(খণ্ড: ১)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: -)
الجامع الصحيح للسنن والمسانيد القسم: كتب السنة
الكتاب: الجامع الصحيح للسنن والمسانيد
المؤلف: صهيب عبد الجبار
عدد الأجزاء: 38
تاريخ النشر: 15 - 8 - 2014
[الكتاب غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1435
সুন্নাহ ও মাসানিদসমূহের বিশুদ্ধ সংকলন বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: সুন্নাহ ও মাসানিদসমূহের বিশুদ্ধ সংকলন
লেখক: সুহাইব আব্দুল জব্বার
খণ্ড সংখ্যা: ৩৮
প্রকাশকাল: ১৫ - ৮ - ২০১৪
[গ্রন্থটি মুদ্রিত নয়]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ যিলকদ ১৪৩৫
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ١)
(د حم) ، وَعَنْ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: (حَدَّثَنِي ذَلِكَ مِنْ قَوْلِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " فَهَلَّا تَرَكْتُمُوهُ " مَنْ شِئْتُمْ مِنْ رِجَالِ أَسْلَمَ مِمَّنْ لَا أَتَّهِمُ، قَالَ: وَلَمْ أَعْرِفْ هَذَا الْحَدِيثَ، قَالَ: فَجِئْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رضي الله عنهما فَقُلْتُ: إِنَّ رِجَالًا مِنْ أَسْلَمَ يُحَدِّثُونَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُمْ حِينَ ذَكَرُوا لَهُ جَزَعَ مَاعِزٍ مِنْ الْحِجَارَةِ حِينَ أَصَابَتْهُ: " أَلَا تَرَكْتُمُوهُ " ، وَمَا أَعْرِفُ الْحَدِيثَ، فَقَالَ: يَا ابْنَ أَخِي، أَنَا أَعْلَمُ النَّاسِ بِهَذَا الْحَدِيثِ، كُنْتُ فِيمَنْ رَجَمَ الرَّجُلَ، إِنَّا لَمَّا خَرَجْنَا بِهِ فَرَجَمْنَاهُ فَوَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ، صَرَخَ بِنَا: يَا قَوْمُ، رُدُّونِي إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ قَوْمِي قَتَلُونِي، وَغَرُّونِي (1) مِنْ نَفْسِي، وَأَخْبَرُونِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ قَاتِلِي (2) فَلَمْ نَنْزَعْ عَنْهُ (3) حَتَّى قَتَلْنَاهُ، فَلَمَّا رَجَعْنَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَخْبَرْنَاهُ، قَالَ: " فَهَلَّا تَرَكْتُمُوهُ وَجِئْتُمُونِي بِهِ؟) (4) (وَإِنَّمَا أَرَادَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَثَبَّتَ فِي أَمْرِهِ (5) ") (6) (فَأَمَّا لِتَرْكِ حَدٍّ فلَا (7) قَالَ: فَعَرَفْتُ وَجْهَ الْحَدِيثِ) (8).
--------------------------------------------
(আবু দাউদ, আহমদ), এবং হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে আমার নিকট এটি বর্ণিত হয়েছে যে: "তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না?" আসলাম গোত্রের এমন ব্যক্তিদের থেকে যাদের আমি (বর্ণনার ক্ষেত্রে) অভিযুক্ত করি না। তিনি বলেন: আমি এই হাদীসটি (বিস্তারিত) চিনতাম না। তিনি বলেন: অতঃপর আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর নিকট আসলাম এবং বললাম: আসলাম গোত্রের কিছু লোক বর্ণনা করছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন—যখন তারা তাঁর নিকট মাঈজের পাথরের আঘাতে অস্থির হয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন: "তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না?" অথচ আমি এই হাদীসটি জানি না। তখন তিনি বললেন: হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, আমি এই হাদীস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত। আমি সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যারা লোকটিকে পাথর নিক্ষেপ (রজম) করেছিল। যখন আমরা তাকে নিয়ে বের হলাম এবং তাকে পাথর নিক্ষেপ করলাম, তখন সে পাথরের আঘাত অনুভব করে আমাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলল: হে লোকসকল, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরিয়ে নিয়ে যাও, কারণ আমার কওম আমাকে মেরে ফেলেছে এবং তারা আমাকে আমার জীবনের ব্যাপারে ধোঁকা (১) দিয়েছে। তারা আমাকে জানিয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে হত্যা করবেন না (২)। কিন্তু আমরা তার থেকে বিরত থাকলাম না (৩) যতক্ষণ না তাকে হত্যা করলাম। অতঃপর যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে আসলাম এবং তাকে সংবাদ দিলাম, তখন তিনি বললেন: "তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না এবং তাকে আমার নিকট নিয়ে আসলে না?") (৪) (আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল চেয়েছিলেন তার বিষয়টি নিশ্চিত হতে (৫)) (৬) (তবে হদ বা নির্ধারিত শাস্তি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নয় (৭)। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আমি হাদীসটির উদ্দেশ্য বুঝতে পারলাম) (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٢)
(د حم) ، وَعَنْ نُعَيْمٍ بن هزَّالِ (أَنَّ هَزَّالًا رضي الله عنه كَانَ اسْتَأجَرَ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ، وَكَانَتْ لَهُ جَارِيَةٌ يُقَالُ لَهَا: فَاطِمَةُ، قَدْ أُمْلِكَتْ، وَكَانَتْ تَرْعَى غَنَمًا لَهُمْ، وَإِنَّ مَاعِزًا وَقَعَ عَلَيْهَا، فَأَخْبَرَ هَزَّالًا ، فَخَدَعَهُ فَقَالَ: انْطَلِقْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبِرْهُ) (1) (بِمَا صَنَعْتَ ، لَعَلَّهُ يَسْتَغْفِرُ لَكَ) (2) وفي رواية: (عَسَى أَنْ يَنْزِلَ فِيكَ قُرْآنٌ، " فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَ "، فَلَمَّا عَضَّتْهُ مَسُّ الْحِجَارَةِ انْطَلَقَ يَسْعَى، فَاسْتَقْبَلَهُ رَجُلٌ بِلَحْيِ جَزُورٍ أَوْ سَاقِ بَعِيرٍ فَضَرَبَهُ بِهِ فَصَرَعَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " وَيْلَكَ يَا هَزَّالُ، لَوْ كُنْتَ سَتَرْتَهُ بِثَوْبِكَ (3) كَانَ خَيْرًا لَكَ) (4) (مِمَّا صَنَعْتَ بِهِ ") (5)
--------------------------------------------
(আবু দাউদ ও আহমাদ), এবং নুআইম ইবনে হায্যাল থেকে বর্ণিত (যে, হায্যাল রাযিয়াল্লাহু আনহু মায়েয ইবনে মালিককে মজুর হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। তাঁর ফাতিমা নাম্নী এক দাসী ছিল, যাকে বিবাহ দেওয়া হয়েছিল এবং সে তাদের বকরি চরাত। আর মায়েয তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলো। অতঃপর সে হায্যালকে তা জানাল। তখন তিনি তাকে কৌশল করে বললেন: তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে যাও এবং তাঁকে জানাও) (১) (তুমি যা করেছ সে বিষয়ে, সম্ভবত তিনি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন) (২) এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: (হয়তো তোমার ব্যাপারে কোনো কুরআন অবতীর্ণ হবে। "অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো।" যখন পাথরের আঘাত তাকে যন্ত্রণার্ত করল, তখন সে দৌড়ে পালাতে লাগল। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি উটের চোয়ালের হাড় অথবা উটের নলার হাড় নিয়ে তার সামনে এল এবং তা দিয়ে তাকে আঘাত করে ধরাশায়ী করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "হে হায্যাল, তোমার জন্য পরিতাপ! তুমি যদি তাকে তোমার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে (৩), তবে তা তোমার জন্য অধিক উত্তম হতো) (৪) (তার সাথে তুমি যা করেছ তার চেয়ে।") (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٣)
اَلرُّجُوع فِي اَلْإِقْرَار بِالزِّنَا(حم) ، وَبُرَيْدَةَ الْأَسْلَمِيِّ رضي الله عنه قَالَ: كُنَّا نَتَحَدَّثُ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَنَا: أَنَّ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ لَوْ جَلَسَ فِي رَحْلِهِ بَعْدَ اعْتِرَافِهِ ثَلَاثَ مِرَارٍ ، " لَمْ يَطْلُبْهُ " ، وَإِنَّمَا رَجَمَهُ عِنْدَ الرَّابِعَةِ. (1)
--------------------------------------------
ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার প্রসঙ্গে(আহমাদ) ও বুরাইদাহ আল-আসলামী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতাম যে, মাঈয বিন মালিক যদি তিনবার স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর নিজ গৃহে অবস্থান করতেন, তবে তিনি (নবী) তাকে তলব করতেন না; তিনি কেবল চতুর্থবারের (স্বীকারোক্তির) পরই তাকে রজম করেছিলেন। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٤)
ثُبُوت اَلزِّنَا بِالْقَرَائِنِ
ثُبُوت اَلزِّنَا بِظُهُور اَلْحَمْل(ط) ، مَالِكٌ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رضي الله عنه أُتِيَ بِامْرَأَةٍ قَدْ وَلَدَتْ فِي سِتَّةِ أَشْهُرٍ ، فَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُرْجَمَ ، فَقَالَ لَهُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه لَيْسَ ذَلِكَ عَلَيْهَا ، إِنَّ اللهَ تبارك وتعالى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ: {وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا} (1) ، وَقَالَ: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ} (2) فَالْحَمْلُ يَكُونُ سِتَّةَ أَشْهُرٍ ، فَلَا رَجْمَ عَلَيْهَا ، فَبَعَثَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فِي أَثَرِهَا فَوَجَدَهَا قَدْ رُجِمَتْ. (3)
--------------------------------------------
পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে যিনা সাব্যস্ত হওয়াগর্ভধারণ প্রকাশের মাধ্যমে যিনা সাব্যস্ত হওয়া(মুয়াত্তা), ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত যে, তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর নিকট এমন এক নারীকে আনা হলো যে ছয় মাসে সন্তান প্রসব করেছে। তিনি তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) করার নির্দেশ দিলেন। তখন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) তাঁকে বললেন, "তার ওপর এটি প্রযোজ্য নয়। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন: {আর তার গর্ভধারণ ও স্তন্যপান ছাড়ানোর সময়কাল ত্রিশ মাস} (১), এবং তিনি আরও বলেছেন: {আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর স্তন্যপান করাবে, যদি কেউ স্তন্যদানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়} (২)। সুতরাং গর্ভকাল ছয় মাস হতে পারে, তাই তার ওপর রজম নেই।" অতঃপর উসমান ইবনে আফফান (রা.) তার পিছনে লোক পাঠালেন (তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য), কিন্তু গিয়ে দেখা গেল যে তাকে রজম করা হয়ে গেছে। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٥)
(م د حم) ، وَعَنْ بُرَيْدَةَ الْأَسْلَمِيِّ رضي الله عنه قَالَ: (جَاءَتْ امْرَأَةٌ مِنْ غَامِدٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم) (1) (فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي قَدْ زَنَيْتُ فَطَهِّرْنِي ، " فَرَدَّهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم) (2) (وَقَالَ: وَيْحَكِ ارْجِعِي فَاسْتَغْفِرِي اللهَ وَتُوبِي إِلَيْهِ " ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ ، أَرَاكَ تُرِيدُ أَنْ تُرَدِّدَنِي كَمَا رَدَّدْتَ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ) (3) (فَوَاللهِ إِنِّي لَحُبْلَى) (4) (مِنْ الزِّنَى ، قَالَ: " أَنْتِ؟ " ، قَالَتْ: نَعَمْ) (5) (فَقَالَ لَهَا: " فَاذْهَبِي حَتَّى) (6) (تَضَعِي مَا فِي بَطْنِكِ " ، فَكَفَلَهَا رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ حَتَّى وَضَعَتْ ، ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: قَدْ وَضَعَتْ الْغَامِدِيَّةُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " إِذًا لَا نَرْجُمُهَا وَنَدَعُ وَلَدَهَا صَغِيرًا لَيْسَ لَهُ مَنْ يُرْضِعُهُ " ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ فَقَالَ: إِلَيَّ رَضَاعُهُ يَا نَبِيَّ اللهِ) (7) وفي رواية: (فَلَمَّا وَلَدَتْ أَتَتْهُ بِالصَّبِيِّ فِي خِرْقَةٍ ، فَقَالَتْ: هَذَا قَدْ وَلَدْتُهُ ، قَالَ: " اذْهَبِي فَأَرْضِعِيهِ حَتَّى تَفْطِمِيهِ " ، فَلَمَّا فَطَمَتْهُ أَتَتْهُ بِالصَّبِيِّ وَفِي يَدِهِ كِسْرَةُ خُبْزٍ ، فَقَالَتْ: هَذَا يَا نَبِيَّ اللهِ قَدْ فَطَمْتُهُ ، وَقَدْ أَكَلَ الطَّعَامَ ، " فَدَفَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الصَّبِيَّ إِلَى رَجُلٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ ، ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَحُفِرَ لَهَا إِلَى صَدْرِهَا) (8) وفي رواية: (فَحُفِرَ لَهَا إِلَى الثَّنْدُوَةِ) (9) (ثُمَّ أَمَرَ النَّاسَ أَنْ يَرْجُمُوهَا) (10) (فَكَانَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ رضي الله عنه فِيمَنْ يَرْجُمُهَا) (11) (فَرَمَى رَأسَهَا بِحَجَرٍ) (12) (فَوَقَعَتْ قَطْرَةٌ مِنْ دَمِهَا) (13) (عَلَى وَجْهِ خَالِدٍ ، فَسَبَّهَا ، " فَسَمِعَ نَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم سَبَّهُ إِيَّاهَا ، فَقَالَ: مَهْلًا يَا خَالِدُ ، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ تَابَهَا صَاحِبُ مَكْسٍ (14) لَغُفِرَ لَهُ ، ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَصَلَّى عَلَيْهَا ، وَدُفِنَتْ ") (15)
--------------------------------------------
(মুসলিম, আবু দাউদ, আহমদ), এবং বুরাইদাহ আল-আসলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (গামিদিয়া গোত্রের এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন) (১) (তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি ব্যভিচার করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে পবিত্র করুন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ফিরিয়ে দিলেন) (২) (এবং বললেন: তোমার প্রতি আফসোস! ফিরে যাও এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো ও তাঁর কাছে তাওবা করো। মহিলাটি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে দেখছি যে, আপনি আমাকে সেভাবেই ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছেন যেভাবে আপনি মা’ইজ ইবনে মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন) (৩) (আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি গর্ভবতী) (৪) (ব্যভিচারের কারণে। তিনি বললেন: "তুমি?" মহিলা বললেন: হ্যাঁ) (৫) (অতঃপর তিনি তাকে বললেন: "তাহলে যাও যতক্ষণ না) (৬) (তুমি তোমার গর্ভস্থ সন্তান প্রসব করো।" অতঃপর আনসারদের এক ব্যক্তি তার দায়িত্ব নিলেন যতক্ষণ না তিনি সন্তান প্রসব করলেন। এরপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: গামিদিয়া মহিলা সন্তান প্রসব করেছে। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "এমতাবস্থায় আমরা তাকে রজম করব না এবং তার শিশুকে ছোট অবস্থায় এমনভাবে ছেড়ে দেব না যে তাকে দুধ পান করানোর কেউ নেই।" তখন আনসারদের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর নবী! তার দুধ পানের জিম্মাদারি আমার ওপর) (৭) অন্য এক বর্ণনায় আছে: (যখন তিনি সন্তান প্রসব করলেন, তখন শিশুকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে তাঁর কাছে নিয়ে আসলেন এবং বললেন: এই যে আমি একে প্রসব করেছি। তিনি বললেন: "যাও এবং একে দুধ পান করাও যতক্ষণ না তুমি এর দুধ ছাড়িয়ে দাও।" অতঃপর যখন তিনি তার দুধ ছাড়ালেন, তখন শিশুকে নিয়ে আসলেন যার হাতে এক টুকরো রুটি ছিল। তিনি বললেন: হে আল্লাহর নবী! এই যে আমি তার দুধ ছাড়িয়েছি এবং সে খাবার খেতে শুরু করেছে। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিশুটিকে মুসলমানদের এক ব্যক্তির নিকট সোপর্দ করলেন। এরপর মহিলার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তার জন্য বুক পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া হলো) (৮) অন্য এক বর্ণনায় আছে: (তার জন্য বুক পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া হলো) (৯) (অতঃপর তিনি লোকজনকে তাকে রজম করার নির্দেশ দিলেন) (১০) (খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদের মধ্যে ছিলেন যারা তাকে রজম করছিল) (১১) (তিনি একটি পাথর দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলেন) (১২) (তার রক্তের এক ফোঁটা ছিটকে পড়ল) (১৩) (খালিদের চেহারার ওপর, তখন তিনি তাকে গালি দিলেন। আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার প্রতি খালিদের গালি শুনলেন এবং বললেন: থামো হে খালিদ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! নিশ্চয় সে এমন এক তাওবা করেছে যে, যদি কোন অবৈধ কর আদায়কারীও (১৪) এমন তাওবা করত তবে তাকেও ক্ষমা করে দেওয়া হতো। এরপর তিনি তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তার জানাজার সালাত আদায় করলেন এবং তাকে দাফন করা হলো) (১৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٦)
حَدُّ الزِّنَا
حَدُّ الزَّانِي غَيْرِ الْمُحْصَنقَالَ تَعَالَى: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِئَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأخُذْكُمْ بِهِمَا رَأفَةٌ فِي دِينِ اللهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ، وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} (1)
(ن) ، وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه " أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى فِيمَنْ زَنَى وَلَمْ يُحْصَنْ: أَنْ يُنْفَى عَامًا، مَعَ إِقَامَةِ الْحَدِّ عَلَيْهِ " (2)
--------------------------------------------
ব্যভিচারের দণ্ডবিধিঅবিবাহিত ব্যভিচারীর দণ্ডবিধিআল্লাহ তাআলা বলেন: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশত কশাঘাত করো। আল্লাহর বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে কোনো দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।} (১)
(নাসাঈ), আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফয়সালা দিয়েছেন যে ব্যভিচার করেছে কিন্তু সে বিবাহিত নয়: তাকে এক বছরের জন্য নির্বাসিত করা হবে, সাথে তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড কার্যকর করা হবে।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٧)
(خ) ، وَعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ رضي الله عنه قَالَ: (" سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَأمُرُ فِيمَنْ زَنَى وَلَمْ يُحْصَنْ) (1) (بِجَلْدِ مِائَةٍ ، وَتَغْرِيبِ عَامٍ ") (2)
--------------------------------------------
(বুখারী), যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ("আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সেই ব্যক্তির ব্যাপারে নির্দেশ দিতে শুনেছি যে ব্যভিচার করেছে এবং সে বিবাহিত ছিল না) (১) (একশত বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তরের।") (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٨)
(ط) ، وَعَنْ نَافِعٍ ، أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رضي الله عنه أُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ وَقَعَ عَلَى جَارِيَةٍ بِكْرٍ فَأَحْبَلَهَا ، ثُمَّ اعْتَرَفَ عَلَى نَفْسِهِ بِالزِّنَا ، وَلَمْ يَكُنْ أَحْصَنَ ، فَأَمَرَ بِهِ أَبُو بَكْرٍ فَجُلِدَ الْحَدَّ ، ثُمَّ نُفِيَ إِلَى فَدَكَ. (1)
--------------------------------------------
(মুয়াত্তা), এবং নাফি থেকে বর্ণিত যে, সাফিয়্যাহ বিনতে আবি উবাইদ তাকে অবহিত করেছেন যে, আবু বকর সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর নিকট জনৈক ব্যক্তিকে আনা হলো যে এক কুমারী দাসীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল এবং তাকে গর্ভবতী করে ফেলেছিল। অতঃপর সে নিজের ব্যভিচারের কথা স্বীকার করল এবং সে বিবাহিত ছিল না। তখন আবু বকর (রা.) নির্দেশ প্রদান করলেন এবং তাকে নির্ধারিত দণ্ড (হদ) হিসেবে বেত্রাঘাত করা হলো, অতঃপর তাকে ফাদাকে নির্বাসিত করা হলো। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٩)
(ت) ، وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما " أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ضَرَبَ وَغَرَّبَ ، وَأَنَّ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه ضَرَبَ وَغَرَّبَ ، وَأَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه ضَرَبَ وَغَرَّبَ " (1)
--------------------------------------------
(তিরমিযী), এবং ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, "নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কশাঘাত করেছেন এবং নির্বাসিত করেছেন, এবং আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কশাঘাত করেছেন ও নির্বাসিত করেছেন, এবং উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কশাঘাত করেছেন ও নির্বাসিত করেছেন।" (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
(ط) ، وَعَنْ نَافِعٍ ، أَنَّ عَبْدًا كَانَ يَقُومُ عَلَى رَقِيقِ الْخُمُسِ ، وَأَنَّهُ اسْتَكْرَهَ جَارِيَةً مِنْ ذَلِكَ الرَّقِيقِ فَوَقَعَ بِهَا ، فَجَلَدَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَنَفَاهُ ، وَلَمْ يَجْلِدِ الْوَلِيدَةَ لأَنَّهُ اسْتَكْرَهَهَا. (1)
--------------------------------------------
(ত), নাফে‘ থেকে বর্ণিত যে, একজন দাস খুমুসের (পঞ্চমাংশ লব্ধ সম্পদ) দাসদের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। সে সেই দাসীদের মধ্য থেকে এক দাসীকে বাধ্য করল এবং তার সাথে উপগত হলো। ফলে উমর ইবনুল খাত্তাব তাকে বেত্রাঘাত করলেন ও তাকে নির্বাসিত করলেন। তবে তিনি সেই দাসীটিকে বেত্রাঘাত করেননি, কারণ তাকে বাধ্য করা হয়েছিল। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ١١)
حَدُّ الزَّانِي الْمُحْصَن(خ م س حم) ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: (قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فِي عُقْبِ ذِي الْحَجَّةِ ، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ عَجَّلْتُ الرَّوَاحَ حِينَ زَاغَتْ الشَّمْسُ ، فَوَجَدْتُ سَعِيدَ بْنَ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ رضي الله عنه جَالِسًا إِلَى رُكْنِ الْمِنْبَرِ ، فَجَلَسْتُ حَوْلَهُ تَمَسُّ رُكْبَتِي رُكْبَتَهُ ، فَلَمْ أَنْشَبْ أَنْ خَرَجَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ، فَلَمَّا رَأَيْتُهُ مُقْبِلًا قُلْتُ لِسَعِيدِ بْنِ زَيْدِ: لَيَقُولَنَّ الْعَشِيَّةَ مَقَالَةً لَمْ يَقُلْهَا مُنْذُ اسْتُخْلِفَ ، فَأَنْكَرَ عَلَيَّ وَقَالَ: مَا عَسَيْتَ أَنْ يَقُولَ مَا لَمْ يَقُلْ قَبْلَهُ (1)؟ ، فَجَلَسَ عُمَرُ عَلَى الْمِنْبَرِ ، فَلَمَّا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُونَ قَامَ فَأَثْنَى عَلَى اللهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ، ثُمَّ قَالَ: أَمَّا بَعْدُ ، فَإِنِّي قَائِلٌ لَكُمْ مَقَالَةً قَدْ قُدِّرَ لِي أَنْ أَقُولَهَا ، فَمَنْ عَقَلَهَا وَوَعَاهَا فَلْيُحَدِّثْ بِهَا حَيْثُ انْتَهَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ ، وَمَنْ خَشِيَ أَنْ لَا يَعْقِلَهَا فلَا أُحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَكْذِبَ عَلَيَّ) (2) (إِنَّ اللهَ بَعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِالْحَقِّ ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ (3) فَكَانَ مِمَّا أَنْزَلَ اللهُ: آيَةُ الرَّجْمِ:) (4) ({الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ إِذَا زَنَيَا فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ (5)}) (6) (فَقَرَأنَاهَا وَعَقَلْنَاهَا وَوَعَيْنَاهَا ، رَجَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم) (7) (وَرَجَمَ أَبُو بَكْرٍ ، وَرَجَمْتُ) (8) (وَايْمُ اللهِ (9) لَوْلَا أَنْ يَقُولَ النَّاسُ: زَادَ عُمَرُ فِي كِتَابِ اللهِ عز وجل لَكَتَبْتُهَا) (10) (فِي المُصْحَفِ) (11) (كَمَا أُنْزِلَتْ) (12) (فَأَخْشَى إِنْ طَالَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ) (13) (أَنْ تَجِيءَ أَقْوَامٌ فلَا يَجِدُونَهُ فِي كِتَابِ اللهِ) (14) فَـ (يَقُولَ قَائِلٌ: وَاللهِ مَا نَجِدُ آيَةَ الرَّجْمِ فِي كِتَابِ اللهِ) (15) وَ (لَا نَجِدُ حَدَّيْنِ فِي كِتَابِ اللهِ) (16) (وَإِنَّمَا فِي كِتَابِ اللهِ الْجَلْدُ) (17) (فَيَكْفُرُونَ بِهِ) (18) (فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ أَنْزَلَهَا اللهُ (19) وَإِنَّ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللهِ حَقٌّ (20) عَلَى مَنْ زَنَى إِذَا أُحْصِنَ (21) مِنْ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ ، إِذَا قَامَتْ الْبَيِّنَةُ ، أَوْ كَانَ الْحَبَلُ (22) أَوْ الِاعْتِرَافُ) (23)
--------------------------------------------
বিবাহিত ব্যভিচারীর দণ্ডবিধি(বুখারী, মুসলিম, নাসায়ী, আহমাদ), ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমরা জিলহজ মাসের শেষে মদিনায় এলাম। যখন জুমার দিন এল, সূর্য ঢলে পড়ার সাথে সাথেই আমি দ্রুত (মসজিদের দিকে) রওনা হলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মিম্বারের এক কোণে বসে আছেন। আমি তাঁর পাশে এমনভাবে বসলাম যে আমার হাঁটু তাঁর হাঁটুকে স্পর্শ করছিল। এরপর কিছুক্ষণ কাটতেই উমর ইবনে খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বেরিয়ে এলেন। তাঁকে আসতে দেখে আমি সাঈদ ইবনে যায়েদকে বললাম: আজ সন্ধ্যায় তিনি অবশ্যই এমন কিছু কথা বলবেন যা খলিফা হওয়ার পর থেকে তিনি আর কখনো বলেননি। তখন তিনি (সাঈদ) আমার কথাটি অপছন্দ করে বললেন: তিনি এমন কী বলবেন যা আগে কখনো বলেননি (১)? এরপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মিম্বারে বসলেন। যখন মুয়াজ্জিনদের আজান শেষ হলো, তখন তিনি দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন। এরপর বললেন: 'অতঃপর, আমি আপনাদের কাছে এমন একটি কথা বলতে যাচ্ছি যা বলা আমার জন্য নির্ধারিত ছিল। সুতরাং যে ব্যক্তি তা বুঝবে এবং স্মরণে রাখবে, সে যেন তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয় যেখানে তার বাহন তাকে নিয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি তা বুঝতে না পারার আশঙ্কা করবে, আমি কারো জন্য আমার নামে মিথ্যা বলা বৈধ করছি না (২)। আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সত্যসহ পাঠিয়েছেন এবং তাঁর ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন (৩)। আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছিলেন তার মধ্যে রজমের (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু) আয়াতও ছিল (৪): {বিবাহিত পুরুষ ও নারী যখন ব্যভিচার করবে, তখন তাদের অবশ্যই পাথর নিক্ষেপ করো (৫)} (৬)। আমরা সেই আয়াতটি পড়েছি, বুঝেছি এবং স্মরণে রেখেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রজম কার্যকর করেছেন (৭), এবং আবু বকরও রজম করেছেন, আর আমিও রজম করেছি (৮)। আল্লাহর কসম (৯), যদি মানুষ এমনটি বলার আশঙ্কা না থাকত যে, উমর মহান আল্লাহর কিতাবে অতিরিক্ত কিছু যোগ করেছেন, তবে আমি তা লিখে দিতাম (১০) মুসহাফের মধ্যে (১১) ঠিক যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল (১২)। আমি আশঙ্কা করি যে, যদি মানুষের ওপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয় (১৩), তবে এমন কিছু লোক আসবে যারা তা আল্লাহর কিতাবে খুঁজে পাবে না (১৪)। তখন কোনো বর্ণনাকারী বলবে: আল্লাহর কসম, আমরা আল্লাহর কিতাবে রজমের কোনো আয়াত খুঁজে পাচ্ছি না (১৫)। এবং আমরা আল্লাহর কিতাবে দুটি দণ্ডবিধি খুঁজে পাচ্ছি না (১৬), বরং আল্লাহর কিতাবে কেবল বেত্রাঘাতের কথাই আছে (১৭)। এর মাধ্যমে তারা সেই বিধানকে অস্বীকার করবে (১৮), ফলে আল্লাহ প্রেরিত একটি ফরজ বিধান ত্যাগের মাধ্যমে তারা পথভ্রষ্ট হবে (১৯)। অথচ আল্লাহর কিতাবে রজমের বিধান সত্য (২০), যে ব্যভিচার করেছে তার জন্য যদি সে মুহসান (বিবাহিত) হয় (২১), চাই সে পুরুষ হোক বা নারী, যখন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় অথবা গর্ভধারণ প্রকাশ পায় (২২) কিংবা স্বীকারোক্তি পাওয়া যায় (২৩)।)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
(حب طس) ، وَعَنْ زِرِّ بن حُبَيْشٍ قَالَ: (قَالَ لِي أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ رضي الله عنه: كَمْ تَعُدُّونَ سُورَةَ الْأَحْزَابِ؟ ، فَقُلْتُ: نَعُدُّهَا اثْنَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا وَسَبْعِينَ آيَةً) (1) (قَالَ أُبَيٌّ: وَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ ، إِنْ كَانَتْ لَتَعْدِلُ سُورَةَ الْبَقَرَةِ، وَلَقَدْ قَرَأنَا فِيهَا آيَةَ الرَّجْمِ: {الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ (2) نَكَالًا (3) مِنَ اللهِ، وَاللهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} ") (4)
--------------------------------------------
(ইবনে হিব্বান, তাবারানি আল-আওসাত), এবং যির ইবনে হুবাইশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেন: তোমরা সূরা আল-আহযাব কত আয়াত হিসেবে গণনা করো? আমি বললাম: আমরা একে বাহাত্তর বা তিয়াত্তর আয়াত হিসেবে গণনা করি) (১) (উবাই বললেন: যাঁর নামে শপথ করা হয় তাঁর শপথ, এটি অবশ্যই সূরা আল-বাকারার সমতুল্য ছিল, এবং আমরা এতে রজম বা পাথর নিক্ষেপ সংক্রান্ত আয়াত পাঠ করতাম: {বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিত নারী যখন ব্যভিচার করে, তখন তাদের উভয়কে অবশ্যই পাথর নিক্ষেপ করো (২); আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি (৩) হিসেবে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।}") (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
(ط) ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ قَالَ: إِذَا نَكَحَ الْحُرُّ الْأَمَةَ فَمَسَّهَا فَقَدْ أَحْصَنَتْهُ. (1)
--------------------------------------------
(ত), ইবনে শিহাব আয-যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন কোনো স্বাধীন ব্যক্তি কোনো দাসীকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সহবাস করে, তবে সে তাকে মুহসান করে দিল। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
شَرْطُ الْإِحْصَانِ الدُّخُولُ فِي النِّكَاحِ الصَّحِيحِ عَلَى وَجْهٍ يُوجِبُ الْغُسْل(خ د حم) ، وَفِي حَدِيثِ مَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ: (فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم) (1) (لَهُ: " لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ، أَوْ غَمَزْتَ (2) أَوْ نَظَرْتَ (3)؟ " ، قَالَ: لَا يَا رَسُولَ اللهِ ، قَالَ:) (4) (" فَبِمَنْ؟ " ، قَالَ: بِفُلَانَةَ ، قَالَ:) (5) (" أَنِكْتَهَا؟ - لَا يَكْنِي (6) - ") (7) (قَالَ: نَعَمْ) (8).
--------------------------------------------
ইহসান (বিবাহিত হওয়ার মর্যাদা) অর্জনের শর্ত হলো এমনভাবে সহীহ নিকাহর অন্তর্ভুক্ত হওয়া যা গোসল ওয়াজিব করে(বুখারী, আবু দাউদ, আহমদ), মায়েয ইবন মালিকের হাদীসে বর্ণিত আছে: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (১) (তাকে বললেন: "সম্ভবত তুমি চুমু খেয়েছ, অথবা স্পর্শ করেছ (২) অথবা তাকিয়েছ (৩)?" তিনি বললেন: না, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন:) (৪) ("কার সাথে?" তিনি বললেন: অমুক মহিলার সাথে। তিনি বললেন:) (৫) ("তুমি কি তার সাথে সঙ্গম করেছ? - তিনি এখানে রূপক শব্দ ব্যবহার করেননি (৬) -") (৭) (তিনি বললেন: হ্যাঁ) (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
حَدُّ الزَّانِي الرَّقِيققَالَ تَعَالَى: {وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلًا أَنْ يَنْكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِنْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ وَاللهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِكُمْ بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ فَانْكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَآَتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنَاتٍ غَيْرَ مُسَافِحَاتٍ وَلَا مُتَّخِذَاتِ أَخْدَانٍ فَإِذَا أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ} (1)
(خ م د جة حم) ،وَعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: (" إِذَا زَنَتْ أَمَةُ أَحَدِكُمْ فَتَبَيَّنَ زِنَاهَا ، فَلْيَجْلِدْهَا الْحَدَّ) (2) (وَلَا يُعَيِّرْهَا (3)) (4) (ثُمَّ إِنْ زَنَتْ ، فَلْيَجْلِدْهَا الْحَدَّ) (5) (وَلَا يُعَيِّرْهَا) (6) (ثُمَّ إِنْ زَنَتْ الثَّالِثَةَ فَتَبَيَّنَ زِنَاهَا) (7) (فَلْيَجْلِدْهَا وَلَا يُعَيِّرْهَا) (8) وَ (لْيَبِعْهَا وَلَوْ بِحَبْلٍ مِنْ شَعَرٍ (9) ") (10)
وفي رواية: (" إِذَا زَنَتْ خَادِمُ أَحَدِكُمْ ، فَلْيَجْلِدْهَا وَلَا يُعَيِّرْهَا ، فَإِنْ عَادَتْ الثَّانِيَةَ ، فَلْيَجْلِدْهَا وَلَا يُعَيِّرْهَا ، فَإِنْ عَادَتْ الثَّالِثَةَ ، فَلْيَجْلِدْهَا وَلَا يُعَيِّرْهَا ، فَإِنْ عَادَتْ الرَّابِعَةَ ، فَلْيَجْلِدْهَا، وَلْيَبِعْهَا) (11) (وَلَوْ بِحَبْلٍ مِنْ شَعَرٍ ") (12)
وفي رواية: (" ثُمَّ بِيعُوهَا بَعْدَ الثَّالِثَةِ أَوْ الرَّابِعَةِ) (13) (وَلَوْ بِحَبْلٍ مِنْ شَعَرٍ ") (14) (قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: لَا أَدْرِي بَعْدَ الثَّالِثَةِ أَوْ الرَّابِعَةِ) (15).
--------------------------------------------
ক্রীতদাস ব্যভিচারীর দণ্ডআল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুমিন নারীদের বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে যেন তোমাদের অধিকারভুক্ত মুমিন দাসীদের বিয়ে করে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। তোমরা একে অপরের অংশ। অতএব, তাদের অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে করো এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের মোহরানা প্রদান করো; তারা হবে সতী-সাধ্বী, ব্যভিচারিণী নয় এবং গোপনে উপপতি গ্রহণকারিণীও নয়। যখন তারা বিবাহিতা হবে, তখন যদি তারা ব্যভিচার করে, তবে তাদের দণ্ড হবে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক দণ্ডের সমান।} (১)
(বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ), যায়েদ বিন খালিদ আল-জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ("যখন তোমাদের কারো দাসী ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হয়, তখন সে যেন তাকে নির্ধারিত দণ্ড হিসেবে বেত্রাঘাত করে) (২) (এবং সে যেন তাকে ভর্ৎসনা না করে) (৩) (৪) (অতঃপর সে যদি পুনরায় ব্যভিচার করে, তবে সে যেন তাকে নির্ধারিত দণ্ড হিসেবে বেত্রাঘাত করে) (৫) (এবং সে যেন তাকে ভর্ৎসনা না করে) (৬) (তারপর সে যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হয়) (৭) (তবে সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে এবং ভর্ৎসনা না করে) (৮) এবং (সে যেন তাকে বিক্রি করে দেয়, যদিও তা একটি পশমের দড়ির বিনিময়ে হয়।") (১০)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ("যখন তোমাদের কারো খাদেম ব্যভিচার করে, সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে এবং ভর্ৎসনা না করে। যদি সে দ্বিতীয়বার ব্যভিচার করে, তবে সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে এবং ভর্ৎসনা না করে। যদি সে তৃতীয়বার ব্যভিচার করে, তবে সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে এবং ভর্ৎসনা না করে। যদি সে চতুর্থবার ব্যভিচার করে, তবে সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে এবং বিক্রি করে দেয়) (১১) (যদিও তা একটি পশমের দড়ির বিনিময়ে হয়।") (১২)
আরেক বর্ণনায় রয়েছে: ("অতঃপর তৃতীয় বা চতুর্থবারের পর তাকে বিক্রি করে দাও) (১৩) (যদিও তা পশমের দড়ির বিনিময়ে হয়।") (১৪) (ইবনে শিহাব বলেন: আমি জানি না এটি তৃতীয় নাকি চতুর্থবারের কথা বলা হয়েছে।) (১৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
(ط) ، وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ الْمَخْزُومِيَّ قَالَ: أَمَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فِي فِتْيَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ ، فَجَلَدْنَا وَلَائِدَ مِنْ وَلَائِدِ الْإِمَارَةِ ، خَمْسِينَ خَمْسِينَ فِي الزِّنَا. (1)
--------------------------------------------
(ত), এবং আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ ইবনে আবি রাবীআহ আল-মাখযুমী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে কুরাইশদের কিছু যুবকের সাথে নির্দেশ দিয়েছিলেন, অতঃপর আমরা ব্যভিচারের দায়ে প্রশাসনিক দাসীদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে পঞ্চাশটি করে বেত্রাঘাত করেছিলাম। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
شُرُوطُ إِقَامَةِ حَدِّ الزِّنَا
كَوْنُ الزَّانِي مُكَلَّفًا
زِنَا الْمَجْنُون(س د حم) ، وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: (أُتِيَ عُمَرُ رضي الله عنه بِمَجْنُونَةٍ قَدْ زَنَتْ ، فَاسْتَشَارَ فِيهَا أُنَاسًا (1) فَأَمَرَ بِهَا عُمَرُ أَنْ تُرْجَمَ ، فَمُرَّ بِهَا عَلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه فَقَالَ: مَا شَأنُ هَذِهِ؟ ، قَالُوا: مَجْنُونَةُ بَنِي فُلَانٍ زَنَتْ ، فَأَمَرَ بِهَا عُمَرُ أَنْ تُرْجَمَ ، قَالَ: فَقَالَ: ارْجِعُوا بِهَا ، ثُمَّ أَتَاهُ فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ، أَمَا عَلِمْتَ) (2) (أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " رُفِعَ الْقَلَمُ (3) عَنْ ثَلَاثٍ (4): عَنْ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنْ الصَّبِيِّ (5) حَتَّى يَحْتَلِمَ (6) وَعَنْ الْمَجْنُونِ (7) حَتَّى يَعْقِلَ (8)) (9) (أَوْ يُفِيقَ (10)؟ ") (11) (قَالَ: بَلَى ، قَالَ: فَمَا بَالُ هَذِهِ تُرْجَمُ (12)؟) (13) (إِنَّ هَذِهِ مَعْتُوهَةُ بَنِي فُلَانٍ (14)) (15) (قَالَ: لَا شَيْءَ ، قَالَ: فَأَرْسِلْهَا (16) فَأَرْسَلَهَا) (17) (قَالَ: فَجَعَلَ عُمَرُ يُكَبِّرُ (18)) (19).
--------------------------------------------
ব্যভিচারের দণ্ড (হদ্দ) কার্যকরের শর্তাবলিব্যভিচারী ব্যক্তি শরয়ি দায়বদ্ধতার (মুকাল্লাফ) অধিকারী হওয়াঅপ্রকৃতিস্থ বা পাগলের ব্যভিচার(সুনানে আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমাদ), ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট জনৈক অপ্রকৃতিস্থ (পাগল) নারীকে আনা হলো যে ব্যভিচার করেছিল। তিনি তার ব্যাপারে লোকদের সাথে পরামর্শ করলেন (১), অতঃপর উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (রজম) প্রদানের নির্দেশ দিলেন। পথিমধ্যে আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে তার দেখা হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এই মহিলার বিষয়টি কী? তারা বলল: অমুক গোত্রের এই নারীটি পাগল, সে ব্যভিচার করেছে; তাই উমর তাকে রজম করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: তাকে ফিরিয়ে নিয়ে চলো। অতঃপর তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি কি জানেন না যে) (২) (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তিন শ্রেণির ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে (৩) (৪): ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, শিশু (৫) যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক (স্বপ্নদোষের মাধ্যমে) হয় (৬) এবং পাগল (৭) যতক্ষণ না সে সুস্থ মস্তিস্ক ফিরে পায় (৮)) (৯) (অথবা হুশ ফিরে পায় (১০)?") (১১) (উমর বললেন: হ্যাঁ জানি। আলী বললেন: তবে কেন একে রজম করা হচ্ছে (১২)?) (১৩) (সে তো অমুক গোত্রের এক অপ্রকৃতিস্থ নারী (১৪)) (১৫) (উমর বললেন: এতে কোনো দণ্ড নেই। আলী বললেন: তবে তাকে ছেড়ে দিন (১৬)। অতঃপর তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন) (১৭) (বর্ণনাকারী বলেন: তখন উমর তাকবীর ধ্বনি দিতে লাগলেন (১৮)) (১৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
كَوْنُ الزَّانِي مُخْتَارًا
زِنَا الْمُكْرَه(م) ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رضي الله عنهما قَالَ: (كَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ بْنِ سَلُولَ يَقُولُ لِجَارِيَةٍ لَهُ: اذْهَبِي فَابْغِينَا شَيْئًا) (1) (فَكَانَ يُكْرِهُهَا عَلَى الزِّنَى ، فَشَكَتْ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللهُ عز وجل: {وَلَا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ (2) إِنْ أَرَدْنَ تَحَصُّنًا لِتَبْتَغُوا عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ، وَمَنْ يُكْرِهْهُنَّ ، فَإِنَّ اللهَ مِنْ بَعْدِ إِكْرَاهِهِنَّ " لَهُنَّ" (3) غَفُورٌ رَحِيمٌ} (4)) (5).
--------------------------------------------
ব্যভিচারীর স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হওয়াজবরদস্তিকৃত ব্যক্তির ব্যভিচার(মুসলিম), জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল তার এক দাসীকে বলত: যাও এবং আমাদের জন্য কিছু তালাশ করে অর্থাৎ উপার্জন করে নিয়ে এসো) (১) (সে তাকে ব্যভিচারের জন্য বাধ্য করত। অতঃপর সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করল। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {তোমাদের দাসীরা পবিত্র থাকতে চাইলে পার্থিব জীবনের ধন-সম্পদ লাভের আশায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করো না; আর যারা তাদেরকে বাধ্য করবে, তবে তাদের বাধ্য করার পর আল্লাহ "তাদের জন্য" (৩) অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (৪)) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
(هق) ، وَعَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ قَالَ: أُتِيَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه بِامْرَأَةٍ جَهَدَهَا الْعَطَشُ، فَمَرَّتْ عَلَى رَاعٍ فَاسْتَسْقَتْ، فَأَبَى أَنْ يَسْقِيَهَا إِلَّا أَنْ تُمَكِّنَهُ مِنْ نَفْسِهَا، فَفَعَلَتْ، فَشَاوَرَ النَّاسَ فِي رَجْمِهَا، فَقَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه: هَذِهِ مُضْطَرَّةٌ، أَرَى أَنْ تُخَلِّيَ سَبِيلَهَا ، فَفَعَلَ. (1)
--------------------------------------------
(বায়হাকী), এবং আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এমন এক নারীকে আনা হলো যাকে প্রচণ্ড তৃষ্ণা কাতর করে ফেলেছিল। সে এক মেষপালকের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় তার কাছে পানি চাইল, কিন্তু সে তাকে পানি পান করাতে অস্বীকার করল যতক্ষণ না সে নিজেকে তার কাছে সঁপে দেয়। ফলে সে তা-ই করল। অতঃপর উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তাকে পাথর ছুড়ে হত্যার (রজম) বিষয়ে মানুষের সাথে পরামর্শ করলেন। তখন আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: “এই নারী তো নিরুপায় ছিল, আমার অভিমত হলো তাকে ছেড়ে দেওয়া হোক।” অতঃপর তিনি তা-ই করলেন। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
كَوْنُ الْمَزْنِيّ بِهَا اِمْرَأَة(خ د حم) ، وَفِي حَدِيثِ مَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ: (فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم) (1) (لَهُ: " لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ، أَوْ غَمَزْتَ (2) أَوْ نَظَرْتَ (3)؟ " ، قَالَ: لَا يَا رَسُولَ اللهِ ، قَالَ:) (4) (" فَبِمَنْ؟ " ، قَالَ: بِفُلَانَةَ ، قَالَ:) (5) (" أَنِكْتَهَا؟ - لَا يَكْنِي (6) - ") (7) (قَالَ: نَعَمْ) (8).
--------------------------------------------
যিনার পাত্রী নারী হওয়া(বুখারি, আবু দাউদ, আহমদ), এবং মা'ইয ইবন মালিকের হাদিসে রয়েছে: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন) (১) (তাকে: "সম্ভবত তুমি তাকে চুম্বন করেছ, অথবা স্পর্শ করেছ (২) অথবা তাকিয়েছ (৩)?", তিনি বললেন: না, হে আল্লাহর রাসূল, তিনি বললেন:) (৪) ("তাহলে কার সাথে?", তিনি বললেন: অমুক মহিলার সাথে, তিনি বললেন:) (৫) ("তুমি কি তার সাথে সংগম করেছ? - তিনি রূপক শব্দ ব্যবহার করেননি (৬) -") (৭) (তিনি বললেন: হ্যাঁ) (৮).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
(ط) ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ قَالَ: إِذَا نَكَحَ الْحُرُّ الْأَمَةَ فَمَسَّهَا فَقَدْ أَحْصَنَتْهُ. (1)
--------------------------------------------
(ত), ইবনু শিহাব আয-যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন কোনো স্বাধীন ব্যক্তি কোনো দাসীকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সহবাস করে, তখন সেই নারী তাকে 'মুহসান' (বিবাহিত মর্যাদাসম্পন্ন) করে দিল। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
إِتْيَانُ الْبَهِيمَة(ت) ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ وَجَدْتُمُوهُ وَقَعَ عَلَى بَهِيمَةٍ ، فَاقْتُلُوهُ وَاقْتُلُوا الْبَهِيمَةَ " ، فَقِيلَ لِابْنِ عَبَّاسٍ: مَا شَأنُ الْبَهِيمَةِ؟ ، قَالَ: مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ شَيْئًا ، وَلَكِنْ أَرَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَرِهَ أَنْ يُؤْكَلَ مِنْ لَحْمِهَا أَوْ يُنْتَفَعَ بِهَا ، وَقَدْ عُمِلَ بِهَا ذَلِكَ الْعَمَلُ. (1)
--------------------------------------------
পশুর সাথে কামাচার(তিরমিযী), ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা যাকে কোনো পশুর সাথে কামাচারে লিপ্ত পাবে, তাকে হত্যা করো এবং পশুটিকেও হত্যা করো।" অতঃপর ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হলো: পশুটির অপরাধ কী? তিনি বললেন: এ বিষয়ে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে নির্দিষ্ট কিছু শুনিনি। তবে আমি মনে করি, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পশুটির গোশত খাওয়া অথবা তা দ্বারা উপকৃত হওয়া অপছন্দ করেছেন যেহেতু তার সাথে এমন কাজ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
كَوْن اَلزَّانِي مُسْلِمًا
زِنَا غَيْر الْمُسْلِم(خ م د حم) ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: (أَتَى نَفَرٌ مِنْ يَهُودٍ فَدَعَوْا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْقُفِّ (1) " فَأَتَاهُمْ فِي بَيْتِ الْمِدْرَاسِ (2) ") (3) (فَوَضَعُوا لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وِسَادَةً ، " فَجَلَسَ عَلَيْهَا ") (4) (فَقَالُوا: يَا أَبَا الْقَاسِمِ، إِنَّ رَجُلًا مِنَّا زَنَى بِامْرَأَةٍ ، فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ) (5) (فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ فِي شَأنِ) (6) (مَنْ زَنَى مِنْكُمْ؟ ") (7) (قَالُوا: نُسَوِّدُ وُجُوهَهُمَا ، وَنُحَمِّلُهُمَا ، وَنُخَالِفُ بَيْنَ وُجُوهِهِمَا ، وَيُطَافُ بِهِمَا) (8) فَـ (نَفْضَحُهُمْ ، وَيُجْلَدُونَ) (9) (فَقَالَ: " لَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ الرَّجْمَ؟ " ، فَقَالُوا: لَا نَجِدُ فِيهَا شَيْئًا ، فَقَالَ لَهُمْ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ: كَذَبْتُمْ) (10) (إِنَّ فِيهَا الرَّجْمَ) (11) (فَأتُوا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ) (12) (ادْعُهُمْ يَا رَسُولَ اللهِ بِالتَّوْرَاةِ) (13) (فَأَتَوْا بِالتَّوْرَاةِ فَنَشَرُوهَا) (14) (" فَنَزَعَ الْوِسَادَةَ مِنْ تَحْتِهِ فَوَضَعَ التَّوْرَاةَ عَلَيْهَا ، ثُمَّ قَالَ: آمَنْتُ بِكِ وَبِمَنْ أَنْزَلَكِ ، ثُمَّ قَالَ: ائْتُونِي بِأَعْلَمِكُمْ " ، فَأُتِيَ بِفَتًى شَابٍّ) (15) (أَعْوَرَ ، يُقَالُ لَهُ: ابْنُ صُورِيَا فَقَرَأَ ، حَتَّى إِذَا انْتَهَى إِلَى مَوْضِعٍ مِنْهَا وَضَعَ) (16) (يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ فَقَرَأَ مَا قَبْلَهَا وَمَا بَعْدَهَا) (17) ([وَلَمْ] يَقْرَأُ آيَةَ الرَّجْمِ) (18) (فَقَالَ لَهُ ابْنُ سَلَامٍ: ارْفَعْ يَدَكَ ، فَإِذَا آيَةُ الرَّجْمِ تَحْتَ يَدِهِ) (19) (فَقَالَ: مَا هَذِهِ؟ ، فَلَمَّا رَأَوْا ذَلِكَ قَالُوا:) (20) (صَدَقَ يَا مُحَمَّدُ ، فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ) (21) (وَلَكِنَّا كُنَّا نَتَكَاتَمُهُ بَيْنَنَا) (22) (" فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَا) (23) (عِنْدَ الْبَلَاطِ ") (24) وفي رواية: (فَرُجِمَا قَرِيبًا مِنْ مَوْضِعِ الْجَنَائِزِ عِنْدَ الْمَسْجِدِ (25) ") (26) (قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ: كُنْتُ فِيمَنْ رَجَمَهُمَا ، فَلَقَدْ) (27) (رَأَيْتُ الرَّجُلَ يَحْنِي عَلَى الْمَرْأَةِ) (28) (يَقِيهَا مِنْ الْحِجَارَةِ بِنَفْسِهِ) (29).
--------------------------------------------
ব্যভিচারীর মুসলিম হওয়াঅমুসলিমের ব্যভিচার(বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, আহমাদ), আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (একদল ইহুদি এসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আল-কুফ (১) নামক স্থানে দাওয়াত দিল। "অতঃপর তিনি তাদের নিকট বাইতুল মিদরাস (২)-এ আসলেন।") (৩) (তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য একটি বালিশ রাখল, "অতঃপর তিনি তার ওপর বসলেন।") (৪) (তারা বলল: হে আবুল কাসেম, আমাদের এক ব্যক্তি এক মহিলার সাথে ব্যভিচার করেছে, অতএব আপনি তাদের বিচার করে দিন।) (৫) (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বললেন: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যভিচার করে, তার ব্যাপারে তোমরা তাওরাতে কী পাও?") (৬) (৭) (তারা বলল: আমরা তাদের উভয়ের মুখ কালো করি, তাদের বাহনে চড়াই, তাদের মুখ একে অপরের বিপরীত দিকে ফিরিয়ে দিই এবং তাদের ঘোরানো হয়।) (৮) (অতঃপর আমরা তাদের লাঞ্ছিত করি এবং তাদের বেত্রাঘাত করা হয়।) (৯) (তিনি বললেন: "তোমরা কি তাওরাতে রজমের (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু) বিধান পাও না?" তারা বলল: আমরা এতে এমন কিছু পাই না। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম তাদের বললেন: তোমরা মিথ্যা বলেছ।) (১০) (নিশ্চয়ই এতে রজমের বিধান রয়েছে।) (১১) (অতএব তোমরা তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও।) (১২) (হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তাদের তাওরাত আনতে বলুন।) (১৩) (অতঃপর তারা তাওরাত নিয়ে এল এবং তা উন্মুক্ত করল।) (১৪) ("তিনি নিজের নিচ থেকে বালিশটি সরিয়ে তার ওপর তাওরাত রাখলেন। অতঃপর বললেন: আমি তোমার ওপর এবং যিনি তোমাকে অবতীর্ণ করেছেন তাঁর ওপর ঈমান আনলাম। অতঃপর তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেমকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" তখন এক যুবককে আনা হলো) (১৫) (যে ছিল একচক্ষুহীন, তাকে ইবনে সুরিযা বলা হতো। সে পাঠ করতে শুরু করল। পাঠ করতে করতে যখন সে একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাল, তখন সে) (১৬) (রজমের আয়াতের ওপর নিজের হাত রাখল এবং তার আগের ও পরের অংশ পাঠ করল।) (১৭) (সে রজমের আয়াতটি পাঠ করল না।) (১৮) (তখন ইবনে সালাম তাকে বললেন: তোমার হাত তোলো। দেখা গেল যে, তার হাতের নিচেই রজমের আয়াত।) (১৯) (তিনি বললেন: এটা কী? যখন তারা তা দেখল, তখন বলল:) (২০) (হে মুহাম্মদ, তিনি সত্য বলেছেন, এতে রজমের আয়াত রয়েছে।) (২১) (কিন্তু আমরা নিজেদের মধ্যে তা গোপন রাখতাম।) (২২) ("অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাদের পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হলো) (২৩) (আল-বালাত নামক স্থানে।") (২৪) অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: (মসজিদের পাশে জানাজার স্থানের নিকটে তাদের রজম করা হয়।) (২৫) (২৬) (আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলেন: যারা তাদের রজম করেছিল আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। তখন আমি) (২৭) (দেখলাম যে, লোকটি মহিলার ওপর ঝুঁকে পড়ছিল) (২৮) (এবং নিজের শরীর দিয়ে তাকে পাথর থেকে রক্ষা করছিল।) (২৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
(م د) ، وَعَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رضي الله عنه قَالَ: (جَاءَتْ الْيَهُودُ بِرَجُلٍ وَامْرَأَةٍ مِنْهُمْ زَنَيَا) (1) وفي رواية: (مُرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِيَهُودِيٍّ) (2) (وَهُوَ يُطَافُ بِهِ) (3) (مُحَمَّمًا (4)) (5) (وَجْهُهُ) (6) (مَجْلُودًا ، " فَدَعَاهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: هَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ؟ " ، قَالُوا: نَعَمْ) (7) (" فَقَالَ: " ائْتُونِي بِأَعْلَمِ رَجُلَيْنِ مِنْكُمْ " ، فَأَتَوْهُ بِابْنَيْ صُورِيَا " فَنَشَدَهُمَا) (8) (بِاللهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى ، أَهَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ؟ ") (9) (قَالَا: نَجِدُ فِي التَّوْرَاةِ: إِذَا شَهِدَ أَرْبَعَةٌ أَنَّهُمْ رَأَوْا ذَكَرَهُ فِي فَرْجِهَا مِثْلَ الْمِيلِ فِي الْمُكْحُلَةِ ، رُجِمَا ، قَالَ: " فَمَا يَمْنَعُكُمَا أَنْ تَرْجُمُوهُمَا؟ " قَالَا: ذَهَبَ سُلْطَانُنَا) (10) وَ (كَثُرَ فِي أَشْرَافِنَا ، فَكُنَّا إِذَا أَخَذْنَا الرَّجُلَ الشَّرِيفَ تَرَكْنَاهُ ، وَإِذَا أَخَذْنَا الضَّعِيفَ أَقَمْنَا عَلَيْهِ الْحَدَّ) (11) (فَقُلْنَا: تَعَالَوْا فَلْنَجْتَمِعْ عَلَى شَيْءٍ نُقِيمُهُ عَلَى الشَّرِيفِ وَالْوَضِيعِ) (12) (فَاجْتَمَعْنَا عَلَى التَّحْمِيمِ وَالْجَلْدِ ، وَتَرَكْنَا الرَّجْمَ) (13) (" فَدَعَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالشُّهُودِ " ، فَجَاءُوا بِأَرْبَعَةٍ ، فَشَهِدُوا أَنَّهُمْ رَأَوْا ذَكَرَهُ فِي فَرْجِهَا مِثْلَ الْمِيلِ فِي الْمُكْحُلَةِ ، " فَأَمَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِرَجْمِهِمَا ") (14) (ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَوَّلُ مَنْ أَحْيَا مَا أَمَاتُوا مِنْ كِتَابِكَ ") (15) (فَأَنْزَلَ اللهُ عز وجل: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آَمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ ، وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ آَخَرِينَ لَمْ يَأتُوكَ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ وَإِنْ لَمْ تُؤْتَوْهُ فَاحْذَرُوا} (16) " يَقُولُونَ: ائْتُوا مُحَمَّدًا ، فَإِنْ أَمَرَكُمْ بِالتَّحْمِيمِ وَالْجَلْدِ فَخُذُوهُ ، وَإِنْ أَفْتَاكُمْ بِالرَّجْمِ فَاحْذَرُوا ، فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الْكَافِرُونَ} (17) {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الظَّالِمُونَ} (18) {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ ، فَأُولَئِكَ هُمْ الْفَاسِقُونَ} (19)) (20) (قَالَ الْبَرَاءُ: هِيَ فِي الْكُفَّارِ كُلُّهَا - يَعْنِي هَذِهِ الْآيَةَ -) (21).
--------------------------------------------
(মুসলিম ও আবু দাউদ), এবং বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (ইয়াহুদিরা তাদের মধ্যকার এমন একজন পুরুষ ও একজন নারীকে নিয়ে এল যারা ব্যভিচার করেছিল) (১) এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে এক ইয়াহুদিকে নিয়ে যাওয়া হলো) (২) (যাকে ঘুরানো হচ্ছিল) (৩) (মুখমণ্ডল কালো করা অবস্থায় (৪)) (৫) (তার মুখমণ্ডল) (৬) (এবং সে চাবুক দ্বারা প্রহারকৃত ছিল, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ডাকলেন এবং বললেন: "তোমরা কি তোমাদের কিতাবে ব্যভিচারীর শাস্তি এভাবেই পাও?" তারা বলল: "হ্যাঁ") (৭) ("অতঃপর তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যকার সবচেয়ে জ্ঞানী দুজন ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" ফলে তারা ইবনে সুরিয়া নামক দুই ব্যক্তিকে নিয়ে এল এবং তিনি তাদের শপথ দিলেন) (৮) ("সেই আল্লাহর নামে যিনি মুসার ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন, তোমরা কি তোমাদের কিতাবে ব্যভিচারীর শাস্তি এভাবেই পাও?") (৯) (তারা বলল: "আমরা তাওরাতে পাই যে, যখন চারজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেয় যে তারা তার লিঙ্গকে তার (নারীর) যোনিতে সুরমাদানিতে সলার মতো (প্রবেশ করা অবস্থায়) দেখেছে, তখন তাদের রজম (পাথর ছুড়ে হত্যা) করতে হবে।" তিনি বললেন: "তাহলে তোমাদের তাদের রজম করতে কিসে বাধা দিচ্ছে?" তারা বলল: "আমাদের কর্তৃত্ব চলে গেছে") (১০) এবং (আমাদের সম্ভ্রান্তদের মধ্যে এটি (ব্যভিচার) বেড়ে গিয়েছিল, তখন আমাদের অবস্থা এমন ছিল যে, যখন আমরা কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও করতাম তখন তাকে ছেড়ে দিতাম, আর যখন কোনো দুর্বল ব্যক্তিকে পাকড়াও করতাম তখন তার ওপর শাস্তি কার্যকর করতাম) (১১) (অতঃপর আমরা বললাম: "এসো আমরা এমন এক বিষয়ে একমত হই যা আমরা সম্ভ্রান্ত এবং সাধারণ সবার ওপর কার্যকর করব") (১২) (ফলে আমরা মুখমণ্ডল কালো করা এবং চাবুক মারার ওপর একমত হলাম এবং রজম পরিত্যাগ করলাম) (১৩) ("অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষীদের ডাকলেন", তখন তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে এল এবং তারা সাক্ষ্য দিল যে তারা তার লিঙ্গকে তার যোনিতে সুরমাদানিতে সলার মতো দেখেছে, "ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে রজম করার নির্দেশ দিলেন") (১৪) (অতঃপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আপনার কিতাবের সেই বিধানকে পুনর্জীবিত করল যা তারা মৃত বানিয়ে ফেলেছিল") (১৫) (অতঃপর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী অবতীর্ণ করলেন: {হে রাসূল! তারা যেন আপনাকে ব্যথিত না করে যারা কুফরিতে দ্রুত ধাবিত হয়, যারা মুখে বলে আমরা ঈমান এনেছি অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনেনি। আর যারা ইয়াহুদি হয়েছে, তারা মিথ্যার প্রতি অধিক শ্রবণকারী, তারা অন্য এমন এক কওমের প্রতি অধিক শ্রবণকারী যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা শব্দগুলোকে তার সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করে। তারা বলে: যদি তোমাদের এটি (মুখ কালো করা ও চাবুক মারা) প্রদান করা হয় তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি তা না দেওয়া হয় তবে তা থেকে সতর্ক থাকো} (১৬) "তারা বলত: তোমরা মুহাম্মাদের কাছে যাও, যদি তিনি তোমাদের মুখ কালো করা এবং চাবুক মারার আদেশ দেন তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি তিনি তোমাদের রজমের ফতোয়া দেন তবে তা থেকে সতর্ক থাকো।" অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা দ্বারা বিচার করে না, তারাই কাফির} (১৭) {যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা দ্বারা বিচার করে না, তারাই জালিম} (১৮) {যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা দ্বারা বিচার করে না, তারাই ফাসিক} (১৯)) (২০) (বারা বলেন: এই সব কটি আয়াতই কাফিরদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে) (২১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
اِنْتِفَاءُ الشُّبْهَةِ فِي الزِّنَا(س) ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ رضي الله عنه قَالَ: " قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي رَجُلٍ وَطِئَ جَارِيَةَ امْرَأَتِهِ: إِنْ كَانَ اسْتَكْرَهَهَا فَهِيَ حُرَّةٌ ، وَعَلَيْهِ لِسَيِّدَتِهَا مِثْلُهَا ، وَإِنْ كَانَتْ طَاوَعَتْهُ فَهِيَ لَهُ ، وَعَلَيْهِ لِسَيِّدَتِهَا مِثْلُهَا " (1) (ضعيف)
--------------------------------------------
ব্যভিচারের ক্ষেত্রে সংশয় নিরসন(নাসাঈ), সালামাহ ইবনুল মুহাব্বাক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে ফয়সালা দিয়েছেন যে তার স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করেছে: যদি সে তাকে বাধ্য করে থাকে তবে সে (দাসী) স্বাধীন, আর তাকে (ঐ ব্যক্তিকে) তার মালকিনের জন্য তার অনুরূপ একজন দাসী প্রদান করতে হবে। আর যদি সে (দাসী) স্বেচ্ছায় তার অনুগত হয়ে থাকে তবে সে তারই হবে, এবং তাকে তার মালকিনের জন্য তার অনুরূপ একজন দাসী প্রদান করতে হবে।" (১) (দুর্বল)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
(ط) ، وَعَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ لِرَجُلٍ خَرَجَ بِجَارِيَةٍ لِامْرَأَتِهِ مَعَهُ فِي سَفَرٍ فَأَصَابَهَا ، فَغَارَتْ امْرَأَتُهُ ، فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ ، فَقَالَ: وَهَبَتْهَا لِي ، فَقَالَ عُمَرُ: لَتَأتِينِي بِالْبَيِّنَةِ أَوْ لَأَرْمِيَنَّكَ بِالْحِجَارَةِ ، قَالَ: فَاعْتَرَفَتْ امْرَأَتُهُ أَنَّهَا وَهَبَتْهَا لَهُ. (1) (ضعيف)
--------------------------------------------
(মুওয়াত্তা), রাবিআহ ইবনে আবি আবদির রহমান থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব জনৈক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, যে তার স্ত্রীর এক দাসীকে সাথে নিয়ে সফরে বেরিয়েছিল এবং তার সাথে সহবাস করেছিল। এতে তার স্ত্রী ঈর্ষান্বিত হয়ে বিষয়টি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট উল্লেখ করল। তিনি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল: "সে তাকে আমার নিকট দান করেছে।" উমর বললেন: "তুমি অবশ্যই প্রমাণ নিয়ে আসবে, অন্যথায় আমি তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করব।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তার স্ত্রী স্বীকার করল যে, সে তাকে (দাসীটিকে) তার নিকট দান করেছিল। (১) (দুর্বল)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
أَنْوَاعُ حَدِّ الزِّنَا
حَدُّ الزِّنَا الرَّجْم(خ م) ، عَنْ أَبِي إِسْحَقَ الشَّيْبَانِيِّ قَالَ: سَأَلْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى رضي الله عنه: هَلْ رَجَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم؟ ، قَالَ: " نَعَمْ " ، قَالَ: قُلْتُ: بَعْدَمَا أُنْزِلَتْ سُورَةُ النُّورِ أَمْ قَبْلَهَا؟ ، قَالَ: لَا أَدْرِي. (1)
--------------------------------------------
ব্যভিচারের শাস্তির প্রকারভেদ
ব্যভিচারের শাস্তি: পাথর ছুড়ে হত্যা (রজম)(বুখারি ও মুসলিম), আবু ইসহাক আশ-শায়বানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: “আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি পাথর ছুড়ে মারার (রজম) দণ্ড কার্যকর করেছিলেন?” তিনি বললেন: “হ্যাঁ।” বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম: “সূরা আন-নূর অবতীর্ণ হওয়ার পর নাকি তার আগে?” তিনি বললেন: “আমি জানি না।” (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
(خ م د حم) ، وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: (أَتَى نَفَرٌ مِنْ يَهُودٍ فَدَعَوْا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْقُفِّ (1) فَأَتَاهُمْ فِي بَيْتِ الْمِدْرَاسِ (2)) (3) (فَوَضَعُوا لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وِسَادَةً ، " فَجَلَسَ عَلَيْهَا ") (4) (فَقَالُوا: يَا أَبَا الْقَاسِمِ ، إِنَّ رَجُلًا مِنَّا زَنَى بِامْرَأَةٍ ، فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ) (5) (فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ فِي شَأنِ) (6) (مَنْ زَنَى مِنْكُمْ؟ ") (7) (قَالُوا: نُسَوِّدُ وُجُوهَهُمَا ، وَنُحَمِّلُهُمَا ، وَنُخَالِفُ بَيْنَ وُجُوهِهِمَا ، وَيُطَافُ بِهِمَا) (8) فَـ (نَفْضَحُهُمْ ، وَيُجْلَدُونَ) (9) (فَقَالَ: " لَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ الرَّجْمَ؟ " ، فَقَالُوا: لَا نَجِدُ فِيهَا شَيْئًا ، فَقَالَ لَهُمْ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ: كَذَبْتُمْ) (10) (إِنَّ فِيهَا الرَّجْمَ) (11) (فَأتُوا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ) (12) (ادْعُهُمْ يَا رَسُولَ اللهِ بِالتَّوْرَاةِ) (13) (فَأَتَوْا بِالتَّوْرَاةِ فَنَشَرُوهَا) (14) (" فَنَزَعَ الْوِسَادَةَ مِنْ تَحْتِهِ فَوَضَعَ التَّوْرَاةَ عَلَيْهَا ، ثُمَّ قَالَ: آمَنْتُ بِكِ وَبِمَنْ أَنْزَلَكِ ، ثُمَّ قَالَ: ائْتُونِي بِأَعْلَمِكُمْ " ، فَأُتِيَ بِفَتًى شَابٍّ) (15) (أَعْوَرَ ، يُقَالُ لَهُ: ابْنُ صُورِيَا ، فَقَرَأَ ، حَتَّى إِذَا انْتَهَى إِلَى مَوْضِعٍ مِنْهَا وَضَعَ) (16) (يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ ، فَقَرَأَ مَا قَبْلَهَا وَمَا بَعْدَهَا) (17) ([وَلَمْ] يَقْرَأُ آيَةَ الرَّجْمِ) (18) (فَقَالَ لَهُ ابْنُ سَلَامٍ: ارْفَعْ يَدَكَ ، فَإِذَا آيَةُ الرَّجْمِ تَحْتَ يَدِهِ) (19) (فَقَالَ: مَا هَذِهِ؟ ، فَلَمَّا رَأَوْا ذَلِكَ قَالُوا:) (20) (صَدَقَ يَا مُحَمَّدُ ، فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ) (21) (وَلَكِنَّا كُنَّا نَتَكَاتَمُهُ بَيْنَنَا) (22) (" فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَا) (23) (عِنْدَ الْبَلَاطِ) (24) وفي رواية: (فَرُجِمَا قَرِيبًا مِنْ مَوْضِعِ الْجَنَائِزِ عِنْدَ الْمَسْجِدِ (25) ") (26) (قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ: كُنْتُ فِيمَنْ رَجَمَهُمَا ، فَلَقَدْ) (27) (رَأَيْتُ الرَّجُلَ يَحْنِي عَلَى الْمَرْأَةِ) (28) (يَقِيهَا مِنْ الْحِجَارَةِ بِنَفْسِهِ) (29).
--------------------------------------------
(বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, আহমদ), এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (ইহুদিদের একটি দল এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুফ নামক স্থানে (১) আসার জন্য আহ্বান করল, অতঃপর তিনি তাদের নিকট বায়তুল মিদরাস-এ (২) আসলেন।) (৩) (অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি গদি রাখল, "এবং তিনি তার ওপর বসলেন।") (৪) (তারা বলল: হে আবুল কাসিম, আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এক মহিলার সাথে ব্যভিচার করেছে, সুতরাং আপনি তাদের বিচার করে দিন।) (৫) (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের ব্যাপারে তোমরা তাওরাতে কী পাও?") (৬) (৭) (তারা বলল: আমরা তাদের মুখ কালো করে দিই, তাদের পিঠে চড়িয়ে দিই এবং তাদের উভয়ের মুখ বিপরীত দিকে ফিরিয়ে রাখা হয়, এরপর তাদের ঘুরিয়ে দেখানো হয়।) (৮) অতঃপর (আমরা তাদের লাঞ্ছিত করি এবং তাদের চাবুক মারা হয়।) (৯) (তিনি বললেন: "তোমরা কি তাওরাতে রজমের (পাথর মেরে হত্যার) বিধান পাও না?" তারা বলল: আমরা এতে তেমন কিছু পাই না। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম তাদের বললেন: তোমরা মিথ্যা বলছ।) (১০) (নিশ্চয়ই এতে রজমের বিধান রয়েছে।) (১১) (তোমরা তাওরাত নিয়ে আসো এবং তা পাঠ করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও।) (১২) (হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তাদের তাওরাত দিয়ে আহ্বান করুন।) (১৩) (অতঃপর তারা তাওরাত নিয়ে আসল এবং তা খুলল।) (১৪) ("তখন তিনি তাঁর নিচ থেকে গদিটি সরিয়ে নিলেন এবং তার ওপর তাওরাত রাখলেন। এরপর বললেন: আমি তোমার প্রতি এবং যিনি তোমাকে নাযিল করেছেন তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম। তারপর তিনি বললেন: তোমাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" তখন এক যুবককে আনা হলো,) (১৫) (যে একচক্ষু বিশিষ্ট ছিল, তাকে ইবনে সূরিয়া বলা হতো। সে পাঠ করতে লাগল, যখন সে একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাল তখন সে) (১৬) (রজমের আয়াতের ওপর তার হাত রাখল। এরপর সে তার আগের অংশ এবং পরের অংশ পাঠ করল,) (১৭) (কিন্তু রজমের আয়াতটি পাঠ করল না।) (১৮) (তখন ইবনে সালাম তাকে বললেন: তোমার হাত তোলো। তখন দেখা গেল যে রজমের আয়াতটি তার হাতের নিচেই রয়েছে।) (১৯) (তিনি বললেন: এটি কী? যখন তারা এটি দেখল তখন বলল:) (২০) (হে মুহাম্মদ, আপনি সত্য বলেছেন, এতে রজমের আয়াত রয়েছে।) (২১) (কিন্তু আমরা তা নিজেদের মধ্যে গোপন রাখতাম।) (২২) ("অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাদের পাথর মেরে হত্যা করা হলো) (২৩) (বালাত নামক স্থানে।") (২৪) অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ("তাদের মসজিদের নিকটবর্তী জানাযার স্থানের কাছে পাথর মেরে হত্যা করা হলো।") (২৫) (২৬) (আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর বলেন: আমি তাদের মধ্যে ছিলাম যারা তাদের পাথর মেরেছিল। আমি) (২৭) (লোকটিকে দেখছিলাম যে সে মহিলার ওপর ঝুঁকে পড়ছিল) (২৮) (এবং নিজের দেহ দিয়ে তাকে পাথর থেকে রক্ষা করছিল।) (২৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣٨)
আল-জামেউস সহীহ লিস-সুনানি ওয়াল মাসানিদ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
(م د) ، وَعَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رضي الله عنه قَالَ: (جَاءَتْ الْيَهُودُ بِرَجُلٍ وَامْرَأَةٍ مِنْهُمْ زَنَيَا) (1) وفي رواية: (مُرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِيَهُودِيٍّ) (2) (وَهُوَ يُطَافُ بِهِ) (3) (مُحَمَّمًا (4)) (5) (وَجْهُهُ) (6) (مَجْلُودًا ، " فَدَعَاهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: هَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ؟ " ، قَالُوا: نَعَمْ) (7) (" فَقَالَ: " ائْتُونِي بِأَعْلَمِ رَجُلَيْنِ مِنْكُمْ " ، فَأَتَوْهُ بِابْنَيْ صُورِيَا ، " فَنَشَدَهُمَا) (8) (بِاللهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى ، أَهَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ؟ ") (9) (قَالَا: نَجِدُ فِي التَّوْرَاةِ: إِذَا شَهِدَ أَرْبَعَةٌ أَنَّهُمْ رَأَوْا ذَكَرَهُ فِي فَرْجِهَا مِثْلَ الْمِيلِ فِي الْمُكْحُلَةِ رُجِمَا ، قَالَ: " فَمَا يَمْنَعُكُمَا أَنْ تَرْجُمُوهُمَا؟ " ، قَالَا: ذَهَبَ سُلْطَانُنَا) (10) وَ (كَثُرَ فِي أَشْرَافِنَا ، فَكُنَّا إِذَا أَخَذْنَا الرَّجُلَ الشَّرِيفَ تَرَكْنَاهُ ، وَإِذَا أَخَذْنَا الضَّعِيفَ أَقَمْنَا عَلَيْهِ الْحَدَّ) (11) (فَقُلْنَا: تَعَالَوْا فَلْنَجْتَمِعْ عَلَى شَيْءٍ نُقِيمُهُ عَلَى الشَّرِيفِ وَالْوَضِيعِ) (12) (فَاجْتَمَعْنَا عَلَى التَّحْمِيمِ وَالْجَلْدِ ، وَتَرَكْنَا الرَّجْمَ) (13) (" فَدَعَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالشُّهُودِ " ، فَجَاءُوا بِأَرْبَعَةٍ ، فَشَهِدُوا أَنَّهُمْ رَأَوْا ذَكَرَهُ فِي فَرْجِهَا مِثْلَ الْمِيلِ فِي الْمُكْحُلَةِ ، " فَأَمَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِرَجْمِهِمَا ") (14) (ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَوَّلُ مَنْ أَحْيَا مَا أَمَاتُوا مِنْ كِتَابِكَ ") (15) (فَأَنْزَلَ اللهُ عز وجل: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آَمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ ، وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ آَخَرِينَ لَمْ يَأتُوكَ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ وَإِنْ لَمْ تُؤْتَوْهُ فَاحْذَرُوا} (16) " ، يَقُولُونَ: ائْتُوا مُحَمَّدًا فَإِنْ أَمَرَكُمْ بِالتَّحْمِيمِ وَالْجَلْدِ فَخُذُوهُ ، وَإِنْ أَفْتَاكُمْ بِالرَّجْمِ فَاحْذَرُوا ، فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الْكَافِرُونَ} (17) {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الظَّالِمُونَ} (18) {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ ، فَأُولَئِكَ هُمْ الْفَاسِقُونَ} (19)) (20) (قَالَ الْبَرَاءُ: هِيَ فِي الْكُفَّارِ كُلُّهَا - يَعْنِي هَذِهِ الْآيَةَ -) (21).
--------------------------------------------
(মুসলিম ও আবু দাউদ), এবং বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (ইয়াহুদিরা তাদের মধ্য থেকে এক পুরুষ ও এক নারীকে নিয়ে আসল যারা ব্যভিচার করেছিল) (১) এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে এক ইয়াহুদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল) (২) (তাকে ঘুরানো হচ্ছিল) (৩) (কালি মাখা অবস্থায়) (৪) (৫) (তার মুখমণ্ডল) (৬) (এবং সে ছিল বেত্রাঘাতপ্রাপ্ত। "তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: তোমাদের কিতাবে কি ব্যভিচারীর শাস্তি এভাবেই পাও?" তারা বলল: "হ্যাঁ") (৭) ("অতঃপর তিনি বললেন: 'তোমাদের মধ্যকার সবচেয়ে জ্ঞানী দুইজন ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।' তখন তারা সূরিয়ার দুই পুত্রকে নিয়ে আসল। তিনি তাদের দুজনকে সেই আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন) (৮) (যিনি মূসার ওপর তাওরাত নাযিল করেছেন, তোমাদের কিতাবে কি ব্যভিচারীর শাস্তি এভাবেই পাও?") (৯) (তারা বলল: "আমরা তাওরাতে পাই যে: যখন চারজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেবে যে তারা তার পুরুষাঙ্গকে তার লজ্জাস্থানে সুরমাদানীর শলাকার মতো প্রবেশ করতে দেখেছে, তখন তাদের রজম করা হবে।" তিনি বললেন: "তাহলে তোমাদের তাদের রজম করতে কিসে বাধা দিল?" তারা বলল: "আমাদের রাজত্ব চলে গেছে") (১০) এবং (আমাদের উচ্চপদস্থদের মধ্যে এটি ব্যাপকতা লাভ করেছিল। ফলে আমরা যখন কোনো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে ধরতাম তখন তাকে ছেড়ে দিতাম, আর যখন কোনো দুর্বল ব্যক্তিকে ধরতাম তখন তার ওপর শাস্তি কার্যকর করতাম) (১১) (অতঃপর আমরা বললাম: "এসো, আমরা এমন একটি বিষয়ের ওপর একমত হই যা আমরা উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ সবার ওপর কার্যকর করতে পারব") (১২) (তখন আমরা মুখ কালি করা এবং বেত্রাঘাত করার ওপর একমত হলাম এবং রজম করা ছেড়ে দিলাম) (১৩) ("অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষীদের ডাকলেন।" তখন তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে আসল এবং তারা সাক্ষ্য দিল যে তারা তার পুরুষাঙ্গকে তার লজ্জাস্থানে সুরমাদানীর শলাকার মতো প্রবেশ করতে দেখেছে। "তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে রজম করার নির্দেশ দিলেন") (১৪) (অতঃপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আপনার কিতাবের সেই বিধানকে পুনরুজ্জীবিত করল যা তারা মৃত বানিয়ে ফেলেছিল") (১৫) (অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নাযিল করলেন: {হে রাসূল! তারা যেন আপনাকে ব্যথিত না করে যারা কুফরিতে দ্রুত ধাবিত হয়—তাদের মধ্য থেকে যারা মুখে বলে 'আমরা ঈমান এনেছি' অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনেনি; আর ইয়াহুদিদের মধ্য থেকে যারা মিথ্যার প্রতি অধিক মনোযোগী এবং যারা অন্য এমন এক কওমের কথা শোনে যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা শব্দগুলোকে সেগুলোর যথার্থ স্থান থেকে বিকৃত করে। তারা বলে, 'যদি তোমাদের এই (আদেশ) দেওয়া হয় তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি তা না দেওয়া হয় তবে সতর্ক থেকো।'} (১৬) তারা বলত: "তোমরা মুহাম্মাদের কাছে যাও, তিনি যদি তোমাদের মুখ কালি করা ও বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেন তবে তা গ্রহণ করো, আর যদি তিনি রজমের ফতোয়া দেন তবে তা থেকে সতর্ক থাকো।" তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির।} (১৭) {আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই যালিম।} (১৮) {আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই ফাসিক।} (১৯)) (২০) (বারা বলেন: এই আয়াতগুলো সব কাফিরদের ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে) (২১)।
--------------------------------------------