(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: -)
عش مع الخلفاء والملوك القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: عش مع الخلفاء والملوك (سيرة مختصرة)
المؤلف: الدكتور/ مرزوق بن هياس الزهراني
الناشر: (بدون ناشر) (طُبع على نفقة رجل الأعمال الشيخ جمعان بن حسن الزهراني)
الطبعة: الأولى، 1437 هـ - 2016 م
عدد الصفحات: 110
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1440
খলিফা ও রাজন্যবর্গের সঙ্গে বসবাস বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
বই: খলিফা ও রাজন্যবর্গের সঙ্গে বসবাস (সংক্ষিপ্ত জীবনী)
লেখক: ডক্টর/ মারজুক বিন হাইয়াস আল-জাহরানি
প্রকাশক: (প্রকাশক বিহীন) (ব্যবসায়ী শেখ জামান বিন হাসান আল-জাহরানির ব্যয়ে মুদ্রিত)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৭ হিজরি - ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১০
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ১)
عش مع الخلفاء والملوك
سيرة مختصرة
تأليف
الدكتور/ مرزوق بن هياس الزهراني
খলিফা ও বাদশাহদের সান্নিধ্যে
সংক্ষিপ্ত জীবনী
রচনায়
ডক্টর মারজুক বিন হায়াস আল-জাহরানি
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى 1437 هـ _ 2015 م
{إِنْ يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ (140)} (1).
--------------------------------------------
প্রথম সংস্করণ ১৪৩৭ হিজরী _ ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ
{যদি তোমাদের কোনো আঘাত লেগে থাকে, তবে অনুরূপ আঘাত তো সেই কওমের ওপরও লেগেছিল। আর এই দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তন করি, যাতে আল্লাহ মুমিনদের জেনে নিতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য হতে কিছু লোককে শহীদ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন; আর আল্লাহ যালিমদের ভালোবাসেন না (১৪০)} (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৩)
الإهداء
إلى صانع الحزمين خادم الحرمين الشريفين؛ الملك سلمان بن عبدالعزيز آل سعود أيده الله بنصره وتوفيقه، وأعز به البلاد والعباد، فلم يكن لنا عز إلا بالله ثم به وبجنوده البواسل، وشعبه الصادق الوفي، فنبارك جهوده في خدمة دينه وطنه وشعبه والأمة الإسلامية، لقد طرق بابا بَزَّ فيه الأقران اليوم بقيادة المملكة العربية السعودية لعاصفة الجزم الأول لنجدة الشعب اليمني، فأرسى نواة مباركة في وحدة الصف العربي الإسلامي، وجدد الآمال في النفوس الأبية بنجدة جار طلب الغوث لحمايته من دمار شامل، ولحماية حدود أرض الحرمين مهبط الوحي، ومهوى أفئدة المسلمين فلا يطالها عبث عابث من قريب أو بعيد، وهو اليوم الرابع من ربع الأول (1437 هـ) الموافق الخامس عشر من ديسمبر (2015 م) يعلن الحزم الثاني التحالف الإسلامي العسكري، ولئن كانت نواة التحالف العربي اثنتا عشرة دولة ونطلب المزيد، فإن نواة التحالف الإسلامي العسكري أربعا وثلاثين دولة، وننتظر المزيد، فمرحى ومرحبا لباني الوحدة الإسلامية خادم الحرمين الشريفين الملك سلمان بن عبدالعزيز آل سعود فله مني ومن أبنائي ومن الشعب السعودي تحية ولاء وإكبار على هذا الإنجاز العظيم، إنجاز لا يصنعه إلا العظماء، والتحية موصولة لقادة التحالفين الأول العربي، والثاني الإسلامي، شكر الله لهم المسعى، وبارك في الجهود، وخيب الله كيد الأعداء وأطماع الطامعين، ولك يا سلمان خالص الدعاء، وصادق الولاء، أعدها جذعة للإسلام والمسلمين.
المؤلف
উৎসর্গ
দুই দৃঢ় সংকল্পের রূপকার, দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম; বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ-এর প্রতি, আল্লাহ তাকে তাঁর সাহায্য ও তাওফীক দ্বারা শক্তিশালী করুন এবং তাঁর মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে সম্মানিত করুন। আল্লাহ ব্যতিরেকে আমাদের কোনো সম্মান নেই, অতঃপর তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর বীর সেনানি ও তাঁর সত্যবাদী ও অনুগত জনগণের মাধ্যমেই আমাদের সম্মান। তাঁর দ্বীন, দেশ, জনগণ এবং মুসলিম উম্মাহর সেবায় তাঁর প্রচেষ্টাসমূহকে আমরা মোবারকবাদ জানাই। তিনি আজ সৌদি আরব রাজ্যের নেতৃত্বে ইয়েমেনি জনগণের সহায়তায় 'প্রথম ঝড়ো সংকল্প' পরিচালনার মাধ্যমে এমন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তিনি আরব-ইসলামী ঐক্যের সারিতে একটি বরকতময় ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং সেই সব আত্মমর্যাদাশীল হৃদয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছেন যারা ধ্বংসাত্মক বিনাশ থেকে সুরক্ষার জন্য আর্তনাদকারী প্রতিবেশীর সাহায্যে এগিয়ে আসে। সেইসাথে ওহী অবতরণের স্থান এবং মুসলমানদের হৃদয়ের আকর্ষণস্থল দুই পবিত্র হারামের ভূমির সীমান্ত সুরক্ষার জন্য, যাতে নিকট বা দূরের কোনো অনিষ্টকারীর হীন কর্মকাণ্ড সেখানে স্পর্শ করতে না পারে। আজ ৪ঠা রবিউল আউয়াল (১৪৩৭ হিজরি) মোতাবেক ১৫ই ডিসেম্বর (২০১৫ খ্রিস্টাব্দ) তিনি দ্বিতীয় সংকল্প হিসেবে 'ইসলামী সামরিক জোট' ঘোষণা করছেন। আরব জোটের ভিত্তি যদি বারোটি রাষ্ট্র দিয়ে হয়ে থাকে এবং আমরা আরও বৃদ্ধির আশা করি, তবে ইসলামী সামরিক জোটের ভিত্তি হলো চৌত্রিশটি রাষ্ট্র এবং আমরা আরও আধিক্যের প্রত্যাশা করি। অতএব, ইসলামী ঐক্যের নির্মাতা দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ-এর প্রতি স্বাগতম ও সম্ভাষণ। আমার পক্ষ থেকে, আমার সন্তানদের পক্ষ থেকে এবং সৌদি জনগণের পক্ষ থেকে এই মহান অর্জনের জন্য তাঁর প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধার সালাম। এটি এমন এক অর্জন যা কেবল মহান ব্যক্তিরাই সম্পাদন করতে পারেন। আর এই সালাম ও অভিবাদন প্রথম আরব জোট এবং দ্বিতীয় ইসলামী জোটের সকল নেতার প্রতিও পৌঁছে দিচ্ছি। আল্লাহ তাঁদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, তাঁদের কর্মতৎপরতায় বরকত দান করুন এবং শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও লোভীদের লালসাকে ব্যর্থ করে দিন। হে সালমান, আপনার জন্য রয়েছে আমাদের একনিষ্ঠ দুআ ও অকৃত্রিম আনুগত্য। আপনি ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য সেই তেজস্বী হারানো গৌরবকে পুনরুদ্ধার করেছেন।
লেখক
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৪)
المقدمةالحمد لله القائل: {وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ} (1) وقوله هذا موافق لقوله تعالى: {قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} (2)، وَعَدَ عباده المؤمنين التمكين في الأرض فقال عز وجل: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (3)، وتحقق وعد الله عز وجل والله لا يخلف الميعاد، فتح الله لعباده المؤمنين مشارق الأرض ومغاربها، واحتازوا جميع الممالك، ودانت لهم الدول، وبإخلاصهم لله عز وجل، وعملهم بما جاء به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الدين والحق هزموا أعظم دولتين في ذلك الوقت؛ فارس والروم، وهذا الوعد لا يتخلف عن مؤمن صدق مع الله جل جلاله إلى قيام الساعة، ولن يمكِّن الله عز وجل غير عباده المؤمنين إلا بتخلف منهم عن العمل بطاعته.
وصلى الله وسلم وبارك على سيد الاولين والآخرين نبينا محمد القائل في حجة الوداع: «وقد تركت فيكم ما لن تضلوا بعده إن اعتصمتم به، كتاب الله» (4)، فما أعظمها من وصية يتحقق بها ما وعد الله عز وجل عباده المؤمنين.
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বলেছেন: {আর এই দিনসমূহকে আমি মানুষের মধ্যে আবর্তিত করি এবং যাতে আল্লাহ ঈমানদারদের জেনে নেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে কিছু ব্যক্তিকে শহীদ হিসেবে গ্রহণ করেন; আর আল্লাহ যালিমদের ভালোবাসেন না} (১) এবং তাঁর এই বাণী মহান আল্লাহর এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: {বলুন: হে আল্লাহ, আপনিই রাজত্বের মালিক। যাকে ইচ্ছা আপনি রাজত্ব দান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন। আর যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনি লাঞ্ছিত করেন। আপনার হাতেই সকল কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান} (২), তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের জমিনে ক্ষমতা প্রদানের ওয়াদা করেছেন, তাই তিনি মহান ও পরাক্রমশালী বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, আল্লাহ তাদের সাথে ওয়াদা করেছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে খিলাফত দান করবেন, যেভাবে তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের দান করেছিলেন এবং তিনি তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির পর অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা কেবল আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। আর এরপরও যারা কুফরী করবে, তারাই ফাসিক} (৩), মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ওয়াদা বাস্তবায়িত হয়েছে, আর আল্লাহ ওয়াদা খেলাফ করেন না। আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ জয় করে দিয়েছেন, তারা সকল রাজ্য করায়ত্ত করেছে এবং রাষ্ট্রসমূহ তাদের অনুগত হয়েছে। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি তাদের একনিষ্ঠতা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনীত দ্বীন ও সত্যের ওপর আমল করার মাধ্যমে তারা সে সময়ের তৎকালীন শক্তিশালী দুটি রাষ্ট্র—পারস্য ও রোমকে পরাজিত করেছিল। আর এই ওয়াদা কিয়ামত পর্যন্ত মহান আল্লাহর সাথে সত্যবাদী মুমিনের ক্ষেত্রে কখনও বিফল হয় না; আর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর অনুগত হয়ে আমল করা থেকে বিচ্যুত হওয়া ছাড়া তাঁর মুমিন বান্দাদের ব্যতীত অন্য কাউকে ক্ষমতা দান করবেন না।
এবং প্রথম ও শেষ সকলের নেতা আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক, যিনি বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন: «আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনও পথভ্রষ্ট হবে না, তা হলো আল্লাহর কিতাব» (৪)। এটি কতই না মহান এক অসিয়ত, যার মাধ্যমে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৫)
ورضي الله عن آل بيت سيدنا محمد وأصحابه الأبرار، ولعن الله أعداءهم الزنادقة الفجار.
أما بعد: فقد تاقت النفس إلى مطالعة سير الرعيل الأول من الخلفاء والملوك في الإسلام، والتعرف باختصار على بعض من سيرهم، وما ذكر من محامد أو مثالب لتكون عظة وعبرة لمن طالع ما دونت، ومن المعلوم أن فجر الإسلام طلع بمبعث نبينا محمد صلى الله عليه وسلم بعد بلوغه السن الذي بُعث فيه صلى الله عليه وسلم؛ وهو أربعون سنة؛ سِنُّ اكتمال الأشد وقوة العقل، وهذه سُنة في الأنبياء قال تعالى في يوسف عليه السلام: {وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ} (1)، وقال تعالى في موسى عليه السلام: {وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَاسْتَوَى آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ} (2)، وكذلك نبينا محمد صلى الله عليه وسلم روى ذلك الأئمة الأثبات عن أنس رضي الله عنه قال: «بعثه الله على رأس أربعين سنة، فأقام بمكة عشر سنين، وبالمدينة عشر سنين، وتوفاه الله على رأس ستين سنة، وليس في رأسه ولحيته عشرون شعرة بيضاء» (3)، هذا على قول أن عمره صلى الله عليه وسلم ستون سنة، فأسفر صبح الإسلام في مكة بنزول الوحي على رسول الله نبينا محمد صلى الله عليه وسلم {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} (4)،
وأشرق فجر الإسلام بهجرته صلى الله عليه وسلم إلى مهاجره الذي اختاره الله له؛ وهو المعروف في الجاهلية "بيثرب" وسماه رسول الله صلى الله عليه وسلم طيبة؛ وهي المدينة المنورة اليوم ولها أسماء كثيرة، تنمي عن حب المؤمنين لها ومكانتها العظيمة عندهم، جعلنا الله من محبيها، وممن يحسن الجوار فيها، وكانت الهجرة بعد ثلاث عشرة سنة من البعثة، فيكون عمر نبينا صلى الله عليه وسلم عند هجرته ثلاثا
--------------------------------------------
এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার-পরিজন ও তাঁর পুণ্যবান সাহাবীদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এবং আল্লাহ তাঁদের শত্রু পাপাচারী ধর্মদ্রোহীদের ওপর লানত বর্ষণ করুন।
অতঃপর: ইসলামের প্রথম প্রজন্মের খলীফা ও বাদশাহদের জীবনী অধ্যয়নের জন্য মন ব্যাকুল হয়েছে, এবং সংক্ষেপে তাঁদের কিছু জীবনী এবং তাঁদের সম্পর্কে বর্ণিত গুণাবলি বা দোষত্রুটি সম্পর্কে জানার আগ্রহ জেগেছে, যাতে আমি যা লিপিবদ্ধ করেছি তা পাঠকারীর জন্য উপদেশ ও শিক্ষা স্বরূপ হয়। এটি সর্বজনবিদিত যে, ইসলামের উষালগ্ন শুরু হয়েছিল আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তির মাধ্যমে, তাঁর সেই বয়সে পৌঁছানোর পর যে বয়সে তাঁকে নবী হিসেবে পাঠানো হয়েছে; আর তা হলো চল্লিশ বছর; যা পূর্ণ যৌবন ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্বতার বয়স। আর এটি নবীদের ক্ষেত্রে আল্লাহর একটি শাশ্বত রীতি। আল্লাহ তাআলা ইউসুফ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন: {এবং যখন তিনি পূর্ণ যৌবনে উপনীত হলেন, তখন আমি তাঁকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলাম এবং এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি} (১), এবং আল্লাহ তাআলা মূসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন: {এবং যখন তিনি পূর্ণ যৌবনে উপনীত হলেন ও পূর্ণতা প্রাপ্ত হলেন, তখন আমি তাঁকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলাম এবং এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি} (২), আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। সুপ্রতিষ্ঠিত ইমামগণ আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আল্লাহ তাঁকে চল্লিশ বছর বয়সের প্রারম্ভে নবুয়ত দান করেছেন, অতঃপর তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন, আর আল্লাহ তাঁকে ষাট বছর বয়সের প্রারম্ভে ওফাত দান করেন। তখন তাঁর মাথা ও দাড়িতে বিশটি চুলও সাদা ছিল না» (৩), এটি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বয়স ষাট বছর হওয়ার মতানুসারে। এভাবে মক্কায় রাসূলুল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ sallallahu আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ওহী {পাঠ করো তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন} (৪) অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে ইসলামের সকাল উদ্ভাসিত হলো।
এবং ইসলামের উষা প্রদীপ্ত হলো তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই হিজরত ভূমিতে হিজরতের মাধ্যমে যা আল্লাহ তাঁর জন্য মনোনীত করেছেন; জাহেলী যুগে যা "ইয়াসরিব" নামে পরিচিত ছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম রেখেছেন "তয়্যিবা"; এটিই বর্তমানের মদিনা মুনাওয়ারা এবং এর অনেক নাম রয়েছে, যা এর প্রতি মুমিনদের ভালোবাসা এবং তাদের কাছে এর সুমহান মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। আল্লাহ আমাদের এর ভালোবাসাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা সেখানে উত্তম প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস করে। হিজরত ছিল নবুয়তের তেরো বছর পর, সুতরাং হিজরতের সময় আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল তেপ্পান্ন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৬)
وخمسين سنة، واكتمل الشروق في أجمل صورة، في حياة يسودها العدل الكامل، والرحمة والطهر والعفاف وتكوّن أنظف مجتمع عرفته الدنيا، كان سيده رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم يكد ضحى الإسلام ينير طيبة لينبثق منها إلى أقطار الأرض حتى فجع المجتمع الإسلامي في طيبة بأعظم مصيبة أصيب بها كل مؤمن إلى يوم القيامة، وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا أعظم منها قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا أصاب أحدكم مصيبة فليذكر مصيبته فإنها من أعظم المصائب» (1)، وكان هذا الحدث الجلل في ربيع الثاني بعد عودته من حجة الوداع في السنة الحادية عشرة من الهجرة، وعمره صلى الله عليه وسلم ثلاث وستون سنة، قال أنس رضي الله عنه: " لما كان اليوم الذي قدم فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة أضاء منها كل شيء، فلما كان اليوم الذي مات فيه أظلم منها كل شيء" (2).
نسأل الله أن يجمعنا به وبإخوته الأنبياء والصحب الكرام في الفردوس الأعلى من الجنة بفضله وكرمه.
هنا نقف عن التفصيل في العهد النبوي وهو موقف عظيم، فمن يجرؤ على تقييم نهج نبي يخاطبه الوحي صباح مساء، اللهم لا أحد إلا سفيها فارق سنة العقلاء، وقد أوضحت هذا في كتابي "الهادي والمتهدي".
ونبدأ في الحديث عن ضحى الإسلام عهد الخلفاء الراشدين رضي الله عنهم -.
أولهم: أبو بكر رضي الله عنه خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم -.
وهو عبدالله بن أبي قحافة واسم أبي قحافة عثمان بن عامر بن عمرو بن كعب بن سعد بن تيم بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك القرشي التيمي، لم يختلفوا في اسمه ولا اسم أبيه، وكذلك لم يختلفوا أن لقبه عتيق.
--------------------------------------------
এবং পঞ্চাশ বছর, আর সূর্যোদয় তার সবচেয়ে সুন্দর অবয়বে পূর্ণ হয়েছিল এমন এক জীবনে যেখানে পূর্ণ ন্যায়বিচার, দয়া, পবিত্রতা ও চারিত্রিক নিষ্কলুষতা বিরাজমান ছিল এবং বিশ্বের জানা সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠিত হয়েছিল, যার নেতা ছিলেন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)। মদিনার ইসলামের উজ্জ্বল প্রভাত উদ্ভাসিত হয়ে পৃথিবীর দিগন্তসমূহে ছড়িয়ে পড়ার আগেই ইসলামী সমাজ মদিনায় এমন এক মহান মুসিবতে আক্রান্ত হলো যা কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় মুসিবত, আর তা হলো আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) ইন্তেকাল। এর চেয়ে বড় কোনো বিপদ আর নেই। আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন কোনো বিপদে পড়ে, তখন সে যেন আমার বিয়োগের বিপদের কথা স্মরণ করে, কারণ এটি সবচেয়ে বড় বিপদসমূহের অন্তর্ভুক্ত» (১)। এই গুরুতর ঘটনাটি হিজরী একাদশ সনে বিদায় হজ থেকে ফিরে আসার পর রবিউস সানি মাসে ঘটেছিল এবং তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বয়স ছিল তেষট্টি বছর। আনাস (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেন: "যেদিন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) মদিনায় পদার্পণ করেছিলেন, সেদিন মদিনার সবকিছু আলোকিত হয়ে গিয়েছিল, আর যেদিন তিনি ইন্তেকাল করলেন, সেদিন মদিনার সবকিছু অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল" (২)।
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদেরকে তাঁর সাথে, তাঁর ভাই নবীগণের সাথে এবং সম্মানিত সাহাবীদের সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকামে একত্রিত করেন।
এখানে আমরা নববী যুগের বিস্তারিত আলোচনা থেকে বিরতি নিচ্ছি, যা একটি মহান অবস্থান। এমন একজন নবীর কর্মপদ্ধতি মূল্যায়ন করার দুঃসাহস কার আছে যাকে সকাল-সন্ধ্যা ওহীর মাধ্যমে সম্বোধন করা হতো? হে আল্লাহ, কোনো নির্বোধ ছাড়া কেউ এমনটি করবে না যে জ্ঞানীদের পথ পরিহার করেছে, আর আমি এটি আমার "আল-হাদী ওয়াল-মুহতাদী" গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি।
এবং আমরা ইসলামের উজ্জ্বল প্রভাত খুলাফায়ে রাশেদীনের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) যুগ সম্পর্কে আলোচনা শুরু করছি -।
তাদের মধ্যে প্রথমজন: আবু বকর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন), আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) খলিফা -।
তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি কুহাফা, আর আবু কুহাফার নাম হলো উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম ইবনে মুররা ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক আল-কুরাশি আত-তাইমি। তাঁর নাম বা তাঁর পিতার নাম নিয়ে কারো কোনো মতভেদ নেই, আর একইভাবে তাঁর উপাধি যে আতিক ছিল সে বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৭)
وأمه أم الخير؛ واسمها سلمى بنت صخر بن عامر بن عمرو بن كعب بن سعد بن تيم بن مرة.
وقد ذُكر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لأبي بكر: من أكبر، أنا أو أنت؟ ، فقال: بل أنت أكبر وأكرم وخير مني، وأنا أسن منك.
والصحيح أنه أصغر من رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقد استوفى أبو بكر رضي الله عنه مدة خلافته سِنَّ رسول الله رضي الله عنه، وتوفي وهو ابن ثلاث وستين سنة، في ليلة الثلاثاء، لثمان ليال بقين، أو سبع بقين، من جمادى الآخرة، بين المغرب والعشاء. ودفن عشاء من ليلته، سنة ثلاث عشرة (1)، وهو أحد العشرة المبشرين بالجنة رضي الله عنهم، وهو أفضل الناس على الإطلاق بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، لم تشبه شائبة، ولم يقدح فيه إلا الزنادقة.
فهو أول من جمع القرآن في مصحف، زَبَرَهُ بالمزبر: وهو القلم، وأتقنه، والمزبور هو المكتوب (2)، وقد استوفيت الكلام عنه في كتابي "الهادي والمهتدي".
الثاني: عمر بن الخطاب رضي الله عنه -: وهو عمر بن الخطاب بن نفيل بن عبد العزّى بن قرط بن رياح بن عبدالله بن رزاح بن عدىّ بن كعب بن لؤيّ بن غالب بن فهر بن مالك بن النّضر بن كنانة. وإذا قيل: العدوىّ، فهو نسبة إلى عدي بن كعب (3).
وأمه حنتمة بنت هاشم ذي الرمحين بن المغيرة بن عبدالله بن عمرو بن مخزوم بن يقظة، وهي بنت عم خالد بن الوليد رضي الله عنه، ومن قال فيها: حنتمة بنت هشام بن المغيرة فقد وهم؛ لأن هشام بن المغيرة هو أخو هاشم والدها، وهشام هو والد أبي جهل، وهو ابن عم خالد بن الوليد، فالثلاثة أبناء العم: خالد بن الوليد بن المغيرة، وحنتمة بنت
--------------------------------------------
তাঁর মা উম্মুল খায়ের; তাঁর নাম সালমা বিনতে সাখর ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম ইবনে মুররাহ।
বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "কে বড়, আমি না আপনি?" তিনি উত্তরে বলেছিলেন: "বরং আপনিই আমার চেয়ে মহান, সম্মানিত এবং শ্রেষ্ঠ, আর আমি আপনার চেয়ে বয়সে জ্যেষ্ঠ।"
সঠিক মত হলো, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে বয়সে ছোট ছিলেন। আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁর খিলাফতের মেয়াদ শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়সে (তিষট্টি বছরে) উপনীত হয়েছিলেন। তিনি তিষট্টি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জুমাদিউল আখিরাহ মাসের আট বা সাত রাত অবশিষ্ট থাকতে মঙ্গলবার রাতে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে তাঁর ইন্তেকালের রাতেই এশার ওয়াক্তে তেরো হিজরিতে দাফন করা হয় (১)। তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর অন্যতম, রাযিয়াল্লাহু আনহুম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে তিনি নিশ্চিতভাবে সর্বোত্তম মানুষ। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বে কোনো প্রকার সংশয় নেই এবং যিন্দীক (ধর্মদ্রোহী) ছাড়া কেউ তাঁর সমালোচনা করেনি।
তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কুরআনকে একটি সংকলনে (মুসহাফ) একত্রিত করেছিলেন। তিনি 'মিজবার' অর্থাৎ কলম দ্বারা তা লিপিবদ্ধ করেছিলেন এবং সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করেছিলেন। আর 'মাজবুর' অর্থ হলো লিখিত (২)। আমি আমার কিতাব "আল-হাদী ওয়াল মুহ্তাদী"-তে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয়: উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু -: তিনি হলেন উমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে নুফাইল ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে কুরত ইবনে রিয়াহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রাযাহ ইবনে আদী ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাযর ইবনে কিনানাহ। যখন 'আল-আদাবী' বলা হয়, তখন তা আদী ইবনে কাবের (৩) সাথে সম্পৃক্ত করা বুঝায়।
তাঁর মা হানতামাহ বিনতে হাশিম যুর-রুমহাইন ইবনুল মুগীরাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে মাখযুম ইবনে ইয়াকাযাহ। তিনি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর চাচাতো বোন। যে ব্যক্তি তাঁর নাম 'হানতামাহ বিনতে হিশাম ইবনুল মুগীরাহ' বলেছে, সে ভুল করেছে; কারণ হিশাম ইবনুল মুগীরাহ হলেন তাঁর পিতা হাশিমের ভাই। আর হিশাম হলেন আবু জাহেলের পিতা এবং তিনি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের চাচাতো ভাই। সুতরাং এই তিনজন হলেন চাচাতো ভাই-বোন: খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরাহ, এবং হানতামাহ বিনতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৮)
هاشم ذي الرمحين بن المغيرة، وأبو جهل الحارث بن هشام بن المغيرة، كنيته أبو الحكم، وكنّاه الصحابة أبا جهل لعدم قبوله الإيمان بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم (1).
وكان عمر رضي الله عنه أول من لقب بأمير المؤمنين، كان يكتب "من خليفة خليفة رسول الله" وكتب عمر رضي الله عنه إلى عامل العراق أن يبعث إليه رجلين جلدين يسألهما عن العراق وأهله، فبعث إليه لبيد بن ربيعة، وعدي بن حاتم، فقدما المدينة، ودخلا، فوجدا عمرو ابن العاص، فقالا: استأذن لنا على أمير المؤمنين فقال عمرو: أنتما والله أصبتما اسمه، فدخل عليه عمرو فقال: السلام عليك يا أمير المؤمنين! فقال: ما بدا لك في هذا الاسم؟ لتخرجن مما قلت، فأخبره، وقال: أنت الأمير ونحن المؤمنون، فجرى الكتاب بذلك من يومئذ.
هو أول من كتب التاريخ بالهجرة، وأول من اتخذ بيت المال، وأول من سن قيام شهر رمضان، وأول من عسَّ (2) بالليل، وأول من عاقب على الهجاء، وأول من ضرب في الخمر ثمانين، وأول من نهى عن بيع أمهات الأولاد، وأول من جمع الناس في صلاة الجنائز على أربع تكبيرات، وأول من اتخذ الديوان، أمر عقيل بن أبي طالب ومخرمة بن نوفل وجبير بن مطعم وكانوا من كُتَّاب قريش فكتبوا ديوان العساكر الإسلامية على ترتيب الأنساب مبتدأ من قرابة رسول الله صلى الله عليه وسلم فما بعدها الأقرب فالأقرب، وأول من فتح الفتوح ومسح السواد بالعراق، وأول من حمل الطعام من مصر في بحر أيلة إلى المدينة، وأول من احتبس صدقة في الإسلام، وأول من أعال الفرائض، وأول من أخذ زكاة الخيل، وأول من أخذ زكاة العسل، وأول من قال: أطال الله بقاءك، قاله لعلي رضي الله عنه، وأول من قال: أيدك الله قاله لعلي رضي الله عنه،
--------------------------------------------
হাশেম যির-রুমহাইন ইবনে আল-মুগীরা এবং আবু জাহল আল-হারিস ইবনে হিশাম ইবনে আল-মুগীরা; তার উপনাম ছিল আবুল হাকাম, কিন্তু সাহাবীগণ তাকে আবু জাহল উপনামে ডেকেছেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াতের ওপর ঈমান গ্রহণ না করার কারণে (১)।
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যাকে 'আমীরুল মুমিনীন' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি "রাসূলুল্লাহর খলীফার খলীফার পক্ষ থেকে" এভাবে লিখতেন। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইরাকের আমিলের নিকট চিঠি লিখলেন যে, তিনি যেন তাঁর কাছে দুজন সাহসী ও শক্তিশালী লোক পাঠান যাদেরকে তিনি ইরাক ও তার অধিবাসী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। তখন তিনি লাবিদ ইবনে রাবিআ এবং আদী ইবনে হাতিমকে পাঠালেন। তারা মদীনায় এসে প্রবেশ করলেন এবং আমর ইবনুল আসকে পেলেন। তারা বললেন: "আমীরুল মুমিনীনের কাছে আমাদের জন্য অনুমতির ব্যবস্থা করুন।" আমর বললেন: "আল্লাহর শপথ, আপনারা তাঁর সঠিক নামকরণ করেছেন।" তারপর আমর তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললেন: "আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আমীরুল মুমিনীন!" তিনি বললেন: "এই নামের ব্যাপারে আপনার কী মনে হলো? আপনি যা বলেছেন তা থেকে অবশ্যই আপনাকে বের হতে হবে (অর্থাৎ এর কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে)।" তখন তিনি তাকে অবহিত করলেন এবং বললেন: "আপনি হলেন আমীর (নেতা) এবং আমরা হলাম মুমিনীন (বিশ্বাসীগণ)।" সেদিন থেকেই চিঠিপত্রে এই নামের প্রচলন শুরু হয়।
তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি হিজরতের মাধ্যমে ইতিহাস (সন) লিপিবদ্ধ করেন, প্রথম বাইতুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন, প্রথম রমজান মাসে কিয়ামের (সালাতুত তারাবীহ) নিয়ম প্রবর্তন করেন, প্রথম রাতে টহল (২) দেন, প্রথম নিন্দামূলক কবিতার জন্য শাস্তি প্রদান করেন, প্রথম মদ্যপানে আশিটি বেত্রাঘাত করেন, প্রথম উম্মুল ওয়ালাদ (সন্তানবতী দাসী) বিক্রয় নিষিদ্ধ করেন, প্রথম জানাজার নামাজে মানুষকে চারটি তাকবীরের ওপর সমবেত করেন এবং প্রথম দেওয়ান (প্রশাসনিক দপ্তর) গঠন করেন। তিনি আকিল ইবনে আবি তালিব, মাখরামা ইবনে নাওফাল এবং জুবায়ের ইবনে মুতইমকে নির্দেশ দেন—তারা কুরাইশদের লেখক ছিলেন—তারা বংশপরম্পরা অনুযায়ী ইসলামী সেনাবাহিনীর তালিকা প্রস্তুত করেন, যা শুরু হয়েছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকটাত্মীয়দের থেকে এবং এরপর যারা নিকটবর্তী ক্রমানুসারে। তিনি প্রথম অনেক বিজয় সম্পন্ন করেন এবং ইরাকের সাওয়াদ (কৃষিভূমি) জরিপ করেন। তিনি প্রথম আয়লা সাগর দিয়ে মিশর থেকে মদীনায় খাদ্য বহন করে নিয়ে আসেন, প্রথম ইসলামে সদকা (ওয়াকফ) স্থায়ী করেন, প্রথম ফারায়েজে (উত্তরাধিকার বন্টনে) 'আউল' পদ্ধতি প্রয়োগ করেন, প্রথম ঘোড়ার জাকাত গ্রহণ করেন, প্রথম মধুর জাকাত গ্রহণ করেন এবং প্রথম ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন: "আল্লাহ আপনার হায়াত দীর্ঘ করুন", এটি তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন। আর তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন: "আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন", এটিও তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهو أول من استقضى القضاء في الأمصار، وأول من مصّر الأمصار: الكوفة، والبصرة، والجزيرة، والشام، ومصر، والموصل (1).
ومر علي بن أبي طالب رضي الله عنه على المساجد في رمضان وفيها القناديل فقال: "نور الله على عمر في قبره كما نور علينا في مساجدنا".
واتخذ عمر رضي الله عنه دار الدقيق، فجعل فيها الدقيق، والسويق، والتمر، والزبيب، وما يحتاج إليه: يعين به المنقطع، ووضع فيما بين مكة والمدينة بالطريق ما يصلح من ينقطع به، وهدم المسجد النبوي، وزاد فيه ووسع، وفرشه بالحصباء، وهو الذي أخرج اليهود من الحجاز إلى الشام، وأخرج أهل نجران إلى الكوفة، وهو الذي أخَّر مقام إبراهيم إلى موضعه اليوم، وكان ملصقًا بالبيت، وهو أول من اتخذ الدرة، وكان ناصرا للحق قامعا للباطل، فقيل: لَدُرة عمر أهيب من سيفكم (2).
وهو أحد العشرة المبشرين بالجنة، رضي الله عنه وأرضاه.
مات أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه مقتولا يوم الأربعاء لأربع بقين من ذي الحجّة سنة ثلاث وعشرين من الهجرة، قتله أبو لؤلؤة فيروز المجوسي في صلاة الصّبح، وقد كتب الله له الشهادة على يد ذلك المجوسي الخاسر في الدنيا والآخرة.
وقد استوفيت الكلام عنه في كتابي "الهادي والمهتدي".
الثالث: عثمان بن عفّان رضي الله عنه -: وهو عثمان بن عفّان بن أبى العاص بن أمية بن عبد شمس بن عبد مناف بن قصىّ بن كلاب بن مرّة بن كعب بن لؤيّ بن غالب بن فهر بن مالك بن النّضر بن كنانة، يكنى: أبا عمرو، وأبا عبدالله، وأبا ليلى، اجتمع في النسب مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في عبد مناف، ومع معاوية في أمية، وأم عثمان رضي الله عنه
--------------------------------------------
তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি বিভিন্ন জনপদে বিচার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন এবং প্রথম ব্যক্তি যিনি বিভিন্ন প্রধান শহরগুলোর পত্তন করেছিলেন: কুফা, বসরা, জাজিরা, শাম, মিশর এবং মসুল (১)।
আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রমজান মাসে বিভিন্ন মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে প্রদীপ জ্বলছিল। তিনি বললেন: "আল্লাহ যেন ওমরের কবরকে আলোকিত করে দেন যেমন তিনি আমাদের জন্য আমাদের মসজিদগুলোকে আলোকিত করেছেন।"
ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একটি 'দারুদ দাকীক' (আটা ঘর) নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে তিনি আটা, ছাতু, খেজুর, কিশমিশ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী সঞ্চিত রাখতেন, যার মাধ্যমে তিনি নিঃস্ব মুসাফিরদের সাহায্য করতেন। তিনি মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী পথে এমন সব ব্যবস্থা করেছিলেন যা পথিমধ্যে আটকে পড়া মুসাফিরদের উপকারে আসে। তিনি মসজিদে নববী পুনর্নির্মাণ করেন এবং এর আয়তন বৃদ্ধি ও প্রশস্ত করেন এবং তাতে কঙ্কর বিছিয়ে দেন। তিনিই হিজাজ থেকে ইহুদিদের শাম দেশে বহিষ্কার করেছিলেন এবং নাজরানের অধিবাসীদের কুফায় স্থানান্তরিত করেছিলেন। তিনিই মাকামে ইবরাহিমকে তার বর্তমান স্থানে সরিয়ে এনেছিলেন, যা আগে কাবার সাথে সংলগ্ন ছিল। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি দোররা (শাসনদণ্ড) ব্যবহার শুরু করেন। তিনি ছিলেন সত্যের সাহায্যকারী এবং মিথ্যার বিনাশকারী। তাই বলা হতো: ওমরের দোররা তোমাদের তলোয়ারের চেয়েও অধিক ভীতিকর (২)।
তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর একজন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন।
আমিরুল মুমিনীন ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তেইশ হিজরির যিলহজ মাসের চার দিন বাকি থাকতে বুধবার দিন শহীদ হন। ফজরের নামাজের সময় আবু লুলু ফিরোজ মজুসি তাকে হত্যা করে। আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত সেই মজুসির হাতে তাঁর শাহাদাত লিখে রেখেছিলেন।
আমি আমার 'আল-হাদি ওয়াল মুহতাদি' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
তৃতীয়: উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) -: তিনি হলেন উসমান বিন আফফান বিন আবিল আস বিন উমাইয়্যা বিন আবদু শামস বিন আবদু মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররা বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন নাদর বিন কিনানা। তাঁর উপনাম ছিল: আবু আমর, আবু আব্দুল্লাহ এবং আবু লায়লা। বংশলতিকায় তিনি আবদু মানাফের স্তরে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মিলিত হন এবং উমাইয়্যার স্তরে মুয়াবিয়ার সাথে মিলিত হন। উসমানের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ১০)
أروى بنت كريز بن ربيعة بن حبيب بن عبد شمس، أمها: البيضاء بنت عبد المطلب، وهي بنت عمة رسول الله صلى الله عليه وسلم (1).
ولد عثمان رضي الله عنه في السنة السادسة بعد عام الفيل.
وأسلم قديمًا، وهو ممن دعاه الصديق إلى الإسلام، وهاجر الهجرتين: الأولى إلى الحبشة، والثانية إلى المدينة.
وتزوج رقية بنت الرسول صلى الله عليه وسلم قبل النبوة، وماتت عنده في ليالي غزوة بدر، فتأخر عن بدر لتمريضها، بإذن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وضرب له بسهمه وأجره، فهو معدود في البدريين بذلك.
وجاء البشير بنصر المسلمين ببدر يوم دفنوها بالمدينة، فزوجه رسول الله صلى الله عليه وسلم بعدها أختها أم كلثوم، وتوفيت عنده سنة تسع من الهجرة.
قال العلماء: ولا يعرف أحد تزوج بنتي نبي غيره، ولذلك سمي ذو النورين: فهو من السابقين الأولين، وأول المهاجرين، وأحد العشرة المشهود لهم بالجنة، وأحد الستة الذين توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو عنهم راضٍ، وأحد الصحابة الذين جمعوا القرآن رضي الله عنهم، وقال ابن سعد: استخلفه رسول الله صلى الله عليه وسلم على المدينة في غزوته إلى ذات الرقاع، وإلى غطفان.
روى عن رسول الله صلى الله عليه وسلم مائة حديث، وستة وأربعون حديثًا (2).
اشترى عثمان الجنة من النبي صلى الله عليه وسلم مرتين: لما حفر بئر رومة المعروفة اليوم في المدينة ببئر عثمان ولما جهز جيش العسرة.
--------------------------------------------
আরওয়া বিনতে কুরাইজ ইবনে রাবিআ ইবনে হাবিব ইবনে আবদ শামস, তাঁর মা হলেন আল-বায়দা বিনতে আবদুল মুত্তালিব; তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফাতো বোন (১)।
উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু হস্তীবাহিনীর বছরের (আমুল ফীল) ছয় বছর পর জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদেরকে সিদ্দিক (আবু বকর) ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনি দুইবার হিজরত করেন: প্রথমটি হাবশায় এবং দ্বিতীয়টি মদিনায়।
তিনি নবুওয়াতের পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা রুকাইয়াহকে বিবাহ করেন। বদরের যুদ্ধের দিনগুলোতে তিনি তাঁর নিকট থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতিতে তাঁর সেবা-শুশ্রূষার কারণে তিনি বদরে উপস্থিত হতে পারেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য যুদ্ধের গনিমতের অংশ এবং সওয়াব নির্ধারণ করেছিলেন, যার ফলে তাঁকে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গণ্য করা হয়।
যেদিন মদিনায় তাঁকে দাফন করা হয়, সেদিনই বদরে মুসলমানদের বিজয়ের সুসংবাদদাতা মদিনায় আসেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট রুকাইয়াহর বোন উম্মে কুলসুমকে বিবাহ দেন এবং তিনি হিজরির নবম সালে তাঁর নিকট মৃত্যুবরণ করেন।
উলামায়ে কেরাম বলেন: তিনি ছাড়া আর কাউকে জানা নেই যিনি কোনো নবীর দুই কন্যাকে বিবাহ করেছেন, এজন্যই তাঁকে যুন-নুরাইন (দুই জ্যোতির অধিকারী) বলা হয়। তিনি ইসলামের অগ্রবর্তী প্রথম সারির লোকদের অন্তর্ভুক্ত, প্রথম হিজরতকারীদের একজন, জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের একজন এবং সেই ছয়জনের একজন যাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন। তিনি সেই সকল সাহাবায়ে কেরামের একজন যাঁরা কুরআন সংকলন করেছিলেন, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন। ইবনে সাদ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাতুর রিকা এবং গাতফান যুদ্ধের সময় তাঁকে মদিনার প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন।
তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একশত ছেচল্লিশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন (২)।
উসমান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে দুইবার জান্নাত ক্রয় করেছেন: যখন তিনি রুমা কূপটি খনন করেছিলেন যা আজ মদিনায় 'বীরে উসমান' নামে পরিচিত এবং যখন তিনি সংকটের সেনাবাহিনী (জাইশুল উসরাহ) সুসজ্জিত করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ১১)
وفي سنة ست وعشرين زاد عثمان في البيت الحرام، ووسعه واشترى أماكن للزيادة، وفي سنة تسع وعشرين زاد عثمان في مسجد المدينة ووسعه، وبناه بالحجارة المنقوشة، وجعل عمده من الحجارة، وسقَفه بالساج، وجعل طوله ستين ومائة ذراع،
وعرضه خمسين ومائة ذراع (1).
وهو وأول من زاد الأذان في الجمعة، لتنبيه الناس في السوق إلى وقت الجمعة، وأول من جعل للمؤذنين رواتب من بيت المال.
وهو أول من اتخذ صاحب الشرطة، وكان على شرطته عبدالله بن قنفذ من بني تيم قريش وحاجبه حُمران بن أبان وأول من أكثر من الإقطاعات (2)، ولما زادت إبل الصدقة زاد في الحمى، وقد سبقه إلى ذلك عمر رضي الله عنهما، ولما فتحت هذه البلاد الواسعة كثر الخراج على عثمان، وأتاه المال من كل وجه، حتى اتخذ له الخزائن وأدر الأرزاق، وكان يأمر للرجل بمائة ألف بدرة في كل بدرة أربعة آلاف أوقية، وكان على بيت المال عبدالله بن أرقم ثم استعفى فأعفاه، وكان كاتبه مروان ابن الحكم (3).
قتل يوم الجمعة لثمان ليال خلون من ذي الحجة سنة خمس وثلاثين، وهو يومئذ ابن اثنتين وثمانين سنة، بعد أن حجّ بالناس عشر سنين متوالية، والسنة التي قتل فيها أقام لهم الحج عبدالله بن عباس رضي الله عنهما، وصلّى بالناس في بالمدينة وخطبهم على بن أبى طالب رضي الله عنه.
--------------------------------------------
২৬ হিজরি সনে উসমান বাইতুল হারামে পরিবর্ধন করেন, একে প্রশস্ত করেন এবং পরিবর্ধনের উদ্দেশ্যে কিছু জায়গা ক্রয় করেন। ২৯ হিজরি সনে উসমান মদীনার মসজিদে পরিবর্ধন ও তা প্রশস্ত করেন। তিনি তা খোদাইকৃত পাথর দ্বারা নির্মাণ করেন, এর স্তম্ভগুলো পাথরের তৈরি করেন এবং এর ছাদ সেগুন কাঠ দিয়ে নির্মাণ করেন। তিনি এর দৈর্ঘ্য একশত ষাট হাত করেন,
এবং এর প্রস্থ করেন একশত পঞ্চাশ হাত (১)।
তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি বাজারের লোকদের জুমার সময় সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য জুমার দিনে অতিরিক্ত আযানের প্রবর্তন করেন এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মুয়াযযিনদের জন্য বায়তুল মাল থেকে ভাতার ব্যবস্থা করেন।
তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি পুলিশ প্রধান নিয়োগ করেন। তাঁর পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন কুরাইশের বনু তায়িম গোত্রের আবদুল্লাহ ইবনে কুনফুদ এবং তাঁর দ্বাররক্ষী ছিলেন হুমরান ইবনে আবান। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি প্রচুর পরিমাণে জমি বরাদ্দ (ইক্বতা) প্রদান করেন (২)। যখন সদকার উটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি সংরক্ষিত চারণভূমির পরিমাণও বাড়িয়ে দিলেন; উমর (রা.) তাঁর পূর্বেই এমনটি করেছিলেন। যখন এই বিশাল অঞ্চলসমূহ বিজিত হলো, তখন উসমানের নিকট প্রচুর পরিমাণে খাজনা আসতে লাগল এবং সব দিক থেকে ধন-সম্পদ আসতে শুরু করল। এমনকি তিনি এর জন্য কোষাগার নির্মাণ করেন এবং পর্যাপ্ত জীবিকার ব্যবস্থা করেন। তিনি জনৈক ব্যক্তিকে এক লক্ষ বদরা প্রদানের নির্দেশ দিতেন, যার প্রতিটি বদরায় ছিল চার হাজার আউকিয়া। বায়তুল মালের দায়িত্বে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে আরকাম; পরবর্তীতে তিনি অব্যাহতি চাইলে উসমান তাঁকে অব্যাহতি দেন। তাঁর সচিব ছিলেন মারওয়ান ইবনে হাকাম (৩)।
৩৫ হিজরি সনের যিলহজ মাসের আট দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জুমার দিনে তাঁকে হত্যা করা হয়। সে সময় তাঁর বয়স ছিল বিরাশি বছর। তিনি একটানা দশ বছর লোকদের নিয়ে হজ সম্পাদন করেছিলেন। যে বছর তাঁকে হত্যা করা হয়, সে বছর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) লোকদের হজ পরিচালনা করেন এবং আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) মদীনায় লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন ও খুতবা প্রদান করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ১২)
ودفن ليلا في البقيع، بأرض اشتراها فزادها توسعة في البقيع، وكانت ولايته اثنتي عشرة سنة، إلا اثنتي عشرة ليلة (1).
ولم يشارك في قتله أحد من الصحابة رضي الله عنهم، كان القتلة أوباش وسفهاء وزنادقة قدموا من مصر والشام والعراق.
وقد استوفيت الكلام عنه في كتابي "الهادي والمهتدي".
الرابع: علي بن أبي طالب رضي الله عنه -: آخر الخلفاء الراشدين، المبشرين بالجنة رضي الله عنهم، وهو عليّ بن أبى طالب: عبد مناف بن عبد المطلب بن هاشم، ابن عم رسول الله صلى الله عليه وسلم، يكنى: أبا الحسن رضي الله عنهما.
أمه فاطمة بنت أسد بن هاشم بن عبد مناف، أسلمت وهي أوّل هاشمية ولدت لهاشميّ (2).
وفي سنة ثلاثين من ميلاد رسول الله صلى الله عليه وسلم: ولد علي بن أبي طالب، ونشأ في كنف رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهو ربيبه ومعلمه الخير والهدى (3).
وثبتت إمامة علي رضي الله عنه بعد عثمان رضي الله عنه بعقد مَن عقدها له من الصحابة رضي الله عنهم، من أهل الحل والعقد، قال عمر رضي الله عنه "لقد أعطي علي بن أبي طالب ثلاث خصال لأن تكون لي خصلة منها أحب إلي من حمر النعم" قيل: وما هن يا أمير المؤمنين؟ ، قال: "تزويجه فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسكناه المسجد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يحل له فيه ما يحل له، والراية يوم خيبر".
--------------------------------------------
তাকে রাতে বাকিতে দাফন করা হয়েছিল, এমন এক জমিতে যা তিনি নিজেই কিনেছিলেন এবং বাকিতে সম্প্রসারণ করেছিলেন। তাঁর খিলাফতের মেয়াদ ছিল বারো বছর, মাত্র বারো রাত কম (১)।
তাঁর হত্যাকাণ্ডে সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কেউ অংশগ্রহণ করেননি। হত্যাকারীরা ছিল মিশর, সিরিয়া এবং ইরাক থেকে আসা কিছু নীচ, নির্বোধ ও ধর্মত্যাগী লোক।
আমি আমার 'আল-হাদী ওয়াল মুহ্তাদী' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
চতুর্থ: আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) -: খোলাফায়ে রাশেদীনের সর্বশেষ এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্তদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) একজন। তিনি হলেন আলী ইবনে আবি তালিব: আবদে মানাফ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই। তাঁর উপনাম ছিল আবুল হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)।
তাঁর মা ছিলেন ফাতিমা বিনতে আসাদ ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন প্রথম হাশেমী নারী যিনি একজন হাশেমী সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন (২)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের ত্রিশতম বছরে আলী ইবনে আবি তালিব জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন তাঁর আশ্রিত এবং তাঁর কল্যাণ ও হিদায়াতের শিক্ষক (৩)।
উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পর 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ'-এর অন্তর্ভুক্ত সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বাইআত বা চুক্তির মাধ্যমে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইমামত (নেতৃত্ব) সাব্যস্ত হয়। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আলী ইবনে আবি তালিবকে তিনটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যার মধ্যে একটিও যদি আমার থাকত তবে তা আমার কাছে লাল উটের পালের চেয়েও বেশি প্রিয় হতো।" জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আমীরুল মুমিনীন, সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমার সাথে তাঁর বিবাহ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মসজিদে তাঁর বসবাস—যেখানে তাঁর জন্য তা-ই বৈধ ছিল যা রাসূলের জন্য বৈধ ছিল, এবং খায়বারের যুদ্ধের দিন পতাকা লাভ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال ابن عمر رضي الله عنهما: «كنا نقول على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم: رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم أبو بكر، ثم عمر، "ولقد أعطي علي بن أبي طالب ثلاث خصال، لأن يكون لي واحدة منهن أحب إليَّ من حمر النعم: تزوج فاطمة، وولدت له، وغلَّق الأبواب غير بابه" (1)، ودفع الراية إليه يوم خيبر (2)،
وهذه مما خص به علي رضي الله عنه، أما ولايته بعد عثمان رضي الله عنهما فلم يدَّعِها أحد من أهل الشورى غيره في وقته، وقد أجمعوا على فضله وعدله، وأحقيته بالخلافة، وقد حان وقتها له رضي الله عنه، وأن امتناعه عن دعوى الأمر لنفسه في وقت الخلفاء قبله كان حقا، لعلمه أن ذلك ليس وقت قيامه، لم يحتجّ علي رضي الله عنه على أحقيته بنصٍ من الكتاب ولا من السنة، لا بحديث الغدير ولا بغيره، وإنما ظن أنه الأحق لقربه من رسول الله صلى الله عليه وسلم نسبا وصهرا، ولو علم إشارة واحدة في كتاب الله عز وجل أو في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا تحتمل التأويل على أحقيته بالخلافة لبادر إلى ذكرها والاستشهاد بها، ولكان أبو بكر وعمر وبقية الصحابة من أطوع الناس لعلي رضي الله عنهم تنفيذا لما أورد، وقد كان عليٌّ الخليفة الراشد رضي الله عنه ذكيا حافظا، فقد استدل على خطأ الزبير، قال علي للزبير رضي الله عنهما: تذكر يوم مررت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بني غَنْم فنظر إليَّ فضحك وضحكت إليه، فقلتَ له: لا يدع ابن أبي طالب زهوه، فقال لك رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليس به زهو، لتقاتلنه وأنت ظالم له» قال الزبير: اللهم نعم، ولو ذكرت ما سرت مسيري هذا، والله لا أقاتلك أبداً، فانصرف عليٌّ رضي الله عنه إلى أصحابه فقال: أما الزبير فقد أعطى الله عهداً أن لا يقاتلكم، ورجع الزبير رضي الله عنه إلى عائشة رضي الله عنها فقال لها: "ما كنت في موطن منذ عقلت إلا وأنا أعرف فيه أمري غير موطني هذا"،
--------------------------------------------
এবং ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে বলতাম: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), এরপর আবু বকর, এরপর উমর।" "আর আলী বিন আবি তালিবকে তিনটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে একটি লাভ করা আমার নিকট লাল উটসমূহ পাওয়ার চেয়েও বেশি প্রিয়: তিনি ফাতেমাকে বিয়ে করেছেন এবং তাঁর সন্তান হয়েছে, (মসজিদের দিকে খোলা) দরজাগুলো তাঁর দরজা ব্যতীত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল (১), এবং খায়বারের দিন তাঁর হাতে ঝাণ্ডা প্রদান করা হয়েছিল (২)।"
এবং এগুলো এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে। আর উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পরে তাঁর খেলাফতের বিষয়ে বলা যায় যে, তাঁর সময়ে শুরা কমিটির সদস্যদের মধ্যে তিনি ছাড়া আর কেউ তা দাবি করেননি। তাঁরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, ন্যায়পরায়ণতা এবং খেলাফতের যোগ্যতার বিষয়ে একমত ছিলেন এবং তাঁর জন্য খেলাফতের সময় তখন উপস্থিত হয়েছিল। তাঁর পূর্ববর্তী খলিফাদের সময়ে নিজের জন্য এই বিষয়ের দাবি করা থেকে বিরত থাকা ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত, কারণ তিনি জানতেন যে সেটি তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের সময় ছিল না। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর যোগ্যতার পক্ষে কুরআন বা সুন্নাহর কোনো অকাট্য পাঠ (নস) দ্বারা দলিল পেশ করেননি, গাদিরে খুমের হাদিস বা অন্য কোনোটি দিয়েও নয়। বরং তিনি কেবল বংশীয় মর্যাদা এবং বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকটবর্তী হওয়ায় নিজেকে অধিক যোগ্য মনে করেছিলেন। যদি তিনি মহান আল্লাহর কিতাব বা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর মধ্যে একটি সংকেতও জানতেন যা তাঁর খেলাফতের যোগ্যতার বিষয়ে ব্যাখ্যার অবকাশ রাখত না, তবে তিনি অবশ্যই সেটি উল্লেখ করার ও তার মাধ্যমে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে অগ্রণী হতেন। আর আবু বকর, উমর এবং বাকি সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আলীর পেশকৃত সেই দলিল বাস্তবায়নে তাঁর সবচেয়ে অনুগত ব্যক্তিবর্গে পরিণত হতেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একজন বুদ্ধিমান ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন খোলাফায়ে রাশেদীনদের অন্তর্ভুক্ত খলিফা ছিলেন। তিনি জুবায়েরের ভুল প্রমাণ করার জন্য দলিল পেশ করেছিলেন। আলী জুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলেছিলেন: "আপনার কি মনে পড়ে সেই দিনের কথা, যখন আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বনু গনামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন? তখন তিনি আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন এবং আমিও তাঁর দিকে তাকিয়ে হাসলাম। তখন আপনি তাঁকে বলেছিলেন: 'ইবনে আবি তালিব যেন তার অহংকার না ছাড়ে।' তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনাকে বলেছিলেন: 'তার মধ্যে কোনো অহংকার নেই, শীঘ্রই আপনি তাঁর সাথে যুদ্ধ করবেন এমতাবস্থায় যে আপনি হবেন তাঁর প্রতি জালেম'।" জুবায়ের বললেন: "হে আল্লাহ! হ্যাঁ (আমার মনে পড়েছে), আর যদি বিষয়টি আমার স্মরণে থাকত তবে আমি এই পথে আসতাম না। আল্লাহর কসম! আমি আপনার সাথে কখনো যুদ্ধ করব না।" এরপর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সাথীদের নিকট ফিরে গেলেন এবং বললেন: "জুবায়েরের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকো যে, সে আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করেছে সে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করবে না।" আর জুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট ফিরে গেলেন এবং তাঁকে বললেন: "আমি বোধশক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে এমন কোনো স্থানে বা পরিস্থিতিতে থাকিনি যেখানে আমি আমার করণীয় সম্পর্কে জানতাম না, কিন্তু এই স্থানটি ব্যতীত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قالت: "فما تريد أن تصنع؟ " قال: "أريد أن أدعهم وأذهب" (1)،
فكيف يستدل على خطأ الزبير رضي الله عنه، ولا يستدل على الإمامة الكبرى، لم يكن ذلك من الخليفة الراشد علي رضي الله عنه إلا لعدم مجرد الإشارة فضلا عن النص على إمامته، وأنه قلما كان لنفسه في وقت الخلفاء قبله، ثم لما صار الأمر أظهر وأعلن، ولم يقصر حتى مضى على السداد والرشاد رضي الله عنه، كما مضى من قبله من الخلفاء، أئمة العدل على السداد والرشاد، متبعين لكتاب ربهم وسنة نبيهم صلى الله عليه وسلم، هؤلاء هم الأئمة الأربعة المجمع على عدلهم وفضلهم رضي الله عنهم أجمعين، هم أصحاب الخلافة الراشدة، المأمور باتباع ما سنوا، قال رسول لله صلى الله عليه وسلم: «فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء المهديين الراشدين، تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور» (2)، وهذا علي رابع أربعة هم الخلفاء الراشدين بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم من العشرة المبشرين بالجنة رضي الله عنهم.
وقد استوفيت الكلام عنهم في كتابي "الهادي والمهتدي".
هذا ضحى الإسلام صفوة الزمن بعد زمن رسول الله نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، انصرم ويتلوه ظهر الإسلام وهو بداية الحكم بعد الخلافة الراشدة، وهو ملك وليس خلافة، وإنما جرى إطلاق الخليفة على ما عهد الناس في الخلافة الراشدة، يبين هذا قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أول دينكم نبوة ورحمة، ثم ملك ورحمة، ثم ملك أعفر، ثم ملك وجبروت، يُستحل فيها الخمر، والحرير» (3)، وهذا ما حدث فعلا، ومن هنا يبدأ
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "তবে তুমি কী করতে চাও?" তিনি বললেন: "আমি তাদের ছেড়ে চলে যেতে চাই" (১),
কীভাবে যুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ভুলের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়, অথচ মহান ইমামতের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয় না? খলিফায়ে রাশেদ আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ থেকে এমনটি হয়নি কেবল তাঁর ইমামতের পক্ষে নিছক কোনো ইশারা, এমনকি কোনো অকাট্য ভাষ্য (নস) না থাকার কারণেই। আর তাঁর পূর্ববর্তী খলিফাদের সময়ে তিনি খুব কমই নিজের নেতৃত্বের কথা ভেবেছেন; অতঃপর যখন বিষয়টি আরও প্রকাশ্য ও ঘোষিত হলো, তখন তিনি কোনো ত্রুটি করেননি যতক্ষণ না তিনি সঠিক পথ ও হিদায়াতের ওপর অটল থেকে বিদায় নেন (রাদিয়াল্লাহু আনহু), যেমনটি তাঁর পূর্ববর্তী ন্যায়পরায়ণ ইমাম খলিফাগণ সত্য ও সঠিক পথের ওপর অটল থেকে অতিবাহিত হয়েছেন। তাঁরা তাঁদের রবের কিতাব ও তাঁদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন। এরাই হলেন সেই চার ইমাম যাদের ন্যায়পরায়ণতা ও শ্রেষ্ঠত্বের ওপর ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন), তাঁরাই হলেন খিলাফতে রাশেদার অধিকারী, যাঁদের প্রবর্তিত রীতির অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের ওপর আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ পালন করা আবশ্যক, তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো; আর তোমরা নবউদ্ভুদ বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো" (২)। আর এই আলী হলেন সেই চারজনের চতুর্থজন যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরবর্তী খলিফায়ে রাশেদ এবং তাঁরা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের অন্তর্ভুক্ত (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
আমি আমার "আল-হাদী ওয়াল মুহতারী" গ্রন্থে তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
এটি ছিল ইসলামের চাশত (পূর্বাহ্ন কাল) এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ সময়। তা অতিবাহিত হয়েছে এবং এরপর আসছে ইসলামের মধ্যাহ্ন কাল, যা খিলাফতে রাশেদার পরবর্তী শাসনের শুরু। আর এটি ছিল রাজতন্ত্র, খিলাফত নয়; মূলত খিলাফতে রাশেদার প্রতি মানুষের যে অভিজ্ঞতা ছিল, সেই আলোকেই একে খিলাফত বলা হতো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী এটি স্পষ্ট করে: "তোমাদের দীনের শুরু নবুওয়াত ও রহমত, এরপর রাজতন্ত্র ও রহমত, এরপর কঠোর রাজতন্ত্র, এরপর স্বৈরতন্ত্র ও জবরদস্তি, যাতে মদ ও রেশমকে বৈধ করে নেওয়া হবে" (৩)। আর বাস্তবেও তাই ঘটেছে, আর এখান থেকেই শুরু হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ظهور ما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم عن سير الحكم لا على الإطلاق بل المراد برهة من الوقت فقال صلى الله عليه وسلم: «الملك في قريش، والقضاء في الأنصار، والأذان في الحبشة والأمانة في الأزد» (1)، ولا يكون على الإطلاق ما لم يتمسك الملك بوصية رسول الله صلى الله عليه وسلم نصا وروحا، قال صلى الله عليه وسلم: «وقد تركت فيكم ما لن تضلوا بعده إن اعتصمتم به، كتاب الله» (2).
أما قوله صلى الله عليه وسلم: «إن هذا الأمر لا ينقضي حتى يمضي فيهم اثنا عشر خليفة كلهم من قريش» (3)، في بعض طرق الحديث الصحيحة «كلهم يجتمع عليه الناس» فالمراد بالاجتماع انقيادهم لبيعته، والذي وقع أن الناس اجتمعوا على أبي بكر رضي الله عنه، ثم عمر رضي الله عنه، ثم عثمان رضي الله عنه، ثم علي رضي الله عنه، إلى أن وقع أمر الحكمين في صفين فلقب معاوية يومئذ بالخليفة، ثم اجتمع الناس على معاوية رضي الله عنه عند صلح الحسن رضي الله عنه، ثم اجتمعوا على ولده يزيد، ولم ينتظم للحسين رضي الله عنه أمر بل قتل قبل ذلك، ثم لما مات يزيد وقع الاختلاف إلى أن اجتمعوا على عبدالملك بن مروان بعد قتل ابن الزبير، ثم اجتمعوا على أولاده الأربعة: الوليد، ثم سليمان، ثم يزيد، ثم هشام، وتخلل بين سليمان ويزيد عمر بن عبدالعزيز، فهؤلاء سبعة بعد الخلفاء الراشدين، والثاني عشر هو الوليد بن يزيد بن عبدالملك اجتمع الناس عليه لما مات عمه هشام فولي نحو أربع سنين، ثم قاموا عليه فقتلوه، وانتشرت الفتن وتغيرت الأحوال من يومئذ، ولم يتفق أن يجتمع الناس على خليفة بعد ذلك، لأن يزيد بن الوليد الذي قام على ابن عمه الوليد بن يزيد لم تطل مدته، بل ثار عليه قبل أن يموت ابن عم أبيه مروان بن محمد بن مروان، ولما مات يزيد ولي أخوه إبراهيم فغلبه مروان، ثم
--------------------------------------------
শাসনব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছিলেন তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তবে এটি নিঃশর্তভাবে নয় বরং এর দ্বারা একটি নির্দিষ্ট সময় উদ্দেশ্য। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "রাজত্ব কুরাইশদের মধ্যে, বিচারকার্য আনসারদের মধ্যে, আজান হাবশীদের মধ্যে এবং আমানতদারি আযদ গোত্রের মধ্যে।" (১)। আর শাসনব্যবস্থা ততদিন পর্যন্ত এমনটি থাকবে না যতদিন না শাসক রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসিয়তকে শব্দে ও চেতনায় দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না; তা হলো আল্লাহর কিতাব।" (২)।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "নিশ্চয়ই এই বিষয়টি (খিলাফত) শেষ হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে বারোজন খলিফা অতিবাহিত হবেন, যাদের সকলেই কুরাইশ বংশের হবে" (৩)—সহিহ হাদিসের কোনো কোনো সূত্রে এসেছে, "যাদের ব্যাপারে সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ হবে"। এখানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অর্থ হলো তাঁর বায়আত বা আনুগত্যের প্রতি অনুগত হওয়া। বাস্তবে যা ঘটেছে তা হলো, মানুষ আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তারপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু), তারপর উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু), এরপর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর, যে পর্যন্ত না সিফফিনের যুদ্ধে দুই বিচারকের বিষয়টি সামনে আসে এবং সেদিন মুয়াবিয়াকে খলিফা উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এরপর হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সন্ধির সময় মানুষ মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়। এরপর তারা তাঁর পুত্র ইয়াজিদের ওপর একমত হয়। তবে হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য বিষয়টি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হতে পারেনি, বরং তার আগেই তিনি শহীদ হন। এরপর যখন ইয়াজিদ মারা গেল, তখন মতভেদ দেখা দিল যতক্ষণ না ইবনুল জুবায়েরের শাহাদাতের পর তারা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের ওপর ঐক্যবদ্ধ হলো। এরপর তারা তাঁর চার পুত্রের ওপর ঐক্যবদ্ধ হলো: ওয়ালিদ, তারপর সুলায়মান, তারপর ইয়াজিদ, এরপর হিশাম। আর সুলায়মান ও ইয়াজিদের মধ্যবর্তী সময়ে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এঁরা হলেন খুলাফায়ে রাশেদীনের পরবর্তী সাতজন। আর দ্বাদশতম ব্যক্তি হলেন ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিক, যার ওপর মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল যখন তাঁর চাচা হিশাম মারা যান। তিনি প্রায় চার বছর শাসন করেন। এরপর লোকেরা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তাঁকে হত্যা করে। সেই দিন থেকে ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এরপর আর কোনো খলিফার ওপর মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ ইয়াজিদ ইবনে ওয়ালিদ, যিনি তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর শাসনকাল দীর্ঘ হয়নি; বরং তাঁর পিতার চাচাতো ভাই মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান মারা যাওয়ার আগেই তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। আর যখন ইয়াজিদ মারা গেল, তখন তাঁর ভাই ইব্রাহিম দায়িত্ব গ্রহণ করেন কিন্তু মারওয়ান তাঁকে পরাজিত করেন, এরপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثار على مروان بنو العباس إلى أن قتل، ثم كان أول خلفاء بني العباس أبو العباس السفاح، ولم تطل مدته مع كثرة من ثار عليه، ثم ولي أخوه المنصور فطالت مدته لكن خرج عنهم المغرب الأقصى باستيلاء المروانيين على الأندلس، واستمرت في أيديهم متغلبين عليها إلى أن تسموا بالخلافة بعد ذلك، وانفرط الأمر في جميع أقطار الأرض، فلم يبق من الخلافة إلا الاسم في بعض البلاد، بعد أن كانوا في أيام بني عبدالملك بن مروان يخطب للخليفة في جميع أقطار
الأرض، شرقا وغربا وشمالا وجنوبا مما غلب عليه المسلمون، ولا يتولى أحد في بلد من البلاد كلها الإمارة على شيء منها إلا بأمر الخليفة، ومن نظر في أخبارهم عرف صحة ذلك، فعلى هذا يكون المراد بقوله ثم يكون الهرج: يعني القتل الناشئ عن الفتن، وقوعا فاشيا يفشو ويستمر ويزداد على مدى الأيام، وكذا كان والله المستعان (1).
انتهى ضحى الإسلام بخلافة علي بن أبي طالب رضي الله عنه.
تلا ظهر الإسلام بدءًا بخلفاء بني أمية؛ وهم أربعة عشر خليفة:
الأول: الصحابي معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه -، ولو لم يكن له من الفضل إلا الصحبة، وكتابة الوحي بين يدي رسول الله لكفى، وآخرهم مروان الجعدي، نسبة إلى الجعد بن درهم القائل بخلق القرآن، وكانت مدة ملكهم نيفاً وتسعين سنة؛ بذكر خلافة عبدالله بن الزبيرً (2)، من سيئات بعض خلفاء بني أمية إباحتهم سب علي صلى الله عليه وسلم، من سنة إِحدى وأربعين؛ السنة التي خلع الحسن فيها نفسه من الخلافة، إلى أول سنة تسع وتسعين، آخر أيام سليمان بن عبدالملك، فلما ولي عمر بن عبدالعزيز رحمه الله، كتب إِلى نوابه: بإبطاله، ولما خطب يوم الجمعة، أبدل السب في آخر الخطبة
--------------------------------------------
মারওয়ানের বিরুদ্ধে বনু আব্বাস বিদ্রোহ করে যতক্ষণ না তিনি নিহত হন, এরপর বনু আব্বাসের প্রথম খলিফা ছিলেন আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীদের আধিক্যের কারণে তাঁর রাজত্বকাল দীর্ঘ হয়নি। এরপর তাঁর ভাই আল-মনসুর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং তাঁর মেয়াদ দীর্ঘ হয়, কিন্তু মারওয়ান বংশীয়রা আন্দালুস দখল করে নেওয়ায় দূরবর্তী মাগরিব অঞ্চল তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। এবং পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চলে শাসনব্যবস্থা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে, ফলে কিছু দেশে খিলাফতের নাম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না। অথচ বনু আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের সময়ে পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তে—পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর এবং দক্ষিণে যেখানেই মুসলিমদের আধিপত্য ছিল—সেখানে খলিফার নামে খুতবা পাঠ করা হতো। এবং খলিফার আদেশ ব্যতীত দেশসমূহের কোনো একটিরও কোনো অংশের শাসনভার কেউ গ্রহণ করতে পারত না। যারা তাদের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করেন তারা এর সত্যতা জানতে পারবেন। অতএব, এর ভিত্তিতে তাঁর (রাসূলুল্লাহর) বাণী "এরপর হারজ হবে" এর উদ্দেশ্য হলো: ফিতনা থেকে উদ্ভূত হত্যাকাণ্ড, যা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে, স্থায়ী হবে এবং দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। আর বাস্তবে এমনই হয়েছিল, এবং আল্লাহর সাহায্যই কাম্য (১)।
আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতের মাধ্যমে ইসলামের প্রারম্ভিক জ্যোতির্ময় কাল শেষ হয়।
এরপর বনু উমাইয়্যার খলিফাদের মাধ্যমে ইসলামের শক্তিশালী উত্থান শুরু হয়; তাঁরা ছিলেন চৌদ্দজন খলিফা:
প্রথম: সাহাবী মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু - যদি তাঁর জন্য সাহাবী হওয়া এবং রাসূলুল্লাহর সম্মুখে ওহী লিপিবদ্ধ করা ব্যতীত আর কোনো ফযীলত না-ও থাকত, তবে সেটিই যথেষ্ট হতো। আর তাঁদের সর্বশেষ খলিফা ছিলেন মারওয়ান আল-জাদি, যিনি কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তা জা’দ ইবনে দিরহামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের খিলাফতসহ তাঁদের রাজত্বকাল ছিল নব্বই বছরের কিছু বেশি (২)। বনু উমাইয়্যার কিছু খলিফার মন্দ কাজের মধ্যে ছিল আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি গালিগালাজ বৈধ করা, যা একচল্লিশ হিজরী থেকে—যে বছর হাসান খিলাফত থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন—শুরু হয়ে নিরানব্বই হিজরীর শুরু অর্থাৎ সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিকের শেষ সময় পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপর যখন ওমর ইবনে আবদুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের কাছে এটি বাতিলের আদেশ লিখে পাঠান। আর যখন তিনি জুমার খুতবা দেন, তখন খুতবার শেষে গালিগালাজ করার প্রথাকে তিনি পরিবর্তন করে দেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بقراءة قوله تعالى {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} (1) فلم يسب علي بعد ذلك. واستمر الخطباء على قراءة هذه الآية، إلى يومنا هذا، وزال المنكر والحمد لله.
لذلك مدحه كثير بن عبدالرحمن الخزاعي فقال:
وُلِّيت فلم تشتم علياً ولم تُخفْ
… برياً ولم تتبع سجية مجرمِ
وقلتَ فصدَّقتَ الذي قلتَ بالذي
… فعلتَ فأضحى راضياً كل مسلم.
ومن سيئات بعضهم مواظبتهم على تأخير الصلاة إلى آخر وقتها الموسع، إلا عمر بن عبدالعزيز رحمه الله، وشدتهم على أولاد علي رضي الله عنهم (2)، وصحح بعض العلماء حديث «إذا بلغ بنو العاص ثلاثين: اتخذوا دين الله دغلاً، وعباد الله خولاً، ومال الله دولاً» (3)، وربما انطبق هذا على بعضهم.
وقد ألصقت ببني أمية تهم، هي افتراءات صنعتها الخلافات السياسية، وهذا لم تسلم منه أي دولة على وجه الأرض، من عهد أبي بكر رضي الله عنه إلى يومنا هذا، وإلى أن تقوم الساعة.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াতের মাধ্যমে {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করেন; তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো} (১) এরপর থেকে আলীকে আর গালি দেওয়া হয়নি। এবং খতীবগণ আজ পর্যন্ত এই আয়াত পাঠ করা অব্যাহত রেখেছেন এবং আল্লাহর প্রশংসায় সেই মন্দ প্রথা দূরীভূত হয়েছে।
এই কারণে কাসীর বিন আব্দুর রহমান আল-খুযায়ী তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন:
আপনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন অথচ আলীকে গালি দেননি এবং কোনো নিরপরাধকে ভীত করেননি
… আর কোনো অপরাধীর স্বভাব অনুসরণ করেননি।
আপনি যা বলেছেন, আপনার কর্মের মাধ্যমে সেই বলাকে সত্যে পরিণত করেছেন
… ফলে প্রত্যেক মুসলিম সন্তুষ্ট হয়েছে।
তাদের কারো কারো মন্দ কাজের মধ্যে ছিল সালাতকে তার প্রশস্ত ওয়াক্তের শেষ সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করার অভ্যাস, তবে উমর বিন আব্দুল আযীয (রাহিমাহুল্লাহ) এর ব্যতিক্রম ছিলেন। এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সন্তানদের প্রতি তাদের কঠোরতা (২), আর কোনো কোনো আলিম এই হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন: «যখন বনু আস-এর সংখ্যা ত্রিশে পৌঁছাবে, তখন তারা আল্লাহর দ্বীনকে ধোঁকা ও প্রতারণার মাধ্যম বানাবে, আল্লাহর বান্দাদেরকে দাসে পরিণত করবে এবং আল্লাহর মালকে নিজেদের সম্পদে পরিণত করবে» (৩)। সম্ভবত এটি তাদের কারো কারো ক্ষেত্রে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
বনু উমাইয়্যাদের ওপর এমন কিছু অপবাদ আরোপ করা হয়েছে যা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সৃষ্ট মিথ্যাচার। আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রই এ থেকে মুক্ত থাকেনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أما معاوية رضي الله عنه فهو الخليفة الخامس على ترتيب الخلافة بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو الملك الأول من ملوك بني أمية بعد تحول الحكم من الخلافة الراشدة إلى الملك.
وهو معاوية بن أبي سفيان صخر بن حرب بن أمية بن عبدشمس بن عبد مناف بن قصي، الأموي، أبو عبدالرحمن، أسلم هو وأبوه يوم فتح مكة، وشهد حُنينًا وكان من المؤلفة قلوبهم، ثم حسن إسلامه، وكان أحد الكتاب لرسول الله صلى الله عليه وسلم (1).
ولد معاوية بن أبي سفيان في سنة أربع وثلاثين من ميلاد رسول الله صلى الله عليه وسلم (2).
روي له عن النبي صلى الله عليه وسلم مائة حديث وثلاثة وستون حديثًا (3).
من أقواله:قال لشاب من قريش دخل عليه فأغلظ، فقال له معاوية رضي الله عنه: يا ابن أخي، أنهاك عن السلطان يغضب غضب الصبي ويأخذ أخذ الأسد، كتب زياد إلى معاوية في رجل، فكتب إليه معاوية "إنه ليس ينبغي لي ولا لك أن نسوس الناس بسياسة واحدة؛ أن نلين جميعًا فتمرح الناس في المعصية، أو نشتد جميعًا فنحمل الناس على المهالك، ولكن تكون للشدة والفظاظة، وأكون للين والرأفة" (4)، وذكروا الزرقاء بنت عدي بن قيس الهمدانية وهي امرأة من أهل الكوفة شهدت مع قومها صفين وكان لها لسان وعقل فقال معاوية: "أيكم يحفظ كلامها يوم صفين قال القوم كلهم: نحن نحفظه يا أمير المؤمنين قال ما تشيرون عليَّ في أمرها قال بعضهم:
--------------------------------------------
মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা বলতে গেলে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর খেলাফতের ক্রমধারা অনুযায়ী পঞ্চম খলিফা এবং বনু উমাইয়া রাজবংশের রাজাদের মধ্যে প্রথম রাজা যখন শাসনব্যবস্থা খুলাফায়ে রাশেদীনের খেলাফত থেকে রাজতন্ত্রে পরিবর্তিত হয়।
তিনি হলেন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান সাখর ইবনে হারব ইবনে উমাইয়া ইবনে আবদে শামস ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাই, আল-উমাভী, আবু আবদুর রহমান। তিনি এবং তাঁর পিতা মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি হুনাইনের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ছিলেন সেই সব লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা হয়েছিল, অতঃপর তাঁর ইসলাম সুন্দর ও সুদৃঢ় হয়। তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যতম লেখক ছিলেন (১)।
মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মের চৌত্রিশতম বছরে জন্মগ্রহণ করেন (২)।
তাঁর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একশত তেষট্টিটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে (৩)।
তাঁর কিছু বাণী:তিনি কুরাইশ বংশের এক যুবকের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যে তাঁর নিকট এসে রূঢ় আচরণ করেছিল। মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, আমি তোমাকে শাসক সম্পর্কে সতর্ক করছি; তিনি শিশুর মতো রাগান্বিত হন এবং সিংহের মতো পাকড়াও করেন। যিয়াদ জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে মুয়াবিয়ার কাছে চিঠি লিখলে মুয়াবিয়া তাকে লিখে পাঠান: "আমার বা তোমার জন্য এটি সমীচীন নয় যে আমরা মানুষকে একটিমাত্র নীতিতে শাসন করব; আমরা উভয়ই যদি কোমল হই তবে মানুষ পাপাচার ও অবাধ্যতায় মেতে উঠবে, আর যদি আমরা উভয়ই কঠোর হই তবে আমরা মানুষকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেব। বরং তুমি কঠোরতা ও রূঢ়তার জন্য থাকবে এবং আমি কোমলতা ও দয়ার জন্য থাকব" (৪)। তারা আদি ইবনে কায়েস আল-হামদানীর কন্যা যারকা-র কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি কুফার অধিবাসী এক নারী ছিলেন এবং নিজ সম্প্রদায়ের সাথে সিফফিনের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত বাগ্মী ও বুদ্ধিমতী ছিলেন। মুয়াবিয়া বললেন: "সিফফিনের যুদ্ধের দিনে তাঁর ভাষণ তোমাদের কার মুখস্থ আছে?" উপস্থিত সকলে বলল: "হে আমিরুল মুমিনিন, আমরা তা মুখস্থ রেখেছি।" তিনি বললেন: "তাঁর ব্যাপারে তোমরা আমাকে কী পরামর্শ দাও?" তাদের কেউ কেউ বলল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
نشير عليك بقتلها، قال: بئس الرأي أشرتم، أيحسن بمثلي أن يتحدث عنه أنه قتل امرأة بعد أن ظفر، فكتب إلى عامله بالكوفة أن أوفد إليّ الزرقاء بنت عدي مع ثقة من محرمها وعِدة من فرسان قومها ومهد لها وطاءً ليناً، واسترها بستر حصيف، وأوسع عليها في النفقة".
فأرسل إليها فاقرأها الكتاب فقالت: "أما أنا فغير زائغة عن طاعة؛ فإن كان أمير المؤمنين جعل الاختيار لي لم أرم من بلدي هذا، وإن كان حتم الأمر فالطاعة له" فحملها في هودج جعل متناه خزا مبطنا بعصب اليمن، ثم أحسن صحبتها، فلما قدمت على معاوية قال لها: "مرحبا وأهلا، خير مقدم أقدموك وأفضل، كيف أنت يا خالة؟ ، وكيف كان مسيرك؟ " قالت: "خير مسير؛ كأني كنت ربيبة بيت، أو طفلا في مهد"، قال "بذاك أمرتهم، فهل تعلمين لم بعثت اليك؟ "، قالت: "لا يعلم الغيب إلا الله"، قال: "ألست راكبة الجمل الأحمر يوم صفين، وأنت بين الصفين توقدين الحرب وتحضين عليها؟ "، قالت: بلى، قال: "فما حملك على ذلك؟ "، قالت: "يا أمير المؤمنين، إنه قد مات الرأس وبتر الذنب، والدهر ذو غِيَر، ومن تذكر أبصر، والأمر يحدث بعد الأمر"، قال لها: "صدقت فهل تحفظين كلأمك؟ "، قالت: "والله ما أحفظه"، قال: "لكني والله أحفظه، لله أبوك لقد سمعتك تقولين: أيها الناس إنكم في فتنة غشيتكم جلابيب الظلم، وحادت بكم عن قصد المحجة، يا لها من فتنة عمياء صماء، لا يُسمع لداعيها ولا يُنقاد لسائقها، أيها الناس إن المصباح لا يضيء في الشمس، وإن الكوكب لا ينير في القمر، وإن البغل لا يسبق الفرس، وإن الدق لا يوازي الحجر، ولا يقطع الحديد إلا الحديد، ألا من استرشدنا أرشدناه، ومن سألنا أخبرناه، إن الحق كان يطلب ضالة فأصابها، فصبرا يا معاشر المهاجري والأنصار على المضض، فكان قد التأم شعب الشتات، وظهرت كلمة العدل، وغلب الحق باطله، فلا يعجلن أحد فيقول: كيف وأنَّى، ولكن ليقضي الله أمرا كان مفعولا، ولله عاقبة الأمور، إن خضاب النساء الحناء، وإن
আমরা আপনাকে তাকে হত্যার পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি বললেন: তোমরা কতই না নিকৃষ্ট পরামর্শ দিলে! আমার মতো ব্যক্তির সম্পর্কে কি এ কথা বলা শোভা পায় যে, তিনি বিজয় লাভ করার পর একজন নারীকে হত্যা করেছেন? অতঃপর তিনি কুফার গভর্নরের নিকট এই মর্মে পত্র লিখলেন যে, আদীর কন্যা যারকাকে যেন তার বংশের কয়েকজন অশ্বারোহী এবং তার একজন বিশ্বস্ত মাহরামসহ আমার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার জন্য আরামদায়ক বাহন প্রস্তুত করো, তাকে পর্দার অন্তরালে আবৃত করো এবং তার ব্যয়নির্বাহে কোনো সংকীর্ণতা করো না।
অতঃপর তিনি তার কাছে লোক পাঠালেন এবং তাকে পত্রটি পড়ে শোনালেন। তিনি বললেন: "আমি আনুগত্য থেকে বিচ্যুত নই; যদি আমীরুল মুমিনীন আমাকে পছন্দ করার সুযোগ দিতেন, তবে আমি আমার এই শহর ত্যাগ করতাম না। আর যদি বিষয়টি বাধ্যতামূলক হয়, তবে তার আনুগত্যই কর্তব্য।" অতঃপর তাকে একটি হাওদায় বহন করা হলো যার আবরণ ছিল রেশমি এবং যার ভেতরে ইয়ামানি কারুকার্যখচিত কাপড়ের আস্তরণ ছিল। এরপর তিনি তার সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করলেন। যখন তিনি মুয়াবিয়ার দরবারে উপস্থিত হলেন, তিনি তাকে বললেন: "স্বাগতম এবং মারহাবা। আপনার আগমন অত্যন্ত কল্যাণময় ও মর্যাদাপূর্ণ। হে খালা, আপনি কেমন আছেন? আপনার যাত্রা কেমন ছিল?" তিনি বললেন: "অত্যন্ত কল্যাণময় যাত্রা; মনে হচ্ছিল যেন আমি ঘরের আদরের কন্যা কিংবা দোলনার কোনো শিশু।" তিনি বললেন: "আমি তাদের এমনটিই নির্দেশ দিয়েছিলাম। আপনি কি জানেন কেন আপনাকে তলব করেছি?" তিনি বললেন: "আল্লাহ ব্যতীত কেউ গায়েব জানেন না।" তিনি বললেন: "আপনি কি সিফফিনের যুদ্ধে সেই লাল উটের সওয়ার ছিলেন না, যখন আপনি দুই বাহিনীর মাঝে যুদ্ধের অগ্নি প্রজ্বলিত করছিলেন এবং লড়াইয়ে প্ররোচিত করছিলেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "কিসে আপনাকে এতে উদ্বুদ্ধ করেছিল?" তিনি বললেন: "হে আমীরুল মুমিনীন, মাথা মরে গেছে এবং লেজ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মহাকাল পরিবর্তনশীল; যে শিক্ষা গ্রহণ করে সে উপলব্ধি করতে পারে। সময়ের পরিক্রমায় নতুন নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে।" তিনি তাকে বললেন: "আপনি সত্য বলেছেন। আপনি কি আপনার তখনকার সেই বক্তব্যগুলো মনে রেখেছেন?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি তা মুখস্থ রাখিনি।" তিনি বললেন: "কিন্তু আল্লাহর কসম, আমার তা মনে আছে। আপনার পিতা কতই না ধন্য! আমি আপনাকে বলতে শুনেছিলাম: হে লোকসকল! আপনারা এমন এক ফিতনার মধ্যে নিপতিত হয়েছেন যা আপনাদের ওপর জুলুমের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে এবং সত্যের সরল পথ থেকে বিচ্যুত করেছে। কী ভয়াবহ সেই অন্ধ ও বধির ফিতনা, যার আহ্বানকারীর ডাক শোনা যায় না এবং যার চালনাকারীর অনুগত্য করা হয় না। হে লোকসকল! সূর্যের উপস্থিতিতে প্রদীপের আলো দেখা যায় না, চাঁদের আলোতে নক্ষত্র দ্যুতি ছড়ায় না, খচ্চর কখনো ঘোড়াকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না, কঙ্কর পাথরের সমতুল্য হয় না, এবং লোহা ছাড়া লোহাকে কাটা যায় না। সাবধান! যে আমাদের কাছে পথনির্দেশ চেয়েছে আমরা তাকে পথ দেখিয়েছি, যে আমাদের জিজ্ঞাসা করেছে তাকে আমরা উত্তর দিয়েছি। সত্য তার হারানো বস্তু খুঁজছিল এবং তা খুঁজে পেয়েছে। অতএব হে মুহাজির ও আনসার সম্প্রদায়! আপনারা এই তিক্ততার ওপর ধৈর্য ধারণ করুন। অচিরেই বিচ্ছিন্নতা দূর হবে, ইনসাফের বাণী প্রকাশিত হবে এবং সত্য বাতিলের ওপর বিজয়ী হবে। কেউ তাড়াহুড়ো করে যেন না বলে: কীভাবে এবং কেন? বরং আল্লাহ তাঁর নির্ধারিত ফয়সালা পূর্ণ করবেন। আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহর হাতেই। নিশ্চয়ই নারীদের রঞ্জক হলো মেহেদি, আর..."
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ২০)
خضاب الرجال الدماء، ولهذا ما بعده والصبر خير في العواقب، إِيْهِ إلى الحرب قُدُما غير ناكصين، فهذا يوم له ما بعده".
قال معاوية: "يا زرقاء لقد اشركت عليا في كل دم سفكه"، فقالت: "أحسن الله بشارتك يا أمير المؤمنين، وأدام سلامتك، مثلك من بشر بخير سَرَّ"، قال لها: "وقد سرك ذلك؟ "، قالت: "نعم وأنَّى لي بتصديقه"، فقال معاوية: "والله لوفاؤكم له بعد موته أعجب إليَّ من حبكم له في حياته، أذكري حاجتك"، فقالت: "يا أمير المؤمنين، آليت على نفسي ألا أسال أحدا أعنت عليه أبدا شيئا، ومثلك من أعطى من غير مسالة، وجاد عن غير طلبة"، قال: صدقت، ثم أقطعها ضيعة استغلتها في أول سنة عشرة آلاف درهم (1).
ولم يرض معاوية من أخته أم الحكم تفضيله على علي رضي الله عنهما، بل قال لها معاوية: "يا أختاه لا يَكذبَنَّك ظنك، ولا يبعد عنك ذهنك، والله ما عادلتُ عليا قط، فكيف وهو علي بن أبي طالب بن عبد المطلب بن هاشم من ولد إبراهيم الخليل عليه السلام، وكان عبد المطلب بن هاشم جواد العرب، وفارس الكُرب، المطعم بالسَّغَب، وكان أبو طالب السهل الطريقة، الحامي الحقيقة، وكان علي بن أبي طالب قاضي الأمة، وأعظمهم فخرا، وأكرمهم مجدا، حامي الذمار، عزيز الجار، صهر الرسول، وسيد الكهول، وزوج البتول، فأيم الله لأُصْبِحَنَّ جالسا ولأُسْمِعَنَّكِ ممن وفد عليَّ من سائر العرب خلاف ما ظننت، وغير ما وصفت" (2).
وأخذ معاوية يستثير من يدخل عليه ليسمع أخته ثناءهم على عليِّ رضي الله عنه، لتعلم أن المقدم علي رضي الله عنهما.
--------------------------------------------
"পুরুষদের রঞ্জক হলো রক্ত, আর এ কারণেই এর পরবর্তী পরিণতির জন্য ধৈর্যই সর্বোত্তম। বীরদর্পে যুদ্ধের দিকে এগিয়ে চলো, পিছু হটবে না, কারণ এটি এমন এক দিন যার ফলাফল সুদূরপ্রসারী।"
মুয়াবিয়া বললেন: "হে যারকা! আলী যে রক্ত ঝরিয়েছেন, তার প্রতিটিতে তুমি অংশীদার ছিলে।" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন! আল্লাহ আপনার সুসংবাদকে উত্তম করুন এবং আপনার নিরাপত্তা দীর্ঘস্থায়ী করুন। আপনার মতো ব্যক্তিই এমন কল্যাণের সুসংবাদ দেন যা আনন্দিত করে।" তিনি তাকে বললেন: "আর এটি কি তোমাকে আনন্দিত করেছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আর এর সত্যতা নিশ্চিত করার উপায়ই বা আমার কাছে আর কী ছিল!" তখন মুয়াবিয়া বললেন: "আল্লাহর শপথ! তার মৃত্যুর পর তোমাদের এই আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা আমার কাছে তার জীবদ্দশায় তোমাদের ভালোবাসার চেয়েও বেশি বিস্ময়কর। তোমার প্রয়োজনের কথা বলো।" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন! আমি নিজের ওপর শপথ করেছি যে, যার বিরুদ্ধে আমি সাহায্য করেছি তার কাছে কখনও কিছু চাইব না। আর আপনার মতো ব্যক্তি তো না চাইতেই দান করেন এবং প্রার্থনা ছাড়াই উদারতা প্রদর্শন করেন।" তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ।" এরপর তিনি তাকে একটি ভূসম্পত্তি দান করলেন, যা থেকে প্রথম বছরেই দশ হাজার দিরহাম আয় হয়েছিল (১)।
মুয়াবিয়া (রা.) তার বোন উম্মুল হাকাম কর্তৃক তাকে আলীর (রা.) ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা পছন্দ করেননি, বরং মুয়াবিয়া তাকে বললেন: "হে বোন! তোমার ধারণা যেন তোমাকে প্রতারিত না করে এবং তোমার বুদ্ধি যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে। আল্লাহর শপথ! আমি কখনই নিজেকে আলীর সমতুল্য মনে করিনি। আর তা হবেই বা কীভাবে, অথচ তিনি হলেন আলী ইবনে আবি তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম, যিনি ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামের বংশধর। আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ছিলেন আরবদের দানবীর, সংকটকালের অশ্বারোহী যোদ্ধা এবং দুর্ভিক্ষের সময় অন্নদাতা। আর আবু তালিব ছিলেন অমায়িক স্বভাবের ও সত্যের রক্ষক। আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন উম্মতের বিচারক, তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ গৌরবের অধিকারী, মর্যাদায় সবচেয়ে সম্মানিত, পবিত্র আমানতের রক্ষক, প্রতিবেশীর নিকট সম্মানিত, রাসূলুল্লাহর জামাতা, বয়োজ্যেষ্ঠদের নেতা এবং বাতুলের (ফাতিমার) স্বামী। আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই মজলিসে বসব এবং আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রতিনিধিদের মুখ থেকে তোমাকে এমন সব কথা শোনাব যা তোমার ধারণার বিপরীত এবং তোমার বর্ণনার বাইরে" (২)।
মুয়াবিয়া (রা.) তার কাছে প্রবেশকারীদের উৎসাহিত করতে লাগলেন যেন তার বোন আলীর (রা.) প্রতি তাদের প্রশংসা শুনতে পান এবং জানতে পারেন যে আলী (রা.)-ই হলেন অগ্রগণ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال معاوية رضي الله عنه: "لا أضع سيفي حيث يكفيني سوطي، ولا سوطي حيث يكفيني لساني، ولو أن بيني وبين الناس شعرة ما انقطعت"، قالوا: وكيف ذلك يا أمير المؤمنين؟ ، قال: "كنت إذا أرخوها شددتها وإذا شدوها جررتها" (1).
توفي معاوية رضي الله عنه بدمشق يوم الخميس لثمان بقين من رجب سنة ستين، وكانت ولايته تسع عشرة سنة وأربعة أشهر إلا ليال، وكانت له يوم مات ثمان وسبعون سنة (2).
وهو أول من اتخذ الخصيان: الخصي: هو من قُطع خصاه، والمجبوب: من قُطع ذكره، واختير أنهما في حرمة النظر إلى النساء كغيرهما من الأجانب، وكان معاوية يرى جواز نظر الخصي ولا يُعتد برأيه، وهو على ما قيل: أول من اتخذ الخصيان، وعن ميسون الكلبية أن معاوية دخل عليها ومعه خصي فتقنعت منه فقال: هو خصي فقالت: يا معاوية أترى أن المثلة به تحلل ما حرم الله تعالى، وليس لأحد أن يستدل بما روي أن المقوقس أهدى للنبي صلى الله عليه وسلم خصيا فقبله إذ لا دلالة فيه على جواز إدخاله على النساء (3).
ومعاوية هو أول من اتخذ ديوان الخاتم لختم الكتب؛ وأول من اتخذ البريد في الإسلام (4).
وأول من استحلف الناس على الوفاء بالبيعة، وأول من عهد إلى أحد أبنائه، وهو يزيد، ولم يجعل الأمر شورى (5)، فانتقل من الخلافة إلى الملك.
--------------------------------------------
মুয়াবিয়া (রা.) বলেন: "যেখানে আমার চাবুক যথেষ্ট, সেখানে আমি তলোয়ার ব্যবহার করি না; আর যেখানে আমার কথা যথেষ্ট, সেখানে আমি চাবুক ব্যবহার করি না। যদি আমার ও মানুষের মাঝে একটি চুল পরিমাণ সম্পর্কও অবশিষ্ট থাকে, তবে আমি তা ছিঁড়তে দিই না।" তারা জিজ্ঞেস করল: হে আমিরুল মুমিনীন! সেটি কীভাবে সম্ভব? তিনি বললেন: "তারা যখন তা শিথিল করত আমি তখন তা টেনে ধরতাম, আর যখন তারা তা টেনে ধরত তখন আমি তা (নিজের দিকে) টানতাম (১)।"
মুয়াবিয়া (রা.) ষাট হিজরি সনের রজব মাসের আট দিন বাকি থাকতে বৃহস্পতিবার দামেস্কে ইন্তেকাল করেন। তাঁর শাসনকাল ছিল উনিশ বছর চার মাস, কেবল কয়েক রাত কম। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আটাত্তর বছর (২)।
তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি খোজা (নপুংসক) নিয়োগ করেছিলেন। 'খাসি' (খোজা) বলা হয় তাকে যার অণ্ডকোষ কর্তন করা হয়েছে, আর 'মাজবুব' হলো সে যার লিঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। নারীদের দেখার ক্ষেত্রে তাদের বিধান অন্যান্য পরপুরুষের মতোই—এই মতটিই পছন্দনীয়। মুয়াবিয়া খোজা ব্যক্তিদের (নারীদের) দেখা বৈধ মনে করতেন, তবে তাঁর এই ব্যক্তিগত মত গ্রহণযোগ্য নয়। বলা হয়ে থাকে যে, তিনিই সর্বপ্রথম খোজা নিয়োগ করেন। মায়সুন আল-কালবিয়্যাহ থেকে বর্ণিত যে, মুয়াবিয়া একবার একজন খোজাকে নিয়ে তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, তখন মায়সুন পর্দা করলেন। মুয়াবিয়া বললেন: এ তো খোজা। তিনি বললেন: হে মুয়াবিয়া! আপনি কি মনে করেন যে, অঙ্গহানি আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাকে হালাল করে দেয়? মুকাউকিস নবী (সা.)-কে একজন খোজা উপহার দিয়েছিলেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন—এই বর্ণনা দিয়ে কারো দলিল পেশ করার সুযোগ নেই; কারণ এতে নারীদের নিকট তাদের প্রবেশের বৈধতার কোনো প্রমাণ নেই (৩)।
মুয়াবিয়া প্রথম ব্যক্তি যিনি চিঠিপত্রে সিল দেওয়ার জন্য 'দিওয়ানুল খাতিম' (সিল বিভাগ) প্রবর্তন করেন এবং ইসলামে প্রথম ডাক ব্যবস্থা (বারিদ) চালু করেন (৪)।
তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি বায়াতের প্রতি আনুগত্যের জন্য মানুষের কাছ থেকে শপথ নিয়েছিলেন এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁর সন্তানদের মধ্যে একজনকে, অর্থাৎ ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন এবং বিষয়টিকে পরামর্শের (শুরা) ওপর ছেড়ে দেননি (৫)। এর মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা খিলাফত থেকে রাজতন্ত্রে স্থানান্তরিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ২২)
كان من قواده جنادة بن مالك الزهراني رضي الله عنه، كان من صغار الصحابة، سمع النبي صلى الله عليه وسلم، وروى عنه، وكان قائدا بحريا، على الصوائف فتح جزيرة رودس، وجزيرة طرسوس سنة ثلاث وخمسين من الهجرة، وفي سنة أربع وخمسين من الهجرة فتح جزيرة أرواد وهي قريبة من القسطنطينية، وأقام المسلمون بها سبع سنين، فأتاهم خبر وفاة معاوية رضي الله عنه، وأمر يزيد بن معاوية بعودة القائد جنادة ومن معه، وشارك جنادة في فتح مصر، وعرض عليه معاوية استلحاقه أخا فرض جنادة ذلك العرض.
الثاني من ملوك بني أمية: يزيد بن معاوية: الخليفة السادس، من ملوك بني أمية، وهو يزيد بن معاوية بن أبي سفيان صخر بن حرب بن أمية بن عبدشمس، أبو خالد الأموي، ولد سنة خمس أو ست أو سبع وعشرين، وبويع في حياة أبيه على أن يكون وليَّ العهد له الخلافة من بعده، ثم أكد ذلك بعد موت أبيه في النصف من رجب سنة ستين، فاستمر متوليا إلى أن توفي.
وأمه ميسون بنت مخول بن أنيف بن دلجة بن نفاثة بن عدي بن زهير بن حارثة الكلبي، طلقها معاوية وهي حامل بيزيد، وقيل: رأت في النوم كأن قمرا خرج من قبلها، فقصت رؤياها على أمها، فقالت: لئن صدقت رؤياك لتلدين من يبايع له بالخلافة.
روى عن: أبيه، وحج بالناس سنة إحدى وخمسين، وسنة اثنتين، وسنة ثلاث.
وقيل: خطب معاوية فقال: اللهم إن كنت إنما عهدت ليزيد لما رأيت من فضله، فبلغه ما أمَّلت وأعنه، وإن كنت إنما حملني حب الوالد لولده، وأنه ليس لما صنعت به أهلا، فاقبضه قبل أن يبلغ ذلك (1).
--------------------------------------------
তাঁর অন্যতম সেনাপতি ছিলেন জুনাদা ইবনে মালিক আল-জাহরানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি কনিষ্ঠ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছেন এবং তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি একজন নৌ-সেনাপতি ছিলেন। গ্রীষ্মকালীন অভিযানে তিনি হিজরী ৫৩ সনে রোডস দ্বীপ এবং তারসুস দ্বীপ জয় করেন। হিজরী ৫৪ সনে তিনি কনস্টান্টিনোপলের নিকটবর্তী আরওয়াদ দ্বীপ জয় করেন এবং সেখানে মুসলিমরা সাত বছর অবস্থান করেন। অতঃপর তাঁদের কাছে মুআবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইন্তিকালের সংবাদ আসে এবং ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়া সেনাপতি জুনাদা ও তাঁর সঙ্গীদের ফিরে আসার নির্দেশ দেন। জুনাদা মিশর বিজয়েও অংশগ্রহণ করেছিলেন। মুআবিয়া তাঁকে নিজের ভাই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু জুনাদা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
বনী উমাইয়া রাজবংশের দ্বিতীয় রাজা: ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়া: তিনি ষষ্ঠ খলিফা এবং বনী উমাইয়া রাজবংশের রাজাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি হলেন ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান সাখর ইবনে হারব ইবনে উমাইয়া ইবনে আবদে শামস, আবু খালিদ আল-উমাভী। তিনি পঁচিশ, ছাব্বিশ বা সাতাশ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার জীবদ্দশাতেই তাঁর পরবর্তী খলিফা ও উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর অনুকূলে বাইয়াত গ্রহণ করা হয়। অতঃপর হিজরী ৬০ সনের রজব মাসের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর পিতার মৃত্যুর পর সেই বাইয়াত পুনরায় সুদৃঢ় করা হয় এবং তিনি আমৃত্যু ক্ষমতায় বহাল থাকেন।
তাঁর মাতা ছিলেন মাইসুন বিনতে মাখুল ইবনে আনিফ ইবনে দালাজাহ ইবনে নাফাসাহ ইবনে আদি ইবনে জুহাইর ইবনে হারিসাহ আল-কালবী। মুআবিয়া তাঁকে তালাক দিয়েছিলেন যখন তিনি ইয়াজিদের গর্ভধারিণী ছিলেন। বলা হয় যে: তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন যেন তাঁর গর্ভ থেকে একটি চাঁদ নির্গত হয়েছে। তিনি তাঁর মায়ের কাছে স্বপ্নের কথা বর্ণনা করলে মা বললেন: তোমার স্বপ্ন যদি সত্য হয়, তবে তুমি এমন এক সন্তান প্রসব করবে যার হাতে খিলাফতের বাইয়াত গ্রহণ করা হবে।
তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হিজরী ৫১, ৫২ ও ৫৩ সনে লোকদের সাথে নিয়ে হজ সম্পাদন করেছেন।
বলা হয়ে থাকে যে: মুআবিয়া খুতবা প্রদানকালে বলেছিলেন: হে আল্লাহ, যদি আমি তাঁর যোগ্যতার কারণে ইয়াজিদকে স্থলাভিষিক্ত করে থাকি, তবে আপনি তাঁকে তাঁর প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিন এবং তাঁকে সাহায্য করুন। আর যদি আমাকে কেবল সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসাই এই কাজে উদ্বুদ্ধ করে থাকে এবং সে যদি আমার এই কাজের যোগ্য না হয়, তবে সেই অবস্থানে পৌঁছানোর পূর্বেই আপনি তাঁকে তুলে নিন (মৃত্যু দান করুন)। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
توفي لأربع عشرة خلت من ربيع الأول من سنة أربع وستين، بقرية من قرى حمص يقال لها: حوارين، وهو ابن خمس وثلاثين سنة، وقيل: تسع وثلاثين، وكانت خلافته ثلاث سنين وتسعة أشهر (1).
الخليفة السابع: عبدالله بن الزبير رضي الله عنه: ليس من ملوك بني أمية، وهو بمسمى الخلافة الصق، حُصر بمكة، وهو عبدالله بن الزبير بن العوام بن خويلد بن أسد بن عبد العزى بن قصي بن كلاب، أبو بكر ويقال له: أبو خبيب القرشي الأسدي، أول مولود ولد بعد الهجرة بالمدينة من المهاجرين، على رأس عشرين شهرا من المهاجر، فكبر رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان المسلمون قد تحدثوا بينهم أن اليهود قد سحرتهم، فلا يولد لهم، وكان تكبيره صلى الله عليه وسلم سرورا بذلك.
وأمه أسماء بنت أبي بكر الصديق، ذات النطاقين، هاجرت وهي حامل به فولدته بقباء أول مقدمهم المدينة، وحنكه رسول الله صلى الله عليه وسلم بتمرة، وأذن أبو بكر في أذنه.
ولم يزل مقيما بالمدينة إلى أن توفي معاوية، فبعث يزيد إلى الوليد بن عتبة يأمره بالبيعة، فخرج ابن الزبير إلى مكة، وجعل يحرض الناس على بني أمية (2)، فوجد عليه يزيد إلا أن ابن الزبير مشى إلى يحيى بن الحكم والي مكة، فبايعه ليزيد، فقال يزيد: لا أقبل حتى يؤتى به في وثاق، فأبى ابن الزبير، وقال: اللهم إني عائذ ببيتك، روى الزبير عن النبي صلى الله عليه وسلم أحاديث، وروى عن أبيه، وعمر، وعثمان، وغيرهم (3).
--------------------------------------------
চৌষট্টি হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের চৌদ্দ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি হিমস প্রদেশের 'হাওয়ারিন' নামক একটি গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর, মতান্তরে উনচল্লিশ বছর। তাঁর খিলাফতকাল ছিল তিন বছর নয় মাস (১)।
সপ্তম খলিফা: আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু): তিনি বনু উমাইয়্যা রাজাদের অন্তর্ভুক্ত নন, বরং খিলাফত উপাধির সাথে তিনি অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁকে মক্কায় অবরোধ করা হয়েছিল। তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর ইবনুল আওয়াম ইবনে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব। তাঁর উপনাম আবু বকর, তাঁকে আবু খুবাইব আল-কুরাশি আল-আসাদিও বলা হয়। হিজরতের বিশ মাস পর মুহাজিরদের মধ্যে মদিনায় তিনিই সর্বপ্রথম জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকবীর ধ্বনি প্রদান করেন। মুসলিমদের মাঝে এমন কথা প্রচলিত ছিল যে, ইহুদিরা তাঁদের ওপর জাদু করেছে যার ফলে তাঁদের কোনো সন্তান জন্মাবে না। তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তাকবীর প্রদান ছিল সেই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ।
তাঁর মাতা ছিলেন যাতুন নিতাকাইন আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক। তিনি গর্ভবতী অবস্থায় হিজরত করেন এবং মদিনায় পৌঁছানোর পর কুবায় তাঁকে প্রসব করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুর দিয়ে তাঁর তাহনিক করেন এবং আবু বকর তাঁর কানে আযান দেন।
মুয়াবিয়ার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি মদিনায় অবস্থান করছিলেন। মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর ইয়াজিদ ওয়ালিদ ইবনে উতবাকে তাঁর নিকট থেকে বাইয়াত গ্রহণের আদেশ দিয়ে পাঠান। তখন ইবনে যুবাইর মক্কায় চলে যান এবং বনু উমাইয়্যার বিরুদ্ধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করেন (২)। এতে ইয়াজিদ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। তবে ইবনে যুবাইর মক্কার গভর্নর ইয়াহইয়া ইবনুল হাকামের নিকট গিয়ে ইয়াজিদের পক্ষে বাইয়াত গ্রহণ করেন। তখন ইয়াজিদ বলেন: "আমি তা কবুল করব না যতক্ষণ না তাঁকে বন্দি অবস্থায় আনা হয়।" ইবনে যুবাইর তা অস্বীকার করেন এবং বলেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার ঘরের আশ্রয় গ্রহণ করছি।" ইবনে যুবাইর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি তাঁর পিতা, উমর, উসমান এবং অন্যান্যদের থেকেও বর্ণনা করেছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بويع له بالخلافة بعد موت يزيد بن معاوية سنة أربع وستين، وغلب على أهل الحجاز واليمن والعراق ومصر وأكثر الشام؛ فأقام في الخلافة تسع سنين؛ إلى أن قتله الحجاج في جمادى الأولى سنة ثلاث وسبعين، وصلبه، وأقبل عبدالله بن عمر بن الخطاب رضي الله عنهما حتى وقف حذاء عبدالله بن الزبير، فنظره مصلوبا منكسا فتأمله ساعة وبكى واستغفر له وقال: "والله يا ابن الزبير لئن علتك رجلاك اليوم فطال ما قمت عليها في ظل الليل بين يدي ربك، وإني لأسمع قوما يزعمون أنك شر هذه الأمة، ولقد أفلحت أمة أنت شرها، وانصرف عبدالله بن عمر إلى منزله، وأقبلت إليه أمه في اليوم الثالث حتى وقفت قبالته ثم بكت وقالت: اللهم! إني راضية عنه فارض عنه، ثم أقبلت حتى دخلت على الحجاج فوقفت عليه ثم قالت: يا حجاج، أما آن لهذا الراكب أن ينزل؟ ، فقال الحجاج: أما روحه فإلى مالك، وأما جثمانه ففي طريق البلاء.
فقالت: كذبت يا حجاج! إن الله تبارك وتعالى في ذلك أعدل من أن يجمع على ابني سيف القاسطين وثأر الظالمين، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: يكون في أمتي رجلان: أفاك ومبير، فأما الأفاك فصاحبك عبدالملك بن مروان، وأما المبير فأنت يا حجاج، فقال: صدقت يا أسماء؛ أنا مبير المنافقين (1)، فقالت: عملك شاهد عليك، ثم ولت وهي باكية، فرق لها الحجاج وأمر بابن الزبير فأنزل عن خشبته وحمل إليها، فأمرت به فصب عليه الماء وحنط وكفن وصلي عليه ودفن رضي الله عنه (2).
--------------------------------------------
চৌষট্টি হিজরিতে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর খিলাফতের বাইয়াত গ্রহণ করা হয় এবং তিনি হিজাজ, ইয়েমেন, ইরাক, মিসর এবং শামের অধিকাংশ অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর বিজয়ী হন। তিনি নয় বছর খিলাফতে আসীন ছিলেন; অবশেষে তিয়াত্তর হিজরির জুমাদাল উলা মাসে হাজ্জাজ তাঁকে হত্যা করে এবং শূলে চড়ায়। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এগিয়ে এলেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের লাশের সামনে দাঁড়ালেন। তাঁকে শূলে চড়ানো এবং ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে তিনি কিছুক্ষণ তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকলেন, কাঁদলেন এবং তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। অতঃপর বললেন: "আল্লাহর কসম, হে ইবনে যুবায়ের! আজ তোমার পা দুটি তোমাকে উপরে উঠিয়ে দিলেও (শূলে চড়ালেও), তুমি তো তোমার রবের সামনে রাতের অন্ধকারে এই পায়ের ওপর ভর দিয়েই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে। আমি কিছু লোককে বলতে শুনছি যে, তুমি নাকি এই উম্মতের নিকৃষ্টতম ব্যক্তি; অথচ যে উম্মতের নিকৃষ্ট ব্যক্তি তুমি, সেই উম্মত তো অবশ্যই সফল।" এরপর আবদুল্লাহ ইবনে ওমর তাঁর বাড়ির দিকে ফিরে গেলেন। তৃতীয় দিনে তাঁর মা তাঁর সামনে এসে দাঁড়ালেন এবং কাঁদতে কাঁদতে বললেন: "হে আল্লাহ! আমি তাঁর ওপর সন্তুষ্ট, সুতরাং আপনিও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন।" অতঃপর তিনি এগিয়ে গিয়ে হাজ্জাজের সামনে উপস্থিত হলেন এবং বললেন: "হে হাজ্জাজ! এই আরোহীর কি এখনো নামার সময় হয়নি?" হাজ্জাজ বলল: "তাঁর রুহ তো মালিকের (আল্লাহর) কাছে চলে গেছে, আর তাঁর দেহ পচন ও ধ্বংসের পথে।"
তিনি (আসমা) বললেন: "তুমি মিথ্যা বলেছ হে হাজ্জাজ! আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা এ বিষয়ে এর চেয়েও বেশি ইনসাফকারী যে, তিনি আমার ছেলের ওপর সীমালঙ্ঘনকারীদের তলোয়ার এবং অত্যাচারীদের প্রতিহিংসা—উভয়টি একত্রিত করবেন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'আমার উম্মতের মধ্যে দু’জন লোক প্রকাশ পাবে: একজন চরম মিথ্যাবাদী এবং একজন ধ্বংসকারী (রক্তপিপাসু)।' সেই মিথ্যাবাদী তো তোমার সাথী আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান, আর ধ্বংসকারী হলে তুমি নিজে, হে হাজ্জাজ!" সে বলল: "আপনি ঠিকই বলেছেন হে আসমা; আমি তো মুনাফিকদের ধ্বংসকারী।" (১) তিনি বললেন: "তোমার আমলই তোমার ব্যাপারে সাক্ষী।" এরপর তিনি কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলেন। এতে হাজ্জাজের মনে তাঁর প্রতি দয়া হলো এবং সে ইবনে যুবায়েরকে কাঠের শূল থেকে নামানোর নির্দেশ দিল এবং তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। এরপর তাঁর নির্দেশে তাঁকে পানি দিয়ে গোসল করানো হলো, সুগন্ধি লাগানো হলো, কাফন পরানো হলো এবং তাঁর জানাযার নামাজ পড়ে তাঁকে দাফন করা হলো, রাদিয়াল্লাহু আনহু। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن أبرز أعماله بناء الكعبة وكسوتها؛ كساها حين فرغ من بنائها القباطي، وكساها الديباج رضي الله عنه، ووسع المسجد من جانبه الشرقي، وهو أعلاه مما يليه من جانبه الشامي، ومن جانبه اليماني، وكان مما وسع به في الجانب الشرقي، واشترى نصف دار الأزرقي جد الأزرقي المؤرخ، اشتراها ببضعة عشر ألف دينار (1).
الثالث من ملوك بني أمية: عبدالملك الخليفة الثامن: وهو أبو الوليد عبدالملك بن مروان بن الحكم بن أبى العاص بن أميه بن عبدشمس بن عبد مناف كنيته أبو الوليد.
أمه عائشة بنت معاوية بن المغيرة بن أبي العاص، وأبوها هو الذي جدع أنف حمزة عم النبي صلى الله عليه وسلم يوم أحد (2).
ولد في سنة ست وعشرين هو ويزيد بن معاوية، وقيل: ولد في سنة أربع وعشرين، وحُمل به ستة أشهر فقط، وكان أبيض.
استعمله معاوية على المدينة وهو ابن ست عشرة سنة، وهو وأول من سمي في الإسلام بعبدالملك، سمع عثمان بن عفان، وشهد الدار مع أبيه، وله عشر سنين، وهو أول من سار بالناس في بلاد الروم سنة ثنتين وأربعين، وكان يجالس الفقهاء والعلماء والعباد والصلحاء (3).
وروى الحديث عن أبيه، وجابر، وأبي سعيد الخدري، وأبي هريرة، وابن عمر، ومعاوية، وأم سلمة، وبريرة مولاة عائشة.
--------------------------------------------
তাঁর বিশিষ্ট কর্মসমূহের অন্যতম হলো কাবা ঘর নির্মাণ ও তাতে গিলাফ পরানো; যখন তিনি এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন তখন তিনি এতে 'কুবাতী' বস্ত্রের গিলাফ পরান, আর তিনি এতে রেশমি বস্ত্রের (দিবাজ) গিলাফও পরিয়েছিলেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তিনি মসজিদের পূর্ব দিক থেকে এর সম্প্রসারণ করেন, যা এর শামী (উত্তর) ও ইয়ামানী (দক্ষিণ) পার্শ্বের উপরিভাগ সংলগ্ন। পূর্ব পার্শ্বে তিনি যা সম্প্রসারণ করেছিলেন তার মধ্যে ছিল ইতিহাসবিদ আজরাকীর দাদা আজরাকীর অর্ধেক ঘর ক্রয় করা, যা তিনি দশ হাজারেরও অধিক দিনারের বিনিময়ে ক্রয় করেছিলেন (১)।
বনী উমাইয়া রাজাদের মধ্যে তৃতীয়: অষ্টম খলিফা আব্দুল মালিক: তিনি হলেন আবু আল-ওয়ালীদ আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ইবনে আল-হাকাম ইবনে আবীল আস ইবনে উমাইয়াহ ইবনে আব্দে শামস ইবনে আব্দে মানাফ। তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) হলো আবু আল-ওয়ালীদ।
তাঁর মাতা আয়েশা বিনতে মুআবিয়া ইবনে আল-মুগীরা ইবনে আবীল আস। তাঁর মাতামহ সেই ব্যক্তি, যে উহুদের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা হামযাহ (রা.)-এর নাক কর্তন করেছিল (২)।
তিনি এবং ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়া ছাব্বিশ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। মতান্তরে বলা হয়েছে: তিনি চব্বিশ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাত্র ছয় মাস গর্ভে ছিলেন এবং তিনি গৌরবর্ণের ছিলেন।
মুআবিয়া (রা.) তাঁকে মদীনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন যখন তাঁর বয়স ছিল ষোল বছর। ইসলামে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর নাম 'আব্দুল মালিক' রাখা হয়েছিল। তিনি উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে হাদীস শুনেছেন এবং দশ বছর বয়সে পিতার সাথে 'ইয়াওমুত দার' (অবরুদ্ধ গৃহের ঘটনা) প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি বিয়াল্লিশ হিজরীতে রোমক ভূখণ্ডে বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হন। তিনি ফকীহ, আলিম, ইবাদতকারী ও নেককার ব্যক্তিদের মজলিসে বসতেন (৩)।
তিনি তাঁর পিতা, জাবির, আবু সাঈদ আল-খুদরী, আবু হুরাইরাহ, ইবনে উমর, মুআবিয়া, উম্মে সালামাহ এবং আয়েশা (রা.)-এর আযাদকৃত দাসী বারীরাহ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ذُكر أن معاوية بن أبي سفيان جلس ذات يوم ومعه عمرو بن العاص فمر بهما عبدالملك بن مروان فقال معاوية: ما آدب هذا الفتى وأحسن مروءته.
فقال عمرو بن العاص: يا أمير المؤمنين، إن هذا الفتى أخذ بخصال أربع، وترك خصالا ثلاثا:
أخذ بحسن الحديث إذا حدث، وحسن الاستماع إذا حُدث، وحسن البشر إذا لقي، وخفة المؤونة إذا خولف.
وترك من القول ما يُعتذر منه، وترك مخالطة اللئام من الناس، وترك ممازحة من لا يوثق بعقله ولا مروءته.
وكان فقيها راويا ناسكا، يدعى حمامة المسجد، شاعرا، قيل لابن عمر: من نسأل بعدكم، فقال: إن لمروان ابناً فقيها فسلوه.
وقال نافع: أدركت المدينة وما بها شاب أنسك، ولا أشد تشميرا، ولا أكثر صلاة، ولا أطلب للعلم من عبدالملك بن مروان.
بويع بعهد من أبيه في خلافة ابن الزبير، وبقي على مصر والشام، وابن الزبير على باقي البلاد مدة سبع سنين، ثم غلب عبدالملك على العراق، وما والاها في سنة اثنتين وسبعين، وبعد سنة قتل الحجاج ابن الزبير، واستوسق، الأمر لعبدالملك.
خطب عبدالملك بن مروان سنة خمس وسبعين بعد مقتل ابن الزبير بعامين فقال: "أما بعد فإنه كان من قبلي من الخلفاء يأكلون من هذا المال ويؤكلون وإني والله لا أداوي أدواء هذه الأمة إلا بالسيف ولست بالخليفة المستضعف يعني عثمان، ولا الخليفة المداهن يعني معاوية.
বর্ণিত আছে যে, একদিন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান উপবিষ্ট ছিলেন এবং তার সাথে আমর ইবনুল আসও ছিলেন। এমতাবস্থায় আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান তাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন মুয়াবিয়া বললেন: "এই যুবকটি কতই না শিষ্টাচারী এবং তার পুরুষোচিত গুণাবলি কতই না চমৎকার!"
তখন আমর ইবনুল আস বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, নিশ্চয়ই এই যুবক চারটি গুণ গ্রহণ করেছে এবং তিনটি স্বভাব বর্জন করেছে:
যখন সে কথা বলে তখন সুন্দরভাবে কথা বলা, যখন তার সাথে কথা বলা হয় তখন সুন্দরভাবে শ্রবণ করা, যখন কারো সাথে দেখা হয় তখন প্রফুল্ল বদনে সাক্ষাৎ করা এবং যখন কেউ তার বিরোধিতা করে তখন সহনশীল হওয়া।
আর সে এমন কথা বলা বর্জন করেছে যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়, নীচ প্রকৃতির লোকদের সাথে মেলামেশা বর্জন করেছে এবং যার বিবেক ও পুরুষোচিত গরিমা নির্ভরযোগ্য নয় এমন ব্যক্তির সাথে কৌতুক করা বর্জন করেছে।
তিনি ছিলেন একজন ফকিহ, বর্ণনাকারী ও ইবাদতগুজার ব্যক্তি, তাকে 'মসজিদের কবুতর' বলা হতো এবং তিনি একজন কবিও ছিলেন। ইবনে উমরকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "আপনার পর আমরা কাকে জিজ্ঞাসা করব?" তিনি বললেন: "মারওয়ানের এক ফকিহ পুত্র রয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসা করো।"
নাফি বলেন: "আমি মদিনায় এমন কোনো যুবককে দেখিনি যে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের চেয়ে বেশি ইবাদতগুজার, অধিক পরিশ্রমী, অধিক নামাজ আদায়কারী অথবা অধিক জ্ঞান অন্বেষণকারী।"
ইবনে যুবাইরের খিলাফত চলাকালীন তার পিতার পক্ষ থেকে দেওয়া অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে তাকে বায়আত দেওয়া হয়। তিনি সাত বছর মিশর ও সিরিয়ার দায়িত্বে ছিলেন এবং ইবনে যুবাইর অবশিষ্ট দেশসমূহের দায়িত্বে ছিলেন। অতঃপর বাহাত্তর হিজরিতে আব্দুল মালিক ইরাক ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ জয় করেন। এর এক বছর পর হাজ্জাজ ইবনে যুবাইরকে হত্যা করেন এবং আব্দুল মালিকের শাসন সুসংহত হয়।
পঁচাত্তর হিজরিতে ইবনে যুবাইরের নিহতের দুই বছর পর আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন: "অতঃপর, আমার পূর্ববর্তী খলিফাগণ এই সম্পদ থেকে ভোগ করতেন এবং অন্যদের ভোগ করাতেন। আল্লাহর কসম, আমি এই উম্মতের ব্যাধির চিকিৎসা তরবারি ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে করব না। আমি দুর্বল খলিফা (অর্থাৎ উসমান) নই এবং তোষামোদকারী খলিফা (অর্থাৎ মুয়াবিয়া) নই।"
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أيها الناس إنا نحتمل لكم كل اللغوية ما لم يك عقد راية أو وثوب على منبر
… " (1).
قلت: هذا غيض يكتفى به عن فيض يطول ذكره.
توفي عبدالملك بن مروان لعشر خلون من شوال سنة ست وثمانين وهو ابن اثنتين وستين سنة. (2).
هو أول من ضرب الدنانير المنقوشة، في الإسلام، في سنة خمس وسبعين وكتب عليها قرآنا، وكانت الدنانير ترد رومية والدراهم كسروية في الجاهلية.
وهو أول من كسا الكعبة الديباج، وقيل: الحجاج، وقيل: عبدالله بن الزبير، وذكر في أخبار عمارة المسجد الحرام من غير توسعة فيه، أن عبدالملك بن مروان رفع جدرانه وسقَفَه بالساج، وجعل في رأس كل أسطوانة خمسين مثقالا ذهبا، وعمره عمارة حسنة (3)، وأول من نهى عن الكلام في حضرة الخلفاء، وكان الناس قبله يراجعونهم (4)، وكان عبدالملك أول من غدر في الإسلام، وسبب ذلك أن عمرو بن سعيد بن العاص خلع عبدالملك بن مروان، وأخرج عبدالرحمن بن أم الحكم من دمشق؛ وكان واليا عليها، فسار عبدالملك إلى عمرو واصطلحا جميعا على أن يكون عمرو الخليفة بعد عبدالملك، وأن لعمرو مع كل عامل عاملا، وفتح المدينة ودخل عبدالملك ثم غدر بعمرو فقتله، وقال له: لو أعلم أن تبقى وتصلح قرابتي
--------------------------------------------
হে লোকসকল, আমরা তোমাদের সকল বাচালতা সহ্য করব যতক্ষণ না কোনো বিদ্রোহের ঝাণ্ডা তোলা হয় অথবা মিম্বরে চড়াও হওয়া হয়
… " (১)।
আমি বলছি: এটি একটি সামান্য অংশ যা সেই বিশাল বর্ণনা হতে যথেষ্ট যা উল্লেখ করলে দীর্ঘ হয়ে যাবে।
আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ছিয়াশি (৮৬) হিজরীর শাওয়াল মাসের দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ইন্তেকাল করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল বাষট্টি (৬২) বছর। (২)।
তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি পঁচাত্তর (৭৫) হিজরীতে ইসলামি যুগে খোদাইকৃত দিনার মুদ্রা প্রবর্তন করেন এবং তাঁর ওপর কুরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ করেন। জাহেলিয়াত (তথা পূর্ববর্তী) আমলে দিনারগুলো রোমানদের পক্ষ হতে এবং দিরহামগুলো পারসিকদের (কিসরা) পক্ষ হতে আসত।
তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কাবা শরীফকে রেশমী বস্ত্র (দিবাজ) দ্বারা আবৃত করেন; মতান্তরে হাজ্জাজ, আবার মতান্তরে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর। মসজিদুল হারামের সম্প্রসারণ ব্যতিরেকে এর সংস্কারের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান এর দেয়ালগুলো উঁচু করেন এবং সেগুন কাঠ দিয়ে এর ছাদ নির্মাণ করেন। তিনি প্রতিটি স্তম্ভের মাথায় পঞ্চাশ মিশকাল স্বর্ণ স্থাপন করেন এবং অত্যন্ত সুন্দরভাবে এর সংস্কার সাধন করেন (৩)। তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি খলীফাদের উপস্থিতিতে কথা বলতে নিষেধ করেন, অথচ তাঁর পূর্বে লোকেরা তাঁদের সাথে আলোচনা বা প্রত্যুত্তর করত (৪)। আব্দুল মালিক ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা প্রদর্শনকারী। এর কারণ ছিল এই যে, আমর ইবনে সাঈদ ইবনুল আস আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করেন এবং দামেস্ক থেকে আব্দুর রহমান ইবনে উম্মে হাকামকে বহিষ্কার করেন; যিনি সেখানকার গভর্নর ছিলেন। অতঃপর আব্দুল মালিক আমরের দিকে অগ্রসর হন এবং তাঁরা উভয়ে এই শর্তে সন্ধি করেন যে, আব্দুল মালিকের পর আমর খলীফা হবেন এবং আমরের পক্ষ হতে প্রতিটি কর্মকর্তার সাথে একজন করে প্রতিনিধি থাকবে। আব্দুল মালিক শহর জয় করে তাতে প্রবেশ করেন, অতঃপর আমরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁকে হত্যা করেন এবং তাঁকে বলেন: "আমি যদি জানতাম যে তুমি জীবিত থাকবে এবং আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لفديتك بدم النواظر، ولكنه قلما اجتمع فحلان في إبل إلا أخرج أحدهما صاحبه، ثم قتله وأنشأ يقول:
أدنيته مني لآمن مكره
… فأصول صولة حازم مستمكن
غضبا وحمية لديني إنه
… ليس المسيء سبيله كالمحسن
وكان عبدالملك أول من نقل الديوان من الفارسية إلى العربية (1).
الملك الرابع من ملوك بني أمية: الوليد الخليفة التاسع وهو الوليد بن عبدالملك ابن مروان بن الحكم بن أبي العاص بن أمية، أبو العباس الأموي، شقيق سليمان أمههما وأم سليمان اسمها وليدة، وقيل: ولاّدة، وهي بنت العباس بن جزيء بن الحارث ابن زهير بن جذيمة بن رواحة بن ربيعة بن مازن بن قطيعة بن عبس.
بويع الوليد بدمشق في اليوم الّذي توفى فيه عبدالملك، بعهد من أبيه (2).
وكان أهل الشام يرون للوليد فضلا ويقولون: بنى مسجد دمشق ومسجد المدينة، وأعطى المجذومين، وقال: لا تسألوا الناس، وأعطى كل مقعد خادما، وكل ضرير قائدا، وكان الوليد يمر بالبقال فيقف عليه فيأخذ حزمة البقل بيده، فيقول: بكم هذه؟ فيقول: بفلس، فيقول: زد فيها.
وكان الوليد صاحب بناء واتخاذ مصانع، كان الناس يلتقون في زمانه فيسأل بعضهم بعضا عن البناء والمصانع، وكثُرت الفتوح في أيام الوليد، وكان مسلمة بن عبدالملك يتغلغل في بلاد الروم، وقتيبة بن مسلم في بلاد العجم والترك، وفتح
--------------------------------------------
চোখের পলকের রক্ত দিয়ে হলেও আমি তোমাকে রক্ষা করতাম, কিন্তু উটপালে যখনই দুটি শক্তিশালী পুরুষ উট একত্রিত হয়, তাদের একজন অন্যজনকে বের করে দেয়, তারপর তাকে হত্যা করে। এরপর তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করলেন:
আমি তাকে আমার কাছে টেনে নিয়েছি তার ষড়যন্ত্র থেকে নিরাপদ থাকতে
… অতঃপর আমি এক দৃঢ়সংকল্প ও সামর্থ্যবান ব্যক্তির ন্যায় আক্রমণ করি।
আমার দ্বীনের প্রতি ক্রোধ ও আত্মমর্যাদাবোধ থেকে, নিশ্চয়ই
… মন্দকর্মীর পথ সৎকর্মীর মতো নয়।
আর আব্দুল মালিকই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি দিওয়ান (প্রশাসনিক দপ্তর) ফারসি থেকে আরবিতে স্থানান্তর করেছিলেন (১)।
বনু উমাইয়ার রাজাদের মধ্যে চতুর্থ রাজা: আল-ওয়ালিদ, নবম খলিফা তিনি হলেন আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান বিন আল-হাকাম বিন আবিল আস বিন উমাইয়া, আবু আল-আব্বাস আল-উমাবি। তিনি সুলাইমানের সহোদর ভাই, তাঁদের উভয়ের মাতা এবং সুলাইমানের মাতার নাম ছিল ওয়ালিদাহ, আবার বলা হয়: ওয়াল্লাদাহ; তিনি ছিলেন আব্বাস বিন জুজাই বিন আল-হারিস ইবনে যুহাইর বিন জাযিমাহ বিন রাওয়াহাহ বিন রাবিয়াহ বিন মাযিন বিন কাতিয়াহ বিন আবস-এর কন্যা।
আব্দুল মালিকের ইন্তেকালের দিনেই দামেস্কে আল-ওয়ালিদের হাতে বাইআত গ্রহণ করা হয়, যা তাঁর পিতার পক্ষ থেকে দেওয়া অঙ্গীকারের (উত্তরাধিকার মনোনয়নের) ভিত্তিতে ছিল (২)।
সিরিয়াবাসীরা আল-ওয়ালিদের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা স্বীকার করত এবং তারা বলত: তিনি দামেস্কের মসজিদ ও মদিনার মসজিদ নির্মাণ করেছেন এবং কুষ্ঠরোগীদের দান করেছেন। তিনি বলতেন: তোমরা মানুষের কাছে ভিক্ষা চেয়ো না। তিনি প্রত্যেক পঙ্গু ব্যক্তিকে একজন খাদেম এবং প্রত্যেক অন্ধ ব্যক্তিকে একজন পথপ্রদর্শক প্রদান করেছিলেন। আল-ওয়ালিদ যখন সবজি বিক্রেতার পাশ দিয়ে যেতেন, তখন তিনি তার কাছে থামতেন এবং নিজ হাতে এক আঁটি সবজি নিয়ে জিজ্ঞাসা করতেন: এটার দাম কত? বিক্রেতা বলত: এক ফিলস। তখন তিনি বলতেন: এতে আরও বাড়িয়ে দাও।
আল-ওয়ালিদ স্থাপত্য ও শিল্প-কারখানা নির্মাণে অনুরাগী ছিলেন। তাঁর সময়ে মানুষ যখন একে অপরের সাথে দেখা করত, তখন তারা ভবন নির্মাণ ও শিল্প-কারখানা সম্পর্কে একে অপরকে জিজ্ঞাসা করত। আল-ওয়ালিদের রাজত্বকালে বহু বিজয় অর্জিত হয়েছিল। মাসলামাহ বিন আব্দুল মালিক রোমান সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতেন এবং কুতাইবাহ বিন মুসলিম অনারব ও তুর্কিদের দেশসমূহ বিজয় করতেন। আর তিনি বিজয় করেছিলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইশ মাআল খুলাফা ওয়াল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كاشغر، وافتتح محمد بن القاسم بلاد الهند، وفتح محمد بن نصير أرض الأندلس ووجد بها مائدة سليمان بن داود عليهما السلام المرصعة بالجواهر (1).
وتوفي يوم السبت لأربع عشرة ليلة خلت من جمادى الآخرة سنة ست وتسعين وهو ابن ثلاث وأربعين سنة ودفن بها، وكانت مدة خلافته تسع سنين وثمانية أشهر وخمسة أيام (2)، وهو أول من منع أن ينادى باسمه بل بأمير المؤمنين، أو بـ"يا مولاي" من ألقاب الخلافة والمُلك، ولم يمنع السابقون نداءهم بالأسماء المجردة.
الملك الخامس من ملوك بني أمية: سليمان بن عبدالملك: وهو الخليفة العاشر، سليمان بن عبدالملك بن مروان بن الحكم بن أبي العاص بن أمية بن عبدشمس القرشي الأموي، أبو أيوب.
ولد بالمدينة في بني جذيلة، نشأ بالبادية عند أخواله بني عبس، وقيل: نشأ بالشام عند أبيه.
بويع سليمان في اليوم الّذي توفى فيه أخوه الوليد، وأمه ولادة أم أخيه الوليد فهما شقيقان.
وكان فصيح اللسان، كثير الأدب، لين الجانب: شديد العُجب بشبابه وجماله، أكولا، نهما، نكّاحا، لا يعجل إلى سفك الدماء، ولا يستنكف عن مشورة النصحاء.
فافتتح بخير واختتم بخير، ورد المظالم وآوى المسيرين، وأخرج المحبوسين، واستخلف عمر بن عبدالعزيز، وعزل ابن أبي كبشة عن العراق، واستعمل عليها يزيد بن المهلّب.
--------------------------------------------
কাশগর; এবং মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম হিন্দ অঞ্চল জয় করেন, আর মুহাম্মদ ইবনে নুসাইর আন্দালুস ভূমি জয় করেন এবং সেখানে সুলাইমান ইবনে দাউদ আলাইহিমাস সালাম-এর মণি-মুক্তা খচিত দস্তরখান খুঁজে পান (১)।
তিনি ছিয়ানব্বই হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসের চৌদ্দ রাত অতিবাহিত হওয়ার পর শনিবার মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল তেতাল্লিশ বছর এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর খিলাফতের মেয়াদ ছিল নয় বছর আট মাস পাঁচ দিন (২)। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁকে সরাসরি নামে ডাকার পরিবর্তে 'আমীরুল মুমিনীন' অথবা খিলাফত ও রাজকীয় উপাধি 'হে আমার মওলা' বলে সম্বোধন করার আদেশ প্রদান করেন। পূর্ববর্তীগণ কেবল নাম ধরে ডাকতে নিষেধ করতেন না।
বনু উমাইয়ার রাজাদের মধ্যে পঞ্চম রাজা: সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক: তিনি হলেন দশম খলিফা, সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ইবনে আল-হাকাম ইবনে আবিল আস ইবনে উমাইয়া ইবনে আব্দে শামস আল-কুরাশি আল-উমাবি, আবু আইয়ুব।
তিনি মদিনায় বনু জুযাইলা গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন এবং মরুপ্রান্তরে তাঁর মামার বংশ বনু আবস-এর নিকট বেড়ে ওঠেন। আবার বলা হয়েছে: তিনি শাম অঞ্চলে তাঁর পিতার নিকট বড় হয়েছেন।
তাঁর ভাই আল-ওয়ালিদ যেদিন মৃত্যুবরণ করেন, সেদিনই সুলাইমানের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করা হয়। তাঁর মা ছিলেন ওয়াল্লাদাহ, যিনি তাঁর ভাই আল-ওয়ালিদেরও মা ছিলেন; সুতরাং তাঁরা আপন ভাই ছিলেন।
তিনি ছিলেন বাগ্মী, অত্যন্ত শিষ্টাচারী এবং কোমল স্বভাবের। তবে তিনি নিজের যৌবন ও সৌন্দর্যের জন্য অত্যন্ত আত্মঅহঙ্কারী ছিলেন। তিনি ছিলেন অতিভোজী, পেটুক এবং অধিক বিবাহকারী। তিনি রক্তপাত ঘটাতে তাড়াহুড়ো করতেন না এবং হিতাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শ নিতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না।
তিনি কল্যাণের মাধ্যমে শুরু করেছিলেন এবং কল্যাণের মাধ্যমেই সমাপ্তি ঘটিয়েছিলেন। তিনি জুলুমের প্রতিকার করেছিলেন, নির্বাসিতদের আশ্রয় দিয়েছিলেন, বন্দীদের মুক্তি দিয়েছিলেন এবং উমর ইবনে আব্দুল আজিজকে পরবর্তী খলিফা মনোনীত করেছিলেন। তিনি ইরাক থেকে ইবনে আবি কাবশাহকে অপসারিত করেন এবং ইয়াজিদ ইবনুল মুহাল্লাবকে সেখানে নিযুক্ত করেন।
--------------------------------------------