(খণ্ড: ১) রিসালাতু উমার ইবনে উসমান ইবনিল আব্বাস আল-জারসীফী ফিল হিসবাহ (পৃষ্ঠা: -)
رسالة عمر بن عثمان بن العباس الجرسيفي في الحسبة   (عمر بن عثمان الكرسيفي)

القسم: السياسة الشرعية والقضاء


الكتاب: رسالة عمر بن عثمان بن العباس الجرسيفي في الحِسْبة [مطبوع ضمن «ثلاث رسائل أندلسية في آداب الحسبة والمحتسب»]

المؤلف: عمر بن عثمان بن العباس الجرسيفي

المحقق: ليفي بروفنسال

الناشر: مطبعة المعهد العلمي الفرنسي للآثار الشرقية - القاهرة

عام النشر: 1955 م

عدد الصفحات: 11

أعده للشاملة: مركز المحتسب http://almohtasb.com

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1440

উমর বিন উসমান বিন আল-আব্বাস আল-জুরসাইফির হিজবাহ (الحسبة) বিষয়ক রিসালাহ   (উমর বিন উসমান আল-কুরসাইফি)

বিভাগ: সিয়াসাহ শারইয়্যাহ (السياسة الشرعية) ও বিচারব্যবস্থা (القضاء)


গ্রন্থ: উমর বিন উসমান বিন আল-আব্বাস আল-জুরসাইফির হিজবাহ (الحسبة) বিষয়ক রিসালাহ [“আন্দালুসিয়ার হিজবাহ (الحسبة) ও মুহতাসিবের (المحتسب) শিষ্টাচার বিষয়ক তিনটি রিসালাহ”-এর অধীনে মুদ্রিত]

লেখক: উমর বিন উসমান বিন আল-আব্বাস আল-জুরসাইফি

মুহাক্কিক (المحقق): লেভি প্রোভেনসাল

প্রকাশক: ফরাসি ইনস্টিটিউট অব ওরিয়েন্টাল আর্কিওলজি প্রেস - কায়রো

প্রকাশের বছর: ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১

শামিলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন: আল-মুহতাসিব সেন্টার http://almohtasb.com

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) রিসালাতু উমার ইবনে উসমান ইবনিল আব্বাস আল-জারসীফী ফিল হিসবাহ (পৃষ্ঠা: -)
رسالة عمر بن عثمان بن العباس الجرسيفي في الحِسْبة
ওমর বিন উসমান বিন আব্বাস আল-জারসিফির হিসবাহ সংক্রান্ত রিসালা।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু উমার ইবনে উসমান ইবনিল আব্বাস আল-জারসীফী ফিল হিসবাহ (পৃষ্ঠা: ১১৯)
يقول العبد الفقير إلى عفو مولاه العلي الكبير، عمر بن عثمان بن العباس الجرسيفي:

الحمد لله ذي العظمة والجلال، المنفرد بالكبرياء والعزة والكمال، المنزه عن الصاحبة والولد والأشباه والأمثال، المتعالي عن التكييف والحدوث والانتقال، المبتدي خلقه بالإنعام والإفضال! والصلاة والسلام على سيدنا محمد، وآله خير آل! .

أما بعد، فإن ديوان الحسبة من أعظم الدواوين، إذ يحتاج إلى كثير من القوانين، وليس بعد خطبة القضاء أشرف من خطبة الحسبة، لأنها من الأمور الدينية، وهي تشترك مع خطة القضاء في فصول كثيرة، قال القاضي أبو الحسن الماوردي رحمه الله: وقد كان أئمة الصدر الأول يباشرونها بأنفسهم لعموم صلاحها، وجزيل ثوابها، ولكن لما أعرض عنها السلطان، وندب إليها من هان، وصارت عرضة للتكسب وقبول الرشا، لان أمرها، وهان على الناس نظرها. وليس إذ وقع الإخلال، بقاعدة سقط حكمها، ولابد من قائم لله بحجة إلى يوم القيامة. وحقيقتها على الجملة أمر بمعروف، ونهي عن منكر، بقواعد مبنية على صحة الاستدلال وجودة النظر. قال الله العظيم: ولتكن منكم أمة يدعون إلى الخير، ويأمرون بالمعروف، وينهون عن المنكر. وفائدتها ضبط شتات الأحوال ورد الشارد إلى العقال، بالكيل
মহান ও সুউচ্চ রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দা উমর ইবনে উসমান ইবনে আব্বাস আল-জুরসাইফি বলেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মহানুভবতা ও মহিমার অধিকারী; যিনি শ্রেষ্ঠত্ব, সম্মান ও পূর্ণতায় অদ্বিতীয়; যিনি স্ত্রী, সন্তান এবং সাদৃশ্য ও উপমা থেকে পবিত্র; যিনি ধরণ নির্ধারণ (تكييف), নতুন সৃষ্টি হওয়া (حدوث) ও স্থানান্তর (انتقال) থেকে ঊর্ধ্বে; যিনি তাঁর সৃষ্টিকে অনুগ্রহ ও দয়া প্রদানের মাধ্যমে শুরু করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, যারা সর্বোত্তম পরিবার!

অতঃপর, নিশ্চয়ই হিশবাহ (তদারকি) বিভাগ অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিভাগ, কেননা এটি পরিচালনা করতে বহুবিধ নিয়মনীতির প্রয়োজন হয়। বিচারকের পদের পরে হিশবাহ পদের চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আর কোনো পদ নেই, কারণ এটি দ্বীনি বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত এবং বহু অধ্যায়ে এটি বিচার ব্যবস্থার কার্যাবলীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কাজি আবুল হাসান আল-মাওয়ার্দি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইমামগণ এর ব্যাপক কল্যাণ ও অঢেল সওয়াবের কারণে নিজেরাই তা সরাসরি পরিচালনা করতেন। কিন্তু যখন সুলতান বা শাসকগণ এ থেকে বিমুখ হলেন এবং এর জন্য অযোগ্য ব্যক্তিদের মনোনীত করলেন, আর এটি যখন অর্থ উপার্জন ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে পরিণত হলো, তখন এর গুরুত্ব হ্রাস পেল এবং মানুষের নিকট এর মর্যাদা তুচ্ছ হয়ে গেল।" কোনো মূলনীতির ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটলে তার বিধান বাতিল হয়ে যায় না; কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষে অকাট্য প্রমাণ (حجة) নিয়ে কেউ না কেউ অবশ্যই দণ্ডায়মান থাকবেন। সামগ্রিকভাবে এর মূল হাকিকত হলো সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ, যা সঠিক দলীল প্রয়োগ (صحة الاستدلال) এবং সুক্ষ্ম পর্যালোচনার (جودة النظر) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দেবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে।" আর এর উপকারিতা হলো বিশৃঙ্খল অবস্থাকে সুশৃঙ্খল করা এবং বিচ্যুতকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা, পরিমাপের (بالكيل) মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতু উমার ইবনে উসমান ইবনিল আব্বাস আল-জারসীফী ফিল হিসবাহ (পৃষ্ঠা: ১২০)
والوزن والعدد فيما يمكن، وحسم الجزاف من الغور والخديعة وكثرة الغبن. ويحتاج القيم بأمرها إلى شروط زائدة على شروط القضاء، ليتم له الغرض والإمضاء؛ متبعا آثار من مضى من أهل السنة والجماعة، عارفا بأصناف المعايش وحيل الباعة، إذ بذلك يتوصل إلى معرفة الغش والتدليس، ويميز بين التحقيق والتلبيس، ولا توجد هذه الخصال إلا من الحازم الفطن اليقظان، المتصف بالعفاف والشقة ومطالعة السلطان، ليتمكن من كل ما يريد إصلاحه أو تغييره، وزجر من يريد تأديبه أو تعزيره، ويأمن من الطعن والتغيير عليه من كل غبي جاهل، أو ظنين متساهل.

وها أنا أبين فصولها على الإيجاز والاختصار، وأنكب عن التطويل والإكثار. فأولها ومعتمدها: إصلاح آلات الكيل والوزن بالتحقيق السديد، وضبط الأشياء المتشتتة من التبديد، وحسم البياعات والصناعات من أنواع الغش والتدليس في الثمن والمشمون، ووجوه الخيانة، والمنع من تلقي السلع قبل أن ترد أسواقها المعاومة، ويتقدم في النهي عن البيع يوم الجمعة. والإمام على المنبر.

ويجب على ولي الحسبة النظر في معايش المسلمين، على تفصيل في ذلك، في تنظيفها، وإنضاجها، وتسعير ما يجوز تسعيره، وفي وقت يجوز، على اختلاف في ذلك، واختلاف أنواعها من الجودة والدناءة، وتخليعها من جميع الشوائب المؤثرة فيها، أو يؤول إليه أمرها، كتعاطي الباعة الربى في الأسواق بالجرأة، والاستهان في ردها في الصرف صفائح الخزف والأحجار، والبيع بحركة
সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ওজন ও সংখ্যা নিশ্চিত করা এবং জালিয়াতি, প্রতারণা ও চরম প্রবঞ্চনার পথ হিসেবে পরিচিত অনুমাননির্ভর লেনদেন বন্ধ করা। এই কার্যাবলি সম্পাদনকারীর জন্য বিচারিক পদের অতিরিক্ত কিছু শর্ত থাকা আবশ্যক, যাতে তার লক্ষ্য সফল ও সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়; তাকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পূর্বসূরিদের আদর্শ (آثار) অনুসরণ করতে হবে এবং বিভিন্ন পেশা ও বিক্রেতাদের কৌশল সম্পর্কে অবগত হতে হবে। কারণ এর মাধ্যমেই জালিয়াতি ও প্রবঞ্চনা (تدليس) শনাক্ত করা সম্ভব এবং প্রকৃত সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা যায়। এই গুণাবলি কেবল সেই দৃঢ়চেতা, বুদ্ধিমান ও সজাগ ব্যক্তির মধ্যেই পাওয়া যায়, যিনি চারিত্রিক পবিত্রতা, সহনশীলতা ও সুলতানের সান্নিধ্যের অধিকারী, যাতে তিনি যা সংস্কার বা পরিবর্তন করতে চান তাতে সক্ষম হন এবং যাকে শাসন বা দণ্ড প্রদান করতে চান তাকে নিবৃত্ত করতে পারেন। এছাড়া তিনি যেন কোনো নির্বোধ অজ্ঞ অথবা শিথিল (متساهل) অভিযুক্ত (ظنين) ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো অপবাদ বা পরিবর্তনের আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকেন।

আমি এখানে সংক্ষেপে ও সংক্ষিপ্তসারে এর পরিচ্ছেদগুলো বর্ণনা করছি এবং দীর্ঘ আলোচনা বর্জন করছি। এর প্রথম ও প্রধান ভিত্তি হলো: সঠিক যাচাইয়ের মাধ্যমে পরিমাপ ও ওজনযন্ত্রের সংস্কার করা, বিশৃঙ্খল বিষয়গুলোকে সুবিন্যস্ত করা এবং মূল্য ও পণ্যের ক্ষেত্রে সকল প্রকার জালিয়াতি, প্রবঞ্চনা (تدليس) ও খিয়ানতের পথ রুদ্ধ করা। পণ্য নির্ধারিত বাজারে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তা ক্রয় করা নিষিদ্ধ করা এবং জুমার দিনে ইমাম যখন মিম্বরে থাকেন তখন কেনাবেচা না করার নির্দেশ প্রদান করা।

জনকল্যাণ তদারকি কর্মকর্তার জন্য মুসলিমদের জীবনযাত্রার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তদারকি করা আবশ্যক। যেমন—সেগুলোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সেগুলোকে ব্যবহারের উপযোগী করা এবং যেখানে ও যে সময়ে মূল্য নির্ধারণ জায়েজ সেখানে মূল্য বেঁধে দেওয়া—এ বিষয়ে বিদ্যমান মতভেদসহ। এছাড়া পণ্যের ভালো-মন্দের বিচারে সেগুলোকে প্রভাব বিস্তারকারী যাবতীয় কলুষতা থেকে মুক্ত করা, অথবা যা সেদিকে ধাবিত করে—যেমন বাজারে বিক্রেতাদের ধৃষ্টতার সাথে সুদের কারবার করা, মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে মাটির ফলক বা পাথর গ্রহণে অবহেলা করা এবং সংকেতের মাধ্যমে কেনাবেচা করা...
(খণ্ড: ১) রিসালাতু উমার ইবনে উসমান ইবনিল আব্বাস আল-জারসীফী ফিল হিসবাহ (পৃষ্ঠা: ১২১)
وثمن مجهول، لا سيما في ذوات الأقذار، والمنع بحركة ما يضر بالناس، أو في وقت يضر، وبيع ما لا منفعة فيه، أو لتخويف عاديته كخشاش الأرض على اختلاف أجناسها، أو بيع الأشياء المحرمات على اختلاف أنواعها، كأنواع المسكرات، والصور المحرمات من كل ما له ظل قائم على صورة ما يحيى من الحيوان بخلاف اليد والرجل والوجه في اللعب للبنات، لما في ذلك من تدريبهن على التربية وغير ذلك. ويغير تلك الصور بالكسر إذا كانت من الخشب، أو يفسدها، ويؤدب من اعتاد ذلك. وكذلك آلات الملاهي، والعبث بالطعام ولحوم الأضاحي وجلودها على مذهب مالك رحمه الله.

وبيع الأشياء المجهولة غير المأمونة من الأغذية والأدوية والمعاجن، وأنواع النبات، وما تعافه النفس من كل مستقذر أو ماكث أو مستبشع.

ويجب على ولي الحسبة أن يحتاط جهده في الطهارة في المأكول والمشروب والملابس وغير ذلك، ويتأكد الأمر في المساجد وأفنيتها، وفي الطرق المتصلة بها والأنهار الموضوعة للطهارة في العادات والعبادات ومواضع الاجتماع. ويأمر بستر العورة حيث يمكن ذلك كالحمامات وشبه ذلك. ويمنع النساء من اتباع الجنائز، وزيارة القبور، والخروج للنزاهات، إلا مع زوج أو ذي محرم، وخصوصا في الثواب، لما في ذلك من التبرج المنهي عنه. وكذلك يمنع من اجتماع الرجال من النساء ما أمكن. وحيث يمكن، كالأعراس والمآثم، ويتأكد الأمر في الثواب منهن. ويلزم في كل منظور من الصبيان ما يلزم في شواب النساء، لتطرق التهمة مع فساد الزمان. وقد قال النووي رحمه الله:
এবং অজ্ঞাত (مجهول) মূল্য, বিশেষ করে নাপাক বা নোংরা বস্তুর ক্ষেত্রে; এবং মানুষের ক্ষতি করে এমন চলাফেরা বা কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ, অথবা ক্ষতিকর সময়ে চলাচল; এবং যাতে কোনো উপকার নেই তা বিক্রয় করা; কিংবা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত স্থলভাগের পোকামাকড়—তাদের বিভিন্ন প্রজাতিসহ; অথবা বিভিন্ন প্রকারের হারাম বস্তু বিক্রয় করা, যেমন বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য; এবং প্রাণীর অবয়ব বিশিষ্ট ছায়া সৃষ্টিকারী (ত্রিমাত্রিক) নিষিদ্ধ প্রতিকৃতিসমূহ, তবে মেয়েদের খেলার পুতুলের হাত, পা ও মুখের বিষয়টি ভিন্ন—কারণ এতে তাদের সন্তান লালন-পালন ইত্যাদির হাতেখড়ি হয়। আর প্রতিকৃতিগুলো যদি কাঠের হয় তবে তা ভেঙে পরিবর্তন করে দিতে হবে অথবা তা নষ্ট করে দিতে হবে এবং যে ব্যক্তি এতে অভ্যস্ত তাকে সংশোধনমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। অনুরূপভাবে বাদ্যযন্ত্রসমূহ এবং খাবার নিয়ে খেলতামাশা করা এবং ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব অনুযায়ী কুরবানীর পশুর গোশত ও চামড়া নিয়ে খেলতামাশা করাও নিষিদ্ধ।

এবং খাদ্য, ঔষধ, মাজন জাতীয় দ্রব্য ও বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদের মধ্যে অজ্ঞাত (مجهول) ও অনিরাপদ বস্তু বিক্রয় করা; এবং ঘৃণা উদ্রেককারী, পচা বা কুৎসিত হওয়ার কারণে যা মানুষের মনে অরুচি তৈরি করে—এমন বস্তু বিক্রয় করা নিষিদ্ধ।

এবং হিসবাহ কর্মকর্তার কর্তব্য হলো পানাহার, পোশাক-পরিচ্ছদ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে পবিত্রতার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। মসজিদ ও এর চত্বরসমূহের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ আরও জোরালো হবে; এছাড়া মসজিদের সাথে সংযুক্ত রাস্তা, সাধারণ কাজ ও ইবাদতের পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্ধারিত নদীসমূহ এবং জনসমাগমের স্থানেও এটি প্রযোজ্য। তিনি যেখানে সম্ভব সেখানে সতর আবৃত রাখার নির্দেশ দিবেন, যেমন গোসলখানা ও অনুরূপ স্থানে। তিনি স্বামী বা মাহরাম ব্যতীত নারীদের জানাজায় অংশগ্রহণ, কবর জিয়ারত এবং প্রমোদ ভ্রমণে বের হতে বাধা দিবেন; বিশেষ করে পুণ্য অর্জনের সমাবেশগুলোতে যাওয়ার ক্ষেত্রে—কারণ এতে নিষিদ্ধ বেপর্দা হওয়ার বিষয় থাকে। একইভাবে তিনি যথাসম্ভব নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বন্ধ করবেন—যেখানে সম্ভব, যেমন বিবাহ অনুষ্ঠান ও শোক সভার ক্ষেত্রে; আর পুণ্য অর্জনের সমাবেশগুলোতে নারীদের উপস্থিতির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। এছাড়া বর্তমান যুগের অবক্ষয়ের কারণে সুন্দর চেহারার কিশোরদের ক্ষেত্রেও যুবতী নারীদের ন্যায় সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক, যাতে কোনো অপবাদের সৃষ্টি না হয়। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) রিসালাতু উমার ইবনে উসমান ইবনিল আব্বাস আল-জারসীফী ফিল হিসবাহ (পৃষ্ঠা: ১২২)
يجب على كل مؤمن أن يغض بصره، ويصون نظره عما لا يحل له النظر إليه من امرأة أو صبي جميل، لأن النظر إلى الأمرد الحسن الوجه حرام، سواء كان بشهوة أو بغير شهوة، سواء أمتن الفتنة أو لم تؤمن: هذا هو المذهب المختار الصحيح عند العلماء رضي الله عنهم أجمعين! - وقد نص على تحريم النظر إليه الشافعي رحمه الله ويمنع من الجلوس في المراصد ومواضع الريبة، ومتى ظهر له شيءٌ من هذه الأشياء، أو نقله إليه الثقات، بادر إلى تغييره من غير تجسس منه في ذلك.

ويجب عليه النظر في شوارع المسلمين وأسواقهم، فيما ينجسها أو يوعرها أو يظلمها أو يضيقها، كالأجنحة والسوابيط، والبيع في الطرق، لما في ذلك من تضييق شوارع المسلمين، وقد أمر عمر رضي الله عنه بهدم كير الحداد الذي مر به في الطريق، كذلك إحداث الكنف والميازيب والسباخات، وطرح الميتة، وشبه ذلك.

ويمنع أهل الذمة من الإشراف على المسلمين في منازلهم، والتكشيف عليهم ومن إظهار الخمر والخنزير في أسواق المسلمين، ومن ركوب الخيل بالسروج والزي بما هو من زي المسلمين، أو بما هو من أبهة، وينصب عليهم علما يمتازون به من المسلمين، كالشكلة في حق الرجال، والجلجل في حق النساء، ويمنع المسلمين أن يحاولوا لهم كل ما فيه خساسة أو إذلال للمسلمين، كطرح الكناسة ونقل آلات الخمر، ورعاية الخنازير، وشبه ذلك، لما فيه من علو الكفر على الإسلام، ويؤدب من فعل ذلك.
প্রত্যেক মুমিনের জন্য স্বীয় দৃষ্টি অবনত রাখা এবং যেসকল নারী বা সুন্দর কিশোরের দিকে তাকানো তার জন্য বৈধ নয়, তাদের থেকে দৃষ্টিকে হেফাযত করা ওয়াজিব। কেননা সুন্দর চেহারার দাড়িবিহীন কিশোরের দিকে তাকানো হারাম, চাই তা কামভাবের সাথে হোক বা কামভাবহীন হোক, ফেতনার আশঙ্কা থাকুক বা না থাকুক। আলেমগণের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিকট এটিই হচ্ছে মনোনীত ও সঠিক (صحيح) মাযহাব বা মত। ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) এর দিকে তাকানো হারাম হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। সন্দেহজনক স্থানে বা পর্যবেক্ষণ স্থলে বসা হতে তাকে নিষেধ করতে হবে। যখনই এ জাতীয় কোনো বিষয় প্রকাশ পাবে অথবা নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তিগণ তাঁর কাছে তা পৌঁছাবেন, তখন তিনি ছিদ্রান্বেষণ ব্যতিরেকেই তা পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

মুসলমানদের রাস্তাঘাট ও বাজারগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা তার জন্য আবশ্যক, যাতে সেখানে কোনো নাপাকি না ছড়ায়, পথ দুর্গম না হয়, অন্ধকার না হয় বা সংকুচিত না হয়ে পড়ে; যেমন রাস্তা ঘেঁষে বারান্দা বা ছাদ তৈরি করা এবং রাস্তায় কেনাবেচা করা। কারণ এতে মুসলমানদের রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যায়। হযরত উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় কামারের হাপর ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একইভাবে ড্রেন, পানি নিষ্কাশনের পাইপ বা ডাস্টবিন স্থাপন করা, মৃতদেহ নিক্ষেপ করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।

যিম্মিদেরকে মুসলমানদের ঘরবাড়ির ওপর উঁকিঝুঁকি মারা এবং মুসলমানদের বাজারে মদ ও শূকর প্রদর্শন করা থেকে বিরত রাখা হবে। তাদেরকে জীন লাগিয়ে ঘোড়ায় চড়া এবং মুসলমানদের পোশাক বা আভিজাত্যপূর্ণ পোশাক পরিধান করা থেকে নিষেধ করা হবে। তাদের জন্য এমন চিহ্ন নির্ধারণ করা হবে যার মাধ্যমে তারা মুসলমানদের থেকে আলাদা হতে পারে; যেমন পুরুষদের জন্য বিশেষ পট্টি এবং নারীদের জন্য ঘণ্টা। মুসলমানদেরকে তাদের এমন কোনো কাজ করে দিতে নিষেধ করা হবে যা মুসলমানদের জন্য হীনকর বা অপমানজনক, যেমন ময়লা-আবর্জনা ফেলা, মদের সরঞ্জাম বহন করা, শূকর চরানো এবং অনুরূপ কাজ। কারণ এতে ইসলামের ওপর কুফরের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়। যে ব্যক্তি এ ধরনের কাজ করবে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু উমার ইবনে উসমান ইবনিল আব্বাস আল-জারসীফী ফিল হিসবাহ (পৃষ্ঠা: ১২৩)
ويجب عليه أن يمنع من كل ما يضر بالموتى، كالمزابل، ووقود النيران، واتخاذ الخرق، وشبه ذلك، وأن لا ينبشوا أو ينتقلوا أحدا من قبورهم إلا أن تكون مغصوبة، ويزجر الباعة عن المطل والتعنيت بالأجوبة المسكتة، وسفه الأقوال، كالذي يُحكى عن القائل لخصمه في منازعة بينهما: "أصدق وما أنت إذا كنت قائما"! وكأنه استنهض لخصمه ومس الخاتم؛ فرأي الأدب في ذلك حين شهدت البينة، وغير ذلك من أمثالهم كثيرٌ. ويتأكد الأمر في حق ذوي الهيئات لما في ذلك من الأذاية؛ ومن أذَّى مسلما نُكل.

ويجب عليه أن يمنع أهل الأذاية جملة؛ كالحشاشين المنتحلين لذوات السموم لاختلاف أنواعها، خيف الأذاية وعدم معرفتهم بالترياقات. وكذلك يمنع القرادين من دخول الدور، لما في ذلك من ترويع الحوامل والأولاد الصغار، وكذلك يمنع الطوافين على الدور الملبسين على الناس والمستحيلين عليهم ممن يتخذ بالأباطيل، ويتعلل بالأطاليل، كالحساب والكهنة، والمشابين، والمهانين، والمخنثين، وأهل الفجور، وكل بالغ، من الحجامين والغزالين، وكل جاهل بخطة يدعها وينتسب إليها، وكذلك الجهلة من القوابل. ويمنع الحمائيين في الدور لأذايتهم في التكشف على الناس ورمي الحجارة، وإفساد أولاد المسلمين. وكذلك يمنع من ظهور القمارين والخمارين، والسكارى في الأسواق، ويؤدب من أعلن ذلك، وليس له أن يقيم الحدود لأن ذلك مختص بالقضاء. ومن تصلب من المعتوهين والمتسلخنين، واشتدت أذايته على الناس، أمر بثقافه، ولا يهمل أمره
আর তার (মুহতাসিব বা কর্মকর্তার) ওপর আবশ্যিক কর্তব্য হলো মৃত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর এমন সব বিষয় থেকে জনগণকে বিরত রাখা, যেমন— কবরের কাছে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, আগুন জ্বালানো, পথ তৈরি করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। আর তিনি লক্ষ্য রাখবেন যেন কবর থেকে কাউকে খুঁড়ে বের করা না হয় অথবা স্থানান্তর করা না হয়, যদি না জমিটি জবরদখলকৃত (مغصوب) হয়। তিনি বিক্রেতাদেরকে পাওনা আদায়ে টালবাহানা করা এবং রূঢ় ও আপত্তিকর উত্তরের মাধ্যমে মানুষকে জর্জরিত করা ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলা থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করবেন; যেমনটি কোনো এক বিবাদমান ব্যক্তির ক্ষেত্রে বর্ণিত হয় যে সে তার প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বলেছিল: "সত্য কথা বলো, তুমি দাঁড়িয়ে থাকলেও তোমার মর্যাদা আর কতটুকুই বা!" যেন সে তার প্রতিপক্ষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করল এবং তার আত্মসম্মানে আঘাত হানল। সুতরাং যখন প্রমাণ (بينة) উপস্থাপিত হবে তখন এই জাতীয় বিষয়ে শিষ্টাচার বজায় রাখাই বিধেয়; আর এই ধরনের আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের দাবি রাখে, কারণ এর মাধ্যমে তাদের মনে অধিক কষ্টের উদ্রেক হয়; আর যে কোনো মুসলিমকে কষ্ট দেবে, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি (نكل) প্রদান করা হবে।

আর তার ওপর আবশ্যক হলো সামগ্রিকভাবে কষ্টদায়ক ব্যক্তিদের প্রতিহত করা; যেমন— বিষাক্ত ও ক্ষতিকর নেশাজাতীয় দ্রব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ, যাদের অজ্ঞতার কারণে এবং প্রতিষেধক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকায় ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা থাকে। একইভাবে তিনি বানরওয়ালাদের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দেবেন, কারণ তারা গর্ভবতী নারী ও শিশুদের আতঙ্কিত করে থাকে। তদ্রূপ তিনি সেই সব ভ্রাম্যমাণ বা ছদ্মবেশী ব্যক্তিদেরও প্রতিহত করবেন যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং নানা অসার ও অলীক অজুহাতে মানুষের সাথে প্রতারণা করে; যেমন— জ্যোতিষী, গণক, প্রবঞ্চক, লাঞ্ছিত ব্যক্তি, নারীসুলভ পুরুষ (مخنث) এবং পাপাচারী ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও সেই সকল সাবালক ব্যক্তি যারা শিঙা লাগানো (حجامة) বা সুতা কাটার পেশার সাথে যুক্ত অথচ এ বিষয়ে তাদের কোনো সঠিক জ্ঞান নেই কিন্তু তারা এই পেশার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার দাবি করে, এবং অজ্ঞ ধাত্রীদেরও তিনি প্রতিহত করবেন। আর তিনি ঘরবাড়িতে কবুতর উড়ানো বা ছাদে অবস্থানকারীদেরও নিষিদ্ধ করবেন, কারণ তারা মানুষের গোপনীয়তা ও পর্দার ব্যাঘাত ঘটায়, পাথর নিক্ষেপ করে এবং মুসলিমদের সন্তানদের চরিত্র নষ্ট করে। একইভাবে তিনি বাজারে জুয়াড়ি, মদ বিক্রেতা এবং মাতালদের প্রকাশ্যে আসা নিষিদ্ধ করবেন এবং যে ব্যক্তি তা প্রকাশ্যে করবে তাকে সংশোধনমূলক শাস্তি প্রদান করবেন। তবে তার জন্য হদ (حد) কার্যকর করার কোনো এখতিয়ার নেই, কারণ এটি বিচার বিভাগের (قضاء) জন্য নির্দিষ্ট। আর মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত বা উগ্র স্বভাবের ব্যক্তিদের মধ্যে যারা অবাধ্য হয়ে ওঠে এবং মানুষের প্রতি যাদের ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তাদেরকে আবদ্ধ করে রাখার নির্দেশ দিতে হবে এবং তাদের বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু উমার ইবনে উসমান ইবনিল আব্বাস আল-জারসীফী ফিল হিসবাহ (পৃষ্ঠা: ১২৪)
ويمنع مما يفعله السفلة والصبيان من الرش بالماء في الأسواق والشوارع، وتزليق الطرق يوم المهرجان، واللعب بالمقارع والعصي في الشوارع، ويتقدم في النهي عن تعذيب الحيوان، والحمل على الدواب فوق ما تطيق، أو دون إكاف، وعن اتخاذ الكلاب في دور الحاضرة، وكل حائط مخوف، وما كان في معناه.

والكلام مع الفخارين: أبتدأ في أصل ترابهم، لأنه مغصوب في الغالب، لعدم الإذن من أربابه، ثم في خلط المعادن، ومبالغة الانتفاع والخلط. مما تقتضيه أصول الصناعة على قدر ما يؤدي إليه الاجتهاد.

والكلام مع الكغادين في اختيار الخرق، وتميزها، والمبالغة في خبطها وتنظيفها من جميع الشوائب والتخمير، واعتدال الغرف، والتلبيس النضج من الحنطة الجديدة السالمة من العفن والتسويس، مع وفور القالب المشهور، السالم من التشطي والتقنطر، والدلك المعتدل السالم من إخراق الضرس والتكسير. ويتأكد الأمر فيهم، إذ عليهم مدار الدين والدنيا، وكذلك الرقاقين في اختبار الجلد، واعتدال التبشير والتنظيف.

والكلام مع صاحب الأحباس فيما رث واندرس، أو تعطل من الأحباس، كالمساجد والشوارع، والقناطر والميضأات، ومرافق المسلمين، وهذا النمط العالي، كالفقهاء، والأئمة، والقضاة، والشهود، والمؤذنين، فعلى قدر القوة والإمكان ومساعدة الزمان، واهتبال السلطان، مع خضور التوفيق، إذ لم توضع الشريعة لآحاد الناس، فمن أراد الوقوف على ما يلزم كل مؤمن من هؤلاء
বাজার ও রাস্তাঘাটে পানি ছিটানো, উৎসবের দিনে রাস্তা পিচ্ছিল করা এবং লাঠি ও দণ্ড নিয়ে রাস্তায় খেলাধুলা করার মতো নিচু স্বভাবের লোক ও বালকদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হবে। একইভাবে পশুপাখিকে কষ্ট দেওয়া, পশুর ক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত বোঝা চাপানো কিংবা জীন ছাড়া আরোহণ করা এবং শহরাঞ্চলের ঘরবাড়িতে কুকুর রাখা, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাচীর এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো প্রতিরোধের ব্যাপারেও নির্দেশনা প্রদান করা হবে।

কুম্ভকারদের ব্যাপারে বক্তব্য হলো: আমি তাদের ব্যবহৃত মাটির উৎস থেকে শুরু করব, কারণ তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে জবরদখলকৃত (مغصوب) হয়ে থাকে, যেহেতু মালিকদের পক্ষ থেকে অনুমতি থাকে না। এরপর খনিজ উপাদানের মিশ্রণ এবং এর ব্যবহার ও সংমিশ্রণের পর্যাপ্ততার বিষয়ে আলোচনা হবে, যা পেশাগত গবেষণার (اجتهاد) ভিত্তিতে শিল্পের মূলনীতি অনুযায়ী যতটুকু প্রয়োজন তার ওপর নির্ভরশীল।

কাগজ উৎপাদনকারীদের বিষয়ে আলোচনা হলো ন্যাকড়া নির্বাচন ও বাছাই করা এবং সমস্ত অপদ্রব্য থেকে পরিষ্কার করা ও পচানোর ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান। এছাড়া পরিমিত পরিমাণে মণ্ড তৈরি এবং পচন ও পোকা ধরা থেকে মুক্ত নতুন গম দ্বারা প্রস্তুতকৃত প্রলেপের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সুপরিচিত ছাঁচের ব্যবহার, যা ফেটে যাওয়া বা বাঁকা হওয়া থেকে মুক্ত এবং পরিমিত ঘর্ষণ যা ছিদ্র হওয়া বা ভেঙে যাওয়া থেকে নিরাপদ থাকে। তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় কাজ তাদের ওপরই আবর্তিত হয়। একইভাবে চর্মকারদের ক্ষেত্রেও চামড়া বাছাই, যথাযথভাবে পরিষ্কার করা ও ছাঁটার বিষয়টি প্রযোজ্য।

ওয়াকফকৃত (أحباس) সম্পদের তত্ত্বাবধায়কদের বিষয়ে আলোচনা হলো সেই সব পুরোনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়া অথবা অকেজো হয়ে যাওয়া ওয়াকফ সম্পদ নিয়ে, যেমন: মসজিদ, রাস্তাঘাট, সেতু, অজুখানা এবং মুসলিমদের অন্যান্য জনকল্যাণমূলক স্থাপনা। আর এই উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ হলেন ফকিহ, ইমাম, বিচারক, সাক্ষী ও মুয়াজ্জিনগণ। সামর্থ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী, সময়ের আনুকূল্যে এবং সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতায় আল্লাহর তাওফিকসহ তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেননা শরিয়ত কেবল বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য প্রণীত হয়নি। সুতরাং এদের মধ্য থেকে প্রত্যেক মুমিনের জন্য যা যা পালনীয়, সে সম্পর্কে যারা অবগত হতে চান...
(খণ্ড: ১) রিসালাতু উমার ইবনে উসমান ইবনিল আব্বাস আল-জারসীফী ফিল হিসবাহ (পৃষ্ঠা: ১২৫)
فلينظر باب الحسبة في " الأحكام السلطانية" للقاضي أبي الحسن الماوردي رحمه الله؛ وهذا قيده على طريق التقية. ولا تعرف الأشياء إلا عند الوقوع والنزول، مع طول المدة، والاستمرار، وقوة العزيمة والبحث، والنصيحة للمسلمين، وتفقد الأسواق حينا بعد حين.

ويجب على ولي الحسبة ألا يهمل أحوال الباعة، أو يوكل أمرهم إلى من لا ترضي حالته، بل يتفقد أحوال حاشيته وبطانته، ويجتهد في ذلك جهد غايته، لئلا يغتال في أحكامه بالتلبيس عليه، وقبول الرشى، وغير ذلك؛ فيختل عليه النظام، ويهون أمره عند الإمام، لتسرع الباعة إلى الفساد، وارتكابهم للنهي والعناد. ومهما غير سعر لأحد بغشه أو رداءته، نصب عليه علما يعرف به ليرتفع

الإيهام، وتظهر فائدة الإحكام، إما بخلط ما يمكن خلطه إن كان خلطا خفيفا، أو كسر ما يجب كسره أو إراقته، لتكون عقوبته في الأموال أو التصدق به. وقد نقل ابن سهل في " أحكامه " أن رجلا احتسب على الجزارين بسوء أعمالهم، فأرادوا إخراجه من السوق. قال ابن عتاب: لا سبيل لهم إليه، والمعترض له أولى منه بالإخراج، وأن تخرق أعمالهم الفاسدة بغشهم بها. واستحلالهم أموال المسلمين فيها؛ وقاله ابن القطان. وأفتى ابن القطان أيضا في الملاحف الردية النسج بالإحراق بالنار، وأفتى ابن عقاب بتقطيعها خرقًا وإعطائها للمساكين، إذا تقدم إلى المتعلمين معلمهم، فلم ينتهوا وكان لهم من الملاحف سعتها وخفة نسجها، وأفتى ابن عتاب في الخبز المغشوش أو الناقص أن يكسر ويتصدق به. وفي سماع ابن القاسم: يتصدق باللبن المغشوش،
বিচারক আবু হাসান আল-মাওয়ার্দী (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত "আল-আহকাম আস-সুলতানিইয়াহ" গ্রন্থের জননিরাপত্তা ও বাজার তদারকি (الحسبة) অধ্যায়টি দেখা যেতে পারে; আর তিনি এটিকে সতর্কতা বা বিচক্ষণতার (التقية) ভিত্তিতে সীমাবদ্ধ করেছেন। কোনো বিষয় বাস্তবে সংঘটিত বা আপতিত না হওয়া পর্যন্ত তার স্বরূপ যথাযথভাবে অনুধাবন করা যায় না, যা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া, নিরবচ্ছিন্নতা, দৃঢ় সংকল্প, পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান, মুসলমানদের প্রতি কল্যাণকামনা এবং সময়ে সময়ে বাজার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সম্ভব।

জননিরাপত্তা ও বাজার তদারকি কর্মকর্তার (ولي الحسبة) জন্য আবশ্যিক হলো বিক্রেতাদের অবস্থা সম্পর্কে গাফেল না হওয়া, অথবা তাদের তদারকির দায়িত্ব এমন কারো ওপর অর্পণ না করা যার অবস্থা সন্তোষজনক নয়। বরং তিনি তার পারিষদ ও নিকটস্থদের অবস্থা তদারকি করবেন এবং এ ব্যাপারে নিজ সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করবেন, যাতে জালিয়াতি (التلبيس) বা ঘুষ (الرشى) গ্রহণ ইত্যাদির মাধ্যমে তার বিচারিক সিদ্ধান্তে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। অন্যথায় তার প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিপর্যস্ত হবে এবং ইমামের নিকট তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে; কারণ বিক্রেতারা অতিদ্রুত ফাসাদের দিকে ধাবিত হয় এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন ও হঠকারিতায় লিপ্ত হয়। যখনই কেউ প্রতারণা (غش) বা নিম্নমানের পণ্যের কারণে মূল্য পরিবর্তন করবে, তখন তার ওপর একটি চিহ্ন বা নিশান স্থাপন করতে হবে যাতে তাকে চেনা যায় এবং বিভ্রান্তি (الإيهام) দূর হয়।

এতে সুশাসনের সুফল প্রকাশ পাবে; হয়তো যা মিশ্রণ করা সম্ভব তার ক্ষেত্রে সামান্য মিশ্রণের (خلط) মাধ্যমে, অথবা যা ভেঙে ফেলা বা ঢেলে ফেলা আবশ্যক তা বিনষ্ট করার মাধ্যমে, যাতে তার দণ্ড হয় সম্পদের ক্ষতি অথবা তা সদকা করে দেওয়ার মাধ্যমে। ইবনে সাহল তার "আহকাম" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি কসাইদের অনিয়মের বিরুদ্ধে বাজার তদারকির (احتسب) দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তখন তারা তাকে বাজার থেকে বের করে দিতে চেয়েছিল। ইবনে আত্তাব বলেন: তাদের জন্য তাকে বহিষ্কার করার কোনো সুযোগ নেই, বরং যে তার প্রতিবাদ করছে সে-ই বহিষ্কারের অধিক যোগ্য; এবং তাদের প্রতারণার (غش) কারণে তাদের উৎপাদিত ত্রুটিপূর্ণ পণ্যগুলো ছিঁড়ে বা নষ্ট করে ফেলা উচিত। যেহেতু তারা এর মাধ্যমে মুসলমানদের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ (استحلال) করছে; ইবনে আল-কাত্তানও একই মত পোষণ করেছেন। ইবনে আল-কাত্তান নিম্নমানের বুননের চাদরগুলো আগুনে পুড়িয়ে ফেলার ফতোয়া (أفتى) প্রদান করেছেন। ইবনে উক্বাব ফতোয়া (أفتى) দিয়েছেন যে, সেগুলো টুকরো টুকরো করে কেটে ছিন্নভিন্ন করে মিসকিনদের দিয়ে দিতে হবে—যখন কারিগরদের তাদের ওস্তাদ সতর্ক করার পরও তারা বিরত না হয় এবং চাদরগুলো প্রশস্ত কিন্তু বুনন পাতলা হয়। ইবনে আত্তাব ভেজালযুক্ত (المغشوش) বা ওজনে কম রুটির ক্ষেত্রে ফতোয়া (أفتى) দিয়েছেন যে, তা ভেঙে সদকা করে দিতে হবে। আর ইবনে আল-কাসিমের শ্রুত বর্ণনায় (سماع) রয়েছে: ভেজালযুক্ত (المغشوش) দুধ সদকা করে দিতে হবে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু উমার ইবনে উসমান ইবনিল আব্বাস আল-জারসীফী ফিল হিসবাহ (পৃষ্ঠা: ১২৬)
قال ابن القاسم: وهذا فيما قل. وفي كتاب ابن مزين وكتاب ابن حبيب من قول مالك رحمه الله: من غش في السوق في مكيال أو ميزان، فإنه يخرج من السوق، وذلك أشد عليه من الضرب، ومن كتاب ابن يونس: قال في " المدونة ": وقد أراق عمر رضي الله عنه لبنا غش، أدبا لصاحبه، ولمالك في كتاب ابن المواز: فيما غش من لبن أو غيره، لا يراق وليتصدق به، قال أبو الحسن اللخمي: قال مالك رحمه الله: والأحسن أن يتصدق به. قال: وكذلك الزعفران والمسك إذا غشه لنفسه، وإن اشتراه مغشوشا، لم أر ذلك عليه. وقال ابن القاسم: إن ذلك فيما قل، وأما الكثير، فلا أرى ذلك عليه. وقال ابن القاسم: وليؤدب بالضرب الوجيع، ولا يتصدق به عليه. قال أبو الحسن: والخلاف في القليل: هل يطرح أو يتصدق به؟ والخلاف في الكثير: هل يتصدق به أو يترك لصاحبه ويعاقب؟ ولو اشترى رجل شيئا من ذلك، وهو عالم بغشه، ليبيعه من الناس، ولا يبين، كان حكمه حكم من غش، فيتصدق به عليه، أو يعاقب، على قول ابن القاسم. والأصل في العقوبة في المال: أمر النبي صلى الله عليه وسلم في القدور التي أغليت بلحم من الغنم قبل أن تقسم أن تكفأ، قياسا على مثل بغيره.

ومهما عثر على من لم يمتثل الأوامر، ولم تبلغ فيه الزواجر، أمر بإخراجه من الأسواق، ورفع يده من البيع والارتفاق. وقد أمر مالك رحمه الله ببيع المواشي المضرة بالزرع والكروم، أو تغرب إلى بلد لا يزرع فيه ولا كروم. وهذا أيضا من أنواع العقوبة، وإن كانت في الحيوانات. ويتأكد لأمر في منتحلي
ইবনে আল-কাসিম বলেন: এটি অল্প পরিমাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইবনে মুজাইন ও ইবনে হাবিবের কিতাবে ইমাম মালিক (রহ.)-এর উক্তি থেকে বর্ণিত হয়েছে: যে ব্যক্তি বাজারে পরিমাপ বা ওজনে প্রতারণা করবে, তাকে বাজার থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং এটি তার নিকট শারীরিক প্রহারের চেয়েও কঠোর দণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। ইবনে ইউনুসের কিতাব হতে বর্ণিত: তিনি "আল-মুদাওওয়ানা"-তে বলেছেন: উমর (রা.) মালিককে শাসন করার উদ্দেশ্যে ভেজাল মিশ্রিত দুধ ঢেলে দিয়েছিলেন। ইবনে আল-মাওয়াজের কিতাবে ইমাম মালিকের মতানুসারে: দুধ বা অন্য কোনো সামগ্রীতে ভেজাল দেওয়া হলে তা ঢেলে ফেলা হবে না, বরং তা সদকা করে দিতে হবে। আবু আল-হাসান আল-লাখমি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন যে, এটি সদকা করে দেওয়াটাই উত্তম। তিনি আরও বলেন: জাফরান ও কস্তুরীর ক্ষেত্রেও একই বিধান যদি সে ব্যক্তি নিজে এতে ভেজাল দেয়। কিন্তু যদি সে এটি ভেজালযুক্ত অবস্থায় ক্রয় করে থাকে, তবে তার ওপর আমি এই দণ্ড দেখি না। ইবনে আল-কাসিম বলেন: এটি অল্প পরিমাণের ক্ষেত্রে; কিন্তু অধিক পরিমাণ হলে আমি তার ওপর এই দণ্ড দেখি না। ইবনে আল-কাসিম আরও বলেন: তাকে যন্ত্রণাদায়ক প্রহারের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা উচিত এবং পণ্যটি তার পক্ষ থেকে সদকা করা যাবে না। আবু আল-হাসান বলেন: অল্প পরিমাণের ক্ষেত্রে মতভেদ হলো—তা কি ফেলে দেওয়া হবে নাকি সদকা করা হবে? আর অধিক পরিমাণের ক্ষেত্রে মতভেদ হলো—তা কি সদকা করা হবে নাকি মালিকের নিকট রেখে দিয়ে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে? যদি কোনো ব্যক্তি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে জেনেশুনে ভেজাল পণ্য ক্রয় করে এবং তা ক্রেতার নিকট স্পষ্ট না করে, তবে তার বিধান প্রতারণাকারীর বিধানের ন্যায় হবে; ইবনে আল-কাসিম-এর মতানুসারে হয় তা সদকা করা হবে অথবা তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। আর্থিক দণ্ডের মূল ভিত্তি হলো নবী (সা.)-এর সেই নির্দেশ, যেখানে তিনি গনিমতের মাল বণ্টনের পূর্বে বকরির গোশত দ্বারা রান্না করা ডেকচিগুলো উল্টে ফেলার আদেশ দিয়েছিলেন, অন্য বিষয়ের ওপর অনুমানের ভিত্তিতে।

যখনই এমন কাউকে পাওয়া যাবে যে নির্দেশাবলী পালন করছে না এবং যার ওপর সতর্কবাণী কোনো প্রভাব ফেলছে না, তাকে বাজার থেকে বহিষ্কার করার এবং ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসায়িক সুবিধা থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হবে। ইমাম মালিক (রহ.) শস্য ও আঙুর বাগানের ক্ষতি সাধনকারী গবাদি পশু বিক্রি করে দেওয়ার অথবা এমন কোনো দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যেখানে শস্য বা আঙুর বাগান নেই। এটিও দণ্ডবিধির অন্তর্ভুক্ত এক প্রকারের শাস্তি, যদিও তা প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। আর এই নির্দেশ সেই সকল ছদ্মবেশ ধারণকারীদের ক্ষেত্রে আরও সুনিশ্চিত ও জোরালো হয় যারা...
(খণ্ড: ১) রিসালাতু উমার ইবনে উসমান ইবনিল আব্বাস আল-জারসীফী ফিল হিসবাহ (পৃষ্ঠা: ১২৭)
أجناس الطعام، إذ عليه مدار هذه الجملة والسلام؛ ولا يخرج في جميع ذلك عن طريق من مضى من السلف الصالح المقتدي بهم في الدين - والذي يترتب على هذه الجملة مع ظهور الجرأة والاستهتار، الردع والزجر نكاية للأشرار، والأدب والنكال، يختلف باختلاف الأحوال؛ فليس ذوو الحرف الخسيسة، كأهل الصناعات النفيسة، ولا الجرئ المتساهل كالغبي الجاهل؛ والناس في هذه الحقوق، كالأعصاب والعروق، فمنها ما يكفي فيه التوبيخ والدلك اليسير، على قدر السياسة وحسن التدبير، ومنها ما يحتاج إلى القصد ووضع المحاجم على قدر القوة وحذق الحاكم؛ فإن عظم الأمر، وبان الطغيان، فلابد من استعمال الكي وتبرد الشريان. فإن سقط النص، وأبهم الإلغاز، فسترد عليك أنصاص تدل على الجواز. والتعزير موكول إلى اجتهاد الحاكم، ويعتبر فيه الحال الجاني وصفة الجناية. ويحذر أن يزاد في التعزير على الحد، وقد ضرب عمر رضي الله عنه الذي زوّر على طابعه نحوا من ثلاثمائة سوط، وقد كان على رأسه قلنسوة؛ فعلاه عمر بالدرة، فسقطت قلنسوته، فقال: " لو وجدته مسبودا، لضربت عقنه! " وأمر مالك رضي الله عنه في الذي خلا بصبي أن يضرب، فكرر عليه الضرب، حتى بلغ أربعمائة سوط، فتعرض له والد المضروب، فقال له: " يا أبا عبد الله! ما قامت السموات على الأرض إلا بالحق! " فقال له مالك: " إن الذي أتى ولدك أكبر الباطل! ويجوز أن يصلب في التعزير"، وقد صلب رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا على جبل يقال له أبو ناب؛ ولا يمنع إذا صلب من طعام ولا شراب، ولا يمنع من الوضوء للصلاة، ويصلي مومئا، فإذا أرسل أعاد الصلاة، ولا يتجاوز بصلبه ثلاثة أيام، ويجوز في التعزير

খাদ্যদ্রব্যের প্রকারভেদসমূহ, কেননা এই আলোচনার মূল ভিত্তি এর ওপরই আবর্তিত এবং সমাপ্তি; এবং এই সবকিছুর মধ্যে তিনি দ্বীনের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় সেই সব সৎ পূর্বসূরিদের (السلف الصالح) পথ থেকে বিচ্যুত হন না যারা গত হয়েছেন। স্পর্ধা ও বেপরোয়া ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে এই আলোচনার যা ফলাফল দাঁড়ায় তা হলো—দুষ্টদের দমনের জন্য প্রতিরোধ ও ভীতি প্রদর্শন; আর শাসন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পরিস্থিতির ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হবে। কেননা হীন পেশাজীবীরা মূল্যবান শিল্পের কারিগরদের মতো নয়; তেমনি দুঃসাহসী শিথিলকারী ব্যক্তি নির্বোধ অজ্ঞ ব্যক্তির মতো নয়। মানুষের এই অধিকারগুলোর দৃষ্টান্ত হলো স্নায়ু ও শিরার ন্যায়; কারো ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নীতি ও উত্তম ব্যবস্থাপনার নিরিখে সামান্য তিরস্কার ও মৃদু সংশোধনই যথেষ্ট হয়, আবার কারো ক্ষেত্রে বিচারকের দক্ষতা ও দৃঢ়তা অনুযায়ী নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হয়। যদি বিষয়টি গুরুতর হয় এবং অবাধ্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তবে কঠোর ব্যবস্থা বা চরম পন্থা অবলম্বন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। যদি কোনো সুস্পষ্ট দলিল (نص) না থাকে এবং বিষয়টি রহস্যময় হয়, তবে তোমার সামনে এমন সব প্রামাণিক পাঠ আসবে যা এর বৈধতা নির্দেশ করে। সংশোধনমূলক শাস্তি (التعزير) বিচারকের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) ওপর ন্যস্ত, এবং এতে অপরাধীর অবস্থা ও অপরাধের ধরন বিবেচনা করা হয়। সতর্ক থাকতে হবে যেন সংশোধনমূলক শাস্তি (التعزير) নির্ধারিত দণ্ডের (الحد) সীমা অতিক্রম না করে। উমর (রা.) জনৈক ব্যক্তিকে—যে তাঁর সিলমোহর জাল করেছিল—প্রায় তিনশ দোররা মেরেছিলেন; তখন লোকটির মাথায় একটি টুপি ছিল। উমর (রা.) তাকে চাবুক দিয়ে আঘাত করলেন এবং তার টুপিটি পড়ে গেল। তখন তিনি বললেন: "যদি আমি তাকে মুণ্ডিত মস্তক পেতাম, তবে তার ঘাড়ে আঘাত করতাম!" ইমাম মালিক (র.) জনৈক ব্যক্তির ব্যাপারে—যে এক বালকের সাথে নির্জনে অবস্থান করেছিল—প্রহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাকে বারবার প্রহার করা হয়েছিল এমনকি তা চারশ দোররা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তখন প্রহৃত ব্যক্তির পিতা প্রতিবাদ করে বলল: "হে আবু আবদুল্লাহ! আসমান ও জমিন কেবল ন্যায়ের ওপরই প্রতিষ্ঠিত!" মালিক (র.) তাকে উত্তর দিলেন: "তোমার সন্তান যা করেছে তা চরম অন্যায়! সংশোধনমূলক শাস্তির (التعزير) ক্ষেত্রে শূলে চড়ানোও বৈধ।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে আবু নাব নামক পাহাড়ে শূলে চড়িয়েছিলেন। শূলে চড়ানো অবস্থায় তাকে আহার বা পানীয় থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, সালাতের জন্য ওযু করতেও বাধা দেওয়া যাবে না; সে ইশারায় সালাত আদায় করবে এবং মুক্ত হওয়ার পর সালাত পুনরায় আদায় করবে। এই শূলে চড়ানোর মেয়াদ তিন দিনের বেশি হবে না। এবং সংশোধনমূলক শাস্তির (التعزير) ক্ষেত্রে এটি বৈধ...

(খণ্ড: ১) রিসালাতু উমার ইবনে উসমান ইবনিল আব্বাস আল-জারসীফী ফিল হিসবাহ (পৃষ্ঠা: ১২৮)
أن يجرد من ثيابه إلا ما يستر عورته، ويشهّي [*] في الناس، وينادي عليه بذنبه إذا تكرر ذلك منه، ولم يقلع عنه. ويجوز أن يحلق شعره، ولا تحلق لحيته، واختلف في جواز تسخيم وجهه: فجوز الأكثرون، ومنع منه الأقلون.

والله تعالى يوفق الجميع للصواب، ويعصمنا من الزيغ والزلل وسوء الاكتساب وما توفيقي إلا بالله! عليه توكلت، وهو حسبي! ونعم الوكيل!

--------------------------------------------

[*] قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: كذا بالمطبوع، ولعل الصواب: «يشهّر»، والله أعلم
তাকে তার পোশাক থেকে মুক্ত করা হবে কেবল সতর আবৃতকারী অংশটুকু ব্যতীত, এবং তাকে মানুষের মাঝে লাঞ্ছিত বা পরিচিত [*] করা হবে। তার অপরাধের কথা ঘোষণা করা হবে যদি সে বারবার তা করে এবং তা থেকে বিরত না হয়। তার মাথার চুল মুড়িয়ে দেওয়া বৈধ, তবে তার দাড়ি কাটা যাবে না। তার মুখমণ্ডল কালিমালেপন করার বৈধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে: অধিকাংশ আলিম একে বৈধ বলেছেন এবং অল্প সংখ্যক একে নিষেধ করেছেন।

আল্লাহ তাআলা সকলকে সঠিক বিষয়ের তাওফিক দান করুন, এবং আমাদেরকে বিচ্যুতি, পদস্খলন ও মন্দ উপার্জন থেকে রক্ষা করুন। আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহরই সাহায্যে; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক!

--------------------------------------------

[*] শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক বলেছেন: মুদ্রিত কপিতে এভাবেই রয়েছে, তবে সম্ভবত সঠিক শব্দ হবে: ‘ইউশাহ্হারু’ (জনসমক্ষে লাঞ্ছিত করা), আল্লাহই ভালো জানেন।