নেই। আলী বললেন: তবে তাকে ছেড়ে দিন (১৬)। অতঃপর তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন) (১৭) (বর্ণনাকারী বলেন: তখন উমর তাকবীর ধ্বনি দিতে লাগলেন (১৮)) (১৯)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: সেই পাগল মহিলার বিষয়ে পরামর্শ চাইলেন যে, তাকে রজম করা হবে কি না। আউনুল মাবুদ ৪৩৯৯

(২) (আবু দাউদ) ৪৩৯৯

(৩) এটি এই অবস্থায় তাদের আমলনামায় পাপ না লেখার একটি রূপক প্রকাশ। তবে এটি তাদের ক্ষেত্রে দুনিয়াবি ও আখিরাতের কিছু বিধান সাব্যস্ত হওয়ার পরিপন্থী নয়, যেমন কোনো সম্পদ নষ্ট করলে তার ক্ষতিপূরণ প্রদান ইত্যাদি। এ কারণেই এই হাদীসটি—"আমার উম্মতের ভুলবশত কৃত কর্ম ক্ষমা করা হয়েছে"—সত্ত্বেও ভুলবশত হত্যাকারীর ওপর কাফফারা ওয়াজিব হয় এবং তার রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের (আকিলা) ওপর দিয়ত (রক্তপণ) আবশ্যক হয়। এ কারণেই সঠিক মতানুসারে, শিশুর নামায ও অন্যান্য সৎকর্মের জন্য সে সওয়াব লাভ করবে। শরহুন নাসাঈ (৬/ ১৫৬)

ইবনুল আরাবী বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ফকীহকে শিশুর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তা সঠিক নয়। তিনি এই হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন। এর উত্তরে বলা হয় যে, তার ওপর থেকে কেবল শাস্তির কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সওয়াবের কলম নয়। কারণ জনৈক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শিশুর হজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন: "হ্যাঁ, তার জন্য হজ রয়েছে।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তাদেরকে নামাযের নির্দেশ দাও।" সুতরাং তার জন্য যদি সওয়াবের কলম জারি থাকে, তবে ইসলামের ঘোষণা তো সওয়াবের সর্বোত্তম প্রকার। তাহলে কীভাবে বলা যায় যে তা অর্থহীন হয়ে যাবে, অথচ তার হজ ও নামায গণ্য করা হচ্ছে? আউনুল মাবুদ ৪৩৯৯

শাওকানী বলেন: শিশুর ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট। তবে পাগলের কোনো কর্ম ভালো বা মন্দ কোনো বিশেষণে বিশেষিত হবে না, কারণ তার কোনো সংকল্প নেই। তার থেকে প্রকাশিত কর্মের বাহ্যিক রূপের শরয়ি কোনো বিধান নেই। আর ঘুমন্ত ব্যক্তির বিষয়টিও তদ্রূপ; কারণ তারও ইচ্ছা বা সংকল্প অনুপস্থিত। সুতরাং ঘুমের ঘোরে তার থেকে প্রকাশিত কোনো কাজের বিধান কার্যকর হবে না। শিশুর ওপর সমস্ত বিধান কার্যকর হওয়া বা কিছু বিধান কার্যকর হওয়া নিয়ে আলেমদের দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে যা এখানে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই; ঘুমন্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই কথা। নাইলুল আওতার (২/ ২৪)

(৪) অর্থাৎ: তিন শ্রেণির মানুষ।

(৫) সুবকী বলেন: 'সবি' হলো বালক।

অন্যান্যরা বলেন: সন্তান মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় তাকে 'জানীন' বলা হয়, ভূমিষ্ঠ হলে 'সবি', দুধ ছাড়ানো হলে সাত বছর পর্যন্ত 'গুলাম', দশ বছর পর্যন্ত 'ইয়াফিয়া' এবং পনের বছর পর্যন্ত 'হাযওয়ার' বলা হয়।

সুয়ূতী বলেন: তবে নিশ্চিতভাবে এই সকল অবস্থায় তাকে 'সবি' বলা যায়। আউনুল মাবুদ ৪৩৯৮

(৬) অন্য এক বর্ণনায় আছে: (যতক্ষণ না সে বড় হয়)। সুবকী বলেন: 'বড় হওয়া' বা 'প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া' শব্দগুলোর তুলনায় তৃতীয় বর্ণনা 'স্বপ্নদোষ হওয়া' (ইহতিলাম) শব্দটির বর্ণনাভঙ্গি অধিক স্পষ্ট। তাই এটি গ্রহণ করাই উত্তম, কারণ এর অর্থ সুস্পষ্ট এবং এর সনদ সহীহ।

আর 'প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া' কথাটি সাধারণ, কিন্তু 'স্বপ্নদোষ হওয়া' নির্দিষ্ট। তাই সাধারণ কথাটিকে এই নির্দিষ্ট অর্থে গ্রহণ করতে হবে। কারণ স্বপ্নদোষ হওয়া নিশ্চিতভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার লক্ষণ, আর পনের বছর পূর্ণ না হওয়া নিশ্চিতভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার লক্ষণ। আউনুল মাবুদ ৪৩৯৮

'স্বপ্নদোষ হওয়া পর্যন্ত' কথাটি দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে, এর আগে তাকে দায়ী করা যাবে না।

পক্ষান্তরে যারা বলেন যে, এর আগে মুরতাদ বা ধর্মত্যাগের কারণে তাকে দায়ী করা হবে, তারা ভিন্ন মত পোষণ করেন।

অনুরূপভাবে মালিকী মাযহাবের যারা বলেন যে, কিশোরের ওপর দণ্ড কার্যকর করা হবে এবং তার তালাক কার্যকর হবে, তারা অন্য সূত্রের 'বড় হওয়া' বা 'যুবক হওয়া' শব্দগুলো দ্বারা দলিল দেন।

ইবনুল আরাবী এর উত্তরে বলেন যে, 'স্বপ্নদোষ হওয়া' শব্দটিই হলো নিশ্চিত নিদর্শন, তাই এটিকে মূল হিসেবে গ্রহণ করা এবং অন্যান্য বর্ণনাগুলোকে এর অর্থেই ব্যাখ্যা করা আবশ্যক। আউনুল মাবুদ ৪৩৯৯

(৭) তালবীহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: পাগল হওয়া হলো ভালো-মন্দের পার্থক্যকারী এবং পরিণাম অনুধাবনকারী শক্তির এমন বিপর্যয়, যার ফলে সেই শক্তির প্রভাব প্রকাশ পায় না এবং এর কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যায়। এটি হয় মস্তিষ্কের জন্মগত কোনো ত্রুটির কারণে, অথবা কোনো শারীরিক জটিলতা বা ব্যাধির কারণে মস্তিষ্কের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলে, অথবা শয়তানের প্রভাবে ও কুচিন্তার উদ্রেক হওয়ার কারণে, যার ফলে সে অকারণে আনন্দিত বা ভীত হয়। ইবনে আবিদীন (৩/ ২৪৩)

(৮) অর্থাৎ: যতক্ষণ না তার বিচারবুদ্ধি এবং বিষয়াবলী অনুধাবনের ক্ষমতা ফিরে আসে। যাখীরা (২৮তম খণ্ড, ৩৫২ পৃষ্ঠা)

(৯) (আহমাদ) ২৪৭৩৮, (বুখারী) ৮ম খণ্ড ১৬৫ পৃষ্ঠা, (নাসাঈ) ৩৪৩২, (তিরমিযী) ১৪২৩, (আবু দাউদ) ৪৪০২, দেখুন সহীহুল জামি: ৩৫১২, মিশকাত: ৩২৮৭, এবং শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেন: এর সনদ উত্তম।

(১০) আবু দাউদের এক বর্ণনায় (৪৪০৩) অতিরিক্ত আছে: "এবং অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি যার বুদ্ধি বিলুপ্ত হয়েছে।"

এটি বার্ধক্যজনিত কারণে বুদ্ধিভ্রষ্ট হওয়াকে বোঝায়।

সুবকী বলেন: এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, এরা তিন শ্রেণির অতিরিক্ত। এটি সঠিক। এর দ্বারা এমন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে বার্ধক্যের কারণে যার বিবেক বিলুপ্ত হয়েছে। কারণ অতি বৃদ্ধ বয়সে মানুষের এমন মানসিক বিভ্রম হতে পারে যা তাকে ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে বাধা দেয় এবং তাকে দায়বদ্ধতার (তাকলীফ) যোগ্যতা থেকে বের করে দেয়। একে পাগলামি বা জুনুন বলা হয় না, কারণ পাগলামি হয় মস্তিষ্কের ব্যাধি থেকে যা চিকিৎসাযোগ্য, কিন্তু বার্ধক্যজনিত বুদ্ধিহীনতা তেমন নয়। এই কারণেই হাদীসে 'সুস্থ হওয়া পর্যন্ত' বলা হয়নি, কারণ সাধারণত মৃত্যুর আগে এ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। তবে যদি কোনো সময় তার বিবেক ফিরে আসে, তবে সে পুনরায় শরয়ি দায়বদ্ধতার অন্তর্ভুক্ত হবে। পাগলের বর্ণনায় কোনো কোনো জায়গায় যেমন সময়সীমার কথা উল্লেখ নেই, এখানেও না থাকাটা ক্ষতিকর নয়। এই হাদীসটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি) হলেও এর অর্থ পাগলের বিধানের মতোই। যেমন মুর্ছিত ব্যক্তি ঘুমন্ত ব্যক্তির হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং মর্মার্থের দিক থেকে তিনের অধিক হওয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধতা নষ্ট হয় না। বাহ্যিকভাবে তারা পাঁচ শ্রেণি: শিশু, ঘুমন্ত ব্যক্তি, মুর্ছিত ব্যক্তি, পাগল এবং বার্ধক্যে বুদ্ধি হারানো ব্যক্তি; কিন্তু অর্থের দিক থেকে তারা তিন প্রকার। আউনুল মাবুদ ৪৪০৩

(১১) (নাসাঈ) ৩৪৩২, (ইবনে মাজাহ) ২০৪১, (আবু দাউদ) ৪৪০০

(১২) অর্থাৎ: সে পাগল হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে রজম করা হচ্ছে? আউনুল মাবুদ ৪৩৯৯

(১৩) (আবু দাউদ) ৪৩৯৯

(১৪) মোদ্দাকথা হলো, বিষয়টি অস্পষ্ট বা সন্দেহযুক্ত, আর হদ বা দণ্ডসমূহ সন্দেহ দ্বারা রহিত হয়ে যায়। আউনুল মাবুদ ৪৪০২

(১৫) (আবু দাউদ) ৪৪০২

(১৬) অর্থাৎ: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন: এই পাগল মহিলাকে মুক্ত করে দিন। আউনুল মাবুদ ৪৩৯৯

(১৭) (আবু দাউদ) ৪৩৯৯, (আহমাদ) ১১৮৩, (নাসাঈ) ৭৩৪৩, (ইবনে খুযাইমা) ১০০৩, (ইবনে হিব্বান) ১৪৩

(১৮) আরবদের রীতি হলো তারা কোনো বড় বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাকবীর ধ্বনি দিত। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বুঝতে পেরেছিলেন যে তার আগের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যদি তাকে সংশোধন না করতেন তবে সেই পাগল মহিলাকে রজম করার মাধ্যমে তার দ্বারা ভুল হয়ে যেত—এই উপলব্ধি থেকেই তিনি তাকবীর দিচ্ছিলেন। আউনুল মাবুদ ৪৩৯৯

(১৯) (আবু দাউদ) ৪৪০০, আলবানী একে 'ইরওয়াউল গালীল' গ্রন্থে ২৯৭ নম্বর হাদীসের অধীনে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌كَوْنُ الزَّانِي مُخْتَارًا

‌‌زِنَا الْمُكْرَه

(م) ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رضي الله عنهما قَالَ: (كَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ بْنِ سَلُولَ يَقُولُ لِجَارِيَةٍ لَهُ: اذْهَبِي فَابْغِينَا شَيْئًا) (1) (فَكَانَ يُكْرِهُهَا عَلَى الزِّنَى ، فَشَكَتْ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللهُ عز وجل: {وَلَا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ (2) إِنْ أَرَدْنَ تَحَصُّنًا لِتَبْتَغُوا عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ، وَمَنْ يُكْرِهْهُنَّ ، فَإِنَّ اللهَ مِنْ بَعْدِ إِكْرَاهِهِنَّ " لَهُنَّ" (3) غَفُورٌ رَحِيمٌ} (4)) (5).

--------------------------------------------

(1) (م) 26 - (3029)

(2) البِغاء: الزنا مقابل أجر.

(3) هكذا وردت في الحديث من رواية (م) 26 - (3029) وتركتُها في الآية لمعرفة من غفر الله له. ع

(4) [النور/33]

(5) (م) 27 - (3029) ، (د) 2311
ব্যভিচারীর স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হওয়া

জবরদস্তিকৃত ব্যক্তির ব্যভিচার

(মুসলিম), জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল তার এক দাসীকে বলত: যাও এবং আমাদের জন্য কিছু তালাশ করে অর্থাৎ উপার্জন করে নিয়ে এসো) (১) (সে তাকে ব্যভিচারের জন্য বাধ্য করত। অতঃপর সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করল। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {তোমাদের দাসীরা পবিত্র থাকতে চাইলে পার্থিব জীবনের ধন-সম্পদ লাভের আশায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করো না; আর যারা তাদেরকে বাধ্য করবে, তবে তাদের বাধ্য করার পর আল্লাহ "তাদের জন্য" (৩) অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (৪)) (৫)।

--------------------------------------------

(১) (মুসলিম) ২৬ - (৩০২৯)

(২) আল-বিগা: পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ব্যভিচার।

(৩) সহীহ মুসলিমের (২৬ - ৩০২৯) বর্ণনায় হাদীসের মধ্যে এটি এভাবেই এসেছে এবং আল্লাহ কাকে ক্ষমা করেছেন তা জানার সুবিধার্থে আমি এটি আয়াতের মধ্যে রেখে দিয়েছি।

(৪) [আন-নূর/৩৩]

(৫) (মুসলিম) ২৭ - (৩০২৯), (আবু দাউদ) ২৩১১
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ١٩)
(هق) ، وَعَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ قَالَ: أُتِيَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه بِامْرَأَةٍ جَهَدَهَا الْعَطَشُ، فَمَرَّتْ عَلَى رَاعٍ فَاسْتَسْقَتْ، فَأَبَى أَنْ يَسْقِيَهَا إِلَّا أَنْ تُمَكِّنَهُ مِنْ نَفْسِهَا، فَفَعَلَتْ، فَشَاوَرَ النَّاسَ فِي رَجْمِهَا، فَقَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه: هَذِهِ مُضْطَرَّةٌ، أَرَى أَنْ تُخَلِّيَ سَبِيلَهَا ، فَفَعَلَ. (1)

--------------------------------------------

(1) (هق) 16827 ، وصححه الألباني في الإرواء: 2313
(বায়হাকী), এবং আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এমন এক নারীকে আনা হলো যাকে প্রচণ্ড তৃষ্ণা কাতর করে ফেলেছিল। সে এক মেষপালকের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় তার কাছে পানি চাইল, কিন্তু সে তাকে পানি পান করাতে অস্বীকার করল যতক্ষণ না সে নিজেকে তার কাছে সঁপে দেয়। ফলে সে তা-ই করল। অতঃপর উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তাকে পাথর ছুড়ে হত্যার (রজম) বিষয়ে মানুষের সাথে পরামর্শ করলেন। তখন আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: “এই নারী তো নিরুপায় ছিল, আমার অভিমত হলো তাকে ছেড়ে দেওয়া হোক।” অতঃপর তিনি তা-ই করলেন। (১)

--------------------------------------------

(১) (বায়হাকী) ১৬৮২৭, এবং আলবানী ‘ইরওয়াউল গালীল’ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন: ২৩১৩।
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌كَوْنُ الْمَزْنِيّ بِهَا اِمْرَأَة

(خ د حم) ، وَفِي حَدِيثِ مَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ: (فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم) (1) (لَهُ: " لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ، أَوْ غَمَزْتَ (2) أَوْ نَظَرْتَ (3)؟ " ، قَالَ: لَا يَا رَسُولَ اللهِ ، قَالَ:) (4) (" فَبِمَنْ؟ " ، قَالَ: بِفُلَانَةَ ، قَالَ:) (5) (" أَنِكْتَهَا؟ - لَا يَكْنِي (6) - ") (7) (قَالَ: نَعَمْ) (8).

--------------------------------------------

(1) (د) 4422

(2) الْمُرَاد بِغَمَزْتَ بِيَدِك الْجَسّ أَوْ وَضْعهَا عَلَى عُضْو الْغَيْر، وَإِلَى ذَلِكَ الْإِشَارَة بِقَوْلِهِ " لَمَسْت " بَدَل " غَمَزْت " فتح الباري (ج 19 / ص 250)

(3) قَالَ: كَأَنَّهُ يَخَافُ أَنْ يَكُونَ لَا يَدْرِيَ مَا الزِّنَا. (حم) 3000 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.

(4) (خ) 6438 ، (د) 4422 ، (حم) 2129

(5) (حم) 21940 ، (د) 4419

(6) أَيْ: تَلَفَّظَ بِالْكَلِمَةِ الْمَذْكُورَة وَلَمْ يَكْنِ عَنْهَا بِلَفْظٍ آخَر. فتح الباري (ج 19 / ص 250)

(7) (خ) 6438 ، (حم) 2129 ، (د) 4419

(8) (د) 4427 ، (خ) 6438 ، (م) 20 - (1694)
যিনার পাত্রী নারী হওয়া

(বুখারি, আবু দাউদ, আহমদ), এবং মা'ইয ইবন মালিকের হাদিসে রয়েছে: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন) (১) (তাকে: "সম্ভবত তুমি তাকে চুম্বন করেছ, অথবা স্পর্শ করেছ (২) অথবা তাকিয়েছ (৩)?", তিনি বললেন: না, হে আল্লাহর রাসূল, তিনি বললেন:) (৪) ("তাহলে কার সাথে?", তিনি বললেন: অমুক মহিলার সাথে, তিনি বললেন:) (৫) ("তুমি কি তার সাথে সংগম করেছ? - তিনি রূপক শব্দ ব্যবহার করেননি (৬) -") (৭) (তিনি বললেন: হ্যাঁ) (৮).

--------------------------------------------

(১) (আবু দাউদ) ৪৪২২

(২) 'গামাযতা' (তুমি ইশারা করেছ/টিপেছ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাত দিয়ে স্পর্শ করা অথবা অন্যের কোনো অঙ্গের ওপর হাত রাখা, আর 'গামাযতা'-এর পরিবর্তে 'লামাস্তা' (তুমি স্পর্শ করেছ) বলার মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। ফাতহুল বারী (খণ্ড ১৯ / পৃষ্ঠা ২৫০)

(৩) তিনি বললেন: মনে হয় তিনি ভয় পাচ্ছিলেন যে লোকটিকে হয়তো জানা নেই যিনা কী। (আহমদ) ৩০০০, এবং শাইখ শুয়াইব আল-আরনাউত বলেছেন: এর সনদ সহীহ।

(৪) (বুখারি) ৬৪৩৮, (আবু দাউদ) ৪৪২২, (আহমদ) ২১২৯

(৫) (আহমদ) ২১৯৪০, (আবু দাউদ) ৪৪১৯

(৬) অর্থাৎ: তিনি সরাসরি উক্ত শব্দটি উচ্চারণ করেছেন এবং অন্য কোনো শব্দের মাধ্যমে তা রূপকভাবে ব্যক্ত করেননি। ফাতহুল বারী (খণ্ড ১৯ / পৃষ্ঠা ২৫০)

(৭) (বুখারি) ৬৪৩৮, (আহমদ) ২১২৯, (আবু দাউদ) ৪৪১৯

(৮) (আবু দাউদ) ৪৪২৭, (বুখারি) ৬৪৩৮, (মুসলিম) ২০ - (১৬৯৪)
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٢١)
(ط) ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ قَالَ: إِذَا نَكَحَ الْحُرُّ الْأَمَةَ فَمَسَّهَا فَقَدْ أَحْصَنَتْهُ. (1)

--------------------------------------------

(1) (ط) 1128
(ত), ইবনু শিহাব আয-যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন কোনো স্বাধীন ব্যক্তি কোনো দাসীকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সহবাস করে, তখন সেই নারী তাকে 'মুহসান' (বিবাহিত মর্যাদাসম্পন্ন) করে দিল। (১)

--------------------------------------------

(১) (ত) ১১২৮
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌إِتْيَانُ الْبَهِيمَة

(ت) ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ وَجَدْتُمُوهُ وَقَعَ عَلَى بَهِيمَةٍ ، فَاقْتُلُوهُ وَاقْتُلُوا الْبَهِيمَةَ " ، فَقِيلَ لِابْنِ عَبَّاسٍ: مَا شَأنُ الْبَهِيمَةِ؟ ، قَالَ: مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ شَيْئًا ، وَلَكِنْ أَرَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَرِهَ أَنْ يُؤْكَلَ مِنْ لَحْمِهَا أَوْ يُنْتَفَعَ بِهَا ، وَقَدْ عُمِلَ بِهَا ذَلِكَ الْعَمَلُ. (1)

--------------------------------------------

(1) (ت) 1455 ، (د) 4464 ، (جة) 2564 ، (حم) 2420 ، وصححه الألباني في الإرواء: 2348
পশুর সাথে কামাচার

(তিরমিযী), ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা যাকে কোনো পশুর সাথে কামাচারে লিপ্ত পাবে, তাকে হত্যা করো এবং পশুটিকেও হত্যা করো।" অতঃপর ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হলো: পশুটির অপরাধ কী? তিনি বললেন: এ বিষয়ে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে নির্দিষ্ট কিছু শুনিনি। তবে আমি মনে করি, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পশুটির গোশত খাওয়া অথবা তা দ্বারা উপকৃত হওয়া অপছন্দ করেছেন যেহেতু তার সাথে এমন কাজ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) (তিরমিযী) ১৪৫৫, (আবু দাউদ) ৪৪৬৪, (ইবনে মাজাহ) ২৫৬৪, (আহমাদ) ২৪২০, এবং আলবানী আল-ইরওয়া গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন: ২৩৪৮।
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌كَوْن اَلزَّانِي مُسْلِمًا

‌‌زِنَا غَيْر الْمُسْلِم

(خ م د حم) ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: (أَتَى نَفَرٌ مِنْ يَهُودٍ فَدَعَوْا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْقُفِّ (1) " فَأَتَاهُمْ فِي بَيْتِ الْمِدْرَاسِ (2) ") (3) (فَوَضَعُوا لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وِسَادَةً ، " فَجَلَسَ عَلَيْهَا ") (4) (فَقَالُوا: يَا أَبَا الْقَاسِمِ، إِنَّ رَجُلًا مِنَّا زَنَى بِامْرَأَةٍ ، فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ) (5) (فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ فِي شَأنِ) (6) (مَنْ زَنَى مِنْكُمْ؟ ") (7) (قَالُوا: نُسَوِّدُ وُجُوهَهُمَا ، وَنُحَمِّلُهُمَا ، وَنُخَالِفُ بَيْنَ وُجُوهِهِمَا ، وَيُطَافُ بِهِمَا) (8) فَـ (نَفْضَحُهُمْ ، وَيُجْلَدُونَ) (9) (فَقَالَ: " لَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ الرَّجْمَ؟ " ، فَقَالُوا: لَا نَجِدُ فِيهَا شَيْئًا ، فَقَالَ لَهُمْ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ: كَذَبْتُمْ) (10) (إِنَّ فِيهَا الرَّجْمَ) (11) (فَأتُوا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ) (12) (ادْعُهُمْ يَا رَسُولَ اللهِ بِالتَّوْرَاةِ) (13) (فَأَتَوْا بِالتَّوْرَاةِ فَنَشَرُوهَا) (14) (" فَنَزَعَ الْوِسَادَةَ مِنْ تَحْتِهِ فَوَضَعَ التَّوْرَاةَ عَلَيْهَا ، ثُمَّ قَالَ: آمَنْتُ بِكِ وَبِمَنْ أَنْزَلَكِ ، ثُمَّ قَالَ: ائْتُونِي بِأَعْلَمِكُمْ " ، فَأُتِيَ بِفَتًى شَابٍّ) (15) (أَعْوَرَ ، يُقَالُ لَهُ: ابْنُ صُورِيَا فَقَرَأَ ، حَتَّى إِذَا انْتَهَى إِلَى مَوْضِعٍ مِنْهَا وَضَعَ) (16) (يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ فَقَرَأَ مَا قَبْلَهَا وَمَا بَعْدَهَا) (17) ([وَلَمْ] يَقْرَأُ آيَةَ الرَّجْمِ) (18) (فَقَالَ لَهُ ابْنُ سَلَامٍ: ارْفَعْ يَدَكَ ، فَإِذَا آيَةُ الرَّجْمِ تَحْتَ يَدِهِ) (19) (فَقَالَ: مَا هَذِهِ؟ ، فَلَمَّا رَأَوْا ذَلِكَ قَالُوا:) (20) (صَدَقَ يَا مُحَمَّدُ ، فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ) (21) (وَلَكِنَّا كُنَّا نَتَكَاتَمُهُ بَيْنَنَا) (22) (" فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَا) (23) (عِنْدَ الْبَلَاطِ ") (24) وفي رواية: (فَرُجِمَا قَرِيبًا مِنْ مَوْضِعِ الْجَنَائِزِ عِنْدَ الْمَسْجِدِ (25) ") (26) (قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ: كُنْتُ فِيمَنْ رَجَمَهُمَا ، فَلَقَدْ) (27) (رَأَيْتُ الرَّجُلَ يَحْنِي عَلَى الْمَرْأَةِ) (28) (يَقِيهَا مِنْ الْحِجَارَةِ بِنَفْسِهِ) (29).

--------------------------------------------

(1) اِسْم وَادٍ بِالْمَدِينَةِ. عون المعبود - (ج 9 / ص 467)

(2) قَالَ فِي النِّهَايَة: هُوَ الْبَيْت الَّذِي يَدْرِسُونَ فِيهِ. عون المعبود (ج 9 / ص 467)

(3) (د) 4449 ، وحسنه الألباني في الإرواء تحت حديث: 1253

(4) (د) 4449

(5) (د) 4449

(6) (خ) 3436

(7) (خ) 4280

(8) (م) 26 - (1699)

(9) (خ) 3436 ، (د) 4446

(10) (خ) 4280 ، (د) 4446

(11) (خ) 3436 ، (د) 4446

(12) (خ) 4280 ، (م) 26 - (1699) ، (حم) 4498

(13) (خ) 6433

(14) (خ) 3436 ، (د) 4446

(15) (د) 4449

(16) (حم) 4498 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.

(17) (خ) 3436 ، (م) 26 - (1699)

(18) (خ) 4280

(19) (خ) 6433 ، (م) 26 - (1699) ، (د) 4446 ، (حم) 4498

(20) (خ) 4280

(21) (خ) 3436 ، (د) 4446

(22) (حم) 4498 ، (خ) 7104

(23) (خ) 3436 ، (د) 4446 ، (حم) 4498

(24) (خ) 6433 ، (حم) 5276

(25) قال الألباني في أحكام الجنائز ص106: قال الحافظ في الفتح: " إن مصلى الجنائز كان لاصقا بمسجد النبي صلى الله عليه وسلم من ناحية المشرق " ،

وقال في موضع آخر " والمصلى: المكان الذي كان يصلى عنده العيد والجنائز وهو من ناحية بقيع الغرقد ". أ. هـ

(26) (خ) 1264

(27) (م) 26 - (1699)

(28) (خ) 6450 ، (م) 26 - (1699) ، (د) 4446

(29) (م) 26 - (1699) ، (خ) 3436
ব্যভিচারীর মুসলিম হওয়া

অমুসলিমের ব্যভিচার

(বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, আহমাদ), আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (একদল ইহুদি এসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আল-কুফ (১) নামক স্থানে দাওয়াত দিল। "অতঃপর তিনি তাদের নিকট বাইতুল মিদরাস (২)-এ আসলেন।") (৩) (তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য একটি বালিশ রাখল, "অতঃপর তিনি তার ওপর বসলেন।") (৪) (তারা বলল: হে আবুল কাসেম, আমাদের এক ব্যক্তি এক মহিলার সাথে ব্যভিচার করেছে, অতএব আপনি তাদের বিচার করে দিন।) (৫) (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বললেন: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যভিচার করে, তার ব্যাপারে তোমরা তাওরাতে কী পাও?") (৬) (৭) (তারা বলল: আমরা তাদের উভয়ের মুখ কালো করি, তাদের বাহনে চড়াই, তাদের মুখ একে অপরের বিপরীত দিকে ফিরিয়ে দিই এবং তাদের ঘোরানো হয়।) (৮) (অতঃপর আমরা তাদের লাঞ্ছিত করি এবং তাদের বেত্রাঘাত করা হয়।) (৯) (তিনি বললেন: "তোমরা কি তাওরাতে রজমের (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু) বিধান পাও না?" তারা বলল: আমরা এতে এমন কিছু পাই না। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম তাদের বললেন: তোমরা মিথ্যা বলেছ।) (১০) (নিশ্চয়ই এতে রজমের বিধান রয়েছে।) (১১) (অতএব তোমরা তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও।) (১২) (হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তাদের তাওরাত আনতে বলুন।) (১৩) (অতঃপর তারা তাওরাত নিয়ে এল এবং তা উন্মুক্ত করল।) (১৪) ("তিনি নিজের নিচ থেকে বালিশটি সরিয়ে তার ওপর তাওরাত রাখলেন। অতঃপর বললেন: আমি তোমার ওপর এবং যিনি তোমাকে অবতীর্ণ করেছেন তাঁর ওপর ঈমান আনলাম। অতঃপর তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেমকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" তখন এক যুবককে আনা হলো) (১৫) (যে ছিল একচক্ষুহীন, তাকে ইবনে সুরিযা বলা হতো। সে পাঠ করতে শুরু করল। পাঠ করতে করতে যখন সে একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাল, তখন সে) (১৬) (রজমের আয়াতের ওপর নিজের হাত রাখল এবং তার আগের ও পরের অংশ পাঠ করল।) (১৭) (সে রজমের আয়াতটি পাঠ করল না।) (১৮) (তখন ইবনে সালাম তাকে বললেন: তোমার হাত তোলো। দেখা গেল যে, তার হাতের নিচেই রজমের আয়াত।) (১৯) (তিনি বললেন: এটা কী? যখন তারা তা দেখল, তখন বলল:) (২০) (হে মুহাম্মদ, তিনি সত্য বলেছেন, এতে রজমের আয়াত রয়েছে।) (২১) (কিন্তু আমরা নিজেদের মধ্যে তা গোপন রাখতাম।) (২২) ("অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাদের পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হলো) (২৩) (আল-বালাত নামক স্থানে।") (২৪) অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: (মসজিদের পাশে জানাজার স্থানের নিকটে তাদের রজম করা হয়।) (২৫) (২৬) (আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলেন: যারা তাদের রজম করেছিল আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। তখন আমি) (২৭) (দেখলাম যে, লোকটি মহিলার ওপর ঝুঁকে পড়ছিল) (২৮) (এবং নিজের শরীর দিয়ে তাকে পাথর থেকে রক্ষা করছিল।) (২৯)।

--------------------------------------------

(১) মদিনার একটি উপত্যকার নাম। আউনুল মাবুদ - (৯ম খণ্ড / ৪৬৭ পৃষ্ঠা)

(২) আন-নিহায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি এমন একটি ঘর যেখানে তারা অধ্যয়ন করত। আউনুল মাবুদ (৯ম খণ্ড / ৪৬৭ পৃষ্ঠা)

(৩) (আবু দাউদ) ৪৪৪৯, আলবানী একে ইরওয়াউল গালীল-এর ১২৫৩ নং হাদিসের অধীনে হাসান বলেছেন।

(৪) (আবু দাউদ) ৪৪৪৯

(৫) (আবু দাউদ) ৪৪৪৯

(৬) (বুখারি) ৩৪৩৬

(৭) (বুখারি) ৪২৮০

(৮) (মুসলিম) ২৬ - (১৬৯৯)

(৯) (বুখারি) ৩৪৩৬, (আবু দাউদ) ৪৪৪৬

(১০) (বুখারি) ৪২৮০, (আবু দাউদ) ৪৪৪৬

(১১) (বুখারি) ৩৪৩৬, (আবু দাউদ) ৪৪৪৬

(১২) (বুখারি) ৪২৮০, (মুসলিম) ২৬ - (১৬৯৯), (মুসনাদে আহমাদ) ৪৪৯৮

(১৩) (বুখারি) ৬৪৩৩

(১৪) (বুখারি) ৩৪৩৬, (আবু দাউদ) ৪৪৪৬

(১৫) (আবু দাউদ) ৪৪৪৯

(১৬) (মুসনাদে আহমাদ) ৪৪৯৮, শেখ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন: এর সনদ সহিহ।

(১৭) (বুখারি) ৩৪৩৬, (মুসলিম) ২৬ - (১৬৯৯)

(১৮) (বুখারি) ৪২৮০

(১৯) (বুখারি) ৬৪৩৩, (মুসলিম) ২৬ - (১৬৯৯), (আবু দাউদ) ৪৪৪৬, (মুসনাদে আহমাদ) ৪৪৯৮

(২০) (বুখারি) ৪২৮০

(২১) (বুখারি) ৩৪৩৬, (আবু দাউদ) ৪৪৪৬

(২২) (মুসনাদে আহমাদ) ৪৪৯৮, (বুখারি) ৭১০৪

(২৩) (বুখারি) ৩৪৩৬, (আবু দাউদ) ৪৪৪৬, (মুসনাদে আহমাদ) ৪৪৯৮

(২৪) (বুখারি) ৬৪৩৩, (মুসনাদে আহমাদ) ৫২৭৬

(২৫) আলবানী 'আহকামুল জানাইয' ১০৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন: হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী'তে বলেছেন, "জানাজার নামাজের স্থানটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদের পূর্ব দিকের সাথে লেগে ছিল।"

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন, "মুসাল্লা: যে স্থানে ঈদ ও জানাজার নামাজ পড়া হতো, তা বাকী আল-গারকাদ-এর দিকে অবস্থিত ছিল।" সমাপ্ত।

(২৬) (বুখারি) ১২৬৪

(২৭) (মুসলিম) ২৬ - (১৬৯৯)

(২৮) (বুখারি) ৬৪৫০, (মুসলিম) ২৬ - (১৬৯৯), (আবু দাউদ) ৪৪৪৬

(২৯) (মুসলিম) ২৬ - (১৬৯৯), (বুখারি) ৩৪৩৬
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
(م د) ، وَعَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رضي الله عنه قَالَ: (جَاءَتْ الْيَهُودُ بِرَجُلٍ وَامْرَأَةٍ مِنْهُمْ زَنَيَا) (1) وفي رواية: (مُرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِيَهُودِيٍّ) (2) (وَهُوَ يُطَافُ بِهِ) (3) (مُحَمَّمًا (4)) (5) (وَجْهُهُ) (6) (مَجْلُودًا ، " فَدَعَاهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: هَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ؟ " ، قَالُوا: نَعَمْ) (7) (" فَقَالَ: " ائْتُونِي بِأَعْلَمِ رَجُلَيْنِ مِنْكُمْ " ، فَأَتَوْهُ بِابْنَيْ صُورِيَا " فَنَشَدَهُمَا) (8) (بِاللهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى ، أَهَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ؟ ") (9) (قَالَا: نَجِدُ فِي التَّوْرَاةِ: إِذَا شَهِدَ أَرْبَعَةٌ أَنَّهُمْ رَأَوْا ذَكَرَهُ فِي فَرْجِهَا مِثْلَ الْمِيلِ فِي الْمُكْحُلَةِ ، رُجِمَا ، قَالَ: " فَمَا يَمْنَعُكُمَا أَنْ تَرْجُمُوهُمَا؟ " قَالَا: ذَهَبَ سُلْطَانُنَا) (10) وَ (كَثُرَ فِي أَشْرَافِنَا ، فَكُنَّا إِذَا أَخَذْنَا الرَّجُلَ الشَّرِيفَ تَرَكْنَاهُ ، وَإِذَا أَخَذْنَا الضَّعِيفَ أَقَمْنَا عَلَيْهِ الْحَدَّ) (11) (فَقُلْنَا: تَعَالَوْا فَلْنَجْتَمِعْ عَلَى شَيْءٍ نُقِيمُهُ عَلَى الشَّرِيفِ وَالْوَضِيعِ) (12) (فَاجْتَمَعْنَا عَلَى التَّحْمِيمِ وَالْجَلْدِ ، وَتَرَكْنَا الرَّجْمَ) (13) (" فَدَعَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالشُّهُودِ " ، فَجَاءُوا بِأَرْبَعَةٍ ، فَشَهِدُوا أَنَّهُمْ رَأَوْا ذَكَرَهُ فِي فَرْجِهَا مِثْلَ الْمِيلِ فِي الْمُكْحُلَةِ ، " فَأَمَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِرَجْمِهِمَا ") (14) (ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَوَّلُ مَنْ أَحْيَا مَا أَمَاتُوا مِنْ كِتَابِكَ ") (15) (فَأَنْزَلَ اللهُ عز وجل: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آَمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ ، وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ آَخَرِينَ لَمْ يَأتُوكَ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ وَإِنْ لَمْ تُؤْتَوْهُ فَاحْذَرُوا} (16) " يَقُولُونَ: ائْتُوا مُحَمَّدًا ، فَإِنْ أَمَرَكُمْ بِالتَّحْمِيمِ وَالْجَلْدِ فَخُذُوهُ ، وَإِنْ أَفْتَاكُمْ بِالرَّجْمِ فَاحْذَرُوا ، فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الْكَافِرُونَ} (17) {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الظَّالِمُونَ} (18) {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ ، فَأُولَئِكَ هُمْ الْفَاسِقُونَ} (19)) (20) (قَالَ الْبَرَاءُ: هِيَ فِي الْكُفَّارِ كُلُّهَا - يَعْنِي هَذِهِ الْآيَةَ -) (21).

--------------------------------------------

(1) (د) 4452

(2) (م) 28 - (1700)

(3) (د) 4447

(4) أَيْ: مُسَوَّدُ الوجه ، من الحُمَمَة وهي الفَحْمة. لسان العرب (ج12 / ص 150)

(5) (م) 28 - (1700)

(6) (د) 4447

(7) (م) 28 - (1700)

(8) (د) 4452

(9) (م) 28 - (1700)

(10) (د) 4452

(11) (د) 4448 ، (م) 28 - (1700)

(12) (م) 28 - (1700)

(13) (د) 4448 ، (م) 28 - (1700)

(14) (د) 4452

(15) (د) 4447 ، (م) 28 - (1700)

(16) [المائدة/41]

(17) [المائدة/44]

(18) [المائدة/45]

(19) [المائدة/47]

(20) (م) 28 - (1700)

(21) (د) 4448 ، (م) 28 - (1700) ، (جة) 2327 ، (حم) 18548
(মুসলিম ও আবু দাউদ), এবং বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (ইয়াহুদিরা তাদের মধ্যকার এমন একজন পুরুষ ও একজন নারীকে নিয়ে এল যারা ব্যভিচার করেছিল) (১) এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে এক ইয়াহুদিকে নিয়ে যাওয়া হলো) (২) (যাকে ঘুরানো হচ্ছিল) (৩) (মুখমণ্ডল কালো করা অবস্থায় (৪)) (৫) (তার মুখমণ্ডল) (৬) (এবং সে চাবুক দ্বারা প্রহারকৃত ছিল, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ডাকলেন এবং বললেন: "তোমরা কি তোমাদের কিতাবে ব্যভিচারীর শাস্তি এভাবেই পাও?" তারা বলল: "হ্যাঁ") (৭) ("অতঃপর তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যকার সবচেয়ে জ্ঞানী দুজন ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" ফলে তারা ইবনে সুরিয়া নামক দুই ব্যক্তিকে নিয়ে এল এবং তিনি তাদের শপথ দিলেন) (৮) ("সেই আল্লাহর নামে যিনি মুসার ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন, তোমরা কি তোমাদের কিতাবে ব্যভিচারীর শাস্তি এভাবেই পাও?") (৯) (তারা বলল: "আমরা তাওরাতে পাই যে, যখন চারজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেয় যে তারা তার লিঙ্গকে তার (নারীর) যোনিতে সুরমাদানিতে সলার মতো (প্রবেশ করা অবস্থায়) দেখেছে, তখন তাদের রজম (পাথর ছুড়ে হত্যা) করতে হবে।" তিনি বললেন: "তাহলে তোমাদের তাদের রজম করতে কিসে বাধা দিচ্ছে?" তারা বলল: "আমাদের কর্তৃত্ব চলে গেছে") (১০) এবং (আমাদের সম্ভ্রান্তদের মধ্যে এটি (ব্যভিচার) বেড়ে গিয়েছিল, তখন আমাদের অবস্থা এমন ছিল যে, যখন আমরা কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও করতাম তখন তাকে ছেড়ে দিতাম, আর যখন কোনো দুর্বল ব্যক্তিকে পাকড়াও করতাম তখন তার ওপর শাস্তি কার্যকর করতাম) (১১) (অতঃপর আমরা বললাম: "এসো আমরা এমন এক বিষয়ে একমত হই যা আমরা সম্ভ্রান্ত এবং সাধারণ সবার ওপর কার্যকর করব") (১২) (ফলে আমরা মুখমণ্ডল কালো করা এবং চাবুক মারার ওপর একমত হলাম এবং রজম পরিত্যাগ করলাম) (১৩) ("অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষীদের ডাকলেন", তখন তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে এল এবং তারা সাক্ষ্য দিল যে তারা তার লিঙ্গকে তার যোনিতে সুরমাদানিতে সলার মতো দেখেছে, "ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে রজম করার নির্দেশ দিলেন") (১৪) (অতঃপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আপনার কিতাবের সেই বিধানকে পুনর্জীবিত করল যা তারা মৃত বানিয়ে ফেলেছিল") (১৫) (অতঃপর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী অবতীর্ণ করলেন: {হে রাসূল! তারা যেন আপনাকে ব্যথিত না করে যারা কুফরিতে দ্রুত ধাবিত হয়, যারা মুখে বলে আমরা ঈমান এনেছি অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনেনি। আর যারা ইয়াহুদি হয়েছে, তারা মিথ্যার প্রতি অধিক শ্রবণকারী, তারা অন্য এমন এক কওমের প্রতি অধিক শ্রবণকারী যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা শব্দগুলোকে তার সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করে। তারা বলে: যদি তোমাদের এটি (মুখ কালো করা ও চাবুক মারা) প্রদান করা হয় তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি তা না দেওয়া হয় তবে তা থেকে সতর্ক থাকো} (১৬) "তারা বলত: তোমরা মুহাম্মাদের কাছে যাও, যদি তিনি তোমাদের মুখ কালো করা এবং চাবুক মারার আদেশ দেন তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি তিনি তোমাদের রজমের ফতোয়া দেন তবে তা থেকে সতর্ক থাকো।" অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা দ্বারা বিচার করে না, তারাই কাফির} (১৭) {যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা দ্বারা বিচার করে না, তারাই জালিম} (১৮) {যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা দ্বারা বিচার করে না, তারাই ফাসিক} (১৯)) (২০) (বারা বলেন: এই সব কটি আয়াতই কাফিরদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে) (২১)।

--------------------------------------------

(১) (দাউদ) ৪৪৫২

(২) (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(৩) (দাউদ) ৪৪৪৭

(৪) অর্থাৎ: মুখমণ্ডল কালো করা; যা 'হুমামাহ' থেকে এসেছে যার অর্থ কয়লা। লিসানুল আরব (খণ্ড ১২ / পৃষ্ঠা ১৫০)

(৫) (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(৬) (দাউদ) ৪৪৪৭

(৭) (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(৮) (দাউদ) ৪৪৫২

(৯) (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(১০) (দাউদ) ৪৪৫২

(১১) (দাউদ) ৪৪৪৮, (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(১২) (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(১৩) (দাউদ) ৪৪৪৮, (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(১৪) (দাউদ) ৪৪৫২

(১৫) (দাউদ) ৪৪৪৭, (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(১৬) [আল-মায়িদাহ/৪১]

(১৭) [আল-মায়িদাহ/৪৪]

(১৮) [আল-মায়িদাহ/৪৫]

(১৯) [আল-মায়িদাহ/৪৭]

(২০) (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(২১) (দাউদ) ৪৪৪৮, (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০), (ইবনে মাজাহ) ২৩২৭, (আহমাদ) ১৮৫৪৮
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌اِنْتِفَاءُ الشُّبْهَةِ فِي الزِّنَا

(س) ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ رضي الله عنه قَالَ: " قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي رَجُلٍ وَطِئَ جَارِيَةَ امْرَأَتِهِ: إِنْ كَانَ اسْتَكْرَهَهَا فَهِيَ حُرَّةٌ ، وَعَلَيْهِ لِسَيِّدَتِهَا مِثْلُهَا ، وَإِنْ كَانَتْ طَاوَعَتْهُ فَهِيَ لَهُ ، وَعَلَيْهِ لِسَيِّدَتِهَا مِثْلُهَا " (1) (ضعيف)

--------------------------------------------

(1) (س) 3363 ، (د) 4460 ، (حم) 20081
ব্যভিচারের ক্ষেত্রে সংশয় নিরসন

(নাসাঈ), সালামাহ ইবনুল মুহাব্বাক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে ফয়সালা দিয়েছেন যে তার স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করেছে: যদি সে তাকে বাধ্য করে থাকে তবে সে (দাসী) স্বাধীন, আর তাকে (ঐ ব্যক্তিকে) তার মালকিনের জন্য তার অনুরূপ একজন দাসী প্রদান করতে হবে। আর যদি সে (দাসী) স্বেচ্ছায় তার অনুগত হয়ে থাকে তবে সে তারই হবে, এবং তাকে তার মালকিনের জন্য তার অনুরূপ একজন দাসী প্রদান করতে হবে।" (১) (দুর্বল)

--------------------------------------------

(১) (নাসাঈ) ৩৩৬৩, (আবু দাউদ) ৪৪৬০, (আহমাদ) ২০০৮১
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
(ط) ، وَعَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ لِرَجُلٍ خَرَجَ بِجَارِيَةٍ لِامْرَأَتِهِ مَعَهُ فِي سَفَرٍ فَأَصَابَهَا ، فَغَارَتْ امْرَأَتُهُ ، فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ ، فَقَالَ: وَهَبَتْهَا لِي ، فَقَالَ عُمَرُ: لَتَأتِينِي بِالْبَيِّنَةِ أَوْ لَأَرْمِيَنَّكَ بِالْحِجَارَةِ ، قَالَ: فَاعْتَرَفَتْ امْرَأَتُهُ أَنَّهَا وَهَبَتْهَا لَهُ. (1) (ضعيف)

--------------------------------------------

(1) (ط) 1516 ، (عب) 13440 ، (ش) 28545 ، (هق) 16858
(মুওয়াত্তা), রাবিআহ ইবনে আবি আবদির রহমান থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব জনৈক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, যে তার স্ত্রীর এক দাসীকে সাথে নিয়ে সফরে বেরিয়েছিল এবং তার সাথে সহবাস করেছিল। এতে তার স্ত্রী ঈর্ষান্বিত হয়ে বিষয়টি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট উল্লেখ করল। তিনি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল: "সে তাকে আমার নিকট দান করেছে।" উমর বললেন: "তুমি অবশ্যই প্রমাণ নিয়ে আসবে, অন্যথায় আমি তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করব।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তার স্ত্রী স্বীকার করল যে, সে তাকে (দাসীটিকে) তার নিকট দান করেছিল। (১) (দুর্বল)

--------------------------------------------

(১) (মুওয়াত্তা) ১৫১৬, (আবদুর রাজ্জাক) ১৩৪৪০, (ইবনে আবি শাইবাহ) ২৮৫৪৫, (বায়হাকি) ১৬৮৫৮
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌أَنْوَاعُ حَدِّ الزِّنَا

‌‌حَدُّ الزِّنَا الرَّجْم

(خ م) ، عَنْ أَبِي إِسْحَقَ الشَّيْبَانِيِّ قَالَ: سَأَلْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى رضي الله عنه: هَلْ رَجَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم؟ ، قَالَ: " نَعَمْ " ، قَالَ: قُلْتُ: بَعْدَمَا أُنْزِلَتْ سُورَةُ النُّورِ أَمْ قَبْلَهَا؟ ، قَالَ: لَا أَدْرِي. (1)

--------------------------------------------

(1) (م) 29 - (1702) ، (خ) 6428 ، (حم) 19149
ব্যভিচারের শাস্তির প্রকারভেদ

‌‌ব্যভিচারের শাস্তি: পাথর ছুড়ে হত্যা (রজম)

(বুখারি ও মুসলিম), আবু ইসহাক আশ-শায়বানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: “আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি পাথর ছুড়ে মারার (রজম) দণ্ড কার্যকর করেছিলেন?” তিনি বললেন: “হ্যাঁ।” বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম: “সূরা আন-নূর অবতীর্ণ হওয়ার পর নাকি তার আগে?” তিনি বললেন: “আমি জানি না।” (১)

--------------------------------------------

(১) (মুসলিম) ২৯ - (১৭০২), (বুখারি) ৬৪২৮, (আহমাদ) ১৯১৪৯
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
(خ م د حم) ، وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: (أَتَى نَفَرٌ مِنْ يَهُودٍ فَدَعَوْا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْقُفِّ (1) فَأَتَاهُمْ فِي بَيْتِ الْمِدْرَاسِ (2)) (3) (فَوَضَعُوا لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وِسَادَةً ، " فَجَلَسَ عَلَيْهَا ") (4) (فَقَالُوا: يَا أَبَا الْقَاسِمِ ، إِنَّ رَجُلًا مِنَّا زَنَى بِامْرَأَةٍ ، فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ) (5) (فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ فِي شَأنِ) (6) (مَنْ زَنَى مِنْكُمْ؟ ") (7) (قَالُوا: نُسَوِّدُ وُجُوهَهُمَا ، وَنُحَمِّلُهُمَا ، وَنُخَالِفُ بَيْنَ وُجُوهِهِمَا ، وَيُطَافُ بِهِمَا) (8) فَـ (نَفْضَحُهُمْ ، وَيُجْلَدُونَ) (9) (فَقَالَ: " لَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ الرَّجْمَ؟ " ، فَقَالُوا: لَا نَجِدُ فِيهَا شَيْئًا ، فَقَالَ لَهُمْ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ: كَذَبْتُمْ) (10) (إِنَّ فِيهَا الرَّجْمَ) (11) (فَأتُوا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ) (12) (ادْعُهُمْ يَا رَسُولَ اللهِ بِالتَّوْرَاةِ) (13) (فَأَتَوْا بِالتَّوْرَاةِ فَنَشَرُوهَا) (14) (" فَنَزَعَ الْوِسَادَةَ مِنْ تَحْتِهِ فَوَضَعَ التَّوْرَاةَ عَلَيْهَا ، ثُمَّ قَالَ: آمَنْتُ بِكِ وَبِمَنْ أَنْزَلَكِ ، ثُمَّ قَالَ: ائْتُونِي بِأَعْلَمِكُمْ " ، فَأُتِيَ بِفَتًى شَابٍّ) (15) (أَعْوَرَ ، يُقَالُ لَهُ: ابْنُ صُورِيَا ، فَقَرَأَ ، حَتَّى إِذَا انْتَهَى إِلَى مَوْضِعٍ مِنْهَا وَضَعَ) (16) (يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ ، فَقَرَأَ مَا قَبْلَهَا وَمَا بَعْدَهَا) (17) ([وَلَمْ] يَقْرَأُ آيَةَ الرَّجْمِ) (18) (فَقَالَ لَهُ ابْنُ سَلَامٍ: ارْفَعْ يَدَكَ ، فَإِذَا آيَةُ الرَّجْمِ تَحْتَ يَدِهِ) (19) (فَقَالَ: مَا هَذِهِ؟ ، فَلَمَّا رَأَوْا ذَلِكَ قَالُوا:) (20) (صَدَقَ يَا مُحَمَّدُ ، فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ) (21) (وَلَكِنَّا كُنَّا نَتَكَاتَمُهُ بَيْنَنَا) (22) (" فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَا) (23) (عِنْدَ الْبَلَاطِ) (24) وفي رواية: (فَرُجِمَا قَرِيبًا مِنْ مَوْضِعِ الْجَنَائِزِ عِنْدَ الْمَسْجِدِ (25) ") (26) (قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ: كُنْتُ فِيمَنْ رَجَمَهُمَا ، فَلَقَدْ) (27) (رَأَيْتُ الرَّجُلَ يَحْنِي عَلَى الْمَرْأَةِ) (28) (يَقِيهَا مِنْ الْحِجَارَةِ بِنَفْسِهِ) (29).

--------------------------------------------

(1) اِسْم وَادٍ بِالْمَدِينَةِ. عون المعبود - (ج 9 / ص 467)

(2) قَالَ فِي النِّهَايَة: هُوَ الْبَيْت الَّذِي يَدْرِسُونَ فِيهِ. عون المعبود - (ج 9 / ص 467)

(3) (د) 4449 ، وحسنه الألباني في الإرواء تحت حديث: 1253

(4) (د) 4449

(5) (د) 4449

(6) (خ) 3436

(7) (خ) 4280

(8) (م) 26 - (1699)

(9) (خ) 3436 ، (د) 4446

(10) (خ) 4280 ، (د) 4446

(11) (خ) 3436 ، (د) 4446

(12) (خ) 4280 ، (م) 26 - (1699) ، (حم) 4498

(13) (خ) 6433

(14) (خ) 3436 ، (د) 4446

(15) (د) 4449

(16) (حم) 4498 ، وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.

(17) (خ) 3436 ، (م) 26 - (1699)

(18) (خ) 4280

(19) (خ) 6433 ، (م) 26 - (1699) ، (د) 4446 ، (حم) 4498

(20) (خ) 4280

(21) (خ) 3436 ، (د) 4446

(22) (حم) 4498 ، (خ) 7104

(23) (خ) 3436 ، (د) 4446 ، (حم) 4498

(24) (خ) 6433 ، (حم) 5276

(25) قال الألباني في أحكام الجنائز ص106: قال الحافظ في الفتح: " إن مصلى الجنائز كان لاصقا بمسجد النبي صلى الله عليه وسلم من ناحية المشرق " ،

وقال في موضع آخر " والمصلى: المكان الذي كان يصلى عنده العيد والجنائز ، وهو من ناحية بقيع الغرقد. أ. هـ

(26) (خ) 1264

(27) (م) 26 - (1699)

(28) (خ) 6450 ، (م) 26 - (1699) ، (د) 4446

(29) (م) 26 - (1699) ، (خ) 3436
(বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, আহমদ), এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (ইহুদিদের একটি দল এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুফ নামক স্থানে (১) আসার জন্য আহ্বান করল, অতঃপর তিনি তাদের নিকট বায়তুল মিদরাস-এ (২) আসলেন।) (৩) (অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি গদি রাখল, "এবং তিনি তার ওপর বসলেন।") (৪) (তারা বলল: হে আবুল কাসিম, আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এক মহিলার সাথে ব্যভিচার করেছে, সুতরাং আপনি তাদের বিচার করে দিন।) (৫) (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের ব্যাপারে তোমরা তাওরাতে কী পাও?") (৬) (৭) (তারা বলল: আমরা তাদের মুখ কালো করে দিই, তাদের পিঠে চড়িয়ে দিই এবং তাদের উভয়ের মুখ বিপরীত দিকে ফিরিয়ে রাখা হয়, এরপর তাদের ঘুরিয়ে দেখানো হয়।) (৮) অতঃপর (আমরা তাদের লাঞ্ছিত করি এবং তাদের চাবুক মারা হয়।) (৯) (তিনি বললেন: "তোমরা কি তাওরাতে রজমের (পাথর মেরে হত্যার) বিধান পাও না?" তারা বলল: আমরা এতে তেমন কিছু পাই না। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম তাদের বললেন: তোমরা মিথ্যা বলছ।) (১০) (নিশ্চয়ই এতে রজমের বিধান রয়েছে।) (১১) (তোমরা তাওরাত নিয়ে আসো এবং তা পাঠ করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও।) (১২) (হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তাদের তাওরাত দিয়ে আহ্বান করুন।) (১৩) (অতঃপর তারা তাওরাত নিয়ে আসল এবং তা খুলল।) (১৪) ("তখন তিনি তাঁর নিচ থেকে গদিটি সরিয়ে নিলেন এবং তার ওপর তাওরাত রাখলেন। এরপর বললেন: আমি তোমার প্রতি এবং যিনি তোমাকে নাযিল করেছেন তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম। তারপর তিনি বললেন: তোমাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" তখন এক যুবককে আনা হলো,) (১৫) (যে একচক্ষু বিশিষ্ট ছিল, তাকে ইবনে সূরিয়া বলা হতো। সে পাঠ করতে লাগল, যখন সে একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাল তখন সে) (১৬) (রজমের আয়াতের ওপর তার হাত রাখল। এরপর সে তার আগের অংশ এবং পরের অংশ পাঠ করল,) (১৭) (কিন্তু রজমের আয়াতটি পাঠ করল না।) (১৮) (তখন ইবনে সালাম তাকে বললেন: তোমার হাত তোলো। তখন দেখা গেল যে রজমের আয়াতটি তার হাতের নিচেই রয়েছে।) (১৯) (তিনি বললেন: এটি কী? যখন তারা এটি দেখল তখন বলল:) (২০) (হে মুহাম্মদ, আপনি সত্য বলেছেন, এতে রজমের আয়াত রয়েছে।) (২১) (কিন্তু আমরা তা নিজেদের মধ্যে গোপন রাখতাম।) (২২) ("অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাদের পাথর মেরে হত্যা করা হলো) (২৩) (বালাত নামক স্থানে।") (২৪) অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ("তাদের মসজিদের নিকটবর্তী জানাযার স্থানের কাছে পাথর মেরে হত্যা করা হলো।") (২৫) (২৬) (আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর বলেন: আমি তাদের মধ্যে ছিলাম যারা তাদের পাথর মেরেছিল। আমি) (২৭) (লোকটিকে দেখছিলাম যে সে মহিলার ওপর ঝুঁকে পড়ছিল) (২৮) (এবং নিজের দেহ দিয়ে তাকে পাথর থেকে রক্ষা করছিল।) (২৯)।

--------------------------------------------

(১) মদীনার একটি উপত্যকার নাম। আওনুল মাবুদ - (খণ্ড ৯ / পৃষ্ঠা ৪৬৭)

(২) আন-নিহায়াহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি এমন এক ঘর যেখানে তারা পাঠদান করত। আওনুল মাবুদ - (খণ্ড ৯ / পৃষ্ঠা ৪৬৭)

(৩) আবু দাউদ ৪৪৪৯, আলবানী একে ইরওয়াউল গালীল-এ হাদীস নং: ১২৫৩-এর অধীনে হাসান বলেছেন।

(৪) আবু দাউদ ৪৪৪৯

(৫) আবু দাউদ ৪৪৪৯

(৬) বুখারি ৩৪৩৬

(৭) বুখারি ৪২৮০

(৮) মুসলিম ২৬ - (১৬৯৯)

(৯) বুখারি ৩৪৩৬, আবু দাউদ ৪৪৪৬

(১০) বুখারি ৪২৮০, আবু দাউদ ৪৪৪৬

(১১) বুখারি ৩৪৩৬, আবু দাউদ ৪৪৪৬

(১২) বুখারি ৪২৮০, মুসলিম ২৬ - (১৬৯৯), আহমদ ৪৪৯৮

(১৩) বুখারি ৬৪৩৩

(১৪) বুখারি ৩৪৩৬, আবু দাউদ ৪৪৪৬

(১৫) আবু দাউদ ৪৪৪৯

(১৬) আহমদ ৪৪৯৮, শেখ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন: এর সনদ সহীহ।

(১৭) বুখারি ৩৪৩৬, মুসলিম ২৬ - (১৬৯৯)

(১৮) বুখারি ৪২৮০

(১৯) বুখারি ৬৪৩৩, মুসলিম ২৬ - (১৬৯৯), আবু দাউদ ৪৪৪৬, আহমদ ৪৪৯৮

(২০) বুখারি ৪২৮০

(২১) বুখারি ৩৪৩৬, আবু দাউদ ৪৪৪৬

(২২) আহমদ ৪৪৯৮, বুখারি ৭১০৪

(২৩) বুখারি ৩৪৩৬, আবু দাউদ ৪৪৪৬, আহমদ ৪৪৯৮

(২৪) বুখারি ৬৪৩৩, আহমদ ৫২৭৬

(২৫) আলবানী 'আহকামুল জানাইয' ১০৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন: হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন: "নিশ্চয়ই জানাযার সালাতের স্থানটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদের সাথে পূর্ব দিকে সংযুক্ত ছিল।"

তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: "মুসাল্লা: সেই স্থান যেখানে ঈদ ও জানাযার সালাত পড়া হতো, আর এটি বাকীউল গারকাদ-এর দিকে অবস্থিত।" সমাপ্ত।

(২৬) বুখারি ১২৬৪

(২৭) মুসলিম ২৬ - (১৬৯৯)

(২৮) বুখারি ৬৪৫০, মুসলিম ২৬ - (১৬৯৯), আবু দাউদ ৪৪৪৬

(২৯) মুসলিম ২৬ - (১৬৯৯), বুখারি ৩৪৩৬
(খণ্ড: ٣٨) আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
(م د) ، وَعَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رضي الله عنه قَالَ: (جَاءَتْ الْيَهُودُ بِرَجُلٍ وَامْرَأَةٍ مِنْهُمْ زَنَيَا) (1) وفي رواية: (مُرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِيَهُودِيٍّ) (2) (وَهُوَ يُطَافُ بِهِ) (3) (مُحَمَّمًا (4)) (5) (وَجْهُهُ) (6) (مَجْلُودًا ، " فَدَعَاهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: هَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ؟ " ، قَالُوا: نَعَمْ) (7) (" فَقَالَ: " ائْتُونِي بِأَعْلَمِ رَجُلَيْنِ مِنْكُمْ " ، فَأَتَوْهُ بِابْنَيْ صُورِيَا ، " فَنَشَدَهُمَا) (8) (بِاللهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى ، أَهَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ؟ ") (9) (قَالَا: نَجِدُ فِي التَّوْرَاةِ: إِذَا شَهِدَ أَرْبَعَةٌ أَنَّهُمْ رَأَوْا ذَكَرَهُ فِي فَرْجِهَا مِثْلَ الْمِيلِ فِي الْمُكْحُلَةِ رُجِمَا ، قَالَ: " فَمَا يَمْنَعُكُمَا أَنْ تَرْجُمُوهُمَا؟ " ، قَالَا: ذَهَبَ سُلْطَانُنَا) (10) وَ (كَثُرَ فِي أَشْرَافِنَا ، فَكُنَّا إِذَا أَخَذْنَا الرَّجُلَ الشَّرِيفَ تَرَكْنَاهُ ، وَإِذَا أَخَذْنَا الضَّعِيفَ أَقَمْنَا عَلَيْهِ الْحَدَّ) (11) (فَقُلْنَا: تَعَالَوْا فَلْنَجْتَمِعْ عَلَى شَيْءٍ نُقِيمُهُ عَلَى الشَّرِيفِ وَالْوَضِيعِ) (12) (فَاجْتَمَعْنَا عَلَى التَّحْمِيمِ وَالْجَلْدِ ، وَتَرَكْنَا الرَّجْمَ) (13) (" فَدَعَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالشُّهُودِ " ، فَجَاءُوا بِأَرْبَعَةٍ ، فَشَهِدُوا أَنَّهُمْ رَأَوْا ذَكَرَهُ فِي فَرْجِهَا مِثْلَ الْمِيلِ فِي الْمُكْحُلَةِ ، " فَأَمَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِرَجْمِهِمَا ") (14) (ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَوَّلُ مَنْ أَحْيَا مَا أَمَاتُوا مِنْ كِتَابِكَ ") (15) (فَأَنْزَلَ اللهُ عز وجل: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آَمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ ، وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ آَخَرِينَ لَمْ يَأتُوكَ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ وَإِنْ لَمْ تُؤْتَوْهُ فَاحْذَرُوا} (16) " ، يَقُولُونَ: ائْتُوا مُحَمَّدًا فَإِنْ أَمَرَكُمْ بِالتَّحْمِيمِ وَالْجَلْدِ فَخُذُوهُ ، وَإِنْ أَفْتَاكُمْ بِالرَّجْمِ فَاحْذَرُوا ، فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الْكَافِرُونَ} (17) {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الظَّالِمُونَ} (18) {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ ، فَأُولَئِكَ هُمْ الْفَاسِقُونَ} (19)) (20) (قَالَ الْبَرَاءُ: هِيَ فِي الْكُفَّارِ كُلُّهَا - يَعْنِي هَذِهِ الْآيَةَ -) (21).

--------------------------------------------

(1) (د) 4452

(2) (م) 28 - (1700)

(3) (د) 4447

(4) أَيْ: مُسْوَدُّ الوجه ، من الحُمَمَة وهي الفَحْمة. لسان العرب - (ج 12 / ص 150)

(5) (م) 28 - (1700)

(6) (د) 4447

(7) (م) 28 - (1700)

(8) (د) 4452

(9) (م) 28 - (1700)

(10) (د) 4452

(11) (د) 4448 ، (م) 28 - (1700)

(12) (م) 28 - (1700)

(13) (د) 4448 ، (م) 28 - (1700)

(14) (د) 4452

(15) (د) 4447 ، (م) 28 - (1700)

(16) [المائدة/41]

(17) [المائدة/44]

(18) [المائدة/45]

(19) [المائدة/47]

(20) (م) 28 - (1700)

(21) (د) 4448 ، (م) 28 - (1700) ، (جة) 2327 ، (حم) 18548
(মুসলিম ও আবু দাউদ), এবং বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (ইয়াহুদিরা তাদের মধ্য থেকে এক পুরুষ ও এক নারীকে নিয়ে আসল যারা ব্যভিচার করেছিল) (১) এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে এক ইয়াহুদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল) (২) (তাকে ঘুরানো হচ্ছিল) (৩) (কালি মাখা অবস্থায়) (৪) (৫) (তার মুখমণ্ডল) (৬) (এবং সে ছিল বেত্রাঘাতপ্রাপ্ত। "তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: তোমাদের কিতাবে কি ব্যভিচারীর শাস্তি এভাবেই পাও?" তারা বলল: "হ্যাঁ") (৭) ("অতঃপর তিনি বললেন: 'তোমাদের মধ্যকার সবচেয়ে জ্ঞানী দুইজন ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।' তখন তারা সূরিয়ার দুই পুত্রকে নিয়ে আসল। তিনি তাদের দুজনকে সেই আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন) (৮) (যিনি মূসার ওপর তাওরাত নাযিল করেছেন, তোমাদের কিতাবে কি ব্যভিচারীর শাস্তি এভাবেই পাও?") (৯) (তারা বলল: "আমরা তাওরাতে পাই যে: যখন চারজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেবে যে তারা তার পুরুষাঙ্গকে তার লজ্জাস্থানে সুরমাদানীর শলাকার মতো প্রবেশ করতে দেখেছে, তখন তাদের রজম করা হবে।" তিনি বললেন: "তাহলে তোমাদের তাদের রজম করতে কিসে বাধা দিল?" তারা বলল: "আমাদের রাজত্ব চলে গেছে") (১০) এবং (আমাদের উচ্চপদস্থদের মধ্যে এটি ব্যাপকতা লাভ করেছিল। ফলে আমরা যখন কোনো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে ধরতাম তখন তাকে ছেড়ে দিতাম, আর যখন কোনো দুর্বল ব্যক্তিকে ধরতাম তখন তার ওপর শাস্তি কার্যকর করতাম) (১১) (অতঃপর আমরা বললাম: "এসো, আমরা এমন একটি বিষয়ের ওপর একমত হই যা আমরা উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ সবার ওপর কার্যকর করতে পারব") (১২) (তখন আমরা মুখ কালি করা এবং বেত্রাঘাত করার ওপর একমত হলাম এবং রজম করা ছেড়ে দিলাম) (১৩) ("অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষীদের ডাকলেন।" তখন তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে আসল এবং তারা সাক্ষ্য দিল যে তারা তার পুরুষাঙ্গকে তার লজ্জাস্থানে সুরমাদানীর শলাকার মতো প্রবেশ করতে দেখেছে। "তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে রজম করার নির্দেশ দিলেন") (১৪) (অতঃপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আপনার কিতাবের সেই বিধানকে পুনরুজ্জীবিত করল যা তারা মৃত বানিয়ে ফেলেছিল") (১৫) (অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নাযিল করলেন: {হে রাসূল! তারা যেন আপনাকে ব্যথিত না করে যারা কুফরিতে দ্রুত ধাবিত হয়—তাদের মধ্য থেকে যারা মুখে বলে 'আমরা ঈমান এনেছি' অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনেনি; আর ইয়াহুদিদের মধ্য থেকে যারা মিথ্যার প্রতি অধিক মনোযোগী এবং যারা অন্য এমন এক কওমের কথা শোনে যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা শব্দগুলোকে সেগুলোর যথার্থ স্থান থেকে বিকৃত করে। তারা বলে, 'যদি তোমাদের এই (আদেশ) দেওয়া হয় তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি তা না দেওয়া হয় তবে সতর্ক থেকো।'} (১৬) তারা বলত: "তোমরা মুহাম্মাদের কাছে যাও, তিনি যদি তোমাদের মুখ কালি করা ও বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেন তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি তিনি রজমের ফতোয়া দেন তবে তা থেকে সতর্ক থাকো।" তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির।} (১৭) {আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই যালিম।} (১৮) {আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই ফাসিক।} (১৯)) (২০) (বারা বলেন: এই আয়াতগুলো সব কাফিরদের ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে) (২১)।

--------------------------------------------

(১) (আবু দাউদ) ৪৪৫২

(২) (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(৩) (আবু দাউদ) ৪৪৪৭

(৪) অর্থাৎ: মুখমণ্ডল কালো করা; 'হুমামাহ' থেকে আগত যার অর্থ কয়লা। লিসানুল আরব - (খণ্ড ১২ / পৃষ্ঠা ১৫০)

(৫) (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(৬) (আবু দাউদ) ৪৪৪৭

(৭) (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(৮) (আবু দাউদ) ৪৪৫২

(৯) (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(১০) (আবু দাউদ) ৪৪৫২

(১১) (আবু দাউদ) ৪৪৪৮ , (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(১২) (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(১৩) (আবু দাউদ) ৪৪৪৮ , (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(১৪) (আবু দাউদ) ৪৪৫২

(১৫) (আবু দাউদ) ৪৪৪৭ , (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(১৬) [আল-মায়িদাহ/৪১]

(১৭) [আল-মায়িদাহ/৪৪]

(১৮) [আল-মায়িদাহ/৪৫]

(১৯) [আল-মায়িদাহ/৪৭]

(২০) (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০)

(২১) (আবু দাউদ) ৪৪৪৮ , (মুসলিম) ২৮ - (১৭০০) , (ইবনে মাজাহ) ২৩২৭ , (আহমাদ) ১৮৫৪৮